(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
خطبة الجمعة وأحكامها الفقهية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: خطبة الجمعة وأحكامها الفقهية
المؤلف: عبد العزيز بن محمد بن عبد الله الحجيلان
الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - مركز البحوث والدراسات الإسلامية
الطبعة: الأولى، 1423هـ - 2002م
عدد الصفحات: 420
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জুমার খুতবা এবং এর ফিকহী বিধিবিধান বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: জুমার খুতবা এবং এর ফিকহী বিধিবিধান
লেখক: আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হুজাইলান
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - ইসলামি গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্র
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২০
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
[تقديم لمعالي الشيخ صالح بن عبد العزيز بن محمد آل الشيخ]خطبة الجمعة وأحكامها الفقهية تقديم لمعالي الشيخ صالح بن عبد العزيز بن محمد آل الشيخ
وزير الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد
المشرف العام على مركز البحوث والدراسات الإسلامية الحمد لله أفضل الحمد وأكمله، وأثني عليه أحسن الثناء وأجمله، وأصلي وأسلم على خير خلقه، وأفضل رسله محمد بن عبد الله، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فإن من منن الله أن جعل لهذه الأمة مواسم للخيرات، تنال بها أعلى الدرجات، ويكفر عنها السيئات، بأقل عمل تنال عظيم الأجر، وتضع عن نفسها عظيم الوزر، فأعظم بها من منة، وأكرم بها من نعمة، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء.
ومن تلك المواسم العظيمة، يوم الجمعة الذي يكفي في بيان فضله وعظيم شأنه قول نبي الأمة صلى الله عليه وسلم: «خير يوم طلعت فيه الشمس يوم الجمعة، فيه خلق آدم، وفيه أدخل الجنة، وفيه أهبط منها، وفيه تقوم الساعة، وفيه ساعة لا يوافقها عبد مسلم يصلي يسأل الله فيها خيرا إلا أعطاه الله إياه» .
ومن المنن العظيمة في هذا اليوم، أن شرع الله لعباده فيه خطبة الجمعة، فيها يتعلم الجاهل، ويتذكر الناسي، ورتّب على أدائها وحضورها الأجر العظيم، والثواب الجزيل، ولأهمية هذا وجب على المكلف تعلم أحكام الجمعة وخطبتها بالجملة، لإدراك فضلها
[মান্যবর শায়খ সালিহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ আল-শায়খ-এর উপস্থাপনা]জুমার খুতবা ও এর ফিকহি বিধানসমূহ: মান্যবর শায়খ সালিহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ আল-শায়খ-এর উপস্থাপনা
ইসলামি বিষয়াদি, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিষয়ক মন্ত্রী
ইসলামি গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্রের মহাপরিচালক। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রশংসার দাবিদার; আমি তাঁর সর্বোত্তম ও সুন্দরতম স্তুতি জ্ঞাপন করছি। আমি সালাত ও সালাম পেশ করছি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর রাসূলদের মধ্যে সর্বোত্তম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে অন্যতম অনুগ্রহ হলো এই উম্মতের জন্য কল্যাণের বিভিন্ন মৌসুম নির্ধারণ করা, যার মাধ্যমে তারা সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করে এবং তাদের পাপসমূহ মোচন করা হয়। অতি সামান্য আমলের মাধ্যমেই তারা মহান প্রতিদান লাভ করে এবং নিজেদের থেকে বিশাল পাপের বোঝা নামিয়ে ফেলে। এটি কতই না মহান অনুগ্রহ এবং কতই না শ্রেষ্ঠ নেয়ামত! আর এটি আল্লাহরই অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।
সেই সকল মহান মৌসুমের মধ্যে অন্যতম হলো জুমার দিন। এর ফজিলত ও সুমহান মর্যাদা বর্ণনায় উম্মতের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীই যথেষ্ট: “সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনই সর্বশ্রেষ্ঠ। এই দিনেই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে সেখান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সালাতরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাকে তা অবশ্যই দান করবেন।”
এই দিনের মহান অনুগ্রহসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো, আল্লাহ এতে তাঁর বান্দাদের জন্য জুমার খুতবা প্রবর্তন করেছেন; যার মাধ্যমে অজ্ঞ ব্যক্তি শিক্ষা লাভ করে এবং বিস্মৃত ব্যক্তি উপদেশ গ্রহণ করে। এই খুতবা প্রদান ও তাতে উপস্থিত হওয়ার ওপর আল্লাহ মহান সওয়াব ও অঢেল প্রতিদান নির্ধারণ করেছেন। এর গুরুত্বের কারণেই প্রত্যেক শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ওপর জুমার বিধান ও এর খুতবা সম্পর্কে সামগ্রিক জ্ঞান অর্জন করা ওয়াজিব, যাতে এর ফজিলত অনুধাবন করা যায়।
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
واغتنام أجرها، فخطبة الجمعة - كسائر العبادات - علق بها مع تقادم العهد أمور كدرت السنة، وأحيت البدعة.
وقد كان لأئمة الدعوة الإصلاحية، منهج واضح في خطبة الجمعة، بُني على السنة، وما درج عليه أهل العلم من أئمة السلف، فأبانوا عما ينبغي، ويجب توافره فيها، من الحرص على الوعظ والتذكير فيها، والاهتمام بأمر الاعتقاد، وقراءة القرآن، والإِكثار منه، والدعاء لأئمة المسلمين بالخير والثبات، والإيجاز فيها، والحرص على مخالفة أهل البدع فيها، بالترضي عن الأئمة الخلفاء الراشدين، والدعاء لمن ولاه الله الأمر، في أشياء وتفاصيل يطول ذكرها.
وكان من فضل الله - جل شأنه - على مؤلف هذا المصنف أن وفقه لبيان أحكام خطبة الجمعة بدليل الكتاب والسنة، وبيان ما عليه أئمة السلف ومن تبعهم من أئمة الدعوة الإصلاحية وغيرهم، ففي هذا المؤلف " خطبة الجمعة وأحكامها الفقهية " للدكتور عبد العزيز بن محمد الحجيلان - وفقه الله - بيان لجل أحكام الخطبة، فشكر الله له جهده، ونفع به. وأشكر مركز البحوث والدراسات الإسلامية بوزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد على اهتمامه بهذا الموضوع، وعنايته بإصدار هذا الكتاب المفيد.
والحمد لله أولا وآخرا، وصلى الله على محمد رسوله وعبده وعلى آله وصحبه وسلم.
এবং এর সওয়াব অর্জন করা; কেননা জুমার খুতবা—অন্যান্য ইবাদতের ন্যায়—কাল পরিক্রমায় এমন কিছু বিষয়ের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে যা সুন্নাহকে (السنة) কলুষিত করেছে এবং বিদআতকে (البدعة) পুনরুজ্জীবিত করেছে।
জুমার খুতবার ক্ষেত্রে সংস্কারবাদী দাওয়াতের ইমামগণের একটি সুস্পষ্ট মানহাজ (منهج) বা পদ্ধতি ছিল, যা সুন্নাহ (السنة) এবং সালাফ (السلف) ইমামগণের মধ্য হতে আহলে ইলমগণ যা অনুসরণ করেছেন তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। তাঁরা এতে যা যা থাকা উচিত ও আবশ্যক তা বর্ণনা করেছেন; যেমন—উপদেশ ও স্মরণ করিয়ে দেওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ, আকিদাহর (الاعتقاد) বিষয়ে মনোনিবেশ, অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত, মুসলিমদের ইমামদের জন্য কল্যাণ ও অবিচলতার দোয়া করা, খুতবা সংক্ষিপ্ত করা এবং খোলাফায়ে রাশেদীন (الخلفاء الراشدين)গণের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ ও আল্লাহ যাদেরকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত করেছেন তাদের জন্য দোয়া করার মাধ্যমে বিদআতিদের (أهل البدع) বিরোধিতা করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা। এর আরও অনেক বিষয় ও বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে যা উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হবে।
এটি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ যে তিনি এই গ্রন্থের লেখককে কিতাব (الكتاب) ও সুন্নাহর (السنة) দলিলের আলোকে জুমার খুতবার বিধানাবলি বর্ণনা করার তাওফিক দিয়েছেন। সেই সাথে সালাফ (السلف) ইমামগণ এবং তাঁদের অনুসারী সংস্কারবাদী দাওয়াতের ইমাম ও অন্যান্যরা যে পদ্ধতির ওপর ছিলেন তা স্পষ্ট করেছেন। ড. আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-হুজাইলান—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দিন—কর্তৃক রচিত এই গ্রন্থ "খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহাল ফিকহিয়্যাহ"-তে খুতবার অধিকাংশ বিধান স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং এর দ্বারা উপকৃত করুন। আমি এই বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব প্রদান এবং এই উপকারী বইটি প্রকাশের যত্ন নেওয়ার জন্য ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়ের ইসলামি গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্রকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
শুরুতে এবং শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহর রাসুল ও বান্দা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
[المقدمة]بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مُضِلَّ له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] (1) .
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1] (2) .
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا - يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71] (3) (4) .
--------------------------------------------
[ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা: নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২] (১) ।
{হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং সতর্ক থাকো রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজনদের ব্যাপারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১] (২) ।
{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১] (৩) (৪) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
أما بعد. . .
فإن نعم الله - تعالى - على هذه الأمة عظيمة وكثيرة: {وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا} [إبراهيم: 34] (1) ومن أعظم النعم التي اختصَّ بها دين الإسلام وتميز بها عن غيره من الأديان الجمعة وخطبتها، فهي - أي الخطبة - موعظة أسبوعية عامة، توقظ القلوب الغافلة، وتشحذ الهمم العالية، وتصل النفوس بخالقها - جل وعلا -، لتعبد ربها على علم وبصيرة حتى يأتيها اليقين، كل ذلك وغيره من الفوائد الكثيرة إنما يدل على أهميتها، والحاجة إلى العناية التامة بها.
وإنما تتحقق هذه الفوائد وغيرها إذا توفر للخطيب ما هو مطلوب من الشروط والأركان والسنن، وخلت مما لم يشرعه الله - تعالى - من الأمور المحرمة والمبتدعة، فكانت وفق هدي
--------------------------------------------
অতঃপর...
