(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: -)
الرد المفحم القسم: الفقه العام
الكتاب: الرد المفحم على من خالف العلماء وتشدد وتعصب وألزم المرأة أن تستر وجهها وكفيها وأوجب ولم يقنع بقولهم: إنه سنة ومستحبة
المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني (ت 1420هـ)
الناشر: المكتبة الإسلامية - عمان - الأردن
الطبعة: الأولى - 1421
عدد الصفحات: 157
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আর-রাদ্দুল মুফহিম বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: আলেমদের বিরোধিতাকারী, কঠোরতা ও গোঁড়ামি অবলম্বনকারী এবং নারীর মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি আবৃত করাকে আবশ্যকীয় করে তাকে বাধ্যকারী ব্যক্তির প্রতি দাঁতভাঙা জবাব, যে আলেমদের এই বক্তব্য—এটি সুন্নাত (سنة) ও মুস্তাহাব (مستحبة)—এতে সন্তুষ্ট না হয়ে একে ওয়াজিব (واجب) সাব্যস্ত করেছে
লেখক: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি)
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ - আম্মান - জর্ডান
সংস্করণ: প্রথম - ১৪২১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৭
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ১)
الرد المفحمعلى من خالف العلماء وتشدد وتعصب
وألزم المرأة أن تستر وجهها وكفيها وأوجب
ولم يقنع بقولهم: إنه سنة ومستحبة
للعلامة المحدث
محمد ناصر الدين الألباني
رحمه الله تعالى
ط 1 - 1421 هـ
المكتبة الإسلامية - عمان الأردن
অকাট্য প্রতিত্তরতাদের বিরুদ্ধে যারা আলেমদের বিরোধিতা করেছে এবং কঠোরতা ও গোঁড়ামি অবলম্বন করেছে
এবং যারা নারীর মুখমণ্ডল ও উভয় হাত কবজি পর্যন্ত আবৃত করাকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং একে ওয়াজিব (واجب) সাব্যস্ত করেছে
এবং আলেমদের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি যে: নিশ্চয়ই এটি সুন্নাহ (سنة) এবং মুস্তাহাব (مستحب)
প্রখ্যাত আলেম, হাদিস বিশারদ (محدث)
মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি
আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন
১ম সংস্করণ - ১৪২১ হিজরি
আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ - আম্মান, জর্ডান
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة المؤلف
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره (1) ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله
(يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون) (يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالا كثيرا ونساء واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيبا) (يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولا سديدا. يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزا عظيما)
أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار
--------------------------------------------
লেখকের ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি (১)। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না)। (হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন)। (হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল)।
অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সা.)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة), আর প্রতিটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
وبعد فلما عزمت على إعادة طبع كتابي " حجاب المرأة المسلمة " - بعد أن مضى عليه عدة سنين وطبع عدة طبعات تصويرا بالأوفست - رأيت أنه لا بد لي من إعادة النظر فيه لعلي ألهم أن أضيف إليه فوائد جديدة علاوة على ما كان توفر لدي منها مع مضي الزمان ووضعت كل شيء منها في نسختي موضعها فيه على مر الأيام وأصحح ما لا بد منه من الأخطاء المطبعية أو الفكرية التي لا يكاد ينجو من مثلها كتاب وعنيت عناية خاصة بمطالعة ما كان تجمع لدي من الكتب والرسائل المؤلفة في هذا العصر حول المرأة - وهي بالعشرات - فوجدت أكثرها قد تتابعت في الرد علي بعضها مباشرة باسم الكتاب ومؤلفه وبعضها على المسألة مباشرة دون التعرض لشخصي وهي التي زعم أحد الدكاترة أنني تفردت بالقول بها دون من قبلي من علماء السلف والخلف ألا وهي: أن وجه المرأة ليس بعورة ولا يجب عليها ستره
ولقد رأيت - والله - العجب العجاب من اجتماعهم على القول بالوجوب وتقليد بعضهم لبعض في ذلك وفي طريقة الاستدلال بما لا يصح من الأدلة رواية أو دراية وتأويلهم للنصوص المخالفة لهم من الآثار السلفية والأقوال المشهورة لبعض الأئمة المتبوعين وتجاهلهم لها كأنها لم تكن شيئا مذكورا الأمر الذي جعلني أشعر أنهم جميعا - مع الأسف - قد كتبوا ما كتبوا مستسلمين للعواطف البشرية والاندفاعات الشخصية والتقاليد البلدية وليس استسلاما للأدلة الشرعية لأن ما ذكروه من الأدلة
[6]
পর সমাচার, যখন আমি আমার 'হিজাবুল মারআতিল মুসলিমাহ' বইটি পুনরায় মুদ্রণের সংকল্প করলাম—দীর্ঘ কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এবং অফসেট পদ্ধতিতে কয়েকবার পুনর্মুদ্রিত হওয়ার পর—আমি দেখলাম যে, এটি পুনরায় পর্যালোচনা করা আমার জন্য অপরিহার্য। যাতে আমি এতে নতুন কিছু তাত্ত্বিক উপকারিতা যুক্ত করতে পারি, যা সময়ের ব্যবধানে আমার নিকট জমা হয়েছে। আমি দীর্ঘ সময় ধরে আমার পাণ্ডুলিপির প্রতিটি বিষয় তার যথাস্থানে সন্নিবেশিত করেছি এবং মুদ্রণজনিত বা চিন্তাগত অপরিহার্য ভুলগুলো সংশোধন করেছি, যা থেকে সাধারণত কোনো গ্রন্থই মুক্ত থাকে না। আমি বর্তমান যুগে নারী বিষয়ক রচিত কয়েক ডজন বই ও পুস্তিকা পর্যালোচনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। আমি দেখেছি যে, সেগুলোর অধিকাংশ ধারাবাহিকভাবে আমার প্রতিবাদে লিপ্ত; কোনোটি সরাসরি বই ও লেখকের নাম উল্লেখ করে, আবার কোনোটি ব্যক্তির প্রসঙ্গ না এনে সরাসরি মাসআলার ওপর। জনৈক ডক্টর দাবি করেছেন যে, আমি এই মতটি প্রকাশে একাকী হয়ে পড়েছি এবং আমার পূর্বে কোনো পূর্বসূরী (سلف) বা পরবর্তী (خلف) আলেম এ কথা বলেননি। আর বিষয়টি হলো: নারীর মুখমন্ডল আওরত (عورة) নয় এবং তা আবৃত করা তার ওপর আবশ্যক নয়।
আল্লাহর কসম! আমি তাদের এই মতটিকে আবশ্যকতা (وجوب) সাব্যস্ত করার ঐকমত্য এবং এ বিষয়ে একে অপরের অন্ধ অনুকরণের মধ্যে এক চরম বিস্ময়কর বিষয় লক্ষ্য করেছি। তারা এমন সব দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করার পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন যা বর্ণনাসূত্র (رواية) বা তাত্ত্বিক বিচার (دراية) কোনো দিক থেকেই বিশুদ্ধ (صحيح) নয়। তারা তাদের মতের বিরোধী পূর্বসূরীগণের আসার (آثار) এবং অনুসরণীয় ইমামগণের সুপ্রসিদ্ধ উক্তিগুলোর অপব্যাখ্যা করেছেন এবং সেগুলো এমনভাবে উপেক্ষা করেছেন যেন সেগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই। এই বিষয়টি আমাকে অনুভব করতে বাধ্য করেছে যে—দুঃখজনকভাবে—তারা যা কিছু লিখেছেন তা কেবল মানুষের আবেগ, ব্যক্তিগত ঝোঁক এবং স্থানীয় প্রথার কাছে আত্মসমর্পণ করে লিখেছেন, শরয়ি দলিলের কাছে আত্মসমর্পণ করে নয়। কারণ তারা যে সকল দলিল উল্লেখ করেছেন...
[6]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
- على مذهبهم - هم يعلمون جيدا أنها لم تكن خافية علي لأنهم رأوها في كتابي مع الجواب عنها والاستدلال بما يعارضها وهو أصح عندنا من استدلالاتهم التي تشبثوا بها كما أنهم يعلمون أنني لا أنكر مشروعيته
البحوث:
ولكن لا بد من الإشارة إلى أهم البحوث التي تناولتها في المقدمة المشار إليها (1) مع تلخيص الكلام فيها قدر الاستطاعة فأقول:
البحث الأول: آية الحجاب: (. . . يدنين عليهن من جلابيبهن) [الأحزاب: 59]
- তাদের মাযহাব অনুযায়ী - তারা ভালো করেই জানেন যে, বিষয়টি আমার নিকট গোপন ছিল না; কারণ তারা এটি আমার কিতাবে এর উত্তর এবং এর বিপরীতে উপস্থাপিত এমন দলীলসহ দেখেছেন যা আমাদের নিকট তাদের আঁকড়ে ধরা দলীলের চেয়ে অধিকতর সহিহ (أصح)। তদ্রূপ তারা এ-ও জানেন যে, আমি এর বিধানসিদ্ধতাকে (مشروعيته) অস্বীকার করি না।
গবেষণাসমূহ:
তবে ইঙ্গিতকৃত সেই মুকাদ্দিমায় (১) আমি যে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, সাধ্যানুযায়ী তার সারসংক্ষেপ করা আবশ্যক। আমি বলছি:
প্রথম গবেষণা: হিজাবের (পর্দার) আয়াত: (. . . তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়) [আল-আহযাব: ৫৯]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
1 - يصر المخالفون المتشددون على المرأة - وفي مقدمتهم حمود التويجري حفظه الله - على أن معنى (يدنين) : يغطين وجوههن وهو خلاف معنى أصل هذه الكلمة: " الإدناء " لغة وهو التقريب كما كنت ذكرت ذلك وشرحته في الكتاب (1) - كما سيأتي في محله منه - وبينت أنه ليس نصا في تغطية الوجه وأن على المخالفين أن يأتوا بما يرجح ما ذهبوا إليه وذلك مما لم يفعلوا ولن يستطيعوا أن يفعلوا إلا الطعن على من خالفهم ممن تبع سلف الأمة ومفسريهم وعلماءهم وهذا هو الإمام الراغب الأصبهاني يقول في " المفردات ":
(دنا) الدنو: القرب. . . ويقال: دانيت بين الأمرين وأدنيت أحدهما
--------------------------------------------
১ - কঠোরপন্থী বিরোধীরা—যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন হামুদ আল-তুওয়াইজারি (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন)—নারীদের বিষয়ে এই জেদ ধরেন যে, ‘ইউদলিনা’ শব্দের অর্থ হলো: তারা তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে রাখবে। অথচ এটি এই শব্দের মূল আভিধানিক অর্থ ‘আল-ইদনা’-এর পরিপন্থী; আভিধানিক ভাষায় যার অর্থ হলো ‘নিকটবর্তী করা’, যেমনটি আমি কিতাবে (১) উল্লেখ করেছি এবং ব্যাখ্যা করেছি—যা সামনে যথাস্থানে আসবে—এবং আমি স্পষ্ট করেছি যে, এটি মুখমণ্ডল আবৃত করার বিষয়ে কোনো অকাট্য পাঠ (نص) নয়। বিরোধীদের উচিত ছিল তাদের দাবির স্বপক্ষে এমন কিছু পেশ করা যা তাদের মতকে প্রাধান্য (ترجيح) দেয়, কিন্তু তারা তা করেনি এবং করতেও পারবে না। তারা কেবল তাদেরই সমালোচনা (طعن) করতে পেরেছে যারা এই উম্মাহর পূর্বসূরি (سلف), মুফাসসির (مفسر) এবং আলেমদের অনুসরণ করে তাদের বিরোধিতা করেছেন। আর এই তো ইমাম রাগেব আল-আসফাহানি তাঁর ‘মুফরাদাত’ গ্রন্থে বলেছেন:
(দানা) আদ-দুনুউ: নিকটবর্তী হওয়া। . . . আর বলা হয়: আমি দুই বিষয়ের মধ্যে নৈকট্য স্থাপন করেছি এবং একটিকে অন্যটির নিকটবর্তী করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
من الآخر " ثم ذكر الآية. وبذلك فسرها ترجمان القرآن عبد الله بن عباس فيما صح عنه فقال: " تدني الجلباب إلى وجهها ولا تضرب به " كما سيأتي تخريجه
وهذا هو الشيخ التويجري - هدانا الله وإياه - يقول في آخر كتابه المذكور (ص 249) :
ومن أباح السفور للنساء (يعني سفور الوجه فقط) - واستدل على ذلك بمثل ما استدل به الألباني فقد فتح باب التبرج على مصراعيه وجرأ النساء على ارتكاب الأفعال الذميمة التي تفعلها السافرات الآن
