(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: -)
تنبيهات على أحكام تختص بالمؤمنات   (صالح الفوزان)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: تنبيهات على أحكام تختص بالمؤمنات

المؤلف: صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان

الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية 1423 هـ

عدد الصفحات: 117

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুমিন নারীদের জন্য বিশেষ বিধানাবলি সংক্রান্ত সতর্কতা   (সালেহ আল-ফাওজান)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: মুমিন নারীদের জন্য বিশেষ বিধানাবলি সংক্রান্ত সতর্কতা

লেখক: সালেহ বিন ফাওজান বিন আবদুল্লাহ আল-ফাওজান

প্রকাশক: ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, ওয়াকফ, দাওয়াহ এবং ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজতন্ত্র ১৪২৩ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৭

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[مقدمة تنبيهات على أحكام تختص بالمؤمنات]

بسم الله الرحمن الرحيم

مقدمة الحمد لله الذي قدر فهدى، وخلق الزوجين الذكر والأنثى، من نطفة إذا تمنى، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الحمد في الآخرة والأولى، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله عرج به إلى السماء فرأى من آيات ربه الكبرى، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه أولي المناقب والنهى، وسلم تسليما كثيرا مؤبدا.

أما بعد: فلما كانت المرأة المسلمة لها مكانتها في الإسلام، وقد أنيط بها كثير من المهام، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يخص النساء بتوجيهات، وأوصى بهن في خطبته في عرفات، مما يدل على وجوب العناية بهن في كل زمان، ولا سيما في هذا الزمان الذي غزيت فيه المرأة المسلمة بصفة خاصة؛ لسلبها كرامتها، وإنزالها من مكانتها، فكان لا بد من توعيتها بالخطر، ووصف طريق النجاة لها.

وهذا الكتاب أرجو أن يكون علامة على هذا الطريق بما تضمنه من ذكر بعض الأحكام الخاصة بها، وهو إسهام ضئيل، لكنه جهد المقل، وأرجو أن ينفع الله به على قدره، وهو خطوة أولى في هذا السبيل يرجى أن تتلوها خطوات أعم وأشمل، إلى ما هو أحسن وأكمل.
‌‌[মুমিন নারীদের জন্য নির্দিষ্ট বিধিবিধানের ওপর সতর্কবার্তার ভূমিকা]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি (সবকিছুর) পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন ও পথ প্রদর্শন করেছেন এবং যিনি শুক্রবিন্দু থেকে যখন তা স্খলিত হয়, তখন পুরুষ ও নারী—এ জোড়া সৃষ্টি করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; ইহকাল ও পরকালে সকল প্রশংসা তাঁরই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁকে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করানো হয়েছিল এবং তিনি সেখানে তাঁর প্রতিপালকের মহান নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সুমহান গুণাবলী ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত এবং অনন্তকাল ধরে অজস্র শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর: ইসলামে মুসলিম নারীর যেহেতু একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং তাঁর ওপর বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে; আর যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নারীদেরকে বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করতেন এবং আরাফাতের খুতবায় তাঁদের সম্পর্কে বিশেষ অসিয়ত করেছেন; যা থেকে সব যুগে তাঁদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়ার আবশ্যকতা প্রমাণিত হয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে, যখন মুসলিম নারীকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে তাঁর মর্যাদা হরণ করার এবং তাঁকে তাঁর সুউচ্চ অবস্থান থেকে বিচ্যুত করার উদ্দেশ্যে; তাই উদ্ভূত বিপদ সম্পর্কে তাঁকে সচেতন করা এবং তাঁর জন্য নাজাত বা মুক্তির পথ বাতলে দেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

এই গ্রন্থে নারীদের জন্য বিশেষ কিছু বিধান উল্লেখ করার মাধ্যমে আমি আশা করছি যে, এটি সঠিক পথের একটি দিশারি হয়ে দাঁড়াবে। যদিও এটি একটি নগণ্য অবদান এবং স্বল্প সামর্থ্যের প্রচেষ্টা; তবুও আমি আশা করি আল্লাহ তাঁর মহিমা অনুযায়ী এর দ্বারা উপকার সাধন করবেন। এই পথে এটি একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র, যার পরে আরও ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ পদক্ষেপ আসবে বলে আশা করা যায়, যা বিষয়টিকে আরও সুন্দর ও পরিপূর্ণ রূপ দান করবে।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ৬)
وما قدمته في هذه العجالة يتكون من الفصول التالية:

1 - الفصل الأول: أحكام عامة.

2 - الفصل الثاني: في بيان أحكام تختص بالتزين الجسمي للمرأة.

3 - الفصل الثالث: أحكام تختص بالحيض والاستحاضة والنفاس.

4 - الفصل الرابع: أحكام تختص باللباس والحجاب.

5 - الفصل الخامس: في بيان أحكام تختص بالمرأة في صلاتها.

6 - الفصل السادس: أحكام تختص بالمرأة في باب أحكام الجنائز.

7 - الفصل السابع: أحكام تختص بالمرأة في باب الصيام.

8 - الفصل الثامن: أحكام تختص بالمرأة في الحج والعمرة.

9 - الفصل التاسع: أحكام تختص بالزوجية وبإنهائها.

10 - الفصل العاشر الختامي: في بيان أحكام تحفظ للمرأة كرامتها وتصون عفتها.

المؤلف
এই সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনায় আমি যা পেশ করেছি তা নিম্নোক্ত অধ্যায়গুলোর সমন্বয়ে গঠিত:

1 - প্রথম অধ্যায়: সাধারণ বিধানাবলি (أحكام عامة)।

2 - দ্বিতীয় অধ্যায়: নারীর শারীরিক সাজসজ্জা সংক্রান্ত বিশেষ বিধানাবলির বর্ণনায়।

3 - তৃতীয় অধ্যায়: হায়েজ (حيض), ইস্তিহাজা (استحاضة) ও নেফাস (نفاس) সংক্রান্ত বিধানাবলি।

4 - চতুর্থ অধ্যায়: পোশাক ও পর্দা (حجاب) সংক্রান্ত বিধানাবলি।

5 - পঞ্চম অধ্যায়: নারীর সালাত (صلاة) সংক্রান্ত বিশেষ বিধানাবলির বর্ণনায়।

6 - ষষ্ঠ অধ্যায়: জানাজা (جنائز) সংক্রান্ত অধ্যায়ে নারীর জন্য প্রযোজ্য বিশেষ বিধানাবলি।

7 - সপ্তম অধ্যায়: সিয়াম (صيام) অধ্যায়ে নারী সংক্রান্ত বিশেষ বিধানাবলি।

8 - অষ্টম অধ্যায়: হজ (حج) ও উমরাহ (عمرة) পালনে নারী সংক্রান্ত বিশেষ বিধানাবলি।

9 - নবম অধ্যায়: দাম্পত্য ও তা বিচ্ছেদ সংক্রান্ত বিশেষ বিধানাবলি।

10 - দশম তথা সমাপনী অধ্যায়: নারীর মর্যাদা ও সতীত্ব (عفة) রক্ষাকারী বিধানাবলির বর্ণনায়।

লেখক
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌[الفصل الأول أحكام عامة]

‌‌[مكانة المرأة قبل الإسلام]

الفصل الأول

أحكام عامة 1 - مكانة المرأة قبل الإسلام: ويراد بما قبل الإسلام عصر الجاهلية التي كان يعيشها العرب بصفة خاصة، ويعيشها أهل الأرض بصفة عامة، حيث كان الناس في فترة من الرسل، ودروس من السبل، وقد نظر الله إليهم - كما جاء في الحديث - فمقتهم عربهم وعجمهم إلا بقايا من أهل الكتاب، وكانت المرأة في هذا الوقت في الأغلب الأعم تعيش فترة عصيبة - خصوصا في المجتمع العربي - حيث كانوا يكرهون ولادتها، فمنهم من كان يدفنها وهي حية حتى تموت تحت التراب، ومنهم من يتركها تبقى في حياة الذل والمهانة، كما قال تعالى: {وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنْثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ - يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ} [النحل: 58 - 59] (1) .

--------------------------------------------

(1) سورة النحل، الآيتان 58، 59.
‌[প্রথম অধ্যায়: সাধারণ বিধিবিধান]

‌‌[ইসলামের পূর্বে নারীর অবস্থান]

প্রথম অধ্যায়

সাধারণ বিধিবিধান ১ - ইসলামের পূর্বে নারীর অবস্থান: ইসলাম পূর্ব সময় বলতে জাহেলিয়াত যুগকে বোঝানো হয়েছে, যে সময়টিতে বিশেষ করে আরবরা এবং সাধারণভাবে সমগ্র পৃথিবীর মানুষ জীবনযাপন করছিল। তখন ছিল রাসূলগণের আগমনের একটি বিরতিকাল এবং হেদায়েতের পথসমূহ ছিল বিলুপ্তপ্রায়। আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন - যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে - অতঃপর তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন, চাই তারা আরব হোক কিংবা অনারব; তবে আহলে কিতাবদের কিছু অবশিষ্ট লোক ব্যতীত। এই সময়ে নারীরা সাধারণত অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করত - বিশেষ করে আরব সমাজে - যেখানে তারা তাদের জন্মকে অপছন্দ করত। ফলে তাদের মধ্যে কেউ তাকে জীবন্ত কবর দিত যাতে সে মাটির নিচে মারা যায়, আবার কেউ কেউ তাকে লাঞ্ছনা ও অবমাননার জীবনে রেখে দিত। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় থেকে মুখ লুকিয়ে রাখে। সে কি লাঞ্ছনা সহ্য করে তাকে রেখে দেবে, নাকি তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে? সাবধান! তারা যা ফয়সালা করে তা কতই না মন্দ!} [আন-নাহল: ৫৮ - ৫৯] (১)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নাহল, আয়াত ৫৮, ৫৯।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ৮)
وقال تعالى: {وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ - بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ} [التكوير: 8 - 9] (1) والموؤودة هي البنت تدفن حية حتى تموت تحت التراب، وإذا سلمت من الوأد وعاشت فإنها تعيش عيشة المهانة، فليس لها حظ من ميراث قريبها مهما كثرت أمواله، ومهما عانت من الفقر والحاجة؛ لأنهم يخصون الميراث بالرجال دون النساء، بل إنها كانت تورث عن زوجها الميت كما يورث ماله، وكان الجمع الكثير من النساء يعشن تحت زوج واحد حيث كانوا لا يتقيدون بعدد محدد من الزوجات غير عابئين بما ينالهن من جراء ذلك من المضايقات والإحراجات والظلم.

 

‌‌[مكانة المرأة في الإسلام]

2 - مكانة المرأة في الإسلام: فلما جاء الإسلام رفع هذه المظالم عن المرأة، وأعاد لها اعتبارها في الإنسانية، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى} [الحجرات: 13] (2) فذكر سبحانه أنها شريكة الرجل في مبدأ الإنسانية، كما هي شريكة الرجل في الثواب والعقاب على العمل: {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [النحل: 97] (3) .

--------------------------------------------

(1) سورة التكوير، الآيتان 8، 9.

(2) سورة الحجرات، الآية 13.

(3) سورة النحل، الآية 97.
আর মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যখন জীবন্ত দাফনকৃত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে - কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে} [আত-তাকভীর: ৮ - ৯] (১) আর জীবন্ত দাফনকৃত কন্যা (الموؤودة) হলো সেই কন্যাসন্তান যাকে জীবিত দাফন করা হতো যতক্ষণ না সে মাটির নিচে মৃত্যুবরণ করত। আর যদি সে জীবন্ত দাফন থেকে বেঁচে যেত এবং জীবিত থাকত, তবে সে লাঞ্ছনার জীবন অতিবাহিত করত। তার নিকটাত্মীয়ের মিরাসে (উত্তরাধিকারে) তার কোনো অংশ থাকত না, তার সম্পদ যত বেশিই হোক না কেন, আর সে যত দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনেই কষ্ট পাক না কেন; কারণ তারা মিরাসকে পুরুষদের জন্য সুনির্দিষ্ট করত, নারীদের বাদ দিয়ে। এমনকি তাকে তার মৃত স্বামীর পক্ষ থেকে উত্তরাধিকার হিসেবে লাভ করা হতো যেভাবে তার সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হতো। আর অনেক সংখ্যক নারী একজন স্বামীর অধীনে জীবন যাপন করত, যেহেতু তারা স্ত্রীদের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকত না এবং এর ফলে নারীরা যে সংকীর্ণতা, বিব্রতকর অবস্থা ও জুলুমের শিকার হতো সেদিকে তারা কোনো ভ্রুক্ষেপ করত না।

 

‌‌[ইসলামে নারীর মর্যাদা]

২ - ইসলামে নারীর মর্যাদা: অতঃপর যখন ইসলাম এলো, তখন সে নারীর উপর থেকে এই জুলুমসমূহ দূর করল এবং মানবিকতার ক্ষেত্রে তার মর্যাদা ফিরিয়ে দিল। মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মানবমণ্ডলী, নিশ্চয় আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে} [আল-হুজুরাত: ১৩] (২)। সুতরাং মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, মানবিকতার মূল নীতিতে সে পুরুষের অংশীদার, যেমন আমলের প্রতিদান ও শাস্তির ক্ষেত্রে সে পুরুষের অংশীদার: {যে কেউ সৎকাজ করবে, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী, এমতাবস্থায় যে সে মুমিন, তবে অবশ্যই আমি তাকে এক পবিত্র জীবন দান করব এবং অবশ্যই আমি তাদের প্রতিদান দেব তারা যা করত তার শ্রেষ্ঠতম আমল অনুযায়ী} [আন-নাহল: ৯৭] (৩)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাকভীর, আয়াত ৮, ৯।

(২) সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১৩।

(৩) সূরা আন-নাহল, আয়াত ৯৭।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ৯)
وقال تعالى: {لِيُعَذِّبَ اللَّهُ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْمُشْرِكِينَ وَالْمُشْرِكَاتِ} [الأحزاب: 73] (1) .

