(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: -)
حقوق الإنسان في الإسلام للتركي (عبد الله بن عبد المحسن التركي)
القسم: كتب عامة
الكتاب: حقوق الإنسان في الإسلام
المؤلف: عبد الله بن عبد المحسن بن عبد الرحمن التركي
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1419هـ
عدد الصفحات: 115
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামে মানবাধিকার - আল-তুর্কি (আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুহসিন আল-তুর্কি)
বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: ইসলামে মানবাধিকার
লেখক: আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুহসিন বিন আবদুর রহমান আল-তুর্কি
প্রকাশক: ইসলামিক বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৯ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৫
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ৫)
[مقدمة]حقوق الإنسان في الإسلام مقدمة الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أفضل الأنبياء والمرسلين، أما بعد:فإن الدعوة إلى الله تعالى، تبدو في هذا العصر، وعلى المستوى الإنساني كله، شاقة وعسيرة.كما تبدو مهمة الدعاة داخل المجتمعات التي يعيشون فيها أو خارجها، معقدة ومتشابكة.ولكن ذلك، لا يعني أن يقل الجهد في أداء الرسالة، أو ينصرف الدعاة عن مواجهة الصعاب، التي تعترضهم في أداء مهمتهم.إن الدعوة إلى الله، وإلى الدين الحق، وإلى إصلاح النفوس والقلوب، على المستوى الإنساني كله، هي رسالة الأمة الإسلامية، إلى الناس جميعا.ويجب أن تسير في أداء هذا الواجب، على هدي الرسول- صلوات الله عليه وسلامه- الذي أرسله الله بالهدى ودين الحق إلى الناس جميعا، قال تعالى:
[উপস্থাপনা]ইসলামে মানবাধিকার: ভূমিকা। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবি ও রাসুলগণের মধ্যে যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ তাঁর ওপর। অতঃপর:নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াত বা আহ্বান বর্তমান যুগে এবং সমগ্র মানবীয় পর্যায়ে অত্যন্ত কঠিন ও দুরূহ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।তেমনিভাবে দাঈদের দায়িত্ব তাঁরা যে সমাজে বসবাস করছেন তার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় ক্ষেত্রে অত্যন্ত জটিল ও বহুমুখী হয়ে পড়েছে।তবে এর অর্থ এই নয় যে, রিসালাতের এই মহান বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টায় কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে, কিংবা দাঈগণ তাঁদের অর্পিত দায়িত্ব পালনের পথে আসা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করা থেকে বিমুখ হবেন।নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর দিকে, সত্য দ্বীনের দিকে এবং সমগ্র মানবীয় স্তরে নফস ও হৃদয়ের সংশোধনের দিকে আহ্বান জানানো হলো সমগ্র মানবজাতির প্রতি মুসলিম উম্মাহর এক মহান বার্তা।আর এই আবশ্যিক কর্তব্য পালনে সেই রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিদায়াতের ওপর অটল থাকা অপরিহার্য, যাঁকে আল্লাহ তাআলা হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ সকল মানুষের নিকট প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ৬)
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا} [الأعراف: 158] (سورة الأعراف، الآية 158) .وقد وعد الله سبحانه بظهور الإسلام فقال: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ} [التوبة: 33] (سورة التوبة، الآية 33) .وظهور الإسلام على الدين كله، يتحقق بالدعوة إلى الله تعالى، التي تحتاج في هذا العصر إلى التخطيط، واختيار أساليبها المناسبة، ومعرفة الواقع الذي يحياه الناس، في داخل المجتمعات الإسلامية وخارجها.كما تحتاج إلى إعداد الدعاة؛ ليكونوا أهلا لنشر كلمة الله بين الناس، لإصلاح القلوب والنفوس.وفي كتاب الله تعالى، بيان لأساليب الدعوة التي تخاطب العقول والنفوس: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [النحل: 125] (سورة النحل، الآية 125) .وفي السنة الشريفة القولية والفعلية، المثل الأعلى في ممارسة الدعوة، ومخاطبة الناس، وإصلاح النفوس، وتزكيتها.
{হে লোকসকল! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল} [আল-আরাফ: ১৫৮] (সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৫৮) ।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইসলামের বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন} [আত-তাওবাহ: ৩৩] (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ৩৩) ।আর সকল দ্বীনের ওপর ইসলামের বিজয় আল্লাহর দিকে দাওয়াতের মাধ্যমে অর্জিত হয়; যা বর্তমান যুগে সুনিপুণ পরিকল্পনা, যথাযথ পদ্ধতি নির্বাচন এবং মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বাস্তবতাকে অনুধাবনের মুখাপেক্ষী।একইভাবে এটি দাঈদের প্রস্তুতিরও মুখাপেক্ষী; যাতে তারা মানুষের মাঝে আল্লাহর বাণী প্রচারের যোগ্য হতে পারেন এবং মানুষের অন্তর ও আত্মার সংশোধন করতে পারেন।আল্লাহ তাআলার কিতাবে দাওয়াতের এমন পদ্ধতির বর্ণনা রয়েছে যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি ও আত্মাকে সম্বোধন করে: {তুমি তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো অত্যন্ত উত্তম পন্থায়} [আন-নাহল: ১২৫] (সূরা আন-নাহল, আয়াত ১২৫) ।আর মৌখিক (قولية) ও কর্মগত (فعلية) সুন্নাহর মাঝে দাওয়াতের বাস্তব প্রয়োগ, মানুষের সাথে বাক্যালাপ এবং আত্মার সংশোধন ও পরিশুদ্ধির সর্বোত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ৭)
وفي عهد النبوة، تقررت أصول الدعوة وآدابها، والسنن التي تسير عليها، على اختلاف المخاطبين، في العقول والأفهام والظروف والأحوال.ومعرفة هذا مما يجب أن يتسلح به الداعي إلى الله، وهو أول العلم في الدعوة، وأصدق التجربة فيها، وخير دليل لتحقيق المقصود منها.ولا يستقيم عمل الدعاة في أي زمان ومكان، إلا بالعلم بالكتاب والسنة، ومدارسة علوم الإسلام، عقيدة وشريعة، والتحلي بفضائل الإسلام، واتباع سنة الرسول صلى الله عليه وسلم في الإبلاغ والإعلام، والنصح والإرشاد، والشرح والبيان، للمخاطبين بالدعوة، على اختلاف الظروف والأحوال.وفي هذا العصر بالذات، يحتاج ظهور الإسلام على الدين كله، إلى دعاة يظهرونه بعلمهم، وقدوتهم في مسلكهم، ومعرفتهم بأحوال الناس، وما يشغل حياتهم من أمور الدين والدنيا.لقد جدت قضايا عديدة، شغلت عقول الناس وفكرهم ونالت حظا وافرا من اهتمامهم وسعيهم،
নবুওয়তের যুগে দাওয়াতের মূলনীতি (أصول) ও শিষ্টাচার এবং এর অনুসৃত পদ্ধতিসমূহ (سنن) সুনির্ধারিত হয়েছিল, যা সম্বোধিত ব্যক্তিদের মেধা, অনুধাবন শক্তি এবং পরিস্থিতি ও অবস্থার ভিন্নতা অনুযায়ী পরিচালিত হতো।এই বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য একটি অপরিহার্য প্রস্তুতি; এটি দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রাথমিক জ্ঞান, সর্বাধিক সত্যনিষ্ঠ অভিজ্ঞতা এবং এর উদ্দেশ্য হাসিলের সর্বোত্তম পথপ্রদর্শক।যেকোনো কাল ও পাত্রে দাঈদের কর্মতৎপরতা ততক্ষণ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে না, যতক্ষণ না কিতাব ও সুন্নাহর (سنة) জ্ঞান অর্জন করা হয়, আকিদাহ (عقيدة) ও শরিয়াহর (شريعة) ন্যায় ইসলামের বিবিধ শাস্ত্রীয় জ্ঞান নিয়ে পর্যালোচনা করা হয় এবং ইসলামের শ্রেষ্ঠ গুণাবলীতে অলঙ্কৃত হয়ে দাওয়াতের লক্ষ্যভুক্ত ব্যক্তিদের পরিস্থিতি ও অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রচার ও জ্ঞাপন, নসিহত ও নির্দেশনা এবং ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর (سنة) অনুসরণ করা হয়।বিশেষত বর্তমান যুগে সকল মতাদর্শের ওপর ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য এমন দাঈর প্রয়োজন, যারা তাদের জ্ঞান এবং স্বকীয় আচরণের আদর্শের মাধ্যমে ইসলামকে ফুটিয়ে তুলবেন এবং মানুষের দ্বীন ও দুনিয়াবী জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিবিধ অবস্থা ও সমস্যা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখবেন।বর্তমানে এমন অনেক নতুন বিষয়ের অবতারণা হয়েছে যা মানুষের চিন্তা ও মননকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে এবং তাদের মনোযোগ ও প্রচেষ্টার একটি বড় অংশ অধিকার করে নিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ৮)
وينبغي أن يكون الدعاة إلى الله، على علم بهذه القضايا، وما يراد منها، والقائمين بها، وما فيها من خير للناس أو شر.وأهم من ذلك، أن يضعها الدعاة إلى الله تعالى على ميزان الإسلام، فتوزن به، وتقوم على أساسه، حتى يتميز الخبيث من الطيب، في الأفكار والأعمال، وحتى يعرف المسلمون حقيقة ما يعرض عليهم، ويميزون بين ما ينفعهم منه، فيستفيدون منه، وما يضرهم في دينهم ودنياهم، فيعرضون عنه.وحين يتعرف الدعاة على حقيقة القضايا التي تثار بين الناس، باسم حقوق الإنسان، أو المساواة بين الرجل والمرأة، أو التسامح الديني، يستطيعون بما عندهم من علم بكتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وبما يعرفونه عن حقيقة هذه الدعوات، وأحوال أهلها والقائمين بها، والأهداف التي ترمي إليها، أن يكونوا هداة للناس إلى الحق فيما يثار، ودعاة إلى الخير، وروادا للإصلاح في مجتمعاتهم.وبذلك يظهر الإسلام على الدين كله.
আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের (দাঈদের) জন্য আবশ্যক হলো এই বিষয়গুলো, এগুলোর নেপথ্য উদ্দেশ্য, এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং এতে নিহিত মানুষের কল্যাণ বা অকল্যাণ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা।এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আল্লাহর পথে আহ্বানকারীরা যেন এই বিষয়গুলোকে ইসলামের মানদণ্ডে বিচার করেন; যেন এর মাধ্যমেই তা পরিমাপ করা হয় এবং এর ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হয়, যাতে চিন্তা ও কর্মের ক্ষেত্রে মন্দ থেকে ভালোকে পৃথক করা যায় এবং মুসলিমরা তাদের সামনে উপস্থাপিত বিষয়গুলোর প্রকৃত স্বরূপ জানতে পারে। এর ফলে তারা তাদের জন্য যা উপকারী তা চিহ্নিত করে তা থেকে উপকৃত হতে পারবে এবং যা তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য ক্ষতিকর তা বর্জন করতে পারবে।আর যখন দাওয়াত প্রদানকারীরা মানবাধিকার, নারী-পুরুষের সমতা কিংবা ধর্মীয় সহিষ্ণুতার নামে জনসমক্ষে উত্থাপিত বিষয়গুলোর প্রকৃত হাকিকত সম্পর্কে অবগত হবেন, তখন তারা মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة) সংক্রান্ত অর্জিত জ্ঞান এবং এসব প্রচারণার বাস্তবতা, এর প্রবক্তাদের অবস্থা ও তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানার মাধ্যমে জনমনে উত্থাপিত বিষয়গুলোতে মানুষের জন্য সত্যের দিশারি, কল্যাণের আহ্বায়ক এবং নিজ সমাজে সংস্কারের অগ্রদূত হতে পারবেন।আর এভাবেই ইসলাম অন্য সকল দ্বীনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবে।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ৯)
وفي هذه الصفحات، ألقي الضوء على قضية تثار في هذه الأيام، ويزداد الإلحاح على أهميتها، وهي قضية حقوق الإنسان.إن المصطلح جذاب، يغري كثيرا من الناس، والمبادئ براقة، قد ينخدع بها المسلم المعاصر.ومنذ أكثر من أربعة عشر قرنا، والمسلمون يسمعون عن كرامة الإنسان، والتسوية بين الناس، والتكافل والتراحم بينهم، بل إن المسلمين منذ ظهور الإسلام، وهم يقرؤون آيات الكتاب العزيز، وأحاديث المصطفى صلى الله عليه وسلم ترشدهم، وتهديهم إلى هذه المعاني السامية.ولكن الخطر كل الخطر، والضرر كل الضرر، على المجتمعات الإسلامية، يظهر حينما نوازن بين الشعارات التي تأتينا من كل حدب وصوب عن هذه المبادئ، وبين مفاهيمنا الإسلامية عنها.فنحن نعرف من ديننا كرامة الإنسان، والمساواة بين الناس، والشورى، والتكافل، والتراحم بين الناس.فهل ما يدعون إليه، هو ما نعرفه، وما نفهمه عنها، في ديننا؟
এই পৃষ্ঠাগুলোতে আমি এমন একটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করছি যা বর্তমান সময়ে আলোচিত হচ্ছে এবং যার গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে; আর তা হলো মানবাধিকারের বিষয়টি।পরিভাষাটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়, যা অনেক মানুষকে প্রলুব্ধ করে এবং এর মূলনীতিগুলো চটকদার হওয়ায় সমকালীন মুসলিমরা এতে বিভ্রান্ত হতে পারে।চৌদ্দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলিমরা মানুষের মর্যাদা, মানুষের মাঝে সমতা, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও দয়া-অনুগ্রহের কথা শুনে আসছে। বরং ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকেই মুসলিমরা মহাগ্রন্থের আয়াতসমূহ পাঠ করছে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসসমূহ তাদের এই সুমহান অর্থের দিকে পথপ্রদর্শন ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।কিন্তু মুসলিম সমাজের জন্য চরম বিপদ ও চূড়ান্ত ক্ষতির দিকটি তখনই ফুটে ওঠে, যখন আমরা সব দিক থেকে ভেসে আসা এসব মূলনীতি বিষয়ক স্লোগান এবং এ সম্পর্কে আমাদের নিজস্ব ইসলামি ধারণার মধ্যে তুলনা করি।আমরা আমাদের দ্বীন থেকে মানুষের মর্যাদা, মানুষের মধ্যে সমতা, পরামর্শ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানুষের মাঝে দয়া-মায়ার কথা জানি।তারা যে বিষয়ের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে, তা কি সেটিই যা আমরা আমাদের দ্বীন থেকে জানি এবং এ সম্পর্কে আমাদের যা বুঝ রয়েছে?
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ১০)
فالمبادئ، جذابة وبراقة، وربما تكون المصطلحات واحدة، ولكن ما هو المضمون؟ وما هي المفاهيم؟ وما أثر ذلك في عقيدتنا وأخلاقنا وسلوكنا، حين تخدعنا المبادئ والشعارات وحدها، دون أن نحقق في مضمونها، وفي المفاهيم التي تندرج تحتها؟المقصود في هذا البحث، أن نتعرف على الحقيقة في قضية حقوق الإنسان، كما تثار في عالمنا المعاصر، وأهم من ذلك، أن نضع شعاراتها، ومفاهيمها، ونتائجها، في ميزان الإسلام، قاصدين من ذلك، الدعوة إلى سبيل الله، وإرشاد المسلمين إلى الحق، وهدايتهم إلى الخير، وإصلاح دينهم ودنياهم: {فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً وَأَمَّا مَا يَنْفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ} [الرعد: 17] (سورة الرعد، الآية 17) .والله المستعان.عبد الله بن عبد المحسن التركيوزير الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد
মূলনীতিসমূহ আকর্ষণীয় ও দীপ্তিময় হয়ে থাকে এবং সম্ভবত পরিভাষাগুলো অভিন্ন হতে পারে, তবে এর প্রকৃত সারবস্তু কী? এর ধারণাগুলোই বা কী? যখন কেবল মূলনীতি ও স্লোগানগুলো আমাদের বিভ্রান্ত করে, অথচ আমরা এর সারবস্তু এবং এর অন্তর্গত ধারণাগুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান করি না, তখন আমাদের আকিদা, নৈতিকতা ও আচরণের ওপর তার প্রভাব কী দাঁড়ায়?এই গবেষণার উদ্দেশ্য হলো, বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকারের যে বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে তার প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করা। আর এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এর স্লোগান, ধারণা ও ফলাফলগুলোকে ইসলামের মানদণ্ডে বিচার করা; যার লক্ষ্য হলো আল্লাহর পথের দিকে আহ্বান জানানো, মুসলমানদের সত্যের দিশা প্রদান, কল্যাণের পথে তাদের পরিচালিত করা এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার সংশোধন করা: "অতঃপর ফেনা তো নিঃশেষ হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিনে রয়ে যায়।" [আর-রাদ: ১৭] (সূরা আর-রাদ, আয়াত ১৭)।আর আল্লাহর সাহায্যই কাম্য।আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কিইসলাম বিষয়ক, আওকাফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রী
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ১১)
[حقوق الإنسان في الفكر الغربي]حقوق الإنسان في الفكر الغربي تظفر قضية حقوق الإنسان، بأهمية كبرى في العصر الحديث، على مستوى الشعوب والدول والمنظمات الدولية.ويعد الميثاق العالمي لحقوق الإنسان الذي أصدرته الجمعية العامة للأمم المتحدة في10 / 12 / 1948 م، تتويجا لحضارة الغرب، ولجهود المفكرين والمصلحين فيه في العصر الحديث.وقد صدر الميثاق بعد نهاية الحرب العالمية الثانية بسنوات قليلة، تعبيرا عن الرغبة في وحدة البشرية، ووحدة حقوق الإنسان، في المجتمع الدولي، الذي قاسى من ويلات الحرب.وكان تناسي حقوق الإنسان، أو إهمالها، قد أفضى إلى أعمال همجية آذت الضمير الإنساني، كما ورد في الميثاق.ولذلك، دعا في مقدمته إلى توطيد احترام الإنسان وحرياته، والعمل عن طريق التربية والتعليم، واتخاذ
[পাশ্চাত্য চিন্তাধারায় মানবাধিকার]পাশ্চাত্য চিন্তাধারায় মানবাধিকার। আধুনিক যুগে জাতি, রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পর্যায়ে মানবাধিকারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব লাভ করেছে।১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর তারিখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক জারিকৃত 'মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র'কে আধুনিক যুগে পাশ্চাত্য সভ্যতা এবং সেখানের চিন্তাবিদ ও সংস্কারকদের প্রচেষ্টার এক চূড়ান্ত শিখর হিসেবে গণ্য করা হয়।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পর এই ঘোষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছিল, যা যুদ্ধের ভয়াবহতা ও যাতনা সহ্য করা আন্তর্জাতিক সমাজে মানবজাতির ঐক্য এবং মানবাধিকারের অভিন্নতার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ছিল।ঘোষণাপত্রে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, মানবাধিকার বিস্মৃত হওয়া বা তা উপেক্ষা করার ফলে এমন বর্বরোচিত কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল যা মানবিক বিবেককে ব্যথিত করেছে।তাই এর প্রস্তাবনায় মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও তার স্বাধীনতা সুসংহত করার এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালানোর এবং পদক্ষেপ গ্রহণের...
