(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: -)
آل الجرباء في التاريخ والأدب القسم: الأنساب
الكتاب: آل الجرباء في التاريخ والأدب
المؤلف: محمد بن عمر بن عبد الرحمن العقيل المعروف بأبي عبد الرحمن ابن عقيل الظاهري
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 61
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইতিহাস ও সাহিত্যে আল-জারবা বংশ বিভাগ: বংশতালিকা
বই: ইতিহাস ও সাহিত্যে আল-জারba বংশ
লেখক: মুহাম্মদ বিন উমর বিন আবদুর রহমান আল-আকীল, যিনি আবু আবদুর রহমান ইবনে আকীল আল-জাহিরী নামে পরিচিত
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة الكتابالحمد لله رب العلَمْين، وصلى الله على محمد.
فيمَا بين عام 1373 - 1378هـ كنت أسمع أخبار عبد الكريم الجرباء " أبو خوذه " وصفوق الجرباء، على لسان محمد بن يحيان رحمه الله وبعض من يفدون إلى شقراء في رمضان ممن يتلقفهم الَوْالد رحمه الله. وبقي من أذكارهم العاطرة ظلٌ في ذاكرتي كأعقاب الحُلَمْ ومنذ سنة عندمَا بدأت تأليف كتابي " ديوان الشعر العامي " تلقفت عن آل الجرباء كغيرهم من الأسر أشتاتاً من هنا وهناك لتكون ذخيرتي في تفسير هذا الشعر فحسب، ولَمْ أَدْرِ أن هذه الشذرات ستكون بحثاً منهجياً عن أُسرة آل الجرباء، وقد نشرته إفادات متفرقة في الجزء الثاني من " ديوان الشعر العامي " ثم زودني شيخي حمد الجاسر بإفادات جديدة من كتاب " مطالع السعود " لابن سند، وإفادة واحدة من مجلة " لغة العرب " التي يصدرها أنستاس الكرملي ثم ناولني مَا ينقصني من كتاب " عشائر العراق " وهو الجزء الأول الذي توسع في الحديث عن آل الجرباء مع تصحيحاته لَمْسودات هذا البحث إلى معلَوْمَات أخرى تجمعت عندي فآثرت إفراد آل الجرباء ببحث مستقل. ولا ريب أن الَوْمضات عنهم في كتب التاريخ والأنساب لا تعطي صورة كاملة، فاستعنت - بعد الله - بالرواية الشفهية والشعر العامي في تتميم هذه الصورة. وفاتني من الَمْصادر كتاب " عشائر الشام " لَوْصفي ذكريا. وأُسرة آل الجرباء من الأُسر التي تفتخر بلادنا بأمجادها عندمَا رحلت إلى العراق وسوريا، فكانت بناءً وطنياً في هذين القطرين، وكونت أدباً نجدياً هناك، ونشرت عادات وتقاليد البلد الذي رحلت منه، إلا إن ممَا لا يُحْمَدُ للشمَامرة هناك الإخلالُ بالأمن، وإعادة سنة السلب والنهب والثارات الجاهلية. روى عبد الجبار الراوي أن فرحان باشا بن صُفُوق الجرباء قال لأهل قرية الَمْشاهدة بالعراق وقد أعجبته ضخامة أجسامهم: لَمْاذا لا تغزون؟ فقالَوْا: لا نحسن الغزو ولا نستطيعه. فقال: اغزوا من هو أطقع منكم!! ومن معاناتي لهذا البحث بدا لي أنَّ مَا كان مغموراً من تاريخنا يمكن أن يشبع بملاحظات عناصر أرجو أن يعنى بها شيخنا حمد الجاسر، ومن نهج لهم الَمْسلك ممن سيأتون بعده. وهذه العناصر تتلخص في التالي: 1 - الاعتناء بتاريخ وأنساب وآداب الأقطار الأخرى، حيث ارتحال الأُسر والبوادي. وتعاقب الأحداث الأخرى يربط نجداً بغيرها، فربمَا وجدنا في تواريخ الحجاز عن نجد مَا لا نجده في كتب تاريخ نجد.
الزَّولْ زَوْلِهْ والْحَلايَا حَلَايَاهْ
… والفِعِلْ مَا هُو فِعْل ضَافي الْخَصَايِلْ
***
جانا من " الْعارِض " ركَيْبٍ يِهِيْفِ
… يِتْلَوْن ابن عَرُّوْجْ مِقْدِم بِني لَامْ
وأَكثر مَا نجده عند أَهل نجد قولهم: ابن عَروْج آخر ملوك بني لام. وتظل القصة عندنا كالأسطورة فترمي بنا الَمْصادفات إلى كتب أهل العراق فنجد في كتاب " أَنساب العشائر العربية في النجف الأَشرف " لناجي وداعة الشريس توثيقات تاريخية تؤكد الرواية الأَدبية النجدية. فقد ذكر الشريس أُسرةً في النجف تعرف بآل شُكْرٍ، من آل حَدِيدِ الأَحسائي، وهو شكر بن محمد بن شكر بن حمود ابن علي الأَحسائي من أَحفاد يوسف بن حَديد بن عَرُّوْج من آل غَزِّيِّ من الْفُضُوْل من بني لَامٍ. وكتاب الشريس ليس من نوع التخرصات التي توجد عند مؤرخينا ونَسَّابينا، فقد اعتمد على أَوراق أَوقاف ومواريث كوقفية لآل ثابت، مؤرخة في 980هـ ووقفية للحاج ناصر ابن علي الأَحسائي، مؤرخة في 1174هـ ووقفية لشكر بن حمود آل حَديد، مؤرخة في 1225هـ. ونقل عن كتاب " أَنساب العرب " لسمير عبد الرزاق القطب أَن حديد بن عروج آخر من بقي في نجد من عشيرة آل غِزي من الفضول، وذكر عنه أَن رئاسة حديد بعد عجل ابن حنيتم، وقد تولى بعده محمد بن حديد. وقد أَفدت من هذا الكتاب في ربط سلسلة النسب بين آل فارس وآل رشيد وآل علي. وسيستفاد منه في ربط السلسة لبعض الأُسر الَمْتحضرة من البوادي. فَضَمَّ مِثْلِ هذه الإفاداتِ يُبَلَوْرُ ويمحِّصُ بعضَ معلَوْمَات النسابين والَمْؤرخين في نجد.
গ্রন্থের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদের ওপর।
১৩৭৩ - ১৩৭۸ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে আমি আব্দুল কারিম আল-জারবা "আবু খুজাহ" এবং সাফুক আল-জারবা সম্পর্কে সংবাদ শুনতাম মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়ান (রহিমাহুল্লাহ) এবং রমজান মাসে শাকরায় আসা এমন কিছু ব্যক্তিদের মুখে যাদেরকে আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) আপ্যায়ন করতেন। তাদের সুগন্ধি স্মৃতিগুলোর একটি ছায়া আমার স্মৃতিতে স্বপ্নের অবশিষ্টাংশের মতো রয়ে গিয়েছিল। এক বছর আগে যখন আমি আমার গ্রন্থ "দিওয়ানুশ শি'র আল-আম্মি" (আঞ্চলিক কবিতার সংকলন) রচনা শুরু করি, তখন অন্যান্য পরিবারের মতো আল-জারবা পরিবার সম্পর্কেও বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত তথ্য এখানে-সেখানে থেকে সংগ্রহ করি যাতে তা কেবল এই কবিতাগুলো ব্যাখ্যার পাথেয় হয়; আমি জানতাম না যে এই অংশগুলো আল-জারবা পরিবার সম্পর্কে একটি পদ্ধতিগত গবেষণায় রূপ নেবে। আমি "দিওয়ানুশ শি'র আল-আম্মি" এর দ্বিতীয় খণ্ডে এগুলোকে বিচ্ছিন্ন তথ্য হিসেবে প্রকাশ করেছিলাম। অতঃপর আমার শায়খ হামাদ আল-জাসির আমাকে ইবনে সানের "মাতালিউস সুউদ" গ্রন্থ থেকে নতুন কিছু তথ্য প্রদান করেন এবং আনাসতাস আল-কারমালির সম্পাদিত "লুগাতুল আরব" সাময়িকী থেকে একটি তথ্য প্রদান করেন। এরপর তিনি আমাকে "আশাইরুল ইরাক" (ইরাকের গোত্রসমূহ) গ্রন্থের অভাব বোধ করা অংশটি অর্থাৎ প্রথম খণ্ডটি প্রদান করেন, যাতে আল-জারবা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। এই গবেষণার পাণ্ডুলিপিতে তার সংশোধনী এবং আমার কাছে থাকা অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে আমি আল-জারবা পরিবারকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র গবেষণার সিদ্ধান্ত নিই। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইতিহাস ও বংশলতিকার বইগুলোতে তাদের সম্পর্কে থাকা সংক্ষিপ্ত তথ্যগুলো পূর্ণাঙ্গ চিত্র দেয় না। তাই আল্লাহর পর আমি মৌখিক বর্ণনা এবং আঞ্চলিক কবিতার সাহায্য নিয়েছি এই চিত্রটি পূর্ণ করতে। উৎসগ্রন্থগুলোর মধ্যে ওয়াসফি জাকারিয়ার "আশাইরুশ শাম" (সিরিয়ার গোত্রসমূহ) গ্রন্থটি আমার দেখা হয়নি। আল-জারবা পরিবার এমন পরিবারগুলোর অন্তর্ভুক্ত যাদের গৌরব নিয়ে আমাদের দেশ গর্ব করে যখন তারা ইরাক ও সিরিয়ায় হিজরত করে, সেখানে তারা এই দুই দেশে জাতীয় ভিত্তিস্বরূপ হয়ে উঠেছিল এবং সেখানে নাজদি সাহিত্য গঠন করেছিল এবং যে দেশ থেকে তারা হিজরত করেছিল সেই দেশের রীতিনীতি ও ঐতিহ্য প্রচার করেছিল। তবে সেখানকার শাম্মারিদের প্রশংসার অযোগ্য বিষয় ছিল নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটানো এবং লুণ্ঠন ও জাহেলি প্রতিশোধের প্রথাকে ফিরিয়ে আনা। আব্দুল জাব্বার আর-রাবি বর্ণনা করেছেন যে, সাফুক আল-জারবার পুত্র ফারহান পাশা ইরাকের মুশাহিদা গ্রামের লোকদের তাদের সুঠাম দেহ দেখে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন: "তোমরা যুদ্ধ করো না কেন?" তারা বলল: "আমরা যুদ্ধ করতে জানি না এবং এতে সক্ষম নই।" তিনি বললেন: "তোমাদের চেয়েও যারা দুর্বল তাদের সাথে যুদ্ধ করো!!" এই গবেষণার পরিশ্রমে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, আমাদের ইতিহাসের যা কিছু অনালোচিত রয়ে গেছে তা কিছু উপাদানের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পূর্ণ হতে পারে, আমি আশা করি আমাদের শায়খ হামাদ আল-জাসির এবং যারা তার পরে তার পথে চলবেন তারা সেদিকে নজর দেবেন। এই উপাদানগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ: ১ - অন্যান্য অঞ্চলের ইতিহাস, বংশলতিকা এবং সাহিত্যের প্রতি যত্নবান হওয়া, যেখানে পরিবার এবং যাযাবর গোষ্ঠীগুলো হিজরত করেছে। এবং অন্যান্য ঘটনার ধারাবাহিকতা নজদকে অন্যদের সাথে যুক্ত করে, ফলে হয়তো আমরা হিজাজের ইতিহাসে নজদ সম্পর্কে এমন কিছু পাব যা নজদের ইতিহাস গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায় না।
আকৃতি তার আকৃতির মতো এবং সৌন্দর্য তার সৌন্দর্যের মতো
… কিন্তু কর্ম সেই সুগুণের অধিকারীর কর্মের মতো নয়
***
"আরিদ" থেকে আমাদের কাছে এক ক্ষিপ্র সওয়ার দল এলো
… যারা বনী লামের প্রধান ইবনে আরুজের অনুসারী ছিল
নজদবাসীদের কাছে আমরা সবচেয়ে বেশি যা পাই তা হলো তাদের কথা: ইবনে আরুজ বনী লামের শেষ রাজা। আমাদের কাছে এই কাহিনীটি রূপকথার মতো রয়ে যায়, অতঃপর ঘটনাক্রমে ইরাকীদের বইগুলোতে আমরা নাজি ওয়াদআহ আশ-শারিসের "আনসাবুল আশাইরিল আরাবিয়্যাহ ফিন নাজফ আল-আশরাফ" গ্রন্থে এমন কিছু ঐতিহাসিক প্রমাণ পাই যা নাজদি সাহিত্যিক বর্ণনাকে নিশ্চিত করে। শারিস নাজফে আল-শুকুর নামে পরিচিত একটি পরিবারের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা আল-হাসার আল-হাদিদ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত; আর তিনি হলেন বনী লামের ফুদ্বুল গোত্রের আল-গাজ্জি শাখার ইউসুফ বিন হাদিদ বিন আরুজের বংশধর শুকুর বিন মুহাম্মাদ বিন শুকুর বিন হামুদ বিন আলী আল-আহসায়ি। শারিসের বইটি আমাদের অনেক ঐতিহাসিক ও বংশবিদদের মতো অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তিনি ওয়াকফনামা এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নথিপত্রের ওপর নির্ভর করেছেন, যেমন ৯৮০ হিজরির আল-সাবিত পরিবারের ওয়াকফনামা, ১১৭৪ হিজরির হাজি নাসির ইবনে আলী আল-আহসায়ির ওয়াকফনামা এবং ১২২৫ হিজরির শুকুর বিন হামুদ আল-হাদিদ পরিবারের ওয়াকফনামা। এবং তিনি সামির আব্দুল রাজ্জাক আল-কুতুবের "আনসাবুল আরব" গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, হাদিদ বিন আরুজ ছিলেন ফুদ্বুলের আল-গিজ্জি গোত্রের নজদে অবশিষ্ট সর্বশেষ ব্যক্তি এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে আজল ইবনে হুনাইতামের পর হাদিদ নেতৃত্ব লাভ করেন এবং তার পরে মুহাম্মাদ বিন হাদিদ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আমি আল-ফারিস, আল-রশিদ এবং আল-আলী পরিবারের মধ্যে বংশলতিকার যোগসূত্র স্থাপনে এই গ্রন্থ থেকে উপকৃত হয়েছি। এবং যাযাবর অবস্থা থেকে স্থায়ী হওয়া কিছু পরিবারের বংশলতিকার যোগসূত্র স্থাপনেও এটি কাজে লাগবে। এই ধরণের তথ্যের সংযোজন নজদের বংশবিদ ও ঐতিহাসিকদের কিছু তথ্যকে স্বচ্ছ ও যাচাইকৃত করে।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ২)
2 - الاكتفاء بمَا نشر من كتب الأَنساب والرحلات ومعاجم البلدان إِلى حدود القرن الرابع واستحياء مَا بعد ذلك ممَا يضيف معلَوْمَات ولا يكررها. وقد أحسن الشيخ حمد صنعاً في نشره لقسم من " مسالك الأَبصار " رغم أَنه أَفاد منه النسابون الذين جاؤا بعد ابن فضل الله. ولقد أفاد الشيخ حمد من كتاب ابن رسول إِفادت هو الَمْصدر الَوْحيد فيها. وحبذا لَوْ استمرت العناية بكتب الأَنساب لَمْا بعد القرن الرابع والاحتفاء بكل مَا تأخر عصره ممَا هو قبل كتابات الَمْعاصرين. وأتوقع أَن كتاب مجمع الأَنساب لابن قدامة الَمْتوفي سنة 620هـ ربمَا أَفاد جديداً وهكذا كل مَا تأخر عصره.
3 - العناية بالشعر العامي، بلهجة أهل نجد منذ نشأته إلى استقرار الجزيرة في عهد الَمْلك عبد العزيز، لتفسير التاريخ وتعميقه وقد لَمْست هذه الفائدة في الأَسفار الستة التي أَنهيتها من كتاب " الشعر العامي ".
4 - الاتصال مباشرة بالأُسر النجدية والأَعيان من أَفخاذ البوادي للإِفادة من وثائق أَوقافهم ومواريثهم.
5 - الاضطلاع بدليل " ببلَوْجرافي " عن تاريخ الجزيرة وأَنسابها وأَعلامها من كتب التاريخ والتراجم والرحلات والأّنساب لاسيمَا كتب التراجم في القرن الثامن إلى آخر الثالث عشر.
2 - চতুর্থ হিজরি শতাব্দী পর্যন্ত প্রকাশিত বংশলতিকা, ভ্রমণবৃত্তান্ত এবং ভৌগোলিক অভিধানগুলোর ওপর কেবল সীমাবদ্ধ না থেকে পরবর্তী সময়ের সেইসব গ্রন্থকে পুনর্জীবিত করা, যা নতুন তথ্য যোগ করে এবং তথ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটায় না। শায়খ হামদ "মাসালিকুল আবসার"-এর একটি অংশ প্রকাশ করে একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছেন, যদিও ইবনে ফাদলুল্লাহর পরবর্তী বংশতত্ত্ববিদগণ এটি থেকে উপকৃত হয়েছিলেন। শায়খ হামদ ইবনে রাসুলের গ্রন্থ থেকে এমনভাবে তথ্য গ্রহণ করেছেন যে, তিনি এক্ষেত্রে একমাত্র উৎস হিসেবে গণ্য। চতুর্থ শতাব্দীর পরবর্তী সময়ের বংশতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থগুলোর প্রতি মনোযোগ অব্যাহত রাখা এবং আধুনিক লেখকদের পূর্ববর্তী সময়ের সকল অপেক্ষাকৃত পরবর্তী যুগের রচনার মূল্যায়ন করা অত্যন্ত বাঞ্ছনীয়। আমি আশা করি যে, ৬২০ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইবনে কুদামার "মাজমাউল আনসাব" গ্রন্থটি সম্ভবত নতুন কিছু তথ্য প্রদান করবে এবং একইভাবে পরবর্তী সময়ের অন্যান্য সকল গ্রন্থের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।
3 - নজদবাসীদের উপভাষায় রচিত লোকজ কবিতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা—এর সূচনা থেকে শুরু করে বাদশাহ আব্দুল আজিজের শাসনামলে আরব উপদ্বীপের স্থিতিশীলতা অর্জন পর্যন্ত—ইতিহাসের ব্যাখ্যা ও তা গভীরভাবে অনুধাবনের উদ্দেশ্যে। আমি "আশ-শি'রুল আমি" (লোকজ কবিতা) গ্রন্থের যে ছয়টি খণ্ড সমাপ্ত করেছি, তাতে এই উপকারিতা প্রত্যক্ষ করেছি।
4 - নজদি পরিবারসমূহ এবং মরুবাসী গোত্রগুলোর প্রধান ব্যক্তিদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা, যাতে তাদের ওয়াকফনামা এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত দলিলপত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
5 - আরব উপদ্বীপের ইতিহাস, বংশমর্যাদা এবং বরেণ্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে ইতিহাস, জীবনী, ভ্রমণবৃত্তান্ত ও বংশতালিকা বিষয়ক গ্রন্থগুলোর সমন্বয়ে একটি "গ্রন্থপঞ্জি" (বিবলিওগ্রাফি) তৈরির কাজ সম্পন্ন করা; বিশেষ করে অষ্টম শতাব্দী থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত রচিত জীবনীগ্রন্থগুলোর প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
ولقد سمعت من شيخي إبراهيم العثمَان أَحد سلاطين الَمْمَاليك - ولعله أَحال إلى أَحال إِلى أَحد كتب الَمْقريزي - طلب مقابلة بعض أَعيان نجد وأَحالني إِلى رحلة ابن الَمْجاور عن نص من الشعر العامي فوجدته كمَا قال. ووجدت في تاريخ العصامي لَمْحمد بن جدوع في مدح بركات بن إبراهيم الشريف من نوع الشعر العامي القديم الذي دونه ابن يحيى ونشره ابن حاتم. ووجدت في أنساب أهل عمَان مَا وصلت به تاريخ بعض الأسر الحاكمة في البحرين وذلك في السفر الأول من كتابي عن الشعر العامي. وعلَمْت علَمْ اليقين من قصيدة للكليف " الجليف " أن مقرن ابن غصيب استرد ملك الأحساء من آل مغامس وأن الأتراك استولَوْا على الأحساء والحكام من آل أجود كمَا قال ابن بشر وغيره، وإنمَا أخطاء ابن بشر في التاريخ فحسب. وعلى أي حال فالَمْشروع الببلجرافي لهذه النتف يعين طلبة العلَمْ على تجلية تاريخهم الَمْغمور لا سيمَا بعد انفتاح العامة على خزانات الَمْخطوطات، وتيسر التصوير. وقد كنا منذ عقد من الزمن نرى إحالة الَمْؤرخ إلى مخطوط من كبرى الَمْناقب. وآل الجرباء من أُمراء الجبل ومن قبيلة عريقة في هذا الَمْوطن فقد ذكر النسابون أن قبيلة طيْ خرجت من اليمن على إثر خروج الأزد منه، ونزلَوْا سَمِيْرَاءَ وفيداً في جوار بني أسد ثم غلبوا بني أسد على أجا وسَلَمْى فعرفا فيمَا بعد بجبلي طيء. وذكر ابن سعيد أنهم أصحاب الرئاسة في العرب في عصره بالعراق والشام. ورئاستهم في بني ربيعة بن حازم من أحفاد سلسلة بن غنم من أحفاد فطرة بن طيء، فقد ورثوا أرض غسان والشام ومن أشهر أسرهم آل عيسى بن مهنا بن فضل بن ربيعة أثنى عليهم ابن فضل الله العمري كثيراً. وكان شيخنا حمد الجاسر ألف عن آل فضل كتاباً في صغره وحدثني مشافهة أن عقب آل فضل باقون حتى الآن بالأردن. وشمر بطن من طيء ولكنها في العصور الَمْتأخرة أصبحت مجمع البطون الطائية مع أخلاط أخرى دخلت فيها بالحلف. وقد نسب ابن دخيل آل علي وآل رشيد إلى آل فضل ولا سند له إلا أنهم حلَوْا محلهم في الَمْكان والإمَارة أمَا كتب الأنساب فدلت على أنهم من مذحج. فإن صح أن عَبْدَةَ بن شمر - كمَا نقل عن الكتاب الَمْنسوب لابن قدامة - فلا ريب أن زعمَائهم آل ضيغم من جنب من مذحج وقد دخلَوْا في عَبْدَةَ. وآل ضيغم إلى آخر القرن السابع الهجري لايزالَوْن في الجنوب في بلاد مذحج. ويظهر - استئناسا بالأسمَاء - أن آل علي وآل رشيد من ذرية شهوان بن منصور بن ضيغم بن منيف بن جابر بن علي الذي ذكره ابن رسول. ولعل بين جدهم الأدنى عرار بن شهوان وشهوان بن منصور جدًّا اسمه فارس بن طعان استئناساً بنص عن آل فارس كمَا سيأتي بيانه. وإنمَا نسبتهم إلى فارس بن طعان لأن آل خليل هم أبناء خليل بن جاسر بن علي بن عطية من آل جعفر، وقد ذكر الشريس أن آل فارس وآل خليل بطن واحدة وابن فارس محمد كان حياًّ عام 1109.ثم ذكر أن آل صادق من ذرية عبد الله بن محمد بن علي من آل فارس. فإذا كان آل صادق أبناء عم آل علي وكانوا من آل فارس بن طعان فآل علي من ذرية فارس. وكلهم من آل جعفر وقد ذكر ابن بسام أن آل جعفر من الضياغم. ولهذا كله رجحت أن لآل علي وآل رشيد جداً اسمه فارس ابن طعان إمَا من أحفاد عرار بن شهوان وإمَا بين عرار بن شهوان وشهوان بن منصور بن ضيغم. وعلى أي حال فإقحام فارس بن طعان في نسب آل رشيد استنتاج يظل مجرد احتمَال. وفي نص ابن رسول أن لَمْنيف بن ضيغم بن منيف بن جابر ولداً اسمه راشد وله حفيد اسمه عمير بن أحمد بن راشد. وفي الكتاب الَمْجهول الَمْؤلف الذي نقل عنه الشيخ حمد الجاسر أخبار الدُّهم الشهوانيات في مخطوطته عن الخيل أن شهوان أبا عرار أو راشد عم عمير. فيحتمل أن يكون عرار حفيداً لَمْنيف بن ضيغم. ويحتمل أن يكون من ذرية شهوان بن منصور بن ضيغم. وعلى أي حال فتوارث اسم شهوان وعمير وراشد يؤكد أن عرار بن شهوان وعمير بن راشد من أحفاد منيف بن ضيغم. وآل الجرباء هم زعمَاء شمر ورؤساء الجبل وأبعد ذكر لهم وجدته عن وفاة اثنين منهم عام 1100هـ وعام 1103هـ وقد رحلَوْا من نجد عام 1205هـ بعد هزيمتهم أمَام ابن سعود فبنوا زعامتهم في العراق وسوريا. وعَبْدَةَ أكبر قبائل شمر من قبيلة جنب من مذحج فهم أبناء عم عبيدة من قحطان. ومن عَبْدَةَ الجربان وآل علي وآل رشيد. قال شاعر من
আমি আমার শায়খ ইব্রাহিম আল-উসমান—যিনি মামলুক সুলতানদের একজন ছিলেন—তার কাছ থেকে শুনেছি (সম্ভবত তিনি আল-মাকরিজির কোনো একটি কিতাবের উদ্ধৃতি দিচ্ছিলেন) যে, তিনি নজদের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে সাক্ষাতের অনুরোধ করেছিলেন। তিনি ইবনে আল-মুজাওয়ারের ভ্রমণকাহিনী থেকে একটি লোকজ কবিতার উদ্ধৃতি আমার সামনে পেশ করেছিলেন এবং আমি তা ঠিক তেমনই পেয়েছি যেমনটি তিনি বলেছিলেন। আমি মুহাম্মাদ বিন জাদউ-এর আল-ইসামী ইতিহাসে বারাকাত বিন ইব্রাহিম আল-শরীফের প্রশংসায় কিছু প্রাচীন লোকজ কবিতা পেয়েছি, যা ইবনে ইয়াহইয়া লিপিবদ্ধ করেছেন এবং ইবনে হাতিম প্রকাশ করেছেন। আমি ওমানের অধিবাসীদের বংশপরিচয় সংক্রান্ত নথিতে বাহরাইনের কিছু শাসক পরিবারের ইতিহাসের যোগসূত্র পেয়েছি, যা লোকজ কবিতা নিয়ে লেখা আমার কিতাবের প্রথম খণ্ডে স্থান পেয়েছে।
আল-কুলাইফ (আল-জালীফ)-এর একটি কবিতা থেকে আমি নিশ্চিতভাবে জানতে পেরেছি যে, মুকরিন বিন গুসাইব আল-মগামিস বংশের কাছ থেকে আল-আহসার রাজত্ব পুনরুদ্ধার করেছিলেন এবং তুর্কিরা আল-আহসা দখল করেছিল যখন শাসকরা ছিলেন আল-আজওয়াদ বংশের, যেমনটি ইবনে বিশর এবং অন্যরা উল্লেখ করেছেন। তবে ইবনে বিশর কেবল তারিখের ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। যাই হোক, এই বিক্ষিপ্ত তথ্যাবলীর গ্রন্থপঞ্জি প্রকল্প জ্ঞানপিপাসুদের তাদের অস্পষ্ট ইতিহাস স্পষ্ট করতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডার উন্মুক্ত হওয়া এবং প্রতিলিপি সহজলভ্য হওয়ার পর। এক দশক আগেও আমরা দেখতাম কোনো ঐতিহাসিকের একটি পাণ্ডুলিপির উদ্ধৃতি দেওয়াকে অনেক বড় কৃতিত্ব হিসেবে গণ্য করা হতো।
আল-জারবা পরিবার জাবাল (পাহাড়) অঞ্চলের আমিরদের অন্তর্ভুক্ত এবং তারা এই ভূখণ্ডের একটি প্রাচীন গোত্রভুক্ত। বংশবিশারদগণ উল্লেখ করেছেন যে, আজদ গোত্র ইয়েমেন থেকে বের হওয়ার পরপরই তাই (Tayy) গোত্রও ইয়েমেন থেকে বেরিয়ে আসে। তারা বনু আসাদ গোত্রের প্রতিবেশী হিসেবে সামিরা এবং ফিদ অঞ্চলে বসবাস শুরু করে। পরবর্তীতে তারা বনু আসাদকে পরাজিত করে আজা এবং সালমা পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা পরে 'তাই গোত্রের দুই পাহাড়' নামে পরিচিত হয়। ইবনে সাঈদ উল্লেখ করেছেন যে, তার সময়ে ইরাক ও সিরিয়ার আরবদের মধ্যে নেতৃত্ব ছিল তাদেরই হাতে।
তাদের নেতৃত্ব ছিল বনু রাবিয়া বিন হাজিমের হাতে, যারা তাই গোত্রের ফিতরা শাখার বংশধর সিলসিলা বিন গানামের উত্তরসূরি। তারা গাসসান ও সিরিয়ার ভূখণ্ডের উত্তরাধিকারী হয়েছিল। তাদের সবচেয়ে বিখ্যাত পরিবারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আল-ঈসা বিন মুহান্না বিন ফজল বিন রাবিয়া, যাদের ইবনে ফজলুল্লাহ আল-উমারি অনেক প্রশংসা করেছেন। আমাদের শায়খ হামাদ আল-জাসির তার তরুণ বয়সে আল-ফজল পরিবার সম্পর্কে একটি কিতাব লিখেছিলেন এবং তিনি আমাকে সরাসরি বলেছেন যে, আল-ফজল পরিবারের বংশধররা এখনও জর্ডানে টিকে আছে।
শাম্মার হলো তাই গোত্রের একটি উপশাখা, তবে পরবর্তী যুগে এটি তাই গোত্রের বিভিন্ন উপশাখা এবং মৈত্রীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া অন্যান্য মিশ্রিত গোষ্ঠীর মিলনস্থলে পরিণত হয়। ইবনে দাখিল আল-আলি এবং আল-রশীদ পরিবারকে আল-ফজল বংশের সাথে সম্পর্কিত করেছেন, তবে এর পেছনে কোনো সুদৃঢ় প্রমাণ নেই; কেবল এই ভিত্তিতে যে তারা তাদের স্থান ও আমিরাতের স্থলাভিxtিক্ত হয়েছিল। অন্যদিকে বংশপরিচয় সংক্রান্ত কিতাবসমূহ নির্দেশ করে যে তারা মাজহিজ (Madhhij) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। যদি এটি সঠিক হয় যে শাম্মার বিন আবদাহ—যেমনটি ইবনে কুদামার প্রতি নিসবতকৃত কিতাবে বর্ণিত হয়েছে—তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তাদের নেতা আল-দাইগাম পরিবার মাজহিজের জাম্ব শাখা থেকে এসেছে এবং তারা আবদাহর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। হিজরি সপ্তম শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত আল-দাইগাম পরিবার দক্ষিণ অঞ্চলের মাজহিজ জনপদে অবস্থান করছিল।
নামগুলোর সামঞ্জস্য দেখে প্রতীয়মান হয় যে, আল-আলি এবং আল-রশীদ পরিবার শাহওয়ান বিন মনসুর বিন দাইগাম বিন মুনিফ বিন জাবির বিন আলির বংশধর, যার উল্লেখ ইবনে রাসুল করেছেন। সম্ভবত তাদের নিকটতম পূর্বপুরুষ আরার বিন শাহওয়ান এবং শাহওয়ান বিন মনসুরের মাঝে 'ফারিস বিন তাআন' নামে একজন পিতামহ ছিলেন, যা আল-ফারিস পরিবার সংক্রান্ত একটি পাঠ্য থেকে অনুমান করা যায় এবং এর ব্যাখ্যা সামনে আসবে। তাদের ফারিস বিন তাআনের বংশধর বলার কারণ হলো, আল-খলিল পরিবার হলো জাফর বংশীয় খলিল বিন জাসির বিন আলি বিন আতিয়্যার সন্তান। আল-শরীস উল্লেখ করেছেন যে, আল-ফারিস এবং আল-খলিল পরিবার মূলত একই উপশাখা এবং ইবনে ফারিস মুহাম্মাদ ১১০৯ হিজরিতে জীবিত ছিলেন। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আল-সাদিক পরিবার আল-ফারিস বংশীয় আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আলির বংশধর। সুতরাং যদি আল-সাদিক পরিবার আল-আলি পরিবারের চাচাতো ভাই হয় এবং তারা ফারিস বিন তাআনের বংশধর হয়, তবে আল-আলি পরিবারও ফারিসের বংশধর। তারা সবাই আল-জাফর বংশের অন্তর্ভুক্ত এবং ইবনে বাসসাম উল্লেখ করেছেন যে আল-জাফর হলো দাইগাম বংশীয়। এই সবকিছুর ভিত্তিতে আমি এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছি যে, আল-আলি এবং আল-রশীদ পরিবারের একজন পিতামহ ছিলেন যার নাম ফারিস বিন তাআন; তিনি হয় আরার বিন শাহওয়ানের বংশধরদের একজন ছিলেন, অথবা আরার বিন শাহওয়ান এবং শাহওয়ান বিন মনসুর বিন দাইগামের মধ্যবর্তী কেউ ছিলেন। যাই হোক, আল-রশীদ বংশে ফারিস বিন তাআনকে অন্তর্ভুক্ত করা একটি নিছক অনুমানভিত্তিক সিদ্ধান্ত।
ইবনে রাসুলের বর্ণনায় রয়েছে যে, মুনিফ বিন দাইগাম বিন মুনিফ বিন জাবিরের রশিদ নামে এক ছেলে ছিল এবং তার উমাইর বিন আহমাদ বিন রশিদ নামে এক নাতি ছিল। শায়খ হামাদ আল-জাসির যে অজ্ঞাতনামা লেখকের কিতাব থেকে পাণ্ডুলিপিতে ঘোড়া সংক্রান্ত 'আদ-দুহম আশ-শাহওয়ানিয়াত'-এর সংবাদ উদ্ধৃত করেছেন, সেখানে উল্লেখ আছে যে শাহওয়ান হলেন আরারের পিতা অথবা রশিদের ভাই উমাইরের চাচা। সুতরাং সম্ভাবনা আছে যে আরার মুনিফ বিন দাইগামের নাতি ছিলেন। আবার এমনটিও হতে পারে যে তিনি শাহওয়ান বিন মনসুর বিন দাইগামের বংশধর ছিলেন। তবে শাহওয়ান, উমাইর এবং রশিদ নামের পুনরাবৃত্তি নিশ্চিত করে যে আরার বিন শাহওয়ান এবং উমাইর বিন রশিদ মুনিফ বিন দাইগামের বংশধর। আল-জারবা পরিবার হলো শাম্মার গোত্রের নেতা এবং জাবাল অঞ্চলের প্রধান। তাদের সম্পর্কে প্রাচীনতম যে উল্লেখ আমি পেয়েছি তা হলো ১১০০ হিজরি এবং ১১০৩ হিজরিতে তাদের দুইজনের মৃত্যু সংবাদ। তারা ১২০৫ হিজরিতে ইবনে সউদের কাছে পরাজিত হওয়ার পর নজদ ত্যাগ করেন এবং ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। শাম্মার গোত্রের সবচেয়ে বড় উপশাখা হলো আবদাহ, যারা মাজহিজ গোত্রের জাম্ব শাখা থেকে এসেছে; ফলে তারা কাহতানের উবাইদাহ গোত্রের চাচাতো ভাই। আল-জারবান, আল-আলি এবং আল-রশীদ পরিবার আবদাহরই অন্তর্ভুক্ত। জনৈক কবি বলেছেন—
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
عبيدة من قحطان: دة من قحطان:
ان سَلْتْ عَنَّا يَالسُّوَيْطِي قَحَاطِيْنْ
… عَوَاصْمٍ، واللِّيْ حْذَانَا لفَايِق
حِنَّا وْعَبْدَةَ والضَّيَاغِمْ بْجَدَّيْنْ
… لَطَّامة يَوْمَ اللقا كلِّ مَايِق
وأمراء الجبل بعد الجربان آل علي، وفي التاريخ لهم اضطراب كثير، وقد طمر الدارسون العهد الأول من إمَارة عيسى بن علي، ممَا ترتب عليه الخلط بين أحداث عبد الله ابن رشيد في عهد عيسى الأول وعهد صالح بن عبد الَمْحسن وعهد عيسى بن علي للَمْرة الثانية. وقد حققت ترتيب ولايتهم على هذا النحو: 1 - عبد الَمْحسن بن فايز بن محمد بن عيسى بن علي بن علي بن عطية. وهو أمير الجبل في عهد الإمَام عبد العزيز بن محمد وقد دخل في طاعته عام 1201هـ.
2 - محمد بن عبد الَمْحسن تولى عام 1201هـ.
3 - عيسى بن علي تولى عام 1234هـ.
4 - صالح بن عبد الَمْحسن تولى عام 1249هـ.
5 - ابن رشيد تولى عام 1250هـ.
6 - عيسى بن علي تولى مرة ثانية عام 1253هـ.
ثم طرده عبد الله بن رشيد في نفس العام، وبذلك انتهت إمَارة آل علي. وهذا الترتيب جاء بعد تحقيق وتدقيق ومناقشات. وبعد آل علي جاء آل رشيد، وقد كتب الدكتور عبد الله الصالح العثيمين ضميمة غاية في التحقيق، والتدقيق بعنوان " نشأة إمَارة آل رشيد " نشرتها:عمَادة شؤون الَمْكتبات بجامعة الرياض " عام 1981م وطبعتها " مطابع الشرق الأوسط بالرياض " وقد تطرق في هذه الضميمة لأمراء الجبل قبل عبد الله بن رشيد. وضميمة الدكتور العثيمين دراسة رائدة في تناول تاريخنا الَمْحلي، من ناحية الاستنباط والإفادة من الشعر العامي ومَا كتبه الأجنبون. وكانت عناية الدكتور العثيمين بالتاريخ قصداً، وبالشعر العامي تبعاً، ولقد تناولت تاريخ عبد الله بن الرشيد في السفر الثاني من كتابي " تاريخ نجد في عصور العامية " بعكس هذا الَمْنهج وهو أنني قصدت الشعر العامي واتكأت على التاريخ تتميمَا للدراسة من الشعر. ولَمْا قارنت مَا كتبته بمَا كتبه الدكتور العثيمين رأيت في مصادره سعة لي، وفي تخريجاته واستنباطاته معالَمْ اهتديت بها. ورأيت في ضميمة الدكتور العثيمين شيئاً يجب استدراكه دون أن يُخل بِأصالة بحثه ودقته. ورأيت في بحثي شيئاً يجب أن يضم إلى بحث الدكتور ليكون مكتملاً بحسب الأداة التي يملكها الباحث في هذا العصر. ومن الَمْستحسن أن آتي بنبذة عن آل علي الذين خلفوا آل الجرباء في الزعامة فقد أسلفت في الحديث عن آل الجرباء أنهم من عَبْدَةَ من شمر، وأن عَبْدَةَ من آل ضيغم. وآل رشيد أبناء عم آل علي الأقربين، وقد سلسل الدكتور ابن عثيمين نسب الأمير محمد بن عبد الَمْحسن هكذا: محمد بن عبد الَمْحسن بن فايز بن محمد بن عيسى بن علي ابن علي الكبير الذي يلتقي فيه نسب هذه الاسرة مع نسب آل رشيد. ولَمْ يذكر الدكتور مصدره. وقال سليمَان الدخيل عن عبد الله الرشيد: عبد الله علي بن رشيد بن خليل بن عطية. وخليل أخوعلي جد آل علي. ونقل الدكتور العثيمين عن ورقة عند نايف آل علي بحائل: عبد الله بن علي بن حمد بن رشيد بن خضير بن خليل ابن ياسر بن علي بن عطية. قال العثيمين: ومَا ذكره ضاري يتفق مع ورقة نايف، إلا أن حمداً أبٌ لرشيد، لا ابناً له. وقال ابن بشر عن جبر عم عبد الله بن رشيد: جبر بن رشيد بن علي. قال أبو عبد الرحمن: يظهر لي أن عليا الكبير هو جد آل صادق بالنجف فجدهم الحاج أحمد كان حياً سنة 1185هـ وهو ابن عبد الله بن محمد بن علي من شمر عَبْدَةَ. ويظهر أن عليا الكبير بن عطية ينتهي نسبه إلى فارس ابن طعان جد آل فرس بالنجف. قال الشريس عن آل فارس: أحد فروع آل جعفر من قبيلة شمر عَبْدَةَ الطائية القحطانية وقد ذكرهم العزاوي في كتابه " عشائر العراق " البدوية وهم آل خليل بطن واحدة قال أبو عبد الرحمن: وسياق النسب من هذه النصوص لهذه الأسر يتسق على هذا الَمْشجر.