وحرم سبحانه اعتبار المرأة من جملة موروثات الزوج الميت، فقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا} [النساء: 19] (2) .

فضمن لها استقلال شخصيتها، وجعلها وارثة لا موروثة، وجعل للمرأة حقا في الميراث من مال قريبها، فقال تعالى: {لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَفْرُوضًا} [النساء: 7] (3) وقال تعالى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ} [النساء: 11] (4) إلى آخر ما جاء في توريث المرأة أما وبنتا وأختا وزوجة.

وفي مجال الزوجية حصر الله الزواج على أربع حدا أعلى،

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب، الآية 73.

(2) سورة النساء، الآية 19.

(3) سورة النساء، الآية 7.

(4) سورة النساء، الآية 11.
আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যাতে আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীদের শাস্তি প্রদান করেন} [আল-আহজাব: ৭৩] (১) ।

আর মহান সত্তা মৃত স্বামীর উত্তরাধিকার সম্পত্তির অংশ হিসেবে নারীকে গণ্য করা হারাম করেছেন, তাই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়} [আন-নিসা: ১৯] (২) ।

ফলে তিনি তার ব্যক্তিত্বের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন এবং তাকে উত্তরাধিকারিণী সাব্যস্ত করেছেন, উত্তরাধিকারযোগ্য বস্তু নয়। আর তিনি নিকটাত্মীয়ের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে নারীর উত্তরাধিকারের অধিকার নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ রয়েছে, তা অল্প হোক বা বেশি; এক নির্ধারিত অংশ} [আন-নিসা: ৭] (৩) এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। তবে যদি তারা কেবল নারী হয় এবং দুইয়ের অধিক হয়, তবে তারা মৃত ব্যক্তি যা রেখে গেছে তার দুই-তৃতীয়াংশ পাবে; আর যদি সে একাই হয়, তবে সে অর্ধেক পাবে} [আন-নিসা: ১১] (৪) — মা, কন্যা, বোন ও স্ত্রী হিসেবে নারীর উত্তরাধিকার সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার শেষ পর্যন্ত।

আর দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে আল্লাহ বিবাহকে সর্বোচ্চ চারটিতে সীমাবদ্ধ করেছেন,

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহজাব, আয়াত ৭৩।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৯।

(৩) সূরা আন-নিসা, আয়াত ৭।

(৪) সূরা আন-নিসা, আয়াত ১১।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ১০)
بشرط القيام بالعدل المستطاع بين الزوجات، وأوجب معاشرتهن بالمعروف، فقال سبحانه: {وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ} [النساء: 19] (1) وجعل الصداق حقا لها، وأمر بإعطائها إياه كاملا إلا ما سمحت به عن طيب نفس، فقال: {وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَرِيئًا} [النساء: 4] (2) وجعلها الله راعية آمرة ناهية في بيت زوجها أميرة على أولادها، قال صلى الله عليه وسلم: «المرأة راعية في بيت زوجها، ومسئولة عن رعيتها» ، وأوجب على الزوج نفقتها وكسوتها بالمعروف.

 

‌‌[ما يريده أعداء الإسلام للمرأة]

3 - ما يريده أعداء الإسلام وأفراخهم اليوم من سلب المرأة كرامته وانتزاع حقوقها: إن أعداء الإسلام - بل أعداء الإنسانية اليوم من الكفار والمنافقين والذين في قلوبهم مرض - غاظهم ما نالته المرأة المسلمة من كرامة وعزة وصيانة في الإسلام؛ لأن أعداء الإسلام من الكفار والمنافقين يريدون أن تكون المرأة أداة تدمير، وحبالة يصطادون بها ضعاف الإيمان وأصحاب الغرائز الجانحة، بعد أن يشبعوا منها شهواتهم المسعورة، كما قال تعالى: {وَيُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الشَّهَوَاتِ أَنْ تَمِيلُوا مَيْلًا عَظِيمًا} [النساء: 27]

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، الآية 19.

(2) سورة النساء، الآية 4.
স্ত্রীদের মধ্যে সাধ্যানুযায়ী ন্যায়বিচার করার শর্তে এবং তিনি তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন করা আবশ্যক করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো} [আন-নিসা: ১৯] (১) আর তিনি মোহরকে নারীর জন্য একটি অধিকার সাব্যস্ত করেছেন এবং তা পূর্ণরূপে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন, যদি না নারী নিজ সন্তুষ্টিতে কিছু অংশ ছাড় দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা স্ত্রীদের তাদের মোহর সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করো। অতঃপর যদি তারা নিজ খুশি থেকে তার কিছু অংশ তোমাদের ছেড়ে দেয়, তবে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে ও তৃপ্তিসহকারে ভোগ করো} [আন-নিসা: ৪] (২) আর আল্লাহ নারীকে তার স্বামীর ঘরে একজন তত্ত্বাবধায়িকা, আদেশদাত্রী ও নিষেধকারিণী এবং তার সন্তানদের ওপর কর্ত্রী নিযুক্ত করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নারী তার স্বামীর ঘরের তত্ত্বাবধায়িকা এবং সে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।” এছাড়া তিনি স্বামীর ওপর স্ত্রীর ভরণপোষণ ও পোশাক-আশাক সদ্ভাবে প্রদান করা আবশ্যক করেছেন।

 

‌‌[নারীর জন্য ইসলামের শত্রুরা যা চায়]

৩ - বর্তমান যুগে ইসলামের শত্রুরা এবং তাদের অনুসারীরা নারীর মর্যাদা হরণ ও তার অধিকার ছিনিয়ে নিতে যা চায়: ইসলামের শত্রু—বরং মানবতার শত্রু কাফির ও মুনাফিক এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে—তারা ইসলামে মুসলিম নারীর অর্জিত সম্মান, মর্যাদা ও সুরক্ষায় ঈর্ষান্বিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। কারণ কাফির ও মুনাফিক ইসলামের শত্রুরা চায় যে, নারী যেন একটি ধ্বংসাত্মক হাতিয়ার এবং একটি ফাঁদ হয় যার মাধ্যমে তারা তাদের উন্মত্ত লালসা মেটানোর পর দুর্বল ঈমানদার ও বিপথগামী প্রবৃত্তি সম্পন্ন ব্যক্তিদের শিকার করতে পারে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তারা চায় যে তোমরা যেন ভীষণভাবে পথচ্যুত হও} [আন-নিসা: ২৭]

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৯।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ১১)
(1) .

والذين في قلوبهم مرض من المسلمين يريدون من المرأة أن تكون سلعة رخيصة في معرض أصحاب الشهوات والنزعات الشيطانية، سلعة مكشوفة أمام أعينهم يتمتعون بجمال منظرها، أو يتوصلون منها إلى ما هو أقبح من ذلك؛ ولذلك حرصوا على أن تخرج من بيتها لتشارك الرجال في أعمالهم جنبا إلى جنب، أو لتخدم الرجال ممرضة في المستشفى، أو مضيفة في الطائرة، أو دارسة أو مدرسة في فصول الدراسة المختلطة، أو ممثلة في المسرح، أو مغنية، أو مذيعة في وسائل الإعلام المختلفة سافرة فاتنة بصوتها وصورتها، واتخذت المجلات الخليعة من دور الفتيات الفاتنات العاريات وسيلة لترويج مجلاتهم وتسويقها، واتخذ بعض التجار وبعض المصانع من هذه الصور أيضا وسيلة لترويج بضائعهم، حيث وضعوا هذه الصور على معروضاتهم ومنتجاتهم، وبسبب هذه الإجراءات الخاطئة تخلت المرأة عن وظيفتها الحقيقية في البيت، مما اضطر أزواجهن إلى جلب الخادمات الأجنبيات لتربية أولادهم، وتنظيم شؤون بيوتهم، مما سبب كثيرا من الفتن، وجلب عظيما من الشرور.

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، الآية 27.
(১) .

আর মুসলমানদের মধ্যে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তারা প্রত্যাশা করে যে নারী প্রবৃত্তি ও শয়তানি প্রবণতার অধিকারীদের প্রদর্শনীতে এক সস্তা পণ্যে পরিণত হোক; তাদের চোখের সামনে এক উন্মুক্ত পণ্য হিসেবে উপস্থাপিত হোক, যাতে তারা তার রূপ-লাবণ্য উপভোগ করতে পারে অথবা এর মাধ্যমে তার চেয়েও জঘন্য কোনো হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে পারে। আর এই লক্ষ্যেই তারা নারীকে তার গৃহ থেকে বের করে আনতে সচেষ্ট হয়েছে, যাতে সে পুরুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করে, অথবা হাসপাতালে সেবিকা হিসেবে পুরুষদের সেবা প্রদান করে, কিংবা বিমানে বিমানবালা হিসেবে, অথবা সহশিক্ষা ভিত্তিক শ্রেণিকক্ষে ছাত্রী বা শিক্ষিকা হিসেবে, অথবা থিয়েটারে অভিনেত্রী, গায়িকা কিংবা বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্বীয় কণ্ঠ ও রূপের মাধ্যমে আবরণহীন ও মোহনীয় অবস্থায় উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করে। অশ্লীল সাময়িকীগুলো মোহনীয় ও বিবস্ত্র তরুণীদের ছবিকে তাদের প্রচার ও বিপণনের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছে। এমনকি কিছু ব্যবসায়ী ও শিল্প-কারখানা মালিকও তাদের পণ্যের প্রসারে এই ছবিগুলোকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে, যেখানে তারা তাদের প্রদর্শিত ও উৎপাদিত পণ্যের ওপর এই ছবিগুলো স্থাপন করেছে। এই সকল ভ্রান্ত পদক্ষেপের কারণে নারী গৃহের প্রকৃত দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়েছে, যা তাদের স্বামীদেরকে সন্তানদের লালন-পালন ও গৃহস্থালির কাজ সামলানোর জন্য বিদেশি পরিচারিকা আনয়নে বাধ্য করেছে; যার ফলে বহু বিশৃঙ্খলা এবং ভয়াবহ অনিষ্টের সূত্রপাত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৭।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌[لا مانع من عمل المرأة خارج بيتها وفق ضوابط شرعية]

4 - إننا لا نمانع من عمل المرأة خارج بيتها إذا كانت بالضوابط الآتية: 1 - أن تحتاج إلى هذا العمل أو يحتاج المجتمع إليه بحيث لا يوجد من يقوم به من الرجال.

2 - أن يكون ذلك بعد قيامها بعمل البيت الذي هو عملها الأساسي.

3 - أن يكون هذا العمل في محيط النساء؛ كتعليم النساء وتطبيب أو تمريض النساء، ويكون منعزلا عن الرجال.

4 - كذلك لا مانع بل يجب على المرأة أن تتعلم أمور دينها، ولا مانع أن تعلم من أمور دينها ما تحتاج إليه، ويكون التعليم في محيط النساء، ولا بأس أن تحضر الدروس في المسجد ونحوه، وتكون متسترة ومنعزلة عن الرجال، على ضوء ما كانت النساء في صدر الإسلام يعملن ويتعلمن ويحضرن إلى المساجد.
‌[শরয়ী নীতিমালার (ضوابط شرعية) আলোকে নারীর ঘরের বাইরে কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই]

৪ - আমরা নারীর ঘরের বাইরে কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা প্রদান করি না, যদি তা নিম্নোক্ত নীতিমালাসমূহের (ضوابط) অধীনে হয়: ১ - নারী যদি এই কাজের মুখাপেক্ষী হয় অথবা সমাজ তার প্রয়োজন বোধ করে, এমন পরিস্থিতিতে যেখানে পুরুষদের মধ্যে এই দায়িত্ব পালন করার মতো কেউ নেই।

২ - এটি হতে হবে তার ঘরের কাজ আঞ্জাম দেওয়ার পর, যা তার মৌলিক দায়িত্ব।

৩ - এই কর্মক্ষেত্রটি নারী পরিবেষ্টিত পরিবেশে হতে হবে; যেমন মহিলাদের শিক্ষাদান এবং মহিলাদের চিকিৎসা প্রদান বা সেবা প্রদান করা, এবং তা পুরুষদের থেকে পৃথক (منعزل) হতে হবে।

৪ - অনুরূপভাবে কোনো বাধা নেই বরং নারীর জন্য তার দ্বীনের বিষয়াবলি শিক্ষা করা আবশ্যক (يجب), এবং তার প্রয়োজনীয় দ্বীনি বিষয়াবলি শিক্ষা করতেও কোনো বাধা নেই। তবে এই শিক্ষা নারী পরিবেষ্টিত পরিবেশে হতে হবে। মসজিদে বা অনুরুপ স্থানে পাঠদান বা আলোচনায় (الدروس) উপস্থিত হওয়াতে কোনো দোষ নেই, যদি সে পর্দানশীন (متسترة) এবং পুরুষদের থেকে পৃথক (منعزلة) থাকে; ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে (صدر الإسلام) নারীরা যেভাবে কাজ করতেন, শিক্ষা অর্জন করতেন এবং মসজিদে উপস্থিত হতেন তার আলোকে।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌[الفصل الثاني في بيان أحكام تختص بالتزين الجسمي للمرأة]

‌‌[يطلب منها أن تفعل من خصال الفطرة ما يختص بها ويليق بها]

الفصل الثاني

في بيان أحكام تختص

بالتزين الجسمي للمرأة 1 - يطلب منها أن تفعل من خصال الفطرة ما يختص بها ويليق بها من قص الأظافر وتعاهدها؛ لأن تقليم الأظافر سنة بإجماع أهل العلم؛ لأنه من خصال الفطرة الواردة في الحديث، ولما في إزالتها من النظافة والحسن، وما في بقائها طويلة من التشويه، والتشبه بالسباع، وتراكم الأوساخ تحتها، ومنع وصول الماء إلى ما تحتها، وبعض المسلمات قد ابتلين بتطويل الأظافر؛ تقليدا للكافرات، وجهلا بالسنة.

