(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
مشكلة السرف في المجتمع المسلم وعلاجها في ضوء الإسلام القسم: مسائل فقهية
الكتاب: مشكلة السرف في المجتمع المسلم وعلاجها في ضوء الإسلام
المؤلف: عبد الله بن إبراهيم الطريقي
الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1421هـ
عدد الصفحات: 151
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসলিম সমাজে অপচয়ের সমস্যা এবং ইসলামের আলোকে এর প্রতিকার বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রীয় মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: মুসলিম সমাজে অপচয়ের সমস্যা এবং ইসলামের আলোকে এর প্রতিকার
লেখক: আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-তারিকী
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫১
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
[مقدمة]مشكلة السرف في المجتمع المسلم وعلاجها في ضوء الإسلام
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة حمداً لك اللهم. وصلاة وسلاما على خاتم رسلك.
أما بعد:
فإن الإنسان بطبعه ميال إلى المال، يحب جمعه والتكاثر به {وَإِنَّهُ لِحُبِّ الْخَيْرِ لَشَدِيدٌ} [العاديات: 8] العاديات / 8.
كما يحب - من خلال المال - أن يحقق رغباته ويشبع نهمه، ففي الحديث: «منهومان لا يشبعان: منهوم في علم لا يشبع، ومنهوم في دنيا لا يشبع» رواه الحاكم في المستدرك 1 / 92، وكل ذلك غريزة لا فكاك منها {زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاللَّهُ عِنْدَهُ حُسْنُ الْمَآبِ} [آل عمران: 14] آل عمران / 14.
والإسلام لا يعادي هذه الغريزة ولا يتجاهلها، ولكنه ينظمها ويوجهها بما يليق بالمسلم ووظيفته في الحياة.
فيطالب المسلم بالكسب الحلال الطيب، وصرفه في مصارفه المشروعة (الواجبة والمندوبة والمباحة) {يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ} [البقرة: 168] البقرة: 168.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ} [البقرة: 267] البقرة: 267.
ولا يجوز له أن ينفقه فيما فيه ضرر عليه أو على مجتمعه، بل عليه أن يتصرف فيه بالحكمة، وفقاً لمراد الشارع.
وعندئذ يكون معتدلا في نفقته، قائماً بالقسط. فإن تجاوز الحد المشروع فإنه
[ভূমিকা]মুসলিম সমাজে অপচয়ের সমস্যা এবং ইসলামের আলোকে এর প্রতিকার
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা: হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য। আপনার সর্বশেষ রাসুলের প্রতি দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
মানুষ স্বভাবগতভাবেই সম্পদের প্রতি অনুরাগী; সে সম্পদ সঞ্চয় করতে এবং এর প্রাচুর্য অর্জন করতে ভালোবাসে। "আর নিশ্চয়ই সে ধন-সম্পদের মোহে অত্যন্ত প্রবল।" [আল-আদিয়াত: ৮] আল-আদিয়াত / ৮।
সে সম্পদের মাধ্যমে নিজের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে এবং ক্ষুধা নিবারণ করতেও পছন্দ করে। হাদিসে এসেছে: "দুইটি অতৃপ্ত সত্তা রয়েছে যারা কখনো তৃপ্ত হয় না: ইলম অন্বেষী যে তৃপ্ত হয় না, এবং দুনিয়া অন্বেষী যে তৃপ্ত হয় না।" এটি আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে (১/৯২) বর্ণনা করেছেন। এই সবই হচ্ছে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি যা থেকে নিষ্কৃতি নেই। "মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে প্রবৃত্তির প্রতি ভালোবাসা—নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশি রাশি সোনা-রূপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু ও ক্ষেত-খামারের প্রতি। এগুলি পার্থিব জীবনের ভোগ্যবস্তু। আর আল্লাহর নিকট রয়েছে সর্বোত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।" [আল-ইমরান: ১৪] আল-ইমরান / ১৪।
ইসলাম এই প্রবৃত্তির বিরোধিতা করে না এবং একে উপেক্ষা করে না, বরং একে এমনভাবে সুশৃঙ্খল ও পরিচালিত করে যা একজন মুসলিম এবং জীবনে তার দায়িত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
ফলে মুসলিম ব্যক্তিকে হালাল ও পবিত্র উপার্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তা বিধিবদ্ধ খাতে (আবশ্যিক (واجبة), পছন্দনীয় (مندوبة) এবং বৈধ (مباحة)) ব্যয় করার তাকিদ দেওয়া হয়েছে। "হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে তা থেকে তোমরা আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।" [আল-বাকারা: ১৬৮] আল-বাকারা: ১৬৮।
"হে মুমিনগণ! তোমরা যা উপার্জন করেছ এবং আমি যা তোমাদের জন্য ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করো এবং সেখান থেকে নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার সংকল্প করো না।" [আল-বাকারা: ২৬৭] আল-বাকারা: ২৬৭।
নিজের বা তার সমাজের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো বিষয়ে সম্পদ ব্যয় করা তার জন্য জায়েজ নয়; বরং তাকে বিধানদাতার (الشارع) অভিপ্রায় অনুযায়ী প্রজ্ঞার সাথে সম্পদ পরিচালনা করতে হবে।
তখনই সে তার ব্যয়ে পরিমিত হবে এবং ন্যায়পরায়ণতা (قسط)-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যদি সে শরয়ি (مشروع) সীমা লঙ্ঘন করে, তবে সে
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
يكون قد دخل في دائرة الإسراف والتبذير.
وهما (الإسراف والتبذير) من الأمراض الاجتماعية والاقتصادية التي تهدد الأمم والشعوب بالوقوع في الترف والبذخ، والأشر والبطر، ومن ثم تعرضها للهلاك العام والعاجل.
{وَإِذَا أَرَدْنَا أَنْ نُهْلِكَ قَرْيَةً أَمَرْنَا مُتْرَفِيهَا فَفَسَقُوا فِيهَا فَحَقَّ عَلَيْهَا الْقَوْلُ فَدَمَّرْنَاهَا تَدْمِيرًا} [الإسراء: 16] الإسراء: 16.
{وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا قَرْيَةً كَانَتْ آمِنَةً مُطْمَئِنَّةً يَأْتِيهَا رِزْقُهَا رَغَدًا مِنْ كُلِّ مَكَانٍ فَكَفَرَتْ بِأَنْعُمِ اللَّهِ فَأَذَاقَهَا اللَّهُ لِبَاسَ الْجُوعِ وَالْخَوْفِ بِمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ} [النحل: 112] النحل: 112.
والإسلام وهو يحارب هذه الآفة (الإسراف والترف) فإنه يحارب كذلك ما يقابلها من الآفات، من البخل والشح والتقتير ومنِعِ الزكاة ونحو ذلك.
إذ الأمر وسط بين الإفراط والتفريط {وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًا مَحْسُورًا} [الإسراء: 29] الإسراء: 29.
والمجتمعات المسلمة في عمومها قديمها وحديثها لا تخلو من وجود هذه المشكلات المتناقضة، وتفشيها أحياناً، حتى تكون ظاهرة عامة.
ولئن كانت تختلف تلك المشكلات من زمان إلى زمان ومن بيئة إلى أخرى، فإن المعاناة والشكوى قاسم مشترك.
ومجتمعنا المعاصر ولا سيما في منطقة الخليج العربي سرت فيه ظاهرة السرف حتى تحولت إلى مشكلة تستحق الدراسة والمعالجة.
وبتوفيق من الله تعالى ثم بتشجيع من وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد بالمملكة العربية السعودية قمت بهذه الدراسة النظرية المختصرة لهذه المشكلة رغبة في الإسهام مع أهل العلم والفكر والرأي بتشخيص هذه المشكلة ومحاولة معالجتها في ضوء الإسلام والواقع.
তিনি অপব্যয় ও অপচয়ের বৃত্তে প্রবেশ করেছেন।
আর এ দু’টি (অপব্যয় ও অপচয়) এমন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যাধি, যা জাতি ও জনগোষ্ঠীকে বিলাসিতা, আতিশয্য, দম্ভ ও অহমিকার শিকারে পরিণত হওয়ার হুমকি প্রদান করে এবং ফলশ্রুতিতে তাদের সামগ্রিক ও আশু ধ্বংসের সম্মুখীন করে।
“আর যখন আমি কোনো জনপদ ধ্বংস করতে চাই, তখন তার বিলাসপ্রিয় ব্যক্তিদের (সৎকাজের) আদেশ করি, অতঃপর তারা সেখানে পাপাচার করে। ফলে তার ওপর দণ্ডাদেশ অবধারিত হয়ে যায় এবং আমি তাকে সমূলে ধ্বংস করি।” [আল-ইসরা: ১৬]।
“আল্লাহ একটি জনপদের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন, যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত। সেখানে সর্বদিক থেকে পর্যাপ্ত জীবনোপকরণ আসত। অতঃপর তারা আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করল, ফলে আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ওপর ক্ষুধা ও ভীতির পোশাক আস্বাদন করালেন।” [আন-নাহল: ১১২]।
ইসলাম যেমন এই আপদকে (অপব্যয় ও বিলাসিতা) প্রতিরোধ করে, তেমনি এর বিপরীত ব্যাধিগুলোকেও প্রতিরোধ করে, যেমন: কৃপণতা, লালসা, অতি-সংকীর্ণতা, জাকাত প্রদান না করা এবং অনুরূপ বিষয়গুলো।
কেননা বিষয়টি হলো আতিশয্য ও অবহেলার মাঝামাঝি একটি পর্যায়। “তুমি তোমার হাত তোমার ঘাড়ের সাথে আবদ্ধ করে রেখো না এবং তা পুরোপুরি প্রসারিতও করো না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও রিক্তহস্ত হয়ে বসে পড়বে।” [আল-ইসরা: ২৯]।
মুসলিম সমাজগুলো সাধারণভাবে প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগেই এই বৈপরীত্যমূলক সমস্যাগুলোর উপস্থিতি থেকে মুক্ত নয় এবং কখনও কখনও এগুলোর বিস্তার ঘটে এমনকি তা একটি সাধারণ প্রপঞ্চে পরিণত হয়।
যদিও সেই সমস্যাগুলো এক সময় থেকে অন্য সময়ে এবং এক পরিবেশ থেকে অন্য পরিবেশে ভিন্ন ভিন্ন হয়, তবুও এর ফলে সৃষ্ট দুর্ভোগ ও অভিযোগ একটি অভিন্ন সাধারণ বিষয়।
আমাদের সমকালীন সমাজ, বিশেষ করে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে অপব্যয়ের প্রবণতা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে তা নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রতিকারের দাবি রাখে এমন একটি সমস্যায় রূপ নিয়েছে।
আল্লাহ তায়ালার তৌফিকে এবং অতঃপর সৌদি আরব রাজতন্ত্রের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়ের উৎসাহে আমি এই সমস্যার ওপর এই সংক্ষিপ্ত তাত্ত্বিক অধ্যয়নটি পরিচালনা করেছি। আমার উদ্দেশ্য হলো উলামায়ে কিরাম, চিন্তাবিদ ও গবেষকদের সাথে এই সমস্যাটি চিহ্নিত করতে এবং ইসলাম ও বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে এর সমাধানের প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণ করা।
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
فشكر الله لهذه الوزارة - ممثلة بمعالي وزيرها ونائبه ووكلائه - صنعهم ومؤازرتهم.
وإذا كانت هذه الدراسة قد ركزت على الجانب النظري من المشكلة، فإنها لم تخل من الإشارات إلى الواقع الاجتماعي، وضرب بعض الأمثلة من تطبيقاته، على أن تكون عبرة.
وبهذا نكون اعتمدنا المنهج الوصفي والتحليلي أولا، ثم التطبيقي ثانيا.
وقد تكونت خريطة البحث إجمالا من:
تمهيد وخمسة مباحث وخاتمة.
أما التمهيد فعن وسطية الإسلام.
وأما المباحث فهي كالآتي:
الأول: في مفهوم السرف.
الثاني: السرف في نصوص القرآن والسنة وكلام أهل العلم والحكمة.
الثالث: أقسام السرف ومجالاته.
الرابع: الآثار السلبية للسرف.
الخامس: علاج مشكلة السرف.
وأما الخاتمة: فجاء التركيز فيها على ذم التكلف وبيان خطره.
وقد أسميت هذا البحث (مشكلة السرف في المجتمع المسلم وعلاجها في ضوء الإسلام) .
وأسأل الله العلي القدير أن يجعله عملاً خالصاً لوجهه وعلماً نافعاً لخلقه، يرتفع لنا به الذكر، ويعظم به الأجر.
إنه خير مسؤول.
المؤلف
في 20 / 4 / 1419 هـ
আল্লাহ তাআলা এই মন্ত্রণালয়ের—মাননীয় মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের মাধ্যমে—তাদের এই উদ্যোগ ও সহযোগিতার জন্য উত্তম প্রতিদান দান করুন।
যদিও এই গবেষণাটি সমস্যার তাত্ত্বিক দিকের ওপর আলোকপাত করেছে, তবে এটি সামাজিক বাস্তবতা এবং এর প্রয়োগিক ক্ষেত্রগুলো থেকে কিছু উদাহরণ পেশ করা থেকে মুক্ত নয়, যাতে তা শিক্ষণীয় হতে পারে।
এর মাধ্যমে আমরা প্রথমত বর্ণনামূলক ও বিশ্লেষণধর্মী পদ্ধতি এবং দ্বিতীয়ত প্রায়োগিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি।
গবেষণার রূপরেখাটি সামগ্রিকভাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে:
একটি ভূমিকা, পাঁচটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহার।
ভূমিকাটি ইসলামের মধ্যপন্থা সম্পর্কে।
আর পরিচ্ছেদগুলো নিম্নরূপ:
প্রথম: অপচয়ের ধারণা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়: কুরআন ও সুন্নাহর মূল পাঠসমূহ (نصوص) এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞাবান মনীষীদের বাণীতে অপচয়ের বিবরণ।
তৃতীয়: অপচয়ের প্রকারভেদ ও ক্ষেত্রসমূহ।
চতুর্থ: অপচয়ের নেতিবাচক প্রভাবসমূহ।
পঞ্চম: অপচয় সমস্যার সমাধান।
আর উপসংহার: এতে কৃত্রিমতা বা লৌকিকতার নিন্দা এবং এর ভয়াবহতা বর্ণনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আমি এই গবেষণার নামকরণ করেছি ‘মুসলিম সমাজে অপচয়ের সমস্যা এবং ইসলামের আলোকে এর প্রতিকার’।
আমি সুমহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত কাজ এবং তাঁর সৃষ্টির জন্য উপকারী জ্ঞান হিসেবে কবুল করেন, যার মাধ্যমে আমাদের সুখ্যাতি বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা।
লেখক
২০ / ০৪ / ১৪১৯ হিজরি
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
[تمهيد]تمهيد التوازن والاعتدال ظاهرة كونية وحقيقة شرعية لا مراء في ذلك.
أما التوازن الكوني فيقول سبحانه:. . {مَا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِنْ تَفَاوُتٍ} [الملك: 3] (1) .
وأما التوازن الشرعي، أي في أحكام الله وتشريعاته، فيقول الحق تعالى:. . {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} [الأنعام: 153] (2) .
ومن لوازم الاستقامة التوازن.
ودين الإسلام دين وسط معتدل في كل أحكامه وتشريعاته: العقدية، والعبادية، والخلقية، والمعاملات، والعلاقات.
ففي الحديث: «إن لربك عليك حقا، ولنفسك عليك حقاً، ولأهلك عليك حقاً، فأعط كل ذي حق حقه» (3) .
ونجد الإسلام يحث على التزام المنهج الوسط المتزن في أدلة كثيرة عامة وخاصة.
فمن النصوص العامة الداعية إلى التوسط:
قوله تعالى: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ} [المائدة: 77] (4) .
وقوله عليه الصلاة والسلام: «عليكم هدياً قاصداً، عليكم هديا قاصداً، عليكم هدياً قاصداً» (5) أي طريقا معتدلاً.
