(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: -)
عمارة المساجد المعنوية وفضلها القسم: مسائل فقهية
الكتاب: عمارة المساجد المعنوية وفضلها
المؤلف: عبد العزيز عبد الله الحميدي
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1419هـ
عدد الصفحات: 72
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মসজিদের আধ্যাত্মিক আবাদ ও এর শ্রেষ্ঠত্ব বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
কিতাব: মসজিদের আধ্যাত্মিক আবাদ ও এর শ্রেষ্ঠত্ব
লেখক: আব্দুল আজিজ আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদী
প্রকাশক: ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব বাদশাহী
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৯ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২
খণ্ড সংখ্যা: ১
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
[مقدمة]عمارة المساجد المعنوية وفضلها
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدا عبد الله ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد: فهذا بحث في موضوع " عمارة المساجد المعنوية وفضلها " وهو عنوان لمحاضرة تم تكليفي بها من قبل معالي وزير الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد للإسهام بها في " ندوة عمارة المساجد " التي ستقيمها كلية التخطيط والعمارة بجامعة الملك سعود بالرياض بمشاركة وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد.
[ভূমিকা]মসজিদসমূহের আধ্যাত্মিক আবাদ এবং এর ফযীলত
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকা: নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।
অতঃপর: এটি "মসজিদসমূহের আধ্যাত্মিক আবাদ ও এর ফযীলত" বিষয়ক একটি গবেষণা। এটি মূলত একটি বক্তৃতার শিরোনাম, যা আমাকে মাননীয় ইসলামিক বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রীর পক্ষ থেকে "মসজিদ স্থাপত্য সেমিনার"-এ অংশগ্রহণের জন্য প্রদান করা হয়েছে। রিয়াদের কিং সউদ ইউনিভার্সিটির কলেজ অব প্ল্যানিং অ্যান্ড আর্কিটেকচার কর্তৃক ইসলামিক বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই সেমিনারটি আয়োজিত হতে যাচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقد تم في هذا البحث إبراز أثر المساجد في تربية أفراد المجتمع الإسلامي على مكارم الأخلاق وسلامة السلوك، وإصلاح ما يطرأ على حياة بعض المسلمين من الانحراف والجنوح نحو الفساد، إضافة إلى أثر المساجد في تقوية الروابط الأخوية بين المسلمين.
والله أسأل أن يعلِّمنا ما جهلنا وأن ينفعنا بما علمنا وأن يجعل علمنا خالصا لوجهه الكريم.
এই গবেষণায় ইসলামি সমাজের সদস্যদের উত্তম চরিত্র ও পরিশুদ্ধ আচরণের ওপর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মসজিদের প্রভাব এবং কিছু মুসলমানের জীবনে দেখা দেওয়া বিচ্যুতি ও অবক্ষয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি সংশোধন করার ক্ষেত্রে মসজিদের ভূমিকা স্পষ্ট করা হয়েছে; এর পাশাপাশি মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে মসজিদের প্রভাবও তুলে ধরা হয়েছে।
আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের যা অজানা তা শিখিয়ে দেন, যা আমাদের শিখিয়েছেন তার দ্বারা আমাদের উপকৃত করেন এবং আমাদের জ্ঞানকে একমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন।
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
[المساجد معالم الإسلام]المساجد معالم الإسلام تعتبر المساجد من أبرز معالم الإسلام ومكونات المجتمع الإسلامي، ومن أبرز المؤسسات التي تحفظ للأمة الإسلامية تاريخها الماضي وتربطه بواقعها الحاضر.
ولقد اعتبر النبي صلى الله عليه وسلم المساجد أمارات تدل على إسلام أهل البلد، ومما يدل على ذلك ما أخرجه الشيخان من حديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يُغير إذا طلع الفجر، وكان يستمع الأذان فإن سمع أذاناً أمسك وإلا أغار» (1) .
وهذا دليل على ما للمساجد من أثر بالغ في الإسلام، حيث يعتبر وجودها وعمارتها بالأذان والصلاة صورة حية للمجتمع الإسلامي، كما يعني فقدها أو فقد عمارتها بعبادة الله تعالى ابتعاد المجتمع عن الإسلام وتلاشي مظاهره من واقع المجتمع.
وفي هذا المعنى يرشد النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه إلى وجوب الإمساك عن القتال إذا رأوا مسجدا أو سمعوا مؤذنا، كما أخرج أبو عيسى الترمذي وأبو داود رحمهما الله من
--------------------------------------------
[মসজিদসমূহ ইসলামের নিদর্শন]মসজিদসমূহ ইসলামের নিদর্শন। মসজিদসমূহ ইসলামের অন্যতম প্রধান নিদর্শন ও ইসলামি সমাজের মৌলিক উপাদান হিসেবে গণ্য, এবং এগুলো এমন এক বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান যা মুসলিম উম্মাহর অতীত ইতিহাসকে সংরক্ষণ করে এবং একে বর্তমান বাস্তবতার সাথে সংযুক্ত করে।
নবিজি (সা.) মসজিদসমূহকে কোনো জনপদের অধিবাসীদের ইসলাম গ্রহণের চিহ্ন হিসেবে গণ্য করতেন। এর প্রমাণ হিসেবে শাইখাইন (الشيخان) কর্তৃক আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখযোগ্য, যেখানে তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) ফজর উদিত হওয়ার সময় অভিযান পরিচালনা করতেন। তিনি আজান শোনার জন্য অপেক্ষা করতেন; যদি আজান শুনতে পেতেন তবে (আক্রমণ থেকে) বিরত থাকতেন, অন্যথায় আক্রমণ করতেন" (১)।
এটি ইসলামে মসজিদের সুদূরপ্রসারী প্রভাবের একটি প্রমাণ। কারণ আজান ও নামাজের মাধ্যমে মসজিদের অস্তিত্ব ও তার আবাদ হওয়া ইসলামি সমাজের একটি জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হিসেবে বিবেচিত হয়। একইভাবে, মসজিদের অনুপস্থিতি কিংবা মহান আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে তা আবাদ না হওয়া সমাজ ইসলাম থেকে বিচ্যুত হওয়া এবং বাস্তব সমাজ থেকে ইসলামের বাহ্যিক নিদর্শনাদি বিলুপ্ত হওয়ার পরিচায়ক।
এই অর্থেই নবিজি (সা.) তাঁর সাহাবিদেরকে কোনো মসজিদ দেখলে বা মুয়াজ্জিনের আজান শুনলে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার আবশ্যকতা সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করেছেন, যেমনটি আবু ঈসা তিরমিজি ও আবু দাউদ (রহ.) বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
حديث ابن عصام المزني عن أبيه رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا بعث جيشا أو سرية يقول لهم: «إذا رأيتم مسجدا أو سمعتم مؤذنا فلا تقتلوا أحدا» وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب (1) .
[عمارة المساجد المعنوية]عمارة المساجد المعنوية عمارة المساجد المعنوية تشمل أمورا من الأعمال الصالحة أبرزها الصلاة وتلاوة القرآن والذكر وتعلم العلم وتعليمه.
وإنني في هذا البحث سأعرض لهذه الموضوعات باختصار إلا إذا رأيت أن الموضوع يحتاج إلى شيء من البسط.
[صلاة الجماعة]صلاة الجماعة إن أهم الأعمال الصالحة التي تؤدَّى في المساجد صلاة الجماعة، وقد رُويت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أحاديث عديدة تأمر بصلاة الجماعة وتبين فضلها، ولن أستوعب ذكر هذه الأحاديث لأنها مبيَّنة في مواضعها من كتب السنة والفقه، وإنما سأقتصر على ذكر بعض الأحاديث الصحيحة في هذا الموضوع.
فمن الأحاديث التي تبين وجوب صلاة الجماعة ما أخرجه الشيخان من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن أثقل صلاة على المنافقين صلاة العشاء وصلاة الفجر ولو يعلمون ما فيها لأتوهما ولو حبوا، ولقد هممت أن آمر بالصلاة فتقام، ثم آمر بالصلاة فتقام، ثم آمر رجلا فيصلي بالناس، ثم أنطلق معي برجال معهم حُزَم من حطب إلى قوم لا يشهدون الصلاة فأحرق عليهم بيوتهم بالنار» (2) .
فهذا التهديد بالتحريق يدل على أن من ترك صلاة الجماعة فهو آثم، وهذا يدل على الوجوب لأن المستحب لا يعاقب تاركه.
وكذلك ما أخرجه الإمام مسلم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: «أتى النبيَّ صلى الله عليه وسلم رجلٌ أعمى فقال: يا رسول الله إنه ليس لي قائد يقودني إلى المسجد، فسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يرخص له فيصلي في بيته، فرخص له، فلما ولَّى دعاه فقال: " هل تسمع النداء بالصلاة؟ " فقال:
--------------------------------------------
ইবনে ইসাম আল-মুজানি তার পিতার (রা.) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোনো সৈন্যদল বা ছোট অভিযান প্রেরণ করতেন, তখন তাদের বলতেন: «যখন তোমরা কোনো মসজিদ দেখবে অথবা মুয়াজ্জিনের আজান শুনবে, তখন কাউকে হত্যা করো না» এবং ইমাম তিরমিজি বলেন: এই হাদিসটি হাসান (حسن) গরিব (غريب) (১)।
[মসজিদের আধ্যাত্মিক আবাদকরণ]মসজিদের আধ্যাত্মিক আবাদকরণ মসজিদের আধ্যাত্মিক আবাদকরণের অন্তর্ভুক্ত হলো নেক আমলসমূহ, যার মধ্যে প্রধান হলো সালাত, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির এবং ইলম অর্জন ও শিক্ষা দান।
আমি এই গবেষণায় এই বিষয়গুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করব, তবে যদি দেখি যে কোনো বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন আছে তবে তা করব।
[জামাতে সালাত]জামাতে সালাত মসজিদে আদায় করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেক আমলগুলোর একটি হলো জামাতে সালাত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে জামাতে সালাত আদায়ের নির্দেশ এবং এর ফজিলত বর্ণনাকারী অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আমি এই হাদিসগুলো বিস্তারিতভাবে এখানে উল্লেখ করব না, কারণ এগুলো সুন্নাহ ও ফিকহ গ্রন্থসমূহের নিজ নিজ স্থানে বর্ণিত আছে; বরং আমি এই বিষয়ে কেবল কিছু সহিহ (صحيح) হাদিস উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব।
জামাতে সালাত ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণস্বরূপ সেই হাদিসগুলোর একটি হলো যা শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মুনাফিকদের জন্য এশা ও ফজরের সালাতের চেয়ে অধিক ভারী আর কোনো সালাত নেই। তারা যদি জানত এই দুই সালাতে কী (ফজিলত) রয়েছে, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এতে উপস্থিত হতো। আমি সংকল্প করেছিলাম যে, সালাত কায়েম করার নির্দেশ দেই এবং তা কায়েম করা হোক, এরপর একজনকে নির্দেশ দেই সে মানুষকে সালাত পড়াবে। এরপর আমি একদল লোক সাথে নিয়ে বের হব যাদের সাথে কাঠের বোঝা থাকবে, এবং সেই সব লোকদের কাছে যাব যারা জামাতে উপস্থিত হয় না, অতঃপর তাদের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেব» (২)।
আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার এই হুমকি প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি জামাতে সালাত বর্জন করে সে গুনাহগার। আর এটি ওয়াজিব হওয়ারই প্রমাণ, কারণ মুস্তাহাব (مستحب) বর্জনকারীর জন্য কোনো শাস্তির বিধান থাকে না।
একইভাবে ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এক অন্ধ ব্যক্তি এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো চালক নেই। সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে অনুমতি চাইল যেন সে তার ঘরে সালাত আদায় করতে পারে। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। অতঃপর যখন সে ফিরে যাচ্ছিল, তখন তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন: "তুমি কি সালাতের আহ্বান (আজান) শুনতে পাও?" সে বলল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
نعم، قال: " فأجب» (1) .
