(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: -)
نهاية الأرب في معرفة أنساب العرب القسم: الأنساب
الكتاب: نهاية الأرب في معرفة أنساب العرب
المؤلف: أبو العباس أحمد بن علي القلقشندي (ت 821 هـ)
المحقق: إبراهيم الإبياري [ت 1414 هـ]
الناشر: دار الكتاب اللبنانين، بيروت
الطبعة: الثانية، 1400 هـ - 1980 م
عدد الصفحات: 464
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আরবদের বংশপরিচয় জানার আকাঙ্ক্ষার সমাপ্তি বিভাগ: বংশবিদ্যা
গ্রন্থ: আরবদের বংশপরিচয় জানার আকাঙ্ক্ষার সমাপ্তি
লেখক: আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আলী আল-কালকাশান্দি (মৃত্যু ৮২১ হি.)
গবেষক: ইব্রাহিম আল-ইবিয়ারি [মৃত্যু ১৪১৪ হি.]
প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-লুবনানিয়্যিন, বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০০ হি. - ১৯৮০ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬৪
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيممقدمةالحمد لله الذي جعل للعرب جمالاً تتهافت عليه سائر الأمم، وخصم من كثرة القبائل بما طلع لهم به في كل افق نجم، ورفع لهم بكل قطر علم وأنالهم من الشرف الباذخ ما لا تمتد إلى مثله يد ولا تتخطى إلى نظيره قدم، أحمده على أن جدد معالم العلم الدارسة باظهار مختفيها، وأراج أسواقها الكاسدة بزيادة الرغبة ولله تعالى الحمد فيها، وأعز جانبها بأجل عزيز ما شام برق فضيلته شائم الا انتجع غيثها ليستسقيها، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له شهادة تقدع المخادع، وتقمع المداهن، وتورد قائلها اصفى الموارد، فيدعى المحسن في اخلاصها أبا المحاسن، وأشهد أن سيدنا محمداً عبده وسوله أفضل شيء طابت أرومته، وأفصحت عن كرم المحتد جرثومته، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه الذين شرفت بالاعتزاء الى عنصره الشريف انسابهم، وكرمت بالقرب إليه في الانتساب احسابهم، صلاة تكشف بسح وابلها اللأوا، وتجمع بشريف نسبتها بين شرف النسب وكرم التقوى، وسلم تسليماً كثيراً.
وبعد: فلما كان العلم بقبائل العرب وأنسابهم على جلالة قدره، وعلو مكانه ورفعة ذكره، قد درس بترك مدارسه معالمه، وانقرض بانقراض علمائه، من العصر الأول ملزومه ولازمه، مع مسيس الحاجة إليه في كثر من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আরবদের জন্য এমন এক সৌন্দর্য দান করেছেন যার প্রতি অন্য সকল জাতি আকৃষ্ট হয়। তিনি তাদের গোত্রসমূহের প্রাচুর্যের মাধ্যমে তাদের এমন এক বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন, যার ফলে প্রতিটি দিগন্তে তাদের একটি করে নক্ষত্র উদিত হয়েছে এবং প্রতিটি জনপদে তাদের একটি করে নিশান উত্তোলিত হয়েছে। তিনি তাদেরকে এমন সুউচ্চ সম্মান দান করেছেন যার সমতুল্য কোনো কিছুর দিকে কোনো হাত প্রসারিত হতে পারে না এবং যার সদৃশ কোনো কিছুর দিকে কোনো পা অগ্রসর হতে পারে না। আমি তাঁর প্রশংসা করি এই জন্য যে, তিনি জ্ঞানের বিলুপ্ত চিহ্নসমূহকে তার গুপ্ত বিষয়গুলো প্রকাশের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং আল্লাহর প্রশংসার বরকতে জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির মাধ্যমে তার স্থবির বাজারগুলোকে সচল করেছেন। তিনি জ্ঞানের মর্যাদাকে এক মহান সম্মানের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন; কোনো গুণগ্রাহী ব্যক্তিই তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বিদ্যুৎচ্ছটা দেখেননি অথচ সেই মেঘের বারিপাত দ্বারা সিঞ্চিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেননি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এমন এক সাক্ষ্য যা প্রতারককে দমন করে, চাটুকারকে নিবৃত্ত করে এবং এর ঘোষণাকারীকে স্বচ্ছতম প্রস্রবণে পৌঁছে দেয়; ফলে এর একনিষ্ঠ অনুসারীকে 'আবু আল-মাহাসিন' (কল্যাণের আধার) বলে ডাকা হয়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল; যাঁর মূল উৎস অত্যন্ত পবিত্র এবং যাঁর বংশমূল তাঁর আভিজাত্যের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, যাঁদের বংশপরিচয় তাঁর মহিমান্বিত সত্তার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে ধন্য হয়েছে এবং যাঁদের আভিজাত্য তাঁর সাথে নৈকট্যের কারণে মর্যাদাপূর্ণ হয়েছে। এমন এক রহমত যা তার মুষলধারে বৃষ্টির মাধ্যমে দুঃখ-কষ্ট দূর করে এবং তার সম্মানিত সম্পর্কের মাধ্যমে বংশীয় মর্যাদা ও তাকওয়ার আভিজাত্যের সমন্বয় ঘটায়। এবং তাঁর ওপর অজস্র শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর: আরব গোত্র এবং তাদের বংশপরম্পরা সম্পর্কিত জ্ঞান—তার মাহাত্ম্য, উচ্চ মর্যাদা ও সুউচ্চ পরিচিতি সত্ত্বেও—এর পাঠ ও চর্চা ত্যাগের কারণে তার চিহ্নসমূহ বিলীন হয়ে গেছে। প্রথম যুগ থেকেই এর আলেমদের তিরোধানের সাথে সাথে এই জ্ঞানের মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি বিলুপ্ত হয়েছে, অথচ বহু ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ২)
المهمات، ودعء الضرورة إلى معرفته في الجليل من الوقائع والملمات، وكان المعز الاشرف العالي المولوي الأمير الكبيري النصيري الزعيمي النظامي المدبري المشيري الأصيلي الكفيلي العزيزي أبي المحاسن يوسف العثماني الأموي القرشي عزيز المملكة المصرية وسفيرها، ومدير الممالك الاسلامية ومشيرها، بلغه الله تعالى من منتهى أربه غاية الأمل، ورفع قدره فوق السماكين وقد فعل، قد ألقى إليه من الممالك الاسلامية مقاليدها، ودانت له الاقطار المتقاعسة قريبها وبعيدها، وانقادت له شم الانوف الأبية فأتوه طائعين، وتليت عليهم زبر سطوته القاهرة فظلت أعناقهم لها خاضعين، وغلت بكفه الاكف العادية، واستؤصلت بسيفه القاضب شأفة أهل الفساد فهل ترى لهم من باقية، وحمى الديار فلا يغلق بابه إلا ضعيف اليقين، وأمنت بانتشار صيته المسالك فقيل سيروا فيها ليالي وأياماً آمنين.
وعودر الليث مرتاعاً لسطوته
… وحاذر الذئب قرب الشاة من رهب
وصرفت بتصريفه أمور الدولة فجرت على السداد، ونفذت بتنفيذه أمورها فأربت مقاصدها بحمد الله على المراد.
وإن أمور الملك أضحى مدارها
… عليه كما دارت على قطبها الرحى
وأتى من تدبيره الملك بما اطلع نجومه الأوافل، وفرغ من فروض المملكة فأتى بالنوافل، فأخذ في عمارة ما درس من المعزية القاهرة وباد، وتجديد ما وهي من جوانبها بمر الزمان أو كاد. حتى فاقت ببهجته الاسكندرية التي بناها الاسكندر، وقالت: ليت هذا الجمال وافاني حين قلدني عقد الترصيف جوهر، وأبدل قصر الفاطميين من اللبن الخاشع جلامد الصخور، وأعاضه من رث الصنعة ما يروق رونقه العيون، ويشفى ببهجته الصدور، وأعقبه من التشيع اكتساب السنة، وكسبه رفض الرفض فكان
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি এবং মহান ঘটনাবলি ও দুর্যোগের সময় এটি জানার আবশ্যকতা। আল-মুইয আল-আশরাফ আল-আলী আল-মাওলাবি আল-আমির আল-কাবির আন-নাসিরি আজ-জাইমি আন-নিজামি আল-মোদাব্বির আল-মুশির আল-আসিলি আল-কাফিলি আল-আজিজি আবুল মাহাসিন ইউসুফ আল-উসমানি আল-উমাবি আল-কুরাইশি ছিলেন মিশর রাজ্যের পরাক্রমশালী এবং এর দূত, এবং ইসলামি সাম্রাজ্যসমূহের পরিচালক ও পরামর্শক। আল্লাহ তাআলা তাকে তার আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত সীমায় এবং তার আশার শেষ লক্ষ্যে পৌঁছে দিন, এবং তার মর্যাদা নক্ষত্রমন্ডলীর উপরে উন্নীত করুন; আর আল্লাহ তা অবশ্যই করেছেন। ইসলামি সাম্রাজ্যসমূহের চাবিকাঠি তার হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকল অবাধ্য অঞ্চল তার বশ্যতা স্বীকার করেছে। অহংকারী ও উদ্ধত ব্যক্তিরা তার অনুগত হয়েছে এবং তারা স্বেচ্ছায় তার কাছে এসেছে। তাদের উপর তার বিজয়ী প্রতাপের বীরত্বগাথা পাঠ করা হয়েছে, ফলে তাদের মস্তকসমূহ তার সামনে অবনত হয়েছে। তার হাতের মাধ্যমে আক্রমণকারী হাতসমূহকে শৃঙ্খলিত করা হয়েছে। তার তীক্ষ্ণ তরবারির মাধ্যমে ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের মূলোৎপাটন করা হয়েছে, সুতরাং তুমি কি তাদের আর কোনো অস্তিত্ব দেখতে পাও? তিনি জনপদকে সুরক্ষা প্রদান করেছেন, ফলে যার দৃঢ় বিশ্বাসের অভাব রয়েছে সে ছাড়া আর কেউ নিজের দরজা বন্ধ করে না। তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ার কারণে পথসমূহ নিরাপদ হয়ে গেছে, ফলে বলা হয়েছে: "তোমরা সেখানে রাত-দিন নিরাপদে ভ্রমণ করো।"
তার প্রতাপে সিংহ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে
… আর নেকড়ে বাঘ ভয়ের কারণে ভেড়ার নিকটে যেতে সতর্কতা অবলম্বন করে।
তার ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রের কার্যাবলি পরিচালিত হয়েছে এবং তা সঠিক পথে চলেছে। তার কার্যকারিতার মাধ্যমে এর বিষয়াদি বাস্তবায়িত হয়েছে, ফলে আল্লাহর প্রশংসায় এর উদ্দেশ্যসমূহ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের চেয়েও বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজ্যের কর্মকাণ্ডের আবর্তন এখন তার ওপরই নির্ভরশীল
… যেভাবে যাঁতা তার অক্ষদণ্ডের ওপর ঘোরে।
তিনি রাজ্যের ব্যবস্থাপনায় এমন পারদর্শিতা দেখিয়েছেন যার মাধ্যমে তিনি অস্তমিত নক্ষত্রগুলোকে পুনরায় উদিত করেছেন। তিনি সাম্রাজ্যের আবশ্যিক কর্তব্যসমূহ সমাপ্ত করে অতিরিক্ত কার্যাবলিও সম্পাদন করেছেন। তিনি কায়রোর আল-মুইযিয়া অংশের সেই সব স্থাপনা পুনর্নির্মাণে হাত দিয়েছেন যা বিলীন ও ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, এবং কালের পরিক্রমায় এর যেসব অংশ জীর্ণ হয়ে পড়েছিল বা পড়ার উপক্রম হয়েছিল তা সংস্কার করেছেন। এমনকি এর সৌন্দর্য আলেকজান্ডার নির্মিত আলেকজান্দ্রিয়া শহরকেও ছাড়িয়ে গেছে। আলেকজান্দ্রিয়া যেন বলছে: "হায়! জাওহার যখন আমাকে সাজসজ্জার অলঙ্কার পরিয়েছিলেন, তখন যদি এই সৌন্দর্য আমি পেতাম!" তিনি ফাতিমীয়দের প্রাসাদের নড়বড়ে কাঁচা ইটের পরিবর্তে শক্ত পাথর স্থাপন করেছেন। আর জরাজীর্ণ কারুশৈলীর বদলে এমন সৌন্দর্য দান করেছেন যা চক্ষু শীতল করে এবং অন্তরকে প্রশান্ত করে। এরপর তিনি সেখানে শিয়াবাদের পরিবর্তে সুন্নাহর প্রবর্তন করেন এবং রাফেজি মতবাদ বর্জনের মাধ্যমে একে পবিত্র করেন। ফলে এটি হলো...
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
له بذلك المنة:
فحي هلا بالملزمات وبالعلى
… وحي هلا بالفضل والسؤدد المحض
هذا وقد اقتفى سنن الملوك الماضية، في الاعتناء بمآثر المعروف الباقية والاحتفال من صالح الاعمال بما لا ينقطع ثوابه من علم ينتفع به، أو صدقة جارية، فابتنى المدرسة الغراء التي عز في الوجود نظيرها، وراق منظرها وأبهج نضيرها، فصافحت كف الثريا بكف منارها، وسامت النسر الطائر في الارتفاع برفيع مطارها، وحطت بالتخوم أساسها فرست، وتوالت مياه السقي على قلوب حجارتها المتراكبة فقسمت، واشتملت من ابداع الصنعة على ما يزرى بشداد بن عاد، وفازت من أحاسن المحاسن بما لو رآه ارم لقال ليتني لم أشرع في بناء ذات العماد.
أحكام صنعتها شداد يغبطه
… ومن تشيدها الاهرام في خجل
وحازت من نفيس الرخام ما يهزأ بالجواهر، فأتت فيه من بديع الرونق بما لو عاينه السابق لقال كم ترك الأول للآخر:
فلا اللئالئ من حسنٍ تقاربه
… ولا اليواقيت في وصفٍ تدانيه
وأودعت من نفائس الكتب ما يتنافس فيه المتنافسون، وانفردت من نوادر المصنفات بما لم يشاركها فيه غيرها من المدارس فيقال فيه شركاء متشاكسون، مع مساعمته أعز الله انصاره في الانساي بكريم نسبه، واشتماله من محبة العلم وأهله، على ما يقضي بمتين دينه ووثاقة سببه، أحببت أن أخدم خزانتها العالية عمرها الله تعالى ببقاء منشيها وأدام عزها بدوام أيام بانيها، بتأليف كناب معرفة العرب والعلم بأنسابها، يجدد الدروس رسومها، ويطلع بافق الزمان بعد الأفول نجومها، ليكون باختصاصه بوضعه كالغرة في وجه كتبه، وتدخر بخزانته السعيدة لتصير كلمة باقية في عقبه، فشرعت في ذلك بعد أن استخرت الله تعالى ولا خيبة لمستخير، واستشرت فيه أهل المشورة ولا ندم للمستشير، واصلاً كل قبيل من القبائل بقبيلة، وملحقاً كل فرع من الفروع الحادثة بأصوله، مرتباً له على حروف المعجم ليكون أسها للاستخراج قبائله وأقرب إليه في الاقتطاف من تناوله.
এর জন্য তাঁরই প্রতি কৃতজ্ঞতা:
সুতরাং অপরিহার্য বিষয় ও উচ্চ মর্যাদার দিকে এগিয়ে আসো
… এবং অনাবিল শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে আসো।
এটি এই যে, তিনি অবশিষ্ট সৎকর্মসমূহের নিদর্শনের প্রতি যত্নবান হওয়ার ক্ষেত্রে এবং নেক আমলের সেই আয়োজন করার ক্ষেত্রে অতীত রাজন্যবর্গের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, যার সওয়াব কখনো শেষ হয় না; যেমন: উপকারী জ্ঞান অথবা সদকায়ে জারিয়া। অতঃপর তিনি এমন এক উজ্জ্বল মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন যার সমতুল্য বর্তমানে বিরল, যার দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম এবং যার লাবণ্য আনন্দদায়ক। এর মিনারের হাত সুরাইয়া নক্ষত্রের হাতের সাথে করমর্দন করেছে এবং এর সুউচ্চ চূড়া উচ্চতার দিক থেকে উড়ন্ত ঈগলকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর ভিত্তি ভূমির গভীর স্তরে প্রোথিত হয়ে স্থির হয়েছে। এর স্তরীভূত পাথরগুলোর হৃদয়ে সেচনের পানি ধারাবাহিকভাবে প্রবাহিত হয়েছে ফলে সেগুলো সুবিন্যস্ত হয়েছে। এটি নির্মাণশৈলীর এমন এক সৃজনশীলতা ধারণ করেছে যা আদ বংশের শাদ্দাদকেও লজ্জিত করে। এটি এমন সৌন্দর্যমন্ডিত হয়েছে যে, যদি ইরাম নগরী তা দেখত তবে বলত—আফসোস! আমি যদি সুউচ্চ স্তম্ভবিশিষ্ট নগরী নির্মাণ শুরু না করতাম।
এর নির্মাণশৈলীর মজবুতি দেখে শাদ্দাদ ঈর্ষা করেন
… এবং এর সুউচ্চ অট্টালিকার সামনে পিরামিডগুলোও লজ্জাবনত।
এটি এমন মূল্যবান মার্বেল পাথর ধারণ করেছে যা মণি-মুক্তাকে উপহাস করে। এর মাঝে এমন চমৎকার লাবণ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যা দেখলে পূর্ববর্তীরা বলতেন: "পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন!"
সৌন্দর্যের দিক থেকে মুক্তাসমূহ এর সমকক্ষ নয়
… এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে ইয়াকুত পাথরও এর ধারেকাছে নেই।
এতে এমন সব অমূল্য কিতাব রাখা হয়েছে যার জন্য প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করে। এটি এমন সব দুর্লভ পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে একক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে যাতে অন্যান্য মাদ্রাসাগুলো অংশীদার হতে পারেনি, যেখানে বলা যায় না যে তারা 'বিবদমান অংশীদার'। আল্লাহ তাঁর সাহায্যকারীদের সম্মানিত করুন—তাঁর মহান বংশমর্যাদার সাথে সম্পৃক্ততার পাশাপাশি তিনি ইলম ও আহলে ইলমের প্রতি এমন ভালোবাসা পোষণ করেন যা তাঁর সুদৃঢ় দ্বীনদারী ও শক্তিশালী সম্পর্কের প্রমাণ দেয়। আমি চেয়েলাম এর সুউচ্চ গ্রন্থাগারের খেদমত করতে—আল্লাহ তাআলা এর প্রতিষ্ঠাতার হায়াত দীর্ঘ করে একে আবাদ রাখুন এবং এর নির্মাতার রাজত্ব দীর্ঘস্থায়ী করার মাধ্যমে এর সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখুন—'আরবদের পরিচিতি ও তাদের বংশবিদ্যার জ্ঞান' নামক কিতাবটি রচনার মাধ্যমে; যা পাঠদানের লুপ্ত পদ্ধতিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করবে এবং কালের দিগন্তে অস্তমিত হওয়ার পর নক্ষত্ররাজিকে পুনরায় উদিত করবে, যাতে এটি এর বিশেষ বিন্যাসের কারণে তাঁর সংগৃহীত কিতাবসমূহের মাঝে ললাট-তিলক স্বরূপ হয় এবং তাঁর সৌভাগ্যময় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত থেকে তাঁর পরবর্তী বংশধরদের মাঝে একটি চিরস্থায়ী কীর্তি হিসেবে গণ্য হয়। অতঃপর আমি এই কাজ শুরু করলাম মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করার পর—আর ইস্তিখারাকারীরা কখনো ব্যর্থ হয় না। এবং আমি এ বিষয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করেছি—আর পরামর্শকারীরা কখনো লজ্জিত হয় না। আমি প্রতিটি গোত্রকে সংশ্লিষ্ট গোত্রের সাথে সংযুক্ত করেছি এবং প্রতিটি আধুনিক শাখাকে তাদের মূল শিকড়ের সাথে মিলিয়ে দিয়েছি। কিতাবটি আমি হিজরি বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছি যাতে গোত্রগুলো খুঁজে বের করা সহজ হয় এবং সেখান থেকে তথ্য আহরণ করা নিকটতর ও সহজতর হয়।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
ثم إن هذا الكتاب وإن كان قد جمع فأوعى، وطمع في الاستكثار فلم يكن بالقليل قنواعاً، فأنه لم يأتي على قبائل العرب بأسرها ولم يتكفل على كثرة الجمع بحصرها، فان ذلك يتعذر الاتيان عليه، ويعز على المتطلب الوصول إليه، غير أنه قد حصل من جميع القبائل ما يتعسر إليه من غير طريقة الوصول، وحافظ على تمهيد أصولها أتم المحافظة والمطلوب حفظ الأصول، وسميته " نهاية الأرب في معرفة أسناب العرب " والله يقرنه بالتوفيق، ويرشد فيه إلى أوضح طريق، وقد رتبته على مقدمة ومقصد وخاتمة.