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ১২)
إجراءات قومية وعالمية؛ لضمان الاعتراف بحقوق الإنسان، ومراعاتها بصورة فعالة، بين الدول الأعضاء في المنظمة العالمية، وكذلك بين الشعوب الخاضعة لسلطانها.لقد توج الميثاق العالمي لحقوق الإنسان، جهودا كثيرة لمفكرين وفلاسفة من الغرب.وترجع هذه الجهود إلى القرن الثالث عشر الميلادي، حينما صدرت الماجنا كارتا سنة 1215م في إنجلترا، التي اكتسب الشعب الإنجليزي بمقتضاها، حقه في تجنب المظالم المالية، التي كانت توقعها به السلطة وقتذاك.وقد تضمنت وثيقة إعلان الاستقلال الأمريكي سنة 1776م ما يعد من حقوق الإنسان، بتأكيدها على الحق في الحياة والحرية والمساواة.وأصدرت الثورة الفرنسية وثيقة إعلان حقوق الإنسان في 26 / 8 / 1789 م، وهي تعد إعلانا عن هذه الحقوق. وهكذا سبقت هذه المواثيق، الميثاق العالمي لحقوق
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপসমূহ; মানবাধিকারের স্বীকৃতি নিশ্চিতকরণ এবং তা কার্যকরভাবে পরিপালনের নিমিত্তে, বিশ্ব সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে এবং সেই সাথে তাদের শাসনাধীন জনপদগুলোর মধ্যে।মানবাধিকারের বৈশ্বিক সনদ পাশ্চাত্যের বহু চিন্তাবিদ ও দার্শনিকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টাকে এক চূড়ান্ত রূপ দান করেছে।এই প্রচেষ্টাসমূহ খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ফিরে যায়, যখন ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডে ম্যাগনা কার্টা জারি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে ইংরেজ জনগণ তৎকালীন কর্তৃপক্ষের দ্বারা তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া আর্থিক জুলুম থেকে রেহাই পাওয়ার অধিকার অর্জন করেছিল।১৭৭৬ সালের আমেরিকান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রেও মানবাধিকারের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে, যেখানে জীবন, স্বাধীনতা ও সাম্যের অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।ফরাসি বিপ্লব ১৭৮৯ সালের ২৬ আগস্ট মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র জারি করে, যা এই অধিকারগুলোরই একটি ঘোষণা হিসেবে বিবেচিত। এভাবেই এই সনদসমূহ মানবাধিকারের বৈশ্বিক সনদের পথ প্রশস্ত করেছে।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الإنسان، الذي يعد خطوة هامة وحاسمة، بعد جهود المفكرين والفلاسفة الأوروبيين لعدة قرون، والتي استهدفت حماية الشعوب من المعاناة والآلام، التي كانت ترزأ تحتها من السلطات الإدارية والدينية في أوروبا، خلال عصور الظلام، وبدايات عصر النهضة الأوروبية.تلك المعاناة التي ترجع إلى استبداد الحكم الإقطاعي ورجال الكنيسة، واندفاع الكنيسة إلى محاربة كل الاتجاهات الفكرية، التي تسعى إلى تحرير عقل الإنسان ونفسه.وهذه العوامل كلها، لم يكن لها وجود في الإسلام، عقيدة وشريعة، أو حضارة.وثمة مسألة، ينبغي ذكرها، وهي:أن فكرة حقوق الإنسان هذه، التي نشأت في داخل القارة الأوروبية، استخدمت في تحرير الإنسان الأوروبي من طغيان السلطة ورجال الكنيسة، ولم تمتد هذه الفكرة، لتشمل بالحماية شعوبا بأكملها، خضعت للاستعمار الأوروبي في العصر الحديث، بل لاقت منه
মানুষ, যাকে কয়েক শতাব্দীব্যাপী ইউরোপীয় চিন্তাবিদ ও দার্শনিকদের প্রচেষ্টার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়; যার লক্ষ্য ছিল সেই দুঃখ-দুর্দশা ও যন্ত্রণা থেকে জনগণকে সুরক্ষা প্রদান করা, যার চাপে তারা অন্ধকার যুগ এবং ইউরোপীয় রেনেসাঁর শুরুর দিকে প্রশাসনিক ও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে পিষ্ট হচ্ছিল।সেই দুর্ভোগের মূলে ছিল সামন্ততান্ত্রিক শাসন ও গির্জার যাজকদের স্বৈরাচার এবং মানুষের মন ও আত্মাকে মুক্ত করার প্রয়াসী সকল বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাধারার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে গির্জার মারমুখী প্রবণতা।আর এই উপাদানগুলোর কোনোটিরই অস্তিত্ব ইসলামে ছিল না—তা বিশ্বাস ও বিধানের ক্ষেত্রেই হোক কিংবা সভ্যতার ক্ষেত্রে।এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, তা হলো:মানবাধিকারের এই ধারণাটি, যা ইউরোপ মহাদেশের অভ্যন্তরে উদ্ভূত হয়েছিল, তা ইউরোপীয় মানুষকে রাষ্ট্রশক্তি ও গির্জার যাজকদের জুলুম থেকে মুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। কিন্তু এই ধারণাটি আধুনিক যুগে ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের পদাণত হওয়া সমগ্র জাতিগোষ্ঠীকে সুরক্ষা প্রদানের জন্য সম্প্রসারিত হয়নি, বরং তারা এর থেকে...
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
من المظالم والاستبداد، كل ما يتعارض مع مبادئ حقوق الإنسان.إن الميثاق العالمي لحقوق الإنسان، والذي يربط البعض بينه وبين ميثاق الأمم المتحدة، قد ركز النظر على حقوق الإنسان على المستوى الدولي.ولم تصبح هذه القضية في كل دولة، خاضعة لاعتبارات السيادة الوطنية، بل امتزج الاعتراف بهذه الحقوق وممارساتها بطابع دولي، ولم تعد علاقة الدولة بالفرد خارجة عن إطار القانون الدولي، ولا تهم سوى القانون الداخلي.بل أصبح لها طابعها الدولي المميز، والذي جعل موضوع حقوق الإنسان يخرج من إطار النسبية الزمانية والمكانية، التي كانت تستغل من جانب النظم الاستبدادية، كالنازية والفاشية والنظم الماركسية، في إهدار كرامة الأفراد، كما استغلت من جانب الدول الاستعمارية، في التعامل غير الإنساني، وغير العادل، مع الشعوب التي كانت خاضعة لسلطانها في العصر الحديث.
জুলুম ও স্বৈরাচারের অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সকল বিষয়, যা মানবাধিকারের মূলনীতির পরিপন্থী।মানবাধিকারের বিশ্বজনীন ঘোষণাপত্র, যাকে কেউ কেউ জাতিসংঘ সনদের সাথে সংশ্লিষ্ট মনে করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকারের বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।এই বিষয়টি প্রতিটি রাষ্ট্রে কেবল জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিবেচনার অধীন থাকেনি, বরং এই অধিকারসমূহের স্বীকৃতি ও চর্চার ক্ষেত্রে একটি আন্তর্জাতিক বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়েছে। রাষ্ট্রের সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক আর আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর বহির্ভূত কোনো বিষয় নয় এবং এটি এখন আর কেবল অভ্যন্তরীণ আইনের ওপর নির্ভরশীল নয়।বরং এর একটি স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক রূপ পরিগ্রহ করেছে, যা মানবাধিকারের বিষয়টিকে কাল ও পাত্রের আপেক্ষিকতার গণ্ডি থেকে বের করে এনেছে। এই আপেক্ষিকতাকে অতীতে নাৎসিবাদ, ফ্যাসিবাদ ও মার্ক্সবাদী মতবাদের মতো স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাগুলো ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্য ব্যবহার করত। যেমনটি আধুনিক যুগে ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলো তাদের শাসনাধীন জাতিগুলোর সাথে অমানবিক ও অন্যায্য আচরণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিল।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
غير أن لذلك الأمر، وهو الطابع الدولي لحقوق الإنسان، محاذيره.فقد أصبح موضوع حقوق الإنسان، موضوعا متشابكا ومعقدا، يختلط فيه الفكر بالمواقف، وأصبح هذا الموضوع، يشغل العالم في الوقت الحاضر، وربما لعقود قادمة.لقد أصبحت قضية حقوق الإنسان الآن، أحد أسلحة السياسة الخارجية للدول الكبرى، يبدو ذلك في استخدام قضية حقوق الإنسان، معيارا في تقديم المساعدات الدولية للدول النامية، فتحجب هذه المساعدات عن الدول التي تخالف، أو تتهم بمخالفة حقوق الإنسان، في نظر الدول القوية.كما ظهرت فكرة إنشاء وظيفة "مفوض سامي" في الأمم المتحدة؛ لمراعاة تطبيق مبادئ حقوق الإنسان.ولا يخفى ما يترتب على تنفيذ ذلك من مشكلات في الواقع المعقد لنظام عالمي جديد، أعلن عن وجوده منذ سنوات، ولم تتبلور حتى الآن اتجاهاته وقيمه الأساسية وموازينه، مما يفتح الباب لصور من التدخل
তবে এই বিষয়টি, অর্থাৎ মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক রূপটিরও কিছু সতর্কতা রয়েছে।মানবাধিকারের বিষয়টি বর্তমানে একটি জটিল ও আন্তঃসংযুক্ত বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে আদর্শিক চিন্তাধারার সাথে বিভিন্ন অবস্থানের সংমিশ্রণ ঘটেছে। এই বিষয়টি বর্তমানে সমগ্র বিশ্বকে ব্যাপৃত করে রেখেছে এবং সম্ভবত আগামী কয়েক দশক ধরেও তা অব্যাহত থাকবে।মানবাধিকারের বিষয়টি বর্তমানে বড় রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রদানের ক্ষেত্রে মানবাধিকারের বিষয়টিকে একটি মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে এটি দৃশ্যমান হয়; ফলে শক্তিশালী দেশগুলোর দৃষ্টিতে যে রাষ্ট্রগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘন করে বা যাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, তাদের ক্ষেত্রে এই সাহায্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।অনুরূপভাবে মানবাধিকারের মূলনীতিসমূহের প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘে 'হাই কমিশনার' পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও সামনে এসেছে।একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার জটিল বাস্তবতায় তা কার্যকর করার ফলে যেসব সমস্যার উদ্ভব হতে পারে তা কারো অজানা নয়—যার অস্তিত্ব কয়েক বছর আগে ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত তার গতিপ্রকৃতি, মৌলিক মূল্যবোধ ও ভারসাম্যসমূহ পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করেনি। এটি মূলত বিভিন্ন ধরণের হস্তক্ষেপের দ্বার উন্মোচিত করে।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
