(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: -)
رسالة في الدماء الطبيعية للنساء القسم: مسائل فقهية
الكتاب: رسالة في الدماء الطبيعية للنساء
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - وكالة شئون المطبوعات والنشر
الطبعة: الأولى، 1421هـ
عدد الصفحات: 78
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নারীদের স্বাভাবিক রক্তস্রাব সংক্রান্ত পুস্তিকা বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: নারীদের স্বাভাবিক রক্তস্রাব সংক্রান্ত পুস্তিকা
লেখক: মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-উসাইমীন (মৃ. ১৪২১ হিজরি)
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - প্রকাশনা ও মুদ্রণ বিষয়ক সংস্থা
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২১ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ৩)
[المقدمة]رسالة في الدماء الطبيعية للنساء
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله نحمدُه ونستعينهُ ونستغفرهُ، ونتوبُ إليه، ونعوذُ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يضلل فلا هاديَ له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهدُ أنَّ محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليمًا.
أما بعد: فإن الدماء التي تصيبُ المرأة وهي الحيض والاستحاضة والنفاس، من الأمور المهمة التي تدعو الحاجة إلى بيانها ومعرفة أحكامها، وتمييز الخطأ من الصواب من أقوال أهل العلم فيها، وأن يكون الاعتماد فيما يرجحَ من ذلك أو يضعف على ضوء ما جاء في الكتاب والسنة.
1 - لأنهما المصدران الأساسيان اللذان تُبنى عليهما أحكام الله تعالى التي تعبد بها عباده وكلفهم بها.
2 - في الاعتماد على الكتاب والسنة طمأنينةُ القلب وانشراحُ الصدر وطيب النفس وبراءة الذمة.
3 - ما عداهما فإنما يحتجُّ له ولا يحتجُّ به.
[ভূমিকা]নারীদের স্বাভাবিক রক্তস্রাব সম্পর্কিত একটি পুস্তিকা
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা তাঁরই নিকট তওবা করি এবং আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সকলের ওপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর: নারীদের যে সকল রক্তস্রাব হয়ে থাকে—অর্থাৎ ঋতুস্রাব, ইস্তিহাজা ও নিফাস—সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এগুলোর বিবরণ প্রদান, এ সংক্রান্ত বিধানসমূহ অবগত হওয়া এবং এ বিষয়ে আলেমগণের বক্তব্যের মধ্য থেকে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য নিরূপণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আর এ ক্ষেত্রে কোনো মতকে প্রাধান্যযোগ্য (راجح) বলা কিংবা কোনোটিকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকেই হতে হবে।
১ - কারণ এ দুটিই হলো মূল উৎস যার ওপর ভিত্তি করে আল্লাহ তাআলার ঐ সকল বিধিবিধান সাব্যস্ত হয়, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁদের দায়বদ্ধ করেছেন।
২ - কুরআন ও সুন্নাহর ওপর নির্ভর করার মাঝেই রয়েছে হৃদয়ের প্রশান্তি, চিত্তের প্রশস্ততা, মনের স্বস্তি এবং দায়মুক্তি।
৩ - এ দুটি ব্যতিরেকে অন্য যা কিছু রয়েছে সেগুলোর সপক্ষে দলিলের প্রয়োজন হয়, কিন্তু সেগুলো স্বয়ং দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হয় না।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ৫)
إذ لا حجة إلا في كلام لله تعالى وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم وكذلك كلام أهل العلم من الصحابة على القول الراجح بشرط أن لا يكون في الكتاب والسنة ما يخالفه وأن لا يعارضه قول صحابي آخر، فإن كان في الكتاب والسنة ما يخالفه وجب الأخذ بما في الكتاب والسنة، وإن عارضه قول صحابي آخر طلب الترجيح بين القولين وأخذ بالراجح منها لقوله تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59] النساء آية 95.
وهذه رسالة موجزة فيما تدعو الحاجة إليه من بيان هذه الدماء وأحكامها وتشتمل على الفصول الآتية:
الفصل الأول: في معنى الحيض وحكمته.
الفصل الثاني: في زمن الحيض ومدته.
الفصل الثالث: في الطوارئ على الحيض.
الفصل الخامس: في الاستحاضة وأحكامها.
الفصل السادس: في النفاس وأحكامه.
الفصل السابع: في استعمال ما يمنع الحيض أو يجلبه وما يمنع الحمل أو يسقطه.
[الفصل الأول في معنى الحيض وحكمته]
الفصل الأول
في معنى الحيض وحكمته الحيض لغة: سَيَلان الشيء وجريانه.
وفي الشرع: دم يحدث للأنثى بمقتضى الطبيعة بدون سبب في أوقات معلومة. فهو دم طبيعي ليس له من مرض أو جرح أو سقوط أو ولادة. وبما أنه دم طبيعي فإنه يختلف بحسب حال الأنثى وبيئتها وجوّها. ولذلك تختلف فيه النساء اختلافًا متباينًا ظاهرًا.
والحكمة فيه: أنه لما كان الجنين في بطن أمه لا يمكن أن يتغذى بما كان خارج البطن ولا يمكن لأرحم الخلق به أن يوصل إليه شيئًا من الغذاء حينئذ جعل الله تعالى في الأنثى إفرازات دموية يتغذى بها الجنين في بطن أمه بدون الحاجة إلى أكل وهضم تنفذ إلى جسمه من طريق السرة حيث يتخلل الدم عروقه فيتغذى
কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ব্যতীত অন্য কোনো প্রমাণ (حجة) নেই। অনুরূপভাবে সাহাবায়ে কিরামের মধ্য হতে আলেমদের বক্তব্য প্রাধান্যযোগ্য মত (القول الراجح) অনুসারে দলিলযোগ্য, তবে শর্ত হলো কিতাব ও সুন্নাহতে এর পরিপন্থী কিছু না থাকা এবং অন্য কোনো সাহাবীর বক্তব্যের সাথে এর কোনো বিরোধ না থাকা। যদি কিতাব ও সুন্নাহতে এর বিপরীত কিছু থাকে, তবে কিতাব ও সুন্নাহর বিধান গ্রহণ করা ওয়াজিব। আর যদি অন্য কোনো সাহাবীর বক্তব্যের সাথে এর বিরোধ তৈরি হয়, তবে উভয় বক্তব্যের মধ্যে প্রাধান্য নিরূপণ (الترجيح) করতে হবে এবং তার মধ্যে যেটি অগ্রগণ্য (الراجح) তা গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও; যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখ। এটিই উত্তম এবং পরিণতির দিক দিয়ে উৎকৃষ্ট।} [আন-নিসা: ৫৯] সূরা আন-নিসা আয়াত ৯৫।
আর এটি ঋতুস্রাবের রক্ত ও তার বিধানাবলি সম্পর্কিত একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং এটি নিম্নোক্ত অধ্যায়গুলো নিয়ে গঠিত:
প্রথম অধ্যায়: হায়েজ-এর অর্থ ও হিকমত প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: হায়েজ-এর সময় ও স্থায়িত্ব প্রসঙ্গে।
তৃতীয় অধ্যায়: হায়েজ-এর ক্ষেত্রে আকস্মিক পরিবর্তনসমূহ প্রসঙ্গে।
পঞ্চম অধ্যায়: ইস্তিহাজা এবং এর বিধানাবলি প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ অধ্যায়: নেফাস এবং এর বিধানাবলি প্রসঙ্গে।
সপ্তম অধ্যায়: হায়েজ রোধকারী বা আনয়নকারী এবং গর্ভধারণ রোধকারী বা গর্ভপাতকারী ঔষধ ব্যবহারের বিধান প্রসঙ্গে।
[প্রথম অধ্যায়: হায়েজ-এর অর্থ ও হিকমত প্রসঙ্গে]
প্রথম অধ্যায়
হায়েজ-এর অর্থ ও হিকমত প্রসঙ্গে। হায়েজ-এর আভিধানিক অর্থ: কোনো কিছু প্রবাহিত হওয়া ও বয়ে যাওয়া।
শরীয়তের পরিভাষায়: এটি এমন রক্ত যা কোনো অসুস্থতা বা আঘাত ব্যতিরেকে কেবল নারীর স্বাভাবিক প্রকৃতিগত কারণে নির্দিষ্ট সময়ে নির্গত হয়। সুতরাং এটি একটি প্রাকৃতিক রক্ত, যা কোনো রোগ, ক্ষত, গর্ভপাত বা প্রসবজনিত কারণে হয় না। যেহেতু এটি প্রাকৃতিক রক্ত, তাই নারীর অবস্থা, পরিবেশ ও জলবায়ু ভেদে এটি ভিন্ন ভিন্ন হয়। এই কারণেই নারীদের মধ্যে এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুস্পষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
এর হিকমত বা তাৎপর্য হলো: যেহেতু মাতৃজঠরে অবস্থানকালে ভ্রূণের পক্ষে জঠরের বাইরের কোনো খাবার গ্রহণ করা সম্ভব নয় এবং সৃষ্টির মধ্যে সবচাইতে দয়ালু ব্যক্তির পক্ষেও সেই মুহূর্তে তার কাছে কোনো খাদ্য পৌঁছানো সম্ভব নয়, তাই আল্লাহ তাআলা নারীর জরায়ুতে এই রক্তক্ষরণের ব্যবস্থা করেছেন। ভ্রূণ তার মায়ের পেটে অবস্থানকালে খাদ্য গ্রহণ ও পরিপাকের ঝামেলা ছাড়াই এর মাধ্যমে পুষ্টি লাভ করে। এটি নাভির মাধ্যমে তার শরীরে প্রবেশ করে এবং রক্তনালীগুলোতে সঞ্চালিত হয়ে তার শরীরে পুষ্টির যোগান দেয়।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ৬)
به، فتبارك الله أحسنُ الخالقين. فهذه هي الحكمة في هذا الحيض، ولذلك إذا حَمِلت المرأة انقطع الحيض عنها، فلا تحيض إلا نادرًا. وكذلك المراضع يقلُّ من تحيضُ منهن لا سيما في أول زمن الإرضاع.
[الفصل الثاني في زمن الحيض ومدته]
[السن الذي يأتي فيه الحيض]الفصل الثاني
في زمن الحيض ومدته الكلام في هذا الفصل في مقامين:
المقام الأول: في السن الذي يأتي فيه الحيض.
المقام الثاني: في مدة الحيض.
1 - المقام الأول: فالسن الذي يغلب فيه الحيض هو ما بين اثنتي عشرة سنة إلى خمسين سنة، وربما حاضت الأنثى قبل ذلك أو بعده بحسب حالها وبيئتها وجوها.