المقدمة في ذكر أمور يحتاج إليها في علم الانساب ومعرفة القبائل وفيها خمسة فصول.
الفصل الأول: في علم الأنساب وفائدته ومسيس الحاجة إليه.
الفصل الثاني: في بيان من يقع عليه اسم العرب وذكر أنواعهم وما ينخرط في سلك ذلك.
الفصل الثالث: في معرفة طبقات الانساب وما يلتحق بذلك.
الفصل الرابع: في ذكر مساكن العرب القديمة التي منها درجوا إلى سائر الاقطار.
الفصل الخامس: في ذكر أمور يحتاج إليها الناظر في علم الانساب.
المقصد: في معرفة تفاصيل أنساب قبائل العرب وفيه فصلان.
الفصل الأول: في ذكر عمود النسب النبوي وما يتفرع منه من الانساب.
الفصل الثاني: في ذكر تفاصيل القبائل مرتبة مقفاة على حروف المعجم وما يتهيأ ذكره في مساكنهم الآن.
এরপর, এই কিতাবটি যদিও অনেক তথ্য সংগ্রহ করে আধারে ভরেছে এবং আধিক্যের আকাঙ্ক্ষা করেছে ফলে অল্পতে তুষ্ট হয়নি, তবুও এটি আরব গোত্রসমূহকে তাদের সামগ্রিকতায় অন্তর্ভুক্ত করেনি এবং সংগৃহীত বিষয়ের প্রাচুর্য সত্ত্বেও তা সীমাবদ্ধ করার দায়িত্ব নেয়নি; কারণ তা পুরোপুরি আয়ত্ত করা অসম্ভব এবং অনুসন্ধানকারীর জন্য তা অর্জন করা দুষ্কর। তবে এটি সকল গোত্র থেকে এমন সব তথ্য সংগ্রহ করেছে যা অন্য কোনো উপায়ে পাওয়া কঠিন ছিল, আর তাদের মূল বংশধারাগুলো সুবিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে পূর্ণ সতর্কতা বজায় রেখেছে; কেননা মূল ভিত্তিগুলো সংরক্ষণ করাই প্রধান উদ্দেশ্য। আমি গ্রন্থটির নাম দিয়েছি "আরবদের বংশপরিচয় জ্ঞানে চূড়ান্ত উদ্দেশ্য"। আল্লাহ একে সফলতার সাথে যুক্ত করুন এবং এতে সবচেয়ে স্পষ্ট পথের দিশা দিন। আমি একে একটি ভূমিকা, একটি মূল বিষয়বস্তু এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি।
ভূমিকা: এতে বংশবিদ্যা ও গোত্র পরিচিতিতে প্রয়োজনীয় বিষয়াদি আলোচিত হয়েছে এবং এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: বংশবিদ্যা, এর উপকারিতা এবং এর তীব্র প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: 'আরব' নাম কাদের ওপর প্রযোজ্য হয় তার বর্ণনা, তাদের প্রকারভেদ এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বংশের স্তরসমূহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি জানা প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আরবদের প্রাচীন আবাসস্থলসমূহ এবং সেখান থেকে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে তাদের হিজরত করা প্রসঙ্গে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বংশবিদ্যায় অনুসন্ধানকারীর জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি প্রসঙ্গে।
মূল বিষয়বস্তু: আরব গোত্রসমূহের বংশতালিকার বিস্তারিত বিবরণ এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: নববী বংশধারা এবং তা থেকে নির্গত বংশধারাগুলোর বর্ণনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো গোত্রসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং বর্তমানে তাদের আবাসস্থল সম্পর্কে যা উল্লেখ করা সম্ভব।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
الخاتمة: في ذكر أمور تتعلق باحوال العرب وفيه خمسة فصول: الفصل الأول: في ذكر معرفة ديانات العرب قبل الاسلام.
الفصل الثاني: في ذكر أمور من المفاخرات الواقعة بين القبائل وما ينجر إلى ذلك.
الفصل الثالث: في ذكر الحروب الواقعة بين العرب في الجاهلية ومبادئ الاسلام.
الفصل الرابع: في ذكر نيران العرب في الجاهلية.
الفصل الخامس: في ذكر أسواق العر بالمعروفة فيما قبل الاسلام.
উপসংহার: আরবদের অবস্থা সম্পর্কিত বিষয়াদির আলোচনা এবং এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলাম পূর্ব আরবদের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গোত্রগুলোর মধ্যে সংঘটিত শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনমূলক বিষয়াবলি এবং তৎসংশ্লিষ্ট ঘটনাবলি সম্পর্কে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জাহিলিয়াত যুগে এবং ইসলামের সূচনালগ্নে আরবদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধসমূহ সম্পর্কে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জাহিলিয়াত যুগে আরবদের অগ্নিসমূহ সম্পর্কে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইসলাম পূর্ব আরবের সুপরিচিত বাজারসমূহ সম্পর্কে।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
الباب الأولمقدمة في ذكر أمور يحتاج إليها في علم الأنساب ومعرفة القبائل وهي خمسة فصول
الفصل الأول
في فضل علم الانسابوفائدته ومسيس الحاجة إليه لا خفاء أن المعرفة بعلم الأنساب من الأمور المطلوبة، والمعارف المندوبة، لما يترتب عليها من الأحكام الشرعية، والمعالم الدينية، فقد وردت الشريعة المطهرة باعتبارها في مواضع.
منها: العلم بنسب النبي صلى الله عليه وسلم وأنه النبي القرشي الهاشمي الذي كان بمكة وهاجر منها إلىالمدينة، فانه لا بد لصحة الايمان من معرفة ذلك ولا يعذر مسلم في الجهل به وناهيك بذلك.
ومنها: التعارف بين الناس حتى لا يعتزي أحد إلى غير آبائه، ولا ينتسب إلى سوى أجداده، وإلى ذلك الاشارة بقوله تعالى: " يا أيها الناس إنا خلقناكم من ذكرٍ وانثى وجعلناكم شعوباً وقبائل لتعارفوا ": وعلى ذلك تترتب أحكام الورثة فيحجب بعضهم بعضاً، وأحكام الأولياء في النكاح فيقدم بعضهم على بعض، واحكام الوقف إذا خص الواقف بعض الأقارب أوبعض الطبقات دون بعض، وأحكام العاقلة في الدية حتى تضرب الدية على بعض العصبة
প্রথম অধ্যায়বংশবিদ্যা ও গোত্র পরিচিতির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়াবলির আলোচনা এবং এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদ
প্রথম পরিচ্ছেদ
বংশবিদ্যার শ্রেষ্ঠত্বএবং এর উপকারিতা ও এর প্রতি প্রগাঢ় প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে। এটি অস্পষ্ট নয় যে, বংশবিদ্যা সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করা কাম্য বিষয় এবং পছন্দনীয় জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এর ওপর বিভিন্ন শরয়ি বিধান ও দ্বীনি নিদর্শনাবলী নির্ভরশীল। পবিত্র শরিয়তে বিভিন্ন স্থানে একে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে।
তন্মধ্যে রয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বংশ পরিচয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। তিনি যে কুরাইশি ও হাশেমি বংশীয় নবী ছিলেন, মক্কায় অবস্থান করেছিলেন এবং সেখান থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন। কেননা ইমান সঠিক হওয়ার জন্য এ বিষয়গুলো জানা অত্যাবশ্যক এবং এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকার ক্ষেত্রে কোনো মুসলিম ওজরযোগ্য নয়; আর এটিই আপনার জন্য যথেষ্ট।
আরেকটি হলো: মানুষের পারস্পরিক পরিচয় লাভ করা, যাতে কেউ নিজের পিতা ব্যতীত অন্য কারো দিকে নিজেকে সম্বন্ধযুক্ত না করে এবং স্বীয় পূর্বপুরুষ ব্যতীত অন্য কারো প্রতি নিজের বংশীয় পরিচয় নিবদ্ধ না করে। আর মহান আল্লাহর বাণীতে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে: "হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো।" এর ওপরই উত্তরাধিকারীদের বিধিবিধান আবর্তিত হয়—যার ফলে তাদের কেউ কাউকে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত করে, বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের বিধানাবলি—যাতে একজনকে অন্যজনের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, ওয়াকফের বিধান—যখন ওয়াকফকারী নিকটাত্মীয় বা বিশেষ কোনো স্তরের লোকদের জন্য অন্য কারো পরিবর্তে ওয়াকফ নির্দিষ্ট করেন, এবং রক্তপণের ক্ষেত্রে রক্তপণ বহনকারী আত্মীয়দের বিধানাবলি—যাতে রক্তপণ নির্দিষ্ট কিছু নিকটাত্মীয়ের ওপর ধার্য করা হয়।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
دون بعض وما يجري مجرى ذلك، فلولا معرفة الانساب لفات ادراك هذه الامور وتعذر الوصول اليها.
ومنها اعتبار النسب في الامامة التي هي الزعامة العظمى، وقد حكى الماوردي في الاحكام السلطانية الاجماع على كون الامام قرشيا ثم قال: ولا اعتبار بضرار حيث شد فجوزها في جميع الناس فقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم قال الأئمة من قريش ولذلك لما اجتمع الانصار يوم وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم في سقيفة بني ساعدة وأرادوا مبايعة سعد بن عبادة الانصاري احتج عليهم الصديق رضي الله تعالى عنه بهذا الحديث فرجعوا إليه وبايعوه، وقد روى أنه صلى الله عليه وسلم قال: قدموا قريشا ولا تتقدموها. قال أصحابنا الشافعية: فان لم يوجد قرشي اعتبر كون الإمام كنانياً من ولد كنانيا من ولد كنانة بن خزيمة، فان تعذر اعتبر كونه من بني اسماعيل عليه السلام فإن تعذر اعتبر كونه من اسحاق، فان تعذر اعتبر كونه من جرهم لشرفهم بصهارة اسماعيل، بل قد نصوا أن الهاشمي أولى بالإمامة من غيره من قريش. فلولا المعرفة بعلم النسب لفاتت معرفة هذه القبائل وتعذر حكم الإمامة العظمى التي بها عموم صلاح الأمة، وحماية البيضة، وكف الفتنة، وغير ذلك من المصالح.
ومنها اعتبار النسب في كفاءة الزوج للزوجة في النكاح عند الشافعي رضي الله عنه حتى لا يكافئ الهاشمية والمطلبية غيرها من قريش، ولا يكافئ القرشية غيرها من العرب ممن ليس بقرشي، وفي الكنانية وجهان أصحهما أنه لا يكافئها غيرها ممن ليس بكناني ولا قرشي، وفي اعتبار النسب في العجم أيضاً وجهان أصحهما الاعتبار، فاذا لم يعرف النسب تعذرت معرفة هذه الاحكام،
অন্যদের বাদ দিয়ে এবং এ জাতীয় যা কিছু রয়েছে। সুতরাং বংশপরিচয় সম্পর্কিত জ্ঞান না থাকলে এই বিষয়গুলো অনুধাবন করা সম্ভব হতো না এবং এগুলোতে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ত।
এর মধ্যে একটি হলো ইমামত বা মহান নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বংশমর্যাদাকে বিবেচনায় নেওয়া। আল-মাওয়ার্দি ‘আল-আহকাম আস-সুলতানিয়্যাহ’ গ্রন্থে ইমাম কুরায়শী হওয়া আবশ্যক হওয়ার বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন: দ্বিরারের মতের কোনো গুরুত্ব নেই, যেহেতু সে বিচ্ছিন্ন পথ অবলম্বন করেছে এবং সকল মানুষের জন্য একে বৈধ বলেছে। অথচ এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘ইমামগণ কুরায়শ থেকে হবেন’। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তিকালের দিন যখন আনসারগণ সাকিফা বনি সায়েদাতে সমবেত হয়েছিলেন এবং সা'দ ইবনে উবাদাহ আনসারিকে বাইয়াত প্রদানের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, তখন সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তাঁদের সামনে এই হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেন। ফলে তাঁরা তাঁর দিকে ফিরে আসেন এবং তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন। বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘তোমরা কুরায়শদের অগ্রগামী করো এবং তাদের অগ্রবর্তী হয়ো না।’ আমাদের শাফিঈ মাযহাবের ফকীহগণ বলেছেন: যদি কোনো কুরায়শীকে পাওয়া না যায়, তবে কেনানাহ ইবনে খুজাইমাহর বংশধর কেনানী ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বংশধরদের মধ্য থেকে বিবেচনা করা হবে। যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে ইসহাক আলাইহিস সালামের বংশধরদের মধ্য থেকে বিবেচনা করা হবে। যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে জুরহুম গোত্র থেকে বিবেচনা করা হবে, কারণ ইসমাঈল আলাইহিস সালামের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে তাদের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এমনকি তাঁরা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, হাশেমী বংশোদ্ভূত ব্যক্তি কুরায়শের অন্যদের তুলনায় ইমামতের জন্য বেশি হকদার। সুতরাং বংশবিদ্যা সম্পর্কিত জ্ঞান না থাকলে এই গোত্রগুলো সম্পর্কে জানা সম্ভব হতো না এবং মহান ইমামতের বিধান বাস্তবায়নও দুষ্কর হয়ে পড়ত, যার মাধ্যমে উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ, রাষ্ট্রের সুরক্ষা, ফিতনা দমন এবং অন্যান্য বিবিধ স্বার্থ সংরক্ষিত হয়।
এর মধ্যে আরও একটি বিষয় হলো ইমাম শাফিঈ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট নিকাহ বা বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর জন্য স্বামীর বংশগত সমতা রক্ষা করা। এমনকি হাশেমী ও মুত্তালিবী বংশের নারীদের সমকক্ষ কুরায়শের অন্য কেউ হতে পারে না। অনুরূপভাবে কুরায়শী নারীর সমকক্ষ কুরায়শ বহির্ভূত অন্য কোনো আরব হতে পারে না। কেনানী নারীর ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে বিশুদ্ধতম হলো—কেনানী বা কুরায়শী নয় এমন কেউ তার সমকক্ষ হবে না। অনারবদের ক্ষেত্রে বংশমর্যাদা বিবেচনার বিষয়েও দুটি মত রয়েছে, যার মধ্যে বিশুদ্ধতম হলো এটি বিবেচনা করা হবে। সুতরাং যদি বংশপরিচয় জানা না থাকে, তবে এই বিধানগুলো জানাও অসম্ভব হয়ে পড়বে।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
ومنها مراعاة النسب الشريف في المرأة المنكوحة فقد اثبت في الصحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: تنكح المرأة لأربع لدينها وحسبها ومالها وجمالها، فراعى صلى الله عليه وسلم في المرأة الحسب وهو الشرف في الآباء.
ومنها: التفريق بين جريان الرق على العجم دون العرب على مذهب يرى ذلك من العلماء، وهو أحد القولين للشافعي رضي الله عنه فاذا لم يعرف النسب تعذر عليه ذلك إلى غير ذلك من الأحكام الجارية هذا المجرى وقد ذهب كثر من الأئمة المحدثين والفقهاء كالبخاري وابن اسحاق والطبري إلى جواز الرفع في الأنساب احتجاجاً بعمل السلف فقد كان أبو بكر الصديق رضي الله عنه في علم النسب بالمقام الأرفع والجانب الأعلى، وذلك أول دليل وأعظم شاهد على شرف هذا العلم وجلالة قدره، وقد حكى صاحب الريحان والريعان عن أبي سليمان الخطابي رحمه الله أنه قال: كان أبو بكر رضي الله عنه نسابة فخرج مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فوقف على قوم من ربيعة فقال: ممن القوم.
قالوا: من ربيعة. قال: وأي ربيعة أنتم أمن هامتها أم من لهازمها؟ قالوا: بل من هامتها العظمى. قال أبو بكر: ومن أيها. قالوا: من ذهل الأكبر. قال أبو بكر: فمنكم عوف الذي يقال له لا حر بوادي عوف. قالوا لا قال: أفمنكم بسطام بن قيس ذو اللواء أبو القرى ومنتهى الاحياء. قالوا لا قال: أفمنكم الحوفزان " الحارث بن ئريك " قاتل الملوك وسالبها نعمها وانفسها، قالوا لا. قال: أفمنكم المزدلف " ابن أبي ربيعة ابن ذهل بن شيبان " الحر صاحب العمامة الفردة؟ قالوا: لا. قال: أفمنكم الملوك من كندة؟ قالوا: لا. قال: أفمنكم أصهار الملوك من لخم؟ قالوا: لا. قال: فلستم بذهل الاكبر بل ذهل الاصغر.
فقام إليه غلام من شيبان يقال له دغفل وقد بقل وجهه فقال:
এর মধ্যে একটি হলো বিবাহিতা মহিলার ক্ষেত্রে তার সম্মানিত বংশমর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রাখা। কেননা সহীহ হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নারীকে চারটি গুণের কারণে বিবাহ করা হয়: তার দ্বীনদারী, তার আভিজাত্য, তার সম্পদ এবং তার সৌন্দর্য।" এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলার আভিজাত্যের (হাসাব) প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন, যা মূলত পিতৃপুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: অনারবদের ক্ষেত্রে দাসত্বের বিধান জারি হওয়া এবং আরবদের ক্ষেত্রে তা না হওয়ার মধ্যে পার্থক্য করা—উলামাদের ঐ মাযহাব অনুযায়ী যারা এমনটি মনে করেন। এটি ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর দুটি মতের একটি। সুতরাং যদি বংশ পরিচয় জানা না থাকে, তবে তার পক্ষে এই বিধানসহ এই ধারার অন্যান্য বিধানসমূহ প্রয়োগ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইমাম বুখারী, ইবনে ইসহাক এবং তাবারীর মতো অনেক মুহাদ্দিস ও ফকীহ ইমামগণ সালাফদের আমলকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে বংশলতিকা উচ্চে তুলে ধরার বা বর্ণনা করার বৈধতার দিকে মত দিয়েছেন। কেননা আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বংশবিদ্যায় সর্বোচ্চ মর্যাদা ও উচ্চাসনের অধিকারী ছিলেন। আর এটিই এই বিদ্যার শ্রেষ্ঠত্ব ও এর মর্যাদার মহত্ত্বের প্রথম দলিল ও সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ। 'আর-রায়হান ওয়াল-রাইয়ান' গ্রন্থের লেখক আবু সুলায়মান আল-খাত্তাবী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ বংশবিদ। এক রাতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলেন এবং রাবিআ গোত্রের একটি দলের নিকট গিয়ে বললেন: "তোমরা কোন কওমের?"
