(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: -)
مختصر زاد المعاد القسم: السيرة النبوية
الكتاب: مختصر زاد المعاد
المؤلف: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي (ت 1206هـ)
الناشر: دار الريان للتراث - القاهرة
الطبعة: الثانية، 1407هـ - 1987م
عدد الصفحات: 208
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুখতাসার যাদুল মা'আদ বিভাগ: সীরাতুন্নবী (সা.)
কিতাব: মুখতাসার যাদুল মা'আদ
লেখক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান আত-তামিমী আন-নাজদী (মৃত্যু: ১২০৬ হিজরি)
প্রকাশক: দারুর রাইয়ান লিত-তুরাস - কায়রো
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৮
খণ্ড সংখ্যা: ১
[কিতাবটির সংখ্যায়ন মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
[مقدمة الناشر مختصر زاد المعاد]مقدمة الناشر إن الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ، وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هادي له والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.
أما بعد. فإن كتاب زاد المعاد في خير هدى العباد من خير ما ألَّفه الإمام العلامة المحدث ابن قيم الجوزية ومن المعارف الرائعة التي تشهد له بالإمامة ووفرة العلم والتحرر من التقليد. وقد عرض فيه المؤلف- رحمه الله صورة واضحة لسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم وهديه، وتصرفاته العامة والخاصة بأسلوب بسيط وسهل ليقتدي به المسلم ويسير على منهاج النبي الكريم. ثم جاء منقذ الأمة من الضلالة شيخ الإسلام إمام الدعوة في جزيرة العرب، فانتقى من كتاب زاد المعاد هذا المختصر الطيب لينتفع به المسلمون في شئونهم الدينية والدنيوية فعلى كل مسلم أن يتخذ زادا لمعاده وقدوة لسلوكه ليحقق قوله عز وجل {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} [الأحزاب: 21] الأحزاب. .
[মুখতাসার যাদুল মা’আদ-এর প্রকাশকের ভূমিকা]প্রকাশকের ভূমিকা। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মোহর আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর। নিশ্চয়ই ‘যাদুল মা’আদ ফী খাইরি হাদয়িল ইবাদ’ গ্রন্থটি ইমাম, আল্লামা, মুহাদ্দিস ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ-এর রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব এবং এটি এমন এক চমৎকার জ্ঞানগর্ভ রচনা যা তাঁর ইমামত, ইলমের প্রাচুর্য এবং অন্ধ অনুকরণ থেকে মুক্ত হওয়ার সাক্ষ্য দেয়। লেখক—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত, তাঁর আদর্শ এবং তাঁর প্রকাশ্য ও গোপন কর্মকাণ্ডের এক উজ্জ্বল চিত্র অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল শৈলীতে তুলে ধরেছেন, যাতে মুসলিম ব্যক্তি তাঁর অনুসরণ করতে পারে এবং মহানবীর প্রদর্শিত পথে চলতে পারে। অতঃপর উম্মাহকে গোমরাহী থেকে উদ্ধারকারী শাইখুল ইসলাম, আরব উপদ্বীপের দাওয়াতের ইমাম আসলেন, এবং তিনি ‘যাদুল মা’আদ’ কিতাব থেকে এই উত্তম সংক্ষিপ্তসারটি নির্বাচন করলেন যাতে মুসলিমগণ তাদের দ্বীনী ও দুনিয়াবী বিষয়ে উপকৃত হতে পারে। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের উচিত একে তার পরকালের পাথেয় এবং তার আচরণের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা, যাতে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণীর প্রতিফলন ঘটে: {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ—তার জন্য যে আল্লাহ ও পরকাল আশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে} [আল-আহযাব: ২১]।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
[ترجمة المؤلف]ترجمة المؤلف هو الشيخ محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي التميمي الحنبلي. ولد في بلدة (العيينة) شمال الرياض سنة 1115هـ و1703م.
حفظ القرآن قبل بلوغه العاشرة. درس الفقه الحنبلي والتفسير والحديث على والده، واعتنى بدراسة كتب شيخ الإسلام ابن تيمية وابن القيم، رحمهما الله حج مكة وزار المدينة وأخذ العلم بها عن الشيخ عبد الله بن إبراهيم، وزار البصرة والشام وأخذ العلم عن كبار علمائها وقد رأى الشيخ ما بالبلاد التي وصل إليها من العقائد والعادات الفاسدة والبدع الضالة فعزم على القيام بدعوته ونادى بالرجوع إلى كتاب الله وتعاليم الرسول وحارب البدع ونادى بهدم الأضرحة والمزارات وإزالة معالمها اقتداء بما كانت عليه أيام رسول الله ولاقى الكثير من الأذى حتى جاء نصر الله وسمي بحق المجدد والمصلح.
وانتقل الشيخ المصلح محمد بن عبد الوهاب إلى جوار ربه شهر ذي القعدة سنة 1206هجرية مخلفا وراءه العمل الصالح رحمه الله رحمة واسعة وأسكنه فسيح جناته.
[গ্রন্থকারের জীবনী]গ্রন্থকার হলেন শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান বিন আলি আত-তামিমি আল-হাম্বলি। তিনি ১১১৫ হিজরি মোতাবেক ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে রিয়াদের উত্তরে অবস্থিত উয়াইনা নামক জনপদে জন্মগ্রহণ করেন।
দশ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই তিনি কুরআন মুখস্থ করেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট হাম্বলি ফিকহ, তাফসির ও হাদিস অধ্যয়ন করেন এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনে কায়্যিম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর গ্রন্থাবলি অধ্যয়নে বিশেষ মনোনিবেশ করেন। তিনি মক্কায় হজ পালন করেন এবং মদিনা যিয়ারত করে সেখানে শায়খ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিমের নিকট ইলম অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি বসরা ও শাম সফর করেন এবং সেখানকার প্রবীণ আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন। শায়খ যে সকল জনপদে পৌঁছেছিলেন, সেখানকার ভ্রান্ত আকিদা, কদাচার ও পথভ্রষ্ট বিদআতসমূহ পর্যবেক্ষণ করে তিনি তাঁর দাওয়াতি কাজ পরিচালনার সংকল্প করেন। তিনি আল্লাহর কিতাব ও রাসুলের শিক্ষার দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানান, বিদআতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন এবং রাসুলুল্লাহর যুগের অনুকরণে মাজার ও সমাধিসৌধসমূহ গুঁড়িয়ে দেওয়ার এবং সেগুলোর চিহ্ন মুছে ফেলার ডাক দেন। তিনি দাওয়াতি পথে অনেক নির্যাতনের সম্মুখীন হন, অবশেষে আল্লাহর সাহায্য অবতীর্ণ হয় এবং তিনি যথার্থই মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) ও মুসলিহ (সংশোধনকারী) হিসেবে অভিহিত হন।
সংস্কারক শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ১২০৬ হিজরি সনের জিলকদ মাসে তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে যান এবং উত্তরসূরিদের জন্য নেক আমল রেখে যান। আল্লাহ তাঁকে ব্যাপক রহমত দান করুন এবং তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে উচ্চ মাকাম দান করুন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
[ترجمة الإمام ابن القيم]ترجمة الإمام ابن القيم هو محمد ابن أبي بكر بن أيوب بن سعد بن حريز الزرعي ثم الدمشقي أبو عبد الله، شمس الدين المعروف بابن قيم الجوزية.
ولد سنة 691هـ وتربى في بيت علم وفضل وتلقى مبادئ العلوم عن أبيه وأخذ العلم عن كثير من علماء عصره ولا سيما شيخ الإسلام ابن تيمية وقد لازمه وتتلمذ عليه. وقد شهد له العلماء بالتفوق في فقه الكتاب والسنة ودقائق الاستنباط منهما. وأصول الدين، وعني بالحديث وفنونه ورجاله قال ابن حجر عنه: كان جريء اللسان، واسع العلم، عارفا بالخلاف ومذهب السلف.
وقال نعمان الألوسي البغدادي. لم أشاهد مثله في عبادته وعلمه بالقرآن والحديث وحقائق الإيمان وليس هو بالمعصوم ولكن لم أر في معناه مثله وقد امتحن وأوذي مرات وحبس مع شيخه ابن تيمية في المرة الأخيرة بالقلعة منفردا ولم يفرج عنه إلا بعد موت الشيخ.
وقال ابن كثير: (وكان حسن القراءة والخلق كثير التودد لا يحسد أحدا ولا يؤذيه ولا يستعيبه ولا يحقد على أحد وكنت من أحب الناس له وأحب الناس إليه) .
وقال برهان الدين الزرعي (ما تحت أديم السماء أوسع علما منه) وقد صنف تصانيف كثيرة جدا منها تهذيب سنن أبي داود. الكلم الطيب وأعلام الموقعين وبدائع الفوائد وحادي الأرواح والداء والدواء والطرق الحكمية وإغاثة اللهفان والروح وطريق الهجرتين وغير ذلك كثير. توفي رحمه الله ليلة الخميس 13 رجب سنة 751 هجرية ودفن بدمشق بجوار والده في مقبرة (باب الصغير) .
[ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম-এর জীবনী]ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমের জীবনী: তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে আইয়ুব ইবনে সাদ ইবনে হারিজ আয-যারয়ি অতঃপর আদ-দিমাশকি, আবু আব্দুল্লাহ, শামসুদ্দিন, যিনি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ নামে পরিচিত।
তিনি ৬৯১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং একটি ইলম ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবারে লালিত-পালিত হন। তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে ইলমের প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করেন এবং তাঁর সমসাময়িক বহু আলিমের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন, বিশেষ করে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর নিকট, যাঁর সান্নিধ্যে তিনি সর্বদা থাকতেন এবং যাঁর কাছে তিনি ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছিলেন। আলিমগণ কিতাব ও সুন্নাহর ফিকহ এবং তা থেকে মাসআলা উদ্ভাবনের সূক্ষ্ম বিষয়ে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন। এছাড়া উসুলুদ্দীন এবং হাদিস, হাদিসের শিল্প ও বর্ণনাকারীদের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী, প্রশস্ত জ্ঞানের অধিকারী এবং মতভেদ ও সালাফদের মাযহাব সম্পর্কে অভিজ্ঞ।
নুমান আল-আলুসি আল-বাগদাদি বলেছেন: আমি তাঁর ইবাদত, কুরআন-হাদিসের জ্ঞান এবং ঈমানের হাকীকত সম্পর্কে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি। তিনি মাসুম (নিষ্পাপ) ছিলেন না, তবে তাঁর সমপর্যায়ের কাউকে আমি দেখিনি। তিনি বারবার পরীক্ষিত ও নির্যাতিত হয়েছেন এবং শেষবার তাঁর শাইখ ইবনে তাইমিয়্যাহর সাথে দুর্গে নির্জনে কারারুদ্ধ ছিলেন। শাইখের মৃত্যুর পরই কেবল তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ইবনে কাসীর বলেছেন: (তিনি অত্যন্ত সুন্দর তিলাওয়াত ও চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন, কাউকে হিংসা করতেন না, কাউকে কষ্ট দিতেন না, কারও দোষ খুঁজতেন না এবং কারও প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতেন না। আমি তাঁর নিকট অত্যন্ত প্রিয় ছিলাম এবং তিনিও আমার নিকট অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন)।
বুরহানুদ্দিন আয-যারয়ি বলেছেন: (আকাশের নিচে তাঁর চেয়ে প্রশস্ত জ্ঞানের অধিকারী আর কেউ নেই)। তিনি প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: তাহযীবু সুনানি আবি দাউদ, আল-কালিমুত তাইয়্যিব, আলামুল মুওয়াক্কিঈন, বাদায়িউল ফাওয়াইদ, হাদিল আরওয়াহ, আদ-দাউ ওয়াদ দাওয়া, আত-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, ইগাছাতুল লাহফান, আর-রূহ, তরিকুল হিজরাতাইন এবং আরও অনেক। তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি ৭৫১ হিজরির ১৩ই রজব বৃহস্পতিবার রাতে ইন্তেকাল করেন এবং দামেস্কে তাঁর পিতার পাশে (বাবুস সাগির) কবরস্থানে সমাহিত হন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
[مقدمة المؤلف]بسم الله الرحمن الرحيم
وبه الثقة والعصمة الحمد لله رب العالمين، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ ورسوله.
أما بعد: فإن الله سبحانه وتعالى هو المتفرد بالخلق والاختيار. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [القصص: 68] (1) والمراد بالاختيار: هو الاجتباء والاصطفاء، وقوله: {مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ} [القصص: 68] أي: ليس هذا الاختيار إليهم، فكما أنه المتفرد بالخلق، فهو المتفرد بالاختيار منه، فإنه أعلم بمواقع اختياره، كما قال تَعَالَى: {اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} [الأنعام: 124] (2) وكما قَالَ تَعَالَى: {وَقَالُوا لَوْلَا نُزِّلَ هَذَا الْقُرْآنُ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ - أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَتَ رَبِّكَ نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ} [الزخرف: 31 - 32] (3) فأنكر سبحانه عليهم تخيرهم، وأخبر أن ذلك إلى الذي قسم بينهم معيشتهم، ورفع بعضهم فوق بعض درجات.
وقوله: {سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [القصص: 68] نزه نفسه عما اقتضاه شركهم من اقتراحهم واختيارهم، ولم يكن شركهم متضمنا لإثبات خالق سواه حتى ينزه نفسه عنه. والآية مذكورة بعد قوله: {فَأَمَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسَى أَنْ يَكُونَ مِنَ الْمُفْلِحِينَ} [القصص: 67] (4) .
وكما أنه خلقهم اختار منهم هؤلاء، وهذا الاختيار راجع إلى حكمته سبحانه، وعلمه بمن هُوَ أَهْلٌ لَهُ، لَا إِلَى اخْتِيَارِ هَؤُلَاءِ واقتراحهم.
وهذا الاختيار فِي هَذَا الْعَالَمِ مِنْ أَعْظَمِ آيَاتِ رُبُوبِيَّتِهِ وَأَكْبَرِ شَوَاهِدِ وَحْدَانِيَّتِهِ، وَصِفَاتِ كَمَالِهِ، وَصِدْقِ رُسُلِهِ.
وَمِنْ هَذَا اخْتِيَارُهُ مِنَ الْمَلَائِكَةِ الْمُصْطَفَيْنَ مِنْهُمْ، كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم:
--------------------------------------------
[লেখকের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আর তাঁরই ওপর ভরসা ও তাঁরই নিকট সুরক্ষা প্রার্থনা করছি। সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর: নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সৃষ্টি ও নির্বাচনের ক্ষেত্রে একক। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আপনার রব যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন; এতে তাদের কোনো ইখতিয়ার নেই। আল্লাহ পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি ঊর্ধ্বে।} [কাসাস: ৬৮] (১) এখানে 'নির্বাচন' বা 'পছন্দ' করার অর্থ হলো মনোনীত করা ও বেছে নেওয়া। আর আল্লাহর বাণী: {তাদের কোনো ইখতিয়ার নেই} [কাসাস: ৬৮] অর্থাৎ: এই নির্বাচনের ক্ষমতা তাদের হাতে নেই। সুতরাং তিনি যেমন সৃষ্টিতে একক, তেমনি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তিনি একক। কেননা তিনি তাঁর নির্বাচনের ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে সম্যক অবগত। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ ভালো জানেন কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করতে হবে।} [আনআম: ১২৪] (২) এবং যেমনটি তিনি বলেছেন: {তারা বলে, এই কুরআন কেন দুই জনপদের কোনো এক মহান ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ হলো না? তারা কি আপনার রবের রহমত বণ্টন করে? আমিই পার্থিব জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করেছি এবং তাদের একজনকে অন্যের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করেছি।} [জুখরুফ: ৩১ - ৩২] (৩) অতঃপর সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের পছন্দ করার দাবিকে অস্বীকার করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, এই বিষয়টি তাঁরই এখতিয়ারে যিনি তাদের মধ্যে জীবিকা বণ্টন করেছেন এবং একজনকে অন্যের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করেছেন।
আর তাঁর বাণী: {আল্লাহ পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি ঊর্ধ্বে।} [কাসাস: ৬৮] এখানে তিনি নিজেকে তাদের শিরকের আবশ্যিক ফল—অর্থাৎ তাদের প্রস্তাব ও নির্বাচন থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। তাদের শিরক এমন ছিল না যা তাঁর পরিবর্তে অন্য কোনো স্রষ্টা সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যাতে তিনি নিজেকে তা থেকে পবিত্র ঘোষণা করবেন। আর এই আয়াতটি তাঁর এই বাণীর পরে উল্লেখ করা হয়েছে: {তবে যে ব্যক্তি তাওবা করে, ঈমান আনে এবং নেক কাজ করে, আশা করা যায় সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে।} [কাসাস: ৬৭] (৪)।
এবং তিনি যেভাবে তাদের সৃষ্টি করেছেন, তেমনি তাদের মধ্য থেকে এদের মনোনীত করেছেন। আর এই নির্বাচন সুবহানাহু ওয়া তাআলার হিকমত এবং কে এর যোগ্য সে সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল; এটা এদের নির্বাচন বা প্রস্তাবের ওপর নির্ভরশীল নয়।
এই জগতের এই নির্বাচন তাঁর রুবুবিয়্যাতের অন্যতম মহান নিদর্শন এবং তাঁর একত্ববাদ, তাঁর পূর্ণ গুণাবলি এবং তাঁর রাসূলদের সত্যতার অন্যতম বড় প্রমাণ।
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ফেরেশতাদের মধ্য থেকে মনোনীতদের বেছে নেওয়া, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
«اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ، فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ، اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ، إِنَّكَ تَهْدِي من تشاء إلى صراط مستقيم» (1) .
وكذلك اختياره سبحانه الأنبياء من ولد آدم، واختياره الرسل منهم، واختياره أولي العزم منهم، وهم الخمسة المذكورون في سورتي الأحزاب والشورى (2) واختياره مِنْهُمُ الْخَلِيلَيْنِ: إِبْرَاهِيمَ وَمُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمَا وسلم وعليهم أجمعين.
وَمِنْ هَذَا اخْتِيَارُهُ سُبْحَانَهُ وَلَدَ إِسْمَاعِيلَ مِنْ أَجْنَاسِ بَنِي آدَمَ، ثُمَّ اخْتَارَ مِنْهُمْ بَنِي كِنَانَةَ مِنْ خُزَيْمَةَ، ثُمَّ اخْتَارَ مِنْ وَلَدِ كِنَانَةَ قُرَيْشًا ثُمَّ اخْتَارَ مِنْ قُرَيْشٍ بَنِي هَاشِمٍ ثُمَّ اخْتَارَ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ سَيِّدَ وَلَدِ آدَمَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم، واختار أمته على سائر الأمم. كما في المسند عن معاوية بن حيدة مرفوعا: أَنْتُمْ تُوفُونَ (3) سَبْعِينَ أُمَّةً، أَنْتُمْ خَيْرُهَا وَأَكْرَمُهَا عَلَى اللَّهِ.
وفي " مسند البزار " من حديث أبي الدرداء مرفوعا: «إن الله سبحانه قال لعيسى بن مريم: إني باعث بَعْدِكَ أُمَّةً إِنْ أَصَابَهُمْ مَا يُحِبُّونَ حَمِدُوا وَشَكَرُوا، وَإِنْ أَصَابَهُمْ مَا يَكْرَهُونَ احْتَسَبُوا وَصَبَرُوا، وَلَا حِلْمَ وَلَا عِلْمَ قَالَ: يَا رَبِّ كَيْفَ هَذَا وَلَا حِلْمَ وَلَا عِلْمَ؟ قَالَ: أعطيهم من حلمي وعلمي»
[فصل اختص الله نفسه بالطيب]فصل
اختص الله نفسه بالطيب والمقصود أن الله سبحانه اختار من كل جنس أطيبه، فاختصهم لنفسه، فإنه سبحانه وتعالى طَيِّبٌ لَا يُحِبُّ إِلَّا الطَّيِّبَ، وَلَا يَقْبَلُ من القول والعمل والصدقة إلا الطيب.
وَبِهَذَا يُعْلَمُ عُنْوَانُ سَعَادَةِ الْعَبْدِ وَشَقَاوَتِهِ، فَإِنَّ الطَّيِّبَ لَا يُنَاسِبُهُ إِلَّا الطَّيِّبُ وَلَا يَرْضَى إِلَّا بِهِ، وَلَا يَسْكُنُ إِلَّا إِلَيْهِ، وَلَا يَطْمَئِنُّ قَلْبُهُ إِلَّا بِهِ.
فَلَهُ مِنَ الْكَلَامِ الكلام الطيب الذي لا يصعد إلى الله إلا هو
--------------------------------------------
হে আল্লাহ, জিবরাঈল, মিকাঈল এবং ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান জগতের পরিজ্ঞাতা, আপনার বান্দাদের মাঝে তারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করত সে বিষয়ে আপনি ফয়সালা করে দিবেন। যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আপনার অনুমতিতে আমাকে সত্যের দিকে পরিচালিত করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন। (১) ।
তেমনিভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আদম সন্তানদের মধ্য থেকে নবীদের মনোনীত করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে রাসূলদের মনোনীত করেছেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে উলুল আযম (দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ) রাসূলদের মনোনীত করেছেন। তাঁরা হলেন সেই পাঁচজন যাঁদের কথা সূরা আল-আহযাব এবং সূরা আশ-শূরায় (২) উল্লেখ করা হয়েছে। এবং তিনি তাঁদের মধ্য থেকে দুই খলীলকে মনোনীত করেছেন: ইব্রাহীম ও মুহাম্মদ—তাঁদের উভয়ের ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আদম সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাঈলের বংশধরদের তাঁর মনোনীত করা। অতঃপর তিনি তাঁদের মধ্য থেকে খুজাইমার বংশজাত বনী কিনানাহকে মনোনীত করেছেন। এরপর কিনানাহর বংশধরদের মধ্য থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন। অতঃপর কুরাইশদের মধ্য থেকে বনী হাশেমকে মনোনীত করেছেন। এরপর বনী হাশেমের মধ্য থেকে আদম সন্তানদের সরদার মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মনোনীত করেছেন এবং তিনি তাঁর উম্মতকে অন্যান্য সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। যেমনটি মুসনাদে মুয়াবিয়া ইবনে হাইদাহ থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: তোমরা সত্তরটি উম্মত পূর্ণ করবে, তোমরা তাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত।
আর "মুসনাদে বাযযার"-এ আবু দারদা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: «নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ঈসা ইবনে মারিয়ামকে বলেছিলেন: আমি তোমার পর এমন এক উম্মত পাঠাব, যদি তাদের কাছে পছন্দনীয় কিছু পৌঁছে তবে তারা প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে, আর যদি অপছন্দনীয় কিছু পৌঁছে তবে তারা সওয়াবের আশা করবে এবং ধৈর্য ধারণ করবে, যদিও তাদের ধৈর্য ও জ্ঞান থাকবে না। তিনি বললেন: হে রব, ধৈর্য ও জ্ঞানহীন অবস্থায় এটা কীভাবে হবে? তিনি বললেন: আমি তাদের আমার ধৈর্য ও জ্ঞান থেকে দান করব।»
[পরিচ্ছেদ: আল্লাহ নিজেকে পবিত্র জিনিসের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন]পরিচ্ছেদ
আল্লাহ নিজেকে পবিত্র জিনিসের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা প্রত্যেক শ্রেণী থেকে সবচেয়ে পবিত্র ও উত্তমটিকে নির্বাচন করেছেন এবং সেগুলোকে নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। কেননা তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু ভালোবাসেন না এবং কথা, কাজ ও সদকার মধ্য থেকে পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু কবুল করেন না।
এর মাধ্যমেই বান্দার সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের পরিচয় জানা যায়। কেননা পবিত্র ব্যক্তির সাথে পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু মানানসই হয় না, সে তা ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হয় না, তা ছাড়া অন্য কোথাও স্থির হয় না এবং তা ছাড়া তার অন্তর প্রশান্তি পায় না।
কথার মধ্য থেকে তার জন্য রয়েছে পবিত্র কথা, যা ছাড়া অন্য কিছু আল্লাহর দিকে আরোহণ করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
، وهو أشد نفرة عن الفحش في المقال وَالْكَذِبِ وَالْغِيبَةِ وَالنَّمِيمَةِ وَالْبُهْتِ وَقَوْلِ الزُّورِ وَكُلِّ كَلَامٍ خَبِيثٍ.
وَكَذَلِكَ لَا يَأْلَفُ مِنَ الْأَعْمَالِ إلا أطيبها، وهي التي أجمعت عَلَى حُسْنِهَا الْفِطَرُ السَّلِيمَةُ مَعَ الشَّرَائِعِ النَّبَوِيَّةِ، وزكتها العقول الصحيحة، مثل أن يعبد الله وحده لا شريك له، ويؤثر مرضاته على هواه، ويتحبب إليه بجهده، وَيُحْسِنَ إِلَى خَلْقِهِ مَا اسْتَطَاعَ، فَيَفْعَلَ بِهِمْ ما يحب أن يفعلوه به.
وله من الأخلاق أطيبها، كالحلم والوقار، والصبر والرحمة، والوفاء والصدق، وسلامة الصدر، والتواضع، وصيانة الوجه عن بذل وتذلله لغير الله.
وَكَذَلِكَ لَا يَخْتَارُ مِنَ الْمَطَاعِمِ إِلَّا أَطْيَبَهَا، وهو الحلال الهنيء الَّذِي يُغَذِّي الْبَدَنَ وَالرُّوحَ أَحْسَنَ تَغْذِيَةٍ مَعَ سَلَامَةِ الْعَبْدِ مِنْ تَبِعَتِهِ.
وَكَذَلِكَ لَا يَخْتَارُ من المناكح إلا أطيبها، ومن الأصحاب إلا الطيبين. فهذا ممن قال الله فيهم: {الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُونَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ} [النحل: 32] (1) ومن الذين تقول لَهُمْ خَزَنَةُ الْجَنَّةِ: {سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ} [الزُّمَرِ: 73] (2) وَهَذِهِ الْفَاءُ تَقْتَضِي السَّبَبِيَّةَ، أَيْ: بِسَبَبِ طيبكم فادخلوها. وَقَالَ تَعَالَى: {الْخَبِيثَاتُ لِلْخَبِيثِينَ وَالْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثَاتِ وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ وَالطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَاتِ أُولَئِكَ مُبَرَّءُونَ مِمَّا يَقُولُونَ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ} [النور: 26] (3) .
