(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: -)
قضية وحوار العنف في العمل الإسلامي المعاصر القسم: كتب عامة
اسم الكتاب: قضية وحوار العنف في العمل الإسلامي المعاصر
المؤلف: جماعة من العلماء
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد الصفحات: 86
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সমসাময়িক ইসলামি কর্মকাণ্ডে সহিংসতা: সংকট ও সংলাপ বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বইয়ের নাম: সমসাময়িক ইসলামি কর্মকাণ্ডে সহিংসতা: সংকট ও সংলাপ
লেখক: একদল আলিম
প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৬
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: -)
[تقديم]قضية وحوار العنف
في العمل الإسلامي
المعاصر
[উপস্থাপনা]সহিংসতার ইস্যু ও সংলাপ
সমকালীন ইসলামি
কার্যক্রমে
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديم الحمد لله القائل: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122] والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين محمد بن عبد الله القائل: «بلغوا عني ولو آية» أما بعد:
فإن مما امتن الله سبحانه وتعالى به على المملكة العربية السعودية، أن قيّض لها قيادة رشيدة أرست دعائمها وفقاً لعقيدة الإسلام وشريعته، الذي تلتزمه دستوراً ونظاماً لتسيير جميع مناشط الحياة فيها، وتبذل في سبيل نصرته غاية وسعها، حتى غدت نموذجاً يعتز به المسلمون في العالم.
وإن مركز البحوث والدراسات الإسلامية حلقة من حلقات الدعم السخي من لدن خادم الحرمين الشريفين - حفظه الله - وحكومته الرشيدة، لحقل الدعوة إلى الله على بصيرة، بالحكمة والموعظة الحسنة. ذلك أن من أهم الواجبات المنوطة بالمركز: إعداد الدراسات والبحوث عن القضايا الإسلامية الكبرى، مما يعضد مسيرة الدعوة الإسلامية في مشارق الأرض ومغاربها.
وإن من توفيق الله تبارك وتعالى للمركز، أنه نجح في إصدار بواكير أعماله في مدة يسيرة، على الرغم من متطلبات التأسيس المضنية.
فلقد أصدر العدد الأول من سلسلة الكتاب الإسلامي.
ভূমিকা। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বলেছেন: {“তবে তাদের প্রত্যেকটি বড় দল থেকে একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসবে তখন যেন তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়”} [আত-তাওবাহ: ১২২]। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, যিনি বলেছেন: “আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও।” অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সৌদি আরব রাজ্যের ওপর যে অনুগ্রহ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো: তিনি এর জন্য এক প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব নির্ধারিত করেছেন যারা ইসলামের আক্বিদা ও শরীয়াহ অনুযায়ী এর ভিত্তি সুদৃঢ় করেছেন, যা তারা জীবনের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সংবিধান ও পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এর সাহায্যের পথে তারা তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করছেন, যার ফলে এটি এমন এক আদর্শে পরিণত হয়েছে যা নিয়ে বিশ্বের মুসলমানরা গর্ববোধ করে।
আর ‘ইসলামি গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্র’ হলো খাদেমুল হারামাইন শরীফাইন—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন—এবং তাঁর প্রাজ্ঞ সরকারের পক্ষ থেকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ময়দানে উদার ও অকৃপণ সহযোগিতার একটি অংশ। কেননা এই কেন্দ্রের ওপর অর্পিত অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো: বৃহৎ ইসলামি ইস্যুগুলোর ওপর গবেষণা ও সমীক্ষা প্রস্তুত করা, যা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে ইসলামি দাওয়াতের পথচলাকে শক্তিশালী করবে।
আর কেন্দ্রের প্রতি মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার অন্যতম তাওফিক এই যে, এটি প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ের কঠোর পরিশ্রমসাধ্য প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে এর প্রারম্ভিক কাজগুলো প্রকাশ করতে সফল হয়েছে।
ইতোমধ্যেই ‘ইসলামি কিতাব ধারাবাহিক’-এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ৬)
كما نشر العددان الأول والثاني من نشرة الباحثون لفتح قناة اتصال مباشر بين المركز ونخبة الباحثين من رجال العلم والدعوة في أنحاء العالم.
وها هو المركز يقدم اليوم باكورة إنتاجه في سلسلة قضية وحوار التي تمتاز بطرح علمي يسهم فيه عدد من العلماء، من خلال حوار حضاري من أبرز خصائصه: التزام آداب الشرع المطهر، وتحري الحق والصواب، والحرص على وحدة الصف المسلم في وجه التحديات المختلفة، وبث الوعي، وتحذير الأمة من كيد المتربصين وانحرافات الجانحين.
وقد آثر المركز أن يستهل هذه السلسلة بقضية العنف في العمل الإسلامي المعاصر، الذي يثير الأسى في قلب كل مؤمن يهمه مستقبل الإسلام ومصير المسلمين.
وإننا ندعو الله عز وجل أن يوفّق المركز إلى تناول المشكلات الأخرى بالتشخيص الدقيق وتلمس سبل العلاج الناجع - بإذن الله -.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
الدكتور / عبد الله بن عبد المحسن التركي
وزير الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد
[ضيوف القضية]ضيوف القضية 1 - الشيخ محمد بن صالح العثيمين - الأستاذ بكلية الشريعة بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية فرع القصيم، وعضو هيئة كبار العلماء.
2 - الشيخ الدكتور صالح بن فوزان الفوزان - عضو الإفتاء بالإدارة العامة للبحوث العلمية والإفتاء، وعضو هيئة كبار العلماء بالمملكة العربية السعودية.
3 - الأستاذ الدكتور صالح بن غانم السدلان - أستاذ الفقه بكلية الشريعة بالرياض.
4 - الدكتور عبد الرحمن بن سليمان المطرودي - وكيل وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد بالمملكة العربية السعودية.
5 - الدكتور علي بن إبراهيم النملة - عضو مجلس الشورى بالمملكة العربية السعودية.
6 - الشيخ فيصل أنور مولوي - الأمين العام للجماعة الإسلامية ورئيس بيت الدعوة والدعاة في لبنان.
7 - الدكتور كامل الشريف - الأمين العام للمجلس العالمي للدعوة والإغاثة، ووزير الأوقاف والمقدسات الإسلامية بالأردن سابقا.
কেন্দ্র এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ইলম ও দাওয়াতের সাথে যুক্ত বিশিষ্ট গবেষকদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি মাধ্যম তৈরির লক্ষে 'আল-বাহিসুন' ইশতেহারের প্রথম ও দ্বিতীয় সংখ্যা ইতিপূর্বেই প্রকাশিত হয়েছে।
আর আজ এই কেন্দ্রটি 'কাদিয়াহ ওয়া হিওয়ার' (বিষয় ও সংলাপ) সিরিজের প্রথম গবেষণাকর্ম পেশ করছে, যা একটি তাত্ত্বিক উপস্থাপনার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং এতে বেশ কয়েকজন আলেম অবদান রেখেছেন। একটি গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: পবিত্র শরীয়তের আদব বা শিষ্টাচার মেনে চলা, সত্য ও সঠিক বিষয় অনুসন্ধান করা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য বজায় রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া, সচেতনতা প্রচার করা এবং ওত পেতে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত ও পথভ্রষ্টদের বিচ্যুতি সম্পর্কে উম্মাহকে সতর্ক করা।
কেন্দ্র এই সিরিজের সূচনা করার ক্ষেত্রে সমকালীন ইসলামি কর্মকাণ্ডে 'সহিংসতা' ইস্যুটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যা ইসলামের ভবিষ্যৎ এবং মুসলিমদের পরিণতি নিয়ে চিন্তিত প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে গভীর দুঃখের উদ্রেক করে।
আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কেন্দ্রটিকে সঠিক রোগনির্ণয় এবং কার্যকর প্রতিকারের পথ খোঁজার মাধ্যমে অন্যান্য সমস্যাবলি নিয়ে কাজ করার তৌফিক দান করেন - ইনশাআল্লাহ।
আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ডক্টর / আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি
ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ বিষয়ক মন্ত্রী
[আলোচনার অতিথিগণ]আলোচনার অতিথিগণ ১ - শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন - আল-কাসিম শাখা ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের অধ্যাপক এবং হাইয়াতু কিবারিল উলামা (জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদ)-এর সদস্য।
২ - শায়খ ডক্টর সালেহ বিন ফাওজান আল-فাওজান - বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইফতা বিষয়ক সাধারণ দপ্তরের ইফতা সদস্য এবং সৌদি আরবের হাইয়াতু কিবারিল উলামা-এর সদস্য।
৩ - অধ্যাপক ডক্টর সালেহ বিন গানিম আস-সাদলান - রিয়াদ শরীয়াহ অনুষদের ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক।
৪ - ডক্টর আবদুর রহমান বিন সুলাইমান আল-মাতরুদি - সৌদি আরবের ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ বিষয়ক উপমন্ত্রী।
৫ - ডক্টর আলী বিন ইব্রাহিম আন-নামলাহ - সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের সদস্য।
৬ - শায়খ ফয়সাল আনোয়ার মাওলাভি - জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব এবং লেবাননের 'বাইতুদ দাওয়াহ ওয়াল দুয়াত'-এর প্রধান।
৭ - ডক্টর কামেল আল-শরীফ - ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল ফর দাওয়াহ অ্যান্ড রিলিফ-এর মহাসচিব এবং জর্ডানের প্রাক্তন ওয়াকফ ও ইসলামি পবিত্র স্থান বিষয়ক মন্ত্রী।
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ১০)
8 - الدكتور محمود بن أحمد شوق - مستشار رابطة الجامعات الإسلامية.
9 - الدكتور إبراهيم بن محمد أبو عباة رئيس جهاز الإرشاد والتوجيه بالحرس الوطني في المملكة العربية السعودية.
10 - الشيخ إبراهيم محمود جوب - الأمين العام لرابطة علماء المغرب والسنغال، ورئيس جمعية الدراسات والبحوث في الإسلام والتنمية، وعضو المجلس التأسيسي لرابطة العالم الإسلامي.
11 - الدكتور أبو الخير بريغش - رئيس اتحاد الهيئات والجاليات الإسلامية في إيطاليا.
12 - الشيخ أبو الكلام محمد يوسف - نائب أمير الجماعة الإسلامية في بنغلادش.
13 - الدكتور أحمد جاب الله - وكيل الكلية الأوربية للدراسات الإسلامية في فرنسا، ونائب رئيس اتحاد المنظمات الإسلامية في أوربا.
14 - الدكتور جمال الدين محمود - عضو مجمع البحوث الإسلامية بالأزهر الشريف.
[بين يدي الكتاب]
8 - ড. মাহমুদ বিন আহমদ শাওক - ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় লিগের উপদেষ্টা।
9 - ড. ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আবু আবাত - সৌদি আরব রাজ্যের ন্যাশনাল গার্ডের পথনির্দেশ ও নির্দেশনা বিভাগের প্রধান।
10 - শায়খ ইবরাহিম মাহমুদ জুব - মরক্কো ও সেনেগাল ওলামা লিগের মহাসচিব, ইসলাম ও উন্নয়ন বিষয়ক অধ্যয়ন ও গবেষণা সমিতির সভাপতি এবং মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের প্রতিষ্ঠাতা পরিষদের সদস্য।
11 - ড. আবুল খায়ের বারিগিশ - ইতালির ইসলামি সংস্থা ও সম্প্রদায়সমূহের ইউনিয়নের সভাপতি।
12 - শায়খ আবুল কালাম মুহাম্মদ ইউসুফ - বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
13 - ড. আহমদ জাবাল্লাহ - ফ্রান্সে ইউরোপীয় ইসলামিক স্টাডিজ কলেজের প্রতিনিধি এবং ইউরোপের ইসলামি সংস্থাগুলোর ইউনিয়নের সহ-সভাপতি।
14 - ড. জামালুদ্দিন মাহমুদ - আল-আযহার আল-শরীফের ইসলামি গবেষণা একাডেমির সদস্য।
[গ্রন্থ পরিচিতি]
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستهديه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، ونصلي ونسلم على خاتم الأنبياء والمرسلين، محمد بن عبد الله، المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد:
فإنه يحز في نفس المسلم ظهور فئات ترفع راية الدين الحنيف، وشعارات تطبيق الشريعة السمحة، لكن هذه الفئات لا تحتكم في مشكلاتها إلى شرع الله القويم، فليس أهون عندها من إراقة الدماء المعصومة، وانتهاك الحرمات بزعم إنكار المنكر!