তারা উত্তর দিল: "রাবিআ গোত্রের।" তিনি বললেন: "তোমরা রাবিআর কোন শাখার? তাদের প্রধান শাখা (হামাহ) থেকে নাকি পার্শ্ববর্তী শাখা (লাহাযিম) থেকে?" তারা বলল: "বরং তাদের মহান প্রধান শাখা থেকে।" আবু বকর বললেন: "তার কোন অংশ থেকে?" তারা বলল: "যুহলে আকবার থেকে।" আবু বকর বললেন: "তোমাদের মধ্যে কি সেই আওফ আছে, যার সম্পর্কে বলা হয় যে ‘আওফের উপত্যকায় কেউ স্বাধীন নেই’?" তারা বলল: "না।" তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কি পতাকাবাহী বিসতাম ইবনে কায়স আছে, যিনি জনপদসমূহের নেতা এবং গোত্রসমূহের শেষ আশ্রয়স্থল?" তারা বলল: "না।" তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কি আল-হাউফাযান (হারিস বিন শুরাইক) আছে, যিনি রাজাদের হত্যাকারী এবং তাদের নেয়ামত ও প্রাণ হরণকারী?" তারা বলল: "না।" তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কি আল-মুযদালিফ (ইবনে আবি রাবিআ ইবনে যুহল ইবনে শায়বান) আছে, যিনি সেই স্বাধীন ব্যক্তি এবং অনন্য পাগড়ির অধিকারী?" তারা বলল: "না।" তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কি কিন্দাহ গোত্রের রাজারা আছে?" তারা বলল: "না।" তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কি লাখম গোত্রের রাজাদের বৈবাহিক আত্মীয়রা আছে?" তারা বলল: "না।" তখন আবু বকর বললেন: "তাহলে তোমরা যুহলে আকবার নও, বরং তোমরা যুহলে আসগার।"
তখন শায়বান গোত্রের দাগফাল নামক এক যুবক তাঁর দিকে দাঁড়িয়ে গেল, যার মুখে তখন সবে দাড়ি গজাতে শুরু করেছে। সে বলল:
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
إن على سائلنا أن نسأله
… والعبء لا تعرفه أو تحمله
يا هذا إنك قد سألت فأخبرناك ولم نكتمك شيئاً من خبرنا فممن الرجل؟ قال أبو بكر: أنا من قريش. قال بخ بخ أهل الشرف والرئاسة. فمن أي القرشيين أنت؟ قال: من ولد تيم بن مرة. قال الفتى: امكنت والله الرامي من صفاء الثغرة. أفمنكم قصي بن كلاب الذي جمع القبائل من فهر وكان يدعى مجمعاً؟ قال: لا. قال: أفمنكم هاشم الذي هشم الثريد لقومه، قال: لا. قال: أفمنكم شيبة الحمد مطعم طير السماء الذي كأن وجهه قمر يضيء في الليلة الظلماء؟ قال لا. قال أفمن المفيضين بالناس أنت؟ قال: لا. قال: أفمن أهل الندوة أنت؟ قال: لا. قال: أفمن أهل السقاية أنت؟ قال: لا. قال: أفمن أهل الرفادة أنت؟ قال: لا. قال: أفمن أهل الحجاجة أنت! قال: لا. واجتذب أبو بكر رضي الله عنه زمام ناقته فرجع إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال الفتى:
صادف درأ السيل درأ يدفعه
… يهيضه حيناً وحيناً يصدعه
أما والله يا أخا قريس لو ثبت لاخبرتك أنك من زمعات قريش ولست من الذؤائب أو ما أنا بدغفل. قال: فاخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فتبسم. فقال علي رضي الله عنه يا أبا بكر لقد وقعت من الغلام الاعرابي على باقعة. قال أجل يا أبا الحسن: ما من طامة إلا وفوقها طامة وإن البلاء مؤكل بالمنطق.
ودغفل هذا هو دغفل بن حنظلة النسابة الذي يضرب به المثل في النسب وقد كان له معرفة بالنجوم وغيرها أيضاً من علوم العرب قدم مرة على معاوية إبن أبي سفيان في خلافته فاختبره فوجد رجلاً عالماً فقال: بم نلت هذا يا دغفل. قال: بقلب عقول، ولسان سؤول، وآفة العلم النسيان. فقال اذهب إلى يزيد فعلمه النسب والنجوم. وقد ذكر أبو عبيدة أن ممن يقاربه في العلم بالانساب من العرب زيد
নিশ্চয়ই আমাদের প্রশ্নকারীর প্রতি উচিত যে আমরা তাকে প্রশ্ন করি
… আর বোঝাটি তুমি চেন না বা বহন করতে পার না।
হে লোক! তুমি প্রশ্ন করেছ আর আমরা তোমাকে উত্তর দিয়েছি, আমাদের সংবাদ থেকে কিছুই তোমার কাছে গোপন করিনি। তাহলে এই ব্যক্তিটি কোন গোত্রের? আবু বকর (রা.) বললেন: আমি কুরাইশ বংশের। সে বলল: সাবাশ! সাবাশ! তারা তো মর্যাদা ও নেতৃত্বের অধিকারী। তাহলে কুরাইশদের কোন শাখা থেকে তুমি? তিনি বললেন: তায়িম ইবনে মুররার বংশধর। যুবকটি বলল: আল্লাহর কসম, তুমি তিরন্দাজকে নিশানার কেন্দ্রস্থলে সুযোগ করে দিয়েছ। কুসাই ইবনে কিলাব কি তোমাদের মধ্য থেকে, যিনি ফিহর গোত্রের শাখাগুলোকে একত্রিত করেছিলেন এবং যাকে 'মুজাম্মি' (একত্রকারী) বলা হতো? তিনি বললেন: না। সে বলল: হাশিম কি তোমাদের মধ্য থেকে, যিনি তার কওমের জন্য রুটির ঝোল ভেঙে প্রস্তুত করতেন? তিনি বললেন: না। সে বলল: শায়বাতুল হামদ কি তোমাদের মধ্য থেকে, যিনি আকাশের পাখিদের আহার করাতেন এবং যার চেহারা ছিল অন্ধকার রাতে উজ্জ্বল চাঁদের মতো? তিনি বললেন: না। সে বলল: তুমি কি সেই প্রস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত যারা মানুষের সাথে একত্রে ফেরে? তিনি বললেন: না। সে বলল: তুমি কি পরামর্শ সভার (নাদওয়া) সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন: না। সে বলল: তুমি কি হাজিদের পানীয় পরিবেশনকারীদের (সিকায়া) অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন: না। সে বলল: তুমি কি হাজিদের আপ্যায়নকারীদের (রিফাদা) অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন: না। সে বলল: তুমি কি কাবা ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারীদের (হিজাবা) অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন: না। আবু বকর (রা.) তার উটনীর লাগাম টেনে ধরলেন এবং আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কাছে ফিরে আসলেন। তখন যুবকটি বলল:
প্লাবনের ধাক্কা এমন এক বাধার সম্মুখীন হয়েছে যা তাকে প্রতিহত করে
… কখনও তাকে দুর্বল করে দেয়, আবার কখনও বিদীর্ণ করে।
হে কুরাইশ ভাই! আল্লাহর কসম, তুমি যদি অবস্থান করতে তবে আমি তোমাকে জানিয়ে দিতাম যে, তুমি কুরাইশদের তুচ্ছ শাখাগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের শ্রেষ্ঠ বা অভিজাত শাখার অন্তর্ভুক্ত নও; নতুবা আমি দাগফাল নই। বর্ণনাকারী বলেন: আবু বকর (রা.) আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে সংবাদটি জানালেন, তখন তিনি মুচকি হাসলেন। আলী (রা.) বললেন: হে আবু বকর! আপনি এই বেদুইন কিশোরের পক্ষ থেকে এক মহাবিপদ তথা চরম বুদ্ধিমত্তার মুখে পড়েছিলেন। তিনি বললেন: হ্যাঁ হে আবুল হাসান! প্রত্যেক বিপদের উপরেই অন্য বিপদ থাকে, আর নিশ্চয়ই বিপদ কথার সাথে সম্পৃক্ত থাকে।
আর এই দাগফাল হলেন দাগফাল ইবনে হানজালা নাসাআবা (বংশবিদ্যা বিশেষজ্ঞ), যার নাম বংশবিদ্যার ক্ষেত্রে প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নক্ষত্রবিদ্যা এবং আরবদের অন্যান্য বিদ্যায়ও তার পাণ্ডিত্য ছিল। একবার মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের খেলাফতকালে তিনি তার কাছে এলেন। মুয়াবিয়া তাকে পরীক্ষা করে একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে পেলেন এবং বললেন: হে দাগফাল! তুমি কীভাবে এই জ্ঞান অর্জন করলে? সে বলল: অনুধাবনকারী হৃদয়ের মাধ্যমে এবং প্রশ্নকারী রসনার মাধ্যমে, আর জ্ঞানের বিপদ হলো বিস্মৃতি। তখন তিনি বললেন: তুমি ইয়াজিদের কাছে যাও এবং তাকে বংশবিদ্যা ও নক্ষত্রবিদ্যা শিক্ষা দাও। আবু উবায়দা উল্লেখ করেছেন যে, আরবদের মধ্যে যারা বংশবিদ্যায় তার কাছাকাছি পর্যায়ের ছিলেন, তাদের একজন হলেন যায়েদ।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
ابن الكيس النمري من بني عوف بن سعد بن تغلب إبن وائل وفيه دغفل المقدم ذكره يقول مسكين بن عامر الشاعر.
فحكم دغفلا وارحل إليه
… ولا تدع المطي من الكلال
أو ابن الكيس النمري زيداً
… ولو أمسى بمنخرق الشمال
وممن كان مقدما في النسب من العرب النجار بن أوس بن الحارث بن سعيد ابن هذيم العذري من قضاعة. فقد قال أبو عبيدة: أنه أنسب العرب. وقد صنف في علم الأنساب جماعة من جملة العلماء وأعيانهم كأبي عبيدة والبيهقي وابن عبد البر وابن هرم وغيرهم وهو دليل شرفه ورفعة قدره.
বনু আওফ বিন সাদ বিন তাগলিব বিন ওয়ায়েল গোত্রের ইবনুল কায়েস আন-নামারি; এবং তার মধ্যেই দাগফালের কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। কবি মিসকিন বিন আমির বলেন।
সুতরাং দাগফালকে বিচারক মানো এবং তার কাছে সফর করো
… আর ক্লান্তির কারণে উটগুলোকে থামিয়ে দিও না
অথবা ইবনুল কায়েস আন-নামারি যায়েদকে
… যদিও সে উত্তর বায়ুর বিদীর্ণ পথে রাত অতিবাহিত করে
আরবদের মধ্যে বংশবিদ্যায় যারা অগ্রগণ্য ছিলেন, তাদের অন্যতম হলেন কুদাআ গোত্রের নাজ্জার বিন আউস বিন আল-হারিস বিন সাঈদ ইবনে হুযায়ম আল-উযরি। আবু উবায়দাহ বলেছেন: তিনি আরবদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বংশবিশারদ। উলামায়ে কেরাম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের একটি দল বংশবিদ্যায় গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন আবু উবায়দাহ, বায়হাকী, ইবনে আব্দুল বার, ইবনে হারাম এবং অন্যান্যরা। আর এটি এই বিদ্যার মর্যাদা ও উচ্চ সম্মানের প্রমাণ।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الثانيفي بيان ما يقع عليه اسم العربوذكر أنواعهم وما ينخرط في سلك ذلكأما من يقع عليه اسم العرب فقد قال الجوهري في صحاحه، العرب جيل من الناس وهم أهل الامصار والاعراب سكان البادية والنسبة إلى العرب عربي والى الأعراب أعرابي والذي عليه العرف العام اطلاق لفظة العرب مشتقة من الأعراب، وهو البيان أخذاً من قولهم أعرب الرجل عن حاجته إذا أبان سموا بذلك لأن الغالب عليهم البيان والبلاغة ثم أن كل من كان عدا العرب فهو عجمي سواء الفرس أو الترك أو الروم وغيرهم، وليس كما تتوهمه العامة من اختصاص العجم بالفرس بل أهل المغرب إلى الآن يطلقون لفظ العجم على الروم والفرنج ومن في معناه. أما الأعجم فانه الذي لا يفصح في الكلام وإن كان عربياً، ومنه سمي زياد الأعجم الشاعر كان عربياً.
وأما أنواع العرب فقد اتفقوا على تنويعهم إلى نوعين عاربة ومستعربة. فالعاربة هم العرب الأولى الذي فهمهم الله اللغة العربية ابتداءٍ فتكلموا بها فقيل لهم عاربة، أما بمعنى الراسخة في العروبية كما يقال ليل لائل وعليه ينطبق كلام الجوهري. وأما بمعنى الفاعلة للعروبية والمبتدعة لها لما كانت أول من تكلم بها. قال الجوهري: وقد يقال فيهم العرب العرباء. والمستعربة هم الداخلون في العروبية من بعد العجمة أخذاً من استفعل بمعنى الصيرورة نحو استنوق الجمل إذا صار في معنى الناقة لما فيه من الخنوثة
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদআরব নামের অন্তর্ভুক্তদের বিবরণেএবং তাদের প্রকারভেদ ও এই সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীর বর্ণনায়যাদের ওপর 'আরব' নাম প্রযোজ্য হয়, তাদের সম্পর্কে আল-জাওহারী তাঁর 'সিহাহ' গ্রন্থে বলেছেন: আরব হলো মানবজাতির একটি গোষ্ঠী, তারা হলো জনপদ বা শহরের অধিবাসী; আর 'আ’রাব' হলো মরুভূমির বাসিন্দা। 'আরব'-এর সম্বন্ধসূচক পদ হলো 'আরবি' এবং 'আ’রাব'-এর সম্বন্ধসূচক পদ হলো 'আ’রাবি'। সাধারণ পরিভাষা অনুযায়ী 'আরব' শব্দটি 'ই’রাব' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো স্পষ্ট বর্ণনা বা প্রকাশ। এটি তাদের এই প্রবাদ থেকে নেওয়া হয়েছে যে, 'ব্যক্তিটি তার প্রয়োজনের কথা প্রকাশ করেছে' যখন সে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে। তাদের এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাদের মধ্যে স্পষ্ট বর্ণনা ও বাগ্মিতার প্রাধান্য রয়েছে। এরপর আরব ব্যতীত যারা রয়েছে তারা সকলেই 'আজমি' (অনারব), তারা পারসিক হোক বা তুর্কি কিংবা রোমান বা অন্য কেউ। সাধারণ মানুষ যেমন ধারণা করে যে 'আজম' বলতে কেবল পারসিকদের বোঝায়, বিষয়টি তেমন নয়; বরং মাগরিবের অধিবাসীরা বর্তমান সময় পর্যন্ত রোমান, ফ্রাঙ্ক এবং তাদের সমগোত্রীয়দের 'আজম' বলে অভিহিত করে। আর 'আ’জাম' হলো সেই ব্যক্তি, যার কথাবার্তায় স্পষ্টতা নেই, যদিও সে বংশগতভাবে আরবীয় হয়ে থাকে। এই কারণেই কবি যিয়াদ আল-আ’জামকে এই নামে ডাকা হতো, অথচ তিনি একজন আরব ছিলেন।
আর আরবের প্রকারভেদ সম্পর্কে পন্ডিতগণ তাদের দুই ভাগে বিভক্ত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন: আদি আরব (আরিবাহ) এবং আরবভুক্ত আরব (মুস্তা’রিবাহ)। 'আরিবাহ' হলো সেই আদি আরব যাদের আল্লাহ তাআলা শুরু থেকেই আরবি ভাষা শিক্ষা দিয়েছিলেন, ফলে তারা সেই ভাষায় কথা বলত। তাই তাদের 'আরিবাহ' বলা হতো; এর অর্থ হতে পারে আরবীয় বৈশিষ্ট্যে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া—যেমনটি আল-জাওহারীর বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ। অথবা এর অর্থ হতে পারে আরবীয় বৈশিষ্ট্যের ধারক এবং এর উদ্ভাবক, যেহেতু তারাই সর্বপ্রথম এই ভাষায় কথা বলেছিল। আল-জাওহারী বলেন: তাদের কখনও 'বিশুদ্ধ আরব' বলা হয়। আর 'মুস্তা’রিবাহ' হলো তারা, যারা অনারব অবস্থা থেকে আরবীয় বৈশিষ্ট্যে প্রবেশ করেছে। এটি শব্দরূপের 'পরিণত হওয়া' অর্থ থেকে গৃহীত, যেমন বলা হয়ে থাকে 'উটটি মাদী উটের মতো হয়ে গিয়েছে' যখন পুরুষ উটের মধ্যে মাদী উটের ন্যায় নমনীয়তা বা কোমলতা প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
واستحجر الطين إذا صار في معنى الحجر ليبسه. قال الجوهري وربما قيل لهم المستعربة، ثم اختلف في العاربة والمستعربة فذهب ابن اسحاق والطبري إلى أن العاربة هم عاد وثمود وطسم وجديس واميم وعبيل والعمالقة وعبد صنم وجرهم وحضر موت وحضوراء وبنو ثابر والسلف ومن في معناهم. والمستعربة بنو قحطان بن عابر، وبنو اسماعيل عليه السلام لأن لغة عابر واسماعيل عليه السلام كانت عجمية أما سريانية واما عبرانية فتعلم بنو قحطان العربية من العاربة ممن كان في زمانهم، وتعلم بنو اسماعيل العربية من جرهم ومن بني قحطان حين نزلوا عليه وعلى أمه بمكة.
وذهب آخرون منهم صاحب تأريخ حماة إلى أن بني قحطان هم العاربة وأن المستعربة هم بنو اسماعيل فقط، والذي رجحه صاحب العبر: الرأي الأول محتجاً بأنه لم يكن في بني قحطان من زمن نوح عليه السلام وإلى عابر من تكلم بالعربية وإنما تعلموها نقلاً عمن كان قبلهم من عاد وثمود ومعاصريهم ممن تقدم ذكرهم، ثم قد قسم المؤرخون أيضاً العرب إلى بائدة وغيرها. فالبائدة هم الذين بادوا ودرست آثارهم كعاد وثمود وطسم وجديس وجرهم الأولى، ويلحق بهم مدين فانهم ممن ورد القرآن بهلاكهم، وغير البائدة وهم الباقون في القرون المتأخرة بعد ذلك كجرهم الثانية وسبأ وبني عدنان ثم منهم من باد بعد ذلك كجرهم ومن تأخر منهم إلى زماننا كبقايا سبأ وبني عدنان.
কাদা যখন তার শুষ্কতার কারণে পাথরের রূপ ধারণ করে, তখন তাকে 'পাথর হওয়া' বলা হয়। আল-জাওহারী বলেন, সম্ভবত তাদের 'মুস্তা'রিবা' (আরবীকরণকৃত) বলা হতো। এরপর 'আরিবা' (বিশুদ্ধ আরব) এবং 'মুস্তা'রিবা' (আরবীকরণকৃত আরব) সম্পর্কে মতভেদ দেখা দেয়। ইবনে ইসহাক এবং তাবারী এই অভিমত পোষণ করেন যে, 'আরিবা' হলো আদ, সামুদ, তাসম, জাদিস, আমীম, আবীল, আমালিকা, আবদে সানাম, জুরহুম, হাজরামাউত, হুদুরা, বনু সাবির, সালাফ এবং তাদের সমজাতীয় গোত্রগুলো। আর 'মুস্তা'রিবা' হলো কাহতান বিন আবিরের বংশধর এবং ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বংশধর। কারণ আবির ও ইসমাঈল আলাইহিস সালামের ভাষা ছিল অনারব—হয় সিরীয় অথবা হিব্রু। ফলে কাহতানের বংশধররা তাদের সমসাময়িক 'আরিবা' গোত্রগুলোর কাছ থেকে আরবি শেখে এবং ইসমাঈলের বংশধররা আরবি শেখে জুরহুম ও কাহতান গোত্র থেকে, যখন তারা মক্কায় তাঁর ও তাঁর মাতার কাছে এসে অবস্থান নিয়েছিল।
'তারিখে হামাহ'-এর লেখকসহ অন্য অনেকে মনে করেন যে, কাহতান বংশীয়রাই মূলত 'আরিবা' এবং 'মুস্তা'রিবা' হলো কেবল ইসমাঈলের বংশধর। 'আল-ইবার'-এর লেখক প্রথম মতটিকে প্রধান্য দিয়েছেন এই যুক্তিতে যে, কাহতান বংশে নূহ আলাইহিস সালামের সময় থেকে আবির পর্যন্ত কেউ আরবি ভাষায় কথা বলতেন না; বরং তারা তাদের পূর্ববর্তী আদ, সামুদ এবং উপরে উল্লেখিত তাদের সমসাময়িকদের কাছ থেকে শ্রুতির মাধ্যমে তা শিখেছেন। অতঃপর ঐতিহাসিকগণ আরবদের 'বায়িদা' (বিলুপ্ত) এবং অন্যান্য ভাগে বিভক্ত করেছেন। বায়িদা হলো তারা যারা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যাদের নাম-নিশানা মুছে গেছে, যেমন—আদ, সামুদ, তাসম, জাদিস এবং প্রথম জুরহুম। মাদইয়ান গোত্রকেও এদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, কারণ কুরআনে তাদের ধ্বংসের সংবাদ এসেছে। আর যারা বায়িদা নয়, তারা হলো পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে অবশিষ্ট থাকা গোত্র, যেমন—দ্বিতীয় জুরহুম, সাবা এবং বনু আদনান। এরপর তাদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ পরবর্তীতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে যেমন—জুরহুম; আর যারা আমাদের সময় পর্যন্ত অবশিষ্ট আছে তারা হলো সাবা এবং বনু আদনানের উত্তরসূরিগণ।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الثالثفي طبقات الأنساب وما يلحق بذلكعد أهل اللغة طبقات الأنساب ست طبقات.