ويسن للمرأة إزالة شعر الإبطين والعانة؛ عملا بالحديث الوارد في ذلك، ولما فيه من التجمل، والأحسن أن يكون ذلك كل أسبوع، أو لا يترك أكثر من أربعين يوما.

 

‌‌[ما يطلب منها وما تمنع منه في شعر رأسها وشعر حاجبيها وحكم الخضاب] وصبغ الشعر

2 - ما يطلب منها وما تمنع منه في شعر رأسها وشعر حاجبيها وحكم الخضاب وصبغ الشعر

أ - يطلب من المسلمة توفير شعر رأسها، ويحرم عليها حلقه إلا من ضرورة.
[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নারীর শারীরিক সাজসজ্জা সংক্রান্ত বিশেষ বিধান বর্ণনা প্রসঙ্গে]

[তার নিকট থেকে ফিতরাতের (স্বভাবজাত) এমন কিছু বৈশিষ্ট্য পালন কাম্য যা তার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তার জন্য উপযুক্ত]

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

বিশেষ বিধানসমূহ বর্ণনা প্রসঙ্গে

নারীর শারীরিক সাজসজ্জা সংশ্লিষ্ট ১ - নারীর নিকট থেকে ফিতরাতের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য (خصال الفطرة) সমূহের মধ্য হতে যা তার জন্য নির্দিষ্ট ও উপযুক্ত তা পালন করা কাম্য; যেমন—নখ কাটা এবং তার নিয়মিত যত্ন নেওয়া। কেননা আলেমদের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী নখ কাটা একটি সুন্নাত (سنة); কারণ এটি হাদিসে বর্ণিত ফিতরাতের বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি নখ কাটার মধ্যে রয়েছে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য; আর তা লম্বা রাখার মধ্যে রয়েছে রূপের বিকৃতি, হিংস্র পশুর সাথে সাদৃশ্য, নখের নিচে ময়লা জমা হওয়া এবং নখের তলদেশে পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হওয়া। অথচ কিছু মুসলিম নারী কাফের নারীদের অনুকরণে এবং সুন্নাত (سنة) সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে নখ লম্বা রাখার ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে।

আর বগলের পশম ও নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা নারীর জন্য সুন্নাত (يسن); এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসের ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে এবং এতে সৌন্দর্য নিহিত থাকার কারণে। উত্তম হলো এটি প্রতি সপ্তাহে করা, অথবা চল্লিশ দিনের বেশি পরিষ্কার না করে ফেলে না রাখা।

 

[মাথার চুল ও ভ্রুর ক্ষেত্রে তার জন্য যা কাম্য ও যা নিষিদ্ধ এবং খেজাব ব্যবহারের বিধান] ও চুল রাঙানো

২ - মাথার চুল ও ভ্রুর ক্ষেত্রে তার জন্য যা কাম্য ও যা নিষিদ্ধ এবং খেজাব ব্যবহারের বিধান ও চুল রাঙানো

ক - একজন মুসলিম নারীর জন্য মাথার চুল পর্যাপ্ত রাখা কাম্য, এবং বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত তা মুণ্ডন করা তার জন্য হারাম (يحرم)।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ১৪)
قال الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ مفتي الديار السعودية رحمه الله: وأما شعر رؤوس النساء فلا يجوز حلقه؛ لما رواه النسائي في سننه بسنده عن علي رضي الله عنه، ورواه البزار بسنده في مسنده عن عثمان رضي الله عنه، ورواه ابن جرير بسنده عن عكرمة رضي الله عنه، قالوا: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تحلق المرأة رأسها» ، والنهي إذا جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم فإنه يقتضي التحريم ما لم يرد له معارض.

قال ملا علي قاري في [المرقاة شرح المشكاة] : قوله: أن تحلق المرأة رأسها؛ وذلك لأن الذوائب للنساء كاللحى للرجال في الهيئة والجمال. . انتهى (1) .

وأما قص شعر رأسها فإن كان لحاجة غير الزينة؛ كأن تعجز عن مؤنته، أو يطول كثيرا ويشق عليها فلا بأس بقصه بقدر الحاجة، كما كان بعض أزواج النبي صلى الله عليه وسلم يفعلنه بعد وفاته، لتركهن التزين بعد وفاته واستغنائهن عن تطويل الشعر.

وأما إن كان قصد المرأة من قص شعرها هو التشبه بالكافرات والفاسقات، أو التشبه بالرجال فهذا محرم بلا شك؛ للنهي عن التشبه بالكفار عموما، وعن تشبه المرأة بالرجال، وإن كان القصد

--------------------------------------------

(1) [مجموع فتاوى الشيخ محمد بن إبراهيم] (2 / 49) .
সৌদি আরবের মুফতি শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল আল-শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: নারীদের মাথার চুল মুণ্ডন করা বৈধ নয়; কারণ নাসায়ী তাঁর সুনান গ্রন্থে স্বীয় সনদ (سند) সহকারে আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, বাজ্জার তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে স্বীয় সনদ (سند) সহকারে উসমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে জারীর স্বীয় সনদ (سند) সহকারে ইকরিমা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারীকে তার মাথা মুণ্ডন করতে নিষেধ করেছেন», আর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যখন কোনো নিষেধাজ্ঞা (النهي) আসে, তখন তা হারামে (تحريم) রূপ নেয়, যতক্ষণ না এর বিপরীতে কোনো দলিল পাওয়া যায়।

মোল্লা আলী কারী [মিরকাত শরহুল মিশকাত] গ্রন্থে বলেছেন: তাঁর কথা: "নারী তার মাথা মুণ্ডন করবে"; এর কারণ হলো নারীদের বেণী পুরুষদের দাড়ির মতো অবয়ব ও সৌন্দর্যের প্রতীক। সমাপ্ত (১)।

আর মাথার চুল ছোট করার ক্ষেত্রে যদি তা সৌন্দর্য বর্ধন ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজনে হয়; যেমন—চুলের রক্ষণাবেক্ষণে অসমর্থ হওয়া, অথবা চুল অনেক লম্বা হয়ে যাওয়া যা তার জন্য কষ্টদায়ক হয়, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী তা কাটলে কোনো অসুবিধা নেই। যেমনটি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর কোনো কোনো স্ত্রী করতেন; কারণ তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁরা সাজসজ্জা ত্যাগ করেছিলেন এবং চুল লম্বা রাখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি।

কিন্তু যদি নারীর চুল কাটার উদ্দেশ্য হয় কাফির (كافرات) ও পাপাচারী (فاسقات) নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা অথবা পুরুষদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা, তবে এটি নিঃসন্দেহে হারাম (محرم); কারণ সাধারণভাবে কাফিরদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা এবং নারীদের পুরুষদের সাদৃশ্য গ্রহণ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা (النهي) রয়েছে। আর যদি উদ্দেশ্য হয়...

--------------------------------------------

(১) [মাজমুউ ফাতাওয়া শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম] (২ / ৪৯)।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ১৫)
منه التزين فالذي يظهر أنه لا يجوز.

قال شيخنا الشيخ محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله في [أضواء البيان] : (إن العرف الذي صار جاريا في كثير من البلاد بقطع المرأة شعر رأسها إلى قرب أصوله سنة إفرنجية مخالفة لما كان عليه نساء المسلمين ونساء العرب قبل الإسلام، فهو من جملة الانحرافات التي عمت البلوى بها في الدين والخلق والسمت وغير ذلك) ، ثم أجاب عن حديث: «أن أزواج النبي صلى الله عليه وسلم يأخذن من رؤوسهن حنى تكون كالوفرة» : بأن أزواج النبي صلى الله عليه وسلم إنما قصرن رؤوسهن بعد وفاته صلى الله عليه وسلم؛ لأنهن كن يتجملن في حياته، ومن أجمل زينتهن شعورهن، أما بعد وفاته صلى الله عليه وسلم فلهن حكم خاص بهن لا تشاركهن فيه امرأة واحدة من نساء جميع أهل الأرض، وهو انقطاع أملهن انقطاعا كليا من التزويج، ويأسهن منه اليأس الذي لا يمكن أن يخالطه طمع، فهن كالمعتدات المحبوسات بسببه صلى الله عليه وسلم إلى الموت، قال تعالى: {وَمَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُؤْذُوا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا أَنْ تَنْكِحُوا أَزْوَاجَهُ مِنْ بَعْدِهِ أَبَدًا إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمًا} [الأحزاب: 53] (1) واليأس من الرجال بالكلية قد يكون سببا للترخيص في الإحلال بأشياء من الزينة لا تحل لغير

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب، الآية 53.
এটি সাজসজ্জার অন্তর্ভুক্ত, তাই যা প্রতীয়মান হয় তা হলো এটি বৈধ নয়।

আমাদের শায়খ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকীতি (রহিমাহুল্লাহ) [আদওয়াউল বায়ান]-এ বলেছেন: (বর্তমান অনেক দেশে নারীদের মাথার চুল গোড়ার কাছাকাছি পর্যন্ত কেটে ফেলার যে প্রথা প্রচলিত হয়েছে, তা একটি ইউরোপীয় রীতিনীতি যা মুসলিম নারী এবং ইসলাম-পূর্ব আরব নারীদের রীতির পরিপন্থী। সুতরাং এটি মূলত দ্বীন, চরিত্র, চালচলন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়া সেই সব বিচ্যুতির অংশ যা সর্বজনীন বিপর্যয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে)। অতঃপর তিনি এই হাদিসটির উত্তর দিয়েছেন যে: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণীগণ তাঁদের মাথার চুল এমনভাবে ছোট করতেন যে তা কানের লতি পর্যন্ত দীর্ঘ হতো»: মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নীগণ তাঁর ইন্তেকালের পরেই কেবল চুল ছোট করেছিলেন; কারণ তাঁর জীবদ্দশায় তাঁরা তাঁর জন্য রূপচর্চা করতেন এবং তাঁদের অন্যতম প্রধান সৌন্দর্য ছিল তাঁদের চুল। কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁদের জন্য এমন এক বিশেষ বিধান সাব্যস্ত হয়েছে যাতে পৃথিবীর অন্য কোনো নারী তাঁদের অংশীদার নন। আর তা হলো—পুনরায় বিবাহের সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে রহিত হওয়া এবং এ ব্যাপারে এমন এক চূড়ান্ত নিরাশা যাতে কোনো প্রকার লালসার উদ্রেক হওয়ার অবকাশ নেই। ফলে তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কারণে মৃত্যু পর্যন্ত ইদ্দতপালনকারী ও আবদ্ধ নারীদের ন্যায় ছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেওয়া এবং তাঁর পরে তাঁর পত্নীদের বিবাহ করা কখনোই সংগত নয়। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট এটি এক গুরুতর বিষয়।} [আল-আহযাব: ৫৩] (১) আর পুরুষদের থেকে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ হওয়া এমন কিছু সাজসজ্জার ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়ার কারণ হতে পারে যা অন্যদের জন্য বৈধ নয়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৫৩।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ১৬)
ذلك السبب. انتهى (1) .

فعلى المرأة أن تحتفظ بشعر رأسها وتعتني به وتجعله ضفائر، ولا يجوز لها جمعه فوق الرأس أو من ناحية القفا.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية في [مجموع الفتاوى] (22 / 145) : كما يقصد بعض البغايا أن تضفر شعرها ضفيرا واحدا مسدولا بين الكتفين.

وقال الشيخ محمد بن إبراهيم مفتي الديار السعودية رحمه الله: وأما ما يفعله بعض نساء المسلمين في هذا الزمن من فرق الرأس من جانب وجمعه من ناحية القفا أو جعله فوق الرأس كما تفعله نساء الإفرنج فهذا لا يجوز، لما فيه من التشبه بنساء الكفار، وعن أبي هريرة رضي الله عنه في حديث طويل قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «صنفان من أهل النار لم أرهما: قوم معهم سياط كأذناب البقر يضربون بها الناس، ونساء كاسيات عاريات، مائلات مميلات، رؤوسهن كأسنمة البخت المائلة، لا يدخلن الجنة، ولا يجدن ريحها، وإن ريحها ليوجد من مسيرة كذا وكذا» (2) وقد فسر بعض العلماء قوله: مائلات مميلات بأنهن يتمشطن المشطة

--------------------------------------------

(1) [أضواء البيان] (5 / 598 - 601) ، ولا يجوز لها أن تطيع زوجها إذا أمرها بذلك؛ لأنه لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق.

