(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: -)
وظيفة المسجد في المجتمع   (صالح بن ناصر الخزيم)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: وظيفة المسجد في المجتمع

المؤلف: صالح بن ناصر بن صالح الخزيم (ت 1418هـ)

الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1419هـ

عدد الصفحات: 82

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সমাজে মসজিদের ভূমিকা   (সালেহ বিন নাসের আল-খুজাইম)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: সমাজে মসজিদের ভূমিকা

লেখক: সালেহ বিন নাসের বিন সালেহ আল-খুজাইম (মৃত্যু: ১৪১৮ হিজরি)

প্রকাশক: ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮২

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[مقدمة]

وظيفة المسجد في المجتمع بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على النبي الهادي الأمين، نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، وبعد:

فيسرني كل السرور ويشرفني أن تلقيت دعوة كريمة من صاحب المعالي وزير الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد الدكتور عبد الله بن عبد المحسن التركي للاشتراك في الملتقى الذي ستقيمه الوزارة في المدة من 14 إلى 18 / 10 / 1414 هـ، فتلبية لهذه الرغبة كتبت ما أسند إلي بحثه ألا وهو:

" وظيفة المسجد في المجتمع مع إضافة بعض أحكام المسجد ". وإن كان بحثا متواضعا، قصيرا لقلة المدة التي حددت لي، فأمل أن يكون البحث مناسبا وصالحا لما أعد له. وفق الله العاملين بهذه الوزارة وسدد خطاهم وكلل مساعيهم بالنجاح والتوفيق، وأن يكون هذا الملتقى بداية خير وهداية وبركة.

والله يوفق الجميع.

أ. د. صالح بن ناصر الخزيم

كلية الشريعة وأصول الدين بالقصيم

29 - / 8 / 1414 هـ
‌[ভূমিকা]

সমাজে মসজিদের ভূমিকা। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক হিদায়াতকারী ও বিশ্বস্ত নবী, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর। অত:পর:

আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছি যে, মাননীয় ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রী ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কির পক্ষ থেকে আগামী ১৪ হতে ১৮ / ১০ / ১৪১৪ হিজরি মেয়াদে মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য একটি মহতী আমন্ত্রণ লাভ করেছি। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমি আমাকে অর্পিত বিষয়ের ওপর এই প্রবন্ধটি লিখেছি, যা হলো:

"সমাজে মসজিদের ভূমিকা এবং সেই সাথে মসজিদের কিছু বিধিবিধান (أحكام)"। যদিও নির্ধারিত সময়ের স্বল্পতার কারণে গবেষণাটি অতি সাধারণ ও সংক্ষিপ্ত হয়েছে, তবুও আমি আশাবাদী যে এটি যে উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে তার জন্য উপযুক্ত ও কার্যকর হবে। আল্লাহ এই মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের তাওফিক দান করুন, তাঁদের পদক্ষেপসমূহকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং তাঁদের প্রচেষ্টাকে সাফল্য ও সার্থকতা দান করুন। আর এই সেমিনারটি যেন কল্যাণ, হিদায়াত ও বরকতের সূচনা হয়।

আল্লাহ সকলকে তাওফিক দান করুন।

প্রফেসর ড. সালিহ বিন নাসির আল-খুজাইম

শরীয়াহ ও উসুলুদ্দীন অনুষদ, কাসিম

২৯ - / ৮ / ১৪১৪ হিজরি
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌[شرح مفردات العنوان]

شرح مفردات العنوان الوظيفة: المنصب والخدمة المعينة، والوظيفة: ما يقدر من عمل أو طعام أو رزق، وغير ذلك في زمن معين، و العهد والشرط، ج وظف ووظائف، ويقال: فيها وظائف ووظف: أي نوب ودول (1) .

المسجد لغة: هو مفعل بالكسر اسم لمكان السجود، وبالفتح اسم للمصدر، قال أبو زكريا الفراء: كل ما كان على فَعَل يَفْعُل كَدخَل يَدْخُل كَالْمَفْعَل منه بالفتح اسما كان أو مصدرا، ولا يقع فيه الفرق. مثل دخل مدخلا.

ومن الأسماء ما ألزموها كسر العين، منها: المسجِد، والمطِلع، والمغرِب والمشرِق وغيرها، فجعلوا الكسر علامة للاسم، وربما فتحه بعض العرب، وقد روى: المسجِد والمسجَد والمطِلع والمطَلع، قال: والفتح في كله جائز، وإن لم نسمعه.

قال في الصحاح: والمسجَد بالفتح: جبهة الرجل حيث يصيبه السجود، ويقال: مسيد بفتح الميم حكاه غير واحد (2) .

--------------------------------------------

(1) المعجم الوسيط 2 / 1054.

(2) أعلام الساجد بأحكام المساجد ص / 26 / والقاموس 1 / 300 / مادة (سجد) والصحاح 2 / 483 - 485، وتاج العروس 2 / 371- 372 / مادة (سجد) .
[শিরোনামের শব্দাবলির ব্যাখ্যা]

শিরোনামের শব্দাবলির ব্যাখ্যা—আল-ওয়াজিফাহ (الوظيفة): এর অর্থ হলো নির্দিষ্ট পদ ও দায়িত্ব। এছাড়া 'ওয়াজিফাহ' বলতে নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত কাজ, খাবার বা রিজিক ইত্যাদিও বোঝায়। এটি অঙ্গীকার ও শর্তের অর্থও প্রদান করে। এর বহুবচন হলো 'ওয়াজাফ' ও 'ওয়াজাইফ'। বলা হয়ে থাকে: এতে 'ওয়াজাইফ' ও 'ওয়াজাফ' রয়েছে, অর্থাৎ বিভিন্ন পালা এবং পর্যায় (১)।

শব্দগতভাবে (لغة) 'আল-মসজিদ' (المسجد): এটি 'মাফ'ইল' ওজনে 'আইন' বর্ণে কাসরা (জের) যোগে সিজদা করার স্থানের নাম; আর 'আইন' বর্ণে ফাতহা (জবর) যোগে এটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল। আবু জাকারিয়া আল-ফাররা বলেন: যে সমস্ত ক্রিয়া 'ফা'আলা ইয়াফ'উলু' ওজনের হয়, যেমন 'দাখালা ইয়াদখুলু', সেগুলোর ইসিম বা মাসদার—উভয় ক্ষেত্রেই 'মাফ'আল' ওজনে ফাতহা দিয়ে গঠিত হয় এবং এতে কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। যেমন: 'দাখালা মাদখালান'।

কিছু বিশেষ্য এমন রয়েছে যাতে ভাষাবিদগণ 'আইন' বর্ণে কাসরা (জের) দেওয়া আবশ্যক করেছেন। যেমন: আল-মসজিদ, আল-মাতলি', আল-মাগরিব, আল-মাশরিক ইত্যাদি। তারা কাসরাকে বিশেষ্যের আলামত বা চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। অনেক সময় কোনো কোনো আরব একে ফাতহা (জবর) দিয়েও পাঠ করতেন। বর্ণিত আছে: 'আল-মসজিদ' ও 'আল-মাসজাদ', এবং 'আল-মাতলি' ও 'আল-মাতলা'। তিনি বলেন: সবগুলোতে ফাতহা দিয়ে পাঠ করা বৈধ, যদিও আমরা তা (ততটা) শুনিনি।

আস-সিহাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ফাতহা যোগে 'আল-মাসজাদ' বলতে মানুষের কপালকে বোঝায় যেখানে সিজদা স্পর্শ করে। আবার মিম বর্ণে ফাতহা দিয়ে একে 'মাসিদ'ও বলা হয়, যা একাধিক ভাষাবিদ উল্লেখ করেছেন (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-মু'জামুল ওয়াসিত ২/১০৫৪।

(২) আলামুস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ, পৃষ্ঠা: ২৬; আল-কামুস ১/৩০০, 'সজদ' (سجد) অনুচ্ছেদ; আস-সিহাহ ২/৪৮৩-৪৮৫ এবং তাজুল আরুস ২/৩৭১-৩৭২, 'সজদ' (سجد) অনুচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৫)
أما المسجد شرعا فكل موضع من الأرض لقوله صلى الله عليه وسلم: «جعلت لي الأرض مسجدا وطهورا» (1) وهذا من خصائص هذه الأمة، قال القاضي عياض: لأن من كان قبلنا كانوا لا يصلون إلا في موضع يتيقنون طهارته، ونحن خصصنا بجواز الصلاة في جميع الأرض إلا ما تيقنا نجاسته.

ولما كان السجود أشرف أفعال الصلاة لقرب العبد من ربه اشتق اسم المكان منه فقيل: مسجد، ولم يقولوا: مركع، ثم إن العرف خصص المسجد بالمكان المهيأ للصلوات الخمس حتى يخرج المصلى المجتمع فيه للأعياد ونحوها فلا يعطى حكمه (2) .

المجتمع: موضع الاجتماع، و الجماعة من الناس. (محدثة) (3) .

--------------------------------------------

(1) البخاري في صحيحه في التيمم 1 / 86 ومسلم في صحيحه في كتاب المساجد وموضع الصلاة 1 / 371 بلفظ: وجعلت لي الأرض طهورا ومسجدا.

(2) أعلام الساجد بأحكام المساجد ص 27- 28 ومرقاة المفاتيح بشرح مشكاة المصابيح 1 / 441.

(3) المعجم الوسيط 1 / 136.
শরিয়তের (شرعا) পরিভাষায় মসজিদ হলো জমিনের প্রতিটি স্থান, কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার জন্য জমিনকে সিজদাহর স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে» (১)। আর এটি এই উম্মতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কাজী আইয়াজ বলেন: কারণ আমাদের পূর্ববর্তীগণ কেবল এমন স্থানেই সালাত আদায় করতেন যার পবিত্রতা সম্পর্কে তারা নিশ্চিত ছিলেন। আর আমাদের জন্য সমস্ত জমিনে সালাত আদায় করা বৈধ করা হয়েছে, যদি না তার অপবিত্রতা সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত হই।

যেহেতু সালাতের কার্যাবলীর মধ্যে সিজদাহ সবচেয়ে সম্মানজনক—কারণ এতে বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়—তাই এর ওপর ভিত্তি করেই স্থানবাচক বিশেষ্যটি নির্গত হয়েছে এবং একে 'মসজিদ' (সিজদাহর স্থান) বলা হয়; একে 'মারকা' (রুকুর স্থান) বলা হয়নি। অতঃপর প্রচলিত রীতির (العرف) পরিভাষায় মসজিদ শব্দটিকে সেই স্থানের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে যা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে ঈদের নামাজ বা অনুরূপ সমাবেশের জন্য ব্যবহৃত সাধারণ প্রার্থনাস্থল (المصلى) এর অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং মসজিদের বিধানও সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না (২)।

আল-মুজতামিউ (المجتمع): একত্রিত হওয়ার স্থান এবং জনসমষ্টি। (এটি একটি নবসৃষ্ট (محدثة) শব্দ) (৩)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি তার সহিহ গ্রন্থের তায়াম্মুম অধ্যায়ে ১ / ৮৬ এবং মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থের 'মসজিদ ও সালাতের স্থান' অধ্যায়ে ১ / ৩৭১ এ নিম্নোক্ত শব্দে বর্ণনা করেছেন: «আর আমার জন্য জমিনকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম ও সিজদাহর স্থান করা হয়েছে»।

(২) আলামুস সাজিদ বি আহকামিল মাসাজিদ, পৃষ্ঠা: ২৭-২৮ এবং মিরকাতুল মাফাতিহ শরহু মিশকাতিল মাসাবিহ ১ / ৪৪১।

(৩) আল-মুজাম আল-ওয়াসিত ১ / ১৩৬।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌[فضل المساجد]

(فضل المساجد) المساجد أفضل بقاع الأرض وأفضلها المسجد الحرام بمكة ثم مسجد المدينة، ثم المسجد الأقصى، هذا عند الشافعي وأبي حنيفة (1) أما المالكية فعندهم مسجد المدينة ثم المسجد الحرام ثم المسجد الأقصى (2) .

وعن ابن عباس: قال: «المساجد بيوت الله في الأرض تضيء لأهل السماء كما تضيء نجوم السماء لأهل الأرض» . رواه الطبراني في الكبير ورجاله موثقون (3) . وعن عبد الله بن عمر: «أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم أي البقاع خير، وأي البقاع شر؟ قال: خير البقاع المساجد، وشر البقاع الأسواق» (4) وعن أبي الدرداء قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «المسجد بيت كل تقي، وتكفل الله لمن

--------------------------------------------

(1) الروض المربع مع حاشية ابن قاسم 4 / 85 / والفروع 3 / 489.

(2) القوانين الفقهية ص / 37.

(3) مجمع الزوائد 2 / 7، والطبراني في الكبير 10 / 319.

(4) رواه الطبراني في الكبير، كما في مجمع الزوائد 2 / 6 / وقال: فيه عطاء بن السائب وهو ثقة ولكنه اختلط في آخر عمره وبقية رجاله موثقون.
‌‌[মসজিদের মর্যাদা]

(মসজিদের মর্যাদা) মসজিদসমূহ পৃথিবীর সর্বোত্তম ভূখণ্ড এবং সেগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো মক্কার মসজিদুল হারাম, এরপর মদিনার মসজিদ, তারপর মসজিদুল আকসা। এটি ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আবু হানিফার নিকট স্বীকৃত অভিমত (১)। পক্ষান্তরে মালেকী মাজহাবের মতে, তাদের নিকট মদিনার মসজিদ সর্বশ্রেষ্ঠ, এরপর মসজিদুল হারাম, তারপর মসজিদুল আকসা (২)।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «মসজিদসমূহ জমিনে আল্লাহর ঘর, যা আসমানবাসীদের জন্য তেমনিভাবে আলো বিকিরণ করে যেমনভাবে আকাশের নক্ষত্ররাজি জমিনবাসীদের জন্য আলো প্রদান করে।» এটি তাবারানি আল-কাবির গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত (موثقون) (৩)। আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: «এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন ভূখণ্ড সর্বোত্তম এবং কোন ভূখণ্ড নিকৃষ্টতম? তিনি বললেন: সর্বোত্তম ভূখণ্ড হলো মসজিদসমূহ এবং নিকৃষ্টতম ভূখণ্ড হলো বাজারসমূহ» (৪)। আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «মসজিদ হলো প্রতিটি মুত্তাকীর ঘর, এবং আল্লাহ ওই ব্যক্তির জন্য জিম্মাদার হয়েছেন যে...