وقد اختلف العلماء رحمهم الله: هل للسنَّ الذي يأتي فيه الحيض حدّ معين بحيث لا تحيض الأنثى قبله ولا
এর মাধ্যমে; সুতরাং আল্লাহ অত্যন্ত বরকতময়, তিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা। আর এটিই হলো এই হায়েজ (حيض)-এর মধ্যকার হিকমত বা প্রজ্ঞা। এই কারণেই যখন নারী গর্ভবতী হয়, তখন তার হায়েজ (حيض) বন্ধ হয়ে যায়; ফলে অত্যন্ত কদাচিৎ (نادرا) ব্যতীত সে ঋতুমতী হয় না। একইভাবে স্তন্যদানকারী নারীদের ক্ষেত্রেও হায়েজ (حيض) হওয়ার হার কমে যায়, বিশেষ করে স্তন্যদানকালের শুরুর দিকে।
[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হায়েজের (حيض) সময় ও স্থায়িত্বকাল প্রসঙ্গে]
[যে বয়সে হায়েজ (حيض) শুরু হয়]দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
হায়েজের (حيض) সময় ও স্থায়িত্বকাল প্রসঙ্গে। এই পরিচ্ছেদে আলোচনা দুটি পর্যায়ে বিভক্ত:
প্রথম পর্যায়: যে বয়সে হায়েজ (حيض) শুরু হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়: হায়েজের (حيض) স্থায়িত্বকাল প্রসঙ্গে।
1 - প্রথম পর্যায়: সাধারণত যে বয়সে হায়েজ (حيض) হয়ে থাকে তা হলো বারো বছর থেকে পঞ্চাশ বছরের মধ্যবর্তী সময়। তবে নারী তার শারীরিক অবস্থা, পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রেক্ষাপটে এর আগেও বা পরেও ঋতুমতী হতে পারে।
আলেমগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে: হায়েজ (حيض) শুরু হওয়ার কি কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা আছে, যার ফলে কোনো নারী তার আগে ঋতুমতী হবে না এবংও না...
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ৭)
بعده، وإن ما يأتيها قبله أو بعده فهو دم فساد لا حيض؟
اختلف العلماء في ذلك. قال الدارمي بعد أن ذكر الاختلافات: كل هذا عندي خطأ! لأن المرجع في جميع ذلك إلى الوجود، فأي قدر وجد في أي حالٍ وسنً وجب جعله حيضًا. والله أعلم (1) .
وهذا الذي قاله الدارمي هو الصواب، وهو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية، فمتى رأت الأنثى الحيض فهي حائض، وإن كانت دون تسع سنين أو فوق خمسين، وذلك لأن أحكام الحيض علقها الله ورسوله على وجوده، ولم يحددْ الله ورسوله لذلك سنًّا معينًا، فوجب الرجوع فيه إلى الوجود الذي عُلقت الأحكام عليه، وتحديده بسنّ معين يحتاج إلى دليل من الكتاب أو السنة ولا دليل في ذلك.
[مدة الحيض]2 - المقام الثاني وهو مدة الحيض أي مقدار زمنه.
--------------------------------------------
...এর পরে, এবং এর আগে বা পরে যা কিছু আসে তা কি ত্রুটিপূর্ণ রক্ত (دم فساد), ঋতুস্রাব (حيض) নয়?
এ বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম দারেমী বিভিন্ন মতপার্থক্য উল্লেখ করার পর বলেছেন: "আমার মতে এই সব কিছুই ভুল! কারণ এই সবকিছুর ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো এর উপস্থিতি (وجود); সুতরাং যে কোনো অবস্থায় এবং যে কোনো বয়সে যে পরিমাণ রক্তই দেখা যাক না কেন, তাকে ঋতুস্রাব (حيض) হিসেবে গণ্য করা আবশ্যক।" আল্লাহই ভালো জানেন (১)।
ইমাম দারেমী যা বলেছেন তা-ই সঠিক, এবং এটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ারও অভিমত। সুতরাং যখনই কোনো নারী রক্ত প্রত্যক্ষ করবে, সে ঋতুমতী (حائض) বলে গণ্য হবে; যদিও তার বয়স নয় বছরের কম বা পঞ্চাশ বছরের বেশি হয়। এর কারণ হলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ঋতুস্রাবের (حيض) বিধানসমূহকে এর উপস্থিতির (وجود) ওপর নির্ভরশীল করেছেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ করে দেননি। অতএব, এ ক্ষেত্রে সেই উপস্থিতির (وجود) দিকেই ফিরে যাওয়া আবশ্যক যার ওপর বিধানগুলো নির্ভরশীল করা হয়েছে। একে নির্দিষ্ট বয়সের সাথে সীমাবদ্ধ করার জন্য কুরআন বা সুন্নাহ থেকে দলিলের (دليل) প্রয়োজন, অথচ এ বিষয়ে কোনো দলিল (دليل) নেই।
[ঋতুস্রাবের সময়কাল]২ - দ্বিতীয় প্রসঙ্গ: আর তা হলো ঋতুস্রাবের (حيض) সময়কাল অর্থাৎ এর সময়ের পরিমাণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ৮)
فقد اختلف فيه العلماء اختلافًا كبيرًا على نحو ستة أقوال أو سبعة. قال ابن المنذر وقال طائفة: ليس لأقل الحيض ولا لأكثره حد بالأيام قلت وهذا القول كقول الدارمي السابق وهو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية وهو الصواب لأنه يدل عليه الكتاب والسنة والاعتبار.
এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে, যা প্রায় ছয় বা সাতটি অভিমত পর্যন্ত পৌঁছেছে। ইবনুল মুনজির বলেছেন এবং ওলামায়ে কেরামের একটি দল বলেছেন: ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন কিংবা সর্বোচ্চ মেয়াদের দিন হিসেবে কোনো সীমা নির্ধারিত নেই। আমি (গ্রন্থকার) বলছি, এই অভিমতটি ইমাম দারিমির পূর্বোক্ত মতের অনুরূপ এবং এটিই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মনোনীত পছন্দ। আর এটিই সঠিক (الصواب); কারণ পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং বিচার-বিশ্লেষণ (الاعتبار) এর পক্ষেই প্রমাণ প্রদান করে।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ৯)
الدليل الثالث: أن هذه التقديرات والتفصيلات التي ذكرها من ذكرها من الفقهاء في هذه المسألة ليست موجودة في كتاب الله ولا سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم مع أن الحاجة بل الضرورة داعية إلى بيانها فلو كانت مما يجب على العباد فهمه والتعبد لله به لبينهما الله ورسوله بيانًا ظاهرًا لكل أحد لأهمية الأحكام المترتبة على ذلك من الصلاة والصيام والنكاح والطلاق والإرث وغيرها من
তৃতীয় দলিল: এই মাসআলায় ফকিহগণের (فقهاء) মধ্যে যারা এই সকল পরিমাপ ও বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেছেন, তা আল্লাহর কিতাবে কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহয় (سنة) বিদ্যমান নেই। অথচ এগুলোর স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন, বরং আবশ্যকতা অনস্বীকার্য ছিল। সুতরাং এগুলো যদি এমন বিষয় হতো যা অনুধাবন করা এবং যার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা বান্দাদের জন্য আবশ্যক হতো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা প্রত্যেকের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিতেন। কারণ, এর ওপর সালাত, সিয়াম, বিবাহ, তালাক, মিরাস এবং এ জাতীয় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিধানাবলি (أحكام) নির্ভরশীল...
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ১০)
الأحكام، كما بين الله ورسوله عدد الصلوات وأوقاتها وركوعها وسجودها، والزكاة: أموالها وأنصباؤها ومقدارها ومصرفها، والصيام: مدته وزمنه، والحج وما دون ذلك، حتى آداب الأكل والشرب والنوم والجماع والجلوس ودخول البيت والخروج منه وآداب قضاء الحاجة، حتى عدد مسحات الاستجمار إلى غير ذلك من دقيق الأمور وجليلها، مما أكمل به الدين، وأتم به النعمة على المؤمنين، كما قال تعالى {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: 89] وقال تعالى {مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَى وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ} [يوسف: 111]
فلما لم توجد هذه التقديرات والتفصيلات في كتاب الله تعالى ولا في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم تبين أن لا تعويل عليها، وإنما التعويل على مسمى الحيض الذي علقت عليه الأحكام الشرعية وجودا وعدما، وهذا الدليل - أعني أن عدم ذكر الحكم في الكتاب والسنة، دليل على عدم
বিধানসমূহ, যেমন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সালাতের সংখ্যা, এর সময়সূচি, রুকু ও সিজদা বর্ণনা করেছেন; এবং জাকাত: এর সম্পদসমূহ, নিসাবসমূহ, পরিমাণ ও ব্যয়ের খাতসমূহ; এবং সিয়াম: এর ব্যাপ্তিকাল ও সময়; এবং হজ ও এর আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ; এমনকি আহার, পানীয়, নিদ্রা, সহবাস, উপবেশন, গৃহে প্রবেশ ও প্রস্থান এবং শৌচকার্যের আদবসমূহ, এমনকি ইস্তিজমায় পাথর ব্যবহারের সংখ্যা পর্যন্ত—আরও অন্যান্য সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি যার মাধ্যমে দ্বীন পূর্ণতা পেয়েছে এবং মুমিনদের ওপর নিয়ামত সম্পূর্ণ হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন, {আর আমি আপনার ওপর কিতাব নাযিল করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা} [আন-নাহল: ৮৯] এবং তিনি আরও এরশাদ করেছেন, {এটি কোনো বানিয়ে বলা হাদিস নয়, বরং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সকল বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ} [ইউসুফ: ১১১]
যেহেতু এই পরিমাপ ও বিস্তারিত বিবরণসমূহ আল্লাহর কিতাবে কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة) এর মধ্যে পাওয়া যায়নি, তাই এটি স্পষ্ট হয় যে এগুলোর ওপর কোনো নির্ভরতা নেই। বরং নির্ভরতা কেবল ঋতুস্রাবের সংজ্ঞার ওপর যার সাথে শরয়ি বিধানসমূহের অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আর এই দলিল—অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহ (سنة) এর মধ্যে কোনো বিধানের উল্লেখ না থাকা এটি প্রমাণ করে যে বিধানটি না থাকা—
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ১১)
اعتباره - ينفعك في هذه المسألة وغيرها من مسائل العلم؛ لأنَّ الأحكام الشرعية لا تثبت إلا بدليل من الشرع من كتاب الله، أو سنة رسوله صلى الله عليه وسلم، أو إجماع معلوم، أو قياس صحيح. قال شيخ الإسلام ابن تيمية في قاعدة له: " ومن ذلك اسم الحيض علق الله به أحكاما متعددة في الكتاب والسنة، ولم يقدر لا أقله ولا أكثره، ولا الطهر بين الحيضتين مع عموم بلوى الأمة بذلك واحتياجهم إليه، واللغة لا تفرق بين قدر وقدر، فمن قدر في ذلك حدا فقد خالف الكتاب والسنة ". انتهى كلامه (1) .
