(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
خطبة الجمعة في الكتاب والسنة   (عبد الرحمن بن محمد الحمد)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: خطبة الجمعة في الكتاب والسنة

المؤلف: عبد الرحمن بن محمد الحمد

الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1419هـ

عدد الصفحات: 52

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জুমার খুতবা   (আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-হামদ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জুমার খুতবা

লেখক: আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-হামদ

প্রকাশক: ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ এবং নির্দেশনা মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজত্ব

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[المقدمة]

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين وبعد:

فإن هذا البحث الذي بين يديك أيها القارئ الكريم يدور حول خطبة الجمعة في كتاب الله عز وجل وفي سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يتكون من تمهيد وخمسة فصول وخاتمة وذلك على النحو التالي: -

تمهيد: حول مكانة الجمعة في الإسلام.

الفصل الأول: الخطبة في الإسلام ويشتمل على مبحثين: -

المبحث الأول: أنواع الخطب.

المبحث الثاني: مكانة خطبة الجمعة.

الفصل الثاني: خطبة الجمعة في القرآن الكريم.

الفصل الثالث: خطبة الجمعة في السنة الشريفة المطهرة ويشتمل على عدة مباحث: -

المبحث الأول: هل تصح الجمعة بدون خطبة.

المبحث الثاني: الاستماع إلى الخطبة.

المبحث الثالث: صفة خطبة النبي صلى الله عليه وسلم .

المبحث الرابع: نموذج من خطب الجمعة للنبي صلى الله عليه وسلم في المدينة.

المبحث الخامس: تخطي رقاب الناس والإمام يخطب.
‌[ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবি ও রাসূলদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমাদের নবি মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর। অতঃপর:

হে সম্মানিত পাঠক, আপনার সম্মুখে বিদ্যমান এই গবেষণাটি মহান আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর আলোকে জুমার খুতবা কেন্দ্রিক আবর্তিত হয়েছে। এটি একটি ভূমিকা, পাঁচটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারের সমন্বয়ে গঠিত, যা নিম্নরূপ: -

ভূমিকা: ইসলামে জুমার মর্যাদা প্রসঙ্গে।

প্রথম অধ্যায়: ইসলামে খুতবা; যা দুটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত: -

প্রথম পরিচ্ছেদ: খুতবার প্রকারভেদ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জুমার খুতবার মর্যাদা।

দ্বিতীয় অধ্যায়: পবিত্র কুরআনে জুমার খুতবা।

তৃতীয় অধ্যায়: পবিত্র সুন্নাহর আলোকে জুমার খুতবা; যা বেশ কয়েকটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত: -

প্রথম পরিচ্ছেদ: খুতবা ব্যতীত কি জুমা শুদ্ধ (تصح) হয়?

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: খুতবা শ্রবণ করা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবি (সা.)-এর খুতবার বৈশিষ্ট্য।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মদিনায় নবি (সা.)-এর জুমার খুতবার একটি নমুনা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইমামের খুতবা প্রদানকালে মানুষের ঘাড় টপকানো।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
المبحث السادس: النوم حال الخطبة.

المبحث السابع: تحية المسجد حال الخطبة أو الأذان.

المبحث الثامن: الاستسقاء في الخطبة يوم الجمعة.

الفصل الرابع. مسائل فقهية تتعلق بالخطبة.

الفصل الخامس: همسات في أذن خطيب الجمعة وتنبيهات ومقترحات.

هذا وقد تمت كتابة هذا البحث المتواضع بناء على تكليف من وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد للمشاركة في الملتقى الأول للأئمة والخطباء في المملكة، فما كان في هذا البحث من صواب فمن الله وحده وله المن والفضل، وما كان فيه من خطأ فمني ومن الشيطان، والله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم بريئان منه، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.

عبد الرحمن بن محمد الحمد

مدرس بالمعهد العلمي في الزلفي

(وخطيب الجامع الأوسط بالزلفي)
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ (المبحث): খুতবা (الخطبة) চলাকালীন নিদ্রা।

সপ্তম পরিচ্ছেদ (المبحث): খুতবা (الخطبة) বা আজান (الأذان) চলাকালীন তাহিয়্যাতুল মাসজিদ (تحية المسجد)।

অষ্টম পরিচ্ছেদ (المبحث): জুমার দিনের খুতবায় (الخطبة) ইসতিসকা (الاستسقاء)।

চতুর্থ অধ্যায় (الفصل): খুতবা (الخطبة) সংশ্লিষ্ট ফিকহী মাসআলাসমূহ (مسائل فقهية)।

পঞ্চম অধ্যায় (الفصل): জুমার খতিবের (خطيب) প্রতি কিছু পরামর্শ, সতর্কতা ও প্রস্তাবনা।

এই বিনম্র গবেষণাটি কিংডম অব সৌদি আরবের ইমাম ও খতিবদের (خطيب) প্রথম সম্মেলনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ইসলামিক বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্বের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়েছে। এই গবেষণায় যা কিছু সঠিক রয়েছে তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং সমস্ত অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব তাঁরই। আর এতে যা কিছু ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে তা আমার এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা থেকে মুক্ত। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-হামাদ

শিক্ষক, সায়েন্টিফিক ইনস্টিটিউট, যুলফী

(এবং খতিব (خطيب), আল-জামে আল-আওসাত, যুলফী)
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[تمهيد]

تمهيد يوم الجمعة في الإسلام له مكانة رفيعة ومنزلة عالية وقد وردت أحاديث صحيحة تدل على تميزه واختصاصه بخصائص عديدة. فقد ورد في صحيح البخاري «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: نحن الآخرون السابقون يوم القيامة بيد أنهم أوتوا الكتاب من قبلنا ثم هذا يومهم الذي فرض الله عليهم فاختلفوا فيه فهدانا الله له والناس لنا فيه تبع اليهود غدا والنصارى بعد غد» (1) .

بيد: بمعنى على أو مع أو غير.

وفي صحيح مسلم عن أبي هريرة وحذيفة رضي الله عنهما قالا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أضل الله عن الجمعة من كان قبلنا فكان لليهود يوم السبت، وكان للنصارى يوم الأحد، فجاء الله بنا فهدانا ليوم الجمعة فجعل الجمعة والسبت والأحد، وكذلك هم تبع لنا يوم القيامة نحن الآخرون من أهل الدنيا، والأولون يوم القيامة المقضي لهم قبل الخلائق» (2) .

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري مع الفتح، ج2، ص354، رقم الحديث: 876.

(2) صحيح مسلم بشرح النووي، ج6، ص144.
[উপস্থাপনা]

ভূমিকা: ইসলামে জুমার দিনের একটি সুউচ্চ মর্যাদা ও উচ্চ স্থান রয়েছে এবং এ দিনের শ্রেষ্ঠত্ব ও বহুবিধ বৈশিষ্ট্যের ওপর প্রমাণবাহী বেশ কিছু সহিহ (صحيحة) হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে যে, «আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমরা দুনিয়ায় সবার শেষে আসলেও কিয়ামতের দিন হব সবার অগ্রবর্তী; তবে পার্থক্য হলো তাদের আমাদের পূর্বে কিতাব প্রদান করা হয়েছিল। অতঃপর এটিই (জুমা) ছিল তাদের সেই দিন যা আল্লাহ তাদের ওপর ফরজ করেছিলেন, কিন্তু তারা এ বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হলো। এরপর আল্লাহ আমাদের এ দিনের সঠিক দিশা দান করলেন। ফলে অন্যান্য মানুষ এ ক্ষেত্রে আমাদের অনুসারী; ইহুদিরা আগামীকাল এবং নাসারারা তার পরের দিন» (১)।

বায়দা: এর অর্থ হলো 'তবে', 'সাথে' অথবা 'ব্যতীত'।

সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা ও হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের জুমার দিন থেকে বিমুখ রেখেছিলেন। ফলে ইহুদিদের জন্য ছিল শনিবার এবং নাসারাদের জন্য ছিল রবিবার। অতঃপর আল্লাহ আমাদের নিয়ে আসলেন এবং আমাদের জুমার দিনের দিশা দান করলেন। এভাবে তিনি জুমা, শনিবার ও রবিবারকে বিন্যস্ত করলেন। অনুরূপভাবে কিয়ামতের দিনও তারা আমাদের অনুগামী হবে। আমরা দুনিয়াবাসীদের মধ্যে সর্বশেষ জাতি, কিন্তু কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির আগে আমাদের বিচার সম্পন্ন করা হবে» (২)।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি মাআল ফাতহ, ২য় খণ্ড, ৩৫৪ পৃষ্ঠা, হাদিস নং: ৮৭৬।

(২) সহিহ মুসলিম শারহুন নববী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৪৪ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وذكر الإمام ابن القيم رحمه الله في كتابه " زاد المعاد " خصائص يوم الجمعة وأوصلها إلى ثلاث وثلاثين خصيصة ذكر منها: أن فيه الخطبة التي يقصد بها الثناء على الله وتمجيده والشهادة له بالوحدانية ولرسوله صلى الله عليه وسلم بالرسالة، وتذكر العباد بأيامه وتحذيرهم من بأسه ونقمته ووصيتهم بما يقربهم إليه وإلى جنانه ونهيهم عما يقربهم من سخطه وناره فهذا مقصود الخطبة والاجتماع لها. . . أ. هـ.

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর "যাদুল মাআদ" গ্রন্থে জুমার দিনের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলোকে তেত্রিশটি বৈশিষ্ট্যে উন্নীত করেছেন। তন্মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন যে: এই দিনে খুতবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যার উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করা, তাঁর একত্ববাদের (وحدانية) সাক্ষ্য দেওয়া এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাতের (رسالة) সাক্ষ্য প্রদান করা। এছাড়া বান্দাদেরকে আল্লাহর দিবসসমূহ সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়া, তাঁর কঠোর শাস্তি ও প্রতিশোধ থেকে তাদের সতর্ক করা এবং যা কিছু তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য ও জান্নাতের পথে পরিচালিত করবে সে বিষয়ে উপদেশ প্রদান করা এবং যা কিছু তাঁর অসন্তুষ্টি ও জাহান্নামের নিকটবর্তী করবে তা থেকে তাদের বারণ করা; মূলত এটাই খুতবা এবং এর জন্য একত্রিত হওয়ার মূল উদ্দেশ্য। [সমাপ্ত (انتهى)]

(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌[الفصل الأول الخطابة في الإسلام]

الفصل الأول

الخطابة في الإسلام لقد جاء الإسلام فكانت عنايته بالخطابة عظمية وكان اهتمامه بها شديدا، ولقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم فصيحا فهو أفصح من نطق بالضاد بل كانت أكبر معجزاته في نزول القرآن بلغته، فلقد تحدى كتاب الله عز وجل أرباب الفصاحة والبيان وفرسان البلاغة واللسان فعجزوا أن يأتوا بمثله أو بسورة أو بآية.

وكان الفصحاء يؤثرون أيما تأثير على سامعيهم، فهذا نبي الله هارون كان من عوامل ترشيحه للنبوة من قبل موسى عليه السلام فصاحته قال تعالى: {وَأَخِي هَارُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِيَ رِدْءًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ} [القصص: 34] (1) .

ولقد كان للخطابة شأن كبير في تشجيع المجاهدين، ففي غزوة بدر مثلا كان لخطبة النبي صلى الله عليه وسلم أعظم الأثر ومنها قوله: «والذي نفس محمد بيده لا يقاتلهم اليوم رجل فيقتل صابرا محتسبا مقبلا غير مدبر إلا أدخله الله الجنة» .