وقوله: «السمت الحسن والتؤدة والاقتصاد جزء من أربعة وعشرين
--------------------------------------------
[ভূমিকা]ভূমিকা: ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা একটি মহাজাগতিক পরিদৃশ্য এবং অনস্বীকার্য শরয়ী বাস্তবতা।
মহাজাগতিক ভারসাম্যের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন: . . {আপনি পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবেন না} [আল-মুলক: ৩] (১) ।
আর শরয়ী ভারসাম্য, অর্থাৎ আল্লাহর বিধান ও বিধি-বিধানে, মহান সত্য (আল্লাহ) বলেন: . . {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে} [আল-আনআম: ১৫৩] (২) ।
সরল পথে অবিচল থাকার অন্যতম অপরিহার্য অনুষঙ্গ হলো ভারসাম্য।
ইসলাম ধর্ম তার সকল বিধান ও আইন-কানুন—আকীদা, ইবাদত, আখলাক, লেনদেন ও পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মধ্যপন্থী ও ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম।
হাদিসে এসেছে: «নিশ্চয়ই তোমার ওপর তোমার রবের হক রয়েছে, তোমার ওপর তোমার নিজের হক রয়েছে এবং তোমার ওপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে; অতএব প্রত্যেক হকদারকে তার হক আদায় করে দাও» (৩) ।
আমরা দেখতে পাই যে, ইসলাম বহু সাধারণ ও বিশেষ দলিলের মাধ্যমে মধ্যপন্থী ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণে উৎসাহিত করে।
মধ্যপন্থার দিকে আহ্বানকারী সাধারণ মূলপাঠগুলোর মধ্যে রয়েছে:
মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন: হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অন্যায় বাড়াবাড়ি করো না} [আল-মায়িদা: ৭৭] (৪) ।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «তোমরা অবশ্যই মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে, তোমরা অবশ্যই মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে, তোমরা অবশ্যই মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে» (৫) অর্থাৎ একটি ভারসাম্যপূর্ণ পথ।
এবং তাঁর বাণী: «উত্তম আচরণ, ধীরস্থিরতা এবং মধ্যপন্থা হলো নবুওয়তের চব্বিশ ভাগের এক ভাগ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
جزءاً من النبوة» (1) .
ومدحت الأمة المسلمة بالوسطية، فقال عز من قائل: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة: 143] (2) .
ومن النصوص الخاصة بموضوع البحث:
ما جاء في الحث على الاقتصاد في المعيشة.
كحديث: «ما عال من اقتصد» (3) .
أي ما افتقر من أنفق قصداً ولم يتجاوز إلى الإسراف، أو ما جار ولا جاوز الحد (4) .
وحديث: «من فقه الرجل رفقه في معيشته» (5) .
ما جاء في النهي عن الإسراف في النفقة: {وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا} [الفرقان: 67] (6) .
وحديث: «كلوا واشربوا وتصدقوا ما لم يخالطه إسراف ولا مخيلة» (7) .
ما جاء في النهي عن الإسراف في الأكل والشرب. . .
{وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} [الأعراف: 31] (8) .
ما جاء في النهي عن الإسراف في استعمال الماء.
--------------------------------------------
«নবুওয়তের একটি অংশ» (১) ।
আর মুসলিম উম্মাহকে মধ্যপন্থা অবলম্বনের জন্য প্রশংসা করা হয়েছে, তাই পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত হিসেবে সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির ওপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হতে পারেন} [আল-বাকারা: ১৪৩] (২) ।
আর গবেষণার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট পাঠ্যসমূহের মধ্য হতে:
জীবনযাপনে মিতব্যয়িতার প্রতি উৎসাহ প্রদান সংক্রান্ত বর্ণনা।
যেমন হাদিস: «যে ব্যক্তি মিতব্যয়ী হয় সে অভাবী হয় না» (৩) ।
অর্থাৎ যে ব্যক্তি পরিমিতভাবে ব্যয় করে এবং অপচয়ের সীমালঙ্ঘন করে না, সে দরিদ্র হয় না; অথবা যে ব্যক্তি জুলুম করে না এবং সীমা অতিক্রম করে না (৪) ।
এবং হাদিস: «ব্যক্তির প্রজ্ঞার পরিচয় হলো তার জীবনযাপনে পরিমিতিবোধ» (৫) ।
ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে: {এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপচয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না; বরং তাদের পন্থা হয় এই দুইয়ের মাঝামাঝি ভারসাম্যপূর্ণ} [আল-ফুরকান: ৬৭] (৬) ।
এবং হাদিস: «তোমরা আহার করো, পান করো এবং দান করো, যতক্ষণ না তাতে অপচয় ও অহংকার মিশে যায়» (৭) ।
খাওয়া ও পানের ক্ষেত্রে অপচয় করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে. . .
{আর তোমরা আহার করো ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না} [আল-আরাফ: ৩১] (৮) ।
পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অপচয় করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
كحديث: «لا تسرف وإن كنت على نهر جار» (1) .
ما جاء في النهي عن إضاعة المال.
كقوله تعالى: {وَلَا تُؤْتُوا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمُ الَّتِي جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ قِيَامًا} [النساء: 5] (2) .
وقوله صلى الله عليه وسلم: «. . . وكره لكم قيل وقال، وكثرة السؤال، وإضاعة المال» (3) .
كل ذلك ونظائره يؤكد حقيقة (وسطية الإسلام واعتداله وتوازنه في كل أحكامه وتشريعاته) .
وبذلك تستقيم حياة الإنسان الطبيعية والتكليفية، فلا تضطرب ولا تصاب بالكلل والملل!! . فالمقصود من الطاعات هو استقامة النفس ودفع اعوجاجها لا الإحصاء فإنه متعذر. . .!! (4) .
وذلك ما يتلاءم مع العقول المستقيمة.
يقول علي بن أبي طالب رضي الله عنه:
" خير الأمة النمط الأوسط، يرجع إليهم الغالي ويلحق بهم التالي " (5) .
ويقول أبو الدرداء رضي الله عنه (ت 32 هـ) : " حسن التقدير في المعيشة أفضل من نصف الكسب " (6) .
--------------------------------------------
যেমন একটি হাদিস: «অপচয় করো না, যদিও তুমি কোনো প্রবাহিত নদীর তীরে থাকো» (১)।
সম্পদ অপচয় করার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে।
যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তোমরা নির্বোধদের হাতে তোমাদের সেই সম্পদ তুলে দিও না, যা আল্লাহ তোমাদের জীবনধারণের অবলম্বন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন} [নিসা: ৫] (২)।
এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «...তিনি তোমাদের জন্য অহেতুক কথাবার্তা, অধিক প্রশ্ন করা এবং সম্পদ অপচয় করা অপছন্দ করেছেন» (৩)।
এই সমস্ত বিষয় এবং এ জাতীয় অন্যান্য নিদর্শন এই বাস্তবতাকে সুনিশ্চিত করে যে, (ইসলামের প্রতিটি বিধান ও শরয়ি বিধিমালায় এর মধ্যপন্থা, পরিমিতিবোধ ও ভারসাম্য বজায় রয়েছে)।
এর মাধ্যমেই মানুষের স্বাভাবিক ও শরয়ি দায়িত্বশীল জীবন সুসংহত হয়, ফলে তাতে কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় না এবং তা ক্লান্তি ও অবসাদগ্রস্ত হয় না!! কারণ ইবাদতগুলোর উদ্দেশ্য হলো আত্মার পরিশুদ্ধি ও তার বক্রতা দূর করা, সংখ্যা গণনা করা নয়; কারণ তা সাধ্যাতীত...!! (৪)।
আর এটিই সুস্থ বিবেকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বলেন:
"উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো মধ্যপন্থী দল, যাদের দিকে অতিরঞ্জনকারীরা ফিরে আসে এবং পিছিয়ে পড়া ব্যক্তিরা এসে মিলিত হয়" (৫)।
আবু দারদা (রা.) (মৃত্যু ৩২ হি.) বলেন: "জীবনযাপনে উত্তম পরিমিতিবোধ অর্ধেক উপার্জনের চেয়েও শ্রেষ্ঠ" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقد جاء في أمثال العرب: " لا تكن حلوا فتسترط ولا مراً فتلفظ " (1) وقولهم: " خير الأمور أوساطها " (2) .
وفي هذا المعنى يقول الشاعر:
ولا تغل في شيء من الأمر واقتصد
… كلا طرفي قصد الأمور ذميم
ويقول الآخر:
كن في أمورك كلها متوسطا
… عدلا بلا نقص ولا رجحان
نعم إن الإسلام دين التوازن والوسطية، ودين الاعتدال والاستقامة، وذلك ما يتفق مع الفطرة السليمة والعقل الصحيح، فإن أخذ الإنسان بهذا المنهج استقام أوده، وانتظمت حياته.
وإن عدل عنه يمنة أو يسرة عصفت به الأهواء في كل واد، واختل - من ثم - نظام حياته.
والمال - وهو عصب الحياة وقوام الأبدان - لا بد أن يتعامل معه الإنسان بالمنهج نفسه دون إفراط أو تفريط ولا إسراف ولا تقتير، ليكون مصدر سعادة للإنسان، ووسيلة خير للوصول إلى الغايات والأهداف النبيلة، فإن هو حاد عنه صار المال عليه وبالاً وبيلاً (3) .
إذا عرف ذلك فإن اكتساب الحلال الطيب وإنفاقه في المباحات بطريقة معتدلة أمر جائز لا غبار عليه، كما أشرنا في المقدمة، بل إن التوسع في ذلك مما يجوز شرعا ما لم يصل إلى حد السرف، لما رواه عبد الله بن مسعود رضي الله عنه عن
--------------------------------------------
আরবদের প্রবাদে এসেছে: "এতটা মিষ্টি হয়ো না যে তোমাকে গিলে ফেলা হয়, আর এতটা তিতা হয়ো না যে তোমাকে থুথু দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়" (১)। আর তাদের বক্তব্য: "সকল বিষয়ের মধ্যে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই সর্বোত্তম" (২)।
এই অর্থেই জনৈক কবি বলেন:
কোনো বিষয়েই বাড়াবাড়ি করো না বরং পরিমিতিবোধ বজায় রাখো
… কারণ বিষয়ের উভয় প্রান্তই নিন্দনীয়
অন্যজন বলেন:
তোমার সকল বিষয়ে মধ্যপন্থী হও
… ভারসাম্যপূর্ণ কোনো কমতি বা আধিক্য ছাড়াই
হ্যাঁ, নিশ্চয়ই ইসলাম হলো ভারসাম্য ও মধ্যপন্থার দ্বীন, এবং পরিমিতিবোধ ও ঋজুতার দ্বীন। এটি সুস্থ স্বভাব ও সঠিক বিবেকের সাথে সংগতিপূর্ণ। যদি মানুষ এই পথ অনুসরণ করে, তবে তার জীবনের সকল বক্রতা দূর হয়ে ঋজুতা আসে এবং তার জীবন সুশৃঙ্খল হয়।
আর যদি সে তা থেকে ডানে বা বামে বিচ্যুত হয়, তবে কুপ্রবৃত্তি তাকে প্রতিটি উপত্যকায় বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয় এবং এর ফলে তার জীবনব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়।
আর সম্পদ—যা জীবনের চালিকাশক্তি এবং দেহের স্থায়িত্বের ভিত্তি—মানুষের উচিত এর সাথে একই নীতিতে লেনদেন করা; কোনো বাড়াবাড়ি বা অবহেলা এবং অপচয় বা কার্পণ্য ছাড়াই। যাতে তা মানুষের জন্য সুখের উৎস এবং মহৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের উত্তম মাধ্যম হয়। কিন্তু সে যদি এই পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তবে এই সম্পদই তার জন্য ভয়াবহ আপদ (৩) হয়ে দাঁড়াবে।
এটি জানা থাকলে, হালাল ও পবিত্র সম্পদ উপার্জন করা এবং তা অনুমোদিত ক্ষেত্রে পরিমিতভাবে ব্যয় করা একটি প্রশ্নাতীতভাবে বৈধ বিষয়, যেমনটি আমরা ভূমিকার মধ্যে উল্লেখ করেছি। বরং শরিয়তসম্মতভাবে এতে প্রশস্ততা বজায় রাখা বৈধ, যতক্ষণ না তা অপচয়ের সীমায় পৌঁছায়। কারণ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা (رواه) করা হয়েছে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لا يدخل الجنة من كان في قلبه مثقال ذرة من كبر، قال رجل: إن الرجل يحب أن يكون ثوبه حسنا، ونعله حسنة، قال: إن الله جميل يحب الجمال، الكبر بطر الحق وغمط الناس» (1) .
وقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه (ت 23 هـ) : " إذا وسّع عليكم فأوسعوا " (2) وقد كان كثير من السلف على هذا المنهج، ولم يتحرجوا إلا عن الشبهات.
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এক ব্যক্তি আরজ করলেন: কোনো ব্যক্তি তো এটি পছন্দ করতে পারে যে তার পোশাক সুন্দর হোক এবং তার জুতো জোড়া সুন্দর হোক। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা» (১)।
এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) (মৃত্যু ২৩ হিজরি) বলেছেন: "যখন আল্লাহ তোমাদের জন্য প্রশস্ততা দান করেন, তখন তোমরাও প্রশস্ততা অবলম্বন করো" (২)। পূর্বসূরিদের (সালাফ) অনেকেই এই পদ্ধতির ওপর ছিলেন এবং তাঁরা সন্দেহযুক্ত বিষয় (شبهة) ব্যতীত অন্য কিছুতে সংকীর্ণতা বোধ করতেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
[المبحث الأول مفهوم السرف]
[أولا التعريف بالسرف]المبحث الأول
مفهوم السرف من أجل الوصول إلى الحكم على الشيء ينبغي فهم حقيقته ومعناه، إذ الحكم على الشيء فرع عن تصوره.
ونتعرف هنا على مفهوم لفظة السرف، وكذلك الألفاظ ذوات الصلة بها.
أولا: التعريف بالسرف: قال ابن فارس (ت 395 هـ) : " السين والراء والفاء أصل واحد يدل على تعدي الحد، والإغفال أيضا للشيء، تقول: في الأمر سرف أي مجاوزة القدر " (1) وجاء في تاج العروس: " السرف محركة: ضد القصد. . . وقيل: هو تجاوز ما حد لك " والإسراف في النفقة: التبذير ومجاوزة القصد. وقيل: أكل ما لا يحل أكله، وبه فسر قوله تعالى:. . وَلَا تُسْرِفُوا. . . وقيل: الإسراف: وضع الشيء في غير موضعه، أو هو ما أنفق في غير طاعة الله عز وجل.
وأسرف في الكلام: أفرط، والإسراف أيضا: الإكثار من الذنوب والخطايا (2) ".
ذلك تعريف السرف لدى علماء اللغة.
فهو: تجاوز حد الاعتدال، ووضع الشيء في غير موضعه.
وقد أدرج في التعريف اللغوي معان شرعية تؤول إلى المعنى اللغوي، مثل التعريف بأكل ما لا يحل أكله، والإنفاق في غير طاعة الله.
لذا ننتقل إلى المعنى الشرعي للسرف.
