القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: حلية البشر في تاريخ القرن الثالث عشر
المؤلف: عبد الرزاق بن حسن بن إبراهيم البيطار الميداني الدمشقي (ت 1335هـ)
حققه ونسقه وعلق عليه حفيده: محمد بهجة البيطار - من أعضاء مجمع اللغة العربية
الناشر: دار صادر، بيروت
الطبعة: الثانية، 1413 هـ - 1993 م
عدد الصفحات: 1628
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: ত্রয়োদশ শতাব্দীর ইতিহাসে মানবজাতির ভূষণ
লেখক: আবদুর রাজ্জাক বিন হাসান বিন ইব্রাহিম আল-বিতার আল-মাইদানি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ১৩৩৫ হিজরি)
সম্পাদনা, বিন্যাস ও টীকা প্রদান করেছেন তাঁর পৌত্র: মুহাম্মদ বাহজাত আল-বিতার - আরবি ভাষা একাডেমির সদস্য
প্রকাশক: দার সাদির، বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬২৮
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
তাঁর অসংখ্য, সারগর্ভ ও অত্যন্ত উপকারী রচনাবলী তাওহীদ, উসুল, যৌক্তিক (মা'কুল) ও বর্ণনাগত (মানকুল) শাস্ত্রের প্রতিটি শাখায় পরিব্যাপ্ত। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: শামাইল-এর মূল পাঠের ওপর তাঁর হাশিয়া (টীকা), তাঁর উস্তাদ ফাদালীর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বিষয়ক রিসালার ওপর তাঁর হাশিয়া, এবং ইলমুল কালাম শাস্ত্রে সাধারণ মানুষের জন্য যা জানা আবশ্যক সেই বিষয়ে উক্ত উস্তাদের রচিত 'কিফায়াতুল আওয়াম' নামক রিসালার ওপর হাশিয়া। এছাড়া শেখ সিবাঈ রচিত 'বিদায়াতুল মুরিদ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল কারীব আল-মাজীদ', আল্লামা ইবনে হাজার হাইতামীর 'মাওলিদুল মুস্তফা' (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর হাশিয়া, মানতিক বা যুক্তিবিদ্যায় সানুসীর মুখতাসারের ওপর হাশিয়া, মানতিক শাস্ত্রে আখদারীর 'আস-সুল্লাম'-এর ওপরও একটি হাশিয়া, বায়ান শাস্ত্রে 'আস-সামারকান্দিয়্যাহ'-এর ওপর হাশিয়া, সরফ বা শব্দরূপান্তর শাস্ত্রে 'নাজতুত তারসীফ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল খাবীর আল-লাতীফ', তাওহীদ বিষয়ে 'আস-সানুসিয়্যাহ'-এর ওপর হাশিয়া, শেখ দারদীরের 'মাওলিদুল মুস্তফা' (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর হাশিয়া, এবং নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রে শেখ ইমরিতীর মানজুমাহ-এর ব্যাখ্যা। এছাড়াও বুর্দা শরীফের ওপর হাশিয়া, 'বানাত সুআদ'-এর ওপর হাশিয়া, তাওহীদ বিষয়ে 'আল-জাওহারা'-এর ওপর হাশিয়া, বিবাহের বিধানাবলী সংক্রান্ত 'দাওউস সাবাহ'-এর ওপর 'মিনহুল ফাত্তাহ' নামক গ্রন্থ, ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার শাস্ত্রে শানশুরীর ওপর হাশিয়া, এবং ইমাম জুবাইদী রচিত ইসলাম ও ঈমান অর্জনের উপায় বিষয়ক গ্রন্থ 'ফাতহুর রহমান'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আদ-দুরারুল হিসান'। তাঁর আরও রয়েছে ইলমুল কালামের ওপর একটি ক্ষুদ্র রিসালা এবং ইমাম শাফেঈর মাযহাবের ফিকহ শাস্ত্রে আবু শুজা-এর গ্রন্থের ওপর ইবনে কাসিম কৃত ভাষ্যের দুই খণ্ডের একটি হাশিয়া; আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন। তাঁর আরও কিছু রচনা রয়েছে যা সমাপ্ত হয়নি, তাই আমরা সেগুলোর আলোচনা থেকে বিরত থাকলাম।
আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন, জ্ঞান অর্জন ও বিতরণ এবং শিক্ষা গ্রহণ ও দান করাই ছিল তাঁর নিয়মিত অভ্যাস, এমনকি এটি তাঁর মজ্জাগত স্বভাবে পরিণত হয়েছিল। রাদিয়াল্লাহু আনহুর সমগ্র জীবন জ্ঞান দান ও গ্রহণের মাঝেই অতিবাহিত হয়েছে। তাঁর জিহ্বা সর্বদা আল্লাহর যিকির ও কুরআন তিলাওয়াতে সিক্ত থাকত এবং এ ক্ষেত্রে তিনি তাঁর সমসাময়িক ও সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের মাঝে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি তাঁর ছিল প্রচণ্ড অনুরাগ ও গভীর ভালোবাসা। এই কারণেই তিনি নিয়মিত তাঁদের যিয়ারত করতেন এবং তাঁদের পবিত্র সান্নিধ্যে যাতায়াত করতেন। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সময়কে তাঁর প্রভুর আনুগত্যে ব্যয় করতেন এবং তাঁর প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য শুকরিয়া আদায় করতেন। তাঁর ওপর আল্লাহর নেয়ামতসমূহের অন্যতম ছিল এই যে, তাঁর জীবদ্দশাতেই প্রতিটি মজলিসে তাঁর রচনাবলী থেকে মানুষ উপকৃত হতো এবং তা সংগ্রহের জন্য প্রচেষ্টা চালাত...