নিশ্চয়ই এই উম্মতের ওপর আল্লাহ তাআলার নেয়ামতসমূহ সুমহান ও অগণিত: {আর তোমরা যদি আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করো, তবে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না} [ইবরাহীম: ৩৪] (১)। আর ইসলাম ধর্মকে যেসব মহান নেয়ামত দ্বারা বিশিষ্ট করা হয়েছে এবং যা একে অন্যান্য ধর্ম থেকে অনন্য করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো জুমুআ ও এর খুতবা। এটি—অর্থাৎ খুতবা—হলো একটি সাপ্তাহিক সাধারণ নসিহত, যা গাফেল হৃদয়সমূহকে জাগ্রত করে, উচ্চ সংকল্পকে শাণিত করে এবং আত্মাকে তার স্রষ্টা—যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ—এর সাথে সংযুক্ত করে, যাতে তারা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সাথে তাদের রবের ইবাদত করতে পারে যতক্ষণ না মৃত্যু উপস্থিত হয়। এই সমস্ত বিষয় এবং অন্যান্য বহুমুখী উপকারিতা এর গুরুত্ব এবং এর প্রতি পূর্ণ যত্নশীল হওয়ার আবশ্যকতাকেই প্রমাণ করে।
এই সকল ফায়দা ও অন্যান্য বিষয়সমূহ তখনই অর্জিত হওয়া সম্ভব, যখন খতিবের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত শর্তাবলি (شروط), রোকনসমূহ (أركان) এবং সুন্নাতসমূহ (سنن) বিদ্যমান থাকে এবং তা আল্লাহ তাআলা যা বিধিবদ্ধ করেননি এমন হারাম (محرمة) ও বিদআতি (مبتدعة) বিষয়সমূহ থেকে মুক্ত থাকে। ফলে তা হয় হেদায়াত বা আদর্শ অনুযায়ী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
النبي صلى الله عليه وسلم، وأصحابه، والسلف الصالح من هذه الأمة.
وقد كنت أفكر في الكتابة في هذا الموضوع من الناحية الفقهية منذ وقت بعيد، لما أرى من أهميته، وحاجة الناس إلى معرفة أحكامه معرفة تامة مبنية على بحث علمي دقيق وعميق كما أسلفت، ولكن الشواغل أدت إلى التأخير حتى يَسَّر الله - تعالى - لي فسحة من الوقت، فله الحمد أولا وآخرا، وظاهر، وباطنا.
وتتلخص أبرز الأسباب التي دفعتني للكتابة في هذا الموضوع فيما يلي:
1 - أهمية خطبة الجمعة الكبيرة كما أسلفت.
2 - خلو الساحة - حسب علمي حين الكتابة - من بحث علمي يتناول خطبة الجمعة وأحكامها من الناحية الفقهية بدقة وعمق، فرغبت في القيام به، جامعا أقوال الفقهاء وأدلتها والمناقشات الواردة عليها، ومنتهيا إلى الترجيح المبني على قوة الأدلة. والموجود إما بحوث تتناول الخطبة من الجانب الدعوي، أو الأدبي، أو التاريخي، أو تنبيهات وتوجيهات موجزة حول بعض الأخطاء، أو نحو ذلك، فأردت المشاركة بهذا البحث المتواضع في هذا المجال.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ এবং এই উম্মতের নেককার পূর্বসূরীগণ (السلف الصالح)।
আমি অনেক আগে থেকেই ফিকহী (الفقهية) দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়ে লেখার কথা ভাবছিলাম, কারণ আমি এর গুরুত্ব এবং ইতিপূর্বে যেমন বলেছি—সুক্ষ্ম ও গভীর গবেষণার ভিত্তিতে এই বিষয়ের বিধানগুলো (أحكام) পরিপূর্ণভাবে জানার ব্যাপারে মানুষের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলাম। তবে নানা ব্যস্ততা এই কাজটিকে বিলম্বিত করেছে, অবশেষে মহান আল্লাহ আমাকে সময়ের সুযোগ করে দিয়েছেন। সুতরাং শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহরই জন্য।
এই বিষয়ে লিখতে আমাকে উদ্বুদ্ধকারী প্রধান কারণগুলো নিম্নে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো:
1 - জুমার খুতবার অপরিসীম গুরুত্ব, যা আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি।
2 - আমার জানামতে—লেখার সময় পর্যন্ত—জুমার খুতবা এবং এর ফিকহী (الفقهية) বিধানসমূহ (أحكام) নিয়ে সূক্ষ্ম ও গভীর কোনো গবেষণামূলক কাজের শূন্যতা। তাই আমি ফকীহদের (الفقهاء) মতামত, তাঁদের দলিলসমূহ (الأدلة) এবং সেগুলোর ওপর উপস্থাপিত পর্যালোচনাসমূহ একত্রিত করে এবং দলিলাদির শক্তির ভিত্তিতে সঠিক মতটি প্রাধান্য প্রদানের (الترجيح) মাধ্যমে এই কাজটি সম্পন্ন করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। বর্তমানে যা বিদ্যমান আছে, তা হয় দাওয়াহ, সাহিত্যিক বা ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত গবেষণা, অথবা কিছু ভুলত্রুটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা বা এই জাতীয় কিছু। তাই আমি এই বিনীত গবেষণার মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছি।
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
3 - ما يحتمله مقتضى عملي، حيث أقوم بإلقاء خطبة الجمعة بصفتي إماما احتياطيا، فأردت معرفة أحكامها معرفة مبنية على البحث والتمحيص، وإفادة إخواني المسلمين بها.
4 - حصول بعض النواقص والأخطاء من بعض الخطباء، نتيجة عدم الإلمام ببعض الأحكام الفقهية للخطبة، مما قلل من الاستفادة منها مع أهميتها كما أسلفت.
وبعد القراءة حول الموضوع، وتتبع ما وقع في يدي مما كتب عن الخطبة من مختلف الجوانب، واستشارة بعض مشايخي، وزملائي من الأساتذة، وطلاب العلم عقدت العزم متوكلا على الله عز وجل، ومستعينا به في الكتابة في هذا الموضوع [خطبة الجمعة وأحكامها الفقهية] .
منهج البحث: وسلكت في هذا البحث المنهج العلمي المتعارف عليه وذلك حسب النقاط التالية:
1 - اقتصرت على ما يدخل تحت العنوان دخولا ظاهرا، وهو ما يتعلق بذات الخطبة والخطيب من الأحكام، دون ما يتعلق بالحاضرين إلا ما رأيت أنه قد يتعلق بالخطيب في بعض الأحيان كالكلام حال الخطبة ونحوه، وذلك حرصا على المحافظة على مقصود العنوان، وعدم تشعب الموضوع تشعبا يجر إلى الخروج عن مقتضى عنوانه.
৩ - আমার পেশাগত প্রয়োজনের দাবি মেটানো, যেহেতু আমি একজন বিকল্প ইমাম হিসেবে জুমার খুতবা প্রদান করি। তাই আমি এর বিধানগুলো গবেষণা ও সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে জানতে চেয়েছি এবং এর মাধ্যমে আমার মুসলিম ভাইদের উপকৃত করার ইচ্ছা পোষণ করেছি।
৪ - কতিপয় খতিবের পক্ষ থেকে কিছু ত্রুটি ও বিচ্যুতি ঘটা, যার কারণ খুতবার ফিকহী বিধানসমূহ সম্পর্কে পূর্ণ অবগতির অভাব। ফলে এর অপরিসীম গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও—যা আমি আগেই উল্লেখ করেছি—এ থেকে প্রাপ্ত উপকারিতা হ্রাস পেয়েছে।
এই বিষয়ে বিস্তারিত পঠন-পাঠন, খুতবার বিভিন্ন দিক নিয়ে যা কিছু লেখা আমার হস্তগত হয়েছে তার অনুসরণ এবং আমার কতিপয় শাইখ, শিক্ষক সহকর্মী ও ইলম অন্বেষণকারীদের সাথে পরামর্শ করার পর আমি মহান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র ওপর তাওয়াক্কুল করে এবং তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করে এই বিষয় [জুমার খুতবা ও এর ফিকহী বিধানসমূহ] নিয়ে লেখার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেছি।
গবেষণা পদ্ধতি: এই গবেষণায় আমি প্রচলিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর আলোকে বিন্যস্ত হয়েছে:
১ - আমি কেবল সেই সব বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি যা শিরোনামের অধীনে প্রত্যক্ষভাবে অন্তর্ভুক্ত; আর তা হলো খুতবার মূল বিষয়বস্তু ও খতিব সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি। শ্রোতাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আমি বর্জন করেছি, তবে যে বিষয়গুলো খতিবের সাথেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারে বলে আমি মনে করেছি—যেমন খুতবা চলাকালীন কথা বলা বা এই জাতীয় বিষয়গুলো—তা উল্লেখ করেছি। এর উদ্দেশ্য হলো শিরোনামের মূল লক্ষ্য বজায় রাখা এবং বিষয়টিকে এমন কোনো শাখা-প্রশাখায় বিস্তারিত না করা যা শিরোনামের মূল দাবি বহির্ভূত হওয়ার দিকে নিয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
2 - أعبر بلفظ " الخطبة " مفردا وأقصد الخطبتين معا غالبا ما لم تدل قرينة الكلام على قصد أحدهما، وذلك اتباعا لعامة الفقهاء.
3 - ذكرت الشروط والأركان والسنن المختلف فيها في أماكنها حسب ما ترجح لدي ما عدا الأركان الأربعة: الحمد، والصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم، والموعظة، وقراءة آية، فقد ذكرتها أركانا وإن لم أرجح ذلك في جميعها، لكثرة من قال بركنيتها وشهرته.
4 - اقتصرت على ذكر أقوال أصحاب المذاهب الفقهية الأربعة المشهورة - الحنفي، والمالكي، والشافعي، والحنبلي - حسب المستطاع - ومذهب ابن حزم في بعض الأحيان، وقد أذكر أقوال السلف إذا خالفت المذاهب الأربعة، وإذا لم أجد لمذهب قولا في مسألة فإني لا أشير إلى عدم وجوده، بل أسكت، تلافيا للتكرار والإطالة.
5 - رتبت أقوال الفقهاء حسب القوة، فقدمت القول الذي ظهر لي رجحانه وأخرت الضعيف لكون ذلك - فيما يظهر لي - أوضح للقارئ، ويغني عن تكرار بعض الأدلة وأنسب للبحث.
