(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: -)
المنهل العذب الروي (السخاوي)
القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: المنهل العذب الروي في ترجمة قطب الأولياء النووي
المؤلف: شمس الدين أبو الخير محمد بن عبد الرحمن بن محمد السخاوي (ت 902هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 49
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ি (আস-সাখাভি)
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: কুতুবুল আউলিয়া আন-নববির জীবনীতে আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ি
লেখক: শামসুদ্দিন আবুল খায়ের মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আস-সাখাভি (মৃ. ৯০২ হিজরি)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيماللهم صل على سيدنا محمد وآله وسلِّممقدمة المؤلفقال الشيخ الإمام، الحبر الهمام، العالم العلاّمة، البحر الفهامة، حافظ السنة النبوية، وأمين الأخبار المحمدية، شمس الدين أبو الخير محمد السخاوي، الشافعي، رحمه الله تعالى وقدّس روحه، ونوّر ضريحه، آمين: الحمد لله الذي منح رجالاً بسلوكهم المنهاج؛ ذِكْراً به المجالس تُعطّر والقلب يحيى، وفتح بتيسيره لهم أقفالاً زاد بإنفاقهم من كنوزها الابتهاج، فهم في روضة بل في رياض الآخرة والدنيا، وجعل العمدة عليهم في التصحيح والإيضاح، والمفزع في الشدة إليهم في الغدوِّ والرواح، فهم لذلك لا ترخيص عندهم في القيام بالدين، بل قائمون بالتبيان إلى الغاية والتحقيق المتين.أحمده على الإرشاد للاهتمام للسنّة التي فيها بستان العارفين، وأشكره لما اتضح من الأصول والضوابط التي بها قلب كل مسلم ينشرح بيقين، وأستعينه في فهم مجموع المشكلات، وأستهديه سلوك طريق أولي الولايات، وأسأله التوفيق لنشر ما لهم من المكرمات، بالدلائل النيّرات، وأستغفره من الذنوب الخفيات والجليات، وأرجوه في إخلاص الأعمال والنيات.وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له رب الأرضين والسماوات، وأشهد أن سيدنا محمدا عبده ورسوله ذو المعجزات الباهرات، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه والتابعين لهم في الحركات والسكنات، صلاة وسلاماً دائمين في الحياة وبعد الممات.فهذا جزء استوفيت فيه أحوال شيخ الإسلام، وإمام الأئمة الأعلام، قطب الأولياء الكرام، ونادرة الزهاد الوافر في روعة السهام، المجتهد في الصيام والقيام، والقائم بخدمة الملك العلام: محيي الدين النووي رضي الله عنه ورضي عنا به، وبلغ كلامنا في الخير منتهى أربه، التي أفردها خادمه العلامة علاء الدين ابن العطار، مع زيادات جمة ميّزتها بقولي: " قلت: ثم: انتهى "، قصداً للتمييز لا للاستكثار من: نسبه، ونسبته، ومولده ونشأته، وذكر شيوخه، وتصانيفه الدالة على تقدمه ورسوخه، ونبذة من كلام الأئمة فيها، ومن انتدب منهم للتكلم عليها، وما وليه من الوظائف الدينية، ومن علمته أخذ عنه ممن سلكوا الطريق المرضية، وجملة من أوصافه، المصرّحة بولايته وعظيم إنصافه، وكونه من الصادقين، وعموم بركته وانتفاع من يعرفه به في القيامة عند رب العالمين، وزهده وعلمه، وأمره بالمعروف ونهيه عن المنكر بلسانه وقلمه، وظهور كراماته، وتعظيمه لله ورسوله، وتأدبه مع الصالحين في جميع أوقاته، وخدمته بنفسه لشيوخه ومكاشفاته، وتقدمه في الفقه والحديث واللغة والعلوم، وشدة اجتهاده في المطالعة لمنطوق المعلوم والمفهوم، ومداومة سهره وتهجده، وإخلاصه وتعبّده وعدم مجادلته، ورفع صوته في تقريره ومباحثته، وتمام ورعه وتحرّيه في قبول الهدية، وكون المهدى إليه ممن لا يقرأ عليه ولا له معه قضية، وعدم تعاطيه ما يرطِّب بدنه من ثلج وشبهه، وتركه جميع ملاذ الدنيا من أكل ولبس وحمّام وسائر ما يعتمده المرء في تفكهه وكونه لم يجمع بين آدمين مختلفين إلا في النادر، ومداومته على الصوم وظمأ الهواجر، واقتدائه بالسلف الصالحين، إلى غير ذلك مما قلّ أن يجتمع في غيره من المحققين، وإسناده في الفقه وما وقع في تصانيفه عندنا في السند، وثلاثة أحاديث من طريقه المعتمد، وتعيين وقت وفاته، وما يلتحق بجميع ذلك من تتماته، رجاء شمول بركته، وإظهاراً لما عندي من محبته، والله المسؤول أن ينفعنا بذلك ويرشدنا إلى أحسن المسالك، بمنّه وكرمه.نسبه ونسبتهأما نسبه ونسبته، فهو: يحيى بن شرف بن مري بن حسن بن حسين بن محمد بن جمعة بن حزام " بمهملة ثم زاي "، محيي الدين أبو زكريا، ابن الشيخ الزاهد الورع، ولي الله تعالى: أبي يحيى الحزامي، نسبه لجده حزام المذكور. وكان بعض أجداد الشيخ يزعم أنها نسبة لوالد الصحابي حكيم بن حزام رضي الله عنه، قال الشيخ: وهو غلط.النووي: نسبة لنوى، والنسبة إليها بحذف الألف على الأصل، ويجوز كتبها بالألف على العادة.قلت: وبإثباتها وحذفها قرأته بخط الشيخ، لكن قال الشهاب الهائم: إنه بإثباتها خلاف القياس. قال: وأما الألف التي هي بدل من لام الكلمة فلا يجوز حذفها، بل يجب قلبها في النسبة واو، كما في النسبة إلى فتى ونحوه، فيقال: نووي، كما يقال: فتوي، انتهى.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেহে আল্লাহ, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুনলেখকের ভূমিকাশাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, অনন্য সাধারণ আলিম, প্রাজ্ঞ মনীষী, নববী সুন্নাহর হাফিয এবং মুহাম্মাদী সংবাদের আমানতদার, শামসুদ্দীন আবুল খায়ের মুহাম্মাদ আস-সাখাবী আশ-শাফিয়ী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে নূরানি করুন, আমীন) বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কতিপয় ব্যক্তিকে সঠিক পথ অনুসরণের মাধ্যমে এমন এক সুখ্যাতি দান করেছেন যার মাধ্যমে মজলিসসমূহ সুবাসিত হয় এবং অন্তর জীবিত হয়; এবং যিনি তাঁর সহজীকরণের মাধ্যমে তাঁদের জন্য এমন সব দ্বার উন্মোচন করেছেন যার ভাণ্ডার থেকে ব্যয় করার ফলে আনন্দ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। ফলে তাঁরা পরকাল ও ইহকালের উদ্যানে, বরং জান্নাতের বাগিচাসমূহে বিচরণ করছেন। তিনি তাঁদেরকেই সঠিককরণ ও সুস্পষ্টকরণের মূল অবলম্বন এবং সকাল-সন্ধ্যায় কঠিন বিপদের সময় আশ্রয়স্থল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এ কারণে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় তাঁদের কাছে কোনো শিথিলতা নেই, বরং তাঁরা চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত দ্বীনের ব্যাখ্যা প্রদান এবং সুদৃঢ় গবেষণায় লিপ্ত রয়েছেন।আমি তাঁর প্রশংসা করি সুন্নাহর প্রতি মনোনিবেশ করার তাওফিক দানের জন্য, যার মধ্যে রয়েছে আরিফ বা আল্লাহওয়ালাদের উদ্যান। আমি তাঁর শুকরিয়া আদায় করি ঐসব মূলনীতি ও নিয়মাবলি সুস্পষ্ট করার জন্য, যার মাধ্যমে প্রত্যেক মুসলিমের অন্তর একীনের সাথে প্রশান্ত হয়। আমি তাঁর কাছে সকল জটিল বিষয় বোঝার ক্ষেত্রে সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের পথ অনুসরণের জন্য হেদায়েত কামনা করছি। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করছি তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা উজ্জ্বল দলিলের মাধ্যমে প্রচার করার তাওফিক, এবং গোপন ও প্রকাশ্য গুনাহসমূহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি আমার সকল কর্ম ও নিয়তের একনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে তাঁরই আশাপ্রার্থী।আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি যমীন ও আসমানসমূহের রব। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি সুস্পষ্ট মুজিযাসমূহের অধিকারী। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গের ওপর এবং তাঁর সাহাবী ও তাবেয়ীদের ওপর তাঁদের সকল নড়াচড়া ও স্থিরতায় কিয়ামত পর্যন্ত চিরস্থায়ী রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।এটি এমন একটি সংকলন যাতে আমি শাইখুল ইসলাম, প্রখ্যাত ইমামদের ইমাম, সম্মানিত আউলিয়াদের কুতুব, অনন্য জাহিদ, রোজা ও নফল ইবাদতে কঠোর পরিশ্রমী এবং মালিকুল আল্লামের (মহাজ্ঞানী আল্লাহ) ইবাদতে সদাপ্রস্তুত ব্যক্তিত্ব: মহিউদ্দীন আন-নববীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর অসিলায় আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) জীবনের পূর্ণাঙ্গ অবস্থা বর্ণনা করেছি। তাঁর খাদেম আল্লামা আলাউদ্দীন ইবনুল আত্তার এ বিষয়ে যা লিখেছিলেন, আমি তাতে অনেক তথ্য সংযোজন করেছি। আমি আমার সংযোজনগুলোকে কেবল সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং পার্থক্যের উদ্দেশ্যে "আমি বলছি: তারপর: সমাপ্ত" এই বাক্য দিয়ে চিহ্নিত করেছি। এতে রয়েছে: তাঁর বংশ পরিচয়, তাঁর নিসবত (সম্পর্ক), জন্ম ও বেড়ে ওঠা, তাঁর উস্তাদগণের উল্লেখ, তাঁর রচনাবলি যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়, তাঁর সম্পর্কে ইমামদের মন্তব্যের সারসংক্ষেপ, তাঁর কর্মস্থলসমূহ, তাঁর থেকে যারা ইলম হাসিল করেছেন, তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি যা তাঁর বেলায়েত ও ইনসাফের সাক্ষ্য দেয়, তাঁর সত্যবাদিতা, তাঁর বরকত এবং কিয়ামতের দিন রাব্বুল আলামীনের দরবারে তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার বিষয়সমূহ। আরও রয়েছে তাঁর যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা ও ইলম, জবান ও কলমের মাধ্যমে তাঁর সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ, তাঁর কারামতসমূহ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি তাঁর অগাধ সম্মান প্রদর্শন, সর্বদা নেককারদের প্রতি তাঁর আদব, উস্তাদদের সেবা, তাঁর কাশফ বা আধ্যাত্মিক উন্মোচন, ফিকহ, হাদিস, ভাষা ও অন্যান্য জ্ঞানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, পাঠ্য বিষয়ের শব্দার্থ ও অন্তর্নিহিত ভাব উপলব্ধিতে তাঁর কঠোর পরিশ্রম, তাঁর রাত জাগরণ ও তাহাজ্জুদ, তাঁর ইখলাস ও ইবাদত, ঝগড়া-বিবাদ বর্জন, আলোচনার সময় উচ্চবাচ্য না করা, তাঁর পূর্ণ তাকওয়া এবং উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রে অতি সতর্কতা—যাতে দাতা এমন কেউ না হয় যে তাঁর কাছে পড়ে বা যার সাথে তাঁর কোনো স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে। আরও বর্ণিত হয়েছে বরফ বা এ জাতীয় শীতল পানীয় বর্জন করে শরীরের আরাম পরিহার করা, পানাহার, পোশাক, গোসলখানা ও মানুষের প্রমোদ বিনোদনের যাবতীয় উপায়সহ দুনিয়াবি সকল স্বাদ বর্জন করা, কদাচিৎ ব্যতীত কখনো দুই পদের তরকারি একত্রে না খাওয়া, সর্বদা রোজা রাখা এবং গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তৃষ্ণা সহ্য করা, সালাফে সালেহীনদের অনুসরণসহ এমন সব গুণাবলি যা অন্য কোনো গবেষক বা মুহাক্কিকের মাঝে খুব কমই দেখা যায়। এছাড়া রয়েছে ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর সনদ, আমাদের কাছে পৌঁছানো তাঁর কিতাবসমূহের সনদ, তাঁর বর্ণিত তিনটি নির্ভরযোগ্য হাদিস, তাঁর মৃত্যুর সময় নির্ধারণ এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য পরিশিষ্ট বিষয়সমূহ। এসবের উদ্দেশ্য হলো তাঁর বরকত লাভ করা এবং তাঁর প্রতি আমার ভালোবাসা প্রকাশ করা। আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা, তিনি যেন তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় আমাদের এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং সর্বোত্তম পথে পরিচালিত করেন।বংশ ও নিসবততাঁর বংশ ও নিসবত হলো: তিনি হলেন ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ ইবনে মুররি ইবনে হাসান ইবনে হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জুমআ ইবনে হিযাম (হিযাম শব্দটি 'হা' এবং 'যা' দিয়ে)। তিনি মহিউদ্দীন আবু জাকারিয়া, অত্যন্ত জাহিদ ও মুত্তাকী শাইখ, আল্লাহর ওলী আবু ইয়াহইয়া আল-হিযামীর পুত্র। তিনি তাঁর পূর্বপুরুষ হিযামের দিকে সম্বন্ধিত। শাইখের কোনো কোনো পূর্বপুরুষ মনে করতেন যে, এটি সাহাবী হাকিম ইবনে হিযাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পিতার দিকে নিসবত। তবে শাইখ (নববী) বলেছেন: এটি ভুল।নওয়াবী (নববী): এটি 'নওয়া' নামক স্থানের সাথে সম্পর্কিত। মূল নিয়ম অনুযায়ী এর শেষে আলিফ বিলোপ করে নিসবত করা হয়, তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আলিফসহ লেখাও জায়েয আছে।আমি (সাখাবী) বলছি: আমি শাইখের হস্তাক্ষরে আলিফ রাখা এবং না রাখা উভয়ভাবেই লেখা দেখেছি। তবে শিহাব আল-হাইম বলেছেন যে, আলিফ রাখাটা ব্যাকরণিক নিয়মের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, যে আলিফটি শব্দের মূল বর্ণের (লাম কালিমাহ) পরিবর্তে আসে, সেটি বিলোপ করা জায়েয নয়; বরং নিসবতের সময় সেটিকে 'ওয়াও' তে রূপান্তর করা ওয়াজিব, যেমনটি 'ফাতা' শব্দের ক্ষেত্রে 'ফাতাবী' বলা হয়। সে হিসেবে এটি 'নওয়াবী' হবে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২)
ونوى: قاعدة الجولان الآن من أرض حوران من أعمال دمشق، فهو الدمشقي أيضاً، خصوصاً وقد أقام الشيخ بدمشق نحواً من ثمان وعشرين سنة، وابن المبارك رحمه الله يقول: ما أقام ببلد أربع سنين نُسب إليها.وكان حزام " جدُّه الأعلى " نزل الجولان بقرية نوى على عادة العرب، فأقام بها، ورزقه الله تعالى ذرية، إلى أن صار منهم عدد كثير.مولده ونشأتهوأما مولده ونشأته فكان في العشر الأوسط من المحرّم، سنة إحدى وثلاثين وستمائة.قلت: وهذا هو المعتمد، لكن قال الجمال الأسنوي: إنه في العشر الأول. قال اللخمي: وصح عنه أنه قال: لا أجعل في حلٍّ من لقّبني محيي الدين. ونشأ " كما صرح به الحافظ الذهبي في " سير النبلاء " في ستر وخير، انتهى.ولما بلغ من العمر سبع سنين، كان نائماً ليلة السابع والعشرين من رمضان بجانب والده " كما ذكره لي والده " قال: فانتبه نحو نصف الليل وأيقظني وقال: يا أبتى ما هذا الضوء الذي قد ملأ الدار؟ فاستيقظ أهله جميعاً فلم نرى كلّنا شيئاً. قال والده: فعرفت أنها ليلة القدر.وذكر لي وليّ الله الشيخ ياسين بن يوسف المرّاكشي قال: رأيت الشيخ وهو ابن عشر سنين بنوى، والصبيان يكرهونه على اللعب معهم، وهو يهرب منهم ويبكي لإكراههم، ويقرأ القرآن في تلك الحال، قال: فوقع في قلبي محبته، وكان قد جعله أبوه في دكان، فجعل لا يشتغل بالبيع والشراء عن القرآن، قال: فأتيت معلّمه فوصيته به، وقلت له: إنه يرجى أن يكون أعلم أهل زمانه وأزهدهم، وينتفع الناس به، فقال لي: أمنجِّم أنت؟ فقلت: لا، وإنما أنطقني الله بذلك. قال: فذكر المعلّم ذلك لوالده، وحرص عليه إلى أن ختم القرآن وقد ناهز الحلم.قلت: وما هنا أولى من قول الذهبي: أنه بقي يتعيّش في الدكان لأبيه مده، وإن أباه كان دكّانياً بنوى، مع أنه قد لا ينافيه. وقد ذكر " أعني الذهبي " في " تاريخ الإسلام " ياسين هذا، وأشار لما تقدم، فقال: يا سين بن عبد الله المقرئ، الحجّام، الأسود، الصالح، كان له دكان بظاهر باب الجابية، وكان صاحب كشف وكرامات، وقد حج أكثر من عشرين مرة، وبلغ الثمانين. اتفق أنه سنة نيف وأربعين مرّ بقرية نوى، فرأى الشيخ محيي الدين النووي وهو صبي فتفرّس فيه النجابة، واجتمع بأبيه الحاج شرف ووصاه به وحرضه على حفظ القرآن والعلم، فكان الشيخ فيما بعد يخرج إليه ويتأدب معه ويزوره، ويرجو بركته ويستشيره في أموره، توفي في ثالث ربيع الأول سنة سبع وثمانين وستمائة، ودفن في مقبرة باب شرقي رحمه الله. وقد أخبر بموت النووي وقال: أين تختار أن يموت؟ عندكم أو في دمشق؟ ويقال: أنه قتله بالحال لأمر، ثم ندم، انتهى كلام الذهبي. وفيه أيضاً مخالف لكلام ابن العطار، وإن كان يمكن الجمع بينهما بأن الشيخ ياسين بعد أن أخبر المعلّم شافه بذلك والده أيضاً، وأما قوله: ويقال: إنه قتله بالحال فمنكر، وقد استبعده التقي ابن قاضي شهبة حيث قال: وهذا بعيد جداً أن يقع أن مثل النووي يقع منه ما يوجب أن ولي الله يتغير عليه حتى يصل إلى قتله، وبعيد من الولي أيضاً قتل مثل النووي، قال: وإنما هذه " يعني على تقدير الصحة " نزعة شيطانية نعوذ بالله من ذلك، انتهى.انتقاله إلى دمشققال الشيخ: فلما كان عمري تسعة عشر سنة قدم بي والدي في سنة تسع وأربعين إلى دمشق، فسكنت المدرسة الرّواحية.قلت: واستمر بها حتى مات، لم ينتقل منها حتى ولا بعد ولايته الأشرفية، كما قال التاج السَّبكي في " الطبقات الوسطى " قال: وبيته فيها بيت لطيف عجيب الحال. قال اليافعي: وسمعت إنما اختار الإقامة بها على غيرها لحلِّها، انتهى.قال: وبقيت نحو سنتين لا أضع جنبي بالأرض، وأتقوّت بجراية المدرسة لا غير.قلت: بل كان يتصدق منها أيضاْ كما قال اللخمي، قال: ثم ترك تعاطيها، انتهى.وحفظتُ " التنبيه " في نحو أربعة أشهر ونصف.
নাওয়া: বর্তমানে দামেস্কের প্রশাসনিক অঞ্চলের অন্তর্গত হাওরান ভূমির জওলান এলাকার একটি কেন্দ্র। তাই তিনিও একজন দামেস্কী, বিশেষ করে যেহেতু শায়খ দামেস্কে প্রায় আটাশ বছর অবস্থান করেছিলেন। ইবনুল মুবারক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: কোনো ব্যক্তি কোনো জনপদে চার বছর অবস্থান করলে সেখানের নিবাসী হিসেবেই তার সম্বন্ধ করা হয়।তাঁর উচ্চতর পূর্বপুরুষ 'হিযাম' আরবদের প্রথা অনুযায়ী জওলানের নাওয়া গ্রামে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং সেখানেই অবস্থান করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে সন্তান-সন্ততি দান করেন, একসময় তাদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায়।তাঁর জন্ম ও শৈশবতাঁর জন্ম ও শৈশব ছিল ৬৩১ হিজরি সনের মহররম মাসের মধ্য দশকে।আমি বলছি: এটিই নির্ভরযোগ্য মত, তবে জামাল আল-আসনাবী বলেছেন যে এটি প্রথম দশকে ছিল। আল-লাখমি বলেন: তাঁর থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন, "যে ব্যক্তি আমাকে 'মহিউদ্দীন' উপাধিতে ভূষিত করবে, তাকে আমি ক্ষমা করব না।" হাফেজ আয-যাহাবী তাঁর 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' গ্রন্থে যেমনটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন—তিনি পর্দা ও কল্যাণের মাঝে বেড়ে উঠেছেন। সমাপ্ত।যখন তাঁর বয়স সাত বছর পূর্ণ হলো, তিনি রমজানের সাতাশতম রাতে তাঁর পিতার পাশে ঘুমাচ্ছিলেন (যেমনটি তাঁর পিতা আমার কাছে উল্লেখ করেছেন)। পিতা বলেন: তিনি মধ্যরাতের দিকে জেগে উঠলেন এবং আমাকে জাগিয়ে বললেন: "হে আব্বাজান! এই আলো কী যা পুরো ঘরকে আলোকিত করে ফেলেছে?" তখন তাঁর পরিবারের সকলে জেগে উঠল, কিন্তু আমরা কেউ কিছুই দেখতে পেলাম না। তাঁর পিতা বলেন: তখন আমি বুঝতে পারলাম যে এটি ছিল লাইলাতুল কদর।আল্লাহর ওলি শায়খ ইয়াসিন বিন ইউসুফ আল-মাররাকশি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শায়খকে (ইমাম নববীকে) দশ বছর বয়সে নাওয়াতে দেখেছি। বালকরা তাঁকে তাদের সাথে খেলার জন্য বাধ্য করত, আর তিনি তাদের থেকে পালাতেন এবং তাদের জোর করার কারণে কাঁদতেন, আর ওই অবস্থাতেই কুরআন তেলাওয়াত করতেন। তিনি বলেন: তখন তাঁর প্রতি আমার অন্তরে ভালোবাসা জন্মেছিল। তাঁর পিতা তাঁকে একটি দোকানে বসিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যস্ততার মাঝেও কুরআন থেকে বিমুখ হতেন না। তিনি বলেন: আমি তাঁর শিক্ষকের কাছে এসে তাঁর সম্পর্কে অছিয়ত করলাম এবং তাঁকে বললাম: "আশা করা যায় যে তিনি তাঁর সময়ের সবচেয়ে বড় আলেম ও দুনিয়াবিমুখ মানুষ হবেন এবং মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হবে।" তখন শিক্ষক আমাকে বললেন: "আপনি কি কোনো জ্যোতিষী?" আমি বললাম: "না, বরং আল্লাহ আমাকে দিয়ে এটি বলিয়েছেন।" তিনি বলেন: তখন শিক্ষক বিষয়টি তাঁর পিতাকে জানালেন এবং তিনি তাঁর প্রতি যত্নশীল হলেন, এমনকি তিনি সাবালক হওয়ার কাছাকাছি সময়ে কুরআন খতম করলেন।আমি বলছি: এখানে যা বর্ণিত হয়েছে তা যাহাবীর এই উক্তির চেয়ে বেশি অগ্রগণ্য যে—তিনি তাঁর পিতার দোকানে কিছুদিন জীবিকা নির্বাহের কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং তাঁর পিতা নাওয়ার একজন দোকানদার ছিলেন; যদিও এতে কোনো বৈপরীত্য নাও থাকতে পারে। যাহাবী তাঁর 'তারিখুল ইসলাম' গ্রন্থে এই ইয়াসিনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং যা আগে বলা হয়েছে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন: ইয়াসিন বিন আবদুল্লাহ আল-মুকরি, আল-হাজ্জাম, আল-আসওয়াদ, আস-সালিহ। বাবুল জাবিয়ার বাইরে তাঁর একটি দোকান ছিল। তিনি 'কাশফ' ও কারামতের অধিকারী ছিলেন। তিনি বিশবারেরও বেশি হজ করেছেন এবং আশি বছর বয়সে উপনীত হয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে ৬৪০ হিজরি পরবর্তী কোনো এক বছরে তিনি নাওয়া গ্রামে যাচ্ছিলেন। সেখানে তিনি শায়খ মহিউদ্দীন নববীকে বালক অবস্থায় দেখেন এবং তাঁর মাঝে আভিজাত্যের লক্ষণ দেখতে পান। তিনি তাঁর পিতা হাজি শরাফের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর ব্যাপারে অছিয়ত করেন এবং তাঁকে কুরআন মুখস্থ ও ইলম অর্জনে উৎসাহিত করেন। পরবর্তীতে শায়খ (নববী) তাঁর কাছে আসতেন, তাঁর সাথে আদব রক্ষা করতেন, তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁর বরকত প্রত্যাশা করতেন ও নিজের বিষয়ে তাঁর সাথে পরামর্শ করতেন। তিনি ৬৪৭ হিজরির ৩রা রবিউল আউয়াল মৃত্যুবরণ করেন এবং বাব শারক্বী কবরস্থানে সমাহিত হন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। তিনি নববীর মৃত্যুর খবর দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "তিনি কোথায় মৃত্যুবরণ করবেন বলে আপনি পছন্দ করেন? আপনাদের কাছে নাকি দামেস্কে?" বলা হয় যে, তিনি কোনো এক কারণে তৎক্ষণাৎ তাঁকে হত্যা করেছিলেন এবং পরে অনুতপ্ত হন—যাহাবীর কথা এখানেই শেষ। এতে ইবনুল আত্তারের কথার বিপরীত কিছু রয়েছে, যদিও উভয়ের মাঝে এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে—শায়খ ইয়াসিন শিক্ষককে জানানোর পর তাঁর পিতার সাথেও এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলেছিলেন। আর তাঁর এই উক্তি: "বলা হয় যে, তিনি তাঁকে তৎক্ষণাৎ হত্যা করেছিলেন"—এটি একটি আপত্তিকর কথা। তাকী ইবনে ক্বাযী শুহবাহ একে অসম্ভব বলে গণ্য করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "ইমাম নববীর মতো মানুষের ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটা অত্যন্ত সুদূরপরাহত যা আল্লাহর কোনো ওলিকে তাঁর প্রতি রুষ্ট করবে এবং হত্যার পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাবে। আবার কোনো ওলির পক্ষ থেকে নববীর মতো মানুষকে হত্যা করাও অসম্ভব।" তিনি আরও বলেন: "এটি (যদি সঠিকও ধরে নেওয়া হয়) শয়তানি প্ররোচনা ছাড়া আর কিছুই নয়, আমরা এ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।" সমাপ্ত।দামেস্কে গমনশায়খ বলেন: যখন আমার বয়স উনিশ বছর হলো, তখন ৬৪৯ হিজরিতে আমার পিতা আমাকে নিয়ে দামেস্কে আসলেন এবং আমি মাদ্রাসা রাওয়াহিয়্যাহ-তে বসবাস শুরু করলাম।আমি বলছি: তিনি মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেছেন এবং সেখান থেকে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হননি, এমনকি আশরাফিয়্যাহ মাদ্রাসার দায়িত্ব গ্রহণের পরেও নয়। যেমনটি তাজ আল-সুবকী তাঁর 'তাবাকাতুল উসতা' গ্রন্থে বলেছেন। তিনি আরও বলেন: সেখানে তাঁর ঘরটি ছিল অত্যন্ত সাধারণ এবং বিস্ময়কর অবস্থার। আল-ইয়াফেয়ী বলেন: আমি শুনেছি যে তিনি অন্য কোনো জায়গার পরিবর্তে সেখানে থাকাকে পছন্দ করেছিলেন কারণ সেখানকার উপার্জন ছিল সম্পূর্ণ হালাল। সমাপ্ত।তিনি বলেন: আমি প্রায় দুই বছর এমনভাবে কাটিয়েছি যে ঘুমের জন্য আমার পার্শ্বদেশ জমিনে রাখিনি এবং মাদ্রাসার বরাদ্দকৃত খাবার ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতাম না।আমি বলছি: বরং তিনি সেখান থেকেও সদকা করতেন যেমনটি আল-লাখমি বলেছেন। তিনি বলেন: এরপর তিনি তাও গ্রহণ করা ছেড়ে দিয়েছিলেন। সমাপ্ত।আর আমি প্রায় সাড়ে চার মাসে 'আত-তানবীহ' গ্রন্থটি মুখস্থ করেছিলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩)
قلت: وعرضه في سنة خمسين، فقد قرأت بخط العز القاضي أبي عمرو ابن جماعة: وقفت على ورقة بخط الحافظ عفيف الدين أبي السيادة المطري، أنه شاهد على نسخة صاحبه الفقيه الإمام بدر الدين ابن الصائغ الدمشقي الشافعي من كتاب " التنبيه " ما مثاله: الحمد لله كما هو أهله، عرض عليَّ الفقيه أبو زكريا يحيى بن شرف بن مري النووي من أول كتاب " التنبيه " في الفقه هذا وإلى آخر، مواضع امتحنت بها حفظه دلت على ذلك، وأذنت بتكراره عليَّ جميعه وتحصيله وحرصه على العلم، وفقني الله وإياه له وللعمل به، وذلك في مجلس واحد لسبع مضين من شهر ربيع الأول سنة خمسين وستمائة. كتبه محمد بن الحسين بن رزين الشافعي، حامداً مسلماً مستغفراً. وابن رزين هذا هو قاضي القضاة تقي الدين أبو عبد الله، كان ممن أخذ عن ابن الصلاح، ودرّس بالشامية الحسامية، وأمَّ بدار الحديث الأشرفية، ثم ولي قضاء مصر، وكان كبير القدر حميد الذكر، مات بعد الشيخ بأربع سنين، في شهر رجب سنة ثمانين، قال شيخنا في " رفع الإصر " في ترجمته: روى عنه الدمياطي والبدر ابن جماعة، ومن قبلهما الشيخ محيي الدين النووي، انتهى كلام شيخنا. وأخص من هذا أن الشيخ نقل عن ابن رزين في " الأصول والضوابط " انتهى.ثم حفظت ربع العبادات من " المذهّب " في باقي السنة.قلت: وأدرج الذهبي في " تاريخ الإسلام " في كلام ابن العطار هنا ما لم أره في النسخة التي وقفت عليها: إنه قال: وبقيت أكثر من شهرين أو أقل، لمّا قرأت في " التنبيه ": يجب الغسل من إيلاج الحشفة في الفرج، أعتقد أن هذا قرقرة البطن، فكنت أستحم بالماء البارد كلما قرقر بطني، انتهى كلام الذهبي. والظاهر أن الحياء يمنعه السؤال عن ذلك، انتهى.قال: وجعلت أشرح وأصحح على شيخنا الكمال إسحاق المغربي، ولازمته، فأعجب بي لما رأي من ملازمتي للاشتغال وعدم اختلاطي بالناس، وأحبني محبة شديدة، وجعلني معيد الدرس بحلقته لأكثر الجماعة.سفره للحجفلما كانت سنة إحدى وخمسين حججت مع والدي، ارتحلنا من أول رجب، فحصلت الإقامة بالمدينة النبوية نحواً من شهر ونصف شهر، وكانت الوقفة تلك السنة يوم الجمعة.وحكى لي والده أنه من حين توجهنا من نوى أخذت الشيخ حمَّى، فلم تفارقه إلى يوم عرفة، وهو صابر لم يتأوه قط.قلت: وكانت هذه حجة الإسلام، وفي كلام كمال الدَّميري " كما سيأتي " أنه حج مرة أخرى، ويستأنس له بقول العماد ابن كثير في تاريخه: أنه حج في مدة إقامته بدمشق، انتهى.فلما تم الحج " يعني حجة الإسلام " ووصلنا إلى نوى ورجع هو إلى دمشق، صبّ الله عليه العلم صبّا.قلت: لاحت عليه " كما قال الذهبي في سير النبلاء " أمارات النجابة والفهم، انتهى كلام الذهبي، وحفظ في النحو مقدمة الجرجاني، وفي الأصول: " المنتخب "، انتهى.اشتغاله بالعلمولم يزل يشتغل بالعلم ويقتفي آثار شيخه المذكور بالعبادة، من الصلاة وصيام الدهر، والزهد والورع، وعدم إضاعة شيء من أوقاته، لا سيما بعد وفاة شيخه، فإنه زاد في الاشتغال بالعلم والعمل، بحيث ذكر الشيخ لي أنه كان يقرأ كل يوم اثني عشر درساً على المشائخ، شرحاً وتصحيحاً: درسين في " الوسيط "، وثالثاً في " المهذّب "، ودرساً في " الجمع بين الصحيحين "، وخامساً في " صحيح مسلم "، ودرساً في " اللُّمع " لابن جني في النحو، ودرساً في " إصلاح المنطق " لابن السِّكِّيت في اللغة، ودرساً في التصريف، ودرساً في أصول الفقه، تارة في " اللَّمع " لأبي إسحاق، وتارة في " المنتخب " للفخر الرازي، ودرساً في أسماء الرجال، ودرساً في أصول الدين.قال: وكنت أعلق جميع ما يتعلق بها من شرح مُشكِل وإيضاح عبارة وضبط لغة، وبارك الله لي في وقتي واشتغالي، وأعانني عليه.قال: وخطر لي الاشتغال بعلم الطب، فاشتريت " القانون "، وعزمت على الاشتغال فيه، فأظلم علي قلبي، وبقيت أياماً لا أقدر على الاشتغال بشيء، ففكرت في أمري من أين دخل عليّ الداخل؟ فألهمني الله أن الاشتغال بالطب سببه، فبعت في الحال الكتاب المذكور، وأخرجت من بيتي كل ما يتعلق بعلم الطب، فاستنار قلبي ورجع إليّ حالي، وعدت لما كنت عليه أولاً.
আমি বলছি: তিনি তা পঞ্চাশ হিজরি সালে পেশ করেছেন। আমি কাজী আয আবু আমর ইবনুল জামাআ’র হস্তাক্ষরে পড়েছি: আমি হাফিজ আফীফুদ্দীন আবু সিয়াদাহ আল-মাতারীর হস্তাক্ষরে একটি কাগজে দেখেছি যে, তিনি তার সাথী ফকিহ ইমাম বদরুদ্দীন ইবনুল সায়িগ আদ-দিমাশকী আশ-শাফেয়ীর 'আত-তানবিহ' গ্রন্থের একটি অনুলিপিতে নিম্নোক্ত বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এর উপযুক্ত। ফকিহ আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ ইবনে মারি আন-নওয়াবী আমার কাছে 'আত-তানবিহ' গ্রন্থের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন স্থান থেকে হিফজ পেশ করেছেন, যাতে আমি তাকে পরীক্ষা করেছি এবং তার হিফজ এর যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছে। আমি তাকে এটি বারবার আমার কাছে পাঠ করার, আয়ত্ত করার এবং ইলমের প্রতি তার আগ্রহের অনুমতি দিয়েছি। আল্লাহ আমাকে এবং তাকে এর জন্য এবং এর ওপর আমল করার তৌফিক দান করুন। এটি হিজরি ৬৫০ সালের রবিউল আউয়াল মাসের সাত দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এক মজলিসে সম্পন্ন হয়েছে। এটি লিখেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে রাজিন আশ-শাফেয়ী, আল্লাহর প্রশংসা করে, সালাম পেশ করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে।" আর এই ইবনে রাজিন হলেন প্রধান বিচারপতি তাকীউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ, যিনি ইবনুস সালাহ থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তিনি শামিয়্যাহ হুসামিয়্যাহ মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছেন এবং দারুল হাদিস আশরাফিয়্যাহর ইমামতি করেছেন। এরপর তিনি মিসরের বিচারক নিযুক্ত হন। তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান ও সুখ্যাত ছিলেন। তিনি শায়খের ইন্তেকালের চার বছর পর হিজরি ৬৮০ সালের রজব মাসে মারা যান। আমাদের শায়খ তার 'রাফউল ইসর' গ্রন্থে তার জীবনীতে বলেছেন: তার থেকে আদ-দিমইয়াতি, বদর ইবনুল জামাআ এবং তাদের আগে শায়খ মুহিউদ্দীন আন-নওয়াবী বর্ণনা করেছেন। আমাদের শায়খের কথা এখানেই শেষ। এর চেয়েও নির্দিষ্ট বিষয় হলো শায়খ নওয়াবী তার 'আল-উসুল ওয়াল জাওয়াবিত' গ্রন্থে ইবনে রাজিন থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। শেষ।এরপর আমি বছরের অবশিষ্ট সময়ে 'আল-মুযাহহাব' গ্রন্থের ইবাদত অধ্যায়ের এক চতুর্থাংশ মুখস্থ করি।আমি বলছি: আয-যাহাবী তার 'তারিখুল ইসলাম' গ্রন্থে ইবনুল আত্তারের বক্তব্যে এখানে এমন কিছু অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা আমি আমার দেখা পাণ্ডুলিপিতে পাইনি। তিনি বলেছেন: আমি যখন 'আত-তানবিহ' গ্রন্থে পড়লাম যে, 'লজ্জাস্থানে লিঙ্গাগ্র প্রবেশের কারণে গোসল ওয়াজিব হয়', তখন থেকে প্রায় দুই মাস আমি মনে করতাম এটি পেটের গুড়গুড় শব্দ। তাই যখনই আমার পেট গুড়গুড় করত, তখনই আমি ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করতাম। আয-যাহাবীর বক্তব্য শেষ। আর এটা স্পষ্ট যে, লজ্জার কারণে তিনি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে পারেননি। শেষ।তিনি বলেন: আমি আমাদের শায়খ কামাল ইসহাক আল-মাগরিবীর নিকট পাঠ ব্যাখ্যা ও সংশোধন করতে শুরু করলাম এবং তার সংশ্রবে থাকলাম। তিনি ইলমের প্রতি আমার একাগ্রতা এবং মানুষের সাথে মেলামেশা না করা দেখে আমার ওপর মুগ্ধ হলেন। তিনি আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং আমাকে তার পাঠচক্রের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য পাঠ পুনরাবৃত্তি করার দায়িত্ব (মুয়ীদ) প্রদান করেন।তার হজ সফরযখন ৬৫১ হিজরি সাল এলো, আমি আমার পিতার সাথে হজ করলাম। আমরা রজব মাসের শুরুতে রওনা হলাম এবং মদিনা মুনাওয়ারায় প্রায় দেড় মাস অবস্থান করলাম। সে বছর আরাফার দিন ছিল শুক্রবার।তার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, আমরা যখন থেকে 'নওয়া' থেকে রওয়ানা হলাম, তখন থেকেই শায়খের জ্বর শুরু হলো। আরাফার দিন পর্যন্ত সেই জ্বর তাকে ছেড়ে যায়নি, অথচ তিনি ধৈর্য ধারণ করছিলেন এবং কখনও যন্ত্রণায় উফ শব্দ করেননি।আমি বলছি: এটি ছিল ইসলামের ফরয হজ। কামাল আদ-দামিরীর বক্তব্যে (যা সামনে আসবে) উল্লেখ আছে যে, তিনি আরও একবার হজ করেছিলেন। ইমাদ ইবনে কাসীরের ইতিহাসে তার এই বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায় যে, তিনি দামেস্কে অবস্থানকালে হজ করেছিলেন। শেষ।যখন হজ সম্পন্ন হলো (অর্থাৎ ফরয হজ) এবং আমরা নওয়াতে পৌঁছলাম এবং তিনি দামেস্কে ফিরে গেলেন, তখন আল্লাহ তার ওপর ইলমের বারিধারা বর্ষণ করলেন।আমি বলছি: আয-যাহাবী তার 'সিয়ারু আ’লামিন নুবালা' গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন, তার মধ্যে প্রতিভা ও প্রজ্ঞার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠল। আয-যাহাবীর কথা শেষ। তিনি নাহুশাস্ত্রে জুরজানীর 'মুকাদ্দিমাহ' এবং উসুলে 'আল-মুনতাখাব' মুখস্থ করেন। শেষ।ইলম অর্জনে আত্মনিয়োগতিনি সর্বদা ইলম অর্জনে লিপ্ত থাকতেন এবং ইবাদত, নামাজ, সারা বছর রোজা পালন, যুহদ ও তাকওয়া এবং সময়ের অপচয় না করার ক্ষেত্রে তার উল্লিখিত শায়খের পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন। বিশেষ করে তার শায়খের মৃত্যুর পর তিনি ইলম এবং আমলে এতটাই মগ্ন হলেন যে, শায়খ আমাকে জানিয়েছেন তিনি প্রতিদিন উস্তাদদের কাছে ব্যাখ্যা ও সংশোধনসহ বারোটি করে পাঠ নিতেন: দুইটি পাঠ 'আল-ওয়াসিত' গ্রন্থের ওপর, তৃতীয়টি 'আল-মুহাযযাব' এর ওপর, একটি 'আল-জামউ বাইনাস সাহিহাইন' এর ওপর, পঞ্চমটি 'সহিহ মুসলিম' এর ওপর, একটি পাঠ নাহুশাস্ত্রে ইবনে জিন্নি রচিত 'আল-লুমআ' এর ওপর, একটি পাঠ অভিধানশাস্ত্রে ইবনুস সিক্কিত রচিত 'ইসলাহুল মানতিক' এর ওপর, একটি পাঠ তাসরিফ (সরফ) শাস্ত্রে, একটি পাঠ উসুলে ফিকহ শাস্ত্রে—কখনও আবু ইসহাক রচিত 'আল-লুমআ' আবার কখনও ফখর রাযী রচিত 'আল-মুনতাখাব' এর ওপর, একটি পাঠ আসমাউর রিজাল (বর্ণনাকারীদের জীবনী) এবং একটি পাঠ উসুলুদ্দীন (আকীদা) শাস্ত্রে।তিনি বলেন: আমি এই পাঠগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল জটিল বিষয়ের ব্যাখ্যা, বাক্য বিশ্লেষণ এবং শব্দের সঠিক উচ্চারণ লিখে রাখতাম। আল্লাহ আমার সময়ে এবং আমার ব্যস্ততায় বরকত দান করেন এবং আমাকে এতে সাহায্য করেন।তিনি বলেন: আমার মনে চিকিৎসা বিজ্ঞান চর্চার খেয়াল জাগল। তাই আমি 'আল-কানুন' বইটি কিনলাম এবং তা অধ্যয়ন করার সংকল্প করলাম। তখন আমার অন্তর অন্ধকার হয়ে গেল এবং আমি কয়েক দিন কোনো কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারলাম না। আমি আমার নিজের অবস্থা নিয়ে চিন্তা করলাম যে, কোথা থেকে এই বিঘ্ন এলো? তখন আল্লাহ আমার অন্তরে ইলহাম করলেন যে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে লিপ্ত হওয়াই এর কারণ। তৎক্ষণাৎ আমি উল্লিখিত বইটি বিক্রি করে দিলাম এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান সংক্রান্ত যা কিছু আমার ঘরে ছিল সব বের করে দিলাম। ফলে আমার অন্তর আবার আলোকিত হয়ে উঠল এবং আমার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এলো। আমি পুনরায় আমার পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৪)
قلت: فإن قيل: كيف هذا مع ما نُقل " كما روينا " في " مناقب الشافعي " للبيهقي من طريق الربيع بن سليمان سمعت الشافعيُّ رحمه الله يقول: العلم علمان، علم فقه للأديان، وعلم طب للأبدان، ونحوه عن ابن عبد الحكم عن الشافعي، وزاد: وما سوى ذلك فبُلْغة مجلس. ورواه محمد بن يحيى بن حسان عن الشافعي قال: وما سوى ذلك من الشعر ونحوه فهو عناء وتعب؟ فالجواب: إن الذي مدحه الشافعي رحمه الله هو الطب النبوي، أو المجرد عن أصول الفلاسفة التي صرح صاحب " القانون " في أوله بابتناء الطب المورّد في كتابه عليها، وأن الطبيب يتعلم ما يُبنى عليه من العلم الطبيعي، ولذلك اعترى الشيخ رحمه الله بمجرد عزمه على الاشتغال في الكتاب المذكور ما أشار إليه، لما رزقه الله من نور البصيرة، وأبداه له بصلاح السريرة، خصوصاً وإن عنده من الطب المحمود ما يفوق الوصف. على أن أبا بكر بن طاهر سئل عن معنى قول الشافعي، فقال: عند العوامّ أن علم الأديان هو ظاهر الفقه، وعلم الأبدان هو ظاهر الطب، وعند الحكماء أن علم الأديان هو علم مشاهدة القلوب بالمعاملات بصنع الله وتدبيره، وهو الفقه النافع، وعلم الأبدان هو ظاهر أوامر الله تعالى ذكره، ونواهيه في الحلال والحرام، وهو حجة الله على خلقه، وهو الطب النافع، فعلم القلوب هو عين الإسلام وحقائقه، وعلم الأبدان هو آداب الإسلام وشرائعه، وقد قال حرملة بن يحيى: كان الشافعي رحمه الله يتلهف على ما ضيّع المسلمون من الطب، ويقول: ضيعوا ثلث العلم، ووكلوه إلى اليهود والنصارى، انتهى الإيراد وجوابه.وضُرب به المثل في إكبابه على طلب العلم ليلاً ونهاراً، وهَجْرِه النوم إلا عن غلبة، وضبط أوقاته بلزم الدرس أو الكتابة أو المطالعة أو التردد إلى الشيوخ، قاله الذهبي في " سير النبلاء "، انتهى.شيوخه" 1 - في الفقه " وأول شيوخه في الفقه " كما قال رحمه الله " الإمام المتفق على علمه وزهده، وورعه وكثرة عبادته، وعِظم فضله وتميّزه على أشكاله: أبو إبراهيم إسحاق بن أحمد بن عثمان المغربي، ثم المقدسي.قلت: كان معظم انتفاعه عليه.ثم الأمام العارف الزاهد، العابد الورع، المتقن، مفتي دمشق في وقته: أبو محمد عبد الرحمن بن نوح بن محمد بن إبراهيم بن موسى المقدسي، ثم الدمشقي.ثم الإمام المتقن المفتي: أبو حفص عمر بن أسعد بن أبي غالب الرَّبعي، الأربلي. قال ابن العطار: وقد أدركته وحضرت بين يديه، وسمعت عليه جزاء أبي الجهم.ثم الإمام العالم المَجْمَع على إمامته وجلالته، وتقديمه في علم المذهب على أهل عصره بهذه النواحي: أبو الحسن سلاّر بن الحسن، الأربلي، ثم الحلبي، ثم الدمشقي. قال ابن العطار: وقد أدركته أيضاً وحضرت جنازته مه شيخنا.أخذ الشيخ عنهم الفقه قراءة وتصحيحاً وسماعاً، وشرحاً وتعليقاً.قلت: وقال القطب اليونيني: إن الشيخ أول ما قدم دمشق اجتمع بالشيخ جمال الدين عبد الكافي، أظنه ابن عبد الملك بن عبد الكافي، الرَّبعي الدمشقي، خطيب الجامع الأموي وإمامه، وعرّفه رحمه الله مقصده، فأخذه وتوجّه به إلى حلقة الشيخ تاج الدين عبد الرحمن بن إبراهيم بن سباع، الفزاري، عُرف بالفركاح رحمه الله، فقرأ عليه دروساً، وبقي يلازمه مدة، ولم يكن له موضع يأوي إليه، فسأل من التاج موضعاً يسكنه، ولم يكن بيد التاج إذ ذاك من المدارس سوى الصارمية، ولا بيوت لها، فدله على الكمال إسحاق، المغربي بالرَّواحية، فتوجه إليه ولازمه واشتغل عليه، وصار منه ما صار.ونحوه قول التقي ابن قاضي شهبة: ولما قدم النووي من بلده أحضروه ليشتغل عليه " يعني الفزاري " فحمل همه، وبعث به إلى المدرسة الرّواحية ليحصل له بها بيت، ويرتفق بمعلومها. قال: ثم إنه كانت بينهما وحشة كعادة النظراء، قال: وكان النووي أنقل للمذهب، وأكثر محفوظاً منه، انتهى كلام التقي.ولم يذكر " أي التقي " سبب الوحشة التي سبقه الذهبي إلى ذكرها في ترجمة التاج، من " المعجم المختصر "، حيث قال: كان بينه وبين النووي رحمهما الله وحشة كعادة النظراء، انتهى كلام الذهبي.