لقد كان لهذا الكلام أثر عظيم في نفوس الصحابة فقد استعجل

--------------------------------------------

(1) سورة القصص آية رقم 34.
[প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামে বাগ্মিতা]

প্রথম পরিচ্ছেদ

ইসলামে বাগ্মিতা। ইসলামের আগমন হয়েছে এবং বাগ্মিতার প্রতি এর যত্ন ছিল অপরিসীম এবং এর গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত প্রবল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন অত্যন্ত সাবলীল ভাষী; তিনি ছিলেন দাদ অক্ষর উচ্চারণকারীদের মধ্যে সর্বাধিক প্রাঞ্জল। বরং তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা ছিল তাঁর ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হওয়া। মহান আল্লাহর কিতাব বাগ্মিতা ও বর্ণনাশৈলীর ধারক-বাহক এবং অলঙ্কারশাস্ত্র ও ভাষাশৈলীর পারদর্শীদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল, অতঃপর তারা এর সদৃশ কিছু অথবা একটি সূরা বা একটি আয়াত আনয়ন করতেও অপরাগ হয়েছিল।

আর বাগ্মীরা তাঁদের শ্রোতাদের ওপর প্রবল প্রভাব বিস্তার করতেন। আল্লাহর নবী হারূন (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষেত্রে মূসা (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক নবুওয়াতের জন্য তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল তাঁর সাবলীল ভাষা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর আমার ভাই হারূন, সে আমার অপেক্ষা অধিক প্রাঞ্জলভাষী; অতএব তাকে আমার সাথে সাহায্যকারী হিসেবে প্রেরণ করুন, সে আমাকে সমর্থন করবে। আমি আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।" [সূরা আল-কাসাস: ৩৪] (১)।

মুজাহিদদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে বাগ্মিতার বিশেষ গুরুত্ব ছিল। উদাহরণস্বরূপ, বদরের যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভাষণের ছিল সুদূরপ্রসারী প্রভাব, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল তাঁর এই বাণী: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আজ যদি কোনো ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং ধৈর্যশীল ও সওয়াব প্রত্যাশী অবস্থায় পিছু না হটে সম্মুখপানে অগ্রসর হয়ে নিহত হয়, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।"

এই বাণীর সাহাবীদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব পড়েছিল, ফলে তিনি ত্বরান্বিত হলেন...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাসাস, আয়াত নং ৩৪।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
عمير بن الحمام الموت واستطال حياته وقال: بخ بخ. أفما بيني وبين أن أدخل الجنة إلا أن يقتلني هؤلاء. وكان بيده تمرات يأكلهن فقذف بهن وأخذ سيفه فقاتل القوم حتى قتل (1) .

وبالجملة فإن تأثير الخطبة على السامعين لا ينكر وأثرها لا يجهل ودورها لا يستصغر.

 

‌‌[المبحث الأول أنواع الخطب]

المبحث الأول

أنواع الخطب قسم بعض الباحثين أنواع الخطب في الإسلام إلى ستة أنواع، ويمكن إيجاز هذه الأنواع بما يلي:

1 - الخطب الوعظية: وركيزتها الموعظة الحسنة والتذكير بالله وبيان أحكام الشريعة وتقوية الإيمان ومنها خطب الجمعة.

2 - الخطب الاجتماعية: موضوعها النكاح أو خطبة النساء.

3 - الخطب الحفلية: وهي التي تلقى في المحافل العامة وأغراضها التكريم أو التهنئة أو علاج مشكلة معينة ونحو ذلك.

4 - الخطب القضائية: وتكون في المحاكم والدوائر القضائية يتولاها الخصوم والمحامون والنواب ونحوهم.

5 - الخطب الجهادية. وتلقى في ميادين القتال ويتولاها القادة غالبا

--------------------------------------------

(1) عطية محمد سالم: أصول الخطابة والإنشاء، ص23.
উমাইর ইবনুল হুমাম মৃত্যুকে আকাঙ্ক্ষা করলেন এবং তাঁর দীর্ঘ জীবনকে দীর্ঘায়িত মনে করলেন। তিনি বললেন: ‘বাহ্! বাহ্! জান্নাতে প্রবেশের পথে তারা আমাকে হত্যা করা ছাড়া আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।’ তাঁর হাতে কিছু খেজুর ছিল যা তিনি খাচ্ছিলেন, অতঃপর তিনি সেগুলো ছুঁড়ে ফেললেন এবং নিজের তলোয়ার তুলে নিলেন। এরপর তিনি শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে লাগলেন যতক্ষণ না তিনি শহীদ হলেন (১)।

সারসংক্ষেপে, শ্রোতাদের ওপর খুতবার (الخطبة) প্রভাব অনস্বীকার্য, এর কার্যকারিতা কারো অজানা নয় এবং এর ভূমিকাকে তুচ্ছ জ্ঞান করার অবকাশ নেই।

 

‌‌[প্রথম পরিচ্ছেদ: খুতবার প্রকারভেদ]

প্রথম পরিচ্ছেদ

খুতবার প্রকারভেদ: কতিপয় গবেষক ইসলামে খুতবাকে ছয়টি প্রকারে বিভক্ত করেছেন এবং এই প্রকারগুলোকে নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপে বর্ণনা করা যেতে পারে:

১ - উপদেশমূলক খুতবা (الخطب الوعظية): এর মূল ভিত্তি হলো উত্তম উপদেশ (الموعظة الحسنة), আল্লাহকে স্মরণ করানো, শরীয়তের বিধানসমূহ বর্ণনা করা এবং ঈমানকে সুদৃঢ় করা; জুমার খুতবা এর অন্তর্ভুক্ত।

২ - সামাজিক খুতবা (الخطب الاجتماعية): এর বিষয়বস্তু হলো বিবাহ অথবা নারীদের বিয়ের প্রস্তাব দান।

৩ - আনুষ্ঠানিক খুতবা (الخطب الحفلية): এগুলো সাধারণ মজলিসসমূহে প্রদান করা হয় এবং এর উদ্দেশ্য হলো সম্মাননা প্রদর্শন, অভিনন্দন জানানো অথবা নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা সমাধান করা ইত্যাদি।

৪ - বিচারিক খুতবা (الخطب القضائية): এগুলো আদালত ও বিচারিক বিভাগগুলোতে হয়ে থাকে, যা সাধারণত বিবাদী, আইনজীবী, প্রতিনিধি ও তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ পরিচালনা করেন।

৫ - জিহাদি খুতবা (الخطب الجهادية): এগুলো যুদ্ধের ময়দানে প্রদান করা হয় এবং সাধারণত সেনাপতিগণ এর দায়িত্ব পালন করেন।

--------------------------------------------

(১) আতিয়্যাহ মুহাম্মদ সালিম: উসুল আল-খাতাবাহ ওয়াল ইনশা, পৃষ্ঠা ২৩।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
حيث يرغبون الجنود في القتال ويبينون لهم منازل الشهداء وما أعد الله لهم من الكرامة.

6 - الخطب السياسية: ويلقيها في الغالب الزعماء والسادة في المجالس النيابية والشورية ولها أغراض متنوعة (1) .

وهذه الأقسام الستة داخلة في نطاق الشرع وليس بينها تغاير ولا تضاد فالشريعة الإسلامية - بحمد الله - متضمنة كل شيء، قال الله تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: 38] (2) .

 

‌‌[المبحث الثاني مكانة الجمعة وأهميتها]

المبحث الثاني

مكانة الجمعة وأهميتها لا شك أن خطبة الجمعة في الإسلام لها مكانة سامية وأهمية بالغة وذلك لأمور كثيرة منها:

1 - أنها من وسائل نشر الدعوة العامة حيث لا تختص بأحد دون أحد، ولا طبقة دون طبقة، فجميع المصلين يستمعون إليها من الخطيب من كان منهم قوي الإيمان أو ضعيفه، ومن كان منهم ذا ثقافة أو عديمها والكبير والصغير فهي فرصة للخطيب متكررة

--------------------------------------------

(1) عبد الرب بن نواب الدين، الدراسة النظرية للخطابة، ص15.

(2) سورة الأنعام: آية 38.
যেখানে তারা সৈন্যদের যুদ্ধের প্রতি উৎসাহিত করেন এবং তাদের সামনে শহীদদের মর্যাদা ও আল্লাহ তাদের জন্য যে সম্মান প্রস্তুত রেখেছেন তা বর্ণনা করেন।

৬ - রাজনৈতিক ভাষণ: এগুলো সাধারণত নেতা ও ব্যক্তিবর্গ সংসদীয় এবং পরামর্শমূলক সভাগুলোতে প্রদান করেন এবং এগুলোর নানাবিধ উদ্দেশ্য থাকে (১)।

আর এই ছয়টি প্রকারই শরীয়তের আওতাভুক্ত এবং এগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য বা দ্বন্দ্ব নেই। কেননা ইসলামি শরীয়ত—আল্লাহর প্রশংসায়—সবকিছুকে শামিল করে। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দিইনি" [আল-আনআম: ৩৮] (২)।

 

‌‌[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জুমার মর্যাদা ও গুরুত্ব]

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

জুমার মর্যাদা ও গুরুত্ব। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলামে জুমার খুতবার একটি সুউচ্চ মর্যাদা ও অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। এর বহু কারণের মধ্যে কয়েকটি হলো:

১ - এটি ব্যাপক দাওয়াত প্রসারের অন্যতম মাধ্যম; কারণ এটি নির্দিষ্ট কারো জন্য বা নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণীর জন্য নয়। বরং সকল মুসুল্লি খতিবের কাছ থেকে এটি শ্রবণ করেন—তাদের মধ্যে যারা মজবুত ঈমানসম্পন্ন বা দুর্বল (ضعيف), যারা শিক্ষিত বা অশিক্ষিত, এবং বড় ও ছোট সবাই। তাই এটি খতিবের জন্য একটি পুনঃপুন সুযোগ।

--------------------------------------------

(১) আবদুর রব বিন নওয়াব উদ্দিন, আদ-দিরাসাতুন নাজারিয়্যাহ লিল-খাতাবাহ, পৃ. ১৫।

(২) সূরা আল-আনআম: আয়াত ৩৮।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
يستطيع بها التأثير على هذه الأعداد الهائلة الذي سيحضرون باختيارهم راغبين غير مكرهين (1) .

2 - الأمر بالسعي لها فإن المسلم مأمور بالسعي لصلاة الجمعة حيث يسمع النداء الثاني، وحين يحضر المصلي للجمعة يلزمه الإنصات للخطيب ولا يجوز الكلام فالمسلم أمر بالسعي إلى الجمعة والإنصات للخطبة.

3 - وتكرار الخطبة كل أسبوع يدل على أهميتها وضرورة العناية بها من قبل الخطيب والسامعين حيث يستمع المصلي في العام الواحد لأكثر من خمسين خطبة تقريبا. فلو أن كل خطيب يعالج في كل سنة (50) موضوعا ما بقي بين المسلمين جاهل في الأحكام الضرورية.

4 - الحاضرون والمستمعون للخطبة يزيدون ولا ينقصون بخلاف غيرها من وسائل الدعوة الأخرى أو المستجدات العصرية كالمحاضرة والدرس والندوة، مثلا فقد يخرج البعض قبل اكتمال الموضوع، ففرق شاسع بينها وبين وسائل الدعوة الأخرى مما يدل على أهميتها.

5 - الخطبة ثابتة ومستمرة في كافة الأحوال في السلم والحرب

--------------------------------------------

(1) محمد أبو فارس: إرشادات لتحسين خطبة الجمعة، ص31.
এর মাধ্যমে তিনি সেই বিশাল জনসমষ্টির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন, যারা কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই স্বতস্ফূর্ত ও সাগ্রহে উপস্থিত হন (১)।

২ - এর (জুমআর) উদ্দেশ্যে গমনের নির্দেশ। কেননা একজন মুসলিমকে জুমআর সালাতের জন্য গমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যখন সে দ্বিতীয় আযান শুনতে পায়। যখন মুসল্লি জুমআয় উপস্থিত হয়, তখন তার ওপর খতিবের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা আবশ্যক হয়ে পড়ে এবং কোনো কথা বলা বৈধ নয়। সুতরাং মুসলিম ব্যক্তিকে জুমআর দিকে অগ্রসর হতে এবং খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৩ - প্রতি সপ্তাহে খুতবার পুনরাবৃত্তি এর গুরুত্ব এবং খতিব ও শ্রোতা উভয়ের পক্ষ থেকেই এর প্রতি যত্নশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। কারণ একজন মুসল্লি বছরে প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি খুতবা শুনে থাকেন। যদি প্রত্যেক খতিব প্রতি বছর ৫০টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন, তবে মুসলিমদের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিধানাবলি সম্পর্কে কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি অবশিষ্ট থাকত না।

৪ - খুতবায় উপস্থিত ও শ্রোতাদের সংখ্যা কেবল বৃদ্ধি পায় এবং তা হ্রাস পায় না; যা দাওয়াতের অন্যান্য মাধ্যম বা আধুনিক পদ্ধতি যেমন বক্তৃতা, পাঠদান বা সেমিনারের মতো নয়। উদাহরণস্বরূপ, এসব ক্ষেত্রে আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই কেউ কেউ বেরিয়ে যেতে পারে। সুতরাং খুতবা ও দাওয়াতের অন্যান্য মাধ্যমের মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান বিদ্যমান, যা এর গুরুত্বকেই প্রমাণ করে।

৫ - খুতবা যুদ্ধ ও শান্তি সর্বাবস্থায় একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও নিরবচ্ছিন্ন বিষয়।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ আবু ফারিস: ইরশাদাত লি তাহসিন খুতবাতিল জুমআ, পৃষ্ঠা ৩১।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
والأمن والخوف، وتوفر الخيرات والجدب فهي مطلوبة في سائر الظروف والأحوال.