6 - رتبت المذاهب داخل القول حسب الترتيب الزمني،
2 - আমি 'খুতবা' শব্দটি একবচনে ব্যবহার করি এবং এর দ্বারা সাধারণত উভয় খুতবাকে একত্রে উদ্দেশ্য করি, যতক্ষণ না আলোচনার কোনো সূত্র (قرينة) কোনো একটিকে নির্দিষ্ট করার ইঙ্গিত প্রদান করে। আর এটি করা হয়েছে অধিকাংশ ফকিহগণের অনুসরণে।
3 - আমি মতভেদপূর্ণ শর্তাবলি (الشروط), রুকনসমূহ (الأركان) এবং সুন্নতসমূহ (السنن) সংশ্লিষ্ট স্থানে আমার নিকট যেটি প্রাধান্যপ্রাপ্ত (ترجيح) মনে হয়েছে সেই অনুযায়ী উল্লেখ করেছি। তবে চারটি রুকন: আল্লাহর প্রশংসা (হামদ), রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ, উপদেশ প্রদান এবং আয়াত তিলাওয়াত—এর ব্যতিক্রম। আমি এগুলোকে রুকন হিসেবেই উল্লেখ করেছি যদিও আমি সবকয়টির ক্ষেত্রে সেটিকে প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) মনে করিনি; কারণ বহু আলেম এগুলোর রুকন হওয়ার কথা বলেছেন এবং এটিই প্রসিদ্ধ।
4 - আমি সাধ্যানুযায়ী চারটি প্রসিদ্ধ ফقهি মাযহাব—হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি এবং হাম্বলি—এর ইমামগণের অভিমত উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইবনে হাজম-এর মাযহাবও উল্লেখ করেছি। যদি সালাফ (السلف) বা পূর্বসূরিগণের অভিমত চারটি মাযহাবের পরিপন্থী হয়, তবে আমি তা উল্লেখ করেছি। কোনো বিষয়ে যদি আমি কোনো মাযহাবের নির্দিষ্ট কোনো অভিমত না পাই, তবে আমি তার অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ না করে নীরব থেকেছি, যাতে পুনরাবৃত্তি এবং দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করা যায়।
5 - আমি ফকিহগণের অভিমতসমূহকে শক্তির ক্রমানুসারে সাজিয়েছি; ফলে আমি সেই অভিমতটিকে আগে উল্লেখ করেছি যা আমার নিকট প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) মনে হয়েছে এবং দুর্বল (ضعيف) অভিমতটিকে পরে এনেছি। কারণ এটি আমার দৃষ্টিতে পাঠকের জন্য অধিকতর স্পষ্ট, দলিলের পুনরাবৃত্তি থেকে মুক্ত এবং গবেষণার জন্য অধিক উপযোগী।
6 - আমি প্রতিটি মতের অন্তর্ভুক্ত মাযহাবগুলোকে কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فقدمتُ المذهب الحنفي، ثم المالكي، ثم الشافعي، ثم الحنبلي، ثم ابن حزم.
7 - اعتمدت في نسبة القول للمذهب على أمهات كتب أصحابه إلا إذا لم أطلع على قول صريح لهم في المسألة فإني أحاول أن أستنتج ذلك ولو لم يكن صريحا، أو أبينه على قول آخر لهم إن ظهر لي ذلك، ولا أوثقه من غير كتب المذهب إلا إذا تعذر ذلك من كتبه.
8 - اكتفيت في توثيق كل مذهب بالإحالة على بعض كتبه، وقد أنقل بعض النقول إذا رأيت أن المقام يتطلب ذلك لتوضيح القول، أو أن الكلام جيد في تحرير المسألة، أو أن صاحبه من المعروفين بالتحقيق كشيخ الإسلام ابن تيمية، وتلميذه ابن القيم - رحمهما الله - أو نحو ذلك.
9 - نهجت في ترتيب المسائل بتقديم الأقوال، ثم ذكر الأدلة لكل قول، مقدما الأدلة من الكتاب، ثم السنة، ثم آثار الصحابة رضي الله عنهم، ثم المعقول، وأتبعت كل دليل بما يتعلق به من مناقشة وإجابة عنها ونحو ذلك لأن هذه الطريقة - فيما يظهر لي - أوضح للقارئ، وأبعد عن انقطاع تفكيره.
10 - استدللتُ للأقوال التي لم أعثر على أدلة لها - حسب ما
আমি হানাফি মাজহাবকে অগ্রগণ্য রেখেছি, এরপর মালিকি, এরপর শাফিয়ি, এরপর হাম্বলি এবং এরপর ইবনে হাজম।
৭ - কোনো বক্তব্যকে নির্দিষ্ট মাজহাবের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে আমি সংশ্লিষ্ট মাজহাবের মূল নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করেছি। তবে যদি মাসআলাটি সম্পর্কে আমি তাদের কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না পাই, তবে আমি তা উদ্ঘাটন বা ইস্তিনবাত (استنباط) করার চেষ্টা করেছি যদিও তা স্পষ্ট না হয়, অথবা তাদের অন্য কোনো বক্তব্যের ভিত্তিতে তা বর্ণনা করেছি যদি তা আমার নিকট স্পষ্ট হয়। আর সংশ্লিষ্ট মাজহাবের কিতাব ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে আমি তা প্রমাণীকরণ (توثيق) করিনি, যদি না তাদের নিজস্ব কিতাবসমূহ থেকে তা পাওয়া অসম্ভব হয়।
৮ - প্রতিটি মাজহাবের বক্তব্য প্রমাণের (توثيق) ক্ষেত্রে আমি তাদের কিছু কিতাবের উদ্ধৃতি প্রদানের ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি। তবে ক্ষেত্রবিশেষে আমি কিছু উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছি যদি আমি মনে করি যে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য তার প্রয়োজন রয়েছে, অথবা মাসআলাটি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বক্তব্যটি অত্যন্ত চমৎকার, অথবা এর লেখক যদি তাহকিক বা গবেষণার (تحقيق) জন্য সুপরিচিত হন—যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)—কিংবা তাঁদের সমপর্যায়ের কেউ হন।
৯ - মাসআলাগুলো সাজানোর ক্ষেত্রে আমি প্রথমে মতামতসমূহ পেশ করার পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, এরপর প্রতিটি মতের স্বপক্ষে দলিলসমূহ উল্লেখ করেছি। দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রথমে কুরআন, এরপর সুন্নাহ, এরপর সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর আছার (آثار) এবং এরপর যুক্তিনির্ভর দলিল উল্লেখ করেছি। প্রতিটি দলিলের সাথে সংশ্লিষ্ট আলোচনা, তার জবাব ও এই জাতীয় বিষয়গুলোও যুক্ত করেছি। কারণ আমার নিকট মনে হয়েছে যে, এই পদ্ধতিটি পাঠকের জন্য অধিকতর স্পষ্ট এবং তার চিন্তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক।
১০ - যেসব মতামতের স্বপক্ষে আমি কোনো দলিল খুঁজে পাইনি—আমার জানামতে যা...
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ظهر لي - إلا ما لم يتبين لي فيه دليل.
11 - وجهتُ الاستدلال بكل دليل نقلي من خلال كلام أهل العلم إذا اطلعتُ على كلام لهم فيه، وإلا وجهته ما لم يكن واضح الدلالة.
12 - ناقشت ما ورد عليه مناقشة من الأدلة من خلال كلام أهل العلم عليه، مصدرا ذلك بلفظ " نُوقشَ "، وما لم أطلع على كلام لهم عليه ناقشته حسب ما ظهر لي مُصدِّرا ذلك بلفظ " يناقش ".
كما أجبتُ عما يمكن الإجابة عنه منها من خلال كلام أهل العلم، مصدرا ذلك بلفظ " أجيب " وإلا أجبتُ عنه حسب ما ظهر لي، مُصدِّرا ذلك بلفظ " يُجاب ".
13 - بعد استعراض الأقوال والأدلة والمناقشات والإجابات أعمل على التوفيق إن أمكن إعمالا للأدلة، فإن تعذر عمدتُ إلى الترجيح بناءً على قوة الأدلة، وسلامتها من المناقشات، وبما يتمشى مع قواعد الشريعة ومقاصدها العامة، معتمدًا في صيغة الترجيح على قوة الدليل ووضوحه.
14 - عزوتُ الآيات القرآنية إلى مواضعها من كتاب الله - تعالى - بذكر السورة ورقم الآية.
আমার নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে—তবে যেখানে আমার কাছে কোনো দলিল (دليل) স্পষ্ট হয়নি তা ব্যতীত।
১১ - প্রত্যেকটি বর্ণনাগত দলিলের (دليل نقلي) প্রয়োগপদ্ধতি আমি বিজ্ঞ আলেমগণের বক্তব্যের আলোকে নির্ধারণ করেছি যদি এ বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য আমার নজরে আসে; অন্যথায় দলিলের অর্থ সুস্পষ্ট না হলে আমি নিজেই তা ব্যাখ্যা করেছি।
১২ - দলিলের ওপর যেসব আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে, আমি বিজ্ঞ আলেমগণের বক্তব্যের আলোকে সেগুলো পর্যালোচনা করেছি এবং সেক্ষেত্রে "পর্যালোচনা করা হয়েছে (نُوقشَ)" শব্দ দ্বারা তা শুরু করেছি। আর যেসব বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য আমি পাইনি, সেখানে আমি আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয়েছে সে অনুযায়ী পর্যালোচনা করেছি এবং সেক্ষেত্রে "পর্যালোচনা করা যেতে পারে (يناقশ)" শব্দ দ্বারা তা শুরু করেছি।
একইভাবে আমি সেগুলোর মধ্য থেকে সম্ভবপর উত্তরসমূহ বিজ্ঞ আলেমগণের বক্তব্যের আলোকে প্রদান করেছি এবং সেক্ষেত্রে "উত্তর প্রদান করা হয়েছে (أجيب)" শব্দ দ্বারা শুরু করেছি; অন্যথায় আমি আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয়েছে সে অনুযায়ী উত্তর দিয়েছি এবং সেক্ষেত্রে "উত্তর প্রদান করা যেতে পারে (يُجاب)" শব্দ দ্বারা তা শুরু করেছি।
১৩ - বিভিন্ন মতামত, দলিল, পর্যালোচনা এবং উত্তরসমূহ পর্যবেক্ষণের পর আমি দলিলসমূহের কার্যকারিতা রক্ষার্থে সম্ভব হলে সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় (التوفيق) করার চেষ্টা করেছি। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে দলিলের শক্তি, আপত্তিমুক্ত হওয়া এবং শরীয়তের সাধারণ নীতিমালা ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের (مقاصد) সাথে সামঞ্জস্যতার ভিত্তিতে আমি প্রাধান্য প্রদানের (الترجيح) নীতি অবলম্বন করেছি। এক্ষেত্রে প্রাধান্য প্রদানের ক্ষেত্রে আমি দলিলের শক্তি ও সুস্পষ্টতার ওপর নির্ভর করেছি।
১৪ - আমি কুরআনের আয়াতগুলোকে মহান আল্লাহর কিতাবের সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহের দিকে নির্দেশ করেছি অর্থাৎ সূরার নাম ও আয়াতের নম্বর উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
15 - خرَّجتُ الأحاديث من كتب السنة المعروفة، وما كان منها في الصحيحين أو أحدهما اكتفيتُ بتخريجه منهما، ولم أتعرض للكلام على الحكم عليه؛ للاتفاق على صحة ما ورد فيهما أو في أحدهما، وما لم يكن كذلك خرجته مما ورد فيه من كتب السنة حسب المستطاع مع بيان درجته نقلا عن أصحاب هذا الفن، ولم أترك إلا ما لم أعثر على كلام عنه، وما لم أعثر عليه في كتب السنة أبين من ذكره من الفقهاء، وهي قليلة.
