(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: -)
مختصر سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم لمحمد بن عبد الوهاب القسم: السيرة النبوية
الكتاب: مختصر سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم
المؤلف: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي (ت 1206هـ)
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1418هـ
عدد الصفحات: 336
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব রচিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংক্ষিপ্ত জীবনী বিভাগ: সীরাতুন নবী
বই: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংক্ষিপ্ত জীবনী
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব বিন সুলাইমান আত-তামিমি আন-নাজদি (মৃত্যু ১২০৬ হিজরি)
প্রকাশক: ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩৬
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: -)
[المقدمة]مختصر
سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم تأليف الإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب
[ভূমিকা]সংক্ষিপ্ত
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত, ইমাম শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রচিত
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة هذه الطبعةالحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا رسول الله صلى الله عليه وسلم تسليمًا كثيرًا.
أما بعد:
فإن من حكمة الله ورحمته أن أرسل الرسل لئلا يكون للناس على الله حجة بعد الرسل، واقتضت حكمته أن يكون الرسل أكمل الخلق في الصفات الخلقية والخلقية، كما اقتضت حكمته جل ثناؤه أن يكون آخر الرسل محمدًا صلى الله عليه وسلم، وأن يكون أعظمهم كمالاً وأوفاهم خصالاً. . .
ولأن الله جعل محمدًا صلى الله عليه وسلم قدوة وأسوة للبشرية فقد عنيت الأمة بحفظ سيرته حفظًا عجيبًا شمل كل دقائقها وتفاصيلها، فحفظت لنا كيف كانت صلته بربه ومناجاته له، وعلاقته بأصحابه وتربيته لهم، وكيف كان في بيته ومعايشته لأهله، وكيف كان يقود الجيوش ويبعث البعوث والسرايا. . فحفظت هذه السيرة حفظًا لا يدانيه ولا يماثله حفظ أي سيرة في الأولين والآخرين. .
ولذلك كان من الأهمية بمكان العناية بهذه السيرة العطرة، وبثها في العالمين؛ لتكون أنموذجًا يحتذى، وقدوة يقتدى بها في كل مناحي الحياة.
وبما أن كتاب (مختصر سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم تأليف العالم المجاهد والإمام المجدد الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله من خير ما كتب
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এই সংস্করণের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, তাঁর ওপর অফুরন্ত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহর হিকমত ও রহমতের দাবি এই যে, তিনি রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন যাতে রাসূলদের প্রেরণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। তাঁর হিকমত আরও দাবি করে যে, রাসূলগণ হবেন বাহ্যিক অবয়ব ও চারিত্রিক গুণাবলির দিক থেকে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ। তেমনিভাবে তাঁর সুমহান প্রশংসা ও হিকমত দাবি করেছে যে, শেষ রাসূল হবেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), এবং তিনি হবেন পূর্ণতায় সর্বশ্রেষ্ঠ ও গুণাবলির দিক থেকে সর্বাধিক সমৃদ্ধ। . .
যেহেতু আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মানবজাতির জন্য আদর্শ ও অনুকরণীয় করেছেন, তাই এই উম্মত তাঁর সীরাত বা জীবনচরিত সংরক্ষণে এক বিস্ময়কর গুরুত্বারোপ করেছে, যা জীবনের প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয় ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণকে শামিল করে। ফলে আমাদের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে তাঁর রবের সাথে তাঁর সম্পর্ক ও মুনাজাত কেমন ছিল, তাঁর সাহাবীদের সাথে তাঁর সম্পর্ক ও তাঁদের প্রতি তাঁর তরবিয়ত কেমন ছিল, তাঁর ঘরে ও পরিবারের সাথে তাঁর বসবাস কেমন ছিল এবং তিনি কীভাবে বাহিনী পরিচালনা করতেন ও সেনাদল প্রেরণ করতেন। এই সীরাত এমনভাবে সংরক্ষিত হয়েছে যার সমকক্ষ বা সদৃশ কোনো জীবনচরিত পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কারো জন্য সংরক্ষিত হয়নি। . .
তাই এই সুগন্ধময় সীরাতের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং তা বিশ্ববাসীর কাছে প্রচার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যাতে এটি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণের জন্য একটি অনুপম নমুনা ও অনুকরণীয় আদর্শ হতে পারে।
যেহেতু আলেম, মুজাহিদ এবং ইমামে মুজাদ্দিদ শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) রচিত 'মুখতাসার সيرة الرسول' (রাসূলের সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত) গ্রন্থটি এই বিষয়ে রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
في هذا الباب؛ لما اشتمل عليه من اهتمام بأمور العقيدة، وجزالة في الألفاظ، ووضوح في المعاني مع إيجاز غير مخل رأت الوزارة أن تطبعه وتوزعه.
فالله نسأل أن يجزي عنا صاحب هذه السيرة خير ما جزى به نبيًا عن أمته، وأن يبلغنا شفاعته، وأن يحشرنا تحت لوائه إنه جواد كريم وبالإجابة جدير وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
এই অধ্যায়ে; আকিদাহর বিষয়াবলির প্রতি গুরুত্বারোপ, শব্দের গাম্ভীর্য এবং ত্রুটিহীন সংক্ষিপ্ততাসহ অর্থের স্পষ্টতা বিদ্যমান থাকায় মন্ত্রণালয় এটি মুদ্রণ ও বিতরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
অতএব, আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই সীরাতের রচয়িতাকে আমাদের পক্ষ থেকে সেই সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন যা তিনি একজন নবীকে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে দান করেন; এবং তিনি যেন আমাদের তাঁর সুপারিশ প্রাপ্ত করান এবং আমাদের তাঁর পতাকাতলে সমবেত করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম দানশীল, অত্যন্ত দয়ালু এবং প্রার্থনা কবুলের উপযুক্ত। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة طبعة جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلاميةالحمد لله رب العالمين، أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه، والذين اتبعوهم بإحسان، وسلم تسليمًا.
أما بعد: فإن كتاب مختصر سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم للإمام المجدد والمصلح المجاهد شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وأسكنه فسيح جناته آمين لمن خير ما ألف في بابه، فإنه مختصر من كتاب السيرة النبوية لأبي محمد عبد الملك بن هشام المعافري المؤرخ المشهور، فإنه كتاب وجيز يعدّ خلاصة لسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم التاريخية، وقد ضمنه بعض الاستنباطات المفيدة مع ما أضاف إلى ذلك من المقدمة النافعة التي بَيّن بها واقع أهل الجاهلية اعتقادًا وسلوكًا، وما أشد حاجة المسلم وضرورته إلى معرفة هذا الواقع لما تثمره هذه المعرفة عند أولي البصائر من توقي شرور الجاهلية والاهتداء إلى محاسن الإسلام كما في الأثر عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه "قال: إنما تنقض عرى الإسلام عروة عروة إذا نشأ في الإسلام من لا يعرف الجاهلية" كما بين رحمه الله حقيقة التوحيد الذي بعث الله به محمدًا صلى الله عليه وسلم وأنه ليس مجرّد التلفظ بلا إله إلا الله، بل قد يكون الإنسان كافرًا حلال الدم والمال وهو ينطق بكلمة التوحيد،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তিনি তাঁর রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তাকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন সবার ওপর আল্লাহর অফুরন্ত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর: সংস্কারক ও মুজাহিদ ইমাম শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন এবং তাঁর জান্নাতের প্রশস্ত বাগানে স্থান দিন, আমীন) রচিত ‘মুখতাসার সীরাতুর রাসূল’ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংক্ষিপ্ত জীবনী) গ্রন্থটি এই বিষয়ে রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ বই। এটি প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক বিন হিশাম আল-মা’আফিরীর ‘সীরাতু ইবনে হিশাম’ গ্রন্থের একটি সংক্ষেপিত রূপ। এটি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঐতিহাসিক সীরাতের সারসংক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। তিনি এতে কিছু দরকারী উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং সাথে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা যোগ করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি জাহিলী যুগের লোকদের বিশ্বাস ও আচরণের বাস্তব রূপ বর্ণনা করেছেন। একজন মুসলিমের জন্য এই বাস্তবতা জানা কতটা জরুরি ও প্রয়োজনীয়! কারণ এই জ্ঞান প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের জাহিলিয়াতের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে এবং ইসলামের সৌন্দর্যের পথে পরিচালিত হতে সাহায্য করে, যেমনটি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে: “ইসলামের প্রতিটি বন্ধন একে একে ছিঁড়ে যাবে যখন ইসলামে এমন প্রজন্মের উদ্ভব হবে যারা জাহিলিয়াত সম্পর্কে অবগত নয়।” তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাওহীদের সেই প্রকৃত স্বরূপও বর্ণনা করেছেন যা দিয়ে আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পাঠিয়েছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কেবল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ মুখে উচ্চারণ করার নাম নয়; বরং একজন ব্যক্তি তাওহীদের বাণী উচ্চারণ করা সত্ত্বেও কাফের হতে পারে এবং তার রক্ত ও সম্পদ বৈধ হতে পারে,
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقد استدل على ذلك بأمثلة تقرر هذا الأصل مما جرى في عهد الصحابة كقتالهم لبني حنيفة وكتحريقهم للغالية في عليّ رضي الله عنه، وما جرى ك ذلك بعد الصحابة كما أجمع التابعون على استحسان قتل الجعد بن درهم لما جحد صفات الرب مع تلفظه بالشهادة واشتهاره بالعلم والعبادة، وكما أجمع العلماء على تكفير العبيديين لما ظهر منهم ما يدل على شركهم ونفاقهم مع أنهم يظهرون شرائع الإسلام ويقيمون الجمعة والجماعة.
ولا ريب أن الضرورة داعية إلى إيضاح هذا الأصل الذي خفي على كثير من الناس حتى المنتسبين إلى العلم منهم، لذلك اهتم الشيخ بتقرير هذا الأصل وإيضاحه، وليرد به على من خالفه من أهل زمانه.
هذا ولقد عزمت جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية على إعادة طباعة مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله بعد المقابلة بين ما وجد من النسخ الخطية والمطبوعة واختيار الأفضل منها، وقد عهدت أمانة أسبوع الشيخ إلينا بمقابلة هذا المختصر الذي نقدم له، وقد قمنا بمقابلة مطبوعتين بمخطوطتين: مطبوعة السنة المحمدية بتحقيق الأستاذ الشيخ محمد حامد فقي وهي المطبوعة الأولى، وقد ذكر أنه اعتمد في إخراجها على أصل قيم محقق للشيخ سليمان بن سحمان رحمه الله، ومطبوعة مؤسسة دار السلام - دمشق - بإشراف الأستاذ محمد زهير الشاويش وهي المطبوعة الثانية، وأما المخطوطتان فإحداهما بخط سليمان بن عبد الرحمن بن حمدان بتاريخ 16 محرم عام 1341 هـ وهي موجودة في المكتبة السعودية بالرياض تحت رقم 518-86 وعدد
সাহাবীদের যুগে যা সংঘটিত হয়েছিল—যেমন বনু হানিফার বিরুদ্ধে তাঁদের যুদ্ধ এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে অতিরঞ্জনকারীদের পুড়িয়ে মারা—এমন কিছু উদাহরণের মাধ্যমে এই মূলনীতির সপক্ষে প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। একইভাবে সাহাবীদের পরবর্তী সময়ে যা ঘটেছে, যেমন তাবেয়ীগণ জা'দ ইবনে দিরহামকে হত্যা করা উত্তম হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন যখন সে শাহাদাত পাঠ করা এবং ইলম ও ইবাদতে প্রসিদ্ধি থাকা সত্ত্বেও রবের গুণাবলি অস্বীকার করেছিল। এছাড়া আলেমগণ উবাইদীদের কাফের সাব্যস্ত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন যখন তাদের পক্ষ থেকে এমন কিছু প্রকাশ পেয়েছিল যা তাদের শিরক ও নেফাকের প্রমাণ দেয়, যদিও তারা ইসলামের বিধিবিধান প্রকাশ করত এবং জুমা ও জামাত কায়েম করত।
নিঃসন্দেহে এই মূলনীতিটি স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য, যা অনেক মানুষের কাছে এমনকি ইলমের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কাছেও অস্পষ্ট ছিল। এই কারণেই শায়খ এই মূলনীতিটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও স্পষ্ট করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর সমসাময়িক বিরোধীদের জবাব দিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত সংস্করণগুলোর মধ্যে তুলনা করে এবং সেগুলোর মধ্য থেকে সর্বোত্তমটি বেছে নিয়ে তাঁর রচনাবলি পুনঃমুদ্রণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। 'শায়খ সপ্তাহ' (উসবুয়ুশ শায়খ) এর সচিবালয় এই সংক্ষিপ্তসারটির তুলনামূলক পর্যালোচনার দায়িত্ব আমাদের অর্পণ করেছে যা আমরা উপস্থাপন করছি। আমরা দুটি মুদ্রিত কপি ও দুটি পাণ্ডুলিপির মধ্যে তুলনা করেছি: প্রথমটি হলো শায়খ মুহাম্মদ হামিদ ফিকী-র সম্পাদনায় 'আস-সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়া'র সংস্করণ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি শায়খ সুলাইমান বিন সাহমান (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি মূল্যবান ও যাচাইকৃত মূল কপির ওপর নির্ভর করেছেন। দ্বিতীয়টি হলো দামেস্কের 'দারুস সালাম' প্রতিষ্ঠানের মুদ্রিত সংস্করণ, যা ওস্তাদ মুহাম্মদ যুহাইর আশ-শাভীশ-এর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত। পাণ্ডুলিপি দুটির মধ্যে একটি ১৬ মুহররম ১৩৪১ হিজরী তারিখে সুলাইমান বিন আব্দুল রহমান বিন হামদানের হস্তলিপিতে লিখিত, যা রিয়াদের সৌদি লাইব্রেরিতে ৫১৮-৮৬ নম্বরে সংরক্ষিত এবং পৃষ্ঠা সংখ্যা...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
صفحاتها 101 صفحة وفيها سقط من ص83 إلى ص88.
والمخطوطة الأخرى موجودة في المكتبة السعودية بالرياض تحت رقم 49-86، وعدد صفحاتها 226 صفحة وقد كتب في آخرها "وقع الفراغ من هذه النسخة عصر يوم الثلاثاء 26 من شوال عام 1235هـ ولم يسمّ الكاتب نفسه.
ومن الملاحظ خلو المخطوطتين من المقدمة التي سبق التنويه بذكرها وهي في المطبوعة الأولى 33 صفحة من القطع المتوسط بحرف دقيق، وفي مطبوعة مؤسسة دار السلام 45 صفحة من القطع المتوسط لكن بحرف كبير، كما يلاحظ أن المخطوطتين كثيرتا السقط والتحريف وإن كانت القديمة أسلم بخلاف المطبوعتين فإنهما في الجملة سليمتان مع اشتمالهما على المقدمة ومع ما بذل من الجهد في تحقيقهما.
لذلك فقد رأينا أن يكون الاعتماد على في طباعة هذا الكتاب على المطبوعة الأولى التي بتحقيق الأستاذ محمد حامد فقي، لأنها هي الأصل، ولأنه اعتمد فيها على مخطوطة الشيخ سليمان بن سحمان وهو العالم الجليل المعروف بالعناية بكتب الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأئمة الدعوة رحمهم الله تعالى، وقمنا أيضًا بترقيم الآيات في الهوامش وتسمية السور بدلا من ترقيمها في داخل الكتاب، كما خرجنا ما تيسر من الأحاديث مع بعض التعليقات، ورأينا أن تبقى تعليقات الشيخ محمد حامد فقي كما هي وجعلنا الرقم الدال عليها بين قوسين هكذا () .
এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ১০১টি এবং এতে ৮৩ থেকে ৮৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিচ্যুতি রয়েছে।
অন্য পাণ্ডুলিপিটি রিয়াদের সৌদি লাইব্রেরিতে ৪৯-৮৬ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ২২৬টি। এর শেষে লেখা হয়েছে: "১২৩৫ হিজরির ২৬শে শাওয়াল মঙ্গলবার বিকেলে এই কপির অনুলিখন সম্পন্ন হয়েছে", তবে লেখক নিজের নাম উল্লেখ করেননি।
লক্ষণীয় যে, পাণ্ডুলিপি দুটিতেই সেই ভূমিকাটি নেই যার কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম মুদ্রিত সংস্করণে এই ভূমিকাটি মাঝারি আকারের পৃষ্ঠায় সূক্ষ্ম অক্ষরে ৩৩ পৃষ্ঠা জুড়ে ছিল এবং দারুস সালাম ফাউন্ডেশনের মুদ্রিত সংস্করণে তা বড় অক্ষরে ৪৫ পৃষ্ঠা জুড়ে ছিল। আরও লক্ষণীয় যে, পাণ্ডুলিপি দুটিতে প্রচুর বাদ পড়া অংশ ও বিকৃতি রয়েছে, যদিও প্রাচীন কপিটি তুলনামূলকভাবে অধিক নির্ভুল। অন্যদিকে, মুদ্রিত সংস্করণ দুটি সামগ্রিকভাবে ত্রুটিমুক্ত; এতে ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এগুলোর সম্পাদনায় যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করা হয়েছে।
তাই আমরা এই কিতাবটি মুদ্রণের ক্ষেত্রে উস্তাদ মুহাম্মদ হামিদ ফিকির তাহকিককৃত প্রথম মুদ্রণের ওপর নির্ভর করা সমীচীন মনে করেছি। কারণ এটিই মূল ভিত্তি এবং এতে তিনি শায়খ সুলাইমান বিন সাহমানের পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি হলেন সেই মহান আলেম যিনি শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এবং দাওয়াতের ইমামদের (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন) কিতাবসমূহের প্রতি বিশেষ যত্নের জন্য সুপরিচিত। আমরা কিতাবের ভেতরে সূরার নম্বর দেওয়ার পরিবর্তে পাদটীকায় আয়াত নম্বর এবং সূরার নাম উল্লেখ করেছি। সেই সাথে সাধ্যমতো হাদিসের তাখরিজ ও কিছু টীকা যুক্ত করেছি। আমরা শায়খ মুহাম্মদ হামিদ ফিকির টীকাগুলো অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সেগুলো নির্দেশকারী নম্বরকে এভাবে বন্ধনীভুক্ত () করেছি।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
ونسأل الله تعالى أن ينفعنا وعامة المسلمين بهذا الكتاب وسائر مؤلفات الشيخ وغيرها من كتب أهل العلم النافعة والله أعلم وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
عبد الرحمن بن ناصر البراك عبد العزيز بن عبد الله الراجحي
محمد العلي البراك
আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাব, শাইখের অন্যান্য রচনাবলি এবং আলেমদের অন্যান্য উপকারী কিতাবসমূহের মাধ্যমে আমাদের ও সাধারণ মুসলিমদের উপকৃত করেন। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
আবদুর রহমান ইবনে নাসির আল-বাররাক আবদুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ আল-রাজহী
মুহাম্মাদ আল-আলী আল-বাররাক
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم وبارك على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
اعلم رحمك الله: أن أفرض ما فرض الله عليك معرفة دينك. الذي معرفته والعمل به سبب لدخول الجنة، والجهل به وإضاعته سبب لدخول النار.
[قصص الأولين والآخرين]
[قصة آدم وإبليس]ومن أوضح ما يكون لذوي الفهم قصص الأولين والآخرين، قصص من أطاع الله وما فعل بهم، وقصص من عصاه وما فعل بهم. فمن لم يفهم ذلك ولم ينتفع به فلا حيلة فيه. كما قال تعالى {وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْنٍ هُمْ أَشَدُّ مِنْهُمْ بَطْشًا فَنَقَّبُوا فِي الْبِلَادِ هَلْ مِنْ مَحِيصٍ} [ق: 36] (1) .
وقال بعض السلف: " القصص جنود الله " يعني أن المعاند لا يقدر يردها.
فأول ذلك: ما قص الله سبحانه عن آدم، وإبليس، إلى أن هبط آدم وزوجه إلى الأرض. ففيها من إيضاح المشكلات ما هو واضح لمن تأمله، وآخر القصة قوله تعالى: {قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ - وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [البقرة: 38 - 39] (2) .
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল সঙ্গীদের ওপর।
জেনে রেখো, আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন: আল্লাহ তোমার ওপর যা কিছু ফরজ করেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ হলো তোমার দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। যা জানা এবং সে অনুযায়ী আমল করা জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম, আর যা না জানা এবং অবহেলা করা জাহান্নামে প্রবেশের কারণ।
[পূর্ববর্তী এবং পরবর্তীগণের কাহিনীসমূহ]
[আদম ও ইবলিসের কাহিনী]বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে স্পষ্ট বিষয়গুলোর একটি হলো পূর্ববর্তী এবং পরবর্তীগণের কাহিনীসমূহ; যারা আল্লাহর আনুগত্য করেছে তাদের কাহিনী এবং তিনি তাদের সাথে কী করেছেন, আর যারা তাঁর অবাধ্য হয়েছে তাদের কাহিনী এবং তিনি তাদের সাথে কী করেছেন। যে ব্যক্তি এ থেকে কিছু বুঝতে পারল না এবং এর দ্বারা উপকৃত হলো না, তার আর কোনো উপায় নেই। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আমি তাদের পূর্বে কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি যারা তাদের তুলনায় শক্তিতে প্রবল ছিল; তারা দেশে দেশে ঘুরে বেড়াত। তাদের কি পালাবার কোনো জায়গা ছিল?" [সূরা ক্বাফ: ৩৬] (১)।
সালাফদের কেউ কেউ বলেছেন: "কাহিনীসমূহ আল্লাহর সৈন্যবাহিনী।" অর্থাৎ একগুঁয়ে ব্যক্তি এগুলো প্রত্যাখ্যান করতে সক্ষম হয় না।
এর প্রথমটি হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আদম ও ইবলিস সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন, আদমের এবং তাঁর স্ত্রীর পৃথিবীতে নেমে আসা পর্যন্ত। এতে জটিল বিষয়সমূহের এমন স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যা চিন্তা গবেষণাকারীর জন্য অত্যন্ত পরিষ্কার। এই কাহিনীর শেষভাগে আল্লাহ তাআলার বাণী হলো: "আমি বললাম, তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো হেদায়েত আসে, তবে যারা আমার হেদায়েত অনুসরণ করবে তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। আর যারা কুফরি করবে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করবে, তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।" [সূরা আল-বাক্বারা: ৩৮ - ৩৯] (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
وفي الآية الأخرى: {فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى - وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا} [طه: 123 - 124] إلى قوله {وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَدُّ وَأَبْقَى} [طه: 127] (1) .
وهداه الذي وعدنا به: هو إرساله الرسل. وقد وفى بما وعد سبحانه، فأرسل الرسل مبشرين ومنذرين، لئلا يكون للناس على الله حجة بعد الرسل. فأولهم: نوح. وآخرهم: نبينا صلى الله عليه وسلم. فاحرص يا عبد الله على معرفة هذا الحبل، الذي بين الله وبين عباده، الذي من استمسك به سلم، ومن ضيعه عطب.
فاحرص على معرفة ما جرى لأبيك آدم، وعدوك إبليس، وما جرى لنوح وقومه، وهود وقومه، وصالح وقومه، وإبراهيم وقومه، ولوط وقومه، وموسى وقومه، وعيسى وقومه ومحمد صلى الله عليه وعليهم وسلم وقومه.
واعرف ما قصه أهل العلم من أخبار النبي صلى الله عليه وسلم وقومه وما جرى له معهم في مكة، وما جرى له في المدينة.
واعرف ما قص العلماء عن أصحابه وأحوالهم وأعمالهم. لعلك أن تعرف الإسلام والكفر. فإن الإسلام اليوم غريب وأكثر الناس لا يميز بينه وبين الكفر. وذلك هو الهلاك الذي لا يرجى معه فلاح.
وأما قصة آدم، وإبليس: فلا زيادة على ما ذكر الله في كتابه. ولكن قصة ذريته.
--------------------------------------------
এবং অপর আয়াতে [আল্লাহ তাআলা বলেছেন]: {অতঃপর যে আমার প্রদর্শিত পথের অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জীবনযাপন হবে অত্যন্ত সংকীর্ণ।} [ত্বহা: ১২৩ - ১২৪] তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {আর পরকালের আজাব তো অবশ্যই অত্যন্ত কঠিন এবং চিরস্থায়ী।} [ত্বহা: ১২৭] (১) ।
এবং তাঁর প্রদর্শিত পথ (হিদায়াত), যার প্রতিশ্রুতি তিনি আমাদের দিয়েছেন, তা হলো তাঁর রাসূলদের প্রেরণ করা। আর মহান আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন; তাই তিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসূলদের পাঠিয়েছেন, যাতে রাসূলদের আগমনের পর আল্লাহর নিকট মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। তাঁদের মধ্যে প্রথম হলেন নূহ। আর তাঁদের শেষ হলেন আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আল্লাহ এবং তাঁর বান্দাদের মাঝে সংযোগকারী এই রশিটি সম্পর্কে জ্ঞান লাভে সচেষ্ট হও; যে ব্যক্তি এটি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, সে মুক্তি পাবে এবং যে এটি অবহেলায় হারিয়ে ফেলবে, সে ধ্বংস হবে।
অতএব, তোমার পিতা আদম এবং তোমার শত্রু ইবলিসের সাথে যা ঘটেছিল, তা জানার জন্য সচেষ্ট হও। আর নূহ ও তাঁর সম্প্রদায়, হুদ ও তাঁর সম্প্রদায়, সালিহ ও তাঁর সম্প্রদায়, ইবরাহিম ও তাঁর সম্প্রদায়, লুত ও তাঁর সম্প্রদায়, মুসা ও তাঁর সম্প্রদায়, ঈসা ও তাঁর সম্প্রদায় এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলাইহিম ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সম্প্রদায়ের সাথে যা ঘটেছিল, তা জানার গুরুত্ব দাও।
আহলে ইলমগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সম্প্রদায় সম্পর্কে যে সংবাদগুলো বর্ণনা করেছেন এবং মক্কায় তাঁর সাথে যা ঘটেছিল ও মদীনায় তাঁর সাথে যা ঘটেছিল, তা অবগত হও।
আর উলামায়ে কিরাম তাঁর সাহাবীগণ, তাঁদের অবস্থা এবং তাঁদের কার্যাবলি সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন, তা জেনে নাও। সম্ভবত এর মাধ্যমে তুমি ইসলাম ও কুফরকে চিনতে পারবে। কেননা বর্তমান সময়ে ইসলাম এক অপরিচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। আর এটাই হলো সেই ধ্বংস, যার সাথে কোনো সফলতার আশা করা যায় না।
আর আদম ও ইবলিসের ঘটনার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা বর্ণনা করেছেন, তার অতিরিক্ত কিছু নেই। তবে তাঁর বংশধরদের কাহিনী রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فأول ذلك أن الله أخرجهم من صلبه أمثال الذر، وأخذ عليهم العهود: أن لا يشركوا به شيئا، كما قال تعالى {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا} [الأعراف: 172] (1) (2) ورأى فيهم الأنبياء مثل السرج. ورأى فيهم رجلا من أنورهم. فسأله عنه؟ فأعلمه أنه داود. فقال: كم عمره؟ قال: ستون سنة. قال: وهبت له من عمري أربعين سنة، وكان عمر آدم ألف سنة. ورأى فيهم الأعمى والأبرص والمبتلى. قال: يا رب لم لا سويت بينهم؟ قال إني أحب أن أُشْكَر. فلما مضى من عمر آدم ألف سنة إلا أربعين أتاه ملك الموت. فقال: إنه بقي من عمري أربعون سنة. فقال: إنك وهبتها لابنك داود. فنسي آدم فنسيت ذريته، وجحد آدم فجحدت ذريته.
فلما مات آدم بقي أولاده بعده عشرة قرون على دين أبيهم، دين الإسلام. ثم كفروا بعد ذلك. وسبب كفرهم الغلو في حب الصالحين. كما ذكر الله تعالى في قوله {وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا} [نوح: 23] (3) وذلك أن هؤلاء الخمسة قوم صالحون كانوا يأمرونهم وينهونهم. فماتوا في شهر. فخاف أصحابهم من نقص الدين بعدهم.
--------------------------------------------
এর প্রথমটি হলো, আল্লাহ তাদের আদমের পিঠ থেকে পিপীলিকার ন্যায় বের করেছেন এবং তাদের কাছ থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, তারা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন, "আর যখন তোমার প্রতিপালক বনী আদমের পিঠ থেকে তাদের সন্তানদের বের করলেন এবং তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী রাখলেন (এই বলে), 'আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই?' তারা বলল, 'হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি'।" [সূরা আল-আরাফ: ১৭২] (১) (২) তিনি তাদের মধ্যে নবীদের প্রদীপের ন্যায় দেখতে পেলেন। আর তিনি তাদের মধ্যে একজন ব্যক্তিকে দেখলেন যিনি তাদের মাঝে সর্বাধিক উজ্জ্বল। তিনি (আদম) তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তাঁকে জানানো হলো যে, ইনি দাউদ। তিনি বললেন, তাঁর বয়স কত? (আল্লাহ) বললেন, ষাট বছর। তিনি বললেন, আমি আমার বয়স থেকে তাঁকে চল্লিশ বছর দান করলাম। আর আদমের বয়স ছিল এক হাজার বছর। তিনি তাদের মধ্যে অন্ধ, শ্বেতী রোগী ও বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিদের দেখতে পেলেন। তিনি বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আপনি কেন তাদের মধ্যে সমতা রক্ষা করলেন না? তিনি বললেন, আমি পছন্দ করি যে আমার শুকরিয়া জ্ঞাপন করা হোক। যখন আদমের বয়স চল্লিশ বছর বাকি থাকা অবস্থায় এক হাজার বছর পূর্ণ হলো, তখন তাঁর নিকট মৃত্যুর ফেরেশতা এলেন। তিনি (আদম) বললেন, আমার বয়সের তো এখনো চল্লিশ বছর বাকি আছে। ফেরেশতা বললেন, আপনি তো তা আপনার সন্তান দাউদকে দান করেছিলেন। অতঃপর আদম ভুলে গেলেন, ফলে তাঁর সন্তানরাও ভুলে গেল; এবং আদম অস্বীকার করলেন, ফলে তাঁর সন্তানরাও অস্বীকার করল।
অতঃপর যখন আদম ইন্তেকাল করলেন, তাঁর সন্তানরা তাঁর পরবর্তী দশ প্রজন্ম পর্যন্ত তাদের পিতার দ্বীন অর্থাৎ ইসলামের ওপর অবিচল ছিল। এরপর তারা কুফরিতে লিপ্ত হলো। আর তাদের কুফরির কারণ ছিল নেককার লোকদের ভালোবাসার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা। যেমন মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন, "আর তারা বলল, 'তোমরা কখনো তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না এবং পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াউক ও নাসরকে'।" [সূরা নুহ: ২৩] (৩) এর কারণ ছিল এই যে, এই পাঁচজন ছিলেন নেককার লোক যারা তাদের সৎকাজের আদেশ দিতেন ও মন্দকাজ থেকে নিষেধ করতেন। অতঃপর তাঁরা এক মাসের ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করলেন। ফলে তাঁদের অনুসারীরা তাঁদের পর দ্বীনের ঘাটতি হওয়ার ভয় করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فصوروا صورة كل رجل في مجلسه لأجل التذكرة بأقوالهم وأعمالهم إذا رأوا صورهم، ولم يعبدوهم. ثم حدث قرن آخر فعظموهم أشد من تعظيم من قبلهم، ولم يعبدوهم. تم طال الزمان، ومات أهل العلم. فلما خلت الأرض من العلماء: ألقى الشيطان في قلوب الجهال: أن أولئك الصالحين ما صوروا صور مشايخهم إلا ليستشفعوا بهم إلى الله، فعبدوهم.
فلما فعلوا ذلك: أرسل الله إليهم نوحًا عليه السلام، ليردهم إلى دين آدم وذريته الذين مضوا قبل التبديل، فكان من أمرهم ما قص الله في كتابه، ثم عَمَرَ نوح وأهلُ السفينة الأرض، وبارك الله فيهم، وانتشروا في الأرض أممًا، وبقوا على الإسلام مدة لا ندري ما قدرها؟
ثم حدث الشرك. فأرسل الله الرسل. وما من أمة إلا وقد بعث الله فيها رسولا يأمرهم بالتوحيد وينهاهم عن الشرك. كما قال تعالى {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] (1) وقال تعالى {ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَى كُلَّ مَا جَاءَ أُمَّةً رَسُولُهَا كَذَّبُوهُ} [المؤمنون: 44] الآية (2) .
ولما ذكر القصص في سورة الشعراء ختم كل قصة بقوله {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ} [الشعراء: 8]
فقص الله سبحانه ما قص لأجلنا. كما قال تعالى {لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِأُولِي الْأَلْبَابِ مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَى} [يوسف: 111] الآية (3) .