ففسرت بالكلمات الخبيثات للرجال الخبيثين، والكلمات الطيبات للرجال الطيبين.
وفسرت بالنساء الطيبات للرجال الطيبين وبالعكس، وهي تعم ذلك وغيره.
والله سبحانه جَعَلَ الطَّيِّبَ بِحَذَافِيرِهِ فِي الْجَنَّةِ، وَجَعَلَ الْخَبِيثَ بحذافيره في النار، فدار أخلصت للطيب، ودار أخلصت للخبيث، ودار مزج فيها الخبيث بالطيب، وهي هذه الدار، فإذا كان يوم المعاد، ميز الله الخبيث من الطيب، فعاد الأمر إلى دارين فقط.
والمقصود أن الله جعل للشقاوة والسعادة عنوانا يعرفان به، وقد يكون في الرجل مادتان، فأيهما غلبت عَلَيْهِ كَانَ مِنْ أَهْلِهَا، فَإِنْ أَرَادَ اللَّهُ بعبده خيرا طهره قبل الموافاة فلا يحتاج إلى تطهيره بالنار. وحكمته تعالى تأبى أن يجاوره العبد في داره
--------------------------------------------
، এবং সে অশ্লীল কথাবার্তা, মিথ্যা, গীবত (পরনিন্দা), চোগলখুরি, অপবাদ, মিথ্যা সাক্ষ্য এবং সকল প্রকার মন্দ কথা থেকে তীব্রভাবে দূরে থাকে।
অনুরূপভাবে, সে আমলসমূহের মধ্যে কেবল সর্বোত্তম আমলগুলোকেই পছন্দ করে, যেগুলোর সৌন্দর্যের ওপর নবীগণের শরীয়তের পাশাপাশি সুস্থ স্বভাবসমূহ একমত হয়েছে এবং সঠিক বুদ্ধি যেগুলোকে বিশুদ্ধ বলে সাব্যস্ত করেছে। যেমন—এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যাঁর কোনো শরিক নেই, নিজের খেয়াল-খুশির চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া, আপন প্রচেষ্টায় তাঁর প্রিয় হওয়ার চেষ্টা করা এবং সাধ্যমতো তাঁর সৃষ্টির প্রতি দয়া করা; ফলে সে তাদের সাথে তেমন আচরণই করে যেমনটি সে নিজের জন্য তাদের পক্ষ থেকে আশা করে।
তার চরিত্রে রয়েছে সর্বোত্তম গুণাবলি, যেমন—সহনশীলতা ও গাম্ভীর্য, ধৈর্য ও রহমত, প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও সত্যবাদিতা, অন্তরের পরিচ্ছন্নতা, বিনয় এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া বা লাঞ্ছিত হওয়া থেকে নিজের সম্মানকে রক্ষা করা।
তেমনিভাবে, সে আহারের ক্ষেত্রে কেবল পবিত্রতমটিই বেছে নেয়; আর তা হলো সেই তৃপ্তিদায়ক হালাল রিজিক, যা শরীর ও আত্মাকে সর্বোত্তম পুষ্টি জোগায় এবং এর দায়ভার বা মন্দ পরিণতি থেকে বান্দাকে নিরাপদ রাখে।
অনুরূপভাবে সে বিবাহের ক্ষেত্রে কেবল পবিত্রতমটি এবং সঙ্গীদের মধ্যে কেবল পবিত্র ব্যক্তিদেরই বেছে নেয়। এরা তারাই যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {যাদের মৃত্যু ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় ঘটায়; তারা বলে, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা যা আমল করতে তার কারণে জান্নাতে প্রবেশ করো} [নাহল: ৩২] (১) এবং যাদের সম্পর্কে জান্নাতের রক্ষীরা বলবে: {তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা পবিত্র হয়েছ, সুতরাং স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য এখানে প্রবেশ করো} [যুমার: ৭৩] (২)। এখানে 'ফা' বর্ণটি কারণ বোঝাতে এসেছে, অর্থাৎ: তোমাদের পবিত্র হওয়ার কারণে তোমরা এতে প্রবেশ করো। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {অপবিত্র নারী অপবিত্র পুরুষদের জন্য এবং অপবিত্র পুরুষ অপবিত্র নারীদের জন্য; আর পবিত্র নারী পবিত্র পুরুষদের জন্য এবং পবিত্র পুরুষ পবিত্র নারীদের জন্য। লোকে যা বলে তারা তা থেকে মুক্ত; তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা এবং সম্মানজনক রিজিক} [নূর: ২৬] (৩)।
এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, অপবিত্র কথা অপবিত্র পুরুষদের জন্য এবং পবিত্র কথা পবিত্র পুরুষদের জন্য।
আবার এর ব্যাখ্যায় পবিত্র নারী পবিত্র পুরুষদের জন্য এবং পবিত্র পুরুষ পবিত্র নারীদের জন্য—এমনটিও বলা হয়েছে; তবে এটি উভয় অর্থ এবং এর বাইরেও ব্যাপক অর্থ বহন করে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সমস্ত পবিত্রতাকে সম্পূর্ণরূপে জান্নাতে রেখেছেন এবং সমস্ত অপবিত্রতাকে সম্পূর্ণরূপে জাহান্নামে রেখেছেন। সুতরাং একটি ঘর কেবল পবিত্রদের জন্য নির্দিষ্ট এবং অন্য একটি ঘর কেবল অপবিত্রদের জন্য নির্দিষ্ট। আর একটি ঘরে পবিত্র ও অপবিত্রকে মিশ্রিত করা হয়েছে, যা হলো এই পৃথিবী। অতঃপর যখন কিয়ামতের দিন আসবে, আল্লাহ অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করবেন, তখন বিষয়টি কেবল দুটি ঘরেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।
উদ্দেশ্য হলো এই যে, আল্লাহ সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের জন্য কিছু নিদর্শন রেখেছেন যার মাধ্যমে তাদের চেনা যায়। কখনও কখনও কোনো ব্যক্তির মধ্যে উভয় উপাদানই থাকতে পারে, অতঃপর তার ওপর যেটি প্রবল হয় সে তারই অন্তর্ভুক্ত হয়। যদি আল্লাহ তাঁর বান্দার কল্যাণ চান, তবে মৃত্যুর আগেই তাকে পবিত্র করে দেন, ফলে জাহান্নামের আগুনে তাকে পবিত্র করার প্রয়োজন পড়ে না। আর মহান আল্লাহর প্রজ্ঞা এটি অস্বীকার করে যে, কোনো অপবিত্র বান্দা তাঁর ঘরে তাঁর সান্নিধ্যে থাকবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بخبائثه، فيدخله النار طهرة له، وإقامة هذا النوع فيها على حسب سرعة زوال الخبائث وبطئها.
ولما كان المشرك خبيث الذات، لم تطهره النار، كالكلب إذا دخل البحر.
ولما كان المؤمن الطيب بريئا مِنَ الْخَبَائِثِ، كَانَتِ النَّارُ حَرَامًا عَلَيْهِ، إِذْ ليس فيه ما يقتضي تطهيره، فسبحان من بهرت حكمته العقول.
[فصل في وجوب معرفة هدي الرسول]فصل
في وجوب معرفة هدي الرسول ومن ههنا يعلم اضْطِّرَارَ الْعِبَادِ فَوْقَ كُلِّ ضَرُورَةٍ إِلَى مَعْرِفَةِ الرسول وما جاء به، فإنه لا سبيل إلى الفلاح إلا على يديه، ولا إلى معرفة الطيب من الخبيث على التفصيل إلا من جهته، فأي حاجة فرضت وضرورة عرضت، فضرورة العبد إلى الرسول فوقها بكثير.
وما ظنك بمن إن غَابَ عَنْكَ هَدْيُهُ، وَمَا جَاءَ بِهِ طَرْفَةَ عين فسد قلبك، وَلَكِنْ لَا يُحِسُّ بِهَذَا إِلَّا قَلْبٌ حَيٌّ،
وما لجرح بميت إيلام (1)
وإذا كانت السعادة معلقة بهديه صلى الله عليه وسلم، فَيَجِبُ عَلَى كُلِّ من أحب نجاة نفسه أَنْ يَعْرِفَ مِنْ هَدْيِهِ وَسِيرَتِهِ وَشَأْنِهِ مَا يخرج به عن خطة الجاهلين.
وَالنَّاسُ فِي هَذَا بَيْنَ مُسْتَقِلٍّ وَمُسْتَكْثِرٍ وَمَحْرُومٍ، وَالْفَضْلُ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذو الفضل العظيم.
[فَصْلٌ فِي هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْوُضُوءِ]فَصْلٌ
فِي هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْوُضُوءِ كَانَ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلَاةٍ فِي غَالِبِ أَحْيَانِهِ، وَرُبَّمَا صَلَّى الصَّلَوَاتِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ.
وَكَانَ يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ تَارَةً وَبِثُلُثَيْهِ تَارَةً، وَبِأَزْيَدَ مِنْهُ تارة (2) . وَكَانَ مِنْ أَيْسَرِ النَّاسِ صَبًّا لِمَاءِ الْوُضُوءِ، ويحذر أمته من الإسراف فيه، وَصَحَّ عَنْهُ أَنَّهُ تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً، وَمَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ، وَثَلَاثًا ثَلَاثًا.
وَفِي بَعْضِ الْأَعْضَاءِ مَرَّتَيْنِ، وَبَعْضِهَا ثَلَاثًا. وَكَانَ يَتَمَضْمَضُ وَيَسْتَنْشِقُ تَارَةً بِغَرْفَةٍ، وَتَارَةً بِغَرْفَتَيْنِ، وَتَارَةً بِثَلَاثٍ، وَكَانَ يَصِلُ بَيْنَ المضمضة والاستنشاق. وكان يستنشق باليمين
--------------------------------------------
তার মন্দের কারণে, সুতরাং তাকে পবিত্র করার জন্য আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। জাহান্নামে এই শ্রেণীর অবস্থান হবে সেই অপবিত্রতা দূর হওয়ার দ্রুততা বা ধীরগতির ওপর ভিত্তি করে।
যেহেতু মুশরিকের সত্তাই অপবিত্র, তাই জাহান্নাম তাকে পবিত্র করতে পারবে না, যেমন কুকুর যদি সমুদ্রে প্রবেশ করে (তবে সে পবিত্র হয় না)।
পক্ষান্তরে পবিত্র মুমিন যেহেতু সকল অপবিত্রতা থেকে মুক্ত, তাই জাহান্নাম তার জন্য হারাম। কারণ তার মধ্যে এমন কিছু নেই যা তাকে পবিত্র করার প্রয়োজনীয়তা রাখে। অতএব অতি পবিত্র সেই সত্তা যাঁর প্রজ্ঞা জ্ঞানীদের বুদ্ধিকে অভিভূত করে দেয়।
[রাসূলুল্লাহর আদর্শ জানার আবশ্যকতা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ
রাসূলুল্লাহর আদর্শ জানার আবশ্যকতা প্রসঙ্গে। এখান থেকেই স্পষ্ট হয় যে, রাসূল এবং তাঁর আনীত দীন সম্পর্কে জানা বান্দার জন্য অন্য যেকোনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি জরুরি। কেননা তাঁর মাধ্যমে ব্যতীত সফলতার কোনো পথ নেই। একইভাবে কোনো কিছু পবিত্র নাকি অপবিত্র তা বিস্তারিতভাবে জানার অন্য কোনো পথ তাঁর পক্ষ ব্যতীত নেই। সুতরাং বান্দার সামনে যে কোনো অভাব বা প্রয়োজন দেখা দিক না কেন, রাসূলের প্রতি তার মুখাপেক্ষিতা তার চেয়ে অনেক বেশি।
আপনার ধারণা কী এমন ব্যক্তি সম্পর্কে, যার কাছ থেকে যদি পলকের জন্যও রাসূলের আদর্শ এবং তাঁর আনীত দীন অনুপস্থিত থাকে তবে তার অন্তর নষ্ট হয়ে যায়? তবে জীবিত অন্তর ব্যতীত কেউ তা অনুভব করতে পারে না।
মৃত দেহের জখমে কোনো যাতনা হয় না (১)
যেহেতু সৌভাগ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের ওপর নির্ভরশীল, তাই যে ব্যক্তি নিজের মুক্তি চায় তার জন্য তাঁর আদর্শ, সীরাত এবং অবস্থা সম্পর্কে ততটুকু জানা আবশ্যক যা তাকে মূর্খদের দল থেকে বের করে আনবে।
এ ক্ষেত্রে মানুষ কয়েক স্তরের—কেউ সামান্য জানে, কেউ অনেক বেশি জানে, আবার কেউ একেবারেই বঞ্চিত। আর অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী।
[অজুর ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ
অজুর ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ প্রসঙ্গে। তিনি অধিকাংশ সময় প্রত্যেক সালাতের জন্য অজু করতেন, তবে কখনও কখনও এক অজু দিয়ে কয়েক ওয়াক্ত সালাতও আদায় করতেন।
তিনি কখনও এক মুদ পানি দিয়ে অজু করতেন, কখনও তার দুই-তৃতীয়াংশ দিয়ে, আবার কখনও তার চেয়ে সামান্য বেশি পানি দিয়ে (২)। তিনি অজুর পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে মিতব্যয়ী ছিলেন এবং তাঁর উম্মতকে অজুর ক্ষেত্রে অপচয় করতে সতর্ক করতেন। তাঁর থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তিনি অজুর অঙ্গগুলো কখনও একবার করে, কখনও দুইবার করে এবং কখনও তিনবার করে ধৌত করেছেন।
কখনও কোনো অঙ্গ দুইবার এবং কোনো অঙ্গ তিনবার ধৌত করতেন। তিনি কুলি করতেন এবং নাকে পানি দিতেন—কখনও এক অঞ্জলি পানি দিয়ে, কখনও দুই অঞ্জলি দিয়ে, আবার কখনও তিন অঞ্জলি দিয়ে। তিনি কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার কাজ একই সাথে করতেন। তিনি ডান হাত দিয়ে নাকে পানি দিতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وينتثر باليسرى، وكان يمسح رأسه كله تارة، وتارة يقبل بيديه ويدبر بهما. ولم يصح أَنَّهُ اقْتَصَرَ عَلَى مَسْحِ بَعْضِ رَأْسِهِ الْبَتَّةَ، ولكن كان إذا مسح على ناصيته كمل على العمامة، ولم يتوضأ إِلَّا تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ، وَلَمْ يُحْفَظْ عَنْهُ أَنَّهُ أخل بهما مرة واحدة. وقد صرح الإمام ابن القيم في أكثر من موضع من كتبه: بوجوب المضمضة والاستنشاق. وكذلك الوضوء مرتبا متواليا، ولم يخل به مرة واحدة، وَكَانَ يَغْسِلُ رِجْلَيْهِ إِذَا لَمْ يَكُونَا فِي جوربين أو خفين، ويمسح أذنيه مع رأسه ظاهرهما وباطنهما.
وكل حديث في أذكار الوضوء التي تقال عليه كذب، غير التسمية في أوله، وقول: «أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ المتطهرين» في آخره.
وحديث آخر في سنن النسائي «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ» وَلَمْ يَكُنْ يقول في أوله: نويت. ولا أحد من الصحابة ألبتة. وَلَمْ يَتَجَاوَزِ الثَّلَاثَ قَطُّ.
وَكَذَلِكَ لَمْ يَثْبُتْ عنه أنه تجاوز المرفقين والكعبين. ولم يكن يعتاد تنشيف أعضائه.
وكان يخلل لحيته أحيانا ولم يواظب على ذلك، وكذلك تخليل الأصابع ولم يكن يحافظ عليه، وأما تحريك الخاتم فروي فيه حديث ضعيف.
وصح عنه أنه مسح في الحضر والسفر، وَوَقَّتَ لِلْمُقِيمِ يَوْمًا وَلَيْلَةً، وَلِلْمُسَافِرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ ولياليهن، وكان يمسح ظاهر الخفين ومسح على الجوربين (1) وَمَسَحَ عَلَى الْعِمَامَةِ مُقْتَصِرًا عَلَيْهَا وَمَعَ النَّاصِيَةِ ولكن يحتمل أن يكون خاصا بحال الحاجة، ويحتمل العموم وهو أظهر. وَلَمْ يَكُنْ يَتَكَلَّفُ ضِدَّ حَالِهِ الَّتِي عَلَيْهَا قدماه، بل إن كانتا في الخفين مسح، وإن كانتا مكشوفتين غسل.
وكان يتيمم بضربة واحدة للوجه والكفين، ويتيمم بِالْأَرْضِ الَّتِي يُصَلِّي عَلَيْهَا تُرَابًا كَانَتْ أَوْ سَبْخَةً أَوْ رَمْلًا.
وَصَحَّ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: «حَيْثُمَا أَدْرَكَتْ رَجُلًا مِنْ أُمَّتِي الصَّلَاةُ فَعِنْدَهُ مَسْجِدُهُ وطهوره»
--------------------------------------------
এবং বাম হাত দিয়ে নাক ঝাড়তেন। তিনি কখনো তাঁর পুরো মাথা মাসেহ করতেন, আবার কখনো তাঁর উভয় হাত দিয়ে (মাথার সামনের দিক থেকে শুরু করে পিছন দিকে) নিতেন এবং পুনরায় সামনে নিয়ে আসতেন। এটি কোনোভাবেই সহীহ নয় যে তিনি কেবল মাথার কিছু অংশ মাসেহ করায় সীমাবদ্ধ থাকতেন, তবে তিনি যখন তাঁর মাথার অগ্রভাগ মাসেহ করতেন তখন পাগড়ির ওপর তা পূর্ণ করতেন। তিনি কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া ছাড়া ওযু করেননি এবং তাঁর থেকে এমনটি সংরক্ষিত নেই যে তিনি একবারও এ দুটি বাদ দিয়েছেন। ইমাম ইবনুল কায়্যিম তাঁর কিতাবসমূহের একাধিক স্থানে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার আবশ্যকতা (ওয়াজিব হওয়ার) কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে ওযু ক্রমানুসারে এবং বিরতিহীনভাবে করা, তিনি একবারও এটি লঙ্ঘন করেননি। এবং তিনি তাঁর দুই পা ধৌত করতেন যখন তা মোজা বা চামড়ার মোজার মধ্যে থাকত না, আর তিনি মাথার সাথে কানের ভিতর ও বাহির মাসেহ করতেন।
ওযুর যিকিরসমূহ সম্পর্কে যে সকল হাদীস বর্ণিত হয়েছে তার প্রতিটিই মিথ্যা, কেবল শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা এবং শেষে এই দো'আটি ব্যতীত: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন»।
এবং সুনানে নাসাঈতে বর্ণিত আরেকটি হাদীস: «হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার দিকেই ফিরে আসছি»। তিনি ওযুর শুরুতে 'নাওয়াইতু' (আমি নিয়ত করলাম) বলতেন না এবং সাহাবীগণের কেউই কখনো তা বলেননি। আর তিনি ওযুর অঙ্গে কখনো তিনবারের বেশি পানি ব্যবহার করেননি।
একইভাবে তাঁর থেকে এটিও প্রমাণিত নয় যে, তিনি ধোয়ার ক্ষেত্রে কনুই ও টাখনু (সীমার অনেক বেশি) অতিক্রম করতেন। আর তিনি ওযুর অঙ্গসমূহ মুছে ফেলার (তোয়ালে দিয়ে শুকানোর) অভ্যস্ত ছিলেন না।
তিনি মাঝে মাঝে দাড়ি খিলাল করতেন কিন্তু তাতে নিয়মিত ছিলেন না। একইভাবে আঙ্গুল খিলাল করার ক্ষেত্রেও তিনি নিয়মিত ছিলেন না। আর আংটি নাড়াচাড়া করার ব্যাপারে একটি দুর্বল হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
তাঁর থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত যে, তিনি মুকীম এবং মুসাফির অবস্থায় মাসেহ করেছেন। তিনি মুকীমের জন্য একদিন এক রাত এবং মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত সময় নির্ধারণ করেছেন। তিনি চামড়ার মোজার উপরিভাগ মাসেহ করতেন এবং সুতি মোজার ওপর মাসেহ করেছেন। তিনি মাথার অগ্রভাগের সাথে পাগড়ির ওপর মাসেহ করেছেন, আবার কেবল পাগড়ির ওপর মাসেহ করায় সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তবে হতে পারে এটি প্রয়োজনের সময়ের জন্য নির্দিষ্ট, আবার এটিও হতে পারে যে এটি সাধারণ নিয়ম, আর এটিই অধিকতর স্পষ্ট। তিনি তাঁর দুই পায়ের অবস্থার বিপরীত কোনো কষ্টের কাজ করতেন না; বরং যদি পা মোজার ভেতর থাকত তবে মাসেহ করতেন, আর যদি উন্মুক্ত থাকত তবে ধৌত করতেন।
তিনি মুখমন্ডল ও দুই হাতের তালুর জন্য একবার মাটিতে আঘাত করে তায়াম্মুম করতেন। তিনি সেই জমিনের মাধ্যমেই তায়াম্মুম করতেন যেখানে তিনি সালাত আদায় করতেন, চাই তা মাটি হোক কিংবা নোনা জমি অথবা বালু হোক।
তাঁর থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তি যেখানেই সালাতের ওয়াক্ত পাবে, সেখানেই তার জন্য সিজদাহর স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম বিদ্যমান রয়েছে»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَلَمَّا سَافَرَ هُوَ وَأَصْحَابُهُ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ قطعوا تلك الرمال وَمَاؤُهُمْ فِي غَايَةِ الْقِلَّةِ، وَلَمْ يُرْوَ عَنْهُ أَنَّهُ حَمَلَ مَعَهُ التُّرَابَ، وَلَا أَمَرَ بِهِ، ولا فعله أحد من أصحابه. وَمَنْ تَدَبَّرَ هَذَا قَطَعَ بِأَنَّهُ كَانَ يَتَيَمَّمُ بالرمل.
وجعله قائما مقام الْوُضُوءِ (1) . ..
[فَصْلٌ فِي هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلَاةِ]فَصْلٌ
فِي هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلَاةِ كَانَ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا قَبْلَهَا، ولا تلفظ بالنية، ولا استحبه أحد من التابعين ولا الأئمة الأربعة.
وَكَانَ دَأْبُهُ فِي إِحْرَامِهِ لَفْظَةَ: اللَّهُ أَكْبَرُ. لا غيرها، وكان يرفع يديه معها ممدودتي الأصابع مستقبلا بهما الْقِبْلَةَ إِلَى فُرُوعِ أُذُنَيْهِ، وَرُوِيَ إِلَى مَنْكِبَيْهِ، ثم يضع اليمنى على ظهر اليسرى فوق الرسغ والساعد، ولم يصح عنه موضع وضعهما، لكن ذكر أبو داود عن علي: من السنة وضع الكف على الكف في الصلاة تحت السرة (2) .
وَكَانَ يَسْتَفْتِحُ تَارَةً بِ: «اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنَ الذُّنُوبِ وَالْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ» وَتَارَةً يَقُولُ: «وَجَّهْتُ وجهي للذي فطر السموات وَالْأَرْضَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ، وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ»
«اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نفسي، واعترفت بذنبي، فاغفر لي ذنوبي جميعا، إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ، واصرف عني سيئها لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ، لَبَّيْكَ وسعديك، والخير في يديك، والشر ليس
--------------------------------------------
যখন তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ তাবুক যুদ্ধে সফর করছিলেন, তখন তাঁরা সেই বালুকাময় পথ অতিক্রম করেন এমতাবস্থায় যে তাঁদের পানি ছিল অত্যন্ত অল্প। তাঁর থেকে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে তিনি সাথে মাটি বহন করেছিলেন, না তিনি এর নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাঁর সাহাবীদের কেউ এমনটি করেননি। যে ব্যক্তি এটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে সে নিশ্চিত হবে যে তিনি বালি দিয়ে তায়াম্মুম করতেন।
এবং তিনি একে ওযুর স্থলাভিষিক্ত করেছেন (১) . ..
[সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ
সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ: তিনি যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন বলতেন: আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ), এবং এর পূর্বে তিনি কিছুই বলতেন না। তিনি মুখে নিয়ত উচ্চারণ করতেন না এবং তাবিঈন ও চার ইমামের কেউই একে উত্তম মনে করেননি।
তাঁর তাকবীরে তাহরীমার নিয়মিত শব্দ ছিল: ‘আল্লাহু আকবার’। এছাড়া অন্য কিছু নয়। তিনি এর সাথে তাঁর হাত দুটি আঙুল প্রসারিত অবস্থায় কিবলামুখী করে তাঁর কানের লতি পর্যন্ত তুলতেন এবং কাঁধ পর্যন্ত তোলার বর্ণনাও রয়েছে। এরপর তিনি তাঁর ডান হাতকে বাম হাতের পিঠের উপর কবজি ও বাহুর সংযোগস্থলের উপরে রাখতেন। তবে কোথায় হাত রাখতে হবে সে সম্পর্কে তাঁর থেকে সহীহ কিছু সাব্যস্ত হয়নি। কিন্তু আবু দাউদ আলী (রা.) থেকে উল্লেখ করেছেন: সালাতে নাভির নিচে হাতের তালুর উপর হাতের তালু রাখা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত (২)।
তিনি কখনো এই দুআ দিয়ে শুরু করতেন: «হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহসমূহের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে দিন যেমন আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছেন। হে আল্লাহ! আমাকে আমার গুনাহসমূহ থেকে পানি, বরফ ও শিলা দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দিন। হে আল্লাহ! আমাকে গুনাহ ও পাপাচার থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়» আবার কখনো বলতেন: «আমি একনিষ্ঠভাবে এবং মুসলিম হিসেবে আমার চেহারা তাঁর দিকে ফেরালাম যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই নির্দেশিত হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের অগ্রগামী»
«হে আল্লাহ! আপনিই অধিপতি, আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমার রব এবং আমি আপনার বান্দা, আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। সুতরাং আমার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আমাকে উত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করুন, আপনি ছাড়া কেউ উত্তম চরিত্রের দিকে পথ দেখাতে পারে না। আর আমার থেকে মন্দ স্বভাব দূর করে দিন, আপনি ছাড়া কেউ তা দূর করতে পারে না। আমি আপনার দরবারে উপস্থিত ও আপনার আদেশ পালনে সচেষ্ট। আর সকল কল্যাণ আপনার দুই হাতে এবং অমঙ্গল আপনার দিকে সম্পৃক্ত নয়»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
إِلَيْكَ، أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ، تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وأتوب إليك» ولكن المحفوظ أنه فِي قِيَامِ اللَّيْلِ.