الطبقة الأولى - الشعب بفتح الشين - وهو النسب الأبعد كعدنان مثلاً. قال الجوهري: وهو أبو القبائل الذي ينسبون إليه، ويجمع على شعوب. قال الماوردي في الأحكام السلطانية: وسمي شعباً لأن القبائل تتشعب منه. وذكر الزمخشري في كشافه نحوه.
الطبقة الثانية - القبيلة وهي ما انقسم فيها الشعب كربيعة ومضر. قال الماوردي: وسميت قبيلة لتقابل الأنساب فيها وتجمع القبيلة على قبائل وربما سميت القبائل جماجم أيضاً كما يقتضيه كلام الجوهري حيث قال: وجماجم العرب هي القبائل التي تجمع البطون.
الطبقة الثالثة - العمارة بكسر العين - وهي ما انقسم فيه أنساب القبيلة كقريش وكنانة ويجمع على عمارات وعماير.
الطبقة الرابعة - البطن وهو ما انقسم فيه أنساب العمارة، كبني عبد مناف، وبني مخزوم، ويجمع على بطون وأبطن.
الطبقة الخامسة - الفخذ وهو ما انقسم فيه أنساب البطن، كبني هاشم، وبني أمية، ويجمع على أفخاذ.
الطبقة السادسة - الفصيلة بالصاد المهملة - وهي ما انقسم فيه أنساب الفخذ، كبني العباس قلت هكذا رتبها الماوردي في الأحكام السلطانية، وعلى نحو ذلك جرى الزمخشري في تفسيره في الكلام على قوله تعالى: " وجعلناكم شعوباً
তৃতীয় অধ্যায়বংশধারার স্তরসমূহ এবং তদসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলিভাষা বিশেষজ্ঞগণ বংশধারার স্তরসমূহকে ছয়টি স্তরে গণনা করেছেন।
প্রথম স্তর - আশ-শাব (শীন বর্ণের ফাতহাহ যোগে) - এটি হলো দূরবর্তী বংশধারা, যেমন উদাহরণস্বরূপ আদনান। আল-জাওহারী বলেন: এটি হলো গোত্রসমূহের মূল উৎস যার দিকে তারা নিজেদের সম্বন্ধযুক্ত করে, আর এর বহুবচন হলো শুঊব। আল-মাওয়ার্দি ‘আল-আহকাম আস-সুলতানিয়্যাহ’ গ্রন্থে বলেন: একে ‘শাব’ নামকরণ করা হয়েছে কারণ গোত্রসমূহ এখান থেকেই শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়। যামাখশারী তাঁর ‘কাশশাফ’ তাফসিরে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয় স্তর - আল-কাবিলাহ; আর এটি হলো যাতে ‘শাব’ বিভক্ত হয়, যেমন রাবিয়াহ এবং মুদার। আল-মাওয়ার্দি বলেন: একে কাবিলাহ বলা হয়েছে কারণ এতে বংশসমূহ একে অপরের মুখোমুখি হয়। কবিলার বহুবচন হলো কাবাইল। কখনো কখনো কাবিলাহগুলোকে ‘জামা-জিম’ও বলা হয়, যেমনটি আল-জাওহারীর বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়, যেখানে তিনি বলেছেন: আরবদের জামা-জিম হলো সেই সকল কাবিলাহ যা অনেকগুলো ‘বাতান’-কে একত্রিত করে।
তৃতীয় স্তর - আল-ইমারাহ (আইন বর্ণের কাসরাহ যোগে) - এটি হলো যাতে কবিলার বংশসমূহ বিভক্ত হয়, যেমন কুরাইশ ও কিনানাহ। এর বহুবচন হলো ইমারাত এবং আমায়ির।
চতুর্থ স্তর - আল-বাতান - এটি হলো যাতে ইমারাহ-র বংশসমূহ বিভক্ত হয়, যেমন বনু আবদে মানাফ এবং বনু মাখযূম। এর বহুবচন হলো বুতুন এবং আবতুন।
পঞ্চম স্তর - আল-ফাখিজ - এটি হলো যাতে বাতান-এর বংশসমূহ বিভক্ত হয়, যেমন বনু হাশিম এবং বনু উমাইয়্যাহ। এর বহুবচন হলো আফখায।
ষষ্ঠ স্তর - আল-ফাসিলাহ (নুক্তাবিহীন সাদ যোগে) - এটি হলো যাতে ফাখিজ-এর বংশসমূহ বিভক্ত হয়, যেমন বনু আব্বাস। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আল-মাওয়ার্দি ‘আল-আহকাম আস-সুলতানিয়্যাহ’ গ্রন্থে এভাবেই বিন্যস্ত করেছেন। যামাখশারীও তাঁর তাফসিরে মহান আল্লাহর বাণী: "এবং আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতিতে বিভক্ত করেছি" এর আলোচনায় অনুরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقبائل " إلا أنه مثل الشعب بخزيمة، وللقبيلة بكنانة، وللعمارة بقريش، وللبطن بقصي، وللفخذ بهاشم، وللفضيلة بالعباس، وبالجملة فالفخذ يجمع الفصائل، والبطن يجمع الافخاذ والعمار تجمع البطون والقبيلة تجمع العمائر والشعب يجمع القبائل، قال النووي في تحرير التنبيه: وزاد بعضهم العشيرة قبل الفصيلة. قال الجوهري: وعشيرة الرجل هم رهطه الادنون. قال أبو عبيدة: عن ابن الكلبي عن أبيه تقديم الشعب ثم القبيلة ثم الفصيلة ثم العمارة ثم الفخذ. فأقام الفصيلة مقام العمارة في ذكرها بعد القبيلة، والعمارة مقام الفصيلة في ذكرها قبل الفخذ، ولم ينكر ما يخالفه ولا يخفى أن الترتيب الأول أولى وكأنهم رتبوا ذلك على بنية الانسان فجعلوا الشعب بمثابة أعلى الرأس، والقبائل بمثابة قبائل الرأس، وهي القطع المشعوب بعضها إلى بعض تصل بها الشؤون وهي القنوات التي في القحف لجريان الدمع، وقد ذكر الجوهري أن قبائل العرب إنما سميت بقبائل الرأس وجعلوا العمارة تلو ذلك إقامة للشعب والقبيلة مقام الاساس من البناء، وبعد الاساس تكون العمارة وهي بمثابة العنق والصدر من الانسان، وجعلوا البطن تلو العمارة لأنها الموجود من البدن بعد العنق والصدر، وجعلوا الفخذ تلو البطن لأن الفخذ من الإنسان بعد البطن، وجعلوا الفصيلة تلو الفخذ لأنها النسب الأدنى الذي يصل عنه الرجل بمثابة الساق والقدم إذ المراد بالفصيلة العشيرة الأدنون بدليل قوله تعالى: " وفصيلته التي تؤويه " أي تضمه إليها، ولا يضم الرجل إليه إلا أقرب عشيرته، واعلم أن أكثر ما يدور على الألسنة من الطبقات الست المتقدمة القبيلة ثم البطن وقل أن تذكر العمارة والفخذ والفصيلة، وربما عبر عن كل واحد من الطبقات السب بالحي أما على العموم مثل أن يقال حي من العرب وأما على الخصوص مثل أن يقال حي من بني فلان.
এবং গোত্রসমূহ; তবে তিনি 'শা’ব'-কে খুজাইমাহর সাথে, 'কাবিলা'-কে কিনানাহর সাথে, 'ইমারা'-কে কুরাইশের সাথে, 'বাতন'-কে কুসাইর সাথে, 'ফাকজ'-কে হাশিমের সাথে এবং 'ফাসিলা'-কে আব্বাসের সাথে তুলনা করেছেন। সারকথা হলো, ফাকজ ফাসিলাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, বাতন ফাকজসমূহকে একত্রিত করে, ইমারা বাতনসমূহকে একত্রিত করে, কাবিলা ইমারাগুলোকে এবং শা’ব কাবিলাগুলোকে একত্রিত করে। আন-নববী 'তাহরিরুত তানবিহ' গ্রন্থে বলেছেন: তাদের মধ্যে কেউ কেউ ফাসিলার পূর্বে 'আশিরা' যোগ করেছেন। আল-জাওহারি বলেছেন: কোনো ব্যক্তির 'আশিরা' হলো তার অতি নিকটতম আত্মীয়বর্গ। আবু উবায়দাহ ইবনুল কালবি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, প্রথমে শা’ব, তারপর কাবিলা, এরপর ফাসিলা, তারপর ইমারা এবং সবশেষে ফাকজ। এখানে তিনি কাবিলার পরে ইমারার স্থলে ফাসিলাকে এবং ফাকজের পূর্বে ফাসিলার স্থলে ইমারাকে উল্লেখ করেছেন এবং এর বিপরীত বিন্যাসকে তিনি অস্বীকার করেননি। তবে এটি স্পষ্ট যে, প্রথম বিন্যাসটিই অধিকতর উত্তম। মনে হয় তারা এগুলোকে মানবদেহের গঠনের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছেন; ফলে তারা 'শা’ব'-কে মাথার সর্বোচ্চ অংশের সমতুল্য করেছেন এবং 'কাবিলা' (গোত্রসমূহ)-কে মাথার খুলির হাড়ের জোড়াসমূহের সমতুল্য করেছেন। এগুলো হলো সেই খণ্ডসমূহ যা একে অপরের সাথে জোড়া লাগানো এবং 'শুউন'-এর মাধ্যমে যুক্ত থাকে; আর এগুলো হলো মাথার খুলির ভেতরে অশ্রু প্রবাহিত হওয়ার নালীসমূহ। আল-জাওহারি উল্লেখ করেছেন যে, আরবের কাবিলা বা গোত্রসমূহকে মাথার খুলির এই হাড়ের জোড়া অনুসারেই নামকরণ করা হয়েছে। তারা 'ইমারা'-কে এর পরে স্থান দিয়েছেন, যেখানে শা’ব ও কাবিলাকে দালানের ভিত্তিস্বরূপ গণ্য করা হয়েছে। আর ভিত্তির পরেই থাকে ইমারা (নির্মাণ), যা মানুষের ঘাড় ও বক্ষস্থলের সমতুল্য। তারা 'বাতন'-কে ইমারার পরে রেখেছেন কারণ ঘাড় ও বক্ষস্থলের পরেই শরীরে এর অবস্থান। তারা 'ফাকজ'-কে বাতনের পরে রেখেছেন কারণ মানুষের শরীরের বাতন (পেট)-এর পরেই ফাকজ (উরু)-এর অবস্থান। তারা 'ফাসিলা'-কে ফাকজের পরে রেখেছেন কারণ এটি হলো নিকটতম বংশ যা দিয়ে একজন মানুষ যুক্ত থাকে, যা মানুষের পা ও পদতলের সমতুল্য। কেননা ফাসিলা দ্বারা নিকটতম আশিরা বা আত্মীয়-স্বজন উদ্দেশ্য, যার প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তার ফাসিলা (নিকটতম পরিজন) যারা তাকে আশ্রয় দেয়", অর্থাৎ তাকে নিজের সাথে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। আর মানুষকে তার নিকটতম আত্মীয় ছাড়া কেউ নিজের সাথে সচরাচর যুক্ত করে না। জেনে রাখুন যে, মানুষের মুখে উপরোক্ত ছয়টি স্তরের মধ্যে কাবিলা ও বাতন শব্দ দুটিই অধিক প্রচলিত; ইমারা, ফাকজ ও ফাসিলা-র কথা খুব কমই উল্লেখ করা হয়। কখনো কখনো এই সাতটি স্তরের প্রত্যেকটিকে 'হাই' শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়; কখনো সাধারণভাবে যেমন বলা হয়—আরবদের একটি 'হাই', আবার কখনো বিশেষভাবে যেমন বলা হয়—অমুক বংশের একটি 'হাই'।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الرابعفي ذكر مساكن العربالقديمة التي درجوا منها إلى سائر الأقطار
أعلم: أن مساكن العرب في ابتداء الأمر كانت بجزيرة العرب الواقعة في أواسط المعمور، واعدل أماكنه وأفضل بقاعه حيث الكعبة الحرام وتربة أشرف الانام نبينا محمد صلى الله عليه وسلم وما حول ذلك من الأماكن، وهذه الجزيرة متسعة الأرجاء، ممتدة الأطراف، يحيط بها من جهة الغرب بعض بادية الشام حيث البلقا إلى أيلة، ثم القلزم الآخذ من أيلة، حيث العقبة الموجودة بطريق حجاج مصر إلى الحجاز إلى أطراف اليمن حيث طي وزبيد وما داناهما، ومن جهة الجنوب بحر الهند المتصل به بحر القلزم المقدم ذكره من جهة الجنوب إلى عدن إلى أطراف اليمن حيث بلاد مهرة من ظفار وما حولها، ومن جهة الشرق بحر فارس الخارج من بحر الهند إلى جهة الشمال إلى بلاد البحرين ثم إلى أطراف البصرة ثم إلى الكوفة من بلاد العراق، ومن جهة الشمال الفرات آخذاً من الكوفة على حدود العراق إلى عانة إلى بالس بلاد الجزيرة الفراتية إلى البلقا من برية الشام حيث وقع الابتداء.
والحاصل أن السائر على حدود جزيرة العرب فيه من أطراف برية الشام من البلقا جنوباً إلى أيلة، ثم يسير على شاطئ بحر القلزم وهو مستقبل الجنوب والبحر على يمينه إلى مدين إلى ينبع إلى البروة إلى جدة إلى أول اليمن إلى زبيد إلى أطراف اليمن من جهة الجنوب ثم يعطف مشرقاً ويسر إلى ساحل اليمن وبحر الهند على يمينه حتى يمر على عدن ويجاوزها حتى يصل
চতুর্থ অধ্যায়আরবদের বাসভূমির বর্ণনায়সেই প্রাচীন বাসভূমি যা থেকে তারা বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল
জেনে রাখুন: সূচনালগ্নে আরবদের আবাসস্থল ছিল আরব উপদ্বীপে, যা জনবসতিপূর্ণ পৃথিবীর মধ্যস্থলে এবং এর সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও সর্বোত্তম ভূখণ্ডে অবস্থিত; যেখানে পবিত্র কাবাগৃহ এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পবিত্র ভূমি ও এর চারপাশের এলাকাগুলো বিদ্যমান। এই উপদ্বীপটি বিশাল অঞ্চলব্যাপী বিস্তৃত এবং এর প্রান্তসমূহ সুদূরপ্রসারী। এর পশ্চিম দিকে শামের মরুভূমির কিছু অংশ অর্থাৎ বালকা থেকে আয়লা পর্যন্ত বেষ্টিত; অতঃপর আয়লা থেকে শুরু হওয়া কুলজুম সাগর (লোহিত সাগর)—যেখানে মিশরীয় হাজীদের হিজাজের পথে আকাবা অবস্থিত—তা ইয়ামেনের প্রান্তসীমা তায়ি ও জাবিদ এবং এর নিকটবর্তী এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। দক্ষিণ দিকে রয়েছে ভারত মহাসাগর, যা দক্ষিণ দিক থেকে পূর্বে উল্লেখিত কুলজুম সাগরের সাথে আদন হয়ে ইয়ামেনের প্রান্তসীমা অর্থাৎ জাফরের মাহরা অঞ্চল ও এর আশপাশ পর্যন্ত সংযুক্ত। পূর্ব দিকে পারস্য সাগর অবস্থিত, যা ভারত মহাসাগর থেকে উত্তর দিকে বাহরাইন অঞ্চল পর্যন্ত এবং সেখান থেকে বসরার সীমানা হয়ে ইরাক ভূখণ্ডের কুফা পর্যন্ত বিস্তৃত। উত্তর দিকে ফোরাত নদী কুফা থেকে ইরাক সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়ে ‘আনা’ ও আল-জাজিরাতুল ফোরাতিয়ার ‘বালিস’ হয়ে শামের মরুপ্রান্ত বালকা পর্যন্ত পৌঁছেছে, যেখান থেকে বর্ণনা শুরু হয়েছিল।
সারকথা হলো, যে ব্যক্তি আরব উপদ্বীপের সীমানা ধরে ভ্রমণ করবে, সে শামের মরুপ্রান্ত বালকা থেকে দক্ষিণ দিকে আয়লা পর্যন্ত যাবে; অতঃপর সে কুলজুম সাগরের তীর ধরে দক্ষিণ দিকে মুখ করে অগ্রসর হবে এবং সাগর তার ডান পাশে থাকবে—এভাবে সে মাদইয়ান, ইয়ানবু, আল-বারওয়া, জিদ্দা হয়ে ইয়ামেনের শুরু ও জাবিদ হয়ে ইয়ামেনের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাবে। অতঃপর সে পূর্ব দিকে মোড় নিয়ে ইয়ামেন উপকূল ধরে চলতে থাকবে এবং ভারত মহাসাগর তার ডান পাশে থাকবে, এমনকি সে আদন অতিক্রম করবে এবং আরও সামনে অগ্রসর হবে যতক্ষণ না সে পৌঁছাবে...
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إلى سواحل ظفار من مشاريق اليمن إلى سواحل مهرة، ثم يعطف شمالاً ويسير على سواحل اليمن وبحر فارس على يمينه ويتجاوز سواحل مهرة إلى عمان من بلاد البحرين إلى جزيرة أوال إلى القطيف إلى كاظمة إلى البصرة إلى الكوفة، ثم يعطف إلى الغرب ويفارق بحر فارس ويسير والفرات على يمينه إلى سليمة إلى البلقا حيث بدأ.
ودور هذه الجزيرة على ما ذكره السلطان عماد الدين صاحب حماة في تقويم البلدان سبعة أشهر وأحد عشر يوماً تقريباً بسير الأثقال فمن البلقا إلى الشراة ثلاثة أيام، ومن الشراة إلى أيلة نحو ثلاثة أيام، ومن أيلة إلى الحجاز وهي فرضة المدينة المنورة النبوية نحو من عشرين يوماً، ومن الحجاز إلى ساحل الجحفة نحو ثلاثة أيام، ومن ساحل الحجفة إلى جدة وهي فرضة لمكة ثلاثة أيام ومن ساحل جدة إلى عدن نحو من شهر ومن عدن إلى سواحل مهرة نحو من شهر، ومن مهرة إلى عمان إلى البحرين نحو من شهر، ومن هجر إلى عبادان من العراق نحو من خمسة عشر يوماً، ومن عبادان إلى البصرة نحو يومين، ومن البصرة إلى الكوفة نحو اثنى عشر يوماً، ومن الكوفة إلى بالس نحو عشرين يوماً، ومن بالس إلى سلمية نحو سبعة أيام، ومن سلمية إلى مشاريق غوطة دمشق نحو أربعة أيام، ومن مشاريق غوطة دمشق إلى مشاريق حوران نحو ثلاثة أيام، ومن مشاريق حوران إلى البلقا نحو ستة أيام.