فهذا يفيد بأن من سمع الأذان لا يعذر بترك الصلاة مع الجماعة في المسجد، وهذا دليل على الوجوب لأن المستحب لا يُلزم المسلم بفعله.
ومن الأحاديث التي تبين فضيلة صلاة الجماعة في المسجد ما أخرجه الشيخان من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «صلاة الرجل في الجماعة تضعَّف على صلاته في بيته وفي سوقه خمسا وعشرين ضعفا، وذلك أنه إذا توضأ فأحسن الوضوء ثم خرج إلى المسجد لا يخرجه إلا الصلاة لم يخط خطوة إلا رُفعت له بها درجة وحُطَّ عنه بها خطيئة، فإذا صلى لم تزل الملائكة تصلي عليه ما دام في مصلاه: اللهم صل عليه، اللهم ارحمه، ولا يزال أحدكم في صلاة ما انتظر الصلاة» وفي رواية أخرى لهما من حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما «صلاة الجماعة تفضل صلاة الفذ بسبع وعشرين درجة» (2) .
--------------------------------------------
হ্যাঁ, তিনি বললেন: "তাহলে তুমি উত্তর দাও" (১)।
এটি একথারই ফায়দা প্রদান করে যে, যে ব্যক্তি আযান শুনতে পায়, মসজিদে জামাতে সালাত ত্যাগ করার ব্যাপারে তার কোনো ওজর বা অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। এটি ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার একটি দলিল, কারণ মুস্তাহাব (مستحب) বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো মুসলিমকে তা পালনে বাধ্য করা হয় না।
আর মসজিদে জামাতে সালাত আদায়ের ফযিলত বর্ণনা করে এমন হাদিসগুলোর মধ্যে একটি হলো সেটি যা শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "কোনো ব্যক্তির জামাতের সাথে সালাত আদায় করা তার ঘরে বা বাজারে একা সালাত আদায়ের চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশি বৃদ্ধি করা হয়। আর তা এজন্য যে, যখন সে সুন্দরভাবে ওযু করে, অতঃপর মসজিদের দিকে বের হয় এবং সালাত ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার থাকে না, তখন তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয়। এরপর যখন সে সালাত আদায় করে, তখন ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে যতক্ষণ সে তার সালাতের স্থানে অবস্থান করে: হে আল্লাহ! আপনি তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন, হে আল্লাহ! আপনি তার প্রতি দয়া করুন। আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের জন্য অপেক্ষা করে, সে ততক্ষণ সালাতরত অবস্থায় থাকে।" তাঁদের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণিত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, "জামাতের সালাত একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদা রাখে" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
وكذلك ما أخرجه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لو يعلم الناس ما في النداء والصف الأول ثم لم يجدوا إلا أن يستهموا عليه لاستهموا، ولو يعلمون ما في التهجير لاستبقوا إليه، ولو يعلمون ما في العتمة والصبح لأتوهما ولو حبوا» (1) .
والتهجير هو التبكير إلى الصلاة، والعتمة هي صلاة العشاء.
أما الصحابة رضي الله عنهم فمن الأقوال المأثورة عنهم التي تبين اعتقادهم بوجوب صلاة الجماعة في المساجد ما أخرجه الإمام مسلم من حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: «من سرَّه أن يلقى الله غداً مسلما فليحافظ على هذه الصلوات حيث ينادى بهن، فإن الله شرع لنبيكم صلى الله عليه وسلم سنن الهدى، وإنهن من سنن الهدى، ولو أنكم صليتم في بيوتكم كما يصلي هذا المتخلف في بيته لتركتم سنة نبيكم، ولو تركتم سنة نبيكم لضللتم، وما من رجل يتطهر فيحسن الطُّهور ثم يعمد إلى مسجد من هذه المساجد إلا كتب الله له بكل خطوة يخطوها حسنة
--------------------------------------------
অনুরূপভাবে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «মানুষ যদি জানত আজান এবং প্রথম কাতারে কী (মর্যাদা) রয়েছে, অতঃপর লটারি করা ছাড়া তারা যদি তা না পেত, তবে অবশ্যই তারা লটারি করত। আর যদি তারা জানত 'তাহজীর' (নামাজে আগেভাগে আসা)-তে কী (মর্যাদা) রয়েছে, তবে তারা অবশ্যই এর দিকে দ্রুত ধাবিত হতো। আর যদি তারা 'আতামাহ' (এশা) এবং ফজরের মর্যাদা জানত, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হতো।» (১)।
আর 'তাহজীর' হলো নামাজের জন্য দ্রুত বা আগেভাগে আসা, আর 'আতামাহ' হলো এশার নামাজ।
আর সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর কথা বলতে গেলে, তাঁদের থেকে বর্ণিত যেসব বাণী মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় আবশ্যক (وجوب) হওয়ার ব্যাপারে তাঁদের বিশ্বাসকে স্পষ্ট করে, তার মধ্যে একটি হলো ইমাম মুসলিম কর্তৃক আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি আগামীকাল আল্লাহর সাথে মুসলিম হিসেবে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করে, সে যেন এই নামাজগুলোর প্রতি যত্নবান হয় যেখানে এগুলোর জন্য আজান দেওয়া হয়। কেননা আল্লাহ তোমাদের নবী (সা.)-এর জন্য হেদায়েতের সুন্নাহসমূহ (سنن) প্রবর্তন করেছেন। আর এই নামাজগুলো হেদায়েতের সুন্নাহসমূহের (سنن) অন্তর্ভুক্ত। আর তোমরা যদি তোমাদের ঘরে নামাজ আদায় করতে যেভাবে এই পেছনে পড়ে থাকা ব্যক্তিটি তার ঘরে নামাজ আদায় করে, তবে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত (سنة) পরিত্যাগ করতে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত (سنة) বর্জন করতে, তবে তোমরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হতে। আর এমন কোনো লোক নেই যে উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তারপর এই মসজিদগুলোর কোনো একটির দিকে যাওয়ার সংকল্প করে, আল্লাহ তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে একটি করে নেকি লিখে দেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
ويرفعه بها درجة، ويحط عنه بها سيئة، ولقد رأيتُنا وما يتخلف عنها إلا منافق معلوم النفاق، ولقد كان الرجل يؤتَى به يهادى بين الرجلين حتى يُقام في الصف» (1) .
ولقد كان تأثر المسلمين بهذه الأحاديث والآثار وأمثالها شديداً واستقامتهم على حضور الجماعات في المساجد مستمرة على مدى الزمان، ومن أخبار العلماء المؤثرة في ذلك ما ذكره الحافظ الذهبي عن العالم العابد عبيد الله بن عمر القواريري أنه قال: لم تكن تكاد تفوتني صلاة العتمة في جماعة. فنزل بي ضيف فشغلت به فخرجت أطلب الصلاة في قبائل البصرة، فإذا الناس قد صلوا، فقلت في نفسي: يُروى عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «صلاة الجمع تفضل على صلاة الفذ إحدى وعشرين درجة» ورُوي خمسا وعشرين وروي سبعا وعشرين فانقلبت إلى منزلي فصليت العتمة سبعا وعشرين مرة، ثم رقدت فرأيتني مع قوم راكبي أفراس وأنا راكب، ونحن نتجارى وأفراسهم تسبق فرسي فجعلت أضربه لألحقهم، فالتفت إليَّ آخرهم فقال: لا تُجْهِدْ فرسك فلست بلاحقنا قال: فقلت: ولِمَ؟
--------------------------------------------
...এবং এর মাধ্যমে তিনি তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং একটি পাপ মোচন করেন। আমি আমাদের দেখেছি যে, প্রকাশ্য মুনাফিক (منافق) ছাড়া আর কেউ জামাত থেকে বিরত থাকত না। এমনকি কোনো ব্যক্তিকে দুজন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে আনা হতো এবং কাতারে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হতো। (১) ।
নিশ্চয়ই এসকল হাদিস ও আছার (آثار) এবং এর সমরূপ বর্ণনাসমূহের দ্বারা মুসলমানদের প্রভাবিত হওয়া ছিল অত্যন্ত গভীর এবং দীর্ঘকাল ধরে মসজিদে জামাতের সাথে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিষ্ঠা ছিল নিরবচ্ছিন্ন। এ বিষয়ে আলেমদের প্রভাবশালী ঘটনাবলির মধ্যে হাফেজ যাহাবী ইবাদতগুজার আলেম উবাইদুল্লাহ বিন উমর আল-কাওয়ারীরী থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেন: আমার এশার সালাত জামাতের সাথে সাধারণত কখনো ছুটত না। একবার আমার কাছে এক মেহমান আসলেন এবং আমি তাঁকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। এরপর আমি বসরার বিভিন্ন গোত্রের মসজিদে সালাতের খোঁজে বের হলাম, কিন্তু দেখলাম লোকজন সালাত শেষ করে ফেলেছে। তখন আমি মনে মনে বললাম: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত (يروى) আছে যে তিনি বলেছেন: «জামাতের সালাত একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে একুশ গুণ বেশি শ্রেষ্ঠত্ব রাখে» এবং পঁচিশ গুণ বর্ণিত (روي) আছে এবং সাতাশ গুণও বর্ণিত (روي) আছে। ফলে আমি বাড়িতে ফিরে গিয়ে এশার সালাত সাতাশ বার আদায় করলাম। এরপর আমি ঘুমিয়ে পড়লাম এবং স্বপ্নে দেখলাম আমি একদল অশ্বারোহীর সাথে আছি এবং আমিও সওয়ার হয়েছি। আমরা একে অপরের সাথে পাল্লা দিচ্ছিলাম কিন্তু তাদের ঘোড়াগুলো আমার ঘোড়াকে ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। আমি আমার ঘোড়াকে দ্রুত চালানোর জন্য আঘাত করতে লাগলাম যাতে তাদের নাগাল পাই, তখন তাদের মধ্যে সবশেষে থাকা ব্যক্তিটি আমার দিকে ফিরে বললেন: তোমার ঘোড়াকে অহেতুক কষ্ট দিও না, কারণ তুমি আমাদের ধরতে পারবে না। তিনি বললেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
قال: لأنا صلينا العَتَمة في جماعة (1) .
فهذا اجتهاد بالغ من هذا الإمام في تدارك صلاة العشاء التي فاتته، فقد دار على مساجد البصرة ليدركها فلم يحصل له ذلك، ثم اجتهد فصلى سبعا وعشرين مرة ليحصل على فضيلة الجماعة، فما أعظم هذا الحرص على درجات الثواب من هذا الإمام! وكم قضى من الوقت والجهد في هذه الصلوات من أجل تدارك ما فاته من مضاعفة الأجر بصلاة الجماعة!
ولكنه مع ذلك رأى تلك الرؤيا العجيبة المباركة التي تدل على أن المسلم وإن كرَّر الصلاة سبعا وعشرين مرة في بيته فلن يلحق بالثواب من حضروا صلاة الجماعة، وهذا دليل على أهمية الصلاة مع الجماعة في المساجد وعِظَم منزلتها في الدين.
