(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: -)
نقد القومية العربية على ضوء الإسلام والواقع   (ابن باز)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: نقد القومية العربية على ضوء الإسلام والواقع

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن باز (ت 1420هـ)

الناشر: الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد إدارة الطبع والترجمة

الطبعة: السادسة، 1411هـ

عدد الصفحات: 64

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলাম ও বাস্তবতার আলোকে আরব জাতীয়তাবাদের সমালোচনা   (ইবনে বাজ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: ইসলাম ও বাস্তবতার আলোকে আরব জাতীয়তাবাদের সমালোচনা

লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (মৃত্যু: ১৪২০ হিজরি)

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াত ও নির্দেশনা বিভাগসমূহের সাধারণ প্রেসিডেন্সি, মুদ্রণ ও অনুবাদ বিভাগ

সংস্করণ: ষষ্ঠ، ১৪১১ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: -)
‌‌[مقدمة]

نقد القومية العربية على ضوء الإسلام والواقع
[ভূমিকা]

ইসলাম ও বাস্তবতার আলোকে আরব জাতীয়তাবাদের সমালোচনা
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ৩)
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله وبعد:

فلا يشك مسلم له أدنى بصيرة بالتاريخ الإسلامي في فضل العرب المسلمين، وما قاموا به من حمل رسالة الإسلام في القرون المفضلة، وتبليغه لكافة الشعوب، والصدق في الدعوة إليه، والجهاد لنشره والدفاع عنه، وتحمل المشاق العظيمة في ذلك، حتى أظهره الله على أيديهم وخفقت رايته في غالب المعمورة، وشاهد العالم على أيدي دعاة الإسلام في صدر الإسلام أكمل نظام وأعدل حاكم، ورأوا في الإسلام كل ما يريدون وينشدون من خير الدنيا والآخرة، ووجدوا في الإسلام تنظيم حياة سعيدة تكفل لهم العزة والكرامة والحرية من عبادة العبيد، وظلم المستبدين، والولاة الغاشمين، ووجدوا في الإسلام تنظيم علاقتهم بالله سبحانه: بعبادة عظيمة تصلهم بالله، وتطهر قلوبهم من الشرك والحقد والكبر، وتغرس فيها غاية الحب لله وكمال الذل له والتلذذ بمناجاته، وتعرفهم بربهم وبأنفسهم، وتذكرهم بالله وعظيم حقه كلما غفلوا أو كادوا أن يغفلوا وجدوا في الإسلام تنظيم علاقتهم بالرسول صلى الله عليه وسلم وماذا يجب عليهم من حقه والسير في سبيله.
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর; অতঃপর:

ইসলামি ইতিহাসের সামান্যতম অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন কোনো মুসলিমই মুসলিম আরবদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং শ্রেষ্ঠ যুগগুলোতে (القرون المفضلة) ইসলামের বাণী বহন, তা সমস্ত জাতির নিকট পৌঁছে দেওয়া, এর দাওয়াতে সত্যবাদিতা (الصدق) রক্ষা করা, এর প্রচার ও প্রসারে জিহাদ ও আত্মরক্ষা এবং এই পথে সুমহান কষ্ট সহ্য করার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করেন না। পরিশেষে আল্লাহ তাদের হাতেই দ্বীনকে বিজয়ী করেন এবং পৃথিবীর অধিকাংশ স্থানে ইসলামের পতাকা উড্ডীন হয়। বিশ্ববাসী ইসলামের স্বর্ণযুগে ইসলামের দাঈদের মাধ্যমে এক পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা এবং সর্বাপেক্ষা ন্যায়পরায়ণ শাসক প্রত্যক্ষ করেছে। তারা ইসলামের মাঝে দুনিয়া ও আখেরাতের সেই সমস্ত কল্যাণ খুঁজে পেয়েছে যা তারা কামনা ও প্রত্যাশা করত। তারা ইসলামের মাঝে এক সুখী জীবন পরিচালনার পদ্ধতি খুঁজে পেয়েছে যা তাদের জন্য ইজ্জত, মর্যাদা এবং সৃষ্টির দাসত্ব থেকে মুক্তি ও স্বৈরশাসক ও অত্যাচারী শাসকদের জুলুম থেকে স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। তারা ইসলামের মাঝে সুমহান ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সাথে তাদের সম্পর্ক উন্নয়নের দিশা পেয়েছে যা তাদের আল্লাহর সাথে সংযুক্ত করে, তাদের অন্তরকে শিরক, বিদ্বেষ ও অহংকার থেকে পবিত্র করে এবং সেখানে আল্লাহর প্রতি চূড়ান্ত ভালোবাসা, তাঁর সামনে পূর্ণ বিনয় ও তাঁর সাথে একান্তে মুনাজাতের স্বাদ রোপণ করে। এই ইসলাম তাদের প্রতিপালক ও নিজেদের সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং যখনই তারা বিমুখ হয় বা হওয়ার উপক্রম হয়, তখনই তাদের আল্লাহর কথা এবং তাঁর মহান হকের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তারা ইসলামের মাঝেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাদের সম্পর্কের নিয়ম-নীতি এবং তাঁর হকের আবশ্যকতা ও তাঁর পথে চলার দিকনির্দেশনা খুঁজে পেয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ৪)
ووجدوا في الإسلام أيضا تنظيم العلاقات التي بين الراعي والرعية، وبين الرجل وأهله، وبين الرجل وأقاربه، وبين الرجل وإخوانه المسلمين، وبين المسلمين والكفار، بعبارات واضحة وأساليب جلية ووجدوا من الرسول صلى الله عليه وسلم ومن الصحابة وأتباعهم بإحسان تفسير ذلك بأخلاقهم الحميدة وأعمالهم المجيدة، فأحب الناس الإسلام وعظموه ودخلوا فيه أفواجا، وأدركوا فيه كل خير وطمأنينة وصلاح وإصلاح.

والكلام في مزايا الإسلام وما اشتمل عليه من أحكام سامية وأخلاق كريمة، تصلح القلوب، وتؤلف بينها وتربطها برباط وثيق من المودة في الله سبحانه، والتفاني في نصر دينه، والتمسك بتعاليمه، والتواصي بالحق والصبر عليه، لا ريب أن الكلام في هذا الباب يطول والقصد في هذه الكلمة الإشارة إلى ما حصل على أيدي المسلمين من العرب في صدر الإسلام من الجهاد والصبر، وما أكرمهم الله به من حمل مشعل الإسلام إلى غالب المعمورة، وما حصل للعالم من الرغبة في الإسلام، والمسارعة إلى الدخول فيه، لما اشتمل عليه من الأحكام الرشيدة والتعاليم السمحة، والتعريف بالله سبحانه وبأسمائه وصفاته وعظيم حقه على عباده، ولما اتصف به حملته
এবং তারা ইসলামে শাসক ও শাসিতের মধ্যকার সম্পর্ক, পুরুষ ও তার পরিবার, পুরুষ ও তার নিকটাত্মীয়, পুরুষ ও তার মুসলিম ভাই এবং মুসলিম ও কাফিরদের মধ্যকার সম্পর্কের সুশৃঙ্খল বিন্যাস খুঁজে পেয়েছেন সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি ও প্রাঞ্জল পদ্ধতিতে। তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের মাঝে তাঁদের প্রশংসনীয় চরিত্র ও গৌরবময় কর্মের মাধ্যমে এগুলোর বাস্তব ব্যাখ্যা প্রত্যক্ষ করেছেন। ফলে মানুষ ইসলামকে ভালোবেসেছে, একে মহিমান্বিত করেছে এবং দলে দলে এতে প্রবেশ করেছে। তারা এতে সকল কল্যাণ, প্রশান্তি, নৈতিক উৎকর্ষ ও সংস্কার খুঁজে পেয়েছে।

ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং এতে বিদ্যমান সুমহান বিধিবিধান ও উন্নত চরিত্র—যা অন্তরসমূহকে সংশোধন করে, তাদের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালোবাসার এক সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করে, তাঁর দ্বীন বিজয়ে আত্মত্যাগ, এর শিক্ষা আঁকড়ে ধরা এবং সত্য ও ধৈর্যের পারস্পরিক উপদেশ প্রদানের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা দীর্ঘ হওয়া স্বাভাবিক। এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে আরব মুসলিমদের হাতে জিহাদ ও ধৈর্যের মাধ্যমে যা সম্পন্ন হয়েছিল এবং আল্লাহ তাদেরকে পৃথিবীর অধিকাংশ প্রান্তে ইসলামের আলোকবর্তিকা পৌঁছে দেওয়ার যে গৌরব দান করেছেন, তার প্রতি ইঙ্গিত করা। এছাড়া ইসলামের সঠিক বিধান ও উদার শিক্ষা এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা, তাঁর নাম ও গুণাবলি এবং বান্দাদের ওপর তাঁর মহান হকের পরিচয় তুলে ধরার ফলে বিশ্বের মানুষের মনে ইসলামের প্রতি যে প্রবল অনুরাগ সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত এতে শামিল হওয়ার যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা বর্ণনা করা। এর পাশাপাশি ইসলামের বাহকগণ যেসব বিশেষ গুণে গুণান্বিত ছিলেন তাও এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ৫)
والدعاة إليه من تمثيل أحكام الإسلام في أقوالهم وأعمالهم وأخلاقهم، حتى صاروا بذلك خير أمة أخرجت للناس، وحققوا بذلك معنى قوله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} [آل عمران: 110] ومعنى الآية كما قال أبو هريرة رضي الله عنه كنتم خير الناس للناس.

لا يشك مسلم قد عرف ما كان عليه المسلمون في صدر الإسلام فيما ذكرناه، فهو من الحقائق المعلومة بين المسلمين، ولا يشك مسلم في ما للمسلمين غير العرب من الفضل والجهاد المشكور في مساعدة إخوانهم من العرب المسلمين في نشر هذا الدين والجهاد في إعلاء كلمته، وتبليغه سكان المعمورة، شكر الله للجميع مساعيهم الجليلة، وجعلنا من أتباعهم بإحسان، إنه على كل شيء قدير.

وإنما الذي ينكر اليوم ويستغرب صدوره عن كثير من أبناء الإسلام من العرب، انصرافهم عن الدعوة إلى هذا الدين العظيم، الذي رفعهم الله به، وأعزهم بحمل رسالته، وجعلهم ملوك الدنيا وسادة العالم، لما حملوا لواءه وجاهدوا في سبيله بصدق وإخلاص، حتى فتحوا الدنيا، وكسروا كسرى، وقصروا قيصر، واستولوا على خزائن مملكتيهما، وأنفقوها في سبيل الله سبحانه، وكانوا حينذاك في غاية
এবং তাঁদের কথা, কর্ম ও চরিত্রে ইসলামের বিধি-বিধান প্রতিফলিত করার মাধ্যমে তাঁরা এই দ্বীনের দিকে আহ্বানকারী ছিলেন, যার ফলে তাঁরা মানবজাতির জন্য প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হয়েছিলেন এবং এর মাধ্যমে তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্মার্থ বাস্তবায়ন করেছিলেন: {তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, মন্দ কাজ (المنكر) থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করো} [আল ইমরান: ১১০]। আয়াতের অর্থ সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যেমনটি বলেছেন—তোমরা মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ মানুষ।

ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে মুসলিমগণ যে অবস্থায় ছিলেন, সে সম্পর্কে অবগত কোনো মুসলিমই আমাদের উল্লিখিত বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন না; কারণ এটি মুসলিমদের নিকট সুপরিচিত বাস্তবতাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এই দ্বীন প্রচার এবং আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত রাখার সংগ্রামে ও বিশ্বের জনপদে তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনারব মুসলিমদের যে শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রশংসনীয় অবদান রয়েছে, সে বিষয়েও কোনো মুসলিমের মনে সংশয় নেই। আল্লাহ সকলের মহান প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং আমাদের তাঁদের নিষ্ঠাবান অনুসারী বানান; নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

বর্তমানে যা অস্বীকার করা হচ্ছে এবং ইসলামের বহু আরব সন্তানদের পক্ষ থেকে যা প্রকাশ পাওয়া বিস্ময়কর মনে হচ্ছে, তা হলো এই মহান দ্বীনের দাওয়াত থেকে তাদের বিমুখতা। অথচ আল্লাহ এই দ্বীনের মাধ্যমেই তাঁদের উন্নত করেছেন এবং তাঁর রিসালাত বহনের দায়িত্ব দিয়ে তাঁদের সম্মানিত করেছেন। তিনি তাঁদের পৃথিবীর অধিপতি ও বিশ্বের নেতায় পরিণত করেছিলেন যখন তাঁরা এই দ্বীনের ঝাণ্ডা ধারণ করেছিলেন এবং সত্য ও নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছিলেন; যার ফলে তাঁরা বিশ্ব জয় করেছিলেন, কিসরাকে পরাজিত করেছিলেন, কায়সারকে হীনবল করেছিলেন এবং তাঁদের উভয় সাম্রাজ্যের ধনভাণ্ডার জয় করে তা মহান আল্লাহর পথে ব্যয় করেছিলেন। তখন তাঁরা ছিলেন চরম...
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ৬)
من الصدق والإخلاص والوفاء والأمانة والتحاب عربي في الله سبحانه والمؤاخاة فيه، لا فرق عندهم بين وعجمي، ولا بين أحمر وأسود، ولا بين غني وفقير، ولا بين شرقي وغربي، بل هم في ذلك إخوان متحابون في الله، متعاونون على البر والتقوى، مجاهدون في سبيل الله، صابرون على دين الإسلام لا تأخذهم في الله لومة لائم، يوالون في الإسلام، ويعادون فيه، ويحبون عليه، ويبغضون عليه، ولذلك كفاهم الله مكايد أعدائهم، وكتب لهم النصر في جميع ميادين جهادهم، كما وعدهم الله سبحانه بذلك في كتابه المبين حيث يقول سبحانه: {وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ} [الروم: 47] وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} [محمد: 7]

ثم بعد هذا الشرف العظيم والنصر المؤزر من المولى سبحانه لعباده المؤمنين من العرب وغيرهم، نرى نفرا من أبنائنا يخدعون بالمبادئ المنحرفة، ويدعون إلى غير الإسلام، كأنهم لم يعرفوا فضل الإسلام وما حصل لأسلافهم بالإسلام من العزة والكرامة، والمجد الشامخ والمجتمع القوي الذي كتبه الله لأهل الإسلام الصادقين، حتى إن عدوهم ليخافهم وهو عنهم مسيرة شهر، نسي هؤلاء أو تناسوا هذا المجد المؤثل والعز العظيم والملك الكبير، الذي ناله المسلمون بالإسلام، فصار هؤلاء الأبناء يدعون إلى التكتل والتجمع
সত্যবাদিতা (صدق), একনিষ্ঠতা (إخلاص), বিশ্বস্ততা, আমানতদারি (أمانة) এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পারস্পরিক ভালোবাসা ও তাঁরই সন্তুষ্টির নিমিত্তে ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে; তাদের নিকট আরব ও অনারবের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, কোনো ভেদাভেদ নেই শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গের মাঝে, নেই ধনী ও দরিদ্রের মাঝে, কিংবা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মাঝে। বরং তারা এ ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে পরস্পরকে ভালোবাসা ভাই ভাই, তারা সৎকর্ম ও তাকওয়ার (تقوى) ওপর একে অপরের সহযোগী, আল্লাহর পথে জিহাদকারী, ইসলামের দ্বীনের ওপর অবিচল ও ধৈর্যশীল; আল্লাহর পথে তারা কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করে না। তারা ইসলামের ভিত্তিতেই বন্ধুত্ব গড়ে তোলে এবং ইসলামের ভিত্তিতেই শত্রুতা পোষণ করে, এর জন্যই ভালোবাসে এবং এর জন্যই ঘৃণা করে। একারণেই আল্লাহ তাদের শত্রুদের ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় তাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছেন এবং তাদের জিহাদের সকল ময়দানে বিজয় অবধারিত করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে ওয়াদা করেছেন যেখানে তিনি বলেন: "আর মুমিনদের সাহায্য করা ছিল আমার দায়িত্ব।" [সূরা আর-রূম: ৪৭] এবং তিনি আরও বলেন: "হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদযুগল সুদৃঢ় করবেন।" [সূরা মুহাম্মদ: ৭]