واعلم - أن الجزيرة في أصل اللغة ما ارتفع عنه الماء آخذاً من الجزر الذي هو ضد المد، ثم توسع فيه فأطلق على كل ما دار عليه الماء ولما كان هذا القطر يحيط به بحر القلزم من جهة المغرب، وبحر الهند من جهة الجنوب، وبحر فارس من جهة المشرق، والفرات من جهة الشمال، أطلق عليه جزيرة واضيفت إلى العرب لنزولهم لها ابتداءً وسكناهم فيها. قال المدائني: وجزيرة العرب هذه تستمل على خمسة أقسام: تهامة، ونجد، والحجاز، والعروض، واليمن، فتهامة هي الناحية الجنوبية عن الحجاز.
ونجد هي الناحية التي بين الحجاز والعراق.
والحجاز: هو ما بين تهامة ونجد.
ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে মাহরা উপকূল হয়ে যোফার উপকূল পর্যন্ত, অতঃপর এটি উত্তর দিকে মোড় নিয়ে ইয়েমেনের উপকূল ধরে অগ্রসর হয় এবং পারস্য উপসাগরকে ডানে রেখে মাহরা উপকূল অতিক্রম করে ওমান, বাহরাইন অঞ্চল, আওয়াল দ্বীপ, কাতিফ, কাজিমা, বসরা হয়ে কুফা পর্যন্ত পৌঁছে। এরপর এটি পশ্চিম দিকে মোড় নিয়ে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করে এবং ফুরাত নদীকে ডান দিকে রেখে সালামিয়া হয়ে বালকা পর্যন্ত যায় যেখান থেকে এটি শুরু হয়েছিল।
হামার অধিপতি সুলতান ইমাদউদ্দীন তাঁর ‘তাকউয়িমুল বুলদান’ গ্রন্থে এই উপদ্বীপের পরিধি সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো— মন্থর গতিতে ভ্রমণে এটি প্রায় সাত মাস এগারো দিনের পথ। বালকা থেকে শারাত তিন দিন, শারাত থেকে আয়লা প্রায় তিন দিন, আয়লা থেকে হিজাজ তথা মদিনা মুনাওয়ারার বন্দর পর্যন্ত প্রায় বিশ দিন, হিজাজ থেকে জুহফা উপকূল পর্যন্ত প্রায় তিন দিন, জুহফা উপকূল থেকে জেদ্দা (যা মক্কার বন্দর) পর্যন্ত তিন দিন, জেদ্দা উপকূল থেকে এডেন পর্যন্ত প্রায় এক মাস, এডেন থেকে মাহরা উপকূল পর্যন্ত প্রায় এক মাস, মাহরা থেকে ওমান হয়ে বাহরাইন পর্যন্ত প্রায় এক মাস, হাজার থেকে ইরাকের আবাদান পর্যন্ত প্রায় পনেরো দিন, আবাদান থেকে বসরা পর্যন্ত প্রায় দুই দিন, বসরা থেকে কুফা পর্যন্ত প্রায় বারো দিন, কুফা থেকে বালিস পর্যন্ত প্রায় বিশ দিন, বালিস থেকে সালামিয়া পর্যন্ত প্রায় সাত দিন, সালামিয়া থেকে দামেস্কের গুতা অঞ্চলের পূর্বাংশ পর্যন্ত প্রায় চার দিন, দামেস্কের গুতা অঞ্চলের পূর্বাংশ থেকে হাওরান অঞ্চলের পূর্বাংশ পর্যন্ত প্রায় তিন দিন এবং হাওরান অঞ্চলের পূর্বাংশ থেকে বালকা পর্যন্ত প্রায় ছয় দিন।
জেনে রাখুন— মূল অভিধানে 'জাযিরা' (উপদ্বীপ বা দ্বীপ) বলা হয় পানির স্তর থেকে জেগে থাকা স্থলভাগকে, যা জোয়ারের বিপরীত শব্দ ভাটা (জাযর) থেকে উদ্ভূত। পরবর্তীতে এর অর্থের ব্যপ্তি ঘটিয়ে চারদিকে পানি বেষ্টিত যে কোনো ভূখণ্ডকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেহেতু এই ভূখণ্ডের পশ্চিম দিকে কুলযুম সাগর (লোহিত সাগর), দক্ষিণ দিকে ভারত মহাসাগর, পূর্ব দিকে পারস্য উপসাগর এবং উত্তর দিকে ফুরাত নদী পরিবেষ্টিত, তাই একে 'জাযিরা' বা উপদ্বীপ নামকরণ করা হয়েছে। আর একে আরবদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে কারণ শুরু থেকেই তারা এখানে অবতরণ করেছে এবং বসবাস করে আসছে। মাদায়িনি বলেন: এই আরব উপদ্বীপ পাঁচটি অংশে বিভক্ত— তিহামা, নজদ, হিজাজ, আরুজ এবং ইয়েমেন। তিহামা হলো হিজাজের দক্ষিণ দিকের অঞ্চল।
আর নজদ হলো হিজাজ ও ইরাকের মধ্যবর্তী অঞ্চল।
আর হিজাজ হলো তিহামা ও নজদের মধ্যবর্তী স্থান।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وتهامة: جبل يقبل من اليمن حتى يتصل بالشام، وسمي حجازاً لحجزه بين نجد وتهامة.
والعروض: هي اليمامة ما بين تهامة إلى البحرين، ويدخل في جزيرة العرب أيضاً قطعة من بادية الشام كما سيأتي ذكره إن شاء الله تعالى، ثم في كل قطر من هذه الأقطار مدن وبلاد مشهورة.
فأما الحجاز: ففيه من البلاد المشهورة المدينة النبوية على ساكنها أفضل الصلاة والسلام، وقيل هي من نجد، وفيه أيضاً من البلاد خيبر والطائف.
وأما تهامة: ففيها من البلاد المشهورة مكة المشرفة، وقيل هي من الحجاز وفيها أيضاً من البلاد ينبع.
وأما نجد: فقد قيل أن المدينة النبوية منها، والراجح أنها من الحجاز على ما تقدم.
وأما العروض: فيشتمل على ناحيتين.
الناحية الأولى: اليمامة، وقيل هي من الحجاز وهي مدينة دون مدينة النبي صلى الله عليه وسلم في المقدار، بينها وبين البصرة ست عشرة مرحلة، وبينها وبين الكوفة أيضاً مثل ذلك، وهي أكثر نخلا من سائر بلاد الحجاز، وبها كان مسيلمة الكذاب الذي ادعى النبوة في زمن النبي صلى الله عليه وسلم، وقتل في زمن أبي بكر رضي الله عنه.
الناحية الثانية: بلاد البحرين، وهي قطر متسع مجاور لبحر فارس كثير النخل والثمار، والمشهور به من البلاد هجر بفتح الهاء والجيم وهي التي كانت قاعدة البحرين في الزمن المتقدم فخربها القرامطة عند استيلائهم على البحرين، وبنوا مدينة الاحساء ونزلوها وصارت هي قاعدة البحرين، وهي مدينة كثيرة المياه والنخل والفواكه، وبينها وبين اليمامة نحو أربعة أيام، إلى غير ذلك من البلاد المتسعة.
وأما اليمن - فهو اقليم عظيم متسع الارجاء، متباعد الأطراف، وكانت
তিহামাহ হলো একটি পর্বতমালা যা ইয়ামেন থেকে শুরু হয়ে শাম পর্যন্ত বিস্তৃত। একে হিজাজ নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি নজদ এবং তিহামাহর মধ্যে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
আর আল-আরুদ হলো ইয়ামামাহ অঞ্চল, যা তিহামাহ থেকে বাহরাইন পর্যন্ত বিস্তৃত। জাজিরাতুল আরবের (আরব উপদ্বীপ) অন্তর্ভুক্ত শামের মরুভূমির একটি অংশও এর মধ্যে পড়ে, যা ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ চাইলে) সামনে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হবে। অতঃপর এই অঞ্চলগুলোর প্রত্যেকটিতে প্রসিদ্ধ শহর ও জনপদ রয়েছে।
হিজাজের ক্ষেত্রে: সেখানে প্রসিদ্ধ শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে মদিনা মুনাওয়ারা (যার অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক), কেউ কেউ বলেছেন এটি নজদের অন্তর্ভুক্ত; এর মধ্যে আরও রয়েছে খায়বার ও তায়েফ।
তিহামাহর ক্ষেত্রে: সেখানে প্রসিদ্ধ শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে মক্কা মুশাররাফাহ, কেউ কেউ বলেছেন এটি হিজাজের অন্তর্ভুক্ত; এর মধ্যে ইয়ানবু শহরও রয়েছে।
নজদের ক্ষেত্রে: বলা হয়েছে যে মদিনা মুনাওয়ারা এর অংশ, তবে বিশুদ্ধ মত হলো এটি হিজাজের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর আল-আরুদ: এটি দুটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
প্রথম অঞ্চল: ইয়ামামাহ; কেউ কেউ বলেছেন এটি হিজাজের অন্তর্ভুক্ত। এটি আয়তনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহরের তুলনায় ছোট। এর এবং বসরার মধ্যবর্তী দূরত্ব ষোলো মানজিল, এবং কুফার সাথেও এর দূরত্ব অনুরূপ। হিজাজের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানে খেজুর গাছের আধিক্য সবচেয়ে বেশি। এখানে মুসাইলিমা কাজ্জাব ছিল, যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে নবুওয়তের দাবি করেছিল এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকালে তাকে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অঞ্চল: বাহরাইন ভূখণ্ড; এটি পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী একটি বিস্তীর্ণ এলাকা, যেখানে প্রচুর খেজুর বাগান ও ফলমূল রয়েছে। এখানকার প্রসিদ্ধ জনপদ হলো 'হাজার' (হা এবং জিম বর্ণের জবরসহ), যা প্রাচীনকালে বাহরাইনের রাজধানী ছিল। কারামাতিয়ারা বাহরাইন দখলের সময় এটি ধ্বংস করে দেয় এবং তারা আল-আহসা শহর নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করে। পরবর্তীতে সেটিই বাহরাইনের রাজধানীতে পরিণত হয়। এটি প্রচুর জলাশয়, খেজুর গাছ ও ফলমূল সমৃদ্ধ একটি শহর। এটি এবং ইয়ামামাহর মধ্যে প্রায় চার দিনের দূরত্ব। এ ছাড়াও সেখানে আরও অনেক বিস্তৃত এলাকা রয়েছে।
আর ইয়ামেন—এটি একটি বিশাল প্রদেশ, যার দিগন্ত অত্যন্ত বিস্তৃত এবং প্রান্তসমূহ সুদূরপ্রসারী; এবং তা ছিল
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قاعدته القديمة مدينة صنعاء، وهي مدينة عظيمة تسبه مدينة دمشق في كثرة مياهها وأشجارها وهي في شرقي عدن في الجبال، وهواؤها معتدل وكانت في الزمن المتقدم تسمى أزال وهي الآن بيد إمام الزيدية ياليمن داخلة تحت طاعته هي وما حولها، وقد استحدث عليها حصن تعز فصار منزل لبني رسول ملوك اليمن الآن، وهو حصن في الجبل مطل على النهائم وأراضي زبيد، وفوقه منتزه يقال له - صعدة - قد ساق إليه صاحب اليمن المياه من الجبال التي فوقها وبنى فيها أبنية عظيمة في غاية الحسن في وسط بستان هناك، وفرضة اليمن المشهورة في القديم والحديث عدن، ويقال عدن ابين سميت بذلك باسم بانيها، وهي مدينة على ساحل بحر الهند جنوبي باب المندب بميل إلى المشرق مورد وحط واقلاع لمراكب الهند ومصر وغيرهما، وبينها وبين صنعاء ثلاث مراحل وهي في ذيل جبل كالسور عليها وتمامة سور إلى البحر، ولها باب إلى البر وباب إلى البحر إلا أنها قشفة يابسة ينقل الماء على ظهور الدواب، واليمن مدن كثيرة من مشاهيرها.
زبيد - بفتح الزاي المعجمة - وهي قصبة التهايم وموضعها في مستوى من الأرض والبحر، منها على أقل من يوم، وبها مياه ونخل كثير وعليها سور دائر وفيها ثمانية أبواب وبينها وبين البحر خمسة عشر ميلاً.
ومن مشاهير بلادها نجران: بفتح النون وسكون الجيم، وهي بلدة ذات نخيل وأشجار على القرب من صنعاء وهي بين عدن وحضرموت في جبال وهي من بلاد همدان بين قرى ومدائن وعمائر ومياه، وبها كان أفعى بن الأفعى الجرهمي المعروف بأفعى نجران الذي تحاكم إليه مضر وربيعة وأياد وأنمار أولاد نزار بوصية من أبيهم.
ومن مشاهير بلاده ظفار: بالظاء المعجمة المشالة والفاء. وهي مدينة على ساحل خور يخرج من بحر الهند ويطعن في الشمال نحو مائة ميل وهي على طرفه، وبينها وبين صنعاء أربعة وعشرون فرسخاً وعلى شمالها رمال الاحقاف التي بها كانت عاد، وهي قاعدة بلاد الشجر، ويوجد في أرضها
এর প্রাচীন রাজধানী হলো সানআ শহর। এটি একটি বিশাল শহর যা পানির প্রাচুর্য ও বৃক্ষরাজির দিক থেকে দামেস্ক শহরের সদৃশ। এটি আদনের পূর্বে পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত এবং এর আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। প্রাচীনকালে একে ‘আযাল’ বলা হতো। বর্তমানে এটি ইয়েমেনের যায়দী ইমামের শাসনাধীন এবং এটি ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ তাঁর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত। সেখানে তায়িজ দুর্গটি নবনির্মিত হয়েছে, যা বর্তমানে ইয়েমেনের রাজবংশ বনু রাসুলের বাসভবনে পরিণত হয়েছে। এটি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত একটি দুর্গ, যেখান থেকে তিহামাহ ও জাবিদের ভূমিসমূহ দেখা যায়। এর উপরে ‘সাদাহ’ নামক একটি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। ইয়েমেনের শাসক উপরের পাহাড়গুলো থেকে সেখানে পানি প্রবাহিত করেছেন এবং সেখানে একটি বাগানের মাঝখানে অত্যন্ত চমৎকার ও বিশাল সব অট্টালিকা নির্মাণ করেছেন। প্রাচীন ও বর্তমানকালে ইয়েমেনের প্রসিদ্ধ বন্দর হলো আদান। একে ‘আদান আবয়ান’ও বলা হয়, যা এর নির্মাতার নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে। এটি ভারত মহাসাগরের উপকূলে বাবুল মানদাব থেকে সামান্য পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি শহর। এটি ভারত, মিশর ও অন্যান্য দেশের জাহাজসমূহের নোঙর করা, মাল খালাস করা এবং যাত্রার স্থল। এটি ও সানআর মধ্যে তিন মঞ্জিলের দূরত্ব। এটি একটি পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত যা এর জন্য প্রাচীরের মতো কাজ করে এবং সমুদ্র পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাচীর রয়েছে। এর একটি স্থলপথের দরজা ও একটি সমুদ্রপথের দরজা রয়েছে। তবে এটি শুষ্ক ও রুক্ষ এলাকা, যেখানে পশুর পিঠে করে পানি বহন করা হয়। ইয়েমেনে অনেক শহর রয়েছে, যার মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো:
জাবিদ—যায় বর্ণে ফাতাহ যোগে—এটি তিহামাহ অঞ্চলের প্রধান শহর। এর অবস্থান সমতল ভূমিতে এবং সমুদ্র থেকে এর দূরত্ব একদিনেরও কম সময়ের পথ। এখানে প্রচুর পানি ও খেজুর বাগান রয়েছে। এর চারপাশে একটি বৃত্তাকার প্রাচীর রয়েছে এবং এতে আটটি প্রবেশদ্বার আছে। সমুদ্র থেকে এর দূরত্ব পনেরো মাইল।
এর প্রসিদ্ধ স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নাজরান: নুন বর্ণে ফাতাহ ও জিম বর্ণে সুকুন যোগে। এটি সানআর নিকটবর্তী খেজুর ও বৃক্ষশোভিত একটি শহর। এটি পাহাড়ের ভেতরে আদান ও হাজরামাউতের মাঝে অবস্থিত। এটি হামদান অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত যা বিভিন্ন গ্রাম, নগর, অট্টালিকা ও জলাশয়ের মাঝে অবস্থিত। এখানে জুরহুম বংশীয় আফআ বিন আফআ অবস্থান করতেন, যিনি ‘নাজরানের আফআ’ নামে পরিচিত ছিলেন; যাঁর কাছে নিযারের পুত্রগণ—মুদার, রাবিআ, ইয়াদ ও আনমার—তাদের পিতার অসিয়ত অনুযায়ী ফয়সালার জন্য এসেছিলেন।
এর প্রসিদ্ধ শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে যোফার: যো এবং ফা বর্ণ যোগে। এটি ভারত মহাসাগর থেকে উৎপন্ন একটি খাড়ির উপকূলে অবস্থিত শহর, যা উত্তর দিকে প্রায় একশ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত এবং শহরটি এর প্রান্তে অবস্থিত। এটি ও সানআর মধ্যে চব্বিশ ফারসাখ দূরত্ব। এর উত্তর দিকে আহকাফের বালুকাময় মরুভূমি অবস্থিত যেখানে আদ জাতি বাস করত। এটি বৃক্ষরাজির দেশের রাজধানী এবং এর ভূমিতে পাওয়া যায়...
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كثير من النبات الهندي مثل الرايخ والتنبل، ولها بساتين وأسواق، وفي سواحلها يوجد العنبر إلى غي رذلك من البلاد المتعددة.
وأما بادية الشام: ففي جزيرة العرب منها مدينة تدمر. بفتح التاء وضم الميم، وهي بلدة قديمة ببادية الشام من أعمال حمص وهي على شرقيها، وأرضها سباخ وبها شجر ونخيل وزيتون وبها آثار قلعة عظيمة أزلية من الأعمدة والصخور ولها سور وقلعة، وبينها وبين حمص نحو ثلاث مراحل وكذلك عن سلمية، وبينها وبين دمشق تسعة وخمسون ميلاً، وبينها وبين الزحمة مائة ميل وميلان، وهي منزل عرب آل ربيعة ملوك العرب بالشام إلى الآن، وكذلك من بادية الشام تيماء وهي حاضرة طي، وبها الحصن المعروف بالأبلق الفرد المنسوب إلى السمؤل بن عاديا، وتبوك وهي بلدة عظيمة بين الحجر أرض ثمود وبين الشام، وبها عين ماء ونخيل ويقال أن بها كان أصحاب الأيكة الذين بعث الله اليهم شعيبا عليه السلام.
قلت ومنها مدين: وكانت بها منازل العرب العاربة من عاد وطسم وجديس وأميم وجرهم وحضرموت ومن هم في معناهم، ثم انتقلت ثمود منها إلى الحجر بكسر الحاء المهملة وهي إلى الجنوب من دومة الجندل وهي من أرض الشام فكانوا بها حتى هلكوا كما ورد به القرآن الكريم. وهلك من هلك من بقايا العرب العاربة باليمن بمدين من عاد وغيرهم، وخلفهم فيه بنو قحطان بن عابر فعرفوا بعرب مدين إلى الآن وبقوا فيه إلى أن خرج منه عمرو بن مزيقياء عند توقع سيل العرم ثم خرج منه بقاياهم وتفرقوا في الحجاز والعراق والشام وغيرها عند حدوث سيل العرم، وكانت أرض الحجاز منازل لني عدنان إلى أن غزاهم بخت نصر ونقل من نقل منهم إلى الانبار من بلاد العراق، ولم يزل العرب بعد ذلك كلهم في التنقل عن جزيرة العرب والانتشار في الأقطار إلى أن كان الفتح الاسلامي فتوغلوا في البلاد حتى وصلوا إلى بلاد الترك وما داناها وصاروا إلى أقصى المغرب وجزيرة الاندلس وبلاد السودان وملأوا الآفاق، وعمروا الأقطار، وصار بعض عرب اليمن إلى الحجاز فأقاموا به وربما صار بعض عرب الحجاز إلى اليمن فأقاموا به وبقي من بقي منهم بالحجاز واليمن على ذلك إلى الآن، ومن تفرق منهم في الاقطار منتشرون في الآفاق قد ملأوا ما بين الخافقين.
