(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: -)
من الأحكام الفقهية في الطهارة والصلاة والجنائز   (ابن عثيمين)

القسم: الفقه العام


الكتاب: من الأحكام الفقهية في الطهارة والصلاة والجنائز

المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)

الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1420هـ

عدد الصفحات: 68

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পবিত্রতা, নামাজ ও জানাজার কিছু ফিকহী বিধান   (ইবনে উসাইমিন)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: পবিত্রতা, নামাজ ও জানাজার কিছু ফিকহী বিধান

লেখক: মুহাম্মদ বিন সালেহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমিন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরি)

প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২০ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[الرسالة الأولى الطهارة]

‌‌[الوضوء]

من الأحكام الفقهية

في

الطهارة والصلاة والجنائز

بسم الله الرحمن الرحيم

الرسالة الأولى: الطهارة - الوضوء.

- الغسل.

- التيمم.

- المسح على الخفين.

- طهارة المريض وصلاته
[প্রথম পুস্তিকা: পবিত্রতা (الطهارة)]

[অজু (الوضوء)]

ফিকহী বিধিবিধান থেকে

বিষয়:

পবিত্রতা (الطهارة), নামাজ এবং জানাজা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

প্রথম পুস্তিকা: পবিত্রতা (الطهارة) - অজু (الوضوء)।

- গোসল (الغسل)।

- তায়াম্মুম (التيمم)।

- মোজার ওপর মাসেহ (المسح على الخفين) করা।

- অসুস্থ ব্যক্তির পবিত্রতা (الطهارة) অর্জন ও তার নামাজ
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ৭)
الوضوء الوضوء: - طهارة واجبة من الحدث الأصغر، كالبول والغائط والريح والنوم العميق وأكل لحم الإبل.

مما ورد في فضله: -

عن عمر رضي الله عنه عن النبي، صلى الله عليه وسلم، أنه قال: «ما منكم من أحد يتوضأ فيسبغ الوضوء، ثم يقول: أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، اللهم اجعلني من التوابين واجعلني من المتطهرين، إلا فتحت له أبواب الجنة الثمانية يدخل من أيها شاء» .

وعن عثمان رضي الله عنه أن النبي، صلى الله عليه وسلم، قال: «من توضأ فأحسن الوضوء خرجت خطاياه من جسده حتى تخرج من تحت أظفاره» . رواه مسلم.

وعن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أن النبي، صلى الله عليه وسلم، قال: «إسباغ الوضوء على المكاره،
ওযু: ওযু: - এটি ছোট অপবিত্রতা (الحدث الأصغر) থেকে অর্জিত একটি অপরিহার্য (واجبة) পবিত্রতা (طهارة); যেমন: প্রস্রাব, মল, বায়ু, গভীর নিদ্রা এবং উটের গোশত ভক্ষণ।

এর ফজিলত (فضيلة) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে: -

উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে ওযু করে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে ওযু সম্পাদন (إسبাغ الوضوء) করে, অতঃপর বলে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন, তবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে, সে এর যে কোনোটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে»।

উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং উত্তমরূপে ওযু সম্পাদন (أحسن الوضوء) করবে, তার শরীর থেকে তার গুনাহসমূহ বের হয়ে যাবে, এমনকি তার নখের নিচ থেকেও তা বের হয়ে যাবে»। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: «কষ্টকর পরিস্থিতিতেও পূর্ণাঙ্গভাবে ওযু সম্পাদন (إسباغ الوضوء) করা...
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ৮)
وإعمال الإقدام إلى المساجد، وانتظار الصلاة بعد الصلاة يغسل الخطايا غسلا» .

كيفية الوضوء: 1 - أن ينوي الوضوء بقلبه بدون نطق بالنية؛ لأن النبي، صلى الله عليه وسلم، لم ينطق بالنية في وضوئه ولا صلاته ولا شيء من عباداته، ولأن الله يعلم ما في القلب فلا حاجة أن يخبر عما فيه.

2 - ثم يسمي فيقول: " بسم الله".

3 - ثم يغسل كفيه ثلاث مرات.

4 - ثم يتمضمض ويستنشق بالماء ثلاث مرات.

5 - ثم يغسل وجهه ثلاث مرات من الأذن إلى الأذن عرضا، ومن منابت شعر الرأس إلى أسفل اللحية طولا.

6 - ثم يغسل يديه ثلاث مرات من رؤوس الأصابع إلى المرفقين، يبدأ باليمنى ثم اليسرى.

7 - ثم يمسح رأسه مرة واحدة، يبل يديه ثم يمرها من مقدم رأسه إلى مؤخره ثم يعود إلى مقدمه.
এবং মসজিদের দিকে পদচারণা করা এবং এক সালাতের পর পরবর্তী সালাতের জন্য অপেক্ষা করা গুনাহসমূহকে সম্পূর্ণরূপে বিধৌত করে দেয়।

অজুর পদ্ধতি: ১ - অন্তরে অজুর নিয়ত করা, মুখে তা উচ্চারণ না করে; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অজু, সালাত কিংবা ইবাদতের কোনো কিছুতেই নিয়ত মুখে উচ্চারণ করেননি। আর যেহেতু আল্লাহ অন্তরের বিষয় জানেন, তাই অন্তরে যা আছে তা মুখে ব্যক্ত করার কোনো প্রয়োজন নেই।

২ - অতঃপর 'বিসমিল্লাহ' বলবে।

৩ - তারপর দুই কবজি তিনবার ধৌত করবে।

৪ - এরপর তিনবার কুলি করবে এবং নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করবে।

৫ - অতঃপর তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করবে; প্রস্থে এক কান থেকে অপর কান পর্যন্ত এবং দৈর্ঘ্যে মাথার চুলের স্বাভাবিক উৎপাদনস্থল থেকে দাড়ির নিচের অংশ পর্যন্ত।

৬ - এরপর আঙুলের অগ্রভাগ থেকে কনুই পর্যন্ত দুই হাত তিনবার ধৌত করবে; প্রথমে ডান হাত ধোবে, তারপর বাম হাত।

৭ - অতঃপর একবার মাথা মাসেহ করবে; হাত ভিজিয়ে নিয়ে মাথার সম্মুখভাগ থেকে পশ্চাৎভাগ পর্যন্ত হাত বুলিয়ে নেবে এবং পুনরায় সম্মুখভাগে ফিরিয়ে আনবে।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - ثم يمسح أذنيه مرة واحدة، يدخل سبابتيه في صماخهما ويمسح بإبهاميه ظاهرهما.

9 - ثم يغسل رجليه ثلاث مرات من رءوس الأصابع إلى الكعبين، يبدأ باليمنى ثم اليسرى.

 

‌‌[الغسل]

الغسل الغسل: طهارة واجبة من الحدث الأكبر كالجنابة والحيض.

كيفية الغسل: 1 - أن ينوي الغسل بقلبه بدون نطق بالنية.

2 - ثم يسمي فيقول: " بسم الله".

3 - ثم يتوضأ وضوءا كاملا.

4 - ثم يحثو الماء على رأسه فإذا أرواه أفاض عليه ثلاث مرات.

5 - ثم يغسل سائر بدنه.
8 - এরপর তিনি একবার তাঁর কান মাসেহ করবেন; তাঁর তর্জনীদ্বয় কানের ছিদ্রপথে প্রবেশ করাবেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয় দিয়ে কানের বাইরের অংশ মাসেহ করবেন।

9 - এরপর তিনি তাঁর দুই পা আঙুলের মাথা থেকে টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধৌত করবেন, ডান পা দিয়ে শুরু করবেন এবং তারপর বাম পা ধৌত করবেন।

 

‌‌[গোসল]

গোসল: এটি বড় অপবিত্রতা (الحدث الأكبر) যেমন জানাবাত (جنابة) এবং ঋতুস্রাব (حيض) থেকে অর্জিত একটি আবশ্যকীয় (واجب) পবিত্রতা (طهارة)।

গোসলের পদ্ধতি: ১ - মুখে উচ্চারণ করা ব্যতিরেকে অন্তরে গোসলের নিয়ত (نية) করা।

2 - এরপর ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে।

3 - এরপর পূর্ণাঙ্গভাবে ওজু (وضوء) করবে।

4 - এরপর মাথায় পানি ঢালবে, যখন মাথা ভালোভাবে ভিজে যাবে তখন তার ওপর তিনবার পানি প্রবাহিত করবে।

5 - এরপর শরীরের অবশিষ্ট অংশ ধৌত করবে।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌[التيمم]

التيمم التيمم: طهارة واجبة بالتراب بدلا عن الوضوء والغسل لمن لم يجد الماء أو تضرر باستعماله.

كيفية التيمم: أن ينويه عما تيمم عنه من وضوء أو غسل، ثم يضرب الأرض أو ما يتصل بها من الجدران ويمسح وجهه وكفيه.

 

‌‌[المسح على الخفين]

المسح على الخفين المقصود بالخفاف ما يلبس على الرجل من جلد ونحوه. والمقصود بالجوارب: ما يلبس عليها من قطن ونحوه، وهو ما يعرف بالشراب.

