(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: -)
المشروع والممنوع في المسجد - فالح الصغير القسم: مسائل فقهية
الكتاب: المشروع والممنوع في المسجد
المؤلف: فالح بن محمد بن فالح الصغير
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية 1419 هـ
عدد الصفحات: 59
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মসজিদে অনুমোদিত ও নিষিদ্ধ কার্যাবলি - ফালেহ আস-সাগীর বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: মসজিদে অনুমোদিত ও নিষিদ্ধ কার্যাবলি
লেখক: ফালেহ বিন মুহাম্মদ বিন ফালেহ আস-সাগীর
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য ১৪১৯ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ৩)
[المقدمة]المشروع والممنوع في المسجد
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الواحد الأحد، الفرد الصمد، الذي لم يلد ولم يولد، ولم يكن له كفوا أحد.
أحمده سبحانه وأشكره، أمر بإقامة شعائر الدين، وأثنى على عمار المساجد من المسلمين، ورتب على ذلك الأجر الجزيل والفضل العميم.
وأصلي وأسلم على الرحمة المهداة، والنعمة المسداة، نبينا محمد وعلى آله وأصحابه، الذين انطلقوا من المساجد علماء ودعاة، والتابعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد: فاستجابة لطلب معالي وزير الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد بمشاركتهم في ندوتهم المباركة التي تنظمها بالتعاون مع كلية العمارة
[ভূমিকা]মসজিদে অনুমোদিত ও নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি একক, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী (الصمد), যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।
আমি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি ও তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি; তিনি দ্বীনের নিদর্শনসমূহ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মুসলিমদের মধ্যে যারা মসজিদ আবাদকারী তাদের প্রশংসা করেছেন, আর এর বিনিময়ে বিশাল প্রতিদান ও ব্যাপক অনুগ্রহ নির্ধারণ করেছেন।
আর আমি সালাত ও সালাম পেশ করছি উপহৃত রহমত এবং অবারিত নেয়ামত আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যারা মসজিদ থেকে আলেম ও দাঈ হিসেবে বের হয়েছিলেন; আর তাবেয়ীন (التابعين) এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।
অতঃপর: মাননীয় ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁদের সেই বরকতময় সেমিনারে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে, যা স্থাপত্য অনুষদের সহযোগিতায় আয়োজিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ৪)
والتخطيط بجامعة الملك سعود بالرياض، بعنوان: عمارة المساجد. . وأن تكون مشاركتي في محاضرة بعنوان: المشروع والممنوع في المسجد.
ولما لهذا الموضوع من أهمية كبيرة تنبع من أهمية المسجد في الإسلام من كونه مقرًا لأداء الركن الثاني من أركان الإسلام، وميدانًا للعلم والتعليم، والتربية والتوجيه، ومكانًا للملتقيات التربوية والعلمية والفكرية، ومحلًا للاعتكاف والعبادة والمناجاة والتشاور والتحاور.
أقول: لهذا جعلت عناصر هذه المحاضرة على النحو التالي:
تمهيد في: المراد في المسجد، ومكانته في الإسلام، وفضل عمارته الحسية والمعنوية.
والمبحث الأول في المشروع في المسجد.
والمبحث الثاني: المشروع في عمارة المساجد.
والمبحث الثالث في الممنوع في المسجد.
والمبحث الرابع في وقفات متفرقة.
রিয়াদের কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনা বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত "মসজিদ স্থাপত্য" শীর্ষক সেমিনার; যেখানে আমার অংশগ্রহণের বিষয়টি ছিল "মসজিদে যা অনুমোদিত (مشروع) ও যা নিষিদ্ধ (ممنوع)" শিরোনামের একটি বক্তৃতার মাধ্যমে।
যেহেতু এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ববহ, যা ইসলামে মসজিদের গুরুত্ব থেকে উৎসারিত; কারণ এটি ইসলামের দ্বিতীয় রুকন পালনের কেন্দ্রস্থল, জ্ঞান ও শিক্ষার প্রাঙ্গণ, প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনার ক্ষেত্র, এবং শিক্ষামূলক, বৈজ্ঞানিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমাবেশের স্থান। এছাড়াও এটি ইতিকাফ, ইবাদত, নিভৃত প্রার্থনা, পারস্পরিক পরামর্শ এবং সংলাপের জায়গা।
আমি বলছি: একারণেই আমি এই বক্তৃতার বিষয়বস্তুসমূহ নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করেছি:
ভূমিকা: মসজিদ দ্বারা যা উদ্দেশ্য, ইসলামে এর মর্যাদা এবং এর বাহ্যিক ও আত্মিক আবাদের ফজিলত।
প্রথম পরিচ্ছেদ: মসজিদে যা অনুমোদিত (مشروع)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে যা অনুমোদিত (مشروع)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মসজিদে যা নিষিদ্ধ (ممنوع)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিবিধ কিছু পর্যবেক্ষণ।
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ৫)
وخاتمة أجمل فيها بعض التوصيات التي أراها مناسبة.
وأسأل الله تعالى أن يتقبل منا أعمالنا ويجعلها خالصة لوجهه الكريم، إنه سميع مجيب وهو المستعان.
كتبه
فالح بن محمد بن فالح الصغير
الرياض 25 / 7 / 1419 هـ
এবং একটি উপসংহার, যাতে আমি আমার দৃষ্টিতে উপযুক্ত কিছু সুপারিশ সংক্ষেপে তুলে ধরেছি।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের আমলসমূহ কবুল করেন এবং তা একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, প্রার্থনা কবুলকারী এবং তিনিই একমাত্র সাহায্যস্থল।
লিখেছেন
ফালেহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ফালেহ আস-সাগীর
রিয়াদ, ২৫ / ০৭ / ১৪১৯ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ৬)
[التمهيد]التمهيد المراد بالمسجد المسجد في الأصل اللغوي: موضع السجود، وكل موضع يتعبد فيه فهو مسجد، ومنه قول النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث: «جعلت لي الأرض مسجدًا وطهورًا» (1) .) .
أما في الاصطلاح الشرعي، فيطلقه بعض أهل العلم على كل موضع من الأرض، انطلاقًا من الحديث السابق، وهذا صحيح بالنظر إلى جواز الصلاة والعبادة فيه، ولكن بالنظر إلى ما اصطلح عليه اسم: (مسجد) ، وأخذ أحكامًا خاصة، فلا يبقى هذا المفهوم دقيقًا.
ويمكن أن يعرف المسجد بأنه بقعة من الأرض، مخصصة لأداء العبادة فيه، متحررة من التملك الشخصي. وعلى هذا فيكون المسجد بقعة من الأرض ليست ملكًا لأحد، وتؤدى فيه مهمات عبادية ودعوية وتربوية وغيرها.
--------------------------------------------
[প্রারম্ভিকা]প্রারম্ভিকা: মসজিদ বলতে যা বোঝানো হয়েছে; ভাষাগত মূলগত অর্থে মসজিদ হলো: সিজদাহ করার স্থান। এবং প্রতিটি স্থান যেখানে ইবাদত করা হয়, সেটিই মসজিদ। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "পুরো জমিনকে আমার জন্য মসজিদ ও পবিত্রতার মাধ্যম করা হয়েছে।" (১) ।
পক্ষান্তরে শরয়ী পরিভাষায়, পূর্বোক্ত হাদিসের আলোকে একদল আলেম জমিনের প্রতিটি স্থানকেই মসজিদ বলে অভিহিত করেছেন। সেখানে নামাজ ও ইবাদত বৈধ হওয়ার বিচারে এটি সঠিক। কিন্তু যাকে পারিভাষিকভাবে 'মসজিদ' নাম দেওয়া হয়েছে এবং যা বিশেষ বিধানাবলি গ্রহণ করেছে, তার বিচারে এই ধারণাটি সূক্ষ্ম বা নির্ভুল থাকে না।
মসজিদকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে যে, এটি ভূখণ্ডের এমন একটি অংশ যা সেখানে ইবাদত পালনের জন্য বিশেষিত এবং ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে মুক্ত। এর ভিত্তিতে মসজিদ হলো জমিনের এমন একটি অংশ যা কারো মালিকানাধীন নয় এবং যেখানে ইবাদত, দাওয়াত, শিক্ষা-দীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ৭)
[مكانة المسجد وفضل عمارته حسًا ومعنى]مكانة المسجد وفضل عمارته حسًا ومعنى للمسجد مكانة عظمى، وأهمية بالغة في دين الله عز وجل فهو مكان لا غنى للمسلمين عنه إذ هو محل أداء شعائرهم التعبدية من الصلاة والاعتكاف، وقراءة القرآن، وذكر الله تعالى، وهو منطلق الهداية والتوجيه، وميدان العلم والتعليم، ومنبت التربية والتثقيف، وينبوع العلم والمعرفة والتثقيف، وهو النور المشع في قلوب المؤمنين، وهو ميدان تخريج العلماء والأبطال والقادة والمفكرين، وهو ساحة التقاء المسلم بأخيه المسلم، على منهج الله تعالى، وعلى عبادة الله تعالى، فهذه الوظيفة العليا، بل الوظائف الكبرى للمسجد تدل على أهميته وعظم منزلته، ولذلك فضل الله المساجد، ورغب في عمارتها، وجعل الأجر الجزيل على بنائها- حسيا ومعنويًا - وأشاد بعمارها والمهتمين فيها.
يقول الله تعالى: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ فَعَسَى أُولَئِكَ أَنْ يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ} [التوبة: 18] (1) .
--------------------------------------------
[মসজিদের মর্যাদা এবং এর বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক আবাদ করার শ্রেষ্ঠত্ব]মসজিদের মর্যাদা এবং এর বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক আবাদ করার শ্রেষ্ঠত্ব। মহান আল্লাহর দীনে মসজিদের সুউচ্চ মর্যাদা ও অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। এটি এমন এক স্থান যা মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য, কেননা এটি সালাত, ইতিকাফ, কুরআন তিলাওয়াত ও মহান আল্লাহর জিকিরের মতো ইবাদতের নিদর্শনসমূহ পালনের কেন্দ্র। এটি হেদায়েত ও দিকনির্দেশনার উৎসস্থল, ইলম ও শিক্ষার ময়দান, তরবিয়ত ও শিষ্টাচারের সূতিকাগার এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ঝর্ণাধারা। এটি মুমিনদের অন্তরে বিচ্ছুরিত আলো এবং আলেম, বীর, নেতা ও চিন্তাবিদ তৈরির ক্ষেত্র। এটি আল্লাহর মানহাজ (منهج) ও তাঁর ইবাদতের ভিত্তিতে একজন মুসলিমের সাথে তার অপর মুসলিম ভাইয়ের সাক্ষাতের প্রাঙ্গণ। মসজিদের এই উচ্চতর কার্যাবলি, বরং এর মহান দায়িত্বসমূহ এর গুরুত্ব ও উচ্চ মর্যাদার পরিচয় বহন করে। আর একারণেই আল্লাহ তাআলা মসজিদসমূহের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, এগুলো আবাদ করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং এর বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক নির্মাণের ওপর প্রভূত সওয়াব নির্ধারণ করেছেন। আর যারা মসজিদ আবাদ করে ও এর প্রতি যত্নশীল হয় তাদের তিনি প্রশংসা করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করবে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করে না। অতএব আশা করা যায়, তারা হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” [আত-তাওবাহ: ১৮] (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقال سبحانه: {فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ - رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ} [النور: 36 - 37] (1) .