--------------------------------------------
তারা তাদের মজলিসগুলোতে প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতিকৃতি অঙ্কন করল যাতে তাদের প্রতিকৃতি দেখলে তাদের কথা ও কাজ স্মরণ করা যায়, আর তারা তাদের ইবাদত করেনি। তারপর অন্য এক প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটল, তারা তাদের পূর্ববর্তীদের চেয়েও বেশি তাদের সম্মান করতে শুরু করল, কিন্তু তারাও তাদের ইবাদত করেনি। এভাবে দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলো এবং ইলমের অধিকারীগণ মৃত্যুবরণ করলেন। যখন পৃথিবী আলেমশূন্য হয়ে পড়ল, তখন শয়তান মূর্খদের অন্তরে প্ররোচনা দিল যে: ঐ নেককার ব্যক্তিগণ তাদের শাইখদের প্রতিকৃতি কেবল আল্লাহর কাছে সুপারিশ পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তৈরি করেছিলেন; তখন তারা তাদের ইবাদত শুরু করল।
তারা যখন এটি করল: আল্লাহ তাদের কাছে নূহ আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করলেন, যাতে তিনি তাদেরকে পরিবর্তনের পূর্বে আদম ও তাঁর সন্তানদের যে দ্বীন ছিল তাতে ফিরিয়ে আনতে পারেন। ফলে তাদের পরিণতি তাই হলো যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন। এরপর নূহ ও নৌকার আরোহীরা পৃথিবীতে আবাদ করলেন, আল্লাহ তাদের মাঝে বরকত দিলেন এবং তারা বিভিন্ন জাতি হিসেবে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়লেন। তারা একটি দীর্ঘ সময় ইসলামের ওপর অটল ছিলেন যার সময়সীমা আমরা জানি না।
অতঃপর শিরকের আবির্ভাব ঘটল। তখন আল্লাহ রাসূলগণকে প্রেরণ করলেন। এমন কোনো জাতি ছিল না যাদের নিকট আল্লাহ রাসূল প্রেরণ করেননি, যিনি তাদেরকে তাওহীদের নির্দেশ দিতেন এবং শিরক থেকে নিষেধ করতেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির মধ্যে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।" [আন-নাহল: ৩৬] (১) এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, "অতঃপর আমি একের পর এক আমার রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি। যখনই কোনো জাতির কাছে তাদের রাসূল আসতেন, তারা তাকে অস্বীকার করত।" [আল-মুমিনুন: ৪৪] আয়াত (২)।
সূরা আশ-শুয়ারা-তে যখন কাহিনীগুলো বর্ণনা করা হয়েছে, তখন প্রত্যেক কাহিনীর শেষে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সমাপ্তি টানা হয়েছে, "নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুমিন ছিল না।" [আশ-শুয়ারা: ৮]
সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের জন্যই এই কাহিনীগুলো বর্ণনা করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "অবশ্যই তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। এটি কোনো বানিয়ে বলা কথা নয়।" [ইউসুফ: ১১১] আয়াত (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ولما أنكر الله على أناس من هذه الأمة - في زمن النبي صلى الله عليه وسلم أشياء فعلوها (1) قال {أَلَمْ يَأْتِهِمْ نَبَأُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ قَوْمِ نُوحٍ وَعَادٍ وَثَمُودَ وَقَوْمِ إِبْرَاهِيمَ وَأَصْحَابِ مَدْيَنَ} [التوبة: 70] (2) .
وكذلك كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقص على أصحابه قصص من قبلهم، ليعتبروا بذلك.
وكذلك أهل العلم في نقلهم سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وما جرى له مع قومه، وما قال لهم، وما قيل له.
وكذلك نقلهم سيرة الصحابة، وما جرى لهم مع الكفار والمنافقين، وذكرهم أحوال العلماء بعدهم. كل ذلك لأجل معرفة الخير والشر.
إذا فهمت ذلك:
فاعلم أن كثيرا من الرسل وأممهم لا نعرفهم؛ لأن الله لم يخبرنا عنهم لكن أخبرنا عن عاد، التي لم يخلق مثلها في البلاد. فبعث الله إليهم هودا عليه السلام. فكان من أمرهم ما قص الله في كتابه وبقي التوحيد في أصحاب هود إلى أن عُدم بعد مدة لا ندري كم هي؟ وبقي في أصحاب صالح. إلى أن عدم مدة لا ندري كم هي؟
[قصة إبراهيم عليه السلام وأحواله]ثم بعث الله إبراهيم عليه السلام، وليس على وجه الأرض يومئذ مسلم. فجرى عليه من قومه ما جرى، وآمنت به امرأته سارة. ثم آمن له لوط عليه السلام، ومع هذا نصره الله، ورفع قدره، وجعله إماما للناس.
--------------------------------------------
যখন আল্লাহ এই উম্মতের কিছু লোকের বিরুদ্ধে - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে - তাদের কৃতকর্মের জন্য প্রতিবাদ করলেন (১), তখন তিনি বললেন: {তাদের কাছে কি তাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ পৌঁছায়নি - নূহ, আদ ও সামূদ সম্প্রদায়, ইব্রাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদইয়ানবাসীদের সংবাদ?} [আত-তাওবা: ৭০] (২)।
একইভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের কাছে পূর্ববর্তীদের কাহিনী বর্ণনা করতেন, যাতে তারা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
ঠিক তেমনিভাবে আলেমগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত বা জীবনী, তাঁর কওমের সাথে তাঁর যা ঘটেছিল, তিনি তাদের যা বলেছিলেন এবং তাঁকে যা বলা হয়েছিল, তা বর্ণনা করার ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করেছেন।
অনুরূপভাবে সাহাবীদের জীবনী, কাফির ও মুনাফিকদের সাথে তাদের যা ঘটেছিল তার বর্ণনা এবং পরবর্তীকালের আলেমদের অবস্থার উল্লেখও এই উদ্দেশ্যেই। এই সবকিছুই কল্যাণ ও অকল্যাণ সম্পর্কে জানার জন্য।
যদি আপনি তা বুঝে থাকেন:
তবে জেনে রাখুন যে, অনেক রাসূল এবং তাঁদের উম্মত সম্পর্কে আমরা জানি না; কারণ আল্লাহ আমাদের তাদের সম্পর্কে জানাননি। তবে তিনি আমাদের আদ সম্প্রদায় সম্পর্কে জানিয়েছেন, যাদের মতো কোনো জাতি জনপদে সৃষ্টি করা হয়নি। অতঃপর আল্লাহ তাদের নিকট হূদ আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করলেন। ফলে তাদের ক্ষেত্রে তাই ঘটেছিল যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন। আর তাওহীদ হূদ আলাইহিস সালামের অনুসারীদের মধ্যে অবশিষ্ট ছিল, যতক্ষণ না একটি নির্দিষ্ট সময় পর তা বিলুপ্ত হয়ে যায় - যার সময়কাল সম্পর্কে আমরা জানি না। এবং তা সালিহ আলাইহিস সালামের অনুসারীদের মধ্যেও অবশিষ্ট ছিল, যতক্ষণ না একটি নির্দিষ্ট সময় পর তা বিলুপ্ত হয়ে যায় - যার সময়কাল সম্পর্কে আমরা জানি না।
[ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের কাহিনী ও তাঁর অবস্থা]অতঃপর আল্লাহ ইব্রাহীম আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করলেন, অথচ তখন পৃথিবীর বুকে কোনো মুসলিম ছিল না। তাঁর কওমের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর যা ঘটার তা-ই ঘটল এবং তাঁর স্ত্রী সারা তাঁর ওপর ঈমান আনলেন। এরপর লূত আলাইহিস সালাম তাঁর প্রতি ঈমান আনলেন। এতদসত্ত্বেও আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করলেন, তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করলেন এবং তাঁকে মানুষের জন্য ইমাম নিযুক্ত করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ومنذ ظهر إبراهيم عليه السلام لم يعدم التوحيد في ذريته. كما قال تعالى {وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [الزخرف: 28] (1) .
فإذا كان هو الإمام فنذكر شيئا من أحواله. لا يستغني مسلم عن معرفتها. فنقول:
في الصحيح أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لم يكذب إبراهيم النبي صلى الله عليه وسلم قط إلا ثلاث كذبات: ثنتين في ذات الله قوله: {إِنِّي سَقِيمٌ} [الصافات: 89] وقوله: {بَلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَذَا} [الأنبياء: 63] وواحدة في شأن سارة. فإنه قدم أرض جبَّار ومعه سارة. وكانت أحسن الناس. فقال لها: إن هذا الجبار إن يعلم أنك امرأتي: يغلبني عليك، فإن سألك. فأخبريه: أنكِ أختي. فإنكِ أختي في الإسلام. فإني لا أعلم في الأرض مسلما غيري وغيرك. فلما دخل أرضه رآها بعض أهل الجبار فأتاه. فقال: لقد قدم أرضك امرأة لا ينبغي أن تكون إلا لك. فأرسل إليها، فأُتيَ بها. فقام إبراهيم إلى الصلاة. فلما دخلت عليه لم يتمالك أن بسط يده إليها. فَقُبِضَتْ يده قبضة شديدة. فقال لها: ادعي الله أن يطلق يدي، فلك الله: أن لا أضرك. ففعلت، فعاد: فَقُبِضَتْ يده أشد من القبضة الأولى. فقال لها مثل ذلك، فعاد فَقُبِضَتْ يده أشد من القبضتين الأولتين. فقال لها: ادعي الله أن يطلق يدي، ولك الله أن لا أضرك، ففعلت. فأطلقت يده. ودعا الذي جاء بها، فقال له: إنك إنما جئتني بشيطان ولم تأتني بإنسان، فأخرجها من أرضي، وأعطاها هاجر. فأقبلت. فلما رآها إبراهيم. انصرف، فقال لها: مَهْيَم؟ قالت: خيرًا. كف الله يد الفاجر، وأخدم خادمًا» .
--------------------------------------------
ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আবির্ভাবের পর থেকে তাঁর বংশধরদের মধ্যে তাওহিদ কখনো বিলুপ্ত হয়নি। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন, {আর তিনি একে তাঁর বংশধরদের মধ্যে একটি স্থায়ী বাণী হিসেবে রেখে গেছেন, যেন তারা ফিরে আসে} [যুখরুফ: ২৮] (১)।
যেহেতু তিনি ইমাম (নেতা), তাই আমরা তাঁর জীবনের কিছু অবস্থা বর্ণনা করব, যা জানা কোনো মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। আমরা বলছি:
সহিহ বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নবী ইবরাহিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া কখনো মিথ্যা বলেননি: এর মধ্যে দুটি আল্লাহর সত্তার উদ্দেশ্যে; তাঁর কথা: {নিশ্চয়ই আমি অসুস্থ} [সাফফাত: ৮৯], এবং তাঁর কথা: {বরং তাদের এই বড়টিই তা করেছে} [আম্বিয়া: ৬৩]। আর একটি সারা (তাঁর স্ত্রী) সংক্রান্ত বিষয়ে। তিনি এক স্বৈরশাসকের দেশে আগমন করেন এবং তাঁর সাথে সারা ছিলেন। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী। তিনি সারাকে বললেন: 'এই স্বৈরশাসক যদি জানতে পারে যে তুমি আমার স্ত্রী, তবে সে তোমাকে পাওয়ার জন্য আমার ওপর চড়াও হবে। যদি সে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তবে তাকে বলো যে তুমি আমার বোন। কেননা তুমি ইসলামে আমার বোন। আর আমি পৃথিবীতে আমি ও তুমি ছাড়া অন্য কোনো মুসলিমকে জানি না।' যখন তিনি সেই স্বৈরশাসকের দেশে প্রবেশ করলেন, তার কিছু লোক সারাকে দেখল এবং রাজার কাছে গিয়ে বলল: 'আপনার দেশে এমন এক নারী এসেছে যে আপনি ছাড়া আর কারো যোগ্য নয়।' তখন সে লোক পাঠিয়ে তাকে আনিয়ে নিল। এদিকে ইবরাহিম সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। যখন সারা তার কাছে প্রবেশ করলেন, সে নিজেকে সংবরণ করতে পারল না এবং সারার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। সাথে সাথে তার হাত সজোরে আটকে গেল। সে সারাকে বলল: 'আল্লাহর কাছে দোয়া করো যেন তিনি আমার হাত ছেড়ে দেন, আমি আল্লাহর নামে ওয়াদা করছি যে তোমার কোনো ক্ষতি করব না।' সারা দোয়া করলেন, কিন্তু সে পুনরায় একই কাজ করল এবং তার হাত প্রথম বারের চেয়েও শক্তভাবে আটকে গেল। সে সারাকে আগের মতোই বলল। সে পুনরায় কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে চাইল এবং তার হাত আগের দুই বারের চেয়েও বেশি শক্তভাবে আটকে গেল। তখন সে তাকে বলল: 'আল্লাহর কাছে দোয়া করো যেন তিনি আমার হাত ছেড়ে দেন, আমি আল্লাহর নামে ওয়াদা করছি যে তোমার কোনো ক্ষতি করব না।' সারা দোয়া করলেন এবং তার হাত মুক্ত হয়ে গেল। এরপর সে সেই ব্যক্তিকে ডাকল যে সারাকে নিয়ে এসেছিল এবং তাকে বলল: 'তুমি আমার কাছে কোনো মানুষ আনোনি, বরং এক শয়তান নিয়ে এসেছ। একে আমার দেশ থেকে বের করে দাও।' সে সারাকে হাজেরাকে উপহার হিসেবে প্রদান করল। সারা ফিরে এলেন। ইবরাহিম তাকে দেখে সালাত শেষ করলেন এবং তাকে বললেন: 'কী খবর?' সারা বললেন: 'সবই কল্যাণকর। আল্লাহ পাপাচারীর হাত রুখে দিয়েছেন এবং একজন পরিচারিকা দান করেছেন'।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال أبو هريرة: فتلك أمكم يا بني ماء السماء (1) (2) .
وللبخاري: «أن إبراهيم لما سئل عنها قال: هي أختي، ثم رجع إليها. فقال: لا تكذبي حديثي. فإني أخبرتهم أنك أختي. والله ما على الأرض مؤمن غيري وغيرك. فأرسل بها إليه فقام إليها. فقامت تتوضأ وتصلي. فقالت: اللهم إن كنت آمنت بك وبرسولك، وأحصنت فرجي إلا على زوجي، فلا تسلط عليَّ يد الكافر، فغطَّ حتى ركض برجله الأرض. فقالت: اللهم إن يمت، يقال: هي قتلته. فأُرسِل. ثم قام إليها فقامت تتوضأ وتصلي، وتقول: اللهم إن كنت آمنت بك وبرسولك، وأحصنت فرجي إلا على زوجي، فلا تسلط عليَّ هذا الكافر فغط حتى ركض برجله. فقالت: اللهم إن يمت يقال: هي قتلته. فأُرسِل في الثانية أو الثالثة. فقال: والله ما أرسلتم إليَّ إلا شيطانًا، أرجعوها إلى إبراهيم وأعطوها هاجر. فرجعت إلى إبراهيم، فقالت: أشَعُرْتَ؟ إن الله كبت الكافر، وأخدم وليدة» .
وكان عليه السلام في أرض العراق. وبعد ما جرى عليه من قومه ما
--------------------------------------------
আবু হুরাইরা বললেন: হে আকাশের পানির সন্তানগণ, ইনিই তোমাদের মাতা। (১) (২)।
বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে: «ইবরাহীমকে যখন তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: তিনি আমার বোন, অতঃপর তিনি তাঁর কাছে ফিরে এলেন। এরপর বললেন: আমার কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। কেননা আমি তাদের জানিয়েছি যে তুমি আমার বোন। আল্লাহর কসম, পৃথিবীতে আমি ও তুমি ছাড়া আর কোনো মুমিন নেই। অতঃপর তাঁকে সেই জালেমের নিকট পাঠানো হলো এবং সে তাঁর দিকে অগ্রসর হলো। তখন সারাহ দাঁড়িয়ে ওযু করলেন এবং সালাত আদায় করলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আমি যদি তোমার প্রতি এবং তোমার রাসূলের প্রতি ঈমান এনে থাকি এবং আমার স্বামী ছাড়া অন্য সবার থেকে আমার লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে থাকি, তবে এই কাফিরের হাতকে আমার ওপর বিজয়ী হতে দিও না। তখন সে দম বন্ধ হওয়ার মতো হয়ে গোঙাতে লাগল, এমনকি সে তার পা দিয়ে মাটি দাপাতে লাগল। তখন সারাহ বললেন: হে আল্লাহ! সে যদি মারা যায় তবে বলা হবে যে, এই নারীই তাকে হত্যা করেছে। তখন তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো। এরপর সে আবার তাঁর দিকে অগ্রসর হলো, সারাহ পুনরায় ওযু করলেন ও সালাত আদায় করলেন এবং বলতে লাগলেন: হে আল্লাহ! আমি যদি তোমার প্রতি এবং তোমার রাসূলের প্রতি ঈমান এনে থাকি এবং আমার স্বামী ছাড়া অন্য সবার থেকে আমার লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে থাকি, তবে এই কাফিরের হাতকে আমার ওপর বিজয়ী হতে দিও না। তখন সে পুনরায় গোঙাতে লাগল এবং পা দিয়ে মাটি দাপাতে লাগল। তখন সারাহ বললেন: হে আল্লাহ! সে যদি মারা যায় তবে বলা হবে যে, এই নারীই তাকে হত্যা করেছে। দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় বারের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো। তখন সে বলল: আল্লাহর কসম, তোমরা আমার কাছে কোনো মানুষ পাঠাওনি বরং এক শয়তান পাঠিয়েছ; একে ইবরাহীমের কাছে ফেরত নিয়ে যাও এবং তাকে হাজেরকে দান করো। অতঃপর তিনি ইবরাহীমের কাছে ফিরে এলেন এবং বললেন: আপনি কি লক্ষ্য করেছেন? আল্লাহ কাফিরকে লাঞ্ছিত করেছেন এবং একজন সেবিকা দান করেছেন»।
তিনি (আলাইহিস সালাম) ইরাক ভূমিতে ছিলেন। এবং তাঁর সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর যা অতিক্রান্ত হয়েছিল তার পর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
جرى هاجر إلى الشام. واستوطنها، إلى أن مات فيها. وأعطته سارة الجارية التي أعطاها الجبار. فواقعها. فولدت له إسماعيل عليه السلام، فغارت سارة. فأمره الله بإبعادها عنها. فذهب بها وبابنها فأسكنها في مكة. ثم بعد ذلك وهب الله له ولسارة إسحاق عليه السلام، كما ذكر الله بشارة الملائكة له ولها بإسحاق. ومن وراء إسحاق يعقوب.