অতঃপর মহান রবের পক্ষ থেকে আরব ও অনারব মুমিন বান্দাদের জন্য এই সুমহান মর্যাদা ও শক্তিশালী বিজয়ের পর, আমরা আমাদের সন্তানদের মধ্য থেকে একদলকে দেখতে পাচ্ছি যারা বিচ্যুত আদর্শের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছে এবং ইসলাম ছাড়া অন্য কিছুর দিকে আহ্বান জানাচ্ছে; যেন তারা ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং ইসলামের মাধ্যমে তাদের পূর্বসূরিদের অর্জিত মর্যাদা, সম্মান, সুউচ্চ গৌরব ও সেই শক্তিশালী সমাজ সম্পর্কে অবগত নয় যা আল্লাহ সত্যনিষ্ঠ (صادق) মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত করেছেন। এমনকি তাদের শত্রুরা এক মাসের দূরত্বে অবস্থান করেও তাদের ভয় পেত। এরা সেই সুপ্রতিষ্ঠিত গৌরব, সুমহান মর্যাদা ও বিশাল রাজত্ব সম্পর্কে বিস্মৃত হয়েছে বা বিস্মৃতির ভান করছে যা মুসলিমরা ইসলামের মাধ্যমেই লাভ করেছিল। ফলে এই সন্তানেরা এখন দলাদলি ও দলগত সংহতির দিকে আহ্বান জানাচ্ছে।
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ৭)
حول القومية العربية، ويعرفونها بأنها اجتماع وتكاتف لتطهير البلاد من العدو المستعمر، ولتحصيل المصالح المشتركة، واستعادة المجد السليب.

وقد اختلف الدعاة إليها في عناصرها، فمن قائل: إنها الوطن، والنسب، واللغة العربية. ومن قائل: إنها اللغة فقط. ومن قائل: إنها اللغة مع المشاركة في الآلام والآمال. ومن قائل غير ذلك. أما الدين فليس من عناصرها عند أساطينهم، والصرحاء منهم، وقد صرح كثير بأن الدين لا دخل له في القومية، وصرح بعضهم أنها تحترم الأديان كلها من الإسلام وغيره. وهدفها كما يعلم من كلامهم هو التكتل والتجمع والتكاتف ضد الأعداء ولتحصيل المصالح المشتركة كما سلف، ولا ريب بأن هذا غرض نبيل وقصد جميل.

فإذا كان هذا هو الهدف، ففي الإسلام من الحث على ذلك والدعوة إليه وإيجاب التكاتف والتعاون لنصر الإسلام، وحمايته من كيد الأعداء ولتحصيل المصالح المشتركة، ما هو أكمل وأعظم مما يرتجى من وراء القومية. ومعلوم عند كل ذي لب سليم أن التكاتف والتعاون الذي مصدره القلوب والإيمان بصحة الهدف، وسلامة العاقبة في الحياة وبعد الممات كما في الإسلام الصحيح - أعظم
আরব জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে; তারা এটিকে সংজ্ঞায়িত করে এভাবে যে, এটি হলো ঔপনিবেশিক শত্রু থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য এবং সাধারণ স্বার্থ হাসিল ও হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য একটি সম্মিলন ও সংহতি।

এর প্রবক্তারা এর উপাদানসমূহের বিষয়ে মতভেদ করেছেন। কেউ বলেন: এটি হলো স্বদেশ, বংশ এবং আরবি ভাষা। কেউ বলেন: এটি কেবল ভাষা। আবার কেউ বলেন: এটি হলো ভাষা এবং সেই সাথে দুঃখ-সুখ ও আশা-আকাঙ্ক্ষার অংশীদারিত্ব। আবার কেউ কেউ এর ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তবে তাদের শীর্ষস্থানীয় ও স্পষ্টভাষীদের নিকট ধর্ম এর কোনো উপাদান নয়। তাদের অনেকেই স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, জাতীয়তাবাদে ধর্মের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই; আবার তাদের কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি ইসলামসহ সকল ধর্মকে সম্মান করে। তাদের বক্তব্য থেকে যা জানা যায় তা হলো, এর লক্ষ্য হলো শত্রুদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং ইতিপূর্বে উল্লিখিত সাধারণ স্বার্থসমূহ হাসিল করা; আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি একটি মহৎ উদ্দেশ্য এবং সুন্দর সংকল্প।

যদি এটিই লক্ষ্য হয়ে থাকে, তবে ইসলামের ভেতরেই এর প্রতি উৎসাহ প্রদান, এর প্রতি আহ্বান এবং ইসলামের বিজয় ও শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে একে রক্ষা করার জন্য সংহতি ও সহযোগিতার যে আবশ্যকতা রয়েছে এবং সাধারণ স্বার্থ হাসিলের যে দিকনির্দেশনা রয়েছে, তা জাতীয়তাবাদ থেকে প্রত্যাশিত বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি পূর্ণাঙ্গ ও মহান। আর প্রত্যেক সুস্থ বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তির নিকট এটি সুবিদিত যে, যে সংহতি ও সহযোগিতার উৎস হলো অন্তরসমূহ এবং লক্ষ্যের যথার্থতা ও ইহকাল ও পরকালের পরিণতির নিরাপত্তার ওপর বিশ্বাস—যেমনটি সঠিক (صحيح) ইসলামে বিদ্যমান—তা অনেক বেশি মহান।
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ৮)
من التعاون والتكاتف على أمر اخترعه البشر ولم ينزل به وحي السماء ولا تؤمن عاقبته لا في الدنيا ولا في الآخرة. وأيضا فالتكاتف والتعاون الصادر عن إيمان بالله وصدق في معاملته ومعاملة عباده مضمون له النصر وحسن العاقبة - كما في الآيات الكريمات التي أسلفنا ذكرها - بخلاف التكاتف والتعاون المبني على فكرة جاهلية تقليدية لم يأت بها شرع ولم يضمن لها النصر.

وهذا كله على سبيل التنزل لدعاة القومية، والرغبة في إيضاح الحقائق لطالب الحق. وإلا فمن خبر أحوال القوميين وتدبر مقالاتهم وأخلاقهم وأعمالهم عرف أن غرض الكثيرين منهم من الدعوة إلى القومية أمور أخرى يعرفها من له أدنى بصيرة بالواقع وأحوال المجتمع، ومن تلك الأمور: فصل الدين عن الدولة، وإقصاء أحكام الإسلام عن المجتمع والاعتياض عنها بقوانين وضعية ملفقة من قوانين شتى، وإطلاق الحرية للنزعات الجنسية والمذاهب الهدامة - لا بلغهم الله مناهم - ولا ريب أن دعوة تفضي إلى هذه الغايات يرقص لها الاستعمار طربا ويساعد على وجودها ورفع مستواها - وإن تظاهر بخلاف ذلك - تغريرا للعرب عن دينهم، وتشجيعا لهم على الاشتغال بقوميتهم، والدعوة إليها والإعراض عن دينهم.
এটি মানুষের উদ্ভাবিত এমন এক বিষয়ের ওপর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি, যার সপক্ষে আসমানি ওহী অবতীর্ণ হয়নি এবং দুনিয়া ও আখিরাতে যার পরিণাম নিরাপদ নয়। তদুপরি, আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের সাথে আচার-আচরণে সততা থেকে উৎসারিত সংহতি ও সহযোগিতার বিজয় এবং শুভ পরিণাম সুনিশ্চিত—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে বর্ণিত সম্মানিত আয়াতসমূহে উল্লেখ করেছি—পক্ষান্তরে জাহেলি ও প্রথাগত চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সংহতি ও সহযোগিতা এর সম্পূর্ণ বিপরীত, যা শরীয়ত সমর্থিত নয় এবং যার বিজয়ের ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।

আর এসবই জাতীয়তাবাদের প্রবক্তাদের ক্ষেত্রে সত্যের অন্বেষণকারীর নিকট প্রকৃত বাস্তবতা স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে যুক্তির খাতিরে বলা হয়েছে। অন্যথায়, যারা জাতীয়তাবাদীদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তাদের বক্তব্য, চরিত্র ও কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করেন, তারা জানেন যে, তাদের অনেকের এই জাতীয়তাবাদের দাওয়াতের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে, যা সমকালীন সমাজ ও বাস্তবতা সম্পর্কে নূন্যতম অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির কাছেও সুস্পষ্ট। সেই সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলো: রাষ্ট্র থেকে দ্বীনকে পৃথক করা, সমাজ থেকে ইসলামের বিধানাবলিকে নির্বাসিত করা এবং বিভিন্ন আইনের সংমিশ্রণে তৈরি মানব রচিত আইন দ্বারা সেগুলোকে স্থলাভিষিক্ত করা; এবং যৌন প্রবৃত্তি ও ধ্বংসাত্মক মতবাদসমূহের লাগামহীন স্বাধীনতা প্রদান করা—আল্লাহ যেন তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না দেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যেসব দাওয়াত এই লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করে, সাম্রাজ্যবাদ তাতে উল্লাসে মেতে ওঠে এবং এর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ও এর প্রচার-প্রসারে সহায়তা করে—যদিও তারা আরবদের তাদের দ্বীন থেকে প্রলুব্ধ করে বিচ্যুত করার উদ্দেশ্যে এবং তাদের জাতীয়তাবাদ নিয়ে মেতে থাকতে ও তার দাওয়াত দিতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে দ্বীন থেকে বিমুখ করার লক্ষ্যে বাহ্যিকভাবে এর বিপরীত প্রদর্শন করে।
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ৯)
ومن زعم من دعاة القومية أن الدين من عناصرها فقد فرض أخطاء على القوميين وقال عليهم ما لم يقولوا؛ لأن الدين يخالف أسسهم التي بنوا القومية عليها، ويخالف صريح كلامهم ويباين ما يقصدونه من تكتيل العرب على اختلاف أديانهم تحت راية القومية. . ولهذا تجد من يجعل الدين من عناصر القومية يتناقض في كلامه، فيثبته تارة وينفيه أخرى، وما ذلك إلا أنه لم يقله عن عقيدة وإيمان، وإنما قاله مجاملة لأهل الإسلام، أو عن جهل بحقيقة القومية وهدفها. وهكذا قول من قال: إنها تخدم الإسلام أو تسانده، وكل ذلك بعيد عن الحقيقة والواقع، وإنما الحقيقة أنها تنافس الإسلام وتحاربه في عقر داره، وتطلي ببعض خصائصه ترويجا لها وتلبيسا أو جهلا وتقليدا.

ولو كانت الدعوة إلى القومية يراد منها نصر الإسلام وحماية شعائره لكرس القوميون جهدهم في الدعوة إليه ومناصرته وتحكيم دستوره النازل من فوق سبع سماوات، ولبادروا إلى التخلق بأخلاقه، والعمل بما يدعو إليه، وابتعدوا عن كل ما يخالفه؛ لأنه الأصل الأصيل والهدف الأعظم، ولأنه السبيل الذي من سار عليه واستقام عليه وصل إلى شاطئ السلامة وفاز بالجنة والكرامة، ومن حاد عن سبيله باء بالخيبة والندامة، وخسر الدنيا والآخرة،
জাতীয়তাবাদের (قومية) প্রবক্তাদের মধ্যে যারা দাবি করেন যে ধর্ম এর অন্যতম উপাদান, তারা মূলত জাতীয়তাবাদীদের ওপর ভুল ধারণা চাপিয়ে দিচ্ছেন এবং তাদের নামে এমন কথা বলছেন যা তারা বলেননি; কেননা ধর্ম তাদের সেই মূলনীতির পরিপন্থী যার ওপর ভিত্তি করে তারা জাতীয়তাবাদকে (قومية) প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এটি তাদের সুস্পষ্ট বক্তব্যের বিরোধী এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী আরবদের জাতীয়তাবাদের (قومية) পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করার যে উদ্দেশ্য তারা পোষণ করেন, তার সাথেও এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একারণেই আপনি দেখতে পাবেন, যারা ধর্মকে জাতীয়তাবাদের (قومية) উপাদান হিসেবে গণ্য করেন, তারা স্ববিরোধী কথা বলেন; তারা কখনো একে সাব্যস্ত করেন, আবার কখনো একে অস্বীকার করেন। এটি কেবল এজন্য যে, তারা কোনো সুদৃঢ় আকিদা (عقيدة) বা ইমান (إيمان) থেকে এমনটি বলেননি; বরং তারা এটি বলেছেন হয় মুসলমানদের প্রতি সৌজন্য রক্ষার্থে, অথবা জাতীয়তাবাদের (قومية) প্রকৃত রূপ ও লক্ষ্য সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে। অনুরূপভাবে যারা বলেন যে, এটি ইসলামের সেবা করে বা একে সহায়তা করে—তাদের এই বক্তব্যও সত্য ও বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। বরং প্রকৃত সত্য হলো, এটি ইসলামের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং এর আপন আলয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আর এর প্রচার-প্রসার এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অথবা অজ্ঞতা ও অন্ধ অনুকরণের (تقليد) কারণে একে ইসলামের কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রলেপ দিয়ে উপস্থাপন করা হয়।

যদি জাতীয়তাবাদের দাওয়াতের (دعوة) মাধ্যমে ইসলামকে সাহায্য করা এবং এর নিদর্শনসমূহ (شعائر) রক্ষা করাই উদ্দেশ্য হতো, তবে জাতীয়তাবাদীরা তাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ইসলামের দাওয়াত (دعوة), এর সহায়তা এবং সাত আসমানের ওপর থেকে অবতীর্ণ এর মহান বিধানের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত করত। তারা ইসলামের উন্নত নৈতিকতায় ভূষিত হতে তৎপর হতো, এর নির্দেশনানুযায়ী আমল (عمل) করত এবং এর পরিপন্থী সবকিছু থেকে দূরে থাকত; কারণ ইসলামই হলো মূল ভিত্তি এবং মহান লক্ষ্য। আর এটিই সেই পথ, যার ওপর যে ব্যক্তি চলবে এবং অটল (استقامة) থাকবে, সে নিরাপত্তার তীরে পৌঁছাবে এবং জান্নাত ও মর্যাদা লাভে ধন্য হবে। আর যে ব্যক্তি এই পথ থেকে বিচ্যুত হবে, সে ব্যর্থতা ও অনুশোচনা নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ১০)
فلو كان دعاة القومية يقصدون بدعوتهم إليها تعظيم الإسلام وخدمته ورفع شأنه لما اقتصروا على الدعوة للخادم دون المخدوم، وكرسوا لهذا الخادم جهودهم، وغضبوا من صوت دعاة الإسلام إذا دعوا إليه وحذروا مما يخالفه أو يقف حجرا في طريقه.