6 - لما لخطبة الجمعة من أهمية بالغة على سلوك الناس وتعاملهم فقد اهتم بها الإسلام ووردت نصوص كثيرة في السنة المطهرة تدور حول الخطبة.

كما اهتم بها الفقهاء اهتماما بالغا حيث أولوا أحكامها وآدابها وعلاقتها بصلاة الجمعة عناية تامة (1) .

--------------------------------------------

(1) محمد بن عبد الله الدويش (حتى نستفيد من خطبة الجمعة) مجلة البيان - عدد 65، ص18.
নিরাপত্তা ও ভয়, প্রাচুর্য ও আকাল—এগুলো সকল পরিস্থিতি ও অবস্থায় কাম্য।

৬ - মানুষের আচরণ ও পারস্পরিক লেনদেনের ওপর জুমার খুতবার সুদূরপ্রসারী গুরুত্বের কারণে ইসলাম একে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এবং পবিত্র সুন্নাহতে খুতবা কেন্দ্রিক বহু পাঠ্য প্রমাণ (نصوص) বর্ণিত হয়েছে।

অনুরূপভাবে ফকিহগণ (فقهاء) এর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন, যেহেতু তাঁরা এর বিধি-বিধান (أحكام), আদব এবং জুমার সালাতের সাথে এর সম্পর্কের ক্ষেত্রে পূর্ণ মনোযোগ প্রদান করেছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-দুওয়াইশ (হাত্তা নাস্তাফিদা মিন খুতবাতিল জুমুআহ), আল-বাইয়ান ম্যাগাজিন - সংখ্যা ৬৫, পৃষ্ঠা ১৮।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌[الفصل الثاني خطبة الجمعة في القرآن الكريم]

الفصل الثاني

خطبة الجمعة في القرآن الكريم وردت في كتاب الله عز وجل سورة الجمعة وقد تضمنت ثلاث آيات تدور حول الجمعة في كتاب الله تعالى {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ - فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ - وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا قُلْ مَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ مِنَ اللَّهْوِ وَمِنَ التِّجَارَةِ وَاللَّهُ خَيْرُ الرَّازِقِينَ} [الجمعة: 9 - 11] (1) .

قوله تعالى: {يَوْمِ الْجُمُعَةِ} [الجمعة: 9] قال ابن عباس: (نزل القرآن بالتثقيل والتفخيم فاقرأوها جمعة) سميت بذا الاسم: - إما لأن الله جمع فيها خلق آدم، أو لأن الله فرغ فيها من خلق كل شيء فاجتمعت فيها المخلوقات، وقيل لاجتماع الناس فيها للصلاة، وكانت تسمى أيام الجاهلية بالعروبة، قيل أن أول من سماها جمعة: كعب بن لؤي، وقيل الأنصار.

قال الإمام ابن سيرين رحمه الله: (جمع أهل المدينة من قبل أن

--------------------------------------------

(1) سورة الجمعة، الآيات: 9، 10، 11.
‌[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে জুমার খুতবা]

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

পবিত্র কুরআনে জুমার খুতবা মহান আল্লাহর কিতাব সূরা আল-জুমুআ-তে বর্ণিত হয়েছে। এতে তিনটি আয়াত রয়েছে যা মহান আল্লাহর কিতাবে জুমার দিনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে: {হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা পরিত্যাগ করো। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। আর যখন তারা কোনো ব্যবসা বা খেল-তামাশা দেখে, তখন তারা আপনাকে দণ্ডায়মান অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে যায়। আপনি বলুন, আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা খেল-তামাশা ও ব্যবসার চেয়ে উত্তম। আর আল্লাহই সর্বোত্তম রিজিকদাতা।} [জুমুআ: ৯ - ১১] (১)।

মহান আল্লাহর বাণী: {জুমার দিন} [জুমুআ: ৯] সম্পর্কে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: (কুরআন মাজিদ গুরুত্বারোপ ও গাম্ভীর্যের সাথে অবতীর্ণ হয়েছে, সুতরাং তোমরা একে ‘জুমুআ’ পড়ো)। এই নামে নামকরণের কারণ: - হয় এজন্য যে আল্লাহ এতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টিকে একত্রিত করেছেন, অথবা এজন্য যে আল্লাহ এতে সমস্ত কিছু সৃষ্টি করা থেকে অবসর হয়েছেন ফলে এতে মাখলুকাতসমূহ একত্রিত হয়েছে। আবার বলা হয়েছে যে, সালাতের জন্য মানুষের একত্রিত হওয়ার কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে। জাহেলি যুগে একে ‘আরুবাহ’ বলা হতো। বলা হয় যে, সর্বপ্রথম একে ‘জুমুআ’ নামকরণ করেছেন কাব বিন লুআই, আবার কেউ বলেছেন আনসারগণ।

ইমাম ইবনে সিরিন (রহ.) বলেন: (মদিনাবাসী একত্রিত হয়েছিলেন এর আগে যে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-জুমুআ, আয়াত: ৯, ১০, ১১।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
يقدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة، وقبل أن تنزل الجمعة وهم الذين سموها الجمعة (1) .

أما أول جمعة جمعها النبي صلى الله عليه وسلم بأصحابه فإنه عندما هاجر إلى المدنية أقام بقباء من يوم الإثنين إلى يوم الخميس وأسس مسجدهم، ثم خرج يوم الجمعة إلى المدينة فأدركته الجمعة في بني سالم بن عوف في بطن واد لهم، قد اتخذ القوم في ذلك الوادي مسجدا فجمع بهم وخطب وهي أول خطبة خطبها في المدينة (2) .

قوله تعالى: {فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ} [الجمعة: 9]-

قيل المراد بذكر الله الصلاة وقيل الخطبة والمواعظ.

وقال الإمام ابن العربي رحمه الله: والصحيح أن السعي واجب في الجميع وأوله الخطبة.

واسعوا: بمعنى: امضوا إلى ذكر الله واعملوا له.

وقوله تعالى: {وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا} [الجمعة: 11] ورد في صحيح مسلم عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يخطب قائما يوم الجمعة فجاءت عير من الشام فانفتل

--------------------------------------------

(1) القرطبي (الجامع لأحكام القرآن) ج18، ص97.

(2) القرطبي (الجامع لأحكام القرآن) ج18، ص97.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় আগমন করেন এবং জুমার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেই তারা (মদিনাবাসী) এর নাম 'জুমা' রেখেছিলেন (১)।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের নিয়ে প্রথম যে জুমা আদায় করেছিলেন তার বিবরণ হলো: তিনি যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কুবায় অবস্থান করেন এবং তাদের মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। অতঃপর শুক্রবার তিনি মদিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং বনু সালিম ইবনে আউফের এলাকায় পৌঁছালে জুমার সময় হয়। তারা ঐ উপত্যকার অভ্যন্তরে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিল, সেখানে তিনি তাদের নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং খুতবা প্রদান করেন। এটিই ছিল মদিনায় তাঁর প্রদানকৃত প্রথম খুতবা (২)।

মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও} [জুমা: ৯]—

বলা হয়েছে যে, আল্লাহর স্মরণ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সালাত, আবার কেউ বলেছেন এর দ্বারা খুতবা ও নসিহত উদ্দেশ্য।

ইমাম ইবনুল আরাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: সঠিক (الصحيح) মত হলো, এই সবকিছুর জন্যই ধাবিত হওয়া আবশ্যক (واجب) এবং এর শুরু হলো খুতবা।

'ধাবিত হও' (واسعوا) এর অর্থ হলো: আল্লাহর স্মরণের দিকে অগ্রসর হও এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য আমল করো।

মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যখন কোনো ব্যবসা বা খেল-তামাশা দেখে তখন তারা আপনাকে দণ্ডায়মান অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে যায়} [জুমা: ১১]। সহিহ মুসলিম গ্রন্থে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার দিন দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় সিরিয়া থেকে একটি বাণিজ্য কাফেলা আসে, তখন তারা সেদিকে ছুটে যায়...

--------------------------------------------

(১) আল-কুরতুবি (আল-জামি লি আহকামিল কুরআন), খণ্ড ১৮, পৃষ্ঠা ৯৭।

(২) আল-কুরতুবি (আল-জামি লি আহকামিল কুরআন), খণ্ড ১৮, পৃষ্ঠা ৯৭।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الناس إليها حتى لم يبق إلا اثنا عشر رجلا فأنزلت هذه الآية التي في الخطبة: {وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً} [الجمعة: 11] إلخ» .

(انفتل: انصرف) .

وذكر أبو داود في مراسيله السبب الذي رخصوا لأنفسهم في ترك سماع الخطبة وقد كان خليقا بفضلهم ألا يفعلوا فقال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي الجمعة قبل الخطبة مثل العيدين حتى كان يوم جمعة والنبي صلى الله عليه وسلم يخطب وقد صلى الجمعة فدخل رجل فقال: إن دحية بن خليفة الكلبي قدم بتجارة، وكان دحية إذا قدم تلقاه أهله بالدفاف، فخرج الناس فلم يظنوا إلا أنه ليس في ترك الجمعة شيء فأنزل الله هذه الآية، فقدم النبي صلى الله عليه وسلم الخطبة وأخر الصلاة (1) .

وقوله تعالى: {وَتَرَكُوكَ قَائِمًا} [الجمعة: 11]

يؤخذ من الآية الكريمة أن قيام الخطيب على المنبر أو المكان المرتفع شرط إذا خطب قاله بعض العلماء. قال علقمة: سئل عبد الله أكان النبي صلى الله عليه وسلم يخطب قائما أو قاعدا؟ فقال: أما تقرأ قوله: {وَتَرَكُوكَ قَائِمًا} [الجمعة: 11]

عن جابر بن سمرة «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يخطب قائما ثم يجلس ثم يقوم فيخطب قائما فمن نبأك أنه كان يخطب جالسا فقد

--------------------------------------------

(1) القرطبي (الجامع لأحكام القرآن) ، ج18 - ص 97.
মানুষ সেদিকে ধাবিত হলো এমনকি মাত্র বারোজন লোক অবশিষ্ট রইল। তখন খুতবার বিষয়ে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: {আর যখন তারা কোনো ব্যবসা দেখতে পায়} [জুমুআ: ১১] ইত্যাদি।

(ইনফাতালা (انفتل) অর্থ: ফিরে যাওয়া (انصرف))।

আবু দাউদ তাঁর মরাসিল গ্রন্থে সেই কারণটি উল্লেখ করেছেন যার ফলে তারা খুতবা শোনা বর্জন করার ব্যাপারে নিজেদের ছাড় দিয়েছিলেন, অথচ তাঁদের সুমহান মর্যাদার উপযুক্ত ছিল যে তাঁরা এমনটি করবেন না। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই ঈদের ন্যায় খুতবার আগে জুমার সালাত আদায় করতেন। এক জুমার দিনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুতবা দিচ্ছিলেন আর তিনি ইতিপূর্বেই জুমার সালাত আদায় করে ফেলেছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি প্রবেশ করে বলল: দিহয়াহ বিন খালিফা আল-কালবি ব্যবসার মালামাল নিয়ে এসেছেন। আর দিহয়াহ যখন আসতেন, তখন তাঁর পরিবার দফ বাজিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাত। তখন মানুষ বেরিয়ে গেল এবং তারা মনে করেছিল যে সালাত পরবর্তী খুতবা বর্জনে কোনো দোষ নেই। তখন আল্লাহ এই আয়াত নাজিল করেন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুতবাকে আগে নিয়ে আসেন এবং সালাতকে পরে পিছিয়ে দেন (১)।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তারা আপনাকে দণ্ডায়মান অবস্থায় রেখে চলে গেল} [জুমুআ: ১১]

এই মহিমান্বিত আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, খতিব যখন খুতবা দেবেন তখন মিম্বর বা কোনো উঁচু স্থানে দণ্ডায়মান হওয়া একটি শর্ত (شرط); কোনো কোনো আলেম এ কথা বলেছেন। আলকামা বলেন: আবদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন নাকি বসে? তিনি বললেন: তুমি কি আল্লাহর এই বাণী পাঠ করো না: {এবং তারা আপনাকে দণ্ডায়মান অবস্থায় রেখে চলে গেল} [জুমুআ: ১১]

জাবির বিন সামুরা থেকে বর্ণিত যে, «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন, এরপর বসতেন, পুনরায় দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তোমাকে সংবাদ দেয় যে তিনি বসে খুতবা দিতেন, সে অবশ্যই...