ولأهميتها نسبها الله تعالى إليه، فقال: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18] (2) .
ومما يدل على مكانتها ورفعة شأنها أن عُمَّارها هم صفوة الخلق من الأنبياء والمرسلين، ومن تبعهم من المؤمنين، قال تعالى: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ - رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} [البقرة: 127 - 128] (3) .
وقد ندب الرسول صلى الله عليه وسلم لعمارتها، جاء في الصحيحين عن عثمان بن عفان رضي الله عنه قال: «سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: (من بنى لله مسجدا بنى الله له كهيئته في
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {সেই সব ঘরে (মসজিদসমূহে) যাকে সমুন্নত করতে এবং যেখানে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে - এমন লোকেরা, যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ, নামাজ কায়েম এবং জাকাত প্রদান থেকে বিরত রাখে না; তারা ভয় পায় সেই দিনকে, যেদিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টি হবে বিপর্যস্ত} [আন-নূর: ৩৬ - ৩৭] (১) ।
এবং এর গুরুত্বের কারণে আল্লাহ তাআলা এগুলোকে নিজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। তিনি বলেন: {এবং নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} [আল-জিন: ১৮] (২) ।
এর মর্যাদা ও মাহাত্ম্যের অন্যতম প্রমাণ হলো, এর আবাদকারীরা হলেন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ—নবী ও রাসূলগণ এবং তাঁদের অনুসারী মুমিনগণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল (তখন তারা বলছিল), ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের উভয়কে আপনার অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর থেকেও আপনার এক অনুগত উম্মত সৃষ্টি করুন। আমাদের ইবাদতের নিয়মাবলি দেখিয়ে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’} [আল-বাকারা: ১২৭ - ১২৮] (৩) ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো আবাদ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। সহিহাইনে উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরুপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ৯)
الجنة) » (1) . وعند ابن ماجه وأحمد مرفوعًا: «من بنى لله مسجدًا ولو كمفحص قطاة بنى الله له بيتا في الجنة» (2) .
ولفضلها رغب صلى الله عليه وسلم في التعليم فيها وجعلها أفضل دار للعلم والتعليم فقد روى مسلم وغيره مرفوعًا: «وما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله يتلون كتاب الله ويتدارسونه فيما بينهم إلا نزلت عليهم السكينة وغشيتهم الرحمة وحفتهم الملائكة وذكرهم الله فيمن عنده» ) (3) .
ومما يدل على أهميتها وفضلها أن الملائكة تشهد الصلاة فيها، وتحضر كما جاء في الصحيح في فضل صلاة الجمعة أنه إذا دخل الإمام دخلت الملائكة تستمع الخطبة (4) .
وكذلك الأمر بتنزيهها من الروائح الكريهة، ولو كانت غير محرمة مثل نهي الرسول صلى الله عليه وسلم عن أكل البصل والثوم، فقال: «من أكل من هذه الشجرة المنتنة فلا يقربن
--------------------------------------------
জান্নাত)। (১)। আর ইবনে মাজাহ ও আহমাদের বর্ণনায় মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: «যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করল, যদিও তা বালুচাতক পাখির ডিম পাড়ার স্থানের ন্যায় ক্ষুদ্র হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন» (২)।
মসজিদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে শিক্ষা প্রদানের প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং একে জ্ঞান ও শিক্ষার জন্য সর্বোত্তম স্থান হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। ইমাম মুসলিম ও অন্যান্যরা মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: «যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটিতে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং নিজেদের মধ্যে তা নিয়ে পঠন-পাঠন করে, তখন তাদের ওপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়, রহমত তাদের আচ্ছাদিত করে নেয়, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তীদের কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন» (৩)।
মসজিদের গুরুত্ব ও ফজিলতের অন্যতম প্রমাণ হলো ফেরেশতারা সেখানে সালাতে উপস্থিত থাকেন এবং অংশগ্রহণ করেন; যেমনটি সহিহ (صحيح) বর্ণনায় জুমার সালাতের ফজিলত সম্পর্কে এসেছে যে, যখন ইমাম প্রবেশ করেন, তখন ফেরেশতারা খুতবা শোনার জন্য প্রবেশ করেন (৪)।
অনুরূপভাবে মসজিদকে দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু থেকে পবিত্র রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও তা হারাম নয় এমন কোনো বস্তু (যেমন পেঁয়াজ-রসুন) থেকেও হয়। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেঁয়াজ ও রসুন খাওয়া থেকে নিষেধ করে বলেছেন: «যে ব্যক্তি এই দুর্গন্ধযুক্ত উদ্ভিদ থেকে কিছু খাবে, সে যেন কিছুতেই নিকটবর্তী না হয়...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ১০)
مصلانا، فإن الملائكة تتأذى مما يتأذى منه الإنس» (1) .
ولأهميته وعظيم مكانته كان من الأعمال الأولى للدولة الإسلامية التي باشرها الرسول صلى الله عليه وسلم عندما هاجر إلى المدينة النبوية فأسس مسجده صلى الله عليه وسلم إذ جعله الملتقى الأعظم لصحابته الكرام.
ولمزية هذا المسجد كان أحب البقاع إلى الله تعالى كما ورد: «أحب البقاع إلى الله مساجدها» (2) . ولهذا كان الوقوف عليه من أفضل الأعمال المستحبة التي يقدمها العبد في دنياه وآخرته، كما أن صيانتها وتنظيفها وتعاهدها سبب لدخول الجنة.
--------------------------------------------
আমাদের সালাতের স্থান থেকে, কেননা মানুষ যাতে কষ্ট পায় ফেরেশতারাও তাতে কষ্ট পায়।" (১)।
এর গুরুত্ব ও সুমহান মর্যাদার কারণে, এটি ছিল ইসলামি রাষ্ট্রের সেই সব প্রাথমিক কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরতের পর শুরু করেছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন, কারণ তিনি একে তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের মহান মিলনস্থল হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন।
এই মসজিদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে এটি আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় স্থান ছিল, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো এর মসজিদসমূহ" (২)। এই কারণেই মসজিদের জন্য ওয়াকফ করা একজন বান্দার তার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য পেশকৃত সর্বোত্তম পছন্দনীয় (مستحب) আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তদ্রূপ এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা এবং তদারকি করা জান্নাতে প্রবেশের কারণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ১১)
[المبحث الأول المشروع في المسجد]
[الصلاة فيه]المبحث الأول
المشروع في المسجد 1 - الصلاة فيه: من أهم وظائف المسجد أداء الصلاة فيه بالنسبة للرجال جماعة الذي جعلها بعض أهل العلم فرض عين على كل مسلم- أعني صلاة الجماعة- ومكان تأدية صلاة الجماعة هو المسجد، بل قد جعل بعضهم تأديتها في المسجد شرطًا لا تصح الصلاة إلا به.
وهذه المسألة لا تحتاج إلى استفاضة في الأدلة، ويكفي أن نشير إلى أن الساعي إلى المسجد لأداء الصلاة ينال أجرًا عظيمًا، فكيف بالصلاة فيه، روى الشيخان أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من غدا أو راح أعد الله له نزلا في الجنة كلما غدا أو راح» (1) . وما رواه مسلم مرفوعًا: «ألا أدلكم على ما يمحو الله به الخطايا ويرفع به الدرجات قالوا: بلى يا رسول الله، قال: إسباغ الوضوء على المكاره، وكثرة الخطا إلى المساجد» (2) .
--------------------------------------------
[প্রথম পরিচ্ছেদ: মসজিদে শরীয়তসম্মত কার্যাবলি]
[তাতে সালাত আদায় করা]প্রথম পরিচ্ছেদ
মসজিদে শরীয়তসম্মত কার্যাবলি ১ - তাতে সালাত আদায় করা: মসজিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পুরুষদের জন্য তাতে জামাআতের সাথে সালাত আদায় করা। কোনো কোনো বিজ্ঞ আলেম একে প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজে আইন (فرض عين) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন—অর্থাৎ জামাআতে সালাত—আর জামাআতে সালাত আদায়ের নির্ধারিত স্থান হলো মসজিদ। বরং তাদের কেউ কেউ মসজিদে সালাত আদায় করাকে একটি শর্ত (شرط) হিসেবে গণ্য করেছেন, যা ব্যতীত সালাত বিশুদ্ধ হবে না।
এই বিষয়টি দলীল-প্রমাণের বিস্তারিত বিবরণের মুখাপেক্ষী নয়। এটুকু ইঙ্গিত করাই যথেষ্ট যে, যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে পদচালনা করেন তিনি মহান প্রতিদান লাভ করেন; তাহলে সেখানে সালাত আদায়ের প্রতিদান কত বিশাল হতে পারে! শায়খাইন বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় মসজিদে যায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে মেহমানদারির ব্যবস্থা করেন, যখনই সে সকালে বা সন্ধ্যায় গমন করে» (১)। আর ইমাম মুসলিম মারফূ (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: «আমি কি তোমাদের এমন কিছু জানিয়ে দেব না যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের পাপসমূহ মুছে দেন এবং তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন? তাঁরা বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: কষ্টের সময়ও পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করা এবং মসজিদের দিকে অধিক পদচারণা করা» (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ১২)
وجاء في سنن أبي داود أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «بشر المشائين في الظلم إلى المساجد بالنور التام يوم القيامة» (1) .
وغني عن القول أن يؤكد على أن صلاة الجمعة لا تصح إلا في المسجد.
[الاعتكاف فيه]2 - الاعتكاف فيه: والمراد بالاعتكاف: المكث في المسجد لعبادة الله تعالى.
من نعم الله تعالى على بعض المؤمنين أن يوفقهم لعبادته وطاعته بمختلف أبواب الطاعة الكثيرة، ومنها: المكث في المسجد مدة معينة من الزمن تطول أو تقصر ليصلي ويدعو، ويقرأ القرآن، ويذكر الله تعالى ويتأمل حاله وحال المسلمين ويحاسب نفسه، ويخلو مع خالقه.
