(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: -)
فيض المعين   (الملا على القاري)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: فيض المعين على جمع الأربعين في فضل القرآن المبين

المؤلف: علي بن (سلطان) محمد، أبو الحسن نور الدين الملا الهروي القاري (ت 1014هـ)

تحقيق وتخريج: محمد شكور بن محمود الحاجي أمرير المياديني

الناشر: مكتبة المنار، الزرقاء - الأردن

الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1987 م

عدد الصفحات: 61

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ফয়জুল মুঈন   (মোল্লা আলী কারী)

বিভাগ: কুরআনুল কারীমের জ্ঞান (علوم القرآن) এবং তাফসীরের মূলনীতি (أصول التفسير)


গ্রন্থ: ফয়জুল মুঈন আলা জাময়িল আরবাঈন ফি ফাদলিল কুরআনিল মুবীন

লেখক: আলী বিন (সুলতান) মুহাম্মদ, আবু হাসান নূরুদ্দীন মোল্লা হারভী কারী (মৃত্যু ১০১৪ হিজরি)

পাণ্ডুলিপি সম্পাদন (تحقيق) ও হাদিস সূত্র যাচাই (تخريج): মুহাম্মদ শুকুর বিন মাহমুদ আল-হাজ্জি আমীর আল-মায়াদিনী

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মানার, যারকা - জর্দান

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যাায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

رب زدني علماً يا كريم

الحمد لله الذي أنزل الفرقان، ونزل القرآن، وأنعم علينا بالإيمان، وأتم لنا بالإحسان.

والصلاة والسلام الأتمان الأكملان على سيد الخلق، وسند الحق محمد بن عبد الله من بني عدنان، وعلى آله الكرام، وأصحابه الفخام في كل زمان ومكان.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে মহানুভব প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী (ফুরকান) অবতীর্ণ করেছেন, কুরআন নাজিল করেছেন, আমাদের ঈমানের নেয়ামত দান করেছেন এবং ইহসানের মাধ্যমে আমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেছেন।

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং সত্যের ধারক বনী আদনান বংশোদ্ভূত মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর বর্ষিত হোক সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ ও সুনিপুণ দরুদ ও সালাম। তদ্রূপ তাঁর সম্মানিত পরিবারবর্গ এবং সকল যুগে ও স্থানে তাঁর মহান সাহাবীগণের ওপরও রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ১২)
أما بعد: فيقول خادم كتاب الله القديم، وحديث نبيه الكريم، المحتاج إلى بر ربه الباري علي بن سلطان محمد القاري.

هذه أربعون حديثا في فضائل القرآن، ومن تلاه على وجه الإحسان بقدر الإمكان.
অতঃপর: আল্লাহর অনাদি কিতাব এবং তাঁর সম্মানিত নবীর হাদিসের খাদেম, তাঁর সৃষ্টিকর্তা রবের অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী আলী ইবনে সুলতান মুহাম্মদ আল-কারী বলছেন।

এটি কুরআনের মর্যাদা এবং সাধ্যানুযায়ী যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে তা তিলাওয়াত করে, তাদের বিষয়ে চল্লিশটি হাদিসের একটি সংকলন।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الحديث الأول

فعن عثمان بن عفان رضي الله تعالى عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:) خيركم من تعلم القرآن وعلمه (.

- رواه أحمد، وأصحاب الكتب الستة.
প্রথম হাদিস

হযরত উসমান বিন আফফান (রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।"

- এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ এবং কুতুবে সিত্তা বা ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থের সংকলকগণ।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ১৪)
وفي رواية لابن ماجه عن سعد، ولفظه:) خياركم (.

ورواه ابن أبي دواد عن ابن مسعود، ولفظه:) خياركم من قرأ القرآن وأقرأه (.
ইবনে মাজাহ-তে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)-তে পাঠটি হলো: (তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম)।

এবং ইবনে আবি দাউদ এটি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যার পাঠ হলো: (তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন পাঠ করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়)।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الحديث الثاني

وعن عبد الله بن مسعود رضي الله تعالى عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) من قرأ حرفاً من كتاب الله، فله به حسنة، والحسنة بعشر أمثالها، لا أقو ل) الم (حرف، ولكن، ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف (.

