(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: -)
ثلاث رسائل في الصلاة   (ابن باز)

القسم: الفقه العام


الكتاب: ثلاث رسائل في الصلاة

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن باز (ت 1420هـ)

الناشر: رئاسة إدارة البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد إدارة الطبع والترجمة

الطبعة: الرابعة، 1401هـ - 1981م

عدد الصفحات: 34

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সালাত বিষয়ক তিনটি পুস্তিকা   (ইবনে বাজ)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: সালাত বিষয়ক তিনটি পুস্তিকা

লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি)

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াহ এবং নির্দেশনা বিভাগের প্রেসিডেন্সি, মুদ্রণ ও অনুবাদ বিভাগ

সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪০১ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌[الرسالة الأولى: كيفية صلاة النبي صلى الله عليه وسلم]

 

من عبد العزيز بن عبد الله بن باز إلى كل من يحب أن يصلي كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم عملا بقوله صلى الله عليه وسلم: «صلوا كما رأيتموني أصلي» - رواه البخاري -.

1 - يسبغ الوضوء وهو أن يتوضأ كما أمره الله عملا بقوله سبحانه وتعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ} [المائدة: 6] وقول النبي صلى الله عليه وسلم: «لا تقبل صلاة بغير طهور» .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌[প্রথম রিসালাহ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি]

 

আবদুল আজীজ বিন আবদুল্লাহ বিন বায-এর পক্ষ থেকে সেই প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ন্যায় সালাত আদায় করতে পছন্দ করেন, যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীর প্রতি আমলস্বরূপ: «তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ» - বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

১ - ওজু পূর্ণাঙ্গ করা; আর তা হলো আল্লাহ তাকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে ওজু করা, যা মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি আমলস্বরূপ: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো, আর তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত করো} [আল-মায়িদাহ: ৬] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল করা হয় না»।
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২)
2 - يتوجه المصلي إلى القبلة وهي الكعبة أينما كان بجميع بدنه، قاصدا بقلبه فعل الصلاة التي يريدها من فريضة أو نافلة، ولا ينطق بلسانه بالنية؛ لأن النطق باللسان غير مشروع؛ لكون النبي صلى الله عليه وسلم لم ينطق بالنية، ولا أصحابه رضي الله عنهم، ويسن أن يجعل له سترة يصلي إليها إن كان إماما أو منفردا؛ لأمر النبي صلى الله عليه وسلم بذلك.

3 - يكبر تكبيرة الإحرام قائلا: (الله أكبر) ناظرا ببصره إلى محل سجوده.

4 - يرفع يديه عند التكبيرة إلى حذو منكبيه، أو إلى حيال أذنيه.

5 - يضع يديه على صدره، اليمنى على كفه اليسرى. لورود ذلك من حديث وائل بن حجر، وقبيصة بن هلب الطائي، عن أبيه رضي الله عنهما.

6 - يسن أن يقرأ دعاء الاستفتاح، وهو: (اللهم باعد بيني
2 - মুসল্লি যেখানেই থাকুক না কেন, সে তার সমগ্র শরীর নিয়ে কিবলার তথা কাবার অভিমুখে দণ্ডায়মান হবে এবং অন্তরে সেই নামাজের সংকল্প করবে যা সে আদায় করতে ইচ্ছুক, চাই তা ফরজ (فرض) হোক বা নফল (نفل)। সে মুখে নিয়ত উচ্চারণ করবে না; কেননা মৌখিকভাবে নিয়ত পাঠ করা বিধিসম্মত নয়। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কখনো নিয়ত মুখে উচ্চারণ করেননি। আর যদি সে ইমাম বা একাকী নামাজ আদায়কারী হয়, তবে তার সামনে সুতরা (سترة) রাখা সুন্নাত (مسنون); যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

3 - সে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবিরে তাহরিমা (تكبيرة الإحرام) প্রদান করবে এবং স্বীয় দৃষ্টি সাজদাহর স্থানের দিকে নিবদ্ধ রাখবে।

4 - তাকবিরের সময় সে তার উভয় হাত কাঁধ বরাবর অথবা কানের লতি পর্যন্ত উত্তোলন করবে।

5 - সে তার হাত বুকের ওপর রাখবে—ডান হাতকে বাম হাতের পাতার ওপর। কেননা ওয়াইল ইবন হুজর এবং কাবিসাহ ইবন হুলব আত-তাঈ কর্তৃক তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা এ বিষয়টি প্রমাণিত।

6 - প্রারম্ভিক দোয়া বা ইস্তিফতাহ (استفتاح) পাঠ করা সুন্নাত (مسنون), আর তা হলো: (হে আল্লাহ, আপনি আমার এবং আমার পাপসমূহের মাঝে দূরত্ব বজায় রাখুন...
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
وبين خطاياي كما باعدت بين المشرق والمغرب، اللهم نقني من خطاياي كما ينقى الثوب الأبيض من الدنس، اللهم اغسلني من خطاياي بالماء والثلج والبرد) .

وإن شاء قال بدلا من ذلك (سبحانك اللهم وبحمدك، وتبارك اسمك، وتعالى جدك، ولا إله غيرك) ثم يقول: (أعوذ بالله من الشيطان الرجيم بسم الله الرحمن الرحيم) ويقرأ سورة الفاتحة؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: «لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب» ويقول بعدها (آمين) جهرا في الصلاة الجهرية، ثم يقرأ ما تيسر من القرآن.

7 - يركع مكبرا رافعا يديه إلى حذو منكبيه أو أذنيه، جاعلا رأسه حيال ظهره، واضعا يديه على ركبتيه، مفرقا أصابعه، ويطمئن في ركوعه ويقول: (سبحان ربي العظيم) ، والأفضل: أن يكررها ثلاثا أو أكثر، ويستحب أن يقوله مع ذلك: (سبحانك اللهم ربنا وبحمدك، اللهم اغفر لي) .
(এবং আমার ও আমার পাপসমূহের মধ্যে এমন দূরত্ব তৈরি করুন যেমন আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছেন। হে আল্লাহ! আমাকে আমার পাপসমূহ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করুন যেভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। হে আল্লাহ! আমাকে আমার পাপসমূহ থেকে পানি, বরফ ও শিলা দ্বারা ধৌত করুন)।

আর তিনি চাইলে এর পরিবর্তে বলতে পারেন: (হে আল্লাহ! আমরা আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মহিমা সুউচ্চ এবং আপনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই)। অতঃপর বলবেন: (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)। এরপর তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "যে ব্যক্তি কিতাবের মূল অংশ (সূরা ফাতিহা) পাঠ করে না, তার সালাত হয় না।" আর সশব্দে তিলাওয়াতকৃত সালাতসমূহে এর পরে উচ্চস্বরে "আমীন" বলবেন। অতঃপর কুরআনের যতটুকু সহজ হয় তা পাঠ করবেন।

৭ - তিনি তাকবীর পাঠ করে রুকুতে যাবেন এবং তাঁর উভয় হাত কাঁধ অথবা কান বরাবর উত্তোলন করবেন। তিনি তাঁর মাথা পিঠের সমান্তরালে রাখবেন এবং উভয় হাত আঙুলগুলো ফাঁক করে দুই হাঁটুর ওপর স্থাপন করবেন। তিনি রুকুতে স্থিরতা বজায় রাখবেন এবং বলবেন: (আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি)। আর উত্তম হলো এটি তিনবার বা তার বেশি পাঠ করা। এর পাশাপাশি এটি বলাও পছন্দনীয়: (হে আল্লাহ! হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন)।
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
8 - يرفع رأسه من الركوع، رافعا يديه إلى حذو منكبيه أو أذنيه، قائلا: (سمع الله لمن حمده) إن كان إماما أو منفردا، ويقول حال قيامه: (ربنا ولك الحمد حمدا كثيرا طيبا مباركا فيه ملء السماوات وملء الأرض، وملء ما بينهما وملء ما شئت من شيء بعد) .

وإن زاد بعد ذلك: (أهل الثناء والمجد أحق ما قال العبد وكلنا لك عبد اللهم لا مانع لما أعطيت ولا معطي لما منعت ولا ينفع ذا الجد منك الجد) فهو حسن؛ لأن ذلك قد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم في بعض الأحاديث الصحيحة. أما إن كان مأموما فإنه يقول عند الرفع: (ربنا ولك الحمد) إلى آخر ما تقدم.

ويستحب أن يضع كل منهم يديه على صدره، كما فعل في قيامه قبل الركوع؛ لثبوت ما يدل على ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم من حديث وائل بن حجر، وسهل بن سعد رضي الله عنهما.

9 - يسجد مكبرا واضعا ركبتيه قبل يديه، إذا تيسر ذلك، فإن شق عليه قدم يديه قبل ركبتيه، مستقبلا بأصابع رجليه ويديه القبلة، ضامًّا أصابع يديه. ويكون على
৮ - রুকু থেকে মাথা তুলবেন, তাঁর দুই হাত কাঁধ বরাবর অথবা কান বরাবর উত্তোলন করবেন এবং বলবেন: (আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রশংসা শ্রবণ করেন যে তাঁর প্রশংসা করে), যদি তিনি ইমাম হন অথবা একাকী নামাজ আদায়কারী হন। আর সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময় বলবেন: (হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা; অগণিত, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা, যা আকাশমণ্ডল পূর্ণ করে, পৃথিবী পূর্ণ করে, উভয়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা চান তা দিয়ে পূর্ণ হয়)।

এরপর যদি এর সাথে আরও বৃদ্ধি করে বলেন: (হে প্রশংসা ও মহত্ত্বের অধিকারী! বান্দা যা বলে তার মধ্যে সবচেয়ে ধ্রুব সত্য কথা হলো—আর আমরা সবাই আপনারই বান্দা—হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই, আর কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাব আপনার আযাব থেকে তাকে বাঁচাতে পারবে না), তবে তা হাসান (حسن); কারণ তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু সহিহ (صحيح) হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে। তবে যদি তিনি মুক্তাদি হন, তবে মাথা তোলার সময় বলবেন: (হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা) পূর্বোক্ত শেষ পর্যন্ত।

আর তাদের প্রত্যেকের জন্য মুস্তাহাব হলো নিজ নিজ হাত বুকের উপর রাখা, যেমনটি রুকুর আগে দণ্ডায়মান অবস্থায় করেছিলেন; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ওয়াইল বিন হুজর এবং সাহল বিন সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস দ্বারা এ বিষয়ে প্রমাণ সাব্যস্ত হয়েছে।

৯ - তাকবির বলে সিজদাহ করবেন, সম্ভব হলে হাতের আগে হাঁটু রাখবেন। আর যদি তা কষ্টকর হয় তবে হাঁটুর আগে হাত রাখবেন। পায়ের এবং হাতের আঙুলগুলো কিবলামুখী রাখবেন এবং হাতের আঙুলগুলো একত্রিত করে রাখবেন। এবং তিনি থাকবেন...
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
أعضائه السبعة، الجبهة مع الأنف، واليدين، والركبتين، وبطون أصابع الرجلين، ويقول: (سبحان ربي الأعلى) ويكرر ذلك ثلاثا أو أكثر. ويستحب أن يقول مع ذلك: (سبحانك اللهم ربنا وبحمدك. . اللهم اغفر لي) ، ويكثر من الدعاء؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «أما الركوع فعظموا فيه الرب وأما السجود فاجتهدوا في الدعاء فقمن أن يستجاب لكم» وقوله صلى الله عليه وسلم: «أقرب ما يكون العبد من ربه وهو ساجد فأكثروا من الدعاء» . رواهما مسلم في صحيحه، ويسأل ربه له ولغيره من المسلمين من خير الدنيا والآخرة، سواء كانت الصلاة فرضا أو نفلا، ويجافي عضديه عن جنبيه، وبطنه عن فخذيه، وفخذيه عن ساقيه، ويرفع ذراعيه عن الأرض؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «اعتدلوا في السجود ولا يبسط أحدكم ذراعيه انبساط الكلب» .