حكم المسح على الخفاف والجوارب ودليل مشروعية ذلك من الكتاب والسنة: - المسح عليهما هو السنة التي جاءت عن رسول الله، صلى الله عليه وسلم، فمن كان لابسا لهما فالمسح عليهما أفضل من خلعهما لغسل الرجل.
[তায়াম্মুম]

তায়াম্মুম: পানি না পাওয়া ব্যক্তি অথবা পানি ব্যবহারে ক্ষতির সম্মুখীন ব্যক্তির জন্য অজু এবং গোসলের পরিবর্তে পবিত্র মাটি দ্বারা সম্পাদিত একটি আবশ্যিক পবিত্রতা (طهارة واجبة)।

তায়াম্মুমের পদ্ধতি: অজু অথবা গোসল—যার পরিবর্তে তায়াম্মুম করা হচ্ছে তার নিয়ত করবে, এরপর মাটিতে অথবা মাটির সাথে সংযুক্ত দেওয়ালের ওপর হাত মারবে এবং তা দিয়ে নিজের মুখমণ্ডল ও উভয় কবজি মাসাহ করবে।

 

[চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ]

চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ: 'খুফ' (خفاف) বলতে চামড়া বা অনুরূপ উপাদানে তৈরি এমন বস্তুকে বোঝায় যা পায়ে পরিধান করা হয়। আর 'জাওয়ারিব' (جوارب) বলতে তুলা বা অনুরূপ উপাদান দ্বারা তৈরি মোজাকে বোঝায়, যা সাধারণত মোজা হিসেবে পরিচিত।

চামড়ার মোজা ও সাধারণ মোজার ওপর মাসাহ করার বিধান এবং কুরআন ও সুন্নাহ হতে এর বৈধতার দলিল: মোজার ওপর মাসাহ করা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত একটি সুন্নাহ (سنة)। সুতরাং যে ব্যক্তি মোজা পরিহিত থাকবে, তার জন্য পা ধোয়ার উদ্দেশ্যে মোজা খোলার চেয়ে তার ওপর মাসাহ করাই অধিক উত্তম।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ১১)
ودليل ذلك حديث المغيرة بن شعبة رضي الله عنه «أن النبي، صلى الله عليه وسلم، توضأ، قال المغيرة: فأهويت لأنزع خفيه فقال: " دعهما فإني أدخلتهما طاهرتين» فمسح عليهما.

ومشروعية المسح على الخفين ثابتة في كتاب الله وسنة رسول الله، صلى الله عليه وسلم.

أما كتاب الله ففي قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ} [المائدة: 6] فإن قوله تعالى {وَأَرْجُلَكُمْ} [المائدة: 6] فيها قراءتان سبعيتان صحيحتان عن رسول الله، صلى الله عليه وسلم، إحداهما: وأرجلكم عطفا على قوله: وجوهكم فتكون الرجلان مغسولتين.

والثانية: وأرجلكم بالجر عطفا على رؤوسكم فتكون الرجلان ممسوحتين. والذي بين أن الرجل تكون ممسوحة ومغسولة هي السنة، فكان الرسول، صلى الله عليه وسلم، إذا كانت رجلاه مكشوفتين يغسلها وإذا كانتا مستورتين بالخفاف يمسح عليهما.
এর দলিল হলো মুগিরাহ ইবনে শু'বাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অজু করলেন। মুগিরাহ বলেন: "তখন আমি তাঁর মোজা জোড়া খুলে ফেলার জন্য নিচু হলাম, তখন তিনি বললেন: 'এগুলো থাকতে দাও, কারণ আমি পবিত্র অবস্থায় এ দুটি পরিধান করেছি।' অতঃপর তিনি সে দুটির ওপর মাসেহ করলেন।"

আর চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার বৈধতা আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।

আল্লাহর কিতাবের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত (ধৌত করো)} [সুরা আল-মায়িদাহ: ৬]। মহান আল্লাহর বাণী {তোমাদের পাগুলো} শব্দটিতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত দুটি বিশুদ্ধ (صحيحة) সাব'আ কিরাত (قراءتان سبعيتان) রয়েছে। এর একটি হলো: 'আরজুলাকুম' (নসব বা জবর যোগে), যা 'তোমাদের মুখমণ্ডল' পদের সাথে সংযুক্ত হয়েছে; ফলে পা দুটি ধৌত করা নির্দেশিত হয়েছে।

আর দ্বিতীয়টি হলো: 'আরজুলিকুম' (জের যোগে), যা 'তোমাদের মাথা' পদের সাথে সংযুক্ত হয়েছে; ফলে পা দুটি মাসেহ করা নির্দেশিত হয়েছে। আর পা কখন মাসেহ করা হবে এবং কখন ধৌত করা হবে, তা সুন্নাহ স্পষ্ট করে দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন পা দুটি অনাবৃত থাকত তখন তিনি তা ধৌত করতেন এবং যখন তা চামড়ার মোজা দ্বারা আবৃত থাকত তখন তিনি সেগুলোর ওপর মাসেহ করতেন।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ১২)
وأما دلالة السنة على ذلك فالسنة متواترة في هذا عن رسول الله، صلى الله عليه وسلم، قال الإمام أحمد رحمه الله: ليس في قلبي من المسح شيء. فيه أربعون حديثا عن رسول لله صلى الله عليه وسلم، وأصحابه، ومما يذكر من النظم قول الناظم:

مما تواتر حديث من كذب … ومن بنى لله بيتا واحتسب

ورؤية شفاعة والحوض … ومسح خفين وهذي بعض

فهذا دليل مسحهما من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.

* شروط المسح على الخفين: * يشترط للمسح على الخفين أربعة شروط:

الشرط الأول: أن يكون لابسا لهما على طهارة.

ودليل ذلك قول النبي، صلى الله عليه وسلم، للمغيرة بن شعبة: «دعهما فإنني أدخلتهما طاهرتين» .

الشرط الثاني: أن يكون الخفان أو الجوارب طاهرة،
আর সুন্নাহর দলিলের ক্ষেত্রে বলতে হয় যে, এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত সুন্নাহসমূহ অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (متواتر)। ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মাসেহ নিয়ে আমার মনে কোনো সংশয় নেই। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের থেকে চল্লিশটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।" এ প্রসঙ্গে ছন্দাকারে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো:

মিথ্যাচারীর শাস্তির হাদিস অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (متواتر) … এবং যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঘর নির্মাণ করবে

আর (কিয়ামতে আল্লাহর) দর্শন, সুপারিশ (شفاعة) ও হাউজ (الحوض) … এবং চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করা; এগুলো কেবল কতিপয় উদাহরণ

সুতরাং এটিই আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকে মোজার ওপর মাসেহ করার দলিল।

* চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার শর্তাবলি: * চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার জন্য চারটি শর্ত রয়েছে:

প্রথম শর্ত: পবিত্রতা (طهارة) অর্জন করার পর সেগুলো পরিধান করা।

এর দলিল হলো মুগীরা ইবনে শু'বা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-র প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উক্তি: "সেগুলো থাকতে দাও, কারণ আমি পবিত্র অবস্থায় সেগুলো পরিধান করেছি।"

দ্বিতীয় শর্ত: চামড়ার মোজা বা সাধারণ মোজাগুলো পবিত্র হওয়া,
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ১৩)
فإن كانت نجسة فإنه لا يجوز المسح عليها، ودليل ذلك «أن رسول الله، صلى الله عليه وسلم، صلى ذات يوم بأصحابه وعليه نعلان فخلعهما في أثناء صلاته، وأخبر أن جبريل أخبره بأن فيهما أذى أو قذرا» ، وهذا يدل على أنه لا تجوز الصلاة فيما فيه نجاسة، ولأن النجس إذا مسح عليه بالماء تلوث الماسح بالنجاسة فلا يصح أن يكون مطهرا.

والشرط الثالث: أن يكون مسحهما في الحدث الأصغر لا في الجنابة أو ما يوجب الغسل، ودليل ذلك حديث صفوان بن عسال رضي الله عنه قال: «أمرنا رسول الله، صلى الله عليه وسلم، إذا كنا سفرا أن لا ننزع خفافنا ثلاثة أيام ولياليهن إلا من جنابة ولكن من غائط وبول ونوم» . فيشترط أن يكون المسح في الحدث الأصغر، ولا يجوز المسح في الحدث الأكبر لهذا الحديث الذي ذكرناه.

الشرط الرابع: أن يكون المسح في الوقت المحدد شرعا، وهو يوم وليلة للمقيم وثلاثة أيام بلياليها للمسافر، لما روى علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: «جعل
যদি তা অপবিত্র হয় তবে তার ওপর মাসেহ করা জায়েয হবে না। এর দলীল হলো: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন এবং এমতাবস্থায় তাঁর পায়ে একজোড়া জুতা ছিল। তিনি সালাত চলাকালীন তা খুলে ফেললেন এবং জানালেন যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে সে দুটিতে কোনো কষ্টদায়ক বস্তু বা ময়লা রয়েছে»। এটি প্রমাণ করে যে, অপবিত্রতাযুক্ত কোনো কিছু পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করা বৈধ নয়। এছাড়া অপবিত্র বস্তুর ওপর পানি দিয়ে মাসেহ করা হলে মাসেহ করার মাধ্যমটি অপবিত্রতা দ্বারা দূষিত হয়ে পড়ে, ফলে তা পবিত্রকারী হওয়া শুদ্ধ হয় না।

তৃতীয় শর্ত: মাসেহ যেন ছোট নাপাকি অবস্থায় হয়, জানাবাত বা এমন কোনো কারণে নয় যা গোসল ওয়াজিব করে। এর দলীল হলো সাফওয়ান ইবনে আসসাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিতেন যখন আমরা সফরে থাকতাম তখন যেন আমরা আমাদের মোজা না খুলি তিন দিন ও তিন রাত পর্যন্ত, তবে জানাবাত ব্যতীত; কিন্তু মলমূত্র ত্যাগ ও ঘুমের কারণে (খুলতে হবে না)»। সুতরাং শর্ত হলো মাসেহ যেন ছোট নাপাকি অবস্থায় হয়। বর্ণিত এই হাদিসের কারণে বড় নাপাকি অবস্থায় মাসেহ করা জায়েয নয়।