ولم يكن أعداء الصحوة الإسلامية المعاصرة ليحلموا بأن يسدي إليهم الغلاة ذرائع يستغلونها لتشويه صورة الإسلام، ومحاربة كل مسعى إسلامي مهما كان معتدلاً ومسالما.
صحيح أن المتربصين بالإسلام والمسلمين لن يكفوا عن حقدهم الموروث حتى لو زالت تلك الذرائع، إلا أن ممارسات الغلو والشطط من قبل بعض المنتسبين إلى الإسلام، آزرت أهدافهم الخبيثة، وهي مؤازرة لا تشرّف مسلماً مهما ادعى حسن النية.
ورب قائل يقول: إن دعاة التطرف والغلو هم قلة منبوذة في خضم التيار الإسلامي العريض، وهو أمر نعترف به، غير أن صوت هؤلاء الجانحين شديد القعقعة، وآثار توجهاتهم المدمرة تستفحل، لا سيما أن
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট হেদায়েত প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করছি সর্বশেষ নবী ও রাসূলগণের ওপর, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, যাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে, এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের সবার ওপর। অতঃপর:
একজন মুসলিমের হৃদয়ে এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক যে, এমন কিছু দলের আবির্ভাব ঘটেছে যারা একনিষ্ঠ দীনের পতাকা এবং উদার শরিয়ত বাস্তবায়নের স্লোগান তোলে, কিন্তু এই দলগুলো তাদের সমস্যাবলীর বিচারে আল্লাহর সুপ্রতিষ্ঠিত শরিয়তের ফয়সালা গ্রহণ করে না। তাদের কাছে 'মুনকার' বা মন্দ (منكر) প্রতিরোধের অজুহাতে নিষ্পাপ মানুষের রক্ত প্রবাহিত করা এবং পবিত্র বিষয়সমূহের অবমাননা করার চেয়ে সহজ আর কিছুই নেই!
সমকালীন ইসলামি জাগরণের শত্রুরা স্বপ্নেও ভাবেনি যে, চরমপন্থীরা তাদের হাতে এমন সব অজুহাত তুলে দেবে যা তারা ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এবং প্রতিটি ইসলামি প্রচেষ্টাকে—তা যতটাই মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী ও শান্তিপূর্ণ হোক না কেন—প্রতিহত করতে ব্যবহার করবে।
এটি সঠিক (صحيح) যে, ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর ওঁৎ পেতে থাকা শত্রুরা তাদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বিদ্বেষ থেকে ক্ষান্ত হবে না, এমনকি যদি সেই অজুহাতগুলো অপসারিতও হয়। তবে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তির চরমপন্থা ও অতিরঞ্জিত কর্মকাণ্ড তাদের এই ঘৃণ্য লক্ষ্যগুলোকে ত্বরান্বিত করেছে; আর এটি এমন এক সহযোগিতা যা কোনো মুসলিমের জন্যই সম্মানজনক নয়, সে যতই সদিচ্ছার দাবি করুক না কেন।
হয়তো কোনো বক্তা বলবেন: উগ্রবাদ ও চরমপন্থার প্রবক্তারা বিশাল ইসলামি স্রোতধারার মধ্যে এক পরিত্যক্ত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী মাত্র—এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা স্বীকার করি। তবে এই বিপথগামীদের কণ্ঠস্বর অত্যন্ত উচ্চকিত এবং তাদের ধ্বংসাত্মক প্রবণতার প্রভাব ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে, বিশেষ করে যে...
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بعض الشباب المتحمسين لإسلامهم قد ينخدعون بدعاواهم التي يزرّقونها بغايات لا خلاف عليها، ويسوقونها مشفوعة بالآيات القرآنية والأحاديث النبوية، بعد تحريف دلالاتها.
إن الإشفاق على مستقبل الصحوة الإسلامية المباركة - بإذن الله - هو الحافز الأول لهذا الجهد المتواضع.
ولقد حرص المركز على استضافة عدد من العلماء المسلمين، يمثلون مختلف التخصصات، ويعملون في حقل الدعوة في أنحاء شتى من العالم، لكي تأتي الآراء أقرب ما تكون إلى الدقة والحياد العلمي المطلوبين في معالجة هذه الظاهرة المؤسفة.
وكانت الأسئلة التي عرضت على الشيوخ والأساتذة الأفاضل هي:
- ما عوامل نشوء تيارات العنف المنتسبة إلى الإسلام في زماننا، وما صلتها بتيارات الغلو القديمة؟
- ما ضوابط تغيير المنكر باليد؟
- ما مدى مشروعية الجماعات الإسلامية المعاصرة؟
- كيف يمكن التصدي لدعوات التكفير والخروج المسلح على الحاكم المسلم؟
ইসলামের প্রতি অনুরাগী কিছু যুবক তাদের এমন সব প্রচারণার দ্বারা বিভ্রান্ত হতে পারে যা তারা অবিসংবাদিত লক্ষ্যসমূহের দোহাই দিয়ে প্রচার করে এবং সেগুলোকে কুরআনের আয়াত ও নববী হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে উপস্থাপন করে, যদিও তারা সেগুলোর প্রকৃত তাৎপর্য বিকৃত করে দেয়।
আল্লাহর ইচ্ছায়—মুবারক ইসলামী জাগরণের ভবিষ্যতের প্রতি মমত্ববোধই এই বিনম্র প্রচেষ্টার মূল চালিকাশক্তি।
এই দুঃখজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় মতামতগুলো যাতে সর্বোচ্চ নির্ভুলতা ও প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নিরপেক্ষতার কাছাকাছি হয়, সেজন্য সেন্টারটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দাওয়াহ ক্ষেত্রে নিয়োজিত ও বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ একদল মুসলিম আলেমকে আমন্ত্রণ জানানোর ব্যাপারে বিশেষ সচেষ্ট ছিল।
সম্মানিত শায়খ ও অধ্যাপকদের নিকট উপস্থাপিত প্রশ্নগুলো ছিল নিম্নরূপ:
- আমাদের সময়ে ইসলামের সাথে সম্পর্কিত উগ্রবাদী ধারাগুলোর উৎপত্তির কারণ কী এবং প্রাচীন চরমপন্থী ধারাগুলোর সাথে এগুলোর যোগসূত্র কী?
- হাত দ্বারা অন্যায় (منكر) পরিবর্তনের নীতিমালাসমূহ কী কী?
- সমসাময়িক ইসলামী দলগুলোর বৈধতার ভিত্তি কতটুকু?
- তাকফির এবং মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের আহ্বানগুলোকে কীভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব?
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ১৫)
- ما السبيل إلى تحكيم شرع الله في البلدان الإسلامية التي تحكمها نظم علمانية؟
- ما تأثير تيارات العنف هذه في مستقبل الصحوة الإسلامية؟
ولقد التزمنا الأمانة التامة التي يأمر بها ديننا، في تقديم إجابات أهل الذكر المشاركين في هذه القضية، ولذلك سيلمس القارئ الكريم أن الضيوف الأفاضل أجمعوا على إدانة العنف المنتسب - زوراً - إلى الإسلام، وعلى ضرورة مواجهة فتنة تكفير المجتمعات والحكومات المسلمة، وعلى تطبيق الشريعة في كل بلد مسلم، وعلى أن ظاهرة العنف الضال تهدد الصحوة الإسلامية تهديداً خطيراً.
وختاماً: ندعو الله عز وجل أن يجعل عملنا هذا خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفع به. ثم نزجي الشكر خالصاً إلى أصحاب الفضيلة والسعادة الذين لبوا دعوتنا، وأسهموا في بيان الحق في هذه القضية الحساسة.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
هيئة تحرير السلسلة
- ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা দ্বারা শাসিত মুসলিম দেশগুলোতে আল্লাহর বিধান কার্যকর করার পথ কী?
- ইসলামি জাগরণের ভবিষ্যতে এই সহিংস ধারাগুলোর প্রভাব কী?
আমরা আমাদের দ্বীন কর্তৃক আদিষ্ট পূর্ণ আমানতদারি রক্ষা করেছি এই বিষয়ে অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞ আলেমদের (أهل الذكر) উত্তর উপস্থাপনের ক্ষেত্রে। তাই সম্মানিত পাঠক লক্ষ্য করবেন যে, বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ ইসলামের সাথে মিথ্যাভাবে সম্পৃক্ত সহিংসতার নিন্দা জানানোর ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তারা মুসলিম সমাজ ও সরকারকে কাফির সাব্যস্ত করার (تكفير) ফিতনা (فتنة) মোকাবিলা করার প্রয়োজনীয়তা, প্রতিটি মুসলিম দেশে শরিয়াহ (شريعة) প্রয়োগ এবং এই বিভ্রান্ত সহিংসতা ইসলামি জাগরণের জন্য এক গুরুতর হুমকি হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
পরিশেষে: আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এই কাজকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর দ্বারা কল্যাণ সাধন করেন। এরপর আমরা সেই সকল সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই যারা আমাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছেন এবং এই সংবেদনশীল বিষয়ে সত্য প্রকাশে অবদান রেখেছেন।
আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
গ্রন্থ সিরিজের সম্পাদকীয় পর্ষদ
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ১৭)
[المحور الأول النشأة والأسباب]
[بين مكة والمدينة]المحور الأول
النشأة والأسباب
[প্রথম মূলভাব: উদ্ভব ও কারণসমূহ][মক্কা ও মদিনার মাঝে]প্রথম মূলভাব
উদ্ভব ও কারণসমূহ
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بين مكة والمدينة إن من يتدبر كتاب الله عز وجل ويطّلع على الأحاديث النبوية، ويتأمل سيرة خاتم الأنبياء والمرسلين صلى الله عليه وسلم وصحابته الكرام، يتضح له أن الإسلام دين السلام؛ فهو يأبى العنف ويقوم على الدعوة إلى الله بالحكمة والموعظة الحسنة، ومخاطبة الفطرة لإزالة الصدأ الذي علاها بفعل البيئة المنحرفة. بل إن نبينا صلى الله عليه وسلم لم يختر إبادة مشركي مكة إبادة ربانية محضة، وذلك كما جاء في حديث عائشة رضي الله عنها قالت: قلت للنبي صلى الله عليه وسلم: «هل أتى عليك يوم كان أشد من يوم أحد؟ قال: لقد لقيت من قومك، وكان أشد ما لقيت منهم يوم العقبة، إذ عرضت نفسي على ابن ياليل بن عبد كلال، فلم يجبني إلى ما أردت، فانطلقت وأنا مهموم على وجهي، فلم أستفق إلا وأنا بقرن الثعالب، فرفعت رأسي، فإذا أنا بسحابة قد أظلتني، فنظرت فإذا فيها جبريل، فناداني، فقال: إن الله قد سمع قول قومك لك، وما ردوا عليك، وقد بعث إليك ملك الجبال لتأمر بما شئت فيهم، فناداني ملك الجبال، فسلم علي، ثم قال: يا محمد، إن الله قد سمع قول قومك لك، وأنا ملك الجبال، وقد بعثني ربك إليك لتأمرني بأمرك، فما شئت؟ إن شئت
মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থান; নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর কিতাব নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেন এবং নববী হাদিসসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন, আর শেষ নবী ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীদের জীবনী নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন, তার কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে ইসলাম শান্তির ধর্ম; এটি সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার এবং পথভ্রষ্ট পরিবেশের প্রভাবে মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির (ফিতরাত) ওপর যে মরিচা পড়েছে তা দূর করার আহ্বানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বরং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার মুশরিকদের জন্য নিছক কোনো ঐশ্বরিক ধ্বংসলীলা বেছে নেননি। যেমনটি আয়েশা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, «আপনার ওপর কি উহুদ যুদ্ধের দিনের চেয়েও কঠিন কোনো দিন এসেছিল? তিনি বললেন: তোমার সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। তবে তাদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে কঠিন দিনটি ছিল আকাবার দিন, যখন আমি নিজেকে ইবনে ইয়ালিল ইবনে আবদে কুলালের কাছে পেশ করেছিলাম। কিন্তু আমি যা চেয়েছিলাম সে তাতে সাড়া দেয়নি। এরপর আমি অত্যন্ত চিন্তিত ও বিমর্ষ হয়ে গন্তব্যহীনভাবে ফিরে চললাম। যখন আমি ‘কারনুস সা’আলিব’ নামক স্থানে পৌঁছালাম, তখন আমার হুশ ফিরল। আমি মাথা তুলে তাকালাম এবং দেখলাম যে একটি মেঘখণ্ড আমাকে ছায়া দিচ্ছে। আমি তাকালাম এবং সেখানে জিবরাইল (আ.)-কে দেখতে পেলাম। তিনি আমাকে ডেকে বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার সম্প্রদায়ের কথা এবং তারা আপনাকে যে উত্তর দিয়েছে তা শুনেছেন। তিনি পাহাড়ের ফেরেশতাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন যাতে আপনি তাদের ব্যাপারে যা চান তাকে নির্দেশ দিতে পারেন। এরপর পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডেকে সালাম দিলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার সম্প্রদায়ের কথা শুনেছেন। আমি পাহাড়ের ফেরেশতা। আপনার প্রতিপালক আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন যাতে আপনি আমাকে আপনার নির্দেশ প্রদান করেন। এখন আপনার ইচ্ছা কী? আপনি যদি চান...»