10 - يرفع رأسه مكبرا، ويفرش قدمه اليسرى ويجلس عليها، وينصب رجله اليمنى، ويضع يديه على فخذيه وركبتيه، ويقول: (رب اغفر لي، رب اغفر لي، رب اغفر لي، اللهم اغفر لي، وارحمني، وارزقني، وعافني، واهدني
শরীরের সাতটি অঙ্গের উপর; যথা—নাকসহ কপাল, উভয় হাত, উভয় হাঁটু এবং উভয় পায়ের আঙুলের ভেতরের অংশ। আর বলবে: (সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা), এবং এটি তিনবার বা তার বেশি পুনরাবৃত্তি করবে। এর সাথে এটি বলা মুস্তাহাব (مستحب): (সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফিরলি), এবং অধিক পরিমাণে দোয়া করবে; কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “রুকুর ক্ষেত্রে তোমরা রবের মহিমা বর্ণনা করো, আর সিজদার ক্ষেত্রে তোমরা দোয়ায় মনোনিবেশ করো, তবেই তোমাদের দোয়া কবুল হওয়ার যোগ্য হবে।” এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “বান্দা যখন সিজদাবনত থাকে তখন সে তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়, তাই তোমরা অধিক পরিমাণে দোয়া করো।” মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে উভয় হাদিস বর্ণনা করেছেন। সে তার নিজের জন্য এবং অন্যান্য মুসলিমদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করবে, চাই সেই সালাত ফরজ (فرض) হোক বা নফল (نفل) হোক। সে তার উভয় বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে, পেটকে উভয় উরু থেকে এবং উভয় উরুকে উভয় নলা থেকে পৃথক রাখবে, আর তার উভয় বাহু মাটি থেকে উপরে রাখবে; কেননা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা সিজদায় ভারসাম্য রক্ষা করো এবং তোমাদের কেউ যেন তার বাহুদ্বয় কুকুরের মতো বিছিয়ে না দেয়।”

10 - সে তাকবির বলে মাথা তুলবে এবং তার বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসবে ও ডান পা খাড়া রাখবে। আর তার উভয় হাত উভয় উরু ও হাঁটুর উপর রাখবে এবং বলবে: (রব্বিগফিরলি, রব্বিগফিরলি, রব্বিগফিরলি, আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ারহামনি ওয়ারযুকনি ওয়া 'আফিনি ওয়াহদিনি)
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
، واجبرني) ويطمئن في هذا الجلوس حتى يرجع كل فقار إلى مكانه، كاعتداله بعد الركوع؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يطيل اعتداله بعد الركوع، وبين السجدتين.

11 - يسجد السجدة الثانية مكبرا، ويفعل فيها كما فعل في السجدة الأولى.

12 - يرفع رأسه مكبرا، ويجلس جلسة خفيفة مثل جلوسه بين السجدتين، وتسمى: جلسة الاستراحة، وهي مستحبة في أصح قولي العلماء. وإن تركها فلا حرج، وليس فيها ذكر ولا دعاء، ثم ينهض قائما إلى الركعة الثانية معتمدا على ركبتيه إن تيسر ذلك، وإن شق عليه اعتمد على الأرض، ثم يقرأ الفاتحة وما تيسر له من القرآن بعد الفاتحة. ثم يفعل كما فعل في الركعة الأولى، ولا يجوز للمأموم مسابقة إمامه؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم حذر أمته من ذلك، وتكره موافقته للإمام، والسنة له أن تكون أفعاله بعد إمامه من دون تراخي وبعد انقطاع صوته؛ لقول النبي صلى
...এবং আমার অভাব পূরণ করুন) এবং এই বৈঠকে স্থিরতা অবলম্বন করবেন যেন প্রতিটি হাড়ের জোড়া তার নিজ স্থানে ফিরে আসে, যেমনটি রুকুর পর সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুর পরে এবং দুই সিজদার মাঝখানে দীর্ঘ সময় সোজা হয়ে থাকতেন।

১১ - তিনি তাকবীর পাঠ করে দ্বিতীয় সিজদা করবেন এবং তাতে তা-ই করবেন যা প্রথম সিজদায় করেছিলেন।

১২ - তিনি তাকবীর পাঠ করে তাঁর মাথা তুলবেন এবং দুই সিজদার মাঝখানের বৈঠকের ন্যায় একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক করবেন, যাকে 'বিশ্রামের বৈঠক' বলা হয়। আলেমদের দুটি মতের মধ্যে বিশুদ্ধতর (أصح) মত অনুযায়ী এটি মুস্তাহাব। আর যদি তিনি তা বর্জন করেন তবে কোনো দোষ নেই এবং এতে কোনো যিকির বা দুআ নেই। এরপর সম্ভব হলে হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দণ্ডায়মান হবেন, আর যদি তা কষ্টকর হয় তবে জমিনে ভর দিয়ে উঠবেন। এরপর সূরা ফাতিহা এবং ফাতিহার পর কুরআনের সহজ অংশ পাঠ করবেন। তারপর প্রথম রাকাতে যা করেছিলেন ঠিক তেমনটিই করবেন। ইমামের অগ্রগামী হওয়া মুক্তাদীর জন্য বৈধ নয়; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ইমামের সাথে সাথে কাজ করা অপছন্দনীয় এবং তাঁর জন্য সুন্নাহ হলো তাঁর কার্যাবলী ইমামের কার্যাবলীর পরে সম্পন্ন হওয়া, কোনো বিলম্ব ছাড়া এবং ইমামের কণ্ঠস্বর থেমে যাওয়ার পর; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে...
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الله عليه وسلم: «إنما جعل الإمام ليؤتم به فلا تختلفوا عليه فإذا كبر فكبروا وإذا قال سمع الله لمن حمده فقولوا ربنا ولك الحمد فإذا سجد فاسجدوا» الحديث متفق عليه.

13 - إذا كانت الصلاة ثنائية، أي: ركعتين كصلاة الفجر، والجمعة والعيد، جلس بعد رفعه من السجدة الثانية ناصبا رجله اليمنى، مفترشا رجله اليسرى، واضعا يده اليمنى على فخذه اليمنى، قابضا أصابعه كلها إلا السبابة، فيشير بها إلى التوحيد، وإن قبض الخنصر والبنصر من يده وحلق إبهامها مع الوسطى وأشار بالسبابة فحسن.

لثبوت الصفتين عن النبي صلى الله عليه وسلم، والأفضل أن يفعل هذا تارة، وهذا تارة، ويضع يده اليسرى على فخذه اليسرى وركبته، ثم يقرأ التشهد في هذا الجلوس. وهو (التحيات لله، والصلوات والطيبات، السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته، السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، أشهد أن لا إله إلا
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: «ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুসরণ করার জন্য। সুতরাং তোমরা তাঁর সাথে ভিন্নমত পোষণ করো না। তিনি যখন তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলো; যখন তিনি বলেন 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ', তখন তোমরা বলো 'রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ'; আর যখন তিনি সাজদাহ করেন, তখন তোমরাও সাজদাহ করো।’ হাদিসটি সর্বসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য (متفق عليه)।

১৩ - যদি নামাজ দ্বিরাকাতবিশিষ্ট হয়, অর্থাৎ: ফজর, জুমুআ ও ঈদের নামাজের ন্যায় দুই রাকাত হয়, তবে দ্বিতীয় সাজদাহ থেকে ওঠার পর ডান পা খাড়া রেখে এবং বাম পা বিছিয়ে বসবে। ডান হাত ডান উরুর ওপর রাখবে এবং তর্জনী আঙুল ব্যতীত সব আঙুল মুষ্টিবদ্ধ করবে। তর্জনী দ্বারা তাওহীদের ইশারা করবে। আর যদি কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙুল মুষ্টিবদ্ধ করে এবং বৃদ্ধা ও মধ্যমা আঙুল দিয়ে বৃত্ত তৈরি করে তর্জনী দ্বারা ইশারা করে, তবে তাও উত্তম (حسن)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উভয় পদ্ধতিই প্রমাণিত হওয়ার কারণে এমনটি করা হয়। আর উত্তম হলো কখনো এটি করা এবং কখনো অন্যটি করা। বাম হাত বাম উরু ও হাঁটুর ওপর রাখবে। এরপর এই বৈঠকে তাশাহহুদ পড়বে। তা হলো: (সমস্ত সম্মানজনক সম্ভাষণ আল্লাহর জন্য, সমস্ত ইবাদত ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই...)
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله) . . ثم يقول: (اللهم صل على محمد، وعلى آل محمد، كما صليت على إبراهيم، وآل إبراهيم، إنك حميد مجيد، وبارك على محمد، وعلى آل محمد، كما باركت على إبراهيم، وآل إبراهيم، إنك حميد مجيد) .

ويستعيذ بالله من أربع فيقول: (اللهم إني أعوذ بك من عذاب جهنم، ومن عذاب القبر، ومن فتنة المحيا والممات، ومن فتنة المسيح الدجال) ، ثم يدعو بما شاء من خير الدنيا والآخرة، وإذا دعا لوالديه أو غيرهما من المسلمين فلا بأس، سواء كانت الصلاة فريضة، أو نافلة، ثم يسلم عن يمينه وشماله، قائلا: (السلام عليكم ورحمة الله. . السلام عليكم ورحمة الله) .

