(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: -)
متطلبات المحافظة على نعمة الأمن والاستقرار   (سليمان الحقيل)

القسم: كتب عامة


الكتاب: متطلبات المحافظة على نعمة الأمن والاستقرار في بلادنا

المؤلف: سليمان بن عبد الرحمن الحقيل

الناشر: -

الطبعة: الأولى، 1418هـ - 1997م

عدد الصفحات: 146

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আমাদের দেশে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নেয়ামত রক্ষার আবশ্যকতা   (সুলাইমান আল-হুকাইল)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: আমাদের দেশে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নেয়ামত রক্ষার আবশ্যকতা

লেখক: সুলাইমান বিন আব্দুল রহমান আল-হুকাইল

প্রকাশক: -

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৮ হি. - ১৯৯৭ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৬

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: -)
‌‌[تقديم معالي الشيخ عبد العزيز بن عبد المحسن التويجري]

متطلبات المحافظة على نعمة الأمن والاستقرار تقديم بقلم معالي الشيخ عبد العزيز بن عبد المحسن التويجري

بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين،، وبعد: - فقد طلب إلي الأخ الدكتور سليمان بن عبد الرحمن الحقيل أن أقدم لمؤلفه القيم (متطلبات المحافظة على نعمة الأمن) ، وأن أعطي رأيي فيه فقدرت أن الأخ سليمان قد اختار لمؤلفه موضوعا هاما لا تأمن الحياة وتنمو وتتطور إلا به وبنعمته، ألا وهو الأمن. فأغراني هذا الاختيار أن أقرأ الكتاب لعلي أضيف إلى معلوماتي عن الأمن واهتمامي به شيئا جديدا.

فمجتمع غير آمن على نفسه ومسجده وبيته وأولاده ومصدر رزقه ومدرسته، لا تستطيع التصورات والكلمات أن تصف لقارئ آمن على هذه الفضائل الكبرى والنعم ما عليه هذا المجتمع الآخر الذي فقد أمنه واستقراره، من معاناة وخوف وقلق ورعب جعلوا حياته عرضة للوحوش الكاسرة.

مثل هذا الواقع عاشه المواطن في هذا البلد الآمن في الماضي وعاشه حاج البلاد العربية والإسلامية، قبل الدولة السعودية، فلنا تجربة مع الأمن موسعة بحكم مقدسات المسلمين التي تهفوا إليها قلوب المسلمين في الأرض جميعهم.

هذه التجربة مكانها في بطون التاريخ، وصفها من شهدها وعاناها وصفا تشمئز منه النفوس قبل الدولة السعودية. ومن أراد الاطلاع عليها فليراجع كتاب المؤرخ المصري الجبرتي عجائب الآثار في التراجم والأخبار، أو ليراجع كتاب المؤرخ الدمشقي أحمد البديري حوادث دمشق اليومية، أو يراجع قصيدة أحمد شوقي " ضج الحجيج " في ديوانه والتي مطلعها:

ضج الحجاز وضج البيت والحرم … واستصرخت ربها في مكة الأمم

أفي الضحى ، وعيون الجند ناظرة … تسبى النساء ويؤذى الأهل والحشم

ويسفك الدم في أرض مقدسة … وتستباح بها الأعراض والحرم

!! وكذا يراجع كل ما كتب عن فقدان الأمن في الجزيرة العربية لمؤرخين سعوديين، وغير سعوديين.

وليترحم على الملك عبد العزيز رحمه الله فلقد كان الذراع القوية في الحق، التي وضعت أخيرا حدا لتلك الفوضى التي تكدر الأمن، وتقطع الطرق، وتخيف ابن السبيل، فالملك عبد العزيز- غفر الله له - هو ابن الدولة السعودية الأولى والثانية وموحد الدولة الثالثة. وقاطع يد اللصوصية بالأمن والعدل وتطبيق الشريعة الإسلامية.

ومما أثار عندي تساؤلات كثيرة: كيف كانت رؤية الأخ سليمان للسبل الكثيرة التي تلتقي عند نعمة الأمن؟ ولأول وهلة قابلني مؤلف هذا الكتاب بالجواب عن تساؤلاتي، وهو ظاعن وراء تجربة الإنسان مع الأمن والخوف في شبه الجزيرة العربية. وكان قلمه في ظعنه مدلجا وراء شواهد وحقائق من القرآن الكريم والسنة النبوية الشريفة كلها تلتقي عند نعمة الأمن وفضائله.

ولا أتصور أن إنسانا سيقرأ هذا الكتاب إلا ويحمد الله على هذه النعم الكبرى التي تعيشها بلادنا اليوم، أمنا ورخاء ووحدة آخت بين المسلمين على شريعة الله. ومن البدهيات أن حياة دون أمن تحسب على الضياع والآفات الخلقية والاجتماعية، ولا يعرف فضائل الأمن ويدركها غير من اكتوى بنار الفوضى والرعب. ومع الأسف أننا نرى كثيرا من الشعوب تصاب بفقدان الذاكرة وتنسى نعمة الأمن، فلا تستيقظ عليها إلا بعد أن تدمر ذاتها وتظل متحسرة على ما جنت يداها بعد فوات الأوان!

ومن هنا رأينا المؤلف يركز على نعمة الأمن التي يعيشها المجتمع السعودي اليوم. ولا شك أن الكتاب تعليمي وتثقيفي بل وتذكير وتنبيه من الغفلة عن نعمة الأمن وتفيؤ ظلالها بالشكر والحمد.

شاكرا لأخي سليمان حسن ظنه بي، راجيا له التوفيق ومزيدا من العطاء.

والله ولي التوفيق والهادي إلى سبل الخير،، عبد العزيز بن عبد المحسن التويجري
‌[মহামান্য শাইখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল মুহসিন আত-তুওয়াইজরি-এর উপস্থাপনা]

নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নেয়ামত সংরক্ষণের আবশ্যকতা: মহামান্য শাইখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল মুহসিন আত-তুওয়াইজরি-এর কলমে একটি উপস্থাপনা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। অত:পর: ভাই ড. সুলাইমান বিন আবদুর রহমান আল-হুকাইল আমাকে তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ 'নিরাপত্তার নেয়ামত সংরক্ষণের আবশ্যকতা' এর একটি উপস্থাপনা লিখে দিতে এবং সে সম্পর্কে আমার মতামত ব্যক্ত করতে অনুরোধ করেছেন। আমি অনুধাবন করেছি যে, ভাই সুলাইমান তাঁর গ্রন্থের জন্য এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্বাচন করেছেন, যা ব্যতীত জীবন নিরাপদ হতে পারে না এবং যার নেয়ামত ছাড়া জীবনের সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন সম্ভব নয়; আর তা হলো ‘নিরাপত্তা’। এই বিষয়টি আমাকে বইটি পড়তে প্রলুব্ধ করেছে, যাতে নিরাপত্তা বিষয়ে আমার জ্ঞান ও আগ্রহে নতুন কিছু যোগ করতে পারি।

নিজেদের জীবন, মসজিদ, ঘরবাড়ি, সন্তানাদি, জীবিকার উৎস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে যে সমাজ নিরাপদ নয়, সেই সমাজের ভয়াবহতা এমন কোনো পাঠককে শব্দ বা ভাবনার মাধ্যমে বর্ণনা করা সম্ভব নয় যে এই মহান মর্যাদা ও নেয়ামতগুলোর মাঝে নিরাপদে আছে। যে সমাজ তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হারিয়েছে, তাদের ভোগান্তি, ভয়, উদ্বেগ ও আতঙ্ক তাদের জীবনকে হিংস্র পশুর কবলে ঠেলে দিয়েছে।

সাউদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বে এই নিরাপদ ভূখণ্ডের অধিবাসী এবং আরব ও ইসলামি দেশগুলো থেকে আগত হাজিগণ অতীতে এই বাস্তবতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। নিরাপত্তার ব্যাপারে আমাদের এক বিস্তৃত অভিজ্ঞতা রয়েছে, কারণ আমরা মুসলিমদের পবিত্র স্থানসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ করি যার দিকে সমগ্র বিশ্বের মুসলিমদের অন্তর ধাবিত হয়।

এই অভিজ্ঞতার বিবরণ ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ আছে। যারা সাউদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বের সেই পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং কষ্ট সহ্য করেছেন, তারা এমন বর্ণনা দিয়েছেন যা শুনলে অন্তর শিউরে ওঠে। এ সম্পর্কে কেউ জানতে চাইলে মিসরীয় ঐতিহাসিক আল-জাবারতির 'আজায়িবুল আসার ফিত তারাজিম ওয়াল আখবার' অথবা দামেস্কের ঐতিহাসিক আহমদ আল-বুদাইরির 'হাওয়াদ্দিসু দিমাসক আল-ইয়াউমিয়্যাহ' বইটি দেখতে পারেন। অথবা আহমদ শাওকির দিওয়ানে থাকা ‘দাজ্জাল হাজিজ’ কবিতাটি পড়তে পারেন যার শুরুর পঙক্তি হলো:

হিজাজ আর্তনাদ করল, আর্তনাদ করল বায়তুল্লাহ ও হারাম শরিফ … আর মক্কায় জাতিসমূহ তাদের রবের কাছে ফরিয়াদ জানাল।

দিনের আলোতে যখন প্রহরীদের চোখ তাকিয়ে আছে … তখন নারীদের বন্দি করা হচ্ছিল এবং পরিবার-পরিজন ও অনুসারীদের কষ্ট দেওয়া হচ্ছিল।

পবিত্র ভূমিতে রক্ত প্রবাহিত করা হচ্ছিল … এবং সেখানে মান-সম্মান ও পবিত্রতা লুণ্ঠিত হচ্ছিল।

!! অনুরূপভাবে, আরব উপদ্বীপে নিরাপত্তা হীনতা নিয়ে সাউদি ও অ-সাউদি ঐতিহাসিকদের লেখাগুলো পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

আল্লাহ তাআলা মালিক আবদুল আজিজকে রহমত দান করুন; তিনি হকের পথে এক শক্তিশালী হাত ছিলেন, যিনি পরিশেষে সেই বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটিয়েছেন যা নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছিল, পথিমধ্যে ডাকাতি করছিল এবং পথচারীদের আতঙ্কিত করছিল। মালিক আবদুল আজিজ—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—তিনি ছিলেন প্রথম ও দ্বিতীয় সাউদি রাষ্ট্রের সন্তান এবং তৃতীয় সাউদি রাষ্ট্রের ঐক্যবদ্ধকারী। তিনি নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং ইসলামি শরীয়াহ প্রয়োগের মাধ্যমে দস্যুতার হাত কর্তন করেছেন।

আমার মনে অনেক প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছিল: নিরাপত্তার নেয়ামতের সাথে যুক্ত বহুমুখী পথগুলো নিয়ে ভাই সুলাইমানের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন ছিল? প্রথম দর্শনেই এই গ্রন্থের লেখক আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরব উপদ্বীপে মানুষের নিরাপত্তা ও ভয়ের অভিজ্ঞতার পেছনে দৃষ্টিপাত করেছেন। তাঁর কলম কুরআনুল কারিম এবং পবিত্র সুন্নাহ (السنة) থেকে প্রাপ্ত প্রমাণ (شواهد) ও বাস্তবতার সন্ধানে ক্ষিপ্র ছিল, যা মূলত নিরাপত্তার নেয়ামত ও এর শ্রেষ্ঠত্বের দিকেই ধাবিত হয়।

আমি কল্পনা করতে পারি না যে, কোনো মানুষ এই বইটি পড়বে অথচ সে আজ আমাদের দেশ যে নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি ও ঐক্য উপভোগ করছে এবং আল্লাহর শরীয়াহর ভিত্তিতে মুসলিমদের মাঝে যে ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করবে না। এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, নিরাপত্তাহীন জীবন মানেই পথভ্রষ্টতা এবং চারিত্রিক ও সামাজিক অবক্ষয়। বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের আগুনে যারা পুড়েছে, তারা ছাড়া নিরাপত্তার মর্যাদা অন্য কেউ সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারে না। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, আমরা অনেক জাতিকে দেখি যারা স্মৃতিভ্রষ্টতায় আক্রান্ত হয় এবং নিরাপত্তার নেয়ামতের কথা ভুলে যায়; আর যখন তারা নিজেদের ধ্বংস করে ফেলে এবং সময় পার হয়ে যাওয়ার পর নিজেদের কর্মের জন্য আফসোস করতে থাকে, তখনই কেবল তাদের চেতনা ফিরে আসে!

এ কারণেই আমরা দেখেছি যে, লেখক বর্তমান সাউদি সমাজের নিরাপত্তার নেয়ামতের ওপর আলোকপাত করেছেন। নিঃসন্দেহে বইটি শিক্ষামূলক ও জ্ঞানগর্ভ, বরং এটি নিরাপত্তার নেয়ামত সম্পর্কে উদাসীনতা থেকে একটি সতর্কবার্তা এবং শোকর ও প্রশংসার মাধ্যমে সেই নিরাপত্তার ছায়াতলে অবস্থানের একটি আহ্বান।

আমার প্রতি সুধারণা পোষণ করার জন্য ভাই সুলাইমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং তাঁর সাফল্য ও উত্তরোত্তর জ্ঞান অন্বেষণের তাওফিক কামনা করছি।

আল্লাহই তাওফিক দানকারী এবং কল্যাণের পথে হেদায়াতকারী। আবদুল আজিজ বিন আবদুল মুহসিন আত-তুওয়াইজরি
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[المقدمة]

بسم الله الرحمن الرحيم

المقدمة الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

وبعد: ففي هذا العالم الذي يموج بالفتن والقلاقل وتجتاحه الحروب والمجاعات، وتتهدد الإنسانية فيه مخاوف الجوع واليأس والقلق، تعيش المملكة العربية السعودية في عهد رخاء وأمن واستقرار، وتقدم يشهد به كل منصف.

وكما هو معروف تاريخيا فإن بلادنا قبل أن يوحدها المصلح العظيم الملك عبد العزيز بن عبد الرحمن آل سعود - طيب الله ثراه - كانت مسبعة بشرية، ممزقة سياسيا وجغرافيا واجتماعيا، وأمنيا، عاش الناس فيها غير آمنين على أنفسهم وأموالهم وأعراضهم، حتى شاء الله - جل وعلا - أن تتوحد بلادنا على يد الملك عبد العزيز بن عبد الرحمن آل سعود - طيب الله ثراه - وتصبح واحة آمنة.

لقد كان توطيد الأمن وتثبيته من أول الأمور التي اهتم بها الملك عبد العزيز - طيب الله ثراه - منذ ولي هذه البلاد، يقول رحمه الله في هذا الصدد: " إن البلاد لا يصلحها غير الأمن والسكون؛ لذلك طلب من الجميع أن يخلدوا للراحة والطمأنينة، وإني أحذر الجميع من نزعات الشياطين والاسترسال وراء الأهواء التي ينتج عنه إفساد الأمن في هذه الديار، فإنني لا أراعي في هذا الباب صغيرا ولا كبيرا، وليحذر كل إنسان
[ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা: সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাথীদের ওপর।

অতঃপর: বর্তমান এই পৃথিবীতে যা ফিতনা (فتنة) ও বিশৃঙ্খলায় টালমাটাল এবং যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষে বিধ্বস্ত, যেখানে ক্ষুধা, হতাশা ও উদ্বেগ মানবতাকে হুমকির মুখে ফেলছে, সেখানে সৌদি আরব রাজতন্ত্র এক সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার যুগে বসবাস করছে এবং এমন এক অগ্রগতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যার সাক্ষ্য প্রতিটি ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি প্রদান করেন।

ঐতিহাসিকভাবে যেমনটি সুপরিচিত যে, মহান সংস্কারক বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল রহমান আল সৌদ—আল্লাহ তাঁর কবরকে সুগন্ধিময় করুন—কর্তৃক আমাদের এই ভূখণ্ড ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পূর্বে এটি ছিল এক হিংস্র পশুর চারণভূমি সদৃশ অরাজক জনপদ; যা রাজনৈতিক, ভৌগোলিক, সামাজিক ও নিরাপত্তা বিচারে ছিল ছিন্নভিন্ন। মানুষ সেখানে তাদের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের ব্যাপারে নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করত। অবশেষে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা-র ইচ্ছায় বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল রহমান আল সৌদ—আল্লাহ তাঁর কবরকে সুগন্ধিময় করুন—এর হাতে আমাদের দেশ ঐক্যবদ্ধ হয় এবং একটি নিরাপদ মরুদ্যানে পরিণত হয়।

নিরাপত্তা সুসংহত ও সুদৃঢ় করা ছিল অন্যতম প্রথম বিষয় যেদিকে বাদশাহ আব্দুল আজিজ—আল্লাহ তাঁর কবরকে সুগন্ধিময় করুন—এই ভূখণ্ডের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে মনোযোগ দিয়েছিলেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এ প্রসঙ্গে বলেন: "নিশ্চয়ই নিরাপত্তা ও প্রশান্তি ব্যতীত দেশ সংশোধিত হয় না; তাই আমি সকলের কাছে অনুরোধ করছি তারা যেন স্বস্তি ও নিশ্চিন্ততাকে আঁকড়ে ধরে। আমি সবাইকে শয়তানের কুমন্ত্রণা এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে সতর্ক করছি, যার ফলে এই জনপদে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। নিশ্চয়ই আমি এই বিষয়ে ছোট বা বড় কাউকেই ছাড় দেব না, অতএব প্রতিটি মানুষের সতর্ক থাকা উচিত..."
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ৬)
أن تكون العبرة فيه لغيره " (1) ويقول أيضا: " لقد أمنت الطريق، وضربت على يد الظالم، وأقمت شرع الله في جميع أنحاء المملكة " (2) ويقول " إنني قطعت دابر الأشقياء والمفسدين وحقنت دماء أهلية، وبسطت أروقة الراحة وساد الأمن في الحجاز " (3) .