كذا قال - أصلحه الله وهداه - فإن هذا التهجم والطعن لا ينالني أنا وحدي بل يصيب أيضا الذين هم قدوتي وسلفي من الصحابة والتابعين والمفسرين والفقهاء وغيرهم - ممن ذكرناهم في الكتاب - كما سيأتي وفي المقدمة المشار إليها أيضا وحسبي منها الآن مثالا واحدا وهو ما جاء في " الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف على مذهب الإمام المبجل أحمد ابن حنبل " للشيخ علاء الدين المرداوي (1 / 452) :
الصحيح من المذاهب أن الوجه ليس من العورة
ثم ذكر مثله في الكفين وهو اختيار ابن قدامة المقدسي في " المغني " (1 / 637) واستدل لاختياره ينهيه صلى الله عليه وسلم المحرمة عن لبس القفازين والنقاب وقال:
[8]
...পরবর্তী থেকে" অতঃপর তিনি আয়াতটি উল্লেখ করলেন। কুরআনের ভাষ্যকার (ترجمان القرآن) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে যা বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, তাতে তিনি এভাবেই এর ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন: "সে তার জিলবাবকে তার চেহারার কাছাকাছি করবে, কিন্তু তা দিয়ে চেহারা ঢাকবে না।" যেমনটি সামনে এর উৎস ও বিশুদ্ধতা যাচাই (تخريج) উল্লেখ করা হবে।
আর এই হলেন শাইখ আত-তুওয়াইজারি—আল্লাহ আমাদের এবং তাঁকে হেদায়াত দান করুন—তিনি তাঁর উল্লিখিত বইয়ের শেষে (পৃষ্ঠা ২৪৯) বলেছেন:
"আর যে ব্যক্তি নারীদের জন্য চেহারা উন্মুক্ত রাখা বৈধ (أباح) করেছেন (অর্থাৎ কেবল মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখা)—এবং এ ব্যাপারে আলবানী যে ধরণের দলীল পেশ করেছেন তার অনুরূপ দলীল দিয়েছেন, তিনি মূলত বেপর্দা হওয়ার (تبرج) দ্বার পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিয়েছেন এবং নারীদের এমন সব নিন্দনীয় কাজে লিপ্ত হতে সাহসী করে তুলেছেন যা বর্তমান সময়ের পর্দাহীন নারীরা করে থাকে।"
তিনি এমনটিই বলেছেন—আল্লাহ তাঁকে সংশোধন করুন এবং হেদায়াত দিন—নিশ্চয়ই এই আক্রমণ ও বিদ্রূপ কেবল আমাকেই স্পর্শ করে না, বরং এটি তাঁদের উপরও আপতিত হয় যাঁরা সাহাবী (صحابة), তাবিঈ (تابعين), মুফাসসির (مفسرين), ফকীহ (فقهاء) এবং অন্যদের মধ্যে আমার আদর্শ ও পূর্বসূরি (سلف)—যাঁদের কথা আমরা কিতাবে উল্লেখ করেছি। যেমনটি সামনে আসবে এবং নির্দেশিত ভূমিকাটিতেও রয়েছে। বর্তমানে আমার জন্য একটি উদাহরণই যথেষ্ট, যা শাইখ আলাউদ্দীন আল-মারদাওয়ী রচিত 'আল-ইনসাফ ফী মা’রিফাতি আর-রাজীহি মিনাল খিলাফি আলা মাযহাবিল ইমামিল মুবাজ্জাল আহমাদ ইবনে হাম্বল' (১/৪৫২) গ্রন্থে এসেছে:
"মাযহাবের সঠিক (صحيح) মত হলো, মুখমণ্ডল আওরাতের (عورة) অন্তর্ভুক্ত নয়।"
অতঃপর তিনি দুই হাতের তালু সম্পর্কেও একই রূপ উল্লেখ করেছেন, আর এটিই ইবনে কুদামা আল-মাকদিসী 'আল-মুগনী' (১/৬৩৭) গ্রন্থে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত হিসেবে পছন্দ (اختيار) করেছেন। তিনি তাঁর পছন্দের স্বপক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ইহরাম অবস্থায় থাকা (محرمة) নারীকে দস্তানা ও নেকাব পরতে নিষেধ করাকে দলীল হিসেবে পেশ করেছেন এবং বলেছেন:
[8]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
" لو كان الوجه والكفان عورة لما حرم سترهما ولأن الحاجة تدعو إلى كشف الوجه للبيع والشراء والكفين للأخذ والإعطاء "
وهو الذي اعتمده وجزم به في كتابه " العمدة " (66)
فما رأي الشيخ التويجري بهذا النص من هذا الإمام الحنبلي الجليل؟ . أتظنه داعية للسفور أيضا وفاتحا لباب التبرج على مصراعيه و. . .؟ ؟
ألا يخشى الشيخ أن يحيط به وعيد قوله صلى الله عليه وسلم:
(صحيح) " إن العبد ليتكلم بالكلمة ما يتبين فيها يهوي بها في النار أبعد ما بين المشرق والمغرب "
أخرجه الشيخان من حديث أبي هريرة رضي الله عن هـ وهو مخرج في " الصحيحة " (2 / 540)
ولو أن الشيخ - هداه الله - قدم رأيه للناس ودافع عنه بالأدلة الشرعية الصحيحة لقلنا: مرحبا به أصاب أم أخطأ أما أن يسلط " صارمه " على من خالفه في رأيه ويطعن به حتى على القوارير - التي أمر النبي صلى الله عليه وسلم بالرفق بهن - لمجرد أنهن خالفنه واتبعن الصحيح من " مذهبه " الذي أعرض عنه لهوس غلب عليه فهذه مصيبة أخلاقية ومخالفة أخرى مذهبية فقد قال الإمام أحمد رحمه الله تعالى:
لا ينبغي للفقيه أن يحمل الناس على مذهبه
(1)--------------------------------------------
মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত হাত যদি সতর হতো, তবে তা আবৃত করা হারাম করা হতো না। তাছাড়া ক্রয়-বিক্রয়ের প্রয়োজনে মুখমণ্ডল এবং আদান-প্রদানের প্রয়োজনে কবজি পর্যন্ত হাত খোলা রাখার আবশ্যকতা রয়েছে।
আর এটিই তিনি তাঁর ‘আল-উমদাহ’ (৬৬) গ্রন্থে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছেন।
এই মহান হাম্বলি ইমামের এই উদ্ধৃতি সম্পর্কে শায়খ তুওয়াইজিরির অভিমত কী? আপনি কি তাকেও বেপর্দার আহ্বানকারী এবং তাবাররুজ বা সৌন্দর্য প্রদর্শনের দ্বার অবারিতভাবে উন্মুক্তকারী মনে করেন...?
শায়খ কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই সতর্কবাণীকে ভয় করেন না:
সহিহ (صحيح): "বান্দা কোনো কথা চিন্তা না করেই বলে ফেলে, যার কারণে সে জাহান্নামের আগুনে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়েও বেশি গভীরে তলিয়ে যায়।"
শায়খাইন এটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি ‘আস-সহিহাহ’ (২/৫৪০) গ্রন্থে সংকলিত (مخرج) হয়েছে।
শায়খ—আল্লাহ তাকে হিদায়াত দান করুন—যদি তাঁর মতামত মানুষের কাছে উপস্থাপন করতেন এবং সঠিক (صحيح) শারয়ি দলিলের মাধ্যমে তা সমর্থন করতেন, তবে আমরা বলতাম: তিনি সঠিক হোন বা ভুল, তাঁকে স্বাগত। কিন্তু তিনি যখন তাঁর মতের বিরোধিতাকারীদের ওপর তাঁর ‘তীক্ষ্ণ তলোয়ার’ পরিচালনা করেন এবং এমনকি নারীদেরও—যাদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমল আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন—আঘাত করেন, শুধুমাত্র এই কারণে যে তারা তাঁর বিরোধিতা করেছে এবং তাঁর ‘মাযহাব’-এরই সেই সঠিক (صحيح) মতটি অনুসরণ করেছে যা তিনি নিজের খেয়াল-খুশির বশবর্তী হয়ে বর্জন করেছেন, তবে এটি একটি নৈতিক বিপর্যয় এবং মাযহাবগত আরেকটি বিচ্যুতি। কেননা ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:
কোনো ফকিহর জন্য উচিত নয় যে তিনি মানুষকে তাঁর মাযহাব অনুসরণে বাধ্য করবেন।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
البحث الثاني: يزعم كثير من المخالفين المتشددين: أن (الجلباب) المأمور به في آية الأحزاب هو بمعنى (الحجاب) المذكور في الآية الأخرى: (فاسألوهن من وراء حجاب) [الأحزاب: 53] وهذا خلط عجيب حملهم عليه علمهم بأن الآية الأولى لا دليل فيها على أن الوجه والكفين عورة بخلاف الأخرى فإنها في المرأة وهي في دارها إذ إنها لا تكون عادة متجلببة ولا متخمرة فيها فلا تبرز للسائل خلافا لما يفعل بعضهن اليوم ممن لا أخلاق لهن وقد نبه على هذا الفرق شيخ الإسلام ابن تيمية فقال في " الفتاوى " (15 / 448) :
فآية الجلابيب في الأردية عند البروز من المساكن وآية الحجاب عند المخاطبة في المساكن
قلت: فليس في أي من الآيتين ما يدل على وجوب ستر الوجه والكفين
أما الأولى فلأن الجلباب هو الملاءة التي تلتحف بها المرأة فوق ثيابها - وليس على وجهها - كما هو مذكور فيما يأتي من الكتاب (ص 83) وعلى هذا كتب اللغة قاطبة ليس في شيء منها ذكر للوجه البتة
وقد صح عن ابن عباس أنه قال في تفسيرها:
تدني الجلباب إلى وجهها ولا تضرب به
أخرجه أبو داود في " مسائله " (ص 110) وما خالفه إما شاذ أو ضعيف والتفصيل في تلك المقدمة
[10]
দ্বিতীয় আলোচনা: অনেক কঠোরপন্থী বিরোধী দাবি করেন যে: সূরা আল-আহযাবের আয়াতে নির্দেশিত 'জিলবাব' হলো অন্য আয়াতে উল্লিখিত 'হিজাব' এর সমার্থক: "তোমরা তাদের নিকট পর্দার আড়াল হতে কিছু চাইলে তা চাও" [আল-আহযাব: ৫৩]। এটি একটি আশ্চর্যজনক বিভ্রান্তি যা তাদের সেই জ্ঞানের কারণে সৃষ্টি হয়েছে যে, প্রথম আয়াতে মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি গোপনীয় অঙ্গ হওয়ার কোনো দলিল নেই, যা দ্বিতীয় আয়াতের ক্ষেত্রে ভিন্ন। কারণ দ্বিতীয় আয়াতটি মহিলার নিজ গৃহে অবস্থানকালীন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেহেতু সাধারণত তখন তিনি জিলবাব পরিহিত বা ওড়না পরিহিত অবস্থায় থাকেন না, ফলে তিনি প্রশ্নকারীর সামনে উপস্থিত হন না। এটি বর্তমান সময়ের কিছু নীতিহীন মহিলার কর্মকাণ্ডের বিপরীত। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই পার্থক্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর "ফাতাওয়া" (১৫/৪৪৮) গ্রন্থে বলেছেন:
জিলবাব সংক্রান্ত আয়াতটি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় চাদর পরিধানের বিষয়ে, আর হিজাবের আয়াতটি হলো ঘরে অবস্থানকালে কথোপকথনের বিষয়ে।
আমি (লেখক) বলি: এই দুই আয়াতের কোনোটিতেই মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি আবৃত করা আবশ্যক হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।
প্রথমত, কারণ 'জিলবাব' হলো সেই চাদর যা একজন নারী তার পোশাকের ওপর দিয়ে জড়িয়ে নেন—এবং এটি মুখমণ্ডলের ওপর নয়—যেমনটি এই বইয়ের পরবর্তী অংশে (পৃষ্ঠা ৮৩) উল্লেখ করা হয়েছে। আর সমস্ত অভিধানগ্রন্থ এই মতেই একমত, এগুলোর কোনোটিতেই মুখমণ্ডলের বিন্দুমাত্র উল্লেখ নেই।
ইবনে আব্বাস থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এর তাফসিরে বলেছেন:
সে জিলবাবকে তার মুখমণ্ডলের কাছাকাছি নিয়ে আসবে, তবে তা দ্বারা মুখমণ্ডল আবৃত করবে না।
এটি আবু দাউদ তাঁর "মাসায়েল" (পৃষ্ঠা ১১০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর এর পরিপন্থী যা কিছু আছে তা হয় বিচ্ছিন্ন (شاذ) অথবা দুর্বল (ضعيف); এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সেই ভূমিকায় রয়েছে।
[১০]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
وأما الآية الأخرى فلما ذكرت آنفا
ولهذا فقد بدا لي أن أجعل عنوان الكتاب: " جلباب المرأة. . . " لأنه ألصق بموضوع الكتاب كما هو ظاهر. والله تعالى ولي التوفيق
البحث الثالث: ومن تناقضهم أنهم - في الوقت الذي يوجبون على المرأة أن تستر وجهها - يجيزون لها أن تكشف عن عينها اليسرى وتسامح بعضهم فقال: بالعينين كلتيهما بناء على بعض الآثار الواهية التي منها حديث ابن عباس الآتي في الكتاب (ص 88) وروي عنه ما يناقضه بلفظ:
وإدناء الجلباب أن تقنع وتشده على جبينها
وهذا نص قولنا: إنه لا يشمل الوجه. ولذلك كتمه كل المخالفين ولم يتعرضوا له بذكر وهو ضعيف السند لكن له شواهد كما يأتي ولقد صدق من قال: أهل السنة يذكرون ما لهم وما عليهم وأهل الأهواء يذكرون ما لهم ولا يذكرون ما عليهم. ومن ذلك أن الشيخ عبد القادر السندي كتم في رسالته " الحجاب " إحدى علتي أثر ابن عباس الأول وهون من شأن الأخرى (ص 19 - 20) واغتر به مؤلف " يا فتاة الإسلام " فصرح (ص 252) بصحته وكذا صححه مؤلف " فقه النظر في الإسلام " (ص 65)