غير المسوغ في الشؤون الداخلية للدول، تحت شعار حقوق الإنسان.ومن ناحية أخرى، فإن أطرافا أخرى غير الدول والحكومات، أصبحت بمقتضى أهدافها وأنشطتها، ذات صلة كبيرة بالموضوع، مثل الجمعيات الأهلية، والمنظمات غير الحكومية، في البلاد المختلفة.لقد كان للمنظمات غير الحكومية، أثر مهم في مؤتمر فينا لحقوق الإنسان، الذي انعقد في الفترة من 24 ذي الحجة 1413 هـ إلى 5 محرم 1414 هـ الموافق 14- 25 يونيه 1993م، وشاركت فيه المملكة العربية السعودية بوفد على مستوى عال، برئاسة صاحب السمو الملكي الأمير سعود الفيصل وزير الخارجية.وكان عمل المنظمات غير الحكومية فيه، مكافئا ومناظرا للدول والحكومات.مما يفتح الباب لمزيد من الاقتناع بالحق في التدخل الدولي في البلاد التي تتهم بخرق مبادئ حقوق الإنسان، في نظر هذه الدول، أو هذه المنظمات الأهلية، تحت ستار المحافظة على تطبيق مبادئ حقوق
রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মানবাধিকারের শ্লোগান ব্যবহার করে অন্যায্য হস্তক্ষেপ।অন্যদিকে, রাষ্ট্র ও সরকার ব্যতীত অন্যান্য পক্ষসমূহ তাদের লক্ষ্য ও কর্মতৎপরতার প্রেক্ষিতে এই বিষয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে; যেমন বিভিন্ন দেশের জনকল্যাণমূলক সমিতি এবং বেসরকারি সংস্থাগুলো।ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত মানবাধিকার সম্মেলনে বেসরকারি সংস্থাগুলোর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে, যা ২৪ জিলহজ ১৪১৩ হিজরি থেকে ৫ মহররম ১৪১৪ হিজরি মোতাবেক ১৪-২৫ জুন ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে সৌদি আরব রাজ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহামান্য রাজকীয় প্রিন্স সাউদ আল-ফয়সালের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে।সেখানে বেসরকারি সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ড রাষ্ট্র ও সরকারগুলোর কর্মকাণ্ডের সমপর্যায়ভুক্ত ও সদৃশ ছিল।যা সেই দেশগুলো বা এই জনকল্যাণমূলক সংস্থাগুলোর দৃষ্টিতে মানবাধিকারের নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের অধিকারের বিষয়ে অধিকতর দৃঢ় বিশ্বাসের দ্বার উন্মোচন করে দেয়; যা মূলত মানবাধিকারের নীতিমালা বাস্তবায়নের ধারা বজায় রাখার আবরণে করা হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الإنسان.ومن بينها منظمات، رسخت عملها في هذا المجال، ولها تقاريرها التي لا تخلو من افتراءات، ولا تقيم وزنا للخصوصية الاجتماعية والثقافية والدينية للشعوب، إزاء نموذجها الغربي الوحيد.
মানুষ।আর এগুলোর মধ্যে রয়েছে এমন কিছু সংস্থা, যারা এই ক্ষেত্রে তাদের কর্মকাণ্ডকে সুসংহত করেছে এবং তাদের এমন কিছু প্রতিবেদন রয়েছে যা অপবাদ থেকে মুক্ত নয়; তারা তাদের একমাত্র পশ্চিমা মডেলের বিপরীতে বিভিন্ন জাতির সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যকে কোনো গুরুত্বই প্রদান করে না।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
[نقد النظرة الأوروبية لحقوق الإنسان]نقد النظرة الأوروبية لحقوق الإنسان لقد نشأت المدرسة الأوروبية الأولى لحقوق الإنسان، نشأة سياسية، خلال القرن الثامن عشر الميلادي، وكان هدف مفكريها وقادتها، هو تأكيد الحريات العامة في المجتمع، وجعلها بعيدة عن متناول السلطة المستبدة، حتى لا تستطيع إهدارها، دون جزاء قانوني.ولذلك ارتبطت حقوق الإنسان في أوروبا، بموضوع الحريات العامة، التي كانت تنص عليها الدساتير.ولم يكن ذلك سديدا؛ لأن الأنظمة السياسية تختلف، ومن شأن ذلك، إضعاف فكرة حقوق الإنسان، وإضفاء طابع النسبية عليها، وجعل الحقوق والحريات العامة، كأنها تمارس ضد السلطة أو رغما عنها.ولقد ظل توحيد مصطلح الحريات العامة، مع مصطلح حقوق الإنسان، فترة طويلة؛ إذ كان تأكيد الحريات العامة، وترسيخ مبدأ حصول الفرد عليها في مواجهة السلطة، هو ما شغل المفكرين، لا سيما من
[মানবাধিকারের ইউরোপীয় দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা]মানবাধিকারের প্রথম ইউরোপীয় ঘরানা বা চিন্তাধারা আঠারো শতকের দিকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিকশিত হয়েছিল। এর চিন্তাবিদ ও নেতৃবৃন্দের লক্ষ্য ছিল সমাজে নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং একে স্বৈরাচারী ক্ষমতার নাগালের বাইরে রাখা, যাতে কোনো আইনি প্রতিকার ছাড়াই তারা এই অধিকারগুলো নস্যাৎ করতে না পারে।এ কারণেই ইউরোপে মানবাধিকারের বিষয়টি নাগরিক স্বাধীনতার বিষয়ের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছিল, যা তৎকালীন সংবিধানগুলোতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হতো।তবে এই দৃষ্টিভঙ্গিটি সঠিক ছিল না; কারণ রাজনৈতিক ব্যবস্থাগুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে। আর এই ভিন্নতা মানবাধিকারের মূল ধারণাকে দুর্বল করে দেয় এবং এতে একটি আপেক্ষিক রূপ দান করে। ফলে নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা এমনভাবে উপস্থাপিত হয় যেন তা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চর্চা করা হচ্ছে।দীর্ঘদিন যাবৎ 'নাগরিক স্বাধীনতা' এবং 'মানবাধিকার'—এই দুই পরিভাষাকে অভিন্ন হিসেবে গণ্য করার প্রবণতা বজায় ছিল। কারণ তৎকালীন চিন্তাবিদদের প্রধান লক্ষ্য ছিল নাগরিক স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা এবং কর্তৃপক্ষের বিপরীতে ব্যক্তির অধিকার লাভের নীতিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা, বিশেষ করে...
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
رجال القانون.ذلك؛ لأن بعض هذه الحريات العامة، مثل حرية الفكر والرأي، شديدة الاتصال بالسلطة وبالنظام السياسي السائد، فكان الهدف، هو أن تتضمن الدساتير نصوصا هذه الحريات، وضمانات لتطبيقها.ويرجع ذلك في الأساس، إلى أن شعوب دول أوروبا على وجه العموم، كانت تعاني من استبداد السلطة وتحكم رجال الكنيسة.لقد تطورت المدرسة الأوروبية في حقوق الإنسان، ناظرة إلى فكرة (الحق) في ذاتها.ومقتضى ذلك، أن تكون حقوق الإنسان، هي تلك الحقوق التي يتعين الاعتراف بها للفرد؛ لمجرد كونه إنسانا، ولا يشترط أن يكون لها حماية قانونية، بل العبرة بكونها من حقوق الإنسان، لا يكون السلطة تمنحها أو تحميها.وهذا التطور في فكرة حقوق الإنسان، يبدأ بالانطلاق من فكرة الحق ذاتها، وهو أساس مغاير لما سبق في نشأة
আইনবিদগণ।এর কারণ হলো, এই জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্বাধীনতাগুলোর কিছু অংশ, যেমন চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। ফলে লক্ষ্য ছিল যেন সংবিধানসমূহে এই স্বাধীনতাগুলোর বর্ণনা এবং তা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।এর মূল কারণ হলো, ইউরোপীয় দেশগুলোর জনগণ সাধারণভাবে কর্তৃপক্ষের স্বৈরাচার এবং গির্জার যাজকদের কর্তৃত্বের দ্বারা নিগৃহীত ছিল।মানবাধিকারের ইউরোপীয় ঘরানাটি খোদ ‘অধিকার’-এর ধারণাকে কেন্দ্র করেই বিকশিত হয়েছে।এর মর্মার্থ হলো, মানবাধিকার হচ্ছে সেই সকল অধিকার যা একজন ব্যক্তির জন্য কেবল মানুষ হওয়ার কারণেই স্বীকৃত হওয়া আবশ্যক; এর জন্য আইনি সুরক্ষা থাকা শর্ত নয়, বরং মূল বিবেচ্য বিষয় হলো এগুলো মানবাধিকার হওয়া, যা কোনো কর্তৃপক্ষ প্রদান করে না বা রক্ষা করে না।মানবাধিকার ধারণার এই বিবর্তন খোদ অধিকারের ধারণা থেকেই শুরু হয়, যা এর উৎপত্তির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ভিত্তি থেকে ভিন্ন।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ২০)
المدرسة الأوروبية في حقوق الإنسان، التي بدأت النظر في الموضوع، باعتبار أن حقوق الإنسان، هي الحريات العامة التي تمارس ضد السلطة.وهو نظر منتقد أيضا؛ لأن بعض الحقوق لا يمكن اعتباره حرية من الحريات، مثل حق الإنسان في التأمين الاجتماعي، فهذا الحق ليس في معنى الحرية أو غيرها من صور الحريات العامة.أما في النظر الإسلامي، فإن تلك الحقوق ينبغي أن تكون عامة، يتمتع بها الفرد في مواجهة الغير، وليس في مواجهة السلطة وحدها.فكرامة الإنسان في النظر الإسلامي، قيمة في ذاتها، والإنسان يتمتع بها في مواجهة الجميع، وليس في مواجهة السلطة وحدها.وقد بدأ الإسلام، الخطوة الأولى والحاسمة بتحرير الإنسان من كل ما يضعف إرادته الحرة، في داخل الإنسان نفسه ومن خارجه، مما سنذكره فيما بعد.والتطور الذي حدث في المدرسة الأوروبية الحديثة، قد يتفق مع النظر الإسلامي، في أن هذه الحقوق تثبت
মানবাধিকার সংক্রান্ত ইউরোপীয় ধারা, যা এই বিষয়টি পর্যালোচনা করতে শুরু করেছিল এই বিবেচনায় যে, মানবাধিকার হলো মূলত সেই সকল সাধারণ স্বাধীনতা যা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে চর্চা করা হয়।এটি একটি সমালোচিত দৃষ্টিভঙ্গিও বটে; কারণ কিছু অধিকারকে স্বাধীনতার পর্যায়ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা সম্ভব নয়, যেমন মানুষের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার। ফলে এই অধিকারটি স্বাধীনতার অর্থে অথবা সাধারণ স্বাধীনতার অন্য কোনো রূপে গণ্য নয়।পক্ষান্তরে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে এই অধিকারগুলো সর্বজনীন হওয়া আবশ্যক, যা একজন ব্যক্তি অন্যের মোকাবিলায় ভোগ করবে, কেবল রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের মোকাবিলায় নয়।কেননা ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে মানুষের মর্যাদা স্বীয় সত্তাগতভাবেই একটি মূল্য বহন করে, এবং মানুষ সকলের মোকাবিলাতেই এটি ভোগ করে, কেবল রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের মোকাবিলায় নয়।আর ইসলাম মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাকে দুর্বল করে দেয় এমন প্রতিটি বিষয় থেকে—তা মানুষের নিজের অভ্যন্তরীণ হোক বা বাহ্যিক—মানুষকে মুক্ত করার মাধ্যমে প্রথম এবং চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব।আর আধুনিক ইউরোপীয় ধারায় যে বিবর্তন ঘটেছে, তা ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত হতে পারে এই দিক থেকে যে, এই অধিকারগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত...
