(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: -)
مهمات حول الجهاد القسم: مسائل فقهية
الكتاب: مهمات حول الجهاد
المؤلف: صالح الفوزان
عدد الصفحات: 69
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জিহাদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: জিহাদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি
গ্রন্থকার: সালিহ আল-ফাওজান
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
[مقدمة]مهمات حول الجهاد
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الحمد لله معز أوليائه المؤمنين وقامع أعدائه من الكافرين والمشركين والمنافقين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ولي المتقين، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله إمام المجاهدين الصابرين، وخليل رب العالمين ، بلغ الرسالة وأدى الأمانة ونصح الأمة وجاهد في الله حتى تركنا على البيضاء ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها بعده إلا هالك، فصلوات الله وسلامه عليه ما تتابع الليل والنهار كفاء ما قدم وكفاء ما علم وبين. . أما بعد:
فإن الله جل وعلا فرض فرائض وبينها ورسم لنا طريقا في القيام بها لا نتعداه، وحد لنا حدودا لا نتجاوزها، وهذه الفرائض والحدود نزلت من حكيم حميد؛ حكيم في أمره ونهيه وعلى ذلك يحمد، وحكيم في قدره وقضاءه وعلى ذلك يحمد فليس لنا إلا الإذعان لشرعه والاعترف بحكمته والإقرار واللهج بحمده وثنائه.
فسبحانه وبحمده وتبارك اسمه وتعالى جده، ولا إله غيره.
وإن من الفرائض التي فرضها الله على عباده والواجبات التي كتبها عليهم: الجهاد في سبيله وبذل الجهد في نصرة دينه والدفاع عنه ورد كيد
[ভূমিকা]জিহাদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকা: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মুমিন বন্ধুদের সম্মানিত করেন এবং কাফির, মুশরিক ও মুনাফিকদের মধ্য থেকে তাঁর শত্রুদের দমন করেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি মুত্তাকিদের অভিভাবক। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, ধৈর্যশীল মুজাহিদদের ইমাম এবং রব্বুল আলামীনের পরম বন্ধু। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতের কল্যাণকামনা করেছেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছেন, এমনকি তিনি আমাদের এক শুভ্র ও উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে গেছেন যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার। তাঁর পরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না। তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক যতক্ষণ রাত ও দিনের আবর্তন চলতে থাকবে, তিনি যা কিছু পেশ করেছেন এবং যা কিছু শিক্ষা দিয়েছেন ও স্পষ্ট করেছেন তার যথাযথ বিনিময় স্বরূপ। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অনেক ফরজ বিধান অবধারিত করেছেন এবং সেগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। আমাদের জন্য সেগুলো পালনের এমন এক পথ অঙ্কন করেছেন যা আমরা লঙ্ঘন করি না এবং আমাদের জন্য এমন কিছু সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন যা আমরা অতিক্রম করি না। এই ফরজ বিধান ও সীমারেখাসমূহ এক প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে; তিনি তাঁর আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাবান এবং তজ্জন্য তিনি প্রশংসিত, আর তিনি তাঁর তকদির ও ফয়সালার ক্ষেত্রেও প্রজ্ঞাবান এবং তজ্জন্য তিনি প্রশংসিত। সুতরাং তাঁর শরিয়তের সামনে মস্তক অবনত করা, তাঁর প্রজ্ঞাকে স্বীকার করা এবং তাঁর প্রশংসা ও স্তুতিতে রত থাকা ছাড়া আমাদের আর কোনো গত্যন্তর নেই।
অতএব, তিনি পবিত্র এবং সকল প্রশংসা তাঁরই। তাঁর নাম বরকতময়, তাঁর মহিমা সুউচ্চ এবং তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই।
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর যে সকল ফরজ বিধান অবধারিত করেছেন এবং যে সকল ওয়াজিবসমূহ তাদের ওপর নির্ধারণ করেছেন, তার অন্যতম হলো: আল্লাহর পথে জিহাদ করা এবং তাঁর দ্বীনের সাহায্যার্থে প্রচেষ্টা ব্যয় করা, দ্বীনকে রক্ষা করা এবং ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত প্রতিহত করা...
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أعدائه.
ولما فرض علينا هذه الفريضة بين لنا كيف نأتيها، ولم يتركنا وهذه الفريضة بلا كيف، بل أوضح لنا سبيلها في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم فبانت المحجة وأقيمت الحجة، وليس لنا إلا أن نسير على طريقه الذي رسمه في القيام بهذه الفريضة العظيمة.
ألا ترى أن الصلاة مع جلالة قدرها وعظيم منزلتها، بين لنا كيف نؤديها ولم يترك لعقولنا في تشريعها مجالا أو لأهوائنا في رسمها طريقا؟
قال جل وعلا: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} [البقرة: 43] (البقرة: 43) ، وقال سبحانه وبحمده: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا} [النساء: 103] (النساء: 103) ، وقال صلى الله عليه وسلم: «بني الإسلام على خمس» وذكر منها الصلاة وقال: «العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة فمن تركها فقد كفر.»
ومع ذلك نهينا عن زيادة ركعة في الصلاة لم تأت بها الشريعة والسبب في هذا أن العباد يتعبدون للمعبود كما يريد وفق شريعته الحكيمة التي لا يأتيها الباطل من بين يديها ولا من خلفها تنزيل من حكيم حميد.
وهكذا الجهاد الذي هو ذروة سنام الإسلام وركن من أركانه نؤديه كما شرعه الله تعالى في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم وقرره الصحب الكرام والأئمة الأعلام لا نخرج عن الطريق بأهوائنا ومراداتنا بل نتبع ونذعن ونسلم، لأننا نعبد الله كما يريد لا كما نريد ونجاهد في سبيله على سبيله
তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে।
আর যখন তিনি আমাদের উপর এই আবশ্যিক বিধান (فريضة) অর্পণ করেছেন, তখন তিনি তা পালনের পদ্ধতিও আমাদের নিকট বর্ণনা করে দিয়েছেন। তিনি আমাদের এবং এই আবশ্যিক বিধানটিকে পদ্ধতিহীন অবস্থায় অস্পষ্ট রেখে ছেড়ে দেননি; বরং তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখে এর পথ স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ফলে সুষ্পষ্ট পথ (المحجة) প্রতিভাত হয়েছে এবং দলিল (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আমাদের কাজ হলো এই মহান আবশ্যিক বিধান পালনের ক্ষেত্রে তাঁর অঙ্কিত পথেই পরিচালিত হওয়া।
আপনি কি দেখেন না যে, সালাত—তার সুউচ্চ মর্যাদা ও মহান অবস্থান সত্ত্বেও—তিনি বর্ণনা করে দিয়েছেন যে আমরা তা কীভাবে আদায় করব? তিনি এর বিধান প্রণয়নে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তির কোনো সুযোগ রাখেননি কিংবা এর রূপরেখা নির্ধারণে আমাদের খেয়াল-খুশির কোনো পথ রাখেননি।
মহা প্রতাপশালী ও সুউচ্চ সত্তা ইরশাদ করেছেন: {আর তোমরা সালাত কায়েম করো} [আল-বাকারা: ৪৩], আর তিনি পবিত্র ও প্রশংসিত সত্তা আরও ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে পালনীয় একটি নির্ধারিত বিধান (كتاباً)} [আন-নিসা: ১০৩]। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর," যার মধ্যে তিনি সালাতের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আমাদের ও তাদের মধ্যে যে অঙ্গীকার রয়েছে তা হলো সালাত, সুতরাং যে ব্যক্তি তা বর্জন করল সে কুফরি করল।"
তা সত্ত্বেও, সালাতে শরিয়ত বহির্ভূত কোনো অতিরিক্ত রাকাত বৃদ্ধি করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে। এর কারণ হলো, বান্দারা মা’বুদের ইবাদত করবে তাঁর ইচ্ছানুসারে এবং তাঁর সুনিপুণ শরিয়ত অনুযায়ী, যার অগ্র-পশ্চাৎ কোনো দিক থেকেই মিথ্যা বা ভ্রান্তি আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময় ও চির প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (تنزيل)।
একইভাবে জিহাদ—যা ইসলামের সর্বোচ্চ শিখর এবং এর অন্যতম একটি স্তম্ভ (ركن)—তা আমরা সেভাবেই পালন করব যেভাবে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখে বিধিবদ্ধ করেছেন এবং সম্মানিত সাহাবীগণ ও বরেণ্য ইমামগণ তা সুনিশ্চিত করেছেন। আমরা আমাদের খেয়াল-খুশি বা মর্জিমতো নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হব না; বরং আমরা অনুসরণ করব, অনুগত থাকব এবং আত্মসমর্পণ করব। কেননা আমরা আল্লাহর ইবাদত করি তাঁর ইচ্ছানুসারে, আমাদের ইচ্ছামতো নয়; আর আমরা তাঁর পথে জিহাদ করি তাঁরই বাতলানো পদ্ধতিতে।
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
لا على سبل غيره.
أيها القارئ الكريم. . . هذه رسالة بين يديك جمعتها وأنا العبد لله الفقير إلى مولاه المتجرد من الحول والقوة إلا بالله.
كتبتها حول الجهاد إذ حصل في عدم فقه أصوله خلط ولبس وتلبيس، وقد قصرت الكلام على بعض ما يتعلق بالموضوع إذ هو كبير ويحتاج إلى بسط وطول.
فقصدت في البحث علاج بعض الشبه عند عموم الشباب وأدخلت أصول أهل السنة والجماعة لأن الحال يستدعي ذلك، وقد جاء البحث كالتالي:
أولا: أهمية الجهاد في الإسلام وفي ثناياه ربط الجهاد مع ولاة الأمر أبرارا كانوا أو فجارا، ومبحث في انعقاد الإمامة وبم تحصل؛ لأن الجهاد مرتبط بالإمام، ومسألة: صحة تعدد الأئمة عند الاضطرار وكل إمام منهم يأخذ حكم الإمام.
ثانيا: تعريف الجهاد ثالثا: شروط وجوب الجهاد على المسلم رابعا: أحكام الجهاد وفيه أن الجهاد يكون فرض عين ويكون فرض كفاية ويكون محرما،
অন্য কোনো পথে নয়।
হে সম্মানিত পাঠক... আপনার সম্মুখে এই পুস্তিকাটি রয়েছে যা আমি সংকলন করেছি; এমতাবস্থায় যে আমি আমার মাওলার প্রতি মুখাপেক্ষী এক নিঃস্ব বান্দা, যে আল্লাহর তাওফিক ব্যতীত যাবতীয় ক্ষমতা ও সামর্থ্য হতে রিক্ত।
আমি এটি জিহাদ প্রসঙ্গে লিখেছি, কেননা এর মূলনীতি (أصول) অনুধাবনের অভাবে সংমিশ্রণ, অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। আমি কেবল এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কতিপয় প্রসঙ্গের ওপর আলোচনা সীমাবদ্ধ রেখেছি, কারণ বিষয়টি অত্যন্ত সুদীর্ঘ এবং এর জন্য বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন।
এই গবেষণায় আমি সাধারণ যুবকদের মাঝে বিদ্যমান কিছু সংশয় নিরসনের ইচ্ছা পোষণ করেছি এবং এতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মূলনীতিসমূহ (أصول) অন্তর্ভুক্ত করেছি, যেহেতু বর্তমান পরিস্থিতি এরই দাবি রাখে। গবেষণাটি নিম্নরূপ বিন্যস্ত হয়েছে:
প্রথমত: ইসলামে জিহাদের গুরুত্ব এবং এর প্রাসঙ্গিকতায় শাসকবর্গের (ولاة الأمر) সাথে জিহাদের সম্পৃক্ততা—তারা পুণ্যবান হোক কিংবা পাপাচারী; সেই সাথে ইমামত (إمامة) প্রতিষ্ঠা এবং তা কীসের মাধ্যমে অর্জিত হয় সে সংক্রান্ত আলোচনা; কারণ জিহাদ ইমামের সাথে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া জরুরি অবস্থায় একাধিক ইমাম থাকার বৈধতার মাসআলা এবং তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে ইমামের বিধান কার্যকর হওয়া।
দ্বিতীয়ত: জিহাদের সংজ্ঞা। তৃতীয়ত: মুসলিমের ওপর জিহাদ ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি। চতুর্থত: জিহাদের বিধানসমূহ, যেখানে বর্ণিত হয়েছে যে জিহাদ কখনো ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (فرض عين) হয়, কখনো সামষ্টিক কর্তব্য (فرض كفاية) হয় এবং কখনো তা নিষিদ্ধ (محرم) হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وتنبيه حول من يدخل بلاد الكفر بتأشيرة وأن ذلك أمان منهم له وليس له ظلمهم أو خيانتهم.
