(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: -)
التبرج وخطر مشاركة المرأة للرجل في ميدان عمله القسم: مسائل فقهية
الكتاب: التبرج وخطر مشاركة المرأة للرجل في ميدان عمله
المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن باز (ت 1420هـ)
الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1423هـ
عدد الصفحات: 40
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাবাররুজ (বেপর্দা হওয়া) এবং কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সাথে নারীর অংশীদারিত্বের ঝুঁকি বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: তাবাররুজ এবং কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সাথে নারীর অংশীদারিত্বের ঝুঁকি
লেখক: আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি)
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: -)
[مقدمة]التبرج
وخطر مشاركة المرأة للرجل في ميدان عمله تأليف
سماحة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله تعالى
[ভূমিকা]তাবাররুজ (বেপর্দা হওয়া)
এবং কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সাথে নারীর অংশগ্রহণের ঝুঁকি; রচনা:
মাননীয় শাইখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، وعلى آله وصحبه.
أما بعد، فلا يخفى على كل من له معرفة ما عمت به البلوى في كثير من البلدان من تبرج الكثير من النساء وسفورهن وعدم تحجبهن من الرجال، وإبداء الكثير من زينتهن التي حرم الله عليهن إبداءها. ولا شك أن ذلك من المنكرات العظيمة والمعاصي الظاهرة. ومن أعظم أسباب حلول العقوبات ونزول النقمات لما يترتب على التبرج والسفور من ظهور الفواحش وارتكاب الجرائم وقلة الحياء وعموم الفساد.
فاتقوا الله أيها المسلمون، وخذوا على أيدي سفهائكم، وامنعوا نساءكم مما حرم الله عليهن، وألزموهن التحجب والتستر، واحذروا غضب الله سبحانه، وعظيم عقوبته،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যার পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর।
অতপর, যাদের ন্যূনতম জ্ঞান আছে তাদের কারো কাছেই এটি গোপন নয় যে, বর্তমানে অনেক দেশে ব্যাপকভাবে যে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে তা হলো বহু নারীর সৌন্দর্য প্রদর্শন (تبرج) ও বেপর্দা (سفور) হওয়া, পুরুষদের সামনে পর্দা না করা এবং তাদের সেই সব সৌন্দর্য প্রকাশ করা যা প্রকাশ করা আল্লাহ তাদের জন্য হারাম করেছেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি অন্যতম গুরুতর অপছন্দনীয় বিষয় (منكرات) এবং প্রকাশ্য পাপাচার। এটি আল্লাহর আজাব ও গজব নেমে আসার অন্যতম প্রধান কারণ; যেহেতু সৌন্দর্য প্রদর্শন (تبرج) ও বেপর্দা (سفور) হওয়ার ফলে অশ্লীলতার বিস্তার ঘটে, অপরাধ সংঘটিত হয়, লজ্জাশীলতা হ্রাস পায় এবং ফিতনা-ফ্যাসাদ সর্বব্যাপী হয়ে পড়ে।
অতএব হে মুসলিমগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তোমাদের মধ্যকার নির্বোধদের হাত ধরো (অর্থাৎ তাদের সংশোধন করো), তোমাদের নারীদের সেই সব কাজ থেকে বিরত রাখো যা আল্লাহ তাদের ওপর হারাম করেছেন, তাদের পর্দা ও আবৃত থাকার বিধান পালনে বাধ্য করো এবং মহান আল্লাহর ক্রোধ ও তাঁর ভয়াবহ শাস্তি থেকে সতর্ক থাকো।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ৪)
فقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن الناس إذا رأوا المنكر فلم يغيروه، أوشك الله أن يعمهم بعقابه» (1) .
وقد قال الله سبحانه في كتابه الكريم: {لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ - كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ} [المائدة: 79] .
وفي المسند وغيره (2) عن ابن مسعود رضي الله عنه «أن النبي صلى الله عليه وسلم تلا هذه الآية ثم قال: والذي نفسي بيده لتأمرن بالمعروف، ولتنهون عن المنكر. ولتأخذن على يد السفيه ولتأطرنَّه على الحق أطرا، أو ليضربن الله
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «মানুষ যখন কোনো মন্দ কাজ (منكر) দেখেও তা পরিবর্তন করে না, তখন শীঘ্রই আল্লাহ তাদের সকলকে তাঁর শাস্তির অন্তর্ভুক্ত করবেন» (১) ।
আর মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেছেন: {বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল, তাদের দাউদ ও মারইয়াম-তনয় ঈসার মুখে অভিশপ্ত করা হয়েছে। এটি এ জন্য যে, তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং তারা সীমালঙ্ঘন করত। তারা যেসব মন্দ কাজ (منكر) করত তা থেকে একে অপরকে নিষেধ করত না। তারা যা করত তা কতই না মন্দ!} [আল-মায়িদা: ৭৮-৭৯] ।
এবং মুসনাদ ও অন্যান্য গ্রন্থে (২) ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন এবং বললেন: যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দিবে এবং মন্দ কাজে (منكر) বাধা দিবে। তোমরা অবশ্যই নির্বোধের হাত ধরবে এবং তাকে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে বাধ্য করবে, অন্যথায় আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ৫)
بقلوب بعضكم على بعض، ثم يلعنكم كما لعنهم» وصح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من رأى منكم منكرا فليغيره بيده، فإن لم يستطع فبلسانه، فإن لم يستطع فبقلبه، وذلك أضعف الإيمان» (1)
[التبرج]
[وجوب الحجاب والنهي عن التبرج]وقد أمر الله سبحانه في كتابه الكريم بتحجب النساء ولزومهن البيوت. وحذر من التبرج والخضوع بالقول للرجال صيانة لهن عن الفساد وتحذيرا من أسباب الفتنة. فقال تعالى: {يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلا مَعْرُوفًا - وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} [الأحزاب: 32 - 33] الآية [الأحزاب: 32 - 33]
--------------------------------------------
...তোমাদের একে অপরের অন্তর দ্বারা, এরপর তিনি তোমাদের অভিশাপ দেবেন যেমন তিনি তাদের অভিশাপ দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো গর্হিত কাজ (منكر) দেখে, তবে সে যেন তা নিজের হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে যেন তার জিহ্বা দিয়ে (প্রতিবাদ করে); আর যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে যেন তার অন্তর দিয়ে (তা ঘৃণা করে), আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর।" (১)
[বেপর্দা হওয়া]
[পর্দার আবশ্যকতা এবং বেপর্দা চলাফেরার নিষেধাজ্ঞা]আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে নারীদের পর্দার বিধান পালনের এবং তাদের নিজ নিজ গৃহে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তাদের ফাসাদ বা পাপাচার থেকে রক্ষা করতে এবং ফিতনার যাবতীয় কারণ হতে সতর্ক করতে বেপর্দা চলাফেরা এবং পরপুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে নবী-পত্নীগণ! তোমরা অন্য সাধারণ নারীদের মতো নও; যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে কথা বলার সময় কোমলতা অবলম্বন করো না, পাছে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়; এবং তোমরা সঙ্গত কথা বলো। আর তোমরা তোমাদের ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলি যুগের মতো বেপর্দা হয়ে চলাফেরা করো না। তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো।} [আল-আহজাব: ৩২ - ৩৩] আয়াত [আল-আহজাব: ৩২ - ৩৩]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ৬)
نهى سبحانه في هذه الآية نساء النبي الكريم أمهات المؤمنين، وهى من خير النساء وأطهرهن عن الخضوع بالقول للرجال، وهو تليين القول وترقيقه. لئلا يطمع فيهن من في قلبه مرض شهوة الزنا ويظن أنهن يوافقنه على ذلك وأمر بلزومهن البيوت ونهاهن عن تبرج الجاهلية، وهو إظهار الزينة والمحاسن كالرأس والوجه والعنق والصدر والذراع والساق ونحو ذلك من الزينة لما في ذلك من الفساد العظيم والفتنة الكبيرة وتحريك قلوب الرجال إلى تعاطي أسباب الزنا، وإذا كان الله سبحانه يحذر أمهات المؤمنين من هذه الأشياء المنكرة مع صلاحهن وإيمانهن وطهارتهن فغيرهن أولى. وأولى بالتحذير والإنكار والخوف عليهن من أسباب الفتنة. عصمنا الله وإياكم من مضلات الفتن، ويدل على عموم الحكم لهن ولغيرهن قوله سبحانه في هذه الآية: {وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} [الأحزاب: 33]
মহান আল্লাহ এই আয়াতে নবি করিম-এর স্ত্রীগণ তথা উম্মাহাতুল মুমিনিনকে—যারা নারীদের মধ্যে সর্বোত্তম ও অতিশয় পবিত্র—পুরুষদের সাথে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বরের নমনীয়তা অবলম্বন করতে নিষেধ করেছেন, যা হলো কথাকে কোমল ও আকর্ষণীয় করা। যাতে যাদের অন্তরে ব্যভিচারের লালসার ব্যাধি রয়েছে তারা প্রলুব্ধ না হয় এবং মনে না করে যে তাঁরা তাদের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন। তিনি তাঁদেরকে ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জাহেলি যুগের ন্যায় সৌন্দর্য প্রদর্শন করতে নিষেধ করেছেন; যা হলো সাজসজ্জা ও রূপ-লাবণ্য যেমন—মাথা, মুখমণ্ডল, ঘাড়, বুক, বাহু ও পা ইত্যাদি প্রকাশ করা। কারণ এর মধ্যে রয়েছে সুদূরপ্রসারী বিপর্যয় ও ভয়াবহ ফিতনা এবং তা পুরুষদের অন্তরকে ব্যভিচারের প্ররোচনার দিকে ধাবিত করে। মহান আল্লাহ যদি উম্মাহাতুল মুমিনিনকে তাঁদের নিষ্ঠা, ঈমান ও পবিত্রতা থাকা সত্ত্বেও এই সকল গর্হিত (منكر) বিষয় থেকে সতর্ক করেন, তবে অন্যদের ক্ষেত্রে এই সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা এবং ফিতনার কারণসমূহ থেকে ভীত থাকার বিষয়টি আরও অধিকতর প্রাসঙ্গিক। আল্লাহ আমাদের ও আপনাদেরকে পথভ্রষ্টকারী ফিতনা থেকে রক্ষা করুন। এই বিধান তাঁদের জন্য ও অন্যদের জন্য সর্বজনীন হওয়ার দলিল হলো এই আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো} [আল-আহজাব: ৩৩]
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ৭)
فإن هذه الأوامر أحكام عامة لنساء النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهن. وقال عز وجل: {وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ} [الأحزاب: 53] فهذه الآية الكريمة نص واضح في وجوب تحجب النساء عن الرجال وتسترهن منهم، وقد أوضح الله سبحانه في هذه الآية أن التحجب أطهر لقلوب الرجال والنساء وأبعد عن الفاحشة وأسبابها. وأشار سبحانه إلى أن السفور وعدم التحجب خبث ونجاسة، وأن التحجب طهارة وسلامة.
