(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
تحفة الإخوان بأجوبة مهمة تتعلق بأركان الإسلام القسم: الفقه العام
الكتاب: تحفة الإخوان بأجوبة مهمة تتعلق بأركان الإسلام
المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن باز (ت 1420هـ)
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثانية، 1423هـ
عدد الصفحات: 232
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তুহফাতুল ইখওয়ান বি-আজরবিবাতিন মুহিম্মাতিন তাতায়াল্লাকু বি-আরকানিল ইসলাম (ইসলামের রুকনসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উত্তরসমূহের মাধ্যমে ভাইদের জন্য উপহার) বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: তুহফাতুল ইখওয়ান বি-আজরবিবাতিন মুহিম্মাতিন তাতায়াল্লাকু বি-আরকানিল ইসলাম (ইসলামের রুকনসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উত্তরসমূহের মাধ্যমে ভাইদের জন্য উপহার)
লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি)
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব কিংডম
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৩ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩২
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
[مقدمة]تحفة الإخوان
بأجوبة مهمة تتعلق بأركان الإسلام مقدمة الحمد لله الذي خلق الثقلين لعبادته وأرسل الرسل بذلك عليهم الصلاة والسلام، وبين في كتابه العزيز وسنة رسوله الأمين تفاصيل هذه العبادة التي خلقوا لها وأوجب على العباد أداء ما فرض عليهم منها وترك ما حرم عليهم عن إخلاص له سبحانه ورغبة ورهبة ووعدهم على ذلك الأجر العظيم والنعيم المقيم في دار الكرامة، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله وخليله صلى الله وسلم عليه وآله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد:
فهذه أجوبة مهمة عن أسئلة تتعلق بالعقيدة والصلاة والزكاة والصوم والحج رأيت جمعها في كتاب واحد ليسهل على كل مسلم مراجعتها والاستفادة منها. وسميت هذا الكتاب " تحفة الإخوان بأجوبة مهمة تتعلق بأركان الإسلام " وأسأل الله أن ينفع بها المسلمين وأن يضاعف الأجر لكل من سعى في نشرها وإيصالها إلى
[ভূমিকা]তুহফাতুল ইখওয়ান
ইসলামের রুকনসমূহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উত্তরসমূহ। ভূমিকা। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি জিন ও মানবজাতিকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং এই লক্ষ্যেই রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন—তাঁদের প্রতি সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। তিনি তাঁর মহাগ্রন্থ এবং তাঁর বিশ্বস্ত রাসূলের সুন্নাহর (سنة) মাধ্যমে সেই ইবাদতের বিস্তারিত বিবরণ দান করেছেন যার জন্য তাঁদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি বান্দাদের ওপর তাঁর প্রতি একনিষ্ঠতা, অনুরাগ ও ভীতি সহকারে যা ফরয করা হয়েছে তা পালন করা এবং যা হারাম করা হয়েছে তা বর্জন করা আবশ্যক করেছেন এবং এর বিনিময়ে তাঁদেরকে মর্যাদাপূর্ণ আবাসে মহা পুরস্কার ও চিরস্থায়ী নিয়ামতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা, রাসূল এবং বন্ধু; আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, সকলের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
আকিদাহ, সালাত, যাকাত, সিয়াম ও হজ সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এটি, যা আমি একটি গ্রন্থে সংকলন করা সমীচীন মনে করেছি যাতে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য তা পর্যালোচনা করা এবং এ থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়। আমি এই গ্রন্থটির নামকরণ করেছি "তুহফাতুল ইখওয়ান বি-আজউইবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি-আরকানিল ইসলাম"। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং যারা এটি প্রচার ও পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত থাকবেন, তাঁদের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
من يستفيد منها إنه سبحانه جواد كريم وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه.
عبد العزيز بن عبد الله بن باز
مفتي عام المملكة العربية السعودية
ورئيس هيئة كبار العلماء وإدارة البحوث العلمية والإفتاء
যে ব্যক্তি এ থেকে উপকৃত হবে; নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র ও মহিমাময়, পরম দাতা ও মহানুভব। আমাদের নবি মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীদের (صحابة) ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ
সৌদি আরব রাজতন্ত্রের গ্র্যান্ড মুফতি
এবং উর্ধ্বতন উলামা পরিষদ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া প্রদান (إفتاء) বিভাগের সভাপতি।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
[أولا العقيدة]
[بيان ما يقع عند القبور وما يتصل بالحلف والأيمان والنذور]العقيدة
[প্রথমত: আক্বিদা][কবরসমূহের নিকট যা ঘটে এবং শপথ, কসম ও মানত সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির বর্ণনা]আক্বিদা
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
1 - انتشرت في بعض المجتمعات الإسلامية مخالفات متعددة منها ما يقع عند بعض القبور ومنها ما يتصل بالحلف والأيمان والنذور، وقد تختلف أحكام هذه المخالفات بين ما يكون منها من قبيل الشرك المخرج من الملة وما يكون دون ذلك، فحبذا لو تفضل سماحتكم ببسط القول وبيان أحكام تلك المسائل عليهم، ونصيحة أخرى لعامة المسلمين ترهيبا لهم من التساهل بأمر تلك المخالفات والتهاون بشأنها؟
الجواب: الحمد لله، وصلى الله وسلم على رسول الله وعلى آله وأصحابه ومن اهتدى بهداه.
أما بعد: فإن كثيرا من الناس تلتبس عليهم الأمور المشروعة بالأمور الشركية والمبتدعة حول القبور، كما أن كثيرا منهم قد يقع في الشرك الأكبر بسبب الجهل والتقليد الأعمى.
فالواجب على أهل العلم في كل مكان أن يوضحوا للناس دينهم وأن يبينوا لهم حقيقة التوحيد، وحقيقة الشرك. كما يجب على أهل العلم أن يوضحوا للناس وسائل الشرك وأنواع البدع الواقعة بينهم حتى يحذروها؛ لقول الله عز وجل: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ} [آل عمران: 187]
১ - বিভিন্ন মুসলিম সমাজে নানা ধরনের শরিয়ত পরিপন্থী কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়েছে, যার কিছু কবরের নিকট সংঘটিত হয় এবং কিছু শপথ, কসম ও মানত সংক্রান্ত। এই বিচ্যুতিগুলোর বিধানের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে; এর মধ্যে কিছু দ্বীন থেকে বহিষ্কারকারী শিরক (الشرك المخرج من الملة) পর্যায়ের, আবার কিছু এর চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের। অতএব, আপনার মহানুভবতা যদি বিষয়টি সবিস্তারে আলোচনা করতেন এবং তাদের নিকট এই মাসআলাগুলোর বিধান স্পষ্ট করতেন, পাশাপাশি সাধারণ মুসলিমদের জন্য একটি নসিহত প্রদান করতেন যা তাদের এই অনিয়মগুলোর ব্যাপারে শিথিলতা ও অবহেলা প্রদর্শন থেকে সতর্ক করবে?
উত্তর: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহর রাসুল, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর প্রদর্শিত হেদায়াত অনুসরণ করেন, তাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর: কবরের আশপাশে শরিয়তসম্মত কার্যাবলি এবং শিরক (شرك) ও বিদআত (بدعة) পূর্ণ বিষয়গুলোর মাঝে অনেক মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। এছাড়া অজ্ঞতা ও অন্ধ অনুকরণের কারণে তাদের অনেকেই বড় শিরক (الشرك الأكبر) এ লিপ্ত হয়ে পড়ে।
তাই সর্বস্তরের আলেম সমাজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো মানুষের নিকট তাদের দ্বীনকে সুস্পষ্ট করা এবং তাদের সামনে তাওহীদ ও শিরক (شرك) এর প্রকৃত রূপ বর্ণনা করা। আলেমদের আরও উচিত মানুষের মাঝে প্রচলিত শিরক (شرك) এর মাধ্যমসমূহ এবং বিভিন্ন প্রকার বিদআত (بدعة) সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা যাতে তারা সেগুলো থেকে সতর্ক থাকতে পারে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর যখন আল্লাহ আহলে কিতাবদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, তোমরা অবশ্যই তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না} [আল-ইমরান: ১৮৭]
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
الآية (1) وقال - سبحانه -: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ - إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولَئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} [البقرة: 159 - 160] (2) .