--------------------------------------------

(১) কুরতুবি (আল-জামি লি আহকামিল কুরআন), খণ্ড ১৮ - পৃষ্ঠা ৯৭।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
كذب، والله صليت معه أكثر من ألفي صلاة» . رواه مسلم (1) .

وفي الصحيحين عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يخطب خطبتين وهو قائم بينهما بجلوس» .

- خلاف العلماء في القيام حال الخطبة.

قال الأثرم: سمعت أبا عبد الله يسأل عن الخطبة قاعدا أو يقعد في إحدى الخطبتين فلم يعجبه وقال: قال الله تعالى: {وَتَرَكُوكَ قَائِمًا} [الجمعة: 11] وعند الشافعية شرط إن قدر عليه.

وعن الإمام أبي حنيفة: تجزيه الخطبة قاعدا فيكون القيام سنة. والراجح الأول للآية وللأحاديث الصحيحة.

فأما إن قعد لعذر من مرض أو عجز عن القيام فإن الصلاة تصح من القاعد العاجز عن القيام فالخطبة أولى (2) .

- حكم جلوس الإمام على المنبر عند خروجه على الناس لإلقاء الخطبة:

يرى جمهور أهل العلم أن جلوس الإمام على المنبر عند التأذين سنة. والحكمة فيه كما قال الزين بن المنير رحمه الله: سكون اللغط والتهيؤ للإنصات والاستنصات لسماع الخطبة وإحضار الذهن للذكر.

--------------------------------------------

(1) النووي (شرح صحيح مسلم) ج6، ص149.

(2) ابن قدامة (المغني) ج ص 303.
"তিনি মিথ্যা (كذب) বলেছেন, আল্লাহর শপথ আমি তাঁর সাথে দুই হাজারেরও বেশি সালাত আদায় করেছি।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।

এবং সহিহাইন-এ আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, "নবী (সা.) দাঁড়িয়ে দুটি খুতবা দিতেন এবং খুতবা দুটির মাঝে বসে বিরতি নিতেন।"

- খুতবা প্রদানের সময় দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে আলেমদের মতভেদ।

আসরাম বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহকে বসে খুতবা প্রদান করা অথবা দুই খুতবার কোনো একটিতে বসে থাকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি। বিষয়টি তিনি পছন্দ করেননি এবং বলেছেন: মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "আর তারা আপনাকে দণ্ডায়মান অবস্থায় ছেড়ে গেল" [জুমুআ: ১১]। আর শাফেয়ি মাজহাবের মতে, সামর্থ্য থাকলে এটি একটি শর্ত (شرط)।

ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণিত: বসে খুতবা প্রদান করলেও তা যথেষ্ট হবে, সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে থাকা হবে সুন্নত (سنة)। তবে পবিত্র আয়াতের কারণে এবং সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহের ভিত্তিতে প্রথম মতটিই অধিক গ্রহণযোগ্য (الراجح)।

আর যদি কেউ অসুস্থতা বা দাঁড়িয়ে থাকতে অক্ষম হওয়ার মতো কোনো ওজরের কারণে বসেন, তবে দাঁড়িয়ে থাকতে অক্ষম ব্যক্তির জন্য বসে সালাত আদায় করা যেহেতু সহিহ (تصح), তাই খুতবা তো আরও বেশি যুক্তিযুক্ত (২)।

- খুতবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে লোকসম্মুখে বের হওয়ার সময় ইমামের মিম্বরে বসার বিধান:

জমহুর (جمهور) আলেমদের মতে, আজান চলাকালীন ইমামের মিম্বরে বসা সুন্নত (سنة)। এর অন্তর্নিহিত হিকমত সম্পর্কে যেমনটা জাইন ইবনুল মুনাইয়ির (রহ.) বলেছেন: হট্টগোল শান্ত হওয়া এবং খুতবা শ্রবণ ও নিস্তব্ধতা অবলম্বনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং জিকিরের জন্য মনকে নিবিষ্ট করা।

--------------------------------------------

(১) নববী (শরহ সহিহ মুসলিম) খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৪৯।

(২) ইবনে কুদামা (আল-মুগনি) পৃষ্ঠা ৩০৩।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
- القعدة بين الخطبتين يوم الجمعة

عن عبد الله بن عمر قال: «كان النبي صلى الله عليه وسلم يخطب خطبتين يقعد بينهما» .

قيل يجب الجلوس وقيل أنه سنة، وقدرها من قال بوجوبها بقدر ما يقرأ سورة الإخلاص، وحال الجلوس بين الخطبتين لا كلام فيه لكن ليس فيه ألا يذكر الله أو يدعوه سرا كما قال الحافظ ابن حجر، الحكمة من هذه الجلسة الفصل بين الخطبتين والراحة (1) .

--------------------------------------------

(1) الحافظ ابن حجر فتح الباري، ج2، ص406.
- জুমার দিনে দুই খুতবার মধ্যবর্তী বৈঠক

আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি খুতবা প্রদান করতেন এবং এ দুটির মাঝে বসতেন»।

বলা হয়েছে যে, এই বৈঠকটি আবশ্যক (واجب) এবং কেউ কেউ বলেছেন এটি সুন্নাহ (سنة)। যারা একে আবশ্যক (واجب) বলেছেন, তারা এর সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন সূরা আল-ইখলাস পাঠ করার সমপরিমাণ সময়। দুই খুতবার মধ্যবর্তী বৈঠকের অবস্থায় কোনো কথা বলা যাবে না, তবে এর অর্থ এই নয় যে, সেখানে আল্লাহর জিকির করা বা গোপনে তাঁর কাছে দুআ করা যাবে না; যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন। এই বৈঠকের হিকমত হলো দুই খুতবার মাঝে পার্থক্য করা এবং বিশ্রাম নেওয়া (১)।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ ইবনে হাজার, ফাতহুল বারী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪০৬।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌[الفصل الثالث خطبة الجمعة في السنة المطهرة]

‌‌[المبحث الأول هل تصح الجمعة بدون خطبة]

الفصل الثالث

خطبة الجمعة في السنة المطهرة المبحث الأول

هل تصح الجمعة بدون خطبة. . .؟ يشترط للجمعة خطبتان وهذا مذهب الشافعي.

- وقال مالك وغيره يجزئه خطبة واحدة.

الوجه الأول: أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يخطب خطبتين وقد قال: «صلوا كما رأيتموني أصلي» ولأنهما أقيمتا مقام الركعتين في الظهر فكل خطبة مكان ركعة فالإخلال بأحدهما كالإخلال بإحدى الركعتين.

ويشترط لكل من الخطبتين:

حمد الله تعالى والصلاة والسلام على رسوله صلى الله عليه وسلم وأن يقرأ شيئا من القرآن؛ ويحتمل أن قراءة القرآن تكفي في إحداهما لما روى الشعبي قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا صعد المنبر يوم الجمعة استقبل الناس فقال: السلام عليكم، ويحمد الله ويثني عليه ويقرأ سورة ثم يجلس ثم يقوم فيخطب ثم ينزل. وكان أبو بكر وعمر يفعلانه» رواه الأثرم (1) .

--------------------------------------------

(1) ابن قدامة (المغني) ج2، ص305.
[তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র সুন্নাহর আলোকে জুমার খুতবা]

[প্রথম অনুচ্ছেদ: খুতবা ব্যতীত কি জুমা সহীহ (صحيح) হবে?]

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

পবিত্র সুন্নাহর আলোকে জুমার খুতবা - প্রথম অনুচ্ছেদ

খুতবা ব্যতীত কি জুমা সহীহ (صحيح) হবে...? জুমার জন্য দুটি খুতবা শর্ত (شرط) করা হয়েছে এবং এটি ইমাম শাফেয়ী রহ.-এর মাযহাব।

- আর ইমাম মালেক রহ. ও অন্যান্যগণ বলেছেন যে, একটি খুতবাই তার জন্য যথেষ্ট হবে।

প্রথম দলিল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি খুতবা প্রদান করতেন এবং তিনি বলেছেন: «তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ»। আর এজন্য যে, জুমার দুই খুতবাকে যুহরের দুই রাকাতের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে; সুতরাং প্রতিটি খুতবা এক রাকাতের সমতুল্য। অতএব, এর যেকোনো একটির ত্রুটি মানে দুই রাকাতের কোনো একটির ত্রুটি করারই মতো।

আর দুই খুতবার প্রত্যেকটির জন্য শর্ত (شرط) হলো:

আল্লাহ তাআলার হামদ (প্রশংসা), তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত ও সালাম পাঠ করা এবং কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করা; আর এমন সম্ভাবনাও আছে যে, যেকোনো একটি খুতবায় কুরআন তিলাওয়াত করাই যথেষ্ট হবে। কেননা আশ-শা’বী বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জুমার দিন মিম্বরে আরোহণ করতেন, তখন মানুষের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলতেন: আসসালামু আলাইকুম। এরপর তিনি আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করতেন এবং একটি সূরা পাঠ করতেন, অতঃপর বসতেন। তারপর পুনরায় দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান করতেন এবং এরপর মিম্বর থেকে নেমে আসতেন। আবু বকর ও ওমর (রা.)-ও এরূপ করতেন»। এটি আল-আছরাম বর্ণনা (رواه) করেছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কুদামা (আল-মুগনী), ২য় খণ্ড, ৩০৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وقال الخرقي: ويحتمل أن لا يجب شيء سوى حمد الله والموعظة لأن ذلك يسمى خطبة ويحصل به المقصود فأجزأ وما عداه ليس على اشتراطه دليل.

وفي صحيح مسلم عن عمرة بنت عبد الرحمن عن أخت لها قالت: «ما أخذت {ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ} [ق: 1] إلا من رسول الله يوم الجمعة وهو يقرأ بها على المنبر في كل جمعة» .

قال البخاري: (باب الخطبة على المنبر) ، وقال أنس رضي الله عنه: «خطبنا النبي على المنبر» : يشرع للإمام إذا خرج على الناس وصعد المنبر أن يسلم عليهم قائلا: (السلام عليكم ورحمة الله وبركاته) وقد ورد حديث رواه ابن ماجه عن جابر رضي الله عنهما قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا صعد المنبر سلم» .

فهذا الحديث يدل على مشروعية التسليم من الخطيب على الناس بعد أن يرقى المنبر وقبل أن يؤذن المؤذن (1) كما يشرع للإمام أن يجيب المؤذن. فقد روى البخاري عن أبي أمامة بن سهل بن حنيف قال: «سمعت معاوية بن أبي سفيان وهو جالس على المنبر أذن المؤذن قال: الله أكبر. . الله أكبر، قال معاوية: الله أكبر. . . الله أكبر، فقال:

--------------------------------------------

(1) البغوي (شرح السنة) ج4 ص 242.
আল-খিরকি বলেন: এটি সম্ভবপর যে আল্লাহর প্রশংসা এবং উপদেশ প্রদান ব্যতীত অন্য কিছু আবশ্যিক নয়; কারণ এটিকেই খুতবা বলা হয় এবং এর মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হয়, ফলে তা যথেষ্ট হবে; আর এর অতিরিক্ত অন্য কোনো কিছু শর্তযুক্ত করার পক্ষে কোনো দলিল নেই।

সহীহ মুসলিমে আমরা বিনতে আবদুর রহমান থেকে তাঁর এক বোনের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «আমি ‘ক্বাফ ওয়াল কুরআনিল মাজিদ’ সূরাটি কেবল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকেই শিখেছি। তিনি প্রতি জুমু'আর দিন মিম্বরে দাঁড়িয়ে এটি তিলাওয়াত করতেন।»

ইমাম বুখারী বলেন: (পরিচ্ছেদ: মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান), এবং আনাস (রা.) বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে দাঁড়িয়ে আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিয়েছেন»: ইমাম যখন জনগণের সামনে বের হবেন এবং মিম্বরে আরোহণ করবেন, তখন তাঁর জন্য তাদের উদ্দেশ্যে ‘আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’ বলে সালাম দেওয়া বিধিবদ্ধ। ইবনে মাজাহ জাবির (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই মিম্বরে আরোহণ করতেন, সালাম দিতেন।»

এই হাদিসটি মিম্বরে আরোহণের পর এবং মুয়াজ্জিনের আজান দেওয়ার আগে খতিবের পক্ষ থেকে জনগণকে সালাম দেওয়ার বৈধতার প্রমাণ পেশ করে (১); যেমন ইমামের জন্য মুয়াজ্জিনের আজানের জবাব দেওয়াও বিধিবদ্ধ। ইমাম বুখারী আবু উমামাহ ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানকে মিম্বরে বসা অবস্থায় শুনেছি যখন মুয়াজ্জিন আজান দিচ্ছিলেন: ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’। তখন মুয়াবিয়া বললেন: ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’। এরপর তিনি বললেন:»

--------------------------------------------

(১) আল-বাগাবী (শারহুস সুন্নাহ) খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৪২।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
أشهد أن لا إله إلا الله، فقال معاوية وأنا، فقال: أشهد أن محمدا رسول الله، فقال معاوية: وأنا، فلما قضى التأذين قال: يا أيها الناس إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم على هذا المجلس حين أذن المؤذن يقول ما سمعتم مني من مقالتي» .