وأسوأ من ذلك ما فعله المسمى ب (درويش) فيما سماه ب " فصل الخطاب " حيث غير إسناده فجعله في موضعين منه (46 و 82) من رواية محمد بن سيرين عن ابن عباس. وهو محض افتراء لا أصل له
[11]
আর অন্য আয়াতের ব্যাপারে যা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
আর এই কারণেই আমার নিকট প্রতীয়মান হয়েছে যে, কিতাবটির শিরোনাম: "জিলবাবুল মারআহ..." রাখা হোক; কারণ এটি কিতাবের বিষয়ের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ যেমনটি স্পষ্ট। আল্লাহ তাআলাই তাওফীকদাতা।
তৃতীয় আলোচনা: তাদের বৈপরীত্যের একটি দিক হলো—যে সময় তারা নারীর ওপর মুখমণ্ডল ঢাকা ওয়াজিব করেন—সেই একই সময়ে তারা তাকে তার বাম চোখ খোলা রাখার অনুমতি দেন। আবার তাদের কেউ কেউ শিথিলতা প্রদর্শন করে বলেছেন: উভয় চোখই (খোলা রাখা যাবে)। এটি তারা কিছু অসার (واهية) বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে বলেছেন, যার মধ্যে এই কিতাবের (পৃষ্ঠা ৮৮) সামনে আসতে যাওয়া ইবনে আব্বাসের একটি হাদিসও রয়েছে। আর তাঁর থেকে এর বিপরীত পাঠও বর্ণিত হয়েছে:
আর জিলবাব ঝুলিয়ে দেওয়া হলো এই যে, সে মাথা ঢাকবে এবং তা তার কপালে শক্ত করে বাঁধবে।
আর এটিই আমাদের বক্তব্যের মূল পাঠ: যে এটি মুখমণ্ডলকে অন্তর্ভুক্ত করে না। এই কারণেই সকল বিরোধীরা এটিকে গোপন করেছেন এবং এর কোনো উল্লেখ করেননি। অথচ এর সনদ দুর্বল (ضعيف السند), কিন্তু এর কিছু সমর্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে যেমনটি সামনে আসবে। আর সত্যই বলেছেন তিনি যিনি বলেছেন: আহলে সুন্নাতগণ তাদের স্বপক্ষের এবং বিপক্ষের উভয় বিষয় উল্লেখ করেন, আর প্রবৃত্তি পূজারীরা কেবল তাদের স্বপক্ষের বিষয়গুলো উল্লেখ করে এবং তাদের বিপক্ষে যায় এমন বিষয়গুলো উল্লেখ করে না। এরই উদাহরণস্বরূপ, শায়খ আব্দুল কাদির সিন্ধী তাঁর "আল-হিজাব" নামক পুস্তিকায় ইবনে আব্বাসের প্রথম বর্ণনাটির দুটি ত্রুটির (علة) একটি গোপন করেছেন এবং অন্যটির গুরুত্ব লাঘব করেছেন (পৃষ্ঠা ১৯-২০)। এতে "ইয়া ফাতাতাল ইসলাম" এর লেখক প্রতারিত হয়েছেন এবং তিনি (পৃষ্ঠা ২৫২) এটি সহিহ (صحيح) হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন। অনুরূপভাবে "ফিকহুন নাজার ফিল ইসলাম" এর লেখকও একে সহিহ (صحيح) বলেছেন (পৃষ্ঠা ৬৫)।
আর এর চেয়েও জঘন্য কাজ করেছেন (দারবিশ) নামক এক ব্যক্তি তাঁর "ফাসলুল খিতাব" নামক গ্রন্থে, যেখানে তিনি এর সনদ (إسناد) পরিবর্তন করে দিয়েছেন এবং কিতাবটির দুটি স্থানে (৪৬ ও ৮২) এটিকে ইবনে আব্বাস থেকে মুহাম্মদ ইবনে সিরিনের বর্ণনা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এটি নিছক মিথ্যাচার যার কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له)।
[11]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
من هذه الرواية ولا أدري إذا كان هذا منه عن عمد أو سهو؟ وكنت أود أن أميل إلى الأول منهما لولا أنني رأيت له فرية أخرى (ص 82) لعلي أنبه عليها في مناسبة أخرى إن شاء الله تعالى
ويبدو لي أنهم - لشعورهم في قرارة نفوسهم بضعف حجتهم - يلجؤون إلى استعمال الرأي ولغة العواطف - أو ما يشبه الفلسفة - فيقولون: إن أجمل ما في المرأة وجهها فمن غير المعقول أن يجوز لها أن تكشف عنه فقيل لهم: وأجمل ما في الوجه العينان فعموها إذن ومروها أن تسترهما بجلبابها. وقيل لهم على طريق المعارضة: وأجمل ما في الرجل - بالنسبة للمرأة - وجهه فمروا الرجال أيضا - بفلسفتكم هذه - أن يستروا وجوههم أيضا أمام النساء وبخاصة من كان منهم بارع الجمال كما ورد في ترجمة أبي الحسن الواعظ المعروف ب (المصري) : " أنه كان له مجلس يتكلم فيه ويعظ وكان يحضر مجلس وعظه رجال ونساء فكان يجعل على وجهه برقعا تخوفا أن يفتتن به النساء من حسن وجهه ". " تاريخ بغداد " (12 / 75 - 76)
فماذا يقول فضيلة الشيخ التويجري - ومن يجري وراءه من المتفلسفين - أمشروع ما فعله هذا المصري أم لا؟ مع علمهم بأن النبي صلى الله عليه وسلم كان أجمل منه ولم يفعل فعله. فإن قلتم بشرعيته خالفتم سنة نبيكم وضللتم وهذا مما لا نرجوه لكم وإن قلتم بعدمها - كما هو الظن بكم - أصبتم وبطل فلسفتكم ولزمكم الرجوع عنها والاكتفاء في ردكم علي بالأدلة
[12]
এই বর্ণনা (رواية) থেকে, এবং আমি জানি না এটি কি তাঁর পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃত নাকি ভুলবশত? আমি প্রথমটির দিকেই মনোনিবেশ করতে চাইতাম যদি না আমি তাঁর অন্য একটি মিথ্যাচার (فرية) দেখতাম (পৃ. ৮২); আল্লাহ তাআলা চাইলে অন্য কোনো এক সময়ে আমি সে বিষয়ে সতর্ক করব।
আমার কাছে মনে হয় যে, তারা—নিজেদের অন্তরের অন্তস্তলে তাদের দলিলের দুর্বলতা (ضعف) অনুভব করার কারণে—ব্যক্তিগত মত (رأي) এবং আবেগের ভাষা কিংবা দর্শনের মতো কিছুর আশ্রয় নেয়। তারা বলে: নারীর অবয়বে সবচেয়ে সুন্দর হলো তার মুখমণ্ডল, তাই এটি উন্মুক্ত রাখার অনুমতি থাকাটা অযৌক্তিক। তখন তাদের বলা হলো: মুখমণ্ডলের সবচেয়ে সুন্দর অংশ হলো চোখ দুটি; তবে সেগুলোকে অন্ধ করে দাও অথবা তাদের নির্দেশ দাও যেন তারা তাদের জিলবাব দিয়ে তা ঢেকে রাখে। প্রতিপক্ষের যুক্তিতে তাদের আরও বলা হলো: নারীর কাছে পুরুষের সবচেয়ে সুন্দর অংশ হলো তার মুখমণ্ডল; সুতরাং তোমাদের এই দর্শন অনুযায়ী পুরুষদেরও নির্দেশ দাও যেন তারাও নারীদের সামনে নিজেদের মুখমণ্ডল আবৃত রাখে, বিশেষ করে যারা অত্যন্ত সুদর্শন। যেমনটি আবুল হাসান ওয়ায়েজ—যিনি (আল-মিসরি) নামে পরিচিত—তাঁর জীবনীতে (ترجمة) বর্ণিত হয়েছে: "তাঁর একটি মজলিস ছিল যেখানে তিনি আলোচনা ও নসিহত করতেন। তাঁর নসিহতের মজলিসে নারী ও পুরুষ উভয়েই উপস্থিত থাকত। তিনি তাঁর মুখমণ্ডলের ওপর একটি নেকাব টেনে দিতেন এই ভয়ে যে, তাঁর চেহারার সৌন্দর্যের কারণে পাছে নারীরা ফিতনায় পতিত হয়।" "তারিখে বাগদাদ" (১২ / ৭৫-৭৬)।
এখন মাননীয় শায়খ তুওয়াইজরি—এবং তাঁর পেছনে যারা দার্শনিক সাজেন—তারা কী বলবেন, এই মিসরি ব্যক্তি যা করেছিলেন তা কি শরিয়তসম্মত (مشروع) নাকি নয়? অথচ তারা জানেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর ছিলেন কিন্তু তিনি এমন কাজ করেননি। এখন আপনারা যদি এর বৈধতার কথা বলেন, তবে আপনারা আপনাদের নবীর সুন্নাহর (سنة) বিরোধিতা করলেন এবং পথভ্রষ্ট হলেন—যা আমরা আপনাদের জন্য প্রত্যাশা করি না। আর যদি আপনারা একে অবৈধ বলেন—যেমনটি আপনাদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা—তবে আপনারা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন এবং আপনাদের দর্শন অসার প্রমাণিত হলো। এমতাবস্থায় আপনাদের জন্য অপরিহার্য হলো এ থেকে ফিরে আসা এবং আমার প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে কেবল দলিলের (أدلة) ওপর নির্ভর করা।
[12]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الشرعية إن كانت عندكم فإنها تغنيكم عن زخرف القول وإلا حشرتم أنفسكم في (الآرائيين) كما روى أحمد في " العليل " (2 / 246) عن حماد بن سلمة قال:
إن أبا حنيفة استقبل الآثار والسنن يردها برأيه
البحث الرابع: الخمار والاعتجار وقوله تعالى: (وليضربن بخمرهن على جيوبهن)
ذكرنا فيما يأتي من الكتاب (ص 72) أن الخمار: غطاء الرأس فقط دون الوجه واستشهدت على ذلك بكلام بعض العلماء: كابن الأثير وابن كثير فأبى ذلك الشيخ التويجري - ومن تبعه من المذهبيين والمقلدين - وأصر على أنه يشمل الوجه أيضا وكرر ذلك في غير موضع وتشبث في ذلك ببعض الأقوال التي لا تعدو أن تكون من باب زلة عالم أو سبق قلم أو في أحسن الأحوال تفسير مراد وليس تفسير لفظ مما ينبغي الاعتماد عليه في محل النزاع والخلاف (1) وفي الوقت نفسه أعرض عن الأدلة القاطعة من الكتاب والسنة وأقوال العلماء والأئمة من المفسرين والمحدثين والفقهاء واللغويين المخالفة له وبعضها مما جاء في كتابه هو نفسه ولكنه مر عليها وكتم دلالتها مع الأسف الشديد
من ذلك أنه لما ساق آية: (والقواعد من النساء اللاتي لا يرجون
--------------------------------------------
শরয়ী (الشرعية) প্রমাণাদি যদি আপনাদের নিকট থাকে তবে তা আপনাদেরকে অলঙ্কৃত কথাবার্তা থেকে অমুখাপেক্ষী করবে; অন্যথায় আপনারা নিজেদেরকে রায়-পন্থীদের (الآرائيين) মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করবেন, যেমনটি ইমাম আহমদ "আল-আলীল" (২/২৪৬) গ্রন্থে হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন:
নিশ্চয়ই আবু হানিফা আসার এবং সুনান এর সম্মুখীন হতেন [এবং] নিজ রায়ের মাধ্যমে সেগুলো প্রত্যাখ্যান করতেন।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: খিমার ও ই'তিজার এবং মহান আল্লাহর বাণী: (তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে তাদের বক্ষদেশ আবৃত করে)
আমরা বইয়ের পরবর্তী অংশে (পৃষ্ঠা ৭২) উল্লেখ করেছি যে, খিমার হলো কেবল মাথার আবরণ, মুখমণ্ডলের নয়। আমি এর স্বপক্ষে কতিপয় আলেমের বক্তব্য থেকে প্রমাণ পেশ করেছি: যেমন ইবনে আল-আসির এবং ইবনে কাসির। কিন্তু শায়খ তুওয়াইজারি — এবং মাযহাবপন্থী (المذهبيين) ও অন্ধ অনুসারীদের (المقلدين) মধ্যে যারা তার অনুসরণ করেছেন — তারা তা অস্বীকার করেছেন এবং তিনি জিদ ধরেছেন যে এটি মুখমণ্ডলকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি বিভিন্ন স্থানে এই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং এমন কিছু উক্তির ওপর নির্ভর করেছেন যা কোনো আলেমের বিচ্যুতি কিংবা লেখনীর ভুল ছাড়া আর কিছু নয়, অথবা সর্বোত্তম ক্ষেত্রে তা উদ্দিষ্ট অর্থের ব্যাখ্যা মাত্র, শাব্দিক ব্যাখ্যা নয় যা বিবাদের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য হতে পারে (১)। একই সাথে তিনি কুরআন, সুন্নাহ এবং মুফাসসির, মুহাদ্দিসগণ (المحدثين), ফকিহ ও ভাষাবিদদের মধ্য থেকে তার বিরোধী উলামা ও ইমামগণের অকাট্য দলিলাদি উপেক্ষা করেছেন। এগুলোর কিছু তো তার নিজের বইতেই ছিল, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, তিনি সেগুলো এড়িয়ে গেছেন এবং সেগুলোর অর্থ গোপন করেছেন।
এর উদাহরণ হলো, যখন তিনি এই আয়াতটি উদ্ধৃত করেছেন: (এবং বৃদ্ধা নারীরা যারা আশা রাখে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
نكاحا فليس عليهن جناح أن يضعن ثيابهن. . .) [النور: 60] الآية وتكلم عليها في نحو صفحتين (161 - 163) بكلام مفيد ولكنه لم يوضح لقرائه ما هو المقصود من النقول التي ذكرها في تفسير: (ثيابهن) بأنها الجلباب ومنها قوله:
وقال أبو صالح: تضع الجلباب وتقوم بين يدي الرجل في الدرع والخمار. وقال سعيد بن جبير: فلا بأس أن تضع عند غريب أو غيره بعد أن يكون عليها خمار صفيق
وبهذا صرح جمع من الحنابلة وغيرهم فذكر ابن الجوزي في " زاد المسير " (6 / 63) عن أبي يعلى - يعني: القاضي الحنبلي - أنه قال:
وفي هذه الآية دلالة على أنه يباح للعجوز كشف وجهها ويديها بين يدي الرجال