الدليل الرابع: الاعتبار أي القياس الصحيح المطرد، وذلك أن الله تعالى علل الحيض بكونه أذى، فمتى وُجد الحيض فالأذى موجود، لا فرق بين اليوم الثاني واليوم الأول، ولا بين الرابع والثالث، ولا فرق بين اليوم السادس عشر والخامس عشر، ولا بين الثامن عشر
--------------------------------------------
এর বিবেচনা—এটি এই মাসআলা এবং ইলমের অন্যান্য মাসআলায় আপনার উপকারে আসবে; কারণ শরয়ি বিধানসমূহ আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসুলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহ, সুপরিচিত ইজমা (إجماع) অথবা সঠিক কিয়াস (قياس صحيح) এর মতো শরয়ি দলিল ছাড়া সাব্যস্ত হয় না। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর একটি মূলনীতিতে (قاعدة) বলেছেন: "আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ঋতুস্রাবের (হায়েজ) নাম, যার সাথে আল্লাহ তাআলা কুরআন ও সুন্নাহর বহু বিধানকে সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি এর জন্য কোনো সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেননি এবং উম্মাহর জন্য এ বিষয়টি অতি প্রয়োজনীয় ও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তিনি দুই ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী পবিত্রতার (طهر) কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেননি। আর ভাষাগত দিক থেকেও এক পরিমাণ ও অন্য পরিমাণের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি এ বিষয়ে কোনো সীমা নির্ধারণ করবে, সে মূলত কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধিতা করবে।" তাঁর বক্তব্য শেষ হলো (১) ।
চতুর্থ দলিল: বিবেচনা (الاعتبار) অর্থাৎ সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ কিয়াস (القياس الصحيح المطرد); আর তা হলো আল্লাহ তাআলা ঋতুস্রাবকে কষ্টদায়ক বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, সুতরাং যখনই ঋতুস্রাব পাওয়া যাবে তখনই সেই কষ্টদায়ক বিষয়টি বিদ্যমান থাকবে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় দিন ও প্রথম দিনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, চতুর্থ ও তৃতীয় দিনের মধ্যেও কোনো পার্থক্য নেই, ষোড়শ ও পঞ্চদশ দিনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং অষ্টাদশ দিনের ক্ষেত্রেও নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ১২)
والسابع عشر فالحيض هو الحيض والأذى هو الأذى فالعلة موجودة في اليومين على حد سواء فكيف يصح التفريق في الحكم بين اليومين مع تساويهما في العلة؟ أليس هذا خلاف القياس الصحيح؟ أوليس القياس الصحيح تساوي اليومين في الحكم لتساويهما في العلة؟ .
الدليل الخامس: اختلاف أقوال المحددين واضطرابها فإن ذلك يدل على أنه ليس في المسألة دليل يجبُ المصير إليه وإنما هي أحكام اجتهادية معرضة للخطأ والصواب ليس أحدهما أولى بالاتباع من الآخر والمرجع قوة القول أنه لا حد لأقل الحيض ولا أكثره وأنه القول الراجح فاعلم أن كل ما رأته المرأة من دم طبيعي من غير تقدير بزمن أو سن إلا أن يكون مستمرًّا على المرأة لا ينقطع أبدًا أو ينقطع مدة يسيرة كاليوم واليومين في الشهر فيكون استحاضة وسيأتي إن شاء الله تعالى بيان الاستحاضة وأحكامها.
সপ্তদশ (যুক্তি) হলো: ঋতুস্রাব তো ঋতুস্রাবই এবং কষ্ট তো কষ্টই। সুতরাং উভয় দিনেই কারণ (العلة) সমানভাবে বিদ্যমান। এমতাবস্থায় কারণ (العلة) অভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও উভয় দিনের বিধানের মধ্যে পার্থক্য করা কীভাবে সঠিক হতে পারে? এটি কি সঠিক কিয়াস (القياس) এর পরিপন্থী নয়? আর সঠিক কিয়াস (القياس) কি এটিই নয় যে, কারণ (العلة) অভিন্ন হওয়ার দরুন উভয় দিনের বিধানও অভিন্ন হবে? .
পঞ্চম দলিল: সময়সীমা নির্ধারণকারীদের বক্তব্যের ভিন্নতা ও অসামঞ্জস্যতা (اضطراب)। এটি প্রমাণ করে যে, এই মাসআলায় এমন কোনো দলিল নেই যা অনুসরণ করা আবশ্যক। বরং এগুলো হলো ইজতিহাদি (اجتهادي) সিদ্ধান্ত যা ভুল এবং সঠিক—উভয়টিরই সম্ভাবনা রাখে এবং এগুলোর একটির তুলনায় অন্যটিকে অনুসরণ করার কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার নেই। এক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো এই মতের প্রবলতা যে, ঋতুর সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ কোনো সময়সীমা নেই এবং এটিই অধিকতর সঠিক (الراجح) মত। সুতরাং জেনে রাখুন, কোনো নারী সময় বা বয়সের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই যে স্বাভাবিক রক্ত দেখে তাই ঋতুস্রাব; তবে যদি রক্তক্ষরণ নারীর শরীরে নিরবচ্ছিন্নভাবে হতে থাকে যা কখনো বন্ধ হয় না অথবা মাসে কেবল একদিন বা দুইদিনের মতো সামান্য সময় বন্ধ থাকে, তবে তা ইস্তিহাযা (استحاضة) হিসেবে গণ্য হবে। ইনশাআল্লাহ সামনে ইস্তিহাযা (استحاضة) ও এর বিধানাবলি বর্ণিত হবে।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: والأصل في كل ما يخرج من الرحم أنه حيض حتى يقوم دليل على أنه استحاضة. وقال أيضًا فما وقع من دم فهو حيض إذا لم يعلم أنه دم عرق أو جرح. اهـ. وهذا القول كما أنه هو الراجح من حيث الدليل فهو أيضًا أقرب فهما وإدراكًا وأيسر عملًا وتطبيقًا مما ذكره المحددون وما كان كذلك فهو أولى بالقبول لموافقته لروح الدين الإسلامي وقاعدته وهي اليسر والسهولة قال الله تعالى: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} [الحج: 78] وقال صلى الله عليه وسلم: «إن الدين يسر ولن يشادّ الدين أحد إلا غلبه فسددوا وقاربوا وأبشروا» . رواه البخاري.
وكان من أخلاقه صلى الله عليه وسلم «أنه ما خير بين أمرين إلا اختار أيسرهما ما لم يكن إثمًا» .
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: জরায়ু থেকে যা কিছু নির্গত হয় তার মূল বিধান হলো তা ঋতুস্রাব (حيض), যতক্ষণ না এটি ইস্তিহাজা (استحاضة) হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেছেন, যে রক্তই নির্গত হয় তা ঋতুস্রাব (حيض), যদি তা রগ বা ক্ষতের রক্ত হিসেবে পরিচিত না হয়। (সমাপ্ত)। এই মতটি দলিলের দিক থেকে যেমন অগ্রগণ্য (الراجح), তেমনি এটি অনুধাবন ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে অধিকতর নিকটবর্তী এবং নির্দিষ্ট সীমারেখা দানকারীদের মতের তুলনায় আমল ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে সহজতর। আর যা এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, তা কবুল করার জন্য অধিকতর উপযোগী; কারণ তা ইসলামের মূল চেতনা এবং এর মূলনীতি ‘সহজতা ও স্বাচ্ছন্দ্য’-এর সাথে সংগতিপূর্ণ। মহান আল্লাহ বলেন: “তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো কঠিনতা আরোপ করেননি।” [সূরা হজ: ৭৮]। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। দ্বীন নিয়ে যে কেউ কড়াকড়ি করবে, দ্বীন তার ওপর প্রবল হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা সঠিক পথে চলো, মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো।” এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ছিল এই যে, “যখনই তাঁকে দুটি বিষয়ের মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হতো, তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন, যদি না তা পাপের কাজ হতো।”
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
[حيض الحامل]حيض الحامل الغالب الكثير أن الأنثى إذا حملتْ انقطع الدم عنها، قال الإمام أحمد رحمه الله: " إنما تعرف النساء الحمل بانقطاع الدم ". إذا رأت الحامل الدم فإن كان قبل الوضع بزمن يسير كاليومين أو الثلاثة ومعه طلق فهو نفاس، وإن كان قبل الوضع بزمن كثير أو قبل الوضع بزمن يسير لكن ليس معه طلق فليس بنفاس، لكن هل يكون حيضًا تثبتُ له أحكام الحيض أو يكونُ دم فساد لا يحكمُ له بأحكام الحيض؟
في هذا خلاف بين أهل العلم.
والصواب أنه حيض إذا كان على الوجه المعتاد في حيضها لأن الأصل فيما يصيبُ المرأة من الدم أنه حيض، إذا لم يكن له سبب يمنعُ من كونه حيضًا، وليس في الكتاب والسنة ما يمنعُ حيض الحامل.
[গর্ভবতীর মাসিক (حيض)]গর্ভবতীর মাসিক (حيض): অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় যে, নারী যখন গর্ভধারণ করে তখন তার রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "নারীরা মূলত রক্তস্রাব বন্ধ হওয়ার মাধ্যমেই গর্ভধারণ উপলব্ধি করতে পারে।" যদি গর্ভবতী নারী রক্ত দেখতে পায় এবং তা যদি প্রসবের অল্প সময় পূর্বে হয়—যেমন দুই বা তিন দিন এবং তার সাথে প্রসব বেদনা থাকে—তবে তা নেফাস (نفاس) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তা প্রসবের দীর্ঘ সময় পূর্বে হয় অথবা প্রসবের অল্প সময় পূর্বে হওয়া সত্ত্বেও সাথে প্রসব বেদনা না থাকে, তবে তা নেফাস (نفাস) নয়। তবে প্রশ্ন হলো, এটি কি মাসিক (حيض) হিসেবে গণ্য হবে যার মাধ্যমে মাসিকের (حيض) বিধানসমূহ সাব্যস্ত হবে, নাকি এটি ত্রুটিপূর্ণ রক্ত (دم فساد) হিসেবে গণ্য হবে যার ওপর মাসিকের (حيض) বিধানসমূহ কার্যকর হবে না?
এ বিষয়ে আলেমদের (أهل العلم) মাঝে মতভেদ রয়েছে।
সঠিক (صواب) মত হলো, এটি মাসিক (حيض) হিসেবে গণ্য হবে যদি তা তার মাসিকের (حيض) স্বাভাবিক নিয়মানুযায়ী হয়; কারণ নারীর শরীর থেকে নির্গত রক্তের মূল নীতি (أصل) হলো সেটি মাসিক (حيض), যতক্ষণ না সেটি মাসিক (حيض) হওয়া থেকে বাধা প্রদানকারী কোনো কারণ পাওয়া যায়। আর কিতাব (الكتاب) ও সুন্নাহর (السنة) মধ্যে এমন কিছু নেই যা গর্ভবতীর মাসিক (حيض) হওয়াকে বাধা দেয়।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وهذا هو مذهب مالك والشافعي واختيار شيخ الإسلام ابن تيمية، قال في الاختيارات ص 30: وحكاه البيهقي رواية عن أحمد، بل حكى أنه رجع إليه اهـ. وعلى هذا فيثبتُ لحيض الحامل ما يثبْت لحيض غير الحامل إلا في مسألتين:
1 - الطلاق، فيحرمُ طلاق من تلزمها عدة حالَ الحيض في غير الحامل، ولا يحرمُ في الحامل، لأن الطلاق في الحيض في غير الحامل مخالف لقوله تعالى: {فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ} [الطلاق: 1] أما طلاق الحامل حال الحيض فلا يخالفه، لأن من طلق الحامل فقد طلقها لعدتها، سواء كانت حائضًا أم طاهرًا، لأن عدتها بالحمل، ولذلك لا يحرمُ عليه طلاقها بعد الجماع بخلاف غيرها.