- رواه الترمذي، قال: حديث حسن صحيح.
দ্বিতীয় হাদিস

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য এর বিনিময়ে একটি নেকি রয়েছে; আর প্রতিটি নেকি তার দশ গুণ হিসেবে প্রদান করা হয়। আমি বলি না যে, ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।”

- এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: হাদিসটি ভালো (حسن) বিশুদ্ধ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الحديث الثالث

وعن عمر بن الخطاب رضي الله تعالى عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:) إن الله تعالى يرفع بهذا الكتاب أقواماً، ويضع به آخرين (.

- رواه مسلم، وابن ماجه.
তৃতীয় হাদিস

ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা এই কিতাবের মাধ্যমে কোনো কোনো জাতিকে উচ্চমর্যাদায় আসীন করেন এবং এর মাধ্যমে অন্যদের অবনমিত করেন।)

- এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম এবং ইবনে মাজাহ।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الحديث الرابع

وعن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) يقول الرب تبارك وتعالى: من شغله القرآن عن ذكري، ومسألتي، أعطيته أفضل ما أعطي السائلين. وفضل كلام الله تعالى على سائر الكلام، كفضل الله تعالى على خلقه (.

- رواه الترمذي، وقال: حسن غريب.
চতুর্থ হাদিস

আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: মহিমান্বিত পালনকর্তা বলেন: যাকে কুরআন (অধ্যয়ন ও তিলাওয়াত) আমার জিকির এবং আমার নিকট প্রার্থনা করা হতে বিরত রাখে, আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের প্রদানকৃত বস্তুর চেয়েও শ্রেষ্ঠ কিছু দান করি। আর সমস্ত বাণীর ওপর আল্লাহর বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক সেরূপ, যেরূপ তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব।

- এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি হাসান (حسن) ও গরিব (غريب)।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الحديث الخامس

وعن أبي موسى الأشعري رضي الله تعالى عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) مثل المؤمن الذي يقرأ القرآن كمثل الأترجة، ريحها طيب، وطعمها طيب، ومثل المؤمن الذي لا يقرأ القرآن كمثل التمرة لا ريح لها، وطعمها حلو، ومثل المنافق الذي يقرأ القرآن كمثل الريحانة، ريحها طيب، وطعمها مر، ومثل المنافق الذي لا يقرأ القرآن كمثل الحنظلة ليس لها ريح وطعمها مر (.

وفي رواية:) مثل الفاجر (بدل) المنافق (.

- رواه أحمد، والبخاري، ومسلم، وأبو داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه.
পঞ্চম হাদিস

আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে মুমিন কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো উতরুজ্জাহ (সুগন্ধি লেবু জাতীয় ফল)-এর মতো, যার ঘ্রাণ চমৎকার এবং স্বাদও চমৎকার। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, যার কোনো ঘ্রাণ নেই কিন্তু স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক (منافق) কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো রায়হানা (সুগন্ধি ফুল)-এর মতো, যার ঘ্রাণ চমৎকার কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক (منافق) কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো হানজালা (মাকাল ফল)-এর মতো, যার কোনো ঘ্রাণ নেই এবং স্বাদও তিক্ত।"

একটি বর্ণনা (رواية)-এ ‘মুনাফিক (منافق)’-এর স্থলে ‘পাপাচারী (فاجر)’ শব্দের উল্লেখ রয়েছে।

- এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ, বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الحديث السادس

وعن أنس رضي الله تعالى عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) مثل المؤمن الذي يقرأ القرآن، كمثل الأترجة ريحها طيب، وطعمها طيب، ومثل المؤمن الذي لا يقرأ القرآن، كمثل التمرة لا ريح لها، وطعمها طيب، ومثل الفاجر الذي يقرأ القرآن كمثل الريحانة ريحها طيب، وطعمها مر، ومثل الفاجر الذي لا يقرأ القرآن، كمثل الحنظلة طعمها مر، ولا ريح لها، ومثل الجليس الصالح، كمثل صاحب المسك، إن لم يصبك منه شيء أصابك من ريحه، ومثل الجليس السوء، كمثل صاحب الكير، إن لم يصبك من سواده، أصابك من دخانه (.