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ২০)
أطبقت عليهم الأخشبين، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: بل أرجو أن يخرج الله من أصلابهم من يعبد الله وحده لا يشرك به شيئًا» (1) .
ولما أُمِر النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه بالهجرة إلى يثرب وأقام هناك دولة التوحيد، لم يمارس العنف ضد رءوس الكفر الذين لم يدخروا وسعاً في محاربة الإسلام، فحاربهم حرب جيش لجيش إلى أن تحقق الوعد الإلهي الكريم، ففتحت مكة المكرمة وتطهرت الجزيرة العربية من رجس الوثنية، وانطلق النور إلى أنحاء المعمورة مبشراً بحضارة جديدة لا نظير لها.
إن هذه البدهيات المعلومة من دين الإسلام ومن تاريخه الناصع بالضرورة، تدحض الغلاة الذين يبيحون اليوم دماء المسلمين باسم إقامة دولة الإسلام، على الرغم من أنهم - علموا أو جهلوا - يناصرون بمنهجهم العليل أكذوبة المنصرين والمستشرقين القائلة: إن الإسلام انتشر بالسيف.
غير أن موقفنا المعارض لهذه الضلالات، وهو موقف ندين لله به، لا يلغي الحاجة إلى البحث في العوامل التي أسهمت في نشأة تيارات العنف المنتسبة إلى الإسلام في عصرنا، لا سيما أن أهل السنة والجماعة عُرفوا تاريخيّا. بمناوأة أهل التكفير الذين يستبيحون الدم المسلم المعصوم.
--------------------------------------------
'আমি তাদের ওপর দুই পাহাড় চাপিয়ে দিই', রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "বরং আমি আশা করি আল্লাহ তাদের বংশধরদের মধ্য থেকে এমন লোক বের করবেন যারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না।" (১) ।
আর যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের ইয়াসরিবে হিজরত করার নির্দেশ দেওয়া হলো এবং সেখানে তিনি তাওহীদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করলেন, তখন তিনি কুফরের সেসব মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কোনো সহিংসতা চর্চা করেননি যারা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কোনো ত্রুটি রাখেনি। বরং তিনি তাদের বিরুদ্ধে বাহিনী বনাম বাহিনীর যুদ্ধ লড়েছেন যতক্ষণ না মহান আল্লাহর সুমহান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে; ফলে মক্কা মুকাররমা বিজয় হলো এবং আরব উপদ্বীপ মূর্তিপূজার পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হলো। এরপর এই আলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল এক অতুলনীয় নতুন সভ্যতার সুসংবাদ নিয়ে।
ইসলাম ধর্ম এবং এর উজ্জ্বল ইতিহাস থেকে অবধারিতভাবে জ্ঞাত এই স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলো বর্তমানের সেই অতিবাদী (الغلاة) দের দাবি নস্যাৎ করে দেয় যারা ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নামে মুসলমানদের রক্তপাত বৈধ মনে করে। যদিও তারা—জেনে হোক বা না জেনে—তাদের এই ত্রুটিপূর্ণ মানহাজের মাধ্যমে খ্রিস্টান মিশনারি ও প্রাচ্যবিদদের সেই অপবাদেরই সমর্থন দিচ্ছে যা বলে যে: ইসলাম তলোয়ারের মাধ্যমে ছড়িয়েছে।
তবে এই বিভ্রান্তিগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের এই বিরোধী অবস্থান—যা আমাদের একটি দ্বীনি দায়িত্ব—আমাদের বর্তমান যুগে ইসলামের সাথে সম্পর্কিত সহিংস ধারাগুলোর উৎপত্তির কারণসমূহ অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তাকে নাকচ করে দেয় না। বিশেষ করে যেখানে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত ঐতিহাসিকভাবেই সেই তাকফিরপন্থীদের (أهل التكفير) বিরোধিতার জন্য পরিচিত, যারা মাসুম বা নিরপরাধ মুসলিমের রক্তপাতকে বৈধ সাব্যস্ত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ২১)
[الجهل والخوارج]الجهل والخوارج سألنا أصحاب الفضيلة: ما عوامل نشوء تيارات العنف المنتسبة إلى الإسلام في زماننا؟ وما صلتهم بتيارات الغلو القديمة؟
وهذه هي إجابتهم:
* الشيخ محمد بن صالح العثيمين: سبب كل داء وفتنة شيئان أحدهما: الجهل، الجهل بالشريعة الإسلامية المبنية على الحكمة، كما قال الله تعالى: {وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا} [النساء: 113] (سورة النساء - الآية: 113) .
والثاني: الهوى الذي يعمي عن رؤية الحق ويصم عن سماعه ويبكم عن النطق به، فأما صلة هذه التيارات بما قبلها فإنه من المعلوم أن البشر هم البشر منذ خلقهم الله تعالى إلى اليوم، وفيهم المتطرف المفرط وفيهم الغالي وفيهم الوسط، وهذا خير الأقسام لأن المتطرف من هنا أو هناك ينظر إلى الأمور من زاوية واحدة فيفوته القيام بالقسط الذي هو العدل.
* الشيخ صالح بن فوزان الفوزان: ظاهرة العنف المعاصر المنسوب إلى الإسلام - زورا وبهتانا - تعود في جذورها القديمة إلى الفرق الضالة كالخوارج والمعتزلة، الذين عُني أهل السنة والجماعة بدراسة مذاهبهم
[অজ্ঞতা ও খারেজি (خوارج) সম্প্রদায়]অজ্ঞতা ও খারেজি (خوارج) সম্প্রদায়। আমরা পদস্থ আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করেছি: বর্তমান সময়ে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত উগ্রবাদী ধারাসমূহ গড়ে ওঠার পেছনে কারণগুলো কী কী? এবং প্রাচীন চরমপন্থা (غلو) ভিত্তিক ধারাসমূহের সাথে তাদের সম্পর্ক কী?
আর এটি হলো তাঁদের উত্তর:
* শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন: প্রতিটি ব্যাধি ও ফিতনার কারণ দুটি, যার একটি হলো: অজ্ঞতা; প্রজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞতা, যেমন মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও প্রজ্ঞা অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না; আর আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান} [সূরা আন-নিসা: ১১৩] (সূরা আন-নিসা - আয়াত: ১১৩)।
আর দ্বিতীয়টি হলো: কুপ্রবৃত্তি, যা সত্য দেখা থেকে অন্ধ করে দেয়, সত্য শ্রবণ থেকে বধির করে দেয় এবং সত্য উচ্চারণ থেকে বোবা করে দেয়। আর এই ধারাসমূহের সাথে পূর্ববর্তী ধারাগুলোর সম্পর্কের বিষয়ে কথা হলো—এটি সুবিদিত যে, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ মানুষই রয়েছে; তাদের মধ্যে অতি-চরমপন্থী রয়েছে, তাদের মধ্যে উগ্রপন্থী (غالي) রয়েছে এবং তাদের মাঝে মধ্যপন্থীও রয়েছে। আর এটিই হলো সর্বোত্তম শ্রেণি, কারণ এদিক বা ওদিকের চরমপন্থীরা বিষয়গুলোকে কেবল একটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে থাকে, ফলে সে ইনসাফ কায়েম করতে ব্যর্থ হয়, যা হলো ন্যায়বিচার।
* শায়খ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান: ইসলামের নামে চলা সমসাময়িক সহিংসতার এই দৃশ্যপট—যা মূলত অপবাদ ও মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে—তার প্রাচীন শিকড়গুলো ফিরে যায় খারেজি (خوارج) ও মুতাজিলা (معتزلة)-র মতো ভ্রান্ত দলগুলোর দিকে, যাদের মতবাদসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ২২)
ومعرفة شبَههم وتفنيدها في كتب العقيدة، بل قاوموا هذه الفرق بالسلاح لقمعهم ودفع شرهم عن الإسلام والمسلمين، وبخاصة أن أكثر الفرق الضالة كانت تحارب المسلمين وتنكص عن مقاتلة الكافرين (1) .
وإن من أسباب تفشي هذه الأفكار الضالة في زماننا: الجهل بالدين، وتمكن دعاة الفتنة المغرضين من مخاطبة الرأي العام، ونشر كتب فرق الضلال القديمة أو الكتب المعاصرة المستمدة منها.
* د علي بن إبراهيم النملة: أضيف إلى ما سبق: الحماس الجارف والعاطفة الجياشة لدى بعض شباب الصحوة الإسلامية، من ذوي البضاعة العلمية المحدودة، الأمر الذي يدفعهم إلى الاستعجال والتهور ومحاولة فرض ما يرونه حقّا على الآخرين عنوة، وهم بذلك يكونون لقمة سائغة للخبثاء الذين يرومون تحقيق مآرب سياسية وشخصية باسم الإسلام. بل إن من هؤلاء من لا يكتفي بجهله، وإنما يضم إليه الجرأة على الفتوى والافتئات على علماء الأمة العاملين، والانتقاص من قدرهم.