আমি বলছি: যদি প্রশ্ন করা হয়, বাইহাকির "মানাকিবে শাফিয়ি"-তে রাবি বিন সুলায়মানের সূত্রে যা বর্ণিত হয়েছে—যেখানে আমি শাফিয়ি (রহ.)-কে বলতে শুনেছি: "জ্ঞান দুই প্রকার: দ্বীনের জন্য ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞান এবং শরীরের জন্য চিকিৎসা শাস্ত্রের জ্ঞান"—তার সাথে এর সামঞ্জস্য কীভাবে হবে? অনুরূপ একটি বর্ণনা ইবনুল হাকামের সূত্রে ইমাম শাফিয়ি থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তিনি আরও যোগ করেছেন: "এ ছাড়া বাকি সবকিছু মজলিসের খোশগল্প মাত্র।" মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন হাসান শাফিয়ি থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "এ ছাড়া কবিতা বা অনুরূপ যা আছে তা কেবল কষ্ট ও ক্লান্তি।" এর উত্তর হলো: ইমাম শাফিয়ি (রহ.) যে চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রশংসা করেছেন তা হলো তিব্বে নববী (নববী চিকিৎসা), অথবা সেই চিকিৎসা যা দার্শনিক মূলনীতি থেকে মুক্ত। অথচ "আল-কানুন" গ্রন্থের লেখক (ইবনে সিনা) তাঁর গ্রন্থের শুরুতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর কিতাবে বর্ণিত চিকিৎসা শাস্ত্র ওই দার্শনিক মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং চিকিৎসককে সেই প্রাকৃতিক বিজ্ঞান শিখতে হবে যার ওপর এই চিকিৎসা ভিত্তি করে। এ কারণেই শায়খ (ইমাম নববী রহ.) যখন উক্ত কিতাবটি অধ্যয়নের সংকল্প করেছিলেন, তখন তাঁর মধ্যে সেই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল যা ইতঃপূর্বে ইশারা করা হয়েছে। এটি ছিল আল্লাহ প্রদত্ত অন্তর্দৃষ্টির নূর এবং তাঁর পবিত্র হৃদয়ের স্বচ্ছতার বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে তাঁর কাছে এমন প্রশংসনীয় চিকিৎসা জ্ঞান ছিল যা বর্ণনাতীত। তদুপরি আবু বকর বিন তাহিরকে ইমাম শাফিয়ির উক্ত বাণীর মর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "সাধারণ মানুষের নিকট দ্বীনের জ্ঞান হলো বাহ্যিক ফিকহ এবং শরীরের জ্ঞান হলো বাহ্যিক চিকিৎসা। কিন্তু প্রাজ্ঞজনদের নিকট দ্বীনের জ্ঞান হলো আল্লাহর সৃষ্টি ও পরিচালনা নিয়ে মোয়ামালাতের মাধ্যমে অন্তরের পর্যবেক্ষণ, আর এটিই হলো উপকারী ফিকহ। আর শরীরের জ্ঞান হলো আল্লাহর আদেশ-নিষেধের বাহ্যিক রূপ যা হালাল ও হারামের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর প্রমাণ এবং এটিই হলো উপকারী চিকিৎসা। সুতরাং অন্তরের জ্ঞান হলো ইসলামের মূল নির্যাস ও হাকিকত, আর শরীরের জ্ঞান হলো ইসলামের শিষ্টাচার ও শরিয়ত।" হারমালা বিন ইয়াহইয়া বলেন: ইমাম শাফিয়ি (রহ.) মুসলমানরা চিকিৎসা শাস্ত্র অবহেলা করে হারিয়ে ফেলায় আক্ষেপ করতেন এবং বলতেন: "তারা জ্ঞানের এক-তৃতীয়াংশ হারিয়ে ফেলেছে এবং তা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের হাতে তুলে দিয়েছে।" বর্ণনার উদ্ধৃতি ও তার উত্তর এখানেই শেষ।দিন-রাত জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর একনিষ্ঠতা প্রবাদের মতো আলোচিত হতো। প্রবল ঘুম না চেপে বসলে তিনি ঘুমাতেন না। পাঠ গ্রহণ, লেখালেখি, অধ্যয়ন অথবা শায়খদের কাছে যাতায়াতের মাধ্যমে তিনি তাঁর সময়কে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে কাজে লাগাতেন। এ কথা ইমাম যাহাবি তাঁর "সিয়ারু আলামিন নুবালা" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সমাপ্ত।তাঁর শায়খগণ" ১ - ফিকহ শাস্ত্রে " এবং ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর প্রথম উস্তাদ—যেমনটি তিনি (রহ.) বলেছেন—যাঁর জ্ঞান, দুনিয়াবিমুখতা, পরহেজগারি, অধিক ইবাদত, সুমহান মর্যাদা এবং সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে সবাই একমত: তিনি হলেন আবু ইবরাহিম ইসহাক বিন আহমদ বিন উসমান আল-মাগরিবি, অতঃপর আল-মাকদিসি।আমি বলছি: তাঁর অধিকাংশ শিক্ষা অর্জন তাঁর মাধ্যমেই হয়েছে।অতঃপর ইমাম, আরিফ, যাহেদ, ইবাদতকারী, পরহেজগার ও সুনিপুণ পণ্ডিত, স্বীয় সময়ের দামেস্কের মুফতি: আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান বিন নুহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন মুসা আল-মাকদিসি, অতঃপর আদ-দামেশকি।অতঃপর সুনিপুণ ইমাম ও মুফতি: আবু حفص উমর বিন আসআদ বিন আবি গালিব আর-রাবি আল-আরবালি। ইবনুল আত্তার বলেন: "আমি তাঁকে পেয়েছি এবং তাঁর সামনে উপস্থিত হয়েছি এবং তাঁর কাছ থেকে আবু জাহমের জুয শুনেছি।"অতঃপর সেই ইমাম ও আলেম যাঁর ইমামত ও শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে এবং তৎকালীন সময়ে উক্ত অঞ্চলে মাযহাবের জ্ঞানে অগ্রগণ্য হওয়ার বিষয়ে সবাই একমত ছিলেন: আবু আল-হাসান সালার বিন আল-হাসান আল-আরবালি, অতঃপর আল-হালাবি, অতঃপর আদ-দামেশকি। ইবনুল আত্তার বলেন: "আমি তাঁকে পেয়েছি এবং আমাদের শায়খের সাথে তাঁর জানাজায় উপস্থিত হয়েছি।"শায়খ তাঁদের কাছে পাঠ করে, সংশোধন করিয়ে, শ্রবণ করে এবং ব্যাখ্যা ও টীকা আলোচনার মাধ্যমে ফিকহ শাস্ত্র অর্জন করেছেন।আমি বলছি: কুতুব আল-ইউনিনি বলেছেন: শায়খ যখন প্রথম দামেস্কে আসলেন, তখন শায়খ জামালুদ্দিন আব্দুল কাফির সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। আমার ধারণা তিনি ইবনে আব্দুল মালিক বিন আব্দুল কাফি আর-রাবি আদ-দামেশকি, যিনি উমাইয়া মসজিদের খতিব ও ইমাম ছিলেন। শায়খ (রহ.) তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলেন। তখন তিনি তাঁকে নিয়ে শায়খ তাজউদ্দিন আবদুর রহমান বিন ইবরাহিম বিন সিবাহ আল-ফাজারির হালকায় (শিক্ষা আসর) গেলেন, যিনি 'আল-ফিরকাহ' (রহ.) নামে পরিচিত ছিলেন। শায়খ নববী তাঁর কাছে কিছু পাঠ গ্রহণ করেন এবং কিছুদিন তাঁর সাথে থাকেন। তাঁর থাকার মতো কোনো জায়গা ছিল না, তাই তিনি তাজউদ্দিনের কাছে থাকার জায়গা চাইলেন। সে সময় তাজউদ্দিনের অধীনে 'সারমিয়্যাহ' মাদ্রাসা ছাড়া আর কোনো মাদ্রাসা ছিল না, আর তাতে কোনো আবাসিক কামরা ছিল না। তাই তিনি তাঁকে রাওয়াহিইয়া মাদ্রাসায় কামাল ইসহাক আল-মাগরিবির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি সেখানে গিয়ে তাঁর সাথে যুক্ত হলেন এবং সেখানে অধ্যয়ন করলেন, আর এভাবেই তাঁর সেই অনন্য উচ্চতা অর্জিত হলো।তাকিউদ্দীন ইবনে কাজি শুহবা-ও অনুরূপ বলেছেন: "যখন ইমাম নববী তাঁর নিজ শহর থেকে আসলেন, তখন লোকেরা তাঁকে তাঁর (ফাজারি) কাছে জ্ঞান অর্জনের জন্য নিয়ে আসল। তিনি তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন এবং তাঁকে রাওয়াহিইয়া মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দিলেন যাতে সেখানে তাঁর একটি কামরা জুটে এবং মাদ্রাসার নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে পারেন।" তিনি আরও বলেন: "অতঃপর তাঁদের উভয়ের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব বা মনোমালিন্য ছিল, যা সমসাময়িক সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে সচরাচর হয়ে থাকে।" তিনি বলেন: "ইমাম নববী মাযহাবের মাসআলা বর্ণনায় অধিক পারদর্শী এবং তাঁর মুখস্থ বিষয় ফাজারির চেয়ে বেশি ছিল।" ইবনে কাজি শুহবার বক্তব্য এখানেই শেষ।তিনি (ইবনে কাজি শুহবা) মনোমালিন্যের কারণ উল্লেখ করেননি, তবে ইমাম যাহাবি তাঁর আগে 'আল-মুজাম আল-মুখতাসার' গ্রন্থে তাজউদ্দিনের জীবনীতে তা উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন: "তাঁর এবং ইমাম নববীর (রহ.) মধ্যে কিছুটা মনোমালিন্য ছিল যেমনটি সমসাময়িকদের মধ্যে হয়ে থাকে।" ইমাম যাহাবির বক্তব্য এখানেই শেষ।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৫)
وقد ذكره القطب اليونيني فقال بعد حكاية ما تقدم قريباً: واتفق أن " الظاهر " عندما فتح الفتوحات المشهورة، وغنم الناس الجواري وتسرُّوا بهن، سئل التاج فرخَّص في ذلك، وصنّف جزءاً في إباحة ذلك من غير تخميس، واستدل بأشياء، منها قَسْمُ رسول الله صلى الله عليه وسلم غنائم بدر، " وأنه " أعطى منها من لم يشهدها، وربما فضّل بعض حاضريها على بعض. ثم نقل بعد ذلك في الغنائم أحوالاً مختلفة تُغلَّب على حسب المصلحة. ثم ذكر غزوة حنين وقسم غنائمها، وإنه صلى الله عليه وسلم أكثر لأهل مكة من قريش وغيرهم، حتى أنه يعطي الرجل الواحد مائة ناقة، والآخر ألف شاة، ومعلوم أنه لم يحصل لكل حاضر في هذه الغزاة مثل هذه العدة من الإبل والشياه، ولم يعطي الأنصار شيئاً وكانوا أعظم الكتيبة وجلّ العسكر وأهل النجدة، حتى عتبوا، وهذا حديث صحيح مخرَّج في جميع الأصول المعتمدة في كتب الحديث، وليس في شيء من طرقه: إني إنما نفلت الناس من الخُمس، أو إني قسمت فيكم ما أوجبه قسم الغنيمة وزدت من استألفته من مال المصالح، وكان صلى الله عليه وسلم أعدل الناس في قسم، وأعدلهم في بيان حق، وأحقَّهم في إزالة شبهة، فلما اقتصر على مدح الأنصار بما رزقهم الله من السابقة في الإسلام، وما خصهم به من محبته صلى الله عليه وسلم إياهم، وسلوك فجِّهم دون فجّ غيرهم، ورجوعهم إلى منازلهم به عوضاً عما رجع به غيرهم من الأموال والأنعام، عَلِم كلُّ ذي نظر صحيح أنه عليه السلام فعل في هذه الغنائم ما اقتضاه الحال من المصالح، من عطاء وحرمان، وزيادة ونقصان، ثم لم يعلم بعد هذا الحكم ناسخ ولا ناقض، بل فعل الأئمة بعده ما يؤكده، ثم قال: ولولا خشية الإطالة لتقصينا الآثار الواردة في قسم الغنائم، من الأئمة الراشدين ومن بعدهم، حتى إن المتأمل المتّبع، لو أراد أن يبين غنيمة واحدة قسمت على جميع ما يقال من كتب الفقهاء من النَّفل والرَّضخ والسلب، وكيفية إعطاء الفارس والراجل وتعميم كل حاضر، لم يكد يجد ذلك منقولاً من طريق معتمد. واستدل بأشياء كثيرة.قال القطب: فحصل للناس بقوله قول عظيم، لأن الناس لم يزالوا يغنمون ويستولدون الجواري ويبيعوهن، فيحكم الحكام بصحة بيعهم وشرائهم وإجراء جميع ما يتعلق بهم على حكم الصحة، ولو فتحوا باب وجوب تخميس الغنائم لحرم وطء كل جارية تغنم قبل تخميسها، لأن نكاح الجارية المشتركة حرام، فيؤول ذلك إلى مفاسد كثيرة.فلما وقف الشيخ رضي الله عنه على ذلك نقضه كلمة كلمة، وبالغ في الرد عليه، ونسبه إلى أنه خرق الإجماع في ذلك، وأطلق لسانه وقلمه في هذا المعنى.قال القطب ولا شك أن الذي قاله النووي هو مذهب الشافعي وغيره، إلا أنه لم يعمل به في عصر من الأعصار، ولا قيل: إن غنيمة خمِّست في زمن من الأزمان بعد الصحابة والتابعين، ولولا القول بصحة ذلك لكان الناس كلهم بسبب شرائهم الجواري واستيلادهم أياهن في محرمّ، وسائر على الإيناس قاطبة على ما أفتى به التاج، ولم يعمل أحد بما أفتى به الشيخ.قال: وما كان ينبغي له أن يرد عليه هذا الرد، لعلمه أن بعض العلماء ذهب إليه. قال: وحُكي أن الفتاوى كانت إذا جاءت إلى الشيخ وعليها خط التاج، يمتنع من الكتابة فيها.وذكر القطب بعد ذلك كلاماً فيه بعض تحامل، مع ما أسلفه من أنه كانت مقاصده جميلة، وأفعاله لله تعالى، رحمهم الله أجمعين.وكذا كان التاج المذكور لا يطالع كلام النووي، فمن إنصاف ولده أنه قال: كان بين أبي وبين الشيخ منافسة، ولكني أطالع كلامه وأنتفع به.ولما ترجم العثماني قاضي صفد الشهاب أبا شامة عبد الرحمن بن إسماعيل الدمشقي، قال: وهو من مشائخ الإمام النووي. وما رأيته الآن في كلام غيره، وليس ببعيد، بل هو في كلام التقي السبكي في الجزء الذي أفرده لِمَا علَّق الشافعيُّ الحكم فيه على صحة الحديث." 2 - في الطريق " وأفاد السبكي في " الطبقات الكبرى " أن شيخه في الطريق: الشيخ ياسين المراكشي، الماضي، ويشهد له ما أسلفناه عن الذهبي في ترجمته: أن الشيخ كان يخرج إليه ويتأدب معه ويزوره، ويرجو بركته ويستشيره في أمور." 3 - في القراءات "
কুতুব আল-ইউনিনি তাকে উল্লেখ করেছেন এবং ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা পুনরায় বর্ণনা করার পর বলেছেন: এটি ঘটেছিল যখন 'আয-জাহির' তার প্রসিদ্ধ বিজয়গুলো লাভ করেন এবং মানুষ দাসীদের গনিমত হিসেবে পায় ও তাদের সাথে সহবাস শুরু করে। তখন তাজ-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তার অনুমতি দেন এবং খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) প্রদান না করেই একে বৈধ সাব্যস্ত করার বিষয়ে একটি রিসালা রচনা করেন। তিনি এর সপক্ষে বিভিন্ন দলিল পেশ করেন, যার মধ্যে রয়েছে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক বদরের গনিমত বণ্টন এবং যে তাতে উপস্থিত ছিল না তাকেও তা প্রদান করা এবং কখনো কখনো উপস্থিতদের মধ্যে একজনকে অন্যজনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া। এরপর তিনি গনিমতের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিস্থিতি বর্ণনা করেন যা জনকল্যাণ বা মাসলাহাতের ওপর ভিত্তি করে প্রাধান্য পায়। এরপর তিনি হুনাইনের যুদ্ধ এবং এর গনিমত বণ্টনের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ ও অন্যদের তুলনায় মক্কাবাসীদের অনেক বেশি দান করেছিলেন; এমনকি তিনি একজনকে একশ উট এবং অন্যজনকে এক হাজার ছাগল পর্যন্ত দিয়েছিলেন। এটা নিশ্চিত যে সেই যুদ্ধে উপস্থিত প্রত্যেকে উট ও ছাগলের এরূপ পরিমাণ পায়নি। তিনি আনসারদের কিছুই দেননি, অথচ তারা ছিল বিশাল বাহিনী, সেনাবাহিনীর মূল শক্তি এবং বীরত্বের অধিকারী, এমনকি তারা এজন্য মনে কষ্টও পেয়েছিল। এটি একটি সহিহ হাদিস যা হাদিসের সকল নির্ভরযোগ্য মূল কিতাবে উদ্ধৃত হয়েছে। এর কোনো বর্ণনাতেই এমনটি নেই যে—'আমি মানুষকে কেবল খুমুস থেকেই অতিরিক্ত দিচ্ছি' অথবা 'তোমাদের মধ্যে আমি গনিমতের অংশ বণ্টন করেছি এবং মাসলাহাতের সম্পদ থেকে যাদের অন্তর জয় করা প্রয়োজন তাদের অতিরিক্ত দিয়েছি'। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বণ্টনের ক্ষেত্রে ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক ন্যায়পরায়ণ এবং হক বর্ণনায় সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ, আর সন্দেহ দূরীকরণে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। যখন তিনি আনসারদের প্রশংসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেন যে আল্লাহ তাদের ইসলামে অগ্রগামী হওয়ার তাওফিক দিয়েছেন এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ ভালোবাসা তাদের নসিব হয়েছে এবং অন্যদের পথ ছেড়ে তাদের পথ বেছে নিয়েছেন এবং অন্যদের উট-বকরির বিনিময়ে তারা স্বয়ং রাসুলকে নিয়ে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করেছেন, তখন প্রতিটি সঠিক বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি বুঝতে পারল যে তিনি এই গনিমতের ক্ষেত্রে মাসলাহাতের চাহিদা অনুযায়ী দান ও বঞ্চিত করা এবং হ্রাস-বৃদ্ধির কাজ করেছেন। এরপরে এই বিধানের কোনো রহিতকারী বা খণ্ডনকারী পাওয়া যায়নি। বরং পরবর্তী ইমামগণও তা-ই করেছেন যা একে শক্তিশালী করে। এরপর তিনি বলেন: যদি দীর্ঘ হওয়ার ভয় না থাকত, তবে আমরা খোলাফায়ে রাশেদিন এবং তাদের পরবর্তীদের থেকে গনিমত বণ্টনের বর্ণিত আছারসমূহ বিস্তারিত অনুসন্ধান করতাম। এমনকি কোনো সন্ধিৎসু ব্যক্তি যদি এমন একটি গনিমতের উদাহরণ দিতে চাইতেন যা ফকিহদের কিতাবে বর্ণিত নফল, রদখ, সালব এবং অশ্বারোহী ও পদাতিকের বণ্টনের নিয়ম অনুযায়ী পুরোপুরি বণ্টিত হয়েছে, তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে তা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হতো। এভাবে তিনি আরও অনেক দলিল পেশ করেন।কুতুব বলেন: তার এই বক্তব্যের ফলে মানুষের মধ্যে এক বিশাল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কারণ মানুষ সর্বদা গনিমত লাভ করত, দাসীদের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিত এবং তাদের বিক্রি করত। আর বিচারকগণও তাদের কেনাবেচা এবং সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের বৈধতার ফয়সালা দিতেন। যদি তারা গনিমত বণ্টনের আগে খুমুস বের করার বাধ্যবাধকতার পথ খুলে দিতেন, তবে বণ্টনের পূর্বে প্রতিটি দাসীর সাথে সহবাস হারাম হয়ে যেত। কারণ অংশীদারিত্ব থাকা দাসীর সাথে সহবাস করা হারাম। এর ফলে অনেক অনিষ্টের সৃষ্টি হতো।যখন শায়খ (ইমাম নববী) রাদিয়াল্লাহু আনহু এ সম্পর্কে জানতে পারলেন, তিনি এর প্রতিটি শব্দ খণ্ডন করলেন এবং কঠোরভাবে তার প্রতিবাদ জানালেন। তিনি একে ইজমা বা ঐকমত্য লঙ্ঘনের শামিল বলে অভিহিত করলেন এবং এ বিষয়ে তার জবান ও কলম সক্রিয় করলেন।কুতুব বলেন: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইমাম নববী যা বলেছেন তা শাফেয়ি মাজহাব ও অন্যদের অভিমত। কিন্তু কোনো যুগেই এর ওপর আমল করা হয়নি। সাহাবী ও তাবেয়িদের পরবর্তী কোনো সময়ে গনিমতের খুমুস করা হয়েছে বলে শোনা যায় না। যদি এই সহজ অভিমতকে সঠিক না মানা হতো, তবে সকল মানুষই দাসী ক্রয় ও তাদের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে হারামে লিপ্ত হতো। সকলে তাজের ফতোয়ার ওপরই আমল করে আসছিল এবং শায়খের ফতোয়া অনুযায়ী কেউ আমল করেনি।তিনি আরও বলেন: শায়খের জন্য উচিত ছিল না এমন কঠোরভাবে তার প্রতিবাদ করা, কারণ তিনি জানতেন যে কোনো কোনো আলেম এই মত গ্রহণ করেছেন। বর্ণিত আছে যে, যখন কোনো ফতোয়া শায়খের কাছে আসত এবং তাতে তাজের স্বাক্ষর থাকত, তখন তিনি তাতে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকতেন।কুতুব এরপর এমন কিছু কথা উল্লেখ করেছেন যাতে কিছুটা পক্ষপাতিত্ব ছিল, যদিও তিনি আগেই স্বীকার করেছিলেন যে তাদের উদ্দেশ্য ছিল মহৎ এবং কার্যাবলি ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আল্লাহ তাদের সবার ওপর রহম করুন।তেমনিভাবে উল্লিখিত তাজ-ও ইমাম নববীর কথা পড়তেন না। তবে তার ছেলের ইনসাফপূর্ণ আচরণ ছিল এই যে, তিনি বলেছিলেন: আমার বাবা ও শায়খের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল, কিন্তু আমি শায়খের কিতাবাদি পড়ি এবং তা থেকে উপকৃত হই।সফদের বিচারক আল-উসমানি যখন শিহাব আবু শামা আবদুর রহমান ইবনে ইসমাইল আদ-দিমাশকির জীবনী আলোচনা করেন, তখন বলেন: তিনি ইমাম নববীর উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমি অন্য কারও বক্তব্যে এটি এখন পর্যন্ত দেখিনি, তবে এটি অসম্ভব নয়। বরং তাকিউদ্দিন আস-সুবকি তার সেই রিসালায় এটি উল্লেখ করেছেন যা তিনি সেই সব বিষয়ের ওপর লিখেছেন যেখানে ইমাম শাফেয়ি তার ফয়সালাকে হাদিসের বিশুদ্ধতার ওপর স্থগিত রেখেছিলেন।" ২ - তরিকতের ক্ষেত্রে " আস-সুবকি 'তাবাকাত আল-কুবরা'-তে উল্লেখ করেছেন যে, তরিকতের ক্ষেত্রে তার শায়খ ছিলেন শায়খ ইয়াসিন আল-মাররাকুশি (যিনি পূর্বে গত হয়েছেন)। হাফেজ আয-যাহাবি তার জীবনীতে যা উল্লেখ করেছেন তা এর সত্যতা নিশ্চিত করে যে: শায়খ (নববী) তার কাছে যেতেন, তার সাথে আদব রক্ষা করে চলতেন, তার জিয়ারত করতেন এবং তার বরকত ও বিভিন্ন বিষয়ে তার পরামর্শ কামনা করতেন।" ৩ - কিরাআতের ক্ষেত্রে "
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৬)
ووصفه اللخمي بالعلم بالقراءات السبع، لكن لم يبين عن من أخذها، فيجوز أن يكون عن أبي شامة. مع أني لم أرَ الذَّهبي ولا ابن الجزري، ولا من بينهما، ممن أفرد تراجم القراء، ذكره فيهم، فالله أعلم، انتهى." 4 - في الحديث " وأخذ فقه الحديث عن الشيخ المقق: أبي إسحاق إبراهيم بن عيسى المرادي، الأندلسي، الشافعي شرح عليه " مسلماً "، ومعظم " البخاري "، وجملة مستكثرة من " الجمع بين الصحيحين " للحميدي.وقرأ على الشيخ الحافظ الزين أبي البقاء خالد بن يوسف بن سعد النابلسي: " الكمال في أسماء الرجال "، للحافظ عبد الغني المقدسي، وعلق عليه حواشي، وضبط عنه أشياء حسنة.قلت: وكذا رأيته علق فوائد على " الأنساب " لابن الأثير. ووصف الزين خالداً في ضبط الأسماء واللغات التي بآخر تصنيفه " التبيان "، حيث نقل عنه: أنه كان يختار فتح الراء من أحمد بن أبي الحواري، بأنه كان علاّمة وقته في هذا الفن، مع كمال تحقيقه فيه، وناهيك بهذا من مثل النووي، وفيه أيضاً الكسر، وحكاهما النووي في " باب ما يقول في بُلي بالوسوسة من أذكاره " بالوجهين بدون ترجيح.ولازم " كما قال القاضي عبد القادر في طبقات الحنفية "، الإمام المحث الكبير: الضياء ابن تمام الحنفي، في سماع الحديث وما يتعلق به، قال: وعليه تخرّج وبه انتفع، انتهى.وأخذ عن جماعة من أصحاب الحافظ أبي عمرو بن الصلاح " علوم الحديث " له." 5 - في اللغة والنحو والصرف " وقرأ على الفخر المالكي " اللَّمع " لابن جنّي.وعلى الشيخ أبي العباس أحمد بن سالم المصري، النحوي، اللغوي، التصريفي،: " إصلاح المنطق " لابن السِّكِّيت بحثاً، وكذا كتاباً في التصريف. قال: وكان لي عليه درس، أما في " كتاب سيبويه "، وأما في غيره، الشك مني.وقرأ على شيخنا العلامة الجمال أبي عبد الله محمد بن عبد الله بن مالك الجياني، كتاباً من تصانيفه، وعلق عليه شيئاً.قلت: أظن الكتاب المشار إليه: في النحو، فقد صرح غير واحد أنه أخذ علم النحو عن الجمال بن مالك، وقد ذكر الشيخ الجمال في " شرح المهذّب "، ونقل عنه فيه وفي غيره من تصانيفه، وأثنى عليه ثناء بالغاً، انتهى." 6 - في أصول الفقه " وقرأ على العلامة القاضي أبي الفتح عمر بن بُندار بن عمر بن علي التفليسي، الشافعي: " المنتخب " للفخر الرازي، وقطعة من " المستصفى " للغزالي.وعلى غيره غيرهما من كتب الفن.قلت: وكذا قرأ أكثر " مختصر ابن الحاجب " الأصلي، على قاضي قضاة دمشق: العز أبي المفاخر محمد بن عبد القادر بن عبد الخالق بن الصائغ " كما نقله المزِّي الحافظ عنه " وعبارته: وسمعت شيخنا النووي يقول: ما ولي قضاء دمشق مثل العزّ أبي المفاخر هذا، وكان منصفاً في بحثه ودروسه، قرأت عليه أكثر " مختصر ابن الحاجب "، وكان إذا أتى موضع لا يعرفه يقول: لا أعرف ما أراد بذلك، وتعدّاه إلى غيره، حتى يكشفه ويفكر فيه، انتهى ما نقله عنه المزّي. على أن العزّ ابن الصائغ لم يكن أسنّ من النووي بكثير، فإن مولده في سنة ثمان وعشرين، بل قد رافقه النووي في الأخذ عن بعض شيوخه، حتى أنه كتب له ثبتاً بسماعه لمسند أحمد على الشرف عبد العزيز الأنصاري في سنة ثمان وخمسين، والعزّ إذ ذاك ابن ثلاثين سنة، ووصفه فيه بالمولى الجليل، والسيد النبيل، الشيخ الإمام، الحبر الهمام، الفقيه المحقق، والنظّار المدقق، مجموع أنواع المحاسن. وناهيك بذلك كله من مثل النووي، وقد تأخر العز بعده نحو سبع سنين، انتهى." 7 - في الحديث أيضاً " وسمع الحديث على أبي إسحاق إبراهيم بن علي بن أحمد بن فضل، الواسطي.وأبي العباس أحمد بن عبد الدائم المقدسي.وأبي محمد إسماعيل بن إبراهيم بن أبي اليسر، التنوخي.وأبي البقاء خالد النابلسي.والضياء ابن تمام الحنفي " يعني الماضي ذكرهما ".وأبي محمد عبد الرحمن بن سالم بن يحيى، الأنباري.والشمس أبي الفرج عبد الرحمن بن الشيخ أبي عمر محمد بن أحمد بن قدامة المقدسي، وهو أجلّ شيوخه.وشيخ الشيوخ الشرف أبي محمد عبد العزيز بن أبي عبد الله محمد بن عبد المحسن، الأنصاري.والقاضي عماد الدين أبي الفضائل عبد الكريم بن عبد الصمد بن الحرستاني خطيب دمشق.وأبي الفضل محمد بن محمد بن محمد، البكري، الحافظ.وأبي زكريا يحيى بن أبي الفتح الحرّاني، الصيرفي.وغيرهم.
আল-লাখমি তাকে সাত কিরাত সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি কার কাছ থেকে তা গ্রহণ করেছেন তা উল্লেখ করেননি। সম্ভবত তিনি আবু শামা থেকে তা গ্রহণ করেছেন। যদিও আমি ইমাম আল-জাহাবি, ইবনুল জাজারি কিংবা তাদের মধ্যবর্তী সময়ের কাউকে দেখিনি যারা কিরাত বিশেষজ্ঞদের স্বতন্ত্র জীবনী রচনা করেছেন, সেখানে তার কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন। সমাপ্ত।৪ - হাদিস শাস্ত্রে: তিনি বিজ্ঞ মুহাক্কিক শায়খ আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন ঈসা আল-মুরাদি আল-আন্দালুসি আল-শাফিয়ির কাছ থেকে হাদিসের ফিকহ অর্জন করেন। তিনি তার কাছে 'সহিহ মুসলিম', 'সহিহ বুখারি'র অধিকাংশ এবং হুমায়দির 'আল-জামউ বাইনাস সহিহাইন'-এর একটি বড় অংশ পাঠ করেন।তিনি হাফেজ জাইন আবু আল-বাকা খালিদ বিন ইউসুফ বিন সাদ আল-নাবুলসির কাছে হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসির 'আল-কামাল ফি আসমায়ির রিজাল' পাঠ করেন এবং এতে টীকা যুক্ত করেন ও তার কাছ থেকে চমৎকার কিছু বিষয় নিবদ্ধ করেন।আমি বলছি: একইভাবে আমি তাকে ইবনুল আসিরের 'আল-আনসাব' গ্রন্থে বিভিন্ন উপাদেয় নোট করতে দেখেছি। জাইন খালিদ তার কিতাব 'আত-তিবয়ান'-এর শেষে নাম ও শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণের ক্ষেত্রে তার বর্ণনা দিয়েছেন, যেখানে তিনি তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন: তিনি 'আহমদ বিন আবিল হাওয়ারি'র 'রা' বর্ণে ফাতাহ বা জবর প্রদানকে পছন্দ করতেন; কারণ তিনি এই বিদ্যায় সমকালীন আল্লামা ছিলেন এবং এতে তার পূর্ণ পাণ্ডিত্য ছিল। ইমাম নববির মতো ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকে এই মূল্যায়নই যথেষ্ট। এতে কাসরা বা জের দিয়ে পড়ার মতও রয়েছে, এবং ইমাম নববি তার 'আযকার' গ্রন্থের 'ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির করণীয়' অধ্যায়ে কোনো একটিকে প্রাধান্য না দিয়েই উভয় মত উল্লেখ করেছেন।যেমনটি কাজি আব্দুল কাদির 'তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন, তিনি হাদিস শ্রবণ এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ইমাম দিয়া ইবনে তাম্মাম আল-হানাফির সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি বলেন: তার কাছেই তিনি উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং তার মাধ্যমেই উপকৃত হন। সমাপ্ত।তিনি হাফেজ আবু আমর ইবনুস সালাহর একদল শিষ্যের কাছ থেকে তার 'উলূমুল হাদীস' গ্রন্থটি গ্রহণ করেন।৫ - ভাষা, ব্যাকরণ এবং রূপান্তর শাস্ত্রে: তিনি আল-ফাখর আল-মালিকির কাছে ইবনু জিন্নির 'আল-লুমা' পাঠ করেন।এবং শায়খ আবুল আব্বাস আহমদ বিন সালিম আল-মিসরি আন-নাহবি আল-লুগাভি আল-তাসরিফির কাছে 'ইসলাহুল মানতিক' এবং ইলমুস সারফের একটি কিতাব বিস্তারিত আলোচনা সহকারে পাঠ করেন। তিনি বলেন: তার কাছে আমার পাঠদানের সেশন ছিল, হয়তো তা 'কিতাবু সিবওয়াইহি'র ওপর অথবা অন্য কোনো কিতাবের ওপর, এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ রয়েছে।তিনি আমাদের শায়খ আল্লামা আল-জামাল আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিক আল-জাইয়ানির কাছে তার একটি গ্রন্থ পাঠ করেন এবং তাতে কিছু টীকা লিখেন।আমি বলছি: আমার ধারণা উল্লেখিত কিতাবটি ব্যাকরণ শাস্ত্রের ছিল। একাধিক ব্যক্তি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনি জামাল ইবনে মালিকের কাছে নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্র শিখেছেন। শায়খ জামালুদ্দিনের কথা তিনি 'শারহুল মুহাযযাব'-এ উল্লেখ করেছেন এবং তার থেকে এই গ্রন্থে ও অন্যান্য গ্রন্থে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সমাপ্ত।৬ - উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে: তিনি আল্লামা কাজি আবু আল-ফাতহ উমর বিন বুন্দার বিন উমর বিন আলি আত-তাফলিসি আল-শাফিয়ির কাছে ফখরুদ্দিন রাজির 'আল-মুনতাখাব' এবং গাজালির 'আল-মুসতাসফা'র একটি অংশ পাঠ করেন।এবং অন্যান্যদের কাছে এই শাস্ত্রের আরও কিছু কিতাব পাঠ করেন।আমি বলছি: একইভাবে তিনি দামেস্কের কাজিউল কুজাত আল-ইজ্জ আবু আল-মাফাখির মুহাম্মদ বিন আব্দুল কাদির বিন আব্দুল খালিক ইবনুস সায়িগের কাছে 'মুখতাসার ইবনুল হাজিব'-এর মূল গ্রন্থের অধিকাংশ পাঠ করেন, যেমনটি হাফেজ মিযযি তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তার শব্দগুলো ছিল: আমি আমাদের শায়খ নববিকে বলতে শুনেছি যে, এই ইজ্জ আবু আল-মাফাখিরের মতো আর কেউ দামেস্কের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি তার আলোচনা ও পাঠদানে অত্যন্ত ইনসাফপরায়ণ ছিলেন। আমি তার কাছে 'মুখতাসার ইবনুল হাজিব'-এর অধিকাংশ পাঠ করেছি। তিনি যখন এমন কোনো বিষয়ের সম্মুখীন হতেন যা তার জানা নেই, তখন বলতেন: তিনি এর দ্বারা কী বুঝিয়েছেন তা আমি জানি না, এবং তিনি অন্য বিষয়ে চলে যেতেন যতক্ষণ না তা তার কাছে স্পষ্ট হতো এবং তিনি তা নিয়ে চিন্তা করতেন। মিযযি তার থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা এখানেই শেষ। যদিও ইজ্জ ইবনুস সায়িগ ইমাম নববির চেয়ে বয়সে অনেক বড় ছিলেন না, তার জন্ম ৬২৮ হিজরিতে। বরং ইমাম নববি তার কোনো কোনো শায়খের কাছে পাঠগ্রহণে তার সঙ্গী ছিলেন, এমনকি তিনি ৬৫৮ সালে শারফ আব্দুল আজিজ আল-আনসারির কাছে 'মুসনাদে আহমাদ' শ্রবণের একটি প্রত্যয়নপত্র তার জন্য লিখেছিলেন, তখন ইজ্জের বয়স ছিল ত্রিশ বছর। তিনি সেখানে তাকে মহিমান্বিত অভিভাবক, অভিজাত নেতা, শায়খ ইমাম, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, বিজ্ঞ ফকিহ এবং সূক্ষ্মদর্শী গবেষক হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার মাঝে সব ধরনের গুণের সমাবেশ ঘটেছে। ইমাম নববির মতো ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে প্রাপ্ত এই প্রশংসাই যথেষ্ট। ইজ্জ তার মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। সমাপ্ত।৭ - পুনরায় হাদিস শাস্ত্রে: তিনি আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আলি বিন আহমদ বিন ফযল আল-ওয়াসিতির কাছে হাদিস শ্রবণ করেন।এবং আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল দায়িম আল-মাকদিসির কাছে।এবং আবু মুহাম্মদ ইসমাইল বিন ইবরাহিম বিন আবিল ইয়াসার আত-তানুখির কাছে।এবং আবু আল-বাকা খালিদ আল-নাবুলসির কাছে।এবং দিয়া ইবনে তাম্মাম আল-হানাফির কাছে (অর্থাৎ যাদের কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে)।এবং আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন সালিম বিন ইয়াহইয়া আল-আনবারির কাছে।এবং আশ-শামস আবু আল-ফারাজ আব্দুর রহমান বিন শায়খ আবু উমর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন কুদামা আল-মাকদিসির কাছে, যিনি ছিলেন তার অন্যতম প্রধান শায়খ।এবং শায়খুশ শুয়ুখ আশ-শারফ আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ বিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন আল-আনসারির কাছে।এবং দামেস্কের খতিব কাজি ইমাদুদ্দিন আবু আল-ফাযায়িল আব্দুল করিম বিন আব্দুল সামাদ বিন আল-হুরাস্তানির কাছে।এবং হাফেজ আবু আল-ফযল মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-বাকরির কাছে।এবং আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আবু আল-ফাতহ আল-হাররানি আস-সাইরাফির কাছে।এবং অন্যান্যদের কাছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৭)
قلت: منهم: الرضي أبو إسحاق إبراهيم بن عمر بن نصر، الواسطي، فإنه سمع عليه " صحيح مسلم " كما ذكر الشيخ في أول شرحه له.وأفاد الذهبي أن النجم ابن الخباز أورد عنه أول حديث من " البخاري "، قال: أخبرنا عبد الرحمن بن أبي عمر بن قدامة الفقيه، أخبرنا أبو عبد الله بن الزُّبيدي بسنده وكأنه سمع جميع الصحيح على ابن أبي عمر، وكذا ستُفيد مما تقدم أنه أخذ " مُسند أحمد " عن شيخ الشيوخ المذكور. ولو سمع رحمه الله " كما قال الذهبي في " سير النبلاء " أول قدومه دمشق " للَحِق الرشيد ابن مسلمة ومكي بن علاّن، والكبار، ولكنه بقي مدة لا يسمع الحديث، انتهى.وسمعت أنا من معظم شيوخه.قلت: والتقي الواسطي روى له غير واحد من شيوخنا عن بعض أصحابه، وكان آخر صحابه: الحسن بن أحمد بن هلال الدقاق، المتوفى في سنة تسع وسبعين وسبعمائة، وحينئذ فيدخل في السابق واللاحق، إذ بين وفاة الشيخ والدقاق، أزيد من مائة بسنتين، انتهى.مسموعاتهومسموعاته: الكتب الستة، والموطأ لمالك، والمسند للشافعي، ولأحمد، والدارمي، وأبي يعلى، وصحيح أبي عوانة، والسنن للدارقطني، وللبيهقي، وشرح السنة للبغوي، ومعالم التنزيل في التفسير له، وعمل اليوم والليلة لابن السني، والجامع لآداب الراوي والسامع للخطيب، والرسالة للقشيري والأنساب للزبير بن بكار، والخطب النُّباتية، وأجزاء كثيرة غير ذلك.قلت: منها " منها ما رايته بخط الشيخ، وهو عندي أتبرك برؤيته كل قليل " كتاب الأربعين للحاكم، على الشيخ خالد النابلسي، وأجزاء من كتاب " المستقصى في فضل المسجد الأقصى "، لأبي محمد القاسم بن علي بن عساكر، على التقي إسماعيل بن إبراهيم بن أبي اليسر، الماضي، في سنة ست وستين وستمائة، بجامع دمشق، وما علمت: أسَمِعَه تامّاً أم لا؟ انتهى.وذكر لي رحمه الله أنه كان لا يضيِّع له وقتاً في ليل ولا نهار إلا في وظيفة من الاشتغال بالعلم، حتى إنه في ذهابه في الطريق وإيابه يشتغل في تكرار محفوظه، أو مطالعة، وإنه بقي على التحصيل على هذا الوجه نحو ست سنين.قلت: وقال القطب اليونيني: إنه كان كثير التلاوة للقرآن والذكر، معرضاً عن الدنيا، مقبلاً على الآخرة، من حال ترعرعه، انتهى.تصانيفه ومؤلفاتهثم إنه اشتغل بالتصنيف والاشتغال والإفادة، فصنف: شرح مسلم.قلت: وهو عظيم البركة، انتهى.وقطعة من شرح البخاري.قلت: انتهى فيها إلى " كتاب العلم "، سماه " التلخيص "، انتهى.وقطعة من شرح أبي داود.قلت: وصل فيها إلى أثناء الوضوء، سماها: " الإيجاز " وسمعت أن زاهد عصره: الشهاب ابن رسلان، أودعها برُمّتها في أول شرحه الذي كتبه على السنن، وبنى عليها، للتبرك بها، انتهى.وقطعة من الإملاء على حديث: " الأعمال بالنيات ".قلت: وسمى بعضهم في تصانيفه كتاب " الأمالي " في الحديث، في أوراق، وقال: إنه مهمّ نفيس، صنفه قُريب موته، فلا أدري أهو الأول أو غيره؟ ثم تبين لي أنه هو، وكان إملاؤه له في عشية يوم الخميس ثالث عشر شهر ربيع الآخر سنة ست وستين وستمائة، بدار الحديث الأشرفية، ورأيته، وهو في دون كراسة، عاجلته المنية عن إكماله، انتهى.وقطعة من الأحكام.قلت: سماها: " الخلاصة في أحاديث الحكام "، وصل فيها إلى أثناء الزكاة، قال ابن الملقّن: رأيتها بخطه، ولو كملت كانت في بابها عديمة النظير. وقال غيره: إنه لا يستغني المحدث عنها، خصوصاً الفقيه، وهذه الخلاصة بخط المؤلف في كتب أوقاف الجمالية، انتهى.والمبهمات.قلت: اختصر فيها كتاب الخطيب أبي بكر البغدادي الحافظ في ذلك، انتهى.ورياض الصالحين.والأذكار.قلت: وهما جليلان لا يُستغنى عنهما، بل قال الشيخ في أثناء النكاح من رواية " الروضة " عن: " الأذكار " ما نصه: وهو الكتاب الذي لا يُستغنى عنه متديِّن، انتهى كلامه. وكان فراغه منه " كما رأيته بنسخة مقروءة عليه " في المحرم سنة سبع وستين وستمائة، قال: سوى أحرف ألحقها.قال: وجزت روايته لجميع المسلمين، انتهى.والأربعين.قلت: في آخرها الإشارة إلى فوائد فيها، وانتهى منها في ليلة الخميس تاسع عشر جمادى الأولى، سنة ثمان وستين وستمائة، انتهى.والتبيان في آداب حَمَلَة القرآن.قلت: وهو نفيس لا يُستغنى عنه، خصوصاً القارئ والمقرئ، انتهى.ومختصره.
আমি বলছি: তাদের মধ্যে রয়েছেন: রাযী আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে উমর ইবনে নাসর আল-ওয়াসিতি। তিনি তাঁর নিকট 'সহীহ মুসলিম' শ্রবণ করেছেন, যেমনটি শাইখ তাঁর ব্যাখ্যার শুরুতে উল্লেখ করেছেন।আয-যাহাবি উল্লেখ করেছেন যে, আন-নাজম ইবনুল খাব্বায তাঁর থেকে 'বুখারি'র প্রথম হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে আবি উমর ইবনে কুদামা আল-ফকিহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়দি তাঁর সনদসহ বর্ণনা করেছেন। মনে হয় তিনি ইবনে আবি উমরের নিকট পূর্ণ 'সহীহ' শ্রবণ করেছিলেন। অনুরূপভাবে পূর্বের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি উল্লিখিত শাইখুশ শুয়ূখের নিকট থেকে 'মুসনাদে আহমাদ' গ্রহণ করেছিলেন। আয-যাহাবি 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' গ্রন্থে বলেছেন, যদি তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) দামেস্কে আগমনের শুরুর দিকে শ্রবণ করতেন, তবে তিনি আর-রাশিদ ইবনে মাসলামা, মাক্কি ইবনে আল্লান এবং বড় বড় মুহাদ্দিসদের সাক্ষাত পেতেন। কিন্তু তিনি দীর্ঘ সময় হাদিস শ্রবণ করা ছাড়াই অতিবাহিত করেন। সমাপ্ত।আমি তাঁর অধিকাংশ শাইখ থেকে হাদিস শুনেছি।আমি বলছি: আত-তাকি আল-ওয়াসিতি থেকে আমাদের একাধিক শাইখ তাঁর কতিপয় ছাত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে সর্বশেষ ছিলেন আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে হিলাল আদ-দাক্কাক, যিনি সাতশ উনআশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সে হিসেবে এটি 'সাবিক ও লাহিক' (অগ্রগামী ও পশ্চাদগামী) বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হবে, কারণ শাইখ এবং আদ-দাক্কাকের মৃত্যুর মাঝে ব্যবধান একশ দুই বছরেরও বেশি। সমাপ্ত।তাঁর শ্রুত কিতাবসমূহতাঁর শ্রুত কিতাবসমূহ হলো: কুতুবে সিত্তা (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থ), মালিকের মুওয়াত্তা, শাফেয়ি, আহমাদ, দারেমি ও আবু ইয়া’লার মুসনাদসমূহ, আবু আওয়ানার সহীহ, দারা কুতনি ও বায়হাকির সুনানসমূহ, বাগাওয়ির শারহুস সুন্নাহ ও তাঁর তাফসির গ্রন্থ মাআলিমুত তানযিল, ইবনুস সুন্নির আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ, খাতিব বাগদাদির আল-জামে লি আদাবির রাবি ওয়াস সামি, কুশাইরির রিসালাহ, যুবায়ের ইবনে বাক্কারের আল-আনসাব, খুতুবুন নুবাতীয়্যাহ এবং এগুলো ছাড়াও আরও অনেক অংশ।আমি বলছি: এগুলোর মধ্যে রয়েছে "যা আমি শাইখের হস্তলিপিতে দেখেছি এবং তাঁর লেখা দেখার বরকত হাসিল করতে আমি মাঝেমধ্যেই সেটি দেখি" তা হলো শাইখ খালিদ আন-নাবুলসির নিকট পঠিত হাকিমের 'কিতাবুল আরবাঈন', এবং আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনে আলি ইবনে আসাকিরের 'আল-মুস্তাকসা ফি ফাদলিল মাসজিদিল আকসা' কিতাবের কিছু অংশ, যা ৬৬৬ হিজরিতে দামেস্কের জামে মসজিদে আত-তাকি ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আবিল ইয়াসরের নিকট শ্রবণ করেছিলেন। তবে তিনি এটি পূর্ণাঙ্গ শ্রবণ করেছিলেন কি না তা আমি জানি না। সমাপ্ত।তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) আমাকে উল্লেখ করেছিলেন যে, তিনি দিন-রাতের কোনো সময়ই ইলমি ব্যস্ততা ছাড়া নষ্ট করতেন না। এমনকি পথে আসা-যাওয়ার সময়ও তিনি তাঁর মুখস্থ পাঠগুলো পুনরাবৃত্তি করতেন অথবা অধ্যয়ন করতেন। তিনি প্রায় ছয় বছর এইভাবে ইলম অর্জনে রত ছিলেন।আমি বলছি: আল-কুতুব আল-ইউনিনি বলেছেন: তিনি কৈশোরকাল থেকেই প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির করতেন, দুনিয়া থেকে বিমুখ ছিলেন এবং আখেরাতের প্রতি মনোযোগী ছিলেন। সমাপ্ত।তাঁর গ্রন্থাবলি ও রচনাবলিএরপর তিনি গ্রন্থ রচনা, জ্ঞানচর্চা ও উপকারে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি রচনা করেন: শারহু মুসলিম (সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যা)।আমি বলছি: এটি অত্যন্ত বরকতময় একটি গ্রন্থ। সমাপ্ত।এবং সহীহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থের একটি অংশ।আমি বলছি: এতে তিনি 'কিতাবুল ইলম' পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন এবং এর নামকরণ করেছিলেন 'আত-তালখীস'। সমাপ্ত।এবং সুনানে আবু দাউদের ব্যাখ্যাগ্রন্থের একটি অংশ।আমি বলছি: এতে তিনি ওযুর আলোচনা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। এর নাম দিয়েছিলেন 'আল-ঈজায'। আমি শুনেছি যে, তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ আবিদ শিহাব ইবনে রাসলাম তাঁর রচিত সুনানের ব্যাখ্যাগ্রন্থের শুরুতে বরকতের উদ্দেশ্যে এই অংশটি হুবহু অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করেই গ্রন্থটি রচনা করেছেন। সমাপ্ত।এবং 'আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল'—এই হাদিসের ওপর শ্রুতিলিখনের (ইমলা) একটি অংশ।আমি বলছি: কেউ কেউ তাঁর রচিত গ্রন্থরাজির তালিকায় কয়েক পৃষ্ঠার 'আল-আমালি' নামক একটি হাদিস বিষয়ক কিতাবের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: এটি গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান, তিনি তাঁর মৃত্যুর কিছুকাল আগে এটি রচনা করেন। আমি জানি না এটিই প্রথমোক্ত কিতাবটি নাকি অন্য কোনোটি। পরবর্তীতে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে এটিই সেই কিতাব। ৬৬৬ হিজরির রবিউল আখের মাসের তেরো তারিখ বৃহস্পতিবার বিকেলে দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়ায় তিনি এটি শ্রুতিলিখন করিয়েছিলেন। আমি এটি দেখেছি, যা একটি পুস্তিকার চেয়েও ছোট আকারের। এটি পূর্ণ করার আগেই তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে আসে। সমাপ্ত।এবং আহকাম (বিধি-বিধান) সংক্রান্ত কিতাবের একটি অংশ।আমি বলছি: তিনি এর নাম দিয়েছিলেন 'আল-খুলাসা ফি আহাদিসিল হুক্কাম'। এতে তিনি যাকাত অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। ইবনুল মুলাক্কিন বলেন: আমি এটি তাঁর হস্তলিপিতে দেখেছি। এটি পূর্ণাঙ্গ হলে নিজ বিষয়ে অতুলনীয় হতো। অন্যজন বলেছেন: একজন মুহাদ্দিস, বিশেষ করে একজন ফকিহ এই কিতাব ছাড়া চলতে পারেন না। লেখকের হস্তলিপিতে এই খুলাসা কিতাবটি বর্তমানে জামালিয়্যাহ ওয়াকফ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। সমাপ্ত।আল-মুবহামাত।আমি বলছি: এতে তিনি এ বিষয়ে হাফেজ খাতিব আবু বকর বাগদাদির কিতাবটিকে সংক্ষেপ করেছেন। সমাপ্ত।রিয়াদুস সালিহীন।আল-আযকার।আমি বলছি: এই কিতাব দুটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং এগুলো ব্যতিরেকে চলা অসম্ভব। এমনকি শাইখ নিজে 'রওদাহ' গ্রন্থে বিবাহ অধ্যায়ে 'আল-আযকার' সম্পর্কে যা লিখেছেন তার ভাষ্য হলো: "এটি এমন একটি কিতাব যা ছাড়া কোনো দ্বীনদার ব্যক্তি চলতে পারে না।" ৬৬৭ হিজরির মহররম মাসে তিনি এটি লেখা শেষ করেন, যেমনটি আমি তাঁর নিকট পঠিত একটি পাণ্ডুলিপিতে দেখেছি। তিনি বলেছেন: সামান্য কিছু অংশ যা তিনি পরে যুক্ত করেছেন সেগুলো ছাড়া (বাকিটা শেষ হয়েছে)।তিনি বলেছেন: আমি সমস্ত মুসলিমদের জন্য এটি বর্ণনার অনুমতি প্রদান করলাম। সমাপ্ত।আল-আরবাঈন (চল্লিশ হাদিস)।আমি বলছি: এর শেষে কিতাবটিতে থাকা বিভিন্ন ফায়দার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ৬৬৮ হিজরির জামাদিউল উলা মাসের উনিশ তারিখ বৃহস্পতিবার রাতে এর কাজ শেষ হয়। সমাপ্ত।আত-তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন।আমি বলছি: এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি কিতাব যা ছাড়া চলা সম্ভব নয়, বিশেষ করে ক্বারী এবং কুরআন শিক্ষকদের জন্য। সমাপ্ত।এবং এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৮)
والترخيص في الإكرام والقيام.قلت: لأهل الفضل ونحوهم، انتهى.والإرشاد في علوم الحديث، اختصر فيه كتاب ابن الصلاح.ومختصره: التقريب والتيسير في معرفة سنن البشير النذير.وطبقات الفقهاء.قلت: اختصر فيها كتاب أبي عمرو بن الصلاح أيضاً في ذلك، وزاد عليه أسماء نبه عليها في ذيل كتابه. قال العماد ابن كثير: مع أنهما لم يستوعبا أسماء الأصحاب ولا النصف من ذلك، وهذا هو الذي حدا بي على جمع هذا الديوان " يعني طبقاته "، وفات ابن كثير أيضاً كثير، والعذر عن النووي رحمه الله في ذلك أنه مات عنه مسوّدة، وبيّضه الحافظ الجمال المزّي تلميذه، انتهى.وقطعة كبيرة من تهذيب الأسماء واللغات.قلت: الواقعة في " المختصر " للمزني، والوسيط، والوجيز، والتنبيه، والمذهب، والروضة. مات عنه مسوَّدة، فبيّضه المزي أيضا، انتهى.والتحرير في ألفاظ التنبيه.قلت: قال ابن الملّقن: وما أكثر فوائده، على إعواز بينتُه في جزء، سماه " تذهيب التحرير ". وقال قاضي صفد: وما أكثر فوائده، وما أعم نفعه، لا يستغني طالب علم عنه، انتهى.والروضة، مختصر الشرح للرافعي.قلت: وقد زاد فيها تصحيحات واختيارات حسان، كما صرح به العماد ابن كثير، وكان فراغه من تأليفها " كما قرأته بخطه في آخر نسخته الموقوفة بالمدرسة المحمودية، وهي في أربعة أجزاء " في يوم الأحد خامس عشر ربيع الأول، سنة تسع وستين وستمائة، وهي كاسمها فيما قاله ابن الملقّن، بل سيأتي ذلك في منام عن سيد المرسلين، عرض فيها أحكام المذهب " كما قاله الأسنوي "، انتهى.والمنهاج، مختصر المحرر للرافعي أيضاً.قلت: وهو عظيم النفع " كما صرح به قاضي صفد " وله فيه أيضاً تصحيحات واختيارات، وكان فراغه من تأليفه " كما رأيته في النسخة التي بخطه في المحمودية أيضاً " يوم الخميس تاسع عشر رمضان من السنة، انتهى.ودقائقه.قلت: وكذا دقائق الروضة، لكنها لم تكمل، وصل فيها إلى أثناء الصلاة، وهي نفيسة، سماها: " الإشارات، لما وقع في الروضة من الأسماء واللغات "، انتهى.والمجموع، في شرح المهذب، وصل فيه إلى المصرّاة.قلت: الموجود منه إلى أثناء باب الربا، بل وقع النقل عن مسوّدة له على المهذب في مسألة نظر العبد لسيده، وكذا في خطبة القطعة الموجودة أنه كان شرع في شرح عليه مبسوط جداً، بحيث بلغ إلى آخر الحيض، في ثلاث مجلدات ضخمات، ثم استطوله، وخشي من عدم تحصيله والسآمة من مطالعته، فأعرض عنه وعدل إلى الموجودة، وإنها طريقة وسطى، انتهى.ودفع لي ورقة بتعيين مواده في تصنيفه، وقال لي: إذا انتقلت بالوفاة إلى رحمة الله تعالى فأتممه منها، فلم يقدّر لي ذلك.قلت: وليته ذكر أسماءها لمن بعده، وإن كان يُعلم تعيُّنها من الشرح، ولكن كان ذلك أسهل وأضبط. وقد سرد السبكي الكتب التي استمد هو منها في تكملته، انتهى.والإيضاح، في المناسك.والإيجاز، فيها أيضاً.ومنسك ثالث، ورابع، وخامس، وسادس.قلت: وأحدها خاص بالنسوان، انتهى.ومسألة تخميس الغنائم.قلت: وكان سبب تصنيفها ما أسلفتها عن القطب اليونيني، انتهى.والفتاوى، وقد رتبتها.وقطعة من شرح التنبيه.قلت: وصل فيها إلى أثناء باب الحيض، سماه " تحفة الطالب النبيه "، وهو غير النبغ الذي رأيته في مجلد، فإنه قد شرح فيه مواضع من جميع الكتاب، وهو من أوائل ما صُنف، انتهى.ومن شرح الوسيط قطعة جيدة.قلت: وقد قال ابن الرفعة في المطلب الذي شرح به " الوسيط " عن نفسه: إنه شرّع فيه من أول ربع البيع، وأنه جعل ذلك تتميماً لمن سبقه، وإنه إذا انتهى من الكتاب استأنف الربع الأول: قال: فإن حصل المطلوب فبفضل الله ومنِّه، وإن عاق عنه عائق، فيغني عنه إن شاء الله ما تقدمت الإشارة إليه من كلام الغير، فإنه قريب منه أو موافق. وكأنه رحمه الله عنا الشيخ نفعنا الله ببركته، وهي في جزءين " كما قال ابن الملقن " وقال: قد رأيتها ببيت المقدس، وبمصر أيضاً.