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ২১)
للإنسان بوصفه إنسانا، وأنها لا تتوقف في وجودها وعدمها، على تقرير القانون لها؛ لأنه لا ينشئها.وإذا كان النظر الوضعي، يرجع نشأتها إلى أنها تنبثق من ضمير الجماعة، فإن المسلمين يرجعون استحقاقهم لها، باعتبارهم آدميين، إلى إرادة الله سبحانه وتعالى، وحكمته وتشريعه، وتفضله عليهم.والسبب، في النظر الوضعي الأوروبي إلى مصدر هذه الحقوق، وأنه ضمير الجماعة، يرجع إلى الرغبة في الابتعاد عن الدين مصدرا لهذه الحقوق.ولذلك جعل ضمير الجماعة معبرا عن الرغبة في إعلاء مصدر هذه الحقوق، دون الاقتراب من المصدر الحقيقي لكافة حقوق الإنسان، وهو شرع الله تعالى ودينه، كما هو في النظر الإسلامي.وهذا لا يتفق مع فكر مئات الملايين من البشر، الذين يرون أن نسبة حقوق الإنسان وإسنادها إلى الله عز وجل، أعظم ضمان في الاقتناع والتطبيق العالمي؛ لأن في ذلك إعلاء ورفعة لشأنها.إن حقوق الإنسان في الشريعة الإسلامية، تنبع من
মানুষ হিসেবে মানুষের জন্য এসব অধিকার সাব্যস্ত, এবং এগুলোর অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব আইনের ঘোষণার ওপর নির্ভরশীল নয়; কারণ আইন এগুলো সৃষ্টি করে না।প্রচলিত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী যদি এগুলোর উৎপত্তিকে জনসমষ্টির সামষ্টিক বিবেক থেকে উদ্ভূত বলে গণ্য করা হয়, তবে মুসলিমরা মানুষ হিসেবে এই অধিকারগুলোর প্রাপ্যতাকে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইচ্ছা, তাঁর হিকমত, তাঁর বিধিবদ্ধ বিধান ও তাঁদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের প্রতি সাব্যস্ত করেন।ইউরোপীয় ইতিবাচক বা মানবরচিত আইনের দৃষ্টিভঙ্গিতে এই অধিকারগুলোর উৎস হিসেবে সামষ্টিক বিবেককে গণ্য করার কারণ হলো, অধিকারের উৎস হিসেবে ধর্ম থেকে দূরে থাকার আকাঙ্ক্ষা।এজন্যই সামষ্টিক বিবেককে এই অধিকারগুলোর উৎসকে সমুন্নত রাখার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, অথচ সকল মানবাধিকারের প্রকৃত উৎসের ধারেকাছেও যাওয়া হয়নি—যা ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী মহান আল্লাহর শরিয়ত ও তাঁর দ্বীন।এটি কোটি কোটি মানুষের চিন্তাধারার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়, যারা মনে করেন যে মানবাধিকারকে মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং তাঁর প্রতি এর সূত্রপ্রমাণ (إسناد) ন্যস্ত করা হলো এর প্রতি আস্থা ও বৈশ্বিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ নিশ্চয়তা; কারণ এতেই রয়েছে মানবাধিকারের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব।নিশ্চয়ই ইসলামী শরিয়তে মানবাধিকারের উৎস হলো...
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ২২)
فكرة مستقلة عن إرادة البشر، وعن النسبية الزمانية، والمكانية، والمفاهيم المتعددة، أي معايير التطبيق المختلفة في المجتمعات الإنسانية، على اختلاف النظم والقوانين.هي بإيجاز، من نعم الله- سبحانه وتعالى على عباده، جاءت في الشريعة الإسلامية، في نصوصها، وأصولها العامة، وألزمت بها الكافة، الحاكم والمحكوم، والدول والشعوب، وهي ليست سلاحا في يد السلطة، أو مسوغا لخروج الناس على المجتمع أو الحكام.والنظر الإسلامي، يتلافى عيب النسبية الزمانية والمكانية، ويجعل حقوق الإنسان في مواجهة الكافة، ويقيم ضمانا لهذه الحقوق، باعتبار مصدرها، وذلك أقوى الضمانات عند التطبيق والممارسة.ومن الخطأ الادعاء بأن قيم حقوق الإنسان في النظر الوضعي، مثل الحرية والمساواة، مطلقة لا تتغير بحسب المجتمعات الإنسانية وأحوالها وزمانها ومكانها.ذلك، أن مفهوم حقوق الإنسان، لا يمكن اعتباره مفهوما علميا صارما، يخضع في التقويم لمعايير واحدة،
এটি মানুষের ইচ্ছা, সময় ও স্থানের আপেক্ষিকতা এবং নানাবিধ ধারণা অর্থাৎ বিভিন্ন শাসনতন্ত্র ও আইনের ভিন্নতা অনুযায়ী মানবসমাজে প্রয়োগের বৈচিত্র্যময় মানদণ্ড থেকে মুক্ত একটি স্বতন্ত্র ধারণা।সংক্ষেপে এটি বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অন্যতম অনুগ্রহ, যা ইসলামি শরিয়াহ (الشريعة), এর মূল পাঠ (نصوص) ও সাধারণ মূলনীতিসমূহের (الأصول العامة) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং শাসক-শাসিত, রাষ্ট্র ও জাতি নির্বিশেষে সকলের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি যেমন কর্তৃপক্ষের হাতের কোনো অস্ত্র নয়, তেমনি সমাজ বা শাসকের বিরুদ্ধে জনগণের বিদ্রোহের কোনো অজুহাতও নয়।ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি সময় ও স্থানের আপেক্ষিকতার ত্রুটি পরিহার করে এবং সকলের বিপরীতে মানবাধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। এর উৎসের বিবেচনায় এটি এই অধিকারসমূহের নিশ্চয়তা (ضمانا) প্রদান করে, যা প্রয়োগ ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী নিশ্চয়তা।এটি দাবি করা ভুল যে, মানবীয় মতবাদে (النظر الوضعي) মানবাধিকারের মূল্যবোধসমূহ, যেমন—স্বাধীনতা ও সাম্য, নিরঙ্কুশ এবং তা মানবসমাজ, প্রেক্ষাপট এবং সময় ও স্থান ভেদে পরিবর্তিত হয় না।কেননা মানবাধিকারের ধারণাকে এমন কোনো কঠোর বৈজ্ঞানিক ধারণা হিসেবে গণ্য করা যায় না, যা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একক মানদণ্ডের অধীন।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
في كل المجتمعات على اختلاف الزمان والمكان والظروف والأحوال.وعلى سبيل المثال، فإن الحق في الحرية والعدالة والمساواة، وهي حقوق أساسية من حقوق الإنسان في العصر الحديث، لا تظفر بذات التقدير والوزن في كل المجتمعات، ولا توضع في نفس الدرجة من حيث الأهمية والأولويات.فبعض الدول، تعطي الحرية مفهوما سياسيا ظاهرا، وبعضها يعطيها مفهوما اجتماعيا أو ثقافيا أو فرديا، بل يعطيها مفهوما جنسيا، فيما يطلق عليه الحرية الجنسية، وهي الفوضى بذاتها.والمساواة قيمة عليا للإنسان، تخضع لظروف المصالح المادية وللمفاهيم الاجتماعية.والعدالة، تفسر في كثير من الأحيان وفق المصالح والأهواء.إن مفهوم القيم، يبدو متغيرا ونسبيا.ولا يمكن الاتفاق على مفهوم واحد للحرية أو المساواة، وضوابط هذا المفهوم التي تضمن صحته
কাল, স্থান, পরিস্থিতি ও অবস্থার ভিন্নতা সত্ত্বেও সকল সমাজে।উদাহরণস্বরূপ, স্বাধীনতা, ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং সাম্যের অধিকার—যা আধুনিক যুগে মানবাধিকারের মৌলিক ভিত্তি—তা সকল সমাজে সমান মূল্যায়ন ও গুরুত্ব লাভ করে না এবং গুরুত্ব ও অগ্রাধিকারের দিক থেকেও একই স্তরে রাখা হয় না।কিছু দেশ স্বাধীনতাকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক রূপ দান করে, আবার কেউ একে সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা ব্যক্তিগত রূপ দেয়; এমনকি কেউ একে যৌন স্বাধীনতার ধারণায় পর্যবসিত করে, যা মূলত চরম বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছুই নয়।আর সাম্য হলো মানুষের জন্য একটি উচ্চতর মূল্যবোধ, যা বস্তুগত স্বার্থের পরিস্থিতি ও সামাজিক ধারণাসমূহের অনুগামী হয়ে থাকে।আর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-কে প্রায়শই বৈষয়িক স্বার্থ ও খেয়াল-খুশি অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা হয়।নিশ্চয়ই মূল্যবোধের ধারণা পরিবর্তনশীল ও আপেক্ষিক বলে প্রতীয়মান হয়।আর স্বাধীনতা বা সাম্যের কোনো একক সংজ্ঞার ওপর একমত হওয়া সম্ভব নয়, এবং এই সংজ্ঞার এমন কোনো মানদণ্ড নির্ধারণ করাও সম্ভব নয় যা এর বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত করবে।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وبقاءه في التطبيق، مما يظهر لنا أن الاعتماد في تحديد القيم الإنسانية العليا ومفاهيمها وضوابطها، ينبغي أن يتجرد من النسبية الزمانية والمكانية.ونعتقد عن يقين، أن ذلك لا يتأتى إلا إذا اعتمدنا في ذلك على مصدر تشريعي أسمى وأعلى من قوانين الزمان والمكان والبشر، يخضع له الإنسان بوصفه إنسانا عن إيمان واقتناع.فالتجرد من النسبية في موضوع حقوق الإنسان، لا يتأتى إلا عبر هذا الطريق وحده، وهو لدى المسلمين، يتمثل في الشريعة الإسلامية بمصدرها الإلهي، في أصولها ونصوصها.ولا ينكر أن ما توصلت إليه المدرسة الحديثة من تطور في فهم حقوق الإنسان، يعد خطوة على الطريق الذي ألمحنا إليه.وبمقتضاه، فإن حقوق الإنسان، لها مصدر أعلى من التنظيم الاجتماعي، الذي يأخذ به مجتمع معين في زمن بعينه، بمقتضى قوانينه وأعرافه وتقاليده ومواريثه الثقافية.