خامسا: تنبيهات حول الجهاد اليوم 1 - الخوض في وجوبه وعدمه إنما يكون لخاصة الناس وهم العلماء الراسخون.
وفيه التحذير من أهل الجهل والأصاغر في العلم، وبيان صفات العلماء الراسخين، وتنبيه حول قضية فهم مقاصد الشريعة.
2 - إياك واتهام أهل العلم وإن تكلموا بغير ما في نفسك.
3 - أمر الجهاد من مهمات وصلاحيات الإمام.
وفيه تنبيه على أن للإمام أن يصالح ويعقد الهدنة مع من يراه لصالح المسلمين، وفائدة في مدخل للشيطان على كثير من المنتسبين للدعوة والعلم وهو إساءة الظن بولاة الأمر من الأمراء والعلماء.
سادسا: معالم لأهل السنة غائبة عن كثير من شباب الأمة - سيكون عليكم سلطان فأعزوه.
- قاعدة حفظ المصالح العامة واجب ولا ينضبط إلا بتوقير الأئمة فمتى أهينوا تعذرت المصلحة.
- عليكم بالتؤدة.
কুফরি রাষ্ট্রে ভিসার মাধ্যমে যারা প্রবেশ করে তাদের বিষয়ে সতর্কতা—এটি তাদের পক্ষ থেকে একটি নিরাপত্তা (أمان) স্বরূপ; সুতরাং তাদের ওপর জুলুম করা বা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা বৈধ নয়।
পঞ্চম: বর্তমান সময়ে জিহাদ সংক্রান্ত কতিপয় সতর্কতা: ১. জিহাদ ওয়াজিব হওয়া বা না হওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা কেবল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য সীমাবদ্ধ, আর তারা হলেন ইলমে সুগভীর প্রজ্ঞাবান (الراسخون) আলেমগণ।
এতে মূর্খ এবং ইলমের ক্ষেত্রে কনিষ্ঠ বা অপরিপক্ক (الأصاغر) ব্যক্তিদের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে, প্রজ্ঞাবান (الراسخون) আলেমদের গুণাবলি বর্ণনা করা হয়েছে এবং শরিয়তের মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشريعة) অনুধাবনের বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
২ - আলেমদের অভিযুক্ত করা থেকে বেঁচে থাকুন, যদিও তারা আপনার মনের চাহিদার বিপরীতে কথা বলেন।
৩ - জিহাদের বিষয়টি ইমামের (ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধানের) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও এখতিয়ারভুক্ত।
এতে এই বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে যে, মুসলিমদের কল্যাণে ইমাম যাকে সমীচীন মনে করবেন, তার সাথে সন্ধি বা যুদ্ধবিরতি (الهدنة) চুক্তি করতে পারেন। আরও রয়েছে দাওয়াত ও ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকের হৃদয়ে শয়তানের প্রবেশের পথ সম্পর্কে একটি বিশেষ শিক্ষা, যা হলো—কর্তৃত্বশীল আমীর ও আলেমদের প্রতি কুধারণা পোষণ করা।
ষষ্ঠ: আহলুস সুন্নাহর এমন কিছু মূলনীতি যা উম্মাহর অনেক যুবকের কাছেই আজ অনুপস্থিত: তোমাদের ওপর শাসক (سلطان) থাকবে, সুতরাং তাকে সম্মান প্রদান করো।
— জনকল্যাণ (المصالح العامة) সংরক্ষণ করার মূলনীতিটি পালন করা ওয়াজিব, যা কেবল ইমামদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই সুশৃঙ্খল থাকে; সুতরাং যখনই তাদের অপমান করা হয়, জনকল্যাণ সাধিত হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
— তোমাদের কর্তব্য হলো ধীরস্থিরতা (التؤدة) অবলম্বন করা।
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
- مناصحة ولاة الأمر.
- الدين رأس والملك حارس وما لا رأس له فمهدوم وما لا حارس له فضائع.
- خاتمة ونتيجة.
هذا وإني أشكر لمعالي الشيخ د. صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، عضو اللجنة الدائمة للإفتاء، تَكَرُّمَهُ بقراءة هذا البحث المتواضع وتفضله بالتقديم والتقريظ له.
ولولا أن الله جل وعلا من علي بعرض هذا البحث على مثل علم وحكمة معاليه - حفظه الله تعالى - لما تجرأت على إخراجه للناس، فالحمد لله أولا وآخر وظاهرا وباطنا، وله الحمد حتى يرضى وله الحمد بعد الرضى، وصلى الله وسلم على عبده المصطفى ورسوله المجتبى سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم إلى يوم الدين.
وكتبه
عبد الله بن سعد بن محمد أبا حسين
الرياض 15 / 1 / 1424 هـ
- শাসকবর্গের প্রতি সদুপদেশ প্রদান।
- দ্বীন হলো মস্তক এবং রাষ্ট্রক্ষমতা হলো তার রক্ষক। যার কোনো মস্তক নেই তা ধ্বংসপ্রাপ্ত, আর যার কোনো রক্ষক নেই তা বিলীন হয়ে যায়।
- উপসংহার ও ফলাফল।
পরিশেষে, আমি ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য মাননীয় শায়খ ড. সালেহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে, তিনি অনুগ্রহ করে এই বিনীত গবেষণাটি পাঠ করার এবং এর জন্য ভূমিকা ও মূল্যায়ন লিখে দেওয়ার সদয় সম্মতি প্রদান করেছেন।
মহান আল্লাহ যদি তাঁর মতো জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী ব্যক্তির নিকট এই গবেষণাটি উপস্থাপন করার সুযোগ দিয়ে আমার প্রতি অনুগ্রহ না করতেন—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন—তবে আমি এটি জনসম্মুখে প্রকাশ করার দুঃসাহস করতাম না। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে, প্রকাশ্যে ও গোপনে। তাঁরই প্রশংসা যতক্ষণ না তিনি সন্তুষ্ট হন এবং সন্তুষ্টির পরেও তাঁরই সকল প্রশংসা। আল্লাহ তাঁর মনোনীত বান্দা ও নির্বাচিত রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
ইতি লেখক
আব্দুল্লাহ বিন সাদ বিন মুহাম্মাদ আবা হুসাইন
রিয়াদ ১৫ / ১ / ১৪২৪ হিজরি
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
[أولا الجهاد أمره عظيم في الإسلام]مهمات حول الجهاد أولا: الجهاد أمره عظيم في الإسلام: جاء الحث عليه في الكتاب والسنة وضبطه أهل السنة والجماعة بضوابط تميزوا بها عن غيرهم ممن خالفهم في ذلك.
ومما قرروه في ذلك ما قاله أبو جعفر الطحاوي -رحمه الله تعالى-: "والحج والجهاد ماضيان مع أولي الأمر من المسلمين برهم وفاجرهم إلى قيام الساعة " (1) ونقل شيخ الإسلام في "الواسطية" عقيدة أهل السنة والجماعة فكان مما قال "ويرون إقامة الحج والجهاد والجمع مع الأمراء أبرارا كانوا أو فجارا " (2) .
ونقل الإمام الحسن بن علي البربهاري عن الإمام أحمد رحمهما الله أنه قال "والحج والغزو مع الإمام ماض " (3) .
قال الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن - رحمهما الله تعالى - "واستمر العمل على هذا بين علماء الأمة من سادات الأمة وأئمتها يأمرون بطاعة
--------------------------------------------
[প্রথমত: ইসলামে জিহাদের বিষয়টি অত্যন্ত মহান]জিহাদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ - প্রথমত: ইসলামে জিহাদের গুরুত্ব অপরিসীম: কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহতে এর প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ একে এমন কিছু নীতিমালা দ্বারা সুসংহত করেছেন যার মাধ্যমে তারা এ বিষয়ে বিরুদ্ধাচরণকারীদের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে তারা যা স্থির করেছেন তন্মধ্যে আবু জাফর আত-তহাবী (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন: "হজ ও জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিমদের উলুল আমর (কর্তৃত্বশীলদের) সাথে অব্যাহত থাকবে, তারা নেককার হোক কিংবা পাপাচারী।" (১) এবং শাইখুল ইসলাম 'ওয়াসিতিয়্যাহ' গ্রন্থে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর আকীদা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: "তারা নেতৃবৃন্দের সাথে হজ ও জিহাদ পরিচালনা করা এবং জুমুআ কায়েম করাকে বিধিবদ্ধ মনে করেন, চাই তারা পুণ্যবান হোক কিংবা পাপাচারী।" (২)।
ইমাম হাসান ইবনে আলী আল-বারবাহারী ইমাম আহমাদ (রহিমাহুমাল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "ইমামের সাথে হজ ও যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।" (৩)।
শাইখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান (রহিমাহুমাল্লাহ তাআলা) বলেন: "উম্মতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও ইমামগণের মধ্যে এই আমলই জারি রয়েছে; তারা আনুগত্যের নির্দেশ দেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الله ورسوله والجهاد في سبيله مع كل إمام بر أو فاجر، كما هو معروف في كتب أصول الدين والعقائد " (1) .
ومن عقيدتهم أيضا ما نقله الإمام الحسن بن علي البربهاري عن الإمام أحمد - رحمهما الله تعالى - أن من ولي الخلافة بإجماع الناس عليه ورضاهم به فهو أمير المؤمنين لا يحل لأحد أن يبيت ليلة ولا يرى أن ليس عليه إمام برا كان أو فاجرا (2) .
ويدل على ذلك ما روى الإمام مسلم (3) أن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما جاء إلى عبد الله بن مطيع حين كان من أمر الحرة ما كان زمن يزيد بن معاوية فقال: اطرحوا لأبي عبد الرحمن وسادة فقال: إني لم آتك لأجلس أتيتك لأحدثك حديثا سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقوله سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من خلع يدا من طاعة لقي الله يوم القيامة لا حجة له، ومن مات وليس في عنقه بيعة مات ميتة جاهلية.»
ولما خلع الناس يزيد بن معاوية جمع عبد الله بن عمر بنيه وأهله ثم
--------------------------------------------
আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং প্রত্যেক নেককার বা পাপাচারী নেতার (إمام) অধীনে তাঁর পথে জিহাদ (جهاد) করা, যেমনটি দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) ও আকিদাহর (عقائد) কিতাবসমূহে সুপরিচিত। (১) .
তাদের আকিদাহর (عقيدة) অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় যা ইমাম হাসান ইবনে আলী আল-বারবাহারি ইমাম আহমাদ —আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন— থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জনগণের ঐক্যমত (إجماع) ও সন্তুষ্টির ভিত্তিতে যিনি খিলাফতের (خلافة) দায়িত্ব লাভ করেন, তিনিই মুমিনদের আমির (أمير المؤمنين)। কারো জন্য এক রাতও এমনভাবে কাটানো বৈধ নয় যে সে মনে করবে তার ওপর কোনো নেতা (إمام) নেই, চাই তিনি নেককার হোন বা পাপাচারী (২) ।
এর সপক্ষে প্রমাণ হলো ইমাম মুসলিম (৩) বর্ণিত সেই হাদিস যে, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার আমলে যখন হাররার ঘটনা ঘটল, তখন আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) আবদুল্লাহ ইবনে মুতি'-এর কাছে আসলেন। ইবনে মুতি' বললেন: আবু আবদুর রহমানের জন্য একটি গদি বিছিয়ে দাও। তখন তিনি (ইবনে উমর) বললেন: আমি আপনার কাছে বসার জন্য আসিনি, বরং আমি এসেছি আপনাকে এমন একটি হাদিস শোনাতে যা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি আনুগত্যের (طاعة) হাত গুটিয়ে নিল, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে তার স্বপক্ষে কোনো দলিল (حجة) থাকবে না। আর যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল যে তার স্কন্ধে আনুগত্যের শপথ (بيعة) নেই, সে জাহেলিয়াতের (جاهلية) মৃত্যু বরণ করল।»
আর যখন মানুষ ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার আনুগত্য বর্জন করল, তখন আবদুল্লাহ ইবনে উমর তাঁর সন্তানদের ও পরিবারবর্গকে একত্রিত করলেন এবং তারপর—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تشهد ثم قال: أما بعد فإنا قد بايعنا هذا الرجل على بيع الله ورسوله، وإني سمعت رسوله الله صلى الله عليه وسلم يقول: " «ينصب لكل غادر لواء يوم القيامة» ، وإنا قد بايعنا هذا الرجل على بيع الله ورسوله، وإني لا أعلم غدرا أعظم من أن يبايع رجل على بيع الله ورسوله ثم ينصب له القتال، وإني لا أعلم أحدا منكم خلعه ولا بايع في هذا الأمر إلا كانت الفيصل بيني وبينه (1) .