ونحوه في أحكام القرآن للجصاص (3 / 334) وأشار إلى هذا المعنى شيخ الإسلام ابن تيمية في " تفسير سور النور " (ص 57) ونقله التويجري (167) محتجا به وهذا كله يدل على أن هؤلاء الأفاضل من علماء السلف والخلف يرون أن الخمار لا يستر الوجه وإنما الرأس فقط كما هو قولنا ومن يتأمل في بعض أجوبة الشيخ المتكلفة يتأكد من أنه يرى ذلك معنا ولكنه يجادل ويكابر ويتكتم فانظر مثلا جوابه عن حديث جابر الآتي في الكتاب (ص 60) وفيه: " إنه رأى امرأة سفعاء الخدين "
[14]
"...বিবাহের (نكاح) কোনো আশা রাখে না, তবে তারা যদি তাদের পোশাক (ثيابهن) নামিয়ে রাখে তবে তাদের কোনো পাপ নেই..." [আন-নূর: ৬০] আয়াত। তিনি এর ওপর প্রায় দুই পৃষ্ঠা (১৬১ - ১৬৩) ব্যাপী অত্যন্ত মূল্যবান আলোচনা করেছেন, কিন্তু তিনি তাঁর পাঠকদের কাছে এটি স্পষ্ট করেননি যে, ‘তাদের পোশাক’ (ثيابهن) এর তাফসিরে তিনি যেসব উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন তার দ্বারা ‘জিলবাব’ উদ্দেশ্য। তাঁর উল্লিখিত বর্ণনার মধ্যে রয়েছে:
আবু সালিহ বলেন: "সে জিলবাব নামিয়ে রাখবে এবং পুরুষের সামনে কামিজ ও ওড়না (خمار) পরিহিত অবস্থায় দাঁড়াবে।" সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন: "কোনো পরপুরুষ বা অন্য কারো সামনে তা (জিলবাব) নামিয়ে রাখলে কোনো সমস্যা নেই, যদি তার মাথায় একটি ঘন ওড়না (خمار) থাকে।"
হাম্বলি মাজহাবের একদল আলিম ও অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে এটি ব্যক্ত করেছেন। ইবনুল জাওজি 'যাদুল মাসীর' (৬/৬৩) গ্রন্থে আবু ইয়ালা—অর্থাৎ কাজী হাম্বলি—থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:
"এই আয়াতে এ কথার প্রমাণ (دلالة) রয়েছে যে, বৃদ্ধা নারীর জন্য পুরুষের সামনে মুখমণ্ডল ও দুই হাত খোলা রাখা বৈধ (مباح)।"
অনুরূপ বক্তব্য জাসসাসের 'আহকামুল কুরআন' (৩/৩৩৪) গ্রন্থেও রয়েছে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহও 'তাফসীর সুরাতিল নূর' (পৃ. ৫৭) গ্রন্থে এই অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং আত-তুওয়াইজরি একে প্রমাণ হিসেবে (محتجا به) উল্লেখ করে (১৬৭) বর্ণনা করেছেন। এই সবই প্রমাণ করে যে, সালাফ ও খালাফ যুগের এই বরেণ্য আলিমগণ মনে করতেন যে ওড়না (خمار) মুখমণ্ডলকে আবৃত করে না বরং তা কেবল মাথাকে আবৃত করে, যেমনটি আমাদের অভিমত। যারা শাইখের কিছু কষ্টকল্পিত উত্তরের দিকে গভীরভাবে লক্ষ্য করবেন তারা নিশ্চিত হবেন যে তিনিও আমাদের সাথে একমত, কিন্তু তিনি বিতর্ক ও অহংকারবশত বিষয়টি গোপন করছেন। উদাহরণস্বরূপ, কিতাবের পরবর্তী অংশে (পৃ. ৬০) জাবির বর্ণিত হাদিসের ব্যাপারে তাঁর উত্তরটি দেখুন, যেখানে রয়েছে: "তিনি গালে লালচে-কালো দাগযুক্ত এক নারীকে দেখলেন।"
[১৪]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فأجاب الشيخ (ص 208) باحتمال أن " تلك المرأة كانت من القواعد. . . " يعني: فكشف وجهها مباح كما صرح به الشيخ ابن عثيمين في " رسالته " (ص 32) وأما التويجري فيلغز ويعمي ولا يفصح لقارئه فهل يصح هذا الجواب من الشيخ وهو يصر على أن الخمار يستر الوجه أيضا؟ فاللهم هداك
واعلم أن المقصود من ذكر آية (القواعد) هذه إنما هو إقامة الحجة على الشيخ بما تبناه من أقوال العلماء في تفسير: (ثيابهن) منها ب (الجلباب) وأنه يجوز ل (القواعد) أن تظهر بخمارها " بحضرة الرجال الأجانب " يرون وجهها ومعنى ذلك عندهم - والشيخ تبع لهم في ذلك - أن الخمار لغة لا يستر الوجه وهذا وحده يكفي حجة على الشيخ هداه الله تعالى فكيف إذا انضم إلى ذلك ما سيأتي من السنة وأقوال العلماء في كل علم فيكون الشيخ مخالفا لإجماعهم ومتبعا غير سبيلهم؟
أقول هذا لكي أذكر بأن هناك قولا آخر في تفسير: (ثيابهن) - كنت ذكرته في محله من الكتاب - وهو الخمار وهو الأصح عن ابن عباس كما سيأتي (ص 110 - 111) وقد كتم الشيخ هذا القول كعادته فيما لا يوافق هواه خلافا لأهل السنة الذين يذكرون ما لهم وما عليهم كما تقدم وإذ قد اختار هو القول الأول وهو (الجلباب) لزمه القول بأن (الخمار) لا يستر الوجه وهو المراد
واختار ابن القطان الفاسي في " النظر في أحكام النظر " القول الآخر فقال (ق 35 / 2) :
[15]
শেখ (পৃ. ২০৮) এই সম্ভাবনা ব্যক্ত করে উত্তর দিয়েছেন যে, "সেই নারী বার্ধক্যে উপনীত নারী (القواعد)-দের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন..." অর্থাৎ: তাঁর মুখমণ্ডল উন্মোচন করা বৈধ (مباح), যেমনটি শেখ ইবনে উসাইমিন তাঁর "রিসালাহ" (পৃ. ৩২)-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। পক্ষান্তরে, তুওয়াইজরি রহস্যপূর্ণ ও অস্পষ্ট কথা বলেন এবং তাঁর পাঠকদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করেন না। তাহলে শেখের এই উত্তর কি সঠিক হতে পারে, যেখানে তিনি এই দাবিতে অনড় যে খিমার (خمار) মুখমণ্ডলকেও আবৃত করে? হে আল্লাহ, আপনি হেদায়েত দান করুন।
জেনে রাখুন যে, এই বার্ধক্যে উপনীত নারী (القواعد) সংক্রান্ত আয়াতটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো শেখের বিরুদ্ধে সেই সব আলেমদের বক্তব্যের মাধ্যমে দলিল (حجة) পেশ করা যা তিনি গ্রহণ করেছেন—অর্থাৎ ‘থিয়াবাহুন্না’ (তাদের পোশাক)-এর ব্যাখ্যায় ‘জিলবাব’ (جلباب) শব্দটিকে গ্রহণ করা। আর এটি যে, বার্ধক্যে উপনীত নারী (القواعد)-দের জন্য তাঁদের খিমার (خمار) পরিহিত অবস্থায় "পরপুরুষদের উপস্থিতিতে" বের হওয়া বৈধ (يجوز), যাঁরা তাঁদের মুখমণ্ডল দেখতে পাবে। তাঁদের নিকট এর অর্থ হলো—এবং শেখ এক্ষেত্রে তাঁদেরই অনুসারী—ভাষাগতভাবে খিমার (خمار) মুখমণ্ডল আবৃত করে না। শেখের (আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত দান করুন) বিরুদ্ধে দলিল (حجة) হিসেবে কেবল এটিই যথেষ্ট। তাহলে সুন্নাহ এবং প্রতিটি শাস্ত্রের আলেমদের যেসব বক্তব্য সামনে আসবে, সেগুলো যখন এর সাথে যুক্ত হবে, তখন বিষয়টি কেমন দাঁড়াবে? সেক্ষেত্রে শেখ তাঁদের ইজমার (إجماع) বিরোধী এবং তাঁদের অনুসৃত পথ বহির্ভূত বিষয়ের অনুসারী বলে গণ্য হবেন।
আমি এটি বলছি একারণে যে, 'থিয়াবাহুন্না' (তাদের পোশাক)-এর ব্যাখ্যায় আরেকটি অভিমত (قول) রয়েছে—যা আমি কিতাবের যথাস্থানে উল্লেখ করেছি—আর সেটি হলো খিমার (خمار)। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত বর্ণনার মধ্যে এটিই অধিকতর সহিহ (الأصح), যা সামনে (পৃ. ১১০-১১১) আসবে। শেখ তাঁর প্রবৃত্তি বা মতের সাথে মিল না থাকায় নিজের চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী এই অভিমত (قول) গোপন করেছেন; যা আহলুস সুন্নাহর (أهل السنة) নীতির পরিপন্থী, যাঁরা তাঁদের স্বপক্ষীয় এবং বিপক্ষীয় উভয় দলিলই উল্লেখ করেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। যেহেতু তিনি প্রথম অভিমত (قول) অর্থাৎ ‘জিলবাব’ (جلباب) বেছে নিয়েছেন, তাই তাঁর জন্য এখন এটি স্বীকার করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে যে খিমার (خمار) মুখমণ্ডল আবৃত করে না, আর এটিই উদ্দেশ্য।
ইবনুল কাত্তান আল-ফাসি তাঁর "আন-নাজারু ফি আহকামিন নাজার" গ্রন্থে অন্য অভিমত (قول) পছন্দ করেছেন এবং বলেছেন (পাণ্ডুলিপি ৩৫/২):
[15]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
" الثياب المذكورة هي الخمار والجلباب رخص لها أن تخرج دونهما وتبدو للرجال. . . . وهذا قول ربيعة بن عبد الرحمن. وهذا هو الأظهر فإن الآية إنما رخصت في وضع ثوب إن وضعته ذات زينة أمكن أن تتبرج. . . " إلى آخر كلامه وهو نفيس جدا ولولا أن المجال لا يتحمل التوسع لنقلته برمته فإني لم أره لغيره
وأما مخالفته للسنة فهي كثيرة منها قوله صلى الله عليه وسلم:
(صحيح) " لا يقبل الله صلاة حائض إلا بخمار " (1)
وهو حديث صحيح مخرج في " الإرواء " (196) برواية جمع منهم ابن خزيمة وابن حبان في " صحيحيهما " (2)
--------------------------------------------
উল্লিখিত বস্ত্রসমূহ হলো খিমার (خمار) এবং জিলবাব (جلباب), তার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে যে সে এ দুটি ব্যতিরেকে বের হতে পারবে এবং পুরুষদের সামনে প্রকাশ হতে পারবে। . . . এটি রবীআহ ইবনে আবদুর রহমানের বক্তব্য। আর এটিই অধিকতর স্পষ্ট, কেননা আয়াতটি কেবল এমন বস্ত্র খুলে রাখার অনুমতি দিয়েছে যা পরিধান করলে কোনো সৌন্দর্যমন্ডিত নারী অলঙ্কার প্রকাশ (تبرج) করতে পারে। . . ." তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত, যা অত্যন্ত মূল্যবান। যদি পরিসর বৃদ্ধির সুযোগ থাকত, তবে আমি তা পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ধৃত করতাম, কারণ আমি এটি অন্য কারো কাছে দেখিনি।
আর সুন্নাহর সাথে তাঁর বিরোধ অনেক ক্ষেত্রে রয়েছে, যার মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি অন্যতম:
সহিহ (صحيح) "আল্লাহ তাআলা ঋতুবতী নারীর সালাত খিমার (خمار) ব্যতিরেকে কবুল করেন না।" (১)
এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস যা "ইরওয়া" (১৯৬) গ্রন্থে সংকলিত (مخرج) হয়েছে এবং একদল বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে ইবনে খুজাইমা ও ইবনে হিব্বান তাঁদের নিজ নিজ সহিহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فهل يقول الشيخ التويجري بأنه يجب على المرأة البالغة أن تستر وجهها في الصلاة؟
ومثله قوله صلى الله عليه وسلم في المرأة التي نذرت أن تحج حاسرة:
(صحيح) " مروها فلتركب ولتختمر ولتحج "
وفي رواية:
وتغطي شعرها
وهو صحيح أيضا خرجته في " الأحاديث الصحيحة " (2930)
فهل يجيز الشيخ للمحرمة أن تضرب بخمارها على وجهها وهو يعلم قوله صلى الله عليه وسلم: " لا تنتقب المرأة المحرمة. . . "؟
ومثل ذلك أحاديث المسح على الخمار في الوضوء فعلا منه صلى الله عليه وسلم وأمرا رجالا ونساء فمن ذا الذي يقول بقول الشيخ المخالف للقرآن والسنة وأقوال العلماء أيضا كما تقدم في تفسير آية القواعد؟ ولدينا مزيد كما يأتي
ومن ذلك قول العلامة الزبيدي في " شرح القاموس " (3 / 189) في قول أم سلمة رضي الله عن ها: إنها كانت تمسح على الخمار. أخرجه ابن أبي شيبة في " المصنف " (1 / 22) :
أرادت ب (الخمار) : العمامة لأن الرجل يغطي بها رأسه كما أن المرأة تغطيه بخمارها
[17]
তাহলে শাইখ আত-তুওয়াইজিরি কি একমত হবেন যে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জন্য সালাতে মুখমণ্ডল আবৃত করা আবশ্যক?
এর অনুরূপ হলো সেই নারী সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী, যে নারী মস্তক উন্মুক্ত অবস্থায় হজ করার মানত করেছিল:
(বিশুদ্ধ (صحيح)) "তাকে নির্দেশ দাও যেন সে সওয়ার হয়, ওড়না (খিমার) পরিধান করে এবং হজ সম্পন্ন করে।"
এবং অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে:
এবং সে যেন তার চুল ঢেকে রাখে
এটিও বিশুদ্ধ (صحيح), যা আমি আল-আহাদিস আস-সহিহা (২৯৩০) গ্রন্থে তাখরিজ (تخريج) করেছি
শাইখ কি ইহরাম অবস্থায় থাকা নারীর জন্য তার খিমার দিয়ে মুখমণ্ডল আবৃত করা বৈধ মনে করেন, যেখানে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী অবগত আছেন যে: "ইহরাম অবস্থায় থাকা নারী যেন নেকাব পরিধান না করে..."?
