(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: -)
فصول ومسائل تتعلق بالمساجد القسم: مسائل فقهية
الكتاب: فصول ومسائل تتعلق بالمساجد
المؤلف: عبد الله بن عبد الرحمن بن عبد الله بن إبراهيم بن فهد بن حمد بن جبرين (ت 1430هـ)
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1419هـ
عدد الصفحات: 78
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মসজিদ সংক্রান্ত বিভিন্ন অধ্যায় ও মাসআলা-মাসায়েল বিভাগ: ফিকহী মাসআলা-মাসায়েল
গ্রন্থ: মসজিদ সংক্রান্ত বিভিন্ন অধ্যায় ও মাসআলা-মাসায়েল
লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ফাহাদ ইবনে হামাদ ইবনে জিবরীন (মৃত্যু ১৪৩০ হিজরি)
প্রকাশক: ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, ওয়াকফ, দাওয়াহ এবং ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
[المقدمة]فصول ومسائل تتعلق بالمساجد
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة الحمد لله الملك المحمود، الرحيم المعبود، المعروف بالكرم والجود، أحمده سبحانه وأشكره. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه ومن سار على نهجه إلى يوم الدين.
أما بعد: فإن ربنا سبحانه لما كلّف عباده وأمرهم ونهاهم شرع لهم الاجتماع لأداء بعض العبادات، وخصَّ بعض الأماكن والبقاع بفضيلة وشرف تميزت بها، وفاقت سواها في مضاعفة الأجر والثواب فيها.
وقد خص الله هذه الأمة المحمدية بأن شرع لهم بناء المساجد، والسعي في عمارتها، والمسابقة إليها، وتخصيصها بأنواع من العبادة لا تصح في غيرها. ولأهمية المساجد في هذه الشريعة أحببت أن أكتب حول ما يتعلق بها هذه الصفحات، مع أن العلماء قديمًا وحديثًا قد أولوها عناية كبيرة وتوسعوا في خصائصها، ولكن من باب المساهمة ورغبة في الفائدة أكتب هذه الفصول -والله الموفق-.
[ভূমিকা]মসজিদ সংশ্লিষ্ট কতিপয় পরিচ্ছেদ ও মাসআলা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ভূমিকা: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রশংসিত মালিক, পরম দয়ালু মা’বুদ, যিনি দয়া ও মহানুভবতার জন্য সুপরিচিত; আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল; তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথ অনুসরণ করবেন, তাদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অত:পর: আমাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন তাঁর বান্দাদের ওপর শরীয়তের বিধান অর্পণ করেছেন এবং তাদের আদেশ ও নিষেধ করেছেন, তখন তিনি তাদের জন্য কিছু ইবাদত পালনের উদ্দেশ্যে একত্রিত হওয়াকে বিধিবদ্ধ করেছেন। তিনি কিছু নির্দিষ্ট স্থান ও ভূখণ্ডকে এমন মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন যার মাধ্যমে সেগুলো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত হয়েছে এবং প্রতিদান ও সওয়াব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্যান্য স্থানের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে।
আল্লাহ তাআলা এই উম্মতে মুহাম্মদীকে এই বিশেষত্ব দান করেছেন যে, তিনি তাদের জন্য মসজিদ নির্মাণ করা, তা আবাদ করার প্রচেষ্টা চালানো এবং এর দিকে অগ্রবর্তী হওয়ার বিধান দিয়েছেন। এছাড়া তিনি মসজিদগুলোকে এমন কিছু ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যা মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও শুদ্ধ (صحيح) হয় না। এই শরীয়তে মসজিদের বিশেষ গুরুত্বের কারণে আমি এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি নিয়ে এই পৃষ্ঠাগুলো লিখতে চেয়েছি; যদিও পূর্ববর্তী ও বর্তমান সময়ের আলেমগণ এ বিষয়ে প্রভূত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, তথাপি এই মহৎ কাজে সামান্য অংশগ্রহণ ও সওয়াবের প্রত্যাশায় আমি এই পরিচ্ছেদগুলো লিখছি—আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
[الفصل الأول فضل المساجد وشرفها]الفصل الأول
في فضل المساجد وشرفها قد عُلم أن الكثير من العبادات تتعين في المساجد، أو يزيد أجرها ويضاعف العمل فيها، فلذلك ورد ما يدل على فضلها مطلقًا، فعن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «خير البقاع المساجد، وشر البقاع الأسواق» [رواه الحاكم، وسكت عنه الذهبي، ورواه الطبراني. قال الهيثمي في مجمع الزوائد: فيه عطاء بن السائب وهو ثقة، ولكنه اختلط في آخر عمره، وبقية رجاله ثقات] (1) . وعن أنس مرفوعًا: «خير البقاع بيوت الله» . . .) الحديث [رواه الطبراني في الأوسط، وفيه عبيد بن القاسم وهو ضعيف] (2) . وعن واثلة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «شر المجالس الأسواق والطرق، وخير المجالس المساجد، فإن لم تجلس في المسجد فالزم بيتك» [رواه الطبرانى وفيه: " بكار بن تيميم " مجهول] (3) .
--------------------------------------------
[প্রথম পরিচ্ছেদ: মসজিদের ফযিলত ও মর্যাদা]প্রথম পরিচ্ছেদ
মসজিদের ফযিলত ও মর্যাদার বর্ণনায়। এটি সুবিদিত যে, অনেক ইবাদত মসজিদের জন্যই নির্ধারিত, অথবা সেখানে ইবাদতের সওয়াব বৃদ্ধি ও বহুগুণ করা হয়। সেই কারণেই সাধারণভাবে এর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণস্বরূপ বর্ণনা এসেছে। ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সর্বোত্তম স্থান হলো মসজিদসমূহ এবং নিকৃষ্টতম স্থান হলো বাজারসমূহ» [এটি হাকাম বর্ণনা করেছেন এবং জাহাবি এ ব্যাপারে নীরব থেকেছেন, আর তাবারানিও এটি বর্ণনা করেছেন। মাজমাউজ যাওয়াইদ গ্রন্থে হাইসামি বলেছেন: এতে আতা ইবনে সাইব রয়েছেন, যিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে জীবনের শেষভাগে তার স্মৃতিবিভ্রম (اختلط) ঘটেছিল; আর বর্ণনাকারীদের বাকি সবাই নির্ভরযোগ্য (ثقات)] (১) । আনাস (রা.) থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণিত: «সর্বোত্তম ভূখণ্ড হলো আল্লাহর ঘরসমূহ» . . .) হাদিস [তাবারানি আল-আওসাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, এতে উবাইদ ইবনুল কাসিম রয়েছেন যিনি একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী] (২) । ওয়াসিলা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিকৃষ্ট মজলিস হলো বাজার ও পথঘাট এবং সর্বোত্তম মজলিস হলো মসজিদসমূহ। অতএব তুমি যদি মসজিদে না বসো, তবে নিজ বাড়িতে অবস্থান করো» [তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে "বাকার ইবনে তামিম" রয়েছেন, যিনি একজন অপরিচিত (مجهول)] (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وعن جبير بن مطعم: «أن رجلاً قال: يا رسول الله، أي البلدان أحب إلى الله، وأي البلدان أبغض إلى الله، قال: لا أدري حتى أسأل جبريل صلى الله عليه وسلم، فأتاه فأخبره جبريل: أن أحب البقاع إلى الله المساجد، وأبغض البقاع إلى الله الأسواق» [رواية البزّار، وفيه: عبد الله بن محمد بن عقيل ابن أبي طال، وهو مختلف في الاحتجاج به] (1) . وقال ابن عباس رضي الله عنهما: «المساجد بيوت الله في الأرض تضيء لأهل السماء كما تضيء نجوم السماء لأهل الأرض» [رواه الطبراني في الكبير، قال الهيثمى: ورجاله موثوقون] ) (2) . وقد دلَّ على معناه ما ورد في القرآن من إضافة المساجد إلى الله تعالى، وهي إضافة تشريف وفضل، كقوله تعالى: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ مَنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ} [البقرة: 114] (3) مع أن جميع البقاع وما فيها ملك لله تعالى، ولكن المساجد لها ميزة وشرف، حيث تختص بكثير من العبادات والطاعات والقربات، وكما قال
--------------------------------------------
জুবায়ের ইবনে মুতয়িম (রা.) থেকে বর্ণিত: "এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! কোন জনপদ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং কোন জনপদ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি অপছন্দনীয়? তিনি বললেন: আমি জানি না, যতক্ষণ না জিবরাঈল (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করি। অতঃপর জিবরাঈল (আ.) তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁকে জানালেন যে: আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো মসজিদসমূহ এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় স্থান হলো বাজারসমূহ।" [আল-বাত্তার এটি বর্ণনা করেছেন, এবং এতে রয়েছেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল ইবনে আবি তালিব, যাঁর দ্বারা দলিল প্রদানের (الاحتجاج به) ব্যাপারে মতভেদ (مختلف في) রয়েছে] (১)। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "মসজিদসমূহ জমিনে আল্লাহর ঘর, যা আসমানবাসীদের নিকট তেমনিভাবে উদ্ভাসিত হয় যেমনভাবে আসমানের নক্ষত্ররাজি জমিনবাসীদের নিকট উদ্ভাসিত হয়।" [আত-তাবারানি আল-মুজামুল কাবীর-এ এটি বর্ণনা করেছেন, আল-হাইসামি বলেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (موثوقون)] (২)। কুরআনে মসজিদসমূহকে আল্লাহ তাআলার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার মাধ্যমে এর অর্থের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা মূলত সম্মান ও মর্যাদারই সম্বন্ধ। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয়?} [আল-বাকারা: ১১৪] (৩)। যদিও সমস্ত ভূখণ্ড এবং সেখানে যা আছে তা আল্লাহরই মালিকানাধীন, তবুও মসজিদসমূহের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা রয়েছে; যেহেতু তা অনেক ইবাদত, আনুগত্য ও নৈকট্যমূলক কাজের জন্য নির্দিষ্ট। এবং যেমনটি বলা হয়েছে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
تعالى: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18] (1) . والصحيح أن المراد المساجد المعمورة للذكر والطاعة، والتي هي من خصائص البلاد الإسلامية، فلذلك تؤدى فيها الصلاة جماعة وفرادى، ويدعو فيها المسلم ربه وحده، ولا يدعو معه أحدًا، فإضافتها إلى الله تعالى تقتضي شرفها وتميّزها على بقية البقاع، وذلك ما يوجب احترامها، واعتراف المسلمين بفضلها، فهي من خصائص المسلمين، حيث إن لكل ملة ديانة ومتعبد يجتمع فيه أهل تلك الديانة لأداء عباداتهم والتي يدينون بها، مثل الصوامع والديارات، والكنائس والبيع، مع أنها في زمانها أفضل من غيرها، ولذلك قال تعالى: {وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا} [الحج: 40] (2) . ويراد بالصلوات: موضع العبادات، ولكن بعد نسخ تلك الديانات تعين منع عمارة تلك المعابد، لما فيها من مخالفة شعائر الإسلام، ووجب على المسلمين إظهار هذه المساجد وإشهارها، فأصبحت معالم على كل بلاد يسكنها المسلمون، حيث تتميز بهذه المساجد والتي
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} [জিন: ১৮] (১)। আর সঠিক (الصحيح) মত হলো, এর দ্বারা উদ্দেশ্য সেই সব আবাদকৃত মসজিদ যা জিকির ও আনুগত্যের জন্য নির্ধারিত এবং যা মুসলিম দেশগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই কারণেই সেখানে জামাতে ও একাকী সালাত আদায় করা হয় এবং সেখানে মুসলিম ব্যক্তি একমাত্র তার প্রতিপালকের নিকট দোয়া করে এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে ডাকে না। সুতরাং একে আল্লাহ তাআলার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা এর মর্যাদা এবং অন্যান্য স্থানের ওপর এর স্বাতন্ত্র্যের দাবি রাখে। আর এটিই এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং এর ফযিলতের ব্যাপারে মুসলিমদের স্বীকৃতির আবশ্যক করে। এগুলো মুসলিমদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত; কেননা প্রত্যেক জাতিরই নির্দিষ্ট ধর্ম ও উপাসনালয় থাকে যেখানে সেই ধর্মের অনুসারীরা তাদের ইবাদত পালনের জন্য সমবেত হয়, যেমন: সন্ন্যাসীদের মঠ, নির্জন উপাসনালয়, গির্জা এবং সিনাগগসমূহ। যদিও সেগুলো তাদের নিজ নিজ সময়ে অন্য স্থানের চেয়ে উত্তম ছিল। এই কারণেই মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে বিধ্বস্ত হয়ে যেত সন্ন্যাসীদের মঠ, গির্জা, উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ, যেখানে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়} [হাজ্জ: ৪০] (২)। আর 'সালাওয়াত' দ্বারা ইবাদতখানা উদ্দেশ্য। তবে সেই ধর্মসমূহ রহিত (نسخ) হওয়ার পর, সেই উপাসনালয়গুলো নির্মাণ করা নিষিদ্ধ হয়ে গেছে, যেহেতু তাতে ইসলামের নিদর্শনের পরিপন্থী বিষয় রয়েছে। আর মুসলিমদের ওপর এই মসজিদগুলোকে প্রকাশ ও প্রচার করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে, ফলে এগুলো মুসলিম অধ্যুষিত প্রতিটি জনপদের নিদর্শনে পরিণত হয়েছে, যেখানে এই মসজিদগুলোর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয় যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
مدحها الله بقوله: {فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ} [النور: 36] (1) فترفع مناراتها فوق المساكن والعمارات، وتعرف بمحاربيها الموجهة إلى القبلة الخاصة بالمسلمين.
