(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: -)
حلية البشر في تاريخ القرن الثالث عشر   (عبد الرزاق البيطار)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: حلية البشر في تاريخ القرن الثالث عشر

المؤلف: عبد الرزاق بن حسن بن إبراهيم البيطار الميداني الدمشقي (ت 1335هـ)

حققه ونسقه وعلق عليه حفيده: محمد بهجة البيطار - من أعضاء مجمع اللغة العربية

الناشر: دار صادر، بيروت

الطبعة: الثانية، 1413 هـ - 1993 م

عدد الصفحات: 1628

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ত্রয়োদশ শতাব্দীর ইতিহাসে মানবজাতির ভূষণ   (আবদুর রাজ্জাক আল-বিতার)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: ত্রয়োদশ শতাব্দীর ইতিহাসে মানবজাতির ভূষণ

লেখক: আবদুর রাজ্জাক বিন হাসান বিন ইব্রাহিম আল-বিতার আল-মাইদানি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ১৩৩৫ হিজরি)

সম্পাদনা, বিন্যাস ও টীকা প্রদান করেছেন তাঁর পৌত্র: মুহাম্মদ বাহজাত আল-বিতার - আরবি ভাষা একাডেমির সদস্য

প্রকাশক: দার সাদির، বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬২৮

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌الجزء الأول

‌‌المقدمة

‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

أحمد الله وأسبحه عن كل ما لا يليق بكماله، وأقدسه عما يقصر عن رفيع جلاله وبديع جماله، وأستمنحه وهو المانح لكل مطلوب، وأستفتحه وهو الفاتح لمرتجي نعمه أبواب الغيوب، واشكره شكر عبد لم يشهد في الوجود سواه، وأذكره وهو الذاكر والمذكور لا إله إلا إياه، وأبرأ إليه من كل قوة وحول، وأستجديه وهو المجدي لكل حباء وطول، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له المنفرد بالبقاء، والمتباعد عما حكم به على عباده من الموت والفناء، وأصلي وأسلم مدى الليالي والأيام، أكمل صلاة لائقة وأتم سلام، على من أبدع مبدع الوجود إيجادَه على أعلى كمال، ونظم به عقد الدين بن الغواية والضلال، وهو النبي العربي الذي لم ينطق عن الهوى، ولا ضل من اتبعه عن المنهج الصواب ولا غوى، محمد المبعوث من صفوة العرب المستوين على عرش البلاغة، والمحتوين من بديع المعاني على ما لم يبلغ أحد بلاغه، فجاءهم بما ألجأهم إلى الإقرار بأنه قطب مدار الإنسان، وبحور فلك الفصاحة والبلاغة والمعاني والبيان، فتالله وبالله إنه لهو المفحم والمعجز، الذي أعيا الواصفين سواء المطنب منهم والموجز، لا برحت نوافح الصلوات تحيي مرقده الشريف كل أوان، ما لاح برق أو ناح ورق أو تعاقب الملوان، وأصل ذلك بطلب الرضوان لآله وأصحابه وعلماء أمته، الناهجين منهجه الأسنى، والمعتصمين بحبل شريعته وسنته، وأسأله تعالى أن يعم جميع تابعيه بوافر إحسانه، وأن ينعم عليهم بما يجذبهم لجوده
প্রথম খণ্ড

ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি এমন সব কিছু থেকে যা তাঁর পূর্ণতার জন্য সমীচীন নয়। আমি তাঁকে পবিত্র জ্ঞান করছি এমন সব কিছু থেকে যা তাঁর সুউচ্চ মহিমা এবং অনুপম সৌন্দর্যের তুলনায় কম। আমি তাঁর কাছেই প্রার্থনা করছি, আর তিনিই সকল অভীষ্ট বস্তুর দাতা। আমি তাঁর কাছেই সাহায্য ও বিজয় প্রার্থনা করছি, আর তিনিই তাঁর অনুগ্রহ প্রত্যাশীদের জন্য অদৃশ্যের সকল দ্বার উন্মুক্তকারী। আমি তাঁর প্রতি এমন এক বান্দার ন্যায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে অস্তিত্বের মাঝে তিনি ছাড়া আর কাউকে প্রত্যক্ষ করে না। আমি তাঁকে স্মরণ করছি, অথচ তিনিই স্মরণকারী ও স্মরিত; তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি সকল শক্তি ও সামর্থ্য থেকে বিমুখ হয়ে কেবল তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করছি। আমি তাঁর কাছেই যাচনা করছি, আর তিনিই সকল উপহার ও অনুগ্রহের দাতা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; স্থায়িত্বে তিনি অদ্বিতীয়। তিনি সেই মৃত্যু ও বিনাশ থেকে মুক্ত যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। আমি দিবা-রাত্রির পরিক্রমায় সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও উপযুক্ত সালাত এবং পরিপূর্ণ সালাম পেশ করছি তাঁর ওপর, যাঁকে অস্তিত্বের মহান স্রষ্টা সর্বোচ্চ পূর্ণতায় সৃষ্টি করেছেন এবং যাঁর মাধ্যমে পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহীর মাঝে দ্বীনের সুশৃঙ্খল মালা গেঁথেছেন। তিনি হলেন সেই আরব নবী, যিনি নিজের খেয়াল-খুশি মতো কোনো কথা বলেন না এবং তাঁর অনুসারীরাও সত্য পথ থেকে বিচ্যুত বা বিভ্রান্ত হয় না। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যিনি আরবের সেই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্য হতে প্রেরিত হয়েছেন যারা অলঙ্কারশাস্ত্রের আরশে উঠেছিলেন এবং সূক্ষ্ম অর্থমাধুর্যের এমন শিখর জয় করেছিলেন যেখানে আর কেউ পৌঁছাতে পারেনি। অতঃপর তিনি তাঁদের নিকট এমন এক সত্য নিয়ে এলেন যা তাঁদেরকে স্বীকার করতে বাধ্য করল যে, তিনিই হলেন মানব আবর্তনের মূল কেন্দ্র এবং বাকপটুতা, অলঙ্কারশাস্ত্র, অর্থ ও বর্ণনার আকাশের সুবিশাল সমুদ্র। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই এটি সেই নিরুত্তরকারী মোজেজা যা বর্ণনাকারীদের অক্ষম করে দিয়েছে, চাই তারা বিস্তারিত বর্ণনাকারী হোক কিংবা সংক্ষিপ্ত। দরুদ ও সালামের সুগন্ধি বাতাস সর্বদা তাঁর পবিত্র রওজাকে সজীব রাখুক, যতক্ষণ আকাশে বিদ্যুৎ চমকাবে, কপোত ডাকবে অথবা দিন-রাত্রির আবর্তন ঘটবে। আমি এর সাথে তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং তাঁর উম্মতের আলেমদের জন্যও আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রার্থনা করছি, যাঁরা তাঁর সর্বোত্তম পথ অনুসরণকারী এবং তাঁর শরীয়ত ও সুন্নাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর সকল অনুসারীকে অঢেল অনুগ্রহ দ্বারা বেষ্টন করে নেন এবং তাঁদেরকে এমন নেয়ামত দান করেন যা তাঁদেরকে তাঁর পরম বদান্যতার প্রতি আকৃষ্ট করে।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٤)
ورضوانه، إنه هو المجيب لكل طالب وسائل، والقريب الذي من دعاه استمسك بأنفع الوسائل.

أما بعد فيقول العبد الفقير، والضعيف الحقير، المتبرىء من كل حول وقوة، والمتبوىء نفسه لخدمة ذوي الفضل والفتوة، الأسير الفاني، والكسير الجاني، المفتقر إلى عفو مولاه المحسان الغفار، عبد الرزاق ابن المرحوم حسن بن إبراهيم البيطار أصلح الله خلل حاله، ونشله بمنه وكرمه من نكبة أوحاله، أن أحلى ما يتحلى به جيد الإنسان، وأولى ما يتملى منه الأديب الولهان، علم يكتسي به ويكتسبه، وفضل يتزين به وينتخبه، وفائدة يبيض غابر عمره بتسويدها، وعائدة يصرف نقد أيامه ولياليه بتقييدها، ودرة ساقطة من معدن الإطلاق يلتقطها، أو قلادة من قريحته ينظمها خوف الشرود ويسبطها، أو سيرة لمن سبق يرقمها، أو رقيقة من بدائع البدائه يحررها ويرسمها:

من كل معنى ولفظ … كخمرة في زجاجه

يسري النسيم إليه … يبغي لديه علاجه

فإن الكامل هو الذي يشتغل بما يجله، لا بما يسقطه في أودية الهوان ويذله، وقد كنت معروفاً بجمع لآلي أخبار السادة والأعيان، مشغوفاً بالتقاط آثارهم المزرية بعقود الجمان، حتى رقمت من أخبارهم أوراقاً شتى، بيد أنني إذا أردت الوقوع على مراد منها لا أجتمع به حتى وحتى، فعن لي أن أجمعها في كتاب تعذب مطالعته، وتقرب على الطالب مراجعته، وأن أقصر الوطر، على ترجمة أعيان القرن الثالث عشر، لأن الأمين المحبي رحمه الله ترجم أهل القرن الحادي، كما أن القرن الثاني قد ترجمه المرادي، فأردت أن أتطفل عليهما بديوان يكون لكتابيهما ذيلاً، وإن كنت أعلم أني لست لذلك أهيلاً، ولكن من أغرب الغريب، وأعجب العجيب، هو أني رأيت أن بعض الناس قد ضنوا بتراجمهم أن تصاغ في قالب التحوير، كأنما يطلب منهم
এবং তাঁর সন্তুষ্টি; নিশ্চয়ই তিনি প্রত্যেক প্রার্থনাকারী ও যাঞ্চনাকারীর ডাকে সাড়াদানকারী, এবং তিনি নিকটবর্তী, যিনি তাঁকে ডাকে সে সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমকে আঁকড়ে ধরে।

অতঃপর, এই মুখাপেক্ষী ও হীন দুর্বল বান্দা, যে নিজের সমস্ত ক্ষমতা ও শক্তি থেকে বিমুক্ত এবং নিজেকে শ্রেষ্ঠত্ব ও বীরত্বের অধিকারীদের সেবায় নিয়োজিত করেছে, সেই নশ্বর বন্দী, অপরাধী ভগ্নহৃদয়, স্বীয় সদাশয় ও ক্ষমাশীল রবের ক্ষমার প্রত্যাশী, আবদুর রাজ্জাক ইবনে মরহুম হাসান বিন ইবরাহিম আল-বাইতার—আল্লাহ তার অবস্থার ত্রুটি সংশোধন করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় তাকে বিপদের পঙ্কিলতা থেকে উদ্ধার করুন—বলছেন যে: মানুষের কণ্ঠদেশ যে অলঙ্কারে সবচেয়ে মধুরভাবে সজ্জিত হয়, এবং অনুরাগী সাহিত্যিক যা থেকে সর্বাধিক তৃপ্তি লাভ করে, তা হলো এমন জ্ঞান যা সে পরিধান করে এবং অর্জন করে; এমন শ্রেষ্ঠত্ব যা দিয়ে সে নিজেকে সজ্জিত করে এবং যা সে নির্বাচন করে; এমন উপকারিতা যার লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমে সে তার বিগত জীবনকে উজ্জ্বল করে; এমন প্রাপ্তি যার সংকলনে সে তার দিন ও রাতের মূল্যবান সময় ব্যয় করে; কিংবা নিরঙ্কুশ খনি থেকে ঝরে পড়া এমন মুক্তা যা সে কুড়িয়ে নেয়; অথবা স্বীয় প্রতিভা থেকে নিঃসৃত এমন মালা যা সে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে গেঁথে রাখে ও বিন্যস্ত করে; কিংবা পূর্বসূরিদের এমন জীবনী যা সে লিপিবদ্ধ করে; অথবা তাৎক্ষণিক উদ্ভাবিত সূক্ষ্ম কোনো বিষয় যা সে বিন্যস্ত ও অঙ্কিত করে:

এমন সব অর্থ ও শব্দ থেকে … যা কাঁচের পাত্রে সংরক্ষিত মদের মতো

মন্দ সমীরণ তার দিকে প্রবাহিত হয় … তার কাছেই নিজের আরোগ্য কামনা করে

নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তিই পূর্ণাঙ্গ, যে এমন বিষয়ে লিপ্ত থাকে যা তাকে মহিমান্বিত করে, এমন কিছুতে নয় যা তাকে লাঞ্ছনার উপত্যকায় নিক্ষেপ করে ও অপদস্থ করে। আমি নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও বিশিষ্টজনদের সংবাদ-রূপী মুক্তা সংগ্রহের জন্য সুপরিচিত ছিলাম এবং তাদের জীবন-স্মৃতি কুড়ানোর প্রতি অনুরাগী ছিলাম, যা মুক্তার হারকেও হার মানায়। এমনকি আমি তাদের জীবনবৃত্তান্ত থেকে বিভিন্ন পাতা লিপিবদ্ধ করেছিলাম। তবে আমি যখন তার থেকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় খুঁজে পেতে চাইতাম, তখন দীর্ঘ সময় পার না হওয়া পর্যন্ত তা অর্জন করতে পারতাম না। তাই আমার মনে হলো যে, আমি এগুলোকে একটি কিতাবে সংকলন করি যার পাঠ হবে আনন্দদায়ক এবং যা অনুসন্ধানকারীর জন্য রেফারেন্স হিসেবে সহজসাধ্য হবে। আর আমি আমার উদ্দেশ্যকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করার সংকল্প করলাম। কারণ আমিন আল-মুহিব্বি (রহ.) একাদশ শতাব্দীর ব্যক্তিদের জীবনী বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আল-মুরাদি দ্বাদশ শতাব্দীর ব্যক্তিদের জীবনী বর্ণনা করেছেন। তাই আমি তাঁদের কিতাবদ্বয়ের একটি পরিশিষ্ট হিসেবে একটি সংকলন তৈরি করে তাঁদের অনুগামী হতে চাইলাম, যদিও আমি জানি যে আমি এর যোগ্য নই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এবং সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এই যে, আমি দেখলাম কিছু মানুষ তাঁদের জীবনী পুনর্গঠনের ছাঁচে ঢালাই করার ক্ষেত্রে কার্পণ্য করছেন, যেন তাঁদের কাছে দাবি করা হচ্ছে...
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٥)
مترجمهم وافر الدراهم والدنانير، مع أني لا أقصد بذلك سوى إحياء أخبارهم، ونشر مطوي أوصافهم وجميل آثارهم، لأنهم وإن كانوا في زمانهم أشهر من نار على علم، إلا أنهم إذا لم تقيد أسماؤهم في دفاتر المآثر نثرتها الأيام في مطوي العدم:

إذا ما روى الإنسان أخبار من مضى … فتحسبه قد عاش من أول الدهر

وتحسبه قد عاش آخر دهره … إلى الحشر إن أبقى الجميل من الذكر

فقد عاش كل الدهر من عاش عالماً … كريماً حليماً فاغتنم أطول العمر

فاقتصرت على ذكر من وصلت إليه، وطويت غالباً ذكر من لم أكن أعلم ما له وعليه، وحسب الطالب أن يقتصر على من وصلت إليه قوته وحوله، وأن يعلم أن ما لا يدرك كله لا يترك جله، ولم أزل أقدم في هذا العزم رجلاً وأؤخر أخرى، وأتردد في الإقدام والإحجام ولا أدري أيهما أحرى، إلى أن تذكرت ما قيل، من أن بديع الأقاويل، إن المرء ابن وقته وساعته، وكل ينفق على قدر وسعه واستطاعته، ومن كانت بضاعته مزجاة، فهو من الملام بمنجاة، وذيل العفو عليه مسبول، والكف عن زلله مرجو ومأمول، وقد قيل:

ألا ليقل من شاء ما شاء إنما … يلام الفتى فيما استطاع من الأمر

فحققت ما كنت أردت، وأظهرت من الفكر ما أضمرت، وشرعت في كتابة هذا الكتاب، معتمداً في التسهيل على رب الأرباب، ووسمته وسميته، بعد ما أتممته وأنهيته: حلية البشر في تاريخ القرن الثالث عشر والأمل ممن نظر فيه، ورأى ركاكة نثره وقوافيه، أن يرحم بحسن التأويل جامعه، وأن يصون عن استماع كلامه مسامعه، والأولى أن يلتمس له عذراً، ويسبل على ما بدا له منه ستراً، خصوصاً والفكرة غير مساعدة، وهي لمكايدة الدهر مكابدة، ومع إبداء ما ذكرت، وإظهار ما به
তাদের জীবনীকার প্রচুর দিরহাম ও দিনার লাভ করেন, যদিও এতে আমার উদ্দেশ্য কেবল তাদের সংবাদকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং তাদের অপ্রকাশিত গুণাবলি ও সুন্দর কীর্তিসমূহ প্রচার করা। কারণ, তারা তাদের যুগে সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় প্রজ্জ্বলিত আগুনের চেয়েও বেশি প্রসিদ্ধ হলেও, যদি তাদের নামসমূহ কীর্তিগাঁথার খাতায় লিপিবদ্ধ না করা হয়, তবে মহাকাল সেগুলোকে বিস্মৃতির গহ্বরে হারিয়ে ফেলবে:

যদি কোনো মানুষ পূর্ববর্তীদের সংবাদ বর্ণনা করে … তবে তুমি তাকে কালের সূচনা থেকে জীবিত বলে মনে করবে।

আর তুমি মনে করবে সে তার জীবনের শেষ পর্যন্ত … হাশরের ময়দান পর্যন্ত বেঁচে আছে, যদি সে সুন্দর স্মৃতি রেখে যায়।

যে ব্যক্তি জ্ঞানী, দয়ালু ও ধৈর্যশীল হয়ে বেঁচে থাকে, সে যেন পুরো কাল জুড়েই বেঁচে থাকে … সুতরাং তুমি দীর্ঘতম জীবনকে গনিমত হিসেবে গ্রহণ করো।

তাই আমি কেবল তাদের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছি যাদের সম্পর্কে জানতে পেরেছি এবং যাদের গুণাগুণ ও দোষত্রুটি আমার জানা ছিল না তাদের উল্লেখ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এড়িয়ে গেছি। একজন জ্ঞানান্বেষীর জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্যের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে এবং এটা জানবে যে, যার সবটুকু অর্জন করা সম্ভব নয়, তার বড় অংশ ত্যাগ করা উচিত নয়। আমি দীর্ঘকাল এই সংকল্পে একবার এগিয়েছি আবার পিছিয়েছি, দ্বিধাবোধ করেছি অগ্রসর হওয়া ও বিরত থাকার ব্যাপারে, এবং আমি জানতাম না কোনটি অধিকতর শ্রেয়। শেষ পর্যন্ত আমি সেই প্রবাদটি স্মরণ করলাম যাতে বলা হয়েছে যে—চমৎকার উক্তিগুলোর অন্যতম হলো—মানুষ তার সময় ও মুহূর্তের সন্তান, এবং প্রত্যেকে তার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে। আর যার পুঁজি সামান্য, সে তিরস্কার থেকে মুক্ত, তার ওপর ক্ষমার আঁচল প্রসারিত এবং তার ভুলভ্রান্তি উপেক্ষা করা কাম্য ও প্রত্যাশিত। যেমনটি বলা হয়েছে:

শোনো, যে যা ইচ্ছা বলুক, যুবককে কেবল … তার সাধ্যের সীমার মাঝেই তিরস্কার করা যায়।

অতঃপর আমি যা ইচ্ছা করেছিলাম তা বাস্তবায়ন করলাম এবং মনে যা গোপন ছিল তা প্রকাশ করলাম। প্রতিপালকদের প্রতিপালকের ওপর কাজ সহজ করার ব্যাপারে ভরসা করে আমি এই কিতাবটি রচনা শুরু করলাম। এটি সমাপ্ত ও সম্পন্ন করার পর আমি এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করলাম এবং নামকরণ করলাম: 'ত্রয়োদশ শতাব্দীর ইতিহাসে মানুষের অলংকার'। যারা এটি দেখবেন এবং এর গদ্য ও অন্ত্যমিলের দুর্বলতা লক্ষ্য করবেন, তাদের প্রতি আমার আশা এই যে, তারা যেন সুব্যাখ্যার মাধ্যমে এর সংকলকের প্রতি দয়া করেন এবং তাদের কানকে এর বিরূপ সমালোচনা শোনা থেকে রক্ষা করেন। বরং তার জন্য অজুহাত খুঁজে নেয়াই অধিকতর শ্রেয় এবং যা তার কাছে প্রকাশ পেয়েছে তার ওপর ক্ষমার পর্দা টেনে দেয়া উচিত। বিশেষ করে যখন চিন্তাশক্তি অনুকূলে ছিল না এবং তা কালের প্রতিকূলতার সাথে সংগ্রামরত ছিল। আমি যা উল্লেখ করেছি তা প্রকাশ এবং যা ব্যক্ত করেছি তার সাথে...
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٦)
اعتذرت، فإني كلفت نفسي الصغيرة شيئاً كبيراً، وأقحمتها في نفس الأمر أمراً عسيراً، محافظة على إحياء ذكر هؤلاء السادة الأفاضل، والقادة الحائزين لأعلا الشمائل والفضائل، وخوفاً من ضياعهم بلا خبر ولا خبر، مع أنه يحق لسيرتهم أن تتلى كما تتلى السور، ورأيت أن أرتبه على حروف المعجم لا على الأعوام، ليكون قريب المراجعة سهل المرام، والله أسأل أن يجعله خالصاً من شوائب الملام، وأن ينعم على جامعه ومطالعه والمسلمين بحسن الختام.

 

‌‌حرف الألف

‌‌الشيخ إبراهيم بن حسن بن محمد بن حسن بن إبراهيم البيطار:

الدمشقي الجد الماجد، والد سيدي الوالد، فاضل شافعي المذهب، عالم عامل طراز فضله بالعبادة مذهب، قد احتوى على مكارم الشمائل والأخلاق، واستوى على عرش اللطافة وفاق، له عزة نفس تود النجوم الثوابت نيل علاها، وعلو همة يتمنى البدر الوصول إلى حسن ثنائها وسناها، وكلام كلآلىء الصدف، وآداب كالروض الانف، ولا ريب أنه:

مورق عيدان العلا رطبها … أبلج وجه العرف بسام

مع حكم أرق من نسيم السحر، وشيم لو أنها للنجم ما غاب ولا استتر، وأياد روائح غوادي، كنسيم الروض غب الغوادي، ولا ريب أنه من القوم الذين سعوا في مناهج التقوى، ونحوا نحو الصلاح في السر والنجوى، أخذ عن جملة من الأفاضل، وتلقى عن كثير من السادة الأماثل، وكان ملازماً لأستاذه الفاضل، وملاذه العالم العامل، قطب دائرة الأفاضل، والآتي في تحقيقاته ومعارفه بما لم تستطعه الأوائل، مولانا الشيخ محمد بن المرحوم العلامة الشيخ عبد الرحمن الكزبري فإنه لازمه على الدوام، وانتفع به فوق المرام، وكان من جملة خاصته وأحبابه، المتأدبين بجميل آدابه، حتى اشتهر بالصلاح والعلم والعبادة،
আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি, কারণ আমি আমার এই ক্ষুদ্র সত্তাকে এক বিশাল কাজের দায়িত্ব দিয়েছি এবং প্রকৃত বিচারে একে এক কঠিন বিষয়ে লিপ্ত করেছি। এই মহৎ নেতৃবৃন্দ এবং উচ্চতর গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ইমামগণের স্মৃতির পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে এবং তাঁদের কোনো সংবাদ বা ইতিহাস ছাড়া হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি; অথচ তাঁদের জীবনী পবিত্র সূরাসমূহের ন্যায় পাঠ হওয়ার যোগ্য। আমি এই গ্রন্থটিকে বর্ষানুক্রমিক না সাজিয়ে অভিধানের বর্ণানুক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করা সমীচীন মনে করেছি, যাতে এটি অনুসন্ধান করা সহজ হয় এবং লক্ষ্য অর্জন সহজতর হয়। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে লোকদেখানো বা লোকনিন্দার কালিমা থেকে মুক্ত ও একনিষ্ঠ করেন এবং এর সংকলক, পাঠক ও সকল মুসলিমকে উত্তম পরিসমাপ্তি দান করেন।

 

‌আলিফ বর্ণ

‌শাইখ ইবরাহিম বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন হাসান বিন ইবরাহিম আল-বাইতার:

দামেস্কি, মহান পিতামহ, আমার শ্রদ্ধেয় পিতার জনক, শাফেয়ী মাযহাবের একজন বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একজন আমলদার আলেম, যাঁর শ্রেষ্ঠত্বের অলঙ্কার ইবাদতের মাধ্যমে সুশোভিত ছিল। তিনি মহৎ চারিত্রিক গুণাবলি ও শিষ্টাচার ধারণ করেছিলেন এবং লালিত্যের সিংহাসনে উঠেছিলেন ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। তাঁর এমন আত্মমর্যাদা ছিল যা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা সুদূর নক্ষত্ররাজিও করে, এবং তাঁর এমন সুউচ্চ সংকল্প ছিল যার প্রশংসা ও জ্যোতি লাভের কামনা পূর্ণিমা চাঁদও করে। তাঁর কথাগুলো ছিল ঝিনুকের মুক্তার ন্যায় এবং তাঁর আদব বা শিষ্টাচার ছিল সজীব বাগানের মতো। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি:

উচ্চমর্যাদার সজীব শাখা-প্রশাখাকে পল্লবিতকারী … পরিচিতির হাস্যোজ্জ্বল ও উজ্জ্বল মুখমণ্ডল

তাঁর প্রজ্ঞা ভোরের বাতাসের চেয়েও কোমল, এবং তাঁর চরিত্র এমন যে তা যদি নক্ষত্রের হতো তবে তা কখনো অস্তমিত বা আড়ালে যেত না। তাঁর দানশীলতা ছিল সকাল-সন্ধ্যার মেঘমালার ন্যায়, যা সিক্ত বাগানে বাতাসের মতো বয়ে যেত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি সেই দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা তাকওয়ার পথে চলেছেন এবং নির্জনে ও জনসমক্ষে সততার পথ অনুসরণ করেছেন। তিনি একদল বিদগ্ধ পণ্ডিতের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন এবং অনেক শ্রেষ্ঠ মনীষীর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি সর্বদা তাঁর বিদগ্ধ উস্তাদ, আমলদার আলেম এবং পণ্ডিতদের আশ্রয়স্থল—যিনি তাঁর গবেষণা ও জ্ঞানতত্ত্বে এমন সব বিষয় নিয়ে এসেছেন যা পূর্ববর্তীরা সক্ষম হননি—আমাদের মওলানা শাইখ মুহাম্মাদ বিন মরহুম আল্লামা শাইখ আব্দুর রহমান আল-কুজবারির সান্নিধ্যে থাকতেন। তিনি সর্বদা তাঁর সাথে লেগে থাকতেন এবং আশাতীতভাবে তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন তাঁর বিশেষ ঘনিষ্ঠজন ও প্রিয়পাত্রদের অন্তর্ভুক্ত, যারা তাঁর সুন্দর শিষ্টাচারের মাধ্যমে আদব অর্জন করেছিলেন, এমনকি তিনি সততা, ইলম ও ইবাদতের মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٧)
وألفته القلوب فوق العادة، وكان ذا ثروة ومال من تجارته، غير أن اليد الجزارية قد أساءت في معاملته، فسلبته جل ما كان، وأخرته في الثروة عن الأقران، عامله الله بأعماله، وجازاه على ما كان من قبيح أفعاله، وكان أعلى الله علاه، وجعل الفردوس مقره ومثواه، ذا رأي صائب، وفكر ثاقب، لين الكلام، حسن المعاشرة، رفيع المقام، كثير المواصلة لأرحامه، مع حبائه لهم وإكرامه، ولد رضي الله عنه في منتصف رجب سنة ألف ومائة وإحدى وخمسين، ونشأ في حجر والده إلى أن حظي من القراءة والكتابة على التمام، وحصل له من التفنن في العلوم نصيب وافر واحترام، ولم يزل مكباً على دروس العلم والطاعة وتلاوة القرآن، إلى أن نشبت به أظفار المنية ففارق الدنيا من غير توان، وذلك في غرة ربيع الأول سنة ألف ومائتين وثمان وعشرين، صب الله على قبره صبيب الرحمة في كل وقت وحين، وجمعنا به في دار الإحسان، تحت لواء محمد سيد ولد عدنان.