* د. أحمد جاب الله: الوجه الآخر للقضية هو الصد عن سبيل الله في بعض البلدان المحكومة بتوجهات علمانية متطرفة، سبقت ظهور الغلاة، حيث دأبت على محاربة دين الله واتهامه بأنه رجعي ومسئول عن حالة
--------------------------------------------
তাদের সংশয়সমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং আকিদার কিতাবসমূহে সেগুলোর অসারতা প্রমাণ করা; বরং তারা ইসলাম ও মুসলিমদের থেকে এই দলগুলোর অনিষ্ট দূর করতে এবং তাদের দমন করতে অস্ত্রের মাধ্যমে প্রতিরোধ করেছেন, বিশেষত যখন অধিকাংশ পথভ্রষ্ট (ضالة) দলগুলো মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করা থেকে বিরত থাকত (১)।
আমাদের সময়ে এই পথভ্রষ্ট (ضالة) চিন্তাধারার প্রসারের অন্যতম কারণগুলো হলো: দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা, ফেতনার (الفتنة) কুচক্রী আহ্বানকারীদের জনমতকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা এবং প্রাচীন বিভ্রান্ত (الضلال) দলগুলোর কিতাব বা তা থেকে উদ্ভূত সমকালীন বইগুলোর প্রচার।
* ড. আলী বিন ইবরাহিম আন-নামলাহ: পূর্বের আলোচনার সাথে আমি আরও যোগ করছি: ইসলামি জাগরণের কিছু যুবকের মধ্যে বিদ্যমান প্রবল উদ্দীপনা এবং উচ্ছ্বসিত আবেগ, যাদের ইলমি পুঁজি অত্যন্ত সীমিত; যা তাদের তাড়াহুড়ো ও হঠকারিতার দিকে ধাবিত করে এবং তারা যা সত্য মনে করে তা অন্যদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে তারা সেইসব ধূর্ত ব্যক্তিদের সহজ শিকারে পরিণত হয়, যারা ইসলামের নামে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল নিজের অজ্ঞতাতেই ক্ষান্ত হয় না, বরং এর সাথে ফতোয়া (فتوى) প্রদানের ধৃষ্টতা যোগ করে এবং উম্মতের আমলকারী আলেমদের ওপর খবরদারি করে ও তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালায়।
* ড. আহমদ জাবাল্লাহ: এই বিষয়ের অন্য দিকটি হলো চরমপন্থী ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শ দ্বারা শাসিত কিছু দেশে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা প্রদান করা, যা চরমপন্থীদের (الغلاة) আবির্ভাবের পূর্বেই শুরু হয়েছিল; যেখানে তারা আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং একে পশ্চাৎপদ ও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে অভিযুক্ত করায় লিপ্ত ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الانحطاط الحضاري للأمة {كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِنْ يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا} [الكهف: 5] (سورة الكهف، الآية 5) .
* د أبو الخير بريغش: أرى أن المتنطعين الذين قال فيهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هلك المتنطعون» مسئولون عن كثير من مآسي المسلمين، دون أن يعني ذلك تبرير مسالك النظم العلمانية، التي تعادي الإسلام نفسه، لكنها تتخذ من مكافحة الغلاة ذريعة وستاراً.
ولا أبرئ علماء المسلمين من المسئولية - إلا القليل منهم - لأنهم لم ينهضوا بدورهم التربوي نحو الشباب، وذلك فضلاً عن التحريض الغربي - سياسيّا وإعلاميّا - ضد كل ما هو إسلامي (1) .
--------------------------------------------
উম্মাহর সভ্যতার অবক্ষয় {কতই না ভয়ংকর কথা যা তাদের মুখ থেকে বের হয়! তারা তো কেবল মিথ্যা (كذبًا) বলছে।} [আল-কাহাফ: ৫] (সূরা আল-কাহাফ, আয়াত ৫) ।
* ড. আবু আল-খাইর বারিগাশ: আমি মনে করি যে সেই অতিরঞ্জনকারীরা (المتنطعون) যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «অতিরঞ্জনকারীরা (المتنطعون) ধ্বংস হয়েছে», তারা মুসলিমদের অনেক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। এর অর্থ এই নয় যে এটি ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থাগুলোর কর্মপন্থাকে বৈধতা দান করে—যা ইসলামেরই ঘোর বিরোধী, কিন্তু তারা চরমপন্থীদের (الغلاة) দমনের বিষয়টিকে একটি অজুহাত ও আবরণ হিসেবে গ্রহণ করে।
আর আমি মুসলিম আলেমদেরও এই দায়িত্ব থেকে মুক্ত করি না—তাদের অতি সামান্য অংশ ব্যতীত—কেননা তারা তরুণদের প্রতি তাদের গঠনমূলক বা তর্বিয়তী ভূমিকা পালনে যথাযথভাবে সচেষ্ট হননি। তদুপরি ইসলামি ভাবাদর্শের সবকিছুর বিরুদ্ধে পশ্চিমের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমীয় উস্কানি তো রয়েছেই (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ২৪)
[ثقافة العنف]
[أولا الأسباب العامة]ثقافة العنف * د. محمود بن أحمد شوق: لا نستطيع إرجاع ظاهرة العنف الإسلامي الحديثة إلى سبب واحد، وإنما هي ثمرة جملة من العوامل، بعضها إنساني عام، وبعضها الآخر وليد ظروفنا الذاتية.
أولاً - من الأسباب العامة 1) انتشار ظاهرة العنف في جميع أنحاء العالم، واستخدام العنف في العلاقات الدولية، والحروب التي لا ينطفئ لها سعير شاهد على هذا؛ فبالأمس كنا نتحدث عن حرب البوسنة والهرسك والصرب، وحرب أفغانستان والاتحاد السوفيتي، وحرب إيران والعراق، وعدوان إسرائيل على العرب، واعتداء العراق على الكويت، إلى آخر قائمة الحروب التي شهدناها.
واليوم، لا تزال طاحونة العنف تطحن البشر: روسيا ضد الشيشان، والهند ضد كشمير، وإسرائيل ضد الفلسطينيين واللبنانيين، رغم الاتجاه إلى السلام، وصراع الفصائل الأفغانية فيما بينها، وحرب نمور التاميل والجيش السيرلانكي، وتمرد جنوب السودان، وحرب القبائل في رواندا، وغيرها من طواحين الحرب التي تصم أخبارها آذان البشر كل يوم.
[সহিংসতার সংস্কৃতি][প্রথমত: সাধারণ কারণসমূহ]সহিংসতার সংস্কৃতি * ড. মাহমুদ বিন আহমদ শাওক: আমরা আধুনিক ইসলামি সহিংসতার বিষয়টিকে কোনো একক কারণের ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করতে পারি না, বরং এটি বিভিন্ন প্রভাবকের সমন্বিত রূপ; যার কিছু সাধারণ মানবিক এবং অন্যগুলো আমাদের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ফসল।
প্রথমত - সাধারণ কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে: ১) বিশ্বব্যাপী সহিংসতার বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ। যেসব যুদ্ধের দাবানল কখনো প্রশমিত হয় না, সেগুলোই এর সাক্ষী। গতকাল আমরা বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও সার্বিয়ার যুদ্ধ, আফগানিস্তান ও সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধ, ইরান ও ইরাকের যুদ্ধ, আরবদের ওপর ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং কুয়েতের ওপর ইরাকের আক্রমণসহ আমাদের দেখা দীর্ঘ যুদ্ধের তালিকা নিয়ে আলোচনা করতাম।
আর আজ পর্যন্ত সহিংসতার যাঁতাকল মানুষকে পিষ্ট করে চলেছে: চেচনিয়ার বিরুদ্ধে রাশিয়া, কাশ্মীরের বিরুদ্ধে ভারত, শান্তির অভিমুখে যাত্রা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি ও লেবাননিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল, আফগান দলগুলোর পারস্পরিক সংঘাত, তামিল টাইগার ও শ্রীলঙ্কান সেনাবাহিনীর যুদ্ধ, দক্ষিণ সুদানের বিদ্রোহ, রুয়ান্ডার গোত্রীয় যুদ্ধ এবং যুদ্ধের অন্যান্য এমন সব যাঁতাকল যার সংবাদ প্রতিদিন মানুষের কর্ণকুহরকে স্তম্ভিত করে দিচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ২৫)
2 -) انتشار ثقافة العنف في الإعلام إن المتابع للإعلام الغربي - على وجه الخصوص - يجد العنف قد تبوأ فيه مساحة كبيرة، فأفلام الحركة التي تعتبر اتجاها عصريّا في هذه الأيام تعتمد - بالدرجة الأولى - على العنف والاقتتال. ولكي يمكن تبرير هذا العنف لا بد أن تختل موازين العلاقة بين الأفراد أو الجماعات في أحداث هذه الأفلام من أجل أن يجد مخرجوها أسباباً تقنع المشاهد بأن هذا العنف ينسجم مع سلسلة الأحداث التي تحتويها. وفي كثير من الأحيان يكون الغلو في الفكر أو الغلو في الاعتداء أو الغلو في فرض الإرادة والسيطرة أو غير ذلك من مجالات الانحراف في العلاقات - هو محور هذه الأفلام - وبذلك، فإن هذه الأفلام تغرس الانحرافات السلوكية إضافة إلى العنف في نفوس مشاهديها.
والمشاهد لأفلام الكراتيه والجودو وحتى برامج الأطفال يجد العنف هو الأساس في أحداثها. ولا يخفى على أحد أن التلفاز أداة جاذبة للصغار والكبار، وبكل أسف فإن الإعلام في كثير من بلدان العالم الإسلامي يعب من هذه المواد الإعلامية الغربية فتغرس في أبناء المسلمين الاتجاه إلى العنف، وبخاصة أن عرض المواد التي تحمل هذا الاتجاه يكون شائقاً. مما يجعلها بالنسبة لأبناء المسلمين مثل السم في العسل.
2 -) গণমাধ্যমে সহিংসতার সংস্কৃতির বিস্তার: বিশেষত যারা পশ্চিমা গণমাধ্যমের অনুসরণ করেন, তারা দেখতে পাবেন যে সহিংসতা সেখানে একটি বড় স্থান দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে আধুনিক প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রগুলো প্রধানত সহিংসতা ও পারস্পরিক সংঘাতের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এই সহিংসতার ন্যায্যতা প্রদর্শনের স্বার্থে চলচ্চিত্রের ঘটনাবলিতে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যকার সম্পর্কের ভারসাম্যের ব্যাঘাত ঘটানো হয়, যাতে পরিচালকগণ দর্শকদের কাছে এমন কিছু কারণ উপস্থাপন করতে পারেন যা তাদের এই প্রতীতি জন্মায় যে, এই সহিংসতা গল্পের ধারাবাহিকতার সাথে সংগতিপূর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিন্তাধারার চরমপন্থা (غلو), আক্রমণের উগ্রতা বা নিজের ইচ্ছা ও আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়ার বাড়াবাড়ি অথবা সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিচ্যুতির (انحراف) অন্যান্য দিকগুলোই এসব চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য হয়ে থাকে। ফলে এই চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদের হৃদয়ে সহিংসতার পাশাপাশি আচরণগত বিচ্যুতিও (انحراف) প্রোথিত করে।
কারাতে বা জুডো বিষয়ক চলচ্চিত্র এবং এমনকি শিশুদের অনুষ্ঠানগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, সেগুলোর ঘটনাক্রমের মূলে রয়েছে সহিংসতা। টেলিভিশন যে ছোট-বড় সবার কাছে একটি আকর্ষণীয় মাধ্যম, তা কারো অজানা নয়। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশের গণমাধ্যম এসব পশ্চিমা প্রচারসামগ্রী ব্যাপকভাবে গ্রহণ করছে, যা মুসলিম সন্তানদের মাঝে সহিংসতার প্রবণতা তৈরি করছে। বিশেষ করে এ জাতীয় বিষয়বস্তুগুলোর উপস্থাপনশৈলী অত্যন্ত আকর্ষণীয় হওয়ায় তা মুসলিম সন্তানদের জন্য 'মধুর মধ্যে বিষ' এর ন্যায় কাজ করছে।
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ২৬)
3 -) الخواء العقدي لا شك أن العقيدة الإسلامية الراسخة تكون زادا للإنسان في رحلة الحياة، ورجاء له من الوقوع في المحظور، وعضداً له في مواجهة مشكلات الحياة وخطوبها، وهى تحرر الإنسان من الخوف من غير الله، وتقيم سلوكه على الحق والعدل، وتشعره بعون الله الدائم ورعايته المستمرة، ومن ثم لا يشعر باليأس أو القنوط، بل تكون نفسه راضية مرضية.
