(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: -)
قلائد الجمان في التعريف بقبائل عرب الزمان القسم: الأنساب
الكتاب: قلائد الجمان في التعريف بقبائل عرب الزمان
المؤلف: أبو العباس أحمد بن علي القلقشندي (ت 821 هـ)
المحقق: إبراهيم الإبياري [ت 1414 هـ]
الناشر: دار الكتاب المصري، دار الكتاب اللبناني
الطبعة: الثانية، 1402 هـ - 1982 م
عدد الصفحات: 177
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কালাইদ আল-জুমান ফি আত-তারিফ বি কাবাইল আরব আজ-জামান (বর্তমান সময়ের আরব গোত্রসমূহের পরিচিতি সম্বলিত মুক্তার হার) বিভাগ: বংশলতিকা
বই: কালাইদ আল-জুমান ফি আত-তারিফ বি কাবাইল আরব আজ-জামান (বর্তমান সময়ের আরব গোত্রসমূহের পরিচিতি সম্বলিত মুক্তার হার)
লেখক: আবুল আব্বাস আহমদ বিন আলী আল-কালকাশান্দি (মৃ. ৮২১ হি.)
গবেষক: ইব্রাহিম আল-আবিয়ারি [মৃ. ১৪১৪ হি.]
প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-মিসরি، দারুল কিতাব আল-লুবনানি
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০২ হি. - ১৯৮২ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৭
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিলপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة المؤلفبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي جعل للعرب بالنسب المحمدي منتمى تنعقد على فضله الخناصر، وأيد عزهم بأعز مليك، وأعز جانبهم بأعز ناصر، وخصهم من كثرة القبائل بما يقفون عده العاد، ويعترف بالعجز عن حصره الحاصر، وأنالهم من الشرف الباذخ ما لا تمتد إليه يد أحد من الأمم، فكل مدع عن بلوغ درجته قاصر.
أحمده على أن رفع عماد بيت النسب البارزي وأعلى درجه، ومدّ أطناب ممادحه في الآفاق وأطاب بالذكر الجميل أرجه؛ وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له شهادة يشيع في القبائل ذكرها، ويضوع في كل نادٍ من أندية الأحياء نشرها؛ وأشهد أن سيدنا محمداً عبده ورسوله أفضل نبي زكا أصلاً وطاب أرومة، وأكرم رسول شرُف عنصراً وكرم جرثومة؛ صلى الله على آله وصحبه الذين سموا بانتسابهم إلى شريف نسبه، ودخلوا في زمرته الفاخرة فاندرجت أحسابهم في كريم حسبه.
وبعد، فلما كان العلم بقبائل العرب من لازم كتابة الإنشاء الذي أُهمل جانبه، وسكن لقلة معانيه بعد الحركة ضاربه، ورُفض تداوله حتى قل مُعانيه وعز طالبه؛ وكان كتابي المسمى «نهاية الأرب، في معرفة قبائل العرب» قد احتوى من ذكر القبائل على الجم الغفير، وطمع في الاستكثار فلم يكتف من ذكر
লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আরবদের জন্য মুহাম্মদী বংশপরম্পরার মাধ্যমে এমন এক সম্পর্কের সংযোগ ঘটিয়েছেন যার শ্রেষ্ঠত্বের কাছে সকলে মস্তক অবনত করে; এবং তিনি তাদের মর্যাদাকে এক পরম পরাক্রমশালী অধিপতির মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন এবং তাদের পক্ষকে এক মহাশক্তিধর সাহায্যকারীর মাধ্যমে সুদৃঢ় করেছেন। তিনি অসংখ্য গোত্রের মধ্য থেকে তাদেরকে এমন বিশেষত্ব দান করেছেন যার সংখ্যা নিরূপণে গণনাকারী থমকে যায় এবং তা আয়ত্ত করতে বেষ্টনকারী নিজের অক্ষমতা স্বীকার করে। তিনি তাদেরকে এমন সুউচ্চ সম্মান দান করেছেন যার দিকে অন্য কোনো জাতির হাত প্রসারিত হতে পারে না, ফলে এর স্তরে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রতিটি দাবিদারই ব্যর্থ ও অপূর্ণ।
আমি তাঁর প্রশংসা করি এই জন্য যে, তিনি উচ্চবংশীয় আভিজাত্যের স্তম্ভকে সমুন্নত করেছেন এবং এর মর্যাদাকে উচ্চ করেছেন; আর দিগন্তজুড়ে এর প্রশংসার রজ্জুসমূহ প্রসারিত করেছেন এবং উত্তম আলোচনার মাধ্যমে এর সুবাসকে আমোদিত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন এক সাক্ষ্য যার চর্চা গোত্রসমূহের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং যার সুগন্ধি প্রতিটি জনপদের মজলিসে সুবাস ছড়ায়। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; যিনি বংশীয় ঐতিহ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং যাঁর মূলধারা অত্যন্ত পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন; এবং তিনি এমন এক সম্মানিত রাসূল যাঁর বংশমর্যাদা সুউচ্চ ও মহৎ। আল্লাহ তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যাঁরা তাঁর সুমহান বংশের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে মর্যাদা লাভ করেছেন এবং তাঁর গৌরবময় দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, ফলে তাঁদের বংশীয় মর্যাদা তাঁরই সুমহান মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।
অতঃপর, যেহেতু আরব গোত্রসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা ইনশা (রচনাশৈলী) বিদ্যার জন্য অপরিহার্য ছিল—যে বিষয়টি বর্তমানে অবহেলিত হয়েছে এবং এর বিষয়বস্তুর স্বল্পতার কারণে প্রাণচঞ্চলতা হারানোর পর এর চর্চাকারীরা নিস্তেজ হয়ে পড়েছে, আর এর প্রচলন বর্জিত হয়েছে এমনকি এর সমঝদার কমে গেছে এবং অন্বেষণকারী দুর্লভ হয়ে পড়েছে—তাই আমার 'নিহায়াতুল আরাব ফি মা'রিফাতি কাবায়িলিল আরব' নামক গ্রন্থটি গোত্রসমূহের বর্ণনায় এক বিশাল ভাণ্ডার ধারণ করেছিল এবং অধিক তথ্য সমাবেশের আকাঙ্ক্ষায় তা কেবল বর্ণনার মধ্যেই ক্ষান্ত হয়নি...
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ২)
الشعوب باليسير؛ إلا أن من القبائل المذكورة فيه ما أخنى عليها الزمان، وجهل حالها الآن في الوجود والعدم فلم تعرف لها أرض ولم يوقف لها على مكان؛ مع أن القدر الذي يحتاج كاتب الإنشاء منه إلى الأخذ بتفصيله، ويضطر إلى معرفة تفريعه وتأصيله؛ من يضمه نطاق الديار المصرية من عربان الزمان، ومن يكاتب على أبواب سلطانها أو تدعو الحاجة إلى خطابه في حين أو أوان؛ مع من يتعلق بأذيال قبائلهم ممن لم يبلغ رتبة الخطاب، أو ينتمي إليهم بمحالفة أو يعتزي إلى قبيلتهم بعلاقة سبب من الأسباب.
وكان المقر الأشرف العالي المولوي القاضوي الكبيري النظامي المدبري السفيري اليميني المشيري الأصيلي العريقي الكفيلي الناصري: نظام الملك نجي السلطنة، لسان المملكة، مالك زمام الأدب، جامع أشتات الفضائل أبو المعالي محمد الجهني البارزي الشافعي المؤيدي، صاحب دواوين الإنشاء الشريف بالممالك الإسلامية، جمل الله الوجود ببقائه، وأدام علوه ولا رتبة في الرياسة فوق رتبته فتعالى نسباً وزاد في ارتقائه، قد أُلقي إليه من الممالك الإسلامية مقاليدها، ودانت لسورة كتبه الأقطار المتقاصية قريبها وبعيدها؛ وصُرفت بتصاريف أقلامه أمور الدولة فجرت بها على السداد، ونفذت بتنفيذه أمورها فأربت مقاصدها والحمد لله على المراد.
وإن أُمور الملك أَضحى مَدارها
… عليه كما دارت على قُطبها الرحَى
وكنت ممن عمه فضله، وغمره غيثه الهامع ووبله؛ وولج حماه المنيع فاحتمى، ونزل بساحة بابه العالي فبات منه في أعز حمى، ما أمتني بائقة احتياج إلا قمعها، ولا عرتني كارثة احتياج إلا ردعها؛ ولا سامني الدهر ضيماً إلا كبحه، ولا أغلق عني الزمان باب خير إلا فتحه؛ ولا تربت يدي إلا أغناها، ولا قصدت
অল্পবিস্তর জাতিসমূহের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে; তবে এতে উল্লেখিত গোত্রগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যাদের ওপর মহাকাল থাবা বসিয়েছে এবং বর্তমানে তাদের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের অবস্থা অজ্ঞাত। ফলে তাদের কোনো ভূমির পরিচয় পাওয়া যায় না এবং তাদের কোনো স্থানের হদিস মেলে না। তাসত্ত্বেও ‘দিওয়ানে ইনশা’র (পত্রালাপ বিভাগ) লেখকের জন্য যাদের বিস্তারিত বিবরণ গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং যাদের শাখা-প্রশাখা ও শিকড় সম্পর্কে অবগত হওয়া জরুরি, তারা হলো বর্তমান সময়ের সেই সব আরব যারা মিসরীয় ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত এবং যারা সুলতানের দরবারে পত্রালাপ করে কিংবা কোনো বিশেষ সময়ে বা মুহূর্তে যাদের সম্বোধন করার প্রয়োজন পড়ে। সেই সঙ্গে তাদের গোত্রের প্রান্তিক পর্যায়ের লোকসমূহ যারা এখনো পত্র পাওয়ার মর্যাদায় পৌঁছেনি, অথবা যারা চুক্তিবদ্ধ হয়ে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিংবা কোনো না কোনো কারণে সেই গোত্রের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে।
আর মহিমান্বিত, সুউচ্চ, মওলভী, কাযীসুলভ, মহান, সুশৃঙ্খল, সুদক্ষ প্রশাসক, রাষ্ট্রদূত, সৌভাগ্যবান, উপদেষ্টা, আভিজাত্যপূর্ণ, সুপ্রাচীন বংশীয়, অভিভাবক ও সাহায্যকারী—রাজ্যের শৃঙ্খলা ও সালতানাতের একান্ত সচিব, সাম্রাজ্যের মুখপত্র, সাহিত্যের লাগাম ধারণকারী, বিবিধ গুণের আধার—আবু আল-মাআলি মুহাম্মদ আল-জুহানি আল-বারজি আল-শাফিঈ আল-মুয়াইয়াদী ছিলেন ইসলামী সাম্রাজ্যের রাজকীয় ‘দিওয়ানে ইনশা’র প্রধান। আল্লাহ তাঁর দীর্ঘায়ুর মাধ্যমে বিশ্বজগতকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করুন এবং তাঁর উচ্চ মর্যাদাকে স্থায়িত্ব দান করুন; কেননা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাঁর পদের ঊর্ধ্বে আর কোনো পদ নেই। তিনি বংশমর্যাদায় অনন্য এবং তাঁর উন্নতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামী সাম্রাজ্যের চাবিকাঠি তাঁর হাতে অর্পণ করা হয়েছে এবং নিকট ও দূরের দূরবর্তী অঞ্চলসমূহ তাঁর লেখনীর প্রতাপের সামনে নতি স্বীকার করেছে। তাঁর কলমের কারুকার্যে রাষ্ট্রের কার্যাদি পরিচালিত হয়েছে এবং তা সঠিক পথে ধাবিত হয়েছে। তাঁর নির্দেশনায় রাষ্ট্রীয় বিষয়সমূহ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এর লক্ষ্যসমূহ অর্জিত হয়েছে। অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় আল্লাহর শুকরিয়া।
রাজ্যের যাবতীয় কার্যাদি এখন তাঁকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে
... যেমন যাঁতা তার অক্ষদণ্ডকে কেন্দ্র করে ঘোরে।
আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ ব্যাপক হয়েছে এবং তাঁর মুষলধারে বর্ষিত কৃপাবৃষ্টি যাদের সিক্ত করেছে। আমি তাঁর দুর্ভেদ্য দুর্গে প্রবেশ করে আশ্রয় লাভ করেছি এবং তাঁর সুউচ্চ দ্বারের প্রাঙ্গণে অবস্থান করে সবচেয়ে সম্মানিত নিরাপত্তায় রাত কাটিয়েছি। অভাবের কোনো বিপদ আমাকে গ্রাস করতে উদ্যত হলে তিনি তা দমন করেছেন এবং প্রয়োজনের কোনো বিপর্যয় আমাকে আক্রান্ত করলে তিনি তা প্রতিহত করেছেন। মহাকাল যখনই আমার ওপর জুলুম করতে চেয়েছে তিনি তা থামিয়ে দিয়েছেন এবং সময় যখনই আমার জন্য কল্যাণের কোনো দরজা বন্ধ করেছে তিনি তা খুলে দিয়েছেন। আমার হাত যখনই রিক্ত হয়েছে তিনি আমাকে অভাবমুক্ত করেছেন এবং আমি যখনই কোনো সংকল্প করেছি...