قال ابن حجر: وفي الحديث من الفوائد: تعلم العلم وتعليمه من الإمام وهو على المنبر وأن الخطيب يجيب المؤذن، وفيه إباحة الكلام قبل الشروع في الخطبة (1) .

 

‌‌[المبحث الثاني الاستماع إلى الخطبة]

المبحث الثاني

الاستماع إلى الخطبة لأهمية خطبة الجمعة شرع الإنصات لها والتدبر لما يذكر فيها وبالمقابل ورد النهي عن الكلام والعبث. فقد روى البخاري من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من اغتسل يوم الجمعة غسل الجنابة ثم راح في الساعة الأولى فكأنما قرب بدنة، ومن راح في الساعة الثانية فكأنما قرب بقرة، ومن راح في الساعة الثالثة فكأنما قرب كبشا أقرن، ومن راح في الساعة الرابعة فكأنما قرب دجاجة، ومن راح في الساعة الخامسة فكأنما قرب بيضة، فإذا خرج الإمام حضرت الملائكة يستمعون الذكر» .

--------------------------------------------

(1) ابن حجر (فتح الباري) بشرح صحيح البخاري - ج2 - ص 396.
"আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই", তখন মুয়াবিয়া (রা.) বললেন, "আমিও (তাই সাক্ষ্য দিচ্ছি)"। এরপর তিনি বললেন, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল", মুয়াবিয়া (রা.) বললেন, "আমিও (তাই সাক্ষ্য দিচ্ছি)"। যখন আজান শেষ হলো, তখন তিনি বললেন, "হে লোকসকল! মুয়াজ্জিন যখন আজান দিচ্ছিল, তখন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই আসনে বসে তা-ই বলতে শুনেছি, যা তোমরা আমার থেকে শুনলে।"

ইবনে হাজার বলেন: এই হাদিস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাসমূহ: ইমাম মিম্বরে থাকা অবস্থায় ইলম শিক্ষা করা ও প্রদান করা এবং খতিবের আজানের উত্তর প্রদান করা। এতে খুতবা শুরু করার আগে কথা বলার বৈধতা প্রমাণিত হয় (১)।

 

‌‌[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: খুতবা শ্রবণ করা]

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

খুতবা শ্রবণ করা: জুমার খুতবার গুরুত্বের কারণে তা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তাতে যা আলোচিত হয় তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। এর বিপরীতে কথা বলা এবং অনর্থক কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। ইমাম বুখারি আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি জুমার দিন জানাবাতের গোসলের মতো গোসল করল, অতঃপর প্রথম সময়ে (মসজিদে) গেল, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় সময়ে গেল, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। যে ব্যক্তি তৃতীয় সময়ে গেল, সে যেন একটি শিংওয়ালা মেষ কোরবানি করল। যে ব্যক্তি চতুর্থ সময়ে গেল, সে যেন একটি মুরগি কোরবানি করল। আর যে ব্যক্তি পঞ্চম সময়ে গেল, সে যেন একটি ডিম কোরবানি করল। অতঃপর যখন ইমাম (খুতবার জন্য) বের হন, তখন ফেরেশতারা জিকির (খুতবা) শোনার জন্য উপস্থিত হন»।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার (ফাতহুল বারি) শারহ সহিহ বুখারি - ২য় খণ্ড - ৩৯৬ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
قوله: إذا خرج الإمام حضرت الملائكة يستمعون الذكر (1) .

استنبط منه الماوردي: أن التبكير لا يستحب للإمام، والمراد بالذكر: ما في الخطبة من المواعظ وغيرها. والمراد بطي الصحف: صحف الفضائل المتعلقة بالمبادرة إلى الجمعة دون غيرها من سماع الخطبة وإدراك الصلاة والذكر والدعاء والخشوع ونحو ذلك فإنه يكتبه الملكان الحافظان.

وروى البخاري: «-إذا قلت لصاحبك يوم الجمعة أنصت والإمام يخطب فقد لغوت» -.

واللغو: ما لا يحسن من الكلام.

ولغوت: خبت من الأجر أو بطلت فضيلة جمعتك، وقيل صارت جمعتك ظهرا.

وفي حديث رواه الإمام أحمد عن علي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من قال صه فقد تكلم ومن تكلم فلا جمعة له» .

قال العلماء: معناه لا جمعة له كاملة (2) .

وروى الترمذي من حديث أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من قال يوم الجمعة والإمام يخطب أنصت فقد لغى» .

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري مع الفتح - ج2 - ص396.

(2) ابن حجر فتح الباري بشرح صحيح البخاري - ج2 ص408.
তাঁর উক্তি: যখন ইমাম (খুতবার জন্য) বের হন তখন ফেরেশতারা জিকির শোনার জন্য উপস্থিত হন (১)।

আল-মাওয়ার্দি এ থেকে উদ্ভাবন করেছেন যে: ইমামের জন্য আগেভাগে আসা মুস্তাহাব নয়। আর জিকির বলতে খুতবার মধ্যকার নসিহত ও অন্যান্য বিষয়কে বোঝানো হয়েছে। আর আমলনামা গুটিয়ে নেওয়ার অর্থ হলো: জুমার জন্য দ্রুত আসার সাথে সংশ্লিষ্ট ফজিলতের দফতরসমূহ; খুতবা শোনা, নামাজ পাওয়া, জিকির, দোয়া, খুশু এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ তা সংরক্ষণকারী ফেরেশতাদ্বয় লিখে থাকেন।

বুখারি বর্ণনা করেছেন: "জুমার দিন যখন ইমাম খুতবা দেন, তখন যদি তুমি তোমার সাথীকে বলো 'চুপ থাকো', তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।"

অনর্থক কাজ হলো: কথাবার্তার মধ্যে যা সমীচীন নয়।

আর 'তুমি অনর্থক কাজ করলে' এর অর্থ হলো: তুমি সওয়াব থেকে বঞ্চিত হলে অথবা তোমার জুমার ফজিলত বাতিল হয়ে গেল। কেউ কেউ বলেন, তোমার জুমা জোহরের নামাজে পরিণত হলো।

ইমাম আহমাদ আলী (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলল 'চুপ করো' সে কথা বলল, আর যে কথা বলল তার কোনো জুমা নেই।"

উলামায়ে কেরাম বলেন: এর অর্থ হলো তার জুমা পূর্ণাঙ্গ হবে না (২)।

তিরমিযি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "জুমার দিন ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় যে ব্যক্তি বলল 'চুপ থাকো', সে অনর্থক কাজ করল।"

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি মাআল ফাতহ - ২য় খণ্ড - ৩৯৬ পৃষ্ঠা।

(২) ইবনে হাজার, ফাতহুল বারি শারহু সহিহ বুখারি - ২য় খণ্ড, ৪০৮ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
قال أبو عيسى الترمذي: حديث أبي هريرة حديث حسن، والعمل عليه عند أهل العلم: كرهوا الرجل أن يتكلم والإمام يخطب، وقالوا إن تكلم غيره فلا ينكر عليه إلا بالإشارة.

واختلفا في رد السلام وتشميت العاطس، فرخص بعض أهل العلم في رد السلام وتشميت العاطس والإمام يخطب وهو قول أحمد وإسحاق. وكره بعض أهل العلم من التابعين وغيرهم ذلك وهو قول الشافعي (1) .

 

‌‌[المبحث الثالث صفة خطبة النبي صلى الله عليه وسلم]

المبحث الثالث

صفة خطبة النبي صلى الله عليه وسلم عن جابر عن عبد الله رضي الله عنهما «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا خطب احمرت عيناه وعلا صوته واشتد غضبه حتى كأنه منذر جيش يقول: " صبحكم ومساكم "، ويقول: " بعثت أنا والساعة كهاتين " ويقرن بين أصابعه السبابة والوسطى ويقول: -أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة في ضلالة» . رواه مسلم.

وعن جابر بن سمرة رضي الله عنه قال: «كنت أصلي مع رسول الله فكان صلاته قصدا وخطبته قصدا» . رواه مسلم.

--------------------------------------------

(1) المباركفوري (تحفة الأحوذي) شرح جامع الترمذي - ج3 - ص40.
আবু ঈসা আত-তিরমিযী বলেন: আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসটি হাসান (حسن) এবং আলেমগণের নিকট এর ওপর আমল বিদ্যমান। তারা ইমাম খুতবা দেওয়া অবস্থায় কোনো ব্যক্তির কথা বলাকে অপছন্দ করেছেন। তারা বলেছেন যে, যদি অন্য কেউ কথা বলে, তবে তাকে যেন কেবল ইশারার মাধ্যমেই নিষেধ করা হয়।

সালামের উত্তর দেওয়া এবং হাঁচিদাতার দোয়ার জবাব দেওয়ার বিষয়ে আলেমগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কোনো কোনো আলেম ইমামের খুতবা চলাকালীন সালামের উত্তর দেওয়া এবং হাঁচিদাতার দোয়ার জবাব দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন; এটি ইমাম আহমাদ ও ইসহাকের অভিমত। তবে তাবেয়ী এবং অন্যান্য আলেমগণের মধ্য থেকে একদল এটি অপছন্দ করেছেন, যা ইমাম শাফিঈর অভিমত (১)।

 

‌‌[তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবার বৈশিষ্ট্য]

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবার বৈশিষ্ট্য। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতেন, তখন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেত, তাঁর কন্ঠস্বর উঁচু হতো এবং তাঁর ক্রোধ তীব্র হতো, মনে হতো তিনি যেন কোনো সৈন্যবাহিনীকে সতর্ক করছেন যে— "শত্রু তোমাদের সকাল অথবা সন্ধ্যায় আক্রমণ করবে।" তিনি বলতেন: "আমি এবং কিয়ামত এই দুটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি" এবং তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল দুটি একত্রিত করতেন। তিনি আরও বলতেন: "অতঃপর সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মাদ-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

জাবির ইবনে সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করতাম। তাঁর সালাত ছিল পরিমিত এবং তাঁর খুতবাও ছিল পরিমিত।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মুবারকপুরী (তুহফাতুল আহওয়াযী) শারহু জামি' আত-তিরমিযী - খণ্ড ৩ - পৃষ্ঠা ৪০।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
والمعنى: أنها معتدلة بين الطول الظاهر والتخفيف الماحق.

وروى مسلم عن أبي وائل قال: «خطبنا عمار فأوجز وأبلغ فلما نزل قلنا: يا أبا اليقظان لقد أبلغت وأوجزت فلو كنت تنفست فقال: إني سمعت رسول الله يقول: إن طول صلاة الرجل وقصر خطبته مئنة من فقهه فأطيلوا الصلاة وأقصروا الخطبة وإن من البيان سحرا» .

ومعنى: تنفست: أطلت قليلا.

ومئنة بمعنى: علامة دالة على فقهه.