14 - إن كانت الصلاة ثلاثية كالمغرب، أو رباعية كالظهر والعصر والعشاء، قرأ التشهد المذكور آنفا، مع الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، ثم نهض قائما معتمدا على ركبتيه، رافعا يديه إلى حذو منكبيه، قائلا: (الله أكبر) ، ويضعهما أي يديه على صدره، كما
...আল্লাহর জন্য, এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল)। অতঃপর তিনি বলবেন: (হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদের ওপর এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। এবং আপনি মুহাম্মদের ওপর ও মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত)।

এবং তিনি চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবেন এবং বলবেন: (হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের আজাব থেকে, কবরের আজাব থেকে, জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং মাসিহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। অতঃপর তিনি দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ থেকে যা ইচ্ছা দোয়া করবেন। আর তিনি যদি তাঁর পিতামাতার জন্য বা অন্য কোনো মুসলিমের জন্য দোয়া করেন, তবে তাতে কোনো দোষ নেই; চাই সেই নামাজ ফরজ (فريضة) হোক কিংবা নফল (نافلة)। এরপর তিনি তাঁর ডানে ও বামে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ... আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ’ বলে সালাম ফেরাবেন।

১৪ - যদি নামাজ তিন রাকাত বিশিষ্ট হয় যেমন মাগরিব, অথবা চার রাকাত বিশিষ্ট হয় যেমন জোহর, আসর এবং এশা; তবে তিনি পূর্বে উল্লিখিত তাশাহহুদ (التشهد) পাঠ করবেন এবং সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠ করবেন। অতঃপর তিনি নিজ হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবেন এবং তাঁর উভয় হাত কাঁধ বরাবর উত্তোলন করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলবেন। এবং তিনি তাঁর উভয় হাত অর্থাৎ হাত দুটিকে বুকের ওপর রাখবেন, যেভাবে...
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
تقدم، ويقرأ الفاتحة فقط. وإن قرأ في الثالثة والرابعة من الظهر زيادة عن الفاتحة في بعض الأحيان فلا بأس؛ لثبوت ما يدل على ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم من حديث أبي سعيد رضي الله عنه، ثم يتشهد بعد الثالثة من المغرب، وبعد الرابعة من الظهر والعصر والعشاء، ويصلي على النبي صلى الله عليه وسلم، ويتعوذ بالله من عذاب جهنم، ومن عذاب القبر، وفتنة المسيح الدجال، ويكثر من الدعاء، كما تقدم ذلك في الصلاة الثنائية. لكن يكون في هذا الجلوس متوركا، واضعا رجله اليسرى تحت رجله اليمنى، ومقعدته على الأرض، ناصبا رجله اليمنى؛ لحديث أبي حميد في ذلك. ثم يسلم عن يمينه وشماله، قائلا: السلام عليكم ورحمة الله. . السلام عليكم ورحمة الله، ويستغفر الله ثلاثا، ويقول: (اللهم أنت السلام، ومنك السلام، تباركت يا ذا الجلال والإكرام، لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك
যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তিনি কেবল সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন। আর যোহরের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে যদি কখনো কখনো ফাতিহার অতিরিক্ত তিলাওয়াত করেন তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এর স্বপক্ষে প্রমাণ সাব্যস্ত (ثبوت) হয়েছে। অতঃপর মাগরিবের তৃতীয় রাকাতের পর এবং যোহর, আসর ও এশার চতুর্থ রাকাতের পর তাশাহহুদ পাঠ করবেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করবেন এবং আল্লাহর নিকট জাহান্নামের আজাব, কবরের আজাব ও মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবেন; আর অধিক পরিমাণে দোয়া করবেন, যেমনটি দুই রাকাত বিশিষ্ট সালাতের ক্ষেত্রে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। তবে এই বৈঠকে তিনি তাওয়াররুক অবস্থায় বসবেন, অর্থাৎ তাঁর বাম পা ডান পায়ের নিচের দিক দিয়ে বের করে দেবেন এবং তাঁর নিতম্ব জমিনের ওপর রাখবেন আর ডান পা খাড়া রাখবেন; এ সংক্রান্ত আবু হুমাইদ বর্ণিত হাদিসের কারণে। অতঃপর তিনি তাঁর ডানে ও বামে 'আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ', 'আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ' বলে সালাম ফিরাবেন। এরপর তিনবার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবেন এবং বলবেন: 'হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি এবং আপনার পক্ষ থেকেই শান্তি আসে। হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী! আপনি বরকতময়। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব কেবল তাঁরই...'
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وله الحمد، وهو على كل شيء قدير، اللهم لا مانع لما أعطيت، ولا معطي لما منعت، ولا ينفع ذا الجد منك الجد، لا حول ولا قوة إلا بالله، لا إله إلا الله ولا نعبد إلا إياه، له النعمة وله الفضل وله الثناء الحسن، لا إله إلا الله، مخلصين له الدين ولو كره الكافرون) . ويسبح الله ثلاثا وثلاثين، ويحمده مثل ذلك، ويكبره مثل ذلك، ويقول تمام المائة: (لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير) . ويقرأ آية الكرسي، وقل هو الله أحد، وقل أعوذ برب الفلق، وقل أعوذ برب الناس، بعد كل صلاة. ويستحب تكرار هذه السور الثلاث، ثلاث مرات بعد صلاة الفجر، وصلاة المغرب؛ لورود الحديث الصحيح بذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم، كما يستحب أن يزيد بعد الذكر المتقدم بعد صلاة الفجر وصلاة المغرب قول: (لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد يحيي ويميت وهو على كل شيء قدير) عشر مرات؛ لثبوت ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم. وإن
এবং সকল প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার সামর্থ্য কারো নেই। আপনার বিপরীতে কোনো বিত্তবানের বিত্ত কোনো উপকারে আসে না। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করি। সকল নিয়ামত ও অনুগ্রহ তাঁরই এবং সকল উত্তম প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; আমরা তাঁর দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে) । এবং তেত্রিশবার আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করবে, একইভাবে তেত্রিশবার তাঁর প্রশংসা করবে এবং একইভাবে তেত্রিশবার তাঁর মহিমা ঘোষণা করবে। অতঃপর একশত পূর্ণ করতে বলবে: (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই; তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান) । এবং প্রত্যেক সালাতের পর আয়াতুল কুরসি, সুরা আল-ইখলাস, সুরা আল-ফালাক ও সুরা আন-নাস পাঠ করবে। ফজর ও মাগরিবের সালাতের পর এই তিনটি সুরা তিনবার করে পুনরাবৃত্তি করা মুস্তাহাব; কারণ এ মর্মে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে ফজর ও মাগরিবের সালাতের পর উল্লিখিত জিকিরের সাথে এই দোয়াটি দশবার বৃদ্ধি করা মুস্তাহাব: (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই; তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান) দশবার; কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে। এবং যদি
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
كان إماما انصرف إلى الناس وقابلهم بوجهه بعد استغفاره ثلاثا، وبعد قوله: اللهم أنت السلام، ومنك السلام، تباركت يا ذا الجلال والإكرام.

ثم يأتي بالأذكار المذكورة، كما دل على ذلك أحاديث كثيرة عن النبي صلى الله عليه وسلم، منها حديث عائشة رضي الله عنها في صحيح مسلم. وكل هذه الأذكار سنة وليست بفريضة. ويستحب لكل مسلم ومسلمة، أن يحافظ على اثنتي عشرة ركعة في حال الحضر، وهي أربع قبل الظهر، وثنتان بعدها، وثنتان بعد المغرب، وثنتان بعد صلاة العشاء، وثنتان قبل صلاة الصبح؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يحافظ عليها، وتسمى الرواتب. وقد ثبت في صحيح مسلم، عن أم حبيبة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من صلى اثنتي عشرة ركعة في يومه وليلته تطوعا بنى له بيتا في الجنة» .

وقد فسرها الإمام الترمذي في روايته لهذا الحديث بما ذكرنا. أما في السفر فكان النبي صلى الله عليه
যখন তিনি ইমাম (إمام) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, তখন তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা এবং ‘আল্লাহুম্মা আন্তাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরম’ পাঠ করার পর মানুষের দিকে ফিরতেন এবং তাদের অভিমুখী হতেন।

অতঃপর তিনি উল্লিখিত যিকিরসমূহ পাঠ করতেন, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অনেক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, যার মধ্যে সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটি অন্যতম। এই সকল যিকির সুন্নাত (سنة), ফরয (فريضة) নয়। প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য মুস্তাহাব (مستحب) হলো মুকিম বা নিজ আবাসে অবস্থানকালে বারো রাকাত সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়া; সেগুলো হলো: যোহরের পূর্বে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পর দুই রাকাত, ইশার সালাতের পর দুই রাকাত এবং ফজরের সালাতের পূর্বে দুই রাকাত। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোর প্রতি নিয়মিত যত্নবান ছিলেন এবং এগুলোকে রাওয়াতীব (رواتب) বলা হয়। সহিহ মুসলিম-এ উম্মে হাবীবা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে বারো রাকাত নফল (تطوعا) সালাত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে»।

ইমাম তিরমিযী এই হাদিসের বর্ণনায় (رواية) তা আমরা যা উল্লেখ করেছি সেভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন। তবে সফরের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وسلم يترك سنة الظهر والمغرب والعشاء، ويحافظ على سنة الفجر والوتر، ولنا فيه أسوة حسنة، لقول الله سبحانه. {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} [الأحزاب: 21] وقوله عليه الصلاة والسلام «صلوا كما رأيتموني أصلي» والله ولي التوفيق. . . وصلى الله وسلم على نبينا محمد بن عبد الله وعلى آله وأصحابه وأتباعه بإحسان إلى يوم الدين.
...তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যোহর, মাগরিব ও এশার সুন্নাত (سنة) বর্জন করতেন এবং ফজর ও বিতরের সুন্নাতের (سنة) প্রতি যত্নবান থাকতেন। আর তাঁর মধ্যে আমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ} [আল-আহ্যাব: ২১] এবং তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বাণী: "তোমরা সালাত আদায় করো সেভাবে, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।" আল্লাহই তাওফিক দাতা। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর।
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌[الرسالة الثانية في وجوب أداء الصلاة في الجماعة]

 

من عبد العزيز بن عبد الله بن باز، إلى من يراه من المسلمين، وفقهم الله لما فيه رضاه، ونظمني وإياهم في سلك من خافه واتقاه، آمين.