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ৩)
أدنى رتبة إلا بلغ بي أعياها: ولا استعنت بجاهه من حرّ ضنك إلا كان لي خير مقيل، ولا لُذت بجنابه من هجير ضر إلا أويت منه إلى ظل ظليل:
بِتْ جاره فالعيشُ تحت ظلاله
… واسْتَسقه فالبحرُ من أنوائه
وكانت خزانته العالية عمرها الله تعالى بدوام أيامه، وأراه من محاسن جمعها في اليقظة ما يمتنع أن يراه القاضي الفاضل في منامه؛ قد سعدت بإسعاد جدوده، وخصت من نفائس التأليف بكل نفيس لا سيما مصنفات آبائه وجدوده؛ مع اشتماله من شريف النسب على الصفقة الرابحة، وتمسكه من الانتساب إلى العرب العاربة من بني قحطان بالكفة الراجحة:
مَعالٍ تمادت في العُلّو كأنما
… تُحاول ثأراً عند بعض الكواكبِ
أحببت أن أخدم جانب علاها بمختصر من ذكر قبائل العرب المنتظم في سلك الزمان الآن وجودهم، والمحيطة بعنق الآفاق في هذا العصر عقودهم؛ مُصدِّراً له بذكر طرف من أنساب الأمم ليتم بذلك منه الغرض، واصلاً نسب كل أمة منها بعمود النسب المحمدي ليعلم اتصال الأمم بعضها ببعض؛ ذاكراً كل قبيلة وما فوقها من الشعوب، وما يتفرع منها من العمائر والبطون والأفخاذ على اختلاف الأصناف والضروب؛ ذاكراً مقر كل قبيلة منها في القديم والحديث، مستنداً في ذلك إلى ما تضمنته كتب الأنساب والتاريخ وكتب أسماء رجال الحديث؛ مورداً في خلال كل قبيلة من كان منها من صحابي مذكور، أو شاعر مجيد أو فارس مشهور؛ ليكون بانتسابه إليه كالغرة في وجه كتبه، ويدخر بخزانته السعيدة ليكون كلمة باقية في عقبه؛ على أني في ذلك كنافل التمر إلى هجر، وممد
নিকৃষ্টতম স্তর ব্যতীত যার সর্বোচ্চ চূড়ায় তিনি আমাকে পৌঁছে দিয়েছেন; সংকীর্ণতার তীব্র উত্তাপে আমি তাঁর মর্যাদার সাহায্য কামনা করিনি যে তিনি আমার জন্য সর্বোত্তম বিশ্রামস্থলে পরিণত হননি, এবং ক্ষতির প্রচণ্ড দাবদাহে আমি তাঁর সান্নিধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করিনি যে আমি তাঁর নিকট থেকে সুশীতল ছায়া লাভ করিনি।
তাঁর প্রতিবেশী হয়ে রাত অতিবাহিত করো, কারণ জীবন তাঁর ছায়ার নিচেই ধন্য
… আর তাঁর নিকট বারিবর্ষণ প্রার্থনা করো, কেননা সমুদ্রসমূহ তাঁর বৃষ্টিরই অংশবিশেষ।
আর তাঁর সুউচ্চ কুতুবখানা (গ্রন্থাগার)—আল্লাহ তাআলা একে তাঁর দীর্ঘায়ুর সাথে আবাদ রাখুন—তাকে জাগ্রত অবস্থায় এর সংগ্রহের এমন সৌন্দর্য দেখিয়েছেন যা আল-কাজি আল-ফাজিল তাঁর স্বপ্নেও দেখতে অক্ষম ছিলেন; এটি তাঁর পূর্বপুরুষদের সৌভাগ্যে সৌভাগ্যবান হয়েছে এবং দুর্লভ রচনার মধ্য হতে প্রতিটি মূল্যবান কিতাব দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, বিশেষ করে তাঁর পিতৃপুরুষ ও পিতামহদের রচিত গ্রন্থসমূহ দ্বারা; সাথে সাথে উচ্চবংশীয় মর্যাদার ক্ষেত্রে তিনি লাভজনক অংশ প্রাপ্ত হয়েছেন এবং বনু কাহতানের বিশুদ্ধ আরবদের সাথে বংশগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অগ্রগণ্য অবস্থানে রয়েছেন:
এমন শ্রেষ্ঠত্ব যা উচ্চতায় এতদূর পৌঁছেছে যেন তা
… কতিপয় নক্ষত্রের কাছে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে চাচ্ছে।
আমি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার খেদমতে আরব গোত্রসমূহের আলোচনার একটি সংক্ষিপ্ত সার উপস্থাপন করতে চেয়েছি, যাদের অস্তিত্ব বর্তমান সময়ের সূত্রে গাঁথা এবং যাদের বীরত্বগাথা এই যুগে দিগন্তের কণ্ঠদেশ বেষ্টন করে আছে; আমি এটি শুরু করেছি বিভিন্ন জাতির বংশপরম্পরার কিছু অংশ বর্ণনার মাধ্যমে যাতে মূল উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়, এবং প্রত্যেক জাতির বংশধারাকে মুহাম্মদী বংশধারার মূল স্তম্ভের সাথে সংযুক্ত করেছি যাতে জাতিসমূহের পারস্পরিক যোগসূত্র জানা যায়; আমি এতে প্রতিটি গোত্র এবং তাদের মূল জাতিসত্তা, এবং তাদের থেকে বিভক্ত হওয়া উপ-গোত্র, শাখা ও উপ-শাখা সম্পর্কে বিভিন্ন শ্রেণী ও প্রকারভেদে বর্ণনা করেছি; প্রতিটি গোত্রের প্রাচীন ও বর্তমান আবাসস্থল উল্লেখ করেছি এবং এক্ষেত্রে বংশবিদ্যা, ইতিহাস এবং রিজাল শাস্ত্রের (হাদিস বর্ণনাকারীগণের নাম) গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি; প্রতিটি গোত্রের বর্ণনার মাঝে তাদের মধ্য হতে যারা প্রসিদ্ধ সাহাবী, বা শ্রেষ্ঠ কবি অথবা প্রখ্যাত অশ্বারোহী ছিলেন তাদের উল্লেখ করেছি; যাতে তাদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়াটি গ্রন্থের কপালে একটি শুভ চিহ্নের মতো হয় এবং তাঁর কল্যাণময় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত থেকে তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী স্মারক হয়ে থাকে; যদিও এক্ষেত্রে আমার অবস্থা হচ্ছে হাজর নামক স্থানে খেজুর বহন করে নিয়ে যাওয়ার মতো, কিংবা...
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ৪)
البحر ببلالة القطر ورشح الحجر؛ إذ كان المقر المشار إليه - خلد الله تعالى أيامه - في معرفة الأنساب هو واسطة عقدها الثمين، وجهينة أخبارها وعبد جهينة الخبر اليقين؛ وسميته: «قلائد الجمان، في التعريف بقبائل عرب الزمان» والله تعالى يقرنه بالتوفيق في جمع مقاصده، ويورده موارد القبول في بدو الأمر وعائده. وقد رتبته على مقدمة ومقصد وخاتمة.
1 - المقدمة في ذكر أمور يُحتاج إليها في علم الأنساب،
ومعرفة القبائل وفيها خمسة فصول:
الفصل الأول:
في فضل علم الأنساب ومسيس الحاجة إليه.
الفصل الثاني: في بيان من يقع عليه اسم العرب، وذكر أنواعهم وما ينخرط في سلك ذلك.
الفصل الثالث: في معرفة طبقات الأنساب، وما يلتحق بذلك.
الفصل الرابع: في ذكر مساكن العرب القديمة التي منها درجوا إلى سائر الأقطار.
الفصل الخامس: في ذكر أمور يحتاج إليها الناظر في علم الأنساب.
2 - المقصد في معرفة تفاصيل أنساب القبائل وفيه فصلان: الفصل الأول: في ذكر عمود النسب النبوي، على صاحبه أفضل الصلاة والسلام، وما يتفرع عنه من الأنساب.
সমুদ্রকে বারিবিন্দু এবং প্রস্তরকে আর্দ্রতা দিয়ে সিক্ত করা; যেহেতু উল্লিখিত উচ্চমর্যাদাপূর্ণ স্থান—আল্লাহ তাআলা তাঁর দিনগুলোকে চিরস্থায়ী করুন—বংশবিদ্যা জ্ঞানের ক্ষেত্রে তা এক বহুমূল্য হারের মধ্যমণি, তার সংবাদের নির্ভরযোগ্য উৎস এবং সুনিশ্চিত সংবাদ বাহক; আমি এই গ্রন্থের নামকরণ করেছি: «কালাইদ আল-জুমান, ফি আত-তারিফ বি-কাবাইল আরব আজ-জামান» (তৎকালীন আরব গোত্রসমূহের পরিচয় জ্ঞাপক মুক্তার হার)। আল্লাহ তাআলা এর লক্ষ্যসমূহ অর্জনে এটিকে তাওফিকের সাথে যুক্ত করুন এবং একে প্রারম্ভিক ও পরবর্তী কবুলিয়াতের সোপানে আরোহণ করান। আমি একে একটি ভূমিকা (মুকাদ্দিমা), একটি মূল বিষয় (মাকসাদ) এবং একটি উপসংহারের (খাতিমা) ওপর বিন্যস্ত করেছি।
১ - ভূমিকা: বংশবিদ্যায় প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ এবং গোত্র পরিচিতি প্রসঙ্গে, এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ:
বংশবিদ্যার শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর অপরিহার্য প্রয়োজন প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কাদের ওপর 'আরব' নাম প্রযোজ্য হয় তার বর্ণনা, তাদের প্রকারভেদ এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বংশপরম্পরার স্তরবিন্যাস এবং তৎসংলগ্ন বিষয়াদি প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আরবদের প্রাচীন আবাসস্থলসমূহ প্রসঙ্গে, যেখান থেকে তারা অন্যান্য জনপদে পরিভ্রমণ করেছিল।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বংশবিদ্যা পর্যালোচনাকারীর জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ প্রসঙ্গে।
২ - মূল বিষয় (মাকসাদ): গোত্রসমূহের বংশধারার বিস্তারিত বিবরণ প্রসঙ্গে, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে: প্রথম পরিচ্ছেদ: নববী বংশপরম্পরার মূল স্তম্ভ প্রসঙ্গে—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—এবং তা থেকে নির্গত অন্যান্য শাখা বংশধারা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ৫)
الفصل الثاني: في ذكر تفاصيل القبائل، وما يتيسر ذكره من مساكنهم الآن.
الخاتمة في ذكر نبذة من أوصاف المقر الأشرف الناصري المؤلف له هذا الكتاب، ومناقبه، ونُبذة من سيرته الغراء.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গোত্রসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং বর্তমানে তাদের আবাসস্থলসমূহের যা কিছু উল্লেখ করা সম্ভব হয় সে প্রসঙ্গে।
উপসংহার: আল-মাক্বরুল আশরাফ আন-নাসিরী—যার সম্মানে এই গ্রন্থটি সংকলিত হয়েছে—তার গুণাবলি, শ্রেষ্ঠত্ব এবং উজ্জ্বল জীবনচরিতের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمة في ذكر أمور يحتاج إليها في علم الأنسابومعرفة القبائل
وفيها خمسة فصول
الفصل الأولفي فضل علم الأنسابوفائدته ومسيس الحاجة إليه لا خفاء أن معرفة الأنساب من الأمور المطلوبة، والمعارف المندوبة؛ لما يترتب عليها من الأحكام الشرعية، والمعارف الدينية. فقد وردت الشريعة باعتبارها في مواضع: منها: العلم بنسب النبي صلى الله عليه وسلم، وأنه النبي القرشي الهاشمي الذي كان بمكة وهاجر منها إلى المدينة وتوفي ودفن بها، فإنه لا بد لصحة الإيمان من معرفة ذلك، ولا يعذر مسلم في الجهل به وناهيك بذلك.
ومنها: التعارف بين الناس حتى لا يعتزي أحد إلى غير أبيه، ولا ينسب إلى سوى أجداده. وإلى ذلك الإشارة بقوله تعالى: (يأيُها الناس إنا خلقناكُم من ذَكر وأُنثى وجعلناكم شُعوباً وقبائل لتعارفوا) . ولولا معرفة الأنساب لفات إدراك ذلك وتعذر الوصول إليه.
ومنها: اعتبار النسب في الإمامة التي هي الزعامة العظمى. فقد حكى الماوردي في الأحكام السلطانية الإجماع على كون الإمام قرشياً، ثم قال: ولا اعتبار بضرار حيث. فجوزها في جميع الناس. فقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: الأئمة
বংশবিদ্যা শাস্ত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহের আলোচনা সম্পর্কিত ভূমিকাএবং গোত্রসমূহ চেনার বিবরণ
এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে
প্রথম পরিচ্ছেদবংশবিদ্যা শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গেএর উপকারিতা এবং এর প্রতি তীব্র প্রয়োজনীয়তা। এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই যে, বংশ পরিচয় জানা একটি কাম্য বিষয় এবং মুস্তাহাব জ্ঞান; কারণ এর ওপর বিভিন্ন শরয়ি বিধান এবং ধর্মীয় জ্ঞান নির্ভরশীল। শরিয়তে বিভিন্ন স্থানে একে বিবেচনা করা হয়েছে: তার মধ্যে একটি হলো—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশ পরিচয় জানা; এবং জানা যে, তিনি সেই কুরাইশি হাশেমি নবী যিনি মক্কায় ছিলেন এবং সেখান থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেছেন ও সমাহিত হয়েছেন। কেননা ইমান সহিহ হওয়ার জন্য এটি জানা আবশ্যক, আর কোনো মুসলিমের জন্য এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকা মার্জনীয় নয় এবং আপনার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
অপরটি হলো: মানুষের মাঝে পারস্পরিক পরিচিতি লাভ করা, যাতে কেউ নিজের পিতা ছাড়া অন্য কারো দিকে নিজেকে সম্বন্ধযুক্ত না করে এবং নিজের পূর্বপুরুষ ছাড়া অন্য কারো দিকে নিজেকে সম্পৃক্ত না করে। মহান আল্লাহর এই বাণীতে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে: (হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে এবং তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো)। যদি বংশ পরিচয়ের জ্ঞান না থাকত, তবে তা উপলব্ধি করা সম্ভব হতো না এবং এর উদ্দেশ্য অর্জন করা দুঃসাধ্য হতো।
এর মধ্যে আরেকটি হলো: ইমামত বা খিলাফতের ক্ষেত্রে বংশ পরিচয় বিবেচনা করা, যা হলো সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। আল-মাওয়ার্দি 'আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ' গ্রন্থে ইমাম কুরাইশি হওয়ার ব্যাপারে ইজমা বা ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর তিনি বলেছেন: দিরারের মতের কোনো গুরুত্ব নেই, যেখানে সে এটি সকল মানুষের জন্য বৈধ বলেছে। কারণ এটি প্রমাণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ইমামগণ
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ৮)
من قريش. قال أصحابنا الشافعية: فإن لم يوجد قرشي اعتبر كون الإمام كنانياً من بني كنانة من خُزيمة، فإن تعذر اعتبر كونه من بني إسماعيل عليه السلام، فإن تعذر اعتبر كونه من بني إسحاق عليه السلام، فإن تعذر اعتبر كونه من جرهم، لشرفهم بصهارة إسماعيل عليه السلام، بل قد نصوا أن الهاشمي أولى بالإمامة من غيره من قريش.
فلولا المعرفة بعلم النسب لفات وتعذر حكم الإمامة العظمى التي بها عموم صلاح الأمة، وحماية البيضة، وكف الفتنة، وغير ذلك من المصالح.
ومنها: اعتبار النسب في كفاءة الزوج للزوجة عند الشافعي رضي الله عنه، حتى لا يكافئ الهاشمية والمطّلبية غيرها من قريش، ولا يكافئ القرشية غيرها من العرب ممن ليس بقرشي، ولا يكافئ الكنانية غيرها من العرب ممن ليس بكناني ولا قرشي على الأصح.
وفي اعتبار النسب في العجمي أيضاً وجهان: أصحهما الاعتبار. فإذا لم يعرف النسب تعذرت هذه الأحكام.
منها: مراعاة النسب الشريف في المرأة المنكوحة، فقد ثبت في الصحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «تنكح المرأة لأربع: لدينها، وحسبها، ومالها، وجمالها» فراعى صلى الله عليه وسلم في المرأة الحسب، وهو شرف الآباء.
ومنها: جريان الرق على العرب في أحد قولي الشافعي رضي الله عنه وموافقيه، فإذا لم يعرف النسب تعذر ذلك، إلى غير ذلك من الأحكام الجارية هذا المجرى.