--------------------------------------------
আল্লাহ সেগুলোর প্রশংসা করেছেন তাঁর বাণীর মাধ্যমে: {সেসব ঘরে, যেগুলোকে উচ্চমর্যাদায় আসীন করার এবং যেগুলোতে তাঁর নাম স্মরণ করার আদেশ আল্লাহ দিয়েছেন} [আন-নূর: ৩৬] (১) ফলে এগুলোর মিনারসমূহ ঘরবাড়ি ও দালানকোঠার উপরে সমুন্নত হয় এবং মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত কিবলার দিকে মুখ করা মেহরাবগুলোর মাধ্যমে এগুলোকে চেনা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
[الفصل الثاني فضل بناء المساجد وعمارتها]الفصل الثاني
في فضل بناء المساجد وعمارتها بعد أن عرف فضل هذه المساجد وشرفها، فقد ورد ما يدل على فضل بنائها وعمارتها الحسية والمعنوية، فمن ذلك ما رواه البخاري ومسلم عن عثمان رضي الله عنه أنه قال لما بني مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم: إنكم أكثرتم علي وإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من بنى مسجدا يبتغي به وجه الله بنى الله له بيتا في الجنة» وفي رواية: «بنى الله له في الجنة مثله» (1) وعن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من بنى مسجدا صغيرا أو كبيرا بنى الله له بيتا في الجنة» [رواه الترمذي] (2) وعن عمرو بن عبسة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من بنى لله مسجدا ليذكر الله فيه بنى الله له بيتا في الجنة» [رواه النسائي] (3) .
وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من بنى مسجدا يذكر فيه اسم الله بنى الله له بيتا في الجنة»
--------------------------------------------
[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মসজিদ নির্মাণ ও তা আবাদ করার ফযিলত]দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
মসজিদ নির্মাণ ও তা আবাদ করার ফযিলত প্রসঙ্গে। এই মসজিদসমূহের ফযিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে জানার পর, মসজিদ নির্মাণ এবং এর বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক আবাদের ফযিলত নির্দেশ করে এমন অনেক বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে একটি হলো যা বুখারি ও মুসলিম উসমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মসজিদ পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল তখন তিনি বলেছিলেন: আপনারা আমার বিষয়ে অনেক কথা বলছেন (অসন্তোষ প্রকাশ করছেন), অথচ আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।" অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: "আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে তার অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন।" (১) আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, তা ছোট হোক বা বড়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।" [তিরমিযি বর্ণনা করেছেন] (২) এবং আমর ইবনে আবাসা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য এমন একটি মসজিদ নির্মাণ করবে যাতে আল্লাহর যিকর করা হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।" [নাসাঈ বর্ণনা করেছেন] (৩) ।
উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি এমন একটি মসজিদ নির্মাণ করবে যাতে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
[رواه ابن ماجه وابن حبان في صحيحه] (1) . وعن علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من بنى لله مسجدًا من ماله بنى الله له بيتًا في الجنة» [رواه ابن ماجه] (2) . وله عن جابر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من بنى مسجدً الله كمفحص قطاة أو أصغر بنى الله له بيتًا في الجنة» [وإسناده صحيح] (3) . وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من بنى لله مسجدا بنى الله له بيتًا أوسع منه في الجنة» [رواه أحمد وفيه الحجاج بن أرطاة متكلم فيه] (4) . وعن واثلة بن الأسقع رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من بنى مسجدًا فصلي فيه بنى الله عز وجل له في الجنة أفضل منه» [رواه أحمد والطبراني، وفيه الحسن بن يحيى ضعفه الدارقطني ووثقه أبو حاتم] (5) وعن ابن عباس عن
--------------------------------------------
[ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন] (১)। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সম্পদ থেকে একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন» [ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন] (২)। তাঁরই (ইবনে মাজাহ) সূত্রে জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করল, তা বালি-হাঁসের ডিম পাড়ার বাসার মতো (ক্ষুদ্র) হোক বা তার চেয়েও ছোট হোক, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন» [এর সনদ সহিহ (صحيح)] (৩)। আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করল, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে তার চেয়ে প্রশস্ত একটি ঘর নির্মাণ করবেন» [আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ রয়েছেন যার ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে (متكلم فيه)] (৪)। ওয়াসিলা বিন আসকা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি একটি মসজিদ নির্মাণ করল এবং তাতে নামাজ আদায় করা হলো, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তার জন্য জান্নাতে তার চেয়েও উত্তম ঘর নির্মাণ করবেন» [আহমাদ এবং তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন, এতে হাসান ইবনে ইয়াহইয়া রয়েছেন যাকে দারা কুতনি দুর্বল (ضعيف) বলেছেন এবং আবু হাতিম নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন] (৫) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من بنى لله مسجدا ولو كمفحص قطاة لبيضها بنى الله له بيتًا في الجنة» [رواه أحمد والبزار وفيه: جابر الجعفي وفيه ضعف] (1) . وعن أبي ذر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من بنى لله مسجدًا قدر مفحص قطاة بنى الله له بيتًا في الجنة» [رواه البزّار والطبراني في الصغير، والبيهقي وابن حبان في صحيحه كما في الإحسان من طريق الأعمش عن إبراهيم التيمي عن أبيه، قال في مجمع الزوائد: ورجاله ثقات] (2) وعن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من بنى لله مسجدًا ولو كمفحص قطاة بنى الله له بيتا في الجنة» [رواه البزّار والطبراني، وفيه: الحكم ابن ظهير، وهو متروك] (3) .
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করল, যদিও তা তিতির পাখির ডিম পাড়ার বাসার মতো ক্ষুদ্র হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন» [এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ এবং আল-বাজার; এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে রয়েছেন জাবির আল-জু'ফি এবং তার মধ্যে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে] (১)। এবং আবু যার থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য তিতির পাখির বাসার সমপরিমাণ একটি মসজিদ নির্মাণ করল, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন» [এটি বর্ণনা করেছেন আল-বাজার, আত-তাবারানি আল-সাগিরে, আল-বায়হাকি এবং ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে (যেমনটি আল-ইহসানে উল্লিখিত হয়েছে) আ'মাশ থেকে ইবরাহিম আত-তাইমি থেকে তার পিতার সূত্রে। মাজমাউয যাওয়াইদে বলা হয়েছে: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)] (২)। এবং ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করল, যদিও তা তিতির পাখির বাসার মতো ক্ষুদ্র হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন» [এটি বর্ণনা করেছেন আল-বাজার এবং আত-তাবারানি; এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে রয়েছেন হাকাম ইবনে জুহাইর, আর তিনি হলেন পরিত্যক্ত (متروك)] (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وعن أبيِ هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من بنى بيتَا يعبد الله فيه من مال حلال بنى الله له بيتًا في الجنة من در وياقوت» [رواه الطبراني في الأوسط والبزّار، وفيه: سليمان بن داود اليمامي وهو ضعيف، (1) .
وعن عائشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من بنى لله مسجدًا بنى الله له بيتَاَ في الجنة» قال: وهذه المساجد التي في طريق مكة؟ قال: (وتلك) [رواه البزّار والطبراني في الأوسط وفيه: كثير بن عبد الرحمن ضعفه العقيلي، وذكره ابن حبان في الثقات] (2) . وعن عائشة عن النبيِ صلى الله عليه وسلم قال: «من بنى لله مسجَدَا لا يريد به رياءً ولا سمعةَ بنى الله له بيتًا في الجنة» [رواه الطبراني في الأوسط، وفيه المثنى بن الصباح ضعف القطان، ووثقه ابن معين في رواية، وضعف في أخرى] (3) . وعن أبي بكر الصديق رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من بنى مسجدًا بنى الله له بيَتَا في
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি হালাল সম্পদ থেকে এমন একটি ঘর নির্মাণ করবে যেখানে আল্লাহর ইবাদত করা হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে মুক্তা ও ইয়াকুত পাথরের একটি ঘর নির্মাণ করবেন» [এটি তাবারানি আল-আওসাত এবং আল-বাজার বর্ণনা করেছেন; এর সনদে রয়েছেন সুলায়মান বিন দাউদ আল-য়ামামি, যিনি দুর্বল (ضعيف)]। (১) .