(2) رواه مسلم.
সেই কারণ। সমাপ্ত (১)।

সুতরাং নারীর কর্তব্য হলো তার মাথার চুল সংরক্ষণ করা, এর যত্ন নেওয়া এবং তা বেণী আকারে রাখা; তার জন্য মাথার উপরে বা ঘাড়ের পেছনের দিকে চুল খোঁপা করে রাখা জায়েজ নয়।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ [মাজমুউল ফাতাওয়া] (২২ / ১৪৫) গ্রন্থে বলেছেন: "যেমন কিছু ব্যভিচারী নারী তাদের চুলকে একটি বেণী করে দুই কাঁধের মাঝখানে ঝুলিয়ে রাখার উদ্দেশ্য পোষণ করে।"

সৌদি আরবের মুফতি শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম (রহ.) বলেছেন: "আর বর্তমান সময়ে কিছু মুসলিম নারী মাথার এক পাশ থেকে সিঁথি করা এবং ঘাড়ের পেছনে চুল জমা করা অথবা মাথার ওপর তা স্তূপ করে রাখা—যেমনটা পশ্চিমা নারীরা করে থাকে—তা জায়েজ নয়। কারণ এতে কাফির নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বনের (تشبه) বিষয়টি বিদ্যমান। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «জাহান্নামবাসীদের এমন দুটি দল রয়েছে যাদের আমি দেখিনি: একদল লোক যাদের কাছে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে যা দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করবে। আর এমন নারী যারা পোশাক পরিহিতা হওয়া সত্ত্বেও উলঙ্গ, যারা অন্যদের আকৃষ্টকারিনী এবং নিজেরাও বিচ্যুত (مائلات مميلات), তাদের মাথা হবে বখতি (এক প্রকার বড়) উটের হেলে পড়া কুঁজের মতো। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না, অথচ তার সুঘ্রাণ এত এত দূরত্বের পথ থেকেও পাওয়া যায়» (২)। কোনো কোনো আলেম তাঁর বাণী: বিচ্যুত ও বিচ্যুতিদানকারী (مائلات مميلات)-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, তারা বিশেষ ঢঙে চুল আঁচড়ায়—"

--------------------------------------------

(১) [আদওয়াউল বায়ান] (৫ / ৫৯৮ - ৬০১)। স্বামী তাকে এর নির্দেশ দিলেও তার আনুগত্য করা জায়েজ নয়; কারণ স্রষ্টার নাফরমানিতে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য বৈধ নয়।

(২) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ১৭)
الميلاء، وهي مشطة البغايا، ويمشطن غيرهن تلك المشطة، وهذه مشطة نساء الإفرنج ومن يحذو حذوهن من نساء المسلمين (1) .

وكما تمنع المرأة المسلمة من حلق شعر رأسها، أو قصه من غير حاجة؛ فإنها تمنع من وصله والزيادة عليه بشعر آخر؛ لما في الصحيحين: «لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم الواصلة والمستوصلة» ، والواصلة هي التي تصل شعرها بشعر غيرها، والمستوصلة هي التي يعمل بها ذلك؛ لما في ذلك من التزوير، ومن الوصل المحرم لبس الباروكة المعروفة في هذا الزمان، روى البخاري ومسلم وغيرهما أن معاوية رضي الله عنه خطب لما قدم المدينة وأخرج كبة من شعر، أو قصة من شعر، فقال: ما بال نسائكم يجعلن في رؤوسهن مثل هذا؟ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ما من امرأة تجعل في رأسها شعرا من شعر غيرها إلا كان زورا» ، والباروكة: شعر صناعي يشبه شعر الرأس، وفي لبسها تزوير.

ب - ويحرم على المرأة المسلمة إزالة شعر الحاجبين أو إزالة بعضه بأي وسيلة من الحلق أو القص، أو استعمال المادة المزيلة

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى الشيخ، (2 / 47) ، وانظر [الإيضاح والتبيين] للشيخ حمود التويجري، ص 85.
আল-মিলা হলো ব্যভিচারিণীদের কেশবিন্যাস পদ্ধতি; তারা অন্য নারীদেরও এভাবে চুল আঁচড়ে দিত। এটি মূলত পাশ্চাত্য নারীদের কেশবিন্যাস এবং মুসলিম নারীদের মধ্যে যারা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাদের অনুকরণ মাত্র (১)।

অনুরূপভাবে মুসলিম নারীর জন্য তার মাথার চুল মুণ্ডন করা অথবা প্রয়োজন ছাড়া তা ছোট করা নিষিদ্ধ; তদ্রূপ অন্য কোনো চুল এর সাথে সংযোজন করা বা বৃদ্ধি করাও নিষিদ্ধ। কেননা সহীহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ দিয়েছেন সেই নারীর ওপর যে চুল সংযোজন করে (الواصلة) এবং যার চুলে তা সংযোজন করা হয় (المستوصلة)।” ‘ওয়াসিলাহ’ (الواصلة) হলো সেই নারী যে নিজের চুলের সাথে অন্যের চুল সংযুক্ত করে এবং ‘মুস্তাওসিলাহ’ (المستوصلة) হলো যার চুলে তা করা হয়; কারণ এতে জালিয়াতি বা প্রতারণা নিহিত রয়েছে। এই নিষিদ্ধ সংযোগের (الوصل المحرم) অন্তর্ভুক্ত হলো বর্তমান সময়ে পরিচিত পরচুলা (উইগ) পরিধান করা। বুখারী, মুসলিম এবং অন্যান্যগণ বর্ণনা করেছেন যে, মুয়াবিয়া (রা.) যখন মদিনায় আসলেন, তখন তিনি ভাষণ দানকালে এক গুচ্ছ চুল বের করে বললেন: “তোমাদের নারীদের কী হয়েছে যে তারা তাদের মাথায় এই ধরণের বস্তু ব্যবহার করছে? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ‘এমন কোনো নারী নেই যে তার মাথায় অন্য কোনো চুল স্থাপন করে, যা প্রতারণা (زورا) ছাড়া আর কিছুই নয়’।” পরচুলা হলো মাথার চুলের সদৃশ কৃত্রিম চুল, যা পরিধান করা প্রতারণার শামিল।

খ - মুসলিম নারীর জন্য ভ্রুর পশম উপড়ে ফেলা বা মুণ্ডন, কর্তন অথবা লোমনাশক কোনো দ্রব্য ব্যবহারের মাধ্যমে এর কোনো অংশ অপসারণ করা হারাম (حرام)।

--------------------------------------------

(১) মাজমু ফাতাওয়া আশ-শাইখ, (২ / ৪৭), এবং দেখুন শাইখ হামুদ আত-তুয়াইজিরির [আল-ইদাহ ওয়াত তিবইয়ান], পৃষ্ঠা ৮৫।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ১৮)
له أو لبعضه؛ لأن هذا هو النمص الذي لعن النبي صلى الله عليه وسلم من فعلته فقد «لعن صلى الله عليه وسلم النامصة والمتنمصة» ، والنامصة هي التي تزيل شعر حاجبيها أو بعضه للزينة في زعمها، والمتنمصة التي يفعل بها ذلك، وهذا من تغيير خلق الله الذي تعهد الشيطان أن يأمر به بني آدم، حيث قال كما حكاه الله عنه: {وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ} [النساء: 119] (1) وفي الصحيح عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: «لعن الله الواشمات والمستوشمات والنامصات والمتنمصات والمتفلجات للحسن، المغيرات خلق الله عز وجل» ، ثم قال: ألا ألعن من لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في كتاب الله عز وجل، يعني قوله: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] (2) .

ذكر ذلك ابن كثير في [تفسيره] (2 / 359) طبعة دار الأندلس.

وقد ابتلي بهذه الآفة الخطيرة التي هي كبيرة من كبائر الذنوب كثير من النساء اليوم، حتى أصبح النمص كأنه من الضروريات اليومية، ولا يجوز لها أن تطيع زوجها إذا أمرها بذلك؛ لأنه معصية.

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، الآية 119.

(2) سورة الحشر، الآية 7.
এর সম্পূর্ণ অংশ বা এর কিছু অংশের ক্ষেত্রে (এই বিধান প্রযোজ্য); কারণ এটিই হলো সেই ভ্রু উপড়ানো (النمص) যার কারণে নবী (সা.) এ কাজ সম্পাদনকারিণীকে লানত করেছেন। কেননা নবী (সা.) ‘ভ্রু উপড়ানকারিণী’ (النامصة) এবং ‘যার ভ্রু উপড়ানো হয়’ (المتنمصة)-কে লানত করেছেন। ‘নামিসাহ’ (النامصة) হলো সেই নারী যে নিজের ধারণামতে সৌন্দর্যের জন্য তার ভ্রুর লোম বা তার অংশবিশেষ অপসারণ করে, আর ‘মুতানাম্মিসাহ’ (المتنمصة) হলো সেই নারী যাকে দিয়ে এই কাজটি করানো হয়। এটি আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করার অন্তর্ভুক্ত, যে বিষয়ে শয়তান বনী আদমকে নির্দেশ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল; যেমনটি আল্লাহ তার কথা বর্ণনা করেছেন: {আর আমি অবশ্যই তাদের নির্দেশ দেব, ফলে তারা অবশ্যই আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করবে} [সুরা আন-নিসা: ১১৯] (১)। আর সহিহ (الصحيح) গ্রন্থে ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ লানত করেছেন উল্কি অঙ্কনকারিণীদের (الواشمات), উল্কি গ্রহণকারিণীদের (المستوشمات), ভ্রু উপড়ানকারিণীদের (النامصات), যাদের ভ্রু উপড়ানো হয় (المتنمصات) এবং সৌন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টিকারিণীদের (المتفلجات); যারা আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে।" অতঃপর তিনি বললেন: "আমি কেন তাকে লানত করব না যাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) লানত করেছেন এবং যা আল্লাহর কিতাবেও বিদ্যমান?" অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: {আর রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [সুরা আল-হাশর: ৭] (২) ।

ইবনে কাসির তাঁর তাফসির গ্রন্থে (২ / ৩৫৯, দারুল আন্দালুস সংস্করণ) এটি উল্লেখ করেছেন।

বর্তমান সময়ের অনেক নারী এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন যা কবিরা গুনাহের (كبيرة من كبائر الذنوب) অন্তর্ভুক্ত। এমনকি ভ্রু উপড়ানো (النمص) যেন বর্তমানে প্রাত্যহিক প্রয়োজনীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আর স্বামীর এই জাতীয় নির্দেশের ক্ষেত্রে তার আনুগত্য করা স্ত্রীর জন্য বৈধ নয়; কারণ এটি একটি পাপাচার (معصية)।

--------------------------------------------

(১) সুরা আন-নিসা, আয়াত ১১৯।

(২) সুরা আল-হাশর, আয়াত ৭।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ১৯)
ج - ويحرم على المرأة المسلمة تفليج أسنانها للحسن بأن تبردها بالمبرد حتى تحدث بينها فرجا يسيرة رغبة في التحسين، أما إذا كانت الأسنان فيها تشويه وتحتاج إلى عملية تعديل لإزالة هذا التشويه، أو فيها تسوس واحتاجت إلى إصلاحها من أجل إزالة ذلك فلا بأس؛ لأن هذا من باب العلاج وإزالة التشويه، ويكون ذلك على يد طبيبة مختصة.

د - ويحرم على المرأة عمل الوشم في جسمها؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم لعن الواشمة والمستوشمة، والواشمة هي التي تغرز اليد أو الوجه بالإبر، ثم تحشو ذلك المكان بالكحل أو المداد، والمستوشمة هي التي يفعل بها ذلك، وهذا عمل محرم وكبيرة من كبائر الذنوب؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم لعن من فعلته أو فعل بها، واللعن لا يكون إلا على كبيرة من الكبائر.

هـ - حكم الخضاب للنساء وصبغ الشعر والتحلي بالذهب:

1 - الخضاب: قال الإمام النووي في [المجموع] (1 / 324) : أما خضاب اليدين والرجلين بالحناء فمستحب للمتزوجة من النساء؛ للأحاديث المشهورة فيه. . انتهى، يشير إلى ما رواه أبو داود: «أن امرأة سألت عائشة رضي الله عنها عن خضاب الحناء، فقالت: لا بأس به، ولكني أكرهه، كان حبيبي رسول الله صلى الله عليه وسلم يكره ريحه» ، ورواه النسائي، وعنها رضي الله عنها قالت: «أومأت امرأة
গ - মুসলিম নারীর জন্য সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে দাঁতের মাঝে ফাঁকা করা হারাম (محرم), যা রেত দিয়ে ঘষে দাঁতগুলোর মাঝে সামান্য ফাঁক সৃষ্টি করার মাধ্যমে করা হয়। তবে যদি দাঁতে কোনো বিকৃতি থাকে এবং সেই বিকৃতি দূর করার জন্য সংশোধনীমূলক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়, অথবা দাঁতে ক্ষয় থাকে এবং তা দূর করার জন্য সংস্কারের প্রয়োজন হয়, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ এটি চিকিৎসা এবং বিকৃতি দূরীকরণের অন্তর্ভুক্ত, আর এটি একজন বিশেষজ্ঞ মহিলা চিকিৎসকের মাধ্যমে হতে হবে।

ঘ - নারীর জন্য শরীরে উল্কি অঙ্কন করা হারাম (محرم); কারণ নবী (সা.) উল্কি অংকনকারিণী এবং যে উল্কি গ্রহণ করে—উভয়কেই অভিশাপ দিয়েছেন। উল্কি অংকনকারিণী হলো সে, যে হাতে বা মুখে সুঁই বিদ্ধ করে সেই স্থানে সুরমা বা কালি দিয়ে পূর্ণ করে দেয়, আর যে উল্কি গ্রহণ করে সে হলো যার ওপর এই কাজটি করা হয়। এটি একটি নিষিদ্ধ কাজ এবং কবিরা গুনাহর (كبيرة من الكبائر) অন্তর্ভুক্ত; কারণ নবী (সা.) তাকে অভিশাপ দিয়েছেন যে এটি করে অথবা যার ওপর এটি করা হয়। আর অভিশাপ কেবল কবিরা গুনাহর (كبيرة من الكبائر) ওপরই হয়ে থাকে।

ঙ - নারীদের জন্য খেজাব ব্যবহার, চুল রাঙানো এবং স্বর্ণালঙ্কার পরিধানের বিধান:

১ - খেজাব: ইমাম নববী আল-মাজমু (১/৩২৪) গ্রন্থে বলেছেন: হাত ও পায়ে মেহেদি দিয়ে খেজাব লাগানো বিবাহিত নারীদের জন্য মুস্তাহাব (مستحب); এ বিষয়ে বর্ণিত প্রসিদ্ধ (مشهورة) হাদিসসমূহের কারণে। [উদ্ধৃতি সমাপ্ত]। তিনি আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যেখানে বলা হয়েছে: "এক নারী আয়েশা (রা.)-কে মেহেদির খেজাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এতে কোনো সমস্যা নেই, তবে আমি এটি অপছন্দ করি; আমার প্রিয়তম রাসুলুল্লাহ (সা.) এর ঘ্রাণ অপছন্দ করতেন।" এটি নাসায়িও বর্ণনা করেছেন। তাঁর (আয়েশা রা.) থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক নারী ইঙ্গিত করল..."
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ২০)
من وراء ستر - بيدها كتاب - إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقبض النبي صلى الله عليه وسلم يده وقال: ما أدري أيد رجل أم يد امرأة؟ قالت: بل يد امرأة: قال: لو كنت امرأة لغيرت أظفارك - يعني: بالحناء» -[أخرجه أبو داود والنسائي] ، لكن لا تصبغ أظفارها بما يتجمد عليها ويمنع الطهارة (1) .

