(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
الجوانب الإعلامية في خطب الرسول صلى الله عليه وسلم القسم: كتب عامة
الكتاب: الجوانب الإعلامية في خطب الرسول صلى الله عليه وسلم
المؤلف: سعيد بن علي ثابت
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1417هـ
عدد الصفحات: 176
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষণসমূহে প্রচার মাধ্যম সংক্রান্ত দিকসমূহ বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষণসমূহে প্রচার মাধ্যম সংক্রান্ত দিকসমূহ
লেখক: সাঈদ বিন আলী সাবিত
প্রকাশক: ইসলামিক বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৭ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
[المقدمة]الجوانب الإعلامية في خطب الرسول صلى الله عليه وسلم
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] (1) {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا - يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71] (2) .
والصلاة والسلام على نبينا محمد الذي بلغ الرسالة وأدى الأمانة، وأعلم برسالات ربه خير إعلام فلم يسمع الناس بعد القرآن الكريم بكلام قط أعم نفعا ولا أصدق لفظا من خطابه صلى الله عليه وسلم الذي قلت حروفه وكثر معناه وجل عن الصناعة وتنزه عن التكلف، ولم ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى، علمه شديد القوى، شهد الله له بالقبول، يقول الله تعالى: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [الشورى: 52] (3) واجتمعت فيه الحلاوة والمهابة، وكتب الناس في فنونه المختلفة بهدف التعرف على هدي النبي صلى الله عليه وسلم في أصول العبادات، وضوابط المعاملات ، وأنماط السلوك، وفي فقه السيرة.
ونحن إذ نؤصل للإعلام الإسلامي في أمس الحاجة إلى التعرف على
--------------------------------------------
[ভূমিকা]রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবাসমূহের প্রচারতাত্ত্বিক দিকসমূহ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
ভূমিকা: নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২] (১) {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে মহা সাফল্য অর্জন করে।} [আল-আহজাব: ৭০-৭১] (২)।
সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমানত আদায় করেছেন। তিনি তাঁর রবের বার্তাসমূহকে সর্বোত্তম প্রচারের মাধ্যমে অবগত করেছেন। পবিত্র কুরআনের পর মানুষ এমন কোনো কথা শোনেনি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবা বা ভাষণের চেয়ে অধিক ব্যাপক কল্যাণকর কিংবা অধিক সত্য। তাঁর ভাষণের শব্দ ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থ ছিল সুগভীর, যা কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত এবং আড়ম্বরহীন ছিল। তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না; বরং তা হচ্ছে ওহি (وحي), যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়। তাঁকে মহা শক্তিশালী (জিবরাঈল আ.) শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর বাণীর গ্রহণযোগ্যতার সাক্ষ্য দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে হেদায়েত দান করেন।} [আশ-শুরা: ৫২] (৩)। তাঁর বাণীর মাঝে মাধুর্য ও গাম্ভীর্যের অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল। মানুষ তাঁর বিবিধ শাস্ত্র ও বিষয়ের ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন যেন ইবাদতের মূলনীতি (أصول), লেনদেনের নিয়মাবলি, আচরণের পদ্ধতি এবং সীরাতের ফিকহ (فقه) বিষয়ে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিদায়াত সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা যায়।
আমরা যখন ইসলামী প্রচারতত্ত্বের তাত্ত্বিক ভিত্তি স্থাপন করছি, তখন এটি জানার একান্ত প্রয়োজন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
الإعلام النبوي لما له من أهمية علمية بالغة، ولما انبنى عليه من آثار جليلة ولحسن تبليغه وتطبيقه؛ ولذا فإني أسعى من خلال هذه الدراسة إلى إبراز الجوانب الإعلامية في خطب الرسول صلى الله عليه وسلم لمعرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الاتصال بالناس وتبليغه الرسالة الإعلامية بفاعلية واقتدار.
ولذلك اعتمدت بعد الله تعالى في هذه الدراسة على منهج الاستقراء الناقص الذي تتبعت من خلاله خطب الرسول صلى الله عليه وسلم ثم اخترت منها نماذج بحيث يشكل كل أنموذج منها مرحلة من مراحل الاتصال في العهد النبوي بدأ بخطبة الصفا التي صدع الرسول صلى الله عليه وسلم فيها برسالته العظيمة إلى خطبة حجة الوداع التي تعد نموذجا للاتصال شبه الإعلامية، من ناحية الممارسة الإعلامية، أما من ناحية المضمون والأسلوب فقد كانت تمثل البيان الختامي للرسالة المحمدية، مرورا بخطبة أول جمعة صلاها الرسول صلى الله عليه وسلم في المدينة التي تمثل الاتصال الجمعي في الإسلام، ويتسم الخطاب الإعلامي فيها بمراعاة خصائص جماعة المسلمين ومسلماتها وخطب الغزوات والتعبئة للجهاد الإسلامي.
وبعد دراسة هذه الخطب دراسة تحليلية كشف التحليل الإعلامي لخطب الرسول صلى الله عليه وسلم عن ثلاثة جوانب:
الجانب الأول: الدلالات والمعاني والمفاهيم الإعلامية في خطب الرسول صلى الله عليه وسلم، ويمثل الفصل الأول من هذه الدراسة.
أما الجانب الثاني: فهو مقومات منهج الخطاب الإعلامي في خطب الرسول صلى الله عليه وسلم، ويمثل هذا الجانب معالم مقومات منهج الإعلام ويشمل الفصل الثاني من هذه الدراسة.
والجانب الثالث: وهو أصول الإقناع في خطب الرسول صلى الله عليه وسلم، ويشمل الفصل الثالث والأخير، ويستطيع من يتأملها أن يدرك بوضوح
নববী প্রচার পদ্ধতির অপরিসীম বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব, এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া মহান প্রভাব এবং এর সুন্দর প্রচার ও প্রয়োগের কারণে; আমি এই গবেষণার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবাসমূহের প্রচারতাত্ত্বিক দিকগুলো ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি, যাতে মানুষের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিদায়াত এবং তাঁর কার্যকর ও সুদক্ষভাবে প্রচার বার্তা (রিসালাহ ই'লামিয়্যাহ) পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যায়।
আর সে কারণেই মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে আমি এই গবেষণায় অসম্পূর্ণ আরোহী (الاستقراء الناقص) পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছি, যার মাধ্যমে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবাসমূহ অনুসন্ধান করেছি এবং সেখান থেকে এমন কিছু নমুনা নির্বাচন করেছি যাতে প্রতিটি নমুনা নববী যুগের যোগাযোগের একেকটি পর্যায়কে তুলে ধরে। এর সূচনা হয়েছে সাফা পাহাড়ের সেই খুতবা থেকে যার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান দাওয়াতের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন, আর সমাপ্তি ঘটেছে বিদায় হজের খুতবার মাধ্যমে যা প্রচারতাত্ত্বিক অনুশীলনের দিক থেকে একটি আধা-গণমাধ্যমীয় যোগাযোগের মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়; অন্যদিকে বিষয়বস্তু ও শৈলীর দিক থেকে এটি ছিল মুহাম্মাদী রিসালাতের সমাপনী বিবৃতি। এর পাশাপাশি মদিনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদায়কৃত প্রথম জুমার খুতবাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা ইসলামে সামষ্টিক যোগাযোগের প্রতিনিধিত্ব করে। সেখানকার প্রচার শৈলীতে মুসলিম উম্মাহর বৈশিষ্ট্য ও মৌলিক বিশ্বাসসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে এবং সেই সাথে যুদ্ধের খুতবা ও ইসলামি জিহাদের জন্য প্রস্তুতির বিষয়গুলোও স্থান পেয়েছে।
এই খুতবাসমূহ বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়নের পর, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবাসমূহের প্রচারতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তিনটি দিক উন্মোচন করেছে:
প্রথম দিক: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবাসমূহে প্রচারতাত্ত্বিক ইঙ্গিত, অর্থ ও ধারণাসমূহ; যা এই গবেষণার প্রথম অধ্যায় গঠন করেছে।
দ্বিতীয় দিক: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবাসমূহে প্রচারতাত্ত্বিক বক্তব্যের পদ্ধতির উপাদানসমূহ। এই দিকটি প্রচার পদ্ধতির উপাদানগুলোর স্বরূপ তুলে ধরে এবং এটি এই গবেষণার দ্বিতীয় অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
তৃতীয় দিক: এটি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবাসমূহে উদ্বুদ্ধকরণের মূলনীতি (أصول الإقناع), যা তৃতীয় ও শেষ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। যে কেউ এটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারবে—
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وجلاء فاعلية الإقناع في الاتصال الإسلامي الذي كان الأساس المتين لانتشار الإسلام، وإعلاء كلمة الله في الأرض، وقيام الحضارة الإسلامية كحضارة عالمية في فترة وجيزة؛ وذلك لما للرسالة الإعلامية في الإسلام المهتدية بهدي النبي صلى الله عليه وسلم من أثر في نفوس الناس.
فقد انتظمت دعوة الإسلام شعوبا كثيرة تتباين في أصلها وعقائدها ومواريثها الفكرية والثقافية فآمنت بالإسلام واستقر في عقولها ووجدانها وعاشت به حتى يومنا هذا، كيف لا والمثل الأعلى لرجل الاتصال المسلم هو الرسول صلى الله عليه وسلم الصادق الأمين، وحري بنا ونحن نؤصل للإعلام الإسلامي أن نستقي من فيض هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الاتصال الذي شهد الله تعالى له بالخلق العظيم، قال الله تعالى: {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم: 4] (1) وقال عز من قائل: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا - وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا} [الأحزاب: 45 - 46] (2) وقال الله تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} [الأحزاب: 21] (3) وعلى كل حال أرجو الله العلي القدير أن يكون هذا الجهد العلمي المتواضع خالصا لوجهه الكريم، ونافعا لإخواني الدارسين والعاملين في حقل الإعلام والاتصال بالجماهير، وأن يكون فيه ما يعينهم على أداء الأمانة وتبليغ الرسالة الإعلامية على أساس من هدي النبي صلى الله عليه وسلم حتى يكون الإعلام أمينا ونافعا وفعالا في حياة الأمة الإسلامية كما كان في عهد النبوة والخلافة الراشدة والعهود الإسلامية الزاهرة، وبعد هذا فما كان في هذه الدراسة من صواب فمن الله، وما كان من خطأ فمن نفسي ومن الشيطان وأعيذ نفسي وإياكم بالله من
--------------------------------------------
ইসলামি যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্ররোচনার কার্যকারিতার স্পষ্টতা, যা ছিল ইসলাম প্রচারের সুদৃঢ় ভিত্তি, পৃথিবীতে আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করা এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বজনীন সভ্যতা হিসেবে ইসলামি সভ্যতার উত্থান; আর এটি সম্ভব হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শে পরিচালিত ইসলামি প্রচার বার্তার মাধ্যমে মানুষের অন্তরে গভীর প্রভাবের কারণে।
নিশ্চয়ই ইসলামের দাওয়াত এমন অনেক জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে যারা তাদের বংশসূত্র, আকীদা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে ভিন্ন ভিন্ন ছিল। অতঃপর তারা ইসলামে বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং তা তাদের বিচারবুদ্ধি ও চেতনায় বদ্ধমূল হয়েছে এবং আজ অবধি তারা এর আলোকেই জীবন যাপন করছে। কেনই বা তা হবে না, যেখানে একজন মুসলিম যোগাযোগকারীর জন্য সর্বোত্তম আদর্শ হলেন সত্যবাদী (صادق) ও বিশ্বস্ত (أمين) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর যখন আমরা ইসলামি গণমাধ্যমের মূল ভিত্তি নিয়ে কাজ করছি, তখন আমাদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যোগাযোগের সেই অফুরন্ত হিদায়াত থেকে পাথেয় সংগ্রহ করা বাঞ্ছনীয়, যার মহান চরিত্রের সাক্ষ্য আল্লাহ তাআলা স্বয়ং দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত} [কলম: ৪] (১)। তিনি আরও বলেন: {হে নবী, আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে — এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে} [আহযাব: ৪৫-৪৬] (২)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ} [আহযাব: ২১] (৩)। যা-ই হোক, আমি সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন এই বিনীত বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত হয় এবং গণমাধ্যম ও গণযোগাযোগ ক্ষেত্রে অধ্যয়নরত ও কর্মরত ভাইদের জন্য উপকারী হয়। আর এটি যেন তাদের আমানত রক্ষায় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের ভিত্তিতে ইসলামি প্রচার বার্তা পৌঁছে দিতে সহায়ক হয়, যাতে ইসলামি উম্মাহর জীবনে গণমাধ্যম নবুওয়াত, খুলাফায়ে রাশেদীন এবং ইসলামের সমৃদ্ধ যুগগুলোর মতো বিশ্বস্ত, উপকারী ও কার্যকর হয়ে ওঠে। পরিশেষে, এই গবেষণায় যা কিছু সঠিক তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি আল্লাহর কাছে আমার নিজের এবং আপনাদের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
الزلل، والله أسال أن يرزقنا معرفة الحق والسير على هدي نبيه محمد صلى الله عليه وسلم والتمسك بسنته إنه ولي ذلك والقادر عليه، وآخر دعوانا أن الحمد لله، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
বিচ্যুতি (الزلل), আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সত্যের জ্ঞান দান করেন এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেদায়েতের ওপর চলার ও তাঁর সুন্নাহকে (السنة) আঁকড়ে ধরার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
[الفصل الأول الدلالات والمعاني والمفاهيم الإعلامية في خطب الرسول صلى الله عليه وسلم]الفصل الأول
الدلالات والمعاني والمفاهيم الإعلامية في خطب الرسول صلى الله عليه وسلم المبحث الأول: الدلالات والمعاني والمفاهيم الإعلامية في خطبة الصفا. المبحث الثاني: الدلالات والمعاني والمفاهيم الإعلامية في أول خطبة جمعة صلاها النبي صلى الله عليه وسلم في المدينة المنورة. المبحث الثالث: الدلالات والمعاني والمفاهيم الإعلامية في خطب الغزوات. المبحث الرابع: الدلالات والمعاني والمفاهيم الإعلامية في خطبة الوداع.