وَتَارَةً يَقُولُ: «اللَّهُمَّ رَبَّ جبريل وميكائيل وإسرافيل. .» إلى آخره. وقد تقدم (1) .
وَتَارَةً يَقُولُ: «اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ، أَنْتَ نُورُ السموات والأرض ومن فيهن» إلى آخره (2) . ثم ذكر (3) نوعين آخرين، ثم قال: فكل هذه الأنواع قد صحت عنه.
وروي عنه أنه كان يستفتح ب «سبحانك اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إله غيرك» ذكره أهل " السنن " والذي قَبْلَهُ أَثْبَتُ مِنْهُ. وَلَكِنْ صَحَّ عَنْ عُمَرَ أنه يَسْتَفْتِحُ بِهِ فِي مَقَامِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ويجهر به، يعلمه الناس. قال أحمد أذهب إِلَى مَا رُوِيَ عَنْ عمر، وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا اسْتَفْتَحَ بِبَعْضِ مَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كان حسنا.
وَكَانَ يَقُولُ بَعْدَ ذَلِكَ: أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ ثُمَّ يَقْرَأُ الْفَاتِحَةَ.
وَكَانَ يَجْهَرُ بـ " بسم الله الرحمن الرحيم " تارة ويخفيها أكثر.
وَكَانَتْ قِرَاءَتَهُ مَدًّا، يَقِفُ عِنْدَ كُلِّ آيَةٍ وَيَمُدُّ بِهَا صَوْتَهُ، فَإِذَا فَرَغَ مِنْ قِرَاءَةِ الْفَاتِحَةِ قَالَ: " آمِينَ " فَإِنْ كَانَ يَجْهَرُ بِالْقِرَاءَةِ رَفَعَ بِهَا صَوْتَهُ، وَقَالَهَا مَنْ خَلْفَهُ.
وَكَانَ له سكتتان: سكتة بين التكبيرة والقراءة، واختلف في الثانية، فروي بعد الفاتحة، وروي أنها قبل الركوع.
وقيل: بل سكتتان غير الأولى، والظاهر أنهما اثنتان فقط، وأما الثالثة فلطيفة، لأجل تراد النفس، فمن لم يذكرها، فلقصرها.
فإذا فرغ من قراءة الْفَاتِحَةِ أَخَذَ فِي سُورَةٍ غَيْرِهَا، وَكَانَ يُطِيلُهَا تَارَةً وَيُخَفِّفُهَا لِعَارِضٍ مِنْ سَفَرٍ أَوْ غَيْرِهِ، ويتوسط فيها غالبا.
--------------------------------------------
...আপনার দিকেই। আমি আপনার সাহায্যেই এবং আপনার দিকেই (নিবেদিত)। আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি।” তবে সংরক্ষিত (নির্ভরযোগ্য) বর্ণনা অনুযায়ী এটি রাতের সালাতের ক্ষেত্রে।
আবার কখনো তিনি বলতেন: “হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল এবং ইসরাফিলের রব...” শেষ পর্যন্ত। আর এটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে (১)।
আবার কখনো তিনি বলতেন: “হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনারই, আপনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে তাদের নূর...” শেষ পর্যন্ত (২)। অতঃপর তিনি (৩) আরও দুটি প্রকার উল্লেখ করেছেন, তারপর বলেছেন: এই সকল প্রকারই তাঁর থেকে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত।
তাঁর থেকে এ-ও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সালাত শুরু করতেন এভাবে: “হে আল্লাহ! আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মহিমা সুউচ্চ এবং আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই।” এটি ‘সুনান’ গ্রন্থকারগণ উল্লেখ করেছেন এবং এর পূর্বেরটি এর চেয়ে অধিক সুদৃঢ়। তবে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সহীহভাবে বর্ণিত আছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্থানে (দাঁড়িয়ে) এটি উচ্চস্বরে পাঠ করে সালাত শুরু করতেন যেন মানুষকে তা শেখাতে পারেন। ইমাম আহমদ বলেন, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে আমি সেটির পক্ষেই মত দেই; তবে যদি কোনো ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অন্য কোনো দোয়া দিয়ে শুরু করে তবে তা উত্তম হবে।
এরপর তিনি বলতেন: “বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” অতঃপর সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন।
তিনি কখনো কখনো উচ্চস্বরে “বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম” পাঠ করতেন, তবে অধিকাংশ সময় এটি নিম্নস্বরে পড়তেন।
তাঁর কিরাত পাঠ ছিল দীর্ঘ ও টেনে টেনে পড়া, তিনি প্রতিটি আয়াতের শেষে থামতেন এবং স্বর দীর্ঘ করতেন। সূরা ফাতিহা পাঠ শেষ করে তিনি বলতেন: “আমীন”। যদি তিনি উচ্চস্বরে কিরাত পড়তেন তবে আমীন বলার সময় আওয়াজ উঁচু করতেন এবং তাঁর পেছনের মুক্তাদিগণও তা বলত।
তাঁর দুটি বিরতি (সাকতা) ছিল: একটি বিরতি তাকবীরে তাহরিমা এবং কিরাতের মাঝখানে। দ্বিতীয়টির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; বর্ণিত আছে যে তা ফাতিহার পরে এবং এ-ও বর্ণিত আছে যে তা রুকুর পূর্বে।
কেউ কেউ বলেছেন: প্রথমটি ছাড়াও আরও দুটি বিরতি ছিল। তবে প্রকাশ্য কথা হলো বিরতি মাত্র দুটি। আর তৃতীয়টি ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, শ্বাস নেয়ার জন্য; ফলে অতি সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে কেউ কেউ তা উল্লেখ করেননি।
সূরা ফাতিহা পাঠ শেষ করে তিনি অন্য কোনো সূরা শুরু করতেন। সফর বা অন্য কোনো কারণে তিনি তা কখনো দীর্ঘ করতেন আবার কখনো সংক্ষেপ করতেন, তবে অধিকাংশ সময় মধ্যম মানের কিরাত পড়তেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
[فصل في قراءة صلاة الفجر]فصل
في قراءة صلاة الفجر وَكَانَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ بِنَحْوِ سِتِّينَ آيَةً إلى مائة، وصلاها بـ (سورة ق) (1) وصلاها بـ (سورة الرُّومِ) ، وَصَلَّاهَا بِ {إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ} [التكوير: 1] (2) وصلاها بسورة {إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ} [الزلزلة: 1] (3) في الركعتين كلتيهما، وصلاها (بالمعوذتين) ، وكان في السفر، وصلاها: فاستفتح سُورَةِ (الْمُؤْمِنُونَ) حَتَّى إِذَا بَلَغَ ذِكْرَ مُوسَى وَهَارُونَ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى، أَخَذَتْهُ سَعْلَةٌ فَرَكَعَ.
وكان يصليها يوم الجمعة بـ (الم السجدة) وَ {هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ} [الإنسان: 1] لِمَا اشتملتا عليه من الْمَبْدَأِ وَالْمَعَادِ، وَخَلْقِ آدَمَ، وَدُخُولِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، وذكر ما كان وما يكون في يوم الجمعة، كَمَا كَانَ يَقْرَأُ فِي الْمَجَامِعِ الْعِظَامِ، كَالْأَعْيَادِ والجمعة بـ (سورة ق) ، وَ (اقْتَرَبَتْ) وَ (سَبِّحْ) وَ (الْغَاشِيَةِ) .
[فصل في هديه في القراءة في باقي الصلوات]فصل
في هديه في القراءة في باقي الصلوات وَأَمَّا الظُّهْرُ، فَكَانَ يُطِيلُ قِرَاءَتَهَا أَحْيَانًا، حَتَّى قَالَ أبو سعيد: كَانَتْ صَلَاةُ الظُّهْرِ تُقَامُ، فَيَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى الْبَقِيعِ، فَيَقْضِي حَاجَتَهُ، ثُمَّ يَأْتِي أَهْلَهُ فَيَتَوَضَّأُ، وَيُدْرِكُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى مِمَّا يُطِيلُهَا. رَوَاهُ مسلم، وَكَانَ يَقْرَأُ فِيهَا تَارَةً بِقَدْرِ {الم - تنزيل} [السجدة: 1 - 2] السجدة (4) وَتَارَةً بِـ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} [الأعلى: 1] {وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى} [الليل: 1] (5) وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْبُرُوجِ (6) .
وأما العصر، فعلى النصف من قراءة الظُّهْرِ إِذَا طَالَتْ، وَبِقَدْرِهَا إِذَا قَصُرَتْ.
وَأَمَّا الْمَغْرِبُ، فَكَانَ هَدْيُهُ فِيهَا خِلَافَ عَمَلِ النَّاسِ اليوم، فإنه صلاها مرة
--------------------------------------------
[ফজর সালাতের কিরাআত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ
ফজর সালাতের কিরাআত সম্পর্কিত: তিনি ফজরের সালাতে প্রায় ষাট থেকে একশত আয়াত তিলাওয়াত করতেন। তিনি এই সালাত সুরা ‘ক্বফ’ দিয়ে আদায় করেছেন এবং সুরা ‘আর-রুম’ দিয়েও আদায় করেছেন। আবার কখনও তিনি {ইযাশ শামসু কুউয়িরাত} [আত-তাকউইর: ১] দিয়ে এবং উভয় রাকাআতেই সুরা {ইযা যুলযিলাতিল আরদু} [আয-যালযালাহ: ১] দিয়ে এই সালাত আদায় করেছেন। সফর অবস্থায় তিনি ‘মুআউবিযাতাইন’ (সুরা ফালাক ও নাস) দিয়ে সালাত আদায় করেছেন। একবার তিনি সালাত শুরু করে সুরা ‘আল-মুমিনুন’ তিলাওয়াত করতে লাগলেন, এমনকি যখন প্রথম রাকাআতে মুসা ও হারুনের আলোচনার অংশে পৌঁছালেন, তখন তাঁর কাশি উঠল এবং তিনি রুকু করলেন।
তিনি জুমার দিন এই সালাতে (আলিফ লাম মিম) ‘আস-সাজদাহ’ এবং {হাল আতা আলাল ইনসানি} [আল-ইনসান: ১] পাঠ করতেন; কারণ এই দুই সুরায় সৃষ্টিতত্ত্ব ও পরকাল, আদমের সৃষ্টি এবং জান্নাত ও জাহান্নামে প্রবেশের আলোচনা রয়েছে। এছাড়া জুমার দিনে যা কিছু ঘটেছে ও ঘটবে তার উল্লেখ এতে রয়েছে। অনুরূপভাবে তিনি বড় বড় সমাবেশে যেমন দুই ঈদ ও জুমার সালাতে সুরা ‘ক্বফ’, ‘ইক্বতরাবাত’, ‘সাব্বিহ’ এবং ‘আল-গাশিয়াহ’ তিলাওয়াত করতেন।
[অন্যান্য সালাতের কিরাআতে তাঁর আদর্শ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ
অন্যান্য সালাতের কিরাআতে তাঁর আদর্শ সম্পর্কিত: যোহরের সালাতের ক্ষেত্রে তিনি কখনো কিরাআত দীর্ঘ করতেন, এমনকি আবু সাঈদ (রা.) বলেন: যোহরের সালাত শুরু হতো, অতঃপর কোনো ব্যক্তি ‘বাক্বী’ (কবরস্থান) এর দিকে গিয়ে নিজের প্রয়োজন পূরণ করে তার পরিবারের কাছে ফিরে আসত এবং অজু করত, এরপরও সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রথম রাকাআতেই পেত—সালাত দীর্ঘ হওয়ার কারণে। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে কখনো {আলিফ লাম মিম তানযিল} আস-সাজদাহ সমপরিমাণ তিলাওয়াত করতেন, আবার কখনো {সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা} [আল-আ'লা: ১], {ওয়াল্লায়লি ইযা ইয়াগশা} [আল-লায়ল: ১] এবং {ওয়াসসামায়ি যাাতিল বুরুজ} তিলাওয়াত করতেন।
আর আসরের ক্ষেত্রে—যদি যোহরের কিরাআত দীর্ঘ হতো তবে তার অর্ধেক পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন, আর যোহর সংক্ষিপ্ত হলে তার সমপরিমাণ তিলাওয়াত করতেন।
মাগরিবের সালাতের ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ বর্তমানকালের মানুষের আমলের বিপরীত ছিল; তিনি একবার এটি আদায় করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بـ (الأعراف) في الركعتين، ومرة بـ (الطور) (1) ومرة بـ (المرسلات) (2) .
وأما المداومة على قراءة قصار المفصل فيها، فهو من فعل مروان (3) . ولهذا أنكر عليه زيد بن ثابت قال ابن عبد البر روي عنه أنه قرأ في المغرب بـ (المص) (4) وبـ (الصافات) ، وبـ (الدخان) و {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} [الأعلى: 1] وبـ (التين) (5) وبـ (المعوذتين) وبـ (الْمُرْسَلَاتِ) وَأَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ فِيهَا بِقِصَارِ الْمُفَصَّلِ ; وكلها آثار صحاح مشهورة.
وأما عشاء الآخرة، فقرأ صلى الله عليه وسلم فيها بـ (التين) (6) وَوَقَّتَ لمعاذ فِيهَا: بِـ {وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا} [الشمس: 1] وبـ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} [الأعلى: 1] {وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى} [الليل: 1] وَنَحْوِهَا.
وَأَنْكَرَ عَلَيْهِ قِرَاءَتَهُ فِيهَا بـ (البقرة) وقال لَهُ: «أَفَتَّانٌ أَنْتَ يَا معاذ؟» فَتَعَلَّقَ النَّقَّارُونَ (7) بِهَذِهِ الْكَلِمَةِ، وَلَمْ يَلْتَفِتُوا إِلَى مَا قَبْلَهَا وما بَعْدَهَا.
وَأَمَّا الْجُمُعَةُ، فَكَانَ يَقْرَأُ فِيهَا بِسُورَتَيِ (الجمعة) و (المنافقين) (8) وسورتي: (سبح) و (الغاشية) (9) .
وأما الأعياد، فتارة يقرأ بـ (ق) و (اقتربت) (10) كاملتين، وتارة بـ (سبح) و (الغاشية) (11) وهذا الهدي الذي استمر عَلَيْهِ إِلَى أَنْ لَقِيَ اللَّهَ عز وجل.
ولهذا أخذ به الخلفاء، فقرأ أبو بكر في الفجر سورة (البقرة) حتى سلم قريبا من طلوع الشمس (12) . وكان بعده عمر يقرأ فيها بـ (يوسف) و (النحل) و (هود) و (بني إسرائيل) ونحوها.
وأما قوله: «أيكم أمّ الناس فليخفف» فالتخفيف أمر نسبي يرجع فيه إِلَى مَا فَعَلَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، لا إلى شهوات المأمومين.
وهديه الذي كان يواظب عليه، هو الحاكم في كل ما تنازع فيه المتنازعون.
وكان لا يعين سورة بعينها لا يقرأ
--------------------------------------------
(মাগরিবের) দুই রাকাতে সূরা (আল-আরাফ), কখনো সূরা (আত-তূর) (১) এবং কখনো সূরা (আল-মুরসালাত) (২) পাঠ করতেন।
আর এতে (মাগরিবে) সর্বদা কিসারে মুফাসসাল (ছোট সূরা) পাঠ করা মারওয়ানের (৩) কাজ ছিল। এ কারণেই জায়েদ বিন সাবিত তাঁর প্রতিবাদ করেছিলেন। ইবনে আব্দুল বার বলেন, বর্ণিত আছে যে তিনি মাগরিবে সূরা আল-আরাফ (৪), আস-সাফফাত, আদ-দুখান, ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ’লা’, আত-তীন (৫), মুআউবিজাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস) এবং আল-মুরসালাত পাঠ করেছেন। আর তিনি এতে কিসারে মুফাসসালও পাঠ করতেন; এগুলোর সবই সহীহ ও প্রসিদ্ধ বর্ণনা।
আর ইশার সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা আত-তীন (৬) পাঠ করেছেন। তিনি মুআযকে এতে সূরা ‘ওয়াশ-শামসি ওয়া দুহাহা’, ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ’লা’, ‘ওয়াল-লাইলি ইযা ইয়াগশা’ এবং এ জাতীয় সূরাগুলো পাঠ করার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।
তিনি মুআযের সূরা আল-বাকারা পাঠের প্রতিবাদ করেছিলেন এবং তাকে বলেছিলেন: “হে মুআয! তুমি কি ফিতনাকারী?” যারা সালাতে তাড়াহুড়োকারী (৭) তারা এই শব্দটিকে আঁকড়ে ধরেছে, কিন্তু এর আগের ও পরের কথাগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি।
জুমুআর সালাতে তিনি সূরা আল-জুমুআ ও সূরা আল-মুনাফিকুন (৮) এবং সূরা ‘সাব্বিহ’ ও সূরা আল-গাশিয়াহ (৯) পাঠ করতেন।
ঈদের সালাতে কখনো সূরা কাফ ও সূরা ইকতারাবাত (১০) পূর্ণাঙ্গভাবে পাঠ করতেন, আবার কখনো সূরা সাব্বিহ ও সূরা আল-গাশিয়াহ (১১) পাঠ করতেন। আর এটিই ছিল তাঁর আদর্শ যা মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
এ কারণেই খলীফাগণ এটি গ্রহণ করেছিলেন। আবু বকর ফজর সালাতে সূরা আল-বাকারা পাঠ করেছিলেন এমনকি তিনি যখন সালাম ফিরিয়েছিলেন তখন সূর্যোদয়ের কাছাকাছি ছিল (১২)। তাঁর পরে উমর এতে সূরা ইউসুফ, আন-নাহল, হুদ, বনী ইসরাঈল এবং এ জাতীয় সূরাগুলো পাঠ করতেন।
আর তাঁর এই বাণী: “তোমাদের মধ্যে যে মানুষের ইমামতি করে সে যেন সংক্ষিপ্ত করে” - এই সংক্ষেপণ একটি আপেক্ষিক বিষয় যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন তার দিকে ফিরে যাবে, মুক্তাদীদের খামখেয়ালিপনার দিকে নয়।
আর তাঁর যে আদর্শের ওপর তিনি অবিচল ছিলেন, তা-ই হলো বিবাদকারীদের বিবাদমান সকল বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী।
আর তিনি নির্দিষ্ট কোনো সূরাকে এমনভাবে নির্দিষ্ট করতেন না যা ছাড়া তিনি পাঠ করতেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
إلا بها، إلا في الجمعة والعيدين.
وكان من هديه قراءة السورة، وربما قرأها في الركعتين. وَأَمَّا قِرَاءَةُ أَوَاخِرِ السُّوَرِ وَأَوْسَاطِهَا، فَلَمْ يُحْفَظْ عنه.
وأما قراءة السورتين في الركعة، فكان يفعله في النافلة. وَأَمَّا قِرَاءَةُ سُورَةٍ وَاحِدَةٍ فِي رَكْعَتَيْنِ مَعًا، فقلما كان يفعله.
وكان يطل الركعة الأولى على الثانية من كُلِّ صَلَاةٍ، وَرُبَّمَا كَانَ يُطِيلُهَا، حَتَّى لَا يسمع وقع قدم.
[فصل في ركوعه صلى الله عليه وآله وسلم]فصل
في ركوعه صلى الله عليه وآله وسلم فإذا فرغ من القراءة، رفع يديه وَكَبَّرَ رَاكِعًا، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ كَالْقَابِضِ عَلَيْهِمَا، وَوَتَّرَ يَدَيْهِ، فَنَحَّاهُمَا عَنْ جَنْبَيْهِ، وَبَسَطَ ظهره ومده، واعتدل فلم ينصب رأسه ولم يخفضه، بل حيال ظهره.
فلم ينصب رأسه ولم يخفضه، بل حيال ظهره. وَكَانَ يَقُولُ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ» (1) وَتَارَةً يَقُولُ مَعَ ذَلِكَ، أَوْ مُقْتَصِرًا عَلَيْهِ: «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي» وَكَانَ رُكُوعُهُ المعتاد مقدار عشر تسبيحات، وسجوده كذلك، وَتَارَةً يَجْعَلُ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ بِقَدْرِ الْقِيَامِ، وَلَكِنْ كان يفعله أحيانا في صلاة الليل وحده. فهديه الغالب تَعْدِيلُ الصَّلَاةِ وَتَنَاسُبُهَا.
وَكَانَ يَقُولُ أَيْضًا فِي رُكُوعِهِ: «سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ» (2) وَتَارَةً يَقُولُ: «اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، خَشَعَ لَكَ سَمْعِي، وَبَصَرِي وَمُخِّي، وَعَظْمِي، وَعَصَبِي» (3) وَهَذَا إِنَّمَا حُفِظَ عَنْهُ فِي قِيَامِ الليل.
ثم يرفع رأسه قَائِلًا: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ، وَكَانَ دَائِمًا يُقِيمُ صُلْبَهُ، إِذَا رَفَعَ مِنَ الرُّكُوعِ، وَبَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ، وَيَقُولُ: «لَا تُجْزِئُ صَلَاةٌ لا يقيم الرجل فيها صلبه في الركوع والسجود» وكان إذا استوى قال: «ربنا ولك الحمد» وربما
--------------------------------------------
এটি ছাড়া নয়, তবে জুমুআহ ও দুই ঈদের সালাত ব্যতীত।
তাঁর তরীকা ছিল পূর্ণ সূরা পাঠ করা, কখনও তিনি তা উভয় রাকাআতেই পাঠ করতেন। আর সূরার শেষাংশ কিংবা মধ্যাংশ পাঠ করার বিষয়টি তাঁর থেকে বর্ণিত হয়নি।
আর এক রাকাআতে দুই সূরা পাঠের বিষয়টি তিনি নফল সালাতে করতেন। কিন্তু উভয় রাকাআতে মিলে একটি মাত্র সূরা পাঠ তিনি খুব কমই করতেন।
তিনি প্রত্যেক সালাতের প্রথম রাকাআতকে দ্বিতীয় রাকাআতের চেয়ে দীর্ঘ করতেন, এবং কখনও কখনও তিনি তা এতটাই দীর্ঘ করতেন যে পদাঘাতের শব্দও শোনা যেত না।
[রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের রুকু সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের রুকু সম্পর্কে। যখন তিনি কিরাত শেষ করতেন, তখন তাঁর দুই হাত উঠাতেন এবং রুকুতে যাওয়ার জন্য তাকবীর দিতেন। তিনি তাঁর দুই হাতের তালু দুই হাঁটুর ওপর এমনভাবে রাখতেন যেন তিনি তা আঁকড়ে ধরে আছেন। তিনি তাঁর হাত দুটোকে ধনুকের মতো বাঁকিয়ে পার্শ্বদেশ থেকে আলাদা রাখতেন। তিনি তাঁর পিঠকে প্রসারিত ও সোজা করতেন এবং এমন ভারসাম্যপূর্ণ রাখতেন যে তাঁর মাথা পিঠের চেয়ে উঁচুও হতো না আবার নিচুও হতো না, বরং পিঠের সমান্তরালে থাকত।
তিনি মাথা উঁচুও করতেন না আবার নিচুও করতেন না, বরং তা পিঠের সমান্তরালে থাকত। তিনি বলতেন: "পবিত্রতা ঘোষণা করছি আমার মহান রবের" (১)। কখনও এর সাথে অথবা কেবল এটিই বলতেন: "হে আল্লাহ, আমাদের রব! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন।" তাঁর সাধারণ রুকু দশটি তাসবীহ পরিমাণের হতো এবং তাঁর সিজদাহও তেমনি হতো। কখনও কখনও তিনি রুকু ও সিজদাহকে কিয়ামের (দাঁড়ানো) সমান দীর্ঘ করতেন, তবে তা মাঝেমধ্যে একাকী রাতের সালাতে করতেন। তাঁর সাধারণ তরীকা ছিল সালাতের সকল রুকন সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সুষম রাখা।
তিনি তাঁর রুকুতে আরও বলতেন: "অতি পবিত্র, অত্যন্ত মহিমান্বিত, ফেরেশতাকুল ও রূহের রব" (২)। কখনও বলতেন: "হে আল্লাহ! আপনার জন্যই আমি রুকু করেছি, আপনার ওপরই ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি। আপনার সমীপে বিনীত হয়েছে আমার শ্রবণশক্তি, আমার দৃষ্টিশক্তি, আমার মগজ, আমার হাড় ও আমার স্নায়ু" (৩)। এটি কেবল তাঁর রাতের কিয়াম (তাহাজ্জুদ) থেকেই বর্ণিত হয়েছে।
অতঃপর তিনি 'আল্লাহ তাঁর প্রশংসাকারীর কথা শোনেন' বলে মাথা উঠাতেন এবং তাঁর দুই হাত উত্তোলন করতেন। রুকু থেকে ওঠার পর এবং দুই সিজদাহর মধ্যবর্তী সময়ে তিনি সর্বদা তাঁর মেরুদণ্ড সোজা করতেন। তিনি বলতেন: "সেই ব্যক্তির সালাত যথেষ্ট হবে না, যে রুকু ও সিজদাহর মাঝে তার মেরুদণ্ড সোজা করে না।" আর তিনি যখন সোজা হয়ে উঠতেন, তখন বলতেন: "হে আমাদের রব! আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা।" এবং কখনও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قال: «اللهم ربنا لك الحمد» وأما الجمع بين اللهم والواو، فَلَمْ يَصِحَّ (1) .
وَكَانَ مِنْ هَدْيِهِ إِطَالَةُ هَذَا الركن بقدر الركوع، فصح عنه أنه كان يقول فيه: «اللهم ربنا لك الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ، وَمِلْءَ مَا بينهما، وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ، أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ، أَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ، وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ، لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ» (2) وَصَحَّ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِيهِ: «اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِّنِي مِنَ الذُّنُوبِ وَالْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، وَبَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ»
وَصَحَّ عَنْهُ أَنَّهُ كَرَّرَ فِيهِ قَوْلَهُ: «لِرَبِّيَ الْحَمْدُ، لربي الحمد» (3) .