--------------------------------------------
[প্রথম পরিচ্ছেদ: সারাফ (السرف)-এর ধারণা]
[প্রথমত: সারাফ (السرف)-এর সংজ্ঞা]প্রথম পরিচ্ছেদ
সারাফ (السرف)-এর ধারণা: কোনো বিষয়ে হুকুম বা সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য তার হাকিকত ও অর্থ অনুধাবন করা আবশ্যক; কারণ কোনো বিষয়ের ওপর হুকুম প্রদান করা ওই বিষয়টি উপলব্ধিরই একটি শাখা (فرع عن تصوره)।
এখানে আমরা সারাফ (السرف) শব্দটির ধারণা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট শব্দাবলি সম্পর্কে জানব।
প্রথমত: সারাফ (السرف)-এর সংজ্ঞা: ইবনে ফারিস (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি) বলেন: "সিন (س), রা (ر) এবং ফা (ف) হলো একটি মূল যা সীমা লঙ্ঘন করা (تعدي الحد) এবং কোনো বিষয়ে উদাসীনতা (الإغفال) প্রদর্শন করাকেও বোঝায়। বলা হয়: বিষয়টিতে সারাফ (سرف) রয়েছে, অর্থাৎ পরিমিতি অতিক্রম (مجاوزة القدر) করা হয়েছে।" (১) 'তাজুল আরুস' গ্রন্থে এসেছে: "সারাফ (السرف) - হরকতযুক্ত: পরিমিতিবোধ বা মিতাচারের (القصد) বিপরীত... এবং বলা হয়েছে: এটি হলো তোমার জন্য নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা।" ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইসরাফ (الإسراف) অর্থ হলো অপচয় (التبذير) এবং মিতাচার বা পরিমিতিবোধ (القصد) ছাড়িয়ে যাওয়া। আরও বলা হয়েছে: যা খাওয়া হালাল নয় তা খাওয়া; আর মহান আল্লাহর বাণী: "...তোমরা অপচয় (لَا تُسْرِفُوا) করো না..."-এর ব্যাখ্যা এভাবেই করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে: ইসরাফ (الإسراف) হলো কোনো জিনিসকে তার অযোগ্য স্থানে (غير موضعه) রাখা, অথবা তা হলো মহান আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ব্যতীত অন্য পথে ব্যয় করা।
কথাবার্তায় ইসরাফ করা অর্থ হলো অতিশয়োক্তি (أفرط) করা। ইসরাফ (الإسراف) আরও একটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, আর তা হলো—গোনাহ ও পাপরাশির আধিক্য (الإكثار من الذنوب والخطايا) (২)।
এটি হলো ভাষাবিদদের নিকট সারাফ (السرف)-এর সংজ্ঞা।
সুতরাং তা হলো: ভারসাম্যের সীমা (حد الاعتدال) অতিক্রম করা এবং কোনো বস্তুকে তার অযোগ্য স্থানে স্থাপন করা।
আভিধানিক সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু শরয়ি অর্থও বর্ণিত হয়েছে যা মূলত আভিধানিক অর্থের দিকেই ধাবিত হয়; যেমন—যা খাওয়া হালাল নয় তা খাওয়ার মাধ্যমে সংজ্ঞা প্রদান করা এবং আল্লাহর আনুগত্যের বাইরে ব্যয় করা।
অতএব, এখন আমরা সারাফ (السرف)-এর শরয়ি অর্থের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قال الراغب الأصفهاني (ت 502 هـ) : " السرف تجاوز الحد في كل فعل يفعله الإنسان، وإن كان ذلك في الإنفاق أشهر، قال تعالى: {وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا} [الفرقان: 67] (1) . . . {وَلَا تَأْكُلُوهَا إِسْرَافًا وَبِدَارًا أَنْ يَكْبَرُوا} [النساء: 6] (2) ويقال تارة اعتبارا بالقدر، وتارة بالكيفية، ولهذا قال سفيان: " ما أنفقت في غير طاعة الله فهو سرف وإن كان قليلا، قال الله تعالى: {وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} [الأنعام: 141] (3) {وَأَنَّ الْمُسْرِفِينَ هُمْ أَصْحَابُ النَّارِ} [غافر: 43] (4) أي المتجاوزين الحد في أمورهم " (5) .
وقريب من هذا قول الحافظ ابن حجر (ت 852 هـ) في تعريف الإسراف بأنه: " مجاوزة الحد في كل فعل أو قول وهو في الإنفاق أشهر " (6) .
ويعرفه بعضهم: " بأنه صرف الشيء فيما لا ينبغي زائدا على ما ينبغي " (7) .
وجاء في منال الطالب في شرح طوال الغرائب: " السرف: التبذير، ووضع العطاء في غير أهله، وقد أسرف يسرف إسرافا، والسرف: الاسم.
قال بعض السلف: كل ما أنفقته في طاعة الله فليس بسرف وإن كثر، وما أنفقته في غير طاعته فهو سرف وإن قل " (8) . وقال الإمام الطبري (ت 310 هـ) : " أصل الإسراف تجاوز الحد المباح إلى ما لم يبح، وربما كان ذلك في الإفراط وربما كان في التقصير " (9) .
--------------------------------------------
রাগেব আল-আসফাহানি (ওফাত ৫০২ হিজরি) বলেন: "আস-সারাফ (অপচয়) হলো মানুষের প্রতিটি কাজে সীমা লঙ্ঘন করা, যদিও এটি ব্যয়ের ক্ষেত্রেই অধিক পরিচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং যারা ব্যয় করার সময় অপচয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না} [আল-ফুরকান: ৬৭] (১) . . . {তারা বড় হয়ে যাবে বলে তোমরা অপচয় করে ও তড়িঘড়ি করে তা গ্রাস করো না} [আন-নিসা: ৬] (২)। কখনো পরিমাণের বিচারে একে অপচয় বলা হয়, আবার কখনো গুণগত মানের বিচারে। এজন্যই সুফিয়ান বলেছেন: 'আল্লাহর আনুগত্য বহির্ভূত কাজে তুমি যা ব্যয় করেছ তা-ই অপচয়, যদিও তা সামান্য হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং তোমরা অপচয় করো না, নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না} [আল-আনআম: ১৪১] (৩) {এবং নিশ্চয়ই অপচয়কারীরাই আগুনের অধিবাসী} [গাফির: ৪৩] (৪) অর্থাৎ যারা তাদের কার্যাবলীতে সীমা লঙ্ঘনকারী।'" (৫) .
হাফেজ ইবনে হাজার (ওফাত ৮৫২ হিজরি)-এর উক্তিটিও এর কাছাকাছি, তিনি অপচয়ের সংজ্ঞায় বলেন: "এটি হলো প্রতিটি কথা বা কাজে সীমা লঙ্ঘন করা, তবে ব্যয়ের ক্ষেত্রে এটি অধিক পরিচিত।" (৬) .
তাদের কেউ কেউ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন: "কোনো বিষয়কে এমন জায়গায় ব্যয় করা যেখানে করা উচিত নয় এবং যা উচিত তার অতিরিক্ত ব্যয় করা।" (৭) .
'মানালুত তালিব ফি শারহি তাওয়ালিল গারাইব' গ্রন্থে এসেছে: "সারাফ: অপব্যয় এবং অযোগ্য ব্যক্তিকে দান করা। এটি আসরাফা-ইউসরিফু-ইসরাফান (ক্রিয়ামূল) থেকে এসেছে এবং সারাফ হলো বিশেষ্য।
জনৈক সালাফ (السلف) বলেছেন: আল্লাহর আনুগত্যে তুমি যা কিছু ব্যয় করেছ তা অপচয় নয় যদিও তা পরিমাণে অনেক হয়, আর যা তাঁর অবাধ্যতায় ব্যয় করেছ তা-ই অপচয় যদিও তা অল্প হয়।" (৮) । ইমাম তাবারী (ওফাত ৩১০ হিজরি) বলেন: "অপচয়ের মূল অর্থ হলো বৈধ সীমা অতিক্রম করে এমন কিছুর দিকে যাওয়া যা বৈধ নয়। কখনো এটি বাড়াবাড়ির ক্ষেত্রে হয়, আবার কখনো এটি অবহেলা বা সংকোচনের ক্ষেত্রে হয়।" (৯) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومجمل ما تقدم:
1 - أن السرف هو مجاوزة القصد وحد الاعتدال وهذا نفسه المعنى اللغوي.
غير أن هنا تفسيراً بمعناه العام وهو تجاوز القصد في كل قول أو فعل. وهو في هذا البحث مقيد بالجانب المالي أو الاقتصادي.
2 - ثم إن الإسراف في هذا الجانب يقال تارة باعتبار القدر أو الكم وتارة بالكيفية، حسب إشارة الأصفهاني السابقة.
3 - وأن ما أنفق في غير طاعة الله فهو سرف بإطلاق قل أو كثر، وهذا يدخل في الإسراف في الكيف.
4 - وما أنفق في المباحات فما تجاوز القصد فهو سرف، وهذا سرف في الكم.
5 - وأما ما أنفق في طاعة الله ففي الإسراف فيه نظر، وستأتي له إشارة.
وكأن التعريفات السابقة لا تفرق بين لفظتي السرف والإسراف، وهو الظاهر.
غير أن بعض أهل العلم يفرق بينهما فيجعل الإسراف: " ما لم يقدر على رده إلى الصلاح، والسرف: ما يقدر على رده إلى الصلاح " (1) ويرى الطبري أن الإسراف هو الإفراط، والسرف هو التقصير (2) ولم يظهر لي هذا التفريق، لذا فلن ألتزم به في البحث.
وفي سياق إبراز حقيقة السرف يرد السؤال التالي: هل الإسراف في الإنفاق في طاعة الله يعد إسرافا مذموما؟ .
لقد سبق قول بعض السلف: " ما أنفقته في طاعة الله فليس بسرف وإن كثر ".
وفي هذا المعنى قيل لحاتم الطائي: " لا خير في السرف، فقال: لا سرف في الخير " (3) .
ويذهب بعض العلماء إلى عدم مشروعية السرف في هذا لقوله تعالى:. . {وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} [الأنعام: 141] (4) فقد
--------------------------------------------
উপোরিউক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো:
১ - সরাফ হলো পরিমিতিবোধ ও ভারসাম্যের সীমা লঙ্ঘন করা এবং এটিই এর আভিধানিক অর্থ।
তবে এখানে এর সাধারণ অর্থের একটি ব্যাখ্যা রয়েছে, যা হলো প্রতিটি কথা বা কাজে পরিমিতিবোধ অতিক্রম করা। আর এই গবেষণায় এটি আর্থিক বা অর্থনৈতিক দিকের সাথে সীমাবদ্ধ।
২ - অতঃপর, এই ক্ষেত্রে অপব্যয় বা ইসরাফ কখনও পরিমাণ বা সংখ্যার বিচারে বলা হয়, আবার কখনও পদ্ধতির বিচারে; যা আল-আসফাহানির পূর্ববর্তী ইঙ্গিত অনুযায়ী।
৩ - আর যা কিছু আল্লাহর আনুগত্যহীন কাজে ব্যয় করা হয়, তা নিঃশর্তভাবে সরাফ, চাই তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি। আর এটি পদ্ধতিগত অপব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।
৪ - বৈধ বিষয়াদিতে যা ব্যয় করা হয়, তার মধ্যে যা পরিমিতিবোধের সীমা অতিক্রম করে তা-ই সরাফ, এবং এটি পরিমাণগত অপব্যয়।
৫ - পক্ষান্তরে আল্লাহর আনুগত্যের পথে যা ব্যয় করা হয়, তাতে অপব্যয় হওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনার অবকাশ রাখে, যার ইঙ্গিত সামনে আসবে।
মনে হচ্ছে পূর্ববর্তী সংজ্ঞাগুলো সরাফ ও ইসরাফ শব্দ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করছে না এবং এটিই স্পষ্ট।
তবে কোনো কোনো আলিম এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করেন; তারা ইসরাফকে এমন বিষয় হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যা সংশোধনের পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, আর সরাফ হলো যা সংশোধনের পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব (১)। তাবারী মনে করেন যে, ইসরাফ হলো আতিশয্য এবং সরাফ হলো শিথিলতা (২)। আমার কাছে এই পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়নি, তাই আমি গবেষণায় এই পার্থক্যের অনুসরণ করব না।
সরাফ-এর স্বরূপ উদঘাটনের প্রেক্ষাপটে নিম্নোক্ত প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়: আল্লাহর আনুগত্যের পথে ব্যয়ের ক্ষেত্রে কি ইসরাফ বা অপব্যয় নিন্দনীয় হিসেবে গণ্য হবে?
পূর্বেই কিছু সালাফ-এর উক্তি উল্লিখিত হয়েছে: "যা কিছু তুমি আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করেছ তা সরাফ নয়, যদিও তা পরিমাণে অনেক হয়।"
এই অর্থেই হাতেম তাই-কে বলা হয়েছিল: "সরাফ-এ কোনো কল্যাণ নেই", উত্তরে তিনি বলেছিলেন: "কল্যাণে কোনো সরাফ নেই" (৩) ।
কোনো কোনো আলিম এক্ষেত্রেও সরাফ-এর অবৈধতার দিকে মত দিয়েছেন আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: . . {আর তোমরা ফসল কাটার দিনে তার হক আদায় করো এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপব্যয়কারীদের পছন্দ করেন না} [আল-আনআম: ১৪১] (৪) বস্তুত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ورد في سبب نزول الآية أن ثابت بن قيس بن شماس عمد إلى خمسمائة فجذها ثم قسمها في يوم واحد ولم يترك لأهله شيئا فنزلت. . . {وَلَا تُسْرِفُوا} [الأنعام: 141] (1) .
قال الإمام الطبري: بعد أن ساق الخلاف في معنى الآية الكريمة:
" والصواب من القول في ذلك عندي أن يقال: إن الله - تعالى ذكرُه - نهى بقوله:. . {وَلَا تُسْرِفُوا} [الأنعام: 141] عن جميع معاني الإسراف ولم يخصص منها معنى دون معنى، وإذا كان ذلك كذلك، وكان الإسراف في كلام العرب: الإخطاء بإصابة الحق في العطية، إما بتجاوز حده في الزيادة وإما بتقصير عن حده الواجب - كان المفرق ماله والباذله للناس حتى أجحفت به عطيته مسرفاً بتجاوزه حد الله إلى ما ليس له، وكذلك المقصر في بذله فيما ألزمه الله بذله فيه، وذلك كمنعه ما ألزمه إيتاءه منه أهل سهمان الصدقة إذا وجبت فيه أو منعه من ألزمه الله نفقته من أهله وعياله ما ألزمه منها، وكذلك السلطان في أخذه من رعيته ما لم يأذن الله بأخذه، كل هؤلاء فيما فعلوا من ذلك مسرفون " (2) .
والذي يظهر أن الإسراف مذموم حتى وإن كان في الخير، هذا هو الأصل، لكن بشرط أن يترتب على هذا الإسراف نوع إجحاف على المسرف في نفسه أو من يعول. أما إذا لم يترتب عليه شيء من ذلك فليس بسرف (3) .
قال البخاري (ت 256 هـ) في صحيحه: " باب لا صدقة إلا عن ظهر غنى، ومن تصدق وهو محتاج أو أهله محتاج أو عليه دين، فالدين أحق أن يقضى من الصدقة والعتق والهبة، وهو رد عليه ليس له أن يتلف أموال الناس، وقال
--------------------------------------------
এই আয়াতের শানে নুযূল (অবতরণের প্রেক্ষাপট) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, সাবিত ইবনে কায়স ইবনে শামাস (রা.) পাঁচশত (খেজুর গাছ) এর কাছে গিয়ে সেগুলোর ফল সংগ্রহ করলেন, তারপর একদিনেই তা বণ্টন করে দিলেন এবং তাঁর পরিবারের জন্য কিছুই অবশিষ্ট রাখলেন না। তখন অবতীর্ণ হলো: ". . . {এবং তোমরা অপচয় করো না}" [আল-আনআম: ১৪১] (১)।
ইমাম তাবারী এই মহিমান্বিত আয়াতের অর্থের ব্যাপারে বিদ্যমান মতভেদগুলো উল্লেখ করার পর বলেন:
"এ বিষয়ে আমার নিকট সঠিক (الصواب) কথা হলো এই যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণী: . . {এবং তোমরা অপচয় করো না} [আল-আনআম: ১৪১] এর মাধ্যমে অপচয়ের (الإسراف) সকল অর্থকেই নিষেধ করেছেন এবং এর কোনো একটি অর্থকে অন্যটি থেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট করেননি। আর বিষয়টি যখন এমন এবং আরব্য বাগধারায় অপচয় (الإسراف) অর্থ হলো: প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক বা হকের সীমারেখা বজায় রাখতে ভুল করা—তা হতে পারে আধিক্যের মাধ্যমে সীমা অতিক্রম করে, অথবা ওয়াজিব (الواجب) সীমার চেয়ে কম করার মাধ্যমে। এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি তার সম্পদ যত্রতত্র বিলিয়ে দেয় এবং মানুষের জন্য এমনভাবে ব্যয় করে যে তার সেই দান তাকে নিঃস্ব বা ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে, সে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে যা তার জন্য বৈধ নয় তাতে লিপ্ত হওয়ার কারণে একজন অপচয়কারী (مسرفا) হিসেবে গণ্য হবে। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি আল্লাহ যা প্রদান করা তার ওপর আবশ্যক করেছেন তা প্রদানে অবহেলা বা কমতি করে সেও অপচয়কারী। যেমন—যাকাত বা সদকা ওয়াজিব হওয়ার পর তার হকদারদের তা প্রদান থেকে বিরত থাকা, কিংবা পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ যা আল্লাহ তার ওপর আবশ্যক করেছেন তা প্রদান না করা। ঠিক তেমনিভাবে শাসক যদি তার প্রজাদের কাছ কাছ থেকে এমন কিছু গ্রহণ করে যা গ্রহণের অনুমতি আল্লাহ দেননি, তবে তারা প্রত্যেকেই তাদের এই কার্যের কারণে অপচয়কারী (مسرفون) বলে গণ্য হবে।" (২)।
আর যা স্পষ্ট হয় তা হলো, অপচয় (الإسراف) নিন্দনীয়—এমনকি তা ভালো কাজে হলেও; এটাই হলো মূলনীতি (الأصل)। তবে শর্ত হলো এই যে, এই অপচয়ের ফলে অপচয়কারীর নিজের ওপর বা তার পরিবার-পরিজনের ওপর কোনো প্রকার ক্ষতির প্রভাব পড়তে হবে। যদি তেমন কোনো প্রভাব না পড়ে, তবে তা অপচয় (سرف) নয় (৩)।
ইমাম বুখারী (মৃত্যু ২৫৬ হি.) তাঁর সহীহ বুখারী গ্রন্থে বলেন: "অনুচ্ছেদ: সচ্ছলতা বজায় রাখা ব্যতীত কোনো দান নেই। যে ব্যক্তি নিজের বা পরিবারের প্রয়োজনের সময় কিংবা ঋণগ্রস্ত অবস্থায় দান করে (তার সেই দান অগ্রাহ্য)। কেননা সদকা, দাসমুক্তি বা হেবা করার চেয়ে ঋণ পরিশোধ করা অধিক অগ্রগণ্য। সেই দান দাতার নিকট ফেরতযোগ্য, কারণ মানুষের সম্পদ নষ্ট করার অধিকার তার নেই। আর তিনি বলেন—"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
النبي صلى الله عليه وسلم: «من أخذ أموال الناس يريد إتلافها أتلفه الله» إلا أن يكون معروفا بالصبر فيؤثر على نفسه ولو كان به خصاصة كفعل أبي بكر رضي الله عنه حين تصدق بماله، وكذلك آثر الأنصار المهاجرين، ونهى النبي صلى الله عليه وسلم عن إضاعة المال، فليس له أن يضيع أموال الناس بعلة الصدقة " (1) .
