(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: -)
جماع العلم (الشافعي)
القسم: أصول الفقه
الكتاب: جماع العلم
المؤلف: الإمام أبو عبد الله محمد بن إدريس الشافعي
الناشر: دار الأثار
الطبعة: الأولى 1423 هـ -2002 م
عدد الصفحات: 61
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জিমউল ইলম (আশ-শাফিঈ)
বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
কিতাব: জিমউল ইলম
লেখক: ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিঈ
প্রকাশক: দারুল আসার
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি -২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণকপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৩)
مدخل بسم الله الرحمن الرحيمأَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ قال:1- لم اسمع أحدا نسبه الناس أونسب نفس إِلَى عِلْمٍ يُخَالِفُ فِي أَنْ فَرَضَ اللَّهُ عز وجل اتباع آمر رسول الله وَالتَّسْلِيمَ لِحُكْمِهِ بِأَنَّ اللَّهَ عز وجل لَمْ يَجْعَلْ لأَحَدٍ بَعْدَهُ إِلا اتِّبَاعَهُ وَأَنَّهُ لا يَلْزَمُ قَوْلٌ بِكُلِّ حَالٍ إِلا بِكِتَابِ اللَّهِ أو سنة رسوله وَأَنَّ مَا سِوَاهُمَا تَبَعٌ لَهُمَا وَأَنَّ فَرْضَ اللَّهِ عَلَيْنَا وَعَلَى مَنْ بَعْدَنَا وَقَبْلَنَا فِي قبول الخبر عن رسول الله وَاحِدٌ لا يَخْتَلِفُ فِي أَنَّ الْفَرْضَ وَالْوَاجِبَ قَبُولِ الْخَبَرِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلا فِرْقَةٌ سَأَصِفُ قَوْلَهَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.2- قَالَ: مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ ثُمَّ تَفَرَّقَ أَهْلُ الْكَلامِ فِي تَثْبِيتِ الْخَبَرِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَفَرُّقًا أَمَّا بَعْضُهُمْ فَقَدْ أَكْثَرَ مِنَ التَّقْلِيدِ وَالتَّخْفِيفِ مِنَ النَّظَرِ وَالْغَفْلَةِ وَالاسْتِعْجَالِ بِالرِّيَاسَةِ.3- وَسَأُمَثِّلُ لَكَ مِنْ قَوْلِ كُلِّ فِرْقَةٍ عَرَفْتُهَا مِثَالا يَدُلُّ عَلَى مَا وَرَاءَهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تعالى.
ভূমিকা পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।রাবি ইবনে সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন:১- আমি এমন কাউকে শুনিনি—যাকে মানুষ জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত করে অথবা যে নিজেকে জ্ঞানের অধিকারী বলে দাবি করে—যে এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে যে, মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের আদেশ অনুসরণ করা এবং তাঁর ফয়সালার নিকট আত্মসমর্পণ করাকে ফরজ করেছেন। কেননা মহান আল্লাহ তাঁর (রাসূলের) পরে কারো জন্য তাঁর অনুসরণ ব্যতীত অন্য কোনো পথ নির্ধারণ করেননি। কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর কিতাব অথবা তাঁর রাসূলের সুন্নাহ ব্যতিরেকে অন্য কোনো কথা অপরিহার্য নয়; বরং এই দুটি ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা এই দুটিরই অনুগামী। রাসূলুল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদের ওপর এবং আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের ওপর আল্লাহর বিধান অভিন্ন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংবাদ গ্রহণ করা যে ফরজ ও আবশ্যকীয়—এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই, কেবল একটি দল ব্যতীত যাদের মতাদর্শ আমি অচিরেই বর্ণনা করব, ইনশাআল্লাহু তাআলা।২- মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস বলেন: অতঃপর আহলুল কালাম (তাত্ত্বিক বির্তকবিদগণ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংবাদ সাব্যস্ত করার বিষয়ে নানা মতে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের কেউ কেউ অন্ধ অনুকরণের আধিক্য, বিচার-বিশ্লেষণে শিথিলতা, উদাসীনতা এবং নেতৃত্বের লালসায় তাড়াহুড়ো প্রদর্শন করেছেন।৩- আর আমি আপনার কাছে আমার জানা প্রতিটি দলের বক্তব্যের এমন উদাহরণ পেশ করব যা তাদের সামগ্রিক চিন্তাধারার পরিচয় দেবে, ইনশাআল্লাহু তাআলা।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৪)
بَابُ حِكَايَةِ قَوْلِ الطَّائِفَةِ الَّتِي رَدَّتِ الأَخْبَارَ كُلَّهَاقَالَ: الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى:4- قَالَ: لِي قَائِلٌ يُنْسَبُ إِلَى الْعِلْمِ بِمَذْهَبِ أَصْحَابِهِ أَنْتَ عَرَبِيٌّ وَالْقُرْآنُ نَزَلَ بِلِسَانِ مَنْ أَنْتَ مِنْهُ وَأَنْتَ أَدْرَى بِحِفْظِهِ وَفِيهِ للَّهِ فَرَائِضُ أَنْزَلَهَا لَوْ شَكَّ شَاكٌّ قَدْ تَلَبَّسَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ بِحَرْفٍ مِنْهَا اسْتَتَبْتَهُ فَإِنْ تَابَ وَإِلا قَتَلْتَهُ وَقَدْ قَالَ: اللَّهُ عز وجل فِي القرآن {تِبْيَاناً لِكُلِّ شَيْءٍ} فَكَيْفَ جَازَ عِنْدَ نَفْسِكَ أَوْ لأَحَدٍ فِي شَيْءٍ فَرَضَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ مَرَّةً الْفَرْضُ فِيهِ عَامٌّ وَمَرَّةً الْفَرْضُ فِيهِ خَاصٌّ وَمَرَّةً الأَمْرُ فِيهِ فَرْضٌ وَمَرَّةً الأَمْرُ فِيهِ دِلالَةٌ وَإِنْ شَاءَ ذُو إِبَاحَةٍ؟.5- وَأَكْثَرُ مَا فَرَّقْتَ بَيَنْهُ مِنْ هَذَا عِنْدَكَ حَدِيثٌ تَرْوِيهِ عَنْ رَجُلٍ عَنْ آخَرَ عَنْ آخَرَ أَوْ حَدِيثَانِ أَوْ ثَلاثَةٌ حَتَّى تَبْلُغَ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ وَجَدْتُكَ وَمَنْ ذَهَبَ مَذْهَبَكَ لا تُبَرِّئُونَ أَحَدًا لَقِيتُمُوهُ وَقَدَّمْتُمُوهُ فِي الصِّدْقِ وَالْحِفْظِ وَلا أَحَدًا لَقِيتُ مِمَّنْ لَقِيتُمْ مِنْ أَنْ يَغْلَطَ وَيَنْسَى وَيُخْطِئَ فِي حَدِيثِهِ بَلْ وَجَدْتُكُمْ تَقُولُونَ لِغَيْرِ وَاحِدٍ مِنْهُمْ أَخْطَأَ فُلانٌ فِي حَدِيثِ كَذَا وَفُلانٌ فِي حَدِيثِ كَذَا وَوَجَدْتُكُمْ تَقُولُونَ لَوْ قَالَ: رَجُلٌ لِحَدِيثٍ أَحْلَلْتُمْ بِهِ وَحَرَّمْتُمْ مِنْ عِلْمِ الْخَاصَّةِ لَمْ يَقُلْ هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا أَخْطَأْتُمْ أَوْ مَنْ حَدَّثَكُمْ وَكَذَبْتُمْ أَوْ مَنْ حَدَّثَكُمْ لَمْ تَسْتَتِيبُوهُ وَلَمْ تَزِيدُوا عَلَى أَنْ تَقُولُوا لَهُ بِئْسَ مَا قُلْتَ:.6- أَفَيَجُوزُ أَنْ يُفَرَّقَ بَيْنَ شَيْءٍ مِنْ أَحْكَامِ الْقُرْآنِ وَظَاهِرُهُ وَاحِدٌ عِنْدَ مَنْ سَمِعَهُ يُخْبِرُ مَنْ هُوَ كَمَا وَصَفْتُمْ فِيهِ؟ وَتُقِيمُونَ أَخْبَارَهُمْ مَقَامَ كِتَابِ اللَّهِ وَإِنَّكُمْ تُعْطُونَ بِهَا وتمنعون بها؟.
সেই দলের বক্তব্য বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায় যারা সকল প্রকার সংবাদ বা হাদীস প্রত্যাখ্যান করেছেইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন:৪- তিনি বলেন: আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি বললেন, যিনি তাঁর সাথীদের মতবাদ অনুসারে শিক্ষিত হিসেবে গণ্য হন— "আপনি একজন আরব, আর কুরআন আপনারই জাতির ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। আপনি এর সংরক্ষণের বিষয়ে অধিক অবগত। এতে আল্লাহ তাআলা অনেকগুলো বিধান অবতীর্ণ করেছেন। যদি কোনো সংশয়বাদী কুরআনের কোনো একটি অক্ষর নিয়েও সংশয়ে লিপ্ত হয়, তবে আপনি তাকে তওবা করতে বলবেন; সে তওবা করলে ভালো, অন্যথায় আপনি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেবেন। অথচ মহান আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, এটি 'সবকিছুর বিশদ বর্ণনা স্বরূপ'। এমতাবস্থায় আপনার নিজের জন্য অথবা অন্য কারও জন্য আল্লাহর নির্ধারিত কোনো বিধানে এটি বলা কীভাবে জায়েজ হতে পারে যে— কখনো এই বিধানটি ব্যাপক (আম), আবার কখনো এটি বিশেষ (খাস)? কখনো কোনো আদেশ বাধ্যতামূলক (ফরজ), আবার কখনো আদেশটি নিছক দিকনির্দেশনা (দালালাহ), কিংবা চাইলে তা কেবল বৈধতা (ইবাহাত) প্রদানের জন্য হতে পারে?"৫- "আর আপনি এ ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করেন, তার অধিকাংশ ভিত্তিই হলো আপনার কাছে থাকা এমন এক হাদীস, যা আপনি বর্ণনা করেন এক ব্যক্তি থেকে অন্যজন, তার থেকে অন্যজন— এভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছান। অথচ আমি আপনাকে এবং আপনার মতাবলম্বীদের দেখেছি যে, আপনারা যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং যাদেরকে সততা ও মুখস্থশক্তির দিক থেকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তাদের কাউকেই হাদীস বর্ণনায় ভুল করা, ভুলে যাওয়া বা ত্রুটি করা থেকে দায়মুক্ত মনে করেন না। বরং আমি আপনাদের অনেককেই বলতে দেখেছি যে— অমুক ব্যক্তি অমুক হাদীসে ভুল করেছেন এবং অমুক ব্যক্তি অমুক হাদীসে ভুল করেছেন। আমি আরও দেখেছি যে, আপনারা যে হাদীসের ভিত্তিতে কোনো বিষয়কে হালাল বা হারাম করেন, যা আপনাদের মতে 'বিশেষ জ্ঞান' (ইলমে খাসসা), সেই হাদীস সম্পর্কে যদি কোনো ব্যক্তি বলে দেয়— 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি বলেননি; বরং আপনারা অথবা আপনাদের বর্ণনাকারী ভুল করেছেন কিংবা আপনারা অথবা আপনাদের বর্ণনাকারী মিথ্যা বলেছেন'— তবে আপনারা তাকে তওবা করতে বলেন না। বরং আপনারা কেবল তাকে এতটুকুই বলেন যে— 'তুমি যা বলেছ তা অত্যন্ত মন্দ'।"৬- "এমতাবস্থায় কুরআনের বিধানগুলোর মাঝে কোনো পার্থক্য করা কি বৈধ হতে পারে, অথচ শ্রোতার নিকট এর বাহ্যিক অর্থ অভিন্ন? যেমনটি আপনারা বর্ণনা করেছেন। অথচ আপনারা তাদের (একক ব্যক্তিদের) বর্ণনাকে আল্লাহর কিতাবের সমপর্যায়ে দাঁড় করান এবং সেগুলোর মাধ্যমেই আপনারা কোনো বিধান প্রদান করেন কিংবা কোনো কিছু থেকে বিরত রাখেন?"
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৫)
7- قَالَ: فَقُلْتُ: إِنَّمَا نُعْطِي مِنْ وَجْهِ الإِحَاطَةِ أَوْ مِنْ جِهَةِ الْخَبَرِ الصَّادِقِ وَجِهَةِ الْقِيَاسِ. وَأَسْبَابُهَا عِنْدَنَا مُخْتَلِفَةٌ وَإِنْ أَعْطَيْنَا بِهَا كُلِّهَا فَبَعْضُهَا أَثْبَتُ مِنْ بَعْضٍ.8- قَالَ: وَمِثْلُ مَاذَا؟.9- قُلْتُ: إِعْطَائِي مِنَ الرَّجُلِ بِإِقْرَارِهِ وَبِالْبَيِّنَةِ وَإِبَائِهِ الْيَمِينِ وَحَلِفِ صَاحِبِهِ وَالإِقْرَارُ أَقْوَى مِنَ الْبَيِّنَةِ وَالْبَيِّنَةُ أَقْوَى مِنْ إِبَاءِ الْيَمِينِ وَيَمِينِ صَاحِبِهِ وَنَحْنُ وَإِنْ أَعْطَيْنَا بِهَا عَطَاءً وَاحِدًا فَأَسْبَابُهَا مُخْتَلِفَةٌ.10- قَالَ: وَإِذَا قُمْتُمْ عَلَى أَنْ تَقْبَلُوا أَخْبَارَهُمْ وَفِيهِمْ مَا ذَكَرْتُ مِنْ أَمْرِكُمْ بِقَبُولِ أَخْبَارِهِمْ وَمَا حُجَّتُكُمْ فِيهِ عَلَى مَنْ رَدَّهَا؟.11- فَقَالَ: لا أَقْبَلُ مِنْهَا شَيْئًا إِذَا كَانَ يُمْكِنُ فِيهِ الْوَهْمُ وَلا أَقْبَلُ إِلا مَا أَشْهَدُ بِهِ عَلَى اللَّهِ كَمَا أَشْهَدُ بِكِتَابِهِ الَّذِي لا يَسَعُ أَحَدًا الشَّكُّ فِي حَرْفٍ مِنْهُ أَوْ يَجُوزُ أَنْ يَقُومَ شَيْءٌ مَقَامَ الإِحَاطَةِ وَلَيْسَ بِهَا؟.12- فَقُلْتُ: لَهُ مَنْ عَلِمَ اللِّسَانَ الَّذِي بِهِ كِتَابُ اللَّهِ وَأَحْكَامُ اللَّهِ دَلَّهُ عِلْمُهُ بِهِمَا عَلَى قَبُولِ أَخْبَارِ الصَّادِقِينَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْفَرْقِ بَيْنَ مَا دَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْفَرْقِ بَيْنَهُ مِنْ أَحْكَامِ اللَّهِ وَعَلِمَ بِذَلِكَ مَكَانَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ كُنْتَ لَمْ تُشَاهِدْهُ خَبَرَ الْخَاصَّةِ وَخَبَرَ الْعَامَّةِ.13- قَالَ: نَعَمْ.14- قُلْتُ: فَقَدْ رَدَدْتَهَا إِذْ كُنْتَ تَدِينُ بِمَا تَقُولُ!.15- قال: أَفَتُوجِدُنِي مِثْلَ هَذَا مِمَّا تَقُومُ بِذَلِكَ الْحُجَّةُ فِي قَبُولِ الْخَبَرِ فَإِنْ أَوْجَدْتَهُ كَانَ أَزْيَدَ فِي إِيضَاحِ حُجَّتِكَ، وَأَثْبَتَ لِلْحُجَّةِ عَلَى مَنْ خَالَفَكَ وَأَطْيَبَ لِنَفْسِ مَنْ رَجَعَ مِنْ قَوْلِهِ لِقَوْلِكَ.16- فَقُلْتُ: إِنْ سَلَكْتَ سَبِيلَ النَّصَفَةِ، كان في بعض ما قلت: دليل
7- তিনি বললেন: আমি বললাম: আমরা কেবল পূর্ণ জ্ঞান (পরিবেষ্টনকারী জ্ঞান), অথবা সত্য সংবাদের মাধ্যম, অথবা কিয়াসের (অনুমাননির্ভর যুক্তি) ভিত্তিতে ফয়সালা দিয়ে থাকি। আমাদের নিকট এগুলোর কারণসমূহ ভিন্ন ভিন্ন, যদিও আমরা এ সবগুলোর মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত প্রদান করি, তবে এগুলোর কোনোটি অন্যটির চেয়ে অধিক সুদৃঢ়।8- তিনি বললেন: যেমন কী?9- আমি বললাম: যেমন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার স্বীকারোক্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ, কসম অস্বীকার করা এবং তার প্রতিপক্ষের কসম করার ভিত্তিতে আমার রায় প্রদান করা। এক্ষেত্রে স্বীকারোক্তি সাক্ষ্য-প্রমাণের চেয়ে শক্তিশালী, আর সাক্ষ্য-প্রমাণ কসম অস্বীকার এবং প্রতিপক্ষের কসমের চেয়ে শক্তিশালী। যদিও আমরা এগুলোর মাধ্যমে একই ধরণের রায় দিই, কিন্তু এগুলোর কার্যকারণ ভিন্ন ভিন্ন।10- তিনি বললেন: যখন আপনারা তাদের সংবাদ গ্রহণ করার পক্ষাবলম্বন করলেন, অথচ তাদের মাঝে এমন সব বিষয় বিদ্যমান যা আমি তাদের সংবাদ গ্রহণ করা সংক্রান্ত আপনাদের নির্দেশের ব্যাপারে উল্লেখ করেছি, তবে আপনাদের নিকট যারা তা প্রত্যাখ্যান করে তাদের বিরুদ্ধে কী দলিল রয়েছে?11- তিনি বললেন: যে বিষয়ে সংশয় বা ভ্রমের সম্ভাবনা থাকে আমি তার কিছুই গ্রহণ করি না। আমি কেবল তা-ই গ্রহণ করি যে বিষয়ে আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিতে পারি, যেমন আমি আল্লাহর কিতাবের সাক্ষ্য দিই—যার একটি হরফেও সন্দেহ করার কোনো অবকাশ কারো নেই। অথবা অন্য কোনো কিছু কি পূর্ণ জ্ঞানের (ইহাতা) স্থলাভিষিক্ত হতে পারে অথচ তা প্রকৃত পূর্ণ জ্ঞান নয়?12- আমি তাকে বললাম: যে ব্যক্তি সেই ভাষা জানে যে ভাষায় আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর বিধানাবলি অবতীর্ণ হয়েছে, সেই ভাষা ও বিধান সম্পর্কে তার জ্ঞান তাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সত্যবাদীদের সংবাদসমূহ গ্রহণ করার পথ নির্দেশ দেয়। আর আল্লাহর বিধানাবলির মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পার্থক্য নির্দেশ করেছেন তার ব্যবধানও স্পষ্ট করে দেয়। এর মাধ্যমে সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কেও অবগত হয়, যেহেতু আপনি তাঁকে চাক্ষুষ দেখেননি; (আর এভাবেই সে) বিশেষ সংবাদ (খবরুল খাসসা) এবং সাধারণ সংবাদের (খবরুল আম্মা) পার্থক্য বুঝতে পারে।13- তিনি বললেন: হ্যাঁ।14- আমি বললাম: অথচ আপনি যা বিশ্বাস করেন সে অনুযায়ী আপনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন!15- তিনি বললেন: আপনি কি আমাকে এমন কোনো দৃষ্টান্ত দেখাতে পারেন যা সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে অকাট্য দলিল হিসেবে গণ্য হবে? যদি আপনি তা দেখাতে পারেন, তবে তা আপনার যুক্তির স্পষ্টীকরণে সহায়ক হবে এবং আপনার বিরোধীদের বিরুদ্ধে দলিলকে সুদৃঢ় করবে, আর যে ব্যক্তি নিজের মত পরিহার করে আপনার মত গ্রহণ করবে তার অন্তরের প্রশান্তির কারণ হবে।16- তখন আমি বললাম: আপনি যদি ইনসাফের পথ অবলম্বন করেন, তবে আমি যা বলেছি তার কিছু অংশের মধ্যেই দলিল নিহিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৬)
على أنك مقيم من قولك على ما يجب عليك الانتقال: عنه وأنت تعلم أن قد طالت غفلتك فيه عما لا ينبغي أن تغفل من أمر دينك.17- قال: فاذكر شيئا إن حضرك؟.18- قلت: قال: الله عز وجل: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولاً مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} [الجمعة: 2]19- قال: فقد علمنا أن الكتاب كتاب الله فما الحكمة؟.20- قلت: سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.21- قال: أفيحتمل أن يكون يعلمهم الكتاب جملة والحكمة خاصة وهي أحكامه22- قلت: تعني بأن يبين لهم عن الله عز وعلا مثل ما بين لهم في جملة الفرائض من الصلاة والزكاة والحج وغيرها فيكون الله قد أحكم فرائض من فرائضه بكتابه وبين كيف هي لسان نبيه صلى الله عليه وسلم.23– قال: إنه ليحتمل ذلك.24- قلت: فإن ذهبت هذا المذهب فهي في معنى الأول قبله الذي لا تصل إليه إلا بخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.25- قال: فإن ذهبت مذهب تكرير الكلام؟.26- قلت: وأيهم أولى به إذا ذكر الكتاب والحكمة أن يكونا شيئين أو شيئا واحدا.28- قلت: فأظهرهما أولاهما في القرآن دلالة على ما قلنا وخلاف
আপনি আপনার কথার ওপর অটল রয়েছেন যা থেকে সরে আসা আপনার জন্য আবশ্যক; অথচ আপনি জানেন যে, আপনার দীনের ব্যাপারে যে বিষয়ে গাফিল হওয়া উচিত নয়, সে বিষয়ে আপনার গাফিলতি দীর্ঘায়িত হয়েছে।১৭- তিনি বললেন: আপনার কাছে যদি কিছু উপস্থিত (স্মরণে) থাকে তবে তা উল্লেখ করুন?১৮- আমি বললাম: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {তিনিই উম্মীদের মধ্যে তাদের মধ্য থেকে একজন রসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন} [আল-জুমুআহ: ২]১৯- তিনি বললেন: আমরা তো জেনেছি যে ‘কিতাব’ হলো আল্লাহর কিতাব, তাহলে ‘হিকমত’ কী?২০- আমি বললাম: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ।২১- তিনি বললেন: এর কি এমন সম্ভাবনা আছে যে, তিনি তাদেরকে সাধারণভাবে কিতাব এবং বিশেষভাবে হিকমত শিক্ষা দিচ্ছেন, আর তা হলো এর বিধিবিধানসমূহ?২২- আমি বললাম: আপনার উদ্দেশ্য কি এই যে, তিনি তাদের নিকট আল্লাহ আজ্জা ওয়া আলার পক্ষ থেকে বর্ণনা করবেন, যেমন তিনি তাদের জন্য সংক্ষিপ্ত ফরজসমূহ—যেমন সালাত, জাকাত, হজ এবং অন্যান্য বিষয়—বর্ণনা করেছেন? ফলে আল্লাহ তাঁর কিতাবের মাধ্যমে তাঁর ফরজসমূহের কোনো কোনোটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবানিতে তা কীভাবে পালন করতে হবে তা বর্ণনা করেছেন।২৩– তিনি বললেন: এর সম্ভাবনা অবশ্যই আছে।২৪- আমি বললাম: আপনি যদি এই মত গ্রহণ করেন, তবে তা পূর্ববর্তী প্রথম অর্থেরই অন্তর্ভুক্ত হবে, যেখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে বর্ণিত সংবাদ ব্যতীত পৌঁছানো সম্ভব নয়।২৫- তিনি বললেন: আর যদি আমি বিষয়টিকে কথার পুনরাবৃত্তি হিসেবে ধরি?২৬- আমি বললাম: যখন কিতাব ও হিকমতের কথা উল্লেখ করা হয়, তখন কোনটি অধিক যুক্তিযুক্ত—তা কি দুটি ভিন্ন বস্তু হওয়া, নাকি একই বস্তু হওয়া?২৮- আমি বললাম: তবে কুরআনের দলিলে সেই দুটির মধ্যে অধিক স্পষ্ট ও উত্তম হলো তা-ই যা আমরা বলেছি এবং এর বিপরীত...