. سلام عليكم ورحمة الله وبركاته، أما بعد:

فقد بلغني أن كثيرا من الناس قد يتهاونون بأداء الصلاة في الجماعة ويحتجون بتسهيل بعض العلماء في ذلك فوجب علي أن أبين عظم هذا الأمر وخطورته، وأنه لا ينبغي للمسلم أن يتهاون بأمر عظَّم الله شأنه في كتابه العظيم، وعظَّم شأنه رسوله الكريم، عليه من ربه أفضل الصلاة والتسليم. ولقد أكثر الله سبحانه من ذكر الصلاة في كتابه الكريم، وعظم شأنها، وأمر بالمحافظة عليها وأدائها في
[জামাতে নামাজ আদায়ের আবশ্যকতা বিষয়ক দ্বিতীয় পত্র]

 

আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ-এর পক্ষ থেকে ঐ সকল মুসলিমদের প্রতি যারা এটি দেখবেন, আল্লাহ তাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলার তৌফিক দান করুন এবং আমাকে ও তাদেরকে ঐ সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা তাঁকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, আমিন।

. আপনাদের ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর:

আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, অনেক মানুষ জামাতে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করছে এবং এ বিষয়ে কোনো কোনো আলেমের সহজিকরণের অজুহাত পেশ করছে। তাই এই বিষয়ের গুরুত্ব ও এর ভয়াবহতা স্পষ্ট করা আমার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে। কেননা একজন মুসলিমের জন্য এমন বিষয়ে অবহেলা করা সমীচীন নয় যার মর্যাদাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর সুমহান কিতাবে সুউচ্চ করেছেন এবং তাঁর সম্মানিত রাসুল—তাঁর ওপর তাঁর রবের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—এর গুরুত্বকে মহিমান্বিত করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবে নামাজের কথা বারবার উল্লেখ করেছেন, এর মর্যাদা সুমহান করেছেন এবং এর প্রতি যত্নশীল হওয়ার ও তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الجماعة، وأخبر أن التهاون بها والتكاسل عنها، من صفات المنافقين، فقال تعالى في كتابه المبين: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} [البقرة: 238]

وكيف تعرف محافظة العبد عليها، وتعظيمه لها، وقد تخلف عن أدائها مع إخوانه وتهاون بشأنها، وقال تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ} [البقرة: 43] وهذه الآية الكريمة نص في وجوب الصلاة في الجماعة، والمشاركة للمصلين في صلاتهم. ولو كان المقصود إقامتها فقط لم تظهر مناسبة واضحة في ختم الآية بقوله سبحانه: {وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ} [البقرة: 43] لكونه قد أمر بإقامتها أول الآية، وقال تعالى: {وَإِذَا كُنْتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِنْ وَرَائِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَى لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ} [النساء: 102] الآية.

فأوجب سبحانه أداء الصلاة في الجماعة في حال الحرب، فكيف بحال السلم؟ ولو كان أحد يسامح في ترك
জামাত (الجماعة) সম্পর্কে, এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, এতে অবহেলা করা ও অলসতা প্রদর্শন করা মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে বলেছেন: {তোমরা সকল সালাতের প্রতি যত্নবান হও এবং বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের; আর আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দণ্ডায়মান হও।} [আল-বাকারাহ: ২৩৮]

আর একজন বান্দার সালাতের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে, অথচ সে তার ভাইদের সাথে তা আদায় করা থেকে বিরত থাকে এবং এ বিষয়ে অবহেলা প্রদর্শন করে? মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো।} [আল-বাকারাহ: ৪৩] আর এই সম্মানিত আয়াতটি জামাতের (الجماعة) সাথে সালাত আদায়ের আবশ্যকতা (وجوب) এবং মুসল্লিদের সাথে তাদের সালাতে অংশগ্রহণের বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট দলিল (نص)। যদি কেবল সালাত কায়েম করাই উদ্দেশ্য হতো, তবে আয়াতের শেষে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু করো} [আল-বাকারাহ: ৪৩] বলার কোনো স্পষ্ট প্রাসঙ্গিকতা প্রকাশ পেত না; যেহেতু তিনি আয়াতের শুরুতেই তা কায়েম করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যখন আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন, অতঃপর তাদের নিয়ে সালাত কায়েম করবেন, তখন যেন তাদের একদল আপনার সাথে দাঁড়ায় এবং তারা যেন তাদের অস্ত্র সাথে রাখে। অতঃপর যখন তারা সিজদা সম্পন্ন করবে, তখন যেন তারা তোমাদের পিছনে অবস্থান করে। আর অপর একদল যারা সালাত আদায় করেনি, তারা যেন আসে এবং আপনার সাথে সালাত আদায় করে এবং তারা যেন তাদের সতর্কতা ও অস্ত্র গ্রহণ করে।} [আন-নিসা: ১০২] আয়াত।

সুতরাং মহান আল্লাহ যুদ্ধের অবস্থায় জামাতের (الجماعة) সাথে সালাত আদায় করা আবশ্যক (واجب) করেছেন, তাহলে শান্তির অবস্থায় হুকুম কী হবে? আর যদি কাউকে এটি বর্জন করার অনুমতি দেওয়া হতো...
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الصلاة في جماعة، لكان المصافون للعدو، المهددون بهجومه عليهم أولى بأن يسمح لهم في ترك الجماعة، فلما لم يقع ذلك، علم أن أداء الصلاة في جماعة من أهم الواجبات، وأنه لا يجوز لأحد التخلف عن ذلك.

وفي الصحيحين، عن أبي هريرة رضي الله عنه: عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لقد هممت أن آمر بالصلاة فتقام، ثم آمر رجلا أن يصلي بالناس، ثم أنطلق معي برجال معهم حزم من حطب، إلى قوم لا يشهدون الصلاة، فأحرق عليهم بيوتهم» الحديث.

وفي صحيح مسلم، عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، قال: «لقد رأيتنا وما يتخلف عن الصلاة إلا منافق علم نفاقه، أو مريض، وإن كان المريض ليمشي بين الرجلين حتى يأتي الصلاة» . وقال: «إن رسول الله صلى الله عليه وسلم علمنا سنن الهدى، وأن من سنن الهدى الصلاة في المسجد الذي يؤذن فيه» . وفيه أيضا عنه قال: «من سره أن يلقى الله غدا مسلما فليحافظ على هذه الصلوات حيث ينادى بهن فإن الله شرع لنبيكم سنن
জামায়াতে সালাত আদায়ের বিষয়টি যদি শিথিলযোগ্য হতো, তবে যারা শত্রুর মোকাবিলায় সারিবদ্ধ এবং তাদের আক্রমণের আশঙ্কায় শঙ্কিত, তারাই জামায়াত ত্যাগের অনুমতির অধিক হকদার হতেন। যেহেতু তা ঘটেনি, সেহেতু প্রতীয়মান হয় যে জামায়াতে সালাত আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিবসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং কারও জন্যই তা থেকে পিছিয়ে থাকা বৈধ নয়।

এবং সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: “আমি সংকল্প করেছি যে, আমি সালাতের নির্দেশ দেব ফলে তা কায়েম করা হবে, অতঃপর এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দেব যেন সে লোকদের সালাত পড়ায়। এরপর আমি এমন একদল লোক নিয়ে বের হব যাদের সাথে কাঠের আঁটি থাকবে, ঐ সকল লোকদের কাছে যারা সালাতে উপস্থিত হয় না এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেব।” - হাদিস।

এবং সহীহ মুসলিম-এ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি আমাদের দেখেছি যে, প্রকাশ্য নিফাকধারী মুনাফিক (منافق) অথবা অসুস্থ ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ সালাত থেকে পিছিয়ে থাকত না। এমনকি অসুস্থ ব্যক্তিকেও দু’জন মানুষের মাঝে ভর দিয়ে নিয়ে আসা হতো যতক্ষণ না সে সালাতে উপস্থিত হতো।” তিনি আরও বলেন: “নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের হিদায়াতের সুন্নাতসমূহ (سنن) শিক্ষা দিয়েছেন। আর হিদায়াতের অন্যতম সুন্নাত (سنن) হলো সেই মসজিদে সালাত আদায় করা যেখানে আযান দেওয়া হয়।” এবং তাতে তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: “যে ব্যক্তি আগামী কাল কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে মুসলিম হিসেবে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করে, সে যেন এই সালাতগুলো যথাযথভাবে হিফাজত করে যেখানে এগুলোর জন্য আযান দেওয়া হয়। কারণ আল্লাহ তোমাদের নবীর জন্য হিদায়াতের সুন্নাতসমূহ (سنن) বিধিবদ্ধ করেছেন...”
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الهدى، وإنهن من سنن الهدى، ولو أنكم صليتم في بيوتكم كما يصلي هذا المتخلف في بيته لتركتم سنة نبيكم، ولو تركتم سنة نبيكم لضللتم، وما من رجل يتطهر فيحسن الطهور، ثم يعمد إلى مسجد من هذه المساجد، إلا كتب الله له بكل خطوة يخطوها حسنة، ويرفعه بها درجة، ويحط عنه بها سيئة، ولقد رأيتنا وما يتخلف عنها إلا منافق معلوم النفاق، ولقد كان الرجل يؤتى به يهادى بين الرجلين حتى يقام في الصف» .

وفي صحيح مسلم أيضا، عن أبي هريرة رضي الله عنه، أن رجلا أعمى قال: «يا رسول الله إنه ليس لي قائد يلائمني إلى المسجد فهل لي رخصة أن أصلي في بيتي؟ فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: " هل تسمع النداء بالصلاة "؟ قال: نعم، قال: "فأجب» .