চতুর্থ শর্ত: মাসেহ যেন শরয়িভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হয়, আর তা হলো মুকিম বা অবস্থানকারীর জন্য একদিন ও একরাত এবং মুসাফিরের জন্য তিন দিন ও তিন রাত। কারণ আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «নির্ধারণ করেছেন
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ১৪)
النبي، صلى الله عليه وسلم، للمقيم يوما وليلة وللمسافر ثلاثة أيام ولياليهن» ، يعني في المسح على الخفين أخرجه مسلم. وهذه المدة تبتدئ من أول مرة مسح بعد الحدث وتنتهي بأربع وعشرين ساعة بالنسبة للمقيم واثنتين وسبعين ساعة بالنسبة للمسافر، فإذا قدرنا أن شخصا تطهر لصلاة الفجر يوم الثلاثاء وبقي على طهارته حتى صلى العشاء من ليلة الأربعاء ونام ثم قام لصلاة الفجر يوم الأربعاء ومسح في الساعة الخامسة بالتوقيت الزوالي فإن ابتداء المدة يكون من الساعة الخامسة من صباح يوم الأربعاء إلى الساعة الخامسة من صباح يوم الخميس، فلو قدر أنه مسح يوم الخميس قبل تمام الساعة الخامسة فإن له أن يصلي الفجر، أي فجر يوم الخميس بهذا المسح، ويصلي ما شاء أيضا ما دام على طهارته؛ لأن الوضوء لا ينتقض إذا تمت المدة على القول الراجح من أقوال أهل العلم، وذلك لأن رسول الله، صلى الله عليه وسلم، لم يوقت الطهارة وإنما وقت المسح، فإذا تمت المدة فلا مسح ولكنه إذا كان على طهارة فطهارته باقية

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুকিম বা অবস্থানকারীর জন্য একদিন ও একরাত এবং মুসাফিরের জন্য তিন দিন ও তিনরাত সময় নির্ধারণ করেছেন; অর্থাৎ চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার ক্ষেত্রে। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (أخرجه)। এই সময়সীমা অপবিত্রতা অর্জনের পর প্রথমবার মাসেহ করার সময় থেকে শুরু হয় এবং অবস্থানকারীর ক্ষেত্রে চব্বিশ ঘণ্টা ও মুসাফিরের ক্ষেত্রে বাহাত্তর ঘণ্টা পর শেষ হয়। যদি আমরা ধরি যে, কোনো ব্যক্তি মঙ্গলবার ফজর নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন করলেন এবং সেই পবিত্রতা বজায় রেখে বুধবারের রাত (অর্থাৎ মঙ্গলবার দিবাগত রাত) এশা পর্যন্ত নামাজ আদায় করলেন, অতঃপর ঘুমিয়ে পড়লেন এবং বুধবার ফজর নামাজের জন্য জাগ্রত হয়ে ভোর পাঁচটায় জাওয়ালি সময় অনুযায়ী মাসেহ করলেন, তবে এই সময়সীমার সূচনা হবে বুধবার সকাল পাঁচটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পাঁচটা পর্যন্ত। সুতরাং যদি ধরে নেওয়া হয় যে, তিনি বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটা পূর্ণ হওয়ার আগেই মাসেহ করেছেন, তবে তিনি সেই মাসেহ দ্বারা বৃহস্পতিবারের ফজর নামাজ আদায় করতে পারবেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি পবিত্র থাকবেন, ততক্ষণ আরও যা ইচ্ছা নামাজ পড়তে পারবেন; কারণ আলেমগণের অধিক গ্রহণযোগ্য (الراجح) মত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলে ওযু ভঙ্গ হয় না। এর কারণ হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্রতার কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেননি, বরং তিনি শুধুমাত্র মাসেহ করার সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। অতএব সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর আর মাসেহ করা যাবে না, তবে ব্যক্তি যদি তখনও পবিত্র অবস্থায় থাকেন, তবে তার সেই পবিত্রতা বহাল থাকবে।

(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ১৫)
لأن هذه الطهارة ثبتت بمقتضى دليل شرعي، وما ثبت بمقتضى دليل شرعي، فإنه لا يرتفع إلا بدليل شرعي. ولا دليل على انتقاض الوضوء بتمام مدة المسح ولأن الأصل بقاء ما كان على ما كان حتى يتبين زواله فهذه الشروط التي تشترط للمسح على الخفين. وهناك شروط أخرى ذكرها بعض أهل العلم وفي بعضها نظر.

 

‌‌[كيف يتطهر المريض]

كيف يتطهر المريض 1 - يجب على المريض أن يتطهر بالماء فيتوضأ من الحدث الأصغر ويغتسل من الحدث الأكبر.

2 - فإن كان لا يستطيع الطهارة بالماء لعجزه أو خوف زيادة المرض أو تأخر برئة فإنه يتيمم.

3 - كيفية التيمم أن يضرب الأرض الطاهرة بيديه، ضربة واحدة يمسح بهما جميع وجهه ثم يمسح كفيه بعضا ببعض.

4 - فإن لم يستطع أن يتطهر بنفسه فإنه يوضئه أو ييممه شخص آخر.
কারণ এই পবিত্রতা শরয়ী দলিলের (دليل شرعي) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে। আর যা শরয়ী দলিলের (دليل شرعي) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, তা শরয়ী দলিল (دليل شرعي) ব্যতীত রহিত হয় না। মাসেহ-এর নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কারণে অজু (وضوء) ভঙ্গ হওয়ার কোনো দলিল নেই। আর মূলনীতি (الأصل) হলো—যা যে অবস্থায় ছিল তা সেভাবেই বহাল থাকবে, যতক্ষণ না তার বিলুপ্তি স্পষ্ট হয়। এগুলোই হলো মোজার ওপর মাসেহ (المسح) করার জন্য নির্ধারিত শর্তাবলি। তবে আলেমদের কেউ কেউ আরও কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর কোনো কোনোটির ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ (نظر) রয়েছে।

 

‌‌[অসুস্থ ব্যক্তি কীভাবে পবিত্রতা অর্জন করবেন]

অসুস্থ ব্যক্তি কীভাবে পবিত্রতা অর্জন করবেন ১ - অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব (واجب) হলো পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা। সুতরাং তিনি ছোট অপবিত্রতা (الحدث الأصغر) থেকে অজু (وضوء) করবেন এবং বড় অপবিত্রতা (الحدث الأكبر) থেকে গোসল করবেন।

2 - যদি তিনি অক্ষমতার কারণে, অথবা রোগ বৃদ্ধি পাওয়ার ভয়ে, কিংবা রোগমুক্তি বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কায় পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে সক্ষম না হন, তবে তিনি তায়াম্মুম (تيمم) করবেন।

3 - তায়াম্মুমের পদ্ধতি হলো: পবিত্র মাটিতে দুই হাত দিয়ে একবার আঘাত করবেন, এরপর তা দিয়ে তাঁর সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল মাসেহ (مسح) করবেন এবং তারপর উভয় হাতের তালু একে অপরের ওপর মাসেহ (مسح) করবেন।

4 - যদি তিনি নিজে পবিত্রতা অর্জন করতে সক্ষম না হন, তবে অন্য কোনো ব্যক্তি তাঁকে অজু (وضوء) বা তায়াম্মুম (تيمم) করিয়ে দেবেন।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ১৬)
5 - إذا كان في بعض أعضاء الطهارة جرح فإنه يغسله بالماء، فإن كان الغسل بالماء يؤثر عليه مسحه مسحا فيبل يده بالماء ويمررها عليه. فإن كان المسح يؤثر عليه أيضا فإنه يتيمم عنه.

6 - إذا كان في بعض أعضائه كسر مشدود عليه خرقة أو جبس فإنه يمسح عليه بالماء بدلا عن غسله ولا يحتاج للتيمم لأن المسح بدل عن الغسل.

7 - يجوز أن يتيمم على الجدار أو على شيء آخر طاهر له غبار، فإن كان الجدار ممسوحا بشيء من غير جذب الأرض كالبوية فلا يتيمم عليه إلا أن يكون له غبار.

8 - إذا لم يمكن التيمم على الأرض أو الجدار أو شيء آخر له غبار فلا بأس أن يوضع تراب في إناء أو منديل ويتيمم منه.