[প্রথম অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভাষণসমূহে নিহিত তাৎপর্য, অর্থ এবং প্রচারণামূলক ধারণাসমূহ]প্রথম অধ্যায়
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভাষণসমূহে নিহিত তাৎপর্য, অর্থ এবং প্রচারণামূলক ধারণাসমূহ। প্রথম পরিচ্ছেদ: সাফা পাহাড়ের ভাষণে নিহিত তাৎপর্য, অর্থ এবং প্রচারণামূলক ধারণাসমূহ। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মদীনা মুনাওয়ারায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক প্রদত্ত প্রথম জুমুআর ভাষণে নিহিত তাৎপর্য, অর্থ এবং প্রচারণামূলক ধারণাসমূহ। তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যুদ্ধসমূহের ভাষণগুলোতে নিহিত তাৎপর্য, অর্থ এবং প্রচারণামূলক ধারণাসমূহ। চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিদায় হজের ভাষণে নিহিত তাৎপর্য, অর্থ এবং প্রচারণামূলক ধারণাসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
[توطئة الفصل الأول]توطئة الفصل الأول في هذا الفصل من هذه الدراسة العلمية المتواضعة قام الباحث بتتبع الروايات الموثقة لخطب النبي صلى الله عليه وسلم المختارة للدراسة في إطار المعيار الذي ذكره في مقدمة الدراسة، وقد كشف التحليل الإعلامي لهذه النصوص عن الجانب الأول من الجوانب الإعلامية في خطب النبي صلى الله عليه وسلم وهو الدلالات الإعلامية الظاهرة في نصوص الخطب والمعاني والمفاهيم الإعلامية التي أمكن استخلاصها من فحوى الخطاب الإعلامي في خطب النبي صلى الله عليه وسلم، ويكفي أن نشير إلى هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الاتصال بالناس الذي نحن بأمس الحاجة إلى التعرف عليه للانطلاق منه إلى تأطير الإعلام الإسلامي.
ونحن نجزم واثقين أننا إذا فهمنا الفقه الإعلامي في خطاب النبي صلى الله عليه وسلم فإننا سوف نخلص إلى حقائق لا أقول أن الإسلام قد سبق إليها أساتذة الإعلام والاتصال بالجماهير في الواقع المعاش، وإنما هي حقائق تتضاءل إلى جانبها اكتشافات خبراء الإعلام وفلاسفته المحدثين، كيف لا وهي تستند إلى فعل النبي صلى الله عليه وسلم وتسير في ظل الآيات والسنن.
فالهدف من هذا الفصل تأصيل المعاني والمفاهيم للممارسات الإعلامية وردها إلى الأصول الثابتة في فعل النبي صلى الله عليه وسلم.
[প্রথম অধ্যায়ের ভূমিকা]প্রথম অধ্যায়ের ভূমিকা: এই বিনম্র বৈজ্ঞানিক গবেষণার এই অধ্যায়ে গবেষক অধ্যয়নের জন্য নির্বাচিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভাষণসমূহের নির্ভরযোগ্য (الموثقة) বর্ণনা (الروايات) অনুসরণের চেষ্টা করেছেন, যা গবেষণার ভূমিকায় উল্লিখিত মানদণ্ডের কাঠামোর মধ্যে রয়েছে। এই পাঠ্যগুলোর প্রচারণামূলক বিশ্লেষণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভাষণসমূহের প্রচারণামূলক দিকগুলোর মধ্যে প্রথম দিকটি উন্মোচন করেছে; আর তা হলো ভাষণের পাঠ্যসমূহে বিদ্যমান প্রকাশ্য প্রচারণামূলক নির্দেশনাসমূহ এবং সেই সকল প্রচারণামূলক অর্থ ও ধারণা, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রচারণামূলক বক্তব্যের সারমর্ম থেকে আহরণ করা সম্ভব হয়েছে। মানুষের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশনার দিকে ইঙ্গিত করাই যথেষ্ট, যা অনুধাবন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি, যেন এর মাধ্যমেই ইসলামী গণমাধ্যমের রূপরেখা প্রণয়ন করা যায়।
আমরা দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি যে, যদি আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভাষণে প্রচার সংক্রান্ত প্রজ্ঞা (الفقه) বুঝতে পারি, তবে আমরা এমন কিছু সত্যে উপনীত হব—আমি এটি বলব না যে ইসলাম কেবল বর্তমান যুগের গণমাধ্যম ও জনযোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের চেয়ে অগ্রগামী—বরং এগুলো এমন সব ধ্রুব সত্য যার সামনে আধুনিক গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ও দার্শনিকদের আবিষ্কারসমূহ ম্লান হয়ে যায়। আর কেনই বা তা হবে না, যেখানে এগুলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্মের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং পবিত্র আয়াত ও সুন্নাহর (السنن) ছায়াতলে পরিচালিত।
সুতরাং এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য হলো প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের অর্থ ও ধারণাসমূহকে তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রদান করা এবং সেগুলোকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্মের অকাট্য মূলনীতিসমূহের (الأصول الثابتة) দিকে প্রত্যানয়ন করা।
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
[الدلالات والمعاني والمفاهيم الإعلامية في خطبة الصفا]المبحث الأول
الدلالات والمعاني والمفاهيم الإعلامية في خطبة الصفا - روايات الخطبة.
- الدلالات والمعاني والمفاهيم الإعلامية في هذه الخطبة.
[সাফা পাহাড়ের ভাষণে প্রচারমাধ্যম সংক্রান্ত তাৎপর্য, অর্থ ও ধারণাসমূহ]প্রথম পরিচ্ছেদ
সাফা পাহাড়ের ভাষণে প্রচারমাধ্যম সংক্রান্ত তাৎপর্য, অর্থ ও ধারণাসমূহ - ভাষণের বর্ণনা (روايات) সমূহ।
- এই ভাষণের প্রচারমাধ্যম সংক্রান্ত তাৎপর্য, অর্থ ও ধারণাসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
روايات خطبة الصفا: لقد بقيت الدعوة سرا ثلاث سنوات إلى أن أمر الله تعالى نبيه صلى الله عليه وسلم بإظهار دينه ، قال تعالى: {فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ} [الحجر: 94] (1) ثم أتبع هذا الإنذار العام بإنذار خاص لقومه وعشيرته صلى الله عليه وسلم، قال تعالى: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ - وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} [الشعراء: 214 - 215] (2) عندئذ انطلقت صيحة الحق، فعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «لما نزلت: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} [الشعراء: 214] صعد النبي صلى الله عليه وسلم الصفا، فجعل ينادي: يا بني فهر، يا بني عدي - لبطون قريش - حتى اجتمعوا فجعل الرجل إذا لم يستطع أن يخرج أرسل رسولا لينظر ما هو، فجاء أبو لهب وقريش، فقال: أرأيتكم لو أخبرتكم أن خيلا بالوادي تريد أن تغير عليكم أكنتم مصدقي؟ قالوا: نعم، ما جربنا عليك إلا صدقا. قال: فإني نذير لكم بين يدي عذاب شديد. قال أبو لهب: تبا لك سائر هذا اليوم، ألهذا جمعتنا؟ فنزلت: {تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ - مَا أَغْنَى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ} [المسد: 1 - 2] (3) » (4) .
وفي رواية أخرى «لما نزلت هذه الآية: (وأنذر عشيرتك الأقربين ورهطك منهم المخلصين) (5) .
خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى صعد الصفا، فهتف: " يا صباحاه "، فقالوا: من هذا الذي يهتف؟ قالوا: محمد.
--------------------------------------------
সাফা পাহাড়ের ভাষণের বর্ণনাসমূহ (روايات): দাওয়াতের কাজ তিন বছর পর্যন্ত গোপন ছিল, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর দীন প্রকাশ করার নির্দেশ দিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব আপনি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছেন তা প্রকাশ্যে প্রচার করুন এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন} [আল-হিজর: ৯৪] (১)। অতঃপর এই সাধারণ সতর্কবাণীর পর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কওম ও বংশের জন্য বিশেষ সতর্কবাণী প্রদান করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আপনার নিকটাত্মীয় স্বজনদের সতর্ক করুন এবং মুমিনদের মধ্য থেকে যারা আপনার অনুসরণ করে তাদের প্রতি বিনয়ী হোন} [আশ-শুআরা: ২১৪-২১৫] (২)। তখনই সত্যের আওয়াজ উত্থিত হলো। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন {আপনার নিকটাত্মীয় স্বজনদের সতর্ক করুন} [আশ-শুআরা: ২১৪] আয়াতটি নাজিল হলো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাফা পাহাড়ে আরোহণ করলেন এবং ডাকতে লাগলেন: হে বনী ফিহর! হে বনী আদি! —কুরাইশদের বিভিন্ন গোত্রকে লক্ষ্য করে। ফলে তারা সমবেত হলো। এমনকি কোনো ব্যক্তি নিজে আসতে না পারলে সে কী হচ্ছে তা দেখার জন্য প্রতিনিধি পাঠাতো। আবু লাহাব ও কুরাইশরা সেখানে আসলো। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'তোমাদের কী অভিমত, আমি যদি তোমাদের বলি যে, এই উপত্যকায় একটি অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের ওপর আক্রমণ করতে উদ্যত, তবে তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে?' তারা বললো: 'হ্যাঁ, আমরা আপনার কাছে সত্য ছাড়া আর কিছুই পাইনি।' তিনি বললেন: 'আমি তোমাদের সামনে সমাগত কঠিন আজাব সম্পর্কে সতর্ক করছি।' আবু লাহাব বললো: 'সারা দিন তোমার ধ্বংস হোক, একারণেই কি তুমি আমাদের একত্র করেছ?' তখন নাজিল হলো: {আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও - তার ধন-সম্পদ ও সে যা অর্জন করেছে তা তার কোনো কাজে আসবে না} [আল-মাসাদ: ১-২] (৩) " (৪)।
অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে: "যখন এই আয়াতটি নাজিল হলো: (আর আপনার নিকটাত্মীয় স্বজন ও তাদের মধ্য থেকে আপনার একনিষ্ঠ গোত্রকে সতর্ক করুন) (৫)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হলেন এবং সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে উচ্চস্বরে ডাকলেন: "ইয়া সাবাহাহ", তখন তারা বললো: "কে এই ব্যক্তি যে উচ্চস্বরে ডাকছে?" তারা বললো: "মুহাম্মদ"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فاجتمعوا إليه، فقال: يا بني فلان!! يا بني فلان! يا بني فلان! يا بني عبد مناف! يا بني عبد المطلب! ، فاجتمعوا إليه، فقال: أرأيتكم لو أخبرتكم لو أخبرتكم أن خيلا تخرج بسفح هذا الجبل أكنتم مصدقي؟ ، قالوا: ما جربنا عليك كذبا. قال: فإني نذير لكم بين يدي عذاب شديد، قال: فقال أبو لهب: تبا لك! أما جمعتنا إلا لهذا؟ ثم قام. فنزلت هذه السورة: {تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ} [المسد: 1] » (1) .
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: «لما نزلت: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} [الشعراء: 214] جمع رسول الله صلى الله عليه وسلم قريشا، فخص وعم، فقال: يا معشر قريش أنقذوا أنفسكم من النار، فإني لا أملك لكم من الله ضرا ولا نفعا، يا معشر بني عبد مناف أنقذوا أنفسكم من النار، فإني لا أملك لكم من الله ضرا ولا نفعا، يا معشر بني قصي أنقذوا أنفسكم من النار، فإني لا أملك لكم من الله ضرا ولا نفعا، يا معشر بني عبد المطلب أنقذوا أنفسكم من النار، فإني لا أملك لكم من الله ضرا ولا نفعا. يا فاطمة بنت محمد أنقذي نفسك من النار، فإني لا أملك لك من الله ضرا ولا نفعا، إن لك رحما سأبلها ببلالها» (2) .
--------------------------------------------
তারা তাঁর নিকট সমবেত হলো, তখন তিনি ডাকলেন: হে অমুক গোত্র! হে অমুক গোত্র! হে অমুক গোত্র! হে বনু আবদে মানাফ! হে বনু আবদুল মুত্তালিব! তারা তাঁর নিকট সমবেত হলে তিনি বললেন: তোমাদের কী মনে হয়, আমি যদি তোমাদের সংবাদ দেই যে এই পাহাড়ের পাদদেশ থেকে একটি অশ্বারোহী বাহিনী বেরিয়ে আসছে, তবে কি তোমরা আমাকে সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করবে? তারা বলল: আমরা আপনার নিকট কখনো কোনো মিথ্যার অভিজ্ঞতা পাইনি। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য আসন্ন এক ভয়াবহ আজাবের পূর্ব সতর্ককারী। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আবু লাহাব বলল: তোমার ধ্বংস হোক! তুমি কি আমাদের কেবল এই জন্যই একত্র করেছিলে? অতঃপর সে উঠে দাঁড়াল। তখন এই সূরাটি নাজিল হলো: {আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক} [আল-মাসাদ: ১]। (১)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন {আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} [আশ-শুআরা: ২১৪] নাজিল হলো, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরাইশদের সমবেত করলেন। তিনি নির্দিষ্ট করে এবং সাধারণভাবে সকলকে সম্বোধন করলেন। তিনি বললেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো, কারণ আল্লাহর বিপরীতে আমি তোমাদের কোনো ক্ষতি বা উপকারের ক্ষমতা রাখি না। হে বনু আবদে মানাফের সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো, কারণ আল্লাহর বিপরীতে আমি তোমাদের কোনো ক্ষতি বা উপকারের ক্ষমতা রাখি না। হে বনু কুসাইয়ের সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো, কারণ আল্লাহর বিপরীতে আমি তোমাদের কোনো ক্ষতি বা উপকারের ক্ষমতা রাখি না। হে বনু আবদুল মুত্তালিবের সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো, কারণ আল্লাহর বিপরীতে আমি তোমাদের কোনো ক্ষতি বা উপকারের ক্ষমতা রাখি না। হে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ! তুমি নিজেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো, কারণ আল্লাহর বিপরীতে আমি তোমার জন্য কোনো ক্ষতি বা উপকারের ক্ষমতা রাখি না। নিশ্চয়ই তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, যা আমি যথাযথ হক আদায়ের মাধ্যমে বজায় রাখব। (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الدلالات والمعاني والمفاهيم الإعلامية في خطبة الصفا 1 - مبدأ البشارة والنذارة: وهو مبدأ أصيل من أهم مبادئ الإعلام الإسلامي؛ حيث إن الاتصال من خلال المنظور الإسلامي ينبغي له أن يلتزم هذا المبدأ في مخاطبة الناس وتوجيه الأحداث، فالإعلام الإسلامي يبشر الناس، ويفتح أمامهم آفاق الأمل، ولا يثبط هممهم، وهو أيضا ينذرهم من سوء المصير لمن لم يعتبر بالآيات والسنن، وأتبع نفسه هواها، وتمنى على الله الأماني.