والأحاديث الدالة على وجوب الصلاة في الجماعة، وعلى وجوب إقامتها في بيوت الله التي أذن الله أن ترفع
হেদায়েতের পথ, আর এগুলো নিশ্চয়ই হেদায়েতের সুন্নত (سنة) সমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর তোমরা যদি তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করো, যেভাবে এই পেছনে পড়ে থাকা ব্যক্তিটি তার ঘরে সালাত আদায় করে, তবে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নত (سنة) বর্জন করলে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নত (سنة) বর্জন করো, তবে তোমরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হবে। আর যে ব্যক্তিই পবিত্রতা অর্জন করে এবং তা উত্তমরূপে সম্পন্ন করে, অতঃপর এই মসজিদসমূহের কোনো একটির দিকে যাওয়ার সংকল্প করে, আল্লাহ তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে একটি করে নেকি লিখে দেন, এর দ্বারা তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং এর মাধ্যমে তার একটি পাপ মোচন করেন। আমি আমাদের এমন অবস্থায় দেখেছি যে, প্রকাশ্য মুনাফেকি (نفاق) আছে এমন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ জামাত থেকে পেছনে থাকতো না। এমনকি কোনো ব্যক্তিকে দুইজনের কাঁধে ভর দিয়ে নিয়ে আসা হতো যতক্ষণ না তাকে কাতারে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হতো।

এবং সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) হতে আরও বর্ণিত আছে যে, একজন অন্ধ ব্যক্তি বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো উপযুক্ত পথপ্রদর্শক নেই, সুতরাং আমার জন্য কি ঘরে সালাত আদায়ের কোনো অনুমতি (رخصة) আছে?" নবী (সা.) তাকে বললেন: "তুমি কি সালাতের জন্য আযান শুনতে পাও?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" নবী (সা.) বললেন: "তবে তুমি তাতে সাড়া দাও।"

আর জামাতে (جماعة) সালাত আদায়ের আবশ্যকতা (وجوب) এবং আল্লাহর ঐ সকল ঘরে তা কায়েম করার আবশ্যকতা (وجوب) প্রমাণকারী হাদিসসমূহ, যেগুলোকে সমুন্নত রাখার নির্দেশ আল্লাহ প্রদান করেছেন—
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ويذكر فيها اسمه، كثيرة جدا، فالواجب على كل مسلم العناية بهذا الأمر، والمبادرة إليه، والتواصي به. مع أبنائه وأهل بيته وجيرانه وسائر إخوانه المسلمين، امتثالا لأمر الله ورسوله، وحذرا مما نهى الله عنه ورسوله، وابتعادا عن مشابهة أهل النفاق الذين وصفهم الله بصفات ذميمة، من أخبثها تكاسلهم عن الصلاة، فقال تعالى: {إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَى يُرَاءُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا - مُذَبْذَبِينَ بَيْنَ ذَلِكَ لَا إِلَى هَؤُلَاءِ وَلَا إِلَى هَؤُلَاءِ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَنْ تَجِدَ لَهُ سَبِيلًا} [النساء: 142 - 143]

ولأن التخلف عن أدائها في الجماعة من أعظم أسباب تركها بالكلية. ومعلوم أن ترك الصلاة كفر وضلال وخروج عن دائرة الإسلام؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «بين الرجل وبين الكفر والشرك ترك الصلاة» خرجه مسلم في صحيحه، عن جابر رضي الله عنه. وقال صلى الله عليه وسلم: «العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة فمن تركها فقد
এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা হয়, এমন স্থানের সংখ্যা অনেক বেশি। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব হলো এই বিষয়ের প্রতি যত্নবান হওয়া, এর দিকে অগ্রগামী হওয়া এবং নিজের সন্তান-সন্ততি, পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও অন্যান্য মুসলিম ভাইদের এ ব্যাপারে পরস্পর অসিয়ত করা। এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের আনুগত্যস্বরূপ এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা থেকে নিষেধ করেছেন তা হতে সতর্ক থাকার উদ্দেশ্যে, আর মুনাফিকি (نفاق) অবলম্বনকারীদের সাদৃশ্য বর্জনের লক্ষ্যে যাদের আল্লাহ অত্যন্ত নিন্দনীয় গুণে বিশেষিত করেছেন। তাদের নিকৃষ্টতম অভ্যাস হলো সালাতের ব্যাপারে অলসতা প্রদর্শন করা। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে, আর তিনিও তাদের সাথে প্রতারণা করেন। যখন তারা সালাতে দাঁড়ায়, অলসভাবে দাঁড়ায়; তারা লোক দেখানোর জন্য এটি করে এবং আল্লাহকে তারা অল্পই স্মরণ করে। তারা এর (ঈমান ও কুফরের) মাঝে দোদুল্যমান; না এদের দিকে, না তাদের দিকে। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি তার জন্য কোনো পথ পাবে না।} [সূরা আন-নিসা: ১৪২-১৪৩]

আর এই কারণে যে, জামাতের সাথে সালাত আদায়ে পিছিয়ে থাকা হলো তা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করার অন্যতম প্রধান কারণ। আর এটি সুবিদিত যে, সালাত বর্জন করা হলো কুফর (كفر), পথভ্রষ্টতা (ضلال) এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাওয়া; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: «ব্যক্তি এবং কুফর (كفر) ও শিরকের (شرك) মাঝে ব্যবধান হলো সালাত বর্জন করা»। মুসলিম এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে জাবির (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমাদের এবং তাদের মাঝে যে অঙ্গীকার রয়েছে তা হলো সালাত; সুতরাং যে ব্যক্তি তা বর্জন করল সে নিশ্চিতভাবেই...
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
كفر» والآيات والأحاديث في تعظيم شأن الصلاة، ووجوب المحافظة عليها وإقامتها كما شرع الله والتحذير من تركها كثيرة ومعلومة. فالواجب على كل مسلم أن يحافظ عليها في أوقاتها، وأن يقيمها كما شرع الله، وأن يؤديها مع إخوانه في الجماعة في بيوت الله؛ طاعة لله سبحانه ولرسوله صلى الله عليه وسلم، وحذرا من غضب الله وأليم عقابه.

ومتى ظهر الحق واتضحت أدلته، لم يجز لأحد أن يحيد عنه، لقول فلان أو فلان؛ لأن الله سبحانه وتعالى يقول: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59] ويقول سبحانه: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63]

ولا يخفى ما في الصلاة في الجماعة من الفوائد الكثيرة، والمصالح الجمة، ومن أوضح ذلك التعارف، والتعاون على البر والتقوى، والتواصي بالحق والصبر عليه.
কুফর (كفر)» এবং সালাতের মর্যাদা সুউচ্চ করা, এর রক্ষণাবেক্ষণের আবশ্যকতা (وجوب) এবং আল্লাহর শরিয়ত অনুযায়ী তা কায়েম করা সংক্রান্ত এবং তা ত্যাগের ব্যাপারে সতর্কতামূলক আয়াত ও হাদিসসমূহ প্রচুর ও সুবিদিত। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব (واجب) হলো নির্দিষ্ট সময়ে সালাতসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়া, আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তা কায়েম করা এবং আল্লাহর ঘরসমূহে জামাতের সাথে ভাইদের সঙ্গে তা আদায় করা; আল্লাহ সুবহানাহু ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের নিমিত্তে এবং আল্লাহর ক্রোধ ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে সতর্ক থাকার জন্য।

যখন সত্য প্রকাশিত হয় এবং এর দলিলসমূহ (أدلة) সুস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন কোনো ব্যক্তির উক্তির কারণে তা থেকে বিচ্যুত হওয়া কারো জন্য বৈধ নয়; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান (إيمان) রাখো। এটিই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।} [আন-নিসা: ৫৯] এবং আল্লাহ সুবহানাহু আরও বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (فتنة) আপতিত হতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নেমে আসতে পারে।} [আন-নূর: ৬৩]

জামাতে সালাত আদায়ের মধ্যে যে অজস্র ফায়দা ও ব্যাপক কল্যাণ রয়েছে তা অস্পষ্ট নয়। এর মধ্যে সর্বাধিক সুস্পষ্ট হলো পারস্পরিক পরিচিতি লাভ, পুণ্য ও তাকওয়ার (تقوى) ওপর একে অন্যকে সহযোগিতা করা এবং সত্যের পথে চলা ও ধৈর্যের ব্যাপারে একে অন্যকে উপদেশ প্রদান করা।
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وتشجيع المتخلف، وتعليم الجاهل، وإغاظة أهل النفاق، والبعد عن سبيلهم، وإظهار شعائر الله بين عباده، والدعوة إليه سبحانه بالقول والعمل، إلى غير ذلك من الفوائد الكثيرة.

وفقني الله وإياكم لما فيه رضاه وصلاح أمر الدنيا والآخرة، وأعاذنا جميعا من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، ومن مشابهة الكفار والمنافقين، إنه جواد كريم.

والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.
এবং অনগ্রসরদের উৎসাহিত করা, অজ্ঞদের শিক্ষা দান করা, মুনাফিকদের মনোকষ্টের কারণ হওয়া ও তাদের পথ থেকে দূরে থাকা, আল্লাহর বান্দাদের মাঝে তাঁর নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করা এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান জানানো—এরূপ আরও অনেক উপকারিতা এতে রয়েছে।

আল্লাহ আমাকে ও আপনাদেরকে সেই তাওফিক দান করুন যাতে তাঁর সন্তুষ্টি এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তিনি আমাদের সকলকে আমাদের নফসের অনিষ্ট ও মন্দ আমলসমূহ থেকে এবং কাফির ও মুনাফিকদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা থেকে আশ্রয় দান করুন। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় দানশীল ও মহানুভব।

আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর।
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌[الرسالة الثالثة: أين يضع المصلي يديه بعد الرفع من الركوع؟]

 

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وأصحابه.

أما بعد، فقد كثر السؤال من الداخل والخارج عن موضع اليدين إذا رفع المصلي رأسه من الركوع فرأيت أن أجيب عن ذلك جوابا مبسوطا بعض البسط، نصحا للمسلمين، وإيضاحا للحق، وكشفا للشبهة، ونشرا للسنة، فأقول: قد دلت السنة الصحيحة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم على أنه كان يقبض بيمينه على شماله إذا كان قائما في الصلاة. كما دلت على أنه كان عليه الصلاة والسلام يأمر بذلك.

قال الإمام البخاري رحمه الله في صحيحه: (باب وضع اليمنى على اليسرى) حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك
[তৃতীয় রিসালাহ: রুকু থেকে মাথা তোলার পর মুসল্লি তার হাত কোথায় রাখবে?]

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীদের ওপর।

অতঃপর, রুকু থেকে মাথা তোলার পর হাত রাখার স্থান সম্পর্কে দেশের ভেতর এবং বাহির থেকে অনেক প্রশ্ন এসেছে। তাই আমি মুসলিমদের জন্য নসিহত হিসেবে, সত্যকে স্পষ্ট করতে, সংশয় দূর করতে এবং সুন্নাহর প্রচারের লক্ষ্যে এ বিষয়ে কিছুটা বিস্তারিত উত্তর প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বলব: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ (صحيحة) সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি যখন সালাতে দণ্ডায়মান হতেন তখন ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন। ঠিক তেমনি এটিও প্রমাণিত যে, তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) এর নির্দেশ দিতেন।

ইমাম বুখারি রহিমাহুল্লাহ তাঁর সহিহ বুখারি-তে বলেছেন: (অধ্যায়: বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ, মালেক-এর সূত্রে।
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
، عن أبي حازم، عن سهل بن سعد رضي الله عنه قال «كان الناس يُؤمرون أن يضع الرجل اليد اليمنى على ذراعه اليسرى في الصلاة» (قال أبو حازم: لا أعلمه إلا ينمي ذلك إلى النبي صلى الله عليه وسلم . انتهى المقصود.