 

‌‌الشيخ إبراهيم بن الشيخ محمد الباجوري قدس الله سره:

وجعل أعلا الجنان مثواه ومقره، شيخ الوقت والأوان، المستوي في فضائله على عرش كيوان، فهو الذي بهر بإبداعه، وظهر على ذوي الكمال بسعة اطلاعه، وعطل العوالي بيراعه، ومد لتناول المعالي طويل باعه، وأطلع الكلام رائقا، وجاء به متناسقا، فهو العالم العامل، والجهبذ الكامل، الجامع بين شرفي العلم والتقوى، السالك سبيل ذلك
অন্তরসমূহ তাঁকে অস্বাভাবিকভাবে ভালোবাসত। তিনি তাঁর ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদ ও বিত্তের অধিকারী ছিলেন। তবে জায্যারী হাত তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার করেছিল, ফলে তাঁর অধিকাংশ সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছিল এবং তাঁকে বিত্ত-বৈভবে তাঁর সমসাময়িকদের পেছনে ফেলে দিয়েছিল। আল্লাহ তাঁর আমল অনুযায়ী তাঁর সাথে আচরণ করুন এবং তাঁর মন্দ কাজের জন্য তাঁকে প্রতিদান দিন। আল্লাহ তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসকে তাঁর ঠিকানা ও আবাসস্থল করুন। তিনি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সুতীক্ষ্ণ চিন্তাশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি কোমলভাষী, সচ্চরিত্রবান, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং আত্মীয়-স্বজনের প্রতি অত্যন্ত সদাচারী ছিলেন, পাশাপাশি তিনি তাদের প্রতি প্রচুর দান ও সম্মান প্রদর্শন করতেন। তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন—এগারো শত একান্ন হিজরীর রজব মাসের মাঝামাঝি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন এবং পঠন-পাঠন ও লিখনে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শিতা এবং প্রচুর সম্মান লাভ করেন। তিনি অবিরাম ইলমি দরস, আনুগত্য এবং কুরআন তিলাওয়াতে মগ্ন থাকতেন, অবশেষে মৃত্যুর নখর তাঁকে আক্রমণ করল এবং কোনো বিলম্ব ছাড়াই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। এটি ছিল বারো শত আটাশ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে। আল্লাহ সর্বদা তাঁর কবরের ওপর রহমতের বারিধারা বর্ষণ করুন এবং আমাদের তাঁর সাথে জান্নাতে আদনান বংশের সরদার মুহাম্মাদের পতাকাতলে একত্রিত করুন।

 

‌‌শাইখ ইবরাহীম বিন শাইখ মুহাম্মাদ আল-বাজুরী, আল্লাহ তাঁর গোপন রহস্য পবিত্র করুন:

এবং আল্লাহ জান্নাতের সুউচ্চ স্থানকে তাঁর আবাস ও ঠিকানা করুন। তিনি ছিলেন সমকালীন সময়ের মহান শাইখ। তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কায়ওয়ানের আরশের ওপর উঠেছেন। তিনি তাঁর উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে সকলকে মুগ্ধ করেছেন এবং স্বীয় জ্ঞানের পরিধিতে পূর্ণতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। তিনি তাঁর লেখনী দ্বারা উচ্চতাকে ম্লান করে দিয়েছেন এবং সুউচ্চ মর্যাদা লাভের জন্য স্বীয় দীর্ঘ হাত প্রসারিত করেছেন। তিনি মনোমুগ্ধকর বাণী প্রকাশ করেছেন এবং তা সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি ছিলেন একজন আমলকারী আলেম এবং পূর্ণাঙ্গ বিশেষজ্ঞ, যিনি ইলম ও তাকওয়ার উভয় সম্মানের সমন্বয়কারী এবং সেই পথের পথিক।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٨)
في السر والنجوى، قد افتخرت به الفضائل، حتى قدمته على الأوائل، وكان لسان شمائله، يخطب على منبر فضائله:

غنيت بحلية حسنها … عن لبس أصناف الحلي

وبدت بهيكلها البد … يع تقول شاهد واجتلي

تجد المحاسن كلها … قد جمعت في هيكلي

ولد رضي الله عنه سنة ألف ومائة وثمان وتسعين ببلدة بيجور، قرية من قرى مصر المحروسة من الغم والملحوظة بعين السرور، على مسيرة اثنتي عشرة ساعة من غير استعجال، بل بسير الوسط والاعتدال، ونشأ فيها في حجر والده وقرأ عليه القرآن المجيد، بغاية الإتقان والتجويد، ثم قدم إلى الجامع الأزهر، ذي القدر السامي الأظهر، سنة ألف ومائتين واثنتي عشرة هجرية، لأجل تحصيل الآداب والعلوم الشرعية، وسنه إذ ذاك أربع عشرة سنة تماماًن ومكث فيه حتى دخل الفرنساوي سنة ألف ومائتين وثلاثة عشر عاماً، فخرج وتوجه إلى الجيزه، واقام بها مدة وجيزه، ثم عاد سنة ألف ومائتين وست عشرة، إلى المكان الأنور، والجامع الأزهر، عام خروج الفرنساوي من القطر المصري كما أفاد ذلك بنفسه، أعلى الله تعالى في فراديس الجنان مقامات قدسه، فأخذ في الاشتغال بالتعليم والتحصيل، وقد أدرك الجهابذة الأفاضل ذوي القدر الجليل، كالشيخ محمد الأمير الكبير، صاحب المقام السامي الشهير، والشيخ عبد الله الشرقاوي، والسيد داود القلعاوي، ومن كان في عصرهم، وتلقى عنهم ما تيسر له من العلوم، إلى أن صار عمدة ذوي المنطوق والمفهوم، ولكن كان أكثر ملازمته وتلقيه، وأخذه للعلم الشريف الذي كان به ترقيه، عن الأستاذ الشيخ محمد الفضالي، والمرحوم الأستاذ الشيخ حسن القويسني ذي القدر العالي، ولازم الأول بالجد والاجتهاد، إلى أن توفي ورحل إلى دار الفضل والإسعاد، وفي مدة قريبة لاحت عليه لوائح النجابة، ولبى السعد نداه بالإقبال وأجابه، فدرس وألف التآليف
সংগোপনে এবং কানে কানে কথোপকথনে, সদ্গুণাবলী তাকে নিয়ে গর্ব করেছে, এমনকি তাকে পূর্ববর্তীদের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছে। তার উত্তম গুণাবলীর ভাষা তার শ্রেষ্ঠত্বের মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছিল:

তার সৌন্দর্যের অলংকারে আমি অভাবমুক্ত হয়েছি … বিভিন্ন প্রকার গয়না পরিধান করা থেকে

তার অপূর্ব অবয়বে তা প্রকাশিত হয়েছে … সে বলছে: দর্শন করো এবং অবলোকন করো

তুমি সমস্ত সৌন্দর্যকে পাবে … আমার অবয়বের মাঝে পুঞ্জীভূত হয়েছে

তিনি (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ১১৯৮ হিজরি সনে বিজুর নামক শহরে জন্মগ্রহণ করেন, যা দুঃখ-বেদনা থেকে সংরক্ষিত এবং আনন্দের নজরে অবলোকিত মিশরের একটি গ্রাম। এটি দ্রুতগতিতে নয় বরং মধ্যম ও স্বাভাবিক গতিতে বারো ঘণ্টার পথ দূরত্বে অবস্থিত। তিনি সেখানেই তার পিতার তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন এবং অত্যন্ত নিপুণতা ও তাজউইদ সহকারে তার কাছেই পবিত্র কুরআন পাঠ করেন। অতঃপর ১২১২ হিজরি সনে শিষ্টাচার এবং শরয়ি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে সুউচ্চ ও সুস্পষ্ট মর্যাদার অধিকারী জামে আল-আজহারে আগমন করেন। তখন তার বয়স ছিল পূর্ণ চৌদ্দ বছর। ১২১৩ হিজরি সনে ফরাসিদের প্রবেশের পূর্ব পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। এরপর তিনি বের হয়ে গিজার দিকে গমন করেন এবং সেখানে সল্পকাল অবস্থান করেন। অতঃপর ১২১৬ হিজরি সনে তিনি পুনরায় সেই আলোকিত স্থান ও জামে আল-আজহারে প্রত্যাবর্তন করেন; এটি ছিল মিশর ভূখণ্ড থেকে ফরাসিদের বিদায়ের বছর, যেমনটি তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা জান্নাতুল ফিরদাউসে তার পবিত্র মাকামকে উচ্চতর করুন। এরপর তিনি শিক্ষা দান এবং শিক্ষা গ্রহণে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি সুমহান মর্যাদার অধিকারী বিদগ্ধ পণ্ডিতদের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন, যেমন সুপ্রসিদ্ধ উচ্চ মর্যাদার অধিকারী শাইখ মুহাম্মদ আল-আমির আল-কাবির, শাইখ আবদুল্লাহ আশ-শারকাওয়ি, সাইয়্যেদ দাউদ আল-কালাওয়ি এবং তাদের সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ। তিনি তাদের কাছ থেকে সাধ্যমতো জ্ঞান অর্জন করেন, এমনকি তিনি ভাষ্য ও মর্মার্থ অনুধাবনকারীদের নির্ভরস্থলে পরিণত হন। তবে তার অধিকাংশ সাহচর্য, জ্ঞানার্জন এবং যে মহান বিদ্যার মাধ্যমে তার উন্নতি লাভ হয়েছিল তা ছিল উস্তাদ শাইখ মুহাম্মদ আল-ফাদালি এবং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মরহুম উস্তাদ শাইখ হাসান আল-কুওয়াইসিনি-র নিকট থেকে। তিনি প্রথমজনের কাছে অত্যন্ত একাগ্রতা ও পরিশ্রমের সাথে লেগে ছিলেন, যতক্ষণ না তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং অনুগ্রহ ও সৌভাগ্যের আবাসে পাড়ি জমান। অল্প সময়ের মধ্যেই তার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লক্ষণসমূহ ফুটে ওঠে এবং সৌভাগ্য তার ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসে। ফলে তিনি অধ্যাপনা শুরু করেন এবং বহু গ্রন্থ রচনা করেন।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٩)
العديدة، الجامعة المانعة المفيدة، في كل فن من توحيد وأصول، ومعقول ومنقول، منها حاشيته على متن الشمائل، وحاشيته على رسالة شيخه الفضالي في لا إله إلا الله، وحاشيته على الرسالة المسماة بكفاية العوام، فيما يجب عليهم من علم الكلام، لشيخه المذكور، وكتاب فتح القريب المجيد، شرح بداية المريد، للشيخ السباعي، وحاشيته على مولد المصطفى صلى الله عليه وسلم للعلامة ابن حجر الهيثمي، وحاشية على مختصر السنوسي في فن الميزان، وحاشية على متن السلم للأخضري في فن الميزان أيضاً وحاشية على متن السمرقندية في فن البيان، وكتاب فتح الخبير اللطيف، شرح نظم الترصيف في فن التصريف، وحاشية على متن السنوسية في التوحيد، وحاشية على مولد المصطفى صلى الله عليه وسلم للشيخ الدردير، وشرح على منظومة الشيخ العمريطي في النحو، وحاشية على البردة الشريفة، وحاشية على بانت سعاد، وحاشية على متن الجوهرة في التوحيد، وكتاب منح الفتاح، على ضوء الصباح، في أحكام النكاح، وحاشية على الشنشوري في فن الفرائض، وكتاب الدرر الحسان على فتح الرحمن، فيما يحصل به الإسلام والإيمان للزبيدي، ورسالة صغيرة في فن الكلام، وحاشية على شرح ابن قاسم لأبي شجاع في فقه مذهب الإمام الشافعي، قدس الله سره بمجلدين، وله مؤلفات أخر لم تكمل فلذا أضربنا عن ذكرها صفحاً. وكان ديدنه رحمه الله التعلم والاستفادة، والتعليم والإفادة، حتى صار له ذلك سجية وعادة، فكان عمره رضي الله عنه ما بين إفادة واستفادة، وكان لسانه دائماً رطباً بذكر الله، وتلاوة القرآن، وكان متميزاً بذلك على الأمثال والأقران، وله وله عظيم وحب جسيم لآل بيت النبي الكريم، ولذلك كان مواظباً على زياراتهم، ومتردداً على أبوبا حضراتهم، وبالجملة فإنه رضي الله عنه كان صارفاً زمنه في طاعة مولاه، وشاكراً له على ما أولاه، فمن جملة نعمه عليه الانتفاع بتآليفه في حياته في كل ناد، والسعي في طلبها من

তাঁর অসংখ্য, সারগর্ভ ও অত্যন্ত উপকারী রচনাবলী তাওহীদ, উসুল, যৌক্তিক (মা'কুল) ও বর্ণনাগত (মানকুল) শাস্ত্রের প্রতিটি শাখায় পরিব্যাপ্ত। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: শামাইল-এর মূল পাঠের ওপর তাঁর হাশিয়া (টীকা), তাঁর উস্তাদ ফাদালীর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বিষয়ক রিসালার ওপর তাঁর হাশিয়া, এবং ইলমুল কালাম শাস্ত্রে সাধারণ মানুষের জন্য যা জানা আবশ্যক সেই বিষয়ে উক্ত উস্তাদের রচিত 'কিফায়াতুল আওয়াম' নামক রিসালার ওপর হাশিয়া। এছাড়া শেখ সিবাঈ রচিত 'বিদায়াতুল মুরিদ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল কারীব আল-মাজীদ', আল্লামা ইবনে হাজার হাইতামীর 'মাওলিদুল মুস্তফা' (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর হাশিয়া, মানতিক বা যুক্তিবিদ্যায় সানুসীর মুখতাসারের ওপর হাশিয়া, মানতিক শাস্ত্রে আখদারীর 'আস-সুল্লাম'-এর ওপরও একটি হাশিয়া, বায়ান শাস্ত্রে 'আস-সামারকান্দিয়্যাহ'-এর ওপর হাশিয়া, সরফ বা শব্দরূপান্তর শাস্ত্রে 'নাজতুত তারসীফ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল খাবীর আল-লাতীফ', তাওহীদ বিষয়ে 'আস-সানুসিয়্যাহ'-এর ওপর হাশিয়া, শেখ দারদীরের 'মাওলিদুল মুস্তফা' (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর হাশিয়া, এবং নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রে শেখ ইমরিতীর মানজুমাহ-এর ব্যাখ্যা। এছাড়াও বুর্দা শরীফের ওপর হাশিয়া, 'বানাত সুআদ'-এর ওপর হাশিয়া, তাওহীদ বিষয়ে 'আল-জাওহারা'-এর ওপর হাশিয়া, বিবাহের বিধানাবলী সংক্রান্ত 'দাওউস সাবাহ'-এর ওপর 'মিনহুল ফাত্তাহ' নামক গ্রন্থ, ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার শাস্ত্রে শানশুরীর ওপর হাশিয়া, এবং ইমাম জুবাইদী রচিত ইসলাম ও ঈমান অর্জনের উপায় বিষয়ক গ্রন্থ 'ফাতহুর রহমান'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আদ-দুরারুল হিসান'। তাঁর আরও রয়েছে ইলমুল কালামের ওপর একটি ক্ষুদ্র রিসালা এবং ইমাম শাফেঈর মাযহাবের ফিকহ শাস্ত্রে আবু শুজা-এর গ্রন্থের ওপর ইবনে কাসিম কৃত ভাষ্যের দুই খণ্ডের একটি হাশিয়া; আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন। তাঁর আরও কিছু রচনা রয়েছে যা সমাপ্ত হয়নি, তাই আমরা সেগুলোর আলোচনা থেকে বিরত থাকলাম।

আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন, জ্ঞান অর্জন ও বিতরণ এবং শিক্ষা গ্রহণ ও দান করাই ছিল তাঁর নিয়মিত অভ্যাস, এমনকি এটি তাঁর মজ্জাগত স্বভাবে পরিণত হয়েছিল। রাদিয়াল্লাহু আনহুর সমগ্র জীবন জ্ঞান দান ও গ্রহণের মাঝেই অতিবাহিত হয়েছে। তাঁর জিহ্বা সর্বদা আল্লাহর যিকির ও কুরআন তিলাওয়াতে সিক্ত থাকত এবং এ ক্ষেত্রে তিনি তাঁর সমসাময়িক ও সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের মাঝে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি তাঁর ছিল প্রচণ্ড অনুরাগ ও গভীর ভালোবাসা। এই কারণেই তিনি নিয়মিত তাঁদের যিয়ারত করতেন এবং তাঁদের পবিত্র সান্নিধ্যে যাতায়াত করতেন। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সময়কে তাঁর প্রভুর আনুগত্যে ব্যয় করতেন এবং তাঁর প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য শুকরিয়া আদায় করতেন। তাঁর ওপর আল্লাহর নেয়ামতসমূহের অন্যতম ছিল এই যে, তাঁর জীবদ্দশাতেই প্রতিটি মজলিসে তাঁর রচনাবলী থেকে মানুষ উপকৃত হতো এবং তা সংগ্রহের জন্য প্রচেষ্টা চালাত...

(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ١٠)
أقصى البلاد، والاجتهاد في تحصيلها من كل حاضر وباد، والاجتماع بها على كل مرام ومراد، وقد انتهت إليه رئاسة الجامع الأزهر، ومحفل الدين الأبهى الأبهر، وتقلدها في شهر شعبان سنة ثلاث وستين ومائتين وألف ولا غرو أنه ابن بجدتها، وأبو عذرتها، وفي أثناتها قرأ كتاب الفخر الرازي في تفسير القرآن، وحضره أفاضل الجامع الأزهر ذوي الملكة والإتقان، ولكنه لم يكمل بسبب ضعف اعتراه. وقد امتدحه مهنئاً حضرته حين آلت الرئاسة إليه حضرة المعروف بكل كمال، السيد محمد شهاب الدين فقال:

أترى الغمام بدره المنثور … وشى رياض الورد والمنثور

أم ذي تباشير الصباح تنفست … وجلت أشعتها دجى الديجور

كبلابل الأفراح أبدت طالعاً … حظي الزمان بحظه الموفور

هو كوكب إيضاح بهجة ضوئه … مغن عن المصباح والتنوير

رفعت لواء العز دولة مجده … وسطت بصارم فضله المشهور

أكرم به حبراً هماماً رحلة … تطوى القفار لعلمه المنشور

أبدى الطوالع في مطالع فخره … ولدى المواقف سار بالتيسير

زفت حواشيه ورقت وازدهت … بمحاسن التحبير والتحرير

هو بر إفضال وبحر فضائل … صاف عدته شوائب التكدير

كررت مدح حلاه إذ هو سكر … تقوى الحلاوة فيه بالتكرير

هو روض عرفان تجلى عن جنى … دان وكم ليس بالمزرور

لا غرو إن طاب الزمان بطيبه … وشذاه عم الكون بالتعطير

يا دهر أعط القوس باريها فقد … أفرطت في التقديم والتأخير

هذا مجلي حلبة السبق الذي … حاز الفخار بسعيه المشكور

هو سيد الأبان سعد أوانه … فخر الزمان ميسر المعسور
সুদূরপ্রসারী জনপদসমূহ, এবং প্রতিটি শহর ও মরুপ্রান্তর থেকে তা অর্জনে কঠোর পরিশ্রম, এবং প্রতিটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে তাদের সাথে একত্রিত হওয়া; আর জামিউল আজহারের নেতৃত্ব এবং দ্বীন-এর সর্বাধিক উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় মজলিসের দায়িত্বভার তাঁর উপর অর্পিত হয়। তিনি বারোশ তেষট্টি হিজরি সনের শাবান মাসে তা গ্রহণ করেন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে তিনি এর যোগ্যতম ব্যক্তি এবং এর নিগূঢ় রহস্যের অধিকারী। এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি কুরআনের তাফসীর বিষয়ে ইমাম ফখরুদ্দীন রাযীর কিতাবটি পাঠ করেন, যেখানে জামিউল আজহারের সুনিপুণ ও পারদর্শী শ্রেষ্ঠ মনীষীবর্গ উপস্থিত থাকতেন; কিন্তু তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তা আর সম্পন্ন হয়নি। আর যখন এই নেতৃত্ব তাঁর কাছে হস্তান্তরিত হয়, তখন সর্বগুণে গুণান্বিত জনাব সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শিহাবুদ্দীন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর প্রশংসা করেন এবং বলেন:

তুমি কি মেঘমালাকে দেখছ তার ছড়িয়ে পড়া মুক্তোর ন্যায় বারিবিন্দু নিয়ে … যা গোলাপ ও মালতী ফুলের বাগানকে সুশোভিত করেছে?

নাকি এগুলো ভোরের সুসংবাদ যা শ্বাস নিচ্ছে … আর তার কিরণমালা ঘন অন্ধকারকে দূরীভূত করছে?

আনন্দের বুলবুলি পাখির ন্যায় যখন সে আত্মপ্রকাশ করল … কালচক্র তার পূর্ণ সৌভাগ্য লাভ করল।

তিনি এমন এক সুস্পষ্ট নক্ষত্র যার আলোর দীপ্তি … প্রদীপ ও আলোকসজ্জার প্রয়োজন মিটিয়ে দেয়।

তাঁর মর্যাদার রাষ্ট্র সম্মানের পতাকা উড্ডীন করেছে … এবং তাঁর প্রসিদ্ধ শ্রেষ্ঠত্বের ধারালো তরবারি দ্বারা প্রভাব বিস্তার করেছে।

কতই না সম্মানিত তিনি একজন মহান আলিম ও সাহসী নেতা … যাঁর সুপ্রসারিত ইলমের সন্ধানে মরুভূমি পাড়ি দেওয়া হয়।

তিনি তাঁর গৌরবের দিগন্তে শুভলক্ষণসমূহ প্রকাশ করেছেন … এবং সংকটময় মুহূর্তে সহজ পথ অবলম্বন করেছেন।

তাঁর টীকাগুলো সুসজ্জিত, সূক্ষ্ম ও বিকশিত হয়েছে … লিখনী ও রচনার সৌন্দর্যে।

তিনি অনুগ্রহের এক বিশাল ভূখণ্ড এবং ফযীলতের সমুদ্র … যা পঙ্কিলতার মালিন্য থেকে মুক্ত ও স্বচ্ছ।

আমি বারবার তাঁর গুণের প্রশংসা করছি কারণ তা চিনির মতো … যা পুনরাবৃত্তির ফলে মিষ্টতা বৃদ্ধি পায়।

তিনি মারেফাতের এক বাগান যার নিকটবর্তী ফলসমূহ প্রকাশিত হয়েছে … যা অবারিত এবং সংকুচিত নয়।

আশ্চর্যের কিছু নেই যদি সময় তাঁর সুগন্ধে সুবাসিত হয় … আর তাঁর সুঘ্রাণ জগতকে সুগন্ধে মোহিত করে।

হে কাল! ধনুক তার নির্মাতাকে দাও … কেননা তুমি কাউকে আগে বাড়ানো বা পিছিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করেছ।

ইনিই প্রতিযোগিতার ময়দানের সেই বিজয়ী যিনি … তাঁর প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে গৌরব অর্জন করেছেন।

তিনি যুগের নেতা ও তাঁর সময়ের সৌভাগ্য … যামানার অহংকার এবং কঠিনকে সহজকারী।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ١١)
فرحت به الدنيا وأصبح وجهها … فيه تلوح بشاشة المسرور

وزهت به العليا وقالت أرخوا … أبهى إمام شيخٌ الباجوري

يا صاح حدث عن مآثره وقل … قد صح نقل حديثي المأثور

طوبى لمن بمقام إبراهيم قد … أدى فريضة حجه المبرور

وسعى وطاف بكعبة الطول الذي … تمت شعائره بلا تقصير

فليهنه الإقبال وليقض الذي … قد فات من مندوبه المنذور

وإليه أهدي بنت فكر تنجلي … في خجلة من جفنها المكسور

غايات ما ترجوه فض ختامها … حيث انتهت بتكامل التوقير

ثم إنه لما قربت وفاته، وكادت أن تتناهى حياته، نزل به مرض الحمام، ولازمه إلى أن استوفى من عمره التمام، توفي يوم الخميس ثامن وعشرين من ذي القعدة سنة ألف ومائتين وست وسبعين ودفن بتربة المجاورين.