فيا معاشر المسلمين تأدبوا بتأديب الله، وامتثلوا أمر الله، وألزموا نساءكم بالتحجب الذي هو سبب الطهارة ووسيلة النجاة.
{يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا} [الأحزاب: 59]
নিশ্চয়ই এই নির্দেশসমূহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পত্নীগণ এবং অন্যান্য নারীদের জন্য সাধারণ বিধান (أحكام عامة)। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা যখন তাদের (নবীর পত্নীদের) নিকট কোনো আসবাবপত্র চাইবে, তখন পর্দার (حجاب) আড়াল থেকে চাইবে। এটি তোমাদের এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতা।} [আল-আহযাব: ৫৩]। সুতরাং এই মহিমান্বিত আয়াতটি পুরুষদের থেকে নারীদের পর্দা করা এবং তাদের নিকট থেকে নিজেদের আবৃত রাখার আবশ্যকতা (وجوب)-এর বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই আয়াতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পর্দা (حجاب) অবলম্বন করা পুরুষ ও নারীদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র এবং তা অশ্লীলতা ও তার কারণসমূহ থেকে দূরে থাকার মাধ্যম। তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বেপর্দা হওয়া এবং পর্দা বর্জন করা হলো পঙ্কিলতা ও অপবিত্রতা, আর পর্দা (حجاب) হলো পবিত্রতা ও নিরাপত্তা।
হে মুসলিম জনতা! তোমরা আল্লাহর শিষ্টাচারের মাধ্যমে শিষ্টাচারসম্পন্ন হও, আল্লাহর আদেশের আনুগত্য করো এবং তোমাদের নারীদের পর্দা (حجاب) পালনে বাধ্য করো, যা পবিত্রতার কারণ এবং মুক্তির মাধ্যম।
{হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে, কন্যাগণকে এবং মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের (جلابيب) একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} [আল-আহযাব: ৫৯]
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ৮)
والجلابيب جمع جلباب وهو ما تضعه المرأة على رأسها للتحجب والتستر به، أمر الله سبحانه جميع نساء المؤمنين بإدناء جلابيبهن على محاسنهن من الشعور والوجه وغير ذلك حتى يعرفن بالعفة فلا يفتتن ولا يفتن غيرهن فيؤذيهن. قال علي بن أبي طلحة عن ابن عباس: أمر الله نساء المؤمنين إذا خرجن من بيوتهن في حاجة أن يغطين وجوههن من فوق رؤوسهن بالجلابيب، ويبدين عيناً واحدة واحدة، وقال محمد ابن سيرين: سألت عَبِيدَةَ السلماني عن قول الله عز وجل: {يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} [الأحزاب: 59] فغطى وجهه ورأسه وأبرز عينه اليسرى. . ثم أخبر الله سبحانه أنه غفور رحيم عما سلف من التقصير في ذلك قبل الني والتحذير منه سبحانه.
وقال تعالى: {وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ اللَّاتِي لَا يَرْجُونَ نِكَاحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَنْ يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتٍ بِزِينَةٍ وَأَنْ يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَهُنَّ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [النور: 60]
'জালাবিব' হলো 'জিলবাব'-এর বহুবচন। আর এটি এমন এক চাদর যা নারী তার মস্তকে পর্দার উদ্দেশ্যে এবং নিজেকে আবৃত করার জন্য পরিধান করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সকল মুমিন নারীকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তাদের জিলবাবসমূহ তাদের সৌন্দর্যের স্থানগুলোর ওপর—যেমন চুল, মুখমণ্ডল এবং অন্যান্য অঙ্গের ওপর—ঝুলিয়ে দেয়, যাতে তারা সতী-সাধ্বী হিসেবে পরিচিত হতে পারে; ফলে তারা যেন নিজেরা কোনো ফিতনায় না পড়ে এবং অন্যের জন্যও ফিতনার কারণ না হয়, যার দরুন তারা উৎপীড়নের শিকার না হয়। আলী ইবনে আবি তালহা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহ মুমিন নারীদের নির্দেশ দিয়েছেন যখন তারা কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে, তখন যেন তারা মাথার ওপর থেকে জিলবাব টেনে তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে রাখে এবং কেবল একটি চোখ খোলা রাখে। মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বলেন: আমি আবিদাহ আস-সালমানিকে মহান আল্লাহর বাণী—{তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের ওপর ঝুলিয়ে দেয়} [আল-আহজাব: ৫৯] সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তার মাথা ও মুখমণ্ডল ঢেকে ফেলেন এবং কেবল তার বাম চোখটি উন্মুক্ত রাখেন। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জানিয়েছেন যে, ইতিপূর্বে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কবার্তা আসার আগে যে ত্রুটিবিচ্যুতি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর বৃদ্ধা নারী, যারা আর বিবাহের আশা রাখে না, তাদের জন্য কোনো অপরাধ নেই যদি তারা তাদের (অতিরিক্ত) পোশাক খুলে রাখে—তবে সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী হিসেবে নয়। আর যদি তারা তা থেকে বিরত থাকে, তবে তা তাদের জন্য উত্তম। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [আন-নূর: ৬০]
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ৯)
يخبر سبحانه أن القواعد من النساء. وهن العجائز اللاتي لا يرجون نكاحاً. لا جناح عليهن أن يضعن ثيابهن عن وجوهن وأيديهن إذا كن غير متبرجات بالزينة ليس لها أن تضع ثوبها عن وجهها ويديها وغير ذلك من زينتها. وأن عليها جناحاً في ذلك ولو كانت عجوزاً، لأن كل ساقطة لها لاقطة، ولأن التبرج يفضي إلى الفتنة بالمتبرجة ولو كانت عجوزاً. فكيف يكون الحال بالشابة والجميلة إذا تبرجت لا شك أن إثمها أعظم، والجناح عليها أشد والفتنة بها أكبر.
وشرط سبحانه في حق العجوز أن لا تكون ممن يرجو النكاح، وما ذلك - والله أعلم - إلا أن رجاءها النكاح يدعوها إلى التجمل والتبرج بالزينة طمعاً في الأزواج،
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, নারীদের মধ্যে যারা বার্ধক্যে উপনীত (القواعد)। আর তারা হলেন সেই সব বৃদ্ধা যারা বিবাহের আশা রাখেন না। তাদের ওপর কোনো গুনাহ (جناح) নেই যদি তারা তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী (متبرجات) না হয়ে তাদের মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় থেকে অতিরিক্ত চাদর বা পোশাক সরিয়ে রাখেন। তবে সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী অবস্থায় তার মুখমণ্ডল, হস্তদ্বয় এবং অন্যান্য অলঙ্কার থেকে কাপড় সরিয়ে ফেলার অধিকার তার নেই। এমতাবস্থায় তার ওপর গুনাহ (جناح) হবে যদিও সে বৃদ্ধা হয়; কারণ প্রত্যেক পতিত বস্তুরই একজন কুড়িয়ে নেওয়ার লোক থাকে, আর সৌন্দর্য প্রদর্শন (تبرج) প্রদর্শিকার মাধ্যমে ফিতনা (فتنة) বা প্রলোভনের দিকে ধাবিত করে, যদিও সে বৃদ্ধা হয়। এমতাবস্থায় যুবতী ও সুন্দরী নারী যদি সৌন্দর্য প্রদর্শন করে তবে অবস্থা কেমন হবে? কোনো সন্দেহ নেই যে তার পাপ (إثم) আরও গুরুতর, তার ওপর গুনাহ (جناح) আরও কঠোর এবং তার মাধ্যমে ফিতনা (فتنة) আরও ব্যাপক হবে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বৃদ্ধার ক্ষেত্রে শর্তারোপ করেছেন যে, তাকে এমন হতে হবে যে বিবাহের আশা রাখে না। আর তা - আল্লাহই ভালো জানেন - এই কারণে যে, বিবাহের আকাঙ্ক্ষা তাকে স্বামীদের পাওয়ার লোভে সুসজ্জিত হওয়া এবং সৌন্দর্য প্রদর্শনের (تبرج) দিকে প্ররোচিত করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ১০)
فنهيت عن وضع ثيابها عن محاسنها صيانة لها ولغيرها من الفتنة، ثم ختم الآية سبحانه بتحريض القواعد على الاستعفاف، وأوضح أنه خير لهن وإذا لم يتبرجن فظهر بذلك فضل التحجب والتستر بالثياب ولو من العجائز، وأنه خير لهن من وضع الثياب. فوجب أن يكون التحجب والاستعفاف عن إظهار للزينة خيراً للشباب من باب أولى، وأبعد لهن عن أسباب الفتنة.