وفي الصحيح عن ابن عباس قال: «لما كان بين إبراهيم وبين أهله ما كان: خرج بإسماعيل وأم إسماعيل، ومعه شَنّة فيها ماء. فجعلت أم إسماعيل تشرب من الشنة فَيَدِرُّ لبنها على صبيها، حتى قدم مكة. فوضعها تحت دَوْحة فوق زمزم في أعلى المسجد - وليس بمكة يومئذ أحد، وليس بها ماء - ووضع عندهما جرابا فيه تمر وسقاء فيه ماء. ثم قَفّى إبراهيم منطلقا، فتبعته أم إسماعيل. فلما بلغوا كداء (1) نادته من ورائه: يا إبراهيم أين تذهب وتتركنا بهذا الوادي الذي ليس به أنيس ولا شيء؟ فقالت له ذلك مرارا، وجعل لا يلتفت إليها. فقالت له: آلله أمرك بهذا؟ قال: نعم. قالت: إذن لا يضيعنا - وفي لفظ: إلى من تَكِلنا؟ قال: إلى الله. قالت: رضيتُ - ثم رجعت. فانطلق إبراهيم حتى إذا كان عند الثنية، حيث لا يرونه استقبل بوجهه البيت ثم دعا بهؤلاء الدعوات ورفع يديه فقال: {رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ} [إبراهيم: 37] (2) . وجعلت أم إسماعيل ترضعه
--------------------------------------------
তিনি সিরিয়া অভিমুখে হিজরত করলেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেন, মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন। সারা তাকে সেই দাসীটি দান করেছিলেন যা জালিম বাদশাহ তাকে দিয়েছিল। অতঃপর তিনি তার সাথে মিলিত হলেন এবং ইসমাঈল আলাইহিস সালাম জন্মগ্রহণ করলেন। এতে সারা ঈর্ষাকাতর হলেন। তখন আল্লাহ তাকে (সারাকে) তাদের থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি তাকে ও তার পুত্রকে নিয়ে গিয়ে মক্কায় বসবাস করালেন। এরপর আল্লাহ তাকে ও সারাকে ইসহাক আলাইহিস সালাম দান করলেন, যেমনটি আল্লাহ ইসহাক সম্পর্কে ফেরেশতাদের মাধ্যমে তাকে ও সারাকে সুসংবাদ প্রদানের কথা উল্লেখ করেছেন। আর ইসহাকের পরে ইয়াকুবের সুসংবাদ।
সহীহ বর্ণনায় ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «যখন ইব্রাহীম ও তার স্ত্রীর মধ্যে যা ঘটার তা ঘটল, তখন তিনি ইসমাঈল ও ইসমাঈলের মাকে নিয়ে বের হলেন। তার সাথে পানি ভর্তি একটি পুরাতন মশক ছিল। ইসমাঈলের মা মশক থেকে পানি পান করতেন এবং এতে তার শিশুর জন্য পর্যাপ্ত দুধ তৈরি হতো। শেষ পর্যন্ত তিনি মক্কায় পৌঁছালেন। তিনি তাকে মাসজিদুল হারামের উচ্চস্থানে যমযমের উপরে একটি বড় গাছের নিচে রাখলেন—সেই সময়ে মক্কায় কোনো জনমানুষ ছিল না এবং সেখানে কোনো পানিও ছিল না—তিনি তাদের কাছে খেজুর ভর্তি একটি থলে এবং পানি ভর্তি একটি পাত্র রেখে গেলেন। এরপর ইব্রাহীম ফিরে চলতে শুরু করলেন, তখন ইসমাঈলের মা তার পিছু নিলেন। যখন তারা কাদা (১) নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তিনি পেছন থেকে তাকে ডেকে বললেন: হে ইব্রাহীম, আপনি আমাদের এমন এক উপত্যকায় রেখে কোথায় চলে যাচ্ছেন যেখানে কোনো জনমানুষ নেই এবং কিছুই নেই? তিনি বারবার তাকে এ কথা বললেন, কিন্তু ইব্রাহীম তার দিকে তাকাচ্ছিলেন না। তখন তিনি তাকে বললেন: আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে তিনি আমাদের ধ্বংস করবেন না—অন্য বর্ণনায় রয়েছে: আপনি আমাদের কার জিম্মায় রেখে যাচ্ছেন? তিনি বললেন: আল্লাহর জিম্মায়। তিনি বললেন: আমি সন্তুষ্ট—এরপর তিনি ফিরে এলেন। ইব্রাহীম এগিয়ে চললেন এবং যখন পাহাড়ের মোড়ে পৌঁছালেন যেখানে তারা আর তাকে দেখতে পাচ্ছিল না, তখন তিনি বাইতুল্লাহর দিকে মুখ ফেরালেন এবং হাত উঠিয়ে এই দুআগুলো করলেন: {হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার বংশধরদের এক অংশকে তোমার সম্মানিত ঘরের সন্নিকটে এমন এক উপত্যকায় বসবাস করালাম যা চাষাবাদের অযোগ্য। হে আমাদের প্রতিপালক! তারা যেন সালাত কায়েম করে; সুতরাং তুমি মানুষের অন্তরসমূহকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দাও এবং তাদেরকে ফলমূলের রিযিক দান করো যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে।} [ইব্রাহীম: ৩৭] (২)। এরপর ইসমাঈলের মা তাকে দুধ পান করাতে লাগলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وتشرب من الشنة فيدر لبنها على صبيها، حتى إذا نَفَدَ ما في السقاء عطشت وعطش ابنها. وجعلت تنظر إليه يَتَلَوَّى - أو قال يَتَلَبَّطَ - فانطلقت كراهيةَ أن تنظر إليه. فوجدت الصفا أقرب جبل إليها، فقامت واستقبلت الوادي تنظر: هل ترى أحدا؟ فلم تر أحدًا. فهبطت من الصفا، حتى إذا بلغت الوادي رفعت طرف درعها. ثم سعت سعي الإنسان المجهود حتى جاوزت الوادي. ثم أتت المروة، فقامت عليها. فنظرت: هل ترى أحدا؟ فلم تر أحدا، ففعلت ذلك سبع مرات - قال ابن عباس: قال النبي صلى الله عليه وسلم: فذلك سعي الناس بينهما - ثم قالت: لو ذهبت فنظرت ما فعل؟ - تعني الصبي - فذهبت فنظرت. فإذا هو على حاله كأنه ينشغ للموت (1) فلم تقر نفسها. فقالت: لو ذهبت لَعَلِّي أحس أحدًا؟ فذهبت فصعدت الصفا. فنظرت. فلم تحس أحدًا. حتى أتمت سبعًا. ثم قالت: لو ذهبت فنظرت ما فعل؟ فإذا هي بصوت. فقالت: أغِثْ إن كان عندك خير. فإذا بجبريل. قال: فقال بعقبه على الأرض. فانبثق الماء فذهبت أم إسماعيل فجعلت تحفر، فقال أبو القاسم صلى الله عليه وسلم: يرحم الله أم إسماعيل، لو تركت زمزم - أو قال: لو لم تغرف من الماء - لكانت زمزم عينًا معينًا - وفي حديثه: فجعلت تغرف الماء في سقائها - قال: فشربت وأرضعت ولدها. فقال لها الملك: لا تخافي الضيعة. فإن ههنا بيتًا لله، يبنيه هذا الغلام وأبوه، إن الله لا يضيع أهله. وكان البيت مرتفعًا من الأرض كالرابية. تأتيه السيول، فتأخذ عن يمينه وشماله. فكانت كذلك حتى مرَّت بهم رفقة من جُرهم مقبلين من طريق كَداء،
--------------------------------------------
তিনি সেই মশক থেকে পান করতেন ফলে তার শিশুর জন্য পর্যাপ্ত দুধ নির্গত হতো, অবশেষে যখন মশকের পানি ফুরিয়ে গেল তখন তিনি তৃষ্ণার্ত হলেন এবং তার সন্তানও তৃষ্ণার্ত হলো। তিনি তার (সন্তানের) দিকে তাকাতে লাগলেন যে সে যন্ত্রণায় ছটফট করছে - অথবা বর্ণনাকারী বললেন - মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছে। তা সহ্য করতে না পেরে তিনি সরে গেলেন। তিনি সাফা পাহাড়কে তার নিকটবর্তী পাহাড় হিসেবে পেলেন, অতঃপর তিনি তার ওপর দাঁড়ালেন এবং উপত্যকার দিকে মুখ করে তাকাতে লাগলেন: কাউকে কি দেখা যায়? কিন্তু তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না। অতঃপর তিনি সাফা থেকে নামলেন, যখন উপত্যকায় পৌঁছালেন তখন তার কামিজের আঁচল তুলে নিলেন। এরপর তিনি একজন পরিশ্রান্ত মানুষের মতো দৌড়ালেন যতক্ষণ না উপত্যকা অতিক্রম করলেন। এরপর তিনি মারওয়া পাহাড়ে আসলেন এবং তার ওপর দাঁড়ালেন। অতঃপর লক্ষ্য করলেন: কাউকে কি দেখা যায়? তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না। এভাবে তিনি সাতবার করলেন - ইবনে আব্বাস বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আর এটিই হলো মানুষের উভয়ের (সাফা ও মারওয়া) মাঝে সাঈ করা - এরপর তিনি বললেন: আমি যদি গিয়ে দেখতাম সে (শিশু) কী করছে? অতঃপর তিনি গিয়ে দেখলেন। দেখা গেল সে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে যেন সে মৃত্যুর যন্ত্রণায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে (১), তখন তার মন শান্ত হলো না। তিনি বললেন: আমি যদি গিয়ে দেখি হয়তো কাউকে পাব? তিনি গিয়ে সাফা পাহাড়ে উঠলেন এবং অনুসন্ধান করলেন। তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না। এভাবে তিনি সাতবার পূর্ণ করলেন। এরপর বললেন: আমি যদি গিয়ে দেখি সে কী করছে? হঠাৎ তিনি একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি বললেন: আমাদের সাহায্য করুন যদি আপনার কাছে কোনো কল্যাণ থেকে থাকে। দেখা গেল সেখানে জিবরাঈল। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তার গোড়ালি দিয়ে মাটিতে আঘাত করলেন। ফলে পানি উপচে বের হলো। ইসমাইলের মা এগিয়ে গেলেন এবং তা গর্তের মতো করে আটকাতে লাগলেন। আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ ইসমাইলের মায়ের ওপর রহম করুন, তিনি যদি জমজমকে ছেড়ে দিতেন - অথবা তিনি বলেছিলেন: যদি তিনি আজলা ভরে পানি না তুলতেন - তবে জমজম একটি প্রবহমান ঝরনা হতো। বর্ণনায় রয়েছে: তিনি তার মশকে আজলা ভরে পানি ভরতে লাগলেন। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি পান করলেন এবং তার সন্তানকে দুধ পান করালেন। ফেরেশতা তাকে বললেন: ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয় করবেন না। কারণ এখানে আল্লাহর একটি ঘর রয়েছে, যা এই বালক এবং তার পিতা নির্মাণ করবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর পরিজনকে ধ্বংস করেন না। আর ঘরটি ছিল টিলার মতো ভূমি থেকে উঁচু। বন্যার পানি আসত এবং তার ডানে ও বামে দিয়ে বয়ে যেত। তিনি এভাবেই সেখানে অবস্থান করছিলেন যতক্ষণ না জুরহুম গোত্রের একটি কাফেলা কাদা পথ দিয়ে তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২০)
فرأوا طائرا عائفًا، فقالوا: إن هذا الطائر ليدور على ماء. لَعَهْدُنا بهذا الوادي وما فيه ماء، فأرسلوا جَريّا، أو جريين (1) . فإذا هم بالماء، فرجعوا فأخبروهم فأقبلوا، وقالوا لأم إسماعيل: أتأذنين لنا أن ننزل عندك؟ قالت: نعم، ولكن لا حق لكم في الماء. قالوا: نعم - قال ابن عباس: قال النبي صلى الله عليه وسلم: فألفَى ذلك أمَّ إسماعيل وهي تحب الأنس - فنزلوا. وأرسلوا إلى أهليهم فنزلوا معهم. حتى إذا كان بها أهل أبيات منهم وشَبَّ الغلام. وتعلم العربية منهم. وأنْفَسَهم (2) وأعجبهم حين شب، فلما أدرك زوجوه امرأة منهم. وماتت أم إسماعيل. وجاء إبراهيم - بعد ما تزوج إسماعيل - يطالع تَرِكَته، فلم يجد إسماعيل، فسأل امرأته عنه، فقالت: خرج يبتغي لنا. ثم سألها عن عيشهم وهيئتهم، فقالت: نحن بشر، نحن في ضيق وشدة. فشكت إليه. قال: فإذا جاء زوجك اقرئي عليه السلام، وقولي له يُغَيِّر عتبة بابه. فلما جاء إسماعيل كأنه آنس شيئا، فقال: هل جاءكم من أحد؟ قالت: نعم جاءنا شيخ - كذا وكذا - فسألنا عنك، فأخبرته، وسألني: كيف عيشنا؟ فأخبرته: أنا في جهد وشدة. قال: فهل أوصاك بشيء؟ قالت: نعم. أمرني أن أقرأ عليك السلام، ويقول: غَيّر عتبة بابك. قال: ذاك أبي. وقد أمرني أن أفارقك. الحقي بأهلك، فطلقها. وتزوج منهم امرأة أخرى، فلبث عنهم إبراهيم ما شاء الله، فقال لأهله: إني مُطّلع تركتي. فجاء، فقال لامرأته: أين إسماعيل؟ قالت:
--------------------------------------------
অতঃপর তারা একটি পাখি উড়তে দেখল, তখন তারা বলল: এই পাখিটি নিশ্চয়ই পানির ওপর ঘুরপাক খাচ্ছে। এই উপত্যকা সম্পর্কে আমাদের জানামতে এখানে কোনো পানি ছিল না। তাই তারা একজন বা দুইজন বার্তাবাহককে (১) পাঠাল। তারা সেখানে পানি দেখতে পেল, অতঃপর ফিরে এসে তাদের সংবাদ দিল। তখন তারা এগিয়ে এল এবং ইসমাইলের মাতাকে বলল: আপনি কি আমাদের আপনার কাছে অবস্থান করার অনুমতি দেবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে পানিতে তোমাদের কোনো মালিকানা থাকবে না। তারা বলল: ঠিক আছে। - ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: নবী (সা.) বলেছেন: ইসমাইলের মা এই প্রস্তাবটিকে পছন্দ করলেন, কারণ তিনি মানুষের সাহচর্য ভালোবাসতেন - ফলে তারা সেখানে বসতি স্থাপন করল। তারা তাদের পরিবার-পরিজনের নিকট সংবাদ পাঠাল এবং তারাও তাদের সাথে এসে বসবাস শুরু করল। এমনকি সেখানে তাদের কয়েকটি পরিবার হয়ে গেল এবং শিশুটি বড় হলো। সে তাদের কাছ থেকে আরবি ভাষা শিখল। বড় হওয়ার পর সে তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় (২) ও প্রশংসিত হয়ে উঠল। অতঃপর যখন সে প্রাপ্তবয়স্ক হলো, তারা তাদের মধ্য থেকে একটি মেয়ের সাথে তার বিয়ে দিল। এরমধ্যেই ইসমাইলের মা ইন্তেকাল করলেন। ইসমাইলের বিয়ের পর ইব্রাহিম (আ.) তার রেখে আসা পরিবারের খোঁজখবর নিতে আসলেন। তিনি ইসমাইলকে পেলেন না, তাই তার স্ত্রীর কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সে বলল: তিনি আমাদের জন্য জীবিকার সন্ধানে বাইরে গেছেন। এরপর তিনি তাদের জীবনযাপন ও অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সে বলল: আমরা খুব কষ্টে আছি, আমরা সংকীর্ণতা ও অভাবের মধ্যে আছি। সে তার কাছে অভাব-অভিযোগ করল। তিনি বললেন: তোমার স্বামী যখন আসবে, তাকে আমার পক্ষ থেকে সালাম দিও এবং তাকে বলো সে যেন তার দরজার চৌকাঠ পরিবর্তন করে। ইসমাইল যখন ফিরে আসলেন, তখন তিনি যেন কারো উপস্থিতির আভাস পেলেন। তিনি বললেন: তোমাদের কাছে কি কেউ এসেছিল? সে বলল: হ্যাঁ, আমাদের কাছে একজন বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন - যাঁর বর্ণনা এই এই - তিনি আপনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি তাঁকে আপনার খবর দিলাম। তিনি আমাদের জীবনযাপন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি তাঁকে জানালাম যে আমরা অনেক কষ্টে ও অভাবে আছি। তিনি বললেন: তিনি কি তোমাকে কোনো উপদেশ দিয়েছেন? সে বলল: হ্যাঁ, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আপনাকে সালাম জানাই এবং তিনি বলেছেন: আপনি যেন আপনার দরজার চৌকাঠ পরিবর্তন করেন। ইসমাইল বললেন: তিনি আমার পিতা। তিনি আমাকে তোমাকে পরিত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তুমি তোমার পরিবারের কাছে চলে যাও। অতঃপর তিনি তাকে তালাক দিলেন। এবং তাদের মধ্য থেকেই অন্য এক নারীকে বিয়ে করলেন। এরপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন ইব্রাহিম (আ.) তাদের থেকে দূরে থাকলেন। পরে তিনি নিজের পরিবারকে বললেন: আমি আমার রেখে আসা পরিবারের অবস্থা দেখতে যাচ্ছি। অতঃপর তিনি আসলেন এবং তাঁর স্ত্রীর কাছে বললেন: ইসমাইল কোথায়? সে বলল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২১)
ذهب يصيد. قالت: ألا تنزل فتطعم وتشرب؟ قال: وما طعامكم وما شرابكم؟ قالت: طعامنا اللحم وشرابنا الماء. قال: اللهم بارك لهم في طعامهم وشرابهم - قال: فقال أبو القاسم صلى الله عليه وسلم: بركة دعوة إبراهيم، فهما لا يخلو عليهما أحد بغير مكة إلا لم يوافقاه. قال النبي صلى الله عليه وسلم: ولم يكن لهم يومئذ حب. ولو كان لهم حب دعا لهم فيه - وسألها عن عيشهم وهيئتهم؟ فقالت: نحن بخير وسعة، وأثنت على الله. قال: إذا جاء زوجك، فاقرئي عليه السلام ومريه يثبت عتبة بابه. فلما جاء إسماعيل قال: هل أتاكم من أحد؟ قالت: نعم. شيخ حسن الهيئة - وأثنت عليه - فسألني عنك؟ فأخبرته. فسألني: كيف عيشنا؟ فأخبرته أنّا بخير. قال: هل أوصاك بشيء؟ قالت: نعم هو يقرأ عليك السلام، ويأمرك أن تثبت عتبة بابك. قال: ذاك أبي. وأنت العتبة، أمرني أن أمسكك. ثم لبث عنهم ما شاء الله، فقال لأهله: إني مطلع تركتي، فجاء. فوافق إسماعيل يَبْري نَبْلًا له تحت دَوْحة قريبًا من زمزم. فلما رآه قام إليه، فصنعا كما يصنع الوالد بالولد، والولد بالوالد. ثم قال: يا إسماعيل، إن الله أمرني بأمر، قال: فاصنع ما أمرك ربك. قال: وتعينني؟ قال: وأعينك. قال: فإن الله أمرني أن أبني ههنا بيتًا - وأشار إلى أكمة مرتفعة على ما حولها - قال: فعند ذلك رفعا القواعد من البيت. فجعل إسماعيل يأتي بالحجارة وإبراهيم يبني. حتى إذا ارتفع البناء جاء بهذا الحجر فوضعه له. فقام عليه وهو يبني، وإسماعيل يناوله الحجارة وهما يقولان: {رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [البقرة: 127] »
هذا آخر حديث ابن عباس.