 

‌‌الشيخ إبراهيم بن محمد بن دهمان الحلبي:

الشافعي القادري برهان الدين الفاضل الذي طوي على الفضل أديمه، والعالم العامل الذي انتشر به الكمال حديثه وقديمه، من أشرق في أوج الجمال طالع سعده، وارتقى على كاهل الكمال بنيان مجده، واسطة عقد الأفاضل، وكعبة طواف ذوي الفضائل والفواضل، الفقيه الورع الزاهد، والمحدث الصوفي العابد، ولد بدارة عزة قرية من أعمال حلب سنة خمس وخمسين ومائة وألف، ودخل أيام شبابه حلب، واجتمع بخاله الشيخ العارف أبي بكر بن أحمد الهلالي القادري وأخذ عنه الطريقة واعتنى بشأنه، ثم ارتحل إلى مصر سنة ثمان وسبعين ولازم الشيوخ في الأزهر وقرأ عليهم وحضر دروسهم وأكثر من الأخذ والاستفادة والسماع، فقرأ على أبي داود سليمان بن الجمل وهو أجل من انتفع به، والشيخ أحمد الفالوجي، وسيدي محمد بن علي الصباغ، وسيدي أبي عبد الله محمد الأمير، والشهاب أحمد بن محمد الدردير، وأبي الصلاح أحمد بن موسى العمروسي وأبي الحسن علي بن أحمد
পৃথিবী তাঁর আগমনে আনন্দিত হয়েছে এবং তাঁর অবয়ব হয়েছে উদ্ভাসিত … যাতে আনন্দিত ব্যক্তির প্রফুল্লতা ফুটে উঠেছে।

উচ্চ জগত তাঁর জন্য গর্ববোধ করেছে এবং বলেছে, ইতিহাস লিখে রাখো … অতি উজ্জ্বল ইমাম হলেন শায়খ আল-বাজুরি।

হে বন্ধু! তাঁর কীর্তিগাঁথা বর্ণনা করো এবং বলো … আমার বর্ণিত এই ঐতিহ্যবাহী হাদিসটি বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে।

সুসংবাদ তাঁর জন্য, যিনি মাকামে ইবরাহিমে দাঁড়িয়ে … তাঁর কবুল হজের ফরযসমূহ আদায় করেছেন।

তিনি সেই সুউচ্চ কাবার সাঈ ও তাওয়াফ করেছেন যার … সমস্ত আহকাম ও রীতিনীতি কোনো ত্রুটি ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।

তাঁর এই সৌভাগ্য শুভ হোক এবং তিনি যেন পূর্ণ করেন … তাঁর মানত করা অবশিষ্ট নফল ইবাদতসমূহ।

তাঁর প্রতি আমি উপহার দিচ্ছি আমার চিন্তা-প্রসূত এক কাব্য-কন্যাকে … যা তার অবনত চোখের পাতায় লাজুকভাবে প্রকাশ পাচ্ছে।

তোমার আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যসমূহের সমাপ্তি হোক সুগন্ধময় … যেখানে পূর্ণাঙ্গ শ্রদ্ধার সাথে তার ইতি ঘটেছে।

অতঃপর যখন তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে এলো এবং তাঁর জীবনকাল শেষ হওয়ার উপক্রম হলো, তখন তিনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত হলেন। এই অসুস্থতা তাঁর সঙ্গ ছাড়ল না যতক্ষণ না তাঁর নির্ধারিত আয়ু পূর্ণ হলো। তিনি এক হাজার দুইশত ছিয়াত্তর হিজরি সনের যিলকদ মাসের আটাশ তারিখ বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন এবং মুজাওয়িরিন কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

 

‌‌শায়খ ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন দাহমান আল-হালাবি:

শাফেঈ মাযহাবের অনুসারী, কাদিরি তরীকার পথিক, বুরহানুদ্দীন, এমন এক ফাযিল বা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যাঁর সারা অস্তিত্ব শ্রেষ্ঠত্বের চাদরে মোড়ানো ছিল। এমন এক আমলকারী আলিম যাঁর পূর্ণতা তাঁর নতুন ও পুরাতন সকল কথায় ছড়িয়ে পড়েছিল। যাঁর সৌভাগ্যের নক্ষত্র সৌন্দর্যের শিখরে উদিত হয়েছিল এবং যাঁর মহত্ত্বের ইমারত পূর্ণতার কাঁধে আরোহণ করেছিল। তিনি ছিলেন গুণীজনদের কণ্ঠহারের মধ্যমণি এবং ফযীলত ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারীদের তাওয়াফ করার কাবা স্বরূপ। তিনি ছিলেন পরহেযগার, যাহিদ ফকিহ এবং ইবাদতগুজার সূফি মুহাদ্দিস। তিনি এক হাজার একশত পঞ্চান্ন হিজরি সনে আলেপ্পোর দারাতে ইযযাহ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। যৌবনকালে তিনি আলেপ্পো শহরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে তাঁর মামা আরিফ বিল্লাহ শায়খ আবু বকর বিন আহমদ আল-হিলালি আল-কাদিরির সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাঁর নিকট থেকে তরীকার দীক্ষা গ্রহণ করেন এবং শায়খ তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন নেন। অতঃপর তিনি এক হাজার একশত আটাত্তর হিজরি সনে মিশরে গমন করেন এবং আল-আযহারের শায়খদের সাহচর্যে থেকে তাঁদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন, তাঁদের দরসে উপস্থিত হন এবং অধিক হারে জ্ঞান অর্জন ও শ্রবণের মাধ্যমে উপকৃত হন। তিনি আবু দাউদ সুলাইমান বিন আল-জামালের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন, যিনি ছিলেন তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপকারি। এছাড়াও তিনি শায়খ আহমদ আল-فালুজি, সায়্যিদি মুহাম্মদ বিন আলি আস-সাববাগ, সায়্যিদি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আল-আমীর, শিহাব আহমদ বিন মুহাম্মদ আদ-দারদীর, আবুস সালাহ আহমদ বিন মুসা আল-আমরূসি এবং আবুল হাসান আলি বিন আহমদ এর নিকট পড়াশোনা করেন।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ١٢)
الصعيدي المالكي، وحسن بن غالبي الجداوي، ومحمد بن حسن السمنبودي المنير، وأبي عبد الله محمد بن أحمد بن الحسن الجوهري، وصفي الدين محمد ابن أحمد البخاري وغيرهم، فأخذ عنهم ولازمهم وانتفع بهم، وأخذ الطريقة الخلوتية عن سيدي الشيخ محمود بن يزيد الكوراني الكردي الشافعي خليفة الأستاذ الحفناوي، وسمع على الكثير وانتفع واشتغل بالعلم والطريقة وتفوق ورأس على أقرانه، وتقدم عليهم بوافر فضله وحسن بيانه، ثم قدم إلى حلب سنة ثمان وتسعين ومائة وألف فدرس بها ولزمه الناس، وبعد مجيئه مات ابن خاله الشيخ أبو الضياء هلال بن أبي بكر الحلبي القادري في أواخر سنة ثلاث ومائتين وألف، فاستقر مكانه شيخاً في زاويتهم الكائنة بمحلة الجلرم بباب قنسرين، وأقام مجالس التوحيد والأذكار وأوقات المواعيد على العادة، ولزم أبناء الطريق واختلى الخلوات المتعددة، ومع ذلك كان لا ينفك عن الإقراء والتحديث والإفادة ونقل الشيخ الفاضل العلامة خليل أفندي المرادي في بعض تعليقاته أنه دخل حلب سنة خمس ومائتين والف فاجتمع بالمترجم المرقوم وسمع من فوائده وزاره في زاويته وسمع منه حديث الرحمة المسلسل بالأولية. ومات رحمه الله بعد ذلك لا بكثير.

 

‌‌الشيخ إبراهيم بن الشيخ مصطفى السعدي الجباوي

‌‌بن الشيخ إبراهيم ابن السيد برهان الدين بن السيد مصطفى بن السيد سعد الدين الأصغر ابن السيد حسين بن السيد حسن بن السيد محمد بن السيد أبي بكر بن السيد علي الأكحل بن السيد سعد الدين الجباوي قدس الله سره:

ولد المترجم المرقوم في دمشق الشام في المحلة المعروفة بالميدان وذلك سنة ألف ومائتين وسبع عشرة ونشأ في حجر والده وحينما بلغ سن التمييز، تعلم القرآن العزيز، ثم اجتهد في طلب العلوم على والدي إلى أن صار له ملكة عظيمة، ومعرفة جسيمة، ثم أخذ الطريق، عن والده ذي المعرفة والتحقيق،
আস-সাঈদী আল-মালিকি, হাসান বিন গালিবি আল-জিদ্দাউই, মুহাম্মদ বিন হাসান আস-সামানবুদি আল-মুনির, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-হাসান আল-জাওহারি, সাফিউদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-বুখারি এবং অন্যান্যদের নিকট হতে; তিনি তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের সাহচর্য অবলম্বন করেছেন এবং তাঁদের দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। তিনি উস্তাদ আল-হাফনাউই-এর খলিফা সাইয়্যিদি আশ-শায়খ মাহমুদ বিন ইয়াজিদ আল-কুরানি আল-কুরদি আশ-শাফেয়ি-এর নিকট থেকে খালওয়াতিয়া তরীকা গ্রহণ করেন। তিনি অনেকের নিকট ইলম শ্রবণ করেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। ইলম ও তরীকা চর্চায় আত্মনিয়োগ করে তিনি সমসাময়িকদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন এবং তাঁদের ওপর প্রাধান্য লাভ করেন। তাঁর বিপুল মর্যাদা ও প্রাঞ্জল বর্ণনার মাধ্যমে তিনি অগ্রগণ্য হয়ে ওঠেন। অতঃপর তিনি ১১৯৮ হিজরি সালে আলেপ্পোতে আগমন করেন এবং সেখানে অধ্যাপনা শুরু করেন, ফলে মানুষ তাঁর সান্নিধ্য লাভ করতে শুরু করে। তাঁর আগমনের পর, ১২০৩ হিজরি সালের শেষভাগে তাঁর মামাতো ভাই শায়খ আবুয যিয়া হিলাল বিন আবি বকর আল-হালাবি আল-কাদরি মৃত্যুবরণ করেন। ফলে তিনি বাব কিননাসরিনের আল-জালরাম মহল্লায় অবস্থিত তাঁদের খানকায় শায়খ হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি রীতি অনুযায়ী তাওহীদ ও যিকিরের মজলিস এবং ওয়ায-নসীহতের সময়গুলো কায়েম করেন। তরীকার অনুসারীদের সাহচর্য প্রদান করেন এবং একাধিকবার নির্জনে ইবাদতে মগ্ন হন। তা সত্ত্বেও তিনি কুরআন পাঠদান, হাদীস বর্ণনা এবং জ্ঞান বিতরণে সর্বদা নিয়োজিত ছিলেন। বিদগ্ধ শায়খ আল্লামা খলিল আফেন্দি আল-মুরাদি তাঁর কিছু নোটে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ১২০৫ হিজরিতে আলেপ্পোতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি উল্লিখিত ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেন, তাঁর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা শ্রবণ করেন এবং তাঁর খানকায় তাঁকে যিয়ারত করেন। তিনি তাঁর নিকট থেকে ‘মুসালসাল বিল আওয়ালিয়্যাহ’ বা হাদীসে রাহমাত শ্রবণ করেন। এরপর খুব বেশিদিন না যেতেই তিনি আল্লাহ তাআলার রহমতে ইন্তেকাল করেন।

 

‌‌শায়খ ইব্রাহিম বিন শায়খ মুস্তাফা আস-সা’দি আল-জিবাউই

‌‌বিন শায়খ ইব্রাহিম ইবনে আস-সাইয়্যিদ বুরহান উদ্দিন বিন আস-সাইয়্যিদ মুস্তাফা বিন আস-সাইয়্যিদ সাদ উদ্দিন আল-আসগার ইবনে আস-সাইয়্যিদ হুসাইন বিন আস-সাইয়্যিদ হাসান বিন আস-সাইয়্যিদ মুহাম্মদ বিন আস-সাইয়্যিদ আবু বকর বিন আস-সাইয়্যিদ আলী আল-আকহাল বিন আস-সাইয়্যিদ সাদ উদ্দিন আল-জিবাউই (আল্লাহ তাঁর গোপন রহস্য পবিত্র করুন):

উল্লিখিত ব্যক্তি দামেস্কের আল-মাইদান নামক মহল্লায় ১২১৭ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন। যখন তিনি বুঝমান হওয়ার বয়সে পৌঁছালেন, তখন পবিত্র কুরআন শিক্ষা করেন। অতঃপর তিনি আমার পিতার নিকট জ্ঞান অর্জনে কঠোর সাধনা করেন, যে পর্যন্ত না তিনি এক মহান দক্ষতা ও গভীর প্রজ্ঞার অধিকারী হন। এরপর তিনি গভীর প্রজ্ঞা ও তাহকীক সম্পন্ন নিজ পিতার নিকট থেকে তরীকার শিক্ষা গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ١٣)
ولم يزل يجتهد في السلوك والطاعة، ويحفظ أوقاته عن البطالة والإضاعة، إلى أن انتقل والده إلى الدار الآخرة العلية، فآلت إليه مشيخة السجادة السعدية، وكانت لا تليق إلا إليه، ولا تعول إلا عليه، فرفع منارها، وأقام أذكارها، وأدب طلابها، وأتقن بناها واعرابها، وشيد أركانها، ورفع عنوانها، وكان لي تردد إليه، واعتماد عليه، حيث إنه حميد السيرة، حسن السريرة، واسع الصدر، رفيع القدر، وفي سنة اثنتين وثمانين بعد المائتين والألف تزوجت بكريمته البرة التقية، والصالحة النقية، السيدة رقية، فرزقت منها أولاداً لم يبق لي منهم سوى الولد الصالح، والشهم الفالح، السيد محمد سعد الدين جعله الله من أهل العرفان، وفتح عليه فتوح السادة الأعيان، وحفظه من كل عيب، وصانه من كل شائبة وريب، ولم يزل المترجم ملازماً لعبادته، ناهجاً منهج سيادته وسعادته، إلى أن دعاه داعي المنية، إلى الدار الآخرة العلية، فلبى الداعي من غير تأخير، ومات فجأة وتعجل في المسير، وذلك أواخر رجب الفرد سنة اثنتين وثمانين ومايتين وألف ودفن بمدفن السادة السعدية في تربة باب الله وقبره ظاهر.

تتمة: طالما تطلبت ترجمة جده الشهم الهمام، والسيد العارف الإمام، مجمع الفضائل، وقطب الأفاضل، السيد سعد الدين الجباوي فلم أقف لها على خبر، ولم أقع لها على أثر، إلى أن رأيت روضة الناظرين، وخلاصة مناقب الصالحين، للإمام الكبير العلامة، والهمام النحرير الفهامة، العارف بالله الشيخ أحمد بن محمد الوتري قدس الله روحه، ونور مرقده وضريحه، فإنه قد ترجمها ترجمة لطيفة، مفصحة عن مرتبته المنيفة، فأحببت أن أذكرها بتمامها بدون زيادة ولا نقصان، لندرة وجودها في تراجم السادة
তিনি আধ্যাত্মিক পথ চলা ও আনুগত্যে নিরলস পরিশ্রম করতে থাকেন এবং তাঁর সময়কে অলসতা ও অপচয় থেকে রক্ষা করেন, যতক্ষণ না তাঁর পিতা পরকালীন উচ্চ আলয়ে পাড়ি জমান। এরপর সাদিয়া তরিকার সাজ্জাদানশিনি (নেতৃত্ব) তাঁর কাছে হস্তান্তরিত হয়। এই পদটি তিনি ছাড়া আর কারও জন্য উপযুক্ত ছিল না এবং তাঁর ওপর ছাড়া আর কারও ওপর ভরসা করা যেত না। তিনি এর মিনারকে সমুন্নত করেন, এর জিকিরসমূহ প্রতিষ্ঠিত করেন, এর ছাত্রদের আদব শিক্ষা দেন এবং এর কাঠামো ও বিন্যাস সুচারুভাবে সম্পন্ন করেন। তিনি এর স্তম্ভগুলোকে সুদৃঢ় করেন এবং এর নামকে উচ্চকিত করেন। আমার তাঁর কাছে যাতায়াত ছিল এবং তাঁর ওপর আমার আস্থা ছিল; কেননা তিনি ছিলেন প্রশংসনীয় চরিত্রের অধিকারী, উত্তম অন্তরের অধিকারী, উদার এবং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। ১২৮২ হিজরি সালে আমি তাঁর সচ্চরিত্রবান, খোদাভীরু, পুণ্যবতী ও পবিত্রা কন্যা সায়্যিদা রুকাইয়ার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। তাঁর গর্ভে আমার বেশ কয়েকজন সন্তান জন্ম নেয়, তবে তাদের মধ্যে কেবল সৎ, সাহসী ও সফল পুত্র সায়্যিদ মুহাম্মদ সাদউদ্দীনই জীবিত আছে। আল্লাহ তাঁকে আধ্যাত্মিক জ্ঞানসম্পন্নদের অন্তর্ভুক্ত করুন, তাঁর জন্য শ্রেষ্ঠ বুজুর্গদের মতো আধ্যাত্মিক দ্বার উন্মোচন করে দিন, তাঁকে সকল দোষত্রুটি থেকে রক্ষা করুন এবং যাবতীয় কালিমা ও সন্দেহ থেকে মুক্ত রাখুন। যাঁর জীবনী বর্ণিত হচ্ছে, তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে ইবাদতে মগ্ন ছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্ব ও সৌভাগ্যের পথে অটল ছিলেন, যতক্ষণ না মৃত্যুর আহ্বানকারী তাঁকে পরকালীন উচ্চ আলয়ের দিকে আহ্বান করল। তিনি বিলম্ব না করেই সেই আহ্বানে সাড়া দিলেন এবং আকস্মিকভাবে ইন্তেকাল করে দ্রুত পরপারে পাড়ি জমালেন। এটি ছিল ১২৮২ হিজরি সালের পবিত্র রজব মাসের শেষ দিকে। তাঁকে ‘বাবুল্লাহ’ কবরস্থানে সাদিয়া সায়্যিদদের দাফনস্থলে সমাহিত করা হয় এবং তাঁর কবর সুপরিচিত।

পরিশিষ্ট: দীর্ঘকাল আমি তাঁর সাহসী ও মহান দাদা, আধ্যাত্মিক সাধক ও ইমাম, শ্রেষ্ঠ গুণাবলির আধার এবং গুণীজনদের কুতুব সায়্যিদ সাদউদ্দীন আল-জাবাউয়ীর জীবনীর সন্ধান করেছি, কিন্তু তাঁর সম্পর্কে কোনো সংবাদ বা চিহ্ন পাচ্ছিলাম না। শেষ পর্যন্ত আমি মহান ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম, আধ্যাত্মিক সাধক শেখ আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াতারি (আল্লাহ তাঁর রুহকে পবিত্র করুন এবং তাঁর সমাধিস্থলকে নূরান্বিত করুন) রচিত ‘রাওদাতুন নাজিরিন ওয়া খুলাসাতু মানাক্বিবিল সালিহিন’ গ্রন্থটি দেখতে পাই। সেখানে তিনি তাঁর একটি চমৎকার জীবনী বর্ণনা করেছেন, যা তাঁর সুউচ্চ মর্যাদাকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। তাই আমি কোনো প্রকার সংযোজন বা বিয়োজন ছাড়াই এটি পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করা পছন্দ করলাম, কারণ সায়্যিদদের জীবনীসংক্রান্ত গ্রন্থগুলোতে এটি খুব কমই পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ١٤)
الأعيان، فقال ما نصه: ومنهم العارف بالله، المستغرق في محبة مولاه الولي الجليل الشيخ سعد الدين أبو محمد الشيباني الجباوي قدس الله سره، ورضي الله عنه. كان في بدايته مولعاً في حب الكر والفر والفروسية وانتهى إلى قطع الطريق مع جماعة من أهل حوران، وكان جده الشيخ يونس الشيباني الكبير قدس الله روحه بدمشق يدعو الله إذا خلا مع ربه بإصلاح سعد الدين أو بقبضه إليه ففي ليلة من الليالي والشيخ سعد الدين مع رفقائه وإذا بأحد عشر فارساً على خيل بيض على طريقهم فكر عليهم سعد الدين بجماعته فلما قرب من الأول نظره شزراً وقال " ألم يأن للذين آمنوا أن تخشع قلوبهم لذكر الله " فسقط الشيخ سعد الدين إلى الأرض مغشياً عليه، وجماعته أيضاً كل صعق وغشي عليهم أجمعين. ثم بعد برهة يسيرة أفاق فقال الفارس الأول: يا سعد الدين أنا نبيك محمد صلى الله عليه وسلم وهؤلاء الصحابة العشرة، وأعطاه من يده المباركة تينتين نفخ عليهما فأكلهما فانكشفت له العوالم وثبت في قلبه خوف الله تعالى فصار ببركته عليه الصلاة والسلام من العارفين، ثم إنه ترك ما كان عليه وانحدر إلى دمشق ولبس الخرقة من والده الشيخ مزيد الشيباني وانتشرت به الخرقة السعدية وعمر رواقاً في قرية جبا من أعمال دمشق وأرشد بها السالكين، وانتفع به أمة وظهر واشتهر وجرت على يديه الخوارق، أخذ الطريقة ولبس الخرقة من والده الشيخ مزيد الشيباني، وللشيخ مزيد طريقان في الخرقة، الأول عن أبيه الشيخ يونس الكبير الشيباني، وسيأتي ذكر سنده. والثاني عن الشيخ الإمام القطب الشريف السيد أحمد الكبير الرفاعي رضي الله عنه أخذ عنه الطريقة وتشرف ببيعته سنة خمس وخمسين وخمسماية، السنة التي مدت بها للسيد المشار إليه يد جده صلى الله عليه وسلم وقد نفخ في فمه وقال يا مزيد لك ما لنا وعليك ما علينا وأنت منا ولنا. وسند السيد أحمد الرفاعي رضي الله عنه في الخرقة شهير في محله، وأما سند الشيخ يونس الشيباني فإنه عن الشيخ أبي مدين عن الشيخ سعيد الأندلسي عن الشيخ أبي اركات
আল-আ'ইয়ান, সেখানে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার পাঠ হলো: তাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহকে চেনা আরিফ বিল্লাহ, নিজ প্রতিপালকের মহব্বতে নিমগ্ন মহান অলি শাইখ সাদউদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আশ-শাইবানি আল-জাবাউয়ি, আল্লাহ তাঁর রহস্য পবিত্র করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন। শুরুর দিকে তিনি আক্রমণ, পলায়ন ও ঘোড়সওয়ারির নেশায় মত্ত ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত হাওরান অঞ্চলের একদল লোকের সাথে দস্যুবৃত্তিতে লিপ্ত হন। দামেশকে তাঁর দাদা শাইখ ইউনুস আশ-শাইবানি আল-কাবীর (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) যখন তাঁর রবের সাথে একাকী হতেন, তখন আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন তিনি সাদউদ্দীনকে সংশোধন করে দেন অথবা তাঁকে নিজের কাছে তুলে নেন। এক রাতে শাইখ সাদউদ্দীন তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে ছিলেন, এমন সময় হঠাৎ সাদা ঘোড়ায় চড়া এগারোজন অশ্বারোহী তাঁদের পথে আবির্ভূত হলেন। সাদউদ্দীন তাঁর দলবল নিয়ে তাঁদের ওপর আক্রমণ করলেন। যখন তিনি প্রথম জনের কাছাকাছি হলেন, তখন সেই ব্যক্তি তাঁর দিকে কঠোর দৃষ্টিতে তাকালেন এবং বললেন, "মুমিনদের জন্য কি সেই সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর বিগলিত হবে?" এতে শাইখ সাদউদ্দীন জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন এবং তাঁর সঙ্গীরাও সবাই বজ্রাহত হয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তিনি সজাগ হলেন। তখন প্রথম অশ্বারোহী বললেন: হে সাদউদ্দীন, আমি তোমার নবী মুহাম্মাদ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এবং এরা হলেন দশজন সাহাবী। তিনি তাঁর বরকতময় হাত থেকে তাঁকে দুটি ডুমুর ফল দিলেন যেগুলোর ওপর তিনি ফুঁ দিয়েছিলেন। তিনি সেগুলো খেলেন এবং তাঁর সামনে জগতসমূহ উন্মোচিত হলো এবং তাঁর অন্তরে আল্লাহ তায়ালার ভয় দৃঢ়ভাবে গেঁথে গেল। ফলে তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বরকতে তিনি আরিফদের অন্তর্ভুক্ত হলেন। এরপর তিনি তাঁর পূর্বের পথ ত্যাগ করে দামেশকে চলে আসলেন এবং তাঁর পিতা শাইখ মজিদ আশ-শাইবানির কাছ থেকে খিরকা পরিধান করলেন। তাঁর মাধ্যমেই সাদিয়া তরিকার প্রসার ঘটে। তিনি দামেশকের জাবা গ্রামে একটি খানকাহ নির্মাণ করেন এবং সেখানে সালেকদের পথনির্দেশনা দান করেন। বহু মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে। তিনি প্রসিদ্ধি ও খ্যাতি লাভ করেন এবং তাঁর হাতে অলৌকিক ঘটনাবলী প্রকাশ পায়। তিনি তাঁর পিতা শাইখ মজিদ আশ-শাইবানির কাছ থেকে তরিকাহ গ্রহণ করেন এবং খিরকা পরিধান করেন। শাইখ মজিদের খিরকা প্রাপ্তির দুটি সূত্র রয়েছে: প্রথমটি তাঁর পিতা শাইখ ইউনুস আল-কাবীর আশ-শাইবানির মাধ্যমে, যার সনদ সামনে উল্লেখ করা হবে। দ্বিতীয়টি শাইখ ইমাম কুতুব শরীফ সায়্যিদ আহমাদ আল-কাবীর আর-রিফায়ি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর মাধ্যমে। তিনি তাঁর কাছ থেকে তরিকাহ গ্রহণ করেন এবং ৫৫৫ হিজরি সনে তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেন। এটি সেই বছর যখন উল্লিখিত সায়্যিদের দিকে তাঁর দাদা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি তাঁর মুখে ফুঁ দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: হে মজিদ, আমাদের যা প্রাপ্য তোমারও তাই প্রাপ্য, আমাদের ওপর যা আবশ্যক তোমার ওপরও তাই আবশ্যক, তুমি আমাদের থেকে এবং আমাদের জন্য। খিরকার ক্ষেত্রে সায়্যিদ আহমাদ আর-রিফায়ি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর সনদ স্বীয় স্থানে সুবিখ্যাত। আর শাইখ ইউনুস আশ-শাইবানির সনদ হলো শাইখ আবু মাদইয়ান থেকে, তিনি শাইখ সাঈদ আল-আন্দালুসি থেকে এবং তিনি শাইখ আবু বারাকাত থেকে।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ١٥)
لب عن الشيخ أبي البقاء عن الشيخ بكر تاج العارفين عن الشيخ أبي بكر الشهير بالمقبول الشيباني قدس الله سره عن الشيخ أبي القاسم الكركاني عن الشيخ أبي عثمان المغربي عن الشيخ أبي علي الكاظمي عن الشيخ علي الكاتب عن الشيخ العارف بالله أبي بكر الشبلي عن شيخ الطائفة العارف بالله جنيد البغدادي عن السري السقطي عن معروف الكرخي عن داود الطائي عن حبيب العجمي عن الشيخ الحسن البصري عن الإمام علي بن أبي طالب كرم الله وجهه عن النبي صلى الله عليه وسلم. مات الشيخ سعد الدين رضي الله عنه سنة إحدى وعشرين وستماية ودفن في رواقه بجبا. ومرقده مشهور يزار ويتبرك به وله ذرية بدمشق وحوران معروفون كلهم على حال حسن وسيرة مرضية بارك الله بهم. انتهى كلام الروضة.