2 - من الاتصال الشخصي إلى الاتصال الجمعي: لقد كانت هذه الخطبة نقلة عظيمة للحركة بالدعوة الإسلامية في العهد المكي، حيث كانت البداية الحقيقية للاتصال الجمعي، الذي تميزت به الحضارة الإسلامية في عهد النبوة والخلافة الراشدة، وفي العهود الإسلامية الزاهرة.
لقد كان الاتصال الدعوي قبل هذه الخطبة يدور في إطار الجماعات الأولية مثل: الأسرة ، والأصدقاء، ومن يثق بهم الرسول صلى الله عليه وسلم مثل: زوجته خديجة بنت خويلد، وابن عمه علي بن أبي طالب، وصديقه أبي بكر الصديق رضي الله عنهم جميعا (1) .
فلما نزل قول الله تعالى: {فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ} [الحجر: 94] (2)
--------------------------------------------
সাফা পর্বতের খুতবায় বিদ্যমান গণমাধ্যম সংক্রান্ত তাৎপর্য, অর্থ ও ধারণাসমূহ ১ - সুসংবাদ প্রদান ও সতর্কীকরণের মূলনীতি: এটি ইসলামি গণমাধ্যমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মৌলিক নীতি; কেননা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানুষের সাথে কথা বলা এবং ঘটনার দিকনির্দেশনা দেওয়ার সময় এই নীতিটি মেনে চলা উচিত। সুতরাং, ইসলামি গণমাধ্যম মানুষকে সুসংবাদ দেয় এবং তাদের সামনে আশার দিগন্ত উন্মোচন করে, তাদের মনোবল ক্ষুণ্ণ করে না। এছাড়া যারা নিদর্শনাদি ও (আল্লাহর) অমোঘ নিয়ম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আশা পোষণ করে, তাদের অশুভ পরিণতি সম্পর্কেও এটি সতর্ক করে।
২ - ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে সামষ্টিক যোগাযোগে উত্তরণ: এই খুতবাটি মক্কি যুগে ইসলামি দাওয়াহ আন্দোলনের জন্য একটি বিশাল পরিবর্তন ছিল, যেখানে সামষ্টিক যোগাযোগের প্রকৃত সূচনা হয়েছিল; যা নবুয়ত কাল, খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগ এবং ইসলামের স্বর্ণযুগে ইসলামি সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল।
এই খুতবার পূর্বে দাওয়াহর যোগাযোগ প্রাথমিক কিছু গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেমন: পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং যাঁদের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আস্থা পোষণ করতেন, যেমন: তাঁর স্ত্রী খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ, তাঁর চাচাতো ভাই আলী ইবনে আবি তালিব এবং তাঁর বন্ধু আবু বকর আল-সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) (১)।
অতঃপর যখন মহান আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হলো: {অতএব আপনি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছেন তা প্রকাশ্যে প্রচার করুন এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন} [হিজর: ৯৪] (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أرشد الله تعالى نبيه إلى هذا الشكل الاتصالي الجديد في حمل الدعوة الإسلامية.
3 - فن التوقيت: لقد اهتبل الرسول صلى الله عليه وسلم ظروف الزمان المواتية، ودرس اللحظة المناسبة لتحقيق أكبر قدر ممكن من الإقناع برسالات ربه.
لقد جاءه الأمر الإلهي بالصدع برسالته، ومكاشفة المجتمع الجاهلي بدعوته، فساق لهم الحقيقة كاملة، والجدير بالذكر أن هذه الدلالة الإعلامية في خطبة الصفا تؤصل لنا مبدأ من أهم مبادئ الإعلام الإسلامي، ألا وهو العرض الموضوعي، وقول الحقيقة، والبعد عن التعتيم الإعلامي، وتزوير الأخبار، وتلفيق الوقائع، وتزييف الحقائق ، لما في ذلك من امتهان لحرية الإنسان وكرامته، وتلاعب بعقله (1) .
ومع ذلك وأنه لا يلبث الواقع
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে ইসলামের দাওয়াত প্রচারের ক্ষেত্রে যোগাযোগের এই নতুন পদ্ধতির দিকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
৩ - সময় নির্ধারণের কৌশল: রাসূলুল্লাহ (সা.) অনুকূল সময়ের পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করতেন এবং তাঁর রবের রিসালাত সম্পর্কে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য উপযুক্ত মুহূর্তটি পর্যালোচনা করতেন।
তাঁর প্রতি তাঁর রিসালাত প্রকাশ্যে প্রচার করার এবং জাহেলি সমাজকে তাঁর দাওয়াতের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানোর ঐশী নির্দেশ এসেছিল, ফলে তিনি তাদের কাছে সত্যকে পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপন করেছিলেন। এটি উল্লেখযোগ্য যে, সাফা পাহাড়ের ভাষণের এই প্রচারতাত্ত্বিক তাৎপর্য আমাদের জন্য ইসলামি প্রচারমাধ্যমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করে; আর তা হলো বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপন, সত্য বলা এবং তথ্যের অস্পষ্টতা, সংবাদ জালিয়াতি, ঘটনা সাজানো ও সত্য বিকৃত করা থেকে দূরে থাকা। কারণ এসব কর্মকাণ্ড মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে অবমাননা করে এবং তাদের বুদ্ধি নিয়ে খেলা করে (১)।
তা সত্ত্বেও এবং বাস্তবতা দীর্ঘস্থায়ী হয় না যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
حتى يكشف عوار هذا الإعلام الدعائي التضليلي ويفقده ثقة الناس بأهله ومؤسساته، فقد أثبت التاريخ فشل التضليل والكذب في اكتساب القلوب، وإقناع العقول، والهيمنة على النفوس، وما التجارب الدعائية النازية والفاشية والبلشفية من ذلك ببعيد.
4 - المقاصد الحسنة والغايات السامية تقتضي استخدام الوسائل المناسبة: فقد وفق الرسول صلى الله عليه وسلم في أعلى وسيلة تختصر مساحات المكان، وتخاطب أكبر عدد من الناس في أسرع وقت ممكن، فصعد جبل الصفا، ولعل في هذا دلالة أهمية العناية بالوسيلة، والتألق في فنون الاتصال الإعلامي لإقناع الناس بالحق ، وحتى لا يكون سبب الإعراض عن الدعوة الإسلامية عجز القائم بالاتصال عن القيام بواجبه.
5 - المدخل الاتصالي المناسب: لقد كانت كلمة: " يا صباحاه" التي استهل بها الرسول صلى الله عليه وسلم خطبة الصفا غاية البدايات الجيدة، والاستهلاك الحسن، والمدخل المثير للانتباه والاهتمام، والمحرك للوعي، والملفت للنظر في مجتمع ديدنه الحروب التي كانت تنشب بين قبائله لأتفه الأسباب؛ لذا كان حسن الابتداء هذا مفتاحا لعقول القوم، فجاءوا زرافات ووحدانا، حتى إن الرجل إذا لم يستطع أن يخرج أرسل رسولا، حتى امتلأت ساحة الصفا.
6 - إشراك الجمهور في العملية الاتصالية والحوار المفتوح: وهذا الأسلوب الحواري في الإعلام له أثره الفعال في تحقيق الإقناع والاقتناع ، وهذا ما تؤكده الدراسات الاتصالية، حيث تعد من مؤهلات الإقناع بالرسالة الإعلامية إشراك الجمهور المتلقي في العمل الإعلامي (1) .
--------------------------------------------
যাতে এই বিভ্রান্তিকর প্রচারণামূলক মিডিয়ার ত্রুটিসমূহ উন্মোচিত হয় এবং তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থেকে মানুষের আস্থা (ثقة) নষ্ট করে দেয়। ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে, মানুষের অন্তর জয় করতে, মন-মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করতে এবং আত্মার ওপর আধিপত্য বিস্তারে বিভ্রান্তি ও মিথ্যাচার ব্যর্থ হয়েছে। নাৎসি, ফ্যাসিবাদী এবং বলশেভিক প্রচারণামূলক অভিজ্ঞতাগুলো এর থেকে খুব একটা দূরে নয়।
৪ - সৎ উদ্দেশ্য এবং সুউচ্চ লক্ষ্য অর্জনের জন্য উপযুক্ত মাধ্যম ব্যবহার করা আবশ্যক: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক শ্রেষ্ঠতম মাধ্যম অবলম্বনে সফল হয়েছিলেন যা স্থানের দূরত্বকে সংকুচিত করে এবং দ্রুততম সময়ে অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয়। এ লক্ষ্যেই তিনি সাফা পাহাড়ে আরোহণ করেছিলেন। সম্ভবত এর মধ্যে মাধ্যমের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং মানুষকে সত্যের প্রতি আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে প্রচার-যোগাযোগের কৌশলে পারদর্শিতার গুরুত্বের নিদর্শন রয়েছে; যাতে ইসলামি দাওয়াতের প্রতি মানুষের বিমুখতার কারণ যোগাযোগকারীর নিজ দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা না হয়।
৫ - যোগাযোগের উপযুক্ত প্রবেশদ্বার: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড়ের খুতবা যে "ইয়া সাবাহাহ" (হে সকালের বিপদ!) শব্দটির মাধ্যমে শুরু করেছিলেন, তা ছিল একটি চমৎকার সূচনা, উত্তম উপস্থাপনা এবং মনোযোগ আকর্ষণের একটি উদ্দীপক প্রবেশদ্বার; যা চেতনার সঞ্চারক এবং এমন এক সমাজে দৃষ্টি আকর্ষক বিষয় ছিল যাদের নিয়মিত অভ্যাস ছিল তুচ্ছ কারণে গোত্রসমূহের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া। তাই এই চমৎকার সূচনাটি সেই জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক দ্বারের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছিল; ফলে তারা দলে দলে এবং একাকী সেখানে সমবেত হয়েছিল, এমনকি কোনো ব্যক্তি নিজে আসতে অপরাগ হলে সে একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল, এভাবে সাফা প্রাঙ্গণ জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে।
৬ - যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় জনসাধারণের অংশগ্রহণ এবং উন্মুক্ত সংলাপ: প্রচারের ক্ষেত্রে এই সংলাপালাপ পদ্ধতিটি মানুষকে প্রভাবিত ও আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। যোগাযোগ বিষয়ক গবেষণাসমূহও এটি নিশ্চিত করে যে, প্রচার বার্তার মাধ্যমে মানুষকে আশ্বস্ত করার অন্যতম যোগ্যতা হলো প্রচার কার্যে গ্রহীতা বা শ্রোতা সাধারণকে সম্পৃক্ত করা (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كما أن الدراسات الإعلامية تؤكد أيضا على احترام إرادة الإنسان وحريته الاتصالية، والحوار، والمناقشة (1) .
فالإعلام إنما يكون للناس وليس للقائم بالاتصال، فإذا كان الناس لا يستمعون للقائم بالاتصال، وإذا كان لا يقرأ رسائله إلا هو فالسكوت له أفضل من صرخة في واد.
7 - القدرة على بث الثقة في الجمهور: من أهم عوامل الإقناع في الاتصال وهذا يعني ثقة القائم بالاتصال بما عنده، وبقيمه، وأهدافه، وغاياته السامية، وثقة الناس في صدقه، وأمانته، وعدله، وهذه الدلالة تؤكد على أهم مؤهلات القائم بالاتصال.
والقائم بالاتصال في هذه الخطبة هو الرسول صلى الله عليه وسلم الذي انتزع الله له إجماعا عاما من قريش بأنه الحكم العدل والصادق الأمين كلمة قالوها، وشاء الله أن تكون عليهم حجة إلى يوم القيامة.
وقريش شوكة العرب ، وهي عندهم المأمونة على حرم الله، المحروسة بحراسة الله، وحمايته لبيته وحرمه، وخاصة بعد حادثة الفيل؛ حيث عجز العرب قاطبة أن يقفوا في وجه أبرهة الحبشي ويمنعوا البيت الحرام، ولكن الله
--------------------------------------------
كما أن الدراسات الإعلامية تؤكد أيضا على احترام إرادة الإنسان وحريته الاتصالية، والحوار، والمناقشة (1) .