[ولاية البيت ومكة لإسماعيل ثم لذريته من بعده]فصارت ولاية البيت ومكة لإسماعيل. ثم لذريته من بعده، وانتشرت
তিনি শিকারে গিয়েছিলেন। তিনি (স্ত্রী) বললেন: আপনি কি একটু নামবেন না যেন কিছু আহার ও পান করতে পারেন? তিনি বললেন: তোমাদের খাবার কী এবং পানীয় কী? তিনি বললেন: আমাদের খাবার হলো গোশত এবং পানীয় হলো পানি। তিনি বললেন: হে আল্লাহ, আপনি তাদের খাবার ও পানীয়র মধ্যে বরকত দান করুন। বর্ণনাকারী বলেন: আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এটি ইবরাহিমের দোয়ারই বরকত; ফলে মক্কার বাইরে কেউ কেবল এ দুটোর (গোশত ও পানি) ওপর জীবনধারণ করলে তা তার স্বাস্থ্যের অনুকূল হতো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সেদিন তাদের কাছে কোনো শস্যদানা ছিল না। যদি তাদের কোনো শস্যদানা থাকত, তবে তিনি সেটির জন্যও বরকতের দোয়া করতেন। অতঃপর তিনি তাকে তাদের জীবনযাত্রা ও অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: আমরা খুব ভালো ও সচ্ছল অবস্থায় আছি, এবং তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তিনি বললেন: যখন তোমার স্বামী আসবে, তাকে আমার সালাম জানাবে এবং তাকে নির্দেশ দেবে যেন সে তার ঘরের চৌকাঠ বজায় রাখে। অতঃপর যখন ইসমাইল ফিরে আসলেন, তিনি বললেন: তোমাদের কাছে কি কেউ এসেছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ, সুন্দর অবয়বের এক বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন—এবং তিনি তাঁর প্রশংসা করলেন—তিনি আমাকে আপনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং আমি তাঁকে জানিয়েছি। তিনি আমাকে আমাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং আমি তাঁকে জানিয়েছি যে আমরা ভালো আছি। তিনি বললেন: তিনি কি তোমাকে কোনো অসিয়ত করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আপনি আপনার ঘরের চৌকাঠ বজায় রাখেন। ইসমাইল বললেন: তিনিই আমার পিতা। আর তুমিই সেই চৌকাঠ; তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাকে আমার কাছে রেখে দিই। এরপর আল্লাহ যতকাল চাইলেন তিনি তাদের থেকে দূরে থাকলেন। এরপর তিনি তাঁর পরিবারকে বললেন: আমি আমার রেখে আসা পরিজনদের দেখতে যাচ্ছি। অতঃপর তিনি আসলেন এবং ইসমাইলকে যমযমের নিকটবর্তী একটি বড় গাছের নিচে নিজের তীর মেরামত করতে দেখলেন। যখন তিনি তাকে দেখলেন, তিনি তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁরা একে অপরের সাথে তেমন আচরণই করলেন যেমনটি পিতা তাঁর সন্তানের সাথে এবং সন্তান তাঁর পিতার সাথে করে থাকে। অতঃপর তিনি বললেন: হে ইসমাইল, আল্লাহ আমাকে একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। ইসমাইল বললেন: আপনার রব আপনাকে যা নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন করুন। তিনি বললেন: তুমি কি আমাকে সাহায্য করবে? তিনি বললেন: আমি আপনাকে সাহায্য করব। তিনি বললেন: আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি এখানে একটি ঘর নির্মাণ করি—এবং তিনি চারপাশের তুলনায় একটি উঁচু টিলার দিকে ইশারা করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তাঁরা উভয়ে মিলে ঘরটির ভিত্তি উত্তোলন করলেন। ইসমাইল পাথর নিয়ে আসতেন আর ইবরাহিম নির্মাণ করতেন। যখন দেয়াল উঁচু হয়ে গেল, তখন ইসমাইল এই পাথরটি (মাকামে ইবরাহিম) নিয়ে আসলেন এবং সেটি তাঁর জন্য স্থাপন করলেন। তিনি সেটির ওপর দাঁড়িয়ে নির্মাণ করতে থাকলেন এবং ইসমাইল তাঁকে পাথর এগিয়ে দিচ্ছিলেন আর তাঁরা উভয়ে বলছিলেন: {হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [আল-বাকারা: ১২৭]
এটি ইবনে আব্বাসের বর্ণিত হাদিসের শেষ অংশ।
[কাবাঘর ও মক্কার অভিভাবকত্ব ইসমাইলের জন্য এবং অতঃপর তাঁর পরবর্তী বংশধরদের জন্য]অতঃপর কাবাঘর ও মক্কার অভিভাবকত্ব ইসমাইলের ওপর ন্যস্ত হলো। এরপর তাঁর পরবর্তী বংশধরদের হাতে তা চলে গেল এবং তাঁরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২২)
ذريته في الحجاز وكثروا. وكانوا على الإسلام دين إبراهيم وإسماعيل قرونا كثيرة. ولم يزالوا على ذلك حتى كان في آخر الدنيا: نشأ فيهم عمرو بن لُحَي. فابتدع الشرك، وغَيّر دين إبراهيم. وتأتي قصته إن شاء الله.
وأما إسحاق عليه السلام: فإنه بالشام. وذريته: هم بنو إسرائيل والروم. أما بنو إسرائيل: فأبوهم يعقوب عليه السلام ابن إسحاق، ويعقوب هو إسرائيل.
وأما الروم: فأبوهم عيص بن إسحاق.
ومما أكرم الله به إبراهيم عليه السلام: أن الله لم يبعث بعده نبيًا إلا من ذريته، كما قال تعالى: {وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّتِهِ النُّبُوَّةَ وَالْكِتَابَ} [العنكبوت: 27] (1) . وكل الأنبياء والرسل من ذرية إسحاق. وأما إسماعيل: فلم يبعث من ذريته إلا نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، بعثه الله إلى العالمين كافة، وكان مَنْ قبله من الأنبياء: كل نبي يبعث إلى قومه خاصة. وفضله الله على جميع الأنبياء بأشياء غير ذلك.
[قصة عمرو بن لحي وتغييره دين إبراهيم]وأما قصة عمرو بن لُحَيٍّ، وتغييره دين إبراهيم: فإنه نشأ على أمر عظيم من المعروف والصدقة، والحرص على أمور الدين. فأحبه الناس حبًا عظيمًا. ودانوا له لأجل ذلك. حتى مَلّكوه عليهم. وصار ملك مكة وولاية البيت بيده. وظنوا أنه من أكابر العلماء، وأفاضل الأولياء. ثم إنه سافر إلى الشام. فرآهم يعبدون الأوثان. فاستحسن ذلك وظنه حقًا. لأن الشام محل الرسل والكتب. فلهم الفضيلة بذلك على أهل الحجاز
--------------------------------------------
তার বংশধর হিজাজে বসতি স্থাপন করল এবং তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেল। তারা বহু শতাব্দী ধরে ইব্রাহিম ও ইসমাইলের ধর্ম ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তারা এই অবস্থার ওপরই অবিচল ছিল, এমনকি শেষ যুগে তাদের মধ্যে আমর ইবনে লুহাইয়ের উদ্ভব ঘটে। সে শিরকের উদ্ভাবন করে এবং ইব্রাহিমের ধর্ম পরিবর্তন করে দেয়। ইনশাআল্লাহ তার কাহিনী সামনে আসবে।
আর ইসহাক আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলা যায় যে, তিনি সিরিয়ায় ছিলেন। তার বংশধররাই হলো বনী ইসরাইল ও রোমীয় জাতি। বনী ইসরাইলদের পিতা হলেন ইয়াকুব আলাইহিস সালাম ইবনে ইসহাক, আর ইয়াকুবই হলেন ইসরাইল।
আর রোমীয়দের পিতা হলেন ঈস ইবনে ইসহাক।
আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে যেসব সম্মান দান করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো এই যে, আল্লাহ তাঁর পরে তাঁর বংশধর ব্যতীত অন্য কাউকে নবী হিসেবে প্রেরণ করেননি, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং আমি তার বংশধরদের মধ্যে নবুওয়াত ও কিতাব দান করেছি" [আনকাবুত: ২৭] (১)। সমস্ত নবী ও রাসূল ইসহাকের বংশধর থেকে এসেছেন। আর ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশ থেকে কেবল আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হয়েছেন, যাকে আল্লাহ সমস্ত বিশ্বজগতের জন্য পাঠিয়েছেন। অথচ তাঁর পূর্ববর্তী প্রত্যেক নবী কেবল বিশেষভাবে নিজ নিজ কওমের কাছে প্রেরিত হতেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে এর বাইরেও আরও অনেক বিষয়ে সমস্ত নবীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
[আমর ইবনে লুহাইয়ের কাহিনী এবং ইব্রাহিমের ধর্ম পরিবর্তনের বিবরণ]আর আমর ইবনে লুহাইয়ের কাহিনী এবং তার ইব্রাহিমের ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি হলো এই যে, সে সৎকর্ম, দান-সদকা এবং দ্বীনি বিষয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহের সাথে বেড়ে উঠেছিল। এ কারণে মানুষ তাকে অত্যন্ত ভালোবাসত এবং তার অনুগত হয়ে পড়েছিল। এমনকি তারা তাকে তাদের রাজা বানিয়ে নেয়। মক্কার রাজত্ব এবং বায়তুল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণ তার হাতে চলে আসে। তারা মনে করত যে সে বড় আলেমদের একজন এবং শ্রেষ্ঠ ওলিদের অন্তর্ভুক্ত। এরপর সে সিরিয়া ভ্রমণ করে। সেখানে সে তাদের মূর্তিপূজা করতে দেখে। সে এটিকে ভালো মনে করে এবং সত্য বলে ধারণা করে। কারণ সিরিয়া ছিল রাসূলদের আবাসস্থল এবং কিতাবসমূহের অবতরণস্থল। তাই হিজাজবাসীর ওপর তাদের এক প্রকার শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে বলে মনে করা হতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وغيرهم. فرجع إلى مكة، وقدم معه بهُبَل. وجعله في جوف الكعبة، ودعا أهل مكة إلى الشرك بالله. فأجابوه. وأهل الحجاز في دينهم تبع لأهل مكة. لأنهم ولاة البيت وأهل الحرم. فتبعهم أهل الحجاز على ذلك ظنا أنه الحق. فلم يزالوا على ذلك حتى بعث الله محمدا صلى الله عليه وسلم بدين إبراهيم عليه السلام وإبطال ما أحدثه عمرو بن لحي.
وكانت الجاهلية على ذلك، وفيهم بقايا من دين إبراهيم لم يتركوه كله. وأيضًا يظنون أن ما هم عليه، وأن ما أحدثه عمرو: بدعة حسنة. لا تغير دين إبراهيم. وكانت تلبية نزار: لبيك. لا شريك لك، إلا شريكا هو لك، تملكه وما ملك، فأنزل الله: {ضَرَبَ لَكُمْ مَثَلا مِنْ أَنْفُسِكُمْ هَلْ لَكُمْ مِنْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ شُرَكَاءَ فِي مَا رَزَقْنَاكُمْ فَأَنْتُمْ فِيهِ سَوَاءٌ تَخَافُونَهُمْ كَخِيفَتِكُمْ أَنْفُسَكُمْ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ} [الروم: 28] (1) .
[أقدم أصنام الجاهلية مناة واللات والعزى]ومن أقدم أصنامهم " مناة " وكان منصوبًا على ساحل البحر بقُدَيد. تعظمه العرب كلها، لكن الأوس والخزرج كانوا أشد تعظيما له من غيرهم. وبسبب ذلك أنزل الله {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا} [البقرة: 158] (2) .
ثم اتخذوا " اللات " في الطائف، وقيل: إن أصله رجل صالح كان يَلُتُّ السّويق للحاج، فمات فعكفوا على قبره.
ثم اتخذوا " العُزَّى " بوادي نخلة بين مكة والطائف.