9 - إذا تيمم لصلاة وبقى على طهارته إلى وقت الصلاة الأخرى فإنه يصليها بالتيمم الأول ولا يعيد التيمم للصلاة الثانية لأنه لم يزل على طهارته
5 - ওযুর কোনো অঙ্গে যদি ক্ষত থাকে, তবে তিনি তা পানি দিয়ে ধৌত করবেন। যদি পানি দিয়ে ধৌত করা ক্ষতিকর হয়, তবে তিনি তা মাসাহ (مسح) করবেন; অর্থাৎ তিনি নিজের হাত পানি দিয়ে ভিজিয়ে তার ওপর বুলিয়ে দেবেন। আর যদি মাসাহ (مسח) করাও ক্ষতিকর হয়, তবে তিনি তার পরিবর্তে তায়াম্মুম (تيمم) করবেন।

6 - যদি কোনো অঙ্গে হাড় ভাঙা থাকে এবং তাতে কাপড় বা প্লাস্টার (جبس) বাঁধা থাকে, তবে তিনি ধৌত করার পরিবর্তে তার ওপর পানি দিয়ে মাসাহ (مسح) করবেন। এক্ষেত্রে তায়াম্মুম (تيمم) করার প্রয়োজন নেই, কারণ মাসাহ (مسح) হলো ধৌত করার স্থলাভিষিক্ত।

7 - দেয়াল বা ধুলোবালিযুক্ত অন্য কোনো পবিত্র বস্তুর ওপর তায়াম্মুম (تيمم) করা জায়েজ (جائز)। তবে দেয়ালটি যদি মাটির উপাদান নয় এমন কোনো বস্তু (যেমন রং) দ্বারা প্রলেপ দেওয়া থাকে, তবে তার ওপর তায়াম্মুম (تيمم) করা যাবে না, যদি না তাতে ধুলোবালি থাকে।

8 - যদি মাটি, দেয়াল বা ধুলোবালিযুক্ত অন্য কোনো কিছুর ওপর তায়াম্মুম (تيمم) করা সম্ভব না হয়, তবে কোনো পাত্র বা রুমালে মাটি রেখে তা থেকে তায়াম্মুম (تيمم) করাতে কোনো অসুবিধা নেই।

9 - যদি কেউ এক ওয়াক্ত সালাতের জন্য তায়াম্মুম (تيمم) করেন এবং পরবর্তী সালাতের ওয়াক্ত পর্যন্ত পবিত্রতা (طهارة) বজায় থাকে, তবে তিনি পূর্বের তায়াম্মুম (تيمم) দিয়েই সালাত আদায় করবেন। দ্বিতীয় সালাতের জন্য পুনরায় তায়াম্মুম (تيمم) করবেন না, কারণ তিনি তখনো পবিত্র (طاهر) অবস্থায় রয়েছেন।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ولم يوجد ما يبطلها. وإذا تيمم عن جنابة فإنه لا يعيد التيمم عنها إلا أن يحدث له جنابة أخرى، ولكن يتيمم في هذه المدة عن الحدث الأصغر.

10 - يجب على المريض أن يطهر بدنه من النجاسات فإن كان لا يستطيع صلى على حاله وصلاته صحيحة ولا إعادة عليه.

11 - يجب على المريض أن يصلي بثياب طاهرة، فإن تنجست ثيابه وجب غسلها أو إبدالها بثياب طاهرة، فإن لم يمكن صلى على حاله وصلاته صحيحة ولا إعادة عليه.

12 - يجب على المريض أن يصلي على شيء طاهر فإن تنجس مكانه وجب غسله أو إبداله بشيء طاهر أو يفرغ عليه شيئا طاهرا، فإن لم يمكن صلى على حاله وصلاته صحيحة ولا إعادة عليه.

13 - لا يجوز للمريض أن يؤخر الصلاة عن وقتها من أجل العجز عن الطهارة، بل يتطهر بقدر ما يمكنه يصلي الصلاة في وقتها ولو كان على بدنه
এবং তা বাতিল হওয়ার মতো কোনো কিছু পাওয়া না যায়। আর যদি কেউ অপবিত্রতার (جنابة) জন্য তায়াম্মুম করে, তবে পুনরায় অপবিত্রতা (جنابة) সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাকে সেই তায়াম্মুম আর করতে হবে না; তবে এই সময়ের মধ্যে তাকে ছোট অশুচিতার (الحدث الأصغر) জন্য তায়াম্মুম করতে হবে।

১০ - রোগীর জন্য তার শরীরকে নাপাকি থেকে পবিত্র করা ওয়াজিব। যদি সে সক্ষম না হয়, তবে সে যে অবস্থায় আছে সেভাবেই সালাত আদায় করবে এবং তার সালাত সঠিক (صحيحة) হবে এবং তাকে আর তা পুনরায় আদায় করতে হবে না।

১১ - রোগীর জন্য পবিত্র পোশাকে সালাত আদায় করা ওয়াজিব। যদি তার পোশাক অপবিত্র হয়ে যায়, তবে তা ধুয়ে ফেলা বা পবিত্র পোশাক দিয়ে পরিবর্তন করা ওয়াজিব। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে সে যে অবস্থায় আছে সেভাবেই সালাত আদায় করবে এবং তার সালাত সঠিক (صحيحة) হবে এবং তাকে আর তা পুনরায় আদায় করতে হবে না।

১২ - রোগীর জন্য পবিত্র কোনো কিছুর ওপর সালাত আদায় করা ওয়াজিব। যদি তার সালাত আদায়ের স্থান নাপাক হয়ে যায়, তবে তা ধুয়ে ফেলা বা কোনো পবিত্র বস্তু দিয়ে পরিবর্তন করা অথবা তার ওপর পবিত্র কোনো কিছু বিছিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে সে যে অবস্থায় আছে সেভাবেই সালাত আদায় করবে এবং তার সালাত সঠিক (صحيحة) হবে এবং তাকে আর তা পুনরায় আদায় করতে হবে না।

১৩ - পবিত্রতা (طهارة) অর্জনে অক্ষম হওয়ার কারণে রোগীর জন্য সালাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বিত করা জায়েজ নয়। বরং সে যতটুকু সম্ভব পবিত্রতা (طهارة) অর্জন করবে এবং নির্দিষ্ট সময়েই সালাত আদায় করবে, যদিও তা তার শরীরে থাকে।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أو ثوبه أو مكانه نجاسة يعجز عن إزالتها، قال تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16]

14 - إذا كان الإنسان مصابا ببول يخرج باستمرار، فإنه لا يتوضأ لصلاة الفريضة إلا بعد دخول وقتها، فيغسل فرجه ثم يلف عليه شيئا طاهرا يمنع من تلوث ثيابه وبدنه، ثم يتوضأ ويصلي، وهكذا يفعل لكل صلاة مفروضة، فإن شق عليه جاز أن يجمع بين الظهر والعصر، أو بين المغرب والعشاء. أما صلاة النافلة فيفعل لها ما ذكرنا إذا أراد فعلها، إلا أن يكون في وقت فريضة فيكفيه الوضوء للفريضة.

 

‌‌[كيف يصلي المريض]

كيف يصلي المريض 1 - يجب على المريض أن يصلي الفريضة قائما ولو منحنيا أو معتمدا على جدار أو عصا يحتاج إلى الاعتماد عليه.

2 - فإن كان لا يستطيع القيام صلى جالسا، والأفضل
কিংবা তার পোশাকে অথবা তার (নামাজের) স্থানে এমন অপবিত্রতা থাকে যা অপসারণে সে অক্ষম, আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো} [আত-তাগাবুন: ১৬]

১৪ - যদি কোনো ব্যক্তি প্রস্রাব ঝরা রোগে আক্রান্ত হয় যা নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্গত হতে থাকে, তবে সে ফরজ নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বে অজু করবে না। সে তার লজ্জাস্থান ধৌত করবে, অতঃপর তার ওপর পবিত্র কোনো কিছু জড়িয়ে রাখবে যা তার কাপড় ও শরীরকে অপবিত্র হওয়া থেকে রক্ষা করবে। এরপর সে অজু করবে এবং নামাজ আদায় করবে। প্রতিটি ফরজ নামাজের জন্য সে এভাবেই করবে। যদি এটি তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তবে জোহর ও আসর অথবা মাগরিব ও এশা একত্রে জমা করা তার জন্য বৈধ। আর নফল নামাজের ক্ষেত্রে সে যখন তা আদায় করার ইচ্ছা করবে তখন আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই করবে; তবে যদি তা ফরজ নামাজের ওয়াক্তের ভেতরে হয়, তবে ফরজ নামাজের অজুই তার জন্য যথেষ্ট হবে।

 

‌‌[অসুস্থ ব্যক্তি কীভাবে নামাজ পড়বে]

অসুস্থ ব্যক্তি কীভাবে নামাজ পড়বে ১ - অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ফরজ নামাজ দাঁড়িয়ে আদায় করা আবশ্যক, যদিও তা কিছুটা ঝুঁকে কিংবা কোনো দেয়াল বা লাঠির ওপর ভর দিয়ে হয় যার ওপর ভর দেওয়া তার প্রয়োজন।

২ - যদি সে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে সক্ষম না হয় তবে বসে নামাজ পড়বে, এবং উত্তম হলো
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ১৯)
أن يكون متربعا في موضع القيام والركوع.

3 - فإن كان لا يستطيع الصلاة جالسا صلى على جنبه متوجها إلى القبلة، والجنب الأيمن أفضل، فإن لم يتمكن من التوجه إلى القبلة صلى حيث كان اتجاهه، وصلاته صحيحة ولا إعادة عليه.

4 - فإن كان لا يستطيع الصلاة على جنبه صلى مستلقيا رجلاه إلى القبلة، والأفضل أن يرفع رأسه قليلا ليتجه إلى القبلة، فإن لم يستطع أن تكون رجلاه إلى القبلة، صلى حيث كانت ولا إعادة عليه.

5 - يجب على المريض أن يركع ويسجد في صلاته، فإن لم يستطع أومأ بهما برأسه، ويجعل السجود أخفض من الركوع فإن استطاع الركوع دون السجود ركع حال الركوع وأومأ بالسجود. وإن استطاع السجود دون الركوع سجد حال السجود وأومأ بالركوع.