16 - خرَّجتُ الآثار من كتب الآثار المعروفة مع الحكم عليها من خلال كلام أهل العلم عليها، ولم أترك إلا ما لم أعثر على كلام حوله، وما لم أعثر عليه في كتب الآثار أبين من ذكره من الفقهاء، وهي قليلة.
17 - تجنبتُ ذكر الأحاديث والآثار الضعيفة إلا ما ظهر لي الاعتماد عليه في الاستدلال بم يكون أكثر من قال بالقول يستدل به، مع بيان ضعفه.
18 - عرفتُ الكلمات والألفاظ الغريبة الواردة في بعض الأحاديث والآثار وكلام الفقهاء من كتب اللغة والغريب، والشروح.
19 - ترجمتُ لما سوى الخلفاء الأربعة والأئمة الأربعة بترجمة موجزة، حيث رأيتُ أن الشهرة أمر نسبي غير منضبط.
15 - আমি সুন্নাহর প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ থেকে হাদিসসমূহ সংকলন করেছি। এর মধ্যে যে হাদিসগুলো সহীহাইন বা এর কোনো একটিতে বিদ্যমান, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি কেবল সেখান থেকে সংকলন করার ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং সেগুলোর ওপর হুকুম বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো আলোচনা করিনি; কারণ এই দুই গ্রন্থ বা এর কোনো একটিতে যা বর্ণিত হয়েছে, তার বিশুদ্ধতা (صحة) সর্বসম্মত। আর যে হাদিসগুলো এই স্তরের নয়, সেগুলো আমি যথাসম্ভব সুন্নাহর অন্যান্য গ্রন্থ থেকে সংকলন করেছি এবং এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের উদ্ধৃতি দিয়ে তার স্তর (درجة) বর্ণনা করেছি। আমি কেবল সে হাদিসগুলোই বাদ দিয়েছি যেগুলোর বিষয়ে কোনো আলোচনা খুঁজে পাইনি। আর যেগুলো আমি সুন্নাহর গ্রন্থসমূহে পাইনি, সেগুলো কোন ফকিহগণ উল্লেখ করেছেন তা বর্ণনা করেছি, যা সংখ্যায় খুবই সামান্য।
16 - আমি প্রসিদ্ধ আসারের গ্রন্থসমূহ থেকে বর্ণনা (أثر) সমূহ সংকলন করেছি এবং আলেমদের বক্তব্যের আলোকে সেগুলোর ওপর হুকুম বর্ণনা করেছি। আমি কেবল সেসব বর্ণনা (أثر) বাদ দিয়েছি যেগুলোর বিষয়ে কোনো আলোচনা খুঁজে পাইনি। আর যেগুলো আমি আসারের গ্রন্থসমূহে পাইনি, সেগুলো কোন ফকিহগণ উল্লেখ করেছেন তা বর্ণনা করেছি, যা সংখ্যায় খুবই সামান্য।
17 - আমি দুর্বল (ضعيف) হাদিস ও বর্ণনা (أثر) উল্লেখ করা পরিহার করেছি; তবে যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে দলিল প্রদান করা অধিকাংশ প্রবক্তাদের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে, সেগুলো এর দুর্বলতা (ضعف) বর্ণনাসহ উল্লেখ করেছি।
18 - আমি কিছু হাদিস, বর্ণনা (أثر) এবং ফকিহদের বক্তব্যে ব্যবহৃত অপরিচিত (غريب) শব্দ ও পরিভাষাগুলো অভিধান, অপরিচিত (غريب) শব্দের গ্রন্থ এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে সংজ্ঞায়িত করেছি।
19 - আমি চার খলিফা এবং চার ইমাম ব্যতীত অন্যদের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) বর্ণনা করেছি; কারণ আমি মনে করি যে প্রসিদ্ধি একটি আপেক্ষিক বিষয় যা সুনির্দিষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
خطة البحث (1) سرتُ في هذا البحث حسب الخطة التالية: قسَّمتُ البحث إلى مقدمة وخمسة فصول، وخاتمة.
المقدمة: تشتمل على الافتتاحية، والأسباب الدافعة لبحث الموضوع، ومنهج البحث، وخطته.
الفصل الأول: تعريف الخطبة والجمعة، وحكم خطبة الجمعة.
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: تعريف الخطبة، والجمعة وتسميتها بذلك.
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: تعريف الخطبة.
المطلب الثاني: تعريف الجمعة وتسميتها بذلك.
المبحث الثاني: حكم خطبة الجمعة.
المبحث الثالث: هل الشرط خطبة واحدة، أو خطبتان؟
الفصل الثاني: شروط خطبة الجمعة.
وفيه ثمانية مباحث:
--------------------------------------------
গবেষণার পরিকল্পনা (১) আমি এই গবেষণায় নিম্নলিখিত পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি: আমি গবেষণাকে একটি ভূমিকা, পাঁচটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।
ভূমিকা: এতে প্রারম্ভিকা, এই বিষয়টি গবেষণার কারণসমূহ, গবেষণা পদ্ধতি এবং এর পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রথম অধ্যায়: খুতবা ও জুমার সংজ্ঞা এবং জুমার খুতবার বিধান।
আর এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: খুতবা ও জুমার সংজ্ঞা এবং এর নামকরণের কারণ।
আর এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: খুতবার সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জুমার সংজ্ঞা এবং এর নামকরণের কারণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জুমার খুতবার বিধান।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শর্ত কি একটি খুতবা, নাকি দুটি খুতবা?
দ্বিতীয় অধ্যায়: জুমার খুতবার শর্তসমূহ।
আর এতে আটটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الأول: النية.
المبحث الثاني: حضور العدد الذي تنعقد به الجمعة.
وفيه تمهيد، ومطلبان:
التمهيد: في أقوال الفقهاء في العدد الذي تنعقد به الجمعة إجمالا.
المطلب الأول: اشتراط العدد الذي تنعقد به الجمعة للخطبة.
المطلب الثاني: استمرار الحضور حتى نهاية الخطبة.
المبحث الثالث: أن تكون بعد دخول وقت الجمعة.
المبحث الرابع: تقديمها على الصلاة.
المبحث الخامس: القيام.
المبحث السادس: الجهر.
المبحث السابع: كونها باللغة العربية.
المبحث الثامن: الموالاة.
وفيه تمهيد، ومطلبان:
التمهيد في معنى الموالاة، وضابطها هنا.
المطلب الأول: الموالاة بين أجزاء الخطبة.
المطلب الثاني: الموالاة بين الخطبة والصلاة.
الفصل الثالث: أركان خطبة الجمعة.
প্রথম পরিচ্ছেদ: নিয়ত (النية)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যক্তির উপস্থিতি।
এতে একটি ভূমিকা ও দুইটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
ভূমিকা: জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার ব্যাপারে ফকিহগণের অভিমতসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: খুতবার জন্য জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যক্তির উপস্থিতি শর্ত হওয়া (اشتراط)।
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: খুতবার শেষ পর্যন্ত উপস্থিতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জুমার সময় শুরু হওয়ার পর খুতবা প্রদান করা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নামাজের পূর্বে খুতবা প্রদান করা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: দণ্ডায়মান হওয়া (القيام)।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: উচ্চস্বরে পাঠ করা (الجهر)।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: খুতবা আরবি ভাষায় হওয়া।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: ধারাবাহিকতা (الموالاة)।
এতে একটি ভূমিকা ও দুইটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
ভূমিকা: ধারাবাহিকতার (الموالاة) অর্থ এবং এক্ষেত্রে তার মানদণ্ড (ضابط) প্রসঙ্গে।
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: খুতবার অংশসমূহের মধ্যে ধারাবাহিকতা (الموالاة) বজায় রাখা।
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: খুতবা ও নামাজের মধ্যে ধারাবাহিকতা (الموالاة) বজায় রাখা।
তৃতীয় অধ্যায়: জুমার খুতবার রোকনসমূহ (أركان)।
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وفيه تمهيد، وستة مباحث:
التمهيد: وفيه خلاف الفقهاء في وجوب توفر أركان في الخطبة إجمالا.
المبحث الأول: حمد الله - تعالى -.
المبحث الثاني: الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم.
المبحث الثالث: الموعظة.
المبحث الرابع: قراءة شيء من القرآن.
وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: حكم قراءة شيء من القرآن في الخطبة.
المطلب الثاني: أقل مقدار للقراءة.
المطلب الثالث: قراءة ما فيه سجود تلاوة في الخطبة، والسجود له.
المبحث الخامس: حكم ترتيب هذه الأركان عند من قال بها.
المبحث السادس: الإتيان بهذه الأركان في كل خطبة من الخطبتين عند من قال بها.
الفصل الرابع: سنن خطبة الجمعة.
وفيه مبحثان:
এতে একটি ভূমিকা এবং ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
ভূমিকা: এতে খুতবার রুকনসমূহ (أركان) বিদ্যমান থাকা আবশ্যক হওয়ার বিষয়ে ফকিহগণের সামগ্রিক মতপার্থক্য আলোচিত হয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার প্রশংসা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উপদেশ প্রদান।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কুরআন থেকে কিছু অংশ তিলাওয়াত করা।
এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: খুতবায় কুরআন থেকে কিছু অংশ তিলাওয়াত করার বিধান।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তিলাওয়াতের সর্বনিম্ন পরিমাণ।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: খুতবায় তিলাওয়াতের সিজদাযুক্ত আয়াত পাঠ করা এবং তার জন্য সিজদা করা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: যারা রুকনসমূহের (أركان) প্রবক্তা, তাদের নিকট এগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিধান।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: যারা রুকনসমূহের (أركান) প্রবক্তা, তাদের নিকট দুই খুতবার প্রত্যেকটিতে এই রুকনসমূহ (أركان) পালন করা।
চতুর্থ অধ্যায়: জুমার খুতবার সুন্নতসমূহ।
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الأول: السنن لها.