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৭)
ما ذهبت إليه.29 - قال: وأين هي؟.30 - قلت: قال: الله عز وجل: {وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ لَطِيفاً خَبِيراً} [الأحزاب: 34] . فأخبر أنه يتلى في بيوتهن شيئان.31 - قال: فهذا القرآن يتلى فكيف تتلى الحكمة؟.32 - قلت: إنما معنى التلاوة أن ينطق بالقرآن والسنة كما ينطق بها.33 - قال: فهذه أبين في أن الحكمة غير القرآن من الأولى.34 - وقلت: افترض الله علينا إتباع نبيه صلى الله عليه وسلم.35 - قال: وأين؟.36 - قلت: قال: الله عز وجل: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} [النساء: 65] .37 - وقال: عز وجل: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: من الآية80]38 – وقال: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: من الآية63] .39 - قال: ما من شيء أولى بنا أن نقوله في الحكمة من أنها سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ولو كان بعض ما قال: أصحابنا أن الله أمر بالتسليم لحكم رسول الله صلى الله عليه وسلم وحكمته إنما هو مما أنزله لكان من لم يسلم له أن ينسب إلى التسليم لحكم رسول الله صلى الله عليه وسلم.40 - قلت: لقد فرض الله عز وجل علينا اتباع أمره فقال: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] .
আপনি যা বলেছেন।29 - তিনি বললেন: আর তা কোথায়?।30 - আমি বললাম: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {আর তোমরা স্মরণ করো আল্লাহর আয়াতসমূহ ও হিকমত (প্রজ্ঞা) থেকে যা তোমাদের ঘরে তিলাওয়াত করা হয়; নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত} [আল-আহজাব: ৩৪]। সুতরাং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাদের ঘরে দুটি বিষয় তিলাওয়াত করা হয়।31 - তিনি বললেন: এটি তো কুরআন যা তিলাওয়াত করা হয়, কিন্তু হিকমত কীভাবে তিলাওয়াত করা হয়?।32 - আমি বললাম: তিলাওয়াতের অর্থ কেবল এটাই যে, কুরআন ও সুন্নাহর বাণী উচ্চারণ করা হয় যেভাবে তা উচ্চারণ করা হয়ে থাকে।33 - তিনি বললেন: হিকমত যে কুরআন থেকে ভিন্ন বিষয়, তা প্রমাণের ক্ষেত্রে এটি প্রথম দলিলের চেয়েও অধিকতর স্পষ্ট।34 - এবং আমি বললাম: আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুসরণ করা ফরয করেছেন।35 - তিনি বললেন: এবং তা কোথায়?।36 - আমি বললাম: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {কিন্তু না, আপনার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক মনোনীত করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে বিষয়ে নিজেদের মনে কোনো সংকীর্ণতা না পায় এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} [আন-নিসা: ৬৫]।37 - এবং তিনি আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} [আন-নিসা: ৮০ এর অংশ]38 – এবং তিনি বলেছেন: {সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় (ফিতনা) আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব নেমে আসবে} [আন-নূর: ৬৩ এর অংশ]।39 - তিনি বললেন: হিকমত বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ—একথা বলার চেয়ে আমাদের জন্য অধিকতর সংগত আর কিছুই হতে পারে না। এমনকি আমাদের কোনো কোনো সাথীর কথা অনুযায়ী যদি এমনও হয় যে, আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফয়সালা ও তাঁর হিকমতের প্রতি আত্মসমর্পণের যে নির্দেশ দিয়েছেন তা মূলত তাঁর ওপর অবতীর্ণ ওহীরই অংশ ছিল, তবে যে ব্যক্তি তা মেনে নেয়নি তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফয়সালার প্রতি আত্মসমর্পণের বাধ্যবাধকতার দিকেই সম্বন্ধিত করা হবে।40 - আমি বললাম: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমাদের ওপর তাঁর নির্দেশের অনুসরণ ফরয করেছেন, তাই তিনি বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৮)
41 – قال: إنه لبين في التنزيل أن علينا فرضا أن نأخذ الذي أمرنا به وننتهي عما نهانا رسول الله صلى الله عليه وسلم.42 – قال: قلت: والفرض علينا وعلى من هو من قبلنا ومن بعدنا واحد.؟43 - قال: نعم.44 - قلت: فإن كان ذلك علينا فرضا في اتباع أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أنحيط أنه إذا فرض علينا شيئا فقد دلنا على الأمر الذي يؤخذ به فرضه؟.45 - قال: نعم.46 - قلت: فهل تجد السبيل إلى تأدية فرض الله عز وجل في اتباع أوامر رسول الله صلى الله عليه وسلم أو أحد قبلك أو بعدك ممن لم يشاهد رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا بالخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم؟.47 - وإن في أن لا آخذ ذلك إلا بالخبر لما دلني على أن الله أوجب علي أن أقبل عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.48 - قال: وقلت: له أيضا يلزمك في ناسخ القرآن ومنسوخه.49 - قال: فاذكر منه شيئا.50 – قلت: قال: تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْراً الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ} [البقرة: 180] .51 - وقال: في الفرائض: {وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ فَإِنْ كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ} [النساء: من الآية11] .52 - فزعمنا بالخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أن آية الفرائض نسخت الوصية
৪১ – তিনি বললেন: ওহীর (আল-কুরআন) মাধ্যমে এটি সুস্পষ্ট যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নির্দেশ দিয়েছেন তা গ্রহণ করা এবং যা থেকে তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা আমাদের জন্য ফরজ।৪২ – তিনি বললেন: আমি বললাম: এই ফরজ বা বিধান কি আমাদের জন্য এবং আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের জন্য অভিন্ন?৪৩ - তিনি বললেন: হ্যাঁ।৪৪ - আমি বললাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ অনুসরণ করা যদি আমাদের ওপর ফরজ হয়ে থাকে, তবে আমরা কি এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারি যে, তিনি যখন আমাদের ওপর কোনো কিছু ফরজ করেন, তখন সেই ফরজটি গ্রহণ করার বা পালনের পদ্ধতিও তিনি আমাদের বাতলে দিয়েছেন?৪৫ - তিনি বললেন: হ্যাঁ।৪৬ - আমি বললাম: তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনাবলী অনুসরণের মাধ্যমে মহান আল্লাহর বিধান পালনের ক্ষেত্রে আপনি কি নিজের জন্য, কিংবা আপনার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী এমন কারো জন্য—যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বচক্ষে দেখেননি—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সংবাদ (হাদিস) ব্যতীত অন্য কোনো পথ খুঁজে পান?৪৭ - আর সংবাদ (খবর) ব্যতীত এটি গ্রহণ করার অন্য কোনো উপায় না থাকাই আমাকে এ কথা নির্দেশ করে যে, আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে আসা বর্ণনা গ্রহণ করা আমার ওপর আবশ্যক করেছেন।৪৮ - তিনি বললেন: আমি তাকে আরও বললাম: কুরআনের নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) বিষয়ের ক্ষেত্রেও আপনার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।৪৯ - তিনি বললেন: এ থেকে কোনো উদাহরণ উল্লেখ করুন।৫০ – আমি বললাম: মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে সম্পদ রেখে যায়, তবে তার পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য যথাযথভাবে ওসিয়ত করা তোমাদের ওপর বিধিবদ্ধ করা হলো।" [সূরা আল-বাকারা: ১৮০]৫১ - আবার উত্তরাধিকারের অংশ নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: "মৃতের সন্তান থাকলে তার পিতামাতার প্রত্যেকের জন্য ত্যাজ্য সম্পদের ছয় ভাগের এক ভাগ; যদি তার কোনো সন্তান না থাকে এবং পিতামাতাই তার উত্তরাধিকারী হয়, তবে তার মায়ের জন্য তিন ভাগের এক ভাগ; আর যদি তার ভাই-বোন থাকে, তবে তার মায়ের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ।" [সূরা আন-নিসা: ১১ নং আয়াতের অংশবিশেষ]৫২ - সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতেই আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, উত্তরাধিকারের (ফারায়িজ) আয়াতটি ওসিয়তের আয়াতকে রহিত করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৯)
للوالدين والأقربين فلو كنا ممن لا يقبل الخبر فقال: قائل الوصية نسخت الفرائض هل نجد الحجة عليه إلا بخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم؟.53 - قال: هذا شبيه بالكتاب والحكمة والحجة لك ثابتة بأن علينا قبول الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد صرت إلى قبول الخبر لزم للمسلمين لما ذكرت وما في مثل معانيه في كتاب الله وليست تدخلني أنفة من إظهار الانتقال: عما كنت أرى إلى غيره إذا بانت الحجة فيه بل أتدين بأن علي الرجوع عما كنت أرى إلى ما رأيت الحق.54 - ولكن أرأيت العام في القرآن كيف جعلته عاما مرة وخاصا أخرى.55 - قلت: له لسان العرب واسع وقد تنطق بالشيء عاما تريد به الخاص فيبين في لفظها ولست أصير في ذلك بخبر إلا بخبر لازم وكذلك أنزل في القرآن فبين في القرآن مرة وفي السنة أخرى.56 – قال: فاذكر منها شيئا؟.57 - قلت: قال: الله عز وجل: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ} [الزمر: 62] .فكان مخرجا بالقول عاما يراد به العام.58 - وقال: {إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوباً وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} [الحجرات: من الآية13] فكل نفس مخلوقة من ذكر وأنثى فهذا عام يراد به العام.59 - وفيه الخصوص وقال: {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} . فالتقوى وخلافها لا تكون إلا للبالغين غير المغلوبين على عقولهم.60 - وقال: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ يَخْلُقُوا ذُبَاباً وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ} [الحج: من الآية73] وقد أحاط العلم أن كل
পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য (অসিয়ত)। আমরা যদি এমন হতাম যারা খবর (হাদিস) গ্রহণ করে না, তবে কোনো বক্তা যদি বলত যে অসিয়তের বিধান মিরাসের বিধানকে রহিত করে দিয়েছে, তবে কি আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস ব্যতীত তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পেতাম?।৫৩ - তিনি বললেন: এটি কুরআন ও হিকমতের (সুন্নাহর) সদৃশ। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে আগত খবর (হাদিস) গ্রহণ করা যে আমাদের জন্য আবশ্যক, সে বিষয়ে আপনার প্রমাণ সুপ্রতিষ্ঠিত। যেহেতু আমি খবর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাই আপনি যা উল্লেখ করেছেন এবং আল্লাহর কিতাবে এর সমার্থবোধক যা রয়েছে, তা মুসলমানদের জন্য মেনে চলা আবশ্যক। আমার পূর্বের কোনো মত থেকে সরে এসে অন্য মত গ্রহণ করতে আমার কোনো অহংবোধ নেই, যখন তার সপক্ষে প্রমাণ স্পষ্ট হয়ে যায়। বরং আমি এটাকে দ্বীনদারি মনে করি যে, আমার পূর্বের মত ছেড়ে আমি সত্যের দিকে ফিরে আসব যা আমি এখন অনুধাবন করছি।৫৪ - কিন্তু আপনি কুরআনের 'আম' (সাধারণ) শব্দ সম্পর্কে কী মনে করেন, কীভাবে আপনি একে কখনও সাধারণ হিসেবে আবার কখনও বিশেষ (খাস) হিসেবে গণ্য করেন?।৫৫ - আমি বললাম: আরবি ভাষা অত্যন্ত ব্যাপক। কখনও কোনো বিষয় সাধারণ শব্দে বলা হয় কিন্তু তার দ্বারা বিশেষ অর্থ উদ্দেশ্য থাকে, যা তার শব্দের বিন্যাসেই প্রকাশ পায়। আমি এই ক্ষেত্রে কোনো খবরের (হাদিসের) দিকে ততক্ষণ যাই না যতক্ষণ না তা গ্রহণ করা আবশ্যক হয়। একইভাবে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে; কখনও কুরআনেই তা স্পষ্ট করা হয়েছে, আবার কখনও সুন্নাহর মাধ্যমে তা স্পষ্ট করা হয়েছে।৫৬ – তিনি বললেন: এর থেকে কিছু উদাহরণ উল্লেখ করুন?।৫৭ - আমি বললাম: মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা} [সূরা যুমার: ৬২]। এখানে শব্দগতভাবে এটি একটি সাধারণ ঘোষণা যার দ্বারা সাধারণ অর্থই উদ্দেশ্য।৫৮ - তিনি আরও বলেছেন: {হে মানুষ, আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে এবং তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী} [সূরা হুজুরাত: ১৩]। এখানে প্রতিটি প্রাণীই একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্ট, সুতরাং এটি একটি সাধারণ বক্তব্য যা দ্বারা সাধারণ অর্থই উদ্দেশ্য।৫৯ - আর এর মধ্যে বিশেষত্বও (খাস) রয়েছে। তিনি বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী}। কেননা তাকওয়া এবং এর বিপরীত বিষয়টি কেবল প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে (শিশু বা জ্ঞানহীনদের জন্য নয়)।৬০ - তিনি আরও বলেছেন: {হে মানুষ, একটি উপমা পেশ করা হয়েছে, সুতরাং তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো; তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, তারা কখনও একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে এর জন্য একত্রিত হয়} [সূরা হজ: ৭৩]। আর এটি সুনিশ্চিতভাবে জানা আছে যে প্রতিটি...