فكم يخسر الذين يصلون الصلوات الخمس أو بعضها في بيوتهم! وكم أضاعوا من درجات من الثواب عالية تُعَدُّ بالألوف والملايين!
إن في هذا الخبر لتذكرة للغافلين واستنهاضاً لِهِمَم المتكاسلين، وقُرَّة عين للفائزين السابقين.
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "কেননা আমরা ইশার (العَتَمة) নামাজ জামাতের (جماعة) সাথে আদায় করেছি" (১)।
ছুটে যাওয়া ইশার নামাজ পুনরায় পাওয়ার ক্ষেত্রে এই ইমামের পক্ষ থেকে এটি ছিল এক ঐকান্তিক প্রচেষ্টা (اجتهاد)। তিনি বসরা নগরীর বিভিন্ন মসজিদে ঘুরে বেড়ালেন যেন তা জামাতের সাথে পড়তে পারেন, কিন্তু তিনি তা লাভে সফল হননি। অতঃপর তিনি কঠোর সাধনা (اجتهاد) করলেন এবং সাতাশ বার নামাজ আদায় করলেন যেন জামাতের (جماعة) ফজিলত লাভ করতে পারেন। সওয়াবের সুউচ্চ মর্যাদা লাভের জন্য এই ইমামের কী ব্যাকুলতা! জামাতের (جماعة) সাথে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধির যে সুযোগ তাঁর হাতছাড়া হয়েছিল, তা পুষিয়ে নিতে তিনি কত সময় এবং শ্রম ব্যয় করেছিলেন!
এতদসত্ত্বেও তিনি সেই বিস্ময়কর ও বরকতময় স্বপ্নটি দেখলেন যা নির্দেশ করে যে, একজন মুসলিম যদি তার ঘরে সাতাশ বার নামাজ পুনরায় আদায়ও করে, তবুও সে ঐ ব্যক্তিদের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করতে পারবে না যারা জামাতে (جماعة) উপস্থিত হয়ে নামাজ আদায় করেছেন। এটি মসজিদে জামাতের (جماعة) সাথে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব এবং দ্বীনের মধ্যে এর সুউচ্চ মর্যাদার এক প্রকৃষ্ট দলিল।
সুতরাং যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বা এর কিছু অংশ নিজ ঘরে আদায় করে, তারা কতটা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে! তারা সওয়াবের কত উচ্চ স্তরসমূহ নষ্ট করছে যা হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ হিসেবে গণ্য হতে পারত!
নিশ্চয়ই এই সংবাদের মধ্যে গাফেলদের জন্য রয়েছে উপদেশ, অলসদের হিম্মত জাগানিয়া প্রেরণা এবং অগ্রগামী সফলকাম ব্যক্তিদের জন্য চক্ষুশীতলকারী পাথেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
[الرباط في المساجد]الرباط في المساجد جاء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الحث على انتظار الصلاة في المسجد بعد الصلاة وسمَّى ذلك رباطًا، كما أخرج مسلم بن الحجاج رحمه الله من حديث أبي هريرة رضي الله عنه: أن رسول الله فيه قال: «ألا أدلكم على ما يمحو الله به الخطايا ويرفع به الدرجات؟ قالوا: بلى يا رسول الله قال: إسباغ الوضوء على المكاره» (1) «وكثرة الخطا إلى المساجد، وانتظار الصلاة بعد الصلاة، فذلكم الرباط» (2) .
وتسمية هذا العمل الصالح بالرباط تشبيه له بالمرابطة للجهاد في سبيل الله تعالى.
ومما جاء في فضيلة الرباط في المساجد بين الصلوات ما أخرجه أبو عبد الله ابن ماجه رحمه الله من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: «صلينا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم المغرب، فرجع من رجع وعقَّب من عقَّب فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم مسرعًا قد حفزه النفس، وقد حسر
--------------------------------------------
[মসজিদে রিবাত বা অবস্থান]মসজিদে রিবাত বা অবস্থান প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে নামাজের পর পরবর্তী নামাজের জন্য মসজিদে অপেক্ষা করার প্রতি উৎসাহ প্রদান বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি একে 'রিবাত' হিসেবে অভিহিত করেছেন। যেমনটি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহ.) আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাতে বলেছেন: «আমি কি তোমাদের এমন কিছু জানাব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ পাপসমূহ মিটিয়ে দেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন? তারা বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পূর্ণাঙ্গভাবে অজু সম্পাদন করা (১), মসজিদের দিকে অধিক পদচারণা করা এবং এক নামাজের পর পরবর্তী নামাজের জন্য অপেক্ষা করা; এটাই হলো রিবাত (২)»।
এই নেক আমলকে 'রিবাত' হিসেবে নামকরণ করার তাৎপর্য হলো আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে সীমান্তে প্রহরারত থাকার সাথে এর সাদৃশ্য নিরূপণ করা।
দুই নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে মসজিদে অবস্থানের ফজিলত সম্পর্কে আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মাজাহ (রহ.) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: «আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম; অতঃপর যাদের ফিরে যাওয়ার ছিল তারা ফিরে গেলেন এবং যারা (পরবর্তী ইবাদতের জন্য) অবস্থান করার ছিল তারা থেকে গেলেন। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত দ্রুতপদে আসলেন, তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত বইছিল এবং তিনি উন্মুক্ত করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
عن ركبتيه فقال: أبشروا، هذا ربكم قد فتح بابا من أبواب السماء يباهي بكم الملائكة، يقول: انظروا إلى عبادي قد قضوا فريضة وهم ينتظرون أخرى» .
قال البوصيري: هذا إسناد صحيح ورجاله ثقات (1) .
وهذا يبين لنا أهمية المرابطة في المساجد، حيث بلغ ذلك من الفضل إلى أن يباهي به الله سبحانه ملائكته عليهم السلام.
ومما جاء في فضيلة ملازمة المساجد والبقاء فيها ما أخرجه أيضًا أبو عبد الله ابن ماجه رحمه الله من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ما توطَّن رجل مسلم المساجد للصلاة والذكر إلا تبشبش الله له كما يتبشبش أهل الغائب بغائبهم إذا قدم عليهم.» .
قال البوصيري: إسناده صحيح ورجاله ثقات (2) .
--------------------------------------------
...হাঁটু থেকে [কাপড় সরিয়ে] বললেন: "তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, এই যে তোমাদের প্রতিপালক আসমানের দরজাগুলোর মধ্য থেকে একটি দরজা খুলে দিয়েছেন এবং তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাদের নিকট গর্ব করছেন। তিনি বলছেন: তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকাও, তারা একটি ফরজ দায়িত্ব পালন করেছে এবং অপর একটির জন্য অপেক্ষা করছে।"
আল-বুসিরি বলেছেন: "এই সনদ (إسناد)টি বিশুদ্ধ (صحيح) এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।" (১)
এটি আমাদের নিকট মসজিদে অবস্থান করার গুরুত্ব স্পষ্ট করে দেয়, কারণ এর মর্যাদা এমন স্তরে পৌঁছেছে যে মহান আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের (আলাইহিমুস সালাম) নিকট এটি নিয়ে গর্ব করেন।
মসজিদে নিরবচ্ছিন্নভাবে যাতায়াত ও অবস্থানের ফজিলত সম্পর্কে আরও বর্ণিত হয়েছে যা আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মাজাহ (রহ.) আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: "কোনো মুসলিম ব্যক্তি যখন সালাত ও জিকিরের জন্য মসজিদকে নিজের আবাস বানিয়ে নেয়, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি এমনভাবে আনন্দিত হন, যেভাবে প্রবাসে থাকা কোনো ব্যক্তি তার পরিবারের নিকট ফিরে এলে তারা আনন্দিত হয়।"
আল-বুসিরি বলেছেন: "এর সনদ (إسناد)টি বিশুদ্ধ (صحيح) এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
[أثر المساجد في التربية والإصلاح]أثر المساجد في التربية والإصلاح تبين لنا أن المساجد تشتمل على أعمال صالحة من أبرزها الصلاة، ونظرًا لما للصلاة من أثر عظيم في تربية أفراد المجتمع على الاستقامة، وإصلاح ما يطرأ على حياتهم من الانحراف والجنوح نحو الفساد فإنني سأتحدث عن هذا الأثر التربوي الإصلاحي في الصلاة إضافة إلى آثارها العظيمة في الثواب الأخروي.
[الصلاة الكاملة وأثرها في الدنيا والآخرة]- الصلاة الكاملة وأثرها في الدنيا والآخرة فالصلاة الكاملة مظهر ومخبر، فمظهرها أداؤها كاملة بشروطها وأركانها وواجباتها وسننها، وهذا الموضوع قد تم بحثه في كتب الفقه بشكل مفصل فليس بحاجة إلى بيان.
ومخبر الصلاة الخشوع وهو: سكون القلب الذي يترتب عليه سكون الجوارح، وهو مبني على حضور القلب مع الله تعالى ومع الصلاة، وحيث إن هذا الموضوع يحتاج فيه المسلمون إلى بيان وتذكير لعدم الاهتمام به في مناهج الفقه الدراسية، ولأهميته البالغة في كمال هذه العبادة العظيمة فإنني أرى من المهم الإشارة إليه بشيء من التفصيل.
[তরবিয়ত (تربية) ও সংশোধনে (إصلاح) মসজিদের প্রভাব]তরবিয়ত (تربية) ও সংশোধনে (إصلاح) মসজিদের প্রভাব: আমাদের নিকট এটা স্পষ্ট যে, মসজিদসমূহ এমন সব নেক আমলকে অন্তর্ভুক্ত করে যার মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম হলো সালাত। সমাজের ব্যক্তিবর্গের সততা ও নিষ্ঠার ওপর গড়ে তোলা এবং তাদের জীবনে আসা বিচ্যুতি ও ফাসাদের দিকে ঝোঁক সংশোধনের ক্ষেত্রে সালাতের সুমহান প্রভাবের কথা বিবেচনা করে আমি সালাতের এই শিক্ষামূলক ও সংশোধনমূলক প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করব, পাশাপাশি পরকালীন প্রতিদানের ক্ষেত্রে এর বিশাল গুরুত্বও বর্ণনা করব।
[পরিপূর্ণ সালাত এবং দুনিয়া ও আখেরাতে এর প্রভাব]- পরিপূর্ণ সালাত এবং দুনিয়া ও আখেরাতে এর প্রভাব: পরিপূর্ণ সালাতের একটি বাহ্যিক রূপ এবং একটি অভ্যন্তরীণ মর্মার্থ রয়েছে। এর বাহ্যিক রূপ হলো শর্তাবলি (شروط), আরকান (أركان), ওয়াজিবাত (واجبات) এবং সুন্নাহসমূহ (سنن) সহকারে তা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করা। এই বিষয়টি ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে, তাই এটি নতুন করে বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই।
আর সালাতের অভ্যন্তরীণ মর্মার্থ হলো খুশু (خشوع); আর তা হলো: অন্তরের স্থিরতা যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্থিরতা নিশ্চিত করে। এটি মহান আল্লাহ এবং সালাতের প্রতি অন্তরের উপস্থিতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। যেহেতু ফিকহ শাস্ত্রের পাঠ্যসূচিতে এই বিষয়টির প্রতি তেমন গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে মুসলমানদের এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা ও স্মারক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে, এবং এই মহান ইবাদতের পূর্ণতার ক্ষেত্রে এর অত্যধিক গুরুত্বের কারণে আমি বিষয়টিকে কিছুটা বিস্তারিতভাবে ইঙ্গিত করা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি।
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فالخشوع هو روح الصلاح وجوهرها، ولذلك جعله الله تعالى أول صفات المؤمنين الذين حكم لهم بالفلاح في قوله تعالى {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ - الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ} [المؤمنون: 1 - 2]
وهو سكون القلب وخضوعه وتَذلُّله لله عز وجل، كما أخرج أبو جعفر بن جرير الطبري عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه قال في قوله تعالى: {الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ} [المؤمنون: 2] خائفون ساكنون.