তেমনিভাবে গণমাধ্যম গবেষণা মানুষের ইচ্ছা, তার যোগাযোগের স্বাধীনতা, সংলাপ এবং আলোচনার প্রতি শ্রদ্ধার ওপর গুরুত্বারোপ করে (১)।
ফলত গণমাধ্যম মূলত মানুষের জন্য, যোগাযোগকারীর একার জন্য নয়; সুতরাং মানুষ যদি যোগাযোগকারীর কথা না শোনে এবং সে ব্যতীত অন্য কেউ যদি তার বার্তা না পড়ে, তবে নির্জন প্রান্তরে চিৎকার করার চেয়ে তার জন্য নীরব থাকাই উত্তম।
7 - শ্রোতাদের মধ্যে আস্থা সঞ্চারের সক্ষমতা: এটি যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্ররোচিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর অর্থ হলো যোগাযোগকারী যা উপস্থাপন করছেন তার ওপর, তার মূল্যবোধ, লক্ষ্য এবং মহান উদ্দেশ্যসমূহের ওপর তার নিজের আস্থা থাকা; এবং তার সত্যবাদিতা (صدق), আমানতদারিতা (أمانة) ও ন্যায়পরায়ণতার (عدل) ওপর মানুষের আস্থা থাকা। এই তাৎপর্যটি একজন যোগাযোগকারীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
আর এই খুতবার ক্ষেত্রে যোগাযোগকারী হলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যাঁর জন্য আল্লাহ তাআলা কুরাইশদের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ঐকমত্য (إجماع) আদায় করে নিয়েছিলেন যে, তিনি হলেন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বিচারক এবং সত্যবাদী (صادق) ও আমানতদার (أمين)। এটি তাদেরই উচ্চারিত শব্দ ছিল এবং আল্লাহ তাআলা চেয়েছিলেন যেন এটি কিয়ামত পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে একটি দলিল (حجة) হিসেবে সাব্যস্ত হয়।
আর কুরাইশ ছিল আরবদের প্রতাপশালী গোত্র। তাদের নিকট কুরাইশরা আল্লাহর হারামের বিষয়ে বিশ্বস্ত (مأمون) ছিল, যা আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণ এবং তাঁর ঘর ও হারামের প্রতি তাঁর সুরক্ষার মাধ্যমে সংরক্ষিত ছিল। বিশেষ করে হস্তীবাহিনীর ঘটনার পর; যখন সমগ্র আরবরা হাবশি আবরাহার মোকাবিলা করতে এবং বায়তুল হারামকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
حمى بيته وأهله، ولذا كانت قبائل العرب تقول: إذا دخلت قريش الإسلام دخلنا؛ لأنها قبيلة مؤيدة بتأييد الله لها، فما إن فتحت مكة حتى سمي العام التاسع من الهجرة بعام الوفود؛ لكثرة وفود العرب المسلمة.
8 -إحكام الاتصال: وهذا يعني تنظيم طرح حقائق ومضامين الاتصال، إذ إن لكل حقيقة في الإسلام حدا لا ينبغي أن تتجاوزه، والمساواة بينها في الطرح الإعلامي من أهم أسباب الاضطراب في عملية الاتصال، فالرسول صلى الله عليه وسلم في هذه الخطبة لم يتجاوز حقيقة الألوهية والعبودية، وحقيقة البعث والنشور والجزاء والحساب يوم القيامة، وما ينتظره المحسنون من الأجر والمثوبة، والمعاندون الكافرون من العذاب.
وإحكام الاتصال غاية الحكمة لذلك عرف ابن القيم الجوزية الحكمة بقوله: هي (أن يعطى كل شيء حقه، ولا تعديه حده، ولا تعجله عن وقته، ولا تؤخره عنه) ، ثم يقول: (وهذا حكم عام لجميع الأسباب مع مسبباتها شرعا وقدرا ، فإضاعتها تعطيل للحكمة بمنزلة إضاعة البذر وسقي الأرض، وتعدي الحق كسقيها فوق حاجتها، بحيث يغرق البذر والزرع ويفسد، ويعجلها عن وقتها كحصاده قبل إدراكه كماله (1) والحكمة إذا فعل ما ينبغي على الوجه الذي ينبغي في الوقت الذي ينبغي.
9 - ربط الطرح الإعلامي بمسلمات الأمة: وذلك لأن الإطار المرجعي يقوم بتمرير المعلومات والمعارف المقبولة بناء على أساس المخزون المعرفي الذي تكون نتيجة العوامل الثقافية المؤثرة على شخصية الإنسان، بالإضافة إلى قيم المرء الدينية وتقاليده الاجتماعية،
--------------------------------------------
তিনি তাঁর ঘর ও পরিবারকে রক্ষা করেছিলেন, আর এ কারণেই আরবের গোত্রগুলো বলত: "যদি কুরাইশরা ইসলাম গ্রহণ করে তবে আমরাও করব"; কারণ তারা ছিল আল্লাহর বিশেষ সাহায্যপ্রাপ্ত এক গোত্র। তাই মক্কা বিজয়ের পর হিজরি নবম বছরকে 'প্রতিনিধি দলের বছর' হিসেবে অভিহিত করা হয়; কারণ তখন মুসলিম আরব গোত্রগুলোর পক্ষ থেকে প্রচুর প্রতিনিধি দলের আগমন ঘটেছিল।
৮ -যোগাযোগের সুসংবদ্ধতা: এর অর্থ হলো যোগাযোগের সত্যতা ও বিষয়বস্তু উপস্থাপনের সুশৃঙ্খল বিন্যাস। কেননা ইসলামে প্রতিটি সত্যের একটি সীমা রয়েছে যা অতিক্রম করা অনুচিত। প্রচার মাধ্যমে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এগুলোর মধ্যে সমতা রক্ষা না করা যোগাযোগের প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই খুতবায় উলুহিয়্যাত ও উবুদিয়্যাতের স্বরূপ এবং কিয়ামতের দিন পুনরুত্থান, হাশর, প্রতিদান ও হিসাবের সত্যতা অতিক্রম করেননি। এছাড়া সৎকর্মশীলদের জন্য যে সওয়াব ও পুরস্কার এবং হঠকারী কাফেরদের জন্য যে আজাব অপেক্ষা করছে, তার বর্ণনার ক্ষেত্রেও তিনি সীমা লঙ্ঘন করেননি।
যোগাযোগের সুসংবদ্ধতাই হলো প্রজ্ঞার চূড়ান্ত লক্ষ্য। এ কারণেই ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ প্রজ্ঞার সংজ্ঞায় বলেছেন: "এটি হলো প্রত্যেক বিষয়কে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা, তার সীমা লঙ্ঘন না করা এবং একে সময়ের আগে বা পরে না করা।" অতঃপর তিনি বলেন: "এটি শরিয়ত ও তাকদিরের বিচারে যাবতীয় কারণ ও তার ফলাফলের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ বিধান। সুতরাং একে অবহেলা করা মানেই হলো প্রজ্ঞাকে অকেজো করা, যা বীজ নষ্ট করা এবং জমিতে পানি সেচ দেওয়ার সমতুল্য। আর হকের সীমা লঙ্ঘন করা হলো জমিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি সেচ দেওয়ার মতো, যার ফলে বীজ ও ফসল ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। আর সময়ের আগে তা করা হলো ফসল পূর্ণতা পাওয়ার আগেই তা কাটার মতো (১)।" প্রজ্ঞা তখনই অর্জিত হয় যখন যা করা উচিত তা যথাযথভাবে এবং যথাযথ সময়ে সম্পন্ন করা হয়।
৯ - প্রচার মাধ্যমের উপস্থাপনকে উম্মাহর স্বীকৃত বিষয়াদির সাথে সম্পৃক্ত করা: কারণ নির্দেশক কাঠামোটি মানুষের ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী সাংস্কৃতিক উপাদান এবং ব্যক্তির ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক ঐতিহ্যের ফলে সৃষ্ট অর্জিত জ্ঞানভাণ্ডারের ওপর ভিত্তি করেই গ্রহণযোগ্য তথ্য ও জ্ঞানকে সঞ্চারিত করে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
ولذلك فإنه ينبغي على القائم بالاتصال مراعاة الرواسب الفكرية والاجتماعية (1) .
التي تكون الإطار المرجعي، حتى يقرر الإطار المرجعي قبول هذه المعلومات، ومن ثم تمثلها واختزانها، لتكون نظاما معرفيا، يحكم مواقفه وسلوكه (2) .
وقد جاءت دلالة الطرح الإعلامي بالمسلمات العقلية والفكرية والاجتماعية عندما بدأ الرسول صلى الله عليه وسلم خطبة الصفا بقوله:
" يا صباحاه "، وهذا الهاتف له دلالة في مجتمع القبائل والعشائر التي يغير بعضها على بعض لأتفه الأسباب، هذه الكلمة تعني: الجيش صبحكم أو مساكم.
" يا بني فلان، يا بني فلان " يدعو العشائر القرشية بأحب الأسماء إليها، وبما تعارفوا عليه في مجتمعهم، ليثير فيهم النخوة والحمية.
ثم يوجه لهم الخطاب والطرح الإعلامي من خلال مسلمة في أدمغتهم، وحتى يلزمهم بالحجة العقلية بدأ بسؤالهم: «أرأيتكم لو أخبرتكم أن خيلا تخرج بسفح هذا الجبل أكنتم مصدقي؟ " قالوا: ما جربنا عليك كذبا. قال: " فإني نذير لكم بين يدي عذاب شديد ".»
فما تفوه أحد بكلمة إلا من سبقت عليه الشقاوة في الدنيا والآخرة أبو لهب عليه لعائن الله.
10 - التكرار والملاحقة: هذه الدلالة تؤكد على أسلوب من أساليب الإعلام وهو التكرر
--------------------------------------------
অতএব, তথ্য আদান-প্রদানকারীর জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক অবশিষ্টাংশ বা পূর্বলব্ধ ধারণাগুলোর (১) প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত।
যা একটি আদর্শ কাঠামো গঠন করে, যতক্ষণ না সেই কাঠামো এই তথ্যগুলো গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরবর্তীতে সেগুলোকে আত্মস্থ ও সঞ্চিত করে একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যবস্থা গঠন করে, যা তার অবস্থান ও আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে (২)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সাফা পাহাড়ের ভাষণটি শুরু করেছিলেন, তখন যৌক্তিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সামাজিক স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রচারণামূলক উপস্থাপনার তাৎপর্য ফুটে উঠেছিল। তিনি বলেছিলেন:
"ইয়া সাবাহাহ" (হে প্রভাতকালীন বিপদ!), আর এই আহ্বানটি সেইসব গোত্র ও বংশীয় সমাজে একটি বিশেষ অর্থ বহন করত যেখানে তুচ্ছ কারণে একে অপরের ওপর আক্রমণ করা হতো। এই শব্দটির অর্থ হলো: শত্রুবাহিনী সকালে বা সন্ধ্যায় তোমাদের ওপর আক্রমণ করতে যাচ্ছে।
"হে অমুকের বংশধরেরা, হে অমুকের বংশধরেরা" - তিনি কুরাইশ বংশের শাখাগুলোকে তাদের সবচেয়ে প্রিয় নামে ডাকছিলেন, যে নামে তারা তাদের সমাজে পরিচিত ছিল, যাতে তাদের মধ্যে আভিজাত্যবোধ ও আত্মমর্যাদা জাগ্রত হয়।
অতঃপর তিনি তাদের চিন্তা-চেতনার একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ের মাধ্যমে তাদের প্রতি সম্বোধন ও প্রচারণামূলক বক্তব্য পেশ করেন। এমনকি তাদের ওপর যৌক্তিক প্রমাণ সাব্যস্ত করার জন্য তিনি এই প্রশ্ন দিয়ে শুরু করেন: «"তোমাদের কী অভিমত, আমি যদি তোমাদের বলি যে এই পাহাড়ের পাদদেশ থেকে একটি অশ্বারোহী বাহিনী বের হয়ে আসছে, তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে?" তারা বলল: "আমরা আপনার ক্ষেত্রে কখনও মিথ্যা (كذب) খুঁজে পাইনি।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি এক ভয়াবহ আজাবের পূর্বে তোমাদের জন্য সতর্ককারী।"»
তখন কেউ কোনো কথা বলেনি, কেবল সে ব্যক্তি ছাড়া যার ভাগ্যে দুনিয়া ও আখিরাতে দুর্ভাগ্য অবধারিত ছিল—সে হলো আবু লাহাব, যার ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক।
১০ - পুনরাবৃত্তি ও অনুধাবন: এই তাৎপর্যটি প্রচারমাধ্যমের অন্যতম পদ্ধতি 'পুনরাবৃত্তি'র গুরুত্বকে জোরালো করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
الذي يساعد العمل الإعلامي على الانتشار بين الجماهير، ويعد من أجدى الأساليب الإعلامية، وأكثرها فاعلية في تغيير اتجاهات الرأي العام (1) .
إذا أتقنه القائم بالاتصال، وأخذ في اعتباره الأوقات التي يتم فيها التكرار، والوسائل الإعلامية الملائمة، والظروف المرتبطة بها، والسوابق الإعلامية، والتأثير الممكن حدوثه.
وتزداد أهمية هذا الأسلوب في الإعلام الإسلامي؛ لأنه احتفى به القرآن الكريم احتفاء عظيما، لما له من الأثر النفسي في تثبيت المعنى وتقريره، حتى يصبح عقيدة راسخة.