--------------------------------------------
এবং অন্যান্যরা। অতঃপর তিনি মক্কায় ফিরে এলেন এবং তার সাথে হুবালকে নিয়ে এলেন। তিনি সেটাকে কাবার অভ্যন্তরে স্থাপন করলেন এবং মক্কাবাসীদের আল্লাহর সাথে শিরক করার আহ্বান জানালেন। তারা তার ডাকে সাড়া দিল। আর হিজাযের অধিবাসীরা তাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে মক্কাবাসীদের অনুসারী ছিল। কারণ তারা ছিল বায়তুল্লাহর অভিভাবক এবং হারামের বাসিন্দা। ফলে হিজাযের অধিবাসীরা এটাকে সত্য মনে করে এ ব্যাপারে তাদের অনুসরণ করল। তারা এর উপরেই অটল ছিল যতক্ষণ না আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দ্বীন এবং আমর বিন লুহাই যা উদ্ভাবন করেছিল তা বাতিল করার ব্যবস্থা দিয়ে প্রেরণ করলেন।
জাহিলী যুগ এর উপরেই ছিল, এবং তাদের মাঝে ইবরাহীমের দ্বীনের কিছু অবশিষ্টাংশ ছিল যা তারা পুরোপুরি ত্যাগ করেনি। এছাড়াও তারা মনে করত যে, তারা যার উপর আছে এবং আমর যা উদ্ভাবন করেছে তা হলো উত্তম উদ্ভাবন, যা ইবরাহীমের দ্বীনকে পরিবর্তিত করে না। আর নিযারের তালবিয়াহ ছিল: আমি উপস্থিত। আপনার কোনো অংশীদার নেই, কেবল এমন এক অংশীদার ছাড়া যে আপনারই অধীন, আপনি তার মালিক এবং সে যেটির মালিক তারও (মালিক আপনিই)। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: {তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে একটি উদাহরণ পেশ করছেন; আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তাতে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসদের মধ্যে কি কেউ অংশীদার আছে যে, তোমরা এ ব্যাপারে সমান হয়ে যাবে এবং তোমরা তাদেরকে সেরূপ ভয় করবে যেরূপ নিজেদের লোকদের ভয় করে থাক? এভাবেই আমি বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী বিস্তারিত বর্ণনা করি} [আর-রূম: ২৮] (১)।
[জাহিলী যুগের প্রাচীনতম মূর্তিসমূহ: মানাত, লাত এবং উযযা]তাদের প্রাচীনতম মূর্তিসমূহের একটি ছিল "মানাত", যা কুদাইদ নামক স্থানে সমুদ্র উপকূলে স্থাপিত ছিল। সমগ্র আরব একে সম্মান করত, তবে আওস ও খাযরাজ গোত্র অন্যদের তুলনায় একে অনেক বেশি সম্মান করত। এ কারণেই আল্লাহ নাযিল করেন: {নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি কাবা গৃহের হাজ্জ বা উমরাহ করবে, তার জন্য এ দুটির মাঝে প্রদক্ষিণ করায় কোনো পাপ নেই} [আল-বাকারা: ১৫৮] (২)।
এরপর তারা তায়েফে "লাত" মূর্তিকে গ্রহণ করল। বলা হয়ে থাকে যে, এর উৎস ছিল এক সৎ ব্যক্তি, যে হাজীদের জন্য ছাতু গুলিয়ে দিত। যখন সে মারা গেল, তারা তার কবরের ওপর উপাসনার জন্য নিবিষ্ট হয়ে পড়ল।
এরপর তারা মক্কা ও তায়েফের মাঝামাঝি নাখলা উপত্যকায় "উযযা" মূর্তিকে গ্রহণ করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فهذه الثلاث أكبر أوثانهم.
ثم كثر الشرك. وكثرت الأوثان في كل بقعة من الحجاز.
وكان لهم أيضا بيوت يعظمونها كتعظيم الكعبة. وكانوا كما قال تعالى: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} [آل عمران: 164] (1) .
ولما دعاهم رسول الله إلى الله اشتد إنكار الناس له، علمائهم وعبادهم، وملوكهم وعامتهم، حتى إنه لما دعا رجلًا إلى الإسلام قال له: " من معك على هذا؟ قال: حر وعبد" ومعه يومئذ أبو بكر وبلال رضي الله عنهما.
وأعظم الفائدة لك أيها الطالب، وأكبر العلم وأجل المحصول - إن فهمت ما صح عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «بدأ الإسلام غريبًا، وسيعود غريبا كما بدأ» (2) .
وقوله: «لتتبعن سنَن من كان قبلكم حَذْو القُذّة بالقُذّة، حتى لو دخلوا جُحْر ضبّ لدخلتموه. قالوا: يا رسول الله، اليهود والنصارى؟ قال: فمن؟» (3) .
--------------------------------------------
এই তিনটি ছিল তাদের বৃহত্তম প্রতিমা।
এরপর শিরক বৃদ্ধি পায় এবং হিজাজের প্রতিটি প্রান্তরে প্রতিমার আধিক্য দেখা দেয়।
কাবাকে যেমন সম্মান করা হতো, তাদের কাছেও তেমনি কিছু ঘর ছিল যেগুলোকে তারা সম্মান করত। তারা এমন অবস্থায় ছিল যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট গোমরাহির মধ্যে ছিল।" [আল-ইমরান: ১৬৪] (১)।
যখন আল্লাহর রাসূল তাদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করলেন, তখন তাদের আলেম, ইবাদতকারী, শাসক এবং সাধারণ মানুষ—সবার পক্ষ থেকেই তাঁর প্রতি তীব্র অস্বীকৃতি প্রকাশ পেল। এমনকি যখন তিনি এক ব্যক্তিকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন, সে তাঁকে বলল: "এই পথে আপনার সাথে কে আছে?" তিনি বললেন: "একজন স্বাধীন ব্যক্তি এবং একজন দাস।" সেদিন তাঁর সাথে ছিলেন আবু বকর ও বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)।
হে জ্ঞান অন্বেষণকারী, তোমার জন্য সবচেয়ে বড় উপকার, সবচেয়ে বড় জ্ঞান এবং শ্রেষ্ঠ অর্জন হবে—যদি তুমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসটি বুঝতে পারো যেখানে তিনি বলেছেন: "ইসলামের সূচনা হয়েছিল অপরিচিত অবস্থায়, আর শীঘ্রই তা সূচনাকালের মতোই অপরিচিত হয়ে যাবে।" (২)।
এবং তাঁর বাণী: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতি-নীতি পঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করবে, এমনকি তারা যদি গুঁইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে।" তারা (সাহাবীগণ) বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ইহুদি ও নাসারাদের কথা বোঝাচ্ছেন?" তিনি বললেন: "তবে আর কাদের কথা?" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقوله: «ستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة» (1) .
فهذه المسألة أجل المسائل. فمن فهمها فهو الفقيه. ومن عمل بها فهو المسلم. فنسأل الله الكريم المنان أن يتفضل علينا وعليكم بفهمها والعمل بها.
[انتقال ولاية البيت إلى جرهم]أما البيت المحرم: فإن إبراهيم وإسماعيل عليهما السلام لما بنياه، صارت ولايته في إسماعيل وذريته. ثم غلبهم عليه أخوالهم من جُرْهُم. ولم ينازعهم بنو إسماعيل، لقرابتهم وإعظامهم للحرمة، أن لا يكون بها قتال. ثم إن جرهم بغوا في مكة. وظلموا من دخلها، فَرَق أمرهم. فلما رأى ذلك بنو بكر بن عبد مناف بن كنانة، وغبشان من خزاعة، أجمعوا على جرهم فاقتتلوا، فغلبهم بنو بكر وغبشان ونفوهم من مكة.
وكانت مكة في الجاهلية لا يقر فيها ظلم، ولا يبغي فيها أحد إلا أُخرج، ولا يريدها ملك يستحل حرمتها إلا هلك.
[انتقال ولاية البيت إلى غبشان من خزاعة]ثم إن غبشان - من خزاعة - وليت البيت دون بني بكر. وقريش إذ ذاك حلول وصرم، وبيوتات متفرقون في قومهم من بني كنانة. فوليت خزاعة البيت يتوارثون ذلك. حتى كان آخرهم حليل بن حبيشة. فتزوج قُصَي بن كلاب ابنته.
فلما عظم شرف قصي، وكثر بنوه وماله: هلك حليل، فرأى قصي أنه أولى بالكعبة وأَمْرِ مكة من خزاعة وبني بكر، وأن قريشًا رءوس آل إسماعيل وصريحهم، فكلم رجالا من قريش وكنانة في إخراج خزاعة وبني بكر من مكة، فأجابوه.
وكان الغوث بن مرة بن أُدّ بن طابخة بن إلياس بن مضر يلي الإجازة للناس بالحج من عرفة، وولده من بعده. لأن أمه كانت جرهمية لا تلد. فنذرت لله إن ولدت رجلا: أن تتصدق به على الكعبة يخدمها. فولدت الغوث فكان يقوم على الكعبة مع أخواله من جرهم. فولي الإجازة بالناس؛ لمكانه من الكعبة، فكان إذا رفع يقول:
اللهم إني تابع تباعة
… إن كان إثمًا فعلى قضاعة
وكانت " صوفة " تدفع بالناس من عرفة، وتجيزهم إذا نفروا من منًى. فإذا كان يومُ النّفْر أتوا رمي الجمار ورجل من صوفة يرمي لهم، لا يرمون حتى يرمي لهم. فكان المتعجلون يأتونه يقولون: ارم حتى نرمي. فيقول: لا والله حتى تميل الشمس. فإذا مالت الشمس رمى ورمى الناس معه. فإذا فرغوا من الرمي وأرادوا النفر من مِنًى أخذت صوفة بالجانبين. فلم يجز أحد حتى يمروا، ثم يخلون سبيل الناس.
فلما انقرضوا ورثهم بنو سعد بن زيد مناة من بني تميم.
وكانت الإفاضة من مزدلفة في " عدوان " يتوارثونها. حتى كان آخرهم كَرْبُ بن صفوان بن جناب: الذي قام عليه الإسلام. فلما كان ذلك العام، فعلت صوفة ما كانت تفعل، قد عرفت العرب ذلك لهم. هو دين لهم من عهد جرهم وولاية خزاعة.
[ولاية قصي وجمعه لقومه]فأتاهم قصي بمن معه من قريش وقضاعة وكنانة عند العقبة، فقال: نحن
--------------------------------------------
এবং তাঁর বাণী: "এই উম্মত শীঘ্রই তেহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যার সবকটি জাহান্নামে যাবে একটি ব্যতীত।" (১)।
এই বিষয়টি মাসআলাসমূহের মধ্যে অত্যন্ত মহান। যে ব্যক্তি এটি বুঝতে পেরেছে, সেই প্রকৃত ফকীহ। আর যে ব্যক্তি এটি অনুযায়ী আমল করেছে, সেই প্রকৃত মুসলিম। অতএব আমরা মহান দাতা ও অনুগ্রহকারী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন অনুগ্রহ করে আমাদেরকে এবং আপনাদেরকে এটি বোঝার ও এটি অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করেন।
[বায়তুল্লাহর অভিভাবকত্ব জুরহুম গোত্রের কাছে স্থানান্তরিত হওয়া]পবিত্র গৃহের (কাবা) বিষয়ে কথা হলো: ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আলাইহিমাস সালাম) যখন এটি নির্মাণ করলেন, তখন এর অভিভাবকত্ব ইসমাঈল ও তাঁর বংশধরদের হাতে ন্যস্ত হয়। পরবর্তীতে তাঁদের মামার বংশ জুরহুম গোত্র তাঁদের ওপর প্রবল হয়ে এটি দখল করে নেয়। বনু ইসমাঈল আত্মীয়তার সম্পর্ক এবং হারামের মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হননি, যাতে সেখানে কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ না ঘটে। অতঃপর জুরহুম গোত্র মক্কায় সীমালঙ্ঘন শুরু করল। তারা সেখানে প্রবেশকারীদের ওপর জুলুম করতে লাগল, ফলে তাদের অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ল। যখন বনু বকর ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কিনানা এবং খুযাআ গোত্রের গুবশান শাখা এটি দেখল, তখন তারা জুরহুমের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করল। বনু বকর ও গুবশান তাদের ওপর বিজয় লাভ করল এবং তাদেরকে মক্কা থেকে বহিষ্কার করল।
জাহিলিয়াতের যুগে মক্কার অবস্থা এমন ছিল যে, সেখানে কোনো জুলুম স্থায়ী হতো না, কেউ সেখানে সীমালঙ্ঘন করলে তাকে বের করে দেওয়া হতো এবং কোনো রাজা যদি এর পবিত্রতা নষ্ট করতে চাইত, তবে সে ধ্বংস হয়ে যেত।
[বায়তুল্লাহর অভিভাবকত্ব খুযাআ গোত্রের গুবশান শাখার কাছে স্থানান্তরিত হওয়া]এরপর বনু বকরের পরিবর্তে খুযাআ গোত্রের গুবশান শাখা বায়তুল্লাহর অভিভাবকত্ব লাভ করল। তখন কুরাইশরা বনু কিনানা গোত্রের মাঝে বিভিন্ন বসতি ও দলে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বসবাস করত। খুযাআ গোত্র উত্তরাধিকার সূত্রে বায়তুল্লাহর অভিভাবকত্ব পরিচালনা করতে থাকে, এমনকি তাদের শেষ অভিভাবক ছিলেন হুলাইল ইবনে হুবশিয়া। কুসাই ইবনে কিলাব তাঁর কন্যাকে বিবাহ করেন।
যখন কুসাইয়ের সম্মান বৃদ্ধি পেল এবং তাঁর সন্তান-সন্ততি ও সম্পদ বৃদ্ধি পেল, তখন হুলাইল মারা গেলেন। কুসাই মনে করলেন যে, খুযাআ ও বনু বকরের চেয়ে তিনিই কাবা এবং মক্কার বিষয়াবলির অধিক হকদার; আর কুরাইশরাই হলো ইসমাঈল (আ.)-এর বংশধরদের প্রধান ও খাঁটি শাখা। ফলে তিনি মক্কা থেকে খুযাআ ও বনু বকরকে বের করে দেওয়ার জন্য কুরাইশ ও কিনানা গোত্রের কিছু লোকের সাথে কথা বললেন এবং তারা তাঁর ডাকে সাড়া দিল।
গাওস ইবনে মুররা ইবনে উদ্দ ইবনে তাবিখা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার হজের সময় আরাফাত থেকে মানুষের প্রস্থানের অনুমতি প্রদানের দায়িত্বে ছিলেন, এবং তাঁর পরে তাঁর সন্তানরা এই দায়িত্বে ছিলেন। কারণ তাঁর মা ছিলেন জুরহুম গোত্রের এক নারী যাঁর সন্তান হতো না। তিনি আল্লাহর কাছে মানত করেছিলেন যে, যদি তাঁর একটি পুত্র সন্তান হয়, তবে তিনি তাকে কাবার সেবার জন্য উৎসর্গ করবেন। অতঃপর তিনি গাওসকে জন্ম দিলেন এবং তিনি তাঁর মামা জুরহুম গোত্রের লোকদের সাথে কাবার তত্ত্বাবধান করতেন। কাবার সাথে তাঁর এই সংশ্লিষ্টতার কারণে তিনি মানুষের প্রস্থানের অনুমতির দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি যখন আওয়ায তুলতেন তখন বলতেন:
হে আল্লাহ! আমি অনুসারীদের অনুসারী... যদি কোনো পাপ হয় তবে তা কুদাআ গোত্রের ওপর বর্তাবে
"সূফা" (গোত্র) আরাফাত থেকে মানুষকে নিয়ে অগ্রসর হতো এবং তারা যখন মিনা থেকে প্রস্থান করত তখন তাদের অনুমতি দিত। যখন প্রস্থানের দিন আসত, তারা জামারায় পাথর নিক্ষেপ করতে আসত এবং সূফা গোত্রের এক ব্যক্তি তাদের হয়ে প্রথম নিক্ষেপ করত; সে নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত তারা নিক্ষেপ করত না। যারা দ্রুত ফিরতে চাইত তারা তার কাছে এসে বলত: পাথর নিক্ষেপ করুন যাতে আমরাও করতে পারি। সে বলত: না, আল্লাহর কসম! যতক্ষণ না সূর্য ঢলে পড়ে। সূর্য ঢলে পড়লে সে নিক্ষেপ করত এবং তার সাথে মানুষও নিক্ষেপ করত। যখন তারা নিক্ষেপ শেষ করত এবং মিনা থেকে প্রস্থান করতে চাইত, তখন সূফা গোত্র রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নিত। তারা পার না হওয়া পর্যন্ত কেউ পার হতে পারত না, এরপর তারা মানুষের পথ ছেড়ে দিত।
তারা যখন বিলুপ্ত হয়ে গেল, তখন বনু তামীম গোত্রের বনু সাদ ইবনে যাইদ মানাত তাদের উত্তরাধিকারী হলো।
মুযদালিফা থেকে প্রস্থানের দায়িত্ব ছিল "আদওয়ান" গোত্রের হাতে, যা তারা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিল। এমনকি তাদের শেষ ব্যক্তি ছিলেন কারব ইবনে সাফওয়ান ইবনে জানাব, যার সময়ে ইসলামের আগমন ঘটে। যখন সেই বছরটি এল, সূফা গোত্র তাদের পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করল, আর আরবরা তাদের এই অধিকার সম্পর্কে জানত। জুরহুমের যুগ এবং খুযাআ’র শাসন আমল থেকেই এটি তাদের একটি ধর্মীয় প্রথা হিসেবে চলে আসছিল।
[কুসাইয়ের অভিভাবকত্ব এবং স্বগোত্রীয়দের একত্রিত করা]অতঃপর কুসাই কুরাইশ, কুদাআ ও কিনানা গোত্রের তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে আকাবার নিকট তাদের কাছে আসলেন এবং বললেন: আমরা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أولى بهذا منكم. فقاتلوه فاقتتل الناس قتالا شديدًا. ثم انهزمت صوفة. وغلبهم قصيّ على ما كان بأيديهم. وانحازت عند ذلك خزاعة وبنو بكر عن قصي، وعرفوا أنه سيمنعهم، كما منع صوفة. ويحول بينهم وبين الكعبة وأمر مكة.