ثم ليعلم أنه قد ذهب كثير من أئمة المحدثين والفقهاء، كالبخاري، إلى جواز الرفع في الأنساب احتجاجاً بعمل السلف، فقد كان أبو بكر الصديق رضي الله عنه
কুরাইশ বংশ থেকে হতে হবে। আমাদের শাফেঈ উলামাগণ বলেন: যদি কুরাইশ বংশের কাউকে পাওয়া না যায়, তবে খুজাইমাহর বংশোদ্ভূত বনু কিনানার একজনকে ইমাম হিসেবে গণ্য করা হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বংশধরদের মধ্য থেকে কাউকে বিবেচনা করা হবে। যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে ইসহাক আলাইহিস সালামের বংশধরদের মধ্য থেকে কাউকে বিবেচনা করা হবে। যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে জুরহুম গোত্রের কাউকে বিবেচনা করা হবে, কারণ ইসমাঈল আলাইহিস সালামের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে তাদের মর্যাদা রয়েছে। বরং তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কুরাইশ বংশের অন্যদের তুলনায় হাশেমী বংশের ব্যক্তি ইমামতের জন্য অধিক যোগ্য।
সুতরাং যদি নসব বা বংশধারা সম্পর্কিত জ্ঞান না থাকত, তবে 'ইমামতে উজমা'র (মহা-নেতৃত্বের) বিধান বিলুপ্ত ও অসম্ভব হয়ে পড়ত, যার মাধ্যমে উম্মতের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়, ভূখণ্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়, ফিতনা দমন করা হয় এবং এ জাতীয় আরও অনেক জনকল্যাণমূলক কাজ সম্পন্ন হয়।
তন্মধ্যে একটি হলো: ইমাম শাফেঈ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্রের সাথে পাত্রীর নসব বা বংশীয় সমতা বিবেচনা করা। এমনকি হাশেমী ও মুত্তালিবী বংশের নারীর জন্য কুরাইশ বংশের অন্য কেউ সমপর্যায়ের হবে না। কুরাইশ নারীগণের জন্য কুরাইশ নয় এমন অন্য কোনো আরব সমপর্যায়ের হবে না। আর অধিকতর সঠিক মতানুযায়ী, কিনানী নারীগণের জন্য কিনানী বা কুরাইশ নয় এমন অন্য কোনো আরব সমপর্যায়ের হবে না।
অনারবদের ক্ষেত্রেও নসব বা বংশধারা বিবেচনার বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে; এর মধ্যে অধিকতর সঠিক মতটি হলো নসব বিবেচনা করা। সুতরাং যদি বংশপরিচয় জানা না থাকে, তবে এই বিধানগুলো প্রয়োগ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তন্মধ্যে আরও একটি হলো: বিবাহযোগ্য নারীর ক্ষেত্রে তার উচ্চ বংশমর্যাদা লক্ষ্য রাখা। সহীহ হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «চারটি বিষয় দেখে নারীকে বিবাহ করা হয়: তার দ্বীনদারী, তার বংশীয় মর্যাদা, তার সম্পদ এবং তার সৌন্দর্য»; এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীর বংশীয় মর্যাদা লক্ষ্য করেছেন, যা মূলত পিতৃপুরুষের আভিজাত্য।
তন্মধ্যে আরও একটি হলো: ইমাম শাফেঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং তাঁর অনুসারীদের দুটি মতের একটি অনুযায়ী আরবদের দাস বানানো বৈধ হওয়া। সুতরাং যদি বংশপরিচয় জানা না থাকে তবে সেটি অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ জাতীয় আরও অনেক বিধান রয়েছে যা এই ধারায় পরিচালিত হয়।
এরপর জেনে রাখা উচিত যে, মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের মধ্যে ইমাম বুখারীর মতো অনেকেই বংশধারাকে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বৈধতার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং এর সপক্ষে সালাফদের আমলকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। কেননা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ৯)
في علم الأنساب في المقام الأرفع والجانب الأعلى، وذلك أذل دليل وأعظم شاهد على شرف هذا العلم وجلالة قدره.
وقد حكى صاحب الريحان والريعان عن أبي سليمان الخطابي رحمه الله قال: كان أبو بكر رضي الله عنه نسّابة فخرج مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فوقف على قوم من ريبعة فقال: ممن القوم؟ قالوا: من ربيعة، قال: وأي ربيعة أنتم، أمن هامتها أم من لهازمها؟ قالوا: بل من هامتها العظمى. قال أبو بكر: ومن أيها؟ قالوا من ذُهل الأكبر. قال أبو بكر: فمنكم عوف بن مُحلِّم الذي يقال له: لا حُرّ بوادي عوف؟ قالوا: لا. قال: فمنكم بِسطام بن قيس أبو القِرَى ومنتهى الأحياء؟ قالوا: لا، قال: فمنكم اَلْحوفزان قاتل الملوك وسالبها أَنْعُمها؟ قالوا: لا. قال: فمنكم المزدلف الحرّ صاحب العمامة الفردة؟ قالوا: لا. قال: فمنكم أخوال الملوك من كِندة؟ قالوا: لا. قال: فمنكم أصهار الملوك من لَخم؟ قالوا: لا. قال: فلستم بذُهل الأكبر بل ذهل الأصغر. فقام إليه غلام من شيبان يقال له: دِغْفَل حين بَقَل وجهه فقال: إن على سائلنا أن نسأله: يا هذا إنك قد سألت فأخبرناك ولم نكتمك شيئاً من خبرنا، فمن الرجل؟ قال أبو بكر: أنا من قريش. قال: بخٍ بخٍ أهل الشرف والرياسة، فمن أي القرشيين أنت؟ قال: من تَيم بن مُرة. قال الفتى: أمكنت والله الرامي من سواء الثُّغرة، فمنكم قُصي الذي جمع القبائل من فِهر وكان يُدعى مُجمعاً؟ قال: لا. قال: فمنكم هاشم الذي هشم الثريد لقومه؟ قال: لا. قال: فمنكم شيبة الحمد مطعم
বংশবিদ্যা মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত, আর এটিই এই বিদ্যার সম্মান ও এর সুমহান মর্যাদার ওপর অকাট্য দলিল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সাক্ষী।
'আর-রাইহান ওয়ার রাইআন'-এর লেখক আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বংশবিদ্যায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। এক রাতে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বের হলেন এবং রবীআ গোত্রের একটি দলের সামনে এসে দাঁড়ালেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনারা কোন গোত্রের? তারা বলল: রবীআ গোত্রের। তিনি বললেন: আপনারা রবীআর কোন শাখার? আপনারা কি এর শীর্ষস্থানীয় শাখা থেকে নাকি সাধারণ শাখা থেকে? তারা বলল: বরং আমরা এর শ্রেষ্ঠ ও শীর্ষস্থানীয় শাখা থেকে। আবু বকর বললেন: তার কোন অংশ থেকে? তারা বলল: যুহল আল-আকবার থেকে। আবু বকর বললেন: আউফ ইবনে মুদাল্লিম কি আপনাদের বংশের, যার সম্পর্কে বলা হতো: 'আউফের উপত্যকায় কোনো স্বাধীন মানুষ নেই (সবাই তার অনুগত)'? তারা বলল: না। তিনি বললেন: বিসতাম ইবনে কায়স কি আপনাদের বংশের, যাকে আতিথেয়তার প্রতীক এবং গোত্রসমূহের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হতো? তারা বলল: না। তিনি বললেন: আল-হাউফাযান কি আপনাদের বংশের, যিনি রাজাদের হত্যাকারী এবং তাদের সম্পদ ছিনিয়ে গ্রহণকারী ছিলেন? তারা বলল: না। তিনি বললেন: অনন্য পাগড়ির অধিকারী স্বাধীনচেতা আল-মুযদালিফ কি আপনাদের বংশের? তারা বলল: না। তিনি বললেন: রাজাদের মাতুল বংশীয় কিনদাহ গোত্রের আত্মীয়রা কি আপনাদের মধ্য থেকে? তারা বলল: না। তিনি বললেন: রাজাদের বৈবাহিক আত্মীয় লাখম গোত্রের লোকজন কি আপনাদের মধ্য থেকে? তারা বলল: না। তিনি বললেন: তাহলে আপনারা যুহল আল-আকবার নন, বরং আপনারা হলেন যুহল আল-আসগার। তখন শায়বান গোত্রের দিগফাল নামক এক কিশোর, যার চেহারায় সবেমাত্র দাড়ি গজাতে শুরু করেছিল, দাঁড়িয়ে গেল এবং বলল: আমাদের প্রশ্নকারীর ওপরও আমাদের প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে। হে ব্যক্তি! আপনি আমাদের প্রশ্ন করেছেন এবং আমরা আপনাকে উত্তর দিয়েছি, আপনার কাছে আমাদের কোনো সংবাদ গোপন করিনি; এখন বলুন, আপনি কে? আবু বকর বললেন: আমি কুরাইশ বংশের। সে বলল: চমৎকার, চমৎকার! আপনারা তো মর্যাদা ও নেতৃত্বের অধিকারী গোত্র। আপনি কুরাইশের কোন শাখার? তিনি বললেন: তাইম ইবনে মুররাহ শাখার। যুবকটি বলল: আল্লাহর কসম, আপনি তো শিকারিকে লক্ষ্যভেদের মোক্ষম সুযোগ করে দিলেন! কুসাই ইবনে কিলাব কি আপনাদের বংশের, যিনি ফিহরের বংশধরদের একত্রিত করেছিলেন এবং যাকে 'মুজাম্মি' (একত্রিতকারী) বলা হতো? তিনি বললেন: না। সে বলল: হাশিম কি আপনাদের বংশের, যিনি তার সম্প্রদায়ের জন্য রুটি ভেঙে 'সারীদ' তৈরি করতেন? তিনি বললেন: না। সে বলল: তবে কি শায়বাতুল হামদ আপনাদের বংশের, যিনি অন্নদান করতেন—
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ১০)
طير السماء؟ قال: لا. قال: فمن المفيضين بالناس أنت؟ قال: لا. قال: فمن أهل الندوة أنت؟ قال: لا. قال: فمن أهل السقاية أنت؟ قال: لا. قال: فمن أهل الرفادة أنت؟ قال: لا. قال: فمن أهل الحجابة أنت؟ قال: لا. واجتذب أبو بكر رضي الله عنه زمام ناقته، فقال الفتى:
صادف دَرُّ السيل درّاً يدفعه
… يَهيضه حيناً وحيناً يصدعُهْ
أما والله يا أخا قريش لو لبثت لأخبرتك أنك من رعيان قريش ولست من الذوائب. فأخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم بذلك فتبسم. فقال عليّ رضي الله عنه: يا أبا بكر، لقد وقعت من الغلام الأعرابي على باقعه. فقال: يا أبا الحسن، ما من طامة إلا وفوقها طامة.
ودِغْفل هذا هو دغفل ابن حنطلة النسابة الذي يُضرب به المثل في معرفة النسب، قدم مرة على معاوية بن أبي سفيان في خلافته فاختبره فوجده رجلاً عالماً، فقال: بِم نلت هذا يا دغفل؟ قال: بقلب عَقول، ولسان سؤول، وآفة العلم النسيان.
وممن اشتهر بمعرفة الأنساب أيضاً ابن الكيّس، من بني عوف بن سعد ابن ثعلب بن وائل وفيهما يقول مسكين بن عامر:
فحكِّم دِغْفلاً وارحل إليه
… ولا تَدِع المعطيَّ من الكَلالِ
أو ابن الكيِّس النَّمري زيداً
… ولو أمسى بمُنخرق الشمال
আকাশের পাখি? সে বলল: না। সে বলল: তবে আপনি কি সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা (আরাফাত থেকে) সাধারণ মানুষের সাথে প্রত্যাবর্তন করেন? সে বলল: না। সে বলল: তবে আপনি কি নাদওয়া সভার অন্তর্ভুক্ত? সে বলল: না। সে বলল: তবে আপনি কি হাজীদের পানি পান করানোর দায়িত্বপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত? সে বলল: না। সে বলল: তবে আপনি কি মেহমানদারী প্রদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত? সে বলল: না। সে বলল: তবে আপনি কি কাবার রক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত? সে বলল: না। তখন আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর উটনীর লাগাম টেনে ধরলেন, তখন যুবকটি বলল:
প্রবল স্রোতের বেগ এমন এক স্রোতের মুখোমুখি হয়েছে যা তাকে প্রতিহত করে
… যা তাকে কখনো দুর্বল করে দেয় আর কখনো বিদীর্ণ করে ফেলে।
আল্লাহর কসম, হে কুরাইশ ভ্রাতা! আপনি যদি আরও কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন, তবে আমি আপনাকে জানিয়ে দিতাম যে আপনি কুরাইশদের সাধারণ স্তরের লোকদের অন্তর্ভুক্ত, আপনি তাদের উচ্চবংশীয় নেতৃস্থানীয়দের অন্তর্ভুক্ত নন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ সংবাদ জানানো হলে তিনি মুচকি হাসলেন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আবু বকর, আপনি এই বেদুইন বালকের কাছ থেকে এক বিস্ময়কর বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি বললেন: হে আবুল হাসান, প্রতিটি বিপত্তির উপরে আরও বড় বিপত্তি থাকে।
আর এই দাগফাল হলেন দাগফাল ইবনে হানযালা আন-নাসসাবাহ (বংশলতিকাবিদ), বংশলতিকার জ্ঞানে যাঁর প্রবাদ প্রদান করা হয়। তিনি একবার মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের খিলাফতকালে তাঁর নিকট এসেছিলেন। তিনি তাঁকে পরীক্ষা করলেন এবং তাঁকে একজন বড় আলেম হিসেবে পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে দাগফাল, তুমি কিসের মাধ্যমে এই জ্ঞান অর্জন করেছ? তিনি বললেন: বোধশক্তিসম্পন্ন হৃদয়ের মাধ্যমে এবং প্রশ্নকারী রসনার মাধ্যমে; আর ইলমের ব্যাধি হলো বিস্মৃতি।
বংশলতিকার জ্ঞানে আরও যারা প্রসিদ্ধ ছিলেন তাদের মধ্যে ইবনুল কায়্যিস অন্যতম, যিনি বনু আউফ বিন সাদ বিন সালাবা বিন ওয়াইল গোত্রের লোক ছিলেন। তাঁদের সম্পর্কে মিসকিন বিন আমের বলেন:
তুমি দাগফালকে বিচারক মানো এবং তাঁর কাছে সফর করো
… আর ক্লান্তিজনিত কারণে দান করা থেকে বিরত থেকো না।
অথবা আন-নামারি যাইদ ইবনুল কায়্যিসের কাছে যাও
… যদিও সে উত্তরবায়ু প্রবাহিত কোনো দূরবর্তী জনপদে অবস্থান করে।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقد صنف في علم الأنساب جماعة من جلة العلماء وأعيانهم، كأبي عبيد القاسم ابن سلام، والبيهقي، وابن عبد البر، وابن حزم، وغيرهم؛ وذلك دليل شرفه ورفعة قدره.
বংশবিদ্যা শাস্ত্রে একদল প্রথিতযশা ও বিশিষ্ট আলেম গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবন সাল্লাম, আল-বাইহাকী, ইবন আবদিল বারর, ইবন হাজম এবং অন্যান্যরা; আর এটিই এই শাস্ত্রের মর্যাদা ও সুউচ্চ অবস্থানের প্রমাণ।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفصل الثانيفي بيان ما يقع عليه اسم العرب، وذكر أنواعهموما ينخرط في سلك ذلك أما من يقع عليه اسم العرب فقد قال الجوهري في صحاحه: «العرب جيل من الناس، وهم أهل الأمصار، والأعراب سكان البادية».
والتحقيق أن اسم العرب يشمل الجميع، والأعراب نوع منهم.