সম্মান প্রদর্শন এবং দাঁড়ানোর বৈধতা সম্পর্কে।আমি বলছি: এটি ফযিলতপূর্ণ ব্যক্তি এবং তাদের সমপর্যায়ের লোকদের জন্য, সমাপ্ত।উলূমুল হাদীসের ওপর আল-ইরশাদ, এতে তিনি ইবনে সালাহ-এর কিতাবকে সংক্ষেপ করেছেন।এবং এর সারসংক্ষেপ হলো: আত-তাকরীীব ওয়াত-তায়সীর ফী মা’রিফাতি সুনানিল বাশীরিন নাযীর।এবং তাবাকাতুল ফুকাহা।আমি বলছি: তিনি এতেও এই বিষয়ে আবু আমর ইবনে সালাহ-এর কিতাবকে সংক্ষেপ করেছেন এবং তাতে এমন কিছু নাম যোগ করেছেন যা তিনি কিতাবের শেষে উল্লেখ করেছেন। ইমাদ ইবনে কাসীর বলেছেন: যদিও তাঁরা দুজনে আসহাবদের (মাযহাবের ফকীহগণ) সমস্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করেননি, এমনকি অর্ধেকও নয়; আর এটাই আমাকে এই দিওয়ান (অর্থাৎ তাঁর নিজস্ব তাবাকাত) সংকলনে উদ্বুদ্ধ করেছে। ইবনে কাসীরেরও অনেক কিছু বাদ পড়ে গেছে। আর ইমাম নববী (রহ.)-এর এ ক্ষেত্রে ওজর হলো যে, তিনি এটি খসড়া বা পাণ্ডুলিপি অবস্থায় রেখে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর ছাত্র হাফেজ জামাল আল-মিযযী এটি পরিমার্জিত ও চূড়ান্ত রূপ দেন, সমাপ্ত।তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত-এর একটি বড় অংশ।আমি বলছি: যা মুযানির 'আল-মুখতাসার', আল-ওয়াসীত, আল-ওয়াজীয, আত-তানবীহ, আল-মাযহাব এবং আর-রাওদাহ কিতাবে এসেছে। এটিও তিনি পাণ্ডুলিপি অবস্থায় রেখে ইন্তেকাল করেন এবং আল-মিযযী এটি বিন্যস্ত ও চূড়ান্ত রূপ দেন, সমাপ্ত।আত-তাহরীর ফী আলফাযিত তানবীহ।আমি বলছি: ইবনুল মুলাক্কিন বলেছেন: এর উপকারিতা কতই না বেশি, তবে এর কিছু ত্রুটি আমি একটি অংশে স্পষ্ট করেছি যার নাম দিয়েছি 'তাযহীবুত তাহরীর'। সাফাদের বিচারক বলেছেন: এর উপকারিতা কতই না বেশি এবং এর কল্যাণ কতই না ব্যাপক, কোনো ইলম অন্বেষণকারী এটি ছাড়া চলতে পারে না, সমাপ্ত।আর-রাওদাহ, এটি রাফেয়ীর আশ-শারহ-এর সংক্ষিপ্তসার।আমি বলছি: এতে তিনি অতি সুন্দর কিছু সংশোধন ও নিজস্ব পছন্দকৃত মত যোগ করেছেন, যেমনটি ইমাদ ইবনে কাসীর স্পষ্টভাবে বলেছেন। এটি রচনার কাজ সমাপ্ত হয়েছিল—যেমনটি আমি মাহমুদিয়া মাদরাসায় ওয়াকফকৃত তাঁর নিজ হাতের লেখা পাণ্ডুলিপির শেষে পড়েছি, যা চার খণ্ডে বিভক্ত—৬৬৯ হিজরীর ১৫ই রবিউল আউয়াল রবিবার। এটি ইবনুল মুলাক্কিনের বর্ণনামতে তাঁর নামের মতোই (অর্থাৎ একটি বাগান), বরং আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর পক্ষ থেকে আসা একটি স্বপ্নের বর্ণনায় এটি সামনে আসবে যেখানে মাযহাবের বিধিবিধানগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, যেমনটি আল-আসনাবী বলেছেন, সমাপ্ত।আল-মিনহাজ, এটিও রাফেয়ীর আল-মুহাররার-এর সংক্ষিপ্তসার।আমি বলছি: এটি অত্যন্ত উপকারী (যেমনটি সাফাদের বিচারক স্পষ্টভাবে বলেছেন) এবং এতেও তাঁর নিজস্ব কিছু সংশোধন ও অগ্রাধিকার প্রদানকৃত মত রয়েছে। এটি রচনার কাজ সমাপ্ত হয়েছিল—যেমনটি আমি মাহমুদিয়া মাদরাসায় তাঁর নিজ হাতের লেখায় দেখেছি—উক্ত বছরের ১৯শে রমজান বৃহস্পতিবার, সমাপ্ত।এবং এর দাকাইক।আমি বলছি: একইভাবে রাওদাহর দাকাইকও রয়েছে, তবে তা সম্পন্ন হয়নি। তিনি এতে নামাযের মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌঁছেছেন। এটি অত্যন্ত মূল্যবান গ্রন্থ, যার নাম তিনি রেখেছিলেন: 'আল-イশারাত লিমা ওয়াকাআ ফিল রাওদাতি মিনাল আসমা ওয়াল লুগাত', সমাপ্ত।আল-মাজমু' শারহুল মুহাযযাব, এতে তিনি 'মুসাররাহ' অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছেন।আমি বলছি: এর বিদ্যমান অংশটি সুদের অধ্যায়ের মধ্যভাগ পর্যন্ত। বরং আল-মুহাযযাব-এর ওপর তাঁর একটি খসড়া থেকে দাসের তাঁর মনিবকে দেখার মাসআলায় উদ্ধৃতি পাওয়া যায়। একইভাবে বিদ্যমান অংশের ভূমিকায় বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এর ওপর অত্যন্ত বিস্তারিত একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ শুরু করেছিলেন, যা তিন বিশাল খণ্ডে হায়েয অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এরপর তিনি এটিকে দীর্ঘ মনে করলেন এবং তা সম্পন্ন না হওয়ার ও পাঠকের ক্লান্তির আশঙ্কা করলেন। তাই তিনি সেটি ছেড়ে দিয়ে বর্তমানে বিদ্যমান পদ্ধতির দিকে ফিরে আসেন এবং এটি একটি মধ্যমপন্থা, সমাপ্ত।এবং তিনি আমাকে তাঁর রচনার উপকরণসমূহ চিহ্নিত করে একটি কাগজ দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: 'আমি যদি ইন্তেকাল করে মহান আল্লাহর রহমতের দিকে চলে যাই, তবে তুমি এটি থেকে তা পূর্ণ করো।' কিন্তু আমার ভাগ্যে তা নির্ধারিত ছিল না।আমি বলছি: হায়! তিনি যদি তাঁর পরবর্তী ব্যক্তিদের জন্য সেগুলোর নাম উল্লেখ করে যেতেন, যদিও ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে সেগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব, তবুও তা উল্লেখ করা অধিকতর সহজ ও সুনির্দিষ্ট হতো। সুবকী তাঁর তাকিমিলাহ (পরিশিষ্ট) রচনায় যেসব কিতাব থেকে সাহায্য নিয়েছেন তা তালিকাভুক্ত করেছেন, সমাপ্ত।হজ পালনের নিয়মাবলী বিষয়ে আল-ঈযাহ।একই বিষয়ে আল-ঈজায।এবং তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ মানাসিক।আমি বলছি: এর একটি কেবল নারীদের জন্য বিশেষায়িত, সমাপ্ত।এবং গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ করা সংক্রান্ত মাসআলা।আমি বলছি: এটি রচনার কারণ ছিল যা আমি কুতুব আল-ইউনিনীর বরাতে আগে উল্লেখ করেছি, সমাপ্ত।এবং আল-ফাতাওয়া, যা আমি বিন্যস্ত করেছি।এবং আত-তানবীহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের একটি অংশ।আমি বলছি: এতে তিনি হায়েয অধ্যায়ের মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌঁছেছেন, যার নাম দিয়েছেন 'তুহফাতুত তালিবিন নাবীহ'। এটি সেই সংক্ষিপ্ত অংশ নয় যা আমি এক খণ্ডে দেখেছি, কারণ তিনি তাতে সমগ্র কিতাবের বিভিন্ন জটিল স্থানের ব্যাখ্যা করেছেন এবং সেটি তাঁর প্রাথমিক পর্যায়ের রচনাগুলোর একটি, সমাপ্ত।আল-ওয়াসীত-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের একটি উত্তম অংশ।আমি বলছি: ইবনুর রিফআ তাঁর আল-মাতলাব গ্রন্থে (যার মাধ্যমে তিনি আল-ওয়াসীত-এর ব্যাখ্যা করেছেন) নিজের সম্পর্কে বলেছেন: তিনি এটি কেনাবেচা বা বাই' অধ্যায়ের চতুর্থ অংশ থেকে শুরু করেছেন এবং তিনি এটিকে তাঁর পূর্ববর্তীদের কাজের পরিপূরক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। যখন তিনি কিতাবটি শেষ করবেন তখন আবার প্রথম অংশ থেকে শুরু করবেন। তিনি বলেছেন: যদি উদ্দেশ্য হাসিল হয় তবে তা আল্লাহর অনুগ্রহ ও দান, আর যদি কোনো বাধা আসে তবে ইনশাআল্লাহ অন্যের বক্তব্যের প্রতি যে ইশারা করা হয়েছে তা-ই যথেষ্ট হবে, কারণ সেটি এর নিকটবর্তী বা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মনে হচ্ছে তিনি (রহ.) আমাদের শায়খকেই (ইমাম নববী) বুঝিয়েছেন, আল্লাহ আমাদের তাঁর বরকত দ্বারা উপকৃত করুন। এটি দুই খণ্ডে (যেমনটি ইবনুল মুলাক্কিন বলেছেন) এবং তিনি বলেছেন: আমি এটি বাইতুল মাকদিসে এবং মিসরেও দেখেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৯)
وسمى ابن الملقِّن في تصانيفه أيضاً: التنقيح في شرح الوسيط، وقال: أنه وصل فيه إلى أثناء " كتاب الصلاة "، حسبما وقف عليه بخطه. ولا أدري أهو الذي قبله أو غيره؟ وذكر بعضهم عن التنقيح: أنه وصل فيه إلى شروط الصلاة، قال: وهو كتاب جليل، من أواخر ما صنف، جعله مشتملاً على أنواع متعلقة بكلام " الوسيط "، ضرورية كافية لمن يريد المسائل الموجودة، والمرور على الفقه كله في زمن قليل، لتصحيح مسائله، وتوضيح أدلته، وذكر أغاليطه، وحلّ إشكاله، وتخريج أحاديثه، وذكر شيء من أحوال الفقهاء المذكورين فيه، إلى غير ذلك من الأنواع التي ألتزمها، ولم يتعرض فيه لفروع غير فروع " الوسيط "، وهي طريقة يتيسر معها تدريس " الوسيط " كل عام مرة، وقد كان بعض الأشياخ يفعل ذلك ولا يتعرض لفرع زائد، ويقول: إنه يقبح لمن يتصدى للإفتاء والتدريس أن لا يكون عهده باب من أبواب الفقه أكثر من عام. وفي كتب العلَاّمة النجم ابن حجي " بورك في حياته " كلامّ له على " الوسيط " في مجلدين بخطه، فيحرّر: هل هو على التوالي كالأول أولا؟ انتهى.والتحقيق، في الفقه، وصل فيه إلى أثناء باب صلاة المسافر.قلت: وهو " كما قال ابن الملقّن " نفيس، قال: وكأنه مختصر " شرح المهذّب " الماضي، قال غيره: إنه ذكر فيه مسائل كثيرة مُحضة، وقواعد وضوابط لم يذكرها في " الروضة ".وقال في مقدمته: حصل عندي نحو مائة مصنف من كتب أصحابنا، انتهى.إلى غير ذلك من المسوّدات.ولقد أمرني مرة ببيع نحو من ألف كرّاس بخطه، وأمرني بالوقوف على غسلها في الورّاقة، فلم أخالف أمره، وفي قلبي منها حسرات.قلت: ومن تصانيفه أيضا كتاب جامع السنّة، شرع في أوائله، وكتب منه دون كراسة.ومختصر صحيح مسلم، وتوقف ابن الملقّن في نسبته له، قال: وكأن مصنِّفه أخذ تراجمه من " شرح صحيح مسلم " له، وركّب عليها متونه وعزاه إليه.ومختصر أسد الغابة في معرفة الصحابة لأبن الأثير، كما نبه عليه في مصنَّفه: " التقريب ".وبستان العارفين، في الزهد والتصوف، بديع جدا.وأجوبة عن أحاديث سئل عنها، في دون كرّاس.ومنقب الشافعي، التي لا يسع طالب العلم أن يجهلها، اختصر فيها كتاب البيهقي الحافل في ذلك، بحذف الأسانيد، وهي في مجلد.وجزء أدعية رأيته بمكة.ومختصر التذنيب للرافعي، سماه: " المنتخب "، وقد أسقط منه من آخر الفصل السادس أوراقاً تزيد على الكراس، فلم يختصرها.ومختصر التنبيه، كتب منه ورقة.ومهمات الأحكام. قال بعضهم: وهو قريب من " التحقيق " في كثرة الأحكام، لكنه لم يذكر فيه خلافاً، وصل فيه إلى أثناء طهارة البدن والثوب.والأصول والضوابط، وهي أوراق لطيفة تشتمل على شيء من قواعد الفقه، وضوابط لذكر العقود اللازمة والجائزة، وما هو تقريب أو تحديد، ونحو ذلك.ومشكلات الوسيط. لكن قال الأسنوي: نسب ابن الرفعة إليه كتاباً في أغاليط الوسيط، يشتمل على خمسين موضعاً، بعضها فقهية وبعضها حديثية، ليست له وإن عزاها إليه صاحب " المطلب " وغيره " يعني الكمال الأدفوي " فإنه سماه في " البدر السافر " من تصانيفه، مع إشكالات على " المهذب "، وقال: إنهما لم يكملا. وزعم غيره أنه كامل، حيث ذكر في تصانيفه: " إيضاح الأغاليط الموجودة في الوسيط "، كامل في كراريس، فالله أعلم. وكذا سمى فيها: " أغاليط المهذب "، وقال: فيه فوائد.وقرأت بخط الولي العراقي ما نصه: الأوهام على المهذب والوسيط للنووي، نحو ثلاث كراريس، سمعها أحمد بن أيبك على رافع السلاّمي، بسماعه من أبي عبد الله محمد بن غالب بن يونس بن سعيد بسماعه من النووي، انتهى ما قرأته بخط الولي.والغاية. في الفقه، قال ابن الملقّن: وعندي إنها ليست له، وإن كانت له فلعلها مما صنفه في أول أمره. وسماها غيره: " النهاية في الاختصار للغاية "، وجزم الأسنوي بأنها ليست له. ويوجد للنهاية شرّح ينسب إليه، يسمى: " الكناية ".ومختصر البسملة لأبي شامة، رأيته بخطه، وهو في شرح " المهذب " بتمامه.ومسألة نية الاغتراف.ومختصر آداب الاستسقاء.ورؤوس المسائل، وتحفة طلاب الفضائل. ذكر فيه من التفسير والحديث والفقه واللغة، وضوابط ومسائل من العربية، وغير ذلك، جدير في معناه.وأفرد في شرح المهذب " أدب المفتي والمستفتي "، وهو نفيس. وقد سبقه لتصنيف هذا أبو عمر ابن الصلاح، ومن قبله أبو القاسم الصيمري.
ইবনুল মুলাক্কিন তাঁর রচনাগুলোতে আরও একটি কিতাবের নাম উল্লেখ করেছেন, যার নাম: ‘আত-তানকিহ ফি শারহিল ওয়াসিত’। তিনি বলেছেন যে, তিনি এতে ‘সালাত অধ্যায়’-এর মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, যা তাঁর স্বহস্তে লেখা পাণ্ডুলিপি থেকে জানা যায়। আমি জানি না এটিই কি আগের কিতাবটি নাকি অন্য কিছু? কেউ কেউ ‘আত-তানকিহ’ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এতে ‘সালাতের শর্তাবলি’ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। তিনি বলেছেন: এটি একটি মহান কিতাব এবং তাঁর শেষ দিকের রচনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। তিনি এটিকে ‘আল-ওয়াসিত’-এর বক্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন সব প্রয়োজনীয় বিষয়ের সমন্বয়ে সংকলন করেছেন যা অন্বেষণকারীর জন্য যথেষ্ট হবে; যেন অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো ফিকহ শাস্ত্রের ওপর নজর বুলানো যায়, এর মাসআলাগুলো শুদ্ধ করা যায়, এর দলিলসমূহ স্পষ্ট করা যায়, এর ভুলগুলো চিহ্নিত করা যায়, এর অস্পষ্টতা দূর করা যায়, এর হাদিসগুলোর তাখরিজ করা যায় এবং এতে উল্লিখিত ফকিহগণের অবস্থার কিছু বিবরণ প্রদান করা যায়। এ ছাড়া তিনি আরও কিছু বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এতে তিনি ‘আল-ওয়াসিত’-এর বাইরের কোনো শাখার (ফুরু) অবতারণা করেননি। এটি এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে প্রতি বছর একবার ‘আল-ওয়াসিত’ পড়ানো সহজ হয়। কোনো কোনো শায়খ এমনটিই করতেন এবং অতিরিক্ত কোনো শাখার আলোচনা করতেন না। তিনি বলতেন: যে ব্যক্তি ফতোয়া ও পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেন, ফিকহের কোনো একটি অধ্যায়ের সাথে তাঁর সংস্রব এক বছরের বেশি বিচ্ছিন্ন থাকা অত্যন্ত অনুচিত। আল্লামা নাজমুদ্দিন ইবনুল হাজ্জির কিতাবসমূহে—আল্লাহ তাঁর জীবনে বরকত দিন—‘আল-ওয়াসিত’-এর ওপর তাঁর স্বহস্তে লিখিত দুই খণ্ডে কিছু আলোচনা রয়েছে। তবে এটি খতিয়ে দেখা দরকার যে, এটি কি প্রথম থেকে ধারাবাহিক কি না। সমাপ্ত।ফিকহ শাস্ত্রের ‘আত-তাহকিক’ কিতাবটিতে তিনি ‘মুসাফিরের সালাত’ অধ্যায়ের মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।আমি বলি: এটি ইবনুল মুলাক্কিনের ভাষ্যমতে অত্যন্ত মূল্যবান একটি গ্রন্থ। তিনি আরও বলেছেন: এটি যেন পূর্বে উল্লিখিত ‘শারহুল মুহাযযাব’-এর একটি সংক্ষিপ্তসার। অন্য একজন বলেছেন: এতে তিনি এমন অনেক সূক্ষ্ম মাসআলা, মূলনীতি ও বিধিবিধান উল্লেখ করেছেন যা তিনি ‘আর-রাওদাহ’ কিতাবে উল্লেখ করেননি।তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: আমার কাছে আমাদের মাযহাবের ইমামদের রচিত প্রায় একশতটি গ্রন্থ সংগৃহীত হয়েছিল। সমাপ্ত।এ ছাড়া আরও অনেক খসড়া পাণ্ডুলিপি রয়েছে।তিনি একবার আমাকে তাঁর স্বহস্তে লিখিত প্রায় এক হাজার পুস্তিকা (কুরাসা) বিক্রি করার আদেশ দিয়েছিলেন এবং কাগজ তৈরির কারখানায় সেগুলো ধৌত করার (কালি মুছে ফেলার) সময় উপস্থিত থাকতে বলেছিলেন। আমি তাঁর আদেশের অবাধ্য হইনি, তবে আমার অন্তরে এ নিয়ে অনেক আক্ষেপ রয়ে গেছে।আমি বলি: তাঁর রচনাগুলোর মধ্যে ‘জামি’উস সুন্নাহ’ নামক একটি কিতাবও রয়েছে, যার শুরুটা তিনি করেছিলেন এবং এক পুস্তিকারও কম লিখেছিলেন।আরও রয়েছে ‘মুখতাসারু সহিহ মুসলিম’; ইবনুল মুলাক্কিন এটি তাঁর রচনা কি না সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন: মনে হয় এর সংকলক তাঁর রচিত ‘শারহু সহিহ মুসলিম’ থেকে এর পরিচ্ছেদগুলো গ্রহণ করেছেন এবং এর মূল পাঠগুলো (মতন) বিন্যস্ত করে তাঁর দিকেই সম্বন্ধিত করেছেন।ইবনুল আসিরের ‘আসাদুল গাবাহ ফি মা’রিফাতিস সাহাবাহ’-এর সংক্ষিপ্তসারও তিনি করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর ‘আত-তাকরিব’ গ্রন্থে ইশারা করেছেন।এবং যুহদ ও তাসাউফ বিষয়ে ‘বুস্তানুল আরিফিন’, যা অত্যন্ত চমৎকার একটি কিতাব।জিজ্ঞাসিত কিছু হাদিসের জবাব, যা এক পুস্তিকারও কম।এবং ‘মানাকিবুশ শাফিঈ’, যা একজন জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য অজানা থাকা সমীচীন নয়। এতে তিনি ইমাম বায়হাকির এ বিষয়ক বিশাল কিতাবটিকে সনদ বাদ দিয়ে এক খণ্ডে সংক্ষিপ্ত করেছেন।দোয়ার একটি পুস্তিকা, যা আমি মক্কায় দেখেছি।রাফেয়ির ‘আত-তাদনিব’-এর সংক্ষিপ্তসার, যার নাম দিয়েছেন: ‘আল-মুনতাখাব’। এর ষষ্ঠ পরিচ্ছেদের শেষ দিক থেকে তিনি এক পুস্তিকারও বেশি পাতা বাদ দিয়েছেন, যা তিনি সংক্ষেপ করেননি।‘আত-তানবিহ’-এর সংক্ষিপ্তসার, যার মাত্র এক পৃষ্ঠা লিখেছিলেন।এবং ‘মুহিম্মাতুল আহকাম’। কেউ কেউ বলেছেন: আহকামের আধিক্যের দিক থেকে এটি ‘আত-তাহকিক’-এর কাছাকাছি, তবে এতে তিনি কোনো মতভেদ উল্লেখ করেননি। তিনি এতে শরীর ও কাপড়ের পবিত্রতা অধ্যায়ের মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।‘আল-উসুল ওয়াদ-দাওয়াবিত’ (মূলনীতি ও নিয়মাবলি); এটি সামান্য কিছু পৃষ্ঠার সমষ্টি যাতে ফিকহের কিছু মূলনীতি, আবশ্যকীয় ও ঐচ্ছিক চুক্তির নিয়মাবলি এবং কোন বিষয়টি আনুমানিক আর কোনটি সুনির্দিষ্ট—এই জাতীয় আলোচনা রয়েছে।এবং ‘মুশকিলাতুল ওয়াসিত’। তবে আল-আসনাবি বলেছেন: ইবনুর রিফ’আ তাঁর দিকে ‘আল-ওয়াসিত’-এর ভুল-ভ্রান্তি বিষয়ক একটি কিতাব সম্বন্ধিত করেছেন, যাতে পঞ্চাশটি স্থান রয়েছে; যার কিছু ফিকহ সংক্রান্ত আর কিছু হাদিস সংক্রান্ত। এটি আসলে তাঁর নয়, যদিও ‘আল-মাতলাব’-এর লেখক ও অন্যান্যরা (অর্থাৎ আল-কামাল আল-আদফুয়ি) একে তাঁর দিকে সম্বন্ধিত করেছেন। তিনি ‘আল-বাদরুস সাফির’-এ একে তাঁর রচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সাথে ‘আল-মুহাযযাব’-এর ওপর কিছু জটিল প্রশ্নের অবতারণা করেছেন এবং বলেছেন যে, উভয়টিই অসম্পূর্ণ। অন্য একজন দাবি করেছেন যে এটি পূর্ণাঙ্গ, কারণ তিনি তাঁর কিতাবসমূহের তালিকায় ‘ইদাহুল আগালিতিল মাওজুদাহ ফিল ওয়াসিত’ (ওয়াসিত-এর ভুলসমূহের স্পষ্টীকরণ) নামক কিতাবটিকে পূর্ণাঙ্গ ও কয়েক পুস্তিকা ব্যাপী বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন। অনুরূপভাবে তিনি সেখানে ‘আগালিতুল মুহাযযাব’ (মুহাযযাব-এর ভুলসমূহ) নামক কিতাবের নামও নিয়েছেন এবং বলেছেন যে এতে অনেক উপকারিতা রয়েছে।আমি আল-ওয়ালি আল-ইরাকির হস্তলিপিতে নিম্নোক্ত বক্তব্যটি পড়েছি: আন-নববি রচিত ‘আল-মুহাযযাব’ ও ‘আল-ওয়াসিত’-এর ওপর ‘আল-আওহাম’ (ভ্রম সংশোধন) প্রায় তিন পুস্তিকা পরিমাণ। এটি আহমাদ ইবনে আইবাক রাফে আস-সালামির কাছে শুনেছেন, তিনি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে গালিব ইবনে ইউনুস ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি স্বয়ং আন-নববি থেকে শুনেছেন। আল-ওয়ালির হস্তলিপিতে আমার পঠিত বক্তব্য এখানেই শেষ।ফিকহ শাস্ত্রের ‘আল-গায়াহ’। ইবনুল মুলাক্কিন বলেছেন: আমার মতে এটি তাঁর রচনা নয়, আর যদি হয়েও থাকে তবে সম্ভবত এটি তাঁর শুরুর দিকের রচনা। অন্য একজন এর নাম দিয়েছেন: ‘আন-নিহায়াহ ফি তলাখিসিল গায়াহ’। তবে আল-আসনাবি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে এটি তাঁর নয়। ‘আন-নিহায়াহ’-এর একটি শারহ পাওয়া যায় যা তাঁর দিকে সম্বন্ধিত করা হয়, যার নাম ‘আল-কিনায়াহ’।আবু শামার ‘আল-বাসমালাহ’-এর সংক্ষিপ্তসার; আমি এটি তাঁর হস্তলিপিতে দেখেছি এবং এটি ‘শারহুল মুহাযযাব’-এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে রয়েছে।অজুর সময় পানি তুলে নেওয়ার নিয়ত (নিয়্যাতুল ইগতিরাফ) সংক্রান্ত মাসআলা।‘আদাবুল ইসতিসকা’-এর সংক্ষিপ্তসার।‘রুউসুল মাসা’ইল’ এবং ‘তুহফাতু তুল্লাবিল ফাদাইল’। এতে তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকহ, লুগাত (ভাষা), আরবি ব্যাকরণের নিয়ম ও মাসআলা ইত্যাদি উল্লেখ করেছেন; যা নিজ বিষয়ের বিচারে অত্যন্ত চমৎকার।তিনি ‘শারহুল মুহাযযাব’ থেকে ‘আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি’ (মুফতি ও ফতোয়াপ্রার্থীর শিষ্টাচার) অংশটি পৃথক করেছেন, যা অত্যন্ত মূল্যবান। তাঁর আগে আবু আমর ইবনুস সালাহ এবং তাঁরও আগে আবুল কাসিম আস-সাইমারি এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১০)
وفتاوى أخر رتّبها بخطه، مما لم يذكر في فتاويه.فهذه نحو من خمسين تصنيفاً، كل ذلك " كما قال الكمال الأدفوي " في زمن يسير وعمر قصير، انتهى.نبذة من كلام العلماء في كتبهوعمّ النفع بتصانيفه وانتشر في الأقطار ذكرها، وأكبوا على تحصيلها، حتى رأيت من كان يشنؤها في حياته، مجتهداً في تحصيلها والانتفاع بها بعد مماته.قلت: قال اليافعي: وقد بلغني أنه حصلت له نظرة جمالية من نظرات الحق سبحانه وتعالى بعد موته، فظهرت بركتها على كتبه، فحظيت بقبول العباد، والنفع في سائر البلاد.وقال العثماني قاضي صفد في ترجمته من " طبقات الشافعية " له: سمعت الخطيب جمال الدين محمود بن جملة، الخطيب بالجامع الأموي، يقول بحضرة جماعة من مشائخ العصر: إنه سمع من شخص يخاطبه وهو بين النائم واليقظان: إن الله أفاض على النووي في قبره فيضاً، فصرف ذلك الفيض إلى كتبه، فمن ثم شاعت وذاعت، انتهى ما قاله العثماني.وأثنى الشمس الموصلي على جملة منها نظماً فقال:أحيا لنا العلم " يحيى " حين ألّفه … ب " روضة "، و " رياض "، ثم " أذكارو" شرحه مسلماً "، و " الأربعين "، وفي … " تقريبه " شرح أنواع الأخبارو" المبهمات " و " تهذيب اللغات "، وكم … أبدى ل " منهاجه " تنبيه أنوارفالله يجزيه عنا كل صالحة … وأن يقينا وإياه من الناروقد كانت " كما قرأته بخط الزين العراقي الحافظ بخطبة تخريجه الأكبر للإحياء " عادة المتقدمين السكوت على ما أوردوه من الأحاديث في تصانيفهم، من غير بيان لمن أخرج ذلك الحديث من أئمة الحديث، ومن غير بيان للصحيح من الضعيف، إلا نادراً، وإن كانوا من أئمة الحديث، ولكنهم مشوا على عادة من تقدمهم من الفقهاء، حتى جاء الشيخ محيي الدين النووي، فصار يسلك في تصانيفه الفقهية الكلام على الحديث، وبيان من خرّجه، وبيان صحته من ضعفه، وهذا أمر مهم مفيد. فجزاه الله خيراً. لأنه تحمّل عن ناظر كتابه التطلب لذلك في كتب الحديث، والمتقدمون يحيلون كل علم على كتبه، حتى لا يغفل الناس النظر في كل علم من كتب أهله ومضانه. وهذا الإمام أبو القاسم الرافعي يمشي على طريقة الفقهاء، مع سعة علمه بالحديث، حتى سمعنا شيخنا الحافظ أبا سعيد العلائي يقول: إن الرافعي أعرف بالحديث من الشيخ محيي الدين، فتوقفتُ في ذلك، فقال لي: هذه أماليه تدل على ذلك وعلى معرفته بمصطلحات أهله، وكذلك شرح " مسند الشافعي " له، ولكل من العلماء قصد ونية، على حسب ما وفِّق له وألهم، انتهى." المنهاج " وحفظ " المنهاج " بعد موته خلائق. وأثنى حجة العرب الجمال ابن مالك على حسن اختصاره وعذوبة ألفاظه، حتى قال لي: والله لو استقبلت من أمري ما استدبرت لحفظته.وامتدحه شيخنا الأديب الفاضل الرشيد أبو حفص عمر بن إسماعيل بن مسعود الفارقي، شيخ الأدب في وقته، بأبيات وقف عليها الشيخ بخطه، فقال:اعتَنَى بالفضل " يحيى " فاغتَنى … عن " بسيط ب " وجيز " نافعِوتحلَّى " منتقاه " فضله … فتجلّى بلطيف " جامع "ناصباً أعلام علمٍ، جازما … بمقالٍ رافعاً لل " رافعي "فكأنّ " ابن صلاحٍ " حاضرٌ … وكأنْ ما غاب عنا " الشافعي "قلت: وقال فيه الأسنوي أيضاً:يا ناهجاً منهاجَ حَبْر وناسك … دققت دقائق فكره وحقائقُهْبادر ل " محيي الدين " فيما رمتَه … يا حبذا " منهاجُه " و " دقائقُهْ "وقال غيره:إن رمتَ فِقهاً صافياً كالعاج … فعليك يا ذا الذهن ب " المنهاج "فيه الصحيح مع الفصيح وعمدة ال … مُفْتين والحكام والحُجّاجمن قاسه بسواه مان وذاك من … غبْنٍ ومن حسدٍ وسوءِ مزاجوللبرهان الجعبري:لله دَرّ إمام زاهدٍ ورع … أبدى لنا من فتاوى الفقه " منهاجا "ألفاظُه كعقود الدّر ساطعةٌ … على الرياض تزيد الحسن إبهاجافاسلكه تَحْظ بأحكام تُنيف على … علم " المحرَّر " تأويباً وإدلاجا
এবং অন্যান্য ফতোয়াসমূহ যা তিনি নিজের হস্তাক্ষরে বিন্যস্ত করেছেন, যা তাঁর (প্রকাশিত) ফতোয়াসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।অতএব, এগুলো প্রায় পঞ্চাশটি রচনাবলি; আর এই সবই—যেমনটি কামাল আল-আদফুয়ি বলেছেন—অল্প সময়ে এবং সংক্ষিপ্ত আয়ুষ্কালে সম্পন্ন হয়েছে। সমাপ্ত।তাঁর কিতাবসমূহ সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের বক্তব্যের সংক্ষেপতাঁর রচনাবলি দ্বারা উপকারিতা ব্যাপক হয়েছে এবং বিভিন্ন ভূখণ্ডে সেগুলোর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ সেগুলো সংগ্রহের জন্য ঝুঁকে পড়েছে; এমনকি আমি এমন লোককেও দেখেছি যারা তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করত, কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের পর সেগুলো সংগ্রহ করতে এবং তা থেকে উপকৃত হতে সচেষ্ট হয়েছে।আমি বলছি: আল-ইয়াফেয়ি বলেছেন: আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, তাঁর ইন্তেকালের পর হক সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি একটি সৌন্দর্যের দৃষ্টি (নজরে জামাল) নিপতিত হয়েছে। ফলে তাঁর কিতাবসমূহে এর বরকত প্রকাশ পেয়েছে এবং বান্দাদের মাঝে তা কবুলিয়াত লাভ করেছে ও সকল জনপদে এর উপকারিতা ছড়িয়ে পড়েছে।সাফাদের কাজি আল-উসমানি তাঁর রচিত ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’ গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে বলেছেন: আমি খতিব জামালুদ্দিন মাহমুদ বিন জুমলা-কে—যিনি উমাইয়া মসজিদের খতিব ছিলেন—একদল সমকালীন মাশায়েখের উপস্থিতিতে বলতে শুনেছি যে, তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় এক ব্যক্তিকে তাঁকে সম্বোধন করে বলতে শুনেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নববির কবরে একটি বিশেষ অনুগ্রহ বর্ষণ করেছেন, অতঃপর সেই অনুগ্রহকে তাঁর কিতাবসমূহের দিকে ধাবিত করেছেন; সেখান থেকেই সেগুলো এত সুপ্রসিদ্ধ ও ছড়িয়ে পড়েছে। উসমানির বক্তব্য এখানেই শেষ।শামস আল-মাওসিলি এগুলোর প্রশংসা করে কাব্যাকারে বলেছেন:‘ইয়াহইয়া’ আমাদের জন্য ইলমকে জীবিত করেছেন যখন তিনি রচনা করেছেন … ‘রাওদাহ’, ‘রিয়াদ’ এবং ‘আযকার’এবং ‘মুসলিম-এর শারহ’, ‘আরবাঈন’, আর তাঁর … ‘তাকরিব’ গ্রন্থে সংবাদের প্রকারভেদের ব্যাখ্যাএবং ‘মুবহামাত’, ‘তাজহিবুল লুগাত’; আর তাঁর … ‘মিনহাজ’-এর জন্য কত যে নূরের উদ্ভাস প্রকাশ করেছেন!আল্লাহ যেন আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন … আর আমাদের ও তাঁকে যেন জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেনআমি হাফেজ জয়নুদ্দিন আল-ইরাকির স্বহস্তে লিখিত ‘আল-ইহয়া’-এর বৃহৎ তাখরিজের ভূমিকায় যা পড়েছি: পূর্ববর্তীদের রীতি ছিল তাঁদের কিতাবসমূহে বর্ণিত হাদিসগুলোর ব্যাপারে নীরব থাকা, কোনো মুহাদ্দিস ইমাম সেটি বর্ণনা করেছেন তা বর্ণনা না করা এবং কদাচিৎ ব্যতীত সহিহ ও জয়িফের পার্থক্য স্পষ্ট না করা। যদিও তাঁরা মুহাদ্দিস ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তবুও তাঁরা তাঁদের পূর্বসূরি ফকিহদের অনুসৃত পথেই চলেছেন। অবশেষে শায়খ মুহিউদ্দিন আন-নববি আসলেন এবং তিনি তাঁর ফিকহি কিতাবসমূহে হাদিস নিয়ে আলোচনা করার এবং কে সেটি বর্ণনা করেছেন ও সেটির সহিহ-জয়িফ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করার পদ্ধতি অবলম্বন করলেন। আর এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী বিষয়। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন। কারণ, তিনি তাঁর কিতাবের পাঠকের পক্ষ থেকে হাদিসের কিতাবসমূহে এটি খুঁজে দেখার কষ্ট লাঘব করেছেন। অথচ পূর্ববর্তীরা প্রত্যেক ইলমকে তার নিজস্ব কিতাবের হাওলা দিতেন, যাতে মানুষ প্রতিটি ইলম সম্পর্কে তার উপযুক্ত কিতাব ও উৎস থেকে বিমুখ না হয়। এই ইমাম আবুল কাসিম আল-রাফেয়ি হাদিসশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও ফকিহদের পদ্ধতিতেই চলেছেন। এমনকি আমরা আমাদের শায়খ হাফেজ আবু সাঈদ আল-আলায়ি-কে বলতে শুনেছি: ‘নিশ্চয়ই রাফেয়ি শায়খ মুহিউদ্দিনের চেয়ে হাদিসশাস্ত্রে অধিক দক্ষ’। আমি এ বিষয়ে কিছুটা দ্বিধান্বিত হলে তিনি আমাকে বললেন: ‘তাঁর এই আমালি-গুলো এবং হাদিসবেত্তাদের পরিভাষায় তাঁর জ্ঞানই এর প্রমাণ দেয়। অনুরূপভাবে তাঁর কৃত ‘মুসনাদে শাফিঈ’-এর শারহও এটি প্রমাণ করে’। প্রত্যেক আলিমেরই একটি লক্ষ্য ও নিয়ত থাকে, যে অনুযায়ী তাঁকে তাওফিক ও ইলহাম প্রদান করা হয়। সমাপ্ত।‘আল-মিনহাজ’ এবং তাঁর ইন্তেকালের পর অসংখ্য মানুষ এই ‘মিনহাজ’ মুখস্থ করেছে। আরবের শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ জামাল ইবনে মালিক এর সংক্ষিপ্তকরণের সৌন্দর্য এবং এর শব্দশৈলীর সাবলীলতার প্রশংসা করেছেন, এমনকি তিনি আমাকে বলেছিলেন: ‘আল্লাহর কসম, আমি যদি আমার জীবনের অতিবাহিত সময় ফিরে পেতাম তবে আমি এটি মুখস্থ করতাম।’আমাদের শায়খ, ললিত সাহিত্যের পণ্ডিত আবু হাফস উমর বিন ইসমাইল বিন মাসউদ আল-ফারিকি—যিনি তৎকালীন সাহিত্যের প্রধান ছিলেন—কয়েকটি পঙক্তিতে তাঁর প্রশংসা করেছেন যা শায়খ (নববি) নিজ হাতে লিখে রেখেছেন। তিনি বলেছেন:‘ইয়াহইয়া’ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি যত্নবান হয়েছেন, ফলে তিনি মুখাপেক্ষীহীন হয়েছেন … ‘বাসিত’ থেকে এক উপকারী ও ‘ওয়াজিজ’ কিতাবের মাধ্যমেতাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ‘মুনতাকা’ সুশোভিত হয়েছে … অতঃপর তা এক সূক্ষ্ম ‘জামে’ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছেতিনি ইলমের ঝাণ্ডা গেড়েছেন দৃঢ়ভাবে … সুদৃঢ় বাক্যের মাধ্যমে যা ‘রাফেয়ি’-কেও উচ্চে তুলে ধরেমনে হয় যেন ‘ইবনে সালাহ’ সশরীরে উপস্থিত … আর যেন ‘শাফিঈ’ আমাদের কাছ থেকে কখনো দূরে যাননিআমি বলছি: আল-আসনাবিও তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:হে প্রাজ্ঞ আলিম ও ইবাদতকারীর পথ অনুসরণকারী! … আপনি তাঁর চিন্তার সূক্ষ্মতা ও রহস্যগুলোকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেনআপনি যা অন্বেষণ করছেন তাতে ‘মুহিউদ্দিন’-এর দিকে ধাবিত হোন … কতই না চমৎকার তাঁর ‘মিনহাজ’ ও ‘দাকাইক’!অন্য একজন বলেছেন:যদি আপনি হাতীর দাঁতের মতো স্বচ্ছ ফিকহ চান … তবে হে বুদ্ধিমান! আপনি ‘মিনহাজ’ আঁকড়ে ধরুনতাতে প্রাঞ্জল ভাষার সাথে সহিহ মত রয়েছে, আর তা মুফতি … বিচারক ও হাজিদের জন্য প্রধান অবলম্বনযে ব্যক্তি অন্য কিছুর সাথে এর তুলনা করে সে মিথ্যাচার করে; আর তা … কেবল বঞ্চনা, হিংসা ও কুস্বভাবের কারণেই হয়বোরহান আল-জা’বারির পঙক্তিমালা:আল্লাহরই জন্য এক পরহেজগার, সংযমী ইমামের প্রশংসা … যিনি আমাদের জন্য ফিকহী ফতোয়া থেকে এক ‘মিনহাজ’ উন্মোচন করেছেনতাঁর শব্দগুলো মুক্তোর মালার মতো উজ্জ্বল … যা বাগানের ওপর সৌন্দর্য ও দীপ্তি বাড়িয়ে দেয়সুতরাং আপনি এই পথে চলুন, তবেই এমন সব বিধান লাভ করবেন যা … দিন-রাত ‘মুহাররার’-এর ইলমের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১১)
وانهلْ من " الروضة " الغنّاء زاهرةً … بحراً من الفقه عذبَ الورد ثجّاجاأحيَ لنا الدين " محبيه " فألبسه … بما تنوّع من تصنيفه تاجايا ربِّ حيِّ ثرى " يحيى " ونَمِّ له … نوراً يسير به في العَرْض فجّاجابوِّئه قربَك في الفردوس منزلةً … مع الذي نال في مسراه معراجاوللعلاء المقدسي تلميذه:ما صنف العلماء ك " المنهاج " … في شرعة سلفٌ ولا مِنهاجفاجهد على تحصيله وكن آمنا … بالحق في تفصيله من هاجٍوله أيضاً:يا طالباً علم الإمام الشافعي … هو في اختصار " محرَّر " للرافعيفاجهد على تحصيله وانسخ سوا … هـ بلفظه العذب البديع النافعوقال شاعر العصر الشمس النواجي:يمِّمْ حمى النووي ولُذْ بعلومه … وأنِخْ ب " روضته " تفز بحقائقِهْواصرف لها ساعاتِ وقتك تريقِ … درجاً إلى " منهاجه " و " دقائقه "قال التقي السبكي في أول القطعة التي شرحها منه ما نصه: هذا الكتاب في هذا الوقت هو عمدة الطلبة وكثير من الفقهاء، في معرفة المذهب، انتهى كلام السبكي.وممن علمته شرحه من الأئمة: البهاء أبو العباس محمد بن أبي بكر بن عرّام السكندري، والد التقي محمد ففي ترجمته أنه علق على " المنهاج ".والكمال بن المعالي محمد بن علي بن عبد الواحد، بن الزمْلَكاني الدمشقي.والبرهان إبراهيم بن التاج بن عبد الرحمن بن إبراهيم بن الفركاح.علق كل منهما تعليقا - كما رأيته في ترجمتيهما، وأن أولهما سمى شرحه " السراج الوهاج في إيضاح المنهاج "، وقطعته جيدة، وفي أوقاف الكتب الباسطية لأبن الفركاح عليه نكت صغيره الحجم، سماها: " بعضُ غرض المحتاج ".وشرحه المجد أبو بكر بن إسماعيل بن عبد العزيز الزنكلوني، نحو شرحه على " التنبيه " في الحجم، لكن ذاك أحسن من هذا.وكذا شرحه الشيخ نور الدين فرج بن أحمد بن محمد الأردبيلي، كتب من ست مجلدات، وهي بالمدرسة المحمودية.الشيخ تقي الدين أبو الحسن علي بن عبد الكافي السبكي سماه " الابتهاج " لكنه لم يكمل، وقال في خطبته: وقد كنت في سنة ثمان وسبعمائة شرعت في شرح عليه كبير جداً في غاية النفاسة، سميته " العبير المذهب في تحرير المذهب "، عملت منه قطعة لطيفة من أول الصلاة، ولم يتفق الاستمرار عليه.وقد انتهت كتابته في " الابتهاج " إلى الطلاق، في ثمانية أجزاء. وشرع ولده البهاء أبو حامد أحمد في إكماله، فمات قبل أن يتم أيضاً. وكذا كمّل على السبكي من المتأخرين: الشيخ نور الدين محمود بن أحمد بن محمد الحموي، عرف بابن خطيب الدهيشة، وما أعرف هل تمّ أو لا؟ وكتب عليه شيئاً محمد بن عيسى بن عبد الله السكسكي المصري، ثم الدمشقي.والعماد محمد الأسنوي أخو الجمال الآتي شرحاً رأيت منه إلى البيع في مجلد لطيف، عند النجم بن حجي.وكذا كتب عليه الشيخ شهاب الدين أبو العباس أحمد بن لؤلؤ بن النقيب، شرحاً لم يكمل ولا اشتهر ونكتاً كملت وانتفع بها، وهي كثيرة الفائدة.والشيخ جمال الدين أبو محمد عبد الرحيم ابن الحسن الأسنوي، وما أحسنه وأتقنه.! لكنه لم يكمل، وصل فيه إلى المسافات، فكمّل عليه الشيخ بدر الدين محمد بن بهادر الزركشي، ثم استأنف وصار شرحه مستقلاً، لكن التكملة أكثر تداولاً.وللبدر عليه أيضاً " الديباج "، في مجلد. وكذا كمل على الأسنوي تلميذه: الشيخ زين الدين أبو بكر بن الحسين المراغي، ثم استأنف " فيما أظن " فصار شرحه أيضاً مستقلاً.والقاضي عز الدين أبو عمر عبد العزيز بن محمد بن إبراهيم بن جماعة، تكلم على مواضع فيه. قال الولي العراقي: إنه صنف عليه شرحاً لم يكمله.والعماد أبو الفداء إسماعيل بن خليفة الحسباني، له شرح في عشرة مجلدات، فيه نقول كثيرة وأبحاث نفيسة، لكنه " كما قال ابن قاضي شهبة " لم يشتهر، لأن ولده لم يمكّن أحداً من كتابته، فاحترق غالبه في الفتنة، قال: ورأيت منه مجلداً بخط الأذرعي، وكأنه كتب لنفسه منه نسخة، وهو ينقل أغلب ما فيه من النقول والبحوث في " القوت ".والجمال محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد الشَّريشي، في أربعة أجزاء، اختصره من شرح الرافعي الصغير.