حتى كان بقدر ركوعه.
وذكر مسلم عَنْ أنس: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ» قَامَ حَتَّى نَقُولَ: قَدْ أَوْهَمَ. ثُمَّ يَسْجُدُ ويقعد بين السجدتين حتى نقول: قد أوهم فهذا هديه المعلوم، وَتَقْصِيرُ هَذَيْنِ الرُّكْنَيْنِ مِمَّا تَصَرَّفَ فِيهِ أُمَرَاءُ بني أمية حَتَّى ظَنَّ أَنَّهُ مِنَ السُّنَّةِ.
[فَصْلٌ في كيفية سجوده]فَصْلٌ ثُمَّ كَانَ يُكَبِّرُ وَيَخِرُّ سَاجِدًا، وَلَا يرفع يديه. وكان يضع ركبتيه ثُمَّ يَدَيْهِ بَعْدَهُمَا، ثُمَّ جَبْهَتَهُ وَأَنْفَهُ. هذَا هو الصحيح (4) فكان أَوَّلُ مَا يَقَعُ مِنْهُ عَلَى الْأَرْضِ الْأَقْرَبَ إليها فالأقرب، وأول ما يرتفع الأعلى فالأعلى، فإذا رفع رأسه أول، ثم يديه، ثم ركبتيه، وهكذا عكس فعل البعير. وهو نهي عن التشبه بالحيوانات في الصلاة، فَنَهَى عَنْ بُرُوكٍ كَبُرُوكِ الْبَعِيرِ، وَالْتِفَاتٍ كَالْتِفَاتِ الثَّعْلَبِ، وَافْتِرَاشٍ كَافْتِرَاشِ السَّبُعِ، وَإِقْعَاءٍ كَإِقْعَاءِ الْكَلْبِ، وَنَقْرٍ كَنَقْرِ الْغُرَابِ، وَرَفْعِ الْأَيْدِي وَقْتَ السَّلَامِ كأذناب الخيل الشمس.
وكان يَسْجُدُ عَلَى جَبْهَتِهِ وَأَنْفِهِ دُونَ كَوْرِ الْعِمَامَةِ، ولم يثبت عنه
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "হে আল্লাহ, আমাদের রব, সকল প্রশংসা আপনারই।" আর "আল্লাহুম্মা" এবং "ওয়াও" (আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ)-এর সমন্বয় করা সহিহ প্রমাণিত নয় (১)।
তাঁর পদ্ধতি ছিল এই রুকনটিকে (রুকু থেকে দাঁড়িয়ে থাকা) রুকুর সমপরিমাণ দীর্ঘ করা। তাঁর থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এতে বলতেন: "হে আল্লাহ, আমাদের রব, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা; যা আসমানসমূহ পূর্ণ করে, জমিন পূর্ণ করে, এই দুটির মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা চান তা পূর্ণ করে। হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী, বান্দা যা বলে তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে ধ্রুব সত্য—আর আমরা সবাই আপনারই বান্দা। আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই। আর কোনো সম্পদশালীর সম্পদ আপনার কাছে কোনো উপকারে আসবে না" (২)। তাঁর থেকে আরও সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এতে বলতেন: "হে আল্লাহ! আমাকে আমার পাপসমূহ থেকে পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টি দিয়ে ধুয়ে দিন। আমাকে গুনাহ ও ত্রুটি থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করুন, যেভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। আর আমার ও আমার পাপসমূহের মধ্যে এমন দূরত্ব তৈরি করে দিন, যেমন দূরত্ব আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে রেখেছেন।"
তাঁর থেকে আরও সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এতে বারবার বলতেন: "আমার রবের জন্যই প্রশংসা, আমার রবের জন্যই প্রশংসা" (৩)।
এমনকি এই অবস্থানটি তাঁর রুকুর সমপরিমাণ দীর্ঘ হতো।
ইমাম মুসলিম আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলতেন, তখন তিনি এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন যে আমরা বলতাম: তিনি হয়তো ভুলে গেছেন। এরপর তিনি সিজদা করতেন এবং দুই সিজদার মাঝখানে এত দীর্ঘ সময় বসে থাকতেন যে আমরা বলতাম: তিনি হয়তো ভুলে গেছেন। এটিই ছিল তাঁর সুবিদিত পদ্ধতি। আর এই দুটি রুকনকে সংক্ষিপ্ত করা উমাইয়া শাসকদের প্রবর্তিত বিষয়, যা এমনকি মানুষ সুন্নত মনে করতে শুরু করেছিল।
[সিজদা করার পদ্ধতি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ: এরপর তিনি তাকবির দিতেন এবং সিজদায় অবনমিত হতেন, তবে হাত তুলতেন না। তিনি প্রথমে তাঁর হাঁটু রাখতেন, এরপর তাঁর হাত দুটি, এরপর কপাল ও নাক। এটিই সঠিক মত (৪)। তাঁর শরীরের যে অংশটি মাটির সবচেয়ে নিকটবর্তী হতো, সেটিই আগে মাটিতে পড়ত। আর উঠার সময় শরীরের উপরের অংশ আগে উঠত। সুতরাং যখন তিনি মাথা তুলতেন, প্রথমে মাথা উঠত, এরপর হাত দুটি, এরপর হাঁটু দুটি। এভাবে উটের বসার পদ্ধতির বিপরীত আমল করা হতো। এটি সালাতে পশুর সদৃশ হওয়া থেকে নিষেধ করার অন্তর্ভুক্ত। তিনি উটের মতো করে হাঁটু গেড়ে বসা, শেয়ালের মতো এদিক-ওদিক তাকানো, হিংস্র পশুর মতো হাত বিছিয়ে দেওয়া, কুকুরের মতো পা খাড়া করে বসা, কাকের মতো ঠোকর দেওয়া এবং সালামের সময় অবাধ্য ঘোড়ার লেজের মতো হাত তোলা থেকে নিষেধ করেছেন।
তিনি পাগড়ির ভাঁজ সরিয়ে কপাল ও নাকের ওপর সিজদা করতেন। আর তাঁর থেকে এমনটি প্রমাণিত হয়নি যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
السجود عليه، وكان يَسْجُدُ عَلَى الْأَرْضِ كَثِيرًا، وَعَلَى الْمَاءِ وَالطِّينِ، وَعَلَى الْخُمْرَةِ الْمُتَّخَذَةِ مِنْ خُوصِ النَّخْلِ، وَعَلَى الْحَصِيرِ الْمُتَّخَذِ مِنْهُ، وَعَلَى الْفَرْوَةِ الْمَدْبُوغَةِ.
وَكَانَ إِذَا سَجَدَ مَكَّنَ جَبْهَتَهُ وَأَنْفَهُ مِنَ الْأَرْضِ، ونحى يديه عن جنبيه، وجافاهما حتى يرى بياض إبطيه، وكان يضع يديه حذو منكبيه وأذنيه، ويعتدل فِي سُجُودِهِ، وَيَسْتَقْبِلُ بِأَطْرَافِ أَصَابِعِ رِجْلَيْهِ الْقِبْلَةَ، ويبسط كفيه وأصابعه، ولا يفرج بينهما، ولا يقبضهما. وَكَانَ يَقُولُ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى» (1) وَأَمَرَ بِهِ، ويقول: «سبحانك اللهم ربنا وبحمدك، اللهم اغفر لي» (2) ويقول: «سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ» (3) .
وَكَانَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ، وَبِكَ آمَنْتَ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ» (4) وَكَانَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ» (5) وَكَانَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ اغفر لي خطاياي وَجَهْلِي، وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي جِدِّي وَهَزْلِي، وخطاياي وَعَمْدِي وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ما قدمت وما أخرت، وما أسررت وما أَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ» وَأَمَرَ بِالِاجْتِهَادِ فِي الدُّعَاءِ فِي السُّجُودِ، وَقَالَ: «إنه قمن أن يستجاب لكم»
[فصل في كيفية جلوسه وإشارته في التشهد]فصل ثم يرفع رأسه مكبرا غير رافع يديه، ثم يجلس مفترشا يفرش اليسرى، ويجلس عليها، وينصب اليمنى، ويضع يديه على فخذيه، ويجعل مرفقيه على فخذيه، وطرف يده على ركبتيه، ويقبض اثنتين من أصابعه، وحلق حلقة، ثم يرفع إصبعه يدعو بها، ولا يحركها، ثم يقول: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي، وَاجْبُرْنِي، وَاهْدِنِي، وَارْزُقْنِي» هكذا ذكره ابن عباس عنه.
وذكر حذيفة عنه أنه كان يقول: «رب اغفر لي» ثم ينهض على صدور
--------------------------------------------
সিজদাহ করার মাধ্যম; তিনি অধিকাংশ সময় মাটির ওপর সিজদাহ করতেন, এবং পানি ও কাদার ওপর, খেজুর পাতার তৈরি ছোট চাটাইয়ের ওপর, তা থেকে তৈরি পাটির ওপর এবং পাকা চামড়ার ওপরও সিজদাহ করতেন।
যখন তিনি সিজদাহ করতেন, তিনি তাঁর কপাল ও নাক জমিনে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করতেন, এবং তাঁর দুই হাত পার্শ্বদেশ থেকে আলাদা রাখতেন এবং তা এতটাই দূরে রাখতেন যে তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেত। তিনি তাঁর হাত দু’টি তাঁর কাঁধ ও কানের বরাবর রাখতেন, তাঁর সিজদাহ সুঠামভাবে আদায় করতেন এবং তাঁর দুই পায়ের আঙুলের অগ্রভাগ কিবলামুখী করে রাখতেন। তিনি তাঁর হাতের তালু ও আঙুলগুলো প্রসারিত রাখতেন; সেগুলো ছড়িয়ে রাখতেন না এবং গুটিয়েও রাখতেন না। তিনি বলতেন: «আমার মহান পালনকর্তা পবিত্র» এবং তিনি এর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলতেন: «হে আল্লাহ, আমাদের পালনকর্তা! আপনার পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন» এবং বলতেন: «ফেরেশতাকুল ও রূহের পালনকর্তা অত্যন্ত পবিত্র ও অতি মহিমান্বিত»।
তিনি বলতেন: «হে আল্লাহ! আপনার জন্যই আমি সিজদাহ করেছি, আপনার ওপরই ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি। আমার চেহারা তাঁর জন্যই সিজদাহাবনত হয়েছে যিনি একে সৃষ্টি করেছেন ও এর আকৃতি দান করেছেন এবং এর শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি উন্মুক্ত করেছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ অতীব বরকতময়»। তিনি বলতেন: «হে আল্লাহ! আমার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করুন—তা সামান্য হোক বা বেশি, পূর্বের হোক বা পরের এবং প্রকাশ্য হোক বা গোপন»। তিনি আরও বলতেন: «হে আল্লাহ! আমার ভুল-ত্রুটি ও অজ্ঞতা, আমার কাজে সীমালঙ্ঘন এবং যা সম্পর্কে আপনি আমার চেয়ে বেশি অবগত, তা ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আমার ঐকান্তিক ও ঠাট্টামূলক কাজ, আমার ভুলবশত ও ইচ্ছাকৃত করা গুনাহ ক্ষমা করুন—এসবই আমার মাঝে রয়েছে। হে আল্লাহ! আমার আগের ও পরের এবং গোপন ও প্রকাশ্য গুনাহগুলো ক্ষমা করুন। আপনিই আমার ইলাহ, আপনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই»। তিনি সিজদাহ অবস্থায় দোয়ায় সচেষ্ট হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন: «এ অবস্থায় তোমাদের দোয়া কবুল হওয়ার অধিক সম্ভাবনা রয়েছে»
[তাশাহহুদে বসার পদ্ধতি ও আঙুল দ্বারা ইশারা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ: অতঃপর তিনি হাত উত্তোলন না করে তাকবির বলে তাঁর মাথা তুলতেন। এরপর তিনি বাম পা বিছিয়ে তার ওপর বসতেন এবং ডান পা খাড়া রাখতেন। তিনি তাঁর দুই হাত উরুর ওপর রাখতেন এবং দুই কনুই উরুর ওপর ও হাতের অগ্রভাগ হাঁটুদ্বয়ের ওপর রাখতেন। তিনি তাঁর আঙুলগুলোর দু’টি মুষ্টিবদ্ধ করতেন এবং (বুড়ো আঙুল ও মধ্যমা দিয়ে) একটি বৃত্ত তৈরি করতেন। এরপর তিনি তাঁর (তর্জনী) আঙুল তুলে তা দিয়ে দোয়া করতেন, কিন্তু তা নাড়াতেন না। অতঃপর বলতেন: «হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার ওপর দয়া করুন, আমার অভাব পূরণ করুন, আমাকে হিদায়াত দিন এবং আমাকে রিজিক দান করুন»—ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁর থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
হুযাইফাহ (রা.) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: «হে রব! আমাকে ক্ষমা করুন» অতঃপর তিনি তাঁর পায়ের অগ্রভাগের ওপর ভর করে উঠে দাঁড়াতেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قدميه وركبتيه، معتمدا على فخذيه، فإذا نهض افتتح القراءة ولم يسكت، كما يسكت عند الاستفتاح. ثم يصلي الثانية كالأولى إِلَّا فِي أَرْبَعَةِ أَشْيَاءَ: السُّكُوتِ وَالِاسْتِفْتَاحِ، وَتَكْبِيرَةِ الإحرام، وتطويلها.
فَإِذَا جَلَسَ لِلتَّشَهُّدِ، وَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فخذه الأيسر، ويده اليمنى على فخذه الأيمن، وأشار بالسبابة، وكان لا ينصبها نصبا، ولا يقيمها، بل يحنيها شيئا يسيرا، ولا يحركها، ويرفعها يدعو بها، ويرمي بصره إليها، ويبسط اليسرى على، وَيَتَحَامَلُ عَلَيْهَا.
وَأَمَّا صِفَةُ جُلُوسِهِ، فَكَمَا تَقَدَّمَ بين السجدتين سواء.
وأما حديث ابن الزبير الذي رواه مسلم كَانَ إِذَا قَعَدَ فِي الصَّلَاةِ جَعَلَ قَدَمَهُ الأيسر بين فخذه وساقه، وفرش قدمه الأيمن. فهذا في التشهد الأخير. ذكر ابن الزبير أنه يفرش اليمين، وذكر أبو حميد أنه ينصبها، وهذا والله أعلم ليس باختلاف، فإنه كان لا يجلس عليها، بَلْ يُخْرِجُهَا عَنْ يَمِينِهِ، فَتَكُونُ بَيْنَ الْمَنْصُوبَةِ والمفروشة، أو يقال: كان يفعل هذا وهذا، فكان ينصبها، وربما فرشها أحيانا، وهو أروح.
ثم كان يتشهد دائما بهذه الْجِلْسَةِ، وَيُعَلِّمُ أَصْحَابَهُ أَنْ يَقُولُوا: «التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ والصلوات والطيبات، السلام عليك أيها النبي ورحمة اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أن محمدا عبده ورسوله» وكان يخففه جدا كأنه يصلي على الرضف (1) وَلَمْ يُنْقَلْ عَنْهُ فِي حَدِيثٍ قَطُّ أَنَّهُ كان يصلي عليه وعلى آله فيه، ولا يستعيذ فيه من عذاب القبر، وعذاب جهنم، وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَفِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَمَنِ استحبه فإنما فهمه من عمومات قد تبين موقعها وَتَقْيِيدُهَا بِالتَّشَهُّدِ الْأَخِيرِ.
ثُمَّ كَانَ يَنْهَضُ مُكَبِّرًا عَلَى صُدُورِ قَدَمَيْهِ، وَعَلَى رُكْبَتَيْهِ، مُعْتَمِدًا عَلَى فخذيه. وفي " صحيح مسلم " وبعض طرق البخاري أَنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ، ثُمَّ كَانَ يَقْرَأُ الْفَاتِحَةَ وَحْدَهَا، وَلَمْ يَثْبُتْ عنه أنه قرأ في الأخيرتين بعد الفاتحة شيئا.
ولم يكن من هديه الالتفات في الصلاة. وفي " صحيح البخاري " أنه سئل عنه، فَقَالَ: «هُوَ اخْتِلَاسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلَاةِ العبد» وكان يفعله في الصلاة أحيانا لعارض، لم يكن
--------------------------------------------
তাঁর দুই পা এবং দুই হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে এবং তাঁর দুই উরুর ওপর নির্ভর করে তিনি দাঁড়াতেন। যখন তিনি দাঁড়াতেন, তখনই কিরাত (কুরআন পাঠ) শুরু করতেন এবং বিরতি নিতেন না, যেমনটি তিনি নামাজের প্রারম্ভিক দোয়ার (ইস্তিফতাহ) সময় বিরতি নিতেন। এরপর তিনি দ্বিতীয় রাকাত প্রথম রাকাতের মতোই আদায় করতেন, কেবল চারটি বিষয় ছাড়া: নীরবতা পালন, প্রারম্ভিক দোয়া, তাকবিরে তাহরিমা এবং সেটির দীর্ঘায়ন।
যখন তিনি তাশাহহুদের জন্য বসতেন, তখন তাঁর বাম হাত বাম উরুর ওপর এবং ডান হাত ডান উরুর ওপর রাখতেন। তিনি তর্জনী আঙুল দিয়ে ইশারা করতেন; তবে তিনি সেটাকে একদম খাড়া করে রাখতেন না, আবার পুরোপুরি শুইয়েও রাখতেন না, বরং সামান্য নিচু করে রাখতেন। তিনি আঙুলটি নাড়াতেন না, বরং সেটি উঁচিয়ে তা দিয়ে দোয়া করতেন এবং তাঁর দৃষ্টি সেটির দিকে নিবদ্ধ রাখতেন। আর বাম হাতটি উরুর ওপর বিছিয়ে রাখতেন এবং সেটির ওপর ভর দিতেন।
আর তাঁর বসার পদ্ধতি ছিল ঠিক দুই সাজদাহর মধ্যবর্তী বসার পদ্ধতির মতোই।
ইবনে যুবাইরের যে হাদিসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে— ‘তিনি যখন নামাজে বসতেন, তখন তাঁর বাম পা উরু ও নলার মাঝখানে রাখতেন এবং ডান পা বিছিয়ে দিতেন’—এটি মূলত শেষ তাশাহহুদের ক্ষেত্রে। ইবনে যুবাইর উল্লেখ করেছেন যে তিনি ডান পা বিছিয়ে দিতেন, আর আবু হুমায়দ উল্লেখ করেছেন যে তিনি তা খাড়া করে রাখতেন। আল্লাহই ভালো জানেন, এটি কোনো বৈপরীত্য নয়। কারণ তিনি সেটির ওপর বসতেন না, বরং তা তাঁর ডান দিক দিয়ে বের করে দিতেন; ফলে পাটি খাড়া রাখা এবং বিছিয়ে দেওয়ার মাঝামাঝি অবস্থায় থাকত। অথবা বলা যায়: তিনি উভয়টিই করতেন; কখনো খাড়া রাখতেন, আবার কখনো কখনো বিছিয়ে দিতেন, যা অধিক আরামদায়ক।
অতঃপর তিনি সর্বদা এই পদ্ধতিতে বসে তাশাহহুদ পড়তেন এবং তাঁর সাহাবীদের এটি বলতে শেখাতেন: ‘যাবতীয় সম্মানজনক সম্ভাষণ, সালাত ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। শান্তি আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের ওপর বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।’ তিনি এটিকে এতোটাই সংক্ষিপ্ত করতেন যেন মনে হতো তিনি উত্তপ্ত পাথরের ওপর বসে আছেন। কোনো হাদিসেই তাঁর থেকে এটি প্রমাণিত নয় যে, তিনি এই তাশাহহুদে (প্রথম তাশাহহুদে) নিজের ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ পাঠ করতেন, কিংবা এতে তিনি কবরের আজাব, জাহান্নামের আজাব, জীবন ও মরণের ফিতনা এবং মাসিহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। যারা এগুলোকে মুস্তাহাব মনে করেন, তারা কেবল কিছু সাধারণ বর্ণনা থেকে এটি বুঝেছেন, যেগুলোর প্রয়োগ ও সীমাবদ্ধতা শেষ তাশাহহুদের ক্ষেত্রে হওয়াটি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।
অতঃপর তিনি তাঁর পায়ের অগ্রভাগ ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে এবং উরুর ওপর নির্ভর করে তাকবির বলতে বলতে দাঁড়িয়ে যেতেন। ‘সহিহ মুসলিম’ এবং বুখারির কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি এই স্থানে হাত তুলতেন (রফে ইয়াদাইন)। এরপর তিনি শুধু সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন। শেষ দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার পর অন্য কিছু পাঠ করার বিষয়টি তাঁর থেকে প্রমাণিত নয়।
নামাজে এদিক-ওদিক তাকানো তাঁর আদর্শের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ‘সহিহ বুখারি’তে বর্ণিত আছে যে, তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: ‘এটি একটি ছিনতাই, যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার নামাজ থেকে কিছু অংশ ছিনিয়ে নেয়’। তবে কোনো বিশেষ প্রয়োজনে তিনি কখনো কখনো নামাজে তা করতেন, তবে তা নিয়মিত ছিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
من فعله الراتب، كالتفاته إلى الشعب الذي بعث إليه الطليعة (1) والله أعلم. وكان يدعو بَعْدَ التَّشَهُّدِ، وَقَبْلَ السَّلَامِ، وَبِذَلِكَ أَمَرَ فِي حديث أبي هريرة وحديث فضالة.
وأما الدعاء بعد السلام مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ أَوِ الْمَأْمُومِينَ، فَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ من هديه أصلا وَعَامَّةُ الْأَدْعِيَةِ الْمُتَعَلِّقَةِ بِالصَّلَاةِ إِنَّمَا فَعَلَهَا فِيهَا وَأَمَرَ بِهَا فِيهَا. وَهَذَا هُوَ اللَّائِقُ بِحَالِ المصلي، فإنه مقبل على ربه، فإذا سلم زال ذلك. ثُمَّ كَانَ صلى الله عليه وسلم «يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَعَنْ يساره كذلك» ، هذا كان فعله الراتب، وروي عنه أنه كان يسلم تسليمة واحدة من تلقاء وجهه، لكن لم يثبت، وأجود ما فيه حديث عائشة وهو في " السنن "، لكنه في قيام الليل، وهو حديث معلول، على أنه لَيْسَ صَرِيحًا فِي الِاقْتِصَارِ عَلَى التَّسْلِيمَةِ الْوَاحِدَةِ.
وكان يَدْعُو فِي صَلَاتِهِ فَيَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ» وَكَانَ يَقُولُ فِي صَلَاتِهِ أَيْضًا: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَوَسِّعْ لِي فِي داري، وبارك لي في ما رَزَقْتَنِي» وَكَانَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الثَّبَاتَ فِي الْأَمْرِ، وَالْعَزِيمَةَ عَلَى الرُّشْدِ، وَأَسْأَلُكَ شُكْرَ نعمتك، وحسن عبادتك، وأسألك قلبا سليما، وأسألك لسانا صَادِقًا، وَأَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا تَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تعلم»
والمحفوظ في أدعيته كلها في الصلاة بلفظ الإفراد.
«وكان إِذَا قَامَ فِي الصَّلَاةِ طَأْطَأَ رَأْسَهُ» ، ذَكَرَهُ أحمد، «وَكَانَ فِي التَّشَهُّدِ لَا يُجَاوِزُ بَصَرُهُ إِشَارَتَهُ» ، وقد جعل الله قرة عينه ونعيمه في الصلاة، فكان يقول: «يا بلال أرحنا بالصلاة» ولم يشغله ذلك عن مراعاة المأمومين مع كمال حضور قلبه.