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন»। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আর মক্কার পথে অবস্থিত এই মসজিদগুলো? তিনি বললেন: «সেগুলোও» [এটি আল-বাজার এবং তাবারানি আল-আওসাত বর্ণনা করেছেন; এর সনদে রয়েছেন কাসির বিন আব্দুর রহমান, যাকে আল-উকায়লি দুর্বল (ضعفه) সাব্যস্ত করেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন] (২) । আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এমন মসজিদ নির্মাণ করবে যার মাধ্যমে সে লোকদেখানো বা সুখ্যাতি কামনা করবে না, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন» [এটি তাবারানি আল-আওসাত বর্ণনা করেছেন; এর সনদে রয়েছেন মুসান্না বিন আল-সাব্বাহ, যাকে আল-কাত্তান দুর্বল (ضعف) বলেছেন এবং ইবনে মাঈন এক বর্ণনায় তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) সাব্যস্ত করেছেন এবং অন্য বর্ণনায় দুর্বল (ضعف) বলেছেন] (৩) । আবু বকর আল-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الجنة» [رواه الطبراني في الأوسط وفيه: وهب بن حفص وهو ضعيف] (1) وعن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من بنى لله مسجدًا بنى الله له بيتًا في الجنة» [رواه الطبراني في الأوسط وفيه المثنى بن الصباح، ضعّفه القطان، ووثقه ابن معين في إحدى الروايات، (2) . وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من بنى لله مسجدًا يراه الله بنى الله له بيتًا في الجنة، فإن مات في يومه غفر له، ومن حفر قبرًا يراه الله بنى الله له بيتًا في الجنة، وإن مات في يومه غفر له» [رواه الطبراني في الأوسط، وفيه: عمران بن عبيد الله، قال البخاري: فيه نظر، وضعفه ابن معين، وذكره ابن حبان في الثقات] (3) . وعن أبيِ أمامة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من بنى لله مسجدَا بنى الله له في الجنة أوسع منه» [رواه الطبراني في الكبير، وفيه: علي بن يزيد وهو ضعيف] (4) . وعن أسماء بنت يزيد قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من بنى لله مسجَدَا بنى الله له بيتًا في الجنة» [رواه
--------------------------------------------
জান্নাত» [আত-তাবারানি এটি আল-আওসাতে বর্ণনা করেছেন এবং এতে ওহাব ইবনে হাফস রয়েছেন, যিনি দুর্বল (ضعيف)] (১) এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন» [আত-তাবারানি এটি আল-আওসাতে বর্ণনা করেছেন এবং এতে আল-মুসান্না ইবনুল সাব্বাহ রয়েছেন; আল-কাত্তান তাকে দুর্বল (ضعّفه) বলেছেন এবং ইবনে মাঈন একটি বর্ণনায় তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন, (২)। এবং ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন; আর সে যদি ওই দিনেই মারা যায় তবে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি কবর খনন করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন; আর সে যদি ওই দিনেই মারা যায় তবে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে» [আত-তাবারানি এটি আল-আওসাতে বর্ণনা করেছেন, আর এতে ইমরান ইবনে উবায়দুল্লাহ রয়েছেন; ইমাম বুখারি বলেছেন: তার ব্যাপারে আপত্তি (فيه نظر) রয়েছে, ইবনে মাঈন তাকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্যদের (الثقات) তালিকায় উল্লেখ করেছেন] (৩)। আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে তার চেয়েও প্রশস্ত একটি ঘর নির্মাণ করবেন» [আত-তাবারানি এটি আল-কাবিরে বর্ণনা করেছেন এবং এতে আলী ইবনে ইয়াজিদ রয়েছেন, যিনি দুর্বল (ضعيف)] (৪)। আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন» [বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الطبراني، ورواه أحمد بلفظ: «فإن الله يبني له بيتًا أوسع منه في الجنة» ورجاله موثقون، (1) وعن نبيط بن شريط قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من بنى مسجدًا بنى الله له بيتًا في الجنة» [رواه الطبراني في الأوسط والصغير، وشيخ الطبراني فيه كذبه صاحب الميزان] (2) .
وعن أبي قرصافة أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: « (ابنو المساجد وأخرجوا القمامة منها، فمن بنى لله مسجدًا بنى الله له بيتًا في الجنة) قال رجل: يا رسول الله وهذه المساجد والتي تبنى في الطريق؟ قال: (نعم وإخراج القمامة منها مهور الحور العين) » [رواه الطبراني في الكبير وفي إسناده مجاهيل] (3) .
هكذا أورد هذه الأحاديث أو أكثرها المنذري في
--------------------------------------------
তাবারানি বর্ণনা করেছেন, এবং আহমদ এটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে তার চেয়ে প্রশস্ত একটি ঘর নির্মাণ করবেন» এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (موثقون), (১) এবং নুবায়েত ইবনে শারীত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন» [তাবারানি আল-আওসাত এবং আল-সাগীরে এটি বর্ণনা করেছেন, আর এতে তাবারানির উস্তাদকে আল-মিজানের লেখক মিথ্যাবাদী অভিহিত করেছেন (كذبه)] (২) ।
এবং আবু কুরসাফাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: « (তোমরা মসজিদসমূহ নির্মাণ করো এবং তা থেকে আবর্জনা বের করে দাও। সুতরাং যে আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন) এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আর এই মসজিদগুলো যা রাস্তার ওপর নির্মিত হয়? তিনি বললেন: (হ্যাঁ, এবং সেগুলো থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করা হুরুল ইনের মোহর) » [তাবারানি আল-কাবীরে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد)-এ অজ্ঞাত ব্যক্তিগণ (مجاهيل) রয়েছেন] (৩) ।
এভাবেই এই হাদিসগুলো বা এর অধিকাংশ মুনজিরি উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الترغيب والترهيب، والهيثمي في مجمع الزوائد، ومجموعها يدل على أن الحديث متواتر حيث رواه ثمانية عشر من الصحابة، وبعضهم روى حديثين كابن عباس، وعائشة، وأبي هريرة رضي الله عنهم، وما في بعضها من الضعف ينجبر برواية الآخرين، فيدل على القطع بأن النبي صلى الله عليه وسلم رغب في بناء المساجد، وقد اشترط في أكثرها أن يكون البناء لله تعالى، أي يريد به وجه الله والدار الآخرة لا يريد به رياء ولا سمعة، ولا يتمدح به، ولا يمن به على المصلين، وإنما يقصد الأجر من الله تعالى، وذلك شرط ثقيل، وعلامة ذلك أن يخفى نفسه، أو لا يحب ذكر فعله على وجه الإعجاب بعمله، وقد جعل ثوابه على ذلك أن يبنى الله له بيتًا في الجنة، وهذا أجر عظيم، فقد ورد أن «موضع سوط أحدكم في الجنة خير من الدنيا وما عليها» (1) . وقوله في بعض الأحاديث: «ولو كمفحص قطاة» أي: الموضع الذي تصلحه من الأرض لبيضها، ولكنه أراد المبالغة في الصغر، حتى لا يحتقر أحد ما بناه من المساجد ولو في غاية الصغر، وقد يدخل في ذلك من ساهم في بنائه ولو باللبن أو الطين، أو عمل فيه بيده، أو دفع أجرة
--------------------------------------------
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব এবং মাজমাউজ যাওয়ায়েদ গ্রন্থে আল-হাইতামী (এটি উল্লেখ করেছেন); এগুলোর সমষ্টি নির্দেশ করে যে হাদিসটি মুতাওয়াতির (متواتر), যেহেতু এটি আঠারোজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ—যেমন ইবনে আব্বাস, আয়েশা এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)—দুটি করে হাদিস বর্ণনা করেছেন। এগুলোর কোনো কোনোটির মধ্যে যে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে, তা অন্যদের বর্ণনার মাধ্যমে দূরীভূত হয়; যা সুনিশ্চিতভাবে (قطع) প্রমাণ করে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ নির্মাণের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। তিনি এর অধিকাংশ বর্ণনায় শর্তারোপ করেছেন যেন নির্মাণটি আল্লাহর জন্য হয়; অর্থাৎ এর মাধ্যমে যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকাল উদ্দেশ্য হয়, লোকদেখানো বা লোকশোনানোর উদ্দেশ্য না থাকে, তা নিয়ে গর্ব না করা হয় এবং মুসুল্লিদের ওপর অনুগ্রহ প্রকাশ না করা হয়। বরং কেবল মহান আল্লাহর নিকট প্রতিদানের আশা করবে—আর এটি একটি কঠিন শর্ত। এর লক্ষণ হলো নিজেকে গোপন রাখা অথবা নিজের কাজের কথা আত্মতৃপ্তির সাথে প্রকাশ করা অপছন্দ করা। তিনি এর বিনিময় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যে আল্লাহ তাঁর জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন, আর এটি এক মহান প্রতিদান। বর্ণিত হয়েছে যে, ‘জান্নাতে তোমাদের কারো একটি চাবুক রাখার সমপরিমাণ স্থান দুনিয়া ও তার মধ্যবর্তী সবকিছু থেকে উত্তম।’ (১)। কোনো কোনো হাদিসে তাঁর বাণী: ‘যদি তা বালিহাঁসের ডিম পাড়ার স্থানের মতোও হয়’—অর্থাৎ পাখিটি ডিম পাড়ার জন্য ভূমিতে যে স্থানটি তৈরি করে। তবে তিনি এর মাধ্যমে অতি ক্ষুদ্রতা বুঝিয়েছেন, যাতে কেউ মসজিদ নির্মাণকে তুচ্ছজ্ঞান না করে, চাই তা অত্যন্ত ক্ষুদ্রই হোক না কেন। এমনকি যে ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণে সামান্য ইট বা কাদা দিয়ে সহযোগিতা করবে, কিংবা নিজ হাতে কাজ করবে অথবা পারিশ্রমিক প্রদান করবে, সেও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
العاملين ونحو ذلك من العمل الذي ينسب إلى صاحبه أنه ساعد في بناء المسجد بنفسه أو ماله، احتسابًا وطلبَا للأجر المرتب على ذلك، وهو أن يبنى الله له مثله أو أوسع منه في الجنة، حيث إن البيت في الجنة لا يقاس بما في الدنيا، ولا نسبة بينهما، وذلك مما يدفع من وسع الله عليه إلى المسارعة في الخيرات، واغتنام الفرصة في هذه الحياة، فيقدم لآخرته ما يجد ثوابه مضاعفًا عند ربه أضعافًا كثيرة.