--------------------------------------------

(১) আর-রাওদুল মুরবি' সাথে ইবনে কাসিমের টীকা ৪ / ৮৫ / এবং আল-ফুরু ৩ / ৪৮৯।

(২) আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ পৃষ্ঠা / ৩৭।

(৩) মাজমাউয যাওয়াইদ ২ / ৭, এবং তাবারানি আল-কাবির গ্রন্থে ১০ / ৩১৯।

(৪) তাবারানি এটি আল-কাবির গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি মাজমাউয যাওয়াইদ ২ / ৬-এ রয়েছে / এবং তিনি বলেছেন: এতে আতা বিন আল-সাইব রয়েছেন এবং তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) কিন্তু তাঁর জীবনের শেষভাগে স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল (اختلط) এবং তাঁর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত (موثقون)।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৭)
كان المسجد بيته بالروح والرحمة والجواز على الصراط إلى رضوان الله، إلى الجنة» (1) .

وعن عبد الله بن عمرو عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ستة مجالس: المؤمن ضامن على الله تعالى ما كان في شيء منها: في مسجد جماعة، وعند مريض، أو في جنازة أو في بيته أو عند إمام مقسط يعزره ويوقره» (2) .

وعن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن الله ليضيء للذين يتخللون إلى المساجد في الظلم بنور ساطع يوم القيامة» (3) .

وعن سلمان عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من توضأ في بيته فأحسن الوضوء ثم أتى المسجد فهو زائر الله، وحق على المزور أن يكرم الزائر» (4) .

--------------------------------------------

(1) رواه الطبراني في الكبير والأوسط، والبزار، وقال: إسناده حسن كما في مجمع الزوائد 2 / 22 وقال: قال: ورجال البزار كلهم رجال الصحيح.

(2) رواه الطبراني في الكبير والبزار بنحوه كما في مجمع الزوائد 2 / 23 وقال رجاله موثقون.

(3) رواه الطبراني في الأوسط وإسناده حسن كما في مجمع الزوائد 2 30.

(4) رواه الطبراني في الكبير وأحد إسناديه رجاله رجال الصحيح. كما في مجمع الزوائد 1 / 31.
মসজিদই ছিল তাঁর ঘর—আত্মিক প্রশান্তি, রহমত এবং সিরাত পার হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের পথে যাত্রার মাধ্যম। (১) .

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «ছয়টি মজলিস এমন যে, মুমিন ব্যক্তি যতক্ষণ সেগুলোর কোনো একটিতে থাকে, ততক্ষণ সে মহান আল্লাহর জিম্মাদারিতে থাকে: জামাতবদ্ধভাবে মসজিদে অবস্থানকালে, কোনো অসুস্থ ব্যক্তির পাশে থাকাকালে, জানাজায় অংশগ্রহণকালে, নিজ ঘরে অবস্থানকালে অথবা কোনো ন্যায়পরায়ণ ইমামের সান্নিধ্যে থাকাকালে, যাকে সে সাহায্য ও সম্মান প্রদান করে।» (২) .

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা অন্ধকার রাতে মসজিদের দিকে যাতায়াতকারীদের জন্য কিয়ামতের দিন এক উজ্জ্বল নূর দ্বারা আলোকিত করবেন।» (৩) .

সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «যে ব্যক্তি নিজ ঘরে উত্তমরূপে অজু করে মসজিদে আসে, সে আল্লাহর মেহমান; আর যাঁর সাথে সাক্ষাৎ করা হয়েছে (আল্লাহ), তাঁর ওপর মেহমানের সম্মান করা আবশ্যক।» (৪) .

--------------------------------------------

(১) এটি তাবারানি তাঁর কাবীর ও আওসাত গ্রন্থে এবং বাযযার বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن), যেমনটি মাজমাউয যাওয়াইদ ২/২২-এ বর্ণিত হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন: বাযযারের বর্ণনাকারীগণ (رجال) সবাই সহীহ (الصحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারী।

(২) তাবারানি এটি কাবীর গ্রন্থে এবং বাযযার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, যেমনটি মাজমাউয যাওয়াইদ ২/২৩-এ বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন যে, এর বর্ণনাকারীগণ (رجال) নির্ভরযোগ্য (موثقون)।

(৩) তাবারানি তাঁর আওসাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن), যেমনটি মাজমাউয যাওয়াইদ ২/৩০-এ উল্লেখ আছে।

(৪) তাবারানি এটি কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর দুটি সনদের (إسناد) একটির বর্ণনাকারীগণ (رجال) সহীহ (الصحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারী। যেমনটি মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩১-এ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৮)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من غدا إلى المسجد أو راح أعد الله له نزلا في الجنة كلما غدا أو راح» ، متفق عليه (1) .

وعن أبي موسى رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن أعظم الناس أجرا في الصلاة أبعدهم إليها ممشى فأبعدهم، والذي ينتظر الصلاة حتى يصليها مع الإمام أعظم أجرا من الذي يصليها ثم ينام» . متفق عليه (2) .

وعن بريدة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: «بشر المشائين في الظلم إلى المساجد بالنور التام يوم القيامة» . رواه أبو داود والترمذي (3) .

--------------------------------------------

(1) البخاري في صحيحه: باب فضل من غدا إلى مسجد ومن راح 1 / 161 بنحوه، ومسلم في صحيحه في كتاب المساجد ومواضع الصلاة: باب المشي إلى الصلاة تمحى به الخطايا وترفع به الدرجات 1 / 463 والنزل: ما يهيأ للضيف عند قدومه كما في هامش صحيح مسلم.

(2) البخاري في صحيحه: باب فضل صلاة الفجر في جماعة 1 / 159. ومسلم في صحيحه في كتاب المساجد ومواضع الصلاة: باب فضل كثرة الخطا إلى المساجد 1 / 460.

(3) أبو داود في سننه في الصلاة: باب ما جاء في المشي إلى الصلاة في الظلام 1 / 379. والترمذي في جامعه في أبواب الصلاة: باب ما جاء في فضل العشاء والفجر في الجماعة 1 / 435، وقال: حديث غريب.
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সকালে অথবা সন্ধ্যায় মসজিদের দিকে যায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি মেহমানদারি প্রস্তুত করেন, যখনই সে সকালে অথবা সন্ধ্যায় যাতায়াত করে।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।

আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সালাতে মানুষের মাঝে সওয়াবের দিক থেকে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি প্রতিদানপ্রাপ্ত, যে সবচেয়ে দূর থেকে হেঁটে আসে, তারপর যে তার চেয়ে দূর থেকে আসে। আর যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে অপেক্ষা করে, সে সেই ব্যক্তির চেয়ে বেশি সওয়াবের অধিকারী যে সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।

বুরাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অন্ধকারে মসজিদের দিকে হেঁটে গমনকারীদের কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও।" এটি আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে: অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় মসজিদে যায় তার ফজিলত, ১/১৬১ অনুরূপ শব্দে; এবং মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে: মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ অধ্যায়: মসজিদে হেঁটে যাওয়ার ফজিলত যার মাধ্যমে পাপ মোচন হয় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, ১/৪৬৩। 'নুযুল' বলতে মেহমান আসার পর তার জন্য যা প্রস্তুত করা হয় তাকে বোঝায়, যেমনটি সহিহ মুসলিমের টীকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে: অনুচ্ছেদ: জামায়াতে ফজরের সালাতের ফজিলত, ১/১৫৯। এবং মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে: মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ অধ্যায়: মসজিদের দিকে অধিক পদচারণার ফজিলত, ১/৪৬০।

(৩) আবু দাউদ তার সুনানে: সালাত অধ্যায়: অন্ধকারে সালাতে গমনের বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, ১/৩৭৯। এবং তিরমিযী তার জামেতে: সালাতের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ: জামায়াতে এশা ও ফজরের ফজিলত বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, ১/৪৩৫; তিনি বলেছেন: হাদিসটি বিরল (غريب)।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৯)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أحب البلاد إلى الله مساجدها، وأبغض البلاد إلى الله أسواقها» (1) .

وفيه أيضا في حديث: «سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله فقال: ورجل قلبه معلق بالمساجد» (2) .

قال النووي: معناه شديد الحب لها والملازمة للجماعة فيها (3) .

وعن عثمان رضي الله عنه أنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من بنى مسجدا يبتغي به وجه الله بنى الله له بيتا في الجنة» (4) .

المساجد بيوت أذن الله جل وعلا أن ترفع ويذكر فيها اسمه وتطهر من الأنجاس الحسية والمعنوية كاللغو ورفث الحديث من غيبة وشتم وقيل وقال.

--------------------------------------------

(1) مسلم في صحيحه في كتاب المساجد ومواضع الصلاة 1 / 464 باب فضل الجلوس في مصلاه بعد الصبح وفضل المساجد.

(2) البخاري في الزكاة: باب الصدقة باليمين 2 / 116، ومسلم في صحيحه، في الإمارة: باب فضيلة الإمام العادل، وعقوبة الجائر والحث على الرفق بالرعية والنهي عن إدخاله المشقة عليهم 3 / 1458.

(3) أعلام الساجد لأحكام المساجد ص 39 نقلا عن النووي.

(4) عمدة القارئ 4 / 211.
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ভূখণ্ড হলো মসজিদসমূহ এবং আল্লাহর কাছে সর্বাধিক অপ্রিয় ভূখণ্ড হলো বাজারসমূহ।" (১) ।

এতে আরও একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "সাত শ্রেণির ব্যক্তিকে আল্লাহ সেদিন তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেন: এমন ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে।" (২) ।

ইমাম নববী বলেন: এর অর্থ হলো মসজিদের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা রাখা এবং সেখানে নিয়মিত জামাতের সাথে উপস্থিত থাকা (৩) ।

উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।" (৪) ।

মসজিদসমূহ হলো এমন ঘর যা সমুন্নত রাখতে এবং যেখানে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ جل وعلا নির্দেশ দিয়েছেন। মসজিদসমূহকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও আত্মিক অপবিত্রতা যেমন—অসার কথা, অশ্লীল আলাপ, গিবত (পরনিন্দা), গালিগালাজ এবং অনর্থক কথাবার্তা থেকে পবিত্র রাখা আবশ্যক।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে; কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাহ ১/৪৬৪, ফজরের পর সালাতের স্থানে বসে থাকার ফজিলত ও মসজিদের ফজিলত অধ্যায়।

(২) বুখারি; যাকাত অধ্যায়: ডান হাতে সদকা করা পরিচ্ছেদ ২/১১৬; এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে; ইমারাহ অধ্যায়: ন্যায়পরায়ণ শাসকের ফজিলত, জালেম শাসকের শাস্তি, প্রজাদের প্রতি কোমল হওয়ার উৎসাহ প্রদান এবং তাদের কষ্টে ফেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা পরিচ্ছেদ ৩/১৪৫৮।

(৩) আলামুস সাজিদ লি আহকামিল মাসাজিদ, পৃষ্ঠা ৩৯; ইমাম নববীর উদ্ধৃতিতে।

(৪) উমদাতুল কারি ৪/২১১।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১০)
وتعمر في الصلاة والوعظ والذكر، بيوت أراد الله أن ترفع وأن تكون خاصة لذكره جل شأنه، يسبح فيها في الغدوات والأصائل رجال متفرغون للطاعة، ومنصرفون للعبادة فلا مظاهر الدنيا البراقة تفتنهم وتلهيهم، ولا تقليب التجارة والانشغال بأرباحها الباهرة يصدهم عن ذكر الله وينسيهم الآخرة، بل يذكرون الله ويقيمون الصلاة، ويؤتون الزكاة، ولا ينسون نصيبهم من الدنيا، ويخافون يوما تتقلب فيه القلوب والأبصار، يوم تتردد فيه النفوس بين الخوف والرجاء فتنقلب القلوب متجهة إلى اليمين والشمال لا تدري من أين تؤخذ؟ أو من أين تؤتى كتبها؟ أمن اليمين أم من الشمال. فهم يسبحون الله ويذكرونه ويؤدون فرائضه، وينتهون عن مناهيه ويخافون يوم الحساب ليجزيهم أحسن ما عملوا الجزاء الأوفى، ويزيدهم من فضله، والله يرزق من يشاء بغير حساب وهو واسع الفضل (1) .

والمساجد دور عبادة وذكر، وتضرع وخضوع لله جل وعز شأنه، ومواضع تسبيح وابتهال وتذلل بين يدي الله ورغبة فيما عنده من الأجر الكبير. {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18] (2) ومقام تهجد وترتيل لكتاب الله وحفظ له وغوص وراء معانيه، وتمعن لمفرداته واستنباط لأحكامه، واستخراج لمخزوناته ومكنوناته من بلاغة وبيان وإعراب وقصص وغيرها.

--------------------------------------------

(1) التفسير الواضح 2 / 74 - 75.

(2) سورة الجن: آية 18.
সালাত, ওয়াজ ও জিকিরের মাধ্যমে সেই ঘরগুলো আবাদ করা হয়, যেগুলোকে সমুন্নত রাখার এবং যেখানে কেবল তাঁরই মহিমা কীর্তনের নির্দেশ আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন। সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় এমন ব্যক্তিগণ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করেন, যারা আনুগত্যের জন্য একনিষ্ঠ এবং ইবাদতে নিমগ্ন। পার্থিব জগতের চাকচিক্য তাদের প্রলুব্ধ বা বিমোহিত করে না এবং ব্যবসার বিচরণ ও এর চোখধাঁধানো মুনাফার ব্যস্ততা তাদের আল্লাহর জিকির থেকে বিচ্যুত করে না এবং পরকালকেও ভুলিয়ে দেয় না। বরং তারা আল্লাহর জিকির করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে। আর তারা দুনিয়াতে তাদের প্রাপ্য অংশটুকুও ভুলে যায় না। তারা এমন এক দিবসকে ভয় করে যে দিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ অস্থির হয়ে পড়বে; যে দিন মানুষের আত্মা ভয় ও আশার দোলাচলে থাকবে, ফলে অন্তরগুলো ডানে ও বামে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়বে—তারা জানবে না কোত্থেকে তাদের পাকড়াও করা হবে কিংবা কোত্থেকে তাদের আমলনামা দেওয়া হবে—ডান দিক থেকে নাকি বাম দিক থেকে? তারা আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে, তাঁর জিকির করে, তাঁর ফরজ (فرائض) সমূহ আদায় করে এবং তাঁর নিষিদ্ধ (مناهي) কার্যাবলি থেকে বিরত থাকে। তারা কিয়ামতের দিনকে ভয় করে যাতে আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের সর্বোত্তম প্রতিদান (الجزاء الأوفى) দান করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ থেকে আরও বৃদ্ধি করে দেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিজিক দান করেন এবং তিনি অসীম দাতা (১)।

মসজিদসমূহ হলো ইবাদত ও জিকিরের ঘর এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর দরবারে বিনীত প্রার্থনা ও আনুগত্য প্রকাশের স্থান। এটি তাসবিহ পাঠ, মিনতি এবং আল্লাহর সামনে আত্মনিবেদনের ক্ষেত্র এবং তাঁর নিকট গচ্ছিত মহাপুরস্কার লাভের আকাঙ্ক্ষার জায়গা। {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} [জিন: ১৮] (২)। এটি তাহাজ্জুদ (تهجد) আদায় ও আল্লাহর কিতাব ধীরস্থিরভাবে পাঠ (ترتيل), তা হিফজ করা, এর গভীর অর্থের সন্ধানে নিমগ্ন হওয়া, এর শব্দাবলি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা এবং এর বিধিবিধান উদ্ঘাটন (استنباط) করার স্থান। এছাড়া এর অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة), সাবলীল বর্ণনাভঙ্গি (بيان), ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) এবং ঘটনাবলির মতো লুকায়িত ও সংরক্ষিত জ্ঞানরাজি উন্মোচনের কেন্দ্র।

--------------------------------------------

(১) আত-তাফসির আল-ওয়াদিহ ২ / ৭৪ - ৭৫।

(২) সূরা জিন: আয়াত ১৮।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌[المسجد والدعوة]

(المسجد والدعوة) والمسجد مركز دعوة ومنبر توجيه، فكم نور قلوبا وعمر أفئدة وأزال عنها أوضار جاهلية وغبش المعاصي وانتزع منها جذور الزيغ والضلال، وجعل منها بحول الله تعالى وقوته أجيالا مؤمنة تقية نقية، مجاهدة صامدة، قانتة مطيعة، عمرت الأرض بالطاعة والخير، ونشرت الإسلام في آفاق واسعة ونواحٍ عديدة من المعمورة فكانت قرآنا يمشي على الأرض ينير للناس مناهج الحق ويهديهم سبل الرشاد، وسيوفا مصلتة في رقاب المتجبرين المتكبرين النافرين عن الحق، المصرين على الكفر والطغيان، ورسل هداية تغزو القلوب بالإيمان وتغرس فيها بذور التقوى، وتقاوي الإصلاح وغراس الطاعة كلها: طاعة الله وطاعة رسوله وأولي الأمر: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59] (1) .