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «من دل على خير فله مثل أجر فاعله» . رواه مسلم في صحيحه. وقال - أيضا عليه الصلاة والسلام: «من دعا إلى هدى كان له من الأجر مثل أجور من تبعه، لا ينقص ذلك من أجورهم شيئا، ومن دعا إلى ضلالة كان عليه من الإثم مثل آثام من تبعه لا ينقص ذلك من آثامهم شيئا» . رواه مسلم أيضا. وفي الصحيحين عن معاوية رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين» .
والآيات والأحاديث في الدعوة إلى نشر العلم وترغيب الناس في ذلك والتحذير من الإعراض وكتمان العلم كثيرة.
أما ما يقع عند القبور من أنواع الشرك والبدع في بلدان كثيرة فهو أمر معلوم وجدير بالعناية والبيان والتحذير منه، فمن ذلك دعاء
--------------------------------------------
আয়াত (১) এবং তিনি - সুবহানাহু - বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা আমাদের নাযিলকৃত সুস্পষ্ট নিদর্শন ও হেদায়েত গোপন করে, কিতাবে মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর; আল্লাহ তাদের লানত করেন এবং লানতকারীরাও তাদের লানত করে। তবে যারা তওবা করেছে, নিজেদের সংশোধন করেছে এবং (সত্য) প্রকাশ করেছে, আমি তাদের তওবা কবুল করি; আর আমি অত্যন্ত তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।} [আল-বাকারা: ১৫৯ - ১৬০] (২) ।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ দেখায়, সে ওই কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব লাভ করবে।" এটি মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এবং তিনি - তাঁর ওপরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক - আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য ওই ব্যক্তিদের সমান সওয়াব রয়েছে যারা তার অনুসরণ করে; এটি তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করবে না। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে, তার ওপর ওই ব্যক্তিদের সমান গুনাহ বর্তাবে যারা তার অনুসরণ করে; এটি তাদের গুনাহ থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করবে না।" এটিও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এবং সহিহাইন গ্রন্থে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।"
ইলম বা জ্ঞান প্রচারের দাওয়াত প্রদান, মানুষকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করা এবং জ্ঞান বিমুখতা ও তা গোপন করা থেকে সতর্ক করার ব্যাপারে অসংখ্য আয়াত ও হাদিস রয়েছে।
আর অনেক দেশে কবরের নিকট যে সব শিরক ও বিদআত সংঘটিত হয়, তা একটি পরিচিত বিষয় এবং এর প্রতি গুরুত্ব প্রদান, এটি স্পষ্ট করা ও এ থেকে সতর্ক করা একান্ত আবশ্যক; এর অন্তর্ভুক্ত হলো প্রার্থনা করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
أصحاب القبور والاستغاثة بهم، وطلب شفاء المرضى، والنصر على الأعداء، ونحو ذلك، وهذا كله من الشرك الأكبر الذي كان عليه أهل الجاهلية، قال الله - سبحانه -: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة: 21] (1) .
وقال - سبحانه -: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56] (2) . وقال - سبحانه -: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ} [الإسراء: 23] (3) .
والمعنى أمر وأوصى. وقال - سبحانه -: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ} [البينة: 5] الآية (4) .
والآيات في هذا المعنى كثيرة. والعبادة التي خلق الثقلان لأجلها وأمروا بها هي توحيده سبحانه وتخصيصه بجميع الطاعات التي أمر بها من صلاة، وصوم، وزكاة، وحج، وذبح، ونذر وغير ذلك من أنواع العبادة. كما قال - سبحانه -: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ} [الأنعام: 162 - 163] (5) . والنسك هو العبادة ومنها الذبح كما قال - سبحانه -: {إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ - فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} [الكوثر: 1 - 2] (6) .
--------------------------------------------
কবরের অধিবাসী এবং তাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, রোগীদের আরোগ্য কামনা করা, শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করা এবং এই জাতীয় কাজগুলো বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত, যার ওপর জাহেলিয়াত আমলের লোকেরা ছিল। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} [আল-বাকারা: ২১] (১)।
তিনি আরও বলেন: {আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আয-যারিয়াত: ৫৬] (২)। তিনি আরও বলেন: {আপনার রব ফয়সালা করেছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না} [আল-ইসরা: ২৩] (৩)।
এর অর্থ হলো তিনি আদেশ দিয়েছেন এবং অসিয়ত করেছেন। তিনি আরও বলেন: {তাদেরকে কেবল এই আদেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে} [আল-বাইয়্যিনাহ: ৫] আয়াতের শেষ পর্যন্ত (৪)।
এই মর্মে আয়াতসমূহ অনেক। আর যে ইবাদতের উদ্দেশ্যে জিন ও মানবজাতিকে (আস-সাকালাইন) সৃষ্টি করা হয়েছে এবং যার নির্দেশ তাদের দেওয়া হয়েছে, তা হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার তাওহীদ (একত্ববাদ) এবং তাঁর নির্দেশিত সকল প্রকার আনুগত্য—যেমন সালাত, সাওম, জাকাত, হজ, পশু জবাই, মানত এবং অন্যান্য সকল প্রকার ইবাদতকে—কেবল তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করা। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {বলুন, আমার সালাত, আমার নুসুক (কোরবানি বা ইবাদত), আমার জীবন ও আমার মরণ সবকিছুই সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমাকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আর আমিই প্রথম মুসলিম} [আল-আনআম: ১৬২-১৬৩] (৫)। আর ‘নুসুক’ হলো ইবাদত, যার অন্যতম হলো পশু জবাই করা; যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি। অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি (নহর) করুন} [আল-কাউসার: ১-২] (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لعن الله من ذبح لغير الله» . أخرجه مسلم في صحيحه من حديث أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه. وقال الله - سبحانه -: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18] (1) . وقال عز وجل: {وَمَنْ يَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِنْدَ رَبِّهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ} [المؤمنون: 117] (2) . وقال عز وجل في سورة فاطر: {ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِنْ قِطْمِيرٍ - إِنْ تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ} [فاطر: 13 - 14] (3) .
فأوضح - سبحانه - في هذه الآيات: أن الصلاة لغيره، والذبح لغيره، ودعاء الأموات والأصنام، والأشجار، والأحجار كل ذلك من الشرك بالله والكفر به. وأن جميع المدعوين من دونه من أنبياء أو ملائكة أو أولياء، أو جن أو أصنام أو غيرهم لا يملكون لداعيهم نفعا ولا ضرا، وأن دعوتهم من دونه - سبحانه - شرك وكفر، كما أوضح - سبحانه - أنهم لا يسمعون دعاء داعيهم، ولو سمعوا لم يستجيبوا له.