«وَكَانَ يَدْخُلُ فِي الصَّلَاةِ وَهُوَ يُرِيدُ إِطَالَتَهَا، فَيَسْمَعُ بُكَاءَ الصَّبِيِّ، فَيُخَفِّفُهَا مَخَافَةَ أَنْ يَشُقَّ على أمه» ، وَكَذَلِكَ «كَانَ يُصَلِّي الْفَرْضَ وَهُوَ حَامِلٌ أمامة بنت ابنته عَلَى عَاتِقِهِ، إِذَا قَامَ حَمَلَهَا، وَإِذَا رَكَعَ وسجد وضعها» ، «وكان يصلي فيجيء الحسن والحسين فيركبان على ظَهْرَهُ، فَيُطِيلُ السَّجْدَةَ كَرَاهِيَةَ أَنْ يُلْقِيَهُ عَنْ ظهره» ، «وكان يصلي فتجيء عائشة فيمشي، فيفتح لها الباب، ثم يرجع
--------------------------------------------
এটি তাঁর নিয়মিত আমল ছিল, যেমন সেই গিরিপথের দিকে তাকানো যেদিকে তিনি অগ্রগামী বাহিনী পাঠিয়েছিলেন (১) এবং আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি তাশাহহুদের পর এবং সালামের আগে দোয়া করতেন, আর আবু হুরায়রা ও ফাদালার হাদিসে তিনি এর নির্দেশ দিয়েছেন।
আর কিবলামুখী হয়ে অথবা মুক্তাদিদের দিকে মুখ করে সালামের পর দোয়া করা মোটেও তাঁর আদর্শ ছিল না; বরং সালাত সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ দোয়া তিনি সালাতের ভেতরেই করেছেন এবং ভেতরে করারই নির্দেশ দিয়েছেন। আর এটাই মুসল্লির অবস্থার জন্য সমীচীন, কারণ সে তখন তার রবের অভিমুখে থাকে, আর সালাম ফেরানোর সাথে সাথেই তা দূরীভূত হয়। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ডানে সালাম ফেরাতেন: ‘আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ এবং বামেও তদ্রূপ। এটিই ছিল তাঁর নিয়মিত আমল। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সম্মুখপানে একটি সালাম ফেরাতেন, কিন্তু তা প্রমাণিত নয়। এ বিষয়ে সর্বোত্তম বর্ণনাটি হলো আয়েশার হাদিস যা ‘সুনান’ গ্রন্থে রয়েছে, তবে তা তাহাজ্জুদ সালাত সম্পর্কে এবং বর্ণনাটি ত্রুটিপূর্ণ; অধিকন্তু এটি একটি মাত্র সালামের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার ব্যাপারে স্পষ্ট নয়।
তিনি সালাতে এই দোয়া করতেন: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, আপনার কাছে মসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি এবং জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গুনাহ ও ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।’ তিনি সালাতে আরও বলতেন: ‘হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা করুন, আমার ঘরে প্রশস্ততা দান করুন এবং আপনি আমাকে যা দান করেছেন তাতে বরকত দিন।’ তিনি আরও বলতেন: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দ্বীনের ওপর অবিচলতা এবং সঠিক পথের ওপর দৃঢ়তা প্রার্থনা করছি। আমি আপনার নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা এবং আপনার সুন্দর ইবাদত করার সামর্থ্য প্রার্থনা করছি। আমি আপনার কাছে একটি পরিচ্ছন্ন হৃদয় ও সত্যবাদী জিহ্বা প্রার্থনা করছি। আমি আপনার কাছে ঐ কল্যাণ প্রার্থনা করছি যা আপনি জানেন এবং ঐ অকল্যাণ থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি যা আপনি জানেন; আর আপনার কাছে ঐ সব গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করছি যা আপনি জানেন।’
সালাতের ভেতরে তাঁর সকল দোয়ার সংরক্ষিত রূপগুলো একবচন শব্দে বর্ণিত।
ইমাম আহমাদ উল্লেখ করেছেন যে, ‘তিনি যখন সালাতে দাঁড়াতেন, মাথা নুইয়ে রাখতেন’ এবং ‘তাশাহহুদের সময় তাঁর দৃষ্টি তাঁর তর্জনীর ইশারা অতিক্রম করত না’। আল্লাহ সালাতের মধ্যেই তাঁর চোখের শীতলতা ও প্রশান্তি রেখেছেন, তাই তিনি বলতেন: ‘হে বিলাল! সালাতের মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দাও।’ আর হৃদয়ের পূর্ণ একাগ্রতা থাকা সত্ত্বেও এটি তাঁকে মুক্তাদিদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা থেকে বিচ্যুত করত না।
‘তিনি সালাত দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাতে প্রবেশ করতেন, কিন্তু কোনো শিশুর কান্নার শব্দ শুনলে সালাত সংক্ষিপ্ত করতেন এই ভয়ে যে, তা যেন তার মায়ের জন্য কষ্টের কারণ না হয়।’ তেমনিভাবে ‘তিনি তাঁর নাতনী উমামাহ বিনতে আবিল আসকে তাঁর কাঁধে বহন করে ফরজ সালাত আদায় করতেন; যখন তিনি দাঁড়াতেন তখন তাকে কাঁধে তুলে নিতেন এবং যখন রুকু ও সিজদা করতেন তখন তাকে নামিয়ে রাখতেন।’ ‘তিনি সালাত আদায় করতেন এবং এমতাবস্থায় হাসান ও হুসাইন আসত এবং তাঁর পিঠে চড়ত; তখন তিনি সিজদা দীর্ঘ করতেন পাছে তাদের পিঠ থেকে ফেলে দেওয়ার ভয়ে।’ ‘তিনি সালাত আদায় করতেন, এমন সময় আয়েশা এলে তিনি হেঁটে গিয়ে তার জন্য দরজা খুলে দিতেন এবং পুনরায় ফিরে আসতেন...’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
إلى مصلاه» .
«وكان يرد السلام بالإشارة» (1) . وأما حديث «من أشار في صلاته فليعدها» فحديث باطل. وكان ينفخ في صلاته، ذكره أحمد وكان يبكي فيها، ويتنحنح لحاجة.
«وكان يصلي حافيا تارة، ومنتعلا أخرى» (2) وأمر بالصلاة في النعل مخالفة اليهود وَكَانَ يُصَلِّي فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ تَارَةً، وَفِي الثَّوْبَيْنِ تَارَةً وَهُوَ أَكْثَرُ.
وَقَنَتَ فِي الْفَجْرِ بعد الركوع شهرا ثم ترك، وكان قنوته لعارض، فلما زال تركه، فكان هديه الْقُنُوتَ فِي النَّوَازِلِ خَاصَّةً، وَتَرْكَهُ عِنْدَ عَدِمِهَا، وَلَمْ يَكُنْ يَخُصُّهُ بِالْفَجْرِ، بَلْ كَانَ أَكْثَرُ قنوته فيه لأجل ما يشرع فيه من الطول، ولقربها من السحر وساعة الإجابة، والتنزل الإلهي.
[فَصْلٌ فِي هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم في سجود السهو]فَصْلٌ وَثَبَتَ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «إنما أنا بشر أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ، فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكِّرُونِي» وَكَانَ لسهوه من تمام النعمة على أمته، وإكمال دينهم، ليقتدوا به، فقام من اثنتين في الرباعية.
فلما قضى صلاته، سجد قبل السلام، فأخذ منه أَنَّ مَنْ تَرَكَ شَيْئًا مِنْ أَجْزَاءِ الصَّلَاةِ التي ليست بأركان سَجَدَ لَهُ قَبْلَ السَّلَامِ، وَأُخِذَ مِنْ بَعْضِ طُرُقِهِ أَنَّهُ إِذَا تَرَكَ ذَلِكَ، وَشَرَعَ فِي ركن لم يرجع.
«وسلم من ركعتين في إحدى صلاتي العشاء، ثُمَّ تَكَلَّمَ، ثُمَّ أَتَمَّهَا، ثُمَّ سَلَّمَ، ثُمَّ سجد ثم سلم. وصلى وسلم، وانصرف وقد بقي من الصلاة ركعة، فقال له طلحة: نسيت ركعة. فرجع فدخل المسجد، فأمر بلالا فأقام، فصلى للناس ركعة» ، ذكره أحمد.
صلى الظهر خمسا، فقالوا: صليت خمسا. فسجد بعد ما سلم.
وَصَلَّى الْعَصْرَ ثَلَاثًا ثُمَّ دَخَلَ مَنْزِلَهُ، فَذَكَّرَهُ النَّاسُ، فَخَرَجَ فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً، ثُمَّ سَلَّمَ، ثم سجد، ثم سلم.
هذا مجموع ما حفظ عنه، وهي خمسة مواضع.
ولم يكن من هديه تغميض عينيه في الصلاة، وكرهه أحمد وغيره، وقالوا: هو من فعل اليهود وأباحه جماعة، والصواب أن الفتح إن كان لا يخل بالخشوع، فهو أفضل، وإن حال بينه وبين الخشوع
--------------------------------------------
তার সালাতের স্থানের দিকে।
«তিনি ইশারার মাধ্যমে সালামের উত্তর দিতেন» (১)। আর এই হাদিস যে, «যে ব্যক্তি তার সালাতে ইশারা করে সে যেন তা পুনরায় আদায় করে» এটি একটি বাতিল হাদিস। তিনি সালাতে ফুঁ দিতেন, যা আহমাদ উল্লেখ করেছেন। তিনি তাতে কাঁদতেন এবং প্রয়োজনে গলা পরিষ্কার করার শব্দ করতেন।
«তিনি কখনো খালি পায়ে সালাত আদায় করতেন এবং কখনো জুতা পরিহিত অবস্থায়» (২)। আর তিনি ইহুদিদের বিরোধিতার জন্য জুতা পরে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি কখনো এক বস্ত্রে সালাত আদায় করতেন এবং কখনো দুই বস্ত্রে, যা ছিল অধিকতর সাধারণ।
তিনি ফজরের সালাতে রুকুর পর এক মাস যাবত কুনুত পাঠ করেছিলেন, অতঃপর তা ছেড়ে দেন। তাঁর এই কুনুত ছিল বিশেষ কোনো বিপদের কারণে, যা দূরীভূত হলে তিনি তা ছেড়ে দেন। তাঁর আদর্শ ছিল কেবল বিশেষ বিপদ-আপদের (নাওয়াযিল) সময় কুনুত পাঠ করা এবং স্বাভাবিক অবস্থায় তা ত্যাগ করা। তিনি কুনুতকে কেবল ফজরের জন্য নির্দিষ্ট করতেন না, বরং ফজরে তাঁর অধিকাংশ কুনুত পাঠের কারণ ছিল এতে দীর্ঘ করার শরয়ি বিধান এবং সাহারি ও দুয়া কবুলের সময়ের নিকটবর্তী হওয়া ও আল্লাহর নেমে আসার সময় হওয়ার কারণে।
[সিজদায়ে সাহু বা ভুলবশত সিজদা করার ক্ষেত্রে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদর্শ পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: «আমি কেবল একজন মানুষ, তোমরা যেমন ভুলে যাও আমিও তেমনি ভুলে যাই। সুতরাং আমি যদি ভুলে যাই তবে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিও»। তাঁর ভুলে যাওয়া ছিল তাঁর উম্মতের ওপর নেয়ামতের পূর্ণতা এবং তাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করার জন্য, যেন তারা তাঁর অনুসরণ করতে পারে। একদা তিনি চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতে দুই রাকাতের পর (বৈঠক না করে) দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন।
যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন সালাম ফেরানোর আগে সিজদা করলেন। এখান থেকে বিধান নেওয়া হয়েছে যে, যে ব্যক্তি সালাতের এমন কোনো অংশ ত্যাগ করে যা রুকন নয়, সে সালাম ফেরানোর পূর্বে সিজদা করবে। আর তাঁর বর্ণনার কোনো কোনো পথ থেকে প্রমাণিত হয় যে, যখন সে তা ত্যাগ করে কোনো রুকন শুরু করে দিবে, তখন আর পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসবে না।
«তিনি ইশার দুই সালাতের একটিতে দুই রাকাতের পর সালাম ফেরালেন, এরপর কথা বললেন, অতঃপর বাকি সালাত পূর্ণ করলেন, সালাম ফেরালেন, অতঃপর সিজদা করলেন এবং পুনরায় সালাম ফেরালেন। তিনি একবার সালাত আদায় করে সালাম ফেরালেন এবং চলে গেলেন অথচ সালাতের এক রাকাত বাকি ছিল। তখন তালহা তাঁকে বললেন: আপনি এক রাকাত ভুলে গেছেন। অতঃপর তিনি ফিরে এলেন এবং মসজিদে প্রবেশ করলেন। তিনি বিলালকে নির্দেশ দিলেন, তিনি ইকামত দিলেন, এরপর তিনি লোকদের নিয়ে এক রাকাত সালাত আদায় করলেন», এটি আহমাদ উল্লেখ করেছেন।
তিনি জোহরের সালাত পাঁচ রাকাত আদায় করেছিলেন। লোকেরা বলল: আপনি পাঁচ রাকাত পড়েছেন। তখন তিনি সালাম ফেরানোর পর সিজদা করলেন।
তিনি আসরের সালাত তিন রাকাত পড়লেন এবং নিজ ঘরে প্রবেশ করলেন। অতঃপর মানুষ তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিল। তিনি বেরিয়ে এলেন এবং তাদের নিয়ে এক রাকাত পড়লেন, এরপর সালাম ফেরালেন, তারপর সিজদা করলেন, অতঃপর পুনরায় সালাম ফেরালেন।
তাঁর নিকট থেকে যা সংরক্ষিত রয়েছে এটি তার সমষ্টি, যা পাঁচটি ক্ষেত্র।
সালাতে চোখ বন্ধ করা তাঁর আদর্শ ছিল না। ইমাম আহমাদ ও অন্যরা একে অপছন্দ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, এটি ইহুদিদের কাজ। তবে একদল আলিম একে বৈধ বলেছেন। সঠিক মত হলো, চোখ খোলা রাখা যদি খুশু-খুযুর ব্যাঘাত না ঘটায় তবে তা-ই উত্তম। আর যদি তা খুশু-খুযুর অন্তরায় হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
لما في قبلته من الزخرف وغيره، فهناك لا يكره.
«وكان إذا سلم استغفر ثلاثا» ، ثم قال: «اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ، وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذا الجلال والإكرام» (1) ولا يمكث مستقبل القبلة إلا بقدر ذلك، ويسرع الانفتال إلى المأمومين. وكان ينقل عن يمينه وعن يساره، ثُمَّ كَانَ يُقْبِلُ عَلَى الْمَأْمُومِينَ بِوَجْهِهِ، وَلَا يَخُصُّ نَاحِيَةً مِنْهُمْ دُونَ نَاحِيَةٍ.
وَكَانَ إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ جَلَسَ فِي مُصَلَّاهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشمس حسناء. وَكَانَ يَقُولُ فِي دُبُرِ كُلَّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذا الجد منك الجد، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ، لَهُ النِّعْمَةُ، وَلَهُ الْفَضْلُ، وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ، ولو كره الكافرون» وَنَدَبَ أُمَّتَهُ إِلَى أَنْ يَقُولُوا فِي دُبُرِ كل صلاة مكتوبة: «سُبْحَانَ اللَّهِ. ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ. ثَلَاثًا وثلاثين، والله أكبر ثلاثا وثلاثين ; وَتَمَامُ الْمِائَةِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وهو على كل شيء قدير» (2) .
وَذَكَرَ ابْنُ حِبَّانَ فِي " صَحِيحِهِ " عَنِ الحارث بن مسلم قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إذا صليت الصبح، فَقُلْ قَبْلَ أَنْ تَتَكَلَّمَ: اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ سَبْعَ مَرَّاتٍ، فَإِنَّكَ إِنْ مُتَّ مِنْ يومك كتب الله لك جوازا مِنَ النَّارِ، وَإِذَا صَلَّيْتَ الْمَغْرِبَ، فَقُلْ قَبْلَ أَنْ تَتَكَلَّمَ: اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ، سَبْعَ مَرَّاتٍ، فَإِنَّكَ إِنْ مُتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ، كَتَبَ الله لك جوازا من النار»
وكان إذا صلى إلى جدار ; جَعَلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَدْرَ مَمَرِّ الشَّاةِ، وَلَمْ يَكُنْ يَتَبَاعَدُ مِنْهُ، بَلْ «أَمَرَ بِالْقُرْبِ مِنَ السُّتْرَةِ» ، «وَكَانَ إِذَا صَلَّى إِلَى عُودٍ، أَوْ عَمُودٍ، أَوْ شَجَرَةٍ، جَعَلَهُ عَلَى حَاجِبِهِ الْأَيْمَنِ، أَوِ الْأَيْسَرِ، وَلَمْ يَصْمُدْ لَهُ صَمْدًا،» «وَكَانَ يَرْكُزُ الْحَرْبَةَ فِي السَّفَرِ، وَالْبَرِّيَّةِ، فَيُصَلِّي إِلَيْهَا، فَتَكُونُ سُتْرَتَهُ» ، «وَكَانَ يُعَرِّضُ رَاحِلَتَهُ، فَيُصَلِّي إِلَيْهَا» ، «وكان يأخذ الرحل، فيعدله، ويصلي
--------------------------------------------
যেহেতু তাঁর কিবলার দিকে কারুকাজ বা অন্য কিছু ছিল, তাই সেখানে তা অপছন্দনীয় নয়।
«তিনি যখন সালাম ফিরাতেন তখন তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন», অতঃপর বলতেন: «হে আল্লাহ, আপনিই শান্তি এবং আপনার পক্ষ থেকেই শান্তি, আপনি বরকতময়, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী» (১) এবং তিনি কিবলার দিকে মুখ করে কেবল সেই (দোয়াটি পাঠ করার) সময়ের সমান অবস্থান করতেন এবং দ্রুত মুক্তাদিদের দিকে ফিরে বসতেন। তিনি তাঁর ডান দিক ও বাম দিক উভয় দিক দিয়েই ফিরতেন, অতঃপর তিনি তাঁর চেহারা দিয়ে মুক্তাদিদের দিকে অভিমুখ করতেন এবং তাদের কোনো এক দিককে অন্য দিকের তুলনায় নির্দিষ্ট করতেন না।
আর তিনি যখন ফজরের সালাত আদায় করতেন, তখন তিনি তাঁর সালাতের স্থানে বসে থাকতেন যতক্ষণ না সূর্য স্পষ্টভাবে উদিত হতো। এবং তিনি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর বলতেন: «আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং প্রশংসাও একমাত্র তাঁরই, আর তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল। হে আল্লাহ, আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই, এবং কোনো সম্পদশালীর সম্পদ আপনার কাছে তাকে কোনো উপকার করতে পারবে না। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করি। সকল নিয়ামত তাঁরই, সকল অনুগ্রহ তাঁরই এবং সকল উত্তম প্রশংসা তাঁরই। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আমরা তাঁর দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে»। এবং তিনি তাঁর উম্মতকে প্রত্যেক ফরয সালাতের পর এ কথাগুলো বলার জন্য উৎসাহিত করেছেন: «আল্লাহ পবিত্র (সুবহানাল্লাহ) তেত্রিশ বার, সকল প্রশংসা আল্লাহর (আলহামদুলিল্লাহ) তেত্রিশ বার, এবং আল্লাহ মহান (আল্লাহু আকবার) তেত্রিশ বার; আর একশত পূর্ণ করতে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং প্রশংসাও একমাত্র তাঁরই, আর তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল» (২)।
ইবন হিব্বান তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে হারিস ইবন মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন তুমি ফজরের সালাত আদায় করবে, তখন কথা বলার আগে সাতবার বলো: হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন। কেননা যদি তুমি সেই দিনে মৃত্যুবরণ করো, তবে আল্লাহ তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির সনদ লিখে দেবেন। আর যখন তুমি মাগরিবের সালাত আদায় করবে, তখন কথা বলার আগে সাতবার বলো: হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন। কেননা যদি তুমি সেই রাতে মৃত্যুবরণ করো, তবে আল্লাহ তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির সনদ লিখে দেবেন»
এবং তিনি যখন কোনো দেয়ালের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন; তখন তিনি নিজের ও দেয়ালের মাঝে একটি বকরী যাতায়াত করার মতো জায়গা রাখতেন এবং তার থেকে খুব বেশি দূরে থাকতেন না, বরং «তিনি সুতরার (আড়ালের) নিকটবর্তী হওয়ার নির্দেশ দিতেন»। «আর তিনি যখন কোনো কাষ্ঠখণ্ড, স্তম্ভ বা গাছের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন, তখন সেটিকে তাঁর ডান ভ্রু অথবা বাম ভ্রুর সোজাসুজি রাখতেন এবং সরাসরি তার দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন না»। «তিনি সফরে এবং মরুভূমিতে বর্শা গেড়ে দিতেন এবং তার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন, আর সেটি তাঁর সুতরা হতো»। «তিনি তাঁর বাহনটিকে আড়াআড়ি করে রাখতেন এবং তার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন»। «এবং তিনি উটের জিন নিতেন, তা সোজা করে রাখতেন এবং সালাত আদায় করতেন»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
إِلَى آخِرَتِهِ» ، «وَأَمَرَ الْمُصَلِّيَ أَنْ يَسْتَتِرَ ; وَلَوْ بِسَهْمٍ، أَوْ عَصًا، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ، فَلْيَخُطَّ خطا بالأرض» ، فإن لم تكن سترة، فقد صح عنه أنه: «يقطع الصلاة المرأة والحمار والكلب الأسود» ومعارضه صحيح ليس بصريح، أو صريح ليس بصحيح.
وكان يصلي وعائشة نائمة في قبلته، وليس كالمار، فإن الرجل يحرم عليه المرور، وَلَا يُكْرَهُ لَهُ أَنْ يَكُونَ لَابِثًا بَيْنَ يدي المصلي.
[فَصْلٌ فِي هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم في السنن الرواتب والتطوعات]فصل وكان صلى الله عليه وسلم يُحَافِظُ عَلَى عَشْرِ رَكَعَاتٍ فِي الْحَضَرِ دَائِمًا، وَهِيَ الَّتِي قَالَ فيها ابن عمر: «حفظت عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشْرَ رَكَعَاتٍ: رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا، وركعتين بعد المغرب، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ فِي بَيْتِهِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صلاة الفجر» «ولما فاتته الركعتان بعد الظهر، قضاهما في وقت النهي بعد العصر» ، «وكان يصلي أحيانا قبل الظهر أربعا» ، وأما الركعتان قبل المغرب، فصح عنه أنه قال: «صلوا قبل المغرب ركعتين وقال فِي الثَّالِثَةِ: لِمَنْ شَاءَ كَرَاهَةَ أَنْ يَتَّخِذَهَا الناس سنة» ، وهذا هو الصواب ; أنها مستحبة، وليست سنة راتبة. وَكَانَ يُصَلِّي عَامَّةَ السُّنَنِ وَالتَّطَوُّعَ الَّذِي لَا سَبَبَ لَهُ فِي بَيْتِهِ لَا سِيَّمَا سُنَّةُ الْمَغْرِبِ، فَإِنَّهُ لَمْ يُنْقَلْ عَنْهُ أَنَّهُ فَعَلَهَا في المسجد ألبتة، وله فعلها في المسجد، وكان محافظته عَلَى سُنَّةِ الْفَجْرِ أَشَدَّ مِنْ جَمِيعِ النَّوَافِلِ، وكذلك لم يكن يدعها هي والوتر، لا حضرا ولا سفرا، ولم ينقل عنه أنه صلى في السفر سنة راتبة غيرهما.
وقد اختلف الفقهاء أيهما آكد؟ وسنة الْفَجْرِ تَجْرِي مَجْرَى بِدَايَةِ الْعَمَلِ، وَالْوِتْرُ خَاتَمَتُهُ، ولذلك كان يصليهما بسورتي (الإخلاص) و (الكافرون) وَهُمَا الْجَامِعَتَانِ لِتَوْحِيدِ الْعِلْمِ وَالْعَمَلِ، وَتَوْحِيدِ الْمَعْرِفَةِ والإرادة، وتوحيد الاعتقاد والقصد، فـ {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} [الإخلاص: 1] متضمنة لما يجب إثباته له تعالى من الأحدية المنافية لمطلق الشركة بوجه من الوجوه، ونفي الولد والوالد المقرر لكمال صمديته وغناه ووحدانيته، ونفي الكفء المتضمن لنفي الشبيه والمثيل والنظر، فتضمنت إثبات كل كمال، ونفي كل نقص، ونفي إثبات شبيه له أو مثيل في كماله، ونفي مطلق الشركة، وهذه الأصول هي مجامع التوحيد العلمي الَّذِي يُبَايِنُ صَاحِبُهُ جَمِيعَ فِرَقِ الضَّلَالِ وَالشِّرْكِ، ولهذا كانت تعدل ثلث القرآن، فإن مَدَارُهُ عَلَى الْخَبَرِ وَالْإِنْشَاءِ، وَالْإِنْشَاءُ
...তার আখিরাত পর্যন্ত। তিনি মুসল্লিকে সুতরা (আড়াল) গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন; চাই তা একটি তীর বা লাঠি দিয়ে হোক না কেন। যদি তা না পাওয়া যায়, তবে সে যেন মাটিতে একটি রেখা টেনে নেয়। যদি সুতরা না থাকে, তবে তাঁর পক্ষ থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে যে: ‘নারী, গাধা এবং কালো কুকুর সালাত ভঙ্গ করে দেয়।’ এর বিপরীত যা বর্ণিত হয়েছে তা হয় বিশুদ্ধ কিন্তু দ্ব্যর্থহীন নয়, অথবা দ্ব্যর্থহীন কিন্তু বিশুদ্ধ নয়।
তিনি সালাত আদায় করতেন এমতাবস্থায় যে আয়েশা (রা.) তাঁর কিবলার দিকে ঘুমিয়ে থাকতেন; এটি সামনে দিয়ে অতিক্রম করার মতো নয়। কেননা মানুষের জন্য (সালাতরত ব্যক্তির) সামনে দিয়ে অতিক্রম করা হারাম, তবে মুসল্লির সামনে অবস্থান করা তার জন্য মাকরূহ নয়।
[পরিচ্ছেদ: সুন্নতে রাতিবা ও নফল ইবাদত সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ]পরিচ্ছেদ: তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুকিম অবস্থায় সর্বদা দশ রাকাত সুন্নতে রাতিবা গুরুত্বের সাথে আদায় করতেন। এ সম্পর্কেই ইবনে উমর (রা.) বলেছেন: ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দশ রাকাত মুখস্থ রেখেছি: যোহরের পূর্বে দুই রাকাত, যোহরের পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পরে তাঁর ঘরে দুই রাকাত এবং ফজরের সালাতের পূর্বে দুই রাকাত।’ যখন যোহরের পরের দুই রাকাত তাঁর ছুটে গিয়েছিল, তখন তিনি আসরের পর নিষিদ্ধ সময়ে তা কাজা করেছিলেন। তিনি কখনো যোহরের পূর্বে চার রাকাত পড়তেন। আর মাগরিবের পূর্বের দুই রাকাত সম্পর্কে তাঁর পক্ষ থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: ‘তোমরা মাগরিবের পূর্বে দুই রাকাত পড়ো।’ তৃতীয়বার তিনি বললেন: ‘যার ইচ্ছা (তার জন্য)।’ মানুষ যাতে একে সুন্নতে রাতিবা হিসেবে গ্রহণ না করে নেয়, সেই অপছন্দ থেকেই তিনি এমনটি বলেছিলেন। আর এটিই সঠিক মত যে, তা মুস্তাহাব, সুন্নতে রাতিবা নয়। তিনি সাধারণ সুন্নত এবং কারণহীন নফল সালাতগুলো তাঁর ঘরেই আদায় করতেন, বিশেষ করে মাগরিবের সুন্নত। কারণ তিনি এটি মসজিদে আদায় করেছেন বলে আদৌ বর্ণিত হয়নি, তবে মসজিদে তা আদায়ের অনুমতি রয়েছে। ফজরের সুন্নতের প্রতি তাঁর যত্ন অন্য সকল নফল সালাতের চেয়ে অধিক ছিল। একইভাবে তিনি মুকিম অবস্থায় হোক বা সফরে, ফজরের সুন্নত এবং বিতর কখনো ত্যাগ করতেন না। সফর অবস্থায় এই দুই রাকাত ব্যতীত অন্য কোনো সুন্নতে রাতিবা তিনি আদায় করেছেন বলে বর্ণিত হয়নি।
ফকিহগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, কোনটির গুরুত্ব বেশি? ফজরের সুন্নত হলো দিনের আমলের সূচনাস্বরূপ আর বিতর হলো তার সমাপ্তি। একারণেই তিনি এই দুই সালাতে সূরা ইখলাস ও সূরা কাফিরুন তিলাওয়াত করতেন। এই সূরা দুটি জ্ঞান ও আমলের তাওহিদ, পরিচয় ও ইচ্ছার তাওহিদ এবং বিশ্বাস ও সংকল্পের তাওহিদকে একত্রিতকারী। সুরা ‘বলুন, তিনিই আল্লাহ এক’ মহান আল্লাহর জন্য এমন একত্ব সাব্যস্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে যা যেকোনোভাবে সকল প্রকার অংশীদারিত্বকে নাকচ করে। এতে সন্তান ও পিতামাতা হওয়ার বিষয়টি নাকচ করা হয়েছে, যা তাঁর পূর্ণাঙ্গ অমুখাপেক্ষিতা, ঐশ্বর্য ও একত্বের পরিচায়ক। সমকক্ষতাকে নাকচ করার বিষয়টি সাদৃশ্য, উপমা ও সমতুল্য থাকাকে নাকচ করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে এটি তাঁর জন্য সকল প্রকার পূর্ণতা সাব্যস্ত করা এবং সকল প্রকার ত্রুটি নাকচ করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। সেই সাথে তাঁর পূর্ণতায় কোনো সদৃশ বা উপমা থাকাকে এবং যেকোনো প্রকার অংশীদারিত্বকে নাকচ করে। আর এই মূলনীতিগুলোই হলো জ্ঞানগত তাওহিদের সারসংক্ষেপ, যার অনুসারী সকল ভ্রান্ত ও মুশরিক দল থেকে পৃথক থাকে। এ কারণেই এটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য; কেননা কুরআনের মূল বিষয়বস্তু সংবাদ এবং বিধানের ওপর আবর্তিত, আর বিধান হলো...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثَلَاثَةٌ: أَمْرٌ، وَنَهْيٌ، وَإِبَاحَةٌ. وَالْخَبَرُ نَوْعَانِ: خَبَرٌ عَنِ الْخَالِقِ تَعَالَى، وَأَسْمَائِهِ، وَصِفَاتِهِ، وَأَحْكَامِهِ، وَخَبَرٌ عن خلقه. فأخلصت سورة الإخلاص للخبر عَنْهُ، وَعَنْ أَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ، فَعَدَلَتْ ثُلُثَ الْقُرْآنِ، وخلصت قارئها من الشرك العلمي كما خلصته سورة {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} [الكافرون: 1] من الشرك العملي، وَلَمَّا كَانَ الْعِلْمُ قَبْلَ الْعَمَلِ وَهُوَ إِمَامُهُ وسائقه، والحاكم عليه كانت {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} [الإخلاص: 1] تَعْدِلُ ثُلُثَ القرآن، و {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} [الكافرون: 1] تعدل ربع القرآن.