 

‌‌إبراهيم باشا بن محمد علي باشا خديوي مصر والقاهرة

غشوم ظالم، وظلوم غاشم، خليفة الحجاج في أفعاله، وناهج منهجه في أقواله وأحواله، محتو على الفساد، منطو على الإنكاد، مجبول على الغلظة والقساوة، مجعول من الفظاظة معدوم من اللطافة والطلاوة، ممتلىء منه البذا، متضلع من الأذى، لم يخلق الله تعالى في قلبه شيئاً من الرحمة فينتزع، ولم يودع الله لسانه لفظاً من الخير فيستمع، سفاك لدماء المسلمين، نباذ لطاعة أمير المؤمنين، كان يعتقد أن ذلك ليس أمراً ذميماً، ولا يهوله قوله تعالى: " ومن يقتل مؤمناً متعمداً فجزاؤه جهنم خالداً فيها وغضب الله عليه ولعنه وأعد له عذاباً عظيماً ". فإن هذا المترجم لما اشتد أزره، وقوي أمره، تولى قيادة العساكر المصرية، وصارت له الإمرة الجندية، ثم بعد ذلك وجهه والده إلى الأراضي الشامية، ليضمها إلى الحكومة المصرية، فلم يزل يسير بعساكره، متقلداً لسيف طغيانه ومناكره، حتى حل حي عكة، وكان الوالي بها عبد الله باشا من طرف الدولة العثمانية
শেখ আবু আল-বাকা থেকে বর্ণিত, তিনি শেখ বকর তাজ আল-আরিফিন থেকে, তিনি শেখ আবু বকর থেকে—যিনি আল-মাকবুল আল-শায়বানি নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর রহস্য পবিত্র করুন), তিনি শেখ আবু আল-কাসিম আল-কুরকানি থেকে, তিনি শেখ আবু উসমান আল-মাগরিবি থেকে, তিনি শেখ আবু আলী আল-কাজমি থেকে, তিনি শেখ আলী আল-কাতিব থেকে, তিনি আল্লাহর মারেফাতপ্রাপ্ত শেখ আবু বকর আল-শিবলি থেকে, তিনি সুফিদের প্রধান আল্লাহর মারেফাতপ্রাপ্ত জুনাইদ আল-বাগদাদি থেকে, তিনি সারি আল-সাকাতি থেকে, তিনি মারুফ আল-কারখি থেকে, তিনি দাউদ আল-তায়ি থেকে, তিনি হাবিব আল-আজমি থেকে, তিনি শেখ হাসান বসরী থেকে, তিনি আলী বিন আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন) থেকে এবং তিনি নবী (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর উপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেছেন। শেখ সাদ উদ্দিন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ছয়শত একুশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং জাব্বা নামক স্থানের এক বারান্দায় তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর মাজার অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, যা জিয়ারত করা হয় এবং তার মাধ্যমে বরকত হাসিল করা হয়। দামেস্ক ও হাওরানে তাঁর বংশধররা রয়েছেন, যাঁরা সকলেই সচ্চরিত্র ও প্রশংসনীয় জীবনধারার জন্য সুপরিচিত, আল্লাহ তাঁদের বরকত দান করুন। রওজাতুল আসফিয়ার বক্তব্য এখানেই শেষ হলো।

 

‌‌ইব্রাহিম পাশা বিন মুহাম্মদ আলী পাশা, মিশর ও কায়রোর খেদিভ

অত্যন্ত উৎপীড়ক ও জালেম, চরম অন্যায়কারী ও অত্যাচারী; তিনি তাঁর কর্মে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের উত্তরসূরি এবং তাঁর কথা ও চালচলনে তাঁরই পদাঙ্ক অনুসারী। তিনি ফিতনা-ফ্যাসাদে নিমজ্জিত এবং মানুষের দুঃখ-কষ্ট বৃদ্ধিতে সচেষ্ট। কঠোরতা ও নিষ্ঠুরতা তাঁর মজ্জাগত, রূঢ়তা তাঁর স্বভাবজাত এবং নম্রতা ও মাধুর্য থেকে তিনি সম্পূর্ণ বঞ্চিত। অশ্লীলতায় তিনি পরিপূর্ণ এবং অন্যের অনিষ্ট সাধনে পারদর্শী। আল্লাহ তাআলা তাঁর হৃদয়ে বিন্দুমাত্র দয়া সৃষ্টি করেননি যা পরিলক্ষিত হতে পারত, আর আল্লাহ তাঁর জিহ্বায় কোনো কল্যাণকর শব্দও আমানত রাখেননি যা শ্রবণ করা যেত। তিনি মুসলিমদের রক্তপাতকারী এবং আমিরুল মুমিনীনের আনুগত্য বর্জনকারী। তিনি মনে করতেন যে এটি কোনো নিন্দনীয় কাজ নয় এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণী তাঁকে ভীত করত না: "আর কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি হবে জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে। আর আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন, তাকে অভিশপ্ত করেছেন এবং তার জন্য মহা আযাব প্রস্তুত রেখেছেন।" এই জীবনীতে আলোচিত ব্যক্তিটি যখন শক্তিশালী হয়ে উঠলেন এবং তাঁর ক্ষমতা সুসংহত হলো, তখন তিনি মিশরীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং সামরিক কর্তৃত্ব লাভ করেন। এরপর তাঁর পিতা তাঁকে শাম (সিরিয়া) অভিমুখে প্রেরণ করেন যেন তিনি তা মিশরীয় সরকারের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। তিনি তাঁর অবাধ্যতা ও অন্যায়-অবিচারের তলোয়ার ধারণ করে নিজ সৈন্যবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হতে থাকেন, অবশেষে তিনি আক্কা অঞ্চলে উপনীত হন। সেই সময় ওসমানীয় সালতানাতের পক্ষ থেকে সেখানকার গভর্নর ছিলেন আব্দুল্লাহ পাশা।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ١٦)
فدكها دكة أي دكة، وسبب ذلك أن عبد الله باشا وقعت بينه وبين محمد علي باشا عداوة كلية، بسبب أنه خابره بتسليمه بلاد الشام فلم يجبه إلى هذه الأمنية، وكانت وقعة الشام مع سليم باشا آنفة الوقوع، والأفكار تحكم بأن الجزاء مقطوع به لا ممنوع، فلما سمع السلطان بعداوة عبد الله باشا مع محمد علي باشا أشفق من اتحاد الشام مع الخديوي المرقوم، فأرسل للعفو عن الشام أجل مرسوم، ووجه والياً يسمى علي باشا إلى الشام، لمداركة الأمر بغاية الاهتمام، فأرسل محمد علي باشا إلى السلطان شكاية على عبد الله باشا تطعن بعظيم شانه لعله يعزله ويجعله في مكانه، فيصل إلى مطلوبه، ويحصل من غير ضرر على مرغوبه، غير أن السلطان لم يجبه إلى مراده، ولم يوصله إلى ما تأمله في اجتهاده، فجمع إبراهيم باشا الجموع الكثيرة، وتغلب على غالب البلاد الشامية الشهيرة التي تحت ولاية عبد الله باشا كغزة والرملة والقدس والخليل ونابلس وبلاد الساحل، وحصن قلعة طرابلس وساعده أمير جبل الدروز الأمير بشير ورؤساء جبل نابلس، لكون عبد الله باشا في العام الماضي حاصر قلعة سينور وهدمها وحصل منه ضرر لأهل نابلس وكان ذلك من أسباب الغلاء الذي وقع في البلاد الشامية، فأرسل حضرة السلطان إلى والي مصر يأمره برفع عساكره عن عكا، فامتنع، فأمر السلطان بجمع العساكر العثمانية وأمر والي حلب بالتوجه إلى مساعدة عبد الله باشا، واستمر العسكر المصري يضارب عكة بحرب لم يسمع بمثله، وقد ورد كتاب من والي عكة إلى بعض أعيان دمشق يقول فيه: إن نارهم بالمدافع والقنابر لا تفتر دقيقة واحدة وإنهم يضربون اثنين وعشرين مدفعاً بفتيل واحد، وإنهم في سادس شوال اقتحموا على عكة ودخلوا من الجهات التي خربوها من السور فخرج إليهم عسكر عكة وضاربوهم بالسيوف ومن فوق السور بالمدافع والقنابر حتى أهلكوا غالب من اقتحم وامتلأ وجه الأرض من قتلاهم فانهزموا خائبين؛

সুতরাং তিনি একে যথাযথভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন। এর কারণ ছিল আবদুল্লাহ পাশা এবং মুহাম্মদ আলী পাশার মধ্যে চরম শত্রুতা সৃষ্টি হওয়া; যার মূল কারণ ছিল যে, তিনি তার কাছে সিরিয়া হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি তার এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেননি। সেলিম পাশার সাথে সিরিয়ার যুদ্ধ তখন অত্যাসন্ন ছিল এবং সাধারণ ধারণা ছিল যে, এর প্রতিফল নিশ্চিতভাবেই ঘটবে, যা রোধ করা সম্ভব নয়। যখন সুলতান আবদুল্লাহ পাশার সাথে মুহাম্মদ আলী পাশার শত্রুতার সংবাদ পেলেন, তখন তিনি উক্ত খেদিভের সাথে সিরিয়া একীভূত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ভীত হলেন। তাই তিনি সিরিয়ার সাধারণ ক্ষমার জন্য এক মহান ফরমান জারি করলেন এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদারকি করার জন্য আলী পাশা নামক একজন গভর্নরকে সিরিয়ায় প্রেরণ করলেন। এদিকে মুহাম্মদ আলী পাশা সুলতানের কাছে আবদুল্লাহ পাশার বিরুদ্ধে এক অভিযোগনামা পাঠালেন এবং তার মর্যাদার ওপর আঘাত হানলেন, যাতে সুলতান তাকে বরখাস্ত করে তাকে সেই স্থলাভিষিক্ত করেন। এর ফলে তিনি তার উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারতেন এবং কোনো ক্ষতি ছাড়াই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারতেন। তবে সুলতান তার এই বাসনা পূর্ণ করেননি এবং তার এই প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত ফল দেননি। ফলে ইব্রাহিম পাশা এক বিশাল বাহিনী সংগ্রহ করলেন এবং আবদুল্লাহ পাশার শাসনাধীন সিরিয়ার অধিকাংশ বিখ্যাত শহর যেমন গাজা, রামলা, কুদ্স, খলিল, নাবলুস ও উপকূলীয় এলাকাগুলো জয় করে নিলেন। তিনি ত্রিপোলি দুর্গকেও সুরক্ষিত করেন। জাবালে দুরুজের আমির আমীর বশির এবং নাবলুসের নেতৃবৃন্দ তাকে সহায়তা করেন; কারণ গত বছর আবদুল্লাহ পাশা সিনুর দুর্গ অবরোধ ও ধ্বংস করেছিলেন এবং এর ফলে নাবলুসবাসীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এছাড়া সিরিয়া ভূখণ্ডে যে দুর্ভিক্ষ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছিল, এটিও ছিল তার অন্যতম কারণ। এমতাবস্থায় মহামান্য সুলতান মিশরের গভর্নরের কাছে নির্দেশ পাঠালেন যেন তিনি আক্কা থেকে তার সৈন্যবাহিনী প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। তখন সুলতান উসমানীয় সৈন্যবাহিনী একত্রিত করার নির্দেশ দিলেন এবং আলেপ্পোর গভর্নরকে আবদুল্লাহ পাশার সাহায্যে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। এদিকে মিশরীয় বাহিনী আক্কায় এমন এক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে লাগল যার দৃষ্টান্ত আগে কখনো শোনা যায়নি। আক্কার গভর্নরের পক্ষ থেকে দামেস্কের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে একটি পত্র আসে, যাতে তিনি বলেন: তাদের কামান ও গোলার আগুন এক মুহূর্তের জন্যও থামছে না এবং তারা একটি মাত্র পলিতার মাধ্যমেই বাইশটি কামান থেকে গোলাবর্ষণ করছে। শাওয়াল মাসের ছয় তারিখে তারা আক্কায় আক্রমণ চালায় এবং দেয়ালের যে অংশগুলো তারা ধ্বংস করেছিল, সেখান দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। তখন আক্কার সৈন্যরা বেরিয়ে এসে তাদের সাথে তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ করে এবং দেয়ালের ওপর থেকে কামান ও গোলার আঘাত হানে। এতে আক্রমণকারীদের অধিকাংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং জমিনের উপরিভাগ তাদের লাশে পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে তারা ব্যর্থ হয়ে পরাজিত হয়ে পলায়ন করে।

(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ١٧)
وبسبب هذه الفتنة تعطلت الأموال الأميرية المعينة على نابلس وطرابلس وتلك الجهات لأجل ركب الحاج الشريف، فورد الأمر السلطاني في خامس عشر شوال بأن لا يخرج الحاج في ذلك العام وأمر والي الشام بأن يتوافق مع أهل البلد ويحافظ الشام، وفي ثالث وعشرين من شوال سافرت الصرة وأعيان الحج الموظفون إلى الاستانة، وجاء في هذا الشهر عباس باشا بن محمد علي باشا إلى أرض البقاع العزيز وحصن بعض القلاع هناك ليقطع الطريق على العساكر العثمانية الواردة لقتالهم، وافترق أهل جبل الدروز وتلك النواحي فرقتين فالنصارى منهم تابعوا الأمير بشير المتوافق مع إبراهيم باشا، وخالفهم الدروز وأظهروا الإطاعة للسلطان، وفي ذي القعدة توجه عثمان باشا الذي ولاه السلطان على طرابلس الشام بكل همة وجمع هناك عساكر كثيرة وحاصر طرابلس، فوصل الخبر إلى إبراهيم باشا فتوجه من عكة بجمع من عساكره المحاصرين عكة إلى طرابلس، فلما سمع به عثمان باشا خرج من طرابلس الشام لاقتضاء المقام ذلك، وتفرقت جموعه، ثم بعد ايام توجه إبراهيم باشا إلى حمص فدخلها في حادي وعشرين من ذي القعدة بلا قتال، وكان في حماه جمع من العساكر العثمانية ومعهم ثلاثة من الباشوات القواد، فلما سمعوا بوصول العسكر المصري إلى حمص ساروا إليهم، فخرج إبراهيم باشا من حمص ولحقه بعض العساكر العثمانية خارج حمص عند البحيرة، فرشقهم بالمدافع فرجعوا

عند ذلك إلى حمص وأقاموا بها، ولم يعينوا عبد الله باشا، ولم يحصل منهم في هذه المدة سوى تثبيت البلاد، وتوجه إبراهيم باشا إلى بعلبك وجاءه المدد من العساكر والذخائر، وقام بإعانته أهل الجبل من النصارى والدروز وكان قبل ذلك قد قاتل بعض الدروز بعض النصارى، فرجع إليهم إبراهيم باشا وكسر شوكتهم فأطاعوه، وخرج حسين باشا سردار من الاستانة بعساكر عظيمة، وولاه حضرة السلطان على مصر وما يليها، وفي هذه المدة كلها يظهر محمد علي باشا الطاعة للسلطان
এই ফিতনার কারণে নাবলুস, ত্রিপলী এবং সেসব অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত রাজকীয় অর্থ যা সম্মানিত হজ্জ কাফেলার জন্য বরাদ্দ ছিল, তা ব্যাহত হলো। ফলে পনেরোই শাওয়াল সুলতানী ফরমান জারি হলো যে, সেই বছর হজ্জ কাফেলা বের হবে না। এবং শামের ওয়ালিকে নির্দেশ দেওয়া হলো যেন তিনি দেশের মানুষের সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকেন এবং শাম অঞ্চল রক্ষা করেন। তেইশে শাওয়াল হজ্জের জন্য প্রেরিত উপঢৌকন (সুরাহ) এবং হজ্জের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইস্তাম্বুলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। এই মাসেই মুহাম্মদ আলী পাশার পুত্র আব্বাস পাশা আযীয বেকা উপত্যকায় পৌঁছলেন এবং যুদ্ধের জন্য আগত উসমানীয় সৈন্যদের পথ রুদ্ধ করার লক্ষ্যে সেখানকার কিছু দুর্গ সুরক্ষিত করলেন। জাবালে দ্রুজ এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অধিবাসীরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল; খ্রিষ্টানরা ইব্রাহিম পাশার মিত্র আমির বশিরের আনুগত্য করল, আর দ্রুজরা তাদের বিরোধিতা করে সুলতানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করল। যুল-কা’দাহ মাসে সুলতান কর্তৃক শাম-ত্রিপলীর ওয়ালি নিযুক্ত উসমান পাশা পূর্ণ উদ্যমে সেদিকে অগ্রসর হলেন এবং সেখানে এক বিশাল সৈন্যদল একত্রিত করে ত্রিপলী অবরোধ করলেন। এই সংবাদ ইব্রাহিম পাশার কাছে পৌঁছলে তিনি আক্কা অবরোধকারী তাঁর একদল সৈন্য নিয়ে আক্কা থেকে ত্রিপলীর উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। উসমান পাশা যখন তাঁর আসার কথা শুনলেন, তখন পরিস্থিতির প্রয়োজনে তিনি শাম-ত্রিপলী থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং তাঁর সৈন্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। অতঃপর কয়েকদিন পর ইব্রাহিম পাশা হিমসের দিকে অগ্রসর হলেন এবং একুশে যুল-কা’দাহ কোনো যুদ্ধ ছাড়াই সেখানে প্রবেশ করলেন। হামাহ শহরে উসমানীয় বাহিনীর এক বিশাল সমাবেশ ছিল এবং তাঁদের সাথে তিনজন সেনাপতি পাশা ছিলেন। যখন তাঁরা হিমসে মিশরীয় বাহিনীর আগমনের কথা শুনলেন, তখন তাঁরা তাঁদের দিকে অগ্রসর হলেন। ইব্রাহিম পাশা হিমস থেকে বের হলেন এবং হিমসের বাইরে হ্রদের কাছে কিছু উসমানীয় সৈন্য তাঁকে আক্রমণ করল। তিনি কামানের গোলা নিক্ষেপ করে তাদের প্রতিহত করলেন, ফলে তারা পিছু হটল

সেই অবস্থায় হিমসের দিকে এবং সেখানে তারা অবস্থান করল। তারা আব্দুল্লাহ পাশাকে কোনো সাহায্য করেনি এবং এই সময়ে দেশ শাসনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ছাড়া তাদের পক্ষ থেকে আর কিছুই ঘটেনি। এরপর ইব্রাহিম পাশা বালবাকের দিকে অগ্রসর হলেন এবং সেখানে তাঁর কাছে সৈন্য ও রসদপত্রের সাহায্য পৌঁছাল। পাহাড়ী অঞ্চলের খ্রিষ্টান ও দ্রুজরা তাঁকে সহায়তা করল। এর আগে কিছু দ্রুজ ও খ্রিষ্টানের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু ইব্রাহিম পাশা তাদের কাছে ফিরে গিয়ে তাদের শক্তি চূর্ণ করলেন, ফলে তারা তাঁর আনুগত্য স্বীকার করল। ইস্তাম্বুল থেকে হুসাইন পাশা সরদার এক বিশাল বাহিনী নিয়ে বের হলেন এবং মহামান্য সুলতান তাঁকে মিশর ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের দায়িত্ব প্রদান করলেন। এই পুরো সময়জুড়ে মুহাম্মদ আলী পাশা সুলতানের প্রতি বাহ্যিক আনুগত্য প্রদর্শন করে যাচ্ছিলেন।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ١٨)
ولم يصرح السلطان بخروجه عن الطاعة بل وقع التصريح بخروج إبراهيم باشا وعباس باشا طمعاً في رجوعهما عن هذا الأمر، فلما رأت الحضرة الشاهانية أن محمد علي باشا مصرٌ على قتال عكة أرسل إلى البلاد يعلن بأن محمد علي باشا معزول من المناصب، وأمر أهل البلاد بقتاله وورد الأمر إلى دمشق في نصف ذي الحجة بذلك وبتحصين البلد، فحينئذ اشتد حصار إبراهيم باشا لعكة لعلمه بقرب مجيء حسين باشا، فلما كانت ليلة الاثنين السابع والعشرين من ذي الحجة الحرام اقتحم العسكر على عكة ودخلوا إلى الأبراج على السلالم واستولوا عليها، وقبض على عبد الله باشا ووقع من القتل والنهب والسلب ما لا يحمد ولا يحصر، ولا يقال ولا يذكر، وذكر بعضهم أن جملة من قتل من عسكر إبراهيم باشا اثنا عشر ألفاً ومن عساكر عكة نحو خمسة آلاف، وكان ابتداء حصاره لها في سابع وعشرين من جمادى الثانية فكانت مدة الحصار ستة أشهر، ثم أرسل إبراهيم باشا عبد الله باشا من جهة البحر إلى الإسكندرية فلما علم محمد علي باشا بوصوله أرسل إليه يؤمنه ثم أرسل إليه أنواع الإكرام، وأحسن له المعاملة والإنعام، ووصله بالهدايا السنية، وأنزله منزلة علية، ثم وجهه إلى الاستانة المحمية، فغب وصوله وجهت عليه الدولة رئاسة الحرم الشريف في المدينة المحمدية، وكان عالماً مطيعاً صالحاً محباً لذوي العبادة والصلاح، وفي ثالث محرم الحرام سنة الف ومايتين وثمان وأربعين أرسل إبراهيم باشا إلى دمشق يطلب منهم أن يمكنوه من الدخول إليها فلم يرسلوا إليه جواباً، ثم طلب ثانياً فأرسلوا إليه أنا لا نمكنك من الدخول أصلاً، وفي ثامن المحرم جاء الخبر أن عسكره وصل إلى جسر بنات يعقوب فاستعد أهل دمشق لقتاله، واجتمع رؤساؤهم وتعاقدوا وتحالفوا على أنهم يد واحدة بعد ما كان بعضهم يميل إلى إبراهيم باشا خوفاً من انتقام الدولة من الشام بسبب قضية سليم باشا الآتية في ترجمته في حرف السين؛ وحصل لأهل البلد والقرى
সুলতান প্রকাশ্যে তার অবাধ্যতার ঘোষণা দেননি, বরং ইব্রাহিম পাশা ও আব্বাস পাশার অবাধ্যতার কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল এই আশায় যে, তারা এই পথ থেকে ফিরে আসবে। যখন শাহী দরবার দেখল যে মুহাম্মদ আলী পাশা আক্কা অবরোধে অনড় রয়েছেন, তখন তিনি বিভিন্ন ভূখণ্ডে এই ঘোষণা পাঠালেন যে মুহাম্মদ আলী পাশাকে সকল পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দেশের মানুষকে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ দিলেন। জিলহজ মাসের মাঝামাঝি সময়ে দামেস্কে এই আদেশ এবং শহর রক্ষার নির্দেশনা এসে পৌঁছাল। তখন ইব্রাহিম পাশা আক্কা অবরোধ আরও কঠোর করলেন, কারণ তিনি হুসাইন পাশার নিকটবর্তী হওয়ার সংবাদ জানতেন। সাতাশে জিলহজ সোমবার রাতে সেনাবাহিনী আক্কায় ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং মই বেয়ে বুরুজগুলোতে প্রবেশ করে সেগুলো দখল করে নিল। আব্দুল্লাহ পাশা বন্দি হলেন এবং সেখানে এমন হত্যাযজ্ঞ ও লুণ্ঠন সংঘটিত হলো যা অকথ্য ও অবর্ণনীয়। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে ইব্রাহিম পাশার বাহিনীর নিহতের সংখ্যা ছিল বারো হাজার এবং আক্কার বাহিনীর নিহতের সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ হাজার। অবরোধের শুরু হয়েছিল সাতাশে জমাদিউস সানি, সুতরাং অবরোধের সময়কাল ছিল ছয় মাস। এরপর ইব্রাহিম পাশা সমুদ্রপথে আব্দুল্লাহ পাশাকে আলেকজান্দ্রিয়ায় পাঠিয়ে দিলেন। মুহাম্মদ আলী পাশা তার আগমনের কথা জেনে তাকে অভয় দিলেন এবং নানাভাবে সম্মান প্রদর্শন করলেন। তিনি তার সাথে অত্যন্ত সৌজন্যমূলক আচরণ ও অনুগ্রহ করলেন এবং উপঢৌকন প্রদান করে তাকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করলেন। অতঃপর তাকে সংরক্ষিত আস্তানায় পাঠানো হলো। সেখানে পৌঁছালে রাষ্ট্র তাকে মদিনার হারাম শরীফের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করল। তিনি ছিলেন একজন আলেম, অনুগত, নেককার এবং ইবাদতগুজার ও সৎকর্মশীলদের প্রতি অনুরাগী। ১২৪৮ হিজরীর ৩রা মহররম ইব্রাহিম পাশা দামেস্কে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে বার্তা পাঠালেন, কিন্তু তারা কোনো জবাব দিল না। পুনরায় চাইলে তারা জানিয়ে দিল যে তারা তাকে একেবারেই প্রবেশ করতে দেবে না। ৮ই মহররম সংবাদ এল যে তার বাহিনী বানাত ইয়াকুব সেতুতে পৌঁছে গেছে। তখন দামেস্কবাসী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিল। তাদের নেতারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শপথ নিলেন, অথচ ইতিপূর্বে তাদের কেউ কেউ ইব্রাহিম পাশার প্রতি অনুরক্ত ছিল। এর কারণ ছিল সলিম পাশার ঘটনার কারণে সিরিয়ার ওপর রাষ্ট্রীয় প্রতিশোধের ভয়, যার বিবরণ 'সীন' (س) বর্ণের অধীনে তার জীবনীতে আসবে। আর শহর ও গ্রামের মানুষের মাঝে যা ঘটেছিল...
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ١٩)
انزعاج شديد، وشرع أهل القرى والأطراف في نقل الأمتعة لداخل السور، وكتب وزير الشام إلى الباشوات الذين في حمص ومعهم وزير حلب أن يعينوا أهل الشام بعساكر من عندهم، وأرسل إبراهيم باشا إلى بعض أعيان دمشق كتاباً مؤرخاً في تاسع المحرم يهددهم فيه، وفي آخره أن بلاد عربستان قد ملكناها بسيفنا ولا يأخذها أحد منا ما دمنا في قيد الحياة. وفي رابع عشر المحرم وصل بعض جيوشه إلى قريب من قرية داريا قرية من قرى الشام بينهما نحو ثلاثة أميال، فخرج إلى لقائهم خلق كثير من أهل دمشق فقاتلوهم قتالاً يسيراً، ولم يقصد كل من رؤساء الفريقين إضرار الآخر، وقتل من كل فريق رجل أو رجلان، ثم رجع أهل الشام مظهرين الانكسار، ولم يبق من أهل الشام رجل خارج البلد، وبات أهل البلد تلك الليلة في كرب شديد وكل أهل محلة يحفظون محلتهم، وفي ليلة الخميس خامس عشر المحرم نصف الليل هرب علي باشا وزير الشام وعسكره والقاضي والمفتي المرادي والنقيب العجلاني ومحمد جوربجي الداراني، وجميع أبناء الترك الموظفين، وغالب وجوه الشام، وأصبحت البلدة نهار الخميس خالية من رؤسائها وأعيانها ولم يبق أحد ممن يعتمد عليه، فأرسل إبراهيم باشا إلى أحمد بيك الدالاتي ربيب يوسف باشا الكنج فأقام متسلماً في البلد، وأمر منادياً ينادي بالأمان، وفي ضحوة النهار دخل العسكر إلى السرايا والمرجة، ثم دخل إبراهيم باشا قبيل الظهر وطلب أن يتسلم القلعة من رئيسها علي آغا عرمان فأجابه بالامتثال وفتح الباب، فأدخل ذخيرته إليها وعسكره وقت العصر، وجاءه في ذلك النهار أمراء الدروز ومعهم خلق كثير من نصارى ودروز، وقد لطف المولى سبحانه وتعالى كما هي عادته برفع القتال وبالإذعان والتسليم من دون ضرب ولا طعن ولا سفك دماء، ثم كتب إلى الهاربين أن يرجعوا إلى أوطانهم