هذه العبادات يتفرغ لها العبد ليؤديها في المسجد- أي مسجد- وقد فعلها الرسول صلى الله عليه وسلم في رمضان «فاعتكف معه بعض نسائه» كما جاء ذلك في الصحيحين. . وغيرهما.
ولا شك أن لهذه الخلوة الإيمانية أثرًا على الفرد المسلم
--------------------------------------------
সুনান আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «অন্ধকারে মসজিদের দিকে গমনকারীদের কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও» (১) ।
একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জুমার সালাত মসজিদ ব্যতীত শুদ্ধ (صحيح) হয় না।
[সেখানে ইতিকাফ করা]২ - সেখানে ইতিকাফ করা: আর ইতিকাফ বলতে উদ্দেশ্য হলো: মহান আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করা।
মুমিনদের ওপর মহান আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত এই যে, তিনি তাদের তাঁর ইবাদত ও আনুগত্যের বিভিন্ন দ্বারে তাওফিক দান করেন। যার মধ্যে একটি হলো: নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মসজিদে অবস্থান করা—তা দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত—যাতে সে সালাত আদায় করতে পারে, দুআ করতে পারে, কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে, মহান আল্লাহর জিকির করতে পারে, নিজের ও মুসলিমদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে পারে, নিজের হিসাব নিতে পারে এবং নিজ স্রষ্টার সাথে নির্জনে সময় কাটাতে পারে।
এই ইবাদতগুলো পালনের জন্য বান্দা মসজিদে—যেকোনো মসজিদে—নিজেকে ফারেগ বা অবসর করে নেয়। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজান মাসে এটি পালন করেছেন, «তাঁর সাথে তাঁর কিছু স্ত্রীও ইতিকাফ করেছিলেন», যেমনটি সহীহাইন ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
নিঃসন্দেহে এই ঈমানি নির্জনতার প্রভাব একজন মুসলিম ব্যক্তির ওপর অনস্বীকার্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
في تعامله مع مولاه جل وعلا فيصحح مساره، ويعدل أخطاءه، ويصارح نفسه، ويبكى على خطيئته، ويصفي فؤاده، وينقي قلبه، وتغسل خطاياه، وتمحى ذنوبه، وترفع درجاته، ويظله الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله، كما جاء ذلك في حديث أبي هريرة رضي الله عنه : «سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله» . . وذكر منهم: «رجل قلبه معلق في المساجد، ورجل ذكر الله خاليًا ففاضت عيناه» (1) .
ولهذه الخلوة أثرها على المجتمع المسلم بأسره فإذا كان نخبة من هذا المجتمع تعاملوا مع ربهم هذا التعامل الفريد، فهذه علامة صحة لهذا المجتمع الذي يربي رجاله هذه التربية الإيمانية القوية.
[خطبة الجمعة]3 - خطبة الجمعة: من فضل الله تعالى أن شرع للمسلمين، وأوجب عليهم صلاة الجمعة التي تقام مرة في الأسبوع في يوم الجمعة، ومن أحكام هذه الصلاة إقامة خطبتي الجمعة التي ندب الإسلام
--------------------------------------------
মহান রবের সাথে তাঁর সম্পর্কের ক্ষেত্রে সে তার চলার পথ সংশোধন করে, নিজের ভুলত্রুটি শুধরে নেয়, নিজের সাথে সত্যবাদী হয়, নিজের পাপের জন্য রোদন করে, স্বীয় অন্তঃকরণকে স্বচ্ছ করে এবং অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে; ফলে তার ভুলত্রুটি ধৌত হয়, পাপসমূহ মুছে যায়, তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহ তাকে তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দান করবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। যেমনটি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না..."। তিনি তাদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন: "সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে এবং সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর যিকির করে আর তার দুচোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়" (১)।
আর এই নির্জনবাসের প্রভাব সমগ্র মুসলিম সমাজের ওপর নিহিত; যদি এই সমাজের একদল বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের রবের সাথে এমন অনন্য আচরণ করেন, তবে এটি সেই সমাজের সুস্থতার লক্ষণ যা তার ব্যক্তিদের এমন বলিষ্ঠ ইমানি তরবিয়তের মাধ্যমে গড়ে তোলে।
[জুমার খুতবা]৩ - জুমার খুতবা: মহান আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ যে তিনি মুসলিমদের জন্য জুমার সালাত বিধিবদ্ধ করেছেন এবং তা তাদের ওপর আবশ্যক করেছেন, যা সপ্তাহে একবার জুমার দিনে অনুষ্ঠিত হয়। এই সালাতের বিধানাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো জুমার খুতবা প্রদান করা, যার প্রতি ইসলাম উৎসাহিত করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
إلى حضورها وشهودها، بل وشدد في وجوب الإنصات لها، قال صلى الله عليه وسلم : «إذا قلت لصاحبك - يعني والإمام يخطب- أنصت فقد لغوت» (1) . وقال صلى الله عليه وسلم : «من مس الحصا فقد لغا، ومن لغا فلا جمعة له» (2) .
هذا المنبر العظيم الذي ينطلق من يكلف فيه لإسماع المصلين المؤمنين الذين تطهرت أبدانهم وقلوبهم، وجاءوا خاشعين يستمعون الذكر، مع الملائكة الشهود، هذا المنبر يقام في المسجد مقترنًا بهذه العبادة العظيمة الجليلة، ولا يغني عنه أن يقام في أي بقعة كانت، بل ولا تصح كما ذكر الفقهاء رحمهم الله تعالى.
[تحية المسجد]4 - تحية المسجد: غني عن القول أن يقال: إن الصلاة النافلة يصح إقامتها في المسجد لكن الأفضل أن تؤدى في البيت فإن من هديه صلى الله عليه وسلم تأديتها في منزله.
لكن مما خص به المسجد أن يكون له تحية عند دخوله، وذلك بأداء صلاة ركعتين، كما روى البخاري وغيره عن
--------------------------------------------
তাতে উপস্থিত হওয়া ও প্রত্যক্ষ করার প্রতি, বরং এতে মনোযোগ দিয়ে শোনার (إنصات) আবশ্যকতা (وجوب) সম্পর্কে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন তুমি তোমার সঙ্গীকে বলবে—অর্থাৎ ইমাম যখন খুতবাহ দিচ্ছেন—চুপ করো, তখন তুমি অনর্থক কাজ (لغو) করলে» (১)। এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি কঙ্কর স্পর্শ করল সে অনর্থক কাজ (لغو) করল, আর যে অনর্থক কাজ করল তার জুমার কোনো সওয়াব নেই» (২)।
এই মহান মিম্বার, যেখান থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সেই মুমিন মুসল্লিদের শোনানোর জন্য বক্তব্য প্রদান করেন যাদের দেহ ও অন্তর পবিত্র হয়েছে এবং যারা বিনম্র চিত্তে সাক্ষী ফেরেশতাদের সাথে যিকির শুনতে এসেছে; এই মিম্বারটি মসজিদে এই মহান ও মর্যাদাপূর্ণ ইবাদতের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে স্থাপিত হয়। অন্য কোনো স্থানে এটি স্থাপন করলে তা যথেষ্ট হবে না, বরং ফকিহগণ (فقهاء) রহমাতুল্লাহি তাআলা যেমনটি উল্লেখ করেছেন—তা শুদ্ধ (صحيح) হবে না।
[তাহিয়্যাতুল মাসজিদ]৪ - তাহিয়্যাতুল মাসজিদ: এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মসজিদে নফল (نافلة) সালাত আদায় করা শুদ্ধ (صحيح), তবে এটি বাড়িতে আদায় করা উত্তম। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ ছিল তা নিজের ঘরে আদায় করা।
তবে মসজিদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এতে প্রবেশের সময় তার একটি অভিবাদন (তাহিয়্যাহ) রয়েছে, আর তা হলো দুই রাকাত সালাত আদায় করা। যেমনটি বুখারী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أبي قتادة السلمي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا دخل أحدكم المسجد فليركع ركعتين قبل أن يجلس» (1) .
ولا شك أن تأدية هاتين الركعتين لهما أثر على نفسية الفرد الداخل إذ أنه يشعر أنه ولج مكانًا ذا خاصية مميزة فتتهيأ نفسه له فيتعامل معه التعامل المشروع.
[حِفْظ القرآن وتحفيظه]5 - حِفْظ القرآن وتحفيظه: من أهم المهمات، وأوضح المشروعات عمله في المساجد إقامة تعلم القرآن وتعليمه، وقراءته وإقراؤه، بشكل فردي يقرؤه الفرد، ويحفظه، أو يحفظه ويقرئه غيره، أو بشكل تدارس جماعي، جاء في السنن: «وما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله يتلون كتاب الله ويتدارسونه فيما بينهم إلا نزلت عليهم السكينة وغشيتهم الرحمة وحفتهم الملائكة وذكرهم الله فيمن عنده» (2) .
ووجود هذا الفضل لهؤلاء الأفراد المجتمعين لقراءة
--------------------------------------------
আবু কাতাদাহ আস-সুলামি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন বসার আগে সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় করে।" (১) ।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই দুই রাকাত সালাত আদায় করার বিষয়টি প্রবেশকারীর মনস্তত্ত্বের ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ সে অনুভব করে যে, সে এমন এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত স্থানে প্রবেশ করেছে, ফলে তার মন সে অনুযায়ী প্রস্তুত হয় এবং সে সেখানে শরিয়তসম্মত পন্থায় আচরণ করে।
[কুরআন হিফজ ও শিক্ষা প্রদান]৫ - কুরআন হিফজ ও শিক্ষা প্রদান: অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং মসজিদে পালনযোগ্য সবচেয়ে সুস্পষ্ট প্রকল্প হলো কুরআন শিক্ষা ও শিখানোর ব্যবস্থা করা, ব্যক্তিগতভাবে তিলাওয়াত করা কিংবা অন্যকে তিলাওয়াত শোনানো, নিজে হিফজ করা অথবা অন্যকে হিফজ করানো, কিংবা সম্মিলিতভাবে অধ্যয়ন করা। সুনান গ্রন্থসমূহে এসেছে: "যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটিতে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং পরস্পরের মধ্যে তা অধ্যয়ন করে, তাদের ওপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়, রহমত তাদেরকে ঢেকে নেয়, ফেরেশতারা তাদেরকে বেষ্টন করে রাখে এবং আল্লাহ তাঁর নিকটস্থদের কাছে তাদের কথা উল্লেখ করেন।" (২) ।
আর কুরআন পাঠের জন্য একত্রিত হওয়া এই ব্যক্তিদের জন্য এই ফযিলত থাকা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
القرآن وتدارسه بسبب وجودهم في هذا المسجد، ولا شك أن العلم المتفرع عن القرآن الكريم داخل في ذلك، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجلس في المسجد ويستمع لقراءة أصحابه رضي الله عنهم ، وهكذا كان الصحابة من بعده يتدارسون القرآن والعلم في المسجد واستمر الأمر على هذه الحال على امتداد التاريخ الإسلامي، ويلحق بقراءة القرآن الكريم، اشتغال الفرد بذكر الله تعالى، حيث تكون القلوب خالية من مشاغلها، فتخبت إلى ربها، متعلقة بمولاها، قال سبحانه وتعالى: {فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ - رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ} [النور: 36 - 37] (1) .