--------------------------------------------

(1) النساء: آية 59.
‌[মসজিদ ও দাওয়াত]

(মসজিদ ও দাওয়াত) মসজিদ হলো দাওয়াতের কেন্দ্র এবং দিকনির্দেশনার মিম্বর। এটি কত শত হৃদয়কে আলোকিত করেছে, প্রাণকে আবাদ করেছে এবং তা থেকে জাহেলিয়াতের আবর্জনা ও পাপের অন্ধকার দূর করেছে। এটি মানুষের অন্তর থেকে বিচ্যুতি ও ভ্রষ্টতার শিকড় উপড়ে ফেলেছে এবং আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমে তা থেকে গড়ে তুলেছে এমন এক ঈমানদার, খোদাভীরু ও নির্মল প্রজন্ম; যারা জিহাদকারী, অবিচল, বিনীত ও অনুগত। তারা পৃথিবীকে আনুগত্য ও কল্যাণ দিয়ে আবাদ করেছে এবং বিশ্বের দিগন্ত-দিগন্তে ও অসংখ্য জনপদে ইসলামকে ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে তারা ছিল যেন জমিনের বুকে বিচরণকারী জীবন্ত কুরআন, যা মানুষের জন্য সত্যের পথকে আলোকিত করে এবং তাদের সঠিক পথের দিশা দেয়। তারা ছিল সত্যবিমুখ, অহংকারী ও স্বৈরাচারীদের ঘাড়ের ওপর কোষমুক্ত তরবারি স্বরূপ, যারা কুফরি ও সীমালঙ্ঘনের ওপর অবিচল ছিল। তারা ছিল হিদায়াতের দূত, যারা ঈমান দিয়ে হৃদয় জয় করে এবং সেখানে তাকওয়ার বীজ বপন করে। আর এগুলো ছিল সংশোধন ও পূর্ণাঙ্গ আনুগত্যের চারাগাছ—তথা আল্লাহর আনুগত্য, তাঁর রাসুলের আনুগত্য এবং উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো ও তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের; আর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটাই উত্তম এবং পরিণতির দিক দিয়ে অতি উৎকৃষ্ট।} [আন-নিসা: ৫৯] (১)।

--------------------------------------------

(১) আন-নিসা: আয়াত ৫৯।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১২)
فمن المسجد الحرام انطلقت دعوة رسول الله صلى الله عليه وسلم تهز أرجاء مكة بقوه ألفاظها وسلاسة معانيها، وقوة نفوذها في الأعماق، تعرب عن صدق وإخلاص وأمانة، وتنبع من جنان عامر بالنور، دوى بها المصطفى الحبيب عليه أزكى صلاة وأفضل تسليم قائلا بعد حمد الله والثناء عليه بما هو أهله في أول خطبة خطبها بمكة حين دعا قومه " إن الرائد لا يكذب أهله، والله لو كذبت الناس جميعا ما كذبتكم، ولو غررت الناس جميعا ما غررتكم، والله الذي لا إله إلا هو إني لرسول الله إليكم خاصة، وإلى الناس كافة، والله لتموتن كما تنامون، ولتبعثن كما تستيقظون ولتحاسبن بما تعملون، ولتجزون بالإحسان إحسانا، وبالسوء سوءا، وإنها لجنة أبدا أو نار أبدا " (1) .

ولما أمر عليه الصلاة والسلام بإعلان نبوته، والجهر بدعوته، والصدع بالحق إذ نزل عليه قول الحكيم الخبير: {فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ} [الحجر: 94] (2) . ارتقى المصطفى

--------------------------------------------

(1) الكامل في التاريخ 2 / 40 - 41، والرائد: من يرسله قومه في طلب الكلأ والماء كما في الصحاح 2 / 478 مادة: (رود) .

(2) الحجر / آية 94.
মসজিদুল হারাম থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াত শুরু হয়েছিল, যা এর শব্দের শক্তি এবং অর্থের সাবলীলতার মাধ্যমে মক্কার চারপাশকে প্রকম্পিত করেছিল এবং হৃদয়ের গভীরে এক শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করেছিল; এটি সত্যবাদিতা (صدق), একনিষ্ঠতা (إخلاص) ও বিশ্বস্ততার (أمانة) বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এবং নূর দ্বারা পরিপূর্ণ এক অন্তর থেকে উৎসারিত হয়। প্রিয় মুস্তফা—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা ও গুণকীর্তনের পর মক্কায় তাঁর গোত্রকে দাওয়াত দেওয়ার সময় তাঁর প্রথম খুতবায় এই ধ্বনি উচ্চকিত করেছিলেন: "নিশ্চয়ই কোনো অগ্রপথিক তার স্বজনদের সাথে মিথ্যা (كذب) বলে না। আল্লাহর শপথ! আমি যদি সমস্ত মানুষের সাথে মিথ্যা (كذب) বলতাম, তবুও তোমাদের সাথে মিথ্যা বলতাম না। আর যদি আমি সমস্ত মানুষকে প্রতারিত করতাম, তবুও তোমাদের সাথে প্রতারণা করতাম না। সেই আল্লাহর শপথ, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, নিশ্চয়ই আমি বিশেষভাবে তোমাদের প্রতি এবং সাধারণভাবে সকল মানুষের প্রতি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহর শপথ! তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে যেমন তোমরা ঘুমাও, এবং নিশ্চয়ই তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে যেমন তোমরা জাগ্রত হও। আর তোমরা যা আমল করো তার জন্য তোমাদের অবশ্যই হিসাব দিতে হবে। অতঃপর সৎকাজের জন্য উত্তম প্রতিদান এবং মন্দ কাজের জন্য মন্দ প্রতিফল দেওয়া হবে। আর তা হলো চিরস্থায়ী জান্নাত অথবা চিরস্থায়ী জাহান্নাম।" (১)।

যখন তাঁকে (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর নবুওয়াত ঘোষণা, দাওয়াত প্রচার এবং সত্যকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হলো—যেহেতু মহাপ্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার এই বাণী অবতীর্ণ হয়েছিল: {অতএব আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা প্রকাশ্যে প্রচার করুন এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন} [আল-হিজর: ৯৪] (২)। মুস্তফা আরোহণ করলেন...

--------------------------------------------

(১) আল-কামিল ফিত তারিখ ২ / ৪০ - ৪১; এবং 'রায়েদ' হলো সেই ব্যক্তি যাকে তার সম্প্রদায় চারণভূমি ও পানির সন্ধানে পাঠায়, যেমনটি আল-সিহাহ ২ / ৪৭৮-এ মূলশব্দ: (رود) এর অধীনে বর্ণিত হয়েছে।

(২) আল-হিজর / আয়াত ৯৪।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১৩)
المختار الصفا وصاح بأعلى صوته «واصباحاه وهي صيحة يصيح بها العربي حين يحس بخطر داهم يوشك أن يحيط بقومه أو عشيرته: ثم أخذ ينادي يا بني فهر: يا بني عدي، يا بني كعب، لبطون قريش كلها حتى اجتمعوا فقال: أرأيتكم لو أخبرتكم أن خيلا بالوادي تريد أن تغير عليكم أكنتم مصدقي؟ قالوا: نعم، ما جربنا عليك إلا صدقا، قال: فإني نذير لكم بين يدي عذاب شديد. قال أبو لهب: تبا لك يا محمد ألهذا جمعتنا؟ فنزلت: {تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ} [المسد: 1] » (1) .

أما خطبته في أول جمعة صلاها بالمدينة فأجتزئ منها هذه العبارة: «وإن تقوى الله تبيض الوجه، وترضي الرب، وترفع الدرجة، خذوا بحظكم، ولا تفرطوا في جنب الله، قد علمكم الله كتابه، ونهج لكم سبيله ليعلم الذين صدقوا وليعلم الكاذبين، فأحسنوا ما أحسن الله إليكم، وعادوا أعداء {وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ} [الحج: 78] (2) . وسماكم المسلمين.

--------------------------------------------

(1) البخاري في صحيحه في التفسير: سورة تبت يدا أبي لهب وتب 6 94- 95، ومسلم في صحيحه في كتاب الإيمان 1 / 193 - 194، والبداية والنهاية 3 38، والكامل في التاريخ 2 40.

(2) الحج: آية / 78.
মনোনীত (ব্যক্তি) সাফা পাহাড়ে আরোহণ করলেন এবং উচ্চস্বরে ‘ওয়া সাবাহাহ’ বলে ডাক দিলেন; এটি এমন এক চিৎকার যা কোনো আরব তখন দেয় যখন সে তার কওম বা গোত্রের ওপর আসন্ন কোনো ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা করে। এরপর তিনি ডাকতে শুরু করলেন, ‘হে বনী ফিহর, হে বনী আদি, হে বনী কাব’—এভাবে কুরাইশদের সকল উপগোত্রের নাম ধরে ডাকলেন, যতক্ষণ না তারা সমবেত হলো। অতঃপর তিনি বললেন: ‘তোমাদের কী অভিমত, আমি যদি তোমাদের সংবাদ দিই যে, এই উপত্যকায় একদল অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের ওপর আক্রমণ করতে উদ্যত, তবে কি তোমরা আমাকে সত্যবাদী বলে গণ্য করবে?’ তারা বলল: ‘হ্যাঁ, আমরা আপনার নিকট থেকে সর্বদা সত্যবাদিতা (صدقا) ভিন্ন আর কিছুই পাইনি।’ তিনি বললেন: ‘নিশ্চয়ই আমি এক ভয়াবহ শাস্তির প্রাক্কালে তোমাদের জন্য সতর্ককারী।’ আবু লাহাব বলল: ‘তোমার ধ্বংস হোক হে মুহাম্মদ! তুমি কি এজন্যই আমাদের একত্রিত করেছ?’ তখন অবতীর্ণ হলো: ‘আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক’ [আল-মাসাদ: ১] (১)।

মদিনায় তাঁর আদায়কৃত প্রথম জুমার খুতবা থেকে আমি এই অংশটুকু উদ্ধৃত করছি: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর তাকওয়া (تقوى) চেহারাকে উজ্জ্বল করে, রব্বকে সন্তুষ্ট করে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে। তোমরা তোমাদের প্রাপ্য অংশ গ্রহণ করো এবং আল্লাহর হকের ব্যাপারে শিথিলতা করো না। আল্লাহ তোমাদের তাঁর কিতাব শিখিয়েছেন এবং তোমাদের জন্য তাঁর পথ উন্মোচন করেছেন যাতে তিনি সত্যবাদীদের (صدقوا) জেনে নিতে পারেন এবং মিথ্যাবাদীদের (الكاذبين) জেনে নিতে পারেন। সুতরাং আল্লাহ তোমাদের প্রতি যেমন অনুগ্রহ করেছেন, তোমরাও তদ্রূপ সদাচরণ করো এবং আল্লাহর শত্রুদের সাথে শত্রুতা পোষণ করো। আর তোমরা আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করো; তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন’ [আল-হাজ্ব: ৭৮] (২)। এবং তিনি তোমাদের নামকরণ করেছেন মুসলিম।

--------------------------------------------

(১) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থের তাফসির অধ্যায়ে: সুরা তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাবিও ওয়া তাব্ব ৬/৯৪-৯৫; এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থের ঈমান অধ্যায়ে ১/১৯৩-১৯৪; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩/৩৮; এবং আল-কামিল ফিত তারিখ ২/৪০।

(২) আল-হাজ্ব: আয়াত / ৭৮।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১৪)
{لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَا مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ} [الأنفال: 42] (1) ولا قوة إلا بالله. فأكثروا ذكر الله، واعملوا لما بعد الموت، فإنه من أصلح ما بينه وبين الله يكفه ما بينه وبين الناس. ذلك بأن الله يقضي على الناس، ولا يقضون عليه، ويملك من الناس ولا يملكون منه. الله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم» (2) .

ثم كانت لرسول الله- صلى الله عليه وسلم خطب تذكر بالله وتدعو إلى حبه والتحاب فيه، والتنفير من الدنيا وبيان العلم الشرعي وفضله وبثه في الناس من جيران وغيرهم، ثم تلك الخطبة الجامعة العظيمة في حجته التي ودع فيها الناس وأعطاهم فيها دروسا عظيمة قيمة، تحمل وصايا كثيرة نافعة في البعد عن الظلم وترك الربا والإيصاء بالنساء وغيرها مما ينير للأمة الإسلامية في كل قرونها المقبلة طريقا هاديا يرضاه الله ورسوله ويفوز سالكوه بخيري الدنيا والآخرة.

وهكذا عمر خلفاؤه الراشدون الأئمة الحنفاء المهديون منابر المساجد مرشدين وموجهين ومتحسسين حاجة الأمة المسلمة إلى

--------------------------------------------

(1) الأنفال: آية 42.