এর প্রয়োগে টিকে থাকা আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট করে যে, উচ্চতর মানবিক মূল্যবোধ, এর ধারণা এবং মানদণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্ভরতাকে অবশ্যই কালগত ও স্থানগত আপেক্ষিকতা থেকে বিমুক্ত হতে হবে।আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এটি ততক্ষণ অর্জিত হওয়া সম্ভব নয় যতক্ষণ না আমরা এমন এক মহিমান্বিত ও উচ্চতর আইনি উৎসের ওপর নির্ভর করি যা কাল, স্থান এবং মানুষের তৈরি আইনের ঊর্ধ্বে; যার প্রতি মানুষ কেবল মানুষ হিসেবেই পূর্ণ বিশ্বাস ও দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে আনুগত্য প্রকাশ করে।সুতরাং মানবাধিকারের বিষয়ে আপেক্ষিকতা থেকে মুক্ত হওয়া কেবল এই একটি পথেই সম্ভব, যা মুসলিমদের নিকট এর ঐশ্বরিক উৎসজাত ইসলামি শরিয়াহর মূলনীতি (أصول) এবং মূল পাঠ্যসমূহের (نصوص) মাঝে বিদ্যমান।এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, মানবাধিকার অনুধাবনের ক্ষেত্রে আধুনিক ঘরানা বা মতবাদসমূহ যে উন্নতি সাধন করেছে, তা আমাদের ইঙ্গিতকৃত পথের একটি পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হয়।এর দাবি অনুযায়ী, মানবাধিকারের এমন এক উচ্চতর উৎস রয়েছে যা সেই সামাজিক ব্যবস্থাপনার ঊর্ধ্বে, যা কোনো নির্দিষ্ট সমাজ তার আইন, প্রথা (عرف), ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে গ্রহণ করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
غير أن هذا التجريد في إسناد حقوق الإنسان إلى ضمير الجماعة، لا يكفي في الوصول إلى العالمية التي تنشدها الإنسانية والتاريخ الإنساني.يوضح لنا ذلك بجلاء، أن ضمير الجماعة، قد قبل في الزمان والمكان، ما يعد من أبشع المظالم وأكثرها مناقضة لفكرة حقوق الإنسان.لقد قبل الضمير الإنساني في مجتمعات عديدة وأزمان معينة، لا سيما في الإمبراطوريات القديمة، وحتى في بعض النظم السياسية في العصر الحديث، وفي أوروبا بالذات، إهدار قيمة الحياة الإنسانية لأتفه الأسباب، وقبل إيقاع المظالم والمآسي بمجتمعات أخرى مخالفة في الدين أو العرق أو حتى في المصالح، وليس أدل على ذلك من قراءة سريعة للاستعمار الأوروبي في أفريقيا وآسيا.إن ضمير الجماعة، لا يصلح مصدرا علويا لحقوق يفترض أنها تعم الإنسانية، ويستحقها الفرد باعتباره آدميا.إن مفاهيم حقوق الإنسان حتى في الحقوق
তবে মানবাধিকারের ভিত্তিকে সমষ্টিগত বিবেকের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করার (إسناد) এই বিমূর্তায়ন, সেই বিশ্বজনীনতায় পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট নয়, যা মানবতা এবং মানব ইতিহাস প্রত্যাশা করে।এটি আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে যে, সমষ্টিগত বিবেক বিভিন্ন কাল ও পাত্রে এমন সব বিষয়কে গ্রহণ করে নিয়েছে, যা চরম জুলুম এবং মানবাধিকারের ধারণার ঘোর পরিপন্থী হিসেবে গণ্য।মানবিক বিবেক বহু সমাজে এবং নির্দিষ্ট সময়ে—বিশেষ করে প্রাচীন সাম্রাজ্যগুলোতে, এমনকি আধুনিক যুগের কিছু রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এবং নির্দিষ্টভাবে ইউরোপে—তুচ্ছ কারণে মানবজীবনের মূল্য বিলীন করাকে মেনে নিয়েছে। তদুপরি, ধর্ম, বংশ কিংবা স্রেফ স্বার্থের ভিন্নতার কারণে অন্য সমাজগুলোর ওপর জুলুম ও ট্র্যাজেডি চাপিয়ে দেওয়াকেও তা গ্রহণ করেছে। আফ্রিকা ও এশিয়ায় ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের ইতিহাসের ওপর দ্রুত দৃষ্টিপাতই এর অকাট্য প্রমাণ।বস্তুত সমষ্টিগত বিবেক এমন সব অধিকারের উচ্চতর উৎস হওয়ার যোগ্য নয়, যা সমগ্র মানবতার জন্য সার্বজনীন হওয়া কাম্য এবং যা একজন ব্যক্তি মানুষ হওয়ার খাতিরেই পাওয়ার যোগ্য।এমনকি মানবাধিকারের ধারণাগুলোর ক্ষেত্রেও...
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الأساسية، مثل حق الكرامة الإنسانية والمساواة، والضمان الاجتماعي، تكتسب قيمة نسبية تبعا للمفاهيم التي يعطيها ضمير الجماعة، والذي يتكون ولا شك في زمن معين ومكان بعينه، وتبعا لظروف متباينة، وفي ذلك ما فيه من الخطورة.ولا تصح عبارة ضمير الجماعة، إلا إذا قصد بها الضمير الإنساني السوي على امتداد الزمان والمكان، وعندئذ نصل إلى أنه الضمير، الذي غرسته قيم الرسالات الإلهية في الإنسان، على تتابع الوحي والرسالات، حتى ظهور الإسلام خاتمها وناسخها، الذي يجب أن يتعبد الناس ربهم وفق شريعته.لقد كان القصد من الإعلان العالمي لحقوق الإنسان الذي صدر بتاريخ 10 / 12 / 1948 م، أن يكون نموذجا عالميا مشتركا لكل الشعوب، حتى تتعزز مكانة حقوق الإنسان، فيكون مجرد خطوة، يجب أن تتبعها صياغة لقانون دولي لحقوق الإنسان، يكون له قوته الإلزامية.وعملت هيئة الأمم المتحدة، على أن يتحول ما ورد في
মৌলিক (الأساسية) অধিকারসমূহ, যেমন মানবিক মর্যাদা ও সাম্যের অধিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তা, সামষ্টিক বিবেকের (ضمير الجماعة) প্রদত্ত ধারণার প্রেক্ষিতে একটি আপেক্ষিক মান লাভ করে। এই সামষ্টিক বিবেক নিঃসন্দেহে একটি নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে এবং ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির প্রভাবে গঠিত হয়; আর এর মধ্যে যথেষ্ট ঝুঁকি বিদ্যমান।সামষ্টিক বিবেকের (ضمير الجماعة) এই অভিব্যক্তিটি তখনই সঠিক হবে, যখন এর দ্বারা যুগ ও কালভেদে সুস্থ ও স্বাভাবিক মানবিক বিবেককে উদ্দেশ্য করা হবে। তখনই আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব যে, এটিই সেই বিবেক যা ওহী (وحي) ও রিসালাতের (الرسالات) ধারাবাহিকতায় ঐশী বাণীসমূহের (الرسالات الإلهية) মূল্যবোধ মানুষের অন্তরে প্রোথিত করেছে। অবশেষে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে যা সবকিছুর সমাপ্তকারী (خاتم) ও রহিতকারী (ناسخ); আর মানুষের উচিত এই শরীয়ত (شريعة) অনুযায়ীই তাদের প্রতিপালকের ইবাদত করা।১০/১২/১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে জারিকৃত 'মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র'-এর উদ্দেশ্য ছিল সকল জাতির জন্য একটি অভিন্ন বিশ্বজনীন আদর্শ হওয়া, যাতে মানবাধিকারের মর্যাদা সুসংহত হয়। এটি ছিল কেবল একটি পদক্ষেপ মাত্র, যার পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন প্রণয়ন করা আবশ্যক ছিল, যাতে এর একটি বাধ্যতামূলক শক্তি (قوته الإلزامية) থাকে।আর জাতিসংঘ কাজ করে যাচ্ছিল যাতে এতে যা বর্ণিত হয়েছে তা রূপান্তরিত হয়...