وإذا تقرر سبيل أهل السنة والجماعة في الجهاد وأنه لا يجوز لمن حان تحت ولاية إمام أن يجاهد إلا بإذنه، فإن مما ينبغي بيانه هنا أقوالهم في انعقاد الإمامة، وبم تحصل.
وقد أجمعوا على أنها تنعقد بأمور منها:
1 - لو نص الرسول صلى الله عليه وسلم على أن فلانا هو الإمام فإنها تنعقد له بذلك، وقال بعض أهل العلم: إن إمامة أبي بكر رضي الله عنه من هذا القبيل؛ لأن تقديم النبي صلى الله عليه وسلم له في إمامة الصلاة هي أهم شيء، وفيه الإشارة إلى التقديم للإمامة الكبرى وهو ظاهر (2) .
--------------------------------------------
তিনি সাক্ষ্য (تشهد) প্রদান করলেন, অতঃপর বললেন: হামদ ও সালাতের পর, আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত আনুগত্যের ওপর এই ব্যক্তির নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "কিয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে।" আর আমরা এই ব্যক্তির নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের ওপর বায়আত গ্রহণ করেছি। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের ওপর বায়আত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে বড় কোনো বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে আমার জানা নেই। তোমাদের মধ্যে এমন কাউকেও আমি জানি না যে তাকে বর্জন করেছে কিংবা এই বিষয়ে (অন্য কারো কাছে) বায়আত হয়েছে; যদি এমনটি হয়ে থাকে তবে সেটিই হবে আমার ও তার মাঝে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ।
জিহাদের ক্ষেত্রে যখন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কর্মপন্থা সাব্যস্ত হলো যে, কোনো ইমামের কর্তৃত্বাধীন ব্যক্তির জন্য ইমামের অনুমতি ব্যতীত জিহাদ করা বৈধ নয়, তখন ইমামত কীভাবে সাব্যস্ত হয় এবং তা কীসের মাধ্যমে অর্জিত হয় সে সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের অভিমতসমূহ এখানে বর্ণনা করা আবশ্যক।
তাঁরা এ বিষয়ে ঐক্যমত (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, ইমামত কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ (نص) প্রদান করেন যে অমুক ব্যক্তিই ইমাম, তবে এর মাধ্যমেই তার ইমামত সাব্যস্ত হয়ে যাবে। ওলামায়ে কেরামের কেউ কেউ বলেছেন: আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইমামত এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সালাতের ইমামতিতে সামনে এগিয়ে দিয়েছিলেন যা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এর মধ্যে তাঁকে ‘ইমামতে কুবরা’ বা মহান নেতৃত্বের জন্য অগ্রগামী করার ইঙ্গিত রয়েছে এবং এটি সুস্পষ্ট (ظاهر)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
2 - الاختيار من أهل الحل والعقد (1) .
3 - الاستخلاف: قال أبو الحسن الماوردي: "وأما انعقاد الإمامة بعهد من قبله فهو مما انعقد الإجماع على جوازه، ووقع الاتفاق على صحته لأمرين عمل المسلمون بهما ولم يتناكروهما، أحدهما:
أن أبا بكر رضي الله عنه عهد إلى عمر رضي الله عنه فأثبت المسلمون إمامته بعهده.
والثاني: أن عمر رضي الله عنه عهد بها إلى أهل الشورى فقبلت الجماعة دخولهم فيها وهم أعيان العصر اعتقادا لصحة العهد بها، وخرج باقي الصحابة منها (2) .
4 - التغلب: قال الإمام أحمد رحمه الله في العقيدة التي رواها عنه عبد الله بن مالك العطار "ومن غلب عليهم- يعني الولاة- بالسيف حتى صار خليفة وسمي أمير المؤمنين فلا يحل لأحد يؤمن بالله واليوم الآخر أن يبيت ولا يراه إماما برا كان أو فاجرا (3) .
--------------------------------------------
২ - আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ (সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সক্ষম ব্যক্তিবর্গ) কর্তৃক নির্বাচন (১)।
৩ - স্থলাভিষিক্তকরণ: আবুল হাসান আল-মাওয়ার্দি বলেন: "পূর্ববর্তী শাসক কর্তৃক অঙ্গীকার বা মনোনয়নের মাধ্যমে ইমামত (নেতৃত্ব) প্রতিষ্ঠিত হওয়া এমন একটি বিষয়, যার বৈধতার ব্যাপারে সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর বিশুদ্ধতা (صحة) বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ার কারণ দুটি বিষয়, যা মুসলিমরা আমল করেছেন এবং কেউ তা অস্বীকার করেননি। তার মধ্যে একটি হলো:
আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে স্থলাভিষিক্ত করার অঙ্গীকার করেছিলেন, ফলে মুসলিমগণ তার সেই অঙ্গীকারের মাধ্যমেই তার ইমামতকে সাব্যস্ত করেছিলেন।
দ্বিতীয়টি হলো: উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই বিষয়টি শুরা সদস্যদের (পরামর্শ সভা) নিকট ন্যস্ত করেছিলেন, ফলে জামায়াত বা মুসলিম সম্প্রদায় তাতে তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে গ্রহণ করে নিয়েছিল। তারা ছিলেন সেই যুগের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং এই অঙ্গীকারের বিশুদ্ধতার (صحة) প্রতি বিশ্বাসের কারণেই তারা তা গ্রহণ করেছিলেন, আর অবশিষ্ট সাহাবীগণ তা থেকে বিরত ছিলেন (২)।
৪ - শক্তিবলে ক্ষমতা দখল: ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) সেই আকীদার বর্ণনায় বলেছেন যা তার থেকে আব্দুল্লাহ বিন মালিক আল-আত্তার বর্ণনা (رواية) করেছেন: "শাসকদের ওপর যে ব্যক্তি তরবারির মাধ্যমে বিজয়ী হয়—অর্থাৎ সে খলিফা হয়ে যায় এবং তাকে আমীরুল মুমিনীন বলা হয়—তবে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তির জন্য এমনভাবে রাত কাটানো বৈধ নয় যে, সে তাকে ইমাম হিসেবে গণ্য করবে না—সে নেককার হোক কিংবা পাপাচারী (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وكان ابن عمر رضي الله عنه في زمان الفتنة لا يأتي أمير إلا صلى خلفه وأدى إليه زكاة ماله (1) .
وروى البخاري عن عبد الله بن دينار قال: شهدت عبد الله بن عمر رضي الله عنهما حيث اجتمع الناس على عبد الملك قال: إني أقر بالسمع والطاعة لعبد الله عبد الملك أمير المؤمنين على سنة الله وسنة رسوله ما استطعت وإن بني قد أقروا بمثل ذلك (2) .
قال ابن حجر: " قوله "حيث اجتمع الناس على عبد الملك " يريد ابن مروان بن الحكم، والمراد بالاجتماع: اجتماع الكلمة وكانت قبل ذلك مفرقة، وكان في الأرض قبل ذلك اثنان كل منهما يدعى له بالخلافة وهما: عبد الملك بن مروان، وعبد الله بن الزبير (3) .
وقال: " وكان ابن عمر في تلك المدة امتنع أن يبايع لابن الزبير أو لعبد الملك فلما غلب عبد الملك واستقام له الأمر بايعه (4) أ. هـ.
--------------------------------------------
ফিতনার যুগে ইবনে উমর (রা.)-এর নীতি এমন ছিল যে, যখনই কোনো আমীর আসতেন, তিনি তাঁর পেছনে সালাত আদায় করতেন এবং তাঁর নিকট মালের জাকাত প্রদান করতেন (১)।
বুখারি আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর উপস্থিতিতে ছিলাম যখন জনগণ আব্দুল মালিকের ব্যাপারে একমত হলো। তিনি (ইবনে উমর) বললেন: "আমি আল্লাহর সুন্নাহ ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমিরুল মুমিনীন আব্দুল্লাহ আব্দুল মালিকের কথা শোনা ও আনুগত্য করার স্বীকৃতি দিচ্ছি। আর আমার সন্তানরাও অনুরূপ স্বীকৃতি দিয়েছে" (২)।
ইবনে হাজার বলেন: "তাঁর উক্তি 'যখন জনগণ আব্দুল মালিকের ব্যাপারে একমত হলো' দ্বারা তিনি মারওয়ান ইবনুল হাকামের পুত্রকে বুঝিয়েছেন। আর একমত হওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐকমত্য (اجتماع), যা ইতিপূর্বে বিচ্ছিন্ন ছিল। এর আগে পৃথিবীতে দুইজন ব্যক্তি ছিলেন যাদের প্রত্যেকের খিলাফতের দাবি করা হতো; তাঁরা হলেন: আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান এবং আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইর (৩)।
তিনি আরও বলেন: "উক্ত সময়ে ইবনে উমর ইবনুল জুবাইর অথবা আব্দুল মালিকের নিকট বায়আত গ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন। অতঃপর যখন আব্দুল মালিক বিজয়ী হলেন এবং তাঁর কর্তৃত্ব সুসংহত হলো, তখন তিনি তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করেন" (৪)। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وروى البيهقي في مناقب الشافعي عن حرملة قال: سمعت الشافعي يقول: "كل من غلب على الخلافة بالسيف حتى يسمى خليفة ويجمع الناس عليه فهو خليفة (1) .
قال ابن حجر: " وقد أجمع الفقهاء على وجوب طاعة السلطان المتغلب والجهاد معه (2) أ. هـ.
وذكر الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن - رحمهما الله تعالى - حصول ولاية آل مروان بالتغلب ومع ذلك انقاد لهم سائر أهل القرى والأمصار، وكذلك مبدأ الدولة العباسية، ثم قال: "وأهل العلم مع هذه الحوادث متفقون على طاعة من تغلب عليهم في المعروف يرون نفوذ أحكامه وصحة إمامته لا يختلف في ذلك اثنان (3) .
وقال الإمام محمد بن عبد الوهاب: "الأئمة مجمعون من كل مذهب على أن من تغلب على بلد أو بلدان له حكم الإمام في جميع الأشياء ولولا هذا ما استقامت الدنيا لأن الناس من زمن طويل قبل الإمام
--------------------------------------------
এবং বায়হাকি মানাকিবুশ শাফিঈ গ্রন্থে হারমালা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি তরবারির মাধ্যমে খেলাফত (الخلافة) দখল করে এমনকি তাকে খলিফা (خليفة) বলা হয় এবং মানুষ তার ওপর একত্রিত হয়, তবে সে-ই খলিফা (خليفة) (১)।
ইবনে হাজার বলেন: "ফকিহগণ (الفقهاء) ক্ষমতা দখলকারী সুলতানের (السلطان المتغلب) আনুগত্য করা এবং তার সাথে জিহাদ করার আবশ্যকতা (وجوب) সম্পর্কে সর্বসম্মত ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন (২)।" সমাপ্ত।
এবং শেখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান —আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন— মারওয়ান বংশের ক্ষমতা দখলের (بالتغلب) মাধ্যমে কর্তৃত্ব অর্জনের কথা উল্লেখ করেছেন, তা সত্ত্বেও সকল গ্রাম ও শহরের অধিবাসীরা তাঁদের আনুগত্য করেছিল। একইভাবে আব্বাসীয় রাষ্ট্রের সূচনাও ছিল অনুরূপ। অতঃপর তিনি বলেন: "এই সকল ঘটনা সত্ত্বেও আলেমগণ (أهل العلم) ন্যায়ের কাজে (في المعروف) বিজয়ী শাসকের আনুগত্যের ব্যাপারে ঐকমত্য (متفقون) পোষণ করেন; তাঁরা তাঁর নির্দেশের কার্যকারিতা এবং তাঁর ইমামতের (إمامته) বৈধতা (صحة) নিশ্চিত মনে করেন, এ বিষয়ে দু'জনও দ্বিমত পোষণ করেন না (৩)।
ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বলেন: "প্রত্যেক মাজহাবের ইমামগণ (الأئمة) এ বিষয়ে সর্বসম্মত (مجمعون) যে, যে ব্যক্তি কোনো দেশ বা দেশসমূহের ওপর বিজয় লাভ করে, সকল ক্ষেত্রে তার ওপর ইমামের (الإمام) বিধান (حكم) প্রযোজ্য হবে। যদি এটি না হতো তবে পৃথিবী সুশৃঙ্খল থাকত না, কারণ দীর্ঘকাল ধরে মানুষ ইমামের...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أحمد إلى يومنا هذا ما اجتمعوا على إمام واحد ولا يعرفون أحدا من العلماء ذكر أن شيئا من الأحكام لا يصح إلا بالإمام الأعظم (1) .