ثم إنه يستحب عدم الزخرفة والتباهي في المساجد، فقد ذكر البخاري عن أنس قال: «يتباهون بها ثم لا يعمرونها» (1) [وهذا الحديث رواه أحمد والدارمي وابن ماجه وغيرهم بلفظ: «لا تقوم الساعة حتى يتباهى الناس في المساجد» وفي رواية: «يأت على أمتي زمان يتباهون بالمساجد ولا يعمرونها إلا قليلاً» (2) . وروى ابن ماجه عن عمر رضي الله عنه مرفوعًا: «ما ساء قوم قط إلا
--------------------------------------------
শ্রমিকগণ এবং এ জাতীয় কাজ যা তার সম্পাদনকারীর দিকে সম্পর্কিত করা হয় যে, সে ব্যক্তিগতভাবে বা নিজের সম্পদ দ্বারা মসজিদ নির্মাণে সহায়তা করেছে; কেবল সওয়াবের প্রত্যাশায় এবং এর জন্য নির্ধারিত প্রতিদান লাভের উদ্দেশ্যে। আর তা হলো, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ অথবা তার চেয়েও প্রশস্ত একটি ঘর নির্মাণ করবেন। কেননা জান্নাতের ঘর দুনিয়ার ঘরের সাথে পরিমাপযোগ্য নয় এবং এ দুটির মধ্যে কোনো তুলনাই চলে না। আর এটিই এমন বিষয় যা আল্লাহ যাকে সচ্ছলতা দান করেছেন তাকে নেক কাজে প্রতিযোগিতার দিকে এবং এই জীবনের সুযোগ লুফে নেওয়ার দিকে ধাবিত করে; ফলে সে তার পরকালের জন্য এমন কিছু অগ্রিম পাঠায় যার সওয়াব সে তার রবের কাছে বহুগুণ বর্ধিত হিসেবে পাবে।
অতঃপর মসজিদসমূহ সাজসজ্জা করা এবং তা নিয়ে গর্ব করা থেকে বিরত থাকা মুস্তাহাব। বুখারি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তারা তা (মসজিদ) নিয়ে গর্ব করবে, অতঃপর তারা তা আবাদ করবে না।" (১) [এবং এই হাদিসটি আহমদ, দারেমি, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্যরা এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না মানুষ মসজিদ নিয়ে গর্ব করবে।" অন্য বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "আমার উম্মতের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন তারা মসজিদ নিয়ে গর্ব করবে, কিন্তু সামান্যই তা আবাদ করবে।" (২)। এবং ইবনে মাজাহ ওমর (রা.) থেকে মারফু (مرفوعًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "কোনো জাতি কখনোই কলুষিত হয়নি যতক্ষণ না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
زخرفوا مساجدهم» (1) . وذكر البخاري عن ابن عباس قال: «لتزخرفنها كما زخرفت اليهود والنصارى» (2) . ولابن حبان وأبى داود عن ابن عباس مرفوعًا: «ما أمرت بتشييد المساجد» (3) . قال البخاري: وأمر عمر ببناء المساجد، وقال: " أكن الناس من المطر، وإياك أن تحمر أو تصفر فتفتن الناس " (4) .
وقد كثر التباهي في هذه الأزمنة بالمساجد، وأسرفوا في زخرفتها وكثرة الإنفاق عليها، وقد أفتى المشايخ بجواز تشييدها إذا شيدت المساكن والمنازل، حتى لا تكون المساجد مشوَّهة حقيرة بالنسبة إلى البيوت والمنازل، لكن بدون الإسراف والمبالغة في الزخرفة والرفع، وكثرة الإنفاق والألوان والأصباغ، والتنوع في ما يصرف فيها من الخزف والبلاط، والفرش مما لا حاجة إليه فهناك مساجد بحاجة إلى أدنى عمارة.
--------------------------------------------
"তারা তাদের মসজিদসমূহ সজ্জিত করবে।" (১)। ইমাম বুখারি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেন: "তোমরা অবশ্যই মসজিদগুলোকে সজ্জিত করবে যেমন ইহুদি ও নাসারারা সজ্জিত করেছিল।" (২)। ইবনে হিব্বান ও আবু দাউদ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মারফূ (مرفوعًا) হিসেবে বর্ণিত আছে: "আমাকে মসজিদগুলোকে সুউচ্চ করার আদেশ দেওয়া হয়নি।" (৩)। বুখারি বলেন: উমর (রা.) মসজিদ তৈরির নির্দেশ দেন এবং বলেন: "মানুষকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করো। আর সাবধান! তুমি (মসজিদকে) লাল বা হলুদ রঙ করো না, যা মানুষকে বিভ্রান্ত করবে।" (৪)।
বর্তমান যুগে মসজিদ নিয়ে লোকদেখানো বা গর্ব করার প্রবণতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এর সাজসজ্জা ও অধিক অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করেছে। উলামায়ে কেরাম এই শর্তে মসজিদ মজবুতভাবে তৈরির বৈধতার ফতোয়া দিয়েছেন যে, যখন মানুষের ঘরবাড়ি ও দালানকোঠা উন্নতভাবে নির্মিত হয়, তখন মসজিদ যেন ঘরবাড়ির তুলনায় জীর্ণ বা তুচ্ছ মনে না হয়। কিন্তু সাজসজ্জা, উচ্চতা বৃদ্ধি, অত্যধিক ব্যয়, বিভিন্ন রঙের প্রলেপ এবং অপ্রয়োজনীয় টাইলস বা কার্পেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি বা অপচয় করা যাবে না; কারণ এমন অনেক মসজিদ রয়েছে যেগুলোর সামান্যতম সংস্কারের প্রয়োজন আছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
[الفصل الثالث فضل خدمة المساجد وعمارتها بالطاعة]الفصل الثالث
في فضل خدمة المساجد وعمارتها بالطاعة قال الله تعالى: {مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِينَ أَنْ يَعْمُرُوا مَسَاجِدَ اللَّهِ شَاهِدِينَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ بِالْكُفْرِ أُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ وَفِي النَّارِ هُمْ خَالِدُونَ - إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ} [التوبة: 17 - 18] (1) الآية، حيث وصف من يعمر المساجد بالإيمان بالله واليوم الآخر، والصلاة والزكاة وخشية الله وحده، والاهتداء الكامل، أي أن المؤمنين بالله حقًا هم الذين يحملهم إيمانهم على عمارة المساجد، وأكثر أهل العلم على أن المراد عمارتها بالصلاة والذكر والقراءة والعلم، وأنواع العبادة، فهي العمارة الحقيقية، ولهذا أورد الإمام أحمد بإسناده عن أبي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا رأيتم الرجل يعتاد المساجد فاشهدوا له بالإيمان، لأن الله يقول: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ} [التوبة: 18] » [رواه الترمذي وقال: حسن غريب، ورواه الحاكم وقال: هذه ترجمة للمصريين لم يختلفوا في صحتها وصدق رواتها. لكن قال الذهبي: إن دراجًا كثير المناكير،
--------------------------------------------
[তৃতীয় অধ্যায়: মসজিদের খিদমত এবং আনুগত্যের মাধ্যমে তা আবাদ করার ফযীলত]তৃতীয় অধ্যায়
মসজিদের খিদমত এবং আনুগত্যের মাধ্যমে তা আবাদ করার ফযীলত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: {মুশরিকদের জন্য এটা সংগত নয় যে, তারা আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে এমন অবস্থায় যে, তারা নিজেদের কুফুরির ব্যাপারে নিজেরাই সাক্ষী। তাদের আমলসমূহ নষ্ট হয়ে গেছে এবং তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে} [তওবা: ১৭ - ১৮] (১) আয়াতটি পর্যন্ত, যেখানে তিনি যারা মসজিদ আবাদ করে তাদের আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনা, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, একমাত্র আল্লাহকে ভয় করা এবং পূর্ণ হেদায়াতপ্রাপ্ত হওয়ার গুণে গুণান্বিত করেছেন। অর্থাৎ প্রকৃত মুমিন তারাই যাদের ঈমান তাদের মসজিদ আবাদে উদ্বুদ্ধ করে। অধিকাংশ আলিম মনে করেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সালাত, যিকর, তিলাওয়াত, ইলম এবং বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে তা আবাদ করা; আর এটাই হলো প্রকৃত আবাদ। এই কারণেই ইমাম আহমাদ তার সনদে আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন তোমরা কোনো ব্যক্তিকে নিয়মিত মসজিদে যাতায়াত করতে দেখবে, তখন তার মুমিন হওয়ার সাক্ষ্য দাও। কারণ আল্লাহ বলেন: {প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে} [তওবা: ১৮]» [তিরমিযি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাসান গরীব (حسن غريب), আর হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি মিশরীয়দের একটি বর্ণনা যার বিশুদ্ধতা (صحة) এবং বর্ণনাকারীদের সত্যবাদিতার বিষয়ে তারা মতভেদ করেননি। তবে যাহাবী বলেছেন: নিশ্চয়ই দাররাজ অনেক মুনকার (المناكير) বর্ণনা করে থাকেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أي: دراج أبو السمح، أحد رجال الإسناد، وقد أورده النووي في رياض الصالحين مع التزامه بذكر الأحاديث الصحيحة والحسنة] (1) . ثم إن معناه تشهد له الآية الكريمة، حيث زكى ربنا سبحانه من يعمر المساجد، ووصفهم بالإيمان بالله واليوم الآخر. . إلخ، وذكر ابن كثير عند هذه الآية عن عبد بن حميد بإسناده عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنما يعمر مساجد الله أهل الله» [وكذا رواه البزّار كما في الكشف، في باب في عمار المساجد عن صالح المري، عن ثابت، عن أنس، وقال: لا نعلم رواه عن ثابت عن أنس إلا صالح. قال الهيثمي في مجمع الزوائد: وفيه صالح المري وهو ضعيف] (2) . قلت: ولعله مستنبط من الآية الكريمة.