- رواه أبو داود.
ষষ্ঠ হাদিস

আনাস (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (কুরআন পাঠকারী মুমিনের দৃষ্টান্ত হলো উতরুজ (লেবুজাতীয় ফল) এর ন্যায়; যার ঘ্রাণ উত্তম এবং স্বাদও উত্তম। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না তার দৃষ্টান্ত হলো খেজুরের ন্যায়; যার কোনো ঘ্রাণ নেই কিন্তু স্বাদ মিষ্টি। আর কুরআন পাঠকারী পাপাচারীর দৃষ্টান্ত হলো রায়হানার ন্যায়; যার ঘ্রাণ চমৎকার কিন্তু স্বাদ তিক্ত। এবং যে পাপাচারী কুরআন পাঠ করে না তার দৃষ্টান্ত হলো হানজালা (মাকাল ফল) এর ন্যায়; যার স্বাদ তিক্ত এবং যার কোনো সুঘ্রাণ নেই। আর সৎ সঙ্গীর দৃষ্টান্ত হলো কস্তুরি বহনকারীর ন্যায়; যদি তুমি তার নিকট থেকে কিছু প্রাপ্ত না-ও হও, তবে তার সুঘ্রাণ অবশ্যই পাবে। আর অসৎ সঙ্গীর দৃষ্টান্ত হলো কামারের হাপরের ন্যায়; যদি তার কালি তোমাকে স্পর্শ না-ও করে, তবে তার ধোঁয়া তোমাকে অবশ্যই আক্রান্ত করবে।)

- এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الحديث السابع

وعن عائشة رضي الله تعالى عنها، قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) الماهر بالقرآن مع السفرة الكرام البررة، والذي يقرأ القرآن، ويتتعتع فيه، وهو عليه شاق، فله أجران (.

وفي رواية:) الذي يقرأ القرآن، وهو يشتد عليه له أجران (.

- رواه البخاري، ومسلم، واللفظ له. وأبو داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه.
সপ্তম হাদিস

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যিনি কুরআনে পারদর্শী, তিনি সম্মানিত ও অনুগত লেখক ফেরেশতাদের সাহচর্যে থাকবেন। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তাতে আটকে যায় ও তা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান।"

অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে: "যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তা তার নিকট অত্যন্ত কঠিন হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান।"

— এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম, এবং শব্দাবলী তাঁর (মুসলিমের)। এছাড়া আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الحديث الثامن

وعن أبي ذر رضي الله تعالى عنه قال:) قلت: يا رسول الله أوصني: قال صلى الله عليه وسلم: عليك بتقوى الله. فإنها رأس الأمر كله. قلت: يا رسول الله زدني. قال: عليك بتلاوة القرآن، فإنه نور لك في الأرض، ونور لك في السماء (.

- رواه ابن حبان، وصححه في حديث طويل، ورواه ابن الضريس، وأبو يعلى.

عن أبي سعيد:) عليك بتقوى الله، فإنها جماع كل خير، وعليك بذكر الله، وتلاوة القرآن، فإنه نور لك في الأرض، وذكر لك في السماء، واخزن لسانك إلا من خير، فإنك بذلك تغلب الشيطان (.
অষ্টম হাদিস

আবু যার (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অসিয়ত করুন।’ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘তোমার ওপর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা আবশ্যক। কেননা এটিই সকল বিষয়ের মূল।’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে আরও উপদেশ দিন।’ তিনি বললেন, ‘তোমার ওপর কুরআন তিলাওয়াত করা আবশ্যক, কেননা তা তোমার জন্য জমিনে নূর (জ্যোতি) এবং আসমানেও তোমার জন্য নূর স্বরূপ।’

- এটি ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন এবং একটি দীর্ঘ হাদিসের মধ্যে একে সহিহ (صحيح) বলে গণ্য করেছেন; এছাড়াও ইবনুয যুরাইস এবং আবু ইয়ালা এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: ‘তুমি আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, কেননা তা সকল কল্যাণের সমষ্টি। আর তোমার ওপর আল্লাহর জিকির এবং কুরআন তিলাওয়াত করা আবশ্যক, কেননা তা তোমার জন্য জমিনে নূর এবং আসমানে তোমার জন্য সুখ্যাতি স্বরূপ। আর কল্যাণকর কথা ছাড়া তোমার জিহ্বাকে সংযত রাখো, কেননা এর মাধ্যমে তুমি শয়তানের ওপর বিজয় লাভ করবে।’
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الحديث التاسع

وعن جابر رضي الله تعالى عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:) القرآن شافع مشفع، وماحل مصدق، من جعله أمامه قاده إلى الجنة، ومن جعله خلف ظهره ساقه إلى النار (.