ونقل الحافظ ابن حجر (ت 852 هـ) هنا عن الطبري قوله: " قال الجمهور: من تصدق بماله كله في صحة بدنه وعقله حيث لا دين عليه، وكان صبورا على الإضاقة ولا عيال له، أو له عيال يصبرون أيضا فهو جائز، فإن فقد شيء من هذه الشروط كره، وقال بعضهم: هو مردود " (2) .
ومما يدل على صحة النفقة بكل المال إذا لم يكن في ذلك إضرار قوله صلى الله عليه وسلم: «لا حسد إلا في اثنتين: رجل آتاه الله مالا فسلطه على هلكته في الحق. . .» (3) الحديث. قال ابن المنير (ت 683 هـ) فيما نقله عنه ابن حجر: " في هذا الحديث حجة على جواز إنفاق جميع المال وبذله في الصحة والخروج عنه بالكلية في وجوه البر، ما لم يؤد إلى حرمان الوارث ونحو ذلك مما منع منه الشرع " (4) .
ضابط السرف: ومن متممات مفهوم السرف وحقيقته معرفة تطبيق ذلك على واقع الحال.
فإن مما هو معروف أن الناس متفاوتون في الغنى والفقر وفي طبيعة المتطلبات. فهذا غني وذاك فقير، وبينهما درجات.
وهذا يعيش منفردا بنفسه، وآخر يعيش معه أسرة صغيرة، وثالث معه أسرة
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তা গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন»। তবে যদি সে ধৈর্যের জন্য সুপরিচিত হয় এবং নিজের চরম অভাব থাকা সত্ত্বেও অন্যকে প্রাধান্য দেয়, যেমনটি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সমস্ত সম্পদ সদকা করার সময় করেছিলেন। একইভাবে আনসারগণ মুহাজিরদের প্রাধান্য দিয়েছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পদ অপচয় করতে নিষেধ করেছেন; তাই সদকার দোহাই দিয়ে মানুষের সম্পদ নষ্ট করার কোনো অধিকার তার নেই। (১) ।
হাফিজ ইবনে হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) এখানে তাবারির উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: "সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণ (الجمهور) বলেছেন: যে ব্যক্তি সুস্থ শরীরে ও সুস্থ মস্তিষ্কে তার সমস্ত সম্পদ সদকা করে দেয়—যখন তার কোনো ঋণ নেই, দারিদ্র্যের ওপর সে ধৈর্যশীল এবং তার কোনো পরিবার নেই অথবা তার এমন পরিবার রয়েছে যারাও ধৈর্যশীল—তবে তা বৈধ। যদি এই শর্তগুলোর কোনোটি অনুপস্থিত থাকে, তবে তা অপছন্দনীয় (مكروه); আর কেউ কেউ বলেছেন: তা প্রত্যাখ্যাত (مردود) " (২) ।
ক্ষতি না হওয়ার শর্তে সমস্ত সম্পদ ব্যয়ের বৈধতার প্রমাণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «কেবল দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রেই ঈর্ষা করা যায়: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে সত্যের পথে তা বিলিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা দিয়েছেন...» (৩) হাদিস। ইবনে আল-মুনির (মৃত্যু ৬৮৩ হিজরি) ইবনে হাজারের উদ্ধৃতিতে বলেছেন: "এই হাদিসে সুস্থ অবস্থায় সমস্ত সম্পদ ব্যয় ও দান করা এবং সামগ্রিকভাবে কল্যাণের পথে তা বিলিয়ে দেওয়ার বৈধতার প্রমাণ রয়েছে, যতক্ষণ না তা উত্তরাধিকারীকে বঞ্চিত করা বা শরিয়ত নিষিদ্ধ অনুরূপ কোনো বিষয়ের দিকে ধাবিত করে" (৪) ।
অপচয়ের (سرف) মানদণ্ড: অপচয়ের (سرف) ধারণা ও এর প্রকৃত রূপের পূর্ণতা লাভের অন্যতম দিক হলো বাস্তব অবস্থার ওপর এর প্রয়োগ অনুধাবন করা।
কেননা এটি সর্বজনবিদিত যে, মানুষের সচ্ছলতা ও দারিদ্র্য এবং প্রয়োজনের প্রকৃতির মাঝে ভিন্নতা রয়েছে। কেউ ধনী, কেউ দরিদ্র, আর এই দুইয়ের মাঝে রয়েছে বিভিন্ন স্তর।
কেউ একা বসবাস করেন, কেউ ছোট পরিবার নিয়ে থাকেন, আবার কারো বড় পরিবার রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كبيرة، وهذا ذو جاه ومكانة بين قومه، وآخر ليس كذلك. . . وهكذا، يضاف إلى ذلك الأعراف السائدة في كل بلد أو قبيلة.
فكل دلك - وما أشبهه - لا بد من مراعاته عند الحكم على تصرف الإنسان المالي بأنه إسراف أو تقتير أو وسط بينهما.
يقول القرطبي (ت 671 هـ) عند تفسيره قوله تعالى: {وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ} [الإسراء: 29] (1) " وهذه من آيات فقه الحال فلا يبين حكمها إلا باعتبار شخص من الناس " (2) وعلى هذا فمعرفة الإسراف من عدمه تعود إلى العرف والعادة، والعادة مُحَكَّمة كما يقول علماء الفقه وأصوله (3) .
[ثانيا التعريف بالمصطلحات والألفاظ ذات الصلة]
[التبذير]ثانيا: التعريف بالمصطلحات والألفاظ ذات الصلة: هناك عدد من المصطلحات والألفاظ لها صلة وثيقة بالمصطلح الرئيس السابق " السرف "، يجدر بنا أن نستوضحها حتى تستكمل الصورة بيانا، ويزاد الطريق اتساعا وإضاءة.
ولعل من أهم هذه المصطلحات والألفاظ: التبذير، إضاعة المال، الترف، الاقتصاد، الإنفاق، الجود والسخاء، البخل والشح، الفرح.
(1) أما التبذير فقال ابن فارس: " الباء والذال والراء أصل واحد، وهو نثر الشيء، وتفريقه، يقال: بذرت البذر أبذره بذراً قال تعالى:. . {وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا - إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ} [الإسراء: 26 - 27] (4) (5) .
--------------------------------------------
বিশাল, এবং কেউ স্বীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রভাব ও প্রতিপত্তিশালী, আবার কেউ তেমন নয়... এইভাবে, এর সাথে প্রতিটি দেশ বা গোত্রের প্রচলিত রীতিনীতি (أعراف) যুক্ত হয়।
মানুষের আর্থিক লেনদেনকে অপব্যয় (إسراف), কৃপণতা (تقتير) অথবা এই দুয়ের মাঝামাঝি অবস্থা হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে এই সমস্ত বিষয় এবং এর সমরূপ বিষয়গুলো বিবেচনা করা আবশ্যক।
কুরতুবী (মৃ. ৬৭১ হি.) মহান আল্লাহর বাণী: {আর তুমি তোমার হাত তোমার ঘাড়ের সাথে শৃঙ্খলিত করে রেখো না এবং তা পুরোপুরি প্রসারিতও করো না} [আল-ইসরা: ২৯] (১)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, "এটি পরিস্থিতির ফিকহ (فقه الحال) সংক্রান্ত আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তাই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা বিবেচনা করা ব্যতীত এর বিধান স্পষ্ট হয় না।" (২) এর ভিত্তিতে, অপব্যয় (إسراف) হওয়া বা না হওয়া নির্ভর করে প্রথা (عرف) ও অভ্যাসের (عادة) ওপর, আর ফিকহ (فقه) ও উসুল (أصول) শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ যেমনটি বলেন—"অভ্যাস হলো বিচারক" (العادة مُحَكَّمة)। (৩) ।
[দ্বিতীয়ত: সংশ্লিষ্ট পরিভাষা ও শব্দাবলির পরিচয়]
[অপচয় (التبذير)]দ্বিতীয়ত: সংশ্লিষ্ট পরিভাষা ও শব্দাবলির পরিচয়: পূর্বোক্ত মূল পরিভাষা "অপব্যয়" (السرف)-এর সাথে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু পরিভাষা ও শব্দ রয়েছে; বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে স্পষ্ট করার জন্য এবং আলোচনার পথ প্রশস্ত ও আলোকিত করার লক্ষ্যে সেগুলো ব্যাখ্যা করা সমীচীন।
সম্ভবত এই পরিভাষা ও শব্দাবলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: অপচয় (التبذير), সম্পদ বিনষ্ট করা (إضاعة المال), বিলাসিতা (الترف), পরিমিতিবোধ (الاقتصاد), ব্যয় (الإنفاق), দানশীলতা ও উদারতা (الجود والسخاء), কার্পণ্য ও কৃপণতা (البخل والشح) এবং দম্ভ (الفرح)।
(১) অপচয় (التبذير) সম্পর্কে ইবনে ফারিস বলেন: "বা (ب), যাল (ذ) এবং রা (ر) একটি মূল ধাতু থেকে আগত, যার অর্থ কোনো কিছু ছিটিয়ে দেওয়া এবং ছড়িয়ে দেওয়া। বলা হয়: আমি বীজ বপন করেছি (بذرت البذر)। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর কিছুতেই অপচয় (تبذير) করো না। নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা (مبذرين) শয়তানের ভাই} [আল-ইসরা: ২৬-২৭]। (৪) (৫) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي عرف الشرع قال ابن الأثير (ت 606 هـ) : " تبذير الأموال: تفريقها وإعطاؤها إسرافا بغير حساب " (1) .
وجاء في تفسير القرطبي: قال الشافعي (ت 204 هـ) : " التبذير إنفاق المال في غير حقه، ولا تبذير في عمل الخير، وهذا قول الجمهور، وقال أشهب عن مالك: التبذير هو أخذ المال من حقه ووضعه في غير حقه وهو الإسراف " (2) .
ويفهم من ذلك أنه لا فرق بين التبذير والإسراف.
غير أن بعضهم يفرق بينهما " فالإسراف: هو صرف الشيء فيما لا ينبغي زائدا على ما ينبغي، بخلاف التبذير فإنه صرف الشيء فيما لا ينبغي، والإسراف: تجاوز في الكمية، فهو جهل بمقادير الحقوق، والتبذير: تجاوز في موضع الحق، فهو جهل بمواقعها، يرشدك إلى هذا قوله تعالى في تعليل الإسراف. . . {إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} [الأعراف: 31] (3) وفي تعليل التبذير {إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ} [الإسراء: 27] (4) فإن تعليل الثاني فوق الأول " (5) .
وعلى هذا فالإسراف أعم من التبذير، فالتبذير يكون في المال خاصة، أما الإسراف فيكون في المال وغيره، بل إن الإسراف في المال يكون في طاعة الله وليس مذموما كما تقدم بشرطه.
أما التبذير فهو مذموم جملة وتفصيلا.
[إضاعة المال](2) أما إضاعة المال فقال ابن حجر (ت 852 هـ) : " قال الجمهور: إن
--------------------------------------------
শরীয়তের পরিভাষায় ইবনুল আসির (মৃত্যু ৬০৬ হি.) বলেছেন: "সম্পদের অপব্যয় (تبذير): সম্পদকে যথেচ্ছভাবে কোনো হিসাব ছাড়াই অপচয় (إسراف) করে বিলিয়ে দেওয়া।" (১) .
তাফসিরে কুরতুবিতে বর্ণিত হয়েছে: ইমাম শাফিঈ (মৃত্যু ২০৪ হি.) বলেছেন: "অপব্যয় (تبذير) হলো অন্যায় পথে সম্পদ ব্যয় করা, আর ভালো কাজে কোনো অপব্যয় (تبذير) নেই। এটিই সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলিমদের অভিমত। আশহাব ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন: অপব্যয় (تبذير) হলো সম্পদকে তার সঠিক খাত থেকে নিয়ে বেঠিক খাতে ব্যয় করা, আর এটিই হলো অপচয় (إسراف)।" (২) .
এ থেকে এটি বোঝা যায় যে, অপব্যয় (تبذير) এবং অপচয়ের (إسراف) মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
তবে তাঁদের কেউ কেউ এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন, "অপচয় (إسراف) হলো কোনো জিনিসকে যা অনুচিত সেভাবে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয় করা, পক্ষান্তরে অপব্যয় (تبذير) হলো কোনো জিনিসকে এমন খাতে ব্যয় করা যা একেবারেই অনুচিত। অপচয় (إسراف) হলো পরিমাণের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন, যা হকের পরিমাণ সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত। আর অপব্যয় (تبذير) হলো ব্যয়ের স্থানের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন, যা ব্যয়ের সঠিক ক্ষেত্র সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত। মহান আল্লাহর এই বাণী আপনাকে এ বিষয়ে পথ দেখাবে যা তিনি অপচয় (إسراف) এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন— {নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের (مسرفين) পছন্দ করেন না} [আরাফ: ৩১] (৩) এবং অপব্যয় (تبذير) এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন— {নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা (مبذرين) শয়তানের ভাই} [ইসরা: ২৭] (৪)। কারণ দ্বিতীয় বিষয়টির কারণ বর্ণনা প্রথমটির চেয়েও গুরুতর।" (৫) .
এ অনুযায়ী অপচয় (إسراف) হলো অপব্যয় (تبذير) অপেক্ষা অধিকতর ব্যাপক। কেননা অপব্যয় (تبذير) বিশেষভাবে সম্পদের ক্ষেত্রে হয়, তবে অপচয় (إسراف) সম্পদ ও অন্যান্য সব ক্ষেত্রেই হতে পারে। এমনকি ইতিপূর্বে বর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে আল্লাহর আনুগত্যের কাজেও সম্পদ ব্যয় করা হতে পারে এবং তা নিন্দনীয় নয়।
পক্ষান্তরে অপব্যয় (تبذير) সামগ্রিকভাবে এবং বিস্তারিতভাবে নিন্দনীয়।
[সম্পদ নষ্ট করা (إضاعة المال)](2) সম্পদ নষ্ট করার (إضاعة المال) বিষয়ে ইবনে হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হি.) বলেছেন: "সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলিমগণ বলেছেন: নিশ্চয়ই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
المراد به السرف في إنفاقه، وعن سعيد بن جبير: إنفاقه في الحرام " (1) .