2 - عدة الحامل لا تنقضي إلا بوضع الحمل، سواء كانت تحيض أم لا لقوله تعالى: {وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} [الطلاق: 4]
এবং এটিই ইমাম মালিক ও শাফিঈর মাযহাব (مذهب) এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার পছন্দকৃত মত (اختيار)। তিনি 'আল-ইখতিয়ারাত' গ্রন্থের ৩০ পৃষ্ঠায় বলেছেন: বায়হাকী এটি ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা (رواية) হিসেবে উল্লেখ করেছেন, বরং তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি (আহমাদ) এই মতের দিকেই ফিরে এসেছিলেন। সমাপ্ত। এই ভিত্তিতে, গর্ভবতী নারীর ঋতুস্রাবের (حيض) ক্ষেত্রে তা-ই সাব্যস্ত হবে যা অ-গর্ভবতী নারীর ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে সাব্যস্ত হয়, কেবল দুটি মাসআলা (مسألة) ব্যতীত:
1 - তালাক (طلاق); সুতরাং অ-গর্ভবতী নারী যার ইদ্দত (عدة) পালন করা আবশ্যক, তাকে ঋতুস্রাব (حيض) অবস্থায় তালাক দেওয়া হারাম (حرام), কিন্তু গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে তা হারাম নয়। কারণ অ-গর্ভবতী নারীর ঋতুস্রাবকালীন তালাক আল্লাহ তাআলার এই বাণীর পরিপন্থী: {সুতরাং তোমরা তাদেরকে তাদের ইদ্দতের (উদ্দেশ্যে) তালাক দাও} [আত-তালাক: ১]। পক্ষান্তরে গর্ভবতী নারীকে ঋতুস্রাব অবস্থায় তালাক দেওয়া এর পরিপন্থী নয়; কেননা যে ব্যক্তি গর্ভবতী নারীকে তালাক দিল, সে তাকে তার ইদ্দতের জন্যই তালাক দিল, চাই সে ঋতুবতী (حائض) হোক বা পবিত্র (طاهر) অবস্থায় থাকুক। কারণ তার ইদ্দত হলো সন্তান প্রসবের মাধ্যমে। এই কারণেই সহবাসের পর তাকে তালাক দেওয়া হারাম নয়, যা অন্যদের ক্ষেত্রে ভিন্নতর।
2 - গর্ভবতী নারীর ইদ্দত (عدة) সন্তান প্রসব করা ব্যতীত শেষ হয় না, চাই তার ঋতুস্রাব (حيض) হোক বা না হোক। এর কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো তাদের সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত} [আত-তালাক: ৪]
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
[الفصل الثالث في الطوارئ على الحيض]الفصل الثالث
في الطوارئ على الحيض الطوارئ على الحيض أنواع:
الأول: زيادة أو نقص مثل أن تكون عادة المرأة ستة أيام فيستمر بها الدم إلى سبعة أو تكون عادتها سبعة أيام فتطهر لستة.
الثاني: تقدم أو تأخر مثل أن تكون عادتها في آخر الشهر فترى الحيض في أوله أو تكون عادتها في أول الشهر فتراه في آخره.
وقد اختلف أهل العلم في حكم هذين النوعين والصواب أنها متى رأت الدم فهي حائض ومتى طهرت منه فهي طاهر سواء زادت عن عادتها أم نقصت وسواء تقدمت أم تأخرت وسبق ذكر الدليل على ذلك في الفصل قبله حيث علق الشارع أحكام الحيض بوجوده. وهذا مذهب الشافعي، واختيار شيخ الإسلام ابن تيمية وقواه صاحب المغني فيه ونصره وقال: ولو كانت العادة معتبرة على الوجه المذكور في المذهب لبينه النبي صلى الله عليه وسلم لأمته ولما وسعه تأخير بيانه؛ إذ لا يجوز تأخير البيان عن وقته وأزواجه وغيرهن من النساء يحتجن إلى بيان ذلك في كل وقت فلم يكن ليغفل بيانه وما جاء عنه صلى الله عليه وسلم ذكر العادة ولا بيانها إلا في حق المستحاضة لا غير. اهـ.
[তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মাসিকের (حيض) ক্ষেত্রে সংঘটিত পরিবর্তনসমূহ সম্পর্কে]তৃতীয় পরিচ্ছেদ
মাসিকের (حيض) ক্ষেত্রে সংঘটিত পরিবর্তনসমূহ সম্পর্কে। মাসিকের (حيض) ক্ষেত্রে সংঘটিত পরিবর্তনসমূহ কয়েক প্রকার:
প্রথম: বৃদ্ধি পাওয়া বা হ্রাস পাওয়া। যেমন—কোনো মহিলার মাসিকের (حيض) অভ্যাস ছিল ছয় দিন, কিন্তু রক্ত নির্গমন সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হলো। অথবা তার অভ্যাস ছিল সাত দিন, কিন্তু ছয় দিনেই তিনি পবিত্র (طهر) হয়ে গেলেন।
দ্বিতীয়: আগে আসা বা পরে আসা। যেমন—মাসের শেষে তার মাসিকের (حيض) অভ্যাস ছিল, কিন্তু মাসের শুরুতেই মাসিক (حيض) দেখা দিল। অথবা মাসের শুরুতে তার অভ্যাস ছিল, কিন্তু মাসের শেষে তা দেখা দিল।
বিদ্বানগণ (أهل العلم) এই দুই প্রকারের বিধানের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। সঠিক (صواب) মত হলো এই যে, মহিলা যখনই রক্ত দেখবে তখনই সে ঋতুবতী (حائض) হিসেবে গণ্য হবে, আর যখনই তা থেকে রক্ত বন্ধ হবে তখনই সে পবিত্র (طاهر) বলে গণ্য হবে; চাই তা তার অভ্যাসের চেয়ে বৃদ্ধি পাক বা হ্রাস পাক, কিংবা আগে আসুক বা পরে আসুক। এর স্বপক্ষে দলিল পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে শরিয়ত প্রণেতা (الشارع) মাসিকের (حيض) বিধানসমূহকে (أحكام) এর উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল করেছেন। এটি ইমাম শাফিঈর মাযহাব এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর পছন্দকৃত মত। মুগনি গ্রন্থের লেখক একে শক্তিশালী করেছেন এবং সমর্থন করে বলেছেন: "যদি মাযহাবে উল্লিখিত উপায়ে অভ্যাস ধর্তব্য হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই তা তাঁর উম্মতের জন্য বর্ণনা করে দিতেন। আর তাঁর জন্য এর বর্ণনা বিলম্বিত করা সম্ভব ছিল না; কারণ প্রয়োজনের সময় থেকে বর্ণনা বিলম্বিত করা বৈধ (يجوز) নয়। অথচ তাঁর স্ত্রীগণ এবং অন্যান্য নারীদের সর্বদাই এর বর্ণনার প্রয়োজন ছিল। সুতরাং তিনি এর বর্ণনা প্রদানে উদাসীন থাকতে পারেন না। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অভ্যাসের কথা বা এর বর্ণনা কেবল ইস্তিহাযাগ্রস্ত (مستحاضة) নারীর ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোথাও বর্ণিত হয়নি।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
النوع الثالث: صفرة أو كدرة بحيث ترى الدم أصفر كماء الجروح أو متكدرًا بين الصفرة والسواد فهذا إن كان في أثناء الحيض أو متصلًا به قبل الطهر فهو حيض نثبت له أحكام الحيض، وإن كان بعد الطهر فليس بحيض لقول أم عطية رضي الله عنها: (كنا لا نعد الصفرة والكدرة بعد الطهر شيئًا) . رواه أبو داود بسند
তৃতীয় প্রকার: হলুদাভ বা ঘোলাটে স্রাব, যাতে রক্তকে ক্ষতের পানির ন্যায় হলুদ অথবা হলুদ ও কালোর মধ্যবর্তী ঘোলাটে দেখা যায়। এটি যদি ঋতুস্রাব চলাকালীন হয় অথবা পবিত্রতা অর্জনের পূর্বে ঋতুস্রাবের সাথে যুক্ত থাকে, তবে তা ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে এবং আমরা এর ওপর ঋতুস্রাবের বিধানাবলি সাব্যস্ত করব। আর যদি তা পবিত্রতা অর্জনের পরে হয়, তবে তা ঋতুস্রাব নয়; উম্মে আতিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর উক্তির কারণে: "আমরা পবিত্রতা অর্জনের পর হলুদাভ ও ঘোলাটে রঙকে কিছুই গণ্য করতাম না।" এটি আবু দাউদ একটি বর্ণনাপরম্পরা (سند) সহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
صحيح، ورواه أيضًا البخاري بدون قولها بعد الطهر، لكنه ترجم له بقوله: باب الصفرة والكدرة في غير أيام الحيض. قال في شرحه فتح الباري: " يشيرُ بذلك إلى الجمع بين حديث عائشة المتقدم في قولها حتى ترين القصة البيضاء وبين حديث أم عطية المذكور في الباب، بأن ذلك أي حديث عائشة محمول على ما إذا رأت الصفرة والكدرة في أيام الحيض، وأما في غيرها فعلى ما قالت أم عطية ". اهـ. وحديث عائشة الذي أشار إليه هو ما علّقهُ البخاري جازمًا به قبل هذا الباب، أن النساء كُنَّ يَبعثن إليها بالدرجة (شيء تحتشي به المرأة لتعرف هل بقيَ من أثر الحيض شيء) فيها الكرسف (القطن) فيه الصفرَة فتقول: " لا تعجلْنَ حتى تريْنَ القصة البيضاء ". والقصة البيضاء ماء أبيض يدفعُهُ الرحم عند انقطاع الحيض.