قال الجوهري: «وجاء في الشعر الفصيح الأعاريب، ويقال: تعرّب العجمي، إذا تشبه بالعرب».
وقد ذكر صاحب «العِبر» أن لفظ العرب مشتق من الإعراب، وهو البيان، أخذاً من قولهم: أعرب الرجل عن حاجته، إذا أبان، سُمُّوا بذلك لأن الغالب عليهم البيان.
وتصغير العرب: عُريب، والنسبة إلى العرب: عربيّ، وإلى الأعراب: أعرابيّ، لأنه لا واحد له يُرد إليه، بخلاف مساجد، حيث ينسب إليها: مسجدي، نسبة إلى الواحد منها من حيث إن لها واحداً ترد إليه.
ثم إن كل من عدا العرب فهو عجمي، سواء الفرس أو الترك أو الروم أو غيرهم، وليس كما تتوهم العامة من اختصاص العجم بالفرس، أما الأعجم فالذي لا يفصح في الكلام وإن كان عربياً، ومنه سميّ: زياد الأعجم الشاعر، وكان عربياً.
وأما أنواع العرب فقد اتفقوا على تنويعهم أولاً على نوعين: عاربة ومستعربة.
فأما العاربة، فقال الجوهري: هم العرب الخلّص.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদআরব নামের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি এবং তাদের প্রকারভেদ বর্ণনা প্রসঙ্গেএবং এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট যা কিছু রয়েছে। আরব নামের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে আল-জাওহারী তাঁর 'সিহাহ' গ্রন্থে বলেছেন: "আরব হলো মানবজাতির একটি গোষ্ঠী, তারা নগরবাসী; আর আ'রাব হলো মরুভূমির বাসিন্দা।"
প্রকৃতপক্ষে আরব শব্দটি সকলকেই অন্তর্ভুক্ত করে, আর আ'রাব হলো তাদেরই একটি প্রকার।
আল-জাওহারী বলেন: "বিশুদ্ধ কবিতায় 'আআরীব' শব্দটির ব্যবহার পাওয়া যায়। আর বলা হয়: কোনো অ-আরব 'তাআররাবা' (আরব সদৃশ হয়েছে), যখন সে আরবদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে।"
'আল-ইবার' গ্রন্থের রচয়িতা উল্লেখ করেছেন যে, আরব শব্দটি 'ই'রাব' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো স্পষ্টতা বা বিশদ বর্ণনা। এটি তাদের প্রচলিত কথা: 'ব্যক্তিটি তার প্রয়োজন স্পষ্ট করেছে'—থেকে নেওয়া হয়েছে, যখন সে তা পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করে। তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাদের মাঝে স্পষ্ট বর্ণনাভঙ্গির প্রাধান্য বিদ্যমান।
'আরব' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ হলো 'উরাইব'। আরব-এর সাথে সম্পর্কিত পদ হলো 'আরবি', এবং আ'রাব-এর সাথে সম্পর্কিত পদ হলো 'আ'রাবি'; কারণ এর এমন কোনো একবচন নেই যার দিকে একে ফিরিয়ে নেওয়া যায়। এটি 'মাসাজিদ' শব্দের বিপরীত, যার বিশেষণ হলো 'মাসজিদি'; এটি এর একবচনের দিকে সম্পর্কিত হয় কারণ এর একটি নির্দিষ্ট একবচন রূপ আছে যার দিকে একে প্রত্যাবর্তন করানো যায়।
অতঃপর, আরব ব্যতীত অন্য সকলেই 'আজমি', তারা পারস্যের হোক, তুর্কি হোক, রোমান হোক বা অন্য যা-ই হোক। সাধারণ মানুষ যেমন ধারণা করে যে 'আজম' কেবল পারসিকদের জন্য নির্দিষ্ট, বিষয়টি তেমন নয়। আর 'আ'জাম' হলো সেই ব্যক্তি যে স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারে না, যদিও সে জাতিগতভাবে আরব হয়। এই কারণেই কবি যিয়াদ আল-আ'জামকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে, অথচ তিনি একজন আরব ছিলেন।
আরবদের প্রকারভেদের ক্ষেত্রে পন্ডিতগণ প্রাথমিকভাবে তাদের দুটি প্রকারে বিভক্ত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন: আরিবা এবং মুস্তা'রিবা।
আরিবা প্রসঙ্গে আল-জাওহারী বলেছেন: তারা হলো খাঁটি আরব।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قال في العبر: وهم العرب الأُوَل الذين فهّمهم الله اللغة العربية ابتداء فتكلموا بها فقيل لهم: عاربة، إما بمعنى الراسخة في العروبية، كما يقال: ليل لائل، وإما بمعنى الفاعلة للعروبية والمبتدعة لها، لمّا كانوا أول من تكلم بها.
قال الجوهري: وقد يقال فيها: العرب العَرْباء.
والمستعربة: الداخلون في العروبية بعد العجمة، أخذاً من استفعل بمعنى الصيرورة، نحو استنوق الجمل، إذا صار في معنى الناقة، لما فيه من الخنوثة، واستحجر الطين، إذا صار في معنى الحجر ليُبسه.
قال الجوهري: وربما قيل لهم المتعربة.
ثم اختلف في العاربة والمستعربة، فذهب ابن إسحاق والطبري إلى أن العاربة هم: عاد، وثمود، وطَسْم، وجَديس، وأُميم، وعَبيل، والعَمالقة، وعبد ضَخْم، وجُرْهم الأولى، التي كانت في زمن عاد، ومن في معناهم.
والمستعربة: بنو قحطان بن عابر بن شالخ بن أُد بن سام بن نوح عليه السلام، لأن لغة عابر كانت عجمية، إما سريانية، وإما عبرانية، فتعلّم بنو قحطان العربية من العاربة ممن كان في زمنهم، وتعلم بنو إسماعيل العربية من جُرهم من بني قحطان حين نزلوا عليه وعلى أمه بمكة.
وذهب آخرون، منهم المؤيد صاحب حماه، إلى أن بني قحطان هم العاربة، وأن المستعربة هو بنو إسماعيل فقط.
والذي رجحه صاحب «العبر» الأول. محتجاً بأنه لم يكن في بني قحطان من زمن نوح عليه السلام إلى عابر من تكلم بالعربية، وإنما تعلموها نقلاً عمن كان قبلهم من العرب، من عاد وثمود ومعاصريهم، ممن تقدم ذكرهم.
'আল-ইবার' গ্রন্থে বলা হয়েছে: তারা হলেন আদি আরব যাদের আল্লাহ প্রাথমিকভাবে আরবি ভাষা শিখিয়েছেন, ফলে তারা সেই ভাষায় কথা বলেছেন। তাই তাদের 'আরিবা' (বিশুদ্ধ আরব) বলা হয়; এর অর্থ হতে পারে যারা আরবীয় বৈশিষ্ট্যে সুদৃঢ়, যেমন বলা হয়ে থাকে 'অত্যন্ত অন্ধকার রাত' (লিইলুন লায়িল)। অথবা এর অর্থ হতে পারে যারা আরবীয় বৈশিষ্ট্য তৈরি ও উদ্ভাবন করেছে, যেহেতু তারাই প্রথম এই ভাষায় কথা বলেছে।
আল-জাওহারি বলেছেন: তাদের 'আরব আল-আরবা'-ও বলা হয়ে থাকে।
আর 'মুসতা'রিবা' (আরবীকরণকৃত) হলো তারা, যারা অনারব হওয়ার পর আরবীয় বৈশিষ্ট্যে প্রবেশ করেছে। এটি 'ইস্তাফ'আলা' ক্রিয়ামূল থেকে নেওয়া হয়েছে যা রূপান্তরিত হওয়া অর্থ প্রদান করে। যেমন: 'উটটি মাদী উটের মতো হয়ে গেল' যখন উটের মধ্যে মাদী উটের মতো স্বভাব প্রকাশ পায়, অথবা 'কাদা পাথরে পরিণত হলো' যখন শুষ্কতার কারণে তা পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়।
আল-জাওহারি বলেছেন: কখনও কখনও তাদের 'মুতা'আরিবা'-ও বলা হয়।
অতঃপর 'আরিবা' ও 'মুসতা'রিবা'দের বিষয়ে মতভেদ দেখা দেয়। ইবনে ইসহাক ও তাবারির মতে 'আরিবা' গোষ্ঠীগুলো হলো: আদ, সামুদ, তাসম, জাদিস, উমাইম, আবিল, আমালিকা, আবদ দ্বাখম এবং প্রথম জুরহুম—যারা আদ সম্প্রদায়ের যুগে ছিল—এবং তাদের সমপর্যায়ভুক্ত অন্যান্যরা।
আর 'মুসতা'রিবা' হলো কাহতান বিন আবের বিন শালিখ বিন উদ বিন সাম বিন নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধরগণ। কারণ আবেরের ভাষা ছিল অনারব—হয় সিরীয় নতুবা হিব্রু। ফলে কাহতানের বংশধরগণ তাদের সমসাময়িক 'আরিবা' বা বিশুদ্ধ আরবদের কাছ থেকে আরবি ভাষা শিখেছিলেন। অন্যদিকে ইসমাইলের বংশধরগণ আরবি ভাষা শিখেছিলেন বনু কাহতানের অন্তর্ভুক্ত জুরহুম গোত্রের নিকট থেকে, যখন তারা মক্কায় তাঁর ও তাঁর মায়ের নিকট বসতি স্থাপন করেছিলেন।
হামার অধিপতি আল-মুয়াইয়াদসহ অন্যান্যরা এই মত পোষণ করেছেন যে, বনু কাহতানই হলো 'আরিবা' (বিশুদ্ধ আরব), আর 'মুসতা'রিবা' (আরবীকরণকৃত) হলো কেবল বনু ইসমাইল।
'আল-ইবার' গ্রন্থের লেখক প্রথম মতটিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি হলো, নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর যুগ থেকে আবের পর্যন্ত বনু কাহতানের মধ্যে এমন কেউ ছিল না যে আরবি ভাষায় কথা বলত। বরং তারা তাদের পূর্ববর্তী আরবদের অর্থাৎ আদ, সামুদ এবং তাদের সমসাময়িক পূর্বোক্ত গোষ্ঠীগুলোর নিকট থেকে শ্রুতির মাধ্যমে এই ভাষা শিখেছিল।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الفصل الثالثفي معرفة طبقات الأنساب وما يلحق بذلكقد عد أهل اللغة طبقات الأنساب ست طبقات: الطبقة الأولى: الشعب، بفتح العين، وهو النسب الأبعد، كعدنان مثلاً.
قال الجوهري: وهو أبو القبائل الذين ينسبون إليه. ويجمع على شعوب.
قال الماوردي في «الأحكام السلطانية»: وسمي شعباً، لأن القبائل تتشعب منه.
وذكر الزمخشري في «كشافه» نحوه.
الطبقة الثانية: القبيلة، وهي ما انقسم فيه الشعب كربيعة ومُضر.
قال الماورديّ: وسميت القبيلة لتقابل الأنساب فيها. وتجمع القبيلة على قبائل وربما سميت القبائل: جماجم أيضاً، كما يقتضيه كلام الجوهري حيث قال: وجماجم العرب هي القبائل التي تجمع البطون.
الطبقة الثالثة: العِمارة، بكسر العين المهملة، وهي ما انقسم فيه أنساب القبيلة، كقريش وكنانة. وتجمع: على عمارات، وعمائر.
তৃতীয় পরিচ্ছেদবংশবৃত্তান্তের স্তরসমূহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি প্রসঙ্গেভাষাবিদগণ বংশবৃত্তান্তের স্তরসমূহকে ছয়টি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন। প্রথম স্তর: শা'ব (আইন অক্ষরে ফাতহা বা যবর যোগে), এটি হলো দূরতম বংশসূত্র, যেমন আদনান।
আল-জাওহারী বলেন: এটি হলো গোত্রসমূহের সেই মূল উৎস যাদের দিকে তারা নিজেদের সম্বন্ধযুক্ত করে। এর বহুবচন হলো শু'উব।
আল-মাওয়ারদী 'আল-আহকাম আস-সুলতানিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেন: একে শা'ব নামকরণ করা হয়েছে কারণ গোত্রসমূহ এখান থেকেই শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়।
আল-যামাখশারী তাঁর 'কাশশাফ' গ্রন্থে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয় স্তর: কাবিলাহ (গোত্র), যাতে শা'ব বিভক্ত হয়, যেমন রবী'আহ ও মুদার।
আল-মাওয়ারদী বলেন: একে কাবিলাহ বলা হয় কারণ এতে বংশধারাগুলো একে অপরের সমান্তরাল বা মুখোমুখি হয়। কাবিলাহ-এর বহুবচন হলো কাবায়িল। সম্ভবত গোত্রসমূহকে 'জামাজিম'ও বলা হয়, যেমনটি আল-জাওহারীর বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়; তিনি বলেন: আরবের জামাজিম হলো সেই সব গোত্র যারা বুতুন বা উপশাখাগুলোকে একত্রিত করে।
তৃতীয় স্তর: ইমারাহ (আইন অক্ষরে কাসরা বা জের যোগে), যাতে কাবিলাহর বংশধারাগুলো বিভক্ত হয়, যেমন কুরাইশ ও কিনানাহ। এর বহুবচন হলো ইমারাত ও আমায়ির।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الطبقة الرابعة: البطن، وهي ما انقسم فيه أقسام العمارة، كبني عبد مناف، وبني مخزوم. ويجمع: على بطون، وأبطن.
الطبقة الخامسة: الفخذ، وهي ما انقسم فيه أقسام البطن، كبني هاشم، وبني أمية، وتجمع على: أفخاذ.
الطبقة السادسة: الفصيلة، بالصاد المهملة. وهي ما انقسم فيه أقسام الفخذ، كبني العباس.
هكذا رتّبها الماوردي في «الأحكام السلطانية»، ومثّل بما تقدم. وعلى نحو ذلك جرى الزمخشري في تفسيره في الكلام على قوله تعالى: (وجعلناكم شُعوباً وقبائل) إلا أنه مثل للشعب بخزيمة، وللقبيلة بكنانة، وللعمارة بقريش، وللبطن بقُصي، وللفخذ بهاشم، وللفصيلة بالعباس.
وبالجملة فالفخذ يجمع الفصائل، والبطن يجمع الأفخاذ، والعمارة يجمع البطون، والقبيلة تجمع العمائر، والشعب يجمع القبائل.
قال النووي في «تحرير التنبيه»: وزاد بعضهم «العشيرة» قبل «الفصيلة».
قال الجوهري: وعشيرة الرجل: رهطه الأدنون.
حكى أبو عبيد عن ابن الكلبي عن أبيه تقديم الشعب، ثم القبيلة، ثم الفصيلة، ثم العمارة، ثم الفخذ. وعليه جرى الجوهري في مادة «فخذ».