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১০)
الناس في زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكونوا يدعون من دونه شيئا؛ لأن فيهم المؤمن ومخرج الكلام عاما فإنما أريد من كان هكذا.61- وقال: {وَاسْأَلْهُمْ عَنِ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ حَاضِرَةَ الْبَحْرِ إِذْ يَعْدُونَ فِي السَّبْتِ} [الأعراف: 163] .دل على أن العادين فيه أهلها دونها.62- وذكرت له أشياء مما كتبت في كتابي.63- فقال: هو كما قلت: كله ولكن بين لي العام الذي لا يوجد في كتاب الله أنه أريد به خاص.64- قلت: فرض الله الصلاة ألست تجدها على الناس عاما.65- قال: بلى.66 - {يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ يَخْلُقُوا ذُبَاباً وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ} [الحج: من الآية73]-قلت: وتجد الحيض مخرجات منه67 – قال: نعم.68 - وقلت: وتجد الزكاة على الأموال عامة وتجد بعض الأموال مخرجا منها69 - قال: بلى70 - قلت: وتجد الوصية للوالدين منسوخة بالفرائض71 - قال: نعم72 - قلت: وفرض المواريث للآباء وللأمهات عاما ولم يورث المسلمون كافرا من مسلم ولا عبدا من حر ولا قاتلا ممن قتل بالسنة؟.73 – قال: نعم ونحن نقول ببعض هذا.74 - قلت: فما دلك على هذا.75 - قال: السنة لأنه ليس فيه نص قرآن.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ের মানুষ তাঁর (আল্লাহর) পরিবর্তে অন্য কিছুকে আহ্বান করত না; কেননা তাদের মধ্যে মুমিনগণও ছিলেন। যদিও বক্তব্যটি সাধারণ শব্দে ব্যক্ত হয়েছে, তবে এর দ্বারা কেবল তাদেরই উদ্দেশ্য করা হয়েছে যারা এরূপ করত।৬১- এবং তিনি বলেছেন: {আর আপনি তাদের সেই জনপদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন যা সমুদ্রতীরে অবস্থিত ছিল, যখন তারা শনিবারের বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করছিল} [আল-আরাফ: ১৬৩]। এটি নির্দেশ করে যে, সীমালঙ্ঘনকারী ছিল ওই জনপদের অধিবাসীরা, স্বয়ং জনপদ নয়।৬২- আর আমি আমার কিতাবে যা লিখেছি তার মধ্য থেকে কিছু বিষয় তাঁর কাছে উল্লেখ করলাম।৬৩- তিনি বললেন: বিষয়টি আপনি যেমন বলেছেন সবটুকুই তেমনই; তবে আমার কাছে এমন সাধারণ (আম) বিধান স্পষ্ট করুন যা আল্লাহর কিতাবে এমনভাবে পাওয়া যায় না যে তার দ্বারা বিশেষ (খাস) অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে।৬৪- আমি বললাম: আল্লাহ সালাত ফরজ করেছেন; আপনি কি একে মানুষের ওপর সাধারণ হিসেবে পান না?৬৫- তিনি বললেন: হ্যাঁ, অবশ্যই।৬৬ - {হে মানুষ, একটি উদাহরণ পেশ করা হলো, সুতরাং তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো; আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাকো, তারা কখনও একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা এর জন্য সকলে একত্রিত হয়} [আল-হাজ: ৭৩]- আমি বললাম: আর আপনি ঋতুমতী নারীদের এই বিধান থেকে বহির্ভূত পাবেন।৬৭ – তিনি বললেন: হ্যাঁ।৬৮ - আর আমি বললাম: আপনি সম্পদের ওপর জাকাতকে সাধারণ হিসেবে পাবেন, অথচ কিছু সম্পদকে তা থেকে বহির্ভূত পাবেন।৬৯ - তিনি বললেন: হ্যাঁ, অবশ্যই।৭০ - আমি বললাম: আর আপনি পিতামাতার জন্য অসিয়ত করার বিধানকে মিরাসের বিধান দ্বারা রহিত পাবেন।৭১ - তিনি বললেন: হ্যাঁ।৭২ - আমি বললাম: পিতা ও মাতাদের জন্য উত্তরাধিকারের বিধানটি সাধারণ ছিল, অথচ সুন্নাহর ভিত্তিতে মুসলিমগণ কোনো কাফিরকে মুসলিমের ওয়ারিশ করেন না, কোনো দাসকে স্বাধীন ব্যক্তির ওয়ারিশ করেন না এবং কোনো হত্যাকারীকে তার নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ করেন না?৭৩ – তিনি বললেন: হ্যাঁ, আর আমরাও এর কোনো কোনোটি বলে থাকি।৭৪ - আমি বললাম: তবে কিসে আপনাকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিল?৭৫ - তিনি বললেন: সুন্নাহ; কারণ এ বিষয়ে কুরআনের কোনো সুস্পষ্ট পাঠ নেই।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১১)
76 - قلت: فقد بان لك في أحكام الله تعالى في كتابه فرض الله طاعة رسوله والموضع الذي وضعه الله عز وجل به من الإبانة عنه ماأنزل خاصا وناسخا ومنسوخا؟.77 - قال: نعم وما زلت أقول بخلاف هذا حتى بان لي خطأ من ذهب هذا المذهب ولقد ذهب فيه أناس مذهبين أحد الفريقين لا يقبل خبرا وفي كتاب الله البيان.78 - قلت: فما لزمه؟.79 - قال: أفضى به عظيم إلى عظيم من الأمر فقال: من جاء بما يقع عليه اسم صلاة وأقل ما يقع عليه اسم زكاة فقد أدى ما عليه لا وقت في ذلك ولو صلى ركعتين في كل يوم أو قال: في كل أيام وقال: ما لم يكن فيه كتاب الله فليس على أحد فيه فرض!.80 - وقال: غيره ما كان فيه قرآن يقبل فيه الخبر فقال: بقريب من قوله فيما ليس فيه قرآن فدخل عليه ما دخل على الأول أو قريب منه ودخل عليه أن صار إلى قبول الخبر بعد رده وصار إلى أن لا يعرف ناسخا ولا منسوخا ولا خاصا ولا عاما.81 - والخطأ ومذهب الضلال في هذين المذهبين واضح لست أقول بواحد منهما.82 - ولكن هل من حجة في أن تبيح المحرم بإحاطة بغير إحاطة83 - قلت: نعم.84 - قال: ما هو؟85 - قلت: ما تقول في هذا لرجل إلى جنبي أمحرم الدم والمال86 - قال: نعم.
76 - আমি বললাম: মহান আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত তাঁর বিধানাবলির মাধ্যমে কি আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের আনুগত্য করাকে ফরজ করেছেন এবং মহান আল্লাহ তাঁকে যে সুউচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছেন তা হলো তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বিশেষ (খাস), রহিতকারী (নাসিখ) ও রহিত (মানসুখ) বিধানাবলি ব্যাখ্যা করে দেবেন?77 - তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি এর বিপরীত কথাই বলে আসছিলাম যতক্ষণ না এই মতাবলম্বীদের ভুল আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে। এ বিষয়ে মানুষ দুটি পথে বিভক্ত হয়েছে; তাদের একটি দল কোনো খবর (হাদিস) গ্রহণ করে না, যেহেতু আল্লাহর কিতাবেই সবকিছুর বর্ণনা রয়েছে।78 - আমি বললাম: এর ফলে তার ওপর কী (পরিণাম) আপতিত হলো?79 - তিনি বললেন: একটি গুরুতর বিষয় তাকে অন্য একটি গুরুতর বিষয়ের দিকে ধাবিত করল। সে বলল: যাকে ‘সালাত’ বলা যায় এমন কিছু এবং যাকে ‘যাকাত’ বলা যায় এমন সর্বনিম্ন কিছু যদি কেউ আদায় করে, তবেই তার দায়িত্ব পালিত হয়ে গেল; এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। এমনকি সে যদি প্রতিদিন বা নির্দিষ্ট দিন পরপর মাত্র দুই রাকাত নামাজ পড়ে (তবুও তা যথেষ্ট)। সে আরও বলল: আল্লাহর কিতাবে যা নেই, তা পালন করা কারো ওপর ফরজ নয়!80 - এবং অন্যজন বলল: যে বিষয়ে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে কেবল সে বিষয়েই খবর (হাদিস) গ্রহণ করা হবে। আর যে বিষয়ে কুরআন নেই, সে বিষয়ে সে প্রথম ব্যক্তির বক্তব্যের অনুরূপ কথাই বলল। ফলে প্রথম ব্যক্তি যে বিভ্রান্তিতে পড়েছিল সেও অনুরূপ বা কাছাকাছি বিভ্রান্তিতে নিপতিত হলো। পরিণামে সে হাদিস প্রত্যাখ্যান করার পর পুনরায় তা গ্রহণ করতে বাধ্য হলো এবং সে নাসিখ-মানসুখ (রহিতকারী ও রহিত) কিংবা খাস-আম (বিশেষ ও সাধারণ) বিধানের পার্থক্য নিরূপণে অক্ষম হয়ে পড়ল।81 - এই উভয় মতবাদের ভুল এবং বিভ্রান্তি অত্যন্ত সুস্পষ্ট; আমি এগুলোর কোনোটিই গ্রহণ করি না।82 - কিন্তু অকাট্য জ্ঞান ব্যতীত কেবল সাধারণ ধারণার ভিত্তিতে কোনো হারামকে বৈধ করার সপক্ষে কি কোনো যুক্তি আছে?83 - আমি বললাম: হ্যাঁ, আছে।84 - তিনি বললেন: সেটি কী?85 - আমি বললাম: আমার পাশে বসা এই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তার রক্ত ও সম্পদ কি হারাম (পবিত্র ও সংরক্ষিত) নয়?86 - তিনি বললেন: হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১২)
87 - قلت: فإن شهد عليه شاهدان بأنه قتل رجلا وأخذ ماله فهو هذا الذي في يديه؟88 - قال: أقتله قودا وأدفع ماله الذي في يديه إلى ورثة المشهود له.89 - قال: قلت: أو يمكن في الشاهدين أن يشهدا بالكذب والغلط.90 - قال: نعم.91 - قلت: فكيف أبحت الدم والمال المحرمين بإحاطة بشاهدين وليسا بإحاطة؟.92 - قال: أمرت بقبول الشهادة.93 - قلت: أفتجد في كتاب الله تعالى نصا أن تقبل الشهادة على القتل94 - قال: لا ولكن استدلالا أني لا أؤمر بها إلا بمعنى.95 - قلت: أفيحتمل ذلك المعنى أن يكون لحكم غير القتل ما كان القتل يحتمل القود والدية.96 - قال: فإن الحجة في هذا أن المسلمين إذا اجتمعوا أن القتل بشاهدين فقلنا الكتاب محتمل لمعنى ما أجمعوا عليه وأن لا تخطئ عامتهم معنى كتاب الله وإن أخطأ بعضهم.97 - فقلت: له أراك قد رجعت إلى قبول الْخَبَرِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم والإجماع دونه؟.98 - قال: ذلك الواجب علي.99 - وقلت: له أنجدك إذا أبحت الدم والمال المحرمين بإحاطة بشهادة وهي غير إحاطة؟.
87 - আমি বললাম: যদি তার বিরুদ্ধে দুইজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেয় যে, সে একজন ব্যক্তিকে হত্যা করেছে এবং তার সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছে, আর সেই সম্পদটি কি এটিই যা এখন তার কবজায় রয়েছে?88 - তিনি বললেন: আমি তাকে কিসাস (প্রতিশোধ) হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেব এবং তার হাতে থাকা সম্পদ সেই ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের প্রদান করব যার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে।89 - তিনি বলেন, আমি বললাম: দুইজন সাক্ষীর ক্ষেত্রে কি মিথ্যা বলা বা ভুল করার সম্ভাবনা থাকতে পারে না?90 - তিনি বললেন: হ্যাঁ, পারে।91 - আমি বললাম: তাহলে আপনি কীভাবে দুইজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ রক্ত ও সম্পদকে বৈধ করে দিলেন, অথচ তাদের সাক্ষ্য অকাট্য নিশ্চিত জ্ঞান (ইহাতা) প্রদান করে না?92 - তিনি বললেন: আমাকে সাক্ষ্য গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।93 - আমি বললাম: আপনি কি মহান আল্লাহর কিতাবে এমন কোনো স্পষ্ট পাঠ (নস) পান যে হত্যার অভিযোগে সাক্ষ্য গ্রহণ করতে হবে?94 - তিনি বললেন: না, তবে এটি গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (ইস্তিদলাল); কারণ আমাকে কোনো গূঢ় রহস্য বা অর্থ ছাড়া এর নির্দেশ দেওয়া হয়নি।95 - আমি বললাম: সেই অর্থটি কি হত্যার দণ্ড ছাড়া অন্য কোনো বিধানের সম্ভাবনা রাখে না? যেমন হত্যার ক্ষেত্রে কিসাস এবং দিয়াত (রক্তপণ) উভয়েরই সম্ভাবনা থাকে।96 - তিনি বললেন: এ বিষয়ে যুক্তি হলো এই যে, মুসলমানগণ যখন এ বিষয়ে ঐকমত্য (ইজমা) পোষণ করেছেন যে দুইজন সাক্ষীর ভিত্তিতে হত্যার বিচার হবে, তখন আমরা বলি যে আল্লাহর কিতাব সেই অর্থের অবকাশ রাখে যার ওপর তারা ঐক্যমতে পৌঁছেছেন। আর মুসলমানদের সাধারণ জনগোষ্ঠী আল্লাহর কিতাবের মর্ম অনুধাবনে সামগ্রিকভাবে ভুল করবে না, যদিও তাদের কেউ কেউ ভুল করতে পারে।97 - আমি তাকে বললাম: আমি দেখছি আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীস এবং ইজমার অনুসরণে ফিরে এসেছেন (সরাসরি কুরআন ব্যতীত)?98 - তিনি বললেন: এটাই আমার জন্য অপরিহার্য কর্তব্য।99 - আমি তাকে বললাম: আপনি যখন অকাট্য নয় এমন সাক্ষ্যের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ রক্ত ও সম্পদকে বৈধ করছেন, তখন কি আমি আপনাকে সত্যনিষ্ঠ অবস্থানে পাব?
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
100 - قال: كذلك أمرت.101 - قلت: فإن كنت أمرت بذلك على صدق الشاهدين في الظاهر فقبلتهما على الظاهر ولا يعلم الغيب إلا الله وإنا لنطلب في المحدث أكثر مما نطلب في الشاهد فنجيز شهادة بشر لا نقبل حديث واحد منهم. ونجد الدلالة على صدق المحدث وغلطه ممن شركه من الحفاظ وبالكتاب والسنة ففي هذا دلالات ولا يمكن هذا في الشهادات.102 - قال: فأقام على ما وصفت من التفريق في رد الخبر وقبول بعضه مرة ورد مثله أخرى مع ما وصفت في بيان الخطأ فيه وما يلزمهم اختلاف أقاويلهم.103 - وفيما وصفنا ههنا وفي الكتاب قبل هذا دليل على الحجة عليهم وعلى غيرهم.104 - فقال: لي قد قبلت منك أن أقبل الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلمت أن الدلالة على معنى ما أراد بما وصفت من فرض الله طاعته فأنا إذا قبلت خبره فعن الله قبلت ما أجمع عليه المسلمون فلم يختلفوا فيه وعلمت ما ذكرت من أنهم لا يجتمعون ولا يختلفون إلا على حق إن شاء الله تعالى.105 - أفرأيت ما لم نجده نصا في كتاب الله عز وجل ولا خبرا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم مما أسمعك تسأل عنه فتجيب بإيجاب شيء وإبطاله من أين وسعك القول بما قلت: منه وأنى لك بمعرفة الصواب والخطأ فيه وهل تقول فيه اجتهادا على عين مطلوبة غائبة عنك أو تقول فيه متعسفا فمن أباح لك أن تحل وتحرم وتفرق بلا مثال موجود تحتذي عليه فإن أجزت ذلك لنفسك جاز لغيرك أن يقول بما خطر على قبله بلا مثال يصير إليه ولا عبرة توجد عليه يعرف بها خطؤه من صوابه!.