وقال في موضع آخر: " إنه ما أنفق في غير وجهه المأذون فيه شرعا، سواء كانت - أي النفقة - دينية أو دنيوية، فمنع منه لأن الله تعالى جعل المال قياما لمصالح العباد " (2) فالإضاعة إذن من الإسراف.
وقد ورد النهي عن إضاعة المال بهذا اللفظ في قوله عن «. . . وكره لكم قيل وقال، وكثرة السؤال، وإضاعة المال» (3) .
[الترف](3) وأما الترف: فقال ابن فارس: " التاء والراء والفاء كلمة واحدة، يقال رجل مترف: منعم، وتَرَّفَهُ أهلُه: إذا نعموه بالطعام الطيب والشيء يخص به " (4) .
" والمترف: المتنعم المتوسع في ملاذ الدنيا وشهواتها " (5) .
وعند قوله تعالى:. . {وَاتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مَا أُتْرِفُوا فِيهِ وَكَانُوا مُجْرِمِينَ} [هود: 116] (6) .
يقول الشوكاني (ت 1250 هـ) : " والمعنى أنه اتبع الذين ظلموا بسبب مباشرتهم الفساد وتركهم للنهي عنه ما أترفوا فيه، والمترف: الذي أبطرته النعمة، يقال: صبي مترف: منعم البدن، أي صاروا تابعين للنعم التي صاروا بها مترفين من خصب العيش ورفاهية الحال وسعة الرزق وآثروا ذلك على الاشتغال بأعمال
--------------------------------------------
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ব্যয়ের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করা। সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত: "হারাম পথে ব্যয় করা" (১)।
তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: "শরিয়ত অনুমোদিত নয় এমন খাতে যা কিছু ব্যয় করা হয়—চাই সেই ব্যয় দ্বীনি হোক বা দুনিয়াবি—তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ আল্লাহ তায়ালা সম্পদকে বান্দাদের জীবনযাত্রার অবলম্বন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন" (২)। সুতরাং সম্পদের অপচয় মূলত অপব্যয়েরই অন্তর্ভুক্ত।
আর এই শব্দযোগে সম্পদের অপচয় সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে তাঁর এই বাণীতে: "...এবং তিনি তোমাদের জন্য ভিত্তিহীন কথাবার্তা (কিল ওয়া কাল), অধিক প্রশ্ন করা এবং সম্পদের অপচয় করা অপছন্দ করেছেন" (৩)।
[বিলাসিতা](৩) আর বিলাসিতার (আত-তারাফ) প্রসঙ্গে ইবনে ফারিস বলেছেন: "তা, রা এবং ফা বর্ণ তিনটি একই মূলধাতুর শব্দ। বলা হয় 'মুতরাফ' ব্যক্তি: অর্থাৎ যে নেয়ামতপ্রাপ্ত। আর তার পরিবার তাকে 'তাররাফাহু' (বিলাসী বানিয়েছে) তখন বলে, যখন তারা তাকে উত্তম আহার এবং বিশেষ কিছু দিয়ে আরাম-আয়েশে রাখে" (৪)।
"আর মুতরাফ হলো সেই ব্যক্তি, যে বিলাসিতায় মগ্ন এবং দুনিয়ার স্বাদ ও লালসা পূরণে প্রাচুর্য গ্রহণ করে" (৫)।
এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে: {আর যারা জুলুম করেছিল তারা সেই বিলাসিতারই অনুসরণ করেছিল যাতে তারা মগ্ন ছিল এবং তারা ছিল অপরাধী} [হুদ: ১১৬] (৬)।
শওকানি (মৃত্যু ১২৫০ হি.) বলেন: "এর অর্থ হলো, যারা জুলুম করেছিল তারা ফাসাদে লিপ্ত হওয়া এবং তা থেকে বারণ করা বর্জন করার কারণে সেই বিলাসিতার অনুসরণ করেছিল যাতে তারা নিমজ্জিত ছিল। মুতরাফ হলো সেই ব্যক্তি, যাকে নেয়ামত উদ্ধত করে তুলেছে। বলা হয়: বিলাসী বালক—অর্থাৎ যার দেহ সচ্ছলতায় পুষ্ট। অর্থাৎ তারা এমন সব নেয়ামতের অনুসারী হয়েছিল যার মাধ্যমে তারা বিলাসী হয়েছে, যেমন সচ্ছল জীবন, আরাম-আয়েশ ও রিজিকের প্রশস্ততা; এবং তারা আমলের পরিবর্তে এগুলোকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
الآخرة، واستغرقوا أعمارهم في الشهوات النفسانية " (1) .
وقد وردت مادة (ترف) في القرآن الكريم ثماني مرات، وكلها جاءت في سياق الذم للترف والمترفين، كقوله تعالى معللا تعذيب أصحاب الشمال {إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُتْرَفِينَ} [الواقعة: 45] (2) . قال الشيخ عبد الرحمن السعدي (ت 1376 هـ) في تفسير الآية: " أي قد ألهتهم دنياهم وعملوا لها وتنعموا، وتمتعوا بها، فألهاهم الأمل عن إحسان العمل، فهذا هو الترف الذي ذمهم الله عليه " (3) .
ومن يتأمل في واقع الترف وأهله يلحظ أنه يجيء تالياً ونتيجة للسرف والتبذير، وكفى بهما ضرراً وشراً.
[الاقتصاد](4) أما الاقتصاد: فمصدر اقتصد.
قال في تاج العروس: " القصد في الشيء: ضد الإفراط وهو ما بين الإسراف والتقتير، والقصد في المعيشة: ألا يسرف ولا يقتر، وقصد في الأمر: لم يتجاوز فيه الحد ورضي بالتوسط "؛ لأنه في ذلك يقصد الأسدّ كالاقتصاد، يقال: فلان مقتصد في المعيشة وفي النفقة وقد اقتصد، واقتصد في أمره: استقام. . . واقتصد في النفقة: توسط بين التقتير والإسراف، قال صلى الله عليه وسلم: «ولا عال من اقتصد» (4) ومن الاقتصاد ما هو محمود مطلقا، وذلك فيما له طرفان: إفراط وتفريط، كالجود فإنه بين الإسراف والبخل، وكالشجاعة فإنها بين التهور والجبن، وإليه الإشارة بقوله تعالى {وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا} [الفرقان: 67] (5) .
--------------------------------------------
পরকাল, এবং তারা তাদের জীবনকে নফসের কুপ্রবৃত্তির মাঝে নিমজ্জিত করেছিল" (১)।
পবিত্র কুরআনে 'তারাফ' (বিলাসিতা) বিষয়টি আটবার এসেছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা বিলাসিতা ও বিলাসপ্রিয় ব্যক্তিদের নিন্দার প্রেক্ষাপটে বর্ণিত হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী, যেখানে তিনি বাম দিকের অধিকারীদের শাস্তির কারণ বর্ণনা করেছেন: {নিশ্চয় তারা ইতিপূর্বে বিলাসিতায় নিমগ্ন ছিল} [ওয়াকিয়া: ৪৫] (২)। শায়খ আবদুর রহমান আস-সাদী (মৃত্যু ১৩৭৬ হিজরি) এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: "অর্থাৎ তাদের দুনিয়া তাদের মোহগ্রস্ত করে রেখেছিল, তারা এর জন্যই কাজ করত এবং এর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও ভোগ-বিলাসে মত্ত ছিল। ফলে (দীর্ঘ জীবনের) আশা তাদের আমল সংশোধন করা থেকে গাফেল করে দিয়েছিল। আর এটিই সেই বিলাসিতা যার কারণে আল্লাহ তাদের নিন্দা করেছেন" (৩)।
যে ব্যক্তি বিলাসিতা এবং বিলাসীদের বাস্তব অবস্থা নিয়ে চিন্তা করবে, সে লক্ষ্য করবে যে, এটি অপব্যয় ও অপচয়ের পরবর্তী পর্যায় এবং এরই ফলাফল। আর ক্ষতিকর ও অকল্যাণকর হিসেবে এ দুটিই যথেষ্ট।
[পরিমিতিবোধ](৪) আর পরিমিতিবোধ (ইকতিসাদ): এটি 'ইকতাসাদা' (اقتصد) ক্রিয়ামূল থেকে নিষ্পন্ন।
তাজুল আরুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: "কোনো বিষয়ে 'কাসদ' হওয়া মানে বাড়াবাড়ি (ইফরাত) এর বিপরীত; যা অপব্যয় ও কৃপণতার মধ্যবর্তী অবস্থা। জীবনযাপনে 'কাসদ' হলো: অপব্যয় না করা এবং কৃপণতাও না করা। আর কোনো বিষয়ে 'কাসদ' করা মানে: তাতে সীমালঙ্ঘন না করা এবং মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা।" কারণ এতে সে সঠিক পথটিই অন্বেষণ করে যেমনটা পরিমিতিবোধের (ইকতিসাদ) ক্ষেত্রে হয়। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি তার জীবনযাত্রায় ও ব্যয়ে পরিমিতিবোধ সম্পন্ন (মুকতাসিদ), এবং সে পরিমিতিবোধ (اقتصد) অবলম্বন করেছে। আর সে তার কাজে পরিমিতিবোধ অবলম্বন করেছে মানে হলো সে অবিচল রয়েছে। ... আর ব্যয়ে পরিমিতিবোধ অবলম্বন করা মানে হলো কৃপণতা ও অপব্যয়ের মাঝে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি পরিমিতিবোধ (اقتصد) অবলম্বন করে সে কখনো নিঃস্ব হয় না» (৪)। আর পরিমিতিবোধের (ইকতিসাদ) কিছু দিক রয়েছে যা নিরঙ্কুশভাবে প্রশংসনীয়। আর তা সেই সব ক্ষেত্রে যার দুটি প্রান্ত রয়েছে: বাড়াবাড়ি (ইফরাত) এবং ছাড়াছাড়ি (তাফরিত)। যেমন বদান্যতা; যা অপব্যয় ও কৃপণতার মধ্যবর্তী অবস্থা। আর যেমন বীরত্ব; যা দুঃসাহস ও ভীরুতার মধ্যবর্তী অবস্থা। আর মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে: {এবং যারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না এবং কৃপণতাও করে না} [ফুরকান: ৬৭] (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
ومنه ما هو متردد بين المحمود والمذموم وهو فيما يقع بين محموِد ومذموم، كالواقع بين العدل والجور، وعلى ذلك قوله تعالى:. . {فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ} [فاطر: 32] (1) .
وعلى أي حال فالاقتصاد يعني التوسط في النفقة بين الإسراف والشح على أن مفهوم هذه اللفظة تطور، وصار مصطلحا شائعا بين دوائر العلم والسياسة والمال.
" فقد أطلق على طريقة تنظيم إدارة شئون الأسرة، ثم شمل مجموع العلاقات المادية الداخلية والخارجية للأمم " " وتعني هذه اللفظة أيضا النظام الذي تتبعه دولة ما (اقتصاد حر، اقتصاد موجه، اقتصاد اشتراكي) " (2) .
[الإنفاق](5) وأما الإنفاق فهو مصدر أنفق.
قال ابن فارس (ت 395 هـ) : " النون والفاء والقاف أصلان صحيحان، يدل أحدهما على انقطاع شيء وذهابه، والآخر على إخفاء شيء وإغماضه. . . فالأول نفقت الدابة نفوقا: ماتت، ونفق السعر نفاقا، وذلك أنه يمضي فلا يكسر ولا يقف، وأنفقوا: نفقت سوقهم، والنفقة؛ لأنها تمضي لوجهها، ونفق الشيء: فني. . . . والأصل الآخر النفق: سرب في الأرض له مخلص إلى مكان. . . " (3) .
والأصل الأول هو الذي يهمنا؛ لأنه المتعلق بموضوع البحث.
وجاء في البحر المحيط: " الإنفاق: الإنفاد، أنفقت الشيء وأنفدته بمعنى واحد، والهمزة للتعدية يقال: نفق الشيء: نفد، وأصل هذه المادة تدل على الخروج والذهاب " (4) .
--------------------------------------------
এবং এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয় বিষয়ের মাঝে দোদুল্যমান, আর তা ঐ সব ক্ষেত্রে ঘটে যা প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয় বিষয়ের মধ্যবর্তী; যেমন ন্যায়বিচার ও অবিচারের মধ্যবর্তী অবস্থা। আর এর ওপর ভিত্তি করেই মহান আল্লাহর বাণী: "...তাদের মধ্যে কেউ নিজের প্রতি জুলুমকারী এবং কেউ পরিমিতি অনুসরণকারী" [ফাতির: ৩২] (১)।
যা-ই হোক, 'ইকতিসাদ' (পরিমিতিবোধ) বলতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপব্যয় ও কৃপণতার মধ্যবর্তী অবস্থাকে বোঝায়। তবে এই শব্দটির ধারণার বিবর্তন ঘটেছে এবং এটি জ্ঞান, রাজনীতি ও অর্থব্যবস্থার পরিমন্ডলে একটি প্রচলিত পরিভাষা (مصطلح) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
"এটি পারিবারিক বিষয়াবলি পরিচালনার ব্যবস্থাপনার পদ্ধতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো, পরবর্তীতে এটি জাতিসমূহের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বৈষয়িক সম্পর্কের সামগ্রিক রূপকেও অন্তর্ভুক্ত করে।" "এছাড়াও এই শব্দটির মাধ্যমে কোনো রাষ্ট্রের অনুসৃত অর্থব্যবস্থাকেও বোঝানো হয় (মুক্ত অর্থব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রিত অর্থব্যবস্থা, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা)" (২)।
[ব্যয় (ইনফাক)](৫) আর 'ইনফাক' হলো 'আনফাকা' ক্রিয়ামূলের মাসদার বা উৎস।
ইবনে ফারিস (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি) বলেছেন: "নুন, ফা এবং কাফ হলো দুটি বিশুদ্ধ (صحيح) মূল ভিত্তি। এর একটি কোনো কিছুর বিচ্ছিন্ন হওয়া ও চলে যাওয়া নির্দেশ করে, আর অন্যটি কোনো কিছু গোপন করা ও অস্পষ্ট করা নির্দেশ করে... প্রথমটির ক্ষেত্রে, পশুটি মারা গেলে বলা হয় 'নাফাকাত আদ-দাব্বাহ', যার অর্থ মৃত্যু; আর পণ্যের চড়া ভাব বা কাটতিকে বলা হয় 'নাফাক', কারণ তা চলতে থাকে, বাধাগ্রস্ত হয় না কিংবা থেমে থাকে না। তারা যখন বলে 'আনফাকু', এর অর্থ তাদের পণ্যের কাটতি বেড়েছে। আর 'নাফাকাহ' (ব্যয়) নাম রাখা হয়েছে কারণ তা তার গন্তব্যের দিকে চলে যায়। কোনো কিছু নিঃশেষ হয়ে গেলে বলা হয় 'নাফাকা আশ-শাইয়ু'... আর অন্য মূলটি হলো 'নাফাক' (সুড়ঙ্গ): যা মাটির নিচের একটি পথ যার অন্য স্থানে বের হওয়ার রাস্তা রয়েছে..." (৩)।
আর প্রথম মূলটিই আমাদের নিকট গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এটি গবেষণার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট।
আল-বাহরুল মুহিত-এ বর্ণিত হয়েছে: "ইনফাক অর্থ নিঃশেষ করা। 'আনফাকতুশ শাইয়া' ও 'আনফাদতুহু' একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। এখানে 'হামজা' বর্ণটি সকর্মক করার জন্য এসেছে। বলা হয়: 'নাফাকা আশ-শাইয়ু' অর্থাৎ বস্তুটি শেষ হয়ে গেছে। এই মূলের মৌলিক অর্থ হলো নির্গমন ও চলে যাওয়া" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فالإنفاق إذن: هو الإفناء والإذهاب والإنفاد.
وهو يكون في المال وفي غيره كما يقول الراغب الأصفهاني (ت 502 هـ) (1) .
وعلى هذا فالإنفاق شامل لكل ما يستهلكه الإنسان من أشياء مباحة.
ويرى بعضهم أن الإنفاق خاص بصرف المال في الحاجات المختلفة (2) .