وكما اهتم الملك عبد العزيز - طيب الله ثراه - بأمن واستقرار بلادنا، فقد اهتم أبناؤه من بعده بالأمن والاستقرار وطوروا أجهزة الأمن بما يتفق وذاتية الأمة أولا وروح العصر، ثانيا حتى أصبحت المملكة العربية السعودية بفضل الله وكرمه واحة أمن وارفة الظلال يشهد بقوة الأمن فيها العدو قبل الصديق.

لقد امتد الأمن ليشمل جميع مظاهر الحياة في المجتمع السعودي المسلم، لقد استطاعت بلادنا بفضل الله ثم بفضل هذا الأمن والاستقرار الذي تحقق على أيدي ولاة أمرها، أن توجه إمكانياتها الهائلة إلى البناء الشامل للإنسان السعودي.

ويبقى السؤال الكبير وهو: كيف نحافظ على نعمة الأمن والاستقرار التي نعيشها، والتي يحاول الحاقدون الحاسدون والغابطون سلبنا إياها؟

محتويات هذا الكتاب والتي تتضمن خمسة عشر مطلبا من مطالب المحافظة على نعمة الأمن والاستقرار في بلادنا محاولة جادة للإجابة بصدق وأمانة على السؤال آنف الذكر.

--------------------------------------------

(1) خير الدين الزركلي، شبه جريرة العرب في عهد الملك عبد العزيز ج 1، بيروت، 1390هـ، ص 351.

(2) محيى الدين القابسي، المصحف والسيف، الرياض، المطابع الأهلية، بدون تاريخ، ص 111.

(3) نفس المصدر السابق.

"যাতে তা অন্যদের জন্য শিক্ষণীয় (عبرة) হয়" (১) তিনি আরও বলেন: "আমি পথ নিরাপদ করেছি, জালেমের হাত প্রতিহত করেছি এবং রাজ্যের সমস্ত প্রান্তে আল্লাহর বিধান (شرع الله) প্রতিষ্ঠা করেছি" (২) এবং তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আমি দুষ্কৃতকারী ও ফাসাদকারীদের মূল নির্মূল করেছি, জনগণের রক্ত রক্ষা করেছি, আরাম-আয়েশের আঙিনা প্রসারিত করেছি এবং হিজাজে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে" (৩)।

বাদশাহ আব্দুল আজিজ—আল্লাহ তাঁর কবরকে সুগন্ধিময় করুন—যেমন আমাদের দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন, তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর সন্তানগণও একইভাবে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি যত্নশীল হয়েছেন। তারা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে এমনভাবে উন্নত করেছেন যা প্রথমত জাতির স্বকীয়তা এবং দ্বিতীয়ত যুগের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; ফলে সৌদি আরব রাজ্য আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় নিরাপত্তার এক সুশীতল মরূদ্যানে পরিণত হয়েছে, যেখানে বন্ধুর পাশাপাশি শত্রুরাও এর নিরাপত্তার শক্তির সাক্ষ্য দেয়।

এই নিরাপত্তা সৌদি মুসলিম সমাজের জীবনের সকল ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। আমাদের দেশ আল্লাহর অনুগ্রহে এবং পরবর্তীতে এই নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার কল্যাণে—যা এর শাসকবর্গের হাত ধরে অর্জিত হয়েছে—তার বিশাল সক্ষমতাকে সৌদি জনগণের সর্বাঙ্গীণ গঠনে নিয়োজিত করতে সক্ষম হয়েছে।

এখন বড় প্রশ্নটি হলো: আমরা কীভাবে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার এই নেয়ামত রক্ষা করব যা আমরা বর্তমানে উপভোগ করছি, এবং যা বিদ্বেষপরায়ণ ও ঈর্ষান্বিত ব্যক্তিরা আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চায়?

এই বইয়ের বিষয়বস্তু, যাতে আমাদের দেশে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নেয়ামত রক্ষার পনেরটি দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা উল্লিখিত প্রশ্নের একটি আন্তরিক ও বিশ্বস্ত উত্তরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা মাত্র।

--------------------------------------------

(১) খায়রুদ্দিন আল-জিরিকলি, শিবহুল জাজিরাতিল আরাবিয়া ফি আহদিল মালিক আব্দুল আজিজ, খণ্ড ১, বৈরুত, ১৩৯০ হিজরি, পৃ. ৩৫১।

(২) মুহিউদ্দিন আল-কাবিসি, আল-মুসহাফ ওয়াস সাইফ, রিয়াদ, আল-মাতাবি আল-আহলিয়্যাহ, তারিখবিহীন, পৃ. ১১১।

(৩) পূর্বোক্ত একই উৎস।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ৭)
أرجو من الله جل وعلا أن يجعل عملي هذا خالصا لوجهه الكريم، كما أرجو أن أكون بهذا الجهد قد ساهمت بما يجب المساهمة به في هذه الظروف في سبيل توعية المواطن السعودي بشكل عام والشباب بشكل خاص بما يجب عليهم في سبيل المحافظة على أمن واستقرار بلادهم، والله الموفق والهادي إلى سواء السبيل، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

الأستاذ الدكتور سليمان بن عبد الرحمن الحقيل

 

‌‌[المطلب الأول التمسك بتطبيق الشريعة الإسلامية والمحافظة على مقاصدها] وإقامة حدودها
আমি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কাজটিকে কেবলমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন। আমি আরও আশা করি যে, এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমি বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি নাগরিকদের সাধারণভাবে এবং বিশেষভাবে যুবসমাজকে তাদের দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে তাদের আবশ্যিক দায়িত্বসমূহ সম্পর্কে সচেতন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অবদান রাখতে পেরেছি। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

প্রফেসর ডক্টর সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান আল-হাকিল

 

‌‌[প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামি শরিয়াহর প্রয়োগের ওপর অবিচল থাকা এবং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ সংরক্ষণ করা] এবং এর দণ্ডবিধি কায়েম করা।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ৯)
المطلب الأول

التمسك بتطبيق الشريعة الإسلامية

والمحافظة على مقاصدها وإقامة حدودها

وعدم الالتفات لما يثار من شبهات حول تطبيقها

باسم حقوق الإنسان
প্রথম পরিচ্ছেদ

ইসলামী শরীয়াহ বাস্তবায়নে অবিচল থাকা

এর উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) সংরক্ষণ করা এবং এর দণ্ডবিধি (حدود) কার্যকর করা

এবং এর প্রয়োগ সম্পর্কে উত্থাপিত সংশয়সমূহের (شبهات) প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করা

মানবাধিকারের নামে
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ১১)
من أهم الضمانات اللازمة للمحافظة على نعمة الأمن والاستقرار التي نعيشها التمسك بتطبيق الشريعة الإسلامية، والمحافظة على مقاصدها وتطبيق حدودها.

لقد كان تطبيق الشريعة الإسلامية والمحافظة على مقاصدها هو العامل الحاسم الذي اعتمد عليه الملك عبد العزيز بن عبد الرحمن آل سعود - طيب الله ثراه - في تحقيق وحدة هذه البلاد، وتثبيت دعائم الأمن والاستقرار فيها، ونحن نرى أن هذا العامل كان وما زال وسيبقى هو العامل الحاسم، وأنه هو أساس الأسس التي يقام عليها نظام الحكم في المملكة العربية السعودية.

ونود أن نوضح هنا أن بعض مأجوري الأقلام ومحترفي الإشاعات يتهموننا بالقسوة في المملكة العربية السعودية؛ لأننا نرجم الزاني المحصن ونجلد الزاني غير المحصن، ونقتل القاتل عمدا، ونقطع يد السارق متى انطبقت عليه الشروط، ونطبق على البغاة والمفسدين في الأرض أحكام الله. . وفات مأجوري الأقلام ومحترفي الإشاعات أن ما نعمله هو تنفيذ لأمر الله الذي خلق الخلق وهو سبحانه وتعالى أعلم وأدرى بمصالحهم، وبسبب المحافظة على مقاصد الشريعة؛ عشنا فيما نحن فيه من أمن واستقرار وتقدم ورخاء، وفات هؤلاء أن ما تعانيه كثير من الأمم الشرقية والغربية من مشكلات الأمن والقلق الاجتماعي والضائقة الاقتصادية ناتج من عدم تطبيقها لشريعة الله.

إن على كل مواطن سعودي أن يكون على حذر من الأفكار الشريرة التي يبثها أعداء الشريعة باسم حقوق الإنسان، وليدرك المواطن السعودي أن
আমরা বর্তমানে যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নিয়ামত উপভোগ করছি, তা সংরক্ষণের জন্য অন্যতম প্রধান ও অপরিহার্য নিশ্চয়তা হলো ইসলামী শরীয়াহ বাস্তবায়নের প্রতি অবিচল থাকা, এর লক্ষ্যসমূহ (مقاصد) রক্ষা করা এবং এর দণ্ডবিধি (حدود) বাস্তবায়ন করা।

নিশ্চয়ই ইসলামী শরীয়াহর বাস্তবায়ন এবং এর লক্ষ্যসমূহ (مقاصد) সংরক্ষণই ছিল সেই চূড়ান্ত প্রভাবক, যার ওপর ভিত্তি করে বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল রহমান আল সৌদ —আল্লাহ তাঁর কবরকে স্নিগ্ধ করুন— এই ভূখণ্ডের ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং এর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিলেন। আমরা বিশ্বাস করি যে, এই প্রভাবকটিই ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও একটি চূড়ান্ত নির্ধারক হিসেবেই থাকবে; এবং এটিই হলো সেই মূল ভিত্তি যার ওপর সৌদি আরব সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত।

আমরা এখানে স্পষ্ট করতে চাই যে, কতিপয় ভাড়াটে লেখক এবং গুজব রটনাকারী পেশাদার ব্যক্তি সৌদি আরবে আমাদের বিরুদ্ধে কঠোরতার অভিযোগ উত্থাপন করে; কারণ আমরা বিবাহিত ব্যভিচারীকে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (رجم) প্রদান করি এবং অবিবাহিত ব্যভিচারীকে বেত্রাঘাত করি, ইচ্ছাকৃত হত্যাকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিই, শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে চোরের হাত কর্তন করি এবং বিদ্রোহী ও জমিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ওপর আল্লাহর বিধানসমূহ (أحكام) প্রয়োগ করি। এই ভাড়াটে লেখক ও গুজব রটনাকারীরা এ বিষয়টি ভুলে গেছে যে, আমাদের এই কর্মকাণ্ড মূলত মহান আল্লাহর নির্দেশেরই বাস্তবায়ন, যিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের কল্যাণ সম্পর্কে সমধিক অবগত ও জ্ঞাত। শরীয়াহর লক্ষ্যসমূহ (مقاصد) সংরক্ষণের ফলেই আমরা বর্তমানে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির মাঝে বসবাস করছি। তারা এটিও বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে যে, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বহু জাতি বর্তমানে নিরাপত্তা হীনতা, সামাজিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সংকটের যে যাতনা ভোগ করছে, তা মূলত আল্লাহর শরীয়াহ বাস্তবায়ন না করারই পরিণাম।

নিশ্চয়ই প্রত্যেক সৌদি নাগরিকের সেইসব অশুভ চিন্তাধারা সম্পর্কে সতর্ক থাকা কর্তব্য যা শরীয়াহর শত্রুরা মানবাধিকারের নামে ছড়িয়ে দিচ্ছে; এবং সৌদি নাগরিকের উপলব্ধি করা উচিত যে
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ১২)
هذا البلد لم يُكتب له النصر والرخاء والاستقرار إلا في ظل شريعة الإسلام.

وعلينا أن نوضح لأبنائنا أن الإسلام عندما شرع إقامة الحدود على المجرمين كان يقصد الحفاظ على النفس والمال والعرْض والعقل والحفاظ على الدين أولا وآخرا.

ففي سبيل حفظ الدين حرّم الإسلام الردة، وهي الكفر بعد الإسلام، وجعل القتل عقوبة لكل مرتد معاند؛ حيث قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «من بدل دينه فاقتلوه» (1) حتى يكون الردع كاملا وحاسما عند تبديل الدين الإسلامي وإضاعته.

وفي سبيل حفظ النفس حرم الله القتل وسفك الدماء وتوعد أشد الوعيد مَنْ يفعل ذلك بقوله تعالى: {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا} [النساء: 93] (2) . والقتل كبيرة من الكبائر وهو أحد السبع الموبقات المهلكات، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «اجتنبوا السبع الموبقات» ، وذكر فيها قتل النفس التي حَرّم اللهُ إلا بالحق. . وقال صلى الله عليه وسلم «لا ترجعوا بعدي كفارا يضربُ بعضُكم رقابَ بعض» .

وفي سبيل حفظ الأنساب حَرم الله الزنا بقوله تعالى: {وَلا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلا} [الإسراء: 32] (3) ويقول تعالى: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} [النور: 2] (4) .

وفي سبيل حفظ الأعراض من الوقيعة فيها حَرّم الله قذف الأبرياء بالزنا، وتوعّد على ذلك بأشد الوعيد، قال جلّ من قائل: 13 {إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ - يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [النور: 23 - 24] (5) .

ويقول تعالى: {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ - إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [النور: 4 - 5] (6) .

وفي سبيل حفظ العقول حرم اللهُ كُل مسكر وكل مخدر وكل مفترّ، كالخمر والمخدرات بأنواعها، قال تعالى. {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [المائدة: 90] (7) .

ومن هنا حافظَ الإسلام على العقل، جوهرة الحياة والمنظم لحركتها، فكيف نعطى النعمةَ ونحاولُ بالخمر تعطيلها!؟ .

وفي سبيل حفظ المال حُرمت السرقةُ، يقول تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} [المائدة: 38] (8) .

إذا فإن إقامة الحدود هي الأمن على الدين والنفس والعقل والنسب والمال والعِرْض، فهل تستطيع القوانينُ الوضعية أن تحقق شيئا من هذا للناس؟ هل السجنُ والغراماتُ استطاعت أن تحقق ما حققته حدودُ الله للبشرية؟ فننظر إلى حال دولة لا تطبق ولا تقيم حدود الله، لا وازع ولا رادع، نهب وسلب، واعتداء على المال والعِرْض دون مبالاة، ودولة تطبق حدود الله فإنما تعيش في أمن وسلام واستقرار.

من هنا فأي وحشية في تطبيق حدود الله؟ وأي همجية وأين تكون الوحشية والهمجية؟ عندنا أم حيث لا تطبق الحدود الشرعية؟

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري.

(2) سورة النساء آية: 93.

(3) سورة الإسراء الآية: 32.

(4) سورة النور الآية: 2.

(5) سورة النور الآيتان: 23 - 24.

(6) سورة النور الآيتان: 4، 5.

(7) سورة المائدة الآية: 90.

(8) سورة المائدة الآية: 38.
এই ভূখণ্ডের জন্য বিজয়, সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা কেবল ইসলামি শরিয়তের ছায়াতলে ব্যতীত নির্ধারিত হয়নি।

আমাদের সন্তানদের কাছে এটি স্পষ্ট করা আমাদের দায়িত্ব যে, ইসলাম যখন অপরাধীদের ওপর দণ্ডবিধি প্রয়োগের বিধান দিয়েছে, তখন এর উদ্দেশ্য ছিল জীবন, সম্পদ, সম্মান ও বুদ্ধিবৃত্তি রক্ষা করা এবং সর্বাগ্রে ও পরিশেষে দ্বীন রক্ষা করা।

দ্বীন সংরক্ষণের লক্ষ্যে ইসলাম ধর্মত্যাগ—যা ইসলামের পর কুফরি করা—হারাম করেছে এবং প্রত্যেক একগুঁয়ে মুরতাদের জন্য শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করেছে; যেহেতু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে, তাকে হত্যা করো।” (১) যাতে ইসলামি দ্বীন পরিবর্তন ও তা বিনষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত হয়।

জীবন রক্ষার খাতিরে আল্লাহ হত্যা ও রক্তপাত হারাম করেছেন এবং যারা এমন কাজ করবে তাদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হলো জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন, তাকে অভিশপ্ত করেছেন এবং তার জন্য বিশাল শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন} [নিসা: ৯৩] (২)। হত্যা করা কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং তা সাতটি ধ্বংসাত্মক ও বিনাশকারী মহাপাপের একটি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক মহাপাপ থেকে বেঁচে থাকো।” সেখানে তিনি আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত প্রাণকে ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত হত্যা করার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: “আমার পর তোমরা পুনরায় কাফিরে পরিণত হয়ো না, যেখানে তোমরা একে অপরের ঘাড় উড়িয়ে দেবে।”

বংশপরম্পরা রক্ষার খাতিরে আল্লাহ ব্যভিচারকে হারাম করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না; নিশ্চয় এটি অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ} [ইসরা: ৩২] (৩)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশত বেত্রাঘাত করো; আল্লাহর বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি তোমাদের যেন দয়া না হয়, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখো। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে} [নূর: ২] (৪)।

সম্মান ও মর্যাদাকে কলঙ্কিত হওয়া থেকে রক্ষার খাতিরে আল্লাহ নির্দোষ ব্যক্তিদের ওপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করাকে হারাম করেছেন এবং এর জন্য কঠোরতম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় যারা সচ্চরিত্রা, সরলা ও মুমিন নারীদের ওপর অপবাদ আরোপ করে, তারা দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। সেই দিন, যখন তাদের বিরুদ্ধে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে} [নূর: ২৩-২৪] (৫)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যারা সচ্চরিত্রা নারীদের ওপর অপবাদ আরোপ করে, অতঃপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না, তোমরা তাদের আশিটি বেত্রাঘাত করো এবং কখনোই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না; আর এরাই হলো পাপাচারী। তবে যারা এরপর তওবা করেছে ও নিজেদের সংশোধন করেছে, কারণ নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} [নূর: ৪-৫] (৬)।

বুদ্ধিবৃত্তি রক্ষার খাতিরে আল্লাহ সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য, মাদক এবং অবসাদকারী বস্তু হারাম করেছেন, যেমন মদ ও বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্যনির্ধারক তীর—এসবই শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব তোমরা এগুলো বর্জন করো যাতে তোমরা সফল হতে পারো} [মায়েদা: ৯০] (৭)।

এখান থেকেই ইসলাম মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে সুরক্ষা প্রদান করেছে, যা জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ এবং এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণকারী। সুতরাং আমাদের যে নেয়ামত দান করা হয়েছে, মদের মাধ্যমে কেন আমরা তা নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করব?