সুতরাং তিনি একে যথাযথভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন। এর কারণ ছিল আবদুল্লাহ পাশা এবং মুহাম্মদ আলী পাশার মধ্যে চরম শত্রুতা সৃষ্টি হওয়া; যার মূল কারণ ছিল যে, তিনি তার কাছে সিরিয়া হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি তার এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেননি। সেলিম পাশার সাথে সিরিয়ার যুদ্ধ তখন অত্যাসন্ন ছিল এবং সাধারণ ধারণা ছিল যে, এর প্রতিফল নিশ্চিতভাবেই ঘটবে, যা রোধ করা সম্ভব নয়। যখন সুলতান আবদুল্লাহ পাশার সাথে মুহাম্মদ আলী পাশার শত্রুতার সংবাদ পেলেন, তখন তিনি উক্ত খেদিভের সাথে সিরিয়া একীভূত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ভীত হলেন। তাই তিনি সিরিয়ার সাধারণ ক্ষমার জন্য এক মহান ফরমান জারি করলেন এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদারকি করার জন্য আলী পাশা নামক একজন গভর্নরকে সিরিয়ায় প্রেরণ করলেন। এদিকে মুহাম্মদ আলী পাশা সুলতানের কাছে আবদুল্লাহ পাশার বিরুদ্ধে এক অভিযোগনামা পাঠালেন এবং তার মর্যাদার ওপর আঘাত হানলেন, যাতে সুলতান তাকে বরখাস্ত করে তাকে সেই স্থলাভিষিক্ত করেন। এর ফলে তিনি তার উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারতেন এবং কোনো ক্ষতি ছাড়াই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারতেন। তবে সুলতান তার এই বাসনা পূর্ণ করেননি এবং তার এই প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত ফল দেননি। ফলে ইব্রাহিম পাশা এক বিশাল বাহিনী সংগ্রহ করলেন এবং আবদুল্লাহ পাশার শাসনাধীন সিরিয়ার অধিকাংশ বিখ্যাত শহর যেমন গাজা, রামলা, কুদ্স, খলিল, নাবলুস ও উপকূলীয় এলাকাগুলো জয় করে নিলেন। তিনি ত্রিপোলি দুর্গকেও সুরক্ষিত করেন। জাবালে দুরুজের আমির আমীর বশির এবং নাবলুসের নেতৃবৃন্দ তাকে সহায়তা করেন; কারণ গত বছর আবদুল্লাহ পাশা সিনুর দুর্গ অবরোধ ও ধ্বংস করেছিলেন এবং এর ফলে নাবলুসবাসীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এছাড়া সিরিয়া ভূখণ্ডে যে দুর্ভিক্ষ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছিল, এটিও ছিল তার অন্যতম কারণ। এমতাবস্থায় মহামান্য সুলতান মিশরের গভর্নরের কাছে নির্দেশ পাঠালেন যেন তিনি আক্কা থেকে তার সৈন্যবাহিনী প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। তখন সুলতান উসমানীয় সৈন্যবাহিনী একত্রিত করার নির্দেশ দিলেন এবং আলেপ্পোর গভর্নরকে আবদুল্লাহ পাশার সাহায্যে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। এদিকে মিশরীয় বাহিনী আক্কায় এমন এক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে লাগল যার দৃষ্টান্ত আগে কখনো শোনা যায়নি। আক্কার গভর্নরের পক্ষ থেকে দামেস্কের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে একটি পত্র আসে, যাতে তিনি বলেন: তাদের কামান ও গোলার আগুন এক মুহূর্তের জন্যও থামছে না এবং তারা একটি মাত্র পলিতার মাধ্যমেই বাইশটি কামান থেকে গোলাবর্ষণ করছে। শাওয়াল মাসের ছয় তারিখে তারা আক্কায় আক্রমণ চালায় এবং দেয়ালের যে অংশগুলো তারা ধ্বংস করেছিল, সেখান দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। তখন আক্কার সৈন্যরা বেরিয়ে এসে তাদের সাথে তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ করে এবং দেয়ালের ওপর থেকে কামান ও গোলার আঘাত হানে। এতে আক্রমণকারীদের অধিকাংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং জমিনের উপরিভাগ তাদের লাশে পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে তারা ব্যর্থ হয়ে পরাজিত হয়ে পলায়ন করে।