ويقول الرسول صلى الله عليه وسلم في حديث بول الأعرابي- في إحدى رواياته-: «إنما هي لذكر الله تعالى والصلاة وقراءة القرآن» (2) .
ولا يخفى على المسلم فوائد الذكر وبخاصة إذا كان في
--------------------------------------------
এই মসজিদে অবস্থানের কারণে কুরআন পাঠ ও তা নিয়ে পারস্পরিক আলোচনা চলত। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পবিত্র কুরআন থেকে উৎসারিত ইলম বা জ্ঞানও এর অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে বসতেন এবং তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তিলাওয়াত শুনতেন। একইভাবে তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণও মসজিদে কুরআন ও ইলম চর্চা করতেন এবং সমগ্র ইসলামী ইতিহাস জুড়ে এই ধারা অব্যাহত ছিল। পবিত্র কুরআন পাঠের সাথে সাথে ব্যক্তির আল্লাহ তাআলার যিকিরে মশগুল হওয়াও এর সাথে যুক্ত, যেখানে অন্তর দুনিয়াবী ব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়, ফলে তা তার রবের প্রতি অনুগত হয় এবং তার মাওলার সাথে সম্পৃক্ত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {সেই সব ঘরে যাকে সমুন্নত করতে এবং যাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করে—এমন ব্যক্তিবর্গ, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর যিকির এবং সালাত কায়েম করা থেকে গাফেল করতে পারে না} [আন-নূর: ৩৬-৩৭] (১)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জনৈক বেদুইনের পেশাব করার ঘটনার হাদিসে—তার একটি বর্ণনায় (رواية)—বলেছেন: "নিশ্চয়ই এগুলো (মসজিদসমূহ) আল্লাহ তাআলার যিকির, সালাত এবং কুরআন পাঠের জন্য" (২)।
যিকিরের বহুবিধ উপকারিতা কোনো মুসলিমের কাছে অজানা নয়, বিশেষ করে যখন তা হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بيت من بيوت الله تعالى فهو يصفي القلب، ويطمئنه، ويسكن النفس، ويبعد الشياطين، ويجلو الهم والغم، ويمحو السيئات، ويُكَفِّر الذنوب، وهو أفضل الأعمال، وأقربها إلى الله تعالى، وأزكاها عنده، وهو خفيف على اللسان، ثقيل في الميزان، حبيب إلى الرحمن، مدخل للجنان، حاجب عن النيران.
ولكن يحذر الإنسان أن ينتقل من الصور الشرعية في الذكر إلى الصور البدعية التي دخلت على كثير من الأقطار الإسلامية، فأوقعهم الشيطان في حبائله البدعية ولا حول ولا قوة إلا بالله.
[تعلم العلم وتعليمه]6 - تعلم العلم وتعليمه: ومن مهمات المسجد أنه ميدان للعلم والتعليم، منه تخرج الأفذاذ والعلماء، ومنه انطلق المعلمون، وإليه يأوي المتعلمون، فهو مقر التربية والتوجيه والتعليم.
المسجد يقوم بهذه المهمة منذ عهده صلى الله عليه وسلم ، فقد كان يتخذه صلى الله عليه وسلم مكانا للتعليم والتربية روى البخاري ومسلم وغيرهما عن أبي واقد الليثي رضي الله عنه قال: «بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم جالس في المسجد، والناس معه إذ أقبل
আল্লাহ তাআলার ঘরসমূহের মধ্যে এটি একটি ঘর যা অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, তাকে প্রশান্ত করে, আত্মাকে শান্ত করে, শয়তানকে বিতাড়িত করে, দুঃখ ও বিষাদ দূর করে, মন্দ কাজগুলো মিটিয়ে দেয় এবং পাপরাশি মোচন করে। এটি সর্বোত্তম আমল, আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বাধিক নিকটবর্তী এবং তাঁর কাছে অত্যন্ত পবিত্র। এটি জিহ্বার জন্য সহজ, মিজানে ভারী, পরম দয়াময়ের নিকট অত্যন্ত প্রিয়, জান্নাতে প্রবেশের পথ এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকারী অন্তরায় স্বরূপ।
কিন্তু মানুষের উচিত সতর্ক থাকা যেন সে জিকিরের শরয়ী পদ্ধতিসমূহ থেকে বিচ্যুত হয়ে সেই বিদআতি (بدعية) রূপগুলোর দিকে ধাবিত না হয়, যা অনেক মুসলিম জনপদে প্রবেশ করেছে। ফলে শয়তান তাদেরকে স্বীয় বিদআতি (بدعية) জালে নিপতিত করেছে। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
[ইলম অর্জন ও শিক্ষা দান]৬ - ইলম অর্জন ও শিক্ষা দান: মসজিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এটি ইলম ও শিক্ষা দানের একটি ক্ষেত্র। এখান থেকেই যুগশ্রেষ্ঠ মনীষী ও উলামায়ে কেরাম তৈরি হয়েছেন, এখান থেকেই শিক্ষকগণ পথ চলা শুরু করেছেন এবং শিক্ষার্থীগণ এখানেই আশ্রয় গ্রহণ করেন। অতএব এটি হলো তরবিয়ত, দিকনির্দেশনা ও শিক্ষা দানের কেন্দ্রস্থল।
মসজিদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকেই এই দায়িত্ব পালন করে আসছে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদকে শিক্ষা ও তরবিয়তের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতেন। বুখারি ও মুসলিমসহ অন্যান্য গ্রন্থকারগণ আবু ওয়াকিদ আল-লায়সী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসা ছিলেন এবং সাহাবীগণ তাঁর সাথে ছিলেন, এমতাবস্থায়..."
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ثلاثة نفر، فأقبل اثنان إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ، وذهب واحد فوقفا على رسول صلى الله عليه وسلم ، أما أحدهما فوجد فرجة في الحلقة فجلس فيها، وأما الآخر فجلس خلفهم، وأما الثالث فأدبر ذاهبًا، فلما فرغ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (ألا أحدثكم عن النفر الثلاثة؟ أما أحدهم فأوى إلى الله عز وجل فآواه الله، وأما الآخر فاستحيا فاستحيا الله منه، وأما الآخر فأعرض فأعرض الله عنه» (1) .
وما ورد في ذلك عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أنه قال: «تمارى رجلان في المسجد الذي أسس على التقوى، فقال رجل: هو مسجد قباء، وقال الآخر: هو مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم ، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : هو مسجدي هذا» (2) .
وعنه أيضًا رضي الله عنه قال: «جلس رسول الله صلى الله عليه وسلم على المنبر وجلسنا حوله فقال: (إن مما أخاف عليكم بعدي، ما يفتح عليكم من زهرة الدنيا وزينتها) » (3) .
--------------------------------------------
তিনজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে দুইজন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে এগিয়ে আসলেন এবং একজন চলে গেলেন। অতঃপর তারা দুইজন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। তাদের একজন মজলিসের বৃত্তের মাঝে একটি খালি জায়গা পেয়ে সেখানে বসে পড়লেন, আর অপরজন তাদের পেছনে বসলেন। তবে তৃতীয় ব্যক্তিটি পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন অবসর হলেন তখন বললেন: "আমি কি তোমাদের এই তিন ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তাদের একজন আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করল, ফলে আল্লাহ তাকে আশ্রয় দিলেন। অপরজন লজ্জাবোধ করল, ফলে আল্লাহও তার প্রতি লজ্জা (করুণা) প্রকাশ করলেন। আর অন্যজন বিমুখ হলো, ফলে আল্লাহও তার প্রতি বিমুখ হলেন।" (১) ।
এ প্রসঙ্গে আবু সাঈদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত মসজিদের বিষয়ে দুইজন ব্যক্তি বাদানুবাদে লিপ্ত হলেন। একজন বললেন: এটি মসজিদে কুবা। অন্যজন বললেন: এটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদ। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: এটি হলো আমার এই মসজিদ।" (২) ।
তাঁর থেকেই আরও বর্ণিত যে, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বারের ওপর বসলেন এবং আমরা তাঁর চারপাশে বসলাম। তখন তিনি বললেন: ‘নিশ্চয়ই আমার পরে তোমাদের ব্যাপারে আমি যা ভয় করি তা হলো পার্থিব জগতের চাকচিক্য ও সৌন্দর্য যা তোমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে’।" (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وكان يستقبل فيه الرسول صلى الله عليه وسلم الوفود الذين يفدون إليه مسلمين ليتعلموا القرآن الكريم، والسنة النبوية، والأحكام الشرعية، روى البخاري وغيره عن مالك بن الحويرث رضي الله عنه أنه قال: «أتينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ، ونحن شببة متقاربون، فأقمنا عنده عشرين ليلة فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم رحيمًا رفيقًا، فظن أنا قد اشتقنا إلى أهلنا، فسألنا عمن تركنا من أهلنا فأخبرناه، فقال: (ارجعوا إلى أهليكم فأقيموا فيهم، وعلِّموهم ومروهم، فإذا حضرت الصلاة فليؤذن أحدكم ثم ليؤمكم أكبركم» ) (1) .