يقول صاحب تفسير الكشاف عند تعليقه على أسلوب التكرار وبيان أثره في النفس الإنسانية عند تفسير قول الله تعالى: {اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُتَشَابِهًا مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ} [الزمر: 23] (2) (مثاني) بيان لكونه متشابها؛ لأن القصص المكرورة لا تكون إلا متشابهة والمثاني جمع مثنى، مردد ومكرر لما ثنى من قصصه وأنبائه في أحكامه وأوامره ونواهيه ووعده ووعيده ومواعظه ثم قال فإن قلت: ما فائدة التثنية التكرير؟ قلت: النفوس أنفر شيء عن حديث الوعظ والنصيحة فما لم يكرر عليها عودا على بدء لم يرسخ فيها ولم يعمل عمله
--------------------------------------------
যা প্রচার মাধ্যম বা মিডিয়া কর্মকাণ্ডকে জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে এবং একে প্রচার পদ্ধতির অন্যতম ফলপ্রসূ ও জনমত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করা হয় (১)।
যদি যোগাযোগকারী বা তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তি এটি নিখুঁতভাবে পরিচালনা করেন এবং পুনরাবৃত্তির সময়সমূহ, উপযুক্ত প্রচার মাধ্যম, সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি, পূর্ববর্তী প্রচারকার্যের ইতিহাস এবং সম্ভাব্য প্রভাবকে বিবেচনায় রাখেন।
ইসলামি প্রচার মাধ্যমে এই পদ্ধতির গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়; কারণ কুরআন মজিদ একে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে। এর কারণ হলো অর্থের দৃঢ়তা ও তা সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে এর মানসিক প্রভাব অত্যন্ত গভীর, যা শেষ পর্যন্ত একটি অবিচল সুদৃঢ় বিশ্বাসে পরিণত হয়।
তাফসিরে কাশশাফ-এর লেখক আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যায় পুনরাবৃত্তি পদ্ধতির গুরুত্ব এবং মানব মনে এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: {আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন সর্বোত্তম হাদিস, যা একটি কিতাব, সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابه), বারবার পঠিত (مثاني); এতে তাদের চামড়া শিহরিত হয় যারা তাদের রবকে ভয় করে} [সুরা আজ-জুমার: ২৩] (২)। 'বারবার পঠিত (مثاني)' শব্দটি কিতাবটি 'সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابه)' হওয়ারই একটি বর্ণনা; কেননা পুনরাবৃত্ত কাহিনীগুলো কেবল সাদৃশ্যপূর্ণই হয়ে থাকে। আর 'মাসানি' হলো 'মাসনা'-এর বহুবচন, যার অর্থ বারবার আবৃত ও পুনরাবৃত্ত; যা এর কাহিনী, সংবাদ, বিধিবিধান, আদেশ-নিষেধ, প্রতিশ্রুতি, ধমকি এবং উপদেশগুলোর মধ্য থেকে বারবার বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর তিনি বলেন: যদি প্রশ্ন করা হয়, পুনরাবৃত্তির উপকারিতা কী? আমি উত্তরে বলব: নফস বা মন উপদেশ ও নসিহতের হাদিস থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে থাকতে চায়; তাই যতক্ষণ পর্যন্ত বারবার সেটি বলা না হয়, ততক্ষণ তা অন্তরে বদ্ধমূল হয় না এবং আপন কাজ সম্পন্ন করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومن ثم كانت عادة الرسول صلى الله عليه وسلم أن يكرر عليهم ما كان يعظ به وينصح (1) .
ومما يؤكد هذا الأسلوب الفعال أن خطبة الصفا جاءت بأكثر من رواية، وهذا يعني أنها كررت في أوقات متعاقبة لاعتبارات ترتبط بالظرف الاتصالي جملة، فالتكرار المتنوع على هذه الصورة هو جوهر الفاعلية المطلوبة لكل رسالة إعلامية.
11 - المسؤولية الإعلامية ودرجاتها: هذه الدلالة يؤكدها الانتقال من الإنذار العام إلى إنذار عشيرة الرسول صلى الله عليه وسلم وذوي قرباه وكان من الممكن الاكتفاء بعموم الأمر الأول في قول الله تعالى: {فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ} [الحجر: 94] (2) فما الحكمة من خصوصية الأمر بإنذار العشيرة؟
الحقيقة أن في هذا الانتقال إلماحا إلى درجات المسؤولية التي تقع على عاتق رجل الاتصال في الإعلام الإسلامي.
فأدنى درجات المسؤولية هي المسؤولية الشخصية وهي مسؤولية الرسول صلى الله عليه وسلم عن نفسه، وإعدادها لهذا العمل العظيم، ومن أجل ذلك استمرت فترة ابتداء الوحي تلك المدة الطويلة، ريثما يطمئن الرسول صلى الله عليه وسلم إلى أنه نبي مرسل، وأن ما ينزل عليه هو وحي من الله عز وجل، فيؤمن أولا ويوطن ذاته على حمل حقائق الإسلام وقيمه للناس، فالعلم النافع قاعدة العمل الصالح ، قال الله تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ} [محمد: 19] (3) .
ومن هنا فإن رجل الاتصال الحر لا بد أن يكون على علم بما يقدمه
--------------------------------------------
সেজন্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অভ্যাস ছিল যে, তিনি যা উপদেশ ও নসীহত করতেন তা তাদের সামনে পুনরাবৃত্তি করতেন (১)।
এই কার্যকর পদ্ধতির সপক্ষে একটি বলিষ্ঠ প্রমাণ হলো সাফা পাহাড়ের খুতবাটি একাধিক বর্ণনা (رواية)-র মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এর অর্থ হলো, যোগাযোগের পারিপার্শ্বিক অবস্থার সামগ্রিক বিবেচনার প্রেক্ষিতে এটি বিভিন্ন সময়ে ধারাবাহিকভাবে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। সুতরাং, এই ধরণের বৈচিত্র্যময় পুনরাবৃত্তিই হলো প্রতিটি প্রচারমূলক বার্তার কাঙ্ক্ষিত কার্যকারিতার মূল ভিত্তি।
১১ - প্রচারণামূলক দায়বদ্ধতা ও এর স্তরসমূহ: এই তাৎপর্যটি সাধারণ সতর্কবাণী থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকটাত্মীয় ও গোত্রকে সতর্ক করার দিকে স্থানান্তরের মাধ্যমে সুনিশ্চিত হয়। মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা প্রকাশ্য প্রচার করুন এবং মুশরিকদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন} [সূরা হিজর: ৯৪] (২) - এই প্রথম সাধারণ নির্দেশের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা সম্ভব ছিল। তবে বিশেষভাবে নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করার নির্দেশের পেছনে হিকমত কী ছিল?
প্রকৃতপক্ষে, এই পরিবর্তনের মধ্যে ইসলামি প্রচারকার্যে নিয়োজিত একজন যোগাযোগকারীর ওপর অর্পিত দায়বদ্ধতার বিভিন্ন স্তরের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।
দায়বদ্ধতার সর্বনিম্ন স্তর হলো ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা। আর এটি হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিজের সত্তার প্রতি দায়িত্ব এবং এই মহান কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। এই উদ্দেশ্যেই ওহী শুরুর প্রাথমিক পর্যায়টি একটি দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল, যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বিষয়ে পূর্ণ আশ্বস্ত হতে পারেন যে, তিনি একজন প্রেরিত (مرسل) নবী এবং তাঁর ওপর যা অবতীর্ণ হচ্ছে তা মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে আসা ওহী। ফলে তিনি প্রথমে নিজে ঈমান আনেন এবং ইসলামের সত্য ও মূল্যবোধ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিজের সত্তাকে প্রস্তুত করেন। কেননা উপকারী জ্ঞানই হলো সৎকর্মের মূল ভিত্তি। মহান আল্লাহ বলেন: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আপনার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন} [সূরা মুহাম্মদ: ১৯] (৩)।
এখান থেকে প্রতীয়মান হয় যে, একজন স্বাধীন যোগাযোগকারীকে অবশ্যই তিনি যা উপস্থাপন করছেন সে সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
من معلومات وأفكار حتى يستطيع أن يؤثر في الناس.
الدرجة الثانية من درجات المسؤولية هي مسؤولية الإنسان تجاه أهله وعشيرته الذين يلوذون به للقيام بحق هذه المسؤولية، خص الله تعالى الأقارب بضرورة الإنذار والتبليغ بعد أن أمر بعموم التبليغ والجهر به - وليس من فرق في مضامين دعوة الرسول صلى الله عليه وسلم ودعوة رجال الاتصال في الإسلام إلا أن الرسول صلى الله عليه وسلم يدعو إلى شرع جديد نزل عليه.
ورجل الإعلام الإسلامي يدعو أهله وعشيرته الأقربين بدعوة الرسول الذي بعث إليه، فهو يبلغ عنه ويدعو بدعوته وينطق بلسانه، وكما أنه لا يجوز للنبي أو الرسول أن يقعد عن تبليغ الناس ما أوحي إليه، فكذلك لا يجوز لرجال الإعلام الإسلامي والدعاة المخلصين أن يقعدوا عن إنذار قومهم ، بل يجب إقناعهم بالإسلام وحملهم عليه وإلزامهم به.
أما الدرجة الثالثة فهي مسؤولية رجل الاتصال الإسلامي في مسؤولية رجل الاتصال في الإسلام تجاه الإنسانية بهدف إنقاذ أكبر عدد ممكن من البشرية من النار، رحمة بهم ووفاء بالأمانة وأداء لواجب البلاغ المبين، وهذه المسؤولية كان يضطلع بها الرسول صلى الله عليه وسلم انطلاقا من قول الله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} [سبأ: 28] (1) وقال الله تعالى {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 107] (2) .
وانطلاقا من هذه المسؤولية فإن وسائل الإعلام في المجتمع المسلم ينبغي أن تحسن الخطاب الإعلامي لأمة الدعوة فتصمم برامج على أسس علمية دقيقة تقنع الناس وتكفل الاستجابة لها وذلك عندما تراعي خصائص المجتمعات التي توجه لها الرسالة وخلفياتها الفكرية والاجتماعية
--------------------------------------------
বিভিন্ন তথ্য ও চিন্তাধারা থেকে যাতে তিনি মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।
দায়িত্বের দ্বিতীয় স্তর হলো নিজের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি ব্যক্তির দায়িত্ব, যারা এই দায়িত্ব পালনের হক আদায়ের জন্য তার ওপর নির্ভর করে। মহান আল্লাহ তায়ালা সাধারণভাবে প্রচার (تبليغ) এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশের নির্দেশ দেওয়ার পর নিকটাত্মীয়দের সতর্কীকরণ (إنذار) ও প্রচারের (تبليغ) প্রয়োজনীয়তাকে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতের বিষয়বস্তু এবং ইসলামের যোগাযোগ মাধ্যম বা প্রচার কর্মীদের দাওয়াতের মধ্যে পার্থক্য কেবল এতটুকু যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ওপর অবতীর্ণ একটি নতুন শরিয়তের দিকে মানুষকে আহ্বান জানাতেন।
আর ইসলামের গণমাধ্যম কর্মী তার নিকটাত্মীয় ও পরিবারকে সেই রাসুলের দাওয়াতের মাধ্যমেই আহ্বান জানান যাকে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি তাঁর পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছান, তাঁর দাওয়াতের প্রতি আহ্বান জানান এবং তাঁর ভাষাতেই কথা বলেন। যেভাবে কোনো নবী বা রাসুলের জন্য তাঁর প্রতি প্রত্যাদিষ্ট ওহি (وحي) মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া (تبليغ) থেকে বিরত থাকা বৈধ নয়, ঠিক তেমনিভাবে ইসলামী গণমাধ্যম কর্মী ও একনিষ্ঠ দাঈদের জন্য তাদের কওমকে সতর্ক করার (إنذار) কাজ থেকে বিরত থাকা বৈধ নয়। বরং তাদেরকে ইসলামের ব্যাপারে আশ্বস্ত করা, তা গ্রহণে অনুপ্রাণিত করা এবং এর প্রতি অনুগত করা আবশ্যক।
পক্ষান্তরে তৃতীয় স্তরটি হলো মানবতার প্রতি ইসলামের যোগাযোগ কর্মীর দায়িত্ব, যার লক্ষ্য হলো মানবজাতির বৃহত্তম অংশকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা—তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শনস্বরূপ, আমানতের বিশ্বস্ততা রক্ষা এবং সুস্পষ্ট প্রচারের (البلاغ المبين) ওয়াজিব পালনের লক্ষে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহর এই বাণীর আলোকে এই দায়িত্ব সম্পাদন করতেন: {আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী (نذير) হিসেবে পাঠিয়েছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না} [সাবা: ২৮] (১) এবং আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: {আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই পাঠিয়েছি} [আল-আম্বিয়া: ১০৭] (২)।
এই দায়িত্ববোধ থেকেই মুসলিম সমাজের গণমাধ্যমগুলোর উচিত দাওয়াতের উম্মতের (أمة الدعوة) প্রতি তাদের প্রচার কৌশলকে উন্নত করা এবং এমন সব সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর অনুষ্ঠানমালা সাজানো যা মানুষকে আশ্বস্ত করবে এবং সেগুলোর প্রতি সাড়াদান নিশ্চিত করবে। আর এটি তখনই সম্ভব যখন তারা যে সমাজের উদ্দেশ্যে বার্তাটি প্রেরণ করছে, তাদের বৈশিষ্ট্য এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
انطلاقا من هدي النبي صلى الله عليه وسلم في خطبة الصفا.
12 - المكاشفة والمصارحة في الطرح الإعلامي: هذه الدلالة تؤكدها نصوص خطبة الصفا جميعها، فقد صدع الرسول صلى الله عليه وسلم بحقيقة الألوهية وحقيقة الإنسان وحقيقة الدين وحقيقة ما عليه ذلك المجتمع الجاهلي من خلال ما عاب على قومه أن يأسروا أنفسهم للتقاليد الموروثة عن آبائهم وأجدادهم دون تفكير ودون تحرير لعقولهم من أسر الاتباع الأعمى لجاذبية تلك المواريث التي لا تقوم على الفكر والمنطق السليم.