ثم إذا تجاوز حده فهو الإسراف إلا فلا.
[الجود](6) وأما الجود فقال ابن فارس (ت 395 هـ) : " الجيم والواو والدال أصل واحد، وهو التسمح بالشيء وكثرة العطاء، يقال: رجل جواد بين الجود وقوم أجواد (3) .
وجاء في المصباح المنير: " جاد بالمال: بذله، وجاد بنفسه: سمح بها عند الموت وفي الحرب، مستعار من ذلك " (4) .
وأما السخاء، فقال ابن فارس: " السين والخاء والحرف المعتل أصل واحد يدل على اتساع في شيء وانفراج.
ثم قال: قال أهل اللغة: السخاء: الجود، يقال سخا يسخو سخاوة وسخاء يمد ويقصر، والسخي: الجواد " (5) .
ويقول الأصفهاني (ت 552 هـ) : " السخاء: هيئة للإنسان داعية إلى بذل المقتنيات حصل معه البذل أم لم يحصل، وذلك خلق، ويقابله الشح. والجود بذل المقتنى، ويقابله البخل. . . . ويدل على صحة هذا الفرق أنهم جعلوا
--------------------------------------------
সুতরাং ব্যয় করা (ইনফাক) হলো: কোনো কিছু নিঃশেষ করা, বিলীন করা এবং সমাপ্ত করা।
রাغب আল-আসফাহানি (মৃত্যু ৫০২ হি.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী এটি সম্পদের ক্ষেত্রে এবং সম্পদ ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে (১)।
এর ভিত্তিতে, মানুষের ভোগকৃত সকল বৈধ বস্তুর ব্যবহারই ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।
কারো কারো মতে, ব্যয় করা কেবল বিভিন্ন প্রয়োজনে অর্থ খরচ করার সাথে সুনির্দিষ্ট (২)।
অতঃপর এটি যদি তার সীমা অতিক্রম করে তবে তা অপব্যয় (ইসরাফ), অন্যথায় নয়।
[দানশীলতা](৬) আর দানশীলতা সম্পর্কে ইবন ফারিস (মৃত্যু ৩৯৫ হি.) বলেন: "জিম, ওয়াও এবং দাল—এটি একটি মূল ধাতু, যার অর্থ হলো কোনো বিষয়ে উদারতা প্রদর্শন এবং প্রচুর দান করা। বলা হয়: ‘রজুলুন জাওয়াদ’ অর্থাৎ দানশীল ব্যক্তি, যে দানশীলতার গুণে গুণান্বিত এবং ‘কাওমুন আজওয়াদ’ অর্থাৎ দানশীল সম্প্রদায় (৩)।
‘আল-মিসবাহুল মুনীর’-এ উল্লেখ করা হয়েছে: "সম্পদ দান করা মানে তা ব্যয় করা; আর নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়া মানে মৃত্যুকালে বা যুদ্ধের ময়দানে তা উৎসর্গ করা, যা মূলত রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে" (৪)।
আর মহানুভবতা সম্পর্কে ইবন ফারিস বলেন: "সিন, খা এবং দুর্বল বর্ণ—এটি একটি মূল ধাতু যা কোনো কিছুর প্রশস্ততা ও প্রসারণকে নির্দেশ করে।
অতঃপর তিনি বলেন: ভাষাবিদগণ বলেছেন: মহানুভবতা হলো দানশীলতা। বলা হয় ‘সাখা-ইয়াসখু-সাখাওয়াতান’ এবং ‘সাখান’—শব্দটি দীর্ঘ বা হ্রস্ব উভয়ভাবেই পড়া যায়; আর ‘সাখি’ অর্থ হলো দানশীল" (৫)।
আল-আসফাহানি (মৃত্যু ৫৫২ হি.) বলেন: "মহানুভবতা হলো মানুষের এমন এক প্রবৃত্তি যা তাকে নিজের অর্জিত বিষয়গুলো ব্যয়ে উদ্বুদ্ধ করে, বাস্তবে ব্যয় সংঘটিত হোক বা না হোক। এটি একটি চারিত্রিক গুণ, যার বিপরীত হলো তীব্র কৃপণতা। আর দানশীলতা হলো অর্জিত সম্পদ দান করা, যার বিপরীত হলো কার্পণ্য। . . . এই পার্থক্যের সঠিকতা এ বিষয় দ্বারা প্রমাণিত হয় যে তারা সাব্যস্ত করেছেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الفاعل من السخاء والشح على بناء الأفعال الغريزية فقالوا: شحيح وسخي، وقالوا: جواد وباخل، وأما قولهم: بخيل فمصروف عن لفظ الفاعل للمبالغة، كقولهم: راحم ورحيم، ولكون السخاء غريزة لم يوصف الباري سبحانه وتعالى به " (1) ويزيد أبو هلال العسكري (ت 395 هـ) مسألة التفريق بين الجود والسخاء إيضاحا فيقول: " الفرق بين السخاء والجود أن السخاء هو أن يلين الإنسان عند السؤال ويسهل مهره للطالب، من قولهم سخوت النار أسخوها سخوا إذا لينتها. . . . ولهذا لا يقال لله تعالى سخي، والجود: العطاء من غير سؤال، من قولك جادت السماء إذا جادت بمطر غزير، والفرس الجواد: الكثير الإعطاء للجري، والله تعالى جواد لكثرة عطائه فيما تقضيه الحكمة " (2) .
ومن هذا يتبين أن الجود والسخاء هما البذل للغير وليسا لحظ النفس، ولا يدخلان في مفهوم الإسراف.
[البخل](7) وأما البخل فقال الفيومي (ت 770 هـ) : " البخل في الشرع منع الواجب، وعند العرب منع السائل مما يفضل عنده " (3) .
وقال الراغب (ت 502 هـ) : " البخل: إمساك المقتنيات عما لا يحق حبسها عنه، ويقابله الجود، يقال: بخل فهو باخل، وأما البخيل فالذي يكثر منه البخل كالرحيم من الراحم، والبخل ضربان: بخل بقنيات نفسه وبخل بقنيات غيره، وهو أكثرهما ذما دليلنا على ذلك قوله تعالى: {الَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ} [النساء: 37] (4) (5) .
--------------------------------------------
সহজাত স্বভাবের ক্রিয়া গঠনের রীতি অনুযায়ী বদান্যতা (السخاء) এবং কৃপণতা (الشح) এর কর্তাবাচক শব্দ সম্পর্কে তারা বলেন: 'শহীহ' (شحيح) এবং 'সাখী' (سخي), এবং তারা বলেন: 'জাওয়াদ' (جواد) এবং 'বাখিল' (باخل)। আর তাদের উক্তি 'বাখীল' (بخيل) শব্দটি কর্তাবাচক শব্দ থেকে অতিশয়ার্থ প্রকাশের জন্য রূপান্তরিত হয়েছে, যেমন তারা বলে: 'রাহিম' এবং 'রাহীম'। যেহেতু বদান্যতা (السخاء) একটি সহজাত প্রবৃত্তি, তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে এর দ্বারা বিশেষায়িত করা হয় না।" (১) আবু হিলাল আল-আসকারি (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি) উদারতা (الجود) এবং বদান্যতা (السخاء) এর মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলেন: "বদান্যতা (السخاء) এবং উদারতা (الجود) এর মধ্যে পার্থক্য হলো, বদান্যতা (السخاء) হলো যাচ্ঞার সময় মানুষের কোমল হওয়া এবং প্রার্থীর জন্য দানকে সহজ করা; এটি তাদের কথা 'সখাওতু আন-নার আসখুহা সখওয়ান' থেকে এসেছে যখন আমি আগুনকে নরম করি... একারণেই আল্লাহ তায়ালাকে সাখী (سخي) বলা হয় না। আর উদারতা (الجود) হলো যাচ্ঞা করা ছাড়াই দান করা; এটি তোমাদের কথা 'জাদাতিল সামাউ' থেকে এসেছে যখন আকাশ প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করে। আর 'ফারাসুন জাওয়াদ' অর্থ হলো দ্রুতগামী ঘোড়া যা দৌড়ানোর সময় অধিক তেজ বা দান প্রকাশ করে। আর আল্লাহ তায়ালা হলেন উদার (جواد), কারণ প্রজ্ঞা যা দাবি করে সেই অনুযায়ী তাঁর দান অত্যন্ত ব্যাপক।" (২) .
এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, উদারতা (الجود) এবং বদান্যতা (السخاء) হলো অন্যের জন্য উৎসর্গ করা, যা নিজের স্বার্থের জন্য নয়, এবং এগুলো অপচয়ের ধারণার অন্তর্ভুক্ত নয়।
[কৃপণতা (البخل)](৭) আর কৃপণতা (البخل) সম্পর্কে আল-ফাইয়ুমি (মৃত্যু ৭৭০ হিজরি) বলেন: "শরিয়তের পরিভাষায় কৃপণতা (البخل) হলো ওয়াজিব (আবশ্যক) হক প্রদান থেকে বিরত থাকা, আর আরবদের মতে তা হলো নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ প্রার্থীকে না দেওয়া।" (৩) .
আল-রাগিব (মৃত্যু ৫০২ হিজরি) বলেন: "কৃপণতা (البخل): অর্জিত সম্পদকে এমন বিষয় থেকে আটকে রাখা যেখান থেকে তা আটকে রাখা সমীচীন নয়। এর বিপরীত হলো উদারতা (الجود)। বলা হয়: 'বাখালা' (সে কৃপণতা করেছে) অতঃপর সে 'বাখিল' (باخل)। আর কৃপণ (بخيل) হলো সেই ব্যক্তি যার মধ্যে প্রচুর কৃপণতা বিদ্যমান, যেমন 'রাহিম' থেকে 'রাহীম'। কৃপণতা (البخل) দুই প্রকার: নিজের অর্জিত সম্পদে কৃপণতা এবং অন্যের অর্জিত সম্পদে কৃপণতা, আর এটিই সবচেয়ে বেশি নিন্দনীয়। এর স্বপক্ষে আমাদের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয়} [সূরা নিসা: ৩৭] (৪) (৫) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والشح: هو البخل مع شدة الحرص.
قال ابن فارس: " الشين والحاء الأصل فيه المنع، ثم يكون منعا مع حرص، ومن ذلك الشح وهو البخل مع حرص (1) ".
وكلاهما يمثلان الطرف المقابل للإسراف والتبذير.
(8) وأما الفرح: فهو السرور والبطر، وهو ضد الحزن (2) .
وقال الراغب: " الفرح: انشراح الصدر بلذة عاجلة، وأكثر ما يكون ذلك في اللذات البدنية فلهذا قال تعالى:. . {وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ} [الحديد: 23] (3) . . . {وَفَرِحُوا بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا} [الرعد: 26] (4) ولم يرخص في الفرح إلا في قوله:. . {فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا} [يونس: 58] (5) .
وقوله:. . {وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ} [الروم: 4] (6) (7) .
وجاء في المصباح المنير (8) ". . . ويستعمل في معان: أحدها: الأشر والبطر، وعليه قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ} [القصص: 76] (9) .
والثاني: الرضا، وعليه قوله تعالى:. . {كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} [المؤمنون: 53] (10) .
--------------------------------------------
শুহ হলো: তীব্র লালসার সাথে কৃপণতা।
ইবনে ফারেস বলেছেন: "শীন এবং হা—এই মূল বর্ণদ্বয়ের মূল অর্থ হলো নিবারণ; অতঃপর তা লালসার সাথে নিবারণ করা অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর সেখান থেকেই 'শুহ' শব্দের উৎপত্তি, যা হলো লালসার সাথে কৃপণতা (১)।"
এবং এ উভয়ই অপব্যয় ও অপচয়ের বিপরীত দিককে প্রতিনিধিত্ব করে।
(৮) আর ফারাহ প্রসঙ্গে বলা যায়: তা হলো খুশি ও দম্ভ, যা দুঃখের বিপরীত (২)।
আল-রাগিব বলেছেন: "ফারাহ হলো ক্ষণস্থায়ী আনন্দের মাধ্যমে বক্ষ প্রশস্ত হওয়া; আর এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে শারীরিক আনন্দের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: . . {এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার জন্য তোমরা উল্লাস করো না} [হাদীদ: ২৩] (৩) . . . {এবং তারা পার্থিব জীবন নিয়ে আনন্দিত হয়েছে} [রাদ: ২৬] (৪)। আনন্দ প্রকাশের ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হয়নি কেবল তাঁর এই বাণী ব্যতীত: . . {সুতরাং এতেই যেন তারা আনন্দিত হয়} [ইউনুস: ৫৮] (৫)।
এবং তাঁর বাণী: . . {এবং সেদিন মুমিনরা আনন্দিত হবে} [রূম: ৪] (৬) (৭)।
আল-মিসবাহ আল-মুনির গ্রন্থে এসেছে (৮) ". . . এটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: প্রথমত: ঔদ্ধত্য ও দম্ভ; এর ভিত্তিতেই আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না} [কাসাস: ৭৬] (৯)।
দ্বিতীয়ত: সন্তুষ্টি; এর ভিত্তিতেই আল্লাহ তাআলার বাণী: . . {প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত} [মুমিনুন: ৫৩] (১০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
والثالث: السرور، وعليه قوله تعالى: {فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ} [آل عمران: 170] (1) ويتبين من ذلك أن الفرح إذا صاحبه بطر - وهو تجاوز الحد في المرح - (2) أنه مذموم لما يصاحبه من رذائل الأخلاق كالعجب والكبر والإسراف، وأما إذا كان طبيعيا فلا؛ لأنه غريزي.
--------------------------------------------
তৃতীয়টি হলো: আনন্দ; আর এর স্বপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী হলো: {আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাঁদের যা দান করেছেন, তাতে তাঁরা আনন্দিত} [আলে ইমরান: ১৭০] (১)। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আনন্দের সাথে যদি দম্ভ—যা মূলত আমোদ-প্রমোদে সীমা লঙ্ঘন করা—(২) যুক্ত হয়, তবে তা নিন্দনীয়; কারণ তখন এর সাথে আত্মমুগ্ধতা, অহংকার ও অপচয়ের মতো চারিত্রিক স্খলনগুলো যুক্ত হয়। পক্ষান্তরে, তা যদি স্বাভাবিক হয়, তবে তা নিন্দনীয় নয়; কারণ তা সহজাত প্রবৃত্তি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
[المبحث الثاني السرف في نصوص القرآن والسنة وكلام العلماء والحكماء]
[أولا السرف في نصوص القرآن الكريم]المبحث الثاني
السرف في نصوص القرآن والسنة
وكلام العلماء والحكماء المصادر الإسلامية زاخرة بالنصوص المتعلقة بالسرف وما يمت إليه، وفي هذا المبحث نسوق بعضا منها، كي نرى موقفها منه، سواء في القرآن الكريم، أو السنة النبوية، أو كلام أهل العلم والحكمة.
أولا: السرف في نصوص القرآن الكريم: وردت مادة (سرف) في القرآن الكريم ثلاثا وعشرين مرة بصيغة الفعل، والمصدر، واسم الفاعل.
فمن الأول (صيغة الفعل) قوله تعالى: {قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا} [الزمر: 53] (1) .
وهذا يتناول الإسراف في الأموال وغيرها (2) .
ومن الأول والثالث (أعني صيغة الفعل واسم الفاعل) : -
قوله تعالى: {وَهُوَ الَّذِي أَنْشَأَ جَنَّاتٍ مَعْرُوشَاتٍ وَغَيْرَ مَعْرُوشَاتٍ وَالنَّخْلَ وَالزَّرْعَ مُخْتَلِفًا أُكُلُهُ وَالزَّيْتُونَ وَالرُّمَّانَ مُتَشَابِهًا وَغَيْرَ مُتَشَابِهٍ كُلُوا مِنْ ثَمَرِهِ إِذَا أَثْمَرَ وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} [الأنعام: 141] (3) .