فارس بن طعان من ذريته علي الكبير بن عطية محمد جد آل صادق علي عيسى جد آل علي جاسر جد آل رشيد
কাহতান থেকে উবায়দাহ: কাহতান থেকে:
হে সুওয়াইতি, যদি তুমি আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো, তবে (জেনে রেখো) আমরা কাহতানি... আওয়াসিম, আর আমাদের পাশে যারা রয়েছে তারা শ্রেষ্ঠ।
আমরা, আবদাহ এবং জায়াগিমরা মূলত দুই পূর্বপুরুষ থেকে আগত... যারা রণক্ষেত্রে দাম্ভিকদের শক্ত হাতে দমনকারী।
জারবানদের পর জাবালের (পর্বত) আমিররা ছিলেন আলে আলী (আলী পরিবার)। ইতিহাসে তাদের সম্পর্কে অনেক অস্পষ্টতা ও মতভেদ রয়েছে। গবেষকরা ঈসা ইবনে আলীর শাসনের প্রথম যুগটিকে বিস্মৃতির অন্তরালে রেখে দিয়েছেন, যার ফলে ঈসার প্রথম শাসনকাল, সালেহ ইবনে আব্দুল মুহসিনের শাসনকাল এবং ঈসা ইবনে আলীর দ্বিতীয়বার শাসনভার গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে আব্দুল্লাহ ইবনে রশিদের কর্মকাণ্ড ও ঘটনাবলি নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। আমি তাদের শাসনকালের পর্যায়ক্রমটি নিম্নোক্তভাবে যাচাই ও নির্ধারণ করেছি: ১ - আব্দুল মুহসিন ইবনে ফায়েজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে আলী ইবনে আলী ইবনে আতিয়্যাহ। তিনি ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদের যুগে জাবালের আমির ছিলেন এবং ১২০১ হিজরিতে তাঁর আনুগত্য স্বীকার করেন।
২ - মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুহসিন ১২০১ হিজরিতে ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
৩ - ঈসা ইবনে আলী ১২৩৪ হিজরিতে ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
৪ - সালেহ ইবনে আব্দুল মুহসিন ১২৪৯ হিজরিতে ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
৫ - ইবনে রশিদ ১২৫০ হিজরিতে ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
৬ - ঈসা ইবনে আলী দ্বিতীয়বারের মতো ১২৫৩ হিজরিতে ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
অতঃপর একই বছরে আব্দুল্লাহ ইবনে রশিদ তাঁকে বিতাড়িত করেন এবং এর মাধ্যমেই আলে আলীর শাসনের অবসান ঘটে। এই পর্যায়ক্রমটি ব্যাপক অনুসন্ধান, সূক্ষ্ম যাচাই ও আলোচনার পর স্থির করা হয়েছে। আলে আলীর পর আলে রশিদের আগমন ঘটে। ডক্টর আব্দুল্লাহ আল-সালিহ আল-উসাইমীন ‘নাশআতু ইমারাত আলে রশিদ’ (আলে রশিদ শাসনের উদ্ভব) শিরোনামে অত্যন্ত তথ্যবহুল ও সূক্ষ্ম গবেষণালব্ধ একটি প্রবন্ধ রচনা করেছেন। এটি ১৯৮১ সালে রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার বিষয়ক বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয় এবং রিয়াদের ‘মাতাবিউশ শারকিল আওসাত’ থেকে মুদ্রিত হয়। এই প্রবন্ধে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে রশিদের পূর্ববর্তী জাবাল অঞ্চলের আমিরদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। ডক্টর উসাইমীনের এই প্রবন্ধটি আমাদের স্থানীয় ইতিহাস পর্যালোচনায় একটি পথপ্রদর্শক গবেষণা হিসেবে স্বীকৃত, বিশেষ করে লোকজ কবিতা ও বিদেশি লেখকদের তথ্যাদি থেকে সারকথা ও নির্যাস বের করার ক্ষেত্রে। ডক্টর উসাইমীনের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইতিহাস এবং লোকজ কবিতা ছিল তার অনুগামী বিষয়। অন্যদিকে, আমি আমার ‘তারিখু নাজদিন ফি উসুরিল আম্মিয়্যাহ’ (লোকজ কাব্যযুগে নজদের ইতিহাস) গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডে আব্দুল্লাহ ইবনে রশিদের ইতিহাস পর্যালোচনায় এর বিপরীত পদ্ধতি অবলম্বন করেছি। অর্থাৎ আমার মূল লক্ষ্য ছিল লোকজ কবিতা এবং গবেষণার পূর্ণতা দানের জন্য আমি ইতিহাসের সাহায্য নিয়েছি। যখন আমি আমার লেখার সাথে ডক্টর উসাইমীনের লেখার তুলনা করলাম, তখন দেখলাম যে তাঁর তথ্যের উৎসগুলো আমার জন্য অত্যন্ত সহায়ক এবং তাঁর উপস্থাপিত ফলাফল ও বিশ্লেষণগুলো আমার জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছে। তবে ডক্টর উসাইমীনের এই প্রবন্ধে কিছু বিষয় সংযোজন বা সংশোধন করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি, যা তাঁর গবেষণার মৌলিকত্ব ও সূক্ষ্মতাকে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ করে না। পাশাপাশি আমার গবেষণারও কিছু অংশ ডক্টরের গবেষণার সাথে যুক্ত হওয়া উচিত, যাতে বর্তমান সময়ের গবেষকদের কাছে থাকা উপাত্তের ভিত্তিতে এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। এখানে আলে আল-জারবায়ের পর নেতৃত্বের উত্তরাধিকারী আলে আলী সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করা সমীচীন হবে। ইতিপূর্বে আল-জারবা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে আমি উল্লেখ করেছি যে, তাঁরা শাম্মার গোত্রের আবদাহ শাখার অন্তর্ভুক্ত এবং আবদাহ মূলত আলে জায়গিম বংশোদ্ভূত। আলে রশিদ এবং আলে আলী অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং একে অপরের চাচাতো ভাই। ডক্টর ইবনে উসাইমীন আমির মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুহসিনের বংশধারা নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করেছেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুহসিন ইবনে ফায়েজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে আলী ইবনে আলী আল-কাবীর। এই আলী আল-কাবীরের মাধ্যমেই আলে রশিদ পরিবারের সাথে তাঁদের বংশধারা মিলিত হয়েছে। তবে ডক্টর তাঁর এই তথ্যের উৎস উল্লেখ করেননি। সুলাইমান আদ-দাখিল আব্দুল্লাহ আল-রশিদ সম্পর্কে বলেছেন: আব্দুল্লাহ আলী ইবনে রশিদ ইবনে খালীল ইবনে আতিয়্যাহ। আর খালীল হলেন আলী আল-কাবীরের ভাই এবং আলে আলীর পূর্বপুরুষ। অন্যদিকে ডক্টর উসাইমীন হাইল অঞ্চলের নায়েফ আলে আলীর কাছে সংরক্ষিত একটি নথির সূত্রে উল্লেখ করেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে হামাদ ইবনে রশিদ ইবনে খুদাইর ইবনে খালীল ইবনে ইয়াসির ইবনে আলী ইবনে আতিয়্যাহ। উসাইমীন বলেন: দ্বারী যা উল্লেখ করেছেন তা নায়েফের নথির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে পার্থক্য হলো হামাদ রশিদের পিতা ছিলেন, পুত্র নন। ইবনে বিশর আব্দুল্লাহ ইবনে রশিদের চাচা জাবর সম্পর্কে লিখেছেন: জাবর ইবনে রশিদ ইবনে আলী। আবু আব্দুর রহমান বলেন: আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আলী আল-কাবীর হলেন নাজাফের আলে সাদিক পরিবারের পূর্বপুরুষ। তাঁদের পূর্বপুরুষ হাজি আহমদ ১১৮৫ হিজরিতে জীবিত ছিলেন এবং তিনি শাম্মারের আবদাহ শাখার মুহাম্মদ ইবনে আলীর পুত্র আব্দুল্লাহর সন্তান ছিলেন। আরও প্রতীয়মান হয় যে, আলী আল-কাবীর ইবনে আতিয়্যাহর বংশধারা নাজাফের আলে ফারাস গোত্রের পূর্বপুরুষ ফারাস ইবনে তায়ানের সাথে গিয়ে মিলিত হয়েছে। আশ-শারিস আলে ফারাস সম্পর্কে বলেন: তাঁরা কাহতানি শাম্মার আবদাহ গোত্রের আলে জাফর শাখার একটি উপশাখা। আল-আজ্জাওয়ী তাঁর ‘আশায়িরুল ইরাক’ (ইরাকের উপজাতি) গ্রন্থে তাঁদের উল্লেখ করেছেন এবং তাঁরা আলে খালীল নামক একটি উপদল। আবু আব্দুর রহমান বলেন: বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত এই বংশধারাগুলো এই ছক অনুযায়ী সুসংগঠিত হয়।
ফারাস ইবনে তায়ান, তাঁর বংশধর আলী আল-কাবীর ইবনে আতিয়্যাহ; মুহাম্মদ (আলে সাদিকের পূর্বপুরুষ), আলী; ঈসা (আলে আলীর পূর্বপুরুষ), জাসির (আলে রশিদের পূর্বপুরুষ)।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
وعلى هذا الأساس يصح القول بأن آل رشيد من آل علي كمَا قال الدخيل، وأنهم أبناء عم آل علي كمَا يقول الجمهور. هذا أكثر مَا رأيته في سلسلة النسب. أمَا عموم كتب الأنساب فتذكر آل رشيد من آل خليل من الجعافرة من الدغيرات من آل يحيا من عَبْدَةَ من شمر. وقال يوسف البسام: وآل حعفر من الضياغم من شمر عَبْدَةَ. ورأيت عبد الله الخالد الحاتم يذكر أن عرار بن شهوان آل ضيغم، جد الرشيد، أمراء جبل حائل،انه عاش سنة 850 هـ. وإلى ذلك مال شيخنا حمد الجاسر في كتابه " جمهرة أنساب الأسر الَمْتحضرة " فنسبهم إلى آل ضيغم، ونقل عن كتاب " طرفة الأصحاب في معرفة الأنساب " عمر بن يوسف ابن رسول "
… - 694 هـ " أن آل ضيغم كانوا إلى آخر القرن السابع الهجري لا يزالَوْن في الجنوب في بلاد مذحج " بلاد قحطان الآن بمنطقة إمَارة عسير " وسمَاهم آل منيف ونسبهم إلى جنب. وجدهم منيف بن ضيغم بن منيف بن جابر بن علي ابن عبد الرب بن ربيع بن سليمَان بن عبد الرحمن بن روح ابن مدرك بن عبد الحميد بن مدرك. ويقال إنهم من نزار - من عنز بن وائل بن قاسط، دخلَوْا في نسب جنب، لأن أمهم عبيدة بنت مهلهل بن ربيعة التغلبي تزوجها روح بن مدرك. ولهم أشعار في رحلتهم ذكر قطعاً منها الشيخان العبودي والجنيدل في معجميهمَا والشيخ حمد الجاسر في كتابه الخطي " معجم الخيل ". وقد ألَمْحت إلى شيء من ذلك في السفر الأول من كتابي عن الشعر العامي. ونسبة آل رشيد إلى آل ضيغم واردة في الشعر العامي. قال عبد الله بن رشيد يبكت جمَاعته:
من باب خَدَّام إِلى باب شدَّادْ
… واللِّيْ اعْتَزَى بالضَّيْغَمِيَّة تطليه
وقال مخلد بن هديرس يمدح عبد الله بن رشيد:
الضيغمِي منْ حاْيلٍ عطَّ الَانْجَاد
… دَزَّ السبور وقام يجْمَعْ نواحيه
وقال علي الْقَبالي التميمي:
الضيغمي كل الَمْراجل بعِّبهْ
… وحنَّا نْلَقِّطْ مَا وقَعْ بالتَّرابِ
وقال ابن هديرس:
أَبو طلال الضَّيْغمي فرز الَاوْلَاد
… زَبْزُومْ غَلْبا باللقا، ينطح التيه
وقال منيع القعود يمدح عبد العزيز بن متعب الرشيد:
تهزَّا بالضَّياغِم، يا سمىَّ الكلب سدحان
… تهزا بالضياغم، والضياغم للعدوعِلَّهْ
وفال سليمَان بن جمهور.
مَا صار مثل الضغيمي لاتوارى
… أَقْفَى على عين الَمْادي بالأَدبار
وقال عُبيَد بن علي بن رَشيد:
ضياغم ترخص جلالَه والارقاب
… ودون الرفيق بمَا لهم مَا يشحَّوْنَ
وقال يمدح أَخاه عبد الله:
يتلَوْن شغموم خوالهْ عمَامهْ
… من ضَيْغم مَا دكِّ به عرق الاجْنَابْ
وقال يمدح ابن أَخيه طلالا:
ضِيَاغْم يِرْدُوْنْ حوضَ الزّحَام
… يردون لَامِنِّهْ غشَى الناسَ الابْدالْ
وعلى هذا الأساس يصح القول بأن آل رشيد من آل علي كمَا قال الدخيل، وأنهم أبناء عم آل علي كمَا يقول الجمهور. هذا أكثر مَا رأيته في سلسلة النسب. أمَا عموم كتب الأنساب فتذكر آل رشيد من آل خليل من الجعافرة من الدغيرات من آل يحيا من عَبْدَةَ من شمر. وقال يوسف البسام: وآل حعفر من الضياغم من شمر عَبْدَةَ. ورأيت عبد الله الخالد الحاتم يذكر أن عرار بن شهوان آل ضيغم، جد الرشيد، أمراء جبل حائل،انه عاش سنة 850 هـ. وإلى ذلك مال شيخنا حمد الجاسر في كتابه " جمهرة أنساب الأسر الَمْتحضرة " فنسبهم إلى آل ضيغم، ونقل عن كتاب " طرفة الأصحاب في معرفة الأنساب " عمر بن يوسف ابن رسول "
… - 694 هـ " أن آل ضيغم كانوا إلى آخر القرن السابع الهجري لا يزالَوْن في الجنوب في بلاد مذحج " بلاد قحطان الآن بمنطقة إمَارة عسير " وسمَاهم آل منيف ونسبهم إلى جنب. وجدهم منيف بن ضيغم بن منيف بن جابر بن علي ابن عبد الرب بن ربيع بن سليمَان بن عبد الرحمن بن روح ابن مدرك بن عبد الحميد بن مدرك. ويقال إنهم من نزار - من عنز بن وائل بن قاسط، دخلَوْا في نسب جنب، لأن أمهم عبيدة بنت مهلهل بن ربيعة التغلبي تزوجها روح بن مدرك. ولهم أشعار في رحلتهم ذكر قطعاً منها الشيخان العبودي والجنيدل في معجميهمَا والشيخ حمد الجاسر في كتابه الخطي " معجم الخيل ". وقد ألَمْحت إلى شيء من ذلك في السفر الأول من كتابي عن الشعر العامي. ونسبة آل رشيد إلى آل ضيغم واردة في الشعر العامي. قال عبد الله بن رشيد يبكت جمَاعته:
من باب خَدَّام إِلى باب شدَّادْ
… واللِّيْ اعْتَزَى بالضَّيْغَمِيَّة تطليه
وقال مخلد بن هديرس يمدح عبد الله بن رشيد:
الضيغمِي منْ حاْيلٍ عطَّ الَانْجَاد
… دَزَّ السبور وقام يجْمَعْ نواحيه
وقال علي الْقَبالي التميمي:
الضيغمي كل الَمْراجل بعِّبهْ
… وحنَّا نْلَقِّطْ مَا وقَعْ بالتَّرابِ
وقال ابن هديرس:
أَبو طلال الضَّيْغمي فرز الَاوْلَاد
… زَبْزُومْ غَلْبا باللقا، ينطح التيه
وقال منيع القعود يمدح عبد العزيز بن متعب الرشيد:
تهزَّا بالضَّياغِم، يا سمىَّ الكلب سدحان
… تهزا بالضياغم، والضياغم للعدوعِلَّهْ
وفال سليمَان بن جمهور.
مَا صار مثل الضغيمي لاتوارى
… أَقْفَى على عين الَمْادي بالأَدبار
وقال عُبيَد بن علي بن رَشيد:
ضياغم ترخص جلالَه والارقاب
… ودون الرفيق بمَا لهم مَا يشحَّوْنَ
وقال يمدহ أَخاه عبد الله:
يتلَوْن شغموم خوالهْ عمَامهْ
… من ضَيْغم مَا دكِّ به عرق الاجْنَابْ
وقال يمدح ابن أَخيه طلالا:
ضِيَاغْم يِرْدُوْنْ حوضَ الزّحَام
… يردون لَامِنِّهْ غشَى الناسَ الابْدالْ
এই ভিত্তিতে এটি বলা সঠিক হবে যে, আল রশিদ পরিবার আল আলী পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আল-দাখিল বলেছেন এবং তারা আল আলী পরিবারের চাচাতো ভাই, যেমনটি সাধারণের অভিমত। বংশতালিকায় আমি মূলত এটাই বেশি দেখেছি। তবে সাধারণ বংশতত্ত্ব বিষয়ক বইগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল রশিদ হলো শাম্মার গোত্রের আবদাহ শাখার ইয়াহইয়া উপশাখার দুগাইরাত গোত্রের জাআফিরা শাখার আল খলিল পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ইউসুফ আল-বাসসাম বলেছেন: আল জাফর হলো শাম্মার আবদাহর দায়াগিম শাখার অন্তর্ভুক্ত। আমি আব্দুল্লাহ আল-খালিদ আল-হাতিমকে উল্লেখ করতে দেখেছি যে, জাবাল হাইল-এর আমির আল রশিদের দাদা আরার বিন শাহওয়ান আল দায়গাম ৮৫০ হিজরি সনে জীবিত ছিলেন। আমাদের শায়খ হামাদ আল-জাসির তার "জামহারাত আনসাব আল-উসার আল-মুতাহদারা" (বসতি স্থাপনকারী পরিবারসমূহের বংশধারা সংকলন) গ্রন্থে এই মতের দিকেই ঝুঁকেছেন এবং তাদেরকে আল দায়গাম বংশের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি উমর বিন ইউসুফ ইবনে রাসুল (মৃত্যু ৬৯৪ হিজরি) রচিত "তুহফাত আল-আসহাব ফি মা'রিফাত আল-আনসাব" গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, আল দায়গাম বংশ সপ্তম হিজরি শতাব্দীর শেষ ভাগ পর্যন্ত দক্ষিণ অঞ্চলের মাজহিজ এলাকায় (যা বর্তমানে আসীর প্রদেশ অঞ্চলের কাহতান এলাকা) অবস্থান করছিল। তিনি তাদেরকে আল মুনিফ নামে অভিহিত করেছেন এবং জানব গোত্রের সাথে তাদের বংশীয় সম্বন্ধ দেখিয়েছেন। তাদের মূল পুরুষ হলেন মুনিফ বিন দায়গাম বিন মুনিফ বিন জাবির বিন আলী ইবনে আবদুর রব বিন রাবী বিন সুলাইমান বিন আবদুর রহমান বিন রুহ ইবনে মুদরিক বিন আব্দুল হামিদ বিন মুদরিক। বলা হয় যে, তারা নিজার বংশীয় - আনজ বিন ওয়াইল বিন কাসিত শাখা থেকে উদ্ভূত, যারা জানব গোত্রের বংশধারায় প্রবেশ করেছে; কারণ তাদের মা উবাইদাহ বিনতে মুহালহিল বিন রাবীআ আল-তাগলিবীকে রুহ বিন মুদরিক বিয়ে করেছিলেন। তাদের সফরের বর্ণনা নিয়ে অনেক কবিতা রয়েছে যার কিছু অংশ শায়খ আল-আবুদি ও আল-জুনাইদিল তাদের অভিধানদ্বয়ে এবং শায়খ হামাদ আল-জাসির তার পাণ্ডুলিপি "মুজাম আল-খাইল"-এ উল্লেখ করেছেন। আমি আমার লোকজ কবিতা বিষয়ক গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে এর কিছু ইঙ্গিত দিয়েছি। আল রশিদ পরিবারকে আল দায়গাম বংশের সাথে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি লোকজ কবিতায় ব্যাপকভাবে প্রচলিত। আব্দুল্লাহ বিন রশিদ তার স্বগোত্রীয়দের ভর্ৎসনা করে বলেছেন:
খদ্দামের দরজা থেকে শাদ্দাদের দরজা পর্যন্ত... এবং যে ব্যক্তি দায়গামি পরিচয়ে গর্বিত হয় সে তাকে মর্যাদায় ভূষিত করে।
মখলাদ বিন হুদাইরাস আব্দুল্লাহ বিন রশিদের প্রশংসা করে বলেন:
হাইল থেকে আগত সেই দায়গামি বীর উচ্চভূমি পাড়ি দিয়েছেন... তিনি অগ্রগামী দল পাঠিয়েছেন এবং নিজের সীমানা সুরক্ষিত করতে শুরু করেছেন।
আলী আল-কাবালি আল-তামিমি বলেছেন:
দায়গামি বীরের মাঝেই সকল পৌরুষ নিহিত... আর আমরা কেবল ধুলোয় পড়ে থাকা অবশিষ্টাংশটুকু কুড়িয়ে নিচ্ছি।
ইবনে হুদাইরাস বলেছেন:
আবু তালাল দায়গামি বীর সন্তানদের বাছাইকৃত নেতা... যুদ্ধের ময়দানে তিনি গালবা গোত্রের শিরোমণি, যিনি বিভ্রান্তিকে প্রতিহত করেন।
মানি আল-কুউদ আব্দুল আজিজ বিন মুতআব আল রশিদের প্রশংসা করে বলেছেন:
হে কুকুরের নামধারী সাদহান, তুমি কি দায়গামিদের বিদ্রূপ করো? তুমি দায়গামিদের বিদ্রূপ করছো, অথচ দায়গামিগণ শত্রুদের জন্য এক মরণব্যাধি।
সুলাইমান বিন জুমহুর বলেছেন:
দায়গামির মতো আর কেউ নেই যখন সে প্রস্থান করে... সে প্রত্যক্ষদর্শীর চোখের সামনে দিয়ে বীরদর্পে প্রস্থান করে।
উবাইদ বিন আলী বিন রশিদ বলেছেন:
দায়গামিগণ এমন যারা তুচ্ছ বিষয় ও জীবনকে বিসর্জন দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না... এবং বন্ধুর প্রয়োজনে তারা নিজেদের সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দেয়।
তিনি তার ভাই আব্দুল্লাহর প্রশংসা করে বলেছেন:
তারা এমন এক বীরের অনুসরণ করে যার মামা ও চাচা উভয়ই দায়গাম বংশের... যার মাঝে বিজাতীয় কোনো রক্তের সংমিশ্রণ নেই।
তিনি তার ভ্রাতুষ্পুত্র তালালের প্রশংসা করে বলেছেন:
দায়গামিগণ যুদ্ধের ঘনঘটার মাঝে অবতীর্ণ হয়... তারা তখনই অগ্রসর হয় যখন মানুষের ওপর ভীতি ও চরম বিপর্যয় নেমে আসে।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
إِلا أَن العزاوي نقل عن كتاب " مجمع الأَنساب " الذي نسبه لابن قدامة بأَن عَبْدَةَ من شمر. قال أبو عبد الرحمن: وعلى هذا يكون القحطانيون - من غير طيء - هم آل ضيغم دخلَوْا في عَبْدَةَ بالحلف. والَمْعلَوْمَات عن آل على غير مكتملة، ومَا وجد عنهم من معلَوْمَات فيه اضطراب كثير. فالدكتور ابن عثيمين: يرى أَن إِمَارة حائل خلال القرن الثاني عشر الهجري لآل علي الَمْنتمين لآل جعفر. وعد من أُمراء هذا القرن محمداً الأَول وهو محمد بن عيسى ابن علي أَخو خنساء، أَو السمن العرابي أَمَا الشيخ علي بن سالَمْ فيذكر أَن أَول أُمراء آل علي عبد الَمْحسن بن علي. ثم قال في موضع آخر: وليس عندي بيان وقت ولايتهم وكيف انقرضوا لكنهم من عام 1232. قال أبو عبد الرحمن: عبد الَمْحسن كان أمير حائل في عهد الإمَام عبد العزيز بن محمد وقد دخل في طاعة الإمَام عام 1201هـ وبهذا تكون بدايتهم قبل عام 1201 ويسقط قول ابن سالم: أنهم من عام 1232هـ. أمَا الدكتور العثيمين فقد أسقط عهد عبد الَمْحسن هذا، وقال: إن الأمير في نهاية القرن الثاني عشر هو محمد بن عبد الَمْحسن. قال أبو عبد الرحمن: إنمَا تولى محمد بعد ابنه عبد الَمْحسن في مطلع القرن الثالث عشر. ونقل العثيمين عن كتاب " كيف كان ظهور شيخ الإسلام محمد بن عبد الَوْهاب " لَمْؤلف مجهول: أن حجيلان عام 1201 قتل رجلاً ساحراً ونصب محمد بن علي شيخاً في الَمْنطقة. وعلق على ذلك بقوله: ولعل حجيلان أقر محمد بن علي في زعامة الجبل. قال أبو عبد الرحمن: أسلفت نص ابن سالَمْ على أن عبد الَمْحسن كان أمير حائل قبل ابنه، وذكر يوسف البسام: أن حجيلان عين محمداً بعد وفاة والده عبد الَمْحسن. فهذان النصان بالإضافة إلى نص صاحب كتاب " كيف كان ظهور شيخ الإسلام " يؤيد سبق إمَارة عبد الَمْحسن وليس عند الدكتور العثيمين زيادة علَمْ تنفي ذلك. ويظهر أن شمر دانت لدعوة الشيخ محمد بن عبد الَوْهاب في حياته، وحياة الإمَام محمد بن سعود قبيل سنة 1178هـ لأن صاحب كتاب " لَمْع الشهاب " ذكر في أحداث هذه السنة أن محمد بن سعود هيأَ عسكراً مقداره ستة آلاف، بقيادة ابنه عبد العزيز بأمر من محمد بن عبد الَوْهاب، وأرسله إلى طائفة من شمر، كانت قد دخلت في الطاعة قبل ذلك ولَمْا سمعوا بمجيء النجراني وعرعر ارتدُّوا عن حكم ابن سعود، وجعلَوْا يغزون أطرافه، فسار عبد العزيز بالجيش إلى جبل شمر وغزاهم ليلاً فأهلك منهم جمعاً كثيراُ وقد أسر منهم مئتي رجل بل أزيد. أمَا آل علي أنفسهم وحاضرة الجبل فقد دانوا لحكم آل سعود منذ عام 1201هـ. ولذلك مقدمتان: أولاهمَا: أن قبيلة شمر سنة 1196 ناصرت سعودون ابن عريعر في حصاره لحجيلان أمير بريدة من قبل آل سعود. وأخراهمَا: أن شمر في الَمْحرم عام 1201هـ ناصرت ثويني بن عبد الله، في هجومه على نجد، ومحاصرته للقصيم ولحجيلان في بريدة. فلعله نتيجة للَمْقدمة الأولى: كانت غزوة حجيلان عام 1200هـ حيث أخذ قافلة لشمر وقتل منهم قتلى كثيرة. ونتيجة للَمْقدمة الثانية بيقين: غزا حجيلان بأمر من الإمَام عبد العزيز بلد شمر وأدخلهم في الطاعة فبايعوا ابن سعود. ومحمد هذا من أشهر أُمراء آل علي. من الأحداث التاريخية في عصره أنه غزا قبيلة الشرارات في الجوف سنة 1207هـ ومعه أربع مئة من الإبل وخمسون من الخيل لكن نتيجة غزوته كانت فاشلة. وفي سنة 1208 هاجم الجوف وأدخله في طاعة آل سعود، فضم إليه الإمَام سعود بن عبد العزيز ولاية الجوف. وفي سنة 1211هـ اشترك أهل الجبل مع القوات السعودية في صد حملة ثويني. وذكر أن محمداً غزا ناحية العراق واشتبك مع آل بعيج وقتل منهم خمسين رجلاً. وفي سنة 1221هـ كان محمد من بين الزعمَاء الَمْرابطين حول الَمْدينة الَمْنورة، بأمر من الإمَام سعود، لإجبار أمير حجاج الشام على العودة إلى بلاده. وفي سنة 1225هـ كان أهل الجبل مع الإمَام سعود في غزوه للبلاد الشامية. وفي سنة 1228هـ كلف الإمَام سعود محمداً بمراقبة فرقة من الجيش الَمْصري العثمَاني ليجبرها على الذهاب إلى العراق. وفي سنة 1229هـ اشترك محمد مع القوات السعودية في هجومها التأديبي الفاشل على عياد الذويبي الحربي قرب الحناكية. وفي سنة 1230هـ كان أهل الجبل مع الإمَام عبد الله بن سعود في القصيم، حين وصل إليها طوسون كمَا كانوا معه لتأديب بعض
তবে আল-আযযাভী ‘মাজমাউল আনসাব’ কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেছেন—যা তিনি ইবনে কুদামার দিকে নেসবত করেছেন—যে আবদাহ গোত্র শাম্মার বংশোদ্ভূত। আবু আবদুর রহমান বলেন: এ হিসেবে কাহতানিরা—তাই গোত্র ব্যতীত—হলো আল-যাইগাম, যারা মৈত্রীবন্ধনের মাধ্যমে আবদাহ গোত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আল-আলী পরিবার সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যগুলো অসম্পূর্ণ এবং তাদের সম্পর্কে যা কিছু তথ্য পাওয়া যায় তাতে প্রচুর অসংলগ্নতা রয়েছে। ডক্টর ইবনে উসাইমীন মনে করেন যে, দ্বাদশ হিজরি শতাব্দীতে হাইল-এর শাসনকর্তৃত্ব ছিল আল-জাফর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত আল-আলী পরিবারের হাতে। তিনি এ শতাব্দীর আমিরদের মধ্যে প্রথম মুহাম্মদকে গণ্য করেছেন, যিনি হলেন খানসার ভাই মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন আলী, অথবা তাকে 'সামন আল-আরাবি' বলা হয়। পক্ষান্তরে শেখ আলী বিন সালেম উল্লেখ করেন যে, আল-আলী পরিবারের প্রথম আমির ছিলেন আবদুল মুহসিন বিন আলী। অতঃপর তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: তাদের শাসনের সময়কাল এবং তারা কীভাবে বিলুপ্ত হলো সে সম্পর্কে আমার নিকট কোনো স্পষ্ট বর্ণনা নেই, তবে তারা ১২৩২ হিজরি থেকে ছিল। আবু আবদুর রহমান বলেন: আবদুল মুহসিন ইমাম আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদের শাসনামলে হাইলের আমির ছিলেন এবং তিনি ১২০১ হিজরিতে ইমামের আনুগত্য স্বীকার করেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে তাদের সূচনা ১২০১ হিজরির পূর্বেই হয়েছিল এবং ইবনে সালেমের এই উক্তি যে তারা ১২৩২ হিজরি থেকে ছিল, তা অসার প্রমাণিত হয়। আর ডক্টর উসাইমীন এই আবদুল মুহসিনের শাসনকালটি বাদ দিয়েছেন এবং বলেছেন: দ্বাদশ শতাব্দীর শেষে আমির ছিলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল মুহসিন। আবু আবদুর রহমান বলেন: মূলত মুহাম্মদ ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে তার পুত্র আবদুল মুহসিনের পর ক্ষমতা গ্রহণ করেন। উসাইমীন জনৈক অজ্ঞাত লেখকের ‘কাইফা কানা জুহুরু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাব’ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে: হুজাইলান ১২০১ হিজরিতে একজন জাদুকরকে হত্যা করেন এবং মুহাম্মদ বিন আলীকে ওই অঞ্চলের শায়খ নিযুক্ত করেন। তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন: সম্ভবত হুজাইলান জাবাল অঞ্চলের নেতৃত্বে মুহাম্মদ বিন আলীকে বহাল রেখেছিলেন। আবু আবদুর রহমান বলেন: আমি ইতিপূর্বে ইবনে সালেমের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি যে, আবদুল মুহসিন তার পুত্রের পূর্বে হাইলের আমির ছিলেন, এবং ইউসুফ আল-বাসসাম উল্লেখ করেছেন যে: হুজাইলান তার পিতা আবদুল মুহসিনের মৃত্যুর পর মুহাম্মদকে নিযুক্ত করেছিলেন। সুতরাং এই দুটি উদ্ধৃতি এবং ‘কাইফা কানা জুহুরু শায়খিল ইসলাম’ গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য আবদুল মুহসিনের আমীরত্ব আগে হওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করে, এবং ডক্টর উসাইমীনের নিকট এমন অতিরিক্ত কোনো তথ্য নেই যা একে খণ্ডন করে। প্রতীয়মান হয় যে, শাম্মার গোত্র শেখ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাবের জীবদ্দশায় এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদের জীবদ্দশায় ১১৭৮ হিজরির পূর্বেই তার দাওয়াতের আনুগত্য স্বীকার করেছিল। কারণ ‘লামউশ শিহাব’ গ্রন্থের লেখক উক্ত বছরের ঘটনাবলীতে উল্লেখ করেছেন যে, মুহাম্মদ বিন সাউদ শেখ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাবের আদেশে তার পুত্র আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ছয় হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রস্তুত করেন এবং তাদের শাম্মার গোত্রের একটি দলের নিকট প্রেরণ করেন। তারা ইতিপূর্বেই আনুগত্য স্বীকার করেছিল, কিন্তু যখন তারা নাজরানি ও আরআরের আগমনের খবর শুনল, তখন তারা ইবনে সাউদের শাসন থেকে বিচ্যুত হয়ে বিদ্রোহ করল এবং তার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আক্রমণ শুরু করল। অতঃপর আবদুল আজিজ সসৈন্যে জাবাল শাম্মারের অভিমুখে যাত্রা করলেন এবং রাতে তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে এক বিশাল বাহিনীকে ধ্বংস করলেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে দুইশত বা তারও বেশি লোককে বন্দি করেছিলেন। আল-আলী পরিবার এবং জাবাল অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দারা ১২০১ হিজরি থেকে আল-সাউদের শাসন মেনে নেয়। এর পেছনে দুটি প্রেক্ষাপট রয়েছে: প্রথমত, ১১৯৬ হিজরিতে শাম্মার গোত্র আল-সাউদের পক্ষ থেকে নিযুক্ত বুরাইদাহর আমির হুজাইলানকে অবরোধ করার সময় সাদুন বিন উরাইয়ারকে সহায়তা করেছিল। দ্বিতীয়ত: ১২০১ হিজরির মহররম মাসে শাম্মার গোত্র নজদ আক্রমণে এবং কাসিম ও বুরাইদাহর হুজাইলানকে অবরোধ করার সময় সুওয়াইনি বিন আবদুল্লাহকে সহায়তা করেছিল। সম্ভবত প্রথম প্রেক্ষাপটেরই ফলশ্রুতিতে ১২০০ হিজরিতে হুজাইলান একটি অভিযান পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি শাম্মারের একটি কাফেলা পাকড়াও করেন এবং তাদের অনেককে হত্যা করেন। আর দ্বিতীয় প্রেক্ষাপটের নিশ্চিত ফল হিসেবে, ইমাম আবদুল আজিজের আদেশে হুজাইলান শাম্মার জনপদ আক্রমণ করেন এবং তাদেরকে আনুগত্যের অধীনে নিয়ে আসেন, ফলে তারা ইবনে সাউদের হাতে বায়আত গ্রহণ করে। এই মুহাম্মদ ছিলেন আল-আলী পরিবারের অন্যতম প্রসিদ্ধ আমির। তার সময়ের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর মধ্যে একটি হলো ১২০৭ হিজরিতে জাওফ অঞ্চলে শারারাত গোত্রের বিরুদ্ধে তার অভিযান, যেখানে তার সাথে চারশ উট এবং পঞ্চাশটি ঘোড়া ছিল; তবে সেই অভিযানের ফলাফল ছিল ব্যর্থ। ১২০৮ হিজরিতে তিনি জাওফ আক্রমণ করেন এবং তাকে আল-সাউদের আনুগত্যে নিয়ে আসেন। ফলে ইমাম সাউদ বিন আবদুল আজিজ জাওফের শাসনভারও তার সাথে ন্যস্ত করেন। ১২১১ হিজরিতে জাবাল অঞ্চলের অধিবাসীরা সুওয়াইনির আক্রমণ প্রতিহত করতে সৌদি বাহিনীর সাথে অংশগ্রহণ করে। আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুহাম্মদ ইরাক অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করেন এবং আল-বুআইজ গোত্রের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে তাদের পঞ্চাশজন লোককে হত্যা করেন। ১২২১ হিজরিতে ইমাম সাউদের আদেশে সিরীয় হাজি কাফেলার আমিরকে স্বদেশে ফিরে যেতে বাধ্য করার জন্য মদিনা মুনাওয়ারার আশেপাশে পাহারারত নেতাদের মধ্যে মুহাম্মদও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ১২২৫ হিজরিতে জাবাল অঞ্চলের অধিবাসীরা ইমাম সাউদের সাথে শাম দেশীয় অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। ১২২৮ হিজরিতে ইমাম সাউদ মুহাম্মদকে মিশরীয়-উসমানীয় বাহিনীর একটি দলকে পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব দেন, যাতে তাদের ইরাকের দিকে যেতে বাধ্য করা যায়। ১২২৯ হিজরিতে মুহাম্মদ সৌদি বাহিনীর সাথে হুনাকিয়ার সন্নিকটে আয়াদ আল-জুয়াইবি আল-হারবির বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি ব্যর্থ শাস্তিমূলক অভিযানে অংশ নেন। ১২৩০ হিজরিতে জাবাল অঞ্চলের অধিবাসীরা ইমাম আবদুল্লাহ বিন সাউদের সাথে কাসিম অঞ্চলে ছিলেন, যখন সেখানে তুসুন পাশা পৌঁছেছিলেন; তেমনি তারা ইমামের সাথে ছিলেন কিছু...
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
البوادي والأهالي بعد انسحاب طوسون. وقد ذكر الشيخ حمد الجاسر أن حكام حايل آل علي وآل رشيد يسكنون السويفلة، قبل انتقالهم إلى حائل، وقد أوردت نصه في شعر عبد الله بن رشيد خلال الكلام عن قصيدته على قافيتي التاء والراء بوصل الهاء بالسفر الثاني من كتابي " ديوان الشعر العامي ". وفي نص آخر ذكر الجاسر أن عاصمة الأمَارة السافلة " السويفلة " عمرت في القرن الثامن ومَا لبثت أن خربت فعمرت حائل على إثرها. وقال في موضع ثالث عن السمراء: " يقال إنها حائل القديمة وأنها كانت مقر آل علي ". وقال ابن عثيمين: " وكانت مساكن آل علي في أسفل قاعدة الجبل أو مَا يعرف بالسويفلة ". ثم بنى زعمَاؤها لهم قصراً في مكان يقال له الَوْشيقي على بعد ثلاثة أكيال من مساكنهم الأولى. وبعد ذلك أسس الأمير محمد بن عبد الَمْحسن قصر بَرْزَان الشهير، الذي أصبح فيمَا بعد قصر حكم آل رشيد. يقال إن القصر سُمِّي برزانا لبروزه عن مسكنهم الأول ففي النص السابق ذكر العثيمين أن محمد بن عبد الَمْحسن هو الذي أسس قصر برزان، وقال في موضع آخر: وضع أساس برزان الشهير. وقال الزركلي عن محمد بن عبد الله بن رشيد: أكمل قصر برزان في حائل، وكان عيسى بن علي قد شرع في بنائه ولا أستطيع التوفيق بين هذين النصين إلا بأن يكون محمد بن عبد الَمْحسن أسسه وعيسى أكمله، ومحمد العبد الله رممه ووسعه. ولَمْ يتطرق شيخنا حمد الجاسر إلى علاقة برزان بآل علي وإنمَا قال: قصر كان في مدينة حائل في عهد الإمَارة الرشيدية، ورسم موقعه في كتاب " القول السديد " لابن دخيل، وقد صورت بعض مبانيه في كتاب " مقدمة عن الآثار في الَمْملكة " الذي أصدرته وزارة الَمْعارف عام 1396هـ. وذكر هوبر في رحلته: أن عبد الله بن علي بن رشيد اشترى قصر برزان من آل علي. قال أبو عبد الرحمن: إنمَا شهرة قصر برزان في عهد آل رشيد. قال راكان بن حثلين: والأهالي بعد انسحاب طوسون. وقد ذكر الشيخ حمد الجاسر أن حكام حايل آل علي وآل رشيد يسكنون السويفلة، قبل انتقالهم إلى حائل، وقد أوردت نصه في شعر عبد الله بن رشيد خلال الكلام عن قصيدته على قافيتي التاء والراء بوصل الهاء بالسفر الثاني من كتابي " ديوان الشعر العامي ". وفي نص آخر ذكر الجاسر أن عاصمة الأمَارة السافلة " السويفلة " عمرت في القرن الثامن ومَا لبثت أن خربت فعمرت حائل على إثرها. وقال في موضع ثالث عن السمراء: " يقال إنها حائل القديمة وأنها كانت مقر آل علي ". وقال ابن عثيمين: " وكانت مساكن آل علي في أسفل قاعدة الجبل أو مَا يعرف بالسويفلة ". ثم بنى زعمَاؤها لهم قصراً في مكان يقال له الَوْشيقي على بعد ثلاثة أكيال من مساكنهم الأولى. وبعد ذلك أسس الأمير محمد بن عبد الَمْحسن قصر بَرْزَان الشهير، الذي أصبح فيمَا بعد قصر حكم آل رشيد. يقال إن القصر سُمِّي برزانا لبروزه عن مسكنهم الأول ففي النص السابق ذكر العثيمين أن محمد بن عبد الَمْحسن هو الذي أسس قصر برزان، وقال في موضع آخر: وضع أساس برزان الشهير. وقال الزركلي عن محمد بن عبد الله بن رشيد: أكمل قصر برزان في حائل، وكان عيسى بن علي قد شرع في بنائه ولا أستطيع التوفيق بين هذين النصين إلا بأن يكون محمد بن عبد الَمْحسن أسسه وعيسى أكمله، ومحمد العبد الله رممه ووسعه. ولَمْ يتطرق شيخنا حمد الجاسر إلى علاقة برزان بآل علي وإنمَا قال: قصر كان في مدينة حائل في عهد الإمَارة الرشيدية، ورسم موقعه في كتاب " القول السديد " لابن دخيل، وقد صورت بعض مبانيه في كتاب " مقدمة عن الآثار في الَمْملكة " الذي أصدرته وزارة الَمْعارف عام 1396هـ. وذكر هوبر في رحلته: أن عبد الله بن علي بن رشيد اشترى قصر برزان من آل علي. قال أبو عبد الرحمن: إنمَا شهرة قصر برزان في عهد آل رشيد. قال راكان بن حثلين:
يافَاطْرِي ذِبِّي خَرَايِمْ طِمِيَّهْ
… تَنَحَّرِي بَرْزَانْ زَيْنَ الَمْبانِي
وقال حمود بن عبيد بن رشيد:
فانْ كانِ ابِنْ هِنْدِي نُوَانَا ببرْزَانْ
… فْحِنَّا عَلَى عَرْوَا قصَرْنَا مسِيْرِْ
তুসুন (পাশার) পশ্চাদপসরণের পর মরুভূমি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। শেখ হামাদ আল-জাসির উল্লেখ করেছেন যে, হাইল-এর শাসক আল আলী এবং আল রশীদ পরিবার হাইল-এ স্থানান্তরের আগে আস-সুওয়াইফিলাতে বসবাস করতেন। আমি আমার গ্রন্থ 'দিওয়ানুশ শিরিল আম্মি'-এর দ্বিতীয় খণ্ডে আবদুল্লাহ বিন রশীদের কাব্যে এর পাঠ্যটি উদ্ধৃত করেছি, যখন তার কবিতার আলোচনা চলছিল যা হা এবং রা অন্ত্যমিলের সাথে হা বর্ণের সংযোগ সম্পর্কিত ছিল। অন্য একটি পাঠ্যে আল-জাসির উল্লেখ করেছেন যে, নিম্ন আমিরাতের রাজধানী 'আস-সুওয়াইফিলা' অষ্টম শতাব্দীতে আবাদ হয়েছিল এবং শীঘ্রই এটি ধ্বংস হয়ে যায়, যার ফলে পরবর্তীতে হাইল আবাদ হয়। আস-সামরা সম্পর্কে তিনি তৃতীয় এক স্থানে বলেন: "বলা হয়ে থাকে যে এটিই প্রাচীন হাইল এবং এটি ছিল আল আলীর আবাসস্থল।" ইবনে উসাইমিন বলেন: "আল আলীর আবাসস্থল ছিল পাহাড়ের পাদদেশের নিম্নভাগে বা যা আস-সুওয়াইফিলা নামে পরিচিত।" অতঃপর তাদের নেতারা তাদের জন্য আল-ওয়াশিকি নামক স্থানে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন, যা তাদের প্রথম আবাসস্থল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এরপর আমির মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন বিখ্যাত বারজান প্রাসাদ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে আল রশীদ শাসনের প্রাসাদে পরিণত হয়। বলা হয়ে থাকে যে, প্রাসাদটির নাম 'বারজান' রাখা হয়েছে কারণ এটি তাদের প্রথম আবাসস্থল থেকে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান বা পৃথক ছিল। পূর্ববর্তী পাঠ্যে ইবনে উসাইমিন উল্লেখ করেছেন যে, মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিনই বারজান প্রাসাদটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: তিনি বিখ্যাত বারজানের ভিত্তি স্থাপন করেন। আজ-জিরিকলি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রশীদ সম্পর্কে বলেন: তিনি হাইল-এর বারজান প্রাসাদ সম্পন্ন করেছিলেন, অথচ ঈসা বিন আলী এর নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। এই দুটি বক্তব্যের মধ্যে আমি এভাবে সমন্বয় করতে পারি যে, মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ঈসা এটি সম্পন্ন করেছিলেন এবং মুহাম্মদ আল-আব্দুল্লাহ এটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করেছিলেন। আমাদের শাইখ হামাদ আল-জাসির আল আলীর সাথে বারজানের সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করেননি, বরং তিনি বলেছেন: এটি রশীদি আমিরাতের যুগে হাইল শহরে অবস্থিত একটি প্রাসাদ ছিল। ইবনে দাখিলের 'আল-কাওলুস সাদীদ' গ্রন্থে এর অবস্থানের মানচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৩৯৬ হিজরিতে প্রকাশিত 'মুক্বাদ্দিমাতুন আনিল আসার ফিল মামলাকাহ' গ্রন্থে এর কিছু ভবনের ছবি মুদ্রিত হয়েছে। হুবার তার ভ্রমণকাহিনীতে উল্লেখ করেছেন যে: আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন রশীদ আল আলীর কাছ থেকে বারজান প্রাসাদটি ক্রয় করেছিলেন। আবু আব্দুর রহমান বলেন: প্রকৃতপক্ষে বারজান প্রাসাদের খ্যাতি ছিল আল রশীদের শাসনামলে। রাকান বিন হিললাইন বলেন: এবং তুসুন (পাশার) পশ্চাদপসরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারা। শেখ হামাদ আল-জাসির উল্লেখ করেছেন যে, হাইল-এর শাসক আল আলী এবং আল রশীদ পরিবার হাইল-এ স্থানান্তরের আগে আস-সুওয়াইফিলাতে বসবাস করতেন। আমি আমার গ্রন্থ 'দিওয়ানুশ শিরিল আম্মি'-এর দ্বিতীয় খণ্ডে আবদুল্লাহ বিন রশীদের কাব্যে এর পাঠ্যটি উদ্ধৃত করেছি, যখন তার কবিতার আলোচনা চলছিল যা হা এবং রা অন্ত্যমিলের সাথে হা বর্ণের সংযোগ সম্পর্কিত ছিল। অন্য একটি পাঠ্যে আল-জাসির উল্লেখ করেছেন যে, নিম্ন আমিরাতের রাজধানী 'আস-সুওয়াইফিলা' অষ্টম শতাব্দীতে আবাদ হয়েছিল এবং শীঘ্রই এটি ধ্বংস হয়ে যায়, যার ফলে পরবর্তীতে হাইল আবাদ হয়। আস-সামরা সম্পর্কে তিনি তৃতীয় এক স্থানে বলেন: "বলা হয়ে থাকে যে এটিই প্রাচীন হাইল এবং এটি ছিল আল আলীর আবাসস্থল।" ইবনে উসাইমিন বলেন: "আল আলীর আবাসস্থল ছিল পাহাড়ের পাদদেশের নিম্নভাগে বা যা আস-সুওয়াইফিলা নামে পরিচিত।" অতঃপর তাদের নেতারা তাদের জন্য আল-ওয়াশিকি নামক স্থানে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন, যা তাদের প্রথম আবাসস্থল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এরপর আমির মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন বিখ্যাত বারজান প্রাসাদ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে আল রশীদ শাসনের প্রাসাদে পরিণত হয়। বলা হয়ে থাকে যে, প্রাসাদটির নাম 'বারজান' রাখা হয়েছে কারণ এটি তাদের প্রথম আবাসস্থল থেকে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান বা পৃথক ছিল। পূর্ববর্তী পাঠ্যে ইবনে উসাইমিন উল্লেখ করেছেন যে, মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিনই বারজান প্রাসাদটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: তিনি বিখ্যাত বারজানের ভিত্তি স্থাপন করেন। আজ-জিরিকলি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রশীদ সম্পর্কে বলেন: তিনি হাইল-এর বারজান প্রাসাদ সম্পন্ন করেছিলেন, অথচ ঈসা বিন আলী এর নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। এই দুটি বক্তব্যের মধ্যে আমি এভাবে সমন্বয় করতে পারি যে, মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ঈসা এটি সম্পন্ন করেছিলেন এবং মুহাম্মদ আল-আব্দুল্লাহ এটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করেছিলেন। আমাদের শাইখ হামাদ আল-জাসির আল আলীর সাথে বারজানের সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করেননি, বরং তিনি বলেছেন: এটি রশীদি আমিরাতের যুগে হাইল শহরে অবস্থিত একটি প্রাসাদ ছিল। ইবনে দাখিলের 'আল-কাওলুস সাদীদ' গ্রন্থে এর অবস্থানের মানচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৩৯৬ হিজরিতে প্রকাশিত 'মুক্বাদ্দিমাতুন আনিল আসার ফিল মামলাকাহ' গ্রন্থে এর কিছু ভবনের ছবি মুদ্রিত হয়েছে। হুবার তার ভ্রমণকাহিনীতে উল্লেখ করেছেন যে: আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন রশীদ আল আলীর কাছ থেকে বারজান প্রাসাদটি ক্রয় করেছিলেন। আবু আব্দুর রহমান বলেন: প্রকৃতপক্ষে বারজান প্রাসাদের খ্যাতি ছিল আল রশীদের শাসনামলে। রাকান বিন হিললাইন বলেন:
হে আমার উটনী, তুমি তামিয়ার মরুভূমি পাড়ি দাও
... বারজানের অভিমুখে চলো, যা ভবনের সৌন্দর্যে অনন্য।
হমুদ বিন উবাইদ বিন রশীদ বলেন:
যদি ইবনে হিন্দি বারজানে আমাদের আক্রমণ করার ইচ্ছা করে
... তবে আমরা আরওয়াতে আমাদের যাত্রা সংক্ষিপ্ত করেছি। (অর্থাৎ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়েছি)
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
ظل محمد أميراً للجبل مَا يقرب من ثلاثة وثلاثين عامَا حيث تولى سنة 1201 تقريباً وقتل سنة 1234 وسبب ذلك أن إبراهيم باشا لَمْا قضى على دولة آل سعود قام بحملة على أُمراء الَمْناطق الَمْتحمسين للدعوة وأنصارها آل سعود، ولهذا قتل محمداً وأخاه علياً عام 1234هـ. قال ابن عثيمين: اغتاله الحبشي زعيم رجال إبراهيم باشا حيلة في مقصورة الداحس، ثم حز رأسه وبعث به إلى تركيا ويشير إلى ذلك قول الشاعر:
يَا حَيْف رَاسَ الشَّيْخ تَلْعَب به الْبُوْمْ
… مِتْقَابْلِيْنٍ بَيْنَهُمْ يَجْزرُونِه
أمَا بقية جسده فدفنت في مقبرة الزبارة في حائل، وقد رأيت قبره وقد كتب على أحد شاهديه: " محمد بن علي رحمه الله واسكانهو " وأسكنه " دار السلَمْ " السلام ". وعبارة أمير الَمْسلَمْين تفيد أنه كان مشهوراً بالديانة، كمَا تفيد أنه كان عظيمَا وهذا ممَا يؤيد مَا ذكر من حمَاسه لدعوة الشيخ محمد بن عبد الَوْهاب، ومَا كان له من دور في الدولة الَمْعتمدة على دعوته. وقد خلف الأمير محمد بن عبد الَمْحسن أربع بنات إحداهن سلَمْى التي تزوجها عبد الله بن علي بن رشيد. وقال الشيخ علي بن سالَمْ: " فأمَا محمد بن علي فقتله الترك أيام ظهورهم على نجد بقصر برزان بحائل حين حاصروه وأنزلَوْه بالرغم وقتلَوْه ". والآن قبره بمقبرة الزبارة في حائل جثة بلا رأس. هكذا سمعت من والدي رحمه الله يقول ذلك، ولا أدري أي سنة كان ذلك فالله أعلَمْ. وقد ذكر الدكتور العثيمين: أن محمد بن عبد الَمْحسن أشار على أهل قفار إبان غزو إبراهيم باشا بأن يبنوا قصراً يكون جزء منه في مستوى أكثر انخفاضا من سطح الأرض القريبة منه لئلا تؤثر فيه الَمْدافع. وبعد قتل محمد بن عبد الَمْحسن لا نعرف من تولى بعده مباشرة إلا أنه من الَمْؤكد أن عيسى بن علي بن فايز تولى قبل صالح بن عبد الَمْحسن. والبرهان على ذلك مَا يلي: أ - دلالة قصيدة عبد الله بن رشيد الدالية التي رجحت أنها في فترة حكم عيسى الأولى، كمَا بينت ذلك في السفر الثاني من كتابي " ديوان الشعر العامي ".