إن بعضا من الخطباء درج الإطالة في الخطبة مما قد يدعو إلى السأم والملل، والسنة الإيجاز والاختصار بعيدا عن الإخلال من الاهتمام بالموضوع الذي سوف يطرحه الخطيب، ومن المستحسن في نظري أن تكون الخطبة في الأحوال العادية في حدود عشرين دقيقة، ومن المهم مراعاة الحاضرين فقد يكون بعض المسلمين في برد شديد خارج المكان الدافئ كما أنهم قد يكونون في حر شديد خارج المكان المكيف كما أن بعضهم قد يجيء مبكرا إلى المسجد وقد يضايقه البول إذا ما أطيلت الخطبة، وقد وردت النصوص تحث على مراعاة الناس وعدم الإثقال عليهم فقد يكون فيهم الضعيف الذي لا يتحمل الإطالة وقد يكون فيهم صاحب حاجة يتضرر بالتأخير، والاعتدال هو المطلوب فلا تكون الخطبة قصيرة جدا فيها إخلال ولا طويلة جدا فيها إملال.
এর অর্থ হলো: এটি স্পষ্ট দীর্ঘতা এবং অতিশয় সংক্ষিপ্ততার মাঝামাঝি একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা।

ইমাম মুসলিম আবু ওয়ায়িল থেকে বর্ণনা করেছেন (روى), তিনি বলেন: "আম্মার আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করলেন, যা ছিল সংক্ষিপ্ত এবং অত্যন্ত প্রাঞ্জল। তিনি যখন মিম্বর থেকে নামলেন, আমরা বললাম: হে আবুল ইয়াকজান! আপনি অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছেন, আপনি যদি বিষয়টি আরও কিছুটা দীর্ঘ করতেন! তখন তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি: 'কোনো ব্যক্তির সালাত দীর্ঘ হওয়া এবং খুতবা সংক্ষিপ্ত হওয়া তার গভীর প্রজ্ঞার (فقه) পরিচায়ক (مئنة)। সুতরাং তোমরা সালাত দীর্ঘ করো এবং খুতবা সংক্ষিপ্ত করো। নিশ্চয়ই কোনো কোনো প্রাঞ্জল বর্ণনার (البيان) মাঝে জাদু (سحر) রয়েছে'।"

'তানাফফাস্তা' (تنفست) শব্দের অর্থ হলো: আপনি সামান্য দীর্ঘ করলেন।

'মায়িন্নাহ' (مئنة) শব্দের অর্থ হলো: তার প্রজ্ঞার (فقه) পরিচায়ক (مئنة) বা নিদর্শন।

নিশ্চয়ই কিছু খতিব খুতবা দীর্ঘ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন, যা শ্রোতাদের মাঝে ক্লান্তি ও বিরক্তির উদ্রেক করতে পারে। অথচ সুন্নাহ (سنة) হলো খুতবা উপস্থাপনকালে বিষয়ের গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে সংক্ষিপ্তসার ও সংক্ষেপণ করা। আমার দৃষ্টিতে সাধারণ অবস্থায় খুতবা ২০ মিনিটের মধ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয়। উপস্থিত মুসল্লিদের অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ অনেক মুসলিম হয়তো উষ্ণ পরিবেশের বাইরে তীব্র শীতের মধ্যে আছেন, আবার কেউ হয়তো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার বাইরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অবস্থান করছেন। তদুপরি, অনেকে মসজিদে অনেক আগে আসেন, তাই খুতবা দীর্ঘ হলে প্রস্রাবের চাপে তারা কষ্ট পেতে পারেন। মানুষের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং তাদের ওপর বোঝা না চাপানোর ব্যাপারে শরিয়তের দলিলসমূহ (النصوص) উদ্বুদ্ধ করে। কারণ মুসল্লিদের মধ্যে দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তি থাকতে পারেন যিনি দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরতে সক্ষম নন, আবার কারো জরুরি প্রয়োজন থাকতে পারে যা বিলম্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ভারসাম্য বজায় রাখাই কাম্য; খুতবা যেন এমন সংক্ষিপ্ত না হয় যাতে মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়, আবার এমন দীর্ঘও না হয় যা বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌[المبحث الرابع نموذج من خطب الجمعة للنبي صلى الله عليه وسلم]

المبحث الرابع

نموذج من خطب الجمعة للنبي صلى الله عليه وسلم (1) خطب النبي صلى الله عليه وسلم فقال: الحمد لله أحمده، وأستعينه، وأستغفره، وأستهديه وأومن به ولا أكفره، وأعادي من يكفر به، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمد عبده ورسوله أرسله بالهدى ودين الحق والنور والموعظة والحكمة على فترة من الرسل، وقلة من العلم، وضلالة من الناس، وانقطاع من الزمان، ودنو من الساعة، وقرب من الأجل. من يطع الله ورسوله فقد رشد، ومن يعص الله ورسوله فقد غوى وفرط، وضل ضلالا بعيدا.

أوصيكم بتقوى الله، فإنه خير ما أوصى المسلم المسلم أن يحضه على الآخرة، وأن يأمره بتقوى الله، واحذروا ما حذركم الله نفسه، فإن تقوى الله لمن عمل به على وجل ومخافة من ربه عون صدق على ما تبغون من أمر الآخرة.

ومن يصلح الذي بينه وبين ربه من أمره في السر والعلانية لا ينوي إلا وجه الله يكن له ذكرا في عاجل أمره، وذخرا فيما بعد الموت حين يفتقر المرء إلى ما قدم، وما كان سوى ذلك يود لو أن بينه وبينه أمدا بعيدا من {وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ} [آل عمران: 30] (2) هو الذي

--------------------------------------------

(1) القرطبي (الجامع لأحكام القرآن) - 18 - ص98.

(2) سورة - آل عمران الآية: 30.
‌[চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুমুআর খুতবার একটি নমুনা]

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুমুআর খুতবার একটি নমুনা (১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা প্রদান করলেন এবং বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই, তাঁরই কাছে হিদায়াত কামনা করি এবং তাঁর ওপর ঈমান আনি। আমি তাঁকে অস্বীকার করি না এবং যারা তাঁকে অস্বীকার করে তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাকে হিদায়াত, সত্য দ্বীন, নূর, সদুপদেশ এবং প্রজ্ঞা দিয়ে এমন এক সময়ে পাঠিয়েছেন যখন দীর্ঘকাল কোনো রাসূল আসেননি, ইলমের (জ্ঞানের) স্বল্পতা দেখা দিয়েছিল, মানুষ পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিল, সময়ের অবসান ঘনিয়ে এসেছিল এবং কিয়ামত ও মৃত্যু অত্যন্ত নিকটবর্তী হয়েছিল। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করল, সে সঠিক পথ প্রাপ্ত হলো; আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলো, সে বিপথগামী ও সীমালঙ্ঘনকারী হলো এবং সুদূরপ্রসারী গোমরাহিতে নিমজ্জিত হলো।

আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতির অসিয়ত করছি। কেননা একজন মুসলিমের অন্য মুসলিমকে দেওয়া সর্বোত্তম অসিয়ত হলো তাকে পরকালের বিষয়ে উৎসাহিত করা এবং তাকে আল্লাহভীতির নির্দেশ দেওয়া। আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের সত্তার ব্যাপারে যে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন, সে বিষয়ে সতর্ক থেকো। কারণ যে ব্যক্তি স্বীয় রবের ভয়ে ভীত হয়ে আল্লাহভীতির সাথে আমল করে, তার জন্য এই আল্লাহভীতি পরকালের উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সর্বোত্তম সত্যনিষ্ঠ সহায়ক।

আর যে ব্যক্তি তার এবং তার রবের মধ্যকার গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়গুলো সংশোধন করে নেয় এবং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোনো নিয়ত পোষণ করে না, তা দুনিয়াতে তার জন্য সুখ্যাতি এবং মৃত্যুর পরের সময়ের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে, যখন মানুষ তার অগ্রিম পাঠানো আমলের মুখাপেক্ষী হবে। আর এর বিপরীত যা কিছু থাকবে, সেদিন মানুষ কামনা করবে যে যদি তার ও সেই আমলের মাঝে এক সুদীর্ঘ ব্যবধান থাকত! "আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের সত্তার ব্যাপারে সতর্ক করছেন; আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।" [আল-ইমরান: ৩০] (২) তিনিই সেই সত্তা যিনি

--------------------------------------------

(১) আল-কুরতুবি (আল-জামি লি আহকামিল কুরআন) - ১৮ - পৃষ্ঠা ৯৮।

(২) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩০।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
صدق قوله وأنجز وعده، لا خلف لذلك، فإنه يقول: {مَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ وَمَا أَنَا بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ} [ق: 29] (1) فاتقوا الله في عاجل أمركم وآجله، في السر والعلانية فإنه {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا} [الطلاق: 5] (2) ومن يتق الله فقد فاز فوزا عظيما، وإن تقوى الله توقي مقته، وتوقي عقوبته، وتوقي سخطه. وإن تقوى الله تبيض الوجوه، وترضي الرب، وترفع الدرجة، فخذوا بحظكم، ولا تفرطوا في جنب الله فقد علمكم كتابه، ونهج لكم سبيله، ليعلم الذين صدقوا، ويعلم الكاذبين.

فأحسنوا كما أحسن الله إليكم، وعادوا أعداءه، وجاهدوا في الله حق جهاده، هو اجتباكم، وسماكم المسلمين، ليهلك من هلك عن بينة، ويحيا من حيي عن بينة، ولا حول ولا قوة إلا بالله فأكثروا ذكر الله تعالى، وأعملوا لما بعد الموت، فإنه من يصلح ما بينه وبين الله يكفه الله ما بينه وبين الناس، ذلك بأن الله يقضي على الناس ولا يقضون عليه، ويملك من الناس ولا يملكون منه، الله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم ".

--------------------------------------------

(1) سورة ق - الآية 29.

(2) سورة الطلاق - الآية 5.
তাঁর বাণী সত্য এবং তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, এর কোনো ব্যত্যয় নেই। কেননা তিনি বলেন: {আমার নিকট কথা রদবদল হয় না এবং আমি বান্দাদের প্রতি মোটেও জুলুমকারী নই} [ক্বাফ: ২৯] (১)। অতএব তোমরা তোমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের কার্যাবলীতে, গোপনে এবং প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করো। কারণ {যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার পাপসমূহ মোচন করে দেন এবং তাকে মহাপুরস্কার দান করেন} [আত-তালাক: ৫] (২)। আর যে আল্লাহকে ভয় করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহর তাকওয়া বা পরহেযগারী তাঁর ঘৃণা থেকে রক্ষা করে, তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচায় এবং তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে রক্ষা করে। নিশ্চয়ই তাকওয়া মুখমণ্ডলকে উজ্জ্বল করে, প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে। অতএব তোমরা তোমাদের প্রাপ্য অংশ গ্রহণ করো এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনে অবহেলা করো না। তিনি তোমাদেরকে তাঁর কিতাব শিক্ষা দিয়েছেন এবং তোমাদের জন্য তাঁর পথ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যাতে তিনি সত্যবাদীদের (صادقين) চিনে নিতে পারেন এবং মিথ্যাবাদীদের (كاذبين) জেনে নিতে পারেন।

সুতরাং তোমরা সদাচরণ করো যেমন আল্লাহ তোমাদের প্রতি সদাচরণ করেছেন, তাঁর শত্রুদের সাথে শত্রুতা পোষণ করো এবং আল্লাহর পথে যথাযথভাবে জিহাদ করো। তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন এবং তোমাদের নামকরণ করেছেন মুসলিম, যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই। অতএব তোমরা মহান আল্লাহর জিকির অধিক পরিমাণে করো এবং মৃত্যু-পরবর্তী সময়ের জন্য আমল করো। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার মধ্যবর্তী বিষয়াদি সংশোধন করে নেয়, আল্লাহ তার ও মানুষের মধ্যবর্তী বিষয়াদির জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। তা এই জন্য যে, আল্লাহ মানুষের ওপর ফয়সালা করেন কিন্তু মানুষ তাঁর ওপর কোনো ফয়সালা করতে পারে না; তিনি মানুষের ওপর কর্তৃত্ব করেন কিন্তু মানুষ তাঁর ওপর কোনো কর্তৃত্ব করতে পারে না। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, এবং সুউচ্চ মহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।

--------------------------------------------

(১) সূরা ক্বাফ - আয়াত ২৯।

(২) সূরা আত-তালাক - আয়াত ৫।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌[المبحث الخامس تخطي رقاب الناس والإمام يخطب]

المبحث الخامس

تخطي رقاب الناس والإمام يخطب نظرا لما تحمله الخطبة من أهمية فقد ورد النهي في السنة المطهر عن إشغال الناس بتخطي رقابهم وما شاكل هذا مما يصرفهم عن الاستماع والاستفادة والاتعاظ.

فعن عبد الله بن بسر رضي الله عنه قال: «جاء رجل يتخطى رقاب الناس يوم الجمعة والنبي صلى الله عليه وسلم يخطب فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: " اجلس فقد آذيت» .