এবং প্রস্ফুটিত সতেজ "রাওদাহ" থেকে পান করো … ফিকহের এক সমুদ্র, যার পানি সুমিষ্ট ও প্রবাহমান।আমাদের জন্য দ্বীনকে পুনর্জীবিত করো, হে দ্বীন অনুরাগীগণ, এবং একে তাঁর … বহুমুখী রচনার মুকুট পরিয়ে দাও।হে পালনকর্তা, "ইয়াহইয়া"-এর মাটিকে সিক্ত করুন এবং তাঁর জন্য … এমন নূর বৃদ্ধি করুন যা দিয়ে তিনি হাশরের ময়দানে প্রশস্ত পথে চলবেন।তাঁকে আপনার নৈকট্যে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দিন … তাঁর সাথে যিনি মিরাজের সফরে উর্ধ্বারোহণ করেছিলেন।তাঁর ছাত্র আল-আলা আল-মাকদিসী বলেন:পূর্বসূরিদের শরিয়ত বা জীবনবিধানের ওপর আলেমগণ "মিনহাজ"-এর মতো … কোনো কিতাব রচনা করেননি।তাই এটি অর্জনে সচেষ্ট হও এবং সত্য সহকারে … এর বিস্তারিত বিবরণ দ্বারা নিন্দুকের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকো।তাঁর আরও কবিতা:হে ইমাম শাফেয়ীর ইলমের অন্বেষণকারী … এটি রাফিয়ীর "মুহাররার"-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।তাই এটি অর্জনে সচেষ্ট হও এবং এর সুমিষ্ট, চমৎকার ও … উপকারী শব্দের মাধ্যমে অন্য সব কিছুকে বর্জন করো।এ যুগের কবি শামস আন-নাওয়াজি বলেন:তুমি নববীর আশ্রয়ের দিকে মনোনিবেশ করো এবং তাঁর ইলমের আশ্রয় নাও … তাঁর "রাওদাহ"-তে অবস্থান করো, তবেই তুমি এর নিগূঢ় রহস্যগুলো লাভে সফল হবে।এবং তোমার সময়ের মুহূর্তগুলো এতে ব্যয় করো, যেন তুমি তাঁর … "মিনহাজ" ও "দাকায়িক"-এর সোপানে আরোহণ করতে পারো।তাকী আস-সুবকী তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের শুরুতে বলেছেন: "এই সময়ে মাজহাব সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এই কিতাবটিই ছাত্র ও অনেক ফকীহদের প্রধান অবলম্বন।" সুবকীর কথা এখানেই শেষ।আইম্মায়ে কেরামের মধ্যে যারা এটি ব্যাখ্যা করেছেন বলে আমি জানি: আল-বাহা আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে আররাম আল-ইসকান্দারি, যিনি তাকী মুহাম্মাদের পিতা; তাঁর জীবনীতে উল্লেখ আছে যে তিনি "মিনহাজ"-এর ওপর টীকা লিখেছিলেন।এবং আল-কামাল ইবনে আল-মাআলি মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল জামলাকানি আদ-দিমাশকি।এবং বুরহান ইবরাহিম ইবনে আত-তাজ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহিম ইবনুল ফিরকাহ।তাঁদের প্রত্যেকেই এর ওপর টীকা লিখেছেন—যেমনটি আমি তাঁদের জীবনীতে দেখেছি। তাঁদের মধ্যে প্রথমজন তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম দিয়েছেন "আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ ফি ইদাহিল মিনহাজ"। তাঁর এই অংশটি অত্যন্ত চমৎকার। আর ইবনুল ফিরকাহ-এর কিতাবের ওয়াকফকৃত পাণ্ডুলিপিতে এর ওপর ছোট আয়তনের কিছু সূক্ষ্ম আলোচনা রয়েছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন: "বাদু গরাদিল মুহ্তাজ"।আল-মাজদ আবু বকর ইবনে ইসমাইল ইবনে আব্দুল আজিজ আজ-জাঙ্কালুনি এটি ব্যাখ্যা করেছেন, যা আয়তনের দিক থেকে তাঁর "আত-তানবিহ"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের মতোই, তবে সেটি এর চেয়ে উত্তম।অনুরূপভাবে শায়খ নূরুদ্দীন ফারাজ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আরদাবিলি এটি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি ছয় খণ্ডে এটি লিখেছেন, যা মাহমুদিয়া মাদ্রাসায় সংরক্ষিত আছে।শায়খ তাকীউদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল কাফি আস-সুবকী এর নাম দিয়েছিলেন "আল-ইবতিহাজ", কিন্তু তিনি তা পূর্ণ করতে পারেননি। তিনি তাঁর ভূমিকার ভাষণে বলেছেন: "সাতশ আট হিজরিতে আমি এর ওপর অত্যন্ত চমৎকার ও বিশাল একটি ব্যাখ্যা লিখতে শুরু করেছিলাম, যার নাম দিয়েছিলাম 'আল-আবীরুল মাজহাব ফি তাহরীরিল মাজহাব'। আমি সালাতের শুরু থেকে এর একটি সুন্দর অংশ তৈরি করেছিলাম, কিন্তু তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।""আল-ইবতিহাজ"-এ তাঁর লেখা তালাক অধ্যায় পর্যন্ত গিয়ে আট খণ্ডে সমাপ্ত হয়েছে। তাঁর পুত্র আল-বাহা আবু হামিদ আহমাদ এটি পূর্ণ করার কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু তিনিও সমাপ্ত করার আগেই ইন্তেকাল করেন। একইভাবে পরবর্তীকালের আলিমদের মধ্যে শায়খ নূরুদ্দীন মাহমুদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-হামাভী, যিনি ইবনে খাতিব আদ-দাহিশাহ নামে পরিচিত, সুবকীর অসমাপ্ত কাজ পূর্ণ করেছিলেন। তবে এটি পূর্ণ হয়েছে কি না তা আমি জানি না। মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাকসাকি আল-মিসরি, অতঃপর আদ-দিমাশকিও এর ওপর কিছু লিখেছেন।ইমাদ মুহাম্মাদ আল-আসনাবি, যিনি সামনে উল্লেখিত জামাল (আল-আসনাবি)-এর ভাই; আমি নাজমুদ্দীন ইবনে হিজ্জির কাছে এক ছোট খণ্ডে এর ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় পর্যন্ত তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ দেখেছি।তেমনি শায়খ শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে লুলু ইবনুন নাকিব একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছিলেন যা পূর্ণ হয়নি এবং প্রসিদ্ধিও লাভ করেনি। তবে তিনি কিছু সূক্ষ্ম আলোচনা লিখেছিলেন যা পূর্ণ হয়েছে এবং তা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়েছে; এটি অত্যন্ত ফায়দাজনক।এবং শায়খ জামালুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহিম ইবনুল হাসান আল-আসনাবি; কিতাবটি কতই না উত্তম ও সুবিন্যস্ত! কিন্তু এটি পূর্ণ হয়নি, তিনি "মাসাফাত" (দূরত্ব) অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। অতঃপর শায়খ বদরুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে বাহাদুর আজ-জারকাশি এটি পূর্ণ করেন। পরবর্তীতে তিনি পুনরায় শুরু করেন এবং তাঁর ব্যাখ্যাটি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে পরিণত হয়। তবে পরিশিষ্ট অংশটিই বেশি প্রচলিত।বদরুদ্দীন (আজ-জারকাশি)-এর এর ওপর "আদ-দিবাজ" নামে এক খণ্ডের একটি গ্রন্থ আছে। তেমনি আল-আসনাবির ছাত্র শায়খ জয়নুদ্দীন আবু বকর ইবনুল হুসাইন আল-মারাগি এটি পূর্ণ করেছিলেন; অতঃপর তিনি পুনরায় শুরু করেন—আমার ধারণা মতে—ফলে তাঁর ব্যাখ্যাটিও একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে পরিণত হয়।কাযী ইযযুদ্দীন আবু উমর আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে জামাআহ এর বেশ কিছু স্থানের ওপর আলোচনা করেছেন। ওয়ালীউদ্দীন আল-ইরাকি বলেছেন: তিনি এর ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছিলেন যা তিনি পূর্ণ করতে পারেননি।ইমাদ আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে খলিফা আল-হাসবানি; তাঁর দশ খণ্ডের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যাতে প্রচুর উদ্ধৃতি ও মূল্যবান গবেষণা রয়েছে। কিন্তু "ইবনে কাদী শুহবাহ" যেমনটি বলেছেন, এটি তেমন প্রসিদ্ধি পায়নি, কারণ তাঁর পুত্র কাউকে এটি নকল করতে দেননি। ফলে ফিতনার সময় এর অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়। তিনি বলেন: আমি আল-আজরয়ীর হস্তাক্ষরে এর এক খণ্ড দেখেছি; মনে হয় তিনি নিজের জন্য একটি কপি লিখে নিয়েছিলেন এবং তিনি এর অধিকাংশ উদ্ধৃতি ও গবেষণা তাঁর "আল-কুত" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।এবং জামাল মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আশ-শারিশি; তিনি চার খণ্ডে রাফিয়ীর "শারহুস সাগির" থেকে এটি সংক্ষেপ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১২)
والتقي أبو بكر بن محمد بن الحصني، شرحه في عشرة أجزاء، وكأنه بعد سنة ست وسبعين، والشيخ شهاب الدين أحمد بن حمدان الأذرعي. له " غنية المحتاج "، و " قوت المحتاج "، وحجمهما متقارب، وفي كل منهما ما ليس في الآخر، إلا أنه كان في الأصل وضع أحدهما لحل ألفاظ الكتاب فقط فما انضبط له ذلك، بل انتشر جداً.وشرح قطعة منه القاضي برهان الدين إبراهيم بن عبد الرحيم بن البدر ابن جماعة، في مجلد رأيته بخطه.وشرحه الشرف أبو الروح عيسى بن عثمان العزِّي، مصنف " أدب القضاء "، في " كبير " نحو عشر مجلدات، و " صغير " في مجلدين، لخصه من كلام الأذرعي، مع فوائد كبيرة من " الأنوار ". وله شرح ثالث متوسط بينهما.والشيخ سراج الدين أبو حفص عمر بن علي بن الملقِّن، في " كبير " عُدِم، وسماه " كما قال قاضي صفد فيما أرسل به إليه " " جامع الجوامع "، وإنه نحو ثلاثين جزءاً و " متوسط " سماه: " العمدة ". و " مختصر " سماه: " العجالة "، وله أيضاً: " نهاية المحتاج لتوجيه المنهاج "، قَدْر المتن، وخرّج أحاديثه وضبط لغاته وغير ذلك.والشيخ سراج الدين أبو حفص عمر بن رسلان البلقيني كتب على ربع الجراح كتابة أطال فيها النفس، في خمس مجلدات وكذا كتب منه قطعاً غير ذلك، من ذلك من النكاح نحو مجلّد.والشيخ شهاب الدين أبو العباس أحمد بن العماد الأقفهسي، في " مطول " لم يوجد منه الآن سوى قطعة يسيرة تنتهي إلى صلاة الجماعة، في ثلاثة مجلدات. و " مختصر " في مجلدين.والشيخ كمال الدين محمد بن موسى الدميري، في أربعة مجلدات، ضمّنه فوائد كثيرة خارجة عن الفقه. قال في خطبته: وأول من شرحه الشيخ الإمام العلامة تقي الدين السبكي، فسبك إبريزه، ثم شيخنا الشيخ جمال الدين، لخّصه بعبارته الوجيزة، ثم العلامة شيخنا الشيخ سراج الدين بن أبي الحسن، فبيّن من أدلته الصحيح والغريب والحسن، ونقى شرحه ولغاته عن الطرف الوسن، ثم شرحه العلامة الأذرعي فسكّت وبكّت، ثم النّقاب ابن النقيب، نقّب عليه ونكّت، فكان كالجدول من البحر المحيط، والخلاصة من " البسيط " و " الوسيط "، ثم علق عليه أئمة من علماء العصر، كتبوا فأحسنوا ما صنعوا، وقوم أطنبوا، وقوم تمّموا فتعبوا وأتعبوا، وكل منهم عادت عليه بركة علاّمة نوى، فبلغ قصده، ولكل امرئ ما نوى:وقلَّ من جدَّ في أمر يحاوله … واستصحب الصبر إلا فاز بالظفرانتهى كلام الدميري.وقد ظهر بما قلناه إن السبكي ليس أول من شرحه، نعم: إن كان بالنظر إلى الوفاء بالمقصود فالأولية صحيحة. ثم أن في تقديمه لابن الملقّن على الأذرعي مع الإتيان بثم: إشارة إلى أنه وإن تأخرت وفاته عن الأذرعي، فإنه صنف شرحه قديماً في أيام شيخه الأسنوي، حتى إن الأذرعي وقف عليه واستفاد منه، واعترض عليه في مواضع. وأما تعيين من أبهمه فيمكن أن يكون أشار إلى البدر الزركشي، والمراغي، أو أحدهما، والله أعلم.وفي ترجمة القاضي فخر الدين أبي اليمن محمد بن محمد بن محمد بن أسعد القاياتي، جدِّ شيختنا أم هانئ الهورنية لأمها والدة العلامة سيف الدين الحنفي، رحمهما الله من معجم شيخنا: أنه حفظ " المنهاج " وكتبه بخطه.وكتب عليه " مع قلة بضاعته " وشرحه أيضاً: الشيخ شمس الدين محمد ابن محمد بن الخضر العيزري، في شرحين، أحدهما: " كنز المحتاج إلى إيضاح المنهاج "، والآخر: " السراج الوهاج في حل المنهاج ".وشرح فرائضه الجمال يوسف بن الحسن بن محمد الحموي، خطيب المنصورية، وهو في مجلد عند العلامة النجم بن حجي، بورك في حياته.وشرحه الجمال عبد الله بن محمد بن طيمان، الطَّيماني، اختصره من شرح الشرف الغزّي. وكذا كتب عليه ملخِّصاً من الأذرعي وغيره شيئاً لم يشتهر، بغلاقة لفظه واختصاره.وكتب على خطبته شرحاً مطوَّلاً: الشيخ شهاب الدين أبو العباس أحمد ابن محمد بن عماد، عرف بابن الهائم، الفرضي.وللشيخ عز الدين محمد بن أبي بكر بن جماعة عليه: " زاد المحتاج في نكت المنهاج "، و " منهج المحتاج في نكت المنهاج "، و " بغية المحتاج إلى نكت المنهاج "، و " القصد الوهاج في حواشي المنهاج "، و " المنهج الوهاج في شرح المنهاج "، و " سائل الابتهاج في شرح المنهاج "، و " منبع الابتهاج في شرح فرائض المنهاج "، و " السبيل الوهاج في شرح فرائض المنهاج "، وغير ذلك مما وجد منه شرح الخطبة وأماكن مفرّقة عند أبي حجي المذكور.
আর তাকি আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হিসনি এটি দশ খণ্ডে ব্যাখ্যা করেছেন, আর এটি সম্ভবত ছিয়াত্তর হিজরি সালের পরের ঘটনা। এবং শেখ শিহাবউদ্দীন আহমদ বিন হামদান আল-আজরয়ি। তাঁর রয়েছে "গুনিয়াতুল মুহতাজ" এবং "কুতুল মুহতাজ", এ দুটির কলেবর প্রায় কাছাকাছি, এবং প্রত্যেকটিতে এমন কিছু আছে যা অন্যটিতে নেই। তবে মূলত এর একটি কেবল কিতাবের শব্দগুলোর অর্থ বিশ্লেষণের জন্য রচিত হয়েছিল, কিন্তু তা সেই সীমার মধ্যে থাকেনি, বরং অত্যন্ত বিস্তারিত হয়ে গেছে।আর কাজী বুরহানউদ্দীন ইবরাহিম বিন আবদুর রহিম বিন আল-বদর ইবন জামাআহ এর একটি অংশের ব্যাখ্যা লিখেছেন এক জিলদে, যা আমি তাঁর হস্তলিপিতে দেখেছি।আর শারফ আবু আল-রুহ ঈসা বিন উসমান আল-ইজ্জি, যিনি "আদাবুল কাজা" এর লেখক, এটি ব্যাখ্যা করেছেন; একটি "বড়" যা প্রায় দশ খণ্ডে এবং একটি "ছোট" যা দুই খণ্ডে। তিনি এটি আল-আজরয়ির বক্তব্য থেকে সংক্ষেপ করেছেন এবং সাথে "আল-আনওয়ার" থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফায়দা যোগ করেছেন। এছাড়াও তাঁর এ দুইয়ের মাঝামাঝি একটি তৃতীয় ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে।আর শেখ সিরাজউদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আলী বিন আল-মুলাক্কিন। তাঁর রয়েছে একটি "বড়" ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা হারিয়ে গেছে, আর সাফিদের কাজী তাঁর কাছে পাঠানো বার্তায় সেটিকে "জামি উল জাওয়ামি" নামে অভিহিত করেছেন; এটি প্রায় ত্রিশ খণ্ডের ছিল। একটি "মাঝারি" যার নাম দিয়েছেন "আল-উমদাহ" এবং একটি "সংক্ষিপ্ত" যার নাম দিয়েছেন "আল-উজাল্লাহ"। তাঁর আরও রয়েছে "নিহায়াতুল মুহতাজ লি-তাওজিহিল মিনহাজ", যা মূল পাঠের সমপরিমাণ, এবং তিনি এর হাদিসগুলো চয়ন করেছেন এবং ভাষাগত বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছেন।আর শেখ সিরাজউদ্দীন আবু হাফস উমর বিন রুসলান আল-বুলকিনি জরাহ (আহত করা/বিচারিক পরিচ্ছেদ) অধ্যায়ের এক-চতুর্থাংশের ওপর বিস্তারিত দীর্ঘ আলোচনা লিখেছেন পাঁচ খণ্ডে। এছাড়াও তিনি আরও কিছু অংশের ওপর লিখেছেন, যেমন বিবাহ অধ্যায়ের ওপর প্রায় এক খণ্ড।আর শেখ শিহাবউদ্দীন আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন আল-ইমাদ আল-আকফাহসি একটি "দীর্ঘ" ব্যাখ্যা লিখেছেন যার এখন জামাত বা দলবদ্ধ সালাত অধ্যায় পর্যন্ত সামান্য অংশ পাওয়া যায় যা তিন খণ্ডে। এবং একটি "সংক্ষিপ্ত" ব্যাখ্যা লিখেছেন দুই খণ্ডে।আর শেখ কামালউদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুসা আদ-দামিরি এটি ব্যাখ্যা করেছেন চার খণ্ডে, যাতে তিনি ফিকহ বহির্ভূত অনেক তথ্য ও ফায়দা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি তাঁর ভূমিকার ভাষণে বলেছেন: সর্বপ্রথম এটি ব্যাখ্যা করেছেন শেখ ইমাম আল্লামা তাকিউদ্দীন আস-সুবকি, তিনি এর স্বর্ণ খাঁটি করেছেন। অতঃপর আমাদের শেখ জামালউদ্দীন এটি তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষায় সারসংক্ষেপ করেছেন। এরপর আমাদের আল্লামা শেখ সিরাজউদ্দীন বিন আবিল হাসান এর সহিহ, গরিব এবং হাসান দলিলসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা ও ভাষাগত বিষয়গুলোকে ক্লান্তি ও জড়তা থেকে মুক্ত করেছেন। এরপর আল্লামা আল-আজরয়ি এটি ব্যাখ্যা করেছেন যা অন্যকে নিরব ও লাজবাব করে দেয়। এরপর সূক্ষ্মদর্শী ইবনুন নাকীব এর ওপর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও টীকা প্রদান করেছেন, যা ছিল উত্তাল সমুদ্র থেকে একটি নালার ন্যায় এবং "আল-বাসিত" ও "আল-ওয়াসিত" এর নির্যাসস্বরূপ। এরপর বর্তমান যুগের ইমামগণ এর ওপর টীকা লিখেছেন, তারা যা লিখেছেন তা অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে। কেউ কেউ অনেক দীর্ঘ করেছেন, আবার কেউ কেউ পূর্ণতা দিতে গিয়ে অনেক পরিশ্রম করেছেন এবং অন্যকেও ক্লান্ত করেছেন। তাদের প্রত্যেকের ওপর সেই আল্লামার বরকত বর্ষিত হয়েছে যার তিনি নিয়ত করেছিলেন, ফলে প্রত্যেকেই নিজ গন্তব্যে পৌঁছেছেন। আর মানুষের জন্য তাই রয়েছে যার সে নিয়ত করে:খুব কমই এমন হয়েছে যে কেউ কোনো বিষয়ে চেষ্টা করেছে … এবং ধৈর্য ধারণ করেছে অথচ সফলতা পায়নি।আদ-দামিরির বক্তব্য এখানেই শেষ।আমরা যা বলেছি তা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আস-সুবকি এর প্রথম ব্যাখ্যাকারী নন। হ্যাঁ, উদ্দেশ্য পূরণের পূর্ণাঙ্গতার দিক থেকে ধরলে প্রথম হওয়ার বিষয়টি সঠিক। অতঃপর আল-আজরয়ির আগে ইবনুল মুলাক্কিনের কথা 'অতঃপর' শব্দের মাধ্যমে উল্লেখ করার মাঝে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, যদিও তাঁর মৃত্যু আল-আজরয়ির পরে হয়েছে, তবুও তিনি তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি অনেক আগে তাঁর শিক্ষক আল-আসনাবীর জীবদ্দশায় রচনা করেছিলেন। এমনকি আল-আজরয়ি সেটি দেখেছেন এবং তা থেকে উপকৃত হয়েছেন, আবার কোনো কোনো স্থানে আপত্তিও করেছেন। আর তিনি যাদের নাম অস্পষ্ট রেখেছেন তারা হয়তো বদর আজ-জারকাশি এবং আল-মারাগি, অথবা তাদের একজন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।আর কাজী ফখরউদ্দীন আবু আল-ইয়ামান মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আসআদ আল-কায়াতি—যিনি আমাদের শাইখা উম্মে হানি আল-হাওরানিয়ার মাতামহ এবং আল্লামা সাইফউদ্দীন আল-হানাফির (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন) মাতা—তাঁর জীবনীতে আমাদের শেখের মুজাম গ্রন্থে আছে যে: তিনি "মিনহাজ" মুখস্থ করেছিলেন এবং নিজ হাতে তা লিখেছিলেন।আর শেখ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-খিজর আল-আইজারি তাঁর "স্বল্প পুঁজি" থাকা সত্ত্বেও এর ওপর দুটি ব্যাখ্যা লিখেছেন। একটি হলো: "কানজুল মুহতাজ ইলা ইদাহিল মিনহাজ" এবং অন্যটি হলো: "আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ ফি হাল্লিল মিনহাজ"।আর এর ফারায়েয (উত্তরাধিকার) অংশটি ব্যাখ্যা করেছেন আল-জামাল ইউসুফ বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-হামাভি, যিনি মানসুরিয়ার খতিব ছিলেন। এটি আল্লামা নাজমুদ্দীন ইবনুল হাজ্জির নিকট এক জিলদে সংরক্ষিত আছে; তাঁর জীবনে বরকত হোক।আর আল-জামাল আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন তয়মান এটি ব্যাখ্যা করেছেন, যা তিনি শারফ আল-গাজ্জির ব্যাখ্যা থেকে সংক্ষেপ করেছেন। একইভাবে তিনি আল-আজরয়ি এবং অন্যদের থেকে সারসংক্ষেপ করে এর ওপর কিছু লিখেছেন যা তেমন প্রসিদ্ধি পায়নি, কারণ এর ভাষা অত্যন্ত জটিল এবং অতি সংক্ষিপ্ত।আর শেখ শিহাবউদ্দীন আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইমাদ, যিনি ইবনুল হায়াম নামে পরিচিত এবং একজন ফারায়েয বিশেষজ্ঞ, এর ভূমিকার ওপর একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যা লিখেছেন।আর শেখ ইজ্জুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন জামাআহ-এর এর ওপর রয়েছে: "জাদুল মুহতাজ ফি নুকাতিল মিনহাজ", "মানহাজুল মুহতাজ ফি নুকাতিল মিনহাজ", "বুগইয়াতুল মুহতাজ ইলা নুকাতিল মিনহাজ", "আল-কাসদুল ওয়াহহাজ ফি হাশিয়াতিল মিনহাজ", "আল-মানহাজুল ওয়াহহাজ ফি শারহিল মিনহাজ", "সাইলুল ইবতিহাজ ফি শারহিল মিনহাজ", "মানবাউল ইবতিহাজ ফি শারহি ফারায়েজিল মিনহাজ", "আস-সাবিলুল ওয়াহহাজ ফি শারহি ফারায়েজিল মিনহাজ" এবং আরও অনেক কিছু যার মধ্যে ভূমিকার ব্যাখ্যা এবং বিক্ষিপ্ত কিছু অংশ ওপরের উল্লিখিত আবু হাজ্জির নিকট পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وشرحه الشيخ شهاب الدين أحمد بن عبد الله بن بدر بن مفرج الغزّي، في ثلاثة أسفار، ورأيت في طبقات ابن قاضي شهبة أنه " أي الغزِّي " كتب عليه قطعة مطولة في مجلدين، إلى الصلاة، فأظنه غير الأول.وعمل عليه نكتاً القاضي جلال الدين البلقيني، لكنها لم تكمل، وصل إلى الجراح.وشرحه الشيخ برهان الدين أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن عيسى، بن خطيب عذراء في أجزاء، غالبه مأخوذ من الرافعي، فيه فوائد غريبة.والتقي أبو بكر بن محمد بن عبد المؤمن الحصني، في خمسة مجلدات. والنجم أبو الفتوح عمر بن حجي الدمشقي، لكن على مواضع منه. وفقيه الشام التقي أبو بكر بن أحمد بن محمد بن عمر بن قاضي شهبة. وبعد مدة شرحه ولده البدر في شرحين.وكتب على خطبته، وإلى التيمم: الشيخ العلامة القاضي شمس الدين محمد بن علي القاياتي، وعلى مناسكه مواضع منه: شيخنا شيخ الإسلام وأبو الفضل بن حجر رحمه الله.وعلى جميع الكتاب: شيخه الشرف أبو الفتح محمد بن أبي بكر المراغي، ولده الماضي.والشيخ المحقق جلال الدين محمد بن أحمد المحلي. وهو مختصر في مجلد في غاية التحرير.وشرع فقيه المذهب: الشرف المناوي، في شرح مطوّل عليه، فكتب منه قطعة.وكتب عليه صاحبنا الشيخ نجم الدين بن قاضي عجلون تصحيحاً مطوّلاً سماه: " مغني الراغبين "، ومتوسطاً سماه: " هادي الراغبين "، ومختصراً.وآخرون هم الآن في قيد الحياة بمصر والشام، كثّر الله منهم، وأبقاهم ليؤخذ العلم عنهم، وكذا بلغني أن لابن صَوْراء، ونور الدين البكري، عليه شرحان لم يكملا، فتحرّرْ أمرهما. ويقال: إن الذي لابن صَوْراء إنما هو الجمع بينه وبين " الحاوي "، سماه: " الابتهاج ".ونظمه الشيخ شمس الدين أبو عبد الله محمد بن محمد بن عبد الكريم رن رضوان الموصلي، والقاضي شمس الدين أبو عبد الله محمد بن عثمان الزرعي المقدسي، عُرف بابن قرموز.والعلامة الشهاب أحمد بن ناصر الباعوني، قاضي دمشق. ووالد قاضيها: جمال الدين يوسف، رحمهما الله.ونظم فرائضه فقط ناصر الدين محمد بن محمد بن يوسف المنزلي، عرف بابن سويدان، سماه " وجهة المحتاج ونزهة المنهاج ".واختصره الشيخ أثير الدين أبو حيان الأندلسي، وسماه: " الوهاج ".وكتب عليه مضموناً مع " التنبيه ": الشيخ تاج الدين أبو نصر السبكي في " التوشيح ". وكذا الشيخ وليّ الدين أبو زرعة العراقي، وأضاف إليهما " الحاوي ".ومن فور جلالته وجلالة مؤلفه انتساب جماعة ممن حفظه إليه، فيقال له: المنهاجي، وهذه خصوصية لا أعلمها الآن لغيره من الكتب.وحكى لي صاحبنا الزين عبد الرحمن بن أحمد الهمامي، الدمشقي، الحنفي: إن أخاه الشمس محمد المقدسي حصل له توعك في صغره أدى إلى خرسه، حتى بلغ السنة السادسة، وإن والدهما توجه به إلى الشيخ عبد الله العجلوني، أحد جماعة التقي الحصني، وأمام جامع ابن منجك بالقبيبات، ملتمساً بركته ودعائه، فدعا له وبشره بالعافية، وألزمه بأن يجعله شافعياً، ويقرئه " المنهاج " بقصد بركة مؤلفه، مع كون سلفه وإخوته كلهم حنفية، فامتثل ذلك فعوفي عن قرب، فحفظ القرآن و " المنهاج " في أربع سنين، وهو الآن عين الدماشقة في كتابة المصاحف." شرح المهذب " وكتابه " شرح المهذب " لم يصنف في المذهب على مثل أسلوبه. قال الأسنوي وابن الملقِّن: ليته أكمله، وانخرمت باقي كتبه، وبه عُرف مقداره.وقال الذهبي: إنه في غاية الحسن والجودة.وقال العماد ابن كثير في تاريخه: إنه لو كمل لم يكن له نظير في بابه، فإنه أبدع فيه وأجاد، وأفاد وأحسن الانتقاد، وحرر الفقه في المذهب وغيره، والحديث على ما ينبغي، واللغة والعربية، وأشياء مهمة، لا أعرف في كتب الفقه أحسن منه. قال: على أنه يحتاج إلى أشياء كثيرة تزداد عليه، وتضاف إليه. وقال في " طبقات الشافعية ": سلك فيه طريقة وسطى حسنة، مهذبة سهلة، جامعة لأشتات الفضائل، وعيون المسائل، وجامع الأوائل، ومذاهب العلماء، ومفردات الفقهاء، وتحرير الألفاظ، ومسالك الأئمة الحفاظ، وبيان صحة الحديث من سقمه، ومشهوره من مكتتمه، وبالجملة فهو كتاب ما رأيت على منواله من أحد من المتقدمين، ولا حذا على مثاله متأخر من المصنفين.
শাইখ শিহাবুদ্দিন আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বদর ইবনে মুফরাজ আল-গাজ্জি এটি তিনটি খণ্ডে ব্যাখ্যা করেছেন। আমি ইবনে কাজি শুহবার 'তাবাকাত' গ্রন্থে দেখেছি যে, তিনি (গাজ্জি) এর ওপর দুই খণ্ডে সালাত অধ্যায় পর্যন্ত একটি দীর্ঘ অংশ লিখেছেন; তাই আমার ধারণা এটি প্রথমোক্ত ব্যাখ্যাটির চেয়ে ভিন্ন।কাজি জালালুদ্দিন আল-বুলকিনি এর ওপর কিছু টীকা লিখেছিলেন, তবে তা পূর্ণ হয়নি, তিনি 'আহত' (জারাহ) অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।শাইখ বুরহানুদ্দিন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে খতিব আজরা এটি কয়েক খণ্ডে ব্যাখ্যা করেছেন। এর অধিকাংশ বিষয়বস্তু ইমাম রাফিয়ি থেকে সংগৃহীত, এতে কিছু বিরল তাত্ত্বিক উপকারিতা রয়েছে।তাকি আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুমিন আল-হিসনি এটি পাঁচ খণ্ডে ব্যাখ্যা করেছেন। নাজমুদ্দিন আবু আল-ফুতুহ উমর ইবনে হাজ্জি আদ-দিমাশকিও এর কিছু নির্দিষ্ট স্থানের ওপর ব্যাখ্যা লিখেছেন। শামের ফকিহ তাকি আবু বকর ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে কাজি শুহবাও এটি ব্যাখ্যা করেছেন। কিছুকাল পর তার পুত্র আল-বদর এটি দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।আল্লামা কাজি শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-কায়াতি এর ভূমিকা থেকে তায়াম্মুম পর্যন্ত লিখেছেন। আর আমাদের শাইখ শাইখুল ইসলাম আবু আল-ফজল ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) এর হজ অধ্যায়সহ কিছু নির্দিষ্ট স্থানের ওপর টীকা লিখেছেন।আর তার শাইখ আশ-শারাফ আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আল-মারাগি এবং তার প্রয়াত পুত্র সমগ্র কিতাবের ওপর ব্যাখ্যা লিখেছেন।এবং শাইখ মুহাক্কিক জালালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-মাহাল্লি এটি ব্যাখ্যা করেছেন। এটি এক খণ্ডে অত্যন্ত পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত একটি ব্যাখ্যা।মাযহাবের ফকিহ শারাফ আল-মুনাভি এর ওপর একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যা শুরু করেছিলেন এবং এর কিছু অংশ লিখেছিলেন।আমাদের সাথী শাইখ নাজমুদ্দিন ইবনে কাজি আজলুন এর ওপর একটি দীর্ঘ সংশোধনমূলক ব্যাখ্যা লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন "মুগনি আল-রাঘিবিন", একটি মধ্যম মানের ব্যাখ্যা লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন "হাদি আল-রাঘিবিন" এবং একটি সংক্ষিপ্ত সারও লিখেছেন।আরও অনেকে আছেন যারা বর্তমানে মিসর ও শামে জীবিত আছেন—আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন এবং তাদের দীর্ঘজীবী করুন যাতে তাদের থেকে ইলম গ্রহণ করা যায়। একইভাবে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে ইবনে সাওরা এবং নুরুদ্দিন আল-বাকরির দুটি অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যা রয়েছে, তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বলা হয় যে, ইবনে সাওরা যা লিখেছেন তা মূলত এর (মিনহাজ) এবং "আল-হাভি" এর মধ্যে সমন্বয়, যার নাম দিয়েছেন "আল-ইবতিহাজ"।শাইখ শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কারিম রিদওয়ান আল-মাওসিলি এবং কাজি শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-জারয়ি আল-মাকদিসি, যিনি ইবনে কুরমুজ নামে পরিচিত, এটি কাব্যাকারে রচনা করেছেন।এবং আল্লামা শিহাব আহমাদ ইবনে নাসের আল-বাউনি, দামেস্কের কাজি; এবং সেই শহরের কাজি জামালুদ্দিন ইউসুফের পিতা—আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর রহম করুন।নাসেরুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-মানজালি, যিনি ইবনে সুওয়াইদান নামে পরিচিত, শুধুমাত্র এর উত্তরাধিকার আইন অংশটি কাব্যাকারে রচনা করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন "ওয়াজহাতুল মুহতাঝ ওয়া নুজহাতুল মিনহাজ"।শাইখ আসিরুদ্দিন আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং নাম দিয়েছেন "আল-ওয়াহহাজ"।শাইখ তাজউদ্দিন আবু নাসর আস-সুবকি "আত-তানবিহ" এর সাথে এর বিষয়বস্তু সমন্বয় করে "আত-তাওশিহ" গ্রন্থে লিখেছেন। একইভাবে শাইখ ওয়ালিউদ্দিন আবু যুরআ আল-ইরাকিও লিখেছেন এবং ওই দুটির সাথে "আল-হাভি" কিতাবটিকেও যুক্ত করেছেন।এই কিতাব এবং এর লেখকের মর্যাদার আধিক্যের কারণে যারা এটি মুখস্থ করেন তাদের একদলকে এর দিকে সম্বন্ধ করে "মিনহাজি" বলা হয়। এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যা এই কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাবের ক্ষেত্রে আমার জানা নেই।আমাদের সাথী জাইন আব্দুর রহমান ইবনে আহমাদ আল-হামমামি আদ-দিমাশকি আল-হানাফি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে: তার ভাই শামস মুহাম্মদ আল-মাকদিসি শৈশবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন যার ফলে তিনি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং ছয় বছর বয়স পর্যন্ত তিনি কথা বলতে পারতেন না। তাদের পিতা তাকে নিয়ে তাকি আল-হিসনির অন্যতম সাথী এবং কুবেবাতের ইবনে মানজাক মসজিদের ইমাম শাইখ আব্দুল্লাহ আল-আজলুনির কাছে যান এবং তার বরকত ও দোয়া প্রার্থনা করেন। শাইখ তার জন্য দোয়া করেন এবং সুস্থতার সুসংবাদ দেন এবং তাকে নির্দেশ দেন যেন তিনি ছেলেকে শাফেয়ি মাযহাবভুক্ত করেন এবং লেখকের বরকতের আশায় তাকে "মিনহাজ" পড়ান, যদিও তার পূর্বপুরুষ ও ভাইয়েরা সবাই হানাফি ছিলেন। তিনি তা পালন করলেন এবং ছেলেটি শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠল। অতঃপর চার বছরে সে কুরআন ও "মিনহাজ" মুখস্থ করে ফেলে। সে বর্তমানে দামেস্কবাসীদের মধ্যে পবিত্র কুরআন অনুলিখনের কাজে অগ্রগণ্য।"শারহুল মুহাযযাব": তার রচিত কিতাব "শারহুল মুহাযযাব"-এর শৈলীর মতো মাযহাবে আর কোনো কিতাব রচিত হয়নি। আসনাভি এবং ইবনুল মুলাক্কিন বলেছেন: হায়! তিনি যদি এটি সম্পন্ন করতে পারতেন; তার অন্যান্য কিতাব হারিয়ে গেলেও চলত, কারণ এর মাধ্যমেই তার যোগ্যতার পরিচয় পাওয়া যায়।ইমাম জাহাবি বলেছেন: এটি অত্যন্ত সুন্দর ও উচ্চমানসম্পন্ন।ইমাদুদ্দিন ইবনে কাসির তার ইতিহাসে বলেছেন: এটি যদি পূর্ণ হতো তবে তার সমপর্যায়ের কোনো কিতাব থাকত না। কারণ তিনি এতে উদ্ভাবনী দক্ষতা দেখিয়েছেন, চমৎকার করেছেন, অনেক উপকৃত করেছেন এবং সূক্ষ্ম সমালোচনা করেছেন। তিনি মাযহাব ও অন্যান্য মাযহাবের ফিকহকে পরিমার্জিত করেছেন, হাদিসকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করেছেন, সেই সাথে ভাষা, আরবি ব্যাকরণ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি বর্ণনা করেছেন। ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের মধ্যে এর চেয়ে উত্তম কিছু আমার জানা নেই। তিনি আরও বলেন: যদিও এতে আরও অনেক কিছু সংযোজন ও অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন ছিল। তিনি "তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ" গ্রন্থে বলেছেন: এতে তিনি এক উত্তম মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন, যা পরিমার্জিত ও সহজবোধ্য; এটি বিবিধ শ্রেষ্ঠত্বের সমাহার এবং মাসআলাসমূহের নির্যাস। এতে পূর্ববর্তীদের জ্ঞান, ওলামায়ে কেরামের মাযহাব, ফকিহদের একক মতসমূহ, শব্দের বিশ্লেষণ এবং হাফেজ ইমামগণের পথ সংকলিত হয়েছে। এছাড়া হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা এবং এর প্রসিদ্ধ ও অপ্রসিদ্ধ রূপসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। মোটের ওপর এটি এমন এক কিতাব যার মতো আমি পূর্ববর্তীদের কাউকে লিখতে দেখিনি এবং পরবর্তীদের কোনো লেখকও এর দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقرأت في تاريخه من نصه: رأيت في ليلة الاثنين، الثاني والعشرين من المحرم سنة ثلاث وستين وسبعمائة، الشيخ محيي الدين النووي رحمه الله، فقلت له: يا سيدي الشيخ، لم لا أدخلت في شرحك " المهذّب " شيئاً من مصنفات ابن حزم؟ فقال ما معناه: إنه لا يحبه، فقلت له: أنت معذور فيه، فإنه جمع بين طرفي النقيض في فروعه وفي أصوله، أما هو في الفروع فظاهري جامد يابس، وهو في الأصول مؤول مئع، قرمط القرامطة، وهرمسة الهرامسة. ورفعت بها صوتي حتى سمعت وأنا نائم، ثم أشرت إلى أرض خضراء تشبه النجيل، بل هي أردأ شكلاً منه، لا ينتفع بها في استغلال ولا رعي، فقلت له: هذه أرض ابن حزم التي زرعها، انظر، هل ترى فيها شجراً مثمراً، أو شيئاً يُنتفع به؟ ثم قلت: إنما تصلح للجلوس عليها في ضوء القمر. هذا حاصل ما رأيته، ووقع في خلدي أن ابن حزم كان حاضراً عندما أشرت للشيخ محيي الدين إلى الأرض المنسوبة إلى ابن حزم، وهو ساكت لا يتكلم.وقال العثماني قاضي صفد: إنه " يعني شرح المهذب " لا نظير له، لم يصنّف مثله، ولكنه ما أكمله، ولا حول ولا قوة إلا بالله، إذ لو أكمله ما احتيج إلى غيره، وبه عُرف قدره، واشتهر فضله.وقال التقي السبكي في أول التكملة التي عملها تلوه " وقد وصف المؤلف بالشيخ الإمام العلامة، علم الزهاد، قدوة العبّاد، أوحد عصرة، وفريد دهره، محيي علوم الأولين، وممهِّد سنن الصالحين ": إن بعضهم طالت " يعني في تكملة شرح المهذب " رغبته إليّ وكثّر إلحاحه عليّ، وأنا في ذلك أقدّم رجلاً وأواخر أخرى، واستهول الخطب، وأراه شيئاً أمراً، وهو في ذلك لا يقبل عذراً، وأقول: قد يكون تعرّضي لذلك مع قصوري عن مقام هذا الشارح إساءة إليه، وجناية مني عليه، وأني " لي أن " أنهض بما نهض به وقد أُسعِف بالتأييد، وساعدته المقادير فقرّبت منه كل بعيد؟ ولا شك أن ذلك يحتاج بعد الأهلية إلى ثلاثة أشياء: أحدها: فراغ البال واتساع الزمان، وكان رحمه الله قد أوتي من ذلك الحظّ الأوفى، بحيث لم يكن له شاغل عن ذلك من تعيُّش ولا أهل.والثاني: جمع الكتب التي يُستعان بها على النظر والاطلاع على كلام العلماء، وكان رحمه الله تعالى قد حصل له من ذلك حظ وافر، لسهولة ذلك في بلده في ذلك الوقت.والثالث: حسن النية وكثرة الورع والزهد، والأعمال الصالحة التي أشرقت أنوارها، وكان رحمه الله تعالى قد اكتال من ذلك بالمكيال الأوفى.فمن تكون قد اجتمعت فيه هذه الخلال الثلاث، أنَّى يضاهيه أو يدانيه من ليست فيه واحدة منها؟ إلى أن قال: وقد استخرت الله تعالى وقلت في نفسي: لعل ببركة صاحبه ونيته يعينني الله تعالى عليه، إنه يهدي من يشاء إلى صراط مستقيم، فإن كنّ الله بإكماله فلا شك في ذلك من فضل الله تعالى وبركة صاحبه ونيته، إذ كان مقصوده النفع للناس ممن كان، انتهى كلام السبكي.وانتهت كتابته " كما رأيته بخطه في أربعة مجلدات " إلى التفليس. ولم يتهيأ إكماله لأحد ممن انتدب لذلك، لا العماد إسماعيل الحُسباني، ولا التاج السبكي، ولا الشهاب ابن النقيب، ولا السراج البلقيني؛ وسماه " الينبوع في تكملة المجموع "، كتب منه مجلداً من النكاح، ولا الزين العراقي، ولا ولده، رحمة الله عليهم أجمعين، وعُدّ ذلك من كرامات مؤلفه.وكتب الكمال جعفر الأدفوي على مقدمة " شرح المهذب " أشياء حسنة، وزاد أموراً مهمة. وشرع شيخنا في نكت عليه، فكتب يسيراً من أوائلها." حول الروضة " وأما " الروضة " فقد انتدب لاختصارها القطب محمد بن عبد الصمد عبد القادر السنباطي، لكنه لم يُكمل.والشمسان: محمد بن عبد المنعم المنفلوطي، ومحمد بن أحمد بن عبد المؤمن بن اللبان لكنه لم يشتهر، لغلاقة لفظه.والشمس محمد بن أبي بكر بن عبد الله الأنصاري الفُوي السكندري، المتوفي سنة أربعين وسبعمائة.والعز محمد بن محمد بن محمود بن محمد بن بندار، التبريزي الأصل، المقدسي، البعلي.والنجم عبد الرحمن بن يوسف الأصفوني.والجمال محمد بن أحمد بن محمد الشريشي.وفتح الدين محمد بن علي بن إسماعيل العشائشي، قاضي المرتاحية، في مجلدين لطيفين، وكان حيا في سنة أربع وتسعين وسبعمائة.والشرف أبو الروح عيسى بن عثمان الغزّي، مصنف " أدب القضاء "، اختصرها مع زيادات كثيرة أخذها من " المنتقى " وغيره.
আমি তাঁর ইতিহাসে তাঁর নিজের বয়ানে পড়েছি: আমি সাতশত তেষট্টি হিজরী সনের মহরম মাসের বাইশ তারিখ সোমবার রাতে শেখ মহিউদ্দিন নববী রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে স্বপ্নে দেখেছি। আমি তাঁকে বললাম: হে আমার জনাব শেখ, আপনি কেন আপনার ‘আল-মুহাযযাব’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইবন হাজমের কোনো রচনা অন্তর্ভুক্ত করেননি? তিনি এর উত্তরে যা বললেন তার মর্ম হলো: তিনি তাকে পছন্দ করেন না। আমি তাঁকে বললাম: আপনার ক্ষেত্রে এটি মার্জনীয়, কারণ তিনি (ইবন হাজম) তাঁর ফুরু (শাখাগত বিধান) এবং উসুল (মূলনীতি) উভয় ক্ষেত্রেই চরম বিপরীত দুই প্রান্তকে একত্রিত করেছেন। ফুরু-এর ক্ষেত্রে তিনি স্থবির ও অনমনীয় যাহেরি (আক্ষরিকতাবাদী), আর উসুল-এর ক্ষেত্রে তিনি রূপক ব্যাখ্যাদানকারী ও বিচ্যুত, কারামিতাদের মতো পথভ্রষ্ট এবং হারামিসাদের মতো বিভ্রান্ত। আমি এই কথাগুলো চিৎকার করে বলছিলাম, এমনকি ঘুমের ঘোরেও আমি নিজের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। এরপর আমি একটি সবুজ ভূমির দিকে ইশারা করলাম যা দেখতে ঘাসের মতো ছিল, কিন্তু আসলে সেটি তার চেয়েও নিকৃষ্ট ছিল; তা থেকে কোনো ফসল পাওয়া যায় না কিংবা পশুপালন বা চারণভূমি হিসেবেও তা ব্যবহারের অযোগ্য। আমি তাঁকে বললাম: এটি ইবন হাজমের ভূমি যা তিনি চাষ করেছেন। দেখুন, এখানে কি কোনো ফলবান বৃক্ষ বা উপকারী কিছু দেখতে পাচ্ছেন? তারপর আমি বললাম: এটি কেবল জোছনা রাতে বসে থাকার যোগ্য। এটিই ছিল আমার দেখার সারসংক্ষেপ। আর আমার মনে হলো যে, আমি যখন শেখ মহিউদ্দিনের কাছে ইবন হাজমের দিকে সম্পৃক্ত ভূমির দিকে ইশারা করছিলাম, তখন ইবন হাজম সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিন্তু তিনি চুপ ছিলেন, কোনো কথা বলছিলেন না।সাফাদের কাজি ওসমানী বলেন: এটি (অর্থাৎ শরহুল মুহাযযাব) অতুলনীয়, এর মতো আর কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি। কিন্তু তিনি এটি সমাপ্ত করতে পারেননি, আর আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই। যদি তিনি এটি শেষ করতে পারতেন, তবে অন্য কিছুর প্রয়োজন হতো না। এর মাধ্যমেই তাঁর মর্যাদা চেনা যায় এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।তাকিউদ্দীন সুবকী তাঁর লিখিত পরিশিষ্টের শুরুতে—যেখানে তিনি লেখককে 'শেখ, ইমাম, আল্লামা, যাহিদদের শিরোমণি, ইবাদতকারীদের আদর্শ, স্বীয় যুগের অদ্বিতীয়, সমকালীনদের মাঝে অনন্য, পূর্বসূরিদের জ্ঞানের পুনর্জীবিতকারী এবং নেককারদের সুন্নাহর পথপ্রদর্শক' হিসেবে বর্ণনা করেছেন—বলেন: তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ (অর্থাৎ শরহুল মুহাযযাব-এর পরিশিষ্ট রচনায়) আমার প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন এবং বারবার পীড়াপীড়ি করেছেন। আমি এ ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম, কাজটিকে অত্যন্ত কঠিন মনে করছিলাম এবং বিষয়টিকে গুরুতর বলে গণ্য করছিলাম। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে কোনো ওজর গ্রহণ করছিলেন না। আমি বললাম: এই ব্যাখ্যাকারকের সুউচ্চ মর্যাদার তুলনায় আমার অপূর্ণতা সত্ত্বেও এ কাজে হাত দেওয়া হয়তো তাঁর প্রতি অসম্মান বা অপরাধ হতে পারে। আর আমার কী সাধ্য যে তিনি যা সম্পন্ন করেছেন তা আমি চালিয়ে নেব, অথচ তাঁকে ঐশ্বরিক সাহায্য প্রদান করা হয়েছিল এবং তাকদীর তাঁকে সহায়তা করেছিল যার ফলে তাঁর জন্য সকল দূরবর্তী বিষয় নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল? নিঃসন্দেহে যোগ্যতার পাশাপাশি এই কাজের জন্য তিনটি বিষয়ের প্রয়োজন: প্রথমত: দুশ্চিন্তামুক্ত মন এবং সময়ের প্রাচুর্য। রহমাতুল্লাহি আলাইহি এক্ষেত্রে পূর্ণ অংশ লাভ করেছিলেন, কেননা তাঁর জীবিকা নির্বাহ বা পরিবার-পরিজনের কোনো ব্যস্ততা ছিল না যা তাঁকে এ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে।দ্বিতীয়ত: আলেমদের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টিপাত ও পর্যালোচনার জন্য সহায়ক গ্রন্থাদির সংগ্রহ। আল্লাহ তাআলা তাঁকে এ ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত সুযোগ দান করেছিলেন, কারণ তৎকালীন সময়ে তাঁর শহরে গ্রন্থ সংগ্রহ করা সহজ ছিল।তৃতীয়ত: উত্তম নিয়ত, প্রচুর তাকওয়া ও দুনিয়াবিমুখতা, এবং নেক আমল যা থেকে নূর বিচ্ছুরিত হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই গুণের ক্ষেত্রেও পরিপূর্ণ মাত্রায় ধন্য করেছিলেন।যার মধ্যে এই তিনটি গুণের সমাবেশ ঘটেছে, তার সমান বা কাছাকাছি অন্য কেউ কীভাবে হতে পারে যার মধ্যে এগুলোর একটিও নেই? এরপর তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং মনে মনে বলেছি: হয়তো মূল লেখকের বরকতে এবং তাঁর নিয়তের কারণে আল্লাহ তাআলা আমাকে এই কাজে সাহায্য করবেন। নিশ্চয়ই তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন। যদি আল্লাহ এটি সমাপ্ত করার সুযোগ দান করেন, তবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ এবং মূল লেখকের বরকত ও নিয়তের ফল; কারণ তাঁর উদ্দেশ্য ছিল যে কেউ হোক না কেন সবার উপকার করা। সুবকীর বক্তব্য এখানেই শেষ।তাঁর লিখনী (যা আমি তাঁর হস্তাক্ষরে চার খণ্ডে দেখেছি) 'আফ-তাফলিস' অধ্যায় পর্যন্ত এসে শেষ হয়েছে। যারা এটি সমাপ্ত করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কারো পক্ষেই তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি; না ইমাদুদ্দীন ইসমাইল আল-হুসবানি, না তাজউদ্দীন সুবকী, না শিহাবুদ্দীন ইবনুন নাকিব, না সিরাজুদ্দীন বুলকিনি—যিনি এর নাম দিয়েছিলেন 'আল-ইয়ানবু ফি তাকমিলাতিল মাজমু' এবং নিকাহ (বিবাহ) অধ্যায় থেকে এক খণ্ড লিখেছিলেন—না যাইনুদ্দীন ইরাকি, আর না তাঁর পুত্র; তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। বিষয়টিকে মূল লেখকের অন্যতম কারামাত হিসেবে গণ্য করা হয়।কামাল জাফর আল-আদফুয়ি 'শরহুল মুহাযযাব'-এর ভূমিকার ওপর কিছু সুন্দর কথা লিখেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংযোজন করেছেন। আর আমাদের শেখ এর ওপর টীকা লিখতে শুরু করেছিলেন এবং শুরুর দিকে সামান্য কিছু লিখেছিলেন।'আল-রাওদাহ' প্রসঙ্গে: 'আল-রাওদাহ' সংক্ষেপ করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন কুতুব মুহাম্মদ বিন আব্দুস সামাদ আব্দুল কাদির আস-সুনবাতি, কিন্তু তিনি তা সমাপ্ত করতে পারেননি।এবং দুই শামস: মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুনইম আল-মানফালুতি, এবং মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল মুমিন বিন আল-লাব্বান—তবে এর ভাষার জটিলতার কারণে তা প্রসিদ্ধি লাভ করেনি।এবং শামস মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারি আল-ফুয়ি আল-ইসকান্দারি, যিনি সাতশত চল্লিশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।এবং ইজ্জ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন বান্দার—মূলত তাবরিজের অধিবাসী, এরপর মাকদিসি ও বালি।এবং নাজমুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ আল-আসফুনি।এবং জামাল মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আশ-শারিশি।এবং ফাতহুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আলি বিন ইসমাইল আল-আশায়েশি, মুর্তাহিয়ার কাজি; তিনি দুই ছোট খণ্ডে এটি সংক্ষেপ করেন এবং সাতশত চুরানব্বই হিজরীতে তিনি জীবিত ছিলেন।এবং শারাফ আবুল রুহ ঈসা বিন ওসমান আল-গাজ্জি, যিনি 'আদাবুল কাজা' গ্রন্থের রচয়িতা; তিনি অনেক সংযোজনসহ এটি সংক্ষেপ করেন যা তিনি 'আল-মুনতাকা' এবং অন্যান্য গ্রন্থ থেকে গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والزين أبو العباس احمد بن ناصر الدين محمد بن أحمد بن محمد البكري، جد الشيخ جلال الدين دام النفع به، وهو بمدرسة الجمالي ناظر الخواص " كما ذكره لي حفيده "، وأنه سماه: " عمدة المفيد وتذكرة المستفيد "، قال: واختصرها من قبلة والده، لكنه لم يكمل.وكذا اختصرها الشمس محمد بن علي بن جعفر البلالي.ومحيي الدين أحمد بن النحاس، نزيل دمياط، لكنه لم يكمل أيضا.والشرف ابن المقرئ اليماني، في الروض، وقد كثر تداوله في هذا التاريخ وشرح واختصر أيضا.والشهاب ابن رسلان المقدسي، وهو عند صاحبنا الشيخ نجم الدين بن قاضي عجلون.والشمس محمد بن محمد بن احمد الحجازي، مع زيادات ضمها إليه من " المهمات " وغيرها. ووصف الشيخ في أولها بالإمام الأجل، الفاضل الكامل الورع، المتقي، مفتي الشام، علامة عصره: محيي الدين أبي زكريا، نوَّر الله ضريحه، وجعل من الرحيق المختوم غُبُوقه وصُبُوحه.وأفرد المجد الزنكلوني زوائدها.وكتب عليها نُكتاً في قدر " المنهاج ": الكمال النشّاي، وهي في كتب النجم ابن حجي.وكتب عليها الشيخ سراج الدين البلقيني حواشي، جرّدها البدر الزركشي قديماً، ورأيته بخطه، واستدرك شيخنا عليه بخطه ما تجرّد بعد تجريده من الحواشي. وجرّدها أيضا الوليّ العراقي.وكذا لولده القاضي جلال الدين عليها حواشٍ أيضاً جردها أخوه شيخنا القاضي علم الدين وجمع بينهما وبين حواشي والدهما، رحمة الله عليهم.وشرح قطعا منها شيخنا العسقلاني، في آخرين ممن كتب عليها مضمومة مع " الشرح الكبير " " أصلها " كالإسنوي، والأذرعي، وسيأتي كلام كل منهما فيها، والزركشي.وكذا من المتأخرين: فقيه طرابلس الشمس محمد بن يحيى بن أحمد بن زهرة.وكان للزين أبي حفص عمر بن أبي الحرم الكتّاني على نسخته ب " الروضة " حواش، لأنه ولع في آخر عمره بمناقشاته، وقد جرد هذه الحواشي بعض أصحابه من غير علمه، وليس فيها كبير قائل، بل في غالبها تعنّت. وقد وقف التقيّ السبكي على بعضها وأجاب عن كلامه.وأثنى على " الروضة " الأئمة، فقال الأذرعي في أول " الوسيط " هي عمدة أتباع المذهب في هذه الأمصار، بل سار ذكرها في النواحي والأقطار، فصارت كتاب المذهب المطوّل، وإليها المفزع في النقل وعليها المعوّل، فإليها يلجأ الطالب النبيه، وعليه يعتمد الحاكم في أحكامه، والمفتي في فتاويه، وما ذاك إلا لحسن النية، وإخلاص الطوية، غير إنه " رحمه الله " اختصرها من كتاب الإمام الرافعي " رحمه الله "، من نُسخ فيها سُقْم، فجاء في مواضع منها خلل، فإنه اعتمد في اختصاره على نسخة الإمام البادرائي التي بخزانة مدرسته بدمشق المحروسة، وفيها سُقْم، واستعان عليها بنحوها، فحل بذلك نقص وخلل يخفى على المبتدئ، ويُشكل على المنتهي، وكان مع ذلك " رحمه الله تعالى " كالسائق المجد، حتى قيل: إن تصنيفه بلغ في كل يوم كراستين أو أكثر، فهو كما قال القائل:وطويلُ باعِي الهمِّ قد قعدتْ له … عزماتُه رُصْداً بكل طريقفإذا ونَى أَذكرْنه قِصَر المَدى … ورضَى السَّبُوق وخَجلةَ المَسبوقإلى أن قال: واعلم وفقني الله وإياك لمرضاته، وجعلنا ممن يتقيه حق تقاته، أني لم أقصد بما أشرت إليه الاعتراض على الشيخ، ولا التعقّب لكلامه بالتوهمّ والإزواء، معاذ الله، وإنما أردت النصيحة له وللمسلمين، وإفادة المتعلمين، فلقد كان من أحرص الناس على ذلك وبذل وسعه فيه، وإنما سبب ما اتفق له من ذلك ما أشرت إليه، ودللتك عليه، هذا مع استغراقه أكثر الأوقات بالطاعات، والأوراد والأعمال الزاكيّات، ولو تأمل ذلك بعض التأمل لوضح لديه، وبرهن عليه، ولكنه كان كالجواد المسرع عنه في ميدانه. ولقد حكي عنه أنه كان يكتب حتى تكل يده وتعجز، فيضع القلم ثم ينشد:لئن كان هذا الدمع يجري صبابةٌ … على غير سُعدَى فهو دمع مُضيّعُوهذا منه رضي الله عنه من باب قوله سبحانه وتعالى: (والذين يؤتون ما أوتوا وقلوبهم وجلة أنهم إلى ربهم راجعون أولئك يسارعون في الخيرات وهم لها سابقون) ، قال الحسن رحمه الله: كانوا يعملون أعمال البر ويخشون أن لا تُتَقَبل منهم.
যিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাকরি, যিনি শেখ জালালুদ্দিনের দাদা (আল্লাহ তাঁর দ্বারা উপকার অব্যাহত রাখুন)। তিনি আল-জামালি মাদ্রাসার নাজিরুল খাওয়াস ছিলেন, যেমনটি তাঁর নাতি আমাকে উল্লেখ করেছেন। তিনি এর নাম দিয়েছিলেন: "উমদাতুল মুফিদ ওয়া তাযকিরাতুল মুস্তাফিদ"। তিনি বলেন: তিনি এটি তাঁর পিতার কিবলা থেকে সংক্ষেপ করেছেন, কিন্তু তিনি তা সমাপ্ত করতে পারেননি।একইভাবে শামস মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে জাফর আল-বিলালিও এটি সংক্ষেপ করেছেন।এবং মুহিউদ্দিন আহমদ ইবনে আন-নাহহাস, যিনি দিময়াতের বাসিন্দা ছিলেন, তিনিও এটি সংক্ষেপ করেছেন কিন্তু তা সমাপ্ত করেননি।এবং আশ-শারাফ ইবনুল মুকরি আল-ইয়ামানি, তাঁর 'আর-রওদ' গ্রন্থে। বর্তমানে এই সময়ে এর প্রচলন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর ব্যাখ্যা ও সংক্ষিপ্তসারও তৈরি করা হয়েছে।এবং শিহাব ইবনে রুসলান আল-মাকদিসি; এটি আমাদের বন্ধু শেখ নাজমুদ্দিন ইবনে কাজি আজলুনের কাছে রয়েছে।এবং শামস মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-হিজাজি, এর সাথে তিনি "আল-মুহিম্মাত" এবং অন্যান্য কিতাব থেকে আরও কিছু অতিরিক্ত অংশ যুক্ত করেছেন। তিনি এই কিতাবের শুরুতে শেখকে মহিমান্বিত ইমাম, পূর্ণাঙ্গ গুণী, আল্লাহভীরু, পরহেজগার, শামের মুফতি এবং তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম হিসেবে বর্ণনা করেছেন: মুহিউদ্দিন আবু জাকারিয়া, আল্লাহ তাঁর কবরকে আলোকিত করুন এবং 'রাহিকুল মাখতুম' (সিলমোহরকৃত শরাব) কে তাঁর সকাল ও সন্ধ্যার পানীয় করুন।আল-মাজদ আল-জানকালুনি এর অতিরিক্ত অংশগুলো পৃথকভাবে সংকলন করেছেন।আল-কামাল আন-নাশায়ি এর ওপর "আল-মিনহাজ" এর সমপরিমাণ টীকা লিখেছেন, যা নাজমুদ্দিন ইবনে হাজ্জির কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে।শেখ সিরাজুদ্দিন আল-বুলকিনি এর ওপর কিছু পার্শ্বটীকা লিখেছেন, যা বদর আল-যারকাশি আগে পৃথক করেছিলেন এবং আমি তা তাঁর নিজ হাতের লেখায় দেখেছি। আমাদের উস্তাদ তাঁর (যরকাশির) পৃথকীকরণের পর বাদ পড়া পার্শ্বটীকাগুলো নিজ হাতে পরিমার্জন করেছেন। ওয়ালি আল-ইরাকিও এটি পৃথকভাবে সংকলন করেছেন।একইভাবে তাঁর পুত্র কাজি জালালুদ্দিনেরও এর ওপর পার্শ্বটীকা রয়েছে, যা তাঁর ভাই আমাদের উস্তাদ কাজি আলামুদ্দিন পৃথক করেছেন এবং তিনি সেগুলো তাঁর পিতার পার্শ্বটীকাগুলোর সাথে একত্রিত করেছেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।আমাদের উস্তাদ আল-আসকালানি এর কিছু অংশ ব্যাখ্যা করেছেন, তাঁদের মধ্যে যারা এর মূলগ্রন্থ "আশ-শারহুল কাবীর" এর সাথে টীকা লিখেছেন তাদের সাথে, যেমন আল-ইসনাভি, আল-আযরায়ি (যাঁদের কথা সামনে আসবে) এবং আল-যারকাশি।একইভাবে পরবর্তীকালের আলেমদের মধ্যে রয়েছেন ত্রিপোলির ফকিহ শামস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আহমদ ইবনে জাহরা।যিন আবু হাফস উমর ইবনে আবুল হারাম আল-কাত্তানির কাছে "আর-রওদাহ"-এর একটি কপিতে কিছু পার্শ্বটীকা ছিল, কারণ জীবনের শেষ দিকে তিনি এর চুলচেরা বিশ্লেষণে মগ্ন ছিলেন। তাঁর কিছু ছাত্র তাঁর অজান্তেই এই পার্শ্বটীকাগুলো পৃথক করে ফেলেন, যদিও তাতে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই, বরং এর বেশিরভাগই ছিল অপ্রয়োজনীয় খুঁত ধরা। তাকিউদ্দিন আস-সুবকি এগুলোর কিছু অংশ দেখেছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যের জবাব দিয়েছিলেন।আইম্মায়ে কেরাম "আর-রওদাহ" কিতাবের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আল-আযরায়ি "আল-ওয়াসিত" এর শুরুতে বলেন: এটি এই জনপদগুলোতে মাযহাবের অনুসারীদের মূল ভিত্তি, বরং এর খ্যাতি বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এটি মাযহাবের বিস্তারিত কিতাবে পরিণত হয়েছে এবং উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে এটিই প্রধান আশ্রয়স্থল ও নির্ভরযোগ্য উৎস। সচেতন শিক্ষার্থী এর কাছেই আশ্রয় নেয় এবং বিচারক তাঁর বিচারে ও মুফতি তাঁর ফতোয়ায় এর ওপরই নির্ভর করেন। আর এটি সম্ভব হয়েছে কেবল লেখকের সুন্দর নিয়ত এবং অন্তরের একনিষ্ঠতার কারণে। তবে তিনি (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) ইমাম রাফেয়ির (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) কিতাব থেকে এটি সংক্ষেপ করার সময় এমন কিছু পাণ্ডুলিপি ব্যবহার করেছেন যাতে কিছু ত্রুটি ছিল, ফলে কিছু স্থানে বিচ্যুতি ঘটেছে। কারণ তিনি তাঁর সংক্ষিপ্তকরণের কাজে দামেশকের তাঁর মাদ্রাসার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ইমাম বাদরায়ির পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছিলেন, যাতে কিছু ত্রুটি ছিল। তিনি সেই ধরণের আরও কিছু কিতাবের সাহায্য নিয়েছিলেন, ফলে এমন কিছু অপূর্ণতা ও ত্রুটি প্রবেশ করেছে যা নতুনদের কাছে অস্পষ্ট থাকে এবং অভিজ্ঞদের জন্য সংশয় তৈরি করে। তা সত্ত্বেও তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁকে রহম করুন) ছিলেন একজন দ্রুতগামী চালকের মতো। এমনকি বলা হয় যে, তাঁর লেখা প্রতিদিন দুই ক্রাশ (বড় দিস্তা) বা তার বেশি হতো। তিনি ছিলেন ঠিক সেই কবির বর্ণনার মতো:যাঁর সংকল্প ও উদ্যম সব পথেই প্রহরীর মতো প্রস্তুত ছিল,…আর তাঁর উচ্চাশার বিস্তৃতি অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।যখন তিনি ক্লান্ত হতেন, তখন সীমিত সময় তাঁকে মনে করিয়ে দিত…অগ্রবর্তীদের পরিতৃপ্তি এবং পশ্চাৎবর্তীদের লজ্জিত হওয়ার কথা।পরিশেষে তিনি বলেন: জেনে রাখুন, আল্লাহ আমাকে এবং আপনাকে তাঁর সন্তুষ্টির তাওফিক দিন এবং আমাদের অন্তর্ভুক্ত করুন তাদের যারা তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করে; আমি যা ইঙ্গিত করেছি তা দ্বারা শেখের ওপর আপত্তি করা বা কোনো বিভ্রম ও তুচ্ছজ্ঞানের মাধ্যমে তাঁর কথার সমালোচনা করা আমার উদ্দেশ্য নয়, আল্লাহর পানাহ! বরং আমার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর এবং মুসলমানদের কল্যাণ কামনা করা এবং শিক্ষার্থীদের উপকৃত করা। তিনি এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন এবং এতে নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করেছেন। তাঁর সাথে যা ঘটেছে তার কারণ কেবল আমি যা ইঙ্গিত করেছি এবং আপনাকে নির্দেশ করেছি। পাশাপাশি তাঁর সময়ের অধিকাংশ ব্যয় হতো ইবাদত-বন্দেগি, ওজিফা এবং পবিত্র আমলসমূহে। যদি কেউ বিষয়টি নিয়ে সামান্য চিন্তা করত, তবে তার কাছে তা স্পষ্ট হয়ে যেত এবং এর প্রমাণ পাওয়া যেত। কিন্তু তিনি ছিলেন তাঁর ময়দানে দ্রুতগামী ঘোড়ার মতো। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত লিখতেন যতক্ষণ না তাঁর হাত ক্লান্ত ও অক্ষম হয়ে পড়ত, তারপর তিনি কলম রেখে কবিতা আবৃত্তি করতেন:যদি এই অশ্রু কেবল অনুরাগের কারণেই প্রবাহিত হয়…সুআদ ছাড়া অন্য কারো জন্য, তবে তা এক অপচয়কারী অশ্রু।আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন, তাঁর এই অবস্থা ছিল মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: (এবং যারা যা দান করার তা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে এই ধারণায় যে, তারা তাদের রবের কাছে ফিরে যাবে—তারাই দ্রুত সম্পাদন করে কল্যাণকর কাজ এবং তারাই তাতে অগ্রগামী), হাসান বসরি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তারা নেক আমল করত এবং ভয় পেত যে তাদের আমল কবুল হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولقد حُكي عنه رحمه الله: أنه همّ قبل وفاته بقليل بغسل " الروضة " كما غسل نحو ألف كراسة من تعليقاته، فقيل له: قد سارت بها الركبان، فقال: في نفسي منها أشياء، أو كما قال.ولم يتفق له مراجعتها وتحريرها، بل هجمت عليه المنية قبل إدراك الخمسين، فرضي الله عنه وعن جميع عباده الصالحين، فإنه من أمّن الأصحاب عليه في سلوك المذهب، فمن كتبه تفقهت، وبكلامه تبصرت، وفي منهاجه سلكت، وبدعائه انتفعت، وذلك أنه كان قد حصل لي فترة عن الطلب في حدود الثلاثين وسبعمائة، مدة مديدة، فرأيت كأني أسير على غير جادة، ثم حانت مني التفاتة إلى جهة القبلة، فإذا خلق كثير مشاة، عليهم ثياب بيض نقية، فوقع لي أنه الشيخ وأتباعه، فنزلت من دابتي ومشيت معهم على الجادة نحو دمشق، فما هو إلا ونحن بميدان الحصى، وإذ بشخص من أقاربي قد تلقاني فسلّم عليّ، وأطال وقوفه معي، فالتفتّ فلم أرى منهم أحداً، فلمته، وجعلت أقفو آثارهم، وأسال عن سبيلهم فأرشد إليه، حتى صرت بين البساتين التي بين المدينة والصالحية، وإذا بكثير من ذلك الجمع منقطعين في الطرقات، فمن جالس مسند ظهره إلى جدار، ومن ماد ساقيه من الإعياء، ومن مضطجع ومستلق يئن كالمريض، فجعلت أدوس ثياب بعضهم أو شيء من بدنهم من شدة الإسراع، إلى أن بلغت المدرسة الشِّبلية الحنفية المشهورة، وإذا بالشيخ ومعه رجلان فقط فلما قربت منهم التفت فرآني، فالتمست منه الدعاء وأقسمت عليه، فتبسم وسعى وحده نحوي خطوات، ثم أخذ في الدعاء لي، فالتفت فإذا والدي رحمه الله واقف يؤمِّن على دعائه، ثم انصرف إلى صاحبيه ومضوا، فاستيقظت مسروراً وراجعت طلب المذهب، ثم ظهر لي أثر الرؤيا صبيحتها كفلق الصبح، وذلك أن القريب الذي أوقفني عنهم تقرّب إليّ بعد الرؤيا بأيام، واجتهد في صحبتي وملازمتي، بحيث لا يفارقني في أغلب الأوقات، ويحول بيني وبين الطلب، إلى أن درج إلى رحمة الله فتماثل الحال، وكانت تلك الوقفة معه في المنام ما ذكرته، فرحمه الله وإيانا، ثم إني أكببت على تحصيل مؤلفات الشيخ والنظر فيها، فرأيت من قضاء حقه أن أنبِّئ على ما يتفق لي العثور عليه في " روضته " وغيرها.وكذا أثنى على " الروضة "، بل وعلى سائر تصانيفه، التاج السبكي، حيث قال فيه " طبقاته الكبرى " ما نصه: " لا يخفى على ذي بصيرة أن الله تعالى بالنووي عناية وبمصنفاته "، واستدل على ذلك بما يقع في ضمنه من فوائد، حتى لا تخلو ترجمته عن فوائد. فأقول: ربما غيَّر لفظ من ألفاظ الرافعي، إذا تأمله المتأمِّل استدركه عليه وقال: لم يف بالاختصار ولا جاء بالمراد، ثم يجده عند التنقيب قد وافق الصواب، ونطق بفصل الخطاب وما يكون من ذلك عن قصد منه لا يعجب منه، فإن المختصر ربما غيّر الكلام من يختصر كلامه من مثل ذلك، وإنما العجب من مغيَّر يشهد العقل بأنه لم يقصد إليه، ثم وقع منه على الصواب، وله أمثلة منها: قال الرافعي في " كتاب الشهادات " في " فصل التوبة عن المعاصي الفعلية " في التائب: إنه يختبر مدة يغلب على الظن فيها إنه أصلح عمله وسريرته، وأنه صادق في توبته، وهل تتقدّر تلك المدة؟ قال قائلون: لا، إنما المعتبر حصول غلبة الظن بصدقة، ويختلف الأمر فيه بالأشخاص وأمارات الصدق، هذا ما اختاره الإمام والعبادي، وإليه أشار صاحب الكتاب بقوله: حتى يستبرئ مدة فيعلم.. إلى آخره، وذهب آخرون إلى تقديرها، وفيه وجهان، قال أكثرهم: يستبرئ سنة، انتهى بلفظه.فإذا تأملت قوله: قال أكثرهم، وجدت الضمير في مستحق العود على الآخرين الذاهبين إلى تقديرها، لا إلى مطلق الأصحاب، فلا يلزم أن يكون أكثر الأصحاب على التقدير، فضلاً عن التقدير سنة، بل المقدّر بعضهم، واختلف المقدّرون في المدة وأكثرهم على أنها سنة، فهذا ما يعطيه لفظ الرافعي في " الشرح الكبير ". وصرح النووي في " الروضة " بأن الأكثرين على تقدير المدة سنة. فمن عارض بينها وبين الرافعي متأملاً قضي بمخالفتها له، لأن عبارة " الشرح " لا تقتضي أن أكثر الأصحاب على التقدير وأنه سنة، بل أن أكثر المقدرين الذين هم من الأصحاب على ذلك ثم يتأيد هذا القاضي بالمخالفة بأن عبارة الشافعي رضي الله عنه ليس فيها قدير بسنة ولا بستة أشهر، وإنما قال: أشهراً، وطلق الأشهر رضي الله عنه إطلاقاً.
তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর মৃত্যুর কিছুকাল পূর্বে 'রওদ্বাহ' ধুয়ে ফেলার সংকল্প করেছিলেন, যেভাবে তিনি তাঁর টীকা-টিপ্পনীর প্রায় এক হাজার পুস্তিকা ধুয়ে ফেলেছিলেন। তখন তাঁকে বলা হলো, “এই কিতাবটি তো দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।” তিনি বললেন, “এটি সম্পর্কে আমার মনে কিছু দ্বিধা রয়েছে,” অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন।তাঁর পক্ষে সেটি পুনরায় পর্যালোচনা ও পরিমার্জন করা সম্ভব হয়নি, বরং পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মৃত্যু তাঁকে গ্রাস করে। আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং তাঁর সকল নেক বান্দাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কারণ, তিনি এমন এক ব্যক্তি যার ওপর মাযহাবের পথ চলায় সাথীরা সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখেন। তাঁর কিতাবসমূহ থেকেই আমি ফিকহ শিখেছি, তাঁর কথা থেকেই আমি জ্ঞান লাভ করেছি, তাঁর পথই আমি অনুসরণ করেছি এবং তাঁর দোয়ার মাধ্যমেই আমি উপকৃত হয়েছি। বিষয়টি হলো এই যে, সাতশ ত্রিশ হিজরির দিকে দীর্ঘ সময় যাবত আমার ইলম অর্জনে এক প্রকার স্থবিরতা চলে এসেছিল। আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি কোনো সঠিক পথ ছাড়াই পথ চলছি। এরপর আমি কিবলার দিকে তাকালাম এবং দেখলাম এক বিশাল জনতা পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন, যাঁদের পরনে ধবধবে সাদা পরিষ্কার কাপড়। আমার মনে হলো, ইনি শায়খ (ইমাম নববী) এবং তাঁর অনুসারীরা। আমি তখন আমার সওয়ারি থেকে নেমে তাঁদের সাথে দمشকের দিকে মূল পথে চলতে লাগলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা ময়দানে হাসায় পৌঁছলাম। তখন হঠাৎ আমার এক আত্মীয়ের সাথে আমার দেখা হলো, সে আমাকে সালাম দিল এবং দীর্ঘক্ষণ আমার সাথে দাঁড়িয়ে থাকল। এরপর আমি যখন তাকালাম, দেখলাম তাঁদের কাউকে দেখা যাচ্ছে না। আমি তাকে তিরস্কার করলাম এবং তাঁদের পদচিহ্ন অনুসরণ করতে শুরু করলাম। আমি তাঁদের পথের কথা জিজ্ঞেস করতে লাগলাম এবং আমাকে পথ বলে দেওয়া হলো। এমনকি আমি শহর ও সালিহিয়া-র মধ্যবর্তী বাগানগুলোর মাঝে পৌঁছে গেলাম। সেখানে দেখলাম সেই কাফেলার অনেকেই পথে পথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আছে। কেউ দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে, কেউ ক্লান্তিতে পা ছড়িয়ে দিয়েছে, আর কেউ শুয়ে পড়ে অসুস্থ রোগীর মতো কাতরাচ্ছে। দ্রুত চলার কারণে আমি কারও কারও কাপড় বা শরীরের ওপর পা দিয়ে ফেলছিলাম। অবশেষে আমি বিখ্যাত শিবলিয়া হানাফিয়া মাদরাসায় পৌঁছলাম। সেখানে দেখলাম শায়খ রয়েছেন এবং তাঁর সাথে মাত্র দুইজন লোক আছে। আমি যখন তাঁদের কাছে গেলাম, তিনি মুখ ঘুরিয়ে আমাকে দেখলেন। আমি তাঁর কাছে দোয়ার আবেদন করলাম এবং তাঁকে কসম দিলাম। তিনি হাসলেন এবং একাকী আমার দিকে কয়েক কদম এগিয়ে এলেন। এরপর তিনি আমার জন্য দোয়া করতে লাগলেন। আমি তাকিয়ে দেখলাম আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর দোয়ায় আমিন বলছেন। এরপর তিনি তাঁর দুই সঙ্গীর কাছে ফিরে গেলেন এবং তাঁরা চলে গেলেন। আমি আনন্দিত চিত্তে ঘুম থেকে উঠলাম এবং পুনরায় মাযহাবের ইলম অর্জনে মনোনিবেশ করলাম। এরপর ভোরের আলোর মতো সেই স্বপ্নের প্রভাব আমার জীবনে প্রকাশিত হলো। স্বপ্নের সেই আত্মীয়, যে আমাকে তাঁদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল, সে সেই স্বপ্নের কয়েকদিন পর আমার সাথে দেখা করল এবং সর্বক্ষণ আমার সাহচর্যে থাকার চেষ্টা করল। সে অধিকাংশ সময় আমাকে ছেড়ে যেত না, যা আমার ইলম অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবশেষে সে আল্লাহর রহমতের দিকে চলে গেল (ইন্তেকাল করল) এবং পরিস্থিতির উন্নতি হলো। স্বপ্নে তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি তেমনই ছিল যা আমি বর্ণনা করেছি। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং আমাদের ওপর রহম করুন। এরপর আমি শায়খের কিতাবসমূহ সংগ্রহ করতে এবং সেগুলো অধ্যয়ন করতে মনোনিবেশ করলাম। আমি মনে করলাম তাঁর হক আদায়ের একটি উপায় হলো তাঁর 'রওদ্বাহ' এবং অন্যান্য কিতাবে আমি যা পাচ্ছি সে সম্পর্কে সতর্ক করা।একইভাবে তাজ সুবকী 'রওদ্বাহ' কিতাবের এবং তাঁর অন্যান্য রচনার প্রশংসা করেছেন। তিনি তাঁর 'ত্বাবাকাতুল কুবরা' গ্রন্থে লিখেছেন: “কোনো চক্ষুষ্মান ব্যক্তির কাছে এটি গোপন নয় যে, আল্লাহ তাআলা ইমাম নববীর প্রতি এবং তাঁর রচনাবলির প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ দান করেছেন।” তিনি এর প্রমাণ হিসেবে কিতাবটিতে থাকা বিভিন্ন ফায়দা বা উপকারী বিষয়াবলি তুলে ধরেছেন, এমনকি তাঁর জীবনীও ফায়দামুক্ত নয়। আমি বলি: সম্ভবত তিনি ইমাম রাফিয়ীর কোনো কোনো শব্দ পরিবর্তন করেছেন। যখন কোনো পাঠক তা গভীরভাবে দেখেন, তিনি হয়তো তাঁর সমালোচনা করেন এবং বলেন: সংক্ষেপ করতে গিয়ে তিনি মূল উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে পারেননি। কিন্তু পরে সুক্ষ্ম গবেষণাকালে তিনি দেখতে পান যে ইমাম নববীই সঠিক ছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত অকাট্য কথা বলেছেন। আর যা তিনি সজ্ঞানে করেছেন তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ সংক্ষেপকারী অনেক সময় মূল কথা পরিবর্তন করেন। তবে আশ্চর্য হলো সেই পরিবর্তন নিয়ে যা দেখে বাহ্যিক বুদ্ধিতে মনে হয় তিনি হয়তো এটি উদ্দেশ্য করেননি, অথচ পরবর্তীতে দেখা যায় তা-ই সঠিক হয়েছে। এর অনেক উদাহরণ রয়েছে। যেমন: ইমাম রাফিয়ী 'কিতাবুশ শাহাদাত'-এর 'প্রায়োগিক গুনাহ থেকে তওবা' পরিচ্ছেদে তওবাকারীর ব্যাপারে বলেছেন: তাকে এমন সময়কাল পর্যন্ত পরীক্ষা করা হবে যাতে প্রবল ধারণা হয় যে সে তার আমল ও অন্তর সংশোধন করেছে এবং সে তার তওবায় সত্যবাদী। এই সময়কাল কি নির্ধারিত? একদল বলেছেন: না, বরং সত্যবাদী হওয়ার ব্যাপারে প্রবল ধারণা হওয়াই বিবেচ্য। আর ব্যক্তি এবং সত্যবাদিতার আলামত অনুযায়ী এর হুকুম ভিন্ন ভিন্ন হয়। এটিই ইমামুল হারামাইন ও আব্বাদী পছন্দ করেছেন। কিতাবের লেখকও তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: "যতক্ষণ না একটি নির্দিষ্ট সময় সে নিজেকে পবিত্র করে এবং জানা যায়..." শেষ পর্যন্ত। আবার অন্য একদল এই সময়কাল নির্ধারণ করার দিকে গিয়েছেন। এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে; তাঁদের অধিকাংশ বলেছেন: তাকে এক বছর সময়কাল পর্যবেক্ষণ করা হবে। তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ।আপনি যখন তাঁর এই কথাটি অর্থাৎ "তাঁদের অধিকাংশ বলেছেন" খেয়াল করবেন, তখন দেখবেন যে এখানে সর্বনামটি সেই 'অন্য দল'-এর দিকে ফিরেছে যারা সময়কাল নির্ধারণের পক্ষে, এটি সাধারণভাবে সকল ফকীহদের (আসহাব) বোঝায় না। সুতরাং এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে অধিকাংশ ফকীহ সময় নির্ধারণের পক্ষে, এমনকি এক বছর সময়কাল নির্ধারণ করার বিষয়টি তো আরও পরের কথা। বরং নির্ধারণকারীদের সংখ্যা কেবল একটি অংশ, আর যারা নির্ধারণ করেছেন তারা সময়ের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন এবং তাদের অধিকাংশের মতে তা এক বছর। এটিই ইমাম রাফিয়ীর 'শারহুল কাবীর'-এর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। ইমাম নববী 'রওদ্বাহ' কিতাবে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, অধিকাংশের মতে এই সময়কাল নির্ধারণ হলো এক বছর। এখন কেউ যদি চিন্তা-ভাবনা করে ইমাম নববীর কথার সাথে ইমাম রাফিয়ীর কথার তুলনা করে, তবে সে সিদ্ধান্ত দেবে যে ইমাম নববীর কথা ইমাম রাফিয়ীর বিরোধী। কারণ 'শারহ'-এর ইবারত এটি দাবি করে না যে অধিকাংশ ফকীহ সময় নির্ধারণের পক্ষে এবং তা এক বছর, বরং এর অর্থ হলো ফকীহদের মধ্যে যারা সময় নির্ধারণ করেছেন তাদের অধিকাংশই এক বছরের কথা বলেছেন। বিরোধের এই বিষয়টি আরও জোরালো হয় ইমাম শাফিয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইবারত দ্বারা, যেখানে এক বছর বা ছয় মাস কোনো নির্দিষ্ট সময়ের উল্লেখ নেই; বরং তিনি বলেছেন: "কয়েক মাস", এবং ইমাম শাফিয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই মাস শব্দটিকে সাধারণভাবে ব্যবহার করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إلا أن هذا إذا عاود كتب المنهج وجد الصواب ما فعل النووي، فقد عزى التقدير وأن مقدارها سنة، إلى أصحابها قاطبة، فضلاً عن أكثرهم " ومنهم ": الشيخ أبو حامد الأسفرائيني في " تعليقه "، وهذه عبارته: قال الشافعي: ويختبر مدة أشهر ينتقل فيها من السيئة إلى الحسنة ويعفّ عن المعاصي، وقال أصحابنا: ويختبر سنة.وكذلك قال القاضي حسين في " تعليقه "، ولفظه: قال الشافعي: مدة من المدد، قال أصحابنا: سنة، انتهى.وكذلك الماوردي، ولفظه: وصلاح عمله معتبر بزمان اختلف الفقهاء في حده، فاعتبره بعضهم بستة أشهر، واعتبرها أصحابنا بسنة، انتهى.وكذلك الشيخ أبو حامد، فإنه قال في " المهذب ": وقدّر أصحابنا المدة بسنة.وكذلك البغوي في " التهذيب "، وجماعات، كلُّهم عزوا التقدير بسنة إلى الأصحاب فضلاً عن أكثرهم، ولم يقل بعض الأصحاب: إلا القاضي أبو الطيب، والإمام، ومن تبعهما، فإنهم قالوا: قال بعض أصحابنا: يقدر بسنة. قال بعضهم: زاد الإمام إن المحققين على عدم التقدير.ومن تأمل ما نقلناه أيقن بأن الأكثرين على التقدير بسنة، وبه صرح الرافعي في " المحرر "، ولوّح إليه تلويحاً في " الشرح الصغير ". وظهر حسن صنيع النووي وإن لم يقصده، عناية من الله تعالى به، انتهى كلام التاج.وكان الحامل له على جزمه بكونه لم يقصده عدم تصريحه بأنه من زياداته، وذلك غير لازم، والله أعلم.وقال قاضي صفد العثماني: هي خلاصة مذهب الشافعي، وهي عمدة المفتين والحكام بعصرنا. أخبرنا الشيخ الصالح شهاب الدين أحمد بن خفاجة الصفدي، وكان من العلماء العاملين، قال: رأيت رسول الله صلى اله عليه وسلم بمنامي، فقلت: يا رسول الله، ما تقول في النووي، قال: نعم الرجل النووي. فقلت: صنّف كتاباً وسماه " الروضة " فما تقول فيها؟ قال: هي الروضة كما سماها.وأول من أدخلها قوص: نور الدين علي بن الشهاب هبة الأسنائي، الشافعي، كتبها بخطه وأدخلها قوص." حول شرح مسلم " وقال ابن كثير في وصف " شرح مسلم ": إنه جمع فيه شروحات من تقدّم من المغاربة وغيرهم، وزاد فيه ونقص، انتهى كلامه.وقد اختصره الشيخ شمس الدين محمد بن يوسف بن الياس، القونوي، الحنفي، صاحب " درر البحار "، وتعقب عليه فيه مواضع، وقال مرة: هو أزهد مني، لكني … وذكر شيئاَ لا أثبته.وكذا انتفى منه الحافظ شمس الدين بن عبد الهادي، واستدرك عليه في كثير منه، فالتقط شيخنا من كلامه الاستدراك خاصة في كراسة.وكذا استدرك شيخنا على الشيخ مواضع كان عزمه إفرادها من هوامش نسخته، فما اتفق، مع أنه كان شديد الدب معه، حتى سمعته مراراً يقول: لا أعلم نظيره في قبول مقالة عند سائر أرباب الطوائف، قال: وفي التعقبات لابن العماد على الجمال الأسنوي بركة ظاهرة للشيخين، وقال: أخبرني الجمال محمد بن أبي بكر المصري بزُبَيْد، أنه شاهد الجمال أبا عبد الله محمد بن عبد الله بن أبي بكر الرَّيْمي اليماني، القاضي الشافعي، عند موته وقد اندلع لسانه واسودّ فكانوا يرون أن ذلك بسبب اعتراضه وكثرة وقيعته في الشيخ محيي الدين النووي. ونحوه فيما بلغني ما اتفق لشخص كرماني من اليمن في عصر ابن المقرئ وغيره، وكان ينازع في إطلاق النووي تحريم النظر للأمرد، كأنه لكونه كان منتمياً لابن عربي، ويطلق لسانه فيه بسبب ذلك وشبهه، فإنه لم يمت حتى سقط لسانه، رحمه الله ونفعنا ببركته.وكتب شيخنا على فُتيا تتعلق بمسألة إفراد الصلاة عن السلام، بعد مخالفته له في إطلاق الكراهة؛ ولعله " يعني الشيخ " أطلع لذلك على دليل خاص، وأنشد:إذا قالت حذام فصدِّقوها … فإن القول ما قالت حذامثم وقفت على كراسه من أول نكت شيخنا على " شرح مسلم " قال فيها: قصد بجمعها بركة الشارح، إذ كان ذلك أمراً متفقاً عليه.ولقد حكى لي العلامة الرباني الكمال إمام الكاملية وشيخها " بورك في حياته ": أنه رآه في النوم وعليه ثوب " طرح مدقوق غسيل "، قال: فقبلت يده وسلمت عليه، ودعا لي كثيراً، وقلت له: إنه يشق عليّ من يعترض عليك، فقال: إنهم يعملون وجه الحسنة سيئة، انتهى المنام.ولم يزل أهل التحقيق ممن أدركناهم وأخذنا عنهم، لا ينفكون عن الاعتناء بكلامه، والجواب عما لعل فيه بعض الإيهام، رحمة الله عليهم." حول كتابيه: التحقيق، والتحرير "
তবে কেউ যদি মিনহাজের কিতাবগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করে, তবে সে দেখতে পাবে যে ইমাম নববী যা করেছেন তাই সঠিক। কেননা তিনি এই সময়সীমা নির্ধারণ এবং এর পরিমাণ এক বছর হওয়ার বিষয়টি অধিকাংশ ফকীহ তো বটেই, বরং সমস্ত ফকীহদের দিকেই নিসবত করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: শেখ আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনী তাঁর 'তালীক' গ্রন্থে। তাঁর ইবারত হলো: ইমাম শাফেঈ বলেছেন, তাকে কয়েক মাস পরীক্ষা করা হবে যাতে সে মন্দ কাজ থেকে ভালো কাজের দিকে ফিরে আসে এবং গুনাহ থেকে বিরত থাকে। আমাদের আসহাবগণ (শাফেঈ ফকীহগণ) বলেছেন: তাকে এক বছর পরীক্ষা করা হবে।একইভাবে কাজী হুসাইন তাঁর 'তালীক'-এ বলেছেন এবং তাঁর শব্দ হলো: ইমাম শাফেঈ বলেছেন: একটি নির্দিষ্ট সময়। আমাদের আসহাবগণ বলেছেন: এক বছর। সমাপ্ত।একইভাবে আল-মাওয়ার্দি বলেছেন এবং তাঁর শব্দ হলো: তাঁর আমল সংশোধন হওয়ার বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট সময়ের সাথে বিবেচিত, যে সময়ের সীমার ব্যাপারে ফকীহগণ দ্বিমত করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ একে ছয় মাস গণ্য করেছেন, আর আমাদের আসহাবগণ একে এক বছর গণ্য করেছেন। সমাপ্ত।একইভাবে শেখ আবু হামিদ 'আল-মুহাযযাব' গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের আসহাবগণ এই সময়সীমাকে এক বছর নির্ধারণ করেছেন।একইভাবে 'তাতহযীব' গ্রন্থে আল-বাগবী এবং আরও একদল ফকীহ—তাঁরা সকলেই এই এক বছরের সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টি অধিকাংশ ফকীহর বদলে বরং (পুরো) শাফেঈ আসহাবদের দিকে নিসবত করেছেন। আসহাবদের মধ্যে কেবল কাজী আবু তাইয়্যিব, ইমাম (আল-জুয়াইনি) এবং তাঁদের অনুসারীরাই বলেছেন যে, 'আমাদের কিছু আসহাব বলেছেন: এটি এক বছর নির্ধারণ করা হবে।' কেউ কেউ বলেছেন যে, ইমাম (আল-জুয়াইনি) এ কথা বাড়িয়ে বলেছেন যে, মুহাক্কিকগণ কোনো সময়সীমা নির্ধারণ না করার পক্ষেই মত দিয়েছেন।আমরা যা বর্ণনা করেছি তা কেউ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে নিশ্চিত হবে যে, অধিকাংশ ফকীহই এক বছর নির্ধারণের পক্ষে। ইমাম রাফেঈ 'আল-মুহাররার' গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং 'আশ-শারহুস সাগীর'-এ এর প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ইমাম নববীর কর্মপন্থা—তিনি এটি ইচ্ছা করে করুন আর নাই করুন—আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। তাজ (তাজুদ্দীন আস-সুবকী)-এর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।তার এটি ইচ্ছা করে না করার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার কারণ ছিল যে, ইমাম নববী একে নিজের সংযোজন (যিয়াদাত) হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। অথচ এটি আবশ্যক নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।সাফাদের কাজী আল-উসমানী বলেছেন: এটি শাফেঈ মাযহাবের নির্যাস এবং আমাদের যুগের মুফতি ও বিচারপতিদের প্রধান অবলম্বন। নেককার শেখ শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন খাফাজা আস-সাফাদী—যিনি আমলকারী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ইমাম নববী সম্পর্কে কী বলেন? তিনি বললেন: নববী কতই না উত্তম ব্যক্তি! আমি বললাম: তিনি একটি কিতাব সংকলন করেছেন যার নাম দিয়েছেন 'আর-রাওদাহ', সে সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: এটি 'রাওদাহ' (বাগান)-ই যেমনটি তিনি নাম রেখেছেন।সর্বপ্রথম এটি কূস শহরে নিয়ে আসেন নুরুদ্দীন আলী বিন শিহাব হিবাতুল্লাহ আল-আসনাঈ আশ-শাফেঈ। তিনি নিজ হাতে এটি লিখে কূস শহরে প্রবেশ করান।'শরহে মুসলিম প্রসঙ্গে': ইবনে কাসীর 'শরহে মুসলিম'-এর বর্ণনায় বলেছেন: তিনি এতে পূর্ববর্তী মাগরিবের আলেম ও অন্যদের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ একত্র করেছেন এবং তাতে সংযোজন-বিয়োজন করেছেন। তাঁর কথা এখানেই সমাপ্ত।শেখ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন ইলিয়াস আল-কুনাবী আল-হানাফী, যিনি 'দুরারুল বিহার'-এর লেখক, তিনি এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং এতে কয়েকটি স্থানে সমালোচনা করেছেন। তিনি একবার বলেছিলেন: তিনি (নববী) আমার চেয়ে অধিক যুহদ অবলম্বনকারী বা দুনিয়াত্যাগী, কিন্তু আমি... … এরপর তিনি এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা আমি এখানে প্রমাণ হিসেবে লিখছি না।একইভাবে হাফেজ শামসুদ্দীন বিন আব্দুল হাদি এর থেকে কিছু বিষয় বাদ দিয়েছেন এবং এর অনেক স্থানে আপত্তি উত্থাপন করেছেন। আমাদের শেখ কেবল তাঁর সেই আপত্তিগুলো চয়ন করে একটি পুস্তিকায় সংকলন করেছেন।একইভাবে আমাদের শেখ ইমাম নববীর ওপর এমন কিছু স্থানে আপত্তি করেছিলেন যা তিনি তাঁর পান্ডুলিপির প্রান্তটীকায় পৃথকভাবে রাখার ইচ্ছা করেছিলেন, কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি। অথচ তিনি তাঁর প্রতি অত্যন্ত আদব রাখতেন, এমনকি আমি তাঁকে বারবার বলতে শুনেছি: আমি সকল মাযহাবের পণ্ডিতদের নিকট কোনো মত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর (নববীর) মতো দ্বিতীয় কাউকে জানি না। তিনি আরও বলেছেন: জামাল আল-আসনাউয়ীর ওপর ইবনুল ইমাদের সমালোচনায় উভয় শায়খের (রাফেঈ ও নববী) প্রতি এক প্রকাশ্য বরকত রয়েছে। তিনি বলেন: জুবাইদ নামক স্থানে জামাল মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-মিসরী আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি শাফেঈ বিচারক জামাল আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর আল-রাইমি আল-ইয়ামানিকে মৃত্যুর সময় দেখেছেন যে, তাঁর জিহ্বা বাইরে ঝুলে পড়েছে এবং কালো হয়ে গেছে। লোকেরা মনে করত এটি ইমাম মহিউদ্দীন নববীর ওপর তাঁর আপত্তি এবং তাঁর মানহানির আধিক্যের কারণে হয়েছে। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইবনুল মুকরি প্রমুখের যুগে ইয়েমেনের কিরমানি অঞ্চলের এক ব্যক্তির সাথেও অনুরূপ ঘটেছিল। তিনি ইমাম নববীর দাড়িবিহীন বালকের দিকে তাকানো হারাম হওয়ার ফতোয়ার বিরোধিতা করতেন। সম্ভবত তিনি ইবনুল আরাবীর অনুসারী ছিলেন বলে ইমাম নববীর বিরুদ্ধে এ কারণে এবং এই জাতীয় বিষয়ে কটু কথা বলতেন। তাঁর জিহ্বা পড়ে না যাওয়া পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়নি। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং আমাদের তাঁর বরকত দ্বারা উপকৃত করুন।আমাদের শেখ একটি ফতোয়ার ওপর লিখেছেন যা সালাম ব্যতীত কেবল দরুদ পাঠের মাসআলা সংক্রান্ত ছিল, ইমাম নববীর ব্যাপকভাবে এটিকে মাকরূহ বলার মতের বিরোধিতা করার পর; সম্ভবত তিনি (শেখ) এর জন্য কোনো বিশেষ দলিল পেয়েছিলেন। এরপর তিনি কবিতাটি আবৃত্তি করেন:যখন হাযাম কোনো কথা বলে, তবে তাকে বিশ্বাস করো … কেননা হাযাম যা বলে তাই সত্য।এরপর আমি আমাদের শেখের 'শরহে মুসলিম'-এর ওপর প্রাথমিক টীকা সংবলিত একটি পুস্তিকা দেখতে পাই, সেখানে তিনি বলেছেন: এটি সংকলন করার উদ্দেশ্য হলো ব্যাখ্যাদাতার (নববীর) বরকত লাভ করা, কেননা এটি একটি সর্বসম্মত বিষয় ছিল।রব্বানী আল্লামা আল-কামাল, যিনি ইমামুল কামিলিয়্যাহ এবং সেখানকার শায়খ—তাঁর জীবনে বরকত হোক—তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন: তিনি তাঁকে (ইমাম নববীকে) স্বপ্নে দেখেছেন, তাঁর পরনে ধোয়া পরিষ্কার কাপড় ছিল। তিনি বললেন: আমি তাঁর হাতে চুমু খেলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি আমার জন্য অনেক দোয়া করলেন। আমি তাঁকে বললাম: যারা আপনার ওপর আপত্তি করে তাদের কারণে আমি কষ্ট পাই। তিনি বললেন: তারা নেক কাজকে বদ কাজ হিসেবে গণ্য করে। স্বপ্ন এখানেই সমাপ্ত।আমরা যাদের সান্নিধ্য পেয়েছি এবং যাদের কাছ থেকে ইলম গ্রহণ করেছি, সেই সব মুহাক্কিক আলেমগণ সর্বদা তাঁর বক্তব্যের প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং তাঁর কথায় যেখানে অস্পষ্টতা ছিল তার উত্তর দিয়েছেন। তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।'তাঁর দুটি কিতাব: আত-তাহকীক এবং আত-তাহরীর প্রসঙ্গে'
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وشرح الشهاب ابن النقيب في تكملة كتاب " التحقيق "، فكتب منه يسيراً.وأفرد ابن الملقّن ما في " طبقات الشافعية " له من أقوال في جزء. وكذا كتب على " التحرير " جزءاً كما تقدم." حول الأربعين " وشرح الأربعين له جماعة، أول من علمته منهم: الشهاب أبو العباس أحمد بن فَرْح الأشبيلي، الشافعي.والنجم سليمان بن عبد القوي الطوفي الحنبلي.والتاج عمر بن علي بن سالم الفاكهاني المالكي، وسماه: " المنهج المبين في شرح الأربعين ".والشهاب أحمد بن موسى بن خفاجا الشافعي، في مجلد ضخم.وأبو عبد الله محمد الزركشي، والحافظ الزين أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي، وهو نفيس.والسيد نور الدين أبو عبد الله محمد بن الجلال بن عبد الله بن المعين محمد بن القطب محمد الأيجي، والد شيخنا السيد عفيف الدين محمد.والسراج أبو حفص بن الملقّن، وسماه: " المعين على تفهّم الأربعين ". والعز يوسف بن الحسن بن محمود الحَلْواني.والعز محمد بن أبي بكر بن جماعة، وسماه: " التبيين في شرح الأربعين ".والتقي أبو بكر بن محمد الحصني.والخُجندي المدني، أظنه البرهان إبراهيم بن العلامة جلال الدين أبي طاهر أحمد الحنفي، المتوفى سنة إحدى وخمسين وثمنمائة، ووالده. وآخرون، منهم ممن في قيد الحياة شيخ الكاملية وأمامها.وخرّج أحاديثه محمد بن أحمد بن محمد المصري السعودي، عُرف بابن شيخ البئر، بل كتب عليها شرحاً جمع فيه بين الثلاثة الأولين.وأملى الحافظ الزين أبو الفضل العراقي تخريج أحاديثها.وكذا خرّج أحاديثها شيخنا، واقتفيت أثره في ذلك." حول الأذكار " وأملى " يعني شيخه ابن حجر " نحو النصف من تخريج " الأذكار " له، وقد شرعت في تكملته، فأمليت منه إلى هذا اليوم أزيد من سبعين مجلساً.ثم بلغت إلى مائتين وثمانين، يسّر الله إتمامه في خير بلا محنة، وقد فعل، فانتهى في جمادى الثانية سنة إحدى وثمانين " وثمنمائة ".ولوالد شيخنا " رحمهما الله " على " الأذكار " بعض حواشٍ." حول الغاية " وشرح " الغاية " المنسوبه له الجمال الأسنوي، والكمال النشّاي، والتقيّ الحصني، والشمس محمد بن أحمد بن موسى العجلوني. انتهى.الوظائف التي تولاهاوولي " رحمه الله " من الوظائف الدينية مشيخة دار الحديث الأشرفية. قال الذهبي: مع صغر سنّه ونزول روايته، في حياة مشائخه، بعد الإمام أبي شامة عبد الرحمن بن إسماعيل بن إبراهيم بن عثمان، سنة خمس وستين " وستمائة "، إلى أن مات، انتهى كلام الذهبي.وفي رسالة لابن النجار، ما يشعر بكونه لم يوافق على توليتها إلا بعد جهد، فإنه قال فيها مجيباً له عن تهديده بعزله عنها ما نصه كما سيأتي: أو ما علمت لو أنصفت كيف كان ابتداء أمرها؟ أو ما كنت محاضراً مشاهداً أخذي لها؟ إلى آخر كلامه.ونشر " كما قال القطب اليونيني " بها علماً جمّاً، وأفاد الطلبة، قال: والذي أظهره وقدمه على أقرانه ومن هو أفقه منه: كثرة زهده في الدنيا، وعظم ديانته وورعه، وليس فيمن اشتغل عليه من يلتحق به، انتهى كلام القطب.ووهِم من قال: إنه أقام في الأشرفية نحو عشرين سنة، وقد استقر فيها بعده الشيخ الزين أبو محمد عبد الله بن مروان بن عبد الله الفارقي ومن يلها من زمن الواقف أورع من الشيخ كما صرح به التاج السبكي، مع ادعائه ما أظن أن والده الذي صرح في أول نسخة " شرح المهذب " بما سبق، وكان يمرغ وجهه رجاء أن يمس مكاناً مسّه قدمه، وينشد ذاك الشعر حسبما يأتي لا يوافقه عليه، حيث قال التاج في ترجمة أبيه: وولي بعد وفاة المزّي مشيخة دار الحديث الأشرفية، فالذي نراه أنه ما دخلها أعلم منه، ولا أحفظ من المزي، ولا أروع من النووي وابن الصلاح، انتهى كلامه.ووقع في مقدمة " المهمات " في الفصل الأول، في الكلام على احتمالات الإمام: أتكون أوجُها أم لا؟ وحكى كلام الغزالي ثم الرافعي ثم النووي في ذلك، وأن كلا منهم عدّها أوجها، وأن كلاّ منهم أجلُّ ممن جاء بعده. ثم نقل عن ابن الرفعة التصريح بخلافه، وتعقبه بقوله: والذي ذكره مردود بما سبق من نقل جماعة كلٌّ منهم أجلُّ منه.