- رواه ابن حبان في صحيحه، والبيهقي في شعبه عنه، والبيهقي عن ابن مسعود.
নবম হাদিস

জাবির (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "কুরআন হলো এমন এক সুপারিশকারী যার সুপারিশ মঞ্জুর করা হয় এবং এমন এক বিবাদী যার অভিযোগ সত্য বলে গণ্য করা হয়। যে ব্যক্তি একে নিজের সামনে রাখবে, এটি তাকে জান্নাতের দিকে পরিচালিত করবে; আর যে ব্যক্তি একে নিজের পশ্চাতে ফেলে রাখবে, এটি তাকে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।"

- ইবনে হিব্বান এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং বায়হাকি তাঁর শুয়াবুল ইমান গ্রন্থে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; এছাড়া বায়হাকি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الحديث العاشر

وعن أبي أمامة الباهلي رضي الله تعالى عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:) اقرأوا القرآن، فإنه يوم القيامة شفيعاً لأصحابه.. (. الحديث.

- رواه مسلم.
দশম হাদিস

আবু উমামাহ আল-বাহিলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "তোমরা কুরআন পাঠ করো, কেননা কিয়ামতের দিন এটি তার সঙ্গীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে...।" হাদিস।

- এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الحديث الحادي عشر

وعن سهل بن معاذ الجهني، عن أبيه رضي الله تعالى عنه قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:) من قرأ القرآن، وعمل بما فيه ألبس والداه تاجا يوم القيامة، ضوؤه أحسن من ضوء الشمس في بيوت الدنيا، لو كانت فيكم، فما ظنكم بالذي عمل هذا؟ (.

- رواه أبو داود، والحاكم وقال: صحيح الإسناد.
একাদশ হাদিস

সাহল ইবনে মুয়াজ আল-জুহানি থেকে তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে, কিয়ামতের দিন তার পিতা-মাতাকে এমন একটি মুকুট পরানো হবে যার উজ্জ্বলতা পার্থিব গৃহসমূহে বিদ্যমান সূর্যের আলোর চেয়েও শ্রেষ্ঠ হবে—যদি তা তোমাদের মাঝে থাকত। সুতরাং যে ব্যক্তি স্বয়ং এর ওপর আমল করেছে, তার ব্যাপারে তোমাদের ধারণা কী?"

- এটি আবু দাউদ ও হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি সঠিক সনদ (صحيح الإسناد) বিশিষ্ট।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الحديث الثاني عشر

وعن أبي بريدة رضي الله تعالى عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) من قرأ القرآن، وتعلمه، وعمل به، ألبس والداه يوم القيامة تاجا من نور ضوؤه مثل ضوء الشمس، ويكس والداه حلتان لا تقوم بهما الدنيا، فيقولان: لم كسينا هذا، فيقال: بأخذ ولدكما القرآن (.

- رواه الحاكم، وقال صحيح على شرط مسلم.
দ্বাদশ হাদিস

আবু বুরাইদাহ (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল, তা শিক্ষা করল এবং তদানুযায়ী আমল করল, কিয়ামতের দিন তার পিতা-মাতাকে নূরের একটি মুকুট পরানো হবে যার উজ্জ্বলতা সূর্যের আলোর ন্যায়। আর তার পিতা-মাতাকে এমন দুটি পোশাক পরানো হবে যার সমতুল্য কোনো কিছু এই পৃথিবীতে নেই। তারা জিজ্ঞেস করবে: 'আমাদের কেন এই পোশাক পরানো হলো?' তখন বলা হবে: 'তোমাদের সন্তানের কুরআন ধারণ করার (শিক্ষা ও আমল করার) কারণে।'"

- আল-হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে ইমাম মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الحديث الثالث عشر

وعن أبي هريرة رضي الله تعالى عنه قال: عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:) يجيء صاحب القرآن يوم القيامة، فيقول القرآن: يا رب حله، فيلبس تاج الكرامة، ويقول: يا رب زده، فيلبس حلة الكرامة، ويقول: يا رب ارض عنه، فيرضى عنه. فيقال: اقرأ، وارق، ويزداد بكل آية حسنة (.