أما عند غير المسلمين فإن هذا الخواء قد جعل كثيراً من الناس - وبخاصة الشباب منهم - غير راضين عما يحيط بهم من معطيات الحياة، ومن ثم أصبح هؤلاء بين منتحر أو رافض. لذلك نجد نسبة الانتحار في دول الغرب قد زادت بصورة غير مسبوقة. كما أن الخروج على القوانين والأعراف والتقاليد السليمة أصبح أمرا مألوفا. ليس هذا فحسب، فإن التقاليد والعادات الفاضلة أصبحت تتوارى خجلاً من القيم النقيضة الغازية التي أضحت أعلى صوتاً وأكثر شيوعاً. وإذا كان الانتحار - ولله الحمد - لم ينتشر في بلاد المسلمين، لأن ديننا يحمينا من هذا، فإن الخروج على إلى المألوف والرفض لكثير من القيم والأعراف أصبح ظاهرة في كثير من المجتمعات الإسلامية ولا سيما عند الشباب.
৩ -) আকিদাহগত শূন্যতা (الخواء العقدي): এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুদৃঢ় ইসলামি আকিদাহ জীবন চলার পথে মানুষের জন্য পাথেয় স্বরূপ, নিষিদ্ধ (المحظور) কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বাঁচার এক আশা এবং জীবনের সমস্যা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী অবলম্বন। এটি মানুষকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ভয় থেকে মুক্ত করে, তার আচরণকে সত্য ও ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে এবং তাকে আল্লাহর চিরস্থায়ী সাহায্য ও অবিরাম তত্ত্বাবধানের অনুভূতি প্রদান করে; ফলে সে নিরাশা বা হতাশা অনুভব করে না, বরং তার নফস বা আত্মা সন্তুষ্ট ও পছন্দনীয় (راضية مرضية) হয়ে থাকে।
পক্ষান্তরে অমুসলিমদের ক্ষেত্রে এই শূন্যতা অনেক মানুষকে—বিশেষ করে তাদের যুবসমাজকে—তাদের পারিপার্শ্বিক জীবন উপকরণ নিয়ে অসন্তুষ্ট করে তুলেছে; যার ফলে তারা হয় আত্মহননকারী নতুবা বিদ্রোহী হয়ে উঠছে। একারণেই আমরা দেখতে পাই যে, পশ্চিমা দেশগুলোতে আত্মহত্যার হার অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রচলিত আইন, সামাজিক রীতি ও সুস্থ ঐতিহ্যের অবাধ্য হওয়া একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, বরং সুরুচিপূর্ণ ঐতিহ্য ও অভ্যাসগুলো এখন বিজাতীয় আক্রমণাত্মক মূল্যবোধের সামনে লজ্জায় সংকুচিত হয়ে পড়ছে, যা বর্তমানে অনেক বেশি উচ্চকণ্ঠ ও প্রচলিত। আর আল্লাহরই সকল প্রশংসা যে, মুসলিম দেশগুলোতে আত্মহত্যা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েনি, কারণ আমাদের দ্বীন আমাদের এ থেকে রক্ষা করে। তবে প্রচলিত রীতিনীতির অবাধ্য হওয়া এবং অনেক মূল্যবোধ ও প্রথাকে প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি অনেক মুসলিম সমাজে—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে—একটি দৃশ্যমান সমস্যায় (ظاهرة) পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ২৭)
4 -) انتشار الحضارة المادية على حساب القيم الروحية والأخلاقية فما تطلعات شباب اليوم؟ سيارة فاخرة، ومنزل أنيق، ودخل مادي كبير، واقتناء الأدوات غالية الثمن. إلى غير ذلك من الأسباب المادية.
ومن هم المثل الأعلى للشباب؟ هل هم علماء الدين أم المعلمون أم الآباء أم رجال الدعوة؟ كل هؤلاء اضطروا إلى ترك مواقعهم لفئات أخرى مثل: الفنانين، ولاعبي كرة القدم وغيرهم من أصحاب المهن التي تدر الثراء السريع، وهذا التحول تؤكده بكل أسف بحوث علمية.
هذا التحول في القدوة أتاح فرصاً لظهور أنماط من السلوك غير مرغوب فيها مثل السعار المادي، واللهاث وراء الكسب، بغض النظر عن الوسيلة في كثير من الأحيان، وسمح لقيم ساقطة أن تطفو على السطح على حساب قيم أخرى مثل الحق والعدل وغيرها من عناصر الأخلاق الفاضلة. وهذا يؤدي - بالضرورة - إلى اتجاهات منحرفة، وقيم منحرفة، ومن ثم إلى سلوك منحرف يعبر عن نفسه أحياناً في صورة عنف أو تفكك في الأسرة، أو عداء ضد المجتمع أو غير ذلك من الموبقات التي تغشى المجتمعات في الوقت الحاضر.
4 -) আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিনিময়ে বস্তুবাদী সভ্যতার বিস্তার; আজকের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা কী? বিলাসবহুল গাড়ি, সুসজ্জিত বাড়ি, বিপুল আর্থিক আয় এবং মূল্যবান সামগ্রী অর্জন। এ ছাড়াও অন্যান্য সব বস্তুগত কারণ।
তরুণদের আদর্শই বা কারা? তারা কি দ্বীনি আলেম, শিক্ষক, পিতা-মাতা নাকি দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ? অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই সকল ব্যক্তিবর্গ তাদের স্থান অন্য সব শ্রেণীর জন্য ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন, যেমন: শিল্পী, ফুটবলার এবং সেই সব পেশার মানুষ যারা দ্রুত বিত্তশালী হওয়ার পথ সুগম করে। বৈজ্ঞানিক গবেষণাসমূহ এই রূপান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করছে।
আদর্শের এই পরিবর্তন অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু আচরণের প্রকাশের পথ তৈরি করেছে, যেমন বস্তুগত উন্মাদনা এবং উপার্জনের পেছনে হন্যে হয়ে ছোটা—যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই উপায়ের বৈধতার তোয়াক্কা করা হয় না। এটি সত্য ও ন্যায়বিচারের মতো অন্যান্য শ্রেষ্ঠ নৈতিক গুণাবলীর বিনিময়ে নিচু স্তরের কিছু মূল্যবোধকে সামনে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি অনিবার্যভাবে বিপথগামী প্রবণতা ও ভ্রান্ত মূল্যবোধের দিকে ধাবিত করে, যার ফলে এমন বিকৃত আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে যা কখনো সহিংসতা, পারিবারিক বিচ্ছেদ, সমাজের প্রতি শত্রুতা অথবা বর্তমান সময়ের সমাজকে গ্রাস করা অন্যান্য পাপাচারের রূপ ধারণ করে।
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ২৮)
[ثانياً الأسباب الخاصة بمجتمعاتنا]ثانياً - الأسباب الخاصة بمجتمعاتنا 1) تفشي الأميات وبخاصة الأمية الدينية: إن الأمية التعليمية آفة من آفات المجتمعات الإسلامية. وكما هو معروف، فإن وجود الأمية التعليمية يتفرع عنه عدة أميات مثل: الأمية الثقافية، والأمية الاقتصادية، والأمية الاجتماعية وغيرها. ولكن يأتي على رأس هذه الأميات الأمية الدينية التي تجعل من الفرد صيدا سهلا للأفكار المضللة والتوجهات المنحرفة باسم الدين.
وإذا نظرنا إلى الشاب، فإننا نجده - وخصوصاً في بداية اليفاعة - تواقا إلى المعرفة عن دينه، ولا يمكن أن تغذي هذه الرغبة أسرة تتفشى فيها الأمية أو مجتمع يعانيها، ولذلك يكون هذا الشاب صيدا سهلا للمضللين باسم الدين؛ لأن هؤلاء يروون عطشه بمعلومات مغلوطة عن الدين.
2 -) القصور في التربية الدينية: في كثير من المجتمعات الإسلامية لا يجد الشاب ضالته في المدرسة؛ لأن المدرسة لا تعنى بتدريس الدين ولا بالتربية الدينية بالقدر الكافي، ولا يجد ضالته في الإعلام؛ لأن الإعلام هو الآخر لا يعطي الدين الاهتمام الواجب، ولا يجد ضالته في المسجد؛ لأن المسجد في كثير من المجتمعات قد تخلى عن وظائفه التعليمية
[দ্বিতীয়ত: আমাদের সমাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট কারণসমূহ]দ্বিতীয়ত - আমাদের সমাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট কারণসমূহ ১) নিরক্ষরতার প্রসার এবং বিশেষ করে ধর্মীয় নিরক্ষরতা: শিক্ষাগত নিরক্ষরতা হলো মুসলিম সমাজগুলোর অন্যতম একটি অভিশাপ। যেমনটি সর্বজনবিদিত, শিক্ষাগত নিরক্ষরতার অস্তিত্ব থেকে আরও বেশ কিছু নিরক্ষরতা শাখা-প্রশাখায় বিস্তার লাভ করে, যেমন: সাংস্কৃতিক নিরক্ষরতা, অর্থনৈতিক নিরক্ষরতা এবং সামাজিক নিরক্ষরতা ইত্যাদি। তবে এই সকল নিরক্ষরতার শীর্ষে অবস্থান করছে ধর্মীয় নিরক্ষরতা, যা ব্যক্তিকে ধর্মের নামে বিভ্রান্তিকর ধ্যান-ধারণা ও বিচ্যুত মতাদর্শের সহজ শিকারে পরিণত করে।
আমরা যদি কোনো যুবকের দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে দেখতে পাই যে—বিশেষ করে বয়ঃসন্ধির প্রারম্ভে—সে তার দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্য অত্যন্ত আগ্রহী থাকে। কিন্তু যে পরিবারে নিরক্ষরতা ছড়িয়ে আছে অথবা যে সমাজ এই সমস্যায় জর্জরিত, তাদের পক্ষে এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব নয়। ফলে এই যুবকটি ধর্মের নামে বিভ্রান্তিকারীদের সহজ শিকারে পরিণত হয়; কারণ তারা দ্বীন সম্পর্কে ভুল তথ্যের মাধ্যমে তার জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করে।
২ -) ধর্মীয় প্রশিক্ষণে ত্রুটি: অনেক মুসলিম সমাজে যুবক তার কাঙ্ক্ষিত দিশা বিদ্যালয়ে খুঁজে পায় না; কারণ বিদ্যালয় ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান বা ধর্মীয় লালন-পালনের (তরবিয়ত) ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করে না। সে গণমাধ্যমেও তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য খুঁজে পায় না; কারণ গণমাধ্যমও ধর্মকে যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করে না। এমনকি সে মসজিদেও তার কাঙ্ক্ষিত আশ্রয় খুঁজে পায় না; কারণ অনেক সমাজে মসজিদ তার শিক্ষামূলক কার্যাবলি পরিত্যাগ করেছে।
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والتربية، وربما لا يجد الشاب ضالته في الأسرة إذا كانت الأسرة تتفشى فيها العلمانية. كما أن حال الدعوة والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في هذه المجتمعات لا تشفي غلة ولا تطفئ ظمأ. فماذا بقي لهذا الشاب الظمآن للمعرفة عن دينه؟
لم يبق له إلا المصادر غير الرشيدة، التي تضلله بغرس مفاهيم مغلوطة عن الدين والحياة والمجتمع وأولي الأمر فيه.