وقال تعالى: {قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ - وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاءِ وَلا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [النور: 30 - 31]
অতএব নারীদের রূপ-লাবণ্য উন্মোচনকারী পোশাক খুলতে নিষেধ করা হয়েছে নিজেদের সুরক্ষার্থে এবং অন্যদের ফিতনা থেকে বাঁচানোর জন্য। এরপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বয়োবৃদ্ধ নারীদের সতীত্ব বজায় রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে আয়াতটি শেষ করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, এটিই তাদের জন্য উত্তম। আর যদি তারা সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, তবে এর মাধ্যমে হিজাব গ্রহণ এবং কাপড়ের মাধ্যমে দেহ আবৃত রাখার শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে ওঠে, এমনকি তা বৃদ্ধাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; যা তাদের জন্য পোশাক খোলার চেয়ে উত্তম। সুতরাং রূপ-লাবণ্য প্রকাশ না করে হিজাব অবলম্বন করা এবং সতীত্ব বজায় রাখা যুবতীদের জন্য আরও বেশি সংগত এবং তা তাদের জন্য ফিতনার কারণসমূহ থেকে দূরে থাকার অধিকতর কার্যকর মাধ্যম।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটিই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। তারা যা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া। আর তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশের ওপর দিয়ে টেনে দেয়। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগিনীপুত্র, নিজেদের নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাস-দাসী, কামনাবাসনামুক্ত পুরুষ এবং এমন সব শিশু যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে এখনো সজাগ নয়—তাদের ছাড়া আর কারও কাছে সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন এমনভাবে পদক্ষেপ না ফেলে যাতে তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।} [আন-নূর: ৩০ - ৩১]
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ১১)
أمر الله سبحانه في هاتين الآيتين الكريمتين المؤمنين والمؤمنات بغض الأبصار، وحفظ الفروج. وما ذلك إلا لعظم فاحشة الزنا وما يترتب عليها من الفساد الكبير بين المسلين، ولأن إطلاق البصر من وسائل مرض القلب ووقوع الفاحشة، وغض البصر من أسباب السلامة من ذلك ولهذا قال سبحانه: {قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ} [النور: 30] فغض البصر وحفظ الفرج أزكى للمؤمن في الدنيا والآخرة وإطلاق البصر والفرج من أعظم أسباب الغضب والعذاب في الدنيا والآخرة. نسأل الله العافية من ذلك.
وأخبر عز وجل أنه خبير بما يصنعه الناس، وأنه لا يخفى عليه خافية، وفي ذلك تحذير للمؤمن من ركوب ما حرم الله عليه، والإعراض عما شرع الله له، وتذكير
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই দুটি মহিমান্বিত আয়াতে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের দৃষ্টি অবনত রাখতে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর এটি মূলত ব্যভিচারের ভয়াবহতা এবং এর ফলে মুসলিমদের মাঝে যে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়, তার কারণেই নির্দেশিত হয়েছে। তাছাড়া দৃষ্টির অবাধ বিচরণ অন্তরের ব্যাধি ও অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়ার অন্যতম মাধ্যম, পক্ষান্তরে দৃষ্টি অবনত রাখা তা থেকে সুরক্ষার অন্যতম কারণ; আর এ কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: {মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে; এটিই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। তারা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহ অবশ্যই সম্যক অবগত} [আন-নূর: ৩০]। সুতরাং দৃষ্টি অবনত রাখা এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করা দুনিয়া ও আখেরাতে মুমিনের জন্য অধিকতর পবিত্র। পক্ষান্তরে দৃষ্টি ও লজ্জাস্থানের অবাধ ব্যবহার দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তির অন্যতম প্রধান কারণ। আমরা আল্লাহর নিকট এ থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।
আর মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, মানুষ যা কিছু করে সে সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত এবং তাঁর নিকট কোনো কিছুই গোপন থাকে না। এতে মুমিনদের জন্য আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে লিপ্ত হওয়া এবং তাঁর প্রবর্তিত শরীয়ত থেকে বিমুখ হওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা ও নসিহত বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ১২)
له بأن الله سبحانه يراه ويعلم أفعاله الطيبة وغيرها. كما قال تعالى: {يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ} [غافر: 19]
وقال تعالى: {وَمَا تَكُونُ فِي شَأْنٍ وَمَا تَتْلُو مِنْهُ مِنْ قُرْآنٍ وَلَا تَعْمَلُونَ مِنْ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُودًا إِذْ تُفِيضُونَ فِيهِ} [يونس: 61] فالواجب على العبد أن يحذر ربه، وأن يستحي منه أن يراه على معصيته أو يفقده من طاعته التي أوجب عليه.
ثم قال سبحانه: {وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ} [النور: 31] فأمر المؤمنات بغض البصر، وحفظ الفرج، كما أمر المؤمنين بذلك صيانة لهن من أسباب الفتنة، وتحريضاً لهن على أسباب العفة والسلامة، ثم قال سبحانه: {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} [النور: 31] قال ابن مسعود رضي الله عنه {مَا ظَهَرَ مِنْهَا} [النور: 31]
তাঁর জন্য (এটি অনুধাবন করা উচিত) যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে দেখছেন এবং তাঁর ভালো-মন্দ সকল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত আছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তিনি চোখের খিয়ানত এবং অন্তর যা গোপন করে সে সম্পর্কে অবগত।} [গাফির: ১৯]
এবং মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেছেন: {আর আপনি যে কোনো অবস্থাতেই থাকুন না কেন এবং আপনি কুরআন থেকে যা-ই তিলাওয়াত করেন না কেন আর তোমরা যে কোনো কাজই কর না কেন, যখন তোমরা তাতে লিপ্ত থাক তখন আমরা তোমাদের প্রত্যক্ষদর্শী থাকি।} [ইউনুস: ৬১] অতএব, বান্দার জন্য আবশ্যিক হলো তার প্রতিপালক সম্পর্কে সতর্ক হওয়া এবং তাঁর সমীপে এই বিষয়ে লজ্জাবোধ করা যে, তিনি তাকে তাঁর কোনো নাফরমানিতে লিপ্ত দেখবেন অথবা তাঁর ওপর অর্পিত কোনো আনুগত্যের কাজে তাকে অনুপস্থিত পাবেন।
অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে।} [আন-নূর: ৩১] সুতরাং তিনি মুমিন নারীদেরকে দৃষ্টি অবনত রাখার এবং লজ্জাস্থান হিফাজত করার নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি তিনি মুমিন পুরুষদেরকেও নির্দেশ দিয়েছিলেন; যেন তাদের ফিতনার কারণসমূহ থেকে রক্ষা করা যায় এবং তাদেরকে চারিত্রিক পবিত্রতা ও নিরাপত্তার পথে উৎসাহিত করা যায়। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত।} [আন-নূর: ৩১] ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু {যা সাধারণত প্রকাশ পায়} [আন-নূর: ৩১] (আয়াতটি সম্পর্কে তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেছেন)।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يعني بذلك ما ظهر من اللباس، فإن ذلك معفو عنه، ومراده بذلك رضي الله عنه الملابس التي ليس فيها تبرج وفتنة.
وأما ما يروى عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه فسَّرَ {مَا ظَهَرَ مِنْهَا} [النور: 31] بالوجه والكفين فهو محمول على حالة النساء قبل نزول آية الحجاب، وأما بعد ذلك فقد أوجب الله عليهن ستر الجميع، كما سبق في الآيات الكريمات من سورة الأحزاب وغيرها ويدل على أن ابن عباس أراد ذلك، ما رواه علي بن أبي طلحة عنه أنه قال: أمر الله نساء المؤمنين إذا خرجن من بيوتهن في حاجة أن يغطين وجوههن من فوق رؤوسهن بالجلاليب ويبدين عيناً واحدة. وقد نبه على ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية وغيره من أهل العلم والتحقيق وهو الحق الذي لا ريب فيه.