ولما كان الشرك العملي أغلب على النفوس لمتابعة الهوى، وكثير منها ترتكبه مع علمها بمضرته، وقلعه أشد من قلع الشرك العلمي، لأنه يزول بالحجة، وَلَا يُمْكِنُ صَاحِبُهُ أَنْ يَعْلَمَ الشَّيْءَ عَلَى غير ما هو عليه، جاء التأكيد والتكرير في {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} [الكافرون: 1] ولهذا كان يقرأ بهما في ركعتي الطواف، لأن الحج شعار التوحيد، ويفتح بهما عمل النهار، ويختم بهما عمل الليل.
وكان يَضْطَجِعُ بَعْدَ سُنَّةِ الْفَجْرِ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ، وقد غلا فيها طائفتان، فأوجبها طائفة من أهل الظاهر، وكرهها جماعة، وَسَمَّوْهَا بِدْعَةً، وَتَوَسَّطَ فِيهَا مالك وَغَيْرُهُ، فَلَمْ يَرَوْا بِهَا بَأْسًا لِمَنْ فَعَلَهَا رَاحَةً، وَكَرِهُوهَا لمن فعلها استسنانا.
[فَصْلٌ فِي هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم فِي قِيَامِ اللَّيْلِ]فَصْلٌ
فِي هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم في قيام الليل لم يكن صلى الله عليه وسلم يدع صلاة الليل حضرا ولا سفرا، وإذا غَلَبَهُ نَوْمٌ أَوْ وَجَعٌ، صَلَّى مِنَ النَّهَارِ اثنتي عَشْرَةَ رَكْعَةً، فَسَمِعْتُ شَيْخَ الْإِسْلَامِ ابْنَ تَيْمِيَّةَ يَقُولُ: فِي هَذَا دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ الْوِتْرَ لا يقضى، لفوات محله، كتحية المسجد، والكسوف، والاستسقاء، لِأَنَّ الْمَقْصُودَ بِهِ أَنْ يَكُونَ آخِرُ صَلَاةِ الليل وترا.
وكان قيامه بِاللَّيْلِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، أَوْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ ركعة، حَصَلَ الِاتِّفَاقُ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، وَاخْتُلِفَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأَخِيرَتَيْنِ، هَلْ هُمَا رَكْعَتَا الْفَجْرِ، أم غَيْرُهُمَا؟ .
فَإِذَا انْضَافَ ذَلِكَ إِلَى عَدَدِ رَكَعَاتِ الْفَرْضِ، وَالسُّنَنِ الرَّاتِبَةِ الَّتِي كَانَ يُحَافِظُ عَلَيْهَا، جَاءَ مَجْمُوعُ وِرْدِهِ الرَّاتِبِ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، أَرْبَعِينَ ركعة، كان يحافظ عليها دائما، وما زاد على ذلك فغير راتب.
فَيَنْبَغِي لِلْعَبْدِ أَنْ يُوَاظِبَ عَلَى هَذَا الْوِرْدِ دَائِمًا إِلَى الْمَمَاتِ، فَمَا أَسْرَعَ الْإِجَابَةَ،
তিনটি: আদেশ, নিষেধ এবং বৈধতা। আর সংবাদ দুই প্রকার: মহান স্রষ্টা, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও তাঁর বিধানসমূহ সম্পর্কিত সংবাদ এবং তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কিত সংবাদ। সুতরাং সূরা আল-ইখলাস তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কিত সংবাদ প্রদানের জন্য নিবেদিত হয়েছে, ফলে তা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য হয়েছে। এটি এর পাঠকারীকে ইলমি শিরক (তাত্ত্বিক শিরক) থেকে মুক্ত করে, যেমনটি সূরা আল-কাফিরুন পাঠকারীকে আমলি শিরক (কর্মগত শিরক) থেকে মুক্ত করে। যেহেতু আমলের পূর্বে ইলম (জ্ঞান) এবং এটি আমলের ইমাম, চালক ও তার ওপর বিচারক, তাই ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ (সূরা ইখলাস) কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য এবং ‘কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন’ (সূরা কাফিরুন) কুরআনের এক-চতুর্থাংশের সমতুল্য হয়েছে।
আর যেহেতু কুপ্রবৃত্তির অনুকরণের কারণে নফসের ওপর আমলি শিরক অধিক প্রবল থাকে এবং অনেকেরই এর ক্ষতিকর দিক জানা সত্ত্বেও এতে লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা থাকে, আর এটি উপড়ে ফেলা ইলমি শিরক উপড়ে ফেলার চেয়েও কঠিন—কারণ ইলমি শিরক দলিলের মাধ্যমে দূর হয় এবং এতে লিপ্ত ব্যক্তির পক্ষে কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে জানা সম্ভব হয় না—তাই সূরা আল-কাফিরুন-এ গুরুত্বারোপ ও পুনরাবৃত্তি এসেছে। এই কারণেই তাওয়াফের দুই রাকাতে এই সূরা দুটি পাঠ করা হতো, কেননা হজ হলো তাওহিদের প্রতীক। আর এই সূরা দুটি দিয়েই দিনের আমল শুরু করা হয় এবং রাতের আমল শেষ করা হয়।
তিনি ফজরের সুন্নতের পর তাঁর ডান কাতে শুয়ে পড়তেন। এ বিষয়ে দুটি দল চরমপন্থা অবলম্বন করেছে; একদল আহলে জাহের একে ওয়াজিব (আবশ্যক) বলেছে এবং একদল একে অপছন্দ করেছে ও একে বিদআত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইমাম মালিক ও অন্যরা এ বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন, তারা যারা বিশ্রামের জন্য এটি করেন তাদের জন্য এতে কোনো সমস্যা দেখেননি, তবে যারা একে সুন্নাহ (ইবাদত) মনে করে করেন তাদের জন্য একে অপছন্দ করেছেন।
[রাতের সালাতে (কিয়ামুল লাইল) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ
রাতের সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শ। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবাসে বা সফরে কখনোই রাতের সালাত ত্যাগ করতেন না। আর যখন ঘুম বা ব্যথার কারণে তিনি অপারগ হতেন, তখন দিনের বেলা বারো রাকাত সালাত আদায় করতেন। আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহকে বলতে শুনেছি: “এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে, বিতর সালাতের সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে তার কাজা আদায় করা হয় না, যেমনটি তাহিয়্যাতুল মাসজিদ, কুসুফ (সূর্যগ্রহণ) ও ইসতিসকা (বৃষ্টির জন্য দোয়া) সালাতের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কারণ বিতর সালাতের উদ্দেশ্য হলো রাতের শেষ সালাত যেন বিজোড় হয়।”
তাঁর রাতের সালাত (কিয়াম) ছিল এগারো রাকাত অথবা তেরো রাকাত। এগারো রাকাতের ওপর ঐক্যমত হয়েছে, আর শেষ দুই রাকাত নিয়ে মতভেদ হয়েছে যে, সেগুলো কি ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ছিল নাকি অন্য কিছু?
সুতরাং এটি যখন ফরজ সালাত এবং নিয়মিত সুন্নাতসমূহের (সুন্নতে রাতেবা) সাথে যোগ করা হয় যেগুলোর প্রতি তিনি যত্নবান হতেন, তখন দিন ও রাতে তাঁর নিয়মিত আমলের (ওজিফা) মোট রাকাত সংখ্যা দাঁড়ায় চল্লিশ রাকাত, যার ওপর তিনি সর্বদা যত্নবান থাকতেন। এর অতিরিক্ত যা ছিল তা নিয়মিত (রাতেবা) ছিল না।
অতএব বান্দার উচিত মৃত্যু পর্যন্ত সর্বদা এই ওজিফার ওপর অবিচল থাকা। এতে দোয়া কবুল হওয়া কতই না দ্রুততর হয়!
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَأَعْجَلَ فَتْحَ الْبَابِ لِمَنْ يَقْرَعُهُ كُلَّ يَوْمٍ وليلة أربعين مرة، والله المستعان.
«وكان إِذَا اسْتَيْقَظَ مِنَ اللَّيْلِ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ أَسْتَغْفِرُكَ لِذَنْبِي، وَأَسْأَلُكَ رَحْمَتَكَ، اللَّهُمَّ زِدْنِي عِلْمًا، وَلَا تُزِغْ قَلْبِي بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنِي، وَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ»
«وَكَانَ إِذَا انْتَبَهَ مِنْ نَوْمِهِ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ ثُمَّ يَتَسَوَّكُ، وربما قرأ عشر الآيات من آخر سورة (آلِ عِمْرَانَ) مِنْ قَوْلِهِ: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [آل عمران: 190] ثم يتطهر، ثم يصلي ركعتين خَفِيفَتَيْنِ،» وَأَمَرَ بِذَلِكَ فِي حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ «وكان يقوم إِذَا انْتَصَفَ اللَّيْلُ، أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ، أَوْ بعده بقليل» ، وَكَانَ يَقْطَعُ وِرْدَهُ تَارَةً، وَيَصِلُهُ تَارَةً، وَهُوَ الأكثر، فتقطيعه كما قال ابن عباس: «إنه بعد ما صلى ركعتين انصرف، فنام، فعل ذلك ثلاث مرات في ست ركعات، كل ذلك يستاك ويتوضأ ثم أوتر بثلاث.»
وكان وتره أنواعا، منها: هذا، ومنها: أن «يصلي ثماني ركعات يسلم بعد كل ركعتين، ثم يوتر بخمس سردا متواليات، لا يجلس إلا في آخرهن» ، «ومنها: تِسْعُ رَكَعَاتٍ يَسْرُدُ مِنْهُنَّ ثَمَانِيًا، لَا يَجْلِسُ إلا في الثامنة، يجلس فيذكر الله، وَيَحْمَدُهُ، وَيَدْعُوهُ، ثُمَّ يَنْهَضُ وَلَا يُسَلِّمُ، ثُمَّ يصلي التاسعة، ثم يقعد فيتشهد ويسلم، ثم يصلي بعدها ركعتين بعد ما يسلم» . ومنها أن «يُصَلِّي سَبْعًا، كَالتِّسْعِ الْمَذْكُورَةِ، ثُمَّ يُصَلِّي بَعْدَهَا ركعتين جالسا» .
ومنها: أن «يُصَلِّي مَثْنَى مَثْنَى، ثُمَّ يُوتِرُ بِثَلَاثٍ لَا يفصل بينهن» ، فهذا رواه أحمد، عَنْ عائشة، أَنَّهُ: «كَانَ يُوتِرُ بِثَلَاثٍ لَا فصل فيهن» . وفيه نظر، ففي " صحيح ابن حبان " عن أبي هريرة مرفوعا: «لَا تُوتِرُوا بِثَلَاثٍ، أَوْتِرُوا بِخَمْسٍ أَوْ سَبْعٍ، ولا تشبهوا بصلاة المغرب» قال الدارقطني وإسناده كلهم ثقات. قال حرب: سُئِلَ أحمد عَنِ الْوِتْرِ ; قَالَ: يُسَلِّمُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ، وَإِنْ لَمْ يُسَلِّمْ، رَجَوْتُ أَلَّا يَضُرَّهُ، إِلَّا أَنَّ التَّسْلِيمَ أَثْبَتُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. وقال في رواية أبي طالب: أَكْثَرَ الْحَدِيثِ وَأَقْوَاهُ رَكْعَةٌ، فَأَنَا أَذْهَبُ إِلَيْهَا.
ومنها مَا رَوَاهُ النَّسَائِيُّ عَنْ حذيفة أَنَّهُ: «صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم في صلاة رَمَضَانَ، فَرَكَعَ، فَقَالَ فِي رُكُوعِهِ:
এবং যে ব্যক্তি প্রতিদিন দিন ও রাতে চল্লিশ বার এই দরজায় কড়া নাড়ে, তার জন্য দরজা খোলার বিষয়টি ত্বরান্বিত হয়; আর আল্লাহই সাহায্যকারী।
«তিনি যখন রাতে জাগ্রত হতেন তখন বলতেন: তুমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তুমি পবিত্র। হে আল্লাহ, আমি আমার গুনাহের জন্য তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার রহমত ভিক্ষা করছি। হে আল্লাহ, আমার ইলম বৃদ্ধি করে দাও এবং আমাকে হিদায়াত দেওয়ার পর আমার অন্তরকে বক্র করে দিও না, আর তোমার পক্ষ থেকে আমাকে রহমত দান করো, নিশ্চয়ই তুমি মহা দাতা।»
«তিনি যখন ঘুম থেকে জাগতেন তখন বলতেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মৃত্যু সদৃশ নিদ্রার পর জীবিত করেছেন এবং তাঁর দিকেই পুনরুত্থান। এরপর তিনি মিসওয়াক করতেন, এবং কখনো কখনো সূরা আল-ইমরানের শেষ দশটি আয়াত পাঠ করতেন যা শুরু হয়েছে এখান থেকে: {নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে...} [আল ইমরান: ১৯০]। তারপর তিনি পবিত্রতা অর্জন করতেন এবং দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত সালাত আদায় করতেন,» আর আবু হুরাইরাহ বর্ণিত হাদিসে তিনি এর নির্দেশ দিয়েছেন। «তিনি মধ্যরাতে, অথবা তার কিছুটা আগে বা পরে দাঁড়াতেন», তিনি কখনো তাঁর নিয়মিত ইবাদত (বিরতি দিয়ে) খণ্ড খণ্ড করে আদায় করতেন, আবার কখনো তা নিরবচ্ছিন্নভাবে করতেন, আর এটিই ছিল অধিকাংশ সময়ের আমল। তাঁর খণ্ড খণ্ড করে ইবাদত আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে ইবনে আব্বাস বলেন: «তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করার পর ফিরে যেতেন এবং ঘুমাতেন; এভাবে ছয় রাকাতে তিনবার তিনি এরূপ করেছিলেন। প্রতিবারই তিনি মিসওয়াক করতেন ও অজু করতেন এবং এরপর তিন রাকাত বিতর পড়তেন।»
তাঁর বিতর সালাত বিভিন্ন প্রকারের ছিল। তার মধ্যে একটি ছিল এটি। আবার কখনো: «আট রাকাত সালাত আদায় করতেন যেখানে প্রতি দুই রাকাত পর সালাম ফিরাতেন এবং এরপর বিরতিহীনভাবে টানা পাঁচ রাকাত বিতর পড়তেন, যার শেষ রাকাত ছাড়া তিনি বসতেন না», «আরেকটি পদ্ধতি ছিল: নয় রাকাত আদায় করা যেখানে তিনি আট রাকাত টানা পড়তেন, অষ্টম রাকাতের আগে বসতেন না। অষ্টম রাকাতে বসে আল্লাহর জিকির করতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁর কাছে দোয়া করতেন, অতঃপর সালাম না ফিরিয়েই দাঁড়িয়ে যেতেন এবং নবম রাকাত আদায় করতেন। এরপর বসে তাশাহহুদ পড়তেন ও সালাম ফিরাতেন। তারপর সালাম ফিরানোর পর আরও দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন»। আরেকটি পদ্ধতি ছিল «সাত রাকাত আদায় করা, যা উপরে বর্ণিত নয় রাকাতের পদ্ধতির মতোই, অতঃপর তার পরে বসে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন»।
আরেকটি পদ্ধতি হলো: «দুই রাকাত দুই রাকাত করে পড়া এবং এরপর তিন রাকাত বিতর পড়া যার মাঝে কোনো বিচ্ছেদ করতেন না», ইমাম আহমদ এটি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন যে: «তিনি তিন রাকাত বিতর পড়তেন যাতে কোনো বিচ্ছেদ ছিল না»। তবে এই বর্ণনায় পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কেননা "সহিহ ইবনে হিব্বান"-এ আবু হুরাইরাহ থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: «তোমরা তিন রাকাত বিতর পড়ো না, বরং পাঁচ বা সাত রাকাত বিতর পড়ো এবং মাগরিবের সালাতের সদৃশ করো না»। দারাকুতনি বলেন, এর সনদের সকল রাবী নির্ভরযোগ্য। হারব বলেন: ইমাম আহমদকে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল; তিনি বলেন: দুই রাকাতে সালাম ফিরাবে, আর যদি সালাম না ফিরায় তবে আমি আশা করি তা তার কোনো ক্ষতি করবে না, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সালাম ফিরানোর বিষয়টিই অধিক প্রমাণিত। আর আবু তালিবের বর্ণনায় তিনি বলেছেন: অধিকাংশ হাদিস এবং সবচেয়ে শক্তিশালী মত হলো এক রাকাত বিতর, তাই আমি সেদিকেই যাচ্ছি।
এর মধ্যে একটি হলো নাসাঈ কর্তৃক হুজাইফা থেকে বর্ণিত হাদিস যে: «তিনি রমজানের সালাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করেছিলেন; অতঃপর তিনি রুকু করলেন এবং রুকুতে বললেন:
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ مِثْلَ مَا كَانَ قَائِمًا» ، الحديث (1) . وفيه: «فَمَا صَلَّى إِلَّا أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، حَتَّى جَاءَ بِلَالٌ يَدْعُوهُ إِلَى الْغَدَاةِ» . وَأَوْتَرَ أَوَّلَ اللَّيْلِ ووسطه، وآخره، وقام ليلة بآية يتلوها، ويرددها حتى الصباح {إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [الْمَائِدَةِ: 118] (2) .
وَكَانَتْ صَلَاتُهُ بِاللَّيْلِ ثَلَاثَةَ أَنْوَاعٍ: أَحَدُهَا: وَهُوَ أَكْثَرُهَا، صَلَاتُهُ قَائِمًا. الثَّانِي: أَنَّهُ كَانَ يصلي قَاعِدًا. الثَّالِثُ: أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ قَاعِدًا، فَإِذَا بَقِيَ يَسِيرٌ مِنْ قِرَاءَتِهِ قَامَ فَرَكَعَ قَائِمًا، وثبت عنه أنه كان يصلي ركعتين بعد الوتر جَالِسًا تَارَةً، وَتَارَةً يَقْرَأُ فِيهِمَا جَالِسًا، فَإِذَا أراد أن يركع قام فركع.
وقد أشكل هذا على كثير، وظنوه معارضا لقوله: «اجعلوا آخر صلاتكم بالليل وترا» قال أَحْمَدُ لَا أَفْعَلُهُ وَلَا أَمْنَعُ مَنْ فَعْلَهُ، قال: وأنكره مالك والصواب أن الوتر عبادة مستقلة. فَتَجْرِي الرَّكْعَتَانِ بَعْدَهُ مَجْرَى سُنَّةِ الْمَغْرِبِ مِنَ المغرب، فهما تكميل للوتر.
وَلَمْ يُحْفَظْ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَنَتَ فِي الْوِتْرِ، إِلَّا فِي حَدِيثٍ رواه ابن ماجه قال أحمد: لَيْسَ يُرْوَى فِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَيْءٌ، وَلَكِنْ كَانَ عمر يَقْنُتُ من السنة إلى السنة.
وروى أهل " السنن " حديث الحسن بن علي وقال الترمذي حَدِيثٌ حَسَنٌ لَا نَعْرِفُهُ إِلَّا مِنْ هَذَا الوجه من حديث أبي هريرة (3) السعدي انْتَهَى، وَالْقُنُوتُ فِي الْوِتْرِ مَحْفُوظٌ عَنْ عمر، وأبي، وابن مسعود وَذَكَرَ أبو داود وَالنَّسَائِيُّ مِنْ حَدِيثِ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كان يقرأ في الوتر بـ (سبح) و {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} [الكافرون: 1] وَ {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} [الإخلاص: 1] فَإِذَا سَلَّمَ قَالَ: " سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ " ثلاث مرات يمد صوته في الثالثة ويرفع» وكان صلى الله عليه وسم يُرَتِّلُ السُّورَةَ حَتَّى تَكُونَ أَطْوَلَ مِنْ أَطْوَلَ منها، والمقصود من القرآن تدبره وتفهمه، والعمل به. وتلاوته، وحفظه
--------------------------------------------
«আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি» - এটি তাঁর দাঁড়িয়ে থাকার সময়ের মতোই দীর্ঘ ছিল, হাদীস (১)। এতে আরও রয়েছে: «অতঃপর তিনি মাত্র চার রাকাত সালাত আদায় করলেন, এমনকি বিলাল এসে তাঁকে ভোরের সালাতের জন্য ডাকতে লাগলেন»। তিনি রাতের শুরুতে, মধ্যভাগে এবং শেষভাগে বিতর আদায় করতেন। তিনি এক রাত একটি আয়াত পাঠ করেই দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং সকাল পর্যন্ত সেটিরই পুনরাবৃত্তি করলেন {যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা তো আপনারই বান্দা; আর যদি আপনি তাদের ক্ষমা করেন, তবে আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [আল-মায়েদাহ: ১১৮] (২)।
তাঁর রাতের সালাত ছিল তিন প্রকার: প্রথমত: যা তাঁর অধিকাংশ সময়ের আমল ছিল, তা হলো দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা। দ্বিতীয়ত: তিনি বসে সালাত আদায় করতেন। তৃতীয়ত: তিনি বসে কিরাত পাঠ করতেন, অতঃপর যখন তাঁর কিরাত সামান্য অবশিষ্ট থাকত, তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়িয়ে রুকু করতেন। তাঁর থেকে এটিও সাব্যস্ত আছে যে, তিনি বিতরের পর দুই রাকাত সালাত কখনো বসে আদায় করতেন, আবার কখনো সে দুই রাকাতে বসে কিরাত পাঠ করতেন, অতঃপর যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন তখন দাঁড়িয়ে রুকু করতেন।
এটি অনেকের নিকট জটিল মনে হয়েছে এবং তারা একে তাঁর এই বাণীর পরিপন্থী মনে করেছেন: «তোমরা রাতের শেষ সালাতকে বিতর বানাও»। ইমাম আহমাদ বলেন, আমি এটি করি না, তবে যে এটি করে তাকে আমি নিষেধও করি না। তিনি বলেন: ইমাম মালিক একে অস্বীকার করেছেন। অথচ সঠিক কথা হলো, বিতর একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। সুতরাং বিতরের পরবর্তী এই দুই রাকাত মাগরিবের সালাতের পর সুন্নাহর মতো গণ্য হবে, যা বিতরের পরিপূরক।
ইবনে মাজাহ বর্ণিত একটি হাদীস ব্যতীত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বিতরে কুনুত পড়ার কথা সংরক্ষিত নেই। ইমাম আহমাদ বলেন: এ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কিছুই বর্ণিত হয়নি, তবে উমর (রা.) সারা বছর কুনুত পড়তেন।
সুনান গ্রন্থকারগণ হাসান ইবনে আলী (রা.)-এর হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি একটি হাসান হাদীস, যা আমরা আবু হুরায়রা (৩) আস-সাদী বর্ণিত এই সূত্র ছাড়া অন্য কোনোভাবে জানি না। বিতরে কুনুত পড়া উমর, উবাই এবং ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে সংরক্ষিত। আবু দাউদ ও নাসায়ী উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): «বিতরে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা’, {কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন} [আল-কাফিরুন: ১] এবং {কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ} [আল-ইখলাস: ১] পাঠ করতেন। অতঃপর যখন সালাম ফিরাতেন তখন তিনবার বলতেন: “পবিত্র অধিপতির মহিমা ঘোষণা করছি”, তৃতীয়বার তিনি তাঁর স্বর দীর্ঘ করতেন এবং উঁচু করতেন»। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরাগুলো এমনভাবে তারতীল সহকারে পাঠ করতেন যে, সূরাটি তার চেয়ে দীর্ঘ সূরার চেয়েও বেশি দীর্ঘ হয়ে যেত। আর কুরআনের মূল উদ্দেশ্য হলো তা নিয়ে চিন্তা করা, তা অনুধাবন করা, তদনুযায়ী আমল করা, তিলাওয়াত করা এবং মুখস্থ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَسِيلَةٌ إِلَى مَعَانِيهِ، كَمَا قَالَ بَعْضُ السَّلَفِ: أنزل القرآن ليعمل به، فاتخذوا تلاوته عملا.