3 -) ازدراء الرأي الآخر: يحدث اختلاف في وجهات النظر بين العلماء المسلمين في بعض القضايا التي تهم المسلمين بعامة والشباب منهم بخاصة؟ ومع أن اختلاف وجهات النظر أمر وارد بين الأفراد والجماعات في مختلف مجالات الحياة، وأن هذا الاختلاف - ما دام لا يمس الأساسيات - قد يكون ظاهرة صحية، تعطي فسحة لحرية التفكير والاجتهاد، فإننا نجد الشباب - على وجه الخصوص - يرون فيه مأخذا على علماء الدين.
ويغذي الراغبون في استقطاب الشباب نحو أهدافهم هذا التوجه، بل يجدون فيه فرصة سانحة لتجهيل العلماء بزعم أن اختلافاتهم في الظنيات دليل على عدم رسوخ علمهم، وهذا - بطبيعة الحال - قول مردود، ولكنه يستخدم لتضليل الشباب عن جادة الطريق.
এবং প্রতিপালন; অনেক সময় যুবক তার অভীষ্ট লক্ষ্য পরিবারের মাঝে খুঁজে পায় না, যদি সেই পরিবারে ধর্মনিরপেক্ষতা ছড়িয়ে পড়ে। তেমনিভাবে এই সমাজগুলোতে দাওয়াহ এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের যে বাস্তবতা বিদ্যমান, তা পিপাসা মেটাতে পারে না এবং আকাঙ্ক্ষাও নিবৃত্ত করতে পারে না। তবে দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানের তৃষ্ণার্ত এই যুবকের জন্য আর কী-ই বা অবশিষ্ট রইল?
তার সামনে তখন সেই সকল অশুভ উৎস ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকে না, যা তাকে দ্বীন, জীবন, সমাজ এবং এর শাসনকর্তাদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টির মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করে।
৩ -) ভিন্ন মতের প্রতি অবজ্ঞা: মুসলিম আলেমদের মধ্যে এমন কিছু বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য তৈরি হয়, যা সাধারণভাবে সকল মুসলিমের এবং বিশেষভাবে যুবকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য হওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়, এবং যতক্ষণ পর্যন্ত এই মতভেদ মৌলিক বিষয়াবলিকে স্পর্শ না করে, ততক্ষণ তা একটি ইতিবাচক দিক হতে পারে যা চিন্তার স্বাধীনতা ও ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর সুযোগ প্রদান করে; তা সত্ত্বেও আমরা দেখি যে যুবকরা—বিশেষ করে—একে দ্বীনি আলেমদের একটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য করে।
আর যারা যুবকদের নিজেদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য আকৃষ্ট করতে চায়, তারা এই প্রবণতাকে আরও উসকে দেয়। বরং তারা আলেমদের অজ্ঞ সাব্যস্ত করার জন্য একে একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে; তাদের দাবি হলো যে, ধারণাপ্রসূত (ظنيات) বিষয়গুলোতে আলেমদের মতভেদ তাদের ইলমের গভীরতা না থাকার প্রমাণ। আর এটি স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردود) কথা, তবে তা যুবকদের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ৩০)
4 -) عدم فتح قنوات للحوار أمام الشباب: لحوار والتعبير عن الرأي من أساسيات الحياة الصحيحة، إذ يُشعر الفردَ بأنه مشارك في صنع القرارات الخاصة به وبمجتمعه، ويشعره بالمسئولية نحو هذا المجتمع، بالإضافة إلى شعوره بكيانه وتحقيق ذاته.
والشاب يمر بمرحلة نمو أحوج ما يكون الفرد فيها إلى الاعتراف بقدره، والتعبير عن وجهة نظره، وأحوج ما يكون إلى التوجيه والإرشاد والنصح.
ولذلك، فإن فتح قنوات الحوار بين الشباب والكبار، فوق أنه يتيح للشاب فرصة التعبير عن رأيه بقدر من الحرية التي تجعله مشاركاً بالرأي في صنع ما يمسه من أحداث، فإنه سوف يجد له مرشداً يوجهه الوجهة السليمة، وهذا يحميه - بتوفيق الله - من أن يتلقفه أحد هؤلاء الذين لا يحسنون الظن بالمجتمع والمسئولين فيه، فيسيء توجيهه، ويدفع به إلى الانحراف عن الطريق القويم، وقد يلقي به في دائرة العنف كوسيلة لإثبات الذات وإجماع الصوت للآخرين.
৪ -) তরুণদের জন্য সংলাপের পথ উন্মুক্ত না করা: সংলাপ এবং মতামত প্রকাশ একটি সঠিক জীবনের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি, কারণ এটি ব্যক্তিকে তার নিজের এবং সমাজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণকারী হিসেবে অনুভব করায় এবং তাকে এই সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলে, পাশাপাশি তার অস্তিত্ব ও আত্ম-উপলব্ধি জাগ্রত করে।
আর একজন তরুণ এমন এক বিকাশকাল অতিক্রম করে যখন সে তার যোগ্যতার স্বীকৃতি এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের প্রতি সর্বাধিক মুখাপেক্ষী থাকে; এছাড়া সে সঠিক দিকনির্দেশনা, পথপ্রদর্শন ও উপদেশের মুখাপেক্ষী হয়।
তাই, তরুণ ও বড়দের মধ্যে সংলাপের পথ উন্মুক্ত করা কেবল তরুণদের তাদের মত প্রকাশের সুযোগই দেয় না—যা তাকে নির্দিষ্ট মাত্রার স্বাধীনতার সাথে তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির সিদ্ধান্তে অংশীদার করে তোলে—বরং সে এমন একজন পথপ্রদর্শকও খুঁজে পায় যে তাকে সঠিক পথের দিশা দেয়। এটি আল্লাহর তৌফিকে তাকে এমন ব্যক্তিদের হাত থেকে রক্ষা করে যারা সমাজ ও এর দায়িত্বশীলদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করে না, ফলে তারা তাকে ভুল পথে পরিচালিত করে এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়। এমনকি এটি তাকে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ এবং অন্যদের কাছে নিজের কথা পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে সহিংসতার পথেও ঠেলে দিতে পারে।
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ৩১)
5 -) أسباب اقتصادية واجتماعية إن تدني الموارد الاقتصادية في كثير من الدول الإسلامية، يؤدي إلى مشكلات اجتماعية خطيرة، ومن بين هذه المشكلات وأهمها: انخفاض مستوى معيشة الأفراد، وتفشي البطالة بين المتعلمين، وركود الحراك التنموي في المجتمع، واهتزاز ثقة المواطنين في المستقبل، وانتشار مظاهر الانحرافات الأخلاقية في المجتمع.
وجميع هذه المشكلات تكون سببا في ضعف الولاء للمجتمع، واهتزاز الثقة قي القائمين عليه، واتهامهم - بحق أو بغير حق - بمختلف أنواع الفساد. وهذا يمهد للنافخين في الكير أن يقوموا بحملات التضليل التي يستهدفونها ودفع الشباب إلى الغلو والتطرف.
6 -) عدم تطبيق شرع الله تطبيقاً كاملاً: من أهم مقومات المجتمع المسلم أن يكون الحكم فيه وفق الشرع الحكيم. وفي الكثير من البلدان الإسلامية لا يطبق الحكم بشرع الله تطبيقاً كاملاً، وهو ما يتسبب في سلسلة من المشكلات، من أهمها: التناقض والاضطراب في الأخذ ببعض من أحكام شرع الله دون البعض؟ فتكامل جوانب الشرع يجعل منه وحدة لا تتجزأ، وإذا جزئت فإن هذا يحدث بالضرورة تناقضا في مسيرة الحياة في المجتمع. والله سبحانه وتعالى لم ينزل شرعه ليكون لعباده الخيرة في الأخذ ببعضه وترك البعض الآخر، بل أنزله ليكون
৫ -) অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণসমূহ: অনেক ইসলামি রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সম্পদের অপ্রতুলতা গুরুতর সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করে। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম ও প্রধান হলো: জনগণের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পাওয়া, শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের বিস্তার, সমাজের উন্নয়নমূলক গতিশীলতায় স্থবিরতা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নাগরিকদের আস্থার সংকট এবং সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের নানাবিধ বহিঃপ্রকাশ।
এই সকল সমস্যাই সমাজের প্রতি আনুগত্য হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সমাজ পরিচালকদের ওপর আস্থার ভিত নড়বড়ে করে দেয় এবং তাদের বিরুদ্ধে—ন্যায়সঙ্গতভাবে হোক বা অন্যায়ভাবে—নানা প্রকার দুর্নীতির অভিযোগ আনীত হয়। এটি কুচক্রীদের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানোর সুযোগ করে দেয় এবং তরুণ প্রজন্মকে চরমপন্থা ও উগ্রবাদের দিকে ঠেলে দেয়।
৬ -) আল্লাহর শারিয়াহ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন না করা: মুসলিম সমাজের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর শাসনব্যবস্থা প্রজ্ঞাপূর্ণ শারিয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া। অনেক মুসলিম দেশে আল্লাহর শারিয়াহর বিধানসমূহ পূর্ণাঙ্গরূপে প্রয়োগ করা হয় না, যা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার উদ্রেক করে। তন্মধ্যে প্রধান হলো: আল্লাহর শারিয়াহর কিছু বিধান গ্রহণ করা এবং কিছু বর্জন করার ফলে সৃষ্ট বৈপরীত্য ও বিশৃঙ্খলা? শারিয়াহর সকল দিকের সমন্বিত রূপ একে একটি অবিভাজ্য সত্তায় পরিণত করেছে; যদি একে খণ্ডিত করা হয়, তবে তা অনিবার্যভাবে সামাজিক জীবনের গতিধারায় অসংগতি সৃষ্টি করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর শারিয়াহ এই উদ্দেশ্যে নাযিল করেননি যে বান্দাদের জন্য এর কিছু অংশ গ্রহণ ও কিছু অংশ বর্জনের ইখতিয়ার থাকবে; বরং তিনি তা নাযিল করেছেন যাতে...
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ৩২)
موجِّها لجَميع جوانب الحياة في المجتمع المسْلم، وضابطاً لمسيرتها الدنيوية والأخروية.
ويضع العزوف عن تطبيق شرع الله تطبيقاً كاملاً أولي الأمر في المجتمع موضع الشبهة. فآيات الذكر الحكيم تصف من لم يحكم. مما أنزل الله بالظلم والفسق والكفر. لذلك، يصبح تكفير الحكام - من قبل البعض الذين لا يفهمون مدلول الآيات الحق، وضوابط الوصف - بهذه الأوصاف - أمرا مشروعا، ويترتب على هذا - من وجهة نظرهم - محاربتهم. ويلتقط النافخون في الكير هذا ليثيروا الشباب على الحكام بخاصة والمجتمع بعامة. وحيث إن هؤلاء الشباب يتصورون - خطأ - أن التغيير باليد من حقهم فإن المتربصين المضللين يدفعونهم نحو تحقيق هذا التغيير فينخرطون في دائرة العنف! فيعانون وتعاني مجتمعاتهم على السواء.