6 - فإن كان لا يستطيع الإيماء برأسه في الركوع
দাঁড়ানো এবং রুকু করার অবস্থায় বাবু হয়ে বসা।

3 - যদি তিনি বসে সালাত আদায় করতে সক্ষম না হন, তবে কিবলার দিকে মুখ করে পার্শ্বশায়িত হয়ে সালাত আদায় করবেন এবং ডান পার্শ্বে শয়ন করা উত্তম। যদি কিবলার দিকে মুখ করা সম্ভব না হয়, তবে তিনি যে দিকে মুখ করে আছেন সে দিকেই সালাত আদায় করবেন। এমতাবস্থায় তার সালাত সঠিক (صحيحة) হবে এবং তাকে পুনরায় তা আদায় করতে হবে না।

4 - যদি তিনি পার্শ্বশায়িত হয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম না হন, তবে কিবলার দিকে পা দিয়ে চিত হয়ে শুয়ে সালাত আদায় করবেন। কিবলার দিকে মুখ করার সুবিধার্থে মাথা সামান্য উঁচু করে রাখা উত্তম। যদি কিবলার দিকে পা রাখা সম্ভব না হয়, তবে যে অবস্থায় আছে সেভাবেই সালাত আদায় করবেন এবং তাকে পুনরায় তা আদায় করতে হবে না।

5 - অসুস্থ ব্যক্তির ওপর সালাতে রুকু ও সিজদা করা আবশ্যক। যদি তিনি তাতে সক্ষম না হন, তবে এ দুটির জন্য মাথা দিয়ে ইশারা করবেন এবং সিজদার ইশারা রুকুর চেয়ে বেশি নিচু করবেন। যদি তিনি রুকু করতে সক্ষম হন কিন্তু সিজদা করতে না পারেন, তবে রুকুর সময় রুকু করবেন এবং সিজদার জন্য ইশারা করবেন। আর যদি তিনি সিজদা করতে সক্ষম হন কিন্তু রুকু করতে অক্ষম হন, তবে সিজদার সময় সিজদা করবেন এবং রুকুর জন্য ইশারা করবেন।

6 - যদি তিনি রুকুতে মাথা দিয়ে ইশারা করতে সক্ষম না হন...
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ২০)
والسجود أشار بعينيه فيغمض قليلا للركوع ويغمض تغميضا أكثر للسجود. وأما الإشارة بالإصبع كما يفعله بعض المرضى فليس بصحيح ولا أعلم له أصلا من الكتاب والسنة ولا من أقوال أهل العلم.

7 - فإن كان لا يستطيع الإيماء بالرأس ولا الإشارة بالعين صلى بقلبه فيكبر ويقرأ وينوي الركوع والسجود والقيام والقعود بقلبه. ولكل امرئ ما نوى.

8 - يجب على المسافر أن يصلي كل صلاة في وقتها ويفعل كل ما يقدر عليه مما يجب فيها فإن شق عليه فعل كل صلاة في وقتها فله الجمع بين الظهر والعصر وبين المغرب والعشاء، إما جمع تقديم بحيث يقدم العصر إلى الظهر والعشاء إلى المغرب، وإما جمع تأخير بحيث يؤخر الظهر إلى العصر والمغرب إلى العشاء حسبما يكون أيسر له. أما الفجر فلا تجمع لما قبلها ولا لما بعدها.
এবং সেজদার ক্ষেত্রে তিনি চোখের ইশারায় সংকেত দিবেন; ফলে রুকুর জন্য চোখ সামান্য বন্ধ করবেন এবং সেজদার জন্য চোখ অধিকতর বন্ধ করবেন। আর আঙুল দিয়ে ইশারা করা—যেমনটি কোনো কোনো অসুস্থ ব্যক্তি করে থাকেন—তা সঠিক (صحيح) নয় এবং কুরআন, সুন্নাহ বা আলেমগণের কোনো বক্তব্যে এর কোনো ভিত্তি (أصل) আছে বলে আমার জানা নেই।

7 - যদি সে মাথা দিয়ে ইশারা করতে কিংবা চোখের মাধ্যমে সংকেত দিতে সক্ষম না হয়, তবে সে নিজ অন্তরের মাধ্যমে সালাত আদায় করবে। সে তাকবির দিবে, কিরাত পাঠ করবে এবং তার অন্তরেই রুকু, সেজদা, কিয়াম ও বসার নিয়ত করবে। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ীই প্রতিফল পায়।

8 - মুসাফিরের জন্য প্রতিটি সালাত তার নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা আবশ্যক এবং সালাতের ওয়াজিব কাজগুলোর মধ্যে যা কিছু করতে সে সক্ষম, তা পালন করা তার ওপর কর্তব্য। যদি প্রতিটি সালাত তার নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তবে তার জন্য যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করার অনুমতি রয়েছে। এটি হয় ‘জামে তাকদিম’ বা অগ্রিম একত্রিতকরণের মাধ্যমে—যাতে আসরকে যোহরের সময়ে এবং ইশাকে মাগরিবের সময়ে এগিয়ে আনা হয়; অথবা ‘জামে তাখির’ বা বিলম্বিত একত্রিতকরণের মাধ্যমে—যাতে যোহরকে আসরের সময়ে এবং মাগরিবকে ইশার সময়ে পিছিয়ে নেয়া হয়, তার জন্য যেটি সহজতর হয় সে অনুযায়ী। তবে ফজরের সালাত তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কোনো সালাতের সাথে একত্রে আদায় করা যাবে না।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ২১)
9 - إذا كان المريض مسافرا يعالج في غير بلده فإنه يقصر الصلاة الرباعية فيصلي الظهر والعصر والعشاء على ركعتين ركعتين حتى يرجع إلى بلده، سواء طالت مدة سفره أم قصرت.
৯ - যদি অসুস্থ ব্যক্তি সফররত (مسافر) অবস্থায় নিজ শহর ব্যতিরেকে অন্য কোথাও চিকিৎসাধীন থাকেন, তবে তিনি চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজগুলো সংক্ষিপ্ত (قصر) করবেন। এমতাবস্থায় তিনি জোহর, আসর এবং ইশা দুই রাকাত করে আদায় করবেন যতক্ষণ না তিনি নিজ শহরে ফিরে আসেন, চাই তার সফরের সময়কাল দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌[الرسالة الثانية الصلاة]

‌‌[تعريفها وفضلها]

* الرسالة الثانية: الصلاة - فضلها وأهميتها.

- صفتها.

سجود السهو.

سجود التلاوة.

حكم تارك الصلاة.

التوبة.

بسم الله الرحمن الرحيم

لا مانع لدي من طبع هذه المواضيع الستة في الصلاة والتوبة.

كتبه محمد الصالح العثيمين في 29 / 12 / 1411 هـ.
[দ্বিতীয় প্রবন্ধ: সালাত]

[এর সংজ্ঞা ও ফজিলত]

* দ্বিতীয় প্রবন্ধ: সালাত - এর ফজিলত ও গুরুত্ব।

- এর পদ্ধতি।

ভুলবশত সিজদাহ।

তিলাওয়াতের সিজদাহ।

সালাত পরিত্যাগকারীর বিধান।

তওবা।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সালাত ও তওবা বিষয়ক এই ছয়টি বিষয় মুদ্রণে আমার কোনো আপত্তি নেই।

লিখেছেন মুহাম্মদ সালেহ আল-উসাইমীন, ২৯ / ১২ / ১৪১১ হিজরি।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الصلاة: هي الركن الثاني من أركان الإسلام، وهي آكد أركان الإسلام بعد الشهادتين.

الصلاة: صلة بين العبد وبين ربه، قال النبي، صلى الله عليه وسلم: «إن أحدكم إذا صلى يناجي ربه» (1) وقال الله تعالى في الحديث القدسي: «قسمت الصلاة بيني وبين عبدي نصفين، ولعبدي ما سأل، فإذا قال العبد: الحمد لله رب العالمين قال الله تعالى: حمدني عبدي. وإذا قال: الرحمن الرحيم قال الله تعالى: أثنى علي عبدي، وإذا قال: مالك يوم الدين قال: مجدني عبدي، فإذا قال: إياك نعبد وإياك نستعين قال: هذا بيني وبين عبدي ولعبدي ما سأل، فإذا قال: اهدنا الصراط المستقيم صراط الذين أنعمت عليهم غير المغضوب عليهم ولا الضالين قال: هذا لعبدي ولعبدي ما سأل» (2)

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري.

(2) رواه مسلم.
সালাত: এটি ইসলামের রুকনসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় রুকন, এবং শাহাদাতাইনের পর এটি ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুকন।

সালাত: বান্দা ও তার রবের মধ্যে এক নিবিড় সংযোগ; নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করে, তখন সে তার রবের সাথে নিভৃতে কথোপকথন করে» (১) এবং আল্লাহ তাআলা হাদিসে কুদসি (القدسي)-তে বলেছেন: «আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি, আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই পাবে। যখন বান্দা বলে: 'আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন', তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে'। যখন সে বলে: 'আর-রাহমানির রাহিম', তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে'। যখন সে বলে: 'মালিকি ইয়াওমিদ্দিন', তখন আল্লাহ বলেন: 'আমার বান্দা আমার মর্যাদা বর্ণনা করেছে'। যখন সে বলে: 'ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তায়িন', তখন আল্লাহ বলেন: 'এটি আমার ও আমার বান্দার মাঝে এবং আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই পাবে'। অতঃপর যখন সে বলে: 'ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম, সিরাতাল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লিন', তখন আল্লাহ বলেন: 'এটি আমার বান্দার জন্য এবং আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই পাবে'» (২)

--------------------------------------------

(১) বুখারি বর্ণনা করেছেন।

(২) মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الصلاة: روضة عبادات فيها من كل زوج بهيج تكبير ويفتتح به الصلاة وقيام يتلو فيه المصلي كلام الله، وركوع يعظم فيه الرب، وقيام من الركوع يملؤه بالثناء على الله، وسجود يسبح الله تعالى فيه بعلوه ويبتهل إليه بالدعاء، وقعود للدعاء والتشهد، وختام بالتسليم.