ووجه الدلالة من هذا الحديث الصحيح على شرعية وضع اليمين على الشمال حال قيام المصلي في الصلاة قبل الركوع وبعده أن سهلا أخبر أن الناس كانوا يُؤمرون أن يضع الرجل اليد اليمنى على ذراعه اليسرى في الصلاة، ومعلوم أن السنة للمصلي في حال الركوع أن يضع كفيه على ركبتيه، وفي حال السجود أن يضعهما على الأرض حيال منكبيه، أو حيال أذنيه، وفي حال الجلوس بين السجدتين وفي التشهد أن يضعهما على فخذيه وركبتيه، على التفصيل الذي أوضحته السنة في ذلك. فلم يبق إلا حال القيام، فعلم أنه المراد من حديث سهل. وبذلك يتضح أن المشروع للمصلي في حال قيامه في الصلاة، أن يضع يده اليمنى على ذراعه اليسرى، سواء كان ذلك في القيام قبل
... আবু হাজেম থেকে বর্ণিত, তিনি সাহল ইবনে সা'দ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "লোকদের নির্দেশ দেওয়া হতো যেন সালাতে একজন ব্যক্তি তার ডান হাত তার বাম বাহুর ওপর রাখে।" (আবু হাজেম বলেন: আমার জানামতে তিনি এটি নবী (সা.)-এর দিকেই সম্পৃক্ত (ينمي) করতেন)। এখানেই উদ্দেশ্য সমাপ্ত।

সালাত আদায়কারীর রুকুর আগে এবং পরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখার বৈধতার (مشروعية) ব্যাপারে এই সহিহ (صحيح) হাদিস থেকে দালিলিক দিকটি হলো, সাহল (রা.) সংবাদ দিয়েছেন যে, লোকদের নির্দেশ দেওয়া হতো যেন সালাতে ব্যক্তি তার ডান হাত তার বাম বাহুর ওপর রাখে। এটি সুবিদিত যে, সুন্নাহ অনুযায়ী সালাত আদায়কারীর জন্য রুকু অবস্থায় দুই হাতের তালু হাঁটুর ওপর রাখা, সিজদা অবস্থায় তা কাঁধ বা কান বরাবর জমিনে রাখা এবং দুই সিজদার মাঝখানে বসা ও তাশাহহুদের সময় তা উরু ও হাঁটুর ওপর রাখা নিয়ম; যেভাবে সুন্নাহতে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থা ব্যতিরেকে আর কোনো অবস্থা অবশিষ্ট থাকে না, ফলে এটিই প্রতিভাত হয় যে সাহল (রা.)-এর হাদিসে কিয়ামই উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, সালাত আদায়কারীর জন্য সালাতে কিয়াম অবস্থায় তার ডান হাত বাম বাহুর ওপর রাখা শরিয়তসম্মত (مشروع), চাই তা রুকুর আগের কিয়াম হোক ওনাফেসিস।
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الركوع أو بعده؛ لأنه لم يثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم فيما نعلم التفريق بينهما. ومن فرق فعليه الدليل، وقد ثبت في حديث وائل بن حُجْر عند النسائي بإسناد صحيح، «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا كان قائما في الصلاة قبض بيمينه على شماله» . وفي رواية له أيضا ولأبي داود بإسناد صحيح عن وائل «أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم بعدما كبر للإحرام، وضع يده اليمنى على ظهر كفه اليسرى والرسغ والساعد» . وهذا صريح صحيح في وضع المصلي حال قيامه في الصلاة كفه اليمنى على كفه اليسرى، والرسغ والساعد. وليس فيه تفريق بين القيام الذي قبل الركوع والذي بعده. فاتضح بذلك شمول هذا الحديث للحالين جميعا. وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله في الفتح على ترجمة البخاري المذكورة آنفا ما نصه قوله: (باب وضع اليمنى على اليسرى في الصلاة) أي في حال القيام، قوله: (كان الناس يُؤمرون) هذا حكمه الرفع؛ لأنه محمول على أن الآمر لهم بذلك هو النبي صلى الله عليه وسلم كما سيأتي، قوله: (على ذراعه) أبهم موضعه من

রুকুতে বা তার পরে; কেননা আমাদের জানামতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এই দুই অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করার বিষয়টি প্রমাণিত (ثابت) হয়নি। আর যে ব্যক্তি পার্থক্য করবে, তাকেই প্রমাণ পেশ করতে হবে। নাসাঈ-তে ওয়ায়িল ইবন হুজর-এর হাদিসে সঠিক (صحيح) সনদে (إسناد) প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন, তখন ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন।” তাঁর অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এবং আবু দাউদে সঠিক (صحيح) সনদে (إسناد) ওয়ায়িল থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, “তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছেন যে, তিনি তাকবিরে তাহরিমা বলার পর তাঁর ডান হাতকে বাম হাতের পিঠ, কব্জি ও বাহুর ওপর রাখলেন।” এটি সালাত আদায়কারীর দণ্ডায়মান অবস্থায় ডান হাতের তালুকে বাম হাতের তালু, কব্জি ও বাহুর ওপর রাখার ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট (صريح) ও সঠিক (صحيح) দলিল। এতে রুকুর পূর্বের দাঁড়ানো এবং রুকুর পরবর্তী দাঁড়ানোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ফলে এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, এই হাদিসটি উভয় অবস্থাকেই শামিল করে। হাফিজ ইবন হাজার (রহ.) ইতিপূর্বে উল্লিখিত বুখারির শিরোনামের (ترجمة) ব্যাখ্যায় ফাতহুল বারিতে যা বলেছেন তার ভাষ্য হলো— তাঁর উক্তি: (সালাতে ডানের ওপর বাম হাত রাখার অধ্যায়) অর্থাৎ দণ্ডায়মান অবস্থায়। তাঁর উক্তি: (লোকদের নির্দেশ দেওয়া হতো) এর হুকুম (حكم) হলো মারফু (الرفع); কারণ এটি এই অর্থে গৃহীত যে, তাঁদের প্রতি নির্দেশ দাতা ছিলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যা সামনে আলোচিত হবে। তাঁর উক্তি: (তাঁর বাহুর ওপর) এখানে এর স্থানটি অস্পষ্ট (أبهم) রাখা হয়েছে...

(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الذراع، وفي حديث وائل عند أبي داود والنسائي (ثم وضع يده اليمنى على ظهر كفه اليسرى والرسغ والساعد) وصححه ابن خزيمة وغيره. وأصله في صحيح مسلم بدون الزيادة. والرسغ بضم الراء وسكون السين المهملة بعدها معجمة، هو المفصل بين الساعد والكف. وسيأتي أثر علي نحوه في أواخر الصلاة. ولم يذكر أيضا محلهما من الجسد، وقد روى ابن خزيمة من حديث وائل (أنه وضعهما على صدره) ، والبزار عند صدره، وعند أحمد في حديث هُلْب الطائي نحوه، وهُلْب بضم الهاء، وسكون اللام بعدها موحدة، وفي زيادات المسند من حديث علي أنه وضعهما تحت السرة، وإسناده ضعيف، واعترض الداني في أطراف الموطأ، فقال هذا معلوم؛ لأنه ظن من أبي حازم، ورُدَّ بأن أبا حازم لو لم يقل: لا أعلمه إلخ، لكان في حكم المرفوع؛ لأن قول الصحابي: (كنا نؤمر بكذا) يصرف بظاهره إلى من له الأمر، وهو النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأن الصحابي في مقام تعريف الشرع. فيحمل على من صدر عنه الشرع. ومثله قول عائشة رضي الله عنها (كنا نؤمر بقضاء الصوم)
বাহু (الذراع), এবং আবু দাউদ ও নাসাঈতে বর্ণিত ওয়ায়েল-এর হাদিসে রয়েছে: (অতঃপর তিনি তাঁর ডান হাত বাম হাতের পিঠ, কবজি ও উপবাহুর ওপর রাখলেন) এবং ইবনে খুজাইমাহ ও অন্যরা একে সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন। এর মূল অংশ অতিরিক্ত অংশটুকু ব্যতীত সহিহ মুসলিমে বিদ্যমান। 'রুসগ' (الرسغ) শব্দটি রা-বর্ণে পেশ এবং সীন-বর্ণে সুকুন ও এরপর গাইন সহযোগে গঠিত, যা উপবাহু ও হাতের তালুর মধ্যবর্তী সন্ধিস্থল। সালাতের শেষ অধ্যায়ে আলীর অনুরূপ বর্ণনা (أثر) আসবে। শরীরের কোন স্থানে হাত দুটি রাখতে হবে তাও তিনি উল্লেখ করেননি। তবে ইবনে খুজাইমাহ ওয়ায়েল-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (তিনি হাত দুটি তাঁর বুকের ওপর রেখেছিলেন), এবং বাজ্জার বর্ণনা করেছেন 'বুকের নিকটে', এবং আহমাদে হুলব আত-তাঈ-এর হাদিসে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। 'হুলব' শব্দটি হা-বর্ণে পেশ, লাম-বর্ণে সুকুন ও এরপর বা সহযোগে গঠিত। মুসনাদ-এর অতিরিক্ত বর্ণনাসমূহে আলীর হাদিসে এসেছে যে, তিনি হাত দুটি নাভির নিচে রেখেছিলেন, কিন্তু এর সনদ (إسناده) দুর্বল (ضعيف)। আদ-দানী আতরাফুল মুয়াত্তা-তে এর বিরোধিতা করে বলেছেন, এটি পরিচিত বিষয়; কারণ এটি আবু হাজেমের ধারণা মাত্র। তবে এর প্রত্যুত্তরে বলা হয়েছে যে, আবু হাজেম যদি 'আমি এটি জানি না' ইত্যাদি না বলতেন, তবে তা মারফু (مرفوع)-এর হুকুমে গণ্য হতো; কেননা সাহাবীর বক্তব্য: (আমাদেরকে এরূপ নির্দেশ দেওয়া হতো) সাধারণত নির্দেশদাতার দিকেই ইঙ্গিত করে, আর তিনি হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম; কারণ সাহাবী শরিয়তের বিধান বর্ণনার অবস্থানে থাকেন। সুতরাং একে তাঁর পক্ষ থেকেই আগত বিধান হিসেবে গণ্য করা হয়। অনুরূপ আয়েশা (রা.)-এর উক্তি: (আমাদেরকে রোজা কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো)।
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فإنه محمول على أن الآمر بذلك هو النبي صلى الله عليه وسلم، وأطلق البيهقي: أنه لا خلاف في ذلك بين أهل النقل. والله أعلم.

وقد ورد في سنن أبي داود، والنسائي، وصحيح ابن السكن شيء يستأنس به على تعيين الآمر والمأمور، فروي عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: «رآني النبي صلى الله عليه وسلم واضعا يدي اليسرى على يدي اليمنى فنزعها، ووضع اليمنى على اليسرى» إسناده حسن، قيل: لو كان مرفوعا ما احتاج أبو حازم إلى قوله: لا أعلمه إلخ.