--------------------------------------------
[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন, সুন্নাহ এবং উলামা ও প্রজ্ঞাবানদের বাণীতে অপচয় (السرف)]
[প্রথমত: পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় অপচয় (السرف)]দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণনায় অপচয় (السرف)
এবং উলামা ও প্রজ্ঞাবানদের বাণী। ইসলামী উৎসসমূহ অপচয় (السرف) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বর্ণনায় সমৃদ্ধ। এই পরিচ্ছেদে আমরা তার কিছু অংশ উপস্থাপন করছি, যেন এ বিষয়ে সেগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করা যায়; হোক তা পবিত্র কুরআনে, সুন্নাহতে অথবা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারীদের বাণীতে।
প্রথমত: পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় অপচয় (السرف): পবিত্র কুরআনে ‘সারাফ’ (سرف) মূল ধাতুটি ক্রিয়া (الفعل), মূল রূপ (المصدر) এবং কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) হিসেবে মোট তেইশ বার এসেছে।
প্রথমটির (ক্রিয়া (الفعل) রূপ) উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বলো, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন (أَسْرَفُوا) করেছ, আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন} [সূরা আয-যুমার: ৫৩] (১)।
এটি অর্থ-সম্পদ এবং অন্যান্য বিষয়ে অপচয়কে (الإسراف) অন্তর্ভুক্ত করে (২)।
প্রথম এবং তৃতীয়টির (অর্থাৎ ক্রিয়া (الفعل) এবং কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) রূপ) উদাহরণ হলো: -
মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই সেই সত্তা যিনি মাচা-দেওয়া এবং মাচা-ছাড়া বাগানসমূহ, এবং খেজুর গাছ ও ফসল উৎপন্ন করেছেন যার স্বাদ ভিন্ন ভিন্ন, এবং যয়তুন ও ডালিম উৎপন্ন করেছেন যা একে অপরের সদৃশ এবং বিসদৃশ। যখন তা ফলবান হয় তখন তোমরা তার ফল আহার করো এবং ফসল কাটার দিনে তার হক আদায় করো। আর তোমরা অপচয় (تُسْرِفُوا) করো না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের (الْمُسْرِفِينَ) পছন্দ করেন না} [সূরা আল-আন’আম: ১৪১] (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال ابن كثير: (ت 774 هـ) " وقوله تعالى. . . {وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} [الأنعام: 141] قيل معناها: لا تسرفوا في الإعطاء، فتعطوا فوق المعروف، وقال أبو العالية: كانوا يعطون يوم الحصاد شيئا ثم تباروا فيه وأسرفوا فأنزل الله:. . {وَلَا تُسْرِفُوا} [الأنعام: 141] وقال ابن جريج نزلت في ثابت بن قيس بن شماس جذ نخلا له، فقال: لا يأتيني اليوم أحد إلا أطعمته فأطعم حتى أمسى وليس له ثمرة، فأنزل الله. . . {وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} [الأنعام: 141] رواه ابن جرير عنه، وقال ابن جريج عن عطاء: نهوا عن السرف في كل شيء، وقال إياس بن معاوية: ما جاوزت به أمر الله فهو سرف، وقال السدي في قوله. . . {وَلَا تُسْرِفُوا} [الأنعام: 141] فقال: لا تعطوا أموالكم فتقعدوا فقراء. وقال سعيد بن المسيب ومحمد بن كعب: لا تمنعوا الصدقة فتعصوا ربكم " (1) .
ويشبه هذه الآية قوله تعالى: {يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} [الأعراف: 31] (2) .
قال أبو بكر بن العربي (ت 543 هـ) : " الإسراف: تعدي الحد. فنهاهم عن تعدي الحلال إلى الحرام، وقيل: ألا يزيدوا على قدر الحاجة، وقد اختلف فيه (3) على قولين: فقيل هو حرام، وقيل هو مكروه وهو الأصح، فإن قدر الشبع يختلف باختلاف البلدان والأزمان والأسنان والطعمان. . . " (4) .
قلت: وترجيح ابن العربي كراهة الإسراف في الأكل والشرب عن قدر الحاجة، ليس على إطلاقه، بل ربما كان في ذلك ضرر على النفس
--------------------------------------------
ইবনে কাসীর (মৃত্যু ৭৭৪ হি.) বলেন: "আল্লাহ তাআলার বাণী... {তোমরা অপচয় করো না, নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না} [আল-আনআম: ১৪১]। বলা হয়েছে এর অর্থ হলো: দানের ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করো না, যার ফলে তোমরা স্বাভাবিক সীমার অতিরিক্ত দান করে ফেলবে। আবুল আলিয়া বলেন: তারা ফসল কাটার দিনে কিছু দান করত, অতঃপর তারা এ নিয়ে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলো এবং অপচয় (إسراف) করল, তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: {তোমরা অপচয় করো না} [আল-আনআম: ১৪১]। ইবনে জুরাইজ বলেন, এটি সাবিত বিন কায়স বিন শাম্মাস সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, তিনি তাঁর একটি খেজুর বাগান কাটলেন এবং বললেন: আজ আমার কাছে যে-ই আসবে তাকেই আমি খাওয়াব। অতঃপর তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত খাওয়াতে থাকলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে কোনো ফল অবশিষ্ট রইল না। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন... {তোমরা অপচয় করো না, নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না} [আল-আনআম: ১৪১]। ইবনে জারীর তাঁর থেকে এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন। ইবনে জুরাইজ আতা থেকে বর্ণনা করেন: তাঁদের সব বিষয়ে অপচয় (السرف) করতে নিষেধ করা হয়েছে। ইয়াস বিন মুআবিয়া বলেন: যার মাধ্যমে তুমি আল্লাহর নির্দেশ অতিক্রম করলে তাই অপচয় (سرف)। সুদ্দী আল্লাহ তাআলার বাণী {তোমরা অপচয় করো না} [আল-আনআম: ১৪১] প্রসঙ্গে বলেন: তোমরা তোমাদের সব সম্পদ দান করে দিও না, যার ফলে তোমরা নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে। সাঈদ বিন মুসাইয়িব এবং মুহাম্মাদ বিন কাব বলেন: তোমরা সদকা প্রদান থেকে বিরত থেকো না, অন্যথায় তোমরা তোমাদের রবের অবাধ্য হবে।" (১) .
এই আয়াতের সাদৃশ্যপূর্ণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সুন্দর পোশাক গ্রহণ করো এবং পানাহার করো, কিন্তু অপচয় করো না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না} [আল-আরাফ: ৩১] (২) .
আবু বকর ইবনুল আরাবী (মৃত্যু ৫৪৩ হি.) বলেন: "অপচয় (الإسراف) হলো: সীমা অতিক্রম করা। আল্লাহ তাঁদের হালাল থেকে হারামের (الحرام) দিকে সীমা লঙ্ঘন করতে নিষেধ করেছেন। আবার বলা হয়েছে: প্রয়োজনের অতিরিক্ত যেন না হয়। এ বিষয়ে (৩) দুটি মত রয়েছে: কেউ বলেছেন এটি হারাম (حرام), আবার কেউ বলেছেন এটি মাকরুহ (مكروه) এবং এটিই অধিকতর সঠিক (الأصح); কেননা তৃপ্ত হওয়ার পরিমাণ দেশ, কাল, বয়স এবং খাবারের ধরনভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়..." (৪) .
আমি বলছি: পানাহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত হওয়াকে ইবনুল আরাবীর মাকরুহ (كراهة) হিসেবে প্রাধান্য প্রদান করাটি নিঃশর্ত নয়; বরং সম্ভবত এতে জীবনের ক্ষতির আশঙ্কাও থাকতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أو الغير فيكون ذلك محرما وقال أبو محمد بن عطية (ت 546 هـ) : " وقوله تعالى. . . {وَلَا تُسْرِفُوا} [الأنعام: 141] معناه ولا تفرطوا، قال أهل التأويل: يريد ولا تسرفوا بأن تحرموا على أنفسكم ما لم يحرم الله عز وجل، قال ابن عباس: ليس في الحلال سرف، إنما السرف في ارتكاب المعاصي. قال القاضي أبو محمد (1) " يريد في الحلال القصد، واللفظ يقتضي النهي عن السرف مطلقا، فمن تلبس بفعل حرام فتأول تلبسه به حصل من المسرفين وتوجه النهي عليه، ومن تلبس بفعل مباح فإن مشى فيه على القصد وأوساط الأمور فحسن، وإن أفرط حتى دخل في الضرر، حصل أيضا من المسرفين وتوجه النهي عليه، مثل ذلك أن يفرط الإنسان في شراء ثياب ونحوها، ويستنفد في ذلك جل ماله، أو يعطي ماله أجمع ويكابد بعياله الفقر بعد ذلك ونحوه، فالله عز وجل لا يحب شيئا من هذا وقد نهت الشريعة عنه " (2) .
ومن ورود مادة (سرف) بصيغة الفعل قوله تعالى: {وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا} [الفرقان: 67] (3) .
وقد اختلف أهل التفسير في معنى الآية، فقيل: المراد بالإسراف أكل مال الغير بغير حق، وقيل: المراد عدم الإسراف في إنفاق المال والتصدق به، وقيل: عدم تجاوز الحد الوسط.
قال الطبري (ت 310 هـ) بعد أن حكى الأقوال: " والصواب من القول في ذلك قول من قال: الإسراف في النفقة الذي عناه الله في هذا الموضع ما جاوز الحد الذي أباحه الله لعباده إلى ما فوقه، والإقتار: ما قصر عما أمر الله به، والقوام بين ذلك.
وإنما قلنا: إن ذلك كذلك لأن المسرف والمقتر كذلك، ولو كان الإسراف
--------------------------------------------
...বা অপরের [সম্পদ], তবে তা হারাম হবে। আবু মুহাম্মদ ইবনে আতিয়্যাহ (মৃ. ৫৪৬ হি.) বলেন: "এবং আল্লাহ তায়ালার বাণী... {এবং তোমরা অপব্যয় করো না} [আল-আনআম: ১৪১], এর অর্থ হলো তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। তাফসিরকারগণ বলেছেন: এর উদ্দেশ্য হলো, তোমরা নিজেদের ওপর এমন কিছু হারাম করে অপব্যয় করো না যা আল্লাহ মহান হারাম করেননি। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: হালাল বস্তুর ক্ষেত্রে কোনো অপচয় নেই, অপচয় কেবল পাপাচার বা গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়ার মধ্যেই নিহিত।" কাজি আবু মুহাম্মদ (১) বলেন: "তিনি হালাল কাজে মধ্যপন্থা উদ্দেশ্য করেছেন। এই শব্দটির প্রয়োগ সাধারণভাবে অপব্যয় থেকে নিষেধ করার দাবি রাখে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো হারাম কাজে লিপ্ত হলো এবং তার সেই কাজে লিপ্ত হওয়ার স্বপক্ষে কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করাল, সে অপব্যয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হলো এবং তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হলো। আর যে ব্যক্তি কোনো বৈধ কাজে লিপ্ত হলো এবং তাতে মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যপূর্ণ পথ অনুসরণ করল, তবে তা উত্তম। কিন্তু যদি সে বাড়াবাড়ি করে এমনকি ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তবে সেও অপব্যয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তার ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। এর উদাহরণ হলো, কোনো ব্যক্তি পোশাক-পরিচ্ছদ বা এই জাতীয় জিনিস ক্রয়ে সীমালঙ্ঘন করল এবং তাতে তার অধিকাংশ সম্পদ ব্যয় করে ফেলল, অথবা তার সমস্ত সম্পদ দান করে দিল এবং এরপর তার পরিবার-পরিজন নিয়ে দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হলো—এই জাতীয় কাজ। আল্লাহ তায়ালা এর কোনোটিই পছন্দ করেন না এবং শরিয়তও তা থেকে নিষেধ করেছে" (২)।
ক্রিয়া হিসেবে 'স-র-ফ' (سرف) মূলশব্দের প্রয়োগের একটি উদাহরণ হলো আল্লাহ তায়ালার বাণী: {এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না, বরং তাদের ব্যয় হয় উভয়ের মাঝামাঝি অর্থাৎ ভারসাম্যপূর্ণ} [আল-ফুরকান: ৬৭] (৩)।
এই আয়াতের অর্থের ব্যাপারে তাফসিরবিদগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন: 'ইসরাফ' (অপব্যয়) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভোগ করা। আবার কেউ বলেছেন: এর উদ্দেশ্য হলো সম্পদ ব্যয় ও সদকা করার ক্ষেত্রে অপব্যয় না করা। আবার কেউ বলেছেন: এর উদ্দেশ্য হলো মধ্যম সীমা অতিক্রম না করা।
ইমাম তাবারি (মৃ. ৩১০ হি.) বিভিন্ন মত উল্লেখ করার পর বলেন: "এই বিষয়ে সঠিক কথা হলো তাদের বক্তব্য যারা বলেন: এই স্থানে ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপব্যয় দ্বারা আল্লাহ তায়ালা সেই সীমাকে বুঝিয়েছেন যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য বৈধ করেছেন তা অতিক্রম করাকে। আর কার্পণ্য হলো আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তার চেয়ে কম করা। আর 'কাওয়াম' হলো এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থান।"
আমরা একারণেই বলেছি যে বিষয়টি এরকমই, কারণ অপব্যয়কারী এবং কৃপণও তদ্রূপ। আর যদি অপব্যয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والإقتار في النفقة مرخصا فيهما ما كانا مذمومين، ولا كان المسرف ولا المقتر مذموما؛ لأن ما أذن الله في فعله فغير مستحق فاعله الذم. . . " (1) .
وهذا الرأي من الطبري حسن، ورحم الله مطرف بن عبد الله إذ يقول:
" خير هذه الأمور أوساطها، والحسنة بين السيئتين " (2) .
وهذه الآية الكريمة كالآية الأخرى: {وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًا مَحْسُورًا} [الإسراء: 29] (3) .
ومن ورود مادة (سرف) بصيغة المصدر قوله تعالى: {وَابْتَلُوا الْيَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَأْكُلُوهَا إِسْرَافًا وَبِدَارًا أَنْ يَكْبَرُوا} [النساء: 6] (4) قال القرطبي (ت 671 هـ) : " قوله تعالى:. . {وَلَا تَأْكُلُوهَا إِسْرَافًا وَبِدَارًا أَنْ يَكْبَرُوا} [النساء: 6] ليس يريد أن أكل مالهم من غير إسراف جائز فيكون له دليل خطاب، بل المراد ولا تأكلوا أموالهم فإنه إسراف فنهى الله سبحانه الأوصياء عن أكل أموال اليتامى بغير الواجب المباح لهم. . . . والإسراف في اللغة: الإفراط، مجاوزة الحد " (5) .
هذا وبقية الآيات الأخرى التي وردت فيها مادة (سرف) جاءت في معانٍ أخرى غير الإسراف في الأموال، بل أكثرها جاء بمعنى الإسراف في الشرك والكفر والتكذيب.
كقوله تعالى: {وَكَذَلِكَ نَجْزِي مَنْ أَسْرَفَ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِآيَاتِ رَبِّهِ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَدُّ وَأَبْقَى} [طه: 127] (6) .