وقال الزمخشري في الآية: "أي: إنما تستقيم عمارة هؤلاء، وتكون معتدًا بها، والعمارة تتناول رم ما استرم منها، وقمها، وتنظيفها، وتنويرها بالمصابيح، وتعظيمها، واعتيادها للعبادة والذكر، ومن الذكر: درس العلم، بل هو
--------------------------------------------
অর্থাৎ: দাররাজ আবু আস-সামহ, সনদ (إسناد) এর অন্যতম একজন বর্ণনাকারী; ইমাম নববী রিয়াদুস সালিহীন গ্রন্থে সহিহ (صحيحة) ও হাসান (حسنة) হাদিসগুলো উল্লেখ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা সত্ত্বেও এটি সেখানে বর্ণনা করেছেন] (১)। অতঃপর এর অর্থের সপক্ষে পবিত্র আয়াত সাক্ষ্য প্রদান করে, যেখানে আমাদের রব সুবহানাহু ওয়াতাআলা মসজিদ আবাদকারীদের প্রশংসা করেছেন এবং তাদেরকে আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাসী হিসেবে অভিহিত করেছেন... ইত্যাদি। ইবনে কাসির এই আয়াতের আলোচনায় আবদ বিন হুমাইদ থেকে তাঁর সনদ (إسناد) সহ আনাস (রা.)-এর সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «আল্লাহর প্রিয়জনরাই কেবল আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করে» [অনুরূপভাবে আল-কাশফ গ্রন্থে 'মসজিদ আবাদকারীদের অনুচ্ছেদ'-এ আল-বাজ্জার সালেহ আল-মুররি, তাঁর সূত্রে সাবিত এবং তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: সালেহ ব্যতীত অন্য কেউ সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আল-হাইসামি মাজমাউয যাওয়ায়েদ গ্রন্থে বলেছেন: এতে সালেহ আল-মুররি রয়েছেন, যিনি দুর্বল (ضعيف)] (২)। আমি বলছি: সম্ভবত এটি পবিত্র আয়াত থেকে উদ্ভূত।
যামাখশারি এই আয়াতের ব্যাপারে বলেছেন: "অর্থাৎ: কেবল এদের আবাদ বা রক্ষণাবেক্ষণই সঠিক এবং তা গ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। আর আবাদ বলতে মসজিদের যা কিছু জরাজীর্ণ তা সংস্কার করা, ঝাড়ু দেওয়া, পরিচ্ছন্ন রাখা, চেরাগ দিয়ে আলোকিত করা, একে সম্মান করা এবং সেখানে ইবাদত ও জিকিরের অভ্যাস করাকে বোঝায়। আর জিকিরের অন্তর্ভুক্ত হলো: ইলম চর্চা বা জ্ঞান দান, বরং এটিই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أجله وأعظمه، وصيانتها مما لم تبن له المساجد، من أحاديث الدنيا، فضلاً عن فضول الحديث" (1) . ثم أورد عدة أحاديث منها حديث بلفظ: «يأتي في آخر الزمان ناس من أمتي يأتون المساجد فيقعدون فيها حلقًا، ذكرهم الدنيا وحب الدنيا، لا تجالسوهم فليس لله بهم حاجة» [قال الحافظ: أخرجه الطبراني عن أبي وائل، عن ابن مسعود، وفيه: بزيع أبو الخليل وهو متروك. ثم ذكر أنه رواه ابن حبان في صحيحه من طريق آخر بنحوه] (2) .
ويدخل في خدمة المساجد إنارتها، فقد ذكر الزمخشري عن أنس رضي الله عنه قال: «من أسرج في مسجد سرجًا، لم تزل الملائكة وحملة العرش تستغفر له مادام في ذلك المسجد ضوؤه» [قال الحافظ: رواه الحارث ابن أسامة من رواية الحكم العبدي عن أنس (3) وفي
--------------------------------------------
মহত্তম ও মহানতম, এবং একে (মসজিদকে) এমন সব বিষয় থেকে হেফজ করা যার জন্য মসজিদসমূহ নির্মাণ করা হয়নি, অর্থাৎ দুনিয়াবি কথাবার্তা, এমনকি অনর্থক কথা তো দূরের কথা (১)। অতঃপর তিনি বেশ কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে একটি হাদিসের শব্দ নিম্নরূপ: «শেষ জামানায় আমার উম্মতের একদল লোক আসবে যারা মসজিদে আসবে এবং সেখানে গোল হয়ে বসবে, তাদের আলোচনা হবে দুনিয়া ও দুনিয়ার মহব্বত নিয়ে। তোমরা তাদের সাথে বসো না, কারণ আল্লাহর তাদের কোনো প্রয়োজন নেই» [হাফেজ বলেন: তাবরানি এটি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। এতে বাজি' আবু আল-খালিল রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত (متروك)। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে হিব্বান এটি তাঁর সহিহ ইবনে হিব্বান-এ অন্য একটি সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন] (২)।
মসজিদসমূহের সেবার অন্তর্ভুক্ত হলো তাতে আলো জ্বালানো। আল-জামাখশারি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি মসজিদে একটি প্রদীপ জ্বালাবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই মসজিদে তার আলো থাকবে, ফেরেশতা এবং আরশ বহনকারীগণ তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবেন» [হাফেজ বলেন: আল-হারিস ইবনে উসামা এটি হাকাম আল-আবদি-এর বর্ণনায় আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন (৩) এবং এতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الطبراني عن علي رفعه: «من علق قنديلاً في مسجد صلى عليه سبعون ألف ملك» . . . إلخ) لكنه ضعيف، (1) .
وفي الصحيحين عن أبي هريرة رضي الله عنه: «أن رجلاً أسود أو امرأة سوداء كان يقم المسجد، فمات فسأل النبي صلى الله عليه وسلم، فقالوا: مات. قال: (أفلا كنتم آذنتموني به، دلّوني على قبره، أو قال قبرها) ، فأتى قبره فصلى عليه» ، سميت في بعض الروايات: أم محجن (2) والمراد: أنها تجمع القمامة وهى الكناسة، ومنها قطع الخرق، والقذى، والعبدان، قال أهل اللغة: القذى في العين والشراب ما يسقط فيه، ثم استعمل في كل شيء يقع في البيت وغيره ذا كان يسيرًا، ففي هذا الحديث فضل تنظيف المسجد إزالة ما يقع فيه من قمامة وقذى، لأنه يشوه المنظر، ويسبب النفرة من المسجد، بخلاف الموضع النظيف، فإنه النفس تألفه وترغب إطالة البقاء فيه.
--------------------------------------------
তাবারানি আলি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্বন্ধ করেছেন (رفعه): «যে ব্যক্তি মসজিদে একটি প্রদীপ ঝুলাবে, সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য প্রার্থনা করবেন» . . . ইত্যাদি। কিন্তু এটি দুর্বল (ضعيف), (১) .
সহিহাইন-এ (বুখারি ও মুসলিম) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: «একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি বা একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী মসজিদ পরিষ্কার করতেন। তিনি মারা গেলে নবী (সা.) তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বললেন: তিনি মারা গেছেন। তিনি (সা.) বললেন: (তোমরা কেন আমাকে সে বিষয়ে অবহিত করলে না? আমাকে তাঁর কবরের পথ দেখিয়ে দাও, অথবা তিনি বলেছিলেন তার কবরের) , অতঃপর তিনি তাঁর কবরের কাছে আসলেন এবং তাঁর জানাজার সালাত আদায় করলেন», কিছু বর্ণনায় তাঁর নাম উম্মে মাহজান (২) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো: তিনি আবর্জনা ও ঝাড়ু দেওয়া ময়লা সংগ্রহ করতেন, যার মধ্যে ন্যাকড়ার টুকরো, ধুলিকণা এবং খড়কুটো থাকত। ভাষাবিদগণ বলেন: 'কাজা' বলতে চোখের বা পানীয়র ভেতরে যা পড়ে তাকে বোঝায়। পরবর্তীতে এটি ঘরে বা অন্য কোথাও সামান্য পরিমাণে পড়ে থাকা যে কোনো জিনিসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। এই হাদিস থেকে মসজিদ পরিষ্কার করার এবং সেখানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও ধুলিকণা দূর করার ফজিলত প্রমাণিত হয়, কারণ এটি দৃশ্যকে কলুষিত করে এবং মসজিদ থেকে বিমুখতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরিচ্ছন্ন স্থানের বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ মানুষের মন সেখানে প্রশান্তি পায় এবং সেখানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করতে আগ্রহী হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ومن تنظيفه تطييبه بالنضوح والدخنة، فقد رو " أبو يعلى عن ابن عمر رضي الله عنه أنه كان يجمّر المسجد كل جمعة. [قال الهيثمي: وفيه عبد الله بن عمر العمري وثقه أحمد وغيره، واختلف في الاحتجاج به، (1) . ولا شك في استحباب تطييب المساجد بالعود ونضحها بالطيب، لمكانتها وشرفها، وذلك مما يرغب العامة في الجلوس فيها، ويسبب محبة النفوس لها، ويزيدها جمالا.
وقد روى عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «عرضت عليّ أجور أمتي حتى القذاة يخرجها الرجل من المسجد» . . .) إلخ [رواه أبو داود والترمذي وابن خزيمة في صحيحه، وسكت عنه أبو داود وقال المنذري في تهذيبه: وفي إسناده عبد المجيد بن عبد العزيز بن أبي رواد، وثقة ابن معين وتكلم فيه غير واحد. وقال الترمذي: هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه، وذكر أن البخاري استغربه، ونقل عن البخاري والدارمي أن المطلب بن عبد الله راويه عن أنس لا يعرف له سماع من
--------------------------------------------
মসজিদ পরিচ্ছন্নকরণের একটি দিক হলো সুগন্ধি ও ধূপের মাধ্যমে একে সুরভিত করা। আবু ইয়া'লা ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি প্রতি জুমুআর দিনে মসজিদে ধূপ দিয়ে সুবাসিত করতেন। [হাইসামি বলেন: এর সনদে (إسناد) আবদুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমরি রয়েছেন; আহমাদ ও অন্যান্যরা তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন, তবে তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে (১)]। মসজিদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে আগরকাষ্ঠ দ্বারা একে সুবাসিত করা এবং সুগন্ধি ছিটানো যে মুস্তাহাব, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এটি সাধারণ মানুষকে মসজিদে অবস্থান করতে আগ্রহী করে, মনে প্রশান্তি ও ভালোবাসার উদ্রেক করে এবং এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «আমার উম্মতের সওয়াবসমূহ আমার কাছে পেশ করা হয়েছে, এমনকি সেই ক্ষুদ্র আবর্জনা বা ধূলিকণাও যা কোনো ব্যক্তি মসজিদ থেকে বের করে দেয়...» ইত্যাদি। [আবু দাউদ, তিরমিজি এবং ইবনে খুজাইমা তার সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ এ সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করেছেন এবং মুনজিরি তার 'তাহজিব' গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদে (إسناد) আবদুল মাজিদ ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ রয়েছেন; ইবনে মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বললেও একাধিক ব্যক্তি তার সমালোচনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন: এটি একটি বিরল (غريب) হাদিস, যা কেবল এই সূত্রেই আমাদের কাছে পরিচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম বুখারি একে বিরল (غريب) সাব্যস্ত করেছেন এবং বুখারি ও দারিমি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আনাস (রা.) থেকে এর বর্ণনাকারী মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহর সরাসরি শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أحد الصحابة] (1) ومع ذلك فمعناه صحيح، ويشهد لذلك قصة المرأة والتي كانت تقم المسجد فماتت فصلى النبي على قبرها (2) . ومن خدمة المساجد فرشها بما يريح المصلّين ولو بتراب نظيف، أو حصباء، فقد روى أبو داود عن أي الوليد قال: «سألت ابن عمر عن الحصا الذي كان في المسجد، فقال: إنا مطرنا ذات ليلة، فأصبحت الأرض مبتلة، فجعل الرجل يجيء بالحصا في ثوبه فيبسطه تحته، فلما قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاته قال: (ما أحسن هذا) » [لكن إسناده ضعيف] (3) . ولا شك أن إراحة المصلّين بما يزيل عنهم حرارة الأرض، أو يقيهم من الغبار، أو يزيل عنهم شدة الحر مما يثاب عليه من قصده، ولذلك اعتيد في هذه الأزمنة جعل البسط والسجاد المريح في أغلب المساجد، بعد أن كانوا يصلون على الحصباء والأرض الصلبة والغبار، فوجدوا بذلك راحة وانبساطًا ومحبة للعبادة ورغبة فيها.