الصلاة: عون في المهمات ونهي عن الفحشاء والمنكرات، قال الله تعالى: {وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ} [البقرة: 45] وقال تعالى: {اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ} [العنكبوت: 45]

الصلاة: نور المؤمنين في قلوبهم ومحشرهم، قال النبي، صلى الله عليه وسلم: «الصلاة نور» (1) وقال: «من حافظ عليها كانت له نورا وبرهانا ونجاة يوم القيامة» (2) .

الصلاة: سرور نفوس المؤمنين وقرة أعينهم، قال

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم.

(2) أحمد وابن حبان والطبراني.
সালাত: ইবাদতের এক উদ্যান, যাতে রয়েছে প্রত্যেক প্রকারের মনোজ্ঞ বিষয়—তাকবীর, যার মাধ্যমে সালাত শুরু করা হয়; কিয়াম, যাতে মুসল্লি আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করেন; রুকু, যাতে রবের মহিমা ঘোষণা করা হয়; রুকু থেকে দণ্ডায়মান হওয়া, যা আল্লাহর প্রশংসায় পূর্ণ থাকে; সিজদাহ, যাতে মহান আল্লাহর সুউচ্চ মর্যাদার মহিমা ঘোষণা করা হয় এবং তাঁর নিকট সনির্বন্ধ প্রার্থনা করা হয়; দোয়ার জন্য ও তাশাহহুদের জন্য উপবেশন এবং সালামের মাধ্যমে সমাপ্তি।

সালাত: গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাহায্যকারী এবং অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরতকারী। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো} [আল-বাকারাহ: ৪৫] এবং তিনি বলেন: {আপনার প্রতি কিতাব থেকে যা ওহী করা হয়েছে তা পাঠ করুন এবং সালাত কায়েম করুন। নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে} [আল-আনকাবুত: ৪৫]

সালাত: মুমিনদের হৃদয়ে এবং তাদের হাশরের ময়দানে নূর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সালাত হলো নূর» (১) এবং তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি এর হিফাযত করবে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর, দলীল ও নাজাতের উপায় হবে» (২)।

সালাত: মুমিনদের আত্মার প্রশান্তি ও নয়নের শীতলতা, তিনি বলেছেন...

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

(২) আহমাদ, ইবনে হিব্বান ও তাবারানি।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
النبي، صلى الله عليه وسلم: «جعلت قرة عيني في الصلاة» (1) .

الصلاة: تمحى بها الخطايا وتكفر بها السيئات قال النبي، صلى الله عليه وسلم: «أرأيتم لو أن نهرا بباب أحدكم يغتسل فيه كل يوم خمس مرات هل يبقى من درنه (وسخه) شيء؟ قالوا: لا يبقى من درنه شيء، قال: فكذلك مثل الصلوات الخمس يمحو الله بهن الخطايا» (2) وقال، صلى الله عليه وسلم: «الصلوات الخمس والجمعة إلى الجمعة كفارة لما بينهن ما لم تغش الكبائر» (3) .

صلاة الجماعة أفضل من صلاة الفذ بسبع وعشرين درجة، رواه ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم (4) وقال ابن مسعود رضي الله عنه: «من سره أن يلقى الله غدا مسلما فليحافظ على هؤلاء الصلوات حيت ينادي بهن، فإن الله تعالى شرع لنبيكم سنن الهدى وإنهن من سنن

--------------------------------------------

(1) أحمد والنسائي.

(2) البخاري ومسلم.

(3) مسلم.

(4) البخاري ومسلم.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সালাতকে আমার চোখের শীতলতা করা হয়েছে» (১) .

সালাত: এর মাধ্যমে গুনাহসমূহ মোচন করা হয় এবং এর দ্বারা পাপরাশি মিটিয়ে দেওয়া হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা কি মনে করো, যদি তোমাদের কারো দরজার সামনে একটি নদী থাকে যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তবে কি তার শরীরের ময়লা থেকে কিছু অবশিষ্ট থাকবে? তারা বললেন: তার ময়লা থেকে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি বললেন: পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণও ঠিক তদ্রূপ, আল্লাহ এর মাধ্যমে গুনাহসমূহ মোচন করে দেন» (২)। এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এবং এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা (كفارة) স্বরূপ, যতক্ষণ না কবিরা গুনাহ (الكبائر) করা হয়» (৩) .

জামায়াতে সালাত আদায় করা একাকী (الفذ) সালাত আদায়ের চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ। এটি ইবনে ওমর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন (৪)। এবং ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «যে ব্যক্তি পরকালে আল্লাহর সাথে মুসলিম হিসেবে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করে, সে যেন এই সালাতগুলো যেখানে আজান দেওয়া হয় সেখানে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে। কেননা আল্লাহ তাআলা তোমাদের নবীর জন্য হেদায়েতের সুন্নাতসমূহ (سنن الهدى) বিধিবদ্ধ করেছেন এবং নিশ্চয়ই এগুলো সেই সুন্নাতসমূহেরই অংশ»

--------------------------------------------

(১) আহমাদ ও নাসায়ি।

(২) বুখারি ও মুসলিম।

(৩) মুসলিম।

(৪) বুখারি ও মুসলিম।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الهدى، ولو أنكم صليتم في بيوتكم كما يصلي هذا المتخلف في بيته لتركتم سنة نبيكم، ولو تركتم سنة نبيكم لضللتم، وما من رجل يتطهر فيحسن الطهور ثم يعمد إلى مسجد من هذه المساجد إلا كتب الله له بكل خطوة يخطوها حسنة، ويرفعه بها درجة ويحط عنه بها سيئة، ولقد رأيتنا وما يتخلف عنها إلا منافق معلوم النفاق، ولقد كان الرجل يؤتى به يهادي بين الرجلين حتى يقام في الصف» (1) .

الخشوع في الصلاة: (وهو حضور القلب) والمحافظة عليها من أسباب دخول الجنات قال الله تعالى: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ - الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ - إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ - فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ - أُولَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ - الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [المؤمنون: 1 - 11]

--------------------------------------------

(1) مسلم.
হেদায়েতের পথ; আর যদি তোমরা তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করো, যেমন এই পেছনে পড়ে থাকা ব্যক্তিটি তার ঘরে সালাত আদায় করে, তবে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাহ বর্জন করলে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাহ বর্জন করো, তবে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে। কোনো ব্যক্তি যখন উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, অতঃপর এই মসজিদগুলোর কোনো একটির দিকে যাওয়ার সংকল্প করে, আল্লাহ তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য একটি করে সওয়াব লিখে দেন, এর দ্বারা তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার একটি পাপ মোচন করেন। আমি আমাদের দেখেছি যে, সুপরিচিত মুনাফিক (منافق) ব্যতীত আর কেউ জামাত থেকে পেছনে পড়ে থাকত না। এমনকি কোনো ব্যক্তিকে দু'জন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে টেনে আনা হতো, যতক্ষণ না তাকে কাতারে দাঁড় করানো হতো। (১)

সালাতে খুশু বা একাগ্রতা: (আর তা হলো অন্তরের উপস্থিতি) এবং সালাতের প্রতি যত্নশীল হওয়া জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম কারণ। মহান আল্লাহ বলেন: {অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে— যারা তাদের সালাতে বিনয়ী— যারা অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিমুখ— যারা যাকাত দানে সক্রিয়— যারা তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে— তবে তাদের স্ত্রী অথবা তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ক্ষেত্রে তারা তিরস্কৃত হবে না— অতঃপর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করবে, তারাই হবে সীমালঙ্ঘনকারী— আর যারা নিজেদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে— এবং যারা নিজেদের সালাতসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ করে— তারাই উত্তরাধিকারী— যারা উত্তরাধিকার হিসেবে ফিরদাউস লাভ করবে এবং সেখানে তারা স্থায়ী হবে।} [আল-মুমিনুন: ১-১১]

--------------------------------------------

(১) মুসলিম।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الإخلاص لله تعالى في الصلاة وأداؤها كما جاءت به السنة، هما الشرطان الأساسيان لقبولها، قال النبي، صلى الله عليه وسلم: «إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى» (1) وقال: «صلوا كما رأيتموني أصلي» (2) .

الصلاة الصلاة: عبادة ذات أقوال وأفعال، أولها التكبير وآخرها التسليم.

وإذا أراد الصلاة فإنه يجب عليه أن يتوضأ إن كان عليه حدث أصغر، أو يغتسل إن كان عليه حدث أكبر، أو يتيمم إن لم يجد الماء أو تضرر باستعماله وينظف بدنه وثوبه ومكان صلاته من النجاسة.

--------------------------------------------

(1) البخاري ومسلم.