চতুর্থ স্তর: বাতান, যা ইমারাহ-এর উপবিভাগসমূহে বিভক্ত হয়, যেমন বনু আবদ মানাফ এবং বনু মাখজুম। এর বহুবচন হলো: বুতুন এবং আবতুন।
পঞ্চম স্তর: ফাখিজ, যা বাতান-এর উপবিভাগসমূহে বিভক্ত হয়, যেমন বনু হাশিম এবং বনু উমাইয়াহ। এর বহুবচন হলো: আফখাজ।
ষষ্ঠ স্তর: ফাসিলাহ, 'সদ' বর্ণ দিয়ে। এটি হলো ফাখিজ-এর উপবিভাগসমূহ, যেমন বনু আব্বাস।
এভাবেই আল-মাওয়ার্দি তার 'আল-আহকাম আস-সুলতানিয়্যাহ' গ্রন্থে বিন্যস্ত করেছেন এবং পূর্বোক্ত উদাহরণগুলো পেশ করেছেন। আল-জামাখশারিও তার তাফসিরে মহান আল্লাহর বাণী: (এবং আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি) এর ব্যাখ্যায় অনুরূপভাবে আলোচনা করেছেন; তবে তিনি শা'ব-এর উদাহরণ হিসেবে খুযাইমাহ, কবিলার জন্য কিনানাহ, ইমারাহ-র জন্য কুরাইশ, বাতান-এর জন্য কুসাই, ফাখিজ-এর জন্য হাশিম এবং ফাসিলাহ-র জন্য আব্বাসকে উল্লেখ করেছেন।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, ফাখিজ ফাসিলাহসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, বাতান ফাখিজসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, ইমারাহ বাতানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, কবিলা ইমারাহসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং শা'ব কবিলাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।
আন-নওয়াবি 'তাহরিরুত তানবিহ' গ্রন্থে বলেন: তাদের কেউ কেউ 'ফাসিলাহ'-এর আগে 'আশিরাহ' শব্দটিও যুক্ত করেছেন।
আল-জাওহারি বলেন: একজন ব্যক্তির আশিরাহ হলো তার নিকটাত্মীয় পরিজন।
আবু উবাইদ ইবনুল কালবি থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, প্রথমে শা'ব, তারপর কবিলা, তারপর ফাসিলাহ, তারপর ইমারাহ, এরপর ফাখিজ। আল-জাওহারিও তার গ্রন্থে 'ফাখিজ' শব্দমূলের আলোচনায় এ ধারাটি অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
واعلم أن أكثر ما يدولا على الألسنة من الطبقات الستة المتقدمة: القبيلة ثم البطن، وقلّ ما تذكر العمارة والفخذ والفصيلة، وربما عُبر عن كل واحد من الطبقات الست بالحي، إما على العموم، مثل أن يقال: حيّ من العرب، وإما على الخصوص، مثل أن يقال: حيّ بني فلان.
জেনে রাখুন যে, পূর্বোক্ত ছয়টি স্তরের মধ্যে মুখে মুখে সর্বাধিক যা প্রচলিত থাকে তা হলো: কাবিল্লাহ এবং অতঃপর বাতন; আর ইমারা, ফাখিজ ও ফাসিলাহ-এর উল্লেখ খুব কমই হয়ে থাকে। অনেক সময় এই ছয়টি স্তরের প্রত্যেকটিকে 'হায়' শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়; হয় সাধারণভাবে, যেমন বলা হয়: আরবদের একটি গোত্র, অথবা বিশেষভাবে, যেমন বলা হয়: অমুক বংশের গোত্র।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الرابعفي ذكر مساكن العرب القديمةالتي منها درجوا إلى سائر الأقطار اعلم أن مساكن العرب في ابتداء الأمر كانت بجزيرة العرب الواقعة في أواسط المعمور وأعدل أماكنه وأفضل بقاعه، حيث الكعبة الحرام وتربة أشرف الخلق نبينا محمد عليه أفضل الصلاة والسلام، وما حول ذلك من الأماكن.
وهذه الجزيرة متسعة الأرجاء ممتدة الأطراف يحيط بها من جهة الغرب بعض بادية الشام حيث البلقاء، إلى أيلة، ثم بحر القلزم الآخذ من أيلة حيث العقبة الموجودة بطريق حجاج مصر إلى الحجاز إلى أطراف اليمن، حيث طيّ وزبيد وما داناهما.
ومن جهة الجنوب بحر الهند المتصل به بحر القُلزم المقدم ذكره، من جهة الجنوب إلى عدن إلى أطراف اليمن حيث بلاد مهرة، من ظفار وما حولها.
ومن جهة الشرق بحر فارس الخارج من بحر الهند إلى جهة الشمال إلى بلاد البحرين، ثم إلى أطراف البصرة، ثم إلى الكوفة من بلاد العراق.
ومن جهة الشمال الفرات آخذاً من الكوفة على حدود العراق إلى عانة، إلى بالس من بلاد الجزيرة الفراتية، إلى البلقاء من برية الشام، حيث وقع الابتداء.
ودور هذه الجزيرة، فيما ذُكر في تقويم البلدان، سبعة أشهر وأحد عشر يوماً تقريباً بسير الأثقال، فمن البلقاء إلى الشراة ثلاثة أيام، ومن الشرا إلى أيلة نحو ثلاثة أيام، ومن أيلة إلى فرضة المدينة النبوية نحو عشرين يوماً،
চতুর্থ অধ্যায়আরবদের প্রাচীন বসতিসমূহের বর্ণনায়যেখান থেকে তারা অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। জেনে রাখুন যে, সূচনাকালে আরবদের আবাসস্থল ছিল আরব উপদ্বীপে, যা আবাদকৃত পৃথিবীর মধ্যস্থলে এবং এর সর্বাধিক ভারসাম্যপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠতম ভূখণ্ডে অবস্থিত; যেখানে পবিত্র কাবাঘর এবং সৃষ্টির সেরা আমাদের নবী মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর পবিত্র রওজা অবস্থিত এবং এর চারপাশের স্থানসমূহ।
এই উপদ্বীপটি বিশাল এবং এর সীমানা অত্যন্ত বিস্তৃত। এর পশ্চিম দিকে শাম মরুভূমির কিছু অংশ বেষ্টন করে আছে যা বালকা হতে আয়লা পর্যন্ত বিস্তৃত; এরপর কুলজুম সাগর, যা আয়লা হতে শুরু হয়ে মিসরের হাজিদের হিজাজ যাওয়ার পথে অবস্থিত আকাবা হয়ে ইয়েমেনের প্রান্তসীমা পর্যন্ত পৌঁছেছে, যেখানে তায়্যি ও জাবিদ এবং এর নিকটবর্তী এলাকাসমূহ অবস্থিত।
দক্ষিণ দিকে রয়েছে ভারত মহাসাগর, যার সাথে পূর্বোল্লিখিত কুলজুম সাগর যুক্ত হয়েছে, যা দক্ষিণ দিক থেকে আদন হয়ে ইয়েমেনের প্রান্তসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত যেখানে মাহরা দেশ, জোফার এবং এর আশপাশ এলাকা অবস্থিত।
পূর্ব দিকে রয়েছে পারস্য সাগর, যা ভারত মহাসাগর হতে উত্তর দিকে বাহরাইন ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত, অতঃপর বসরার প্রান্তসীমা হয়ে ইরাক ভূখণ্ডের কুফা পর্যন্ত।
উত্তর দিকে রয়েছে ফোরাত নদী, যা কুফা হতে ইরাক সীমান্ত হয়ে আনাহ্ পর্যন্ত, সেখান থেকে জাজিরা ফোরাতিয়া ভূখণ্ডের বালিস হয়ে শাম মরুভূমির বালকা পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখান থেকে বর্ণনা শুরু হয়েছিল।
‘তাকউয়িমুল বুলদান’ গ্রন্থে বর্ণিত তথ্যমতে, এই উপদ্বীপের পরিধি মালবাহী কাফেলার মন্থর গতিতে প্রায় সাত মাস এগারো দিনের পথ। বালকা থেকে শারাহ্ পর্যন্ত তিন দিন, শারাহ্ থেকে আয়লা পর্যন্ত প্রায় তিন দিন এবং আয়লা থেকে মদিনা মুনাওয়ারার প্রবেশপথ পর্যন্ত প্রায় বিশ দিনের পথ।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومنها إلى ساحل الجُحفة إلى جُدة - فرضة مكة المشرفة - ثلاثة أيام، ومن جدة إلى عدن نحو من شهر، ومن عدن إلى سواحل مهرة نحو من شهر، ومن مهرة إلى عمّان من البحرين نحو من شهر، ومن عمان إلى هَجر - قاعدة البحرين - نحو من شهر، ومن هجر إلى عبادان من سواد العراق نحو خمسة عسر يوماً، ومن عبادان إلى البصرة نحو يومين، ومن البصرة إلى الكوفة نحو اثنتي عشر يوماً، ومن الكوفة إلى بالس نحو عشرين يوماً، ومن بالس إلى سَلَميّة نحو سبعة أيام، ومن سَلَمية إلى مشارف غوطة دمشق نحو أربعة أيام، ومن مشارف غوطة دمشق إلى مشارف حوران ثلاثة أيام، ومن مشارف حوران إلى البلقاء نحو ثلاثة أيام.
قال المدائني: وجزيرة العرب هذه تشتمل على خمسة أقسام: تهامة، ونجد، وحجاز، وعروض، ويمن.
فتهامة: هي الناحية الجنوبية من الحجاز.
ونجد: هي الناحية التي بين الحجاز والعراق.
والحجاز: هو ما بين نجد وتهامة، وهو جبل يقبل من اليمن حيث يتصل بالشام، وسمي حجازاً لحجزه بين نجد وتهامة.
সেখান থেকে জুহফার উপকূল হয়ে জেদ্দা পর্যন্ত—যা সম্মানিত মক্কার প্রবেশদ্বার—তিন দিনের পথ; এবং জেদ্দা থেকে আদন পর্যন্ত প্রায় এক মাস, আদন থেকে মাহরা উপকূল পর্যন্ত প্রায় এক মাস, মাহরা থেকে বাহরাইনের অন্তর্গত ওমান পর্যন্ত প্রায় এক মাস, ওমান থেকে বাহরাইনের রাজধানী হাজার পর্যন্ত প্রায় এক মাস, হাজার থেকে ইরাকের সাওয়াদের অন্তর্গত আবাদান পর্যন্ত প্রায় পনেরো দিন, আবাদান থেকে বসরা পর্যন্ত প্রায় দুই দিন, বসরা থেকে কুফা পর্যন্ত প্রায় বারো দিন, কুফা থেকে বালিস পর্যন্ত প্রায় বিশ দিন, বালিস থেকে সালামিয়াহ পর্যন্ত প্রায় সাত দিন, সালামিয়াহ থেকে দামেস্কের গুতা অঞ্চল পর্যন্ত প্রায় চার দিন, দামেস্কের গুতা অঞ্চল থেকে হাওরান পর্যন্ত তিন দিন এবং হাওরান থেকে বালকা পর্যন্ত প্রায় তিন দিনের পথ।
আল-মাদায়িনী বলেন: এই আরব উপদ্বীপটি পাঁচটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত: তিহামাহ, নজদ, হিজাজ, আরুজ এবং ইয়ামেন।
তিহামাহ: এটি হিজাজের দক্ষিণ দিকের অঞ্চল।
নজদ: এটি হিজাজ ও ইরাকের মধ্যবর্তী অঞ্চল।
হিজাজ: এটি নজদ ও তিহামাহ-এর মধ্যবর্তী স্থান; এটি একটি পাহাড় যা ইয়ামেন থেকে শুরু হয়ে সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। নজদ ও তিহামাহ-এর মাঝে আড়াল বা প্রতিবন্ধক হওয়ার কারণে একে ‘হিজাজ’ নামকরণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والعروض: هي اليمامة إلى البحرين.
ويدخل في هذه الجزيرة قطعة من بلاد الشام، منها: تدمر، وتيماء، وتَبُوك.
واعلم أن اليمن كان هو منازل العرب العاربة من عاد، وثمود، وطَسم، وجديس، وأُميم، وجُرهم، وحضرموت، ومَن في معناهم، ثم انتقلت ثمود منهم إلى الحِجْر من أرض الشام، فكانوا به حتى هلكوا، كما ورد به القرآن الكريم.
وهلكت بقايا العاربة باليمن من عاد وغيرهم، وخلفهم فيه بنو قحطان من عابر، فعرفوا بعرب اليمن إلى الآن، وبقوا فيه إلى أن خرج منهم عمرو مزيقياء عند توقّع سيل العَرم، وكانت أرض الحجاز منازل بني عدنان إلى أن غزاهم بُخْتنصر، ونقل من نقل منهم إلى الأنبار من بلاد العراق. ولم تزل العرب بعد ذلك كله في التنقل عن جزيرة العرب والانتشار في الأقطار إلى أن كان الفتح الإسلامي، فتوغلوا في البلاد حتى وصلوا إلى بلاد الترك وما داناها، ونزلت منهم طائفة بالجزيرة الفراتية وصاروا إلى أقصى المغرب وجزيرة الأندلس وبلاد السودان، وبلغوا الآفاق وعمروا الأقطار، وصار بعض عرب اليمن إلى الحجاز فأقاموا به، وربما صار بعض عرب الحجاز إلى اليمن فأقاموا به، وبقى من بقى منهم بالحجاز واليمن على ذلك إلى الآن، ومن تفرق منهم بالأقطار منتشرون في الآفاق قد ملأوا ما بين الخافقين.
আরুজ: এটি ইয়ামামা থেকে বাহরাইন পর্যন্ত বিস্তৃত।
আর এই জাযিরা বা উপদ্বীপের অন্তর্ভুক্ত হলো সিরিয়ার (বিলাদুশ শাম) কিছু অংশ, যার মধ্যে রয়েছে: তাদমুর, তায়মা এবং তাবুক।
জেনে রাখুন যে, ইয়ামান ছিল প্রাচীন আরবদের (আল-আরব আল-আরিবা) আবাসস্থল, যেমন: আদ, সামুদ, তাসম, জাদিস, উমাইম, জুরহুম, হাদরামাউত এবং তাদের সমপর্যায়ভুক্ত অন্যান্যের। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে সামুদ সম্প্রদায় সিরিয়া ভূমির 'হিজর' নামক স্থানে স্থানান্তরিত হয় এবং সেখানে ধ্বংস হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তারা অবস্থান করেছিল, যেমনটি পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।
ইয়ামানে আদ সম্প্রদায়সহ প্রাচীন আরবদের অবশিষ্টাংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল আবিরের বংশধর বানু কাহতান, যারা বর্তমান সময় পর্যন্ত ইয়ামানের আরব হিসেবে পরিচিত। তারা সেখানে ততক্ষণ অবস্থান করেছিল যতক্ষণ না সাইলে আরিমের (বাঁধ ভাঙ্গা বন্যা) আশঙ্কায় তাদের মধ্য থেকে আমর মুজাইকিয়া বের হয়ে গিয়েছিলেন। আর হিজাজ ভূমি ছিল বনু আদনানের আবাসস্থল, যে পর্যন্ত না বুখতানসার (নেবুচাদনেজার) তাদের আক্রমণ করেন এবং তাদের মধ্য থেকে অনেককে ইরাকের আনবার এলাকায় স্থানান্তর করেন। এরপর থেকে ইসলামি বিজয় সূচিত হওয়া পর্যন্ত আরবরা আরব উপদ্বীপ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমাগত স্থানান্তর ও বিস্তৃতি অব্যাহত রাখে। অতঃপর তারা দেশসমূহের গভীরে প্রবেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত তুর্কিদের দেশ ও তার নিকটবর্তী অঞ্চলসমূহ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তাদের একটি দল ফোরাত উপত্যকায় বসতি স্থাপন করে এবং কেউ কেউ সুদূর মাগরিব (মরক্কো), আন্দালুস উপদ্বীপ ও সুদান অঞ্চলে গমন করে। তারা দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ভূখণ্ড আবাদ করে। ইয়ামানের কিছু আরব হিজাজে গিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করে এবং সম্ভবত হিজাজের কিছু আরব ইয়ামানে গিয়ে স্থায়ী হয়। তাদের যারা যারা হিজাজ ও ইয়ামানে অবশিষ্ট ছিল, তারা বর্তমান পর্যন্ত সেখানেই রয়ে গেছে। আর যারা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তারা দিগন্তময় বিস্তৃত হয়ে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী সকল স্থান পূর্ণ করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ২০)
الفصل الخامسفي بيان أمور يحتاج الناظر في علم الأنساب إليهاوهي عشرة أمور: الأول - قال الماوردي: إذا تباعدت الأنساب صارت القبائل شعوباً، والعمائر قبائل، يعني: وتصير البطون عمائر، والأفخاذ بطوناً، والفصائل أفخاذاً، والحادث بعد ذلك فصائل.