2 - وأما صبغ المرأة شعر رأسها: فإن كان شيبا فإنها تصبغه بغير السواد؛ لعموم نهيه صلى الله عليه وسلم عن الصبغ بالسواد.

قال الإمام النووي في [رياض الصالحين] صفحة 626، باب (نهي الرجل والمرأة عن خضاب شعرهما بالسواد) ، وقال في [المجموع] (1 / 324) : ولا فرق في المنع من الخضاب بالسواد بين الرجل والمرأة، هذا مذهبنا. . انتهى.

وأما صبغ المرأة لشعر رأسها الأسود؛ ليتحول إلى لون آخر، فالذي أرى أن هذا لا يجوز؛ لأنه لا داعي إليه؛ لأن السواد بالنسبة للشعر جمال وليس تشويها يحتاج إلى تغيير، ولأن في ذلك تشبها بالكافرات.

3 - ويباح للمرأة أن تتحلى من الذهب والفضة بما جرت به العادة، وهذا بإجماع العلماء، لكن لا يجوز لها أن تظهر حليها

--------------------------------------------

(1) كالصبغة المسماة بالمناكير.
পর্দার আড়াল থেকে - তাঁর হাতে একটি কিতাব (চিঠি) ছিল - আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর দিকে (বাড়িয়ে দিলেন), তখন নবী (সা.) তাঁর হাত গুটিয়ে নিলেন এবং বললেন: "আমি জানি না এটি কি কোনো পুরুষের হাত নাকি কোনো মহিলার হাত?" তিনি (মহিলা) বললেন: "বরং এটি এক মহিলার হাত।" তিনি বললেন: "তুমি যদি মহিলা হতে তবে তোমার নখ পরিবর্তন করতে - অর্থাৎ: মেহেদী দিয়ে।" - [আবু দাউদ ও নাসাঈ এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন], তবে সে তার নখ এমন কিছু দিয়ে রাঙাবে না যা নখের উপর জমে যায় এবং পবিত্রতা অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে (১) ।

২ - আর মহিলাদের মাথার চুল রাঙানোর বিষয়টি হলো: যদি তা পাকা চুল হয়, তবে তিনি তা কালো রঙ ছাড়া অন্য রঙ দিয়ে রাঙাবেন; কালো রঙ দিয়ে রাঙানোর ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাধারণ নিষেধাজ্ঞার কারণে।

ইমাম নববী [রিয়াদুস সালেহীন] গ্রন্থের ৬২৬ পৃষ্ঠায়, (পুরুষ ও মহিলার চুলে কালো খেজাব ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা) অনুচ্ছেদে আলোচনা করেছেন এবং তিনি [আল-মাজমু] (১/৩২৪) গ্রন্থে বলেছেন: "কালো খেজাব ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, এটিই আমাদের মাযহাব।" সমাপ্ত।

আর মহিলাদের মাথার কালো চুলকে অন্য রঙে রূপান্তরিত করার জন্য রাঙানোর বিষয়ে আমি মনে করি যে, এটি বৈধ নয়; কারণ এর কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা চুলের ক্ষেত্রে কালো রঙ একটি সৌন্দর্য, এটি কোনো বিকৃতি নয় যে তা পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে, আর কারণ এতে কাফের মহিলাদের সদৃশ হওয়ার বিষয়টি রয়েছে।

৩ - প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সোনা ও রুপার অলংকার পরিধান করা মহিলাদের জন্য বৈধ (مباح); আর এটি আলেমগণের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী সাব্যস্ত। কিন্তু তার জন্য তার অলংকার প্রদর্শন করা বৈধ নয়।

--------------------------------------------

(১) যেমন তথাকথিত নেইলপলিশ নামক রঙ।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ২১)
للرجال غير المحارم، بل تستره، خصوصا عند الخروج من البيت والتعرض لنظر الرجال إليها؛ لأن ذلك فتنة، وقد نهيت أن تسمع الرجال صوت حليها الذي في رجلها تحت الثياب (1) فكيف بالحلي الظاهر؟

--------------------------------------------

(1) قال تعالى: وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ [النور: 31] .
গায়রে মাহরাম (غير المحارم) পুরুষদের জন্য নয়, বরং সে তা আবৃত রাখবে, বিশেষ করে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এবং পুরুষদের দৃষ্টির সম্মুখীন হওয়ার ক্ষেত্রে; কারণ তা ফিতনা (فتنة)। তাকে তার পায়ের সেই অলঙ্কারের শব্দ পুরুষদের শোনাতে নিষেধ করা হয়েছে যা পোশাকের নিচে থাকে (১); এমতাবস্থায় প্রকাশ্য অলঙ্কারের (الحلي الظاهر) বিষয়টি কেমন হবে?

--------------------------------------------

(১) আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর তারা যেন তাদের পদচারণা এমনভাবে না করে যাতে তাদের গোপন করা সাজসজ্জা প্রকাশ পেয়ে যায়।” [আন-নূর: ৩১] ।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌[الفصل الثالث أحكام تختص بالحيض والاستحاضة والنفاس]

‌‌[أولا الحيض]

‌‌[تعريف الحيض]

الفصل الثالث

أحكام تختص بالحيض

والاستحاضة والنفاس أولا: الحيض 1 - تعريف الحيض الحيض في اللغة هو السيلان، والحيض شرعا: دم يخرج من قعر رحم المرأة في أوقات معلومة من غير مرض ولا إصابة، وإنما هو شيء جبل الله عليه بنات آدم، خلقه الله في الرحم لتغذية الولد في الرحم وقت الحمل، ثم يتحول لبنا بعد ولادته، فإذا لم تكن المرأة حاملا ولا مرضعا بقي هذا الدم لا مصرف له، فيخرج في أوقات معلومة، تعرف بالعادة أو الدورة الشهرية.

 

‌‌[سن الحيض]

2 - سن الحيض: السن الذي تحيض فيه المرأة: غالبا أقل سن تحيض فيه المرأة تسع سنين إلى خمسين سنة، قال تعالى: {وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ} [الطلاق: 4] (1) فاللائي يئسن: من بلغن خمسين سنة، واللائي لم

--------------------------------------------

(1) سورة الطلاق، الآية 4.
‌[তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হায়েজ (حيض), ইস্তিহাজা (استحاضة) ও নেফাস (نفاس) সংক্রান্ত বিধিবিধান]

‌‌[প্রথমত: হায়েজ (حيض)]

‌‌[হায়েজের সংজ্ঞা]

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

হায়েজ (حيض), ইস্তিহাজা (استحاضة) ও নেফাস (نفاس) সংক্রান্ত বিধিবিধান

প্রথমত: হায়েজ (حيض) ১ - হায়েজের সংজ্ঞা: শাব্দিক অর্থে হায়েজ (حيض) হলো প্রবহমানতা। আর শরিয়তের পরিভাষায় হায়েজ (حيض) হলো: এমন রক্ত যা কোনো রোগ বা আঘাত ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ে নারীর জরায়ুর গভীর থেকে নির্গত হয়। এটি মূলত এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ তাআলা আদম-কন্যাদের স্বভাবজাত করে দিয়েছেন। গর্ভাবস্থায় জরায়ুতে সন্তানের পুষ্টির জন্য আল্লাহ তাআলা এটি সৃষ্টি করেছেন, যা সন্তান জন্মের পর দুধে রূপান্তরিত হয়। অতএব, নারী যখন গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী হয় না, তখন এই রক্তের কোনো ব্যবহার থাকে না; ফলে তা নির্দিষ্ট সময়ে নির্গত হয়, যা অভ্যাস বা মাসিক চক্র হিসেবে পরিচিত।

 

‌‌[হায়েজের বয়স]

২ - হায়েজের বয়স: যে বয়সে নারীর হায়েজ (حيض) হয়: সাধারণত নারীর হায়েজ শুরু হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স নয় বছর থেকে পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ঋতুস্রাব থেকে নিরাশ হয়েছে, যদি তোমরা সংশয়ে থাকো, তবে তাদের ইদ্দত (عدة) হবে তিন মাস এবং যারা এখনো ঋতুবতী হয়নি তাদেরও।} [সূরা আত-তালাক: ৪] (১) সুতরাং যারা নিরাশ হয়েছে: অর্থাৎ যারা পঞ্চাশ বছর বয়সে পৌঁছেছে, আর যারা এখনো

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তালাক, আয়াত ৪।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ২৩)
يحضن: هن الصغار دون التسع.

 

‌‌[أحكام الحائض]

‌‌[يحرم في حال الحيض وطؤها في الفرج]

3 - أحكام الحائض: أ - يحرم في حال الحيض وطؤها في الفرج؛ لقوله تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ} [البقرة: 222] (1) ويستمر هذا التحريم إلى أن ينقطع عنها خروج دم الحيض وتغتسل منه؛ لقوله تعالى: {وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ} [البقرة: 222] ويباح لزوج الحائض أن يستمتع منها بما دون الجماع في الفرج؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: «اصنعوا كل شيء إلا النكاح» (2) .

 

‌‌[تترك الحائض الصوم والصلاة في مدة حيضها]

ب - تترك الحائض الصوم والصلاة في مدة حيضها، ويحرم عليها فعلهما، ولا يصحان منها؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: «أليس إذا حاضت المرأة لم تصل ولم تصم؟» متفق عليه، فإذا طهرت الحائض فإنها تقضي الصوم ولا تقضي الصلاة؛ لقول عائشة رضي الله عنها: «كنا نحيض على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فكنا نؤمر بقضاء الصوم، ولا نؤمر بقضاء الصلاة» متفق عليه.

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية 222.

(2) رواه مسلم.
ঋতুবতী হওয়া: তারা হলো নয় বছরের কম বয়সী বালিকা।

 

‌‌[ঋতুবতী নারীর বিধানসমূহ]

‌‌[ঋতুস্রাব অবস্থায় যোনিপথে সঙ্গম করা হারাম]

৩ - ঋতুবতী নারীর বিধানসমূহ: ক - ঋতুস্রাব অবস্থায় যোনিপথে সঙ্গম করা হারাম; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা অশুচি। কাজেই তোমরা ঋতুকালে স্ত্রীগমন বর্জন করো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে, তখন তাদের কাছে সেভাবেই গমন করো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন} [আল-বাকারা: ২২২] (১) এবং এই নিষেধাজ্ঞা ততক্ষণ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে যতক্ষণ না তাদের রক্তস্রাব বন্ধ হয় এবং তারা গোসল সম্পন্ন করে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে, তখন তাদের কাছে সেভাবেই গমন করো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন} [আল-বাকারা: ২২২]। আর ঋতুবতী নারীর স্বামীর জন্য যোনিপথে সঙ্গম ব্যতীত অন্য সব উপায়ে আনন্দ লাভ করা বৈধ; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: «সঙ্গম ব্যতীত তোমরা সবকিছুই করতে পারো» (২)।

 

‌‌[ঋতুবতী নারী তার ঋতুকালীন সময়ে রোজা ও নামাজ বর্জন করবে]

খ - ঋতুবতী নারী তার ঋতুকালীন সময়ে রোজা ও নামাজ বর্জন করবে, এবং এই দুটি কাজ করা তার জন্য হারাম, আর তার পক্ষ থেকে তা শুদ্ধ হবে না; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: «নারী যখন ঋতুবতী হয়, তখন কি সে নামাজ পড়ে না এবং রোজা রাখে না?» এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)। অতঃপর ঋতুবতী নারী যখন পবিত্র হবে, তখন সে রোজার কাজা আদায় করবে কিন্তু নামাজের কাজা আদায় করবে না; আয়েশা (রা.)-এর বাণীর কারণে: «আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে ঋতুবতী হতাম, তখন আমাদের রোজার কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো, কিন্তু নামাজের কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো না» এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২২২।

(২) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ২৪)
والفرق - والله أعلم - أن الصلاة تتكرر فلم يجب قضاؤها؛ للحرج والمشقة في ذلك بخلاف الصوم.

 

‌‌[يحرم على الحائض مس المصحف من غير حائل]

ج - يحرم على الحائض مس المصحف من غير حائل؛ لقوله تعالى: {لا يمسه إلا المطهرون} [الواقعة: 79] (1) ولما في الكتاب الذي كتبه رسول الله صلى الله عليه وسلم لعمرو بن حزم: «لا يمس المصحف إلا طاهر» (2) وهو يشبه المتواتر، لتلقي الناس له بالقبول، قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: مذهب الأئمة الأربعة أنه لا يمس المصحف إلا طاهر.

وأما قراءة الحائض للقرآن من غير مس المصحف فهي محل خلاف بين أهل العلم، والأحوط: أنها لا تقرأ القرآن إلا عند الضرورة، كما إذا خشيت نسيانه، والله أعلم.