সম্পদ রক্ষার খাতিরে চুরিকে হারাম করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {চোর ও চোরনী—তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে তাদের হাত কেটে দাও। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়} [মায়েদা: ৩৮] (৮)।

অতএব, দণ্ডবিধি কায়েম করার অর্থ হলো দ্বীন, জীবন, বুদ্ধিবৃত্তি, বংশ, সম্পদ এবং সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মানবরচিত আইন কি মানুষের জন্য এর কোনো কিছু অর্জন করতে সক্ষম? জেলখানা ও অর্থদণ্ড কি মানবতার জন্য তা অর্জন করতে পেরেছে যা আল্লাহর দণ্ডবিধি অর্জন করেছে? আমরা যদি এমন কোনো রাষ্ট্রের অবস্থার দিকে তাকাই যেখানে আল্লাহর দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা হয় না, তবে সেখানে কোনো নীতিবোধ বা শাসন নেই; সেখানে চলে লুণ্ঠন ও ছিনতাই এবং নির্দ্বিধায় সম্পদ ও সম্মানের ওপর আঘাত হানা হয়। পক্ষান্তরে, যে রাষ্ট্র আল্লাহর দণ্ডবিধি প্রয়োগ করে, তারা নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতার মাঝে জীবন অতিবাহিত করে।

এমতাবস্থায় আল্লাহর দণ্ডবিধি প্রয়োগের মাঝে নিষ্ঠুরতা কোথায়? আর বর্বরতাই বা কোথায়? বর্বরতা ও পাশবিকতা আসলে কোথায় বিদ্যমান? আমাদের এখানে, নাকি যেখানে শরয়ি দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা হয় না সেখানে?

--------------------------------------------

(১) বুখারি বর্ণনা করেছেন।

(২) সূরা নিসা আয়াত: ৯৩।

(৩) সূরা ইসরা আয়াত: ৩২।

(৪) সূরা নূর আয়াত: ২।

(৫) সূরা নূর আয়াত: ২৩-২৪।

(৬) সূরা নূর আয়াত: ৪, ৫।

(৭) সূরা মায়েদা আয়াত: ৯০।

(৮) সূরা মায়েদা আয়াত: ৩৮।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌[المطلب الثاني السمع والطاعة لولي الأمر في المعروف]

المطلب الثاني

السمع والطاعة لولي الأمر في المعروف
[দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ন্যায়সঙ্গত বিষয়ে (المعروف) কর্তৃপক্ষের প্রতি শ্রবণ ও আনুগত্য]

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

ন্যায়সঙ্গত বিষয়ে (المعروف) কর্তৃপক্ষের প্রতি শ্রবণ ও আনুগত্য
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ১৭)
السمع والطاعة لولي الأمر في المعروف " أصل من أصول الواجبات الدينية حتى أدرجها الأئمة في جملة العقائد الإيمانية " (1) .

وقد تواترت النصوص القطعية من الكتاب والسنة على تأكيد وضرورة طاعة ولاة الأمر في المعروف ولزومها، والسبب في ذلك كما يقول الإمام النووي: اجتماع كلمة المسلمين، فإن الخلاف سبب لفساد أحوالهم في دينهم ودنياهم (2) قال الله تعالى في محكم كتابه العزيز: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59] (3) .

قال شيخ الإسلام رحمه الله " نزلت هذه الآية في الرعية من الجيوش وغيرهم، عليهم أن يطيعوا ولاة الأمر الفاعلين في ذلك في قسمهم، ومغازيهم، وغير ذلك، إلا أن يأمروا بمعصية الله، فإذا أمروا بمعصية، فلا طاعة لمخلوق في معصية الخالق " (4) .

وقد ورد العديد من الأحاديث الشريفة التي تبين أن طاعة ولاة الأمر لازمة، وهي فريضة في المعروف، ومن هذه الأحاديث ما يلي:

1 - عن عُبَادة بن الصامت رضي الله عنه قال: «دعانا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فبايعنا، وكان فيما أخذ علينا أن بايعنا على السمع والطاعة، في مكرهنا ومنشطنا، وعسرنا ويسرنا،

--------------------------------------------

(1) أبو عبد الله بن الأزرق، بدائع السلك في طبائع الملك، تحقيق علي سامي النشار، ج1، ص 77.

(2) شرح النووي مع صحيح مسلم، ج1، ص 220.

(3) سورة النساء الآية: 59.

(4) ابن تيمية مجموع الفتاوى، ص 28، 246.
ন্যায়সংগত কাজে রাষ্ট্রপ্রধানের কথা শোনা ও আনুগত্য করা "দ্বীনি ওয়াজিব বা আবশ্যিক বিষয়গুলোর অন্যতম একটি মূলনীতি, এমনকি ইমামগণ একে ঈমানি আকিদাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন" (১)।

কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য ও অতি-সংবাদিত (متواتر) দলিলসমূহ ন্যায়সংগত কাজে রাষ্ট্রপ্রধানদের আনুগত্যের গুরুত্ব ও আবশ্যকতাকে নিশ্চিত করেছে। এর কারণ হিসেবে ইমাম নববী বলেন: মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ থাকা; কেননা মতভেদ তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার অবস্থার বিপর্যয়ের কারণ (২)। আল্লাহ তায়ালা তাঁর সুমহান কিতাবে ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদেরও। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।} [আন-নিসা: ৫৯] (৩)।

শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এই আয়াতটি সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য প্রজাসাধারণের বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। তাদের ওপর আবশ্যক হলো বণ্টন, যুদ্ধাভিযান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল রাষ্ট্রপ্রধানদের আনুগত্য করা, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর অবাধ্যতার আদেশ দেন। যখন তারা কোনো পাপের আদেশ দেবেন, তখন স্রষ্টার অবাধ্য হয়ে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না" (৪)।

এমন অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা স্পষ্ট করে যে, রাষ্ট্রপ্রধানদের আনুগত্য করা অপরিহার্য এবং ন্যায়সংগত কাজে তা একটি ফরজ ইবাদত। সেই হাদিসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - উবাদাহ ইবনে সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের আহ্বান করলেন, অতঃপর আমরা তাঁর নিকট বায়াত গ্রহণ করলাম। তিনি আমাদের থেকে যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন তার মধ্যে ছিল: আমরা আমাদের পছন্দ ও অপছন্দের অবস্থায় এবং কষ্টে ও স্বাচ্ছন্দ্যে কথা শোনা ও আনুগত্য করার ওপর বায়াত হলাম...

--------------------------------------------

(১) আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল আযরাক, বাদায়িউস সুলক ফি তাবায়িউল মুলক, তাহকিক: আলী সামি আন-নাশশার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৭।

(২) শরহুন নববী মা’আ সাহিহ মুসলিম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২০।

(৩) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৯।

(৪) ইবনে তাইমিয়া, মাজমুউল ফাতাওয়া, পৃষ্ঠা ২৮, ২৪৬।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأثرة علينا، وألا ننازع الأمرَ، قال: " أن تروا كفرا بواحا، عندكم فيه من الله بُرْهان» (1) .

2 - وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم، أنه قال: «من أطاعني فقد أطاع الله، ومن عصاني فقد عصى الله، ومن أطاع أميري فقد أطاعني، ومن عصى أميري فقد عصاني» (2) .

3 - وعن ابن عمر رضي الله عنه قال: عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «على المرء المسلم السمع والطاعة فيما أحب وكره إلا أن يؤمر بمعصية، فإذا أمر بمعصية فلا سمع ولا طاعة» (3) .

4 - وعن أنسى رضي الله عنه قال: " قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اسمعوا وأطيعوا وإن استعمل عليكم عبد حبشي كان رأسه زبيبة» (4) .

5 - وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: أنه قال: «من خرج من الطاعة، وفارق الجماعة، فمات، مات مِيْتَة جاهلية، ومن قاتل تحت راية عميّة، بغضب لعصبية، أو يدعو لعصبية، أو ينصر عصبية، فقتلته جاهلية، ومن خرج على أمتي يضربها بَرها وفاجرها ولا يتحاشى عن مؤمنها ولا يفي لذي عهد عهده فليس مني ولست منه» (5) .

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري ومسلم.

(2) رواه البخاري ومسلم.

(3) رواه البخاري ومسلم.

(4) رواه البخاري ومسلم.

(5) رواه البخاري ومسلم.
এবং আমাদের ওপর অন্যদের প্রাধান্য দিলেও, আর আমরা যেন শাসনের প্রশ্নে (কর্তৃত্বশীলদের সাথে) বিবাদে লিপ্ত না হই। তিনি বললেন: "যতক্ষণ না তোমরা স্পষ্ট কুফরি (كفرا بواحا) দেখতে পাও, যে বিষয়ে তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।" (১)।

২ - আর আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে আমার অবাধ্য হলো, সে মূলত আল্লাহরই অবাধ্য হলো। আর যে আমার (নিযুক্ত) আমিরের আনুগত্য করল, সে মূলত আমারই আনুগত্য করল। আর যে আমার আমিরের অবাধ্য হলো, সে মূলত আমারই অবাধ্য হলো।" (২)।

৩ - আর ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "একজন মুসলিম ব্যক্তির ওপর (নেতার আদেশ) শোনা ও আনুগত্য করা আবশ্যক, চাই সে তা পছন্দ করুক বা অপছন্দ করুক; যতক্ষণ না তাকে পাপাচারের নির্দেশ দেওয়া হয়। যখন তাকে পাপাচারের নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন আর কোনো শোনা ও আনুগত্য করা নেই।" (৩)।

৪ - আর আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'তোমরা শোনো ও আনুগত্য করো, যদিও তোমাদের ওপর এমন একজন হাবশি দাসকেও দায়িত্ব দেওয়া হয় যার মাথা কিশমিশের মতো (ছোট)।'" (৪)।

৫ - আর আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গেল এবং জামাত (الجماعة) থেকে বিচ্ছিন্ন হলো, অতঃপর মৃত্যুবরণ করল, তার মৃত্যু হবে জাহিলিয়াতের (جاهلية) মৃত্যু। আর যে ব্যক্তি উদ্দেশ্যহীন পতাকাতলে যুদ্ধ করল—অন্ধ পক্ষপাতিত্বের (عصبية) বশবর্তী হয়ে ক্রোধান্বিত হলো, অথবা অন্ধ পক্ষপাতিত্বের (عصبية) দিকে আহ্বান জানাল, অথবা অন্ধ পক্ষপাতিত্বকে (عصبية) সমর্থন করল এবং সে অবস্থায় নিহত হলো—তবে তার মৃত্যু হবে জাহিলিয়াতের (جاهلية) মৃত্যু। আর যে ব্যক্তি আমার উম্মতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল এবং এর ভালো-মন্দ নির্বিশেষে সবাইকে আঘাত করল, মুমিনদের (মুমিন হওয়া সত্ত্বেও) রেহাই দিল না এবং যার সাথে সম্পাদিত প্রতিশ্রুতি রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করল না, সে আমার উম্মতভুক্ত নয় এবং আমিও তার সাথে সম্পৃক্ত নই।" (৫)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫) বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ১৯)
6 - وعن معاذ بن جبل رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الغزو غزوان: فأما من ابتغى به وجه الله، وأطاع الإمام وأنفق الكريمة، وياسر الشريك، فإن نومه ونبهته، أجر كله، وأما من غزا فَخْرا، ورياءَ وعصى الإمام وأفسد في الأرض، فإنه لم يرجع بالكفاف» (1) .

7 - وفي حديث الحارث الأشعري الذي رواه الأمام أحمد أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «وأنا آمركم بخمس، الله أمرني بهن: السمع والطاعة والجهاد، والهجرة، والجماعة، فإنه من خرج من الجماعة قيد شبر فقد خلع ربقة الإسلام من عنقه» (2) .

8 - وعن أبي بكرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم «السلطان ظل الله في الأرض، فمن أكرمه أكرمه الله، ومن أهانه أهانه الله» (3) .

9 - وعن أم حصين قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إنْ أمرَ عليكم عبدٌ مجدع يقودكم بكتاب الله فاسمعوا له وأطيعوا» (4) .

10 - وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «من رأى من أميره شيئا يكرهه فليصبر عليه، فإنه من فارق الجماعة شبرا فمات إلا مات ميتة جاهلية» (5) .

--------------------------------------------

(1) رواه مالك وأبو داود والنسائي.

(2) رواه الإمام أحمد والترمذي.

(3) رواه الطبراني والبيهقي.

(4) رواه مسلم وأحمد وغيرهما.

(5) رواه ابن حبان والحاكم.
6 - মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যুদ্ধ দুই প্রকার: যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, ইমামের (নেতার) আনুগত্য করে, নিজের উৎকৃষ্ট সম্পদ ব্যয় করে এবং সঙ্গীর সাথে সহজ ব্যবহার করে, তবে তার নিদ্রা এবং জাগরণ সবই সওয়াব হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি দম্ভ ও লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে, ইমামের অবাধ্য হয় এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে, সে সমান সমান (বিনিময়হীন) অবস্থায় ফিরে আসতে পারবে না» (১) ।

7 - ইমাম আহমাদ বর্ণিত হারিস আল-আশআরী (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি তোমাদের পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি, যেগুলোর নির্দেশ আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন: শ্রবণ, আনুগত্য, জিহাদ, হিজরত এবং জামাত। কেননা, যে ব্যক্তি জামাত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বের হয়ে গেল, সে তার ঘাড় থেকে ইসলামের বন্ধন ছিন্ন করল» (২) ।

8 - আবু বাকরাহ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সুলতান (শাসক) পৃথিবীতে আল্লাহর ছায়া। সুতরাং যে ব্যক্তি তাকে সম্মান করল, আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেন। আর যে ব্যক্তি তাকে লাঞ্ছিত করল, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করবেন» (৩) ।

9 - উম্মে হুসাইন (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যদি তোমাদের ওপর কোনো অঙ্গহানি হওয়া ক্রীতদাসকেও নেতা নিযুক্ত করা হয়, যে তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী পরিচালিত করে, তবে তোমরা তার কথা শোনো এবং আনুগত্য করো» (৪) ।

10 - ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার আমিরের (নেতার) পক্ষ থেকে এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন তাতে ধৈর্য ধারণ করে। কেননা যে ব্যক্তি জামাত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হলো এবং ওই অবস্থায় মারা গেল, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল» (৫) ।

--------------------------------------------

(1) মালেক, আবু দাউদ ও নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন।

(2) ইমাম আহমাদ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।

(3) তাবারানি ও বাইহাকি এটি বর্ণনা করেছেন।

(4) মুসলিম, আহমাদ ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।

(5) ইবনে হিব্বান ও হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ২০)
11 - وعن فضالة بن عبيد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ثلاثة لا تسأل عنهم: رجل فارق الجماعة وعصى إمامه ومات عاصيا» (1) .

12 - وعن وائل بن حجر رضي الله عنه قال: «قلنا يا رسول الله: أرأيت إنْ كان علينا أمراء يمنعونا حقنا ويسألونا حقهم؟ فقال: " اسمعوا وأطيعوا، فإنما عليهم ما حُمِّلوا وعليكم ما حُمِّلتُم» (2) .

هذه بعض النصوص من القرآن والسنة التي تحث على طاعة ولاة الأمر في غير معصية، وفيما يلي نستعرض بعض أقوال العلماء المحققين قديما وحديثا في وجوب السمع والطاعة لولي الأمر:

1 - يقول الحافظ بن رجب رحمه الله: " وأما السمع والطاعة لولاة أمور المسلمين ففيها سعادة الدنيا، وبها تنظيم مصالح العباد في معاشهم، وبها يستعينون على إظهار دينهم وطاعة ربهم " (3) .

2 - ويقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله " فطاعة الله والرسول واجبة على كل أحد، وطاعة ولاة الأمور واجبة لأمر الله بطاعته، فمن أطاع الله ورسوله بطاعة ولاة الأمر فأجره على الله، ومن كان لا يطيعهم إلا لما يأخذه من الولاية والمال، فإن أعطوه أطاعهم وإن منعوه عصاهم فما له في الآخرة من خلاق " (4) .

--------------------------------------------

(1) رواه ابن حيان والحاكم.

(2) رواه مسلم.

(3) ابن رجب، جامع العلوم والحكم، ج 2، ص 117.