(2) البداية والنهاية 3 / 213.
{যাতে যে ধ্বংস হওয়ার সে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকার সে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে} [আল-আনফাল: ৪২] (১) আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই। সুতরাং তোমরা অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করো এবং মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য আমল করো; কেননা যে ব্যক্তি নিজের ও আল্লাহর মধ্যবর্তী সম্পর্ক সংশোধন করে নেয়, আল্লাহ তার ও মানুষের মধ্যবর্তী সম্পর্কের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। তা একারণে যে, আল্লাহ মানুষের ওপর ফয়সালা করেন কিন্তু তারা তাঁর ওপর কোনো ফয়সালা করতে পারে না; তিনি মানুষের ওপর মালিকানা রাখেন কিন্তু তারা তাঁর ওপর কোনো মালিকানা রাখে না। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আর সুউচ্চ মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ থেকে ফেরার) কোনো উপায় ও (ইবাদত করার) কোনো শক্তি নেই। (২)।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন কিছু খুতবা ছিল যা আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে দিত এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসার আহ্বান জানাত। এছাড়া দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি তৈরি করা, শরয়ি ইলম (العلم الشرعي) ও এর ফজিলত বর্ণনা করা এবং প্রতিবেশী ও অন্যান্য মানুষের মাঝে তা প্রচার করার নির্দেশ থাকত। এরপর তাঁর হজের সেই মহান ও সংকলিত খুতবাটি রয়েছে যাতে তিনি মানুষকে বিদায় দিয়েছিলেন এবং সেখানে তাদেরকে মহান ও মূল্যবান শিক্ষা প্রদান করেছিলেন। সেই খুতবায় জুলুম থেকে দূরে থাকা, সুদ বর্জন করা, নারীদের বিষয়ে অসিয়ত করা এবং এমন আরও অনেক বিষয়ে বহু উপকারী উপদেশ ছিল যা ইসলামি উম্মাহর জন্য আগামী সকল শতাব্দীতে এমন এক হিদায়াতের পথকে আলোকিত করে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল পছন্দ করেন এবং যে পথের পথিক ইহকাল ও পরকালের কল্যাণে সফলকাম হয়।

এভাবেই সত্যনিষ্ঠ ও সঠিক পথপ্রাপ্ত ইমাম খুলাফায়ে রাশিদিন মসজিদের মিম্বরগুলোকে পথপ্রদর্শক ও দিকনির্দেশক হিসেবে এবং মুসলিম উম্মাহর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবনকারী হিসেবে আবাদ রেখেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) আল-আনফাল: আয়াত ৪২।

(২) আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ৩ / ২১৩।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১৫)
ما يرقق قلوبها ويوضح لها معالم الحق ويسيرها على المحجة البيضاء التي لا يزيغ عنها إلا هالك.

وسارت على هذا النمط الأجيال المؤمنة تستخدم منابر المساجد والإرشاد والتوجيه والإنذار والتحذير وبيان الأحكام، وغرس العقيدة الصحيحة، وعلاج ما في المجتمع من أدواء وعيوب، واستئصال شأنات الحقد والحسد وكل خلق ذميم، والحث على المنهج الصحيح، والسلوك المستقيم حتى يعيش المجتمع المسلم نقيا صافيا متوادا متراحما، متكاتفا متعاطفا، يحس فرده بما يقلق جماعته، وجماعته بما يزعج فرده «المؤمن للمؤمن كالبنيان يشد بعضه بعضا» (1) «مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم وتعاطفهم كمثل الجسد إذا اشتكى منه عضو تداعت إليه سائر الأعضاء بالسهر والحمى» (2) .

--------------------------------------------

(1) البخاري صحيحه في الصلاة: باب تشبيك الأصابع في المسجد وغيره 1 / 123، ومسلم في صحيحه في البر: باب تراحم المؤمنين وتعاطفهم وتعاضدهم 4 / 1999، وأحمد في مسنده 4، 405.

(2) البخاري في صحيحه في الأدب: باب رحمة الناس والبهائم 7 / 77 وفيه (نرى) بدل (مثل) ، ومسلم في صحيحه في البر: باب تراحم المؤمنين وتعاطفهم وتعاضدهم 4 / 1999- 2000، وأحمد في مسنده 4، 270، 276.
যা তাদের হৃদয়কে বিগলিত করে, তাদের নিকট সত্যের নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্ট করে এবং তাদেরকে সেই শুভ্র রাজপথে (المحجة البيضاء) পরিচালিত করে, যা থেকে একমাত্র ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিই বিচ্যুত হয়।

আর মুমিন প্রজন্মসমূহ এই পথেই এগিয়েছে। তারা মসজিদের মিম্বর, উপদেশ, দিকনির্দেশনা, ভীতি প্রদর্শন, সতর্কতা প্রদান এবং বিধানসমূহের (الأحكام) ব্যাখ্যা ও সঠিক আকিদা (العقيدة الصحيحة) রোপণের মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করেছে। তারা সমাজের রোগ ও ত্রুটিসমূহের চিকিৎসা করেছে এবং বিদ্বেষ, হিংসা ও সকল প্রকার মন্দ স্বভাব নির্মূল করেছে। তারা সঠিক মানহাজ (المنهج الصحيح) ও ঋজু আচরণের প্রতি উৎসাহিত করেছে, যেন মুসলিম সমাজ পবিত্র, পরিচ্ছন্ন, সৌহার্দ্যপূর্ণ, দয়াশীল, সংহতিপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল হয়ে গড়ে ওঠে; যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার জামাতের উদ্বেগকে অনুভব করে এবং জামাত তার প্রত্যেক ব্যক্তির অস্থিরতা উপলব্ধি করে। “একজন মুমিন অপর মুমিনের জন্য একটি ইমারত সদৃশ, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে।” (১) “মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ একটি দেহের ন্যায়; যখন শরীরের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন শরীরের অবশিষ্ট অংশ অনিদ্রা ও জ্বরের মাধ্যমে তাতে সাড়া দেয়।” (২)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি, তার সহিহ গ্রন্থে, সালাত অধ্যায়: মসজিদে ও মসজিদের বাইরে আঙুলসমূহ একে অপরের ভেতরে প্রবেশ করানো পরিচ্ছেদ, ১/১২৩; মুসলিম, তার সহিহ গ্রন্থে, সদ্ব্যবহার অধ্যায়: মুমিনদের পারস্পরিক দয়া, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার পরিচ্ছেদ, ৪/১৯৯৯; এবং আহমাদ, তার মুসনাদ গ্রন্থে, ৪/৪০৫।

(২) বুখারি, তার সহিহ গ্রন্থে, আদব অধ্যায়: মানুষ ও পশুর প্রতি দয়া পরিচ্ছেদ, ৭/৭৭, এবং এতে 'মিছল' (مثل) এর পরিবর্তে 'নারা' (نرى) শব্দ এসেছে; মুসলিম, তার সহিহ গ্রন্থে, সদ্ব্যবহার অধ্যায়: মুমিনদের পারস্পরিক দয়া, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার পরিচ্ছেদ, ৪/১৯৯৯-২০০০; এবং আহমাদ, তার মুসনাদ গ্রন্থে, ৪/২৭০, ২৭৬।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১৬)
حقا إن منابر المساجد ورحباتها المشرقة نورت عقولا مؤمنة، ومحت بؤر شرك دامسة، خرجت دعاة مخلصين، وخطباء مفوهين، يأخذون بأزمة القلوب فصاحة ولسنا، ويمتلكون الألباب بلاغة وجزالة كلمات وروعة أسلوب، وبراءة استهلال، وحسن استشهاد، وهي في عصرنا الزاهي مدعومة بخطباء مصاقع وعلماء مبرزين تخرج جلهم في المساجد والجامعات السعودية المتخصصة بهذا الشأن. ترعاها أيد أمينة بتوجيهات رشيدة سديدة من لدن خادم الحرمين الشريفين وفقه الله وسدد خطاه، أما في مجال الدعوة وتخريج الدعاة فحدث عن المساجد ولا سيما الحرمين الشريفين ولا حرج، فقد تخرج عباقرة الصحابة ونحارير التابعين ومن بعدهم من القرون، فمعاذ بن جبل رضي الله عنه أرسل داعية إلى اليمن، وأمين هذه الأمة أبو عبيدة إلى اليمن، وغيرهم من صحابة رسول الله الغر الميامين. وقال لابن عمه الخليفة الراشد علي بن أبي طالب رضي الله عنه: «لأن يهدي الله بك رجلا واحدا خير لك من حمر النعم» . فصحابة رسول الله كانوا رسله إلى الآفاق يعلمون الناس دينهم ويمحقون معالم الشرك وآثار الوثنية، ومستنقعات الفجور والمعاصي الوبيئة، وتلاهم على هذا النهج الخير والدرب النير أساتذة كبار، ومشايخ أمناء

প্রকৃতপক্ষে, মসজিদের মিম্বর এবং এর জ্যোতির্ময় প্রাঙ্গণসমূহ মুমিনদের বুদ্ধিবৃত্তিকে আলোকিত করেছে এবং শিরকের (الشرك) গাঢ় অন্ধকার আস্তানাগুলোকে নিশ্চিহ্ন করেছে। এখান থেকে এমন একনিষ্ঠ দাঈ (دعاة) এবং বাগ্মী খতিবগণ (خطباء) বের হয়েছেন যারা তাদের প্রাঞ্জলতা ও বাকপটুতার মাধ্যমে হৃদয়ের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন; তারা অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة), শব্দের গাম্ভীর্য, চমৎকার শৈলী, প্রারম্ভিকার সাবলীলতা এবং সুন্দর উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে মানুষের বিবেককে জয় করেন। আমাদের এই গৌরবময় যুগেও এটি একদল প্রখর বাগ্মী খতিব এবং প্রথিতযশা আলেমদের (علماء) মাধ্যমে সমৃদ্ধ, যাদের অধিকাংশ এই বিষয়ের বিশেষায়িত সৌদি আরবের মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। খাদেমুল হারামাইন আশ-শারিফাইনের পক্ষ থেকে সঠিক ও সুদৃঢ় দিকনির্দেশনার মাধ্যমে এক নির্ভরযোগ্য তদারকিতে এই ধারা পরিচালিত হচ্ছে, আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন এবং তাঁর পদক্ষেপসমূহকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আর দাওয়াতের (الدعوة) ক্ষেত্র এবং দাঈ (دعاة) তৈরির বিষয়ে মসজিদের, বিশেষ করে হারামাইন আশ-শারিফাইনের ভূমিকার কথা বলাই বাহুল্য। কারণ এখান থেকেই প্রজ্ঞাবান সাহাবী (الصحابة), বিদগ্ধ তাবেয়িগণ (التابعين) এবং পরবর্তী প্রজন্মের মনীষীরা তৈরি হয়েছেন। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দাঈ (داعية) হিসেবে ইয়েমেনে পাঠানো হয়েছিল, এই উম্মতের আমীন আবু উবাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কেও ইয়েমেনে পাঠানো হয়েছিল এবং এছাড়াও রাসূলুল্লাহর সুমহান ও বরকতময় সাহাবীদের আরও অনেককেই বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছিল। তিনি তাঁর চাচাতো ভাই খলিফায়ে রাশেদ (الخليفة الراشد) আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন: "তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন ব্যক্তিকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উটের পালের চেয়েও উত্তম।" রাসূলুল্লাহর সাহাবীগণ ছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রেরিত তাঁর দূত, যারা মানুষকে তাদের দ্বীন শিক্ষা দিতেন এবং শিরকের (الشرك) চিহ্নসমূহ, মূর্তিপূজার (الوثنية) অবশেষ এবং পাপাচার ও অবাধ্যতার সংক্রামক আবিলতা দূর করতেন। এই কল্যাণকর আদর্শ ও আলোকিত পথে তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বরেণ্য শিক্ষকবৃন্দ এবং বিশ্বস্ত মাশায়েখ (مشايخ)।

(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১৭)
في شتى العصور والأجيال فعمر بن عبد العزيز وابن حنبل والشافعي ومالك وأبو حنيفة وشيخ الإسلام ابن تيميه وابن القيم وغيرهم ممن نشروا الدعوة بألسنتهم الصريحة في الحق، وكتبهم المجدية النافعة التي ملأت مكتبات العالم وأثرتها إثراء جما ولا سيما في هذا العصر الذي كثرت فيه المؤلفات وحققت فيه كتب كثيرة في شتى العلوم في البلاد الإسلامية ولا سيما جامعات مملكتنا الحبيبة ومراكزها الثرية بالمخطوطات ومعاهدها العالمية، فقد أنتجت بحوث متقنة هامة ونقحت مخطوطات كبيرة مفيدة أثرت دور العلم ومكتباته كبراها وصغراها فصارت في متناول رواد العلم وطلاب الثقافة من باحثين ومحققين ودارسين يجدونها أوفر ما تكون علما وتوثيقا وتخريجا وتصحيحا وكشفا لغوامض، وإجلاء للعويص والمغلق، وروعة في التنسيق والترتيب والإخراج ترغب المقبل على التحصيل وتشد انتباهه، وتدفعه إلى الاستزادة من العلم بنهم وشره وقوه طلع وإنتاج.