ب - ذكر ابن بشر أنه في سنة 1243 أو 1242هـ وفد عيسى ابن علي بن فايز رئيس جبل شمر على الإمَام تركي وبايع وجعل في بيت مَال الجبل حمد الشويعر. وقد وصفه ابن بشر في عام 1253 بأنه رئيس الجبل القديم.
ج - أن الإمَام تركي بن عبد الله لَمْ يعين صالح بن عبد الَمْحسن إلا في سنة 1249هـ.
والدكتور العثيمين يستبعد ولاية عيسى بن علي بعد محمد ابن عبد الَمْحسن مباشرة ويتعلل بالتالي: أ - قول ابن بشر عن عيسى " رئيس الجبل " لا يدل على رئاسة سابقة، لأن عادة ابن بشر أن يصف بالرئاسة من سيليها ثم ذكر نمَاذج لذلك.
ب - أن ابن رشيد أخذ الإمَارة من صالح بن عبد الَمْحسن باتفاق الَمْصادر.
ج - أن ابن بشر ذكر صالحاً من أُمراء تركي عند كلامه عن اغتياله.
قال أبو عبد الرحمن: الجواب عن هذا بمَا يلي: 1 - أن ابن بشر يوهم أحياناً إذ يصف بالرئاسة من سيليها ولَمْ يلها بعد. ولكنه هذه الَمْرة رفع الَوْهم بقوله " رئيس الجبل القديم " فصح أن ابن بشر وصف عيسى بالرئاسة لأنه كان رئيساً في السابق.
2 - لا ريب أن ابن رشيد تولى الإمَارة بعد صالح بن عبد الَمْحسن باتفاق الَمْصادر. ولكن الَمْصادر لَمْ تتفق على أن صالحاً تولى بعد محمد بن عبد الَمْحسن مباشرةً، بل نص ابن بشر على أن تركياً عينه في 1249هـ.
3 - أن ابن بشر لَمْا ذكر وفادته عام 1243هـ وصفه بالرئيس والَمْبايعة. فهذا تعريف فعلي للرئيس حقيقة.
4 - إنمَا ذكر ابن بشر صالحاً أميراً عند ذكره لأُمراء تركي، لأنه هو الأمير حال وفاة تركي. وابن بشر إنمَا يذكر أُمراء الإمَام حال وفاته، ولا يلتزم ذكر كل من تأمر في حياته. وبهذا يسقط احتمَال الدكتور العثيمين أن عيسى مجرد صاحب نفوذ في عهد الأمير الصالح.
قال أبو عبد الرحمن: وعيسى هذا يحتمل أن يكون: عيسى بن علي بن عبد الَمْحسن بن فايز بن علي. فيكون أبوه علياً أخا محمد بن عبد الَمْحسن، الذي قتله إبراهيم باشا مع أخيه. ويكون قول ابن بشر: عيسى بن علي بن فايز، من باب الاختصار، وهو أمر مَالَوْف. ويحتمل أن يكون لعبد الَمْحسن بن فايز أخ اسمه علي، فيكون عيسى بن علي بن فايز بن علي. أمَا الدكتور العثيمين فأورد بشأنه التالي:
মুহাম্মদ প্রায় তেত্রিশ বছর যাবৎ জাবালের আমীর হিসেবে বহাল ছিলেন। তিনি আনুমানিক ১২০১ হিজরীতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১২৩৪ হিজরীতে নিহত হন। এর কারণ ছিল এই যে, ইবরাহিম পাশা যখন আল-সাউদ রাষ্ট্রের পতন ঘটালেন, তখন তিনি দাওয়াতের (সংস্কার আন্দোলন) একনিষ্ঠ সমর্থক এবং আল-সাউদের সহযোগী আঞ্চলিক আমীরদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। একারণেই তিনি ১২৩৪ হিজরীতে মুহাম্মদ এবং তার ভাই আলীকে হত্যা করেন। ইবনে উসাইমীন বলেন: ইবরাহিম পাশার বাহিনীর প্রধান আল-হাবাশি তাকে দাহিস প্রাসাদের একটি কক্ষে কৌশলে গুপ্তহত্যা করেন। এরপর তার মাথা কেটে তুরস্কে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কবির এই পঙক্তিটি সেই দিকেই ইঙ্গিত করে:
হায় আফসোস! শায়খের মাথা নিয়ে পেঁচা খেলা করছে... তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে তাকে জবাই করছে।
আর তার দেহের অবশিষ্টাংশ হাইল-এর জুবারা কবরস্থানে দাফন করা হয়। আমি তার কবরটি দেখেছি, যার একটি এপিটাফে লেখা ছিল: "মুহাম্মদ বিন আলী, আল্লাহ তার ওপর রহম করুন এবং তাকে শান্তিনিকেতনে (জান্নাতে) স্থান দিন।" আর 'আমীরুল মুসলিমীন' পরিভাষাটি নির্দেশ করে যে, তিনি ধার্মিকতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন এবং তিনি একজন মহান ব্যক্তি ছিলেন। এটি শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের প্রতি তার উৎসাহ এবং সেই দাওয়াতের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রে তার ভূমিকার বিষয়ে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তাকেই সমর্থন করে। আমীর মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন চার কন্যা রেখে যান, যাদের মধ্যে সালমা ছিলেন একজন, যাকে আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন রশীদ বিবাহ করেছিলেন। শায়খ আলী বিন সালেম বলেন: "আর মুহাম্মদ বিন আলীর কথা বলতে গেলে, তুর্কিরা যখন নজদে প্রভাবশালী হয়, তখন হাইল-এর বারজান প্রাসাদে অবরোধ করে তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে এনে হত্যা করে।" বর্তমানে হাইল-এর জুবারা কবরস্থানে তার মস্তকহীন দেহটি সমাহিত আছে। আমি আমার মরহুম পিতার নিকট থেকে এমনই শুনেছি। তবে সেটি কোন সালে ঘটেছিল তা আমি জানি না, আল্লাহই সর্বজ্ঞ। ডক্টর আল-উসাইমীন উল্লেখ করেছেন যে: ইবরাহিম পাশার আক্রমণের সময় মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন কিফারবাসীদের পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন তারা একটি প্রাসাদ নির্মাণ করে যার একাংশ আশেপাশের মাটির সমতল থেকে বেশ নিচু স্তরে থাকে, যাতে কামানের গোলা সেখানে প্রভাব ফেলতে না পারে। মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন নিহত হওয়ার পর সরাসরি কে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তা আমাদের জানা নেই, তবে এটি নিশ্চিত যে সালেহ বিন আব্দুল মুহসিনের পূর্বে ঈসা বিন আলী বিন ফায়িজ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর প্রমাণসমূহ নিম্নরূপ: ক- আব্দুল্লাহ বিন রশীদ-এর 'দালিয়্যাহ' কবিতার ইঙ্গিত, যা আমি আমার 'দিওয়ানুশ শি'র আল-আম্মি' কিতাবের দ্বিতীয় খণ্ডে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছি যে এটি ঈসার প্রথম শাসনামলের ঘটনা।
খ- ইবনে বিশর উল্লেখ করেছেন যে, ১২৪৩ বা ১২৪২ হিজরীতে জাবাল শামমারের প্রধান ঈসা বিন আলী বিন ফায়িজ ইমাম তুর্কির নিকট প্রতিনিধি হিসেবে আসেন এবং বায়আত গ্রহণ করেন এবং জাবালের বায়তুল মালে হামাদ আশ-শুওয়াইরকে নিযুক্ত করেন। ইবনে বিশর ১২৫৩ হিজরীতে তাকে "জাবালের প্রাচীন প্রধান" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গ- ইমাম তুর্কি বিন আব্দুল্লাহ ১২৪৯ হিজরীর আগে সালেহ বিন আব্দুল মুহসিনকে আমীর নিযুক্ত করেননি।
ডক্টর আল-উসাইমীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিনের পর সরাসরি ঈসা বিন আলীর আমীর হওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দেন এবং নিম্নোক্ত কারণগুলো দেখান: ক- ঈসা সম্পর্কে ইবনে বিশরের "জাবালের প্রধান" উক্তিটি তার পূর্ববর্তী প্রধান হওয়ার প্রমাণ দেয় না, কারণ ইবনে বিশরের অভ্যাস হলো যিনি ভবিষ্যতে প্রধান হবেন তাকেও প্রধান হিসেবে সম্বোধন করা। এরপর তিনি এর কিছু উদাহরণ দেন।
খ- সকল ঐতিহাসিক সূত্রের ঐক্যমতে ইবনে রশীদ সালেহ বিন আব্দুল মুহসিনের কাছ থেকে আমীরাত (শাসনভার) গ্রহণ করেন।
গ- ইবনে বিশর যখন ইমাম তুর্কির হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেন, তখন তিনি সালেহকে তুর্কির আমীরদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
আবু আব্দুর রহমান বলেন: এর জবাব নিম্নরূপ: ১- ইবনে বিশর মাঝে মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করেন যখন তিনি এমন ব্যক্তিকে প্রধান বলেন যিনি পরে প্রধান হবেন কিন্তু তখনও হননি। তবে এবার তিনি "জাবালের প্রাচীন প্রধান" বলে সেই বিভ্রান্তি দূর করে দিয়েছেন। সুতরাং এটি সঠিক যে ইবনে বিশর ঈসাকে প্রধান হিসেবে বর্ণনা করেছেন কারণ তিনি অতীতে প্রধান ছিলেন।
২- এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইবনে রশীদ সালেহ বিন আব্দুল মুহসিনের পর আমীর হয়েছিলেন। কিন্তু সকল সূত্র একমত নয় যে সালেহ সরাসরি মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিনের পর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। বরং ইবনে বিশর স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ইমাম তুর্কি তাকে ১২৪৯ হিজরীতে নিযুক্ত করেছিলেন।
৩- ইবনে বিশর যখন ১২৪৩ হিজরীতে তার আগমনের কথা উল্লেখ করেন, তখন তাকে প্রধান হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বায়আতের কথা বলেছেন। এটি প্রকৃতপক্ষে প্রধান হওয়ার একটি বাস্তব সংজ্ঞা।
৪- ইবনে বিশর ইমাম তুর্কির আমীরদের তালিকায় সালেহর নাম উল্লেখ করেছেন কারণ তুর্কির মৃত্যুর সময় তিনিই আমীর ছিলেন। ইবনে বিশর সাধারণত ইমামের মৃত্যুর সময় যারা আমীর থাকেন তাদের নামই উল্লেখ করেন, ইমামের জীবদ্দশায় যারা বিভিন্ন সময়ে আমীর ছিলেন তাদের সবার নাম উল্লেখ করা তার নীতি নয়। এর মাধ্যমে ডক্টর আল-উসাইমীনের এই সম্ভাবনা বাতিল হয়ে যায় যে ঈসা আমীর সালেহর আমলে কেবল একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন।
আবু আব্দুর রহমান বলেন: এই ঈসা সম্ভবত ছিলেন: ঈসা বিন আলী বিন আব্দুল মুহসিন বিন ফায়িজ বিন আলী। সেক্ষেত্রে তার পিতা আলী হবেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিনের ভাই, যাকে ইবরাহিম পাশা তার ভাইয়ের সাথে হত্যা করেছিলেন। আর ইবনে বিশরের "ঈসা বিন আলী বিন ফায়িজ" বলাটি সংক্ষিপ্তকরণের অংশ হতে পারে, যা একটি পরিচিত রীতি। আবার এটিও সম্ভব যে আব্দুল মুহসিন বিন ফায়িজের আলী নামে এক ভাই ছিল, ফলে তিনি ঈসা বিন আলী বিন ফায়িজ বিন আলী। আর ডক্টর আল-উসাইমীন তার সম্পর্কে নিম্নোক্ত তথ্য প্রদান করেছেন:
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
أ - قول موزل: خلف محمد بن عبد الَمْحسن ابنه عيسى. إذن هو عيسى بن محمد بن عبد الَمْحسن بن فايز بن علي وصاحبنا عيسى بن علي بن فايز. فهمَا اثنان بلا ريب، ومن البعيد أن يكون الاسم الثاني اختصاراً للأول، لأنه لبس غير مَالَوْف في اختصار النسابين والَمْؤرخين. وقد نقل العثيمين عن بعض آل علي الَمْقيمين في حائل أن محمداً لَمْ ينجب ذكراً. فهذا دفع لقول موزل بلا ريب.
ب - قول ضاري الرشيد و " هوبير " أن صاحبنا هو عيسى ابن عبيد الله. قال أبو عبد الرحمن: لَمْ نجد علَمْا له أحداث تاريخية بهذا الاسم، ومن الَمْحال أن يكون أمير الجبل عيسى بن عبيد الله فيسميه ابن بشر: عيسى بن علي بن فايز! وقد ذكر العثيمين أنه ذكر في ورقة عند السيد نايف آل علي في حائل أن عبد الله ابن عم لصالح بن عبد الَمْحسن. قال أبو عبد الرحمن: لا ننكر ورود من اسمه عبيد الله أو عيسى في آل علي، وإنمَا ننكر أن يكون عيسى بن عبيد الله هو عيسى بن علي بن فايز الأمير. قال العثيمين: أمَا أُسرة آل علي الَمْوجودين في الَوْقت الحاضر فإنهم من نسل عيسى بن صالح بن عبد الَمْحسن. وكان عيسى هذا طفلاً حين وقعت الأحداث على أبيه، فأخفته أمه حتى استقرت الأمور فيمَا بعد. قال أبو عبد الرحمن: إذن عيسى هذا عصر أهليته للَوْلاية غير عصر عيسى بن علي بن فايز. وبعد عيسى تولى صالح بن عبد الَمْحسن عينه الإمَام تركي عام 1249هـ كمَا مر آنفاً ثم عزله الإمَام فيصل سنة 1250هـ وعين عبد الله بن رشيد. وقد بينت في السفر الثاني من كتابي " ديوان الشعر العامي " قصة قتل صالح وأن عبيد بن علي بن رشيد هو الذي قتله. وفي عام 1253 استولى عيسى بن علي الآنف الذكر على حائل وطرد عبد الله بن رشيد، ثم طرده عبد الله في نفس العام وانتهت بذلك إمَارة علي. ومحمد بن عبد الَمْحسن الذي هو أبرز زعيم من آل علي أورد الدكتور العثيمين نسبه كالتالي: محمد بن عبد الَمْحسن ابن فايز بن محمد بن علي بن علي الكبير. وورد عند ابن بشر: محمد بن عبد الَمْحسن بن فايز ابن علي وتارة محمد بن عبد الَمْحسن بن علي فسياق ابن بشر نحمله على الاختصار.
أمَا الدكتور العثيمين فربمَا اعتمد على وثائق عند آل علي بحائل. وكون محمد هو الأمير بعد والده ليس محل التباس ولكن قال ابن سالَمْ: " أول ملَوْك آل علي عبد الَمْحسن بن علي وبعده ولده صالح بن عبد الَمْحسن وبعده محمد بن علي ". وعلق الَمْارك على ذلك بقوله: وبعد محمد " أي ابن علي " أخو صالح بن علي. فكلَمْه أخو بدون هاء أحدثت لبساً إلا أن الشيخ حمداً نقل هذا النص مرة ثانية فأزال اللبس عندمَا قال: فإن الذي تولى الإمَارة بعد محمد بن علي أخوه صالح بن علي على مَا أفادني الأستاذ فهد الَمْارك. وعلى كل حال فالَمْوضوع يحتاج إلى تفصيل ليس هذا محله. قال أبو عبد الرحمن: محمد بن علي قبل أخيه صالح خلافاً لَمْا زعمه ابن سالَمْ. وبعد محمد بن علي: عيسى بن علي قبل صالح بن علي وهذا مَا فات الَمْارك. وزعم ابن سالَمْ أن لعبد الَمْحسن ذكراً في تاريخ ابن بشر. قال أبو عبد الرحمن: لَمْ يذكره ابن بشر، إنمَا ذكر ابنه محمداً وصالحاً. ولَمْا كانت إفادتي من الجزء الأول من " عشائر العراق " ومن مجلة " لغة العرب " بعد تحريري لَمْادة هذا البحث فقد آثرت إبقاء بحثي على حاله على أن أجعل نصي " عشائر العراق " و " لغة العرب " ملحقين محققين بآخر الكتاب. وفي ختام هذه التوطئة أُقدم خالص شكري لأُستاذ الجيل حمد الجاسر الذي قدم لي رفده وتوجيهه، وأرجو أن يتم نواقص هذا الكتاب بمَا في مخطوطته عن الخيل من أخبار وأشعار آل ضيغم والله الَمْستعان.
وكتبه لكم أبو عبد الرحمن بن عقيل الظاهري
الرياض 941402 هـ
ثم أنهى تنقيحه في 3041402 هـ
آل الْجَرْبَاءِ2 - نسبهم، وقصة رحيلهم من الجنوب إلى بلاد الَمْحبلين، ثم رحلتهم إلى العراق وسوريا.
نسب آل الجرباء
ক - মুজেলের বক্তব্য: মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন তার পুত্র ঈসাকে উত্তরসূরি রেখে গেছেন। সুতরাং তিনি হলেন ঈসা বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন ফায়েজ বিন আলী, আর আমাদের আলোচ্য ব্যক্তি হলেন ঈসা বিন আলী বিন ফায়েজ। নিঃসন্দেহে তারা দুজন ভিন্ন ব্যক্তি, আর দ্বিতীয় নামটি প্রথম নামের সংক্ষিপ্ত রূপ হওয়াও সুদূরপরাহত; কারণ বংশতত্ত্ববিদ ও ঐতিহাসিকদের সংক্ষিপ্তকরণের পদ্ধতিতে এমনটি পরিচিত নয়। আল-উসাইমিন হায়েলে বসবাসরত আল-আলী পরিবারের কিছু সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন যে, মুহাম্মদের কোনো পুত্রসন্তান ছিল না। এটি নিঃসন্দেহে মুজেলের বক্তব্যকে নাকচ করে দেয়।
খ - দ্বারি আর-রশীদ এবং 'হুবার' এর বক্তব্য হলো, আমাদের আলোচ্য ব্যক্তি হলেন ঈসা বিন উবাইদুল্লাহ। আবু আব্দুর রহমান বলেন: আমরা এই নামে কোনো ঐতিহাসিক ঘটনাবলির অধিকারী ব্যক্তিকে খুঁজে পাইনি। আর জাবাল (শাম্মার)-এর আমির যদি ঈসা বিন উবাইদুল্লাহ হতেন, তবে ইবনে বিশর তাকে 'ঈসা বিন আলী বিন ফায়েজ' নামে অভিহিত করা অসম্ভব। আল-উসাইমিন উল্লেখ করেছেন যে, হায়েলে সায়্যেদ নায়েফ আল-আলীর নিকট রক্ষিত একটি কাগজে বর্ণিত হয়েছে যে, আব্দুল্লাহ ছিলেন সালেহ বিন আব্দুল মুহসিনের চাচাতো ভাই। আবু আব্দুর রহমান বলেন: আমরা আল-আলী বংশে উবাইদুল্লাহ বা ঈসা নামের কারো অস্তিত্ব অস্বীকার করি না; তবে আমরা এটি অস্বীকার করি যে, ঈসা বিন উবাইদুল্লাহ-ই আমির ঈসা বিন আলী বিন ফায়েজ। আল-উসাইমিন বলেন: বর্তমানে বিদ্যমান আল-আলী পরিবারটি ঈসা বিন সালেহ বিন আব্দুল মুহসিনের বংশধর। এই ঈসা তখন শিশু ছিলেন যখন তার পিতার ওপর ঘটনাবলি (বিপদ) আপতিত হয়েছিল, ফলে তার মা তাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন যতক্ষণ না পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়। আবু আব্দুর রহমান বলেন: সুতরাং এই ঈসার শাসনের যোগ্য হওয়ার সময়কাল ঈসা বিন আলী বিন ফায়েজের সময়কাল থেকে ভিন্ন। আর ঈসার পরে সালেহ বিন আব্দুল মুহসিন ক্ষমতা গ্রহণ করেন, ১২৪৯ হিজরিতে ইমাম তুর্কি তাকে নিযুক্ত করেছিলেন যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ইমাম ফয়সাল ১২৫০ হিজরিতে তাকে বরখাস্ত করেন এবং আব্দুল্লাহ বিন রশীদকে নিযুক্ত করেন। আমি আমার 'দিওয়ানুশ শি’র আল-আম্মি' গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডে সালেহ হত্যার কাহিনী এবং উবাইদ বিন আলী বিন রশীদ কর্তৃক তাকে হত্যার বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। ১২৫৩ হিজরিতে পূর্বোল্লিখিত ঈসা বিন আলী হায়েল দখল করেন এবং আব্দুল্লাহ বিন রশীদকে বিতাড়িত করেন, এরপর আব্দুল্লাহ তাকে একই বছরে বিতাড়িত করেন এবং এর মাধ্যমেই আল-আলী বংশের শাসনের অবসান ঘটে। মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন, যিনি আল-আলী বংশের সবচেয়ে বিশিষ্ট নেতা ছিলেন, ডক্টর আল-উসাইমিন তার বংশপরম্পরা এভাবে উল্লেখ করেছেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন ফায়েজ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আলী আল-কাবীর। ইবনে বিশরের বর্ণনায় এসেছে: মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন ফায়েজ বিন আলী এবং কখনো এসেছে মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আলী; ইবনে বিশরের এই বর্ণনাকে আমরা সংক্ষিপ্তকরণ হিসেবে গণ্য করব।
পক্ষান্তরে ডক্টর আল-উসাইমিন সম্ভবত হায়েলে আল-আলী বংশের নিকট সংরক্ষিত নথিপত্রের ওপর নির্ভর করেছেন। মুহাম্মদ তার পিতার পরে আমির ছিলেন—এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই, তবে ইবনে সালেম বলেছেন: "আল-আলী বংশের প্রথম রাজা ছিলেন আব্দুল মুহসিন বিন আলী, এরপর তার পুত্র সালেহ বিন আব্দুল মুহসিন এবং তারপর মুহাম্মদ বিন আলী।" আল-মারাক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: মুহাম্মদের পরে "অর্থাৎ ইবনে আলী" সালেহ বিন আলীর ভাই। এখানে 'আখু' (ভাই) শব্দটি কোনো সর্বনাম ছাড়াই আসায় অস্পষ্টতা সৃষ্টি হয়েছে, তবে শেখ হামাদ এই উদ্ধৃতিটি দ্বিতীয়বার বর্ণনা করার সময় অস্পষ্টতা দূর করেছেন এভাবে: "মুহাম্মদ বিন আলীর পরে যিনি শাসনভার গ্রহণ করেন তিনি হলেন তার ভাই সালেহ বিন আলী, যেমনটি আমাকে অধ্যাপক ফাহাদ আল-মারাক জানিয়েছেন।" যা-ই হোক, বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে যা এখানে সম্ভব নয়। আবু আব্দুর রহমান বলেন: ইবনে সালেমের দাবির বিপরীতে মুহাম্মদ বিন আলী তার ভাই সালেহের পূর্বেই ছিলেন। আর মুহাম্মদ বিন আলীর পরে ঈসা বিন আলী ছিলেন সালেহ বিন আলীর আগে, যা আল-মারাকের নজর এড়িয়ে গেছে। ইবনে সালেম দাবি করেছেন যে, ইবনে বিশরের ইতিহাসে আব্দুল মুহসিনের এক পুত্রের কথা উল্লেখ আছে। আবু আব্দুর রহমান বলেন: ইবনে বিশর তাকে উল্লেখ করেননি, বরং তিনি তার পুত্র মুহাম্মদ ও সালেহকে উল্লেখ করেছেন। যেহেতু আমি 'আশাইরুল ইরাক' (ইরাকের গোত্রসমূহ) এর প্রথম খণ্ড এবং 'লুগাতুল আরব' সাময়িকী থেকে তথ্যগুলো এই গবেষণার বিষয়বস্তু সম্পাদনার পর পেয়েছি, তাই আমি আমার গবেষণাকে আগের অবস্থায় রাখাই শ্রেয় মনে করেছি, তবে 'আশাইরুল ইরাক' ও 'লুগাতুল আরব' এর পাঠ্যদ্বয়কে বইয়ের শেষে সম্পাদিত পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করব। এই ভূমিকার শেষে আমি প্রজন্মের উস্তাদ হামাদ আল-জাসিরের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি আমাকে তার সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। আশা করি তিনি তার ঘোড়া সংক্রান্ত পাণ্ডুলিপিতে থাকা দিঘাম বংশের সংবাদ ও কবিতা দ্বারা এই বইয়ের অপূর্ণতাগুলো পূর্ণ করবেন। আল্লাহই সাহায্যকারী।
আপনাদের জন্য এটি লিখেছেন আবু আব্দুর রহমান বিন আকিল আজ-জহিরি
রিয়াদ ০৯/০৪/১৪০২ হিজরি
অতঃপর ৩০/০৪/১৪০২ হিজরিতে এর পরিমার্জন শেষ করেন
আল-জারবা বংশ২ - তাদের বংশপরিচয়, এবং দক্ষিণ থেকে মুহাব্বালায়ন অঞ্চলে তাদের হিজরতের কাহিনী, এরপর ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের যাত্রার কাহিনী।
আল-জারবা বংশের বংশপরিচয়
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
من الَمْتفق عليه بين النسابين أن آل الجرباء من عَبْدَةَ من شَمَّر. ومنهم قسم دخلَوْا في سنجارة من شمر، ولا يزالَوْن ألان في سوريا بزعامة ميزر الجرباء شيخ الفداغة، ودهام الجرباء شيخ الخرصة. وشمر بطن من ثعل بن عمرو من طيء كمَا قال ابن الكلبي. وهي اليوم من كبريات القبائل العربية. ولَمْا تكلَمْ ابن لَعْبُون عن شمر أَبي القبيلة قال: وقد غلبت هذه النسبة شمر على أَهل جبل طيء من البادية وبعض الحاضرة والظاهر أَنهم كلهم ليسوا من نسله، ولا يبعد أَن ينسب إِليه غير من يجتمع معه في عمود نسبه من سائر طيء وكذلك من خالطهم أَو نازلهم من جار أَو حليف قد ينسب إليهم، مع تطاول الأَزمَان قال أَبو عبد الرحمن: إِذنْ عَبْدَةَ من أَكبر قبائل شمر الطائية حلفاً، وهي من قبيلة جنب الَمْذحجية نسباً. فهم أَبناء عم عبيدة من قحطان. قال شاعر من عبيدة من قحطان:
إِنْ سَلْتَ عَنَّا يَالسُّوَيْطِي قَحَاطِيْن
… عَوَاصْمٍ واللِّي حذَانَا لفَايِقْ
حنَّا وعَبْدَةَ والضَّياَغمْ بجَدَّيْن
… لطَّامْة يومْ اللّقا كُلِّ مَايقْ
বংশবিদদের মধ্যে এটি সর্বসম্মত যে, আল-জারবা পরিবার শাম্মারের আবদা শাখাভুক্ত। তাদের একটি অংশ শাম্মারের সিনজারা গোত্রে প্রবেশ করেছে এবং তারা বর্তমানেও সিরিয়ায় আল-ফিদাগাহ-এর শাইখ মীজার আল-জারবা এবং আল-খারসাহ-এর শাইখ দাহাম আল-জারবা-এর নেতৃত্বে বিদ্যমান রয়েছে। ইবনুল কালবী যেমনটি বলেছেন, শাম্মার হলো তাইয়ি গোত্রের সা'ল ইবনে আমরের একটি শাখা। এটি বর্তমানে বৃহৎ আরব গোত্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত। ইবনে লা’বুন যখন গোত্রপিতা শাম্মার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তখন তিনি বলেছেন: "শাম্মারের এই সম্বন্ধটি মরুবাসী তাইয়ি পাহাড়ের অধিবাসী এবং কিছু শহরবাসীর ওপর প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। বাহ্যত তারা সকলেই তার বংশধর নয়। এটি অসম্ভব নয় যে, তাইয়ি গোত্রের অন্যান্য শাখা যারা তার মূল বংশধারায় একত্রিত নয়, তাদেরকেও তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। তেমনিভাবে দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার ফলে যারা তাদের সাথে মেলামেশা করেছে অথবা প্রতিবেশী কিংবা মিত্র হিসেবে তাদের নিকট অবস্থান করেছে, তাদেরকেও তাদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হতে পারে।" আবু আব্দুর রহমান বলেন: অতএব আবদা হলো মিত্রতার সূত্রে তাইয়ি শাম্মারের অন্যতম বৃহৎ গোত্র, আর বংশগতভাবে তারা মাজহিজী জানব গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তারা কাহতানের উবাইদাহ-এর ভ্রাতুষ্পুত্র। কাহতানের উবাইদাহ গোত্রের এক কবি বলেছেন:
হে সুয়াইতী! তুমি যদি আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো, তবে আমরা কাহতানী
… আমরা আসেম এবং আমাদের পাশে যারা আছে তারা শ্রেষ্ঠ।
আমরা, আবদা এবং দায়াগিম দুই পিতামহের বংশধর
… যুদ্ধের ময়দানে সকল অহংকারীর দর্পচূর্ণকারী।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
فأَمَا عن عموم طيء فقد ذكر النسابون أَن قبيلة طيء خرجت من اليمن على إِثر خروج الأَزد منه، ونزلَوْا سَمِيراء وفَيْدَ، في جوار بني أَسد، ثم غلبوا بني أَسد على أَجاءٍ وسَلَمْى فعرفا فيمَا بعد بجبلى طيء. وذكر ابن سعيد أصحاب الرياسة في العرب في عصره بالعراق والشام. ورئاستهم في بني ربيعة بن حارم، من أحفاد فطرة بن طي، فقد ورثوا أرض غسان والشام، ومن أشهر أُسرهم آل عيسى بن مهنا بن فضل بن ربيعة، أثنى عليهم ابن فضل الله العمري كثيراً وكان شيخنا حمد الجاسر أَلفَ عن آل فضل كتاباً في صغره، وحدثني مشافهة أًن عقب آل فضل باقون حتى الآن بالأُردن. وشَمَّرُ بطن من طيء، ولكنها في العصور الَمْتأخرة أَصبحت مجمع البطون الطائية مع أَخلاط أُخرى دخلت فيها بالحلف وقد نسب ابنُ دَخِيْلٍ آل علي وآل رشيد إِلى آل فضل، ولاسند له إلا أَنهم حلَوْا محلهم في الَمْكان والإمَارة، أَمَا كتب الأَنساب فدلت على أَنهم من مذحج. فإن صح أن عَبْدَةَ من شمر - كمَا نقل عن ابن قدامة - فلا ريب أن زعمَاءهم آل ضيغم من جنب من مذحج، وقد دخلَوْا في عَبْدَةَ. وآل ضيغم إلى آخر القرن السابع الهجري، لا يزالَوْن في الجنوب في بلاد مذحج. ويظهر - استئناساً بالأسمَاء - أن آل علي وآل رشيد من ذرية شهوان بن منصور بن ضيغم بن منيف بن جابر بن علي، الذي ذكره ابن رسول في كتابه " طرفة الأصحاب ". ولعل بين جدهم الأدنى عرار بن شهوان وشهوان بن منصور جداً اسمه فارس بن طعان استئناساً بنص ظن آل فارس كمَا سيأتي بيانه. وإنمَا نسبتهم إلى فارس بن طعان لأن آل خليل هم أبناء خليل بن جاسر بن علي بن عطية من آل حعفر، وقد ذكر الشريس أن آل فارس وآل خليل بطن واحد، وابن فارس محمد كان حياً عام 1109هـ. ثم ذكر أن آل صادق من ذرية عبد الله بن محمد بن علي من آل فارس، فإذا كان آل صادق أبناء عم آل علي وكانوا من آل فارس بن طعان فآل علي من ذرية فارس. وكلهم من آل جعفر، وقد ذكر ابن بسام أن آل جعفر من الضياغم. ولهذا كله رجحت أن لآل علي وآل رشيد جداً اسمه فارس ابن طعان إمَا من أحفاد عرار بن شهوان، وإمَا بين عرار بن شهوان، وشهوان بن منصور بن ضيغم. وعلى أي حال، فإقحام فارس بن طعان في نسب آل رشيد استنتاج يظل مجرد احتمَال. وفي نص ابن رسول أن لَمْنيف بن ضيغم بن منيف بن جابر ولداً اسمه راشد وله حفيد اسمه عُمير بن أحمد بن راشد. وفي الكتاب الَمْجهول الَمْؤلف الذي نقل عنه الشيخ حمد الجاسر أخبار الخيل الدُّهْم الشهوانيات في مخطوطته عن الخيل أن شهواناً أبا عرار أخو راشد عم عمير. فيحتمل أن يكون عرار حفيداً لَمْنيف بن ضيغم. ويحتمل أن يكون من ذرية شهوان بن منصور بن ضيغم. وعلى أي حال، فتوارث اسم شهوان وعُمير وراشد يؤكد أن عرار بن شهوان وعمير بن راشد من أحفاد منيف بن ضيغم. وقال ابن مغيرة عن الجربان وعن عموم نسب عَبْدَةَ: وآل السيح بطن من شمر، وهم بطون وأفخاذ، منهم الجربان البطن الثالث من شمر عَبْدَةَ: وهم بنو ضيغم ابن معاوية بن الحارث بن منبه بن يزيد بن حرب بن عُلَةَ ابن جلد بن مذحج أخو طيء. وكان معاوية بن الحارث من جنب والَمْلك في بيت جنب، وهو الذي استجار به مهلهل أخو كليب، وتزوج ابنة مهلهل واسمها عبيدة، وإليها تنسب قبائل من جنب، فولدت له أبا القبيلة ضيغمَا. ومن بني ضيغم عَبْدَةَ هؤلاء وكانت لهم الرئاسة على قبائل شمر من طيء بن علي "؟ ". وكانت رئاسة جبل طيء قديمَا لجديلة بطن من طيء ثم صارت في بني نبهان ثم صارت في الجربان. ثم صارت في عَبْدَةَ في آل جعفر. قال أبو عبد الرحمن في كلام ابن مغيرة: هذا تصحيف وتداخل، وسأضم إليه نصاً لابن رسول لعله يزيل شيئاً من غموض ابن مغيرة. قال شيخنا حمد الجاسر: جاء في كتاب " طرفة الأصحاب في معرفة الأنساب " للسلطان عمر بن يوسف ابن رسول الَمْتوفى سنة 694: نسب آل منيف وهم آل ضيغم وآل رشيد من جنب، وهم الَمْعرفون بالَمْعضة. وهو منيف بن ضيغم بن منيف بن جابر بن علي بن عبد الرب بن ربيع بن سليمَان بن عبد الرحمن بن روح بن مدرك بن عبد الحميد بن مدرك. ويقال: إنهم من بَكيل، إلا أنهم حالفوا عنس من مذحج فسموا جَنْباً وقيل: إنهم من نزار من عَنْزِ بن وايل بن قاسط ابن هنب بن أفصا بن دُعْمِيِّ بن جديلة بن أسد بن ربيعة ابن نزار بن معد بن عدنان. دخلَوْا في
সাধারণ তায়্য গোত্র সম্পর্কে বংশবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, তায়্য গোত্র ইয়েমেন থেকে বের হয়েছিল আযদ গোত্র সেখান থেকে বের হওয়ার পরপরই। তারা বনী আসাদের প্রতিবেশী হিসেবে সামীরা এবং ফাইদ নামক স্থানে অবতরণ করে। পরবর্তীতে তারা আযা এবং সালমা পাহাড় দুটির ওপর বনী আসাদকে পরাজিত করে আধিপত্য বিস্তার করে, ফলে সেই পাহাড় দুটি পরবর্তীতে তায়্য-এর দুই পাহাড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ইবনে সাঈদ তাঁর যুগে ইরাক ও শামে আরবদের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের নেতৃত্ব ছিল ফিতরা বিন তায়্য-এর বংশধর বনী রাবিয়াহ বিন হারিম-এর হাতে। তারা গাসসান ও শাম ভূমির উত্তরাধিকারী হয়েছিল। তাদের বিখ্যাত পরিবারগুলোর মধ্যে আল ঈসা বিন মুহান্না বিন ফাদল বিন রাবিয়াহ অন্যতম। ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারি তাদের অনেক প্রশংসা করেছেন। আমাদের শাইখ হামাদ আল-জাসির তাঁর তরুণ বয়সে আল ফাদল পরিবার সম্পর্কে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তিনি মৌখিকভাবে আমাকে জানিয়েছেন যে, আল ফাদল বংশের উত্তরসূরিরা বর্তমানেও জর্ডানে অবস্থান করছেন। শাম্মার হলো তায়্য-এর একটি শাখা, তবে পরবর্তী যুগে এটি তায়্য-এর বিভিন্ন শাখা এবং মৈত্রী চুক্তির মাধ্যমে যুক্ত হওয়া অন্যান্য সম্প্রদায়ের একটি মিলনস্থলে পরিণত হয়। ইবনে দাখিল আল আলী এবং আল রাশিদ পরিবারকে আল ফাদল বংশের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তবে এর পেছনে কোনো শক্তিশালী প্রমাণ নেই; কেবল স্থান এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাদের স্থলাভিষিক্ত হওয়াটাই এর ভিত্তি। তবে বংশবৃত্তান্ত বিষয়ক গ্রন্থসমূহ নির্দেশ করে যে তারা মাজহিজ গোত্রভুক্ত। ইবনে কুদামা থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সে অনুযায়ী যদি আবদাহ গোত্র শাম্মার-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া সঠিক হয়, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তাদের নেতা আল দাইগাম পরিবার মাজহিজ-এর জানব গোত্রভুক্ত, যারা আবদাহর সাথে মিশে গিয়েছিল। আল দাইগাম পরিবার হিজরি সপ্তম শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত মাজহিজের দক্ষিণাঞ্চলেই অবস্থান করছিল। নামের সাদৃশ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল আলী এবং আল রাশিদ হলো শাহওয়ান বিন মানসুর বিন দাইগাম বিন মুনিফ বিন জাবির বিন আলী-এর বংশধর, যার কথা ইবনে রাসুল তাঁর 'তুফাতুল আসহাব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত তাদের নিকটতম পূর্বপুরুষ আরার বিন শাহওয়ান এবং শাহওয়ান বিন মানসুরের মাঝে ফারিস বিন তাআন নামে একজন পূর্বপুরুষ রয়েছেন; আল ফারিস সম্পর্কে যা বর্ণিত হবে তার ভিত্তিতে এটি ধারণা করা হয়। তাদের বংশপরিচয় ফারিস বিন তাআনের দিকে সম্বন্ধ করার কারণ হলো, আল খলিল হলো আল জাফর গোত্রভুক্ত খলিল বিন জাসির বিন আলী বিন আতিয়্যাহ-এর সন্তান। আশ-শারিস উল্লেখ করেছেন যে, আল ফারিস এবং আল খলিল একই শাখাভুক্ত। ফারিসের পুত্র মুহাম্মদ ১১০৯ হিজরি নাগাদ জীবিত ছিলেন। এরপর তিনি উল্লেখ করেন যে, আল সাদিক হলো আল ফারিস বংশীয় আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলী-এর বংশধর। যদি আল সাদিকগণ আল আলীর চাচাতো ভাই হন এবং তারা আল ফারিস বিন তাআন বংশের হন, তবে আল আলীও ফারিসের বংশধর। তারা সবাই আল জাফরের অন্তর্ভুক্ত এবং ইবনে বাসসাম উল্লেখ করেছেন যে আল জাফর হলো দাইগাম গোত্রীয়। এসব কারণেই আমি এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছি যে, আল আলী এবং আল রাশিদের একজন পূর্বপুরুষের নাম ছিল ফারিস বিন তাআন, যিনি হয় আরার বিন শাহওয়ানের বংশধর অথবা আরার বিন শাহওয়ান ও শাহওয়ান বিন মানসুর বিন দাইগামের মধ্যবর্তী কেউ। যাই হোক, আল রাশিদ বংশের সাথে ফারিস বিন তাআনকে জুড়ে দেওয়া কেবল একটি সম্ভাব্য অনুমান মাত্র। ইবনে রাসুলের বর্ণনায় এসেছে যে, মুনিফ বিন দাইগাম বিন মুনিফ বিন জাবির-এর রাশিদ নামক এক পুত্র ছিল এবং তার উমাইর বিন আহমদ বিন রাশিদ নামক এক নাতি ছিল। অজ্ঞাত লেখকের একটি বইয়ে, যেখান থেকে শাইখ হামাদ আল-জাসির তাঁর ঘোড়া বিষয়ক পাণ্ডুলিপিতে 'আদ-দুহম আশ-শাহওয়ানিয়াহ' ঘোড়ার সংবাদ উদ্ধৃত করেছেন, সেখানে বলা হয়েছে যে শাহওয়ান (আরারের পিতা) ছিলেন রাশিদের ভাই এবং উমাইরের চাচা। সুতরাং আরার হয়তো মুনিফ বিন দাইগামের নাতি ছিলেন, অথবা শাহওয়ান বিন মানসুর বিন দাইগামের বংশধর ছিলেন। যাই হোক, শাহওয়ান, উমাইর এবং রাশিদ নামের পুনরাবৃত্তি নিশ্চিত করে যে, আরার বিন শাহওয়ান এবং উমাইর বিন রাশিদ মুনিফ বিন দাইগামের বংশধর। ইবনে মুগিরা জারবান এবং আবদাহর সাধারণ বংশপরিচয় সম্পর্কে বলেছেন: আল সাইহ শাম্মারের একটি শাখা, তারা অনেক উপশাখা ও গোত্রে বিভক্ত। তাদের মধ্যে জারবান হলো শাম্মার আবদাহর তৃতীয় শাখা: তারা হলো দাইগাম বিন মুয়াবিয়া বিন হারিস বিন মুনাব্বিহ বিন ইয়াযিদ বিন হারব বিন উলাহ বিন জালদ বিন মাজহিজ-এর সন্তান, যে তায়্য-এর ভাই ছিল। মুয়াবিয়া বিন হারিস জানব গোত্রভুক্ত ছিলেন এবং নেতৃত্ব জানব পরিবারের হাতেই ছিল। তিনিই সেই ব্যক্তি যার কাছে কুলাইবের ভাই মুহালহিল আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তিনি মুহালহিলের কন্যা উবাইদাকে বিবাহ করেছিলেন। তার নামেই জানবের গোত্রগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। তিনি দাইগাম নামক এক পুত্র জন্ম দেন যিনি এই গোত্রের মূল পুরুষ। এই বনী দাইগাম থেকেই আবদাহর উৎপত্তি এবং তায়্য বিন আলীর শাম্মার গোত্রগুলোর ওপর তাদের নেতৃত্ব ছিল। প্রাচীনকালে জাবালে তায়্য-এর নেতৃত্ব ছিল তায়্য গোত্রের শাখা জাদিলাহর হাতে, তারপর বনী নাবহান এবং পরবর্তীতে জারবানদের হাতে আসে। এরপর তা আবদাহ গোত্রের আল জাফর শাখার হাতে স্থানান্তরিত হয়। ইবনে মুগিরার বক্তব্যের বিষয়ে আবু আব্দুর রহমান বলেন: এটি লিপিক্রমের ত্রুটি এবং তথ্যের সংমিশ্রণ। আমি এর সাথে ইবনে রাসুলের একটি বর্ণনা যুক্ত করব যা সম্ভবত ইবনে মুগিরার অস্পষ্টতা দূর করবে। আমাদের শাইখ হামাদ আল-জাসির বলেন: ৬৯৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী সুলতান উমর বিন ইউসুফ ইবনে রাসুলের 'তুফাতুল আসহাব ফি মারিফাতিল আনসাব' কিতাবে এসেছে: আল মুনিফ অর্থাৎ আল দাইগাম ও আল রাশিদ-এর বংশপরিচয় হলো তারা জানব গোত্রভুক্ত এবং তারা আল-মাদদাহ নামে পরিচিত। তিনি হলেন মুনিফ বিন দাইগাম বিন মুনিফ বিন জাবির বিন আলী বিন আবদুরুব্ব বিন রবি বিন সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান বিন রুহ বিন মুদরিক বিন আব্দুল হামিদ বিন মুদরিক। বলা হয় যে, তারা বাকীল গোত্রভুক্ত, তবে তারা মাজহিজের আনস গোত্রের সাথে মৈত্রী গড়ে তুলেছিল বলে তাদের 'জানব' বলা হয়। আবার কেউ বলেছেন তারা আদনানি বংশের নিযারি...।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
نسبسب جنبٍ، لأن أُمهم عبيدة بنت مهلهل بن ربيعة التغلبي، من تغلب بن وائل أخي عنز بن وائل، تزوجها روح بن مدرك من بعد معاوية بن عمرو ابن معاوية بن الحارث الجنبي. وإخوتهم من أُمهم آل عايذ، وآل رشيد، وبنو قيس، وآل سفر، وآل الصلت، وأصحابهم، يسمون الأبطن، من ولد هذا معاوية الجنبي فنسبوا إليهم. فآل ضيغم بن منيف وأولاده ثمَانية: منيف وشكر وعيسى وعلي ومنصور وشيبان وعامر وحارث. قال أبو عبد الرحمن: من نص ابن رسول ونص ابن مغيرة يتضح التالي: جنبٍ، لأن أُمهم عبيدة بنت مهلهل بن ربيعة التغلبي، من تغلب بن وائل أخي عنز بن وائل، تزوجها روح بن مدرك من بعد معاوية بن عمرو ابن معاوية بن الحارث الجنبي. وإخوتهم من أُمهم آل عايذ، وآل رشيد، وبنو قيس، وآل سفر، وآل الصلت، وأصحابهم، يسمون الأبطن، من ولد هذا معاوية الجنبي فنسبوا إليهم. فآل ضيغم بن منيف وأولاده ثمَانية: منيف وشكر وعيسى وعلي ومنصور وشيبان وعامر وحارث. قال أبو عبد الرحمن: من نص ابن رسول ونص ابن مغيرة يتضح التالي: 1 - أن عَبْدَةَ لا تنتسب إلى شمر بالرجوع إلى الجد شمر، وإنمَا يجتمعون مع شمر في أدد بن زيد، والد طيء الذي من ذريته بنو شمر، ومَالك الذي من ذريته عَبْدَةَ. وبين أهل النسب خلاف هل " مذحج " لقب لَمْالك بن أدد أم هو اسم لأُم طيء ومَالك.