الثاني - قد ذكر الجوهري: أن القبيلة هي بنو أب واحد.
وقال ابن حزم: جميع قبائل العرب راجعة إلى أب واحد سوى ثلاث قبائل، وهي تَنوخ، والعُتْق، وغسّان، فإن كل قبيلة منها مجتمعة من عدة بطون.
وسيأتي بيان ذلك في الكلام على كل قبيلة من القبائل الثلاث في موضه، إن شاء الله.
ثم أن القبيلة قد يكون له عدة أولاد فيحدث عن بعضهم قبيلة أو عدة قبائل، فتنسب إليه كل قبيلة تحدث عنه وتُترك النسبة إلى القبيلة الأولى، كحنظلة بن تميم، فينسب إلى «حنظلة» ويترك «تميم» ويبقى بعضهم بلا ولد، بألا يولد له أو لم يشتهر ولده، فينسب إلى القبيلة الأولى.
الثالث - إذا اشتمل النسب على طبقتين فأكثر، كهاشم، وقريش، ومُضر، وعدنان، جاز لمن في الدرجة الأخيرة من النسب أن ينتسب إلى الجميع، فيجوز لبني هاشم أن يُنسبوا إلى هاشم وإلى قريش وإلى مضرو إلى عدنان، فيقال في أحدهم: الهاشميّ، والقرشيّ، والمضريّ، والعدنانيّ.
بل قد قال الجوهري: إن النسبة إلى الأسفل تُغني عن النسبة إلى الأعلى،
পঞ্চম পরিচ্ছেদবংশপরম্পরা বিদ্যায় (ইলমুল আনসাব) অনুসন্ধানকারীর প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহের বর্ণনায়সেগুলো দশটি বিষয়: প্রথম - আল-মাওয়ার্দি বলেছেন: যখন বংশপরম্পরা অধিক বিস্তৃত হয়, তখন গোত্রসমূহ (কাবাইল) জাতিতে (শুউব) পরিণত হয় এবং আমায়িরসমূহ গোত্রে পরিণত হয়। অর্থাৎ, বুতুনগুলো আমায়িরে, আফখাযগুলো বুতুনে, এবং ফাসায়িলগুলো আফখাযে পরিণত হয়; আর এরপর যা নতুন সৃষ্টি হয় তা ফাসায়িল হিসেবে গণ্য হয়।
দ্বিতীয় - আল-জাওহারি উল্লেখ করেছেন যে: গোত্র হলো এক পিতার সন্তানাদি।
এবং ইবনে হাযম বলেছেন: তিনটি গোত্র ব্যতীত আরবের সকল গোত্রই এক পিতার দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আর সেই তিনটি হলো: তানুখ, আল-উতক এবং গাসসান; কারণ এই গোত্রগুলোর প্রতিটিই বেশ কিছু উপ-গোত্রের (বুতুন) সমষ্টি।
ইনশাআল্লাহ, এই তিনটি গোত্রের প্রত্যেকটি সম্পর্কে আলোচনার সময় যথাস্থানে এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে।
অতঃপর, কোনো গোত্রপতির একাধিক সন্তান থাকতে পারে, ফলে তাদের কারো কারো মাধ্যমে একটি বা একাধিক নতুন গোত্রের উদ্ভব ঘটে। এমতাবস্থায় তাদের থেকে সৃষ্ট প্রতিটি গোত্রকে সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয় এবং পূর্ববর্তী মূল গোত্রের দিকে সম্বন্ধ ত্যাগ করা হয়। যেমন তামিমে পুত্র হানযালা; এক্ষেত্রে 'হানযালা'র দিকে নিসবত (সম্বন্ধ) করা হয় এবং 'তামিম' ত্যাগ করা হয়। আবার কারো কারো কোনো সন্তান থাকে না—হয় তার কোনো সন্তান জন্মায়নি অথবা তার সন্তান প্রসিদ্ধি লাভ করেনি—সেক্ষেত্রে তাকে মূল গোত্রের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত রাখা হয়।
তৃতীয় - যখন বংশপরম্পরা দুই বা ততোধিক স্তরকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন হাশিম, কুরাইশ, মুদার এবং আদনান; তখন বংশধারার সর্বশেষ স্তরে থাকা ব্যক্তির জন্য উক্ত সকল স্তরের দিকেই নিজেকে সম্বন্ধযুক্ত করা বৈধ। সুতরাং বনু হাশিমের বংশধরদের জন্য হাশিম, কুরাইশ, মুদার এবং আদনানের দিকে নিসবত করা বৈধ। সেমতে তাদের কোনো ব্যক্তিকে আল-হাশেমি, আল-কুরাশি, আল-মুদারি বা আল-আদনানি বলা যেতে পারে।
এমনকি আল-জাওহারি বলেছেন: নিম্নস্তরের দিকে সম্বন্ধ করা উচ্চস্তরের দিকে সম্বন্ধ করা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয় (অর্থাৎ নিচের স্তরের নিসবতই যথেষ্ট হয়)।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ২১)
فإذا قلت في النسبة إلى «كلب بن وبرة» الكلبي، استغنيت أن تنسبه إلى شيء من أصوله.
وذكر غيره أنه يجوز الجمع في النسب بين الطبقة العليا والطبقة السفلى.
ثم بعضهم يرى تقديم العليا على السفلى، مثل أن يقال في النسب إلى عثمان ابن عفان رضي الله عنه: الأموي العثماني، وبعضهم يرى تقديم السفلى على العليا، فيقال: العثماني الأموي.
الرابع - قد ينضم الرجل إلى غير قبيلته بالحلف والموالاة، فينسب إليهم، فيقال: فلان حليف بني فلان، أو مولاهم؛ كما يقال في البخاري: الجُعفي مولاهم، ونحو ذلك.
الخامس - إذا كان الرجل من قبيلة ثم دخل قبيلة أخرى جاز أن ينسب إلى قبيلته الأولى، وأن ينسب إلى قبيلته التي دخل فيها، وأن ينسب إلى القبيلتين جميعاً، مثل أن يقال: التميمي ثم الوائلي، أو الوائلي ثم التميمي، وما أشبه ذلك.
السادس - القبائل في الغالب تسمى باسم الأب والد القبيلة، كربيعة ومضر والأوس والخزرج، ونحو ذلك، وقد تسمى القبيلة باسم أمها الوالدة لها، كخندف وبِجَيلة ونحوهما، وقد تسمى باسم حاضنة ونحوها، وربما وقع اللقب على القبيلة بحدوث سبب، كغسان، حيث نزلوا من ماء يسمى غسان، فسموا به، كما سيأتي إن شاء الله.
السابع - غالب أسماء العرب منقولة عما يدور في خزانة خيالهم مما يخالطونه ويجاورونه، إما من الوحوش، كأسد ونمر، وإما من النبات، كنَبت وحنظلة، وإما من الحشرات، كحيّة وحنش، وإما من أجزاء الأرض، كفِهر وصَخر، ونحو ذلك.
আপনি যখন 'কালব বিন ওয়াবরাহ'-এর দিকে নিসবত করে 'কালবি' বলবেন, তখন তাকে তার অন্য কোনো মূল বংশের দিকে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন থেকে আপনি অমুখাপেক্ষী হয়ে গেলেন।
অন্যরা উল্লেখ করেছেন যে, নিসবতের ক্ষেত্রে উচ্চতর স্তর এবং নিম্নতর স্তরের মধ্যে সমন্বয় করা বৈধ।
অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিম্নতর স্তরের ওপর উচ্চতর স্তরকে আগে রাখা সমীচীন মনে করেন; যেমন—উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিসবতের ক্ষেত্রে বলা হয়: 'আল-উমাওয়ী আল-উসমানী'। আবার কেউ কেউ উচ্চতর স্তরের ওপর নিম্নতর স্তরকে আগে নিয়ে আসাকে পছন্দ করেন, সেক্ষেত্রে বলা হয়: 'আল-উসমানী আল-উমাওয়ী'।
চতুর্থ—কোনো ব্যক্তি মৈত্রী বা আনুগত্যের চুক্তির মাধ্যমে তার নিজ গোত্র ব্যতীত অন্য গোত্রে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তখন তাকে তাদের দিকেই সম্পৃক্ত করা হয় এবং বলা হয়: অমুক ব্যক্তি অমুক গোত্রের মিত্র অথবা তাদের আযাদকৃত দাস বা অনুগত। যেমন ইমাম বুখারীর ক্ষেত্রে বলা হয়: 'আল-জু'ফী মাওলাহুম' (জু'ফীদের আযাদকৃত দাস বা অনুগত) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।
পঞ্চম—কোনো ব্যক্তি যদি একটি গোত্রভুক্ত হয় এবং পরবর্তীতে অন্য গোত্রে প্রবেশ করে, তবে তাকে তার প্রথম গোত্রের দিকে সম্পৃক্ত করা, অথবা যে গোত্রে সে প্রবেশ করেছে তার দিকে সম্পৃক্ত করা, অথবা উভয় গোত্রের দিকেই তাকে সম্পৃক্ত করা বৈধ। যেমন বলা হয়: 'আত-তামীমী অতঃপর আল-ওয়াইলি', অথবা 'আল-ওয়াইলি অতঃপর আত-তামীমী' এবং এই জাতীয় নিসবত।
ষষ্ঠ—গোত্রগুলো সাধারণত তাদের বংশের আদি পিতার নামে নামাঙ্কিত হয়, যেমন—রাবিআহ, মুদার, আওস এবং খাযরাজ ইত্যাদি। আবার কখনো কোনো গোত্র তাদের আদি মাতার নামেও নামাঙ্কিত হয়, যেমন—খিন্দাফ, বিজাইলাহ ইত্যাদি। কখনো লালন-পালনকারীনীর নামে বা এই জাতীয় কোনো নামের দিকেও সম্পৃক্ত করা হয়। আবার কখনো বিশেষ কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে গোত্রের নামকরণ বা উপাধি নির্ধারিত হয়, যেমন—'গাসসান'। তারা গাসসান নামক একটি জলাশয়ের তীরে অবস্থান করেছিল বলে তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ সামনে আলোচিত হবে।
সপ্তম—আরবদের অধিকাংশ নামই তাদের কল্পনার জগতে বিদ্যমান পরিবেশ ও সান্নিধ্যে থাকা বিষয়গুলো থেকে গৃহীত। যেমন—হিংস্র প্রাণী থেকে নেওয়া নাম: আসাদ ও নামির; উদ্ভিদ থেকে নেওয়া নাম: নাবত ও হানজালাহ; পতঙ্গ বা সরীসৃপ থেকে নেওয়া নাম: হাইয়াহ ও হানাস; অথবা ভূমির অংশবিশেষ থেকে নেওয়া নাম: ফিহর ও সাখর ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ২২)
الثامن - الغالب على العرب تسمية أبنائهم بمكروه الأسماء، ككلب وحنظلة وضِرار وحرب، وما أشبه ذلك، وتسمية عبيدهم بمحبوب الأسماء، كفلاح ونجاح، ونحو ذلك.
والمعنى فيه ما حُكي: أنه قيل لأبي الدُّقيش الكلابي: لِمَ تسمون أبناءكم بشرّ الأسماء، نحو كلب وذئب، وعبيدكم بأحسن الأسماء، نحو مرزوق ورَباح، فقال: إنما نسمي أبناءنا لأعدائنا، وعبيدنا لأنفسنا. يريد أن الأبناء مُعدَّة للأعداء في المحاربة ونحوها فاختاروا لهم شر الأسماء، والعبيد معدّة لأنفسهم فاختاروا لهم خير الأسماء.
التاسع - إذا كان في القبيلة اسمان متوافقان كالحارث والحارث، والخزرج والخزرج، ونحو ذلك، وأحدهما من ولد الآخر، أو بعده في الوجود، عُبِّر عن الوالد أو السابق منهما بالأكبر، وعن الولد أو المتأخر منهما بالأصغر، وربما وقع ذلك في الأخوين، إذا كان أحدهما أكبر من الآخر.
العاشر - أسماء القبائل في اصطلاح العرب على خمسة أضرب: أولها - أن يطلق على القبيلة لفظ الأب، كعاد وثمود ومَدين، وما شاكل ذلك، وبذلك ورد القرآن الكريم في عدة مواضع، كقوله تعالى: (وإلى عاد) (وإلى ثمود) (وإلى مَدْين) ، يريد: بني عاد، وبني ثمود، وبني مدين، وأكثر ما يكون ذلك في الشعوب والقبائل العظام لا سيما في الأزمان المتقدمة، بخلاف البطون والأفخاذ ونحوها.