والجواب: أنه أراد الانتقال إلى التصريح، فالأول لا يقال له مرفوع، وإنما يقال: له حكم الرفع. قال العلماء: الحكمة في هذه الهيئة أنه صفة السائل الذليل، وهو أمنع من العبث وأقرب إلى الخشوع، وكأن البخاري رحمه الله لحظ ذلك، فعقبه بباب الخشوع، ومن اللطائف قول بعضهم: القلب موضع النية والعادة أن من احترز على حفظ شيء جعل يديه عليه.

قال ابن عبد البر: (لم يأت عن النبي صلى الله عليه وسلم فيه خلاف. وهو قول الجمهور من الصحابة والتابعين، وهو الذي ذكره مالك في الموطأ،
এটি এই মর্মে গ্রহণ করা হবে যে, এর নির্দেশদাতা হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আর ইমাম বাইহাকী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, হাদীস বিশারদদের মাঝে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। আল্লাহই ভালো জানেন।

সুনান আবু দাউদ, নাসায়ী এবং সহীহ ইবনে আস-সাকানে এমন কিছু বর্ণনা এসেছে যা নির্দেশদাতা ও আদিষ্ট ব্যক্তিকে নির্ধারণ করতে সহায়ক হতে পারে। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা অবস্থায় দেখলেন, তখন তিনি আমার হাতটি সরিয়ে ডান হাতটি বাম হাতের ওপর রাখলেন।" এর সনদটি হাসান (حسن)। বলা হয়েছে যে, এটি যদি মারফূ (مرفوع) হতো তবে আবু হাযিমের 'আমি জানি না'—এই কথাটি বলার প্রয়োজন হতো না।

এর উত্তর হলো: তিনি স্পষ্ট বর্ণনার দিকে যেতে চেয়েছেন। কারণ প্রথমটিকে মারফূ (مرفوع) বলা হয় না, বরং বলা হয় এটি মারফূ এর হুকুম (حكم الرفع) রাখে। উলামায়ে কিরাম বলেছেন: এই পদ্ধতির রহস্য হলো এটি একজন বিনয়ী সাহায্যপ্রার্থীর অবস্থা প্রকাশ করে এবং এটি অনর্থক কাজ থেকে বিরত রাখতে ও একাগ্রতা অর্জনে অধিক সহায়ক। ইমাম বুখারী (রহ.) সম্ভবত এটি লক্ষ্য করেছিলেন, তাই তিনি এর পরপরই একাগ্রতা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ এনেছেন। সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো জনৈক আলেমের উক্তি: অন্তর হলো নিয়তের স্থান, আর মানুষের স্বাভাবিক অভ্যাস হলো যে ব্যক্তি কোনো কিছু সংরক্ষণ করতে চায় সে তার ওপর হাত রাখে।

ইবনে আব্দুল বার (রহ.) বলেন: "এ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো মতভেদ বর্ণিত হয়নি। এটি সাহাবী ও তাবিঈদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং এটিই ইমাম মালিক মুয়াত্তায় উল্লেখ করেছেন।"
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ولم يحك ابن المنذر وغيره عن مالك غيره، وروى ابن القاسم عن مالك الإرسال، وصار إليه أكثر أصحابه، وعنه التفرقة بين الفريضة والنافلة، ومنهم من كره الإمساك، ونقل ابن الحاجب أن ذلك حيث يمسك متعمدا لقصد الراحة) انتهى المقصود من كلام الحافظ، وهو كاف شاف في بيان ما ورد في هذه المسألة، وفيما نقله عن الإمام ابن عبد البر الدلالة على أن قبض الشمال باليمين حال القيام في الصلاة هو قول أكثر العلماء، ولم يفرق ابن عبد البر رحمه الله بين الحالين. وأما ما ذكره الإمام الموفق في المغني وصاحب الفروع، وغيرهما عن الإمام أحمد رحمه الله أنه رأى تخيير المصلي بعد الرفع من الركوع بين الإرسال والقبض فلا أعلم له وجها شرعيا، بل ظاهر الأحاديث الصحيحة المتقدم ذكرها يدل على أن السنة القبض في الحالين، وهكذا ما ذكره بعض الحنفية من تفضيل الإرسال في القيام بعد الركوع لا وجه له؛ لكونه مخالفا للأحاديث السابقة، والاستحسان إذا خالف الأحاديث لا يعول عليه، كما نص عليه أهل العلم.

أما ما ذكر ابن عبد البر عن أكثر المالكية من تفضيل الإرسال فمراده في الحالين أعني قبل الركوع وبعده، ولا شك أنه قول مرجوح مخالف للأحاديث الصحيحة، ولما عليه
ইবনে মুনযির এবং অন্যান্যরা ইমাম মালিক থেকে এটি ব্যতীত অন্য কিছু বর্ণনা করেননি। ইবনে কাসিম ইমাম মালিক থেকে হাত ছেড়ে দেওয়া (الإرسال) বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর অধিকাংশ অনুসারী এই মতটিই গ্রহণ করেছেন। তাঁর থেকে ফরজ ও নফল নামাজের মধ্যে পার্থক্যের বর্ণনাও রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হাত ধরাকে অপছন্দ করেছেন। ইবনে হাজিব উল্লেখ করেছেন যে, এটি কেবল তখনই যখন বিশ্রামের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে হাত ধরা হয়। হাফিজ (ইবনে হাজার)-এর বক্তব্য থেকে উদ্দিষ্ট অংশ এখানেই শেষ হলো, যা এই বিষয়ে বর্ণিত তথ্যাদি স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট এবং পর্যাপ্ত। ইমাম ইবনে আব্দুল বার যা বর্ণনা করেছেন, তাতে এই প্রমাণ রয়েছে যে, নামাজে দণ্ডায়মান অবস্থায় ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরা অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের মত। আর ইবনে আব্দুল বার (রহিমাহুল্লাহ) দুই অবস্থার (রুকুর আগে ও পরে) মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। আর ইমাম মুওয়াফফাক 'আল-মুগনি' গ্রন্থে এবং 'আল-ফুরু' গ্রন্থের লেখক ও অন্যান্যরা ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে যা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি রুকু থেকে ওঠার পর মুসল্লিকে হাত ছেড়ে দেওয়া (الإرسال) এবং হাত বাঁধার (القبض) মধ্যে পছন্দের অবকাশ দিয়েছেন—এর কোনো শরয়ি ভিত্তি আমার জানা নেই। বরং ইতিপূর্বে উল্লিখিত বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসসমূহের বাহ্যিক অর্থ এটাই প্রমাণ করে যে, উভয় অবস্থাতেই হাত বাঁধা (القبض) হলো সুন্নাহ (السنة)। একইভাবে রুকুর পরের কিয়ামে হাত ছেড়ে দেওয়াকে উত্তম বলার বিষয়ে কোনো কোনো হানাফি আলেম যা উল্লেখ করেছেন, তার কোনো ভিত্তি নেই; কারণ তা পূর্বোক্ত হাদিসসমূহের পরিপন্থী। আর ইস্তিহসান (الاستحسان) যখন হাদিসের বিরোধী হয়, তখন তার ওপর নির্ভর করা যায় না, যেমনটি আহলে ইলমগণ সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

আর ইবনে আব্দুল বার অধিকাংশ মালিকি আলেমদের পক্ষ থেকে হাত ছেড়ে দেওয়াকে উত্তম বলার যে কথা উল্লেখ করেছেন, তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উভয় অবস্থায়—অর্থাৎ রুকুর আগে এবং পরে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি একটি দুর্বল বা অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত (مرجوح) মত যা বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসসমূহের পরিপন্থী এবং যা অনুসৃত হয়েছে তার বিপরীত...
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
جمهور أهل العلم كما سلف، وقد دل حديث وائل بن حجر، وحديث هلب الطائي على أن الأفضل وضع اليدين على الصدر حال القيام في الصلاة. وقد ذكرهما الحافظ، كما تقدم. وهما حديثان جيدان لا بأس بإسنادهما. أخرج الأول (أعني حديث وائل) الإمام ابن خزيمة رحمه الله وصححه. كما ذكره العلامة الشوكاني في النيل. وأخرج الثاني (أعني حديث هلب) الإمام أحمد رحمه الله بإسناد حسن. وأخرج أبو داود رحمه الله، عن طاوس عن النبي صلى الله عليه وسلم ما يوافق حديث وائل وهلب. وهو مرسل جيد، فإن قلت: قد روى أبو داود عن علي رضي الله عنه أنه قال: السنة وضع الكف على الكف، في الصلاة تحت السرة فالجواب أنه حديث ضعيف، كما صرح بذلك الحافظ ابن حجر كما تقدم في كلامه رحمه الله، وسبب ضعفه أنه من رواية عبد الرحمن بن إسحاق الكوفي، ويقال: الواسطي، وهو ضعيف عند أهل العلم، لا يحتج بروايته. ضعفه الإمام أحمد، وأبو حاتم، وابن معين، وغيرهم. وهكذا حديث أبي هريرة عند أبي داود مرفوعا (أخذ الأكف على الأكف في الصلاة تحت السرة) لأن في إسناده عبد الرحمن بن إسحاق المذكور، وقد عرفت حاله.

অধিকাংশ আলেমগণের মত এটিই, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াইল ইবনে হুজর এবং হুলব আত-তায়ীয়ের হাদিস একথাই প্রমাণ করে যে, সালাতে দণ্ডায়মান অবস্থায় বুকের ওপর হাত রাখা উত্তম। হাফেজ (ইবনে হাজার) ইতিপূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছেন, তিনি এই হাদিস দুটি বর্ণনা করেছেন। এই হাদিস দুটি উত্তম (جيد) এবং এগুলোর সনদে (إسناد) কোনো সমস্যা নেই। প্রথমটি (অর্থাৎ ওয়াইলের হাদিস) ইমাম ইবনে খুজাইমা (রহ.) বর্ণনা করেছেন এবং একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন। যেমনটি আল্লামা শাওকানি ‘নাইলুল আওতার’-এ উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয়টি (অর্থাৎ হুলবের হাদিস) ইমাম আহমাদ (রহ.) হাসান সনদে (إسناد حسن) বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম আবু দাউদ (রহ.) তাউস থেকে নবী (সা.) এর সূত্রে ওয়াইল ও হুলবের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এটি একটি উত্তম (جيد) মানের বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস। যদি আপনি বলেন যে, আবু দাউদ আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "সালাতে নাভির নিচে হাতের ওপর হাত রাখা সুন্নাত", এর উত্তর হলো, এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস। হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) এর বক্তব্য যেমন পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তিনি এখানে স্পষ্টভাবে এটি উল্লেখ করেছেন। এর দুর্বলতার কারণ হলো, এটি আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক আল-কুফি (যাকে ওয়াসিতিও বলা হয়) এর বর্ণনা। আলেমগণের নিকট তিনি দুর্বল (ضعيف), এবং তার বর্ণনা দ্বারা দলিল গ্রহণ করা হয় না। ইমাম আহমাদ, আবু হাতিম, ইবনে মাইন এবং অন্যান্যগণ তাকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন। অনুরূপভাবে আবু দাউদে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.) এর মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত হাদিসটি (সালাতে নাভির নিচে হাতের ওপর হাত রাখা) একই কারণে প্রত্যাখ্যাত, কারণ এর সনদে (إسناد) উল্লিখিত সেই আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক রয়েছেন, যার অবস্থা আপনি ইতিপূর্বেই জেনেছেন।

(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال الشيخ أبو الطيب محمد شمس الحق في (عون المعبود شرح سنن أبي داود) بعد كلام سبق ما نصه: فمرسل طاوس، وحديث هلب، وحديث وائل بن حجر تدل على استحباب وضع اليدين على الصدر، وهو الحق. وأما الوضع تحت السرة أو فوق السرة فلم يثبت فيه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حديث انتهى.