وذكر عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أنه قال: الخشوع في القلب، وأن تُلين للمرء المسلم كنفك ولا تلتفت.
وعن الحسن البصري قال: كان خشوعهم في قلوبهم، فغضوا بذلك البصر، وخفضوا الجناح.
وقال ابن جرير في معنى الآية: والذين هم في صلاتهم متذللون لله بإدامة ما ألزمهم من فرضه وعبادته، وإذا تذلل لله فيها العبد رؤيت ذلة خضوعه في سكون أطرافه وشغله بفرضه، وتركه ما أمر بتركه فيها (1) .
--------------------------------------------
একাগ্রতা (খুশু) হলো সালাতের প্রাণ ও এর সারসত্তা। এই কারণে মহান আল্লাহ একে সেই সকল মুমিনদের প্রথম বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যাদের ব্যাপারে তিনি তাঁর বাণীতে সফলতার ফয়সালা দিয়েছেন: "নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে—যারা তাদের সালাতে একাগ্র (খাশে‘)।" [আল-মুমিনুন: ১-২]
এটি হলো মহান আল্লাহর সামনে হৃদয়ের স্থিরতা, বিনয় এবং ক্ষুদ্রতা প্রকাশ করা। যেমনটি আবু জাফর ইবনে জারির আত-তবারী ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে, তিনি মহান আল্লাহর বাণী: "যারা তাদের সালাতে একাগ্র (খাশে‘)" [আল-মুমিনুন: ২] সম্পর্কে বলেছেন: তারা ভীত ও স্থির থাকে।
আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: একাগ্রতা (খুশু) অন্তরে থাকে, আর তা হলো কোনো মুসলিমের প্রতি নম্র হওয়া এবং এদিক-ওদিক না তাকানো।
হাসান বসরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তাদের একাগ্রতা তাদের অন্তরে বিদ্যমান ছিল, ফলে এর মাধ্যমে তারা দৃষ্টি অবনত রাখতেন এবং বিনয়ী হতেন।
ইবনে জারির আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: আর তারা সেই সব ব্যক্তি যারা তাদের সালাতে আল্লাহর নির্ধারিত ফরজ এবং ইবাদতসমূহ নিরবচ্ছিন্নভাবে পালনের মাধ্যমে তাঁর কাছে বিনয়াবনত থাকে। যখন কোনো বান্দা সালাতে আল্লাহর কাছে বিনয়াবনত হয়, তখন তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্থিরতা, ফরজের প্রতি নিমগ্নতা এবং যেসব বিষয় বর্জন করতে বলা হয়েছে তা বর্জনের মাধ্যমে তার সেই বিনয় ও একাগ্রতা দৃশ্যমান হয় (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال الحافظ ابن رجب الحنبلي: وأصل الخشوع هو لين القلب ورقته وسكونه وخضوعه وانكساره وحرقته، فإذا خشع القلب تبعه خشوع جميع الجوارح والأعضاء لأنها تابعة له، كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ألا إن في الجسد مضغة إذا صلحت صلح الجسد كله وإذا فسدت فسد الجسد كله ألا وهي القلب» (1) .
فإذا خشع القلب خشع السمع والبصر والرأس والوجه وسائر الأعضاء وما ينشأ منها حتى الكلام، لهذا كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول في ركوعه في الصلاة: «خشع لك سمعي وبصري ومخي وعظمي» (2) .
ورأى بعض السلف رجلاً يعبث بيده في الصلاة فقال: لو خشع قلب هذا لخشعت جوارحه.
ورُوي ذلك عن حذيفة رضي الله عنه وعن سعيد بن المسيب، ويروى مرفوعًا لكن بإسناد لا يصح (3) .
--------------------------------------------
হাফেজ ইবনে রজব আল-হাম্বলী বলেন: খুশু-এর মূল হলো হৃদয়ের কোমলতা, স্নিগ্ধতা, প্রশান্তি, বিনয়, বিগলিত হওয়া এবং এর ব্যাকুলতা। সুতরাং যখন হৃদয়ে খুশু সৃষ্টি হয়, তখন শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার অনুগামী হয়ে খুশু অবলম্বন করে; কারণ সেগুলো হৃদয়েরই অনুসারী। যেমন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে, যদি তা সংশোধিত হয় তবে পুরো শরীর সংশোধিত হয়, আর যদি তা কলুষিত হয় তবে পুরো শরীর কলুষিত হয়; জেনে রেখো, তা হলো হৃদয়» (১)।
অতঃপর হৃদয়ে যখন খুশু আসে, তখন শ্রবণেন্দ্রিয়, দৃষ্টিশক্তি, মাথা, মুখমণ্ডল এবং অন্যান্য সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনকি কথা বলার ক্ষেত্রেও তা প্রকাশ পায়। এ কারণেই নবী (সা.) সালাতের রুকুতে বলতেন: «তোমার তরে আমার শ্রবণেন্দ্রিয়, দৃষ্টিশক্তি, মগজ এবং অস্থি খুশু (একাগ্রতা) অবলম্বন করেছে» (২)।
জনৈক সালাফ এক ব্যক্তিকে সালাতে হাত নিয়ে খেলা করতে দেখে বলেছিলেন: যদি এই ব্যক্তির হৃদয়ে খুশু থাকত, তবে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোতেও খুশু প্রকাশ পেত।
বিষয়টি হুজায়ফা (রা.) এবং সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণিত হয়েছে। এটি মারফু (مرفوع) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এমন সনদে যা সহিহ নয় (لا يصح) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
[آثار الخشوع في الصلاة]
[تحقق إقامة ذكر الله تعالى في الأرض]آثار الخشوع في الصلاة من الآثار المترتبة على الصلاة الكاملة المشتملة على الخشوع ما يلي:
1 - تحقق إقامة ذكر الله تعالى في الأرض: وهذه هي أبرز الحكم من شرعية الصلاة، قال الله تعالى: {وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ} [العنكبوت: 45] فإقامة ذكر الله تعالى في الأرض أعظم مقاصد الصلاة.
[خشية الله تعالى]2 - خشية الله تعالى: من الآثار الإيمانية التي يولدها الخشوع في الصلاة القائم على حضور القلب مع الله تعالى إحياء معاني الخوف من الله عز وجل لأن شعور المصلي بأنه واقف بين يدي الله سبحانه مع تذكر عظمته وهيمنته الكاملة على خلقه يزيد من إحساسه بخشية الله سبحانه، كما رُوي عن علي بن الحسين زين العابدين رحمه الله أنه كان إذا توضأ اصفر وجهه وارتجفت أطرافه، فقيل له في ذلك فقال: ويحكم أتدرون بين يدي من سأقف! !
[সালাতে একাগ্রতার প্রভাবসমূহ][জমিনে মহান আল্লাহর জিকর কায়েম হওয়া]সালাতে একাগ্রতার প্রভাবসমূহ: একাগ্রতা সংবলিত পূর্ণাঙ্গ সালাত আদায়ের ফলে যে সকল প্রভাব অর্জিত হয়, তা নিম্নরূপ:
১ - জমিনে মহান আল্লাহর জিকর কায়েম হওয়া: এটি সালাত বিধানের অন্যতম প্রধান হিকমত বা প্রজ্ঞা। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর আপনি সালাত কায়েম করুন। নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর জিকরই সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন} [সূরা আল-আনকাবুত: ৪৫]। সুতরাং জমিনে মহান আল্লাহর জিকর কায়েম করা সালাতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য।
[মহান আল্লাহকে ভয় করা]২ - মহান আল্লাহকে ভয় করা: আল্লাহর উপস্থিতিতে হৃদয়ের একাগ্রতার ওপর ভিত্তি করে সালাতের মধ্যে যে ঈমানি প্রভাব সৃষ্টি হয়, তা হলো মহান আল্লাহর ভীতির অনুভূতিকে পুনর্জীবিত করা। কারণ মুসল্লি যখন অনুভব করে যে সে মহান আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান, আর যখন সে তাঁর মহিমা এবং সৃষ্টির ওপর তাঁর পূর্ণ আধিপত্যের কথা স্মরণ করে, তখন তা মহান আল্লাহর প্রতি তার ভয়কে বৃদ্ধি করে। যেমনটি আলি ইবনে হুসাইন জাইনুল আবেদিন (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি যখন অযু করতেন তখন তাঁর চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যেত এবং তাঁর হাত-পা কাঁপতে থাকত। তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন: "তোমাদের দুর্ভোগ হোক! তোমরা কি জানো আমি কার সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছি!!"
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
[فاعلية الصلاة في محو الخطايا]3 - فاعلية الصلاة في محو الخطايا: وقد جاء في ذلك أدلة كثيرة منها ما أخرجه الإمام مسلم من حديث عثمان رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ما من امرئ مسلم تحضره صلاة مكتوبة فيحسن وضوءها وخشوعها وركوعها إلا كانت كفارة لما قبلها من الذنوب ما لم يُؤتِ كبيرة (1) وذلك الدهر كله» (2) .
فهذا الحديث الشريف يبين لنا آثار الصلاة الكاملة في محو الخطايا، وفيه إشارة إلى مخبر الصلاة ومظهرها، فمن الإشارة إلى مخبر الصلاة ذكر الخشوع، ومن الإشارة إلى مظهر الصلاة ذكر الوضوء الذي يعبر عن شروط الصلاة، وذكر الركوع الذي يعبر عن أركان الصلاة.
وقوله «ما لم يُؤْت كبيرة» يبين أن الصلاة وسائر الأعمال الصالحة يكفِّر الله تعَالى بها الذنوب الصغيرة، وعلى ذلك يحمل قول الله تعالى: {إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ} [هود: 114] ويدل على ذلك أيضًا قول رسول الله صلى الله عليه وسلم «الصلوات الخمس والجمعة إلى
--------------------------------------------
[গুনাহ মোচনে সালাতের কার্যকারিতা]৩ - গুনাহ মোচনে সালাতের কার্যকারিতা: এ বিষয়ে অনেক দলিল বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে একটি ইমাম মুসলিম উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখনই কোনো মুসলিম ব্যক্তির ফরজ সালাতের সময় উপস্থিত হয় এবং সে সুন্দরভাবে তার অজু, একাগ্রতা (خشوع) ও রুকু সম্পাদন করে, তবে তা তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহের জন্য মোচনকারী (كفارة) হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে কোনো বড় পাপে (كبيرة) লিপ্ত হয় (১) এবং এটি সর্বদা বা সারা জীবনের জন্য প্রযোজ্য» (২) ।
এই হাদিস শরিফ আমাদের নিকট গুনাহ মোচনে একটি পূর্ণাঙ্গ সালাতের প্রভাব বর্ণনা করে। এতে সালাতের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় দিকের ইঙ্গিত রয়েছে। সালাতের অভ্যন্তরীণ দিকের ইঙ্গিত হিসেবে একাগ্রতা (خشوع)-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাহ্যিক দিকের ইঙ্গিত হিসেবে অজুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা সালাতের শর্তাবলি প্রকাশ করে, আর রুকুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা সালাতের রুকন বা অপরিহার্য স্তম্ভসমূহ (أركان)-কে প্রকাশ করে।
আর তাঁর বাণী «যতক্ষণ না সে বড় পাপে (كبيرة) লিপ্ত হয়» এটি স্পষ্ট করে যে, আল্লাহ তাআলা সালাত ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে ছোট গুনাহসমূহ মোচন করেন। আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অর্থও অনুরূপ: {নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়; এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য এক উপদেশ।} [হুদ: ১১৪]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটিও এর সপক্ষে প্রমাণ দেয়: «পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এবং এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الجمعة ورمضان إلى رمضان مكفرات لما بينهن إذا اجتنب الكبائر» أخرجه الإمام مسلم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه (1) .