--------------------------------------------
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে জবেহ করে, আল্লাহ তার ওপর অভিশাপ বর্ষণ করেছেন»। মুসলিম এটি তার সহিহ গ্রন্থে আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন। এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} [সূরা আল-জিন: ১৮] (১)। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে ডাকে, যার কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই, তার হিসাব তো কেবল তার প্রতিপালকের নিকট রয়েছে। নিশ্চয়ই কাফিররা সফলকাম হবে না} [সূরা আল-মুমিনুন: ১১৭] (২)। এবং তিনি সূরা ফাতিরে বলেছেন: {তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক; সার্বভৌমত্ব কেবল তাঁরই। আর তোমরা তাঁর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো, তারা খেজুরের আঁটির তুচ্ছ আবরণেরও মালিক নয়। তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না, আর শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেবে না। কিয়ামতের দিন তারা তোমাদের শিরককে অস্বীকার করবে। আর সর্বজ্ঞ আল্লাহর মতো কেউ তোমাকে প্রকৃত সংবাদ দিতে পারবে না} [সূরা ফাতির: ১৩ - ১৪] (৩)।
সুতরাং তিনি (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এই আয়াতসমূহে স্পষ্ট করেছেন যে: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করা, অন্য কারো নামে জবেহ করা এবং মৃত ব্যক্তি, মূর্তি, গাছ ও পাথরের কাছে প্রার্থনা করা—এসবই আল্লাহর সাথে শিরক এবং তাঁর প্রতি কুফর। আর আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকেই ডাকা হয়—চাই তারা নবী হোক বা ফেরেশতা, ওলি হোক বা জিন, কিংবা মূর্তি বা অন্য কিছু—তারা তাদের আহ্বানকারীর কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ব্যতীত তাদের ডাকা শিরক ও কুফর, যেমনটি তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তারা আহ্বানকারীর ডাক শুনতে পায় না, আর শুনলেও তারা তাতে সাড়া দিতে পারত না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فالواجب على جميع المكلفين من الجن والإنس الحذر من ذلك، والتحذير منه، وبيان بطلانه، وأنه يخالف ما جاءت به الرسل - عليهم الصلاة والسلام - من الدعوة إلى توحيد الله، وإخلاص العبادة له، كما قال - سبحانه -: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] (1) .
وقال - سبحانه -: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25] (2) . وقد مكث صلى الله عليه وسلم في مكة المكرمة ثلاث عشرة سنة يدعو فيها إلى الله - سبحانه -، يحذر الناس من الشرك به، ويوضح لهم معنى لا إله إلا الله، فاستجاب له الأقلون، واستكبر عن طاعته واتباعه الأكثرون، ثم هاجر إلى المدينة، عليه الصلاة والسلام، فنشر الدعوة إلى الله - سبحانه - هناك بين المهاجرين والأنصار، وجاهد في سبيل الله، وكتب إلى الملوك والرؤساء وأوضح لهم دعوته، وما جاء به من الهدى، وصبر وصابر في ذلك هو وأصحابه رضي الله عنهم حتى ظهر دين الله، ودخل الناس في دين الله أفواجا، وانتشر التوحيد وزال الشرك من مكة والمدينة، ومن سائر الجزيرة على يده صلى الله عليه وسلم وعلى يد أصحابه من بعده، ثم قام
--------------------------------------------
সুতরাং জিন ও ইনসান-এর অন্তর্ভুক্ত সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত (المكلفين) ব্যক্তির জন্য আবশ্যিক (الواجب) হলো এ বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং এ থেকে অন্যদের সতর্ক করা, আর এর অসারতা বর্ণনা করা। কেননা এটি সেই তাওহিদ (توحيد) বা আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত এবং তাঁর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করার পরিপন্থী, যা নিয়ে সকল রাসূল —তাঁদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক— প্রেরিত হয়েছিলেন। যেমনটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু বলেন: {আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।} [আন-নাহল: ৩৬] (১)।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু আরও বলেন: {আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার কাছে আমি এই ওহী (وحي) পাঠাইনি যে, আমি ব্যতীত আর কোনো সত্য উপাস্য নেই; অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো।} [আল-আম্বিয়া: ২৫] (২)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কাতুল মুকাররমায় তেরো বছর অবস্থান করে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন, মানুষকে তাঁর সাথে শিরক (شرك) করা থেকে সতর্ক করেছেন এবং তাদের কাছে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ স্পষ্ট করেছেন। তখন অল্প সংখ্যক মানুষ তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন, আর অধিকাংশ লোকই তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণের ব্যাপারে অহংকার প্রদর্শন করেছিল। অতঃপর তিনি —আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম— মদিনায় হিজরত করেন এবং সেখানে মুহাজির ও আনসারদের মাঝে আল্লাহর দাওয়াত প্রচার করেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেন। তিনি রাজা-বাদশাহ ও প্রধানদের নিকট পত্র লেখেন এবং তাঁদের কাছে নিজের দাওয়াত ও তাঁর আনীত হিদায়াত স্পষ্ট করেন। তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ —রাযিয়াল্লাহু আনহুম— এই পথে ধৈর্য ও স্থৈর্য ধারণ করেন, অবশেষে আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী হয় এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহাবীগণের মাধ্যমে মক্কা, মদিনা এবং সমগ্র আরব উপদ্বীপ থেকে শিরক (شرك) দূরীভূত হয়ে তাওহিদ (توحيد) ছড়িয়ে পড়ে। অতঃপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أصحابه بالدعوة إلى الله - سبحانه - والجهاد في سبيله في المشارق والمغارب حتى نصرهم الله على أعدائه ومكن لهم في الأرض، وظهر دين الله على سائر الأديان، كما وعد بذلك - سبحانه - في كتابه العظيم حيث قال عز وجل: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ} [التوبة: 33] (1) .
ومن البدع ووسائل الشرك ما يفعل عند القبور من الصلاة عندها، والقراءة عندها، وبناء المساجد والقباب عليها، وهذا كله بدعة ومنكر، ومن وسائل الشرك الأكبر، ولهذا صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» . متفق على صحته من حديث عائشة رضي الله عنها وفي صحيح مسلم عن جندب بن عبد الله رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «ألا وإن من كان قبلكم كانوا يتخذون قبور أنبيائهم وصالحيهم مساجد، ألا فلا تتخذوا القبور مساجد، فإني أنهاكم عن ذلك» . فأوضح، صلى الله عليه وسلم في هذين الحديثين وما جاء في معناهما: أن اليهود والنصارى كانوا يتخذون قبور أنبيائهم مساجد، فحذر أمته من التشبه بهم باتخاذها مساجد، والصلاة عندها، والعكوف عندها، والقراءة عندها؛ لأن هذا كله من وسائل
--------------------------------------------
তাঁর সাহাবীগণ আল্লাহর—সুবহানাহু—দিকে দাওয়াত প্রদান এবং তাঁর পথে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে জিহাদ করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁদের শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় দান করলেন এবং জমিনে তাঁদেরকে প্রতিষ্ঠিত করলেন। আর আল্লাহর দ্বীন অন্য সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী হলো, যেমনটি তিনি—সুবহানাহু—তাঁর মহান কিতাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেখানে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।} [আত-তাওবাহ: ৩৩] (১)।
বিদআত এবং শিরকের মাধ্যমসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো কবরের নিকট যা করা হয়—যেমন সেখানে সালাত আদায় করা, সেখানে তিলাওয়াত করা এবং কবরের ওপর মসজিদ ও গম্বুজ নির্মাণ করা। এগুলোর সবই বিদআত ও বর্জনীয় (منكر) এবং বড় শিরকের মাধ্যমসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صح) যে তিনি বলেছেন: «আল্লাহ ইহুদি ও নাসারাদের প্রতি লানত করেছেন, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছিল।» আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি এর বিশুদ্ধতার বিষয়ে সর্বসম্মত (متفق على صحته)। আর সহীহ মুসলিম-এ জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করত। খবরদার! তোমরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করো না, আমি তোমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করছি।» সুতরাং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুটি হাদিস এবং এই একই অর্থবোধক অন্যান্য বর্ণনায় স্পষ্ট করেছেন যে, ইহুদি ও নাসারারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করত। তাই তিনি তাঁর উম্মতকে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে কবরকে মসজিদে রূপান্তর করা, তার কাছে সালাত আদায় করা, সেখানে অবস্থান করা এবং তিলাওয়াত করা থেকে সতর্ক করেছেন; কারণ এসবই হলো মাধ্যমসমূহের অন্তর্ভুক্ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الشرك. ومن ذلك: البناء عليها، واتخاذ القباب والستور عليها. فكل ذلك من وسائل الشرك والغلو في أهلها. كما قد وقع ذلك من اليهود والنصارى ومن جهال هذه الأمة، حتى عبدوا أصحاب القبور، وذبحوا لهم، واستغاثوا بهم، ونذروا لهم، وطلبوا منهم شفاء المرضى، والنصر على الأعداء. كما يعلم ذلك من عرف ما يفعل عند قبر الحسين، والبدوي، والشيخ عبد القادر الجيلاني، وابن عربي وغيرهم من أنواع الشرك الأكبر، والله المستعان، ولا حول ولا قوة إلا بالله.