وقد قدمت كلام الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن على كلام الإمام محمد بن عبد الوهاب لفائدة في كلام الأخير يحسن التنبيه عليها وهي:
صحة تعدد الأئمة عند الاضطرار وحل إمام منهم في قطره يأخذ حكم الإمام
ولذلك قال شيخ الإسلام: والسنة أن يكون للمسلمين إمام واحد والباقون نوابه، فإذا فرض أن الأئمة خرجت عن ذلك لمعصية من بعضها وعجز من الباقين أو غير ذلك فكان لها عدة أئمة لكان يجب على كل إمام أن يقيم الحدود ويستوفي الحقوق (2) .
ولما تكلم ابن كثير عن هذه المسألة قال: "وهذا يشبه حال الخلفاء من بني أمية والعباس بالعراق، والفاطميين بمصر، والأمويين بالمغرب (3) .
--------------------------------------------
ইমাম আহমাদ থেকে আজ পর্যন্ত তাঁরা একজন ইমামের ওপর ঐক্যবদ্ধ হননি এবং তাঁরা এমন কোনো আলিমের কথা জানেন না যিনি উল্লেখ করেছেন যে, শরয়ি বিধানসমূহের কোনো কিছুই ইমামে আযম (প্রধান ইমাম) ব্যতীত শুদ্ধ (صحيح) হয় না (১)।
আমি শায়খ আবদুল লতিফ বিন আবদুর রহমানের বক্তব্যকে ইমাম মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের বক্তব্যের পূর্বে উল্লেখ করেছি শেষোক্ত ব্যক্তির বক্তব্যের একটি বিশেষ উপকারিতার কারণে যা নির্দেশ করা শ্রেয়, আর তা হলো:
নিরুপায় অবস্থায় একাধিক ইমাম থাকার বৈধতা (صحة) এবং তাদের মধ্য থেকে কোনো একজন নিজ অঞ্চলে অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি ইমামের হুকুম লাভ করবেন।
এ কারণেই শায়খুল ইসলাম বলেছেন: সুন্নাহ (السنة) হলো মুসলিমদের একজন ইমাম থাকবেন এবং বাকিরা তাঁর প্রতিনিধি হবেন। সুতরাং যদি ধরে নেওয়া হয় যে, কারো অবাধ্যতা এবং অন্যদের অক্ষমতা বা অন্য কোনো কারণে ইমামগণ এই ব্যবস্থার বাইরে চলে যান এবং একাধিক ইমামের সৃষ্টি হয়, তবে প্রত্যেক ইমামের ওপর দণ্ডবিধি (حدود) কার্যকর করা এবং অধিকারসমূহ আদায় করা আবশ্যক (واجب) হবে (২)।
ইবনে কাসির যখন এই মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন, তখন তিনি বলেছেন: "এটি ইরাকের বনু উমাইয়া ও আব্বাসীয় খলিফাদের, মিশরের ফাতিমিদের এবং মরক্কোর উমাইয়াদের অবস্থার অনুরূপ (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال الشوكاني في شرح قول صاحب الأزهار: " ولا يصح إمامان " "وأما بعد انتشار الإسلام، واتساع رقعته، وتباعد أطرافه؛ فمعلوم أنه قد صار في كل قطر أو أقطار الولاية إلى إمام أو سلطان، وفي القطر الآخر كذلك، ولا ينعقد لبعضهم أمر ولا نهي في قطر الآخر وأقطاره التي رجعت إلى ولايته.
فلا بأس بتعدد الأئمة والسلاطين، ويجب الطاعة لكل واحد منهم بعد البيعة له على أهل القطر الذي ينفذ فيه أوامره ونواهيه، وكذلك صاحب القطر الآخر.
فإذا قام من ينازعه في القطر الذي قد ثبتت فيه ولايته، وبايعه أهله؛ كان الحكم فيه أن يقتل إذا لم يتب.
ولا تجب على أهل القطر الآخر طاعته، ولا الدخول تحت ولايته لتباعد الأقطار، فإنه قد لا يبلغ إلى ما تباعد منها خبر إمامها أو سلطانها، ولا يدري من قام منهم أو مات، فالتكليف بالطاعة والحال هذا تكليف بما لا يطاق.
وهذا معلوم لكل من له اطلاع على أحوال العباد والبلاد".
ثم قال في آخر كلامه: " فاعرف هذا فإن المناسب للقواعد الشرعية، والمطابق لما تدل عليه الأدلة، ودع عنك ما يقال في مخالفته، فإن الفرق
আল্লামা শাওকানী (রাহ.) ‘সাহিবুল আযহার’ প্রণেতার উক্তি—"দুইজন ইমাম থাকা বৈধ (صحيح) নয়"—এর ব্যাখ্যায় বলেন: "আর ইসলামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার, এর ভূখণ্ডের বিস্তৃতি এবং সীমানা সুদূরপ্রসারী হওয়ার পর; এটি সর্বজনবিদিত যে, প্রতিটি অঞ্চল বা কতগুলো অঞ্চল নিয়ে গঠিত ভূখণ্ডে একজন ইমাম বা সুলতানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অন্য অঞ্চলেও তদ্রূপ হয়েছে। এমতাবস্থায় তাদের একজনের আদেশ বা নিষেধ অন্যজনের অধীনে থাকা অঞ্চলে এবং যে অঞ্চলগুলো তার কর্তৃত্বাধীন হয়েছে সেখানে কার্যকর হয় না।
সুতরাং একাধিক ইমাম ও সুলতান থাকাতে কোনো অসুবিধা নেই। আনুগত্যের শপথ গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর তাদের প্রত্যেকের আনুগত্য করা আবশ্যক, যাদের অধীনে তার আদেশ ও নিষেধ কার্যকর হয়; অন্য অঞ্চলের শাসকের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।
অতএব, যে অঞ্চলে কোনো শাসকের কর্তৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানকার অধিবাসীরা তার আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেছে, সেখানে যদি কেউ তার সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়, তবে তার বিধান হলো—সে তওবা না করলে তাকে হত্যা করা হবে।
আর ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে এক অঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর অন্য অঞ্চলের শাসকের আনুগত্য করা বা তার কর্তৃত্বাধীনে প্রবেশ করা আবশ্যক নয়। কেননা দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে অনেক সময় সেখানকার ইমাম বা সুলতানের সংবাদ পৌঁছায় না এবং তাদের মধ্যে কে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন বা কে মৃত্যুবরণ করলেন তাও জানা যায় না। এমতাবস্থায় আনুগত্যের দায়িত্ব অর্পণ করা সাধ্যাতীত কোনো বিষয় চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।
আর এই বিষয়টি সৃষ্টিজগত ও জনপদসমূহের অবস্থা সম্পর্কে অবগত প্রত্যেকের নিকটই সুস্পষ্ট।"
অতঃপর তিনি তাঁর আলোচনার শেষে বলেন: "সুতরাং বিষয়টি অনুধাবন করুন; কারণ এটিই শরয়ি মূলনীতিসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দলীলসমূহ যা নির্দেশ করে তার সাথে সংগতিপূর্ণ। এর পরিপন্থী যা বলা হয় তা বর্জন করুন, কেননা পার্থক্য
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
بين ما كانت عليه الولاية الإسلامية في أول الإسلام وما هي عليه الآن أوضح من شمس النهار.
ومن أنكر هذا فهو مباهت لا يستحق أن يخاطب بالحجة لأنه لا يعقلها (1) ا. هـ
--------------------------------------------
ইসলামের প্রারম্ভকালে ইসলামী শাসনব্যবস্থা (ولاية) যে অবস্থায় ছিল এবং বর্তমানে তা যে অবস্থায় রয়েছে, এই উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য দ্বিপ্রহরের সূর্যের চেয়েও অধিকতর স্পষ্ট।
আর যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করে, সে একজন হঠকারী (مباهت); সে প্রমাণের (حجة) ভিত্তিতে সম্বোধন করার যোগ্য নয়, কেননা তা অনুধাবন করার মতো বোধশক্তি তার নেই। (১) সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
[ثانيا تعريف الجهاد]ثانيا: تعريف الجهاد: لغة: الجهاد مصدر جاهد جهادا ومجاهدة، وجاهد فاعل من جهد إذا بالغ في قتل عدوه وغيره، ويقال: جهده المرض، وأجهده إذا بلغ به المشقة، وجهدت الفرس، وأجهدته إذا استخرجت جهده، والجهد بالفتح المشقة، والضم الطاقة، وقيل: يقال بالضم وبالفتح في كل واحد منهما فمادة (ج هـ د) حيث وجدت ففيه معنى المبالغة (1) .
وشرعا: بذل الجهد في قتال الكفار خاصة بخلاف المسلمين من البغاة وقطاع الطريق وغيرهم.
قال الحافظ: " الجهاد شرعا بذل الجهد في قتال الكفار ويطلق أيضا على مجاهدة النفس والشيطان والفساق، فأما مجاهدة النفس فعلى تعلم أمور الدين ثم على العمل بها ثم تعليمها، وأما مجاهدة الشيطان فعلى ما يأتي به من الشبهات وما يزينه من الشهوات، وأما مجاهدة الكفار فتقع باليد والمال واللسان والقلب، وأما مجاهدة الفساق فباليد ثم اللسان ثم القلب (2) .
وجنسه فرض عين كما قال ابن القيم وغيره إما بالقلب وإما باللسان وإما بالمال وإما باليد فعلى كل مسلم أن يجاهد بنوع من هذه الأنواع (3) .
--------------------------------------------
[দ্বিতীয়ত: জিহাদের সংজ্ঞা]দ্বিতীয়ত: জিহাদের সংজ্ঞা: আভিধানিক অর্থে: জিহাদ শব্দটি 'জাহিদা' (جاهد) ক্রিয়াপদ থেকে আগত একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), এর অন্য রূপ হলো মুজাহাদাহ (مجاهدة)। 'জাহিদা' শব্দটি 'জাহদ' (جهد) থেকে ব্যুৎপন্ন, যার অর্থ শত্রু হত্যা বা অন্য কোনো কাজে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালানো। বলা হয়: 'রোগ তাকে পরিশ্রান্ত করেছে' (جهده المرض) এবং 'তাকে কষ্টের শেষ সীমায় পৌঁছে দিয়েছে' (أجهده)। ঘোড়াকে যখন তার পূর্ণ শক্তি প্রয়োগে বাধ্য করা হয় তখন বলা হয় 'আমি তাকে পরিশ্রান্ত করেছি' (أجهدته)। 'জাহদ' (الجهد) শব্দটি যবর (ফাতাহ) যোগে উচ্চারিত হলে এর অর্থ হয় পরিশ্রম বা কষ্ট, আর পেশ (দম্মাহ) যোগে 'জুহদ' উচ্চারিত হলে এর অর্থ হয় সামর্থ্য বা শক্তি। কেউ কেউ বলেন, উভয় অর্থেই উভয় উচ্চারণ বৈধ। সারকথা হলো, 'জ-হ-দ' (ج هـ د) মূলাক্ষরটি যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই আধিক্য বা চূড়ান্ত পর্যায়ের (المبالغة) অর্থ বিদ্যমান থাকে (১)।
শরয়ি পরিভাষায়: বিশেষ করে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সর্বাত্মক শক্তি ও সামর্থ্য ব্যয় করা; যা বিদ্রোহী (بغاة), পথচারী বা ডাকাত (قطاع الطريق) ও অন্যদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে ভিন্ন।
আল-হাফিজ বলেন: "শরয়ি পরিভাষায় জিহাদ হলো কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শ্রম ও সামর্থ্য ব্যয় করা। এটি নফস (আত্মা), শয়তান এবং পাপাচারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ হলো দ্বীনি বিষয়সমূহ শিক্ষা করা, সেই অনুযায়ী আমল করা এবং এরপর তা অন্যকে শিক্ষা দেওয়া। শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ হলো তার নিক্ষিপ্ত সংশয় (شبهات) এবং প্রলুব্ধকর কুপ্রবৃত্তি (شهوات) প্রতিহত করা। কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ হাত, সম্পদ, মুখ ও অন্তরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আর পাপাচারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ হাত, এরপর মুখ এবং এরপর অন্তরের মাধ্যমে হয়ে থাকে (২)।
ইবনুল কায়্যিম এবং অন্যান্যরা যেমনটি বলেছেন, জিহাদের এই মূল প্রকৃতিটি হলো অপরিহার্য ব্যক্তিগত কর্তব্য (فرض عين); চাই তা অন্তরের মাধ্যমে হোক, অথবা মুখের মাধ্যমে, কিংবা সম্পদের মাধ্যমে অথবা হাতের মাধ্যমে। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এই প্রকারগুলোর মধ্য থেকে কোনো না কোনোভাবে জিহাদ করা আবশ্যক (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
[ثالثا شروط وجوب الجهاد على المسلم]ثالثا: شروط وجوب الجهاد على المسلم: ذكر أهل العلم أنه يشترط لوجوب الجهاد سبعة شروط وهي:
الإسلام، والبلوغ، والعقل، والحرية، والذكورية، والسلامة من الضرر - كالعرج والعمى والمرض- ووجود النفقة.