--------------------------------------------
"এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃপণতা যদি অনুমোদিত হয় তবে সে দুটি নিন্দনীয় হবে না এবং অপচয়কারী বা কৃপণ ব্যক্তিও নিন্দিত হবে না; কারণ আল্লাহ যা করার অনুমতি দিয়েছেন, তা সম্পাদনকারী নিন্দার যোগ্য নয়। . . " (১) ।
তাবারির এই অভিমতটি উত্তম (حسن), আর আল্লাহ মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহর প্রতি রহম করুন যখন তিনি বলেন:
"এই সকল বিষয়ের মধ্যে সর্বোত্তম হলো এর মধ্যপন্থা, আর পুণ্য হলো দুটি মন্দের মধ্যবর্তী বিষয়" (২) ।
এবং এই সম্মানিত আয়াতটি অপর একটি আয়াতের মতো: {আর তুমি তোমার হাত তোমার গ্রীবায় আবদ্ধ করে রেখো না এবং তা সম্পূর্ণ প্রসারিতও করো না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়বে।} [ইসরা: ২৯] (৩) ।
এবং মূলধাতু (سرف) এর ক্রিয়া বিশেষ্য রূপের ব্যবহার আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে দেখা যায়: {আর তোমরা ইয়াতীমদের পরীক্ষা করো যতক্ষণ না তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছায়। অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে বিচারবুদ্ধির উন্মেষ দেখতে পাও, তবে তাদের সম্পদ তাদের কাছে সমর্পণ করো। আর তারা বড় হয়ে যাবে বলে তোমরা অপচয় ও তড়িঘড়ি করে তা খেয়ে ফেলো না।} [নিসা: ৬] (৪) কুরতুবি (মৃত্যু ৬৭১ হি.) বলেন: "আল্লাহ তাআলার বাণী: . . {আর তারা বড় হয়ে যাবে বলে তোমরা অপচয় ও তড়িঘড়ি করে তা খেয়ে ফেলো না} [নিসা: ৬] এর অর্থ এই নয় যে, অপচয় ব্যতীত তাদের সম্পদ ভক্ষণ বৈধ যাতে এটি কোনো বিপরীত অর্থ নির্দেশক দলিল (دليل خطاب) হিসেবে গণ্য হয়, বরং এর উদ্দেশ্য হলো তোমরা তাদের সম্পদ ভক্ষণ করো না কারণ তা অপচয়। অতএব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ওসীদেরকে ইয়াতীমদের সম্পদ তাদের জন্য যা বৈধ ও মুবাহ তা ব্যতিরেকে ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন। . . . আর আভিধানিক অর্থে 'ইসরাফ' হলো: সীমালঙ্ঘন ও সীমা অতিক্রম করা।" (৫) ।
এটি এবং অবশিষ্ট অন্যান্য আয়াতসমূহ যাতে (سرف) মূলধাতুটি এসেছে, সেগুলো সম্পদে অপচয় করা ব্যতীত ভিন্ন অর্থে এসেছে। বরং এর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিরক, কুফর এবং মিথ্যারোপের ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘনের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিফল দেই যে সীমা লঙ্ঘন করে এবং তার প্রতিপালকের নিদর্শনে বিশ্বাস করে না। আর পরকালের শাস্তি অবশ্যই কঠোরতর ও অধিক স্থায়ী।} [ত্বহা: ১২৭] (৬) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وقوله:. . {إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ} [غافر: 28] (1) .
وقوله: {أَفَنَضْرِبُ عَنْكُمُ الذِّكْرَ صَفْحًا أَنْ كُنْتُمْ قَوْمًا مُسْرِفِينَ} [الزخرف: 5] (2) .
وربما جاءت المادة مطلقة لتشمل أنواع الإسراف، كما في الآية {قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ} [الزمر: 53] (3) وقد سبق إيرادها.
فإذا ما تجاوزنا المادة ذاتها (السرف) في القرآن الكريم إلى الآيات الكريمة التي جاءت في معنى السرف ذامة ومحذرة منه، فإننا واجدون آيات كثيرة:
ففي سياق النهي عن السرف في الأموال وإنفاقها، يقول سبحانه: {وَآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا - إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا} [الإسراء: 26 - 27] (4) .
وقد ذكر جمهور المفسرين أن التبذير هنا إنفاق المال في غير حقه (5) . وعند التعريف بالمصطلحات أشرنا إلى الفرق بين التبذير والإسراف. وفي سياق الذم لأصحاب المال والجاه الذين سخروهما لشهواتهم يقول سبحانه: {وَإِذَا أَرَدْنَا أَنْ نُهْلِكَ قَرْيَةً أَمَرْنَا مُتْرَفِيهَا فَفَسَقُوا فِيهَا فَحَقَّ عَلَيْهَا الْقَوْلُ فَدَمَّرْنَاهَا تَدْمِيرًا} [الإسراء: 16] (6) .
وفي قوله: (أمرنا) قراءات: فقد قرئ " أمرنا " بفتح الهمزة بدون مد وفتح الميم مع التخفيف، من الأمر.
وقرئ " أمرنا " بفتح الهمزة بدون مد وتشديد الميم، من الإمارة.
وقرئ " آمرنا " بمد ثم فتح للميم مع التخفيف أي أكثرناهم.
قال الطبري بعد أن ساق القراءات وتفسيراتها: " وأولى القراءات في ذلك عندي بالصواب قراءة من قرأ (أمرنا مترفيها) بقصر الألف من أمرنا وتخفيف
--------------------------------------------
এবং তাঁর বাণী: . . {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে পথপ্রদর্শন করেন না, যে সীমালঙ্ঘনকারী ও চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)} [গাফির: ২৮] (১)।
এবং তাঁর বাণী: {তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায় বলে আমি কি তোমাদের নিকট থেকে উপদেশবাণী প্রত্যাহার করে নেব?} [যুখরুফ: ৫] (২)।
কখনও কখনও এই বিষয়টি সীমালঙ্ঘনের সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি এই আয়াতে রয়েছে: {বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না} [যুমার: ৫৩] (৩) এবং এটি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে 'ইসরাফ' (সীমালঙ্ঘন) শব্দের মূল ব্যবহার অতিক্রম করে আমরা যদি সেই সকল আয়াতের দিকে লক্ষ্য করি যা সীমালঙ্ঘনের নিন্দার্থে এবং এ থেকে সতর্ক করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে, তবে আমরা এমন অনেক আয়াত দেখতে পাব:
ধন-সম্পদে অপচয় এবং তা ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিষেধ করার প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {আর আত্মীয়-স্বজনকে তার হক দান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। আর কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ} [ইসরা: ২৬ - ২৭] (৪)।
জুমহুর মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন যে, এখানে 'তাবযীর' (অপব্যয়) বলতে অনর্থক কাজে সম্পদ ব্যয় করাকে বোঝানো হয়েছে (৫)। পরিভাষাসমূহ সংজ্ঞায়িত করার সময় আমরা 'তাবযীর' ও 'ইসরাফ'-এর মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেছি। আর সম্পদ ও প্রতিপত্তির অধিকারী যারা তাদের এসবকে নিজেদের কুপ্রবৃত্তির লালসায় নিয়োজিত করেছে, তাদের নিন্দার প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {যখন আমি কোনো জনপদ ধ্বংস করতে চাই, তখন তার বিলাসপ্রিয় লোকদেরকে নির্দেশ দিয়ে থাকি, তখন তারা সেখানে পাপাচার করে, ফলে তার ওপর দণ্ডাদেশ অনিবার্য হয়ে পড়ে এবং আমি তা সমূলে ধ্বংস করে দেই} [ইসরা: ১৬] (৬)।
তাঁর বাণী: (অমরনা) শব্দটিতে একাধিক কিরাত রয়েছে: এটি হামযাহ-এর ফাতহাহ, কোনো মাদ্দ ব্যতীত এবং মীমের তাখফিফ (যবর) সহ 'অমরনা' পঠিত হয়েছে, যা 'আমর' (নির্দেশ) থেকে আগত।
এবং হামযাহ-এর ফাতহাহ, মাদ্দ ব্যতীত এবং মীমের তাশদীদসহ 'আম্মরনা' পঠিত হয়েছে, যা 'ইমারত' (কর্তৃত্ব দান) থেকে আগত।
আবার মাদ্দসহ 'আ-মরনা' পঠিত হয়েছে যার অর্থ আমরা তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দিয়েছি।
তাবারী কিরাতসমূহ ও সেগুলোর ব্যাখ্যা উপস্থাপনের পর বলেন: "এই বিষয়ে আমার নিকট কিরাতসমূহের মধ্যে সঠিক হওয়ার দিক থেকে অধিক উত্তম হলো সেই কিরাত যে ব্যক্তি 'অমরনা' শব্দের আলিফকে ছোট (কসর) করে এবং মীমের তাখফিফ করে 'অমরনা মুতরাফিহা' পাঠ করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الميم منها لإجماع الحجة من القراء على تصويبها دون غيرها وإذا كان ذلك هو الأولى بالصواب بالقراءة فأولى التأويلات به تأويل من تأوله: أمرنا أهلها بالطاعة فعصوا وفسقوا فيها فحق عليهم القول؛ لأن الأغلب من معنى أمرنا: الأمر الذي هو خلاف النهي دون غيره. . . " (1) .
وأيا كان تفسير الآية، فإنها تشير إلى أن أكثر أهل المال والجاه والسلطة يغترون بما عندهم فيسخرونه في غير طاعة الله ويصدون عن الخير.
يقول الشوكاني (ت 1255 هـ) : " ومعنى مترفيها المنعمون الذين قد أبطرتهم النعمة وسعة العيش، والمفسرون يقولون في تفسير المترفين: إنهم الجبارون المتسلطون والملوك الجائرون، قالوا: وإنما خصوا بالذكر لأن من عداهم أتباع لهم " (2) .
وفي السياق نفسه يقول الحق سبحانه: {كَلَّا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَى - أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى - إِنَّ إِلَى رَبِّكَ الرُّجْعَى} [العلق: 6 - 8] (3) .
" والطغيان هو مجاوزة الحد، وكل شيء جاوز المقدار والحد في العصيان فهو طاغ " (4) .
والاستغناء: شدة الغنى.
" والتقدير: إن الإنسان ليطغى لرؤيته نفسه مستغنيا، وعلة هذا الخلق أن الاستغناء تحدث صاحبه نفسه بأنه غير محتاج إلى غيره وأن غيره محتاج، فيرى نفسه أعظم من أهل الحاجة، ولا يزال ذلك التوهم يربو في نفسه حتى يصدر خلقا، حيث لا وازع يزعه من دين أو تفكير صحيح، فيطغى على الناس لشعوره بأنه لا يخاف بأسهم. . . . فقد بينت هذه الآية حقيقة نفسية عظيمة
--------------------------------------------
পঠনশৈলীর ইমাম বা ক্বারীগণের (القراء) মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য দলিলের (الحجة) অধিকারীগণের সর্বসম্মতি (إجماع) অনুযায়ী মিম-যুক্ত পাঠটিকেই অন্যগুলোর তুলনায় শুদ্ধ সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর যদি পঠনশৈলীর (কিরাত) ক্ষেত্রে এটিই সঠিক হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারযোগ্য হয়, তবে ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও সেই ব্যাখ্যাটিই অগ্রাধিকারযোগ্য হবে যেখানে বলা হয়েছে: 'আমরা তাদের (জনপদের) বাসিন্দাদের আনুগত্যের আদেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তাতে অবাধ্যতা (فسقوا) প্রদর্শন করল; ফলে তাদের ওপর আজাবের কথা অবধারিত হয়ে গেল।' কারণ 'আমরনা' (আমরা আদেশ দিয়েছি) শব্দের অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রচলিত অর্থ হলো এমন আদেশ যা নিষেধের বিপরীত, অন্য কিছু নয়।...' (১) ।
আয়াতের ব্যাখ্যা যাই হোক না কেন, এটি এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে যে, অধিকাংশ সম্পদশালী, প্রভাবশালী এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা তাদের নিকট যা আছে তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে ভোগে। ফলে তারা তা আল্লাহর আনুগত্যহীন কাজে ব্যয় করে এবং কল্যাণের পথ থেকে বাধা প্রদান করে।
শাওকানি (মৃত্যু ১২৫৫ হিজরি) বলেন: "'মুতরাফিহা' শব্দের অর্থ হলো সেইসব ভোগবিলাসী মানুষ যাদের নেয়ামত এবং জীবনযাত্রার প্রাচুর্য অহংকারী করে তুলেছে। মুফাসসিরগণ ভোগবিলাসী (المترفين) ব্যক্তিদের ব্যাখ্যায় বলেন: তারা হলো স্বৈরাচারী শাসক এবং অত্যাচারী রাজা। তাঁরা আরও বলেন: তাদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ অন্য সাধারণ মানুষ তাদেরই অনুসারী হয়ে থাকে।" (২) ।
একই প্রেক্ষাপটে মহান আল্লাহ বলেন: {কখনোই নয়, মানুষ অবশ্যই সীমালঙ্ঘন করে, যেহেতু সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে। নিশ্চয়ই আপনার রবের দিকেই হবে প্রত্যাবর্তন} [আলাক: ৬ - ৮] (৩) ।
"আর সীমালঙ্ঘন (طغيان) হলো সীমা অতিক্রম করা; অবাধ্যতার ক্ষেত্রে যা কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ ও সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাকেই সীমালঙ্ঘনকারী বলা হয়।" (৪) ।
আর অভাবমুক্ত হওয়া (استغناء) হলো চরম সচ্ছলতা।
"আর এর নিহিতার্থ হলো: মানুষ নিজেকে অভাবমুক্ত দেখার কারণে সীমালঙ্ঘন করে। এই স্বভাবের নিহিত কারণ হলো যে, প্রাচুর্য মানুষের মনে এই ধারণার উদ্রেক করে যে, সে অন্যের মুখাপেক্ষী নয়, বরং অন্যরাই তার মুখাপেক্ষী। তখন সে নিজেকে অভাবী মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে। এই বিভ্রম তার অন্তরে ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় যতক্ষণ না তা একটি মজ্জাগত চরিত্রে পরিণত হয়; বিশেষ করে যেখানে দ্বীন বা সঠিক চিন্তার কোনো নিয়ন্ত্রক তাকে বাধা প্রদান করে না। ফলে সে মানুষের ওপর জুলুম করে এই অনুভুতি থেকে যে, সে তাদের কোনো শক্তির ভয় করে না...। নিশ্চয়ই এই আয়াত একটি মহান মনস্তাত্ত্বিক সত্য বর্ণনা করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুশকিলাতুস সারাফি ফিল মুজতামায়িল মুসলিম ওয়া ইলাজুহা ফি দাউয়িল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
من الأخلاق وعلم النفس، ونبهت على الحذر من تغلغلها في النفس " (1) .
أما أشهر قصة للإسراف والترف والبذخ والأشر والبطر في القرآن العظيم فهي قصة قارون، وقد جاءت مفصلة وبأسلوب قرآني بليغ، تصور تلك الشخصية الشاذة، وعلوها في الأرض وموقف الناس المعاصرين لها منها.
فقد كان من قوم موسى عليه السلام فبغى وتجبر، بسبب ماله الوفير، وظن أنه أفضل الناس وأكرمهم وأعلمهم وأنه جدير بالمال دون غيره، فمنع حق الله في المال، وأسرف في التزيي بالزينة، فجمع بين الشح والسرف، فاستحق العذاب الشديد {فَخَسَفْنَا بِهِ وَبِدَارِهِ الْأَرْضَ فَمَا كَانَ لَهُ مِنْ فِئَةٍ يَنْصُرُونَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَمَا كَانَ مِنَ الْمُنْتَصِرِينَ} [القصص: 81]
وقد جاءت قصته في سورة القصص من الآية 76 حتى الآية 83.
--------------------------------------------
চরিত্র ও মনোবিজ্ঞান সংক্রান্ত এবং আমি আত্মার অভ্যন্তরে এগুলোর অনুপ্রবেশের ব্যাপারে সতর্ক করেছি (১)।
মহান কুরআনে অপব্যয়, বিলাসিতা, আড়ম্বর, দম্ভ ও অহংকারের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কাহিনী হলো কারুনের কাহিনী। এটি অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে এবং এক প্রাঞ্জল কুরআনিক শৈলীতে বর্ণিত হয়েছে, যা সেই অস্বাভাবিক ব্যক্তিত্ব, জমিনে তার ঔদ্ধত্য এবং তার সমসাময়িক লোকদের তার প্রতি যে অবস্থান ছিল তা চিত্রিত করে।
সে ছিল মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তার প্রচুর ধন-সম্পদের কারণে সে সীমালঙ্ঘন ও অহংকার করেছিল। সে ধারণা করেছিল যে, সে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, সবচেয়ে সম্মানিত ও সর্বাধিক জ্ঞানী এবং সে অন্যের তুলনায় এই সম্পদের বেশি যোগ্য। ফলে সে সম্পদের ক্ষেত্রে আল্লাহর হক আদায় করতে অস্বীকার করল এবং বেশভূষা ও অলঙ্কারের ক্ষেত্রে সীমাতীত অপব্যয় করল। এভাবে সে কৃপণতা ও অপচয়ের এক নিকৃষ্ট সমন্বয় ঘটালো, ফলে সে কঠোর শাস্তির উপযুক্ত হলো: {অতঃপর আমি তাকে ও তার প্রাসাদকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিলাম। তখন আল্লাহর মোকাবেলায় তাকে সাহায্য করার মতো কোনো দল ছিল না এবং সে নিজেও আত্মরক্ষা করতে পারল না।} [আল-কাসাস: ৮১]
তার এই কাহিনী সূরা আল-কাসাস-এর ৭৬ থেকে ৮৩ নম্বর আয়াত পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------