বিভিন্ন যুগে এবং প্রজন্মান্তরে উমর ইবনে আবদুল আজিজ, ইবনে হাম্বল, শাফি'ঈ, মালেক, আবু হানিফা, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কায়্যিম এবং তাঁদের মতো অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ সত্যের সপক্ষে তাঁদের অকপট কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে দাওয়াত প্রচার করেছেন। তাঁদের সেই সকল ফলপ্রসূ ও উপকারী গ্রন্থাবলি বিশ্বের গ্রন্থাগারগুলোকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সেগুলোকে বিপুল জ্ঞানসম্পদে পূর্ণ করেছে। বিশেষ করে বর্তমান যুগে, যখন মুসলিম দেশগুলোতে রচনার প্রাচুর্য ঘটেছে এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের বহু গ্রন্থ সম্পাদিত হয়েছে; বিশেষত আমাদের প্রিয় রাজত্বের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, পাণ্ডুলিপিতে সমৃদ্ধ এর গবেষণা কেন্দ্রসমূহ এবং এর আন্তর্জাতিক ইন্সটিটিউটসমূহে। এখানে অত্যন্ত নিখুঁত ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা সম্পাদিত হয়েছে এবং বিশাল ও উপকারী পাণ্ডুলিপিগুলো পরিমার্জিত হয়েছে, যা ছোট-বড় সকল জ্ঞানকেন্দ্র ও গ্রন্থাগারকে সমৃদ্ধ করেছে। ফলে এগুলো এখন জ্ঞানপিপাসু, গবেষক, পাণ্ডুলিপি বিশারদ এবং শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালে পৌঁছেছে। তাঁরা এই কাজগুলোকে জ্ঞান, নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق), হাদিসের উৎস নির্ণয় (تخريج), বিশুদ্ধতা যাচাই (تصحيح) এবং জটিল বিষয়সমূহের রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হিসেবে পাচ্ছেন। এছাড়া এগুলো দুর্বোধ্য ও কঠিন বিষয়গুলোকে সুস্পষ্ট করে তোলে। এর চমৎকার সমন্বয়, বিন্যাস এবং শৈল্পিক উপস্থাপনা জ্ঞান অন্বেষণকারীদের আগ্রহী করে তোলে, তাঁদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং তাঁদের অদম্য স্পৃহা ও প্রবল উদ্ভাবনী শক্তির সাথে অধিকতর জ্ঞান অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে।

(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌[حلقات قرآن]

(حلقات قرآن) والمساجد حلقات لتعليم القرآن وتحفيظه وفهم لمكنوناته وغوص وراء خفاياه، واستنباط لحكمه وأحكامه ومعانته وبيانه، وانتفاع بعبره ومواعظه، فقد تلاه الصحابة وحفظوه أو بعضه، وكانوا رضي الله عنهم إذا حفظوا عشر آيات منه لم يتجاوزوهن حتى يعملوا بهن، ويطبقوا محتواهن، وقد أمر المصطفى صلى الله عليه وسلم بأخذ القرآن من أربعة كما في الحديث: " خذوا القرآن من أربعة: من ابن أم عبد - فبدأ به -، ومعاذ بن جبل، وأبي بن كعب -، وسالم مولى أبي حذيفة (1) ولعلهم أكثر ضبط لألفاظه، وأتقن لأدائه، وقد يكون غيرهم أفقه في معانيه، أو لأنهم تفرغوا لأن يؤخذ عنهم وكذلك ترجمان القرآن وحبر الأمة عبد الله بن عباس وغيره من الصحابة والتابعين كمجاهد بن جبر، وبرع في علوم القرآن نفر كثير ممن بعدهم كابن كثير وابن جرير والقرطبي والسيوطي وابن قتيبة والفراء والشاطبي وأعلام القراءات " كنافع المدني وابن كثير المكي وحمزة بن حبيب

--------------------------------------------

(1) مسلم في صحيحه في كتاب فضائل الصحابة: باب من فضائل عبد الله بن مسعود وأمه رضي الله عنهم 4 / 1913.
[কুরআন শিক্ষার আসর]

(কুরআন শিক্ষার আসর) মসজিদসমূহ হলো কুরআন শিক্ষা, হিফজ, এর গূঢ় রহস্য অনুধাবন ও সূক্ষ্মতা উদঘাটনের আসর। সেই সাথে কুরআনের হিকমত ও আহকাম আহরণ, এর শব্দ ও অর্থের বিশ্লেষণ এবং এর উপদেশ ও শিক্ষা থেকে বিবিধ উপকার লাভের ক্ষেত্র। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং পূর্ণাঙ্গ অথবা আংশিক হিফজ করতেন। তাঁরা যখন দশটি আয়াত মুখস্থ করতেন, তখন সেগুলো আমল করা এবং তার বিষয়বস্তু বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত পরবর্তী আয়াতে যেতেন না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চারজন ব্যক্তির নিকট থেকে কুরআন শিক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: “তোমরা চার ব্যক্তির নিকট থেকে কুরআন গ্রহণ করো: ইবনে উম্মে আবদ (যাঁর নাম তিনি প্রথমে উল্লেখ করেছেন), মুয়াজ ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কাব এবং আবু হুজায়ফার মুক্তদাস সালিম” (১)। সম্ভবত তাঁরা কুরআনের শব্দাবলীর ক্ষেত্রে অধিক নির্ভুলতা (ضبط) ও তিলাওয়াত বা আদায় পদ্ধতির ক্ষেত্রে অধিক পারদর্শী ছিলেন। আবার এমনও হতে পারে যে, অন্য কেউ এর মর্মার্থ উপলব্ধিতে তাঁদের চেয়েও অধিক প্রাজ্ঞ ছিলেন, অথবা তাঁদেরকে এ কাজের জন্যই নির্দিষ্ট করা হয়েছিল যেন মানুষ তাঁদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। একইভাবে কুরআনের ভাষ্যকার ও উম্মতের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এবং অন্যান্য সাহাবী ও তাবিঈগণ যেমন মুজাহিদ ইবনে জাবর এই ক্ষেত্রে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তাঁদের পরবর্তী যুগে উলুমুল কুরআনে বহু মনীষী শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন, যেমন— ইবনে কাসির, ইবনে জারির, কুরতুবি, সুয়ুতি, ইবনে কুতাইবা, আল-ফাররা, আশ-শাতিবি এবং কিরাআতের প্রখ্যাত ইমামগণ যেমন: নাফে আল-মাদানি, ইবনে কাসির আল-মাক্কি এবং হামজা ইবনে হাবিব।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থের ‘সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা’ অধ্যায়ে: ‘আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও তাঁর মাতার মর্যাদা’ পরিচ্ছেদ, ৪/১৯১৩।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১৯)
الزيات، وأبي عمرو بن العلاء، وعاصم بن أبي النجود، وابن عامر الدمشقي، وابن محيصن، والكسائي، وأبي جعفر يزيد بن القعقاع، ويعقوب الحضرمي، وخلف بن هشام البزار (1) " واليزيدي، والحسن البصري، والأعمش، وغيرهم كثيرون من القراء والمفسرين ومعربي القرآن ومفسري غريبه ومتتبعي علومه بالكشف والبيان والإيضاح.

وحلقات القرآن مدارسة وإقراء وفهما واستنباطا في بيوت الله وعلى أصعدتها، أمور عظيمة مرغب فيها تتغشاها الرحمة، وتخيم عليها السكينة وتحفها الملائكة الكرام، يقول الصحابي الجليل أبو هريرة رضي الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله يتلون كتاب الله ويتدارسونه بينهم إلا نزلت عليهم السكينة، وغشيتهم الرحمة، وحفتهم الملائكة، وذكرهم الله فيمن عنده، ومن أبطأ به عمله لم يسرع به نسبه» (2) .

--------------------------------------------

(1) حجة القراءات ص 51 - 72.

(2) مسلم في صحيحه في كتاب الذكر والدعاء والتوبة والاستغفار: باب فضل الاجتماع على تلاوة القرآن وعلى الذكر 4 / 2057.
আজ-যাইয়্যাত, আবু আমর ইবনুল আলা, আসিম ইবনে আবি আন-নাজুদ, ইবনে আমির আদ-দিমাশকি, ইবনে মুহাইসিন, আল-কিসায়ি, আবু জাফর ইয়াজিদ ইবনুল কাকা, ইয়াকুব আল-হাদরামি, খালাফ ইবনে হিশাম আল-বাযযার (১), আল-ইয়াজিদি, হাসান বসরি, আল-আমাশ এবং তাঁদের ছাড়াও আরও অনেক ক্বারী (القراء), মুফাসসির (المفسرين), কুরআনের ভাষাবিদ, কুরআনের দুর্লভ শব্দের ব্যাখ্যাকারী এবং যারা উন্মোচন, বর্ণনা ও সুস্পষ্টকরণের মাধ্যমে কুরআনের জ্ঞান অন্বেষণ করেছেন।

আল্লাহর ঘরসমূহে এবং তার আঙিনায় কুরআন শিক্ষা, তিলাওয়াত, অনুধাবন এবং মাসআলা উদ্ঘাটনের (استنباط) মজলিসসমূহ অত্যন্ত মহান বিষয় এবং এর প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে; যা রহমত দ্বারা আবৃত হয়, যেখানে প্রশান্তি নেমে আসে এবং সম্মানিত ফেরেশতারা যা ঘিরে রাখেন। মহান সাহাবি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটিতে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে পঠন-পাঠন করে, তখন তাদের ওপর প্রশান্তি নাজিল হয়, রহমত তাদের আচ্ছাদিত করে ফেলে, ফেরেশতারা তাদের পরিবেষ্টন করে রাখেন এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তীদের কাছে তাদের কথা উল্লেখ করেন। আর যার আমল তাকে পিছিয়ে দেয়, তার বংশমর্যাদা তাকে এগিয়ে নিতে পারে না» (২)।

--------------------------------------------

(১) হুজ্জাতুল কিরাত, পৃষ্ঠা ৫১ - ৭২।

(২) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে যিকর, দোয়া, তাওবা ও ইস্তিগফার অধ্যায়ে: কুরআন তিলাওয়াত ও যিকরের জন্য একত্রিত হওয়ার ফজিলত পরিচ্ছেদ ৪ / ২০৫৭।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২০)
فبيت الله مدرسة قرآنية مثمرة منتجة أنجبت فطاحل العلماء وكبار المقرئين في كل عصور الإسلام الزاهية، ونرى آثارها بارزة وقطوفها دانية وإنتاجها ثرا في عهد خادم الحرمين الشريفين، يشاهد ذلك في الحرمين الشريفين وغيرهما من بيوت الله التي تحتضن الشباب الحي والبراعم الغضة لتجيد التلاوة ففي كل موسم نرى حفظة لكتاب الله في كل المناطق ترعاها الدولة وتسيرها جماعات القرآن الكريم بجهود مشكورة موفقة، وكذلك الجهات التعليمية المسئولة كوزارة المعارف، والرئاسة العامة لتعليم البنات، ووزارة الشئون الإسلامية وجامعة الإمام، وكلية القرآن في الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، وجميع أقسام القرآن وعلومه في الجامعات كلها سدد الله خطا العاملين فيها وقواهم.

 

‌‌[المساجد مراكز تعليم وتدريس لجميع الفنون وشتى العلوم]

المساجد مراكز تعليم وتدريس لجميع الفنون وشتى العلوم أما عن الحرمين الشريفين فلا تسل عن ضخامة إنتاجهما ونوعية خريجيهما من القوة في العلم والجودة في الأسلوب والتحقيق وسعة الأفق ووفرة الاطلاع ممن بثوا في العالم فنشروا ما تعلموه ونقلوه لأفراد المجتمعات ضبطا وإتقانا وحفظا وتبحرا ونية خالصة وحبا لبث العلم في شتى ضروبه للمتعطشين له والمقبلين عليه.
আল্লাহর ঘর হলো একটি ফলপ্রসূ ও উৎপাদনশীল কোরআনিক মাদ্রাসা, যা ইসলামের প্রতিটি উজ্জ্বল যুগে বিজ্ঞ আলেম ও প্রথিতযশা ক্বারীগণকে তৈরি করেছে। আমরা খাদেমুল হারামাইন শরীফাইনের যুগে এর উজ্জ্বল প্রভাব, নিকটবর্তী সুফল এবং সমৃদ্ধ উৎপাদন দেখতে পাই। এটি হারামাইন শরীফাইন এবং আল্লাহর অন্যান্য ঘরগুলোতে পরিলক্ষিত হয়, যা প্রাণবন্ত যুবক ও নবীনদের তিলাওয়াতে পারদর্শী করার জন্য আশ্রয় দেয়। ফলে প্রতিটি মৌসুমে আমরা সকল অঞ্চলে আল্লাহর কিতাবের হাফেজদের দেখতে পাই, যাদের রাষ্ট্র তত্ত্বাবধান করে এবং পবিত্র কোরআন সংশ্লিষ্ট জামাতসমূহ প্রশংসনীয় ও সফল প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিচালনা করে। একইভাবে দায়িত্বশীল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ, যেমন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, নারী শিক্ষার সাধারণ অধিদপ্তর, ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআন অনুষদ এবং সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআন ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের সকল বিভাগ—আল্লাহ এসবের সাথে সংশ্লিষ্টদের পথ সুগম করুন এবং তাদের শক্তি দান করুন।

 

‌‌[মসজিদ হলো সকল শাস্ত্র ও নানাবিধ জ্ঞান শিক্ষা ও পাঠদানের কেন্দ্র]

মসজিদ হলো সকল শাস্ত্র ও নানাবিধ জ্ঞান শিক্ষা ও পাঠদানের কেন্দ্র। আর হারামাইন শরীফাইনের ব্যাপারে তো বলার কিছু নেই; সেখানকার উৎপাদনের বিশালতা এবং শিক্ষার্থীদের মান অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের—জ্ঞানের গভীরতা, পদ্ধতির উৎকর্ষতা, তাহকীক (تحقيق), দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপকতা এবং পড়াশোনার প্রাচুর্যের দিক থেকে। যারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছেন এবং যা কিছু শিখেছেন তা সমাজের ব্যক্তিদের কাছে সূক্ষ্মতা (ضبط), পারদর্শিতা (إتقان), মুখস্থকরণ (حفظ) ও গভীর পাণ্ডিত্যের (تبحر) সাথে পৌঁছে দিয়েছেন; আর তা করেছেন একনিষ্ঠ নিয়ত এবং জ্ঞানপিপাসু ও জ্ঞানান্বেষীদের মাঝে বিভিন্ন শাস্ত্রের ইলম ছড়িয়ে দেওয়ার ভালোবাসার টানে।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২১)
وامتدت تلك المراكز التعليمية إلى شتى المساجد الإسلامية فدرس الحديث وعلومه ونبغ فيها من نبغ من محدثين وشراح حديث ومصطلحيين وجهابذة فطاحل في كل فروع السنة، خرجوا الأحاديث ونقوها وبينوا صحيحها من سقيمها في المتون والأسانيد، وشرحوا الغريب وأعربوا العويص، وأثروا المكتبة الإسلامية بصنوف المؤلفات كالصحاح والسنن والمسانيد وطبقات المحدثين وكتب الغريب وغيرها، ثم دروس الفقه وأصوله وقواعده وتاريخ التشريع، أخذت حيزا كبيرا من المساجد تدريسا وحفظ متون ومناقشات مفيدة وإفتاء وتأليفا حتى اتسعت دائرة هذه المواد وتشعبت فروعها وكثر روادها ودرست على أرقى مستوى، فبرز فيها من برز، وتفوق فيها من تفوق، وجادت مراكزها بأعلام الفقهاء ونوابغ الأصوليين وشيوخ القواعد وعلماء التشريع الذين ألفوا ودرسوا وأوجدوا نتاجا علميا وفيرا غصت به المكتبات، وخرجوا أجيالا مؤمنة متعلمة تدعو إلى الخير وتصد عن الشر.