النوع الرابع: تقطع في الحيض، بحيث تَرَى يومًا دمًا، ويومًا نقاءً ونحو ذلك فهذان حالان:
সহিহ (صحيح), এবং এটি ইমাম বুখারিও বর্ণনা করেছেন তবে ‘পবিত্রতা অর্জনের পর’ কথাটি উল্লেখ করা ব্যতীত। তবে তিনি এর শিরোনাম দিয়েছেন এভাবে: ‘মাসিকের দিনগুলো ব্যতীত হলুদ ও মেটে রঙের স্রাব অধ্যায়’। তিনি এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারিতে বলেছেন: “এর মাধ্যমে তিনি পূর্বে উল্লিখিত আয়েশা (রা.)-এর হাদিস—যেখানে তিনি বলেছিলেন ‘যতক্ষণ না তোমরা সাদা স্রাব দেখতে পাও’—এবং এই অধ্যায়ে উল্লিখিত উম্মে আতিয়্যাহ (রা.)-এর হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অর্থাৎ আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটি সেই অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা হবে যখন মাসিকের দিনগুলোতে হলুদ ও মেটে রঙের স্রাব দেখা যায়; আর তা ব্যতীত অন্য সময়ের জন্য উম্মে আতিয়্যাহ (রা.) যা বলেছেন তা প্রযোজ্য হবে।” (সমাপ্ত)। আয়েশা (রা.)-এর যে হাদিসের দিকে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, সেটি ইমাম বুখারি এই অধ্যায়ের আগে সুনিশ্চিতভাবে তালীক (تعليق) হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, মহিলারা তাঁর কাছে ‘আদ-দুরাজাহ’ (এমন একটি বস্তু যা মহিলারা মাসিকের কোনো রেশ বাকি আছে কি না তা জানার জন্য ব্যবহার করতেন) পাঠাতেন যাতে ‘কারসাফ’ (তুলা) থাকত এবং তাতে হলুদ আভা থাকত। তখন তিনি বলতেন: “তোমরা তাড়াহুড়ো করো না যতক্ষণ না সাদা স্রাব দেখতে পাও।” আর সাদা স্রাব হলো একটি সাদা তরল যা মাসিক বন্ধ হওয়ার সময় জরায়ু থেকে নিঃসৃত হয়।
চতুর্থ প্রকার: মাসিকের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা, এভাবে যে একদিন রক্ত দেখা যায় এবং একদিন পবিত্রতা দেখা যায় এবং অনুরূপ। এই ক্ষেত্রে দুটি অবস্থা রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الحال الأول: أن يكون هذا مع الأنثى دائمًا كل وقتها، فهذا دم استحاضة يثبتُ لمن تراهُ حكم المستحاضة.
الحال الثاني: ألا يكون مستمرًّا مع الأنثى بها يأتيها بعض الوقت، ويكون لها وقت طهر صحيح. فقد اختلف العلماء رحمهم الله في هذا النقاء. هل يكونُ طهرًا أو ينسحبُ عليه أحكام الحيض؟ فمذهب الشافعي في أصح قوليه أنه ينسحبُ عليه أحكام - الحيض فيكونُ حيضًا، وهو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية وصاحب الفائق (1) ومذهب أبي حنيفة، وذلك لأن القصة البيضاء لا ترى فيه، ولأنه لو جُعِلَ طهرًا لكان ما قبله حَيضة، وما بعده حَيضة، ولا قائل به، وإلا لانقضتْ العدة القرء بخمسة أيام، ولأنه لو جُعلَ طهرًا لحصل به حرج ومشقة بالاغتسال وغيره كل يومين، والحرج منتف في هذه الشريعة ولله الحمد. والمشهور من مذهب الحنابلة أن
--------------------------------------------
প্রথম অবস্থা: এটি যদি মহিলার ক্ষেত্রে সর্বদা সব সময়ের জন্য চলতে থাকে, তবে এটি ইস্তিহাজা (استحاضة) এর রক্ত। যে নারী এটি প্রত্যক্ষ করবে, তার ক্ষেত্রে মুস্তাহাজা (مستحاضة) এর বিধান প্রযোজ্য হবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: এটি মহিলার ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে না থেকে বরং কিছু সময়ের জন্য আসা এবং তার ক্ষেত্রে একটি সঠিক পবিত্রতা (طهر) এর সময়কাল থাকা। এই পরিচ্ছন্ন অবস্থা (نقاء) সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করুন) মতভেদ করেছেন। এটি কি পবিত্রতা (طهر) হিসেবে গণ্য হবে, নাকি এর ওপর মাসিকের (حيض) বিধানাবলী কার্যকর হবে? ইমাম শাফিঈর দুই মতের মধ্যে বিশুদ্ধতর (أصح) মত অনুযায়ী এর ওপর মাসিকের বিধানাবলী কার্যকর হবে এবং তা মাসিক (حيض) হিসেবেই গণ্য হবে। এটিই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও আল-ফাইক গ্রন্থের প্রণেতার (১) পছন্দ এবং ইমাম আবু হানিফার মাযহাব। এর কারণ হলো, এতে সাদা চিহ্ন (القصة البيضاء) দেখা যায় না এবং একে যদি পবিত্রতা (طهر) হিসেবে গণ্য করা হতো, তবে এর আগের অংশটি একটি মাসিক (حيضة) এবং পরের অংশটি একটি মাসিক (حيضة) হতো, অথচ এমন কথা কেউ বলেননি। অন্যথায় ইদ্দত (عدة) পালনের পবিত্রকাল (القرء) মাত্র পাঁচ দিনেই অতিক্রান্ত হয়ে যেত। এছাড়া একে যদি পবিত্রতা (طهر) ধরা হতো, তবে প্রতি দুই দিন অন্তর গোসল (اغتسال) ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সংকীর্ণতা ও কষ্টের সৃষ্টি হতো; অথচ এই শরীআতে সংকীর্ণতা অপনীত হয়েছে এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ (المشهور) মত হলো যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ২০)
الدم حيض والنقاء طهر إلا أن يتجاوز مجموعهما أكثر الحيض فيكون الدم المتجاوز استحاضة وقال في المغني " يتوجه أن انقطاع الدم متى نقص عن اليوم فليس بطهر بناء على الرواية التي حكيناها في النفاس أنها لا تلتفت إلى ما دون اليوم وهو الصحيح إن شاء الله لأن الدم يجري مرة وينقطع أخرى وفي إيجاب الغسل على من تطهر ساعة بعد ساعة حرج ينتفي لقوله تعالى: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} [الحج: 78] قال فعلى هذا لا يكون انقطاع الدم أقل من يوم طهرًا إلا أن ترى ما يدل عليه مثل أن يكون انقطاعه في آخر عادتها أو ترى القصة البيضاء اهـ. فيكون قول صاحب المغني هذا وسطًا بين القولين والله أعلم بالصواب.
النوع الخامس: جفاف في الدم بحيث ترى الأنثى مجرد رطوبة فهذا إن كان في أثناء الحيض أو متصلًا به قبل الطهر فهذا حيض، وإن كان بعد الطهر فليس بحيض لأن غاية حالة أن يلحق بالصفرة والكدرة وهذا حكمها.
রক্ত হলো ঋতুস্রাব (حيض) এবং রক্তহীনতা হলো শুচিতা (طهر), তবে শর্ত হলো তাদের সমষ্টি যেন ঋতুস্রাবের (حيض) সর্বোচ্চ সময়সীমা অতিক্রম না করে। যদি তা অতিক্রম করে, তবে অতিরিক্ত রক্ত ইস্তিহাযা (استحاضة) হিসেবে গণ্য হবে। আল-মুগনি গ্রন্থে বলা হয়েছে, "বিবেচ্য বিষয় হলো, রক্ত বন্ধ থাকার সময়কাল যখন একদিনের কম হয়, তখন তা শুচিতা (طهر) নয়। এটি সেই বর্ণনার (رواية) ওপর ভিত্তি করে যা আমরা নিফাস (نفাস) প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছি যে, একদিনের কম সময়ের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হবে না। ইনশাআল্লাহ, এটিই সঠিক (صحيح) অভিমত; কারণ রক্ত কখনো প্রবাহিত হয় এবং কখনো বন্ধ হয়। আর প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পবিত্র হওয়া ব্যক্তির ওপর গোসল আবশ্যক করার মধ্যে রয়েছে কষ্ট ও সংকীর্ণতা, যা মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে অপসারিত হয়ে যায়: {তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি} [হজ: ৭৮]। তিনি আরও বলেন, এই অনুসিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একদিনের কম সময় রক্ত বন্ধ থাকাকে শুচিতা (طهر) ধরা হবে না, যতক্ষণ না এমন কিছু দেখা যায় যা এর সপক্ষে প্রমাণ দেয়; যেমন তার স্বাভাবিক অভ্যাসের শেষে রক্ত বন্ধ হওয়া অথবা সাদা স্রাব (القصة البيضاء) প্রত্যক্ষ করা।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত। আল-মুগনি লেখকের এই বক্তব্যটি দুই মতের মধ্যবর্তী একটি সমন্বয়। আর আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।
পঞ্চম প্রকার: রক্তের শুষ্কতা, যেখানে নারী কেবল আর্দ্রতা দেখতে পায়। এটি যদি ঋতুস্রাবের (حيض) মধ্যবর্তী সময়ে হয় অথবা পবিত্রতা অর্জনের আগে তার সাথে যুক্ত থাকে, তবে তা ঋতুস্রাব (حيض) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তা পবিত্রতা অর্জনের পরে হয়, তবে তা ঋতুস্রাব (حيض) নয়। কারণ এর সর্বোচ্চ পর্যায় হলো একে হলুদাভ (صفرة) ও ঘোলাটে (كدرة) রঙের পর্যায়ভুক্ত করা, আর এটাই এগুলোর বিধান।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ২১)
[الفصل الرابع في أحكام الحيض]
[الأول الصلاة]الفصل الرابع
في أحكام الحيض للحيض أحكام كثيرة تزيد عن العشرين نذكر منها ما نراه كثير الحاجة فمن ذلك:
الأول: الصلاة: فيحرم على الحائض الصلاة فرضها ونفلها ولا تصح منها وكذلك لا تجب عليها الصلاة إلا أن تدرك من وقتها مقدار ركعة كاملة فتجب عليها الصلاة حينئذ سواء أدركت ذلك من أوله: امرأة حاضت بعد غروب الشمس بمقدار ركعة فيجب عليها إذا طهرت قضاء صلاة
[চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ঋতুস্রাবের বিধানাবলি প্রসঙ্গে][প্রথম: সালাত]চতুর্থ পরিচ্ছেদ
ঋতুস্রাবের বিধানাবলি প্রসঙ্গে। ঋতুস্রাবের (حيض) অনেক বিধান রয়েছে যা বিশটিরও অধিক; আমরা এখান থেকে সেগুলোই উল্লেখ করছি যেগুলোর প্রয়োজনীয়তা আমরা অধিক মনে করি। তার মধ্যে রয়েছে:
প্রথম: সালাত: ঋতুবতী নারীর জন্য সালাত আদায় করা হারাম, চাই তা ফরজ (فرض) হোক বা নফল (نفل); এবং তার পক্ষ থেকে তা শুদ্ধ হবে না। অনুরূপভাবে তার ওপর সালাত ওয়াজিব (واجب) নয়, যতক্ষণ না সে সালাতের ওয়াক্ত থেকে পূর্ণ এক রাকাত (ركعة) পরিমাণ সময় পায়। এমতাবস্থায় তার ওপর সেই সালাত আদায় করা আবশ্যক হয়ে যায়, চাই সে ওয়াক্তের শুরু থেকে এই সময়টুকু পাক না কেন। যেমন: কোনো নারী সূর্যাস্তের পর এক রাকাত (ركعة) পরিমাণ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ঋতুবতী হলো, তবে পবিত্র হওয়ার পর তার জন্য সেই সালাতের কাজা (قضاء) আদায় করা ওয়াজিব (واجب) হবে।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ২২)
المغرب لأنها أدركَتْ من وقتها قدر ركعة قبل أن تحيض.
ومثال ذلك من آخره: امرأة طَهُرَتْ من الحيضِ قبل طلوع الشمس بمقدار ركعة فيجبُ عليها إذا تَطهَّرَتْ قضاء صلاة الفجر، لأنها أدْرَكَتْ من وقتها جزءًا يتسعُ لركعة.