2 - أن قبائل عَبْدَةَ من ذرية ضيغم بن معاوية بن الحارث وأُم ضيغم عبيدة بنت مهلهل. إلا أن أبا حزم جعل زوج عبيدة من أحفاد معاوية بن الحارث فقال: ومن بني يزيد بن حرب بن علة ابن جلد بن مَالك " مذحج ": معاوية بن عمرو بن معاوية بن الحارث بن منبه بن يزيد بن حرب بن علي الذي تزوج بنت مهلهل بن رييعة التغلبي بنجران ومهرها أدمَا فقال في ذلك أبوها
أَنْكَحَهَا فَقْدُهَا اْلأَرَاقِمَ، في
… جَنْبٍ وَكَانَ الْحِبَاءُ مِنْ أَدَمِ
لَوْ بِأَبَانَيْنِ جَاءَ يَخْطِبُهَا
… ضُرِّجَ مَا أَنْفُ خَاطِبٍ بِدَمِ
তারা জনব গোত্রের সাথে সম্পর্কিত, কারণ তাদের মা হলেন উবাইদাহ বিনতে মুহালহিল বিন রাবিয়াহ আত-তাগলিবি, যিনি আনয বিন ওয়াইল-এর ভাই তাগলিব বিন ওয়াইল-এর বংশোদ্ভূত। মুয়াবিয়া বিন আমর বিন মুয়াবিয়া বিন আল-হারিস আল-জানবির পরে রুহ বিন মুদরিক তাকে বিয়ে করেন। তাদের বৈমাত্রেয় ভাইরা (একই মায়ের সন্তান) হলেন আলে আয়িদ, আলে রাশিদ, বনু কায়স, আলে সাফার, আলে আস-সালত এবং তাদের সাথীরা; তারা ‘আল-আবতুন’ নামে পরিচিত। তারা এই মুয়াবিয়া আল-জানবির বংশধর বিধায় তার দিকেই তাদের বংশধারা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। আর দ্বাইগাম বিন মুনিফ-এর বংশ এবং তার সন্তান ছিল আটজন: মুনিফ, শুকুর, ঈসা, আলী, মানসুর, শায়বান, আমির এবং হারিস। আবু আবদুর রহমান বলেন: ইবনে রাসুল এবং ইবনে মুগিরার বর্ণনা থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়: ১ - আবদাহ গোত্র শিম্মার নামক দাদার দিকে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে শিম্মার গোত্রের সাথে বংশগতভাবে সম্পর্কিত নয়, বরং তারা শিম্মারের সাথে আদাদ বিন যায়িদের মাধ্যমে মিলিত হয়, যিনি তায়ি-এর পিতা (যার বংশধর বনু শিম্মার) এবং মালিকের পিতা (যার বংশধর আবদাহ)। বংশবিদদের মধ্যে এ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে যে, 'মাযহিজ' কি মালিক বিন আদাদের উপাধি, নাকি এটি তায়ি ও মালিকের মায়ের নাম।
২ - আবদাহ গোত্রসমূহ হলো দ্বাইগাম বিন মুয়াবিয়া বিন আল-হারিসের বংশধর এবং দ্বাইগামের মা হলেন উবাইদাহ বিনতে মুহালহিল। তবে আবু হাযম উবাইদাহর স্বামীকে মুয়াবিয়া বিন আল-হারিসের বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত করে বলেছেন: বনু ইয়াযিদ বিন হারব বিন ইল্লাহ বিন জালদ বিন মালিক ‘মাযহিজ’ থেকে: মুয়াবিয়া বিন আমর বিন মুয়াবিয়া বিন আল-হারিস বিন মুনাব্বিহ বিন ইয়াযিদ বিন হারব বিন আলী, যিনি নাজরানে মুহালহিল বিন রাবিয়াহ আত-তাগলিবির কন্যাকে বিয়ে করেছিলেন এবং মোহরানা হিসেবে চামড়া দিয়েছিলেন, যার প্রেক্ষিতে তার পিতা বলেছিলেন:
আল-আরাকিম গোত্রকে হারানোর অভাবই তাকে জনব গোত্রে বিয়ে দিতে বাধ্য করেছে,
… আর মোহরানা ছিল চামড়া স্বরূপ।
যদি তিনি আবানাইন পাহাড়ে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসতেন,
… তবে সেই পাণিপ্রার্থীর নাক রক্তে রঞ্জিত হতো।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
3 - سبب دخول عَبْدَةَ في جنب أنهم من ذرية ضيغم بن معاوية بن الحارث وحده منبه بن يزيد بن حرب أحد الأخوة الذين شملتهم التسمية بجنب. قال ابن حزم: ولد يزيد بن حرب بن عُلَةَ بن جَلْدِ ابن مَالك " مذحج ": منبه والحارث، والغلي، وسنحان، وهفان، وشِمران، تحالف هؤلاء الستة على ولد أخيهم صُدَاء ابن يزيد، فسموا جَنْباً، مع بني عمهم بني سعد العشيرة بن مَالك بن عُلَةَ بن جلد بن مَالك، وهو مذحج. ونقل العزاوي عن كتاب " مجمع الأنساب " أن عَبْدَةَ من شمر. قال أبو عبد الرحمن: ونص ابن مغيرة يوافق نص السلطان عمر بن يوسف بن رسول. وقد جاء في هذا النص أن آل ضيغم كانوا إلى آخر القرن السابع - وهو عصر ابن رسول - لا يزالَوْن في الجنوب في بلاد مذحج، ونسبهم إلى جنب، وذكر وجهاً آخر في نسبتهم إلى عنز بن وائل من نزار، وأنهم دخلَوْا في جنبٍ لأن أُمهم عبيدة بنت مهلهل تزوجها روح بن مدرك. ولا ريب أن الَمْعروف الآن بين عَبْدَةَ انتسابهم إلى ضيغم، وعلى ذلك شواهد من الشعر العامي. وقد أفادني شيخي علامة الجزيرة حمد الجاسر - حفظه الله - أن شارل هوبر نقل عن عبيد بن علي بن رشيد خبر انتقال أجداده من الجنوب إلى الجبلين بمَا يشبه قصة انتقال طيء من وادي طَرِيْبٍ في الجنوب إلى الجبلين. فهذا يعني تسليم آل رشيد بأنهم آل ضيغم. وقد نقلت الليدي آن بلنت عن محمد بن رشيد أن شمراً الذين في الجزيرة وشمراً أتباعه يعدون أنفسهم أقرباء قرابة رحم وقال: إن دمَاء خيولنا واحدة. قال أبو عبد الرحمن: وثمة رأي طريف ينسب الجربان إلى آل فضل وهو مَا جاء في كتاب " كنز الأنساب " نقلا عن مجلة " لغة العرب " البغدادية بعنوان بنو تغلب العدنانية. ثم إنني سألت بعد ذلك أحد الشيوخ الكبار وهو الشيخ مجول الجرباء، رئيس عشاير شمر عن تغلب وهل لها بقية موجودة في الديار الشمَالية فلَمْ يذكر لي من ذلك شيئاً، بل تعذر عليه تعيين البطن معتذراً عن ذلك بتغير الأسمَاء عليه، ولَمْ ينف بالَمْرة وجود بقية منهم، فلَمْا ذكرت له الفضول طابت نفسه، وارتاح لهذا الاسم كثيراً، وكأنه كان نائمَا فاستيقظ ثم قال: إنه قريب من الصواب، ثم فكر هنيهة وقال: بل هو الصواب عينه، وعد لي منهم مطلق وبُنَيَّةَ الجرباء، رؤساء شمر أي الجد الأول الَمْؤسس لإمَارة شمر في جبل طيء، وكان ذلك في حين نبوغ أول رجالها الَمْشهورين بهذا الاسم. وذكر بعد ذلك أشياء تدل على صدق قوله، ثم قال: الفضول اندمجوا في القبائل، وتشتتوا في البلاد، وأورد أدلة عديدة على تأييد كلامه هذا. وقال أبو عبد الرحمن: هذه إفادة انتسختها من أوراق شيخي حمد الجاسر ثم راجعت مجلة " لغة العرب " فوجدت كاتب هذا البحث الأستاذ سليمَان الدخيل رحمه الله. يذكر أن سالَمْا الجرباء جد مطلق وبُنَيَّةَ الجرباء. قال أبو عبد الرحمن: ويا ليت الدخيل أورد هذه الأدلة العديدة؟! وعلى أي حال فهذا العاصي أحد مشايخ آل الجرباء يلَمْح إلى أصل رحلتهم بهذا البيت من إحدى أُحْدِيَّاتِه على الخيل:
ترْ لَابِتِكْ غَوْشَ الْيِمَنْ
… مَا هُم مجمَّعْ مِنْ بَلَدْ
رحلة الضياغم من الجنوب إلى الشمَالولرحلة الضياغم من الجنوب إلى الجبلين شواهد من مَاثور العامة، ومن نصوص الَمْؤرخين كنص ابن رسول. وعن هذه الَمْرحلة قال الدكتور العثيمين مَا موجزه: كانت عشيرة عَبْدَةَ تسكن إحدى جهات جنوب الجزيرة، ثم هاجرت حتى حلت بجبل شمر، وهذه الهجرة منذ أكثر منذ أربعة قرون. وكان أُمراءُ الجبل قبل هجرة عَبْدَةَ من قبيلة زُبيد، فتغلبت عَبْدَةَ عليهم حتى أجلَوْهم،،وآخر زعمَائهم بَهِيْجُ، وفي ذلك يقول أحد شعراء شمر فيمَا بعد:
قَبْلك بَهِيْجِ حَدَّروه السَّنَاعِيْس
… من عِقْدِةَ اللِّي مَا يْحَدَّرْ قَنَاهَا
৩ - জানব গোত্রে আবদাহদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ হলো, তারা মুয়াবিয়া ইবনে হারিসের পুত্র দাইগামের বংশধর। আর ইয়াজিদ ইবনে হারবের পুত্র মুনাব্বিহ ছিলেন সেই ভাইদের একজন যাদের সমষ্টিগত নাম ছিল জানব। ইবনে হাজম বলেছেন: ইয়াজিদ ইবনে হারব ইবনে উলাহ ইবনে জালদ ইবনে মালিক 'মাদহিজ'-এর সন্তানরা হলেন: মুনাব্বিহ, আল-হারিস, আল-গালি, সানহান, হাফফান এবং শিমরান। এই ছয়জন তাদের ভ্রাতুষ্পুত্র সাদা ইবনে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে মৈত্রী স্থাপন করেছিলেন, ফলে তাদের নাম রাখা হয় 'জানব' (পার্শ্ববর্তী)। তাদের সাথে ছিলেন তাদের চাচাতো ভাই বনু সাদ আল-আশিরা ইবনে মালিক ইবনে উলাহ ইবনে জালদ ইবনে মালিক, যিনি মাদহিজ। আল-আজ্জাউয়ি 'মাজমাউল আনসাব' গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, আবদাহ শিমর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। আবু আবদুর রহমান বলেন: ইবনে মুগিরার বর্ণনা সুলতান উমর ইবনে ইউসুফ ইবনে রাসুলের বর্ণনার সাথে মিলে যায়। এই বর্ণনায় এসেছে যে, আল-দাইগামরা সপ্তম হিজরি শতকের শেষভাগ পর্যন্ত — যা ইবনে রাসুলের সময়কাল — দক্ষিণ আরবের মাদহিজ অঞ্চলে অবস্থান করত। তিনি তাদের বংশলতিকা জানব গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। তাদের বংশপরিচয় সম্পর্কে তিনি আরেকটি মত উল্লেখ করেছেন যে, তারা নিজার বংশীয় আনজ ইবনে ওয়াইল-এর বংশধর এবং তারা জানব গোত্রে দাখিল হয়েছে কারণ তাদের মা উবাইদাহ বিনতে মুহালহিলকে রাওহ ইবনে মুদরিক বিবাহ করেছিলেন। বর্তমানে আবদাহ গোত্রের মধ্যে দাইগামের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়টিই সুপ্রসিদ্ধ এবং এ বিষয়ে লোকজ কবিতায় অনেক প্রমাণ রয়েছে। উপদ্বীপের প্রখ্যাত পণ্ডিত আমার উস্তাদ হামাদ আল-জাসির — আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন — আমাকে জানিয়েছেন যে, চার্লস হুবার উবাইদ ইবনে আলী ইবনে রাশিদ থেকে তাদের পূর্বপুরুষদের দক্ষিণ থেকে দুই পাহাড়ের (জাবালায়ন) দিকে স্থানান্তরের বিবরণ দিয়েছেন, যা তাইয়ি গোত্রের দক্ষিণ আরবের ওয়াদি তরীব থেকে দুই পাহাড়ের দিকে স্থানান্তরের কাহিনীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এর অর্থ হলো, আল-রশিদ পরিবার স্বীকার করে যে তারা দাইগাম বংশীয়। লেডি অ্যান ব্লান্ট মুহাম্মদ ইবনে রাশিদের বরাতে বর্ণনা করেছেন যে, জাজিরায় বসবাসকারী শিমর এবং তাঁর অনুসারী শিমররা নিজেদেরকে রক্ত সম্পর্কীয় নিকটাত্মীয় মনে করে। তিনি বলেছেন: আমাদের ঘোড়াগুলোর রক্ত এক। আবু আবদুর রহমান বলেন: জারবা পরিবারকে আল-ফদল গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত করার একটি চমৎকার মত রয়েছে, যা বাগদাদের 'লুগাতুল আরব' সাময়িকীর উদ্ধৃতি দিয়ে 'কানজুল আনসাব' গ্রন্থে 'বনু তাগলিব আদনানিয়াহ' শিরোনামে এসেছে। এরপর আমি জনৈক বয়োজ্যেষ্ঠ শায়খ মিজওয়াল আল-জারবা, যিনি শিমর গোত্রসমূহের প্রধান, তাঁকে তাগলিব গোত্র সম্পর্কে এবং উত্তর অঞ্চলে তাদের কোনো অবশিষ্টাংশ আছে কিনা জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি এ বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করেননি, বরং নাম পরিবর্তনের কারণে নির্দিষ্ট উপগোত্র চিহ্নিত করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে তিনি তাদের অস্তিত্ব একবারে অস্বীকার করেননি। যখন আমি তাঁর কাছে 'ফুদুল' নাম উল্লেখ করলাম, তখন তিনি আশ্বস্ত হলেন এবং এই নামটি তাঁকে অনেক স্বস্তি দিল। মনে হলো তিনি যেন ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। অতঃপর বললেন: এটি সত্যের খুব কাছাকাছি। কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললেন: বরং এটিই ধ্রুব সত্য। তিনি তাদের মধ্য থেকে মুতলাক এবং বুনাইয়াহ আল-জারবার নাম গণনা করলেন, যারা শিমর অর্থাৎ তাইয়ি পাহাড়ের শিমর ইমারতের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রধান ছিলেন। এটি ছিল এই নামে প্রসিদ্ধ তাদের প্রথম পুরুষদের উত্থানকাল। এরপর তিনি এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করলেন যা তাঁর কথার সত্যতা প্রমাণ করে। তিনি আরও বললেন: ফুদুলরা বিভিন্ন গোত্রের সাথে মিশে গেছে এবং বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি তাঁর এই বক্তব্যের সমর্থনে অনেক দলিল উপস্থাপন করেন। আবু আবদুর রহমান বলেন: এটি একটি তথ্য যা আমি আমার উস্তাদ হামাদ আল-জাসিরের পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করেছি। এরপর আমি 'লুগাতুল আরব' সাময়িকীটি পর্যালোচনা করে দেখলাম যে এই গবেষণার লেখক হলেন অধ্যাপক সুলাইমান আল-দাখিল (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সালিম আল-জারবা হলেন মুতলাক ও বুনাইয়াহ আল-জারবার দাদা। আবু আবদুর রহমান বলেন: যদি আল-দাখিল এই অসংখ্য দলিলগুলো উল্লেখ করতেন! যাই হোক, আল-জারবা পরিবারের অন্যতম প্রধান 'আল-আসি' ঘোড়ায় চড়ে গাওয়া তাঁর একটি বীরত্বগাথায় তাদের যাত্রার মূল উৎসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন:
জেনে রেখো তোমার সেনাদল ইয়েমেনের যুবক … তারা কোনো দেশ থেকে সংগৃহীত সাধারণ লোক নয়
দক্ষিণ থেকে উত্তরে দাইগামদের অভিযাত্রাদক্ষিণ থেকে দুই পাহাড়ের দিকে দাইগামদের হিজরতের অনেক প্রমাণ লোকজ ঐতিহ্য এবং ইবনে রাসুলের মতো ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় পাওয়া যায়। এই পর্যায় সম্পর্কে ডক্টর আল-উসাইমীন সংক্ষেপে বলেছেন: আবদাহ গোত্র আরব উপদ্বীপের কোনো এক দক্ষিণাঞ্চলে বসবাস করত, এরপর তারা হিজরত করে জাবালে শিমরে বসতি স্থাপন করে। এই হিজরতের ঘটনা চারশ বছরেরও বেশি সময় আগের। আবদাহদের হিজরতের আগে এই পাহাড়ের শাসনকর্তা ছিল জুবাইদ গোত্র। আবদাহ তাদের ওপর জয়লাভ করে এবং তাদের বিতাড়িত করে। তাদের শেষ নেতা ছিল বাহীজ। এ সম্পর্কে পরবর্তীতে শিমর গোত্রের এক কবি বলেছেন:
তোমার আগে সানাসিসরা বাহীজকে বিতাড়িত করেছে … ইদাহ থেকে, যার বর্শা কেউ নামাতে পারেনি।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قال أبو عبد الرحمن: يفهم من هذا النص أن رحيل عَبْدَةَ من الجنوب إلى جبل طيء في الشمَال كان في حدود القرن العاشر وهكذا يفهم من نص للشيخ العبودي سيأتي. ويفهم من نص لابن حاتم - سيأتي - أن رحيلهم في منتصف القرن التاسع. ولَوْ استطعنا أن نصل نسب عرار بن شهوان بن صيغم بضيغم بن منيف الذي ذكره ابن رسول لاستطعنا تحديد التاريخ لرحيلهم بشكل أدق. ولَوْ افترضنا أن عراراً هو عرار بن شهوان بن منصور بن ضيغم بن منيف لكان رحيلهم في أول القرن الثامن الهجري تقريباً، لأن ابن رسول الَمْتوفي سنة 694 ذكر أن ذرية منيف ابن ضيغم لا تزال في الجنوب وعلى ضوء ذلك نجعل عصر كل فرد من سلسلة النسب منذ عرار إلى منيف ثلاثين عامَا ونضم الناتج إلى سبعة قرون توفى ابن رسول في نهايتها. وعن رحيلهم ذكر الشيخ سعد بن جُنَيْدِل قصيدةً لفارس ابن شهوان الضيغمي، ذكر أنه رسم طريق ارتحال قبيلته من بلادهم إلى نجد، ورتب منازل طريقهم ترتيباً دقيقا قال فيها يذكر الْقُوَيْع:
وْلَيْلٍ في السِّرْدَاحْ لاعَلّهَ الْحَيَا
… هشِيْمِه وَقِّاف وْحَمْضِهْ بَادْ
وْوَطَّيْتهَا وَادي الْقُوَيْع تَعمِّدْ
… تَمَنَّيْتهَا لَوْلا الْهَيَامِ بْلادْ
ولَيْلٍ بَالْحَدْبَا لَاعِمِرْ جَالْهَا
… شَدَّوْا وْخَلَوْا في الَمْرَاحْ سُوَادْ
وقال في موضع آخر: وقال شاعر من الضياغم وهو يرسم طريق هجرتهم:
ليل في الْقِمْرا ولَيْلٍ في الرَّكَا
… ولَيْلٍ في حَزْمَ الْحَصَاةِ شْدَادْ
ولَيْلَةْ وَرَدْنَا مَاسَل وْمِوَيْسِلْ
… وْجِيْهَ الَمْغَارِفْ كِنِّهِنّ جْدَاد
ثم ذكر بعد هذين البيتين ثلاثة الأبيات الآنفة الذكر وذكر في موضع آخر أنهمَا لفارس بنم شهوان الضيغمي وقد مر به قومه في طريق هجرتهم إلى شمَال نجد. وذكر شيخنا حمد الجاسر مؤلفاً حديثاُ - ولَمْ يذكر اسمه ولا اسم مؤلفه - تحدث عن نجائب من الخيل تدعى الُّهْمَ الشهوانيات. قال الشيخ حمد: جاء في هذا الَمْؤلف: شهوان عبيدة أي من قحطان وسميت باسم راعيها شهوان أبو عرار أخو راشد عم عمير. ثم قال: وأورد أخباراً عن هذه الخيل وشعراً لشهوان أبو عرار جاء فيه:
لَنا مَنْزل مَا بَيْنَ الافْلاج والْحَسَا
… ومَا بَيْنَ صنْعا والسّليل وحود
إلى حَوْدَرُوا يَبْغُونَ الَاسْعَار بالقرى
… حَدَرْنَا على مِثْلَ الْغمَامَ السوْدْ
كبار الشُّوادِي مَيرنَا منْ زْرُوْعها
… غَرَايْرٍ بلا حَطَبْ ولا وُقوْد
إالى حافها سبع الخلا بات جايع
… بباطنها مثل النسور لبود
تمنيب من حطمَات الليالي لعلنا
… ندرك بعض يا أبو ربيع حمود
ان صار مَالك من دراعيك نجده
… فشر بك باعضاد الرجال يكود
وقال الشيخ حمد: إنه أورد أشهاراً لعرار بن شهوان وأخباراً تتعلق بخيله. وذكر الشيخ محمد العبودي معركة بين آل ضيغم وسلطان مَارد، قتل فيها حُميدان بن راشد بن ضيغم، ابن عم عرار ابن شهوان، وسلطان مَارد معاً. وقال في ذلك عمير بن راشد قصيدة مطلعها:
تَهَيَّا لْنَا عِنْدَ أبْرَقَ السَّيْحْ عَرْكَةْ
… تَمَنَّى بْهَا حضارَ الرجال غيَابْ
وحدد عصر هذا الشعر بأنه بعد عصر الشاعر جرير بحوالي تسعة قرون. ويذكر الأستاذ عبد الله بن خالد الحاتم أن عرار بن شهوان آل ضيغم جد آل رشيد أُمراء حائل وأنه عاش سنة 850هـ. وذكر له قصيدة يتشوق فيها إلى نجد، ويفهم منها أن ابن عمه عمير بن راشد موجود بنجد، فممَا ورد من هذه القصيدة قوله:
يقول عرارٍ قول من ضَلّ مُوْقِف
… عَلى الدار يَرْثِي بالدموعَ الذِّرَايف
قَلِيْلَ الجداَ منْ دِمْنِه هدّ رَسْمَهْ
… مَزاعِيج هُوْجَ الذَّارْيَاتَ الْعواصِفْ
لَكِنّي بْها مَا ريْتْ خِيمْ ظلايلْ
… مَحَتْهَا صروفٍ للْعَوادِي قَرَايف
إلى أن قال:
فَلَا وَاعَلَا لَوْلَا التَّمَنِّي سمَاجهْ
… أَوْقَف بنَجْد آمن غير خايف
আবু আবদুর রহমান বলেন: এই পাঠ্য থেকে বোঝা যায় যে, দক্ষিণ থেকে উত্তরের জাবালে তাই-তে আবদাহ-র প্রস্থান দশম শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে হয়েছিল এবং এটি পরবর্তীতে উল্লেখিত শেখ আল-উবুদির একটি বক্তব্য থেকেও বোঝা যায়। ইবনে হাতেমের একটি পাঠ্য থেকে বোঝা যায়—যা সামনে আসবে—যে তাদের প্রস্থান নবম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে হয়েছিল। যদি আমরা আরার বিন শাহওয়ান বিন সয়গম-এর বংশধারাকে ইবনে রাসুল কর্তৃক উল্লিখিত দ্বয়গম বিন মুনিফের সাথে সংযুক্ত করতে পারতাম, তবে আমরা তাদের প্রস্থানের ইতিহাস আরও সূক্ষ্মভাবে নির্ধারণ করতে পারতাম। যদি আমরা ধরে নিই যে, আরার হলেন আরার বিন শাহওয়ান বিন মনসুর বিন দ্বয়গম বিন মুনিফ, তবে তাদের প্রস্থান হিজরি অষ্টম শতাব্দীর শুরুর দিকে হতে পারে। কারণ ৬৯৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করা ইবনে রাসুল উল্লেখ করেছেন যে, মুনিফ ইবনে দ্বয়গমের বংশধরেরা তখনও দক্ষিণে বসবাস করছিল। এর আলোকে আমরা আরার থেকে মুনিফ পর্যন্ত বংশধারার প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য ত্রিশ বছর করে সময় ধরি এবং প্রাপ্ত ফলাফলকে সেই সাত শতাব্দীর সাথে যোগ করি যার শেষে ইবনে রাসুল ইন্তেকাল করেছিলেন। তাদের প্রস্থান সম্পর্কে শেখ সাদ বিন জুনাইদিল ফারিস বিন শাহওয়ান আল-দ্বয়গমির একটি কবিতা উল্লেখ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তার কবিলার নিজ দেশ থেকে নজদ অভিমুখে হিজরতের পথ অঙ্কন করেছেন এবং তাদের যাত্রাপথের যাত্রাবিরতিগুলো নিখুঁতভাবে বিন্যস্ত করেছেন। সেখানে আল-কুওয়াইয়ি-র কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন:
এক রাত সির্দাহ-তে কাটালাম, যেখানে বৃষ্টি নামুক না কেন
… তার শুকনো ডালপালা দাঁড়িয়ে আছে আর লোনা ঘাস বিলীন হয়েছে।
আমি উদ্দেশ্যমূলকভাবে আল-কুওয়াইয়ি উপত্যকায় পা রেখেছি
… যদি এটি মরুভূমি না হতো তবে আমি এটিকে আমার দেশ হিসেবে চেয়ে নিতাম।
এক রাত আল-হাদবায় কাটালাম যেখানে কোনো জনবসতি নেই
… তারা সেখান থেকে চলে গেল এবং বিশ্রামের স্থানে শুধু চিহ্ন রেখে গেল।
অন্য এক স্থানে বলা হয়েছে: দ্বয়গম বংশের একজন কবি তাদের হিজরতের পথ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন:
এক রাত কামরায়, এক রাত রাকাতে
… আর এক রাত হাজমুল হাসাতের শক্ত ভূমিতে কাটালাম।
আর এক রাত আমরা মাসাল ও মুওয়াইসিলে উপনীত হলাম
… পানির পাত্রগুলোর মুখ যেন নতুনের মতো ঝকঝকে ছিল।
অতপর এই দুই পঙ্ক্তির পর পূর্বে উল্লিখিত তিনটি পঙ্ক্তি তিনি উল্লেখ করেছেন এবং অন্য এক স্থানে উল্লেখ করেছেন যে, পঙ্ক্তি দুটি ফারিস বিন শাহওয়ান আল-দ্বয়গমির, যিনি উত্তর নজদ অভিমুখে হিজরতকালে তার কওমের সাথে সেখানে গিয়েছিলেন। আমাদের শেখ হামাদ আল-জাসির একটি আধুনিক গ্রন্থের উল্লেখ করেছেন—যার নাম বা লেখকের নাম তিনি উল্লেখ করেননি—যেটি 'আল-হুম আশ-শাহওয়ানিয়্যাত' নামক অভিজাত ঘোড়াসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছে। শেখ হামাদ বলেন: এই গ্রন্থে এসেছে: শাহওয়ান উবায়দাহ অর্থাৎ কাহতান গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, এবং এটি তার মালিক শাহওয়ান আবু আরার-এর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে, যিনি রাশিদ-এর ভাই এবং উমাইর-এর চাচা ছিলেন। অতপর তিনি বলেন: তিনি এই ঘোড়াগুলো সম্পর্কে কিছু সংবাদ এবং শাহওয়ান আবু আরার-এর কিছু কবিতা উদ্ধৃত করেছেন যাতে বলা হয়েছে:
আফলাজ এবং আল-হাসার মাঝে আমাদের একটি আবাস রয়েছে
… এবং সানআ, আস-সালাইল এবং হুদের মধ্যবর্তী স্থানে।
যখন তারা গ্রামের বাজারে সওদা করতে নামে
… আমরা তখন কালো মেঘের মতো বেগে নেমে আসি।
উঁচু চূড়ার সেই স্থানগুলোর শস্য থেকেই আমাদের আহার সংস্থান হয়
… কোনো কাঠ বা জ্বালানি ছাড়াই সেগুলো প্রস্তুত।
বন্য হিংস্র প্রাণী যখন ক্ষুধার্ত হয়ে এর চারপাশ ঘোরে
… তখন তারা ঈগলের মতো সেখানে ওত পেতে থাকে।
বিপদসংকুল রাতগুলো থেকে আমি আশা করি, হয়তো আমরা এর কিছু অংশ ফিরে পাব হে আবু রাবী হামুদ
…যদি তোমার নিজের বাহু থেকে সাহায্য না আসে
… তবে অন্যের বাহুর ওপর ভরসা করা তোমার জন্য কঠিন হবে।
শেখ হামাদ বলেন: তিনি আরার বিন শাহওয়ানের কিছু কবিতা এবং তার ঘোড়া সংক্রান্ত সংবাদ উল্লেখ করেছেন। শেখ মুহাম্মদ আল-উবুদি আল-দ্বয়গম এবং মারিদের সুলতানের মধ্যে একটি যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন, যাতে আরার বিন শাহওয়ানের চাচাতো ভাই হুমাইদান বিন রাশিদ বিন দ্বয়গম এবং মারিদের সুলতান উভয়েই নিহত হন। এ বিষয়ে উমাইর বিন রাশিদ একটি কবিতা বলেন যার প্রারম্ভিক পঙ্ক্তি হলো:
আবরাক আস-সাইহ-এর নিকট আমাদের এক যুদ্ধ সংঘটিত হলো
… যেখানে উপস্থিত বীরেরা অনুপস্থিত থাকার আকাঙ্ক্ষা করছিল।
তিনি এই কবিতার সময়কাল কবি জারীরের যুগের প্রায় নয় শতাব্দী পর নির্ধারণ করেছেন। উস্তাদ আবদুল্লাহ বিন খালিদ আল-হাতেম উল্লেখ করেন যে, আরার বিন শাহওয়ান আল-দ্বয়গম হলেন হাইল-এর আমির আল-রশীদ পরিবারের পূর্বপুরুষ এবং তিনি ৮৫০ হিজরি সনের দিকে জীবিত ছিলেন। তিনি তার একটি কবিতা উল্লেখ করেছেন যাতে তিনি নজদের প্রতি আকুলতা প্রকাশ করেছেন। এটি থেকে বোঝা যায় যে, তার চাচাতো ভাই উমাইর বিন রাশিদ তখন নজদে অবস্থান করছিলেন। সেই কবিতার কিছু পঙ্ক্তি হলো:
আরার এমন একজনের কথা বলছেন যে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে
… ভিটেমাটির ওপর অশ্রুসিক্ত চোখে বিলাপ করছে।
সেখানে কোনো লাভ নেই সেই ধ্বংসস্তূপে যার চিহ্ন মুছে দিয়েছে
… প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাসের ঝাপটা।
কিন্তু আমি সেখানে কোনো তাঁবুর ছায়া দেখিনি
… কালের আবর্তে শত্রুতার গ্রাসে যা মুছে গেছে।
তিনি আরও বলেন:
আক্ষেপ! যদি আকাঙ্ক্ষা করাটা বোকামি না হতো
… তবে আমি নজদে নির্ভয়ে ও নিরাপদ চিত্তে অবস্থান করতাম।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وَالْقى عُمَيْرٍ بَالْعْذَيْبَهْ مُوَقِّفْ
… على شَلْشل بيْضَ الجمَال الشَّرايفْ
ومن الأخبار التي يتناقلها السمَار مَا حدثني به الشيخ إبراهيم ابن عثمَان أن فارس بن شهوان سكن معه والده بوادي الدواسر، فكان يعطي جارته من صيده وغنائمه، فتطور ذلك إلى أن أظهرت له الَوْد، فلَمْ يستجب لذلك، إكرامَا لجاره، فلَمْا رأت انصرافه عنها أظهرت لَوْالده أنه يُسِيْءٌ إليها، فلَمْا التآثر في وجه والده رحل مع من خف معه من قومه وممَاليكه، فأرسل شهوان عَبْدَةَ عمَاراً ليرافق فارساً، ويعرف اتجاهه، فلَمْا أحس فارس بمرافقة عمَار له صار يأخذ بيض نعام، فكلَمْا نزل منزلاً أظهر بيضة وملأها مَاءً، ووضع بجنبه تمراً ودفنها تحت مبرك ناقته حتى نزل منزلاً قريباً من ظفار سمى فارسا باسمه. وبعد ذلك أمر عمَاراً أن يعود إلى والده، ووصف له مدافن بيض النعام، لتكون له زاداً ومعالَمْ لطريقه، وقال بهذه الَمْناسبة قصيدة مطلعها:
عَمَار عَلِّك عن ذَا تنثني
… من يَمّ شْهوان عزيز جار
ويزيدنا عبد الجبار الراوي تفصيلاً فيذكر أن شمراً قتلت بهيجا شيخ العبيد فهاجرت العبيد إلى جزيرة العراق. وقد أشارت شَمَّرُ على بهيج أن يدخل على شيوخ شمر، ويصالحهم فأبى ذلك وقال:
يقول بهيج بن ذبيانٍ مثايلْ
… ودَمْعِه على الاملاك دُوْنَ الشَّلايلْ
جَلَوْنَا عنْ ديارنا الْعَذِبَّات شَمَّرْ
… قَرَاح وبرْدِ مَا، يدْاوي الغلايِلْ
ونَحَّيْنا رقاب الْقُوْد عنهم وغربنا
… وعين الزُّبَيْديُّات لنجد مَايِلْ
لَا صارْ مَا عِدْل يُعادِلْ عَدِيْلَهْ
… مَا ينقعد بالدارْ والشَّيْلْ مَايلْ
ولَا صَارْ مَاحقَّ الفتى بِذرَاعِهْ
… هَبَّيْتْ يا حُكْم يِجِى بَالدَّاخايِلْ
صبَّار على الزهدة بِسُوّ فعلهم
… بالنسب مَا يوجد لهم بالقبايِلْ
لئام لَوْ حَجَّجُتُهُمْ كعبة الرضا
… يجازونك عنها البايرات الفسايِلْ
رحيل آل الجرباء إلى العراق
উমাইর উজাইবায় একটি স্থানে অবস্থান গ্রহণ করল
… উটগুলোর অলঙ্কৃত জিনের সাদা সজ্জার ওপর।
গল্পকথকদের মুখে মুখে প্রচলিত সংবাদগুলোর মধ্যে একটি হলো যা আমাকে শেখ ইব্রাহিম ইবনে উসমান বর্ণনা করেছেন যে, ফারিস বিন শাহওয়ান তার পিতার সাথে ওয়াদি আদ-দাওয়াসিরে বসবাস করতেন। তিনি তার প্রতিবেশীকে তার শিকার ও যুদ্ধলব্ধ মাল থেকে দান করতেন। একপর্যায়ে বিষয়টি এমন দিকে মোড় নিল যে, সেই নারী তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করল, কিন্তু প্রতিবেশীর প্রতি সম্মান রক্ষার্থে তিনি তাতে সাড়া দেননি। যখন নারীটি তার বিমুখতা দেখল, তখন সে তার পিতার কাছে প্রকাশ করল যে সে (ফারিস) তার সাথে দুর্ব্যবহার করছে। যখন ফারিস তার পিতার চেহারায় এর নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি তার সম্প্রদায়ের কিছু লোক ও ভৃত্যদের নিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করলেন। শাহওয়ান তার দাস আম্মারকে ফারিসের সাথে যেতে পাঠালেন, যেন সে তার গন্তব্য জানতে পারে। যখন ফারিস বুঝতে পারলেন যে আম্মার তার সাথে আছে, তখন তিনি উটপাখির ডিম সংগ্রহ করতে শুরু করলেন। তিনি যখনই কোনো মঞ্জিলে অবতরণ করতেন, একটি ডিম বের করে তাতে পানি পূর্ণ করতেন এবং তার পাশে কিছু খেজুর রেখে তা তার উটের বসার স্থানের নিচে পুঁতে রাখতেন। এভাবে তিনি যাফারের নিকটবর্তী একটি মঞ্জিলে পৌঁছালেন এবং তার নামানুসারে সেটির নাম রাখলেন 'ফারিস'। এরপর তিনি আম্মারকে তার পিতার কাছে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে উটপাখির ডিম পুঁতে রাখার স্থানগুলো বর্ণনা করে দিলেন, যেন তা তার জন্য পাথেয় এবং পথের চিহ্ন হয়। এই উপলক্ষ্যে তিনি একটি কবিতা আবৃত্তি করেন যার শুরু হলো:
হে আম্মার, হতে পারে তুমি এখান থেকেই ফিরে যাবে
… শাহওয়ানের দিক থেকে আসা এক সম্মানিত প্রতিবেশী।
আব্দুল জব্বার আর-রাবি আমাদের আরও বিস্তারিত বর্ণনা দেন যে, শাম্মার গোত্র উবাইদ গোত্রের প্রধান বাহিজকে হত্যা করেছিল, ফলে উবাইদ গোত্র ইরাকের জাজিরা অঞ্চলে হিজরত করে। শাম্মার গোত্র বাহিজকে পরামর্শ দিয়েছিল যেন সে শাম্মার গোত্রের শায়খদের কাছে গিয়ে সন্ধি করে, কিন্তু সে তা অস্বীকার করে বলল:
বাহিজ বিন জুবইয়ান কিছু প্রবচন বলছেন
… আর তার অশ্রু ঝরছে ধন-সম্পদের শোকে, চাদরের আড়ালে।
শাম্মার গোত্রের কারণে আমরা আমাদের মনোরম আবাসভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছি
… যেখানে ছিল স্বচ্ছ ও শীতল পানি, যা মনের তৃষ্ণা মিটাত।
আমরা আমাদের দীর্ঘ গ্রীবার উটগুলোকে তাদের থেকে সরিয়ে নিলাম এবং পশ্চিমে যাত্রা করলাম
… আর জুবাইদি নারীদের চোখ তখন নজদ-এর দিকে আকুলভাবে তাকিয়ে ছিল।
যখন কোনো সমতা বিধানকারী পাল্লা অবশিষ্ট থাকে না
… তখন এমন ঘরে অবস্থান করা যায় না যেখানে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে।
আর যখন কোনো যুবক তার বাহুবল দিয়ে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না
… তখন ধিক সেই শাসনের প্রতি যা কেবল অনুনয়-বিনয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
তাদের মন্দ আচরণের কারণে অভাবের মাঝেও ধৈর্যশীল
… বংশমর্যাদার দিক থেকে গোত্রগুলোর মাঝে তাদের কোনো গৌরব নেই।
তারা এমন হীন যে যদি তুমি তাদের সন্তুষ্টির কাবায় হজও করাও
… তবে তারা তোমাকে তার বিনিময়ে কেবল নিকৃষ্ট ও অকেজো প্রতিদানই দেবে।
ইরাকে আল-জারবা পরিবারের হিজরত
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وآل الجرباء هم زعمَاء شمر ورؤساء الجبل، وأبعد ذكر لهم وجدته عن وفاة اثنين منهم عام 1100هـ وعام 1103هـ وقد رحلَوْا من نجد عام 1205هـ بعد هزيمتهم أمَام ابن سعود فبنوا زعامتهم في العراق وسوريا. قال حسين خزعل: وكانت الرئاسة العامة لشمر في اُسرة الجرباء من بطن سِنْجَارة، وقد أجلاهم الأمير سعود ابن عبد العزيز عن ديارهم عام 1205هـ بعد أن نازلهم قرب مدينة حائل وقتل مصلط بن مطلق. وسار مطلق من جبل شمر إلى العراق وبر الشام، ورافق أحمد باشا الجزار إلى الحج، ثم أقام في بادية السمَاوة من العراق. أمَا عن رحيل آل الجرباء فيذكر عباس العزاوي أن آل محمد الجرباء أُمراء شمر برئاسة فارس الجرباء مَالَوْا إلى العراق في أوائل القرن الثالث عشر الهجري. ويزيدنا يوسف البسام تفصيلاً فيقول: ويعرف رؤساء شمر السابقون بآل محمد وآخرهم فارس الجرباء وقد لقب بالجرباء نسبة لأُمه التي ابتليت بمرض الجدري، واصبحت جرباء على أثر هذا الَمْرض. وعلى عهد الأمير محمد بن سعود مؤسس الدولة السعودية الأولى وابنه الإمَام عبد العزيز نزح فارس الجرباء من جبل شمر واستوطن بادية الجزيرة في العراق بين دجلة والفرات، وذلك بعد أن انقطعت الأمطار مدة طويلة وأجدبت الأرض. وعلى أثر نزوح فارس الجرباء تبعه الكثير من شمر واستقروا في العراق ولا يزالَوْن حتى الآن وتولى أمر جبل شمر آل علي. وذكر عبد الجبار الراوي أن نجداً أصابها محل، فاضطر شيخ عشيرة شمر فارس إلى الهجرة مع أربعين بيتاً من قومه، طلباً للَمْرعى، حتى وصل إلى جزيرة العراق، فنزل جاراً على عشائر العبيد، ثم ذكر قصة شبه خرافية، لا سيمَا مَا يتعلق برثاثة شمر في حين أنه من الَمْعروف عند أهل نجد شهرة قبائل الشمَال - وبالأخص الشمَامرة - باللباس الأنيق والَمْظهر الباذخ. وذكر في موضع آخر أن أول من رحل من نجد إلى الجزيرة في العراق هو فارس الجرباء، وأنه الرئيس الأول لآل محمد ثم ذكر بنيه وأحفاده. وذكر أن فارساً لقب بالجرباء نسبة إلى أُمه، التي ابتليت بالجدري، فسميت به وإن كانت قد شفيت من هذا الَمْرض. قال أبو عبد الرحمن: ولا بأس من سياق هذه القصة التي أوردها الراوي. قال: أصاب نجداً محل، اضطر شيخ عشيرة شمر حينئذ فارساً إلى الهجرة مع أربعين بيتاً من بيوت الشعر، طلباً للَمْرعى، ومضى سائراً حتى بلغ الجزيرة، فنزل قصيراً " أي مجاوراً " على عشائر العبيد، التي أضافته، وأولَمْت له وليمة كبيرة دعت إليها رئيس عشائر طيء والجبور، وكان الَمْهاجرون من شمر في ثياب رثة، يعلَوْها الَوْسخ، بحيث اشمَازَّ الَمْدعوون منها فتناولَوْا الطعام على كره منهم، وقد خُيِّل إليهم أن هؤلاء الَمْهاجرين هم من عشيرتي صُلُبة، أو هُتيم اللتين يعدهمَا البدو من العشائر الحقيرة، ولَمْا شعر فارس شيخ شمر بمَا بدا على وجوه رؤساء العبيد وطيء والجبور، من الاشمئزاز، أراد أن يثبت لَمْضيفيه أنه هو وعشيرته من النبل والكرم بحيث يضرب بهمَا الَمْثل، فقرر أن يقابل الَوْليمة بمثلها، ودعا رؤساء العبيد وطيء والجبور، لتناول الطعام عنده، إلا أن هؤلاء ترددوا في قبول الدعوة، اعتقاداً منهم بأن هؤلاء ليسوا أهلاً لإجابه دعوتهم، وحضور وليمتهم، ولكنهم بعد لأْيٍ أجابوا الدعوه على مضض، فرأوا الَمْناسف - جمع منسف وهو مَا يوضع فيه الطعام - وقد ملئت بالطعام واللحم، إذ نحر لهم جُزُرَا، وكانت الَمْناسف من الضخامة بحيث علقت بها السكاكين لتساعد كبار السن على تقطيع اللحوم. وضخامة الَمْناسف تدل عند البدو دلالة قاطعةً على عظمة صاحبها، ولذلك حسبوا لهؤلاء النازلين ألف حساب، خوفاً على أنفسهم، لاعتقادهم أن وراء هذه الَمْناسف عشائر كبيرة العدد، فقرروا أن يغتالَوْا فارساً وجمَاعته قبل أن تصل إليه عشائره. كانت وليمة الشيخ فارس باعثةً للشيوخ الثلاثة على التآمر لقتل فارس ورهطه، كمَا أسلفنا، إلا أن فارساً شعر بالَمْؤامرة، فطلب من نسائه أن يخلعن حليهن، ويقدمنه إلى نساء الرؤساء الثلاثة هدية، على أن يتوسطن عند أزواجهن للحيلَوْلة دون الفتك به وبأعوانه، فلبين الطلب، ووعدنهن خيراً، فلَمْا أقبل الليل لَمْ تفرش نساء زعمَاء عبيد وطيء والجبور الفرش - وهي عند العرب علامة يستدل منها الرجال على حدوث أُمور خطيرة -، فسئلن عن السبب، فطلبن الأمَان للَمْهاجرين