(4) ابن تيمية مجموع الفتاوى، ج 35، ص 16 - 17.
১১ - ফাদালাহ বিন উবাইদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তিন ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা কোনো প্রশ্ন করো না (অর্থাৎ তাদের ধ্বংস নিশ্চিত): যে ব্যক্তি জামাত ত্যাগ করেছে, তার ইমামের অবাধ্য হয়েছে এবং অবাধ্য অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।» (১)।

১২ - ওয়ািল বিন হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ভেবে দেখেছেন যদি আমাদের ওপর এমন শাসক নিযুক্ত হয় যারা আমাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করে কিন্তু তাদের নিজেদের প্রাপ্য অধিকার আমাদের কাছে দাবি করে? তখন তিনি বললেন: "তোমরা শোনো এবং আনুগত্য করো; কারণ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের ভার কেবল তাদের এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের ভার তোমাদের।"» (২)।

এগুলো কুরআন ও সুন্নাহর এমন কিছু দলিল যা পাপাচার ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে উলুল আমর বা কর্তৃপক্ষের আনুগত্য করতে উৎসাহিত করে। নিম্নে আমরা উলুল আমরের কথা শোনা এবং আনুগত্য করার আবশ্যকতা সম্পর্কে প্রাচীন ও বর্তমানকালের মুহাক্কিক আলেমদের কিছু উক্তি তুলে ধরছি:

১ - হাফিজ (الحافظ) ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আর মুসলিম শাসকদের কথা শোনা ও আনুগত্য করার মধ্যে পার্থিব সুখ নিহিত রয়েছে এবং এর মাধ্যমেই বান্দাদের জীবনযাত্রার যাবতীয় কল্যাণ সুশৃঙ্খল হয়, আর এর সাহায্যেই তারা তাদের দ্বীন প্রকাশে এবং তাদের রবের আনুগত্য করতে সক্ষম হয়।" (৩)।

২ - শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা প্রত্যেকের ওপর ওয়াজিব, আর উলুল আমরের আনুগত্য করা ওয়াজিব আল্লাহর আদেশের কারণে। সুতরাং যে ব্যক্তি উলুল আমরের আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করল, তার প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায়। আর যে ব্যক্তি কেবল ক্ষমতা বা সম্পদের লোভে তাদের আনুগত্য করে—যদি তারা তাকে প্রদান করে তবে সে আনুগত্য করে, আর যদি তাকে বঞ্চিত করে তবে সে অবাধ্য হয়—পরকালে তার কোনো অংশ নেই।" (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাইয়ান ও হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) ইবনে রজব, জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম, ২য় খণ্ড, ১১৭ পৃষ্ঠা।

(৪) ইবনে তাইমিয়্যাহ, মাজমুউল ফাতাওয়া, ৩৫তম খণ্ড, ১৬ - ১৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ২১)
فوائد السمع والطاعة لولي الأمر لكل من الفرد والمجتمع: لطاعة ولي الأمر فوائد متعددة من أهمها ما يلي: (1) .

1 - امتثال أمر الله تعالى وابتدار طاعته، فإن مَنْ أطاع بالمعروف فقد أطاع الله كما قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} [النساء: 59] (2) .

وفي الحديث الصحيح: «من أطاعني فقد أطاع الله، ومن عصاني فقد عصى الله، ومن أطاع أميري فقد أطاعني، ومنى عصى أميري فقد عصاني» (3) .

ولا شك أن هذا الامتثال لأوامر الله من أعظم الأدلة على عبودية الإنسان لله، وخضوعه وإيمانه به ربا وإلها شارعا.

2 - بطاعة ولي الأمر في المعروف تنتظم أمور الدولة وأحوالها كلها.

3 - بالطاعة لولي الأمر تتماسك الأمة وتتحد كلمتها وتقوى الصلة بين أفرادها.

4 - بالطاعة لولي الأمر يعم الأمن والاستقرار في ربوع الدولة الإسلامية، وهذا أمر واضح، فالطاعة لأولي الأمر تعني سيطرة الشرع على كل التصرفات، والتغلب على الهوى والنفس اللذين يَجُران إلى الجريمة والتمرد والعصيان، وهذا يصل بإذن الله من تحقيق الأمن والاستقرار والطمأنينة في النفس والمجتمع والبلاد.

--------------------------------------------

(1) عبد الله الطريقي، طاعة أولي الأمر، الرياض، دار المسلم، 1414 هـ، ص 59.

(2) سورة النساء، الآية 95.

(3) رواه البخاري ومسلم.
ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্য উলিল আমরের (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তি) কথা শোনা ও আনুগত্য করার সুফল: উলিল আমরের আনুগত্যের বহুবিধ সুফল রয়েছে, যার মধ্যে প্রধানগুলো নিম্নরূপ: (১)।

১ - মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন এবং তাঁর আনুগত্যের দিকে ধাবিত হওয়া। কেননা যে ব্যক্তি সৎকাজে আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলিল আমর তাদেরও।} [আন-নিসা: ৫৯] (২)।

এবং সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে: «যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহরই আনুগত্য করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে আল্লাহরই অবাধ্য হলো। যে আমার আমিরের (নেতার) আনুগত্য করল সে আমারই আনুগত্য করল, আর যে আমার আমিরের অবাধ্য হলো সে আমারই অবাধ্য হলো» (৩)।

নিঃসন্দেহে আল্লাহর নির্দেশের এই পালন মানুষের পক্ষ থেকে আল্লাহর প্রতি দাসত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দলিল এবং তাঁর প্রতি রব ও বিধানদাতা ইলাহ হিসেবে পূর্ণ আনুগত্য ও ঈমানের বহিঃপ্রকাশ।

২ - সৎকাজে উলিল আমরের আনুগত্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল বিষয় ও অবস্থা সুশৃঙ্খল হয়।

৩ - উলিল আমরের প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে উম্মাহ সুসংহত থাকে, তাদের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন শক্তিশালী হয়।

৪ - উলিল আমরের প্রতি আনুগত্যের ফলে ইসলামি রাষ্ট্রের সর্বত্র নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করে। এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয়; কারণ উলিল আমরের আনুগত্য করার অর্থ হলো সকল কর্মকাণ্ডের ওপর শরিয়তের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং কুপ্রবৃত্তি ও নফসের ওপর জয়ী হওয়া—যা মানুষকে অপরাধ, বিদ্রোহ ও অবাধ্যতার দিকে ধাবিত করে। এর ফলে আল্লাহর ইচ্ছায় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও প্রশান্তি অর্জিত হয়।

--------------------------------------------

(১) আবদুল্লাহ আত-তারিকি, তাআত উলিল আমর, রিয়াদ, দারুল মুসলিম, ১৪১৪ হিজরি, পৃ. ৫৯।

(২) সুরা আন-নিসা, আয়াত ৯৫।

(৩) বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ২২)
5 - بالطاعة لولي الأمر تظهر الأمة المسلمة بمظهر الهيبة والقوة والرهبة أمام الأعداء، فإذا كانت هذه الأمة تأتمر بأوامر قيادتها العُليْا في غير معصية الله، فإن هذا سيكون له أثره على الأعداء بلا شك، لما فيه من معاني الاتحاد والائتلاف والتماسك بين أفراد الأمة، ولهذا يقول سبحانه: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} [الأنفال: 46] (1) . ومعلوم أن لوازم طاعة الله ورسوله طاعة أولي الأمر.

6 - بالطاعة لولي الأمر يستقر الأمن وتتفرغ الأمة للبناء والتعمير وتحقيق أهدافها التنموية لبناء الإنسان المسلم.

الأضرار والمفاسد التي تترتب على عصيان ولي الأمر والتمرد عليه: يترتب على عصيان ولي الأمر والتمرد عليه أضرار عظيمة أهمها:

1 - التمرد على ولي الأمر يعد معصية لله جل وعلا ومخالفة لأمره سبحانه وتعالى بالطاعة لولي الأمر في غير معصية.

2 - التمرد على ولي الأمر فيه تمزيق لوحدة الأمة وتهديد لأمنها واقتصادها.

3 - التمرد على ولي الأمر يعكر الأمن والاستقرار ويسبب الخوف والقلق لأفراد المجتمع.

4 - التمرد على ولي الأمر يفتح الباب واسعا لشتى الجرائم.

--------------------------------------------

(1) سورة الأنفال آية46.
5 - রাষ্ট্রপ্রধানের (ولي الأمر) প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ শত্রুদের সামনে মর্যাদা, শক্তি এবং প্রতাপের সাথে আত্মপ্রকাশ করে। যদি এই উম্মাহ আল্লাহর অবাধ্যতা নয় এমন বিষয়ে তাদের উচ্চতর নেতৃত্বের আদেশ মেনে চলে, তবে নিঃসন্দেহে শত্রুদের ওপর এর প্রভাব পড়বে; কারণ এর মধ্যে উম্মাহর সদস্যদের মাঝে ঐক্য, সম্প্রীতি ও সংহতির চেতনা নিহিত থাকে। এই কারণেই মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের প্রভাব ক্ষুণ্ণ হবে। আর তোমরা ধৈর্য ধারণ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন} [আনফাল: ৪৬] (১)। আর এটা সুপ্রতিষ্ঠিত যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের অপরিহার্য অংশ হলো উলিল আমরের (أولي الأمر) আনুগত্য করা।

6 - রাষ্ট্রপ্রধানের (ولي الأمر) প্রতি আনুগত্যের ফলে নিরাপত্তা সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং উম্মাহ মুসলিম মানুষ গড়ার লক্ষ্যে নির্মাণ, পুনর্গঠন ও তাদের উন্নয়নমূলক লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে নিবিষ্ট হওয়ার সুযোগ পায়।

রাষ্ট্রপ্রধানের (ولي الأمر) অবাধ্যতা ও তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও অকল্যাণসমূহ: রাষ্ট্রপ্রধানের অবাধ্যতা ও তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ফলে বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হয়, যার মধ্যে প্রধান হলো:

1 - রাষ্ট্রপ্রধানের (ولي الأمر) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা মহামহিম আল্লাহর অবাধ্যতা এবং গোনাহর কাজ নয় এমন বিষয়ে তাঁর আনুগত্য করার যে নির্দেশ আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন, তার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়।

2 - রাষ্ট্রপ্রধানের (ولي الأمر) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার মধ্যে উম্মাহর ঐক্য খণ্ডবিখণ্ড করা এবং এর নিরাপত্তা ও অর্থনীতির প্রতি হুমকি তৈরি হওয়া নিহিত থাকে।

3 - রাষ্ট্রপ্রধানের (ولي الأمر) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করে এবং সমাজের সদস্যদের মধ্যে ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

4 - রাষ্ট্রপ্রধানের (ولي الأمر) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বিবিধ অপরাধের পথ প্রশস্ত করে দেয়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনফাল আয়াত ৪৬।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌[المطلب الثالث التزام الوسطية والاعتدال في شئون الحياة كلها]

المطلب الثالث

التزام الوسطية والاعتدال

والابتعاد عن الإفراط

والتفريط في الدين
[তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জীবনের সকল ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (الوسطية) ও ভারসাম্য (الاعتدال) অবলম্বন]

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মধ্যপন্থা (الوسطية) ও ভারসাম্য (الاعتدال) অবলম্বন

এবং অতিরঞ্জন (الإفراط) থেকে দূরে থাকা

ও দ্বীনের ক্ষেত্রে শৈথিল্য (التفريط) বর্জন করা
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ২৫)
التزام جانب الوسطية والاعتدال والابتعاد عن الإفراط والتفريط في الدين من أهم الضمانات اللازمة لاستمرار نعمة الأمن والاستقرار في بلادنا، وكما هو معلوم فإن الوسطية والاعتدال خاصة من أبرز خصائص الإسلام، وهي وسام شرف الأمة الإسلامية، ومن أبرز مميزات الوسطية، الأمان ولذا، يُقال الوسطية تمثل منطقة الأمان والبعد عن الخطر، فالأطراف عادة تتعرض للخطر والفساد، بخلاف الوسط فهو محمي ومحروس بما حوله، كما أن من أهم مميزات الوسطية في الإسلام كون الوسطية دليل القوة، فالوسط مركز القوة، ألا ترى أن الشباب الذي يمثل مرحلة القوة والحيوية وسط بين ضعف الطفولة، وضعف الشيخوخة، والشمس وسط النهار أقوى منها في أول النهار وآخره. قال تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة: 143]

بهذه الآية الكريمة حدد الحق تبارك وتعالى هُوية هذه الأمة، ومكانتها بين الأمم، لا إفراط ولا تفريط، لا إهمال ولا تطرف، لا تكاسل ولا غلو، بل اعتدال في كل شأن من شؤون الأمة.

لقد كان السلف الصالح من هذه الأمة الشهيدة على الناس أحسن الناس تصورا للوسط وفهما للشريعة والعقيدة على هذا الأساس الراسخ، كما كانوا في حياتهم اليومية أكثر الناس تمسكا بهذا الأصل، وهو التوسط بلا غلو ولا انحلال، تشهد على ذلك سيرتُهم وحياتهم من أخذ بأصول الخلاف العلمي وآدابه وبالخلق الإسلامي الرفيع.

وإذا كان الإسلام يدعو إلى الوسطية فإنه يُحَذر كل التحذير من كل ما يتعارض معها من إفراط وتفريط.
দ্বীনের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (الوسطية) ও ভারসাম্য (الاعتدال) বজায় রাখা এবং বাড়াবাড়ি (الإفراط) ও ছাড়াছাড়ি (التفريط) থেকে দূরে থাকা আমাদের ভূখণ্ডে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নেয়ামত অব্যাহত রাখার জন্য অন্যতম প্রধান নিশ্চয়তা। যেমনটি সর্বজনবিদিত যে, বিশেষত মধ্যপন্থা (الوسطية) ও ভারসাম্য (الاعتدال) ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত গুণ এবং এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গৌরবময় সম্মান। মধ্যপন্থার (الوسطية) অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নিরাপত্তা। তাই বলা হয়, মধ্যপন্থা (الوسطية) হলো একটি নিরাপদ অঞ্চল এবং বিপদ থেকে দূরবর্তী স্থান। সাধারণত প্রান্তিক অংশগুলো বিপদ ও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়, পক্ষান্তরে মধ্যভাগ তার পারিপার্শ্বিকতা দ্বারা সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত থাকে। ইসলামে মধ্যপন্থার (الوسطية) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, মধ্যপন্থা (الوسطية) শক্তির পরিচায়ক। কেননা কেন্দ্রস্থল হলো শক্তির কেন্দ্র। আপনি কি দেখেন না যে, যৌবনকাল—যা শক্তি ও প্রাণচাঞ্চল্যের সময়—তা শৈশবের দুর্বলতা ও বার্ধক্যের দুর্বলতার মধ্যবর্তী পর্যায়? আর দ্বিপ্রহরের সূর্য দিনের শুরু ও শেষের তুলনায় অধিক শক্তিশালী থাকে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী (وسطًا) জাতি হিসেবে মনোনীত করেছি, যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পার এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হতে পারেন।" [বাকারা: ১৪৩]

এই মহিমান্বিত আয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ এই উম্মাহর পরিচয় এবং জাতিসমূহের মাঝে এর অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। এতে নেই কোনো বাড়াবাড়ি (إفراط) কিংবা ছাড়াছাড়ি (تفريط), নেই কোনো অবহেলা কিংবা চরমপন্থা (تطرف), নেই কোনো অলসতা কিংবা অতিরঞ্জন (غلو); বরং উম্মাহর প্রতিটি বিষয়ে রয়েছে ভারসাম্য (اعتدال)।

মানুষের ওপর সাক্ষী এই উম্মাহর সালাফে সালেহীন (পুণ্যবান পূর্বসূরিগণ) এই সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে মধ্যপন্থা সম্পর্কে সবচেয়ে উত্তম ধারণা পোষণ করতেন এবং শরীয়ত ও আকিদাহ অনুধাবন করতেন। তদ্রূপ তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনে এই মূলনীতির প্রতি সর্বাধিক অনুগত ছিলেন, আর তা হলো অতিরঞ্জন (غلو) ও বিচ্যুতি বর্জিত মধ্যপন্থা (التوسط)। তাদের জীবনচরিত ও জীবনধারা এর সাক্ষ্য দেয়, যেখানে তারা জ্ঞানতাত্ত্বিক মতভেদের মূলনীতি ও শিষ্টাচার এবং উচ্চতর ইসলামি নৈতিকতা অনুসরণ করেছেন।

ইসলাম যেহেতু মধ্যপন্থার (الوسطية) দিকে আহ্বান জানায়, তাই এটি এর পরিপন্থী প্রতিটি বিষয়—অর্থাৎ বাড়াবাড়ি (إفراط) ও ছাড়াছাড়ি (تفريط)—সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করে।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ২৬)
لقد نهى الله سبحانه وتعالى في كتابه العزيز وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم عن الغلو في الدين لحكم متعددة من أهمها أن الإسلام دين توحيد واجتماع، والغلو في الدين سبب رئيسي من أسباب الاختلاف والتفرق والتمزق بين أفراد المجتمع الإسلامي، قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ} [الأنعام: 159] (1) وقال تعالى {وَلا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ - مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} [الروم: 31 - 32] (2) .

كما أن الغلو في الدين فيه مشقة وهو يتعارض مع تعاليم الإسلام الداعية إلى اليسر ورفع الحَرَج فيسر الإسلام والتيسير خاصة من خصائصه التي اختلف بها عما سواه من الأديان والمشقة والحرج ليسا من مقاصد الشرع أما اليسر والتيسير فهما من مقاصده، وتقرير هذا من القرآن والسنة، قال الله تعالى: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} [الحج: 78] (3) .

، وقال تعالى: {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} [البقرة: 185] (4) ويقول صلى الله عليه وسلم: «إن الله لم يبعثني معنتا ولا متعنتا ولكن بعثني معلما ميسرا» (5) وقال صلى الله عليه وسلم لمعاذ بن جبل وأبي موسى الأشعري لما بعثهما إلى اليمن: «يسِّرا ولا تعسرا ولا تنفًرا» (6) .