فالذين ذهبوا إلى حمص وهم الباشا والقاضي والداراني ورؤساء المغاربة والأكراد أبوا الرجوع واستقاموا مع بشاوات العساكر السلطانية، وأما الذين ذهبوا إلى القريتين وهم المفتي والنقيب ورشيد آغا وكيلا راميني فإنهم رجعوا إلى دمشق، ثم عزم إبراهيم باشا على قتال الذين في حمص فشرع في جمع الذخائر والعساكر، وورد إليه من مصر عسكر كثير من النظام والأعراب وغيرهم، واجتمع عند عباس باشا أيضاً في بعلبك جموع كثيرة، ثم خرج إبراهيم باشا من دمشق في ثالث صفر وأخرج معه رؤساء المحلات كالرهينة، وأقام مقامه أحمد بك الدالاتي ونصب القلالق في المحلات، ثم جاء الخبر يوم الثلاثاء في ثاني عشر صفر أنه حصل بينه وبين العسكر السلطاني في حمص قتال نهار السبت تاسع صفر، وأنه قتل منهم نحو خمسة آلاف وأسر نحو أربعة آلاف وفر باقي العسكر والباشوات وكانوا نحو ثلاثين ألفاً، وأخذ مدافعهم وذخائرهم وخيامهم وسائر موجوداتهم، وكان في قلعة حمص جماعة منهم فطلبوا منه الأمان فأمنهم وأنزلهم من القلعة وتسلمها منهم، وبعث إلى متسلم الشام بأن يعلن بالنصر فأمر أهلها بالزينة ثلاثة أيام ثم توجه نهار الثلاثاء ثاني عشر صفر إلى جهة حماه وهرب متسلمها، فأقام فيها متسلماً رشيد آغا الشملي ثم بلغه الخبر أن حسين باشا سردار وصل إلى حلب وأن الباشوات الهاربين من حمص ذهبوا إلى حلب أيضاً مع عساكرهم، فلحقهم إبراهيم باشا ونزل قبيل حلب بنحو أربع ساعات، فطلب حسين باشا من أهل حلب أن يخرجوا معه لقتال إبراهيم باشا فقالوا له نحن لا نقاتل معك ولا معه بل نحن رعية لمن غلب فإنا نخاف على أنفسنا وعيالنا، فخرج حسين باشا من حلب هارباً هو وبقية العساكر والباشوات وترك بعض العسكر الذي جاء به وذخائره، فخرج أعيان حلب إلى إبراهيم باشا يستقبلونه وينالون أمانه، فدخلها ليلة الثلاثاء تاسع عشر صفر بلا قتال أصلاً، ثم خرج منها يوم الأربعاء السابع والعشرين من صفر إلى أنطاكية وعينتاب واللاذقية، وورد الخبر نهار السبت سابع ربيع الأول أنه استولى على حصن اسكندرونة وعلى حصن بانياس وبيلان، وكان فيه حسين باشا وحصلت مقتلة عظيمة، ثم هرب حسين باشا ومن معه من الوزراء والعساكر الكثيرة، وقد شاع أنها مائة وخمسون ألفاً، وترك جميع مهماته ومدافعه وذخائره، ثم سار إبراهيم باشا بعد ذلك إلى أدنه وقد دخلها من غير قتال في غرة ربيع الثاني وأقام بها شهراً، ثم حاصر بركله ومن فيها من العساكر السلطانية ودخلها في غرة جمادى الأولى بعد قتال رشيد باشا، وفي آخر جمادى الثانية قدم إلى دمشق رشيد بك أميراً عليها من قبل محمد علي باشا، وفوض إليه النظر في أمر بلاد الساحل والقدس وغزة والشام وحلب، ثم جاء الخبر في خامس رجب أن إبراهيم باشا دخل إلى قونية وكان فيها أربعة عشر وزيراً، فلما سمعوا بوصوله هربوا ودخلها بلا حرب ولا قتال، وجاء الأمر إلى دمشق بالزينة وضرب المدافع ثلاثة أيام في كل يوم ستين مدفعاًن ثم جاء الخبر في آخر شعبان أن الوزير الأعظم جاء إلى قريب من قونية، فخرج إليه إبراهيم باشا وأسره وفرق جمعه وأسر من عساكره نحو سبعة آلاف، وأرسل إلى مركز سورية دمشق الشام بعمل الزينة ثلاثة أيام ليلاً ونهاراً مع ضرب المدافع وإظهار دواعي السرور والحبور، وقد نظم أمين أفندي الجندي الشاعر هذه القصيدة مادحاً إبراهيم باشا ومتعرضاً بها لهذه الوقائع التي تقدم ذكرها، وكان بنظمها كما قيل: مكره أخاك لا بطل. ذهبوا إلى حمص وهم الباشا والقاضي والداراني ورؤساء المغاربة والأكراد أبوا الرجوع واستقاموا مع بشاوات العساكر السلطانية،
তীব্র অস্থিরতা ও চাঞ্চল্য দেখা দিল, এবং গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অধিবাসীগণ তাদের মালামাল প্রাচীরের অভ্যন্তরে সরিয়ে নিতে শুরু করল। শামের উজির হিমসে অবস্থানরত পাশাদের নিকট এবং আলেপ্পোর উজিরের নিকট পত্র লিখলেন যাতে তারা শামের অধিবাসীগণকে সৈন্য দিয়ে সাহায্য করেন। ইব্রাহিম পাশা দামেস্কের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে মুহাররমের নয় তারিখের একটি পত্র পাঠান যেখানে তিনি তাদের হুমকি দেন; পত্রের শেষে লেখা ছিল যে, আরবস্তান আমরা আমাদের তরবারির জোরে জয় করেছি এবং যতদিন আমরা জীবিত আছি ততদিন কেউ আমাদের কাছ থেকে তা কেড়ে নিতে পারবে না। মুহাররমের চৌদ্দ তারিখ তার একদল সৈন্য শামের একটি গ্রাম ‘দারায়া’র কাছাকাছি পৌঁছাল, যা শহর থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে অবস্থিত। দামেস্কের বহু মানুষ তাদের মোকাবিলা করতে বেরিয়ে এল এবং তাদের মধ্যে সামান্য যুদ্ধ হলো। উভয় পক্ষের প্রধানদের কেউই অপর পক্ষের ক্ষতি করার ইচ্ছা পোষণ করেননি। প্রতি পক্ষ থেকে এক বা দুইজন লোক নিহত হলো। অতঃপর শামের অধিবাসীগণ পরাজয় প্রকাশ করে ফিরে এল এবং শহরের বাইরে তাদের একজন লোকও অবশিষ্ট রইল না। সেদিন রাতে শহরবাসী চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে অতিবাহিত করল এবং প্রতিটি মহল্লার বাসিন্দারা নিজ নিজ মহল্লা পাহারায় নিয়োজিত হলো। মুহাররমের পনেরো তারিখ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শামের উজির আলী পাশা ও তার সৈন্যবাহিনী, কাজী, মুফতি মুরাদী, নকীব আজলানী, মুহাম্মদ জাওরবাজী আদ-দারানী, সকল তুর্কি কর্মকর্তা এবং শামের অধিকাংশ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ পলায়ন করলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে শহরটি তার নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবশূন্য হয়ে পড়ল এবং নির্ভরযোগ্য কেউ সেখানে অবশিষ্ট রইল না। তখন ইব্রাহিম পাশা ইউসুফ পাশা আল-কাঞ্জ এর পালিত পুত্র আহমদ বেগ আদ-দালাতিকে শহরের প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করে পাঠালেন। তিনি জননিরাপত্তার ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। দিনের শুরুর ভাগে সৈন্যরা প্রাসাদে এবং মারজ অঞ্চলে প্রবেশ করল। এরপর ইব্রাহিম পাশা দ্বিপ্রহরের কিছু আগে প্রবেশ করলেন এবং দুর্গের প্রধান আলী আগা আরমান-এর নিকট দুর্গ হস্তান্তরের দাবি জানালেন। তিনি আনুগত্য স্বীকার করে দরজা খুলে দিলেন। আসর নামাজের সময় ইব্রাহিম পাশা তার রসদ ও সেনাবাহিনী দুর্গে প্রবেশ করালেন। সেদিন দ্রুজ সম্প্রদায়ের আমিরগণ এবং তাদের সাথে বহু খ্রিস্টান ও দ্রুজ তার নিকট এল। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর চিরন্তন প্রথা অনুযায়ী লড়াই তুলে নিয়ে এবং কোনো প্রকার আঘাত বা রক্তপাত ছাড়াই আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দয়া প্রদর্শন করলেন। এরপর তিনি পলায়নকারীদের নিকট নিজ নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে আসার জন্য পত্র লিখলেন।

যারা হিমসে গিয়েছিলেন—অর্থাৎ পাশা, কাজী, দারানী এবং মাগরেবি ও কুর্দিদের প্রধানগণ—তারা ফিরে আসতে অস্বীকার করলেন এবং সুলতানি সৈন্যবাহিনীর পাশাদের সাথে অবস্থান করতে লাগলেন। আর যারা কারইয়াতাইন-এ গিয়েছিলেন—অর্থাৎ মুফতি, নকীব, রশিদ আগা ও রামিনির প্রতিনিধি—তারা দামেস্কে ফিরে এলেন। এরপর ইব্রাহিম পাশা হিমসে অবস্থানকারীদের সাথে যুদ্ধের সংকল্প করলেন এবং রসদ ও সৈন্য সংগ্রহ শুরু করলেন। মিসর থেকে তার কাছে নিয়মিত বাহিনী ও বেদুইনসহ বহু সৈন্য এল। বালবাকে আব্বাস পাশার কাছেও বিশাল জনসমাবেশ হলো। অতঃপর ইব্রাহিম পাশা ৩রা সফর দামেস্ক থেকে বের হলেন এবং শহরের মহল্লাগুলোর প্রধানদের জামিন হিসেবে সাথে নিলেন। তিনি আহমদ বেগ আদ-দালাতিকে তার স্থলাভিষিক্ত করেন এবং বিভিন্ন মহল্লায় পাহারাদার নিযুক্ত করেন। এরপর ১২ই সফর মঙ্গলবার সংবাদ এল যে, ৯ই সফর শনিবার হিমসে তার ও সুলতানি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে। এতে সুলতানি বাহিনীর প্রায় পাঁচ হাজার সৈন্য নিহত ও চার হাজার সৈন্য বন্দী হয়েছে এবং অবশিষ্ট সৈন্য ও পাশারা পলায়ন করেছে; তাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ত্রিশ হাজার। তিনি তাদের কামান, রসদ, তাবু এবং সকল সম্পদ দখল করে নেন। হিমস দুর্গে তাদের একটি দল ছিল, তারা নিরাপত্তা চাইলে তিনি তাদের নিরাপত্তা দেন এবং তাদের দুর্গ থেকে নামিয়ে এনে দুর্গটি দখল করেন। তিনি শামের প্রতিনিধিকে বিজয়ের ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং শহরবাসীকে তিন দিন সাজসজ্জা করার আদেশ দেন। অতঃপর ১২ই সফর মঙ্গলবার তিনি হামাহ অভিমুখে রওনা হন এবং সেখানকার প্রতিনিধি পলায়ন করেন। তিনি সেখানে রশিদ আগা আশ-শামলিকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন। এরপর তিনি খবর পেলেন যে, হুসাইন পাশা সারদার আলেপ্পোতে পৌঁছেছেন এবং হিমস থেকে পলায়নকারী পাশারাও তাদের সৈন্যসহ সেখানে গিয়েছেন। ইব্রাহিম পাশা তাদের অনুসরণ করে আলেপ্পো পৌঁছানোর প্রায় চার ঘণ্টা দূরত্বে অবস্থান নেন। হুসাইন পাশা আলেপ্পোবাসীদের ইব্রাহিম পাশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আহ্বান জানালে তারা বলল, “আমরা তোমার পক্ষেও লড়ব না, তার পক্ষেও লড়ব না; বরং যে জয়ী হবে আমরা তারই অনুগত প্রজাসাধারণ। আমরা আমাদের জান ও পরিবারের ব্যাপারে শঙ্কিত।” তখন হুসাইন পাশা অবশিষ্ট সৈন্য ও পাশাদের নিয়ে আলেপ্পো থেকে পলায়ন করলেন এবং তার সাথে আনা কিছু সৈন্য ও রসদ ফেলে গেলেন। আলেপ্পোর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ইব্রাহিম পাশার অভ্যর্থনা জানাতে বেরিয়ে এলেন এবং তার নিরাপত্তা লাভ করলেন। ১৯শে সফর মঙ্গলবার রাতে কোনো যুদ্ধ ছাড়াই তিনি সেখানে প্রবেশ করলেন। এরপর ২৭শে সফর বুধবার সেখান থেকে আন্তাকিয়া, আইনতাব ও লাতাকিয়ার দিকে রওনা হলেন। ৭ই রবিউল আউয়াল শনিবার সংবাদ এল যে, তিনি ইস্কান্দারুন দুর্গ এবং বানিয়াস ও বেইলান দুর্গ জয় করেছেন। সেখানে হুসাইন পাশা ছিলেন এবং এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এরপর হুসাইন পাশা ও তার সাথে থাকা উজিরগণ ও বিশাল সৈন্যবাহিনী পলায়ন করল; লোকমুখে শোনা যাচ্ছিল যে তাদের সংখ্যা ছিল এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার। তিনি তার সকল যুদ্ধ সরঞ্জাম, কামান ও রসদ ত্যাগ করে পালিয়ে যান। এরপর ইব্রাহিম পাশা আদানার দিকে অগ্রসর হন এবং ১লা রবিউস সানি কোনো যুদ্ধ ছাড়াই সেখানে প্রবেশ করে এক মাস অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বারকালাহ ও সেখানে অবস্থানরত সুলতানি বাহিনীকে অবরোধ করেন এবং রশিদ পাশার সাথে যুদ্ধের পর ১লা জুমাদাল উলা সেখানে প্রবেশ করেন। জুমাদাস সানির শেষে রশিদ বেগ মুহাম্মদ আলী পাশার পক্ষ থেকে আমির হিসেবে দামেস্কে আসেন এবং তার ওপর উপকূলীয় অঞ্চল, কুদস, গাজা, শাম ও আলেপ্পোর প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। এরপর ৫ই রজব সংবাদ এল যে, ইব্রাহিম পাশা কোনিয়াতে প্রবেশ করেছেন, যেখানে চৌদ্দজন উজির ছিলেন। তার আগমনের কথা শুনে তারা পলায়ন করেন এবং তিনি যুদ্ধ ছাড়াই সেখানে প্রবেশ করেন। দামেস্কে তিন দিন সাজসজ্জা ও প্রতিটি দিন ষাটটি করে তোপধ্বনির নির্দেশ এল। এরপর শাবান মাসের শেষে সংবাদ এল যে, উজির-এ-আজম কোনিয়ার নিকটবর্তী হয়েছেন। ইব্রাহিম পাশা তার মোকাবিলায় বেরিয়ে এলেন এবং তাকে বন্দী করলেন, তার বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দিলেন এবং তার প্রায় সাত হাজার সৈন্যকে বন্দী করলেন। তিনি সিরিয়ার প্রশাসনিক কেন্দ্র দামেস্কে তিন দিন রাত-দিন সাজসজ্জা করার, তোপধ্বনি দেওয়ার এবং আনন্দ ও উৎসব প্রকাশের নির্দেশ পাঠালেন। কবি আমিন এফেন্দি আল-জুন্দি ইব্রাহিম পাশার প্রশংসা করে এবং উপরে বর্ণিত ঘটনাবলি উল্লেখ করে এই কাসিদাটি রচনা করেন। তবে তার এই কাব্যরচনা সম্পর্কে যেমনটি বলা হয়: “তোমার ভাই এটি স্বেচ্ছায় করেনি, বরং বাধ্য হয়েই করেছে।” যারা হিমসে গিয়েছিলেন—অর্থাৎ পাশা, কাজী, দারানী এবং মাগরেবি ও কুর্দিদের প্রধানগণ—তারা ফিরে আসতে অস্বীকার করলেন এবং সুলতানি সৈন্যবাহিনীর পাশাদের সাথে অবস্থান করতে লাগলেন।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٢٠)
وأما الذين ذهبوا إلى القريتين وهم المفتي والنقيب ورشيد آغا وكيلا راميني فإنهم رجعوا إلى دمشق، ثم عزم إبراهيم باشا على قتال الذين في حمص فشرع في جمع الذخائر والعساكر، وورد إليه من مصر عسكر كثير من النظام والأعراب وغيرهم، واجتمع عند عباس باشا أيضاً في بعلبك جموع كثيرة، ثم خرج إبراهيم باشا من دمشق في ثالث صفر وأخرج معه رؤساء المحلات كالرهينة، وأقام مقامه أحمد بك الدالاتي ونصب القلالق في المحلات، ثم جاء الخبر يوم الثلاثاء في ثاني عشر صفر أنه حصل بينه وبين العسكر السلطاني في حمص قتال نهار السبت تاسع صفر، وأنه قتل منهم نحو خمسة آلاف وأسر نحو أربعة آلاف وفر باقي العسكر والباشوات وكانوا نحو ثلاثين ألفاً، وأخذ مدافعهم وذخائرهم وخيامهم وسائر موجوداتهم، وكان في قلعة حمص جماعة منهم فطلبوا منه الأمان فأمنهم وأنزلهم من القلعة وتسلمها منهم، وبعث إلى متسلم الشام بأن يعلن بالنصر فأمر أهلها بالزينة ثلاثة أيام ثم توجه نهار الثلاثاء ثاني عشر صفر إلى جهة حماه وهرب متسلمها، فأقام فيها متسلماً رشيد آغا الشملي ثم بلغه الخبر أن حسين باشا سردار وصل إلى حلب وأن الباشوات الهاربين من حمص ذهبوا إلى حلب أيضاً مع عساكرهم، فلحقهم إبراهيم باشا ونزل قبيل حلب بنحو أربع ساعات، فطلب حسين باشا من أهل حلب أن يخرجوا معه لقتال إبراهيم باشا فقالوا له نحن لا نقاتل معك ولا معه بل نحن رعية لمن غلب فإنا نخاف على أنفسنا وعيالنا، فخرج حسين باشا من حلب هارباً هو وبقية العساكر والباشوات وترك بعض العسكر الذي جاء به وذخائره، فخرج أعيان حلب إلى إبراهيم باشا يستقبلونه وينالون أمانه، فدخلها ليلة الثلاثاء تاسع عشر صفر بلا قتال أصلاً، ثم خرج منها يوم الأربعاء السابع والعشرين من صفر إلى أنطاكية وعينتاب واللاذقية، وورد الخبر نهار السبت سابع ربيع الأول أنه استولى على حصن اسكندرونة وعلى حصن بانياس وبيلان، وكان فيه حسين باشا وحصلت مقتلة عظيمة، ثم

আর যারা দুই গ্রামে গিয়েছিলেন—অর্থাৎ মুফতি, নাকীব এবং রামিনির উকিল রশিদ আগা—তারা দামেস্কে ফিরে এলেন। অতঃপর ইবরাহিম পাশা হিমসে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সংকল্প করলেন এবং রসদ ও সৈন্য সংগ্রহ শুরু করলেন। তার কাছে মিশর থেকে নিয়মিত বাহিনী, বেদুইন ও অন্যান্যদের সমন্বয়ে এক বিশাল সেনাবাহিনী এসে পৌঁছাল। বালবেকেও আব্বাস পাশার নিকট বিশাল এক জনসমাবেশ ঘটল। এরপর ৩ সফর ইবরাহিম পাশা দামেস্ক থেকে বের হলেন এবং বিভিন্ন এলাকার প্রধানদের জিম্মি হিসেবে সাথে নিলেন। তিনি তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আহমদ বেগ আদ-দালাতিকে নিযুক্ত করলেন এবং এলাকাগুলোতে পাহারাদার মোতায়েন করলেন। এরপর ১২ সফর মঙ্গলবার খবর এল যে, ৯ সফর শনিবার হিমসে তার এবং সুলতানি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে। এবং তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার নিহত হয়েছে ও প্রায় চার হাজার বন্দি হয়েছে। অবশিষ্ট সৈন্য ও পাশারা পালিয়ে গেছে, যাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ত্রিশ হাজার। তিনি তাদের কামান, রসদ, তাবু ও অন্যান্য যাবতীয় আসবাবপত্র দখল করে নিলেন। হিমস দুর্গে তাদের একটি দল অবস্থান করছিল; তারা তার কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করলে তিনি তাদের অভয় দিলেন এবং তাদের দুর্গ থেকে নামিয়ে এনে তা নিজ দখলে নিলেন। তিনি শামের মুতাসাল্লিমকে বিজয়ের ঘোষণা দেওয়ার বার্তা পাঠালেন, ফলে তিনি শহরবাসীকে তিন দিন সাজসজ্জার নির্দেশ দিলেন। এরপর ১২ সফর মঙ্গলবার তিনি হামাহ অভিমুখে রওনা হলেন এবং সেখানকার মুতাসাল্লিম পলায়ন করল। তিনি সেখানে রশিদ আগা আশ-শামলিকে মুতাসাল্লিম হিসেবে নিযুক্ত করলেন। পরে তিনি সংবাদ পেলেন যে, সরদার হুসাইন পাশা আলেপ্পোয় পৌঁছেছেন এবং হিমস থেকে পলায়নকারী পাশারাও তাদের সৈন্যসামন্ত নিয়ে আলেপ্পোয় চলে গেছেন। ইবরাহিম পাশা তাদের পিছু নিলেন এবং আলেপ্পো পৌঁছানোর প্রায় চার ঘণ্টা দূরত্বে অবস্থান নিলেন। তখন হুসাইন পাশা আলেপ্পোবাসীদের তার সাথে ইবরাহিম পাশার বিরুদ্ধে যুদ্ধে বের হওয়ার আহ্বান জানালেন। তারা তাকে বলল: "আমরা আপনার পক্ষেও লড়ব না, তার পক্ষেও লড়ব না; বরং যে বিজয়ী হবে আমরা তার অনুগত প্রজা হিসেবে থাকব, কারণ আমরা আমাদের জীবন ও পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে শঙ্কিত।" তখন হুসাইন পাশা অবশিষ্ট সৈন্য ও পাশাদের নিয়ে আলেপ্পো থেকে পালিয়ে গেলেন এবং তার সাথে আনা কিছু সৈন্য ও রসদ ফেলে গেলেন। এরপর আলেপ্পোর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ইবরাহিম পাশাকে অভ্যর্থনা জানাতে এবং নিরাপত্তা প্রার্থনা করতে তার নিকট উপস্থিত হলেন। ১৯ সফর মঙ্গলবার রাতে তিনি কোনো যুদ্ধ ছাড়াই সেখানে প্রবেশ করলেন। অতঃপর ২৭ সফর বুধবার তিনি সেখান থেকে আনতাকিয়া, আইনতাব ও লাতাকিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন। এবং ৭ রবিউল আউয়াল শনিবার খবর এল যে, তিনি ইস্কান্দারুন দুর্গ, বানিয়াস দুর্গ ও বাইলান দখল করে নিয়েছেন। সেখানে হুসাইন পাশা অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। অতঃপর...