আল-জারবা পরিবার হলেন শাম্মার গোত্রের নেতা এবং জাবাল (শাম্মার)-এর প্রধান। তাদের সম্পর্কে প্রাচীনতম যে উল্লেখ আমি পেয়েছি তা হলো ১১০০ হিজরী এবং ১১০৩ হিজরীতে তাদের দুইজনের মৃত্যু সংক্রান্ত। ইবনে সৌদ-এর কাছে পরাজিত হওয়ার পর ১২০৫ হিজরীতে তারা নজদ ত্যাগ করেন এবং ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। হুসাইন খাজআল বলেন: শাম্মার গোত্রের সাধারণ নেতৃত্ব ছিল সিনজারা শাখার জারবা পরিবারের হাতে। ১২০৫ হিজরীতে আমির সউদ ইবনে আব্দুল আজিজ হাইল শহরের নিকটে তাদের সাথে যুদ্ধের পর এবং মুসলাত ইবনে মুতলাককে হত্যা করার পর তাদের স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করেন। মুতলাক জাবালে শাম্মার থেকে ইরাক এবং সিরিয়ার মরুভূমির দিকে যাত্রা করেন এবং আহমদ পাশা আল-জাজ্জারের সাথে হজ্জ পালন করেন, এরপর তিনি ইরাকের সামাওয়াহ মরুভূমিতে বসবাস শুরু করেন। আল-জারবা পরিবারের হিজরত সম্পর্কে আব্বাস আল-আজ্জাউয়ি উল্লেখ করেন যে, ফারিস আল-জারবার নেতৃত্বে শাম্মার গোত্রের আমির আল-মুহাম্মদ জারবা পরিবার ত্রয়োদশ হিজরী শতাব্দীর শুরুর দিকে ইরাকের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ইউসুফ আল-বাসসাম আমাদের আরও বিস্তারিত তথ্য দিয়ে বলেন: শাম্মারের পূর্ববর্তী প্রধানগণ 'আল-মুহাম্মদ' নামে পরিচিত ছিলেন এবং তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন ফারিস আল-জারবা। তার মায়ের নামানুসারে তাকে 'জারবা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল, যিনি গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং এই রোগের প্রভাবে তিনি 'জারবা' (চর্মরোগাক্রান্ত) হয়ে পড়েছিলেন। প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা আমির মুহাম্মদ বিন সউদ এবং তার পুত্র ইমাম আব্দুল আজিজের শাসনামলে, দীর্ঘ সময় বৃষ্টিপাত বন্ধ থাকা এবং ভূমি শুষ্ক হয়ে যাওয়ার পর ফারিস আল-জারবা জাবালে শাম্মার থেকে হিজরত করেন এবং ইরাকের দজলা ও ফোরাত নদীর মধ্যবর্তী জাজিরা মরুভূমিতে বসতি স্থাপন করেন। ফারিস আল-জারবার হিজরতের পর শাম্মার গোত্রের অনেকেই তাকে অনুসরণ করে ইরাকে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং তারা আজও সেখানে আছেন; আর জাবালে শাম্মারের দায়িত্ব 'আল-আলী' পরিবার গ্রহণ করে। আব্দুল জাব্বার আল-রাউয়ি উল্লেখ করেছেন যে, নজদে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে শাম্মার গোত্রের শেখ ফারিস তার সম্প্রদায়ের চল্লিশটি পরিবারসহ চারণভূমির সন্ধানে হিজরত করতে বাধ্য হন, যতক্ষণ না তিনি ইরাকের জাজিরায় পৌঁছান। সেখানে তিনি ওবায়েদ গোত্রের প্রতিবেশী হিসেবে অবস্থান নেন। এরপর তিনি একটি প্রায় উপকথা সদৃশ কাহিনী বর্ণনা করেন, বিশেষ করে শাম্মার গোত্রের জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়ে; অথচ নজদবাসীর কাছে এটি সুপরিচিত যে উত্তরের গোত্রগুলো—বিশেষ করে শাম্মারিরা—মার্জিত পোশাক এবং জাঁকজমকপূর্ণ অবয়বের জন্য বিখ্যাত। তিনি অন্য এক স্থানে উল্লেখ করেছেন যে, নজদ থেকে ইরাকের জাজিরায় প্রথম যিনি হিজরত করেন তিনি হলেন ফারিস আল-জারবা এবং তিনি আল-মুহাম্মদ পরিবারের প্রথম প্রধান ছিলেন; এরপর তিনি তার পুত্র ও পৌত্রদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফারিসকে তার মায়ের নামানুসারে 'জারবা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল, যিনি গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাই তাকে এই নামে ডাকা হতো, যদিও তিনি এই রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। আবু আব্দুর রহমান বলেন: রাউয়ি যে গল্পটি বর্ণনা করেছেন তা এখানে তুলে ধরতে কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন: নজদে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তৎকালীন শাম্মার গোত্রের শেখ ফারিস তার চল্লিশটি তাবুসহ চারণভূমির সন্ধানে হিজরত করতে বাধ্য হন। তিনি চলতে চলতে জাজিরায় পৌঁছান এবং ওবায়েদ গোত্রগুলোর পাশে 'কাসির' (অর্থাৎ প্রতিবেশী) হিসেবে অবস্থান নেন। তারা তাকে আতিথেয়তা প্রদান করে এবং তার সম্মানে এক বিশাল ভোজের আয়োজন করে, যেখানে তারা তাই এবং জুবুর গোত্রের প্রধানদেরও আমন্ত্রণ জানায়। শাম্মার গোত্র থেকে আসা হিজরতকারীরা জরাজীর্ণ পোশাকে ছিল এবং তাদের শরীরে ময়লা জমে ছিল, যা দেখে আমন্ত্রিত অতিথিরা নাক সিঁটকান এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও খাবার গ্রহণ করেন। তারা ধারণা করেছিলেন যে এই হিজরতকারীরা হয়তো 'সুলুবা' বা 'হুতাইম' গোত্রভুক্ত, যাদেরকে বেদুইনরা তুচ্ছ গোত্র হিসেবে গণ্য করে। শাম্মার গোত্রের শেখ ফারিস যখন ওবায়েদ, তাই এবং জুবুর গোত্র প্রধানদের মুখে ঘৃণার ছাপ লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি তার মেজবানদের কাছে প্রমাণ করতে চাইলেন যে তিনি এবং তার গোত্র আভিজাত্য ও মহত্ত্বের এমন স্তরে রয়েছেন যা উদাহরণ হিসেবে পেশ করা যায়। তাই তিনি সেই ভোজের পাল্টা জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং ওবায়েদ, তাই ও জুবুর গোত্র প্রধানদের তার কাছে খাবারের আমন্ত্রণ জানালেন। তবে তারা এই ভেবে আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে ইতস্তত করছিলেন যে, এই লোকগুলো তাদের দাওয়াত রক্ষা করার বা তাদের ভোজের আয়োজন করার উপযুক্ত নয়। কিন্তু অনেক প্রচেষ্টার পর তারা অনিচ্ছাসত্ত্বেও দাওয়াতে সাড়া দেন। সেখানে তারা 'মানসাফ' (বড় থালা যাতে খাবার পরিবেশন করা হয়) দেখতে পান যা খাবার ও মাংসে পরিপূর্ণ ছিল; কারণ তিনি তাদের জন্য উট জবাই করেছিলেন। মানসাফগুলো এতই বিশাল ছিল যে বৃদ্ধদের মাংস কাটতে সুবিধার জন্য তাতে ছুরি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। বেদুইনদের কাছে মানসাফের বিশালত্ব তার মালিকের মহত্ত্বের অকাট্য প্রমাণ বহন করে। তাই তারা এই নবাগতদের অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে শুরু করলেন এই ভয়ে যে, এই মানসাফগুলোর পেছনে হয়তো বিশাল জনশক্তির কোনো গোত্র রয়েছে। ফলে তারা সিদ্ধান্ত নিলেন যে ফারিসের গোত্র পৌঁছানোর আগেই ফারিস ও তার সঙ্গীদের হত্যা করবেন। শেখ ফারিসের দেওয়া এই ভোজই তিন শেখকে ফারিস ও তার দলবলকে হত্যার ষড়যন্ত্র করতে প্ররোচিত করেছিল। কিন্তু ফারিস এই ষড়যন্ত্র টের পেয়ে যান। তিনি তার নারীদের নির্দেশ দেন যেন তারা তাদের অলঙ্কার খুলে ফেলেন এবং উপহার হিসেবে তিন প্রধানের স্ত্রীদের কাছে পাঠিয়ে দেন, যাতে তারা তাদের স্বামীদের কাছে তাকে ও তার সঙ্গীদের হত্যার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সুপারিশ করেন। নারীরা এই অনুরোধ রক্ষা করেন এবং তাদের মঙ্গলের প্রতিশ্রুতি দেন। রাত হলে ওবায়েদ, তাই এবং জুবুর গোত্র প্রধানদের স্ত্রীরা বিছানা পাতেননি—যা আরবদের কাছে পুরুষদের জন্য কোনো গুরুতর বিষয় ঘটার ইঙ্গিত হিসেবে গণ্য হয়—যখন তাদের কারণ জিজ্ঞাসা করা হলো, তারা হিজরতকারীদের নিরাপত্তা দাবি করলেন।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فأُعطين الأمَان، وأُجبن إلى مَا أَردن، فمدت الفرش وهكذا تمكنت جمَاعة فارس من الاستيطان في الجزيرة، والاستقرار فيها، ثم إن فارساً قطع نمَاذج من جميع الأعشاب والحشائش التي تنبت في الجزيرة، وملأ منها زكيبةً وأرسلها مع أعوانه إلى عشيرته في نجد، قاصداً بذلك إخبارهم بأنواع الحشائش الَمْمتازة للرعي، في الأرض التي نزح إليها، حاثا إياهم على اللحاق به، فمَا لبثت عشائر شمر أن لبت طلبه، ورحلت إليه جمَاعات، لا تقل كل جمَاعة منها عن خمسين بيتاً، فتكاثرت شمر، وحدث مَا كان يخشاه رؤساء العبيد وطيء والجبور، فأورث هذا الأمر نزاعاً بين هؤلاء بالاتفاق مع الصايح من جهة وبين شمر من جهة أخرى، على أرض الجزيرة التي نزلَوْها، ونشب قتال دام تسعين يومَا، انتصرت فيه شمر، وأجبرت عشائر الصايح والعبيد وطيء على الجلاء، عن أمَاكنها في الجزيرة، فعبرت الصايح دجلة، متجهة نحو الحويجة، فاتخذتها منازل لها، وانتقلت طيء من مكانها، وجعلت مساكنها غرب سنجار، أمَا الجبور فقد سكنوا منطقة الخابور، وهكذا خلا الجو لشمر في الجزيرة، وتمت لها السيطرة على أطرافها ونواحيها، حتى آل بها الأمر إلى أن تفرض نوعاً من الضرائب يسمى " الخوة " تأخذها من كل عشيرة تنزل منطقتها، واضطر كل من يعبر الجزيرة إلى أدائها صاغراً، وظلت هذه " الخوة " نافذة الَمْفعول، وشملت جميع القرى الَمْجاورة للبادية. ولَمْا تألفت الحكومة العراقية، بدأت قواتها النظامية تكافح هذه " الْخُوَّة " بكل مَا أُوتيت من قوة، إلا أنها لَمْ تتمكن من استئصال شأْفتها وقطع دابرها بالَمْرة. وقد بذلت جهوداً كثيرة لإنشاء مركز حكومي في الجزيرة حتى تم ذلك في السنة الأُولى من تسلَمْى زمَام مديرة الشرطة العامة، كمَا سبق أَن أَلفت في بادية الشامية مثلها قبل ذلك، واستطاعت أَن تمنع الخوة فيها. أَمَا " الْخُوَّة " في حد ذاتها فهي ظريبةس تدفعها العشائر التي تدخل الجزيرة طوعاً أَو كرهاً، وهي مقدار مُعَيّن من الدهن والغنم، يدفع إلى شيخ معين من شَمَّر في كل سنة، وتؤخذ " الخوة " من الَمْستطرق أيضاً، حيث يجب عليه أن يدفع مقداراً من النقود عن كل جمل يمر بالجزيرة، وكذلك في القرى التي تدفع مَا عليها من الحبوب في كل موسم، وتقسم " الخوة " على شيوخ شمر الذين يعرف كل منهم نصيبه منها، فالشيخ الفلاني يأخذ " الخوة " من الحديديين، والآخر من الجبور أو الَمْستطرقين أو من قرى الَمْوصل أو من غنم التجار التي ترسل إلى سورية. وهكذا لا يفلت أحد من أيدي جباة هذه الضريبة. ولَمْ تزل عشائر شمر في تكاثر وازدياد، منذ استيلاء السعوديين على حائل عاصمة ابن الرشيد، حيث هاجر عدد كبير من عشيرة عَبْدَةَ من نجد إلى الجزيرة في العراق ويؤلف هؤلاء الآن القسم الأكبر من شمر عَبْدَةَ. ومن أشهر رؤساء عَبْدَةَ النازحين إلى العراق الشيخ عقاب العجل، رئيس فرقة الأحية من عَبْدَةَ، وسبب نزوحه وهجرته هو عدم اعتراف شمر بشيخ أو زعيم في حائل إلا إذا كان من آل الرشيد. هذا، وأغلب عشائر منطقة حائل عاصمة ابن الرشيد القديمة من شمر، في الَوْقت الحاضر. قال أبو عبد الرحمن: لي على هذه النصوص تتميمَات واستدراكات على هذا النحو: أُعطين الأمَان، وأُجبن إلى مَا أَردن، فمدت الفرش وهكذا تمكنت جمَاعة فارس من الاستيطان في الجزيرة، والاستقرار فيها، ثم إن فارساً قطع نمَاذج من جميع الأعشاب والحشائش التي تنبت في الجزيرة، وملأ منها زكيبةً وأرسلها مع أعوانه إلى عشيرته في نجد، قاصداً بذلك إخبارهم بأنواع الحشائش الَمْمتازة للرعي، في الأرض التي نزح إليها، حاثا إياهم على اللحاق به، فمَا لبثت عشائر شمر أن لبت طلبه، ورحلت إليه جمَاعات، لا تقل كل جمَاعة منها عن خمسين بيتاً، فتكاثرت شمر، وحدث مَا كان يخشاه رؤساء العبيد وطيء والجبور، فأورث هذا الأمر نزاعاً بين هؤلاء بالاتفاق مع الصايح من جهة وبين شمر من جهة أخرى، على أرض الجزيرة التي نزلَوْها، ونشب قتال دام تسعين يومَا، انتصرت فيه شمر، وأجبرت عشائر الصايح والعبيد وطيء على الجلاء، عن أمَاكنها في الجزيرة، فعبرت الصايح دجلة، متجهة نحو الحويجة، فاتخذتها منازل لها، وانتقلت طيء من مكانها، وجعلت مساكنها غرب سنجار، أمَا الجبور فقد سكنوا منطقة الخابور، وهكذا خلا الجو لشمر في الجزيرة، وتمت لها السيطرة على أطرافها
তাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া হলো এবং তারা যা চেয়েছিল তাতে সাড়া দেওয়া হলো। এভাবে বিছানা বিছানো হলো (আতিথেয়তা করা হলো) এবং ফারেসের গোষ্ঠী জাজিরায় বসতি স্থাপনে ও সেখানে স্থিতিশীল হতে সক্ষম হলো। এরপর ফারেস জাজিরায় জন্মানো সকল প্রকার ঘাস ও লতাপাতার কিছু নমুনা সংগ্রহ করলেন এবং একটি থলেতে ভরে তা তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে নজদে তাঁর গোত্রীয় লোকদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল তিনি যে ভূমিতে হিজরত করেছেন সেখানে গবাদি পশু চারণের জন্য চমৎকার ঘাসের প্রকারভেদ সম্পর্কে তাদের অবহিত করা এবং তাদের তাঁর সাথে যোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা। ফলে শম্মার গোত্রসমূহ অবিলম্বে তাঁর আহ্বানে সাড়া দিল এবং দলবদ্ধভাবে তাঁর কাছে চলে আসতে শুরু করল, যেখানে প্রতিটি দলে কমপক্ষে পঞ্চাশটি করে পরিবার ছিল। এভাবে শম্মারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং উবাইদ, তাই ও জুবুর গোত্রের প্রধানরা যা আশঙ্কা করছিলেন ঠিক তাই ঘটল। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে একপক্ষে আস-সায়েহদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তারা এবং অন্যপক্ষে শম্মারদের মধ্যে জাজিরার ভূমি নিয়ে বিরোধ দেখা দিল, যেখানে তারা বসতি স্থাপন করেছিল। এরপর নব্বই দিনব্যাপী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হলো, যাতে শম্মার গোত্র বিজয়ী হলো এবং তারা আস-সায়েহ, উবাইদ ও তাই গোত্রসমূহকে জাজিরায় তাদের স্থানসমূহ ত্যাগ করতে বাধ্য করল। তখন আস-সায়েহ গোত্র দজলা নদী পার হয়ে আল-হুওয়াইজার দিকে চলে গেল এবং সেখানে নিজেদের আবাসস্থল গড়ে তুলল। আর তাই গোত্র তাদের পূর্বের স্থান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে সিনজারের পশ্চিমে বসতি স্থাপন করল। অন্যদিকে জুবুর গোত্র খাবুর অঞ্চলে বসবাস শুরু করল। এভাবে জাজিরায় শম্মারদের পথ নিষ্কণ্টক হলো এবং এর চারপাশ ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো। এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে, তারা এক ধরণের কর আরোপ করল যাকে "খুওয়াহ" বলা হয়; তাদের অঞ্চলে অবস্থানকারী প্রতিটি গোত্রের কাছ থেকে তারা এটি আদায় করত। জাজিরা অতিক্রমকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই অত্যন্ত নতি স্বীকার করে তা দিতে বাধ্য হতো। এই "খুওয়াহ" ব্যবস্থা কার্যকর থাকল এবং মরুভূমির পার্শ্ববর্তী সকল গ্রাম এর অন্তর্ভুক্ত হলো। যখন ইরাকি সরকার গঠিত হলো, তখন তাদের নিয়মিত বাহিনী সর্বশক্তি দিয়ে এই "খুওয়াহ" প্রথা মোকাবিলার চেষ্টা শুরু করল, কিন্তু তারা একে একেবারে নির্মূল করতে বা এর শিকড় উপড়ে ফেলতে সক্ষম হলো না। জাজিরায় একটি সরকারি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য অনেক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা অবশেষে আমি যখন সাধারণ পুলিশ মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করি তার প্রথম বছরে বাস্তবায়িত হয়েছিল; যেমনটি এর আগে শামিয়া মরুভূমিতেও একই ধরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং সেখানে "খুওয়াহ" বন্ধ করতে সক্ষম হওয়া গিয়েছিল। "খুওয়াহ" মূলত এমন একটি কর যা জাজিরায় প্রবেশকারী গোত্রগুলো স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় প্রদান করত। এটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘি এবং ভেড়া হিসেবে প্রতি বছর শম্মার গোত্রের একজন নির্দিষ্ট শেখকে প্রদান করা হতো। পথচারীদের কাছ থেকেও "খুওয়াহ" নেওয়া হতো, যেখানে জাজিরা দিয়ে অতিক্রম করা প্রতিটি উটের বিপরীতে তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হতো। একইভাবে গ্রামগুলো থেকেও প্রতি মৌসুমে তাদের উৎপাদিত শস্যের নির্দিষ্ট অংশ আদায় করা হতো। এই "খুওয়াহ" শম্মার শেখদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো, যাদের প্রত্যেকেই নিজের অংশ সম্পর্কে জানতেন। অমুক শেখ হাদিদীদের কাছ থেকে, অন্যজন জুবুর বা পথচারীদের কাছ থেকে অথবা মোসুলের গ্রামগুলো থেকে কিংবা সিরিয়ায় পাঠানো ব্যবসায়ীদের ভেড়া থেকে তার অংশ গ্রহণ করতেন। এভাবে এই কর আদায়কারীদের হাত থেকে কেউ রক্ষা পেত না। ইবনে রশিদের রাজধানী হায়েল সৌদিদের দখলে যাওয়ার পর থেকে শম্মার গোত্রসমূহের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। কারণ সে সময় নজদ থেকে আবদাহ গোত্রের এক বিশাল অংশ ইরাকের জাজিরা অঞ্চলে হিজরত করে এবং বর্তমানে এরাই শম্মার আবদাহর প্রধান অংশ গঠন করেছে। ইরাকে হিজরতকারী আবদাহ গোত্রের অন্যতম বিখ্যাত নেতা হলেন শেখ উক্বাব আল-আজিল, যিনি আবদাহর আহিয়া উপগোত্রের প্রধান। তাঁর হিজরত ও দেশান্তরের কারণ ছিল এই যে, আল-রশিদ পরিবারের সদস্য ছাড়া শম্মাররা হায়েলে অন্য কাউকে শেখ বা নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিত না। বর্তমানে ইবনে রশিদের প্রাচীন রাজধানী হায়েল অঞ্চলের অধিকাংশ গোত্রই শম্মার বংশোদ্ভূত। আবু আব্দুর রহমান বলেন: এই পাঠ্যগুলোর ওপর আমার কিছু পরিশিষ্ট ও সংশোধনী নিম্নরূপ: তাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া হলো এবং তারা যা চেয়েছিল তাতে সাড়া দেওয়া হলো। এভাবে বিছানা বিছানো হলো এবং ফারেসের গোষ্ঠী জাজিরায় বসতি স্থাপনে ও সেখানে স্থিতিশীল হতে সক্ষম হলো। এরপর ফারেস জাজিরায় জন্মানো সকল প্রকার ঘাস ও লতাপাতার কিছু নমুনা সংগ্রহ করলেন এবং একটি থলেতে ভরে তা তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে নজদে তাঁর গোত্রীয় লোকদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল তিনি যে ভূমিতে হিজরত করেছেন সেখানে গবাদি পশু চারণের জন্য চমৎকার ঘাসের প্রকারভেদ সম্পর্কে তাদের অবহিত করা এবং তাদের তাঁর সাথে যোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা। ফলে শম্মার গোত্রসমূহ অবিলম্বে তাঁর আহ্বানে সাড়া দিল এবং দলবদ্ধভাবে তাঁর কাছে চলে আসতে শুরু করল, যেখানে প্রতিটি দলে কমপক্ষে পঞ্চাশটি করে পরিবার ছিল। এভাবে শম্মারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং উবাইদ, তাই ও জুবুর গোত্রের প্রধানরা যা আশঙ্কা করছিলেন ঠিক তাই ঘটল। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে একপক্ষে আস-সায়েহদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তারা এবং অন্যপক্ষে শম্মারদের মধ্যে জাজিরার ভূমি নিয়ে বিরোধ দেখা দিল এবং নব্বই দিনব্যাপী যুদ্ধ চলল। এতে শম্মার বিজয়ী হলো এবং তারা আস-সায়েহ, উবাইদ ও তাই গোত্রসমূহকে জাজিরা ত্যাগ করতে বাধ্য করল। আস-সায়েহ দজলা পার হয়ে আল-হুওয়াইজার দিকে চলে গেল এবং সেটিকে তাদের আবাসস্থল হিসেবে গ্রহণ করল। আর তাই তাদের স্থান পরিবর্তন করে সিনজারের পশ্চিমে বসবাস শুরু করল। জুবুর গোত্র খাবুর অঞ্চলে বাস করতে লাগল। এভাবে জাজিরায় শম্মারদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হলো এবং এর সীমানার ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম হলো।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ونواحيها، حتى آل بها الأمر إلى أن تفرض نوعاً من الضرائب يسمى " الخوة " تأخذها من كل عشيرة تنزل منطقتها، واضطر كل من يعبر الجزيرة إلى أدائها صاغراً، وظلت هذه " الخوة " نافذة الَمْفعول، وشملت جميع القرى الَمْجاورة للبادية. ولَمْا تألفت الحكومة العراقية، بدأت قواتها النظامية تكافح هذه " الْخُوَّة " بكل مَا أُوتيت من قوة، إلا أنها لَمْ تتمكن من استئصال شأْفتها وقطع دابرها بالَمْرة. وقد بذلت جهوداً كثيرة لإنشاء مركز حكومي في الجزيرة حتى تم ذلك في السنة الأُولى من تسلَمْى زمَام مديرة الشرطة العامة، كمَا سبق أَن أَلفت في بادية الشامية مثلها قبل ذلك، واستطاعت أَن تمنع الخوة فيها. أَمَا " الْخُوَّة " في حد ذاتها فهي ظريبةس تدفعها العشائر التي تدخل الجزيرة طوعاً أَو كرهاً، وهي مقدار مُعَيّن من الدهن والغنم، يدفع إلى شيخ معين من شَمَّر في كل سنة، وتؤخذ " الخوة " من الَمْستطرق أيضاً، حيث يجب عليه أن يدفع مقداراً من النقود عن كل جمل يمر بالجزيرة، وكذلك في القرى التي تدفع مَا عليها من الحبوب في كل موسم، وتقسم " الخوة " على شيوخ شمر الذين يعرف كل منهم نصيبه منها، فالشيخ الفلاني يأخذ " الخوة " من الحديديين، والآخر من الجبور أو الَمْستطرقين أو من قرى الَمْوصل أو من غنم التجار التي ترسل إلى سورية. وهكذا لا يفلت أحد من أيدي جباة هذه الضريبة. ولَمْ تزل عشائر شمر في تكاثر وازدياد، منذ استيلاء السعوديين على حائل عاصمة ابن الرشيد، حيث هاجر عدد كبير من عشيرة عَبْدَةَ من نجد إلى الجزيرة في العراق ويؤلف هؤلاء الآن القسم الأكبر من شمر عَبْدَةَ. ومن أشهر رؤساء عَبْدَةَ النازحين إلى العراق الشيخ عقاب العجل، رئيس فرقة الأحية من عَبْدَةَ، وسبب نزوحه وهجرته هو عدم اعتراف شمر بشيخ أو زعيم في حائل إلا إذا كان من آل الرشيد. هذا، وأغلب عشائر منطقة حائل عاصمة ابن الرشيد القديمة من شمر، في الَوْقت الحاضر. قال أبو عبد الرحمن: لي على هذه النصوص تتميمَات واستدراكات على هذا النحو: ونواحيها، حتى آل بها الأمر إلى أن تفرض نوعاً من الضرائب يسمى " الخوة " تأخذها من كل عشيرة تنزل منطقتها، واضطر كل من يعبر الجزيرة إلى أدائها صاغراً، وظلت هذه " الخوة " نافذة الَمْفعول، وشملت جميع القرى الَمْجاورة للبادية. ولَمْا تألفت الحكومة العراقية، بدأت قواتها النظامية تكافح هذه " الْخُوَّة " بكل مَا أُوتيت من قوة، إلا أنها لَمْ تتمكن من استئصال شأْفتها وقطع دابرها بالَمْرة. وقد بذلت جهوداً كثيرة لإنشاء مركز حكومي في الجزيرة حتى تم ذلك في السنة الأُولى من تسلَمْى زمَام مديرة الشرطة العامة، كمَا سبق أَن أَلفت في بادية الشامية مثلها قبل ذلك، واستطاعت أَن تمنع الخوة فيها. أَمَا " الْخُوَّة " في حد ذاتها فهي ظريبةس تدفعها العشائر التي تدخل الجزيرة طوعاً أَو كرهاً، وهي مقدار مُعَيّن من الدهن والغنم، يدفع إلى شيخ معين من شَمَّر في كل سنة، وتؤخذ " الخوة " من الَمْستطرق أيضاً، حيث يجب عليه أن يدفع مقداراً من النقود عن كل جمل يمر بالجزيرة، وكذلك في القرى التي تدفع مَا عليها من الحبوب في كل موسم، وتقسم " الخوة " على شيوخ شمر الذين يعرف كل منهم نصيبه منها، فالشيخ الفلاني يأخذ " الخوة " من الحديديين، والآخر من الجبور أو الَمْستطرقين أو من قرى الَمْوصل أو من غنم التجار التي ترسل إلى سورية. وهكذا لا يفلت أحد من أيدي جباة هذه الضريبة. ولَمْ تزل عشائر شمر في تكاثر وازدياد، منذ استيلاء السعوديين على حائل عاصمة ابن الرشيد، حيث هاجر عدد كبير من عشيرة عَبْدَةَ من نجد إلى الجزيرة في العراق ويؤلف هؤلاء الآن القسم الأكبر من شمر عَبْدَةَ. ومن أشهر رؤساء عَبْدَةَ النازحين إلى العراق الشيخ عقاب العجل، رئيس فرقة الأحية من عَبْدَةَ، وسبب نزوحه وهجرته هو عدم اعتراف شمر بشيخ أو زعيم في حائل إلا إذا كان من آل الرشيد. هذا، وأغلب عشائر منطقة حائل عاصمة ابن الرشيد القديمة من شمر، في الَوْقت الحاضر. قال أبو عبد الرحمن: لي على هذه النصوص تتميمَات واستدراكات على هذا النحو:
এবং এর আশপাশ, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছালো যে, তারা "খুওয়াহ" নামক এক প্রকার কর আরোপ করতে শুরু করল, যা তারা তাদের অঞ্চলে অবস্থানকারী প্রতিটি গোত্র থেকে আদায় করত। জাজিরা অতিক্রমকারী প্রত্যেক ব্যক্তি অবনত মস্তকে তা প্রদান করতে বাধ্য হতো। এই "খুওয়াহ" কর কার্যকর ছিল এবং এটি মরুভূমি সংলগ্ন সকল গ্রামকেও অন্তর্ভুক্ত করেছিল। যখন ইরাকি সরকার গঠিত হলো, তখন তার নিয়মিত বাহিনী তাদের সর্বশক্তি দিয়ে এই "খুওয়াহ" করের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করল, কিন্তু তারা একে পুরোপুরি নির্মূল ও সমূলে উৎপাটিত করতে সক্ষম হয়নি। জাজিরায় একটি সরকারি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য অনেক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, অবশেষে সাধারণ পুলিশ অধিদপ্তরের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছরে তা সম্পন্ন হয়। যেভাবে এর আগে শামিয়া মরুভূমিতে অনুরূপ কেন্দ্র গঠিত হয়েছিল এবং সেখানে খুওয়াহ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল। মূলত "খুওয়াহ" হলো একটি কর যা জাজিরায় প্রবেশকারী গোত্রসমূহ স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় প্রদান করত। এটি ছিল নির্দিষ্ট পরিমাণ চর্বি ও ভেড়া, যা প্রতি বছর শাম্মার গোত্রের জনৈক নির্দিষ্ট শেখকে প্রদান করা হতো। এই "খুওয়াহ" পথিকদের কাছ থেকেও নেওয়া হতো, যেখানে জাজিরা দিয়ে অতিক্রমকারী প্রতিটি উটের জন্য তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হতো। একইভাবে গ্রামগুলো থেকেও প্রতি মৌসুমে তাদের নির্ধারিত শস্য আদায় করা হতো। এই "খুওয়াহ" শাম্মার গোত্রের শেখদের মধ্যে বণ্টন করা হতো, যাদের প্রত্যেকেই নিজের অংশ জানতেন। অমুক শেখ হাদিদীয়িন গোত্র থেকে "খুওয়াহ" গ্রহণ করতেন, অন্যজন জুবুর বা পথিকদের কাছ থেকে অথবা মোসুলের গ্রামসমূহ থেকে অথবা সিরিয়ায় পাঠানো বণিকদের ভেড়া থেকে আদায় করতেন। এভাবেই এই কর আদায়কারীদের হাত থেকে কেউই রেহাই পেত না। ইবনে রশিদের রাজধানী হাইল সৌদিদের হস্তগত হওয়ার পর থেকে শাম্মার গোত্রসমূহের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। তখন আবদাহ গোত্রের একটি বিশাল অংশ নজদ থেকে ইরাকের জাজিরায় হিজরত করে এবং এরাই বর্তমানে শাম্মার-আবদাহর বৃহত্তর অংশ গঠন করেছে। ইরাকে হিজরতকারী আবদাহ গোত্রের অন্যতম প্রসিদ্ধ নেতা হলেন শেখ উক্বাব আল-আজল, যিনি আবদাহর আহিয়া উপদলের প্রধান। তার দেশত্যাগ ও হিজরতের কারণ ছিল এই যে, শাম্মার গোত্র হাইল অঞ্চলে আলে রশিদ বংশীয় ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কাউকে শেখ বা নেতা হিসেবে স্বীকার করত না। বর্তমান সময়ে ইবনে রশিদের প্রাচীন রাজধানী হাইল অঞ্চলের অধিকাংশ গোত্রই শাম্মার বংশোদ্ভূত। আবু আবদুর রহমান বলেন: এই পাঠ্যগুলোর ওপর আমার কিছু পরিশিষ্ট ও সংশোধনী রয়েছে যা নিম্নরূপ: এবং এর আশপাশ, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছালো যে, তারা "খুওয়াহ" নামক এক প্রকার কর আরোপ করতে শুরু করল, যা তারা তাদের অঞ্চলে অবস্থানকারী প্রতিটি গোত্র থেকে আদায় করত। জাজিরা অতিক্রমকারী প্রত্যেক ব্যক্তি অবনত মস্তকে তা প্রদান করতে বাধ্য হতো। এই "খুওয়াহ" কর কার্যকর ছিল এবং এটি মরুভূমি সংলগ্ন সকল গ্রামকেও অন্তর্ভুক্ত করেছিল। যখন ইরাকি সরকার গঠিত হলো, তখন তার নিয়মিত বাহিনী তাদের সর্বশক্তি দিয়ে এই "খুওয়াহ" করের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করল, কিন্তু তারা একে পুরোপুরি নির্মূল ও সমূলে উৎপাটিত করতে সক্ষম হয়নি। জাজিরায় একটি সরকারি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য অনেক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, অবশেষে সাধারণ পুলিশ অধিদপ্তরের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছরে তা সম্পন্ন হয়। যেভাবে এর আগে শামিয়া মরুভূমিতে অনুরূপ কেন্দ্র গঠিত হয়েছিল এবং সেখানে খুওয়াহ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল। মূলত "খুওয়াহ" হলো একটি কর যা জাজিরায় প্রবেশকারী গোত্রসমূহ স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় প্রদান করত। এটি ছিল নির্দিষ্ট পরিমাণ চর্বি ও ভেড়া, যা প্রতি বছর শাম্মার গোত্রের জনৈক নির্দিষ্ট শেখকে প্রদান করা হতো। এই "খুওয়াহ" পথিকদের কাছ থেকেও নেওয়া হতো, যেখানে জাজিরা দিয়ে অতিক্রমকারী প্রতিটি উটের জন্য তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হতো। একইভাবে গ্রামগুলো থেকেও প্রতি মৌসুমে তাদের নির্ধারিত শস্য আদায় করা হতো। এই "খুওয়াহ" শাম্মার গোত্রের শেখদের মধ্যে বণ্টন করা হতো, যাদের প্রত্যেকেই নিজের অংশ জানতেন। অমুক শেখ হাদিদীয়িন গোত্র থেকে "খুওয়াহ" গ্রহণ করতেন, অন্যজন জুবুর বা পথিকদের কাছ থেকে অথবা মোসুলের গ্রামসমূহ থেকে অথবা সিরিয়ায় পাঠানো বণিকদের ভেড়া থেকে আদায় করতেন। এভাবেই এই কর আদায়কারীদের হাত থেকে কেউই রেহাই পেত না। ইবনে রশিদের রাজধানী হাইল সৌদিদের হস্তগত হওয়ার পর থেকে শাম্মার গোত্রসমূহের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। তখন আবদাহ গোত্রের একটি বিশাল অংশ নজদ থেকে ইরাকের জাজিরায় হিজরত করে এবং এরাই বর্তমানে শাম্মার-আবদাহর বৃহত্তর অংশ গঠন করেছে। ইরাকে হিজরতকারী আবদাহ গোত্রের অন্যতম প্রসিদ্ধ নেতা হলেন শেখ উক্বাব আল-আজল, যিনি আবদাহর আহিয়া উপদলের প্রধান। তার দেশত্যাগ ও হিজরতের কারণ ছিল এই যে, শাম্মার গোত্র হাইল অঞ্চলে আলে রশিদ বংশীয় ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কাউকে শেখ বা নেতা হিসেবে স্বীকার করত না। বর্তমান সময়ে ইবনে রশিদের প্রাচীন রাজধানী হাইল অঞ্চলের অধিকাংশ গোত্রই শাম্মার বংশোদ্ভূত। আবু আবদুর রহমান বলেন: এই পাঠ্যগুলোর ওপর আমার কিছু পরিশিষ্ট ও সংশোধনী রয়েছে যা নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ২০)
أ - ليس من البعيد أن آل محمد لقبوا بآل الجرباء لأن أُمهم أُصيبت بالجدري، إلا أن فارساُ ليس أول من لقب بذلك كمَا زعم يوسف البسام والراوي، لأنني وجدت هذا اللقب مستعملا قبل مولد فارس بن محمد الجرباء بعشرات السنين، فقد ذكر مؤرخو نجد في أحداث سنة 1100هـ قتل عمَار الجرباء. وذكروا في أحداث سنة 1103هـ أو 1104 قتل مصلط الجرباء.
ب - لَمْ يرحل آل الجرباء بسبب الَمْحل، بل رحلَوْا بسبب هزيمتهم أمَام آل سعود كمَا سيأتي بيان ذلك في الأحداث التاريخية. ولَمْ يرحلَوْا بزعامة فارس وإنمَا رحلَوْا بزعامة أخيه مطلق، يصحبه أخوه فارس وقرينيس. ولكن الَمْؤرخين العراقيين لَمْا رأوا أن الإمَارة في ذرية فارس ظنوا أن شمراً رحلت بزعامته. وإنمَا كان فارس زعيمَا قبل ابنه صفوق ولعل من أحفاده فارس الَمْذكور في عهد محمد بن عبد الله بن رشيد.
ج - سكنوا في جزيرة العراق بين ثلاثة أنهر وهي دجلة من الشمَال والشرق والفرات من الجنوب والخابور من الغرب. ونزح قسم آخر إلى جزيرة سوريا جنوب الفرات غربي الخابور. ومشايخ عشائر سنجارة في سوريا أبناء عم آل محمد وتعدادهم في عَبْدَةَ على الأصح الَمْشهور.