7 -) الحملات الإعلامية الظالمة: إن العمل على تشويه صورة الإسلام والمسلمين أمر معروف عبر التاريخ، وهو يشتد ويضعف وفق ضعف المسلمين وقوتهم، إلا أن سعير هذه الحملة أصبح - اليوم - أقوى وأشد شراسة من أي وقت مضى، وأصبح أكثر انتشاراً بما أتيح له من أدوات البث المباشر وأساليبه الحديثة. وقد تداعت له أمم الشرق والغرب بعد أن انتهت الحرب الباردة بينهم، واتفقوا على أن العدو الأوحد هو الإسلام،
মুসলিম সমাজের জীবনের সকল দিককে সঠিক পথের দিশা দানকারী এবং এর ইহলৌকিক ও পারলৌকিক যাত্রার নিয়ন্ত্রক হিসেবে।
আল্লাহর শরীয়ত পূর্ণাঙ্গভাবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে বিমুখতা প্রদর্শন সমাজের উলিল আমর বা কর্তৃপক্ষশীল ব্যক্তিবর্গকে সন্দেহের আবর্তে ফেলে দেয়। কেননা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের আয়াতসমূহ যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করে না, তাদেরকে যুলুম, ফিসক ও কুফরের বিশেষণে বিশেষিত করেছে। এর ফলে, যারা আয়াতের প্রকৃত মর্ম এবং এই গুণাবলী প্রয়োগের শর্তাবলী সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রাখে না, তাদের কারো কারো নিকট শাসকদের তাকফির করা একটি বৈধ বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এর অনিবার্য পরিণতি হলো তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা। আর কুটিল উস্কানিদাতারা এই বিষয়টিকে লুফে নেয় যাতে তারা শাসকদের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে এবং পুরো সমাজের বিরুদ্ধে সাধারণভাবে তরুণদের উত্তেজিত করতে পারে। যেহেতু এই যুবকরা ভুলবশত মনে করে যে, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা তাদের অধিকার, তাই সুযোগসন্ধানী বিভ্রান্তকারীরা তাদেরকে এই পরিবর্তনের পথে ঠেলে দেয়; পরিণামে তারা সহিংসতার আবর্তে নিপতিত হয়। এতে তারা নিজেরাও ভোগান্তির শিকার হয় এবং তাদের সমাজও সমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৭ -) যুলুমপূর্ণ গণমাধ্যম প্রচারণা: ইসলাম ও মুসলমানদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা ইতিহাসের প্রতিটি পর্যায়েই একটি পরিচিত বিষয়। এটি মুসলমানদের শক্তি ও দুর্বলতার নিরিখে তীব্র বা মন্দীভূত হয়। তবে বর্তমানে এই প্রচারণার উন্মাদনা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এবং সরাসরি সম্প্রচার মাধ্যম ও আধুনিক পদ্ধতির সহজলভ্যতার কারণে তা আরও ব্যাপকতা লাভ করেছে। স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তির পর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের জাতিগোষ্ঠীগুলো একে অপরের সাথে বিবাদ মিটিয়ে এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, তাদের একমাত্র প্রধান শত্রু হলো ইসলাম।
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومن ثم ركزوا حملاتهم الإعلامية لتشويه صورة الإسلام والمسلمين، ليس فقط في عيون المسلمين أنفسهم لكن في عيون غير المسلمين أيضا.
وتعتمد حملة التشويه على محاور معينة من أهمها: أ - إظهار الدين الإسلامي بأنه قاصر عن الوفاء بمتطلبات الحياة المعاصرة ومواكبة التطورات الحديثة. ويستدلون على أكذوبتهم هذه بتخلف البلدان الإسلامية على اختلاف مواقعها على خريطة العالم.
ب - بث الفرقة بين المسلمين في البلد الواحد بتكريس العداوة بين القوى الاجتماعية المختلفة، وتعضيد المنحرف من الفرق، ليحارب بعضها بعضاً.
جـ - غرس الخلافات بين البلدان الإسلامية لتقوم الحروب بينها فيكون بأس المسلمين بينهم، وتدور الدائرة عليهم، وتضعف شوكتهم ويظهروا بمظهر غير المتحضرين أمام العالم كله.
د - إبراز أعمال العنف التي يقوم بها ما يسمى الجماعات الإسلامية وتشجيعها، ووصفها بأوصاف تنسبها إلى الإسلام مثل الأصولية الإسلامية والتطرف الإسلامي والإرهاب الإسلامي لإظهار الإسلام بأنه مصدر لهذه
ফলস্বরূপ তারা ইসলাম ও মুসলিমদের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করার জন্য তাদের প্রচারভিযানকে ঘনীভূত করেছে; কেবল মুসলিমদের দৃষ্টিতেই নয়, বরং অমুসলিমদের দৃষ্টিতেও।
এই বিকৃতকরণ অভিযানটি নির্দিষ্ট কিছু প্রসঙ্গের ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে অন্যতম হলো: ক- ইসলাম ধর্মকে আধুনিক জীবনের চাহিদা পূরণ এবং সমসাময়িক বিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে অক্ষম হিসেবে উপস্থাপন করা। তারা তাদের এই মিথ্যাচারের সপক্ষে বিশ্ব মানচিত্রে বিভিন্ন অবস্থানে থাকা মুসলিম দেশগুলোর অনগ্রসরতাকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করে।
খ- বিভিন্ন সামাজিক শক্তির মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টির মাধ্যমে একই দেশের মুসলিমদের মাঝে বিভেদ ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিভ্রান্ত (منحرف) দলগুলোকে (فرق) সমর্থন জোগানো, যাতে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত হয়।
গ- মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিবাদ উসকে দেওয়া যাতে তাদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়; ফলে মুসলিমদের পরাক্রম নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তারা বিপর্যয়ের আবর্তে নিপতিত হয়, তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সারা বিশ্বের সামনে তারা অসভ্য হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
ঘ- তথাকথিত ইসলামি দলগুলোর সহিংস কর্মকাণ্ডগুলোকে সামনে আনা ও সেগুলোকে উৎসাহিত করা এবং সেগুলোকে ইসলামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত বিশেষণে বিশেষায়িত করা—যেমন ইসলামি মৌলবাদ, ইসলামি চরমপন্থা ও ইসলামি সন্ত্রাসবাদ—যাতে ইসলামকে এই সমস্ত বিষয়ের উৎস হিসেবে প্রতিপন্ন করা যায়।
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الأعمال. هذا بخلاف حملة التشويه الفكري التي يقوم بها المنصرون والمستشرقون.
8 -) إعاقة التنمية: كما لاحظنا، فإن العوامل السابقة تمهد السبيل لاستقطاب جهات أجنبية لبعض العناصر من البلدان الإسلامية لأعمال العنف ضد مجتمعاتها بهدف معلن هو تغيير مسيرة هذه المجتمعات إلى الأفضل وتخليصها من التخلف، ومن النظم الحاكمة الكافرة، ومن البطالة، ومن الفساد. إلى آخر تلك القائمة من الأسباب الجذابة، المغلفة بأهداف تبدو نبيلة في مقصدها، بريئة في مرماها.
ولكن الهدف الحقيقي الذي تعمل هذه الجهات لتحقيقه، هو إثارة الفتن داخل البلدان الإسلامية وصولا إلى عدم استقرار الأمن فيها، ومن ثم استقطاب جهود مؤسسات الدولة في محاولة إعادة الاستقرار الأمني وانصرافها عن البناء والتنمية. وهذا أمر جد خطير في وقت تتسارع فيه مساعي الدول نحو التقدم والرقي وتتصارع القوى لاحتلال مكان الصدارة في قيادة العالم.
يضاف إلى ما سبق أن هذه الجهات الأجنبية تتخذ من هذا العنف دليلاً على أن المسلمين قوم عدوانيون، لا يعرفون التحضر، ويطربون لسفك الدماء، ومن ثم ينبغي محاربتهم إلى أن يتخلوا عن التمسك بهذا الدين الذي جعل منهم أعداء للتقدم والتحضر والقيم الإنسانية! والتخلي
কর্মসমূহ। এটি খ্রিস্টান মিশনারি এবং প্রাচ্যবিদদের দ্বারা পরিচালিত বুদ্ধিবৃত্তিক বিকৃতি অভিযানের বিপরীত।
৮ -) উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা: আমরা যেমন লক্ষ্য করেছি, পূর্বোক্ত কারণসমূহ বিদেশি পক্ষগুলোর জন্য মুসলিম দেশগুলোর কিছু অশুভ শক্তিকে তাদের নিজ সমাজের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করার পথ সুগম করে দেয়। তাদের ঘোষিত উদ্দেশ্য থাকে এই সমাজগুলোর গতিপথকে উন্নতির দিকে পরিবর্তন করা এবং সেগুলোকে অনগ্রসরতা, কাফের (كافرة) শাসনব্যবস্থা, বেকারত্ব ও দুর্নীতি থেকে মুক্তি দেওয়া। এটি আকর্ষণীয় কারণসমূহের সেই তালিকার অংশ, যা আপাতদৃষ্টিতে মহৎ উদ্দেশ্য এবং নিস্পাপ লক্ষ্যের আবরণে আবৃত।
কিন্তু এই পক্ষগুলো যা অর্জনের জন্য কাজ করছে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরে ফিতনা (فتنة) সৃষ্টি করা, যার ফলে সেখানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। এরপর রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্ত প্রচেষ্টাকে পুনরায় নিরাপত্তা স্থিতিশীল করার কাজে নিয়োজিত করা হয় এবং তাদেরকে গঠনমূলক কাজ ও উন্নয়ন থেকে বিমুখ রাখা হয়। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি বিষয় এমন এক সময়ে যখন রাষ্ট্রসমূহ অগ্রগতি ও উন্নতির দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে এবং বিশ্ব নেতৃত্বে শীর্ষস্থান দখলের জন্য বিভিন্ন শক্তি লড়াই করছে।
পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, এই বিদেশি পক্ষগুলো এই সহিংসতাকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে যে, মুসলমানরা একটি আক্রমণাত্মক জাতি, তারা সভ্যতা জানে না এবং রক্তপাতে আনন্দ পায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ লড়াই করা উচিত যতক্ষণ না তারা এই দ্বীনকে আঁকড়ে ধরা ছেড়ে দেয়, যা তাদের অগ্রগতি, সভ্যতা এবং মানবিক মূল্যবোধের শত্রুতে পরিণত করেছে! এবং বর্জন...
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
هنا لا يعني اعتناق دين آخر؛ لأنهم يعلمون أن هذا مستحيل، ولكن يعني إهمال شعائر الدين والعيش بلا انتماء، وبلا هوية.
وهذا ما عبر عنه القس زويمر في مؤتمر المبشرين في منتصف هذا القرن، في قول اختصره فيما يلي: إن المهمة التي أرسلتكم البلدان المسيحية من أجلها للبلدان المحمدية، ليست هي إدخالهم في المسيحية، فإن في هذا هداية لهم وتكريماً، ولكن المهمة هي أن تخرجوهم من دينهم فيصبحوا شخوصا بلا هوية. وهذا ما نجحتم في تحقيقه حتى اليوم، وهذا ما أهنئكم عليه.
وهكذا تحاك المؤامرات وترسم الخطط لتشويه صورة المسلمين، وإظهار الإسلام بأنه دين عدوان واضطهاد، يدفع تابعيه إلى البربرية والتخلف، وهكذا تتداعى الأمم على أبناء المسلمين لهز عقيدتهم وإضعاف إيمانهم.
ويختم الدكتور محمود شوق تحليله بقوله: هذه بعض العوامل التي تدفع الشباب إلى العنف والإرهاب، فكثير من الشباب يتصورون - عن جهل وتغرير - أن ما يرتكبونه من عنف هو الطريق إلى إصلاح حال المسلمين، والبعض الآخر باع نفسه للشيطان رغبة في الثراء أو الشهرة والانتقام من المجتمع الذي لا يروق لهم ما يجري فيه من أخطاء للحكام وسلبية من المحكومين، ومن ثم فالجميع كفار!