وهكذا فكان المسجد في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم جامعة تخرج فيها العلماء الأوائل، وتربى فيها الرعيل الأول، وانطلق منها المعلمون إلى ديار الإسلام المختلفة، واستمر حال المسجد كذلك ميدانا للعلم والمعرفة والتربية، بل لم يكن يعرف مقر للتعليم يجمع الناس إلا المسجد، وكون التعليم في المسجد يعطيه خاصية فريدة على غيره إذ أن المكث فيه مع العلم والتعليم يضفي على المتعلم جوًا عباديًا يشعر معه بارتباطه بالله سبحانه وتعالى، إذ أن الدافع معه
--------------------------------------------
সেখানে (মসজিদে) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই সব প্রতিনিধিদলকে গ্রহণ করতেন যারা পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং শরয়ি বিধানাবলী শেখার জন্য মুসলিম হিসেবে তাঁর কাছে আসতেন। ইমাম বুখারি এবং অন্যান্যরা মালিক ইবনে আল-হুওয়াইরিস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: «আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম এবং আমরা ছিলাম সমবয়সী একদল যুবক। আমরা তাঁর নিকট বিশ রাত অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অত্যন্ত দয়ালু ও কোমল হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। তিনি যখন বুঝতে পারলেন যে আমরা আমাদের পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েছি, তখন তিনি আমাদের পরিবারের যাদের আমরা রেখে এসেছি তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন এবং আমরা তাঁকে সব জানালাম। তখন তিনি বললেন: (তোমরা তোমাদের পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে অবস্থান করো; তাদের শিক্ষা দাও ও নির্দেশ প্রদান করো। আর যখন নামাজের সময় হবে, তখন তোমাদের মধ্য থেকে একজন যেন আজান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে যেন তোমাদের ইমামতি করে।)» (১) .
এভাবেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে মসজিদ ছিল একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখান থেকে প্রথম প্রজন্মের আলেমগণ উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং প্রথম সারির মুসলিমরা গড়ে উঠেছিলেন। সেখান থেকেই শিক্ষকগণ ইসলামের বিভিন্ন ভূখণ্ডে যাত্রা করেছিলেন। মসজিদের এই অবস্থা জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও প্রশিক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে অব্যাহত ছিল। এমনকি তখন মসজিদ ছাড়া লোকদের সমবেত হওয়ার মতো অন্য কোনো শিক্ষা নিকেতন পরিচিত ছিল না। আর মসজিদে শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টি একে অন্য সবকিছুর চেয়ে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য দান করে; কেননা জ্ঞান অর্জন ও পাঠদানের জন্য সেখানে অবস্থান করা শিক্ষার্থীর ওপর এক ইবাদতসূলভ আবেশ ছড়িয়ে দেয়, যার ফলে সে মহান আল্লাহর সাথে গভীর সংযোগ অনুভব করে। কেননা এর পেছনে মূল চালিকাশক্তি হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ২০)
إلى هذا التعليم إخلاصه لله عز وجل، والانتفاع منه وفيه.
ومن هنا فيمكن التوصية لوزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد أن تهتم بهذه الوظيفة في المسجد وتنفذها بما يلي:
أ- إنشاء دروس مركزية في الجوامع الكبيرة في علوم الشريعة المختلفة، احتسابًا وبأجر، ويمكن استغلال (المتقاعدين) من أهل العلم في هذا الأمر الجليل.
ب- إنشاء دروس في بقية المساجد يقيمها أئمة المساجد في الآداب والأخلاق، والوعظ والإرشاد.
ج- الاهتمام بمكتبة المسجد، لتكون ناديًا مرتادًا لأبناء الحي الذين يقطنون فيه، وفي بداية الأمر تكون المكتبات في الجوامع الكبيرة.
[المسجد دار للقضاء والفتوى]7 - المسجد دار للقضاء والفتوى: ولا تقتصر مهمة المسجد في الأعمال العلمية فحسب بل اتخذه المسلمون دارًا للإفتاء والقضاء، فكانت الوفود الكبيرة المستفسرة عن شؤون دينها، والسائلة في أحكام شريعتها تفد إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم . روى البخاري وغيره عن أنس رضي الله عنه وكان صغيرًا، قال: «بينما نحن
এই শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা এবং তা থেকে ও তার মাধ্যমে উপকৃত হওয়া।
এ প্রেক্ষিতে ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়কে এই সুপারিশ করা যেতে পারে যেন তারা মসজিদের এই দায়িত্বটির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং তা নিম্নোক্ত উপায়ে বাস্তবায়ন করেন:
ক- সওয়াবের আশায় অথবা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বড় জামে মসজিদগুলোতে শরীয়তের বিভিন্ন শাস্ত্রের ওপর কেন্দ্রীয় পাঠদানের ব্যবস্থা করা। এই মহৎ কাজে আলেমদের মধ্য থেকে যারা অবসরপ্রাপ্ত, তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।
খ- অন্যান্য মসজিদগুলোতে আদব, আখলাক, ওয়াজ ও নসিহত বিষয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করা, যা সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমামগণ পরিচালনা করবেন।
গ- মসজিদের লাইব্রেরির প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া, যাতে তা ওই মহল্লার বাসিন্দাদের যাতায়াতপূর্ণ একটি মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বড় জামে মসজিদগুলোতে লাইব্রেরির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
[মসজিদ বিচারকার্য ও ফতোয়া প্রদানের কেন্দ্র]৭ - মসজিদ বিচারকার্য ও ফতোয়া প্রদানের কেন্দ্র: মসজিদের ভূমিকা কেবল শিক্ষা ও ইলমি কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং মুসলিমরা একে ফতোয়া ও বিচারকার্যের কেন্দ্র হিসেবেও গ্রহণ করেছিলেন। ফলে দ্বীনি বিষয়াদি সম্পর্কে অনুসন্ধানকারী এবং শরীয়তের বিধানসমূহ সম্পর্কে প্রশ্নকারী বড় বড় প্রতিনিধি দলগুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হতো। বুখারি এবং অন্যরা আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন—যিনি তখন অল্পবয়স্ক ছিলেন—তিনি বলেন: "যখন আমরা...
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ২১)
جلوس مع النبي صلى الله عليه وسلم في المسجد دخل رجل على جمل، فأناخه في المسجد ثم عقله، ثم قال لهم: أيكم محمد؟ والنبي صلى الله عليه وسلم متكئ بين ظهرانيهم، فقال: هذا الرجل الأبيض المتكئ، فقال له رجل: ابن عبد المطلب؟ فقال له النبي صلى الله عليه وسلم : (قد أجبتك) وقال الرجل للنبي صلى الله عليه وسلم : إني سائلك فمشدد عليك في المسألة فلا تجد علي في نفسك، فقال: (سل عما بدا لك) ، فقال: أسألك بربك، ورب من قبلك آلله أرسلك إلى الناس كلهم؟ فقال: (اللهم نعم) فقال: أنشدك بالله آلله أمرك أن نصلي الصلوات الخمس في اليوم والليلة؟ قال: (اللهم نعم) قال: أنشدك بالله آلله أمرك أن نأخذ هذه الصدقة من أغنيائنا فنقسمها على فقرائنا؟ قال النبي صلى الله عليه وسلم : (اللهم نعم) ، فقال الرجل: آمنت بما جئت به وأنا رسول من ورائي من قومي، وأنا ضمام بن ثعلبة، أخو بني سعد بن بكر» (1) .
وفي الحكم والقضاء يعنون البخاري بابًا سماه: باب من قضى ولاعن في المسجد، ثم قال: ولاعن عمر عند منبر النبي صلى الله عليه وسلم ، وقضى شريح والشعبي ويحيى بن يعمر
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মসজিদে উপবিষ্ট থাকাকালীন এক ব্যক্তি উটে চড়ে প্রবেশ করলেন। তিনি মসজিদের ভেতর উটটি বসিয়ে সেটিকে বাঁধলেন। অতঃপর তিনি উপস্থিতদের জিজ্ঞেস করলেন: "আপনাদের মধ্যে মুহাম্মাদ কে?" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন তাঁদের মাঝে হেলান দিয়ে উপবিষ্ট ছিলেন। সাহাবীগণ বললেন: "এই যে ফর্সা রঙের হেলান দিয়ে বসা ব্যক্তিটিই তিনি।" তখন আগন্তুক তাঁকে সম্বোধন করে বললেন: "হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র!" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে উত্তর দিলেন: "আমি তোমার কথা শোনার জন্য প্রস্তুত।" লোকটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: "আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসা করব এবং প্রশ্নের ক্ষেত্রে কঠোর হব, এতে আপনি মনে কিছু নেবেন না।" তিনি বললেন: "তোমার মনে যা উদিত হয় তা-ই জিজ্ঞাসা করো।" সে বলল: "আমি আপনার প্রতিপালকের দোহাই দিয়ে এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতিপালকের দোহাই দিয়ে আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কি আপনাকে সকল মানুষের নিকট রাসুল হিসেবে পাঠিয়েছেন?" তিনি উত্তর দিলেন: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।" লোকটি বলল: "আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন?" তিনি উত্তর দিলেন: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।" লোকটি পুনরায় বলল: "আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমাদের ধনীদের থেকে এই সদকা গ্রহণ করে তা আমাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করার জন্য?" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর দিলেন: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।" তখন লোকটি বললেন: "আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর আমি ঈমান আনলাম। আমি আমার গোত্রের জন্য প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি। আমি হলাম দ্বিমাম ইবন সা'লাবা, বনু সা'দ ইবন বাকর গোত্রের সদস্য।" (১) .
বিচার ও ফয়সালা সংক্রান্ত বিষয়ে বুখারি একটি অনুচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন যার শিরোনাম দিয়েছেন: 'মসজিদে বিচারকার্য সম্পাদন এবং লিয়ান (لعان) করার অধ্যায়'। এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, উমর (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মিম্বরের নিকট লিয়ান (لعان) করিয়েছেন; এবং শুরাইহ, শাবি ও ইয়াহইয়া ইবন ইয়ামুর মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ২২)
في المسجد، وقضى مروان على زيد بن ثابت باليمين عند المنبر، وكان الحسن وزرارة بن أوفى يقضيان في الرحبة خارجا من المسجد (1) .
وأورد أيضًا بابًا سماه: باب من حكم في المسجد، وأورد فيه حديث أبي هريرة رضي الله عنه في حكمه صلى الله عليه وسلم على ماعز رضي الله عنه وهو في المسجد ما ورد بسنده إلى أبي هريرة رضي الله عنه قال: «أتى رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في المسجد فناداه فقال: يا رسول الله إني زنيت فأعرض عنه، فلما شهد على نفسه أربعًا قال: أبك جنون؟ قال: لا، قال: (اذهبوا فارجموه) » (2) .