অষ্টম - আরবদের মধ্যে সাধারণত তাদের সন্তানদের অপ্রীতিকর নামে নাম রাখার প্রবণতা প্রবল ছিল, যেমন: কাল্ব, হানজালা, দিরার এবং হারব এবং এই জাতীয় নামসমূহ; আর তাদের দাসদের নাম রাখত পছন্দনীয় নামে, যেমন: ফাল্লাহ ও নাজাহ এবং এই জাতীয়।
এর তাৎপর্য সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো: আবু আদ-দুকাইশ আল-কিলাবিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আপনারা কেন আপনাদের সন্তানদের নিকৃষ্ট নামে ডাকেন, যেমন: কাল্ব এবং যি'ব, আর আপনাদের দাসদের ডাকেন সুন্দর নামে, যেমন: মারযুক এবং রাবাহ? তিনি উত্তর দিলেন: আমরা আমাদের সন্তানদের নাম রাখি আমাদের শত্রুদের জন্য, আর আমাদের দাসদের নাম রাখি নিজেদের জন্য। এর উদ্দেশ্য হলো, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও এই জাতীয় কাজে সন্তানদের শত্রুর মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করা হয়, তাই তারা তাদের জন্য কঠোর নাম নির্বাচন করত; আর দাসদের প্রস্তুত করা হয় নিজেদের সেবার জন্য, তাই তারা তাদের জন্য কল্যাণকর নাম নির্বাচন করত।
নবম - যখন কোনো গোত্রে দুটি সমজাতীয় নাম পাওয়া যেত, যেমন: আল-হারিস ও আল-হারিস এবং আল-খাজরাজ ও আল-খাজরাজ এবং এই জাতীয়, আর তাদের একজন অন্যজনের সন্তান হতো কিংবা অস্তিত্বের দিক থেকে পরবর্তীতে আসত, তখন পিতা বা পূর্ববর্তী ব্যক্তিকে ‘আল-আকবার’ (বড়) এবং সন্তান বা পরবর্তী ব্যক্তিকে ‘আল-আসগার’ (ছোট) বলে অভিহিত করা হতো। কখনও কখনও দুই ভাইয়ের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটত, যখন তাদের একজন অন্যজনের চেয়ে বড় হতো।
দশম - আরবদের পরিভাষায় গোত্রসমূহের নাম পাঁচ প্রকারের হয়ে থাকে: প্রথমত - গোত্রের আদি পিতার নামে গোত্রকে অভিহিত করা, যেমন: আদ, সামুদ এবং মাদইয়ান এবং এই জাতীয় নামসমূহ। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে এভাবেই বিষয়টিকে বর্ণনা করা হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আদ জাতির নিকট), (সামুদ জাতির নিকট), (মাদইয়ানবাসীর নিকট); যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: বনু আদ, বনু সামুদ এবং বনু মাদইয়ান। এটি সাধারণত বৃহৎ জাতি ও বড় বড় গোত্রসমূহের ক্ষেত্রে অধিক প্রচলিত ছিল, বিশেষ করে প্রাচীনকালে; তবে শাখা-প্রশাখা বা উপ-গোত্রসমূহের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وثانيها - أن يطلق على القبيلة لفظ البُنوة، فيقال: بنو فلان، وأكثر ما يكون ذلك في البطون والأفخاذ والقبائل الصغار، لا سيما في الأزمان المتأخرة.
وثالثها - أن تَرد القبيلة بلفظ الجمع مع الألف واللام، كالطالبيين، والجعافرة، ونحوهما، وأكثر ما يكون ذلك في المتأخرين دون غيرهم.
ورابعها - أن يعبر عن القبيلة ب «آل فلان» كآل ربيعة، وآل فضل، وآل علي، وما أشبه ذلك، وأكثر ما يكون ذلك في الأزمنة المتأخرة، لا سيما في عرب الشام في زماننا، والمراد بالآل: الأهل.
وخامسها - أن يُعبر عن القبيلة بأولاد فلان، ولا يوجد ذلك إلا في المتأخرين من أفخاذ العرب على قلة.
দ্বিতীয়ত—গোত্রকে ‘বংশধর’ শব্দ দ্বারা অভিহিত করা, যেমন বলা হয়: অমুকের বংশধর। এটি সাধারণত উপশাখা, শাখা-গোত্র এবং ক্ষুদ্র গোত্রসমূহের ক্ষেত্রে অধিক দেখা যায়, বিশেষ করে পরবর্তী কালখণ্ডে।
তৃতীয়ত—গোত্রকে আলিফ এবং লাম যুক্ত বহুবচন শব্দে প্রকাশ করা, যেমন: আল-তালিবীয়িন, আল-জাআফিরাহ এবং এই জাতীয়। এটি অন্যদের তুলনায় পরবর্তী প্রজন্মের মাঝেই অধিক প্রচলিত।
চতুর্থত—গোত্রকে 'অমুকের পরিবার' শব্দে ব্যক্ত করা, যেমন: রাবিআহ পরিবার, ফাদল পরিবার, আলী পরিবার এবং এর সদৃশ। এটি পরবর্তী সময়গুলোতে অধিক লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে আমাদের বর্তমান সময়ের শাম অঞ্চলের আরবদের মধ্যে। এখানে ‘আল’ শব্দ দ্বারা পরিবার বা পরিজন বোঝানো হয়েছে।
পঞ্চমত—গোত্রকে 'অমুকের সন্তানাদি' শব্দে ব্যক্ত করা। এটি শুধুমাত্র পরবর্তী সময়ের আরব শাখা-গোত্রগুলোর মধ্যে স্বল্প পরিসরে পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المقصد في معرفة تفاصيل أنساب العربوفيه فصلان
الفصل الأولفي ذكر عمود النسب النبويوما يتفرع عنه من الأنسابأما عمود نسبه صلى الله عليه وسلم فعلى ما ذكره ابن إسحاق -: هو محمد بن عبد الله بن عبد المطلب - واسمه شيبة. وقيل: عامر - بن هاشم - واسمه: عمرو بن عبد مناف - واسمه: المغيرة - بن قصي - واسمه: زيد، ويدعى مجمعاً - بن كلاب ابن مُرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن غالب بن فهر بم مالك بن النضر - واسمه عامر - ابن كنانة بن خُزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان بن أدد بن مقُوم بن ناحور بن تيرح بن يَعرُب بن يَشْجُب بن نابت بن إسماعيل بن إبراهيم الخليل عليه السلام بن تارح بن ناحور بن شاروغ بن راعو بن فالغ بن عابر بن شالخ بن أرفخشذ بن سام بن نوح عليه السلام بن لَمْك بن مَتُّوشلخ بن أخنوخ - وهو إدريس - بن يَرْد بن مَهْليل بن قينن بن أنوش بن شيت ابن آدم عليه السلام.
আরবদের বংশবৃত্তান্তের বিস্তারিত বিবরণের উদ্দেশ্যএতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদনববী বংশধারাএবং তা থেকে বিস্তৃত অন্যান্য বংশসমূহের বর্ণনায়তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মূল বংশধারা ইবনে ইসহাক যেভাবে উল্লেখ করেছেন তা হলো: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব—তাঁর নাম ছিল শায়বা, মতান্তরে আমির—ইবনে হাশিম—তাঁর নাম ছিল আমর—ইবনে আবদে মানাফ—তাঁর নাম ছিল মুগিরা—ইবনে কুসাই—তাঁর নাম ছিল যায়েদ, তাঁকে মুজাম্মি' বলা হতো—ইবনে কিলাব ইবনে মুররা ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নজর—তাঁর নাম ছিল আমির—ইবনে কিনানা ইবনে খুজাইমা ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুযার ইবনে নিযার ইবনে মা'দ ইবনে আদনান ইবনে উদাদ ইবনে মুকাউউয়িম ইবনে নাহুর ইবনে তাইরাহ ইবনে ইয়ারুব ইবনে ইয়াশজুব ইবনে নাবিত ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আল-খলিল (আলাইহিস সালাম) ইবনে তারিখ ইবনে নাহুর ইবনে শারুগ ইবনে রাউ ইবনে ফালিজ ইবনে আবির ইবনে শালিজ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নুহ (আলাইহিস সালাম) ইবনে লামক ইবনে মাত্তুশলাখ ইবনে আখনুখ—যিনি হলেন ইদ্রিস—ইবনে ইয়ারদ ইবনে মাহলাইল ইবনে কাইনান ইবনে আনূশ ইবনে শীস ইবনে আদম (আলাইহিস সালাম)।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
والاتفاق على هذا النسب الشريف إلى عدنان. وفيما بعد عدنان إلى الخليل عليه السلام خلاف كثير يأتي ذكره في الكلام على نسب عدنان، عند ذكر العرب المستعربة إن شاء الله. بل قد منع بعضهم رفع النسب فيما فوق عدنان، وعلى ذلك جرى النووي في كتبه.
قال القضاعي في كتابه «عيون المعارف في أخبار الخلائف»: وقد روي أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا تُجاوزوا معد بن عدنان، كذب النسابون» ثم قرأ (وقُروناً بين ذلك كثيراً) ولو شاء أن يعلمه علَّمه.
وذكر التَّوزري في شرح الشقراطيسية أنه صلى الله عليه وسلم كرر: «كذب النسابون» مرتين أو ثلاثاً، ثم قال: والصحيح أنه من قول ابن مسعود وعليّ.
وعن مالك ابن أنس: أنه سئل عن الرجل يُرفع نسبه إلى آدم. فكره ذلك، فقيل له: إلى إسماعيل؟ فأنكر ذلك وقال: من يخبر به.
والذي عليه البخاري وغيره من العلماء موافقة ابن إسحاق على رفع النسب، كما تقدم.
وأما ما يتفرع من عمود نسبه صلى الله عليه وسلم من الأنساب فلا خفاء أن آدم عليه السلام هو أبو البشر، ومبدأ النسل. وما يذهب إليه الفرس من أن
আদনান পর্যন্ত এই মহান বংশপরম্পরার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে। আর আদনানের পরবর্তী পর্যায় থেকে খলীল (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত বংশপরম্পরার বিষয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে, যা আদনানের বংশপরম্পরা এবং আরবে মুসতারিবাহ সম্পর্কে আলোচনার সময় ইনশাআল্লাহ বর্ণিত হবে। বরং কেউ কেউ আদনানের ঊর্ধ্বে বংশপরম্পরা বর্ণনা করতে নিষেধ করেছেন এবং ইমাম নববী তাঁর গ্রন্থসমূহে এই পথই অনুসরণ করেছেন।
আল-কুযাঈ তাঁর ‘উয়ুনুল মা'আরিফ ফি আখবারিল খালাইফ’ গ্রন্থে বলেছেন: বর্ণিত রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “তোমরা মা'আদ ইবনে আদনানের ঊর্ধ্বে যেও না, বংশতত্ত্ববিদগণ মিথ্যা বলেছেন।” অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: (এবং এর মধ্যবর্তী বহু প্রজন্মকে)। যদি তিনি ইচ্ছা করতেন তবে তাকে তা শিক্ষা দিতেন।
আর আত-তাওযারি ‘শারহুশ শাকরাতীসিয়াহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) “বংশতত্ত্ববিদগণ মিথ্যা বলেছেন” কথাটি দুই বা তিনবার পুনরাবৃত্তি করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: সঠিক মত হলো এটি ইবনে মাসউদ এবং আলীর উক্তি।
আর মালিক ইবনে আনাস থেকে বর্ণিত: তাঁকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার বংশপরম্পরা আদম পর্যন্ত নিয়ে যায়। তিনি তা অপছন্দ করলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: ইসমাইল পর্যন্ত? তিনি তাও অস্বীকার করলেন এবং বললেন: এর খবর কে দেবে?
আর ইমাম বুখারী ও অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম যে মতের ওপর রয়েছেন তা হলো বংশপরম্পরা ঊর্ধ্বে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইবনে ইসহাকের সাথে একমত হওয়া, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মূল বংশধারা থেকে যে সকল শাখা-প্রশাখা বের হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে আদম (আলাইহিস সালাম) হলেন মানবজাতির পিতা এবং বংশের সূচনা। আর পারস্যবাসীরা যে মত পোষণ করে যে...
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مبدأ النسل من كيومرت، الذي ينسب إليه الفرس، فإنه مفسر بآدم عليه السلام عند أكثر المؤرخين. ثم لا نزاع في أن الأرض عمرت ببني آدم عليه السلام إلى زمن نوح عليه السلام. وأنهم هلكوا بالطوفان الحاصل بدعوة نوح، حين غلب فيهم الكفر وظهرت عبادة الأوثان، وأن الطوفان عمَّ جميع الأرض. ولا عبرة بما يذهب إليه الفرس من إنكار الطوفان، ولا بما ذهب إليه بعضهم من تخصيصه بإقليم بابل، الذي به نوح عليه السلام.
ثم وقع الاتفاق بين النسّابين والمؤرخين أن جميع الأمم الموجودة بعد نوح عليه السلام جميعهم من بنيه، دون من كان معه في السفينة، وعليه يحمل قوله تعالى: (ذُرية من حملنا مع نوح).
أما من عدا بنيه ممن كان معه في السفينة، فقد روي أنهم كانوا ثمانين رجلاً، وأنهم هلكوا من غير عقب. ثم اتفقوا على أن جميع النسل من بنيه الثلاثة: يافث - وهو أكبرهم - وسام - وهو أوسطهم - وحام - وهو أصغرهم.
وقد ذكر ابن إسحاق أنه كان ليافث ستة أولاد، وهم: كومر - ويقال: غومر وياوان - ويقال: يافان، وهو يونان - وماغوغ، وقطوبال، وماشخ، وطيراش. ووقع في الإسرائيليات زيادة «ماذاي» فصاروا به سبعة.
وذكر البيهقي ثامناً، وهو: علجان.
ووقع في كلام ابن سعيد زيادة «سويل» فيكونون تسعة.
বংশধারার সূচনা কায়ুমারস থেকে, পারসিকরা যাঁর দিকে নিজেদের নসব বা সম্বন্ধ আরোপ করে থাকে; অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে তিনি হলেন আদম (আলাইহিস সালাম)। অতঃপর এতে কোনো বিতর্ক নেই যে, নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সময়কাল পর্যন্ত পৃথিবী আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তানদের দ্বারা আবাদ ছিল। এবং তারা নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর দোয়ার ফলে সৃষ্ট মহাপ্লাবনে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, যখন তাদের মধ্যে কুফর প্রবল হয়েছিল এবং মূর্তিপূজার প্রকাশ ঘটেছিল। আর সেই মহাপ্লাবন সমগ্র পৃথিবীকে প্লাবিত করেছিল। পারসিকদের মহাপ্লাবন অস্বীকার করার মতবাদ অথবা তাদের কারো কারো এই মত যে, এটি কেবল বাবেল অঞ্চলের জন্য নির্দিষ্ট ছিল যেখানে নূহ (আলাইহিস সালাম) অবস্থান করছিলেন—এসবের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
অতঃপর বংশগতিবিদ এবং ঐতিহাসিকদের মধ্যে এই বিষয়ে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পরবর্তী বিদ্যমান সকল জাতিই তাঁর সন্তানদের বংশধর, তাঁর সাথে নৌকায় আরোহণকারী অন্যদের নয়। আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মর্মও এটিই: "যাদেরকে আমি নূহের সাথে (নৌকায়) বহন করেছিলাম, তাদের বংশধর"।
পক্ষান্তরে, তাঁর সন্তানরা ব্যতীত যারা তাঁর সাথে নৌকায় ছিলেন, বর্ণিত হয়েছে যে তারা আশিজন পুরুষ ছিলেন এবং তারা কোনো উত্তরসূরি ছাড়াই মৃত্যুবরণ করেছেন। এরপর ঐতিহাসিকগণ একমত হয়েছেন যে, সমস্ত বংশধারা তাঁর তিন পুত্রের মাধ্যমেই চলেছে: ইয়াফিস—যিনি তাদের মধ্যে বড়, সাম—যিনি মেজ, এবং হাম—যিনি তাদের মধ্যে ছোট।
ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াফিসের ছয়জন সন্তান ছিল, তাঁরা হলেন: কুমির—যাকে গুমিরও বলা হয়, ইয়াওয়ান—যাকে ইয়াফান বলা হয় এবং তিনি হলেন ইউনান, মাগুগ, কুতুবাল, মাশখ এবং ত্বাইরাশ। ইসরাঈলি বর্ণনাগুলোতে 'মাদাই' নামের একজনের আধিক্য পাওয়া যায়, যার ফলে তাঁদের সংখ্যা সাতজন হয়েছে।
বায়হাকি অষ্টম একজনের কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি হলেন: ইলজান।
ইবনে সাঈদের বক্তব্যে 'সুওয়াইল' নামের আধিক্য এসেছে, ফলে তাঁরা নয়জন হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال ابن إسحاق: وكان لسام خمسة أولاد، وهم: أرفخشذ، ولاوذ، وآرم، وأشوذ، وغُليم.