--------------------------------------------
একজন সাহাবী থেকে বর্ণিত] (১) তা সত্ত্বেও এর অর্থ বিশুদ্ধ (صحيح), এবং এই বিষয়ের সপক্ষে সেই মহিলার ঘটনাটি সাক্ষ্য দেয় যিনি মসজিদ পরিষ্কার করতেন, অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কবরের ওপর জানাজা আদায় করেন (২)। মসজিদের সেবামূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত হলো এমন কিছু বিছিয়ে দেওয়া যা মুসল্লিদের জন্য আরামদায়ক হয়, চাই তা পরিষ্কার মাটি হোক কিংবা নুড়ি পাথর। আবু দাউদ আবুল ওয়ালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি ইবনে উমরকে মসজিদের নুড়ি পাথর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: এক রাতে আমাদের এখানে বৃষ্টি হলো, ফলে ভূমি ভেজা হয়ে গেল। তখন জনৈক ব্যক্তি নিজ পোশাকে করে নুড়ি পাথর নিয়ে এসে তার নিচে বিছিয়ে দিতে লাগল। যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সালাত শেষ করলেন, তখন তিনি বললেন: (এটি কতই না উত্তম!)» [তবে এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)] (৩)। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসল্লিদের এমন জিনিসের মাধ্যমে আরাম প্রদান করা যা তাদের থেকে জমিনের উত্তাপ দূর করে দেয়, কিংবা তাদের ধুলোবালি থেকে রক্ষা করে, অথবা প্রচণ্ড গরমের তীব্রতা প্রশমিত করে—তা এমন একটি কাজ যার জন্য নিয়তকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হবে। আর এই কারণেই বর্তমান যুগে অধিকাংশ মসজিদে আরামদায়ক বিছানা ও কার্পেট ব্যবহারের প্রচলন হয়েছে; যেখানে পূর্বে তাঁরা নুড়ি পাথর, শক্ত ভূমি ও ধুলোবালির ওপর সালাত আদায় করতেন। ফলে এর মাধ্যমে তাঁরা আরাম, প্রশান্তি এবং ইবাদতের প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহ খুঁজে পেয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومن خدمة المساجد إنارتها كما سبق في حديث أنس وعلي على ما فيهما من الضعف، وقد روى ابن ماجه وأبو داود «عن ميمونة مولاة النبي على قالت: يا رسول الله أفتنا في بيت المقدس. قال: (فإن لم تأتوه فابعثوا بزيت يسرج في قناديله) » . ولابن ماجه في سننه عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: أول من أسرج في المساجد تميم الداري. وهو موقوف وسنده ضعيف (1) . ولا شك أن إسراج المسجد الذي هو إنارته مما يسبب الرغبة فيه وينير الطريق لمن دخله، حتى يعرف الموضع الذي يقصده، وينظر مواضع الصلاة، ويتوقى خطر الصلاة لغير القبلة، أو العثور في نائم، والاصطدام بسارية أو حائط، وقد يسر الله تعالى في هذه الأزمنة وجود الكهرباء الذي يحصل بها تمام الإنارة والضياء الكامل، حتى أشرقت المساجد، واستنار الطريق، وتيسرت السبل للوصول إلى المساجد بسهولة وراحة، وأمن من الأخطار والفزع الذي يعتري من يمشي في ظلمة مدلهمة، سواء كانت في المساجد أو في
--------------------------------------------
মসজিদের সেবার অন্তর্ভুক্ত হলো সেখানে আলো সরবরাহ করা, যেমনটি আনাস ও আলীর হাদিসে পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, যদিও সেই বর্ণনাগুলোর মধ্যে দুর্বলতা (الضعف) রয়েছে। ইবনে মাজাহ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন «নবীজির মুক্তদাসী মাইমুনা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে, তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসুল! বায়তুল মাকদিস সম্পর্কে আমাদের ফতোয়া দিন। তিনি বললেন: (যদি তোমরা সেখানে পৌঁছাতে না পারো, তবে সেখানের প্রদীপসমূহ জ্বালানোর জন্য তেল পাঠিয়ে দিও)»। ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: মসজিদে প্রথম প্রদীপ প্রজ্জ্বলনকারী হলেন তামীম আদ-দারী। এটি একটি মাওকুফ (موقوف) বর্ণনা এবং এর সনদ দুর্বল (ضعيف) (১)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মসজিদের প্রদীপ প্রজ্জ্বলন তথা আলোকসজ্জা এমন একটি বিষয় যা সেখানে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি করে এবং সেখানে প্রবেশকারীর পথ আলোকিত করে, যাতে সে তার অভীষ্ট স্থান চিনতে পারে, সালাতের স্থানসমূহ দেখতে পায় এবং কিবলা ব্যতীত অন্য দিকে সালাত পড়ার ঝুঁকি কিংবা ঘুমন্ত ব্যক্তির ওপর হোঁচট খাওয়া এবং খুঁটি বা দেয়ালের সাথে ধাক্কা খাওয়া থেকে বেঁচে থাকতে পারে। আল্লাহ তাআলা বর্তমান যুগে বিদ্যুতের উপস্থিতি সহজ করে দিয়েছেন যার মাধ্যমে পূর্ণ আলোকসজ্জা ও পরিপূর্ণ আলো পাওয়া সম্ভব হচ্ছে, এমনকি মসজিদগুলোও আজ উদ্ভাসিত, পথ আলোকিত এবং মসজিদে পৌঁছানোর পথগুলো সহজ ও আরামদায়ক হয়েছে। সেইসাথে ঘুটঘুটে অন্ধকারে হাঁটার সময় যে বিপদ ও ভীতি কাজ করে তা থেকে নিরাপত্তা অর্জিত হয়েছে, চাই তা মসজিদের ভেতরে হোক বা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
طريق الوصول إليها، ومع ذلك فقد ورد ما يدل على فضل المشي إلى المسجد في الظلمات، وكثرة الأجر المرتب على ذلك، فقد روى أبو داود والترمذي عن بريدة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بشر المشائين في الظلم إلى المساجد بالنور التام يوم القيامة» [أو قال الترمذي: غريب. وقال المنذري في الترغيب: رجال إسناده ثقات] (1) .
وعن سهل بن سعد السعدي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليبشر المشاؤن في الظلم إلى المساجد بنور تام يوم القيام» [رواه ابن ماجه والحاكم وقال: صحيح على شرط الشيخين، ووافقه الذهبي] (2) .
وعن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بشر المشائين في الظلم إلى المساجد بالنور التام يوم القيامة» [رواه ابن ماجه والحاكم، وسكت عنه الذهبي، وضعفه البوصيري في الزوائد] (3) .
--------------------------------------------
সেখানে পৌঁছানোর পথ; তা সত্ত্বেও অন্ধকারের মধ্য দিয়ে মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়ার ফজিলত এবং এর বিনিময়ে নির্ধারিত বিপুল সওয়াব সম্পর্কে বর্ণনা পাওয়া যায়। আবু দাউদ ও তিরমিজি বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "অন্ধকারের মধ্যে মসজিদের দিকে পদব্রজে গমনকারীদের কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও।" [অথবা তিরমিজি বলেছেন: এটি বিরল (غريب)। আল-মুনজিরি 'আত-তারগিব' গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদের বর্ণনাকারীবৃন্দ নির্ভরযোগ্য (ثقات)] (১) ।
সাহল ইবনে সাদ আস-সায়িদি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "অন্ধকারের মধ্যে মসজিদের দিকে পদব্রজে গমনকারীরা যেন কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের সুসংবাদ পায়।" [ইবনে মাজাহ ও হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম বলেছেন: এটি শাইখাইনের শর্তানুসারে সহিহ (صحيح), আর জাহাবি তার সাথে একমত পোষণ করেছেন] (২) ।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "অন্ধকারের মধ্যে মসজিদের দিকে পদব্রজে গমনকারীদের কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও।" [ইবনে মাজাহ ও হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন, জাহাবি এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন এবং বুসিরি 'আল-জাওয়াইদ' গ্রন্থে একে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন (ضعفه)] (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «المشاؤن إلى المساجد في الظلم أولئك الخواضون في رحمة الله» [رواه ابن ماجه، وفي إسناده: إسماعيل بن رافع متكلم فيه، ونقل الترمذي عن البخاري وقال هو ثقة مقارب الحديث] (1) . وعن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله ليضيء للذين يتخللون إلى المساجد في الظلم بنور ساطع يوم القيامة» [قال المنذري: رواه الطبراني في الأوسط بإسناد حسن] (2) .
وعن أبي الدرداء رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من مشى في ظلمة الليل إلي المسجد لقي الله عز وجل بنور يوم القيامة» [رواه الطبراني في الكبير بإسناد حسن، وابن حبان في صحيحه ولفظه قال: «من مشى في ظلمة الليل إلى المساجد أتاه الله نورًا يوم القيامة» (3) .
--------------------------------------------
আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «অন্ধকারের মধ্যে যারা মসজিদের দিকে পায়ে হেঁটে যায়, তারাই আল্লাহর রহমতের মধ্যে অবগাহনকারী» [এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) এ ইসমাঈল ইবনে রাফি রয়েছেন, যিনি সমালোচিত (متكلم فيه), এবং তিরমিজি বুখারি থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে তিনি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং তার বর্ণিত হাদিস গ্রহণযোগ্যতার কাছাকাছি (مقارب الحديث)] (১) । এবং আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন সেই সব ব্যক্তিদের উজ্জ্বল আলো দান করবেন যারা অন্ধকারের মধ্য দিয়ে মসজিদের দিকে যাতায়াত করে» [মুনযিরি বলেছেন: এটি তাবারানি আল-আউসাত গ্রন্থে একটি উত্তম (حسن) সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন] (২) ।
আবুদ্দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «যে ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, কিয়ামতের দিন সে মহান আল্লাহর সাথে নূরের উপস্থিতিতে সাক্ষাত করবে» [এটি তাবারানি আল-কাবীর গ্রন্থে একটি উত্তম (حسن) সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন যার শব্দরূপ হলো: «যে ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে মসজিদের দিকে যাতায়াত করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে নূর দান করবেন»] (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وعن أبي أمامة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «بشر المدلجين إلى المساجد في الظلم بمنابر من النور يوم القيامة، يفزع الناس ولا يفزعون» [رواه الطبراني في الكبير وفي إسناده نظر، كذا في الترغيب] (1) .