لقد كانت هذه الخطبة غاية في مفاصلة القوم على المبدأ كما كانت غاية في البلاغ، إذ لم تكن طريقا أقصر من هذا البيان وأوضح وأبين، فقد أوضح لأقرب الناس إليه أن التصديق برسالة الإسلام هو أس الصلة، والرابطة الحقة بين النبي صلى الله عليه وسلم وبين قومه، بل وبينه وبين أقرب الناس إليه. والمكاشفة بالحقائق من مبادئ الإعلام الإسلامي؛ لأن الإعلام الذي ينطلق من هدي النبي صلى الله عليه وسلم لا يبالي فيما يدعو إليه وفي طريق تعامله مع الناس بالمصلحة الآنية ولا المكاسب السياسية المرحلية، ولا يهتم بتحقيق أغراض وأعراض دنيوية طارئة، فيتنازل وينادي بنصف الحقيقة ويوافق على إجراء أي تسوية أو تأييد مشروط؛ لأنه الإعلام الهادف إلى نشر عقيدة التوحيد الملتزم بالأوامر والنواهي الموصول بها، لا يقول إلا الحق ولا يهدف إلا إلى إظهار دين الحق في الأرض. من أجل ذلك كله تميز الإعلام الإسلامي في عهود الحضارة الإسلامية الزاهرة بالوضوح والصراحة والواقعية دون مراعاة لمصلحة فرد أو فئة من الناس؛ لأن مصير المجتمع الذي يبنيه الإعلام الإسلامي لا تقرره حماية فرد أو فئة مهما عظم شأنها، كل ذلك بفضل القاعدة الأساس التي ينطلق منها وهي عقيدة الإيمان بالله الواحد الأحد التي حررت الإنسان من أنواع العبودية لغير الله وجاذبية الأعراف الجاهلية.
সাফা পর্বতের খুৎবায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেদায়েতের আলোকে।
12 - গণমাধ্যম উপস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও স্পষ্টবাদিতা: এই নির্দেশনাটি (دلالة) সাফা পর্বতের খুৎবার সকল পাঠ্য (نصوص) দ্বারা সমর্থিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উলুহিয়াত (ইলাহ হিসেবে আল্লাহর একত্ববাদ) এর স্বরূপ, মানুষের বাস্তবতা, দ্বীনের স্বরূপ এবং তৎকালিন জাহেলি সমাজের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। তিনি তাঁর কওমের লোকদের এই বলে নিন্দা করেছেন যে, তারা যৌক্তিক চিন্তাভাবনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তি ছাড়াই তাদের পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত প্রথাগুলোর অন্ধ অনুকরণের মোহে নিজেদের বন্দি করে রেখেছে, যা সঠিক চিন্তাধারা বা সুস্থ যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়।
এই খুৎবাটি যেমন আদর্শিক ভিত্তিতে সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ছিল, তেমনি প্রচারের ক্ষেত্রেও ছিল সর্বোচ্চ। কেননা সত্য বর্ণনার জন্য এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল কোনো পথ হতে পারত না। তিনি তাঁর নিকটতম ব্যক্তিদের কাছেও স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছিলেন যে, ইসলামের রিসালাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনই হলো সম্পর্কের মূল ভিত্তি এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর কওম, এমনকি তাঁর নিকটতম আত্মীয়দের সাথেও এটিই হলো প্রকৃত বন্ধন। আর সত্যের অকপট প্রকাশ ইসলামি গণমাধ্যমের অন্যতম মূলনীতি; কারণ যে গণমাধ্যম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেদায়েতের আলোকে পরিচালিত হয়, তা মানুষকে দাওয়াত প্রদানের ক্ষেত্রে এবং তাদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে কোনো তাৎক্ষণিক স্বার্থ বা সাময়িক রাজনৈতিক লাভের তোয়াক্কা করে না। এটি কোনো আপৎকালীন পার্থিব উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হাসিলের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না, যার জন্য সত্যকে আংশিক প্রকাশ করতে হয় কিংবা কোনো শর্তযুক্ত আপোষ বা সমর্থন করতে হয়। কারণ, এটি এমন এক গণমাধ্যম যার মূল লক্ষ্য হলো তাওহীদের আকিদা প্রচার করা এবং যা যাবতীয় আদেশ ও নিষেধের প্রতি দায়বদ্ধ। এটি সত্য ব্যতীত অন্য কিছু বলে না এবং পৃথিবীতে সত্য দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করা ছাড়া অন্য কোনো লক্ষ্য রাখে না। এই সকল কারণেই ইসলামি সভ্যতার সোনালী যুগে ইসলামি গণমাধ্যম কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের তোয়াক্কা না করে স্পষ্টতা, অকপটতা ও বাস্তববাদিতার গুণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। কারণ ইসলামি গণমাধ্যম যে সমাজ বিনির্মাণ করে, তার ভবিষ্যৎ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুরক্ষার ওপর নির্ভর করে না, তারা যতই মর্যাদাশীল হোক না কেন। এর সবকিছুই সম্ভব হয়েছে সেই মৌলিক ভিত্তির কারণে যা থেকে এটি উৎসারিত, আর তা হলো এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি ঈমানের আকিদা, যা মানুষকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছুর দাসত্ব এবং জাহেলি রীতিনীতির মোহ থেকে মুক্তি দান করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
13 - أسلوب حسن العرض وفن الصياغة: هذه الدلالة تؤكدها نصوص هذه الخطبة جميعها فالرسول صلى الله عليه وسلم لم يبتكر جديدا في ألفاظ اللغة العربية، ولكن الأمر أمر حسن الاختيار في تلك الألفاظ والأوضاع أيها أحق بالأخذ لتأدية الغرض، سواء بالنسبة للألفاظ المفردة باعتبارها اللبنات التي تصاغ منها الجمل، أو طريقة تركيب الجمل وصياغة العبارة، فقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يتخير أشرف المواد وأمسها رحما بالمعنى المراد، ويضع كل لفظ في موضعه الذي هو أحق به.
وأسلوب العرض الجيد لا تخفى أهميته على المنظرين للفلسفة الإعلامية والعاملين في حقل الإعلام، كما أن هناك بعضا من رجال الاتصال والدعاة إلى الله أهملوا قضية أسلوب الصياغة وطرحوه جانبا، وانطلقوا يقدمون ما يحفظون من نصوص للناس، فأخفق الاتصال بالناس، ونفروا الناس بأسلوبهم السيئ، وخالفوا هدي النبي صلى الله عليه وسلم في استخدام بلاغة القول وفن صياغة الرسالة الاتصالية لإقناع الناس بمبادئ الإسلام وقيمه.
[الدلالات والمعاني الإعلامية في أول خطبة جمعة للرسول صلى الله عليه] وسلم في المدينة المنورة
১৩ - চমৎকার উপস্থাপনা শৈলী এবং রচনার নৈপুণ্য: এই তাৎপর্যটি এই খুতবার সকল পাঠের মাধ্যমে সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবি ভাষার শব্দাবলীতে নতুন কিছু উদ্ভাবন করেননি, বরং বিষয়টি ছিল উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সেই শব্দ ও বিন্যাসগুলোর যথাযথ নির্বাচন, যা গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বাধিক উপযোগী। চাই সেটি একক শব্দসমূহের ক্ষেত্রে হোক যা বাক্য গঠনের মূল উপাদান, কিংবা বাক্য বিন্যাস ও বাক্যাংশ রচনার পদ্ধতির ক্ষেত্রে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে মার্জিত এবং উদ্দিষ্ট অর্থের সাথে নিবিড়তম সম্পর্কযুক্ত শব্দসমূহ নির্বাচন করতেন এবং প্রতিটি শব্দকে তার যথাযোগ্য স্থানে স্থাপন করতেন।
উত্তম উপস্থাপনা শৈলীর গুরুত্ব গণমাধ্যম দর্শনের তাত্ত্বিক এবং এই ক্ষেত্রে নিয়োজিত কর্মীদের কাছে অস্পষ্ট নয়। তবে একদল যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং আল্লাহর পথে আহ্বানকারী দাঈগণ রচনার শৈলী বা বাক্য গঠনের বিষয়টিকে অবহেলা করেছেন এবং একে উপেক্ষা করেছেন। তারা মানুষের কাছে কেবল তাদের মুখস্থ করা পাঠসমূহ উপস্থাপন করতে শুরু করেন, ফলে তারা মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হন এবং তাদের ত্রুটিপূর্ণ শৈলীর মাধ্যমে মানুষকে বিতশ্রদ্ধ করে তোলেন। তারা ইসলামের আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতি মানুষকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাকপটুতা এবং যোগাযোগের বার্তার শৈল্পিক বিন্যাস ব্যবহারের নির্দেশনার বিরুদ্ধাচরণ করেছেন।
[মদিনা মুনাওয়ারায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি-এর প্রথম জুমার খুতবায় গণমাধ্যম সংক্রান্ত তাৎপর্য ও অর্থসমূহ] ওয়াসাল্লাম মদিনা মুনাওয়ারায়
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث الثاني
الدلالات والمعاني الإعلامية في أول خطبة
جمعة للرسول صلى الله عليه وسلم في المدينة المنورة - روايات الخطبة.
- الدلالات والمعاني الإعلامية في هذه الخطبة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
প্রথম খুতবায় বিদ্যমান প্রচারণামূলক তাৎপর্য ও অর্থসমূহ
মদিনা মুনাওয়ারায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুমার খুতবা - খুতবার বর্ণনাপরম্পরা (روايات)।
- এই খুতবার প্রচারণামূলক তাৎপর্য ও অর্থসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
روايات أول خطبة جمعة للرسول صلى الله عليه وسلم في المدينة المنورة لقد كانت الهجرة النبوية فتحا عظيما للدعوة الإسلامية، كما كانت نقلة كبيرة للإعلام النبوي؛ حيث تعد هذه الخطبة قاعدة لإعلام جماعة المسلمين في مجتمع قائم وشريعة مطبقة، ولذا فإن هذه الخطبة هي في الحقيقة نموذج لشكل من أشكال الاتصال في المجتمع الإسلامي، وهو الاتصال الجمعي؛ حيث يخاطب القائم بالاتصال جماعة من المسلمين متجانسة عقيدتها واحدة وإيمانها واحد وقيمها السائدة ومعاييرها وأفكارها متجانسة، ولذلك فإن الطرح الإعلامي سيأتي بلا شك مختلفا عن متطلبات خطبة الصفا التي كانت الخطبة فيها موجهة إلى القوم والعشيرة من أمة الدعوة ، وليس لأهل الرابطة الإيمانية.
روى ابن كثير عن ابن جرير قال حدثني يونس بن عبد الأعلى، أخبرنا ابن وهب عن سعيد بن عبد الرحمن، أنه بلغه عن خطبة النبي صلى الله عليه وسلم في أول جمعة صلاها بالمدينة في بني سالم بن عون رضي الله عنهم: «الحمد لله أحمده وأستعينه وأستغفره وأستهديه، وأومن به ولا أكفره وأعادي من يكفره، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأن محمدا عبده ورسوله، أرسله بالهدى ودين الحق والنور والموعظة، على فترة من الرسل ، وقلة من العلم، وضلالة من الناس، [وانقطاع من الزمان] ، ودنو من الساعة ، وقرب من الأجل، من يطع الله ورسوله فقد رشد، ومن يعصهما فقد غوى وفرط وضل ضلالا بعيدا، وأوصيكم بتقوى الله، فإنه خير ما أوصى به المسلم المسلم أن يحضه على الآخرة، وأن يأمره بتقوى الله. فاحذروا ما حذركم الله من
মদিনা মুনাওয়ারায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রথম জুমার খুতবার বর্ণনা (رواية) সমূহ: নবুয়তি হিজরত ছিল ইসলামি দাওয়াতের ক্ষেত্রে এক মহান বিজয়, তেমনি এটি ছিল নববীয় প্রচারশৈলীর ক্ষেত্রে এক বিরাট রূপান্তর; যেখানে এই খুতবাটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সমাজ ও বাস্তবায়িত শরিয়তের অধীনে মুসলিম জামাতের প্রচারকার্যের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। অতএব, এই খুতবাটি প্রকৃতপক্ষে ইসলামি সমাজে যোগাযোগের এক বিশেষ রূপের নিদর্শন, যা হলো সামষ্টিক যোগাযোগ; যেখানে সম্বোধনকারী এমন এক মুসলিম গোষ্ঠীর সাথে কথা বলেন যারা সমজাতীয়, যাদের আকিদা এক, ঈমান এক এবং যাদের প্রচলিত মূল্যবোধ, মানদণ্ড ও চিন্তা-ভাবনা অভিন্ন। সে কারণে, এর প্রচারশৈলী নিঃসন্দেহে সাফা পাহাড়ের খুতবার চাহিদা থেকে ভিন্ন হবে, যেখানে খুতবাটি দাওয়াতের উম্মত অর্থাৎ স্বজাতি ও গোত্রের প্রতি নির্দেশিত ছিল, ইমানি বন্ধনে আবদ্ধ লোকদের প্রতি নয়।
ইবনে কাসির ইবনে জারির থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثني), ইবনে ওয়াহাব সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) যে, মদিনায় বনু সালিম বিন আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর পল্লীতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদায়কৃত প্রথম জুমার খুতবা সম্পর্কে তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছেছে (بلغة): «সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমি তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে হেদায়েত কামনা করি। আমি তাঁর ওপর ঈমান আনি এবং তাঁকে অস্বীকার করি না। আর যে তাঁকে অস্বীকার করে, আমি তার সাথে শত্রুতা পোষণ করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। তিনি তাঁকে হেদায়েত, সত্য দ্বীন, আলো ও সদুপদেশসহ প্রেরণ করেছেন এমন এক সময়ে যখন রাসুলগণের আগমন দীর্ঘকাল বন্ধ ছিল, ইলমের স্বল্পতা ছিল, মানুষ গোমরাহিতে লিপ্ত ছিল, [কাল অতিক্রান্ত হয়েছিল], কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছিল এবং মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছিল। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, সে সঠিক পথ প্রাপ্ত হবে। আর যে তাদের অবাধ্য হবে, সে পথভ্রষ্ট হবে, সীমালঙ্ঘন করবে এবং সুদূর বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হবে। আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের অসিয়ত করছি। কেননা একজন মুসলিম অপর মুসলিমকে যে বিষয়ে অসিয়ত করতে পারে, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো তাকে আখেরাতের প্রতি উৎসাহিত করা এবং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের আদেশ দেওয়া। অতএব আল্লাহ তোমাদের যা থেকে সতর্ক করেছেন, তোমরা তা থেকে সতর্ক থাকো...