এর অনুরূপ হলো অজুতে খিমারের ওপর মাসেহ (مسح) করা সম্পর্কিত হাদিসসমূহ, যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্ম এবং পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য তাঁর নির্দেশ দ্বারা প্রমাণিত। অতএব শাইখের এই মতের সাথে কে একমত হবে যা কুরআন, সুন্নাহ এবং আলেমদের বক্তব্যেরও বিরোধী, যেমনটি ইতিপূর্বে আয়াতুল কাওয়াইদ-এর তাফসিরে আলোচিত হয়েছে? আমাদের কাছে এ বিষয়ে আরও প্রমাণাদি রয়েছে যা সামনে আসছে
এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'শারহুল কামুস' (৩/১৮৯) গ্রন্থে আল্লামা যুবাইদির উক্তি, যা উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বক্তব্য প্রসঙ্গে বর্ণিত যে: তিনি খিমারের ওপর মাসেহ (مسح) করতেন। ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর আল-মুসান্নাফ (১/২২) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন:
তিনি খিমার দ্বারা 'পাগড়ি' (عمامة) উদ্দেশ্য করেছেন; কারণ পুরুষ তা দিয়ে তার মাথা ঢেকে রাখে, যেমন নারী তার খিমার দিয়ে মাথা ঢেকে থাকে
[১৭]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وكذا في " لسان العرب "
وفي " المعجم الوسيط " - تأليف لجنة من العلماء تحت إشراف " مجمع اللغة العربية " - ما نصه:
(الخمار) : كل ما ستر ومنه خمار المرأة وهو ثوب تغطي به رأسها ومنه العمامة لأن الرجل يغطي بها رأسه ويديرها تحت الحنك
فهذه نصوص صريحة من هؤلاء العلماء على أن الخمار بالنسبة للمرأة كالعمامة بالنسبة للرجل فكما أن العمامة عند إطلاقها لا تعني تغطية وجه الرجل فكذلك الخمار عند إطلاقه لا يعني تغطية وجه المرأة به
وعلى هذا جري العلماء على اختلاف اختصاصاتهم من: المفسرين والمحدثين والفقهاء واللغويين وغيرهم سلفا وخلفا وقد تيسر لي الوقوف على كلمات أكثر من أربعين واحدا منهم ذكرت نصوصها في البحث المشار إليه في المقدمة وقد أجمعت كلها على ذكر الرأس دون الوجه في تعريفهم للخمار أفهؤلاء الأساطين - أيها الشيخ - مخطئون - وهم القوم لا يشقى متبعهم - وأنت المصيب؟
অনুরূপভাবে "লিসানুল আরব" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে
এবং "আল-মু'জামুল ওয়াসিত" গ্রন্থে—যা "আরবি ভাষা একাডেমি"-এর তত্ত্বাবধানে একদল আলেম কর্তৃক সংকলিত—সেখানে পাঠ্যটি নিম্নরূপ:
(খিমার): যা কিছু আবৃত করে তা-ই খিমার। এর অন্তর্ভুক্ত হলো নারীর খিমার; যা এমন একটি বস্ত্র যা দিয়ে তিনি তাঁর মাথা আবৃত করেন। পাগড়িও এর অন্তর্ভুক্ত, কারণ পুরুষ এর মাধ্যমে নিজের মাথা আবৃত করেন এবং চিবুকের নিচ দিয়ে তা পেঁচিয়ে রাখেন।
এই আলেমদের পক্ষ থেকে এগুলো সুস্পষ্ট বক্তব্য যে, নারীর ক্ষেত্রে খিমার হলো পুরুষের জন্য পাগড়ির মতো। সুতরাং পাগড়ি শব্দটির সাধারণ প্রয়োগে যেমন পুরুষের মুখমন্ডল আবৃত করা বোঝায় না, ঠিক তেমনি খিমার শব্দটির সাধারণ প্রয়োগেও তা দিয়ে নারীর মুখমন্ডল আবৃত করা বোঝায় না।
আর এর ওপরই পূর্বসূরি (سلف) ও উত্তরসূরি (خلف) কুরআন ব্যাখ্যাকার (المفسرين), হাদিস বিশারদ (المحدثين), ফকিহ (الفقهاء), ভাষাবিদ এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ তাঁদের নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছেন। আমার জন্য তাঁদের মধ্য থেকে চল্লিশের অধিক ব্যক্তির বক্তব্যের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়েছে, যাদের উদ্ধৃতি আমি ভূমিকায় উল্লিখিত গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছি। তাঁরা সকলেই খিমারের সংজ্ঞায় মুখমন্ডল ব্যতীত কেবল মাথার কথা উল্লেখ করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। হে শায়খ! এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বগণ কি তবে ভুল করেছেন—অথচ তাঁরা এমন এক কাফেলা যাঁদের অনুসরণকারী দুর্ভাগা হয় না—আর আপনিই কি সঠিক?
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
1 - فمن المفسرين: إمامهم ابن جرير الطبري (ت 310) والبغوي أبو محمد (516) والزمخشري (538) وابن العربي (553) وابن تيمية (727) وابن حيان الأندلسي (754) وغيرهم كثير وكثير ممن ذكرنا هناك
[18]
১ - তাফসিরবিদদের মধ্যে রয়েছেন: তাঁদের ইমাম ইবনে জারির আত-তাবারী (ওফাত ৩১০), আবু মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী (৫১৬), আজ-জামাশখারী (৫৩৮), ইবনুল আরাবী (৫৫৩), ইবনে তাইমিয়াহ (৭২৭), ইবনে হাইয়ান আল-আন্দালুসি (৭৫৪) এবং আরও অনেকে যাদের কথা আমরা সেখানে উল্লেখ করেছি।
[১৮]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
2 - ومن المحدثين: ابن حزم (ت 456) والباجي الأندلسي (474) وزاد هذا بيانا وردا على مثل الشيخ وتهوره فقال:
ولا يظهر منها غير دور وجهها
وابن الأثير (ت 606) والحافظ ابن حجر العسقلاني (ت 852) ونص كلامه:
و (الخمار) للمرأة كالعمامة للرجل
وهنا لا بد لي من وقفة - وإن طال الكلام أكثر مما رغبت - لبيان موقف للشيخ التويجري غير مشرف له في استغلاله لخطأ وقع في شرح الحافظ لحديث عائشة الآتي في الكتاب (ص 78) في نزول آية (الخمر) المتقدمة وبتر من شرح الحافظ نص كلامه المذكور لمخالفته لدعواه فقال الحافظ في شرح قول عائشة في آخر حديثها: " فاختمرن بها " (8 / 490) :
أي: غطين وجوههن وصفة ذلك أن تضع الخمار على رأسها وترميه من الجانب الأيسر وهو التقنع. قال الفراء: كانوا في الجاهلية تسدل المرأة خمارها من ورائها وتكشف ما قدامها فأمرن باستتار و (خمار)
إلى آخر النص
فأقول: لقد رد الشيخ في كتابه (ص 221) قولي الموافق لأهل العلم - كما علمت - بتفسير الحافظ المذكور: " غطين وجوههن " وأضرب عن تمام كلامه الصريح في أنه لا يعني ما فهمه الشيخ لأنه يناقض قوله:
[19]
2 - এবং হাদিস বিশারদদের (المحدثين) মধ্যে রয়েছেন: ইবনে হাজম (মৃত্যু ৪৫৬) এবং আল-বাজি আল-আন্দালুসি (৪৭৪)। তিনি বিষয়টিকে আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং শায়খের মতো ব্যক্তিদের ও তাদের হঠকারিতার প্রতিবাদ করে বলেছেন:
আর তার (নারীর) চেহারার অবয়ব ছাড়া আর কিছুই প্রকাশ পায় না।
এবং ইবনুল আসির (মৃত্যু ৬০৬) ও হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২)। তাঁর বক্তব্যের ভাষ্য হলো:
নারীর জন্য ‘খিমার’ (মাথার ওড়না) তেমন, যেমন পুরুষের জন্য পাগড়ি।
এখানে আমাকে কিছুটা বিরতি নিতে হচ্ছে—যদিও আলোচনাটি আকাঙ্ক্ষিত সীমার চেয়ে দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে—শায়খ তুওয়াইজিরির একটি অসম্মানজনক অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য। হাফেজ (الحافظ)-এর ব্যাখ্যায় আয়েশা (রা.)-এর একটি হাদিসের বর্ণনায় (যা কিতাবের ৭৮ পৃষ্ঠায় সামনে আসবে) ‘খামর’ (الخمر) সংক্রান্ত আয়াত নাজিল হওয়ার ক্ষেত্রে যে ভুলটি ঘটেছে, শায়খ সেটি ব্যবহার করেছেন। তিনি হাফেজ (الحافظ)-এর ব্যাখ্যার সেই মূল অংশটি কেটে বাদ দিয়েছেন যা তাঁর দাবির পরিপন্থী ছিল। হাফেজ (الحافظ) আয়েশা (রা.)-এর হাদিসের শেষাংশের বক্তব্য ‘তারা তা (ওড়না) দ্বারা নিজেদের আবৃত করল’ (৮/৪৯০)-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন:
অর্থাৎ: তারা তাদের চেহারা আবৃত করল। এর পদ্ধতি হলো ওড়না মাথার ওপর রাখবে এবং তা বাম দিক দিয়ে পেঁচিয়ে নেবে, আর এটাই হলো মুখাবরণ (তাকান্নু)। আল-ফাররা বলেন: জাহেলিয়াতের যুগে মহিলারা তাদের ওড়না পেছন দিক দিয়ে ঝুলিয়ে দিত এবং সামনের অংশ উন্মুক্ত রাখত, ফলে তাদের আবরণ গ্রহণ করার এবং ‘খিমার’ (ওড়না) পরিধান করার নির্দেশ দেওয়া হলো...
বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।
অতঃপর আমি বলব: শায়খ তাঁর কিতাবে (পৃষ্ঠা ২২১) হাফেজ (الحافظ)-এর উল্লিখিত ব্যাখ্যা—‘তারা তাদের চেহারা আবৃত করল’—উদ্ধৃত করে আলেমদের মতের স্বপক্ষে দেওয়া আমার বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অথচ তিনি হাফেজের সুস্পষ্ট পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের বাকি অংশটুকু এড়িয়ে গেছেন, যা প্রমাণ করে যে হাফেজ এমন কিছু বোঝাতে চাননি যা শায়খ বুঝেছেন; কারণ তা হাফেজের নিজের বক্তব্যেরই পরিপন্থী:
[19]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
" وصفة ذلك. . . " فإن هذا لو طبقه الشيخ في خماره لوجد وجهه مكشوفا غير مغطى ويؤكد ذلك النص الذي بتره الشيخ عمدا أو تقليدا وفيه تشبيه الحافظ خمار المرأة بعمامة الرجل فهل يرى الشيخ أن العمامة أيضا - كالخمار عنده - تغطي الرأس والوجه جميعا؟ وكذلك قوله: " وهو التقنع " ففي كتب اللغة:
تقنعت المرأة أي: لبست القناع وهو ما تغطي به المرأة رأسها
كما في " المعجم الوسيط " وغيره مثل الحافظ نفسه فقد قال في " الفتح " (7 / 230 و 10 / 274) :
التقنع: تغطية الرأس
إنما قلت: أو تقليدا. لأني أربأ بالشيخ أن يعتمد مثل هذا البتر الذي يغير مقصود الكلام فقد وجدت من سبقه إليه من الفضلاء المعاصرين ولكنه انتقل إلى رحمة الله وعفوه فلا أريد مناقشته. عفا الله عنا وعنه
وبناء على ما سبق فقوله: " وجوههن " يحتمل أن يكون خطأ من الناسخ أو سبق قلم من المؤلف أراد أن يقول: " صدورهن " فسبقه القلم ويحتمل أن يكون أراد معنى مجازيا أي: ما يحيط بالوجه من باب
[20]
"এবং এর স্বরূপটি হলো . . . " কারণ এই বিষয়টি যদি শায়খ তার ওড়না (خمار)-এর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতেন, তবে তিনি দেখতে পেতেন যে তার মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রয়েছে, আবৃত নয়। একে সেই পাঠ্যটি আরও সুদৃঢ় করে যা শায়খ ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা অন্ধ অনুসরণ (تقليد)-বশত কর্তন (بتر) করেছেন; আর তাতে হাফেজ (حافظ) নারীর ওড়না (خمار)-কে পুরুষের পাগড়ির (عمامة) সাথে তুলনা করেছেন। শায়খ কি মনে করেন যে পাগড়িও (عمامة)—তার নিকট ওড়নার (خمار) ন্যায়—মাথা এবং মুখমণ্ডল উভয়কেই একত্রে আবৃত করে? অনুরূপভাবে তার উক্তি: "আর তা হলো মাথা ঢাকা (التقنع)"। অভিধানের গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে:
নারী মাথা আবৃত করেছে (تقنعت) অর্থাৎ: সে ওড়না (قناع) পরিধান করেছে, আর ওড়না (قناع) হলো তা যা দিয়ে নারী তার মাথা আবৃত করে
যেমনটি 'আল-মু'জামুল ওয়াসিত' এবং হাফেজ (حافظ)-এর মতো অন্যান্যদের গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, এমনকি স্বয়ং হাফেজ (حافظ) 'ফাতহুল বারী' (৭/২৩০ এবং ১০/২৭৪) গ্রন্থে বলেছেন:
মাথা ঢাকা (التقنع): মস্তক আবৃত করা
আমি কেবল বলেছি: "অথবা অন্ধ অনুসরণ (تقليد)-বশত"; কারণ শায়খকে আমি এমন কাজ থেকে ঊর্ধ্বে মনে করি যে তিনি এমন কোনো কর্তন (بتر)-এর ওপর নির্ভর করবেন যা বক্তব্যের উদ্দেশ্যকে পরিবর্তন করে দেয়। আমি সমসাময়িক গুণীজনদের মাঝে এমন একজনকে পেয়েছি যিনি তার আগে এটি করেছিলেন, কিন্তু তিনি আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার দিকে চলে গেছেন, তাই আমি তাকে নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। আল্লাহ আমাদের এবং তাকে ক্ষমা করুন
পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে তার উক্তি: "তাদের মুখমণ্ডল (وجوههن)"-এর ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি লিপিকারের ভুল অথবা লেখকের অসতর্কতাবশত কলমের বিচ্যুতি; তিনি বলতে চেয়েছিলেন "তাদের বক্ষদেশ (صدورهن)" কিন্তু কলম লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে। আবার এটিও সম্ভব যে তিনি রূপক (مجازي) অর্থ বুঝাতে চেয়েছেন, অর্থাৎ যা মুখমণ্ডলকে বেষ্টন করে রাখে...