ومثل الفتوى الصلح بين الناس، وحل مشكلاتهم، وفك نزاعاتهم، وتسوية خصوماتهم، روى البخاري رحمه الله عن كعب بن مالك رضي الله عنه «أنه تقاضى ابن أبي حدرد دينًا كان عليه في المسجد، فارتفعت أصواتهما حتى سمعهما رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في بيته، فخرج إليهما حتى كشف حجرته فنادى: يا كعب، قال: لبيك يا رسول
--------------------------------------------
মসজিদে, এবং মারওয়ান যায়েদ বিন সাবিতকে মিম্বরের নিকট শপথ করার ফয়সালা প্রদান করেন, আর হাসান ও যুরারাহ বিন আওফা মসজিদের বাইরে উন্মুক্ত চত্বরে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন (১)।
তিনি আরও একটি পরিচ্ছেদ উল্লেখ করেছেন যার শিরোনাম দিয়েছেন: 'মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনার পরিচ্ছেদ', এবং সেখানে তিনি মসজিদে অবস্থানকালে মা'ইয (রা.)-এর প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দণ্ডাদেশ সংক্রান্ত আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন যা তাঁর সনদ (سند)-সহ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট আসলেন যখন তিনি মসজিদে ছিলেন, অতঃপর তাকে ডেকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন, অতঃপর যখন সে নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য দিল, তিনি বললেন: তোমার কি মস্তিষ্কবিকৃতি ঘটেছে? সে বলল: না। তিনি বললেন: (তোমরা একে নিয়ে যাও এবং রজম (رجم) করো)» (২)।
ফতোয়া প্রদানের মতোই মানুষের মধ্যে সমঝোতা করা, তাদের সমস্যার সমাধান করা, বিবাদ মীমাংসা করা এবং তাদের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করা (মসজিদে হতে পারে)। ইমাম বুখারি (রহ.) কাব বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, «তিনি মসজিদে ইবনে আবি হাদরাদের নিকট তাঁর পাওনা ঋণের তাগাদা দিচ্ছিলেন, একপর্যায়ে তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ হয়ে গেল যা রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ঘরে থাকা অবস্থায় শুনতে পেলেন। অতঃপর তিনি তাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন এবং তাঁর কামরার পর্দা সরিয়ে ডাক দিলেন: হে কাব! তিনি বললেন: লাব্বাইক হে আল্লাহর রাসূল...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الله، قال: ضع من دينك هذا، وأومأ إليه، أي الشطر، قال: لقد فعلت يا رسول الله، قال: (قم فاقضه) » (1) .
وغير ذلك من النصوص النبوية التي تفيد أن من مهمات المسجد كونه ميدانًا للفتوى، والإجابة عن أسئلة الناس وحل مشكلاتهم وما يطرأ عليهم، ويمكن أن يقترح هنا، أن إمام المسجد يقوم بهذه المهمة الجليلة، أو تسند لأحد العلماء الذين يصلون فيه، ويرجع إليهم عند المحاكم وتبقى جهات محتسبة، وبهذا سنجني الفوائد الظاهرة الآتية:
أ- تخفيف المشكلات بعامة.
ب- تخفيف المراجعات وجهات السلطة.
ج- عدم إطالة وتعقيد المشكلات.
د- سريان روح التفاهم بين المتخاصمين.
هـ- إيجاد سبل للتعاون بين أبناء المجتمع.
و القضاء على كثير من المشكلات والمنكرات.
[المسجد مأوى للمحتاجين وسكن للغرباء]8 - المسجد مأوى للمحتاجين وسكن للغرباء: لقد اشتهر في السنّة وجود مكان ملحق بالمسجد يسمى
--------------------------------------------
আল্লাহ (র কসম), তিনি বললেন: তোমার এই পাওনা থেকে কিছু কমিয়ে দাও, এবং তিনি ইশারা করলেন—অর্থাৎ অর্ধেক। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি তাই করলাম। তিনি বললেন: (ওঠো এবং তা আদায় করো) » (১) ।
এবং এ জাতীয় অন্যান্য নববী উদ্ধৃতি (نصوص) যা প্রমাণ করে যে, মসজিদের অন্যতম দায়িত্ব হলো একে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা, মানুষের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা এবং তাদের সমস্যাবলি ও উদ্ভূত বিষয়াদির সমাধান করা। এখানে প্রস্তাব করা যেতে পারে যে, মসজিদের ইমাম এই মহান দায়িত্ব পালন করবেন, অথবা এটি সেখানে নামাজ আদায়কারী আলেমদের মধ্য হতে কোনো একজনের ওপর ন্যস্ত করা যেতে পারে, যাঁর কাছে বিচারিক বিষয়েও প্রত্যাবর্তন করা সম্ভব হবে এবং তদারকি কর্তৃপক্ষও (حسبة) বহাল থাকবে। এর মাধ্যমে আমরা নিম্নোক্ত স্পষ্ট সুফলসমূহ লাভ করব:
ক- সাধারণভাবে সমস্যাবলি লাঘব হওয়া।
খ- সরকারি কর্তৃপক্ষ ও দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ হ্রাস পাওয়া।
গ- সমস্যা দীর্ঘায়িত ও জটিল না হওয়া।
ঘ- বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মনোভাব তৈরি হওয়া।
ঙ- সমাজের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পথ তৈরি হওয়া।
চ- অনেক সমস্যা ও অপকর্মের (منكرات) অবসান ঘটা।
[অভাবগ্রস্তদের আশ্রয়স্থল এবং মুসাফিরদের আবাসস্থল হিসেবে মসজিদ]৮ - অভাবগ্রস্তদের আশ্রয়স্থল এবং মুসাফিরদের আবাসস্থল হিসেবে মসজিদ: সুন্নাহর (سنة) মাঝে এটি প্রসিদ্ধ যে, মসজিদের সাথে সংযুক্ত একটি স্থান থাকত যাকে বলা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الصفة في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يأوي إليه من لا سكن له من الفقراء وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يرعاهم، ويعطف عليهم ويهدي لهم، ويطلب لهم شيئًا من الصدقة.
روى البخاري رحمه الله تعالى عن أنس رضي الله عنه قال: «قدم رهط من عكل على النبي صلى الله عليه وسلم فكانوا في الصفة» وعطف النبي صلى الله عليه وسلم عليهم، وخصهم إياه بالصدقة أمر معلوم في السنة، روى مسلم رحمه الله عن جرير رضي الله عنه قال: «كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم في صدر النهار، فجاءه قوم حفاة عراة، مجتابي النمار (وهي الثياب من الصوف يلبسونها) متقلدي السيوف، عامتهم من مضر، فتمعر وجه النبي صلى الله عليه وسلم لما رأى بهم من الفاقة، فدخل ثم خرج، فأمر بلالًا فأذن وأقام فصلى، ثم خطب فقال: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ} [النساء: 1] إلى آخر الآية، والآية التي في سورة الحشر: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ} [الحشر: 18] تصدق رجل من ديناره، من درهمه، من ثوبه، من صاع بره، من صاع تمره، حتى قال: (وبشق تمرة) قال: فجاء رجل من الأنصار بصرة كانت كفه تعجز عنها، بل عجزت، قال: تتابع الناس
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে সুফফাহ ছিল এমন একটি আশ্রয়স্থল, যেখানে সেসব দরিদ্র ব্যক্তিরা আশ্রয় নিতেন যাদের কোনো থাকার জায়গা ছিল না। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদের দেখাশোনা করতেন, তাঁদের প্রতি মমতা প্রদর্শন করতেন, তাঁদের উপহার প্রদান করতেন এবং তাঁদের জন্য সদকার (দান) সাহায্য চাইতেন।
ইমাম বুখারি (রহ.) আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "উক্ল গোত্রের একটি দল নবী (সা.)-এর নিকট আগমন করলে তাঁরা সুফফাহ-তে অবস্থান করেন।" নবী (সা.)-এর তাঁদের প্রতি সদয় হওয়া এবং তাঁদের জন্য বিশেষভাবে সদকা নির্ধারণ করার বিষয়টি সুন্নাহর (سنة) একটি সুবিদিত বিষয়। ইমাম মুসলিম (রহ.) জারির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা দিনের প্রথমাংশে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট ছিলাম। তখন তাঁর নিকট একদল লোক এল যারা ছিল নগ্নপদ ও বস্ত্রহীন। তারা পশমের তৈরি লম্বা চাদর (যা তারা পরিধান করত) ছিদ্র করে গলার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছিল এবং তাদের কাঁধে তরবারি ঝুলছিল। তাদের অধিকাংশই ছিল মুদার গোত্রের। তাদের এই চরম অভাবগ্রস্ত অবস্থা দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারার রং বদলে গেল। তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং পরে পুনরায় বেরিয়ে এলেন। অতঃপর তিনি বিলাল (রা.)-কে নির্দেশ দিলে তিনি আযান ও একামত দিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) সালাত আদায় করলেন এবং ভাষণ প্রদান করলেন। তিনি বললেন: 'হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন...' [আন-নিসা: ১] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আর সূরা হাশরের এই আয়াতটিও পাঠ করলেন: 'হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত এটা লক্ষ্য করা যে, সে আগামীকালের জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো...' [আল-হাশর: ১৮]। (তাঁর কথা শুনে) কেউ তার স্বর্ণমুদ্রা থেকে, কেউ রৌপ্যমুদ্রা থেকে, কেউ কাপড় থেকে, কেউ এক সা গম থেকে এবং কেউ এক সা খেজুর থেকে সদকা করল। এমনকি তিনি বললেন: 'একটি খেজুরের অর্ধেক দিয়ে হলেও যেন সদকা করে।' বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আনসারদের এক ব্যক্তি একটি থলি নিয়ে আসলেন যা বহন করতে তার হাত অক্ষম হয়ে পড়ছিল, বরং তা বহন করা তার সাধ্যের অতীত ছিল। অতঃপর মানুষ ধারাবাহিকভাবে দান করতে শুরু করল।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
حتى رأيت كومين من طعام وثياب، حتى رأيت وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم يتهلل كأنه مذهبة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (من سن في الإسلام سنة حسنة فله أجرها، وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة من غير أن ينقص من أجورهم شيء، ومن سنَّ في الإسلام سُنة سيئة كان عليه وزرها ووزر من عمل بها من بعده من غير أن ينقص من أوزارهم شيء) » (1) . وقصة الصحابي الجليل أبي هريرة رضي الله عنه في جوعه وملاقاته لأبي بكر وعمر رضي الله عنهما، ثم ملاقاته للرسول صلى الله عليه وسلم مشهورة معلومة. وغيرها مما هو معلوم ومشتهر، فالمسجد رباط يأوي إليه أصحاب الحاجات الذين لا يجدون ما يأكلون أو هم غرباء عن أوطانهم (2) ويمكن تكييف الصور التي تتلائم مع طبيعة هذا العصر، من التوسع الملحوظ، والامتداد المشهود، وتعدد الوسائل المتاحة.