والأمر كما قال رحمه الله للأحاديث المذكورة.

فإن قيل: قد ذكر الشيخ العلامة محمد ناصر الدين الألباني في حاشية كتابه: (صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم ص 145 من الطبعة السادسة ما نصه: (ولست أشك في أن وضع اليدين على الصدر في هذا القيام (يعني بذلك القيام بعد الركوع) بدعة ضلالة؛ لأنه لم يرد مطلقا في شيء من أحاديث الصلاة وما أكثرها، ولو كان له أصل لنقل إلينا، ولو عن طريق واحد، ويؤيده أن أحدا من السلف لم يفعله ولا ذكره أحد من أئمة الحديث فيما أعلم) انتهى.
শায়খ আবু আল-তায়্যিব মুহাম্মদ শামসুল হক (আউনুল মাবুদ শরহ সুনানে আবু দাউদ)-এ ইতিপূর্বে আলোচিত বক্তব্যের পর বলেন: "তাউসের বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা, হুলবের হাদিস এবং ওয়াইল বিন হুজরের হাদিস বুকের ওপর হাত বাঁধার মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ বহন করে এবং এটিই সঠিক। আর নাভির নিচে বা নাভির ওপরে হাত বাঁধার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে কোনো হাদিস সাব্যস্ত হয়নি।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

বিষয়টি ঠিক তেমনই যেমনটি তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখিত হাদিসগুলোর কারণে বলেছেন।

যদি বলা হয়: শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি তাঁর কিতাব 'সিফাতু সালাতিন নবী' (সা.)-এর ষষ্ঠ সংস্করণের ১৪৫ পৃষ্ঠার টীকায় যা বলেছেন তার ভাষ্য নিম্নরূপ: "আমি এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না যে, এই কিয়ামে (অর্থাৎ রুকুর পরবর্তী কিয়ামে) বুকের ওপর হাত রাখা একটি পথভ্রষ্টকারী (ضلالة) বিদআত (بدعة); কারণ সালাতের অসংখ্য হাদিসের কোনোটিতেই এটি মোটেও বর্ণিত হয়নি। যদি এর কোনো ভিত্তি থাকতো, তবে অন্তত একটি সূত্রের মাধ্যমে হলেও তা আমাদের কাছে বর্ণিত হতো। এর সপক্ষে যুক্তি হলো, সালাফদের (السلف) মধ্যে কেউ এটি করেননি এবং আমার জানামতে হাদিসের ইমামদের (أئمة الحديث) কেউ এটি উল্লেখ করেননি।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
والجواب عن ذلك أن يقال: نعم. قد ذكر أخونا العلامة الشيخ ناصر الدين في حاشية كتابه المذكور ما ذكر والجواب عنه من وجوه:

(الأول) : أن جزمه بأن وضع اليمنى على اليسرى في القيام بعد الركوع بدعة ضلالة، خطأ ظاهر، لم يسبقه إليه أحد فيما نعلم من أهل العلم، وهو مخالف للأحاديث الصحيحة المتقدم ذكرها، ولست أشك في علمه وفضله وسعة اطلاعه وعنايته بالسنة، زاده الله علما وتوفيقا، ولكنه قد غلط في هذه المسألة غلطا بينا، وكل عالم يؤخذ من قوله ويترك، كما قال الإمام مالك بن أنس رحمه الله: (ما منا إلا راد ومردود عليه، إلا صاحب هذا القبر) يعني: النبي صلى الله عليه وسلم، وهكذا قال أهل العلم قبله وبعده، وليس ذلك يغض من أقدارهم، ولا يحط من منازلهم، بل هم في ذلك بين أجر وأجرين، كما صحت بذلك السنة عن النبي صلى الله عليه وسلم في حكم المجتهد: «إن أصاب فله أجران، وإن أخطأ فله أجر» .

(الوجه الثاني) : أن من تأمل الأحاديث السالفة (حديث سهل، وحديث وائل بن حجر، وغيرهما) اتضح له دلالتها على
এর উত্তর হলো এই যে: হ্যাঁ। আমাদের ভাই আল্লামা শাইখ নাসিরুদ্দিন তাঁর উল্লিখিত কিতাবের টীকায় যা উল্লেখ করেছেন, তাঁর সে বক্তব্যের উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়:

(প্রথমত): রুকুর পর দণ্ডায়মান অবস্থায় ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখাকে পথভ্রষ্ট বিদআত (بدعة ضلالة) বলে তাঁর যে দৃঢ় দাবি, তা একটি স্পষ্ট ভুল। আমাদের জানামতে আলেমদের মধ্যে ইতোপূর্বে কেউ এই কথা বলেননি। এটি পূর্বে উল্লেখিত সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহের পরিপন্থী। আমি তাঁর ইলম, ফজল, ব্যাপক অধ্যয়ন এবং সুন্নাহর প্রতি তাঁর অনুরাগের বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না—আল্লাহ তাঁর ইলম ও তাওফিক বাড়িয়ে দিন। তবে তিনি এই মাসআলায় একটি স্পষ্ট ভুল করেছেন। আর প্রত্যেক আলেমের কথা গ্রহণও করা যায় আবার বর্জনও করা যায়, যেমনটি ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে অন্যের কথার প্রতিবাদ করে না অথবা যার কথার প্রতিবাদ করা হয় না, কেবল এই কবরের অধিবাসী অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত।" তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণও অনুরূপ কথা বলেছেন। এটি তাঁদের মর্যাদা খর্ব করে না এবং তাঁদের অবস্থানকেও অবনমিত করে না; বরং এ ক্ষেত্রে তাঁরা একটি বা দুটি সওয়াবের মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকেন, যেমনটি মুজতাহিদের (المجتهد) বিধান সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বিশুদ্ধ (صحيحة) সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে: "যদি তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান তবে তাঁর জন্য দুটি সওয়াব, আর ভুল করলে তাঁর জন্য একটি সওয়াব।"

(দ্বিতীয়ত): যে ব্যক্তি পূর্বোক্ত হাদিসগুলো (সহল-এর হাদিস, ওয়াইল বিন হুজর-এর হাদিস এবং অন্যান্য) নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, তার নিকট এগুলোর দালালাত বা নির্দেশনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে...
(খণ্ড: ১) ছালাছু রাসাইল ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
شرعية وضع اليمنى على اليسرى في حال القيام في الصلاة قبل الركوع وبعده؛ لأنه لم يذكر فيها تفصيل، والأصل عدمه.

ولأن في حديث سهل الأمر بوضع اليمنى على ذراع اليسرى في الصلاة، ولم يبين محله من الصلاة. فإذا تأملنا ما ورد في ذلك اتضح لنا أن السنة في الصلاة وضع اليدين في حال الركوع على الركبتين، وفي حال السجود على الأرض، وفي حال الجلوس على الفخذين والركبتين، فلم يبق إلا حال القيام، فعلم أنها المرادة في حديث سهل. وهذا واضح جدا.

أما حديث وائل ففيه التصريح من وائل رضي الله عنه بأنه «رأى النبي صلى الله عليه وسلم يقبض بيمينه على شماله إذا كان قائما في الصلاة» خرجه النسائي بإسناد صحيح. وهذا اللفظ من وائل يشمل القيامين بلا شك، ومن فرق بينهما فعليه الدليل، وقد سبقت الإشارة إلى
নামাজের রুকুর পূর্বে এবং পরে দণ্ডায়মান (قيام) অবস্থায় বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখার শরয়ি বিধান; কারণ এই বিষয়ে কোনো বিস্তারিত বিবরণ বর্ণিত হয়নি এবং মূলনীতি (أصل) হলো বিস্তারিত পার্থক্যের অনুপস্থিতি।

কেননা সাহল-এর হাদিসে নামাজে বাম হাতের বাহুর ওপর ডান হাত রাখার নির্দেশ এসেছে, কিন্তু নামাজের কোন স্থানে এটি করতে হবে তা সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। সুতরাং আমরা যদি এই বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তা নিয়ে গভীর চিন্তা করি, তবে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, নামাজের সুন্নাহ (سنة) হলো রুকুর অবস্থায় দুই হাত হাঁটুর ওপর রাখা, সিজদা (سجود) অবস্থায় জমিনে রাখা এবং বসা (جلوس) অবস্থায় দুই উরু ও হাঁটুর ওপর রাখা; ফলে কেবল দণ্ডায়মান (قيام) অবস্থাই অবশিষ্ট থাকে। অতএব বুঝা গেল যে, সাহল-এর হাদিসে এটিই (দণ্ডায়মান অবস্থা) উদ্দেশ্য। আর এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

ওয়াইল-এর হাদিসের ক্ষেত্রে তাতে ওয়াইল (রা.) থেকে সুস্পষ্ট বর্ণনা (تصريح) রয়েছে যে, তিনি "নবী (সা.)-কে নামাজে দণ্ডায়মান (قائم) থাকা অবস্থায় তাঁর ডান হাত দিয়ে বাম হাতটি আঁকড়ে ধরতে দেখেছেন"। নাসাঈ এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (إسناد) সহকারে বর্ণনা করেছেন। ওয়াইল-এর এই শব্দটি নিঃসন্দেহে রুকুর পূর্বের ও পরের উভয় দণ্ডায়মান (قيام) অবস্থাকেই অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করবে, তাকে অবশ্যই দলিল (دليل) পেশ করতে হবে। আর ইতিপূর্বে এই প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করা হয়েছে...