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الإعلان العالمي لحقوق الإنسان إلى اتفاقية دولية، وفي هذا الاتجاه تم إنجاز اتفاقيتي الحقوق الاجتماعية والاقتصادية، والمدنية والسياسية، وصدرت الاتفاقيتان في 16 / 12 / 1966 م، وبدأ نفاذهما عام 1976 م.وإلى جانب هاتين الاتفاقيتين، فإن الاهتمام بقضية حقوق الإنسان ظهر في اتفاقيات عديدة، مثل: الاتفاقية الدولية لإزالة التمييز العنصري، واتفاقية حقوق الطفل، واتفاقية حماية حقوق العمال المهاجرين.وقد تم العمل والممارسة في التصدي لموضوع حقوق الإنسان على المستوى العالمي، عبر إطارات متعددة في هذا المجال، وعلى رأسها الجمعية العامة للأمم المتحدة، والمنظمات الإقليمية، مثل جامعة الدول العربية، ومنظمة المؤتمر الإسلامي.وتعتمد المنظمات الدولية على لجان من الخبراء الذين يتولون بحث الموضوعات المتعلقة بحقوق الإنسان، أو مراقبة تطبيقها في الدول المختلفة، وفحص التقارير والبيانات المقدمة بشأنها.وقد أفرز الاهتمام بالموضوع على مستوى الشعوب،
মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রকে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক দুটি আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। চুক্তি দুটি ১৬/১২/১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৭৬ সাল থেকে এগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়।এই দুটি চুক্তির পাশাপাশি মানবাধিকারের বিষয়টি আরও বিভিন্ন চুক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে, যেমন: জাতিগত বৈষম্য দূরীকরণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি, শিশু অধিকার বিষয়ক চুক্তি এবং অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা বিষয়ক চুক্তি।বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কাঠামোর মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষার কাজ ও চর্চা সম্পন্ন হয়েছে, যার শীর্ষে রয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং আঞ্চলিক সংস্থাগুলো, যেমন: আরব লীগ ও অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কনফারেন্স।আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশেষজ্ঞ কমিটির ওপর নির্ভর করে, যারা মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করেন অথবা বিভিন্ন রাষ্ট্রে এগুলোর প্রয়োগ পর্যবেক্ষণ করেন এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও তথ্য-উপাত্তগুলো পরীক্ষা করেন।জনপর্যায়ে এই বিষয়ের প্রতি আগ্রহের ফলে যা উদ্ভূত হয়েছে,
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
منظمات غير حكومية، تمتع بعضها بتقدير مبالغ فيه، مثل منظمة العفو الدولية، التي لا تخلو تقاريرها من الهوى والغرض، ويعيبها الجهل بالخصائص الدينية والثقافية والاجتماعية للمسلمين والشعوب غير الغربية.ولا بد من الإشارة إلى فارق أساسي وجوهري بين التشريع الإسلامي، وبين كل النظم القانونية الوضعية، يظهر أثره في موضوع حقوق الإنسان ظهورا وافيا.ففي الشرع الإسلامي، تعتبر الشريعة الإسلامية، هي مصدر الحقوق كلها، ولا يوجد حق مقرر للإنسان يخرج عن نصوصها أو قواعدها الكلية، وبذلك تكون الشريعة الإسلامية، هي أساس الحق ومصدره، وسنده وضمان وجوده والحفاظ عليه في المجتمع.أما في التصور الوضعي فإن الأمر على العكس من ذلك تماما.إن الحق فيه، هو أساس التشريع والقانون.هذه هي القاعدة، ومعناها: أن كل ما يراه المجتمع حقا، يصبح - تبعا لذلك - قانونا ونظاما في المجتمع، فالحق هنا، أساس القانون والنظام، الذي تضعه
বেসরকারি সংস্থাসমূহ, যাদের কেউ কেউ অতিরঞ্জিত প্রশংসা লাভ করে থাকে—যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল; যাদের প্রতিবেদনসমূহ ব্যক্তিগত প্রবৃত্তি ও সংকীর্ণ উদ্দেশ্য হতে মুক্ত নয় এবং মুসলিম ও অ-পাশ্চাত্য জাতিগোষ্ঠীর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অজ্ঞতা যাদেরকে ত্রুটিপূর্ণ করে তোলে।ইসলামী আইনবিধান এবং সকল মানব রচিত আইন ব্যবস্থার মধ্যে একটি মৌলিক ও অপরিহার্য পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করা আবশ্যক, যার প্রভাব মানবাধিকারের বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী, ইসলামী শরীয়াহই হলো সকল অধিকারের উৎস। মানুষের জন্য নির্ধারিত এমন কোনো অধিকার নেই যা শরীয়াহর মূল পাঠসমূহ অথবা এর সামগ্রিক মূলনীতিমালার বহির্ভূত। ফলে ইসলামী শরীয়াহ হলো অধিকারের ভিত্তি ও উৎস এবং সমাজে অধিকারের অস্তিত্বের নিশ্চয়তা ও তা সংরক্ষণের মূল অবলম্বন।পক্ষান্তরে মানব রচিত ধারণার ক্ষেত্রে বিষয়টি এর সম্পূর্ণ বিপরীত।সেখানে অধিকারই হলো আইন ও বিধানের মূল ভিত্তি।এটাই হলো মূলনীতি, আর এর অর্থ হলো: সমাজ যা কিছুকে অধিকার হিসেবে গণ্য করে, তা-ই পর্যায়ক্রমে সমাজে আইন ও ব্যবস্থায় পরিণত হয়। সুতরাং এখানে অধিকারই হলো সেই আইন ও ব্যবস্থার ভিত্তি, যা সমাজ প্রণয়ন করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
السلطة القائمة، أيا كان مصدر شرعيتها.وليس مصدره تشريعا ربانيا، ولكن مصدره، ما يراه الناس في وقت معين ومكان معين ومجتمع بذاته.وهو أيضا، ما لا يراه جميع الناس، بل تراه الأغلبية منهم، أيا كان قدر هذه الأغلبية.أما نحن- المسلمين- فإننا نملك معيارا عاما ومجردا لتحديد الحقوق، هو الشرع الإلهي، وهو معيار، يخضع له الجميع عن إيمان واقتناع.بينما الأمر في النظم الوضعية على خلاف ذلك؛ إذ إن المعيار الذي تتحدد الحقوق على أساسه، معيار نسبي بطبيعته، وقابل للتغيير بحسب الزمان والمكان والمجتمعات، واختلاف مواريثها الدينية والثقافية، وهو معيار، قابل للجدل والمناقشة والإقرار والإنكار، بحسب اختلاف الظروف في المجتمع، والسلطة القائمة عليه، وقد يصبح هو الأساس، بينما لا يقر ذلك مجتمع آخر، أو المجتمع نفسه في وقت لاحق.ومهما حاولت النظم الوضعية، أن تتجنب هذه النسبية، بإسناد حقوق الإنسان إلى ضمير الجماعة، فإن
বিদ্যমান কর্তৃপক্ষ, তার বৈধতার (شرعية) উৎস যাই হোক না কেন।আর এর উৎস কোনো ঐশী বিধান (تشريع رباني) নয়, বরং এর উৎস হলো নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থানে এবং নির্দিষ্ট সমাজে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি।এটি এমন বিষয় যা সকল মানুষ দেখে না, বরং তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দেখে, সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরিমাণ যাই হোক না কেন।পক্ষান্তরে আমরা—মুসলিমরা—অধিকার নির্ধারণের জন্য একটি সাধারণ ও বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ড (معيار) লাভ করেছি, যা হলো ঐশী শরিয়াহ (الشرع الإلهي); এটি এমন এক মানদণ্ড, যার প্রতি ইমান (إيمان) ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সকলেই অনুগত থাকে।বিপরীতক্রমে, মানবরচিত ব্যবস্থার (النظم الوضعية) ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন; কারণ যে মানদণ্ডের (معيار) ভিত্তিতে অধিকারসমূহ নির্ধারিত হয়, তা প্রকৃতিগতভাবেই আপেক্ষিক এবং কাল, স্থান, সমাজ ও ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভিন্নতা অনুযায়ী পরিবর্তনশীল। এটি এমন এক মানদণ্ড যা সমাজের পরিস্থিতি এবং বিদ্যমান কর্তৃপক্ষের ভিন্নতা সাপেক্ষে বিতর্ক, আলোচনা, স্বীকৃতি (إقرار) ও প্রত্যাখ্যানের (إنكار) উপযোগী। কখনও এটি মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়, আবার অন্য কোনো সমাজ কিংবা একই সমাজ পরবর্তী সময়ে একে স্বীকৃতি প্রদান করে না।মানবরচিত ব্যবস্থাগুলো জনসমষ্টির বিবেকের ওপর মানবাধিকারের বিষয়গুলো ন্যস্ত করার মাধ্যমে এই আপেক্ষিকতা এড়িয়ে চলার যতই চেষ্টা করুক না কেন, তবুও...