فأما الإسلام والبلوغ والعقل فهي شروط لوجوب سائر الفروع، ولأن الكافر غير مأمون في الجهاد، والمجنون لا يتأتى منه الجهاد، والصبي ضعيف البنية.
وقد روى ابن عمر قال: «عرضت على رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم "أحد" وأنا ابن أربع عشرة فلم يجزني في المقاتلة» متفق عليه.
وأما الحرية فتشترط لما روي أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يبايع الحر على الإسلام والجهاد، ويبايع العبد على الإسلام دون الجهاد، ولأن الجهاد عبادة تتعلق بقطع مسافة فلم تجب على العبد، كالحج.
وأما الذكورية فتشترط لما روت عائشة رضي الله عنها قالت: «يا رسول الله هل على النساء جهاد؟ فقال: "جهاد لا قتال فيه الحج والعمرة» ولأنها ليست من أهل القتال لضعفها وخورها، ولذلك لا يسهم لها.
ولا يجب على خنثى مشكل لأنه لا يعلم كونه ذكرا فلا يجب مع الشك
[তৃতীয়ত: মুসলিমের ওপর জিহাদ ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি]তৃতীয়ত: মুসলিমের ওপর জিহাদ ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি: বিদগ্ধ আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, জিহাদ ওয়াজিব হওয়ার জন্য সাতটি শর্ত রয়েছে, আর সেগুলো হলো:
ইসলাম, বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হওয়া, আকল (সুস্থ মস্তিস্ক সম্পন্ন) হওয়া, স্বাধীনতা, পুরুষ হওয়া, শারীরিক অক্ষমতা বা ক্ষয়ক্ষতি—যেমন: খোঁড়া হওয়া, অন্ধত্ব ও রোগব্যাধি—থেকে মুক্ত থাকা এবং যাতায়াত ও জীবনধারণের পাথেয় থাকা।
আর ইসলাম, বালেগ হওয়া এবং আকল থাকা—এগুলো শরিয়তের অন্যান্য শাখা-প্রশাখা ওয়াজিব হওয়ারও সাধারণ শর্ত। অধিকন্তু জিহাদের ক্ষেত্রে কাফিরের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা যায় না, মজনুন (পাগল) ব্যক্তির পক্ষে জিহাদ করা সম্ভব নয় এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু শারীরিকভাবে দুর্বল কাঠামোর অধিকারী হয়।
ইবনে ওমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «ওহুদের যুদ্ধের দিন আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পেশ করা হয়েছিল, তখন আমার বয়স ছিল চৌদ্দ বছর; তখন তিনি আমাকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দেননি।» হাদিসটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।
আর স্বাধীনতার শর্ত হওয়ার কারণ হলো—বর্ণিত রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বাধীন ব্যক্তির নিকট থেকে ইসলাম ও জিহাদের ওপর বায়আত গ্রহণ করতেন এবং দাসের নিকট থেকে কেবল ইসলামের ওপর বায়আত নিতেন, জিহাদের ওপর নয়। তাছাড়া জিহাদ এমন একটি ইবাদত যা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই হজের মতো এটিও দাসের ওপর ওয়াজিব নয়।
আর পুরুষ হওয়ার শর্ত করার কারণ হলো—আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: «হে আল্লাহর রাসুল! নারীদের ওপর কি জিহাদ আছে? তিনি বললেন: "তাদের জন্য এমন জিহাদ রয়েছে যাতে কোনো যুদ্ধ নেই; আর তা হলো হজ ও ওমরাহ।"» অধিকন্তু নারীরা তাদের শারীরিক দুর্বলতা ও সাহসের অভাবের কারণে যুদ্ধের উপযুক্ত নয়, এ কারণেই গনিমতের মালে তাদের (স্থায়ী) কোনো অংশ রাখা হয় না।
আর 'খুনসা মুশকিলে'র (উভয়লিঙ্গ যার লিঙ্গ নির্ধারণ করা দুঃসাধ্য) ওপরও জিহাদ ওয়াজিব নয়। কেননা, সে পুরুষ কি না তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না, আর সন্দেহযুক্ত অবস্থায় কোনো বিধান ওয়াজিব হয় না।
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
في شرطه.
وأما السلامة من الضرر فمعناه السلامة من العمى والعرج والمرض، وهو شرط لقول الله تعالى: {لَيْسَ عَلَى الْأَعْمَى حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْأَعْرَجِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْمَرِيضِ حَرَجٌ} [النور: 61] ولأن هذه الأعذار تمنعه من الجهاد، فأما العمى فمعروف، وأما العرج فالمانع منه هو الفاحش الذي يمنع المشي الجيد والركوب كالزمانة ونحوها، وأما اليسير الذي يتمكن معه من الركوب والمشي وإنما يتعذر عليه شدة العدو فلا يمنع وجوب الجهاد لأنه ممكن منه فشابه الأعور، وكذلك المرض المانع هو الشديد فأما اليسير منه الذي لا يمنع إمكان الجهاد كوجع الضرس والصداع الخفيف فلا يمنع الوجوب لأنه لا يتعذر معه الجهاد فهو كالعور.
وأما وجود النفقة فيشترط لقول الله تعالى: {لَيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَى وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنْفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ} [التوبة: 91] ولأن الجهاد لا يمكن إلا بآلة فيعتبر القدرة عليها، فإن كان الجهاد على مسافة لا تقصر فيها الصلاة اشترط أن يكون واجدا للزاد ونفقة عائلته في مدة غيبته، وسلاح يقاتل به، ولا تعتبر الراحلة لأنه سفر قريب، وإن كانت المسافة تقصر فيها الصلاة اعتبر مع
তার শর্তের (شرط) বিষয়ে।
আর ক্ষয়ক্ষতি থেকে মুক্ত থাকার অর্থ হলো অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এবং অসুস্থতা থেকে মুক্ত থাকা। এটি একটি শর্ত (شرط), কারণ মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অন্ধের জন্য কোনো দোষ নেই, পঙ্গুর জন্য কোনো দোষ নেই এবং অসুস্থের জন্য কোনো দোষ নেই} [আন-নূর: ৬১]। আর যেহেতু এই ওজরগুলো তাকে জিহাদ থেকে বিরত রাখে; অন্ধত্বের বিষয়টি তো সুপরিচিত, আর পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হলো সেই গুরুতর অবস্থা যা স্বাভাবিক হাঁটাচলা এবং সওয়ারিতে আরোহণ করতে বাধা দেয়, যেমন দীর্ঘস্থায়ী পঙ্গুত্ব (زمانة) এবং এই জাতীয় কিছু। তবে সামান্য পঙ্গুত্ব, যা থাকা সত্ত্বেও সওয়ারিতে আরোহণ করা এবং হাঁটা সম্ভব হয়, কেবল দ্রুত দৌড়ানো কষ্টকর হয়, তা জিহাদ ওয়াজিব (واجب) হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়। কারণ তার পক্ষে জিহাদ করা সম্ভব, তাই সে একচক্ষু বিশিষ্ট ব্যক্তির সমতুল্য। একইভাবে যে অসুস্থতা জিহাদে বাধা প্রদান করে তা হলো গুরুতর অসুস্থতা। তবে সামান্য অসুস্থতা যা জিহাদ করাকে অসম্ভব করে তোলে না—যেমন দাঁত ব্যথা বা সামান্য মাথাব্যথা—তা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় নয়; কারণ এতে জিহাদ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে না, তাই এটিও একচক্ষুহীনতার ন্যায়।
আর ব্যয়নির্বাহের সামর্থ্য থাকাও একটি শর্ত (شرط); কারণ মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {দুর্বলদের ওপর কোনো দোষ নেই, অসুস্থদের ওপর নেই এবং তাদের ওপরও নেই যারা ব্যয় করার মতো কিছু পায় না, যখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি একনিষ্ঠ থাকে} [আত-তাওবাহ: ৯১]। তাছাড়া সরঞ্জাম ব্যতীত জিহাদ করা সম্ভব নয়, তাই এর সক্ষমতা থাকা আবশ্যক বলে বিবেচিত হবে। জিহাদের গন্তব্য যদি এমন দূরত্বে হয় যেখানে নামাজ কসর (قصر) করা হয় না, তবে শর্ত (شرط) হলো তাকে পথের পাথেয় (زاد), তার অনুপস্থিতিকালীন পরিবারের ভরণপোষণ এবং যুদ্ধের অস্ত্রের সংস্থান থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সওয়ারি বা বাহন থাকা অপরিহার্য নয়, কারণ এটি নিকটবর্তী সফর। কিন্তু দূরত্ব যদি এমন হয় যেখানে নামাজ কসর (قصر) করতে হয়, তবে তার সাথে...
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ذلك الراحلة لقول الله تعالى: {وَلَا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلَّوْا وَأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ حَزَنًا أَلَّا يَجِدُوا مَا يُنْفِقُونَ} [التوبة: 92] (1) .
--------------------------------------------
তা হলো সাওয়ারি, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তাদেরও কোনো অপরাধ নেই, যারা আপনার কাছে এসেছিল যাতে আপনি তাদের আরোহণের ব্যবস্থা করেন, তখন আপনি বলেছিলেন: 'তোমাদের আরোহণ করানোর মতো কোনো বাহন আমি পাচ্ছি না।' তখন তারা অশ্রুবিগলিত চোখে ফিরে গেল এই দুঃখে যে, তারা ব্যয় করার মতো কিছু পাচ্ছে না।} [আত-তাওবাহ: ৯২] (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
[رابعا أحكام الجهاد]رابعا: أحكام الجهاد: الجهاد فرض كفاية، قال ابن عطية: "والذي استمر عليه الإجماع أن الجهاد على كل أمة محمد صلى الله عليه وسلم فرض كفاية (1) .
وفي حاشية ابن عابدين: "الجهاد إذا جاء النفير إنما يصير فرض عين على من يقرب من العدو، فأما من وراءهم ببعد من العدو فهو فرض كفاية عليهم يسعهم تركه إذا لم يحتج إليهم (2) .
قال ابن قدامة في المقنع: "وهو فرض كفاية (3) وقال: " ومن حضر الصف من أهل فرض الجهاد أو حصر العدو بلده تعين عليه (4) .