শিহাব ইবনুন নাকিব 'আত-তাহকিক' কিতাবের পরিশিষ্টে এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং তার সামান্য অংশ লিখেছেন।ইবনুল মুলাক্কিন তার 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' গ্রন্থে থাকা উক্তিগুলো একটি আলাদা খণ্ডে সংকলন করেছেন। একইভাবে তিনি 'আত-তাহরির' গ্রন্থের ওপরও একটি খণ্ড লিখেছেন, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।'আরবাঈন' প্রসঙ্গে; একদল আলেম তার 'আরবাঈন'-এর ব্যাখ্যা লিখেছেন। তাদের মধ্যে প্রথম যার কথা আমি জানি তিনি হলেন: শিহাব আবুল আব্বাস আহমাদ বিন ফারাহ আল-আশবিলি আশ-শাফিঈ।এবং নাজমুদ্দিন সুলাইমান বিন আব্দুল কাবি আত-তুফি আল-হাম্বালি।এবং তাজউদ্দীন উমর বিন আলি বিন সালিম আল-ফাকিহানি আল-মালিকি; তিনি এর নামকরণ করেছেন: 'আল-মানহাজুল মুবিন ফি শারহিল আরবাঈন'।এবং শিহাব আহমাদ বিন মুসা বিন খাফাজা আশ-শাফিঈ, এটি একটি বিশাল খণ্ডে রচিত।এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ আজ-জারকাশি, ও হাফেজ জাইনুদ্দিন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন রাজাব আল-হাম্বালি, যা অত্যন্ত মূল্যবান।এবং আস-সায়্যিদ নুরুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-জালাল বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মুঈন মুহাম্মাদ বিন আল-কুতুব মুহাম্মাদ আল-আইজি, যিনি আমাদের শাইখ আস-সায়্যিদ আফিফুদ্দিন মুহাম্মাদের পিতা।এবং সিরাজ আবু হাফস ইবনুল মুলাক্কিন, তিনি এর নাম রেখেছেন: 'আল-মুঈন আলা তাফহুমিল আরবাঈন'। এবং ইজ্জুদ্দিন ইউসুফ বিন আল-হাসান বিন মাহমুদ আল-হালওয়ানি।এবং ইজ্জুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন আবু বকর বিন জামাআহ, তিনি এর নাম রেখেছেন: 'আত-তাবয়িন ফি শারহিল আরবাঈন'।এবং তাকিয়ুদ্দিন আবু বকর বিন মুহাম্মাদ আল-হিসনি।এবং আল-خুজান্দি আল-মাদানি, আমার ধারণা তিনি হলেন বুরহানুদ্দিন ইবরাহিম বিন আল্লামা জালালুদ্দিন আবু তাহির আহমাদ আল-হানাফি (মৃত্যু ৮৫১ হিজরি) এবং তার পিতা। আরও অনেকে আছেন, যাদের মধ্যে আল-কামিলিয়্যাহ মাদরাসার শাইখ ও ইমাম বর্তমানে জীবিত রয়েছেন।এবং মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মিসরি আস-সুউদি—যিনি ইবনে শাইখিল বি'র নামে পরিচিত—এর হাদিসগুলো তাখরিজ করেছেন। বরং তিনি এর ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন যেখানে তিনি প্রথম তিনজনের কাজকে একত্রিত করেছেন।এবং হাফেজ জাইনুদ্দিন আবুল ফাদল আল-ইরাকি এর হাদিসসমূহের তাখরিজ শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করিয়েছেন।একইভাবে আমাদের শাইখও এর হাদিসগুলোর তাখরিজ করেছেন এবং আমি এ বিষয়ে তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি।'আল-আযকার' প্রসঙ্গে; তার শাইখ ইবনে হাজার 'আল-আযকার'-এর হাদিসসমূহের তাখরিজের প্রায় অর্ধেক অংশ শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করিয়েছেন। আমি এর পরিশিষ্ট লেখা শুরু করেছি এবং আজ পর্যন্ত সত্তরটিরও বেশি মজলিস শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছি।এরপর তা দুইশত আশি পর্যন্ত পৌঁছেছে। আল্লাহ কোনো বিপর্যয় ছাড়াই কল্যাণের সাথে এটি পূর্ণ করা সহজ করে দিন। এবং তিনি তা করেছেন; এটি ৮৮১ হিজরির জুমাদাস সানি মাসে সমাপ্ত হয়েছে।এবং আমাদের শাইখের পিতারও (আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর রহম করুন) 'আল-আযকার'-এর ওপর কিছু টীকা রয়েছে।'আল-গায়াহ' প্রসঙ্গে; জামালুদ্দিন আল-আসনাবি, কামালুদ্দিন আন-নাশায়ি, তাকিয়ুদ্দিন আল-হিসনি এবং শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুসা আল-আজলুনি তার নামে প্রচলিত 'আল-গায়াহ'-এর ব্যাখ্যা লিখেছেন। সমাপ্ত।দায়িত্বসমূহ যা তিনি পালন করেছেনতিনি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) ধর্মীয় দায়িত্বগুলোর মধ্যে 'দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহ'-এর শাইখ বা প্রধানের পদ লাভ করেন। ইমাম যাহাবি বলেন: তার অল্প বয়স এবং তার উস্তাদদের জীবদ্দশায় তার বর্ণনার সূত্র নিচের স্তরের হওয়া সত্ত্বেও, ইমাম আবু শামা আব্দুর রহমান বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম বিন উসমানের পর ৬৬৫ হিজরি থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। যাহাবির বক্তব্য শেষ হলো।ইবনে নাজ্জারের একটি পত্রে এমন আভাস পাওয়া যায় যে, তিনি অনেক প্রচেষ্টার পর এই দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হয়েছিলেন। সেই পত্রে তিনি তাকে পদচ্যুত করার হুমকির জবাবে যা বলেছিলেন তার পাঠ সামনে আসবে: "যদি তুমি ইনসাফ করতে তবে কি জানতে না এর সূচনালগ্ন কেমন ছিল? অথবা তুমি কি উপস্থিত থেকে দেখোনি আমি কীভাবে এটি গ্রহণ করেছিলাম?" তার বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।কুতুব আল-ইউনিনি যেমনটি বলেছেন, তিনি সেখানে প্রচুর জ্ঞান প্রচার করেছেন এবং ছাত্রদের উপকৃত করেছেন। তিনি বলেন: যা তাকে প্রকাশ্য করেছে এবং তার সমসাময়িক ও তার চেয়ে অধিক ফকিহদের ওপর তাকে অগ্রগণ্য করেছে তা হলো দুনিয়ার প্রতি তার চরম অনাসক্তি, তার সুমহান দ্বীনদারি ও পরহেজগারি। যারা তার কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে কেউই তার সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি। কুতুবের বক্তব্য শেষ হলো।যারা বলেন যে তিনি আশরাফিয়্যাহ মাদরাসায় প্রায় বিশ বছর অবস্থান করেছিলেন, তারা ভুল করেছেন। তার পরে শাইখ জাইনুদ্দিন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন মারওয়ান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফারিকি সেখানে স্থলাভিস্থিক্ত হন। ওয়াকিফ (প্রতিষ্ঠাতা)-এর সময়কাল থেকে শাইখের চেয়ে বেশি পরহেজগার আর কেউ সেখানে ছিলেন না, যেমনটি তাজউদ্দীন আস-সুবকি স্পষ্টভাবে বলেছেন। তার এই দাবির সাথে আমি মনে করি না তার পিতা একমত হবেন, যিনি ইতিপূর্বে উল্লেখিত 'শারহুল মুহাযযাব'-এর প্রথম কপিতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তার চেহারা মাটিতে ঘষতেন এই আশায় যে, যেন তা এমন কোনো স্থান স্পর্শ করে যেখানে তাঁর আল্লাহর হাত আল্লাহর পা পড়েছিল। এবং তিনি সেই কবিতাটিও পাঠ করতেন যা সামনে আসবে। তাজউদ্দীন তার পিতার জীবনীতে বলেন: আল-মিজ্জির ইন্তেকালের পর তিনি দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহ-এর প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আমরা যা মনে করি তা হলো, সেখানে তার চেয়ে বড় কোনো আলেম প্রবেশ করেননি, মিজ্জির চেয়ে বড় কোনো হাফেজ প্রবেশ করেননি এবং নববী ও ইবনে সালাহর চেয়ে বড় কোনো পরহেজগার প্রবেশ করেননি। তার বক্তব্য শেষ হলো।'আল-মুহিম্মাত' গ্রন্থের ভূমিকাংশের প্রথম পরিচ্ছেদে ইমামের সম্ভাবনাগুলোর আলোচনায় এসেছে: সেগুলো কি স্বতন্ত্র অভিমত হবে নাকি হবে না? তিনি এ বিষয়ে প্রথমে আল-গাজালি, এরপর আর-রাফেঈ এবং তারপর নববীর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। এবং তাদের প্রত্যেকেই সেগুলোকে স্বতন্ত্র অভিমত হিসেবে গণ্য করেছেন এবং তাদের প্রত্যেকেই তাদের পরবর্তী আসার লোকদের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান। এরপর তিনি ইবনুর রিফআহ থেকে এর বিপরীত বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এবং তার সমালোচনা করে বলেছেন: তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা পূর্ববর্তী একদল আলেমের বর্ণনার মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত, যাদের প্রত্যেকেই তার চেয়ে অধিক মর্যাদাবান।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وبالجملة فالكف عن الخوض في هذا أقرب إلى السلامة من العطب، لا سيما وينشأ منه أن من لم يلحق مرتبة القائل ولا له نسبة بآحاد أتباع أتباعه، بل ولا له كبير وجاهة في علم: يجعله ذريعة لمقاصده الفاسدة. ولقد سألت شيخنا " وناهيك به نقداً للرجال " عن التفضيل، بين الشيخ والرافعي في الحديث بخصوصه، فما سمح لي بالجواب إلا بتكلف، مع كونه لم يزد على أن قال: وُجد للرافعي على طريقة أهل الفن عدة تصانيف: تاريخ قزوين، والأمالي، وشرح المسند. ولكن الأدب عدم التعرّض لهذا أو نحوه.فانظر كيف لم يسمح بذلك مع الرافعي، مع كون شيخ شيخه الحافظ أبي سعيد العلائي قد جزم به، " كما أسلفه في آخر سرد تصانيفه " فكيف بمن دونه؟ فالأولى الوقف، لا سيما والحاجة غير داعية إليه.ولقد اضطر شيخنا مع مزيد تواضعه وأدبه مع الشيخ " كما سبق " إلى الخوض في تصانيفه، وكونه مسبوقاً بها، واختصاص " شرح المهذب " منها بمزيد التعب والطريقة المبتكرة، ولذلك لم يكمل. فقدِّرْ بعد وفاة شيخنا زَعَم شخص ممن لا نسبة له بآحاد جماعته، أن تصانيفه كلها قد سُبق إليها، فعارَضْته ب " تغليق التعليق " و " فتح الباري "، وغيرهما، مما لم يُسبق إليه، أو سُبق به وكان هو اللاحق بوضعه، وهو مصمّم على العناد، وأعرضت عنه وتوهمت أن ذلك ببركة الشيخ، لكون السكوت كان عنه أولى، رحمهما الله ونفعنا ببركتهما.وقال القطب اليونيني: إن الشيخ باشر أيضاً تدريس الإقبالية، والفلكية، والرُّكنية، للشافعية، نيابة عن قاضي القضاة: الشمس أحمد بن خَلِّكان، في ولايته الأولى، انتهى.وحدّث بالصحيحين بدار الحديث الأشرفية سماعاً وبحثاً، وبقطعة من سنن أبي داود، وبالرسالة للقشيري، و " صفوة التصوف "، و " الحجة على تارك المحجة " لنصر المقدسي، كلها سماعاً وبحثاً، و " شرح معاني الآثار " للطحاوي.قلت: ووجد بحاشية نسخة من " الروضة " أنه وُجد بخطه من الشعر.وأنت الذي أرجوه في الأمر كلِّه … عليك اعتمادي في جميع النوائبوأنت الذي أدعوه سرّاً وجهرة … أجرني بلطفٍ من جميع المصائبوبخط تلميذه العلاء بن العطار: أنه وجد بخطه أيضاً:أموت ويبقى كلُّ ما قد كتبتُه … فيا ليت من يقرأ كتابي دعا ليالعل إلهي أن يمن بلطفه … ويرحم تقصيري وسوء فعالياوكذا وجد بخطه:جرى قلمُ القضاء بما يكون … فسيان التحرك والسكونجنون منك أن تسعى لرزق … ويُرزَق في غشاوته الجنينويشبه أن يكون ذلك ما تمثل به وليس من نظمه، ثم ظهر ذلك وأنهما للماوردي كما عزاهما إليه ابن كثير في ترجمته.وقيل إنه سُمع من الشيخ قرب وفاته، ووُجد في موضع آخر نسبتُها إلى نظمه وأنه ليس له نظم غيرها:بشائر قلبي في قدومي عليهمُ … ويَا لسُروري يوم سيري إليهمُولا في رحلتي يصفو مقامي وحبذا … مقامٌ به حطُّ الرحال لديهمُولا زادَ لي إلا يقيني بأنهمْ … لهم كرَمٌ يغني الوفود عليهمُووجدتُ بخط الشرف القدسي رواية عن العز بن جماعة، عن أبيه البدر: أن الشيخ أنشده لنفسه بالمدرسة الرّواحية:خَرِس اللسانُ وكَلَّ عن أوصافكم … ماذا أقول وأنتمُ ما أنتمُالذنبُ والتقصير مني دائماً … والعفوُ والإحسانُ يُعرَفُ منكمُانتهى.تلاميذهوسمع منه خلق من العلماء والحفّاظ، والصدور والرؤساء، وتخرّج به خلق كثير من الآفاق، وسار علمه وفتاويه في البلدان.قلت: وروى الأئمة " حتى من تقدمت وفاته عليه " كلامه في تصانيفهم، كالمحب الطبري، فإنه نقل عنه في كتابه " القِرى " أشياء، وكذا اتفق أن كلاّ من ابن مهدي، ويحيى بن سعيد القطان، كان من المستفيدين من إمامنا الشافعي، المفتخرين به، ومات قبل الشافعي بسنتين، انتهى.
সংক্ষেপে বলতে গেলে, এ জাতীয় বিতর্কে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকাই ধ্বংস থেকে বাঁচার জন্য অধিকতর নিরাপদ। বিশেষ করে যখন এর ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে, যার অবস্থান সেই প্রবক্তার পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং যার সঙ্গে তাঁর অনুসারীদের অনুসারীদেরও কোনো সম্পর্ক নেই, এমনকি যার ইলমি জগতেও বড় কোনো মর্যাদা নেই—সে একে তার মন্দ উদ্দেশ্যের অজুহাত বানিয়ে নেয়। আমি আমাদের উস্তাদকে—যিনি মানুষ নির্বাচনে যথেষ্ট পারদর্শী ছিলেন—শায়খ এবং রাফেয়ীর মধ্যে বিশেষ করে হাদীস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি খুব কষ্ট করেই উত্তর দিয়েছিলেন। তিনি কেবল এটুকু বলেছিলেন: ইলমে হাদীসের পণ্ডিতদের পদ্ধতি অনুসারে রাফেয়ীর বেশ কিছু রচনা রয়েছে: 'তারিখে কাজভিন', 'আল-আমালি' এবং 'শরহুল মুসনাদ'। তবে শিষ্টাচার হলো এই বা এ জাতীয় বিষয়ে লিপ্ত না হওয়া।দেখুন, তিনি রাফেয়ীর ক্ষেত্রেও উত্তর দিতে কেমন সংকোচ করেছেন, অথচ তাঁর উস্তাদের উস্তাদ হাফেজ আবু সাঈদ আল-আলায়ী এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবের শেষে তাঁর রচনাদির বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। তাহলে তাঁর নিচের পর্যায়ের লোকদের ক্ষেত্রে কী হবে? সুতরাং মৌন থাকাই উত্তম, বিশেষ করে যখন এর কোনো প্রয়োজনীয়তাও নেই।আমাদের শায়খ অত্যধিক বিনয় এবং শায়খের প্রতি আদব থাকা সত্ত্বেও তাঁর কিতাবসমূহ নিয়ে আলোচনা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তিনি পূর্ববর্তীদের কিতাব থেকে সহযোগিতা নিয়েছেন এবং এর মধ্যে 'শরহুল মুহাযযাব' অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য ও এক নতুন ধারার কিতাব হিসেবে অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, আর একারণেই এটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। আমাদের শায়খের ইন্তেকালের পর এমন এক ব্যক্তি যার শায়খের জামাতের সাধারণ ব্যক্তিদের সঙ্গেও কোনো সম্পর্ক নেই, সে দাবি করল যে তাঁর সকল কিতাবই আগের লেখা থেকে নেওয়া। আমি তাঁর 'তাগলিকুত তালীক' এবং 'ফাতহুল বারী'সহ অন্যান্য কিতাবের মাধ্যমে তার বিরোধিতা করলাম, যেগুলো তাঁর আগে কেউ লেখেনি, অথবা আগে লেখা হলেও তাঁর কিতাবটি বিন্যাসের দিক থেকে পরবর্তী শ্রেষ্ঠ সংযোজন ছিল। কিন্তু সে একগুঁয়েমিতে অটল রইল। পরে আমি তাঁর থেকে বিমুখ হলাম এবং ভাবলাম যে এটি সম্ভবত শায়খেরই বরকত, কারণ তাঁর ব্যাপারে চুপ থাকাই শ্রেয় ছিল। আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন এবং তাঁদের বরকতে আমাদের উপকৃত করুন।কুতুব আল-ইউনিনী বলেন: শায়খ তাঁর প্রথম শাসনামলে প্রধান বিচারপতি শামসুদ্দীন আহমদ ইবনে খাল্লিকানের প্রতিনিধি হিসেবে শাফেয়ী মাযহাবের ইকবালিয়া, ফালাকিয়া এবং রুকনিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতাও করেছেন। সমাপ্ত।তিনি দারুল হাদীস আশরাফিয়ায় শ্রবণ ও আলোচনার মাধ্যমে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন। এছাড়া সুনানে আবু দাউদের একটি অংশ, কুশায়রীর 'রিসালা', 'সাফওয়াতুত তাসাউফ' এবং নসর আল-মাকদিসীর 'আল-হুজ্জাতু আলা তারিকিল মাহাজ্জাহ' সবগুলোই শ্রবণ ও আলোচনার মাধ্যমে এবং তহাবীর 'শরহু মাআনিল আসার' বর্ণনা করেছেন।আমি বলি: 'রাওযা'র একটি পাণ্ডুলিপির টীকায় পাওয়া গেছে যে তাঁর হস্তলিপিতে কিছু কবিতাও পাওয়া গেছে:সকল বিষয়ে আমি আপনারই প্রত্যাশী … সকল বিপদে আমার নির্ভরতা আপনারই ওপরগোপনে ও প্রকাশ্যে আমি আপনারই নিকট প্রার্থনা করি … আপনার অনুগ্রহে আমাকে সকল মুসিবত থেকে রক্ষা করুনতাঁর ছাত্র আলা ইবনে আল-আত্তারের হস্তলিপিতে পাওয়া গেছে যে তিনি শায়খের হাতে লেখায় আরও পেয়েছেন:আমি মরে যাব কিন্তু যা লিখেছি সব রয়ে যাবে … হায়! যে আমার কিতাব পড়বে সে যদি আমার জন্য দোয়া করতহয়তো আমার ইলাহ তাঁর করুণা দান করবেন … আর আমার ত্রুটি ও মন্দ কাজসমূহ ক্ষমা করবেনঅনুরূপভাবে তাঁর হস্তলিপিতে পাওয়া গেছে:তকদীরের কলম যা হবার তা লিখে ফেলেছে … সুতরাং স্থির থাকা বা নড়াচড়া করা সমান কথাতোমার রিযিকের জন্য হন্যে হয়ে ছোটা এক প্রকার পাগলামি … অথচ গর্ভস্থ শিশু তার আবরণের ভেতরেই রিযিক পেয়ে থাকেসম্ভবত এগুলো তিনি দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং এগুলো তাঁর নিজের কবিতা নয়। পরে স্পষ্ট হয়েছে যে এ দুটি পঙক্তি আল-মাওয়ারদীর, যেমনটি ইবনে কাসীর তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন।বলা হয় যে শায়খের ইন্তেকালের নিকটবর্তী সময়ে তাঁর থেকে এগুলো শোনা গেছে। অন্য এক জায়গায় এগুলোকে তাঁর নিজের কবিতা বলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে এগুলো ছাড়া তাঁর আর কোনো কবিতা নেই:তাদের কাছে গমনের সুসংবাদ আমার হৃদয়ে … আর তাদের পানে যাত্রার দিনটি আমার আনন্দেরযাত্রাপথে আমার অবস্থান স্বস্তিকর নয় … কতই না সুন্দর হবে সেই স্থান যেখানে তাদের কাছে গিয়ে যাত্রা বিরতি হবেআমার কোনো সম্বল নেই কেবল এই বিশ্বাস ছাড়া যে … তাদের এমন দানশীলতা রয়েছে যা আগত অতিথিদের জন্য যথেষ্টআমি শারাফ আল-কুদসীর হস্তলিপিতে ইজ্জ ইবনে জামাআহ সূত্রে তাঁর পিতা বদরুদ্দীনের বর্ণনা থেকে পেয়েছি: শায়খ রাওয়াহিয়াহ মাদরাসায় তাঁকে নিজের লেখা এ পঙক্তিগুলো পাঠ করে শুনিয়েছেন:জিহ্বা বোবা হয়ে গেছে এবং আপনার গুণগানে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে … আমি কী বলব অথচ আপনি যা তা তো আপনিইঅপরাধ ও ত্রুটি সর্বদা আমার পক্ষ থেকে … আর ক্ষমা ও ইহসান আপনার পক্ষ থেকেই সুবিদিতসমাপ্ত।তাঁর ছাত্রগণঅনেক আলেম, হাফেজ, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নেতৃবৃন্দ তাঁর থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। দিগন্ত জুড়ে বহু মানুষ তাঁর মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করেছেন এবং তাঁর ইলম ও ফতোয়া বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে।আমি বলি: অনেক ইমাম—এমনকি যারা তাঁর আগে ইন্তেকাল করেছেন তাঁরাও—তাঁদের কিতাবে তাঁর কথা বর্ণনা করেছেন। যেমন মুহিব্বুত তাবারী; তিনি তাঁর 'আল-কিরা' কিতাবে শায়খ থেকে অনেক কিছু উদ্ধৃত করেছেন। অনুরূপভাবে যেমন ইবনে মাহদী ও ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান—উভয়ই আমাদের ইমাম শাফেয়ীর থেকে উপকৃত হয়েছিলেন এবং তাঁকে নিয়ে গর্ব করতেন, অথচ তিনি শাফেয়ীর দুই বছর আগে ইন্তেকাল করেছিলেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২০)
وكنت مدة صحبتي له مقتصراً عليه دون غيره، من أول سنة سبعين وقبلها بيسير، إلى حين وفاته. وقرأت عليه الفقه تصحيحاً عرضاً، وشرحاً، وضبطاً خاصاً وعاماً، وقرأت عليه كثيراً من تصانيفه ضبطاً وإتقاناً، وأذِن لي في إصلاح ما يقع في تصانيفه، فأصلحت بحضرته أشياء أقرني عليها وكتبها بخطه، وكان رفيقاً بي شفيقاً عليّ، لا يمكن أحداً من خدمته غيري، على جهد مني في طلب ذلك منه، مع وراقبته لي في حركاتي وسكناتي، ولطفه بي في جميع ذلك وتواضعه معي في جميع الحالات، وتأديبه لي في كل شيء حتى الخطرات، وأعجز عن حصر ذلك.وممن أخذ عن الشيخ أيضاً: الصدر الرئيس الفاضل أبو العباس أحمد بن إبراهيم بن مصعب، قرأ عليه قطعة من " المنهاج "، واستنسخ " الروضة " له، وقابل ابن العطار له بعضها مع الشيخ، وأصلح بخطه مواضع فيها بإملاء الشيخ، رحمهم الله.والمحدث أبو العباس أحمد بن فرْح الإشبيلي، كان له ميعاد عليه يوم الثلاثاء والسبت، يشرح في حدهما البخاري، وفي الآخر صحيح مسلم.والرشيد إسماعيل بن عثمان بن عبد الكريم بن المعلم الحنفي، قرأ عليه في " شرح معاني الآثار " للطحاوي.وأبو عبد الله محمد بن أبي الفتح الحنبلي.قلت: وكذا أخذ عنه الشيخ شهاب الدين أحمد بن محمد بن عباس بن جعوان.والفقيه المقرئ أبو العباس أحمد الضرير، الواسطي، الملقب بالخلال.والنجم إسماعيل بن إبراهيم بن سالم الخباز.والشيخ الناسك جبريل الكردي، قال اليافعي: وعليه سمعت الأربعين.والجمال رافع الصميدي والد الحافظ تقي الدين محمد بن رافع، وحضر حلقته.والأمين سالم بن أبي الدر.والفقيه الأديب سلطان، إمام الرواحية.والقاضي جمال الدين سليمان بن عمرو بن سالم الزُّرْعي.والقاضي صدر الدين أبو الفضل سليمان بن هلال بن شبل الجعفري الحوراني، الدمشقي، الشافعي، خطيب داريا، وأثنى عليه الشيخ.وأبو الفرج عبد الرحمن بن محمد بن عبد الحميد بن عبد الهادي المقدسي.وعبد الرحيم بن محمد بن يوسف السمنّودي، الخطيب الأديب.والمجد أبو حامد عبد المحمود بن عبد السلام بن حاتم بن أبي محمد بن علي البعلي، ممن تفقه على الشيخ.والعلاء علي بن أيوب بن منصور المقدسي، الذي نسخ " المنهاج " بخطه، وحرره ضبطاً وإتقاناً، وهو بخطه في المحمودية.والضياء أبو الحسن علي بن سليم بن ربيعة الأنصاري الأذرعي، الشافعي، ناظم " التنبيه ".وعلاء الدين علي بن عثمان بن حسان بن محاسن، الدمشقي، الشاغوري ابن الخراط.وأبو الحسن علي بن محمد بن موفق بن منصور، اليمني، الشافعي. ومما قرأ عليه: " الأربعون " له، في مجلسين، ثانيهما يوم الأربعاء رابع عشر شعبان سنة أربع وسبعين وستمائة بدمشق، وقال الشيخ فيما كتبه له بخطه: سمع علي هذا الجزء صاحبه الفقيه الصالح، المعتني: فلان أدام الله توفيقه، ولطف به في جميع أموره، وبارك الله في أحواله، فسمعه بقراءته وأنا ممسك أصلي لمقابلته.والبدر أبو عبد الله محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة، المشار إليه في أثناء أول ما ذكرته. ويقال: إن فتواه عرضت على الشيخ، فاستحسن كتابته عليها.والشمس محمد بن أبي بكر بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن النقيب، وهو آخر من كان من أعيان أصحابه.
আমি তাঁর সাহচর্যে থাকাকালীন সত্তর হিজরি সালের শুরু থেকে এবং তার কিছু আগে থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত কেবল তাঁর কাছেই সীমাবদ্ধ ছিলাম, অন্য কারও কাছে যাইনি। আমি তাঁর নিকট ফিকহ শাস্ত্র সংশোধন, উপস্থাপন, ব্যাখ্যা এবং বিশেষ ও সাধারণ শুদ্ধিকরণের মাধ্যমে পাঠ করেছি। আমি তাঁর বহু গ্রন্থ সূক্ষ্মতা ও নিপুণতার সাথে পাঠ করেছি। তিনি আমাকে তাঁর গ্রন্থসমূহে যে সকল ভুলত্রুটি প্রকাশ পায় তা সংশোধনের অনুমতি দিয়েছিলেন। আমি তাঁর উপস্থিতিতে অনেক বিষয় সংশোধন করেছি যা তিনি অনুমোদন করেছেন এবং নিজ হাতে লিখেছেন। তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত কোমল ও স্নেহশীল ছিলেন। আমার একান্ত আগ্রহ সত্ত্বেও তিনি আমার ছাড়া আর কাউকে তাঁর খেদমতে নিয়োজিত হতে দিতেন না। তিনি আমার প্রতিটি চলন-বলন পর্যবেক্ষণ করতেন এবং এসবে তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত দয়া ও বিনয় প্রদর্শন করতেন। এমনকি আমার মনের প্রতিটি চিন্তা ও প্রতিটি বিষয়ে তিনি আমাকে আদব শিক্ষা দিতেন; এসবের সীমাবদ্ধতা বর্ণনা করা আমার পক্ষে অসম্ভব।শায়খের নিকট থেকে আরও যারা জ্ঞান অর্জন করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: সদরুর রইসুল ফাযিল আবুল আব্বাস আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন মুসআব। তিনি তাঁর নিকট 'আল-মিনহাজ'-এর একটি অংশ পাঠ করেছেন এবং নিজের জন্য 'আর-রাওদাহ' গ্রন্থটি নকল করেছেন। ইবনুল আত্তার শায়খের উপস্থিতিতে এর কিছু অংশ তাঁর সাথে মিলিয়ে সংশোধন করেছেন এবং শায়খের নির্দেশে নিজ হাতে এর বিভিন্ন স্থান সংস্কার করেছেন, আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন।এবং মুহাদ্দিস আবুল আব্বাস আহমাদ বিন ফারাহ আল-ইশবিলি। মঙ্গল ও শনিবার শায়খের নিকট তাঁর পড়ার নির্দিষ্ট সময় ছিল। এর মধ্যে এক দিন শায়খ বুখারি এবং অন্য দিন সহিহ মুসলিম ব্যাখ্যা করতেন।এবং আর-রশিদ ইসমাঈল বিন উসমান বিন আব্দুল কারিম বিন আল-মুআল্লিম আল-হানাফি। তিনি তাঁর নিকট ইমাম তহাবীর 'শারহু মাআনিল আসার' পাঠ করেছেন।এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবিল ফাতহ আল-হাম্বলি।আমি (গ্রন্থকার) বলছি: একইভাবে শায়খ শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্বাস বিন জা'ওয়ান তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।এবং ফকিহ ও ক্বারি আবুল আব্বাস আহমাদ আদ-দাবির আল-ওয়াসিতি, যাকে 'আল-খাল্লাল' উপাধিতে ডাকা হতো।এবং আন-নজম ইসমাঈল বিন ইবরাহিম বিন সালিম আল-খাব্বায।এবং শায়খ ইবাদতগুজার জিবরিল আল-কুর্দি; আল-ইয়াফেয়ি বলেন: আমি তাঁর নিকট 'আল-আরবাঈন' (চল্লিশ হাদিস) শ্রবণ করেছি।এবং আল-জামাল রাফি আস-সুমাইদি, যিনি হাফেজ তাকিউদ্দিন মুহাম্মাদ বিন রাফি'র পিতা; তিনি শায়খের মজলিসে উপস্থিত হতেন।এবং আল-আমিন সালিম বিন আবিল দুরর।এবং ফকিহ ও সাহিত্যিক সুলতান, যিনি আল-রাওয়াহিয়্যাহর ইমাম ছিলেন।এবং বিচারক জামালুদ্দিন সুলাইমান বিন আমর বিন সালিম আয-যুরয়ি।এবং বিচারক সদরুদ্দিন আবুল ফাযল সুলাইমান বিন হিলাল বিন শিবল আল-জাফারি আল-হাওরানি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি, যিনি দারাইয়ার খতিব ছিলেন; শায়খ তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।এবং আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল হামিদ বিন আব্দুল হাদি আল-মাকদিসি।এবং আব্দুর রহিম বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আস-সামান্নুদি, যিনি খতিব ও সাহিত্যিক ছিলেন।এবং আল-মাজদ আবু হামিদ আব্দুল মাহমুদ বিন আব্দুস সালাম বিন হাতিম বিন আবি মুহাম্মাদ বিন আলি আল-বা'লি; তিনি শায়খের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন।এবং আল-আলা আলি বিন আইয়ুব বিন মনসুর আল-মাকদিসি, যিনি নিজ হাতে 'আল-মিনহাজ' নকল করেছেন এবং তা অত্যন্ত নিপুণভাবে ও নিখুঁতভাবে সম্পাদন করেছেন। এটি মাহমুদিয়্যাহ গ্রন্থাগারে তাঁর হস্তাক্ষরে সংরক্ষিত আছে।এবং আয-যিয়া আবুল হাসান আলি বিন সালিম বিন রবিয়াহ আল-আনসারি আল-আযরুয়ি আশ-শাফিয়ি, যিনি 'আত-তানবিহ' গ্রন্থটিকে কাব্যে রূপান্তর করেছেন।এবং আলাউদ্দিন আলি বিন উসমান বিন হাসান বিন মাহাসিন আদ-দিমাশকি আশ-শাগুরি ইবনুল খাররাত।এবং আবুল হাসান আলি বিন মুহাম্মাদ বিন মুওয়াফফাক বিন মনসুর আল-ইয়ামানি আশ-শাফিয়ি। তিনি শায়খের নিকট যা পাঠ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে তাঁর রচিত 'আল-আরবাঈন'। এটি দুই মজলিসে সম্পন্ন হয়েছে, যার দ্বিতীয়টি ছিল ৬৭৪ হিজরি সালের ১৪ই শাবান, বুধবার, দামেস্কে। শায়খ নিজ হাতে তাঁর জন্য যা লিখেছিলেন তাতে উল্লেখ করেছেন: এই গ্রন্থের অধিকারী সৎ ফকিহ এবং জ্ঞানান্বেষী অমুক—আল্লাহ তাঁর তাওফিক অব্যাহত রাখুন, তাঁর সকল বিষয়ে দয়া করুন এবং তাঁর অবস্থায় বরকত দান করুন—এটি আমার নিকট শ্রবণ করেছেন। তিনি পাঠ করেছেন এবং আমি মূল পাণ্ডুলিপিটি তাঁর পাঠের সাথে মিলিয়ে দেখার জন্য হাতে ধরে রেখেছিলাম।এবং আল-বদর আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন সাদুল্লাহ বিন জামাআহ, যাঁর কথা আমি আলোচনার শুরুতেই ইঙ্গিত করেছি। বলা হয় যে, তাঁর একটি ফতোয়া শায়খের নিকট উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং শায়খ এর ওপর তাঁর লেখনীর প্রশংসা করেছিলেন।এবং আশ-শামস মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন ইবরাহিম বিন আব্দুর রহমান বিন আন-নাকিব; তিনি শায়খের বিশিষ্ট সঙ্গীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২১)
والشهاب محمد بن عبد الخالق بن عثمان بن مُزْهِر الأنصاري، الدمشقي المقرئ، وتأخرت وفاته، حتى مات في سنة تسعين وستمائة، قرأ عليه وسمع جميع " الأذكار "، ووصف قراءته في بعض البلاغات، بالمتقنة المهذّبة، ودعا له في البلاغات بدعوات جمة، منها: أدام الله نعمه عليه، وأدام الله ألطافه به، وأدام الله سعادته، وأدام الله له الخيرات، ورضي الله عنه. وكتب له بآخر النسخة: قابلت جميع هذا الكتاب بأصلي مع صاحبه: كاتبه الشيخ الإمام العالم، الفاضل العامل، الصدر شهاب الدين أبي عبد الله محمد بن عبد الخالق بن عثمان بن مُزْهِر، الأنصاري، الشافعي، الدمشقي، أدام الله له الخيرات، وضاعف له الحسنات، وأمده في طاعته بالمعونات، وتولاه بالحسنى، وجمع له بين خيرات الآخرة والأولى، وجمعني وإياه وسائر أحبابنا في دار كرامته بفضله ورحمته. فسمعه الشيخ الإمام شهاب الدين المذكور سماعاً متقناً، وقابلت معه نسخته هذه مقابلة مُرضية بأصلي، في مجالس آخرها يوم الاثنين، الرابع والعشرين من ذي القعدة سنة ثلاث وسبعين وستمائة، وأجزتُ له كل ما يجوز لي تسميعه. كتبه يحيى بن شرف بن مِرَيْ بن حسن النواوي عفا الله عنه، انتهى. ونقلت جميع ذلك من خطه على نسخة ب " الأذكار ".وأبو عبد الله محمد بن غالب بن يونس بن شعبة سمع عليه " أوهام المهذّب والوسيط " من تصنيفه " كما تقدم في أسماء تصانيفه ".والإمام الأوحد ناصر الدين أبو الفتح منصور بن نجم بن زبّان " بمعجمة ثم تحتانية مشددة " بن حسان بن سليمان، الليثي، القرتاوي، وكان يوصف بالانتماء إليه، وبالديانة، ومما سمع عليه: كتاب " الأربعين " بإشارتها، وقد حدّث بها، سمعها منه البدر محمود بن علي بن هلال العجلوني، شيخ ناصر الدين محمد بن حسن القاموسي في ذلك بالسماع.والشرف هبة الله بن عبد الرحيم بن إبراهيم بن البارزي.وحدّث يحيى بن محمد المغراوي التونسي، عن النووي، ب " الأربعين " له، سماعاً منه " كما ذكره ابن مرزوق في نمشيخته، وغيره ".وقرأ عليه الشرف أبو يوسف يعقوب بن أحمد بن يعقوب الحلبي الشافعي.وممن كان يذكر أنه قرأ عليه يوسف بن حرب الحسني، المكي الأصل، المارديني، الغزّي.وكذا أخ عنه الحافظ الجمال أبو الحجاج يوسف بن الزكي عبد الرحمن ابن يوسف المزِّي.والمحدّث الفاضل الأديب الكاتب: أبو الفضل يوسف بن محمد بن عبد الله المصري، ثم الدمشقي، وهو كان قارئ دار الحديث الأشرفية.وآخرون.قال قاضي صفد العثماني: وأدركت جماعة من أصحابه، كشيخنا شمس الدين ابن النقيب، مدرس الشامية " يعني المذكور "، والقاضي ناصر الدين القرَّتي " ولعله الماضي "، والقاضي ضياء الدين علي بن سليم " الماضي " وشمس الدين ابن البيطار، المعمَّر، انتهى كلام العثماني.والمحدّث الشهاب أحمد بن أبي بكر بن طيء بن حاتم بن جيش بن بكار الزبيري، المصري، المقرئ.ولأبي نعيم أحمد بن التقي عُبَيد الأسعردي، وأبي العباس أحمد بن كشتغدي، المُعِزِّي، وإسحاق بن إبراهيم بن إسحاق الوزيري، وأبي بكر ابن قاسم بن أبي بكر الرحبي، والسيف أبي بكر بن محمد بن يحيى بن سنقر المعالي، والجمال داود بن إبراهيم بن العطار، أخي تلميذه العلاء علي، والشمس أبي عبد الله محمد بن أحمد بن إبراهيم بن حيدرة بن القماح، وأبي عبد الله محمد بن النجم إسماعيل بن الخباز " الماضي أبوه " وأبي عبد الله محمد بن أبي بكر بن أبي البركات النعماني، وناصر الدين محمد بن كشتغدي " أخي الماضي "، والصدر أبي الفتح محمد بن محمد بن إبراهيم، الميدومي، وغيرهم: إجازة منه.ورأيت فيمن يروي عن النووي " رحمه الله ": المسند تاج الدين عبد الوهاب بن داود القوصي، المصري، روى عنه ولده أحمد شيخ، لقيه السيد صفي الدين عبد الرحمن الأيجي، ومن خط ابن أخيه السيد علاء الدين، لخّصت.وكذا رأيت في شيوخ الشرف عبد الرحيم الجِرْهي: الشمس محمد ابن ناصر الدين أوليا بن الفخر أبي بكر المَهْرَنجاني، نزيل مكة، وأنه يروي عن النووي.الوظائف التي تولاهاوولي " رحمه الله " من الوظائف الدينية مشيخة دار الحديث الأشرفية. قال الذهبي: مع صغر سنّه ونزول روايته، في حياة مشائخه، بعد الإمام أبي شامة عبد الرحمن بن إسماعيل بن إبراهيم بن عثمان، سنة خمس وستين " وستمائة "، إلى أن مات، انتهى كلام الذهبي.
এবং শিহাব মুহাম্মদ বিন আব্দুল খালিক বিন উসমান বিন মুযহির আল-আনসারী, আদ-দিমাশকী আল-মুক্রী। তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এবং ৬৯০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইমাম নববীর নিকট সম্পূর্ণ 'আল-আযকার' গ্রন্থটি পাঠ করেছেন এবং শ্রবণ করেছেন। ইমাম নববী কিছু পাঠের শেষে তার কিরাতকে অত্যন্ত নিপুণ ও পরিমার্জিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তার জন্য অনেক দুআ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ তার ওপর নেয়ামতসমূহ স্থায়ী করুন, আল্লাহ তার প্রতি স্বীয় অনুগ্রহ অব্যাহত রাখুন, আল্লাহ তার সৌভাগ্য দীর্ঘস্থায়ী করুন, আল্লাহ তার জন্য কল্যাণসমূহ চিরস্থায়ী করুন এবং আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। গ্রন্থের মূল পাণ্ডুলিপির শেষে তিনি তার জন্য লিখেছেন: আমি এই সম্পূর্ণ গ্রন্থটি এর লেখকের সাথে আমার মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েছি; তিনি হলেন শাইখ, ইমাম, আলিম, গুণী ও কর্মবীর, বরেণ্য শিহাবউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল খালিক বিন উসমান বিন মুযহির আল-আনসারী আশ-শাফিঈ আদ-দিমাশকী। আল্লাহ তার জন্য কল্যাণসমূহ স্থায়ী করুন, তার পুণ্যসমূহ দ্বিগুণ করুন, তার আনুগত্যের কাজে তাকে সাহায্য করুন, তাকে উত্তম তত্ত্বাবধানে রাখুন এবং তার জন্য ইহকাল ও পরকালের কল্যাণসমূহ একত্রিত করুন, আর আমাকে, তাকে এবং আমাদের সকল প্রিয়জনকে তাঁর করুণা ও দয়ায় তাঁর জান্নাতে একত্রিত করুন। উল্লিখিত শাইখ ইমাম শিহাবউদ্দীন এটি অত্যন্ত নিপুণভাবে শ্রবণ করেছেন এবং আমি আমার মূল পাণ্ডুলিপির সাথে তার এই পাণ্ডুলিপিটি সন্তোষজনকভাবে মিলিয়েছি। এই পাঠ মজলিসসমূহের শেষটি ছিল ৬৭৩ হিজরীর যুল-কাদাহ মাসের চব্বিশ তারিখ, সোমবার। আমি তাকে সেই সমস্ত বিষয় বর্ণনা করার অনুমতি (ইজাযত) প্রদান করেছি যা বর্ণনা করার অনুমতি আমার রয়েছে। এটি লিখেছেন ইয়াহইয়া বিন শরাফ বিন মারী বিন হাসান আন-নাওয়াবী, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। সমাপ্ত। আমি এই সবটুকু 'আল-আযকার'-এর একটি পাণ্ডুলিপিতে তাঁর নিজ হাতের লেখা থেকে নকল করেছি।এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন গালিব বিন ইউনুস বিন শুবা তাঁর নিকট তাঁর রচিত "আওহামুল মুহাযযাব ওয়াল ওয়াসিত" শ্রবণ করেছেন, যা তাঁর রচনাবলীর তালিকায় পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।এবং অদ্বিতীয় ইমাম নাসিরুদ্দীন আবু আল-ফাতহ মানসুর বিন নাজমু বিন যাব্বান (যাল বর্ণে যবর এবং পরে ইয়া বর্ণে তাশদীদ যুক্ত) বিন হাসসান বিন সুলাইমান, আল-লাইসী আল-কারতাওয়ী। তিনি ইমাম নববীর অনুসারী এবং ধার্মিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর নিকট তিনি যা শ্রবণ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে: "আল-আরবাউন" (চল্লিশ হাদিস) গ্রন্থটি। তিনি এটি বর্ণনাও করেছেন। তাঁর নিকট থেকে এটি শ্রবণ করেছেন বদর মাহমুদ বিন আলী বিন হিলাল আল-আজলুনী, যিনি নাসিরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-কামুসী-এর উস্তাদ ছিলেন।এবং আশ-শারাফ হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম বিন ইব্রাহীম বিন আল-বারযী।এবং ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ আল-মাগরাবী আত-তিউনিসী ইমাম নববী থেকে তাঁর রচিত "আল-আরবাউন" শ্রবণ সাপেক্ষে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইবনে মারযূক তাঁর মাশয়াখাত গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন।এবং আশ-শারাফ আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আহমদ বিন ইয়াকুব আল-হালাবী আশ-শাফিঈ তাঁর নিকট পাঠ করেছেন।যাদের সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় যে তারা তাঁর নিকট পাঠ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ইউসুফ বিন হারব আল-হাসানী, যার মূল নিবাস মক্কায়, কিন্তু তিনি মারদিন ও গাজার অধিবাসী ছিলেন।অনুরূপভাবে তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন হাফিয জামাল আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আয-যাকী আব্দুর রহমান ইবনে ইউসুফ আল-মিযযী।এবং ফাযেল মুহাদ্দিস, সাহিত্যিক ও লেখক: আবু আল-ফাযল ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মিসরী, অতঃপর আদ-দিমাশকী, যিনি দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহ-এর কারী (পাঠক) ছিলেন।এবং আরও অনেকে।সাফাদের কাযী আল-উসমানী বলেছেন: আমি তাঁর একদল সঙ্গীকে পেয়েছি, যেমন আমাদের শাইখ শামসুদ্দীন ইবনুন নাকীব, যিনি শামিয়্যাহ মাদ্রাসার মুদাররিস (শিক্ষক) ছিলেন, এবং কাযী নাসিরুদ্দীন আল-কারতী, কাযী যিয়াউদ্দীন আলী বিন সালীম এবং দীর্ঘজীবী শামসুদ্দীন ইবনুল বাইতার। এখানে আল-উসমানীর বক্তব্য শেষ হলো।এবং মুহাদ্দিস শিহাব আহমদ বিন আবি বকর বিন তাইয়্যে বিন হাতিম বিন জাইশ বিন বাক্কার আয-যুবাইরী আল-মিসরী আল-মুক্রী।এবং আবু নুআইম আহমদ বিন আত-তাকী উবাইদ আল-আসআরদী, আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন কুশতাগদী আল-মুইযযী, ইসহাক বিন ইব্রাহীম বিন ইসহাক আল-ওয়াযীরী, আবু বকর ইবনে কাসিম বিন আবি বকর আর-রাহবী, সাইফ আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন সানকার আল-মাআলী, জামাল দাউদ বিন ইব্রাহীম বিন আল-আত্তার (যিনি তাঁর ছাত্র আলা আলী-এর ভাই), শামস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইব্রাহীম বিন হাইদারাহ বিন আল-কাম্মাহ, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আন-নাজম ইসমাইল বিন আল-খাব্বায, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আবিল বারাকাত আন-নুমানী, নাসিরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন কুশতাগদী এবং আস-সদর আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহীম আল-মাইদুমী ও অন্যান্যরা তাঁর থেকে ইজাযত (বর্ণনার অনুমতি) প্রাপ্ত হয়েছেন।এবং আমি তাদের মধ্যে যারা ইমাম নববী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণনা করেন তাদের দেখেছি: আল-মুসনিদ তাজউদ্দীন আব্দুল ওয়াহহাব বিন দাউদ আল-কূসী আল-মিসরী। তাঁর থেকে তাঁর পুত্র আহমদ শাইখ বর্ণনা করেছেন, যার সাথে সাইয়্যেদ সাফিউদ্দীন আব্দুর রহমান আল-আইজী সাক্ষাৎ করেছেন। আমি তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র সাইয়্যেদ আলাউদ্দীনের হাতের লেখা থেকে এটি সারসংক্ষেপ করেছি।অনুরূপভাবে আমি আশ-শারাফ আব্দুর রহীম আল-জিরহী-এর শাইখদের মধ্যে শামস মুহাম্মদ ইবনে নাসিরুদ্দীন আউলিয়া বিন আল-ফাখর আবু বকর আল-মাহরাঞ্জানী-কে দেখেছি, যিনি মক্কায় বসবাস করতেন এবং তিনি ইমাম নববী থেকে বর্ণনা করেন।তিনি যে সকল পদে অধিষ্ঠিত ছিলেনতিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ধর্মীয় পদসমূহের মধ্যে দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহ-এর প্রধান শাইখের পদ লাভ করেন। ইমাম যাহাবী বলেন: তাঁর অল্প বয়স এবং তাঁর উস্তাদদের জীবদ্দশাতেই তাঁর উচ্চতর সনদ না থাকা সত্ত্বেও, তিনি ইমাম আবু শামা আব্দুর রহমান বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহীম বিন উসমান-এর পর ৬৬৫ হিজরীতে এই পদে নিযুক্ত হন এবং মৃত্যু পর্যন্ত বহাল থাকেন। এখানে যাহাবীর বক্তব্য শেষ হলো।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وفي رسالة لابن النجار، ما يشعر بكونه لم يوافق على توليتها إلا بعد جهد، فإنه قال فيها مجيباً له عن تهديده بعزله عنها ما نصه كما سيأتي: أو ما علمت لو أنصفت كيف كان ابتداء أمرها؟ أو ما كنت محاضراً مشاهداً أخذي لها؟ إلى آخر كلامه.ونشر " كما قال القطب اليونيني " بها علماً جمّاً، وأفاد الطلبة، قال: والذي أظهره وقدمه على أقرانه ومن هو أفقه منه: كثرة زهده في الدنيا، وعظم ديانته وورعه، وليس فيمن اشتغل عليه من يلتحق به، انتهى كلام القطب.ووهِم من قال: إنه أقام في الأشرفية نحو عشرين سنة، وقد استقر فيها بعده الشيخ الزين أبو محمد عبد الله بن مروان بن عبد الله الفارقي ومن يلها من زمن الواقف أورع من الشيخ كما صرح به التاج السبكي، مع ادعائه ما أظن أن والده الذي صرح في أول نسخة " شرح المهذب " بما سبق، وكان يمرغ وجهه رجاء أن يمس مكاناً مسّه قدمه، وينشد ذاك الشعر حسبما يأتي لا يوافقه عليه، حيث قال التاج في ترجمة أبيه: وولي بعد وفاة المزّي مشيخة دار الحديث الأشرفية، فالذي نراه أنه ما دخلها أعلم منه، ولا أحفظ من المزي، ولا أروع من النووي وابن الصلاح، انتهى كلامه.ووقع في مقدمة " المهمات " في الفصل الأول، في الكلام على احتمالات الإمام: أتكون أوجُها أم لا؟ وحكى كلام الغزالي ثم الرافعي ثم النووي في ذلك، وأن كلا منهم عدّها أوجها، وأن كلاّ منهم أجلُّ ممن جاء بعده. ثم نقل عن ابن الرفعة التصريح بخلافه، وتعقبه بقوله: والذي ذكره مردود بما سبق من نقل جماعة كلٌّ منهم أجلُّ منه.وبالجملة فالكف عن الخوض في هذا أقرب إلى السلامة من العطب، لا سيما وينشأ منه أن من لم يلحق مرتبة القائل ولا له نسبة بآحاد أتباع أتباعه، بل ولا له كبير وجاهة في علم: يجعله ذريعة لمقاصده الفاسدة. ولقد سألت شيخنا " وناهيك به نقداً للرجال " عن التفضيل، بين الشيخ والرافعي في الحديث بخصوصه، فما سمح لي بالجواب إلا بتكلف، مع كونه لم يزد على أن قال: وُجد للرافعي على طريقة أهل الفن عدة تصانيف: تاريخ قزوين، والأمالي، وشرح المسند. ولكن الأدب عدم التعرّض لهذا أو نحوه.فانظر كيف لم يسمح بذلك مع الرافعي، مع كون شيخ شيخه الحافظ أبي سعيد العلائي قد جزم به، " كما أسلفه في آخر سرد تصانيفه " فكيف بمن دونه؟ فالأولى الوقف، لا سيما والحاجة غير داعية إليه.ولقد اضطر شيخنا مع مزيد تواضعه وأدبه مع الشيخ " كما سبق " إلى الخوض في تصانيفه، وكونه مسبوقاً بها، واختصاص " شرح المهذب " منها بمزيد التعب والطريقة المبتكرة، ولذلك لم يكمل. فقدِّرْ بعد وفاة شيخنا زَعَم شخص ممن لا نسبة له بآحاد جماعته، أن تصانيفه كلها قد سُبق إليها، فعارَضْته ب " تغليق التعليق " و " فتح الباري "، وغيرهما، مما لم يُسبق إليه، أو سُبق به وكان هو اللاحق بوضعه، وهو مصمّم على العناد، وأعرضت عنه وتوهمت أن ذلك ببركة الشيخ، لكون السكوت كان عنه أولى، رحمهما الله ونفعنا ببركتهما.وقال القطب اليونيني: إن الشيخ باشر أيضاً تدريس الإقبالية، والفلكية، والرُّكنية، للشافعية، نيابة عن قاضي القضاة: الشمس أحمد بن خَلِّكان، في ولايته الأولى، انتهى.وحدّث بالصحيحين بدار الحديث الأشرفية سماعاً وبحثاً، وبقطعة من سنن أبي داوود، وبالرسالة للقشيري، و " صفوة التصوف "، و " الحجة على تارك المحجة " لنصر المقدسي، كلها سماعاً وبحثاً، و " شرح معاني الآثار " للطحاوي.من شعرهقلت: ووجد بحاشية نسخة من " الروضة " أنه وُجد بخطه من الشعر.وأنت الذي أدعوه سرّاً وجهرة … أجرني بلطفٍ من جميع المصائبوبخط تلميذه العلاء بن العطار: أنه وجد بخطه أيضاً:أموت ويبقى كلُّ ما قد كتبتُه … فيا ليت من يقرأ كتابي دعا ليالعل إلهي أن يمن بلطفه … ويرحم تقصيري وسوء فعالياوكذا وجد بخطه:جرى قلمُ القضاء بما يكون … فسيان التحرك والسكونجنون منك أن تسعى لرزق … ويُرزَق في غشاوته الجنينويشبه أن يكون ذلك ما تمثل به وليس من نظمه، ثم ظهر ذلك وأنهما للماوردي كما عزاهما إليه ابن كثير في ترجمته.وقيل إنه سُمع من الشيخ قرب وفاته، ووُجد في موضع آخر نسبتُها إلى نظمه وأنه ليس له نظم غيرها:
ইবনেুন নাজ্জারের একটি পত্রে এমন কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায় যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি অত্যন্ত প্রচেষ্টার পরেই এর দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হয়েছিলেন। তিনি তার পত্রে তাকে (আন-নববীকে) পদ থেকে অপসারণের হুমকির জবাবে যা লিখেছিলেন তার পাঠ নিম্নরূপ (যা সামনে আসবে): "তুমি যদি ইনসাফ করতে তবে কি জানতে না এর সূচনালগ্ন কেমন ছিল? অথবা তুমি কি আমার দায়িত্ব গ্রহণের সময় উপস্থিত থেকে তা প্রত্যক্ষ করছিলে না?" - তার কথার শেষ পর্যন্ত।কুতুব আল-ইউনিনী যেমন বলেছেন: তিনি সেখানে প্রচুর ইলম প্রচার করেছেন এবং ছাত্রদের উপকৃত করেছেন। তিনি আরও বলেন: তার সমসাময়িক এবং তার চেয়ে অধিক ফকীহ ব্যক্তিদের ওপর তাকে যে বিষয়টি প্রাধান্য দিয়েছে তা হলো: দুনিয়ার প্রতি তার চরম অনীহা (যুহদ), মহান দ্বীনদারিতা এবং পরহেযগারিতা। যারা তার কাছে পড়াশোনা করেছেন তাদের মধ্যে তার সমকক্ষ হওয়ার মতো কেউ নেই। - কুতুবের কথা সমাপ্ত।যারা বলেছেন যে তিনি আশরাফিয়্যাহতে প্রায় বিশ বছর অবস্থান করেছিলেন, তারা ভুল করেছেন। তার পরে সেখানে শায়খ যাইন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মারওয়ান ইবনে আবদুল্লাহ আল-ফারেকী স্থলাভিষিক্ত হন। ওয়াকিফ (প্রতিষ্ঠাতা)-এর সময়কাল থেকে যারা সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের মধ্যে এই শায়খ অধিক পরহেযগার ছিলেন, যেমনটি তাজ আল-সুবকী স্পষ্ট করেছেন। তবে তিনি এমন কিছু দাবি করেছেন যা আমার মনে হয় না তার পিতা (যিনি 'শারহুল মুহাযযাব'-এর কপির শুরুতে যা আগে উল্লেখ করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন এবং শায়খের পা যেখানে পড়েছিল সেই স্থানে বরকতের আশায় মুখ ঘষতেন এবং সামনে উল্লিখিত কবিতাটি আবৃত্তি করতেন) তার সাথে একমত হতেন। তাজ তার পিতার জীবনীতে বলেন: "আল-মিযযীর ইন্তেকালের পর তিনি আশরাফিয়্যাহ দারুল হাদীসের প্রধান শায়খ নিযুক্ত হন। আমাদের দৃষ্টিতে সেখানে তার চেয়ে বড় কোনো আলিম প্রবেশ করেননি, আর আল-মিযযীর চেয়ে বড় কোনো হাফিয (হাদীস বিশারদ) নেই, এবং নববী ও ইবনুস সালাহ-এর চেয়ে বড় কোনো পরহেযগার নেই।" - তার কথা সমাপ্ত।"আল-মুহিম্মাত"-এর ভূমিকার প্রথম পরিচ্ছেদে ইমামের (ইমামুল হারামাইন) ইজতিহাদ ও সম্ভাবনার আলোচনায় এসেছে: সেগুলো কি স্বতন্ত্র অভিমত (আওজুহ) কি না? সেখানে তিনি প্রথমে গাযালী, তারপর রাফেয়ী এবং তারপর নববীর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে যে, তারা প্রত্যেকেই এগুলোকে স্বতন্ত্র অভিমত হিসেবে গণ্য করেছেন এবং তাদের প্রত্যেকেই তার পরবর্তী ব্যক্তির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এরপর তিনি ইবনুর রিফআহ থেকে এর বিপরীত বক্তব্য বর্ণনা করেছেন এবং তার সমালোচনা করে বলেছেন: "তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা পূর্বোক্ত একদল আলিমের বর্ণনার কারণে প্রত্যাখ্যাত, যাদের প্রত্যেকেই তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।"মোটকথা, এই ধরণের বিতর্কে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকাই ধ্বংস থেকে বাঁচার জন্য অধিক নিরাপদ। বিশেষ করে যখন এটি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যেখানে এমন ব্যক্তি (যার মর্যাদা বর্ণনাকারীর ধারেকাছেও নয় এবং তার অনুসারীদের অনুসারীদের সাথেও যার কোনো সম্পর্ক নেই, বরং ইলমের ময়দানে যার বিশেষ কোনো গুরুত্বই নেই) একে তার অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের মাধ্যম বানিয়ে নেয়। আমি আমাদের শায়খকে (যিনি পুরুষদের যাচাই-বাছাইয়ে অনন্য) বিশেষ করে হাদীস শাস্ত্রে শায়খ (নববী) এবং রাফেয়ীর মধ্যকার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি অত্যন্ত কষ্ট করে উত্তর দিয়েছিলেন এবং এর বেশি কিছু বলেননি যে: "রাফেয়ীর এই শাস্ত্রের নিয়মানুযায়ী বেশ কিছু কিতাব রয়েছে: তারীখে কাযভীন, আল-আমালী এবং শারহুল মুসনাদ। তবে শিষ্টাচার হলো এই বিষয় বা এই জাতীয় বিষয়ে আলোচনা না করা।"দেখুন, তিনি রাফেয়ীর ক্ষেত্রেও উত্তর দিতে কতটা কুণ্ঠাবোধ করেছেন, যদিও তার শায়খের শায়খ হাফিয আবু সাঈদ আল-আলাঈ এ বিষয়ে সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন (যেমনটি তার কিতাবসমূহের তালিকার শেষে উল্লেখ করা হয়েছে)। তবে তাদের চেয়ে নিম্নস্তরের মানুষের অবস্থা কী হবে? তাই বিরত থাকাই উত্তম, বিশেষ করে যখন এর কোনো বিশেষ প্রয়োজন নেই।আমাদের শায়খ (ইবনে হাজার), শায়খ (নববী)-এর প্রতি তার অগাধ বিনয় ও শিষ্টাচার থাকা সত্ত্বেও, তার কিতাবসমূহ এবং সেগুলোর পূর্বসূরি কিতাব থাকার বিষয়ে এবং বিশেষ করে 'শারহুল মুহাযযাব'-এর অতিরিক্ত পরিশ্রম ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির বিষয়ে আলোচনা করতে বাধ্য হয়েছিলেন, যার কারণে কিতাবটি পূর্ণ হতে পারেনি। আমাদের শায়খের ইন্তেকালের পর এমন এক ব্যক্তি যার তার সাথে কোনো সম্পর্কই নেই, সে দাবি করল যে শায়খের সমস্ত কিতাবই আগের কিতাব থেকে নেওয়া হয়েছে। তখন আমি 'তাগলিকুত তালীক' এবং 'ফাতহুল বারী' ও অন্যান্য কিতাবের মাধ্যমে তার বিরোধিতা করলাম, যেগুলোর আগে অন্য কোনো কিতাব ছিল না অথবা শায়খই সেগুলো প্রথম স্বতন্ত্রভাবে সংকলন করেছেন। কিন্তু সে ব্যক্তি একগুঁয়েমি বজায় রাখল। তখন আমি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম এবং ভাবলাম শায়খের (নববীর) বরকতেই এমনটি হয়েছে, কারণ এ বিষয়ে চুপ থাকাই ছিল শ্রেয়। আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর রহম করুন এবং তাদের বরকতে আমাদের উপকৃত করুন।কুতুব আল-ইউনিনী বলেন: শায়খ প্রধান বিচারপতি শামস আহমদ ইবনে খাল্লিকানের প্রথম মেয়াদে তার প্রতিনিধি হিসেবে ইকবালিয়্যাহ, ফালাকিয়্যাহ এবং রুকনিয়্যাহ মাদরাসায় শাফেয়ী মাযহাবের পাঠদানও পরিচালনা করেছেন। - সমাপ্ত।তিনি আশরাফিয়্যাহ দারুল হাদীসে শ্রবণ ও গবেষণার মাধ্যমে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম), সুনানে আবু দাউদের কিছু অংশ, কুশায়রীর রিসালাহ, 'সাফওয়াতুত তাসাউউফ' এবং নাসর আল-মাকদিসীর 'আল-হুজ্জাহ আলা তারিকিল মাহাজ্জাহ' পড়িয়েছেন; এ সবই শ্রবণ ও গবেষণার মাধ্যমে এবং তহাবীর 'শারহু মাআনিল আসার'ও পড়িয়েছেন।তার কিছু কবিতাআমি বলি: 'রওজা' কিতাবের একটি কপির হাশিয়ায় পাওয়া গেছে যে, তার হাতের লেখায় কিছু কবিতা রয়েছে।আপনিই সেই সত্তা যাকে আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে ডাকি … আপনার দয়ায় আমাকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করুনতার ছাত্র আলা ইবনুল আত্তারের হস্তলিপিতে পাওয়া যায় যে, তিনি শায়খের হস্তলিপিতে আরও পেয়েছেন:আমি মারা যাব কিন্তু যা কিছু লিখেছি সব থেকে যাবে … আফসোস, যে আমার কিতাব পড়বে সে যদি আমার জন্য দোয়া করতহয়তো আমার ইলাহ তার দয়া দান করবেন … এবং আমার ত্রুটি ও মন্দ কাজসমূহ ক্ষমা করবেনঅনুরূপভাবে তার হাতের লেখায় পাওয়া গেছে:তাকদীরের কলম যা হবার তা লিখে ফেলেছে … তাই নড়াচড়া আর স্থির থাকা উভয়ই সমানরিযিকের জন্য তোমার এই ছুটাছুটি এক প্রকার পাগলামি … অথচ গর্ভস্থ সন্তান তার অন্ধকারের মধ্যেই রিযিক পায়সম্ভবত তিনি এগুলো উদাহরণ হিসেবে লিখেছিলেন এবং এগুলো তার নিজের রচনা নয়। পরে প্রকাশ পেয়েছে যে এগুলো আল-মাওয়ার্দীর কবিতা, যেমনটি ইবনে কাসীর তার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন।বলা হয়ে থাকে যে, শায়খের ইন্তেকালের কাছাকাছি সময়ে এগুলো তার থেকে শোনা গেছে। অন্য এক স্থানে এগুলো তার নিজের রচনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে এগুলো ছাড়া তার আর কোনো কবিতা নেই:
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بشائر قلبي في قدومي عليهمُ … ويَا لسُروري يوم سيري إليهمُولا في رحلتي يصفو مقامي وحبذا … مقامٌ به حطُّ الرحال لديهمُولا زادَ لي إلا يقيني بأنهمْ … لهم كرَمٌ يغني الوفود عليهمُووجدتُ بخط الشرف القدسي رواية عن العز بن جماعة، عن أبيه البدر: أن الشيخ أنشده لنفسه بالمدرسة الرّواحية:خَرِس اللسانُ وكَلَّ عن أوصافكم … ماذا أقول وأنتمُ ما أنتمُالذنبُ والتقصير مني دائماً … والعفوُ والإحسانُ يُعرَفُ منكمُانتهى.تلاميذهوسمع منه خلق من العلماء والحفّاظ، والصدور والرؤساء، وتخرّج به خلق كثير من الآفاق، وسار علمه وفتاويه في البلدان.قلت: وروى الأئمة " حتى من تقدمت وفاته عليه " كلامه في تصانيفهم، كالمحب الطبري، فإنه نقل عنه في كتابه " القِرى " أشياء، وكذا اتفق أن كلاّ من ابن مهدي، ويحيى بن سعيد القطان، كان من المستفيدين من إمامنا الشافعي، المفتخرين به، ومات قبل الشافعي بسنتين، انتهى.وكنت مدة صحبتي له مقتصراً عليه دون غيره، من أول سنة سبعين وقبلها بيسير، إلى حين وفاته. وقرأت عليه الفقه تصحيحاً عرضاً، وشرحاً، وضبطاً خاصاً وعاماً، وقرأت عليه كثيراً من تصانيفه ضبطاً وإتقاناً، وأذِن لي في إصلاح ما يقع في تصانيفه، فأصلحت بحضرته أشياء أقرني عليها وكتبها بخطه، وكان رفيقاً بي شفيقاً عليّ، لا يمكن أحداً من خدمته غيري، على جهد مني في طلب ذلك منه، مع وراقبته لي في حركاتي وسكناتي، ولطفه بي في جميع ذلك وتواضعه معي في جميع الحالات، وتأديبه لي في كل شيء حتى الخطرات، وأعجز عن حصر ذلك.وممن أخذ عن الشيخ أيضاً: الصدر الرئيس الفاضل أبو العباس أحمد بن إبراهيم بن مصعب، قرأ عليه قطعة من " المنهاج "، واستنسخ " الروضة " له، وقابل ابن العطار له بعضها مع الشيخ، وأصلح بخطه مواضع فيها بإملاء الشيخ، رحمهم الله.والمحدث أبو العباس أحمد بن فرْح الإشبيلي، كان له ميعاد عليه يوم الثلاثاء والسبت، يشرح في حدهما البخاري، وفي الآخر صحيح مسلم.والرشيد إسماعيل بن عثمان بن عبد الكريم بن المعلم الحنفي، قرأ عليه في " شرح معاني الآثار " للطحاوي.وأبو عبد الله محمد بن أبي الفتح الحنبلي.قلت: وكذا أخذ عنه الشيخ شهاب الدين أحمد بن محمد بن عباس بن جعوان.والفقيه المقرئ أبو العباس أحمد الضرير، الواسطي، الملقب بالخلال.والنجم إسماعيل بن إبراهيم بن سالم الخباز.والشيخ الناسك جبريل الكردي، قال اليافعي: وعليه سمعت الأربعين.والجمال رافع الصميدي والد الحافظ تقي الدين محمد بن رافع، وحضر حلقته.والأمين سالم بن أبي الدر.والفقيه الأديب سلطان، إمام الرواحية.والقاضي جمال الدين سليمان بن عمرو بن سالم الزُّرْعي.والقاضي صدر الدين أبو الفضل سليمان بن هلال بن شبل الجعفري الحوراني، الدمشقي، الشافعي، خطيب داريا، وأثنى عليه الشيخ.وأبو الفرج عبد الرحمن بن محمد بن عبد الحميد بن عبد الهادي المقدسي.وعبد الرحيم بن محمد بن يوسف السمنّودي، الخطيب الأديب.والمجد أبو حامد عبد المحمود بن عبد السلام بن حاتم بن أبي محمد بن علي البعلي، ممن تفقه على الشيخ.والعلاء علي بن أيوب بن منصور المقدسي، الذي نسخ " المنهاج " بخطه، وحرره ضبطاً وإتقاناً، وهو بخطه في المحمودية.والضياء أبو الحسن علي بن سليم بن ربيعة الأنصاري الأذرعي، الشافعي، ناظم " التنبيه ".وعلاء الدين علي بن عثمان بن حسان بن محاسن، الدمشقي، الشاغوري ابن الخراط.وأبو الحسن علي بن محمد بن موفق بن منصور، اليمني، الشافعي. ومما قرأ عليه: " الأربعون " له، في مجلسين، ثانيهما يوم الأربعاء رابع عشر شعبان سنة أربع وسبعين وستمائة بدمشق، وقال الشيخ فيما كتبه له بخطه: سمع علي هذا الجزء صاحبه الفقيه الصالح، المعتني: فلان أدام الله توفيقه، ولطف به في جميع أموره، وبارك الله في أحواله، فسمعه بقراءته وأنا ممسك أصلي لمقابلته.والبدر أبو عبد الله محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة، المشار إليه في أثناء أول ما ذكرته. ويقال: إن فتواه عرضت على الشيخ، فاستحسن كتابته عليها.