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
نفسه، ولا أفضل من ذلك نصيحة ولا أفضل من ذلك ذكرى، وإنه لتقوى لمن عمل به على وجل وفخامة، وعون وصدق على ما تبتغون من أمر الآخرة، ومن يصلح الذي بينه وبين الله من أمر السر والعلانية لا ينوي بذلك إلا وجه الله يكن له ذخرا في عاجل أمره وذخرا فيما بعد الموت حين يفتقر المرء إلى ما قدم، وما كان من سوء يود لو أن بينه وبينه أمدا بعيدا، {وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ} [آل عمران: 30] (1) هو الذي صدق قوله وأنجز وعده، لا خلف لذلك فإنه يقول تعالى: {مَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ وَمَا أَنَا بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ} [ق: 29] (2) واتقوا الله في عاجل أمركم وآجله، في السر والعلانية إنه {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا} [الطلاق: 5] (3) {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 71] (4) وأن تقوى الله توقي مقته، وتوقي عقوبته، وتوقي سخطه، وإن تقوى الله تبيض الوجه، وترضي الرب، وترفع الدرجة.
خذوا بحظكم، ولا تفرطوا في جنب الله ، قد علمكم الله كتابه، ونهج لكم سبيله، ليعلم الذين صدقوا ويعلم الكاذبين ، فأحسنوا كما أحسن الله إليكم، وعادوا أعداءه وجاهدوا في الله حق جهاده، هو اجتباكم وسماكم المسلمين، ليهلك من هلك عن بينة، ويحيا من حي عن بينة ، ولا قوة إلا بالله فأكثروا ذكر الله، واعملوا لما بعد الموت، إنه من أصلح ما بينه وبين الله يكفه ما بينه وبين الناس، ذلك بأن الله يقضي على الناس ولا يقضون عليه، ويملك من الناس ولا يملكون منه، الله أكبر ولا قوة إلا بالله العلي العظيم» (5) .
--------------------------------------------
আল্লাহ নিজে, আর এর চেয়ে উত্তম কোনো উপদেশ নেই এবং এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো স্মারক নেই। নিশ্চয়ই এটি সেই ব্যক্তির জন্য তাকওয়া ও পাথেয়, যে ব্যক্তি মহানুভবতা ও শঙ্কার সাথে আমল করে। আর তোমরা আখেরাতের যে বিষয় অনুসন্ধান করছ, তার জন্য এটি এক মহান সাহায্য ও সত্যতা। যে ব্যক্তি গোপন ও প্রকাশ্য যাবতীয় বিষয়ে নিজের ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করে নেয় এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোনো নিয়ত রাখে না, তবে তা তার জন্য ইহকালীন জীবনে সঞ্চয় এবং মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য সম্পদ হয়ে থাকবে; যখন মানুষ তার কৃতকর্মের মুখাপেক্ষী হবে। আর মানুষ তার মন্দ কাজগুলো থেকে বাঁচতে চাইবে এবং কামনা করবে যদি তার ও সেই মন্দ কাজের মধ্যে এক সুদীর্ঘ দূরত্ব থাকত! {আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের ব্যাপারে সতর্ক করছেন এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু} [সূরা আল-ইমরান: ৩০]। তিনি সেই সত্তা, যিনি তাঁর কথাকে সত্য করেছেন এবং তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, এর কোনো ব্যতিক্রম নেই। কেননা মহান আল্লাহ বলেন: {আমার কাছে কথা রদবদল হয় না এবং আমি বান্দাদের প্রতি জুলুমকারী নই} [সূরা ক্বাফ: ২৯]। তোমরা তোমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের এবং গোপন ও প্রকাশ্য সকল বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা {যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার পাপসমূহ মোচন করে দেন এবং তার পুরস্কারকে মহান করে দেন} [সূরা আত-ত্বলাক: ৫]। {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য লাভ করবে} [সূরা আল-আহজাব: ৭১]। আল্লাহর তাকওয়া তাঁর ক্রোধ থেকে রক্ষা করে, তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচায় এবং তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে নিরাপত্তা দান করে। নিশ্চয়ই আল্লাহর তাকওয়া চেহারাকে উজ্জ্বল করে, প্রভুকে সন্তুষ্ট করে এবং মর্যাদাকে উন্নত করে।
তোমরা তোমাদের প্রাপ্য অংশ গ্রহণ করো এবং আল্লাহর হকের ব্যাপারে অবহেলা করো না। আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর কিতাব শিক্ষা দিয়েছেন এবং তোমাদের জন্য তাঁর পথ স্পষ্ট করেছেন, যাতে তিনি সত্যবাদীদের চিনে নেন এবং মিথ্যাবাদীদেরও জেনে নেন। সুতরাং তোমরা সদাচরণ করো যেমন আল্লাহ তোমাদের প্রতি সদাচরণ করেছেন এবং তাঁর শত্রুদের সাথে শত্রুতা পোষণ করো। আল্লাহর পথে জিহাদ করার প্রকৃত হক আদায় করো। তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন এবং তোমাদের নাম রেখেছেন 'মুসলিম', যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই জীবিত থাকে। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই, সুতরাং তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো এবং মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য আমল করো। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি নিজের ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করে নেয়, মানুষের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়ে আল্লাহই যথেষ্ট হন। কারণ আল্লাহ মানুষের ওপর ফয়সালা করেন কিন্তু মানুষ আল্লাহর ওপর ফয়সালা করতে পারে না; তিনি মানুষের ওপর কর্তৃত্ব করেন কিন্তু মানুষ তাঁর ওপর কোনো কর্তৃত্ব রাখে না। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
نص آخر لهذه الخطبة: روى ابن كثير رحمه الله عن البيهقي عن أبي سلمة بن عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنهما قال: كانت أول خطبة خطبها رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة أن قام فيهم، فحمد الله وأثنى عليه بما هو أهله، ثم قال: «أما بعد أيها الناس: فقدموا لأنفسكم تعلمن والله ليصعقن أحدكم ثم ليدعن غنمه ليس لها راع ثم ليقولن له ربه، ليس له ترجمان ولا حاجب يحجبه دونه: ألم يأتك رسولي فبلغك، وآتيتك مالا وأفضلت عليك، فما قدمت لنفسك؟ فينظر يمينا وشمالا فلا يرى شيئا، ثم ينظر قدامه فلا يرى غير جهنم فمن استطاع أن يقي وجهه من النار ولو بشق من تمرة فليفعل ، ومن لم يجد فبكلمة طيبة فإن بها تجزى الحسنة عشر أمثالها إلى سبعمائة ضعف ، والسلام عليكم وعلى رسول الله ورحمة الله وبركاته» (1)
--------------------------------------------
এই খুতবার অন্য একটি পাঠ: ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ) বায়হাকি থেকে বর্ণনা করেছেন (روى), তিনি আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় প্রথম যে খুতবাটি প্রদান করেছিলেন তা হলো, তিনি তাদের মাঝে দাঁড়ালেন, অতঃপর আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং বললেন: «অতঃপর, হে লোকসকল! তোমরা নিজেদের জন্য (পরকালের পাথেয়) অগ্রিম পাঠাও। আল্লাহর কসম, তোমরা অবশ্যই জানবে যে, তোমাদের কাউকে অবশ্যই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়তে হবে, অতঃপর সে তার মেষপালকে এমন অবস্থায় ছেড়ে যাবে যার কোনো রাখাল নেই। তারপর তার রব তার উদ্দেশ্যে বলবেন—এমতাবস্থায় যে তাঁর ও বান্দার মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না এবং কোনো রক্ষীও থাকবে না যে তাকে আড়াল করবে—: 'তোমার কাছে কি আমার রাসূল পৌঁছায়নি যে সে (আমার বার্তা) পৌঁছে দেবে? আমি তোমাকে ধন-সম্পদ দান করেছি এবং তোমার ওপর অনুগ্রহ করেছি, সুতরাং তুমি নিজের জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছ?' তখন সে ডানে ও বামে তাকাবে কিন্তু কিছুই দেখতে পাবে না। অতঃপর সে সামনের দিকে তাকাবে এবং জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই দেখবে না। অতএব, যার পক্ষে এক টুকরো খেজুরের বিনিময়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব, সে যেন তা করে। আর যে ব্যক্তি তা খুঁজে পাবে না, সে যেন উত্তম কথা বলার মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করে। কারণ এর বিনিময়ে একটি নেকির সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক» (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
نص ثالث لهذه الخطبة: ثم خطب الرسول صلى الله عليه وسلم مرة أخرى، فقال: «إن الحمد لله أحمده وأستعينه، نعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له، إن أحسن الحديث كتاب الله، قد أفلح من زينه الله في قلبه، وأدخله في الإسلام بعد الكفر، واختاره على ما سواه من أحاديث الناس، إنه أحسن الحديث وأبلغه، أحبوا من أحب الله، أحبوا الله من كل قلوبكم [ولا تملوا كلام الله وذكره، ولا تقس عنه قلوبكم] فإن من كل ما يخلق الله يختاره الله ويصطفي، فقد سماه خيرته من الأعمال مصطفاه من العباد والصالح من الحديث، ومن كل ما أوتي الناس من الحلال والحرام، فاعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا، واتقوه حق تقاته واصدقوا الله صالح ما تقولون بأفواهكم ، وتحابوا بروح الله بينكم، وإن الله يغضب أن ينكث عهده والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته» ، قال ابن كثير رحمه الله تعالى وهذه الطرق مرسلة إلا أنها مقوية لما قبلها، وإن اختلفت الألفاظ (1) .
إن ألفاظ الخطبتين الثانية والثالثة اللتين رواهما البيهقي بسنده عن
--------------------------------------------
এই খুতবাটির তৃতীয় পাঠ: এরপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুনরায় খুতবা দিলেন এবং বললেন: «নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব। সে ব্যক্তি সফলকাম হয়েছে যার অন্তরকে আল্লাহ এর দ্বারা সুশোভিত করেছেন এবং কুফরের পর তাকে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় প্রবেশ করিয়েছেন এবং মানুষের অন্যান্য কথাবার্তার তুলনায় এটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। নিশ্চয়ই এটি সর্বোত্তম ও সবচেয়ে প্রভাবশালী হাদিস। তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো যারা আল্লাহকে ভালোবাসে। তোমরা তোমাদের অন্তরের অন্তস্তল থেকে আল্লাহকে ভালোবাসো। [আল্লাহর কালাম ও তাঁর জিকির থেকে তোমরা বিমুখ হয়ো না এবং এ থেকে তোমাদের অন্তর যেন কঠোর না হয়ে যায়।] কেননা আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেন তা থেকে তিনি পছন্দ করেন এবং মনোনীত করেন। আল্লাহ ইহাকে (কুরআনকে) আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম, বান্দাদের মধ্যে মনোনীত এবং বাণীর মধ্যে পুণ্যময় হাদিস হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর মানুষকে যা কিছু হালাল ও হারাম প্রদান করা হয়েছে, এটি তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ। অতএব তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক করো না। তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমাদের মুখে যা বলো তাতে সত্যবাদী হও। তোমাদের মাঝে আল্লাহর রুহ (মহব্বত) দ্বারা পরস্পরকে ভালোবাসো। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে রাগান্বিত হন। তোমাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।» ইবনে কাসির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এই সূত্রগুলো বিচ্ছিন্ন (مرسلة), তবে এগুলো পূর্ববর্তী বর্ণনাগুলোকে শক্তিশালীকারী (مقوية), যদিও শব্দগত ভিন্নতা রয়েছে। (১)
বায়হাকী তাঁর সনদের মাধ্যমে যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় খুতবা দুটির শব্দাবলি বর্ণনা করেছেন তা হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
عن شيخه أبي عبد الله الحافظ المعروف بالحاكم صاحب المستدرك.
وهذه الخطب وإن كانت مرسلة فإنها في جملتها على منهاج النبي صلى الله عليه وسلم في دعوة المؤمنين لتقوية إيمانهم وتغذيته بتقوى الله تعالى ، ولولا أن الحفاظ الثقات من أمثال ابن كثير والبيهقي أوردوها ما أقدمت على روايتها ونقلها، وقد أخرج ابن عساكر عن أنس رضي الله عنه أول خطبة خطبها رسول الله صلى الله عليه وسلم بألفاظ أخرى (1) .
، وهذه الروايات يقوي بعضها بعضا. كما أن بعض عبارات هذه الخطب في الأحاديث الصحيحة.
--------------------------------------------
তিনি তাঁর উস্তাদ আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থের লেখক আল-হাকিম হিসেবে পরিচিত।
এই ভাষণসমূহ বিচ্ছিন্ন (مرسلة) হলেও সামগ্রিকভাবে এগুলো মুমিনদের ঈমান মজবুত করার এবং আল্লাহর তাকওয়ার মাধ্যমে তাকে পুষ্ট করার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসৃত পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত। ইবনে কাসীর এবং বায়হাকীর মতো নির্ভরযোগ্য (الثقات) হাফিজগণ যদি এগুলো উল্লেখ না করতেন, তবে আমি তা বর্ণনা বা উদ্ধৃত করার সাহস করতাম না। আর ইবনে আসাকির আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেওয়া প্রথম ভাষণটি ভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছেন (১)।
এই বর্ণনাগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে। অনুরূপভাবে, এই ভাষণগুলোর কিছু বক্তব্য সহীহ (صحيحة) হাদিসসমূহে বিদ্যমান রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الدلالات الإعلامية
لأول خطبة جمعة للرسول صلى الله عليه وسلم في المدينة المنورة 1 - براعة الاستهلال والبداية المثيرة للانتباه: هذه الدلالة تؤكدها بدايات الخطب الثلاث (1) .