أما الكبائر فإنه لا يكفرها إلا التوبة النصوح أو رحمة الله تعالى.
ومما يدل أيضًا على أن الخشوع في الصلاة له أثر في مغفرة الذنوب ما أخرجه الإمام أبو داود من حديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول «خمس صلوات افترضهن الله تعالى، من أحسن وضوءهن وصلاهن لوقتهن وأتم ركوعهن وخشوعهن كان له على الله عهد أن يغفر له، ومن لم يفعل فليس له على الله عهد، إن شاء غفر له وإن شاء عذبه» (2) .
وهذا الحديث والحديث الأول يبينان لنا أهمية الخشوع في الصلاة، حيث جاء ذكره بين شروط الصلاة وأركانها، فالوضوء والوقت من شروط الصلاة، والركوع من أركانها.
--------------------------------------------
«এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান তাদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ, যখন কবিরা গুনাহসমূহ বর্জন করা হয়।» ইমাম মুসলিম এটি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন (১)।
আর কবিরা গুনাহের বিষয়টি হলো, একনিষ্ঠ তওবা অথবা আল্লাহ তাআলার রহমত ব্যতীত তা মোচন হয় না।
সালাতে একাগ্রতা যে গুনাহ মাফের ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে, তার প্রমাণ ইমাম আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত উবাদা ইবনে সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই হাদিসটি। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, «পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আল্লাহ তাআলা ফরজ করেছেন; যে ব্যক্তি এগুলোর অজু উত্তমরূপে করবে, সঠিক সময়ে সেগুলো আদায় করবে এবং সেগুলোর রুকু ও একাগ্রতা পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পাদন করবে, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অঙ্গীকার রয়েছে যে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি তা করবে না, তার জন্য আল্লাহর কোনো অঙ্গীকার নেই; তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন অথবা চাইলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন» (২)।
এই হাদিস এবং প্রথম হাদিসটি আমাদের নিকট সালাতে একাগ্রতার গুরুত্ব স্পষ্ট করে, যেহেতু সালাতের শর্তাবলি ও রুকনসমূহের মাঝে এর উল্লেখ এসেছে। এখানে অজু ও সময় হলো সালাতের শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত, আর রুকু হলো এর রুকনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
وكذلك مما يدل على أثر الخشوع في الصلاة في مغفرة الذنوب ما أخرجه الشيخان من حديث حُمران مولى عثمان أن عثمان بن عفان رضي الله عنه دعا بوضوء فتوضأ - فذكر كيفية وضوئه إلى أن قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم توضأ نحو وضوئي هذا ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «من توضأ نحو وضوئي هذا ثم قام فركع ركعتين لا يحدث بهما نفسه غفر له ما تقدم من ذنبه» (1) .
ومن ذلك ما أخرجه مسلم بن الحجاج رحمه الله من حديث عمرو بن عبسة السلمي رضي الله عنه في خبر إسلامه، وقد جاء فيه بعد ذكر الوضوء «فإن هو قام فصلى فحمد الله وأثنى عليه ومجده بالذي هو له أهل وفرغ قلبه لله إلا انصرف من خطيئته كهيئته يوم ولدته أمه» (2) .
فقد اعتبر النبي صلى الله عليه وسلم تفريغ القلب لله تعالى أثناء الصلاة وعدم تحديث النفس بأمور الدنيا شرطًا في كون الصلاة مكفرة للذنوب.
--------------------------------------------
একইভাবে সালাতে একাগ্রতা (الخشوع)-এর প্রভাব যে গুনাহ মাফের কারণ হয়, তার প্রমাণ হিসেবে শাইখাইন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুক্তদাস হুমরান বর্ণিত হাদিসটি সংকলন করেছেন যে, উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু ওজুর পানি চাইলেন এবং ওজু করলেন - এরপর তিনি তাঁর ওজুর পদ্ধতি বর্ণনা করলেন এবং পরিশেষে বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার এই ওজুর মতো ওজু করতে দেখেছি। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার এই ওজুর মতো ওজু করবে, এরপর দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং তাতে নিজের মনে কোনো দুনিয়াবি চিন্তা আনবে না, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (১)।
এর অন্য একটি প্রমাণ হলো যা মুসলিম বিন হাজ্জাজ রাহিমাহুল্লাহ তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা সম্পর্কিত আমর বিন আবাসা আস-সুলামি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। ওজুর বর্ণনার পর সেখানে এসেছে: “অতঃপর যদি সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর প্রশংসা (حمد) ও গুণগান (أثنى) করে এবং তাঁর যথাযথ মহিমা (مجد) বর্ণনা করে আর তার অন্তরকে আল্লাহর জন্য নিবিষ্ট (تفريغ قلبه) করে নেয়, তবে সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে পবিত্র হয়ে ফিরে আসবে যেমনটি সে তার জন্মের দিনে (নিষ্পাপ) ছিল।” (২)।
প্রকৃতপক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের মধ্যে অন্তরকে মহান আল্লাহর জন্য নিবিষ্ট (تفريغ القلب) রাখা এবং দুনিয়াবি বিষয়াবলী নিয়ে চিন্তা না করাকে সালাত গুনাহ মোচনকারী হওয়ার জন্য শর্ত (شرطًا) হিসেবে গণ্য করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
[قبولها عند الله تعالى وأثرها في رفع الدرجات في الجنة]4 - قبولها عند الله تعالى وأثرها في رفع الدرجات في الجنة: فأما قبولها فقد اتفق العلماء على أن الصلاة لا يثاب عليها فاعلها إلا بمقدار ما يحضر قلبه فيها، وإنما اختلفوا في إجزائها وحكم إعادتها لمن يحضر قلبه مع الصلاة.
يقول الإمام ابن القيم في ذلك:
وقد اختلف الفقهاء في حكم إعادة الصلاة لمن غلب عليه الوسواس فلم يحضر قلبه مع الصلاة فأوجبها ابن حامد من الحنابلة وأبو حامد الغزالي كما ذكر ذلك في الإحياء، ولم يوجبها أكثر الفقهاء واحتجوا بأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر من سها في صلاته بسجدتي السهو ولم يأمره بالإعادة مع قوله «إن الشيطان يأتي أحدكم في صلاته فيقول: اذكر كذا اذكر كذا - لما لم يكن يذكر - حتى يضل أن يدري كم صلى» ، ذكر ذلك ابن القيم رحمه الله ثم قال: ولكن لا نزاع أن هذه الصلاة لا يثاب على شيء منها إلا بقدر حضور قلبه وخضوعه، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إن العبد لينصرف من الصلاة ولم يكتب له إلا نصفها ثلثها
[আল্লাহ তাআলার নিকট এর কবুলিয়াত এবং জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এর প্রভাব]4 - আল্লাহ তাআলার নিকট এর কবুলিয়াত এবং জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এর প্রভাব: এর কবুলিয়াতের (قبول) ব্যাপারে আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, সালাত আদায়কারী তার সালাতের সওয়াব বা প্রতিদান কেবল ততটুকুই পাবে যতটুকু সময় তার অন্তর তাতে উপস্থিত ছিল। তবে সালাতে যার অন্তর উপস্থিত ছিল না, তার সেই সালাত যথেষ্ট হওয়া (إجزاء) এবং পুনরায় আদায়ের বিধান সম্পর্কে তারা মতভেদ করেছেন।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম এ প্রসঙ্গে বলেন:
যার ওপর কুমন্ত্রণা বা ওয়াসওয়াসা (وسواس) প্রবল হয়ে পড়ে এবং সালাতে যার অন্তর উপস্থিত থাকে না, তার সালাত পুনরায় আদায়ের বিধান সম্পর্কে ফকিহগণ মতভেদ করেছেন। হাম্বলিগণের মধ্যে ইবনে হামিদ এবং আবু হামিদ আল-গাজালি একে ওয়াজিব (واجب) বলেছেন, যেমনটি তিনি ‘ইহইয়া’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে অধিকাংশ ফকিহ একে ওয়াজিব (واجب) বলেননি। তারা দলিল হিসেবে পেশ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে যার ভুল হয়েছে তাকে সাহু সিজদা (سجدة السهو) দিতে নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু তাকে সালাত পুনরায় আদায়ের নির্দেশ দেননি; যদিও তিনি বলেছিলেন, “শয়তান তোমাদের কারও সালাতে উপস্থিত হয়ে বলতে থাকে: অমুক বিষয় স্মরণ করো, অমুক বিষয় স্মরণ করো—যা ইতিপূর্বে তার স্মরণে ছিল না—এমনকি এক পর্যায়ে সে কতটুকু সালাত আদায় করেছে তাও জানতে পারে না।” ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) এটি উল্লেখ করার পর বলেন: কিন্তু এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, এই সালাতের কোনো অংশের জন্যই সওয়াব বা প্রতিদান পাওয়া যাবে না কেবল তার অন্তরের উপস্থিতি এবং বিনয়-নম্রতার (خضوع) মাত্রা অনুযায়ী। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই বান্দা সালাত শেষ করে ফিরে যায়, অথচ তার আমলনামায় এর অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশ ব্যতীত কিছুই লেখা হয় না...”
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
ربعها - حتى بلغ عشرها» (1) وقال ابن عباس رضي الله عنهما " ليس لك من صلاتك إلا ما عقلت منها ".
فليست صحيحة باعتبار ترتب كمال مقصودها وإن سميت صحيحة باعتبار أنا لا نأمره بالإعادة، ولا ينبغي أن يعلق لفظ الصحة عليها فيقال: " صلاة صحيحة " مع أنه لا يثاب عليها فاعلها " (2) .
وقول ابن عباس رضي الله عنهما الذي نقله ابن القيم يشبه قول عمار بن ياسر رضي الله عنهما «لا يكتب للرجل من صلاته ما سها عنه» (3) .