[20]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
المجاورة فقد وجدت في " الفتح " نحوه في موضع آخر منه تحت حديث البراء رضي الله عن هـ:
(صحيح) " أتى النبي صلى الله عليه وسلم رجل مقنع بالحديد. . . " الحديث. رواه البخاري وغيره وهو مخرج في " الصحيحة " (2932) فقال الحافظ (6 / 25) :
قوله:
مقنع " بفتح القاف والنون المشددة: وهو كناية عن تغطية وجهه بآلة الحرب "
فإنه يعني ما جاور الوجه وإلا لم يستطع المشي فضلا عن القتال كما هو ظاهر
وبعد هذا فلنعد إلى ما كنا في صدده من ذكر أسماء المحدثين المفسرين للخمار بغطاء الرأس:
بدر الدين العيني (ت 855) في " عمدة القارئ " (19 / 92) وعلي القاري (ت 1014) والصنعاني (ت 1182) والشوكاني (ت 1250) وأحمد محمد شاكر المصري (ت 1377) وغيرهم
নিকটবর্তী হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি 'ফাতহুল বারী'-র অন্য এক স্থানে বারআ (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের অধীনে অনুরূপ আলোচনা পেয়েছি:
(সহিহ (صحيح)) "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট লৌহবর্মে আবৃত এক ব্যক্তি আসল..." হাদিসটি। এটি বুখারি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এটি 'আস-সহিহা' (২৯৩২) গ্রন্থে সংকলিত (مخرج) হয়েছে। অতঃপর হাফিজ (৬/২৫) বলেন:
তাঁর উক্তি:
'মুকান্না'—ক্বাফ বর্ণে ফাতহা এবং নুন বর্ণে তাশদিদ সহযোগে: "এটি মূলত যুদ্ধের সরঞ্জাম দ্বারা তার চেহারা ঢেকে রাখার প্রতি একটি ইঙ্গিত।"
নিশ্চয়ই এর দ্বারা চেহারার পার্শ্ববর্তী অংশ বোঝানো হয়েছে, অন্যথায় তার পক্ষে হাঁটাচলাই সম্ভব হতো না, যুদ্ধের কথা তো বলাই বাহুল্য, যেমনটি সুস্পষ্ট।
এরপর, আমরা যে বিষয়ে আলোচনা করছিলাম তাতে ফিরে আসা যাক—অর্থাৎ সেই সমস্ত হাদিস বিশারদদের (المحدثين) নাম উল্লেখ করা যারা 'খিমার'-এর ব্যাখ্যা মাথার ওড়না হিসেবে করেছেন:
বদরুদ্দিন আইনি (মৃত ৮৫৫ হিজরি) 'উমদাতুল কারী' (১৯/৯২) গ্রন্থে, মোল্লা আলি ক্বারি (মৃত ১০১৪ হিজরি), সানআনি (মৃত ১১৮২ হিজরি), শাওকানি (মৃত ১২৫০ হিজরি), আহমদ মুহাম্মদ শাকির আল-মিসরি (মৃত ১৩৭৭ হিজরি) এবং অন্যান্যগণ।
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
3 - ومن الفقهاء: أبو حنيفة (ت 150) وتلميذه محمد بن الحسن (ت 189) في " الموطأ " وستأتي عبارته في (ص 34) والشافعي القرشي (ت 204) والعيني (855) وتقدم قال في " البناية في شرح الهداية " (2 / 58) :
هو ما تغطي به المرأة رأسها
[21]
3 - এবং ফকিহগণের (فقهاء) মধ্যে রয়েছেন: আবু হানিফা (মৃত্যু ১৫০) এবং তাঁর ছাত্র মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (মৃত্যু ১৮৯) "আল-মুয়াত্তা" গ্রন্থে, তাঁর উদ্ধৃতি সামনে (পৃষ্ঠা ৩৪)-এ আসবে। আর শাফেয়ি কুরাশি (মৃত্যু ২০৪) এবং আল-আইনি (৮৫৫); ইতোপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, তিনি "আল-বিনায়া ফি শারহিল হিদায়া" (২/৫৮) গ্রন্থে বলেছেন:
এটি এমন বস্তু যার দ্বারা নারী তার মাথা ঢেকে রাখে।
[21]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
4 - ومن اللغويين: الراغب الأصبهاني (ت 502) قال في كتابه الفريد " المفردات في غريب القرآن " (ص 159) :
(خمر) أصل الخمر: ستر الشيء ويقال لما يستتر به: (خمار) لكن (الخمار) صار في التعارف اسما لما تغطي به المرأة رأسها وجمعه (خمر) قال تعالى: (وليضربن بخمرهن على جيوبهن)
وابن منظور (ت 711) والفيروزآبادي (816) وجماعة من العلماء المؤلفين ل " المعجم الوسيط " - كما تقدم - مع نصه قولهم الصريح في أنه غطاء الرأس
من أجل هذه النقول عن هؤلاء الأئمة الفحول لم يسع الشيخ الفاضل محمد بن صالح بن عثيمين إلا أن يخالف الشيخ في تعصبه لرأيه ويوافق هؤلاء الأئمة فقال في رسالته (ص 6) :
(الخمار) : ما تخمر به المرأة رأسها وتغطيه به ك (الغدفة) (1)
قلت: فبهذه الأدلة من الكتاب والسنة وأقوال أئمة التفسير والحديث والفقه واللغة ثبت قولنا: إن الخمار غطاء الرأس وبطل قول الشيخ التويجري ومقلديه كابن خلف الذي زعم (ص 70) من " نظراته ": أن الخمار عام لمسمى الرأس والوجه لغة وشرعا. واغتر به - مع الأسف - أخونا الفاضل محمد بن إسماعيل الإسكندراني فطبع في كتابه " عودة الحجاب " (3 / 285)
--------------------------------------------
4 - এবং ভাষাবিদদের (اللغويين) মধ্যে রয়েছেন: আর-রাগিব আল-আসফাহানি (মৃত্যু ৫০২ হি.), তিনি তাঁর অনন্য গ্রন্থ ‘আল-মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন’ (পৃষ্ঠা ১৫৯)-এ বলেছেন:
(খামর) ‘খামর’-এর মূল অর্থ হলো: কোনো কিছু আবৃত করা। যা দিয়ে কোনো কিছু আবৃত করা হয় তাকে (খিমার) বলা হয়। তবে প্রচলিত ব্যবহারে (الخمار) ‘খিমার’ শব্দটি সেই জিনিসের জন্য নির্ধারিত নামে পরিণত হয়েছে যা দিয়ে নারী তার মাথা ঢেকে রাখে। এর বহুবচন হলো (خمر) ‘খুমুর’। আল্লাহ তাআলা বলেন: “তারা যেন তাদের ওড়না (خمر) দিয়ে তাদের বক্ষদেশ আবৃত রাখে।”
এবং ইবন মানজুর (মৃত্যু ৭১১ হি.) ও আল-ফাইরুজাবাদি (৮১৬ হি.) এবং ‘আল-মুজামুল ওয়াসিত’ গ্রন্থের সংকলক (المؤلفين) একদল আলেম—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্যের মূল পাঠসহ এটিই ব্যক্ত করেছেন যে, তা হলো মাথার আবরণ।
এই সকল শ্রেষ্ঠ ইমামগণের এই উদ্ধৃতিসমূহের কারণে ফাজিল শেখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিনের পক্ষে শেখ (তুওয়াইজারি)-এর নিজস্ব মতের প্রতি গোঁড়ামির সাথে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি, বরং তিনি এই ইমামগণের সাথে একমত হয়েছেন। তিনি তাঁর রিসালায় (পৃষ্ঠা ৬) বলেছেন:
(খিমার): যা দিয়ে নারী তার মাথা আবৃত করে এবং তা ঢেকে রাখে, যেমন (গুদফাহ) (১)।
আমি বলছি: কুরআন, সুন্নাহ (سنة) এবং তাফসির (تفسير), হাদিস, ফিকহ (فقه) ও আভিধানিক (لغة) প্রমাণের এই সকল সূত্রের মাধ্যমে আমাদের বক্তব্য প্রমাণিত হলো যে: ‘খিমার’ হলো মাথার আবরণ। আর শেখ তুওয়াইজারি ও তাঁর অন্ধ অনুসারীদের (مقلديه)—যেমন ইবন খালাফ—বক্তব্য বাতিল হয়ে গেল, যিনি তাঁর ‘নাজরাত’ (পৃষ্ঠা ৭০) গ্রন্থে দাবি করেছেন যে: ‘খিমার’ শব্দটি আভিধানিক (لغة) ও শরয়ি (شرعا) উভয় দিক থেকেই মাথা ও মুখমণ্ডল নামক বিষয়ের জন্য সাধারণ। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, আমাদের ফাজিল ভাই মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-ইস্কান্দারানি তাঁর দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন এবং তাঁর ‘আওদাতুল হিজাব’ (৩/২৮৫) গ্রন্থে তা ছাপিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عنوانا نصه: " الاختمار لغة يتضمن تغطية الوجه ". ثم لم يأتيا على ذلك بأي دليل سوى البيتين من الشعر كنت سقتها في كتابي (ص 73) مؤيدا قولي هناك: بأنه لا ينافي كون الخمار غطاء الرأس أن يستعمل أحيانا لتغطية الوجه واستدللت على ذلك ببعض الأحاديث فتجاهلوها مع الأسف ولم يحيروا جوابا
وأزيد هنا فأقول: قد جاء في قصة جوع النبي صلى الله عليه وسلم أن أنسا رضي الله عن هـ قال عن أم سليم:
(صحيح) فأخرجت أقراصا من شعير ثم أخرجت خمارا لها فلفت الخبز ببعضه. . . " الحديث
أخرجه البخاري (3578) ومسلم (6 / 118) وغيرهما
والشاهد منه واضح وهو أن الخمار الذي تغطي المرأة به رأسها قد استعملته في لف الخبز وتغطيته فهل يقول أحد: إن من معاني الخمار إذا أطلق أنه يغطي الخبز أيضا؟ لا أستبعد أن يقول ذلك أولئك الذين تجرؤوا على مخالفة تلك النصوص المتقدمة من الكتاب والسنة وأقوال الأئمة الدالة على أن (الخمار) غطاء الرأس دون دور وجهها فقال أولئك: ووجهها. لا لشيء إلا لأنه قد استعمل لتغطية الوجه كالجلباب ولو أحيانا
وإذا عرفت هذا فمن أخطاء التويجري - ومن لف لفه - قوله بعد تفسيره الخمار بما تبين خطؤه (ص 221) :
[23]
শিরোনামটি হলো: "শাব্দিক অর্থে ইখতিমার (الاختمار) মুখমণ্ডল আবৃত করাকেও অন্তর্ভুক্ত করে।" অতঃপর তারা এ বিষয়ে কোনো দলিল পেশ করতে পারেননি, কেবল কবিতার দুটি চরণ ব্যতীত যা আমি আমার কিতাবের (পৃষ্ঠা ৭৩) উল্লেখ করেছিলাম। সেখানে আমার সেই বক্তব্যের সমর্থনে দলিল ছিল যে: খিমার (الخمار) মূলত মাথার আচ্ছাদন হওয়া সত্ত্বেও কখনো কখনো মুখমণ্ডল আবৃত করার কাজে এটি ব্যবহৃত হওয়া তার প্রকৃত অর্থের পরিপন্থী নয়। আমি এ বিষয়ে কিছু হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছিলাম, কিন্তু দুঃখের বিষয় তারা সেগুলো এড়িয়ে গেছেন এবং কোনো প্রতিউত্তর করেননি।
আমি এখানে আরও যোগ করে বলছি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ষুধার্ত থাকার ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে যে, আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উম্মে সুলাইম সম্পর্কে বলেছেন:
(সহিহ (صحيح)) "তিনি যবের কয়েকটি রুটি বের করলেন, অতঃপর নিজের একটি খিমার (خمارا) বের করে তার একাংশ দিয়ে রুটিগুলো পেঁচিয়ে নিলেন..." হাদিস
এটি বুখারি (৩৫৭৮), মুসলিম (৬/১১৮) এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