ولا ننسى اللغة العربية وعلومها الثرة فقد درس النحو والصرف وفقه اللغة والبلاغة وغيرها من مشتقات اللغة في ردهات المساجد ورحباتها المشرفة المباركة وبرز فيها علماء متخصصون وأكاديميون مدركون بذلوا الجهد المجدي في بذلها
সেই শিক্ষা কেন্দ্রসমূহ বিভিন্ন ইসলামি মসজিদে বিস্তৃত হয়েছিল, ফলে সেখানে হাদিস ও এর বিজ্ঞানসমূহ পঠিত হতো। সেখানে বহু হাদিস বিশারদ (محدثين), হাদিস ব্যাখ্যাকারী (شراح حديث), পরিভাষা বিশেষজ্ঞ (مصطلحيين) এবং সুন্নাহর সকল শাখায় পারদর্শী বিজ্ঞ মনীষীরা প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। তাঁরা হাদিসসমূহ সঙ্কলন করেছেন এবং সেগুলোকে পরিশুদ্ধ করেছেন। তাঁরা মতন (المتون) এবং সনদ (الأسانيد)-এর ক্ষেত্রে হাদিসের সহিহ (صحيح) ও দুর্বল (سقيم) অংশগুলো স্পষ্ট করেছেন। তাঁরা বিরল শব্দাবলির (الغريب) ব্যাখ্যা করেছেন এবং জটিল বিষয়সমূহের ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন। তাঁরা ইসলামি গ্রন্থাগারকে সহিহ, সুনান, মুসনাদ, মুহাদ্দিসগণের স্তরবিন্যাস (طبقات المحدثين), বিরল শব্দাবলি (الغريب) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এবং অন্যান্য বিচিত্র রচনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছেন। অতঃপর ফিকহ, এর মূলনীতি (أصوله), নীতিমালা (قواعده) এবং আইন প্রণয়নের ইতিহাসের পাঠগুলো মসজিদের এক বিশাল অংশ জুড়ে ছিল; যেখানে পাঠদান, মতন (متون) মুখস্থকরণ, ফলপ্রসূ আলোচনা, ফতোয়া প্রদান এবং গ্রন্থ রচনার কাজ চলত। এমনকি এই বিষয়গুলোর পরিধি আরও বিস্তৃত ও শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং এর শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং তা অত্যন্ত উচ্চতর পর্যায়ে পঠিত হয়েছিল। ফলে সেখানে অনেকেই আত্মপ্রকাশ করেছিলেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। আর এসব কেন্দ্রগুলো থেকে প্রথিতযশা ফকিহগণ, মেধাবী মূলনীতিবিদ (الأصوليين), নীতিমালার শায়খগণ (شيوخ القواعد) এবং আইন বিশেষজ্ঞ আলিমদের আবির্ভাব ঘটেছিল; যাঁরা গ্রন্থ রচনা ও পাঠদান করেছেন এবং প্রচুর ইলমি সম্পদ তৈরি করেছেন যা লাইব্রেরিগুলোকে পূর্ণ করে দিয়েছে। তাঁরা এমন এক ঈমানদার ও শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তুলেছেন যাঁরা কল্যাণের পথে আহ্বান করেন এবং মন্দ থেকে বাধা প্রদান করেন।

আর আমরা আরবি ভাষা এবং এর সমৃদ্ধ বিজ্ঞানগুলোর কথা ভুলে যেতে পারি না; মসজিদের বারান্দায় এবং এর বরকতময় পবিত্র আঙিনায় নাহু, সরফ, ভাষাতত্ত্ব, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং ভাষার অন্যান্য শাখাগুলো পঠিত হতো। সেখানে বিশেষজ্ঞ আলিম এবং সচেতন একাডেমিক ব্যক্তিত্বগণ আত্মপ্রকাশ করেছিলেন যারা এই জ্ঞান বিতরণে সার্থক পরিশ্রম করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২২)
لأفراد المجتمع تلقينا وحفظا واستشهادا وشعرا وإعرابا واستشفاف ما في الكلام العربي من محاسن بديعية وبيانية، وأبعدوا حواشي الكلام ومتنافره وما فيه من تعقيدات لفظية ومعنوية. واستخلصوا لشباب الأمة ألفاظها الجزلة وأمثلتها السائرة، وأساليبها الرائعة، ومعانيها المستطابة المشوقة التي تطبي الأفئدة وتستميل القلوب إلى هذه اللغة العريقة.

وما من علم تحتاجه الأمة المسلمة إلا وللمسجد فضل في تطويره ونشره ورفع مستواه وحث الناس على الاقتباس منه، والاصطياد من خرائده ولآلئه ودراريه، سواء كان علميا أو نظريا علوم دنيا أو آخرة.

فالمسجد ركن ركين للعلم ومعين قوي لا ينضب، ومرتاد لكل رائد للعلم أريب، ومنهل ينهل منه أفراد المجتمع ما يروي نهمهم، ويشبع رغباتهم، ويعطيهم قوة علمية وشحنة إيمانية تدفع عنهم الشكوك والأوهام، وتحميهم من سموم الأعداء ونفثاتهم المحمومة المسعورة التي يحاولون بها الدس والتضليل، وذر الرماد في العيون السليمة لتنعكس مرئياتها ومفاهيمها، وتعشو أبصارها فتتبلبل أفكارها، يحاولون بذلك إرضاء نزعاتهم الشريرة،
সমাজের সদস্যদের জন্য জ্ঞান গ্রহণ (تلقي), মুখস্থকরণ, উদ্ধৃতি প্রদান, কাব্যচর্চা, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ এবং আরবি ভাষার বাক্যালঙ্কারের সৌন্দর্য ও প্রকাশভঙ্গির চমৎকারিত্ব অনুধাবনকে তাঁরা সহজতর করেছেন। তাঁরা ভাষার অসংলগ্নতা, অসংগতি এবং শব্দগত ও অর্থগত জটিলতাসমূহ দূর করেছেন। তাঁরা উম্মাহর যুবকদের জন্য নির্বাচন করেছেন সুদৃঢ় শব্দাবলী, প্রচলিত প্রবাদ-প্রবচন, চমৎকার শৈলী এবং এমন মনোমুগ্ধকর ও আকর্ষণীয় অর্থসমূহ যা হৃদয়কে জয় করে এবং এই সুপ্রাচীন ভাষার প্রতি অন্তরকে আকৃষ্ট করে।

মুসলিম উম্মাহর প্রয়োজনীয় এমন কোনো জ্ঞান নেই যা বিকশিত করতে, প্রচার করতে, এর মান উন্নত করতে এবং মানুষকে তা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে ও এর দুর্লভ প্রজ্ঞা ও মুক্তাতুল্য জ্ঞান আহরণ করতে মসজিদের অবদান নেই; চাই তা প্রায়োগিক হোক বা তাত্ত্বিক, আর পার্থিব হোক বা পরকালীন।

বস্তুত মসজিদ হলো জ্ঞানের এক সুদৃঢ় ভিত্তি এবং এক শক্তিশালী অফুরন্ত উৎস। এটি প্রতিটি প্রাজ্ঞ জ্ঞানান্বেষীর বিচরণস্থল এবং এমন এক প্রস্রবণ যেখান থেকে সমাজের মানুষ তাদের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করে, যা তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে এবং তাদেরকে এমন বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি ও ঈমানি চেতনা প্রদান করে যা তাদের থেকে সংশয় ও বিভ্রান্তি দূর করে দেয়। এটি তাদেরকে শত্রুদের বিষক্রিয়া ও তাদের সেই উন্মত্ত প্ররোচনা থেকে সুরক্ষা দেয়, যার মাধ্যমে তারা অনুপ্রবেশ ঘটানো বা জালকরণ (الدس) ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। তারা সুস্থ চোখে ধুলো দিতে চায় যাতে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও ধারণা পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে পড়ে ও চিন্তাধারা বিভ্রান্ত হয়। এর মাধ্যমে তারা তাদের অশুভ প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার চেষ্টা করে।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২৩)
ورغباتهم الجامحة، ونزواتهم الطائشة، {وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} [التوبة: 32] (1) .

وفي المسجد غذاؤك الروحي وزادك الإيماني، تتروى بين أروقته علما زلالا، وتكتسب منه خلقا حميدا وسمات فريدة، وتجالس فيه أصفياء أوفياء خيرين، وأصدقاء أحماء طاهرين، تستفيد منهم سلوكا حسنا، ونهجا مشرفا ، يحفزونك للعلم والهدى، ويرشدونك للحق والتقى، ويمنحونك العلم الذي يرفعك الله به درجات، وتزكو به بين أقرانك وأترابك.

فهو نعم الأليف، وحبذا الخليل، كبروا همة، وعزوا مكانة، وسموا علا ونهى، وازدادوا تقى وهدى.

 

‌‌[دور المملكة الفعال في دفع المسجد ودعمه لأداء رسالته والقيام بوظيفته]

دور المملكة الفعال في دفع المسجد ودعمه لأداء رسالته والقيام بوظيفته لمملكتنا الحبيبة الغالية دور كبير وأثر عظيم بارز في دعم المسجد بمسئولين فاهمين أمناء، وإعطائهم مكافآت مشجعة، وتحفيزهم على إقامة حلقات قرآنية وعلمية تعلم تلاوة القرآن وتجويده وما يتصل بذلك من العلوم، حتى رأينا بحمد الله دفعا تترى تحفظ القرآن مفسرا مجودا يحتفل بها سنويا وتعطى جوائز

--------------------------------------------

(1) التوبة: آية 32.
এবং তাদের লাগামহীন আকাঙ্ক্ষা ও তাদের উশৃঙ্খল খেয়াল-খুশি; {আর আল্লাহ তাঁর নূর পূর্ণ করা ব্যতীত অন্য কিছু হতে অস্বীকার করেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে} [আত-তাওবাহ: ৩২] (১)।

আর মসজিদেই রয়েছে আপনার আত্মিক খোরাক ও ইমানি পাথেয়। এর প্রাঙ্গণসমূহে আপনি নির্মল জ্ঞান আহরণ করেন এবং এখান থেকে প্রশংসনীয় চরিত্র ও অনন্য বৈশিষ্ট্য অর্জন করেন। সেখানে আপনি নিষ্ঠাবান, অনুগত ও কল্যাণকামী ব্যক্তিবর্গের সাহচর্য লাভ করেন এবং পবিত্র ও অন্তরঙ্গ বন্ধুদের সাথে বসেন। তাদের থেকে আপনি উত্তম আচরণ ও সম্মানজনক জীবনপদ্ধতির শিক্ষা গ্রহণ করেন, যা আপনাকে জ্ঞান ও হিদায়াতের প্রতি উৎসাহিত করে এবং আপনাকে সত্য ও তাকওয়ার দিকে পরিচালিত করে। তাঁরা আপনাকে এমন জ্ঞান দান করেন যার মাধ্যমে আল্লাহ আপনার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং যার দ্বারা আপনি আপনার সমসাময়িক ও সমবয়সীদের মধ্যে বিকশিত হন।

তাঁরা কতই না উত্তম সঙ্গী এবং কতই না চমৎকার বন্ধু। তাঁদের হিম্মত ছিল সুউচ্চ, মর্যাদা ছিল শক্তিশালী, তাঁরা উচ্চতা ও প্রজ্ঞায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছিলেন এবং তাকওয়া ও হিদায়াতে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হয়েছিলেন।

 

‌‌[মসজিদের লক্ষ্য পূরণ এবং এর মিশন ও দায়িত্ব পালনে সহায়তা ও সমর্থন প্রদানে রাজ্যের কার্যকর ভূমিকা]

মসজিদের লক্ষ্য পূরণ এবং এর যথাযথ দায়িত্ব পালনে সহায়তা ও সমর্থন প্রদানে রাজ্যের কার্যকর ভূমিকা। আমাদের প্রিয় ও মহিমান্বিত রাজ্যের মসজিদগুলোতে বিজ্ঞ ও আমানতদার (أمناء) দায়িত্বশীল নিয়োগের মাধ্যমে সমর্থন প্রদানে এক বিশাল ভূমিকা এবং সুস্পষ্ট মহান প্রভাব রয়েছে। এছাড়া তাঁদের উৎসাহব্যঞ্জক সম্মানি প্রদান এবং পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, তাজবিদ ও সংশ্লিষ্ট জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে কুরআনি ও ইলমি হালকা (মজলিস) স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এমনকি আল্লাহর প্রশংসায় আমরা দেখেছি একের পর এক এমন দল তৈরি হচ্ছে যারা তাফসির ও তাজবিদসহ কুরআন হিফজ করছে, যাদের সম্মানে প্রতি বছর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং পুরস্কার প্রদান করা হয়।

--------------------------------------------

(১) আত-তাওবাহ: আয়াত ৩২।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২৪)
سخية تحفز وتشد العزائم، وما المسابقة الدولية للقرآن الكريم بمكة المكرمة وجوائزها السنوية المدعومة والمبذولة من خادم الحرمين الشريفين - رائد التعليم الأول - إلا برهان كبير ودليل ساطع على ما يوليه الملك فهد بن عبد العزيز كتاب الله وحفظته من رعاية واهتمام في شتى أصقاع العالم، وما مجمعه - رعاه الله - لطباعة المصحف الشريف في المدينة المنورة وما قام به من إنتاج ضخم يغطي جميع دول العالم الإسلامي ومراكز المسلمين في كل دولة إلا دليل بارز على حبه للقرآن وحملته وحب نشره بين أبناء المسلمين قاطبة ليتلوه ويحفظوه علما وعملا في جميع مناحي الحياة، يقول المصطفى الحبيب صلى الله عليه وسلم لعلي بن أبي طالب: «فوالله لأن يهدى الله بك رجلا واحدا خير لك من أن يكون لك حمر النعم» (1) ".

يقول الهادي الأمين عليه أفضل الصلاة وأزكى التسليم: «من دعا إلى هدى كان له من الأجر مثل أجور من تبعه، لا ينقص ذلك من أجورهم شيئا، ومن دعا إلى ضلالة كان عليه من الإثم مثل آثام من تبعه لا ينقص ذلك من آثامهم شيئا» (2) .

--------------------------------------------

(1) البخاري في صحيحه: في المغازي: باب غزوة خيبر 5 / 76- 77.