فالأمر واضح في عدم ترتب الثواب على الصلاة التي يحدث الإنسان بها نفسه بأمور دنيوية، كما أنه واضح في إجزاء تلك الصلاة وعدم وجوب إعادتها لظهور الدليل في الأمرين، ولكن هل يأثم من حدَّث نفسه في صلاته بأمور دنيوية؟
--------------------------------------------
এক-চতুর্থাংশ—এমনকি তার এক-দশমাংশ পর্যন্ত।" (১) এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "তোমার সালাত থেকে তোমার জন্য কেবল ততটুকুই প্রাপ্য, যতটুকু তুমি মনোযোগ সহকারে অনুধাবন করেছ।"
সুতরাং, এর মূল উদ্দেশ্যের পূর্ণতা লাভের বিচারে এটি সহিহ (صحيحة) নয়; যদিও পুনরায় আদায় করার নির্দেশ আমরা দেই না—এই বিচারে একে সহিহ (صحيحة) বলা হয়। তবে এই সালাতের ওপর 'সহিহ' (صحة) শব্দটির প্রয়োগ করে এমনটি বলা উচিত নয় যে: "সালাতটি সহিহ (صحيحة)", অথচ এর সম্পাদনকারী এর জন্য কোনো সওয়াব পাবে না।" (২)।
ইবনুল কাইয়্যিম ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর যে উক্তিটি বর্ণনা করেছেন, তা আম্মার বিন ইয়াসির (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর এই উক্তির সদৃশ: "সালাতের যে অংশে মানুষ অমনোযোগী থাকে, তা তার জন্য লিপিবদ্ধ করা হয় না।" (৩)।
সুতরাং, যে সালাতে মানুষ পার্থিব বিষয় নিয়ে মনে মনে চিন্তা করে, তার ওপর সওয়াব না পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। ঠিক যেমনটি স্পষ্ট যে, সেই সালাতটি যথেষ্ট হওয়া এবং তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব না হওয়া—যেহেতু উভয় ক্ষেত্রে দলীল বিদ্যমান। কিন্তু যে ব্যক্তি সালাতে নিজের মনে পার্থিব বিষয় নিয়ে চিন্তা করে, সে কি গুনাহগার হবে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الواقع أن من غلب عليه حديث النفس ذلك ولم يتعمده فإنه يكون داخلا في النسيان، وبالتالي يكون صاحبه معفوا عنه لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم «إن الله وضع عن أمتي الخطأ والنسيان وما استكرهوا عليه» أخرجه ابن ماجه من حديث ابن عباس رضي الله عنهما (1) وذكره الحافظ ابن حجر وقال: ورجاله ثقات (2) .
لكن من تذكَّر ذلك واستمر في حديث النفس عمدًا فإن هذا معرَّض للإثم لأن هذا العمل فيه استهانة بالصلاة.
والمقصود بانصراف الفكر الذي يؤثر في قبول الصلاة أن ينصرف الفكر إلى الأمور الدنيوية، أما انصرافه إلى أمور الآخرة فالظاهر أنه انتقال من عبادة إلى عبادة، فلا يؤثر ذلك في ترتب الثواب على فعل الصلاة، لكن لا يجوز تعمد ذلك.
ومما يدل على عدم تأثير ذلك على الصلاة ما أخرجه الإمام البخاري من حديث عقبة بن الحارث رضي الله عنه قال: «صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم العصر، فلما قام سريعًا،
--------------------------------------------
প্রকৃতপক্ষে যার ওপর মনের জল্পনা-কল্পনা প্রবল হয়ে যায় এবং সে তা ইচ্ছাকৃতভাবে করে না, তবে তা বিস্মৃতির অন্তর্ভুক্ত হবে। ফলশ্রুতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হবে; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের ভুলভ্রান্তি, বিস্মৃতি এবং যে কাজের জন্য তাদের বাধ্য করা হয়েছে, তা ক্ষমা করে দিয়েছেন»। এটি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস থেকে ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন (১) এবং হাফিজ ইবনে হাজার এটি উল্লেখ করে বলেছেন: «এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)» (২)।
কিন্তু যে ব্যক্তি বিষয়টি মনে পড়ার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে মনের জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রাখে, তবে সে পাপী হওয়ার আশঙ্কায় থাকবে; কারণ এই কাজের মধ্যে নামাজের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ পায়।
চিন্তার বিচ্যুতি যা নামাজের কবুলিয়তে প্রভাব ফেলে, তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পার্থিব বিষয়ে মন চলে যাওয়া। আর আখেরাত সংক্রান্ত বিষয়ে মন নিবিষ্ট হওয়া বাহ্যত এক ইবাদত থেকে অন্য ইবাদতে স্থানান্তরের নামান্তর। সুতরাং এটি নামাজের সওয়াব লাভের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না, তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করা বৈধ নয়।
নামাজে এর কোনো প্রভাব না থাকার দলিলের মধ্যে একটি হলো যা ইমাম বুখারি উকবাহ ইবনুল হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: «আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আসরের নামাজ আদায় করলাম, অতঃপর তিনি দ্রুত দাঁড়িয়ে গেলেন...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
دخل على بعض نسائه، ثم خرج ورأى في وجوه القوم تعجبهم لسرعته فقال: " ذكرت - وأنا في الصلاة - تبرا عندنا فكرهت أن يمسي - أو يبيت - عندنا فأمرت بقسمته» (1) .
وهذا ليس المقصود منه الاستغراق في التفكير، وإنما هو مجرد خاطر خطر على قلب النبي صلى الله عليه وسلم.
ولكن ورد ما يدل على شيء من الاستغراق في التفكير في أمور الدين من عمر رضي الله عنه كما جاء في قول الإمام البخاري: وقال عمر إني لأجهز جيشي وأنا في الصلاة.
قال الحافظ ابن حجر: وصله ابن أبي شيبه بإسناد صحيح عن أبي عثمان النهدي عنه بهذا سواء.
قال: وروى صالح بن أحمد بن حنبل في كتاب " المسائل " عن أبيه من طريق همام بن الحارث أن عمر صلى المغرب فلم يقرأ، فلما انصرف قالوا: يا أمير المؤمنين إنك لم تقرأ، فقال: إني حدثت نفسي وأنا في الصلاة بعيرٍ جهزتها
--------------------------------------------
তিনি তাঁর জনৈক স্ত্রীর নিকট প্রবেশ করলেন, অতঃপর বের হয়ে আসলেন এবং লোকজনের চেহারায় তাঁর দ্রুততার কারণে বিস্ময়ের চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন: "আমি সালাত আদায় করা অবস্থায় আমাদের কাছে থাকা একটি স্বর্ণপিণ্ডের কথা স্মরণ করলাম। আমি তা সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত বা রাত কাটানো পর্যন্ত আমাদের কাছে রেখে দেওয়া অপছন্দ করলাম, তাই আমি তা বণ্টনের নির্দেশ দিলাম।" (১) ।
আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য চিন্তায় নিমগ্ন হওয়া নয়, বরং এটি কেবল একটি ভাবনা যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরে উদিত হয়েছিল।
তবে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে দ্বীনি বিষয়ে কিছুটা চিন্তায় মগ্ন হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, যেমনটি ইমাম বুখারীর উক্তিতে এসেছে: ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, "আমি সালাত আদায় করা অবস্থায় আমার সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করি।"
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: ইবনে আবি শাইবাহ এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে আবু উসমান আন-নাহদি থেকে তাঁর সূত্রে হুবহু বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন: সালেহ বিন আহমদ বিন হাম্বল তাঁর 'আল-মাসায়েল' গ্রন্থে তাঁর পিতার নিকট থেকে হাম্মাম বিন আল-হারিসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মাগরিবের সালাত আদায় করলেন কিন্তু কোনো কিরাত পড়লেন না। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন তারা বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি তো কিরাত পড়েননি। তখন তিনি বললেন: "আমি সালাত আদায় করা অবস্থায় নিজের মনে সেই উটের কাফেলা নিয়ে চিন্তা করছিলাম যা আমি প্রস্তুত করেছিলাম।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
من المدينة حتى دخلت الشام، ثم أعاد وأعاد القراءة، قال: ومن طريق عياض الأشعري قال: صلى عمر المغرب فلم يقرأ فلما انصرف قالوا: يا أمير المؤمنين إنك لم تقرأ فأقبل على عبد الرحمن بن عوف فقال: صدق، فأعاد، فلما فرغ قال: لا صلاة ليست فيها قراءة، إنما شغلني عير جهزتها إلى الشام فجعلت أتفكر فيها " قال: وهذا يدل على أنه إنما أعاد لترك القراءة لا لكونه مستغرقًا في الفكرة " (1) .
وأما أثر الصلاة في رفع الدرجات في الجنة فمن أدلة ذلك ما أخرجه الإمام مسلم من حديث معدان بن أبي طلحة اليعمري قال: «لقيت ثوبان مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت: أخبرني بعمل يدخلني الله به الجنة - أو قال قلت: بأحب الأعمال إلى الله فسكت، ثم سألته فسكت، ثم سألته الثالثة فقال: سألت عن ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: " عليك بكثرة السجود فإنك لا تسجد لله سجدة إلا رفعك الله بها درجة وحط عنك بها خطيئة» .
--------------------------------------------
মদিনা থেকে শুরু করে সিরিয়ায় প্রবেশ করা পর্যন্ত, অতঃপর তিনি কিরাত পুনরায় পাঠ করলেন। তিনি বলেন: এবং ইয়াদ আল-আশআরীর সূত্র (طريق) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ওমর (রা.) মাগরিবের নামাজ পড়ালেন কিন্তু তাতে কিরাত পাঠ করলেন না। যখন তিনি নামাজ শেষ করলেন, তখন উপস্থিতগণ বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি তো কিরাত পাঠ করেননি। তখন তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং তিনি (আব্দুর রহমান) বললেন: তারা সত্য বলেছে। ফলে তিনি পুনরায় নামাজ আদায় করলেন। যখন তিনি নামাজ শেষ করলেন তখন বললেন: যে নামাজে কিরাত নেই তা কোনো নামাজই নয়। মূলত সিরিয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত একটি বাণিজ্যিক কাফেলা আমাকে ব্যস্ত রেখেছিল, ফলে আমি সেটি নিয়ে চিন্তা করছিলাম। তিনি বলেন: "এটি একথার প্রমাণ বহন করে যে, তিনি মূলত কিরাত ছেড়ে দেওয়ার কারণেই নামাজ পুনরায় আদায় করেছিলেন, কেবল চিন্তায় নিমগ্ন থাকার কারণে নয়" (১)।
আর জান্নাতে মর্যাদা উচ্চকিত করার ক্ষেত্রে নামাজের প্রভাবের দলীলসমূহের মধ্যে ইমাম মুসলিম কর্তৃক মাদান ইবনে আবি তালহা আল-ইয়ামারি থেকে বর্ণিত হাদিসটি অন্যতম, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আযাদকৃত দাস সাওবান (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম: আমাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে অবহিত করুন যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন— অথবা তিনি বলেন, আমি বললাম: আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি— তখন তিনি নীরব থাকলেন। পুনরায় আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি নীরব থাকলেন। অতঃপর তৃতীয়বার আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন: "তুমি অধিক পরিমাণে সেজদা করার বিষয়টিকে আবশ্যক করে নাও; কেননা তুমি আল্লাহর জন্য একটি সেজদা করলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তোমার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তোমার একটি পাপ মোচন করেন।"»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال معدان: ثم لقيت أبا الدرداء فسألته فقال لي مثل ما قال ثوبان (1) .
وكذلك ما أخرجه الإمام مسلم أيضًا من حديث ربيعة بن كعب الأسلمي قال: «كنت أبيت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فأتيته بوضوئه وحاجته فقال لي: سل، فقلت: أسألك مرافقتك في الجنة، قال: أو غير ذلك؟ قلت: هو ذاك، قال: فأعني على نفسك بكثرة السجود» (2) .
وإذا كان كثرة السجود يُبلغ صاحبه مرافقة رسول الله صلى الله عليه وسلم في الجنة فإن ذلك دليل على أن الصلاة ترفع صاحبها في درجات الجنة لأن النبي صلى الله عليه وسلم في الدرجات العليا من الجنة.
ومعلوم أن المقصود بهذه الصلاة الصلاة الكاملة التي تشتمل على الخشوع، لأنها هي الصلاة المقبولة عند الله تعالى.