لو كان دعاة القومية يريدون بدعوتهم إعلاء كلمة الإسلام واجتماع العرب عليه، لنصحوا العرب ودعوهم إلى التمسك بتعاليم الإسلام وتنفيذ أحكامه، ولشجعوهم على نصره ودعوة الناس إليه، فإن العرب أولى الناس بأن ينصروا الإسلام، ويحموه من مكايد الأعداء ويحكموه فيما شجر بينهم، كما فعل أسلافهم لأنه عزهم وذكرهم ومجدهم، كما قال الله تعالى: {لَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ أَفَلَا تَعْقِلُونَ} [الأنبياء: 10] وقال {فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِي أُوحِيَ إِلَيْكَ إِنَّكَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ - لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِكَ وَسَوْفَ تُسْأَلُونَ} [الزخرف: 43 - 44]

 

‌‌[أوجه بطلان الدعوة إلى القومية العربية]

‌‌[الوجه الأول الدعوة إلى القومية العربية تفرق بين المسلمين]

وإذا عرفت أيها القارئ ما تقدم، فاعلم أن هذه الدعوة: أعني الدعوة إلى القومية العربية أحدثها الغربيون من النصارى لمحاربة الإسلام والقضاء عليه في داره بزخرف من القول، وأنواع من الخيال، وأساليب من الخداع، فاعتنقها كثير من العرب من أعداء الإسلام، واغتر بها كثير من
যদি জাতীয়তাবাদের আহ্বানকারীরা তাদের এই আহ্বানের মাধ্যমে ইসলামের মহিমা প্রচার, এর সেবা এবং এর মর্যাদা সমুন্নত করার উদ্দেশ্য পোষণ করতেন, তবে তারা কেবল সেবকের দাওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকতেন না এবং যাকে সেবা করা হবে (ইসলাম) তাকে বাদ দিতেন না; তারা তাদের সমস্ত প্রচেষ্টা কেবল এই সেবকের জন্যই উৎসর্গ করতেন না এবং ইসলামের দায়ীদের আহ্বানে রাগান্বিত হতেন না যখন তারা ইসলামের দিকে ডাকেন এবং এর পরিপন্থী কিংবা এর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন বিষয় থেকে সতর্ক করেন।

জাতীয়তাবাদের আহ্বানকারীরা যদি তাদের আহ্বানের মাধ্যমে ইসলামের বাণীকে উচ্চকিত করতে এবং এর ওপর আরবদের ঐক্যবদ্ধ করতে চাইতেন, তবে তারা আরবদেরকে নসিহত করতেন এবং ইসলামের শিক্ষার ওপর অবিচল থাকতে ও এর বিধানসমূহ বাস্তবায়ন করতে দাওয়াত দিতেন। তারা তাদের উৎসাহিত করতেন ইসলামকে সাহায্য করতে এবং মানুষের কাছে এর দাওয়াত পৌঁছে দিতে। কেননা আরবরাই হলো ইসলামকে সাহায্য করার, শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে একে রক্ষা করার এবং তাদের মধ্যকার বিবাদমান বিষয়ে ইসলামের বিধান অনুযায়ী বিচার পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে যোগ্য ও উপযুক্ত; যেমনটি তাদের পূর্বসূরিরা করেছিলেন। কারণ এটিই ছিল তাদের সম্মান, পরিচিতি এবং গৌরব। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি তোমাদের প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমাদের মর্যাদা রয়েছে; তবে কি তোমরা বুঝবে না?" [আল-আম্বিয়া: ১০]। তিনি আরও বলেছেন: "অতএব তোমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তা দৃঢ়ভাবে অবলম্বন কর; তুমি অবশ্যই সরল পথে আছ। আর এটি অবশ্যই তোমার ও তোমার কওমের জন্য এক বড় সম্মান; এবং শীঘ্রই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।" [আয-যুখরুফ: ৪৩-৪৪]

 

‌‌[আরব জাতীয়তাবাদের আহ্বানের অসারতার দিকসমূহ]

‌‌[প্রথম দিক: আরব জাতীয়তাবাদের আহ্বান মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে]

হে পাঠক, আপনি যদি পূর্বোক্ত আলোচনা বুঝে থাকেন, তবে জেনে রাখুন যে, এই আহ্বান—অর্থাৎ আরব জাতীয়তাবাদের আহ্বান—পাশ্চাত্যের খ্রিস্টানরা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং ইসলামের নিজ ভূখণ্ডেই একে সমূলে বিনাশ করার জন্য বাগাড়ম্বরপূর্ণ কথাবার্তা, নানা প্রকার কল্পনাপ্রসূত ধারণা এবং বিভিন্ন প্রতারণামূলক পদ্ধতির মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছে। ইসলামের অনেক শত্রু এই আদর্শ গ্রহণ করেছে এবং অনেক মানুষ এতে বিভ্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ১১)
الأغمار ومن قلدهم من الجهال، وفرح بذلك أرباب الإلحاد وخصوم الإسلام في كل مكان. ومن المعلوم من دين الإسلام بالضرورة أن الدعوة إلى القومية العربية أو غيرها من القوميات دعوة باطلة وخطأ عظيم، ومنكر ظاهر، وجاهلية وكيد سافر للإسلام وأهله، وذلك لوجوه.

1 - الأول: أن الدعوة إلى القومية العربية تفرق بين المسلمين، وتفصل المسلم العجمي عن أخيه العربي، وتفرق بين العرب أنفسهم لأنهم كلهم ليسوا يرتضونها، وإنما يرضاها منهم قوم دون قوم، وكل فكرة تقسم المسلمين وتجعلهم أحزابا فكرة باطلة، تخالف مقاصد الإسلام وما يرمي إليه؛ وذلك لأنه يدعو إلى الاجتماع والوئام، والتواصي بالحق والتعاون على البر والتقوى كما يدل على ذلك قوله سبحانه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ - وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} [آل عمران: 102 - 103] وقال تعالى: {هُوَ الَّذِي أَيَّدَكَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ - وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ بَيْنَهُمْ إِنَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} [الأنفال: 62 - 63] وقال تعالى:
অজ্ঞ লোকজন এবং তাদের অন্ধ অনুসরণকারী মূর্খরা এতে আনন্দিত হয়েছে, আর নাস্তিক্যবাদের হোতা ও ইসলামের শত্রুরাও সর্বত্র এতে আনন্দ প্রকাশ করেছে। ইসলামের দ্বীন থেকে অকাট্যভাবে যা জানা যায় তা হলো—আরব জাতীয়তাবাদ বা অন্য কোনো জাতীয়তাবাদের দিকে আহ্বান জানানো একটি ভিত্তিহীন (باطل) দাওয়াত, এক মহা ভুল, এক সুস্পষ্ট বর্জনীয় (منكر) বিষয়, জাহিলিয়াত (جاهلية) এবং ইসলাম ও এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে এক নগ্ন ষড়যন্ত্র। এটি কয়েকটি কারণে প্রত্যাখ্যাত।

১ - প্রথমত: আরব জাতীয়তাবাদের আহ্বান মুসলিমদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করে এবং অনারব মুসলিমকে তার আরব ভাইয়ের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এমনকি এটি খোদ আরবদের নিজেদের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি করে, কারণ সকল আরব এতে সন্তুষ্ট নয়; বরং তাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এটি পছন্দ করে, অন্যেরা নয়। আর প্রতিটি চিন্তাধারা যা মুসলিমদের বিভক্ত করে এবং তাদেরকে বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত করে, তা একটি ভিত্তিহীন (باطل) চিন্তাধারা, যা ইসলামের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহের পরিপন্থী। কারণ ইসলাম ঐক্য ও সংহতি, সত্যের অসিয়ত প্রদান এবং নেক কাজ ও তাকওয়ার ওপর পরস্পরকে সহযোগিতা করার দাওয়াত দেয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী এর প্রমাণ দেয়: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমাদের ওপর আল্লাহর সেই অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতি স্থাপন করলেন, ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে। তোমরা আগুনের গর্তের কিনারায় ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হও।} [আল-ইমরান: ১০২ - ১০৩] এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাকে তাঁর সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। এবং তিনি তাদের হৃদয়ে প্রীতি স্থাপন করেছেন। যদি তুমি পৃথিবীর সমস্ত সম্পদও ব্যয় করতে, তবুও তাদের হৃদয়ে প্রীতি স্থাপন করতে পারতে না; কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [আল-আনফাল: ৬২ - ৬৩] এবং আল্লাহ তাআলা বলেন:
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ১২)
{مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ - مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} [الروم: 31 - 32]

فانظر أيها المؤمن الراغب في الحق كيف يحارب الإسلام التفرق والاختلاف، ويدعو إلى الاجتماع والوئام والتمسك بحبل الحق والوفاة عليه، تعلم بذلك أن هدف القومية غير هدف الإسلام، وأن مقاصدها تخالف مقاصد الإسلام، ويدل على ذلك أيضا أن هذه الفكرة - أعني الدعوة إلى القومية العربية - وردت إلينا من أعدائنا الغربيين، وكادوا بها المسلمين، ويقصدون من ورائها فصل بعضهم عن بعض، وتحطيم كيانهم، وتفريق شملهم، على قاعدتهم المشئومة "فرق تسد" وكم نالوا من الإسلام وأهله بهذه القاعدة النحيسة، مما يحزن القلوب ويدمي العيون.

وذكر كثير من مؤرخي الدعوة إلى القومية العربية، ومنهم مؤلف الموسوعة العربية: أن أول من دعا إلى القومية العربية في أواخر القرن التاسع عشر الميلادي، هم الغربيون على أيدي بعثات التبشير في سوريا، ليفصلوا الترك عن العرب، ويفرقوا بين المسلمين، ولم تزل الدعوة إليها في الشام والعراق ولبنان تزداد وتنمو حتى عقد لها أول مؤتمر في باريس من نحو ستين سنة وذلك عام
{তোমরা তাঁর অভিমুখী হও, তাঁকে ভয় কর, সালাত কায়েম কর এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। যারা তাদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে; প্রতিটি দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত।} [রূম: ৩১ - ৩২]

হে সত্যের অনুসন্ধানী মুমিন! লক্ষ্য করুন, ইসলাম কীভাবে বিভেদ ও মতবিরোধের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ঐক্য, সম্প্রীতি ও সত্যের রজ্জুকে আঁকড়ে ধরার এবং তার ওপর অটল থেকে মৃত্যুবরণ করার আহ্বান জানায়। এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন যে, জাতীয়তাবাদের লক্ষ্য ইসলামের লক্ষ্যের অনুরূপ নয় এবং এর উদ্দেশ্যসমূহ ইসলামের উদ্দেশ্যসমূহের পরিপন্থী। এর দ্বারা আরও প্রমাণিত হয় যে, এই ধারণাটি—অর্থাৎ আরব জাতীয়তাবাদের দাওয়াত—আমাদের নিকট এসেছে আমাদের পশ্চিমা শত্রুদের পক্ষ থেকে, যারা এর মাধ্যমে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করা, তাদের সংহতি বিনষ্ট করা এবং তাদের ঐক্য চূর্ণ-বিচূর্ণ করা; তাদের সেই কুখ্যাত মূলনীতি "ভাগ কর এবং শাসন কর"-এর ভিত্তিতে। এই অশুভ মূলনীতির মাধ্যমে তারা ইসলাম ও এর অনুসারীদের ওপর কতটা বিপর্যয় নিয়ে এসেছে, যা অন্তরকে ব্যথিত করে এবং চক্ষু হতে রক্তক্ষরণ ঘটায়।

আরব জাতীয়তাবাদের ইতিহাসের অনেক লেখক, যাদের মধ্যে 'আরবি বিশ্বকোষ'-এর প্রণেতাও রয়েছেন, উল্লেখ করেছেন যে: উনিশ শতকের শেষভাগে সর্বপ্রথম যারা আরব জাতীয়তাবাদের দাওয়াত দিয়েছিল, তারা হলো সিরিয়ায় অবস্থানরত পশ্চিমা মিশনারি দলগুলো। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তুর্কিদের থেকে আরবদের বিচ্ছিন্ন করা এবং মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। সিরিয়া, ইরাক ও লেবাননে এই দাওয়াত ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে, এমনকি প্রায় ষাট বছর আগে প্যারিসে এর প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা ছিল...
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ১৩)
1910 - م، وكثرت بسبب ذلك الجمعيات العربية، وتعددت الاتجاهات، فحاول الأتراك إخمادها بأحكام الإعدام التي نفذها جمال باشا في سورية في ذلك الوقت إلي آخر ما ذكروا، فهل تظن أيها القارئ أن خصومنا وأعداءنا يسعون في مصالحنا بابتداعهم الدعوة إلى القومية العربية وعقد المؤتمرات لها وابتعاث المبشرين بها، لا والله، إنهم لا يريدون بنا خيرا ولا يعملون لمصالحنا، وإنما يعملون ويسعون لتحطيمنا وتمزيق شملنا، والقضاء على ما بقي من ديننا، وكفى بذلك دليلا لكل ذي لب، على ما يراد من وراء الدعوة إلى القومية العربية، وأنها معول غربي استعماري يراد به تفريقنا وإبعادنا عن ديننا كما سلف.