وقد ذكر مثل هذا الحديث صاحبه مجمع الزوائد عن أبي سعيد وزيد بن حارثة، وعائشة، وابن عباس، وابن عمر، وأبي الدرداء، وأبي موسى (2) . وهو دليلٌ على شهرة الحديث، وكثرة من نقله من الصحابة، ومن خرجه من أهل الحديث، ولعل سبب الترغيب بكثرة الثواب ما كان المسلمون فيه من شدة الظلمة في بعض الليالي، مع ضيق الطرق، والتوائها، فيصعب سلوكها والعبور معها إلى المساجد في الليالي المظلمة، مخافة الهوام واللصوص، والحفر والحجارة والحيطان المعترضة، وقد خفَّت هذه الأشياء في زماننا بسعة الطرق وإنارتها، ونظافتها وأمنها والحمد لله، فلا عذر لأحد في التأخر لأجل ظلمة أو نحوها، فمتى وجدت الظلمة فصبر واحتسب ومشى لصلاة العشاء وصلاة الصبح كان أهلاً أن يحظى بالنور التام يوم القيامة.
--------------------------------------------
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «অন্ধকারের মধ্যে যারা মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, কিয়ামতের দিন তাদেরকে নূরের মিম্বরের সুসংবাদ দাও; যখন মানুষ আতঙ্কিত থাকবে, কিন্তু তারা আতঙ্কিত হবে না» [তাবারানি তাঁর আল-মুজাম আল-কবীর গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে (إسناد) ত্রুটি (نظر) রয়েছে; 'আত-তারগিব' গ্রন্থেও এমনই উল্লেখ আছে] (১)।
'মাজমাউজ যাওয়াইদ' গ্রন্থের লেখক অনুরূপ একটি হাদিস আবু সাঈদ, যায়েদ ইবনে হারিসা, আয়িশা, ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর, আবু দারদা এবং আবু মুসা (রা.) থেকে উল্লেখ করেছেন (২)। এটি হাদিসটির প্রসিদ্ধি (شهرة) এবং অনেক সাহাবী কর্তৃক এটি বর্ণিত হওয়ার পাশাপাশি হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) মাধ্যমে এটি সংকলিত (خرج) হওয়ার একটি প্রমাণ। সম্ভবত অধিক সওয়াবের প্রতি এই উৎসাহ প্রদানের কারণ ছিল কোনো কোনো রাতে মুসলমানদের অত্যন্ত অন্ধকারের মধ্য দিয়ে পথ চলতে হওয়া, সাথে ছিল সংকীর্ণ এবং আঁকাবাঁকা রাস্তা; ফলে বিষাক্ত পোকা-মাকড়, চোর, গর্ত, পাথর এবং পথে প্রতিবন্ধক দেয়ালের ভয়ে অন্ধকার রাতে মসজিদের দিকে যাওয়া এবং তা অতিক্রম করা বেশ কঠিন ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের সময়ে প্রশস্ত রাস্তা, আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তার কারণে এই বিষয়গুলো লাঘব হয়েছে। তাই অন্ধকার বা এই জাতীয় কোনো কারণে পিছিয়ে থাকার জন্য কারো কোনো অজুহাত নেই। সুতরাং যখনই অন্ধকার পাওয়া যায় এবং কেউ ধৈর্য ধারণ করে ও সওয়াবের আশায় এশা ও ফজরের সালাতের জন্য হেঁটে যায়, সে কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের অধিকারী হওয়ার উপযুক্ত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
[الفصل الرابع تنزيه المساجد وصيانتها عن الأقذار الحسية]الفصل الرابع
في تنزيه المساجد وصيانتها
عن الأقذار الحسية لما كانت هذه البيوت أمكنة العبادة والتقرب إلى الله تعالى بالطاعة، ورد الأمر بصيانتها، وحفظها عن الأقذار والنجاسات والفضلات، حتى تحظى بالنظافة والحسن والجمال، وقد تقدم حديث المرأة التي كانت تقم المسجد فماتت فصلى النبي صلى الله عليه وسلم على قبرها، وقد ثبت في الصحيح عن أنس رضي الله عنه قال: جاء أعرابي فبال في طائفة المسجد، فزجره الناس فنهاهم النبي صلى الله عليه وسلم، فلما قضى بوله أمر بذنوب من ماء فأهريق عليه. زاد مسلم في رواية: ثم إن رسول الله صلى الله عليه وسلم دعاه فقال له: «إن هذه المساجد لا تصلح لشيء من هذا البول والقذر، إنما فهي لذكر الله تعالى والصلاة وقراءة القرآن.» (1) .
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: «قام أعرابي فبال في المسجد، فتناوله الناس، فقال لهم النبي صلى الله عليه وسلم: (دعوه
--------------------------------------------
[চতুর্থ অধ্যায়: মসজিদসমূহকে পবিত্র রাখা এবং বাহ্যিক অপবিত্রতা থেকে এগুলোকে হিফাজত করা]চতুর্থ অধ্যায়
মসজিদসমূহকে পবিত্র রাখা এবং বাহ্যিক অপবিত্রতা থেকে
এগুলোকে হিফাজত করা প্রসঙ্গে। যেহেতু এই ঘরসমূহ ইবাদতের স্থান এবং আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের জায়গা, তাই এগুলোকে সুরক্ষা প্রদান এবং ময়লা-আবর্জনা, অপবিত্রতা ও উচ্ছিষ্ট থেকে বাঁচিয়ে রাখার নির্দেশ এসেছে, যাতে এগুলো পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য ও শোভা লাভ করে। সেই মহিলার হাদিস ইতোপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, যিনি মসজিদ ঝাড়ু দিতেন; অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কবরের ওপর জানাজা পড়েছিলেন। এবং সহিহ (صحيح) গ্রন্থে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেন: জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি এসে মসজিদের এক কোণে প্রস্রাব করে দিল। তখন মানুষ তাকে ধমকাতে লাগল, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিষেধ করলেন। যখন সে প্রস্রাব শেষ করল, তখন তিনি এক বালতি পানি আনার নির্দেশ দিলেন এবং তা তার ওপর ঢেলে দেওয়া হলো। মুসলিম একটি বর্ণনায় (رواية) অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকলেন এবং তাকে বললেন: «নিশ্চয়ই এই মসজিদসমূহ প্রস্রাব বা এজাতীয় কোনো ময়লার জন্য উপযুক্ত নয়; বরং এগুলো কেবল মহান আল্লাহর জিকির, সালাত এবং কুরআন তিলাওয়াতের জন্য।» (১)।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি দাঁড়িয়ে মসজিদের ভেতরে প্রস্রাব করে দিল, তখন মানুষ তাকে পাকড়াও করতে উদ্যত হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: (তাকে ছেড়ে দাও
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
واهريقوا على بوله سجلاً من ماء، فإنما بعثتم ميسرين، ولم تبعثوا معسرين» [رواه البخاري] (1) .
ولا خلاف أن البول ونحوه من النجاسات التي تصان عنها المساجد التي تشترط طهارتها، فتصان المساجد وفرشها وما يلحق بها من رحبات وأسطحة ونحوها عن جميع النجاسات، وتطهر متى وقع فيها شيء من ذلك.
وهكذا ورد تطهيرها عن الأقذار كالنخام، والمخاط، واللعاب، والدم، والقيح ونحوها، فقد روى البخاري ومسلم عن أنس بن مالك رضي الله عنه «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى نخامة في القبلة فشق ذلك عليه، حتى رؤي ذلك في وجهه، فقام فحكه بيده، فقال: (إن أحدكم إذا قام في الصلاة فإنما يناجي ربه، فإن ربه بينه وبين القبلة، فلا يبزقن أحدكم قبل قبلته، ولكن عن يساره أو تحت قدمه) ثم أخد طرف ردائه فبزق فيه ثم رد بعضه على بعض فقال: (أو يفعل هكذا) .» (2) .
وفي رواية للنسائي: «رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم نخامة في قبلة المسجد، فغضب حتى أحمر وجهه، فقامت امرأة من الأنصار فحكتها، وجعلت مكانه خلوقًا، قال رسول صلى الله عليه وسلم: (ما أحسن هذا) .» (3) .
وفي الصحيحين أيضًا عن ابن عمر رضي الله عنهما «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى بصاقًا في جدار القبلة فحكه، ثم أقبل على الناس فقال: (إذا كان أحدكم يصلّي فلا يبصق قبل وجهه، فإن الله قبل وجهه إذا صلّى) » ، وفي رواية: «فتغيظ على الناس ثم حكها، ودعا بزعفران فلطخه به» (4) .
وفي الصحيحين نحوه عن أبي سعيد الخدري ولأبي داود عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بعد ما حكها: «أيسر أحدكم أن يبصق في وجهه؟ فإن أحدكم إذا استقبل القبلة فإنما يستقبل ربه عز وجل، والملك عن يمينه، فلا يتفل عن يمينه ولا في قبلته. .) » (5) إلخ. وفي رواية لأبي داود: «من دخل هذا المسجد فبزق فيه أو تنخم فليحفر فليدفنه، فإن لم يفعل فليبزق في ثوبه ثم ليخرج به.» (6) .