ومعلوم ما يترتب على ظهور الوجه والكفين من
এর দ্বারা তিনি পোশাকের বহিরাংশকে বুঝিয়েছেন, যা ক্ষমাযোগ্য (معفو عنه); আর এর মাধ্যমে তাঁর (রা.) উদ্দেশ্য হলো সেই সকল পোশাক যাতে কোনো সৌন্দর্য প্রদর্শন (تبرج) ও ফিতনা (فتنة) নেই।
আর ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে যা বর্ণিত (يروى) হয়েছে যে, তিনি {যা প্রকাশ পায়} [আন-নূর: ৩১] এর ব্যাখ্যায় মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজিকে বুঝিয়েছেন—তা হিজাবের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের অবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু এরপর আল্লাহ তাদের জন্য সমস্ত শরীর আবৃত করা ওয়াজিব (أوجب) করেছেন, যেমনটি সূরা আল-আহযাব ও অন্যান্য সূরার সম্মানিত আয়াতসমূহে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর ইবনে আব্বাস (রা.) যে এটিই উদ্দেশ্য করেছেন, তার প্রমাণ হলো যা আলি বিন আবি তালহা তাঁর থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ মুমিন নারীদের আদেশ দিয়েছেন যখন তারা কোনো প্রয়োজনে তাদের ঘর থেকে বের হবে, তখন যেন তারা চাদর (جلباب) দ্বারা তাদের মাথার উপর থেকে মুখমণ্ডল ঢেকে রাখে এবং কেবল একটি চোখ খোলা রাখে।" শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ (أهل التحقيق) আলেমগণ এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং এটিই হলো সেই সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই।
আর মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি প্রকাশ করার ফলে যা সৃষ্টি হয় তা সর্বজনবিদিত...
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
االفساد والفتنة. وقد تقدم قوله تعالى: {وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ} [الأحزاب: 53]
ولم يستثن شيئاً، وهي آية محكمة فوجب الأخذ بها والتعويل عليها، وحمل ما سواها عليها، والحكم فيها عام في نساء النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهن من نساء المؤمنين، وتقدم من سورة النور ما يرشد إلى ذلك، وهو ما ذكره الله سبحانه في حق القواعد وتحرم وضعهن الثياب إلا بشرطين، أحدهما: كونهن لا يرجون النكاح، والثاني عدم التبرج بالزينة، وسبق الكلام على ذلك. وأن الآية المذكورة حجة ظاهرة، وبرهان قاطع على تحريم سفور النساء وتبرجهن بالزينة.
ويدل على ذلك أيضاً ما ثبت عن عائشة رضي الله عنها في قصة الإفك أنها خمرت وجهها لما سمعت صوت صفوان بن المعطل السلمي وقال: إنه كان يعرفها قبل الحجاب: فدل ذلك على أن النساء بعد نزول آية
বিশৃঙ্খলা ও ফিতনা। ইতিপূর্বে মহান আল্লাহর বাণী অতিক্রান্ত হয়েছে: {আর যখন তোমরা তাঁদের নিকট কোনো সামগ্রী চাইবে, তখন পর্দার অন্তরাল থেকে চাইবে} [আল-আহজাব: ৫৩]
এবং এতে কোনো কিছুকেই ব্যতিক্রম করা হয়নি। এটি একটি সুস্পষ্ট ও সুসংহত (محكمة) আয়াত, তাই একে গ্রহণ করা ও এর ওপর নির্ভর করা আবশ্যক এবং অন্য সব দলিলকে এর আলোকেই ব্যাখ্যা করতে হবে। এই বিধান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণ এবং অন্যান্য মুমিন নারীদের ক্ষেত্রেও সাধারণ বা ব্যাপক। সূরা আন-নূরে এ বিষয়ে যা দিকনির্দেশনা প্রদান করে তা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অতিবৃদ্ধ নারীদের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন। তাদের জন্য পরিধেয় বস্ত্র (চাদর) খুলে রাখা হারাম, তবে দুটি শর্ত সাপেক্ষে: এক. তারা বিবাহের আশা রাখে না এবং দুই. তারা সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী হবে না; এ প্রসঙ্গে ইতিপূর্বে আলোচনা হয়েছে। আর উল্লিখিত আয়াতটি একটি সুস্পষ্ট দলিল (حجة) এবং অকাট্য প্রমাণ যে, নারীদের পর্দারহিত থাকা এবং সৌন্দর্য প্রদর্শন করা হারাম।
এর ওপর আরও প্রমাণ বহন করে যা ইফক বা অপবাদের ঘটনায় আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে, যখন তিনি সাফওয়ান ইবনুল মুয়াত্তাল আস-সুলামীর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন তখন তিনি তাঁর মুখমণ্ডল আবৃত করে নিয়েছিলেন। তিনি (সাফওয়ান) বলেছিলেন যে, তিনি হিজাবের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে তাঁকে চিনতেন। এটি প্রমাণ করে যে, পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর নারীরা...
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الحجاب لا يعرفن بسبب تخميرهن وجوههن، ولا يخفى ما وقع فيه النساء اليوم من التوسع في التبرج وإبداء المحاسن، فوجب سد الذرائع وحسم الوسائل المفضية إلى الفساد وظهور الفواحش.
ومن أعظم أسباب الفساد خلوة الرجال بالنساء، وسفرهم بهن من دون محرم. وقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لا تسافر امرأة إلا مع ذي محرم، ولا يخلون رجل بامرأة إلا ومعها ذو محرم» (1) .
وقال صلى الله عليه وسلم: «لا يخلون رجل بامرأة إلا أن يكون الشيطان ثالثهما» (2) وقال صلى الله عليه وسلم: «لا يبيتن رجل عند امرأة إلا أن يكون زوجاً أو ذا محرم» (3) .
فاتقوا الله أيها المسلمون، وخذوا على أيدي نسائكم،
--------------------------------------------
পর্দা পালনের কারণে (তাদের মুখমণ্ডল আবৃত রাখার ফলে) তাদের চেনা যেত না। বর্তমানে নারীরা সৌন্দর্য প্রদর্শন (تبرج) ও রূপ-লাবণ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে যে শিথিলতার আশ্রয় নিচ্ছে তা কারো অজানা নয়। তাই অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করা (سد الذرائع) এবং ফাসাদ ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমগুলোকে কঠোরভাবে দমন করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফিতনার অন্যতম প্রধান কারণ হলো নারীদের সাথে পুরুষদের নির্জনবাস (خلوة) এবং মাহরাম ব্যতিরেকে তাদের নিয়ে সফর করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধভাবে (صح) বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «কোনো নারী যেন মাহরাম ব্যতীত সফর না করে এবং কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনবাস (خلوة) না করে যদি না সেখানে তার কোনো মাহরাম উপস্থিত থাকে» (১)।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: «কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনবাস (خلوة) না করে, অন্যথায় শয়তান হয় তাদের তৃতীয় জন» (২)। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: «কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর নিকট রাত যাপন না করে, যদি না সে তার স্বামী অথবা মাহরাম হয়» (৩)।
অতএব হে মুসলিমগণ, আপনারা আল্লাহকে ভয় করুন এবং আপনাদের নারীদের (তত্ত্বাবধানের) দায়িত্ব গ্রহণ করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وامنعوهن مما حرم الله عليهن من السفور والتبرج وإظهار المحاسن والتشبه بأعداء الله من النصارى ومن تشبه بهم، واعلموا أن السكوت عنهن مشاركة لهن في الإثم وتعرض لغضب الله وعموم عقابه، عافانا الله وإياكم من شر ذلك.
ومن أعظم الواجبات تحذير الرجال من الخلوة بالنساء والدخول عليهن والسفر بهن بدون محرم لأن ذلك من وسائل الفتنة والفساد، وقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «ما تركت بعدي فتنة أضر على الرجال من النساء» (1) .
وقال صلى الله عليه وسلم: «إن الدنيا حلوة خضرة. وإن الله مستخلفكم فيها فناظر كيف تعملون. فاتقوا الدنيا، واتقوا النساء، فإن أول فتنة بني إسرائيل كانت في النساء» (2) .
وقال عليه الصلاة والسلام: «رب كاسية في الدنيا
--------------------------------------------
আর আপনারা তাদের (নারীদের) সেসব বিষয় থেকে বিরত রাখুন যা আল্লাহ তাদের জন্য হারাম করেছেন; যেমন: পর্দা হীনতা, বেপর্দা চলাফেরা করা, রূপ-সৌন্দর্য প্রদর্শন করা এবং আল্লাহর শত্রু নাসারা ও তাদের সদৃশ অবলম্বনকারীদের অনুকরণ করা। জেনে রাখুন যে, এসব বিষয়ে নীরব থাকা মানে তাদের পাপে অংশীদার হওয়া এবং আল্লাহর ক্রোধ ও ব্যাপক শাস্তির সম্মুখীন হওয়া। আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের এই অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।
আর অন্যতম প্রধান আবশ্যিক কর্তব্য হলো পুরুষদেরকে নারীদের সাথে নির্জনে অবস্থান করা, তাদের নিকট প্রবেশ করা এবং মাহরাম ব্যতীত তাদের নিয়ে সফর করা থেকে সতর্ক করা; কারণ এগুলো ফিতনা ও ফাসাদ সৃষ্টির মাধ্যম। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি সহিহ (صحيح) ভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «আমি আমার পর পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোনো ফিতনা রেখে যাইনি» (১)।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: «নিশ্চয়ই দুনিয়া মিষ্ট ও সবুজ-শ্যামল। আর আল্লাহ সেখানে তোমাদের প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন যাতে তিনি দেখেন তোমরা কেমন আমল করো। অতএব, তোমরা দুনিয়া থেকে বেঁচে থাকো এবং নারীদের (ফিতনা) থেকে বেঁচে থাকো। কারণ বনী ইসরাঈলের প্রথম ফিতনা ছিল নারী সংক্রান্ত» (২)।
তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আরও বলেছেন: «দুনিয়াতে কতই না পোশাক পরিহিতা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
عارية في الآخرة» وقال صلى الله عليه وسلم: «صنفان من أهل النار لم أرهما بعد: نساء كاسيات عاريات، مائلات مميلات، رؤوسهن كأسنمة البخت المائلة (بضم الباء: نوع من الإبل) لا يدخلن الجنة، ولا يجدن ريحها. ورجال بأيدهم سياط كأذناب البقر يضربون بها الناس» (1) وهذا تحذير شديد من التبرج والسفور. ولبس الرقيق والقصير من الثياب، والميل عن الحق والعفة، وإمالة الناس إلى الباطل، وتحذير شديد من ظلم الناس والتعدي عليهم، ووعيد لمن فعل ذلك بحرمان دخول الجنة. نسأل الله العافية من ذلك.