ومن العجب الذي لا ينقضي، أن كثيرا من شبابنا وكتابنا - ألهمهم الله رشدهم - خفيت عليهم هذه الحقيقة حتى ظنوا أن التكتل والتجمع حول القومية العربية والمناصرة لها أنفع للعرب وأضر للعدو من التجمع والتكتل حول الإسلام ومناصرته، وهذا بلا شك ظن خاطئ واعتقاد غير مطابق للحقيقة. نعم لا شك أنه يحزن المستعمر ويقلق راحته كل تجمع وتكتل ضد مصلحته، ولكن خوفه من التجمع والتكتل حول الإسلام أعظم
১৯১০ - খ্রিষ্টাব্দ; এর ফলে আরব সমিতিগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন মতাদর্শের উদ্ভব ঘটে। তুর্কিরা সে সময় সিরিয়ায় জামাল পাশার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মাধ্যমে এগুলো স্তিমিত করার চেষ্টা করে—তারা যা উল্লেখ করেছে তার শেষ পর্যন্ত। হে পাঠক! আপনি কি মনে করেন যে আমাদের প্রতিপক্ষ ও শত্রুরা আরব জাতীয়তাবাদের আহ্বান উদ্ভাবন করে, এর জন্য সম্মেলন আয়োজন করে এবং এর প্রচারকদের পাঠিয়ে আমাদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে? আল্লাহর কসম, না! তারা আমাদের কোনো কল্যাণ চায় না এবং আমাদের স্বার্থে কাজ করে না। বরং তারা আমাদের ধ্বংস করতে, আমাদের ঐক্য ছিন্নভিন্ন করতে এবং আমাদের দ্বীনের যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা বিলুপ্ত করার জন্য কাজ ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আরব জাতীয়তাবাদের আহ্বানের আড়ালে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা বোঝার জন্য যে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট এটিই যথেষ্ট প্রমাণ। আর এটি হলো একটি পশ্চিমা ঔপনিবেশিক কুঠার, যার মাধ্যমে আমাদের বিভক্ত করা এবং পূর্বেই যেমন বলা হয়েছে, আমাদের দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া উদ্দেশ্য।

আর এটি এক অন্তহীন আশ্চর্যের বিষয় যে, আমাদের অনেক যুবক ও লেখক—আল্লাহ তাদের সঠিক পথের দিশা দিন—এই সত্যটি অনুধাবন করতে পারেননি। এমনকি তারা ধারণা করেছেন যে, আরব জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও এর সমর্থন করা আরবদের জন্য অধিক উপকারী এবং শত্রুর জন্য অধিক ক্ষতিকর; ইসলামের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও এর সমর্থনের তুলনায়। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভ্রান্ত ধারণা এবং বাস্তবতাবিবর্জিত বিশ্বাস। হ্যাঁ, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ঔপনিবেশিকদের স্বার্থবিরোধী যে কোনো ঐক্য ও জোট তাদের ব্যথিত করে এবং তাদের স্বস্তি কেড়ে নেয়, কিন্তু ইসলামের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে তাদের ভীতি সবচাইতে বেশি।
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ১৪)
وأكبر، ولذلك رضي بالدعوة إلى القومية العربية، وحفز العرب إليها ليشغلهم عن الإسلام، وليقطع بها صلتهم بالله سبحانه؛ لأنهم إذا فقدوا الإسلام حرموا ما ضمنه الله لهم من النصر الذي وعدهم به في الآيتين السابقتين. وفي قوله تعالى: {وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ - الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ} [الحج: 40 - 41]

ومعلوم عند جميع العقلاء أنه إذا كان لا بد من أحد ضررين، فارتكاب الأدنى منهما أولى، حذرا من الضرر الأكبر، وقد دل الشرع والقدر على هذه القاعدة، وقد عرفها المستعمر وسلكها في هذا الباب وغيره. فتنبه يا أخي واحذر مكايد الشيطان والاستعمار وأوليائهما، تنج من ضرر عظيم، وخطر كبير، وعواقب سيئة عافاني الله وإياك والمسلمين من ذلك.

ومما تقدم يعلم القارئ اليقظ أن الدعوة إلى القومية العربية - كما أنها إساءة إلى الإسلام ومحاربة له في بلاده - فهي أيضا إساءة إلى العرب أنفسهم، وجناية عليهم عظيمة، لكونها تفصلهم عن الإسلام الذي هو مجدهم الأكبر، وشرفهم الأعظم، ومصدر عزهم وسيادتهم على العالم، فكيف يرضى عربي عاقل بدعوة هذا شأنها وهذه
এবং আরও বড় (ক্ষতি), আর এ কারণেই সে আরব জাতীয়তাবাদের প্রতি আহ্বানে সন্তুষ্ট হয়েছে এবং আরবদেরকে এর প্রতি প্ররোচিত করেছে যাতে তাদেরকে ইসলাম থেকে বিমুখ রাখা যায় এবং এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলার সাথে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করা যায়; কেননা তারা যদি ইসলামকে হারায়, তবে আল্লাহ তাআলা পূর্বোক্ত আয়াতদ্বয়ে তাদের যে সাহায্য ও বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা থেকে তারা বঞ্চিত হবে। আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁর সাহায্য করে। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী। তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং সৎকাজের নির্দেশ দেয় ও অসৎকাজ (منكر) থেকে নিষেধ করে। আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণাধীন।} [হজ: ৪০-৪১]

সকল বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট এটি সুবিদিত যে, যখন দুটি অনিষ্টের কোনো একটি বেছে নেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে, তখন বৃহত্তর অনিষ্ট থেকে বাঁচার লক্ষ্যে ক্ষুদ্রতর অনিষ্টটি গ্রহণ করাই শ্রেয়। শরিয়ত ও তাকদির এই মূলনীতির সপক্ষে প্রমাণ দিয়েছে। আর উপনিবেশবাদী শক্তি এটি অনুধাবন করেছে এবং এই বিষয়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করেছে। সুতরাং হে ভাই! আপনি সচেতন হোন এবং শয়তান, উপনিবেশবাদ ও তাদের দোসরদের ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক থাকুন; তবেই আপনি ভয়াবহ ক্ষতি, মহাবিপদ ও মন্দ পরিণাম থেকে মুক্তি পাবেন। আল্লাহ আমাকে, আপনাকে এবং সকল মুসলিমকে তা থেকে নিরাপত্তা দান করুন।

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে সচেতন পাঠক বুঝতে পারবেন যে, আরব জাতীয়তাবাদের প্রতি আহ্বান—যেমনটি ইসলামের প্রতি অবমাননা এবং এর ভূখণ্ডে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল—তেমনি এটি খোদ আরবদের জন্যও এক অবমাননা এবং তাদের প্রতি এক জঘন্য অপরাধ। কারণ এটি তাদেরকে ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যা তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরব, সুমহান মর্যাদা এবং বিশ্বের ওপর তাদের সম্মান ও নেতৃত্বের উৎস। সুতরাং একজন বুদ্ধিমান আরব কীভাবে এমন এক আহ্বানে সন্তুষ্ট হতে পারে যার অবস্থা ও হাকিকত এরূপ এবং যা...
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ১৫)
غايتها؟! ولقد أحسن الكاتب الإسلامي الشهير أبو الحسن الندوي في رسالته المشهورة "اسمعوها مني صريحة: أيها العرب" حيث يقول في صفحة 27، 28 ما نصه.

"فمن المؤسف المحزن المخجل أن يقوم في هذا الوقت في العالم العربي رجال يدعون إلى القومية العربية المجردة من العقيدة والرسالة، وإلى قطع الصلة عن أعظم نبي عرفه تاريخ الإيمان وعن أقوى شخصية ظهرت في العالم، وعن أمتن رابطة روحية تجمع بين الأمم والأفراد والأشتات. إنها جريمة قومية تبز جميع الجرائم القومية التي سجلها تاريخ هذه الأمة، وإنها حركة هدم وتخريب تفوق جميع الحركات الهدامة المعروفة في التاريخ، وإنها خطوة حاسمة مشئومة في سبيل الدمار القومي والانتحار الاجتماعي" انتهى.

فتأمل أيها القارئ كلمة هذا العالم العربي الحسني الكبير (1) الذي قد سبر أحوال العالم وعرف نتائج الدعوة إلى القوميات وسوء مصيرها، تدرك بعقلك السليم ما وقع فيه العرب المسلمون اليوم من فتنة كبرى ومصيبة عظمى بهذه الدعوة المشئومة، وقى الله المسلمين شرها ووفق العرب وجميع المسلمين للرجوع إلى ما كان عليه أسلافهم المهديون، إنه سميع مجيب.

--------------------------------------------

(1) هو أبو الحسن علي الندوي الحسني سليل بيت النبوة.
এর শেষ পরিণতি কী?! বিখ্যাত ইসলামি লেখক আবুল হাসান নদভী তাঁর সুপ্রসিদ্ধ পুস্তিকা "হে আরবগণ, আমার নিকট থেকে এটি স্পষ্টভাবে শুনে নিন"-এ অত্যন্ত চমৎকারভাবে ব্যক্ত করেছেন, যেখানে তিনি ২৭ ও ২৮ নং পৃষ্ঠায় যা লিখেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ:

"এটি অত্যন্ত দুঃখজনক, শোচনীয় এবং লজ্জাজনক যে, বর্তমান সময়ে আরব বিশ্বে এমন কিছু লোকের উদয় হয়েছে যারা আকীদা ও রিসালাত বিবর্জিত নিছক আরব জাতীয়তাবাদের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে এবং ঈমানের ইতিহাসে পরিচিত সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর সাথে, বিশ্বের ইতিহাসে আবির্ভূত সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের সাথে এবং বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী ও বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের একত্রকারী সুদৃঢ় আধ্যাত্মিক বন্ধনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ডাক দিচ্ছে। এটি একটি জাতীয় অপরাধ যা এই জাতির ইতিহাসে লিপিবদ্ধ সকল জাতীয় অপরাধকে হার মানায়। এটি এমন এক ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক আন্দোলন যা ইতিহাসের পরিচিত সকল ধ্বংসাত্মক আন্দোলনকে ছাড়িয়ে গেছে। এটি জাতীয় ধ্বংস এবং সামাজিক আত্মহত্যার পথে এক চূড়ান্ত ও অশুভ পদক্ষেপ।" সমাপ্ত।

হে পাঠক! এই মহান আরব আলিম এবং হাসানী বংশোদ্ভূত মনীষীর (১) উক্তির প্রতি লক্ষ্য করুন, যিনি বিশ্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং জাতীয়তাবাদের আহ্বানের কুফল ও অশুভ পরিণাম সম্পর্কে অবগত হয়েছেন; তবেই আপনি আপনার সুস্থ বিবেক দিয়ে উপলব্ধি করতে পারবেন যে, বর্তমান সময়ে আরব মুসলিমরা এই অশুভ আহ্বানের ফলে কত বড় ফিতনা ও মহা বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। আল্লাহ মুসলিমদেরকে এর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন এবং আরব ও সকল মুসলিমকে তাদের হেদায়েতপ্রাপ্ত পূর্বসূরিদের আদর্শে ফিরে আসার তাওফিক দান করুন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবুল হাসান আলী নদভী আল-হাসানী, যিনি নবুওয়াতের পবিত্র বংশধারার উত্তরসূরি।
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ১৬)
ثم لا يخفاك أيها القارئ الكريم غربة الإسلام اليوم وقلة أنصاره والمتحمسين لدعوته وكثرة المحاربين له والمتنكرين لأحكامه وتعاليمه، فالواجب على أبناء الإسلام بدلا من التحمس للقومية والمناصرة لدعوتها أن يكرسوا جهودهم للدعوة إلى الإسلام وتعظيمه في قلوب الناس، وأن يجتهدوا في نشر محاسنه وإعلان أحكامه العادلة، وتعاليمه السمحة صافية نقية من شوائب الشرك والخرافات والبدع والأهواء، حتى يعيدوا بذلك ما درس من مجد أسلافهم وحماستهم للإسلام وتكريس قواهم لنصرته وحمايته والرد على خصومه بشتى الأساليب الناجعة وأنواع الحجج والبراهين الساطعة ولا شك أن هذا واجب متحتم وفرض لازم على جميع أبناء الإسلام، كل منهم بحسب ما أعطاه الله من المقدرة والإمكانيات التي يستطيع بها القيام بما أوجب الله عليه من النصر لدينه والدعوة إليه، فنسأل الله أن يمن على الجميع بذلك وأن يصلح قلوبنا وأعمالنا وأن يقر أعين المسلمين جميعا بنصر الإسلام الصافي من الشوائب وظهوره على جميع خصومه في القريب العاجل، إنه سبحانه خير مسئول وأقرب مجيب.

 

‌‌[الوجه الثاني أن الإسلام نهى عن دعوى الجاهلية وحذر منها]

2 - الوجه الثاني: أن الإسلام نهى عن دعوى الجاهلية وحذر منها، وأبدى في ذلك وأعاد في نصوص كثيرة بل قد
অতঃপর হে সম্মানিত পাঠক, বর্তমান যুগে ইসলামের নিঃসঙ্গতা (غربة), এর সাহায্যকারী ও এর দাওয়াতের প্রতি উৎসাহী ব্যক্তিদের স্বল্পতা এবং এর বিরুদ্ধাচারী ও এর বিধান ও শিক্ষাগুলোকে অস্বীকারকারীদের আধিক্য আপনার নিকট অস্পষ্ট নয়। এমতাবস্থায় মুসলিম সন্তানদের জন্য জাতীয়তাবাদের প্রতি আবেগপ্রবণ হওয়া এবং তার দাওয়াতের পৃষ্ঠপোষকতা করার পরিবর্তে ইসলামের দাওয়াতের প্রতি নিজেদের প্রচেষ্টাকে উৎসর্গ করা এবং মানুষের অন্তরে ইসলামের মহিমা প্রতিষ্ঠা করা কর্তব্য। সেই সাথে ইসলামের সৌন্দর্য প্রচার এবং এর ন্যায়নিষ্ঠ বিধান ও সহজ-সরল শিক্ষাগুলোকে শিরক (شرك), কুসংস্কার, বিদআত (بدع) ও কুপ্রবৃত্তির (أهواء) পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত ও স্বচ্ছ অবস্থায় তুলে ধরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত; যাতে তারা এর মাধ্যমে তাদের পূর্বসূরিদের সেই বিলুপ্তপ্রায় গৌরব ও ইসলামের প্রতি তাঁদের উদ্দীপনাকে ফিরিয়ে আনতে পারে এবং ইসলামের সাহায্য ও সুরক্ষায় নিজেদের শক্তি নিয়োগ করতে পারে এবং বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি ও উজ্জ্বল দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে এর শত্রুদের প্রতিবাদ করতে পারে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি সকল মুসলিম সন্তানের ওপর একটি অপরিহার্য ও আবশ্যকীয় ফরজ (فرض); তাদের প্রত্যেকেই আল্লাহ প্রদত্ত সামর্থ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করার এবং এর দাওয়াত দেওয়ার যে দায়িত্ব আল্লাহ তাদের ওপর অর্পণ করেছেন তা পালন করবে। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি সকলকে সেই তাওফিক দান করেন, আমাদের অন্তর ও আমলসমূহকে সংশোধন করে দেন এবং সকল আবিলতামুক্ত স্বচ্ছ ইসলামের বিজয় ও অদূর ভবিষ্যতে সকল শত্রুর ওপর এর প্রাধান্য বিস্তারের মাধ্যমে সকল মুসলিমের চক্ষু শীতল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা এবং নিকটতম উত্তরদাতা।

 

‌‌[দ্বিতীয় দিক: ইসলাম জাহিলিয়াতের আহ্বানকে নিষিদ্ধ করেছে এবং এ থেকে সতর্ক করেছে]

2 - দ্বিতীয় দিক: ইসলাম জাহিলিয়াতের আহ্বানকে নিষিদ্ধ করেছে এবং এ থেকে সতর্ক করেছে। এ প্রসঙ্গে অসংখ্য দলীল বা পাঠে (نصوص) বিষয়টি বারবার স্পষ্টভাবে ব্যক্ত হয়েছে, বরং তা...
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ১৭)
جاءت النصوص تنهى عن جميع أخلاق الجاهلية، وأعمالهم إلا ما أقره الإسلام من ذلك ولا ريب أن الدعوة إلى القومية العربية من أمر الجاهلية، لأنها دعوة إلى غير الإسلام ومناصرة لغير الحق، وكم جرت دعوى الجاهلية على أهلها من ويلات وحروب طاحنة، وقودها النفوس والأموال والأعراض، وعاقبتها تمزيق الشمل وغرس العداوة والشحناء في القلوب والتفريق بين القبائل والشعوب. قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: كل ما خرج عن دعوى الإسلام والقرآن من نسب أو بلد أو جنس أو مذهب أو طريقة: فهو من عزاء الجاهلية، بل لما اختصم مهاجري وأنصاري فقال المهاجري: يا للمهاجرين، وقال الأنصاري: يا للأنصار، قال النبي صلى الله عليه وسلم: «أبدعوى الجاهلية وأنا بين أظهركم وغضب لذلك غضبا شديدا» . انتهى.