সেখানে রাইখ ও তাম্বুলের মতো অনেক ভারতীয় উদ্ভিদ রয়েছে এবং সেখানে বাগান ও বাজার বিদ্যমান। এর উপকূলে আম্বর পাওয়া যায় এবং এটি আরও অনেক দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
আর সিরিয়ার মরুভূমি (বাদিয়া আশ-শাম) প্রসঙ্গে: আরব উপদ্বীপের অভ্যন্তরে এর একটি অংশ হলো তাদমুর শহর। এটি 'তা' বর্ণে ফাতহা এবং 'মিম' বর্ণে দম্মা সহযোগে উচ্চারিত হয়। এটি সিরিয়ার মরুভূমির একটি প্রাচীন শহর যা হিমস অঞ্চলের প্রশাসনিক এলাকাভুক্ত এবং এর পূর্ব দিকে অবস্থিত। এর ভূমি লবণাক্ত এবং এখানে গাছপালা, খেজুর ও জয়তুন গাছ রয়েছে। সেখানে স্তম্ভ ও পাথরের তৈরি একটি সুপ্রাচীন বিশাল দুর্গের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে এবং এর একটি প্রাচীর ও দুর্গ আছে। হিমস থেকে এর দূরত্ব প্রায় তিন মঞ্জিল এবং সালামিয়া থেকেও অনুরূপ দূরত্ব। এটি দামেস্ক থেকে উনষাট মাইল দূরে এবং আজ-জাহমা থেকে একশ দুই মাইল দূরে অবস্থিত। এটি সিরিয়ার আরব রাজন্যবর্গ আল-রাবিআ গোত্রের আবাসস্থল যারা বর্তমান সময় পর্যন্ত সেখানকার রাজা। একইভাবে সিরিয়ার মরুভূমির অন্তর্ভুক্ত হলো তায়মা, যা তায়্যি গোত্রের প্রধান কেন্দ্র। এখানে আস-সামাওয়াল ইবনে আদিয়া-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত 'আল-আবলাক আল-ফারদ' নামক সুপ্রসিদ্ধ দুর্গটি অবস্থিত। এছাড়া রয়েছে তাবুক, যা হিজর (সামুদ জাতির ভূমি) এবং সিরিয়ার মধ্যবর্তী একটি বিশাল শহর। সেখানে একটি প্রস্রবণ ও খেজুর বাগান রয়েছে। বলা হয় যে, সেখানে আইকাবাসী বাস করত, যাদের নিকট আল্লাহ শোয়াইব আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করেছিলেন।
আমি বলছি, মাদইয়ানও এর অন্তর্ভুক্ত: সেখানে আদ, তাসম, জাদিস, আমীম, জুরহুম, হাদরামাউত এবং তাদের সমগোত্রীয় প্রাচীন আরবদের আবাসস্থল ছিল। এরপর সামুদ জাতি সেখান থেকে হিজর (হা বর্ণে কাসরা সহযোগে) নামক স্থানে স্থানান্তরিত হয়, যা দুমাতুল জান্দালের দক্ষিণে এবং সিরিয়ার ভূমির অন্তর্ভুক্ত। তারা সেখানে ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত বসবাস করেছিল, যেমনটি পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। প্রাচীন আরবদের অবশিষ্ট অংশ যারা ইয়েমেনের মাদইয়ানে আদ ও অন্যান্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, তারা ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের পরে কাহতান বিন আবিরের বংশধরেরা সেখানে স্থলাভিষিক্ত হয়, যারা বর্তমান সময় পর্যন্ত মাদইয়ানের আরব হিসেবে পরিচিত। আমর ইবনে মুজাইকিয়া আরমের বন্যার আশঙ্কায় সেখান থেকে বের হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করছিল। অতঃপর যখন আরমের বন্যা সংঘটিত হলো, তখন তাদের অবশিষ্ট অংশও সেখান থেকে বেরিয়ে হিজাজ, ইরাক, সিরিয়া ও অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। হিজাজ ভূমি বনু আদনানের আবাসস্থল ছিল, যতক্ষণ না বুখত নাসর তাদের আক্রমণ করে এবং তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে ইরাকের আনবার অঞ্চলে স্থানান্তরিত করে। এরপর থেকে আরবরা প্রতিনিয়ত আরব উপদ্বীপ থেকে বিভিন্ন প্রান্তে হিজরত ও বিস্তৃত হতে থাকে, যতক্ষণ না ইসলামি বিজয় সম্পন্ন হলো। তখন তারা দেশসমূহের গভীরে প্রবেশ করে তুর্কি দেশ ও তার নিকটবর্তী এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এমনকি তারা সুদূর মাগরিব (মরক্কো), আন্দালুস উপদ্বীপ এবং সুদান পর্যন্ত পৌঁছে দিগন্ত পূর্ণ করে ফেলে এবং বিভিন্ন অঞ্চল আবাদ করে। ইয়েমেনের কিছু আরব হিজাজে এসে বসবাস শুরু করে এবং সম্ভবত হিজাজের কিছু আরব ইয়েমেনে গিয়ে বসতি স্থাপন করে। তাদের মধ্যে যারা হিজাজ ও ইয়েমেনে রয়ে গিয়েছিল, তারা বর্তমান সময় পর্যন্ত সেভাবেই আছে। আর যারা বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, তারা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত হয়ে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী সকল স্থান পূর্ণ করে ফেলেছে।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ২০)
الفصل الخامسفي بيان أمور يحتاجها الناظرفي علم الأنساب إليها وهي عشرة أمورالأول: قال الماوردي: إذاتباعدت الأنساب صارت القبائل شعوباً والعمائر قبائل. يعني: وتصير البطون عمائر، والافخاذ بطونا، والفصائل افخاذاً، والحادث من النسب بعد ذلك فصائل.
الثاني: قد ذكر الجوهري أن القبائل هي بنو أب واحد. وقال ابن حزم: جميع قبائل العرب راجعة إلىأب واحد سوى ثلاث قبائل وهي تنوخ والعتق وغسان فان كان كل قبيلة منها مجتمعة من عدة بطون وسيأتي بيان ذلك في الكلام على كل قبيلة من هذه القبائل الثلاث في موضعه إن شاء الله تعالى. نعم الأب الواحد قد يكون أباً لعدة بطون ثم أبو القبيلة قد يكون له عدة أولاد فيحدث عن بعضهم قبيلة أو قبائل فينسب إليه من هو منهم ويبقى بعضهم بلا ولد، أو يولد له ولم يشتهر ولده فينسب إلى القبيلة الأولى.
الثالث: إذا اشتمل النسب على طبقتين فأكثر كهاشم وقريش ومضر وعدنان جاز لمن في الدرجة الأخيرة من النسب أن ينتسب إلى الجميع فيجوز لبني هاشم أن ينتسبوا إلى هاشم وإلى قريش وإلى مضر وإلى عدنان فيقال في أحدهم الهاشمي، ويقال فيه القرشي والمضري والعدناني، بل قد قال الجوهري: إن النسبة إلى الأعلى تغني عن النسبة إلى الأسفل، فاذا قلت في النسبة إلى كلب بن وبرة الكلبي: استغنيت عن أن تنسبه إلى شيء من أصوله،
পঞ্চম অধ্যায়বংশলতিকা বিজ্ঞানের গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহের বর্ণনায়আর তা দশটি বিষয়প্রথম: আল-মাওয়ার্দি বলেছেন: যখন বংশধারা অনেক দূরে বিস্তৃত হয়, তখন গোত্রগুলো (কাবিলা) মহাগোত্রে (শুউব) এবং উপগোত্রগুলো (আমায়ির) গোত্রে পরিণত হয়। অর্থাৎ: শাখাগুলো (বুতুন) উপগোত্রে, উপশাখাগুলো (আফখায) শাখায় এবং পরিবারগুলো (ফাসায়িল) উপশাখায় পরিণত হয়; আর এরপর বংশধারা থেকে যা নতুন সৃষ্টি হয় তা পরিবার (ফাসায়িল) হিসেবে গণ্য হয়।
দ্বিতীয়: আল-জাওহারি উল্লেখ করেছেন যে, গোত্র (কাবিলা) হলো এক পিতার সন্তানাদি। ইবনে হাজম বলেছেন: আরবদের সমস্ত গোত্রই একজন পিতার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, কেবল তিনটি গোত্র ব্যতীত; সেগুলো হলো: তানুখ, আল-আতিক এবং গাসসান। কেননা এই গোত্রগুলোর প্রতিটি একাধিক শাখার (বাতন) সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ তাআলা, এই তিনটি গোত্র সম্পর্কে আলোচনার সময় যথাস্থানে এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে। হ্যাঁ, একজন পিতা কয়েকটি শাখার (বাতন) পিতা হতে পারেন, আবার গোত্রের আদিপিতার একাধিক সন্তান থাকতে পারে যার ফলে তাদের মধ্য থেকে কারো মাধ্যমে একটি বা একাধিক গোত্র সৃষ্টি হয় এবং যারা তাদের অন্তর্ভুক্ত তাদের সেই নামেই সম্বন্ধ করা হয়। আর কারো কারো কোনো সন্তান থাকে না, অথবা সন্তান থাকলেও সে প্রসিদ্ধি লাভ করে না, ফলে তাকে মূল গোত্রের দিকেই সম্বন্ধ করা হয়।
তৃতীয়: যখন কোনো বংশধারা দুই বা ততোধিক স্তর বিশিষ্ট হয়, যেমন হাশিম, কুরাইশ, মুদার এবং আদনান; তখন বংশলতিকার সর্বশেষ স্তরে থাকা ব্যক্তির জন্য সবার সাথেই নিজেকে সম্বন্ধ করা বৈধ। অতএব, বনু হাশিমের জন্য নিজেদেরকে হাশিম, কুরাইশ, মুদার এবং আদনানের দিকে সম্বন্ধ করা বৈধ। ফলে তাদের একজনকে হাশেমি বলা যায়, আবার কুরাইশি, মুদারি এবং আদনানিও বলা যায়। বরং আল-জাওহারি বলেছেন: উচ্চতর বংশের দিকে সম্বন্ধ করা নিম্নতর বংশের দিকে সম্বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে দেয়। সুতরাং আপনি যখন কালব বিন ওয়াবরা-এর দিকে সম্বন্ধ করে কাউকে 'কালবি' বলেন, তখন তাকে তার অন্যান্য মূল বংশধারার কোনোটির দিকে সম্বন্ধ করার প্রয়োজন থেকে আপনি অমুখাপেক্ষী হয়ে গেলেন।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ২১)
وذكر غيره أنه يجوز الجمع في النسب بين الطبقة العيا والطبقة السفلى، ثم يرى بعضهم تقديم العليا على السفلى مثل أن يقال في النسب إلى عثمان بن عفان الأموي العثماني، وبعضهم يرى تقديم السفلى على العليا فيقال العثماني الأموي.
الرابع: قد ينظم الرجل إلى غير قبيلته بالحلف والموالاة فينتسب اليهم فيقال فلان حليف بني فلان أو مولاهم، كما يقال في البخاري الجعفي مولاهم ونحوذلك.
الخامس: إذا كان الرجل من قبيلة ثم دخل في قبيلة أخرى جاز أن ينتسب إلى فبيلته الأولى وأن ينتسب إلى القبيلة التي دخل فيها، وأن ينتسب إلى القبيلتين جميعاً، مثل أن يقال التميمي ثم الوائلي، أو الوائلي ثم التميمي وما أشبه ذلك.
السادس: القبائل في الغالب تسمى الأب الوالد للقبيلة كربيعة ومضر والأوس والخزرج ونحو ذلك، وقد تسمى القبيلة باسم أم القبيلة كخندف وبجيلة ونحوهما وقد تسمى باسم خاص ونحو ذلك وقد تسمى القبيلة بغير هذا، وربما وقع اللقب على القبيلة بحدوث سبب كغسان حيث نزلوا على ماء يسمى غسان فسموا به كما سيأتي بيانه عند ذكر قبيلتهم في حرف الغين المعجمة إن شاء الله، وربما وقع اللقب على الواحد منهم فسموا به وقيل غير ذلك على ما سيأتي ذكره فيما يقال بلفظ الجمع في الألف واللام مع الراء المهملة إن شاء الله تعالى.
السابع: أسماء القبائل في اصطلاح العرب على خمسة أضرب:
أولها: أن يطلق على القبيلة لفظة الأب كعاد وثمود ومدين ومن شاكلهم وبذلك ورد القرآن كقوله تعالى: " وإلى عاد، وإلى ثمود، وإلى مدين "، يريد بني عاد وبني ثمود ونحو ذلك، وأكثر ما يكون ذلك
অন্য একজন উল্লেখ করেছেন যে, বংশপরম্পরায় উচ্চতর স্তর এবং নিম্নতর স্তরের মধ্যে সমন্বয় করা জায়েজ। এরপর তাদের কেউ কেউ নিম্নতর স্তরের ওপর উচ্চতর স্তরকে প্রাধান্য দেওয়া সমীচীন মনে করেন, যেমন উসমান বিন আফফানের বংশপরম্পরার ক্ষেত্রে বলা হয় 'আল-উমাওয়ি আল-উসমানি'। আবার তাদের কেউ কেউ উচ্চতর স্তরের ওপর নিম্নতর স্তরকে প্রাধান্য দেওয়া সমীচীন মনে করেন, ফলে বলা হয় 'আল-উসমানি আল-উমাওয়ি'।
চতুর্থত: কোনো ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধতা (হিলফ) বা আনুগত্যের (মুওয়ালাত) মাধ্যমে তার নিজ গোত্র ব্যতীত অন্য গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তখন সে সেই গোত্রের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত হয় এবং বলা হয় অমুক ব্যক্তি অমুক গোত্রের মিত্র (হালিফ) অথবা তাদের আজাদকৃত গোলাম (মাওলা)। যেমন ইমাম বুখারির ক্ষেত্রে বলা হয় 'আল-জু'ফি তাদের মাওলা' এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
পঞ্চমত: কোনো ব্যক্তি যদি কোনো একটি গোত্রের লোক হয় এবং পরবর্তীতে অন্য কোনো গোত্রে প্রবেশ করে, তবে তার জন্য তার প্রথম গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করা, অথবা যে গোত্রে সে প্রবেশ করেছে তার দিকে সম্বন্ধ করা, কিংবা উভয় গোত্রের দিকেই একযোগে সম্বন্ধ করা জায়েজ। যেমন বলা হয় 'আত-তামিমি অতঃপর আল-ওয়াইলি', অথবা 'আল-ওয়াইলি অতঃপর আত-তামিমি' এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।
ষষ্ঠত: অধিকাংশ ক্ষেত্রে গোত্রগুলোর নামকরণ সেই গোত্রের আদি পিতার নামে করা হয়, যেমন রাবিয়াহ, মুদার, আওস, খাজরাজ এবং এই জাতীয়। আবার কখনো কখনো গোত্রের নামকরণ গোত্রমাতার নামেও হয়ে থাকে, যেমন খিন্দিফ, বাজিলাহ এবং এই জাতীয়। কখনো কখনো কোনো বিশেষ নামে বা অন্য কোনোভাবেও নামকরণ হতে পারে। আবার কখনো কখনো কোনো কারণবশত কোনো লকব বা উপাধি গোত্রের ওপর প্রযুক্ত হয়, যেমন গাসসান; কেননা তারা গাসসান নামক একটি জলাশয়ের কাছে অবস্থান গ্রহণ করেছিল, ফলে সেই নামেই তারা পরিচিতি পায়, যেমনটি ইনশাআল্লাহ 'গাইন' বর্ণের আলোচনায় তাদের গোত্র প্রসঙ্গে বিস্তারিত আসবে। আবার কখনো কখনো গোত্রের কোনো একজনের উপাধি দ্বারা পুরো গোত্রটি পরিচিত হয়। এ ছাড়াও আরও কিছু বিষয় বলা হয়েছে যা ইনশাআল্লাহ 'রা' বর্ণ যোগে বহুবচন ব্যবহারের আলোচনায় সামনে আসবে।
সপ্তমত: আরবদের পরিভাষায় গোত্রগুলোর নাম পাঁচ প্রকারের হয়ে থাকে:
প্রথমত: গোত্রের ওপর তার আদি পিতার নাম প্রয়োগ করা, যেমন আদ, সামুদ, মাদইয়ান এবং তাদের অনুরূপ গোত্রসমূহ। পবিত্র কুরআনেও এভাবেই এসেছে যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর আদ সম্প্রদায়ের প্রতি", "আর সামুদ সম্প্রদায়ের প্রতি", "আর মাদইয়ান সম্প্রদায়ের প্রতি"। এখানে বনু আদ, বনু সামুদ এবং এই জাতীয় অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। আর এটিই সর্বাধিক প্রচলিত...
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ২২)
في الشعوب والقبائل العظام لا سيما في الأزمان المتقدمة بخلاف البطون والافخاذ ونحوهما.
وثانيهما: أن يطلق على القبيلة لفظ البنوة فيقال بنو فلان، وأكثر ما يكون ذلك في البطون والافخاذ والقبائل الصغار لا سيما في الازمان المتأخرة.
وثالثهما: أن ترد القبيلة بلفظ الجمع مع الألف واللام كالطالبيين والجعافرة ونحوهما، وأكثر ما يكون ذلك في المتأخرين دون غيرهم.
ورابعهما: أن يعبر عنها بآل فلان كآل ربيعة وآل فضل وآل علي وما أشبه ذلك، وأكثر ما يكون ذلك في الأزمنة المتأخرة لا سيما في عرب الشام في زماننا والمراد بالآل الأهل.
وخامسها: أنه يعبر عنها بأولاد فلان ولا يوجد ذلك إلا في المتأخرين في أفخاذ العرب على قلة.
الثامن: غالب أسماء العرب منقولة عما يدور في خزانة خيالهم مما يخالطونه ويجاورونه، أما من الحيوان كأسد ونمر، وأما من النبات كنبت وخنظلة، وأما من الحشرات كحية وحنس، وأما من أجزاء الأرض كفهر وصخر ونحو ذلك.
التاسع: الغالب على العرب تسمية أبنائهم بمكروه الأسماء ككلب وحنظلة وضرار وحرب وما أشبه ذلك، وتسمية عبيدهم بمحبوب الأسماء كفلاح ونجاح ونحوهما، والمعنى في ذلك ما يحكى أنه قيل لأبي القيس الكلابي لم تسمون أبناءكم بشر الاسماء نحو كلب وذئب، وعبيدكم بأحسن الاسماء نحو مرزوق ورباح. فقال: إنما نسمي أبناءنا لأعدائنا، وعبيدنا لأنفسنا. يريد أن الأبناء معدة للأعداء فاختاروا لهم شر الأسماء، والعبيد معدة لأنفسهم فاختاروا لهم خير الأسماء.
العاشر: إذا كان في القبيلة اسمان متوافقان كالحارث والحارث، وكالخزرج والخزرج وما أشبه ذلك، واحداهما من ولد الآخر أو بعده في الوجود عبروا عن الوالد والسابق منهما بالأكبر، وعن الوالد والمتأخر منهما بالأصغر، وربما وقع ذلك في الأخوين إذا كان أحدهما أكبر من الآخر.