ومما جاء في التصريح بذكر الخشوع وأثر ذلك في الحصول على الثواب في الجنة ما أخرجه الإمامان أبو داود
--------------------------------------------
মা'দান বলেন: অতঃপর আমি আবু আদ-দারদার সাথে সাক্ষাৎ করি এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, তখন তিনি আমাকে সাওবান যা বলেছিলেন অনুরূপ বলেছিলেন (১)।
তদ্রূপ ইমাম মুসলিম রবীআহ বিন কাব আল-আসলামী থেকে বর্ণিত একটি হাদিসও উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে রাত অতিবাহিত করতাম এবং তাঁর ওযুর পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে আসতাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: 'কিছু চাও।' আমি বললাম: 'আমি জান্নাতে আপনার সাহচর্য প্রার্থনা করছি।' তিনি বললেন: 'অন্য কিছু কি আছে?' আমি বললাম: 'এটিই আমার চাওয়া।' তিনি বললেন: 'তাহলে অধিক সিজদাহ (سجود)-এর মাধ্যমে তোমার নিজের স্বার্থে আমাকে সাহায্য করো'।" (২)।
যদি অধিক সিজদাহ (سجود) আদায়কারীকে জান্নাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্য লাভে পৌঁছে দেয়, তবে এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে সালাত (صلاة) তার আদায়কারীকে জান্নাতের সুউচ্চ স্তরে উন্নীত করে। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থান করবেন।
এটি সুবিদিত যে, এই সালাত (صلاة) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন পূর্ণাঙ্গ সালাত (صلاة) যা বিনয়-নম্রতা (خشوع) সম্বলিত, কারণ সেটিই মহান আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য (مقبولة) সালাত (صلاة)।
বিনয়-নম্রতা (خشوع) এবং জান্নাতে সওয়াব (ثواب) অর্জনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্টভাবে যা বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে যা ইমাম আবু দাউদ... বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والنسائي من حديث عقبة بن عامر الجهني رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ما من أحد يتوضأ فيحسن الوضوء ويصلي ركعتين يقبل بقلبه ووجهه عليهما إلا وجبت له الجنة» (1) .
[تحقق أثرها في تهذيب السلوك في هذه الحياة]5 - تحقق أثرها في تهذيب السلوك في هذه الحياة: فأما تقويم سلوك الإنسان فبينه الله تعالى بقوله {إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ} [العنكبوت: 45] ومفهوم الآية أنها تأمر بالمعروف والإحسان. فالصلاة التي يحضر فيها المصلي قلبه مع الله تعالى خمس مرات في اليوم والليلة على الأقل كفيلة بأن ترفعه إلى الاستقامة على أوامر الله تعالى وأن تردعه عن ارتكاب ما نهى عنه.
إن عبدًا قد انقطع إلى معبوده يناجيه بلسانه وقلبه ويستلهم منه الهداية والقوة يبعد منه أن يميل بعد لحظات إلى معصيته، وإن استطاع شياطين الجن أو الإنس أن يؤثروا عليه فيزينوا له الشهوات المحرمة فإن له في لقائه الآخر القريب مع الله تعالى ما يطرد عنه هذه الوساوس والأوهام.
--------------------------------------------
এবং নাসায়ি [সংকলিত করেছেন] উকবা বিন আমির আল-জুহানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তিই উত্তমরূপে অজু করে এবং একাগ্রচিত্তে ও মনোনিবেশ সহকারে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়।" (১) .
[এই জীবনে আচরণ সংশোধনে নামাজের প্রভাবের প্রতিফলন]৫ - এই জীবনে আচরণ সংশোধনে এর প্রভাবের প্রতিফলন: মানুষের আচরণ সংশোধনের বিষয়টি আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন: {নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে} [আনকাবুত: ৪৫]। আয়াতের মর্মার্থ হলো, এটি সৎকাজ ও সদাচরণের নির্দেশ দেয়। সুতরাং যে নামাজে মুসল্লি দিনে ও রাতে অন্তত পাঁচবার আল্লাহ তাআলার সমীপে একাগ্রচিত্তে উপস্থিত হন, তা তাকে আল্লাহ তাআলার নির্দেশের ওপর অবিচল রাখতে এবং যা তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত রাখতে সক্ষম।
নিশ্চয়ই যে বান্দা তার মাবুদের ইবাদতে মগ্ন হয়ে নিজ জিহ্বা ও অন্তরের মাধ্যমে তাঁর সাথে সংলাপে রত থাকে এবং তাঁর কাছে হিদায়াত ও শক্তি প্রার্থনা করে, তার পক্ষে কিছু মুহূর্ত পরেই তাঁর অবাধ্যতার দিকে ঝুঁকে পড়া সুদূরপরাহত। আর যদি জিন বা মানুষের মধ্য থেকে শয়তানরা তাকে প্রভাবিত করে তার সামনে নিষিদ্ধ কামনা-বাসনাগুলোকে সুশোভিত করে তোলে, তবে আল্লাহর সাথে তার পরবর্তী আসন্ন সাক্ষাৎ এই কুমন্ত্রণা ও বিভ্রান্তিগুলোকে দূর করে দেবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ولعل ذلك من حكمة تكرار الصلوات المفروضة خمس مرات في اليوم والليلة إلى جانب الصلوات التي شرعت بينها، خاصة في الأوقات الطويلة نسبيًا كصلاة الليل وصلاة الضحى.
أما ما نراه في المجتمع الإسلامي من كثرة المصلين وهم مع ذلك يرتكبون الفواحش والمنكرات فمردُّ ذلك إلى أنهم لم يقيموا صلواتهم على منهج الله تعالى ومراده لأن صلاتهم تفقد أهم مكوناتها الأساسية ألا وهو حضور القلب مع الصلاة الذي يترتب عليه الخشوع، وبالتالي فإن صلاتهم لا تؤثر في سلوكهم لأن ذلك واضح من تصرفاتهم في حياتهم ولا تقربهم من الله تعالى لأن قلوبهم ليست معه جل وعلا.
ولهذا إذا رأينا مسلما يرتكب المنكرات فما يجدي معه أن نقول له: {وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ} [العنكبوت: 45] وأن نبين له صفة الصلاة الكاملة المؤثرة، فإذا ضمنا منه أداء الصلاة كاملة كما شرعها الله تعالى فإنه حري به أن يقلع عن ارتكاب الفواحش والمنكرات كما ذكر الله سبحانه.
ولهذا يجب أن نربي أبناءنا على أداء هذه الصلاة
সম্ভবত দিন ও রাতে পাঁচবার আবশ্যিক সালাতগুলোর পুনরাবৃত্তির হিকমত এটিই, যার পাশাপাশি আরও কিছু সালাত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, বিশেষ করে রাতের সালাত এবং চাশতের সালাতের মতো অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ সময়ের সালাতগুলো।
আর মুসলিম সমাজে আমরা সালাত আদায়কারীদের যে আধিক্য দেখি, যারা তা সত্ত্বেও অশ্লীলতা ও অনৈতিক কাজে (المنكرات) লিপ্ত হচ্ছে, তার কারণ হলো তারা মহান আল্লাহর মানহাজ ও অভিপ্রায় অনুযায়ী সালাত কায়েম করেনি। কারণ তাদের সালাত তার অন্যতম প্রধান মৌলিক উপাদান হারিয়ে ফেলেছে, আর তা হলো সালাতে হৃদয়ের উপস্থিতি, যার ফলে একাগ্রতা সৃষ্টি হয়। ফলত তাদের সালাত তাদের আচরণে কোনো প্রভাব ফেলে না, যা তাদের জীবনযাত্রার কর্মধারা থেকে স্পষ্ট; এবং তা তাদের মহান আল্লাহর নিকটবর্তী করে না, কারণ তাদের অন্তর মহিয়ান ও গরীয়ান আল্লাহর সাথে নিবিষ্ট নয়।
একারণে যখন আমরা কোনো মুসলিমকে অনৈতিক কাজে (المنكرات) লিপ্ত হতে দেখি, তখন তাকে কেবল এ কথা বলা যথেষ্ট নয় যে: "সালাত কায়েম করো, নিশ্চয় সালাত অশ্লীলতা ও অনৈতিক কাজ (المنكر) থেকে বিরত রাখে" [আনকাবুত: ৪৫]। বরং আমাদের উচিত তার কাছে পূর্ণাঙ্গ ও প্রভাব বিস্তারকারী সালাতের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা। আমরা যদি তার পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ সালাত আদায় নিশ্চিত করতে পারি, তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যেমনটি উল্লেখ করেছেন, সে অনুযায়ী সে অশ্লীলতা ও অনৈতিক কাজ (المنكرات) থেকে নিবৃত্ত হওয়ার যোগ্য হয়ে উঠবে।
এজন্য আমাদের সন্তানদের এই সালাত আদায়ের ওপর গড়ে তোলা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المشتملة على الخشوع حتى نهيئهم بعون الله وتوفيقه لحياة صالحة وسعيدة، ولن نحتاج بعد ذلك إلى جهد كبير في تربيتهم على الفضيلة وتحذيرهم من الرذيلة، لأنه يكفي مع إقامة الصلاة على وجهها أن يعرفوا الفضائل فيستقيموا عليها وأن يعرفوا الرذائل فيجتنبوها على الفور.
فالصلاة الكاملة تأمر بالمعروف وتنهى عن المنكر لأنها تقوي الإيمان بالله تعالى وتعمق في نفس المصلي تعظيمه سبحانه والخوف من عذابه ورجاء ثوابه، وإذا تعمق هذا الشعور الإيماني في قلب المسلم فإنه يتكوَّن لديه الوازع الديني الذي يدفعه إلى الفضائل ويردعه عن الرذائل، وبالتالي يكون حكما على تصرفاته وسلوكه في هذه الحياة.
ولقد فهم الكفار من قوم شعيب عليه الصلاة والسلام دعوته إلى هذه المزية من مزايا الصلاة فذكروا ذلك له بأسلوب من السخرية والإنكار وذلك فيما حكاه الله سبحانه عنهم بقوله: {قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَنْ نَتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا أَوْ أَنْ نَفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ} [هود: 87] (1) .
--------------------------------------------
যা বিনয় ও একাগ্রতা সম্বলিত, যেন আমরা আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকে তাদেরকে একটি সৎ ও সুখী জীবনের জন্য প্রস্তুত করতে পারি। এরপর তাদেরকে সদ্গুণাবলির ওপর গড়ে তুলতে এবং পাপাচার থেকে সতর্ক করতে আমাদের আর খুব বেশি পরিশ্রমের প্রয়োজন হবে না। কারণ, যথাযথভাবে নামাজ কায়েম করার সাথে সাথে তাদের জন্য সদ্গুণাবলি সম্পর্কে জেনে সেগুলোর ওপর অটল থাকা এবং মন্দ কাজগুলো চিনে তৎক্ষণাৎ তা পরিহার করাই যথেষ্ট হবে।
কেননা পরিপূর্ণ নামাজ সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করে; কারণ এটি আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমানকে শক্তিশালী করে এবং মুসল্লির হৃদয়ে তাঁর মহিমা, তাঁর আজাবের ভয় এবং সওয়াবের প্রত্যাশাকে গভীরতর করে। যখন এই ঈমানি চেতনা মুসলিমের হৃদয়ে দৃঢ়মূল হয়, তখন তার মাঝে একটি ধর্মীয় বিবেক তৈরি হয় যা তাকে কল্যাণের দিকে ধাবিত করে এবং পাপাচার থেকে বিরত রাখে। ফলস্বরূপ, এটি এই জীবনে তার প্রতিটি আচরণ ও কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে এক নির্ধারক মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়।
শুয়াইব আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সম্প্রদায়ের কাফিররা নামাজের এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের প্রতি তাঁর আহ্বানের বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল। তাই তারা বিদ্রূপ ও অস্বীকৃতির সুরে সেটি উল্লেখ করেছিল, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন এভাবে: {তারা বলল, হে শুয়াইব! তোমার নামাজ কি তোমাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত আমাদের তা বর্জন করতে হবে, অথবা আমাদের ধন-সম্পদ নিয়ে আমরা যা ইচ্ছে করি তা করা ছেড়ে দিতে হবে? নিশ্চয়ই তুমি তো অত্যন্ত সহনশীল ও সুবোধ।} [হুদ: ৮৭] (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فقوم شعيب عليه الصلاة والسلام ينكرون عليه أن أمرهم بالصلاة لله تعالى التي تمنعهم من السجود للأوثان ومن التصرف في أموالهم بما لا يُرضي الله تعالى وقد كانوا يطففون في المكايل والموازين ويبخسون الناس أشياءهم.