ومن أعظم الفساد: تشبه الكثير من النساء بنساء الكفار من النصارى وأشباههم في لبس القصير من الثياب، وإبداء الشعور والمحاسن، ومشط الشعور على طريقة أهل الكفر والفسق، ووصل الشعر، ولبس
--------------------------------------------
পরকালে উলঙ্গ থাকবে।" এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জাহান্নামীদের দুটি শ্রেণী রয়েছে যাদের আমি এখনও দেখিনি: এমন সব নারী যারা পোশাক পরিহিত হওয়া সত্ত্বেও উলঙ্গ, যারা (সত্য থেকে) বিচ্যুত এবং (অন্যকে) বিচ্যুতকারী, যাদের মস্তক হবে হেলে পড়া 'বুখত' (ব-এর পেশ সহযোগে: এক প্রকারের উট) উটের কুঁজের ন্যায়; তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং এর ঘ্রাণও পাবে না। আর এমন সব পুরুষ যাদের হাতে গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকবে যা দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করবে।" (১) এটি বেপর্দা হওয়া এবং রূপ-সৌন্দর্য প্রদর্শন করার বিরুদ্ধে এক কঠোর হুঁশিয়ারি। আর এটি পাতলা ও খাটো পোশাক পরিধান করা, সত্য ও পবিত্রতা থেকে বিচ্যুত হওয়া এবং মানুষকে বাতিলের দিকে ধাবিত করার বিরুদ্ধেও কঠোর সতর্কতা। এছাড়া এটি মানুষের ওপর জুলুম ও সীমালঙ্ঘন করার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি এবং এ ধরনের কাজের হোতাদের জন্য জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার হুমকি। আমরা আল্লাহর নিকট এ থেকে পরিত্রাণ প্রার্থনা করি।
সবচেয়ে বড় ফাসাদ বা অনিষ্টের অন্তর্ভুক্ত হলো: অনেক নারীর খ্রিষ্টান ও তাদের ন্যায় কাফের নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা—খাটো পোশাক পরিধান করা, চুল ও রূপ-সৌন্দর্য প্রকাশ করা, কুফরি ও পাপাচারী লোকদের তরিকায় চুল বিন্যাস করা, চুলে আলগা চুল লাগানো এবং পরিধান করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الرؤوس (1) الصناعية المسماة (الباروكة) . وقال صلى الله عليه وسلم: «من تشبه بقوم فهو منهم» ومعلوم ما يترتب على هذا التشبه، وهذه الملابس القصيرة التي تجعل المرأة شبه عارية من الفساد والفتنة ورقة الدين وقلة الحياء. فالواجب الحذر من ذلك غاية الحذر، ومنع النساء منه والشدة في ذلك، لأن عاقبته وخيمة، وفساده عظيم، ولا يجوز التساهل في ذلك مع البنات الصغار. لأن تربيتهن عليه يفضي إلى اعتيادهن له وكراهيتهن لما سواه إذا كبرن، فيقع بذلك الفساد والمحذور والفتنة المخوفة التي وقع فيها الكبيرات من النساء.
فاتقوا الله عباد الله، واحذروا ما حرم الله عليكم، وتعاونوا على البر والتقوى، وتواصوا بالحق والصبر عليه، واعلموا أن الله سبحانه سائلكم عن ذلك، ومجازيكم عن أعمالكم، وهو سبحانه مع الصابرين،
--------------------------------------------
কৃত্রিম মস্তক (১) যা (পরচুলা) নামে পরিচিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” এই সাদৃশ্য অবলম্বনের ফলে যা উদ্ভূত হয় তা সবার জানা; আর এই সংক্ষিপ্ত পোশাক যা নারীকে প্রায় উলঙ্গ করে রাখে, তা ফাসাদ, ফিতনা, দ্বীনের দুর্বলতা ও লজ্জাহীনতার কারণ। সুতরাং এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা, নারীদের এ থেকে বিরত রাখা এবং এ ব্যাপারে কঠোর হওয়া আবশ্যক। কেননা এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এর অনিষ্টতা ব্যাপক। ছোট মেয়েদের ক্ষেত্রেও এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করা বৈধ নয়। কারণ, এর ওপর তাদের গড়ে তোলা হলে তারা এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে এবং বড় হওয়ার পর এর বিপরীত সবকিছুর প্রতি তাদের মনে ঘৃণা জন্মিবে। ফলে এর মাধ্যমে এমন ফাসাদ, নিষিদ্ধ বিষয় ও ভয়াবহ ফিতনা সংঘটিত হবে যাতে বয়স্কা নারীরা নিপতিত হয়েছে।
অতএব হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তা থেকে সতর্ক থাকো। তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো এবং পরস্পরকে হকের ও ধৈর্যের অসিয়ত করো। জেনে রেখো যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তোমাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন এবং তোমাদের আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন। আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ومع المتقين والمحسنين، فاصبروا وصابروا واتقوا الله، وأحسنوا، إن الله يحب المحسنين.
ولا ريب أن الواجب على ولاة الأمور من الأمراء والقضاة والعلماء ورؤساء وأعضاء الهيئات أكبر من الواجب على غيرهم، والخطر عليهم أشد، والفتنة في سكوت من سكت منهم عظيمة، ليس إنكار المنكر خاصاً بهم، بل الواجب على جميع المسلمين - ولا سيما أعيانهم وكبارهم وبالأخص أولياء النساء وأزواجهن - إنكار هذا المنكر، والغلظة فيه، والشدة على من تساهل في ذلك، لعل الله سبحانه يرفع عنا ما نزل من البلاء ويهدينا ونساءنا إلى سواء السبيل.
وصح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «ما بعث الله من نبي إلا كان له من أمته حواريون وأصحاب يأخذون سنته ويهتدون بأمره، ثم إنهم تخلف من بعدهم خلوف يقولون ما لا يفعلون، ويفعلون ما لا يؤمرون، فمن جاهدهم بيده فهو مؤمن،
এবং আল্লাহ মুত্তাকি ও সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন। সুতরাং আপনারা ধৈর্য ধরুন, ধৈর্যের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করুন, আল্লাহকে ভয় করুন এবং সৎকর্ম করুন; নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।
নিঃসন্দেহে শাসক, বিচারক, আলেম এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও সদস্যদের ন্যায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি এবং তাদের ওপর ঝুঁকিও অধিকতর। তাদের মধ্য থেকে যারা নীরবতা অবলম্বন করবে, তাদের সেই নীরবতার কারণে সৃষ্ট ফিতনা অত্যন্ত ভয়াবহ। অন্যায় প্রতিরোধ করা (إنكار المنكر) কেবল তাদের ওপরই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সকল মুসলিমের ওপর তা আবশ্যক—বিশেষ করে সমাজের বিশিষ্ট ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং বিশেষভাবে নারীদের অভিভাবক ও স্বামীদের ওপর। তাদের কর্তব্য হলো এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, এ বিষয়ে কঠোর হওয়া এবং যারা এক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করে তাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করা। সম্ভবত এর ফলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের ওপর আপতিত বিপদ-আপদ দূর করবেন এবং আমাদের ও আমাদের নারীদের সঠিক পথের দিশা দেবেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি যার উম্মতের মধ্যে তাঁর কিছু একনিষ্ঠ সহচর (حواريون) ও সঙ্গী (أصحاب) ছিল না, যারা তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করত এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী চলত। অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের উদ্ভব ঘটে যারা এমন কথা বলে যা তারা নিজেরা করে না এবং এমন কাজ করে যার নির্দেশ তাদের দেওয়া হয়নি। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের হাত দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন (مؤمن)..."
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ২০)
ومن جاهدهم بلسانه فهو مؤمن، ومن جاهدهم بقلبه فهو مؤمن، وليس وراء ذلك من الإيمان حبة خردل» وأسأل الله أن ينصر دينه، ويعلي كلمته، وأن يصلح ولاة أمرنا ويقمع بهم الفساد، وينصر بهم الحق، ويصلح لهم البطانة، وأن يوفقنا وإياكم وإياهم وسائر المسلمين لما فيه صلاح العباد والبلاد، في المعاش والمعاد، إنه على كل شيء قدير، وبالإجابة جدير، وحسبنا الله ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله محمد وآله وصحبه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
*انتهى (التبرج) *
“এবং যে ব্যক্তি তার জিহ্বা দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন, আর যে ব্যক্তি তার অন্তর দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন; এর পশ্চাতে সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট নেই।” আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করেন, তাঁর বাণীকে সমুন্নত করেন, আমাদের শাসকবর্গকে সংশোধন করেন এবং তাদের মাধ্যমে বিপর্যয় দমন ও সত্যকে বিজয়ী করেন। তিনি যেন তাদের পারিষদবর্গকে সংশোধন করে দেন এবং আমাদের, আপনাদের ও সকল মুসলিমকে ইহকাল ও পরকালে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং প্রার্থনা কবুল করার উপযুক্ত। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
*আত-তাবাররুজ সমাপ্ত*
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ২১)
[خطر مشاركة المرأة للرجل في ميدان عمله]
[العواقب الوخيمة لخروج المرأة للعمل]خطر مشاركة المرأة للرجل في ميدان عمله الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسوله الأمين وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فإن الدعوة إلى نزول المرأة للعمل في ميدان الرجال المؤدي إلى الاختلاط سواء كان ذلك على جهة التصريح أو التلويح بحجة أن ذلك من مقتضيات العصر ومتطلبات الحضارة أمر خطير جدا له تبعاته الخطيرة وثمراته المرة وعواقبه الوخيمة. رغم مصادمته للنصوص الشرعية التي تأمر المرأة بالقرار في بيتها والقيام بالأعمال التي تخصها في بيتها ونحوه.