فلما انحازوا بادَأهم وأجمع لحربهم. فالتقوا واقتتلوا قتالًا شديدًا. تم تداعوا إلى الصلح، فحكّموا يَعْمُر بن عوف، أحد بني بكر. فقضى بينهم بأن قصيًا أولى بالكعبة وأمر مكة من خزاعة. وكل دم أصابه قصي منهم موضوع شَدْخُه تحت قدميه، وما أصابت خزاعة وبنو بكر ففيه الدية، وأن يخلى بين قصيّ وبين الكعبة ومكة. فسمي يومئذ يعمر الشداخ.
فوليها قصي. وجمع قومه من منازلهم إلى مكة. وتملك عليهم وملكوه. لأنه أقر للعرب ما كانوا عليه. لأنه يراه دينا لا يغير فأقر النّسَأَة وآل صفوان وعدوان، ومرة بن عوف على ما كانوا عليه. حتى جاء الإسلام، فهدم ذلك كله. وفيه يقول الشاعر:
قُصَي لعمري كان يُدْعَى مجمعًا
… به جمع الله القبائل من فِهْرِ
فكان قصي بن لؤي أصاب ملكًا أطاع له به قومه، فكانت إليه الحجابة، والسقاية والرفادة، والندوة، واللواء. وقَطّع مكة رباعًا بين قومه. فأنزل كل قوم منهم منازلهم.
وقيل: إنهم هابوا قطع الشجر عن منازلهم. فقطعها بيده وأعوانه، فسمته قريش " مجمعًا" لما جمع من أمرهم، وتيمنت بأمره. فلا تُنكح امرأة
আমি তোমাদের চেয়ে এর অধিক হকদার। সুতরাং তারা তাঁর সাথে যুদ্ধ করল এবং মানুষেরা কঠোর যুদ্ধে লিপ্ত হলো। এরপর সূফা গোত্র পরাজিত হলো। কুসাই তাদের অধিকারে যা ছিল তার ওপর বিজয়ী হলেন। তখন খুজাআ ও বনু বকর গোত্র কুসাইয়ের কাছ থেকে পৃথক হয়ে গেল এবং তারা বুঝতে পারল যে, তিনি তাদেরও বাধা দেবেন যেমন তিনি সূফাকে বাধা দিয়েছিলেন এবং তাদের মাঝে ও কাবার মাঝে এবং মক্কার কর্তৃত্বের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবেন।
যখন তারা পৃথক হয়ে গেল, তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সূচনা করলেন এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিলেন। তারা পরস্পর মোকাবিলা করল এবং প্রচণ্ড লড়াই হলো। এরপর তারা সন্ধির আহ্বান জানাল এবং বনু বকর গোত্রের ইয়ামুর ইবনে আউফকে সালিশ নিযুক্ত করল। তিনি তাদের মাঝে এই ফয়সালা দিলেন যে, খুজাআ গোত্রের চেয়ে কুসাই-ই কাবা ও মক্কার শাসনের অধিক হকদার। আর কুসাই তাদের যে রক্ত ঝরিয়েছেন, তার কোনো বিনিময় নেই বরং তা তাঁর পায়ের নিচে পিষ্ট হলো (বাতিল হলো)। আর খুজাআ ও বনু বকর যে রক্তপাত করেছে তার জন্য রক্তপণ দিতে হবে। আর কুসাই এবং কাবা ও মক্কার মাঝপথ ছেড়ে দিতে হবে। সেদিন থেকে ইয়ামুরকে 'শাদদাখ' নামকরণ করা হলো।
কুসাই মক্কার কর্তৃত্ব গ্রহণ করলেন। তিনি তাঁর কওমকে তাদের বসতিগুলো থেকে মক্কায় সমবেত করলেন। তিনি তাদের ওপর আধিপত্য লাভ করলেন এবং তারা তাঁকে বাদশাহ হিসেবে গ্রহণ করল। কারণ আরবরা যে রীতিনীতির ওপর ছিল তিনি তা বহাল রাখলেন। তিনি এটাকে ধর্ম মনে করতেন যা পরিবর্তন করা যাবে না। তাই তিনি নাসাআহ (নিষিদ্ধ মাস পিছিয়ে দেওয়া), আলে সাফওয়ান, আদওয়ান এবং মুররা ইবনে আউফকে তাদের পূর্বাবস্থায় বহাল রাখলেন। অবশেষে ইসলাম আসার পর এই সবকিছু বিলুপ্ত করে দেয়। এ সম্পর্কে কবি বলেন:
আমার জীবনের কসম, কুসাইকে 'মুজাম্মি' (একত্রকারী) ডাকা হতো
… তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ ফিহরের গোত্রগুলোকে সমবেত করেছেন।
কুসাই ইবনে লুআই এমন এক রাজত্ব লাভ করেছিলেন যার কারণে তাঁর কওম তাঁর আনুগত্য করত। কাবার চাবি রক্ষা, হাজীদের পানি পান করানো, মেহমানদারি, পরামর্শ সভা এবং যুদ্ধের পতাকার দায়িত্ব তাঁর হাতেই ছিল। তিনি মক্কাকে তাঁর কওমের মাঝে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে দিলেন। ফলে প্রত্যেক গোত্রকে তাদের নিজ নিজ বাসস্থানে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন।
বলা হয়ে থাকে যে, তারা তাদের ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য গাছ কাটতে ভয় পাচ্ছিল। তখন কুসাই নিজের হাতে এবং তাঁর সাহায্যকারীদের নিয়ে গাছ কাটলেন। কুরাইশরা তাঁকে 'মুজাম্মি' নাম দিয়েছিল কারণ তিনি তাদের বিষয়গুলোকে একত্র করেছিলেন এবং তাঁর নির্দেশে তারা বরকত লাভ করত। ফলে কোনো নারী বিবাহিত হতো না (পরবর্তী অংশ অসমাপ্ত)...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
منهم ولا يتزوج رجل ولا يتشاورون فيما نزل بهم، ولا يعقدون لواء حرب إلا في داره يعقده لهم بعض ولده.
فكان أمره في حياته - وبعد موته - عندهم كالدين المتبع، واتخذ لنفسه دار الندوة، فلما كبر قصي ورقّ عظمه - وكان عبد الدار بِكْره. وكان عبد مناف قد شرف في زمان أبيه، وعبد العزى وعبد الدار. فقال قصي لعبد الدار: لألْحقَنّك بالقوم وإن شرفوا عليك. لا يدخل أحد منهم الكعبة حتى تكون أنت تفتحها له. ولا يعقد لقريش لواء لحربها إلا أنت. ولا يشرب رجل بمكة إلا من سقايتك. ولا يأكل أحد من أهل الموسم طعامًا إلا من طعامك. ولا تقطع قريش أمرًا من أمورها إلا في دارك.
فأعطاه دار الندوة، والحجابة، واللواء، والسقاية والرفادة، وهي خَرْج تخرجه قريش في الموسم من أموالها إلى قصي، فيصنع به طعامًا للحاج، يأكله من لم يكن له سعة ولا زاد. لأن قصيا فرضه على قريش. فقال لهم: إنكم جيران الله وأهل بيته. وإن الحاج ضيف الله، وهم أحق الضيف بالكرامة. فاجعلوا لهم طعامًا وشرابًا أيام الحج حتى يصدروا عنكم. ففعلوا.
وكان قصي لا يخالف، ولا يرد عليه شيء صنعه.
فلما هلك أقام بنوه أمره لا نزاع بينهم. ثم إن بني عبد مناف أرادوا أخذ ما بيد عبد الدار، ورأوا أنهم أولى بذلك فتفرقت قريش: بعضهم معهم. وبعضهم مع عبد الدار. فكان صاحب أمر عبد مناف عبد شمس؛ لأنه أسنهم، وصاحب أمر بني
তাদের মধ্য থেকে এবং কোনো ব্যক্তি বিবাহ করত না এবং তাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে তারা পরামর্শ করত না, আর তারা যুদ্ধের পতাকা বাঁধত না তার গৃহ ব্যতীত, যেখানে তার কোনো এক সন্তান তাদের জন্য তা বেঁধে দিত।
ফলে তার জীবদ্দশায়—এবং তার মৃত্যুর পরে—তার আদেশ তাদের নিকট অনুসরণীয় দ্বীনের মতো ছিল। তিনি নিজের জন্য দারুন নদওয়া (পরামর্শ সভা) তৈরি করেছিলেন। অতঃপর যখন কুসাই বৃদ্ধ হলেন এবং তার অস্থি দুর্বল হয়ে পড়ল—আর আবদুদ দার ছিল তার জ্যেষ্ঠ সন্তান। এদিকে তার পিতার জীবদ্দশায় আবদু মানাফ, আবদুল উজ্জা এবং আবদুদ দার সম্মান লাভ করেছিলেন। তখন কুসাই আবদুদ দারকে বললেন: "আমি অবশ্যই তোমাকে কওমের সমপর্যায়ে পৌঁছে দেব, যদিও তারা তোমার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। তাদের কেউ কাবায় প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না তুমি তার জন্য তা উন্মুক্ত করবে। আর কুরাইশদের যুদ্ধের পতাকা তুমি ব্যতীত আর কেউ বাঁধবে না। মক্কার কোনো ব্যক্তি তোমার পানীয় সরবরাহ (সিকায়াহ) ব্যতীত পান করবে না। হজের মৌসুমে আগত লোকেদের কেউ তোমার খাবার ব্যতীত অন্য কিছু খাবে না। আর কুরাইশরা তাদের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না তোমার গৃহ ব্যতীত।"
অতঃপর তিনি তাকে দারুন নদওয়া, হিজাবাহ (কাবার রক্ষণাবেক্ষণ), লিওয়া (পতাকা), সিকায়াহ (পানি সরবরাহ) এবং রিফাদাহ (হাজীদের আপ্যায়ন) প্রদান করলেন। আর এটি (রিফাদাহ) হলো একটি ব্যয় যা কুরাইশরা হজের মৌসুমে তাদের সম্পদ থেকে কুসাইকে প্রদান করত। তিনি এর দ্বারা হাজীদের জন্য খাবার প্রস্তুত করতেন, যা সেই ব্যক্তি আহার করত যার কোনো সামর্থ্য বা পাথেয় ছিল না। কেননা কুসাই এটি কুরাইশদের ওপর আবশ্যক করেছিলেন। তিনি তাদের বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর প্রতিবেশী এবং তাঁর ঘরের অধিবাসী। আর হাজীরা আল্লাহর মেহমান, আর মেহমানদের মধ্যে তারাই সম্মানের অধিক হকদার। সুতরাং হজের দিনগুলোতে তাদের প্রস্থান করা পর্যন্ত তাদের জন্য খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করো।" তারা তাই করল।
আর কুসাইয়ের বিরুদ্ধাচরণ করা হতো না এবং তার কৃত কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করা হতো না।
অতঃপর যখন তিনি মৃত্যুবরণ করলেন, তখন তার পুত্ররা কোনো বিবাদ ছাড়াই তার কর্মপন্থা জারি রাখল। এরপর বনু আবদু মানাফ আবদুদ দারের হস্তগত বিষয়গুলো নিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করল এবং তারা মনে করল যে তারাই এর অধিক যোগ্য। ফলে কুরাইশরা বিভক্ত হয়ে পড়ল: তাদের একাংশ ছিল তাদের (বনু আবদু মানাফের) সাথে, আর একাংশ ছিল আবদুদ দারের সাথে। আবদু মানাফের বংশধরের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন আবদু শামস; কারণ তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ, আর বনু...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
عبد الدار عامرُ بن هاشم بن عبد مناف بن عبد الدار. فعقد كل قوم حلفًا مؤكدًا. فأخرج بنو عبد مناف جَفْنة مملوءة طيبًا. فغمسوا أيديهم فيها، ومسحوا بها الكعبة. فسموا " المطيبين " وتعاقد بنو عبد الدار وحلفاؤهم فسموا " الأحلاف " ثم تداعوا إلى الصلح، على أن لعبد مناف السقاية والرفادة، وأن الحجابة واللواء والندوة لبني عبد الدار، فرضوا. وثبت كل قوم مع من حالفوا، حتى جاء الله بالإسلام. فقال صلى الله عليه وسلم: «كل حلف في الجاهلية لم يزده الإسلام إلا شدة» .
[حلف الفضول]وأما حلف الفضول: فاجتمعوا له في دار عبد الله بن جدعان لشرفه وسنه، وهم: بنو هاشم، وبنو المطلب، وأسد بن عبد العزى، وزهرة بن كلاب، وتيم بن مرة تعاهدوا على أن لا يجدوا بمكة مظلوما من أهلها، أو ممن دخلها، إلا قاموا معه، حتى ترد إليه مظلمته، فقال الزبير بن عبد المطلب:
إن الفضول تحالفوا وتعاقدوا
… أن لا يقيم ببطن مكة ظالم
أمر عليه تحالفوا وتعاقدوا (1)
… فالجار والمعتر فيهم سالم
فولي السقاية والرفادة هاشم بن عبد مناف. لأن عبد شمس سَفّار، قلما يقيم بمكة. وكان مُقلا ذا ولد. وكان هاشم موسرًا، وهو أول من سن الرحلتين، رحلة الشتاء والصيف. وأول من أطعم الثريد بمكة، فقال بعضهم: (2) .
--------------------------------------------
আবদুদ দার আমির ইবনে হাশিম ইবনে আবদ মানাফ ইবনে আবদুদ দার। অতঃপর প্রতিটি গোত্র সুদৃঢ় চুক্তিতে আবদ্ধ হলো। বনু আবদ মানাফ সুগন্ধিভর্তি একটি বড় পাত্র বের করল। তারা তাতে তাদের হাতগুলো ডুবিয়ে দিল এবং তা দিয়ে কাবাঘর মুছল। ফলে তাদের নাম হলো "আল-মুতায়্যাবিন" (সুগন্ধিধারী)। অন্যদিকে বনু আবদুদ দার এবং তাদের মিত্ররা চুক্তিবদ্ধ হলো এবং তাদের "আল-আহলাফ" (মিত্রপক্ষ) বলা হলো। এরপর তারা এই শর্তে সন্ধিতে উপনীত হলো যে, হাজীদের পানি পান করানো ও মেহমানদারির দায়িত্ব থাকবে বনু আবদ মানাফের ওপর, আর কাবাঘরের চাবি রক্ষণাবেক্ষণ, পতাকা বহন ও মন্ত্রণাসভার দায়িত্ব থাকবে বনু আবদুদ দারের ওপর; তারা এতে সন্তুষ্ট হলো। ইসলাম আসা পর্যন্ত প্রতিটি দল তাদের মিত্রদের সাথে অটল থাকল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জাহেলিয়াত যুগের প্রতিটি কল্যাণকর চুক্তিকে ইসলাম কেবল আরও সুদৃঢ় করেছে।"
[হিলফুল ফুদুল]আর হিলফুল ফুদুল সম্পর্কে: আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের মর্যাদা ও বয়োজ্যেষ্ঠতার কারণে তারা তার ঘরে সমবেত হয়েছিল। তারা ছিল: বনু হাশিম, বনু মুত্তালিব, আসাদ ইবনে আবদিল উজ্জা, জুহরাহ ইবনে কিলাব এবং তাইম ইবনে মুররাহ। তারা এই মর্মে অঙ্গীকার করল যে, মক্কার অধিবাসী হোক বা বাইরে থেকে আসা কেউ হোক, তারা মক্কায় কাউকে মজলুম অবস্থায় দেখলে অবশ্যই তার সাহায্যে এগিয়ে আসবে, যতক্ষণ না তার পাওনা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে জুবায়ের ইবনে আবদিল মুত্তালিব বলেন:
নিশ্চয়ই ফুদুল (উত্তম ব্যক্তিরা) শপথ ও অঙ্গীকার করেছে... যে মক্কার ভেতরে কোনো জালেম থাকতে পারবে না।
তারা এমন বিষয়ে পরস্পর শপথ ও অঙ্গীকার করেছে... যেখানে প্রতিবেশী এবং সাহায্যপ্রার্থী নিরাপদ থাকে।
অতঃপর হাজীদের পানি পান করানো ও মেহমানদারির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন হাশিম ইবনে আবদ মানাফ। কারণ আবদ শামস ছিলেন অত্যধিক ভ্রমণকারী, মক্কায় খুব কম থাকতেন। এছাড়া তিনি ছিলেন দরিদ্র ও অধিক সন্তানবিশিষ্ট। হাশিম ছিলেন সম্পদশালী এবং তিনিই সর্বপ্রথম শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের প্রথা চালু করেন। তিনিই মক্কায় সর্বপ্রথম থারিদ (ঝোল মিশ্রিত রুটি) খাইয়েছিলেন। এ সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
عمرو الذي هشم الثريد لقومه
… قوم بمكة مسنتين عجاف
ولما مات هاشم ولي ذلك المطلب بن عبد مناف. فكان ذا شرف فيهم، يسمونه الفياض لسماحته.
وكان هاشم قدم المدينة. فتزوج سلمى بنت عمرو، من بني النجار، فولدت له عبد المطلب. فلما ترعرع خرج إليه المطلب ليأتي به، فأبت أمه. فقال: إنه يلي مُلك أبيه. فأذنت له. فرحل به. وسلم إليه ملك أبيه. فولي عبد المطلب ما كان أبوه يلي. وأقام لقومه ما أقام آباؤه. وشَرف فيهم شرفًا لم يبلغه أحد من آبائه. وأحبوه وعظُم خطره فيهم.