ومن هذه الصور المقدرة مبدئيا أن يكون في المساجد التي
--------------------------------------------
এমনকি আমি খাদ্য ও বস্ত্রের দুটি স্তূপ দেখতে পেলাম, অবশেষে আমি দেখলাম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে যেন তা স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া কোনো বস্তু। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম পদ্ধতি (سنة حسنة) প্রবর্তন করল, তার জন্য রয়েছে এর প্রতিদান এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা এর ওপর আমল করবে তাদের প্রতিদানও, অথচ তাদের প্রতিদান থেকে সামান্যও হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতি (سنة سيئة) প্রবর্তন করল, তার ওপর বর্তাবে এর পাপ এবং যারা এরপর এর ওপর আমল করবে তাদের পাপও, অথচ তাদের পাপ থেকে সামান্যও হ্রাস করা হবে না) » (১)। এবং মহান সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ক্ষুধার কাহিনী এবং আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ, অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর সাক্ষাতের বিষয়টি প্রসিদ্ধ (مشهور) ও সুপরিচিত। এছাড়াও অন্যান্য আরও বিষয় রয়েছে যা সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ (مشهور)। সুতরাং মসজিদ হলো একটি আশ্রয়স্থল (رباط), যেখানে অভাবী ব্যক্তিরা আশ্রয় গ্রহণ করেন যারা আহার করার মতো কিছু খুঁজে পান না অথবা যারা নিজ মাতৃভূমি থেকে আসা আগন্তুক (২)। বর্তমানে এই যুগের প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করা সম্ভব, যা লক্ষণীয় প্রসার, দৃশ্যমান বিস্তৃতি এবং বিদ্যমান উপকরণের বহুবিধ ব্যবহারের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে।
প্রাথমিকভাবে অনুমিত এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি হলো সেই সকল মসজিদে থাকা যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
تنشأ حديثًا مكان خاص للإفطار في شهر رمضان، أو لإيواء طلبة علم، أو محتاجين، ويبقى هذا الأمر تحت نظر الإمام ومسئوليته، أو الهيئة الإدارية المحتسبة. ويمكن أن يكون ذلك ضمن البرامج الشاملة في المسجد المتعددة الأغراض.
[المسجد مقر للشورى والالتقاء]9 - المسجد مقر للشورى والالتقاء: من المشروع المستحب في المسجد أن يجتمع فيه أهل الحي، يتشاورون فيه عما تصلح به أحوالهم، وعن المهمات الملقاة على عاتقهم، بل قد يكون أكبر من مستوى الحي إلى مستويات أعلى.
وقد كان كذلك في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فأغلب مشاوراته صلى الله عليه وسلم كانت في المسجد، وكذا صحابته الكرام من الخلفاء الراشدين ومن بعدهم، يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: (وكانت مواضع الأئمة ومجامع الأمة هي المساجد، فإن النبي صلى الله عليه وسلم أسس مسجده المبارك على التقوى، فيه الصلاة والقراءة، والذكر، وتعليم العلم، والخطب وفيه السياسة وعقد الألوية والرايات وتأمير الأمراء، وتعريف العرفاء، وفيه يجتمع المسلمون لما أهمهم من أمر دينهم ودنياهم، وكذلك عماله في مكة، والطائف
রমজান মাসে ইফতারের জন্য, অথবা ইলম অন্বেষী শিক্ষার্থী ও অভাবগ্রস্তদের আশ্রয়ের জন্য আধুনিককালে বিশেষ স্থান তৈরি করা হয়। এই বিষয়টি ইমামের তত্ত্বাবধান ও তাঁর দায়িত্বে থাকে, অথবা স্বেচ্ছাসেবক প্রশাসনিক কমিটির অধীনে পরিচালিত হয়। এটি বহুমুখী মসজিদের সমন্বিত কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
[পরামর্শ ও সাক্ষাতের কেন্দ্র হিসেবে মসজিদ]৯ - পরামর্শ ও সাক্ষাতের কেন্দ্র হিসেবে মসজিদ: মসজিদের অন্যতম একটি মুস্তাহাব (مستحب) বিধান হলো, মহল্লার অধিবাসীরা সেখানে সমবেত হবে। তারা তাদের অবস্থার সংশোধন এবং তাদের ওপর অর্পিত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বসমূহ নিয়ে সেখানে পরামর্শ করবে। এমনকি এটি কেবল মহল্লাভিত্তিক নয়, বরং এর চেয়েও উচ্চতর পর্যায়ে হতে পারে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগেও বিষয়টি এমনই ছিল; তাঁর অধিকাংশ পরামর্শ সভাই মসজিদে অনুষ্ঠিত হতো। একইভাবে খুলাফায়ে রাশিদিন এবং তাঁদের পরবর্তী সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর ছিল। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) বলেন: (মসজিদসমূহ ছিল ইমামদের অবস্থানস্থল এবং উম্মাহর সম্মিলন কেন্দ্র। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকওয়ার ওপর তাঁর বরকতময় মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেখানে সালাত, তিলাওয়াত, জিকির, ইলম শিক্ষা এবং খুতবা প্রদান করা হতো। এছাড়া সেখানে রাজনীতি পরিচালনা, যুদ্ধাভিযানের পতাকা ও নিশান প্রদান, আমীর নিয়োগ এবং গোত্র-প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পন্ন হতো। মুসলমানরা তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মসজিদে সমবেত হতো। মক্কা ও তায়েফে তাঁর প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ ছিল।)
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وبلاد اليمن وغير ذلك من الأمصار والقرى، وكذلك عماله على البوادي، فإنه لهم مجمعًا، فيه يصلون، وفيه يساسون، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم : « (إن بني إسرائيل كانت تسوسهم الأنبياء كلما ذهب نبي خلفه نبي، وإنه لا نبي بعدي، وستكون خلفاء تعرفون وتنكرون) ، قالوا: فماذا تأمرنا؟ قال: (أوفوا ببيعة الأول فالأول، واسألوا الله ما لكم، فإن الله سائلهم عما استرعاهم) » ، وكان الخلفاء والأمراء يسكنون في بيوتهم كما يسكن سائر المسلمين في بيوتهم، لكن مجلس الإمام الجامع هو المسجد الجامع) (1) .
ويمكن تطبيق هذه الصورة بعد التوسع في المدن أن يكون مجلس إمام المسجد، أو عمدة الحي، أو العالم الموجود في الحي للتشاور فيما بينهم فيما يهم المصلين، وهذا الالتقاء له فوائده العديدة وثماره اليافعة، ويكفي أن يلتقي جملة من المصلين للتشاور فيما بينهم في بيت من بيوت الله تعلوهم السكينة، وتجمعهم تقوى الله تعالى، ومن خلال هذا التشاور يعدلون سلوك مخطئ، ويتنبهون لمريض فقدوه، ويطلعون على أحوال فقير فيساعدوه، ومحتاج فيعينوه، أو مديون فيتحملون عنه دينه أو شيئًا منه. . . وهكذا.
--------------------------------------------
এবং ইয়েমেন দেশ ও অন্যান্য শহর ও গ্রামসমূহ, তেমনিভাবে মরু অঞ্চলে তাঁর নিযুক্ত কর্মকর্তাগণ; মসজিদই ছিল তাদের সম্মিলনস্থল, যেখানে তারা সালাত আদায় করতেন এবং যেখানে তাদের প্রশাসনিক কার্যাবলি পরিচালিত হতো। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: « (নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈলকে নবীগণ শাসন করতেন; যখনই কোনো নবী মৃত্যুবরণ করতেন, অন্য একজন নবী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন। আর নিশ্চয়ই আমার পরে কোনো নবী নেই, তবে অচিরেই অনেক খলিফা হবে যাদের কাজ তোমরা পছন্দ করবে এবং অপছন্দ করবে) , তারা জিজ্ঞেস করলেন: তবে আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: (তোমরা পর্যায়ক্রমে প্রথমজনের বায়আত পূর্ণ করবে এবং আল্লাহর কাছে তোমাদের প্রাপ্য অধিকার প্রার্থনা করবে। কেননা আল্লাহ তাদের নিকট সেই প্রজাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন যাদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তিনি তাদের দিয়েছিলেন) » , খলিফা ও আমিরগণ তাঁদের নিজ নিজ বাড়িতেই বসবাস করতেন, যেমনটি সাধারণ মুসলিমগণ তাঁদের বাড়িতে বসবাস করতেন। কিন্তু ইমামের সাধারণ সমাবেশের স্থান ছিল জামে মসজিদ (১)।
শহরগুলোর বিস্তৃতির পর এই চিত্রটি বর্তমানে এভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব যে, মসজিদের ইমামের মজলিস, অথবা এলাকার প্রধান, কিংবা এলাকার বিজ্ঞ আলেম মুসল্লিদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নিয়ে নিজেদের মধ্যে পরামর্শের জন্য বসবেন। এই সাক্ষাতের রয়েছে বহুবিধ উপকারিতা এবং সুদূরপ্রসারী সুফল। একদল মুসল্লির জন্য আল্লাহর কোনো একটি ঘরে নিজেদের মধ্যে পরামর্শের জন্য একত্রিত হওয়াটাই যথেষ্ট, যেখানে তাদের মাঝে প্রশান্তি বিরাজ করবে এবং আল্লাহর প্রতি তাকওয়া তাদের ঐক্যবদ্ধ করবে। এই পরামর্শের মাধ্যমে তারা কোনো ভুলকারীর আচরণ সংশোধন করতে পারবেন, অসুস্থ কোনো অনুপস্থিত ব্যক্তির খোঁজ নিতে পারবেন, কোনো দরিদ্রের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে তাকে সাহায্য করতে পারবেন এবং কোনো অভাবগ্রস্তকে সহযোগিতা বা কোনো ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণের সম্পূর্ণ বা আংশিক দায়ভার গ্রহণ করতে পারবেন... এভাবেই এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
[صيانة المسجد وتنظيفه]10 - صيانة المسجد وتنظيفه: من المشروع المستحب عمله في المسجد صيانته وتنظيفه، وتفقده من حيث إنارته، وتوصيل المياه إليه، وتوفير أدوات النظافة، وتوظيف من يقوم بذلك، ورعاية فرشه وتطييبه وإصلاح ما يفسد منه، ولا شك أن في ذلك أجرًا وثوابًا من عند الله سبحانه وتعالى.
روى أبو داود رحمه الله عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «عرضت علي أجور أمتي حتى القذاة يخرجها الرجل من المسجد، وعرضت علي ذنوب أمتي، فلم أر ذنبًا أعظم من سورة من القرآن أو آية أوتيها الرجل ثم نسيها» (1) .
وروى البخاري رحمه الله عن أبي هريرة رضي الله عنه «أن رجلا أسود أو امرأة سوداء- كان يقم المسجد فمات، فسأل النبي صلى الله عليه وسلم عنه فقالوا: مات، قال: (أفلا آذنتموني به، دلوني على قبره، أو قال قبرها، فأتى قبره فصلى عليه) » (2) .