وقد صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه نهى عن تجصيص القبور، والقعود عليها، والبناء عليها، والكتابة عليها، وما ذاك إلا لأن تجصيصها والبناء عليها من وسائل الشرك الأكبر بأهلها.
فالواجب على جميع المسلمين حكومات وشعوبا الحذر من هذا الشرك ومن هذه البدع، وسؤال أهل العلم المعروفين بالعقيدة الصحيحة، والسير على منهج سلف الأمة عما أشكل عليهم من أمور دينهم حتى يعبدوا الله على بصيرة، عملا بقول الله عز وجل: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [الأنبياء: 7] (1) .
وقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من سلك طريقا يلتمس
--------------------------------------------
শিরক (الشرك)। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ এবং তার ওপর গম্বুজ ও পর্দা স্থাপন করা। এ সব কিছুই শিরক (الشرك) এবং কবরবাসীদের নিয়ে অতিরঞ্জনের (غلو) মাধ্যম। যেমনটি ইহুদি, খ্রিস্টান এবং এই উম্মতের অজ্ঞদের ক্ষেত্রে ঘটেছে; এমনকি তারা কবরবাসীদের ইবাদত করেছে, তাদের উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করেছে, তাদের নিকট ফরিয়াদ (استغاثة) করেছে, তাদের নামে মানত করেছে এবং তাদের কাছে রোগীদের আরোগ্য ও শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করেছে। যারা হুসাইন, আল-বাদভী, শেখ আব্দুল কাদের জিলানী, ইবনুল আরাবি এবং অন্যদের কবরে যা করা হয় সে সম্পর্কে অবগত, তারা বড় শিরক (الشرك الأكبر)-এর এ সকল প্রকার সম্পর্কে জানতে পারে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়, আর আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ হিসেবে প্রমাণিত (صح) যে, তিনি কবর চুনকাম করা, তার ওপর বসা, তার ওপর ঘর নির্মাণ করা এবং তার ওপর কোনো কিছু লিখতে নিষেধ করেছেন। আর তা এ কারণেই যে, কবর চুনকাম ও ইমারত নির্মাণ হলো কবরবাসীদের নিয়ে বড় শিরক (الشرك الأكبر)-এ লিপ্ত হওয়ার মাধ্যম।
সুতরাং সকল মুসলিম সরকার ও জনগণের ওপর কর্তব্য হলো এই শিরক (الشرك) এবং এই বিদআত (بدعة) থেকে সতর্ক থাকা। আর দ্বীনের যেসব বিষয়ে তারা সংশয়ে পড়ে, সে ব্যাপারে সঠিক আকিদাহ (عقيدة)-এর জন্য সুপরিচিত আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করা এবং এই উম্মতের সালাফ (سلف)-দের মানহাজ (منهج) অনুসরণ করা, যাতে তারা সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে; মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর আমল করে: {যদি তোমরা না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো} [সূরা আল-আম্বিয়া: ৭] (১)।
এবং নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাণী: «যে ব্যক্তি এমন পথ অবলম্বন করে যাতে সে জ্ঞান অন্বেষণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فيه علما سهل الله له به طريقا إلى الجنة» . وقوله صلى الله عليه وسلم: «من يرد الله به خيرا، يفقهه في الدين» .
ومعلوم أن العباد لم يخلقوا عبثا وإنما خلقوا لحكمة عظيمة وغاية شريفة، وهي عبادة الله وحده دون كل ما سواه، كما قال عز وجل: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56] (1) .
ولا سبيل إلى معرفة هذه العبادة إلا بتدبر الكتاب العظيم والسنة المطهرة، ومعرفة ما أمر الله به ورسوله من أنواع العبادة وسؤال أهل العلم عما أشكل في ذلك.
وبذلك تعرف عبادة الله سبحانه وتعالى التي خلق العباد من أجلها، وتؤدى على الوجه الذي شرعه الله، وهذا هو السبيل الوحيد إلى مرضاة الله - سبحانه - والفوز بكرامته، والنجاة من غضبه وعقابه، وفق الله المسلمين لكل ما فيه رضاه، ومنحهم الفقه في دينه وولى عليهم خيارهم وأصلح قادتهم، ووفق علماء المسلمين لأداء ما يجب عليهم من الدعوة والتعليم، والنصح والتوجيه إنه جواد كريم.
ومن أنواع الشرك الحلف بغير الله، كالحلف بالأنبياء، وبرأس فلان، وحياة فلان، والحلف بالأمانة والشرف، وقد صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من كان حالفا
--------------------------------------------
...যাতে জ্ঞান অন্বেষণ করে, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতের একটি পথ সহজ করে দেন।" এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।"
এটি সুবিদিত যে, বান্দাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি, বরং তাদের এক মহান প্রজ্ঞা এবং এক মহৎ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে; আর তা হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, তিনি ব্যতীত অন্য কারও নয়। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [আয-যারিয়াত: ৫৬] (১)।
এই ইবাদত সম্পর্কে জানার কোনো পথ নেই মহান কিতাব এবং পবিত্র সুন্নাহর গভীর চিন্তা-গবেষণা ব্যতীত, এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ইবাদতের যে সকল প্রকারের নির্দেশ দিয়েছেন তা অনুধাবন করা এবং এ সংক্রান্ত অস্পষ্ট বা জটিল বিষয়ে আলেমদের জিজ্ঞাসা করা ব্যতীত।
এর মাধ্যমেই আল্লাহর সেই ইবাদত সম্পর্কে জানা সম্ভব যার জন্য বান্দাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তা আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতি অনুযায়ী পালন করা সম্ভব। আর এটিই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, তাঁর অনুগ্রহ লাভ এবং তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একমাত্র পথ। আল্লাহ মুসলিমদেরকে সেই সকল কাজ করার তাওফিক দান করুন যাতে তাঁর সন্তুষ্টি রয়েছে, তাদেরকে তাঁর দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করুন, তাদের জন্য সর্বোত্তম ব্যক্তিদের শাসক হিসেবে নিযুক্ত করুন, তাদের নেতৃবৃন্দকে সংশোধন করে দিন এবং মুসলিম আলেমদেরকে দাওয়াত, শিক্ষা প্রদান, নসিহত ও সঠিক দিকনির্দেশনার মতো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের তাওফিক দান করুন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও অতি দয়ালু।
শিরকের অন্যতম প্রকার হলো আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে কসম করা; যেমন নবীদের নামে, অমুকের মাথার নামে, অমুকের জীবনের নামে অথবা আমানত ও সম্মানের নামে কসম করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কসম করতে চায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فليحلف بالله أو ليصمت» . متفق على صحته. وقوله صلى الله عليه وسلم: «من حلف بشيء دون الله فقد أشرك» . رواه الإمام أحمد عن أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه بإسناد صحيح.