ومما ورد في ذلك من النصوص قوله تعالى: {وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} [الأحزاب: 33] وقال تعالى: {إِذْ جَعَلَ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي قُلُوبِهِمُ الْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ} [الفتح: 26] وفي سنن أبي داود، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «ليس منا من دعا إلى عصبية، وليس منا من قاتل على عصبية،
জাহিলিয়াতের সকল চরিত্র ও কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করে অসংখ্য শরয়ী দলিল ও প্রমাণাদি অবতীর্ণ হয়েছে, তবে ইসলাম যা অনুমোদন করেছে তা ব্যতীত। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আরব জাতীয়তাবাদের দিকে আহ্বান জানানো জাহিলিয়াতেরই একটি বিষয়; কারণ এটি ইসলামের বহির্ভূত কোনো কিছুর দিকে আহ্বান এবং সত্যের পরিবর্তে অন্য কিছুর পক্ষাবলম্বন। জাহিলিয়াতের এই দাবি তার অনুসারীদের জন্য কতই না দুর্ভোগ ও বিধ্বংসী যুদ্ধ বয়ে এনেছে, যার ইন্ধন ছিল মানুষের প্রাণ, সম্পদ ও সম্মান; আর এর পরিণাম ছিল ঐক্য বিনষ্ট করা, অন্তরে শত্রুতা ও বিদ্বেষ রোপণ করা এবং বিভিন্ন গোত্র ও জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “বংশ পরিচয়, দেশ, বর্ণ, মাজহাব বা তরীকার ভিত্তিতে ইসলাম ও কুরআনের আহ্বানের বাইরে যা কিছু রয়েছে, তা জাহিলিয়াতের সম্বন্ধ ও পরিচয়ের অন্তর্ভুক্ত।” এমনকি যখন একজন মুহাজির ও একজন আনসার বিবাদে লিপ্ত হলেন এবং মুহাজির ব্যক্তিটি ডাক দিলেন: ‘হে মুহাজিরগণ!’ আর আনসার ব্যক্তিটি ডাক দিলেন: ‘হে আনসারগণ!’, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “আমি তোমাদের মাঝে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কি জাহিলিয়াতের ডাক দেওয়া হচ্ছে?” এবং তিনি এই কারণে অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন। (সমাপ্ত)।

এই বিষয়ে বর্ণিত দলিলসমূহের মধ্যে মহান আল্লাহর বাণীও রয়েছে: {আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহিলিয়াতের যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়িও না। তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো} [আল-আহজাব: ৩৩]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {যখন কাফিররা তাদের অন্তরে হঠকারিতা তথা জাহিলিয়াতের হঠকারিতা পোষণ করেছিল} [আল-ফাতহ: ২৬]। আর সুনান আবু দাউদে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি সংকীর্ণ গোত্রবাদের দিকে আহ্বান জানায় সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, এবং যে ব্যক্তি সংকীর্ণ গোত্রবাদের ভিত্তিতে লড়াই করে সে-ও আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়,”
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ১৮)
وليس منا من مات على عصبية» وفي " صحيح مسلم " أيضا عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن الله أوحى إلي أن تواضعوا حتى لا يبغي أحد على أحد ولا يفخر أحد على أحد» ولا ريب أن دعاة القومية يدعون إلى عصبية ويغضبون لعصبية ويقاتلون على عصبية، ولا ريب أيضا أن الدعوة إلى القومية تدعو إلى البغي والفخر لأن القومية ليست دينا سماويا يمنع أهله من البغي والفخر، وإنما هي فكرة جاهلية تحمل أهلها على الفخر بها والتعصب لها على من نالها بشيء، وإن كانت هي الظالمة وغيرها المظلوم، فتأمل أيها القارئ ذلك يظهر لك وجه الحق.

ومن النصوص الواردة في ذلك ما رواه الترمذي وغيره عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن الله قد أذهب عنكم عصبية الجاهلية وفخرها بالآباء، إنما هو مؤمن تقي أو فاجر شقي، الناس بنو آدم وآدم خلق من تراب، ولا فضل لعربي على عجمي إلا بالتقوى» وهذا الحديث يوافق قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} [الحجرات: 13] أوضح سبحانه بهذه الآية الكريمة أنه جعل الناس شعوبا وقبائل للتعارف لا للتفاخر والتعاظم، وجعل
"আর যে ব্যক্তি গোত্রপ্রীতির (عصبية) ওপর মৃত্যুবরণ করল সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" এবং সহীহ মুসলিম-এ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার নিকট ওহি পাঠিয়েছেন যে, তোমরা বিনয়ী হও, যাতে কেউ কারো ওপর সীমালঙ্ঘন (بغي) না করে এবং কেউ কারো ওপর অহংকার না করে।" এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জাতীয়তাবাদের প্রবক্তারা গোত্রপ্রীতির (عصبية) দিকেই আহ্বান করে, গোত্রপ্রীতির কারণেই ক্রোধান্বিত হয় এবং গোত্রপ্রীতির জন্যই লড়াই করে। এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে, জাতীয়তাবাদের এই দাওয়াত সীমালঙ্ঘন (بغي) ও অহংকারের দিকেই প্ররোচিত করে; কারণ জাতীয়তাবাদ কোনো আসমানি ধর্ম নয় যা তার অনুসারীদের সীমালঙ্ঘন (بغي) ও অহংকার থেকে বিরত রাখবে। বরং এটি একটি জাহেলি (جاهلية) ধারণা যা এর অনুসারীদের এর ওপর গর্ব করতে এবং এর প্রতি পক্ষপাতিত্ব (تعصب) করতে প্ররোচিত করে তাদের বিরুদ্ধে যারা এর সামান্য সমালোচনা করে, যদিও সে পক্ষটি জালেম এবং অপর পক্ষটি মজলুম হয়। অতএব হে পাঠক! আপনি বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন, তবেই আপনার নিকট সত্যের রূপটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

এ বিষয়ে বর্ণিত দলীলসমূহের (نصوص) মধ্যে রয়েছে যা তিরমিযী ও অন্যান্যরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের থেকে জাহেলিয়াতের (جاهلية) গোত্রপ্রীতি (عصبية) এবং পূর্বপুরুষদের নিয়ে অহংকার দূর করে দিয়েছেন। মানুষ হয় মুমিন মুত্তাকি (تقي), অথবা পাপাচারী (فاجر) হতভাগ্য (شقي)। সমস্ত মানুষ আদমের সন্তান এবং আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকওয়া (تقوى) ব্যতীত কোনো আরবের ওপর কোনো অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই।" এই হাদিসটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুকূল: {হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, আর তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি (أتقاكم)} [সূরা আল-হুজুরাত: ১৩]। মহান আল্লাহ এই আয়াতে কারীমার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি মানুষকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন পরিচিত হওয়ার জন্য, একে অপরের ওপর অহংকার ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের জন্য নয়। এবং তিনি করেছেন...
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ১৯)
أكرمهم عنده سبحانه هو أتقاهم، وهكذا يدل الحديث المذكور على هذا المعنى ويرشد إلى أن سنة الجاهلية التكبر والتفاخر بالأسلاف والأحساب، والإسلام بخلاف ذلك يدعو إلى التواضع والتقوى والتحاب في الله، وأن يكون المسلمون الصادقون من سائر أجناس بني آدم جسدا واحدا، وبناء واحدا يشد بعضهم بعضا، ويألم بعضهم لبعض، كما في الحديث الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «المؤمن للمؤمن كالبنيان يشد بعضه بعضا- وشبك بين أصابعه -» وقال صلى الله عليه وسلم: «مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم وتعاطفهم كمثل الجسد الواحد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالحمى والسهر» فأنشدك بالله أيها القومي: هل قوميتك تدعو إلى هذه الأخلاق الفاضلة من الرحمة للمسلمين من العرب والعجم والعطف عليهم والتألم لآلامهم؟ لا والله، وإنما تدعو إلى موالاة من انخرط في سلكها، وتنصب العداوة لمن تنكر لها، فتنبه أيها المسلم الراغب في النجاة، وانظر إلى حقائق الأمور بمرآة العدالة والتجرد من التعصب والهوى، حتى ترى الحقائق على ما هي عليه، أرشدني الله وإياك إلى أسباب النجاة.

ومن ذلك ما ثبت في الصحيح أن غلاما من
মহান আল্লাহর নিকট তাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়া অবলম্বনকারী। আর এভাবেই উল্লিখিত হাদিসটি এই অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করে যে, জাহেলিয়াতের রীতি হলো অহংকার করা এবং পূর্বপুরুষ ও বংশমর্যাদা নিয়ে গর্ব করা। ইসলাম এর বিপরীতে বিনয়, তাকওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরকে ভালোবাসার আহ্বান জানায়। সত্যনিষ্ঠ মুসলমানরা যেন বনী আদমের সকল জাতিসত্তা নির্বিশেষে একটি দেহ এবং একটি সুসংহত ইমারতের মতো হয়, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে এবং একে অপরের ব্যথায় ব্যথিত হয়; যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে যে তিনি বলেছেন: «একজন মুমিন অপর মুমিনের জন্য একটি ইমারতস্বরূপ, যার এক অংশ অপর অংশকে মজবুত করে—এবং তিনি তার আঙুলগুলো একটির ভেতর অন্যটি প্রবেশ করালেন—।» তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: «মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ একটি দেহের মতো; যখন দেহের কোনো অঙ্গ অসুস্থ হয়, তখন পুরো শরীর জ্বর ও অনিদ্রার মাধ্যমে তার প্রতি সাড়া দেয়।» হে জাতীয়তাবাদী! আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি: আপনার এই জাতীয়তাবাদ কি আরব-অনারব সকল মুসলমানের প্রতি দয়া প্রদর্শন, তাদের ওপর মমতা এবং তাদের কষ্টে ব্যথিত হওয়ার মতো এই মহৎ নৈতিকতার দিকে আহ্বান জানায়? না, আল্লাহর শপথ! বরং তা কেবল তাদের প্রতিই আনুগত্য প্রকাশ করতে বলে যারা এর অন্তর্ভুক্ত হয় এবং যারা একে প্রত্যাখ্যান করে তাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করতে শেখায়। অতএব, হে মুক্তিপ্রত্যাশী মুসলমান! সচেতন হোন এবং ন্যায়বিচার ও গোঁড়ামি ও প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত হয়ে বিষয়গুলোর প্রকৃত সত্য অনুধাবন করুন, যাতে সত্যকে তার আপন মহিমায় দেখতে পান। আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে মুক্তির পথে পরিচালিত করুন।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো সহিহ (صحيح) গ্রন্থে যা প্রমাণিত হয়েছে যে, এক কিশোর...
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ২০)
المهاجرين وغلاما من الأنصار تنازعا فقال المهاجري: يا للمهاجرين! وقال الأنصاري: يا للأنصار! فسمع ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «أبدعوى الجاهلية وأنا بين أظهركم» فإذا كان من انتسب إلى المهاجرين واستنصر بهم على، أو إلى الأنصار واستنصر بهم يكون قد دعا بدعوى الجاهلية مع كونهما اسمين محبوبين لله سبحانه، وقد أثنى الله على أهلهما ثناء عظيما في قوله تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} [التوبة: 100] الآية، فكيف تكون حال من انتسب إلى القومية واستنصر بها وغضب لها؟ أفلا يكون أولى ثم أولي بأن يكون قد دعا بدعوى الجاهلية؟ لا شك أن هذا من أوضح الإيضاحات.

ومن ذلك ما ثبت في الحديث الصحيح عن الحارث الأشعري أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن الله أمر يحيى بن زكريا بخمس أن يعمل بهن ويأمر بني إسرائيل أن يعملوا بهن فذكرها، ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم: وأنا آمركم بخمس الله أمرني بهن: السمع والطاعة والجهاد والهجرة والجماعة، فإنه من فارق الجماعة قيد شبر فقد خلع ربقة الإسلام من عنقه إلا أن يراجع ومن دعا بدعوى الجاهلية فهو من جُثَى جهنم قيل يا رسول الله
মুহাজিরদের মধ্য হতে একজন এবং আনসারদের মধ্য হতে এক কিশোর বিবাদে লিপ্ত হলো। তখন মুহাজির ব্যক্তিটি ডাক দিয়ে বলল: "হে মুহাজিরগণ!", আর আনসারি ব্যক্তিটি ডাক দিয়ে বলল: "হে আনসারগণ!" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা শুনতে পেয়ে বললেন: "আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কি তোমরা জাহিলিয়াতের আহ্বান জানাচ্ছ?" সুতরাং যদি কেউ মুহাজিরদের সাথে সম্পৃক্ত হয় এবং তাদের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করে, অথবা আনসারদের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তাদের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করে—তবে সে জাহিলিয়াতের আহ্বানকারীরূপে গণ্য হবে; যদিও এই নাম দুটি মহান আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয় এবং আল্লাহ তাআলা এই দুই দলের সদস্যদের সুমহান প্রশংসা করে ইরশাদ করেছেন: {আর যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী (মুহাজির) ও সাহায্যকারী (আনসার) এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে} [সুরা আত-তাওবা: ১০০]। এমতাবস্থায়, যে ব্যক্তি জাতীয়তাবাদের দিকে নিজেকে সম্বন্ধযুক্ত করে, তার মাধ্যমে সাহায্য চায় এবং তার জন্য সংক্ষুব্ধ হয়, তার অবস্থা কেমন হবে? সে কি জাহিলিয়াতের দিকে আহ্বানকারী হিসেবে গণ্য হওয়ার অধিকতর ও অধিকতর যোগ্য নয়? নিঃসন্দেহে এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত।

অনুরূপভাবে যা হারিস আল-আশআরি থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيح) হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়াকে পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি নিজে সে অনুযায়ী আমল করেন এবং বনী ইসরাঈলকেও তা আমল করার নির্দেশ দেন।" অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আর আমি তোমাদের পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি যা আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন: শ্রবণ করা, আনুগত্য করা, জিহাদ করা, হিজরত করা এবং জামাতবদ্ধ থাকা। কেননা যে ব্যক্তি জামাত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হবে, সে তার ঘাড় থেকে ইসলামের বন্ধন ছিন্ন করল, যতক্ষণ না সে পুনরায় ফিরে আসে। আর যে ব্যক্তি জাহিলিয়াতের দিকে আহ্বান করবে, সে জাহান্নামের ভস্মস্তূপের অন্তর্ভুক্ত হবে।" জিজ্ঞেস করা হলো, "হে আল্লাহর রাসুল..."
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ২১)
وإن صلى وصام؟ قال " وإن صلى وصام وزعم أنه مسلم، فادعوا بدعوى الله الذي سماكم المسلمين المؤمنين عباد الله» وهذا الحديث الصحيح من أوضح الأحاديث وأبينها في إبطال الدعوة إلى القومية، واعتبارها دعوة جاهلية يستحق دعاتها أن يكونوا من جثي جهنم وإن صاموا وصلوا وزعموا أنهم مسلمون، فيا له من وعيد شديد وتحذير ينذر كل مسلم من الدعوات الجاهلية، والركون إلى معتنقيها، وإن زخرفوها بالمقالات السحرية، والخطب الرنانة الواسعة، التي لا أساس لها من الحقيقة، ولا شاهد لها من الواقع، وإنما هو التلبيس والخداع والتقليد الأعمى، الذي ينتهي بأهله إلى أسوأ العواقب، نسأل الله السلامة من ذلك.