وفيه أحد عشر مطلبا:
المطلب الأول: الطهارة.
المطلب الثاني: ستر العورة، وإزالة النجاسة.
المطلب الثالث: التجمل.
المطلب الرابع: أن تكون على منبر أو موضع عال.
المطلب الخامس: استقبال الخطيب للناس.
المطلب السادس: استقبال الناس للخطيب.
المطلب السابع: السلام على الناس.
المطلب الثامن: الجلوس على المنبر حتى يفرغ المؤذن.
المطلب التاسع: الاعتماد على قوس أو عصا أو سيف أو نحوها.
المطلب العاشر: رفع الصوت بها زيادة على القدر الواجب.
المطلب الحادي عشر: الجلسة بين الخطبتين.
المبحث الثاني: السنن في خطبة الجمعة.
وفيه ستة مطالب:
المطلب الأول: تقصيرها.
المطلب الثاني: أن تكون فصيحة بليغة مؤثرة مرتبة.
المطلب الثالث: قراءة سورة (ق) فيها.
المطلب الرابع: الدعاء للمسلمين في الخطبة الثانية.
প্রথম পরিচ্ছেদ: খুতবার সুন্নাতসমূহ।
এতে এগারোটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: পবিত্রতা (طهارة)।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সতর ঢাকা এবং অপবিত্রতা দূর করা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সৌন্দর্যমন্ডিত হওয়া।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মিম্বার বা কোনো উঁচু স্থানে খুতবা প্রদান করা।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: খতিব কর্তৃক উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের অভিমুখী হওয়া।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক খতিবের অভিমুখী হওয়া।
সপ্তম অনুচ্ছেদ: উপস্থিত ব্যক্তিবর্গকে সালাম প্রদান করা।
অষ্টম অনুচ্ছেদ: মুয়াজ্জিন আজান শেষ করা পর্যন্ত মিম্বারে উপবিষ্ট থাকা।
নবম অনুচ্ছেদ: ধনুক, লাঠি, তলোয়ার বা অনুরূপ কোনো বস্তুর ওপর ভর দেয়া।
দশম অনুচ্ছেদ: আবশ্যকীয় (واجب) পরিমাণের অতিরিক্ত উচ্চৈঃস্বরে খুতবা প্রদান করা।
একাদশ অনুচ্ছেদ: দুই খুতবার মধ্যবর্তী সময়ে বসা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জুমার খুতবার সুন্নাতসমূহ।
এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: খুতবা সংক্ষিপ্ত করা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: খুতবা প্রাঞ্জল, বাগ্মিতাপূর্ণ, প্রভাব বিস্তারকারী ও সুবিন্যস্ত হওয়া।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: খুতবায় সূরা ক্বাফ তিলাওয়াত করা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: দ্বিতীয় খুতবায় মুসলিমদের জন্য দোয়া করা।
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المطلب الخامس: الدعاء لولاة أمور المسلمين في الخطبة الثانية.
المطلب السادس: ختم الخطبة الثانية بالاستغفار.
الفصل الخامس: مسائل متفرقة في خطبة الجمعة.
وفيه ثلاثة عشر مبحثا:
المحبث الأول: التقصير في إعدادها، بالاعتماد على خطب مدونة قديما، ونحو ذلك.
المبحث الثاني: إخراجها عن مقصودها الشرعي.
المبحث الثالث: صلاة الخطيب تحية المسجد بعد دخوله وقبل صعود المنبر.
المبحث الرابع: دعاء الخطيب عند صعود المنبر وقبل جلوسه حال الأذان.
المبحث الخامس: الخطبة من صحيفة.
المبحث السادس: السلام فيها.
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: حكم الكلام في الخطبة.
المطلب الثاني: وقت المنع من الكلام في الخطبة.
المبحث السابع: الدق بالسيف على المنبر.
المبحث الثامن: إشارة الخطيب في أثنائها.
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: দ্বিতীয় খুতবায় মুসলিম শাসকদের জন্য দোয়া করা।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: ইস্তিগফারের মাধ্যমে দ্বিতীয় খুতবা সমাপ্ত করা।
পঞ্চম অধ্যায়: জুমার খুতবা সংক্রান্ত বিবিধ মাসআলা।
এতে তেরোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাচীন লিখিত খুতবাগুলোর ওপর নির্ভর করা এবং এই জাতীয় বিষয়ের মাধ্যমে খুতবা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অবহেলা প্রদর্শন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: খুতবাকে এর শরয়ি উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মসজিদে প্রবেশের পর এবং মিম্বরে আরোহণের পূর্বে খতিবের তাহিয়াতুল মসজিদ (تحية المسجد) সালাত আদায় করা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মিম্বরে আরোহণকালে এবং আজানের সময় বসার পূর্বে খতিবের দোয়া করা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপি বা লিখিত কাগজ দেখে খুতবা প্রদান।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এতে সালাম প্রদান।
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: খুতবা চলাকালীন কথা বলার বিধান (حكم)।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: খুতবায় কথা বলা নিষিদ্ধ হওয়ার সময়।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: মিম্বরের ওপর তরবারি দ্বারা আঘাত করা।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: খুতবা চলাকালীন খতিবের ইশারা করা।
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث التاسع: التفات الخطيب يمينا وشمالا في أثنائها. 50 المبحث العاشر: قول الخطيب في آخر الأولى: " ادعو الله وأنتم موقنون بالإجابة "، ونحو ذلك، والمداومة عليه.
المبحث الحادي عشر: المبالغة قي الإسراع في الثانية، وخفض الصوت بها.
المبحث الثاني عشر: رفع اليدين حال الدعاء في الخطبة.
المبحث الثالث عشر: ختم الثانية بقوله - تعالى -: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ} [النحل: 90] والمداومة على ذلك.
الخاتمة: وتشتمل على أهم النتائج التي توصلت إليها.
ثم ذيّلتُ البحث بفهارس شاملة تتيح للمطلع سهولة الرجوع إلى ما يريد والاستفادة منه، وهي كما يلي:
أولا: فهرس الآيات القرآنية.
ثانيا: فهرس الأحاديث النبوية.
ثالثا: فهرس الآثار.
رابعا: فهرس الأعلام.
خامسا: فهرس المصادر والمراجع.
سادسا: فهرس الموضوعات.
নবম পরিচ্ছেদ: খুতবা চলাকালীন খতিবের ডানে ও বামে মুখ ফেরানো। ৫০ দশম পরিচ্ছেদ: প্রথম খুতবার শেষে খতিবের এই উক্তি: "তোমরা কবুলের দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করো" এবং এ জাতীয় কথা বলা ও তার ওপর নিয়মিত আমল করা।
একাদশ পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় খুতবায় অতিমাত্রায় দ্রুততা অবলম্বন এবং তাতে আওয়াজ নিচু করা।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: খুতবায় দোয়ার সময় হাত তোলা।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী— {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা ও সদাচরণের নির্দেশ দিচ্ছেন} [আন-নাহল: ৯০]—এর মাধ্যমে দ্বিতীয় খুতবা শেষ করা এবং তার ওপর নিয়মিত আমল করা।
উপসংহার: এটি গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এরপর আমি গবেষণাটির শেষে একটি বিস্তারিত নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, যা অধ্যয়নকারীর জন্য কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের দিকে সহজে প্রত্যাবর্তন এবং তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজ করে তোলে, যা নিম্নরূপ:
প্রথমত: কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।
দ্বিতীয়ত: হাদিসের নির্ঘণ্ট।
তৃতীয়ত: আসার (آثار) সমূহের নির্ঘণ্ট।
চতুর্থত: বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের (أعلام) নির্ঘণ্ট।
পঞ্চমত: উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের নির্ঘণ্ট।
ষষ্ঠত: বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
هذا وقد بذلتُ جهدي - قدر المستطاع - في الإلمام بالموضوع وجمع أطرافه، معتذرا للقارئ الكريم عما حصل فيه من نقص أو خطأ أو زلة قلم؛ لأن قدرة البشر محدودة، فقد جُبلوا على النقص، إذ الكمال لله وحده، والعصمة لرسله - صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين -.
وفي الختام أحمد الله عز وجل وأشكره على نعمه العظيمة، وأسأله المزيد من فضله، وأن يجعل هذا العمل خالصا لوجهه الكريم، ومن العلم الذي يُنتفع به في حياتي وبعد وفاتي، وأرجو من إخواني طلاب العلم والخطباء الذين يطلعون عليه إبداء ما يرونه من توجيهات وملاحظات لتلافيها مستقبلا، فالمرء قليل بنفسه كثير بإخوانه، والله - تعالى - من وراء القصد، وهو حسبي ونعم الوكيل، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وأصحابه أجمعين ومن اهتدى بهديه وتمسك بسنته إلى يوم الدين.
كتبه
د / عبد العزيز بن محمد بن عبد الله الحجيلان
আমি এই বিষয়টি আয়ত্ত করতে এবং এর সকল দিক একত্র করতে—সাধ্যমতো—আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। এতে কোনো অপূর্ণতা, ভুল কিংবা লেখনীর স্খলন ঘটে থাকলে আমি সম্মানিত পাঠকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি; কারণ মানুষের সক্ষমতা সীমাবদ্ধ, তারা স্বভাবগতভাবেই ত্রুটিপূর্ণ, কেননা পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং নির্ভুলতা (عصمة) কেবল তাঁর রাসুলগণের জন্য—তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর সুমহান নেয়ামতসমূহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি তাঁর নিকট আরও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি এবং তিনি যেন এই কাজটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন এবং একে এমন ইলম হিসেবে কবুল করেন যা আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে উপকারে আসে। আমি আমার ইলমি ভাই, তালিবে ইলম এবং খতীবগণ—যাঁরা এই গ্রন্থটি পাঠ করবেন—তাঁদের নিকট বিনীত অনুরোধ করছি যে, তাঁরা যেন তাঁদের মূল্যবান পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণসমূহ তুলে ধরেন যাতে ভবিষ্যতে সেগুলো সংশোধন করা যায়। কেননা মানুষ তার নিজের মাধ্যমে সামান্য হলেও তার ভাইদের সহযোগিতায় সে সমৃদ্ধ। আল্লাহ তাআলাই আমাদের মূল লক্ষ্য এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক। আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করবে ও তাঁর সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, তাদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
লিখেছেন
ড. আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুজাইলান
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
[الفصل الأول تعريف الخطبة والجمعة وحكم خطبة الجمعة]
[المبحث الأول تعريف الخطبة والجمعة وتسميتها بذلك]
[المطلب الأول تعريف الخطبة]الفصل الأول
تعريف الخطبة والجمعة وحكم خطبة الجمعة وفيه ثلاث مباحث:
المبحث الأول: تعريف الخطبة، والجمعة وتسميتها بذلك.