فهذا هو الأصل في حكم الجهاد، وقد يكون فرض عين، قال شمس الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن محمد بن أحمد بن قدامة في الشرح الكبير تحت عبارة المقنع المتقدمة:
"وجملة ذلك أن الجهاد يتعين في ثلاثة مواضع:
--------------------------------------------
[চতুর্থ: জিহাদের বিধানসমূহ]চতুর্থ: জিহাদের বিধানসমূহ: জিহাদ হলো ফরজে কিফায়া। ইবনে আতিয়্যাহ বলেন: "যে ঐকমত্যটি অব্যাহত রয়েছে তা হলো, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমগ্র উম্মতের ওপর জিহাদ হলো ফরজে কিফায়া (১)।
হাশিয়া ইবনে আবিদিন-এ বলা হয়েছে: "জিহাদের জন্য যখন সৈন্যবাহিনীতে যোগদানের সাধারণ আহ্বান আসে, তখন তা কেবল শত্রুর নিকটবর্তী লোকদের ওপর ফরজে আইন হয়ে যায়। আর যারা তাদের পেছনে শত্রুর থেকে দূরে অবস্থান করছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি ফরজে কিফায়া; তাদের জন্য এটি ত্যাগ করার অবকাশ রয়েছে যদি তাদের প্রয়োজন না পড়ে (২)।
ইবনে কুদামাহ আল-মুকনি-তে বলেন: "এটি ফরজে কিফায়া (৩)। তিনি আরও বলেন: "জিহাদ ফরজ হওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যারা রণক্ষেত্রে উপস্থিত হয়েছে অথবা যাদের শহর শত্রুরা অবরুদ্ধ করে ফেলেছে, তাদের ওপর জিহাদ ফরজে আইন হয়ে যায় (৪)।
জিহাদের বিধানের ক্ষেত্রে এটিই হলো মূলনীতি, তবে কখনো কখনো এটি ফরজে আইন হতে পারে। শামসুদ্দিন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন কুদামাহ আশ-শারহুল কাবীর-এ আল-মুকনি-র উপরিউক্ত বক্তব্যের অধীনে বলেন:
"সারকথা হলো, তিনটি ক্ষেত্রে জিহাদ ফরজে আইন হয়ে যায়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أحدها: إذا التقى الزحفان وتقابل الصفان يحرم على من حضر الانصراف ويتعين عليه المقام.
الثاني: إذا نزل الكفار ببلد تعين على أهله قتالهم ودفعهم.
الثالث: إذا استنفر الإمام قوما لزمهم النفير معه. . (1) .
وقال النووي " قال أصحابنا: الجهاد اليوم فرض كفاية إلا أن ينزل الكفار ببلد المسلمين فيتعين عليهم الجهاد، فإن لم يكن في أهل ذلك البلد كفاية وجب على من يليهم تتميم الكفاية (2) .
يقول شيخ الإسلام: " إذا دخل العدو بلاد الإسلام فلا ريب أنه يجب دفعه على الأقرب فالأقرب إذ بلاد الإسلام كلها بمنزلة البلدة الواحدة (3) .
وذكر الفقهاء أن الجهاد قد يحرم ففي الأم للشافعي: "لا يجوز له الجهاد وعليه دين إلا بإذن أهل الدين وسواء كان الدين لمسلم أو كافرا (4) .
وجاء في المنهاج وشرحه مغني المحتاج: " ويحرم على رجل جهاد بسفر
--------------------------------------------
এর মধ্যে প্রথমটি হলো: যখন দুই বাহিনী মুখোমুখি হয় এবং কাতারগুলো একে অপরের সম্মুখীন হয়, তখন উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্য প্রস্থান করা হারাম (حرام) এবং সেখানে অবস্থান করা আবশ্যক (تعين) হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত: যখন কাফেররা কোনো জনপদে আক্রমণ করে, তখন সেই জনপদবাসীদের ওপর তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং তাদের প্রতিহত করা আবশ্যক (تعين) হয়ে যায়।
তৃতীয়ত: ইমাম যখন কোনো সম্প্রদায়কে যুদ্ধের আহ্বান জানান, তখন তাঁর সাথে যুদ্ধে বের হওয়া তাদের জন্য আবশ্যক (لزم) হয়ে যায়। (১)।
ইমাম নববী বলেছেন, "আমাদের সঙ্গীরা (শাফেয়ী ফকীহগণ) বলেছেন: বর্তমানে জিহাদ হলো ফরজে কিফায়া (فرض كفاية), তবে কাফেররা যদি মুসলিমদের কোনো ভূখণ্ডে চড়াও হয়, তখন তাদের ওপর জিহাদ করা আবশ্যক (تعين) হয়ে যায়। যদি সেই জনপদবাসীদের দ্বারা শত্রুকে প্রতিহত করা পর্যাপ্ত না হয়, তবে তাদের নিকটবর্তী মুসলিমদের ওপর এই জিহাদে অংশগ্রহণ করে অভাব পূরণ করা ওয়াজিব (وجب) হয়ে যায় (২)।
শাইখুল ইসলাম বলেন: "যখন শত্রু ইসলামি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তখন এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাদের প্রতিহত করা নিকটতম ব্যক্তিদের ওপর ওয়াজিব (وجب), অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী তাদের ওপর; কেননা সমগ্র ইসলামি ভূখণ্ড একটি একক জনপদের মর্যাদায় (৩)।
ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন যে, জিহাদ কখনও হারাম (حرام) হতে পারে। শাফেয়ীর আল-উম্ম গ্রন্থে রয়েছে: "ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য পাওনাদারের অনুমতি ছাড়া জিহাদে যাওয়া বৈধ (يجوز) নয়, চাই পাওনাদার মুসলিম হোক বা কাফের (৪)।
আল-মিনহাজ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ মুগনি আল-মুহতাজ-এ বর্ণিত হয়েছে: "কোনো ব্যক্তির জন্য সফরের মাধ্যমে জিহাদে বের হওয়া হারাম (حرام)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وغيره إلا بإذن أبويه (1) .
قال الشوكاني: " يجب استئذان الأبوين في الجهاد وبذلك قال الجمهور وجزموا بتحريم الجهاد إذا منع منه الأبوان أو أحدهما لأن برهما فرض عين والجهاد فرض كفاية (2) .
وهذه الحالة التي ذكر الشوكاني إذا كان الجهاد فرض كفاية أما إذا كان فرض عين فلا يدخل كلامهم فيه.
ومن الصور والحالات التي يحرم الجهاد فيها - كما نص عليه الفقهاء- قولهم إذا زادت الكفار [أي ضعف قوة المسلمين] ورجي الظفر بأن ظنناه إن ثبتنا استحب الثبات، وإن غلب على ظننا الهلاك بلا نكاية وجب علينا الفرار لقوله تعالى: {وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} [البقرة: 195] (3) .
وفي القوانين الشرعية لابن جزي "وإن علم المسلمون أنهم مقتولون فالانصراف أولى، وإن علموا مع ذلك أنهم لا تأثير لهم في نكاية في العدو
--------------------------------------------
...এবং অন্যান্য ক্ষেত্রও, তবে পিতামাতার অনুমতি ব্যতীত নয় (১)।
শাওকানি বলেন: "জিহাদের ক্ষেত্রে পিতামাতার অনুমতি গ্রহণ করা ওয়াজিব (واجب); জুমহুর (الجمهور) ওলামায়ে কেরামও এই মত পোষণ করেছেন। তারা জিহাদ হারাম (حرام) হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য মত দিয়েছেন যদি পিতামাতা বা তাদের কোনো একজন নিষেধ করেন, কারণ তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করা ফরজে আইন (فرض عين) এবং জিহাদ হলো ফরজে কিফায়া (فرض كفاية) (২)।
শাওকানি যে অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন তা হলো যখন জিহাদ ফরজে কিফায়া (فرض كفاية) থাকে; কিন্তু যখন তা ফরজে আইন (فرض عين) হয়, তখন তাদের এই বক্তব্য তার অন্তর্ভুক্ত হবে না।
জিহাদ হারাম (حرام) হওয়ার বিভিন্ন সুরত ও অবস্থাগুলোর মধ্যে একটি—যেমনটি ফকিহগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন—হলো: যখন কাফেরদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় [অর্থাৎ মুসলিমদের শক্তি দুর্বল হয়] এবং বিজয়ের আশা থাকে, এমতাবস্থায় যদি আমাদের প্রবল ধারণা হয় যে অবিচল থাকলে বিজয় আসবে, তবে অবিচল থাকা মুস্তাহাব (مستحب)। আর যদি আমাদের প্রবল ধারণা হয় যে শত্রুর কোনো ক্ষতি করা ছাড়াই ধ্বংস অনিবার্য, তবে আমাদের জন্য পলায়ন করা ওয়াজিব (واجب); কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না} [আল-বাকারা: ১৯৫] (৩)।
ইবনে জুযাই-এর আল-কাওয়ানিন আশ-শারইয়াহ গ্রন্থে রয়েছে: "যদি মুসলিমগণ নিশ্চিতভাবে জানেন যে তারা নিহত হবেন, তবে প্রস্থান করাই উত্তম (أولى)। আর যদি তারা এটি জানার পাশাপাশি আরও জানেন যে শত্রুর কোনো ক্ষতি সাধনে তাদের কোনো প্রভাব নেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وجب الفرار، وقال أبو المعالي: لا خلاف في ذلك (1) ا. هـ.
قال الشوكاني: " إذا علموا بالقرائن القوية أن الكفار غالبون لهم مستظهرون عليهم فعليهم أن يتنكبوا عن قتالهم ويستكثروا من المجاهدين ويستصرخوا أهل الإسلام، وقد استدل على ذلك بقوله عز وجل: {وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} [البقرة: 195] (2) وهي تقتضي ذلك بعموم لفظها وإن كان السبب خاصا فإن سبب نزولها أن الأنصار لما قدموا على زرائعهم وإصلاح أموالهم وتركوا الجهاد أنزل الله في شأنهم هذه الآية كما أخرجه أبو داود والنسائي والترمذي وصححه والحاكم.
وقد تقرر في الأصول أن الاعتبار بعموم اللفظ لا بخصوص السبب، ومعلوم أن من أقدم وهو يرى أنه مقتول أو مأسور ومغلوب فقد ألقى بيده إلى التهلكة (3) .
وجاء في السير الكبير: "فأما إذا كان يعلم أنه لا ينكي فيهم فإنه لا يحل له أن يحمل عليهم لأنه لا يحصل بجملته شيء مما يرجع إلى إعزاز الدين
--------------------------------------------
পলায়ন করা আবশ্যক (واجب) হয়ে পড়ে, এবং আবু আল-মাআলি বলেন: এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই (১)। সমাপ্ত।
শাওকানি বলেন: "যখন তারা শক্তিশালী লক্ষণাদির মাধ্যমে জানতে পারে যে কাফিররা তাদের ওপর প্রবল ও বিজয়ী হবে, তখন তাদের ওপর আবশ্যক (واجب) হলো যুদ্ধ থেকে বিরত থাকা, মুজাহিদদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং মুসলিমদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা। আর এর সপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে: {আর তোমরা নিজেদের হাতকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না} [বাকারা: ১৯৫] (২)। এই আয়াতটি তার শব্দের ব্যাপকতা (عموم) দ্বারা এটিই দাবি করে, যদিও এর প্রেক্ষাপটটি সুনির্দিষ্ট (خاص) ছিল। কেননা এর নাযিলের কারণ (سبب نزول) হলো, আনসারগণ যখন তাদের চাষাবাদ ও সম্পদ সংস্কারে আত্মনিয়োগ করল এবং জিহাদ পরিত্যাগ করল, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে এই আয়াত নাযিল করেন; যেমনটি আবু দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং হাকেমও বর্ণনা করেছেন।
আর উসুলশাস্ত্রে (الأصول) এটি প্রতিষ্ঠিত যে, ধর্তব্য হলো শব্দের ব্যাপকতা (عموم اللفظ), কারণের বিশেষত্ব (خصوص السبب) নয়। আর এটি সুপরিচিত যে, যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় অগ্রসর হয় যখন সে মনে করে যে সে নিহত হবে অথবা বন্দী ও পরাজিত হবে, তবে সে তার নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিল (৩)।
আস-সিয়ার আল-কাবীর গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "তবে যখন সে জানে যে সে তাদের (শত্রুদের) কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, তখন তার জন্য তাদের ওপর আক্রমণ করা বৈধ (حلال) নয়; কারণ তার সামগ্রিক কাজের দ্বারা দ্বীনের মর্যাদার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কিছুই অর্জিত হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ولكنه يقتل فقط وقد قال تعالى {وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ} [النساء: 29] (النساء: 29) ".
ولذا قال الألوسي في قوله تعالى: {وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} [البقرة: 195] هي اقتحام الحرب من غير مبالاة وإيقاع النفس في الخطر والهلاك (1) .
وقال ابن حجر في مسألة حمل الواحد على العدد الكثير: "متى كان مجرد تهور فممنوع لا سيما إن ترتب على ذلك وهن المسلمين ".
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "فمن كان من المؤمنين بأرض هو فيها مستضعف، أو في وقت هو فيه مستضعف، فليعمل بآية الصبر والصفح عمن يؤذي الله ورسوله من الذين أوتوا الكتاب والمشركين، وأما أهل القوة فإنما يعملون بآية قتال أئمة الكفر الذين يطعنون في الدين ، وبآية قتال الذين أوتوا الكتاب حتى يعطوا الجزية عن يد وهم صاغرون (2) .