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
هذا الضمير يتكون وفقا لمعطيات نسبية زمانيا ومكانيا، لا سيما أن لفظ الجماعة، ينبغي أن ينصرف في هذا المجال إلى الجماعة الإنسانية كلها، وهو أمر لا وجود له حتى الآن في الواقع المعيش.بينما يترسخ هذا المبدأ، وهو الوحدة الإنسانية في الإسلام، والذي جاء أساسه في القرآن الكريم واضحا، قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} [الحجرات: 13] (سورة الحجرات، الآية 13) .والإنسانية كلها في النظر الإسلامي، جاءت من نفس واحدة، يقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً} [النساء: 1] (سورة النساء، الآية 1) .وفي الشرع الإسلامي، تظهر سلامة القاعدة وصحتها.إن الشريعة أساس الحق ومصدره، وهي شرع الله
এই চেতনা সময় ও স্থানের আপেক্ষিক উপাত্ত অনুযায়ী গঠিত হয়, বিশেষ করে ‘জামাত’ (الجماعة) শব্দ (لفظ) টি এই ক্ষেত্রে সমগ্র মানবজাতির প্রতি নির্দেশিত হওয়া উচিত; আর এটি এমন একটি বিষয় যা বর্তমান জীবন-বাস্তবতায় এখনও অস্তিত্বশীল নয়।অথচ এই মূলনীতিটি—যা ইসলামে মানবীয় ঐক্য নামে পরিচিত—সুপ্রতিষ্ঠিত, যার ভিত্তি পবিত্র কুরআনে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে এসেছে। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী} [আল-হুজুরাত: ১৩] (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১৩)।এবং ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে সমগ্র মানবজাতি এক সত্তা (নফস) থেকে আগত। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন} [আন-নিসা: ১] (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১)।আর ইসলামি বিধানে (الشرع), এই মূলনীতির নির্ভুলতা (سلامة) ও বিশুদ্ধতা (صحة) প্রতিফলিত হয়।নিশ্চয়ই শরিয়ত (الشريعة) হলো হক (الحق) এর ভিত্তি ও তার উৎস, আর তা আল্লাহর বিধান (شرع)।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
عز وجل لبني الإنسان في كل زمان ومكان.هنا يكون للحق مصدر إلهي، علوي، بعيد عن قيود الزمان والمكان، واختلاف الظروف والأحوال في المجتمعات الإنسانية.والسلطة في النظر الإسلامي تعد في مركز الأمين، الذي يرعى مصالح الناس، فهي ليست طرفا في مواجهة الناس يحمون أنفسهم منه، وهي سلطة تتقيد بالشريعة الإسلامية في نصوصها ومبادئها الكلية.وهذه الفكرة، وهي أمانة السلطة ومسئوليتها عن الناس، فكرة إسلامية المنشأ والمصدر، وهي تجعل المجتمع يتعاون مع السلطة.ونؤكد هنا، أن الميثاق العالمي لحقوق الإنسان في العرض والتقويم، يعبر عن فكر الغرب وحضارته فحسب.وبعض المعايير التي يأخذ بها أساسا للحكم والتقويم، تكشف ذلك بوضوح.فعلى سبيل المثال، وبحسب مقياس (هومانا) الذي يعتد به في هذا المجال، فإن عقوبة الإعدام، تعتبر
সর্বকালে এবং সর্বস্থানে মানবজাতির জন্য মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে।এখানে সত্যের জন্য একটি ঐশী ও উচ্চতর উৎস রয়েছে, যা স্থান ও কালের সীমাবদ্ধতা এবং মানবসমাজের বিভিন্ন পরিস্থিতি ও অবস্থার ঊর্ধ্বে।ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে শাসনক্ষমতাকে একজন আমানতদারের অবস্থানে বিবেচনা করা হয়, যে জনগণের স্বার্থ তদারকি করে। এটি জনগণের মুখোমুখি কোনো পক্ষ নয় যে তারা এর থেকে নিজেদের রক্ষা করবে; বরং এটি এমন এক কর্তৃপক্ষ যা ইসলামী শরীয়াহর মূল পাঠসমূহ এবং এর সামগ্রিক মূলনীতিমালার দ্বারা সীমাবদ্ধ।এই ধারণাটি—অর্থাৎ শাসনক্ষমতার আমানতদারী এবং জনগণের প্রতি এর দায়বদ্ধতা—উৎস ও উৎপত্তির দিক থেকে একটি ইসলামী ধারণা, যা সমাজকে কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতা করতে উদ্বুদ্ধ করে।আমরা এখানে গুরুত্বারোপ করছি যে, উপস্থাপনা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মানবাধিকারের বৈশ্বিক সনদ কেবল পশ্চিমা চিন্তা ও সভ্যতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।আর বিচার ও মূল্যায়নের ভিত্তি হিসেবে গৃহীত কিছু মানদণ্ড এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উন্মোচন করে।উদাহরণস্বরূপ, এই ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (يعتد به) 'হুমানা' (Humana) সূচক অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডকে গণ্য করা হয়...
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
انتهاكا لحقوق الإنسان.وحق المرأة في تكوين الأسرة بحسب هذا المعيار، يجب أن يكون مطلقا، بغض النظر عن الضوابط الدينية، التي يؤمن بها مئات الملايين من البشر.بل إن فرض عقوبة على ممارسة الشذوذ الجنسي، يعد انتهاكا لحقوق الإنسان.ولا يخفى أن مثل هذه المعايير، لا يمكن أن تظفر بالاحترام، أو حتى بالموافقة على المستوى العالمي.فإن تعدد الحضارات والثقافات والمواريث الاجتماعية، فضلا عن الرسالات الإلهية، يوجب أن تكون المعايير والمفاهيم متعددة.قد تكون مبادئ ميثاق حقوق الإنسان، مقبولة لدى البعض.لكن المفاهيم، ومعايير التقويم، وضوابط التطبيق، يجب أن تكون نسبية، مراعاة لتعدد الثقافات والمواريث الاجتماعية في العالم المعاصر، بحيث يتاح لكل دولة أن تكون نظمها السياسية وقوانينها وتشريعاتها، معبرة عن مصالح شعبها وقيمه ومواريثه الحضارية، في
মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে।এই মানদণ্ড অনুযায়ী পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার অবশ্যই নিরঙ্কুশ হতে হবে, সে সকল ধর্মীয় বিধি-নিষেধ নির্বিশেষে যা কোটি কোটি মানুষ বিশ্বাস করে।এমনকি সমকামিতা চর্চার ওপর দণ্ড আরোপ করাও মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়।এটি স্পষ্ট যে, এ ধরনের মানদণ্ড বিশ্বব্যাপী সম্মান বা এমনকি স্বীকৃতি লাভ করতে পারে না।কেননা সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ঐতিহ্যের বহুমুখিতা, সেইসাথে ঐশী বাণীর বৈচিত্র্য এটি আবশ্যক করে যে, মানদণ্ড ও ধারণাসমূহও বহুমুখী হতে হবে।মানবাধিকার সনদের নীতিগুলো কারো কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।তবে বর্তমান বিশ্বে সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের বহুমুখিতার কথা বিবেচনা করে এর ধারণা, মূল্যায়নের মানদণ্ড এবং প্রয়োগের নিয়মাবলী অবশ্যই আপেক্ষিক হতে হবে; যাতে করে প্রতিটি রাষ্ট্র তার রাজনৈতিক ব্যবস্থা, আইন ও বিধানসমূহকে তার জনগণের স্বার্থ, মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পায়, যে ক্ষেত্রে—
(খণ্ড: ১)
হুকুকুল ইনসানি ফিল ইসলাম লিত তুর্কি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
نطاق كرامة الإنسان، وهو أول مبادئ حقوق الإنسان وأهمها، على اختلاف الحضارات والثقافات، والمواريث التاريخية والاجتماعية في شعوب العالم.ونشير إلى أن مداولات مؤتمر فينا الذي انعقد في الفترة من 24 ذي الحجة 1413هـ الموافق 5 محرم 1414 هـ الموافق 14 -25 يونيه 1993 م، قد كشفت عن اقتناع كثير من الدول بهذا المنطق السليم، لا سيما الدول النامية، التي هالها اختلاف المفاهيم وازدواج المعايير عند الحكم والتقويم، حتى إن بعض المبادئ والقيم الأساسية في حقوق الإنسان تتراجع، ولا تلقى حماية، حينما يظهر تعارضها مع مصالح كثير من الدول وأهدافها السياسية.بينما تتخذ هذه المبادئ والقيم سلاحا ضد بعض الدول، حينما تتفق مع المصالح السياسية للدول الكبرى بالذات.ويمكن النظر إلى ازدواجية معايير الحكم والتطبيق في قضايا إسلامية عديدة في الوقت الحاضر، مثل قضية شعب البوسنة والهرسك، أو قضية كشمير، أو قضية
মানুষের মর্যাদার পরিধি, যা বিশ্বের সকল জাতিগোষ্ঠীর সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও মানবাধিকারের প্রথম ও প্রধান মূলনীতি।আমরা উল্লেখ করছি যে, ২৪শে জিলহজ ১৪১৩ হিজরি মোতাবেক ৫ই মহররম ১৪১৪ হিজরি (১৪-২৫ জুন ১৯৯৩ খ্রি.) অনুষ্ঠিত ভিয়েনা সম্মেলনের আলোচনাপ্রবাহে এই সঠিক যুক্তির স্বপক্ষে অনেক রাষ্ট্রের ঐকমত্যের বিষয়টি উন্মোচিত হয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশসমূহ, যারা বিচার (الحكم) ও মূল্যায়ন (التقويم)-এর ক্ষেত্রে ধারণাগত বৈচিত্র্য এবং মানদণ্ডের দ্বিচারিতায় স্তম্ভিত হয়েছে। এমনকি মানবাধিকারের কিছু মৌলিক নীতিমালা ও মূল্যবোধ গুরুত্ব হারায় এবং কোনো সুরক্ষা পায় না, যখনই অনেক রাষ্ট্রের স্বার্থ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সাথে সেগুলোর বিরোধ প্রকাশ পায়।অথচ এই নীতিমালা ও মূল্যবোধসমূহকে কোনো কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যখন তা বিশেষ করে বৃহৎ শক্তিবর্গের রাজনৈতিক স্বার্থের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।বর্তমান সময়ের বহু ইসলামি ইস্যুতে বিচার (الحكم) ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানদণ্ডের এই দ্বিচারিতা প্রত্যক্ষ করা সম্ভব, যেমন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জনগণের সমস্যা, কাশ্মীর সমস্যা অথবা অন্য কোনো সমস্যা...