(2) مسلم في صحيحه في كتاب العلم: باب من سن سنة حسنة أو سيئة، ومن دعا إلى هدى أو ضلالة 4 / 2060.
উদার দান যা সংকল্পকে উদ্দীপ্ত ও সুদৃঢ় করে। মক্কা মুকাররামায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতা এবং খাদেমুল হারামাইন আশ-শরীফাইন—যিনি শিক্ষার প্রথম অগ্রদূত—কর্তৃক সমর্থিত ও প্রদত্ত এর বার্ষিক পুরস্কারসমূহ মূলত আল্লাহর কিতাব ও এর হাফেজদের প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ যে যত্ন ও মনোযোগ প্রদান করেন, তারই এক বিশাল প্রমাণ ও উজ্জ্বল নিদর্শন। মদীনা মুনাওয়ারায় পবিত্র মুসহাফ মুদ্রণের জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠিত কমপ্লেক্স—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন—এবং এর মাধ্যমে উৎপাদিত বিশাল উৎপাদন যা বিশ্বের সকল মুসলিম দেশ এবং প্রতিটি দেশের মুসলিম কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে যাচ্ছে, তা কুরআনের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, এর বাহকগণ এবং সমস্ত মুসলিম সন্তানদের মাঝে তা প্রচারের প্রতি তাঁর অনুরাগের এক প্রকট প্রমাণ; যাতে তারা এটি তিলাওয়াত করতে পারে এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে তা হিফজ করতে পারে। প্রিয় মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলী বিন আবি তালিবকে বলেন: «আল্লাহর শপথ, তোমার মাধ্যমে যদি আল্লাহ একজন ব্যক্তিকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য মূল্যবান লাল উট লাভের চেয়েও উত্তম» (১) ।

সত্যের দিশারী আমীন (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন: «যে ব্যক্তি কোনো হেদায়েতের দিকে আহ্বান জানাবে, সে তার অনুসারীদের সমান সওয়াব পাবে, এতে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান জানাবে, তার ওপর তার অনুসারীদের সমান গুনাহ বর্তাবে, এতে তাদের গুনাহ থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না» (২) ।

--------------------------------------------

(১) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে: মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) পর্বে: খয়বর যুদ্ধ অধ্যায় ৫ / ৭৬- ৭৭।

(২) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে ইলম (জ্ঞান) অধ্যায়ে: যে ব্যক্তি কোনো উত্তম বা মন্দ রীতি চালু করে এবং যে ব্যক্তি হেদায়েত বা ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান জানায় অনুচ্ছেদ ৪ / ২০৬০।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২৫)
ودولتنا الرائدة وشعبها الكريم دعامتان قويتان لجماعات تحفيظ القرآن في شتى مناطق مملكتنا السنية الغالية، بذل متواصل بسخاء، وأريحيات كريمة تهتز للندى، وأيد معطاءة لا تكل ولا تني، وتشجيع لشباب الأمة في حفظ كتاب الله المجيد والتروي من مناهله العذبة، وحفز للهمم القوية المشوبة بحب القرآن والتي لا تروى من العب من معينه الصافي، ورحيقه الزلال، وقوة إيمانية تدفع لهذا العمل الشريف، وإخلاص نقي ينتج إنتاجا باهرا ويثمر ثمراث خيرة يانعة. نعم، هذا بذل أحفاد جيل القرآن ونسل الصحابة الغر الميامين، وذاك عملهم الخالص الذي لا يشوبه رياء ولا سمعة، وإنما بذل لله، وإنفاق في سبيله، وعمل من أجله، هذه نتائجه، وما أدراك ما تلك النتائج، شباب في مقتبل العمر، وريعان الفتوة، يحفظون كتاب ربهم غضا طريا ويطبقونه معاني وعملا واستفادة وهداية {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا} [الإسراء: 9] (1) كتاب تكفل العليم الخبير بحفظه {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] (2) كتاب يسره الله للمدكرين {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} [القمر: 17] (3) .

--------------------------------------------

(1) الإسراء: آية 9.

(2) الحجر: آية 9.

(3) القمر: آية 17، 22، 32، 40.
আমাদের অগ্রগামী রাষ্ট্র এবং এর মহৎ জনগণ আমাদের এই প্রিয় সুন্নি রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে কুরআন হিফজ সংস্থাগুলোর জন্য দুটি শক্তিশালী স্তম্ভ। এখানে রয়েছে অকাতর ও অবিরাম দান, বদান্যতায় স্পন্দিত মহানুভবতা এবং এমন এক দানশীল হাত যা কখনো ক্লান্ত হয় না বা থমকে যায় না। এটি উম্মাহর যুবকদের আল্লাহর মহান কিতাব হিফজ করতে এবং এর সুপেয় ঝরনাধারা থেকে পরিতৃপ্ত হতে উৎসাহিত করার একটি প্রয়াস। এছাড়া এটি কুরআনের ভালোবাসায় সিক্ত সেই সুদৃঢ় সংকল্পকে উদ্দীপিত করে, যা এর স্বচ্ছ প্রস্রবণ ও বিশুদ্ধ সুধা পানে কখনো তৃপ্ত হয় না। এই মহৎ কাজের পেছনে রয়েছে এক ঈমানি শক্তি এবং একনিষ্ঠ ইখলাস, যা চমৎকার ফলাফল তৈরি করে এবং কল্যাণময় সুমিষ্ট ফল বয়ে আনে। হ্যাঁ, এটি হলো কুরআন প্রজন্মের বংশধর এবং উজ্জ্বল নক্ষত্রতুল্য বরকতময় সাহাবীদের (الصحابة) উত্তরসূরিদের ত্যাগ। এটি তাদের সেই একনিষ্ঠ আমল যাতে লোকদেখানো বা সুখ্যাতি অর্জনের কোনো লেশ নেই; বরং তা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান, তাঁরই পথে ব্যয় এবং তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পাদিত কাজ। এই হলো তার ফলাফল—আর আপনি কি জানেন সেই ফলাফল কী? তারা এমন একদল যুবক যারা জীবনের বসন্তে এবং যৌবনের প্রারম্ভে তাদের রবের কিতাবকে অত্যন্ত সজীব ও সতেজভাবে হিফজ করছে এবং এর অর্থ, আমল, উপকারিতা ও হেদায়েত অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করছে। {নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথপ্রদর্শন করে যা অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যারা সৎকাজ করে যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার} [ইসরা: ৯] (১) এটি এমন এক কিতাব যার সংরক্ষণের দায়িত্ব মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ সত্তা স্বয়ং গ্রহণ করেছেন {নিশ্চয় আমিই এই উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} [হিজর: ৯] (২) এটি এমন এক কিতাব যা আল্লাহ স্মরণকারীদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন {আর আমি কুরআনকে উপদেশের জন্য সহজ করে দিয়েছি, সুতরাং কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?} [ক্বামার: ১৭] (৩) ।

--------------------------------------------

(১) আল-ইসরা: আয়াত ৯।

(২) আল-হিজর: আয়াত ৯।

(৩) আল-ক্বামার: আয়াত ১৭, ২২, ৩২, ৪০।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২৬)
كتاب يرد حجج المبطلين، ويدحض زيف المغرضين، ويبكت ألسنة المبتدعين والضالين: {وَلَا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا} [الفرقان: 33] (1) .

كتاب منزل من عند الله الكبير المتعال، العزيز الغفور، لا يقربه باطل، ولا تحوم حوله شبه، ولا تصل إليه نزعات المحمومين المسعورين، ولا نفثات الشياطين المغرورين المتربصين بأمة الإسلام وكتابها المنزل من رب العالمين. {وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ - لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت: 41 - 42] (2) .

ولا تنس أخي المسلم أن المسجد كان منطلقا للجهاد، يربى فيه الجنود الأشداء الأقوياء بإيمانهم، الآخذون تعاليم المجاهدة والمرابطة من في رسول الله صلى الله عليه وسلم، يربيهم بكتاب الله {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [آل عمران: 200] (3)

--------------------------------------------

(1) الفرقان: آية 33.

(2) فصلت: الآيتان 41، 42.

(3) آل عمران: آية 200.
এমন একটি কিতাব যা বাতিলপন্থীদের যুক্তি খণ্ডন করে, কুচক্রীদের মিথ্যা প্রতিহত করে এবং বিদয়াতি (مبتدع) ও পথভ্রষ্টদের মুখ বন্ধ করে দেয়: {আর তারা আপনার কাছে এমন কোনো উপমা নিয়ে আসে না, যার বিপরীতে আমি আপনার কাছে সত্য ও সঠিক ব্যাখ্যা নিয়ে আসি না} [আল-ফুরকান: ৩৩] (১)।

এটি মহান, সুউচ্চ, পরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীল আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এক কিতাব; মিথ্যা যার নিকটবর্তী হতে পারে না, কোনো সংশয় যার চতুষ্পার্শ্বে আবর্তিত হয় না। উম্মাহে মুসলিমাহ এবং রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ তাদের কিতাবের বিরুদ্ধে ওঁত পেতে থাকা বিকারগ্রস্ত উগ্রবাদীদের কুমন্ত্রণা এবং প্রতারক শয়তানদের ফুৎকার একে স্পর্শ করতে পারে না। {আর নিশ্চয় এটি এক মহিমান্বিত কিতাব। এর সামনে বা পেছন—কোনো দিক থেকেই মিথ্যা এতে প্রবেশ করতে পারে না। এটি প্রজ্ঞাময়, চির প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।} [ফুসসিলাত: ৪১ - ৪২] (২)।

হে আমার মুসলিম ভাই, ভুলে যাবেন না যে মসজিদ ছিল জিহাদের সূতিকাগার। সেখানে ঈমানের শক্তিতে বলীয়ান কঠোর ও শক্তিশালী সৈন্যদের গড়ে তোলা হতো, যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পবিত্র মুখ থেকে মুজাহাদা ও সীমান্ত পাহারার (مرابطة) শিক্ষা গ্রহণ করত। তিনি তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে গড়ে তুলতেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যের প্রতিযোগিতায় জয়ী হও, সীমান্ত পাহারা দাও (رابطوا) এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।} [আল-ইমরান: ২০০] (৩)

--------------------------------------------

(১) আল-ফুরকান: আয়াত ৩৩।

(২) ফুসসিলাত: আয়াত ৪১, ৪২।

(৩) আল-ইমরান: আয়াত ২০০।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২৭)
، {لَأَنْتُمْ أَشَدُّ رَهْبَةً فِي صُدُورِهِمْ مِنَ اللَّهِ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَفْقَهُونَ} [الحشر: 13] (1) .

{الْآنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضَعْفًا فَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ صَابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ أَلْفٌ يَغْلِبُوا أَلْفَيْنِ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ} [الأنفال: 66] (2) .

وفي المسجد تعقد الألوية والرايات، ومنه تسير الجيوش غازيه فاتحة معلية كلمة الله رافعة راية الإسلام خفاقة مرفرفة، يقوي عزمها الإيمان القوي في الله، ويشد عضدها القادة المخلصون الأوفياء، باعوا أنفسهم لله والثمن: الجنة إِنَّ {اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ - التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} [التوبة: 111 - 112] (3) .

--------------------------------------------

(1) الحشر: آية 13.

(2) الأنفال: آية 66.

(3) التوبة: الآيتان 111- 112.
، {নিশ্চয়ই তাদের অন্তরে আল্লাহর চেয়ে তোমাদের ভয় অধিকতর প্রবল; এটা এজন্য যে, তারা এমন এক জাতি যারা সঠিক বুঝ রাখে না} [আল-হাশর: ১৩] (১) ।

{এখন আল্লাহ তোমাদের ভার লাঘব করেছেন এবং তিনি অবগত আছেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে। সুতরাং যদি তোমাদের মধ্যে একশজন ধৈর্যশীল ব্যক্তি থাকে, তবে তারা দুইশজনের ওপর বিজয়ী হবে; আর যদি তোমাদের মধ্যে এক হাজার থাকে, তবে তারা আল্লাহর হুকুমে দুই হাজারের ওপর বিজয়ী হবে। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন} [আল-আনফাল: ৬৬] (২) ।

আর মসজিদেই যুদ্ধের ঝাণ্ডা ও পতাকাগুলো বাঁধা হতো, আর সেখান থেকেই বিজয়ী ও আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চকারী বাহিনীগুলো ইসলামের পতাকাকে উড্ডীন ও প্রকম্পিত রেখে যাত্রা করত। আল্লাহর প্রতি সুদৃঢ় ঈমান তাদের সংকল্পকে শক্তিশালী করত এবং অনুগত ও একনিষ্ঠ নেতারা তাদের হাতকে শক্তিশালী করতেন, যারা জান্নাতের বিনিময়ে আল্লাহর কাছে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের নিকট থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, ফলে তারা হত্যা করে ও নিহত হয়। তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে এ বিষয়ে সত্য প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি পালনে অধিক পূর্ণ কে হতে পারে? সুতরাং তোমরা তোমাদের সেই কেনা-বেচার জন্য আনন্দিত হও যা তোমরা তাঁর সাথে সম্পন্ন করেছ। আর এটাই হলো মহাসাফল্য। তারা তওবাকারী, ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী, রোজা পালনকারী, রুকুকারী, সিজদাকারী, সৎকাজের আদেশদানকারী এবং মন্দ কাজ (منكر) হতে নিষেধকারী ও আল্লাহর সীমাসমূহ হিফাজতকারী; আর আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন} [আত-তাওবাহ: ১১১ - ১১২] (৩) ।

--------------------------------------------

(১) আল-হাশর: আয়াত ১৩।

(২) আল-আনফাল: আয়াত ৬৬।

(৩) আত-তাওবাহ: আয়াত ১১১- ১১২।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২৮)
فمن المسجد، خطبه وحلقاته ودروسه ومواعظه ورقائقه تؤخذ العلوم وتتلقى الأحكام، ويتعلم الناس أمور دنياهم وآخرتهم، عبادة ومعاملة، حربا وسلما سلوكا وأخلاقا وكل ما يغذي روح المسلم ويقوي إيمانه، ويصقل ذهنه، وينير عقله، ويبصره في أمور حياته ومماته.

والمسجد منتدى تشاور، ومحك خبرات، وصقل مواهب، ومتلاقح أفكار، وميدان لتبادل الآراء في عرض أي مشكلة تهم المسلمين لحلها ورأب صدع الخلاف فيها، حتى يلتئم الشمل، وتتحد الكلمة فلا يجد العدو الكاشح منفذا لإفساد صف المسلمين وتفريق جمعهم وبذر تقاوي الضغينة والإحن في نفوسهم، فالعدو ذكي وحريص ويعرف من أين تؤكل الكتف، ولا يصده ويكبح جماحه إلا صمود المسلمين وصلابة عودهم وقوه شكيمتهم واتحادهم قلبا وقالبا، وما أعظم المشاورة وأجل ثمارها، إنها قوة للمسلمين ودرع حصين لهم، فما أحسن جلسة الشورى لحل
মসজিদ থেকেই জ্ঞান আহরণ করা হয় এবং শরয়ি বিধানাবলি (أحكام) গ্রহণ করা হয়; এর খুতবা, শিক্ষাচক্র (حلقات), পাঠদান, নসিহত এবং অন্তর বিগলিতকারী বিষয়াবলির (رقائق) মাধ্যমে। মানুষ তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়াবলি, ইবাদত ও পারস্পরিক লেনদেন (معاملة), যুদ্ধ ও শান্তি, আচার-আচরণ ও নৈতিকতা এবং এমন সবকিছু শেখে যা একজন মুসলিমের আত্মাকে পুষ্ট করে, তার ঈমানকে শক্তিশালী করে, তার মেধাকে শাণিত করে, তার বুদ্ধিবৃত্তিকে আলোকিত করে এবং তাকে তার জীবন ও মরণের বিষয়সমূহে সঠিক অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

মসজিদ হলো পারস্পরিক পরামর্শের (تشاور) এক মিলনস্থল, অভিজ্ঞতার কষ্টিপাথর, প্রতিভা বিকাশের মাধ্যম এবং চিন্তাধারার আদান-প্রদানস্থল। এটি মুসলিমদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো সমস্যা নিরসনে এবং মতভেদের ফাটল মেরামতের লক্ষ্যে মতবিনিময়ের এক উন্মুক্ত ময়দান; যাতে মুসলিমদের সংহতি অটুট থাকে এবং তাদের আদর্শিক অবস্থান অভিন্ন হয়। ফলে কোনো বিদ্বেষপরায়ণ শত্রু মুসলিমদের সারিতে বিপর্যয় ঘটাতে, তাদের ঐক্য বিনষ্ট করতে এবং তাদের অন্তরে ঘৃণা ও শত্রুতার বীজ বপন করতে কোনো ছিদ্রপথ খুঁজে পায় না। কেননা শত্রু অত্যন্ত চতুর ও সজাগ এবং সে খুব ভালোভাবেই জানে কোথায় আঘাত করতে হয়। মুসলিমদের অবিচলতা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, দুর্জয় সাহস এবং কায়মনোবাক্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া আর কিছুই তাকে প্রতিহত করতে ও তার দম্ভ চূর্ণ করতে পারে না। পারস্পরিক পরামর্শ (مشاورة) কতই না মহান এবং এর ফল কতই না বরকতময়! এটি মুসলিমদের জন্য এক অপরাজেয় শক্তি এবং এক সুরক্ষিত ঢাল। সমস্যা সমাধানের নিমিত্তে পরামর্শ সভা (شورى) কতই না চমৎকার...
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২৯)
معضلة ما، تطرح المشكلة على بساط البحث وتجال فيها الآراء، وتدار الأفكار وتدخل في بوتقة الصهر فيعرف فجها من ناضجها وسقيمها من صحيحها وزيفها من خالصها، فيستبعد الفج والزيف والسقيم، ويؤخذ بالناضج والصحيح والخالص، فعليه يتم السير فيوصل إلى الغاية المثلى فيصلح الحال، ويزول المشكل، والله جل وعلا يقول: {وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ} [الشورى: 38] (1) ويقول {وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ} [آل عمران: 159] (2) .