ومن أراد أن يعرف عن كثب ما جناه الاختلاط من المفاسد التي لا تحصى فلينظر إلى تلك المجتمعات التي وقعت في هذا البلاء العظيم اختياراً أو اضطراراً بإنصاف من نفسه وتجرد للحق عما عداه يجد التذمر على المستوى الفردي والجماعي والتحسر على انفلات
[পুরুষের কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের ঝুঁকি]
[নারীর কর্মক্ষেত্রে বের হওয়ার ভয়াবহ পরিণাম]পুরুষের কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের ঝুঁকি। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত রাসুল এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
নারীদের পুরুষদের কর্মক্ষেত্রে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান—যা অবাধ মেলামেশার দিকে ধাবিত করে—চাই তা স্পষ্টভাবে হোক কিংবা ইঙ্গিতে এবং আধুনিক যুগের চাহিদা ও সভ্যতার প্রয়োজনীয়তার দোহাই দিয়ে হোক না কেন, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি বিষয়; যার পরিণাম অত্যন্ত মারাত্মক এবং ফলাফল খুবই তিক্ত ও ভয়াবহ। অথচ এটি সেই সকল শারয়ী দলিলের পরিপন্থী যা নারীকে নিজ ঘরে অবস্থানের এবং তার ঘর সংশ্লিষ্ট কার্যাদি আঞ্জাম দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
আর যে ব্যক্তি অবাধ মেলামেশার ফলে সৃষ্ট অগণিত বিপর্যয় সম্পর্কে নিবিড়ভাবে জানতে চায়, সে যেন সেই সকল সমাজের প্রতি নিজের পক্ষ থেকে ইনসাফের সাথে এবং সত্যের প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে লক্ষ্য করে, যারা স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে এই মহা বিপদে নিপতিত হয়েছে। সে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক পর্যায়ে কেবল অসন্তোষ এবং শৃঙ্খলার বিচ্যুতির ওপর আক্ষেপ খুঁজে পাবে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ২২)
المرأة من بيتها وتفكك الأسر. ونجد ذلك واضحاً على لسان كثير من الكتَّاب بل في جميع وسائل الإعلام وما ذلك إلا لأن هذا هدم للمجتمع وتقويض لبنائه.
والأدلة الصحيحة الصريحة الدالة على تحريم الخلوة بالأجنبية وتحريم النظر إليها وتحريم الوسائل الموصلة إلى الوقوع فيما حرم الله أدلة كثيرة قاضية بتحريم الاختلاط لأنه يؤدي إلى ما لا تحمد عقباه.
وإخراج المرأة من بيتها الذي هو مملكتها ومنطلقها الحيوي في هذه الحياة إخراج لها عما تقتضيه فطرتها وطبيعتها التي جبلها الله عليها.
فالدعوة إلى نزول المرأة في الميادين التي تخص الرجال أمر خطير على المجتمع الإسلامي ومن أعظم آثاره الاختلاط الذي يعتبر من أعظم وسائل الزنى الذي يفتك بالمجتمع ويهدم قيمه وأخلاقه.
ومعلوم أن الله تبارك وتعالى جعل للمرأة تركيباً خاصاً
নারীকে তার গৃহ থেকে বের করে আনা এবং পারিবারিক কাঠামোর ভাঙন। আমরা অনেক লেখকের বক্তব্যে, এমনকি সমস্ত গণমাধ্যমে এটি স্পষ্টভাবে দেখতে পাই। আর এটি কেবল এজন্য যে, এটি সমাজকে ধ্বংস করা এবং এর ভিত্তিকে সমূলে বিনাশ করার নামান্তর।
অপরিচিতা নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান হারাম হওয়া, তার প্রতি দৃষ্টিপাত হারাম হওয়া এবং আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাতে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমসমূহ হারাম হওয়া সংক্রান্ত অনেক সহিহ (صحيحة) ও সুস্পষ্ট দলিল বিদ্যমান, যা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণ; কারণ এটি এমন অশুভ পরিণতির দিকে ধাবিত করে যার পরিণাম শুভ হয় না।
নারীকে তার ঘর থেকে বের করে আনা—যা তার রাজত্ব এবং এই পার্থিব জীবনে তার কর্মতৎপরতার মূল কেন্দ্র—তা তাকে তার সেই স্বভাবজাত প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী পথে ঠেলে দেওয়া যার ওপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন।
সুতরাং পুরুষদের জন্য নির্ধারিত কর্মক্ষেত্রগুলোতে নারীদের অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানানো ইসলামি সমাজের জন্য এক অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়। এর অন্যতম মারাত্মক প্রভাব হলো নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, যা ব্যভিচারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে গণ্য হয়; এটি সমাজকে কলুষিত করে এবং এর মূল্যবোধ ও নৈতিকতাকে ধ্বংস করে দেয়।
আর এটি সর্বজনবিদিত যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা নারীর জন্য এক বিশেষ শারীরিক ও মানসিক গঠন দান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يختلف تماماً عن تركيب الرجل هيأها به للقيام بالأعمال التي في داخل بيتها والأعمال التي بين بنات جنسها.
ومعنى هذا: أن اقتحام المرأة لميدان الرجال الخاص بهم يعتبر إخراجاً لها عن تركيبتها وطبيعتها. وفي هذا جناية كبيرة على المرأة وقضاء على معنويتها وتحطيم لشخصيتها ويتعدى ذلك إلى أولاد الجيل من ذكور وإناث لأنهم يفقدون التربية والحنان والعطف. فالذي يقوم بهذا الدور وهو الأم قد فصلت منه وعزلت تماماً عن مملكتها التي لا يمكن أن تجد الراحة والاستقرار والطمأنينة إلا فيها وواقع المجتمعات التي تورطت في هذا أصدق شاهد على ما نقول.
والإسلام جعل لكل من الزوجين واجبات خاصة على كل واحد منهما أن يقوم بدوره ليكتمل بذلك بناء المجتمع في داخل البيت وفي خارجه.
فالرجل يقوم بالنفقة والاكتساب والمرأة تقوم بتربية
নারীর গঠন পুরুষের গঠন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন; যা তাকে তার ঘরের অভ্যন্তরীণ কার্যাবলী এবং নিজ লিঙ্গের নারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজগুলো সম্পাদনের উপযোগী করে তৈরি করেছে।
এর অর্থ হলো: পুরুষদের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রে নারীর অনুপ্রবেশ তাকে তার স্বভাবজাত গঠন ও প্রকৃতি থেকে বিচ্যুত করার শামিল। আর এটি নারীর প্রতি এক বিশাল অপরাধ, তার আত্মিক সত্তার বিনাশ এবং তার ব্যক্তিত্বের অবমাননা। এর নেতিবাচক প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের ওপরও পড়ে, কারণ তারা সঠিক লালন-পালন, স্নেহ ও মমতা থেকে বঞ্চিত হয়। কেননা, এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাটি যিনি পালন করেন—অর্থাৎ মা—তাকে তার আপন রাজ্য থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও আলাদা করে দেওয়া হয়েছে; অথচ এই রাজ্য ছাড়া অন্য কোথাও তিনি প্রকৃত স্বস্তি, স্থিতি ও প্রশান্তি খুঁজে পেতে পারেন না। যেসব সমাজ এই সংকটে নিপতিত হয়েছে, তাদের বাস্তব পরিস্থিতিই আমাদের এই বক্তব্যের সপক্ষে সবচাইতে বড় সাক্ষী।
ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকের জন্য বিশেষ কিছু কর্তব্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। ঘরের ভেতরে ও বাইরে সমাজের সুষ্ঠু কাঠামো বিনির্মাণের লক্ষ্যে তাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ ভূমিকা পালন করতে হয়।
তাই পুরুষ ভরণ-পোষণ ও জীবিকা নির্বাহের দায়িত্ব পালন করে এবং নারী লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأولاد والعطف والحنان والرضاعة والحضانة والأعمال التي تناسبها كتعليم الصغار وإدارة مدارسهم والتطبيب والتمريض لهم ونحو ذلك من الأعمال المختصة بالنساء. فترك واجبات البيت من قبل المرأة يعتبر ضياعاً للبيت بمن فيه.
ويترتب عليه تفكك الأسرة حسياً ومعنوياً وعند ذلك يصبح المجتمع شكلاً وصورة لا حقيقة ومعنى.