المبحث الثاني: حكم خطبة الجمعة.
المبحث الثالث: هل الشرط خطبة واحدة، أو خطبتان؟
[প্রথম অধ্যায়: খুতবা ও জুমার সংজ্ঞা এবং জুমার খুতবার বিধান]
[প্রথম পরিচ্ছেদ: খুতবা ও জুমার সংজ্ঞা এবং একে এই নামে নামকরণের কারণ]
[প্রথম অনুচ্ছেদ: খুতবার সংজ্ঞা]প্রথম অধ্যায়
খুতবা ও জুমার সংজ্ঞা এবং জুমার খুতবার বিধান; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: খুতবা ও জুমার সংজ্ঞা এবং একে এই নামে নামকরণের কারণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জুমার খুতবার বিধান।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শর্ত কি একটি খুতবা, নাকি দুটি খুতবা?
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الأول
تعريف الخطبة والجمعة وتسميتها بذلك وفيه مطلبان:
المطلب الأول: تعريف الخطبة.
المطلب الثاني: تعريف الجمعة، وتسميتها بذلك.
المطلب الأول: تعريف الخطبة أولا: تعريفها في اللغة: الخُطْبَةُ: هي بضم الخاء، وهي ما يُقال على المنبر، يُقال: خَطَبَ على المنبر خُطْبَة - بضم الخاء - وخَطَابة، وأما خِطْبَة - بكسر الخاء - فهي طلب نكاح المرأة.
وهي مشتقة من المخاطبة، وقيل: من الخطب، وهو الأمر العظيم؛ لأنهم كانوا لا يجعلونها إلا عنده.
قال في تهذيب اللغة: " والخطبة مصدر الخطيب، وهو يخطب المرأة ويخطِبُها خِطبة وخِطِّيبى. . . قلت: والذي قال الليث أن الخطبة مصدر الخطيب لا يجوز إلا على وجه واحد، وهو أن الخُطبة اسم للكلام الذي يتكلم به الخطيب، فيوضع موضع المصدر، والعرب تقول: فلانٌ خِطْبُ فلانة، إذا كان يخطبها (1) .
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ
খুতবা ও জুমার সংজ্ঞা এবং এর নামকরণের কারণ; এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: খুতবার সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জুমার সংজ্ঞা এবং এর নামকরণের কারণ।
প্রথম অনুচ্ছেদ: খুতবার সংজ্ঞা; প্রথমত: আভিধানিক সংজ্ঞা: খুতবাহ (الخُطْبَةُ): এটি ‘খ’ (خ) বর্ণের পেশ (জম্মাহ) যোগে গঠিত, যা মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে পাঠ করা হয়। বলা হয়ে থাকে: তিনি মিম্বরের ওপর খুতবা (خُطْبَة) দিয়েছেন—‘খ’ বর্ণের পেশ যোগে—এবং ‘খাতাবাহ’ (خَطَابة)। পক্ষান্তরে ‘খিতবাহ’ (خِطْبَة)—‘খ’ বর্ণের জের (কাসরাহ) যোগে—হলো কোনো নারীর কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া।
এটি ‘মুখাতাবাহ’ (المخاطبة) বা কথোপকথন থেকে উদ্ভূত। আবার বলা হয়েছে: এটি ‘খাতব’ (الخطب) থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; কারণ তারা (আরবরা) কোনো গুরুতর বিষয় ছাড়া খুতবার আয়োজন করত না।
‘তাহজীবুল লুগাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: "খুতবাহ হলো খতিবের মাসদার (مصدر), আর তিনি নারীর নিকট বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং খিতবাহ (خِطبة) ও খিত্তিবা (خِطِّيبى) করেন... আমি (আজহারী) বলি: লাইস যা বলেছেন যে খুতবাহ হলো খতিবের মাসদার (مصدر), তা কেবল একটি অর্থেই বৈধ হতে পারে; তা হলো ‘খুতবাহ’ হলো খতিব কর্তৃক উচ্চারিত বক্তব্যের একটি নাম, যা এখানে মাসদারের (مصدر) স্থলে ব্যবহৃত হয়েছে। আর আরবরা বলে থাকে: অমুক ব্যক্তি অমুক নারীর খিতব (خِطْبُ), যখন সে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال في القاموس: ". . . وخَطَبَ الخاطب على المِنْبَر خَطابة بالفتح، وخُطبة بالضم، وذلك الكلام خُطبة أيضا، أو هي الكلام المنثور المُسَجَّع ونحوه، ورجل خَطِيبٌ حسن الخُطبة بالضم " (1) .
- وقال في مختار الصحاح: " خاطَبَه بالسلام مُخَاطَبة وخِطَابا، وخطب على المنبر خُطْبَة - بضم الخاء - وخَطَابة، وخَطَب المرأة في النكاح خِطْبَة - بكسر الخاء - يخْطُبُ بضم الخاء فيهما، واختَطَبَ أيضا فيهما، وخَطُبَ من باب ظَرُفَ صار خطيبا " (2) .
وقال في المصباح: " خَاطَبَه مُخَاطَبَة وخِطَابا، وهو الكلام بين متكلم وسامع، ومنه اشتقاق الخُطبَة - بضم الخاء وكسرها - باختلاف معنيين، فيُقال في الموعظة: خَطَبَ القوم وعليهم من باب قتل، خُطبة - بالضم -، وهي فُعلة بمعنى مفعولة. . . وجمعها خُطب، وهو خطيب القوم إذا كان هو المتكلم عنهم، وخَطَبَ المرأة إلى القوم إذا طلب أن يتزوج منهم، واختطبها، والاسم الخِطْبة - بالكسر -. . . . (3) .
--------------------------------------------
আল-কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: ". . . বক্তা মিম্বারের ওপর ভাষণ প্রদান করেছেন; ক্রিয়ামূল হিসেবে জবর (ফাতহা) যোগে ‘খাতাবাহ’ এবং পেশ (যম্মাহ) যোগে ‘খুতবাহ’ ব্যবহৃত হয়। উক্ত কথা বা ভাষণকেও ‘খুতবাহ’ বলা হয়, অথবা এটি হলো ছন্দোবদ্ধ গদ্য বা এই জাতীয় বাক্য। আর যে ব্যক্তি চমৎকার ভাষণ প্রদান করেন তাকে ‘খতিব’ বলা হয়।" (১) ।
- মুখতার আস-সিহাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: "কারো সাথে কথা বলা বা সম্বোধন করাকে ‘মুখাতাবাহ’ ও ‘খিতাব’ বলা হয়। মিম্বারের ওপর ভাষণ দেওয়াকে —‘খা’ বর্ণে পেশ যোগে— ‘খুতবাহ’ এবং ‘খাতাবাহ’ বলা হয়। আর বিয়ের প্রস্তাব দেওয়াকে —‘খা’ বর্ণে যের (কাসরা) যোগে— ‘খিতবাহ’ বলা হয়। উভয় ক্ষেত্রে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া উভয়টিতেই —‘খা’ বর্ণে পেশ যোগে— ‘ইয়াখতুবু’ ব্যবহৃত হয়। উভয় অর্থে ‘ইখতাতাবা’ শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। আর কোনো ব্যক্তি সুবক্তা বা খতিব হলে তা ‘যারুফা’ এর গঠনরীতি অনুযায়ী ‘খাতুবা’ ব্যবহৃত হয়।" (২) ।
আল-মিসবাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: "কারো সাথে কথা বলা বা সম্বোধন করাকে ‘মুখাতাবাহ’ ও ‘খিতাব’ বলা হয়, যা মূলত বক্তা এবং শ্রোতার মধ্যকার কথোপকথন। এ থেকেই ভিন্ন দুটি অর্থে —‘খা’ বর্ণে পেশ এবং যের যোগে— ‘খুতবাহ’ শব্দের উৎপত্তি। উপদেশের ক্ষেত্রে বলা হয়: তিনি লোকজনের মাঝে এবং তাদের সম্মুখে ভাষণ দিয়েছেন, এটি ‘কাতলা’ এর গঠনরীতি অনুযায়ী ‘খুতবাতান’ —পেশ যোগে— ব্যবহৃত হয়, যা মূলত কর্মবাচক বিশেষ্য অর্থে ‘ফু’লাহ’ এর ওজুন। . . এর বহুবচন হলো ‘খুতাব’। যখন কোনো ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের মুখপাত্র হিসেবে কথা বলেন, তখন তাকে তাদের ‘খতিব’ বলা হয়। আর কেউ যদি কোনো সম্প্রদায়ের নিকট কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তবে তাকে ‘খাতাবা’ বলা হয়। এর বিশেষ্য হলো ‘খিতবাহ’ —যের যোগে—। . . . (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال في حلية الفقهاء: " وأما الخُطْبة فاشتقاقها من المُخاطبة، ولا تكون المخاطبة إلا بالكلام بين المُخاطَبين، وكذلك خِطْبَة النكاح، وقال قوم: إنما سمِّيتْ الخُطبة لأنهم كانوا لا يجعلونها إلا في الخَطْب والأمر العظيم، فلهذا سميت خُطْبة " (1) .
ثانيا: تعريفها في الاصطلاح: عرَّفها بعضهم بأنها: الكلام المؤلف المُتضمِّن وعظا وإبلاغا (2) .
ولكن هذا فيه إجمال.
وأوضح منه تعريف من قال: إنها قياس مركب من مقدمات مقبولة أو مظنونة، من شخص معتقد فيه، والغرض منها ترغيب الناس فيما ينفعهم من أمور معاشهم ومعادهم (3) .
وعرَّف بعض المعاصرين الخطابة: بأنها فنّ من فنون الكلام، يقصد به التأثير في الجمهور عن طريق السمع والبصر معا (4) .
وكل هذه التعريفات ونحوها تدور حول التعريف بالخطبة عموما، ومعناها متقارب.