100 - তিনি বললেন: আমাকে এভাবেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।101 - আমি বললাম: আপনি যদি বাহ্যিকভাবে সাক্ষীদের সত্যবাদিতার ওপর ভিত্তি করে তা করার আদিষ্ট হয়ে থাকেন এবং আপনি তাদের বাহ্যিক অবস্থার প্রেক্ষিতে গ্রহণ করেছেন—অথচ অদৃশ্যের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে—তবে আমরা হাদিস বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে সাক্ষীর চেয়েও অধিক অনুসন্ধান করি। আমরা এমন সব ব্যক্তির সাক্ষ্য বৈধ মনে করি যাদের একজনের হাদিসও আমরা গ্রহণ করি না। আমরা বর্ণনাকারীর সত্যতা বা ভুলের প্রমাণ পাই তার সমসাময়িক হাফেজদের বর্ণনা এবং কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে। এতে অনেক সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, যা সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।102 - তিনি বললেন: অতঃপর খবর (হাদিস) প্রত্যাখ্যান করা এবং কখনও তা গ্রহণ করা ও কখনও অনুরূপ খবর প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে আপনি যে পার্থক্যের বর্ণনা দিয়েছেন, সেই সাথে ভুল স্পষ্ট করার বর্ণনা এবং তাদের বক্তব্যের বৈচিত্র্যের ফলে যা আবশ্যক হয়, তার ওপর তিনি অটল থাকলেন।103 - এখানে আমরা যা বর্ণনা করেছি এবং এর পূর্ববর্তী কিতাবে যা বর্ণনা করেছি, তাতে তাদের বিরুদ্ধে এবং অন্যদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী দলিল রয়েছে।104 - অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: আমি আপনার এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস গ্রহণ করব। আল্লাহ তাঁর আনুগত্যকে যে ফরজ করেছেন, তার আলোকে রাসূলের বাণীর গুরুত্ব আপনি যেভাবে বর্ণনা করেছেন তা আমি জেনেছি। সুতরাং আমি যখন তাঁর খবর গ্রহণ করি, তখন মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকেই তা গ্রহণ করি। আর মুসলিমরা যে বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং তাতে কোনো মতভেদ করেননি, তাও আমি গ্রহণ করেছি। আমি আপনার এই বক্তব্যও অনুধাবন করেছি যে, তারা ইনশাআল্লাহ সত্য ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে ঐক্যমত হন না বা ভিন্নমত পোষণ করেন না।105 - এখন আমাকে সেই বিষয় সম্পর্কে বলুন যা আমরা আল্লাহর কিতাবে সরাসরি পাইনি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদিসেও পাইনি, অথচ আমি আপনাকে সেসব বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতে শুনি এবং আপনি কোনো কিছু সাব্যস্ত করেন বা বাতিল করেন। আপনার জন্য এসব বলার সুযোগ কোত্থেকে এল? আর আপনিই বা এতে সঠিক ও ভুল সম্পর্কে জানলেন কীভাবে? আপনি কি আপনার সামনে অনুপস্থিত কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর ইজতিহাদ করে তা বলেন, নাকি কোনো নিয়ম ছাড়া বলেন? কে আপনাকে অনুমতি দিয়েছে যে, আপনি কোনো বিদ্যমান দৃষ্টান্ত (যা অনুসরণ করা যায়) ছাড়াই হালাল-হারাম সাব্যস্ত করবেন এবং পার্থক্য করবেন? আপনি যদি নিজের জন্য এটি বৈধ মনে করেন, তবে অন্যের জন্যও বৈধ যে সে তার অন্তরে যা উদিত হয় তা বলবে—কোনো বিদ্যমান দৃষ্টান্ত বা অনুসরণীয় মাপকাঠি ছাড়াই, যার মাধ্যমে তার ভুল ও সঠিক পার্থক্য করা যায়।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
106- فأبن من هذا إن قدرت ما تقوم لك به الحجة وإلا كان قولك بما لا حجة لك فيه مردودا عليك؟.107- فقلت: له ليس لي ولا لعالم أن يقول في إباحة شيء ولا حظره ولا أخذ شيء من أحد ولا إعطائه إلا أن يجد ذلك نصا في كتاب الله أو سنة أو إجماع أو خبر يلزم.108 - فما لم يكن داخلا في واحد من هذه الأخبار فلا يجوز لنا أن نقوله بما استحسنا ولا بما خطر على قلوبنا ولا نقوله إلا قياسا على اجتهاد به على طلب الأخبار اللازمة.109 - ولو جاز أن نقوله على غير مثال من قياس يعرف به الصواب من الخطأ جاز لكل أحد أن يقول معنا بما خطر على باله ولكن علينا وعلى أهل زماننا أن لا نقول من حيث وصفت.110 - فقال: الذي أعرف أن القول عليك ضيق إلا بأن يتسع قياسا كما وصفت ولي عليك مسئلتان:111 – إحداهما: أن تذكر الحجة في أن لك أن تقيس والقياس بإحاطة كالخبر إنما هو اجتهاد فكيف ضاق أن تقول على غير قياس واجعل جوابك فيه أخصر ما يحضرك.112 - قلت: إن الله أنزل الكتاب تبيانا لكل شيء. والتبيين من وجوه منها ما بين فرضه فيه ومنها ما أنزله جملة وأمر بالاجتهاد في طلبه ودل على ما يطلب به بعلامات خلقها في عباده دلهم بها على وجه طلب ما افترض عليهم.113 - فإذا أمرهم بطلب ما افترض دلك ذلك والله أعلم دلالتين إحداهما أن الطلب لا يكون إلا مقصودا بشيء أنه يتوجه له لا أن يطلبه الطالب متعسفا. والأخرى أنه كلفه بالاجتهاد في التأخي لما أمره بطلبه
106- আপনি যদি সক্ষম হন তবে একে স্পষ্ট করুন যা দ্বারা আপনার স্বপক্ষে দলিল প্রতিষ্ঠিত হবে; অন্যথা যে বিষয়ে আপনার কাছে কোনো দলিল নেই সে বিষয়ে আপনার বক্তব্য আপনার ওপরই প্রত্যাখ্যাত বলে গণ্য হবে।107- আমি তাকে বললাম: আমার জন্য কিংবা কোনো আলেমের জন্য কোনো কিছু বৈধ করা বা নিষিদ্ধ করা, অথবা কারো থেকে কিছু গ্রহণ করা বা কাউকে কিছু প্রদানের বিষয়ে কথা বলা জায়েজ নয়, যতক্ষণ না তিনি আল্লাহর কিতাব, সুন্নাহ, ঐক্যমত (ইজমা) অথবা কোনো অকাট্য বর্ণনায় এর সুস্পষ্ট ভাষ্য খুঁজে পান।108 - সুতরাং যা এই দলিলসমূহের কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত নয়, তা আমাদের ভালো লাগা বা মনে যা উদয় হয় তার ভিত্তিতে বলা আমাদের জন্য বৈধ নয়। বরং আমরা কেবল প্রয়োজনীয় দলিলাদি অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গবেষণালব্ধ কিয়াসের (যৌক্তিক সাদৃশ্য) সাহায্যেই তা বলতে পারি।109 - আর যদি কিয়াসের ন্যায় কোনো নমুনা ছাড়া—যার মাধ্যমে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য নিরূপণ করা যায়—বলা জায়েজ হতো, তবে প্রত্যেকের জন্যই স্বীয় খেয়ালখুশি মতো কথা বলা বৈধ হয়ে যেত। কিন্তু আমাদের এবং আমাদের সমসাময়িকদের জন্য আমি যেভাবে বর্ণনা করেছি তার বাইরে বলা সংগত নয়।110 - তিনি বললেন: আমি যা বুঝতে পারছি তা হলো, কিয়াসের মাধ্যমে সম্প্রসারিত হওয়ার অবকাশ ছাড়া আপনার জন্য মত প্রকাশের ক্ষেত্রটি অত্যন্ত সংকীর্ণ, যেমনটি আপনি বর্ণনা করেছেন। এখন আপনার প্রতি আমার দুটি প্রশ্ন রয়েছে:111 – প্রথমটি হলো: আপনি কিয়াস করতে পারেন এমন স্বপক্ষে দলিল উল্লেখ করুন; অথচ কিয়াস অকাট্য বর্ণনার (খবর) মতো সর্বব্যাপী কোনো নিশ্চিত জ্ঞান নয়, বরং এটি কেবল একটি ইজতিহাদ বা ব্যক্তিগত গবেষণা। এমতাবস্থায় কিয়াস ছাড়া কথা বলার পথ কেন সংকুচিত হয়ে গেল? আপনার উত্তরে আপনার কাছে উপস্থিত সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত যুক্তিটি তুলে ধরুন।112 - আমি বললাম: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। এই স্পষ্টীকরণ বিভিন্ন প্রকারের; তার মধ্যে কিছু বিষয় তিনি এতে সরাসরি ফরজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর কিছু বিষয় সংক্ষিপ্তভাবে অবতীর্ণ করে তা অনুসন্ধানের জন্য ইজতিহাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বান্দাদের মধ্যে সৃজিত কিছু নিদর্শনের মাধ্যমে তা অন্বেষণের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন, যার দ্বারা তিনি তাদের ওপর অর্পিত বিধানসমূহ তালাশ করার পথনির্দেশ করেছেন।113 - সুতরাং যখন তিনি তাদের ওপর অর্পিত বিধান অন্বেষণের নির্দেশ দেন, তখন এটি—আল্লাহই ভালো জানেন—দুটি বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে। একটি হলো: অন্বেষণ বা তালাশ হতে হবে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অভিমুখী যা অর্জনের জন্য সে সচেষ্ট হবে, কোনো লক্ষ্যহীন বা খামখেয়ালি অনুসন্ধান নয়। আর দ্বিতীয়টি হলো: তিনি যা অন্বেষণের নির্দেশ দিয়েছেন, তাতে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রচেষ্টায় তিনি তাকে ইজতিহাদ বা গবেষণার দায়িত্ব প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
114 - قال: فاذكر الدلالة على ما وصفت؟.115 - قلت: قال: الله عز وجل: {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} [البقرة: من الآية144] وشطره قصده وذلك تلقاؤه116 - قال: أجل.117 - قلت: وقال: {وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ النُّجُومَ لِتَهْتَدُوا بِهَا فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ} [الأنعام: من الآية97]118 - وقال: وسخر لكم النجوم والليل والنهار والشمس والقمر وخلق الجبال والأرض.119 - وجعل مسجد الحرام حيث وضعه من أرضه فكلف خلقه التوجه إليه فمنهم من يرى البيت ولا يسعه إلا الصواب القصد إليه ومنهم من يغيب عنه وتنأى داره عن موضعه فيتوجه إليه بالاستدلال بالنجوم والشمس والقمر والرياح والجبال والمهاب كل هذا قد يستعمل في بعض الحالات ويدل فيها ويستغني بعضها عن بعض.120 - قال: هذا كما وصفت ولكن على إحاطة أنت من أن تكون إذا توجهت أصبت؟.121 - قلت: أما على إحاطة من أني إذا توجهت أصبت ما أكلف وأن لم أكلف أكثر من هذا فنعم.122 - قال: أفعلى إحاطة أنت من صواب البيت بتوجهك؟.123 - قلت: أفهذا شيء كلفت الإحاطة في أصله البيت؟ وإنما كلفت الاجتهاد.
১১৪ - তিনি বললেন: তাহলে আপনি যা বর্ণনা করেছেন তার স্বপক্ষে দলিল উল্লেখ করুন?১১৫ - আমি বললাম: মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার মুখমণ্ডলকে বারবার আকাশের দিকে তাকাতে দেখছি। সুতরাং আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। অতএব আপনি আপনার মুখমণ্ডল মাসজিদুল হারামের দিকে ফিরান।} [আল-বাকারাহ: ১৪৪ এর অংশ] আর 'শাত্র' (শাতরাহু) অর্থ হলো তার অভিমুখ বা উদ্দেশ্য, আর তা হলো তার সম্মুখভাগ।১১৬ - তিনি বললেন: ঠিক।১১৭ - আমি বললাম: আর তিনি আরও বলেছেন: {আর তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্ররাজি সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা স্থলের ও সমুদ্রের অন্ধকারে সেগুলোর সাহায্যে পথ চলতে পার।} [আল-আন’আম: ৯৭ এর অংশ]১১৮ - এবং তিনি আরও বলেছেন: তিনি তোমাদের জন্য নক্ষত্ররাজি, রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্রকে অনুগত করেছেন এবং পাহাড় ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন।১১৯ - আর তিনি তাঁর জমিনে যেখানে মাসজিদুল হারামকে স্থাপন করার ইচ্ছা করেছেন সেখানে স্থাপন করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টিজগতকে তার দিকে অভিমুখী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ বায়তুল্লাহকে সরাসরি দেখতে পায়, তার জন্য সেটির মূল অভিমুখে লক্ষ্য স্থির করা ছাড়া বিকল্প নেই। আর তাদের মধ্যে যাদের কাছে তা অনুপস্থিত এবং যাদের ঘরবাড়ি তার স্থান থেকে দূরে অবস্থিত, তারা নক্ষত্ররাজি, সূর্য, চন্দ্র, বায়ুপ্রবাহ, পাহাড় এবং বাতাসের প্রবাহস্থলের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের দ্বারা সেদিকে অভিমুখী হয়। এগুলোর সবকটিই নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করে, আর একটি অন্যটির অভাব পূরণ করে।১২০ - তিনি বললেন: বিষয়টি আপনি যেমন বর্ণনা করেছেন তেমনই, কিন্তু আপনি কি সেদিকে অভিমুখী হওয়ার সময় সঠিক লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার ব্যাপারে পূর্ণ নিশ্চিত থাকেন?১২১ - আমি বললাম: আমি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছি তা পালনের মাধ্যমে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে পূর্ণ নিশ্চয়তার কথা যদি বলেন—যেহেতু আমি এর চেয়ে বেশি কিছুর জন্য আদিষ্ট হইনি—তবে উত্তর হলো, হ্যাঁ।১২২ - তিনি বললেন: তবে আপনার অভিমুখী হওয়ার মাধ্যমে কি আপনি বায়তুল্লাহর মূল অবস্থানের সঠিকতার ব্যাপারে পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারেন?১২৩ - আমি বললাম: বায়তুল্লাহর মূল অবস্থানকে পরিবেষ্টন করা বা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কি আমার ওপর আবশ্যক করা হয়েছে? আমাকে তো কেবল ইজতিহাদ (সাধ্যমতো গবেষণা ও প্রচেষ্টা) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
124 - وقال: فما كلفت؟.125 - قلت: التوجه شطر المسجد الحرام فقد جئت بالتكليف وليس يعلم الإحاطة بصواب موضع البيت آدمي إلا بعيان فأما ما غاب عنه من غيره فلا يحيط به آدمي.126 - قال: فنقول أصبت؟.127 - قلت: نعم على معنى ما قلت: أصبت على ما أمرت به.128 - فقال: ما يصح في هذا جواب أبدا غير ما أجبت به.129 - وإن من قال: كلفت الإحاطة بأن أصيب لزعم أنه لا يصلي إلا أن يحيط بأن يصيب أبدا وإن القرآن ليدل كما وصفت على أنه إنما أمر بالتوجه إلى المسجد الحرام والتوجه هو التأخي والاجتهاد لا الإحاطة.130 - فقال: اذكر غير هذا إن كان عندك؟.قال الشافعي رحمه الله تعالى:131 - وقلت: له قال الله عز وجل: {وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّداً فَجَزَاءٌ مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ} [المائدة: من الآية95]132 - على المثل يجتهدان فيه لأن الصفة تختلف فتصغر وتكبر فما أمر العدلين أن يحكما بالمثل إلا على الاجتهاد لم يجعل الحكم عليهما حتى أمرهما بالمثل.133 - وهذا يدل على مثل ما دلت عليه الآية قبله من أنه محظور عليه إذا كان في المثل اجتهاد أن يحكم بالاجتهاد إلا على المثل ولم يؤمر فيه ولا في القبلة إذا كانت مغيبة عنه فكان على غير إحاطة من أن يصيبها بالتوجه أن يكون يصلي حيث شاء في غير اجتهاد بطلب الدلائل فيها وفي
১২৪ - তিনি বললেন: তাহলে আপনাকে কীসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে?১২৫ - আমি বললাম: মাসজিদুল হারামের দিকে মুখ করা। আমি সেই অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি। কোনো মানুষই চাক্ষুষ দেখা ছাড়া কাবার হুবহু সঠিক অবস্থান নিশ্চিতভাবে জানতে পারে না। আর যা মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থাকে, কোনো মানুষই তা পূর্ণাঙ্গভাবে আয়ত্ত করতে পারে না।১২৬ - তিনি বললেন: তাহলে আমরা কি বলব যে আপনি সঠিক লক্ষ্য অর্জন করেছেন?১২৭ - আমি বললাম: হ্যাঁ, আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য অনুযায়ী: আমাকে যা আদেশ করা হয়েছে, সে অনুযায়ী আমি সঠিক করেছি।১২৮ - তিনি বললেন: আপনি যে উত্তর দিয়েছেন তা ছাড়া এ বিষয়ে অন্য কোনো উত্তর কখনোই সঠিক হতে পারে না।১২৯ - আর যে ব্যক্তি বলে: ‘আমাকে হুবহু সঠিক বিন্দুটি নির্ণয় করার পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে’, সে যেন দাবি করল যে সে কখনোই সালাত আদায় করবে না যতক্ষণ না সে হুবহু সঠিক অবস্থানটি নিশ্চিতভাবে জানতে পারে। অথচ কুরআন আমি যেভাবে বর্ণনা করেছি সেভাবেই প্রমাণ করে যে, কেবল মাসজিদুল হারামের দিকে মুখ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। আর অভিমুখ হওয়া বা মুখ করা হলো লক্ষ্য স্থির করা ও ইজতিহাদ (গবেষণা) করা, হুবহু বা নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা নয়।১৩০ - তিনি বললেন: আপনার কাছে এছাড়া আর কিছু থাকলে উল্লেখ করুন।ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেন:১৩১ - আমি তাকে বললাম: মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার হত্যা করবে, তার বিনিময় হলো অনুরূপ গৃহপালিত পশু যা সে হত্যা করেছে, যার ফয়সালা করবে তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি।} [আল-মায়িদাহ: আয়াত ৯৫-এর অংশ]১৩২ - তারা উভয়ে অনুরূপ পশু নির্ধারণে ইজতিহাদ করবেন, কারণ পশুর বৈশিষ্ট্য ভিন্ন ভিন্ন হয়—তা ছোট হতে পারে আবার বড়ও হতে পারে। আল্লাহ সেই দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সদৃশ পশু দ্বারা ফয়সালা করার যে আদেশ দিয়েছেন, তা ইজতিহাদের ভিত্তিতেই দিয়েছেন। তাদের ওপর ফয়সালা করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে কেবল তখনই যখন তাদের অনুরূপ পশু দিয়ে ফয়সালা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।১৩৩ - এটি পূর্ববর্তী আয়াতের ন্যায় প্রমাণ করে যে, যখন অনুরূপ পশু নির্ধারণে ইজতিহাদের অবকাশ থাকে, তখন সদৃশ বস্তুর অনুসন্ধান ছাড়া কেবল ইজতিহাদের মাধ্যমে ফয়সালা করা তার জন্য নিষিদ্ধ। আর শিকারের বিনিময়ের ক্ষেত্রে বা কিবলার ক্ষেত্রে যখন তা দৃষ্টির আড়ালে থাকে, তখন তাকে এই অবকাশ দেওয়া হয়নি যে, কিবলার সঠিক অবস্থান নিশ্চিতভাবে না জেনে দালিল-প্রমাণ অনুসন্ধান করে ইজতিহাদ করা ব্যতিরেকেই যেখানে ইচ্ছা সালাত আদায় করবে...