لقد امتن الله على عباده برفع الحرج عن المكلف، وأن الله سبحانه وتعالى حبب إلى عباده الإيمان بتيسيره وتسهيله، وكره إليهم الغلو والتشدد والتنطع؛ لأن في الغلو والتطرف في الدين عيوبا وآفات أساسية تصاحبه وتلازمه منها: (7) .

--------------------------------------------

(1) سورة الأنعام، الآية 159.

(2) سورة الروم، الآية 32.

(3) سورة الحج، الآية 78.

(4) سورة البقرة، الآية 185.

(5) رواه مسلم.

(6) رواه البخاري.

(7) يوسف القرضاوي، الصحة الإسلامية بين الجحود والتصرف، القاهرة دار الصحوة، 1412 هـ، ص 32 - 36.
لقদ মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানিতে দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করা থেকে নিষেধ করেছেন বিভিন্ন হিকমতের কারণে, যার মধ্যে অন্যতম হলো ইসলাম তাওহিদ ও ঐক্যের দ্বীন। আর দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করা মুসলিম সমাজের সদস্যদের মধ্যে মতভেদ, বিচ্ছিন্নতা ও অনৈক্যের অন্যতম প্রধান কারণ। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই} [আল-আনআম: ১৫৯] (১)। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না— যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত} [আর-রুম: ৩১-৩২] (২)।

অনুরূপভাবে দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ির মধ্যে কষ্টসাধ্যতা রয়েছে, যা ইসলামের সেই শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক যা সহজ করার এবং সংকীর্ণতা দূর করার আহ্বান জানায়। ইসলামের সহজতা ও সহজীকরণ হলো এর এমন এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে এটি অন্যান্য ধর্ম থেকে স্বতন্ত্র হয়েছে। কষ্ট ও সংকীর্ণতা শরীয়তের উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং সহজতা ও সহজীকরণই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এটি সুপ্রমাণিত। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি} [আল-হজ: ৭৮] (৩)।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না} [আল-বাকারা: ১৮৫] (৪)। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «নিশ্চয় আল্লাহ আমাকে কষ্টদানকারী বা কঠোরতা অবলম্বনকারী হিসেবে পাঠাননি, বরং তিনি আমাকে একজন সহজকারী শিক্ষক হিসেবে পাঠিয়েছেন» (৫)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ ইবনে জাবাল ও আবু মুসা আল-আশআরিকে যখন ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন, তখন বলেছিলেন: «তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না এবং সুসংবাদ দাও, বিতশ্রদ্ধ করো না» (৬)।

আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তির কষ্ট দূর করার মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সহজীকরণ ও সাবলীলতার মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং তাদের কাছে বাড়াবাড়ি, কঠোরতা ও অতিরঞ্জনকে অপছন্দনীয় করেছেন; কারণ দ্বীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি ও চরমপন্থার সাথে কিছু মৌলিক ত্রুটি ও আপদ জড়িয়ে থাকে, যা এর অবিচ্ছেদ্য অংশ, যেমন: (৭)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনআম, আয়াত ১৫৯।

(২) সূরা আর-রুম, আয়াত ৩২।

(৩) সূরা আল-হজ, আয়াত ৭৮।

(৪) সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৫।

(৫) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।

(৬) বুখারি কর্তৃক বর্ণিত।

(৭) ইউসুফ আল-কারজাভি, আস-সাহওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ বাইনাল জুহুদ ওয়াত-তাসাররুফ, কায়রো: দারুস সাহওয়াহ, ১৪১২ হিজরি, পৃ. ৩২-৩৬।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ২৭)
1 - أن الغلو منفر، لا تحتمله طبيعة البشر العادية ولا تصبر عليه.

2 - أنه قصير العمر. . . فالإنسان - إلا مَنْ وفقه الله - ملول فيسأم ويدع العمل حتى القليل منه، أو يأخذ طريقا آخر على عكس الطريق الذي كان عليه، أي ينتقل من الإفراط إلى التفريط ومن التشدد إلى التسيب.

3 - أن الغلو في الدين لا يخلو من جَوْر على حقوق أخرى يجب أن تُرَاعى وواجبات أن تؤدى. . . قال صلى الله عليه وسلم لعبد الله بن عمرو حين بلغه انهماكه في العبادة انهماكا أنساه حق أهله عليه: «ألم أخبر أنك تصوم النهار وتقوم الليل؟ قال عبد الله: قلت بلى يا رسول الله. . . قال صلى الله عليه وسلم لا تفعل صم وأفطر وقم ونم. . . فإن لجسدك عليك حقا وإن لعينك عليك حقا، وإن لزوجك عليك حقا، وإن لزورك عليك حقا» (1) . يعني فأعط كل ذي حق حقه ولا تغلُ في ناحية على حساب أخرى، وما أصدق ما قال بعض الحكماء: ما رأيت إسرافا إلا وجانبه حق مضيع.

وكما نهى الله جلّ وعلا عن الغلو والتطرف والإفراط نهى كذلك عن التفريط في الدين، والذي يعني في أبسط معانيه وصوره التضييع والتقصير والتهاون والترك، والتفريط في الدين يكون بسبب عدم الاهتمام بالمحافظة على حدود الله وعدم الرغبة بالتزامها، نتيجة ضعف الإيمان أو انعدامه، وعلى هذا فالتفريط في الدين إنْ لم يكن من مستوى الكفر والجحود فهو اتباع للهوى وإيثار للشهوات وحب للعاجلة، وترك الأخرى، وقد يصل ذلك إلى مستوى الرغبة في الفجور وهو الانطلاق الوقح في المعاصي والآثام دون ضابط.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري.
1 - চরমপন্থা (الغلو) হলো বিকর্ষণকারী; সাধারণ মানুষের প্রকৃতি এটি সহ্য করতে পারে না এবং এর ওপর ধৈর্য ধারণ করতে পারে না।

2 - এটি স্বল্পস্থায়ী। . . কেননা মানুষ—যাকে আল্লাহ তাওফিক দিয়েছেন সে ব্যতীত—স্বভাবগতভাবেই একঘেয়েমি অনুভবকারী; ফলে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং আমল করা ছেড়ে দেয়, এমনকি তা সামান্য হলেও। অথবা সে ইতিপূর্বে যে পথে ছিল তার বিপরীত পথ বেছে নেয়; অর্থাৎ সে অতিরঞ্জন (الإفراط) থেকে শিথিলতা (التفريط) এবং কঠোরতা (التشدد) থেকে বিশৃঙ্খলার (التسيب) দিকে ধাবিত হয়।

3 - দ্বীনের ক্ষেত্রে চরমপন্থা (الغلو) অন্যান্য অধিকারের প্রতি অবিচার করা থেকে মুক্ত নয়, যা রক্ষা করা আবশ্যক এবং সেই সব কর্তব্য থেকেও মুক্ত নয় যা পালন করা জরুরি। . . আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে বলেছিলেন যখন তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে তিনি ইবাদতে এমনভাবে মগ্ন যে তাঁর ওপর তাঁর পরিবারের অধিকারের কথা ভুলে গেছেন: «আমাকে কি জানানো হয়নি যে তুমি দিনে রোজা রাখো এবং রাতে সালাতে দণ্ডায়মান থাকো? আবদুল্লাহ বললেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, অবশ্যই। . . রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: এমনটি করো না; রোজা রাখো এবং বিরতি দাও, সালাতে দাঁড়াও এবং ঘুমাও। . . নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার শরীরের হক বা অধিকার রয়েছে, তোমার ওপর তোমার চোখের অধিকার রয়েছে, তোমার ওপর তোমার স্ত্রীর অধিকার রয়েছে এবং তোমার ওপর তোমার মেহমানের অধিকার রয়েছে» (1) । অর্থাৎ প্রত্যেক অধিকারীকে তার অধিকার প্রদান করো এবং এক দিকের জন্য অন্য দিকের ওপর অতিরঞ্জন (تغلُ) করো না। জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি কতই না সত্য বলেছেন: “আমি যেখানেই অপব্যয় বা সীমা লঙ্ঘন (إسرافا) দেখেছি, তার পাশেই একটি নষ্ট হওয়া অধিকার দেখেছি।”

আল্লাহ جلّ وعلا যেমন চরমপন্থা (الغلو), উগ্রবাদ (التطرف) এবং অতিরঞ্জন (الإفراط) থেকে নিষেধ করেছেন, তেমনি তিনি দ্বীনের ব্যাপারে শিথিলতা (التفريط) থেকেও নিষেধ করেছেন; যার সহজ অর্থ ও রূপ হলো বিনাশ করা, ত্রুটি করা, অবহেলা করা এবং বর্জন করা। দ্বীনের ক্ষেত্রে শিথিলতা (التفريط) মূলত আল্লাহর সীমারেখা রক্ষায় গুরুত্ব না দেওয়া এবং তা মেনে চলার আগ্রহ না থাকার কারণে ঘটে, যা ঈমানের দুর্বলতা বা অনুপস্থিতির ফলাফল। এর ওপর ভিত্তি করে, দ্বীনের ক্ষেত্রে শিথিলতা (التفريط) যদি কুফর (الكفر) এবং অস্বীকার করার (الجحود) পর্যায়ে না-ও পৌঁছায়, তবুও তা হলো প্রবৃত্তির অনুসরণ (اتباع للهوى), লালসাকে প্রাধান্য দেওয়া এবং নশ্বর দুনিয়াকে ভালোবাসা ও আখিরাত বর্জন করা। এমনকি এটি পাপাচারের (الفجور) আকাঙ্ক্ষার স্তরেও পৌঁছে যেতে পারে, যা হলো কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই নির্লজ্জভাবে পাপ ও পঙ্কিলতায় লিপ্ত হওয়া।

--------------------------------------------

(1) বুখারি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ২৮)
لقد أنسى التفريطُ في الدين الكثيرَ من الأمم السابقة ما ذكِّروا به على ألسنة رسلهم، فانحرفوا عن الدين انحرافا كُليا فاستحقوا الهلاك، وفي بيان ذلك يقول الحق تبارك وتعالى في محكم كتابه العزيز: {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى أُمَمٍ مِنْ قَبْلِكَ فَأَخَذْنَاهُمْ بِالْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ لَعَلَّهُمْ يَتَضَرَّعُونَ - فَلَوْلَا إِذْ جَاءَهُمْ بَأْسُنَا تَضَرَّعُوا وَلَكِنْ قَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ - فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ} [الأنعام: 42 - 44]

والخلاصة أن الإسلام دين الوسطية والاعتدال لا يقر الإفراط والتفريط في الدين؛ لأنهما خروج عن تعاليمه، فالشريعة الإسلامية شريعة يسر وسماحة تامة وبعد عن التكلف والتعمق وكل ما يورد المسلم شكا في دينه وشريعته وحرجا نابعا عن هذا التعمق والتنطع المؤدي إلى الوسوسة والضيق، فشريعة الله ميسرة وطريق تحصيل الثواب والأجر لا يكون بالقصد إلى المشاق، وتحمل الصعب من الأمور، ولكن بالإخلاص في الامتثال والاقتداء بنبي الرحمة عليه أفضل الصلاة وأزكى التسليم.

مما سبق نستطيع القول بأن الأمن والاستقرار في أي مجتمع مقرون أشد الاقتران بأخذ هذا المجتمع بمبدأ الوسطية والاعتدال وابتعاده عن الغلو في الدين أو التفريط فيه فما من مجتمع فشا فيه الغلو أو التفريط في أمور الدين، إلا وتعكر الأمن فيه وتزعزعت دعائمه وأصبح الناس فيه غير آمنين على دينهم وأنفسهم وأموالهم. . . فلنأخذ بمبدأ الوسطية والاعتدال في شئون حياتنا لننعم بنعمة الأمن والاستقرار والتقدم والرخاء.

 

‌‌[المطلب الرابع القيام بواجب النصيحة بالأسلوب الشرعي مع مراعاة التلازم] بين نصيحة ولي الأمر والدعاء له
দীনের ক্ষেত্রে শৈথিল্য (التفريط) পূর্ববর্তী অনেক জাতিকে তাদের রসূলদের মাধ্যমে প্রাপ্ত উপদেশসমূহ ভুলিয়ে দিয়েছিল, ফলে তারা দীন থেকে পুরোপুরি বিচ্যুত হয়ে পড়ে এবং ধ্বংসের উপযোগী হয়ে যায়। এ বিষয়ে পরম সত্য মহান আল্লাহ তাঁর সুদৃঢ় কিতাবে বর্ণনা করেন: "আর আমি অবশ্যই তোমার পূর্বে অনেক জাতির নিকট রসূল পাঠিয়েছিলাম; অতঃপর আমি তাদেরকে অভাব-অনটন ও রোগ-ব্যধি দ্বারা পাকড়াও করেছি যাতে তারা বিনীত হয়। অতঃপর যখন আমার শাস্তি তাদের নিকট আসলো, তখন তারা কেন বিনীত হলো না? বরং তাদের অন্তরসমূহ কঠোর হয়ে গিয়েছিল এবং শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের নিকট সুশোভিত করে দিয়েছিল। অতঃপর তাদেরকে যা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গেল, তখন আমি তাদের জন্য সবকিছুর দরজা খুলে দিলাম; অবশেষে যখন তারা যা দেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে উল্লাসিত হলো, তখন আমি হঠাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম; ফলে তারা তখন হতাশ হয়ে পড়ল।" [আল-আনআম: ৪২ - ৪৪]

সারকথা হলো, ইসলাম হলো মধ্যপন্থা (الوسطية) ও ভারসাম্যের (الاعتدال) ধর্ম। এটি দীনের মধ্যে আতিশয্য (الإفراط) ও শৈথিল্য (التفريط) কোনোটিকেই সমর্থন করে না; কারণ উভয়টিই এর শিক্ষা থেকে বিচ্যুতি। ইসলামি শরিয়ত হলো অত্যন্ত সহজ ও উদার এক বিধান এবং এটি কৃত্রিমতা, অতিরঞ্জন এবং এমন সব বিষয় থেকে দূরে যা একজন মুসলিমকে তার দীন ও শরিয়ত সম্পর্কে সন্দেহে নিপতিত করে এবং যা এমন গভীরতা ও বাড়াবাড়ি (التنطع) থেকে উৎপন্ন সংকীর্ণতা যা ওয়াসওয়াসা ও অস্থিরতার দিকে নিয়ে যায়। আল্লাহর শরিয়ত সহজসাধ্য, আর সওয়াব ও প্রতিদান লাভের পথ কৃচ্ছ্রসাধনের সংকল্প বা কঠিন বিষয়গুলো বহন করার মধ্যে নয়, বরং আনুগত্যে একনিষ্ঠতা এবং রহমতের নবী—তাঁর প্রতি সর্বোত্তম সালাত ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক—এর অনুসরণের মধ্যেই নিহিত।

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি যে, যেকোনো সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সেই সমাজের মধ্যপন্থা (الوسطية) ও ভারসাম্যের (الاعتدال) নীতি গ্রহণ এবং দীনের ব্যাপারে চরমপন্থা (الغلو) বা শৈথিল্য (التفريط) থেকে দূরে থাকার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে সমাজে দীনের বিষয়ে চরমপন্থা (الغلو) বা শৈথিল্য (التفريط) ছড়িয়ে পড়ে, সেখানে শান্তি বিঘ্নিত হয়, তার ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায় এবং মানুষ তাদের দীন, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা হারিয়ে ফেলে। সুতরাং, আমাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (الوسطية) ও ভারসাম্যের (الاعتدال) নীতি অবলম্বন করা উচিত যাতে আমরা নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, প্রগতি ও সমৃদ্ধির নেয়ামত উপভোগ করতে পারি।

 

‌‌[চতুর্থ অনুচ্ছেদ: শাসককে সদুপদেশ (النصيحة) প্রদান এবং তার জন্য দোয়ার মধ্যবর্তী অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বজায় রেখে শরয়ি পদ্ধতিতে নসিহতের দায়িত্ব পালন] শাসককে নসিহত করা এবং তার কল্যাণে দোয়া করার মাঝে।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ২৯)
المطلب الرابع

القيام بواجب النصيحة

بالأسلوب الشرعي مع مراعاة

التلازم بين نصيحة ولي الأمر والدعاء له
চতুর্থ পরিচ্ছেদ

নসিহতের (النصيحة) আবশ্যিক দায়িত্ব পালন

শরয়ি (الشرعي) পদ্ধতিতে এবং সেই সাথে লক্ষ্য রাখা

শাসকের (ولي الأمر) প্রতি নসিহত এবং তাঁর জন্য দোয়া (الدعاء) করার মধ্যকার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের প্রতি
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ৩১)
النصيحة كلمة تعبر عن جملة هي " إرادة الخير للمنصوح له "، والنصيحة شأنها عظيم فحاجة المسلم إليها كحاجته للأكل والشرب والهواء ولا غنى له عنها؛ لأنها هي التي تبين الطريق وتبصر الإنسان بأخطائه وما يحيط به من مخاطر ومهالك (1) .

والمسلم محتاج إلى النُّصْح حاكما أو محكوما رجلا كان أو امرأة عالما أو متعلما، وما النصيحة إلا كلمة طيبة وموعظة فهي إذن تحتاج إلى شروط، وأهم هذه الشروط: الإخلاص والعلم بما ينصح به وينهى عنه والرفق والتلطف بمن ينصحهم ويذكرهم، وقد تواترت الأدلة على وجوب النصيحة من الكتاب والسنة: لقوله تعالى: {لَيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَى وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنْفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِنْ سَبِيلٍ} [التوبة: 91] (2) . وقوله تعالى إخبارا عن نوح: {وَأَنْصَحُ لَكُمْ} [الأعراف: 62] (3) .