أما إذا أدْرَكَتْ الحائض من الوقت جزءًا لا يتسع لركعة كاملة، مثل أن تحيضَ في المثال الأول بعد الغروب بلحظة أو تَطْهُرَ في المثال الثاني قبل طلوع الشمس بلحظة، فإن الصلاة لا تجبُ عليها، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من أدركَ ركعة من الصلاة فقد أدركَ الصلاة» . متفق عليه، فإن مفهومه أن من أدرك أقل من ركعة لم يكنْ مدركًا للصلاة.
وإذا أدركَتْ ركعة من وقت صلاة العصر فهل تجبُ عليها صلاة الظهر مع العصر، أو ركعة من وقت صلاة العشاء الآخرة، فهل تجبُ عليها صلاة المغرب مع
মাগরিবের সালাত; কেননা তিনি ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পূর্বে এর ওয়াক্ত থেকে এক রাকাত পরিমাণ সময় পেয়েছিলেন।
আর শেষ সময়ের উদাহরণ হলো: একজন নারী সূর্যোদয়ের পূর্বে এক রাকাত পরিমাণ সময় থাকতে ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হলেন; এমতাবস্থায় তিনি পবিত্রতা অর্জন করলে তার ওপর ফজর সালাত কাজা করা ওয়াজিব হবে। কারণ তিনি উক্ত সালাতের ওয়াক্ত থেকে এমন এক অংশ পেয়েছেন যা এক রাকাতের জন্য পর্যাপ্ত।
পক্ষান্তরে, ঋতুবতী নারী যদি ওয়াক্তের এমন সামান্য অংশ পান যা পূর্ণ এক রাকাতের জন্য পর্যাপ্ত নয়—যেমন প্রথম উদাহরণে সূর্যাস্তের এক মুহূর্ত পর ঋতুস্রাব শুরু হওয়া অথবা দ্বিতীয় উদাহরণে সূর্যোদয়ের এক মুহূর্ত আগে পবিত্র হওয়া—তবে তার ওপর সালাত ওয়াজিব হবে না। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকাত পেল, সে সালাত পেয়ে গেল।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه); এর মর্মার্থ হলো, যে ব্যক্তি এক রাকাতের কম সময় পেল, সে সালাত প্রাপ্ত বলে গণ্য হবে না।
আর যদি তিনি আসর সালাতের ওয়াক্ত থেকে এক রাকাত পরিমাণ সময় পান, তবে আসরের সাথে কি জোহর সালাতও কি তার ওপর ওয়াজিব হবে? অথবা এশার ওয়াক্ত থেকে এক রাকাত পরিমাণ সময় পেলে মাগরিব সালাতও কি তার ওপর ওয়াজিব হবে...
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
العشاء؟
في هذا خلاف بين العلماء، والصواب أنها لا يجبُ عليها إلا ما أدركتْ وقته، وهي صلاة العصر والعشاء الآخرة فقط. لقوله صلى الله عليه وسلم: «من أدركَ ركعة من العصر قبل أن تغرب الشمس فقد أدرك العصر» . متفق عليه، لم يقلْ النبي صلى الله عليه وسلم: فقد أدرك الظهر والعصر ولم يَذْكُرْ وجوب الظهر عليه، والأصل براءة الذِّمَّة وهذا مذهب أبي حنيفة ومالك حكاه عنهما في شرح المهذب (1) .
وأما الذكر والتكبير والتسبيح والتحميد، والتسمية على الأكل وغيره، وقراءة الحديث والفقه والدعاء والتأمين عليه واستماع القرآن فلا يحرمُ عليها شيء من ذلك، فقد ثبتَ في الصحيحين وغيرهما، «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يتكئ في حِجْر عائشة رضي الله عنها وهي حائض فيقرأ القرآن» .
--------------------------------------------
এশার সালাত?
এই বিষয়ে আলেমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; তবে সঠিক মত হলো, তিনি যে ওয়াক্ত পেয়েছেন কেবল সেই সালাত আদায় করাই তাঁর ওপর ওয়াজিব হবে, আর তা হলো কেবল আসর এবং শেষ এশার সালাত। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: «যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের আগে আসরের এক রাকাত পেল, সে আসর পেল»। এটি ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে: ‘সে জোহর ও আসর উভয়ই পেল’ এবং তিনি তাঁর ওপর জোহর ওয়াজিব হওয়ার কথা উল্লেখ করেননি। আর মূলনীতি হলো দায়মুক্ত থাকা (براءة الذمة); এটিই ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিকের মাযহাব, যা শারহুল মুহাযযাব (১)-এ তাঁদের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে।
আর জিকির, তকবির, তাসবিহ, তাহমিদ, খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা ও অন্যান্য বিষয় এবং হাদিস পাঠ করা, ফিকহ, দোয়া, দোয়ায় আমীন বলা ও কোরআন শ্রবণ করা—এসবের কোনোটিই তাঁর জন্য হারাম নয়। কারণ সহিহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কোলে হেলান দিতেন এমতাবস্থায় যে তিনি ঋতুবতী ছিলেন, অতঃপর তিনি কোরআন তিলাওয়াত করতেন»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أنها سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «يخرج العواتق وذوات الخدور والحيض يعني إلى صلاة العيدين وليشهدن الخير ودعوة المؤمنين ويعتزل الحيَّض المصلّى» .
فأما قراءة الحائض القرآن بنفسها فإن كان نظرًا بالعين أو تأملًا بالقلب بدون نطق باللسان فلا بأس بذلك مثل أن يوضع المصحف أو اللوح فتنظر إلى الآيات وتقرأها بقلبها. . قال النووي في شرح المهذب " جائز بلا خلاف". وأما إن كانت قراءتها نطقًا باللسان فجمهور العلماء على أنه ممنوع وغير جائز وقال البخاري وابن جرير الطبري وابن المنذر هو جائز وحكي عن مالك وعن الشافعي في القول القديم حكاه عنهما في فتح الباري. وذكر البخاري تعليقًا عن إبراهيم النخعي لا بأس أن تقرأ الآية. .
তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী, পর্দানশীন নারী এবং ঋতুমতী নারীরা বের হবে—অর্থাৎ দুই ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে—যাতে তারা কল্যাণ এবং মুমিনদের দোয়ায় শরিক হতে পারে; তবে ঋতুমতী নারীরা নামাজের স্থান থেকে পৃথক থাকবে।"
ঋতুমতী নারীর নিজে কুরআন পাঠ করার বিষয়টি হলো—যদি তা স্রেফ চোখ দিয়ে দেখার মাধ্যমে হয় কিংবা জিহ্বা দিয়ে উচ্চারণ না করে অন্তরে অনুধাবনের মাধ্যমে হয়, তবে তাতে কোনো দোষ নেই; যেমন মাসহাফ বা ফলক রাখা হলো এবং সে আয়াতগুলোর দিকে তাকাল ও মনে মনে তা পাঠ করল। ইমাম নববী শারহুল মুহাযযাব-এ বলেছেন, "এটি কোনো মতভেদ ছাড়াই বৈধ (جائز)।" কিন্তু যদি তার পাঠ জিহ্বা দিয়ে উচ্চারণের মাধ্যমে হয়, তবে জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেমের মতে তা নিষিদ্ধ (ممنوع) ও অবৈধ (غير جائز)। ইমাম বুখারি, ইবনে জারির তবারি এবং ইবনুল মুনযির একে বৈধ (جائز) বলেছেন এবং ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ির প্রাচীন মত (القول القديم) থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে, যা ফাতহুল বারি-তে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম বুখারি ইব্রাহিম নাখয়ি থেকে তা'লিক (تعليق) হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, আয়াত পাঠ করাতে কোনো সমস্যা নেই।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية في الفتاوى مجموعة ابن قاسم " ليس في منعها من القرآن سنة أصلًا فإن قوله «لا تقرأ الحائض ولا الجنب شيئًا من القرآن» حديث ضعيف باتفاق أهل المعرفة بالحديث وقد كان النساء يحضن في عهد النبي صلى الله عليه وسلم فلو كانت القراءة محرمة عليهن كالصلاة لكان هذا مما بينه النبي صلى الله عليه وسلم لأمته وتعلمه أمهات المؤمنين وكان ذلك مما يقولونه في الناس فلما لم ينقل أحد عن النبي صلى الله عليه وسلم في ذلك نهيًا لم يجز أن تجعل حرامًا مع العلم أنه لم ينه عن ذلك وإذا لم ينه عنه مع كثرة الحيض في زمنه علم أنه ليس بمحرم" اهـ. والذي ينبغي بعد أن عرفنا نزاع أهل العلم أن يقال الأولى للحائض أن لا تقرأ القرآن نطقًا باللسان إلا عند الحاجة لذلك مثل أن تكون معلمة
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ফাতাওয়া মাজমু’আ ইবনে কাসিমে বলেন, "ঋতুবতী মহিলার জন্য কুরআন পাঠ নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে মূলত কোনো সুন্নাহ (سنة) নেই। কেননা, ‘ঋতুবতী এবং জুনুবি ব্যক্তি কুরআনের কিছুই পাঠ করবে না’—এই বক্তব্যটি হাদিস বিশারদগণের সর্বসম্মত মতে একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেও নারীরা ঋতুবতী হতেন; সুতরাং যদি তাদের জন্য কিরাত পাঠ সালাতের মতোই নিষিদ্ধ হতো, তবে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই তা তাঁর উম্মতের কাছে স্পষ্ট করতেন এবং উম্মাহাতুল মুমিনিনগণ তা অবগত হতেন এবং এটি এমন বিষয় হতো যা তারা মানুষের মাঝে আলোচনা করতেন। যেহেতু নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়নি, তাই তিনি নিষেধ করেননি—একথা জানা সত্ত্বেও একে হারাম সাব্যস্ত করা বৈধ নয়। আর যেহেতু তাঁর সময়ে ঋতুস্রাবের ব্যাপকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি এ থেকে নিষেধ করেননি, তাই এটি স্পষ্ট যে তা নিষিদ্ধ নয়।" সমাপ্ত। আলেমগণের মধ্যকার মতভেদ জানার পর যা সমীচীন তা হলো—ঋতুবতী মহিলার জন্য বিশেষ প্রয়োজন (যেমন তিনি শিক্ষিকা হওয়া) ব্যতীত মুখে উচ্চারণ করে কুরআন পাঠ না করাই উত্তম।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فتحتاج إلى تلْقين المتعلمات، أو في حال الاختبار فتحتاجُ المتعلمة إلى القراءة لاختبارها أو نحو ذلك.