وقوله صلى الله عليه وسلم: «من حلف بغير الله فقد كفر أو أشرك» . أخرجه أبو داود والترمذي بإسناد صحيح من حديث ابن عمر رضي الله عنهما، وقال عليه الصلاة والسلام: «من حلف بالأمانة فليس منا» . وقال أيضا عليه الصلاة والسلام: «لا تحلفوا بآبائكم ولا بأمهاتكم، ولا بالأنداد ولا تحلفوا بالله إلا وأنتم صادقون» .
والأحاديث في هذا المعنى كثيرة، والحلف بغير الله من الشرك الأصغر، وقد يفضي إلى الشرك الأكبر إذا اعتقد تعظيمه مثل تعظيم الله، أو أنه ينفع ويضر دون الله أو أنه يصلح لأن يدعى أو يستغاث به. ومن هذا الباب قول: ما شاء الله وشاء فلان. ولولا الله وفلان. وهذا من الله وفلان. وهذا كله من الشرك الأصغر لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «لا تقولوا ما شاء الله وشاء فلان، ولكن قولوا ما شاء الله ثم شاء فلان» .
وبهذا يعلم أنه لا حرج بأن يقول: لولا الله ثم فلان، أو هذا من الله ثم فلان. . إذا كان له تسبب في ذلك.
وثبت عنه صلى الله عليه وسلم «أن رجلا قال له: ما شاء الله
“সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে অথবা নীরব থাকে।” এটি এর বিশুদ্ধতার বিষয়ে সর্বসম্মত (متفق على صحته)। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করল, সে শিরক করল।” এটি ইমাম আহমাদ আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করল, সে কুফর অথবা শিরক করল।” আবু দাউদ ও তিরমিজি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে এটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন (أخرجه)। এবং তিনি (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমানতের নামে শপথ করল, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” তিনি (সা.) আরও বলেছেন: “তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে, তোমাদের মায়েদের নামে এবং অংশীদারদের নামে শপথ করো না; আর তোমরা সত্যবাদী হওয়া ব্যতীত আল্লাহর নামে শপথ করো না।”
এই অর্থের হাদিস অনেক রয়েছে। আর আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করা ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি বড় শিরকের দিকে নিয়ে যেতে পারে যদি সে মনে করে যে এর সম্মান আল্লাহর সম্মানের মতো, অথবা এটি আল্লাহ ব্যতীত উপকার বা ক্ষতি করতে পারে, অথবা এটি দুআ বা সাহায্যের জন্য ডাকার উপযুক্ত। এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো এ জাতীয় কথা বলা: “আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং অমুক যা চেয়েছে”, “যদি আল্লাহ ও অমুক না থাকত”, “এটি আল্লাহ ও অমুকের পক্ষ থেকে”। এই সবগুলিই ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা বলো না: আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং অমুক যা চেয়েছে; বরং বলো: আল্লাহ যা চেয়েছেন, তারপর অমুক যা চেয়েছে।”
এর মাধ্যমে জানা গেল যে, এমনটি বলায় কোনো দোষ নেই যে: “যদি আল্লাহ না থাকতেন এরপর অমুক না থাকত”, অথবা “এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এরপর অমুকের পক্ষ থেকে”—যদি ঐ বিষয়ে তার কোনো কারণ বা মাধ্যম হওয়ার সংশ্লিষ্টতা থাকে।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, এক ব্যক্তি তাঁকে বলেছিল: “আল্লাহ যা চেয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وشئت، فقال له صلى الله عليه وسلم: أجعلتني لله ندا، قل ما شاء الله وحده» . فدل هذا الحديث على أنه إذا قال: ما شاء الله وحده، فهذا هو الأكمل، وإن قال: ما شاء الله ثم شاء فلان فلا حرج جمعا بين الأحاديث والأدلة كلها، والله ولي التوفيق.
[التوسل المشروع والتوسل الممنوع بالنبي صلى الله عليه وسلم]2 - يخلط بعض الناس بين التوسل بالإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم، ومحبته وطاعته، والتوسل بذاته وجاهه كما يقع الخلط بين التوسل بدعائه، عليه الصلاة والسلام، في حياته وسؤاله الدعاء بعد مماته، وقد ترتب على هذا الخلط التباس المشروع من ذلك بالممنوع منه، فهل من تفصيل يزيل اللبس في هذا الباب، ويرد به على أصحاب الأهواء الذين يلبسون على المسلمين في هذه المسائل؟
الجواب: لا شك أن كثيرا من الناس لا يفرقون بين التوسل المشروع والتوسل الممنوع بسبب الجهل وقلة من ينبههم ويرشدهم إلى الحق، ومعلوم أن بينهما فرقا عظيما، فالتوسل المشروع هو الذي بعث الله به الرسل، وأنزل به الكتب، وخلق من أجله الثقلين، وهو عبادته - سبحانه - ومحبته ومحبة رسوله، عليه الصلاة والسلام، ومحبة جميع الرسل والمؤمنين والإيمان به وبكل ما أخبر الله به ورسوله من البعث والنشور، والجنة والنار، وسائر ما أخبر الله به ورسوله.
...এবং আপনি চেয়েছেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: ‘তুমি কি আমাকে আল্লাহর সমকক্ষ (ندا) বানালে? বরং বল, আল্লাহ যা একাই চেয়েছেন।’ এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, যদি কেউ বলে: ‘আল্লাহ যা একাই চেয়েছেন’, তবে এটিই হলো সবচেয়ে পরিপূর্ণ। আর যদি কেউ বলে: ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন এরপর অমুক যা চেয়েছে’, তবে সকল হাদিস ও দলীলসমূহের সমন্বয়ে এতে কোনো দোষ নেই। আর আল্লাহই তাওফিক দানকারী।
[নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে বৈধ অসীলা (التوسل المشروع) এবং নিষিদ্ধ অসীলা (التوسل الممنوع)]২ - কিছু লোক নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ঈমান, তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে অসীলা (التوسل) গ্রহণ করা এবং তাঁর সত্তা ও মর্যাদার মাধ্যমে অসীলা (التوسل) গ্রহণ করার মধ্যে সংমিশ্রণ করে ফেলে। যেমন বিভ্রান্তি ঘটে তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর দোয়ার মাধ্যমে অসীলা (التوسل) গ্রহণ করা এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর নিকট দোয়া চাওয়ার মধ্যে। এই সংমিশ্রণের ফলে শরয়ি বৈধ (المشروع) বিষয়টি নিষিদ্ধের (الممنوع) সাথে অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। অতএব, এই বিষয়ে কি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে যা অস্পষ্টতা দূর করবে এবং এর মাধ্যমে সেই সব প্রবৃত্তি পূজারীদের (أصحاب الأهواء) প্রতি উত্তর প্রদান করা যাবে যারা এই বিষয়গুলোতে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করে?