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الصيد معا.134 - ويدل على أنه لا يجوز لا حد أن يقول في شيء من العلم إلا بالاجتهاد والاجتهاد فيه كالاجتهاد في طلب البيت في القبلة والمثل في الصيد.135 - ولا يكون الاجتهاد إلا لمن عرف الدلائل عليه من خبر لازم كتاب أو سنة أو إجماع ثم يطلب ذلك بالقياس عليه بالاستدلال ببعض ما وصفت كما يطلب ما غاب عنه من البيت واشتبه عليه من مثل الصيد.136 - فأما من لا آلة فيه فلا يحل له أن يقول في العلم شيئا.137 - ومثل هذا أن الله شرط العدل بالشهود والعدل العمل بالطاعة والعقل للشهادة فإذا ظهر لنا هذه قبلنا شهادة الشاهد على الظاهر وقد يمكن أن يكون يستبطن خلافه ولكن لم يكلف المغيب فلم يرخص لنا إذا كنا على غير إحاطة من أن باطنه كظاهره أن نجيز شهادة من جاءنا إذا لم يكن فيه علامات العدل هذا يدل على ما دل عليه ما قبله.138 - وبين أن لا يجوز لا حد أن يقول في العلم بغير ما وصفنا.139 - قال: أفتوجدنية بدلالة مما يعرف الناس.140 - فقلت: نعم.141 - قال: وما هي؟.142 - قلت: أرأيت الثوب يختلف في عيبه والرقيق وغيره من السلع من يريه الحاكم ليقومه؟.143 - قال: لا يريه إلا أهل العلم به.144- قلت: لأن حالهم مخالفة حال أهل الجهالة آن يعرفوا أسوا قه
একত্রে শিকার।১৩৪ - এটি নির্দেশ করে যে, ইজতিহাদ ব্যতীত ইলমের কোনো বিষয়ে কারো জন্য কোনো কথা বলা বৈধ নয়। আর এক্ষেত্রে ইজতিহাদ হলো কিবলার জন্য কা’বা ঘর অনুসন্ধান এবং শিকারের বিনিময়ের ক্ষেত্রে সমতুল্য বস্তু খোঁজার ইজতিহাদের ন্যায়।১৩৫ - আর ইজতিহাদ কেবল তারই জন্য হতে পারে, যে কিতাব, সুন্নাহ অথবা ইজমা'র ন্যায় অকাট্য বর্ণনা থেকে এর প্রমাণাদি সম্পর্কে অবগত। অতঃপর সে আমার বর্ণিত পদ্ধতিসমূহের ন্যায় ইস্তিদলাল ও কিয়াসের মাধ্যমে তা অনুসন্ধান করবে; যেভাবে সে তার নিকট থেকে অদৃশ্য কা’বা ঘর অনুসন্ধান করে কিংবা শিকারের সমতুল্য বস্তু অস্পষ্ট হলে তা খুঁজে বের করে।১৩৬ - তবে যার মাঝে (ইজতিহাদের) প্রয়োজনীয় উপকরণ নেই, ইলমের বিষয়ে কোনো কথা বলা তার জন্য বৈধ নয়।১৩৭ - এর দৃষ্টান্ত হলো, আল্লাহ তা‘আলা সাক্ষীদের ক্ষেত্রে ‘আদল’ (ন্যায়নিষ্ঠা)-কে শর্ত করেছেন। আর ‘আদল’ হলো আনুগত্যের ওপর আমল করা এবং সাক্ষ্য প্রদানের বুদ্ধিমত্তা রাখা। যখন আমাদের নিকট এগুলো প্রকাশ পায়, তখন আমরা সাক্ষীর বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করি। হতে পারে তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা এর বিপরীত, কিন্তু আমাদের অদৃশ্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সুতরাং আমাদের জন্য কারো সাক্ষ্য গ্রহণ করা বৈধ নয়—যদি আমরা এই বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান না রাখি যে তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা তার বাহ্যিক অবস্থার ন্যায়—যতক্ষণ না তার মাঝে ন্যায়নিষ্ঠার নিদর্শনসমূহ প্রকাশ পায়। এটি পূর্বের আলোচিত বিষয়েরই প্রমাণ বহন করে।১৩৮ - আর এটি স্পষ্ট যে, আমাদের বর্ণিত পদ্ধতি ব্যতীত কারো পক্ষে ইলমের বিষয়ে কথা বলা বৈধ নয়।১৩৯ - তিনি বললেন: আপনি কি সাধারণ মানুষের পরিচিত কোনো প্রমাণের মাধ্যমে আমাকে এটি বুঝিয়ে দেবেন?১৪০ - আমি বললাম: হ্যাঁ।১৪১ - তিনি বললেন: সেটি কী?১৪২ - আমি বললাম: আপনি কি কাপড়ের ত্রুটি, গোলাম কিংবা অন্যান্য পণ্যের মূল্যের পার্থক্যের বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন? বিচারক এগুলোর মূল্য নির্ধারণের জন্য কার কাছে তা পেশ করেন?১৪৩ - তিনি বললেন: তিনি কেবল এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের নিকটই তা পেশ করেন।১৪৪- আমি বললাম: কারণ তাদের অবস্থা মূর্খদের অবস্থার বিপরীত, যেহেতু তারা এর বাজার সম্পর্কে অবগত...
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يوم يرونه وما يكون فيه عيبا ينقصه وما لا ينقصه؟.145 - قال: نعم.146 - قلت: ولا يعرف ذلك غيرهم؟.147 - قال: نعم.148 - قلت: ومعرفتهم فيه بالاجتهاد بأن يقيسوا الشيء بعضه ببعض على سوق يومها؟.148 - قال: نعم.150 - قلت: وقياسهم اجتهاد لا إحاطة؟.151 - قال: نعم.152 - قلت: فإن قال: غيرهم من أهل العقول نحن نجتهد إذ كنت على غير إحاطة من أن هؤلاء أصابوا أليس تقول لهم إن هؤلاء يجتهدون عالمين وأنت تجتهد جاهلا فأنت متعسف؟.153 - فقال: ما لهم جواب غيره وكفى بهذا جوابا تقوم به الحجة.154 - قلت: ولو قال: أهل العلم به إذا كنا على غير إحاطة نقول فيه على غير قياس ونثبت في الظن بسعر اليوم والتأمل لم يكن ذلك لهم؟.155 - قال: نعم.156 - قلت: فهذا من ليس بعالم بكتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم وبما قال: العلماء وعاقل ليس له أن يقول من جهة القياس والوقف في النظر.157 - ولو جاز لعالم أن يدع الاستدلال بالقياس والاجتهاد فيه جاز للجاهلين أن يقولوا ثم لعلهم أعذر بالقول فيه لأنه يأتي الخطأ عامدا بغير
যেদিন তারা এটি প্রত্যক্ষ করবে এবং তাতে এমন কোনো ত্রুটি আছে কি না যা এর মূল্য হ্রাস করে অথবা হ্রাস করে না? ১৪৫ - তিনি বললেন: হ্যাঁ। ১৪৬ - আমি বললাম: আর তারা ব্যতীত অন্য কেউ কি তা অবগত নয়? ১৪৭ - তিনি বললেন: হ্যাঁ। ১৪৮ - আমি বললাম: আর এই বিষয়ে তাদের জ্ঞান কি ইজতিহাদের মাধ্যমে, যেখানে তারা সেদিনের বাজার দরের ভিত্তিতে এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে তুলনা (কিয়াস) করে? ১৪৮ - তিনি বললেন: হ্যাঁ। ১৫০ - আমি বললাম: আর তাদের এই কিয়াস কি কেবলই ইজতিহাদ (গবেষণালব্ধ অনুমান), কোনো পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান (ইহাতা) নয়? ১৫১ - তিনি বললেন: হ্যাঁ। ১৫২ - আমি বললাম: যদি বুদ্ধিমানদের মধ্য থেকে অন্য কেউ বলে, "যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে এরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই আমরাও ইজতিহাদ করব," তখন আপনি কি তাদের বলবেন না যে, "এরা জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও ইজতিহাদ করছে, আর আপনি অজ্ঞতা নিয়ে ইজতিহাদ করছেন, সুতরাং আপনি তো কেবল অন্যায্য পথ অবলম্বনকারী?" ১৫৩ - তিনি বললেন: তাদের জন্য এর অতিরিক্ত কোনো উত্তর নেই এবং হুজ্জাত (প্রমাণ) কায়েম করার জন্য এটিই যথেষ্ট উত্তর। ১৫৪ - আমি বললাম: আর বিশেষজ্ঞগণ যদি বলতেন যে, "যেহেতু আমাদের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান নেই, তাই আমরা কিয়াস ব্যতিরেকে কথা বলব এবং কেবল সেদিনের মূল্য ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রাপ্ত ধারণার ওপর নির্ভর করব," তবে কি তা তাদের জন্য বৈধ হতো? ১৫৫ - তিনি বললেন: হ্যাঁ। ১৫৬ - আমি বললাম: অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ এবং আলিমগণের বক্তব্য সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন না, তিনি বুদ্ধিমান হলেও কিয়াসের মাধ্যমে কিংবা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে নিজস্ব কোনো মত ব্যক্ত করার অধিকার রাখেন না। ১৫৭ - আর যদি কোনো আলিমের জন্য কিয়াসের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ ও ইজতিহাদ বর্জন করা বৈধ হতো, তবে মূর্খদের জন্যও মতামত ব্যক্ত করা বৈধ হতো; বরং তখন সম্ভবত তাদের ওজর (অজুহাত) অধিক গ্রহণযোগ্য হতো, কারণ তিনি (আলিম) দলিল ব্যতিরেকে জেনেশুনে ভুলের পথে ধাবিত হচ্ছেন...
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
اجتهاد ويأتونه جاهلين.158 - قال: أفتوجدني حجة في غير ما وصفت أن للعالمين أن يقولوا؟.159 - قلت: نعم.160 - قال: فاذكرها؟.161 - قلت: لم أعلم مخالفا في أن من مضى من سلفنا والقرون بعدهم إلى يوم كنا قد حكم حاكمهم وأفتى مفتيهم في أمور ليس فيها نص كتاب ولا سنة وفي هذا دليل على أنهم إنما حكموا اجتهادا إن شاء الله تعالى.162- قال: أفتوجدني هذا من سنة؟.-163 قلت: نعم أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي قَيْسٍ مَوْلَى عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ فَأَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ فَأَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ".164 - وَقَالَ يَزِيدُ بْنُ الْهَادِ فَحَدَّثْتُ هَذَا الْحَدِيثَ أَبَا بَكْرِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ فَقَالَ: هَكَذَا حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.-165 قال الشافعي: فقال: فأسمعك تروي فإذا اجتهد فأصاب فله أجران وإذا اجتهد فأخطأ فله أجر.
ইজতিহাদ এবং তারা এর নিকট অজ্ঞ অবস্থায় আসে।১৫৮ - তিনি বললেন: আমি যা বর্ণনা করেছি তা ছাড়া কি অন্য কোনো প্রমাণ আপনি আমাকে দেখাতে পারেন যা বিজ্ঞজনদের জন্য বলা সংগত?।১৫৯ - আমি বললাম: হ্যাঁ।১৬০ - তিনি বললেন: তবে তা উল্লেখ করুন।১৬১ - আমি বললাম: আমাদের পূর্ববর্তী সালাফ এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মসমূহ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এমন কাউকে পাওয়া যায় না যে এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন যে, তাদের বিচারকগণ বিচার করেছেন এবং তাদের মুফতিগণ ফতোয়া দিয়েছেন এমন সব বিষয়ে যেখানে কিতাব (কুরআন) বা সুন্নাহর কোনো অকাট্য বর্ণনা ছিল না। আর ইনশাআল্লাহ তাআলা, এটিই এই কথার প্রমাণ যে তারা ইজতিহাদের মাধ্যমেই ফয়সালা করেছিলেন।১৬২- তিনি বললেন: আপনি কি সুন্নাহ থেকে এর কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেন?।-১৬৩ আমি বললাম: হ্যাঁ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাবি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাফিঈ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজীজ বিন মুহাম্মদ বিন আবু উবাইদ আদ-দারাওয়ার্দী, ইয়াজিদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি বুসর বিন সাঈদ থেকে, তিনি আমর ইবনুল আসের মুক্তদাস আবু কাইস থেকে, তিনি আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "যখন কোনো বিচারক বিচার করার সময় ইজতিহাদ করে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, তবে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব। আর যখন সে বিচার করতে গিয়ে ইজতিহাদ করে এবং ভুল করে, তবে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব।"১৬৪ - ইয়াজিদ বিন আল-হাদ বলেন, আমি আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আমর বিন হাজমের কাছে এই হাদিসটি বর্ণনা করলাম, তখন তিনি বললেন: আবু সালামা আমাকে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।-১৬৫ শাফিঈ বলেন: তিনি বললেন: আমি আপনাকে বর্ণনা করতে শুনছি যে, যখন সে ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায় তখন তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব, আর যখন সে ইজতিহাদ করে ভুল করে তখন তার জন্য একটি সওয়াব।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২০)
باب حكاية قول من رد خبر الخاصةأخبرنا الربيع قال: محمد بْن إدريس الشافعي166- فوافقنا طائفة في أن تثبيت الأخبار عن النبي صلى الله عليه وسلم لازم للأمة ورأوا ما حكيت مما احتججت به على من رد الخبر حجة يثبتونها ويضيقون على كل أحد أن يخالفها.167- ثم كلمني جماعة منهم مجتمعين ومتفرقين بما لا أحفظ أن أحكي كلام المنفرد عنهم منهم وكلام الجماعة ولا ما أجبت به كلا ولا أنه قيل لي وقد جهدت على تقصي كل ما احتجوا به فاثبت أش ياء قد قلت: ها ولمن قلتها منهم وذكرت بعض ما أراه منه يلزمهم وأسأل الله تعالى العصمة والتوفيق.168- قال: فكانت جملة قولهم آن قال: وا لا يسع أحدا من الحكام ولامن المفتيين أن يفتي ولا يحكم إلا من جهة الإحاطة.169 - والإحاطة كل ما علم أنه حق في الظاهر والباطن يشهد به على الله وذلك الكتاب والسنة المجتمع عليها وكل ما اجتمع الناس ولم يتفرقوا فيه فالحكم كله واحد يلزمنا ألا نقبل منهم إلا ما قلنا مثل أن الظهر أربع لأن ذلك الذي لا ينازع فيه ولا دافع له من المسلمين ولا يسع أحدا يشك فيه.170- قلت: له لست أحسبه يخفى عليك ولا على أحد حضرك أنه لا يوجد في علم الخاصة ما يوجد في علم العامة.171- قال: وكيف؟.
বিশেষ সংবাদ (খবর আল-খাসসা) প্রত্যাখ্যানকারীদের বক্তব্যের বিবরণ সংক্রান্ত অধ্যায়রাবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ বলেছেন১৬৬- একদল লোক আমাদের সাথে এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সংবাদসমূহ (হাদিস) সাব্যস্ত করা উম্মতের জন্য আবশ্যক। আমি সংবাদ (খবর) প্রত্যাখ্যানকারীদের বিরুদ্ধে যে সকল যুক্তি উপস্থাপন করেছি, সেগুলোকে তারা অকাট্য দলিল হিসেবে গণ্য করেন এবং তারা মনে করেন যে, কারো পক্ষেই এর বিরোধিতা করা বৈধ নয়।১৬৭- অতঃপর তাদের একটি দল সম্মিলিতভাবে এবং পৃথক পৃথকভাবে আমার সাথে আলোচনা করেন। তাদের প্রত্যেকের একক বক্তব্য এবং সম্মিলিত বক্তব্য এবং আমি তাদের প্রত্যেককে কী উত্তর দিয়েছিলাম তা আমার হুবহু মনে নেই। তবে আমি তাদের উপস্থাপিত সকল যুক্তি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছি এবং এমন কিছু বিষয় লিপিবদ্ধ করেছি যা আমি তাদের বলেছিলাম এবং তাদের মধ্য থেকে কাকে বলেছিলাম তাও উল্লেখ করেছি। এছাড়া তাদের জন্য যা মানা আবশ্যক বলে আমি মনে করি তার কিছু অংশ এখানে বর্ণনা করেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট ভুল থেকে সুরক্ষা ও তাওফীক প্রার্থনা করছি।১৬৮- তিনি (শাফিঈ) বলেন: তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ ছিল এই যে, তারা বলেন: কোনো বিচারক বা ফতোয়া প্রদানকারীর জন্য এমন কোনো বিষয়ে ফতোয়া দেওয়া বা বিচার করা বৈধ নয় যা পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান (ইহাতা)-এর ভিত্তিতে অর্জিত নয়।১৬৯- আর পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান হলো সেই বিষয় যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে সত্য বলে জানা যায় এবং যার অনুকূলে আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দেওয়া যায়। আর তা হলো কিতাব (কুরআন), সুন্নাতে মুজতামাআ (সর্বসম্মত সুন্নাহ) এবং যে বিষয়ে সকল মানুষ একমত হয়েছে এবং কোনো মতভেদ করেনি। বিধানের ক্ষেত্রে সব একই পর্যায়ের; আমাদের জন্য এটিই আবশ্যক যে, আমরা যা বলেছি তা ব্যতীত অন্য কিছু তাদের নিকট থেকে গ্রহণ করব না—যেমন যোহরের নামাজ চার রাকাত হওয়া; কারণ এটি এমন একটি বিষয় যাতে মুসলমানদের মধ্যে কোনো বিতর্ক নেই, কেউ তা অস্বীকার করে না এবং এতে সন্দেহ পোষণ করারও কারো অবকাশ নেই।১৭০- আমি তাকে বললাম: আমার মনে হয় না যে, এটি আপনার কাছে বা আপনার মজলিসে উপস্থিত কারো কাছে অস্পষ্ট যে, বিশেষ বিদগ্ধজনের জ্ঞানের (ইলমুল খাসসাহ) মধ্যে যা পাওয়া যায়, তা সাধারণ মানুষের জ্ঞানের (ইলমুল আম্মাহ) মধ্যে পাওয়া যায় না।১৭১- তিনি বললেন: সেটি কীভাবে?