 

‌‌[يحرم على الحائض الطواف بالبيت]

د - يحرم على الحائض الطواف بالبيت؛ لقوله صلى الله عليه وسلم لعائشة لما حاضت: «افعلي ما يفعل الحاج، غير ألا تطوفي بالبيت حتى تطهري» (3) .

 

‌‌[يحرم على الحائض اللبث في المسجد]

هـ - يحرم على الحائض اللبث في المسجد؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: «إني

--------------------------------------------

(1) سورة الواقعة، الآية 79.

(2) رواه النسائي وغيره.

(3) متفق عليه.
আর পার্থক্য হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—নামাজ বারবার ফিরে আসে, তাই তা কাজা করা ওয়াজিব নয়; কারণ এতে জটিলতা ও কষ্ট রয়েছে, যা রোজা থেকে ভিন্ন।

 

‌‌[ঋতুবতী মহিলার জন্য কোনো আবরণ ব্যতীত মুসহাফ স্পর্শ করা হারাম]

গ - ঋতুবতী মহিলার জন্য কোনো আবরণ ছাড়া মুসহাফ স্পর্শ করা হারাম; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {পবিত্রগণ ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না} [সূরা আল-ওয়াকিআ: ৭৯] (১) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনে হাজম (রা.)-এর নিকট যে কিতাবটি লিখেছিলেন তাতে রয়েছে: «পবিত্র ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ মুসহাফ স্পর্শ করবে না» (২) আর এটি নিরবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (متواتر) হাদিসের সদৃশ, কারণ মানুষ একে গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন: চার ইমামের মাযহাব হলো, পবিত্র ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ মুসহাফ স্পর্শ করবে না।

আর মুসহাফ স্পর্শ না করে ঋতুবতী মহিলার কুরআন তিলাওয়াত করার বিষয়টি আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়। অধিক সতর্কতামূলক মত হলো: সে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কুরআন তিলাওয়াত করবে না, যেমন যদি তা ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌[ঋতুবতী মহিলার জন্য বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করা হারাম]

ঘ - ঋতুবতী মহিলার জন্য বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করা হারাম; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা (রা.) যখন ঋতুবতী হলেন তখন তাঁকে বলেছিলেন: «একজন হাজি যা করে তুমিও তাই করো, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করো না» (৩)।

 

‌‌[ঋতুবতী মহিলার জন্য মসজিদে অবস্থান করা হারাম]

ঙ - ঋতুবতী মহিলার জন্য মসজিদে অবস্থান করা হারাম; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমি

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ওয়াকিআ, আয়াত ৭৯।

(২) এটি নাসায়ি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه)।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ২৫)
لا أحل المسجد لحائض ولا لجنب» (1) وقوله صلى الله عليه وسلم: «إن المسجد لا يحل لحائض ولا جنب» (2) .

ويجوز لها المرور من المسجد من غير لبث؛ «لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ناوليني الخمرة من المسجد، فقلت: إني حائض، فقال: إن حيضتك ليست بيدك» (3) .

ولا بأس أن تأتي الحائض بالأذكار الشرعية من التهليل والتكبير والتسبيح والأدعية، وأن تأتي بالأوراد الشرعية المشروعة في الصباح والمساء، وعند النوم والاستيقاظ، ولا بأس أن تقرأ في كتب العلم؛ كالتفسير والحديث والفقه.

 

‌‌[فائدة في حكم الصفرة والكدرة]

الصفرة: شيء كالصديد يعلوه صفرة، والكدرة: شيء كلون الماء الوسخ الكدر، فإذا خرج من المرأة كدرة أو صفرة في وقت عادتها فإنها تعتبرهما حيضا يأخذان أحكامه السابقة، وإن خرجا من المرأة في غير وقت العادة فإنها لا تعتبرهما شيئا، وتعتبر نفسها

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود.

(2) رواه ابن ماجه.

(3) قال في [المنتقى] : رواه الجماعة إلا البخاري (1 / 140) .
“আমি ঋতুবতী কিংবা অপবিত্র ব্যক্তির জন্য মসজিদকে বৈধ মনে করি না” (১); এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: “নিশ্চয়ই মসজিদ ঋতুবতী ও অপবিত্র ব্যক্তির জন্য বৈধ নয়” (২)।

অবস্থান করা ব্যতীত তাঁর জন্য মসজিদের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করা জায়েজ; কারণ আয়েশা রদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: “আমাকে মসজিদ থেকে খুমরা (নামাজের ছোট মাদুর) এগিয়ে দাও।” আমি বললাম: “আমি তো ঋতুবতী।” তিনি বললেন: “তোমার ঋতু তো তোমার হাতে নেই” (৩)।

ঋতুবতী মহিলার জন্য শরয়ি জিকিরসমূহ যেমন: তাহলিল, তাকবির, তাসবিহ ও দোয়া পাঠ করা এবং সকাল-সন্ধ্যা ও ঘুমানোর ও জাগ্রত হওয়ার সময়ের শরয়ি ওজিফাসমূহ পালন করাতেও কোনো বাধা নেই। এছাড়া ইলমি কিতাবসমূহ যেমন: তাফসির, হাদিস ও ফিকহ পাঠ করাতেও কোনো অসুবিধা নেই।

 

‌‌[সুফরা ও কুদরার বিধান সংক্রান্ত একটি ফায়দা]

সুফরা: পুঁজ সদৃশ কোনো বস্তু যার ওপর হলদে আভা থাকে। আর কুদরা: ময়লা ও ঘোলা পানির রঙের ন্যায় কোনো বস্তু। সুতরাং যদি কোনো মহিলার অভ্যস্ত মাসিকের সময়ে কুদরা কিংবা সুফরা নির্গত হয়, তবে তিনি সেটিকে মাসিক হিসেবে গণ্য করবেন এবং তা মাসিকের পূর্বোক্ত বিধানসমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যদি তা অভ্যস্ত সময়ের বাইরে নির্গত হয়, তবে তিনি সেটিকে কোনো কিছু (মাসিক) হিসেবে গণ্য করবেন না এবং নিজেকে (পবিত্র হিসেবে গণ্য করবেন)...

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

(৩) [আল-মুনতাকা] গ্রন্থে বলা হয়েছে: বুখারি ব্যতীত জামাআত (الجماعة) এটি বর্ণনা করেছেন (১/১৪০)।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ২৬)
طاهرا؛ لقول أم عطية رضي الله عنها: كنا لا نعد الكدرة والصفرة بعد الطهر شيئا رواه أبو داود، ورواه البخاري دون لفظ: (بعد الطهر) ، وهذا له حكم الرفع عند أهل الحديث؛ لأنه يعتبر تقريرا من النبي صلى الله عليه وسلم، ومفهومه أن الكدرة والصفرة قبل الطهر حيض تأخذان أحكامه.

 

‌‌[فائدة أخرى ما الذي تعرف به المرأة نهاية حيضها]

فائدة أخرى:

س: ما الذي تعرف به المرأة نهاية حيضها؟

ج: تعرف ذلك بانقطاع الدم، وذلك بأحد علامتين: العلامة الأولى: نزول القصة البيضاء، وهي بفتح القاف: ماء أبيض يتبع الحيض، يشبه ماء الجص، وقد تكون بغير لون البياض، فقد يختلف لونها باختلاف أحوال النساء.

العلامة الثانية: الجفوف، وهو أن تدخل خرقة أو قطنة في فرجها، ثم تخرجها جافة ليس عليها شيء، لا من الدم، ولا من الكدرة أو الصفرة.

 

‌‌[ما يلزم الحائض عند نهاية حيضها]

4 - ما يلزم الحائض عند نهاية حيضها: يلزم الحائض عند نهاية حيضها أن تغتسل، وذلك بأن تستعمل الماء بنية الطهارة في جميع بدنها؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: «فإذا أقبلت حيضتك فدعي الصلاة، وإذا أدبرت فاغتسلي وصلي» (1) .

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري.
পবিত্র; উম্মে আতিয়্যাহ (রাযি.) এর উক্তির কারণে: “আমরা পবিত্রতার পর ঘোলাটে বা হলদেটে রঙকে কিছুই গণ্য করতাম না।” এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং বুখারি বর্ণনা করেছেন ‘পবিত্রতার পর’ শব্দদ্বয় ব্যতীত। হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) নিকট এটি মারফু’র বিধানভুক্ত (له حكم الرفع); কেননা একে নবী (সা.)-এর মৌন সমর্থন (تقريرا) হিসেবে গণ্য করা হয়। এর মর্মার্থ হলো, পবিত্র হওয়ার পূর্বের ঘোলাটে ও হলদেটে রঙ ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে এবং তা ঋতুর বিধানই লাভ করবে।

 

‌‌[অন্য একটি ফায়দা: নারী কিসের মাধ্যমে তার ঋতুস্রাবের সমাপ্তি জানতে পারবে]

অন্য একটি ফায়দা:

প্রশ্ন: নারী কিসের মাধ্যমে তার ঋতুস্রাবের সমাপ্তি জানতে পারবে?

উত্তর: রক্ত বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে তা জানা যায়, আর তা দুটি চিহ্নের যেকোনো একটির মাধ্যমে: প্রথম চিহ্ন: সাদা স্রাব (القصة البيضاء) নির্গত হওয়া। এটি (القصة) হলো একটি সাদা পানি যা ঋতুস্রাবের পরে নির্গত হয়, যা চুনের পানির মতো। তবে এটি সাদা বর্ণ ছাড়াও অন্য রঙের হতে পারে, কারণ নারীদের অবস্থার ভিন্নতায় এর রঙ ভিন্ন হয়ে থাকে।

দ্বিতীয় চিহ্ন: শুষ্কতা (الجفوف), আর তা হলো লজ্জাস্থানে কাপড় বা তুলা প্রবেশ করানো, অত:পর তা শুষ্ক অবস্থায় বের করে আনা যাতে কোনো কিছুর চিহ্ন থাকবে না—না রক্ত, আর না ঘোলাটে বা হলদেটে রঙ।

 

‌‌[ঋতুস্রাব শেষ হলে ঋতুবতী নারীর ওপর যা আবশ্যক]

৪ - ঋতুস্রাব শেষ হলে ঋতুবতী নারীর ওপর যা আবশ্যক: ঋতুস্রাব শেষ হলে ঋতুবতী নারীর ওপর গোসল করা আবশ্যক। আর তা হলো পবিত্রতার নিয়তে সমস্ত শরীরে পানি ব্যবহার করা; নবী (সা.)-এর বাণীর কারণে: “যখন তোমার ঋতুস্রাব শুরু হয় তখন সালাত ছেড়ে দাও, আর যখন তা শেষ হয়ে যায় তখন গোসল করো এবং সালাত আদায় করো” (১)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ২৭)
وصفته: أن تنوي رفع الحدث أو الطهارة للصلاة ونحوها، ثم تقول: بسم الله، ثم تفيض الماء على جميع جسمها، وتروي أصول شعر رأسها، ولا يلزمها نقضه إن كان مضفورا، وإنما ترويه بالماء، وإن استعملت السدر أو المواد المنظفة مع الماء فحسن، ويستحب أخذ قطنة فيها مسك أو غيره من الطيب تجعلها في فرجها بعد الاغتسال؛ لأمره صلى الله عليه وسلم أسماء بذلك (1) .

 

‌‌[تنبيه مهم إذا طهرت الحائض أو النفساء قبل غروب الشمس]

تنبيه مهم:

إذا طهرت الحائض أو النفساء قبل غروب الشمس لزمها أن تصلي الظهر والعصر من هذا اليوم، ومن طهرت منهما قبل طلوع الفجر لزمها أن تصلي المغرب والعشاء من هذه الليلة؛ لأن وقت الصلاة الثانية وقت للصلاة الأولى في حال العذر.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في [الفتاوى] (22 / 434) : ولهذا كان جمهور العلماء - كمالك والشافعي وأحمد - إذا طهرت الحائض في آخر النهار صلت الظهر والعصر جميعا، وإذا طهرت في آخر الليل صلت المغرب والعشاء جميعا، كما نقل ذلك عن عبد الرحمن بن عوف وأبي هريرة وابن عباس؛ لأن الوقت مشترك بين الصلاتين في حال العذر، فإذا

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم.
এর পদ্ধতি হলো: আপনি অপবিত্রতা দূরীকরণ (رفع الحدث) অথবা নামায ও এই জাতীয় ইবাদতের উদ্দেশ্যে পবিত্রতা (طهارة) অর্জনের নিয়ত করবেন। অতঃপর বলবেন: বিসমিল্লাহ। এরপর পুরো শরীরে পানি প্রবাহিত করবেন এবং মাথার চুলের গোড়া সিক্ত করবেন। চুল যদি বেণি করা থাকে, তবে তা খোলা আবশ্যক নয়, বরং পানি দিয়ে তা সিক্ত করাই যথেষ্ট। যদি পানির সাথে বরই পাতা বা অন্য কোনো পরিষ্কারক সামগ্রী ব্যবহার করা হয়, তবে তা উত্তম। গোসলের পর একটি তুলাতে কস্তুরী বা অন্য কোনো সুগন্ধি মাখিয়ে তা লজ্জাস্থানে ব্যবহার করা মুস্তাহাব (مستحب); কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমা (রা.)-কে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন (১)।

 

‌‌[গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: ঋতুবতী (حائض) অথবা নিফাসগ্রস্ত (نفساء) নারী যদি সূর্যাস্তের পূর্বে পবিত্র হন]

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:

যদি ঋতুবতী (حائض) অথবা নিফাসগ্রস্ত (نفساء) নারী সূর্যাস্তের পূর্বে পবিত্র হন, তবে তার জন্য ওই দিনের যোহর ও আসরের নামায আদায় করা আবশ্যক। আর যদি তাদের মধ্যে কেউ ফজর উদিত হওয়ার পূর্বে পবিত্র হন, তবে তার জন্য ওই রাতের মাগরিব ও এশার নামায আদায় করা আবশ্যক; কারণ ওজরের (عذر) অবস্থায় দ্বিতীয় নামাযের ওয়াক্ত প্রথম নামাযের ওয়াক্ত হিসেবেও গণ্য হয়।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) [আল-ফাতাওয়া] (২২ / ৪৩৪)-এ বলেছেন: এই কারণেই জুমহুর (جمهور) উলামায়ে কেরাম—যেমন মালেক, শাফেঈ ও আহমাদ—এই মত পোষণ করেছেন যে, ঋতুবতী (حائض) নারী যদি দিনের শেষভাগে পবিত্র হন, তবে তিনি যোহর ও আসর উভয় নামাযই আদায় করবেন। আর যদি রাতের শেষভাগে পবিত্র হন, তবে মাগরিব ও এশা উভয় নামাযই আদায় করবেন। যেমনটি আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, আবু হুরায়রা ও ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে; কারণ ওজরের (عذر) অবস্থায় দুই নামাযের সময় যুগ্ম (مشترك)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ২৮)
طهرت في آخر النهار فوقت الظهر باق، فتصليها قبل العصر، وإذا طهرت في آخر الليل، فوقت المغرب باق في حال العذر، فتصليها قبل العشاء. انتهى.