. . . . . . . . . . ثم ذكر قصة حفر زمزم، وما فيها من العجائب.
ثم ذكر قصة نذر عبد المطلب ذبح ولده، وما جرى فيها من العجائب.
ثم ذكر الآيات التي لرسول الله صلى الله عليه وسلم قبل ولادته، وبعدها. وما جرى له وقت رضاعه وبعد ذلك.
ثم ذكر كفالة أمه له. ثم كفالة جده. ثم كفالة عمه أبي طالب.
ثم ذكر قصة بحيرى الراهب وغيرها من الآيات.
ثم ذكر تزوجه خديجة، وما ذكر لها غلامها مَيْسرة، وما ذكرته هي لورقة، وقول ورقة:
لججتَ وكنت في الذكرى لجوجًا
… لَهِم طالما بعث النّشيجا
إلى آخرها.
আমর, যিনি তাঁর কওমের জন্য সারিদ (রুটির ঝোল) গুঁড়ো করেছিলেন
… মক্কার এক দুর্ভিক্ষপীড়িত ও শীর্ণ কওমের জন্য।
যখন হাশিম মারা গেলেন, তখন মুত্তালিব ইবনে আবদ মানাফ সেই দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। তিনি তাদের মাঝে অত্যন্ত মর্যাদাবান ছিলেন, তাঁর মহানুভবতার কারণে তারা তাঁকে 'আল-ফাইয়াদ' (অত্যন্ত দানশীল) বলে ডাকত।
হাশিম মদিনায় গিয়েছিলেন। তিনি বনু নাজ্জারের সালমা বিনতে আমরকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে আবদুল মুত্তালিবের জন্ম হয়। আবদুল মুত্তালিব যখন বড় হলেন, তখন মুত্তালিব তাঁকে নিয়ে আসার জন্য সেখানে গেলেন, কিন্তু তাঁর মা অসম্মতি জানালেন। তিনি (মুত্তালিব) বললেন: সে তার পিতার কর্তৃত্বের উত্তরাধিকারী হবে। তখন তিনি অনুমতি দিলেন। এরপর তিনি তাঁকে নিয়ে রওনা হলেন এবং তাঁর পিতার রাজত্ব (দায়িত্ব) তাঁর কাছে সোপর্দ করলেন। ফলে আবদুল মুত্তালিব তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হলেন। তিনি তাঁর কওমের জন্য সেইসব ঐতিহ্য কায়েম রাখলেন যা তাঁর পূর্বপুরুষেরা রেখেছিলেন। তিনি তাদের মধ্যে এমন উচ্চ মর্যাদা লাভ করলেন যা তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ লাভ করতে পারেননি। তারা তাঁকে ভালোবাসত এবং তাদের মাঝে তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পেল।
. . . . . . . . . . এরপর তিনি জমজম কূপ খনন করার কাহিনী এবং এর মধ্যকার অলৌকিক বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন।
এরপর তিনি আবদুল মুত্তালিবের স্বীয় সন্তানকে জবাই করার মানত করার কাহিনী এবং এতে যা কিছু বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছিল তা উল্লেখ করেছেন।
এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের পূর্বে এবং পরে তাঁর জন্য প্রকাশিত নিদর্শনসমূহ উল্লেখ করেছেন। আর দুগ্ধপানের সময় এবং এর পরবর্তী সময়ে তাঁর সাথে যা ঘটেছিল তাও উল্লেখ করেছেন।
এরপর তিনি তাঁর মাতার তত্ত্বাবধান, তারপর তাঁর দাদার তত্ত্বাবধান এবং এরপর তাঁর চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানের কথা উল্লেখ করেছেন।
এরপর তিনি বাহিরা পাদ্রীর কাহিনী এবং অন্যান্য নিদর্শনাবলী উল্লেখ করেছেন।
এরপর তিনি খাদিজার সাথে তাঁর বিবাহের কথা, তাঁর ভৃত্য মাইসারা খাদিজার কাছে যা বর্ণনা করেছিল এবং খাদিজা ওরাকার কাছে যা বর্ণনা করেছিলেন, আর ওরাকার উক্তিটি উল্লেখ করেছেন:<
তুমি অটল ছিলে এবং তুমি স্মরণে ছিলে দৃঢ়পদ
… এক ব্যথিত হৃদয় যা দীর্ঘকাল রোদনের উদ্রেক করেছে
শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ثم ذكر حكمه صلى الله عليه وسلم بين قريش في الحجر الأسود عند بنائهم الكعبة. وذكر قصة بنائها.
[قصة الحمس]وذكر أمر الحُمْس - وقال: إن قريشًا ابتدعته رأيًا رأوه. فقالوا: نحن بنو إبراهيم، وأهل الحرم، وولاة البيت. فليس لأحد من العرب مثل حقنا. فلا تعظموا أشياء من الحل مثلما تعظمون الحرم، لئلا تستخف العرب بحرمتكم. فتركوا الوقوف بعرفة والإفاضة منها، مع معرفتهم أنها من المشاعر ومن دين إبراهيم. ويرون لسائر العرب أن يقفوا بها، ويفيضوا منها، إلا أنهم قالوا: نحن أهل الحرم. فلا ينبغي لنا أن نخرج منه. نحن الحمس و"الحمس" (1) أهل الحرم.
ثم جعلوا لمن وُلدوا من العرب من أهل الحرم: مثل ما لهم بولادتهم إياهم. أي يحل لهم ما يحل لهم. ويحرم عليهم ما يحرم عليهم.
وكانت كنانة وخزاعة قد دخلوا معهم في ذلك.
ثم ابتدعوا في ذلك أمورًا، فقالوا: لا ينبغي للحُمْس أن يَقِطوا الأقطَ، ولا أن يَسْلوا السمن وهم حُرم، ولا يدخلوا بيتًا من شَعر، ولا يستظلوا إلا في بيوت الأدم ما داموا حُرُما.
ثم قالوا: لا ينبغي لأهل الحل أن يأكلوا من طعام جاءوا به من الحل إلى الحرم، إذا جاءوا حجاجًا أو عمارًا، ولا يطوفوا بالبيت إذا قدموا - أولَ طوافهم - إلا في ثياب الحمس. فإن لم يجدوا منها شيئًا طافوا
--------------------------------------------
এরপর তিনি কাবা নির্মাণের সময় হাজরে আসওয়াদ নিয়ে কুরাইশদের মধ্যে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মীমাংসা উল্লেখ করেছেন। এবং তিনি তা নির্মাণের কাহিনী উল্লেখ করেছেন।
[হুমস-এর কাহিনী]এবং তিনি হুমস-এর বিষয়টি উল্লেখ করেছেন - এবং বলেছেন: নিশ্চয় কুরাইশরা তাদের নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে এটি উদ্ভাবন করেছিল। তারা বলেছিল: আমরা ইবরাহিমের সন্তান, হারামের অধিবাসী এবং বাইতুল্লাহর তত্ত্বাবধায়ক। আরবদের অন্য কারো আমাদের মতো অধিকার নেই। অতএব, তোমরা হিল-এর (হারাম এলাকার বাইরের) বিষয়গুলোকে এমনভাবে সম্মান করবে না যেভাবে তোমরা হারামকে সম্মান করো, পাছে আরবরা তোমাদের হারামের মর্যাদাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে। তাই তারা আরাফায় অবস্থান করা এবং সেখান থেকে প্রস্থান করা পরিত্যাগ করল, যদিও তারা জানত যে এটি হজের নিদর্শনাবলি এবং ইবরাহিম আলাইহিস সালামের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। তারা বাকি আরবদের জন্য সেখানে অবস্থান করা এবং সেখান থেকে প্রস্থান করা আবশ্যক মনে করত, কিন্তু তারা বলত: আমরা হারামের অধিবাসী। তাই আমাদের জন্য এখান থেকে বের হওয়া সমীচীন নয়। আমরাই হুমস, আর "হুমস" (১) হলো হারামের অধিবাসী।
এরপর হারামের অধিবাসীদের থেকে আরবদের যে সন্তানরা জন্মগ্রহণ করত, তারা তাদের জন্য বংশগত কারণে নিজেদের মতো অধিকার নির্ধারণ করে নিয়েছিল। অর্থাৎ, তাদের জন্য তা-ই বৈধ যা অন্যদের জন্য বৈধ এবং তাদের জন্য তা-ই অবৈধ যা অন্যদের জন্য অবৈধ।
কিনানাহ এবং খুজাআহ গোত্রও তাদের সাথে এই বিষয়ে শামিল ছিল।
এরপর তারা এ বিষয়ে আরও কিছু নতুন নিয়ম উদ্ভাবন করেছিল। তারা বলল: ইহরাম অবস্থায় থাকাকালীন হুমসদের জন্য পনির তৈরি করা বা ঘি গলানো উচিত নয় এবং তারা পশমের তৈরি ঘরে প্রবেশ করবে না এবং ইহরাম অবস্থায় থাকাকালীন তারা চামড়ার তৈরি ঘর ছাড়া অন্য কোথাও ছায়া গ্রহণ করবে না।
এরপর তারা বলেছিল: যারা হিল (হারাম এলাকার বাইরে) থেকে এসেছে, তারা যখন হজ বা ওমরাহ করতে আসবে, তখন তাদের জন্য হিল থেকে সাথে করে আনা খাবার খাওয়া সমীচীন নয়। আর তারা যখন প্রথমবার আসবে, তখন তারা হুমসদের পোশাক ছাড়া বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে না। যদি তারা সেরূপ কোনো পোশাক না পায়, তবে তারা তাওয়াফ করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৩২)
بالبيت عراة فإن لم يجد القادم ثيابَ أحمس: طاف في ثيابه وألقاها إذا فرغ. ولم ينتفع بها ولا أحد غيره. فكانت العرب تسميها "اللّقَى" وحملوا على ذلك العرب. فدانت به. أما الرجال: فيطوفون عراة وأما النساء: فتضع المرأة ثيابها كلها إلا درعًا مفرجًا ثم نطوف فيه، فقالت امرأة وهي تطوف (1) .
اليوم يبدو بعضه أو كله
… وما بدا منه فلا أُحِلُّه
فلم يزالوا كذلك حتى جاء الله بالإسلام فأنزل الله {ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ} [البقرة: 199] (2) وأنزل فيما حرموا {يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ} [الأعراف: 26] إلى قوله {يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ} [الأعراف: 31] إلى قوله {لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} [الأعراف: 32] (3) .
[حدوث الرجوم وإنذار الكهان بخروج النبي صلى الله عليه وسلم]وذكر حدوث الرجوم، وإنذار الكهان به صلى الله عليه وسلم ونزول سورة الجن وقصتهم.
ثم ذكر إنذار اليهود، وأنه سبب إسلام الأنصار، وما نزل في ذلك من القرآن. وقصة ابن الهيبان وقوله: " يا معشر يهود، ما ترونه أخرجني من أرض الخمر والخمير إلى أرض البؤس والجوع؟ " وقوله: " إنما قدمت هذه البلدة أتوكّف خروج نبي قد أظَلَّ زمانه. وهذه البلدة مهاجره " إلى آخرها.
--------------------------------------------
তারা বাইতুল্লাহর চারপাশে উলঙ্গ হয়ে তাওয়াফ করত। যদি আগন্তুক ব্যক্তি কোনো 'আহমাস' (কুরাইশ বা তাদের মিত্র) এর কাপড় না পেত, তবে সে তার নিজের কাপড়েই তাওয়াফ করত এবং তাওয়াফ শেষ করার পর তা ফেলে দিত। সেই কাপড় সে নিজে বা অন্য কেউ আর ব্যবহার করত না। আরবরা একে 'লাকা' (ফেলে দেওয়া বস্তু) নামে অভিহিত করত এবং তারা আরবদের এ কাজে বাধ্য করেছিল। ফলে তারা একেই দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছিল। পুরুষরা উলঙ্গ হয়ে তাওয়াফ করত, আর নারীরা একটি খোলা কামিজ (বড় কামিজ যার একপাশ চেরা থাকত) ব্যতীত তাদের সকল পোশাক খুলে ফেলত এবং সেটি পরেই তাওয়াফ করত। এক মহিলা তাওয়াফ করা অবস্থায় বলেছিল:
আজ এর কিছু অংশ বা পুরোটাই প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে
… আর যা প্রকাশ পায় তা আমি বৈধ মনে করি না।
তারা এভাবেই ছিল যতক্ষণ না আল্লাহ ইসলাম নিয়ে আসলেন। অতঃপর আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {অতঃপর তোমরা সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করো যেখান থেকে মানুষ প্রত্যাবর্তন করে} [বাকারা: ১৯৯] (২) আর তারা যা হারাম করেছিল সে বিষয়ে অবতীর্ণ করলেন {হে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে} [আরাফ: ২৬] থেকে আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত {হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সাজসজ্জা গ্রহণ করো} [আরাফ: ৩১] থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত {সেই কওমের জন্য যারা জানে} [আরাফ: ৩২] (৩)।
[উল্কাপাত শুরু হওয়া এবং গণকদের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আবির্ভাবের সংবাদ]এবং (লেখক) উল্কাপাত শুরু হওয়া, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে গণকদের সতর্কবাণী এবং সূরা জিন নাযিল হওয়া ও তাদের ঘটনা উল্লেখ করেছেন।
এরপর তিনি ইহুদিদের সতর্কবাণী উল্লেখ করেছেন এবং এটিই যে আনসারদের ইসলাম গ্রহণের কারণ ছিল, আর এ বিষয়ে কুরআনের যা নাযিল হয়েছে তাও বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও ইবনুল হাইয়িবান-এর ঘটনা এবং তার এই উক্তি: "হে ইহুদি সম্প্রদায়! তোমরা কি মনে করো কিসে আমাকে শরাব ও রুটির দেশ থেকে দুঃখ ও ক্ষুধার দেশে বের করে এনেছে?" এবং তার এই উক্তি: "আমি এই জনপদে এসেছি কেবল একজন নবীর আগমনের প্রতীক্ষায় যার সময় ঘনিয়ে এসেছে। আর এই জনপদই হবে তাঁর হিজরতভূমি"—বর্ণনার শেষ পর্যন্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ثم ذكر قصة إسلام سلمان الفارسي رضي الله عنه.
ثم ذكر الأربعة المتفرقين عن الشرك في طلب الدين الحق: وهم ورقة بن نوفل، وعبيد الله بن جحش، وعثمان بن الحويرث، وزيد بن عمرو بن نفيل.
ثم ذكر وصية عيسى ابن مريم عليه السلام باتباع محمد صلى الله عليه وسلم، وما أخذ الله على الأنبياء من الإيمان به والنصر له، وأن يؤدوه إلى أممهم. فأدوا ذلك. وهو قول الله تعالى {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ} [آل عمران: 81] الآية (1) (2) .
[قصة بدء الوحي]ثم ذكر قصة بدء الوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم والقصة في الصحيحين - وفيها: أن أول ما نزل عليه: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} [العلق: 1] إلى قوله {مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق: 5] (3) . ثم أنزل عليه {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ - قُمْ فَأَنْذِرْ - وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ - وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ - وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ - وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ - وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ} [المدثر: 1 - 7] (4) .
--------------------------------------------
তারপর তিনি সালমান আল-ফারিসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণের কাহিনী উল্লেখ করেছেন।
এরপর তিনি সত্য দ্বীনের সন্ধানে শিরক ত্যাগকারী চারজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন: তাঁরা হলেন ওয়ারাকা বিন নওফল, উবায়দুল্লাহ বিন জাহশ, উসমান বিন হুয়াইরিস এবং জায়েদ বিন আমর বিন নুফাইল।
এরপর তিনি মারিয়াম পুত্র ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অনুসরণ করার অসিয়ত এবং নবীদের থেকে আল্লাহর নেওয়া সেই অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবেন ও তাঁকে সাহায্য করবেন এবং তাঁরা যেন বিষয়টি তাঁদের উম্মতদের কাছে পৌঁছে দেন। অতঃপর তাঁরা তা পৌঁছে দিয়েছিলেন। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন} [আল ইমরান: ৮১] আয়াত পর্যন্ত (১) (২)।
[ওহী শুরুর ঘটনা]অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওহী শুরুর ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এই ঘটনাটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে। এতে রয়েছে: তাঁর প্রতি সর্বপ্রথম যা নাজিল হয়েছে তা হলো: {পাঠ করো তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন} [আল-আলাক: ১] থেকে তাঁর বাণী {যা সে জানত না} [আল-আলাক: ৫] পর্যন্ত (৩)। এরপর তাঁর প্রতি নাজিল হয়: {হে চাদরাবৃত! ওঠো, অতঃপর সতর্ক করো। আর তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো। আর তোমার পোশাক পবিত্র করো। আর অপবিত্রতা বর্জন করো। আর অধিক পাওয়ার আশায় দান করো না। আর তোমার রবের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ করো} [আল-মুদ্দাসসির: ১ - ৭] (৪)।
--------------------------------------------