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২১)
172- قلت: علم العامة على ما وصفت لا تلقى أحدا من المسلمين إلا وجدت علمه عنده ولا يرد منها أحد شيئا على أحد فيه كما وصفت في جمل الفرائض وعدد الصلوات وما أشبهها.173- وعلم الخاصة علم السابقين والتابعين من بعدهم إلى من لقيت تختلف أقاويلهم وتتباين تباينا بينا فيما ليس فيه نص كتاب يتأولون فيه ولم يذهبوا إلى القياس فيحتمل القياس الاختلاف فإذا اختلفوا فأقل ما عند المخالف لمن أقام عليه خلافه أنه مخطىء عنده وكذلك هو عند من خالفه وليست هكذا المنزلة الأولى.174- وما قيل قياسا فأمكن في القياس أن يخطئ القياس لم يجز عندك أن يكون القياس إحاطة ولا يشهد به كله على الله كما زعمت.175- فذكرت أشياء تلزمه عندي سوى هذا.176- فقال: بعض من حضره دع المسألة في هذا وعندنا أنه قد يدخل عليه كثير مما أدخلت عليه ولا يدخل عليه كله قال: فأنا أحدث لك غير ما قال.177- قلت: فاذكره؟.178- قال: العلم من وجوه منها ما نقلت: هـ عامة من عامة أشهد به على الله وعلى رسوله مثل جمل الفرائض.179- قلت: هذا العلم المقدم الذي لا ينازعك فيه أحد.180- ومنها كتاب يحتمل التأويل فيختلف فيه فإذا اختلف فيه فهو على ظاهره وعامه لا يصرف إلى باطن أبدا وإن احتمله إلا بإجماع من الناس عليه فإذا تفرقوا فهو على الظاهر.181- قال: ومنها ما اجتمع المسلمون عليه وحكوا عن من قبلهم
১৭২- আমি বললাম: সাধারণ জ্ঞান (ইলমুল আম্মাহ) আমি যেভাবে বর্ণনা করেছি ঠিক তেমনই; আপনি কোনো মুসলিমের সঙ্গেই এমন সাক্ষাৎ পাবেন না যার কাছে এই জ্ঞান নেই এবং আমি যেভাবে বর্ণনা করেছি সে অনুযায়ী এতে কেউ কারো ওপর কোনো কিছু প্রত্যাখ্যানও করে না। যেমন মৌলিক আবশ্যিক বিধানসমূহ (জুমালুল ফারায়িজ), সালাতের সংখ্যা এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ।১৭৩- আর বিশেষ জ্ঞান (ইলমুল খাসসাহ) হলো সালাফ বা পূর্ববর্তীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী তাবিঈন থেকে শুরু করে আমি যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি তাঁদের জ্ঞান। যে সকল বিষয়ে কিতাবের (কুরআনের) কোনো স্পষ্ট বর্ণনা (নস) নেই এবং যে বিষয়ে তাঁরা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেন, সে সকল ক্ষেত্রে তাঁদের মতামত বিভিন্ন হয় এবং তাঁদের মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। তাঁরা কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমান) ক্ষেত্রে যাননি এমনটি নয়, আর কিয়াসে মতপার্থক্যের সম্ভাবনা থাকে। যখন তাঁরা কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য করেন, তখন ভিন্নমত পোষণকারীর কাছে অপরজন ন্যূনতমপক্ষে একজন ভ্রান্ত হিসেবে গণ্য হন; এবং অপর পক্ষের কাছেও বিষয়টি তেমনই। কিন্তু প্রথম স্তরের (সাধারণ জ্ঞান) মর্যাদা এমন নয়।১৭৪- আর কিয়াসের ভিত্তিতে যা বলা হয় এবং যেখানে কিয়াসে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেখানে কিয়াসকে আপনার নিকট অকাট্য বা পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান (ইহাতা) হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয় এবং আপনি যেমনটি দাবি করেছেন তেমনভাবে এর সবটুকুর ব্যাপারে আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দেওয়াও সম্ভব নয়।১৭৫- আমি এ ছাড়াও এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করলাম যা আমার নিকট তার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে।১৭৬- তখন উপস্থিতদের মধ্য থেকে একজন বললেন: এই মাসআলাটি বাদ দিন। আমাদের নিকট প্রতীয়মান হচ্ছে যে, আপনি তার ওপর যা কিছু আরোপ করেছেন তার অনেক কিছুই তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, তবে সবটুকু নয়। তিনি বললেন: তিনি যা বলেছেন আমি আপনাকে তার বাইরে ভিন্ন কিছু বলছি।১৭৭- আমি বললাম: তবে তা ব্যক্ত করুন।১৭৮- তিনি বললেন: জ্ঞান বিভিন্ন প্রকারের। তার মধ্যে একটি হলো যা সর্বসাধারণের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে; আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করি, যেমন মৌলিক আবশ্যিক বিধানসমূহ।১৭৯- আমি বললাম: এটিই সেই অগ্রগণ্য জ্ঞান যে বিষয়ে কেউ আপনার সাথে বিতর্ক করবে না।১৮০- আর তার মধ্যে রয়েছে কিতাব (কুরআন) যা ব্যাখ্যার (তাবিল) অবকাশ রাখে এবং তাতে মতপার্থক্য ঘটে। যখন এতে মতপার্থক্য হয়, তখন এটি এর বাহ্যিক (জাহির) এবং সাধারণ অর্থের ওপরই বহাল থাকে; মানুষের ঐক্যবদ্ধ ইজমা ব্যতীত একে কখনোই বাহ্যিক অর্থ থেকে রূপক বা গূঢ় অর্থের দিকে সরিয়ে নেওয়া যাবে না, যদিও তার অবকাশ থাকে। তবে তারা যখন মতপার্থক্য করে, তখন এটি বাহ্যিক অর্থের ওপরই প্রতিষ্ঠিত থাকবে।১৮১- তিনি বললেন: আর তার মধ্যে রয়েছে এমন বিষয় যে বিষয়ে মুসলিমগণ একমত হয়েছেন এবং তাঁরা তাঁদের পূর্ববর্তীদের থেকে তা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২২)
الاجتماع عليه وإن لم يقولوا هذا بكتاب ولا سنة فقد يقوم عندي مقام السنة المجتمع عليها وذلك أن إجماعهم لا يكون عن رأي لأن الرأي إذا كان تفرق فيه.182 - قلت: فصف لي ما بعده؟.183 - قال: ومنها علم الخاصة ولا تقوم الحجة بعلم الخاصة حتى يكون نقله من الوجه الذي يؤمن فيه الغلط.184 - ثم آخر هذا القياس ولا يقاس منه الشيء بالشيء حتى يكون مبتداه ومصدره ومصرفه فيما بين أن يبتدئ إلى أن ينقضي سواء فيكون في معنى الأصل.185 - ولا يسع التفرق في شيء مما وصفت من سبيل العلم.186 - والأشياء على أصولها حتى تجتمع العامة على إزالتها عن أصولها.187 - والإجماع حجة على كل شيء لأنه لا يمكن فيه الخطأ.188 - قال: فقلت: أما ما ذكرت من العلم الأول من نقل العوام عن العوام فكما قلت.189 - أفرأيت الثاني الذي قلت: لا تختلف فيه العوام بل تجتمع عليه وتحكي عن من قبلها الاجتماع عليه أتعرفه فتصفه أو تعرف العوام الذين ينقلون عن العوام أهم كمن قلت: في جمل الفرائض فأولئك العلماء ومن لا ينسب إلى العلم ولا نجد أحدا بالغا في الإسلام غير مغلوب على عقله يشك أن فرض الله أن الظهر أربع أم هو وجه غير هذا؟.190 - قال: بل هو وجه غير هذا.191 - قلت: فصفه؟.
এর ওপর ঐকমত্য পোষণ করা, যদিও তারা একে কিতাব (কুরআন) বা সুন্নাহর ভিত্তিতে হয়েছে বলে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত না করেন, তবে আমার নিকট তা সেই সুন্নাহর স্থলাভিষিক্ত যার ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত। কেননা তাদের এই ইজমা বা ঐকমত্য নিছক ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে হয় না; কারণ ব্যক্তিগত মতামত হলে তাতে অবশ্যই মতভেদ সৃষ্টি হতো।১৮২ - আমি বললাম: তবে এর পরবর্তী ধাপটি আমার কাছে বর্ণনা করুন।১৮৩ - তিনি বললেন: তার মধ্যে একটি হলো বিশেষ জ্ঞান (ইলমুল খাসসাহ)। তবে বিশেষ জ্ঞানের মাধ্যমে ততক্ষণ পর্যন্ত হুজ্জত বা দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না, যতক্ষণ না তা এমন নির্ভরযোগ্য পন্থায় বর্ণিত হয় যাতে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।১৮৪ - এরপর সর্বশেষ স্তরটি হলো কিয়াস (অনুমান বা তুলনা)। এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়াস করা যাবে না, যতক্ষণ না এর সূচনা, উৎস এবং এর প্রয়োগ—শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত—উভয় ক্ষেত্রে সমান হয়, যাতে তা মূল বিষয়ের (আসল) অর্থে উপনীত হয়।১৮৫ - জ্ঞানের যে পথগুলো আমি বর্ণনা করেছি, সেগুলোর কোনোটিতেই মতভেদ করার অবকাশ নেই।১৮৬ - যাবতীয় বিষয় তার মূল অবস্থার ওপর বহাল থাকবে, যতক্ষণ না সর্বসাধারণ একে তার মূল অবস্থা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়।১৮৭ - আর ইজমা (ঐকমত্য) প্রতিটি বিষয়ের ওপর চূড়ান্ত দলিল, কারণ এতে ভুল হওয়া অসম্ভব।১৮৮ - তিনি বলেন, আমি বললাম: আপনি প্রথম প্রকারের জ্ঞান সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন—যা সর্বসাধারণ থেকে সর্বসাধারণের নিকট বর্ণিত—তা ঠিক তেমনই যেমনটি আপনি বলেছেন।১৮৯ - আপনি কি দ্বিতীয় প্রকারটি লক্ষ্য করেছেন যে সম্পর্কে আপনি বলেছিলেন: এতে সাধারণ মানুষ ভিন্নমত পোষণ করে না, বরং এর ওপর ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং তাদের পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে ঐকমত্যের বর্ণনা দেয়? আপনি কি এটি সম্পর্কে সম্যক অবগত যে এর বর্ণনা দেবেন? অথবা আপনি কি সেই সর্বসাধারণ সম্পর্কে জানেন যারা সর্বসাধারণ থেকে বর্ণনা করে—তারা কি তেমনই যেমনটি আপনি ফরজের সারসংক্ষেপের ক্ষেত্রে বলেছেন? কারণ সেখানে আলেমগণ যেমন রয়েছেন, তেমনি এমন ব্যক্তিও আছেন যার ইলমের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই; তবুও আমরা ইসলাম গ্রহণকারী এমন কোনো প্রাপ্তবয়স্ক বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিকে পাব না, যে সন্দেহ পোষণ করে যে আল্লাহর পক্ষ থেকে জোহরের নামাজ চার রাকাত ফরজ হওয়া সম্পর্কে। নাকি বিষয়টি অন্য কোনো আঙ্গিকের?১৯০ - তিনি বললেন: বরং এটি এর ভিন্ন একটি দিক।১৯১ - আমি বললাম: তবে সেটি বর্ণনা করুন।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
192- قال: هذا إجماع العلماء دون من لا علم له يجب اتباعهم فيه لأنهم منفردون بالعلم دونهم مجتمعون عليه فإذا اجتمعوا قامت بهم الحجة على من لا علم له وإذا افترقوا لم يقم بهم على أحد حجة وكان الحق فيما تفرقوا فيه أن ترد إلى القياس على ما اجتمعوا عليه فأي حال وجدتهم بها دلتني على حال من قبلهم إن كانوا مجتمعين من جهة علمت أن من كان قبلهم من أهل العلم مجتمعون من كل قرن لأنهم لا يجتمعون من جهة فإن كانوا متفرقين علمت أن من كان قبلهم كانوا متفرقين من كل قرن. وسواء كان اجتماعهم من خبر يحكونه أو غير خبر للاستدلال أنهم لا يجمعون إلا بخبر لازم وسواء إذا تفرقوا حكوا خبرا بما وافق بعضهم أو لم يحكوه لأني لا أقبل من أخبارهم إلا ما أجمعوا على قوله فأما ما تفرقوا في قبوله فإن الغلط يمكن فيه فلم تقم حجة بأمر يمكن فيه الغلط.193 - قال: فقلت: له هذا تجويز إبطال الأخبار وإثبات الإجماع لأنك زعمت أن افتراقهم غير حجة كان فيه خبر أو لم يكن فيه.194 - وقلت: له ومن أهل العلم الذين إذا أجمعوا قامت بإجماعهم حجة؟.195 - قال: هم من نصبه أهل بلد من البلدان فقيها رضوا قوله وقبلوا حكمه.196 - قلت: فمثل الفقهاء الذين إذا أجمعوا كانوا حجة أرأيت إن كانوا عشرة فغاب واحد أو حضر ولم يتكلم أتجعل التسعة إذا اجتمعوا أن يكون قولهم حجة؟.197 - قال: فإن قلت: لا.
192- তিনি বললেন: এটি সেই সকল আলেমদের ঐকমত্য, যারা অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত নন। তাদের অনুসরণ করা আবশ্যক; কারণ তারাই কেবল জ্ঞানের অধিকারী, অন্যরা নয়। যখন তারা কোনো বিষয়ে একমত হন, তখন তাদের সেই সিদ্ধান্ত অজ্ঞদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু তারা যখন মতভেদ করেন, তখন তাদের কারো বক্তব্যই অন্য কারো জন্য অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় না। এমতাবস্থায় তাদের মতভেদপূর্ণ বিষয়টির ক্ষেত্রে সত্য নির্ণয়ের সঠিক পদ্ধতি হলো, তারা যে বিষয়ে একমত হয়েছেন তার আলোকে বিষয়টিকে কিয়াস বা অনুমানসিদ্ধ যুক্তির মাধ্যমে সমাধান করা। তারা যে অবস্থায় থাকুন না কেন, তা আমাকে তাদের পূর্ববর্তীদের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেয়। যদি আমি দেখি যে তারা কোনো বিষয়ে একমত হয়েছেন, তবে আমি বুঝতে পারি যে তাদের পূর্ববর্তী প্রত্যেক যুগের আলেমগণও সে বিষয়ে একমত ছিলেন; কারণ তারা ভিত্তিহীনভাবে ঐক্যবদ্ধ হন না। আর যদি তারা মতভেদ করেন, তবে আমি বুঝতে পারি যে তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যেও প্রত্যেক যুগে মতভেদ বিদ্যমান ছিল। তাদের এই ঐকমত্য কোনো বর্ণিত সংবাদের ভিত্তিতে হোক বা অন্য কোনো বিচারবুদ্ধিপ্রসূত নিরিখে হোক—তা সমান; কেননা তারা কোনো অকাট্য ভিত্তি ব্যতীত ঐক্যবদ্ধ হন না। একইভাবে, যখন তারা মতভেদ করেন, তখন তাদের কেউ কোনো বর্ণনা পেশ করুন বা না করুন—তা সমান। কেননা আমি তাদের বর্ণিত বিষয়সমূহের মধ্যে কেবল সেটিই গ্রহণ করি যেটির গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে তারা একমত হয়েছেন। আর যেটির গ্রহণে তারা মতভেদ করেছেন, সেখানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; আর যেখানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেখানে অকাট্য দলিল প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।193 - তিনি বলেন: আমি তাকে বললাম: এটি তো বর্ণনাকে (হাদিসকে) বাতিল করে কেবল ঐকমত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার নামান্তর; কারণ আপনি দাবি করেছেন যে, আলেমদের মতভেদ দলিল হিসেবে গণ্য হবে না—চাই সেখানে কোনো বর্ণনা থাকুক বা না থাকুক।194 - আমি তাকে আরও জিজ্ঞেস করলাম: সেই আলেমগণ কারা, যাদের ঐকমত্যের মাধ্যমে অকাট্য দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়?195 - তিনি বললেন: তারা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যাদেরকে কোনো জনপদের অধিবাসীরা ফকিহ বা আইনজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তাদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়েছে এবং তাদের ফয়সালা মেনে নিয়েছে।196 - আমি বললাম: সেই ফকিহগণ যাদের ঐকমত্য দলিল হিসেবে গণ্য হয়, তাদের সংখ্যা যদি দশজন হয় এবং একজন অনুপস্থিত থাকে অথবা উপস্থিত থেকেও কোনো মন্তব্য না করে, তবে কি সেই নয়জনের ঐকমত্যকে আপনি অকাট্য দলিল হিসেবে গণ্য করবেন?197 - তিনি বললেন: আমি যদি বলি: না।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
198 - قلت: أفرأيت إن مات أحدهم أو غلب على عقله أيكون للتسعة أن يقولوا؟.199 - قال: فإن قلت: نعم.200 - وكذا لو مات خمسة أو تسعة للواحد أن يقول201 - قال: فإن قلت: لا؟.202 - قلت: فأي شيء قلت: فيه كان متناقضا!.203 - قال: فدع هذا.204 - قلت: فقد وجدت أهل الكلام منتشرين في أكثر البلدان فوجدت كل فرقة منهم تنصب منها من تنتهي إلى قوله وتضعه الموضع الذي وصفت أيدخلون في الفقهاء الذين لا يقبل من الفقهاء حتى يجتمعوا معهم أم خارجون منهم؟.205 - قال: فإن قلت: إنهم داخلون فيهم؟.206 - قلت: فإن شئت فقله!.207 - قال: فقد قلته!.208 - قال: فما تقول في المسح على الخفين؟.209 - قال: فإن قلت: لا يمسح أحد لأني إذا اختلفوا في شيء رددته إلى الأصل والأصل الوضوء؟.210 - قلت: وكذلك تقول في كل شيء؟.211 - قال: نعم.202 - قلت: فما تقول في الزاني الثيب أترجمه؟.213 - قال: نعم.
198 - আমি বললাম: আপনি কি মনে করেন যদি তাদের একজন মারা যায় অথবা তার বিচারবুদ্ধি লোপ পায়, তবে কি অবশিষ্ট নয়জনের জন্য কোনো মতামত ব্যক্ত করার অধিকার থাকবে?199 - তিনি বললেন: যদি আমি বলি: হ্যাঁ।200 - তেমনিভাবে যদি পাঁচজন অথবা নয়জনও মারা যায়, তবে অবশিষ্ট একজনের পক্ষেও মতামত ব্যক্ত করা সম্ভব হবে।201 - তিনি বললেন: যদি আমি বলি: না?202 - আমি বললাম: তবে এ বিষয়ে আপনি যা-ই বলবেন, তা স্ববিরোধী হবে!203 - তিনি বললেন: তবে এটি বাদ দিন।204 - আমি বললাম: আমি কালামশাস্ত্রবিদদের অধিকাংশ দেশে ছড়িয়ে থাকতে দেখেছি। আমি দেখেছি তাদের প্রতিটি দল নিজেদের মধ্য থেকে এমন একজনকে নির্ধারণ করে রেখেছে যার সিদ্ধান্তের কাছে সবাই ফিরে যায় এবং তাকে সেই অবস্থানে বসায় যা আমি ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। এমতাবস্থায় তারা কি সেই ফকীহগণের অন্তর্ভুক্ত হবেন যাদের ঐক্যমত্য ব্যতীত অন্য ফকীহগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না, নাকি তারা তাদের বহির্ভূত?205 - তিনি বললেন: যদি আমি বলি যে তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত?206 - আমি বললাম: আপনি চাইলে তা বলতে পারেন!207 - তিনি বললেন: আমি তবে তা-ই বললাম!208 - তিনি বললেন: চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ করার বিষয়ে আপনি কী বলেন?209 - তিনি বললেন: যদি আমি বলি: কেউ মাসাহ করবে না; কারণ যখন তারা কোনো বিষয়ে মতভেদ করে, তখন আমি বিষয়টি মূলের দিকে ফিরিয়ে নিই, আর মূল হলো ওযু (পা ধৌত করা)?210 - আমি বললাম: আপনি কি সব বিষয়েই এমনটি বলেন?211 - তিনি বললেন: হ্যাঁ।202 - আমি বললাম: তবে বিবাহিত ব্যভিচারীর বিষয়ে আপনি কী বলেন? আমি কি তাকে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড দেব?213 - তিনি বললেন: হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
214 - قلت: كيف ترجمه؟ وممن نص بعض الناس علماء أن لا رجم على زان لقول الله تعالى: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ} [النور: من الآية2] فكيف ترجمه ولم ترد إلى الأصل من أن دمه محرم حتى يجتمعوا على تحليله ومن قال: هذا القول يحتج بأنه زان داخل في معنى الآية وأن يجلد مائة؟.215 - قال: إن أعطيتك هذا دخل علي فيه شيء تجاوزه القدر كثرة؟.216 - قلت: أجل.217 - قال: فلا أعطيك هذا وأجيبك فيه الجواب الأول!.218 - قلت: فقل؟.219 - قال: لا أنظر إلى قليل من المفتيين وأنظر إلى الأكثر.220 - قلت: أفتصف القليل الذين لا تنظر إليهم أهم إن كانوا أقل من نصف الناس أو ثلثهم أو ربعهم؟.221 - قال: ما أستطيع أن أحدهم ولكن الأكثر.222 - قلت: أفعشرة أكثر من تسعة؟.223 - قال: هؤلاء متقاربون!.224 - قلت: فحدهم بما شئت؟.225 - قال: ما أقدر أن أحدهم.226 - قلنا فكأنك أردت أن تجعل هذا القول مطلقا غير محدود فإذا أخذت بقول اختلف فيه قلت: عليه الأكثر وإذا أردت رد قول قلت: هؤلاء الاقل أترضى من غيرك بمثل هذا الجواب؟.227 - رأيت حين صرت إلى أن دخلت فيما عبت من التفرق؟.