(2) البخاري.
সালাতে মহান আল্লাহর প্রতি ইখলাস এবং সুন্নাহ অনুযায়ী তা সম্পাদন করা—সালাত কবুল হওয়ার জন্য এই দুটিই হলো মৌলিক শর্ত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করেছে কেবল তাই পাবে» (১) এবং তিনি বলেছেন: «তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ» (২)।

সালাত: এটি নির্দিষ্ট কিছু কথা ও কাজের সমন্বয়ে গঠিত একটি ইবাদত, যার শুরু হয় তাকবিরের মাধ্যমে এবং সমাপ্তি ঘটে সালামের মাধ্যমে।

যখন কেউ সালাত আদায়ের সংকল্প করে, তখন তার ওপর অযু করা আবশ্যক যদি তার ছোট অপবিত্রতা (حدث أصغر) থাকে, অথবা গোসল করা আবশ্যক যদি বড় অপবিত্রতা (حدث أكبر) থাকে, অথবা পানি না পাওয়া গেলে কিংবা পানির ব্যবহারে স্বাস্থ্যগত ক্ষতির ঝুঁকি থাকলে তায়াম্মুম করা আবশ্যক। আর সে যেন তার দেহ, পরিধেয় বস্ত্র ও সালাত আদায়ের স্থানকে অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করে নেয়।

--------------------------------------------

(১) বুখারি ও মুসলিম।

(২) বুখারি।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌[كيفية الصلاة]

كيفية الصلاة 1 - أن يستقبل القبلة بجميع بدنه بدون انحراف ولا التفات.

2 - ثم ينوي الصلاة التي يريد أن يصليها بقلبه بدون نطق بالنية.

3 - ثم يكبر تكبيرة الإحرام فيقول: " الله أكبر"، ويرفع يديه إلى حذو منكبيه عند التكبير.

4 - ثم يضع كف يده اليمنى على ظهر كف يده اليسرى فوق صدره.

5 - ثم يستفتح فيقول: " اللهم باعد بيني وبين خطاياي كما باعدت بين المشرق والمغرب، اللهم نقني من خطاياي كما ينقى الثوب الأبيض من الدنس، اللهم اغسلني من خطاياي بالماء والثلج والبرد".

أو يقول: " سبحانك اللهم وبحمدك، وتبارك اسمك، وتعالى جدك، ولا إله غيرك".
‌‌[সালাত আদায়ের পদ্ধতি]

সালাত আদায়ের পদ্ধতি ১ - কোনো প্রকার বিচ্যুতি বা এদিক-ওদিক ভ্রূক্ষেপ না করে পূর্ণ শরীরের মাধ্যমে কিবলার অভিমুখী হওয়া।

২ - অতঃপর যে সালাত আদায়ের ইচ্ছা পোষণ করেছে, তার নিয়ত (نية) অন্তরে করবে; মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা ব্যতিরেকে।

৩ - এরপর তাকবিরে তাহরিমা (تكبيرة الإحرام) বলবে: "আল্লাহু আকবার"; আর তাকবিরের সময় দুই হাত তার কাঁধ বরাবর উত্তোলন করবে।

৪ - অতঃপর তার ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের ওপর রেখে বুকের ওপর স্থাপন করবে।

৫ - এরপর ইস্তফতাহ (استفتاح) করবে এবং বলবে: "হে আল্লাহ! আপনি আমার এবং আমার পাপরাশির মধ্যে এমন ব্যবধান সৃষ্টি করুন যেমন ব্যবধান আপনি সৃষ্টি করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে পাপসমূহ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করুন যেমন করে সাদা কাপড় ময়লা হতে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমার পাপসমূহকে ধৌত করে দিন পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টির মাধ্যমে।"

অথবা বলবে: "হে আল্লাহ! আপনি মহিমান্বিত এবং আপনারই প্রশংসা। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা অতি উচ্চ এবং আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই।"
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ৩১)
6 - ثم يتعوذ فيقول: " أعوذ بالله من الشيطان الرجيم".

7 - ثم يبسمل ويقرأ الفاتحة فيقول: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ - الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ - مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ - إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ - اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ - صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 1 - 7] ثم يقول: " آمين" يعني اللهم استجب.

8 - ثم يقرأ ما تيسر من القرآن، ويطيل القراءة في صلاة الصبح.

9 - ثم يركع أي يحني ظهره تعظيما لله ويكبر عند ركوعه وبرفع يديه إلى حذو منكبيه. والسنة أن يهصر ظهره ويجعل رأسه حياله ويضع يديه على ركبتيه مفرجتي الأصابع.

10 - ويقول في ركوعه: " سبحان ربي العظيم، ثلاث مرات "، وإن زاد " سبحانك اللهم وبحمدك
6 - অতঃপর সে তাআউজ পাঠ করবে এবং বলবে: "আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"

7 - এরপর সে বিসমিল্লাহ (তাসমিয়া) পাঠ করবে এবং সূরা আল-ফাতিহা পড়বে। সে বলবে: {পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে - যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য - তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু - বিচার দিবসের মালিক - আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য চাই - আমাদের সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করুন - তাদের পথ, যাদের আপনি নেয়ামত দান করেছেন; যারা ক্রোধের শিকার নয় এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়} [আল-ফাতিহা: ১ - ৭]। অতঃপর সে বলবে: "আমীন", যার অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি কবুল করুন।

8 - অতঃপর সে কুরআনের সহজসাধ্য অংশ থেকে তিলাওয়াত করবে এবং ফজরের সালাতে তিলাওয়াত দীর্ঘ করবে।

9 - এরপর সে রুকু করবে, অর্থাৎ আল্লাহর মহত্ত্ব প্রকাশের উদ্দেশ্যে পিঠ অবনত করবে। রুকুতে যাওয়ার সময় সে তাকবীর বলবে এবং উভয় হাত কাঁধ বরাবর উত্তোলন করবে। আর সুন্নাত (السنة) হলো পিঠ সোজা রাখা, মাথাকে পিঠের সমান্তরালে রাখা এবং আঙ্গুলগুলো ফাঁক করে উভয় হাত হাঁটুর ওপর রাখা।

10 - সে রুকুতে বলবে: "আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি", তিনবার। আর যদি সে পাঠ বাড়িয়ে বলে: "হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক, আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি..."
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ৩২)
اللهم اغفر لي " فحسن.

11 - ثم يرفع رأسه من الركوع قائلا: " سمع الله لمن حمده "، ويرفع يديه حينئذ إلى حذو منكبيه.

والمأموم لا يقول: سمع الله لمن حمده، وإنما يقول: بدلها: " ربنا ولك الحمد ".

12 - ثم يقول بعد رفعه: " ربنا ولك الحمد. ملء السماوات وملء الأرض وملء ما شئت من شيء بعد ".

13 - ثم يسجد خشوعا لله السجدة الأولى. ويقول عند سجوده: " الله أكبر " ويسجد على أعضائه السبعة، الجبهة مع الأنف، والكفين، والركبتين، وأطراف القدمين، ويجافي عضديه عن جنبيه، ولا يبسط ذراعيه على الأرض، ويستقبل برؤوس أصابعه القبلة.

14 - ويقول في سجوده: " سبحان ربي الأعلى " ثلاث مرات، وإن زاد " سبحانك اللهم ربنا وبحمدك، اللهم اغفر لي " فحسن.
"হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন" - এটি উত্তম (حسن)।

১১ - অতঃপর তিনি ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে রুকু থেকে মাথা উত্তোলন করবেন এবং সেই সময় উভয় হাত কাঁধ বরাবর তুলবেন।

আর মুক্তাদি ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে না, বরং এর পরিবর্তে বলবে: ‘রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’।

১২ - মাথা তোলার পর তিনি বলবেন: ‘রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ, মিল-আস সামাওয়াতি ওয়া মিল-আল আরদি ওয়া মিল-আ মা শি’তা মিন শাইয়িন বা’দু’।

১৩ - এরপর আল্লাহর প্রতি পরম বিনয়ে প্রথম সিজদাহ করবেন। সিজদাহর প্রাক্কালে তিনি ‘আল্লাহু আকবার’ বলবেন এবং সাতটি অঙ্গের ওপর ভর দিয়ে সিজদাহ করবেন: কপাল ও নাক, উভয় হাতের তালু, উভয় হাঁটু এবং উভয় পায়ের আঙুলের অগ্রভাগ। তিনি তাঁর বাহুদ্বয়কে পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখবেন, মাটির সাথে বিছিয়ে দেবেন না এবং আঙুলের মাথাগুলোকে কিবলামুখী রাখবেন।

১৪ - তিনি সিজদাহ অবস্থায় তিনবার ‘সুবহানা রব্বিয়াল আ’লা’ বলবেন। যদি তিনি এর সাথে ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফিরলি’ বৃদ্ধি করেন, তবে তা উত্তম (حسن)।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
15 - ثم يرفع رأسه من السجود قائلا: " الله أكبر ".

16 - ثم يجلس بين السجدتين على قدمه اليسرى، وينصب قدمه اليمنى، ويضع يده اليمنى على طرف فخذه الأيمن مما يلي ركبته، ويقبض منها الخنصر والبنصر، ويرفع السبابة ويحركها عند دعائه، ويجعل طرف الإبهام مقرونا بطرف الوسطى كالحلقة، ويضع يده اليسرى مبسوطة الأصابع على طرف فخذه الأيسر مما يلي الركبة.

17 - ويقول في جلوسه بين السجدتين: " رب اغفر لي وارحمني واهدني وارزقني واجبرني وعافني ".

18 - ثم يسجد خشوعا منه السجدة الثانية كالأولى فيما يقال ويفعل، ويكبر عند سجوده.

19 - ثم يقوم من السجدة الثانية قائلا: " الله أكبر " ويصلى الركعة الثانية كالأولى فيما يقال ويفعل إلا أنه لا يستفتح فيها.