وفي الإسرائيليات أنه كان لحام أربعة أولاد: وهم: مصر - وبعضهم يقول مصرايم - وكنعان، وكوش، وقوط.
والذي ذكره الأستاذ إبراهيم بن وصيف شاه في كتاب «العجائب»، أن مصر بن بيصر بن حام بن نوح، فيكون حينئذ مصر ابن ابن حام، لا ابنه لصلبه.
إذا علمت ذلك فكل أمة من الأمم ترجع إلى واحد من أبناء نوح الثلاثة على كثرة الخلاف في ذلك.
فالترك من بني ترك بن كومر بن يافث، وقيل: من بني طيراش بن يافث. ونسبهم ابن سعد إلى: ترك بن عامور بن سويل بن سويد بن يافث. ويدخل في جنس الترك القفجاق، وهم الخفشاج، والطغر، وهم التتر. ويقال التتار: بزيادة ألف. ويقال فيهم: الططر، بالطاء. ويدخل فيهم أيضاً الخرلخية، والخزر، وهم الغز الذين كان منهم ملوك السلاجقة، والهياطلة، وهم الصغد، والغور والعلان، ويقال: اللان، والشركس، والأزكش، والروس، فكلهم من جنس الترك نسبهم داخل في نسبهم.
ইবনে ইসহাক বলেন: সামের পাঁচজন সন্তান ছিল, তাঁরা হলেন: আরফাকশাদ, লাউদ, আরাম, আশুদ এবং গুলিম।
ইসরাঈলি বর্ণনা মতে হামের চারজন সন্তান ছিল: তাঁরা হলেন মিসর—কেউ কেউ বলেন মিসরাঈম—কানআন, কুশ এবং কুত।
উস্তাদ ইব্রাহিম ইবনে ওয়াসিফ শাহ তাঁর ‘আল-আজায়িব’ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো, মিসর হলেন বাইসার ইবনে হাম ইবনে নূহের পুত্র। ফলে সেই অনুযায়ী মিসর হলেন হামের পৌত্র, তাঁর সরাসরি ঔরসজাত পুত্র নন।
আপনি যখন এটি জানতে পারলেন, তখন জেনে রাখুন যে প্রতিটি জাতিই নূহের তিন পুত্রের কোনো একজনের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, যদিও এ বিষয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে।
তুর্কিরা হলেন ইয়াফিসের পুত্র কুমারের পুত্র তুর্কের বংশধর। আবার বলা হয়, তাঁরা ইয়াফিসের পুত্র তিরাশের বংশধর। ইবনে সাদ তাঁদের বংশলতিকাকে তুর্ক ইবনে আমুর ইবনে সুওয়াইল ইবনে সুওয়াইদ ইবনে ইয়াফিসের সাথে সম্পর্কিত করেছেন। তুর্কি জাতির অন্তর্ভুক্ত হলো কিপচাক—যাঁরা খাফশাজ নামেও পরিচিত—এবং তুগর—যাঁরা তাতার। আলিফ বৃদ্ধি করে একে ‘তাতার’ বলা হয়। আবার ‘ত’ অক্ষর দিয়ে এদের ‘তাতর’ও বলা হয়। এদের মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত হলো কারলুকিয়া, খাজার—যাঁরা মূলত গুয জাতি এবং যাঁদের মধ্য থেকে সেলজুক সুলতানদের উদ্ভব—হায়াতালি বা সোগদীয়, গোর এবং আলান—যাঁদের লানও বলা হয়—চেরকাস, আজকাশ এবং রুশ। এঁরা সবাই তুর্কি জাতির অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁদের বংশপরম্পরা তুর্কিদের বংশলতিকার সাথেই যুক্ত।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والجرامقة: وهم أهل الموصل القديم، من ولد جرموق بن أشوذ بن سام بن نوح. فيما قاله ابن سعيد، ومن ولد كاثر بن إرم بن سام، فيما قاله غيره.
والجيل: وهم أولاد كيلان من بلاد الشرق، من ولد باسل بن أشوذ بن سام، قاله ابن سعيد.
والخزر، وهم التركمان، من ولد توغرما بن كومر بن يافث، فيما وقع في الإسرائيليات، وقيل من ولد طيراش بن يافث، وقيل: نوع من الترك.
والديلم: وهم الذين كانوا منهم بنو بويه ملوك العراق وغيره من الشرق، من بني مازاي بن يافث. وقال ابن سعيد: من بني باسل بن أشوذ بن سام. وقيل: هم من بني باسل بن طابخة بن إلياس بن مضر. وضعفه أبو عبيد.
والروم، قيل: هم من بني كيتم بن يونان، وهو يافان بن يافث. وقيل: من ولد رومي بن يونان بن علجان بن يافث. وقيل: من ولد رعويل بن عيصو بن إسحاق ابن إبراهيم عليه السلام.
وقال الجوهري في «صحاحه»: من ولد روم بن عيصو بن إسحاق.
والسُّرْيان: من بني سُوريان بن نُبيط بن ماش بن إرم بن سام. قاله ابن الكلبي.
والسند، في الإسرائيليات: أنهم من بني شاو بن رعما بن كوش بن حام.
وحكى الطبري عن ابن إسحاق: أنهم من بني كوش بن حام. وهو قريب من الأول.
والسودان. قال ابن سعيد: جميع أجناسهم من ولد حام.
জারামিকা: তারা প্রাচীন মসুলের অধিবাসী, জারমুক ইবনে আশুজ ইবনে সাম ইবনে নুহ-এর বংশধর। এটি ইবনে সাঈদ বলেছেন। অন্যদের মতে, তারা কাসির ইবনে ইরাম ইবনে সাম-এর বংশধর।
জীল: তারা পূর্ব দেশীয় কীলানের বংশধর, বাসিল ইবনে আশুজ ইবনে সাম-এর সন্তান, এটি ইবনে সাঈদ বলেছেন।
খাযার: তারা তুর্কমেনী, তূগারমা ইবনে কুমারি ইবনে ইয়াফিস-এর বংশধর—যেমনটি ইসরাঈলী বর্ণনায় পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেন তারা তীরাশ ইবনে ইয়াফিস-এর বংশধর, আবার কেউ বলেন তারা এক প্রকার তুর্কি জাতি।
দাইলাম: তারা সেই জাতি যাদের মধ্য থেকে ইরাক ও প্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলের বাদশাহ বনু বুওয়াইহ-এর উদ্ভব হয়েছিল। তারা মাযায় ইবনে ইয়াফিস-এর বংশধর। ইবনে সাঈদ বলেছেন: তারা বাসিল ইবনে আশুজ ইবনে সাম-এর বংশধর। আবার কেউ বলেছেন: তারা বাসিল ইবনে তবিখা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার-এর বংশধর। তবে আবু উবাইদ এই শেষোক্ত মতটিকে দুর্বল বলেছেন।
রুম: কেউ বলেন তারা কাইতাম ইবনে ইউনান-এর বংশধর, আর ইউনান হলেন ইয়াফান ইবনে ইয়াফিস। কেউ বলেন তারা রুমী ইবনে ইউনান ইবনে আলজান ইবনে ইয়াফিস-এর বংশধর। আবার কেউ বলেন তারা রাউইল ইবনে ঈসু ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর বংশধর।
জাওহারী তার ‘সিহাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: তারা রুম ইবনে ঈসু ইবনে ইসহাক-এর বংশধর।
সুরইয়ানি: তারা সুরইয়ান ইবনে নুবাইত ইবনে মাশ ইবনে ইরাম ইবনে সাম-এর বংশধর। এটি ইবনে কালবী বলেছেন।
সিন্ধ: ইসরাঈলী বর্ণনা মতে, তারা শাউ ইবনে রা’মা ইবনে কুশ ইবনে হাম-এর বংশধর।
তাবারী ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তারা কুশ ইবনে হাম-এর বংশধর। এটি পূর্ববর্তী মতের কাছাকাছি।
সুদান: ইবনে সাঈদ বলেছেন: তাদের সকল প্রকার জাতিই হাম-এর বংশধর।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ونقل الطبري عن ابن إسحاق: أن الحبشة من ولد كوش بن حام؛ والنوبة من ولد كنعان بن حام، وأن الزنج من ولد كنعان أيضاً، وكذلك زغاوة.
وذكر ابن سعيد أن الحبشة من بني حبش، والنوبة من بني نوبة، أو بني نوبى، والزنج من بني زنج، ولم يرفع في نسبهم، فيحتمل أن يكونوا من أعقاب بني حام.
والصقالبة، عند الإسرائيلين: من بني ياوان بن يافث، وقيل: من بني أشتكاز بن يوغرما بن كومر بن يافث.
والصين، قيل: من بني صيني بن ماغوغ بن يافث. وقيل: من بني قطوبال بن يافث. وذكر هُروشْيس مؤرخ الروم أنهم من بني ماغوغ بن يافث.
والعبرانيون، من ولد عابر بن شالخ بن أرفخشذ بن سام. قاله الطبري.
والفرس، قال ابن إسحاق: من ولد فارس بن لاوذ بن سام.
وقال ابن الكلبي: من ولد طيراش بن أشوذ بن سام. وقيل: من ولد طيراش ابن حوران بن يافث. وقيل: من بني أميم بن لاوذ بن سام.
তাবারী ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন যে: হাবশারা হামের পুত্র কুশের বংশধর; আর নুবিয়ানরা হামের পুত্র কানআনের বংশধর এবং জাঞ্জরাও কানআনের বংশধর, আর জাওয়ায়ারাও তদ্রূপ।
ইবনে সাঈদ উল্লেখ করেছেন যে, হাবশারা হাবশের বংশধর, নুবিয়ানরা নুবাহ বা নুবী-র বংশধর এবং জাঞ্জরা জাঞ্জের বংশধর; তিনি তাদের বংশবৃত্তান্ত উপরে বর্ণনা করেননি, তবে সম্ভবত তারা হামের বংশধরদের উত্তরসূরি।
ইসরায়েলীয়দের মতে সাকালিবা বা স্লাভরা হলো ইয়াফিসের পুত্র ইয়াওয়ানের বংশধর; আবার বলা হয়েছে যে, তারা ইয়াফিসের পুত্র কুমারের পুত্র ইউগারমার পুত্র আশতাকাজের বংশধর।
চীন সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা ইয়াফিসের পুত্র মাগূগের পুত্র চীনির বংশধর। আবার বলা হয়েছে যে, তারা ইয়াফিসের পুত্র কুতুবালের বংশধর। রোমান ঐতিহাসিক হুরুশিস উল্লেখ করেছেন যে, তারা ইয়াফিসের পুত্র মাগূগের বংশধর।
আর হিব্রুরা সামের পুত্র আরফাখশাযের পুত্র শালেখের পুত্র আবিরের বংশধর। তাবারী এটি উল্লেখ করেছেন।
আর পারসিকদের সম্পর্কে ইবনে ইসহাক বলেছেন: তারা সামের পুত্র লাউযের পুত্র ফারিসের বংশধর।
ইবনুল কালবী বলেছেন: তারা সামের পুত্র আশূযের পুত্র তিরাশের বংশধর। আবার বলা হয়েছে: তারা ইয়াফিসের পুত্র হাওরানের পুত্র তিরাশের বংশধর। আরও বলা হয়েছে: তারা সামের পুত্র লাউযের পুত্র উমাইমের বংশধর।
(খণ্ড: ১)
কালাইদুল জুমান ফিত তারিফি বি-কাবাইলি আরবিজ জামান
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال في العبر: وليس بصحيح.
ووقع للطبري أنهم من ولد رعويل بن عيصو بن إسحاق بن إبراهيم عليه السلام.
قال في العبر: ولا التفات إلى هذا القول، لأن ملك الفرس أقدم من ذلك.
والفرنج، قيل: من ولد قطوبال بن يافث. وقيل: من ولد ريفاث بن كومر ابن يافث، وقيل من ولد توغرما بمن كومر بن يافث.
والقبط، قال الأستاذ بن وصيف شاه: هم من بني قبطيم بن مصر ابن حام.
وعند الإسرائيليين أنهم من ولد قوط بن حام. وقال أهرشيوش: من ولد قبط بن لاب بم مصرايم بن حام.
والقُوط: - بضم القاف - وهم أهل الأندلس قبل الإسلام: من ولد ماغوغ بن يافث، فيما قاله هْرُوشْيُسْ. وقيل: من ولد قُوط بن حام.
والكرد، بضم الكاف: من بني إيران بن أشوذ بن سام، وإلى إيران هذا تنسب مملكة إيران، التي كان بها ملوك الفرس. قال المُقر الشهابي بن فضل الله في كتابه «التعريف»: يقال: في المسلمين الكرد، وفي الكفار الكرج، وحينئذ فيكون الكرد والكرج نسباً واحداً.
'আল-ইবার' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আর এটি সঠিক নয়।
আর ইমাম তাবারির মতে তারা রাউয়ীল বিন আইসু বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের বংশধর।
'আল-ইবার' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এই বক্তব্যের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করার অবকাশ নেই, কারণ পারস্য সম্রাটদের রাজত্বকাল এর চেয়েও প্রাচীন।
আর ফিরিঙ্গিগণ—বলা হয়েছে: তারা কুতুবাল বিন ইয়াফিসের বংশধর। আবার কেউ বলেছেন: তারা রিফাস বিন কুমির বিন ইয়াফিসের বংশধর। আবার কেউ কেউ বলেছেন তারা তুগারমা বিন কুমির বিন ইয়াফিসের বংশধর।
আর কিবতিগণ—উস্তাদ ইবনে ওয়াসিফ শাহ বলেছেন: তারা কিবতীম বিন মিসর বিন হামের বংশধর।
আর ইসরায়েলিদের মতে তারা কুত বিন হামের বংশধর। আর আহরাশিউস বলেছেন: তারা কিবত বিন লাব বিন মিসরাইম বিন হামের বংশধর।
আর আল-কুত (ক্বাফ বর্ণে পেশ সহযোগে)—তারা ইসলামের পূর্বে আন্দালুসের অধিবাসী ছিল: হরুশিউসের বর্ণনা অনুযায়ী তারা মাগুগ বিন ইয়াফিসের বংশধর। আবার বলা হয়েছে: তারা কুত বিন হামের বংশধর।
আর কুর্দিগণ (কাফ বর্ণে পেশ সহযোগে): তারা ইরান বিন আশুদ বিন সাম-এর বংশধর। আর এই ইরানের নামানুসারেই পারস্য সাম্রাজ্যের নামকরণ করা হয়েছে, যেখানে পারস্য সম্রাটগণ রাজত্ব করতেন। মুকির শিহাবুদ্দিন বিন ফজলুল্লাহ তার ‘আত-তারিফ’ গ্রন্থে বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে, মুসলমানদের মধ্যে যারা তারা কুর্দি এবং কাফেরদের মধ্যে যারা তারা গুরুজ; এমতাবস্থায় কুর্দি ও গুরুজ মূলত একই বংশোদ্ভূত।