তাদের কাছে আগমনে আমার হৃদয়ে সুসংবাদ সঞ্চারিত হয় … আর তাদের পানে যাত্রার দিনে আমার কী আনন্দ!আমার ভ্রমণে আমার অবস্থান আনন্দময় হয় না, তবে কতই না উত্তম … সেই অবস্থান যেখানে তাদের কাছে যাত্রাবিরতি ঘটে।আমার কাছে কোনো পাথেয় নেই কেবল এই দৃঢ় বিশ্বাস ছাড়া যে … তাদের এমন বদান্যতা রয়েছে যা তাদের নিকট আগত প্রতিনিধিদের অভাবমুক্ত করে দেয়।আমি শারফ আল-কুদসির হস্তাক্ষরে ইজ্জ ইবনে জামাআহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা বদর থেকে একটি বর্ণনা পেয়েছি: শাইখ তাঁকে রাওয়াহিইয়াহ মাদরাসায় নিজের রচিত এই কবিতাটি শুনিয়েছেন:আপনাদের গুণাগুণ বর্ণনায় জিহ্বা নির্বাক ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে … আমি কী-ই বা বলব যখন আপনারা তা-ই যা আপনারা।আমার পক্ষ থেকে সর্বদা রয়েছে পাপ ও ত্রুটি … আর আপনাদের পক্ষ থেকেই পরিচিত ক্ষমা ও ইহসান।সমাপ্ত।তাঁর ছাত্রবৃন্দতাঁর নিকট থেকে অসংখ্য আলিম, হাফেজ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নেতৃবৃন্দ জ্ঞান শ্রবণ করেছেন। দিগন্তের প্রান্ত হতে বহু মানুষ তাঁর নিকট শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন এবং বিভিন্ন দেশে তাঁর জ্ঞান ও ফতোয়া ছড়িয়ে পড়েছে।আমি বলি: ইমামগণ—এমনকি যাঁদের মৃত্যু তাঁর পূর্বেই হয়েছে তাঁরাও—নিজেদের রচনাবলিতে তাঁর বক্তব্য বর্ণনা করেছেন। যেমন মুহিব আল-তাবারী, তিনি তাঁর 'আল-কিরা' নামক গ্রন্থে তাঁর থেকে কিছু বিষয় উদ্ধৃত করেছেন। অনুরূপভাবে ইবনে মাহদী ও ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান উভয়েই আমাদের ইমাম শাফেয়ীর নিকট থেকে উপকৃত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁকে নিয়ে গর্ব করতেন, অথচ তিনি (আল-কাত্তান) ইমাম শাফেয়ীর মৃত্যুর দুই বছর আগেই ইন্তেকাল করেছিলেন। সমাপ্ত।সত্তর হিজরি সালের শুরু থেকে বা তার সামান্য পূর্ব থেকে তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত আমার সাহচর্যের সময়টুকুতে আমি অন্য কাউকেও বাদ দিয়ে কেবল তাঁর উপরই নিবিষ্ট ছিলাম। আমি তাঁর নিকট ফিকহশাস্ত্র পড়েছি—পাঠ সংশোধন, উপস্থাপন, ব্যাখ্যা এবং বিশেষ ও সাধারণ নির্ভুলতাসহ। আমি তাঁর বহু গ্রন্থ তাঁর নিকট অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ও দক্ষতার সাথে পড়েছি। তিনি আমাকে তাঁর কিতাবসমূহে যে সকল ভুল পরিলক্ষিত হয় তা সংশোধনের অনুমতি দিয়েছিলেন। ফলে আমি তাঁর উপস্থিতিতেই কিছু বিষয় সংশোধন করি যা তিনি অনুমোদন করেন এবং নিজের হস্তাক্ষরে লিখে দেন। তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত কোমল ও দয়াশীল ছিলেন। আমার পক্ষ থেকে বহু অনুনয়ের পর তিনি আমি ব্যতীত অন্য কাউকে নিজের খেদমত করার সুযোগ দিতেন না। পাশাপাশি তিনি আমার প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতা পর্যবেক্ষণ করতেন এবং সকল বিষয়ে আমার প্রতি সদয় ছিলেন ও নম্রতা প্রদর্শন করতেন। এমনকি তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে, এমনকি মনের সূক্ষ্ম চিন্তার ক্ষেত্রেও আমাকে আদব শিক্ষা দিয়েছেন, যা বর্ণনা করে শেষ করা আমার সাধ্যের অতীত।শাইখের নিকট থেকে যাঁরা ইলম গ্রহণ করেছেন তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন: বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও ফাজিল আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুসআব। তিনি তাঁর নিকট 'আল-মিনহাজ'-এর একাংশ পড়েছেন এবং তাঁর জন্য 'আল-রাওদাহ' কিতাবটি নকল করেছেন। ইবনে আল-আত্তার তাঁর হয়ে কিতাবটির কিছু অংশ শাইখের সাথে মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখেছেন এবং শাইখের শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে নিজ হাতে কিতাবটির বিভিন্ন স্থান সংশোধন করেছেন। আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন।এবং মুহাদ্দিস আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে ফারহ আল-ইশবিলি। তাঁর জন্য মঙ্গলবার ও শনিবারের একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ ছিল। তিনি এক দিন বুখারি এবং অন্য দিন সহিহ মুসলিম ব্যাখ্যা করতেন।এবং আল-রশিদ ইসমাইল ইবনে উসমান ইবনে আব্দুল কারিম ইবনুল মুয়াল্লিম আল-হানাফি। তিনি তাঁর নিকট তাহাবির 'শারহ মাআনী আল-আসার' পাঠ করেছেন।এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবি আল-ফাতহ আল-হাম্বলি।আমি বলি: অনুরূপভাবে শাইখ শিহাব উদ্দিন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস ইবনে জাওয়ানও তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন।এবং ফকিহ ও মুকরি আবু আল-আব্বাস আহমদ আদ-দারির আল-ওয়াসিতি, যার উপাধি ছিল আল-খাল্লাল।এবং আল-নাজম ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে সালিম আল- খাব্বাজ।এবং শাইখ ইবাদতগুজার জিবরিল আল-কুর্দি। ইয়াফেয়ি বলেন: আমি তাঁর নিকট আল-আরবাঈন (চল্লিশ হাদিস) শুনেছি।এবং আল-জামাল রাফে আস-সুমিদি, যিনি হাফেজ তাকিউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে রাফে-এর পিতা। তিনি তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতেন।এবং আল-امین সালিম ইবনে আবি আদ-দার।এবং ফকিহ ও সাহিত্যিক সুলতান, যিনি রাওয়াহিইয়াহ মাদরাসার ইমাম ছিলেন।এবং কাজি জামাল উদ্দিন সুলাইমান ইবনে আমর ইবনে সালিম আজ-জুরি।এবং কাজি সদর উদ্দিন আবু আল-ফজল সুলাইমান ইবনে হিলাল ইবনে শিবল আল-জাফারি আল-হাওরানি আদ-দিমাশকি আশ-শাফেয়ি, যিনি দারিয়ার খতিব ছিলেন। শাইখ তাঁর প্রশংসা করেছেন।এবং আবু আল-ফারাজ আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুল হাদি আল-মাকদিসি।এবং আব্দুর রহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আস-সামান্নুদি, যিনি একজন খতিব ও সাহিত্যিক ছিলেন।এবং আল-মাজদ আবু হামিদ আব্দুল মাহমুদ ইবনে আব্দুল সালাম ইবনে হাতিম ইবনে আবি মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-বালি, যিনি শাইখের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন।এবং আল-আলা আলী ইবনে আইয়ুব ইবনে মানসুর আল-মাকদিসি, যিনি নিজ হাতে 'আল-মিনহাজ' নকল করেছেন এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তা সম্পাদন করেছেন। তাঁর হস্তলিখিত কপিটি মাহমুদিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।এবং আদ-দিয়া আবু আল-হাসান আলী ইবনে সালিম ইবনে রবিআ আল-আনসারি আল-আজরুই আশ-শাফেয়ি, যিনি 'আত-তানবিহ' গ্রন্থের কাব্যানুবাদক।এবং আলাউদ্দিন আলী ইবনে উসমান ইবনে হাসান ইবনে محاسن, দামেস্কের শাগুর এলাকার অধিবাসী ইবনুল খরাত।এবং আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুওয়াফফাক ইবনে মানসুর আল-ইয়ামানি আশ-শাফেয়ি। তিনি তাঁর নিকট যা পাঠ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো: তাঁর সংকলিত 'আল-আরবাঈন', যা তিনি দুই মজলিসে পাঠ করেন। দ্বিতীয় মজলিসটি ছিল ৬৭৪ হিজরি সালের ১৪ই শাবান, বুধবার, দামেস্কে। শাইখ তাঁর জন্য নিজের হস্তাক্ষরে যা লিখেছিলেন তা হলো: "আমার নিকট এই অংশটি এর অধিকারী ফকিহ ও পুণ্যবান ব্যক্তি অমুক পাঠ করেছেন, আল্লাহ তাঁর তাওফিক দীর্ঘস্থায়ী করুন এবং তাঁর সকল বিষয়ে সদয় হোন ও তাঁর অবস্থায় বরকত দান করুন। তিনি এটি পড়ে শুনিয়েছেন এবং আমি মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখার জন্য তা ধরে রেখেছিলাম।"এবং আল-বদর আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে সাদুল্লাহ ইবনে জামাআহ, যাঁর কথা আমি আলোচনার শুরুতেই উল্লেখ করেছি। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর ফতোয়া শাইখের নিকট পেশ করা হয়েছিল এবং শাইখ তাতে তাঁর চমৎকার লেখনীর প্রশংসা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والشمس محمد بن أبي بكر بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن النقيب، وهو آخر من كان من أعيان أصحابه.والشهاب محمد بن عبد الخالق بن عثمان بن مُزْهِر الأنصاري، الدمشقي المقرئ، وتأخرت وفاته، حتى مات في سنة تسعين وستمائة، قرأ عليه وسمع جميع " الأذكار "، ووصف قراءته في بعض البلاغات، بالمتقنة المهذّبة، ودعا له في البلاغات بدعوات جمة، منها: أدام الله نعمه عليه، وأدام الله ألطافه به، وأدام الله سعادته، وأدام الله له الخيرات، ورضي الله عنه. وكتب له بآخر النسخة: قابلت جميع هذا الكتاب بأصلي مع صاحبه: كاتبه الشيخ الإمام العالم، الفاضل العامل، الصدر شهاب الدين أبي عبد الله محمد بن عبد الخالق بن عثمان بن مُزْهِر، الأنصاري، الشافعي، الدمشقي، أدام الله له الخيرات، وضاعف له الحسنات، وأمده في طاعته بالمعونات، وتولاه بالحسنى، وجمع له بين خيرات الآخرة والأولى، وجمعني وإياه وسائر أحبابنا في دار كرامته بفضله ورحمته. فسمعه الشيخ الإمام شهاب الدين المذكور سماعاً متقناً، وقابلت معه نسخته هذه مقابلة مُرضية بأصلي، في مجالس آخرها يوم الاثنين، الرابع والعشرين من ذي القعدة سنة ثلاث وسبعين وستمائة، وأجزتُ له كل ما يجوز لي تسميعه. كتبه يحيى بن شرف بن مِرَيْ بن حسن النواوي عفا الله عنه، انتهى. ونقلت جميع ذلك من خطه على نسخة ب " الأذكار ".وأبو عبد الله محمد بن غالب بن يونس بن شعبة سمع عليه " أوهام المهذّب والوسيط " من تصنيفه " كما تقدم في أسماء تصانيفه ".والإمام الأوحد ناصر الدين أبو الفتح منصور بن نجم بن زبّان " بمعجمة ثم تحتانية مشددة " بن حسان بن سليمان، الليثي، القرتاوي، وكان يوصف بالانتماء إليه، وبالديانة، ومما سمع عليه: كتاب " الأربعين " بإشارتها، وقد حدّث بها، سمعها منه البدر محمود بن علي بن هلال العجلوني، شيخ ناصر الدين محمد بن حسن القاموسي في ذلك بالسماع.والشرف هبة الله بن عبد الرحيم بن إبراهيم بن البارزي.وحدّث يحيى بن محمد المغراوي التونسي، عن النووي، ب " الأربعين " له، سماعاً منه " كما ذكره ابن مرزوق في نمشيخته، وغيره ".وقرأ عليه الشرف أبو يوسف يعقوب بن أحمد بن يعقوب الحلبي الشافعي.وممن كان يذكر أنه قرأ عليه يوسف بن حرب الحسني، المكي الأصل، المارديني، الغزّي.وكذا أخ عنه الحافظ الجمال أبو الحجاج يوسف بن الزكي عبد الرحمن ابن يوسف المزِّي.والمحدّث الفاضل الأديب الكاتب: أبو الفضل يوسف بن محمد بن عبد الله المصري، ثم الدمشقي، وهو كان قارئ دار الحديث الأشرفية.وآخرون.قال قاضي صفد العثماني: وأدركت جماعة من أصحابه، كشيخنا شمس الدين ابن النقيب، مدرس الشامية " يعني المذكور "، والقاضي ناصر الدين القرَّتي " ولعله الماضي "، والقاضي ضياء الدين علي بن سليم " الماضي " وشمس الدين ابن البيطار، المعمَّر، انتهى كلام العثماني.والمحدّث الشهاب أحمد بن أبي بكر بن طيء بن حاتم بن جيش بن بكار الزبيري، المصري، المقرئ.ولأبي نعيم أحمد بن التقي عُبَيد الأسعردي، وأبي العباس أحمد بن كشتغدي، المُعِزِّي، وإسحاق بن إبراهيم بن إسحاق الوزيري، وأبي بكر ابن قاسم بن أبي بكر الرحبي، والسيف أبي بكر بن محمد بن يحيى بن سنقر المعالي، والجمال داود بن إبراهيم بن العطار، أخي تلميذه العلاء علي، والشمس أبي عبد الله محمد بن أحمد بن إبراهيم بن حيدرة بن القماح، وأبي عبد الله محمد بن النجم إسماعيل بن الخباز " الماضي أبوه " وأبي عبد الله محمد بن أبي بكر بن أبي البركات النعماني، وناصر الدين محمد بن كشتغدي " أخي الماضي "، والصدر أبي الفتح محمد بن محمد بن إبراهيم، الميدومي، وغيرهم: إجازة منه.ورأيت فيمن يروي عن النووي " رحمه الله ": المسند تاج الدين عبد الوهاب بن داود القوصي، المصري، روى عنه ولده أحمد شيخ، لقيه السيد صفي الدين عبد الرحمن الأيجي، ومن خط ابن أخيه السيد علاء الدين، لخّصت.وكذا رأيت في شيوخ الشرف عبد الرحيم الجِرْهي: الشمس محمد ابن ناصر الدين أوليا بن الفخر أبي بكر المَهْرَنجاني، نزيل مكة، وأنه يروي عن النووي.وفي ترجمة عيسى بن أحمد بن عيسى العجلوني أنه يروي عن جماعة من أصحاب النووي، منهم: الشيخ مسعود الحجار، والشيخ مُعَمَّر بن الصَّمْعَا، العجلونيان. ويحتاج كل ذلك لتحقيق.
এবং শামস মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন ইবরাহিম বিন আব্দুর রহমান বিন আন-নাকিব, তিনি তাঁর বিশিষ্ট সঙ্গীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন।এবং শিহাব মুহাম্মাদ বিন আব্দুল খালিক বিন উসমান বিন মুজহির আল-আনসারি আদ-দিমাশকি আল-মুকরি। তাঁর মৃত্যু বিলম্বে হয়েছিল, এমনকি তিনি ৬৯০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর (ইমাম নববীর) কাছে পাঠ করেছেন এবং সম্পূর্ণ "আল-আজকার" শ্রবণ করেছেন। ইমাম নববী কোনো কোনো পাঠের শেষে তাঁর পাঠকে অত্যন্ত নিখুঁত ও মার্জিত বলে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর জন্য প্রচুর দোয়া করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে: "আল্লাহ তাঁর ওপর তাঁর নিয়ামত দীর্ঘস্থায়ী করুন", "আল্লাহ তাঁর প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বজায় রাখুন", "আল্লাহ তাঁর সৌভাগ্য চিরস্থায়ী করুন", "আল্লাহ তাঁর জন্য কল্যাণসমূহ অব্যাহত রাখুন" এবং "আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন"। তিনি পাণ্ডুলিপির শেষে তাঁর জন্য লিখেছেন: "আমি এই পুরো কিতাবটি এর মালিকের উপস্থিতিতে আমার মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে নিয়েছি। তিনি হলেন লেখক, শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আমলকারী ও গুণীজন, আস-সদর শিহাবউদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল খালিক বিন উসমান বিন মুজহির আল-আনসারি আশ-শাফিয়ি আদ-দিমাশকি। আল্লাহ তাঁর জন্য কল্যাণসমূহ দীর্ঘস্থায়ী করুন, তাঁর নেকি বাড়িয়ে দিন, তাঁর আনুগত্যে তাঁকে সাহায্য করুন, কল্যাণের সাথে তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন, তাঁর জন্য ইহকাল ও পরকালের কল্যাণসমূহ একত্রিত করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে আমাকে, তাঁকে এবং আমাদের সকল প্রিয়জনকে তাঁর মর্যাদাপূর্ণ আবাসে একত্রিত করুন।" উল্লিখিত শায়খ ইমাম শিহাবউদ্দিন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এটি শ্রবণ করেছেন এবং আমি আমার মূল পাণ্ডুলিপির সাথে তাঁর এই অনুলিপিটি সন্তোষজনকভাবে মিলিয়ে নিয়েছি। এর সর্বশেষ মজলিস ছিল ৬৭৩ হিজরির যিলকদ মাসের ২৪ তারিখ সোমবার। আর আমি তাঁর জন্য সেই সবকিছু বর্ণনা করার অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করলাম যা বর্ণনা করার অনুমতি আমার রয়েছে। এটি লিখেছেন ইয়াহইয়া বিন শরাফ বিন মুররি বিন হাসান আন-নাবাবি, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। সমাপ্ত। আর আমি এই সব কিছু "আল-আজকার"-এর একটি পাণ্ডুলিপিতে তাঁর নিজ হাতের লেখা থেকে নকল করেছি।এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন গালিব বিন ইউনুস বিন শুবা, তিনি তাঁর (ইমাম নববীর) কাছে তাঁরই রচিত "আওহামুল মুহাজ্জাব ওয়াল ওয়াসিত" শ্রবণ করেছেন, যেমনটি তাঁর রচনাবলির নামের বর্ণনায় পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।এবং অদ্বিতীয় ইমাম নাসিরুদ্দিন আবু আল-ফাতহ মানসুর বিন নাজম বিন যাব্বান (যা 'যা' বর্ণে নুকতাহসহ এবং পরবর্তী ইয়া বর্ণে তাশদিদযুক্ত) বিন হাসসান বিন সুলাইমান আল-লাইসি আল-কারতাওয়ি। তাঁর সম্পর্কে বলা হতো যে তিনি তাঁর (ইমাম নববীর) সাথে অত্যন্ত সম্পৃক্ত এবং ধর্মপ্রাণ ছিলেন। তাঁর কাছে তিনি যা শ্রবণ করেছেন তার মধ্যে ইশারা-সহ "আল-আরবাঈন" কিতাবটিও রয়েছে। তিনি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বদর মাহমুদ বিন আলি বিন হিলাল আল-আজলুনি তাঁর কাছে তা শ্রবণ করেছেন। নাসিরুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন হাসান আল-কামুসিও শ্রবণের মাধ্যমে এটি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শায়খ ছিলেন।এবং আশ-শরাফ হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুর রহিম বিন ইবরাহিম বিন আল-বারিজি।এবং ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ আল-মাগরাবি আত-তিউনিসি ইমাম নববী থেকে তাঁর "আল-আরবাঈন" কিতাবটি সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইবনুল মারজুক তাঁর "মাশইয়াখাহ" ও অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।এবং আশ-শরাফ আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আহমাদ বিন ইয়াকুব আল-হালাবি আশ-শাফিয়ি তাঁর কাছে পাঠ করেছেন।যাদের সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় যে তারা তাঁর কাছে পাঠ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ইউসুফ বিন হারব আল-হাসানি, যাঁর আদি নিবাস মক্কা, পরবর্তীতে মারদিন ও গাজ্জার অধিবাসী।একইভাবে হাফেজ জামাল আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আজ-জাকি আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ আল-মিযযিও তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।এবং বিদগ্ধ মুহদ্দিস, সাহিত্যিক ও লেখক: আবু আল-ফজল ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মিসরি, অতঃপর আদ-দিমাশকি; তিনি দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়ার ক্বারি ছিলেন।এবং আরও অনেকে।সাফাদের কাজী আল-উসমানি বলেছেন: "আমি তাঁর সঙ্গীদের একটি দলের সাক্ষাৎ পেয়েছি, যেমন আমাদের শায়খ শামসুদ্দিন ইবনুন নাকিব, যিনি শামিয়ার শিক্ষক ছিলেন (যাঁর কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে), এবং কাজী নাসিরুদ্দিন আল-কারতি (সম্ভবত যিনি গত হয়েছেন), এবং কাজী জিয়াউদ্দিন আলি বিন সালিম (যিনি গত হয়েছেন) এবং দীর্ঘজীবী শামসুদ্দিন ইবনুল বাইতার।" উসমানির কথা সমাপ্ত।এবং মুহদ্দিস শিহাব আহমাদ বিন আবি বকর বিন তায়্যি বিন হাতিম বিন জাইশ বিন বাক্কার আজ-জুবাইরি আল-মিসরি আল-মুকরি।এবং আবু নুয়াইম আহমাদ বিন আত-তাকি উবাইদ আল-আসআরদি, আবু আল-আব্বাস আহমাদ বিন কুশতাগদি আল-মুয়িজজি, ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন ইসহাক আল-ওয়াজিরি, আবু বকর বিন কাসিম বিন আবি বকর আর-রাহবি, সাইফ আবু বকর বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন সানকার আল-মাআলি, জামাল দাউদ বিন ইবরাহিম বিন আল-আত্তার (যিনি তাঁর ছাত্র আলাউদ্দীন আলির ভাই), শামস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন হাইদারাহ বিন আল-কাম্মাহ, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আন-নাজম ইসমাইল বিন আল-খাব্বাজ (যাঁর পিতার কথা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে), আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আবি আল-বারাকাত আন-নুমানি, নাসিরুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন কুশতাগদি (যিনি গত হয়েছেন তাঁর ভাই), এবং আস-সদর আবু আল-ফাতহ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল-মাইদুমি ও অন্যান্যদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে ইজাজত (বর্ণনার অনুমতি) রয়েছে।আমি তাদের মধ্যে যারা নববী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) থেকে বর্ণনা করেন তাদের দেখেছি: আল-মুসনিদ তাজউদ্দিন আব্দুল ওয়াহাব বিন দাউদ আল-কুসি আল-মিসরি। তাঁর থেকে তাঁর পুত্র শায়খ আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তাঁর সাথে সাইয়্যিদ সফিউদ্দিন আব্দুর রহমান আল-আইজি সাক্ষাৎ করেছেন। আমি তাঁর ভাতিজা সাইয়্যিদ আলাউদ্দিনের হস্তলিপি থেকে এটি সারসংক্ষেপ করেছি।একইভাবে আমি আশ-শরাফ আব্দুর রহিম আল-জিরহির উস্তাদদের মধ্যে দেখেছি: শামস মুহাম্মাদ বিন নাসিরুদ্দিন আওলিয়া বিন আল-ফাখর আবু বকর আল-মাহরানজানি, যিনি মক্কার বাসিন্দা ছিলেন; তিনি নববী থেকে বর্ণনা করেন।এবং ঈসা বিন আহমাদ বিন ঈসা আল-আজলুনির জীবনীতে বর্ণিত আছে যে তিনি ইমাম নববীর একদল সঙ্গীর নিকট থেকে বর্ণনা করেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শায়খ মাসউদ আল-হাজ্জার এবং শায়খ মুয়াম্মার বিন আস-সামআ আল-আজলুনিদ্বয়। এই সব বিষয়েরই অধিকতর অনুসন্ধান ও প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ورأيت أيضاً في أسانيد المجد اللغوي صاحب القاموس: أنه قرأ " الأربعين " للشيخ، على محيي الدين أبي زكريا يحيى بن أبي الحسن علي بن طاهر بن بركات، الدمشقي، عُرف بابن الحداد، بمنزله على مقربة من جامع دمشق، بسماعه لها بقراءة والده، على مؤلفها، لكن قال شيخنا في " درره " في يحيى المذكور بعد أن نسبه بأنه يحيى بن علي بن أبي الحسن علي بن أبي الفرج محمد بن طاهر بن محمد بن الحداد، الصالحي، الحنفي، ما نصه: إنه كان يذكر أن والده أحضره إلى النووي وهو أمرد فاعتذر إليه وقال: أنا أرى أن النظر إلى الأمرد حرام، فاذهب به إلى الشيخ تاج الدين، ثم عقبه شيخنا بقوله: قال شيخنا العراقي: لم نقف على كلامه، انتهى كلامه.على أن الحافظ شمس الدين الحسني قال في " وفياته " التي ذيل بها على " العِبَر ": إن المعمر الفاضل محيي الدين بن الحداد المذكور كان خاتمة أصحاب النووي، وأنه مات سنة سبع وخمسين وسبعمائة.وروى الولي العراقي عن الشرف محمد بن محمد بن عبد الكريم بن عطاء الله الجذامي، السكندري، أخي التاج ابن عطاء الله الشهير، وأبي عبد الله محمد بن عبد الكريم بن أبي عبد الله المخيلي، كلاهما ممن " أجازه " النووي إجازة عامة، ولست تبعاً لشيخي أحب العمل بها، وفيما تحملناه " ولله الحمد " غنية عن التوسع بها.وحكى لي العلامة الفقيه الشرف أبو زكريا المناوي " رحمه الله " عن الولي أبي زرعة العراقي أيضاً مذاكرة، أنه بلغه أن الجان كانت تقرأ عليه، وأن بعض طلبته بينما هو عنده في خلوته إذ دخل عليه ثعبان، ففزع الطالب، فأخذ الشيخ في تسكين روعه، وعرّفه بأنه من طلبة العلم من الجان وأنه قال له أما نهيتك عن التزيي بهذا وأنه آخى بينهما وعندما أراد " الجنِّي التوجه لمحله ببغداد أو العراق " الشك مني " سأل الطالب الشيخ الإذن له في التوجه معه للتفرج ببلاده، وأن الشيخ أذن له في ذلك ووصاه به، وأنه تزيّا في صورة بعير، وأمر الإنسي أن يركبه وقال له: إذا أحسست بالبرد الشديد فاغمزني، وأنه علا به في الجو حتى أحس بالبرد، فغمزه فهبط لذلك المكان المقصود، وأنه أقام عندهم يسيراً، ثم رجعا مستصحبين معهما ما كان الشيخ أوصاهما به من فاكهة ذلك المكان.وهذه الحكاية منقطعة، ولا استبعاد لصحتها، ففي ترجمة القاضي الخِلَعي أن الجان كانت تقرأ عليه، وكذا ذُكر عن الفخر إمام الجامع الأزهر، وغيره، ممن الشيخ أعظم حالاً ومقاماً ومقالاً منهم، رحمة الله عليهم أجمعين.وكذا اشتهر أن الخضر كان يجتمع به، وقد قال الشيخ في ترجمته من " تهذيبه ": والأكثرون من العلماء قالوا: هو حيّ موجود بين أظهرنا، وذلك متفق عليه عند الصوفية وأهل الصلاح والمعرفة، وحكاياتهم في رؤيته والاجتماع به والأخذ عنه، وسؤاله وجوابه، ووجوده في المواضع الشريفة ومواطن الخير، أكثر من أن تحصر، وأشهر من أن تذكر.وقال الشيخ أبو عمرو بن الصلاح في فتاويه: هو حيّ عند جماهير العلماء والصالحين، والعامة معهم في ذلك، قال: وإنما شذ بإنكاره بعض المحدثين، انتهى ما في " التهذيب ".قال شيخنا: والذي تميل إليه النفس من حيث الأدلة القوية خلاف ما يعتقده العوام من استمرار حياته، لكن ربما عرضت شبهة من جهة كثرة الناقلين للأخبار الدالة على استمراره، فيقال: هب ن أسانيدها واهية، إذ كل طريق منها لا تسلم عن سب يقتضي تضعيفاً، فماذا يُصنع في المجموع؟ فإنه على هذه الصورة قد يلحق بالتواتر المعنوي الذي مثلوا له بجود حاتم، مع احتمال التأويل في أدلة القائلين بعدم بقاءه، كآية: (وما جعلنا لبشر من قبلك الخلد) ، وكحديث: " رأس مائة سنة "، وغير ذلك مما تقدم بيانه " يعني في كلامه ".وأقوى الأدلة على عدم بقاءه عدم مجيئه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وانفراده بالتعمير، من بين أهل الأعصار المتقدمة بغير دليل شرعي، انتهى.صفاته ومناقبه
আমি আল-কামুস রচয়িতা আল-মাজদ আল-লুগাভী-এর সনদসমূহের মধ্যেও দেখেছি যে: তিনি শায়খের ‘আল-আরবাঈন’ পাঠ করেছেন মুহিউদ্দিন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আবিল হাসান আলী ইবনে তাহির ইবনে বারাকাত আদ-দিমাশকী-এর নিকট, যিনি ইবনুল হাদ্দাদ নামে পরিচিত ছিলেন। দামেস্ক জামে মসজিদের সন্নিকটে তার বাসভবনে এটি পাঠ করা হয়। তিনি তার পিতার পাঠের মাধ্যমে এটি শায়খের (গ্রন্থকারের) নিকট শুনেছিলেন। তবে আমাদের শায়খ তার ‘আদ-দুরার’ গ্রন্থে উক্ত ইয়াহইয়ার বংশপরম্পরা উল্লেখ করার পর বলেছেন—যিনি ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে আবিল হাসান আলী ইবনে আবিল ফারাজ মুহাম্মদ ইবনে তাহির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাদ্দাদ আস-সালেহী আল-হানাফী—তার বক্তব্যের বয়ান হলো: তিনি উল্লেখ করতেন যে, তার পিতা তাকে নববীর নিকট নিয়ে গিয়েছিলেন যখন তিনি কিশোর ছিলেন। তখন তিনি (নববী) ওজর পেশ করে বলেছিলেন: ‘আমি কিশোরের দিকে তাকানো হারাম মনে করি, তাকে শায়খ তাজউদ্দিনের নিকট নিয়ে যাও।’ অতঃপর আমাদের শায়খ তার বক্তব্যের অনুগামী হয়ে বলেছেন: আমাদের শায়খ আল-ইরাকী বলেছেন—আমরা তার এমন বক্তব্য খুঁজে পাইনি। তার বক্তব্য এখানেই শেষ।যদিও হাফেজ শামসুদ্দিন আল-হাসানী তার ‘আল-ইবার’ গ্রন্থের পরিশিষ্ট ‘ওয়াফায়াত’-এ বলেছেন: উক্ত দীর্ঘজীবী ও গুণী ব্যক্তি মুহিউদ্দিন ইবনুল হাদ্দাদ ছিলেন নববীর সঙ্গীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি এবং তিনি সাতশত সাতান্ন হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।আল-ওয়ালী আল-ইরাকী বর্ণনা করেছেন আশ-শারাফ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কারীম ইবনে আতাউল্লাহ আল-জুজামী আস-সিকান্দারী—যিনি প্রসিদ্ধ তাজ ইবনে আতাউল্লাহর ভাই—এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কারীম ইবনে আবু আব্দুল্লাহ আল-মুখীলী থেকে। তারা উভয়েই নববীর নিকট থেকে ‘সাধারণ অনুমতি’ (ইজাযাহ আম্মাহ) প্রাপ্ত ছিলেন। আমি এ বিষয়ে আমার শায়খের অনুসারী নই এবং আমি এর ওপর আমল করা পছন্দ করি না। আমরা যা লাভ করেছি আল্লাহর প্রশংসায় তা-ই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং এর বিস্তৃতির প্রয়োজন নেই।আল্লামা ফকিহ আশ-শারাফ আবু জাকারিয়া আল-মুনাভী (আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আল-ওয়ালী আবু জুরআ আল-ইরাকী থেকে স্মৃতিচারণমূলক একটি বর্ণনা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে জিনরা তার নিকট পাঠ গ্রহণ করত। তার এক ছাত্র যখন তার নির্জন কক্ষে উপস্থিত ছিল, তখন সেখানে একটি সাপ প্রবেশ করল। ছাত্রটি আতঙ্কিত হয়ে পড়লে শায়খ তার ভয় দূর করতে লাগলেন এবং তাকে জানালেন যে সে জিনদের মধ্য থেকে একজন ইলমে দ্বীনের তলেবে ইলম। শায়খ তাকে বললেন, ‘আমি কি তোমাকে এই বেশ ধরতে নিষেধ করিনি?’ অতঃপর তিনি তাদের উভয়ের মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিলেন। যখন জিনটি তার নিজ স্থান বাগদাদ বা ইরাকে—এটি বর্ণনাকারীর সন্দেহ—ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করল, তখন ছাত্রটি শায়খের নিকট তার সাথে তার দেশে ভ্রমণে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করল। শায়খ তাকে অনুমতি দিলেন এবং তাকে তার বিষয়ে উপদেশ দিলেন। জিনটি একটি উটের রূপ ধারণ করল এবং মানব ছাত্রটিকে তার পিঠে আরোহন করতে বলল এবং তাকে বলল, ‘যখন তুমি প্রচণ্ড শীত অনুভব করবে তখন আমাকে ইশারা করবে।’ জিনটি তাকে নিয়ে শূন্যে উড়তে লাগল যতক্ষণ না সে শীত অনুভব করল, তখন সে ইশারা করল এবং তারা গন্তব্যস্থলে অবতরণ করল। সে সেখানে অল্প কিছুদিন অবস্থান করল, অতঃপর তারা শায়খের নির্দেশিত সেই স্থানের ফলমূল সাথে নিয়ে ফিরে এল।এই কাহিনীটি বিচ্ছিন্ন, তবে এর সত্যতা অসম্ভব নয়। কেননা কাজী আল-খিলাঈ-এর জীবনীতে বর্ণিত আছে যে জিনেরা তার কাছে পাঠ গ্রহণ করত। অনুরূপভাবে জামে আজহারের ইমাম আল-ফখর ও অন্যদের সম্পর্কেও এটি বর্ণিত হয়েছে, যাদের তুলনায় শায়খের অবস্থা, মাকাম এবং কথা অনেক উচ্চে। আল্লাহ তাদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।তদ্রূপ এটিও প্রসিদ্ধ যে খিজির তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন। শায়খ তার ‘তাহজীব’ গ্রন্থে তার জীবনীতে বলেছেন: অধিকাংশ আলেম বলেছেন—তিনি জীবিত এবং আমাদের মাঝেই বিদ্যমান। সূফীগণ, নেককার ও মারেফাত অর্জনকারী ব্যক্তিদের নিকট এটি সর্বসম্মত বিষয়। তাকে দেখা, তার সাথে একত্রিত হওয়া, তার নিকট থেকে জ্ঞান গ্রহণ করা, তাকে প্রশ্ন করা ও তার উত্তর প্রদান এবং বিভিন্ন সম্মানিত ও কল্যাণকর স্থানে তার উপস্থিত থাকার কাহিনী এত অধিক যে তা গণনা করা সম্ভব নয় এবং এত প্রসিদ্ধ যে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।শায়খ আবু আমর ইবনুস সালাহ তার ফাতাওয়া গ্রন্থে বলেছেন: জমহুর আলেম ও সালেহীনের নিকট তিনি জীবিত এবং সাধারণ মানুষও এই বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেছেন: কেবল কতিপয় মুহাদ্দিস এর অস্বীকৃতি জানিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। ‘তাহজীব’-এর আলোচনা এখানেই শেষ।আমাদের শায়খ বলেছেন: শক্তিশালী দলিলের ভিত্তিতে মন যে দিকে ঝুঁকে থাকে তা হলো সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের বিপরীত অর্থাৎ তার জীবন অব্যাহত না থাকা। তবে সম্ভবত জীবন অব্যাহত থাকার স্বপক্ষে অসংখ্য বর্ণনাকারীর সংবাদের কারণে একটি সংশয় তৈরি হয়। তাই বলা হয়: ধরে নিলাম এগুলোর সনদ দুর্বল, কেননা প্রতিটি পথই দুর্বলতা থেকে মুক্ত নয়, তবে সামগ্রিক সমষ্টির ক্ষেত্রে কী করা হবে? কেননা এই অবস্থায় এটি ‘তাওয়াতুরে মানাভী’ (অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির)-এর পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে, যার উদাহরণ তারা হাতেম তাঈ-এর দানশীলতা দিয়ে দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি যারা তার বেঁচে না থাকার প্রবক্তা তাদের দলিলসমূহের ব্যাখ্যার অবকাশ রয়েছে, যেমন এই আয়াত: ‘আপনার পূর্বে আমি কোনো মানুষকে অমরত্ব দান করিনি’ এবং ‘একশত বছরের শীর্ষ’ সংক্রান্ত হাদিস এবং অন্যান্য যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে (অর্থাৎ তার আলোচনার মধ্যে)।তার বেঁচে না থাকার বিষয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার না আসা এবং কোনো শরয়ি দলিল ব্যতীত পূর্ববর্তী জামানার লোকদের মধ্য থেকে কেবল তার একাকী দীর্ঘজীবী হওয়া। সমাপ্ত।তার গুণাবলি ও মর্যাদা
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وذكر لي صاحب الشيخ أبو العباس أحمد بن محمد بن سالم بن الحسن الشافعي غير مرة، قال: ذكر لي الشيخ الصالح الصدوق المعمَّر أبو القاسم ابن عمير المزّي " وكان من الأخيار " إنه رأى فيما يرى النائم رايات كثيرة، قال وسمعت نوبة تضرب، فعجبت من ذلك فقلت: ما هذا؟ فقيل لي: الليلة قطِّب يحيى النووي رحمه الله، فاستيقضت من منامي ولم أكن أعرف الشيخ ولا سمعت به قبل ذلك، واتفق إني دخلت المدينة " يعني في حاجة " فذكرت ذلك الشخص، فقال: هو شيخ دار الحديث الأشرفية، وهو الآن جالس فيها بميعادها، فاستدللت عليها ودخلتها، فوجدته جالساً فيها وحوله جماعة، فوقع بصره علي، فنهض إلى جهتي وترك الجماعة، ومشى إلى طرف أبواب إيوانها ولم يتركني أكلمه، وقال: اكتم ما معك ولا تحدث به أحداً، ثم رجع إلى موضعه ولم يزد على ذلك، ولم أكن رأيته قبلها ولم أجتمع به بعدها.قلت: ونحوه قول العثماني قاضي صفد في " طبقاته ": وأهل الكشف يقولون: إنه لم يمت حتى قُطِّب. وكذا قال التقي الحسني " كما سيأتي ": وناهيك به أنه قطب الوقت، انتهى.وقال لي شيخنا القاضي محمد بن عبد القادر الأنصاري: لو أدرك القشيريُّ صاحب " الرسالة " شيخكم وشيخه " يعني أبا عثمان المغربي " لما قدّم عليهما في ذكره لمشائخه " يعني الرسالة " أحداً، لما جمع فيهما من العلم والعمل، والزهد والورع، والنطق بالحكمة، وغير ذلك.قلت: ولشدة ورعه كان يشبّه به من يرام الغاية في وصفه، ففي ترجمة الشرف محمود بن محمد بن أحمد بن صالح الصرخدي: إنه اشتهر بالورع حتى كان يشبّة بالنووي، انتهى.وقال لي الشيخ العارف المحقق المكاشف: أبو عبد الرحيم محمد الأخميمي " قدس الله روحه ": كان الشيخ سالكاً منهاج الصحابة رضي الله تعالى عنهم، ولا أعلم أحداً في عصره سالكاً على منهاجهم غيره.قلت: ونقل التاج السبكي في " التوشيح " عن والده: أنه قال: ما اجتمع بعد التابعين الجموع الذي اجتمع بالنووي، ولا التيسير الذي يسّر له.وحكى الإمام اليافعي في آخر الحكاية الثانية والثمانين بعد الأربعمائة من " روض الرياحين " فيما بلغه: إن الشيخ خطف سارق عمامته وهرب، فتبعه الشيخ، وصار يعدو خلفه ويقول له: ملّكتك إياها، قلت: قبلت قبلت، والسارق ما عنده خبر من ذلك، انتهى.وقال لي بعض الصالحين الكبار: إنه حين ولد كتب من الصادقين. وذكر شيخنا العارف، القدوة المسلك، وليّ الله أبو الحسن المقيم. بجامع بيت لهيا خارج دمشق، قال: كنت مريضاً بمرض يسمى النَّقرس، في رجلي، فعادني الشيخ، فلما جلس عندي شرع يتكلم في الصبر، قال: فكان كلما تكلم يذهب الألم قليلاً قليلاً، حتى زال الألم جميعه، فعرفت أن زواله ببركته.وقال لي جماعة بنوى: انه سألوه يوماً أن لا ينساهم في عرصات القيامة فقال لهم: إن كان لي ثمَّ جاه والله لأدخلت الجنة واحداً ممن أعرفه ورائي.وقال لي المحدِّث أبو العباس بن فروخ كان الشيخ قد صارت إليه ثلاث مراتب، كل مرتبة منها لو كانت لشخص شُدَّت إليه الرحال.المرتبة الأولى: العلم.والثانية: الزهد.والثالثة: الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.قلت: وقال الذهبي في " سير النبلاء ": كان يؤثر عنه كرامات وأحوال. وقال التقي محمد بن الحسن اللخمي: إنه ظهرت له الكرامات الكثيرة: من سماع الهاتف، ومن انتفاع الباب المقفل بالأقفال ورده كما كان، وانشقاق الحائط في الليل وخروج شخص له منه حسن الصورة، وكلامه معه في مصالح الدارين، واجتماعه بالأولياء الأخفياء وكاشفته هو للواحد بأحوال لا يعلمها إلا الله ثم صاحبها، وإعلامه بموته وهو بدمشق.ومن قوة نفسه ملازمته لحيّة عظيمة في بيته بالرواحية، ويراها كلَّ قليل تخرج إليه ويضع لها لباباً تأكله، حتى أن بعضهم رآها في غفلة وهو يطعمها اللباب فقال له: يا سيدي ما هذه؟ وخاف، فقال: هذه خلق، من خلق الله لا تضر ولا تنفع، أسألك بالله أن تكتم ما رأيت، ولا تحدث به أحداً.وأحواله كثيرة لا يسعها هذا المحل فرحمه الله، لقد كان من الدين بمكان الرأس من الجسد، ظهر له العلم فشمَّر إليه، ونظر إلى الخيرات فأفرغت عليه، إذا تكلم افتتح كلامه بالحمد لله والثناء عليه، وإذا ذكر النبي صلى الله عليه وسلم رفع صوته بالصلاة عليه، انتهى.