- رواه الترمذي، وحسنه، وابن خزيمة، والحاكم، وقال: صحيح الإسناد.
ত্রয়োদশ হাদিস

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "কিয়ামতের দিন কোরআনের সাথী (কোরআন তিলাওয়াতকারী) উপস্থিত হবে, তখন কোরআন বলবে: হে আমার রব! একে অলঙ্কৃত করুন। তখন তাকে সম্মানের মুকুট পরিধান করানো হবে। কোরআন পুনরায় বলবে: হে আমার রব! তাকে আরও বাড়িয়ে দিন। তখন তাকে সম্মানের পোশাক পরিধান করানো হবে। সে আবার বলবে: হে আমার রব! আপনি তার ওপর সন্তুষ্ট হোন। ফলে আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হবেন। এরপর তাকে বলা হবে: তুমি পাঠ করতে থাকো এবং ওপরের দিকে আরোহণ করতে থাকো। আর প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে তার একটি করে নেকি বৃদ্ধি করা হবে।"

- ইমাম তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান (حسن) বলেছেন। এছাড়া ইবনে খুজাইমা ও হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম বলেছেন: এটি সহিহ সনদ (صحيح الإسناد) বিশিষ্ট।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الحديث الرابع عشر

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله تعالى عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) يقال لصاحب القرآن: اقرأ، وارق، ورتل كما كنت ترتل في الدنيا، فإن منزلتك عند آخر آية تقرؤها (.

- رواه الترمذي، وأبو داود، وابن ماجه، وابن حبان في صحيحه، وقال الترمذي: حديث حسن صحيح.
চতুর্দশ হাদিস

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কুরআনের ধারককে বলা হবে: পাঠ করো এবং উচ্চ শিখরে আরোহণ করো, আর ঠিক সেভাবেই তারতিলের সাথে পাঠ করো যেভাবে তুমি দুনিয়াতে পাঠ করতে; কেননা তোমার মর্যাদা হবে তোমার পাঠ করা সর্বশেষ আয়াতের নিকট।"

- এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে; এবং ইমাম তিরমিজি বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌الحديث الخامس عشر

وعن ابن عمر رضي الله تعالى عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) لا حسد إلا على اثنتين: رجل آتاه الله هذا الكتاب، فقام به آناء الليل، وآناء النهار. ورجل أعطاه الله تعالى مالا، فتصدق به آناء الليل، وآناء النهار (.

- رواه البخاري ومسلم.
পঞ্চদশ হাদিস

ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "কেবলমাত্র দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঈর্ষা করা যায়: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ এই কিতাব (কুরআন) দান করেছেন, ফলে সে দিবা-রাত্রির বিভিন্ন প্রহরে তা নিয়ে (সালাতে) দণ্ডায়মান থাকে। এবং অন্য ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা সম্পদ দান করেছেন, অতঃপর সে তা থেকে দিবা-রাত্রির বিভিন্ন প্রহরে দান-সদকাহ করে।"

- এটি ইমাম বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الحديث السادس عشر

وعن أبي هريرة رضي الله تعالى عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال:) لا حسد إلا في اثنتين: رجل علمه القرآن، فهو يتلوه آناء الليل، وآناء النهار، فسمعه جار له، فقال: يا ليتني أوتيت مثل ما أوتي فلان، فعملت مثل ما يعمل.

ورجل آتاه الله مالا فهو يهلكه في الحل، فقال رجل: ليتني أوتيت مثل ما أوتي فلان، فعملت مثل ما يعمل (.

- رواه البخاري.
ষোড়শ হাদিস

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কেবল দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে ঈর্ষা করা বৈধ নয়: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং সে রাত ও দিনের বিভিন্ন প্রহরে তা তিলাওয়াত করে। তা শুনে তার এক প্রতিবেশী বলল: ‘হায়! আমাকে যদি অমুক ব্যক্তিকে যা দেওয়া হয়েছে তার অনুরূপ দেওয়া হতো, তবে আমিও তার মতো আমল করতাম।’

আর অন্য এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং সে তা বৈধ ও ন্যায়সঙ্গত পথে ব্যয় করে। তখন এক ব্যক্তি বলল: ‘হায়! আমাকে যদি অমুক ব্যক্তিকে যা দেওয়া হয়েছে তার অনুরূপ দেওয়া হতো, তবে আমিও তার মতো আমল করতাম।’"

- বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌الحديث السابع عشر

وعن ابن عمر رضي الله تعالى عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) ثلاثة لا يهولهم الفزع الأكبر، ولا ينالهم الحساب، هم على كثيب من مسك حتى يفرغ من حساب الخلائق: رجل قرأ القرآن ابتغاء وجه الله تعالى، وأم به قوماً، وهم راضون.