--------------------------------------------
'হিলয়াতুল ফুকাহাউ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আর খুতবা (ভাষণ) শব্দটি 'মুখাতাবাহ' (পারস্পরিক সম্বোধন) থেকে উদ্ভূত হয়েছে। আর সম্বোধন কেবল দুই পক্ষের মধ্যে কথোপকথনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। বিবাহের প্রস্তাবের (খিতবাহ) বিষয়টিও অনুরূপ। একদল আলেম বলেছেন: খুতবাকে 'খুতবা' নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা কেবল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং মহৎ উদ্দেশ্যেই তা প্রদান করতেন। একারণেই একে খুতবা বলা হয়।" (১) ।
দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক (اصطلاح) সংজ্ঞা: কেউ কেউ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: "এটি এমন এক সুসংগঠিত বক্তব্য যা উপদেশ ও বার্তা প্রচারকে অন্তর্ভুক্ত করে।" (২) ।
কিন্তু এই সংজ্ঞায় অস্পষ্টতা রয়েছে।
এর চেয়ে অধিক স্পষ্ট হলো ঐ ব্যক্তির সংজ্ঞা যিনি বলেছেন: "এটি এমন এক যৌক্তিক সিদ্ধান্ত (قياس) যা এমন এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য (مقبولة) অথবা ধারণাপ্রসূত (مظنونة) ভূমিকার সমন্বয়ে গঠিত যার প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। আর এর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে তাদের ইহকাল ও পরকালীন কল্যাণের বিষয়সমূহে আগ্রহী করে তোলা।" (৩) ।
আধুনিক যুগের কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বাগ্মিতাকে (খাতাবাহ) সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে: "এটি কথা বলার এমন একটি শিল্প, যার উদ্দেশ্য হলো শ্রবণ ও দর্শন উভয় মাধ্যম ব্যবহার করে শ্রোতৃমণ্ডলীর ওপর প্রভাব বিস্তার করা।" (৪) ।
এই সকল সংজ্ঞা এবং এর অনুরূপ সংজ্ঞাসমূহ মূলত সাধারণভাবে খুতবার পরিচিতি প্রদান করে এবং এগুলোর অর্থ কাছাকাছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وأما خطبة الجمعة بخصوصها فلم أطلع على تعريف صريح لها - فيما بين يدي من كتب الفقهاء - لعلهم تركوا ذلك لوضوحها عندهم، وقد جاء في بدائع الصنائع في معرض كلامه على أحكام خطبة الجمعة قوله: " والخطبة في المتعارف اسم لما يشتمل على تحميد الله والثناء عليه، والصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم، والدعاء للمسلمين، والوعظ والتذكير لهم " (1) .
وهذا بيان لمعناها حسب المتعارف عليه، وليس تعريفا دقيقا تتوفر فيه الشروط المعتبرة عند الأصوليين.
ولكن بعد تأمل ما تقدم ذكره من التعريف اللغوي والتعاريف الأخرى، وبناءً على ما ترجح في أحكامها يمكن أن أعرّفها تعريفا تقريبيا بأنها: ما يُلقى من الكلام المتوالي الواعظ باللغة العربية قبيل صلاة الجمعة بعد دخول وقتها بنية جهرا قياما مع القدرة على عدد يتحقق بهم المقصود.
--------------------------------------------
আর বিশেষত জুমার খুতবা প্রসঙ্গে আমি আমার কাছে থাকা ফকিহগণের কিতাবসমূহে এর কোনো সুস্পষ্ট সংজ্ঞা খুঁজে পাইনি; সম্ভবত এটি তাদের কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট হওয়ার কারণে তারা তা বর্জন করেছেন। তবে বাদায়িউস সানায়ি গ্রন্থে জুমার খুতবার বিধানাবলি নিয়ে আলোচনার সময় বলা হয়েছে: "আর প্রচলিত রীতি অনুযায়ী খুতবা হলো এমন বিষয়ের নাম যা আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর গুণকীর্তন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরূদ পাঠ, মুসলিমদের জন্য দোয়া এবং তাদের প্রতি নসিহত ও উপদেশের অন্তর্ভুক্ত।" (১)
এটি প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এর অর্থের একটি বর্ণনা মাত্র, এটি এমন কোনো সূক্ষ্ম সংজ্ঞা নয় যাতে উসুলবিদগণের (الأصوليين) নিকট গ্রহণযোগ্য (المعتبرة) শর্তাবলি বিদ্যমান রয়েছে।
তবে পূর্বে বর্ণিত আভিধানিক ও অন্যান্য সংজ্ঞাসমূহ পর্যালোচনার পর এবং এর বিধানাবলির ক্ষেত্রে যা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (الراجح) তার ওপর ভিত্তি করে আমি এর একটি প্রায়োগিক সংজ্ঞা এভাবে প্রদান করতে পারি যে: এটি হলো জুমার ওয়াক্ত হওয়ার পর এবং জুমার নামাজের ঠিক আগে নিয়ত সহকারে উচ্চস্বরে দাঁড়িয়ে (সক্ষমতা সাপেক্ষে) এমন একদল জনসমষ্টির সামনে—যাদের মাধ্যমে উদ্দেশ্য সফল হয়—আরবী ভাষায় ধারাবাহিকভাবে প্রদত্ত উপদেশমূলক বক্তব্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
[المطلب الثاني تعريف الجمعة وتسميتها بذلك]المطلب الثاني: تعريف الجمعة وتسميتها بذلك هي بضم الميم وإسكانها وفتحها: الجُمُعَة، والجُمْعَة، والجُمَعَة، والمشهور الضم، وبه قُرئ في السبع في قول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ} [الجمعة: 9] (1) والإسكان تخفيف منه، ووجه الفتح بأنها تجمع الناس كما يُقال: هُمزة، وضُحكة للمكثرين من ذلك، والفتح لغة بني عُقَيل، ويُجمع على جُمُعات وجُمَع.
قال في لسان العرب: ". . . والأصل فيها التخفيف جُمْعَة فمن ثقل أتبع الضمة الضمة، ومن خفف فعلى الأصل، والقرّاء قرءوا بالتثقيل، ويُقال: يوم الجُمَعَة لغة بني عُقَيل، ولو قُرئ بها كان صوابا، قال: والذين قالوا: الجُمَعَة ذهبوا بها إلى صفة اليوم أنه يجمع الناس كما يُقال: رجل هُمَزة لُمَزة ضُحَكة، وهو الجُمْعَة، والجُمُعَة والجُمَعَة. . . ويُجمع على جُمُعات، وجُمَع، وقيل: الجُمْعَة على تخفيف الجُمُعَة، والجُمَعَة لأنها تجمع الناس كثيرا كما قالوا: رجل لُعَنة يُكثر لعن الناس، ورجل ضُحَكة يُكثر
--------------------------------------------
[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জুমার সংজ্ঞা এবং এর নামকরণের কারণ]দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জুমার সংজ্ঞা এবং এর নামকরণের কারণ। এটি মীম বর্ণে পেশ (যম্মাহ), সাকিন এবং যবর (ফাতহাহ) সহযোগে পঠিত হয়: জুমুআহ, জুমআহ এবং জুমায়াহ। এর মধ্যে পেশযুক্ত উচ্চারণটিই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ এবং এই পঠনরীতিতে (قراءة) সাত ক্বারী (السبع) মহান আল্লাহর বাণীর তিলাওয়াত করেছেন: {হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়...} [সূরা আল-জুমা: ৯] (১)। আর সাকিনযুক্ত উচ্চারণটি মূলত মূল শব্দের সহজীকরণ। যবরযুক্ত উচ্চারণের কারণ হলো এটি মানুষকে একত্রিত করে, যেমন অধিক বিদ্রূপকারীকে 'হুমাজাহ' এবং অধিক হাস্যকারীকে 'দুহাকাহ' বলা হয়। আর যবর দিয়ে পাঠ করা বনু উকাইল গোত্রের ভাষা। এর বহুবচন হলো 'জুমুআত' এবং 'জুমু'।
লিসানুল আরব গ্রন্থে বলা হয়েছে: "...এর মূল রূপ হলো সহজীকরত সাকিনযুক্ত উচ্চারণ 'জুমআহ', ফলে যারা একে ভারী করে পড়েছেন তারা প্রথম বর্ণের পেশের অনুগামী করে দ্বিতীয় বর্ণেও পেশ দিয়েছেন। আর যারা সহজ করে পড়েছেন তারা মূল রূপের অনুসারী। ক্বারীগণ (القراء) ভারী উচ্চারণেই তিলাওয়াত করেছেন। বলা হয়ে থাকে: 'ইয়াওমুল জুমায়াহ' বনু উকাইল গোত্রের ভাষা, যদি এভাবেও তিলাওয়াত করা হতো তবে তা সঠিক হতো। তিনি বলেন: যারা 'জুমায়াহ' বলেছেন তারা দিনটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে তা বলেছেন যে, এটি মানুষকে একত্রিত করে। যেমনটি বলা হয়: 'হুমাজাহ', 'লুমাজাহ', 'দুহাকাহ' ব্যক্তি। এটি 'জুমআহ', 'জুমুআহ' এবং 'জুমায়াহ' তিনভাবেই পঠিত হয়... এর বহুবচন হলো 'জুমুআত' ও 'জুমু'। কেউ কেউ বলেছেন: 'জুমআহ' শব্দটি 'জুমুআহ' এর সহজ রূপ। আর 'জুমায়াহ' বলা হয় কারণ এটি মানুষকে অধিক হারে একত্রিত করে, যেমনটি বলা হয় 'লু'আনাহ' যে মানুষকে অধিক অভিশাপ দেয়, আর 'দুহাকাহ' যে অধিক হাসে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الضحك. . . . (1) .
وقال في مختار الصحاح: " ويوم الجُمُعَة بسكون الميم وضمها يوم العروبة، ويُجمع على جُمُعات وجُمَع، والمسجد الجامع، وإن شئت قلتَ مسجد الجامع بالإضافة، كقولك: حق اليقين، والحق اليقين، بمعنى مسجد اليوم الجامع، وحق الشيء اليقين، لأن إضافة الشيء إلى نفسه لا تجوز إلا على هذا التقدير " (2) .
وقال في تحرير ألفاظ التنبيه: " الجُمُعَة بضم الميم وإسكانها وفتحها، حكاها الفراء والواحدي، سُميت بذلك لاجتماع الناس، وكان يُقال ليوم الجمعة في الجاهلية العروبة، وجمعها جُمُعات وجُمَع " (3) .