এ থেকে প্রাপ্ত প্রমাণটি অত্যন্ত স্পষ্ট, আর তা হলো—যে খিমার (الخمار) দিয়ে নারী তার মাথা আবৃত করে, সেটি তিনি রুটি পেঁচানো ও ঢাকার কাজে ব্যবহার করেছেন। এখন কি কেউ বলবে যে, সাধারণভাবে খিমার (الخمار) শব্দের একটি অর্থ রুটি ঢাকাও? যারা কুরআন, সুন্নাহ এবং ইমামগণের পূর্বোক্ত দলিলাদি—যা প্রমাণ করে যে খিমার (الخمار) হলো মাথার আচ্ছাদন, মুখমণ্ডলের নয়—তা লঙ্ঘন করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে এমন দাবি করাও আমার কাছে অসম্ভব মনে হয় না। তারা বলেছে: "(এটি) তার মুখমণ্ডলও (ঢাকে)"। তারা এটি কেবল একারণেই বলেছে যে, জিলবাবের (الجلباب) মতো এটিও মাঝেমধ্যে মুখমণ্ডল আবৃত করতে ব্যবহৃত হয়েছে।
আপনি যখন এটি বুঝতে পারলেন, তখন তুওয়াইজিরি—এবং যারা তার পথ অনুসরণ করেছেন—তাদের অন্যতম ভুল হলো খিমারের (الخمار) এমন ব্যাখ্যা প্রদান করা যার অসারতা ইতিপূর্বেই স্পষ্ট হয়ে গেছে (পৃষ্ঠা ২২১):
[23]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
" فالاعتجار مطابق للاختمار في المعنى "
فأقول: نعم هو كذلك بالمعنى الصحيح المتقدم للاختمار وأما بمعنى تغطية الوجه عند الإطلاق فهو باطل لغة ولا أريد أن أطيل في نقل الشواهد على ذلك من كلام العلماء وإنما أكتفي هنا على ما قاله الإمام الفيروزآبادي في " قاموسه " والزبيدي في " تاجه " جاعلا كلام الأول بين هلالين قال (3 / 383) :
(الاعتجار) : لي الثوب على الرأس من غير إدارة تحت الحنك وفي بعض العبارات: هو (لف العمامة دون التلحي) وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم
أنه دخل مكة يوم الفتح متعجرا بعمامة سوداء " (1) المعنى: أنه لفها على رأسه ولم يلح بها. والمعجر (كمنبر: ثوب تعتجر به) المرأة أصغر من الرداء وأكبر من المقنعة وهو ثوب تلفه المرأة على استدارة رأسها ثم تجلبب فوقه بجلبابها كالعجار والجمع: المعاجر ومنه أخذ الاعتجار بالمعنى السابق "
قلت: وهذا لا ينافي ما احتج به الشيخ التويجري لدعواه بقوله (ص 161) :
--------------------------------------------
" সুতরাং আল-ইতিজার অর্থগতভাবে আল-ইখতিমার-এর অনুরূপ "
আমি বলব: হ্যাঁ, আল-ইখতিমার-এর পূর্বে বর্ণিত সঠিক অর্থ অনুযায়ী বিষয়টি তেমনই। তবে সাধারণভাবে মুখমণ্ডল আবৃত করার অর্থে এটি ভাষাগতভাবে বাতিল। আমি এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে দীর্ঘ করতে চাই না, বরং ইমাম ফিরোজাবাদী তাঁর ‘আল-কামুস’ এবং জাবيدي তাঁর ‘তাজ’ গ্রন্থে যা বলেছেন তা উল্লেখ করেই সন্তুষ্ট থাকব। আমি প্রথমজনের কথাগুলো দুই বন্ধনীর মধ্যে উপস্থাপন করছি। তিনি বলেছেন (৩/৩৮৩):
(আল-ইতিজার): চিবুকের নিচ দিয়ে না পেঁচিয়ে মাথার ওপর কাপড় জড়ানো। কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে: এটি হলো (চিবুকের নিচে প্যাঁচ না দিয়ে পাগড়ি বাঁধা)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে
তিনি মক্কা বিজয়ের দিন মাথায় একটি কালো পাগড়ি জড়ানো অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন। " (১) এর অর্থ: তিনি এটি তাঁর মাথায় পেঁচিয়েছিলেন এবং চিবুকের নিচে প্যাঁচ দেননি। আর আল-মি’জার (মিনবার-এর ওজনে: যা দিয়ে আল-ইতিজার করা হয়) হলো নারীদের পরিধেয় এমন এক কাপড় যা চাদরের চেয়ে ছোট এবং ওড়নার চেয়ে বড়। এটি এমন এক কাপড় যা নারীরা তাঁদের মাথার চারপাশে পেঁচিয়ে রাখেন এবং এরপর তার ওপর দিয়ে জিলবাব পরিধান করেন, যেমনটি আল-ইজার। এর বহুবচন হলো আল-মা’আজির। এখান থেকেই পূর্ববর্তী অর্থ অনুযায়ী আল-ইতিজার শব্দটি গৃহীত হয়েছে।
আমি বলব: এটি শেখ তুওয়াইজারি তাঁর দাবির সপক্ষে যে দলিল পেশ করেছেন তার পরিপন্থী নয়, যেখানে তিনি বলেছেন (পৃ. ১৬১):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
" قال ابن الأثير: وفي حديث عبد الله بن عدي بن الخيار: جاء وهو معتجر بعمامته ما يرى وحشي منه إلا عينيه ورجليه. الاعتجار بالعمامة: هو أن يلفها على رأسه ويرد طرفها على وجهه ولا يعمل منها شيئا تحت ذقنه. انتهى "
قلت: لا ينافي هذا ما تقدم عن العلماء باللغة من الشرح ل (الاعتجار) لأن ما قاله ابن الأثير مصرح به في الحديث: " ما يرى منه إلا عينيه " فهو صفة كاشفة ل (الاعتجار) وليست لازمة له كما لو قال قائل: (جاء مختمرا أو متعمما لا يرى منه إلا عيناه) . فذلك لا يعني عند من يفهم اللغة أن من لوازم الاختمار والتعمم تغطية الوجه إلا العينين. ولذلك لم يزد الحافظ في " الفتح (7 / 369) على قوله:
(معتجرا) أي: لاف عمامته على رأسه من غير تحنيك
وجملة القول: إن الخمار والاعتجار عند الإطلاق إنما يعني: تغطية الرأس فمن ضم إلى ذلك تغطية الوجه فهو مكابر معاند لما تقدم من الأدلة وعلى ذلك يسقط استدلال الشيخ - ومن قلده - بالأحاديث التي فيها اختمار النساء أو اعتجارهن على دعواه الباطلة شرعا ولغة ويسلم لنا - في الوقت نفسه - استدلالنا بآية (الخمار) وحديث فاطمة الآتي (ص 66) رقم (5) على أن وجه المرأة ليس بعورة كما سيأتي بيانه هناك. والله المستعان. (انظر حديث عائشة في اختمار النساء المهاجرات فيما
[25]
ইবনুল আসীর বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আদি ইবনুল খিয়ার থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: তিনি তাঁর পাগড়ি পরিহিত (معتجر) অবস্থায় আসলেন, ওয়াহশি তাঁর দুই চোখ ও দুই পা ব্যতীত আর কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। পাগড়ি দ্বারা ইতিজার (الاعتجار) হলো: তা মাথায় পেঁচানো এবং এর প্রান্তভাগ চেহারার ওপর ফিরিয়ে আনা, কিন্তু চিবুকের নিচে (تحنيك) এর কোনো অংশ না রাখা। সমাপ্ত।
আমি বলছি: এটি ভাষাবিদদের পক্ষ থেকে ‘ইতিজার’ (الاعتجار)-এর যে ব্যাখ্যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে তার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ ইবনুল আসীর যা বলেছেন তা হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: "তার চোখ দুটি ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।" সুতরাং এটি ‘ইতিজার’ (الاعتجار)-এর একটি বর্ণনামূলক বৈশিষ্ট্য (صفة كاشفة), এর কোনো আবশ্যিক শর্ত (لازمة) নয়; যেমনটি কেউ যদি বলে: "সে ওড়না পরিহিত (مختمر) বা পাগড়ি পরিহিত (متعمম) অবস্থায় আসলো এমতাবস্থায় যে তার চোখ দুটি ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।" ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এমন কারো নিকট এর অর্থ এই নয় যে, ওড়না পরা বা পাগড়ি পরার জন্য চোখ দুটি ছাড়া মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা একটি আবশ্যিক শর্ত। এই কারণেই হাফেজ ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারি’ (৭/৩৬৯)-এ তাঁর এই বক্তব্যের অতিরিক্ত আর কিছু বলেননি:
(মুতাজিরান/معتجرا) অর্থাৎ: চিবুকের নিচে পেঁচানো (تحنيك) ব্যতিরেকে মাথায় পাগড়ি পেঁচানো।
সারকথা হলো: সাধারণভাবে ওড়না (الخمار) এবং ইতিজার (الاعتجار) বলতে কেবল মাথা ঢাকাকেই বোঝায়। সুতরাং যে ব্যক্তি এর সাথে মুখমণ্ডল ঢাকাকে যুক্ত করে, সে ইতিপূর্বে উপস্থাপিত দলিলসমূহের বিপরীতে হঠকারিতা প্রদর্শন করে। আর এর মাধ্যমেই শায়খের—এবং যারা তাঁর অন্ধ অনুসরণ করেছে—মহিলাদের ওড়না পরিধান বা ইতিজার সংক্রান্ত হাদিসগুলো দ্বারা তাদের শরয়ি ও ভাষাগত বাতিল দাবির পক্ষে পেশ করা দলিলসমূহ অসার প্রমাণিত হয়। সেই সাথে আমাদের উপস্থাপিত ‘খিমার’ (الخمار)-এর আয়াত এবং পরবর্তীতে (পৃষ্ঠা ৬৬, নং ৫) বর্ণিত ফাতেমা (রা.)-এর হাদিসের মাধ্যমে পেশকৃত দলিলটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয় যে, নারীর মুখমণ্ডল সতর (عورة) নয়, যা সামনে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। (মুহাজির নারীদের ওড়না পরিধান সংক্রান্ত আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটি দেখুন...
[25]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يأتي من الكتاب صفحة 78)
البحث الخامس: هل أجمع المسلمون على أن وجه المرأة عورة وأنها تمنع أن تخرج سافرة الوجه؟
ذلك ما ادعاه الشيخ التويجري - هداه الله وقلده فيه بعضهم - يعيد ذلك ويكرره في مواضع كثيرة وفي صفحات عديدة متقاربة من كتابه لا يكل ولا يمل (ص 156 و 197 و 217 و 243 و 245 و 247) يفعل هذا وهو يعلم في قرارة نفسه أن لا إجماع فيه لأنه يمر على الخلاف ولا ينقله وقد ينقله ثم يتجاهله كما سيأتي بيانه قريبا بما لا يدع أي شك في ذلك وكلامه في ذلك مختلف لفظا متفق معنى وحسبي أن أنقل منه نصين فقط طلبا للاختصار:
الأول: قوله (ص 197 و 217) بالحرف الواحد:
وحكى ابن رسلان: اتفاق المسلمين على منع النساء أن يخرجن سافرات الوجوه. نقله الشوكاني عنه في (نيل الأوطار)
(1)فأقول: إليك نص ما في " نيل الأوطار " (6 / 98) - البابي الحلبي) تحت حديث عائشة:
--------------------------------------------
গ্রন্থের ৭৮ পৃষ্ঠা থেকে সংকলিত)
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মুসলিমরা কি এই বিষয়ে সর্বসম্মত ঐক্যমতে (إجماع) পৌঁছেছেন যে নারীর মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা আবশ্যিক অঙ্গ (عورة) এবং তাকে মুখ খোলা রেখে বাইরে বের হতে নিষেধ করা হবে?