د - منذ رحل آل محمد بقوا هناك بقاء استقرارٍ، أمَا عشائرهم فهم لا يزالَوْن رُحلاً بين العراق ونجد، إلا أن أقاربهم الأدنين بقوا هناك، كمَا أن جمهرة عَبْدَةَ بقيت هناك أيضاً، إلا من لَمْ يؤثر العودة إلى جزيرة العراق بعد عودتهم إلى نجد. وعن قصة عودتهم إلى نجد بعد رحيلهم إلى الجزيرة نجد إشارتين: أولاهمَا: في سنة 1224هـ بعد انهزام شمر أمَام الظفير، في جزيرة العراق كاتبوا الإمَام سعوداً فأذن لهم وظهروا إلى نجد.
وأُخراهمَا: سنة 1231هـ بعد قتل زعيمهم بُنَيَّةَ بن قرينيس، جلَوْا من الجزيرة ونازلَوْا قومهم في الجبل.
هـ - ذكر يوسف البسام في النص الآنف الذكر أن فارس الجرباء نزح من جبل شمر، واستوطن بادية الجزيرة في العراق، وذلك بعد أن انقطعت الأمطار مدة طويلة، وعلى أثر نزوح فارس تبعه الكثيرون من شمر واستقروا في العراق وذلك في عهد الإمَام محمد بن سعود وابنه عبد العزيز. ووصف فارساً بأنه آخر آل محمد رئاسة في نجد. قال أبو عبد الرحمن: إنمَا كانت رحلتهم في آخر عهد الإمَام عبد العزيز حيث أجلاهم ابنه سعود، ولَوْلا أنه قال " واستقروا " لقلت: يحتمل أن شمراً رحلت مع فارس بسبب الجدب في عهد محمد بن سعود ثم رحلت جالية في عهد سعود.
ক - এটি অসম্ভব নয় যে, আল মুহাম্মদ বংশ ‘আল-জারবা’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিল কারণ তাদের মা গুটিবসন্তে (জুদারি) আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে ইউসুফ আল-বাসসাম এবং বর্ণনাকারী যেমনটি দাবি করেছেন, ফারিসই প্রথম এই উপাধিতে ভূষিত ব্যক্তি নন। কারণ আমি ফারিস বিন মুহাম্মদ আল-জারবার জন্মের কয়েক দশক পূর্বেই এই উপাধিটি ব্যবহৃত হতে দেখেছি। নজদের ইতিহাসবিদগণ ১১০০ হিজরির ঘটনাবলীতে আম্মার আল-জারবার হত্যার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁরা ১১০৩ বা ১১০৪ হিজরির ঘটনাবলীতে মুসলাত আল-জারবার হত্যার কথাও উল্লেখ করেছেন।
খ - আল-জারবা বংশ দুর্ভিক্ষের কারণে হিজরত করেনি, বরং তারা আল-সাউদদের কাছে পরাজিত হওয়ার কারণে চলে গিয়েছিল, যা ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর বিবরণে পরবর্তীতে বিস্তারিত আসবে। তারা ফারিসের নেতৃত্বে নয়, বরং তাঁর ভাই মুতলাকের নেতৃত্বে হিজরত করেছিল, যার সাথে তাঁর দুই ভাই ফারিস ও কুরাইনিসও ছিলেন। কিন্তু ইরাকি ইতিহাসবিদগণ যখন দেখলেন যে নেতৃত্ব ফারিসের বংশধরদের মধ্যে রয়ে গেছে, তখন তারা ধারণা করলেন যে শাম্মার গোত্র তাঁর নেতৃত্বেই হিজরত করেছিল। প্রকৃতপক্ষে ফারিস তাঁর পুত্র সাফুকের পূর্বে নেতা ছিলেন এবং সম্ভবত তাঁর নাতিদের মধ্যে একজন ফারিস ছিলেন যার কথা মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রশীদের শাসনামলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ - তারা ইরাকের জাজিরা অঞ্চলে তিনটি নদীর মধ্যবর্তী স্থানে বসবাস শুরু করেন; যা হলো উত্তর ও পূর্ব দিকে দজলা (টাইগ্রিস), দক্ষিণে ফোরাত (ইউফ্রেটিস) এবং পশ্চিমে খাবুর নদী। অন্য একটি অংশ ফোরাত নদীর দক্ষিণে এবং খাবুর নদীর পশ্চিমে সিরিয়ার জাজিরা অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়। সিরিয়ার সিনজারা গোত্রীয় শায়খগণ আল-মুহাম্মদের চাচাতো ভাই এবং সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ মতে তারা ‘আবদাহ’ শাখার অন্তর্ভুক্ত।
ঘ - আল-মুহাম্মদ সেখানে যাওয়ার পর থেকে তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন, কিন্তু তাদের গোত্রসমূহ ইরাক ও নজদের মধ্যে যাযাবর হিসেবেই রয়ে গেছে; তবে তাদের নিকটাত্মীয়গণ সেখানেই অবস্থান করেন। তেমনিভাবে আবদাহর অধিকাংশ মানুষও সেখানে রয়ে গেছে, কেবল তারা ব্যতীত যারা নজদে ফিরে আসার পর পুনরায় ইরাকের জাজিরায় ফিরে যেতে আগ্রহী ছিল না। জাজিরায় চলে যাওয়ার পর পুনরায় নজদে ফিরে আসার গল্পের ব্যাপারে আমরা দুটি ইঙ্গিত পাই: প্রথমটি: ১২২৪ হিজরিতে ইরাকের জাজিরা অঞ্চলে যাফির গোত্রের কাছে শাম্মাররা পরাজিত হওয়ার পর তারা ইমাম সাউদের কাছে পত্র লেখে, তিনি তাদের অনুমতি দেন এবং তারা নজদে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়টি: ১২৩১ হিজরিতে তাদের নেতা বুনিইয়্যাহ বিন কুরাইনিস নিহত হওয়ার পর তারা জাজিরা থেকে চলে আসেন এবং জাবালে (শাম্মার পাহাড়ে) তাদের স্বগোত্রীয়দের সাথে বসবাস শুরু করেন।
ঙ - ইউসুফ আল-বাসসাম উপর্যুক্ত পাঠ্যে উল্লেখ করেছেন যে, ফারিস আল-জারবা জাবালে শাম্মার থেকে হিজরত করে ইরাকের জাজিরা মরুভূমিতে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং দীর্ঘকাল বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে (দুর্ভিক্ষ) তিনি এটি করেছিলেন। ফারিসের হিজরতের পর শাম্মার গোত্রের অনেকে তাঁকে অনুসরণ করে এবং ইরাকে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে; এটি ছিল ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ও তাঁর পুত্র আব্দুল আজিজের শাসনামলে। তিনি ফারিসকে নজদে আল-মুহাম্মদ বংশের সর্বশেষ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবু আব্দুর রহমান বলেন: তাদের এই হিজরত মূলত ইমাম আব্দুল আজিজের শেষ সময়ে হয়েছিল যখন তাঁর পুত্র সাউদ তাদের বহিষ্কার করেছিলেন। তিনি (আল-বাসসাম) যদি "স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে" কথাটি না বলতেন, তবে আমি বলতাম: সম্ভবত শাম্মার গোত্র খরা বা দুর্ভিক্ষের কারণে মুহাম্মদ বিন সাউদের আমলে ফারিসের সাথে হিজরত করেছিল এবং পরবর্তীতে সাউদের আমলে নির্বাসিত হয়ে হিজরত করেছিল।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ২১)
و - من الَمْعروف الَمْشهور بين الَمْؤرخين أن زعامة الجبل لآل الجرباء بادية وحاضرة ثم لآل علي ثم لآل الرشيد بيد أن الدكتور العثيمين يأبى ذلك. قال متعقباً الريحاني: ولعله أدق لَوْ قيل: إن الجرباء كان زعيم بادية جبل شمر، لأن إمَارة حاضرة الجبل " حائل " كانت لآل علي قبل انضمَام الَمْنطقة إلى آل سعود. ولَمْ يرتض الدكتور رأي " هوجارث " في قوله بأن عبد الله ابن رشيد زعيمَا لقبائل شمر. ولَمْ يرتض قول الفاخري عن عبد الله بن رشيد " رئيس بادية شمر ". قال أبو عبد الرحمن: حيثمَا أطلق الجبل فإنمَا يراد به سكانه من بادية وحاضرة. وزعامة آل الجرباء للجبل إنمَا هي زعامة لكافة قبائل شمر كزعامة ابن ربيعان مثلا لكافة قبائل عتيبة وكزعامة ابن هادي لكافة قبائل قحطان. وهذا لا يمنع من وجود إمَارة لخاصة الحاضرة، وأن آل الجرباء لا يهتمون بخاصة الحاضرة، إلا أن الرابطة بين الحاضرة والبادية الغارات والَمْغازي والقرابة من ناحية النسب " أو الَوْلاء في الأغلب الأعم ". لهذا فالحاضرة تبع لراية آل الجرباء. ثم تحولت زعامة الجبل بادية وحاضرة من شيخ كافة البادية التقليدي وهو الجرباء إلى أمير خاصة الحاضرة وهو ابن علي. وليس من شرط هذا التحول أن يكون مقراً في عرف مشيخة البادية أو أن تكون قبائل شمر مذعنة لهذا التحول. وإنمَا تم هذا التحول من ولي الأمر الحاكم من آل سعود، فهو الذي اختار أن تكون زعامة الجبل بادية وحاضرة لابن علي، ثم لابن رشيد، بحيث يعتبر من شذ عن هذه الطاعة من قبائل شمر متمرداً. وعلى هذا دلائل: منها أن أمَارة آل علي لَمْ تسبق عهد آل سعود كمَا قال الدكتور العثيمين، فقد بينت في حديثي عن آل علي أن قبيلة شمر دانت للدعوة قبل عام 1178هـ بناء على نص من " لَمْع الشهاب ". ومنها أن الشيخ عقاب بن عجل نزح من حائل لأن شمراً أبت الاعتراف بشيخ أو زعيم في حائل إلا إذا كان من آل رشيد، فهذا دليل على أن ابن رشيد زعيم الكافة من باديته. ومنها أن حاضرة حائل حاربت مطلق الجرباء وباديته وكاتبت الإمَام عبد العزيز تخبره بأن مطلقاً نكث فهذه الأحداث تدل على أن لأمير الحاضرة زعامة رسمية على البادية تطالب بها وتقاتل عليها. ومنها أن قبائل شمر الَمْوجودة بنجد شاركت في غزوات آل سعود، ولَمْ نر الراية معقودة لأحد مشايخ شمر، وإنمَا كانت القيادة لابن علي أو ابن رشيد. وقال الدكتور شفيق الكمَالي تعليقاً على نص ل " دائرة الَمْعارف الإسلامية " في مَادة بلاد العرب حول دفع طيء وزبيد " الخوة " لشمر: أمَا عدم دفع " الخوة " فصحيح، وقد استبدلت " الخوة " حين دخول فارس الجرباء إلى الجزيرة بالَمْصاهرة، فقد زوج ابنه صفوق من عمشة ابنة شيخ طيء، وكان ذلك في حدود عام 1225هـ. قال أبو عبد الرحمن: ولعل تواريخ الحجاز تكشف لنا عن تاريخ الضياغم، فقد رأيت عراراً يذكر الأشراف في شعره، كمَا رأيت العصامي يذكر وقعة بين الأشراف وشمر كمَا يذكر أن الشريف إدريس الذي نافسه ابن عمه محسن يموت في جبل شمر ويدفن بياطب سنة 1033.
ويذكر مصطفى مراد الدباغ أنه من الَمْحتمل أن قرية جربا من عمل جنين في فلسطين وجرباء في شرقي الأردن تنسبان إلى قبائل الجربة الشمرية العراقية نزلتها وطبعت اسمها عليها. قال أبو عبد الرحمن: وليلاحظ أن آل محمد من آل الجرباء دون العكس، وأن آل محمد لا تشمل آل الجرباء وإنمَا تقتصر على ذرية محمد بن سالَمْ الجرباء. وَلِسُؤدُدِ آل الجرباء صارت بادية شمر في العراق تسمى شمر الجرباء. وبقى آل الجرباء على ذكر من أهل نجد يقصدهم الشعراء وينالَوْن منحهم ويستفزع بهم أبناء عمهم في شمَال نجد. وبعكس ذلك وجد في شمر الجزيرة من يتشوق إلى نجد فهذا شاعر من شمر، يتبرم من شيعة العراق ويتشوق إلى حائل فيقول:
ياعَون منْ طَالِعِكْ يا بَرْزَانْ
… ونام بَاشْنَاقِكْ هَني
ياعَون منْ فارِقكْ يَا الْبِرْغُوْثْ
… وفرَاق عَبَّادَةْ علِى
من أحداث آل الجرباء التاريخية
ঐতিহাসিকদের মধ্যে এটি সুপরিচিত এবং প্রসিদ্ধ যে, জাবাল (শাম্মার)-এর নেতৃত্ব ছিল আল-জারবা বংশের হাতে, যা মরুচারী (বাদিয়া) এবং স্থায়ী বাসিন্দা (হাদেরা) উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এরপর তা আল-আলি এবং পরবর্তীতে আল-রশিদ বংশের হাতে স্থানান্তরিত হয়। তবে ডক্টর আল-উসাইমিন এই বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি রাইহানির বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: সম্ভবত এটি বলাই অধিকতর নির্ভুল যে, আল-জারবা ছিলেন জাবাল শাম্মারের মরুচারী উপজাতিদের নেতা। কারণ উক্ত অঞ্চলের স্থায়ী জনপদ 'হায়েল'-এর নেতৃত্ব বা ইমারত আল-সাউদ পরিবারের সাথে যুক্ত হওয়ার পূর্বে আল-আলি বংশের হাতে ছিল। ডক্টর 'হোগার্থ'-এর এই অভিমত গ্রহণ করেননি যে, আবদুল্লাহ ইবনে রশিদ শাম্মার গোত্রসমূহের নেতা ছিলেন। একইভাবে তিনি ফাকিরির এই উক্তিও সমর্থন করেননি যেখানে আবদুল্লাহ ইবনে রশিদকে "শাম্মার মরুচারীদের প্রধান" বলা হয়েছে। আবু আবদুর রহমান বলেন: যেখানেই 'জাবাল' শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, সেখানে এর দ্বারা মরুচারী ও স্থায়ী বাসিন্দা উভয়কেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। জাবাল অঞ্চলে আল-জারবা পরিবারের নেতৃত্ব ছিল মূলত সমগ্র শাম্মার গোত্রের ওপর নেতৃত্ব, যেমনটি ছিল উতাইবা গোত্রসমূহের ওপর ইবনে রাবিআনের নেতৃত্ব অথবা কাহতান গোত্রসমূহের ওপর ইবনে হাদীর নেতৃত্ব। আর এটি স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ কোনো ইমারত বা শাসনের উপস্থিতির পরিপন্থী নয়। তবে আল-জারবা পরিবার স্থায়ী বাসিন্দাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিশেষ মনোযোগী ছিলেন না। তবে স্থায়ী বাসিন্দা ও মরুচারীদের মধ্যে সম্পর্ক বজায় ছিল যুদ্ধ-অভিযান এবং বংশীয় আত্মীয়তা (বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আনুগত্যের) মাধ্যমে। এই কারণেই স্থায়ী বাসিন্দারা আল-জারবা পরিবারের পতাকার অনুসারী ছিল। পরবর্তীতে জাবাল অঞ্চলের মরুচারী ও স্থায়ী বাসিন্দাদের নেতৃত্ব সমস্ত মরুচারীদের ঐতিহ্যবাহী শেখ—যিনি ছিলেন আল-জারবা—তার হাত থেকে স্থায়ী বাসিন্দাদের বিশেষ আমির ইবনে আলির হাতে চলে যায়। এই পরিবর্তনের জন্য এটি জরুরি ছিল না যে, মরুচারী গোত্রপ্রধানদের প্রথায় এটি স্বীকৃত হতে হবে কিংবা শাম্মার গোত্রসমূহকে এই পরিবর্তনের কাছে নতি স্বীকার করতে হবে। বরং এই পরিবর্তন ঘটেছিল আল-সাউদ বংশের শাসক বা অলিউল আমরের পক্ষ থেকে। তিনিই জাবাল অঞ্চলের মরুচারী ও স্থায়ী বাসিন্দাদের নেতৃত্ব ইবনে আলির জন্য এবং পরবর্তীতে ইবনে রশিদের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন। এমতাবস্থায় শাম্মার গোত্রসমূহের মধ্যে যারা এই আনুগত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছিল, তাদের বিদ্রোহী হিসেবে গণ্য করা হয়। এর সপক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে: তার মধ্যে একটি হলো আল-আলি পরিবারের ইমারত আল-সাউদ যুগের পূর্বে ছিল না, যেমনটি ডক্টর আল-উসাইমিন বলেছেন। আমি আল-আলি সম্পর্কে আলোচনায় স্পষ্ট করেছি যে, 'লামউশ শিহাব' গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী শাম্মার গোত্র ১১৭৮ হিজরির পূর্বেই দাওয়াতের প্রতি অনুগত হয়েছিল। আরেকটি প্রমাণ হলো, শেখ উক্বাব বিন আজল হায়েলে থেকে প্রস্থান করেছিলেন কারণ শাম্মার গোত্র হায়েলে আল-রশিদ বংশের বাইরের কাউকে নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছিল। এটি প্রমাণ করে যে, ইবনে রশিদ ছিলেন মরুচারীসহ সকলের নেতা। আরেকটি প্রমাণ হলো, হায়েলে বসবাসরত স্থায়ী বাসিন্দারা মুতলাক আল-জারবা ও তার মরুচারী অনুসারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল এবং ইমাম আবদুল আজিজের কাছে পত্র পাঠিয়ে জানিয়েছিল যে মুতলাক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। এই ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে যে, স্থায়ী জনপদের আমিরের পক্ষ থেকে মরুচারীদের ওপর একটি আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের দাবি ছিল এবং এর জন্য তারা লড়াইও করত। আরও একটি প্রমাণ হলো, নজদে অবস্থিত শাম্মার গোত্রগুলো আল-সাউদের যুদ্ধাভিযানসমূহে অংশগ্রহণ করত এবং আমরা শাম্মার গোত্রের কোনো শেখের হাতে যুদ্ধের পতাকা দেখিনি, বরং নেতৃত্ব থাকত ইবনে আলি অথবা ইবনে রশিদের হাতে। ডক্টর শফিক আল-কামালি 'ইসলামি বিশ্বকোষ'-এর আরব উপদ্বীপ বিষয়ক অনুচ্ছেদে তাঈ ও জুবাইদ গোত্র কর্তৃক শাম্মার গোত্রকে 'খুওয়াহ' (ট্যাক্স) প্রদানের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: 'খুওয়াহ' প্রদান না করার বিষয়টি সত্য। যখন ফারিস আল-জারবা জাজিরাতে প্রবেশ করেন, তখন এই 'খুওয়াহ'-এর পরিবর্তে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তিনি তার পুত্র সাফুককে তাঈ গোত্রের প্রধানের কন্যা আমশার সাথে বিবাহ দেন। এটি ১২২৫ হিজরির কাছাকাছি সময়ের ঘটনা। আবু আবদুর রহমান বলেন: সম্ভবত হিজাজের ইতিহাস আমাদের সামনে দায়াগিমদের ইতিহাস উন্মোচন করবে। আমি দেখেছি আরার তার কবিতায় আশরাফদের কথা উল্লেখ করেছেন। তেমনি আমি আল-ইসামীকে আশরাফ ও শাম্মার গোত্রের মধ্যবর্তী যুদ্ধের বর্ণনা দিতে দেখেছি। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, শরিফ ইদরিস—যার সাথে তার চাচাতো ভাই মোহসিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন—১০৩৩ হিজরিতে জাবাল শাম্মারে মৃত্যুবরণ করেন এবং ইয়াতোবে সমাধিস্থ হন।
মোস্তফা মুরাদ আল-দাব্বাগ উল্লেখ করেছেন যে, সম্ভবত ফিলিস্তিনের জেনিন অঞ্চলের 'জারবা' গ্রাম এবং পূর্ব জর্ডানের 'জারবা' উভয়ই ইরাকের শাম্মারি আল-জারবা গোত্রের সাথে সম্পর্কিত; তারা সেখানে বসতি স্থাপন করেছিল এবং তাদের নামানুসারে এর নামকরণ হয়েছিল। আবু আবদুর রহমান বলেন: লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে, আল-মুহাম্মদ পরিবার আল-জারবা পরিবারের একটি অংশ, কিন্তু এর বিপরীতটি সত্য নয়। অর্থাৎ আল-মুহাম্মদ বলতে সমগ্র আল-জারবা পরিবারকে বোঝায় না, বরং এটি শুধুমাত্র মুহাম্মদ বিন সালেম আল-জারবার বংশধরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আল-জারবা পরিবারের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে ইরাকের শাম্মার মরুচারীরা 'শাম্মার আল-জারবা' নামে পরিচিতি পায়। নজদবাসীর কাছে আল-জারবা পরিবারের স্মৃতি অম্লান রয়ে গেছে; কবিরা তাদের উদ্দেশ্যে কবিতা রচনা করেন ও তাদের অনুদান লাভ করেন এবং উত্তর নজদে তাদের চাচাতো ভাইয়েরা বিপদে তাদের সাহায্য প্রার্থনা করে। এর বিপরীতে জাজিরা অঞ্চলের শাম্মার গোত্রের মধ্যে এমন লোক পাওয়া যেত যারা নজদের প্রতি আগ্রহী ছিল। শাম্মার গোত্রের জনৈক কবি ইরাকের শিয়াদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে হায়েলে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় বলেন:
হে বারজান, যে তোমাকে দেখতে পায় সে কতই না সাহায্যপ্রাপ্ত!
… এবং তোমার ছায়ায় সে কতই না সুখে নিদ্রা যায়!
হে বারঘুত, যে তোমাকে ত্যাগ করে সে কতই না সাহায্যপ্রাপ্ত!
… এবং যে আলীর উপাসকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়!
আল-জারবা বংশের ঐতিহাসিক কিছু ঘটনাবলি
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ২২)
أ - في سنة 1205هـ جهز شريف مكة غالب بن مساعد أخاه عبد العزيز، بجيش اشتركت فيه بعض البوادي، لَمْهاجمة الدرعية، ثم خرج غالب بجيش عظيم، لأمداد أخيه، ثم لَمْا انهزمَا بعد محاصرتهمَا لبلد الشعراء، بدأ سعود بن عبد العزيز يغير على القبائل التي تمردت، وانضمت إلى الشريف، ومن هؤلاء مُطَيْرٍ وشَمَّر، كانوا على الَمْاء الَمْعروف بِالْعُدْوَةِ لشمر، قرب حائل، ورئيسهم حصان إبليس. وقد قصدهم الإمَام سعود في هذا الَمْكان، فهزمهم، وقُتل في الَمْعركة رئيسهم مسعود " حصان إبليس " وسمرة "؟ " الَمْشهور رئيس العبيات من مُطَيْرٍ، وأبو هُليبة من مُطَيْرٍ. وكانت هذه الَوْقعة في آخر ذي الحجة من هذا العام. إلا أن هؤلاء القوم بعد انهزامهم استنفروا بقية قبائلهم، وأرسلَوْا إلى سعود يدعونه للَمْنازلة، وينذرونه بمسيرهم إليه، وكان في مكانه بالعدوة، يقسم الغنائم، فثبت لهم بعد مَا وصلَوْا إليه بزعامة مسلط بن مطلق الجرباء، الذي نذر أن يخترق " صيوان " سعودٍ بفرسه. وقد أرخى مسلط عنان فرسه ليتم نذره، فاختطفه قوم سعود بعد مَا ضربه رجل بعود يشوي به القرص، فطرحه عن جواده، ومن ثم قُتل وأنهزم اتباعه. وكانوا عندمَا قدموا عليه أقبلَوْا مقرنين إبلهم، فثبت لهم سعود وجيشه، وأوقدوا فيهم وفي إبلهم بالرصاص، فلَمْا انهزموا تركوا إبلهم مقرنة بالحبال، فغنم منهم سعود أحد عشر ألف بعير، وأكثر من ألف من الغنم، وتبع أثرهم يومين يأخذ الأموال ويقتل الرجال. وقد كان مطلق الجرباء والد مسلط، يرى التريث في مهاجمة آل سعود، بعد هزيمتهم الأولى بالعدوة، ويقال: إن هذه القصيدة لَمْسلط الجرباء قيلت في هذه الَمْناسبة:
عَدَّيتْ روس مْشَمْرخاتَ الَمْراقيبْ
… رِجْمٍ طويلٍ نايْفٍ مِقْلِحِزِّ
جرَّيْتَ صوتٍ مثل مَاجَرّه الذيْبْ
… أَوْجِسْ ضميري من ضلَوْعي يِنز
خوفي من اللِّيْ روُسهم كالْجعابِيْبْ
… وسيفٍ على غيرَ الَمْفاصِلَ يِجِز
لا صار مَانَاتِي سْواةَ الجلالِيبْ
… بْقَلَايْعٍ بَايْمَاننا لَهْ نِخِزِّ
احسن تصبَّر واجمل الصبر بالطيبْ
… هذِي حياةٍ كلّ ابوها تَلَزِّيْ
والحر لا صكَّتْ عليه الَمْغاليبْ
… ملزوم عن دار الَمْذلة ينِزِّ
قال أبو عبد الرحمن: البيت الأخير إيذان بالجلاء من جبل شمر، ومَا كان في نية مسلط الجلاء، والأشبه أن يكون هذا الشعر لَمْطلق الجرباء وال مسلط، وهذا مَا حصل بالفعل فبعد هزيمة شمر، وقتل مسلط، رحلت شمر بزعامة مطلق الجرباء إلى العراق، فاستقرت في منطقة الجزيرة وأصبح لها نفوذ قوي هناك. وقال ابن سند بأُسلَوْبه الأدبي العاطفي: وله أيام منها العدوة لسعود بن عبد العزيز عليه، وفي ذلك اليوم قتل ابنه مسلط، وكان شجاعاً هزبراً طاعن ذلك اليوم حتى كف كل رعيل، وقرى كل ذابل وصقيل، كيف ومطلق أبوه ذلك الباسل، ومحمد جده الذي تحامَاه القنابل، وأمَا مطلق فإنه في ذلك اليوم هزم الكتائب، وأروى من دم الفرسان كل سنان وقاضب:
قومٌ إذَا حَرَبُوا فآسادُ الشِّرَى
… وإذا هُمُ أَعْطَوْا فَأَبْحُرُ جُوْدِ
ياعيْن إِنْ مَاتُوا فقد مَاتَ النَّدَى
… فعليهم حُزْناً بِدَمْعِكِ جُودِي
خَاضوا الَوْغَا بصوارم وشياظم
… قُبِّ الْبُطُوْنِ، تَؤُمُّ جَيْشَ " سُعُوْدِ "
فتفرقتْ منه الْكَمَاةُ كَأنَّهمْ
… نَقَدٌ نوافِرُ منْ زَئِيْر أُسُوْدِ
لَاقَاهُمُ الأَسدُ الضُبَارِمُ " مطلقٌ "
… فتعلقوا بشليل كلِّ قَعَوْدِ
فلَمْا ضاقت على سعود الأوهاد والنجود، خان ابن هذال فلَمْ يكن لَمْطلق مجال، فنكص على العقب وهو يطاعن ذلك الجيش اللجب.
كلَمْا كَرَّ على فُرْسَانِهِ
… هربوا منه كَشَاةٍ مِنْ أَسَدْ
مَا رَأَوْا صَيْلَمْةً إلا رَأَوْا
… هَرَباً مِنْهُ وَإنْ كانَ أَسَدْ
আ - ১২০৫ হিজরিতে মক্কার শরিফ গালিব বিন মুসাঈদ তার ভাই আবদুল আজিজকে এক সৈন্যবাহিনীসহ দিরিয়াহ আক্রমণের জন্য প্রস্তুত করেন, যেখানে কিছু বেদুঈন গোত্রও অংশগ্রহণ করেছিল। অতঃপর গালিব তার ভাইকে সাহায্য করার জন্য এক বিশাল বাহিনী নিয়ে বের হন। এরপর শুআরা নামক স্থান অবরোধ করার পর তারা উভয়ে পরাজিত হলে, সৌদ বিন আবদুল আজিজ সেই সব গোত্রগুলোর ওপর আক্রমণ শুরু করেন যারা বিদ্রোহ করে শরিফের সাথে যোগ দিয়েছিল। এদের মধ্যে ছিল মুতাইর এবং শাম্মার গোত্র, যারা শাম্মার গোত্রের জন্য পরিচিত ‘আদওয়াহ’ নামক জলাশয়ের নিকট অবস্থান করছিল। এটি হায়েল অঞ্চলের নিকটে অবস্থিত এবং তাদের প্রধান ছিল ‘হিসান ইবলিস’। ইমাম সৌদ এই স্থানে তাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালান এবং তাদের পরাজিত করেন। এই যুদ্ধে তাদের প্রধান মাসউদ ‘হিসান ইবলিস’ এবং মুতাইর গোত্রের ওবাইয়াত শাখার বিখ্যাত নেতা সামরা ও আবু হুলিবাহ নিহত হন। এই ঘটনাটি ছিল উক্ত বছরের জিলহজ মাসের শেষ দিকে। তবে এই লোকেরা পরাজিত হওয়ার পর তাদের অবশিষ্ট গোত্রগুলোকে একত্রিত করে এবং সৌদের কাছে যুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে বার্তা পাঠায় এবং তার দিকে অগ্রসর হওয়ার হুমকি দেয়। সৌদ তখন আদওয়াহ নামক স্থানে অবস্থান করে গণিমত বণ্টন করছিলেন। তিনি সেখানে তাদের মুকাবিলায় অবিচল থাকেন। তাদের নেতৃত্বে ছিল মুসাল্লাত বিন মুতলাক আল-জারবা, যে মানত করেছিল যে সে তার ঘোড়া নিয়ে সৌদের তাঁবু ভেদ করবে। মুসাল্লাত তার মানত পূর্ণ করার জন্য তার ঘোড়ার লাগাম ঢিলে করে দিয়েছিল, কিন্তু সৌদের লোকেরা তাকে পাকড়াও করে। তার আগে এক ব্যক্তি তাকে রুটি সেঁকার কাঠি দিয়ে আঘাত করে ঘোড়া থেকে ফেলে দিয়েছিল। এরপর সে নিহত হয় এবং তার অনুসারীরা পরাজিত হয়। তারা যখন এসেছিল, তখন তারা তাদের উটগুলোকে একত্রে বেঁধে অগ্রসর হয়েছিল। সৌদ ও তার সেনাবাহিনী তাদের সামনে অটল থাকেন এবং তারা তাদের ওপর ও তাদের উটগুলোর ওপর গুলিবর্ষণ করেন। যখন তারা পরাজিত হলো, তখন তারা তাদের উটগুলোকে রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে গেল। সৌদ তাদের কাছ থেকে এগারো হাজার উট এবং এক হাজারেরও বেশি ভেড়া গণিমত হিসেবে লাভ করেন। তিনি দুই দিন তাদের পিছু ধাওয়া করেন, সম্পদ দখল করেন এবং পুরুষদের হত্যা করেন। মুসাল্লাতের পিতা মুতলাক আল-জারবা আদওয়াহর প্রথম পরাজয়ের পর আল-সাউদদের ওপর পুনরায় আক্রমণে ধৈর্য ধারণ করার পক্ষপাতী ছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, মুসাল্লাত আল-জারবার এই কবিতাটি এই উপলক্ষেই রচিত হয়েছিল:
আমি সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ স্তম্ভগুলোর চূড়ায় আরোহণ করেছি
… যা দীর্ঘ, উন্নত এবং খাড়া।
আমি নেকড়ের ডাকের মতো উচ্চৈঃস্বরে আর্তনাদ করেছি
… আমার হৃদয়ের পাজরগুলো যেন ভয়ে কেঁপে উঠছে।
আমার ভয় সেই লোকদের নিয়ে যাদের মস্তক তূণীর সদৃশ
… আর এমন তলোয়ার যা সংযোগস্থল ছাড়া অন্য স্থানেও ছেদ করে।
যদি আমরা পণ্যবাহী উটের মতো শান্তভাবে না আসি
… তবে আমাদের হাতের বর্শা দিয়ে তাদের বিদ্ধ করব।
ধৈর্য ধারণ করাই উত্তম এবং বীরত্বের সাথে ধৈর্য ধরাই সুন্দর
… এই জীবন পুরোটাই তো এক কঠিন সংগ্রাম।
আর স্বাধীন ব্যক্তি যখন পরাজয়ের ঘেরাটোপে পড়ে
… তখন লাঞ্ছনার আবাস ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়াই তার জন্য অবধারিত।
আবু আবদুর রহমান বলেন: শেষ পঙক্তিটি জাবালে শাম্মার থেকে হিজরতের ঘোষণা। যদিও মুসাল্লাতের হিজরত করার কোনো ইচ্ছা ছিল না। সম্ভবত এই কবিতাটি মুসাল্লাতের পিতা মুতলাক আল-জারবার। আর বাস্তবে এটিই ঘটেছিল, কারণ শাম্মার গোত্র পরাজিত হওয়ার পর এবং মুসাল্লাত নিহত হওয়ার পর, মুতলাক আল-জারবার নেতৃত্বে শাম্মার গোত্র ইরাকে চলে যায় এবং জাজিরা অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে সেখানে এক শক্তিশালী প্রভাব তৈরি করে। ইবনে সানাদ তার সাহিত্যিক ও আলঙ্কারিক শৈলীতে বলেছেন: সৌদ বিন আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে তার অনেক যুদ্ধের দিন রয়েছে, যার মধ্যে আদওয়াহর যুদ্ধ অন্যতম। সেদিন তার পুত্র মুসাল্লাত নিহত হয়। সে ছিল এক সাহসী সিংহ, যে সেদিন যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বের সাথে লড়াই করে প্রতিটি বাহিনীকে প্রতিহত করেছিল এবং প্রতিটি বর্শা ও তরবারিকে শত্রুর রক্তে রঞ্জিত করেছিল। কেনই বা হবে না, যেখানে মুতলাক তার পিতা—যিনি এক দুর্ধর্ষ বীর, আর মুহাম্মদ তার দাদা—যাকে দেখে বীর যোদ্ধারাও তটস্থ থাকত। আর মুতলাক সম্পর্কে বলা যায়, তিনি সেদিন শত্রু বাহিনীকে পরাস্ত করেছিলেন এবং বীর যোদ্ধাদের রক্তে প্রতিটি বর্শা ও তরবারিকে তৃপ্ত করেছিলেন:
এমন এক জাতি যখন তারা যুদ্ধ করে তখন বনের সিংহের মতো হয়
… আর যখন তারা দান করে তখন তারা যেন দানের সমুদ্র।
হে চক্ষু! যদি তারা মারা যায় তবে তো দানশীলতাও মরে গেল
… তাই তাদের শোকে অঝোর ধারায় অশ্রু বিসর্জন করো।
তারা তীক্ষ্ণ তরবারি ও দ্রুতগামী অশ্ব নিয়ে রণক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল
… ক্ষীণ কটিবিশিষ্ট সেই ঘোড়াগুলো সৌদের বাহিনীর দিকে ধাবিত হচ্ছিল।
সেখান থেকে বীর যোদ্ধারা এমনভাবে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল যেন তারা
… সিংহের গর্জনে পলায়নপর ভেড়ার পাল।
দুর্ধর্ষ সিংহ ‘মুতলাক’ তাদের মুকাবিলা করলেন
… আর তারা প্রত্যেকেই পলায়নপর উটের পিঠ আঁকড়ে ধরল।
অতঃপর যখন সৌদের ওপর ভূমি ও পাহাড়গুলো সংকীর্ণ হয়ে গেল, তখন ইবনে হাযযাল বিশ্বাসঘাতকতা করল। ফলে মুতলাকের আর কোনো উপায় রইল না। তিনি সেই বিশাল বাহিনীর সাথে লড়াই করতে করতে পিছু হটলেন।
যখনই তিনি তাদের ঘোড়সওয়ারদের ওপর আক্রমণ করতেন
… তারা সিংহের ভয়ে ভেড়ার মতো পলায়ন করত।
তারা যখনই কোনো কঠিন মুসিবত দেখত
… তখনই তার ভয়ে পলায়ন করত, যদিও তারা নিজেরাও ছিল সিংহের মতো সাহসী।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فمَا زلَوْا معه على كر وفر، ومضاربة بكل صارم ذكر، حتى سئموا من الَمْضاربة، فرجعوا بصفقة خائبة، ونجا هو وبنو عمه، وباء الخائن بخزيه وإثمه، فأناخ رجاله في بادية العراق، إلى أن اخضر عيشه وراق. ووجدت في كراسات الشيخ منديل هذه الأبيات لزوجة مطلق ترثى مسلطاً وأباه:
ونَّيتْ وَنَّة من شَلَع ضِرْسِه الْقَازْ
… اللِّي صبر لَلْجزْ يَجْذبْ مِنْينِهْ
عليكْ يا حَامِي الَمْظَاهِير، طهْمَازْ
… لَجَّتْ فَرَاقِيْنَ الْعَرَبْ فَاقْدِيْنِهْ
جانا عقابٍ فَرَّقَ الْحُرّ والْبازْ
… وَغَدا بْصَيَّادَ الْحَبَارِي حَثِيْنهْ
الدمع من عيني يِجِيْ فَرْد واجْوَازْ
… والشَّيْب لاح بْقِذْلِتي قَبْل حِيْنِهْ
وقال صاحب " لَمْع شهاب ": ثم إن عرب الشريف الذين كانوا ملتجئين به من بداة نجد تفرقوا عنه راجعين إلى أطراف نجد، فقحطان احتاروا إلى تثليث، وعتيبة إِلى بَرِّيَّةِ مّكَّة كَرُكْبَةَ ومَا يليها، وأمَا مُطَيْر فاحتازوا إِلى أَرض شَمَّر، واتفقوا مع مُطلق الجرباء، وبادية شَمر جميعها التي في الجبل، وصار بينهم أَهل القرى التي في الجبل حرب، فأَرسل أَهلُ الجبل إِلى عبد العزيز بن سعود أَنَّ هذا مُطلق الجرباء نكث، والتجأَتْ مُطَيرْ إِليه فهذا اليوم نحاربه، وكان إِذًا شيخ مطير حسين بن وطبان رجل شجاع، فلَمْا سمع عبد العزيز بهذا الخبر بعث ولده سعود بجيش إِليهم، وعه بعض من عَنَزَةً، وكانوا أضددًا لَمْطَيْر، وعه أَيضاً بَدْو العارض: سُبيْع والعجمَان، وهذه الَمْسيرة أول معاضدته لآل سعود، وشهور شأْنه في جزيرة العرب، ثم صار له صيت كبير، وهذا الجيش يبلغ خمسة آلاف رجل " بواردي " وثمَان مئة فارس، فصبَّحَ عرباً يقال لهم البراعِصَة من مُطَيْرٍ، وزعيمهم اسمه سعود؟ يكنى بحصان الشيطان، أَو بحصان إِبليس، وهو الذي كَنَّى نفسه بهذه الكنية، وهو شجاع معدود، ومعه مئتا فارس من رفقته، فحاربوا سعوداً وقد قتل من فرسانه نفر وقد قتل حصان إِبليس وأَولاده، وأَولاد أَخيه، وأُخِذَت بيوته وأغنامهم، وكانت إِبلهم غائبة في الفلاة. وبعد هذا اشتدَّ الأَمُر على مطلق الجرباء، وحسين الدويش، وضاقت بهم الدنيا وكانا على مَاء يسمى " يا طب " عن حائل ثمَان ساعات، فأَقبلا صائلين على سعود، وعسكروا يريدون منا جزة الحرب معه، فوقعت الحروب بينهم وبين سعود، فَساقَ أولا في وجوههم حتى دفع جموعهم بها، ثم أعقبهم بالخيل والرجال، فقتل ولد مُطلق الجرباء اسمه سلطان، وانهزمت تلك البوادي، وعددهم كثير، فأَخذ أَموالهم وقتل من قتل وأُسر من أُسر، وجملة أمولهم لا تحْصَى عدا، فجلا مُطلق الجرباء إلى العراق من ذلك اليوم.
ب - في رمضان من سنة 1212هـ نازل الإمَام سعود بن عبد العزيز عرباناً كثيرة من عدة قبائل بزعامة مُطلق بن محمد الجرباء في وادي اْلأُبيِّضِ قُرْب السمَاوة بالعراق ومَا كان أَحد يقف أَمَام كَراتِ مُطلق ذكر ذلك ابن بشر وابن سند وقتل قُرَيْنِيْس أَخو مُطلق. وقال ابن سند - كمَا نقلت من أَوراق الشيخ حمد الجاسر غزا سعود بن عبد العزيز بن محمد سعود في سنة 1212 أَطراف بني الَمْنْتَفِق، فصبَّح القرية الَمْعروفة بأَم العباس، فقتل منها وممن حولها خلقاً كثيراً ونهب وحرقَّ، ثم كَرَّ راجعاً وحمود في البادية، فلَمْا بلغه الخبر جَدَّ، في السير ليدركه، كمَا أَدركه، وبعدمَا كَرَّ سعود راجعاً ووصل إلى أَطراف نجد، عطف وأغار في سنته تلك على بادية العراق، وكان مُطلق بن محمد الجرباء نازلاً في بادية العراق، فلَمْا صَبَّحهم سعود فَرَّ من فَرَّ منهم وثبت من ثبت، وقاتل جيش سعود مُطاق الجرباء، فكَرَّ الفرسان مرة بعد مرة، فكلَمْا كَرَّ على كتيبة هزمها، فحاد عن مطاعنته الشجعان، فكان من الله تعالى الذي لا يُرَدُّ أَنه كَرَّ عليهم في بعض كراته فعثرت فرسه في شاة، فسقط من ظهر فرسه فقتل، رحمه الله تعالى - وكان قتله عند سعود من أَعظم الفتوح إِلا أَنه وَدَّ أَسره دون قتله.
তারা তাঁর সাথে আক্রমণ ও পশ্চাদপসরণ এবং প্রতিটি তীক্ষ্ণ তরবারি দিয়ে আঘাতের মাধ্যমে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল, যতক্ষণ না তারা যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। অতঃপর তারা ব্যর্থ মনোরথে ফিরে এল এবং তিনি ও তাঁর চাচাতো ভাইরা রক্ষা পেলেন। আর বিশ্বাসঘাতক তার অপমান ও পাপ নিয়ে ফিরে গেল। এরপর তিনি তাঁর লোকদের নিয়ে ইরাকের মরুভূমিতে আস্তানা গাড়লেন, যতক্ষণ না তাঁর জীবন সচ্ছল ও আনন্দময় হয়ে উঠল। আমি শেখ মানদিলের পাণ্ডুলিপিতে মুতলাকের স্ত্রীর এই কবিতাগুলো পেয়েছি, যেখানে তিনি মুসাল্লাত ও তাঁর পিতার শোক প্রকাশ করেছেন:
আমি এমন এক যন্ত্রণায় আর্তনাদ করছি যেমনটি কেউ তার দাঁত উপড়ে ফেলার সময় করে থাকে... যে ব্যক্তি বিচ্ছেদে ধৈর্য ধরেছে, সে কোথা থেকে স্বস্তি পাবে?