والمسجد ملتقى عظيم يجتمع فيه المسلمون للصلاة والمواعظ مرتين في عيدي السنة: الفطر والأضحى، وفي كل أسبوع مرة لأداء صلاة الجمعة وسماع خطبتها، وفي كل يوم وليلة خمس مرات لتأدية الصلوات الخمس المكتوبة، قال تعالى: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا} [النساء: 103] (3) .

هؤلاء الصلوات اللاتي تمحى بهن الخطايا، وتكفر بهن الذنوب ، فعن أبي هريرة أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «أرأيتم لو أن نهرا بباب أحدكم يغتسل فيه كل يوم خمسا ما تقول ذلك يبقى من درنه؟ قالوا: لا يبقى من درنه

--------------------------------------------

(1) الشورى: آية 38.

(2) آل عمران: آية 159.

(3) النساء: آية 103، وموقوتا، أي مفروضا، وقيل: محددا كما في فتح الباري 2 / 3.
কোনো জটিল সমস্যায় বিষয়টি পর্যালোচনার টেবিলে উত্থাপন করা হয় এবং সেখানে নানাবিধ মতামত আবর্তিত হয়। চিন্তাধারাগুলোকে বিশ্লেষণের চুল্লিতে এমনভাবে দহন করা হয় যাতে সেগুলোর অপরিপক্কতা থেকে পরিপক্কতা, অসুস্থ বা ত্রুটিযুক্ত (سقيم) থেকে সঠিক বা সহিহ (صحيح) এবং কৃত্রিমতা থেকে বিশুদ্ধতাকে পৃথক করা যায়। তখন অপরিপক্ক, কৃত্রিম ও অসুস্থ (سقيم) বিষয়কে বর্জন করা হয় এবং পরিপক্ক, সঠিক (صحيح) ও বিশুদ্ধ বিষয়কে গ্রহণ করা হয়। এর ওপর ভিত্তি করেই কর্মপন্থা নির্ধারিত হয় যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়; ফলে পরিস্থিতির সংশোধন ঘটে এবং সমস্যার নিরসন হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তাদের বিষয়াবলি তাদের নিজেদের মধ্যে পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়} [আশ-শুরা: ৩৮] (১) এবং তিনি আরও বলেন: {এবং তুমি কাজের বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করো} [আল ইমরান: ১৫৯] (২)।

মসজিদ হলো একটি বিশাল মিলনস্থল যেখানে মুসলিমগণ নামাজ ও নসিহতের জন্য সমবেত হন—বছরের দুই ঈদে: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায়; প্রতি সপ্তাহে একবার জুমার নামাজ আদায় ও তার খুতবা শোনার জন্য; এবং প্রতিদিন দিবা-রাত্রিতে পাঁচবার নির্ধারিত ফরজ নামাজসমূহ আদায়ের জন্য। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত বা ফরজ (موقوتا) করা হয়েছে} [আন-নিসা: ১০৩] (৩)।

এই নামাজগুলোর মাধ্যমেই ভুল-ত্রুটিগুলো মুছে ফেলা হয় এবং পাপসমূহ মোচন করা হয়। আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «তোমরা কী মনে করো, যদি তোমাদের কারো দরজার সামনে একটি নদী থাকে যেখানে সে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তবে কি তার শরীরে কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে? তারা বললেন: কোনো ময়লাই অবশিষ্ট থাকবে না...

--------------------------------------------

(১) আশ-শুরা: আয়াত ৩৮।

(২) আল ইমরান: আয়াত ১৫৯।

(৩) আন-নিসা: আয়াত ১০৩, এবং 'মাওকুতা' (موقوتا) অর্থাৎ ফরজ (مفروضا), এবং বলা হয়েছে: সুনির্ধারিত (محددا) যেমনটি ফাতহুল বারী ২/৩-এ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৩০)
شيئا، قال: فذلك مثل الصلوات الخمس يمحو الله به الخطايا» (1) وشرعت صلاة الجماعة لأجل التواد والتواصل وعدم التقاطع فباجتماعها يحصل التآلف والوئام، والأنس والانسجام، والتعاطف والتلاطف والالتئام فتصفو القلوب، وتزكو النفوس ويجتمع الشمل، ويرتئب الصدع، وتنقشع سحب الضغينة وغيوم الإحن والأحقاد، ويبقى المجتمع نظيفا من الغل والحسد، طاهرا نقيا من السخيمة والشحناء، تخيم عليه المحبة الواثقة، وتملأ أفئدة بنيه المودة الكامنة الصادقة به، ويطلع المسلم على أحوال أخيه، ويتحسس مواضع حاجته، فيسعفه ويواسيه، يعرف من ملامح وجهه ورثاثة حاله ما يعتلج في جنانه من شظف عيش وسوء حال، وعوز وفاقة، وما يخالج ضميره من هم وكدر، فيخفف ما ألم به بمد يد العون والرفد والعطاء، ويعالج ما أقلقه من مصائب وغموم، فيزيل عنه شديد قلقه، وثقيل أتراحه «المؤمن للمؤمن كالبنيان يشد بعضه بعضا» (2) وإن رآه هانئا باشا،

--------------------------------------------

(1) البخاري في صحيحه في مواقيت الصلاة: باب الصلوات الخمس كفارة 1 / 134 وفي فتح الباري 2 / 11، أرأيتم: أخبروني فهو استفهام تقرير. والنهر سكون الهاء، وفتحها ما بين جنبي الوادي، سمي بذلك لسعته، وكذلك سمي النهار لسعة ضوئه، والدرن: الوسخ.

(2) سبق تخريجه ص 10.
...কিছুই অবশিষ্ট থাকে না; তিনি বললেন: "এটি হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেন।" আর জামাতে নামাজ পড়ার বিধান বিধিবদ্ধ করা হয়েছে পারস্পরিক ভালোবাসা, যোগাযোগ রক্ষা এবং বিচ্ছিন্নতা দূর করার উদ্দেশ্যে। জামাতে একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে হৃদ্যতা ও সম্প্রীতি অর্জিত হয়, ঘনিষ্ঠতা ও সংহতি তৈরি হয় এবং সহানুভূতি, কোমলতা ও ঐক্য সুদৃঢ় হয়। ফলে অন্তরসমূহ স্বচ্ছ হয়, নফস বা আত্মাগুলো পরিশুদ্ধ হয়, বিচ্ছিন্নরা একত্রিত হয়, ফাটল মেরামত হয় এবং বিদ্বেষ ও শত্রুতার মেঘপুঞ্জ দূর হয়ে যায়। সমাজ ঈর্ষা ও হিংসা থেকে মুক্ত থাকে এবং কলুষতা ও বিবাদ থেকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। সেখানে দৃঢ় ভালোবাসার ছায়া বিস্তার লাভ করে এবং সমাজের সদস্যদের হৃদয়ে এক গভীর ও সত্যনিষ্ঠ হৃদ্যতা পূর্ণ হয়। এর মাধ্যমে একজন মুসলিম তার ভাইয়ের অবস্থা জানতে পারে এবং তার অভাবের ক্ষেত্রগুলো উপলব্ধি করতে পারে, ফলে সে তাকে সাহায্য করতে পারে ও সান্ত্বনা দিতে পারে। সে তার চেহারার অভিব্যক্তি এবং জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে বুঝতে পারে তার অন্তরে জীবনযাত্রার কঠোরতা, মন্দ অবস্থা ও দারিদ্র্যের কী রূপ লড়াই চলছে এবং তার মনে দুশ্চিন্তা ও কষ্টের কী উদয় হচ্ছে। অতঃপর সে সাহায্য ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তার ওপর আপতিত কষ্ট লাঘব করে এবং তাকে উদ্বিগ্ন করা বিপদ ও শোকের প্রতিকার করে। এভাবে সে তার গভীর উদ্বেগ এবং ভারী বিষাদ দূর করে দেয়। "একজন মুমিন অপর মুমিনের জন্য একটি ইমারতসদৃশ, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে।" আর যদি সে তাকে সুখী ও প্রফুল্ল দেখে,

--------------------------------------------

(১) বুখারি তার সহিহ গ্রন্থের নামাজের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায়: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কাফফারা স্বরূপ পরিচ্ছেদ, ১ / ১৩৪ এবং ফাতহুল বারিতে ২ / ১১। ‘আরাআইতুম’ অর্থ: আমাকে বলো, এটি একটি নিশ্চয়তাসূচক প্রশ্ন (استفهام تقرير)। ‘নাহর’ শব্দটিতে ‘হা’ বর্ণের সাকিন বা জবর উভয়ই হতে পারে, যা উপত্যকার দুই পার্শ্বের মধ্যবর্তী স্থান; এর প্রশস্ততার কারণে একে এই নামকরণ করা হয়েছে। একইভাবে দিনের আলোর ব্যাপ্তির কারণে দিনকে ‘নাহার’ বলা হয়। ‘দারন’ অর্থ: ময়লা।

(২) এর তখরিজ (تخريج) অর্থাৎ হাদিসের উৎস শনাক্তকরণ ১০ পৃষ্ঠায় পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ওয়াযীফাতুল মাসজিদি ফিল মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৩১)
قرير العين مسرورا فرح بسعادته وسروره وهنأه بما منحه الله من نعم مبهجة، وآلاء متوافرة، وخير عميم، سواء كان سروره بزواج هانئ سعيد، أو بمولود قرت به عينه، أو برزق حسن، أو حفظ قرآن، أو نجاح ولد، أو صلاحه، أو غير ذلك مما يثلج صدره ويدخل السرور على قلبه، وإن فقده من المسجد سأل عنه وعن أسباب تخلفه، فإن كان مريضا زاره ودعا له بالشفاء، وإن كان مسافرا دعا له باليمن والتوفيق في سفره والعود الحميد إلى أهله سالما غانما، وإن كان سجينا فعل ما يفك أسره، ويطلق وثاقه بتحمل ما عليه إن كان مدينا عاجزا ، بسبب كارثة اجتاحت ماله، وإن كان تخلفه عن الصلاة لكسل انتابه ناصحه مناصحة الأخ الكريم البر بإخوانه مبينا له وجوب الصلاة ومكانتها من الدين، ووجوب حضورها مع جماعة المسلمين موردا بعض الأدلة من الكتاب والسنة كقوله تعالى: {فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا - إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا} [مريم: 59 - 60] (1) . وقوله جل وعز {فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ - الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ - الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ - وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ} [الماعون: 4 - 7] (2) .

--------------------------------------------

(1) مريم الآيتان 59 - 60.

(2) الماعون: الآيات 4-7.
চক্ষু শীতলকারী ও প্রফুল্ল চিত্তে তার সুখে আনন্দিত হবে এবং আল্লাহ তাকে যে আনন্দদায়ক নিয়ামত, প্রচুর অনুগ্রহ ও ব্যাপক কল্যাণ দান করেছেন তার জন্য তাকে অভিনন্দন জানাবে। হোক সেই আনন্দ একটি সুখী দাম্পত্য জীবন, অথবা এমন এক সন্তান যা তার চক্ষু শীতল করে, কিংবা উত্তম রিযিক, কুরআন হিফজ করা, সন্তানের সফলতা বা তার নেককার হওয়া, অথবা এমন কিছু যা তার বক্ষকে প্রশান্ত করে এবং অন্তরে আনন্দ দেয়। যদি সে তাকে মসজিদে অনুপস্থিত পায়, তবে তার সম্পর্কে এবং তার অনুপস্থিতির কারণ জিজ্ঞাসা করবে। যদি সে অসুস্থ হয়, তবে তাকে দেখতে যাবে এবং তার আরোগ্যের জন্য দোয়া করবে। আর যদি সে মুসাফির হয়, তবে তার সফরে কল্যাণ ও তাওফিকের জন্য এবং সহিহ-সালামতে ও সফলভাবে নিজ পরিবারে প্রত্যাবর্তনের জন্য দোয়া করবে। আর যদি সে বন্দি হয়, তবে তার বন্দিত্ব মোচনের ব্যবস্থা করবে; আর সে যদি কোনো দুর্যোগে সম্পদ হারিয়ে ঋণী ও অক্ষম হয়ে পড়ে, তবে তার পক্ষ থেকে ঋণের দায়ভার গ্রহণ করে তাকে মুক্ত করবে। আর যদি তার সালাতে অনুপস্থিতি অলসতার কারণে হয়ে থাকে, তবে ভাইয়ের প্রতি সদয় ও সদাচারী এক ভাই হিসেবে তাকে নসিহত করবে। তাকে সালাতের আবশ্যকতা, দ্বীনে এর গুরুত্ব এবং মুসলিম জামাতের সাথে উপস্থিত হওয়ার আবশ্যকতা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলবে। এক্ষেত্রে সে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে কিছু দলীল পেশ করবে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তাদের পরে এমন এক অপদার্থ উত্তরসূরি এল যারা সালাত নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং তারা অচিরেই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে। তবে যারা তাওবাহ করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তারা ব্যতীত; তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না} [মারইয়াম: ৫৯-৬০] (১)। এবং মহান প্রভুর বাণী: {অতএব দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য— যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন, যারা লোক দেখানোর জন্য কাজ করে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু দানে বিরত থাকে} [মাউন: ৪-৭] (২)।

--------------------------------------------

(১) মারইয়াম: আয়াত ৫৯-৬০।

(২) মাউন: আয়াত ৪-৭।