قال الله جل وعلا: {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} [النساء: 34]
فسنة الله في خلقه أن القوامة للرجل على المرأة وللرجل فضل عليها كما دلت الآية الكريمة على ذلك. وأمرُ الله سبحانه للمرأة بقرارها في بيتها ونهيها عن التبرج معناه: النهي عن الاختلاط وهو: اجتماع الرجال بالنساء الأجنبيات في مكان واحد بحكم العمل أو البيع أو الشراء أو النزهة أو السفر أو نحو ذلك، لأن اقتحام المرأة
সন্তান-সন্ততি, মমতা, স্নেহ, স্তন্যদান, লালন-পালন এবং তাদের জন্য উপযোগী কার্যাবলি যেমন শিশুদের শিক্ষাদান, তাদের বিদ্যালয় পরিচালনা এবং তাদের চিকিৎসা ও সেবার মতো নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কার্যাবলি। সুতরাং নারীর পক্ষ থেকে গৃহস্থালির আবশ্যিক দায়িত্বসমূহ বর্জন করা ঘর এবং ঘরে অবস্থানকারীদের ধ্বংসের শামিল হিসেবে গণ্য হয়।
এর ফলে বস্তুগত ও আত্মিক উভয় দিক থেকেই পরিবার ভেঙে পড়ে এবং তখন সমাজ কেবল বাহ্যিক রূপ ও অবয়বে অবশিষ্ট থাকে, যার কোনো প্রকৃত বাস্তবতা ও অর্থ থাকে না।
আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা ইরশাদ করেছেন: {পুরুষেরা নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ তাদের কতককে কতকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যেহেতু তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে।} [আন-নিসা: ৩৪]
সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহর সুন্নাত হলো এই যে, নারীর ওপর পুরুষের অভিভাবকত্ব থাকবে এবং পুরুষের তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, যেমনটি এই মহিমান্বিত আয়াতটি নির্দেশ করেছে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক নারীকে নিজ গৃহে অবস্থানের নির্দেশ এবং তাকে সৌন্দর্য প্রদর্শনী হতে নিষেধ করার অর্থ হলো: অবাধ মেলামেশা (اختلاط) নিষিদ্ধ হওয়া। আর তা হলো: কর্মসংস্থান, ক্রয়-বিক্রয়, বিনোদন, সফর বা এই জাতীয় কারণে পরপুরুষ ও পরনারীর একস্থানে একত্রিত হওয়া। কারণ নারীর এই অনুপ্রবেশ
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
هذا الميدان يؤدي بها إلى الوقوع في المنهي عنه، وفي ذلك مخالفة لأمر الله وتضييع لحقوقه المطلوب شرعاً من المسلمة أن تقوم بها.
[تحريم الاختلاط وتحريم جميع الوسائل المؤديه إليه]تحريم الاختلاط
وتحريم جميع الوسائل المؤديه إليه والكتاب والسنة دلَاّ على تحريم الاختلاط وتحريم جميع الوسائل المؤدية إليه قال الله جل وعلا: {وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا - وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ لَطِيفًا خَبِيرًا} [الأحزاب: 33 - 34]
فأمر الله أمهات المؤمنين - وجميع المسلمات والمؤمنات داخلات في ذلك - بالقرار في البيوت لما
এই ক্ষেত্রটি তাকে নিষিদ্ধ বিষয়ের মধ্যে পতিত হওয়ার দিকে ধাবিত করে, আর এতে আল্লাহর আদেশের লঙ্ঘন এবং তাঁর ঐ সকল হক বিনষ্ট করা হয় যা পালন করা একজন মুসলিম নারীর জন্য শরয়িভাবে আবশ্যক।
[অবাধ মেলামেশা (الاختلاط) হারাম হওয়া এবং এর দিকে ধাবিতকারী সকল মাধ্যম নিষিদ্ধ হওয়া]অবাধ মেলামেশা (الاختلاط) হারাম হওয়া
এবং এর দিকে ধাবিতকারী সকল মাধ্যম হারাম হওয়া। কুরআন ও সুন্নাহ অবাধ মেলামেশা (الاختلاط) এবং এর দিকে ধাবিতকারী সকল উপায় নিষিদ্ধ হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তোমরা তোমাদের ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন জাহেলি যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবে না। তোমরা সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে। আর তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে আয়াতসমূহ ও হিকমত পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রেখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী, সর্ববিষয়ে অবহিত।} [আল-আহজাব: ৩৩ - ৩৪]
সুতরাং আল্লাহ মুমিন জননীদের—এবং সকল মুসলিম ও মুমিন নারী এর অন্তর্ভুক্ত—ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন, যেহেতু
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
في ذلك من صيانتهن وإبعادهن عن وسائل الفساد لأن الخروج لغير حاجة قد يفضي إلى التبرج كما يفضي إلى شرور أخرى ثم أمرهن بالأعمال الصالحة التي تنهاههن عن الفحشاء والمنكر وذلك بإقامتهن الصلاة وإيتائهن الزكاة وطاعتهن لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم. ثم وجههن إلى ما يعود عليهن بالنفع في الدنيا والآخرة وذلك بأن يكن على اتصال دائم بالقرآن الكريم وبالسنة النبوية المطهرة اللذين فيهما ما يجلو صدأ القلوب ويطهرها من الأرجاس والأنجاس ويرشد إلى الحق والصواب. وقال الله تعالى:
{يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا} [الأحزاب: 59] فأمر الله نبيه عليه الصلاة والسلام وهو المبلغ عن ربه أن يقول لأزواجه وبناته وعامة نساء المؤمنين يدنين عليهن من جلابيبهن وذلك يتضمن ستر باقي أجسامهن
এর মধ্যে রয়েছে তাদের সুরক্ষা এবং অনিষ্টের মাধ্যমসমূহ থেকে তাদের দূরে রাখা; কারণ প্রয়োজন ব্যতীত বাইরে বের হওয়া বেপর্দা হওয়া (تبرج) এর দিকে ধাবিত করতে পারে, যেমনটি তা অন্যান্য মন্দের দিকেও নিয়ে যায়। অতঃপর তিনি তাদের এমন সৎকর্মের আদেশ দিয়েছেন যা তাদের অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, আর তা হলো সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার মাধ্যমে। এরপর তিনি তাদের এমন বিষয়ের দিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন যা দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে, আর তা হলো পবিত্র কুরআন এবং পবিত্র সুন্নাহর সাথে সার্বক্ষণিক সম্পর্ক বজায় রাখা; যে দুটির মধ্যে এমন উপাদান রয়েছে যা অন্তরের মরিচা দূর করে, একে যাবতীয় অপবিত্রতা ও পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করে এবং সত্য ও সঠিক পথের দিশা দেয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
{হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} [আল-আহজাব: ৫৯] আল্লাহ তাঁর নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে—যিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে বাণী প্রচারকারী—আদেশ দিয়েছেন যেন তিনি তাঁর স্ত্রী, কন্যা এবং সাধারণ মুমিন নারীদের বলেন তারা যেন তাদের চাদর নিজেদের ওপর টেনে দেয়, যা তাদের শরীরের অবশিষ্ট অংশ আবৃত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بالجلابيب وذلك إذا أردن الخروج لحاجة مثلاً لئلا تحصل لهن الأذية من مرضى القلوب، فإذا كان الأمر بهذه المثابة فما بالك بنزولها إلى ميدان الرجال واختلاطها معهم وإبداء حاجتها إليهم بحكم الوظيفة والتنازل عن كثير من أنوثتها لتنزل في مستواهم وذهاب كثير من حيائها ليحصل بذلك الانسجام بين الجنسين المختلفين معنى وصورة.
قال الله جل وعلا: {قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ - وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} [النور: 30 - 31] الآية.
يأمر الله نبيه عليه الصلاة والسلام أن يبلغ المؤمنين والمؤمنات أن يلتزمن بغض النظر وحفظ الفرج عن الزنى ثم أوضح سبحانه أن هذا الأمر أزكى
জিলবাব পরিধানের মাধ্যমে; আর তা মূলত তখন, যখন তারা কোনো প্রয়োজনে বাইরে বের হতে চায় যাতে অন্তরে ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার হেনস্তার শিকার না হয়। বিষয়টি যদি এই পর্যায়ের হয়ে থাকে, তবে নারীর কর্মক্ষেত্রে পদচারণা, পুরুষদের সাথে অবাধ মেলামেশা, চাকরির খাতিরে তাদের নিকট নিজের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করা, তাদের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে গিয়ে নিজের নারীত্বের অনেক বৈশিষ্ট্য বিসর্জন দেওয়া এবং অর্থ ও অবয়বগতভাবে ভিন্ন দুই লিঙ্গের মাঝে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে লজ্জাশীলতার অনেকখানি হারিয়ে ফেলার বিষয়টি তবে কেমন হবে?