وهنا شبهة يذكرها بعض دعاة القومية أحب أن أكشفها للقارئ، وهي أن بعض دعاة القومية زعم أن النهي عن الدعوة إلى القومية العربية والتحذير منها يتضمن تنقص العرب وإنكار فضلهم.

والجواب أن يقال: لا شك أن هذا زعم خاطئ واعتقاد غير صحيح، فإن الاعتراف بفضل العرب، وما سبق لهم في صدر الإسلام من أعمال مجيدة لا يشك فيه مسلم عرف التاريخ كما أسلفنا، وقد ذكر غير واحد من أهل
এমনকি যদি সে সালাত আদায় করে এবং সিয়াম পালন করে? তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন, ‘এমনকি যদি সে সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে এবং নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে তবুও। অতএব, তোমরা আল্লাহর দেওয়া সেই নামেই আহ্বান করো, যে নামে তিনি তোমাদের মুসলিম, মুমিন ও আল্লাহর বান্দা হিসেবে নামকরণ করেছেন।’ আর এই সহিহ (صحيح) হাদিসটি জাতীয়তাবাদের আহ্বানকে বাতিল সাব্যস্ত করার এবং একে একটি জাহেলি আহ্বান হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পষ্ট ও জোরালো দলিলগুলোর একটি, যার প্রবক্তারা জাহান্নামের দলসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য, যদিও তারা সিয়াম পালন করে, সালাত আদায় করে এবং নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করে। এটি কতই না কঠোর হুঁশিয়ারি এবং সতর্কবাণী, যা প্রত্যেক মুসলিমকে জাহেলি আহ্বানসমূহ এবং এর অনুসারীদের প্রতি ঝুঁকে পড়া থেকে সতর্ক করে; যদিও তারা একে জাদুকরী নিবন্ধ ও জাঁকজমকপূর্ণ বাগ্মিতার মাধ্যমে সুশোভিত করে থাকে, যার কোনো প্রকৃত ভিত্তি নেই এবং বাস্তবতার কোনো প্রমাণ নেই। বরং এটি নিছক সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ, প্রতারণা এবং অন্ধ অনুকরণ, যা এর অনুসারীদের নিকৃষ্টতম পরিণতির দিকে ধাবিত করে। আমরা আল্লাহর কাছে এ থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।

এখানে জাতীয়তাবাদের কোনো কোনো প্রবক্তা একটি সংশয় উল্লেখ করে থাকেন যা আমি পাঠকদের নিকট উন্মোচন করতে চাই; আর তা হলো—জাতীয়তাবাদের কিছু প্রবক্তার দাবি যে, আরব জাতীয়তাবাদের আহ্বান নিষিদ্ধ করা এবং এ ব্যাপারে সতর্ক করা আসলে আরবদের অবমূল্যায়ন এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার করার শামিল।

এর উত্তরে বলা হবে: নিঃসন্দেহে এটি একটি ভুল দাবি এবং সঠিক নয় এমন একটি বিশ্বাস। কেননা আরবদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করা এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগে তাদের সম্পাদিত গৌরবোজ্জ্বল কার্যাবলির বিষয়ে এমন কোনো মুসলিম সন্দেহ পোষণ করেন না যিনি ইতিহাস সম্পর্কে অবগত, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। আর বিদ্বানদের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন যে
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ২২)
العلم، ومنهم أبو العباس ابن تيمية في كتابه: "اقتضاء الصراط المستقيم" أن مذهب أهل السنة تفضيل جنس العرب على غيرهم، وأورد في ذلك أحاديث تدل على ذلك، ولكن لا يلزم من الاعتراف بفضلهم أن يجعلوا عمادا يتكتل حوله ويوالى عليه ويعادى عليه، وإنما ذلك من حق الإسلام الذي أعزهم الله به وأحيا فكرهم ورفع شأنهم، فهذا لون وهذا لون، ثم هذا الفضل الذي امتازوا به على غيرهم، وما من الله به عليهم من فصاحة اللسان ونزول القرآن الكريم بلغتهم وإرسال الرسول العام بلسانهم ليس مما يقدمهم عند الله في الآخرة، ولا يوجب لهم النجاة إذا لم يؤمنوا ويتقوا، وليس ذلك أيضا بموجب تفضيلهم على غيرهم من جهة الدين، بل أكرم الناس عند الله أتقاهم كما تقدم في الآية الكريمة والحديث الشريف، بل هذا الفضل عند أهل التحقيق يوجب عليهم أن يشكروا الله سبحانه أكثر من غيرهم، وأن يضاعفوا الجهود في نصر دينه الذي رفعهم الله به، وأن يوالوا عليه ويعادوا عليه دون أن يلتفتوا إلى قومية أو غيرها من الأفكار المسمومة والدعوات المشئومة، ولو كانت أنسابهم وحدها تنفعهم شيئا لم يكن أبو لهب وأضرابه من أصحاب النار، ولو كانت تنفعهم بدون الإيمان لم يقل لهم النبي صلى الله عليه وسلم في
বিদ্বানগণ, এবং তাদের মধ্যে আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া তাঁর 'ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আহলুস সুন্নাহর মাযহাব হলো অন্যদের ওপর আরব জাতিকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা। তিনি এ প্রসঙ্গে এমন কিছু হাদিস উপস্থাপন করেছেন যা এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করে। তবে তাদের শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, তাদেরকে এমন এক স্তম্ভ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে যাকে কেন্দ্র করে জোটবদ্ধ হতে হবে এবং যার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব বা শত্রুতা পোষণ করতে হবে। বরং এটি ইসলামেরই প্রাপ্য অধিকার, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে সম্মানিত করেছেন, তাদের চেতনাকে উজ্জীবিত করেছেন এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। সুতরাং এটি এক বিষয় এবং ওটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। অতঃপর, অন্যদের ওপর তারা যে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে এবং আল্লাহ তাদের ওপর যে অনুগ্রহ করেছেন—যেমন ভাষার প্রাঞ্জলতা, তাদের ভাষায় পবিত্র কুরআন নাজিল হওয়া এবং তাদের ভাষায় বিশ্বজনীন রাসুল প্রেরিত হওয়া—তা পরকালে আল্লাহর নিকট তাদেরকে অগ্রগামী করবে না এবং তারা যদি ঈমান ও তাকওয়া অবলম্বন না করে তবে তা তাদের নাজাত বা মুক্তির কারণও হবে না। এমনকি এটি দ্বীনি দৃষ্টিকোণ থেকেও অন্যদের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্বের আবশ্যকতা তৈরি করে না; বরং আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে সম্মানিত যে অধিক মুত্তাকি, যেমনটি ইতিপূর্বে পবিত্র আয়াত ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। বরং গবেষক বিদ্বানদের নিকট এই শ্রেষ্ঠত্ব তাদের ওপর অন্যদের তুলনায় আল্লাহর বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং তাঁর দ্বীন—যার মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে সুউচ্চ করেছেন—তার সাহায্যে প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করাকে অপরিহার্য করে তোলে। সেই সাথে তারা যেন কেবল দ্বীনের ভিত্তিতেই বন্ধুত্ব ও শত্রুতা পোষণ করে এবং জাতীয়তাবাদ বা এ জাতীয় অন্যান্য বিষাক্ত চিন্তাধারা ও অশুভ আহ্বানের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে। যদি কেবল তাদের বংশমর্যাদাই তাদের কোনো উপকারে আসত, তবে আবু লাহাব ও তার সমমনারা জাহান্নামী হতো না। আর যদি ঈমান ছাড়াই তা উপকারে আসত, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উদ্দেশ্যে বলতেন না...
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ২৩)
الحديث الصحيح: «يا معشر قريش! اشتروا أنفسكم من الله، لا أغني عنكم من الله شيئا» وبذلك يعلم القارئ السليم من الهوى أن الشبهة المذكورة شبهة واهية لا أساس لها من الشرع المطهر، ولا من المنطق السليم البعيد من الهوى.

وهنا شبهة أخرى وهي قول بعضهم: أنه قد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إذا ذل العرب ذل الإسلام» ورواه بعضهم بلفظ: «إذا عز العرب عز الإسلام» قالوا: وهذا يدل علي أن انتصار القومية العربية والدعوة إليها انتصار للإسلام ودعوة إليه، والجواب أن يقال: يعلم كل ذي لب سليم وبصيرة بالإسلام، أن هذه سفسطة في السمعيات، ومغالطة في الحقائق، وتأويل للحديث على غير تأويله، سواء صح أم لم يصح، فإن الواقع يشهد بخلاف ما ذكره القائل، فقد ذل العرب يوم بدر ويوم الأحزاب، وصار في ذلهم عز الإسلام وظهوره، وانتصر العرب يوم أحد وصار في انتصارهم ذل المسلمين والمضرة عليهم، ولكن الله سبحانه لطف بأوليائه وأحسن لهم العاقبة، فهل يستطيع هذا القائل أن يدعي خلاف هذا الواقع؟ وهل يمكن أن يقول: إن انتصار العرب الكافرين بالله، المحاربين لدينه، انتصار للإسلام، من قال هذا فقد قال خلاف الحق، وهو إما جاهل أو متجاهل، يريد أن
সঠিক (صحيح) হাদিস: «হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর নিকট থেকে নিজেদেরকে ক্রয় করে নাও (নিজেদের আমল দিয়ে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচাও), আল্লাহর পাকড়াও থেকে আমি তোমাদের কোনোই উপকারে আসব না»। এর মাধ্যমে প্রবৃত্তি মুক্ত সুস্থ মস্তিষ্কের পাঠক জানতে পারবেন যে, উল্লিখিত সংশয়টি একটি অসার (واهية) সংশয়, পবিত্র শরিয়তে যার কোনো ভিত্তি নেই এবং প্রবৃত্তি মুক্ত সুস্থ যুক্তিতেও এর কোনো স্থান নেই।

এখানে আরও একটি সংশয় রয়েছে, আর তা হলো কারো কারো বক্তব্য: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «যখন আরবরা লাঞ্ছিত হবে, তখন ইসলাম লাঞ্ছিত হবে» এবং কেউ কেউ তা এই শব্দে বর্ণনা (رواه) করেছেন: «যখন আরবরা সম্মানিত হবে, ইসলাম তখন সম্মানিত হবে»। তারা বলে: এটি প্রমাণ করে যে, আরব জাতীয়তাবাদের বিজয় ও তার দিকে আহ্বান করা হলো ইসলামেরই বিজয় এবং তার দিকেই আহ্বান। এর জবাবে বলা হবে: সুস্থ বিবেক ও ইসলামের সঠিক অন্তদৃষ্টিসম্পন্ন প্রত্যেক ব্যক্তিই জানেন যে, এটি হলো শ্রুত বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে অপতর্ক, বাস্তব সত্যের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি এবং হাদিসকে তার সঠিক ব্যাখ্যা ছাড়া অপব্যাখ্যা করা, চাই তা সঠিক (صح) হোক বা না হোক। কেননা বাস্তব পরিস্থিতি বক্তার বক্তব্যের বিপরীত সাক্ষ্য দেয়। বদর ও আহযাব যুদ্ধের দিন আরবরা লাঞ্ছিত হয়েছিল এবং তাদের সেই লাঞ্ছনার মধ্যেই নিহিত ছিল ইসলামের সম্মান ও বিজয়। উহুদ যুদ্ধের দিন আরবরা বিজয়ী হয়েছিল এবং তাদের বিজয়ের ফলে মুসলমানদের জন্য তা ছিল লাঞ্ছনাদায়ক ও ক্ষতিকর। কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁর বন্ধুদের প্রতি সদয় হয়েছিলেন এবং তাদের শেষ পরিণাম কল্যাণকর করেছিলেন। এই বক্তা কি এই বাস্তবতার বিপরীতে কোনো দাবি করতে সক্ষম? আর এটা কি বলা সম্ভব যে: আল্লাহর প্রতি কুফরীকারী ও তাঁর দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী আরবদের বিজয়ই হলো ইসলামের বিজয়? যে ব্যক্তি এ কথা বলে, সে সত্যের বিপরীত কথাই বলে। সে হয় একজন অজ্ঞ অথবা সে সত্য গোপনকারী, যে চায়...
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ২৪)
يلبس الحق بالباطل ويخدع ضعفاء البصائر، سبحان الله ما أعظم شأنه.

ثم أعود فأوضح للقارئ أن الحديث المذكور ضعيف الإسناد، ولا يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الحافظ أبو الحسن الهيثمي في: "مجمع الزوائد" لما ذكر هذا الحديث بلفظ: «إذا ذلت العرب ذل الإسلام» رواه أبو يعلى، وفي إسناده محمد بن الخطاب ضعفه الأزدي وغيره، ووثقه ابن حبان. انتهى.

وقال الحافظ الذهبي في "الميزان" في ترجمة محمد المذكور - قال أبو حاتم: لا أعرفه، وقال الأزدي: منكر الحديث، انتهى. قلت: وفي إسناده أيضا علي بن زيد بن جدعان، وهو ضعيف عند جمهور من المحدثين لا يحتج بحديثه لو سلم الإسناد من غيره، فكيف وفي الإسناد من هو أضعف منه وهو محمد بن الخطاب المذكور. وأما توثيق ابن حبان له فلا يعتمد عليه لأنه معروف بالتساهل وقد خالفه غيره.

ولو صح الحديث لكان معناه: إذا ذل العرب الحاملون راية الإسلام والدعوة إليه، لا العرب المتنكرون له الداعون إلى غيره. ولا يجوز أن يرد في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ما يخالف القرآن الكريم والأحاديث الصحيحة أبدا، فإن كلام الله لا يتناقض، وكلام رسول الله صلى الله عليه
তিনি সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করেন এবং দুর্বল অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতারিত করেন। আল্লাহ পবিত্র, তাঁর শান কতই না মহান!