- تسميتها وسببها: يُقال إن هذا اليوم كان يُسمى في الجاهلية بـ " يوم العُروبة " كما تقدم في النقول السابقة (4) ونقل ابن حجر الاتفاق على
--------------------------------------------
হাসি (الضحك)। . . . (১) ।
মুখতার আস-সিহাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: "জুমুয়াহ (الجُمُعَة) দিবস—মীমের সুকুন ও যম্মাহ উভয় পঠন অনুযায়ী—হলো আরুবাহ দিবস। এর বহুবচন হলো জুমুয়াত (جُمُعات) ও জুমা (جُمَع)। একে আল-মাসজিদ আল-জামি বলা হয়; আর আপনি চাইলে সম্বন্ধ (الإضافة) করে ‘মাসজিদ আল-জামি’ও বলতে পারেন, যেমন আপনার উক্তি: হাক্কুল ইয়াকিন (حق اليقين) ও আল-হাক্কুল ইয়াকিন (الحق اليقين); যার অর্থ হলো সেই দিনের মসজিদ যা একত্রকারী এবং বিষয়ের ধ্রুব সত্য; কেননা কোনো বস্তুকে নিজের দিকে নিজের সম্বন্ধ (الإضافة) করা এই ব্যাখ্যা ব্যতীত বৈধ নয়।" (২) ।
তাহরির আলফাজ আত-তানবিহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: "জুমুয়াহ (الجُمُعَة) শব্দে মীমে যম্মাহ, সুকুন ও ফাতাহ—তিনটিই হতে পারে; যা আল-ফাররা ও আল-ওয়াহিদি বর্ণনা করেছেন। মানুষের সমবেত হওয়ার কারণে একে এই নামকরণ করা হয়েছে। জাহেলি যুগে জুমুয়াহর দিনকে আরুবাহ বলা হতো এবং এর বহুবচন হলো জুমুয়াত (جُمُعات) ও জুমা (جُمَع)।" (৩) ।
- এর নামকরণ ও কারণ: বলা হয়ে থাকে যে, এই দিনটিকে জাহেলি যুগে "ইয়াওমুল আরুবাহ" বলা হতো, যেমনটি পূর্বোক্ত উদ্ধৃতিগুলোতে (৪) বর্ণিত হয়েছে এবং ইবনে হাজার এ বিষয়ে ঐকমত্য (الاتفاق) বর্ণনা করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ذلك (1) ثم سُمِّي قبيل الإسلام بـ " يوم الجمعة "، سمَّاه بذلك كعب (2) بن لؤي، فكانت قريش تجمع إليه فيه، فيخطبهم ويعظهم، وقيل: لم يسم بيوم الجمعة إلا بعد الإسلام " (3) .
وأما سبب التسمية فتعددت الأقوال فيه: - فقيل: لأن الله - تعالى - جمع فيه خلق آدم عليه السلام، ويستدلون بما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قيل له: لأي شيء سُمِّي يوم الجمعة؟ قال: «لأن فيها طُبعت طينة أبيك آدم، وفيها الصعقة والبعثة، وفيها البطشة، وفي آخر ثلاث ساعات منها ساعة من دعا الله فيها استُجيب له» (4) .
--------------------------------------------
তা (১); এরপরে ইসলামের কিছুকাল পূর্বে একে "জুমার দিন" (يوم الجمعة) নামকরণ করা হয়। কাব (২) ইবনে লুআই এর এই নামকরণ করেছিলেন, কুরাইশরা এই দিনে তাঁর নিকট সমবেত হতো, আর তিনি তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতেন ও নসিহত করতেন। কারো কারো মতে: ইসলামের আবির্ভাবের পরেই কেবল একে জুমার দিন হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে (৩)।
আর নামকরণের কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন মত রয়েছে: যেমন বলা হয় যে, আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টিকে একত্রিত করেছেন। এর স্বপক্ষে তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন, যেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: জুমার দিনের নামকরণ কেন করা হয়েছে? তিনি বললেন: «কেননা এই দিনে তোমার পিতা আদমের কাদা মাটির ছাঁচ তৈরি করা হয়েছিল, আর এতেই হবে কিয়ামতের ভয়াবহ শব্দ ও পুনরুত্থান এবং এতেই হবে কঠোর পাকড়াও; আর এর শেষ তিন ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে সময়ে আল্লাহর নিকট কেউ দোয়া করলে তা কবুল করা হয়» (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وصحَّحَ هذا القول في فتح الباري (1) ونيل الاوطار (2) .
- فقيل: لاجتماع الناس فيها في المكان الجامع لصلاتهم (3) .
- وقيل: لأن الله - تعالى - جمع فيه آدم مع حواء في الأرض.
- وقيل: لما جُمع فيه من الخير (4) .
وقيل غير ذلك.
وهذه الأقوال بعضها مأخوذ من دلالة الاسم، وبعضها مستند إلى أحاديث لم تثبت، ولا مانع أن تكون كل هذه الأشياء سببا للتسمية، والله أعلم.
--------------------------------------------
ফাতহুল বারী (১) এবং নাইলুল আওতার (২)-এ এই মতটিকে সঠিক বলে গণ্য করা হয়েছে (صحَّحَ)।
- বলা হয়েছে: তাদের সালাতের জন্য একত্রিত হওয়ার স্থানে মানুষেরা জমায়েত হওয়ার কারণে (৩)।
- আরও বলা হয়েছে: কারণ মহান আল্লাহ এতে পৃথিবীতে আদম ও হাওয়াকে একত্রিত করেছিলেন।
- আরও বলা হয়েছে: এতে কল্যাণসমূহ পুঞ্জীভূত হওয়ার কারণে (৪)।
এ ছাড়া অন্যান্য বক্তব্যও রয়েছে।
এই বক্তব্যগুলোর কোনটি নামের অর্থগত তাৎপর্য থেকে গৃহীত, আবার কোনটি এমন সব হাদিসের ওপর নির্ভরশীল যা প্রমাণিত নয় (لم تثبت)। এই সবগুলো বিষয়ই নামকরণের কারণ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
[المبحث الثاني حكم خطبة الجمعة]المبحث الثاني: حكم خطبة الجمعة اختلف الفقهاء في حكم الخطبة لصلاة الجمعة هل هي شرط لها فلا تصح بدونها، أو سنة فتصح الصلاة بدون خطبة؟ وذلك على قولين:
القول الأول: أن الخطبة شرط للجمعة.
وبهذا قال الحنفية (1) وجمهور المالكية وهو الصحيح عندهم (2) والشافعية (3) والحنابلة (4) .
قال في الحاوي: " فهو مذهب الفقهاء كافة إلا الحسن البصري فإنه شذ عن الإجماع وقال: إنها ليست واجبة " (5) .
--------------------------------------------
[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জুমার খুতবার বিধান]দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জুমার খুতবার বিধান। জুমার নামাজের খুতবার বিধান সম্পর্কে ফকিহগণ মতভেদ করেছেন—এটি কি নামাজের জন্য শর্ত (شرط), যার ফলে এটি ছাড়া নামাজ সহিহ হবে না? নাকি এটি সুন্নাহ (سنة), যার ফলে খুতবা ছাড়াই নামাজ সহিহ হবে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:
প্রথম অভিমত: খুতবা জুমার জন্য শর্ত (شرط)।
হানাফি (১), জমহুর মালেকি—এবং এটিই তাঁদের নিকট সঠিক (الصحيح) মত (২), শাফেয়ি (৩) ও হাম্বলিগণ (৪) এই মত পোষণ করেছেন।
আল-হাউই গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এটি হাসান বসরি ব্যতীত সকল ফকিহর মাযহাব। তিনি ইজমার (إجماع) বিপরীতে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি ওয়াজিব (واجبة) নয়" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال في المغني: " وجملة ذلك أن الخطبة شرط في الجمعة لا تصح بدونها. . . ولا نعلم فيه مخالفا إلا الحسن " (1) .
القول الثاني: أن الخطبة سنة للجمعة.
وبه قال الحسن البصري (2) . (3) .
وهو مروي عن الإمام مالك، وبه قال بعض أصحابه (4) .
وبه قال ابن حزم (5) (6) .
--------------------------------------------
আল-মুগনি-তে বলা হয়েছে: "এর সারকথা হলো, খুতবা জুমার জন্য একটি শর্ত (شرط), যা ব্যতীত জুমাহ বিশুদ্ধ হয় না... এবং হাসান ব্যতীত এ বিষয়ে আমাদের জানা মতে অন্য কেউ ভিন্নমত পোষণ করেননি।" (১)।
দ্বিতীয় মত: খুতবা জুমার জন্য একটি সুন্নাত (سنة)।
হাসান বসরী (২) এ মত পোষণ করেছেন। (৩)।
এটি ইমাম মালিক থেকেও বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর কোনো কোনো অনুসারী এ কথা বলেছেন (৪)।
ইবনে হাজমও (৫) এ মত ব্যক্ত করেছেন (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুতবাতুল জুমুআ ওয়া আহকামুহা আল-ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الأدلة:
أدلة أصحاب القول الأول: استدل أصحاب القول الأول بأدلة من الكتاب، والسنة، وآثار الصحابة والتابعين:
أولا: من الكتاب: 1 - قول الله سبحانه وتعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ} [الجمعة: 9] الآية (1) .
وقد اختلف السلف في المراد بذكر الله فيها على قولين: فمنهم من قال: الخطبة، ومنهم من قال: الصلاة (2) وصحَّح ابن العربي (3) أنها تشمل الجميع (4) .
فعلى القول بأن المراد الخطبة تدل على وجوبها من وجهين:
--------------------------------------------
প্রমাণসমূহ:
প্রথম মতাবলম্বীদের প্রমাণাদি: প্রথম মতের অনুসারীগণ কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের আছার (آثار) থেকে দলিল পেশ করেছেন:
প্রথমত: কুরআন থেকে: ১ - মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় বর্জন করো} [আল-জুমা: ৯] আয়াত (১)।
সালাফগণ উক্ত আয়াতে 'আল্লাহর স্মরণ' দ্বারা কী উদ্দেশ্য, তা নিয়ে দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন: তাঁদের মধ্যে কেউ বলেছেন: খুতবা, আবার কেউ বলেছেন: সালাত (২)। ইবনুল আরাবি (৩) এটিকে সঠিক (صحح) বলে গণ্য করেছেন যে, এটি উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে (৪)।
সুতরাং 'আল্লাহর স্মরণ' দ্বারা খুতবা উদ্দেশ্য—এই মতানুসারে তা দুটি দিক থেকে খুতবার আবশ্যকতা (وجوب) হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে:
--------------------------------------------