(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٢١)
هرب حسين باشا ومن معه من الوزراء والعساكر الكثيرة، وقد شاع أنها مائة وخمسون ألفاً، وترك جميع مهماته ومدافعه وذخائره، ثم سار إبراهيم باشا بعد ذلك إلى أدنه وقد دخلها من غير قتال في غرة ربيع الثاني وأقام بها شهراً، ثم حاصر بركله ومن فيها من العساكر السلطانية ودخلها في غرة جمادى الأولى بعد قتال رشيد باشا، وفي آخر جمادى الثانية قدم إلى دمشق رشيد بك أميراً عليها من قبل محمد علي باشا، وفوض إليه النظر في أمر بلاد الساحل والقدس وغزة والشام وحلب، ثم جاء الخبر في خامس رجب أن إبراهيم باشا دخل إلى قونية وكان فيها أربعة عشر وزيراً، فلما سمعوا بوصوله هربوا ودخلها بلا حرب ولا قتال، وجاء الأمر إلى دمشق بالزينة وضرب المدافع ثلاثة أيام في كل يوم ستين مدفعاًن ثم جاء الخبر في آخر شعبان أن الوزير الأعظم جاء إلى قريب من قونية، فخرج إليه إبراهيم باشا وأسره وفرق جمعه وأسر من عساكره نحو سبعة آلاف، وأرسل إلى مركز سورية دمشق الشام بعمل الزينة ثلاثة أيام ليلاً ونهاراً مع ضرب المدافع وإظهار دواعي السرور والحبور، وقد نظم أمين أفندي الجندي الشاعر هذه القصيدة مادحاً إبراهيم باشا ومتعرضاً بها لهذه الوقائع التي تقدم ذكرها، وكان بنظمها كما قيل: مكره أخاك لا بطل.

نحن الأسود الكاسره … نحن السيوف الباتره

من أرض مصر القاهره … سرنا وقد نلنا المنا

بارودنا شراره … تشوي الوجوه ناره

وعزمنا بتاره … من العدا أمكننا

نحن بنو الحرب فلا … نخشى غباراً إن علا

ولم نضق عند البلا … صدراً إذا الموت دنا

بالروح جدنا كي نقيل … لمصرنا الفخر الجميل

ونبتغي الفضل الجزيل … فعلاً يعز الوطنا
হুসাইন পাশা এবং তাঁর সাথে থাকা উজিরগণ ও বিশাল সৈন্যবাহিনী পলায়ন করল, যা এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ছিল বলে প্রসিদ্ধি রয়েছে। তিনি তাঁর সমস্ত সরঞ্জাম, কামান ও গোলাবারুদ ফেলে যান। এরপর ইব্রাহিম পাশা আদানা অভিমুখে যাত্রা করেন এবং রবিউস সানি মাসের শুরুতে কোনো যুদ্ধ ছাড়াই সেখানে প্রবেশ করেন ও এক মাস অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বুরকিলা এবং সেখানে অবস্থানরত সুলতানি সৈন্যদের অবরোধ করেন এবং জামাদিউল আউয়াল মাসের শুরুতে রশীদ পাশার সাথে যুদ্ধের পর সেখানে প্রবেশ করেন। জামাদিউস সানি মাসের শেষ দিকে মুহাম্মাদ আলী পাশার পক্ষ থেকে রশীদ বেগ গভর্নর হিসেবে দামেস্কে আগমন করেন। তাঁকে উপকূলীয় অঞ্চল, কুদস, গাজা, শাম ও আলেপ্পোর বিষয়াবলি তদারকির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। অতঃপর রজব মাসের পাঁচ তারিখে সংবাদ এল যে, ইব্রাহিম পাশা কুনিয়াতে প্রবেশ করেছেন, যেখানে চৌদ্দজন উজির অবস্থান করছিলেন। যখন তাঁরা তাঁর আগমনের সংবাদ শুনলেন, তাঁরা পলায়ন করলেন এবং তিনি কোনো যুদ্ধ বা লড়াই ছাড়াই সেখানে প্রবেশ করলেন। দামেস্কে তিন দিন পর্যন্ত প্রতিদিন ষাটটি করে তোপধ্বনি ও আলোকসজ্জা করার নির্দেশ এল। এরপর শাবান মাসের শেষ দিকে সংবাদ এল যে, উজিরে আজম কুনিয়ার নিকটবর্তী হয়েছেন। তখন ইব্রাহিম পাশা তাঁর মোকাবিলায় বের হলেন এবং তাঁকে বন্দি করলেন ও তাঁর বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দিলেন এবং তাঁর প্রায় সাত হাজার সৈন্যকে বন্দি করলেন। তিনি সিরিয়ার কেন্দ্রস্থল দামেস্কে তিন দিন ও তিন রাত আলোকসজ্জা ও তোপধ্বনির মাধ্যমে আনন্দ ও উল্লাস প্রকাশের নির্দেশ পাঠালেন। কবি আমিন এফেন্দি আল-জুন্দি ইব্রাহিম পাশার প্রশংসা করে এবং উল্লিখিত ঘটনাবলি বর্ণনা করে এই কবিতাটি রচনা করেন। এটি রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে যেমনটি বলা হয়: সে এটি বীরত্বের কারণে নয়, বরং বাধ্য হয়েই করেছে।

আমরা হিংস্র সিংহ … আমরা তীক্ষ্ণ তলোয়ার

বিজয়ী মিশরের ভূমি থেকে … আমরা যাত্রা করেছি এবং আমাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছি

আমাদের বারুদ আগুনের স্ফুলিঙ্গ … এর আগুন চেহারাকে ঝলসে দেয়

আমাদের সংকল্প সুতীক্ষ্ণ … যা আমাদের শত্রুদের ওপর বিজয় এনে দিয়েছে

আমরা যুদ্ধের সন্তান, তাই … ধূলিঝড় উড্ডীন হলেও আমরা ভীত হই না

বিপদের সময় আমাদের বক্ষ … সংকীর্ণ হয় না যখন মৃত্যু ঘনিয়ে আসে

আমরা আমাদের জীবন উৎসর্গ করেছি যেন অর্জন করতে পারি … আমাদের মিশরের জন্য এক সুন্দর গৌরব

এবং আমরা মহান মর্যাদা কামনা করি … এমন কাজের মাধ্যমে যা মাতৃভূমিকে সম্মানিত করে
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٢٢)
عاداتنا أخذ الرجال … بالبيض والسمر العوال

ونارنا بالاشتعال … لهيبها يبدي السنا

جهادنا لا ينكر … في كل قطر يذكر

وسيفنا إذ يشهر … للنصر يبدي معلنا

اما العلا تقديمها … مستوجباً تعظيمها

الشاه إبراهيمها … أدامه المولى لنا

أبو خليل في الحروب … لا زال كشاف الكروب

وحين يدعى للركوب … بالبيض يغزو والقنا

لما غزونا عكة … بالطوب دكت دكتا

وللأعادي بكتا … هجومنا واخذنا

صبحاً علونا سورها … وقد هدمنا دورها

أما ترى قصورها … قد حلها هدم البنا

فزنا بفتح الطائلي … للقدس والسواحل

والشام يا ذا الكاملي … والله قد أعزنا

ويوم حمص لو ترى … على العداة ما جرى

وقد علا فوق الثرى … صرعى يقاسون الضنا

هناك أضحوا هالكين … وفي دماهم غارقين

وانحل عقد الظالمين … وحل للباغي العنا

ولحماة مع حلب … سرنا وجدينا الطلب

ولم نجد ممن هرب … إلا طريحاً بالضنا

وعند بيلان سمت … وقائع قد عظمت

وللبغاز اقتحمت … فرساننا وأسدنا

لما بهم غنى الحمام … خلوا المهمات الجسام

وكل ما تحوي الخيام … غنيمة أضحت لنا
আমাদের অভ্যাস হলো বীরদের পাকড়াও করা … উজ্জ্বল তরবারি এবং উন্নত দীর্ঘ বর্শা দিয়ে।

এবং আমাদের অগ্নি প্রজ্বলিত হয় … যার শিখা আলোকবর্তিকা প্রকাশ করে।

আমাদের জিহাদ অনস্বীকার্য … যা প্রতিটি প্রান্তে আলোচিত হয়।

আর আমাদের তরবারি যখন কোষমুক্ত করা হয় … তখন তা বিজয়ের সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়।

উচ্চমর্যাদার ক্ষেত্রে তাকে অগ্রাধিকার প্রদান … এবং তার সম্মান করা আবশ্যক।

তিনি শাহ ইব্রাহিম … মওলা তাকে আমাদের জন্য দীর্ঘজীবী করুন।

আবু খলিল যুদ্ধক্ষেত্রে … সর্বদা বিপদসমূহ দূরকারী।

আর যখন তাকে অশ্বারোহণের জন্য আহ্বান করা হয় … তখন তিনি উজ্জ্বল তরবারি ও বর্শা নিয়ে যুদ্ধ করেন।

যখন আমরা আক্কা আক্রমণ করলাম … তখন তা কামানের গোলার আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

আর আমাদের আক্রমণ ও পাকড়াও করা … শত্রুদের জন্য কান্নার কারণ হয়েছিল।

সকালে আমরা তার প্রাচীরে আরোহণ করলাম … এবং আমরা তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দিলাম।

আপনি কি তাদের প্রাসাদগুলো দেখছেন না? … যার নির্মাণশৈলী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

আমরা কুদস এবং উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে … বিশাল বিজয় লাভে ধন্য হলাম।

এবং সিরিয়া অভিযানে, হে পূর্ণবান ব্যক্তি! … আল্লাহ আমাদের সম্মানিত করেছেন।

আর হিমসের দিনে যদি আপনি দেখতেন … শত্রুদের ওপর কী বিপর্যয় ঘটেছিল।

মাটির ওপর লাশের স্তূপ পড়ে ছিল … যারা তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছিল।

সেখানে তারা ধ্বংস হয়ে গেল … এবং নিজেদের রক্তে নিমজ্জিত হলো।

জালেমদের জোট ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল … আর বিদ্রোহীর ভাগ্যে জুটল চরম লাঞ্ছনা।

হামাহ ও আলেপ্পোর দিকে … আমরা অগ্রসর হলাম এবং বীরত্বের সাথে অভিযান চালালাম।

পলায়নকারীদের মধ্যে আমরা কাউকে পেলাম না … কেবল মুম্মূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকা ব্যক্তি ছাড়া।

বাইলান গিরিপথের নিকট সংঘটিত হলো … ঐতিহাসিক সব যুদ্ধ।

গিরিপথে প্রবল বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়ল … আমাদের অশ্বারোহী ও সিংহবিক্রম যোদ্ধারা।

যখন মৃত্যুর দূত তাদের শিয়রে ডাক দিল … তখন তারা গুরুত্বপূর্ণ সব দায়িত্ব ফেলে পলায়ন করল।

এবং তাঁবুগুলোতে যা কিছু বিদ্যমান ছিল … তা আমাদের জন্য গনীমতের মালের অন্তর্ভুক্ত হলো।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٢٣)
في جفن حاز قد سما … حر الوغى محتكما

وجيشهم قد هزما … بالويل يشكو الوهنا

أمام قونه قد بدا … حرب مبيد للعدا

وحل بالضد الردى … لما استخفوا بطشنا

وقد أطلنا قهرهم … لما أسرنا صدرهم

ومذ ولينا أمرهم … بالذل مالوا نحونا

هذا وهذا كله … عزيز مصر أصله

وليس يخفى فضله … دوماً على أهل الثنا

فنسأل الله المعين … بحرمة الهادي الأمين

يديمه للمسلمين … مولى مغيثاً محسناً

ولما قرئت هذه المنظومة المزدوجة على إبراهيم باشا وأنشدت بين يديه أمر للشيخ أمين ناظمها بمائة دينار، فدفعت له في الحال، ثم إن إبراهيم باشا أراد أن يتجاوز حدوده، وأن يبلغ مراده ومقصوده، وذلك أنه في خامس شعبان صدر الأمر من والي الشام شريف بك بجمع أعيان البلدة وعلمائها ورؤسائها، وغب اجتماعهم أخرج كتابة من محمد علي باشا مضمونها أن السلطان محمود خرج عن طور أسلافه وأنه زاد في الظلم والبغي وأنه أمر بتغيير زي الناس وملبوسهم ومساواة النصارى مع المسلمين في الزي، وأن سبب ذلك سوء رأيه ولذلك تغلب عليه أعداؤه من الفرنج حتى ملكوا معظم بلاد الإسلام، وأنه لم يبق له عند الملوك احترام ولا اعتبار ولا عند رعيته، وأنه بسبب ذلك صارت المصلحة في عزله من السلطنة وتولية ابنه محله لأجل نظام الملك وإقامة أحكام الشريعة، لأنه لو بقي في السلطنة يزيد الضرر على المسلمين، وطلب إخراج فتوى بجواز ذلك وأن يكتب عليها المفتي وعلماء البلدة من جميع المذاهب، فكتبوا له ما أراد، وسايروا هذا الباغي الذي لربوع الطغيان شاد.
চোখের পলকে তিনি উচ্চতা অর্জন করলেন … যুদ্ধের প্রচণ্ড উত্তাপকে নিয়ন্ত্রণে নিলেন।

তাদের বাহিনী পরাজিত হলো … ধ্বংসের সাথে তারা দুর্বলতার অভিযোগ করছে।

কোনিয়ার সম্মুখে প্রকাশিত হলো … শত্রুদের বিনাশকারী এক যুদ্ধ।

প্রতিপক্ষের ওপর ধ্বংস নেমে এল … যখন তারা আমাদের পরাক্রমকে তুচ্ছজ্ঞান করল।

আমরা তাদের ওপর আমাদের আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী করেছি … যখন আমরা তাদের প্রধানকে বন্দী করলাম।

যখন থেকে আমরা তাদের বিষয়ের দায়িত্ব নিলাম … হীনাবস্থায় তারা আমাদের দিকে ঝুঁকে পড়ল।

এই সব কিছুর মূলে রয়েছেন … মিসরের আজিজ (শাসক)।

তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রশংসাকারীদের নিকট … কখনোই গোপন নয়।

অতএব আমরা সাহায্যকারী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি … বিশ্বস্ত পথপ্রদর্শকের সম্মানে।

তিনি যেন তাঁকে মুসলমানদের জন্য চিরস্থায়ী করেন … একজন সাহায্যকারী ও কল্যাণকামী অভিভাবক হিসেবে।

যখন এই দ্বিপদী কবিতাটি ইব্রাহিম পাশার সামনে পাঠ করা হলো এবং তাঁর সম্মুখে আবৃত্তি করা হলো, তখন তিনি এর রচয়িতা শেখ আমিনের জন্য একশ দিনার প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা তাঁকে পরিশোধ করা হলো। এরপর ইব্রাহিম পাশা তাঁর সীমা লঙ্ঘন করতে এবং তাঁর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হাসিল করতে চাইলেন। ঘটনাটি এই যে, শাবান মাসের পাঁচ তারিখে শামের ওয়ালী শরীফ বেকের পক্ষ থেকে শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি, আলেম এবং নেতৃবৃন্দকে একত্রিত করার আদেশ জারি করা হলো। তাদের সমাবেশের পর তিনি মুহাম্মদ আলী পাশার একটি পত্র বের করলেন, যার বিষয়বস্তু ছিল এই যে—সুলতান মাহমুদ তাঁর পূর্বপুরুষদের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন, তিনি জুলুম ও অন্যায় বৃদ্ধি করেছেন, তিনি মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ পরিবর্তনের আদেশ দিয়েছেন এবং পোশাকের ক্ষেত্রে খ্রিস্টানদের মুসলমানদের সমান করেছেন। আর এর কারণ হলো তাঁর ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যার ফলে ফিরিঙ্গি শত্রুরা তাঁর ওপর প্রবল হয়েছে, এমনকি তারা অধিকাংশ ইসলামি ভূখণ্ড দখল করে নিয়েছে। বাদশাহদের নিকট অথবা তাঁর প্রজাদের নিকট তাঁর আর কোনো সম্মান বা মর্যাদা অবশিষ্ট নেই। এই কারণে, রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শরীয়তের বিধান প্রতিষ্ঠার স্বার্থে তাঁকে সালতানাত থেকে অপসারণ করে তাঁর পুত্রকে স্থলাভিষিক্ত করাই জনস্বার্থের অনুকূল। কারণ তিনি যদি সালতানাতে বহাল থাকেন, তবে মুসলমানদের ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি এই মর্মে একটি ফতোয়া জারির দাবি জানান এবং মুফতিসহ শহরের সকল মাযহাবের আলেমদের তাতে স্বাক্ষর করতে বলেন। ফলে তারা তাঁর ইচ্ছানুযায়ী লিখে দিলেন এবং এই সীমা লঙ্ঘনকারীর সাথে আপস করলেন, যে স্বৈরাচারের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٢٤)
إذا لم تكن إلا الأسنة مركباً … فما حيلة المضطر إلا ركوبها

وأفتوه بأنه يجوز خلع الإمام، إذا جار ونهج منهج اللئام، ولزم من إبقاءه ضرر، ولم يلزم من خلعه فتنة هي أكبر وأضر، وأدهى وأمر، وادعى كذلك هذا الباغي على حضرة المرحوم السلطان محمود، أن الذي وقع من عماله في أيامه لم يسمع بمثله من اختلال نظام البلاد، وأحوال العباد، حتى خربت بلاد الروم والأناضول من أخذ رجالهم للحرب وسلب أموالهم واستيلاء الإفرنج عليهم، وكذا غيرها من البلاد، وما وضع من الأعشار والمكوس والمصادرات وزوال الأمن عن أهل المدن في بيوتهم فضلاً عن البراري، فاستولت الأعراب على القرى وعلى الأغلال وارتفعت الأسعار وانتهبت القوافل، وفي غرة رمضان أمر والي الشام وهو شريف بك بجمع المفتي والنقيب وغيرهما، فاجتمعوا عنده ليلة شهر رمضان، فقال: إن أفندينا محمد علي باشا كتب إلى البلاد من شهرين بأن من أراد الحج فليقدم إلى الشام، فما حضر إلا نادر من الأفراد فلذلك لم يخرج الحاج. ثم إن إبراهيم باشا لما ازداد في سموه وزاد في عتوه منعته الأجانب، وتعصبت الإنكليز إلى الدولة في الظاهر لتوطيد أركانها، وفي الباطن خشية من انتشار قوة إسلامية شابة ذات سلطة ومركزها مصر، فتخشى أن تمتد من هناك إلى الهند الذي هو روح قوة الإنكليز لاسيما إذا عاضدته إحدى الدول الأروباوية مثل فرانسا، فلذلك حاربته مع الدولة العثمانية التي هي إذ ذاك على تعب شديد من حرب الروسيا والثورات الداخلية واستقلال اليونان وغير ذلك فقهروا محمد علي باشا، ولكن لإتمام مقاصد الإنكليز لم تسمح للدولة بالاستيلاء التام على مصر لمراعاة المقاصد المشار إليها أيضاً، فكان الأوفق لها إبقاء مصر على شبه استقلال ليضعف كل من الجهتين، وبقي محمد علي باشا والياً على مصر على شروط معلومة في ترجمته، وجاء خبر الصلح على ذلك إلى الشام تاسع عشر ذي الحجة سنة ثمان وأربعين ومايتين وألف،
যদি বর্শার ফলক ছাড়া কোনো সওয়ারি না থাকে … তবে নিরুপায় ব্যক্তির কাছে তা আরোহণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

এবং তারা তাকে ফতোয়া দিলেন যে, ইমামকে অপসারিত করা জায়েজ, যদি সে জুলুম করে এবং নীচ ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করে, আর তাকে বহাল রাখলে যদি ক্ষতির কারণ হয় এবং তাকে অপসারণ করলে যদি এমন কোনো ফিতনার সৃষ্টি না হয় যা অধিক বড়, অধিক ক্ষতিকর, অধিক ভয়াবহ ও অধিক তিক্ত। এই বিদ্রোহী একইভাবে মরহুম সুলতান মাহমুদ-এর বিরুদ্ধে দাবি করল যে, তাঁর শাসনামলে তাঁর কর্মচারীদের পক্ষ থেকে যা সংঘটিত হয়েছে, দেশের ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা এবং জনগণের অবস্থার অবনতির ক্ষেত্রে তেমনটা আর কখনও শোনা যায়নি। এমনকি যুদ্ধের জন্য পুরুষদের ধরে নেওয়া, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করা এবং তাদের ওপর ইউরোপীয়দের আধিপত্যের কারণে রুম ও আনাতোলিয়া অঞ্চল ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, আর অন্যান্য জনপদের অবস্থাও ছিল তদ্রূপ। এছাড়া ওশর (দশমাংশ কর), অন্যান্য কর ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং বন-জঙ্গলের কথা তো বাদই দিলাম, খোদ শহরের বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িতে নিরাপত্তার অভাব প্রকট হয়ে উঠেছিল। ফলে বেদুঈনরা গ্রাম ও শস্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার করল, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেল এবং কাফেলাগুলো লুণ্ঠিত হতে লাগল। আর রমজানের শুরুতে শামের গভর্নর শরিফ বেগ মুফতি, নকিব ও অন্যদের একত্রিত করার নির্দেশ দিলেন। তারা রমজানের রাতে তাঁর কাছে সমبهত হলেন। তখন তিনি বললেন: আমাদের আফেন্দি মুহাম্মদ আলি পাশা দুই মাস আগে বিভিন্ন দেশে লিখে পাঠিয়েছিলেন যে, যারা হজ্জ করতে চায় তারা যেন শামে চলে আসে। কিন্তু হাতেগোনা সামান্য কিছু লোক ছাড়া কেউ উপস্থিত হয়নি, ফলে হজ্জ কাফেলা রওনা হতে পারেনি। এরপর ইব্রাহিম পাশা যখন তাঁর প্রতিপত্তিতে ও অবাধ্যতায় সীমা ছাড়িয়ে গেলেন, তখন বিদেশিরা তাঁকে বাধা দিল। ইংরেজরা বাহ্যিকভাবে উসমানীয় সাম্রাজ্যের ভিত মজবুত করার জন্য তার পক্ষ নিল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা মিশরের কেন্দ্রস্থল থেকে একটি শক্তিশালী নবীন ইসলামি শক্তির উত্থানকে ভয় পাচ্ছিল। তারা আশঙ্কা করছিল যে, সেখান থেকে সেই শক্তির বিস্তার ভারতের দিকে পৌঁছাবে, যা ছিল ইংরেজদের শক্তির মূল উৎস; বিশেষ করে যদি ফ্রান্সের মতো কোনো ইউরোপীয় দেশ তাকে সহযোগিতা করে। এই কারণেই তারা উসমানীয় সাম্রাজ্যের সাথে মিলে তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল, অথচ তখন উসমানীয় সাম্রাজ্য রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ এবং গ্রিসের স্বাধীনতা লাভের মতো ঘটনায় চরম ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। ফলে তারা মুহাম্মদ আলি পাশাকে পরাস্ত করল। কিন্তু ইংরেজরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য উসমানীয় সাম্রাজ্যকে মিশরের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দেয়নি, যাতে তাদের পূর্বোক্ত স্বার্থগুলো বজায় থাকে। তাদের জন্য সবচেয়ে অনুকূল ছিল মিশরকে এক প্রকার আধা-স্বাধীন অবস্থায় রাখা যাতে উভয় পক্ষই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে মুহাম্মদ আলি পাশা তাঁর জীবনীতে উল্লিখিত নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে মিশরের গভর্নর হিসেবে বহাল থাকলেন। আর ১২৪৮ হিজরি সালের ১৯শে জিলহজ শামে এই সন্ধির খবর পৌঁছাল।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وكان قد تمكن إبراهيم باشا من البلاد الشامية وقهر الناس واستباح الحرام، وفعل جميع الموبقات والآثام، فلم يبق شيء من القبائح في زمنه إلا وقد فعل بدون إنكار ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم. وكان قد وضع بعد إحصاء أهل المدن والقرى في دفتر على كل فرد من البالغين منهم مالاً أقله خمسة عشر قرشاً وأكثره خمسماية قرش، تؤخذ منه في كل سنة، كما وضع ذلك من قبل على أهل مصر واستولى العسكر على أكثر المساجد والمدارس والتكايا، ومنعوا المصلين من دخولها وجعلوها لسكناهم ولدوابهم، وذلك سنة تسع وأربعين، فكان ذلك سبباً لضياع أوقافها وخرابها، وقدم العيسوية على المحمدية، وأذل أهل الشرف والعلم وذوي الاحترام، وأعز الأسافل والطغاة على الإسلام، ثم بعد رجوعه من البلاد الرومية، لا زال يدور في البلاد الشامية، حتى وصل في أواخر سنة تسع وأربعين إلى القدس الشريف في أيام الموسم، فوقعت هناك فتنة بين العيسوية تلف منها خلق كثير، وفي سنة ألف ومايتين وخمسين اشتغل بإدخال من وقع في أيديهم من الناس في العسكرية، فهرب الناس وتشتت أمرهم وكثر البكاء والنحيب وتوقفت الأشغال والمصالح، وطلب من جبل نابلس إجراء ذلك عليهم، فخرجوا عن الطاعة وحصروا إبراهيم باشا في القدس، واجتمع منهم خلق كثير ولا زالوا محاصرين له نحو شهرين، وكان رئيسهم الشيخ قاسم الأحمد، فلما ضاق به الحصار وأيقن بالهلاك والدمار أرسل إلى قاسم الأحمد كتابة تلطيف مصحوبة بمال جسيم، ووعده بالالتفات والتقديم، وأنه لا يأخذ منهم عسكراً ولا مالاً، وأنه يوسعهم نعمة ونوالاً، فرضي القاسم الأحمد لقلة عقله، وسوء رأيه وجهله، وفك عقدة الحصار والضيق، وتفرق الناس متمسكين بما جرى من العهود والمواثيق، فخرج إبراهيم باشا حتى وصل إلى يافا فوجد العساكر قد وصلت لنجدته، وتخليصه من نكبته، فنكص على عقبه في الحال، واشتغل بالقتل والنهب والحرق وسلب الأموال، فهرب