এখানে এর অর্থ অন্য ধর্ম গ্রহণ করা নয়; কারণ তারা জানে যে এটি অসম্ভব, বরং এর অর্থ হলো দীনের নিদর্শনসমূহ (شعائر) উপেক্ষা করা এবং কোনো সংশ্লিষ্টতা ও পরিচয়হীনভাবে জীবন যাপন করা।
আর এই বিষয়টিই পাদ্রি জুইমার এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মিশনারি সম্মেলনে তাঁর এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ব্যক্ত করেছেন: খ্রিষ্টান দেশগুলো আপনাদেরকে মুহাম্মদী দেশগুলোতে যে মিশনের জন্য পাঠিয়েছে, তা তাদের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করার জন্য নয়; কারণ এতে তাদের জন্য হিদায়াত (هداية) ও সম্মান নিহিত রয়েছে। বরং মূল মিশন হলো তাদের নিজেদের দীন থেকে বের করে দেওয়া, যাতে তারা পরিচয়হীন ব্যক্তিতে পরিণত হয়। আর আজ পর্যন্ত আপনারা এটি অর্জনে সফল হয়েছেন এবং এ জন্য আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই।
এভাবেই মুসলিমদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয় এবং পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, যাতে ইসলামকে এমন এক আগ্রাসন ও নিপীড়নের ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা যায় যা তার অনুসারীদের বর্বরতা ও পশ্চাৎপদতার দিকে ঠেলে দেয়। এভাবেই মুসলিম সন্তানদের আকিদা (عقيدة) নাড়িয়ে দিতে এবং তাদের ঈমান (إيمان) দুর্বল করতে জাতিসমূহ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ড. মাহমুদ শাউক তাঁর বিশ্লেষণের ইতি টেনে বলেন: এগুলোই সেই কতিপয় উপাদান যা তরুণদের সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের দিকে ঠেলে দেয়। অনেক যুবক—মূর্খতা (جهل) ও প্ররোচনার (تغرير) বশবর্তী হয়ে—মনে করে যে, তারা যে সহিংসতা করছে তা-ই মুসলিমদের অবস্থা সংশোধনের পথ। আবার অন্যরা সম্পদ বা খ্যাতির লোভে এবং সমাজের ওপর প্রতিশোধ নিতে নিজেদের শয়তানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে; কারণ শাসকদের ভুলত্রুটি এবং শাসিতদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে সমাজে যা ঘটছে তা তাদের নিকট পছন্দনীয় নয়, আর এর ফলে সকলেই কাফির (كفار)!
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وتكفير المسلمين على أساس ارتكابهم المخالفات للسلوك الإسلامي الصحيح هو من عقيدة الخوارج، وهؤلاء وغيرهم من الفرق الضالة يقتدي أصحاب الفكر المنحرف بهم.
সঠিক ইসলামী আচরণের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার দায়ে মুসলিমদের কাফের সাব্যস্ত করা খারেজি আকিদার অন্তর্ভুক্ত; আর এই বিচ্যুত চিন্তাধারার অধিকারীরা মূলত তাদের এবং অন্যান্য পথভ্রষ্ট দলসমূহের পদাঙ্ক অনুসরণ করে।
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
[المحور الثاني كيف نغير المنكر]
[قصور في الفهم]المحور الثاني
كيف نغير المنكر؟
[দ্বিতীয় বিষয়: আমরা কীভাবে মন্দ কাজ (منكر) পরিবর্তন করব][উপলব্ধিতে সীমাবদ্ধতা]দ্বিতীয় বিষয়
আমরা কীভাবে মন্দ কাজ (منكر) পরিবর্তন করব?
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ما ضوابط تغير المنكر باليد؟ . سؤال محدد له إجابة شرعية جلية، لكن الجهل - مع سوء المقصد أحياناً - يحرفها. فما الإجابة الشرعية عن هذا السؤال؟ .
قصور في الفهم * الشيخ محمد بن صالح العثيمين: إنه ضابط واحد أشار إليه النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: «من رأى منكم منكراً فليغيّره بيده فإن لم يستطع فبلسانه فإن لم يستطع فبقلبه»
فالإنسان في بيته يستطيع أن يغير المنكر لكنه في الشارع قد لا يستطيع ذلك، وهنا يجب أن ننبه إلى أن هناك دعوة للخير وأمراً بالمعروف ونهياً عن المنكر وتغييراً، وقد فرق الله عز وجل بينها، فأما الدعوة إلى الخير والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر فلم يذكر الله تعالى فيها استطاعة، بل قال تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [آل عمران: 104] (سورة آل عمران، الآية: 154) ، لكن تقيد هذه بالاستطاعة العامة المشروطة في كل وأجب، أما التغيير فإن النبي صلى الله عليه وسلم قيده بالاستطاعة تقييداً خاصاً فقال: «من رأى منكم منكرا فليغيره بيده فإن لم يستطع فبلسانه فإن لم يستطع فبقلبه» وذلك لأن هذا أشد وأقرب لعدم الاستطاعة لأنه قد يترتب عليه من الشر ما لا يترتب على مجرد الأمر والنهي والدعوة.
হাত দ্বারা মন্দ (منكر) কাজ পরিবর্তনের নীতিমালা কী? এটি একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন যার একটি সুস্পষ্ট শরয়ী জবাব রয়েছে, তবে অজ্ঞতা—কখনো কখনো মন্দ উদ্দেশ্যের সাথে—একে বিকৃত করে ফেলে। তাহলে এই প্রশ্নের শরয়ী উত্তর কী?
বোধগম্যতার ঘাটতি * শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন: এটি একটিই নীতিমালা যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে নির্দেশ করেছেন: ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো মন্দ (منكر) কাজ দেখে, তবে সে যেন তা তার হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে তার জিহ্বা দিয়ে; আর যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে তার অন্তর দিয়ে’।
একজন মানুষ তার নিজ ঘরে মন্দ (منكر) কাজ পরিবর্তন করতে সক্ষম হলেও জনসমক্ষে বা রাস্তায় সে হয়তো তা করতে সক্ষম নাও হতে পারে। এখানে আমাদের সতর্ক করা প্রয়োজন যে, কল্যাণের দিকে আহ্বান (دعوة), সৎ কাজের আদেশ (أمر بالمعروف), অসৎ কাজের নিষেধ (نهي عن المنكر) এবং পরিবর্তনের (تغيير) মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আল্লাহ তাআলা এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। কল্যাণের দিকে আহ্বান (دعوة), সৎ কাজের আদেশ (أمر بالمعروف) এবং অসৎ কাজের নিষেধের (نهي عن المنكر) ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা (সুনির্দিষ্টভাবে) সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেননি; বরং তিনি বলেছেন: ‘তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান (دعوة) জানাবে এবং সৎ কাজের আদেশ (أمر بالمعروف) করবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ (نهي عن المنكر) করবে; আর তারাই সফলকাম।’ [আলে ইমরান: ১০৪] (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৪)। তবে এই বিষয়গুলো প্রতিটি আবশ্যক (واجب) কাজের জন্য নির্ধারিত সাধারণ সক্ষমতার শর্তের সাথে সীমাবদ্ধ। পক্ষান্তরে পরিবর্তনের (تغيير) বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিশেষ সক্ষমতার শর্তে সীমাবদ্ধ করেছেন এবং বলেছেন: ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো মন্দ (منكر) কাজ দেখে, তবে সে যেন তা তার হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে তার জিহ্বা দিয়ে; আর যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে তার অন্তর দিয়ে’। এর কারণ হলো, এটি (হাতের মাধ্যমে পরিবর্তন) অধিকতর কঠিন এবং অক্ষমতার অধিক নিকটতর; কারণ এর ফলে এমন অনিষ্টের সৃষ্টি হতে পারে যা কেবল আদেশ, নিষেধ এবং আহ্বানের (دعوة) ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয় না।
(খণ্ড: ১)
কদিয়্যাতু ওয়া হিওয়ারুল উনফি ফিল আমালিল ইসলামিয়্যিল মুআসির
(পৃষ্ঠা: ৪০)
* د. محمود شوق: يزعم البعض أنهم حين يقومون بتغيير المنكر باليد إنما يأخذون بمرتبة أقوى الإيمان: وهذا على اعتبار أن التغيير بالقلب هو أضعف الإيمان. وهذا يدل على قصور في الفهم، وضحالة في التفكير، وسطحية في تفسير مدلولات الأحاديث الشريفة ومقاصدها. فمن يملك التغيير باليد هو ولي الأمر - أو من ينيبه - وإلا اعترت الفوضى المجتمع المسلم. فلنا أن نتصور أن كل من يرى منكراً في سلوك فرد أو جماعة من المسلمين استخدم القوة الجبرية ليوجهه أو يوجههم إلى ما يتصوره حقّا وعدلاً. هذا مع اختلاف وجهات النظر وتباين الرؤى حيال المواقف والحكم عليها، باختلاف درجات العلم بكتاب الله وسنة رسوله، والفهم الواعي بما جاء فيهما من مقاصد. وهذا الاختلاف قد يحدث بين العلماء فما بالك بمجموعة من الشباب الذين لم ينالوا من العلم الصحيح القدر الذي يؤهلهم لهذا الفهم؟ !
إن هذا الاجتراء على التفسير والفتيا بدون علم ولا هدى هو من المشكلات التي يعانيها عالمنا الإسلامي، وبخاصة في هذه الأيام؟ حيث نصب بعض الشباب أنفسهم دعاة ومفسرين ومفتين دون أن يُؤهلَّوا التأهيل الواجب، ولو أنهم أصابوا من العلم نصيباً معقولاً لعرفوا أن تغيير المنكر باليد هو من حق ولي الأمر وحده - أو من ينيبه -.
ড. মাহমুদ শাওকী: কেউ কেউ দাবি করেন যে, যখন তারা হাতের মাধ্যমে অন্যায় (منكر) পরিবর্তন করেন, তখন তারা মূলত ঈমানের শক্তিশালী (أقوى) স্তরটিই গ্রহণ করেন; আর এটি এই ধারণার ভিত্তিতে যে, অন্তরের মাধ্যমে পরিবর্তন করাই হলো ঈমানের দুর্বলতম (أضعف) স্তর। এটি অনুধাবনের সীমাবদ্ধতা, চিন্তার সংকীর্ণতা এবং হাদিসের মর্মার্থ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অগভীরতারই প্রমাণ বহন করে। কেননা হাতের মাধ্যমে পরিবর্তন করার ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান বা তাঁর প্রতিনিধির রয়েছে— অন্যথায় মুসলিম সমাজে চরম বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে। আমরা কল্পনা করতে পারি যে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আচরণে কোনো অন্যায় (منكر) দেখতে পায় এবং তাকে বা তাদেরকে সত্য ও ন্যায় বলে সে যা মনে করে সেদিকে পরিচালিত করতে জোরপূর্বক শক্তি প্রয়োগ করে, তবে কী অবস্থা হবে। এটি এমন এক পরিস্থিতিতে ঘটবে যেখানে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞানের স্তরের ভিন্নতা এবং তাতে বর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ সম্পর্কে সচেতন উপলব্ধির পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন পরিস্থিতি ও তার ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাধারার ভিন্নতা রয়েছে। এই মতভেদ উলামায়ে কিরামের মধ্যেও হতে পারে; তাহলে এমন একদল যুবক সম্পর্কে কী বলা যায় যারা সঠিক জ্ঞান থেকে সেই পরিমাণ অংশই লাভ করেনি যা তাদের এই ধরনের উপলব্ধির যোগ্য করে তুলবে?!
জ্ঞান ও সঠিক পথনির্দেশনা ছাড়াই ব্যাখ্যা প্রদান এবং ফতোয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধৃষ্টতা আমাদের বর্তমান মুসলিম বিশ্বের অন্যতম সমস্যা, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে। যেখানে কিছু যুবক নিজেদেরকে দায়ী, মুফাসসির ও মুফতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে অথচ তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নেই। যদি তারা জ্ঞানের নূন্যতম অংশও অর্জন করত, তবে তারা অবশ্যই জানত যে, হাতের মাধ্যমে অন্যায় (منكر) পরিবর্তন করার অধিকার একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান বা তাঁর প্রতিনিধির।