20 - ثم يجلس بعد انتهاء الركعة الثانية قائلا: " الله أكبر " ويجلس كما جلس بين السجدتين سواء.
15 - এরপর তিনি "আল্লাহু আকবার" বলে সিজদাহ থেকে মাথা উত্তোলন করবেন।

16 - অতঃপর তিনি দুই সিজদাহর মাঝে বাম পায়ের ওপর উপবেশন করবেন এবং ডান পা খাড়া রাখবেন। তিনি তাঁর ডান হাতটি ডান উরুর প্রান্তভাগে হাঁটুর নিকটবর্তী স্থানে রাখবেন এবং সেখান থেকে কনিষ্ঠ ও অনামিকা আঙুলদ্বয় মুষ্টিবদ্ধ করবেন; আর তর্জনী আঙুলটি উঁচিয়ে ধরবেন এবং দোয়ার সময় তা সঞ্চালন করবেন। এছাড়া বৃদ্ধাঙ্গুলির অগ্রভাগ মধ্যমা আঙুলের অগ্রভাগের সাথে বৃত্তের ন্যায় যুক্ত করবেন এবং বাম হাতটি আঙুলসমূহ প্রসারিত অবস্থায় বাম উরুর প্রান্তভাগে হাঁটুর নিকটবর্তী স্থানে রাখবেন।

17 - আর দুই সিজদাহর মাঝে উপবিষ্ট অবস্থায় বলবেন: "হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন, আমাকে রিজিক দান করুন, আমার অপূর্ণতা দূর করুন এবং আমাকে সুস্থতা দান করুন।"

18 - এরপর তিনি অত্যন্ত বিনম্রভাবে প্রথম সিজদাহর ন্যায় দ্বিতীয় সিজদাহ করবেন—যাবতীয় পঠিত বিষয় ও কার্যাবলির ক্ষেত্রে এবং সিজদাহ করার সময় তাকবীর বলবেন।

19 - এরপর দ্বিতীয় সিজদাহ থেকে "আল্লাহু আকবার" বলে উঠে দাঁড়াবেন এবং প্রথম রাকাতের ন্যায় দ্বিতীয় রাকাতের যাবতীয় কথা ও কাজ সম্পন্ন করবেন; তবে এতে সানা বা সালাত শুরুর প্রারম্ভিক দুআ পাঠ করবেন না।

20 - অতঃপর দ্বিতীয় রাকাত সমাপ্ত করে "আল্লাহু আকবার" বলে বসবেন এবং ঠিক দুই সিজদাহর মাঝখানে বসার মতোই উপবেশন করবেন।
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
21 - ويقرأ التشهد في هذا الجلوس فيقول: " التحيات لله والصلوات والطيبات. السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته. السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله. اللهم صل على محمد وعلى آل محمد، كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد. وبارك على محمد وعلى آل محمد، كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد. أعوذ بالله من عذاب جهنم، ومن عذاب القبر، ومن فتنة المحيا والممات، ومن فتنة المسيح الدجال ". ثم يدعو ربه بما أحب من خيري الدنيا والآخرة.

22 - ثم يسلم عن يمينه قائلا: " السلام عليكم ورحمة الله " وعن يساره كذلك.

23 - وإذا كانت الصلاة ثلاثية أو رباعية وقف عند منتهى التشهد الأول وهو: " أشهد أن لا اله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله ".
২১ - আর তিনি এই বৈঠকে তাশাহহুদ পড়বেন এবং বলবেন: "সমস্ত মৌখিক ইবাদত আল্লাহর জন্য, সমস্ত শারীরিক ইবাদত ও সমস্ত আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও অত্যন্ত মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর বরকত নাজিল করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর বরকত নাজিল করেছিলেন; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও অত্যন্ত মহিমান্বিত। আমি আল্লাহর কাছে জাহান্নামের আজাব, কবরের আজাব, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা এবং মাসিহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" অতঃপর তিনি তাঁর রবের কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর যা পছন্দ করেন তা দিয়ে দুয়া করবেন।

২২ - এরপর তিনি তাঁর ডান দিকে "আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ" বলে সালাম ফিরাবেন এবং বাম দিকেও অনুরূপ করবেন।

২৩ - আর নামাজ যদি তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট হয়, তবে তিনি প্রথম তাশাহহুদের সমাপ্তি পর্যন্ত পড়ে বিরতি দেবেন (দাঁড়ানোর পূর্বে), যা হলো: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।"
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
24 - ثم ينهض قائما قائلا: " الله أكبر " ويرفع يديه إلى حذو منكبيه حينئذ.

25 - ثم يصلي ما بقي من صلاته على صفة الركعة الثانية، إلا أنه يقتصر على قراءة الفاتحة.

26 - ثم يجلس متوركا فينصب قدمه اليمنى ويخرج قدمه اليسرى من تحت ساق اليمنى، ويمكن مقعدته من الأرض، ويضع يديه على فخذيه على صفة وضعهما في التشهد الأول.

27 - ويقرأ في هذا الجلوس التشهد كله.

28 - ثم يسلم عن يمينه قائلا: " السلام عليكم ورحمة الله " وعن يساره كذلك.

أشياء مكروهة في الصلاة 1 - يكره في الصلاة الالتفات بالرأس أو بالبصر فأما رفع البصر، إلى السماء فحرام.

2 - ويكره في الصلاة العبث والحركة لغير حاجة.

3 - ويكره في الصلاة استصحاب ما يشغل كالشيء
24 - অতঃপর তিনি "আল্লাহু আকবার" বলে দাঁড়িয়ে যাবেন এবং সেই মুহূর্তে তাঁর উভয় হাত কাঁধ বরাবর উত্তোলন করবেন।

25 - এরপর তিনি তাঁর নামাজের অবশিষ্ট অংশ দ্বিতীয় রাকাআতের পদ্ধতিতে আদায় করবেন, তবে তিনি কেবল সূরা ফাতিহা পাঠের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবেন।

26 - অতঃপর তিনি তাওয়াররুক (متوركا) পদ্ধতিতে বসবেন; এমতাবস্থায় তিনি তাঁর ডান পা খাড়া রাখবেন এবং বাম পা-টি ডান নলার নিচ দিয়ে বের করে দেবেন, আর তাঁর নিতম্ব জমিনের ওপর স্থির করবেন। তিনি তাঁর উভয় হাত তাঁর উরুদ্বয়ের ওপর রাখবেন, যেভাবে প্রথম তাশাহহুদে রেখেছিলেন।

27 - এবং তিনি এই বৈঠকে সম্পূর্ণ তাশাহহুদ পাঠ করবেন।

28 - অতঃপর তিনি তাঁর ডান দিকে "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ" বলে সালাম ফিরাবেন এবং বাম দিকেও অনুরূপ করবেন।

নামাজে অপছন্দনীয় (مكروه) বিষয়সমূহ: ১ - নামাজে মাথা অথবা দৃষ্টির মাধ্যমে এদিক-সেদিক তাকানো অপছন্দনীয় (مكروه); আর আকাশের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করা হারাম (حرام)।

2 - নামাজে অহেতুক কাজ এবং প্রয়োজন ব্যতীত নাড়াচাড়া করা অপছন্দনীয় (مكروه)।

3 - নামাজে এমন বস্তু সাথে রাখা অপছন্দনীয় (مكروه) যা মনোযোগ বিচ্যুত করে, যেমন কোনো বস্তু...
(খণ্ড: ১) মিনাল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ ফিত তাহারতি ওয়াস সালাতি ওয়াল জানাইজ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
الثقيل والملون بما يلفت النظر.

4 - ويكره في الصلاة التخصر، وهو وضع اليد على الخاصرة.

أشياء مبطلة للصلاة 1 - تبطل الصلاة بالكلام عمدا وإن كان يسيرا.

2 - وتبطل الصلاة بالانحراف، عن القبلة بجميع البدن.

3 - وتبطل الصلاة بخروج الريح من دبره، وبجميع ما يوجب الوضوء أو الغسل.

4 - وتبطل الصلاة بالحركات الكثيرة المتوالية لغير ضرورة.

5 - وتبطل الصلاة بالضحك وإن كان يسيرا.

6 - وتبطل الصلاة إذا زاد فيها ركوعا أو سجودا أو قياما أو قعودا متعمدا ذلك.

7 - وتبطل الصلاة بمسابقة الإمام عمدا.
দৃষ্টি আকর্ষণকারী ভারী এবং বর্ণিল বস্তু।

৪ - নামাজের মধ্যে কোমরে হাত রাখা অপছন্দনীয় (مكروه), আর তা হলো পাঁজরের নিচে কোমরের ওপর হাত রাখা।

নামাজ বাতিল (باطل) হওয়ার কারণসমূহ ১ - ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বললে নামাজ বাতিল (باطل) হয়ে যায়, যদিও তা সামান্য হয়।

২ - পুরো শরীর কিবলা থেকে ঘুরিয়ে ফেললে নামাজ বাতিল (باطل) হয়ে যায়।

৩ - বায়ু নির্গত হলে এবং যা কিছু অজু বা গোসল অত্যাবশ্যক (واجب) করে, সেগুলোর মাধ্যমে নামাজ বাতিল (باطل) হয়ে যায়।

৪ - কোনো প্রয়োজন ছাড়া লাগাতার অধিক নড়াচড়া করলে নামাজ বাতিল (باطل) হয়ে যায়।

৫ - হাসলে নামাজ বাতিল (باطل) হয়ে যায়, যদিও তা সামান্য হয়।

৬ - যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজে রুকু, সিজদা, দণ্ডায়মান হওয়া (قيام) বা উপবেশন (قعود) বৃদ্ধি করে, তবে নামাজ বাতিল (باطل) হয়ে যায়।

৭ - ইচ্ছাকৃতভাবে ইমামের অগ্রগামী হলে নামাজ বাতিল (باطل) হয়ে যায়।