[الثاني الصيام]الثاني: الصيام: فيحْرُمُ على الحائض الصيام فرضه ونفله، ولا يصحُّ منها لكن يجبُ عليها قضاء الفرض منه لحديث عائشة رضي الله عنها «كان يصيبنا ذلك، تعني الحيض فنؤْمَرُ بقضاء الصوم ولا نُؤْمَرُ بقضاء الصلاة» . متفق عليه، وإذا حاضت وهي صائمة بطُلَ صيامها ولو كان ذلك قبيل الغروب بلحظة، ووجب عليها قضاء ذلك اليوم إن كان فرضًا. أما إذا أحستْ بانتقال الحيض قبل الغروب لكن لم يخرج إلا بعد الغروب فإن صومها تامٌّ ولا يبطل على القول الصحيح، لأن الدم في باطن الجوف لا حكم له، ولأن النبي صلى الله عليه وسلم «لما سئل عن المرأة ترى في منامها ما يرى الرجل هل عليها من غسل؟ قال: نعم إذا هي رأتْ الماء» فَعَلَّقَ الحكم برؤية المنيّ لا بانتقاله، فكذلك الحيض لا تثبت أحكامه إلا برؤيته خارجًا لا بانتقاله.
অতএব শিক্ষার্থীদের তালকিন করার প্রয়োজন হয়, অথবা পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নিজেকে যাচাই করার জন্য পড়ার প্রয়োজন হয় অথবা এই জাতীয় বিষয়।
[দ্বিতীয়: রোজা]দ্বিতীয়: রোজা: ঋতুবতী মহিলার জন্য রোজা রাখা হারাম, তা ফরজ হোক বা নফল। তার পক্ষ থেকে এটি শুদ্ধ হয় না, তবে তার ওপর এর ফরজ রোজাগুলোর কাজা করা ওয়াজিব। আয়েশা (রা.)-এর হাদিসের কারণে, তিনি বলেছেন: "আমাদের সাথে এমনটি (অর্থাৎ ঋতুস্রাব) হতো, তখন আমাদের রোজার কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো কিন্তু সালাতের কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো না।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)। আর যদি রোজা থাকা অবস্থায় তার মাসিক শুরু হয়, তবে তার রোজা বাতিল হয়ে যাবে, যদিও তা সূর্যাস্তের এক মুহূর্ত আগে হয়। আর সেটি যদি ফরজ রোজা হয় তবে সেই দিনের কাজা করা তার ওপর ওয়াজিব হবে। পক্ষান্তরে, যদি সে সূর্যাস্তের আগে ঋতুস্রাব স্থানান্তরের বিষয়টি অনুভব করে কিন্তু সূর্যাস্তের পরে ছাড়া তা নির্গত না হয়, তবে সঠিক (الصحيح) মতানুসারে তার রোজা পূর্ণ হবে এবং তা বাতিল হবে না। কারণ শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তের কোনো বিধান নেই। আর যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে যখন এমন মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে স্বপ্নে পুরুষদের মতো কিছু দেখে, তার ওপর কি গোসল ওয়াজিব হবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যখন সে পানি (বীর্য) দেখতে পাবে।" এখানে তিনি বিধানটিকে বীর্য দেখার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, তা স্থানান্তর হওয়ার সাথে নয়। অনুরূপভাবে ঋতুস্রাবের বিধানও তা বাইরে নির্গত হতে দেখা যাওয়া ব্যতীত সাব্যস্ত হবে না, কেবল স্থানান্তরের কারণে নয়।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وإذا طلِع الفجر وهي حائض لم يصحْ منها صيام ذلك اليوم ولو طهُرَتْ بعد الفجر بلحظة.
وإذا طَهُرَتْ قبيل الفجر فصامتْ صحَّ صومها، وإن لم تغتسلْ إلا بعد الفجر، كالجنب إذا نوى الصيام وهو جنب ولم يغتسلْ إلا بعد طلوع الفجر فإن صومه صحيح، لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: «كان النبي صلى الله عليه وسلم يصبح جنبًا من جماع غير احتلام ثم يصوم في رمضان» . متفق عليه.
[الثالث الطواف بالبيت]الثالث: الطواف بالبيت: فيحرم عليها الطواف بالبيت، فرضه ونفله، ولا يصح منها لقول: النبي صلى الله عليه وسلم لعائشة لما حاضت: «افْعلي ما يفعَلُ الحاجُّ غير ألا تطوفي بالبيت حتى تَطْهَري» .
وأما بقية الأفعال كالسعي بين الصفا والمروة، والوقوف بعرفة، والمبيت بمزدلفة ومنى، ورمي الجمار وغيرها من مناسك الحج والعمرة فليست حرامًا عليها، وعلى هذا فلو طافت الأنثى وهي طاهر ثم خرج الحيض
যদি ফজর উদিত হয় এবং তিনি ঋতুবতী (حائض) থাকেন, তবে তাঁর সেই দিনের রোজা শুদ্ধ (صحيح) হবে না, যদিও তিনি ফজরের এক মুহূর্ত পরেই পবিত্র (طاهرة) হন।
আর যদি তিনি ফজরের অল্প কিছুক্ষণ আগে পবিত্র (طاهرة) হন এবং রোজা রাখেন, তবে তাঁর রোজা শুদ্ধ (صحيح) হবে; যদিও তিনি ফজরের পরে গোসল করেন। এটি সেই ব্যক্তির মতো যে জানাবাত অবস্থায় (جنب) থাকাকালীন রোজার নিয়ত করে এবং ফজর উদিত হওয়ার আগে গোসল না করে বরং ফজরের পরেই গোসল করে, তবে তাঁর রোজা অবশ্যই শুদ্ধ (صحيح)। এর প্রমাণ আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "নবী (সা.) স্বপ্নদোষ ব্যতীতই সহবাসজনিত কারণে জানাবাত অবস্থায় (جنب) ভোর করতেন, এরপর তিনি রমজানে রোজা রাখতেন।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।
[তৃতীয়: বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করা]তৃতীয়: বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করা: ঋতুবতী মহিলার জন্য বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করা হারাম, তা ফরজ হোক বা নফল। এবং তাঁর পক্ষ থেকে তা শুদ্ধ (صحيح) হবে না; কারণ আয়েশা (রা.) যখন ঋতুবতী (حائض) হলেন তখন নবী (সা.) তাঁকে বলেছিলেন: "হজ পালনকারী যা যা করে তুমি তার সবই করো, তবে পবিত্র (طاهرة) না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করো না।"
আর অন্যান্য আমলসমূহ যেমন সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ করা, আরাফাতে অবস্থান করা, মুজদালিফা ও মিনায় রাত যাপন করা, জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করা এবং হজ ও ওমরার অন্যান্য মানাসিক বা আহকাম পালন করা তাঁর জন্য হারাম নয়। এই ভিত্তিতে, যদি কোনো নারী পবিত্র (طاهرة) অবস্থায় তাওয়াফ সম্পন্ন করেন এবং এরপর ঋতুস্রাব (حيض) শুরু হয়...
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بعد الطواف مباشرة، أو في أثناء السعي فلا حرج في ذلك.
[الرابع طواف الوداع]الرابع: سقوط طواف الوداع منها: فإذا أكملت الأنثى مناسك الحج والعمرة ثم حاضت قبل الخروج إلى بلدها واستمر بها الحيض إلى خروجها، فإنها تخرج بلا وداع، لحديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: (أمر الناس أن يكون آخر عهدهم بالبيت، إلا أنه خفف عن المرأة الحائض) . ولا يستحب عند الوداع أن تأتي إلى باب المسجد الحرام وتدعو، لأن ذلك لم يرد عن النبي صلى الله عليه وسلم والعبادات مبنية على الوارد بل الوارد عن النبي صلى الله عليه وسلم يقتضي خلاف ذلك، ففي «قصة صفية رضي الله عنها حين حاضت بعد طواف الإفاضة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لها: فلتَنفُر إذن» . متفق عليه. ولم يأمر بالحضور إلى باب المسجد ولو كان ذلك مشروعًا لبيّنه. وأم طواف الحج والعمرة فلا يسقط عنها بل تطوف إذا طهرت.
তাওয়াফ শেষ করার পরপরই অথবা সাঈ করার মাঝখানে হলে এতে কোনো অসুবিধা নেই।
[চতুর্থ: বিদায়ী তাওয়াফ]চতুর্থত: তার ওপর থেকে বিদায়ী তাওয়াফ রহিত হওয়া: কোনো নারী যদি হজ্জ ও উমরার আমলসমূহ সম্পন্ন করার পর নিজ দেশে রওয়ানা হওয়ার আগে ঋতুবতী হন এবং দেশ ত্যাগের সময় পর্যন্ত তার মাসিক চলতে থাকে, তবে তিনি বিদায়ী তাওয়াফ ছাড়াই প্রস্থান করবেন। এর কারণ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস, যেখানে তিনি বলেন: "লোকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বায়তুল্লাহর সাথে তাদের শেষ সময় যেন অতিবাহিত হয়, তবে ঋতুবতী নারীর ক্ষেত্রে বিষয়টি সহজ করা হয়েছে।" বিদায়ের সময় মসজিদে হারামের দরজায় এসে দোয়া করা মুস্তাহাব নয়, কারণ তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়নি। আর ইবাদতের ভিত্তি হলো বর্ণিত (الوارد) দলিলের ওপর; বরং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা এর বিপরীত বিষয়েরই দাবি রাখে। যেমন সাফিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘটনায় দেখা যায়, যখন তিনি তাওয়াফে ইফাজাহ সম্পন্ন করার পর ঋতুবতী হলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: "তাহলে সে যেন প্রস্থান করে।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)। তিনি তাকে মসজিদের দরজায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেননি; যদি তা শরিয়তসম্মত (مشروعًا) হতো তবে তিনি অবশ্যই তা স্পষ্ট করে দিতেন। আর হজ্জ ও উমরার মূল তাওয়াফ তার ওপর থেকে রহিত হবে না, বরং তিনি পবিত্র হওয়ার পর সেই তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
[الخامس المكث في المسجد]الخامس: المكث في المسجد: فيحرم على الحائض أن تمكث في المسجد حتى مصلى العيد يحرم عليها أن تمكث فيه، لحديث أم عطية رضي الله عنها: أنها سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «يَخرجُ العواتقُ وذواتُ الخدورِ والحيّض» . وفيه «يعتزل الحيض المصلى» . متفق عليه.
[السادس الجماع]السادس: الجماع: فيحرم على زوجها أن يجامعها، ويحرم عليها تمكينه من ذلك. لقوله تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ} [البقرة: 222] والمراد بالمحيض زمان الحيض ومكانه وهو الفرج. ولقول النبي صلى الله عليه وسلم: «اصنعوا كل شيء إلا النكاح» . يعني الجماع. رواه مسلم؛
[পঞ্চম: মসজিদে অবস্থান করা]পঞ্চম: মসজিদে অবস্থান করা: ঋতুবতী নারীর জন্য মসজিদে অবস্থান করা হারাম, এমনকি ঈদের সালাতের স্থান বা ঈদগাহেও তার অবস্থান করা নিষিদ্ধ। এর প্রমাণ হলো উম্মে আতিয়্যাহ (রাযিআল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "প্রাপ্তবয়স্ক তরুণী, পর্দানশীন নারী এবং ঋতুবতী মহিলারা (ঈদের উদ্দেশ্যে) বের হবে।" আর উক্ত হাদিসে এও রয়েছে: "ঋতুবতী মহিলারা নামাজের স্থান থেকে পৃথক থাকবে।" এটি বুখারি ও মুসলিম দ্বারা সর্বসম্মত (متفق عليه)।
[ষষ্ঠ: সহবাস]ষষ্ঠ: সহবাস: স্বামীর জন্য তার সাথে সহবাস করা হারাম এবং স্ত্রীর জন্যও তাকে সে সুযোগ দেওয়া হারাম। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা অশুচি। সুতরাং আপনারা ঋতুকালে স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকুন এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবেন না} [আল-বাকারা: ২২২]। এখানে 'মাহিয' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঋতুস্রাবের সময় এবং এর স্থান, যা হলো লজ্জাস্থান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: "সহবাস ব্যতীত তোমরা সবকিছুই করতে পারো।" অর্থাৎ সহবাস। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ولأن المسلمين أجمعوا على تحريم وطء الحائض في فرجها.