বৃহৎ জাতি ও গোত্রসমূহের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রাচীন যুগে, যা ক্ষুদ্র শাখা (বতুন) ও উপশাখা (আফখায) এবং অনুরূপ বিষয়গুলোর বিপরীত।
দ্বিতীয়ত: গোত্রের ওপর 'বনু' (সন্তানাদি) শব্দ প্রয়োগ করা হয়, যেমন বলা হয় 'অমুকের বংশধর' (বনু অমুক)। এটি সাধারণত ক্ষুদ্র শাখা, উপশাখা এবং ছোট গোত্রগুলোর ক্ষেত্রে বেশি ঘটে, বিশেষ করে পরবর্তী যুগে।
তৃতীয়ত: গোত্রের নাম আলিফ ও লাম যুক্ত বহুবচন শব্দে আসা, যেমন 'আত-তালিবিয়্যুন' এবং 'আল-জা'আফিরা' ইত্যাদি। এটি অন্যদের তুলনায় পরবর্তী যুগের লোকদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
চতুর্থত: গোত্রকে 'আল' (অমুকের পরিবার) শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা, যেমন 'আল-রাবিয়াহ', 'আল-ফাদল', 'আল-আলি' এবং অনুরূপ অন্যান্য। এটি পরবর্তী যুগে অধিক প্রচলিত ছিল, বিশেষ করে আমাদের সময়ের সিরিয়ার আরবদের মধ্যে; আর 'আল' দ্বারা এখানে পরিবার বা পরিজন উদ্দেশ্য।
পঞ্চমত: গোত্রকে 'অমুকের সন্তানাদি' (আওলাদ) শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা। এটি আরবের উপশাখাগুলোতে পরবর্তী যুগের লোকদের মধ্যেই কেবল দেখা যায়, তাও সংখ্যায় অত্যন্ত কম।
অষ্টম: আরবদের অধিকাংশ নামই তাদের কল্পনার ভাণ্ডারে সঞ্চিত সেসব বিষয় থেকে গৃহীত যা তারা মেলামেশা বা সান্নিধ্যে দেখে থাকে। যেমন কোনো প্রাণীর নাম থেকে—যেমন আসাদ (সিংহ) ও নামির (চিতাবাঘ); অথবা কোনো উদ্ভিদ থেকে—যেমন নাবাত (চারাগাছ) ও হানযালা (তেতো ফল); অথবা কোনো কীটপতঙ্গ থেকে—যেমন হাইয়্যাহ (সাপ) ও হানাস (সর্পজাতীয় জীব); অথবা ভূমির অংশবিশেষ থেকে—যেমন ফিহর (নুড়ি পাথর) ও সাখর (শিলাখণ্ড) এবং অনুরূপ অন্যান্য।
নবম: আরবদের মধ্যে এটি প্রচলিত ছিল যে, তারা তাদের সন্তানদের শ্রুতিকটু বা কঠোর নাম রাখত, যেমন কালব (কুকুর), হানযালা (তিক্ত ফল), দিরার (ক্ষতি) ও হারব (যুদ্ধ) এবং অনুরূপ অন্যান্য। পক্ষান্তরে, তাদের দাসদের নাম রাখত শ্রুতিমধুর বা পছন্দনীয়, যেমন ফালাহ (সাফল্য), নাজাহ (সাফল্য) এবং অনুরূপ শব্দ। এর কারণ সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, আবু কায়স আল-কিলাবিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কেন আপনারা আপনাদের সন্তানদের কালব ও যি’ব (নেকড়ে)-এর মতো নিকৃষ্ট নামে ডাকেন, আর দাসদের মারযুক (রিযিকপ্রাপ্ত) ও রাবাহ (লাভ)-এর মতো সুন্দর নামে ডাকেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন: আমরা আমাদের সন্তানদের নাম রাখি আমাদের শত্রুদের জন্য, আর দাসদের নাম রাখি আমাদের নিজেদের জন্য। এর অর্থ হলো, সন্তানরা শত্রুদের মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকে, তাই তাদের জন্য কঠোর নাম নির্বাচন করা হয়; আর দাসরা নিজেদের সেবা ও ব্যবহারের জন্য, তাই তাদের জন্য সুন্দর ও কল্যাণকর নাম নির্বাচন করা হয়।
দশম: যদি কোনো গোত্রে একই রকম দুটি নাম থাকে, যেমন হারিস ও হারিস কিংবা খাযরাজ ও খাযরাজ এবং অনুরূপ, আর তাদের একজন অন্যজনের বংশধর হয় অথবা অস্তিত্বের দিক থেকে পরের হয়, তবে তারা পিতা বা পূর্ববর্তীজনকে 'আল-আকবার' (বড়) এবং সন্তান বা পরবর্তীজনকে 'আল-আসগার' (ছোট) হিসেবে প্রকাশ করত। কখনো কখনো দুই ভাইয়ের ক্ষেত্রেও এটি ঘটত যদি তাদের একজন অন্যজনের চেয়ে বড় হতো।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الباب الثانيالمقصد في معرفة تفاصيل أنساب قبائل العرب وفيه فصلان
الفصل الأولفي ذكر عمود نسب النبي صلى الله عليه وسلموما يتفرع عنه من الأنسابأما عمود نسب النبي صلى الله عليه وسلم فعلى ما ذكره ابن اسحاق في السيرة، وتبعه عليه ابن هشام: هو محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غال بن فهر بن مالك بن النظر ابن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن الياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان بن أدد بن مقوم بن ناحور بن تارخ بن يعرب بن يشجب بن نابت بن اسماعيل ابن ابراهيم عليه السلام ابن تارخ وهو آزر بن تاخور ابن شارخ بن ارغو ابن فالغ بن عابر بن شالخ بن أرفخشد بن سام بن نوح عليه السلام بن لامك ابن متو شلخ بن اخنوخ وهو ادريس عليه السلام ابن يرد بن مهلائيل بن قنين بن يافت بن شيث بن آدم عليه السلام. والاتفاق على هذا النسب الشريف إلى عدنان وفيما بعد عدنان إلى اسماعيل عليه السلام فيه خلاف كثير يأتي ذكره في الكلام على نسب عدنان في حرف العين المهملة إن شاء الله تعالى، بل قد منع بعضهم الرفع في النسب على عدنان تمسكاً بأنه ليس في ما وراء عدنان إلى آدم طريق صحيح كما صرح به النووي.
দ্বিতীয় অধ্যায়আরব গোত্রসমূহের বংশপরম্পরার বিস্তারিত পরিচিতি বিষয়ক উদ্দেশ্য এবং এতে দুটি পাঠ রয়েছেপ্রথম পাঠনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধারার মূল বিবরণ প্রসঙ্গেএবং তা থেকে বিস্তৃত অন্যান্য বংশপরম্পরানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধারার মূল বিবরণ ইবনে ইসহাক তার সীরাত গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে হিশাম তার অনুসরণ করেছেন, তা হলো: তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দ মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুজাইমাহ ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মাআদ ইবনে আদনান ইবনে আদাদ ইবনে মুকাওউয়িম ইবনে নাহুর ইবনে তারিখ ইবনে ইয়ারুব ইবনে ইয়াশজুব ইবনে নাবিত ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ইবনে তারিখ—যিনি আজর—ইবনে তাহুর ইবনে শারুখ ইবনে আরগু ইবনে ফালিগ ইবনে আবির ইবনে শালিহ ইবনে আরফাকশাদ ইবনে সাম ইবনে নূহ আলাইহিস সালাম ইবনে লামিক ইবনে মাতু শালাখ ইবনে আখনুখ—যিনি ইদ্রিস আলাইহিস সালাম—ইবনে ইয়ারদ ইবনে মাহলাঈল ইবনে কানিন ইবনে ইয়াফিত ইবনে শিস ইবনে আদম আলাইহিস সালাম। আদনান পর্যন্ত এই সম্মানিত বংশপরম্পরার ব্যাপারে ঐক্যমত রয়েছে, আর আদনানের পর হতে ইসমাইল আলাইহিস সালাম পর্যন্ত বংশধারার বিষয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা ‘আইন’ বর্ণের আলোচনায় আদনানের বংশপরম্পরা বর্ণনার সময় উল্লেখ করা হবে। বরং কেউ কেউ আদনানের ঊর্ধ্বে বংশপরম্পরা বর্ণনা করা থেকে নিষেধ করেছেন এই যুক্তিতে যে, আদনানের পর থেকে আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত পৌঁছানোর কোনো বিশুদ্ধ সূত্র নেই, যেমনটি ইমাম নববী স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قال القضاعي في عيون المعارف في أخبار الخلائف: وقد روى أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا تجاوزوا معد بن عدنان كذب النسابون ثم قرأ: " وقروناً بين ذلك كثيراً " ولو شاء أن يعلمه علمه، وذكر التوزي في شرح الشقراطيسة: أنه صلى الله عليه وسلم كرر: كذب النسابون مرتين أو ثلاثاً، قال: والصحيح أنه قول ابن مسعود. ويروى عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه قال: إنما ننسب إلى عدنان وما فوق ذلك لا ندري ما هو، وعن عروة بن الزبير رضي الله عنه أنه قال: ما وجدنا أحداً يعرف ما فوق عدنان واسماعيل الا تخرصا، ويحكى عن مالك بن أنس رضي الله عنه أنه سئل عن الرجل برفع نسبه إلى آدم عليه السلام فكره ذلك. فقيل له فالى اسماعيل: فأنكر ذلك. وقال: ومن يخبر به؟! والذي عليه البخاري وغيره من العلماء، موافقه ابن اسحاق على رفع النسب.
أما ما يتفرع عن الأنساب عن عمود النسب النبوي فلا خفاء. إن آدم عليه السلام هو أبو البشر ومبدأ النسل، وما يذهب إليه الفرس من أن مبدأ النسل من كيومرث الذي ينسب إليه الفرس فأنه مفسر بآدم عليه السلام عند أكثر المفسرين ثم لا نزاع في أن الأرض عمرت ببني آدم عليه السلام إلى زمن نوح وأنهم هلكوا بالطوفان الحاصل بدعوة نوح عليه السلام حين غلب فيهم الكفر وظهرت عبادة الاوثان، وأن الطوفان عم جميع الأرض ولا عبرة بما يذهب إليه الفرس من إنكار الطوفان ولا بما ذهب إليه بعضهم من تخصيصه باقليم بابل الذي كان به نوح عليه السلام. ثم قد وقع الاتفاق بين النسابين والمؤرخين أن جميع الأمم الموجودة بعد نوح عليه السلام جميعهم من بنيه دون من كان معه في السفينة، وعليه يحمل قوله تعالى: " ذرية من حملنا مع نوح ".
কুদায়ী 'উয়ুনুল মা'আরিফ ফি আখবারিল খুলাইফ' গ্রন্থে বলেছেন: বর্ণিত আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "তোমরা মা'আদ ইবনে আদনানকে অতিক্রম করো না, বংশবিশারদগণ মিথ্যা বলেছেন।" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: "এবং এর মধ্যবর্তী অনেক প্রজন্ম।" আর আল্লাহ যদি তাকে জানাতে চাইতেন তবে জানাতেন। তাওজি 'শরহুশ শাকরাতীয়্যাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) "বংশবিশারদগণ মিথ্যা বলেছেন" কথাটি দুই বা তিনবার পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি বলেন: সঠিক মত হলো এটি ইবনে মাসউদের উক্তি। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "আমরা কেবল আদনান পর্যন্তই বংশধারা বর্ণনা করি, আর এর উপরে যা আছে তা আমরা জানি না।" আর উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "আদনান এবং ইসমাইলের মধ্যবর্তী স্তরের বংশধারা সম্পর্কে আমরা কাউকে কেবল অনুমান ছাড়া আর কিছু জানতে দেখিনি।" মালিক ইবনে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তাকে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে নিজের বংশধারা আদম (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, তখন তিনি তা অপছন্দ করলেন। তাকে বলা হলো, তবে কি ইসমাইল পর্যন্ত? তিনি তাও অস্বীকার করলেন এবং বললেন: "কে তা বর্ণনা করবে?!" ইমাম বুখারী এবং অন্যান্য আলেমদের অভিমত হলো, বংশধারা উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইবনে ইসহাকের সাথে একমত পোষণ করা।
নববীয় বংশধারার মূল স্তম্ভ থেকে যে শাখাগুলো বিস্তৃত হয়েছে, তা অত্যন্ত স্পষ্ট। নিশ্চয়ই আদম (আলাইহিস সালাম) হলেন মানবজাতির পিতা এবং বংশপরম্পরার সূচনা। পারস্যবাসীরা যে মনে করে বংশপরম্পরার সূচনা কিউমারস থেকে, যাকে তারা নিজেদের আদিপুরুষ মনে করে, অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে তিনি আদম (আলাইহিস সালাম) হিসেবেই ব্যাখ্যাত। অতঃপর এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, পৃথিবী নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সময় পর্যন্ত আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তানদের দ্বারা আবাদ ছিল এবং নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর দুআয় সংঘটিত প্লাবনে তারা ধ্বংস হয়েছিল যখন তাদের মধ্যে কুফর প্রবল হয়েছিল এবং মূর্তিপূজা প্রকাশ পেয়েছিল। আর এই প্লাবন সমগ্র পৃথিবীব্যাপী ছিল; পারস্যবাসীদের প্লাবন অস্বীকার করার বিষয়টি এবং তাদের কারো কারো এটাকে কেবল নূহ (আলাইহিস সালাম) অবস্থানরত বাবেল অঞ্চলের জন্য নির্দিষ্ট করার দাবির কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এরপর বংশবিশারদ ও ঐতিহাসিকদের মধ্যে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পরে বিদ্যমান সকল জাতিই তাঁর সন্তানদের বংশধর, তাঁর সাথে নৌকায় আরোহণকারী অন্যদের বংশধর নয়। আর মহান আল্লাহর এই বাণীকেও এর ওপরই প্রয়োগ করা হয়: "হে তাদের বংশধর, যাদেরকে আমি নূহের সাথে আরোহণ করিয়েছিলাম।"
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وأما من عدا بنيه ممن كان معه في السفينة فقد روى: أنهم كانوا ثمانين رجلاً وأنهم هلكوا عن آخرهم ولم يعقبوا ثم اتفقوا أن جميع النسل من بنيه الثلاثة يافث وهو أكبرهم، وسام وهو أوسطهم، وحام وهو أصغرهم وقد ذكر ابن اسحاق أنه كان ليافث سبعة أولاد وهم كومر ويقال عومر، وياوان ويقال يافان وهو يونان، وماغوغ وهو طوبال، ويروى قطوبال، وماشح بالمهملة والمعجمة، ويروى كاشح بالمهملة والمعجمة، وطبراش، ووقع في الاسرائيليات زيادة ماذاي فصاروا سبعة، وذكر البيهقي ثامناً وهو علجان ووقع في كلام ابن سعيد زيادة سويل فيكونون تسعة. قال ابن اسحاق: وكان لسام خمسة أولاد ارفخشد. ولاوذ وارم. وآشور. وعيلام، وفي الاسرائيليات: أنه كان لحام أربعة أولاد وهم مصر وبعضهم يقول مصرائيم. وكنعان. وكوش. والذي ذكره أبراهيم بن وصيف شاه في كتاب العجائب أن مصر بن بيصر بن حام بن نوح عليه السلام فيكون حينئذ ابنان لابنه لصلبه. إذا علمت ذلك فكل أمة من الأمم ترجع إلى واحد من أبناء نوح الثلاثة على كثرة الخلاف في ذلك.
فالترك - من بني ترك بن كومر بن يافث، وقيل من بني طبراش بن يافث، ونسبهم ابن سعيد إلى ترك بن عامر بن سويل بن يافث. ويدخل في جنس الترك القبجاق وهم الخفشاخ والطغرغر وهم التتر، ويقال فيهم الططر بالطاء بدل التاء والخزلخية والخوز وهم
আর যারা তাঁর পুত্রগণ ছাড়া নৌকায় তাঁর সাথে ছিলেন, তাঁদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা আশি জন ব্যক্তি ছিলেন এবং তাঁরা সকলেই নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁদের কোনো বংশধর ছিল না। অতঃপর সকলে একমত হয়েছেন যে, মানবজাতির সমগ্র বংশধারা তাঁর তিন পুত্রের থেকেই বিস্তৃত: ইয়াফিস—যিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে সবার বড়, সাম—যিনি ছিলেন মেজ, এবং হাম—যিনি ছিলেন সবার ছোট। ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াফিসের সাতজন সন্তান ছিল। তাঁরা হলেন: কুমুর—যাকে উমুরও বলা হয়, ইয়াওয়ান—যাকে ইয়াফানও বলা হয় এবং তিনিই হলেন ইউনান, মাগুজ—যিনি তুবার, আবার কুতুবালও বর্ণিত হয়েছে, মাশিহ (নুক্তাবিহীন 'সীন' ও নুক্তাযুক্ত 'শীন' উভয় পাঠই রয়েছে), এবং কাশিহ (নুক্তাবিহীন 'সীন' ও নুক্তাযুক্ত 'শীন' উভয় পাঠই রয়েছে) বর্ণিত হয়েছে, এবং তিবরাশ। ইসরাইলি বর্ণনাগুলোতে 'মাদায়' নামটির আধিক্য পাওয়া যায়, ফলে তাঁরা সাতজন হন। বায়হাকী অষ্টম জন হিসেবে 'ইলজান'-এর নাম উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে সাঈদের বক্তব্যে 'সুইল' নামটির আধিক্য পাওয়া যায়, ফলে তাঁরা নয়জন হন। ইবনে ইসহাক বলেন: সামের পাঁচজন সন্তান ছিল: আরফাখশাদ, লাউয, ইরাম, আশুর এবং ইলাম। ইসরাইলি বর্ণনাগুলোতে এসেছে: হামের চারজন সন্তান ছিল: মিসর—কেউ কেউ তাঁকে মিসরাঈম বলেন, কানআন এবং কূশ। ইব্রাহিম ইবনে ওয়াসিফ শাহ তাঁর 'কিতাবুল আজায়িব'-এ যা উল্লেখ করেছেন তা হলো—মিসর ইবনে বায়সার ইবনে হাম ইবনে নূহ (আলাইহিস সালাম); সে ক্ষেত্রে তিনি তাঁর ঔরসজাত পুত্রের পুত্র হবেন। আপনি যখন বিষয়টি জানলেন, তখন এ ব্যাপারে অনেক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি জাতি নূহের এই তিন পুত্রের কোনো একজনের দিকেই পর্যবসিত হয়।
তুর্কিরা—হলো কুমুর ইবনে ইয়াফিসের পুত্র তুর্কের বংশধর। আবার বলা হয়েছে যে, তাঁরা ইয়াফিসের পুত্র তিবরাশের বংশধর। আর ইবনে সাঈদ তাঁদের বংশধারাকে তুর্ক ইবনে আমির ইবনে সুইল ইবনে ইয়াফিসের সাথে সম্পর্কিত করেছেন। তুর্কি জাতির অন্তর্ভুক্ত হলো কিপচাক—যাঁরা খিফশাখ নামেও পরিচিত, তঘুজঘুয—যাঁরা তাতার (তাঁদের নামের ক্ষেত্রে 'তা' এর পরিবর্তে 'ত্বা' দিয়ে ত্বত্বারও বলা হয়), খুযলাখিয়া এবং খুয। আর তাঁরা...
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الغز الذين كان منهم ملوك السلاجقة والهياطلة والخلج وبلادهم الصفد ويسمون بها أيضاً، والغور والعلان - ويقال الالان، والشركس والازكش والروس، فكلهم من جنس الترك نسبهم داخل في نسبهم.
والجرامقة - قوم ينتهي نسبهم إلى باسل بن آشور بن سام بن نوح عليه السلام وهم أهل الموصل في الزمن القديم من ولد جرموق بن آشور بن سام فيما قاله ابن سعيد، وقيل الجرامقة من ولد كاثر بن ارم بن سام فيما قاله غيره.
والجيل - وهم من أهل كيلان من بلاد الشرق من بني باسل بن آشور بن سام فيما قاله ابن سعيد.
والخوز - وهم التركمان من ولد توغرمان بن كومر بن يافث فيما وقع في الاسرائيليات وقيل من بني طبراش بن يافث وقيل نوع من الترك.