ومن القواعد المقررة: دفع المضار مقدم على جلب المنافع.
ونقل المرداوي في الإنصاف عن صاحب البلغة:
--------------------------------------------
কিন্তু সে কেবল নিহতই হবে, অথচ মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমরা নিজেদের হত্যা করো না} [সূরা নিসা: ২৯] (সূরা নিসা: ২৯) "।
এ কারণেই আলূসী মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না} [সূরা বাকারা: ১৯৫] এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: এটি হলো কোনো পরিণাম চিন্তা না করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া এবং নিজেকে বিপদ ও ধ্বংসের মুখে নিপতিত করা (১)।
ইবনে হাজার এক ব্যক্তি কর্তৃক বিশাল সৈন্যবাহিনীর মোকাবিলা করার মাসআলায় বলেছেন: "যখন এটি নিছক হঠকারিতা হবে তখন তা নিষিদ্ধ, বিশেষ করে যদি এর ফলে মুসলিমদের মধ্যে হীনম্মন্যতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে "।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "মুমিনদের মধ্যে যে ব্যক্তি এমন কোনো ভূখণ্ডে অথবা এমন কোনো সময়ে অবস্থান করে যেখানে সে দুর্বল, সে যেন ধৈর্য ধারণ এবং যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয় সেই কিতাবধারী ও মুশরিকদের মার্জনা করার আয়াত অনুযায়ী আমল করে। পক্ষান্তরে যারা শক্তিশালী, তারা কুফরের হোতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আয়াত অনুযায়ী আমল করবে যারা দ্বীনকে বিদ্ধ করে, এবং আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আয়াত অনুযায়ী আমল করবে যতক্ষণ না তারা বশ্যতা স্বীকার করে স্বেচ্ছায় জিযিয়া প্রদান করে (২)।
আর একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতি হলো: অনিষ্ট দমন করা কল্যাণ অর্জনের ওপর প্রাধান্য পাবে।
আল-মারদাভী 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে 'সাহিবুল বুলগা'র রচয়িতার বরাতে উদ্ধৃত করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
"وهو فرض عين في موضعين:
أحدهما: إذا التقى الزحفان وهو حاضر.
والثاني: إذا نزل الكفار بلد المسلمين تعين على أهله النفير إليهم إلا لأحد رجلين: من تدعو الحاجة إلى تخلفه لحفظ الأهل أو المكان أو المال، والآخر: من يمنعه الأمير من الخروج
هذا في أهل الناحية ومن بقربهم أما البعيد على مسافة القصر فلا يجب عليه إلا إذا لم يكن دونهم كفاية من المسلمين ا. هـ.
وكذا قال في "الرعاية" وقال: أو من كان بعيدا وعجز عن قصد العدو. قلت: أو قرب منه وقدر على قصده لكنه معذور بمرض أو نحوه أو بمنع أمير أو غيره بحق كحبسه بدين " ا. هـ (1) .
فتبين من كلام الفقهاء أن أمر الجهاد ليس صورة واحدة بل له شروط وأحكام وضوابط كغيره من فرائض الإسلام، والأصل فيه أنه فرض كفاية، وقد يكون فرض عين، وقد يكون محرما، وإذا كان الأمر كذلك فلا ينقد أهل الإسلام بنظر أي قائل، بل عليهم أن يرجعوا إلى أهل العلم الراسخين فيه الذين يردون المتشابه من العلم إلى محكمه
--------------------------------------------
এবং এটি (জিহাদ) দুটি ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে বাধ্যতামূলক (فرض عين):
প্রথমটি: যখন দুই বাহিনী যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখি হয় এবং সে সেখানে উপস্থিত থাকে।
দ্বিতীয়টি: যখন কাফিররা মুসলিমদের কোনো ভূখণ্ডে আক্রমণ করে, তখন সেখানে অবস্থানকারীদের ওপর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া আবশ্যক হয়ে যায়। তবে দুই প্রকারের ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম: এক, যার পরিবার, স্থান বা সম্পদ রক্ষার প্রয়োজনে পেছনে থাকা আবশ্যক; এবং দুই, যাকে আমির (নেতা) যুদ্ধে বের হতে নিষেধ করেন।
এটি কেবল সেই অঞ্চলের অধিবাসী এবং তাদের নিকটবর্তীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে যারা কসর করার সমপরিমাণ দূরত্বে অবস্থান করছে, তাদের ওপর এটি ওয়াজিব হবে না, যতক্ষণ না নিকটবর্তী মুসলিমদের সংখ্যা শত্রুর মোকাবিলায় পর্যাপ্ত হয়। (সমাপ্ত)
অনুরূপ কথা 'আর-রিয়ায়াহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে। সেখানে আরও উল্লেখ আছে: অথবা যে ব্যক্তি দূরে অবস্থান করছে এবং শত্রুর অভিমুখে যাত্রা করতে অক্ষম। আমি (গ্রন্থকার) বলি: অথবা সে নিকটেই রয়েছে এবং যাত্রার সামর্থ্যও রাখে, কিন্তু অসুস্থতা বা অনুরূপ কোনো কারণে ওজরগ্রস্ত, কিংবা আমিরের পক্ষ থেকে অথবা অন্য কোনো ন্যায়সংগত কারণে বাধাগ্রস্ত, যেমন ঋণের দায়ে কারারুদ্ধ হওয়া। (সমাপ্ত) (১)।
সুতরাং ফকিহগণের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, জিহাদের বিষয়টি কেবল একরৈখিক কোনো বিষয় নয়; বরং ইসলামের অন্যান্য ফরজ বিধানের ন্যায় এরও সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি, আহকাম ও নীতিমালা রয়েছে। এর মূল হুকুম হলো এটি একটি সামষ্টিক দায়িত্ব (فرض كفاية), তবে ক্ষেত্রবিশেষে এটি ব্যক্তিগতভাবে বাধ্যতামূলক (فرض عين) হতে পারে, আবার কখনো তা নিষিদ্ধ (محرم) হতে পারে। আর বিষয়টি যখন এরূপ, তখন মুসলিম উম্মাহর কেবল যেকোনো বক্তার অভিমত গ্রহণ করা সংগত নয়; বরং তাদের উচিত সেই সকল ইলমে সুগভীর পাণ্ডিত্যসম্পন্ন আলেমদের নিকট প্রত্যাবর্তন করা, যারা ইলমের অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়গুলোকে তার সুস্পষ্ট (محكم) বিষয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
تنبيه:
قد يدخل المسلم أحد بلاد الكفر بتأشيرة الدخول فيقتل فيهم أو يفسد في أرضهم، وقد قال الفقهاء: وأمانهم لمسلم أمان لهم منه.
يعني أن الكفار لكي يكونوا آمنين من المسلم في بلادهم لا بد لهم من أخذ تصريح منه بأنهم آمنون منه أيضا أو إعطائه ما يسمى بتأشيرة الدخول فحينئذ يحرم عليه أن ينالهم بمكروه.
والعرف الدولي السائد هو أن من يدخل بلادا بأمان فتلك البلاد في أمان منه أيضا، ومن القواعد الشرعية "المعروف بالعرف كالمشروط بالنص.
قال الشافعي: "إذا دخل قوم من المسلمين بلاد الحرب بأمان فالعدو منهم آمنون إلى أن يفارقوهم أو يبلغوا مدة أمانهم وليس لهم ظلمهم ولا خيانتهم (1) .
وقال ابن قدامة "من دخل إلى أرض العدو بأمان لم يخنهم في مالهم ولم يعاملهم بالربا أما خيانتهم فمحرمة لأنهم إنما أعطوه الأمان مشروطا بتركه خيانتهم وأمنه إياهم من نفسه وإن لم يكن ذلك مذكورا في اللفظ فهو معلوم في المعنى (2) .
--------------------------------------------
সতর্কবার্তা:
একজন মুসলিম প্রবেশ ভিসা নিয়ে কোনো অমুসলিম রাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারে, অতঃপর সে সেখানে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে কিংবা তাদের ভূখণ্ডে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। অথচ ফকিহগণ বলেছেন: "কাফেরদের পক্ষ থেকে কোনো মুসলিমকে নিরাপত্তা দেওয়ার অর্থ হলো তাদের জন্য ওই মুসলিমের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া।"
এর অর্থ হলো, কাফেররা তাদের নিজ দেশে মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য এটি আবশ্যক যে, তারা তার কাছ থেকে এই মর্মে নিশ্চয়তা গ্রহণ করবে যে তারা নিরাপদ থাকবে, অথবা তাকে ‘প্রবেশ ভিসা’ নামক অনুমতিপত্র প্রদান করবে। এমতাবস্থায় তাদের কোনো প্রকার অনিষ্ট করা ওই ব্যক্তির জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ।
বর্তমানে প্রচলিত আন্তর্জাতিক রীতি হলো, যে ব্যক্তি নিরাপত্তার সাথে কোনো দেশে প্রবেশ করে, সেই দেশটিও ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে নিরাপদ থাকে। আর একটি শরয়ি নীতিমালা হলো: "প্রথাগতভাবে যা স্বীকৃত, তা দালিলিক টেক্সটের মাধ্যমে শর্তযুক্ত করার সমতুল্য।"
ইমাম শাফেঈ বলেছেন: "যখন একদল মুসলিম নিরাপত্তার সাথে যুদ্ধরত অমুসলিমদের দেশে প্রবেশ করে, তখন শত্রুরা তাদের পক্ষ থেকে নিরাপদ থাকবে যতক্ষণ না তারা তাদের সঙ্গ ত্যাগ করে অথবা তাদের নিরাপত্তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। তাদের ওপর জুলুম করা কিংবা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা মুসলিমদের জন্য বৈধ নয়" (১)।
ইবনে কুদামাহ বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিরাপত্তার সাথে শত্রুর ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে, সে তাদের সম্পদের ব্যাপারে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না এবং তাদের সাথে সুদি কারবার করবে না। তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হারাম, কারণ তারা তাকে এই শর্তেই নিরাপত্তা দিয়েছে যে, সে তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না এবং তারা তার পক্ষ থেকে নিরাপদ থাকবে। যদিও বিষয়টি স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করা না হয়, তবুও তা অর্থগতভাবে সুনিশ্চিত" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
[خامسا تنبيهات حول الجهاد اليوم]
[الخوض في وجوب الجهاد وعدمه عند المستجدات كلام في حكم الله]خامسا: تنبيهات حول الجهاد اليوم: ينبغي لمن أراد الله والدار الآخرة أن يتأمل فيما شرعه الله ولا يأخذ الأمور باستعجال أو غيرة مجردة عن العلم المحكم لأننا مأمورون أن نعبد الله جل وعلا كما يريد لا كما نريد.
ولذا فثم تنبيهات تهم المسلم في هذا الزمان بثها أهل العلم في كتبهم وسطروها في فتن مشابهة لحالنا اليوم.
1 - الخوض في وجوب الجهاد وعدمه عند المستجدات كلام في حكم الله وهذا إنما يكون لخاصة الناس وهم أهل العلم الراسخون والفقهاء المتمكنون. قال الله تعالى: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: 43] ولما ذكر شيخ الإسلام أمر قتال أبي بكر الصديق رضي الله عنه للمرتدين ولمسيلمة الكذاب ثم تعرض لقتال البغاة والخوارج وما حصل بين علي ومعاوية رضي الله عنهما قال "وفي الجملة البحث في هذه الدقائق من وظيفة خواص أهل العلم (1) .