قال شعبة: حدثنا أبو حمزة قَالَ: قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ: إِنِّي رَجُلٌ سَرِيعُ القراءة، وربما قرأت القرآن في الليلة مرة أو مرتين. قال ابن عباس رضي الله عنهما: لَأَنْ أَقْرَأَ سُورَةً وَاحِدَةً، أَعْجَبُ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَفْعَلَ ذَلِكَ الَّذِي تَفْعَلُ، فَإِنْ كُنْتَ فاعلا لا بد، فاقرأ قراءة تسمع أذنيك، ويعيه قلبك. وقال إبراهيم: قرأ علقمة على عبد الله، فَقَالَ: رَتِّلْ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي، فَإِنَّهُ زَيْنُ القرآن. وقال عبد الله: لَا تَهُذُّوا الْقُرْآنَ هَذَّ الشِّعْرِ، وَلَا تَنْثُرُوهُ نَثْرَ الدَّقَلِ، وَقِفُوا عِنْدَ عَجَائِبِهِ، وَحَرِّكُوا بِهِ الْقُلُوبَ، وَلَا يَكُنْ هَمُّ أَحَدِكُمْ آخِرَ السُّورَةِ. وقال: إذا سمعت الله يقول: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا فَأَصْغِ لَهَا سَمْعَكَ، فَإِنَّهُ خَيْرٌ تُؤْمَرُ بِهِ، أو شر تنهى عنه. وقال عبد الرحمن بن أبي ليل: دَخَلَتْ عَلَيَّ امْرَأَةٌ وَأَنَا أَقْرَأُ (سُورَةَ هُودٍ) فقالت لي: يَا عبد الرحمن هَكَذَا تَقْرَأُ سُورَةَ هُودٍ؟ ! وَاللَّهِ إِنِّي فِيهَا مُنْذُ سِتَّةِ أَشْهُرٍ وَمَا فَرَغْتُ مِنْ قِرَاءَتِهَا.
وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يسر بالقرآن في صلاة الليل تارة، ويجهر تارة، ويطيل القيام تارة، ويخففه تَارَةً، وَكَانَ يُصَلِّي التَّطَوُّعَ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ عَلَى راحلته في السفر، قبل أي وجه تَوَجَّهَتْ بِهِ، فَيَرْكَعُ وَيَسْجُدُ عَلَيْهَا إِيمَاءً، وَيَجْعَلُ سجوده أخفض من ركوعه.
[فَصْلٌ فِي هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم في صلاة الضحى]فصل روى البخاري في صحيحه عن عائشة قَالَتْ: «مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي سُبْحَةَ الضُّحَى وَإِنِّي لَأُسَبِّحُهَا.
» وفي الصحيحين عن أبي هريرة قال: «أوصاني خليلي صلى الله عليه وسلم بِصِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَرَكْعَتَيِ الضُّحَى، وَأَنْ أُوتِرَ قبل أن أرقد»
ولمسلم عن زيد ابن أرقم مرفوعا: «صلاة الأوابين حين تَرْمَضُ الْفِصَالُ» أَيْ: يَشْتَدُّ حَرُّ النَّهَارِ، فَتَجِدُ الفصال حر الرمضاء، فقد أوصى بها، وكان يستغني عنها بقيام الليل.
قال مسروق: كنا نصلي فِي الْمَسْجِدِ، فَنَبْقَى بَعْدَ قِيَامِ ابْنِ مَسْعُودٍ، ثم نقوم فنلي الضحى، فبلغه، فَقَالَ: لِمَ تُحَمِّلُونَ عِبَادَ اللَّهِ مَا لَمْ يُحَمِّلْهُمُ اللَّهُ؟ إِنْ كُنْتُمْ لَا بُدَّ فَاعِلِينَ ففي بيوتكم.
وقال سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ: إِنِّي لَأَدَعُ صَلَاةَ الضُّحَى وأنا أشتهيها،
এটি এর অর্থ অনুধাবনের একটি মাধ্যম, যেমনটি পূর্বসূরিদের (সালাফ) কেউ কেউ বলেছেন: কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে সে অনুযায়ী আমল করার জন্য, তাই তোমরা এর তিলাওয়াতকেই আমলে পরিণত করো।
শুবা বলেন: আবু হামযাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম: আমি অতি দ্রুত তিলাওয়াতকারী এক ব্যক্তি, আমি সম্ভবত এক রাতে একবার বা দুবার কুরআন খতম করি। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন: তোমার মতো ওইভাবে পড়ার চেয়ে একটি মাত্র সূরা (ধীরে ধীরে) পড়া আমার কাছে বেশি প্রিয়। আর যদি তোমাকে পড়তেই হয়, তবে এমনভাবে পড়ো যেন তোমার কান তা শুনতে পায় এবং তোমার অন্তর তা উপলব্ধি করতে পারে। ইব্রাহিম বলেন: আলকামা আবদুল্লাহর (ইবনে মাসউদ) সামনে তিলাওয়াত করলেন। তখন তিনি বললেন: তারতীলের সাথে পড়ো, তোমার জন্য আমার বাবা-মা উৎসর্গিত হোক, কারণ এটি কুরআনের সৌন্দর্য। আবদুল্লাহ বলেন: তোমরা কবিতার মতো দ্রুতবেগে কুরআন পাঠ করো না এবং নিম্নমানের শুষ্ক খেজুরের মতো যত্রতত্র ছড়িয়ে দিও না। এর বিস্ময়কর বিষয়গুলোর কাছে থামো এবং এর মাধ্যমে অন্তরকে আন্দোলিত করো। তোমাদের কারও লক্ষ্য যেন কেবল সূরার শেষ পর্যন্ত পৌঁছানো না হয়। তিনি আরও বলেন: যখন তুমি আল্লাহকে বলতে শোনো: 'হে মুমিনগণ', তখন কান পেতে তা শোনো। কারণ সেটি হয় কোনো কল্যাণ যা পালনের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, অথবা কোনো মন্দ যা থেকে বারণ করা হচ্ছে। আবদুর রহমান ইবনে আবি লাইলা বলেন: আমার নিকট এক মহিলা প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে আমি সূরা হুদ তিলাওয়াত করছিলাম। তিনি আমাকে বললেন: হে আবদুর রহমান, আপনি কি এভাবেই সূরা হুদ তিলাওয়াত করছেন?! আল্লাহর কসম, আমি ছয় মাস যাবৎ এটি পড়ছি, তবুও এর তিলাওয়াত শেষ করতে পারিনি।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতের সালাতে কখনো কুরআন নিচু স্বরে পড়তেন, আবার কখনো উচ্চ স্বরে পড়তেন। কখনো দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন, আবার কখনো সংক্ষিপ্ত করতেন। তিনি সফরে তাঁর সওয়ারির ওপর দিবা-রাত্রে নফল সালাত আদায় করতেন, সওয়ারি যেদিকেই মুখ করুক না কেন। তিনি ইশারায় রুকু ও সিজদা করতেন এবং সিজদাকে রুকুর চেয়ে নিচু করতেন।
[চাশতের সালাত (সালাতুদ দুহা) পালনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে চাশতের নফল সালাত আদায় করতে দেখিনি, তবে আমি তা আদায় করি।»
সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমার পরম বন্ধু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন: প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, চাশতের দুই রাকাত সালাত আদায় করা এবং ঘুমানোর আগে বিতর সালাত আদায় করা।»
মুসলিম শরীফে যায়েদ ইবনে আরকাম থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: «আওয়াবিনদের সালাত তখন, যখন উটের ছানার পা (তপ্ত বালুর তাপে) পুড়তে থাকে।» অর্থাৎ: যখন দিনের তাপ প্রখর হয় এবং উটের ছানা তপ্ত বালুর উত্তাপ অনুভব করে। তিনি এই সালাতের অসিয়ত করেছেন, তবে কখনো রাতের কিয়ামের কারণে এটি না পড়েও থাকতে পারতেন।
মাসরুক বলেন: আমরা মসজিদে সালাত আদায় করতাম এবং ইবনে মাসউদের চলে যাওয়ার পরও অবস্থান করতাম। এরপর আমরা দাঁড়িয়ে চাশতের সালাত আদায় করতাম। এ সংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছালে তিনি বললেন: «তোমরা আল্লাহর বান্দাদের ওপর এমন কিছু কেন চাপিয়ে দিচ্ছ যা আল্লাহ তাদের ওপর চাপাননি? যদি তোমাদের তা করতেই হয়, তবে তোমাদের ঘরে করো।»
সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন: «আমি আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও চাশতের সালাত বর্জন করি (পাছে মানুষ একে ফরয মনে করে)।»
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مخافة أن أراها حتما علي.
«وكان من هديه صلى الله عليه وسلم وَهَدْيِ أَصْحَابِهِ، سُجُودُ الشُّكْرِ عِنْدَ تَجَدُّدِ نِعْمَةٍ تسر، أو اندفاع نقمة» ، «وكان صلى الله عليه وسلم إذا مر بآية سجدة - كَبَّرَ وَسَجَدَ، وَرُبَّمَا قَالَ فِي سُجُودِهِ: سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بحوله وقوته» ولم ينقل عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يُكَبِّرُ لِلرَّفْعِ مِنْ هَذَا السجود، ولا تشهد، ولا سلم ألبتة. وصح عنه أَنَّهُ سَجَدَ فِي (الم تَنْزِيلُ) وَفِي (ص) وفي (اقرأ) وَفِي (النَّجْمِ) وَفِي {إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ} [الانشقاق: 1] وَذَكَرَ أبو داود، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أَقْرَأَهُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَجْدَةً، مِنْهَا ثَلَاثٌ فِي المفصل، وفي (سورة الحج) سجدتين.
وأما حديث ابن عباس، أنه صلى الله عليه وسلم لَمْ يَسْجُدْ فِي المفصل منذ تحول إلى المدينة، فَهُوَ حَدِيثٌ ضَعِيفٌ، فِي إِسْنَادِهِ أبو قدامة الحارث بن عبيد، ولا يحتج بحديثه، وأعله ابن القطان بمطر الوراق، وقال: كان يشبه فِي سُوءِ الْحِفْظِ، مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، وَعِيبَ عَلَى مسلم إِخْرَاجُ حديثه. انتهى.
وَلَا عَيْبَ عَلَى مسلم فِي إِخْرَاجِ حَدِيثِهِ لِأَنَّهُ يَنْتَقِي مِنْ أَحَادِيثِ هَذَا الضَّرْبِ مَا يَعْلَمُ أَنَّهُ حَفِظَهُ، كَمَا يَطْرَحُ مِنْ أَحَادِيثِ اليقظة ما يعلم أنه غلط فيه، فمن الناس من صحح جميع أحاديث هؤلاء الثقات، ومنهم من ضعف جميع حديث السيئ الْحِفْظِ، فَالْأُولَى طَرِيقَةُ الحاكم وَأَمْثَالِهِ، وَالثَّانِيَةُ طَرِيقَةُ ابن حزم وَأَشْكَالِهِ، وَطَرِيقَةُ مسلم هِيَ طَرِيقَةُ أئمة هذا الشأن.
[فَصْلٌ فِي هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم في الجمعة]فَصْلٌ
فِي هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم في الجمعة وذكر خصائص يومها صَحَّ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «أَضَلَّ اللَّهُ عَنِ الْجُمُعَةِ مَنْ كَانَ قَبْلَنَا وكان لِلْيَهُودِ يَوْمُ السَّبْتِ، وَكَانَ لِلنَّصَارَى يَوْمُ الْأَحَدِ، فَجَاءَ اللَّهُ بِنَا فَهَدَانَا لِيَوْمِ الْجُمُعَةِ، فَجَعَلَ الجمعة والسبت والأحد، وكذلك هم لنا تبع يَوْمَ الْقِيَامَةِ، نَحْنُ الْآخِرُونَ مِنْ أَهْلِ الدُّنْيَا وَالْأَوَّلُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، الْمَقْضِيُّ لَهُمْ قَبْلَ الْخَلَائِقِ»
وللترمذي وصححه عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا: «خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ، وَفِيهِ أُخْرِجَ مِنْهَا، وَلَا تقوم الساعة إلا في يوم الجمعة» .
এই ভয়ে যে, পাছে আমি এটাকে আমার ওপর আবশ্যক হিসেবে দেখতে পাই।
«নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের আদর্শ ছিল কোনো আনন্দদায়ক নিআমত লাভ করলে অথবা কোনো বিপদ দূর হলে শুকরিয়ার সিজদাহ (সিজদায়ে শোকর) আদায় করা।» «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোনো সিজদাহর আয়াতের ওপর দিয়ে যেতেন, তখন তাকবীর বলতেন এবং সিজদাহ করতেন। অনেক সময় তিনি সিজদায় বলতেন: "আমার চেহারা সিজদাবনত হয়েছে সেই সত্তার জন্য যিনি একে সৃষ্টি করেছেন, এর রূপ দান করেছেন এবং তাঁর শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমে এর শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি উন্মোচিত করেছেন।"» এই সিজদাহ থেকে ওঠার সময় তিনি তাকবীর বলতেন বলে বর্ণিত হয়নি, আর এতে তাশাহহুদ বা সালামও ছিল না। তাঁর থেকে সহীহ বর্ণনায় প্রমাণিত যে, তিনি 'আলিফ লাম মীম তানযীল' (সূরা আস-সাজদাহ), সূরা 'সোয়াদ', সূরা 'ইকরা', সূরা 'আন-নাজম' এবং 'ইযাস সামাউন্ শাক্বত' (সূরা আল-ইনশিক্বাক) পাঠকালে সিজদাহ করেছেন। ইমাম আবু দাউদ আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে পনেরোটি সিজদাহ শিখিয়েছেন, যার মধ্যে তিনটি 'মুফাসসাল' অংশে এবং সূরা হাজ্জে দুটি সিজদাহ রয়েছে।
আর ইবনে আব্বাসের সেই হাদীসটি—যে মদীনায় হিজরতের পর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুফাসসাল সূরাগুলোতে সিজদাহ করেননি—তা একটি দুর্বল হাদীস। এর বর্ণনাসূত্রে আবু কুদামাহ হারিস বিন উবাইদ রয়েছেন, যার হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। ইবনুল কাত্তান একে মাতার আল-ওয়াররাকের কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন এবং বলেছেন: স্মৃতিশক্তির দুর্বলতায় তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লার মতো ছিলেন। আর ইমাম মুসলিমের ওপর তার হাদীস গ্রহণের কারণে সমালোচনা করা হয়েছে। ইতি।
তবে ইমাম মুসলিমের ওপর তার হাদীস গ্রহণের কারণে কোনো দোষ বর্তায় না। কারণ তিনি এই শ্রেণির বর্ণনাকারীদের হাদীস থেকে সেগুলোই নির্বাচন করেন যেগুলো সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত যে বর্ণনাকারী তা সঠিকভাবে মুখস্থ রেখেছেন। ঠিক যেমন তিনি অসতর্ক বর্ণনাকারীদের সেই হাদীসগুলো বর্জন করেন যেগুলোতে তারা ভুল করেছেন বলে তিনি জানেন। মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এ ধরনের বিশ্বস্তদের সব হাদীসকেই সহীহ বলেন, আবার কেউ কেউ দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারীদের সব হাদীসকেই দুর্বল বলেন। প্রথমটি হলো ইমাম হাকিম ও তাঁর অনুসারীদের পদ্ধতি এবং দ্বিতীয়টি হলো ইবনে হাজম ও তাঁর সমমনাদের পদ্ধতি। আর ইমাম মুসলিমের পদ্ধতি হলো এ শাস্ত্রের ইমামদের পদ্ধতি।
[জুমুআর ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ বিষয়ক পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ
জুমুআর ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ এবং এই দিনের বৈশিষ্ট্যসমূহের বর্ণনা। তাঁর থেকে সহীহ বর্ণনায় প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: «আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তীদের জুমুআর দিন থেকে বিচ্যুত রেখেছিলেন। ইহুদীদের জন্য ছিল শনিবার এবং নাসারাদের জন্য ছিল রবিবার। এরপর আল্লাহ আমাদের নিয়ে আসলেন এবং আমাদের জুমুআর দিনের দিকে হেদায়াত দিলেন। এভাবে তিনি জুমুআ, শনিবার ও রবিবার বিন্যস্ত করলেন। একইভাবে কিয়ামতের দিনেও তারা আমাদের অনুসারী হবে। আমরা দুনিয়াবাসীদের মধ্যে সবশেষে আগমনকারী কিন্তু কিয়ামতের দিনে সমস্ত সৃষ্টির আগে আমাদের বিচার সম্পন্ন হবে।»
তিরমিযীতে আবু হুরায়রা থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণিত এবং সহীহ হিসেবে স্বীকৃত: «সূর্য উদিত হয়েছে এমন দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমুআর দিন। এই দিনেই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে সেখান থেকে বের করা হয়েছে। আর জুমুআর দিন ব্যতীত কিয়ামত সংঘটিত হবে না।»
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ورواه في الموطأ وصححه الترمذي أيضا بلفظ: «خير يوم طلعت فيه الشمس، فيه خلق آدم، وفيه أهبط، وفيه تيب عَلَيْهِ، وَفِيهِ مَاتَ، وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ، وَمَا مِنْ دَابَّةٍ إِلَّا وَهِيَ مُصِيخَةٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مِنْ حِينِ تُصْبِحُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ شَفَقًا من الساعة، إلا الجن والإنس، وفيها سَاعَةٌ لَا يُصَادِفُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ، وَهُوَ يُصَلِّي يسأل الله شيئا إلا أعطاه الله إِيَّاهُ»
قَالَ كعب: ذَلِكَ فِي كُلِّ سَنَةٍ يوم. فقلت: بل كل جمعة. فقرأ التَّوْرَاةَ فَقَالَ: صَدَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. قال أبو هريرة: ثم لقيت عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَلَامٍ فَحَدَّثْتُهُ بِمَجْلِسِي مَعَ كعب، فقال: لقد علمت أي سَاعَةٍ هِيَ قُلْتُ: فَأَخْبِرْنِي بِهَا. قَالَ: هِيَ آخِرُ سَاعَةٍ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ. فَقُلْتُ: كَيْفَ؟ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يُصَادِفُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ يُصَلِّي» وَتِلْكَ السَّاعَةُ لَا يُصَلَّى فِيهَا. فَقَالَ ابن سلام: ألم يَقُلْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ جَلَسَ مَجْلِسًا يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ فهو في صلاة حتى يصلي» وفي لفظ في مسند أحمد في حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: «قِيلَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: لِأَيِّ شَيْءٍ سُمِّيَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ؟ قَالَ: لِأَنَّ فِيهَا طُبِعَتْ طِينَةُ أَبِيكَ آدَمَ، وَفِيهَا الصَّعْقَةُ وَالْبَعْثَةُ، وَفِيهَا الْبَطْشَةُ، وَفِي آخِرِهِ ثَلَاثُ سَاعَاتٍ، مِنْهَا سَاعَةٌ مَنْ دَعَا الله فيها استجيب له»
وذكر ابن إسحاق عَنْ عبد الرحمن بن كعب بن مالك قَالَ: كُنْتُ قَائِدَ أَبِي حِينَ كُفَّ بَصَرُهُ، فَإِذَا خرجت به إلى الجمعة، فسمع الأذان لها، استغفر لأبي أمامة أسعد بن زرارة، فكنت حيا أسمع ذلك منه، فقلت: إن عجزا أن لا أسأله. فَقُلْتُ: يَا أَبَتَاهُ أَرَأَيْتَ اسْتِغْفَارَكَ لِأَسْعَدَ بْنِ زرارة كلما سمعت الأذان بالجمعة؟ قَالَ: أَيْ بُنَيَّ كَانَ أسعد أَوَّلَ مَنْ جَمَّعَ بِنَا بِالْمَدِينَةِ قَبْلَ مَقْدَمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فِي هَزْمِ النَّبِيتِ مِنْ حَرَّةِ بَنِي بَيَاضَةَ، فِي نَقِيعٍ يُقَالُ له نقيع الخضمات. قلت: وكم أنتم يومئذ؟ قال: أربعون رجلا. قال البيهقي هذا حسن صحيح الإسناد. انتهى.
ثُمَّ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم المدينة، فأقام بقباء يوم الاثنين والثلاثاء والأربعاء والخميس، وَأَسَّسَ مَسْجِدَهُمْ، ثُمَّ خَرَجَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَأَدْرَكَتْهُ الْجُمُعَةُ فِي بَنِي سَالِمِ بْنِ عَوْفٍ فَصَلَّاهَا في المسجد الذي في بطن الوادي قبل تأسيس مسجده.
قال ابن إسحاق: وكانت أول خطبة خطبها فِيمَا بَلَغَنِي عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرحمن - وأعوذ بالله أن أقول
এটি মুয়াত্তায় বর্ণিত হয়েছে এবং তিরমিযীও একে এই শব্দে সহীহ বলেছেন: «সূর্য উদিত হয়েছে এমন দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনই শ্রেষ্ঠ। এতেই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এতেই তাঁকে (পৃথিবীতে) নামানো হয়েছে, এতেই তাঁর তওবা কবুল করা হয়েছে, এতেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন এবং এতেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। জিন ও মানুষ ব্যতীত প্রতিটি প্রাণীই জুমার দিনে ভোর থেকে সূর্য উদয় পর্যন্ত কিয়ামতের ভয়ে কান খাড়া করে থাকে। এতে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সালাতরত অবস্থায় সেই মুহূর্তটি পায় এবং আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চায়, তবে আল্লাহ তাকে তা অবশ্যই দান করেন।»
কাব (আহবার) বললেন: এটি প্রতি বছরে একটি দিন। আমি বললাম: বরং প্রতি জুমায়। অতঃপর তিনি তাওরাত পাঠ করলেন এবং বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য বলেছেন। আবু হুরায়রা বললেন: অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবনে সালামের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং কাবের সাথে আমার মজলিসের কথা তাঁকে জানালাম। তিনি বললেন: আমি জানি সেটি কোন মুহূর্ত। আমি বললাম: তবে আমাকে তা জানান। তিনি বললেন: তা হলো জুমার দিনের শেষ মুহূর্ত। আমি বললাম: তা কীভাবে? অথচ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো মুসলিম বান্দা সালাতরত অবস্থায় সেই মুহূর্তটি পায় না», আর সেই সময়ে তো সালাত আদায় করা যায় না। তখন ইবনে সালাম বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি: «যে ব্যক্তি সালাতের অপেক্ষায় মজলিসে বসে থাকে, সে সালাত আদায় করা পর্যন্ত সালাতরত বলেই গণ্য হয়»? আবার মুসনাদে আহমাদের এক বর্ণনায় আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো: জুমার দিনকে কেন জুমা নামকরণ করা হয়েছে? তিনি বললেন: কারণ এতেই তোমাদের পিতা আদমের মাটির অবয়ব তৈরি করা হয়েছে, এতেই কিয়ামতের মহাধ্বনি ও পুনরুত্থান হবে, এতেই চূড়ান্ত পাকড়াও হবে এবং এর শেষ ভাগে তিনটি মুহূর্ত আছে, যার মধ্যে এমন এক মুহূর্ত রয়েছে যে সময় কেউ আল্লাহর কাছে দুআ করলে তা কবুল করা হয়।»
ইবনে ইসহাক আবদুর রহমান ইবনে কাব ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা যখন দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন, তখন আমি তাঁর পথপ্রদর্শক ছিলাম। আমি যখন তাঁকে জুমার সালাতের জন্য নিয়ে বের হতাম এবং তিনি আযান শুনতেন, তখন তিনি আবু উমামা আসআদ ইবনে যুরারার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। আমি নিয়মিত তাঁর থেকে এটি শুনতাম। আমি মনে মনে বললাম, আমি যদি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা না করি তবে তা হবে এক প্রকার অক্ষমতা। তাই আমি বললাম: হে পিতা, আমি দেখি যে আপনি জুমার আযান শুনলেই আসআদ ইবনে যুরারার জন্য ইস্তিগফার করেন, এর কারণ কী? তিনি বললেন: হে বৎস, আসআদ ইবনে যুরারা হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসার পূর্বে বনু বায়াদাহ-এর হাররাহ অঞ্চলের হাজমুন্নাবীত নামক স্থানে 'নাকী আল-খাদিমাত' নামক নিচু ভূমিতে আমাদের নিয়ে জুমার সালাত কায়েম করেছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: সেদিন আপনারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন: চল্লিশজন পুরুষ। ইমাম বায়হাকী বলেছেন, এর সনদ হাসান ও সহীহ। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমন করলেন এবং কুবাতে সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার অবস্থান করলেন। সেখানে তিনি তাদের মসজিদ (মসজিদে কুবা) প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর তিনি জুমার দিন বের হলেন এবং বনু সালিম ইবনে আউফ গোত্রে থাকাকালে জুমার সময় হলো। তখন তিনি তাঁর নিজস্ব মসজিদ প্রতিষ্ঠার আগেই সেই উপত্যকার অভ্যন্তরে অবস্থিত মসজিদে জুমার সালাত আদায় করেন।
ইবনে ইসহাক বলেন: আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে আমার কাছে যা পৌঁছেছে সে অনুযায়ী তিনি যে প্রথম খুতবাটি প্রদান করেছিলেন তা হলো—আর আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই এমন কিছু বলা থেকে যা (ভুল)...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
على رسول الله صلى الله عليه وسلم ما لم يقل - «أنه قام فيهم، فحمد الله، وأثنى عليه، ثُمَّ قَالَ: أَمَّا بَعْدُ أَيُّهَا النَّاسُ، فَقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ، تَعْلَمُنَّ وَاللَّهِ لَيُصْعَقَنَّ أَحَدُكُمْ، ثُمَّ لَيَدَعَنَّ غَنَمَهُ، لَيْسَ لَهَا رَاعٍ، ثُمَّ لَيَقُولَنَّ لَهُ ربه ليس بينه وبينه تُرْجُمَانٌ، وَلَا حَاجِبٌ يَحْجُبُهُ دُونَهُ، أَلَمْ يَأْتِكَ رَسُولِي فَبَلَّغَكُ، وَآتَيْتُكَ مَالًا، وَأَفْضَلْتُ عَلَيْكَ فَمَا قَدَّمْتَ لِنَفْسِكَ؟ فَلَيَنْظُرَنَّ يَمِينًا وَشِمَالًا، فَلَا يَرَى شَيْئًا، ثُمَّ لَيَنْظُرَنَّ قُدَّامَهُ فَلَا يَرَى غَيْرَ جَهَنَّمَ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَقِيَ وَجْهَهُ مِنَ النار ولو بشق تَمْرَةٍ فَلْيَفْعَلْ، وَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ، فَإِنَّ بِهَا تُجْزَى الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ، وَالسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ.
» قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ: ثُمَّ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّةً أُخْرَى، فَقَالَ: «إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ أَحْمَدُهُ وَأَسْتَعِينُهُ، نَعُوذُ بِاللَّهِ من شرور أنفسنا، ومن سيئات أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ، فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ، فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شريك لَهُ. إِنَّ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ، قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَيَّنَهُ اللَّهُ فِي قَلْبِهِ، وَأَدْخَلَهُ فِي الْإِسْلَامِ بَعْدَ الْكُفْرِ، فَاخْتَارَهُ عَلَى مَا سِوَاهُ مِنْ أَحَادِيثِ النَّاسِ، إِنَّهُ أَحْسَنُ الْحَدِيثِ وَأَبْلَغُهُ، أَحِبُّوا مَا أَحَبَّ اللَّهُ، أَحِبُّوا اللَّهَ مِنْ كُلِّ قُلُوبِكُمْ، وَلَا تَمَلُّوا كَلَامَ اللَّهِ وَذِكْرَهُ، وَلَا تَقْسُ عَنْهُ قُلُوبُكُمْ، فَإِنَّهُ مِنْ كُلِّ مَا يَخْلُقُ اللَّهُ يَخْتَارُ وَيَصْطَفِي، قَدْ سَمَّاهُ اللَّهُ خِيرَتَهُ مِنَ الْأَعْمَالِ، وَمُصْطَفَاهُ مِنَ الْعِبَادِ، وَالصَّالِحَ مِنَ الْحَدِيثِ، وَمِنْ كُلِّ مَا أُوتِيَ النَّاسُ مِنَ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ، فَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَاتَّقُوهُ حَقَّ تُقَاتِهِ، وَاصْدُقُوا اللَّهَ صَالِحَ مَا تَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُمْ، وَتَحَابُّوا بروح الله بينكم، إن الله يبغض أَنْ يُنْكَثَ عَهْدُهُ، وَالسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وبركاته»
[فصل في تعظيم يوم الجمعة]فصل
في تعظيم يوم الجمعة وكان من هديه صلى الله عليه وسلم تعظيم هذا اليوم وتشريفه، وتخصيصه بخصائص منها: أنه يقرأ في فجره بـ {الم} [السجدة: 1] السجدة) و {هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ} [الإنسان: 1] فإنهما تضمنتا ما كان وما يكون في يومها.
ومنها: استحباب كثرة الصلاة فيه على النبي صلى الله عليه وسلم، وفي ليلته، لأن كُلَّ خَيْرٍ نَالَتْهُ أُمَّتُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، فعلى يديه، وأعظم كرامة تحصل لهم يَوْمَ الْجُمُعَةِ: فَإِنَّ فِيهِ بَعْثَهُمْ إِلَى مَنَازِلِهِمْ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মাঝে দাঁড়ালেন, অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান গাইলেন, এরপর বললেন: "অতঃপর হে লোকসকল, তোমরা নিজেদের জন্য (নেক আমল) অগ্রিম পাঠাও। আল্লাহর কসম, তোমরা অবশ্যই জানতে পারবে যে, তোমাদের কেউ অবশ্যই বেহুঁশ হয়ে পড়বে, তারপর সে তার মেষগুলোকে এমন অবস্থায় ছেড়ে যাবে যে সেগুলোর কোনো রাখাল থাকবে না। এরপর তার রব তাকে বলবেন—এমতাবস্থায় যে তাঁর এবং বান্দার মাঝে কোনো অনুবাদক থাকবে না এবং কোনো অন্তরালকারী থাকবে না যা তাঁকে আড়াল করবে—'তোমার কাছে কি আমার রাসূল পৌঁছায়নি এবং তিনি কি তোমার নিকট বার্তা পৌঁছে দেননি? আমি তোমাকে সম্পদ দান করেছি এবং তোমাকে অনুগ্রহ করেছি, তবে তুমি নিজের জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছ?' তখন সে ডানে ও বামে তাকাবে কিন্তু কিছুই দেখতে পাবে না। তারপর সে সামনের দিকে তাকাবে এবং জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না। সুতরাং যে ব্যক্তি একটি খেজুরের টুকরোর বিনিময়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে নিজের চেহারা রক্ষা করতে সক্ষম হয়, সে যেন তা করে। আর যে তা পাবে না, সে যেন একটি সুন্দর কথার মাধ্যমে তা করে। কারণ এর মাধ্যমে একটি নেক আমলের সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আর তোমাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।"
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় খুতবা দিলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব। সেই ব্যক্তি সফল হয়েছে যার অন্তরে আল্লাহ একে সুশোভিত করেছেন এবং কুফরের পর তাকে ইসলামে দাখিল করেছেন, ফলে সে মানুষের অন্যান্য কথার পরিবর্তে একে গ্রহণ করেছে। নিশ্চয়ই এটি সর্বোত্তম ও সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী কথা। আল্লাহ যা ভালোবাসেন তোমরাও তা ভালোবাসো। তোমরা তোমাদের সমগ্র অন্তর দিয়ে আল্লাহকে ভালোবাসো। আল্লাহর কালাম ও তাঁর জিকির থেকে ক্লান্ত হয়ো না এবং এর থেকে তোমাদের অন্তরকে কঠোর করো না। কারণ আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার মধ্য থেকে তিনি একে মনোনীত ও নির্বাচন করেছেন। আল্লাহ একে আমলসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, বান্দাদের মধ্যে মনোনীত এবং কথাগুলোর মধ্যে নেক বা উত্তম কথা হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর মানুষকে যা কিছু হালাল ও হারাম প্রদান করা হয়েছে তার মধ্য থেকেও (এটি উত্তম)। সুতরাং তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না। তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করো। তোমাদের মুখ দিয়ে যে উত্তম কথা বলো সে ব্যাপারে আল্লাহর সাথে সত্যবাদী হও। আল্লাহর রুহ (মহব্বত বা দ্বীন) দ্বারা তোমরা পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা কায়েম করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করাকে ঘৃণা করেন। আর তোমাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।"
[জুমার দিনের মাহাত্ম্য বিষয়ক পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ
জুমার দিনের মাহাত্ম্য বর্ণনা প্রসঙ্গে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ ছিল এই দিনটিকে সম্মান করা, মর্যাদা দেওয়া এবং একে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট করা। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: তিনি এই দিনের ফজরের নামাজে ‘আলিফ-লাম-মীম সাজদাহ’ এবং ‘হাল আতা আলাল ইনসান’ পাঠ করতেন। কারণ এই সুরা দুটি সেই সব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা এই দিনে ঘটেছিল এবং যা ঘটবে।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: এই দিনে এবং এই রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অধিক হারে দরুদ পাঠ করা মুস্তাহাব। কারণ তাঁর উম্মত দুনিয়া ও আখেরাতে যে কল্যাণই লাভ করেছে, তা তাঁর হাত ধরেই লাভ করেছে। আর জুমার দিনে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় যে সম্মান অর্জিত হবে তা হলো: এই দিনেই তাদেরকে তাদের জান্নাতের আবাসস্থলের দিকে পাঠানো হবে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فِي الْجَنَّةِ، وَهُوَ يَوْمُ الْمَزِيدِ لَهُمْ إِذَا دخلوها، وقربهم من ربهم يوم القيامة، وسبقهم إلى الزيادة بِحَسْبِ قُرْبِهِمْ مِنَ الْإِمَامِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَتَبْكِيرِهِمْ إليها.
ومنها: الاغتسال فِي يَوْمِهَا، وَهُوَ أَمْرٌ مُؤَكَّدٌ جِدًّا، وَوُجُوبُهُ أقوى من وجوب الوضوء من مس الذكر، والرعاف، وَالْقَيْءِ، وَوُجُوبِ الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم في التشهد الأخير.
ومنها: الطيب والسواك، ولها مزية فيه على غيره.
ومنها التبكير، والاشتغال بذكر الله تعالى، والصلاة إلى خروج الإمام.
ومنها: الإنصات للخطبة وجوبا.
ومنها: قراءة (الجمعة) و (المنافقين) أو (سبح) و (الغاشية) .
ومنها: أن يلبس فيه أحسن ثيابه.
ومنها: أن للماشي إليها بكل خطوة عمل سنة، أجر صيامها وقيامها.
ومنها: أنه يكفر السيئات.
ومنها: ساعة الإجابة.
وكان صلى الله عليه وسلم إِذَا خَطَبَ احْمَرَّتْ عَيْنَاهُ، وَعَلَا صَوْتُهُ، وَاشْتَدَّ غَضَبُهُ، حَتَّى كَأَنَّهُ مُنْذِرُ جَيْشٍ يَقُولُ: صَبَّحَكُمْ ومساكم. «وكان يقول في خطبته: " أما بعد» ، ويقصر الخطبة، ويطيل الصلاة، وَكَانَ يُعَلِّمُ أَصْحَابَهُ فِي خُطْبَتِهِ قَوَاعِدَ الْإِسْلَامِ وَشَرَائِعَهُ، وَيَأْمُرُهُمْ وَيَنْهَاهُمْ فِي خُطْبَتِهِ إِذَا عَرَضَ له أمر، كَمَا أَمَرَ الدَّاخِلَ وَهُوَ يَخْطُبُ أَنْ يُصَلِّيَ ركعتين، وإذا رأى بهم ذا فاقة من حاجة، أمرهم بالصدقة، وحضهم عليها. وكان يشير في خطبته بإصبعه السبابة عند ذكر الله ودعائه.
وكان يستسقي إذا قحط المطر في خطبته، ويخرج إذا اجتمعوا، فَإِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ، سَلَّمَ عَلَيْهِمْ، فَإِذَا صَعِدَ المنبر، استقبلهم بوجهه، وسلم عليهم ثُمَّ يَجْلِسُ، وَيَأْخُذُ بلال فِي الْأَذَانِ، فَإِذَا فرغ، قام وخطب، ويعتمد على قوس أو عصا، وَكَانَ مِنْبَرُهُ ثَلَاثَ دَرَجَاتٍ، وَكَانَ قَبْلَ اتِّخَاذِهِ يخطب إلى جذع، ولم يوضع المنبر في وسط المسجد، بل في جانبه الغربي، بينه وبين الحائط قدر ممر شاة، وكان إذا جلس عليه في غير الجمعة، أو خطب قائما يوم الجمعة، استدار أصحابه إليه بوجوههم، وَكَانَ يَقُومُ فَيَخْطُبُ، ثُمَّ يَجْلِسُ جِلْسَةً خَفِيفَةً، ثُمَّ يَقُومُ فَيَخْطُبُ الثَّانِيَةَ، فَإِذَا فَرَغَ مِنْهَا أخذ بلال في الإقامة.
وكان يأمر بالدنو منه والإنصات، ويخبر أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا قَالَ لِصَاحِبِهِ: أَنْصِتْ. فَقَدْ لغا، ومن لغا فلا جمعة له.
وكان إذا صلى الجمعة دخل مَنْزِلِهِ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ
জান্নাতে এটি তাদের জন্য অতিরিক্ত প্রাপ্তির দিন যখন তারা সেখানে প্রবেশ করবে। কিয়ামতের দিন তাদের রবের নৈকট্য লাভ এবং অতিরিক্ত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তাদের অগ্রগামিতা হবে জুমার দিনে ইমামের কতটুকু নিকটে তারা বসত এবং কত দ্রুত সেখানে উপস্থিত হতো তার ভিত্তিতে।
এর মধ্যে রয়েছে: জুমার দিনে গোসল করা, যা অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি নির্দেশ। এর আবশ্যকতা লিঙ্গ স্পর্শ করা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং বমি করার কারণে অজু করার আবশ্যকতার চেয়েও শক্তিশালী, এমনকি শেষ তাশাহহুদে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠের আবশ্যকতার চেয়েও জোরালো।
এর মধ্যে রয়েছে: সুগন্ধি ব্যবহার ও মেসওয়াক করা; অন্য সময়ের তুলনায় জুমার দিনে এগুলোর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে: দ্রুত মসজিদে যাওয়া, মহান আল্লাহর জিকিরে মগ্ন থাকা এবং ইমাম বের হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করা।
এর মধ্যে রয়েছে: আবশ্যিকভাবে খুতবা মনোযোগ সহকারে শোনা।
এর মধ্যে রয়েছে: সালাতে সূরা 'আল-জুমুআ' ও 'আল-মুনাফিকুন' অথবা 'আল-আলা' ও 'আল-গাশিয়াহ' পাঠ করা।
এর মধ্যে রয়েছে: এ দিনে নিজের সবচেয়ে উত্তম পোশাক পরিধান করা।
এর মধ্যে রয়েছে: জুমার দিকে পায়ে হেঁটে গমনকারীর জন্য প্রতিটি কদমে এক বছরের আমল—তথা বছরজুড়ে রোজা রাখা ও রাতে সালাত আদায়ের সমান সওয়াব রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে: এটি গুনাহসমূহ মোচন করে দেয়।
এর মধ্যে রয়েছে: দোয়া কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন খুতবা দিতেন, তখন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেত, কণ্ঠস্বর উচ্চ হতো এবং তাঁর ক্রোধ তীব্র হতো; যেন তিনি কোনো সৈন্যবাহিনীকে এই বলে সতর্ক করছেন: "শত্রু তোমাদের সকালে বা সন্ধ্যায় আক্রমণ করবে।" তিনি খুতবায় বলতেন: "অতঃপর..." তিনি খুতবা সংক্ষিপ্ত করতেন এবং সালাত দীর্ঘ করতেন। তিনি খুতবার মাধ্যমে তাঁর সাহাবীদের ইসলামের মূলনীতি ও বিধানসমূহ শিক্ষা দিতেন এবং খুতবা চলাকালে কোনো বিষয় সামনে এলে তিনি তাদের আদেশ ও নিষেধ করতেন। যেমন তিনি খুতবা দেওয়া অবস্থায় মসজিদে প্রবেশকারী ব্যক্তিকে দুই রাকাত সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আবার যখন তিনি তাদের মধ্যে কাউকে খুব অভাবগ্রস্ত দেখতেন, তখন তাদের সদকা করার নির্দেশ দিতেন এবং সেদিকে উৎসাহিত করতেন। আল্লাহর জিকির ও তাঁর কাছে দোয়া করার সময় তিনি খুতবায় তাঁর শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করতেন।
বৃষ্টির অভাব দেখা দিলে তিনি খুতবার মধ্যেই বৃষ্টির জন্য দোয়া করতেন। লোকরা সমবেত হলে তিনি বের হতেন; মসজিদে প্রবেশ করে তিনি তাদের সালাম দিতেন। অতঃপর যখন মিম্বারে উঠতেন, তখন তাদের দিকে মুখ করে বসতেন এবং সালাম দিতেন। এরপর তিনি বসতেন এবং বিলাল আজান দিতে শুরু করতেন। আজান শেষ হলে তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন এবং একটি ধনুক বা লাঠির ওপর ভর দিতেন। তাঁর মিম্বারটি ছিল তিন ধাপ বিশিষ্ট। মিম্বার তৈরির পূর্বে তিনি একটি খেজুর গাছের কাণ্ডের দিকে ফিরে খুতবা দিতেন। মিম্বারটি মসজিদের মাঝখানে স্থাপন করা হয়নি, বরং এর পশ্চিম পাশে স্থাপন করা হয়েছিল; মিম্বার ও দেয়ালের মাঝে একটি বকরি চলাচলের মতো জায়গা ছিল। জুমার দিন ছাড়া অন্য সময়ে যখন তিনি মিম্বারে বসতেন অথবা জুমার দিন দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন, তখন তাঁর সাহাবীগণ নিজেদের মুখ তাঁর দিকে ঘুরিয়ে বসতেন। তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন, তারপর অল্প সময়ের জন্য বসতেন, পুনরায় দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় খুতবা দিতেন। খুতবা শেষ হলে বিলাল একামত দিতেন।
তিনি তাঁর কাছাকাছি হতে এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনতে নির্দেশ দিতেন। তিনি বলতেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি তার সাথীকে বলে: "চুপ করো", তবে সে অনর্থক কাজ করল; আর যে অনর্থক কাজ করল, তার জুমার কোনো সওয়াব নেই।
তিনি জুমার সালাত শেষ করে তাঁর ঘরে প্রবেশ করতেন এবং সেখানে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু যাদিল মাআদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
سُنَّتَهَا، وَأَمَرَ مَنْ صَلَّاهَا أَنْ يُصَلِّيَ بَعْدَهَا أربعا. قال شيخنا: إذا صَلَّى فِي الْمَسْجِدِ صَلَّى أَرْبَعًا، وَإِنْ صَلَّى في بيته صلى ركعتين.
[فِي هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم فِي صلاة العيدين]وكان يصلي العيدين في المصلى، وهو الذي على باب المدينة الشرقي، الَّذِي يُوضَعُ فِيهِ مَحْمِلُ الْحَاجِّ، وَلَمْ يُصَلِّ العيد بمسجده إلا مرة أصابهم مطر - إِنْ ثَبَتَ الْحَدِيثُ - وَهُوَ فِي "سُنَنِ أبي داود " وكان يلبس أجمل ثيابه، ويأكل في عيد الفطر قبل خروجه تمرات، ويأكلهن وترا، وأما في الْأَضْحَى فَكَانَ لَا يَطْعَمُ حَتَّى يَرْجِعَ مِنَ المصلى، فيأكل من أضحيته، وكان يغتسل للعيد - إن صح - وفيه حديثان ضعيفان، لكن ثَبَتَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مَعَ شِدَّةِ اتَّبَاعِهِ للسنة.
وكان يَخْرُجُ مَاشِيًا وَالْعَنَزَةُ تُحْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَإِذَا وصل نصبت ليصلي إليها، فإن المصلى لم يكن فيه بناء، وَكَانَ يُؤَخِّرُ صَلَاةَ عِيدِ الْفِطْرِ، وَيُعَجِّلُ الْأَضْحَى. وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ مَعَ شِدَّةِ اتِّبَاعِهِ لِلسُّنَّةِ، لَا يَخْرُجُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَيُكَبِّرُ مِنْ بَيْتِهِ إِلَى الْمُصَلَّى.
وَكَانَ صلى الله عليه وسلم إِذَا انْتَهَى إِلَى الْمُصَلَّى، أَخَذَ فِي الصلاة، بغير أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ، وَلَا قَوْلِ: " الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ " وَلَمْ يَكُنْ هُوَ وَلَا أَصْحَابُهُ يُصَلُّونَ إِذَا انتهوا إلى المصلى، لا قبلها وَلَا بَعْدَهَا.
وَكَانَ يَبْدَأُ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ، فيصلي ركعتين، يكبر في الأولى سبعا متوالية بتكبيرة الإحرام، بَيْنَ كُلِّ تَكْبِيرَتَيْنِ سَكْتَةً يَسِيرَةً، وَلَمْ يُحْفَظْ عَنْهُ ذِكْرٌ مُعَيَّنٌ بَيْنَ التَّكْبِيرَاتِ، وَلَكِنْ ذُكِرَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ قَالَ: يَحْمَدُ اللَّهَ، وَيُثْنِي عَلَيْهِ، وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. وكان ابن عمر يَرْفَعُ يَدَيْهِ مَعَ كُلِّ تَكْبِيرَةٍ.
وَكَانَ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَمَّ التَّكْبِيرَ أَخَذَ في القراءة، فقرأ في الأولى الفاتحة، ثم (ق) وفي الثانية (اقتربت) وربما قرأ فيهما ب (سبح) و (الغاشية) وَلَمْ يَصِحَّ عَنْهُ غَيْرُ ذَلِكَ فَإِذَا فَرَغَ من القراءة كبر وركع، ثم يكبر في الثانية خمسا متوالية، ثم أخذ في القراءة، فإذا انصرف، قام مقابل الناس وهم جلوس على صفوفهم، فيعظهم وَيَأْمُرُهُمْ وَيَنْهَاهُمْ، وَإِنْ كَانَ يُرِيدُ أَنْ يَقْطَعَ بَعْثًا قَطَعَهُ، أَوْ يَأْمُرَ بِشَيْءٍ أَمَرَ بِهِ، ولم يكن هناك منبر، وإنما كان يخطب على الأرض.
وأما قوله في حديث في "الصحيحين «ثم نزل فأتى النساء» . إلى آخره، فلعله كان يقوم على مكان مرتفع. وأما منبر المدينة، فأول من أخرجه
তার সুন্নাত, এবং তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে ব্যক্তি এটি পড়বে সে যেন এর পরে চার রাকাত সালাত আদায় করে। আমাদের শাইখ বলেছেন: যদি সে মসজিদে পড়ে তবে চার রাকাত পড়বে, আর যদি ঘরে পড়ে তবে দুই রাকাত পড়বে।
[দুই ঈদের সালাত বিষয়ে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদর্শ]তিনি দুই ঈদের সালাত ঈদগাহে আদায় করতেন, আর তা মদিনার পূর্বদিকের দরজায় অবস্থিত ছিল, যেখানে হাজিদের হাওদা রাখা হতো। তিনি তাঁর মসজিদে কেবল একবারই ঈদের সালাত আদায় করেছিলেন যখন বৃষ্টি হয়েছিল - যদি হাদিসটি সাব্যস্ত হয় - এবং এটি "সুনানে আবু দাউদ"-এ বর্ণিত হয়েছে। তিনি তাঁর সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরিধান করতেন। ঈদুল ফিতরের দিন বের হওয়ার আগে তিনি কয়েকটি খেজুর খেতেন এবং তা বিজোড় সংখ্যায় খেতেন। আর ঈদুল আযহার দিন তিনি ঈদগাহ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত কিছু খেতেন না, অতঃপর তাঁর কুরবানির গোশত থেকে খেতেন। তিনি ঈদের জন্য গোসল করতেন - যদি হাদিসটি সহিহ হয় - এ বিষয়ে দুটি দুর্বল হাদিস রয়েছে, তবে সুন্নাহর কঠোর অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও ইবনে উমর (রা.) থেকে এটি প্রমাণিত।
তিনি হেঁটে বের হতেন এবং তাঁর সামনে একটি ছোট বর্শা বহন করা হতো। যখন তিনি সেখানে পৌঁছাতেন, তখন সেটি গেঁথে দেওয়া হতো যাতে তিনি সেটির দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে পারেন, কারণ ঈদগাহে কোনো দালান ছিল না। তিনি ঈদুল ফিতরের সালাত বিলম্বে এবং ঈদুল আযহার সালাত দ্রুত আদায় করতেন। ইবনে উমর (রা.) সুন্নাহর কঠোর অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত বের হতেন না এবং নিজের ঘর থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত তাকবির পাঠ করতেন।
যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদগাহে পৌঁছাতেন, তখন আযান ও ইকামত ছাড়াই সালাত শুরু করতেন। "আস-সালাতু জামিআহ" (সালাত সমবেতকারী) এ জাতীয় কোনো বাক্যও বলা হতো না। তিনি বা তাঁর সাহাবীগণ ঈদগাহে পৌঁছানোর পর এর আগে বা পরে কোনো (নফল) সালাত আদায় করতেন না।
তিনি খুতবার আগে সালাত শুরু করতেন। তিনি দুই রাকাত সালাত পড়তেন; প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমাসহ টানা সাতটি তাকবির দিতেন, প্রতি দুই তাকবিরের মাঝে সামান্য বিরতি দিতেন। তাকবিরগুলোর মাঝে তাঁর থেকে নির্দিষ্ট কোনো জিকির সংরক্ষিত নেই, তবে ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলতেন: আল্লাহর প্রশংসা করতেন, তাঁর গুণগান গাইতেন এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করতেন। ইবনে উমর (রা.) প্রতিটি তাকবিরের সাথে হাত উঠাতেন।
যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকবির সম্পন্ন করতেন, তখন কিরাত শুরু করতেন। প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহা, অতঃপর সূরা 'ক্বাফ' পাঠ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা 'ইক্বতারাবাত' (সূরা আল-ক্বামার) পাঠ করতেন। কখনও কখনও তিনি এই দুই রাকাতে সূরা 'সাব্বিহ' (আল-আ'লা) এবং 'আল-গাশিয়াহ' পাঠ করতেন। এ ছাড়া অন্য কিছু তাঁর থেকে সহিহভাবে প্রমাণিত নয়। কিরাত শেষ করে তিনি তাকবির দিয়ে রুকু করতেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতে (দাঁড়িয়ে) টানা পাঁচটি তাকবির দিতেন, তারপর কিরাত শুরু করতেন। সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন, আর তারা তাদের সারিতে বসে থাকত। তিনি তাদের নসিহত করতেন, নির্দেশ দিতেন এবং নিষেধ করতেন। যদি তিনি কোনো সেনাবাহিনী পাঠাতে চাইতেন তবে তা নির্ধারণ করে দিতেন, অথবা কোনো বিষয়ে নির্দেশ দিতে চাইলে তা দিতেন। সেখানে কোনো মিম্বর ছিল না, বরং তিনি মাটিতে দাঁড়িয়েই খুতবা দিতেন।
আর "সহিহাইন"-এর হাদিসে বর্ণিত তাঁর এই উক্তি সম্পর্কে যে, "অতঃপর তিনি নামলেন এবং নারীদের কাছে আসলেন", এর দ্বারা সম্ভবত উদ্দেশ্য হলো তিনি কোনো উঁচু স্থানে দাঁড়িয়েছিলেন। আর মদিনার মিম্বরের কথা, তবে প্রথম যিনি এটি বের করেছিলেন...