--------------------------------------------
[মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা]১০ - মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা: মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা শরিয়তসম্মত মুস্তাহাব (مستحب) আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি মসজিদের আলোকসজ্জা তদারকি করা, পানির সংস্থান করা, পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা করা, এ কাজের জন্য কর্মী নিয়োগ করা, বিছানাপত্রের যত্ন নেওয়া, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং যা কিছু বিনষ্ট হয় তা মেরামত করাও এর অন্তর্ভুক্ত। নিঃসন্দেহে এতে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে পুণ্য ও সওয়াব রয়েছে।
ইমাম আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমার উম্মতের সওয়াবসমূহ আমার নিকট পেশ করা হয়েছে, এমনকি সেই ক্ষুদ্র ধূলিকণাটিও যা কোনো ব্যক্তি মসজিদ থেকে বের করে দেয়। আর আমার উম্মতের গুনাহসমূহ আমার নিকট পেশ করা হয়েছে, তবে আমি এমন কোনো গুনাহ দেখিনি যা সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় যাকে কোরআনের কোনো সূরা বা আয়াত দান করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সে তা ভুলে গেছে» (১)।
ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, «একজন কৃষ্ণবর্ণের পুরুষ অথবা একজন কৃষ্ণবর্ণের নারী—যিনি মসজিদ ঝাড়ু দিতেন—তিনি ইন্তেকাল করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বললেন: তিনি মারা গেছেন। তিনি বললেন: (তোমরা আমাকে কেন অবহিত করলে না? আমাকে তাঁর কবরের পথ দেখিয়ে দাও, অথবা তিনি বললেন: তাঁর কবরের।) অতপর তিনি তাঁর কবরের নিকট আসলেন এবং তাঁর জানাজার সালাত আদায় করলেন» (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وبوب البخاري لهذا الحديث في صحيحه: باب كنس المسجد والتقاط الخرق والقذى والعيدان (1) .
قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: (في الحديث فضل تنظيف المسجد، فإن قيل دل الحديث على كنس المسجد فمن أين يؤخذ التقاط الخرق والقذى والعيدان؟ فأجاب بعض المتأخرين بأنه يؤخذ بالقياس عليه، والجامع مع التنظيف. والذي يظهر لي من تصرف البخاري أنه أشار بكل ذلك إلى ما ورد في بعض طرقه حديثا، كانت تلتقط الخرق والعيدان من المسجد وفي حديث بريدة (كانت مولعة بلقط القذى من المسجد) (2) .
قال النووي رحمه الله: يسن كنس المسجد وتنظيفه وإزالة ما يرى فيه من نخامة أو بصاق ونحوه وهو أمر مجمع عليه، بل يرى بعض أهل العلم أن تنظيفه واجب.
ومما روي في تطييب المسجد وتبخيره ما رواه أبو داود والترمذي وغيرهما، عن عائشة رضي الله عنها قالت: «أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم ببناء المساجد في الدور، وأن تنظف
--------------------------------------------
ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এই হাদিসটির জন্য একটি অধ্যায় রচনা করেছেন: 'মসজিদ ঝাড়ু দেওয়া এবং ন্যাকড়া, ময়লা ও কাঠি কুড়িয়ে নেওয়ার অধ্যায়' (১)।
হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এই হাদিসে মসজিদ পরিষ্কার করার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, হাদিসটি মসজিদ ঝাড়ু দেওয়ার প্রমাণ দেয়, তবে ন্যাকড়া, ময়লা ও কাঠি কুড়িয়ে নেওয়ার বিষয়টি কোথা থেকে গৃহীত হলো? এর উত্তরে পরবর্তী যুগের (متأخرين) কিছু আলিম বলেছেন যে, একে তুলনামূলক অনুমানের (قياس) ভিত্তিতে এর ওপর কিয়াস করা হয়েছে, যার সাধারণ যোগসূত্র হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। তবে ইমাম বুখারির কর্মপদ্ধতি থেকে আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তিনি এর মাধ্যমে হাদিসের কোনো কোনো সূত্রে বর্ণিত বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, 'তিনি (ঐ নারী) মসজিদ থেকে ন্যাকড়া ও কাঠি কুড়িয়ে নিতেন'। আর বুরাইদাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, 'তিনি মসজিদ থেকে ময়লা কুড়াতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন'" (২)।
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: মসজিদ ঝাড়ু দেওয়া, পরিষ্কার করা এবং তাতে শ্লেষ্মা, থুতু বা অনুরূপ যা কিছু দেখা যায় তা দূর করা সুন্নাত (سنة)। এটি একটি সর্বসম্মত (مجمع عليه) বিষয়; বরং কোনো কোনো বিজ্ঞ আলিম মনে করেন যে, মসজিদ পরিষ্কার করা আবশ্যক (واجب)।
মসজিদকে সুগন্ধযুক্ত করা এবং ধূপায়িত করার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে আবু দাউদ, তিরমিজি এবং অন্যান্যদের বর্ণিত হাদিস, যা আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) মহল্লায় মসজিদ নির্মাণের এবং তা পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وتطيب» قال سفيان: بناء المساجد في الدور يعني في القبائل.
وصور التنظيف والصيانة تختلف من مسجد لآخر فالمساجد قديمًا لم تكن كمساجد اليوم من حيث أرضيتها، ولا من حيث جدرانها أو فرشها، فكل مسجد بحسبه، وما كان في حكم التنظيف داخل فيه كالإنارة والتكييف وغيرها، ويذكر أن أول من قام بإنارة المسجد الخليفة الراشد عمر بن الخطاب رضي الله عنه عندما جمع الناس في صلاة التراويح على أبي بن كعب، فقال علي رضي الله عنه : نورت مساجدنا نور الله قبرك يا ابن الخطاب، وهكذا فمن الأعمال الفاضلة رعاية المساجد والقيام على صيانتها، والاهتمام بها، عظم الله الأجور.
[المكث في المسجد]11 - المكث في المسجد: ومجرد المكث فيه خير عظيم، وهو عمل فاضل، وإذا ما صوحب بأعمال أخرى كان أعظم وأفضل كنية الاعتكاف، وقراءة القرآن، وذكر الله تعالى، أو القيام بأعمال أخرى كالنظافة والصيانة، أو تعليم العلم ونحو ذلك.
এবং সুগন্ধিময় করা।" সুফিয়ান বলেন: ঘরবাড়িতে অর্থাৎ গোত্রসমূহের মাঝে মসজিদ নির্মাণ করা।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ধরণ এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদে ভিন্ন হয়। কারণ প্রাচীনকালের মসজিদগুলো বর্তমান সময়ের মসজিদগুলোর মতো ছিল না—সেগুলোর মেঝে, দেয়াল কিংবা বিছানাপত্রের দিক থেকে। সুতরাং প্রতিটি মসজিদ তার অবস্থা অনুযায়ী (পরিচ্ছন্ন রাখা হবে)। আর যা কিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার হুকুমের অন্তর্ভুক্ত, তা এর মাঝে শামিল হবে, যেমন—আলোকসজ্জা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ইত্যাদি। উল্লেখ্য যে, সর্বপ্রথম যিনি মসজিদে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করেন তিনি হলেন খলিফায়ে রাশেদ উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.), যখন তিনি তারাবির সালাতে উবাই ইবনে কাবের পেছনে মানুষকে একত্রিত করেছিলেন। তখন আলী (রা.) বলেছিলেন: "আপনি আমাদের মসজিদগুলোকে আলোকিত করেছেন, আল্লাহ আপনার কবরকে আলোকিত করুন হে ইবনুল খাত্তাব!" এভাবেই মসজিদগুলোর যত্ন নেওয়া, রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং সেগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা উত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ প্রতিদানকে মহান করুন।
[মসজিদে অবস্থান করা]১১ - মসজিদে অবস্থান করা: মসজিদে কেবল অবস্থান করাও এক বিশাল কল্যাণ এবং এটি একটি ফযিলতপূর্ণ (فاضل) আমল। আর যদি এর সাথে অন্য আমলসমূহ যুক্ত করা হয়, তবে তা হবে অধিক মহৎ ও উত্তম; যেমন—ইতিকাফের (اعتكاف) নিয়ত করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, মহান আল্লাহর যিকির করা, অথবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো অন্য কোনো কাজে নিয়োজিত থাকা, কিংবা দ্বীনি শিক্ষা প্রদান করা এবং এই জাতীয় কাজ।
(খণ্ড: ১)
আল-মাশরু ওয়াল মামনু ফিল মাসজিদ - ফালিহ আস-সাগীর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
جاء في حديث أبي هريرة رضي الله عنه في الذين يظلهم الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله: «ورجل قلبه معلق في المساجد» (1) .
فأي فضل أعظم من ذلك، يوم يتعب الناس من شدة الحر، وقرب الشمس، فهذا الذي تعلق قلبه بالمسجد ينال هذا الفضل الكبير، فضلا عمن مكث فيه.
وروى الإمام أحمد رحمه الله عن بلال رضي الله عنه «جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم يؤذنه في الصلاة فوجده يتسحر في مسجد بيته» (2) .
[المشروع فعله إباحة]
[الأكل والشرب]12 - المشروع فعله إباحة: أ - الأكل والشرب: من الأشياء المباحة الأكل والشرب في المسجد وبخاصة للمعتكف، يقول النووي رحمه الله: (ولا بأس بالأكل والشرب في المسجد ووضع المائدة فيه) (3) .
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আল্লাহ যাদেরকে তাঁর ছায়ায় স্থান দেবেন যে দিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না: «আর সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে» (১)।
এর চেয়ে বড় মর্যাদা আর কী হতে পারে? যে দিন মানুষ প্রচণ্ড উত্তাপ ও সূর্যের নৈকট্যের কারণে ক্লান্ত-বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে, তখন সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকত, সে এই মহান মর্যাদা লাভ করবে; আর যে ব্যক্তি সেখানে অবস্থান করত তার মর্যাদা তো বলাই বাহুল্য।
ইমাম আহমাদ (রহ.) বিলাল (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, «তিনি নবি (সা.)-এর নিকট সালাতের সংবাদ দিতে আসলেন এবং তাঁকে তাঁর ঘরের মসজিদে সাহরি খেতে দেখলেন» (২)।
[যা করা বৈধ]
[পানাহার করা]12 - যা করা বৈধ: ক - পানাহার: মসজিদের ভেতরে পানাহার করা বৈধ কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত, বিশেষ করে ইতিকাফকারীর জন্য। ইমাম নববী (রহ.) বলেন: (মসজিদে পানাহার করা এবং সেখানে দস্তরখান বিছানোতে কোনো দোষ নেই) (৩)।
--------------------------------------------