হে পলায়নপরদের রক্ষাকারী তহমাজ, আপনার বিরহে বিলাপ... আরব গোত্রগুলো আপনাকে হারিয়ে হাহাকার করছে।
আমাদের কাছে এমন এক ঈগল এসেছে যা মুক্ত পাখি ও বাজপাখিকে আলাদা করে দিয়েছে... এবং তিলে তিলে হাবারি শিকারিকে নিয়ে গেছে।
আমার চোখ থেকে অশ্রু একাকী ও জোড়ায় জোড়ায় ঝরছে... এবং সময়ের আগেই আমার অলকে বার্ধক্যের শুভ্রতা দেখা দিয়েছে।
‘লামআ শিহাব’ গ্রন্থের লেখক বলেন: এরপর শরিফের আশ্রয়ে থাকা নজদের বেদুইন আরবরা তাঁর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নজদের প্রান্তসীমার দিকে ফিরে গেল। কাহতান গোত্র তিতলিথের দিকে সরে গেল, ওতাইবাহ মক্কার মরুভূমি যেমন রুকবাহ ও এর আশপাশের এলাকার দিকে চলে গেল। আর মুতাইর গোত্র শাম্মার অঞ্চলের দিকে সরে গেল এবং মুতলাক আল-জারবা ও পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থানরত সমগ্র শাম্মার বেদুইনদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হলো। ফলে তাদের এবং পাহাড়ের জনপদের অধিবাসীদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো। তখন পাহাড়ের অধিবাসীরা আব্দুল আজিজ বিন সউদের কাছে খবর পাঠাল যে, এই মুতলাক আল-জারবা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং মুতাইর গোত্র তাঁর কাছে আশ্রয় নিয়েছে, তাই আজ আমরা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। সে সময় মুতাইর গোত্রের প্রধান ছিলেন হুসাইন বিন ওয়াতবান, যিনি একজন অত্যন্ত সাহসী ব্যক্তি ছিলেন। আব্দুল আজিজ যখন এই খবর শুনলেন, তখন তিনি তাঁর পুত্র সউদকে একটি বাহিনী দিয়ে তাদের কাছে পাঠালেন। তাঁর সাথে আনজাহ গোত্রের কিছু লোক ছিল, যারা মুতাইর গোত্রের শত্রু ছিল। এছাড়াও তাঁর সাথে ছিল আরিদের বেদুইন: সুবাই' ও আজমান গোত্র। এই অভিযানটি ছিল সউদ বংশের প্রতি তাদের প্রথম সমর্থন এবং আরব উপদ্বীপে তাদের প্রভাব বিস্তারের সূচনা, যার ফলে পরবর্তীতে তাদের ব্যাপক খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এই বাহিনীতে পাঁচ হাজার বন্দুকধারী এবং আটশ অশ্বারোহী ছিল। তারা মুতাইর গোত্রের বারাসি নামক একটি শাখার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করল। তাদের নেতার নাম ছিল সউদ, যার উপাধি ছিল শয়তানের ঘোড়া বা ইবলিসের ঘোড়া। সে নিজেই নিজেকে এই উপাধি দিয়েছিল এবং সে একজন সুপরিচিত বীর ছিল। তাঁর সাথে তাঁর দুইশ অশ্বারোহী সঙ্গী ছিল। তারা সউদের সাথে যুদ্ধ করল এবং তাঁর অনেক অশ্বারোহী নিহত হলো। শেষ পর্যন্ত শয়তানের ঘোড়া, তাঁর পুত্ররা এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্ররাও নিহত হলো। তাদের ঘরবাড়ি ও ভেড়া দখল করে নেওয়া হলো, আর তাদের উটগুলো তখন চারণভূমিতে ছিল। এরপর মুতলাক আল-জারবা ও হুসাইন আদ-দাওয়িশের ওপর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ল এবং পৃথিবী তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে এল। তারা হাইল থেকে আট ঘণ্টার দূরত্বে ‘ইয়া তিব’ নামক একটি জলাশয়ের কাছে অবস্থান করছিল। তারা সউদের ওপর আক্রমণ করার জন্য অগ্রসর হলো এবং যুদ্ধের জন্য শিবির স্থাপন করল। এরপর সউদ ও তাদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো। সউদ প্রথমে তাদের সম্মুখভাগের ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাদের জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দিলেন এবং এরপর অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দিয়ে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করলেন। মুতলাক আল-জারবার পুত্র সুলতান নিহত হলো এবং বিপুল সংখ্যক বেদুইন পরাজিত হয়ে পালিয়ে গেল। সউদ তাদের ধন-সম্পদ দখল করলেন এবং অনেককে হত্যা ও বন্দী করলেন। তাদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ গণনা করা সম্ভব ছিল না। সেই দিন থেকেই মুতলাক আল-জারবা ইরাকে নির্বাসিত হলেন।
খ - ১২১২ হিজরির রমজান মাসে ইমাম সউদ বিন আব্দুল আজিজ ইরাকের সামাওয়াহর নিকটবর্তী ওয়াদি আল-উবাইদে মুতলাক বিন মুহাম্মদ আল-জারবার নেতৃত্বে বিভিন্ন গোত্রের বহু আরবের মুখোমুখি হন। ইবনে বিশর ও ইবনে সানাদ উল্লেখ করেছেন যে, মুতলাকের আক্রমণের সামনে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। এই যুদ্ধে মুতলাকের ভাই কুরাইনিস নিহত হন। ইবনে সানাদ বলেন—যেমনটি আমি শেখ হামাদ আল-জাসিরের নথিপত্র থেকে উদ্ধৃত করেছি—সউদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ সউদ ১২১২ হিজরিতে বনু মুনতাফিকের প্রান্তসীমায় অভিযান চালান। তিনি উম্মে আব্বাস নামক সুপরিচিত গ্রামে অতর্কিত আক্রমণ করেন এবং সেখানকার ও আশপাশের বহু মানুষকে হত্যা করেন এবং লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ করেন। এরপর তিনি ফিরে যান। তখন হামুদ মরুভূমিতে ছিলেন। যখন তিনি এই সংবাদ পেলেন, তখন তাঁকে ধরার জন্য দ্রুত যাত্রা করলেন, কিন্তু ধরতে পারলেন না। সউদ ফিরে গিয়ে নজদের প্রান্তসীমায় পৌঁছানোর পর, পুনরায় ঘুরে দাঁড়ালেন এবং সেই বছরই ইরাকের মরুচারীদের ওপর আক্রমণ করলেন। মুতলাক বিন মুহাম্মদ আল-জারবা তখন ইরাকের মরুভূমিতে অবস্থান করছিলেন। সউদ যখন তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করলেন, তখন তাদের মধ্যে কেউ পালিয়ে গেল এবং কেউ অটল থাকল। সউদের বাহিনী মুতলাক আল-জারবার সাথে যুদ্ধ করল। অশ্বারোহীরা বারবার আক্রমণ চালাতে লাগল। মুতলাক যে দলের ওপরই আক্রমণ চালাতেন, তাদের পরাজিত করতেন। এমনকি সাহসী বীরেরাও তাঁর সাথে দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ হতে ভয় পাচ্ছিল। এরপর আল্লাহ তাআলার অমোঘ ফয়সালা অনুযায়ী—যা খণ্ডানোর উপায় নেই—একবার আক্রমণ চালানোর সময় তাঁর ঘোড়া একটি ভেড়ার ওপর হোঁচট খেল। এতে তিনি ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে নিহত হলেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। তাঁর মৃত্যু সউদের কাছে ছিল অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজয়, যদিও সউদ তাঁকে হত্যার চেয়ে বন্দী করতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ج - في سنة 1231هـ كانت الَوْقعة بين باشا العراق وبين عدة قبائل بزعامة بُنَيَّةَ بن قرَيْنِيْس بن محمد الجرباء، ومعه فارس بن محمد، وكان الباشا قد أَجلاهم عن العراق. فَهُزِمَتْ هذه القبائل بعد قتل زعيمها بُنَيَّةَ في حادثة ممَاثلة لحادثة قتل عمه مُطلق بن محمد، وذلك أَنه لحقه فارسان فأَحسَّ بهمَا أَوْ أَنهمَا دعواه للَمْبارزة، فجذب عنان جواده جَذبةَ منكرةً ليَحرِفهَا عليهمَا، فوقعت الفرس على رأُسها ويديها، وسقطت على ظهرها، فصار تحت السرج والفرس فوقه فأُدركَ وقتل ولَعلَ سبب هذا مَا حدث سنة 1228هـ وهو أَن أَسعد بن سليمَان باشا خاف من عبد الله باشا صاحب بغداد وهرب إلى الَمْنتفق، فلَمْا أَبى حُمُوْدُ بن ثامرٍ زعيم الَمْنتفق وبعد القتال، انحازت شَمَّرُ للَمْنُتفق، وخانت عبد الله باشا، فانهزمت العساكر العراقية. قال أبو عبد الرحمن: والعامَّةُ في نجْد تنطق الجرباء هكذا " الجربا " بدون همزة، وذلك لثقل حرف الهمزة على نطق العامة قال ابن سَنَد: وفي السنة الحادية والثلاثين بعد الَمْئتين والأَلف من الهجرة، له (عدد مَا أحاط به العلَمْ، وتَعَلَّقَت به مِن الَمْمكنات القدرة، قُتلِ بُنَيَّةَ بن قُرَينيْيس الجرباء، وأُتِيَ بِرَاْسِهِ إِلى الَوْزير سعيد. واعلَمْ أَن بُنَيَّةَ عَبَر من الجزيرة لغربي الفرات، عندمَا ولَّى وزارة بغداد سعيد باشا، لَمْا بين عمه فارس وآل عُبَيْدِ من الضغائن، لاسيمَا أَميرهم قاسم بن محمد بن عبد الله بن شاوي الْعبَيدِي، وقد كان سعيد باشا وَلَّى زمَام أَكثر أُمُورِهِ له، فلَمْا بين فارس والَمْذكور لَمْ يستقر في الجزيرة فنزل بعشيرته على خُزَاعة، في تلك السنة، ليكتال، وكان بين الدُّرَيعي الْعَنزيِ الرُّوَيلي - بضم الراء وفتح الَوْاو ولام بعدها ياء النسب - اقتفى أَثره ونزل قريباً منه، وأَرسل إِلى حمود بن ثامر، استنفر، فنفر بفرسان عشيرته لَمْساعدة الدُّرَيْعي، لَمْا بينهمَا من الائتلاف، وكذلك خرج عسكر الَوْزير سعيد، كبيرهم قاسم ابن شاوي، ومعه عُقيل - بضم العين وفتح القاف وسكون الَمْثناة التحتية - وهم عسكر للَوْزير، فقامت الحربُ على ساق وذاذ الفرسانُ، فَقَدَّر الله عليه في بعض كَرَّاتِهِ أَنْ أصابته بندقُ فَخَرَّ من صهوَة فرسه رحمه الله وإيانا - وقد سمعته ينتسب إلى طيء القبيلة الَمْعروفة الَمْنسوب إليها حَاتِمُ بن عبد الله بن سعد الطائي وابنه عدي بن حاتم الطائي الصحابيُّ الجليل وهذا نص أَدبي، بأُسلَوْب عاطفي انتسخته من أَوراق شيخي حمد الجاسرنقلا عن " مطالع السعود بطيب أَخبار الَوْالي داود " لعثمَان بن سند. قال ابن سند: " د " وفي سنة 1237هـ وقد كان أَرسل والي كَرْمَانَ مقدار أَلف من عسكره للَمْيرة من تلك الأَوطان، فلقيهم صُفُوقُ الجرباء، وقراهم طعناً وضرباً، وسقاهم بدل العْذَابِِ عَذَابأ، وجَرَّعَهم بالسيوف مُرًّا وصاباً، فقتل منهم الكثير، والباقي بين منهزم وأَسير. ثم قال بعد كلام طويل يتعلق بداود باشا: أَخبرني ثقاتُ عدَّة أَنَّ صفوقَ بن فارسٍ الجرباء غزا ابن الشاه، وعبر دِيَالةَ، بفوارس من عشيرته، إلى أَن كان من عسكر ابن الشاه بمرآة، فركب فرسان العسكر لَمْا رأََوه وكَرَّوا عليه، فاستطردهم حتى عبروا دِيالَةَ، وبعدوا عنها، فعطف هو ومن عشيرته ومن الروم عليهم، فأَدبرتِ فرسان العجم، وقفاهم فوارس شَمر، وقتلَوْا منهم من أَدركوا، وأَتوا بخيلهم وسَلَبِهِمْ - ولله الحمد والَمْنة -.وأخبرني غير واحد أَن هذه غير الأُولى التي ذكرها الَمْؤرخ التركي
أُسَرُ آل الجرباءوبعض مشاهيرهم 4 - بيان أسرهم، والتنويه ببعض أعلامهم قال عبد الجبار الراوي:
গ - হিজরী ১২৩১ সনে ইরাকের পাশা এবং মুহাম্মাদ আল-জারবার পুত্র কুরাইনিসের পুত্র বুনাইয়্যাহর নেতৃত্বে বেশ কিছু গোত্রের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তার সাথে ফারেস বিন মুহাম্মাদও ছিলেন। পাশা ইতিপূর্বে তাদের ইরাক থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। বুনাইয়্যাহ নিহত হওয়ার পর এই গোত্রগুলো পরাজিত হয়। তার নিহত হওয়ার ঘটনাটি ছিল অনেকটা তার চাচা মুতলাক বিন মুহাম্মাদের নিহত হওয়ার ঘটনার মতো। ঘটনাটি ছিল এই যে, দুইজন অশ্বারোহী তাকে ধাওয়া করলে তিনি তাদের উপস্থিতি টের পান অথবা তারা তাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধের আহ্বান জানায়। তখন তিনি তাদের দিকে ঘোরার জন্য তার ঘোড়ার লাগাম সজোরে টান দেন, ফলে ঘোড়াটি তার মাথা ও সামনের দুই পা নিয়ে উল্টে পড়ে যায় এবং পিঠের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে তিনি জিনের নিচে চাপা পড়েন এবং ঘোড়াটি তার ওপর থাকে। এমতাবস্থায় তাকে পেয়ে হত্যা করা হয়। সম্ভবত এর কারণ ছিল হিজরী ১২২৮ সনের ঘটনা, যখন সুলায়মান পাশার পুত্র আসআদ বাগদাদের অধিপতি আব্দুল্লাহ পাশার ভয়ে পালিয়ে মুনতাফিক গোত্রে আশ্রয় নেন। যখন মুনতাফিক নেতা হামুদ বিন সামের বশ্যতা স্বীকার করতে অস্বীকার করেন এবং যুদ্ধের পর শম্মার গোত্র মুনতাফিকের পক্ষ নেয় এবং আব্দুল্লাহ পাশার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তখন ইরাকী সেনাবাহিনী পরাজিত হয়। আবু আব্দুর রহমান বলেন: নজদের সাধারণ মানুষ 'আল-জারবা' শব্দটিকে হামযা ছাড়াই 'আল-জারবা' উচ্চারণ করে, কারণ সাধারণ মানুষের উচ্চারণে হামযা বর্ণটি ভারী মনে হয়। ইবনে সানাদ বলেন: হিজরী এক হাজার দুইশত একত্রিশ সনে—আল্লাহর ইলম যা কিছু পরিবেষ্টন করে আছে এবং তাঁর কুদরত সম্ভাব্য যা কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে সেই পরিমাণ প্রশংসার পর—বুনাইয়্যাহ বিন কুরাইনিস আল-জারবাকে হত্যা করা হয় এবং তার মস্তক উজির সাঈদের কাছে আনা হয়। জেনে রাখুন যে, বুনাইয়্যাহ জাযিরা থেকে ফোরাত নদীর পশ্চিম তীরে পাড়ি জমিয়েছিলেন যখন সাঈদ পাশা বাগদাদের উজির নিযুক্ত হন। এর কারণ ছিল তার চাচা ফারেস এবং আল-উবাইদ গোত্রের মধ্যে বিদ্যমান বিদ্বেষ, বিশেষ করে তাদের নেতা কাসেম বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন শাউয়ি আল-উবাইদির সাথে। সাঈদ পাশা তার অধিকাংশ বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে সঁপে দিয়েছিলেন। ফারেস এবং উক্ত ব্যক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকার কারণে তিনি জাযিরায় স্থির থাকতে পারেননি, তাই সে বছর তিনি রসদ সংগ্রহের জন্য তার গোত্রসহ খুযাআহ অঞ্চলে অবস্থান নেন। তখন আনযা গোত্রীয় আদ-দুরাইয়ি আর-রুওয়াইলি—'রা' বর্ণে পেশ, 'ওয়াও' বর্ণে যবর এবং পরবর্তী 'লাম' এর পর নিসবতের 'ইয়া' যুক্ত—তার পিছু নেন এবং তার কাছাকাছি অবস্থান করেন। তিনি হামুদ বিন সামেরের কাছে সাহায্য চেয়ে পাঠান, ফলে হামুদ তার গোত্রের অশ্বারোহীদের নিয়ে আদ-দুরাইয়িকে সাহায্য করতে বেরিয়ে পড়েন, কারণ তাদের মধ্যে মিত্রতা ছিল। তেমনিভাবে উজির সাঈদের বাহিনীও বের হয়, যাদের সেনাপতি ছিলেন কাসেম ইবনে শাউয়ি, আর তার সাথে ছিল 'উকাইল' বাহিনী—'আইন' বর্ণে পেশ, 'কাফ' বর্ণে যবর এবং নিচে দুই নুকতাওয়ালা 'ইয়া' সাকিন—যারা ছিল উজিরের সৈন্য। এরপর তুমুল যুদ্ধ শুরু হয় এবং অশ্বারোহীরা বীরত্ব প্রদর্শন করে। আল্লাহর তকদিরে তার এক পর্যায়ে একটি গুলির আঘাত লাগে এবং তিনি তার ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যান—আল্লাহ তার প্রতি এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আমি তাকে বিখ্যাত তাই গোত্রের সাথে নিজের বংশসূত্র মেলাতে শুনেছি, যে গোত্রের দিকে হাতিম বিন আব্দুল্লাহ বিন সাদ আত-তাঈ এবং তার পুত্র প্রখ্যাত সাহাবী আদী বিন হাতিম আত-তাঈ সম্পৃক্ত। এটি একটি সাহিত্যিক পাঠ, যা আমি আমার শায়খ হামাদ আল-জাসিরের পাণ্ডুলিপি থেকে আবেগপূর্ণ শৈলীতে উসমান বিন সানাদের 'মাতালিউস সুউদ বি তিবিল আখবার আল-ওয়ালি দাউদ' গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছি। ইবনে সানাদ বলেন: "দ" হিজরী ১২৩৭ সনে কিরমানের ওয়ালি ঐ অঞ্চল থেকে রসদ সংগ্রহের জন্য তার প্রায় এক হাজার সৈন্য পাঠিয়েছিলেন। সাফুক আল-জারবা তাদের মুখোমুখি হন এবং তলোয়ার ও বল্লমের আঘাতে তাদের আপ্যায়ন করেন। তিনি তাদের সুপেয় পানির পরিবর্তে শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করান এবং তলোয়ারের মাধ্যমে তিক্ততা পান করান। তাদের অনেককে তিনি হত্যা করেন এবং বাকিরা পরাজিত বা বন্দী হয়। দাউদ পাশা সংক্রান্ত দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি বলেন: একাধিক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, ফারেস আল-জারবার পুত্র সাফুক শাহজাদার বাহিনীর ওপর আক্রমণ করেছিলেন। তিনি তার গোত্রের অশ্বারোহীদের নিয়ে দিয়ালা নদী পার হন এবং শাহজাদার বাহিনীর মুখোমুখি হন। তাকে দেখে শত্রুপক্ষের অশ্বারোহীরা আক্রমণ করে, তিনি তাদের প্রলুব্ধ করে দিয়ালা নদী পার করে দূরে নিয়ে আসেন। এরপর তিনি, তার গোত্র এবং রুমী বাহিনী তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এতে পারস্যের অশ্বারোহীরা পিঠ দেখিয়ে পালায় এবং শম্মার গোত্রের অশ্বারোহীরা তাদের পিছু ধাওয়া করে। তারা যাদের নাগাল পায় তাদের হত্যা করে এবং তাদের ঘোড়া ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নিয়ে ফিরে আসে—সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহর জন্য। একাধিক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, এটি তুর্কী ঐতিহাসিক বর্ণিত সেই আগের ঘটনাটি নয়।
আল-জারবা পরিবারএবং তাদের কিছু বিখ্যাত ব্যক্তি ৪ - তাদের পরিবারসমূহের বর্ণনা এবং তাদের কিছু প্রথিতযশা ব্যক্তিদের উল্লেখ। আব্দুল জব্বার আল-রাবি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قبل تفصيل القول في فروع كل قسم من هذه الأَقسام، نسوق مقدمة عن الأُسرة الشهيرة التي أُلقيت إِليها مقاليد الرئاسة العليا في شَمَّر الجربة. إِن الذين تزعموا هذه العشيرة هم " آل محمد "، وإِذ تكاثروا حتى أَصبحوا جمَاعة بل عشيرة كبيرة، لَمْ نجد بدًّا من ذكر من ينتسب إِلى هذا البيت منذ أَول نشوئه حتى اليوم، منوهين بأَشهر رؤسائهم في الَمْاضي والحاضر: كان أول من رحل من نجد إلى الجزيرة في العراق هو فارس الجربة، فهو إِذن الرئيس الأَول لآل محمد شيوخ شَمَّر في الجزيرة. وقد خلف فارس جمَاعة سُميت باسم آل فارس، واشتهر من هؤلاء صفوق، واشتهر من اولاد صفوق فرحان باشا الَمْشهور، وقد خلف فرحان باشا أَولاداً كثيرين، انقسموا أربعة فروع كل فرع انتسب إلى أُمه " أَي إلى إحدى زوجات فرحان باشا " الأَربع، وهذه الفروع هي: الدرة والجزعة والسرحة والباشات.
الفرع الأول - الدرةويقدر هذا القسم مع مواليهم بخمس مئة بيت، وأَشهرهم آل عبد العزيز، وآل فيصل،وآل شلال، وبرز من آل عبد العزيز فرأَس عشائر شَمَّر كلها الشيخ " عَقِيل الياور بن عبد العزيز بن فرحان باشا " رحمه الله، ولاتزال الرئاسة في عقبه
الفرع الثاني - الجزعة ويقدرون مع مواليهم ب500 بيت أَيضاً، وأَشهرهم العاصي، والجار الله، وآل مجِولْ. وقد عاش العاصي " 120 " عامَا، وصار شيخاً لِشَمَّر كلها ثم آلت الَمْشيخة إِلى ولده الهادي في عهده، وهو على قيد الحياة ثم قتل الهادي، وآلت الَمْشيخة إِلى دهام رئيس عشائر شَمَّر القاطنة في سورية الآن.
الفرع الثالث - السرحةويقدرون مع مواليهم ب100 بيت، وأشهر رؤسائهم مطلق وهايس وثويني وعبد المحسن وسلطان.
الفرع الرابع - الباشاتوسموا باسم الباشات، لأَنهم لَمْ يفارقوا بيت فرحان باشا حتى وفاته، ويقدرون مع مواليهم ب " 50 " بيتاً، ومنازله الآن في الفرحانية قرب بلد " ناحية تابعة لقضاء سامَراً في محافظة بغداد "، وأَشهر رؤسائهم الحُمَيْدي الذي آلت مشيخة شَمر إليه في العهد العثمَاني، ومِيزر وبندر، وقد توفوا، وأَحمد وزيد، وهمَا حيان يرزقان. وهناك غير هؤلاء ينتسبون إلى آل محمد، مثل: آل عمرو: ويقدرون مع مواليهم ب " 300 " بيت، أَبرزهم زيد العمرو. آل زيدان: ويقدرون مع مواليهم ب " 300 " بيت أيضا. آل فهد: ويقدرون مع مواليهم ب " 30 " بيتاً، وأشهرهم سطام الفهد، ولَمْ تعهد إلى أَحد منهم مشيخة شَمَّر.
الشاعر ابن حطاب.
قال أبو عبد الرحمن: ومن آل الجرباء الذين لَمْ يرحلَوْا إلى الجزيرة السعديون وآل سراح بالجوف، منهم آل سلَمْان من آل حبوب من آل سراح. ومن آل سَرَّاح الشاعر غالب بن حَطَّاب، من شعره قوله يخاطب شَرِيْدَة، خادم مضيفه:
لَاواهَنيِ من نط راسَ الفريدهْ
… وشَافَ الطويلُ وْشَافْ خشْمَ الَاضارِعْ
أَخَيْر عندِي منْ مقابَلْ شِرِيْدَهْ
… مْنَاخَى النَّشَامَى عند قَصْر ابن زراع
ووالده هو الذي يعنيه عُبَيد الرشِيْد بقوله:
يامنْ يبَشِّرْ بِيْ خْلَيْفٍ وْحَطَّابْ
… تَبْشير فِرْعَوْنٍ بْمُوْسَى وهَارُوْن
ووجدت في كراسات الشيخ مِنْديل هذه الأَبيات لحطَّاب، وذكر أَنه قالها وهو في سجن ابن رشيد:
يا موفَّقين الخَيْر يا أهل النجايِبْ
… عَسَى السَّعدْ في نحورهنْ حين تمشونْ
مع النَّقيب ادعْوا طريق الركايِبْ
… والعَصر بَاكِر باللَّقايِطْ تحطُّوْن
تلقون ناصِرْ مثْل حُرَّ الجلايِبْ
… مَاكَرْ ولا عُمْرَ الَمْوَاكِر يبُورُونْ
تلقون فِنْجالٍ من الْبُنِّ رَايِبْ
… زَوْدٍ على اللِّيْ بالَمْناسِفْ يِحِطُّوْنْ
لَوْا على من شَافْ هَاكَ الْخَرَايِبْ
… في سَاعَةٍ يَحْضرْ بها كلِّ ملْعَونْ
ومن شعر غالب بن حطاب قصيدة حدثني بها أبو محمد البازعي رحمه الله يقول فيها:
يا الله يا اللي فوقنا معتلِينَّا
… حنَّا ومن يَرْجى ثابك حْذَانَا
حنَّا بْلَيَّا طلبتك مَا بَغَيْنَا
… حِتِّى ايْشْ لَوْجَا زادْنَا مَاهَنَانا
এই শাখাগুলোর প্রতিটি উপশাখার বিস্তারিত আলোচনার আগে, আমরা সেই বিখ্যাত পরিবার সম্পর্কে একটি ভূমিকা তুলে ধরছি যাদের হাতে শাম্মার আল-জারবার সর্বোচ্চ নেতৃত্বের চাবিকাঠি অর্পণ করা হয়েছিল। যারা এই গোত্রের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারা হলেন "আল-মুহাম্মদ"; তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়ে একটি বড় দল এমনকি একটি বিশাল গোত্রে পরিণত হয়েছেন। এই ঘরের সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত যারা এর অন্তর্ভুক্ত তাদের কথা উল্লেখ করা আমরা আবশ্যক মনে করছি, সেই সাথে অতীত ও বর্তমানের তাদের বিখ্যাত প্রধানদের কথাও তুলে ধরা হচ্ছে: নজদ থেকে ইরাকের জাজিরায় যিনি প্রথম হিজরত করেছিলেন তিনি হলেন ফারিস আল-জারবা, তাই তিনি জাজিরায় শাম্মার শেখদের আল-মুহাম্মদ শাখার প্রথম প্রধান। ফারিস একদল উত্তরসূরি রেখে গেছেন যারা আল-ফারিস নামে পরিচিত, তাদের মধ্যে সাফুক প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং সাফুকের সন্তানদের মধ্যে বিখ্যাত ফারহান পাশা প্রসিদ্ধ হন। ফারহান পাশা অনেক সন্তান রেখে গেছেন, তারা চারটি শাখায় বিভক্ত হয়েছে; প্রতিটি শাখা তাদের মায়ের (অর্থাৎ ফারহান পাশার চার স্ত্রীর একজনের) নামে পরিচিত হয়েছে। এই শাখাগুলো হলো: আদ-দুররা, আল-জাজআ, আস-সারহা এবং আল-বাশাত।
প্রথম শাখা - আদ-দুররাএই অংশটি তাদের অনুসারীদের সহ প্রায় পাঁচশ ঘর বলে অনুমান করা হয়। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো আল-আবদুল আজিজ, আল-ফয়সাল এবং আল-শাল্লাল। আল-আবদুল আজিজ পরিবার থেকে শেখ "আকিল আল-ইয়াওয়ার ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে ফারহান পাশা" (রহিমাহুল্লাহ) আত্মপ্রকাশ করেন এবং সমগ্র শাম্মার গোত্রসমূহের নেতৃত্ব দেন। আজও নেতৃত্ব তার বংশধরদের মধ্যেই রয়েছে।
দ্বিতীয় শাখা - আল-জাজআ; তারাও তাদের অনুসারীদের সহ ৫০০ ঘর বলে অনুমান করা হয় এবং তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলেন আল-আসি, আল-জারুল্লাহ এবং আল-মাজওয়াল। আল-আসি ১২০ বছর জীবিত ছিলেন এবং সমগ্র শাম্মারের শেখ হয়েছিলেন, তারপর তার জীবদ্দশায় নেতৃত্ব তার ছেলে আল-হাদির কাছে হস্তান্তরিত হয়। এরপর আল-হাদি নিহত হন এবং নেতৃত্ব বর্তমানে সিরিয়ায় বসবাসকারী শাম্মার গোত্রসমূহের প্রধান দাহামের কাছে চলে যায়।
তৃতীয় শাখা - আস-সারহাতারা তাদের অনুসারীদের সহ ১০০ ঘর বলে অনুমান করা হয় এবং তাদের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রধানরা হলেন মুতলাক, হাযেস, সুওয়াইনি, আবদুল মুহসিন এবং সুলতান।
চতুর্থ শাখা - আল-বাশাততাদের আল-বাশাত নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা ফারহান পাশার মৃত্যু পর্যন্ত তার ঘর ত্যাগ করেনি। তারা তাদের অনুসারীদের সহ ৫০ ঘর বলে অনুমান করা হয়। তাদের বর্তমান আবাসস্থল বাগদাদ প্রদেশের সামারা জেলার অধীনস্থ বালাদ শহরের নিকটবর্তী আল-ফরহানিয়াতে। তাদের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রধানদের মধ্যে রয়েছেন আল-হুমাইদি, যার কাছে উসমানীয় আমলে শাম্মারের নেতৃত্ব এসেছিল, এবং মিজার ও বান্দর—তারা ইন্তেকাল করেছেন; আর আহমদ ও যাইদ—তারা বর্তমানে জীবিত আছেন। এ ছাড়াও আল-মুহাম্মদের সাথে সম্পৃক্ত আরও অনেকে রয়েছেন, যেমন: আল-আমর: তারা তাদের অনুসারীদের সহ ৩০০ ঘর বলে অনুমান করা হয়, যাদের মধ্যে প্রধান হলেন যাইদ আল-আমর। আল-যাইদান: তারাও তাদের অনুসারীদের সহ ৩০০ ঘর বলে অনুমান করা হয়। আল-ফাহাদ: তারা তাদের অনুসারীদের সহ ৩০ ঘর বলে অনুমান করা হয়, তাদের মধ্যে বিখ্যাত হলেন সাত্তাম আল-ফাহাদ, তবে তাদের কাউকেই শাম্মারের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
কবি ইবনে হাত্তাব.
আবু আবদুর রহমান বলেন: আল-জারবা পরিবারের যারা জাজিরায় হিজরত করেননি তাদের মধ্যে আল-সাদউন এবং আল-জাওফের আল-সাররাহ পরিবার অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে আল-সাররাহ পরিবারের আল-হাবুব বংশের আল-সালমান পরিবার অন্যতম। আর আল-সাররাহ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হলেন কবি গালিব বিন হাত্তাব। তার কবিতার মধ্যে একটি হলো যেখানে তিনি তার মেহমানখানার খাদেম শারীদাহ-কে সম্বোধন করে বলেছেন:
হায় আফসোস সেই ব্যক্তির জন্য যে আল-ফারিদাহর চূড়ায় চড়েছে
… আর আল-তাবিল ও আল-আদারি-র উচ্চতা দেখেছে।
শারীদাহর মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে আমার কাছে এটিই উত্তম
… ইবনে জারা-র প্রাসাদের পাশে বীরদের বিশ্রামস্থলে।
এবং তার পিতা সেই ব্যক্তি যাকে উবাইদ আল-রশিদ তার এই উক্তিতে উদ্দেশ্য করেছেন:
ওহে কে আছে যে খুলাইফ এবং হাত্তাবকে সুসংবাদ দেবে
… মুসা এবং হারুনের আগমনে ফেরাউনের পাওয়া সুসংবাদের মতো।
আমি শেখ মানদিলের পাণ্ডুলিপিতে হাত্তাবের এই পংক্তিগুলো পেয়েছি এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে হাত্তাব এটি ইবনে রশিদের কারাগারে থাকাকালীন বলেছিলেন:
হে কল্যাণের তওফিকপ্রাপ্ত হে অভিজাত উষ্ট্রারোহী দল
… তোমাদের যাত্রাপথে সৌভাগ্য যেন তোমাদের সঙ্গী হয়।
নকীবের সাথে সওয়ারিদের পথে দোয়া করো
… আগামীকাল বিকেলে লাকায়িতে তোমরা অবতরণ করবে।
সেখানে তোমরা নাসিরের দেখা পাবে যে একজন স্বাধীন শ্রেষ্ঠ বীরের মতো
… যার অবস্থান সুউচ্চ এবং এমন মর্যাদাবানরা কখনও ব্যর্থ হয় না।
সেখানে তোমরা খাঁটি কফির পেয়ালা পাবে
… যা বড় পাত্রে পরিবেশন করা খাবারের অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়া হয়।
হায় আফসোস সেই ব্যক্তির জন্য যে সেই ধ্বংসাবশেষ দেখেছে
… এমন এক মুহূর্তে যখন সেখানে প্রত্যেক অভিশপ্ত উপস্থিত হয়।
গালিব বিন হাত্তাবের কবিতার মধ্যে একটি কাসিদা আমাকে আবু মুহাম্মদ আল-বাযি’ঈ (রহিমাহুল্লাহ) শুনিয়েছেন, যাতে তিনি বলেন:
হে আল্লাহ, আপনি যিনি আমাদের উপরে সমুন্নত
… আমরা এবং যারা আপনার পুরস্কারের আশা করে তারা সবাই আপনার মুখাপেক্ষী।
আপনার করুণা ভিক্ষা করা ছাড়া আমাদের অন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই
… এমনকি আমাদের কাছে যদি খাদ্য আসেও, তবুও তা আমাদের জন্য তৃপ্তিদায়ক হয় না।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يَا البيْضْ عَدِّنَّ الَمْلاثِمْ علينا
… عدن ملاثمكن ودُوْكنْ لْحَانَا
حِطِّنْ مفاتيلَ الذَّهَبْ في يْدَي
… وتقلدَنْ بسْيُوْفْنَا يانْسَانَا
لاعادْ منْ زَمْلَ الَمْحامِل نشينْا
… وحنَّا علينا حرْدِهِنْ وشْ بَلانَاَ
من عقْب مَانَادَى القبايل وُدِيْنَا
… اليوم لَوْ يَأتي سفيه ودَانَا
ومن عقب مَانَاطَا القبايلْ وُطِيْنَا
… اليومْ بالرجلينْ كِل وَطَانَا
وحدثني أبو محمد البازعي بهذه الأبيات لحطاب:
مَاطِعْتْ شَوْري يومَ انا بالسِّقِفَيةْ
… انْتَ تقول: هْنَا وانا اقولْ هانا
من عقب مَاحِنَّا زَهَاهَا ورِيْفَهْ
… اليوم نَتْنَى مَقْعَد في غدَانَا
ياوَنَّتِى وَنَّةْ مْعِيْدٍ ضعيفةْ
… على ديارٍ خابْرِيْنَهْ ورانَا
لَوْ البكا يَفْرِجْ بكينا " مْنِيْفَةْ "
… الحوطةَ اللِّي شَرَّعوا بَهْ عَدانَا
اليوم تَمْر " الْكَسْبِ " عندي طَريفه
… من عقب مَا ناكل مْذَنِّبِ حْلانَا
أمَا القصيدة التي منها:
تِفِّ على الدّنيا لَوْ بَهْ طربْنَا
… لعادْ فيها عن هوانا نِحيْنَا
فقد نسبها ابن خميس مرة لحطاب، ونسبها مرة لبرغش ابن زيد بن عريعر، ونسبها ابن سيحان لنمر بن عدوان. قال أبو عبد الرحمن: الَمْحقق أنها لابن عريعر، وإنمَا يوجد على وزنها وقافيتها قصيدة لَمْرخان بن دابس - أبو ابن سمحان - الَمْرخان من أهل الجوف يقول فيها:
لاعادْ حِنَّا يوم دَوْرِكْ صبرنا
… وِشْ مِجْزعِكْ مِنْ دَوْرنا يوم جانا
غَرّك زمَان لَلدرَيْعِي غترنا
… بالبوق وِالَاّ بالنَّقا مَا ولانا
حنا ليا ثار الدَّخَنْ وانْتشرنا
… بالْقِنَّبَ الَمْصيْصْ نَمْقِسْ دْلانا
من دُون غَرْسٍ مَا بطَلْعِهْ تِجَرْنَا
… ولا قِيل: صَكَّ البابْ عَمَّنْ نصانا
يا ابو طواري لا تْبَيَّحْ خَبَرْنَا
… عيْبٍ لغاك، وعيب حِنَّا لَغَانَا
حِنَّا لعوراتك ورُمْلكْ سترنا
… وعَيَّتْ على الشِّيْمة سواعِدْ لحانا
ومن شعر غالب بن سراح قوله يرد بها على عبيد العلي الرشيد:
إنْ جيتنا ياعْبَيْد نفتح لك البابْ
… حنَّا نِقِيف وْفِنّ رَبْعِكْ يِخِشُّوْن
الجوف تلقى به خليفٍ وحطابْ
… مَاهم فريق ضعوف عنكم يهجُّونْ
يا عبيْد مَا قصدِك زكاةٍ ونوَّابْ
… هذي بغاضي مَير يا عْبَيْد تَكْمُوْنْ
يا عبيد يوم انّك رفيقٍ لحطَّابْ
… والدَّبْس عند حْسَيْن يِغْرَفِ بْمَاعُوْنْ
مطلق بن محمد الجربامن أبرز أعلامهم في الجزيرة وسوريا مطلق بن محمد بن سالَمْ الجرباء، الذي تزعم من هاجر معه إلى العراق من الشمريين يصحبه أخوه فارس بعد أن قتل أخوه قرينيس بن محمد وابنه مسلط بن مطلق. قال ابن سند بأُسلَوْبه العاطفي نحو هذا البيت الشريف: هذا ومطلق من كرام العرب، عريق النجار شريف النسب، من الشجعان الفرسان، الذين لا يمتري بشجاعتهم إنسان، له مواقف يشهد له فيها السنان والقاضب، ووقائع اعترف له بالبسالة فيها العدو والصاحب، وأمَا كرمه فهو البحر حدث عنه ولا حرج، وأمَا أخلاقه فألطف من الشمول وأذكى من الخزامى من الأرج، وأمَا بيته فكعبة الَمْحتاجين وركن الَمْلتمسين، جمع البسالة والكرم في ردائه، بحيث نادت ألسنة نظرائه: إنه العلَمْ الفرد، والشمري الذي لا يوقف لكرمه على حد، ولقد والله أعجز من بعده من سراة البادية، بمكارم لا توصف إلا بأنها ظاهرة بادية:
يا بَحْرُ لَا تَفْخَرْ بمَدِّكَ واقْصِر
… عَنْ أنْ تُضَارعَ حاتِمِيًّا شَمَّريْ
مَا حلَّ في كَفَّيْهِ مَقْسُوْمٌ على
… كلِّ الأنام غَنِيِّهمْ والَمْقْتِر
مَا ثَمَّ مَاثرةٌ سمتْ إلا روى
… مرفوعها عنه لسانُ الأعْصُر
فَفِنَاؤُهُ مَاوى طَرْيد خائف
… وحِبَاؤهُ مَغْنَى مسيف مُعْسِر
হে গৌরবর্ণা রমণীকুল, আমাদের সামনে থেকে তোমাদের নেকাব সরিয়ে নাও … তোমাদের নেকাব সরাও এবং আমাদের ঘোড়ার লাগাম আমাদের কাছে ফিরিয়ে দাও।
তোমাদের হাতে স্বর্ণের কঙ্কণ পরিধান করো … আর হে আমাদের নারীগণ, তোমরা আমাদের তলোয়ারগুলো অঙ্গে ধারণ করো।
উটবাহী কাফেলা থেকে আমরা আর কিছুই আশা করি না … আমাদের ওপর যখন বিপদ আপতিত হলো, তখন আমাদের আর কী-ই বা করার আছে!
গোত্রগুলোকে আহ্বান করার ও নেতৃত্ব দেওয়ার পর আজ আমরা তুচ্ছ হয়ে গেছি … আজ যদি কোনো নির্বোধও আসে, সে-ও আমাদের অবজ্ঞা করে।
গোত্রগুলোকে পদদলিত করার পর আজ আমরাই পদদলিত হচ্ছি … আজ সব মানুষ আমাদের দুই পায়ে পিষ্ট করছে।
আবু মুহাম্মদ আল-বাজায়ি আমাকে হাত্তাবের এই পংক্তিগুলো বর্ণনা করেছেন:
আমি যখন সাকিফিয়্যাহতে ছিলাম তখন তুমি আমার পরামর্শ শোনোনি … তুমি বলেছিলে 'এখানে', আর আমি বলেছিলাম 'ওখানে'।
আমরা যখন এর শ্রী ও সজীবতা ছিলাম, সেই সময়ের পর … আজ আমরা আমাদের দুপুরের খাবারের অপেক্ষায় বসে থাকি।
আমার দীর্ঘশ্বাস যেন এক দুর্বল বৃদ্ধ উটের আর্তনাদ … সেই জনপদগুলোর জন্য যা আমাদের পেছনে ফেলে এসেছি।
যদি বিলাপ করলে মুক্তি মিলত, তবে আমরা 'মুনিফাহ'-এর জন্য কাঁদতাম … সেই আল-হাওতাহ অঞ্চল, যেখানে আমাদের শত্রুরা বসতি স্থাপন করেছে।
আজ 'আল-কাসব'-এর খেজুর আমার কাছে তুচ্ছ ও বিরল মনে হয় … অথচ একসময় আমরা আমাদের বাগানের সর্বোত্তম পরিপক্ক খেজুর খেতাম।
আর সেই কবিতাটি যার অংশ বিশেষ হলো:
ধিক এই পৃথিবীর প্রতি, যদিও এতে আমাদের আনন্দ ছিল … কারণ এখন আমরা আমাদের আকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে সরে গেছি।
ইবনে খামিস এটি একবার হাত্তাবের দিকে নিসবত করেছেন, আবার একবার বারগাশ ইবনে যায়েদ ইবনে উরাইইরের দিকে নিসবত করেছেন। আবার ইবনে সাইহান একে নিমর ইবনে আদওয়ানের কাব্য বলে উল্লেখ করেছেন। আবু আবদুর রহমান বলেন: প্রকৃত বিষয় হলো এটি ইবনে উরাইইরের কবিতা। তবে এর ওজন ও অন্ত্যমিলে মারখান ইবনে দাবিস—যিনি ইবনে সামহানের পিতা—তার একটি কবিতা রয়েছে। মারখান জাওফ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন, তিনি তাতে বলেন:
তোমার দুর্দিনে আমরা যখন ধৈর্য ধরেছিলাম, তখন আর আমাদের ফিরে আসার প্রয়োজন নেই … আমাদের সুদিন যখন এলো, তখন তুমি কেন বিচলিত হলে?