رواه أبو داود والنسائي وأحمد.

وزاد وآنيت: أي أبطأت وتأخرت.

وعن أرقم بن أبي الأرقم رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الذي يتخطى رقاب الناس يوم الجمعة ويفرق بين الأثنين بعد خروج الإمام كالجار قصبه في النار» رواه أحمد (1) .

وعن سهل بن معاذ بن أنس الجهني عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قال تخطى رقاب الناس يوم الجمعة اتخذ جسرا إلى جهنم» رواه الترمذي.

قال أبو عيسى الترمذي: حديث سهل بن معاذ بن أنس الجهني

--------------------------------------------

(1) الشوكاني (نيل الأوطار) ج3 - ص309.
[পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে যাওয়া এবং এমতাবস্থায় ইমামের খুতবা প্রদান]

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

ইমামের খুতবা প্রদানকালে মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে যাওয়া; খুতবার গুরুত্ব বিবেচনা করে পবিত্র সুন্নাহর মধ্যে মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে বা অনুরূপ কোনো পন্থায় তাদেরকে ব্যতিব্যস্ত করতে নিষেধ করা হয়েছে, যা তাদেরকে খুতবা শ্রবণ, উপকৃত হওয়া এবং উপদেশ গ্রহণ হতে বিমুখ করে দেয়।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: “জুমুআর দিন এক ব্যক্তি মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে আসছিল যখন নবী (সা.) খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন: ‘বসো, নিশ্চয়ই তুমি কষ্ট দিয়েছ’।”

এটি আবু দাউদ, নাসাঈ এবং আহমাদ বর্ণনা করেছেন।

এবং তিনি (আহমাদ) আরও বৃদ্ধি করেছেন: “ওয়া আনাইতা” (অর্থাৎ তুমি বিলম্ব করেছ); যার অর্থ হলো: তুমি দেরি করেছ এবং পিছিয়ে পড়েছ।

হযরত আরকাম ইবনে আবিল আরকাম (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি জুমুআর দিন মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে যায় এবং ইমাম (খুতবার জন্য) বের হওয়ার পর দুইজনের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়, সে যেন জাহান্নামে নিজের নাড়িভুঁড়ি টেনে নিয়ে যাচ্ছে।” এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন (১)।

সাহল ইবনে মুআয ইবনে আনাস আল-জুহানি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি জুমুআর দিন মানুষের ঘাড় ডিঙালো, তাকে জাহান্নামের অভিমুখে একটি সেতু হিসেবে গ্রহণ করা হবে।” এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।

আবু ঈসা তিরমিজি বলেছেন: সাহল ইবনে মুআয ইবনে আনাস আল-জুহানি বর্ণিত হাদিসটি...

--------------------------------------------

(১) শাওকানি (নাইলুল আওতার) ৩য় খণ্ড - ৩০৯ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
حديث غريب لا نعرفه إلا من حديث رشدين بن سعد. والعمل عليه عند أهل العلم: كرهوا أن يتخطى الرجل يوم الجمعة رقاب الناس وشددوا في ذلك (1) .

قال النووي في زوائد الروضة: إن المختار تحريمه للأحاديث الصحيحة واقتصر أصحاب أحمد على الكراهة فقط.

 

‌‌[المبحث السادس النوم حال الخطبة]

المبحث السادس

النوم حال الخطبة يأتي بعض المسلمين لصلاة الجمعة وقد يأتيه النوم وقت الخطبة ومما لا شك فيه أن ذلك من الشيطان لأنه حريص على إبعاد المسلم عن الاستفادة ومن الأفضل أن يتحرك المسلم ولا يضع رأسه بين فخذيه ناصبا ساقيه فإن هذه الجلسة مدعاة للنوم، وقد ورد عن بعض السلف كراهتهم للنوم.

قال الإمام ابن عون عن ابن سيرين رحمه الله: كانوا يكرهون النوم والإمام يخطب ويقولون فيه قولا شديدا، قال ابن عون: ثم لقيني بعد ذلك فقال: تدري ما يقولون. . .؟

قال: يقولون مثلهم كمثل سرية أخفقوا. ثم قال: هل تدري ما أخفقوا. . .؟ لم تغنم شيئا.

--------------------------------------------

(1) الشوكاني (نيل الأوطار) ج3 - ص309.
এটি একটি বিরল (غريب) হাদিস, রিশদিন বিন সা'দ-এর বর্ণিত হাদিস ব্যতীত এটি আমাদের জানা নেই। আলেমদের নিকট এর ওপর আমল বিদ্যমান: তাঁরা জুমার দিনে মানুষের ঘাড় টপকে সামনে যাওয়া অপছন্দ করেছেন এবং এ বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন (১)।

ইমাম নববী যাওয়ায়েদুল রওজা গ্রন্থে বলেছেন: সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহের ভিত্তিতে অগ্রগণ্য মত হলো এটি হারাম (تحريمه), আর আহমদের অনুসারীরা কেবল অপছন্দনীয়তার (الكراهة) ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন।

 

‌‌[ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: খুতবা চলাকালীন নিদ্রা]

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

খুতবা চলাকালীন নিদ্রা: কিছু মুসলিম জুমার সালাতের জন্য আসেন এবং খুতবার সময় তাদের ঘুম আসতে পারে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি শয়তানের পক্ষ থেকে, কারণ সে মুসলিমকে উপকার লাভ থেকে দূরে রাখতে উদগ্রীব থাকে। আর উত্তম হলো মুসলিম ব্যক্তি যেন নড়াচড়া করে এবং দুই উরুর মাঝখানে মাথা রেখে পা খাড়া করে না বসে, কেননা এই বসার ভঙ্গি ঘুমের উদ্রেক করে। কিছু পূর্বসূরী (السلف) থেকে ঘুমানোর ব্যাপারে অপছন্দনীয়তা (الكراهة) বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম ইবনে আউন ইবনে সিরিন (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন: তাঁরা ইমামের খুতবা প্রদানের সময় ঘুমানো অপছন্দ করতেন এবং এ বিষয়ে কঠোর কথা বলতেন। ইবনে আউন বলেন: এরপর তিনি আমার সাথে দেখা করে বললেন: আপনি কি জানেন তাঁরা কী বলেন...?

তিনি বললেন: তাঁরা বলেন যে তাঁদের উদাহরণ হলো এমন এক সেনাদলের মতো যারা ব্যর্থ হয়েছে। তারপর তিনি বললেন: আপনি কি জানেন 'ব্যর্থ হওয়া' বলতে কী বোঝায়...? যারা কোনো গনিমত অর্জন করতে পারেনি।

--------------------------------------------

(১) শাওকানি (নাইলুল আওতার) ৩য় খণ্ড - ৩০৯ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌[المبحث السابع تحية المسجد حال الخطبة أو الأذان]

المبحث السابع

تحية المسجد حال الخطبة أو الأذان ذهب بعض أهل العلم إلى أن تحية المسجد واجبة لمن يريد الجلوس فيه. فقد ورد في صحيح البخاري ومسلم عن أبي قتادة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا دخل أحدكم المسجد فلا يجلس حتى يصلي ركعتين» . وهذا الحكم يشمل الداخل أثناء الخطبة.

وقد ورد في الحديث عن جابر رضي الله عنه قال: «جاء رجل والنبي صلى الله عليه وسلم يخطب الناس يوم الجمعة (فقال: أصليت يا فلان. . .؟ قال: لا، قال: قم فاركع) » . رواه البخاري.

وفي رواية: فصل ركعتين.

والرجل قيل أنه سليك الغطفاني رضي الله عنه.

فالخلاصة أن خطبة الجمعة لا تمنع الداخل من أداء تحية المسجد، ولكن لتكن خفيفة ولو دخل أثناء الآذان فليركع التحية.

وإليك هذا السؤال الموجه لسماحة المفتي العام للمملكة العربية السعودية سماحة الشيخ عبد العزيز بن باز، وقد نشر مع جوابه في مجلة الدعوة السعودية.

س: لقد دار نقاش بيني وبين بعض الإخوان المصلين بمسجد
‌‌[সপ্তম পরিচ্ছেদ: খুতবা বা আজানের সময় তাহিয়্যাতুল মাসজিদ]

সপ্তম পরিচ্ছেদ

খুতবা বা আজানের সময় তাহিয়্যাতুল মাসজিদ। কোনো কোনো আলিম এই মত পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি মসজিদে বসতে চায় তার জন্য তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায় করা আবশ্যক। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায়ের আগে না বসে»। আর এই বিধান খুতবা চলাকালীন প্রবেশকারীর জন্যও প্রযোজ্য।

হাদিসে জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «এক ব্যক্তি এমন অবস্থায় আসলেন যখন নবী (সা.) জুমার দিন খুতবা দিচ্ছিলেন (তিনি বললেন: হে অমুক! তুমি কি সালাত আদায় করেছ? তিনি বললেন: না। নবী (সা.) বললেন: দাঁড়াও এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করো)»। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

অন্য একটি বর্ণনায় (رواية): «তবে দুই রাকাত সালাত আদায় করো»।

বলা হয়ে থাকে যে, সেই ব্যক্তিটি ছিলেন সুলাইক আল-গাতাফানি (রা.)।

সারকথা হলো, জুমার খুতবা মসজিদে প্রবেশকারীকে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায়ে বাধা দেয় না, তবে তা সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত। এমনকি যদি কেউ আজানের সময় প্রবেশ করে, তবে সে যেন তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায় করে নেয়।

সৌদি আরব রাজতন্ত্রের মহামান্য গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ-এর নিকট পেশকৃত একটি প্রশ্ন আপনার জন্য তুলে ধরা হলো, যা তার উত্তরসহ সৌদি আরবের 'মাজাল্লাত আদ-দাওয়াহ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

প্রশ্ন: মসজিদের কিছু মুসল্লি ভাইয়ের সাথে আমার একটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
(فتنة) ريفي مروري بجمهورية السودان الديمقراطية حول صلاة الركعتين عند الدخول للمسجد والإمام يخطب. . . أرجو من سماحة الشيخ الفتوى حول ذلك الموضوع. . . وهل هي جائزة أم لا. . .؟ علما بأن الإخوة المصلين أولئك في ذلك المسجد العتيق على مذهب الإمام مالك (مالكيون) . . .؟ ج: السنة عند دخول المسجد أن يصلي ركعتين تحية المسجد ولو كان الإمام يخطب لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «إذا دخل أحدكم المسجد فلا يجلس حتى يصلي ركعتين» .

أخرجه الشيخان في الصحيحين.

ولما روى مسلم في صحيحه عن جابر رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا جاء أحدكم يوم الجمعة والإمام يخطب فليصل ركعتين وليتجوز فيهما» ، وهذا نص صريح في المسألة لا يجوز لأحد أن يخالفه، ولعل الإمام مالكا رحمه الله لم تبلغه هذه النسبة إن ثبت عنه أنه نهى عن الركعتين وقت الخطبة، وإذا صحت السنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يجز لأحد أن يخالفها لقول أحد من الناس كائن من كان لقول الله عز وجل {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59]
সুদান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মারউই গ্রাম এলাকায় মসজিদে প্রবেশের সময় যখন ইমাম খুতবা প্রদান করেন তখন দুই রাকাত নামাজ পড়া নিয়ে একটি বিবাদ (فتنة) তৈরি হয়েছে। আমি মান্যবর শায়খের কাছে এই বিষয়ে ফতোয়া প্রার্থনা করছি যে, বিষয়টি আসলে কী এবং এটি কি বৈধ নাকি বৈধ নয়? উল্লেখ্য যে, সেই প্রাচীন মসজিদের মুসল্লি ভাইগণ ইমাম মালিকের মাযহাব অনুসরণ করেন (মালিকি)। উত্তর: মসজিদে প্রবেশের সময় সুন্নাহ (سنة) হলো তাহিয়্যাতুল মাসজিদ হিসেবে দুই রাকাত নামাজ পড়া, যদিও ইমাম খুতবা দিতে থাকেন। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, সে যেন দুই রাকাত নামাজ না পড়া পর্যন্ত না বসে।”

এটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাদের সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

আর যেহেতু মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন জুমার দিন আসে এবং ইমাম খুতবা দিতে থাকেন, তখন সে যেন দুই রাকাত নামাজ পড়ে এবং তা সংক্ষেপে আদায় করে।” আর এটি এই বিষয়ের একটি স্পষ্ট দলিল (نص صريح), যা লঙ্ঘন করা কারও জন্য বৈধ নয়। আর সম্ভবত ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে এই বর্ণনাটি পৌঁছায়নি, যদি তাঁর পক্ষ থেকে খুতবার সময় দুই রাকাত নামাজ পড়তে নিষেধ করার বিষয়টি প্রমাণিত (ثبت) হয়ে থাকে। আর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুন্নাহ সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়, তখন অন্য কোনো ব্যক্তির বক্তব্যের কারণে তা লঙ্ঘন করা কারও জন্য বৈধ নয়, তিনি যে-ই হোন না কেন। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদেরও। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও— যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রেখে থাকো। এটাই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।} [সূরা নিসা: ৫৯]
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ولقوله سبحانه {وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ} [الشورى: 10] ومعلوم أن حكم الرسول صلى الله عليه وسلم من حكم الله عز وجل لقوله سبحانه {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: 80] والله ولي التوفيق (1) .