وقوله تعالى إخبارا عن هود: {وَأَنَا لَكُمْ نَاصِحٌ} [الأعراف: 68]

ولقد عظم رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر النصيحة فجعلها عماد الدين وقوامه، قال صلى الله عليه وسلم «الدين النصيحة قالوا: لمن يا رسول الله؟ قال لله وكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم» (4) .

في هذا الحديث الشريف حصر الرسول صلى الله عليه وسلم الدين في النصيحة لعلو شأنها ولأنها بالتعميم الذي ذكره الرسول صلى الله عليه وسلم شملت الدين كله، والنصيحة تختلف باختلاف المنصوح له فالنصيحة لله الإيمان به، ونفي الشرك عنه وترك الإلحاد في صفاته، ووصفه بأوصاف

--------------------------------------------

(1) الأمين الحاج محمد، النصيحة ومكانتها في الإسلام، جدة، دار المطبوعات الحديثة، ص50.

(2) سورة التوبة الآية 91.

(3) سورة الأعراف، الآية 62.

(4) رواه البخاري والترمذي.
নসিহত এমন একটি শব্দ যা একটি মূলভাবকে প্রকাশ করে, আর তা হলো "নসিহত গ্রহণকারীর জন্য কল্যাণ কামনা করা"। নসিহতের গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম; একজন মুসলিমের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা আহার, পানীয় এবং বাতাসের প্রয়োজনীয়তার মতোই, যা ছাড়া তার কোনো গত্যন্তর নেই। কারণ এটিই সঠিক পথ প্রদর্শন করে এবং মানুষকে তার ভুলত্রুটি ও তাকে ঘিরে থাকা বিভিন্ন বিপদ-আপদ ও ধ্বংসাত্মক বিষয় সম্পর্কে সচেতন করে (১)।

শাসক হোক বা শাসিত, পুরুষ হোক বা নারী, আলেম হোক বা শিক্ষার্থী—প্রত্যেক মুসলিমেরই নসিহতের প্রয়োজন রয়েছে। নসিহত মূলত উত্তম কথা এবং সদুপদেশ বৈ কিছু নয়; তাই এর জন্য কিছু শর্ত প্রয়োজন। এই শর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: ইখলাস (একনিষ্ঠতা), যে বিষয়ে নসিহত করা হচ্ছে বা যা থেকে নিষেধ করা হচ্ছে সে সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এবং যাদের নসিহত বা উপদেশ দেওয়া হচ্ছে তাদের প্রতি নম্রতা ও কোমলতা প্রদর্শন করা। কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে নসিহত ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে দলীলসমূহ নিরবচ্ছিন্নভাবে (تواترت) বর্ণিত হয়েছে: আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: {দুর্বল, রুগ্ন এবং যাদের ব্যয় করার মতো কিছু নেই, তাদের কোনো অপরাধ নেই যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অকৃত্রিম অনুরাগী (নসিহতকারী) হয়। সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের পথ নেই।} [আত-তাওবাহ: ৯১] (২)। এবং নুহ (আ.) সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আমি তোমাদের নসিহত করছি} [আল-আরাফ: ৬২] (৩)।

এবং হুদ (আ.) সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত নসিহতকারী} [আল-আরাফ: ৬৮]

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নসিহতের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন এবং একে দ্বীনের স্তম্ভ ও মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দ্বীন হলো নসিহত (সদিচ্ছা/কল্যাণ কামনা)।" সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: "কার জন্য, হে আল্লাহর রাসূল?" তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য এবং মুসলিমদের নেতা ও সাধারণ জনগণের জন্য" (৪)।

এই সম্মানিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বীনকে নসিহতের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন এর সুউচ্চ মর্যাদার কারণে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে ব্যাপকতা উল্লেখ করেছেন তার মাধ্যমে এটি সমগ্র দ্বীনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। নসিহত যাকে করা হচ্ছে তার প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্ন হয়; যেমন আল্লাহর জন্য নসিহত হলো—তাঁর প্রতি ঈমান আনা, তাঁর থেকে শিরক দূর করা, তাঁর গুণাবলীতে বিকৃতি বা নাস্তিকতা বর্জন করা এবং তাঁকে ঐ সকল বিশেষণে বিশেষিত করা...

--------------------------------------------

(১) আল-আমিন আল-হাজ মুহাম্মদ, আন-নাসিহা ওয়া মাকানাতুহা ফিল ইসলাম, জেদ্দা, দারুল মাতবুআত আল-হাদিসাহ, পৃষ্ঠা ৫০।

(২) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ৯১।

(৩) সূরা আল-আরাফ, আয়াত ৬২।

(৪) বুখারি ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ৩২)
الكمال وتنزيهه عن النقائص، وطاعة أمره واجتناب نهيه، وموالاة من أطاعه ومعاداة من عصاه وغير ذلك مما يجب له.

والنصيحة لكتاب الله الإيمان بأنه كلام الله تعالى، وتحليل ما حلله وتحريم ما حرمه والاهتداء بما فيه والتدبر لمعانيه والقيام بحقوق تلاوته، والاتعاظ بمواعظه، قال الإمام النووي رحمه الله في بيان النصيحة لكتاب الله ما ذكره الخطابي وغيره: " النصيحة لكتاب الله سبحانه وتعالى: الإيمان بأنه كلام الله تعالى وتنزيله، لا يشبهه شيء من كلام الخلق ولا يقدر على مثله أحد من الخلق، ثم تعظيمه وتلاوته حق تلاوته. . . والذب عنه لتأويل المحرفين وتعرض الطاغين والتصديق بما فيه، والوقوف على أحكامه، وتفهم علومه وأمثاله والاعتبار بمواعظه والتفكر في عجائبه والعمل بمحكمه والتسليم لمتشابهه، والبحث عن عمومه وخصوصه وناسخه ومنسوخه (1) .

والنصيحة لرسول الله صلى الله عليه وسلم تصديقه فيما جاء به واتباعه فيما أمر به ونهى عنه ومعرفة سننه ونشرها، وعبادة الله تعالى بما جاء به رسول الله صلى الله عليه وسلم.

معنى النصيحة لولاة الأمر: - إعانتهم على الحق، وطاعتهم فيه، وأمرهم به، وتذكيرهم بحوائج العباد، " وإذا كانت حاجة المسلم - أي مسلم - شديدة إلى النصح، فإن حاجة ولي الأمر إليها أشد وأعظم، لأنه القائم على شؤون الناس والراعي لمصالحهم أجمعين ".

فلما ينهض به من جليل الأعمال وعظيم المهام احتاج إلى الناصح الأمين (2) . لقد حث رسول الله صلى الله عليه وسلم على إسداء النصيحة

--------------------------------------------

(1) مسلم بشرح النووي، ج2، ص 37 - ص 39.

(2) وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد، الدعاء لولاة الأمر، الرياض، 1416 هـ.
মহান আল্লাহর পূর্ণতা বর্ণনা এবং তাঁকে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র ঘোষণা করা, তাঁর আদেশ পালন ও তাঁর নিষেধ বর্জন করা, যারা তাঁর আনুগত্য করে তাদের সাথে মিত্রতা এবং যারা তাঁর অবাধ্য হয় তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা এবং তাঁর প্রতি ওয়াজিব বা আবশ্যক এমন অন্যান্য বিষয়সমূহ।

আর আল্লাহর কিতাবের প্রতি নসিহত (نصيحة) হলো—এটি মহান আল্লাহর কালাম বলে বিশ্বাস করা, এতে যা তিনি হালাল করেছেন তা হালাল হিসেবে গ্রহণ করা এবং যা হারাম করেছেন তা হারাম হিসেবে গণ্য করা, এর মাধ্যমে হেদায়েত লাভ করা, এর মর্মার্থ নিয়ে গবেষণা করা, এর তিলাওয়াতের হক আদায় করা এবং এর উপদেশাবলি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর কিতাবের প্রতি নসিহত (نصيحة) এর বর্ণনায় খাত্তাবি ও অন্যান্যদের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেছেন: "মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কিতাবের প্রতি নসিহত (نصيحة) হলো: এটি মহান আল্লাহর কালাম এবং তাঁর অবতীর্ণকৃত বিষয়—এই বিশ্বাস রাখা; সৃষ্টির কোনো কথা এর সদৃশ নয় এবং সৃষ্টির কেউই এর সমতুল্য কিছু আনতে সক্ষম নয়। অতপর একে সম্মান করা এবং যথাযথভাবে তিলাওয়াত করা... এবং বিকৃতকারীদের অপব্যাখ্যা ও সীমালঙ্ঘনকারীদের আক্রমণ থেকে একে রক্ষা করা, এর বিষয়বস্তুকে সত্যায়ন করা, এর বিধানসমূহ যথাযথভাবে জানা, এর ইলম ও উদাহরণসমূহ অনুধাবন করা, এর উপদেশাবলি থেকে শিক্ষা নেওয়া, এর বিস্ময়কর বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করা, এর সুস্পষ্ট (محكم) আয়াত অনুযায়ী আমল করা এবং এর রূপক (متشابه) আয়াতগুলোর প্রতি আত্মসমর্পণ করা, আর এর সাধারণ (عام), বিশেষ (خاص), রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) বিষয়গুলো নিয়ে অনুসন্ধান করা।" (১)

আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি নসিহত (نصيحة) হলো—তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা বিশ্বাস করা, যা আদেশ করেছেন এবং যা নিষেধ করেছেন তাতে তাঁর অনুসরণ করা, তাঁর সুন্নাহসমূহ জানা ও তা প্রচার করা এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন সে অনুযায়ী মহান আল্লাহর ইবাদত করা।

দায়িত্বশীলদের প্রতি নসিহত (نصيحة)-এর অর্থ হলো: সত্যের পথে তাদের সহায়তা করা, সত্যের ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করা, তাদের সত্যের আদেশ দেওয়া এবং জনগণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া। "যদি একজন মুসলিমের—যেকোনো মুসলিমের—নসিহতের (نصح) প্রয়োজন তীব্র হয়, তবে একজন দায়িত্বশীলের জন্য এর প্রয়োজন আরও তীব্র ও সুমহান; কেননা তিনি মানুষের বিষয়াবলি পরিচালনা করেন এবং সবার স্বার্থের রক্ষণাবেক্ষণকারী।"

যেহেতু তিনি অত্যন্ত মহৎ কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ সব দায়িত্ব পালন করেন, তাই তাঁর একজন বিশ্বস্ত হিতৈষীর প্রয়োজন (২)। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নসিহত (نصيحة) প্রদানের প্রতি উৎসাহিত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বি-শারহি নববী, ২য় খণ্ড, ৩৭-৩৯ পৃষ্ঠা।

(২) ইসলামি বিষয়াবলি, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়, আদ-দুআ লি-উলাতিল আমর, রিয়াদ, ১৪১৬ হিজরি।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
لولي الأمر في أكثر من حديث، قال صلى الله عليه وسلم: «ثلاثة لا يغل عليهم قلب امرئ مسلم: إخلاص العمل لله ومناصحة ولاة الأمر، ولزوم جماعة المسلمين» (1) . وقال صلى الله عليه وسلم: «إن الله يرضى لكم ثلاثا، يرضى لكم أن تعبدوه ولا تشركوا به شيئا، وأن تعتصموا بحبل الله جميعا ولا تفرقوا وأن تناصحوا من ولاه الله أمركم» (2) .

وقد بيًّن علماء الإسلام في شتى العصور أهمية النصيحة لولي الأمر فيما تكون فيه، يقول ابن رجب رحمه الله، أما النصيحة لأئمة المسلمين: فحب صلاحهم ورشدهم وقولهم وحب اجتماع الأمة عليهم، وكراهة افتراق الأمة عليهم، والتدين بطاعتهم من طاعة الله عز وجل، والبغض لمن رأى الخروج عليهم وحب إعزازهم في طاعة الله عز وجل (3) . وينقل النووي عن الخطابي وغيره: " والنصيحة لأئمة المسلمين معاونتهم على الحق وطاعتهم فيه، وأمرهم به وتنبيههم وتذكيرهم برفق ولطف وإعلامهم بما غفلوا عنه ولم يبلغهم من حقوق المسلمين وترك الخروج عليهم، وتألف قلوب الناس لطاعتهم " (4) . ويقول الحافظ بن حجر رحمه الله " والنصيحة لأئمة المسلمين: إعانتهم على ما حملوا القيام به وتنبيههم عند الغفلة، وسد خلتهم عند الهفوة وجمع الكلمة عليهم، ورد القلوب النافرة إليهم، ومن أعظم نصيحتهم، دفعهم عن الظلم بالتي هي أحسن (5) .

--------------------------------------------

(1) رواه الإمام أحمد.

(2) رواه مالك وأحمد وابن حبان.

(3) ابن رجب جامع العلوم والحكم، بيروت، دار المعرفة، ص77.

(4) صحح مسلم بشرح النووي، ج2، ص 37. .

(5) فتح الباري ج1، ص 167.
শাসকদের বিষয়ে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তিনটি বিষয় এমন যাতে কোনো মুসলিমের অন্তর খিয়ানত বা বিদ্বেষ পোষণ করে না: আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা, শাসকদের প্রতি কল্যাণকামিতা (مناصحة) পোষণ করা এবং মুসলিম জামাতের (جماعة) সাথে সংহতি বজায় রাখা» (১)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের তিনটি বিষয়ে সন্তুষ্ট হন; তিনি সন্তুষ্ট হন যে তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না, আর আল্লাহ যাঁকে তোমাদের বিষয়াবলির দায়িত্ব দিয়েছেন তোমরা তাঁর প্রতি কল্যাণকামিতা (مناصحة) পোষণ করবে» (২)।

বিভিন্ন যুগে ইসলামের উলামায়ে কেরাম শাসকের প্রতি কল্যাণকামিতা (نصيحة) এবং এর ক্ষেত্রসমূহ স্পষ্ট করেছেন। ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মুসলিম শাসকদের প্রতি কল্যাণকামিতা (نصيحة) প্রসঙ্গে: এটি হলো তাদের সংশোধন, সঠিক পথ প্রাপ্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ কথা বলা পছন্দ করা, তাদের নেতৃত্বে উম্মত ঐক্যবদ্ধ থাকাকে ভালোবাসা এবং তাদের বিরুদ্ধে উম্মতের বিভক্তিকে অপছন্দ করা। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার আনুগত্যের অংশ হিসেবে তাদের আনুগত্য করাকে ইবাদত মনে করা এবং যারা তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (خروج) করা সমর্থন করে তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা এবং আল্লাহর আনুগত্যের পথে তাদের সম্মান বৃদ্ধি কামনা করা (৩)। ইমাম নববী, খাত্তাবি ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেন: "মুসলিম শাসকদের প্রতি কল্যাণকামিতা (نصিحة) হলো সত্যের পথে তাদের সহায়তা করা এবং তাতে তাদের আনুগত্য করা; তাদের সত্যের নির্দেশ দেওয়া এবং অত্যন্ত নম্রতা ও কোমলতার সাথে তাদের সচেতন ও উপদেশ প্রদান করা। তারা যেসব বিষয়ে গাফেল রয়েছেন এবং মুসলিমদের যেসব অধিকার তাদের নিকট পৌঁছায়নি সে সম্পর্কে তাদের অবহিত করা; তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (خروج) করা বর্জন করা এবং তাদের আনুগত্যের প্রতি মানুষের অন্তরকে ধাবিত করা" (৪)। হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, "মুসলিম শাসকদের প্রতি কল্যাণকামিতা (نصيحة) হলো: তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে তাদের সহায়তা করা, তাদের অসতর্কতার সময় সচেতন করা, তাদের ভুলত্রুটির সময় সহায়ক হওয়া, তাদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং বিরূপ অন্তরগুলোকে তাদের দিকে ফিরিয়ে আনা। তাদের প্রতি শ্রেষ্ঠতম কল্যাণকামিতা (نصيحة) হলো যথাসম্ভব উত্তম পন্থায় তাদের জুলুম থেকে বিরত রাখা (৫)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন।

(২) মালেক, আহমদ এবং ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন।

(৩) ইবনে রজব, জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম, বৈরুত, دار المعرفة, পৃষ্ঠা ৭৭।

(৪) সহিহ মুসলিম বি শরহিন নববী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭। .

(৫) ফাতহুল বারী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬৭।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ويقول الشيخ عبد الرحمن السعدي رحمه الله بعد بيانه للمقصود بأئمة المسلمين: " إن من النصيحة لأئمة المسلمين وجوب طاعتهم بالمعروف وعدم الخروج عليهم، وحث الرعية على طاعتهم، ولزوم أمرهم الذي لا يخالف أمر الله ورسوله وبذل ما يستطيع الإنسان من نصيحتهم وتوضيح ما خفي عليهم مما يحتاجون إليه في رعايتهم، كل أحد بحسب حاله والدعاء لهم بالصلاح والتوفيق فإن صلاحهم صلاح لرعيتهم واجتناب سبهم والقدح فيهم وإشاعة مثالبهم فإن في ذلك شرا وضررا وفسادا كبيرا، فمن نصيحتهم الحذر والتحذير من ذلك.

وعلى من رأى منهم ما لا يحل أن ينبههم سرا لا علنا، بلطف وعبارة تليق بالمقام، ويحل بها المقصود، فإن هذا مطلوب في حق كل أحد، وبالأخص ولاة الأمور، فإن تنبيههم على هذا الوجه فيه خير كثير، وذلك علامة الصدق والإخلاص (1) .