وشتان بين تقرير مسائل الجهاد نظريا وبين تطبيقها عمليا، فهذا مما تختلف فيه أنظار الناس، ومن أجل ذلك أطبق علماء المسلمين على قاعدة
--------------------------------------------
[পঞ্চম: বর্তমান সময়ের জিহাদ প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা][নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জিহাদের আবশ্যকতা বা অনাবশ্যকতা নিয়ে আলোচনা করা আল্লাহর বিধানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়]পঞ্চম: বর্তমান সময়ের জিহাদ প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা: যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং পরকাল কামনা করে, তার উচিত আল্লাহ যা শরয়ি বিধান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা এবং সুদৃঢ় জ্ঞান (العلم المحكم) ব্যতিরেকে তাড়াহুড়া করে বা নিছক আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো বিষয় গ্রহণ না করা। কারণ আমরা মহান আল্লাহর ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি তাঁর ইচ্ছানুসারে, আমাদের নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো নয়।
তাই বর্তমান সময়ের মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু সতর্কবার্তা রয়েছে যা আলেমগণ তাঁদের কিতাবসমূহে প্রচার করেছেন এবং আমাদের বর্তমান অবস্থার সদৃশ ফিতনাসমূহের প্রেক্ষাপটে লিখে গিয়েছেন।
১ - নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জিহাদের আবশ্যকতা বা অনাবশ্যকতা নিয়ে আলোচনা করা মূলত আল্লাহর হুকুম বা বিধানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়। আর এটি কেবল বিশেষ একদল লোকের কাজ, যারা হলেন গভীর জ্ঞানের অধিকারী আলেম (أهل العلم الراسخون) এবং বিজ্ঞ ফকিহগণ (الفقهاء المتمكنون)। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো} [আন-নাহল: ৪৩]। শাইখুল ইসলাম যখন মুরতাদ (المرتدين) এবং চরম মিথ্যাবাদী (الكذاب) মুসায়লিমার বিরুদ্ধে আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুদ্ধের বিষয়টি উল্লেখ করেন, অতঃপর বিদ্রোহী (البغاة) ও খারেজিদের (الخوارج) বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয় এবং আলী ও মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুমার মধ্যে যা ঘটেছিল তা নিয়ে আলোচনা করার পর বলেন, "সারকথা হলো, এসব সূক্ষ্ম বিষয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞ আলেমদের বিশেষ দায়িত্ব (১)।
জিহাদের মাসয়ালাগুলো তাত্ত্বিকভাবে বর্ণনা করা এবং সেগুলো বাস্তবিকভাবে প্রয়োগ করার মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে। কারণ এটি এমন একটি বিষয় যেখানে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হয়ে থাকে। একারণেই মুসলিম মনীষীগণ একটি মূলনীতির (قاعدة) ওপর একমত হয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
متينة عظيمة وهي:
أنه إذا حصل بحث في أمر من الأمور ينبغي أن يولى من هو أسهل لذلك ويجعل إلى أهله ولا يتقدم بين أيديهم فإنه أقرب إلى الصواب وأحرى للسلامة من الخطأ (1) .
قال تعالى: {وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} [النساء: 83]
قال الشيخ عبد الرحمن بن سعدي في تفسير هذه الآية: "فيه نهي عن العجلة والتسرع لنشر الأمور من حين سماعها، وفيه الأمر بالتأمل قبل الكلام، والنظر فيه هل هو مصلحة فيقدم عليه أم لا فيحجم "، وقال: " ينبغي للعباد إذا جاءهم أمر من الأمور المهمة، والمصالح العامة ما يتعلق بالأمن وسرور المؤمنين، أو بالخوف الذي فيه مصيبة عليهم، أن يثبتوا ولا يستعجلوا بإشاعة ذلك الخبر، بل يردونه إلى الرسول وإلى أولي الأمر منهم، أهل الرأي والعلم والنصح والعقل والرزانة الذين يعرفون الأمور ويعرفون المصالح وضدها.
--------------------------------------------
এটি একটি সুদৃঢ় ও মহান মূলনীতি, আর তা হলো:
যখন কোনো বিষয়ে পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়, তখন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য যিনি সবচেয়ে যোগ্য তাকে দায়িত্ব প্রদান করা উচিত এবং তা বিশেষজ্ঞদের নিকট ন্যস্ত করা উচিত। তাদের ডিঙিয়ে কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়; কারণ এটি নির্ভুল হওয়ার অধিক নিকটবর্তী এবং ভুলের হাত থেকে বেঁচে থাকার জন্য বেশি উপযোগী (১)।
মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তাদের নিকট শান্তি কিংবা ভয়ের কোনো সংবাদ আসে, তারা তা প্রচার করে বেড়ায়। অথচ তারা যদি তা রাসূল এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমরদের (কর্তৃত্বশীল ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ) নিকট সোপর্দ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা বিষয়টি গবেষণা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম, তারা তা অবশ্যই অবগত হতে পারত।} [আন-নিসা: ৮৩]
এই আয়াতের তাফসিরে শেখ আব্দুর রহমান বিন সাদি বলেন: "এতে কোনো সংবাদ শোনার পর তা প্রচারের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো ও অস্থিরতা দেখাতে নিষেধ করা হয়েছে। আর এতে কথা বলার আগে চিন্তা-ভাবনা করার এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, এটি কি কল্যাণকর—তবে তা সম্পাদন করা হবে, নাকি অকল্যাণকর—তবে তা থেকে বিরত থাকা হবে।" তিনি আরও বলেন: "বান্দাদের উচিত যখন তাদের নিকট কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও জনকল্যাণ সংশ্লিষ্ট কোনো সংবাদ আসে—তা মুমিনদের নিরাপত্তা ও আনন্দের বিষয় হোক অথবা ভয়ের কোনো বিষয় যাতে তাদের জন্য মুসিবত রয়েছে—তখন তারা যেন বিচলিত না হয়ে স্থির থাকে এবং সেই সংবাদটি প্রচার করতে তাড়াহুড়ো না করে। বরং তারা যেন তা রাসূল এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমরদের—অর্থাৎ যারা বিজ্ঞ, জ্ঞানী, হিতাকাঙ্ক্ষী, বুদ্ধিমান ও ধীরস্থির; যারা বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং কল্যাণ ও অকল্যাণ বুঝতে সক্ষম—তাদের নিকট সোপর্দ করে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فإن رأوا في إذاعته مصلحة ونشاطا للمؤمنين وسرورا لهم وتحرزا من أعدائهم فعلوا ذلك، وإن رأوا ما فيه مصلحة، أو فيه مصلحة لكن مضرته تزيد على مصلحته لم يذيعوه (1) .
ومن أجل ذلك قرر أئمة أهل السنة والجماعة أن الجهاد من صلاحيات الإمام ومسئولياته وليس لأحاد الناس واجتهاداتهم.
روى ابن عبد البر عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه: "ما أخاف على هذه الأمة من مؤمن ينهاه إيمانه، ولا فاسق بين فسقه، ولكن أخاف عليها رجلا قرأ القرآن حتى أذلقه بلسانه تأوله على غير تأويله (2) .
وكان أصحاب معاوية رضي الله عنه جلوسا عنده فقال: "إن أغرى الضلالة لرجل قرأ القرآن فلا يفقه فيه فيعلمه الصبي والعبد والمرأة والأمة فيجادلون به أهل العلم (3) وإذا اشتبهت هذه المسائل عند من يؤمن بالله ويريد رضاه فعليه بالاقتداء بفعل العلماء الراسخين الذين شهد لفهم عموم الناس بذلك، ولا ينزل الجهلة منزلة العلماء.
--------------------------------------------
যদি তারা এর প্রচারের মধ্যে মুমিনদের জন্য কল্যাণ, উৎসাহ ও আনন্দ এবং তাদের শত্রুদের থেকে সতর্কতা অবলম্বন দেখতে পান, তবে তারা তা করবেন। আর যদি তারা এমন কিছু দেখেন যাতে কোনো কল্যাণ নেই, অথবা কল্যাণ থাকলেও তার ক্ষতি কল্যাণের চেয়ে বেশি হয়, তবে তারা তা প্রচার করবেন না (১)।
আর এ কারণেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমামগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, জিহাদ হলো ইমামের (শাসকের) কর্তৃত্ব ও দায়িত্বসমূহের অন্তর্ভুক্ত, এটি সাধারণ জনগণের বা তাদের ব্যক্তিগত ইজতিহাদের (اجتهاد) বিষয় নয়।
ইবনে আবদিল বার উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমি এই উম্মতের জন্য এমন মুমিনকে নিয়ে ভয় করি না যাকে তার ঈমান (অন্যায় থেকে) বিরত রাখে, আর না সেই পাপাচারীকে (فاسق) যার পাপাচার প্রকাশ্য। কিন্তু আমি এই উম্মতের জন্য এমন ব্যক্তিকে ভয় করি যে কুরআন পাঠ করেছে এবং তা তার জিহবায় অত্যন্ত সাবলীল হয়ে গিয়েছে, অতঃপর সে এর অপব্যাখ্যা (تأويل) করেছে (২)।"
মুয়াবিয়া (রা.)-এর সঙ্গীরা তাঁর কাছে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই পথভ্রষ্টতার সবচেয়ে প্ররোচনামূলক দিক হলো এমন ব্যক্তি যে কুরআন পাঠ করেছে কিন্তু তাতে গভীর জ্ঞান (فقه) অর্জন করেনি, অতঃপর সে তা শিশু, দাস, নারী ও দাসীদের শিক্ষা দেয় এবং তারা এটি নিয়ে আলেমদের সাথে বিতর্ক করে (৩)। আর যখন এই মাসআলা (مسائل) সমূহ কোনো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী ও তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণকারীর কাছে অস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন তার উচিত সেই সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী (راسخ) আলেমদের অনুসরণ করা যাদের প্রজ্ঞার ব্যাপারে সাধারণ মানুষ সাক্ষ্য দিয়েছে। আর অজ্ঞদের যেন আলেমদের মর্যাদায় আসীন করা না হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহিম্মাতুন হাওলাল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وإن من أهم الصفات التي لا بد من توفرها لدى من يسأل عن مثل هذه العظائم أن يكون ملما بمقاصد الشريعة مدركا لها قال الشاطبي في الموافقات: " أول شرط لبلوغ درجة الاجتهاد هو فهم مقاصد الشريعة على كمالها، والشرط الثاني والأخير هو التمكن من الاستنباط بناء على فهمه فيها (1) .
وتكلم ابن السبكي عن من يجوز تقليده فصرح بأن العالم إذا تحققت له رتبة الاجتهاد، ولها الاطلاع على مقاصد الشريعة والخوض في بحارها، جاز تقليده كما قلد الشافعي وغيره من الأئمة (2) .
وإذا تكلمنا عن النظر إلى مقاصد الشريعة هنا فليس في هذا انحراف عن جادة الحق بل هو لزوم لها، قال الشاطبي: " فإذا بلغ الإنسان مبلغا فهم عن الشارع فيه قصده في كل مسألة من مسائل الشريعة وفي كل باب من أبوابها فقد حصل له وصف هو السبب في تنزيله منزلة الخليفة للنبي في التعليم والفتيا والحكم بما أراه الله (3) .
--------------------------------------------
এমন সব গুরুতর বিষয়ে যাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর মধ্যে যে সকল গুণ থাকা অপরিহার্য, তার মধ্যে অন্যতম হলো শরিয়তের উচ্চতর লক্ষ্যসমূহ (مقاصد الشريعة) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান ও উপলব্ধি থাকা। আল-মুওয়াফাকাত গ্রন্থে আশ-শাতিবি বলেন: "ইজতিহাদ (اجتهاد) এর স্তরে পৌঁছানোর প্রথম শর্ত হলো শরিয়তের লক্ষ্যসমূহকে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুধাবন করা; এবং দ্বিতীয় ও শেষ শর্তটি হলো সেই অনুধাবনের ভিত্তিতে মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) করার সামর্থ্য অর্জন করা (১) ।
ইবনে আস-সুবকি কার তাকলিদ (تقليد) করা বৈধ সে সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, একজন আলেম যখন ইজতিহাদ (اجتهاد) এর স্তরে উন্নীত হন এবং শরিয়তের লক্ষ্যসমূহ (مقاصد الشريعة) অনুধাবন ও এর গভীরে অবগাহন করার সক্ষমতা অর্জন করেন, তখন তাঁর তাকলিদ (تقليد) করা বৈধ হয়, যেমনটি শাফেয়ী ও অন্যান্য ইমামদের তাকলিদ (تقليد) করা হয়েছে (২) ।
আর আমরা যখন এখানে শরিয়তের লক্ষ্যসমূহ (مقاصد الشريعة) বিবেচনার কথা বলি, তখন তা সত্য পথ থেকে বিচ্যুতি নয় বরং সত্যের পথে অবিচল থাকা। আশ-শাতিবি বলেন: "মানুষ যখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে সে শরিয়তের প্রতিটি মাসআলা ও প্রতিটি অধ্যায়ে শরিয়তদাতার উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হয়, তখন তাঁর মধ্যে এমন এক বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয় যা তাঁকে শিক্ষা দান, ফতোয়া (فتوى) প্রদান এবং আল্লাহ তাঁকে যা দেখিয়েছেন সেই অনুযায়ী ফয়সালা করার ক্ষেত্রে নবীর স্থলাভিষিক্ত (خليفة) হওয়ার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে (৩) ।
--------------------------------------------