وداع يدعو إلى الصلاة ابتغاء وجه الله عز وجل. وعبد أحسن بينه، وبين ربه، وفيما بينه وبين مواليه (.

- رواه الطبراني في الأوسط، والصغير بإسناد لا بأس به، وفي الكبير نحوه، وزاد في أوله: قال ابن عمر: لو لم أسمعه من رسول الله إلا مرة، ومرة، حتى عد سبع مرات لا حدثت به. ولفظ الكبير على ما في الجامع الصغير:) ثلاثة على كثبان المسك يوم القيامة، لا يهولهم الفزع، ولا يفزعون حتى يفرغ الناس: رجل تعلم القرآن، فقام به يطلب وجه الله، ورجل نادى
সপ্তদশ হাদিস

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (তিন ব্যক্তি এমন যাদেরকে মহাসন্ত্রাস ভীতবিহ্বল করবে না এবং তারা হিসাবের সম্মুখীন হবে না; তারা মিশকের টিলার ওপর অবস্থান করবে যতক্ষণ না মাখলুকাতের হিসাব-নিকাশ শেষ হয়: এমন ব্যক্তি যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরআন তিলাওয়াত করেছে এবং তা দিয়ে কোনো সম্প্রদায়ের ইমামতি করেছে এমতাবস্থায় যে তারা তার ওপর সন্তুষ্ট।

এবং এমন এক আহ্বানকারী যে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নামাজের দিকে আহ্বান জানায়। আর এমন এক দাস যে তার ও তার রবের মধ্যকার সম্পর্ক এবং তার ও তার মনিবদের মধ্যকার সম্পর্ক সুন্দর করেছে।)

- তাবারানি এটি আল-আওসাত এবং আস-সগির গ্রন্থে সন্তোষজনক (لا بأس به) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং আল-কাবির গ্রন্থেও এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এর শুরুতে বর্ধিত অংশ রয়েছে: ইবনে উমর বলেন, "আমি যদি এটি রাসূলুল্লাহ থেকে একবার, দুইবার—এভাবে তিনি সাতবার পর্যন্ত গণনা করলেন—না শুনতাম, তবে আমি তা বর্ণনা করতাম না।" আল-জামিউস সগির-এ আল-কাবির-এর শব্দাবলি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে: (কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তি মিশকের টিলার ওপর থাকবে, মহাসন্ত্রাস তাদের ভীতবিহ্বল করবে না এবং তারা আতঙ্কিত হবে না যতক্ষণ না মানুষের হিসাব শেষ হয়: এমন ব্যক্তি যে কুরআন শিক্ষা করেছে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্বেষায় তা নিয়ে দণ্ডায়মান হয়েছে, এবং এমন ব্যক্তি যে আহ্বান করেছে...
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
في كل يوم وليلة خمس صلوات يطلب وجه الله وما عنده، ومملوك لم يمنعه رق الدنيا عن طاعة ربه (.
প্রতিটি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, যার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁর নিকট যা রয়েছে তা অন্বেষণ করা হয়; এবং এমন এক ক্রীতদাস, যাকে পার্থিব দাসত্ব তার রবের আনুগত্য হতে বিরত রাখেনি (
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌الحديث الثامن عشر

وعن أبي هريرة رضي الله تعالى عنه قال:

) بعث رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم بعثاً، وهم ذو عدد، فاستقرأهم، فاستقرأ كل رجل منهم - يعني ما معه من القرآن - فأتى على رجل من أحدثهم سناً، فقال: ما معك يا فلان؟ قال: معي كذا، وكذا، وسورة البقرة. قال: أمعك سورة البقرة؟ قال: نعم. فقال: اذهب، فأنت أميرهم. فقال رجل من أشرافهم: والله ما منعني أن أتعلم البقرة إلا خشية ألا أقوم بها. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: تعلموا القرآن، واقرأوه، فإن مثل القرآن لمن تعلمه، فقرأه، وقام به كمثل جراب محشو مسكاً، يفوح ريحه في كل مكان، ومثل من تعلمه، فيرقد، وهو في جوفه كمثل جراب أوكي على مسك (.