 

‌‌[المبحث الثامن الاستسقاء في الخطبة يوم الجمعة]

المبحث الثامن

الاستسقاء في الخطبة يوم الجمعة إذا أجدب الناس وقحطوا شرع لهم الاستسقاء وله حالات عدة منه: -

الأولى: الصلاة في المصلى حيث يخرج المسلمون مستكينين متضرعين فيصلي بهم الإمام ويخطب فيهم خطبة واحدة طالبا من الله تعالى الغيث.

الثاني: الاستسقاء في خطبة الجمعة حيث يدعو الإمام ربه بأن يغيث القلوب بالإيمان والطاعة والبلاد بالأماطر والبركات.

وقد ورد في السنة المطهرة أحاديث صحيحة توضح استسقاء النبي صلى الله عليه وسلم وهو يخطب يوم الجمعة، فمن ذلك عن أنس رضي الله عنه قال: «أصابت الناس سنة على عهد النبي صلى الله عليه وسلم فبينما النبي صلى الله عليه وسلم يخطب الجمعة قام أعرابي فقال: يا رسول الله: هلك المال وجاع العيال فادع

--------------------------------------------

(1) مجلة الدعوة الإسلامية - العدد 984.
এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, তার ফয়সালা আল্লাহর নিকট।" [আশ-শুরা: ১০] আর এটি সুবিদিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালা মহান আল্লাহরই ফয়সালার অন্তর্ভুক্ত; কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।" [আন-নিসা: ৮০] আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী। (১) .

 

‌‌[অষ্টম পরিচ্ছেদ: জুমার খুতবায় বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা (الاستسقاء)]

অষ্টম পরিচ্ছেদ

জুমার খুতবায় বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা (الاستسقاء): যখন মানুষ অনাবৃষ্টি ও দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে, তখন তাদের জন্য বৃষ্টির প্রার্থনা (الاستسقاء) করার বিধান দেওয়া হয়েছে। এর কয়েকটি অবস্থা রয়েছে, তন্মধ্যে:-

প্রথমত: নামাজের ময়দানে (مصلى) সালাত আদায় করা; যেখানে মুসলমানরা অত্যন্ত বিনয় ও কাকুতি-মিনতির সাথে বের হবে এবং ইমাম তাদের নিয়ে সালাত আদায় করবেন ও একটি খুতবা প্রদান করবেন, যেখানে তিনি মহান আল্লাহর কাছে বৃষ্টির প্রার্থনা করবেন।

দ্বিতীয়ত: জুমার খুতবায় বৃষ্টির প্রার্থনা (الاستسقاء) করা; যেখানে ইমাম তার রবের কাছে দুআ করবেন যেন তিনি ঈমান ও আনুগত্যের মাধ্যমে অন্তরসমূহকে সিক্ত করেন এবং বৃষ্টি ও বরকতের মাধ্যমে জনপদসমূহকে সিক্ত করেন।

পবিত্র সুন্নাহর মধ্যে বিশুদ্ধ (صحيحة) হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে যা জুমার খুতবা প্রদানকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৃষ্টির প্রার্থনা করার বিষয়টি স্পষ্ট করে। এর মধ্যে একটি হলো আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন এক গ্রাম্য ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং পরিবার-পরিজন অনাহারে রয়েছে, তাই আপনি দুআ করুন..."

--------------------------------------------

(১) মাজাল্লাত আদ-দাওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ - সংখ্যা ৯৮৪।
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
لنا الله، فرفع يديه وما نرى في السماء قزعة، فوالذي نفسي بيده ما وضعها حتى ثار السحاب أمثال الجبال ثم لم ينزل عن منبره حتى رأيت المطر يتحادر على لحيته صلى الله عليه وسلم فمطرنا يومنا ذلك ومن الغد وبعد الغد والذي يليه حتى الجمعة الأخرى، وقام ذلك الأعرابي أو قال غيره فقال: يا رسول الله تهدم البناء وغرق المال فادع الله لنا، فرفع يديه فقال. اللهم حوالينا ولا علينا، فما يشير بيده إلى ناحية السماء إلا انفرجت» رواه البخاري.

ومن السنة رفع اليدين أثناء الدعاء بنزول المطر، فقد روى البخاري رحمه الله من حديث أنس: «كان النبي صلى الله عليه وسلم لا يرفع يديه في شيء من دعائه إلا في الاستسقاء وأنه يرفع حتى يرى بياض إبطيه» ، وإذا كان رفع اليدين مشروعا للإمام حال الدعاء بالسقيا فإنه مشروع للمأموم أيضا أن يرفع يديه حال الدعاء بأن يغيث الله عز وجل البلاد والعباد.

ففي الحديث الذي رواه البخاري عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: «أتى رجل أعرابي من أهل البدو إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الجمعة فقال: يا رسول الله هلكت الماشية، هلك العيال، هلك الناس، فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم يديه يدعو ورفع الناس أيديهم يدعون» .
...আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন। অতঃপর তিনি তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করলেন, অথচ তখন আমরা আকাশে মেঘের একটি ক্ষুদ্র খণ্ডও দেখতে পাচ্ছিলাম না। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ নিহিত, তিনি তাঁর হাত নামানোর পূর্বেই পাহাড়ের ন্যায় মেঘরাশি পুঞ্জীভূত হয়ে উঠল। অতঃপর তিনি তাঁর মিম্বর থেকে অবতরণ করার পূর্বেই আমি দেখলাম তাঁর দাড়ি মোবারক বেয়ে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। সেদিন আমাদের ওপর বৃষ্টি হলো, তার পরবর্তী দিন এবং তারও পরবর্তী দিন, এমনকি পরবর্তী জুমা পর্যন্ত। অতঃপর সেই গ্রাম্য ব্যক্তি অথবা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে আরজ করল: ‘হে আল্লাহর রাসুল! ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হচ্ছে এবং জানমাল ডুবে যাচ্ছে, সুতরাং আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন।’ তখন তিনি তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করে বললেন: ‘হে আল্লাহ! আমাদের আশেপাশে বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়।’ তিনি আকাশের যে প্রান্তের দিকেই তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করছিলেন, মেঘ সেখান থেকেই সরে যাচ্ছিল।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

বৃষ্টির জন্য প্রার্থনার সময় হাত উত্তোলন করা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। ইমাম বুখারি (রহ.) আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বৃষ্টির প্রার্থনা (استسقاء) ব্যতিরেকে তাঁর অন্য কোনো দোয়ায় হাত তুলতেন না এবং তিনি হাত এত উঁচুতে উত্তোলন করতেন যে তাঁর বগলের শুভ্রতা পরিলক্ষিত হতো।" যখন বৃষ্টির প্রার্থনার সময় ইমামের জন্য হাত তোলা শরয়ি বিধান (مشروع) হিসেবে পরিগণিত, তখন মأمুমের জন্যও দেশ ও জনপদের কল্যাণে আল্লাহর নিকট বৃষ্টির প্রার্থনার সময় হাত তোলা শরয়ি বিধান (مشروع)।

ইমাম বুখারি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তাতে বলা হয়েছে: "এক গ্রাম্য ব্যক্তি জুমার দিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে নিবেদন করল: ‘হে আল্লাহর রাসুল! গবাদিপশু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, পরিবার-পরিজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মানুষ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে।’ তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করে দোয়া করলেন এবং উপস্থিত জনতাও হাত তুলে দোয়া করতে লাগল।"
(খণ্ড: ১) খুতবাতুল জুমুআহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌[الفصل الرابع مسائل فقهيه تتعلق بالخطبة]

الفصل الرابع

مسائل فقهيه تتعلق بالخطبة 1 - هل يصلي بالناس الجمعة غير الخطيب؟ السنة أن من يتولى الخطبة يتولى الصلاة كذلك لأنه صلى الله عليه وسلم كان يتولاهما بنفسه وكذلك خلفاؤه من بعده.

وإن خطب رجل وصلى آخر لعذر جاز ذلك. نص على ذلك الإمام أحمد (1) .

2 - إذا قرأ الخطيب آية تشتمل على سجدة وهو يخطب فهل يسجد سجود التلاوة؟ قال العلماء رحمهم الله: إن شاء سجد وإن ترك السجود فلا حرج، فعله عمر وترك، على أن سجود التلاوة ليس بواجب في الأصل.

3 - ما حكم الموالاة في الخطبة والموالاة بينها وبين الصلاة؟ الموالاة لا بد منها في الخطبة فلا يترك الخطبة إلا لأمر مهم يقضيه في وقت وجيز وبعد ذلك يبنى على ما مضى من خطبته، وكذلك تلزم الموالاة بين الخطبة والصلاة إلا لأمر مهم كالطهارة ونحوها.

4 - ما حكم استقبال الإمام الناس والعكس؟ استقبال الإمام الناس مستحب عند جمهور أهل العلم ومن لازمه

--------------------------------------------

(1) ابن قدامة (المغني) ج2 - ص307.
[চতুর্থ অধ্যায়: খুতবা সংশ্লিষ্ট ফিকহি মাসআলাসমূহ]

চতুর্থ অধ্যায়

খুতবা সংশ্লিষ্ট ফিকহি মাসআলাসমূহ ১ - খতিব ব্যতীত অন্য কেউ কি জুমার সালাত পরিচালনা করতে পারবেন? সুন্নাহ (سنة) হলো, যিনি খুতবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করবেন, তিনিই সালাত পরিচালনার দায়িত্বও পালন করবেন। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং উভয়টি সম্পাদন করতেন এবং তাঁর পরবর্তী খলিফাগণও তাই করতেন।

তবে কোনো ওজরের কারণে যদি একজন খুতবা দেন এবং অন্যজন সালাত পড়ান, তবে তা বৈধ। ইমাম আহমদ (১) এ কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

২ - খতিব খুতবা দেওয়ার সময় যদি এমন কোনো আয়াত পাঠ করেন যাতে সিজদাহ রয়েছে, তবে তিনি কি তিলাওয়াতের সিজদাহ (سجود التلاوة) করবেন? উলামায়ে কেরাম (রহ.) বলেছেন: তিনি চাইলে সিজদাহ করতে পারেন, আর যদি সিজদাহ বর্জন করেন তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। ওমর (রা.) এটি করেছেন আবার কখনো বর্জন করেছেন; তদুপরি তিলাওয়াতের সিজদাহ (سجود التلاوة) মূলত ওয়াজিব (واجب) নয়।

৩ - খুতবার মধ্যে ধারাবাহিকতা (موالاة) এবং খুতবা ও সালাতের মধ্যবর্তী ধারাবাহিকতার (موالاة) বিধান কী? খুতবায় ধারাবাহিকতা (موالاة) রক্ষা করা অপরিহার্য। সুতরাং অতি সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন করা যায় এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন ব্যতীত খুতবা মাঝপথে ত্যাগ করা যাবে না। এরপর তিনি খুতবার পূর্ববর্তী অংশের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী অংশ সম্পন্ন করবেন। অনুরূপভাবে, খুতবা ও সালাতের মাঝেও ধারাবাহিকতা (موالاة) বজায় রাখা আবশ্যক, তবে পবিত্রতা (طهارة) অর্জন বা এ জাতীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলে ভিন্ন কথা।

৪ - ইমামের মানুষের দিকে মুখ করা এবং মানুষের ইমামের দিকে মুখ করার বিধান কী? জুমহুর (جمهور) আলেমদের মতে ইমামের মানুষের দিকে মুখ করা মুস্তাহাব (مستحب) এবং এর আবশ্যকীয়তা হলো

--------------------------------------------

(১) ইবনে কুদামা (আল-মুগনি) খণ্ড ২ - পৃষ্ঠা ৩০৭।