সেই সময় তোমাকে বিভ্রান্ত করেছিল যখন আমরা আদ-দুরাইয়ির থেকে গাফেল ছিলাম … বিশ্বাসঘাতকতা বা সম্মুখ সমরে সে আমাদের জয় করতে পারেনি।
যখন যুদ্ধক্ষেত্রে ধোঁয়া উড়ত এবং আমরা ছড়িয়ে পড়তাম … তখন আমরা আমাদের মজবুত রশি দিয়ে বালতি টেনে পানি তুলতাম।
এমন কোনো বৃক্ষ নেই যার ফল দিয়ে আমরা ব্যবসা করিনি … আর কখনও বলা হয়নি যে, আমাদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীর জন্য দরজা বন্ধ করা হয়েছে।
হে আবু তাওয়ারি, আমাদের গোপনীয়তা ফাঁস করো না … তোমার আজেবাজে কথা বলা যেমন দোষের, আমাদের পক্ষেও তা শোভা পায় না।
আমরা তোমাদের সম্মান ও বিধবাদের পর্দা রক্ষা করেছি … কিন্তু আমাদের পৌরুষ ও মর্যাদা অবমাননা সইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
গালিব ইবনে সাররাহ-এর কবিতা থেকে কিছু অংশ, যা তিনি উবাইদ আল-আলি আল-রশিদের উত্তরে বলেছিলেন:
হে উবাইদ, তুমি যদি আমাদের কাছে আসো, তবে আমরা তোমার জন্য দরজা খুলে দেব … আমরা অটল থাকি, অথচ তোমার সঙ্গীরা আত্মগোপন করে।
আল-জাওফ অঞ্চলে তুমি খালিফ ও হাত্তাবকে পাবে … তারা কোনো দুর্বল দল নয় যে তোমাদের ভয়ে পালিয়ে যাবে।
হে উবাইদ, তোমার উদ্দেশ্য জাকাত বা প্রতিনিধি পাঠানো নয় … বরং হে উবাইদ, তোমরা তোমাদের মনের বিদ্বেষ গোপন করে রেখেছ।
হে উবাইদ, যখন তুমি হাত্তাবের বন্ধু ছিলে … আর হুসাইনের কাছে পাত্র ভরে খেজুরের গুড় পরিবেশন করা হতো।
মুতলাক ইবনে মুহাম্মদ আল-জারবাআরব উপদ্বীপ ও সিরিয়ায় তাদের অন্যতম প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব ছিলেন মুতলাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালেম আল-জারবা। তিনি শাম্মার গোত্রীয়দের নেতৃত্ব দিয়ে ইরাকে হিজরত করেছিলেন। তার ভাই কারিনিস ইবনে মুহাম্মদ এবং তার পুত্র মুসাল্লাত ইবনে মুতলাক নিহত হওয়ার পর তার আরেক ভাই ফারিস তার সঙ্গী হন। ইবনে সানাদ এই মহৎ ব্যক্তিত্বের প্রতি তার আবেগপূর্ণ শৈলীতে বলেছেন: "তিনি এবং মুতলাক আরবের অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, উচ্চবংশীয় ও অভিজাত। তিনি ছিলেন সেই সাহসী বীরদের একজন, যাদের বীরত্ব নিয়ে কোনো মানুষই সন্দেহ পোষণ করে না। তার এমন সব রণকৌশল রয়েছে যার সাক্ষী হলো বর্শা ও তলোয়ার। শত্রু-মিত্র সকলেই তার সাহসিকতার কথা স্বীকার করেছে। আর তার দানশীলতার কথা যদি বলতে হয়, তবে তা এক বিশাল সমুদ্র, যার কোনো কূলকিনারা নেই। তার স্বভাব ছিল বসন্তের সমীরণের চেয়েও স্নিগ্ধ এবং কস্তুরীর সুবাসের চেয়েও সুগন্ধিময়। তার ঘর ছিল অভাবীদের আশ্রয়স্থল এবং প্রার্থীদের মিলনস্থল। তিনি বীরত্ব ও দানশীলতাকে নিজের চাদরে এমনভাবে গুটিয়ে নিয়েছিলেন যে, তার সমসাময়িকরা উচ্চস্বরে বলতে বাধ্য হয়েছিল: তিনি এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, এমন এক শাম্মারি যার দানশীলতার কোনো সীমা নেই। আল্লাহর কসম, তিনি মরুভূমির পরবর্তী প্রজন্মের সরদারদের এমন সব মহানুভবতা দিয়ে অক্ষম করে দিয়েছেন, যা কেবল দৃশ্যমান ও সুস্পষ্ট বলেই বর্ণনা করা যায়:"
হে সমুদ্র, তোমার জোয়ার নিয়ে গর্ব করো না, বরং সংকুচিত হও … এক শাম্মারি হাতেমি (হাতেম তায়ীর ন্যায় দাতা) ব্যক্তির সমকক্ষ হওয়া থেকে।
তার দুই হাত যা কিছু দান করে তা বণ্টন হয়ে যায় … সকল মানুষের মাঝে, চাই সে ধনী হোক বা দরিদ্র।
এমন কোনো মহৎ কীর্তি নেই যা উচ্চমর্যাদায় আসীন হয়নি … যুগ যুগ ধরে মানুষের মুখে তার গুণগান বর্ণিত হয়েছে।
তার আঙিনা হলো ভীত ও বিতাড়িত ব্যক্তির আশ্রয়স্থল … আর তার উপহার হলো নিঃস্ব ও অভাবী ব্যক্তির সম্পদ।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال عن هجرته: ثم دعته الهمة العربية إلى ارتقاء الَمْناصب العلية، فسار من العراق إلى الشام، وتوجه مع أحمد الجزار إلى البيت الحرام، ثم لَمْا قضى نسكه رجع إلى العراق من مكة محارباً بالبنان والسنان، أُلئك الَمْبتدعة لا باللسان، فبقي في بادية العراق مطاعاً أمره، مشاعاً في الأغوار والأنجاد ذكره، لا يضرب مثلٌ إلا بشجاعته وكرمه، ولا يلَوْذ طريدٌ إلا بساحة حرمه، ولا تستمَاح إلا راحتاه، ولا تُقَبَّلُ إلا يمناه، إلى أن أصابه سهم الحمَام ودرج شهيداً إلى دار السلام. ثم نظم ابن سند هذه القصيدة في مدح مُطلق:
بَكَتْهُ الْعَوَالي والرِّقاقُ الصَّفَائِحُ
… لَدُنْ غابَ منه في الضريح الصَّفَائِحُ
بكى أَجَا مِمَا شَجَاهُ ومَاسَلُ
… وضَجَّتْ ضَجيْجاً بالنَّوَاح الصَّحَاصِحُ
لِرُزْءِ امْريٍْ صلْت جُرَازٍ صَلَنْفَح
… صَبُورٍ إذا اشْتَدَّتْ عليهِ الْفَوَادِحُ
صَفوحٌ سَمُوحٌ مُطْلَقُ الْكَفِّ بالنَّدَى
… كأَنَّ يَدَيْهِ لِلْهَباتِ الَمْفَاتِح
أشمُّ عِصامِيٌّ مِنَ النَّفَر الأُلَى
… فَخَارُهُم كالشَّمْسِ أَبْيَضُ واضِح
سيوفٌ، صَنَادِيْدٌ، عِظَامٌ، أمَاثِلٌ
… ثِمَالٌ لَمْعتَرِّ غُيُوْثٌ مَسَامِحُ
لأَ غْزَرهِمْ مدًّا وأَشَّهَرهمْ عُلىً
… وأَكْبَرهمْ قَدْراً أُتِيح الطوائحُ
فَأُوْدِعَ في بطْن الثَّرى مِنْهُ بَاسِلُ
… عزِيْزُ لَدَيْه مَشْرَفُّي وسَابِحُ
فَمَا أَغْمَضَ الْعَيْنَيْنِ يومَا عَلَى قَذًى
… وَلا رامَ إلا مَاتَرُومُ الَّصفَائِحُ
فتىً كَانَ خَوَّاضًا لِكُلِّ كَتِيْبَةٍإِذَا لَمْ يَخُضْ إِلا الْهِزَبْرُ الصُّمَادِحُ
أُتْيِح لهُ سَهْمُ فَأسْكَنَهُ الَّثرَى
… فَهَا كُلُّ قُطْرٍ فِيْه نَاع ونَائِحُ
فكَادتْ بهِ سَلَمْى تُهَدُّ، وَأَوْحَشَتْ
… مَرَاتِعُ في أَكْنَافِهَا وَمَسَارحَ
أَمُطْلَقُ مَا لِلبَدْو بَعْدَك بَهْجَةٌ
… فهَا هُوَ مِنْ فُرْط الِكآبةِ كالِحُ
وَهَا هُوَ لَا قَطْرٌ يُرَادُ، ولَا خِباً
… يُشَاد، ولا خَالٌ من الجُوْدِ سَافحُ
ولا شِيْدَ منْ فَوْقِ الهِضَابِ قِبَابُةُ
… ولا شَمَّ أرواحَ النَّدَى مِنْهُ رائِحُ
لَدُنْ متَّ قَال الْجُوْدُ: هَا أَنَا مَيِّتٌبِمَوْتِ امْريٍْ يَبْكِيْه غَادِ وَرَائِحُ
فَمَا أُسْرجَتْ لَوْلاكَ خَيْلٌ لِغَارَةٍ
… ولا عَشِقَ الأشْعَارَ لَوْلاكَ مَادِحُ
ولَا تَبِعَ الأَظْعَانُ مثلَكَ سَيِّداً
… نَمَتْهُ إلى الْعَلْيَا الكرامُ الْجَحَاجِحُ
ومَا سَرَّ عَيْشٌ بَعْدَ فَقْدِكَ واحِداً
… تَأَثَّفٌهُ لَوْلَا نَدَاك الْجَوائِحُ
فلا قَلْبَ إلَاّ فِيْك مُشْتَعِلُ أسى
… ولا طَرْفَ إِلا فِيْهِ جَار وسَافِحُ
َنَمَاك إلى الْغرُ اَلأكَارِمِ طَّيٌْ
… ضَحُوكُ الَمْحَيَّا هَامِرُ الْكَفِّ مَانِحُ
غَيُوْرُ علىَ الْجَارَاتِ لا َمُتَطَلِّعُ
… عَلَيْهَا وََلا للِّسِّر مِنْهُنَّ فَاضِحُ
فَمِنْكُمْ وَفي أَوْصَافِكُمْ يُرْتجَى النَّدَى الْنعَيِمُ ويُسْتَحْلَى الرِّثَا وَالَمْدَايحُ
إذَا مَا أَجَرْتُمْ بالسُّيُوفِ مُطَرَّداً
… تَجَنَّبُهُ مِمَا تَخَافُ الْجَوَارِحُ
وأَصْبَحَ في ظلِّ مِنَ اْلأمْنِ وَارِفِ
… يُراعِيْهِ سَّيافُ وَرَامٍ وَرَامحُ
كَأَنكُمُ لَلَمْعْتَفُيْنَ غَمَائِمٌ
… تَظَلُّ وَهُنَّ الْغَادِيَاتُ الرَّوَاِئُح
فَمَا زَالَتِ الأَعْرابُ تَرْجُو لُحُوقَكُمْ
… وَمَا كَرِيَاح في النَّسِيمِ الَمْرَاوح
وأَيْنَ مِنََ الْهَامَاتِ في الْفَضْلِ أَرْجُلٌ؟ وَأَيْنَ مِنَ الأَدْلِى الْغُيُوْمُ الدَّوَالِحُ؟
তাঁর হিজরত সম্পর্কে তিনি বলেন: অতঃপর আরবীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁকে উচ্চ মর্যাদায় আরোহণের আহ্বান জানায়, ফলে তিনি ইরাক থেকে সিরিয়ার দিকে যাত্রা করেন এবং আহমদ আল-জায্জারের সাথে বাইতুল হারামের দিকে অগ্রসর হন। অতঃপর যখন তিনি তাঁর হজ্জ ও ইবাদত সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি মক্কা থেকে ইরাকে ফিরে আসেন আঙ্গুলের ডগা এবং বল্লম দিয়ে ঐ সকল বিদআতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে, কেবল জিহ্বা দিয়ে নয়। ফলে তিনি ইরাকের মরুভূমিতে এমনভাবে অবস্থান করেন যে তাঁর আদেশ মান্য করা হতো এবং নিচু ভূমি ও উচ্চ ভূমি—সর্বত্র তাঁর আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছিল। তাঁর সাহসিকতা ও উদারতা ছাড়া অন্য কোনো উদাহরণ দেওয়া হতো না, এবং কোনো বিতাড়িত ব্যক্তি তাঁর চত্বর ছাড়া অন্য কোথাও আশ্রয় গ্রহণ করত না। কেবল তাঁর দুই করতল থেকেই অনুগ্রহ যাচনা করা হতো এবং কেবল তাঁর ডান হাতই চুম্বন করা হতো, যতক্ষণ না মৃত্যুর তীর তাঁকে বিদ্ধ করল এবং তিনি শহীদ হিসেবে জান্নাতের পথে পাড়ি জমালেন। অতঃপর ইবনে সানাদ মুতলাকের প্রশংসায় এই কবিতাটি রচনা করেন:
বর্শা এবং পাতলা সুতীক্ষ্ণ তরবারিগুলো তাঁর জন্য কেঁদেছে
… যখন তাঁর দেহ কবরের ফলকের নিচে অদৃশ্য হয়ে গেল।
আজা পাহাড় তাঁর শোকে কেঁদেছে এবং প্রান্তরগুলো তাঁর বিরহে আর্তনাদ করেছে
… আর বিস্তৃত প্রান্তরগুলো বিলাপের সুরে উচ্চধ্বনি করেছে।
এমন এক ব্যক্তির বিয়োগে যে ছিল অত্যন্ত সাহসী ও সুতীক্ষ্ণ তরবারির মতো
… এবং বিপদে অত্যন্ত ধৈর্যশীল।
তিনি ছিলেন ক্ষমাশীল, দয়ালু এবং দানকার্যে মুক্তহস্ত
… যেন তাঁর দুই হাত ছিল দান-সদকার চাবিকাঠি।
তিনি ছিলেন আত্মমর্যাদাশীল এবং সেই সব দলের অন্তর্ভুক্ত
… যাদের গৌরব সূর্যের মতো উজ্জ্বল ও স্পষ্ট।
তাঁরা ছিলেন তরবারির মতো, নেতা, মহানুভব এবং অগ্রগণ্য
… যাচনাকারীদের জন্য আশ্রয় এবং উদার বৃষ্টির ন্যায়।
তাঁদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে দানশীল এবং উচ্চ মর্যাদায় সবচেয়ে প্রসিদ্ধ
… এবং সম্মানে সবচেয়ে মহান, তাঁর ওপরই ধ্বংসের দুর্যোগ নেমে এলো।
ফলে মাটির অভ্যন্তরে এমন এক বীরকে সমাহিত করা হলো
… যার কাছে মাশরাফি তরবারি ও দ্রুতগামী ঘোড়া প্রিয় ছিল।
তিনি কখনো কোনো অন্যায়ের প্রতি চোখ বুজে থাকেননি
… এবং তরবারি যা লক্ষ্য করে, তিনি কেবল তা-ই লক্ষ্য করতেন।
এমন এক যুবক যিনি প্রতিটি সৈন্যদলে ঝাঁপিয়ে পড়তেন
… যখন কেবল অকুতোভয় সিংহেরাই অগ্রসর হতে সাহসী হতো।
তাঁর দিকে মৃত্যুর তীর নিক্ষিপ্ত হলো যা তাঁকে কবরে শায়িত করল
… এখন প্রতিটি জনপদেই তাঁর জন্য বিলাপকারী ও ক্রন্দনকারী রয়েছে।
তাঁর বিয়োগে সালমা পাহাড় যেন চূর্ণবিচূর্ণ হতে চাইল
… এবং এর চারপাশের চারণভূমি ও বিচরণস্থলগুলো জনশূন্য হয়ে পড়ল।
হে মুতলাক! তোমার পর মরুভূমির আর কোনো সৌন্দর্য অবশিষ্ট নেই
… চরম বিষণ্ণতায় আজ তা মলিন হয়ে গেছে।
এখন সেখানে না আছে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি, না আছে কোনো তাঁবু
… আর না আছে উদারতার কোনো অবিরাম প্রবাহ।
পাহাড়ের চূড়ায় আর কোনো গম্বুজ নির্মিত হয় না
… এবং সুগন্ধময় বাতাসের ঘ্রাণ নেওয়ার মতো কেউ নেই।
তোমার মৃত্যুর পর 'দানশীলতা' বলছে: আমি মৃত
… এমন এক ব্যক্তির মৃত্যুতে যার জন্য দিবা-রাত্রি সকলে ক্রন্দনরত।
তুমি না থাকলে যুদ্ধের জন্য কোনো ঘোড়ায় জিন চড়ানো হতো না
… আর প্রশংসাকারীরাও কবিতাকে এতটা ভালোবাসত না।
কাফেলাগুলো তোমার মতো আর কোনো নেতাকে অনুসরণ করেনি
… যাঁকে শ্রেষ্ঠ সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন।
তোমার বিয়োগের পর জীবন কাউকে আনন্দ দেয়নি
… তোমার দান না থাকলে দুর্যোগ তাকে গ্রাস করত।
এমন কোনো হৃদয় নেই যা দুঃখে জ্বলছে না
… এবং এমন কোনো চোখ নেই যা অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে না।
তোমাকে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন উজ্জ্বল তাই গোত্র থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে
… যাঁরা সদা হাস্যোজ্জ্বল এবং দানশীল।
নারীদের সম্ভ্রম রক্ষায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত আত্মমর্যাদাশীল
… এবং তাঁদের গোপন বিষয় কখনো ফাঁস করতেন না।
তোমাদের মাঝেই এবং তোমাদের গুণাবলীর মধ্যেই প্রত্যাশিত দান এবং সুখ নিহিত
… এবং শোকগাঁথা ও প্রশংসাগুলোও তোমাদের জন্যই শ্রুতিমধুর হয়।
তোমরা যখন তরবারির মাধ্যমে কোনো বিতাড়িতকে আশ্রয় দাও
… তখন সকল ভীতি তাকে বর্জন করে।
সে এক নিরাপদ ছায়াতলে অবস্থান করে
… যেখানে তরবারিবাহক, তীরন্দাজ এবং বল্লমধারী তাকে পাহারা দেয়।
সাহায্যপ্রার্থীদের কাছে তোমরা মেঘের মতো
… যা সকাল-সন্ধ্যায় অবিরাম বর্ষিত হয়।
আরব বেদুইনরা সর্বদা তোমাদের সাথে মিলিত হওয়ার আশা করে
… এবং মৃদু বাতাসের মতো যা সর্বদাই প্রবাহিত হয়।
শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে মাথার উচ্চতার কাছে পায়ের অবস্থান কোথায়? আর দানশীলতার দিক থেকে বৃষ্টির মেঘের কাছে বালতিই বা কী?
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فَلَوْلَاكُمُ لَمْ يُطْرِبِ الْبَدْوُ وَالْفَلاوَلَا طَرِبَتْ لِلْغَزْوِ كُمْتٌ قَوَارِحُ
سَقَى جَدَثَا أَصْبَحْتَ فِيْهِ مِنَ الرِّضَا
… سَحَابٌ مُلِثٌّ مُرْجَحِنُْ وَدَالِحُ
وَلَا زَالَ مِنْكُمْ من يُؤَمُّ فِنَاؤُهُ
… وَيَغْشَاهُ في الْجُلَّى طَرِيْدٌ وَمَادِحُ
قال أبو عبد الرحمن: قتل في حياة مطلق أخوه قرينيس عام 1212 وابنه مسلط عام 1205.
بُنَيَّةَ بن قرينيس الجرباءقال أبو عبد الرحمن: لا أدري متى توفى مطلق، وقد تولى الزعامة بعده أخوه فارس، وقد كبر وكان شيخ " الشداد " وقائد الَمْعارك في عهد فارس ابن أخيه بُنَيَّةَ بن قرينيس ابن محمد. قال ابن سند: وبُنَيَّةَ - بضم الَمْوحدة وفتح النون وتشديد الَمْثناة التحتية وهاء تأنيث - من فرسان العرب وكرمَائهم، وكانت له كَعَمِّهِ فارس أيام الَوْزير علي باشا أُبهة عظيمة وصدارة وبُنَيَّةَ هاذا يكاد يضاهي بالبسالة فارس النعامة، ومحطم ابن الأرقم ذا الغزالة، وأمَا الكرم فهو الغيث بل البحر الخضم وأمَا منع الجار بكل رسوب بتار، فهو منه في الذروة، والناس إنمَا يحذون فيه حذوه، وأمَا غض طرفه عن جاراته، فأمر لا يُطمع فيه بمباراته. وأمَا النسب فهو من بيوتات العرب.
تَنْمِيْهِ للشَّرَفِ الْعَاليِ بَنُو ثُعَلأُسْدُ الشَّرَى وسَرَاةُ الْقَادِة الأُوَلِ
النَّازلَوْنَ مِنَ الْبَيْداءِ فَوْقَ رُبًىًوالشَّائِدُوْنَ بُيُوْتَ الْعِزِّ بِاْلأَسلِ
النَّاحِرُو جُزُرَ اْلأَضْيَافِ نَحْرَهُمُأُسْدُ الْعريْن، بمَا سَلَوْا مِنَ النُّصُل
والَمْانِعُو الْجار باْلأَسْيَافِ لَامِعَةًبَيْنَ الْخَمِيْسَيْن والعَسَّالةِ الذُّبُل
وقال ابن سند: ولَمْا لبُنَيَّةَ من الَمْكارم والشجاعة وارتفاع الصيت وللَمْودة بيني وبينه رثيته ارتجالا ثم ذكر هذه القصيدة:
قَضَى فَلِدَمْعِي في الْخُدُوْدِ سُفُوْحُ
… هِزَبْرٌ عَلَيْهِ الَمْشْرفيٌّ يَنُوحُ
أَغرُّ كَريْمُ النِّسْبَتَيْن مِنَ الأُلَى
… فَخَارُهُمُ كَالنّيِّرَيْن يَلَوْحُ
عَلى مِثْلِهمْ يَبْكِي غَريْبٌ تَطَوَّحَتْ
… بهِ نُوَبٌ مُسْوَدَّةٌ وَبُرُوْحُ
وسارٍ بمَوْمَاةٍ مِنَ الزَّادِ مُقْفِرٌ
… هَدَاهُ إِلَيْهمْ أَنْؤُرٌ وسُرُوْحُ
وَتَبْكِيْهمُ الْحَرْبُ الْعَوَانُ وقَارحُ
… أَقبُّ كَسِرحَان الْفَلَاةِ سَبُوْحَ
كَأَنَّهُمُ لِلْفَضْل في النَّاسِ أَعْيُنٌ
… ولِلَمْجْدِ قَلْبٌ وَالَمْكَارم رُوْحُ
هُمُ الَمْوْقِدُوْنَ النَّار في الْبَدْو، لِلْقِرَىولِلْنَّجْم في لَيْل الشِّتَاءِ جُنُوْحُ
وأَبْيَضَ مِنْهُمْ شَمَّريٌّ بَكَيْتهُ
… نمَاهُ إلَى الأَصْل الأَصِيْل سَمُوْح
وأَرْوَعُ أَمَا جَدُّهُ فَهْوَ حَاتمٌ
… وسَعْدٌ وَأَمَا مَدُّهُ فِسِفًوْحُ
كِأِن النَّدى الطَّبْعِيَّ قَارَنَ رُوْحَهُلَدُنْ قَرّ في الفُلْكِ الَمْكَرَّمُ نُوْحُ
فيا جُوْدَهُمْ إِنْ تَبْكِهمْ تَبْكِ سادةً
… بنَشْرهِمُ بُرْدُ الْفَخَار يَفُوْحُ
وتَبْكِ الأُلَى كَانَتْ بذَوْب نَجيْعِهمْ
… تُدَاوَي قُرُوْحٌ أَعْضَلَتْ وَجُرُوْحُ
فوارس وَصَّاِليْنَ بالْخَطْو بِيْضَهُمْ
… وللأُسْدِ منْ لَمْع السيوف دُنُوْحُ
بَكَيْتُ وَوَاصَلْتُ الْبُكَاءَ سَمَيْدَعاً
… بهِ كُنْتُ أَرْبَابَ الشِّقَاق أَكُوْحُ
بُنَيَّةَ وَالْقَرْم الذِي لَمْ يَزَلْ بهِ
… تَخِبُّ لِدَأْمَاءِ الْحُرُوْب مَرُوْحُ
مَكَرُّ دِمَاءِ الدَّارعِيْنَ كَأَنَّهَا
… غَبُوْقٌ لَهُ في كَرِّهِ وصَبَوْحُ
فقدتُّ بهِ الْبَدْرَ الَّذي غَاضَ مُذْقَضَى
… بحُورٌ لَهَا مِنَ رَاحَتَيْهِ سُفُوْحُ
فَنُحْتُ وأَسْرابُ الدُّمُوْع كَأَنَّهَا
… سحابٌ، وَمَفْجُوْعُ الْكِرَام يَنوْحُ
তোমাদের জন্য না হলে মরুভূমি ও প্রান্তর আনন্দিত হতো না, আর না যুদ্ধের জন্য শক্তিশালী লাল বর্ণের অশ্বগুলো উল্লাস প্রকাশ করত।
সন্তুষ্টির বারিধারা সিক্ত করুক সেই সমাধিকে যাতে তুমি শায়িত আছ... দীর্ঘস্থায়ী, অবিরাম ও বারিভরা মেঘমালা তাকে ছায়াদান করুক।
তোমাদের মধ্যে সর্বদা এমন কেউ বিদ্যমান থাকুক যার আঙিনাকে লক্ষ্য বানিয়ে মানুষ আসে... এবং কঠিন বিপদে বিতাড়িত ও গুণকীর্তনকারীরা তাকে ঘিরে থাকে।
আবু আবদুর রহমান বলেন: মুতলাকের জীবদ্দশায় তাঁর ভাই কুরইনিস ১২১২ হিজরিতে এবং তাঁর পুত্র মুসাল্লাত ১২০৫ হিজরিতে নিহত হন।
বুনাইয়্যাহ ইবনে কুরইনিস আল-জারবাআবু আবদুর রহমান বলেন: মুতলাক কখন মৃত্যুবরণ করেছেন তা আমার জানা নেই। তাঁর পর তাঁর ভাই ফারিস নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বার্ধক্যে পৌঁছেছিলেন এবং তিনি ছিলেন গোত্রীয় প্রধান (শাইখুশ শাদাদ) এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র—মুহাম্মাদের পৌত্র ও কুরইনিসের পুত্র—বুনাইয়্যাহ-এর যুগে যুদ্ধের সেনাপতি। ইবনুল সানাদ বলেন: বু-নাই-য়্যাহ (ব-তে পেশ, নুন-এ জবর, ইয়া-তে তাশদীদ ও যবর এবং শেষে গোল তা) ছিলেন আরবদের অন্যতম বীর ও দানবীর। উজির আলী পাশার সময়ে তাঁর চাচা ফারিসের মতো তাঁরও প্রভূত প্রভাব-প্রতিপত্তি ও উচ্চমর্যাদা ছিল। এই বুনাইয়্যাহ বীরত্বে যেন ‘ফারিসুন নাআমা’ এবং ‘ইবনুল আরকাম’-এর ন্যায় বীরদের সমকক্ষ ছিলেন। আর বদান্যতার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন বৃষ্টিস্নাত মেঘমালা, বরং এক বিশাল সমুদ্র। প্রতিবেশীর সুরক্ষায় তিনি ছিলেন ধারালো তলোয়ারের ন্যায় অটল এবং উচ্চমর্যাদার অধিকারী; মানুষ এক্ষেত্রে তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করত। আর প্রতিবেশী নারীদের প্রতি তাঁর দৃষ্টির সংযম ছিল এমন এক বিষয় যাতে কেউ তাঁর সাথে প্রতিযোগিতার আশা করতে পারত না। আর বংশমর্যাদার দিক থেকে তিনি ছিলেন আরবদের শ্রেষ্ঠ ঘরানার একজন।
সুউচ্চ সম্মানের দিকে তাকে নিয়ে গেছে বানু সুআল... যারা অরণ্যের সিংহ এবং প্রাচীন নেতৃবৃন্দের শিরোমণি।
যারা মরু প্রান্তরের উচ্চভূমিতে অবতরণকারী... এবং তলোয়ারের মাধ্যমে সম্মানের প্রাসাদ বিনির্মাণকারী।
যারা মেহমানদের আপ্যায়নের জন্য উট জবেহকারী... স্বীয় উন্মুক্ত তলোয়ারের মাধ্যমে অরণ্যের সিংহের ন্যায় পরাক্রমশালী।
যারা উজ্জ্বল তলোয়ারের মাধ্যমে প্রতিবেশীকে সুরক্ষা প্রদানকারী... দুই বাহিনীর সংঘাত ও দীর্ঘ বর্শার মাঝে।
ইবনুল সানাদ বলেন: বুনাইয়্যাহ-এর মহৎ গুণাবলি, বীরত্ব ও সুখ্যাতি এবং আমাদের মধ্যকার সুসম্পর্কের কারণে আমি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর শোকগাঁথা রচনা করি। অতঃপর তিনি এই কবিতাটি উল্লেখ করেন:
তিনি বিদায় নিয়েছেন, তাই আমার গাল বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে... এক সিংহ-হৃদয় বীর, যার বিরহে মাশরাফি তলোয়ার রোদন করছে।
দুই কুল থেকেই মহান বংশজাত এবং এমন পূর্বসূরিদের সন্তান... যাদের গৌরব আকাশমন্ডলীর দুই নক্ষত্রের ন্যায় দেদীপ্যমান।
তাঁর মতো বীরের শোকে সেই পরবাসী রোদন করে যার ওপর... কালো বিপদরাজি ও অশুভ সময় পতিত হয়েছে।
সেই পথিক যে জনমানবহীন প্রান্তরে পাথেয়হীন অবস্থায় ছিল... আগুনের আলো ও বিচরণকারী কাফেলা তাকে তাদের দিকে পথ দেখিয়েছে।
তাঁর বিচ্ছেদে শোক প্রকাশ করছে অবিরাম যুদ্ধ এবং সেই শক্তিশালী অশ্ব... যা মরুভূমির নেকড়ের ন্যায় ক্ষিপ্রগতি ও সাবলীল।
তাঁরা যেন মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের চক্ষু... গৌরবের হৃদয় এবং মহৎ গুণাবলির প্রাণ।
তাঁরাই সেই সত্তা যারা আরবে মেহমানদারির জন্য আগুন প্রজ্জ্বলিত করেন... যখন শীতের রাতে নক্ষত্রসমূহ অস্তমিত হয়।
তাঁদের মধ্যকার এক উজ্জ্বল শাম্মারি বীরের জন্য আমি কেঁদেছি... যাকে উদারতা তাঁর সুউচ্চ বংশের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছে।
এক বিস্ময়কর বীর, যাঁর পিতামহ ছিলেন হাতেম ও সা’দ... এবং যাঁর দানশীলতা ছিল প্রবহমান।
যেন জন্মগত দানশীলতা তাঁর রূহের সঙ্গী হয়েছিল... সেই কাল থেকেই যখন মহিমান্বিত নূহ (আ.) কিস্তিতে অবস্থান নিয়েছিলেন।
হে দানশীলতা! তুমি যদি তাঁদের জন্য রোদন করো, তবে এমন নেতাদের জন্যই রোদন করবে... যাঁদের সুবাসে গৌরবের চাদর সুবাসিত হয়।
এবং সেই পূর্বসূরিদের জন্য রোদন করো যাঁদের তপ্ত রক্তধারার মাধ্যমে... সেই ক্ষতসমূহ নিরাময় করা হতো যা ছিল দুঃসাধ্য ও গভীর।
এমন অশ্বারোহী বীর যারা দ্রুত পদে তলোয়ার চালনায় অভ্যস্ত... এবং তলোয়ারের ঝলকানিতে সিংহেরাও মস্তক অবনত করে।
আমি কেঁদেছি এবং অবিরত কাঁদছি সেই মহানায়কের জন্য... যাঁর মাধ্যমে আমি বিবাদ সৃষ্টিকারীদের দমন করতাম।
বুনাইয়্যাহ এবং সেই বীর পুরুষ যার জন্য সর্বদা... যুদ্ধের উত্তাল সমুদ্রে দ্রুতগামী অশ্বগুলো বিচরণ করত।
বর্ম পরিহিত যোদ্ধাদের রক্ত ঝরানো যেন তাঁর রণকৌশলে... সকাল ও সন্ধ্যার পানীয়র ন্যায় ছিল।
আমি তাঁর মাঝে সেই পূর্ণিমাকে হারিয়েছি যা তাঁর চলে যাওয়ার পর অস্তমিত হয়েছে... এমন সমুদ্রসমূহ যার প্রবাহ তাঁর দুই হস্ত হতে উৎসারিত হতো।
আমি বিলাপ করেছি এবং অশ্রুধারা যেন... মেঘমালার মতো প্রবাহিত হচ্ছিল, আর মহৎ ব্যক্তিদের বিরহে শোকার্তরা এভাবেই রোদন করে।
(খণ্ড: ১)
আলু আল-জারবা ফিত তারিখি ওয়াল আদাব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومَا أَنا بالْقَاضِي لَهُ بَعْضَ وُدِّهِوإِنْ دُمْتُ مَا نَاح الحمَامُ أَنُوْحُ
وذكر أنه قتل سنة 1231هـ وأُتي برأسه إلى الَوْزير سعيد. وذكر الَمْارك أن الأشمل هو بُنَيَّةَ الجرباء شقيق مطلق الجرباء وقد ذكر الَمْارك هذا تعليقاً على قول الهربيد: وذكر لي الشيخ منديل الفهيد أن الذي قتل بُنَيَّةَ الرُّوَلَة في مِجْراد عنزة على الجربان أَخْذاً بالثار من سلبة حصة الَمْشهورة. وهي حصة بنت الحُميدي بن هذال. ذلك أن بنيه لَمْا علَمْ بقدوم الرولة أرسل يطلب النجدة من آل سعدون، رغم أن بينه وبين آل سعدون ثارات، فواعدوه يخرج للَمْفاوضة معهم، فخرج آمناً ليس معه غير أربعين فغدروا به. قال أبو عبد الرحمن: ثم وجدت في كراسات منديل مَا ملخصه: " حصلت معركة بين بُنَيَّةَ الجرباء من شيوخ شمر الَمْعروفين والأتراك، بقيادة ناصر الأشقر السعدون أيام الحروب السابقة، قيل: إن بُنَيَّةَ لَمْ يكن معه أحد من قومه أثناء الَمْعركة فعثرت جواده فيه فقتل، وقيل: إنه بُتر رأسه من جثته، فأُحضر في مجلس ابن سعدون، فوضع بمكان مرتفع وعلى مقربة من النار، بقصد بَطَرِ الاستيلاء أو التعجب من شجاعته، وكان يوجد رجلٌ شمريٌّ جارٌ لقوم السعدون، لا أعرف اسمه، إلا أنه فِدَاغيٌّ من سنجارة، فلَمْا شاهد رأس بُنَيَّةَ الجرباء، عرف ملامح وجهه، فتأثر فقام وجلس بالقرب منه، وبدأَ يمشط شواربه بيده أو عصاه ويقول: مَا يستاهل صاحب هذا الَوْجه ذو الهيبة والجاه العظيم. ثم قال أبيات شعر يمتدح بُنَيَّةَ ويغمز فيها ابن سعدون وانصرف إلى بيته. وبعد ذلك قال بعض الحاضرين بالَمْجلس لابن سعدون: هل سمعت كلام الشمري؟ قال: لا فبعث إليه من يحضره، وعندمَا وصل الرسول هناك سئل عنه فقيل: نائم بِالرَّفَّة، وبعد اقترابه منه لإيقاظه وجده ميتاً، وللأسف الشديد لَمْ أعثر على الأبيات التي قالها قبل مغادرته الَمْجلس، بالرغم من بحثي عنها وسؤال الكثير من الرواة، وهذه أبيات من قصيدة قالتها عَبْطاء رثاء لَوْالدها بُنَيَّةَ بعد أن قتل في هذه الَمْعركة تقول فيها:
حمَّع حْباله ثم لَمْهْ وشاله
… وتقنطرت من كثر الاِقْفَا والاقْبَالْ
عزَّات يا ذيب السبايا جفالَهْ
… يا نعم والله يَاهَلَ الخيل خَيَّالْ
يامَا عطَا من كلِّ قُبا سلالَهْ
… سباقة الغارة من الخيل مِشْوَالْ
يامَا شرِبْتو من حَلَاوِي دْلاِلهْ
… وَقْتَ القسا يرخصْ لكم غاليَ الَمْالْ
يامَا نَحَى بالسيف من صَعب قالهْ
… ويامَا لطَمْ من دونكم كلّ منْ عالْ
مَحْد زَرَقْ رمحِه، ولا احْدٍ ثَنى له
… مَا حصل عنده عركةٍ تِسْمِحِ البَالَ
***
والأَشْمَلَ اللِّي من مْنَاهَ التَّراديد
… ومُطلق مطيق بالْغَدِيْرِ الزّلَال
قال أبو عبد الرحمن: إنمَا هو بُنَيَّةَ بن قُرَيْنِيْس، ومُطلق عمه. وبُنَيَّةَ بن قُرَيْنِيْس الجرباء هو الذي أمر بغسل جواد الَوْضَيْحي ثلاث مرات بالصابون، لأنَّ بَصرياًّ الَوْضَيْحي فر عليها هارباً في حرب للجرباء مع الرولة. وبمناسبة قتل بُنَيَّةَ قال شاعر من الصديد من شمر، يفخر بقتل بُنَيَّةَ، ويشير إلى اعتداء آل الجرباء على الصديد:
سرنا من " الشِّمْبلْ " إلى قصر " شَلَاّلْ "
… شهرين، والثالث ذبحنا بُنَيَّةَ
أويْه والله يَاهَل الخيْل خَيَّالْ
… وْعِزِّيْ لعقبه عِزْوَةَ الشَّمَّريَّةْ
هذا جزا اللِّي بَاعْنَا بابنْ هَذَّالْ
… جبنَا دْمَاغِهْ للبواشِي هَدِيَّهْ
وهذا شاعر من البرقع من شمر يسكن في عقدة هو وجمَاعته تحت رحمة أميرها ابن فوزان الدوسري فيقول:
اللِّي يَبِيْ " عُقَدة " ولذْة نمَاها
… يصبر ولَوْ أنَّه معَ الجنب مطعون
ومن لا يَبِيْ " عُقْدة " يفارق جباها
… ينحر " بُنَيَّةَ " مع جموع يعِنُّوْنْ
يعني بُنَيَّةَ بن قرينيس.
صفوق بن فارس الجرباء
আমি তার প্রতি কোনো ভালোবাসার বিচারক নই, কবুতর যতকাল বিলাপ করবে আমিও ততকাল বিলাপ করে যাব।
উল্লিখিত হয়েছে যে, তিনি ১২৩১ হিজরীতে নিহত হন এবং তাঁর মস্তক উজির সাঈদের নিকট আনা হয়। আল-মার্ক উল্লেখ করেছেন যে, 'আল-আশমাল' হলেন বুনাইয়্যা আল-জারবা, যিনি মুতলাক আল-জারবার সহোদর। আল-হিবরীদের উক্তির ওপর টীকা দিতে গিয়ে আল-মার্ক এটি উল্লেখ করেছেন। শাইখ মানদিল আল-ফুহায়িদ আমাকে জানিয়েছেন যে, আনযা গোত্রের 'মিজরাদ' অভিযানে বুনাইয়্যা আল-রুওয়ালা নিহত হন, যা ছিল আল-জারবান গোত্রের পক্ষ থেকে মাশহুরা বিনতে আল-হুমাইদি বিন হাযযালের সম্পদ লুণ্ঠনের প্রতিশোধস্বরূপ। এর কারণ ছিল, বুনাইয়্যা যখন রুওয়ালা গোত্রের আগমনের সংবাদ পান, তখন তিনি আল সা'দুন গোত্রের কাছে সাহায্য চেয়ে পাঠান—যদিও তাঁর সাথে আল সা'দুনদের পুরনো রক্তক্ষয়ী শত্রুতা ছিল। তারা তাঁর সাথে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেয়। তিনি নিরাপদ মনে করে মাত্র চল্লিশ জন সঙ্গী নিয়ে বেরিয়ে আসেন, কিন্তু তারা তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। আবু আব্দুর রহমান বলেন: অতঃপর আমি মানদিল আল-ফুহাইদের পাণ্ডুলিপিতে একটি সারসংক্ষেপ পেয়েছি: "বিগত যুদ্ধগুলোর সময় শামমারের অন্যতম প্রসিদ্ধ শাইখ বুনাইয়্যা আল-জারবা এবং তুর্কিদের মধ্যে এক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন নাসির আল-আশকার আল-সা'দুন। বলা হয় যে, যুদ্ধের সময় বুনাইয়্যার সাথে তাঁর গোত্রের কেউ ছিল না। তাঁর ঘোড়াটি হোঁচট খেলে তিনি পড়ে যান এবং নিহত হন। আরও বলা হয় যে, তাঁর দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল এবং ইবনে সা'দুন-এর মজলিসে আনা হয়েছিল। বিজয়ের দম্ভ অথবা তাঁর বীরত্বে আশ্চর্যান্বিত হয়ে মস্তকটি আগুনের কাছে একটি উঁচু স্থানে রাখা হয়। সেখানে একজন শামমারী লোক ছিলেন যিনি সা'দুন গোত্রের প্রতিবেশী ছিলেন, আমি তাঁর নাম জানি না, তবে তিনি সিনজারা গোত্রের ফিদাগী শাখার লোক ছিলেন। যখন তিনি বুনাইয়্যা আল-জারবার মস্তক দেখলেন, তাঁর চেহারার আদল চিনতে পারলেন। তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে তাঁর মস্তকের কাছে গিয়ে বসলেন এবং নিজের হাত অথবা লাঠি দিয়ে তাঁর গোঁফ আঁচড়ে দিতে দিতে বলতে লাগলেন: এই মর্যাদা ও মহান প্রভাবের অধিকারী চেহারার মালিক এমন পরিণতির যোগ্য নন। অতঃপর তিনি বুনাইয়্যার প্রশংসা করে এবং ইবনে সা'দুনকে ইঙ্গিত করে কিছু কবিতা আবৃত্তি করে নিজ গৃহে চলে গেলেন। এরপর মজলিসে উপস্থিত কেউ ইবনে সা'দুনকে জিজ্ঞাসা করল: আপনি কি ঐ শামমারী লোকটির কথা শুনেছেন? তিনি বললেন: না। তখন তিনি তাকে ডেকে আনার জন্য লোক পাঠালেন। দূত সেখানে গিয়ে তাঁর খোঁজ করলে তাকে বলা হলো: তিনি বারান্দায় ঘুমাচ্ছেন। তাঁকে জাগানোর জন্য কাছে গিয়ে দেখা গেল তিনি মৃত। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, মজলিস ত্যাগ করার আগে তিনি যে কবিতাগুলো আবৃত্তি করেছিলেন, অনেক খোঁজাখুঁজি এবং বর্ণনাকারীদের কাছে জিজ্ঞাসা করা সত্ত্বেও আমি সেগুলো সংগ্রহ করতে পারিনি। নিচে আবতা'র কবিতার কিছু চয়ণ দেওয়া হলো, যা তিনি তাঁর পিতা বুনাইয়্যার মৃত্যুতে শোকগাথা হিসেবে রচনা করেছিলেন:"
তিনি রশিগুলো একত্রিত করে গুটিয়ে নিলেন এবং তুলে ধরলেন
… আর ঘোড়াগুলো ছুটাছুটির আধিক্যে মুখ থুবড়ে পড়ল।
হে বন্দীদের নেকড়ে, তাদের পলায়ন ছিল অত্যন্ত করুণ
… আল্লাহর কসম, অশ্বারোহীদের মধ্যে আপনি কতই না শ্রেষ্ঠ সওয়ার ছিলেন!
তিনি কতই না সুঠাম দেহী দ্রুতগামী ঘোড়া দান করেছেন
… যা আক্রমণের সময় সবার আগে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে যেত।
কতবার আপনারা তাঁর হাতের ঢালা মিষ্ট পানীয় পান করেছেন
… কঠিন সময়ে তিনি আপনাদের জন্য তাঁর মহামূল্যবান সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দিতেন।
তলোয়ারের আঘাতে তিনি কত কঠিন সমস্যার সমাধান করেছেন
… আর আপনাদের রক্ষায় কত অবাধ্য শত্রুকে তিনি প্রতিহত করেছেন।
কেউ তাঁর বল্লম এড়াতে পারেনি এবং কেউ তাঁর সামনে দাঁড়াতে সাহস করেনি
… এমন কোনো যুদ্ধ ছিল না যা তাঁর মনের প্রশান্তি কেড়ে নিতে পারে।
***
আর ঐ আশমাল যার আকাঙ্ক্ষা ছিল বারবার আক্রমণ করা
… আর মুতলাক যে স্বচ্ছ জলাধারের তীরে কঠিন যোদ্ধা ছিল।
আবু আব্দুর রহমান বলেন: তিনি মূলত বুনাইয়্যা বিন কুরাইনিস, আর মুতলাক তাঁর চাচা। এই বুনাইয়্যা বিন কুরাইনিস আল-জারবাই সেই ব্যক্তি, যিনি আল-ওয়াদাইহির ঘোড়াকে তিনবার সাবান দিয়ে ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ বাসরি আল-ওয়াদাইহি রুওয়ালাদের সাথে আল-জারবাদের যুদ্ধের সময় সেই ঘোড়ায় চড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বুনাইয়্যার হত্যার স্মরণে শামমারের সাদীদ গোত্রের একজন কবি বুনাইয়্যার হত্যায় গৌরব প্রকাশ করে এবং সাদীদদের ওপর আল-জারবা গোত্রের অন্যায়ের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন:
আমরা 'শিম্বাল' থেকে 'শালাল' প্রাসাদের দিকে যাত্রা করলাম
… দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার পর তৃতীয় মাসে আমরা বুনাইয়্যাকে হত্যা করলাম।
আল্লাহর কসম, অশ্বারোহীদের মধ্যে তিনি কতই না শ্রেষ্ঠ সওয়ার ছিলেন
… কিন্তু তাঁর পরবর্তী শামমারী বংশধরদের জন্য কেবল আফসোসই রয়ে গেল।
এটি সেই ব্যক্তির প্রতিদান যে ইবনে হাযযালের বদলে আমাদের বিক্রি করে দিয়েছিল
… আজ আমরা উপহার হিসেবে তাঁর মস্তক নিয়ে এসেছি।
শামমারের আল-বুরকা গোত্রের একজন কবি, যিনি তাঁর স্বগোত্রসহ উকদাহ নামক স্থানে এর আমির ইবনে ফাওজান আদ-দাওসারীর আশ্রয়ে বসবাস করতেন, তিনি বলেন:
যে ব্যক্তি 'উকদাহ' এবং এর ফলের স্বাদ পেতে চায়
… তাকে ধৈর্য ধরতে হবে, এমনকি সে যদি পার্শ্বদেশে আঘাতপ্রাপ্তও হয়।
আর যে 'উকদাহ' চায় না এবং এর আঙিনা ত্যাগ করতে চায়
… সে যেন বুনাইয়্যার সেই বাহিনীর মোকাবিলা করতে যায় যারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
এখানে বুনাইয়্যা বিন কুরাইনিসকে বোঝানো হয়েছে।
সাফুক বিন ফারিস আল-জারবা