মহান ও মহিয়ান আল্লাহ বলেন: {মুমিনদের বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে; এটা তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। নিশ্চয়ই তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত। আর মুমিন নারীদের বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত। আর তারা যেন তাদের ওড়না বক্ষদেশের ওপর টেনে দেয়} [আন-নূর: ৩০-৩১] আয়াত পর্যন্ত।
আল্লাহ তাঁর নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি যেন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জানিয়ে দেন যে, তারা যেন দৃষ্টি অবনত রাখা এবং ব্যভিচার থেকে লজ্জাস্থান হিফাজত করার বিধান মেনে চলে। অতঃপর তিনি পবিত্র সত্তা স্পষ্ট করেছেন যে, এই বিষয়টি অধিকতর পবিত্র।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لهم. ومعلوم أن حفظ الفرج من الفاحشة إنما يكون باجتناب وسائلها ولاشك أن إطلاق البصر واختلاط النساء بالرجال والرجال بالنساء في ميادين العمل وغيرها من أعظم وسائل وقوع الفاحشة. وهذان الأمران المطلوبان من المؤمن يستحيل تحققهما منه وهو يعمل مع المرأة الأجنبية كزميلة أو مشاركة في العمل له. فاقتحامها هذا الميدان معه واقتحامه الميدان معها لا شك أنه من الأمور التي يستحيل معها غض البصر وإحصان الفرج والحصول على زكاة النفس وطهارتها.
وهكذا أمر الله المؤمنات بغض البصر وحفظ الفرج وعدم إبداء الزينة إلا ما ظهر منها، وأمرهن الله بإسدال الخمار على الجيوب المتضمن ستر رأسها ووجهها لأن الجيب محل الرأس والوجه. فكيف يحصل غض البصر وحفظ الفرج وعدم إبداء الزينة
তাদের জন্য। আর এটি সুবিদিত যে, অশ্লীলতা থেকে লজ্জা-স্থান রক্ষা করা (حفظ الفرج) কেবল তার উপায়সমূহ বর্জনের মাধ্যমেই সম্ভব। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দৃষ্টির অবাধ ব্যবহার এবং কর্মস্থল ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা অশ্লীলতা সংঘটিত হওয়ার অন্যতম বৃহৎ মাধ্যম। আর মুমিনের নিকট কাঙ্ক্ষিত এই দুটি বিষয় তার পক্ষে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব, যখন সে কোনো পরনারীর (أجنبية) সাথে সহকর্মী বা অংশীদার হিসেবে কাজ করে। সুতরাং নারীর এই কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সাথে প্রবেশ করা এবং পুরুষের নারীর সাথে সেই অঙ্গনে পদচারণা করা নিশ্চিতভাবেই এমন বিষয় যার উপস্থিতিতে দৃষ্টি অবনত রাখা (غض البصر), লজ্জা-স্থান রক্ষা করা (إحصان الفرج) এবং আত্মার পরিশুদ্ধি (زكاة النفس) ও পবিত্রতা অর্জন করা অসম্ভব।
অনুরূপভাবে আল্লাহ মুমিন নারীদের আদেশ দিয়েছেন দৃষ্টি অবনত রাখতে (غض البصر), লজ্জা-স্থান রক্ষা করতে (حفظ الفرج) এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে, কেবল যা স্বতস্ফূর্তভাবে প্রকাশ হয়ে যায় তা ব্যতীত। আর আল্লাহ তাদের আদেশ দিয়েছেন তাদের বক্ষদেশের ওপর ওড়না (خمار) টেনে দিতে, যা তাদের মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত করাকেও অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ গ্রীবাদেশ মাথা ও মুখমণ্ডলের সংলগ্ন স্থান। এমতাবস্থায় কীভাবে দৃষ্টি অবনত রাখা (غض البصر), লজ্জা-স্থান রক্ষা করা (حفظ الفرج) এবং সৌন্দর্য প্রকাশ না করার বিষয়টি সম্ভব হতে পারে?
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
عند نزول المرأة ميدان الرجال واختلاطها معهم في الأعمال. والاختلاط كفيل بالوقوع في هذه المحاذير. كيف يحصل للمرأة المسلمة أن تغض بصرها وهي تسير مع الرجل الأجنبي جنباً إلى جنب بحجة أنما تشاركه في الأعمال أو تساويه في جميع ما تقوم به.
والإسلام حرم جميع الوسائل والذرائع الموصلة إلى الأمور المحرمة وكذلك حرم الإسلام على النساء خضوعهن بالقول للرجال لكونه يفضي إلى الطمع فيهن كما في قوله عز وجل: {يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ} [الأحزاب: 32] يعنى مرض الشهوة. فكيف يمكن التحفظ من ذلك مع الاختلاط؟
ومن البديهي أنها إذا نزلت إلى ميدان الرجال لا بد أن تكلمهم وأن يكلموها ولا بد أن ترقق لهم الكلام وأن يرققوا لها الكلام والشيطان من وراء ذلك يزين
যখন নারী পুরুষের কর্মক্ষেত্রে পদার্পণ করে এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের সাথে অবাধ মেলামেশায় (اختلاط) লিপ্ত হয়। আর এই অবাধ মেলামেশা (اختلاط) এই সকল নিষিদ্ধ বিষয়ে নিপতিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট। কীভাবে একজন মুসলিম নারীর পক্ষে তার দৃষ্টি অবনত রাখা সম্ভব যখন সে কাজের অজুহাতে অথবা সে যা করছে তাতে পুরুষের সমকক্ষ হওয়ার দাবিতে কোনো পরপুরুষের (أجنبي) সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে?
ইসলাম সকল হারাম (محرم) বিষয়ের দিকে ধাবিতকারী যাবতীয় উপায় ও মাধ্যমকে নিষিদ্ধ করেছে। অনুরূপভাবে ইসলাম নারীদের জন্য পুরুষদের সাথে কোমল ও নম্রভাবে কথা বলা নিষিদ্ধ করেছে, যেহেতু এটি তাদের প্রতি লালসা সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে নবীর পত্নীগণ! তোমরা অন্য সাধারণ নারীদের মতো নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে তোমরা পরপুরুষের সাথে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বরে কোমলতা অবলম্বন করো না, পাছে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে লালসাগ্রস্ত হয়} [আল-আহযাব: ৩২] অর্থাৎ কুপ্রবৃত্তির ব্যাধি। সুতরাং অবাধ মেলামেশার (اختلاط) মধ্যে থেকে কীভাবে এ থেকে আত্মরক্ষা করা সম্ভব?
আর এটি স্বতসিদ্ধ যে, নারী যখন পুরুষদের কর্মক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়, তখন তাকে অবশ্যই তাদের সাথে কথা বলতে হয় এবং তারাও তার সাথে কথা বলে। সেখানে তাকে অবশ্যই তাদের সাথে কণ্ঠস্বর কোমল করতে হয় এবং তারাও তার সাথে কোমল ভাষায় কথা বলে, আর শয়তান এর পেছনে থেকে বিষয়টিকে সুশোভিত করে তোলে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবাররুজ ওয়া খাতরু মুশারাকাতিল মারআতি লির রাজুলি ফী মাইদানি আমালিহি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ويحسن ويدعو إلى الفاحشة حتى يقعوا فريسة له.
والله حكيم عليم حيث أمر المرأة بالحجاب وما ذاك إلا لأن الناس فيهم البر والفاجر والطاهر والعاهر فالحجاب يمنع - بإذن الله - من الفتنة ويحجز دواعيها وتحصل به طهارة قلوب الرجال والنساء والبعد عن مظان التهمة قال الله عز وجل: {وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ} [الأحزاب: 53] الآية. وخير حجاب المرأة بعد حجاب وجهها وجسمها باللباس هو بيتها.
وحرم عليها الإسلام مخالطة الرجال الأجانب لئلا تُعَرِّضَ نفسها للفتنه بطريق مباشر أو غير مباشر. وأمرها بالقرار في البيت وعدم الخروج منه إلا لحاجة مباحة مع لزوم الأدب الشرعي. وقد سمى الله مكث المرأة في بيتها قراراً وهذا المعنى من أسمى المعاني الرفيعة ففيه استقرار لنفسها وراحة لقلبها وانشراح لصدرها.
তিনি অশ্লীলতাকে সুশোভিত করেন এবং সেদিকে আহ্বান করেন, যাতে তারা তার শিকারে পরিণত হয়।
আল্লাহ তাআলা প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ; তিনি নারীকে পর্দার আদেশ দিয়েছেন কেবল এজন্য যে, মানুষের মধ্যে পুণ্যবান ও পাপিষ্ঠ এবং পবিত্র ও পাপাচারী উভয় প্রকার লোকই বিদ্যমান। সুতরাং পর্দা—আল্লাহর ইচ্ছায়—ফিতনা (فتنة) প্রতিরোধ করে এবং এর কারণসমূহকে প্রতিহত করে। এর মাধ্যমে পুরুষ ও নারীর অন্তরের পবিত্রতা অর্জিত হয় এবং অপবাদের ক্ষেত্রসমূহ থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {আর তোমরা যখন তাদের নিকট কোনো প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটি তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র} [আল-আহজাব: ৫৩]। পোশাকের মাধ্যমে মুখমণ্ডল ও দেহ আবৃত করার পর নারীর জন্য সর্বোত্তম পর্দা হলো তার গৃহ।
ইসলাম নারীর জন্য পরপুরুষের সাথে অবাধ মেলামেশা হারাম করেছে, যাতে সে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই নিজেকে ফিতনার (فتنة) সম্মুখীন না করে। আর তাকে ঘরে অবস্থানের এবং শরয়ি আদব রক্ষা করে কোনো বৈধ প্রয়োজন ব্যতীত বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা নারীর ঘরে অবস্থানকে ‘কারার’ (স্থিরতা) বলে অভিহিত করেছেন। এটি অত্যন্ত মহৎ ও উচ্চমার্গের একটি বিষয়; কেননা এতে রয়েছে তার নিজের জন্য স্থিতি, অন্তরের প্রশান্তি ও হৃদয়ের স্বস্তি।