অতঃপর আমি পুনরায় পাঠকের নিকট স্পষ্ট করছি যে, উল্লিখিত হাদিসটি দুর্বল সনদবিশিষ্ট (ضعيف الإسناد) এবং এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (يصح) নয়। হাফেজ আবুল হাসান আল-হাইসামি মাজমাউজ যাওয়াইদ গ্রন্থে যখন এই হাদিসটি নিম্নোক্ত শব্দে উল্লেখ করেছেন: "যখন আরবরা লাঞ্ছিত হবে, তখন ইসলাম লাঞ্ছিত হবে", তখন তিনি বলেছেন: এটি আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে (إسناد) মুহাম্মাদ ইবনে আল-খাত্তাব রয়েছেন, যাকে আল-আযদি ও অন্যান্যরা দুর্বল (ضعفه) বলেছেন, তবে ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। সমাপ্ত।

হাফেজ আল-যাহাবি আল-মিজান গ্রন্থে উক্ত মুহাম্মাদের জীবনীতে বলেছেন— আবু হাতিম বলেছেন: "আমি তাকে চিনি না", এবং আল-আযদি বলেছেন: "তিনি মুনকার হাদিস (منكر الحديث) বর্ণনাকারী"। সমাপ্ত। আমি (লেখক) বলছি: এর সনদে আলী ইবনে যাইদ ইবনে জুদআনও রয়েছেন, যিনি অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট দুর্বল (ضعيف)। তার বর্ণিত হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (يحتج) নয়, এমনকি যদি সনদটি অন্য কোনো ত্রুটি থেকে মুক্তও (سلم) হতো। তাহলে এখন কী অবস্থা হবে যখন সনদে এমন বর্ণনাকারী আছেন যিনি তার চেয়েও বেশি দুর্বল, আর তিনি হলেন উল্লিখিত মুহাম্মাদ ইবনে আল-খাত্তাব। আর ইবনে হিব্বান কর্তৃক তাকে নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيق) করা নির্ভর করার মতো নয়, কারণ তিনি শিথিলতা প্রদর্শনের (بالتساهل) জন্য পরিচিত এবং অন্যান্যরা তাঁর বিরোধিতা করেছেন।

যদি হাদিসটি বিশুদ্ধ (صح) হতো, তবে এর অর্থ হতো: যখন ইসলামের ঝাণ্ডাবাহী এবং এর দিকে আহ্বানকারী আরবরা লাঞ্ছিত হবে; সেই সব আরব নয় যারা ইসলামকে অস্বীকার করে এবং ইসলাম ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে আহ্বান জানায়। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহতে এমন কিছু আসা কখনোই সম্ভব নয় যা পবিত্র কুরআন এবং সহিহ (الصحيحة) হাদিসসমূহের কখনোই পরিপন্থী হয়, কেননা আল্লাহর বাণী স্ববিরোধী হয় না এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীও...
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ২৫)
وسلم كذلك، والسنة لا تخالف القرآن بل تصدقه وتوافقه وتدل على معناه وتوضح ما أجمل فيه (1) .

وقد علق الله سبحانه في القرآن النصر على الإيمان بالله والنصر لدينه، فلا يجوز أن يرد في السنة ما يناقض ذلك، فتنبه أيها المؤمن، واحذر من الشبهات المضللة، والأحاديث المكذوبة، والآراء الفاسدة والأفكار المسمومة، فإن الخطر عظيم، والمعصوم من عصمه الله سبحانه، فاعتصم به وتوكل عليه وتفقه في دينه واستقم عليه تفز بالنجاة والعاقبة الحميدة.

وهذه الشبه وأمثالها تفسر لنا ما صح به الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم من حديث حذيفة: أنه قال: «كان الناس يسألون الرسول صلى الله عليه وسلم عن الخير وكنت أسأله عن الشر مخافة أن يدركني، فقلت: يا رسول الله إنا كنا في جاهلية وشر فجاءنا الله بهذا الخير فهل بعد

--------------------------------------------

(1) (1) - بل الحديث موضوع كما حقق ذلك المحدث الشيخ ناصر الدين الألباني في " سلسلة الأحاديث الضعيفة " رقم 163 في بحث طويل مفيد وضمنه بما ذهب إليه الشيخ ابن باز حيث قال الألباني: جملة القول: إن فضل العرب إنما هو لمزايا تحققت فيهم، فإذا ذهبت بسبب إهمالهم لإسلامهم ذهب فضلهم، ومن أخذ بها من الأعاجم كان خيرا منهم " لا فضل لعربي على عجمي إلا بالتقوى " ومن هنا يظهر ضلال من يدعو إلى العروبة وهو لا يتصف بشيء من خصائصها المفضلة.
এবং সুন্নাহ কুরআনের বিরোধিতা করে না, বরং তা একে সত্যায়ন ও সমর্থন করে, এর অর্থের প্রতি পথপ্রদর্শন করে এবং এতে যা সংক্ষেপে (مجمل) বর্ণিত হয়েছে তা স্পষ্ট করে দেয় (১)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কুরআনে বিজয়কে আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর দ্বীনের সাহায্যের ওপর স্থগিত রেখেছেন। সুতরাং সুন্নাহর মধ্যে এমন কিছু আসা সম্ভব নয় যা এর পরিপন্থী। অতএব হে মুমিন! আপনি সচেতন হোন; বিভ্রান্তিকর সংশয়, জাল (مكذوبة) হাদিসসমূহ, কলুষিত মতামত ও বিষাক্ত চিন্তাধারা থেকে সতর্ক থাকুন। নিশ্চয়ই বিপদ অত্যন্ত গুরুতর। আর সুরক্ষাপ্রাপ্ত (معصوم) কেবল সেই ব্যক্তিই যাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সুরক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং তাঁর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করুন, তাঁর ওপর ভরসা রাখুন, তাঁর দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করুন এবং এর ওপর অটল থাকুন; তবেই আপনি মুক্তি ও শুভ পরিণতি লাভে সফল হবেন।

এই সংশয় ও এর অনুরূপ বিষয়গুলো আমাদের সামনে সেই হাদিসটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হুযায়ফার বর্ণনায় সহিহ (صح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন: "লোকেরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এই ভয়ে যে তা যেন আমাকে পেয়ে না বসে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা জাহিলিয়াত ও অকল্যাণের মধ্যে ছিলাম, এরপর আল্লাহ আমাদের নিকট এই কল্যাণ নিয়ে এসেছেন। এখন এই কল্যাণের পরে কি..."

--------------------------------------------

(১) (১) - বরং হাদিসটি বানোয়াট (موضوع), যেমনটি মুহদ্দিস শেখ নাসিরুদ্দিন আলবানী সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দায়িফাহ-এর ১৬৩ নম্বর হাদিসের অধীনে একটি দীর্ঘ ও উপকারী গবেষণায় যাচাই করেছেন এবং সেখানে শেখ বিন বাযের অভিমতকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আলবানী বলেন: "সারকথা হলো: আরবদের শ্রেষ্ঠত্ব মূলত তাদের মধ্যে অর্জিত কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে। সুতরাং যদি তাদের ইসলামের প্রতি উদাসীনতার কারণে সেসব বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যায়, তবে তাদের শ্রেষ্ঠত্বও বিলীন হয়ে যাবে। আর অনারবদের মধ্যে যারা সেসব বৈশিষ্ট্য গ্রহণ করবে, তারা তাদের চেয়ে উত্তম হবে। 'তাকওয়া ব্যতীত কোনো আরবের ওপর অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।' এখান থেকেই সেই ব্যক্তির ভ্রষ্টতা স্পষ্ট হয় যে আরবীয় জাতীয়তাবাদের দিকে আহ্বান করে অথচ সে এর কোনো উত্তম গুণের অধিকারী নয়।"
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ২৬)
هذا الخير من شر؟ قال " نعم ". قلت: وهل بعد ذلك الشر من خير؟ قال: " نعم وفيه دخن " قلت: ما دخنه؟ قال: " قوم يستنون بغير سنتي ويهدون بغير هدي تعرف منهم وتنكر " قلت: فهل بعد ذلك الخير من شر؟ قال: " نعم دعاة على أبواب جهنم من أجابهم إليها قذفوه فيها " قلت: يا رسول الله صفهم لنا، قال: " هم من جلدتنا ويتكلمون بألسنتنا " قلت: فما تأمرني يا رسول الله إن أدركني ذلك؟ قال: " تلزم جماعة المسلمين وإمامهم " قلت: فإن لم يكن لهم جماعة ولا إمام؟ قال: " فاعتزل تلك الفرق كلها ولو أن تعض بأصل شجرة حتى يدركك الموت وأنت على ذلك ".» رواه البخاري ومسلم واللفظ للبخاري، فهذا الحديث العظيم الجليل يرشدك أيها المسلم إلى أن هؤلاء الدعاة اليوم، الذين يدعون إلى أنواع من الباطل كالقومية العربية، والاشتراكية والرأسمالية الغاشمة. وإلى الخلاعة والحرية المطلقة وأنواع الفساد كلهم دعاة على أبواب جهنم، سواء علموا أم لم يعلموا، من أجابهم إلى باطلهم قذفوه في جهنم، ولا شك أن هذا الحديث الجليل من أعلام النبوة، ودلائل صحة رسالة محمد صلى الله عليه وسلم حيث أخبر بالواقع قبل وقوعه، فوقع كما أخبر.

فنسأل الله لنا ولسائر المسلمين العافية من مضلات
"এই কল্যাণের পরে কি কোনো অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, 'হ্যাঁ'। আমি বললাম, সেই অকল্যাণের পরে কি কোনো কল্যাণ আছে? তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, তবে তাতে ধোঁয়াশা (دخن) থাকবে।' আমি বললাম, তার ধোঁয়াশা কী? তিনি বললেন, 'এমন এক সম্প্রদায় যারা আমার সুন্নাহ বর্জিত পথে চলবে এবং আমার হেদায়াত ব্যতীত অন্য পথে পরিচালিত করবে; তোমরা তাদের কিছু কাজ ভালো দেখবে এবং কিছু প্রত্যাখ্যান (تنكر) করবে।' আমি বললাম, সেই কল্যাণের পরে কি পুনরায় কোনো অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, জাহান্নামের দরজাসমূহে দাঁড়িয়ে আহ্বানকারী (دعاة) একদল লোক; যারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে, তারা তাকে তাতে নিক্ষেপ করবে।' আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, 'তারা আমাদেরই স্বজাতি এবং আমাদের ভাষাতেই কথা বলবে।' আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হই, তবে আপনি আমাকে কী আদেশ করেন? তিনি বললেন, 'মুসলিমদের জামাত (جماعة) ও তাদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে।' আমি বললাম, যদি তাদের কোনো জামাত (جماعة) ও ইমাম না থাকে? তিনি বললেন, 'তবে তুমি ঐ সকল দলের (فرق) সবগুলোকে বর্জন করবে, যদিও তোমাকে কোনো গাছের শিকড় কামড়ে ধরে থাকতে হয়, যতক্ষণ না সেই অবস্থায় তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয়'।" বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন এবং শব্দাবলী (اللفظ) বুখারি থেকে গৃহীত। এই মহান ও সুউচ্চ হাদিস আপনাকে এই দিকনির্দেশনা প্রদান করে যে, হে মুসলিম! বর্তমানের এই আহ্বানকারীগণ (دعاة), যারা বিভিন্ন প্রকার বাতিলের দিকে দাওয়াত দেয়—যেমন আরব জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র এবং নিষ্ঠুর পুঁজিবাদ, এবং যারা অশ্লীলতা, লাগামহীন স্বাধীনতা ও নানা প্রকার ফাসাদের দিকে আহ্বান জানায়—তারা সকলেই জাহান্নামের দরজাসমূহের আহ্বানকারী (دعاة), তারা এটি জানুক বা না জানুক। যে ব্যক্তি তাদের বাতিলের আহ্বানে সাড়া দেবে, তারা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই মহান হাদিসটি নবুওয়াতের নিদর্শন (أعلام النبوة) এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের সত্যতার প্রমাণ (دلائل صحة رسالة) সমূহের অন্তর্ভুক্ত; যেখানে তিনি বাস্তব অবস্থা ঘটার পূর্বেই সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছিলেন এবং তা ঠিক সেভাবেই ঘটেছে যেভাবে তিনি জানিয়েছিলেন।

সুতরাং আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য বিভ্রান্তকারী (مضلات) ফিতনা থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ২৭)
الفتن، ونسأله سبحانه أن يصلح ولاة أمر المسلمين وزعماءهم حتى ينصروا دينه، ويحاربوا ما خالفه إنه ولي ذلك والقادر عليه.

 

‌‌[الوجه الثالث هو أنها سلم إلى موالاة كفار العرب وملاحدتهم]

3 - الوجه الثالث: من الوجوه الدالة على بطلان الدعوة إلى القومية العربية: هو أنها سلم إلى موالاة كفار العرب وملاحدتهم من أبناء غير المسلمين واتخاذهم بطانة والاستنصار بهم على أعداء القوميين من المسلمين وغيرهم. ومعلوم ما في هذا من الفساد الكبير، والمخالفة لنصوص القرآن والسنة، الدالة على وجوب بغض الكافرين من العرب وغيرهم ومعاداتهم وتحريم موالاتهم واتخاذهم بطانة. والنصوص في هذا المعنى كثيرة منها قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ - فَتَرَى الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ يُسَارِعُونَ فِيهِمْ يَقُولُونَ نَخْشَى أَنْ تُصِيبَنَا دَائِرَةٌ} [المائدة: 51 - 52] الآية. سبحان الله ما أصدق قوله وأوضح بيانه، هؤلاء القوميون يدعون إلى التكتل حول القومية العربية مسلمها وكافرها، يقولون: نخشى أن تصيبنا دائرة، نخشى أن يعود الاستعمار إلى بلادنا، نخشى أن تسلب ثرواتنا بأيدي أعدائنا، فيوالون لأجل ذلك كل عربي من يهود ونصارى ومجوس ووثنيين
...ফিতনা (الفتن); আর আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলিমদের শাসক ও নেতৃবর্গকে সংশোধন করে দেন যাতে তারা তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করতে পারেন এবং এর বিরুদ্ধাচরণকারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে পারেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

 

‌‌[তৃতীয় দিক হলো—এটি আরব কাফির ও নাস্তিকদের সাথে মিতালি (موالاة) করার সোপান]

3 - তৃতীয় দিক: আরব জাতীয়তাবাদের (القومية) দিকে আহ্বানের অসারতা প্রমাণকারী দিকসমূহের মধ্যে এটি একটি যে, এটি অমুসলিমদের মধ্য থেকে আরব কাফির ও নাস্তিকদের সাথে মিতালি (موالاة) করার, তাদের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার এবং মুসলিম ও অন্যান্যদের মধ্য থেকে জাতীয়তাবাদীদের শত্রুদের বিরুদ্ধে তাদের সাহায্য প্রার্থনা করার একটি সোপান। আর এতে যে কত বড় ফাসাদ এবং কুরআন ও সুন্নাহর নসসমূহের (نصوص) সাথে কতটা বৈপরীত্য রয়েছে তা সর্বজনবিদিত; যা আরব বা অনারব নির্বিশেষে কাফিরদের প্রতি ঘৃণা পোষণ ও শত্রুতা রাখা ওয়াজিব হওয়া এবং তাদের সাথে মিতালি (موالاة) করা ও তাদের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা হারাম হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে। এই মর্মে নসসমূহ (نصوص) অনেক, যার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: {হে মুমিনগণ, তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে মিতালি (موالاة) করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না। অতঃপর আপনি দেখবেন যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনে দ্রুত ধাবিত হয় এবং বলে, আমরা আশঙ্কা করি যে কোনো বিপদ আমাদের ওপর আপতিত হবে।} [আল-মায়িদাহ: ৫১ - ৫২] আয়াত। সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর বাণী কতই না সত্য এবং তাঁর বর্ণনা কতই না স্পষ্ট! এই জাতীয়তাবাদীরা (القوميون) মুসলিম কিংবা কাফির নির্বিশেষে আরব জাতীয়তাবাদের (القومية) ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দাওয়াত দেয়। তারা বলে: ‘আমরা আশঙ্কা করি যে কোনো বিপদ আমাদের ওপর আপতিত হবে’, ‘আমরা আশঙ্কা করি যে আমাদের দেশগুলোতে পুনরায় উপনিবেশ ফিরে আসবে’, ‘আমরা আশঙ্কা করি যে শত্রুদের হাতে আমাদের ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হবে’; আর এই কারণেই তারা ইহুদি, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক ও মূর্তিপূজকদের মধ্য হতে প্রত্যেক আরবের সাথেই মিতালি (موالاة) করে থাকে।
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ২৮)
وملاحدة وغيرهم تحت لواء القومية العربية، ويقولون: إن نظامها لا يفرق بين عربي وعربي وإن تفرقت أديانهم، فهل هذا إلا مصادمة لكتاب الله ومخالفة لشرع الله وتعد لحدود الله وموالاة ومعاداة وحب وبغض على غير دين الله؟ فما أعظم ذلك من باطل وما أسوأه من منهج. القرآن يدعو إلى موالاة المؤمنين ومعاداة الكافرين أينما كانوا وكيفما كانوا، وشرع القومية العربية يأبى ذلك ويخالفه: {قُلْ أَأَنْتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّهُ} [البقرة: 140] ويقول الله سبحانه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِمْ بِالْمَوَدَّةِ} [الممتحنة: 1] إلى قوله تعالى: {وَمَنْ يَفْعَلْهُ مِنْكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ} [الممتحنة: 1]

ونظام القومية يقول: كلهم أولياء مسلمهم وكافرهم، والله يقول: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} [الشورى: 13] ويقول سبحانه: {قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآءُ مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ} [الممتحنة: 4] وقال تعالى: {لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ} [المجادلة: 22] وشرع القومية، أو بعبارة أخرى شرع دعاتها يقول: أقصوا الدين عن القومية، وافصلوا الدين عن الدولة، وتكتلوا حول أنفسكم وقوميتكم، حتى تدركوا مصالحكم وتستردوا أمجادكم، وكأن الإسلام وقف في طريقهم، وحال بينهم وبين أمجادهم، هذا والله هو الجهل والتلبيس وعكس القضية، سبحانك هذا بهتان عظيم.