فلا يحل لامرئ يؤمن بالله واليوم الآخر أن يقدم على هذا الأمر المنكر الذي دل على المنع منه كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وإجماع المسلمين. فيكون ممن شاق الله ورسوله واتبع غير سبيل المؤمنين، قال في المجموع شرح المهذب ص: 374 ج2 قال الشافعي: " من فعل ذلك فقد أتى كبيرة ". قال أصحابنا وغيرهم: " من استحل وطء الحائض حُكِمَ بكفره ". اهـ كلام النووى.
وقد أبيحَ له ولله الحمد ما يكسرُ به شهوته دون الجماع، كالتقبيل والضم والمباشرة فيما دون الفرج، لكن الأولى ألا يباشر فيما بين السرة والركبة إلا من وراء حائل، لقول عائشة رضي الله عنها : «كان النبي صلى الله عليه وسلم يأمرني فأتزر فيباشرني وأنا حائض» . متفق عليه.
[السابع الطلاق]السابع: الطلاق: يحرمُ على الزوج طلاق الحائض حال حيضها، لقوله
যেহেতু মুসলিমগণ ঋতুবতী নারীর সাথে যৌনাঙ্গে সহবাস হারাম হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন।
সুতরাং আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তির জন্য এমন এক গর্হিত (منكر) কাজে লিপ্ত হওয়া বৈধ নয়, যার নিষিদ্ধতা আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة) এবং মুসলিমদের ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা প্রমাণিত। ফলে সে ঐ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে। আল-মাজমু শরহুল মুহাযযাব (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৭৪)-এ ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: "যে ব্যক্তি এরূপ করল, সে কবিরা (كبيرة) গুনাহ করল।" আমাদের (শাফেয়ী মাযহাবের) আলিমগণ এবং অন্যান্যগণ বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঋতুবতী নারীর সাথে সহবাসকে হালাল মনে করবে, তাকে কাফির (كافر) হিসেবে গণ্য করার হুকুম দেওয়া হবে।" ইমাম নববীর বক্তব্য এখানেই শেষ।
আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তার জন্য সহবাস বা জিমায় (جماع) লিপ্ত হওয়া ব্যতীত কামবাসনা নিবৃত্ত করার অন্যান্য উপায় বৈধ করা হয়েছে, যেমন: চুম্বন, আলিঙ্গন এবং যৌনাঙ্গ ব্যতীত অন্যান্য অঙ্গে স্পর্শ করা। তবে উত্তম হলো নাভি ও হাঁটুর মধ্যবর্তী স্থানে কোনো অন্তরাল ব্যতিরেকে স্পর্শ না করা। কেননা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে নির্দেশ দিতেন, ফলে আমি ইজার (পরিধেয় বস্ত্র) পরিধান করতাম এবং ঋতুবতী অবস্থায় তিনি আমাকে স্পর্শ করতেন।» এটি ঐক্যমতে বর্ণিত (متفق عليه)।
[সপ্তম: তালাক]সপ্তম: তালাক: স্বামীর জন্য স্ত্রীর ঋতুকালীন অবস্থায় তাকে তালাক দেওয়া নিষিদ্ধ (حرام), কারণ তাঁর বাণী:
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ} [الطلاق: 1] أي في حال يستقبلن به عدة معلومة حين الطلاق، ولا يكون ذلك إلا إذا طلقها حاملا أو طاهرا من غير جماع، لأنها إذا طلقت حال الحيض لم تستقبل العدة حيث إن الحيضة التي طلقت فيها لا تحسب من العدة، وإذا طلقت طاهرا بعد الجماع، لم تكن العدة التي تستقبلها معلومة حيث إنه لا يعلم هل حملت من هذا الجماع، فتعتد بالحمل، أو لم تحمل فتعتد بالحيض، فلما لم يحصل اليقين من نوع العدة حرم عليه الطلاق حتى يتبين الأمر.
فطلاق الحائض حال حيضها حرام للآية السابقة، ولما ثبت في الصحيحين وغيرهما من «حديث ابن عمر أنه طلق امرأته وهي حائض فأخبر عمر بذلك النبي صلى الله عليه وسلم فتغيظ فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال: " مره فليراجعها ثم يمسكها حتى تطهر، ثم تحيض، ثم تطهر، ثم إن شاء أمسك بعد، وإن شاء طلق قبل أن يمس فتلك العدة التي
মহান আল্লাহ বলেন: {হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদের তালাক দাও, তখন তাদের ইদ্দতের (عدة) প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দাও।} [আত-তালাক: ১] অর্থাৎ তালাক প্রদানের সময় এমন এক অবস্থায় হতে হবে যাতে তারা সুনির্দিষ্ট ইদ্দত (عدة) শুরু করতে পারে। আর তা কেবল তখনই সম্ভব যদি স্ত্রীকে গর্ভবতী অবস্থায় অথবা সহবাস (جماع) না করা পবিত্র অবস্থায় (طاهر) তালাক দেওয়া হয়। কারণ যদি তাকে ঋতুস্রাব (حيض) চলাকালীন তালাক দেওয়া হয়, তবে সে ইদ্দত (عدة) শুরু করতে পারবে না; যেহেতু যে ঋতুস্রাবে তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে তা ইদ্দতের (عدة) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হয় না। আর যদি সহবাসের (جماع) পর পবিত্র অবস্থায় (طاهر) তাকে তালাক দেওয়া হয়, তবে যে ইদ্দত (عدة) সে শুরু করবে তা সুনির্দিষ্ট হবে না; যেহেতু জানা সম্ভব নয় যে সে কি এই সহবাসের (جماع) ফলে গর্ভবতী হয়েছে—ফলে সে গর্ভকাল অনুযায়ী ইদ্দত (عدة) পালন করবে, নাকি গর্ভবতী হয়নি—ফলে সে ঋতুস্রাব (حيض) অনুযায়ী ইদ্দত (عدة) পালন করবে। যেহেতু ইদ্দতের (عدة) প্রকার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না, তাই বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য তালাক প্রদান করা হারাম (حرام)।
সুতরাং ঋতুবতী নারীকে তার ঋতুস্রাব (حيض) চলাকালীন তালাক দেওয়া পূর্বোক্ত আয়াতের ভিত্তিতে হারাম (حرام)। এছাড়াও যা সহিহাইন এবং অন্যান্য গ্রন্থে ইবনে উমরের হাদিস থেকে সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দিয়েছিলেন। এরপর উমর (রা.) এ সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অবহিত করলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এতে রাগান্বিত হন এবং বলেন: "তাকে নির্দেশ দাও যেন সে তাকে ফিরিয়ে নেয় (مراجعة), এরপর তাকে নিজের কাছে রাখে যতক্ষণ না সে পবিত্র (طهر) হয়, এরপর সে যেন পুনরায় ঋতুবতী (حيض) হয় এবং আবার পবিত্র (طهر) হয়। এরপর যদি সে চায় তবে তাকে নিজের কাছে রাখতে পারে, আর চাইলে সহবাস (جماع) করার পূর্বেই তাকে তালাক দিতে পারে। আর এটাই হলো সেই ইদ্দত (عدة) যা..."
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিদ দিমা ইত তাবীইয়্যাতি লিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أمر الله أن تطلق لها النساء» . فلو طلق الرجل امرأته وهي حائض فهو آثم وعليه أن يتوب إلى الله تعالى، وأن يرد المراة إلى عصمته ليطلقها طلاقًا شرعيًا موافقًا لأمر الله ورسوله، فيتركها بعد ردها حتى تطهر من الحيضة التي طلقها فيها، ثم تحيض مرة أخرى، ثم إذا طهرت فإن شاء أبقاها وإن شاء طلقها قبل أن يجامعها. ويستثني من تحريم الطلاق في الحيض ثلاث مسائل:
الأولى: إذا كان الطلاق قبل أن يخلو بها، أو يمسها فلا بأس أن يطلقها وهي حائض، لأنه لا عدة عليها حينئذ، فلا يكون طلاقها مخالفًا لقوله تعالى: {فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ} [الطلاق: 1]
الثانية: إذا كان الحيض في حال الحمل، وسبق بيان سبب ذلك.
الثالثة: إذا كان الطلاق على عوض، فإنه لا باس أن يطلقها وهي حائض.
আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যেন নারীদের তাদের নির্ধারিত ইদ্দতকালে তালাক দেওয়া হয়। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীকে ঋতুবতী (حائض) অবস্থায় তালাক দেয়, তবে সে গুনাহগার হবে এবং তার ওপর কর্তব্য হলো মহান আল্লাহর নিকট তওবা করা এবং স্ত্রীকে পুনরায় তার বিবাহবন্ধনে (عصمة) ফিরিয়ে আনা, যাতে তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে বিধিসম্মতভাবে তালাক দিতে পারেন। ফিরিয়ে আনার পর তিনি তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিবাহাধীন রাখবেন যতক্ষণ না সে সেই ঋতু (حيضة) থেকে পবিত্র হয় যাতে তাকে তালাক দেওয়া হয়েছিল; এরপর সে পুনরায় ঋতুবতী হবে এবং যখন সে পবিত্র হবে, তখন তিনি চাইলে তাকে নিজ স্ত্রীরূপে রেখে দেবেন অথবা চাইলে সহবাসের পূর্বেই তাকে তালাক দেবেন। ঋতুকালীন তালাক নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়া থেকে তিনটি বিষয়কে ব্যতিক্রম গণ্য করা হয়:
প্রথমত: যদি নিভৃতবাস (خلوة) অথবা সহবাসের পূর্বেই তালাক দেওয়া হয়, তবে ঋতুবতী (حائض) অবস্থায় তাকে তালাক দিলে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ এমতাবস্থায় তার ওপর কোনো ইদ্দত (عدة) পালন করা ওয়াজিব নয়, ফলে তার তালাক মহান আল্লাহর এই বাণীর পরিপন্থী হবে না: {তোমরা তাদেরকে তাদের ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দাও} [আত-তালাক: ১]
দ্বিতীয়ত: যদি গর্ভাবস্থায় ঋতুস্রাব হয়, এবং ইতিপূর্বে এর কারণ বর্ণনা করা হয়েছে।
তৃতীয়ত: যদি তালাকটি বিনিময়ের (عوض) ভিত্তিতে হয়, তবে ঋতুবতী (حائض) অবস্থায় তাকে তালাক দিতে কোনো অসুবিধা নেই।