ويقول سماحة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز - حفظه الله تعالى-: " من مقتضى البيعة النصح لولي الأمر، ومن النصح الدعاء له بالتوفيق والهداية وصلاح النية وصلاح البطانة؛ لأن من أسباب صلاح الوالي ومن أسباب توفيق الله له أن يكون له وزير صدق يعينه على الخير ويذكره إذا نسي ويعينه إذا ذكر، هذه من أسباب توفيق الله له، فالواجب على الرعية وعلى أعيان الرعية التعاون مع ولي الأمر في الإصلاح وإماتة الشر والقضاء عليه وإقامة الخير بالكلام الطيب والأسلوب الحسن والتوجيهات السديدة التي يرجى من ورائها الخير دون الشر " (2) .

--------------------------------------------

(1) عبد الرحمن بن سعدي، الرياض الناظرة، الرياض 1405، ص 38 - ص39.

(2) عبد الله بن محمد الرفاعي، مراجعات في فقه الواقع السياسي والفكر على ضوء الكتاب والسنة، الرياض، دار المعراج الدولية للنشر، 1414هـ، ص31.
শেখ আব্দুর রহমান আস-সাদী (রাহিমাহুল্লাহ) মুসলিম ইমামদের (নেতৃবৃন্দের) উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার পর বলেন: "মুসলিম ইমামদের প্রতি নসিহত বা কল্যাণকামনার (النصيحة) অন্তর্ভুক্ত হলো ন্যায়সঙ্গত (المعروف) কাজে তাঁদের আনুগত্য করা আবশ্যক (وجوب) হওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করা; প্রজাসাধারণকে তাঁদের আনুগত্যে উদ্বুদ্ধ করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের পরিপন্থী নয় এমন সব বিষয়ে তাঁদের আদেশের অনুগামী হওয়া; তাঁদের কল্যাণ কামনায় সাধ্যমতো চেষ্টা করা এবং প্রজাপালনের ক্ষেত্রে তাঁদের কাছে যা অস্পষ্ট থেকে যায় তা স্পষ্ট করে দেওয়া—প্রত্যেকেই তার সামর্থ্য অনুযায়ী; তাঁদের সংশোধন ও সফলতার জন্য দোয়া করা, কেননা তাঁদের সংশোধন মানেই প্রজাদের সংশোধন; তাঁদের গালি দেওয়া, সমালোচনা করা এবং তাঁদের দোষত্রুটি প্রচার করা থেকে বিরত থাকা, কারণ এর মধ্যে রয়েছে বড় অনিষ্ট, ক্ষতি ও বিপর্যয়। সুতরাং তাঁদের প্রতি নসিহত বা কল্যাণকামনার (النصيحة) অন্তর্ভুক্ত হলো এ সকল কাজ থেকে সতর্ক থাকা এবং অন্যদের সতর্ক করা।

আর যে ব্যক্তি তাঁদের মাঝে এমন কিছু দেখবে যা বৈধ নয়, তার উচিত হবে তাঁদেরকে প্রকাশ্যে নয় বরং গোপনে সতর্ক করা; অত্যন্ত নম্রতা এবং পরিস্থিতির সাথে মানানসই শব্দের মাধ্যমে—যাতে উদ্দেশ্য হাসিল হয়। কেননা এটি প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই কাম্য, বিশেষ করে দায়িত্বশীলদের (ولاة الأمور) ক্ষেত্রে। এভাবে তাঁদের সতর্ক করার মধ্যে প্রভূত কল্যাণ রয়েছে এবং এটিই হলো সত্যবাদিতা ও একনিষ্ঠতার (الإخلاص) নিদর্শন (১)।

শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (হাফিযাহুল্লাহু তা'আলা) বলেন: "আনুগত্যের শপথের (البيعة) দাবি হলো দায়িত্বশীলের (ولي الأمر) প্রতি নসিহত বা কল্যাণকামনা (النصح) করা। আর এই নসিহতের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর তাওফিক, হিদায়াত, নিয়তের বিশুদ্ধতা এবং সৎ অন্তরঙ্গ সহযোগীদের (بطانة) জন্য দোয়া করা; কেননা কোনো শাসকের সংশোধন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর তাওফিক লাভের অন্যতম মাধ্যম হলো তাঁর একজন সত্যবাদী উজির (মন্ত্রী বা সহযোগী) থাকা, যিনি তাঁকে কল্যাণের কাজে সাহায্য করবেন, তিনি কিছু ভুলে গেলে তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং স্মরণ থাকলে তাঁকে সহায়তা করবেন। এগুলো হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর তাওফিক প্রাপ্তির কারণ। অতএব, প্রজাসাধারণ এবং প্রজাদের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ওপর আবশ্যক (الواجب) হলো সংশোধন, মন্দকে মিটিয়ে দেওয়া ও নির্মূল করা এবং উত্তম কথা, সুন্দর পদ্ধতি ও সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলের (ولي الأمر) সাথে সহযোগিতা করা, যার মাধ্যমে কেবল কল্যাণের আশা করা যায়, মন্দের নয়" (২)।

--------------------------------------------

(১) আব্দুর রহমান বিন সাদী, আর-রিয়াদুন নাযিরাহ, রিয়াদ ১৪০৫, পৃষ্ঠা ৩৮ - পৃষ্ঠা ৩৯।

(২) আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আর-রিফাঈ, মুরাজাআত ফি ফিকহিল ওয়াকি আস-সিয়াসী ওয়াল ফিকর আলা দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, রিয়াদ, দারুল মি'রাজ আদ-দাওলিইয়াহ লিন নাশর, ১৪১৪ হিজরি, পৃষ্ঠা ৩১।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ويقول فضيلة الشيخ محمد بن صالح العثيمين - حفظه الله: " ومن حقوق الرعاة على رعيتهم أن يناصحوهم ويرشدوهم، وأن لا يجعلوا من خطئهم إذا أخطئوا سُلما للقدح فيهم ونشر عيوبهم بين الناس، فإن ذلك يوجب التنفير عنهم وكراهتهم وكراهة ما يقومون به من أعمال وإن كانت حقا، ويوجب عدم السمع والطاعة لهم، وإن من الواجب على كل ناصح خصوصا مَنْ ينصح ولاة الأمر أن يستعمل الحكمة في نصيحته ويدعو إلى سبيل ربه بالحكمة والموعظة الحسنة " (1) . ويقول أيضا: " وأما النصيحة لأئمة المسلمين فهي صدق الولاء لهم، وإرشادهم لما فيه خير الأمة في دينها ودنياها ومساعدتهم في إقامة ذلك، والسمع والطاعة لأوامرهم ما لم يأمروا بمعصية الله اعتقاد أنهم أئمة متبوعون لما أمروا به؛ لأنه ضد ذلك هو الغش والعناد لأوامرهم والتفرق والفوضى التي لا نهاية لها لو جاز لكل واحد أن يركب رأسه وأن يعتز برأيه ويعتقد أنه المسدد الصواب وهو الذي لا يدانيه أحد، لزم من ذلك الفوضى والتفرق والتشتت، ولذلك جاءت النصوص القرآنية النبوية بالأمر بطاعة ولاة الأمر لأن ذلك من النصيحة " (2) .

والنصحية لعامة الناس إرشادهم إلى مصالحهم في دنياهم وأخراهم، وكف الأذى عنهم، وتعليمهم ما جهلوه وأمرهم بالمعروف ونهيهم عن المكروه عنهم، وتعليم جاهلهم، ورد من زاغ منهم عن الحق في قول أو فعل بالتلطف في ردهم إلى الحق والرفق بهم في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر ومحبة إزالة فسادهم " (3) .

--------------------------------------------

(1) محمد بن صالح العثيمين، حقوق الراعي والرعية.

(2) محمد بن صالح العثيمين، حقوق الراعي والرعية.

(3) جامع العلوم والحكم، مصدر سابق، ص76.
পরাক্রমশালী শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন -আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন- বলেন: "প্রজাসাধারণের ওপর শাসকদের অন্যতম একটি অধিকার হলো তারা তাঁদের নসিহত করবে ও সঠিক পথ প্রদর্শন করবে এবং তাঁদের ভুলভ্রান্তিকে—যখন তাঁরা ভুল করেন—তাঁদের সমালোচনা (القدح) করার এবং মানুষের মাঝে তাঁদের দোষত্রুটি প্রচার করার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করবে না। কেননা, এটি তাঁদের প্রতি বিমুখতা ও ঘৃণা সৃষ্টি করে এবং তাঁদের সম্পাদিত কর্মকাণ্ডের প্রতিও ঘৃণা তৈরি করে, যদিও তা সত্য হয়। এর ফলে তাঁদের নির্দেশ শ্রবণ ও আনুগত্য না করার পরিবেশ তৈরি হয়। প্রত্যেক নসিহতকারীর ওপর আবশ্যিক কর্তব্য হলো—বিশেষ করে যারা উলুল আমর বা কর্তৃপক্ষের নসিহত করেন—উপদেশের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা অবলম্বন করা এবং হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে তাঁর রবের পথের দিকে আহ্বান করা" (১)। তিনি আরও বলেন: "আর মুসলিমদের নেতৃবৃন্দের প্রতি নসিহত হলো তাঁদের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য পোষণ করা, উম্মতের দ্বীন ও দুনিয়ার যা কিছু কল্যাণকর সেদিকে তাঁদের দিকনির্দেশনা প্রদান করা এবং তা বাস্তবায়নে তাঁদের সহযোগিতা করা। যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা আল্লাহর অবাধ্যতার আদেশ না দেন, ততক্ষণ তাঁদের আদেশ শ্রবণ করা ও আনুগত্য করা এবং তাঁরা যেসব বিষয়ের নির্দেশ দেন তাতে তাঁরা অনুসরণযোগ্য নেতা—এই বিশ্বাস পোষণ করা। কারণ এর বিপরীত অবস্থান হলো প্রতারণা এবং তাঁদের আদেশের বিরুদ্ধে হঠকারিতা করা, যা চরম বিভেদ ও অন্তহীন বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়। যদি প্রত্যেকের জন্য নিজের খেয়ালখুশি মতো চলা, নিজের মত নিয়ে পড়ে থাকা এবং নিজেকেই অভ্রান্ত ও সঠিক পথপ্রাপ্ত মনে করা বৈধ হতো এবং মনে করা হতো যে তাঁর ধারেকাছে কেউ নেই, তবে তার ফলাফল হতো বিশৃঙ্খলা, বিভেদ ও বিচ্ছিন্নতা। এজন্যই কুরআনের আয়াত ও হাদিসের বর্ণনাগুলোতে উলুল আমর বা কর্তৃপক্ষের আনুগত্য করার নির্দেশ এসেছে, কারণ তা নসিহতেরই অন্তর্ভুক্ত" (২)।

আর সাধারণ মানুষের প্রতি নসিহত হলো—তাঁদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর বিষয়ের দিকে দিকনির্দেশনা দেওয়া, তাঁদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, তাঁদের অজানা বিষয়গুলো শিক্ষা দেওয়া, তাঁদের সৎকাজের (المعروف) আদেশ দেওয়া এবং তাঁদের অপছন্দনীয় (المكروه) কাজ থেকে নিষেধ করা, তাঁদের অজ্ঞদের জ্ঞানদান করা, এবং তাঁদের মধ্য থেকে যারা কথা বা কাজে সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাঁদের নম্রতার সাথে সত্যের পথে ফিরিয়ে আনা। সৎকাজের (المعروف) আদেশ ও অসৎকাজ (المنكر) থেকে নিষেধের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতি কোমল হওয়া এবং তাঁদের মধ্যকার পঙ্কিলতা দূর করাকে ভালোবাসা" (৩)।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন, হুকুকুর রা'য়ী ওয়ার রা'ইয়্যাহ।

(২) মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন, হুকুকুর রা'য়ী ওয়ার রা'ইয়্যাহ।

(৩) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম, পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৭৬।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ويقول الشيخ محمد بن صالح العثيمين في هذا الصدد: "أما النصيحة العامة للمسلمين فهي أن تحب لهم ما تحب لنفسك وأن تفتح لهم أبواب الخير وتحثهم عليها، وتغلق دونهم أبواب الشر وتحذرهم منها، وأن يتبادل المؤمنون المودة والإخاء وأن تنشر محاسنهم وتستر مساوئهم. . . "، والنصيحة لعامة المسلمين أمرها عظيم وفضلها جليل وعاقبتها حميدة، لقد روي عن الحسن البصري رحمه الله، "أنه قال: قال بعض أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم: " والذي نفسي بيده إن شئتم لأقسمن لكم بالله أن أحب عباد الله إلى الله الذين يحببون الله على عباده ويحببون عباد الله إلى الله ويسعون في الأرض بالنصيحة" (1) .

وقال الفضيل بن عياض: " ما أدرك عندنا من أدرك بكثرة الصلاة والصيام وإنما أدرك من عندنا بسخاء الأنفس وسلام الصدور والنصح للأمة " (2) .

أمور لا بد من مراعاتها عند القيام بواجب النصيحة: يوجد عدة أمور لا بد من توافرها إذا ما أريد للنصيحة أن تحقق الأهداف المتوخاة من تقديمها ومن أهم هذه الأمور ما يلي: أولا: للنصيحة شروط وأهم هذه الشروط: الإخلاص فيجب على الناصح أن يكون مخلصا في نصيحته " بمعنى أن ينصح لأنه يحب أن ينصح لا ليقال إنه نصح، كما أن من شروط النصيحة أن يكون الناصح عالما بما ينصح به وينهى عنه، والرفق والتلطف بمن ينصحهم (3) . وقد مدح الله

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق، ص 77.

(2) المصدر السابق، ص 77.

(3) النصيحة ومكانتها في الإسلام، مصدر سابق ص6.
এই প্রসঙ্গে শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন বলেন: "সাধারণ মুসলিমদের প্রতি নসিহতের (উপদেশ) বিষয়টি হলো যে, আপনি তাদের জন্য তা-ই পছন্দ করবেন যা নিজের জন্য পছন্দ করেন, তাদের জন্য কল্যাণের দ্বার উন্মুক্ত করবেন এবং তাদের সেদিকে উৎসাহিত করবেন; আর তাদের জন্য অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করবেন এবং সে বিষয়ে তাদের সতর্ক করবেন। আরও এটি যে, মুমিনরা পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখবে এবং আপনি তাদের গুণাবলি প্রচার করবেন ও দোষত্রুটি গোপন রাখবেন..."। সাধারণ মুসলিমদের নসিহত করার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, এর মর্যাদা সুমহান এবং এর পরিণাম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জনৈক সাহাবী (أصحاب) বলেছেন, "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা চাইলে আমি তোমাদের আল্লাহর নামে শপথ করে বলতে পারি যে, আল্লাহর নিকট তাঁর বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় তারা, যারা বান্দাদের নিকট আল্লাহকে প্রিয় করে তোলে এবং আল্লাহর নিকট বান্দাদের প্রিয় করে তোলে এবং জমিনে নসিহত নিয়ে বিচরণ করে।" (১)।

ফুযাইল বিন আইয়ায বলেছেন: "আমাদের নিকট যারা (মর্যাদা) অর্জন করেছেন, তারা কেবল অধিক সালাত ও সিয়ামের মাধ্যমে তা অর্জন করেননি; বরং তারা আমাদের নিকট তা অর্জন করেছেন আত্মার উদারতা, হৃদয়ের পরিচ্ছন্নতা এবং উম্মাহর প্রতি নসিহতের মাধ্যমে।" (২)।

নসিহতের দায়িত্ব পালনের সময় যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা আবশ্যক: যদি নসিহতের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে হয়, তবে বেশ কিছু বিষয় বিদ্যমান থাকা প্রয়োজন। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: প্রথমত: নসিহতের কিছু শর্ত রয়েছে এবং এসব শর্তের মধ্যে প্রধান হলো: ইখলাস বা একনিষ্ঠতা। সুতরাং নসিহতকারীকে তার উপদেশে একনিষ্ঠ হতে হবে, অর্থাৎ তিনি নসিহত করবেন কারণ তিনি এটি পছন্দ করেন, এটি করার জন্য নয় যে তাকে নসিহতকারী বলা হবে। নসিহতের আরও একটি শর্ত হলো নসিহতকারীকে সেই বিষয়ে জ্ঞানী (عالم) হতে হবে যে বিষয়ে তিনি উপদেশ দিচ্ছেন বা নিষেধ করছেন এবং যাদের নসিহত করছেন তাদের প্রতি কোমল ও নম্র হওয়া (৩)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৭৭।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৭৭।

(৩) আন-নাসিহাতু ওয়া মাকানাতুহা ফিল ইসলাম, পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৬।
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ৩৭)
رسولهُ محمدا صلى الله عليه وسلم بمكارم الأخلاق وسني الخصال فقال جلّ من قائل: {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم: 4] (1) وقال تعالى {وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ} [آل عمران: 159] (2) .

الرِّفْقُ والمعاملة الحسنة الكريمة هي التي ألانت لرسول الله صلى الله عليه وسلم قلوب الأعراب الغلاظ الجفاة وأدت إلى سرعة استجابتهم لدعوته وقبولها، والنصح والتواصي بالخير بالحق من صفات المؤمنين الصالحين وسبب من أسباب الفوز يوم الفزع الأكبر (3) .

والخلاصة أنه ينبغي لمن يقوم بواجب النصيحة أن يبتغي بنصيحته لولاة الأمور وغيرهم وجه الله ولا يفعل هذا سمعة ورياء، كما يجب أن يكون هدفه الأول والأخير ردهم إلى الحق والصواب وإعانتهم على إقامة شرع الله وما فيه صلاح الرعية.