والديلم: من بني ماذاي بن يافث، وقال ابنسعيد من بني باسل بن آشور ابن سام، وقيل هم من العرب من بني باسل من طابخة من العدناينة، وضعفه أبو عبيدة.
والروم: قيل من بني كثيتم بن يوان، وهو يفان بن يافث وقيل من ولد رومي بن يونان بن علجان بن يافث، وقيل من ولد رعويل بن عيصو بن اسحاق بن إبراهيم عليه السلام. وقال الجوهري: من ولد روم بن عيصو المذكور.
والسريان من بني سوريان بن نبيط بن ماش بن آدم بن سام. قاله اين الكلبي.
والسند - في الاسرائيليات أنهم كانوا من بني شبا بن زعما بن كوش بن حام، وحكى الطبري عن ابن اسحاق أنهم من بني كوش بن حام وهو قريب من الأول.
والسودان: قال ابن سعيد: جميع أجناسهم من ولد حام، ونقل الطبري عن ابن اسحاق أن الحبشة من ولد كوش بن حام، والنوبة من ولد كنعان بن حام، والزنج من ولد كنعان أيضاً، وكذلك زغاوة،
ওগুজ, যাদের মধ্য থেকে সেলজুক, হায়াতিলাহ ও খালজ রাজবংশীয় রাজারা ছিলেন। তাদের দেশ হলো সাফাদ এবং তারা এই নামেই পরিচিত। এছাড়াও গুর, আলান (যাদের আল-আলানও বলা হয়), সার্কাসীয়, আজকাশ এবং রুশ—এরা সবাই তুর্কি জাতির অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের বংশধারা তুর্কিদের বংশলতিকার সাথেই যুক্ত।
জারামিকা—তারা এমন এক জাতি যাদের বংশধারা নূহ আলাইহিস সালামের পুত্র সামের বংশধর আশূরের পুত্র বাসিল পর্যন্ত পৌঁছায়। ইবনে সাঈদের মতে তারা প্রাচীনকালের মসুলবাসী এবং তারা আশূরের পুত্র সামের সন্তান জারমুকের বংশধর। অন্যমতে, জারামিকা ইরাম বিন সামের পুত্র কাথিরের বংশধর।
জীল—তারা পূর্বদেশীয় অঞ্চল কীলানের অধিবাসী এবং ইবনে সাঈদের মতে তারা আশূরের পুত্র সামের সন্তান বাসিলের বংশধর।
খুজ—তারা হলো তুর্কমেনীয়, যারা ইসরায়েলি বর্ণনা অনুযায়ী ইয়াফিসের পুত্র কুমারের সন্তান তুগারমানের বংশধর। কেউ কেউ বলেছেন তারা ইয়াফিসের পুত্র তিবরাশের বংশধর, আবার কেউ বলেছেন তারা তুর্কিদেরই একটি প্রকার।
দাইলাম: তারা ইয়াফিসের পুত্র মাযাইয়ের বংশধর। ইবনে সাঈদ বলেছেন তারা আশূরের পুত্র সামের সন্তান বাসিলের বংশধর। আবার কেউ কেউ মনে করেন তারা আরবের আদনানী বংশীয় তাবিখার পুত্র বাসিলের বংশধর; তবে আবু উবায়দাহ এই মতটিকে দুর্বল বলেছেন।
রোমান: বলা হয় তারা ইয়াফিসের পুত্র ইওয়ানের (বা ইয়াফান) সন্তান কাতিমের বংশধর। কেউ কেউ বলেন তারা ইয়াফিসের পুত্র আলজানের সন্তান ইউনানের পুত্র রুমির বংশধর। আবার কেউ বলেছেন তারা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পুত্র ইসহাকের সন্তান ঈসাউ-এর পুত্র রাউয়েলের বংশধর। জাওহারী বলেছেন: তারা উল্লিখিত ঈসাউ-এর পুত্র রুমের বংশধর।
সুরীয়রা হলো সামের পুত্র আদমের সন্তান মাশের পুত্র নাবীতের সন্তান সুরিয়ানের বংশধর। ইবনুল কালবী এ কথা বলেছেন।
সিন্দ—ইসরায়েলি বর্ণনা অনুযায়ী তারা হামের পুত্র কূশের সন্তান যামআর পুত্র শেবার বংশধর। তাবারী ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা হামের পুত্র কূশের বংশধর, যা প্রথম মতটির কাছাকাছি।
সুদান: ইবনে সাঈদ বলেছেন: তাদের সকল জাতি হামের বংশধর। তাবারী ইবনে ইসহাক থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, হাবশীরা হামের পুত্র কূশের বংশধর, নুবীয়রা হামের পুত্র কানআনের বংশধর এবং জাঞ্জ বা কৃষ্ণাঙ্গরাও কানআনের বংশধর; জাওয়াঘাও তদ্রূপ।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وذكر ابن سعيد أن الحبشة من بني حبش، والنوبة من بني نوبة أو من بني نوبي، والزنج من بني زنج، ولم يرفع في نسبهم فيحتمل أن يكونوا من أعقاب بني حام.
والصقالبة: عند الإسرائيليين من بني بازان بن يافث، وقيل من بني اشكونار: اشكنار بن توغرما بن كومر ابن يافث.
والصين: قيل من بني صيني بن ماغوغ بن يافث، وقيل من بني طوبال ابن يافث، وذكرهم شيوش مؤرخ الروم أنهم من بني ماغوغ بن يافث.
والعبرانيون: من ولد عام ربن شالخ بن ارفخشد بن سام، قاله الطبري.
والفرس: قال ابن اسحاق من ولد فارس بن لاود بن سام، وقال ابن الكلبي: من ولد فارس بن طيراش بن آشور بن سام، وقيل من ولد طيراش بن همدان بن يافث، وقيل من بني أميم بن لاود بن سام، ووقع للطبري أنهم من ولد رعوئيل بن عيصو بن اسحاق بن إبراهيم عليه السلام قال في العبر: والالتفات إلى هذا القول لأن ملك الفرس أقدم من ذلك.
والفرنج: قيل من ولد طوبال بن يافث، وقيل من ولد ريغاث بن كومر بن يافث، وقيل من ولد طوغرما بن كومر بن يافث.
والقبط - قال إبراهيم بن آصف شاه: من بني قبطيم بن مصر بن بيصر بن حام، وعند الاسرائيليين من ولد قفط بن حام، وقال هرشيوش: من ولد قبط ابن لاين بن مصرائيم بن حام.
ইবনে সাঈদ উল্লেখ করেছেন যে, হাবশিরা হাবাশের বংশধর, নুবিয়ানরা নুবা বা নুবির বংশধর এবং জানজরা জানজের বংশধর। তাদের বংশপরম্পরা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়নি, তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে তারা হামের বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত।
স্লাভ জাতি: ইসরায়েলিদের মতে তারা ইয়াফিসের পুত্র বাজানের বংশধর। আবার বলা হয়েছে তারা আশকুনারের বংশধর: অর্থাৎ ইয়াফিসের পুত্র কুমারের পুত্র তুগারমার পুত্র আশকিনার।
চীন: বলা হয়েছে তারা ইয়াফিসের পুত্র মাগুগের পুত্র সিনির বংশধর; আবার বলা হয়েছে তারা ইয়াফিসের পুত্র তুবালের বংশধর। রোমান ঐতিহাসিক শিউশ উল্লেখ করেছেন যে, তারা ইয়াফিসের পুত্র মাগুগের বংশধর।
হিব্রু জাতি: তারা সামের পুত্র আরফাকশাদের পুত্র শালিখের পুত্র আমের বংশধর, তাবারী এটি উল্লেখ করেছেন।
পারস্য জাতি: ইবনে ইসহাক বলেন, তারা সামের পুত্র লাউদের পুত্র ফারিসের বংশধর। ইবনুল কালবী বলেন, তারা সামের পুত্র আশুরের পুত্র তিরাশের পুত্র ফারিসের বংশধর। আবার বলা হয়েছে তারা ইয়াফিসের পুত্র হামদানের পুত্র তিরাশের বংশধর। অন্য এক মতে তারা সামের পুত্র লাউদের পুত্র উমাইমের বংশধর। তাবারীর বর্ণনায় এসেছে যে, তারা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র ইসহাকের পুত্র ঈসুর পুত্র রাউইলের বংশধর। 'আল-ইবার' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এই মতটি পর্যালোচনার দাবি রাখে, কারণ পারস্য রাজত্ব এর চাইতেও প্রাচীন।
ফ্রাঙ্ক জাতি: বলা হয়েছে তারা ইয়াফিসের পুত্র তুবালের বংশধর; আবার বলা হয়েছে তারা ইয়াফিসের পুত্র কুমারের পুত্র রিগাছের বংশধর; অন্য মতে তারা ইয়াফিসের পুত্র কুমারের পুত্র তুগারমার বংশধর।
কিবতি (কপ্ট) জাতি: ইব্রাহিম বিন আসিফ শাহ বলেন, তারা হামের পুত্র বাইসারের পুত্র মিসরের পুত্র কিবতিমের বংশধর। ইসরায়েলিদের মতে তারা হামের পুত্র কিফতের বংশধর। হারশিউশ বলেছেন: তারা হামের পুত্র মিসরাইমের পুত্র লাইনের পুত্র কিবতের বংশধর।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والقوط - بضم القاف، وهم أهل الاندلس في الزمن القديم من ولد ماغوغ ابن يافث وفيما قاله هرشيوش من ولد قوط بن حام، وقيل من ولد ماغوغ بن يافث.
والكرد - بضم الكاف، من بني إيران بن آشور بن سام، وإلى إيران هذا تنسب مملكة إيران التي كان فيها ملوك الفرس. قال المقر الشهابي ابن فضل الله في كتابه التعريف: يقال في المسلمين الكرد والكفار الكرج، وحينئذ يكون الكرد والكرج نسب واحد سوى.
والكنعانيون - الذي كان منهم جبابرة الشام من ولد كنعان بن حام. واللمان: بفتح اللام، من ولد طوبال بن يافث، ومواطنهم بالغرب إلى الشمال في شمال البحر الرومي.
النبط: بفتح الباء وهم أهل بابل في الزمن القديم. قال ابن الكلبي هم بنو نبيط بن آشور بن سام.
والهند: في الاسرائيليات أنهم من ولد دادان بن زعما بن كوش ابن حام، ونقل الطبري عن ابن اسحاق أنهم من بني كوش بن حام من غير واسطة.
والأرمن: وهم أهل الارمينية الذين بقاياهم ببلاد سيس قيل هم من ولد قموئيل بن ناخور امرأته ملكار بن تارخ وهو آزر وأبوه ناخور وهو من شاروغ، وتارخ هو أبو إبارهيم وناخور أخو إبراهيم عليه السلام.
والاثبان: عند بعض النسابين من ولد كاشح بن يافث، وعند الاسرائيلين من ولد ياوان وهو يونان بن يافث، وعند آخرين أنهم من شعوب بني عيصو بن اسحاق وهو قريب من الأول.
واليونان: قيل من ولد يونان وهو ياوان بن يافث، وقال البيهقي من بني يونان ابن علجان بن يافث،
আল-কুত (গথ) — ক্বফ বর্ণে পেশসহ; তারা প্রাচীনকালের আন্দালুসের অধিবাসী, যারা ইয়াফিসের পুত্র মাজুজের বংশধর। হিরশিউশ যা বলেছেন সেই অনুযায়ী তারা হামের পুত্র কুতের বংশধর। আবার বলা হয়েছে যে, তারা ইয়াফিসের পুত্র মাজুজের বংশধর।
আল-কুর্দ (কুর্দি) — কাফ বর্ণে পেশসহ; তারা সামের পুত্র আশুরের পুত্র ইরানের বংশধর। এই ইরানের নামানুসারেই ইরান সাম্রাজ্যের নামকরণ করা হয়েছে, যেখানে পারস্যের রাজারা ছিলেন। আল-মাকার আল-শিহাবি ইবন ফাদলুল্লাহ তাঁর ‘আত-তারিফ’ গ্রন্থে বলেছেন: মুসলমানদের ক্ষেত্রে ‘কুর্দ’ এবং কাফিরদের ক্ষেত্রে ‘কুরজ’ (জর্জিয়ান) বলা হয়; সেই হিসেবে কুর্দ এবং কুরজদের বংশলতিকা একই।
আল-কানআনিউন (কেনানীয়) — যাদের মধ্য থেকে সিরিয়ার পরাক্রমশালী শাসকরা (জাবাবিরাহ) ছিল; তারা হামের পুত্র কানআনের বংশধর। আল-লামান (জার্মান): লাম বর্ণে জবরসহ; তারা ইয়াফিসের পুত্র তুবালের বংশধর এবং তাদের আবাসস্থল হলো পশ্চিম থেকে উত্তর দিকে রোম সাগরের (ভূমধ্যসাগর) উত্তরে।
আন-নাবাত (নাবাতীয়): বা বর্ণে জবরসহ; তারা প্রাচীনকালের ব্যবিলনের অধিবাসী। ইবনুল কালবি বলেছেন, তারা সামের পুত্র আশুরের পুত্র নুবাইতের বংশধর।
আল-হিন্দ (ভারতীয়): ইসরায়েলি বর্ণনাসমূহে আছে যে, তারা হামের পুত্র কূশের পুত্র জামআর পুত্র দাদানের বংশধর। তাবারী ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি হামের পুত্র কূশের বংশধর।
আল-আরমান (আর্মেনীয়): তারা হলো আরমেনিয়ার অধিবাসী, যাদের অবশিষ্টাংশ সিস ভূখণ্ডে রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, তারা নাহোরের পুত্র কমুঈলের বংশধর; যার স্ত্রী ছিলেন তারাহর সন্তান মিলকার। এই তারাহ-ই হলেন আজর, আর তার পিতা ছিলেন নাহোর, যিনি শারুগ-এর বংশধর। তারাহ হলেন ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের পিতা এবং নাহোর হলেন ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ভাই।
আল-আসবান (স্পেনীয়): কোনো কোনো বংশবিশারদদের মতে তারা ইয়াফিসের পুত্র কাশিহ-এর বংশধর। ইসরায়েলিদের মতে তারা ইয়াওয়ানের বংশধর, যিনি হলেন ইয়াফিসের পুত্র ইউনান। অন্যদের মতে তারা ইসহাকের পুত্র ঈসুর বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত, যা প্রথম মতের কাছাকাছি।
আল-ইউনান (গ্রিক): বলা হয়েছে যে, তারা ইউনানের বংশধর, যিনি হলেন ইয়াফিসের পুত্র ইয়াওয়ান। বায়হাকী বলেছেন, তারা ইয়াফিসের পুত্র আলজানের পুত্র ইউনানের বংশধর।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল আরাবি ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরাব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وشذ الكندي فقال: يونان بن عابر وذكر أنه خرج من بلاد العرب مغاضباً لأخيه قحطان فنزل شرقي الخليج القسطنطيني، ورد عليه أبو العباس الناشئ بقوله:
تخلط يونان بقحطان ضلةً
… لعمري لقد باعدت بينهما جداً
واليونانيون: على ثلاثة أصناف اللطينيون، وهم بنو اللطين بن يونان، والاغريقيون وهم بنو أغريقس بن يونان، والكيتميون وهم بنو كيتم بن يونان. وإلى هذه الفرقة منهم يرجع نسب الروم فيما قيل.
وزويلة: وهم أهل برقة في القديم يقال أنهم من بني حويلة بن كوش ابن حام، ومنهم الطائفة الذين وصلوا صحبة جوهر المعزي باني القاهرة المنسوب اليهم باب زويلة وحارة زويلة بالقاهرة المعزية.
ويأجوج ومأجوج: قيل من ولد ماغوغ بن يافث، وقيل من ولد كومر بن يافث.
أما العرب الذين هم المقصود من وضع هذا التأليف فانهم على اختلاف قبائلهم وتباين شعوبهم من ولد سام باتفاق النسابين فبعضهم يرجع إلى لاوذ ابن سام، وبعضهم إلى ارم بن سام، وبعضهم يرجع إلى قحطان بن عابر بن شالخ بن رافخشد بن سام، وبعضهم يرجع إلى اسماعيل بن إبراهيم وبعضهم يرجع إلى مدين بن إبراهيم، وإبراهيم من ولد عامر بن شالخ بن ارفخشد بن سام على ما تقدم ذكره في عمود النسب.
والبربر: فيهم خلاف يرجع إلى أنهم هل هم من العرب أو من غيرهم وسيأتي ذكرهم في الكلام على القبائل عند ذكرهم فيما يقال بلفظ الجمع في الألف واللام مع الباء إن شاء الله تعالى.
আল-কিন্দি একটি বিচ্ছিন্ন মত পোষণ করে বলেছেন: ইউনান ইবনে আবির। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর ভাই কাহতানের প্রতি রাগান্বিত হয়ে আরবের ভূখণ্ড থেকে বের হয়ে যান এবং কনস্টান্টিনোপল উপসাগরের পূর্ব দিকে অবতরণ করেন। আবুল আব্বাস আন-নাশি তাঁর এই কথার প্রতিবাদ করে বলেছেন:
আপনি বিভ্রান্তিবশত ইউনানকে কাহতানের সাথে গুলিয়ে ফেলছেন
… আমার জীবনের কসম, আপনি তাদের উভয়ের মধ্যে অনেক বেশি ব্যবধান তৈরি করেছেন।
আর ইউনানি বা গ্রিকরা তিন প্রকার: লাতিনীয়—তারা ইউনানের পুত্র লাতিনের বংশধর; ইগ্রিকগণ—তারা ইউনানের পুত্র ইগ্রিকাসের বংশধর; এবং কিতিমীয়—তারা ইউনানের পুত্র কিতিমের বংশধর। কথিত আছে যে, রোমানদের বংশলতিকা তাদের এই শেষোক্ত দলের দিকেই ফিরে যায়।
আর যুওয়াইলা: তারা প্রাচীনকালের বারকার অধিবাসী। বলা হয় যে, তারা হামের পুত্র কুশের পুত্র হাওয়িলা-র বংশধর। তাদের মধ্য থেকে ওই দলটি যারা কায়রো শহরের নির্মাতা জাওহার আল-মুয়িজ্জির সঙ্গে এসেছিল, মুয়িজ্জিয়া কায়রোর ‘বাবু যুওয়াইলা’ (যুওয়াইলা তোরণ) এবং ‘হারাতু যুওয়াইলা’ (যুওয়াইলা পাড়া) তাদের নামেই নামকরণ করা হয়েছে।
ইয়াজুজ ও মাজুজ: বলা হয় যে, তারা ইয়াফিসের পুত্র মাগুগের বংশধর, আবার বলা হয় তারা ইয়াফিসের পুত্র কুমারের বংশধর।
আর আরবগণ—যাঁরা এই গ্রন্থ রচনার মূল উদ্দেশ্য—তাঁরা তাঁদের বিভিন্ন গোত্র ও নানা জাতিসত্তা সত্ত্বেও বংশবিদদের সর্বসম্মতিক্রমে সাম-এর বংশধর। তাঁদের কেউ কেউ সামের পুত্র লাউজের দিকে, কেউ সামের পুত্র ইরামের দিকে, কেউ সামের পুত্র আরফাখশাদের পুত্র শালিহের পুত্র আবিরের পুত্র কাহতানের দিকে, কেউ ইবরাহিমের পুত্র ইসমাইলের দিকে এবং কেউ ইবরাহিমের পুত্র মাদইয়ানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আর ইবরাহিম হলেন সামের পুত্র আরফাখশাদের পুত্র শালিহের পুত্র আমিরের বংশধর, যেমনটি বংশলতিকার ধারায় পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর বারবার (বার্বার) জাতি: তাদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে যে, তারা কি আরবদের অন্তর্ভুক্ত নাকি অন্য কোনো জাতির বংশধর। গোত্রসমূহের আলোচনায় যখন আলিফ-লাম ও বা যোগে বহুবচন শব্দে তাদের প্রসঙ্গ আসবে, তখন ইনশাআল্লাহু তাআলা তাদের কথা উল্লেখ করা হবে।