শেখ আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সালিম ইবনে হাসান আশ-শাফিয়ী আমার কাছে একাধিকবার উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: নেককার, সত্যবাদী ও দীর্ঘজীবী শেখ আবুল কাসিম ইবনে উমাইর আল-মিযযী—যিনি পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি স্বপ্নে অনেকগুলো পতাকা দেখতে পান। তিনি বলেন, আমি নহবত বাজার শব্দ শুনতে পেলাম। আমি এতে বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম: এটি কী? আমাকে বলা হলো: আজ রাতে ইয়াহইয়া আন-নববী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ‘কুতুব’ হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। আমি আমার ঘুম থেকে জেগে উঠলাম, অথচ আমি ইতিপূর্বে শেখকে চিনতাম না এবং তার সম্পর্কে শুনিওনি। ঘটনাচক্রে আমি কোনো প্রয়োজনে শহরে (অর্থাৎ দামেস্কে) প্রবেশ করি এবং সেই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করি। তখন বলা হলো: তিনি ‘দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়া’র শেখ, এবং তিনি এখন সেখানে তার নির্ধারিত পাঠদানের মজলিসে বসা আছেন। আমি সেই স্থানটির সন্ধান পেয়ে সেখানে প্রবেশ করলাম। তাকে সেখানে বসা অবস্থায় পেলাম এবং তার চারপাশে একদল লোক ছিল। তার দৃষ্টি আমার ওপর পড়ল, তখন তিনি আমার দিকে এগিয়ে এলেন এবং মজলিস ছেড়ে বারান্দার দরজার একপাশে চলে গেলেন। তিনি আমাকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বললেন: তোমার কাছে যা (তথ্য) আছে তা গোপন রাখো এবং কাউকে তা বলবে না। এরপর তিনি তার জায়গায় ফিরে গেলেন এবং এর বেশি কিছু বললেন না। আমি তাকে এর আগে কখনও দেখিনি এবং এর পরেও তার সাথে আমার আর দেখা হয়নি।আমি বলি: অনুরুপ কথা সাফাদের কাজি আল-উসমানী তার ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে বলেছেন: আধ্যাত্মিক উন্মোচনকারী (আহলে কাশফ) ব্যক্তিবর্গ বলেন যে, তিনি ‘কুতুব’ হওয়ার আগ পর্যন্ত ইন্তেকাল করেননি। একইভাবে তাকী আল-হাসানী বলেছেন (যেমনটি সামনে আসবে): আপনার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তিনি ছিলেন সে সময়ের ‘কুতুব’। সমাপ্ত।আমাদের শেখ কাজি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কাদির আল-আনসারী আমাকে বলেছেন: ‘আর-রিসালা’ গ্রন্থের লেখক ইমাম কুশাইরী যদি আপনাদের শেখ (নববী) এবং তার শেখকে (অর্থাৎ আবু উসমান আল-মাগরিবী) পেতেন, তবে তিনি তার রিসালায় বর্ণিত মাশায়েখদের তালিকায় তাদের দুজনকে সবার আগে স্থান দিতেন; কারণ তাদের মধ্যে ইলম ও আমল, যুহদ ও তাকওয়া এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ কথাবার্তাসহ অন্যান্য গুণাবলির এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল।আমি বলি: তার তাকওয়ার প্রগাঢ়তার কারণে, কাউকে চরম পরহেজগার হিসেবে বর্ণনা করতে চাইলে তার সাথে তুলনা করা হতো। আশ-শরাফ মাহমুদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে সালিহ আস-সারখাদীর জীবনীতে বর্ণিত আছে যে: তিনি তাকওয়ার জন্য এতই প্রসিদ্ধ ছিলেন যে, তাকে ইমাম নববীর সাথে তুলনা করা হতো। সমাপ্ত।আরিফ, মুহাক্কিক ও মুকাশিফ শেখ আবু আব্দুর রহিম মুহাম্মাদ আল-আখমিমী (আল্লাহ তার রূহকে পবিত্র করুন) আমাকে বলেছেন: শেখ নববী সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম)-এর আদর্শে চলতেন। আমার জানামতে, তার যুগে তিনি ছাড়া অন্য কেউ সাহাবাদের মানহাজের ওপর সেভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন না।আমি বলি: তাজউদ্দীন আস-সুবকী তার ‘আত-তাওশীহ’ গ্রন্থে তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: তাবেয়ীদের পরে ইমাম নববীর মতো এত গুণাবলির সমাবেশ আর কারো মাঝে ঘটেনি এবং কাউকেও এমন সহজসাধ্যতা দান করা হয়নি যা তাকে দান করা হয়েছে।ইমাম ইয়াফিয়ী তার ‘রওযুর রায়াহিন’ গ্রন্থের ৪৮২তম কাহিনীর শেষে তার কাছে পৌঁছানো বর্ণনা মতে উল্লেখ করেছেন যে: জনৈক চোর শেখের পাগড়ি ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দিলে শেখ তার পিছু পিছু দৌড়াতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন: আমি তোমাকে এটি দান করে দিলাম, তুমি বলো—‘কবুল করলাম, কবুল করলাম’। অথচ চোর এ ব্যাপারে কিছুই জানত না। সমাপ্ত।কিছু বড় মাপের নেককার ব্যক্তি আমাকে বলেছেন: তিনি যখন জন্মগ্রহণ করেন, তখনই তাকে সত্যবাদীদের (সিদ্দীকীন) তালিকায় লিখে রাখা হয়েছিল। আমাদের শেখ, আরিফ, আদর্শ পথপ্রদর্শক ও আল্লাহর ওলী আবু হাসান, যিনি দামেস্কের বাইরে বাইত লাহিয়া জামে মসজিদে অবস্থান করতেন, তিনি বর্ণনা করেছেন: আমি ‘নাকরাস’ (গেঁটে বাত) নামক রোগে আক্রান্ত ছিলাম যা আমার পায়ে হয়েছিল। শেখ আমাকে দেখতে এলেন। তিনি আমার কাছে বসে ধৈর্য সম্পর্কে আলোচনা করতে শুরু করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি যতই কথা বলছিলেন, ব্যথা অল্প অল্প করে কমতে থাকল, এমনকি একসময় সমস্ত ব্যথা দূর হয়ে গেল। আমি বুঝতে পারলাম যে, তার বরকতেই এই ব্যথা দূর হয়েছে।নাওয়া অঞ্চলের একদল লোক আমাকে বলেছে: তারা একদিন তাকে অনুরোধ করেছিলেন যাতে তিনি কিয়ামতের ময়দানে তাদের ভুলে না যান। তখন তিনি তাদের বলেছিলেন: আল্লাহর কাছে যদি আমার কোনো মর্যাদা থাকে, তবে আমার পরিচিতদের মধ্যে অন্তত একজনকে আমি অবশ্যই আমার পেছনে জান্নাতে প্রবেশ করাব।মুহাদ্দিস আবু আব্বাস ইবনে ফাররুখ আমাকে বলেছেন: শেখ এমন তিনটি স্তরে উন্নীত হয়েছিলেন যে, এর প্রতিটি স্তরের জন্যই মানুষের দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে আসা উচিত ছিল।প্রথম স্তর: ইলম (জ্ঞান)।দ্বিতীয় স্তর: যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা)।এবং তৃতীয় স্তর: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ।আমি বলি: ইমাম আয-যাহাবী ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে বলেছেন: তার থেকে অনেক কারামত ও আধ্যাত্মিক অবস্থার কথা বর্ণিত আছে। তাকী মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আল-লাখমী বলেছেন: তার থেকে অসংখ্য কারামত প্রকাশ পেয়েছে, যেমন—অদৃশ্য শব্দ (হাতিফ) শোনা, তালাবদ্ধ দরজা নিজে নিজে খুলে যাওয়া এবং আবার আগের মতো লেগে যাওয়া, রাতের বেলা প্রাচীর ফেটে যাওয়া এবং তা থেকে একজন সুন্দর আকৃতির ব্যক্তির বের হয়ে আসা ও তার সাথে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ নিয়ে কথা বলা, নিভৃতচারী ওলীদের সাথে তার সাক্ষাৎ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ইলহাম প্রাপ্ত হয়ে এমন কিছু অবস্থা উন্মোচন করা যা আল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ জানত না, এবং দামেস্কে থাকাবস্থায় নিজের মৃত্যু সংবাদ প্রদান করা।তার সাহসিকতার অন্যতম প্রমাণ হলো, তিনি ‘রাওয়াহিয়াহ’ মাদরাসায় তার কক্ষে একটি বিশাল সাপ পুষতেন। প্রায়ই সেটিকে তার কাছে বের হতে দেখা যেত এবং তিনি সেটির সামনে রুটির টুকরো রাখতেন যা সে খেত। এমনকি জনৈক ব্যক্তি অসতর্ক অবস্থায় তাকে সাপটিকে রুটি খাওয়াতে দেখে ফেলে ভীত হয়ে জিজ্ঞেস করল: হে আমার সরদার, এটি কী? তিনি বললেন: এটি আল্লাহর সৃষ্টির অন্যতম এক সৃষ্টি, যা কারো ক্ষতিও করতে পারে না, কারো উপকারও করতে পারে না। আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, তুমি যা দেখেছ তা গোপন রাখবে এবং কাউকে বলবে না।তার ঘটনাবলি এত অধিক যে, এখানে তার সংকুলান সম্ভব নয়। আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন। দ্বীনের মধ্যে তার অবস্থান ছিল দেহের মধ্যে মাথার মতো। ইলমের জ্যোতি তার সামনে উদ্ভাসিত হয়েছিল আর তিনি তার দিকে সর্বাত্মক অগ্রসর হয়েছিলেন। কল্যাণের দিকে তিনি এমনভাবে দৃষ্টিপাত করেছিলেন যে তা তাকে ঢেকে নিয়েছিল। যখন তিনি কথা বলতেন, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন দিয়ে শুরু করতেন। আর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা উল্লেখ করতেন, তখন উচ্চস্বরে তার ওপর দরুদ পাঠ করতেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وكان إذا ذكر الصالحين ذكرهم بتعظيم وتوقير واحترام، وسوَّدهم وذكر مناقبهم، وكراماتهم.قلت: زاد اللخمي: واكتسب في أحواله، انتهى.وكنت أنا وإياه يوماً في الحلقة بين يدي أحد مشائخه " أبي حفص الربعي " فقام فملأ إبريقاً، وحمله بين يدي أبي حفص إلى الطهارة.قلت: ومن مكاشفاته ما حكى الزين عمر بن الوردي في ترجمة الشمس ابن النقيب من تاريخه، إنه قال: دخلت وأنا صبي على النووي رحمه الله " يعني في أيام اشتغاله عليه "، فقال لي: أهلاً بقاضي القضاة، قال: فنظرت فلم أجد عنده أحد غيري، فقال لي: اجلس يا مدرّس الشامية.وهذا من جملة كشف الشيخ رحمه الله فإنه وليهما معاً، وكانت حكاية ابن النقيب لذلك وهو بحلب، قبل ولايته الشامية وكان يظن أنه يلي قضاء الشام، فما ولي إلا حمص، ثم طرابلس، ثم حلب، ثم رجع إلى دمشق فولي الشامية.من كراماته ما حكاه ابن الوردي أيضاً في ترجمة شيخه الشرف البارزي، مما حكاه له في ذي القعدة سنة ثلاث عشرة وسبعمائة: أنه رأى النووي في المنام، قال: فقلت له: ما تختار في صوم الدهر؟ فقال: فيه اثنا عشر قولاً للعلماء، قال: فلما استيقضت وجدت الأمر كذلك، " يعني بعد التتبع "، فإنني لم أَرَ الأقوال مجموعة في كتاب واحد، وعدّه ابن الوردي من كرامات شيخه أيضاً.ووجدت هذا المنام أيضاً بخط شيخي في بعض أجزاء " تذكرته "، وعبارته: قال الشرف البارزي: رأيت النووي في النوم فسألته عن صوم الدهر، فقال: فيه اثنا عشر قولاً للعلماء، قال: فأقمت حولاً حتى اجتمعت لي، ولم أجدها مجموعة في كتاب، وهي هذه: صوم الدهر في حق من لم ينذر ولم يتضرر به، فيه أربعة أقوال: الاستحباب، وهو اختيار أكثر الشافعية، والكراهة، وهو اختبار البغوي والإباحة، وهو نص الشافعي، والتحريم، وهو قول جماعة من السلف.وفي حق من نذر ولم يتضرر به خمسة أقوال: الوجوب، وهو اختيار أكثر الشافعية، والأربعة المتقدمة للقائلين.وفي حق من يتضرر به، بأن تفوته السنن، أو الاجتماع للأهل، ثلاثة أقوال: التحريم، والكراهة، والإباحة، انتهى ما قرأته بخط شيخنا.وكذا من كراماته ما كان يراه من المنامات التي تأتي كفلق الصبح، انتهى.كنت يوماً بين يديه لتصحيح درس عليه في " مختصر علوم الحديث " الأصغر، له، فلما فرغت منه قال لي: رأيت الليلة في المنام كأني كنت سابحاً في بحر وكأني خرجت منه إلى شاطئه، وإذا أنا بشخص قد غرق فيه، وقد تعلق بخشبة على وجهه لحظة ثم غرق، فقلت له: يا سيدي، علمت الشخص من هو؟ قال نعم! قلت: من هو؟ قال: ابن النجار، قلت: فما أوّلته؟ قال: يظهر قليلاً ثم يخفي خفاء لا ظهور بعده، مع نفاق بقلبه.فقلت: فكان كذلك. وابن النجار هذا هو راسله بما سيأتي، انتهى.تقدمه في العلم وكثرة عبادتهوأما تقدمه في العلم وكثرة عبادته، فسمعت شيخنا أبا عبد الله بن محمد الظهير الإربلي الحنفي، شيخ الأدب في وقته، وكان كتب كتاب " العمدة في تصحيح التنبيه " له، وسألني في مقابلته معه بنسخي ليرويه عني يقول بعد فراغنا منه ما وصل التقيّ ابن الصلاح إلى ما وصل إليه الشيخ من العلم والفقه والحديث، واللغة، وعذوبة اللفظ وحلاوة العبارة.قلت: وفي كلام الإدفوي في " البدر السافر ": إن الشيخ نوزع مرة في نقل عن " الوسيط " فقال: تنازعوني في " الوسط " وقد طالعته أربعمائة مرة؟ وكان مع سعة " علمه كما في " سير النبلاء " " عديم النظير، لا يرى الجدال، ولا تعجبه المبالغة في البحث، ويتأذّى ممن يجادل ويعض عنه. وقال في موضع آخر: كان لا يتعانى لغط الفقهاء وعياطهم في البحث، بل يتكلم بتؤدة ووقار، ولذلك كان قلمه أبسط من عباراته، انتهى ما في " البدر السافر ".وقرأت في بعض المجاميع، نقلا عن الفقيه أبي علي سعيد بن عثمان الشوائي، الجبرتي إنه قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في النوم، وأنا بساحل موزع، فقال: إذا اختلف عليك كلام صاحب " المهذّب " وكلام الغزالي وكلام النووي، فخذ بقول النووي، فإنه أعرف بسنَّتي. قال: ورأيته صلى الله عليه وسلم ثانيةً، وسألته عن النووي، فقال: ذاك محيي ديني انتهى ما في المجموع.
তিনি যখন নেককারদের কথা উল্লেখ করতেন, তখন অত্যন্ত সম্মান, মহিমা ও শ্রদ্ধার সাথে তাঁদের স্মরণ করতেন। তিনি তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করতেন এবং তাঁদের গুণাবলি ও কারামতসমূহ বর্ণনা করতেন।আমি বলছি: লাখমি অতিরিক্ত যোগ করেছেন যে, তিনি তাঁর অবস্থায় উপার্জনের প্রচেষ্টাও করতেন। সমাপ্ত।একদা আমি এবং তিনি তাঁর জনৈক উস্তাদ 'আবু হাফস আর-রাবায়ি'-এর সামনে মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি উঠে একটি পানির পাত্র পূর্ণ করলেন এবং সেটি আবু হাফসের পবিত্রতা অর্জনের জন্য তাঁর সামনে বহন করে নিয়ে গেলেন।আমি বলছি: তাঁর কাশফসমূহের (অন্তর্দৃষ্টির) মধ্যে একটি হলো যা জাইন ওমর ইবনুল ওয়ার্দি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে শামস ইবনুন নাকীবের জীবনীতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: আমি বালক অবস্থায় ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট প্রবেশ করলাম—অর্থাৎ যখন আমি তাঁর নিকট অধ্যয়নরত ছিলাম—তখন তিনি আমাকে বললেন: 'প্রধান বিচারপতিকে স্বাগতম।' তিনি বলেন: আমি তাকিয়ে দেখলাম সেখানে আমি ছাড়া আর কেউ নেই। এরপর তিনি আমাকে বললেন: 'হে শামিয়া মাদরাসার শিক্ষক, বসুন।'এটি শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাশফসমূহের অন্তর্ভুক্ত, কারণ তিনি পরবর্তীতে উভয় পদেই অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। ইবনুন নাকীব যখন এই ঘটনা বর্ণনা করেন তখন তিনি আলেপ্পোতে ছিলেন এবং তা ছিল শামিয়া মাদরাসায় নিয়োগ পাওয়ার আগে। তিনি মনে করেছিলেন যে তিনি শামের কাজি হবেন, কিন্তু তিনি প্রথমে হিমস, তারপর ত্রিপোলি, তারপর আলেপ্পোর কাজি হন; এরপর দামেস্কে ফিরে এসে শামিয়া মাদরাসার শিক্ষকতার দায়িত্ব পান।তাঁর কারামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো যা ইবনুল ওয়ার্দি তাঁর উস্তাদ শারাফ আল-বারেজির জীবনীতে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি তাঁকে সাতশ তের হিজরি সনের জিলকদ মাসে শুনিয়েছিলেন: তিনি স্বপ্নে নববীকে দেখেছিলেন। তিনি বলেন: আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'সব সময় রোজা রাখার ব্যাপারে আপনার পছন্দ কী?' তিনি বললেন, 'এ বিষয়ে আলেমদের বারোটি মত রয়েছে।' তিনি বলেন: আমি যখন জাগ্রত হলাম, তখন বিষয়টি তেমনই পেলাম—অর্থাৎ অনুসন্ধানের পর; কারণ আমি এর আগে কোনো একটি কিতাবে এই মতগুলো একত্রে পাইনি। ইবনুল ওয়ার্দি এটিকে তাঁর উস্তাদেরও একটি কারামত হিসেবে গণ্য করেছেন।আমি এই স্বপ্নের কথা আমার উস্তাদের হাতে লেখা তাঁর 'তাযকিরাহ'-এর কিছু অংশেও পেয়েছি। তাঁর ভাষ্য হলো: শারাফ আল-বারেজি বলেছেন: আমি স্বপ্নে নববীকে দেখলাম এবং তাঁকে সর্বদা রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: এ বিষয়ে আলেমদের বারোটি মত রয়েছে। তিনি বলেন: আমি প্রায় এক বছর সময় ব্যয় করার পর সেগুলো একত্র করতে সক্ষম হলাম, অথচ আমি এগুলো কোনো কিতাবে একত্রে পাইনি। সেগুলো হলো: যে ব্যক্তি মানত করেনি এবং যার কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তার জন্য সর্বদা রোজা রাখার ক্ষেত্রে চারটি মত রয়েছে: মুস্তাহাব—যা অধিকাংশ শাফেয়ি ফকিহদের পছন্দ; মাকরুহ—যা বাগাবির পছন্দ; মুবাহ—যা ইমাম শাফেয়ির বক্তব্য; এবং হারাম—যা সালাফদের একটি দলের অভিমত।আর যে ব্যক্তি মানত করেছে এবং যার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তার ক্ষেত্রে পাঁচটি মত রয়েছে: ওয়াজিব—যা অধিকাংশ শাফেয়ি ফকিহদের পছন্দ; এবং পূর্বোক্ত চারটি অভিমত।আর যার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যেমন সুন্নাত ছুটে যাওয়া বা পরিবারের সাথে সময় কাটানোতে ব্যাঘাত ঘটা, তার ক্ষেত্রে তিনটি মত রয়েছে: হারাম, মাকরুহ এবং মুবাহ। আমাদের শাইখের হাতের লেখায় যা পড়েছি তা এখানেই শেষ।একইভাবে তাঁর কারামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সব স্বপ্ন যা তিনি দেখতেন এবং যা ভোরের আলোর মতো সত্য হয়ে ফুটে উঠত। সমাপ্ত।একদিন আমি তাঁর সামনে তাঁর রচিত ছোট 'মুখতাসার উলূমিল হাদীস' কিতাবটির দরস সংশোধনের জন্য উপস্থিত ছিলাম। আমি যখন তা শেষ করলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: 'আজ রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি একটি সমুদ্রে সাঁতার কাটছি এবং যেন আমি তার তীরের দিকে উঠে এলাম। হঠাৎ দেখলাম এক ব্যক্তি তাতে ডুবে যাচ্ছে এবং সে এক মুহূর্তের জন্য একটি কাষ্ঠখণ্ডের উপর উপুড় হয়ে ঝুলে রইল, তারপর ডুবে গেল।' আমি তাঁকে বললাম: 'হে আমার সাইয়্যিদ, আপনি কি জানেন ওই ব্যক্তিটি কে?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ।' আমি জিজ্ঞাসা করলাম: 'সে কে?' তিনি বললেন: 'ইবনুন নাজ্জার।' আমি বললাম: 'আপনি এর কী ব্যাখ্যা করেছেন?' তিনি বললেন: 'সে অল্প সময়ের জন্য আত্মপ্রকাশ করবে, এরপর এমনভাবে অদৃশ্য হয়ে যাবে যে তার আর কোনো প্রকাশ ঘটবে না, সাথে তার অন্তরে নিফাক (কপটতা) থাকবে।'আমি বললাম: বাস্তবেই তেমনটি ঘটেছিল। আর এই ইবনুন নাজ্জারই তাঁকে সেই পত্র লিখেছিল যা সামনে আসবে। সমাপ্ত।জ্ঞানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর অধিক ইবাদতআর জ্ঞানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এবং অধিক ইবাদতের বিষয়ে আমি আমাদের শাইখ আবু আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আজ-জাহির আল-ইরবিলি আল-হানাফিকে—যিনি তাঁর সময়ের সাহিত্যের শাইখ ছিলেন এবং তাঁর জন্য 'আল-উমদাহ ফি তাসহিহিত তানবিহ' গ্রন্থটি লিখেছিলেন—বলতে শুনেছি। তিনি যখন আমার অনুলিপি দিয়ে আমার মাধ্যমে বর্ণনা করার জন্য আমার কাছে তা মেলাতে চেয়েছিলেন, তখন কাজ শেষ করে বলেছিলেন: 'তাকি ইবনুস সালাহ জ্ঞান, ফিকহ, হাদিস, ভাষা এবং শব্দের মাধুর্য ও বাচনভঙ্গির মিষ্টতায় শাইখ (নববী) যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন, সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি।'আমি বলছি: আল-ইদফুয়ির 'আল-বাদরুস সাফির' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, শাইখকে একবার 'আল-ওয়াসিত' গ্রন্থ থেকে একটি উদ্ধৃতির ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন: 'আপনারা আমার সাথে আল-ওয়াসিত নিয়ে বিতর্ক করছেন, অথচ আমি এটি চারশ বার পাঠ করেছি?' অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অতুলনীয়; তিনি বিতর্ক পছন্দ করতেন না, গবেষণায় অতিরঞ্জন তাঁর ভালো লাগত না এবং যে ব্যক্তি বিতর্ক করত ও সত্য থেকে বিমুখ হতো, তার কারণে তিনি কষ্ট পেতেন। অন্য এক স্থানে তিনি বলেন: তিনি গবেষণার সময় ফকিহদের হট্টগোল ও উচ্চৈঃস্বরে তর্কে লিপ্ত হতেন না, বরং ধীরস্থিরভাবে ও গাম্ভীর্যের সাথে কথা বলতেন; এ কারণেই তাঁর বাচনভঙ্গির চেয়ে তাঁর লেখনী ছিল আরও সাবলীল। আল-বাদরুস সাফির-এর বক্তব্য এখানেই শেষ।আমি কিছু সংকলনে ফকিহ আবু আলী সাঈদ বিন উসমান আশ-শাওয়ায়ি আল-জাবারতির বরাতে পড়েছি যে, তিনি বলেছেন: আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলাম যখন আমি মুজা'-এর উপকূলে ছিলাম। তিনি বললেন: 'যখন তোমার কাছে মুহায্যাব প্রণেতা, গাজালি এবং নববীর বক্তব্যে মতভেদ দেখা দেবে, তখন তুমি নববীর বক্তব্য গ্রহণ করো। কারণ সে আমার সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।' তিনি বলেন: আমি দ্বিতীয়বার তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখলাম এবং তাঁকে নববী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: 'সে আমার দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিতকারী।' মাজমু'-এর বক্তব্য এখানেই শেষ।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال في " البدر " أيضاً: وكان كثير العبادة، حكي لي البدر ابن جماعة إنه سأله عن نومه فقال: إذا غلبني النوم استندت إلى الكتب لحظه وانتبه، قال " أعني البدر ": وكنت إذا أتيته أزوره يضع بعض الكتب على بعض ليوسع لي مكانا أجلس فيه، انتهى.وذكر لي صاحبنا الفاضل أبو عبد الله محمد بن أبي الفتح البعلي الحنبلي، في حياة الشيخ، قال: كنت ليلة في أواخر الليل بجامع دمشق، والشيخ واقف يصلي إلى سارية في ظلمة، وهو يردد قوله تعالى: (وقفوهم إنهم مسؤولون) مراراً، بحزن وخشوع، حتى حصل عندي من ذلك أمر عظيم.قلت: وصرح اليافعي والتاج السبكي " رحمهما الله " أنه أشعري. وقال الذهبي في " تاريخه " إنه مذهب في الصفات السمعية: السكوت، وإمرارها كما جاءت، وربما تأويل قليلا في " شرح مسلم " كذا قال: والتأويل كثير في كلامه، انتهى.ورعه وخشونة عيشهوأما ورعه وخشونة عيشه، فإنه كان لا يأكل من فاكهة دمشق، وسألته عن ذلك فقال: إنها كثيرة الأوقاف والأملاك لمن هو تحت الحجر شرعا، ولا يجوز التصرف في ذلك إلا على وجه الغبطة والمصلحة والمعاملة فيها على وجه المساقاة، وفيها اختلاف بين العلماء، ومن جوّزها قال بشرط المصلحة والغبطة لليتيم والمحجور عليه، والناس لا يفعلونها إلا على جزء من ألف جزء من الثمرة للمالك، فكيف تطيب نفسي؟ قلت: وتبعه القطب اليونيني على حكاية ذلك، قال: وأيضاً فغالب من يُطعّم أشجاره إنما يأخذ الأقلام غضباً أو سرقة، لأن أحداً ما يهون عليه يبيع أقلام أشجاره، وما جرت بذلك عادة، فتؤخذ تلك الأقلام، سرقة وتطعّم في أشجار الناس، فتطلع الثمرة في نفس القلم المغصوب، فتكون ملكاً لصاحب الأقلام، لا لصاحب الشجرة، فيبقى بيعه وشراؤه حراماً، انتهى كلام القطب.وصفته: أنهم يشقون فرعاً من فروع الشجرة ويجعلون في جوفة قطعة من غيرها، ثم يشدونه بحبل، ونحوه ما يُفعل في النخل.ثم إن ما تقدم في تركة الأكل من الفاكهة، هو المنقول المستفيض ولكن يُحكى " كما بلغني " أنه أكل مرة نصف حبة من بعض الفواكه، لكون بعضهم علّق عتق عبد له على أكل الشيخ منها، وبلغه ذلك، ففعله لما ينشأ منه من فك رقبة مؤمنة، ولعله يتقيأه بعد استقراره، كما فعل الصدّيق رضي الله عنه، إنه لم يغتفر هذا القدر اليسير.وفي كلام الذهبي: أنه ترك جميع الجهات الدنيوية، فلم يكن يتناول من جهة من الجهات درهماً فرداً، وأنه ما أخذ للأشرفية " فيها بلغتي " جامكية بل اشترى بها كتباً ووقفها.وقال ابن دقماق: إنه كان يجمع جامكيته عند الناظر، وكلما صار لح حق سنة اشترى له به ملكاً ويوقفه على دار الحديث، أو كتباً فيوقفها على خزائنها.وقال قاضي صفد العثماني: إنه لم يأخذ معلوماً قط، قال: وباشر مشيخة دار الحديث لمّا تعيّن عليه، فلم يتناول شيئاً من معلومها.وقال غيرهم: إنه لم يتناول منها شيئاً إلا سنة أو سنتين. ولم يسكن قاعة المشيخة بها، بل سكنها غيره " كما قال التقي السبكي "، قال: وفعله حجة، يعني في إعارة المنافع المختصة بالتدريس والمشيخة ونحوهما، وعليه عمل الناس في تسامحهم في ذلك، على أن القفّال أفتى بخلافته، وأقره الشيخ، ولكنه مشي على ما اقتضاه العُرف، ورأى أنه لم يفت به غرض الواقف، ولذا أعارها، انتهى.وكان لا يقبل من أحد شيئاً إلا إن تحقق دينه ومعرفته، ممن ليست له به علقة من إقراء أو انتفاع به، قصداً للخروج من حديث: " إهداء القوس "، وربما أنه كان يرى نشر العلم متعيناً عليه، مع قناعة نفسه وصبرها، والأمور المتعينة لا يجوز أخذ الجزاء عليها، كالقرض الجارِّ إلى منفعة، فإنه حرام باتفاق العلماء.قلت: وحديث القوس المشار إليه روي عن جماعة من الصحابة رضي الله عنهم، منهم أبيّ بن كعب، فأخرجه البيهقي في سننه من طريق عطية بن قيس الكلابي، قال: عَلَّم أبيّ بن كعب رضي الله عنه رجلاً القرآن، فأتى اليمن فأهدى له قوساً، فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم، فقال: " إن أخذتها فخذ بها قوساً من النار "، وقال: إنه منقطع.قلت: وأورده الجوزقاني من طريق عبد الرحمن بن أبي أسلم عن عطية، وقال: عبد الرحمن ضعيف.
'আল-বদর' গ্রন্থে আরও বলা হয়েছে: তিনি প্রচুর ইবাদতকারী ছিলেন। বদর ইবনু জামাআহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁকে তাঁর ঘুম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। জবাবে তিনি বললেন: যখন আমার ওপর ঘুম প্রবল হয়ে আসে, তখন আমি মুহূর্তের জন্য বইয়ের ওপর ঠেস দিই এবং জেগে উঠি। তিনি (অর্থাৎ বদর) বলেন: আমি যখনই তাঁর সাথে দেখা করতে যেতাম, তিনি আমার বসার জন্য জায়গা করে দিতে কিছু বইয়ের ওপর অন্য কিছু বই রাখতেন। সমাপ্ত।আমাদের ফজিলতপূর্ণ সাথী আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মদ ইবনু আবিল ফাতহ আল-বালি আল-হাম্বলি শায়খের জীবদ্দশায় আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক রাতে শেষ প্রহরে আমি দামেস্কের জামে মসজিদে ছিলাম। শায়খ অন্ধকারের মধ্যে একটি খুঁটির সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীটি বারংবার তিলাওয়াত করছিলেন: "আর তোমরা তাদেরকে থামাও, নিশ্চয়ই তারা জিজ্ঞাসিত হবে।" তিনি অত্যন্ত বিষণ্ণতা ও বিনয়ের সাথে এটি বারবার পড়ছিলেন, এমনকি এর ফলে আমার হৃদয়ে এক মহান অবস্থার সৃষ্টি হলো।আমি বলছি: আল-ইয়াফি'য়ি এবং তাজ আল-সুবকি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তিনি আশআরি ছিলেন। আয-যাহাবি তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে বলেছেন যে, শ্রুত গুণাবলি (সিফাত আল-সাময়িয়াহ) এর ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাব ছিল: নীরবতা অবলম্বন করা এবং সেগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই প্রবাহিত হতে দেওয়া। আর হয়তো তিনি 'শারহু মুসলিম'-এ সামান্য ব্যাখ্যা (তাবিল) করেছেন। তিনি এমনই বলেছেন। তবে তাঁর বক্তব্যে ব্যাখ্যা বা তাবিল অনেক রয়েছে। সমাপ্ত।তাঁর পরহেজগারিতা ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনতাঁর পরহেজগারিতা ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের কথা বলতে গেলে বলতে হয় যে, তিনি দামেস্কের কোনো ফল খেতেন না। আমি তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: দামেস্কের অধিকাংশ জমিই ওয়াকফকৃত এবং এমন ব্যক্তিদের মালিকানাধীন যাদের ওপর শরয়িভাবে অভিভাবকত্ব বা নিষেধাজ্ঞা (হাজর) রয়েছে। কেবল লাভ ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে এবং মুসাকাত (ফসল ভাগাভাগি) চুক্তির ভিত্তিতেই এতে হস্তক্ষেপ করা বৈধ। আর এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। যারা এটি বৈধ বলেছেন, তারা ইয়াতিম ও যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে তাদের স্বার্থ ও লাভের শর্তারোপ করেছেন। অথচ মানুষ মালিককে ফলের এক হাজার ভাগের এক ভাগ দিয়ে এ কাজ করে। এমতাবস্থায় আমার মন কীভাবে তৃপ্ত হতে পারে? আমি বলছি: কুতুব আল-ইউনিনিও এই বর্ণনাটি অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেন: এ ছাড়া যারা গাছে কলম দেয়, তারা সাধারণত জোরপূর্বক বা চুরির মাধ্যমে ডাল সংগ্রহ করে। কারণ কেউ সহজে তার গাছের ডাল বিক্রি করতে চায় না এবং এর কোনো প্রচলনও নেই। ফলে সেই কলমের ডালগুলো চুরির মাধ্যমে নেওয়া হয় এবং মানুষের গাছে লাগানো হয়। ফল উৎপন্ন হয় সেই ছিনতাই করা ডালেরই অংশ থেকে, যা মূলত ডালের মালিকের প্রাপ্য, গাছের মালিকের নয়। ফলে এর ক্রয়-বিক্রয় হারাম থেকে যায়। কুতুব-এর বক্তব্য সমাপ্ত।এর পদ্ধতি হলো: তারা গাছের একটি ডাল চিরে তার ভেতরে অন্য গাছের একটি টুকরো ঢুকিয়ে দেয়, তারপর সেটি দড়ি দিয়ে বেঁধে দেয়। খেজুর গাছের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করা হয়।ফল খাওয়া বর্জন করার যে বিষয়টি উপরে বর্ণিত হয়েছে, সেটিই বহুল প্রচলিত বর্ণনা। তবে বর্ণিত আছে—যেমনটি আমার কাছে পৌঁছেছে—যে তিনি একবার একটি ফলের অর্ধেক দানা খেয়েছিলেন। কারণ জনৈক ব্যক্তি শায়খের সেই ফল খাওয়ার ওপর তার দাসের মুক্তি ঝুলিয়ে দিয়েছিল। যখন শায়খের কাছে এ খবর পৌঁছাল, তখন একজন মুমিন ব্যক্তির মুক্তির লক্ষ্যে তিনি তা করলেন। সম্ভবত পাকস্থলীতে স্থির হওয়ার পর তিনি তা বমি করে ফেলে দিয়েছিলেন, যেমনটি সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) করেছিলেন। তিনি সামান্যতম সন্দেহযুক্ত খাবারকেও ক্ষমা করেননি।আয-যাহাবির বক্তব্যে আছে: তিনি সমস্ত দুনিয়াবি পদমর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন। তিনি কোনো উৎস থেকে একটি দিরহামও গ্রহণ করতেন না। তিনি আশরাফিয়া মাদরাসা থেকে—যেমনটি আমার কাছে পৌঁছেছে—কোনো বেতন (জামকিয়াহ) নিতেন না, বরং তা দিয়ে বই কিনে ওয়াকফ করে দিতেন।ইবনু দুকমাক বলেন: তিনি নাযেরের কাছে তাঁর বেতন জমা রাখতেন। যখন এক বছরের পাওনা জমা হতো, তখন তিনি তা দিয়ে কোনো সম্পত্তি কিনতেন এবং তা দারুল হাদিসের নামে ওয়াকফ করে দিতেন, অথবা বই কিনে লাইব্রেরিতে ওয়াকফ করে দিতেন।সাফাদের উসমানি কাজি বলেন: তিনি কখনোই কোনো নির্দিষ্ট বেতন গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন: যখন তাঁর ওপর দারুল হাদিসের প্রধানের দায়িত্ব অর্পিত হলো, তিনি সেই দায়িত্ব পালন করলেন কিন্তু তার নির্ধারিত বেতন থেকে কিছুই গ্রহণ করেননি।অন্যরা বলেন: তিনি সেখান থেকে কেবল এক বা দুই বছর কিছু গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সেখানে প্রধান শিক্ষকের জন্য নির্ধারিত কক্ষে বসবাস করেননি, বরং সেখানে অন্য কেউ থাকতেন—যেমনটি তাক্বি আল-সুবকি বলেছেন। তিনি বলেন: তাঁর এই কাজ একটি দলিল। অর্থাৎ শিক্ষকতা ও প্রধানের দায়িত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধাগুলো অন্যকে ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে। আর এ বিষয়ে মানুষের শিথিলতার ক্ষেত্রেও তাঁর আমল অনুসরণীয়। যদিও আল-কাফফাল এর বিপরীতে ফতোয়া দিয়েছেন এবং শায়খও তা অনুমোদন করেছেন, তবে তিনি প্রথা বা উরফের চাহিদা অনুযায়ী চলেছেন। তিনি মনে করেছেন যে এতে ওয়াকফকারীর উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে না, তাই তিনি তা ধার দিয়েছেন। সমাপ্ত।তিনি কারও কাছ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করতেন না যতক্ষণ না তার দ্বীনদারি ও পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন। বিশেষ করে যার সাথে ছাত্র বা অন্য কোনো স্বার্থের সম্পর্ক নেই। এর উদ্দেশ্য ছিল 'ধনুক উপহার' সংক্রান্ত হাদিসের নিষেধাজ্ঞা থেকে বেঁচে থাকা। সম্ভবত তিনি জ্ঞান প্রচারকে নিজের ওপর ওয়াজিব মনে করতেন এবং তাঁর আত্মা ছিল অল্পেতুষ্ট ও ধৈর্যশীল। আর যা কিছু ওয়াজিব বা আবশ্যক, তার বিনিময়ে কোনো প্রতিদান গ্রহণ করা বৈধ নয়, যেমন মুনাফাযুক্ত ঋণ, যা আলেমদের ঐকমত্যে হারাম।আমি বলছি: উল্লিখিত ধনুকের হাদিসটি সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর একটি জামাত থেকে বর্ণিত হয়েছে, যাঁদের মধ্যে উবাই ইবনু কাবও রয়েছেন। ইমাম বায়হাকি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে আতিয়্যাহ ইবনু কায়েস আল-কিলাবি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: উবাই ইবনু কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জনৈক ব্যক্তিকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছিলেন। এরপর সেই ব্যক্তি ইয়ামান থেকে ফিরে এসে তাঁকে একটি ধনুক উপহার দিল। তিনি বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "তুমি যদি এটি গ্রহণ করো, তবে আগুনের একটি ধনুক গ্রহণ করলে।" বায়হাকি বলেছেন এটি মুনকাতি' (বিচ্ছিন্ন সূত্র)।আমি বলছি: আল-জাওযাকানি এটি আবদুর রহমান ইবনু আবি আসলাম-এর সূত্রে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আবদুর রহমান যয়িফ বা দুর্বল।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহালুল আযবুর রাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومنهم: عبادة بن الصامت، واختلف في سنده، فأخرجه أبو داود، ومن طريقه: البيهقي، في سننيهما، من طريق عبادة بن نُسَيِّ، قال مرة: عن الأسود بن ثعلبة ومرة: عن جنادة بن أبي أمية، كلاهما عن عبادة، قال: علّمت أُناساً من أهل الصُّفَّة: الكتاب والقرآن، فأهدى إليّ رجل منهم قوساً، فقلت: ليست بمال، وأرمي عليها في سبيل الله، لآتين رسول الله صلى الله عليه وسلم فلأسألنه، فأتيته فقلت: يا رسول الله، أهدى رجل إليّ قوساً ممن كنت أعلّمه الكتاب والقرآن، وليست بمال، وأرمي عليها في سبيل الله؟ قال: " إن كنت تحب أن تُطوّق بطوق من نار فاقبلها "، لفظ الأسود. ولفظ جنادة: فقلت: ما ترى فيها يا رسول الله؟ فقال: " جمرة بين كتفيك، تقلدنها أو تعلقنها ".ومنهم: أبو الدرداء، فأخرجه البيهقي من طريق إسماعيل بن عبيد الله، عن أم الدرداء، عن أبي الدرداء رضي الله عنه مرفوعاً: " من أخذ قوساً على تعليم القرآن قلّده الله قوساً من نار "، ونُقل عن بعض الأئمة أنه ليس لها أصل، انتهى.وكنت جالساً بين يديه قبل وفاته بنحو شهرين، فدخل عليه فقير، وقال: الشيخ فلان من بلاد صرخد يسلم عليك، ولقد أرسل لك معي هذا الإبريق، قال: فقبله الشيخ وأمرني بوضعه في بيت حوائجه، فتعجبت من قبوله له، واستشعر بذلك فقال: أرسل إليّ بعض الفقراء نعلاً، وهذا إبريق، وكلاهما آلة السفر.قلت: وفيها أدرجه الذهبي في كلام ابن العطار مما لم أقف عليه في النسخة التي وقفت عليها قال: وعزم عليه الشيخ برهان الدين الاسكندراي، أن يفطر عنده في رمضان، فقال: أحضر الطعام إلى هنا ونفطر جملة، قال ابن العطار: فأفطرنا ثلاثين أو أكثر، على لونين من الطعام، وكان الشيخ في بعض الأوقات يجمع بين إدامين، انتهى.ورأيت رجلاً من أصحابه قشر خيارة ليطعمه إياها، فامتنع من أكلها وقال: أخشى أن ترطب جسمي وتجلب النوم.قلت: ونحوه عدم تعاطيه البلح على عادة الدمشقيين، وكذا الماء المبرد " كما حكاه غير واحد " بل قال الشمس ابن الفخر: إنه قد ترك جميع ملاذ الدنيا من المأكول، إلا ما يأتيه من أبوه من كعك يابس وتين حوراني، والملبس إلا الثياب الرثة المرقعة، ولم يدخل الحمام، وترك الفواكه جميعها.وقال اللخمي: كان أبوه وأمه يرسلان إليه بعض القوت فيأكله، وترسل أمه له القميص ونحوه ليلبسه، ولا يقبل من أحدٍ شيئاً غير أقاربه وبعض أهل الصلاح.ولم يتزوج قط " فيما علمت " لاشتغاله بالعلم والعمل، وكذا جزم بكونه لم يتزوج غير واحد، منهم قاضي صفد.وقال ابن دقماق: إنه كان يأكل من خبز يبعثه له أبوه من نوى، يخبزونه له، ويُسيّرون له ما يكفيه جمعة، فيأكله، ولا يأكل معه سوى لون واحد، إما دبس وإما خل وإما زيت. وأما اللحم ففي كل شهر مرة، ولا يكاد يجمع بين لونين من إدام بداً.وقال الكمال الإدفوي في " البدر السافر ": إنه كان لا يجمع بين إدامين، ولا يأكل اللحم إلا عندما يتوجه لنوى، انتهى.وقلع ثوبه ففلاه بعض الطلبة، وكان فيه قمل، فنهاه، وقال: دعه. وذكر لي العلاّمة رشيد الدين إسماعيل بن المعلم الحنفي قال: عذلته في عدم دخول الحمام، وتضييق عيشه في أكله ولباسه وجميع أحواله، وقلت له: أخشى عليك مرضاً يعطلك عن أشياء أفضل مما تقصده، قال: فقال لي: إن فلاناً صام وعبد الله تعالى حتى اختصر عظمه. قال: فعرفت إنه ليس له غرض في المقام في دارنا، ولا الالتفات لما نحن فيه.قلت: وقال الذهبي في " سير النبلاء ": كان عديم الميرة والرفاهية والتنعم، مع التقوى والقناعة والورع الثخين، والمراقبة لله في السر والعلانية، وترك رعونات النفس، من ثياب حسنة وأكل طيب وتجمّل في هيئة، بل طعامه جلْف الخبز بأيسر إدام، ولباسه ثوب خام وشيخنانية لطيفة ووصفه بأنه كان أسمر، كثّ اللحية، ربعةً مهيباً، قليل الضحك، عديم اللعب، بل هو جِدٌّ صرف، يقول الحق وإن كان مُرّاً، لا يخاف في الله لومة لائم.وقال في " تاريخ الإسلام ": وكان في ملبسه مثل آحاد الفقهاء من الحورانية لا يؤلبه له، عليه شيخنانية صغيرة. ووصفه بأن لحيته كانت سوداء فيها شعرات بيض، وعليه هيبة وسكينة.
তাদের মধ্যে রয়েছেন উবাদাহ বিন আস-সামিত। এর সনদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। আবু দাউদ এবং তাঁর সূত্রে বায়হাকী তাঁদের সুনান গ্রন্থে উবাদাহ বিন নুসাই-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি একবার আসওয়াদ বিন সালাবাহ থেকে এবং অন্যবার জুনাদাহ বিন আবি উমাইয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই উবাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি আহলে সুফফার কিছু লোককে লিখন পদ্ধতি ও কুরআন শিখিয়েছিলাম। তাঁদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আমাকে একটি ধনুক উপহার দিল। আমি বললাম: এটি তো কোনো অর্থসম্পদ নয়, আর আমি আল্লাহর পথে এটি দিয়ে তীর নিক্ষেপ করব। আমি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করব। অতঃপর আমি তাঁর কাছে এসে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি যাদেরকে লিখন পদ্ধতি ও কুরআন শিখিয়েছি, তাঁদের মধ্যে এক ব্যক্তি আমাকে একটি ধনুক উপহার দিয়েছে। এটি কোনো অর্থসম্পদ নয় এবং আমি এটি দিয়ে আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করব। তিনি বললেন: "যদি তুমি আগুনের বেড়ি দ্বারা গলায় মালা পরানো পছন্দ করো, তবে এটি গ্রহণ করো।" এটি আসওয়াদের শব্দ। আর জুনাদাহর শব্দ হলো: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: "এটি তোমার দুই কাঁধের মধ্যবর্তী একটি আগুনের ফুলকি, যা তুমি হার হিসেবে ধারণ করছ অথবা লটকাচ্ছ।"তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু আদ-দারদা। বায়হাকী এটি ইসমাইল বিন উবায়দুল্লাহর সূত্রে উম্মুদ দারদা থেকে, তিনি আবু আদ-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে ধনুক গ্রহণ করল, আল্লাহ তাকে আগুনের ধনুক দিয়ে কণ্ঠহার পরিয়ে দেবেন।" কোনো কোনো ইমাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এর কোনো ভিত্তি নেই। সমাপ্ত।তাঁর ইন্তিকালের প্রায় দুই মাস পূর্বে আমি তাঁর সামনে বসা ছিলাম। তখন তাঁর কাছে এক দরিদ্র ব্যক্তি প্রবেশ করল এবং বলল: সরখাদ শহর থেকে অমুক শেখ আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং তিনি আপনার জন্য আমার হাতে এই পানির পাত্রটি (ইবরিক) পাঠিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন: শেখ সেটি গ্রহণ করলেন এবং আমাকে তাঁর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঘরে রাখার নির্দেশ দিলেন। তাঁর এটি গ্রহণের বিষয়টি দেখে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম। তিনি সেটি বুঝতে পেরে বললেন: এক দরিদ্র ব্যক্তি আমার কাছে একটি জুতা পাঠিয়েছে এবং এটি একটি পানির পাত্র; উভয়ই সফরের সরঞ্জাম।আমি বলি: এতে আয-যাহাবী ইবনুল আত্তারের বক্তব্য থেকে এমন কিছু অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা আমি আমার হস্তগত পাণ্ডুলিপিতে পাইনি। তিনি বলেন: শেখ বুরহানুদ্দিন আল-ইসকান্দারানী রমজান মাসে তাঁর নিকট ইফতার করার জন্য শেখকে অনুরোধ করেছিলেন। তখন তিনি (শেখ) বললেন: খাবার এখানেই নিয়ে আসুন, আমরা সকলে একসাথে ইফতার করব। ইবনুল আত্তার বলেন: আমরা ত্রিশ জন বা তারও বেশি লোক দুই প্রকারের খাবার দিয়ে ইফতার করতাম। কোনো কোনো সময় শেখ দুটি ব্যঞ্জন বা তরকারি একত্রে খেতেন। সমাপ্ত।আমি তাঁর এক সঙ্গীকে দেখলাম যে তিনি শেখকে খাওয়ানোর জন্য একটি শসা ছিলে দিলেন। তিনি সেটি খেতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন: আমি আশঙ্কা করছি এটি আমার শরীরকে শিথিল করে দেবে এবং ঘুম নিয়ে আসবে।আমি বলি: অনুরূপভাবে দামেস্কবাসীদের প্রথা অনুযায়ী তাঁর খেজুর না খাওয়া এবং শীতল পানি পান না করাও উল্লেখযোগ্য, যা একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন। বরং শামসুদ্দিন ইবনুল ফখর বলেছেন: তিনি রুটি ও হওরানের শুকনো ডুমুর ছাড়া দুনিয়ার সকল স্বাদ-আহ্লাদ ত্যাগ করেছিলেন। পোশাকের ক্ষেত্রে জীর্ণ ও তালিযুক্ত কাপড় ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতেন না। তিনি কখনো হাম্মামে (গোসলখানা) প্রবেশ করেননি এবং সকল প্রকার ফলমূল বর্জন করেছিলেন।আল-লাখমি বলেন: তাঁর পিতা ও মাতা তাঁর নিকট কিছু খাদ্য পাঠাতেন এবং তিনি তা খেতেন। তাঁর মা তাঁর জন্য জামা ইত্যাদি পাঠাতেন পরিধান করার জন্য। তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন এবং কতিপয় পুণ্যবান ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করতেন না।আমার জানামতে তিনি কখনো বিবাহ করেননি। ইলম ও আমলে মশগুল থাকার কারণেই এমনটি হয়েছিল। অনুরূপভাবে সাফাদের কাজীসহ একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন যে তিনি বিবাহ করেননি।ইবনু দুকমাক বলেন: তিনি তাঁর পিতার পাঠানো নওয়া এলাকার রুটি খেতেন, যা তাঁরা তাঁর জন্য তৈরি করতেন। তাঁরা তাঁর নিকট এক সপ্তাহের পর্যাপ্ত রুটি পাঠিয়ে দিতেন এবং তিনি তা খেতেন। তিনি এর সাথে কেবল এক প্রকারের ব্যঞ্জন খেতেন; হয় নলেন গুড় (দাবস), না হয় সিরকা, নতুবা জয়তুনের তেল। আর মাংস খেতেন মাসে একবার। তিনি কখনো একসাথে দুই প্রকারের ব্যঞ্জন বা তরকারি খেতেন না।কামাল আল-ইদফুই তাঁর "আল-বাদরুস সাফির" গ্রন্থে বলেছেন: তিনি দুই প্রকারের তরকারি একত্রে খেতেন না এবং যখন তিনি নওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতেন কেবল তখনই মাংস খেতেন। সমাপ্ত।তিনি তাঁর পোশাক খুললে জনৈক ছাত্র তাতে উকুন খুঁজছিল। তখন তিনি তাকে নিষেধ করলেন এবং বললেন: ওকে ওর অবস্থায় ছেড়ে দাও। আল্লামা রাশিদুদ্দিন ইসমাইল বিন আল-মুয়াল্লিম আল-হানাফী আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি বলেন: আমি তাঁকে হাম্মামে না যাওয়া এবং তাঁর আহার, পোশাক ও সার্বিক অবস্থায় জীবনযাত্রার অতিসংকোচনের জন্য তিরস্কার করেছিলাম। আমি তাঁকে বললাম: আমি আপনার ব্যাপারে এমন রোগের আশঙ্কা করছি যা আপনাকে আপনার উদ্দিষ্ট লক্ষ্যের চেয়েও উত্তম কাজ থেকে বিরত করে দেবে। তিনি বলেন: তখন শেখ আমাকে বললেন: অমুক ব্যক্তি সিয়াম পালন করেছেন এবং আল্লাহর ইবাদত করেছেন এমনকি তাঁর হাড়গুলোও সংকুচিত হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন: তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, আমাদের এই পার্থিব আবাসে অবস্থান করা বা আমরা যে অবস্থার মধ্যে আছি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর নেই।আমি বলি: আয-যাহাবী "সিয়ারু নুবালা" গ্রন্থে বলেছেন: তিনি ভোগবিলাস ও আরাম-আয়েশহীন জীবন যাপন করতেন। এর সাথে ছিল তাকওয়া, অল্পেতুষ্টি, গভীর পরহেজগারী এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর পর্যবেক্ষণ (মুরাকাবা)। তিনি নফসের কামনা-বাসনা যথা: সুন্দর পোশাক, উত্তম খাবার ও বাহ্যিক সৌন্দর্য বর্জন করেছিলেন। বরং তাঁর খাদ্য ছিল সামান্য তরকারিসহ মোটা রুটি। তাঁর পোশাক ছিল মোটা কাপড়ের জামা এবং সাধারণ ছোট টুপি (শাইখনানিয়াহ)। তিনি তাঁর দৈহিক বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন যে, তিনি ছিলেন শ্যামবর্ণের, ঘন দাড়িবিশিষ্ট, মাঝারি গড়নের এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তিনি খুব কম হাসতেন, কৌতুক বা অহেতুক কাজ করতেন না। বরং তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ গম্ভীর প্রকৃতির। তিনি সত্য কথা বলতেন যদিও তা তিক্ত হতো। আল্লাহর পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় পেতেন না।তিনি "তারিখুল ইসলাম" গ্রন্থে বলেছেন: পোশাকের ক্ষেত্রে তিনি হওরানের সাধারণ ফকিহদের মতো ছিলেন, যাঁরা জাঁকজমকের তোয়াক্কা করেন না। তাঁর মাথায় একটি ছোট শাইখনানিয়াহ টুপি থাকত। তিনি তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন যে, তাঁর দাড়ি ছিল কালো এবং তাতে কিছু সাদা চুল ছিল। তাঁর ওপর গাম্ভীর্য ও প্রশান্তি বিরাজ করত।