--------------------------------------------
"আর তোমরা তার প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কেননা তোমাদেরকে সহজকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, কঠিনকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি।" [ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন] (১) ।
আর এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, প্রস্রাব ও এ জাতীয় অপবিত্রতা (نجاسات) থেকে মসজিদসমূহকে রক্ষা করা আবশ্যক, যার পবিত্রতা (طهارة) নিশ্চিত করা শর্ত। সুতরাং মসজিদসমূহ, এর বিছানাপত্র এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আঙিনা, ছাদ ও এ জাতীয় স্থানসমূহকে সকল প্রকার অপবিত্রতা (نجاسات) থেকে রক্ষা করতে হবে এবং এগুলোর মধ্যে কোনো অপবিত্রতা পতিত হলে তা পবিত্র (طهر) করতে হবে।
অনুরূপভাবে মসজিদকে ময়লা-আবর্জনা যেমন: শ্লেষ্মা, সর্দি, লালা, রক্ত, পুঁজ ইত্যাদি থেকে পবিত্র করার নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে। ইমাম বুখারি ও মুসলিম আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিবলার দিকে শ্লেষ্মা দেখতে পেলেন, যা তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টদায়ক মনে হলো, এমনকি তা তাঁর চেহারায় ফুটে উঠল। এরপর তিনি উঠে তা নিজ হাতে ঘষে পরিষ্কার করলেন এবং বললেন: (তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, সে মূলত তার রবের সাথে কথোপকথন করে। আর তার রব তার ও কিবলার মাঝখানে থাকেন। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন তার কিবলার দিকে থুথু না ফেলে, বরং তার বাম দিকে অথবা পায়ের নিচে ফেলে।) এরপর তিনি তাঁর চাদরের এক প্রান্ত ধরে তাতে থুথু ফেললেন এবং চাদরের একাংশ অপরের ওপর ভাঁজ করলেন। তারপর বললেন: (অথবা সে যেন এমনটি করে)।» (২) ।
সুনান নাসায়ি-এর একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদের কিবলার দিকে শ্লেষ্মা দেখতে পেলেন এবং তিনি এতোটা রাগান্বিত হলেন যে তাঁর চেহারা লাল হয়ে গেল। তখন আনসারিদের মধ্য থেকে এক মহিলা উঠে তা ঘষে পরিষ্কার করে দিলেন এবং সেই স্থানে সুগন্ধি (خلوق) লাগিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (এটি কতই না উত্তম!)।» (৩) ।
সহিহাইন-এ (বুখারি ও মুসলিম) ইবনে উমর (রা.) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিবলার দেওয়ালে থুথু দেখতে পেলেন এবং তা ঘষে পরিষ্কার করলেন। এরপর তিনি লোকজনের দিকে ফিরে বললেন: (তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করে, সে যেন তার সম্মুখভাগে থুথু না ফেলে। কেননা সালাতরত অবস্থায় আল্লাহ তার সম্মুখভাগে থাকেন।)» একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: «তিনি লোকজনের ওপর রাগান্বিত হলেন, অতঃপর তা ঘষে পরিষ্কার করলেন এবং জাফরান আনালেন ও তা দিয়ে জায়গাটি লিপ্ত করলেন।’ (৪) ।
সহিহাইন-এ আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং সুনান আবু দাউদ-এ তাঁর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা পরিষ্কার করার পর বললেন: «তোমাদের কেউ কি পছন্দ করে যে তার চেহারায় থুথু নিক্ষেপ করা হোক? তোমাদের কেউ যখন কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ায়, তখন সে মূলত তার মহান রবের অভিমুখে দাঁড়ায় এবং ফেরেশতা তার ডান পাশে থাকে। সুতরাং সে যেন তার ডান দিকে অথবা কিবলার দিকে থুথু না ফেলে...» (৫) ইত্যাদি। সুনান আবু দাউদ-এর এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: «যে ব্যক্তি এই মসজিদে প্রবেশ করল এবং তাতে থুথু ফেলল অথবা শ্লেষ্মা ত্যাগ করল, সে যেন তা গর্ত করে পুঁতে ফেলে। আর যদি সে তা না করে, তবে যেন তার কাপড়ে থুথু ফেলে এবং তা নিয়ে বাইরে চলে যায়।’ (৬) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وفي الصحيحين عن أنس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «البصاق في المسجد خطيئة، وكفارتها في دفنها.» (1) . وروى الإمام أحمد والطبراني نحوه عن أبي أمامة (2) ولأحمد وأبي يعلى عن سعد بن أبي وقاص قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إذا تنخم أحدكم في المسجد فليغيب بنخامته أن تصيب جلد مؤمن أو ثوبه فتؤذيه» [ورجاله موثوقون] (3) .
وهناك أحاديث كثيرة تدل على النهي عن البصاق والتنخم في المسجد، وفي بعضها النهي بأن يبصق في القبلة أو عن اليمين، والإذن في البصاق عن اليسار أو تحت القدم اليسرى، ثم دلكها بالقدم، ولا شك أن البصاق والنخامة مما يستقذر في الطباع، ولذلك غضب النبي صلى الله عليه وسلم لما رأى البصاق في قبلة المسجد، حتى أحمر وجهه، وسارع إلى حكه ثم لطخ مكانه بخلوق أو زعفران.
--------------------------------------------
সহীহাইন-এ আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মসজিদে থুতু ফেলা একটি পাপ, আর এর কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) হলো তা দাফন করা (মিটিয়ে ফেলা)।" (১)। এবং ইমাম আহমাদ ও তাবারানি আবু উমামা (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন (২)। এবং আহমাদ ও আবু ইয়ালা সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে শ্লেষ্মা ত্যাগ করে, সে যেন তা লুকিয়ে ফেলে যাতে তা কোনো মুমিনের চামড়া বা পোশাকে লেগে তাকে কষ্ট না দেয়।" [এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (موثوقون)] (৩)।
মসজিদে থুতু ও শ্লেষ্মা ফেলার নিষেধাজ্ঞা নির্দেশকারী অনেক হাদিস রয়েছে। কোনো কোনোটিতে কিবলার দিকে অথবা ডান দিকে থুতু ফেলতে নিষেধ করা হয়েছে এবং বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নিচে থুতু ফেলে তা পা দিয়ে ঘষে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, থুতু ও শ্লেষ্মা মানুষের স্বভাবজাতভাবে একটি ঘৃণিত বস্তু। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মসজিদের কিবলার দেয়ালে থুতু দেখেছিলেন তখন রাগান্বিত হয়েছিলেন, এমনকি তাঁর চেহারা মুবারক লাল হয়ে গিয়েছিল। তিনি দ্রুত তা ঘষে পরিষ্কার করলেন এবং সেই স্থানে সুগন্ধি বা জাফরান লেপন করে দিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وقد علم أن المسجد إذا كان مبنيًا من الطين، فحكه يسير، وأن الأرض ترابية يمكن دفن ما يقع فيها، أو إخراج ترابه المستقذر، وحيث إن المساجد في هذه الأزمنة قد أصبحت مبلطة، ومفروشة في الغالب بفرش نظيفة، تتأثر بالوسخ والقذر، ويظهر فيها أثر النخامة والدم والصديد ونحو ذلك، تعين المنع من البصاق فيها على الأرض مطلقا، سواء على الفرش أو في الحيطان، أو على البلاط فمن بدره البصاق أو نخام فعليه أن يخرج لذلك، أو يبصق في منديل ويخرجه، أو في طرف ثوبه ويرد بعضه على بعض كما ذكر في الحديث، حتى يبقى المسجد نظيفًا طيبًا.
وقد ورد أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من أخرج أذى من المسجد بنى الله له بيتا في الجنة» [رواه ابن ماجه عن أبي سعيد، وفي إسناده لين] (1) .
وفى السنن عن عائشة رضي الله عنها قالت: «أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم ببناء المساجد في الدور، وأن تنظف وتطيب) » . قال
--------------------------------------------
এটি সুবিদিত যে, মসজিদ যখন মাটি দিয়ে তৈরি ছিল, তখন তা ঘষে পরিষ্কার করা সহজ ছিল। মসজিদের মেঝে ছিল মাটির, ফলে তাতে যা পড়ত তা মাটিচাপা দেওয়া যেত অথবা ময়লাযুক্ত মাটি বের করে আনা সম্ভব ছিল। যেহেতু বর্তমান সময়ে মসজিদগুলো পাকা করা হয়েছে এবং সাধারণত পরিচ্ছন্ন গালিচা দিয়ে সুসজ্জিত থাকে, যা ময়লা ও আবর্জনার দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং যাতে শ্লেষ্মা, রক্ত, পুঁজ ইত্যাদির চিহ্ন প্রকাশ পায়, তাই মসজিদের মেঝেতে থুথু ফেলা সাধারণভাবে নিষিদ্ধ হওয়া আবশ্যক; চাই তা গালিচার ওপর হোক, দেয়ালে হোক কিংবা টাইলসের ওপর হোক। যার আকস্মিকভাবে থুথু বা শ্লেষ্মা আসে, তার উচিত সেজন্য বাইরে চলে যাওয়া, অথবা রুমালে থুথু ফেলে তা বাইরে নিয়ে যাওয়া, কিংবা তার কাপড়ের এক প্রান্তে তা নিয়ে ভাঁজ করে রাখা যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যাতে মসজিদ পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র থাকে।
বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি মসজিদ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু বের করে দেয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন» [ইবনে মাজাহ এটি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে (إسناد) দুর্বলতা (لين) রয়েছে] (১)।
এবং সুনানে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহল্লায় মসজিদ নির্মাণের এবং তা পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন»। তিনি বলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ওয়া মাসাইলু তাতায়াল্লাকু বিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
سفيان: بناء المساجد في الدور يعني: في القبائل. [وإسناده صحيح] (1) .
وعن سمرة بن جندب أنه كتب إلى بنيه: (أما بعد، «فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يأمرنا أن نصنع المساجد في ديارنا، ونصلح صنعتها ونطهرها» [رواه أبو داود وهو حديث حسن] (2) . فيدخل في تنظيفها إزالة الأقذار عنها، وكذا الروائح الخائسة، فإنها مما تنفر المصلّين، وكذا تؤذي الملائكة، وقد وردت الأحاديث في مثل ذلك.
ففي الصحيحين من حديث جابر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من أكل ثومًا أو بصلاً فليعتزلنا، أو ليعتزل مساجدنا وليقعد في بيته» وفي رواية: «من أكل البصل والثوم والكرات فلا يقربن مسجدنا، فإن الملائكة تتأذى بما يتأذى منه بنو آدم.» (3) . قال ابن الأثير في جامع
--------------------------------------------
সুফিয়ান বলেন: আবাসস্থলে মসজিদ নির্মাণ বলতে গোত্রসমূহের মধ্যে (মসজিদ) নির্মাণ করা বোঝায়। [এবং এর সনদটি সহিহ (صحيح)] (১)।
সামুরা বিন জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর সন্তানদের নিকট লিখেছিলেন: (অতঃপর, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আবাসস্থলগুলোতে মসজিদ নির্মাণ করার, সেগুলো সুচারুভাবে তৈরি করার এবং তা পবিত্র রাখার নির্দেশ দিতেন” [আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস] (২)। মসজিদ পরিচ্ছন্ন রাখার অন্তর্ভুক্ত হলো তা থেকে অপবিত্রতা দূর করা এবং দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু পরিহার করা; কেননা এগুলো মুসল্লিদের মনে ঘৃণা সৃষ্টি করে এবং একইভাবে ফেরেশতাদেরও কষ্ট দেয়। এই মর্মে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
সহিহাইন-এ জাবির (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রসুন বা পেঁয়াজ খায় সে যেন আমাদের থেকে দূরে থাকে অথবা (বলেছেন) আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে এবং নিজ ঘরে বসে থাকে।” অন্য একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: “যে ব্যক্তি পেঁয়াজ, রসুন ও কুরাছ (এক প্রকার সবজি) খায়, সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়; কেননা আদম সন্তান যেগুলোতে কষ্ট পায়, ফেরেশতারাও সেগুলোতে কষ্ট পায়।” (৩)। ইবনুল আসির জামিউল উসুলে বলেছেন—
--------------------------------------------