- رواه الترمذي، واللفظ له، وقال: حديث حسن، وابن ماجه مختصراً وابن حبان في صحيحه.
অষ্টাদশ হাদিস

আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:

) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি সেনাদল প্রেরণ করলেন এবং তাঁরা সংখ্যায় অনেক ছিলেন। তিনি তাদের কুরআন তিলাওয়াত পরীক্ষা করলেন—অর্থাৎ তাদের প্রত্যেকের নিকট কুরআনের কতটুকু অংশ (মুখস্থ) আছে তা যাচাই করলেন। তিনি তাদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট এক ব্যক্তির নিকট আসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন: "হে অমুক! তোমার কাছে (মুখস্থ) কী আছে?" সে বলল: "আমার কাছে অমুক অমুক সূরা এবং সূরা আল-বাকারাহ আছে।" তিনি বললেন: "তোমার নিকট কি সূরা আল-বাকারাহ আছে?" সে উত্তর দিল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "যাও, তুমিই তাদের আমির।" তখন তাদের মধ্য হতে এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি বলল: "আল্লাহর কসম! সূরা আল-বাকারাহ শিখতে আমাকে কেবল এই আশঙ্কাই বাধা দিয়েছে যে, আমি হয়তো এর যথাযথ হক আদায় করে আমল করতে পারব না।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা কুরআন শেখো এবং তা তিলাওয়াত করো। কেননা যে ব্যক্তি কুরআন শেখে, তা পাঠ করে এবং তা নিয়ে (সালাতে) দণ্ডায়মান হয়, তার উদাহরণ হলো কস্তুরীপূর্ণ একটি চামড়ার থলে, যার সুগন্ধি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি তা শেখে কিন্তু তা তার অন্তরে থাকা অবস্থায় সে ঘুমিয়ে থাকে (অর্থাৎ সে অনুযায়ী আমল বা তিলাওয়াত করে না), তার উদাহরণ হলো মুখ বন্ধ করা কস্তুরীর থলে।" (

- এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস তাঁরই। তিনি বলেছেন: এটি হাসান (حسن) হাদিস; ইবনে মাজাহ এটি সংক্ষেপে এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌الحديث التاسع عشر

وعن عبد الله بن عمرو رضي الله تعالى عنهما قال: قال رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم:) من قرأ القرآن، فقد استدرج النبوة بين جنبيه، غير أنه لا يوحى إليه، لا ينبغي لصاحب القرآن أن يجد مع جد، ولا يجهل مع جهل، وفي جوفه كلام الله تعالى (.

- رواه الحاكم، وقال: صحيح الإسناد.
উনবিংশতম হাদিস

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল, সে যেন তার দুই পার্শ্বের মাঝে (অর্থাৎ নিজের ভেতরে) নবুওয়াতকে সন্নিবেশিত করে নিল; তবে পার্থক্য এই যে, তার প্রতি ওহী প্রত্যাদেশ করা হয় না। কুরআনের সঙ্গীর (ধারক) জন্য সংগত নয় যে, সে কারো ক্রোধের বিপরীতে ক্রোধ প্রকাশ করবে কিংবা কারো অজ্ঞতাসুলভ আচরণের বিপরীতে অজ্ঞতা প্রদর্শন করবে, অথচ তার অন্তরে মহান আল্লাহর কালাম রয়েছে।"

- ইমাম হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি সহিহ সনদের (صحيح الإسناد)।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌الحديث العشرون

وعنه، قال: قال رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم:) الصيام، والقرآن يشفعان للعبد، يقول الصيام: رب إني منعته الطعام، والشراب بالنهار، فشفعني فيه - ويقول القرآن: منعته النوم بالليل، فشفعني فيه - فيشفعان (.