এটিই শাইখ আল-তুওয়াইজারি -আল্লাহ তাকে হিদায়াত দিন এবং তার অনুসরণে কেউ কেউ তাকে অনুকরণ করেছেন- দাবি করেছেন। তিনি তার গ্রন্থের বহু স্থানে এবং একে অপরের নিকটবর্তী অনেক পৃষ্ঠায় (পৃ. ১৫৬, ১৯৭, ২১৭, ২৪৩, ২৪৫ এবং ২৪۷) অক্লান্তভাবে এবং বিরক্তিহীনভাবে বারবার এর পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি এটি করছেন অথচ মনে মনে জানেন যে, এই বিষয়ে কোনো সর্বসম্মত ঐক্যমত (إجماع) নেই। কারণ তিনি মতপার্থক্য (خلاف) এড়িয়ে যান এবং তা উল্লেখ করেন না। কখনো কখনো তা উল্লেখ করলেও পরবর্তীতে উপেক্ষা করেন, যা শীঘ্রই কোনো সন্দেহ ছাড়াই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে। এই বিষয়ে তার বক্তব্যগুলো শব্দে ভিন্ন হলেও অর্থে এক। সংক্ষেপ করার জন্য আমি কেবল দুটি উদ্ধৃতি পেশ করছি:
প্রথমটি: তার উক্তি (পৃ. ১৯৭ এবং ২১৭) হুবহু নিম্নরূপ:
ইবনে রাসলান বর্ণনা করেছেন: নারীদের মুখমণ্ডল খোলা রেখে বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে মুসলিমদের সর্বসম্মত ঐক্যমত (اتفاق) রয়েছে। শাওকানি তার থেকে এটি নাইলুল আওতার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(১)আমি বলছি: আয়িশা (রা.)-এর হাদিসের অধীনে 'নাইলুল আওতার' (৬/৯৮ - আল-বাবি আল-হালাবি প্রকাশনী) গ্রন্থে যা রয়েছে তার মূল পাঠ নিম্নরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
" يا أسماء إن المرأة إذا بلغت المحيض لم يصلح لها أن يرى منها إلا هذا وهذا. وأشار إلى وجهه وكفيه " (1) :
فيه دليل لمن قال: إنه يجوز نظر الأجنبية. قال ابن رسلان: وهذا عند أمن الفتنة مما تدعو الشهوة إليه من جماع أو ما دونه أما عند خوف الفتنة فظاهر إطلاق الآية والحديث عدم اشتراط الحاجة ويدل على تقييده بالحاجة اتفاق المسلمين على منع النساء أن يخرجن سافرات الوجوه لا سيما عند كثرة الفساق. وحكى القاضي عياض عن العلماء: أنه لا يلزمها ستر وجهها في طريقها وعلى الرجال غض البصر للآية. وقد تقدم الخلاف في أصل المسألة
قلت: يشير إلى بحث له في الباب الذي قبل حديث عائشة المذكور آنفا شرح فيه آية: (ولا يبدين زينتهن إلا ما ظهر منها) [النور: 31] ونقل تحتها تفسير الزمخشري للزينة فيها ومنه قوله:
فما كان ظاهرا منها كالخاتم والكحل والخضاب فلا بأس بإبدائه للأجانب
ثم قال الشوكاني عقبه:
والحاصل: أن المرأة تبدي من مواضع الزينة ما تدعو الحاجة إليه
--------------------------------------------
"হে আসমা, নিশ্চয়ই নারী যখন ঋতুস্রাবের বয়সে পৌঁছায়, তখন তার এই এবং এই অংশ ছাড়া অন্য কিছু দেখা যাওয়া সঙ্গত নয়। আর তিনি তাঁর চেহারা ও কবজিদ্বয়ের দিকে ইশারা করলেন।" (১) :
এতে তাদের জন্য দলিল (دليل) রয়েছে যারা বলেন: বেগানা নারীর দিকে তাকানো জায়েজ (جائز)। ইবনে রুসলান বলেন: এটি ফিতনার (فتنة) আশঙ্কা না থাকার ক্ষেত্রে, যা সহবাস বা এর চেয়ে কম কোনো কামোদ্রেককারী বিষয়ের দিকে প্ররোচিত করে। তবে ফিতনার (فتنة) আশঙ্কা থাকলে আয়াত ও হাদিসের নিরঙ্কুশ বক্তব্যের বাহ্যিক দাবি হলো জরুরত বা প্রয়োজনের শর্তারোপ না করা। আর এটি প্রয়োজনের সাথে সীমাবদ্ধ হওয়ার ওপর মুসলমানদের ঐক্যমত (اتفاق) প্রমাণ করে যে, নারীদের চেহারা খোলা অবস্থায় বের হওয়া থেকে বারণ করা হবে, বিশেষ করে পাপাচারীদের আধিক্যের সময়। কাজী ইয়াজ উলামায়ে কেরাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে: পথ চলার সময় নারীর জন্য মুখমণ্ডল ঢাকা আবশ্যক নয় এবং আয়াতের নির্দেশ অনুযায়ী পুরুষদের দৃষ্টি অবনত রাখা কর্তব্য। এই বিষয়ের মূল মাসআলায় মতভেদ ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
আমি বলি: এটি তাঁর এমন একটি গবেষণার দিকে ইঙ্গিত করে যা আয়েশা (রা.)-এর পূর্বোক্ত হাদিসের আগের অধ্যায়ে রয়েছে, যেখানে তিনি এই আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন: (এবং তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা এমনিতে প্রকাশ পায় তা ছাড়া) [আন-নূর: ৩১]। এর অধীনে তিনি সৌন্দর্যের ব্যাখ্যায় যামাখশারির তাফসির উদ্ধৃত করেছেন, যার একটি অংশ হলো তাঁর এই বক্তব্য:
সুতরাং সৌন্দর্যের যা প্রকাশমান, যেমন আংটি, সুরমা এবং মেহেদি, তা পরপুরুষের সামনে প্রকাশ করাতে কোনো অসুবিধা নেই।
এরপর শাওকানি এর পরপরই বলেছেন:
সারকথা হলো: নারী সৌন্দর্যের স্থানসমূহের মধ্য থেকে ততটুকুই প্রকাশ করবে যার জরুরত বা প্রয়োজন দেখা দেয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بطلان الإجماع الذي ادعاه:
فأقول وبالله وحده أستعين:
لم ينطق بكلمة " الإجماع " في هذه المسألة أحد من أهل العلم فيما بلغني وأحاط به علمي إلا هذا الشيخ وما حمله على ذلك إلا شدته وتعصبه لرأيه وإغماضه لعينيه عن كل ما يخالفه من النصوص فإن الخلاف فيها قديم لا يخلو منه كتاب من الكتب المتخصصة في بحث الخلافيات ولو كان في وقتي متسع لألفت رسالة خاصة أرد فيها ما تيسر لي من أقوالهم في هذه المسألة ولكن لا بد لي من أن أنقل هنا بعضها مما يدل على بطلان الإجماع الذي ادعاه فأقول:
الأول: قال ابن حزم في كتابه " مراتب الإجماع " (ص 29) ما نصه:
واتفقوا على أن شعر الحرة وجسمها حاشا وجهها ويديها عورة واختلفوا في الوجه واليدين حتى أظفارهما أعورة هي أم لا؟
وأقره شيخ الإسلام ابن تيمية في تعليقه عليه ولم يتعقبه كما فعل في بعض المواضع الأخرى
الثاني: قال ابن هبيرة الحنبلي في " الإفصاح " (1 / 118 - حلب) :
واختلفوا في عورة المرأة الحرة وحدها فقال أبو حنيفة: كلها عورة إلا الوجه والكفين والقدمين. وقد روي عنه أن قدميها عورة وقال مالك
[29]والشافعي: كلها عورة إلا وجهها وكفيها. وهو قول أحمد في إحدى روايتيه والرواية الأخرى: كلها عورة إلا وجهها خاصة. وهي المشهورة واختارها الخرقي
وفاتته رواية ثالثة وهي: أنها كلها عورة حتى ظفرها. كما يأتي مع بيان رد ابن عبد البر لها قريبا
الثالث: جاء في كتاب الفقه على المذاهب الأربعة " تأليف لجنة من العلماء منهم الجزيري في بحث حد عورة المرأة (1 / 167 - الطبعة الثانية) :
أما إذا كانت بحضرة رجل أجنبي أو امرأة غير مسلمة فعورتها جميع بدنها ما عدا الوجه والكفين فإنهما ليسا بعورة (1) فيحل النظر لهما عند أمن الفتنة "
ثم استثنى من ذلك مذهب الشافعية وفيه نظر ظاهر لما تقدم في " الإفصاح " وغيره مما تقدم ويأتي
الرابع: قال ابن عبد البر في " التمهيد " (6 / 364) - وقد ذكر أن المرأة كلها عورة إلا الوجه والكفين وأنه قول الأئمة وأصحابهم وقول الأوزاعي وأبي ثور -:
[30]
তিনি যে ঐকমত্য (إجماع) দাবি করেছেন তার অসারতা:
আমি বলছি এবং কেবল আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি:
আমার জানা মতে কোনো আলেমই এই মাসআলায় "ঐকমত্য" (إجماع) শব্দটি উচ্চারণ করেননি এই শায়খ ব্যতীত। আর তাকে এটি করতে প্ররোচিত করেছে তার কঠোরতা, নিজের মতের প্রতি গোঁড়ামি এবং তার মতের বিরোধী সকল দলিলের প্রতি চোখ বন্ধ করে রাখা। অথচ এই বিষয়ে মতপার্থক্য প্রাচীনকাল থেকেই বিদ্যমান, মতভেদপূর্ণ মাসআলা নিয়ে আলোচনা করে এমন কোনো কিতাবই এটি থেকে খালি নয়। আমার হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকলে আমি এই মাসআলায় তাদের বক্তব্যগুলো খণ্ডন করে একটি বিশেষ রিসালা রচনা করতাম। তবে তিনি যে ঐকমত্য (إجماع) দাবি করেছেন তার অসারতা প্রমাণের জন্য এখানে সেগুলোর কিছু উদ্ধৃতি দেওয়া প্রয়োজন মনে করছি, তাই আমি বলছি:
প্রথমত: ইবনে হাজম তার "মারাতীবুল ইজমা" কিতাবে (পৃষ্ঠা ২৯) যা বলেছেন তার ভাষ্য হলো:
তারা একমত হয়েছেন যে, মুখমণ্ডল ও দুই হাত ব্যতীত স্বাধীন নারীর চুল ও শরীর হচ্ছে আবৃতব্য অংশ, তবে মুখমণ্ডল ও দুই হাতের ব্যাপারে—এমনকি নখ পর্যন্ত—তারা মতভেদ করেছেন যে, সেগুলো কি আবৃতব্য অংশ নাকি নয়?
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তার টিকায় এটি বহাল রেখেছেন এবং এর ওপর কোনো আপত্তি করেননি, যেমনটি তিনি অন্য কিছু স্থানে করেছেন।
দ্বিতীয়ত: ইবনে হুবায়রা আল-হাম্বলি "আল-ইফসাহ" কিতাবে (১/১১৮ - হালাব) বলেছেন:
তারা স্বাধীন নারীর পর্দার সীমার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন; ইমাম আবু হানিফা বলেন: মুখমণ্ডল, দুই হাত ও দুই পা ব্যতীত তার পুরো শরীরই আবৃতব্য অংশ। তবে তার থেকে এমন বর্ণনা (رواية) পাওয়া যায় যে তার দুই পা-ও আবৃতব্য অংশ। ইমাম মালেক
[29]ও ইমাম শাফেয়ি বলেন: মুখমণ্ডল ও দুই হাত ব্যতীত তার পুরো শরীরই আবৃতব্য অংশ। ইমাম আহমদের দুটি বর্ণনার (رواية) মধ্যে এটি একটি, আর দ্বিতীয় বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: কেবল মুখমণ্ডল ব্যতীত তার পুরো শরীরই আবৃতব্য অংশ; এটিই প্রসিদ্ধ (مشهور) মত এবং খিরাকি এটিই গ্রহণ করেছেন।
তিনি তৃতীয় আরেকটি বর্ণনা (رواية) বাদ দিয়েছেন, আর তা হলো: নখসহ তার পুরো শরীরই আবৃতব্য অংশ। যেমনটি সামনে ইবনে আব্দুল বার কর্তৃক এর খণ্ডনসহ শীঘ্রই আসবে।
তৃতীয়ত: "আল-ফিকহু আলাল মাজাহিবিল আরবাআ" কিতাবে (একদল আলেমের সংকলন, যাদের মধ্যে আল-জাজিরি অন্তর্ভুক্ত; নারীর পর্দার সীমা বিষয়ক আলোচনা, ১/১৬৭ - দ্বিতীয় সংস্করণ) বলা হয়েছে:
"তবে যখন নারী কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষ বা অমুসলিম মহিলার উপস্থিতিতে থাকবে, তখন মুখমণ্ডল ও দুই হাত ব্যতীত তার পুরো শরীরই আবৃতব্য অংশ; কারণ এই অঙ্গদ্বয় আবৃতব্য অংশ নয় (১), তাই ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে এ দুটির দিকে তাকানো বৈধ।"
এরপর তিনি সেখান থেকে শাফেয়ি মাজহাবকে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা স্পষ্টতই পর্যালোচনার দাবি রাখে; কারণ ইতিপূর্বে "আল-ইফসাহ" এবং পূর্বে ও পরে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট।
চতুর্থত: ইবনে আব্দুল বার "আত-তামহীদ" কিতাবে (৬/৩৬৪) বলেছেন—যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে মুখমণ্ডল ও দুই হাত ব্যতীত নারীর পুরো শরীরই আবৃতব্য অংশ এবং এটিই ইমামগণ ও তাদের অনুসারীদের মত এবং ইমাম আওযায়ী ও আবু সওর-এর মত—:
[30]
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দুল মুফহাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
" على هذا أكثر أهل العلم وقد أجمعوا على أن المرأة تكشف وجهها في الصلاة والإحرام وقال أبو بكر بن عبد الرحمن بن الحارث: كل شيء من المرأة حتى ظفرها "
ثم قال ابن عبد البر:
هذا خارج عن أقاويل أهل العلم لإجماع العلماء على أن للمرأة أن تصلي المكتوبة ويداها ووجهها مكشوف ذلك كله منها تباشر الأرض به وأجمعوا على أنها لا تصلى متنقبة ولا عليها أن تلبس قفازين في الصلاة (1) وفي هذا أوضح الدلائل على أن ذلك عورة وجائز أن ينظر إلى ذلك منها كل من نظر إليها بغير ريبة ولا مكروه وأما النظر للشهوة فحرام تأملها من فوق ثيابها لشهوة فكيف بالنظر إلى وجهها مسفرة وقد روي نحو قول أبي بكر هذا عن أحمد بن حنبل
(2)--------------------------------------------
অধিকাংশ আলিম (أهل العلم) এই মতের ওপর রয়েছেন এবং তাঁরা এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, নারী নামাজ ও ইহরামের সময় তার মুখমণ্ডল খোলা রাখবে। আবু বকর ইবন আবদুর রহমান ইবনুল হারিস বলেছেন: "নারীর নখ পর্যন্ত প্রতিটি অঙ্গই [সতর]।"
অতঃপর ইবন আব্দুল বার বলেন:
এই বক্তব্যটি আলিমদের (أهل العلم) মতামতের পরিপন্থী; কারণ আলেমদের (العلماء) মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) রয়েছে যে, নারী ফরজ নামাজ পড়ার সময় তার উভয় হাত ও মুখমণ্ডল খোলা রাখতে পারে এবং সে এগুলোর মাধ্যমেই সরাসরি জমিন স্পর্শ করবে। তারা এ বিষয়েও ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, নারী নেকাব পরিহিত অবস্থায় নামাজ পড়বে না এবং নামাজের মধ্যে হাতমোজা পরিধান করাও তার ওপর আবশ্যক নয়। (১) এর মধ্যে এই বিষয়ে স্পষ্টতম দলিল (دليل) রয়েছে যে, তা সতর (عورة) এবং কোনো প্রকার সন্দেহ বা অপছন্দনীয় উদ্দেশ্য ছাড়া যে কেউ তার দিকে তাকালে তা বৈধ (جائز)। তবে লালসার সাথে দৃষ্টিপাত করা নিষিদ্ধ (حرام)। যদি লালসার বশবর্তী হয়ে কাপড়ের ওপর দিয়ে তার অবয়ব লক্ষ্য করাও [নিষিদ্ধ] হয়, তবে উন্মুক্ত চেহারার দিকে তাকানোর হুকুম কী হতে পারে? আবু বকরের এই মতের অনুরূপ একটি বর্ণনা আহমদ ইবন হাম্বল থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
(২)--------------------------------------------