وأما إذا دخل عليها وقت صلاة ثم حاضت أو نفست قبل أن تصلي فالقول الراجح أنه لا يلزمها قضاء تلك الصلاة التي أدركت أول وقتها ثم حاضت أو نفست قبل أن تصليها.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في [مجموع الفتاوى] (23 / 335) في هذه المسألة: والأظهر في الدليل مذهب أبي حنيفة ومالك: أنها لا يلزمها شيء؛ لأن القضاء إنما يجب بأمر جديد، ولا أمر هنا يلزمها بالقضاء، ولأنها أخرت تأخيرا جائزا فهي غير مفرطة، وأما النائم أو الناسي - وإن كان غير مفرط أيضا - فإن ما يفعله ليس قضاء، بل ذلك وقت الصلاة في حقه حين يستيقظ ويذكر. انتهى.

 

‌‌[ثانيا الاستحاضة]

‌‌[أحكام الاستحاضة]

ثانيا: الاستحاضة 1 - أحكام الاستحاضة الاستحاضة: سيلان الدم في غير وقته على سبيل النزيف من عرق يسمى العاذل، والمستحاضة أمرها مشكل لاشتباه دم الحيض بدم الاستحاضة.

فإذا كان الدم ينزل منها باستمرار أو غالب الوقت، فما الذي
দিনের শেষভাগে পবিত্র হলে জোহরের সময় অবশিষ্ট থাকে, তাই তা আসরের আগে আদায় করবে। আর রাতের শেষভাগে পবিত্র হলে ওজর (عذر) অবস্থায় মাগরিবের সময় অবশিষ্ট থাকে, তাই তা এশার আগে আদায় করবে। সমাপ্ত।

আর যদি কোনো নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর সে নামাজ আদায়ের পূর্বেই ঋতুবতী (حائض) হয় বা প্রসবোত্তর রক্তস্রাব (نفاس) শুরু হয়, তবে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত (القول الراجح) হলো যে, সেই নামাজ কাজা (قضاء) করা তার জন্য আবশ্যক নয় যেটির ওয়াক্তের শুরু সে পেয়েছিল কিন্তু নামাজ পড়ার আগেই ঋতুবতী বা প্রসবোত্তর রক্তস্রাবগ্রস্ত হয়েছিল।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ) এই মাসআলা সম্পর্কে [মাজমুউল ফাতাওয়া] (২৩ / ৩৩৫) গ্রন্থে বলেছেন: দলিলের (الدليل) দিক থেকে অধিক স্পষ্ট (الأظهر) হলো ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিকের মাযহাব (مذهب): তার ওপর কিছুই আবশ্যক নয়; কারণ কাজা (قضاء) কেবল নতুন নির্দেশের মাধ্যমেই ওয়াজিব হয়, আর এখানে তাকে কাজা করার নির্দেশ দেওয়ার মতো কোনো দলিল নেই। তা ছাড়া সে অনুমোদিত বিলম্ব করেছিল, তাই সে অবহেলাকারী (مفرط) নয়। আর ঘুমন্ত ব্যক্তি বা বিস্মৃত ব্যক্তি—যদিও সে-ও অবহেলাকারী নয়—সে যা আদায় করে তা কাজা (قضاء) নয়, বরং যখন সে জাগ্রত হবে বা স্মরণ করবে তখনই সেটি তার হকে নামাজের ওয়াক্ত। সমাপ্ত।

 

‌‌[দ্বিতীয়ত: ইস্তিহাযা (الاستحاضة)]

‌‌[ইস্তিহাযার (الاستحاضة) বিধানসমূহ]

দ্বিতীয়ত: ইস্তিহাযা (الاستحاضة) ১ - ইস্তিহাযার (الاستحاضة) বিধানসমূহ: ইস্তিহাযা (الاستحاضة) হলো নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত 'আল-আযিল' নামক শিরা থেকে রক্তক্ষরণ হিসেবে রক্ত প্রবাহিত হওয়া। ইস্তিহাযাগ্রস্ত (مستحاضة) নারীর বিষয়টি জটিল, কারণ হায়েজের (حيض) রক্তের সাথে ইস্তিহাযার (الاستحاضة) রক্ত সংশয়পূর্ণ হয়ে পড়ে।

সুতরাং যখন তার রক্ত অনবরত বা অধিকাংশ সময় নির্গত হতে থাকে, তখন কোনটি...
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ২৯)
تعتبره منه حيضا وما الذي تعتبره استحاضة لا تترك من أجله الصوم والصلاة، فإن المستحاضة يعتبر لها أحكام الطاهرات.

وبناء على ذلك فإن المستحاضة لها ثلاث حالات: الحالة الأولى: أن تكون لها عادة معروفة لديها قبل إصابتها بالاستحاضة، بأن كانت قبل الاستحاضة تحيض خمسة أيام أو ثمانية أيام مثلا في أول الشهر أو وسطه، فتعرف عددها ووقتها، فهذه تجلس قدر عادتها، وتدع الصلاة والصيام، وتعتبر لها أحكام الحيض، فإذا انتهت عادتها اغتسلت وصلت واعتبرت الدم الباقي دم استحاضة؛ لقوله صلى الله عليه وسلم لأم حبيبة: «امكثي قدر ما كانت تحبسك حيضتك، ثم اغتسلي وصلي» (1) ولقوله صلى الله عليه وسلم لفاطمة بنت أبي حبيش: «إنما ذلك عرق، وليس بحيض، فإذا أقبلت حيضتك فدعي الصلاة» (2) .

الحالة الثانية: إذا لم يكن لها عادة معروفة ولكن دمها متميز بعضه يحمل صفة الحيض بأن يكون أسود أو ثخينا أو له رائحة، وبقيته لا تحمل صفة الحيض بأن يكون أحمر ليس له رائحة ولا ثخينا ففي هذه الحالة تعتبر الدم الذي يحمل صفة الحيض

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم.

(2) متفق عليه.
তিনি সেটিকে ঋতুস্রাব (حيض) হিসেবে গণ্য করবেন এবং যেটিকে তিনি ইস্তিহাযা বা দীর্ঘস্থায়ী রক্তস্রাব (استحاضة) হিসেবে গণ্য করবেন সেটির কারণে রোজা (صوم) ও নামাজ (صلاة) ত্যাগ করবেন না; কেননা ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলার ক্ষেত্রে পবিত্র নারীদের (طاهرة) বিধানসমূহ প্রযোজ্য হয়।

এর ওপর ভিত্তি করে, ইস্তিহাযাগ্রস্ত (استحاضة) মহিলার তিনটি অবস্থা হতে পারে: প্রথম অবস্থা: ইস্তিহাযায় আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে তার কোনো সুনির্দিষ্ট অভ্যাস (عادة) জানা থাকে। যেমন—ইস্তিহাযা শুরু হওয়ার আগে তিনি মাসের শুরুতে বা মাঝে উদাহরণস্বরূপ পাঁচ দিন বা আট দিন ঋতুস্রাব (حيض) প্রত্যক্ষ করতেন। ফলে তিনি এর সময় ও দিনসংখ্যা জানতেন। এমতাবস্থায় তিনি তার সুনির্দিষ্ট অভ্যাস (عادة) অনুযায়ী অবস্থান করবেন (ইবাদত থেকে বিরত থাকবেন) এবং সেটিকে ঋতুস্রাবের (حيض) বিধান হিসেবে গণ্য করবেন। যখন তার অভ্যাস (عادة) শেষ হবে, তখন তিনি গোসল করবেন ও নামাজ (صلاة) আদায় করবেন এবং অবশিষ্ট রক্তকে ইস্তিহাযার (استحاضة) রক্ত হিসেবে গণ্য করবেন। এর দলিল হলো উম্মে হাবিবা (রা.)-এর প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমার ঋতুস্রাব (حيض) তোমাকে যতক্ষণ আটকে রাখত ততক্ষণ অপেক্ষা করো, এরপর গোসল করো ও নামাজ (صلاة) আদায় করো।" (১) এবং ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ (রা.)-এর প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "এটি কেবল একটি শিরার রক্ত, ঋতুস্রাব (حيض) নয়। সুতরাং যখন তোমার ঋতুস্রাব (حيض) শুরু হবে, তখন নামাজ (صلاة) ত্যাগ করো।" (২) ।

দ্বিতীয় অবস্থা: যদি তার কোনো সুনির্দিষ্ট অভ্যাস (عادة) জানা না থাকে, কিন্তু তার রক্ত বৈচিত্র্যময় হয়—যার কিছু অংশ ঋতুস্রাবের (حيض) বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যেমন কালো হওয়া, ঘন হওয়া অথবা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া—এবং অবশিষ্ট রক্ত ঋতুস্রাবের (حيض) বৈশিষ্ট্যহীন হয়, যেমন লাল হওয়া, যাতে কোনো দুর্গন্ধ নেই এবং যা ঘনও নয়—তবে এমতাবস্থায় তিনি ঋতুস্রাবের (حيض) বৈশিষ্ট্য বহনকারী রক্তকে ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য করবেন।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه)।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ৩০)
حيضا، فتجلسه وتدع الصلاة والصيام، وتعتبر ما عداه استحاضة تغتسل عند نهاية الذي يحمل صفة الحيض، وتصلي وتصوم وتعتبر طاهرا؛ لقوله صلى الله عليه وسلم لفاطمة بنت أبي حبيش: «إذا كان الحيض فإنه أسود يعرف، فأمسكي عن الصلاة، فإذا كان الآخر فتوضئي وصلي» (1) ففيه أن المستحاضة تعتبر صفة الدم، فتميز بها بين الحيض وغيره.

الحالة الثالثة: إذا لم يكن لها عادة تعرفها ولا صفة تميز بها الحيض من غيره فإنها تجلس غالب الحيض ستة أيام أو سبعة أيام من كل شهر؛ لأن هذه عادة غالب النساء؛ لقوله صلى الله عليه وسلم لحمنة بنت جحش: «إنما هي ركضة من الشيطان، فتحيضي ستة أيام أو سبعة أيام، ثم اغتسلي، فإذا استنقأت فصلي أربعة وعشرين أو ثلاثة وعشرين، وصومي وصلي، فإن ذلك يجزئك، وكذلك فافعلي كما تحيض النساء» (2) .

والحاصل مما سبق أن المعتادة ترد إلى عادتها، والمميزة ترد إلى العمل بالتمييز، والفاقدة لهما تحيض ستا أو سبعا، وفي هذا جمع بين السنن الثلاثة الواردة عن النبي صلى الله عليه وسلم في المستحاضة.

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود والنسائي، وصححه ابن حبان والحاكم.