২১৪ - আমি বললাম: আপনি তাকে কীভাবে পাথর ছুড়ে মারবেন (রজম করবেন)? অথচ একদল আলেম সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ব্যভিচারীর ওপর কোনো রজম নেই; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশত কশাঘাত করো} [আন-নূর: আয়াত ২-এর অংশ]। সুতরাং আপনি কীভাবে তাকে রজম করার বিধান দেন যখন আপনি এই মূলনীতির দিকে ফিরে যাননি যে, তার রক্ত সংহার করা হারাম যতক্ষণ না তারা এটি বৈধ করার ব্যাপারে একমত হয়? আর যারা এই মত পোষণ করেন তারা যুক্তি দেন যে, সে একজন ব্যভিচারী যে এই আয়াতের অর্থের অন্তর্ভুক্ত, ফলে তাকে একশত কশাঘাত করতে হবে।২১৫ - তিনি বললেন: যদি আমি আপনার এই কথা মেনে নেই, তবে এতে এমন কিছু বিষয় এসে পড়বে যা পরিমাণের দিক থেকে সীমাতীত হয়ে যাবে?২১৬ - আমি বললাম: হ্যাঁ।২১৭ - তিনি বললেন: তাহলে আমি আপনাকে এটি দিচ্ছি না এবং এ বিষয়ে আমি আপনাকে আমার প্রথম উত্তরটিই দিচ্ছি!২১৮ - আমি বললাম: তবে বলুন?২১৯ - তিনি বললেন: আমি অল্প সংখ্যক মুফতির মতের দিকে তাকাই না, বরং আমি সংখ্যাগরিষ্ঠের দিকে তাকাই।২২০ - আমি বললাম: আপনি কি সেই অল্প সংখ্যককে সংজ্ঞায়িত করবেন যাদের দিকে আপনি তাকান না? তারা কি মানুষের অর্ধেকের কম, নাকি এক-তৃতীয়াংশ, নাকি এক-চতুর্থাংশ?২২১ - তিনি বললেন: আমি তাদের কোনো সীমা নির্ধারণ করতে পারি না, তবে (আমি অনুসরণ করি) সংখ্যাগরিষ্ঠকে।২২২ - আমি বললাম: তবে দশ কি নয়ের চেয়ে বেশি নয়?২২৩ - তিনি বললেন: এরা তো কাছাকাছি!২২৪ - আমি বললাম: তবে আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী তাদের সীমা নির্ধারণ করুন?২২৫ - তিনি বললেন: আমি তাদের সীমা নির্ধারণ করতে সক্ষম নই।২২৬ - আমরা বললাম: তবে মনে হচ্ছে আপনি এই কথাটিকে নিঃশর্ত ও অসংজ্ঞায়িত রাখতে চাইছেন। ফলে যখন আপনি এমন কোনো মত গ্রহণ করেন যে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তখন বলেন: "সংখ্যাগরিষ্ঠরা এর ওপর রয়েছে"; আর যখন আপনি কোনো মত প্রত্যাখ্যান করতে চান, তখন বলেন: "এরা সংখ্যালঘু"। আপনি কি অন্য কারও কাছ থেকে এমন উত্তরে সন্তুষ্ট হতেন?২২৭ - আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে, শেষ পর্যন্ত আপনি সেই অনৈক্যের মধ্যেই নিপতিত হয়েছেন যাকে আপনি ত্রুটিপূর্ণ মনে করতেন?
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
228 - أرأيت لو كان الفقهاء كلهم عشرة فزعمت أنك لا تقبل إلا من الأكثر فقال: ستة فاتفقوا وخالفهم أربعة أليس قد شهدت للستة بالصواب وعلى الأربعة بالخطأ؟.229 - قال: فإن قلت: بلى؟.230 - قلت: فقال: الأربعة في قول غيره فاتفق اثنان من الستة معهم وخالفهم أربعة؟.231 - قال: فآخذ بقول الستة.232 - قلت: فتدع قول المصيبين بالاثنين وتأخذ بقول المخطئين بالاثنين وقد أمكن عليهم مرة وأنت تنكر قول ما أمكن فيه الخطأ وهذا قول متناقض.233 - وقلت: له أرأيت قولك لا تقوم الحجة إلا بما أجمع عليه الفقهاء في جميع البلدان أتجد السبيل إلى إجماعهم كلهم ولا تقوم الحجة على أحد حتى تلقاهم كلهم أو تنقل عامة من عامة عن كل واحد منهم؟.234 - قال: ما يوجد هذا.235 - قلت: فإن قبلت عنهم بنقل الخاصة فقد قبلت فيما عبت وإن لم تقبل عن كل واحد إلا بنقل العامة لم نجد في أصل قولك ما اجتمع عليه البلدان إذا لم تقبل نقل الخاصة لأنه لا سبيل إليه ابتداء لأنهم لا يجتمعون لك في موضع ولا تجد الخبر عنهم بنقل عامة عن عامة.236 - قلت: فأسمعك قلدت أهل الحديث وهم عندك يخطئون فيما يدينون به من قبول الحديث فكيف تأمنهم على الخطأ فيما قلدوه الفقه ونسبوه إليه فأسمعك قلدت من لا ترضاه وأفقه الناس عندنا وعند أكثرهم أتبعهم للحديث وذلك أجهلهم لأن الجهل قبول خبر الانفراد
228 - আপনি কি ভেবে দেখেছেন, যদি ফকিহগণের মোট সংখ্যা দশজন হতো এবং আপনি দাবি করতেন যে আপনি কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের মতই গ্রহণ করবেন; অতঃপর ছয়জন কোনো বিষয়ে একমত হলেন এবং চারজন তাদের বিরোধিতা করলেন, তবে কি আপনি এর মাধ্যমে ওই ছয়জনকে সঠিক এবং চারজনকে ভ্রান্ত বলে সাব্যস্ত করলেন না?229 - তিনি বললেন: আমি যদি বলি, হ্যাঁ?230 - আমি বললাম: তাহলে যদি ওই চারজন অন্য কোনো মত পোষণ করেন এবং ছয়জনের মধ্য থেকে দুইজন তাদের সাথে একমত হন, আর বাকি চারজন তাদের বিরোধিতা করেন, তবে?231 - তিনি বললেন: আমি তবে ছয়জনের (সংশ্লিষ্ট পক্ষের) মতটিই গ্রহণ করব।232 - আমি বললাম: তাহলে তো আপনি দুইজনের ব্যবধানে যারা সঠিক ছিল তাদের মত বর্জন করলেন এবং দুইজনের ব্যবধানে যারা ভ্রান্ত তাদের মত গ্রহণ করলেন, অথচ তাদের ক্ষেত্রে একবার ভুলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। আপনি তো এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন যাতে ভুলের সামান্যতম অবকাশ থাকে; অথচ আপনার এই অবস্থানটি একটি স্ববিরোধী বক্তব্য।233 - আমি তাকে আরও বললাম: আপনার এই দাবির ব্যাপারে কী বলবেন যে—সব শহরের ফকিহগণ যে বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করবেন তা ছাড়া দলিল প্রতিষ্ঠিত হবে না? আপনি কি তাদের সকলের ঐকমত্য জানার কোনো পথ খুঁজে পান? আর যতক্ষণ না আপনি তাদের সকলের সাথে সাক্ষাৎ করছেন অথবা একদল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে আরেকদল বর্ণনাকারীর মাধ্যমে তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে সংবাদ না পৌঁছাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কি কারো বিরুদ্ধে দলিল প্রতিষ্ঠিত হবে না?234 - তিনি বললেন: এমনটি পাওয়া তো সম্ভব নয়।235 - আমি বললাম: আপনি যদি নির্ভরযোগ্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের (খবর-ই ওয়াহিদ) বর্ণনার মাধ্যমে তাদের মত গ্রহণ করেন, তবে তো আপনি সেই পথই গ্রহণ করলেন যা আপনি ইতিপূর্বে দোষারোপ করেছিলেন। আর যদি আপনি প্রত্যেকের পক্ষ থেকে ব্যাপক জনসমষ্টির বর্ণনা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ না করেন, তবে আপনার মূলনীতি অনুযায়ী বিভিন্ন শহরের ঐকমত্যের কোনো দৃষ্টান্তই খুঁজে পাওয়া যাবে না—যদি আপনি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বর্ণনা গ্রহণ না করেন। কারণ এটি অবগত হওয়ার তো কোনো প্রাথমিক পথ নেই, যেহেতু তারা এক স্থানে সমবেত হন না এবং আপনিও তাদের পক্ষ থেকে একদল বর্ণনাকারী থেকে আরেকদল বর্ণনাকারীর সূত্রে কোনো সংবাদ পান না।236 - আমি বললাম: আমি তো দেখছি আপনি হাদিস বিশারদদের অন্ধভাবে অনুসরণ (তাকলিদ) করছেন, অথচ আপনার মতে তারা তো হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে ভুল করে থাকেন। এমতাবস্থায় ফিকহ এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের অনুসরণের ক্ষেত্রে ভুলের ব্যাপারে আপনি কীভাবে নিশ্চিন্ত হলেন? আমি দেখছি যে, আপনি এমন একজনকে অনুসরণ করছেন যার প্রতি আপনি সন্তুষ্ট নন। আমাদের এবং তাদের অধিকাংশের মতে সবচাইতে বিজ্ঞ ফকিহ তো তিনি, যিনি হাদিসের সর্বাধিক অনুসরণ করেন। অথচ আপনার দৃষ্টিতে সেই তো সবচাইতে অজ্ঞ ব্যক্তি, কারণ (আপনার মতে) অজ্ঞতা তো হলো একক ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণ করা।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وكذلك أكثر ما يحتاجون فيه إلى الفقهاء ويفضلونهم به مع أن الذي ينصف غير موجود في الدنيا!.237 - قال: وكيف لا يوجد؟؟238 - قال: هو أو بعض من حضر معه فإني أقول إنما أنظر في هذا إلى من يشهد له أهل الحديث بالفقه.239 - قلت: ليس من بلد إلا وفيه من أهله الذين هم بمثل صفته يدفعونه عن الفقه وتنسبه إلى الجهل أو إلى أنه لا يحل له أن يفتي ولا يحل لا حد أن يقبل قوله.240 - وعلمت تفرق أهل كل بلد بينهم ثم علمت تفرق كل بلد في غيرهم.241 - فعلمنا أن من أهل مكة من كان لا يكاد يخالف قول عطاء ومنهم من كان يختار عليه ثم أفتى بها الزنجي بْن خالد فكان منهم من يقدمه في الفقه ومنهم يميل إلى قول سعيد بْن سالم ومن أصحاب كل واحد من هذين يستضعفون الأخر ويتجاوزون القصد.242 - وعلمت أن أهل المدينة كانوا يقدمون سعيد بْن المسيب ثم يتركون بعض قوله ثم حدثا في زماننا منهم مالك كان كثير منهم يقدمه وغيره يسرف عليه في تضعيف مذاهبهم قد رأيت ابن أبي الزناد يجاوز القصد في ذم مذاهبه ورأيت المغيرة وابن أبي حازم والدراوردي يذهبون من مذاهبه ورأيت من يذمهم.243 - ورأيت بالكوفة قوما يميلون إلى قول ابن أبي ليلى يذمون مذاهب أبي يوسف وآخرين يميلون إلى قول أبي يوسف يذمون مذاهب ابن أبي ليلى وما خالف أبا يوسف وآخرين يميلون إلى قول الثوري وآخرين
আর এভাবেই অধিকাংশ বিষয়ে তাদের ফকিহদের প্রয়োজন অনুভূত হয় এবং তারা তাঁদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে, যদিও ইনসাফকারী বা ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি দুনিয়াতে পাওয়া দুষ্কর।২৩৭ - তিনি বললেন: কীভাবে তা পাওয়া যাবে না?২৩৮ - তিনি অথবা তাঁর সাথে উপস্থিত কেউ বললেন: আমি তো এই বিষয়ে কেবল তাদের কথাই বিবেচনা করি যাদের ফিকহ বা প্রজ্ঞার ব্যাপারে হাদিস বিশারদগণ সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।২৩৯ - আমি বললাম: এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে তাঁর সমগুণসম্পন্ন এমন লোক নেই যারা তাঁকে ফিকহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং তাঁর প্রতি অজ্ঞতার অপবাদ দেয়; অথবা বলে যে, তাঁর জন্য ফতোয়া দেওয়া বৈধ নয় এবং অন্য কারো জন্য তাঁর কথা গ্রহণ করাও সমীচীন নয়।২৪০ - আর আপনি প্রতিটি জনপদের অধিবাসীদের নিজেদের মধ্যকার অনৈক্য সম্পর্কে অবগত আছেন, অতঃপর অন্য জনপদের মানুষের সাথে তাদের যে মতবিরোধ রয়েছে সে সম্পর্কেও জানেন।২৪১ - আমরা জানি যে, মক্কাবাসীদের মধ্যে এমন একদল লোক ছিল যারা আতা-এর মতের বিরোধিতা করত না বললেই চলে; আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের তাঁর ওপর প্রাধান্য দিত। অতঃপর সেখানে মুসলিম বিন খালিদ আজ-জানজি ফতোয়া প্রদান করেন; তখন তাদের মধ্যে কেউ তাঁকে ফিকহের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য মনে করত, আবার কেউ সাঈদ বিন সালিমের মতের দিকে ঝুঁকে পড়ত। এই উভয় পক্ষের অনুসারীরা অপর পক্ষকে দুর্বল সাব্যস্ত করত এবং ভারসাম্য বা মধ্যপন্থা লঙ্ঘন করত।২৪২ - আর আপনি জানেন যে, মদিনাবাসীরা সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করত, পুনরায় তাঁর কোনো কোনো মত বর্জনও করত। অতঃপর আমাদের যুগে তাদের মধ্যে মালেক-এর আবির্ভাব ঘটল; তাদের অনেকেই তাঁকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করত, আবার অন্যরা তাঁর মাযহাবকে তুচ্ছ প্রমাণের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করত। আমি ইবনে আবিয যিনাদকে দেখেছি তাঁর মাযহাবের নিন্দায় ভারসাম্যহীন আচরণ করতে। আবার মুগিরাহ, ইবনে আবি হাযিম ও দারাওয়ার্দিকে দেখেছি তাঁর মাযহাব অনুসরণ করতে, এবং আমি এমন লোকও দেখেছি যারা তাঁদের নিন্দা করত।২৪৩ - আমি কুফায় একদল লোককে দেখেছি যারা ইবনে আবি লায়লার মতের দিকে ঝুঁকে থাকত এবং আবু ইউসুফের মাযহাবের নিন্দা করত। আবার অন্যদের দেখেছি যারা আবু ইউসুফের মতের অনুসারী ছিল এবং ইবনে আবি লায়লার মাযহাব ও আবু ইউসুফের বিরোধিতাকারীদের নিন্দা করত। এছাড়া আরও একদলকে দেখেছি যারা আস-সাওরীর মতের অনুসারী ছিল এবং আরও...
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
إلى قول الحسن بْن صالح.244 - وبلغني غير ما وصفت من البلدان شبيه بما رأيت مما وصفت من تفرق أهل البلدان.245 - ورأيت المكيين يذهبون إلى تقديم عطاء في العلم على التابعين وفي بعض العراقين من يذهبون إلى تقديم إبراهيم النخعي.246 - ثم لعل كل صنف من هؤلاء قدم صاحبه أن يسرف في المباينة بينه وبين من قدموا عليه من أهل البلدان.247 - وهكذا رأيناهم فيمن نصبوا من العلماء الذين أدركنا.248 - فإذا كان أهل الأمصار يختلفون هذا الاختلاف فسمعت بعض من يفتي منهم يحلف بالله ما كان لفلان أن يفتي لنقص عقله وجهالته وما كان يحل لفلان أن يسكت يعني آخر من أهل العلم ورأيت من أهل البلدان من يقول ما كان يحل له أن يفتي بجهالته يعني الذي زعم غيره أنه لا يحل له أن يسكت لفضل علمه وعقله.249 - ثم وجدت أهل كل بلد كما وصفت فيما بينهم من أهل زمانهم.250 - فأين اجتمع لك هؤلاء على تفقه واحد أو تفقه عام وكما وصفت رأيهم أو رأي أكثرهم وبلغني عن من غاب عني منهم شبيه بهذا فإن أجمعوا لك على نفر منهم فتجعل أولئك النفر علماء إذا اجتمعوا على شيء قبلته؟.251 - قال: وإنهم إن تفرقوا كما زعمت باختلاف مذاهبهم أو تأويل آو غفلة آو نفاسة من بعضهم على بعض فإنما أقبل منهم ما اجتمعوا عليه معا.