ইব্রাহীম পাশা শাম দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন এবং জনগণকে দমন করেছিলেন। তিনি নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে বৈধ করে নিয়েছিলেন এবং সমস্ত ধ্বংসাত্মক কাজ ও পাপাচারে লিপ্ত হয়েছিলেন। তাঁর সময়ে এমন কোনো কুৎসিত কাজ বাকি ছিল না যা তিনি করেননি এবং এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদও ছিল না; সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই। তিনি শহর ও গ্রামের অধিবাসীদের গণনা করে একটি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর সর্বনিম্ন পনেরো কুরশ এবং সর্বোচ্চ পাঁচশত কুরশ কর ধার্য করেছিলেন, যা প্রতি বছর আদায় করা হতো; যেমনটি তিনি এর আগে মিশরের অধিবাসীদের ওপরও আরোপ করেছিলেন। সৈন্যরা অধিকাংশ মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহসমূহ দখল করে নিয়েছিল এবং মুসল্লিদের সেখানে প্রবেশে বাধা দিয়ে সেগুলোকে নিজেদের থাকার জায়গা ও গবাদি পশুর আস্তাবলে পরিণত করেছিল। এটি বারোশ উনপঞ্চাশ হিজরি সালের ঘটনা, যা ছিল এসবের ওয়াকফ সম্পত্তি বিনষ্ট ও ধ্বংস হওয়ার কারণ। তিনি খ্রিস্টানদের মুসলিমদের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন এবং অভিজাত ব্যক্তি, আলিম ও শ্রদ্ধেয়জনদের লাঞ্ছিত করেছিলেন, আর ইসলামের বিপরীতে অধম ও স্বৈরাচারীদের শক্তিশালী করেছিলেন। অতঃপর রুম (আনাতোলিয়া) অঞ্চল থেকে ফিরে আসার পর তিনি শাম দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচরণ করতে থাকেন। অবশেষে উনপঞ্চাশ হিজরি সালের শেষভাগে উৎসবের দিনগুলোতে তিনি পবিত্র কুদসে পৌঁছালে সেখানে খ্রিস্টানদের মধ্যে এক দাঙ্গা সংঘটিত হয় যাতে বহু মানুষ প্রাণ হারায়। বারোশ পঞ্চাশ হিজরি সালে তিনি যাদের কবজায় পেয়েছিলেন তাদের জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করেন। এতে মানুষ পালিয়ে যেতে থাকে, জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, কান্নাকাটি ও হাহাকার বেড়ে যায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো থমকে যায়। তিনি নাবলুস পাহাড়ের অধিবাসীদের ওপরও এই নিয়ম প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা আনুগত্য অস্বীকার করে এবং ইব্রাহীম পাশাকে কুদসে অবরুদ্ধ করে ফেলে। সেখানে বিশাল এক জনতা সমবেত হয় এবং প্রায় দুই মাস তাঁকে অবরোধ করে রাখে; তাদের নেতা ছিলেন শেখ কাসিম আল-আহমাদ। যখন অবরোধ অত্যন্ত কঠোর হয়ে উঠল এবং তিনি নিজের বিনাশ ও ধ্বংস সম্পর্কে নিশ্চিত হলেন, তখন তিনি কাসিম আল-আহমাদের কাছে প্রচুর অর্থসহ একটি নমনীয় পত্র পাঠালেন। তিনি তাকে বিশেষ মর্যাদা ও অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন এবং অঙ্গীকার করলেন যে, তিনি তাদের থেকে কোনো সৈন্য বা কর নেবেন না, বরং তাদের প্রভূত অনুগ্রহ ও উপঢৌকন প্রদান করবেন। কাসিম আল-আহমাদ তার অল্পবুদ্ধি, মন্দ সিদ্ধান্ত ও অজ্ঞতার কারণে এতে সম্মত হলেন এবং অবরোধ তুলে নিলেন। মানুষ তাদের মধ্যকার সম্পাদিত চুক্তি ও অঙ্গীকারের ওপর ভরসা করে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। ইব্রাহীম পাশা সেখান থেকে বের হয়ে ইয়াফা পৌঁছালেন এবং দেখলেন যে তাঁর সাহায্যের জন্য এবং বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য নতুন সেনাদল এসে পৌঁছেছে। তৎক্ষণাৎ তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলেন এবং হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়ায় মত্ত হলেন। ফলে মানুষ পলায়ন করল...

(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٢٦)
قاسم الأحمد إلى الخليل، فلحقه إبراهيم باشا بعساكره واشتغل بالنهب والسلب والقتل حتى لم يبق منهم إلا القليل، ثم دار على الساحل، ففعل بأهله هذه الرذائل، ولم يزل يتتبع آثار قاسم الأحمد حتى قبض عليه، وقتله بدمشق هو والبرقاوي ونكث العهد الذي عهد به إليه، وأمر بجمع السلاح من سائر البلدان، التي تحت أمر هذا الشيطان، ولم يزل في ظلم وعناد، وقبح وفساد، وسفك وسلب، وقتل وضرب، إلى أن دخلت سنة ثلاث وخمسين هجرية، فطلب من جبل

الدروز الشرقي مائة وثمانين نفراً للعسكرية، فحضر مشايخ الدروز وطلبوا استبدال ذلك بالمال، فلم يرض إلا بإحضار الرجال، فأجابوه بأنهم يبادرون إلى الإحضار، من غير تأخير ولا اعتذار، وقصدهم التخلص من هذا الظالم؛ والعاتي الغاشم، فلما وصلوا إلى الأوطان، أزمعوا على عدم الطاعة والإذعان، وغب وصول الخبر، توجهت إليهم العساكر كالجراد إذا انتشر، وكان أمير الجيوش علي آغا البصيلي وهو كبير طائفة الهوارة والصعايدة ومعه عبد القادر آغا أبو جيب من أهل الشام من ميدان الحصى، فعقدوا هناك مع كبراء الدروز مجلساً للمشاورة في هذا الأمر، فامتنع الدروز من دفع الأنفار، وقالوا ندفع من المال ما يزيد عن البدلات، فقال البصيلي إني أرسل مراسلة أستشير بها أفندينا وعلى ذلك قر القرار، ففي تلك الليلة كبست الدروز العساكر، وأذاقتهم كؤوس المنية حتى لم يبق منهم إلا النادر، ومن جملة من قتل عبد القادر آغا أبو جيب، وكان المتسلم في جبل حوران والدروز، وآلت جميع أمتعة العساكر وآلات حروبها إلى الدروز، ولم يسلم من القتل سوى علي آغا البصيلي ومعه خمسة عشر نفراًن فوصل الخبر إلى إبراهيم باشا فصعب عليه الأمر، وصار بصره يتوقد كالجمر، وابتدر بجمع العساكر، واستعد فوق العادة من المهمات والذخائر، ووجههم للقتال، وأوصاهم بالاستئصال، فحين علم الدروز جمعوا جميع متاعهم ودخلوا اللجاه، ولا ريب أنه محل الأمن والنجاة، لأنها حصن حصين، وملجأ رصين، فغب وصول المعسكر قامت الحرب على ساق، وكان الفناء على العساكر الإبراهيمية قد ركب جواده وساق، وأول من قتل من رؤساء العساكر العظام، محمد باشا القائد العام، وتبعه يعقوب بك فقتلا اقبح قتلة، وامتد القتل إلى البقية من غير مهلة، فكانت الدروز على هذا الباغي سيف الانتقام والهوان، وبعد مدة تحرك للعصيان جبل الدروز الغربي تحت رئاسة الشيخ شبلي العريان، ولم تزل بعد ذلك يد الصغار تستطيل عليه، وتوجه جيوش التأخير إليه، وفي سنة خمس وخمسين توفي السلطان محمود، وتولى إمارة المؤمنين السلطان عبد المجيد خان، لا زالت دولتهم محفوظة إلى آخر الدوران، وفي تاريخه أمر إبراهيم باشا بأمر والده بقتل علي آغا بن محمد آغا خزنة كاتبي، وبعد مدة أمر السلطان عبد المجيد خان بخروج إبراهيم باشا بعساكره من الأرض الشامية، إلى الأقطار المصرية، فأجاب الأمر بالسمع والطاعة وجمع عساكره وذخائره ومتاعه، وفرق ذلك بالشام، على المساجد والجوامع وبيوت الأرامل والأيتام، ثم بعد شهرين من مجيء الأمر بخروجه خرج من باب الله بعساكره ونزل بسهل القدم، بعد أن جعل الشام وأهلها من كل نعمة في عدم، وذلك في اليوم السادس من ذي القعدة الحرام، سنة ست وخمسين ومايتين وألف من هجرة سيد الأنام، وكان يوم خروجه يوماً شديد الثلج والبرد، والهواء والشرد، وكان يحث عساكره على العجلة والسرعة، ومن تأخر ولو لتعب كان قبره موضعه، وأخذ معه جميع الحبوب والمواشي، من غير خوف ولا تحاشي، ولما وصل مصر امتدحه مهنئاً له الشاعر الأديب، والماهر الأريب، محمد شهاب الدين صاحب الديوان بقوله، وإن كان مدحه في غير محله: روز الشرقي مائة وثمانين نفراً للعسكرية، فحضر مشايخ الدروز وطلبوا استبدال ذلك بالمال، فلم يرض إلا بإحضار الرجال، فأجابوه بأنهم يبادرون إلى الإحضار، من غير تأخير ولا اعتذار، وقصدهم التخلص من هذا الظالم؛ والعاتي الغاشم، فلما وصلوا إلى الأوطان، أزمعوا على عدم الطاعة والإذعان، وغب وصول الخبر، توجهت إليهم العساكر كالجراد إذا انتشر، وكان أمير الجيوش علي آغا البصيلي وهو كبير طائفة الهوارة والصعايدة ومعه عبد القادر آغا أبو جيب من أهل الشام من ميدان الحصى، فعقدوا هناك مع كبراء الدروز مجلساً للمشاورة في هذا الأمر، فامتنع الدروز من دفع الأنفار، وقالوا ندفع من المال ما يزيد عن البدلات، فقال البصيلي إني أرسل مراسلة أستشير بها أفندينا وعلى ذلك قر القرار، ففي تلك الليلة كبست الدروز العساكر، وأذاقتهم كؤوس المنية حتى لم يبق منهم إلا النادر، ومن جملة من قتل عبد القادر آغا أبو جيب، وكان المتسلم في جبل حوران والدروز، وآلت جميع أمتعة العساكر وآلات حروبها إلى الدروز، ولم يسلم من القتل سوى علي آغا البصيلي ومعه خمسة عشر نفراًن فوصل الخبر إلى إبراهيم باشا فصعب عليه الأمر، وصار بصره يتوقد كالجمر، وابتدر بجمع العساكر، واستعد فوق العادة من المهمات والذخائر، ووجههم للقتال، وأوصاهم بالاستئصال، فحين علم الدروز جمعوا جميع متاعهم ودخلوا اللجاه، ولا ريب أنه محل
কাশেম আল-আহমদ খলিলের দিকে পলায়ন করলে ইবরাহিম পাশা তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে তার পশ্চাদ্বাবন করেন এবং লুণ্ঠন, তছরুপ ও হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হন, যার ফলে তাদের মধ্যে খুব সামান্যই অবশিষ্ট থাকে। এরপর তিনি উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হন এবং সেখানকার অধিবাসীদের সাথেও এই জঘন্য আচরণ করেন। তিনি কাশেম আল-আহমদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে থাকেন যতক্ষণ না তাকে বন্দী করেন। এরপর তিনি তাকে এবং আল-বারকাওয়িকে দামেস্কে হত্যা করেন এবং তার সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। তিনি এই শয়তানের অধীনে থাকা সমস্ত দেশ থেকে অস্ত্র সংগ্রহের নির্দেশ দেন। তিনি জুলুম, হঠকারিতা, কুৎসিৎ কর্মকাণ্ড, ফাসাদ, রক্তপাত, লুণ্ঠন, হত্যা এবং প্রহার অব্যাহত রাখেন, যতক্ষণ না হিজরি বারোশ তিপ্পান্ন সাল উপস্থিত হয়। তখন তিনি জাবালে

পূর্ব দ্রুজ থেকে সামরিক বাহিনীর জন্য একশত আশি জন লোক তলব করেন। দ্রুজদের শায়খরা উপস্থিত হয়ে এর পরিবর্তে অর্থ প্রদানের প্রস্তাব দেন, কিন্তু তিনি লোক প্রদান ব্যতীত অন্য কিছুতে সম্মত হননি। তারা তাকে উত্তর দিল যে, তারা কোনো বিলম্ব বা অজুহাত ছাড়াই লোক পাঠাতে প্রস্তুত। তাদের উদ্দেশ্য ছিল এই জালেম ও উদ্ধত অত্যাচারীর হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া। যখন তারা নিজ মাতৃভূমিতে পৌঁছাল, তখন তারা আনুগত্য না করার সংকল্প করল। এই সংবাদ পৌঁছানোর পর, পঙ্গপালের মতো ঝাঁকে ঝাঁকে সৈন্য তাদের দিকে অগ্রসর হলো। এই বাহিনীর প্রধান ছিলেন আলী আগা আল-বুসাইলি, যিনি হাওয়ারা ও সাইয়িদা সম্প্রদায়ের প্রধান ছিলেন। তার সাথে ছিলেন দামেস্কের মিদানুল হাসা অঞ্চলের অধিবাসী আবদুল কাদির আগা আবু জাইব। তারা সেখানে দ্রুজদের প্রধানদের সাথে এই বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি মজলিস বা সভার আয়োজন করলেন। দ্রুজরা লোক পাঠাতে অস্বীকৃতি জানাল এবং বলল যে, তারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও অধিক অর্থ প্রদান করবে। আল-বুসাইলি বললেন যে, তিনি আমাদের প্রভুর কাছে পরামর্শ চেয়ে একটি পত্র পাঠাবেন এবং এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু সেই রাতেই দ্রুজরা অতর্কিতে সৈন্যবাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাদের মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করাল, ফলে তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকই অবশিষ্ট রইল। নিহতদের মধ্যে আবদুল কাদির আগা আবু জাইবও ছিলেন, যিনি জাবালে হাওরান ও দ্রুজ অঞ্চলের শাসনকর্তা ছিলেন। সৈন্যদের সমস্ত আসবাবপত্র এবং যুদ্ধাস্ত্র দ্রুজদের হস্তগত হলো। আলী আগা আল-বুসাইলি এবং তার সাথে থাকা পনেরো জন ব্যতীত কেউ মৃত্যু থেকে রেহাই পায়নি। এই খবর যখন ইবরাহিম পাশার কাছে পৌঁছাল, তখন বিষয়টি তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াল এবং তার চোখ আগুনের অঙ্গারের মতো জ্বলতে লাগল। তিনি সৈন্য সংগ্রহে দ্রুত পদক্ষেপ নিলেন এবং অস্বাভাবিকভাবে যুদ্ধ সরঞ্জাম ও রসদ প্রস্তুত করলেন। তিনি তাদের যুদ্ধের জন্য প্রেরণ করলেন এবং সমূলে নির্মূল করার নির্দেশ দিলেন। যখন দ্রুজরা তা জানতে পারল, তখন তারা তাদের সমস্ত সম্পদ সংগ্রহ করে আল-লাজাহ নামক স্থানে প্রবেশ করল। নিঃসন্দেহে এটি নিরাপত্তা ও মুক্তির স্থান, কারণ এটি একটি দুর্ভেদ্য দুর্গ এবং শক্তিশালী আশ্রয়স্থল। সৈন্যরা পৌঁছানোর পর প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হলো। ইবরাহিমী সৈন্যবাহিনীর ওপর ধ্বংস যেন তার অশ্বে সওয়ার হয়ে ধাবিত হলো। মহান সেনাপতিদের মধ্যে সর্বপ্রথম নিহত হলেন প্রধান সেনাপতি মুহাম্মদ পাশা, তার পরেই ইয়াকুব বেগ নিহত হলেন; তাদের অত্যন্ত জঘন্যভাবে হত্যা করা হলো। কোনো বিরতি ছাড়াই অবশিষ্টদের মধ্যেও হত্যাকাণ্ড বিস্তৃত হলো। এভাবে দ্রুজরা এই অত্যাচারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ ও অপমানের তরবারি হয়ে দাঁড়াল। কিছুকাল পরে শেখ শিবলি আল-আরয়ানের নেতৃত্বে পশ্চিম দ্রুজ পর্বত বিদ্রোহ শুরু করল। এরপরও লাঞ্ছনার হাত তার ওপর প্রসারিত হতে থাকল এবং পতনের বাহিনী তার দিকে ধাবিত হলো। বারোশ পঞ্চান্ন হিজরিতে সুলতান মাহমুদ ইন্তেকাল করেন এবং আমীরুল মুমিনীন হিসেবে সুলতান আবদুল মাজিদ খান ক্ষমতা গ্রহণ করেন; কিয়ামত পর্যন্ত তাদের রাষ্ট্র সংরক্ষিত থাকুক। সেই সময়েই ইবরাহিম পাশা তার পিতার আদেশে আলী আগা ইবনে মুহাম্মদ আগা খাজনা কাতিবিকে হত্যার নির্দেশ দেন। কিছুকাল পর সুলতান আবদুল মাজিদ খান ইবরাহিম পাশাকে তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে সিরিয়া ভূখণ্ড ত্যাগ করে মিশরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি শ্রবণ ও আনুগত্যের সাথে সেই আদেশ পালন করলেন এবং তার সৈন্য, রসদ ও আসবাবপত্র সংগ্রহ করলেন। তিনি সিরিয়ার মসজিদ, জামে মসজিদ এবং বিধবা ও এতিমদের ঘরবাড়িতে তা বণ্টন করে দিলেন। তার প্রস্থানের নির্দেশ আসার দুই মাস পর তিনি তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে বাবুিল্লাহ দিয়ে প্রস্থান করলেন এবং কদম সমতলে অবতরণ করলেন, ততক্ষণে তিনি সিরিয়া ও এর অধিবাসীদের সমস্ত নেয়ামত থেকে বঞ্চিত করে নিঃস্ব করে দিয়েছিলেন। এটি ছিল সাইয়িদুল আনাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিজরতের বারোশ ছাপ্পান্ন সালের জিলকদ মাসের ষষ্ঠ দিন। তার প্রস্থানের দিনটি ছিল প্রচণ্ড বরফ, শীত এবং কনকনে বাতাসের দিন। তিনি তার সৈন্যদের দ্রুত চলার জন্য তাগিদ দিচ্ছিলেন; যে ব্যক্তি ক্লান্তির কারণেও পিছিয়ে পড়ত, সেখানেই তার কবর রচিত হতো। তিনি কোনো ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই সমস্ত শস্য ও গবাদি পশু সাথে নিয়ে নিলেন। যখন তিনি মিশরে পৌঁছালেন, তখন কবি, সাহিত্যিক ও প্রাজ্ঞ পণ্ডিত দিউয়ানের অধিপতি মুহাম্মদ শিহাবুদ্দিন তার প্রশংসায় কবিতা পাঠ করে তাকে অভিনন্দন জানালেন, যদিও সেই প্রশংসা সঠিক স্থানে ছিল না: পূর্ব দ্রুজ পর্বত থেকে একশত আশি জন লোক সামরিক বাহিনীর জন্য তলব করেন। দ্রুজদের শায়খরা উপস্থিত হয়ে এর পরিবর্তে অর্থ প্রদানের প্রস্তাব দেন, কিন্তু তিনি লোক প্রদান ব্যতীত অন্য কিছুতে সম্মত হননি। তারা তাকে উত্তর দিল যে, তারা কোনো বিলম্ব বা অজুহাত ছাড়াই লোক পাঠাতে প্রস্তুত। তাদের উদ্দেশ্য ছিল এই জালেম ও উদ্ধত অত্যাচারীর হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া। যখন তারা নিজ মাতৃভূমিতে পৌঁছাল, তখন তারা আনুগত্য না করার সংকল্প করল। এই সংবাদ পৌঁছানোর পর, পঙ্গপালের মতো ঝাঁকে ঝাঁকে সৈন্য তাদের দিকে অগ্রসর হলো। এই বাহিনীর প্রধান ছিলেন আলী আগা আল-বুসাইলি, যিনি হাওয়ারা ও সাইয়িদা সম্প্রদায়ের প্রধান ছিলেন। তার সাথে ছিলেন দামেস্কের মিদানুল হাসা অঞ্চলের অধিবাসী আবদুল কাদির আগা আবু জাইব। তারা সেখানে দ্রুজদের প্রধানদের সাথে এই বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি মজলিস বা সভার আয়োজন করলেন। দ্রুজরা লোক পাঠাতে অস্বীকৃতি জানাল এবং বলল যে, তারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও অধিক অর্থ প্রদান করবে। আল-বুসাইলি বললেন যে, তিনি আমাদের প্রভুর কাছে পরামর্শ চেয়ে একটি পত্র পাঠাবেন এবং এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু সেই রাতেই দ্রুজরা অতর্কিতে সৈন্যবাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাদের মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করাল, ফলে তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকই অবশিষ্ট রইল। নিহতদের মধ্যে আবদুল কাদির আগা আবু জাইবও ছিলেন, যিনি জাবালে হাওরান ও দ্রুজ অঞ্চলের শাসনকর্তা ছিলেন। সৈন্যদের সমস্ত আসবাবপত্র এবং যুদ্ধাস্ত্র দ্রুজদের হস্তগত হলো। আলী আগা আল-বুসাইলি এবং তার সাথে থাকা পনেরো জন ব্যতীত কেউ মৃত্যু থেকে রেহাই পায়নি। এই খবর যখন ইবরাহিম পাশার কাছে পৌঁছাল, তখন বিষয়টি তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াল এবং তার চোখ আগুনের অঙ্গারের মতো জ্বলতে লাগল। তিনি সৈন্য সংগ্রহে দ্রুত পদক্ষেপ নিলেন এবং অস্বাভাবিকভাবে যুদ্ধ সরঞ্জাম ও রসদ প্রস্তুত করলেন। তিনি তাদের যুদ্ধের জন্য প্রেরণ করলেন এবং সমূলে নির্মূল করার নির্দেশ দিলেন। যখন দ্রুজরা তা জানতে পারল, তখন তারা তাদের সমস্ত সম্পদ সংগ্রহ করে আল-লাজাহ নামক স্থানে প্রবেশ করল। নিঃসন্দেহে এটি একটি স্থান।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٢٧)
الأمن والنجاة، لأنها حصن حصين، وملجأ رصين، فغب وصول المعسكر قامت الحرب على ساق، وكان الفناء على العساكر الإبراهيمية قد ركب جواده وساق، وأول من قتل من رؤساء العساكر العظام، محمد باشا القائد العام، وتبعه يعقوب بك فقتلا اقبح قتلة، وامتد القتل إلى البقية من غير مهلة، فكانت الدروز على هذا الباغي سيف الانتقام والهوان، وبعد مدة تحرك للعصيان جبل الدروز الغربي تحت رئاسة الشيخ شبلي العريان، ولم تزل بعد ذلك يد الصغار تستطيل عليه، وتوجه جيوش التأخير إليه، وفي سنة خمس وخمسين توفي السلطان محمود، وتولى إمارة المؤمنين السلطان عبد المجيد خان، لا زالت دولتهم محفوظة إلى آخر الدوران، وفي تاريخه أمر إبراهيم باشا بأمر والده بقتل علي آغا بن محمد آغا خزنة كاتبي، وبعد مدة أمر السلطان عبد المجيد خان بخروج إبراهيم باشا بعساكره من الأرض الشامية، إلى الأقطار المصرية، فأجاب الأمر بالسمع والطاعة وجمع عساكره وذخائره ومتاعه، وفرق ذلك بالشام، على المساجد والجوامع وبيوت الأرامل والأيتام، ثم بعد شهرين من مجيء الأمر بخروجه خرج من باب الله بعساكره ونزل بسهل القدم، بعد أن جعل الشام وأهلها من كل نعمة في عدم، وذلك في اليوم السادس من ذي القعدة الحرام، سنة ست وخمسين ومايتين وألف من هجرة سيد الأنام، وكان يوم خروجه يوماً شديد الثلج والبرد، والهواء والشرد، وكان يحث عساكره على العجلة والسرعة، ومن تأخر ولو لتعب كان قبره موضعه، وأخذ معه جميع الحبوب والمواشي، من غير خوف ولا تحاشي، ولما وصل مصر امتدحه مهنئاً له الشاعر الأديب، والماهر الأريب، محمد شهاب الدين صاحب الديوان بقوله، وإن كان مدحه في غير محله:

سمهري ينثني أم غصن بان … أم قوام دونه صبري بان

صال بالعسال معسول اللما … وتهادى هادماً ما أنا بان
নিরাপত্তা ও মুক্তি, কারণ এটি একটি সুরক্ষিত দুর্গ এবং সুদৃঢ় আশ্রয়স্থল। সেনাদল পৌঁছানোর পর যুদ্ধ পুরোদমে শুরু হলো এবং ইবরাহীমের সেনাদের ওপর ধ্বংস নেমে এল। মহান সেনাপ্রধানদের মধ্যে সর্বপ্রথম নিহত হলেন প্রধান সেনাপতি মুহাম্মদ পাশা, তার পরপরই ইয়াকুব বেগ নিহত হলেন; তাদের অত্যন্ত জঘন্যভাবে হত্যা করা হলো। অবিলম্বেই এই হত্যাযজ্ঞ অবশিষ্টদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ল। এই অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দ্রুজরা প্রতিশোধ ও লাঞ্ছনার তলোয়ার হয়ে দাঁড়াল। কিছুকাল পর শেখ শিবলী আল-আরয়ানের নেতৃত্বে পশ্চিম জাবালুদ দ্রুজ (দ্রুজ পাহাড়) বিদ্রোহের জন্য গর্জে উঠল। এরপর হীন ব্যক্তিদের হাত তার ওপর প্রসারিত হতে লাগল এবং পলায়নপর বাহিনীগুলো তার দিকে ধাবিত হলো। বারোশ পঞ্চান্ন হিজরি সনে সুলতান মাহমুদ ইন্তেকাল করেন এবং সুলতান আব্দুল মাজীদ খান মুমিনদের নেতৃত্বের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন; মহাকাল শেষ হওয়া পর্যন্ত তাদের রাষ্ট্র যেন সংরক্ষিত থাকে। সেই সময়েই ইবরাহীম পাশা তার পিতার নির্দেশে খজনে কাতেবি মুহাম্মদ আগার পুত্র আলী আগাকে হত্যার আদেশ দেন। কিছুকাল পর সুলতান আব্দুল মাজীদ খান ইবরাহীম পাশাকে তার সৈন্যবাহিনীসহ শামের ভূমি থেকে মিশরের বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি শ্রবণ ও আনুগত্যের সাথে সেই আদেশ গ্রহণ করলেন এবং তার সৈন্য, রসদ ও মালামাল একত্রিত করলেন। তিনি সেগুলো শামের মসজিদ, জামে মসজিদ এবং বিধবা ও এতিমদের ঘরগুলোতে বণ্টন করে দিলেন। প্রস্থানের নির্দেশ আসার দুই মাস পর তিনি তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে 'আল্লাহর দরজা' (বাবুল্লাহ) দিয়ে বের হয়ে 'কদম (পা) সমভূমি'তে অবতরণ করেন; অথচ তিনি শাম ও এর অধিবাসীদের প্রতিটি নিয়ামত থেকে রিক্ত করে দিয়েছিলেন। এটি ছিল সৃষ্টির সেরা (রাসূল ﷺ)-এর হিজরতের বারোশ ছাপ্পান্ন হিজরি সনের জিলকদ মাসের ছয় তারিখ। তার প্রস্থানের দিনটি ছিল প্রচণ্ড বরফ, শীত, বাতাস ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডার। তিনি তার সৈন্যদের দ্রুত ও ত্বরিত গতিতে চলার জন্য তাগিদ দিচ্ছিলেন; ক্লান্তির কারণেও যদি কেউ পিছিয়ে পড়ত, তবে সেখানেই তার কবর হয়ে যেত। তিনি কোনো প্রকার ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই সমস্ত শস্য ও গবাদি পশু সাথে নিয়ে নিলেন। যখন তিনি মিশরে পৌঁছলেন, তখন সুপণ্ডিত কবি এবং দক্ষ প্রজ্ঞাবান 'দিওয়ান'-এর রচয়িতা মুহাম্মদ শিহাবুদ্দীন তাকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রশংসা করলেন, যদিও তার সেই প্রশংসা ছিল অনভিপ্রেত স্থানে:

এটি কি কোনো ঋজু বল্লম নাকি বানের ডাল? … নাকি এমন দেহসৌষ্ঠব যার নিকট আমার ধৈর্য বিদায় নিয়েছে?