(2) رواه الخمسة، وصححه الترمذي.
ঋতুস্রাব (حيض), তাই সে অপেক্ষা করবে এবং নামাজ ও রোজা ত্যাগ করবে। আর এছাড়া অন্য যা কিছু তাকে সে ইস্তিহাজা বা দীর্ঘস্থায়ী রক্তস্রাব (استحاضة) হিসেবে গণ্য করবে। ঋতুস্রাবের বৈশিষ্ট্য বহনকারী রক্ত প্রবাহ শেষ হলে সে গোসল করবে এবং নামাজ আদায় ও রোজা পালন করবে এবং নিজেকে পবিত্র (طاهر) বলে গণ্য করবে; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশকে বলেছিলেন: «যখন তা ঋতুস্রাব (حيض) হয়, তখন তা কালো বর্ণের হয় যা চেনা যায়, তখন নামাজ থেকে বিরত থাকো। আর যখন অন্যটি হবে তখন ওজু করো ও নামাজ পড়ো» (১)। এতে প্রমাণিত হয় যে, ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারী রক্তের বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করবে এবং এর মাধ্যমে ঋতুস্রাব ও অন্যান্য রক্তের মধ্যে পার্থক্য (تمييز) করবে।

তৃতীয় অবস্থা: যদি তার কোনো পরিচিত অভ্যাস (عادة) না থাকে এবং এমন কোনো বৈশিষ্ট্যও না থাকে যার মাধ্যমে সে ঋতুস্রাবকে অন্য রক্ত থেকে আলাদা করতে পারে, তবে সে প্রতি মাসে ঋতুস্রাবের সাধারণ সময় হিসেবে ছয় বা সাত দিন অতিবাহিত করবে; কারণ এটিই অধিকাংশ নারীর সাধারণ নিয়ম (عادة)। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামনাহ বিনতে জাহশকে বলেছিলেন: «এটি শয়তানের একটি আঘাত মাত্র, সুতরাং তুমি ছয় বা সাত দিন ঋতুস্রাব (حيض) পালন করো, তারপর গোসল করো। যখন তুমি পরিষ্কার হবে তখন চব্বিশ বা তেইশ দিন নামাজ পড়ো, রোজা রাখো এবং নামাজ আদায় করো; কারণ তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। আর নারীরা যেভাবে ঋতুবর্তী হয়, তুমিও সেভাবেই করো» (২)।

পূর্বালোচনার সারকথা হলো, যার নির্দিষ্ট অভ্যাস (عادة) আছে সে তার অভ্যাসের দিকে ফিরে যাবে, যার পার্থক্য করার ক্ষমতা আছে সে পার্থক্যের (تمييز) ভিত্তিতে আমল করবে, আর যার এই দুটির কোনোটিই নেই সে ছয় বা সাত দিন ঋতুস্রাব পালন করবে। এর মাধ্যমে ইস্তিহাজা (استحاضة) বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তিনটি সুন্নাহর মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ ও নাসায়ি এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান ও হাকেম একে সহিহ (صححه) বলেছেন।

(২) এটি পাঁচজন ইমাম (الخمسة) বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে সহিহ (صححه) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ৩১)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: والعلامات التي قيل بها ست: إما العادة، فإن العادة أقوى العلامات؛ لأن الأصل مقام الحيض دون غيره، وإما التمييز؛ لأن الدم الأسود والثخين المنتن أولى أن يكون حيضا من الأحمر، وإما اعتبار غالب عادة النساء؛ لأن الأصل إلحاق الفرد بالأعم الأغلب، فهذه العلامات الثلاث تدل عليها السنة والاعتبار، ثم ذكر بقية العلامات التي قيل بها، وقال في النهاية: وأصوب الأقوال اعتبار العلامات التي جاءت بها السنة، وإلغاء ما سوى ذلك. . انتهى.

 

‌‌[ما يلزم المستحاضة في حال الحكم بطهارتها]

2 - ما يلزم المستحاضة في حال الحكم بطهارتها: أ - يجب عليها أن تغتسل عند نهاية حيضتها المعتبرة حسبما سبق بيانه.

ب - تغسل فرجها لإزالة ما عليه من الخارج عند كل صلاة، وتجعل في المخرج قطنا ونحوه يمنع الخارج وتشد عليه ما يمسكه عن السقوط، ثم تتوضأ عند دخول وقت كل صلاة؛ «لقوله صلى الله عليه وسلم في المستحاضة: تدع الصلاة أيام أقرائها، ثم تغتسل وتتوضأ عند كل صلاة» (1) وقال صلى الله عليه وسلم: «أنعت لك الكرسف تحشين به المكان» ، والكرسف القطن، ويمكن

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود وابن ماجه والترمذي، وقال: حديث حسن.
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ঋতুস্রাবের যে চিহ্নগুলোর কথা বলা হয়েছে তা ছয়টি: প্রথমত অভ্যাস (العادة), কেননা অভ্যাস সবচেয়ে শক্তিশালী চিহ্ন; কারণ মূলত এটিই ঋতুস্রাবের প্রকৃত অবস্থা হিসেবে গণ্য হয়। দ্বিতীয়ত পার্থক্য করা (التمييز); কারণ কালো, ঘন ও দুর্গন্ধযুক্ত রক্ত লাল রক্তের তুলনায় ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হওয়ার অধিক উপযোগী। তৃতীয়ত অধিকাংশ নারীর স্বাভাবিক অভ্যাসের বিবেচনা করা; কারণ মূলনীতি হলো কোনো বিশেষ অবস্থাকে অধিকাংশ সাধারণ অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত করা। সুন্নাহ (السنة) এবং যৌক্তিক বিবেচনা এই তিনটি চিহ্নের প্রতিই নির্দেশ করে। অতঃপর তিনি অবশিষ্ট চিহ্নগুলো উল্লেখ করেছেন যা বলা হয়ে থাকে। সবশেষে তিনি বলেন: সবচেয়ে সঠিক মত (أصوب الأقوال) হলো সুন্নাহর (السنة) নির্দেশিত চিহ্নগুলো বিবেচনা করা এবং এ ব্যতীত অন্যগুলো বাতিল করা। সমাপ্ত।

 

‌‌[পবিত্রতার বিধান চলাকালীন মুস্তাহাজা (ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারী)-এর জন্য যা করণীয়]

২ - পবিত্রতার বিধান চলাকালীন মুস্তাহাজা নারীর জন্য যা করণীয়: ক - ইতিপূর্বে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তার নির্ধারিত ঋতুস্রাব শেষ হলে তাকে গোসল করতে হবে।

খ - প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময় নির্গত রক্ত পরিষ্কার করার জন্য তার লজ্জাস্থান ধৌত করতে হবে এবং নির্গমদ্বারে তুলা বা অনুরূপ কিছু ব্যবহার করতে হবে যা নির্গমন প্রতিরোধ করে এবং তা এমনভাবে বাঁধতে হবে যাতে তা পড়ে না যায়। অতঃপর প্রতি ওয়াক্ত নামাজের ওয়াক্ত শুরু হলে অজু করবে; কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুস্তাহাজা নারীর ক্ষেত্রে বলেছেন: "তুমি তোমার ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে নামাজ বর্জন করো, অতঃপর গোসল করো এবং প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময় অজু করো।" (১) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেছেন: "আমি তোমাকে 'কুরসুফ' (তুলার পিন্ড) ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি, যা দিয়ে তুমি স্থানটি পূর্ণ করবে।" কুরসুফ অর্থ তুলা। এবং সম্ভব...

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: হাদিসটি হাসান (حسن)।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ৩২)
استعمال الحفائظ الطبية الموجودة الآن.

 

‌‌[ثالثا النفاس]

‌‌[تعريفه ومدته]

ثالثا: النفاس أ - تعريفه ومدته: النفاس هو الدم الذي ينزل من الرحم للولادة وبعدها، وهو بقية الدم المحتبس وقت الحمل في الرحم، فإذا ولدت خرج هذا الدم شيئا فشيئا، وما تراه قبل الولادة من خروج الدم مع أمارة الولادة فهو نفاس، وقيده الفقهاء بيومين أو ثلاثة أيام قبل الولادة، والغالب أن بدايته تكون مع الولادة، والمعتبر ولادة ما تبين فيه خلق إنسان، وأقل مدة يتبين فيها خلق الإنسان واحد وثمانون يوما، وأغلبها ثلاثة أشهر، فإذا سقط منها شيء قبل هذه المدة وحصل معه دم فإنها لا تلتفت إليه، ولا تدع الصلاة والصيام من أجله؛ لأنه دم فاسد ونزيف، فيكون حكمها حكم المستحاضة.

وأكثر مدة النفاس في الغالب أربعون يوما، ابتداء من الولادة أو قبلها بيومين أو ثلاثة - كما سبق - لحديث أم سلمة رضي الله عنها: «كانت النفساء تجلس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم أربعين يوما» (1) .

وأجمع على ذلك أهل العلم، كما حكاه الترمذي وغيره، ومتى

--------------------------------------------

(1) رواه الترمذي وغيره.
বর্তমানে প্রচলিত চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহৃত প্যাড ব্যবহারের বিধান।

 

‌‌[তৃতীয়ত: নিফাস (النفاس)]

‌‌[এর সংজ্ঞা ও সময়সীমা]

তৃতীয়ত: নিফাস (النفاس); ক- এর সংজ্ঞা ও সময়সীমা: নিফাস (النفاس) হলো সেই রক্ত যা সন্তান প্রসবের কারণে এবং প্রসবের পর জরায়ু থেকে নির্গত হয়। এটি মূলত গর্ভাবস্থায় জরায়ুর অভ্যন্তরে আটকে থাকা অবশিষ্ট রক্ত। যখন নারী সন্তান প্রসব করে, তখন এই রক্ত অল্প অল্প করে নির্গত হয়। প্রসবের লক্ষণের সাথে সন্তান প্রসবের আগে যে রক্ত দেখা যায় তাও নিফাস (نفاس)। ফকিহগণ (فقهاء) একে প্রসবের দুই বা তিন দিন পূর্ব পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করেছেন। সাধারণত প্রসবের সাথেই এর সূচনা হয়। এক্ষেত্রে ধর্তব্য বিষয় হলো এমন কিছু প্রসব করা যাতে মানবাকৃতি স্পষ্ট হয়েছে। মানবাকৃতি স্পষ্ট হওয়ার সর্বনিম্ন সময়কাল একাশি দিন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিন মাস। এই সময়ের আগে যদি কোনো গর্ভপাত ঘটে এবং তার সাথে রক্ত দেখা যায়, তবে সে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করবে না এবং এর কারণে নামাজ ও রোজা ত্যাগ করবে না; কারণ এটি দূষিত রক্ত (دم فاسد) এবং রক্তস্রাব (نزيف)। এমতাবস্থায় তার বিধান হবে ইস্তিহাজাগ্রস্ত (مستحاضة) নারীর বিধানের মতো।

নিফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা সাধারণত চল্লিশ দিন, যা প্রসবের সময় থেকে অথবা তার দুই বা তিন দিন আগে থেকে শুরু হয়—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। উম্মে সালামাহ (রা.)-এর হাদিস অনুযায়ী: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে নিফাসগ্রস্ত (النفساء) নারীগণ চল্লিশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন» (১)।

আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন, যেমনটি তিরমিজি ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। এবং যখনই

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তানবীহাতুন আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল মুমিনাত (পৃষ্ঠা: ৩৩)
طهرت قبل الأربعين بأن انقطع عنها خروج الدم فإنها تغتسل وتصلي، فلا حد لأقله؛ لأنه لم يرد تحديده، وإذا تمت الأربعون ولم ينقطع عنها خروج الدم فإن صادف عادة حيضها فهو حيض، وإن لم يصادف عادة الحيض واستمر ولم ينقطع فهو استحاضة، لا تترك من أجله العبادة بعد الأربعين، وإن زاد عن الأربعين ولم يستمر ولم يصادف عادة فمحل خلاف.

 

‌‌[الأحكام المتعلقة بالنفاس]

ب - الأحكام المتعلقة بالنفاس: أحكام النفاس كأحكام الحيض فيما يلي:

1 - يحرم وطء النفساء، كما يحرم وطء الحائض، ويباح الاستمتاع الذي دون الوطء.

2 - يحرم على النفساء أن تصوم أو تصلي، أو تطوف بالبيت كالحائض.

3 - يحرم على النفساء مس المصحف وقراءة القرآن ما لم تخش نسيانه كالحائض.

4 - يجب على النفساء قضاء الصوم الواجب الذي تركته في النفاس كالحائض.

5 - يجب على النفساء أن تغتسل عند نهاية النفاس كما يجب ذلك على الحائض، والأدلة على ذلك: (1) عن أم سلمة رضي الله عنها: «كانت النفساء تجلس على عهد
যদি কোনো নারী চল্লিশ দিনের পূর্বে রক্তক্ষরণ বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে পবিত্র হয়ে যান, তবে তিনি গোসল করবেন এবং সালাত আদায় করবেন। নিফাসের সর্বনিম্ন মেয়াদের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই; কারণ শরিয়তে এর কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা বর্ণিত হয়নি। আর যদি চল্লিশ দিন পূর্ণ হয় এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ না হয়, তবে তা যদি তার মাসিকের (حيض) অভ্যস্ত সময়ের সাথে মিলে যায়, তবে তা মাসিক (حيض) হিসেবেই গণ্য হবে। আর যদি তা মাসিকের অভ্যস্ত সময়ের সাথে না মিলে বরং রক্তক্ষরণ চলতেই থাকে, তবে তা ইস্তিহাযা (استحاضة) হিসেবে গণ্য হবে; এমতাবস্থায় চল্লিশ দিন পার হওয়ার পর তিনি ইবাদত বর্জন করবেন না। আর যদি রক্তক্ষরণ চল্লিশ দিনের বেশি হয় কিন্তু তা অব্যাহত না থাকে এবং মাসিকের স্বাভাবিক সময়ের সাথেও না মিলে, তবে বিষয়টি মতপার্থক্যের (خلاف) স্থল।

 

‌‌[নিফাস সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ]

খ - নিফাস সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ: নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে নিফাসের বিধান মাসিকের (حيض) বিধানের অনুরূপ:

১ - নিফাসগ্রস্ত নারীর সাথে সহবাস করা হারাম, যেমন ঋতুবতী (حائض) নারীর সাথে সহবাস করা হারাম। তবে সহবাস ব্যতিরেকে অন্যান্য শারীরিক উপভোগ বৈধ।

২ - ঋতুবতী (حائض) নারীর ন্যায় নিফাসগ্রস্ত নারীর জন্য রোজা রাখা, সালাত আদায় করা বা বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করা হারাম।

৩ - ঋতুবতী (حائض) নারীর ন্যায় নিফাসগ্রস্ত নারীর জন্য মুসহাফ স্পর্শ করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা হারাম, যতক্ষণ না তা ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৪ - নিফাস অবস্থায় ছুটে যাওয়া ফরয রোজাগুলোর কাযা আদায় করা নিফাসগ্রস্ত নারীর জন্য ওয়াজিব, যেমনটি ঋতুবতী (حائض) নারীর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

৫ - নিফাস শেষ হলে নিফাসগ্রস্ত নারীর জন্য গোসল করা ওয়াজিব, যেমনটি ঋতুবতী (حائض) নারীর জন্য ওয়াজিব। এর প্রমাণসমূহ: (১) উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহর যুগে নিফাসগ্রস্ত নারীগণ অবস্থান করতেন..."