ألا وإن صلاته عليه الصلاة والسلام لتأمره بجميع الفضائل وتنهاه عن جميع الرذائل رغم أنوف الحيارى الحاقدين الذين قصرت أفهامهم عن إدراك المقاصد العالية للتكاليف الشرعية. وقد قرن الله تعالى بين إضاعة الصلاة وإتباع الشهوات حيث يقول سبحانه: {فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا} [مريم: 59] مما يدل على أهمية الصلاة وأثرها في حجر صاحبها عن الركون إلى الشهوات، وقوله {غَيًّا} [مريم: 59] أي: خسرانا، كما روى علي بن أبي طلحة عن ابن عباس رضي الله عنهما وهذا إسناد صحيح (1) .
[تحقق أثرها في الصبر على الشدائد]6 - تحقق أثرها في الصبر على الشدائد: أمر الله تعالى نبيه صلى الله عليه وسلم بقيام الليل: {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ - قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا} [المزمل: 1 - 2] ثم اتبع ذلك بقوله: {إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا} [المزمل: 5]
--------------------------------------------
শুয়াইব আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সম্প্রদায় তাঁর ওপর এই কারণে আপত্তি তুলত যে, তিনি তাদের আল্লাহর জন্য সালাত আদায়ের নির্দেশ দেন যা তাদের মূর্তিপূজা এবং নিজেদের ধন-সম্পদ ইচ্ছামতো (আল্লাহর অসন্তুষ্টির পথে) ব্যয় করা থেকে বিরত রাখে। তারা মাপে ও ওজনে কম দিত এবং মানুষকে তাদের পাওনা বস্তু থেকে বঞ্চিত করত।
জেনে রাখুন, তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সালাত তাঁকে সকল প্রকার সচ্চরিত্রের নির্দেশ দিচ্ছিল এবং সকল প্রকার হীন কাজ থেকে নিষেধ করছিল; যদিও তা সেই সব বিভ্রান্ত ও বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তিদের মনঃপূত নয় যাদের বোধশক্তি শরিয়তের বিধিবিধানের মহৎ লক্ষ্যসমূহ অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে। মহান আল্লাহ সালাত বিনষ্ট করা এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছেন যেখানে তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের আগমন ঘটল যারা সালাত নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল, সুতরাং তারা অচিরেই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে} [মারিয়াম: ৫৯]। এটি সালাতের গুরুত্ব এবং এর পালনকারীকে কুপ্রবৃত্তির দিকে ঝুঁকে পড়া থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে সালাতের প্রভাবের ওপর প্রমাণ বহন করে। আর তাঁর বাণী {غَيًّا} [মারিয়াম: ৫৯] এর অর্থ হলো: ক্ষতি; যেমনটি আলি ইবনে আবি তালহা ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد) (১)।
[বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণের ক্ষেত্রে সালাতের প্রভাবের প্রতিফলন]৬ - বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণের ক্ষেত্রে সালাতের প্রভাবের প্রতিফলন: মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিয়ামুল লাইলের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {হে বস্ত্রাবৃত! রাত্রি জাগরণ করুন কিছু অংশ ছাড়া} [মুয্যাম্মিল: ১ - ২] এরপর তিনি এর সাথে যুক্ত করে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার ওপর এক গুরুভার বাণী অবতীর্ণ করব} [মুয্যাম্মিল: ৫]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مما يدل على مكانة الصلاة في الإعانة على تحمل الشدائد ومواجهة الصعاب.
لقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يواجه عنتا وشدة من الكفار، ولقد كان في أمره بقيام الليل وما يتزود به في مناجاة الله تعالى من زاد روحي كبير أكبر العون على مواجهة متاعب الحياة وقسوة المخالفين.
ولقد قرن الله تعالى الأمر بالصلاة بالأمر بالصبر في مواجهة الشدائد وتحمل الصعاب حيث يقول جل وعلا {وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ - الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُمْ مُلَاقُو رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَاجِعُونَ} [البقرة: 45 - 46] ويقول {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} [البقرة: 153] وقوله {وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ} [البقرة: 45] يعني الصلاة، أو الوصية المفهومة من الآية بالجمع بين الصبر والصلاة. ولقد كان الأنبياء عليهم السلام يفزعون إلى الصلاة عند الشدائد كما جاء في الحديث الذي أخرجه الإمام أحمد من حديث صهيب رضي الله عنه قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا صلى همس شيئًا لا نفهمه ولا يحدثنا به، قال:
এটি বিপদাপদ সহ্য করতে এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলায় নামাজের উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাফেরদের পক্ষ থেকে চরম কষ্ট ও কঠোরতার সম্মুখীন হতেন। তাঁকে কিয়ামুল লাইলের যে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল এবং আল্লাহ তাআলার সাথে নিভৃত আলাপের মাধ্যমে তিনি যে মহান আত্মিক রসদ লাভ করতেন, তা-ই ছিল জীবনের ক্লান্তি ও বিরোধীদের রূঢ়তা মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় সহায়ক।
আল্লাহ তাআলা বিপদাপদ মোকাবিলা ও কষ্ট সহ্য করার ক্ষেত্রে নামাজের নির্দেশের সাথে ধৈর্যের নির্দেশকেও যুক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই বিনয়ীদের (الخاشعين) ব্যতীত অন্যদের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন। যারা নিশ্চিত বিশ্বাস করে যে তারা তাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং তারা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।} [আল-বাকারা: ৪৫-৪৬] এবং তিনি বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।} [আল-বাকারা: ১৫৩]। আর মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই এটি অত্যন্ত কঠিন} [আল-বাকারা: ৪৫] অর্থাৎ এখানে নামাজকে বুঝানো হয়েছে, অথবা ধৈর্য ও নামাজের সমন্বয়ের বিষয়ে এই আয়াত থেকে প্রাপ্ত উপদেশকে বুঝানো হয়েছে। আর নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) বিপদাপদের সময় নামাজের দিকেই ধাবিত হতেন, যেমনটি ইমাম আহমাদ কর্তৃক সংকলিত (أخرجه) সেই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যা সুহাইব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে গৃহীত। তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন নামাজ পড়তেন তখন নিচু স্বরে এমন কিছু বলতেন যা আমরা বুঝতাম না এবং তিনি আমাদের তা বলতেনও না।» তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
ইমারাতুল মাসাজিদিল মানাভিয়্যাহ ওয়া ফাদলুহা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم، فطنتم لي؟ قال: قائل نعم، قال: فإني قد ذكرت نبيا من الأنبياء أعطيَ جنودًا من قومه فقال: من يكافئ هؤلاء! فأوحى الله إليه: اختر لقومك بين إحدى ثلاث، إما أن أسلط عليهم عدوا من غيرهم أو الجوع أو الموت، قال: فاستشار قومه في ذلك، فقالوا: أنت نبي الله نكل ذلك إليك فخر لنا، قال: فقام إلى صلاته، وكانوا يفزعون إذا فزعوا إلى الصلاة، قال: فصلى، قال: أما عدوٌّ من غيرهم فلا، أو الجوع فلا، ولكن الموت، قال: فسلط عليهم الموت ثلاثة أيام فمات منهم سبعون ألفًا، فهمسي الذين ترون أني أقول: " اللهم يا رب بك أقاتل وبك أصاول ولا حول ولا قوة إلا بالله» وفي رواية أن ذلك كان في أيام حنين (1) .
هذا ومن أمثلة ما جرى من الصحابة رضي الله عنهم من تطبيق ما جاء في الآيتين الكريمتين ما أخرجه محمد بن نصر من طريق زيد بن علي بن الحسين عن أبيه قال: نُعي إلى ابن عباس ابن له وهو في سفر فقال: إنا لله وإنا إليه راجعون ثم نزل فصلى ركعتين، ثم قال: فعلنا ما أمر
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "তোমরা কি আমার বিষয়টি বুঝতে পেরেছ?" এক ব্যক্তি উত্তর দিলেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "আমি নবীদের মধ্য থেকে একজন নবীর কথা স্মরণ করছিলাম যাকে তাঁর কওমের মধ্য থেকে একটি বিশাল বাহিনী দেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি (বিস্মিত হয়ে) বললেন, 'কার সাধ্য আছে এদের মোকাবিলা করার!' তখন আল্লাহ তাঁর নিকট ওহি পাঠালেন: 'তোমার কওমের জন্য তিনটি বিষয়ের মধ্যে একটি বেছে নাও—হয় আমি তাদের ওপর বহিরাগত কোনো শত্রু চাপিয়ে দেব, অথবা দুর্ভিক্ষ দেব, নতুবা মৃত্যু দেব।' তিনি এ বিষয়ে তাঁর কওমের সাথে পরামর্শ করলেন। তারা বলল, 'আপনি আল্লাহর নবী, আমরা বিষয়টি আপনার ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি, আপনিই আমাদের জন্য কল্যাণকরটি বেছে নিন।' বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। আর তারা যখন কোনো ভীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেন, তখন সালাতের দিকেই ধাবিত হতেন। তিনি সালাত আদায় করলেন এবং বললেন, 'বহিরাগত কোনো শত্রু নয় এবং দুর্ভিক্ষও নয়, বরং মৃত্যু (বেছে নিলাম)।' বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তাদের ওপর তিন দিন মৃত্যু (মহামারি) চাপিয়ে দেওয়া হলো, যার ফলে তাদের সত্তর হাজার লোক মৃত্যুবরণ করল। তোমরা আমাকে যে বিড়বিড় করতে দেখেছ, তাতে আমি বলছিলাম: 'হে আল্লাহ! হে আমার রব! আপনার সাহায্যেই আমি লড়াই করি, আপনার শক্তিতেই আমি আক্রমণ করি এবং আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।' অন্য একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী এটি হুনাইনের যুদ্ধের দিনগুলোতে ঘটেছিল (১)।
পবিত্র আয়াতা দ্বয়ের নির্দেশের ওপর সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-গণের আমল ও প্রয়োগের উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি হলো যা মুহাম্মদ ইবনে নাসর যায়িদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন-এর সূত্র (طريق) থেকে তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সফরে থাকা অবস্থায় তাঁর এক পুত্রের মৃত্যু সংবাদ দেওয়া হলো। তখন তিনি 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন' পাঠ করলেন, এরপর সওয়ারি থেকে নেমে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং বললেন, 'আমরা তা-ই করেছি যা আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে' (অর্থাৎ বিপদকালে সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা)।
--------------------------------------------