উত্তর: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অজ্ঞতা এবং সত্যের দিকে সতর্ককারী ও পথপ্রদানকারীর স্বল্পতার কারণে অনেক মানুষ বৈধ অসীলা (التوسل المشروع) এবং নিষিদ্ধ অসীলার (التوسل الممنوع) মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। অথচ এটি সুবিদিত যে, এ দুটির মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান রয়েছে। বৈধ অসীলা (التوسل المشروع) হলো সেটিই যার জন্য আল্লাহ রসূলগণকে পাঠিয়েছেন, কিতাবসমূহ নাজিল করেছেন এবং যার জন্য জিন ও মানবজাতিকে (الثقلين) সৃষ্টি করেছেন। আর তা হলো—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদত করা, তাঁকে ভালোবাসা, তাঁর রসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে ভালোবাসা এবং সকল রসূল ও মুমিনদের ভালোবাসা; আর আল্লাহর প্রতি এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন যেমন পুনরুত্থান (البعث والنشور), জান্নাত, জাহান্নাম এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূল কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য সকল সংবাদের প্রতি ঈমান আনা।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فهذا كله من الوسيلة الشرعية لدخول الجنة والنجاة من النار، والسعادة في الدنيا والآخرة، ومن ذلك دعاؤه - سبحانه - والتوسل إليه بأسمائه وصفاته ومحبته، والإيمان به وبجميع الأعمال الصالحة التي شرعها لعباده، وجعلها وسيلة إلى مرضاته والفوز بجنته وكرامته، والفوز أيضا بتفريج الكروب وتيسير الأمور في الدنيا والآخرة، كما قال الله عز وجل: {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا - وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ} [الطلاق: 2 - 3] (1) . وقال - سبحانه -: {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا} [الطلاق: 4] (2) . وقال عز وجل: {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا} [الطلاق: 5] (3) . وقال عز وجل: {إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ} [الذاريات: 15] (4) . وقال - سبحانه -: {إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ} [القلم: 34] (5) . وقال - تعالى -: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ} [الأنفال: 29] الآية (6) . هو العلم والهدى والفرقان. والآيات في هذا المعنى كثيرة. ومن التوسل المشروع التوسل إلى الله - سبحانه - بمحبة نبيه،
--------------------------------------------
এসবই জান্নাতে প্রবেশ, জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং দুনিয়া ও আখেরাতে সৌভাগ্য অর্জনের শরয়ী মাধ্যম (وسيلة)। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ সুবহানাহু-কে ডাকা এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও তাঁর প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে তাঁর নিকট নৈকট্য অন্বেষণ (توسل) করা; আর তাঁর প্রতি এবং তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য যে সকল নেক আমল শরীয়তসম্মত করেছেন সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা। তিনি এসব আমলকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর জান্নাত ও সম্মান লাভের মাধ্যম (وسيلة) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; পাশাপাশি এগুলো দুনিয়া ও আখেরাতে বিপদ-আপদ দূরীকরণ এবং সকল বিষয় সহজ করারও মাধ্যম। যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য (বিপদ থেকে) বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেবেন—এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না} [আত-তালাক: ২-৩] (১)। এবং তিনি—সুবহানাহু—বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার কাজকে সহজ করে দেন} [আত-তালাক: ৪] (২)। এবং তিনি—আজ্জা ওয়া জাল্লা—বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তাকে মহা পুরস্কার দান করবেন} [আত-তালাক: ৫] (৩)। এবং তিনি—আজ্জা ওয়া জাল্লা—বলেছেন: {নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতসমূহ ও ঝর্ণাধারার মাঝে} [আজ-যারিয়াত: ১৫] (৪)। এবং তিনি—সুবহানাহু—বলেছেন: {নিশ্চয়ই মুত্তাকীদের জন্য তাদের রবের নিকট রয়েছে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত} [আল-কালাম: ৩৪] (৫)। এবং তিনি—তাআলা—বলেছেন: {হে ঈমানদারগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে তিনি তোমাদের জন্য (হক-বাতিল পার্থক্যের) মানদণ্ড (فرقان) তৈরি করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন ও তোমাদের ক্ষমা করবেন} [আল-আনফাল: ২৯] আয়াত (৬)। তা হলো জ্ঞান, হিদায়াত এবং ফুরকান (فرقان)। এ মর্মে আয়াত অনেক রয়েছে। আর শরীয়তসম্মত অসীলা (توسل)-এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর নবীর প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নিকট নৈকট্য অন্বেষণ (توسل) করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
صلى الله عليه وسلم، والإيمان به، واتباع شريعته؛ لأن هذه الأمور من أعظم الأعمال الصالحات، ومن أفضل القربات، أما التوسل بجاهه صلى الله عليه وسلم أو بذاته، أو بحقه، أو بجاه غيره من الأنبياء والصالحين أو ذواتهم أو حقهم، فمن البدع التي لا أصل لها؛ بل من وسائل الشرك، لأن الصحابة رضي الله عنهم وهم أعلم الناس بالرسول صلى الله عليه وسلم وبحقه لم يفعلوا ذلك، ولو كان خيرا لسبقونا إليه، ولما أجدبوا في عهد عمر رضي الله عنه لم يذهبوا إلى قبره صلى الله عليه وسلم ولم يتوسلوا به ولم يدعوا عنده؛ بل استسقى عمر رضي الله عنه بعمه صلى الله عليه وسلم العباس بن عبد المطلب أي بدعائه فقال رضي الله عنه وهو على المنبر: اللهم إنا كنا إذا أجدبنا نتوسل إليك بنبينا فتسقنا. وإنا نتوسل إليك بعم نبينا فاسقنا فيسقون. رواه البخاري في صحيحه.
ثم أمر رضي الله عنه العباس أن يدعو فدعا وأمن المسلمون على دعائه فسقاهم الله عز وجل. وقصة أهل الغار مشهورة وهي ثابتة في الصحيحين، وخلاصتها أن ثلاثة ممن كان قبلنا آواهم المبيت والمطر إلى غار، فدخلوا فيه فانحدرت صخرة من الجبل فسدت عليهم الغار، ولم يستطيعوا دفعها، فقالوا فيما بينهم: لن ينجيكم من هذه الصخرة إلا أن تدعوا الله بصالح أعمالكم، فدعوه - سبحانه - واستغاثوا به وتوسل أحدهم ببر والديه، والثاني بعفته عن
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন এবং তাঁর শরীয়তের অনুসরণ; কারণ এই বিষয়গুলো মহান নেক আমল এবং শ্রেষ্ঠ নৈকট্য লাভের মাধ্যমের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদা, সত্তা বা তাঁর অধিকারের দোহাই দিয়ে অথবা অন্যান্য নবী ও সৎকর্মশীলদের মর্যাদা, সত্তা বা অধিকারের দোহাই দিয়ে উসিলা (توسل) তালাশ করা এমন একটি বিদআত (بدعة) যার কোনো ভিত্তি নেই; বরং এটি শিরকের (شرك) মাধ্যমসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর অধিকার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অবগত ছিলেন, তাঁরা তা করেননি। যদি এটি কল্যাণকর হতো তবে তাঁরা অবশ্যই এ কাজে আমাদের অগ্রগামী হতেন। যখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে অনাবৃষ্টি দেখা দিল, তখন তাঁরা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের কাছে যাননি, তাঁর মাধ্যমে উসিলা (توسل) তালাশ করেননি এবং সেখানে দোয়াও করেননি; বরং উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিবের মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা (استسقاء) করেছিলেন, অর্থাৎ তাঁর দোয়ার মাধ্যমে। অতঃপর তিনি মেম্বারে দাঁড়িয়ে বললেন: "হে আল্লাহ, ইতিপূর্বে যখন আমরা অনাবৃষ্টিতে আক্রান্ত হতাম, তখন আমাদের নবীর মাধ্যমে আপনার নিকট উসিলা (توسل) গ্রহণ করতাম এবং আপনি আমাদের বৃষ্টি দান করতেন। এখন আমরা আমাদের নবীর চাচার মাধ্যমে আপনার নিকট উসিলা (توسل) করছি, অতএব আপনি আমাদের বৃষ্টি দান করুন।" ফলে তাঁদের বৃষ্টি দান করা হতো। এটি সহিহ বুখারি গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
অতঃপর তিনি (উমর) আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দোয়া করার নির্দেশ দিলেন। তিনি দোয়া করলেন এবং মুসলিমগণ তাঁর দোয়ার সাথে আমিন বললেন। ফলে মহান আল্লাহ তাঁদের বৃষ্টি দান করলেন। গুহাবাসীদের কাহিনী প্রসিদ্ধ এবং তা সহিহাইন (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)-এ প্রমাণিত (ثابت)। এর সারসংক্ষেপ হলো, আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্য থেকে তিন ব্যক্তি রাত যাপন ও বৃষ্টির কারণে একটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারা যখন সেখানে প্রবেশ করলেন, তখন পাহাড় থেকে একটি বিশাল পাথর খসে পড়ে গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল এবং তারা তা সরিয়ে দিতে সক্ষম হচ্ছিলেন না। তখন তারা একে অপরকে বললেন: "তোমাদের নেক আমলের উসিলায় আল্লাহর নিকট দোয়া করা ছাড়া এই পাথর থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই।" অতঃপর তারা মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন ও সাহায্য প্রার্থনা (استغاثة) করলেন। তাদের একজন তাঁর পিতামাতার সাথে সদাচরণের মাধ্যমে উসিলা (توسل) দিলেন এবং দ্বিতীয় জন তাঁর চারিত্রিক পবিত্রতার (عفة) মাধ্যমে উসিলা দিলেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
الزنا بعد القدرة، والثالث بأدائه الأمانة. فأزاح الله عنهم الصخرة وخرجوا، وهذه القصة من الدلائل العظيمة على أن الأعمال الصالحة من أعظم الأسباب في تفريج الكروب والخروج من المضائق، والعافية من شدائد الدنيا والآخرة.