আর যারা দুই গ্রামে গিয়েছিলেন—অর্থাৎ মুফতি, নাকীব এবং রামিনির উকিল রশিদ আগা—তারা দামেস্কে ফিরে এলেন। অতঃপর ইবরাহিম পাশা হিমসে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সংকল্প করলেন এবং রসদ ও সৈন্য সংগ্রহ শুরু করলেন। তার কাছে মিশর থেকে নিয়মিত বাহিনী, বেদুইন ও অন্যান্যদের সমন্বয়ে এক বিশাল সেনাবাহিনী এসে পৌঁছাল। বালবেকেও আব্বাস পাশার নিকট বিশাল এক জনসমাবেশ ঘটল। এরপর ৩ সফর ইবরাহিম পাশা দামেস্ক থেকে বের হলেন এবং বিভিন্ন এলাকার প্রধানদের জিম্মি হিসেবে সাথে নিলেন। তিনি তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আহমদ বেগ আদ-দালাতিকে নিযুক্ত করলেন এবং এলাকাগুলোতে পাহারাদার মোতায়েন করলেন। এরপর ১২ সফর মঙ্গলবার খবর এল যে, ৯ সফর শনিবার হিমসে তার এবং সুলতানি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে। এবং তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার নিহত হয়েছে ও প্রায় চার হাজার বন্দি হয়েছে। অবশিষ্ট সৈন্য ও পাশারা পালিয়ে গেছে, যাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ত্রিশ হাজার। তিনি তাদের কামান, রসদ, তাবু ও অন্যান্য যাবতীয় আসবাবপত্র দখল করে নিলেন। হিমস দুর্গে তাদের একটি দল অবস্থান করছিল; তারা তার কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করলে তিনি তাদের অভয় দিলেন এবং তাদের দুর্গ থেকে নামিয়ে এনে তা নিজ দখলে নিলেন। তিনি শামের মুতাসাল্লিমকে বিজয়ের ঘোষণা দেওয়ার বার্তা পাঠালেন, ফলে তিনি শহরবাসীকে তিন দিন সাজসজ্জার নির্দেশ দিলেন। এরপর ১২ সফর মঙ্গলবার তিনি হামাহ অভিমুখে রওনা হলেন এবং সেখানকার মুতাসাল্লিম পলায়ন করল। তিনি সেখানে রশিদ আগা আশ-শামলিকে মুতাসাল্লিম হিসেবে নিযুক্ত করলেন। পরে তিনি সংবাদ পেলেন যে, সরদার হুসাইন পাশা আলেপ্পোয় পৌঁছেছেন এবং হিমস থেকে পলায়নকারী পাশারাও তাদের সৈন্যসামন্ত নিয়ে আলেপ্পোয় চলে গেছেন। ইবরাহিম পাশা তাদের পিছু নিলেন এবং আলেপ্পো পৌঁছানোর প্রায় চার ঘণ্টা দূরত্বে অবস্থান নিলেন। তখন হুসাইন পাশা আলেপ্পোবাসীদের তার সাথে ইবরাহিম পাশার বিরুদ্ধে যুদ্ধে বের হওয়ার আহ্বান জানালেন। তারা তাকে বলল: "আমরা আপনার পক্ষেও লড়ব না, তার পক্ষেও লড়ব না; বরং যে বিজয়ী হবে আমরা তার অনুগত প্রজা হিসেবে থাকব, কারণ আমরা আমাদের জীবন ও পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে শঙ্কিত।" তখন হুসাইন পাশা অবশিষ্ট সৈন্য ও পাশাদের নিয়ে আলেপ্পো থেকে পালিয়ে গেলেন এবং তার সাথে আনা কিছু সৈন্য ও রসদ ফেলে গেলেন। এরপর আলেপ্পোর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ইবরাহিম পাশাকে অভ্যর্থনা জানাতে এবং নিরাপত্তা প্রার্থনা করতে তার নিকট উপস্থিত হলেন। ১৯ সফর মঙ্গলবার রাতে তিনি কোনো যুদ্ধ ছাড়াই সেখানে প্রবেশ করলেন। অতঃপর ২৭ সফর বুধবার তিনি সেখান থেকে আনতাকিয়া, আইনতাব ও লাতাকিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন। এবং ৭ রবিউল আউয়াল শনিবার খবর এল যে, তিনি ইস্কান্দারুন দুর্গ, বানিয়াস দুর্গ ও বাইলান দখল করে নিয়েছেন। সেখানে হুসাইন পাশা অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। অতঃপর...