ثانيا: ينبغي أن تكون النصيحة بين الناصح والمنصوح سرا وخاصة إذا كانت النصيحة لولي الأمر، لأن طبيعة النفس البشرية، تحب ألا تبدو ناقصة أمام الآخرين ويترتب على هذه الطبيعة طبيعة أخرى، وهي أنها تبغض من يحاول أن يبدي بعض عيوبها أمام الآخرين بغضا يجعلها تأبى قبول الإصلاح فيها وحتى وإنْ كان النقدُ في محله، والعيبُ موجودا وذلك على سبيل العناد لمن بين هذه العيوب، ويستثنى من هذه الطبيعة البعض القليل، والذي يسعى هو بنفسه للآخرين من أجل أن يبينوا له العيوب، ولكن ليس أمام الآخرين، ويعدون ذلك نوعا من التوبيخ لا يرضون استماعه ولنسمع هنا إلى الإمام الشافعي وهو يقدم لأحد هؤلاء الذين فقدوا هذه القاعدة من قواعد الإنكار (4) .

--------------------------------------------

(1) سورة القلم، الآية 4.

(2) سورة آل عمران، الآية 159. .

(3) النصيحة ومكانتها في الإسلام، مصدر سابق ص7.

(4) عبد الحميد البلالي، فقه الدعوة ف إنكار المنكر، الكويت، دار الدعوة، 1411هـ، ص116. .
তাঁর রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মহান চরিত্র এবং উন্নত গুণাবলি দিয়ে ভূষিত করেছেন। ফলে মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} "নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত" [আল-কলম: ৪] (১)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ} "আর আপনি যদি কর্কশ ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত" [আল ইমরান: ১৫৯] (২)।

নম্রতা এবং সুন্দর ও মহৎ আচরণই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য রূঢ় ও কঠোর স্বভাবের মরুচারী আরবদের হৃদয়কে কোমল করে দিয়েছিল এবং তাদের দ্রুত তাঁর দাওয়াতের প্রতি সাড়া দিতে ও তা গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। আর হকের পথে কল্যাণ ও নসিহত প্রদান এবং পরস্পরকে সদুপদেশ দান করা সৎকর্মশীল মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং কিয়ামতের মহাভীতির দিনে সফল হওয়ার অন্যতম মাধ্যম (৩)।

সারকথা হলো, যার ওপর নসিহতের দায়িত্ব অর্পিত হয়, শাসক বা অন্যদের নসিহত করার ক্ষেত্রে তার লক্ষ্য হতে হবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন; সুখ্যাতি বা লোকদেখানোর (রিয়া) জন্য সে যেন তা না করে। তদ্রূপ তার একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত তাদেরকে সত্য ও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা এবং আল্লাহর শরিয়ত প্রতিষ্ঠা ও প্রজাদের মঙ্গলের জন্য তাদের সহযোগিতা করা।

দ্বিতীয়ত: নসিহত দাতা এবং যাকে নসিহত করা হচ্ছে তাদের মধ্যে এই নসিহত গোপনে হওয়া উচিত, বিশেষ করে যদি নসিহতটি শাসকের প্রতি হয়। কারণ মানুষের নফসের স্বভাব হলো সে অন্যের সামনে নিজের অসম্পূর্ণতা প্রকাশ পাওয়া পছন্দ করে না। আর এই স্বভাব থেকে অন্য একটি স্বভাবের জন্ম হয়, তা হলো—সে ওই ব্যক্তিকে ঘৃণা করতে শুরু করে যে অন্যের সামনে তার দোষত্রুটি তুলে ধরতে চায়। এই ঘৃণা তাকে সংশোধন গ্রহণে বাধা দেয়, এমনকি সমালোচনাটি সঠিক হওয়া সত্ত্বেও এবং দোষটি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও; স্রেফ দোষ বর্ণনাকারীর প্রতি একগুঁয়েমিবশত সে তা প্রত্যাখ্যান করে। তবে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ এই স্বভাবের ঊর্ধ্বে, যারা নিজেরাই অন্যের কাছে যায় যাতে তারা তাদের ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেয়, তবে তা অবশ্যই জনসমক্ষে নয়। তারা বিষয়টিকে এক প্রকার তিরস্কার হিসেবে গণ্য করে যা শুনতে তারা পছন্দ করে না। আসুন আমরা এখানে ইমাম শাফেঈর বক্তব্য শুনি, যিনি এমন এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে এটি বলেছিলেন যে অসৎ কাজ প্রতিরোধের মূলনীতিসমূহের মধ্যে এই নিয়মটি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল (৪)।

--------------------------------------------

(১) সুরা আল-কলম, আয়াত ৪।

(২) সুরা আল ইমরান, আয়াত ১৫৯। .

(৩) আন-নাসিহাতু ওয়া মাকানাতুহা ফিল ইসলাম, পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৭।

(৪) আব্দুল হামিদ আল-বিলালী, ফিকহুদ দাওয়াহ ফি ইনকারিল মুনকার, কুয়েত, দারুদ দাওয়াহ, ১৪১১ হিজরি, পৃষ্ঠা ১১৬। .
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ৩৮)
تعمدني بنصحك في انفرادي … وجنبني النصيحة في الجماعة

فإن النصح بين الناس نوع … من التوبيخ لا أرضى استماعه

وإن خالفتني وعصيت قولي … فلا تجزع إذا لم تعط طاعة

بل إن بعض النفوس ترفض حتى الإسرار في النصيحة إذا كانت مباشرة فلا تود أن تبدو ناقصة أمام الآخرين، وهذا النوع من النفوس الحساسة ينبغي أن ينصح بطريقة غير مباشرة، ليكون ذلك أدعى للقبول.

وإذا كانت النصيحة في العلن من الأمور المكروهة ضد عامة الناس فهي أشد كراهة في حق أصحاب النفوذ وهي أكثر شدة عليهم من عداهم، حتى جعلت الخليفة العباسي هارون الرشيد والذي يعد بحق من خير خلفاء بني العباس، يذكر للأصمعي بعض مبادئ النصح لأصحاب السلطان كان أولها عدم النصح في الملأ (1) . إذ يقول: (يا عبد الملك، أنت أعلم منا، ونحن أعقل منك، فلا تعلمنا في ملأ، ولا تسرع إلى تذكيرنا في خلا، واتركنا حتى نبتدئك بالسؤال، فإذا بلغت من الجواب قدر الاستحقاق فلا تزد، إلا أن نستدعي ذلك منك، وانظر إلى ما هو ألطف في التأدب، وأنصف من التعليم، وأبلغ بأوجز لفظ غاية التقويم) (2) .

ولقد أدرك السلف الصالح من هذه الأمة أهمية النصيحة في السر لولي الأمر، وكانت طريقتهم في نصيحة ولي الأمر في السر حفاظا على حدة الأمة؛ ولكي لا يتخذ المتربصون من أخطاء ولي الأمر سبيلا لإثارة الناس وإلى تنفير القلوب من ولاة الأمر فهو عين المفسدة وأحد الأسس التي تحصل بها الفتنة بين الناس (3) .

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق، ص 117. .

(2) أدب الدين والدنيا، ص91، نقلا من المصدر السابق 197. .

(3) للمزيد من المعلومات انظر حقوق الراعي والرعية، مصدر سابق ص27. .
একান্তে উপদেশের মাধ্যমে আমাকে সংশোধন করো … আর জনসমক্ষে উপদেশ প্রদান বর্জন করো

নিশ্চয়ই মানুষের মাঝে উপদেশ প্রদান করা এক প্রকার … তিরস্কার যা শুনতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না

যদি তুমি আমার বিরোধিতা করো এবং আমার কথা অমান্য করো … তবে তোমার আনুগত্য করা না হলে তুমি মর্মাহত হয়ো না

বরং কিছু অন্তর এমনকি নির্জনে সরাসরি উপদেশ প্রদানকেও প্রত্যাখ্যান করে যদি তা প্রত্যক্ষভাবে হয়; কারণ তারা অন্যের সামনে নিজেকে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে প্রকাশ করতে চায় না। এই ধরনের সংবেদনশীল ব্যক্তিদের পরোক্ষ পদ্ধতিতে উপদেশ দেওয়া উচিত, যেন তা গ্রহণের অধিক উপযোগী হয়।

সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে উপদেশ প্রদান যদি অপছন্দনীয় (مكروه) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তা আরও অধিক অপছন্দনীয় (أشد كراهة) এবং অন্যদের তুলনায় তাদের জন্য তা অধিক পীড়াদায়ক। এমনকি এটি আব্বাসীয় খলিফা (الخليفة) হারুনুর রশিদকে—যিনি যথার্থই বনু আব্বাসের শ্রেষ্ঠ খলিফাদের অন্যতম হিসেবে গণ্য—আসমাঈর নিকট সুলতান বা শাসকদের (السلطان) উপদেশ দেওয়ার কিছু মূলনীতি উল্লেখ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যার প্রথমটি ছিল জনসমক্ষে উপদেশ না দেওয়া (১)। তিনি বলেন: (হে আব্দুল মালিক, আপনি আমাদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং আমরা আপনার চেয়ে অধিক বিচক্ষণ; সুতরাং আপনি আমাদের জনসমক্ষে শিক্ষা দেবেন না, আর নির্জনেও আমাদের উপদেশ দিতে তাড়াহুড়ো করবেন না। বরং আমাদের ছেড়ে দিন যতক্ষণ না আমরা আপনাকে প্রশ্ন করি। অতঃপর যখন আপনি আপনার উত্তরের প্রাপ্য সীমায় পৌঁছাবেন, তখন আর বৃদ্ধি করবেন না—যদি না আমরা আপনার কাছে তা আহ্বান করি। শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে যা সবচেয়ে নম্র, শিক্ষার ক্ষেত্রে যা সবচেয়ে ন্যায়সঙ্গত এবং সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে সংশোধনের চূড়ান্ত পর্যায়ে যা সবচেয়ে সাবলীল, তার প্রতি লক্ষ্য রাখুন) (২)।

এই উম্মতের সালাফে সালেহীন (السلف الصالح) উলিল আমর বা শাসকের (ولي الأمر) ক্ষেত্রে গোপনে নসিহত করার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। শাসকের (ولي الأمر) ভুলত্রুটির সুযোগ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা যেন জনগণকে উত্তেজিত করার এবং শাসকদের প্রতি মানুষের অন্তরকে বিষিয়ে তোলার পথ খুঁজে না পায়, সেজন্য উম্মতের ঐক্য রক্ষার্থে শাসকের (ولي الأمر) প্রতি তাদের উপদেশের পদ্ধতি ছিল গোপনীয়। কেননা প্রকাশ্যে নসিহত করা অনিষ্টের (مفسدة) নামান্তর এবং এটি এমন একটি ভিত্তি যা মানুষের মাঝে ফিতনা (فتنة) সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায় (৩)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১১৭। .

(২) আদাবুদ দ্বীন ওয়াদ দুনিয়া, পৃষ্ঠা ৯১, পূর্বোক্ত উৎস পৃষ্ঠা ১৯৭ থেকে উদ্ধৃত। .

(৩) বিস্তারিত তথ্যের জন্য দেখুন হুকুুকুর রাঈ ওয়ার রাইয়াহ, পূর্বোক্ত উৎস পৃষ্ঠা ২৭। .
(খণ্ড: ১) মুতাতাল্লাবাতুল মুহাফাযাতি আলা নিমাতিল আমনি ওয়াল ইস্তিকরার (পৃষ্ঠা: ৩৯)
ثالثا: مراعاة التلازم بين نصيحة ولي الأمر والدعاء له: من مقتضى البيعة في الإسلام النصح لولي الأمر، ومن النصح الدعاء له بالتوفيق والهداية وصلاح النية والعمل وصلاح البطانة. . . ولقد حرص أئمة أهل السنة والجماعة على بيان هذه الحقيقة وتأكيدها في الكثير من مقالاتهم، يقول الإمام أبو جعفر الطحاوي رحمه الله: ولا نرى الخروج على أئمتنا وولاة أمورنا وإن جاروا، ولا ندعو عليهم ولا ننزع يدا من طاعتهم، ونرى طاعتهم من طاعة الله عز وجل فريضة ما لم يأمروا بمعصية (1) .

وقال إمام أهل السنة في عصره أبو محمد البربهاري رحمه الله في شرح السنة: " فأمرنا أن ندعو لهم بالصلاح، ولم نؤمر أن ندعو عليهم وإن ظلموا وإن جاروا؛ لأن ظلمهم وجورهم على أنفسهم وصلاحهم لأنفسهم وللمسلمين " (2) . ويقول الإمام أحمد رحمه الله (لو أن لي دعوة مستجابة ما جعلتها إلا في السلطان) (3) .

ويقول الشيخ عبد العزيز بن باز - حفظه الله -: " من مقتضى البيعة النصح لولي الأمر، من النصح الدعاء له بالتوفيق والهداية وصلاح النية والعمل وصلاح البطانة، لأن من أسباب صلاح الوالي ومن أسباب توفيق الله له أن يكون له وزير صدق يعينه على الخير ويذكره إذا نسي ويعينه إذا ذكر. . . ويقول الشيخ عبد العزيز في موضع آخر: " الدعاء لولي الأمر من أعظم القربات ومن أفضل الطاعات "، ومن النصيحة لله ولعباده، والنبي صلى الله عليه وسلم لما قيل له إن دوسًا عصت قال: «اللهم اهد دوسا وآت بهم» ، " يدعى للناس بالخير والسلطان أولى من يدعى له لأن صلاحه صلاح

--------------------------------------------

(1) العقيدة الطحاوية، من شرح ابن أبي العز، ص 379. .

(2) محمد البربهاري، شرح السنة، تحقيق أبي ياسر الردادي، 1414هـ ص 117. .

(3) للمزيد من المعلومات حول هذا الموضوع انظر: الدعاء لولاة الأمر، مصدر سابق، ص 26 - ص 31. .
তৃতীয়ত: শাসকের (ولي الأمر) প্রতি নসিহত এবং তাঁর জন্য দোয়ার মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রক্ষা করা: ইসলামে আনুগত্যের শপথের (البيعة) দাবি হলো শাসকের (ولي الأمر) প্রতি নসিহত বা কল্যাণকামনা করা। আর নসিহতের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর তাওফিক, হেদায়াত, নিয়ত ও আমলের সংশোধন এবং সৎ পারিষদবর্গের (البطانة) সংশোধন ও কল্যাণের জন্য দোয়া করা। . . আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমামগণ তাঁদের অনেক বক্তব্যে এই ধ্রুব সত্য বর্ণনা ও নিশ্চিত করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমরা আমাদের ইমাম ও শাসকদের (ولاة أمورنا) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা (الخروج) বৈধ মনে করি না, যদিও তাঁরা জুলুম করেন। আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করি না এবং তাঁদের আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নেই না। আমরা তাঁদের আনুগত্য করাকে মহান আল্লাহর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত এবং একটি অপরিহার্য (فريضة) কর্তব্য মনে করি, যতক্ষণ না তাঁরা কোনো পাপাচারের (معصية) নির্দেশ দেন" (১) ।

এবং তাঁর যুগের আহলে সুন্নাহর ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-বারবাহারি (রহিমাহুল্লাহ) 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে বলেন: "আমাদেরকে তাঁদের (শাসকদের) সংশোধনের জন্য দোয়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, যদিও তাঁরা জুলুম ও অন্যায় করেন। কেননা তাঁদের জুলুম ও অন্যায় তাঁদের নিজেদের ওপর বর্তাবে, আর তাঁদের সংশোধন তাঁদের নিজেদের জন্য এবং মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর" (২) । ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যদি আমার এমন কোনো দোয়া থাকত যা অবশ্যই কবুলযোগ্য (مستجابة), তবে আমি তা কেবল সুলতানের (السلطان) জন্যই নির্দিষ্ট করতাম" (৩) ।

শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন: "আনুগত্যের শপথের (البيعة) দাবি হলো শাসকের (ولي الأمر) নসিহত করা। নসিহতের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর তাওফিক, হেদায়াত, নিয়ত ও আমলের সংশোধন এবং সৎ পারিষদবর্গের (البطانة) জন্য দোয়া করা। কারণ শাসকের (الوالي) সংশোধন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর তাওফিক লাভের অন্যতম কারণ হলো এমন একজন সত্যবাদী উজির (وزير صدق) থাকা, যে তাঁকে কল্যাণের কাজে সহযোগিতা করবে, তিনি ভুলে গেলে তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেবে এবং তিনি স্মরণে আনলে তাঁকে সাহায্য করবে. . . শায়খ আব্দুল আজিজ অন্য স্থানে বলেন: "শাসকের (ولي الأمر) জন্য দোয়া করা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম (القربات) এবং সর্বোত্তম আনুগত্যের (الطاعات) অন্তর্ভুক্ত।" এটি আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের জন্য নসিহতের অংশ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যখন বলা হলো যে, দাওস গোত্র অবাধ্য হয়েছে, তখন তিনি বললেন: «হে আল্লাহ! দাওস গোত্রকে হেদায়াত দিন এবং তাদের নিয়ে আসুন», "মানুষের জন্য কল্যাণের দোয়া করা হয়, আর সুলতান (السلطان) দোয়ার জন্য অধিক যোগ্য, কারণ তাঁর সংশোধন মানেই (উম্মাহর) সংশোধন

--------------------------------------------

(1) আল-আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ, শরহু ইবনে আবিল ইয থেকে, পৃষ্ঠা ৩৭৯. .

(2) মুহাম্মদ আল-বারবাহারি, শারহুস সুন্নাহ, তাহকিক: আবু ইয়াসির আর-রাদ্দাদি, ১৪১৪ হিজরি, পৃষ্ঠা ১১৭. .

(3) এই বিষয়ে আরও তথ্যের জন্য দেখুন: আদ-দুআ লি-উলাতিল আমর, পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২৬ - পৃষ্ঠা ৩১. .