أما التوسل بجاه فلان أو بحق فلان أو ذاته، فهذا من البدع المنكرة، ومن وسائل الشرك، وأما دعاء الميت والاستغاثة به فذلك من الشرك الأكبر.
والصحابة رضي الله عنهم كانوا يطلبون من النبي صلى الله عليه وسلم أن يدعو لهم، وأن يستغيث لهم إذا أجدبوا، ويشفع في كل ما ينفعهم حين كان حيا بينهم، فلما توفي صلى الله عليه وسلم، لم يسألوه شيئا بعد وفاته، ولم يأتوا إلى قبره يسألونه الشفاعة أو غيرها؛ لأنهم يعلمون أن ذلك لا يجوز بعد وفاته صلى الله عليه وسلم، وإنما يجوز ذلك في حياته صلى الله عليه وسلم قبل موته ويوم القيامة حين يتوجه إليه المؤمنون ليشفع لهم ليقضي الله بينهم ولدخولهم الجنة، بعدما يأتون آدم، ونوحا، وإبراهيم، وموسى، وعيسى، عليهم الصلاة والسلام، فيعتذرون عن الشفاعة، كل واحد يقول: نفسي نفسي، اذهبوا إلى غيري، فإذا أتوا عيسى عليه الصلاة والسلام، اعتذر إليهم وأرشدهم إلى أن يأتوا نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم فيأتونه فيقول: «أنا لها، أنا لها» لأن الله - سبحانه - قد وعده ذلك فيذهب ويخر ساجدا بين يدي الله
ব্যভিচার করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা বর্জন এবং তৃতীয় ব্যক্তি অর্পিত আমানত আদায়ের মাধ্যমে। অতঃপর আল্লাহ তাঁদের থেকে পাথরটি সরিয়ে দিলেন এবং তাঁরা বেরিয়ে এলেন। এই কাহিনীটি এক মহান নিদর্শন যে, নেক আমলসমূহ বিপদ-আপদ দূরীকরণ, সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কঠোরতা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।
আর অমুকের মর্যাদা, অমুকের অধিকার কিংবা তাঁর সত্তার মাধ্যমে উসিলা ধরা—এগুলো গর্হিত (منكر) বিদআত এবং শিরকের অন্যতম মাধ্যম। পক্ষান্তরে মৃত ব্যক্তিকে ডাকা এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা হলো বড় শিরক।
সাহাবীগণ (রা.) নবী কারীম (সা.)-এর নিকট আবেদন করতেন যেন তিনি তাঁদের জন্য দোয়া করেন এবং যখন তাঁরা অনাবৃষ্টির কবলে পড়তেন তখন তিনি যেন তাঁদের জন্য বৃষ্টির প্রার্থনা করেন। তিনি যখন তাঁদের মাঝে জীবিত ছিলেন, তখন তাঁদের জন্য কল্যাণকর প্রতিটি বিষয়ে তিনি সুপারিশ করতেন। অতঃপর যখন নবী (সা.) ইন্তেকাল করলেন, তখন তাঁরা তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর নিকট কোনো কিছু প্রার্থনা করেননি এবং তাঁরা তাঁর কবরের কাছে এসে তাঁর নিকট সুপারিশ বা অন্য কোনো কিছু চাননি। কারণ তাঁরা জানতেন যে, নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর এটি জায়েজ নয়; বরং এটি কেবল তাঁর জীবদ্দশায় মৃত্যুর পূর্বে এবং কিয়ামতের দিন জায়েজ হবে। সেদিন মুমিনগণ তাঁর নিকট উপস্থিত হবে যাতে তিনি তাঁদের জন্য সুপারিশ করেন, যেন আল্লাহ তাঁদের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করেন এবং তাঁদের জান্নাতে প্রবেশ করান। তাঁরা যখন আদম, নূহ, ইব্রাহিম, মুসা এবং ঈসা (আলাইহিমুস সালাম)-এর নিকট গমণ করবেন, তখন তাঁরা সুপারিশ করার বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করবেন। প্রত্যেকেই বলবেন: "আজ আমার নিজের চিন্তা, তোমরা অন্য কারো কাছে যাও।" অতঃপর যখন তাঁরা ঈসা (আলাইহিমুস সালাম)-এর নিকট আসবেন, তখন তিনিও অপারগতা প্রকাশ করবেন এবং তাঁদেরকে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নিকট গমণ করার দিকনির্দেশনা দেবেন। তখন তাঁরা তাঁর নিকট আসবেন এবং তিনি বলবেন: "আমিই এর জন্য, আমিই এর জন্য।" কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁকে এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তখন তিনি গিয়ে আল্লাহর মহান দরবারে সিজদাবনত হবেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
- عز وجل ويحمده بمحامد كثيرة ولا يزال ساجدا حتى يقال له: أرفع رأسك وقل تسمع، وسل تعط، واشفع تشفع.
وهذا الحديث ثابت في الصحيحين وهو حديث الشفاعة المشهور، وهذا هو المقام المحمود الذي ذكره الله سبحانه - في قوله - تعالى - في سورة الإسراء: {عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا} [الإسراء: 79] (1) .
صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه وأتباعه بإحسان، وجعلنا الله من أهل شفاعته إنه سميع قريب.
[معنى لا إله إلا الله وبيان مقتضاها وشروطها]3 - يلاحظ جهل كثير من المحسوبين على الأمة الإسلامية بمعنى لا إله إلا الله وقد ترتب على ذلك الوقوع فيما ينافيها ويضادها أو ينقصها من الأقوال والأعمال، فما معنى لا إله إلا الله؟ وما مقتضاها؟ وما شروطها؟
الجواب: لا شك أن هذه الكلمة وهي لا إله إلا الله هي أساس الدين، وهي الركن الأول من أركان الإسلام، مع شهادة أن محمدا رسول الله، كما في الحديث الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله
--------------------------------------------
...মহামহিম এবং তিনি প্রচুর প্রশংসার মাধ্যমে তাঁর স্তুতি করবেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদাবনত থাকবেন যতক্ষণ না তাঁকে বলা হবে: আপনার মাথা উত্তোলন করুন এবং বলুন, আপনার কথা শোনা হবে; প্রার্থনা করুন, আপনাকে তা প্রদান করা হবে এবং সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে।
এই হাদিসটি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) গ্রন্থে সাব্যস্ত (ثابت) এবং এটি শাফায়াতের সুপ্রসিদ্ধ হাদিস। আর এটিই সেই প্রশংসিত স্থান (মাকামে মাহমুদ) যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা আল-ইসরা-তে তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন: {আশা করা যায় আপনার প্রতিপালক আপনাকে এক প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন} [আল-ইসরা: ৭৯] (১)।
আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সঙ্গীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর। আল্লাহ আমাদের তাঁর শাফায়াত লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী।
[লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অর্থ এবং এর দাবি ও শর্তাবলির বর্ণনা]৩ - এটি পরিলক্ষিত হয় যে, মুসলিম উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত অনেকের মাঝেই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞতা রয়েছে। এর ফলে এমন সব কথা ও কাজ প্রকাশ পাচ্ছে যা এর সাথে সংগতিহীন, এর পরিপন্থী কিংবা এর পূর্ণতাকে ক্ষুণ্ণ করে। সুতরাং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ কী? এর দাবি কী? এবং এর শর্তাবলি কী কী?