ইব্রাহীম পাশা শাম দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন এবং জনগণকে দমন করেছিলেন। তিনি নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে বৈধ করে নিয়েছিলেন এবং সমস্ত ধ্বংসাত্মক কাজ ও পাপাচারে লিপ্ত হয়েছিলেন। তাঁর সময়ে এমন কোনো কুৎসিত কাজ বাকি ছিল না যা তিনি করেননি এবং এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদও ছিল না; সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই। তিনি শহর ও গ্রামের অধিবাসীদের গণনা করে একটি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর সর্বনিম্ন পনেরো কুরশ এবং সর্বোচ্চ পাঁচশত কুরশ কর ধার্য করেছিলেন, যা প্রতি বছর আদায় করা হতো; যেমনটি তিনি এর আগে মিশরের অধিবাসীদের ওপরও আরোপ করেছিলেন। সৈন্যরা অধিকাংশ মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহসমূহ দখল করে নিয়েছিল এবং মুসল্লিদের সেখানে প্রবেশে বাধা দিয়ে সেগুলোকে নিজেদের থাকার জায়গা ও গবাদি পশুর আস্তাবলে পরিণত করেছিল। এটি বারোশ উনপঞ্চাশ হিজরি সালের ঘটনা, যা ছিল এসবের ওয়াকফ সম্পত্তি বিনষ্ট ও ধ্বংস হওয়ার কারণ। তিনি খ্রিস্টানদের মুসলিমদের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন এবং অভিজাত ব্যক্তি, আলিম ও শ্রদ্ধেয়জনদের লাঞ্ছিত করেছিলেন, আর ইসলামের বিপরীতে অধম ও স্বৈরাচারীদের শক্তিশালী করেছিলেন। অতঃপর রুম (আনাতোলিয়া) অঞ্চল থেকে ফিরে আসার পর তিনি শাম দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচরণ করতে থাকেন। অবশেষে উনপঞ্চাশ হিজরি সালের শেষভাগে উৎসবের দিনগুলোতে তিনি পবিত্র কুদসে পৌঁছালে সেখানে খ্রিস্টানদের মধ্যে এক দাঙ্গা সংঘটিত হয় যাতে বহু মানুষ প্রাণ হারায়। বারোশ পঞ্চাশ হিজরি সালে তিনি যাদের কবজায় পেয়েছিলেন তাদের জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করেন। এতে মানুষ পালিয়ে যেতে থাকে, জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, কান্নাকাটি ও হাহাকার বেড়ে যায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো থমকে যায়। তিনি নাবলুস পাহাড়ের অধিবাসীদের ওপরও এই নিয়ম প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা আনুগত্য অস্বীকার করে এবং ইব্রাহীম পাশাকে কুদসে অবরুদ্ধ করে ফেলে। সেখানে বিশাল এক জনতা সমবেত হয় এবং প্রায় দুই মাস তাঁকে অবরোধ করে রাখে; তাদের নেতা ছিলেন শেখ কাসিম আল-আহমাদ। যখন অবরোধ অত্যন্ত কঠোর হয়ে উঠল এবং তিনি নিজের বিনাশ ও ধ্বংস সম্পর্কে নিশ্চিত হলেন, তখন তিনি কাসিম আল-আহমাদের কাছে প্রচুর অর্থসহ একটি নমনীয় পত্র পাঠালেন। তিনি তাকে বিশেষ মর্যাদা ও অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন এবং অঙ্গীকার করলেন যে, তিনি তাদের থেকে কোনো সৈন্য বা কর নেবেন না, বরং তাদের প্রভূত অনুগ্রহ ও উপঢৌকন প্রদান করবেন। কাসিম আল-আহমাদ তার অল্পবুদ্ধি, মন্দ সিদ্ধান্ত ও অজ্ঞতার কারণে এতে সম্মত হলেন এবং অবরোধ তুলে নিলেন। মানুষ তাদের মধ্যকার সম্পাদিত চুক্তি ও অঙ্গীকারের ওপর ভরসা করে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। ইব্রাহীম পাশা সেখান থেকে বের হয়ে ইয়াফা পৌঁছালেন এবং দেখলেন যে তাঁর সাহায্যের জন্য এবং বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য নতুন সেনাদল এসে পৌঁছেছে। তৎক্ষণাৎ তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলেন এবং হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়ায় মত্ত হলেন। ফলে মানুষ পলায়ন করল...