হাসান বিন সালেহর মত পর্যন্ত।২৪৪ - এবং আমি যে শহরগুলোর বর্ণনা দিয়েছি, সেগুলো ছাড়াও অন্যান্য শহর সম্পর্কে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, সেখানেও শহরবাসীদের মতভেদ সম্পর্কে আমি যা দেখেছি এবং বর্ণনা করেছি, তারই অনুরূপ অবস্থা বিদ্যমান।২৪৫ - এবং আমি দেখেছি যে মক্কাবাসীরা ইলমের ক্ষেত্রে অন্যান্য তাবেয়ীদের ওপর আতাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। আবার ইরাকের কোনো কোনো অঞ্চলে এমন লোক রয়েছেন যারা ইবরাহিম আন-নাখায়ীকে প্রাধান্য দেন।২৪৬ - অতঃপর সম্ভবত এদের প্রতিটি দল যাদেরকে প্রাধান্য দিয়েছে, তাদের সাথে অন্য শহরের লোকরা যাদের প্রাধান্য দিয়েছে তাদের মধ্যকার পার্থক্যের ক্ষেত্রে তারা অতিশয়োক্তি করে থাকে।২৪৭ - আমাদের সমকালীন আলেমদের মধ্য থেকে যাদেরকে তারা নেতৃস্থানীয় হিসেবে গণ্য করেছে, তাদের ব্যাপারেও আমরা একই অবস্থা দেখেছি।২৪৮ - যখন বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে এই পর্যায়ের মতভেদ বিদ্যমান, তখন আমি তাদের মধ্য থেকে ফতোয়া দানকারী কাউকে কাউকে আল্লাহর কসম খেয়ে বলতে শুনেছি যে, অমুক ব্যক্তির বুদ্ধি ও জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে তার জন্য ফতোয়া দেওয়া সমীচীন নয়; আবার অন্য একজন আলেমের ব্যাপারে বলতে শুনেছি যে, তার জন্য চুপ থাকা বৈধ নয়। আবার কোনো কোনো শহরবাসীকে আমি এমন বলতে দেখেছি যে, অমুক ব্যক্তির অজ্ঞতার কারণে তার জন্য ফতোয়া দেওয়া বৈধ নয়—অথচ যার সম্পর্কে অন্যজন তার জ্ঞান ও বুদ্ধির শ্রেষ্ঠত্বের কারণে দাবি করেছিলেন যে তার জন্য চুপ থাকা বৈধ নয়।২৪৯ - অতঃপর আমি প্রত্যেক শহরের অধিবাসীদের মধ্যে তাদের সমকালীন ব্যক্তিদের ব্যাপারে অনুরূপ অবস্থাই পেয়েছি যা আমি বর্ণনা করেছি।২৫০ - এমতাবস্থায় তারা আপনার কাছে একটি অভিন্ন ফিকহ বা সর্বজনীন ফিকহের ওপর কোথায় একমত হলেন? অথচ তাদের রায় অথবা তাদের অধিকাংশের রায় সম্পর্কে আমি যেমন বর্ণনা করেছি (তেমনই মতভেদপূর্ণ)। আর যাদেরকে আমি দেখিনি, তাদের সম্পর্কেও আমার কাছে একই রূপ সংবাদ পৌঁছেছে। এমতাবস্থায় তারা যদি আপনার জন্য হাতেগোনা কিছু ব্যক্তির ওপর একমত হন, তবে কি আপনি সেই ব্যক্তিদেরকেই আলেম হিসেবে গণ্য করবেন এবং তারা কোনো বিষয়ে একমত হলে আপনি তা গ্রহণ করবেন?২৫১ - তিনি বললেন: আপনার বর্ণনা অনুযায়ী তাদের মাযহাবের ভিন্নতা, ব্যাখ্যার পার্থক্য, অসতর্কতা কিংবা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষের কারণে যদি তারা বিচ্ছিন্নও হয়ে থাকেন, তবুও তারা সম্মিলিতভাবে যে বিষয়ের ওপর একমত হবেন, কেবল সেটিই আমি তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করব।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
252 - فقيل له فإن لم يجمعوا لك على واحد منهم أنه في غاية فكيف جعلته عالما؟.253 - قال: لا ولكن يجتمعون على أنه يعلم من العلم.254 - قلت: نعم ويجتمعون لك على أن من لم تدخله في جملة العلماء من أهل الكلام يعلمون من العلم فلم قدمت هؤلاء وتركتهم في أكثر هؤلاء أهل الكلام؟.255 - وما أسمك وطريقك إلا بطريق التفرق إلا أنك تجمع إلى ذلك أن تدعي الإجماع!.256 - وإن في دعواك الإجماع لخصالا يجب عليك في أصل مذاهبك أن تنتقل عن دعوى الإجماع في علم الخاصة.257 - قال: فهل من إجماع؟.258 - قلت: نعم نحمد الله كثير في جملة الفرائض التي لا يسع جهلها وذلك الإجماع هو الذي لو قلت: أجمع الناس لم تجد حولك أحدا يعرف شيئا يقول لك ليس هذا بإجماع.259 - فهذه الطريق التي يصدق بها من ادعى الإجماع فيها وفي أشياء من أصول العلم دون فروعه ودون الأصول غيرها.260 - فأما ما ادعيت من الإجماع حيث قد أدركت التفرق في دهرك ويحكى عن أهل كل قرن فانظره أيجوز أن يكون هذا إجماعا؟.261 - قال: فقال: قد ادعى بعض أصحابك الإجماع فيما أدعى من ذلك فما سمعت منهم أحدا ذكر قوله إلا عائبا لذلك وإن ذلك عندي لمعيب؟.262 - قلت: من أين عبته وعابوه إنما ادعاء الإجماع في فرقة أحرى
২৫২ - তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, যদি তাদের মধ্য হতে কোনো এক ব্যক্তির ব্যাপারে এই মর্মে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত না হয় যে তিনি জ্ঞানের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছেন, তবে আপনি কীভাবে তাঁকে আলিম হিসেবে সাব্যস্ত করলেন?২৫৩ - তিনি বললেন: না, বরং তারা এই বিষয়ে একমত হয় যে তিনি ইলম বা জ্ঞানের অধিকারী।২৫৪ - আমি বললাম: হ্যাঁ, এবং তারা আপনার নিকট এই বিষয়েও একমত যে, ইলমুল কালামের অনুসারীদের মধ্যে যাদেরকে আপনি আলিমদের অন্তর্ভুক্ত করেননি, তারাও ইলমের অধিকারী। তাহলে কেন আপনি এদেরকে অগ্রাধিকার দিলেন এবং ইলমুল কালামের অধিকাংশ ব্যক্তিবর্গকে বর্জন করলেন?২৫৫ - আপনার অনুসৃত পন্থা ও কর্মপদ্ধতি তো অনৈক্য ও বিভক্তির পথ ছাড়া আর কিছুই নয়; তদুপরি আপনি এর সাথে ইজমা বা ঐক্যমতের দাবিকেও সংযুক্ত করছেন!২৫৬ - আপনার ইজমার দাবির মধ্যে এমন কিছু বিষয় নিহিত রয়েছে, যার কারণে আপনার নিজস্ব মাযহাবের মূলনীতি অনুযায়ীই বিশেষ জ্ঞান বা ইলমে খাসসাহ-র ক্ষেত্রে ইজমার দাবি হতে আপনার নিবৃত্ত হওয়া আবশ্যক।২৫৭ - তিনি বললেন: তাহলে কি ইজমা বলতে কিছু আছে?২৫৮ - আমি বললাম: হ্যাঁ, আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া, এমন সব মৌলিক ফরয বিধানের সমষ্টির ক্ষেত্রে যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা কারো জন্য সংগত নয়। সেই ইজমা হলো এমন পর্যায়ের যে, যদি আপনি বলেন, "মানুষ এ বিষয়ে একমত হয়েছে", তবে আপনার আশেপাশে এমন সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন কাউকে পাবেন না যে আপনাকে বলবে, "এটি ইজমা নয়"।২৫৯ - সুতরাং এটিই সেই পথ যাতে ইজমার দাবিদারকে সত্যবাদী হিসেবে গ্রহণ করা হয়—এই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে এবং ইলমের এমন কিছু মূলনীতির ক্ষেত্রে যা শাখা-প্রশাখা (ফুরু) কিংবা অন্যান্য মূলনীতি বহির্ভূত।২৬০ - কিন্তু আপনি যে ইজমার দাবি করেছেন অথচ আপনি নিজ কালেই বিভক্তি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং যা প্রত্যেক যুগের অধিবাসীদের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়ে আসছে, তবে বিবেচনা করে দেখুন, এটি কি আদৌ ইজমা হওয়া সম্ভব?২৬১ - তিনি বললেন: আপনার সঙ্গীদের কেউ কেউ আমার দাবির মতোই ইজমার দাবি করেছেন; তবে আমি তাঁদের মধ্য থেকে কাউকেই এমন দেখিনি যিনি একে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত না করে সেই মত উল্লেখ করেছেন। আর আমার নিকটও এটি ত্রুটিপূর্ণ।২৬২ - আমি বললাম: আপনি এবং তারা একে কোন দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করেছেন? কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের মধ্যে ইজমার দাবি করাই তো অধিকতর যুক্তিযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أن يدرك من ادعائك الإجماع على الأمة في الدنيا!.263 - قال: إنما عبناه أنا نجد في المدينة اختلافا في كل قرن فيما يدعي فيه الإجماع ولا يجوز الإجماع إلا على ما وصفت من أن لا يكون مخالف فلعل الإجماع عنده الأكثر وإن خالفهم الأقل فليس ينبغي أن يقول إجماعا ويقول الأكثر إذا كان لا يروي عنهم شيئا ومن لم يرو عنه شيء لم يجز أن ينسب إلى أن يكون مجمعا على قوله كما لا يجوز أن يكون منسوبا إلى خلافه.264 - فقلت: له إن كان ما قلت: من هذا كما قلت: الذي يلزمك فيه أكثر لأن الإجماع في علم الخاصة إذا لم يوجد في فرقة كان أن يوجد في الدنيا أبعد.265 - قال: وقلت: قولك وقول من قال: الإجماع خلاف الإجماع.266 - قال: فأوجدني ما قلت؟.267 - قلت: إن كان الإجماع قبلك إجماع الصحابة أو التابعين أو القرن الذين يلونهم وأهل زمانك فأنت تثبت عليهم أمرا تسميه إجماعا.268 - قال: ما هو اجعل له مثالا أعرفه؟.269 - قلت: كأنك ذهبت إلى أن جعلت ابن المسيب عالم أهل المدينة وعطاء عالم أهل مكة والحسن عالم أهل البصرة والشعبي عالم أهل الكوفة من التابعين فجعلت الإجماع ما أجمع عليه هؤلاء؟.270 - قال: نعم.271 - قلت: زعمت أنهم لم يجتمعوا قط في مجلس علمته وإنما استدللت على إجماعهم بنقل الخبر عنهم وأنك لما وجدتهم يقولون في الأشياء ولا تجد فيها كتابا ولا سنة استدللت على أنهم قال: وا بها من جهة
যাতে দুনিয়াতে উম্মতের উপর আপনার দাবীকৃত ইজমা উপলব্ধি করা যায়!.263 - তিনি বললেন: আমরা এর সমালোচনা এজন্যই করেছি যে, আমরা মদিনায় প্রতি যুগেই এমন সব বিষয়ে মতভেদ খুঁজে পাই যেগুলোতে ইজমার দাবি করা হয়। আর ইজমা কেবল তখনই বৈধ হতে পারে যখন আমার বর্ণনা অনুযায়ী কোনো ভিন্নমত পোষণকারী না থাকে। সম্ভবত তাঁর নিকট ইজমা বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতকে বোঝায়, যদিও সংখ্যালঘুরা তাদের বিরোধিতা করে থাকে। এমতাবস্থায় যখন তাদের থেকে কিছুই বর্ণিত হয়নি, তখন তার জন্য একে 'ইজমা' বলা উচিত নয়, বরং 'সংখ্যাগরিষ্ঠের মত' বলা উচিত। আর যার থেকে কোনো কিছু বর্ণিত হয়নি, তাকে যেমন ইজমার অন্তর্ভুক্ত করা যায় না, তেমনি তাকে ভিন্নমতাবলম্বী হিসেবেও গণ্য করা যায় না।264 - আমি তাকে বললাম: এ বিষয়ে আপনি যা বললেন তা যদি তেমনই হয়, তবে আপনার উপর অধিক দায়ভার বর্তাবে। কারণ বিশেষজ্ঞগণের জ্ঞানের ক্ষেত্রে যদি কোনো একটি দলের মধ্যে ইজমা না পাওয়া যায়, তবে সারা বিশ্বে তা পাওয়া আরও সুদূরপরাহত।265 - তিনি বললেন: আমি আরও বললাম, আপনার কথা এবং যারা বলে 'ইজমা'—তা মূলত ইজমারই পরিপন্থী।266 - তিনি বললেন: আমি যা বলেছি তার প্রমাণ দিন?267 - আমি বললাম: আপনার নিকট যদি ইজমা বলতে সাহাবীগণের ইজমা, কিংবা তাবিঈগণের ইজমা, অথবা তাদের পরবর্তী প্রজন্মের এবং আপনার সমসাময়িকদের ইজমা হয়ে থাকে, তবে আপনি তাদের ব্যাপারে এমন একটি বিষয় সাব্যস্ত করছেন যাকে আপনি ইজমা বলে নাম দিয়েছেন।268 - তিনি বললেন: সেটি কী? আমার কাছে একটি উদাহরণ পেশ করুন যাতে আমি তা বুঝতে পারি।269 - আমি বললাম: মনে হচ্ছে আপনি তাবিঈগণের মধ্য থেকে ইবনুল মুসায়্যিবকে মদিনাবাসীদের আলেম, আতাকে মক্কাবাসীদের আলেম, হাসানকে বসরাবাসীদের আলেম এবং শাবিকে কুফাবাসীদের আলেম হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন; অতঃপর তারা যে বিষয়ে একমত হয়েছেন তাকেই ইজমা ধরে নিয়েছেন?270 - তিনি বললেন: হ্যাঁ।271 - আমি বললাম: আপনি দাবি করেছেন যে, আপনার জানামতে তারা কখনো কোনো মজলিসে একত্রিত হননি; বরং তাদের থেকে বর্ণিত সংবাদের মাধ্যমেই আপনি তাদের ইজমার ব্যাপারে দলিল পেশ করেছেন। আর যখন আপনি দেখেছেন যে তারা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিচ্ছেন অথচ সে বিষয়ে আপনি কোনো কিতাব (কুরআন) বা সুন্নাহ পাচ্ছেন না, তখন আপনি দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন যে তারা কোনো এক দিক থেকে এই মত দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
জিমাউল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
القياس فقلت: القياس العلم الثابت الذي أجمع عليه أهل العلم أنه حق؟.272 - قال: هكذا قلت.273 - وقلت: له قد يمكن أن يكونوا قال: وا ما لم تجده أنت في كتاب ولا سنة وإن لم يذكروه وما يرون لم يذكروه وقال: وا الرأي دون القياس.274 - قال: إن هذا وإن أمكن عليهم فلا أظن بهم أنهم علموا شيئا فتركوا ذكره ولا انهم قال: وا إلا من جهة القياس.275 - فقلت: له لأنك وجدت أقاويلهم تدل على أنهم ذهبوا إلى أن القياس لازم لهم أو إنما هذا شيء ظننته لأنه الذي يجب عليهم؟.276 - قلت: له فلعل القياس لا يحل عندهم محله عندك؟.277 - قال: ما أرى إلا ما وصفت لك.278 - فقلت: له هذا الذي رويته عنهم من انهم قال: وا من جهة القياس توهم ثم جعلت التوهم حجة!.279 - قال: فمن أين أخذت القياس أنت ومنعت أن لا يقال: إلا به؟.280 - قلت: من غير الطريق التي أخذته منها وقد كتبته في غير هذا الموضع.281 - قلت: أرأيت الذين نقلوا لك عنهم انهم قال: وا فيما لم تجد أنت فيه خبرا فتوهمت انهم قال: وه قياسا وقلت: إذا وجدت أفعالهم مجتمعة على شيء فهو دليل على إجماعهم أنقلوا إليك عنهم انهم قال: وا من جهة الخبر المنفرد؟.282 فروى ابن المسيب عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم شيئا وأخذ به وعن أبي سعيد الخدري في الصرف شيئا وأخذ به وله فيه مخالفون من الأمة.
কিয়াস সম্পর্কে আমি বললাম: কিয়াস কি সেই সুপ্রতিষ্ঠিত জ্ঞান যার ওপর বিদগ্ধ পণ্ডিতগণ (আহলে ইলম) ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে তা সত্য?২৭২ - তিনি বললেন: আমি তেমনই বলেছি।২৭৩ - আমি তাকে বললাম: এমনটি হওয়া সম্ভব যে, তারা এমন কথা বলেছেন যা আপনি কিতাব কিংবা সুন্নাহর মধ্যে পাননি, যদিও তারা তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি; আবার তারা যা দেখেছেন তাও উল্লেখ করেননি, বরং তারা কিয়াসের পরিবর্তে রায় বা মতামতের ভিত্তিতে কথা বলেছেন।২৭৪ - তিনি বললেন: যদিও তাদের ক্ষেত্রে এমনটি হওয়া সম্ভব, কিন্তু আমি তাদের সম্পর্কে এমনটি ধারণা করি না যে তারা কোনো বিষয় জানতেন অথচ তা উল্লেখ করা বর্জন করেছেন; কিংবা তারা কিয়াসের মাধ্যম ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কথা বলেছেন।২৭৫ - অতঃপর আমি তাকে বললাম: আপনি কি তাদের বক্তব্যে এমন কিছু পেয়েছেন যা নির্দেশ করে যে তারা কিয়াসকে তাদের জন্য অপরিহার্য মনে করতেন, নাকি এটি আপনার একটি ধারণা মাত্র যে তাদের জন্য এটিই করা উচিত ছিল?২৭৬ - আমি তাকে বললাম: সম্ভবত কিয়াস তাদের নিকট সেই উচ্চ মর্যাদা রাখত না যা আপনার নিকট রাখে?২৭৭ - তিনি বললেন: আমি আপনাকে যা বর্ণনা করেছি তা ছাড়া অন্য কিছু দেখি না।২৭৮ - আমি তাকে বললাম: তাদের পক্ষ থেকে আপনি যে বর্ণনাটি দিলেন যে তারা কিয়াসের ভিত্তিতে কথা বলেছেন, তা একটি অনুমান মাত্র; অতঃপর আপনি সেই অনুমানকেই দলিল হিসেবে গ্রহণ করলেন!২৭৯ - তিনি বললেন: তাহলে আপনি কিয়াসকে কোন উৎস থেকে গ্রহণ করেছেন এবং কিয়াস ছাড়া কথা বলতে কেন নিষেধ করেছেন?২৮০ - আমি বললাম: আপনি যে পথে তা গ্রহণ করেছেন আমি তা ব্যতীত অন্য পথ থেকে গ্রহণ করেছি, আর আমি এটি অন্য স্থানে লিপিবদ্ধ করেছি।২৮১ - আমি বললাম: আপনি কি তাদের দেখেছেন যারা আপনার কাছে তাদের কথা বর্ণনা করেছেন যে, যে বিষয়ে আপনি কোনো আসার বা বর্ণনা পাননি, সেখানে আপনি ধারণা করেছেন যে তারা কিয়াসের ভিত্তিতে কথা বলেছেন? আপনি বলেছেন যে, যখন আপনি তাদের কর্মসমূহকে কোনো বিষয়ে একমত পান, তখন তা তাদের ঐকমত্যের (ইজমার) দলিল হয়; তারা কি আপনার কাছে এমনটি বর্ণনা করেছেন যে তারা খবরে ওয়াহিদ বা একক বর্ণনার ভিত্তিতে কথা বলেছেন?২৮২ অতঃপর ইবনুল মুসায়্যিব আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে একটি বিষয় বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন; এবং মুদ্রা বিনিময় (সরফ) সংক্রান্ত বিষয়ে আবু সাঈদ খুদরী থেকে কিছু বর্ণনা করেছেন এবং তা গ্রহণ করেছেন, যদিও এ বিষয়ে উম্মতের মধ্যে তার বিরোধী মতাবলম্বীরাও রয়েছেন।