- رواه أحمد وابن أبي الدنيا في كتاب الجوع، والطبراني في الكبير، والحاكم، واللفظ له، وقال: صحيح على شرط مسلم.
বিংশতম হাদিস

তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "রোজা ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে: হে আমার রব! আমি তাকে দিনে পানাহার থেকে বিরত রেখেছিলাম, সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে: আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছিলাম, সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতঃপর তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে।"

- এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ, ইবনে আবিদ দুনিয়া তাঁর 'কিতাবুল জু' গ্রন্থে, তাবারানি 'আল-কাবির' গ্রন্থে এবং হাকেম; আর বর্ণিত শব্দাবলি হাকেমের। তিনি বলেন: এটি মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌الحديث الحادي والعشرون

وعن أبي ذر رضي الله تعالى عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) إنكم لا ترجعون إلى الله تعالى بشيء أفضل مما خرج منه - يعني القرآن - ظهر منه (.

- رواه الحاكم، وصححه، ورواه أبو داود في مراسيله.
একুশতম হাদিস

আবু যার (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয় তোমরা আল্লাহ তাআলার নিকট এমন কোনো শ্রেষ্ঠ আমল নিয়ে ফিরে যেতে পারবে না যা তাঁর থেকে নির্গত হয়েছে—অর্থাৎ কুরআন—তার চেয়ে অধিক উত্তম; যা তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।"

- আল-হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে আখ্যায়িত করেছেন; আর আবু দাউদ এটি তাঁর বিচ্ছিন্ন (مراسيل) হাদিসসমূহের সংকলনে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌الحديث الثاني والعشرون

وعن أنس رضي الله تعالى عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) إن لله أهلين من الناس. قالوا: من هم يا رسول الله؟ قال: أهل القرآن هم أهل الله، وخاصته (.

- رواه النسائي، وابن ماجه، والحاكم، وصححه المنذري.
বাইশতম হাদিস

আনাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে আল্লাহর কিছু পরিজন রয়েছেন।" তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! তাঁরা কারা?" তিনি বললেন: "কুরআন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ ব্যক্তিবর্গ।"

- এটি বর্ণনা করেছেন নাসায়ি, ইবনে মাজাহ ও হাকিম এবং মুনজিরি একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌الحديث الثالث والعشرون

وعن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما قال:) من قرأ القرآن لم يرد إلى أرذل العمر، وذلك قوله تعالى: (ثُمَّ رَدَدناهُ أَسفَلَ سافِلينَ إِلّا الَّذينَ آمَنوا) قال: إلا الذين قرأوا القرآن (.

- رواه الحاكم، وقال: صحيح الإسناد.
তেইশতম হাদিস

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে তাকে বার্ধক্যের নিকৃষ্টতম পর্যায়ে ফিরিয়ে নেয়া হবে না। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণীর মর্ম: (অতঃপর আমি তাকে হীনতমদের হীনতমে পরিণত করেছি, তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে)। তিনি বলেন: (এর অর্থ হলো) তারা ব্যতীত যারা কুরআন পাঠ করেছে।"

- আল-হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি বিশুদ্ধ সনদ (صحيح الإسناد) বিশিষ্ট।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ৪৩)
‌‌الحديث الرابع والعشرون

وعن ابن عباس رضي الله تعالى عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) أشراف أمتي حملة القرآن، وأصحاب الليل (.

- رواه البيهقي في شعب الإيمان، وابن أبي الدنيا.
চব্বিশতম হাদিস

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গ হলেন কুরআনের বাহক এবং শেষ রাতের ইবাদতকারীগণ।"

- এটি বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফায়দুল মুইন (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌الحديث الخامس والعشرون

وعن عبد الرحمن بن شبل الأنصاري رضي الله تعالى عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال:) اقرأوا القرآن، واعملوا به، ولا تجفوا عنه، ولا تغلوا فيه، ولا تأكلوا به، ولا تستكثروا به (.

- رواه أحمد، وأبو يعلى، والطبراني، والبيهقي.
পঁচিশতম হাদিস

আবদুর রহমান ইবনে শিবল আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: “তোমরা কুরআন পাঠ করো এবং তদনুযায়ী আমল করো। এটি থেকে বিমুখ হয়ো না, এতে অতিরঞ্জন করো না, এর দ্বারা আহার্য গ্রহণ করো না এবং এর মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা করো না।”

— এটি আহমাদ, আবু ইয়ালা, তাবারানি এবং বায়হাকি বর্ণনা করেছেন।