সে তার সুমিষ্ট ঠোঁট ও কম্পমান বর্শা নিয়ে আক্রমণ করল … এবং আমি যা নির্মাণ করেছি তা ধুলিসাৎ করতে করতে ধীরপদে অগ্রসর হলো।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٢٨)
يا مليك الحسن رفقاً بشج … كلما حاول كتم الشجو بان

مرج البحرين فيضاً دمعه … إذ رأى جفنيه لا يلتقيان

جاء لما جار سلطان الهوى … طالباً من عادل القد الأمان

رب ساق وهو قاس قلبه … عطفه منذ أدار الكأس لان

أهيف إن ماس تيهاً ورنا … رحت منه بين سيف وسنان

كسر القلب وما كان التقى … فيه من حين هواه ساكنان

يا له ثاني عطف قد غدا … واحداً في الحسن فرداً دون ثان

من رآه وهو يسعى بالطلا … قال ما أسعد ذياك القران

هو بدر أشرقت أنواره … وضياء البدر يبدو حيث كان

وهو شمس بسناها احتجبت … لكليم الطرف قالت لن تران

فاسقنيها أيها الساقي على … عارض الاس وثغر الأقحوان

في رياض رقصت أغصانها … حيت غنتها من الطير قيان

حدق النرجس فيها عينه … إذ رأى المنثور يومي بالبنان

إن بكى الطل على أفنانها … بسم الزهر وعن در ابان

بينما الراووق يهمي دمعه … في رباها قهقهت منه القنان

لمدير الكاس في أدواحها … لم تلح شمس سوى شمس الدنان

يا نديمي قم وبادرها وطب … هذه الجنة والحور الحسان

وأدر لي بنت كرم عتقت … نورها الباهر يحكي البهرمان

زوجت بالماء بكراً فأتت … إذ علاها بذراري من جمان

بالنهى قد فعلت كاساتها … فعل إبراهيم سلطان الزمان

أسد الهيجاء ضرغام الوغى … قاصم الأعداء من قاص ودان

فهو كالشمس سمت آفاقها … وسناها كان في كل مكان

فرع أصل قد تسامى في العلا … وعلا شأناً على رغم لشان

سره أن كان سر عسكره … ورمى القرن فنادى يا رمان
হে রূপের অধিপতি, এই শোকার্তের প্রতি সদয় হোন … যখনই সে তার শোক গোপন করার চেষ্টা করে, তা প্রকাশ হয়ে পড়ে।

তার অশ্রু যেন উপচে পড়া দুই সমুদ্রের সঙ্গম … যখন সে দেখল তার চোখের দুই পাতা আর মিলিত হচ্ছে না।

সে এসেছে যখন প্রেমের সুলতান জুলুম করল … সেই সুঠাম দেহের ন্যায়বিচারকের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে।

কতই না সাকী রয়েছে যার হৃদয় কঠোর … কিন্তু পানপাত্রটি ঘোরানোর পর থেকে তার আচরণ কোমল হয়েছে।

সেই ক্ষীণকটি, যখন সে গর্বভরে দুলিয়ে হাঁটে এবং তাকায় … আমি তার দিক থেকে তরবারি ও বর্শার ফলার মাঝখানে পড়ে যাই।

সে হৃদয় ভেঙেছে, আর তাতে কখনো দুজন অধিবাসী একত্রিত হয়নি … যখন থেকে তার ভালোবাসা সেখানে স্থান করে নিয়েছে।

চমৎকার সেই রূপের আবর্ত, যা রূপ-মাধুর্যে … অদ্বিতীয় ও অতুলনীয় হয়ে উঠেছে।

যে ব্যক্তি তাকে শরাব নিয়ে ছুটতে দেখে … সে বলে ওঠে, সেই মিলন কতই না সৌভাগ্যময়।

সে এক পূর্ণিমা চাঁদ যার আলোকচ্ছটা উদ্ভাসিত হয়েছে … আর পূর্ণিমার আলো যেখানেই থাকে তা প্রকাশিত হয়।

সে এক সূর্য যা স্বীয় জ্যোতিতে পর্দানশীন হয়েছে … চোখের পলকে কথোপকথনকারীকে সে বলল: তুমি আমাকে কখনো দেখতে পাবে না।

হে সাকী! আমায় তা পান করাও … সুগন্ধি লতা ও শুভ্র ডেইজি ফুলের ন্যায় হাসির ছলে।

এমন এক উদ্যানে যার ডালপালাগুলো নেচে ওঠে … যখন গায়ক পাখিরা তাদের অভিবাদন জানিয়ে গান গায়।

নার্গিস ফুল সেখানে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল … যখন সে দেখল ওয়ালফ্লাওয়ার তার আঙুলের ইশারায় ইঙ্গিত করছে।

যদি শিশির তার ডালপালায় অশ্রু বিসর্জন দেয় … তবে ফুল মৃদু হাসে এবং তার মুক্তা সদৃশ শুভ্রতা প্রকাশ করে।

যখন ছাঁকনি থেকে ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু ঝরছিল … তখন তার টিলাগুলোতে মদের পাত্রগুলো অট্টহাসি দিচ্ছিল।

ছায়াশীতল বৃক্ষতলে পানপাত্র পরিবেশনকারীর জন্য … মদের কলসরূপী সূর্য ছাড়া আর কোনো সূর্য উদিত হয়নি।

হে আমার সহচর! ওঠো এবং দ্রুত এগিয়ে যাও ও আনন্দিত হও … এটাই জান্নাত এবং সুন্দরী হুরগণ।

আমার জন্য সেই পুরাতন আঙ্গুর-কন্যা পরিবেশন করো … যার প্রখর জ্যোতি লাল মণির ন্যায় প্রতিভাত হয়।

একে যখন পানির সাথে সংমিশ্রণ করা হলো, তখন সে প্রকাশ পেল … যখন মুক্তার দানার ন্যায় বুদবুদ তাকে আবৃত করল।

তার পানপাত্রগুলো বুদ্ধিবৃত্তির সাথে তেমনটিই করেছে … যেমনটি করেছেন জামানার সুলতান ইবরাহিম।

তিনি যুদ্ধের সিংহ, রণক্ষেত্রের বীর … দূর ও নিকটের সকল শত্রুদের চূর্ণকারী।

তিনি সূর্যের ন্যায় যার দিগন্ত সুউচ্চ … আর যার দীপ্তি সর্বত্র বিদ্যমান।

তিনি এমন এক মূলের শাখা যা শ্রেষ্ঠত্বের উচ্চতায় পৌঁছেছে … এবং নিন্দুকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও যার মর্যাদা সমুন্নত হয়েছে।

তার রহস্য হলো তিনি ছিলেন তার বাহিনীর মূল শক্তি … তিনি যখন শত্রুকে আঘাত করলেন, তখন বীরত্বের ধ্বনি উচ্চকিত হলো।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٢٩)
سطوات بأسها حامي الحمى … واكف كم بها كف افتتان

كم له في السلم من مرحمة … وكأين من حنو وحنان

يمم اليم ورد ما تشتهي … وعلى المورد يا صاح الضمان

لم يكن في كل بحر لؤلؤ … إنما اللؤلؤ في بحر عمان

حلمه الروض جناه يجتنى … ويرجي العفو فيه كل جان

همم فوق السموات سمت … ومعال دونهن الصعب هان

وحلى جلت وجلت غاية … أيجارى من له سبق الرهان

يا عزيزاً لا يضاهى أبداً … عزه يسكو العدا ثوب الهوان

كم حروب كشفت عن ساقها … خاضها طرفك مطواع العنان

بجيوش شمرت عن ساعد … ماله يوم نزال من توان

هاك مني بنت فكر تنجلي … في حلي من بديع وبيان

وقد أعيذت بشهاب ثاقب … صانها عن كل شيطان وجان

وبدت من خدرها قائلة … إن وصلي للحبيب الآن آن

وبودي لو ألاقي حظوة … منه تكسوني جلابيب امتنان

فدنوي منه غايات المنى … وقبولي منتهى كل الأمان

وكانت وفاة المترجم المرقوم ختام ذي الحجة الحرام سنة أربع وستين ومائتين وألف من هجرة سيد الأنام، وكان ذلك في حياة والده لأن والده توفي أول ليلة من شهر رمضان المبارك سنة خمس وستين ومائتين وألف، ودفن في جامعه الذي أنشأه في قلعة الجبل.

 

‌‌الشيخ إبراهيم ابن الشيخ عبد الله الحنبلي الدمشقي

كان عالماً بارعاً، وزاهداً عابداً ورعاًن فقيهاً في مذهب سيدنا الإمام أحمد بن حنبل، ولا ريب أنه ذو مقام كامل أكمل ولم أطلع له على
তার বীরত্বের প্রতাপ সীমানা রক্ষাকারী … কত ফিতনার হাতই না এর দ্বারা নিবারিত হয়েছে।

শান্তিকালীন সময়ে তার কতই না দয়া রয়েছে … আর কতই না মমতা ও অনুরাগ।

সমুদ্রের লক্ষ্য করো এবং যা ইচ্ছা তা গ্রহণ করো … আর হে বন্ধু, প্রাপ্তিস্থলের নিশ্চয়তা তো রয়েছেই।

প্রতিটি সমুদ্রে মুক্তা থাকে না … মুক্তা তো কেবল ওমান সাগরেই পাওয়া যায়।

তার সহনশীলতা এক উদ্যান যার ফল আহরণ করা হয় … আর প্রত্যেক অপরাধী সেখানে ক্ষমার আশা রাখে।

উচ্চাকাঙ্ক্ষা আসমানসমূহকেও ছাড়িয়ে গেছে … আর এমন শ্রেষ্ঠত্ব যার সামনে কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়।

এমন অলঙ্কার যা মহান এবং চরম সীমায় পৌঁছেছে … যে প্রতিযোগিতায় অগ্রগামী হয়েছে, তার সাথে কি পাল্লা দেওয়া যায়?

হে পরাক্রমশালী, যাঁর কোনো তুলনা নেই … তাঁর প্রতাপ শত্রুদের লাঞ্ছনার পোশাক পরিয়ে দেয়।

কত যুদ্ধই না তার পা উন্মোচন করেছে (ভয়াবহ রূপ নিয়েছে) … যাতে আপনার দৃষ্টি অনুগত বল্গার মতো বিচরণ করেছে।

এমন এক সেনাদলের সাথে যারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়েছে … যুদ্ধের দিনে যাদের কোনো শিথিলতা নেই।

আমার পক্ষ থেকে চিন্তাপ্রসূত এই উপহার গ্রহণ করুন যা প্রকাশিত হচ্ছে … অলঙ্কারশাস্ত্র ও প্রাঞ্জলতার ভূষণে।

একে উজ্জ্বল নক্ষত্র দ্বারা রক্ষা করা হয়েছে … যা একে প্রত্যেক শয়তান ও জিন থেকে সুরক্ষিত রেখেছে।

এটি তার অন্তঃপুর থেকে প্রকাশিত হয়ে বলছে … প্রিয়তমের সাথে আমার মিলনের সময় এখন উপস্থিত।

আমার একান্ত কামনা যদি আমি তাঁর কাছ থেকে এমন অনুগ্রহ লাভ করি … যা আমাকে কৃতজ্ঞতার চাদরে আবৃত করবে।

তাঁর নৈকট্য লাভই আমার কামনার চরম লক্ষ্য … আর আমার কবুল হওয়াটাই সকল আকাঙ্ক্ষার পরিসমাপ্তি।

উল্লিখিত জীবনীকারের মৃত্যু হয়েছিল সৃষ্টিজগতের সরদারের হিজরতের এক হাজার দুইশত চৌষট্টি হিজরির জিলহজ মাসের শেষে। এটি তাঁর পিতার জীবদ্দশায় ঘটেছিল, কারণ তাঁর পিতা এক হাজার দুইশত পঁয়ষট্টি হিজরির রমজানুল মুবারক মাসের প্রথম রাতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে তাঁর নির্মিত জামে মসজিদে দাফন করা হয় যা তিনি কালআতুল জাবালে (দুর্গের পাহাড়) নির্মাণ করেছিলেন।

 

‌‌শাইখ ইবরাহিম ইবনে শাইখ আবদুল্লাহ আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি

তিনি ছিলেন একজন দক্ষ আলিম, দুনিয়াত্যাগী ইবাদতগুজার ও পরহেজগার ব্যক্তি এবং আমাদের নেতা ইমাম আহমদ বিন হাম্বল-এর মাযহাবের একজন ফকিহ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি এক পূর্ণাঙ্গ ও শ্রেষ্ঠ মাকামের অধিকারী ছিলেন এবং আমি তাঁর সম্পর্কে অধিক তথ্য অবগত হইনি...
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٣٠)
شيء من الشعر، ولا من السجع والنثر، توفي رحمه الله سنة اثنتين وستين ومائتين وألف ودفن في مقبرة العارف بالله الشيخ رسلان، قدس الله سره وجعل الفردوس مقره.

 

‌‌الشيخ إبراهيم الزهيري الشافعي المصري

مفرد لأشتات العلوم جامع، وأديب ضوء أدبه لامع، تقنع بقناع الزهد والكفاف، وارتدى برداء الصون والعفاف، قد نبذ الدنيا وراء ظهره، ورضي منها بكفايته من غير زيادة مدى عمره، توفي رضي الله عنه سنة أربعين ومائتين وألف من الهجرة، ودفن في مقبرة باب الصغير رحمة الله عليه.

 

‌‌الشيخ إبراهيم السقا الشافعي المصري الأزهري

العالم العامل، والعلامة الفاضل، خاتمة الفقهاء الشافعية بالديارين الشامية والمصرية، فلا غرو أنه الشيخ الإمام، والأوحد الهمام، له همة في العلوم عالية، وكمالات سنية سامية، وطلاقة وجه وضي، وطلاوة خلق رضي، وسجايا تزدري بالرياض النواضر، ومزايا تحار فيها الأعين النواظر قد تأهل لمشيخة الإسلام في الأزهر بشهادة العلماء الأعلام، غير أن الحظ بعد موت العلامة الباجوري قدم غيره عليه، وجعل أمر مشيخة الأزهر إلى غيره لا إليه، وله مؤلفات عديدة، وتقريرات مفيدة، وكان خطيب الجامع الأزهر، والمكان الأنور، وله ديوان بديع يخطب
কিছু কবিতা, না গদ্য বা অলংকৃত গদ্য। তিনি ১২৬২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এবং আরিফ বিল্লাহ শেখ রুসলানের কবরস্থানে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁর রহস্যকে পবিত্র করুন এবং জান্নাতুল ফেরদাউসকে তাঁর আবাসস্থল করুন।

 

‌‌শেখ ইব্রাহিম আল-জুহাইরি আশ-শাফিয়ি আল-মিসরি

তিনি ছিলেন বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের একক সংগ্রাহক এবং একজন সাহিত্যিক যাঁর সাহিত্যের আলো উজ্জ্বল। তিনি দুনিয়াবিমুখতা ও অল্পে তুষ্টির অবগুণ্ঠন গ্রহণ করেছিলেন এবং পবিত্রতা ও সতীত্বের পোশাক পরিধান করেছিলেন। তিনি পার্থিব জগতকে নিজের পিঠের পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন এবং সারাজীবন অতিরিক্ত কিছু ছাড়াই যতটুকু প্রয়োজন তাতেই সন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি হিজরি ১২৪০ সনে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এবং বাব আল-সাগির কবরস্থানে দাফন করা হয়। আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক।

 

‌শেখ ইব্রাহিম আস-সাক্কা আশ-শাফিয়ি আল-মিসরি আল-আজহারি

আমলকারী আলেম এবং ফাজিল আল্লামা, শাম ও মিশর উভয় ভূখণ্ডে শাফিয়ি ফকিহদের সমাপ্তিদানকারী। এতে কোনো বিস্ময় নেই যে তিনি ইমাম শেখ এবং অনন্য বীর। জ্ঞানার্জনে তাঁর হিম্মত ছিল সুউচ্চ এবং তাঁর পূর্ণতা ছিল মহান ও উন্নত। তাঁর হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় উজ্জ্বলতা ছিল এবং চরিত্রে ছিল সন্তোষজনক মাধুর্য। তাঁর স্বভাব ছিল সজীব উদ্যানকেও হার মানানো এবং এমন বৈশিষ্ট্য যা দর্শকদের চোখ ধাঁধিয়ে দিত। বিশিষ্ট আলেমদের সাক্ষ্য অনুযায়ী তিনি আজহারের শায়খুল ইসলাম পদের যোগ্য ছিলেন, কিন্তু আল্লামা বাজুরির মৃত্যুর পর ভাগ্য তাঁর বদলে অন্য কাউকে অগ্রাধিকার দেয় এবং আজহারের শায়খ পদের দায়িত্ব তাঁর পরিবর্তে অন্যজনের ওপর অর্পিত হয়। তাঁর বহু গ্রন্থ ও উপকারী ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। তিনি জামে আজহারের মতো উজ্জ্বলতম স্থানের খতিব ছিলেন। তাঁর একটি চমৎকার কাব্যগ্রন্থ রয়েছে যা পাঠ করা হয়।
(খণ্ড: ১) হিলয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত স্যালিস আশার (পৃষ্ঠা: ٣١)
فيه من إنشائه، يعرب عن فضله ورفعة قدره بين أمثاله وقرنائه، قد اجتمعت به في الأزهر سنة ثمانين ومائتين وألف فدعا لي وأجازني بما تجوز له روايته عن مشايخه، غير أني لم أجتمع به مرة ثانية، لأنه كان منحرف المزاج، ومشتغلاً في أغلب الأوقات بأخذ العلاج، وكان الأزهر الشريف فارغاً من الناس فلذلك كان خروجه إلى الجامع قليلاً، لأن الطلبة وأكثر العلماء كانوا في مولد السيد البدوي والدروس في الأزهر مرفوعة، وكان الناس يومئذ في كرب شديد وهم عظيم، بسبب وقوع الريح الأصفر عندهمن ومما كتبه المترجم المرقوم إلى السيد عبد الهادي بن السيد رضوان نجا الأبياري من مصر حينما كان المومى إليه مسافراً منها، وغائباً عنها فقال:

لقد كمل الرحمن وصفك بالعلا … وما شين شيء من كمالك بالنقص

ومن جمع الآفاق في العين قادر … على جمع أشتات الفضائل في شخص

حلت منا أحرف المحبة محل الزلال من الصادي، وفوضنا الأمر في تمتعنا قريباً بعودة العبد الجليل لربه الهادي، وقد أتحفنا من حضرة أمير الكلام بدر منثور، وأشرقت منه المودة في ليالي السطور، فسبحان من أودعك سراً أنت به العلم المغرد بين الملا، تحدث بأعذب منطق " ما ودعك ربك وما قلى ":

ويشهد الله وحسبي به … أني إلى مجدك مشتاق

فلله مزاياك التي لا تبعث إلا على مزيد الاشتياق، ومكارمك التي قضت لك بالتفوق على الأقران بالاتفاق، ولقد شق علينا بعدك مشقة كبرى، وحرماننا من أنسك الذي يقوم مقام الراح للأرواح سكراً، وإني لا أعجب ممن جهل عظيم قدرك فعاداك، ونقل عنك ما لم تتفوه به قط فاك، فإنه حسد ومثلك من يحسد، والحسد لا تهمد ناره ولا تخمد، إنما أعجب من
এতে তাঁর রচনার এমন অংশ রয়েছে, যা তাঁর সমসাময়িক ও সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চমর্যাদা প্রকাশ করে। ১২৮০ হিজরি সালে আল-আজহারে তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি আমার জন্য দোয়া করেছিলেন এবং তাঁর শিক্ষকদের নিকট থেকে তিনি যা কিছু বর্ণনা করার অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন, তা বর্ণনার অনুমতি আমাকে দিয়েছিলেন। তবে তাঁর সাথে আমার দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎ হয়নি, কারণ তাঁর স্বাস্থ্য তখন ভালো ছিল না এবং তিনি অধিকাংশ সময় চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকতেন। সেই সময় সম্মানিত আল-আজহার জনশূন্য ছিল, তাই মসজিদে তাঁর যাতায়াত ছিল সীমিত। কারণ ছাত্ররা এবং অধিকাংশ আলেম সায়্যিদ বাদভীর জন্মোৎসবে গিয়েছিলেন এবং আল-আজহারের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত ছিল। সে সময়ে সেখানে 'হলুদ বায়ু' (কলেরা) প্রাদুর্ভাবের কারণে মানুষ প্রচণ্ড কষ্ট ও চরম উদ্বেগের মধ্যে ছিল। উল্লিখিত জীবনীপ্রাপ্ত ব্যক্তি যখন সায়্যিদ আব্দুল হাদী বিন সায়্যিদ রিদওয়ান নাজা আল-আবিয়ারী মিশর থেকে সফরে এবং অনুপস্থিত ছিলেন, তখন তাঁর কাছে যা লিখেছিলেন তা হলো এই:

নিশ্চয়ই রহমান (পরম করুণাময়) আপনার গুণাবলিকে উচ্চমর্যাদার মাধ্যমে পূর্ণতা দিয়েছেন … আর আপনার কোনো পূর্ণতাতেই কোনো খুঁত স্পর্শ করতে পারেনি।

যিনি সমস্ত দিগন্তকে চোখের মনিতে সমবেত করতে সক্ষম … তিনি একজন ব্যক্তির মধ্যে সমস্ত বিচ্ছিন্ন গুণাবলি একত্রিত করতেও সক্ষম।

আমাদের ভালোবাসার অক্ষরগুলো পিপাসার্তের কাছে সুমিষ্ট শীতল পানির স্থান দখল করেছে। আর হিদায়াতদানকারী রবের প্রতি এই মহান দাসের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে শীঘ্রই আমাদের আনন্দিত হওয়ার বিষয়টি আমরা আল্লাহর কাছে সোপর্দ করেছি। বাণীর সম্রাটের পক্ষ থেকে আমাদের নিকট এক চমৎকার মুক্তোরাজি উপহার হিসেবে এসেছে, যার পংক্তিগুলোর আঁধারে বন্ধুত্বের আলো বিচ্ছুরিত হয়েছে। সুতরাং সেই সত্তা কতই না পবিত্র, যিনি আপনার মাঝে এমন এক রহস্য গচ্ছিত রেখেছেন যার মাধ্যমে আপনি জনসমক্ষে এক প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। আপনি অত্যন্ত মিষ্ট স্বরে কথা বলেন: "আপনার পালনকর্তা আপনাকে ত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি অসন্তুষ্টও হননি":

আল্লাহ সাক্ষী আছেন এবং আমার জন্য তিনিই যথেষ্ট … যে আমি আপনার আভিজাত্য ও মর্যাদার প্রতি অত্যন্ত লালায়িত।

আপনার ঐ সকল বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য যা কেবল আকাঙ্ক্ষাই বৃদ্ধি করে, এবং আপনার সেই মহত্ত্বের প্রশংসা যা সর্বসম্মতিক্রমে আপনাকে আপনার সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছে। আপনার বিচ্ছেদ আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়েছে এবং আপনার সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হওয়া আমাদের ব্যথিত করেছে, যা আত্মার জন্য প্রশান্তিদায়ক সুধার সমতুল্য ছিল। আমি ঐ ব্যক্তিকে দেখে অবাক হই না যে আপনার উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে আপনার সাথে শত্রুতা করেছে এবং আপনার পক্ষ থেকে এমন কথা বর্ণনা করেছে যা আপনার মুখ থেকে কখনো বের হয়নি। কারণ এটি হলো হিংসা, আর আপনার মতো ব্যক্তিকেই হিংসা করা হয়। আর হিংসার আগুন কখনো নিভে যায় না বা স্তিমিত হয় না। বরং আমি অবাক হই সেই ব্যক্তিকে দেখে যে...