، ويظهر في هذا الاستهلال وبراعة الانطلاق من المسلمات الفكرية والعقدية في الاتصال بجماعة المسلمين وبناء الرأي العام المستنير على أساس عقيدة الإيمان بالله الواحد الأحد، والبداية المثيرة للانتباه ينبغي في إطار الأصل الاتصالي أن تكون قريبة من الصورة الذهنية للجمهور المتلقي، وبسيطة وبعيدة عن التعقيد، وقريبة جدا من الموضوع الذي يرغب القائم بالاتصال طرحه على الناس، والمتتبع لخطب الرسول صلى الله عليه وسلم يدرك اختلاف البداية المثيرة للانتباه من خطبة إلى أخرى تبعا لموضوع الخطبة وطبيعة الجمهور المستهدف.
2 - في هذه الخطبة نقلة كبيرة في مستويات التأثير الاتصالي: فمن الخطاب الإعلامي للجماعات الأولية البسيطة المتمثلة في الأفراد والجماعات العشائرية إلى مستوى الأمة ذات الرابطة القائمة على أساس العقيدة والمبادئ الإسلامية الخالدة، بدل النعرات العرقية الجاهلية، هذا بالإضافة إلى اعتبار أن الجمهور الذي كان يتلقى هذا الخطاب الإعلامي
--------------------------------------------
মদিনা মুনাওয়ারায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রথম জুমার খুতবার গণমাধ্যমগত তাৎপর্যসমূহ
১ - চমৎকার প্রারম্ভিকা এবং মনোযোগ আকর্ষণকারী সূচনা: এই তাৎপর্যটি তিনটি খুতবার শুরু (১) দ্বারা সমর্থিত হয়।
এই প্রারম্ভিকা এবং সূচনার চমৎকারিত্বের মধ্য দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক ও আকিদাগত স্বীকৃত সত্যসমূহ থেকে যাত্রা শুরু করার এবং এক অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি আলোকিত জনমত গঠনের বিষয়টি প্রকাশিত হয়। যোগাযোগের মূলনীতির কাঠামোর মধ্যে একটি মনোযোগ আকর্ষণকারী সূচনা শ্রোতা বা দর্শকদের মানসিক চিত্রের নিকটবর্তী, সহজবোধ্য, জটিলতামুক্ত এবং যোগাযোগকারী যে বিষয়টি মানুষের সামনে উপস্থাপন করতে চাচ্ছেন তার সাথে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হওয়া উচিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খুতবাগুলো পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় যে, খুতবার বিষয়বস্তু এবং উদ্দিষ্ট শ্রোতাদের প্রকৃতি অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণকারী সূচনাগুলো একেক খুতবায় একেক রকম হতো।
২ - এই খুতবায় যোগাযোগগত প্রভাবের স্তরে একটি বড় ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়: অর্থাৎ ব্যক্তি এবং গোত্রভিত্তিক সাধারণ প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি গণমাধ্যমগত সম্বোধন থেকে এমন এক উম্মাহর স্তরে উন্নীত হওয়া, যার বন্ধন জাহেলি যুগের বংশীয় আভিজাত্যের পরিবর্তে আকিদা এবং শাশ্বত ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। এছাড়া, এই গণমাধ্যমগত সম্বোধন গ্রহণকারী শ্রোতামণ্ডলীকে বিবেচনার বিষয়টিও এখানে যুক্ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
النبوي لم يكن هو المقصود بالمضامين الدعوية فقط، وإنما كان الرسول صلى الله عليه وسلم يعد هذه الجماعة لتولي أعباء قيادة الأمة الإسلامية تلك القيادة الراشدة التي أخرجت الناس من ظلمات الجاهلية إلى نور الإيمان، ومن جور الأديان إلى عدل الإسلام، ومن تسلط النظم والفلسفات المادية إلى آفاق الحرية الحقة في رحاب الإسلام، والذي يؤكد هذه الدلالة أسلوب مخاطبة الروح الجماعية في الروايات الثلاث لأول خطبة جمعة للنبي صلى الله عليه وسلم في المدينة، والإطار المرجعي الذي صيغت رموز الخطبة من خلاله، وهو خلاصة خبرات جماعة المسلمين الأولين في المدينة وتجاربها وما تعلمته من الوحي ومن هدي النبي صلى الله عليه وسلم، فخاطبها الرسول صلى الله عليه وسلم من خلال هذه التجارب.
3 - استثارة الدوافع الإيمانية والإنسانية: فقد جاءت الوصية بالتقوى ومراقبة الله تعالى في السر والعلانية في الروايات الثلاثة للخطبة ففي الرواية الأولى قال صلى الله عليه وسلم: «أوصيكم بتقوى الله فإن خير ما وصى به المسلم المسلم أن يحضه على الآخرة وأن يأمره بتقوى الله» .
وفي الرواية الثانية: «من استطاع أن يقي وجهه من النار ولو بشق من تمرة فليفعل ومن لم يجد فبكلمة طيبة» .
وفي الرواية الثالثة قال صلى الله عليه وسلم: «فاعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا واتقوه حق تقاته» ، وجاءت استثارة الدوافع الإنسانية في الدعوة للتكافل في المجتمع الإسلامي والبذل للمحتاجين ، ولا يستهان بالقليل فإنه كثير عند الله، ومن لم يجد فلا أقل من أن يواسي إخوانه في المجتمع الإسلامي بالدعاء والكلمة الطيبة، فالكلمة الطيبة صدقة كما في هذا القول الذي جاء في الرواية الأولى والثانية، بينما في الرواية الثالثة جاءت الدعوة صريحة إلى التحاب في ذات الله تعالى والوفاء بالعهود، قال صلى الله عليه وسلم: «تحابوا بروح الله
নবুয়তি মিশনের উদ্দেশ্য কেবল দাওয়াতী বিষয়বস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই জামাতকে মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্বের গুরুভার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করছিলেন। এটি ছিল সেই সুপথপ্রাপ্ত নেতৃত্ব যা মানুষকে জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে ঈমানের আলোতে, ধর্মের জুলুম থেকে ইসলামের ইনসাফে এবং বস্তুগত ব্যবস্থা ও দর্শনের আধিপত্য থেকে ইসলামের প্রশস্ততায় প্রকৃত স্বাধীনতার দিগন্তে বের করে এনেছিল। এই তাৎপর্যটি মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম জুমার খুতবার তিনটি বর্ণনার (روايات) মধ্যে সমষ্টিগত চেতনাকে সম্বোধন করার পদ্ধতি এবং সেই রেফারেন্স ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যার আলোকে খুতবার রূপকগুলো সাজানো হয়েছিল। এটি ছিল মদিনার প্রথম মুসলিম জামাতের অভিজ্ঞতার নির্যাস এবং ওহি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেদায়াত থেকে তারা যা শিখেছিল তার ফসল, যার মাধ্যমেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্বোধন করেছিলেন।
৩ - ঈমানি ও মানবিক অনুপ্রেরণা জাগ্রতকরণ: খুতবার তিনটি বর্ণনায় (روايات) গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহ তাআলার তাকওয়া এবং তাঁর পর্যবেক্ষণে থাকার অসিয়ত বা উপদেশ এসেছে। প্রথম বর্ণনায় (رواية) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের অসিয়ত করছি। কেননা একজন মুসলিম অন্য মুসলিমকে যে সর্বোত্তম অসিয়ত করতে পারে তা হলো তাকে আখিরাতের প্রতি উৎসাহিত করা এবং তাকে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া»।
এবং দ্বিতীয় বর্ণনায় (رواية): «যে ব্যক্তি এক টুকরো খেজুরের বিনিময়ে হলেও নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে সক্ষম, সে যেন তা করে। আর যে ব্যক্তি তা খুঁজে পাবে না, সে যেন উত্তম কথা দ্বারা তা করে»।
এবং তৃতীয় বর্ণনায় (رواية) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «অতএব তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না, আর তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করো»। ইসলামি সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অভাবীদের দান করার আহ্বানের মাধ্যমে মানবিক আবেগ জাগ্রত করার বিষয়টিও ফুটে উঠেছে। কোনো সামান্য দানকেও তুচ্ছজ্ঞান করা যাবে না, কারণ আল্লাহর কাছে তা অনেক বড়। আর যে ব্যক্তি কিছুই পাবে না, সে যেন অন্তত দোয়া ও উত্তম কথার মাধ্যমে ইসলামি সমাজে তার ভাইদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে। কেননা সুন্দর কথা হলো সদকা, যা প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণনায় (رواية) বর্ণিত উক্তিতে এসেছে। পক্ষান্তরে তৃতীয় বর্ণনায় (رواية) মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালোবাসা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার সুস্পষ্ট আহ্বান এসেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আল্লাহর রুহের (রহমতের) মাধ্যমে পরস্পরকে ভালোবাসো...»
(খণ্ড: ১)
আল জাওয়ানিবুল ইলামিয়্যাতু ফী খুতাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
بينكم إن الله يغضب أن ينكث عهده» ، ومثل ذلك جاء في الرواية الأولى: «إن تقوى الله تبيض الوجه وترضي الرب وترفع الدرجة» ، وهنا استثار الرسول صلى الله عليه وسلم الدوافع الإيمانية والإنسانية لبناء الرأي العام الإسلامي المتألف والمتعاون على أساس سليم.
4 - الإحاطة بالظرف الاتصالي جملة ، وتوجيه الرأي العام الإسلامي للمواجهة الفكرية والمفاصلة على أساس العقيدة والمبدأ: فقد جاء في الرواية الأولى: قوله صلى الله عليه وسلم «فأحسنوا كما أحسن الله إليكم، وعادوا أعداءه وجاهدوا في الله حق جهاده، هو اجتباكم وسماكم المسلمين ليهلك من هلك عن بينة ويحيا من حي عن بينة» ، وهنا يوجه الرسول صلى الله عليه وسلم الرأي العام الإسلامي بالمكاشفة بالحقائق كاملة ، فقيام الدولة الإسلامية في المدينة يعني المواجهة لكل نظم الكفر الفاسدة ، والرأي العام الإسلامي الذي يؤسسه الاتصال الفعال على أساس من المصارحة بالحقائق تأتي مواقفه ثابتة، ويكون تأييده لقيادته قويا وثقته بها متينة، قال الله تعالى: {هُوَ الَّذِي أَيَّدَكَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ} [الأنفال: 62] (1) وقال تعالى: {الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ} [آل عمران: 173] (2) وأهمية هذه الدلالة لا تخفى على المهتمين بالدراسات الإعلامية فأسلوب عرض الحقائق من أهم الأساليب الفعالة في تغيير الرأي العام (3) .
، والحقيقة هي التي تبقى في النهاية وتحدث آثارا
--------------------------------------------
...তোমাদের মধ্যে; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে ক্রোধান্বিত হন।" অনুরূপ বিষয় প্রথম বর্ণনা (رواية)-তেও এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহর তাকওয়া চেহারাকে উজ্জ্বল করে, প্রভুকে সন্তুষ্ট করে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে।" আর এখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি সঠিক ভিত্তির ওপর সংহতিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক ইসলামি জনমত গঠনের লক্ষ্যে ঈমানি ও মানবিক প্রেরণাগুলোকে জাগ্রত করেছেন।
৪ - সামগ্রিক যোগাযোগ পরিস্থিতির পরিবেষ্টন এবং আকিদাহ ও মূলনীতির ভিত্তিতে বুদ্ধিবৃত্তিক মোকাবেলা ও পৃথকীকরণের লক্ষ্যে ইসলামি জনমতকে দিকনির্দেশনা প্রদান: প্রথম বর্ণনা (رواية)-তে এসেছে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "তোমরা সদাচরণ করো যেমন আল্লাহ তোমাদের প্রতি সদাচরণ করেছেন, তাঁর শত্রুদের সাথে শত্রুতা করো এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করো; তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন এবং তোমাদের 'মুসলিম' নামকরণ করেছেন যাতে যে ধ্বংস হবে সে সুস্পষ্ট প্রমাণের (بينة) ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে সুস্পষ্ট প্রমাণের (بينة) ভিত্তিতে জীবিত থাকে।" এখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পূর্ণ সত্য প্রকাশের মাধ্যমে ইসলামি জনমতকে পরিচালিত করছেন। মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অর্থ হলো সমস্ত কুফরি ব্যবস্থার মোকাবেলা করা। আর সত্য প্রকাশের ভিত্তিতে কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে যে ইসলামি জনমত গঠিত হয়, তার অবস্থান হয় সুদৃঢ় এবং নেতৃত্বের প্রতি তার সমর্থন হয় শক্তিশালী ও আস্থা হয় মজবুত। আল্লাহ তায়ালা বলেন: "তিনিই আপনাকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা" [আল-আনফাল: ৬২] (১)। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: "যাদেরকে লোকেরা বলেছিল যে, নিশ্চয়ই মানুষ তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে, সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো। কিন্তু এ কথা তাদের ঈমানকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক" [আল-ইমরান: ১৭৩] (২)। গণমাধ্যম গবেষণায় আগ্রহীদের কাছে এই নির্দেশনার গুরুত্ব স্পষ্ট, কারণ সত্য উপস্থাপনের পদ্ধতি জনমত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অন্যতম কার্যকর পদ্ধতি (৩)।
এবং সত্যই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে এবং প্রভাব সৃষ্টি করে।
--------------------------------------------