والآيات الدالة على وجوب موالاة المؤمنين، ومعاداة الكافرين، والتحذير من توليهم كثيرة لا تخفى على أهل القرآن، فلا ينبغي أن نطيل بذكرها. وكيف يجوز في عقل عاقل أن يكون أبو جهل، وأبو لهب، وعقبة بن أبي معيط، والنضر بن الحارث وأضرابهم من صناديد الكفار في عهد النبي صلى الله عليه وسلم وبعده إلي يومنا هذا إخوانا وأولياء لأبي بكر وعمر وعثمان وعلي وسائر الصحابة ومن سلك سبيله من العرب إلى يومنا هذا. . هذا والله من أبطل الباطل وأعظم الجهل. وشرع القومية ونظامها يوجب هذا ويقتضيه، وإن أنكره بعض دعاتها جهلا أو تجاهلا وتلبيسا، فلا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

وقد أوجب الله على المسلمين: أن يتكاتفوا ويتكتلوا تحت راية الإسلام، وأن يكونوا جسدا واحدا، وبناء
নাস্তিক (ملحدة) এবং অন্যান্যরা আরব জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে একত্রিত হয়েছে এবং তারা বলে: এই ব্যবস্থা কোনো আরব ও আরবের মধ্যে পার্থক্য করে না, যদিও তাদের ধর্ম ভিন্ন হয়। তবে এটি কি আল্লাহর কিতাবের সাথে সংঘর্ষ, আল্লাহর বিধান (شرع) এর বিরোধিতা, আল্লাহর সীমানা লঙ্ঘন এবং আল্লাহর দ্বীন ব্যতীত অন্য কিছুর ভিত্তিতে বন্ধুত্ব, শত্রুতা, ভালোবাসা ও ঘৃণা পোষণ করা নয়? এই বাতিল (باطل) মতবাদ কতই না জঘন্য এবং এটি কতই না নিকৃষ্ট একটি পথ। কুরআন মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব এবং কাফিররা যেখানেই থাকুক এবং যেভাবেই থাকুক তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করার আহ্বান জানায়, অথচ আরব জাতীয়তাবাদের বিধান (شرع) তা অস্বীকার করে এবং এর বিরোধিতা করে: {বলুন, তোমরা কি বেশি জানো নাকি আল্লাহ?} [বাকারা: ১৪০] এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না; তোমরা তাদের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দাও...} [মুমতাহিনা: ১] থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমাদের মধ্যে যে এটি করবে, সে অবশ্যই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হবে।} [মুমতাহিনা: ১]

জাতীয়তাবাদের ব্যবস্থা বলে: তারা সবাই বন্ধু, চাই সে মুসলিম হোক বা কাফির। অথচ আল্লাহ বলেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধান (شرع) নির্ধারিত করেছেন, যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি আপনার প্রতি ওহী হিসেবে পাঠিয়েছি এবং যা আমি ইবরাহীম, মুসা ও ঈসাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম এই বলে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না।} [শুরা: ১৩] এবং সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তার সঙ্গীদের মধ্যে রয়েছে এক উত্তম আদর্শ, যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল: আমরা তোমাদের থেকে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যা কিছুর ইবাদত করো তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত; আমরা তোমাদের প্রত্যাখ্যান করছি এবং আমাদের ও তোমাদের মধ্যে চিরকালের জন্য শত্রুতা ও ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো।} [মুমতাহিনা: ৪] এবং আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাসী এমন কোনো সম্প্রদায়কে আপনি পাবেন না যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতাকারীদের ভালোবাসে, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা স্বগোত্রীয় হয়।} [মুজাদালা: ২২] আর জাতীয়তাবাদের বিধান (شرع), বা অন্য কথায় এর প্রবক্তাদের বিধান (شرع) বলে: জাতীয়তাবাদ থেকে ধর্মকে দূরে রাখো, রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করো এবং নিজেদের ও নিজেদের জাতীয়তাবাদের চারপাশে ঐক্যবদ্ধ হও, যাতে তোমরা তোমাদের স্বার্থ হাসিল করতে পারো এবং তোমাদের গৌরব ফিরে পাও; যেন ইসলাম তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের ও তাদের গৌরবের মাঝে অন্তরায় হয়ে আছে। আল্লাহর কসম, এটিই হলো চরম অজ্ঞতা, সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণ এবং সত্যের অপলাপ; হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র, এটি এক গুরুতর অপবাদ।

মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা এবং কাফিরদের সাথে শত্রুতা পোষণ করার আবশ্যকতা এবং তাদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ বিষয়ক আয়াতসমূহ অনেক, যা কুরআন বিশেষজ্ঞদের কাছে গোপন নয়, তাই তা উল্লেখ করে দীর্ঘায়িত করার প্রয়োজন নেই। আর কোনো বিবেকবান মানুষের বুদ্ধিতে এটি কীভাবে সম্ভব হতে পারে যে, আবু জাহল, আবু লাহাব, উকবা ইবনে আবি মুয়াইত, নযর ইবনুল হারিস এবং তাদের মতো কাফির নেতারা—যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ছিল এবং আজ পর্যন্ত যারা আছে—তারা আবু বকর, উমর, উসমান, আলী এবং অন্যান্য সাহাবী এবং আজ পর্যন্ত আরবদের মধ্য থেকে যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছেন তাদের ভাই ও বন্ধু হবে? আল্লাহর কসম, এটি এক জঘন্য বাতিল (باطل) বিষয় এবং চরম মূর্খতা। জাতীয়তাবাদের বিধান (شرع) ও এর ব্যবস্থা এটিকে অপরিহার্য করে, যদিও এর কিছু প্রবক্তা অজ্ঞতাবশত বা ভান করে এবং সত্য আড়াল করে একে অস্বীকার করে। আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আর কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।

আল্লাহ মুসলমানদের ওপর ওয়াজিব (أوجب) করেছেন: যেন তারা ইসলামের পতাকাতলে একে অপরের সহযোগী হয় ও ঐক্যবদ্ধ হয় এবং তারা যেন একটি দেহ এবং একটি সুদৃঢ় প্রাসাদের মতো হয়।
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ৩০)
متماسكا ضد عدوهم، ووعدهم على ذلك النصر والعز والعاقبة الحميدة كما تقدم ذلك في كثير من الآيات، وكما في قوله تعالي: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا} [النور: 55] الآية. وقال تعالى: {وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ - إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنْصُورُونَ - وَإِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ} [الصافات: 171 - 173] فوعد الله سبحانه عباده المرسلين، وجنده المؤمنين بالنصر والغلبة واستخلافهم في الأرض والتمكين لدينهم، وهو الصادق في وعده، {وَعْدَ اللَّهِ لَا يُخْلِفُ اللَّهُ الْمِيعَادَ} [الزمر: 20] وإنما يتخلف هذا الوعد في بعض الأحيان بسبب تقصير المسلمين وعدم قيامهم بما أوجب الله عليهم من الإيمان بالله، والنصر لدينه، كما هو الواقع، فالذنب ذنبنا لا ذنب الإسلام، والمصيبة حصلت بما كسبت أيدينا من الخطايا، كما قال تعالى: {وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ} [الشورى: 30]

فالواجب على العرب وغيرهم التوبة إلى الله سبحانه، والتمسك بدينه، والتواصي بحقه، وتحكيم شريعته، والجهاد في سبيله، والاستقامة على ذلك من الرؤساء وغيرهم، فبذلك يحصل لهم النصر ويهزم العدو، ويحصل التمكين في
তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকা; আর আল্লাহ তাদের এর বিনিময়ে সাহায্য, মর্যাদা এবং শুভ পরিণামের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেমনটি ইতিপূর্বে অনেক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ের পর অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা দান করবেন; তারা কেবল আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না।} [আন-নূর: ৫৫] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর অবশ্যই আমার প্রেরিত (مرسل) বান্দাদের ব্যাপারে আমার বাণী ইতিপূর্বেই স্থির হয়েছে— যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে— আর নিশ্চয়ই আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী।} [আস-সাফফাত: ১৭১-১৭৩]। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর প্রেরিত (مرسل) বান্দাদের এবং তাঁর মুমিন বাহিনীকে সাহায্য, বিজয়, পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান এবং তাদের দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতিতে সত্যবাদী; {এটি আল্লাহরই প্রতিশ্রুতি, আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।} [আয-যুমার: ২০]। বস্তুত এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কখনো কখনো বিলম্ব ঘটে মুসলমানদের অবহেলার কারণে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে আল্লাহ যা তাদের ওপর আবশ্যক করেছেন তা পালনে তাদের ত্রুটির কারণে, যা বর্তমানে পরিলক্ষিত হচ্ছে। সুতরাং এই অপরাধ আমাদেরই, ইসলামের নয়; বরং আমাদের কৃত পাপাচারের কারণেই এই বিপদ আপতিত হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের ওপর যে বিপদই আসুক না কেন, তা তোমাদেরই হাতের কামাই, আর তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন।} [আশ-শূরা: ৩০]

অতএব আরব ও অনারব সকলের ওপর অপরিহার্য কর্তব্য হলো আল্লাহর সমীপে তওবা করা, তাঁর দ্বীনকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা, হকের ওপর পরস্পরকে অসিয়ত করা, তাঁর শরিয়ত মোতাবেক বিচার-ফয়সালা করা, তাঁর পথে জিহাদ করা এবং শাসক ও সাধারণ জনগণ সকলেরই এর ওপর অটল থাকা। এর মাধ্যমেই তাদের বিজয় অর্জিত হবে, শত্রু পরাজিত হবে এবং যমীনে কর্তৃত্ব ও শক্তি অর্জিত হবে...
(খণ্ড: ১) নাকদুল কওমিয়াতিল আরাবিয়্যাতি আলা দাউইল ইসলামি ওয়াল ওয়াকি (পৃষ্ঠা: ৩১)
الأرض، وإن قل عددنا وعدتنا، ولا ريب أن من أهم الواجبات الإيمانية: أخذ الحذر من عدونا، وأن نعد له ما نستطيع من القوة، وذلك من تمام الإيمان، ومن الأخذ بالأسباب التي يتعين الأخذ بها، ولا يجوز إهمالها، كما في قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا خُذُوا حِذْرَكُمْ} [النساء: 71] وقوله تعالى: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ} [الأنفال: 60]

وليس للمسلمين أن يوالوا الكافرين أو يستعينوا بهم على أعدائهم فإنهم من الأعداء ولا تؤمن غائلتهم وقد حرم الله موالاتهم، ونهى عن اتخاذهم بطانة، وحكم على من تولاهم بأنه منهم، وأخبر أن الجميع من الظالمين، كما سبق ذلك في الآيات المحكمات، وثبت في: " صحيح مسلم " عن عائشة رضي الله عنها قالت: «خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل بدر فلما كان ب " حرة الوبرة " أدركه رجل قد كان يذكر منه جرأة ونجدة، ففرح أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم حين رأوه فلما أدركه قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: جئت لأتبعك وأصيب معك. قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " تؤمن بالله ورسوله؟ " قال: لا، قال: " فارجع فلن أستعين بمشرك " قالت: ثم مضى حتى إذا كنا بالشجرة أدركه الرجل فقال له كما قال أول مرة، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم كما قال أول
পৃথিবীতে, যদিও আমাদের সংখ্যা ও সরঞ্জাম কম হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, গুরুত্বপূর্ণ ঈমানি দায়িত্বসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো: আমাদের শত্রুর ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং তাদের মোকাবেলায় আমাদের সাধ্যমতো শক্তি প্রস্তুত করা। এটি ঈমানের পূর্ণতা এবং সেই সকল উপায়-উপকরণ (أسباب) গ্রহণের অন্তর্ভুক্ত যা গ্রহণ করা অপরিহার্য এবং যা অবহেলা করা বৈধ নয়। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের সতর্কতা অবলম্বন করো} [আন-নিসা: ৭১] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাদের মোকাবেলার জন্য তোমাদের সাধ্যমতো শক্তি প্রস্তুত করো} [আল-আনফাল: ৬০]

আর মুসলমানদের জন্য কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করা বা তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে তাদের সাহায্য গ্রহণ করা বৈধ নয়; কারণ তারা শত্রুদেরই অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা যায় না। আল্লাহ তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা হারাম করেছেন এবং তাদেরকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। আর যে ব্যক্তি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে তাকে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তারা সকলেই জালেম। যেমনটি ইতিপূর্বে সুস্পষ্ট (محكمات) আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে। আর সহিহ মুসলিম-এ আয়েশা (রা.) থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধের পূর্বে বের হলেন। যখন তিনি "হাররাত আল-ওয়াবরা" নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁর সাথে মিলিত হলো যার সাহস ও বীরত্বের কথা প্রসিদ্ধ ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ তাকে দেখে আনন্দিত হলেন। সে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছাল, তখন তাঁকে বলল: আমি আপনার অনুসরণ করতে এবং আপনার সাথে যুদ্ধে শরিক হতে এসেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "তুমি কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো?" সে বলল: না। তিনি বললেন: "তাহলে ফিরে যাও, আমি কোনো মুশরিক (مشرك)-এর সাহায্য নেব না।" আয়েশা (রা.) বলেন: অতঃপর তিনি চলতে থাকলেন, এমনকি যখন আমরা "আশ-শাজারা" নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন লোকটি আবারও তাঁর সাথে মিলিত হলো এবং প্রথমবার যা বলেছিল তাই বলল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাকে প্রথম বারের মতো বললেন...»