উত্তর: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এই কালিমাটি হলো দ্বীনের মূল ভিত্তি এবং 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল' এই সাক্ষ্যের সাথে এটি ইসলামের স্তম্ভসমূহের প্রথম স্তম্ভ। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: «ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের ওপর: এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وأن محمدا رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج البيت» . متفق على صحته من حديث ابن عمر رضي الله عنهما.
وفي الصحيحين عن ابن عباس رضي الله عنهما «أن النبي صلى الله عليه وسلم لما بعث معاذا رضي الله عنه إلى اليمن، قال له: "إنك تأتي قوما من أهل الكتاب، فادعهم إلى أن يشهدوا أن لا إله إلا الله، وأني رسول الله، فإن أطاعوك لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم خمس صلوات في اليوم والليلة، فإن أطاعوك لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم فترد في فقرائهم» . الحديث متفق عليه، والأحاديث في هذا الباب كثيرة.
ومعنى شهادة أن لا إله إلا الله: لا معبود بحق إلا الله، وهي تنفي الإلهية بحق عن غير الله - سبحانه - وتثبتها بالحق لله وحده، كما قال الله عز وجل في سورة الحج: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ} [الحج: 62] (1) وقال - سبحانه - في سورة المؤمنون: {وَمَنْ يَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِنْدَ رَبِّهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ} [المؤمنون: 117] (2) وقال عز وجل في سورة
--------------------------------------------
এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল—এই সাক্ষ্য প্রদান করা, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং বাইতুল্লাহর হজ করা। ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত এই হাদিসের বিশুদ্ধতার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করা হয়েছে (متفق على صحته)।
এবং সহীহাইন-এ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) যখন মুয়াজ (রা.)-কে ইয়ামেনে পাঠালেন, তখন তাকে বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং তুমি তাদের এই সাক্ষ্য প্রদানের আহ্বান জানাবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল। যদি তারা তোমার এই কথা মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যদি তারা তোমার এই কথা মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর সদকা ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।" হাদিসটি ঐকমত্য সম্পন্ন (متفق عليه), আর এই অধ্যায়ে হাদিস অনেক রয়েছে।
আর "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ হলো: আল্লাহ ব্যতীত ইবাদতের কোনো সত্য মাবুদ নেই। এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত অন্য সবার থেকে সত্য উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার যোগ্যতাকে অস্বীকার করে এবং তা এককভাবে সত্য হিসেবে আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করে, যেমন মহান আল্লাহ সূরা হাজ্জ-এ বলেছেন: {এটি একারণে যে, আল্লাহই সত্য এবং তাঁর পরিবর্তে তারা যাকে ডাকে তা বাতিল} [সূরা হাজ্জ: ৬২] (১) এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা আল-মুমিনুন-এ বলেছেন: {যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে, যার স্বপক্ষে তার কাছে কোনো প্রমাণ নেই, তার হিসাব কেবল তার রবের নিকট। নিশ্চয়ই কাফিররা সফলকাম হবে না} [সূরা আল-মুমিনুন: ১১৭] (২) এবং মহান আল্লাহ অন্য এক সূরায় বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
البقرة: {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ} [البقرة: 163] (1) وقال في سورة البينة: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ} [البينة: 5] (2) .
والآيات في هذا المعنى كثيرة، وهذه الكلمة العظيمة لا تنفع قائلها ولا تخرجه من دائرة الشرك إلا إذا عرف معناها وعمل به وصدق به.
وقد كان المنافقون يقولونها وهم في الدرك الأسفل من النار؛ لأنهم لم يؤمنوا بها ولم يعملوا بها.
وهكذا اليهود تقولها وهم من أكفر الناس - لعدم إيمانهم بها -، وهكذا عباد القبور والأولياء من كفار هذه الأمة يقولونها وهم يخالفونها بأقوالهم وأفعالهم وعقيدتهم، فلا تنفعهم ولا يكونون بقولها مسلمين؛ لأنهم ناقضوها بأقوالهم، وأعمالهم، وعقائدهم، وقد ذكر بعض أهل العلم أن شروطها ثمانية جمعها في بيتين فقال:
علم يقين وإخلاص وصدقك مع
… محبة وانقياد والقبول لها
وزيد ثامنها الكفران منك بما
… سوى الإله من الأشياء قد ألها
--------------------------------------------
আল-বাকারা: {আর তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ; পরম দয়াময় ও দয়ালু তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই।} [আল-বাকারা: ১৬৩] (১) এবং তিনি সুরা আল-বায়্যিনাহ-তে বলেছেন: {তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।} [আল-বায়্যিনাহ: ৫] (২) ।
এই মর্মে বহু আয়াত রয়েছে। আর এই মহান কালিমা তার পাঠকারীর কোনো উপকারে আসবে না এবং তাকে শিরকের গণ্ডি থেকে বের করবে না, যতক্ষণ না সে এর অর্থ জানবে, তদনুযায়ী আমল করবে এবং তা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করবে।
মুনাফিকরা এটি বলত অথচ তারা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে; কারণ তারা এতে বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং সে অনুযায়ী আমল করেনি।
অনুরূপভাবে ইয়াহুদিরা এটি বলে অথচ তারা নিকৃষ্টতম কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত—এতে ঈমান না থাকার কারণে—একইভাবে এই উম্মতের কাফিরদের মধ্যে যারা কবর ও ওলী-আউলিয়ার পূজারী, তারা এটি মুখে বলে কিন্তু তাদের কথা, কাজ ও আকিদার মাধ্যমে এর বিরোধিতা করে। ফলে এটি তাদের কোনো উপকারে আসে না এবং শুধু এটি বলার কারণে তারা মুসলিম হতে পারে না; কারণ তারা তাদের কথা, কাজ ও আকিদার মাধ্যমে এর পরিপন্থী কাজ করেছে। আলেমগণের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, এর শর্তাবলি আটটি, যা তিনি দুটি পঙক্তিতে সংকলন করে বলেছেন:
জ্ঞান, সুনিশ্চিত বিশ্বাস, ইখলাস ও তোমার সত্যবাদিতা; এর সাথে
… ভালোবাসা, আনুগত্য এবং এর গ্রহণ
আর অষ্টমটি হলো তোমার কুফরি বা অস্বীকৃতি সেই সব বস্তুর প্রতি
… আল্লাহ ব্যতীত ইলাহ হিসেবে অন্য যা কিছুর উপাসনা করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وهذان البيتان قد استوفيا جميع شروطها:
الأول: العلم بمعناها المنافي للجهل وتقدم أن معناها لا معبود حق إلا الله، فجميع الآلهة التي يعبدها الناس سوى الله - سبحانه - كلها باطلة.
الثاني: اليقين المنافي للشك فلابد في حق قائلها أن يكون على يقين بأن الله - سبحانه - هو المعبود بالحق.
الثالث: الإخلاص وذلك بأن يخلص العبد لربه - سبحانه - وهو الله عز وجل جميع العبادات فإذا صرف منها شيئا لغير الله من نبي، أو ولي، أو ملك، أو صنم، أو جني أو غيرها فقد أشرك بالله ونقض هذا الشرط وهو شرط الإخلاص.
الرابع: الصدق، ومعناه أن يقولها وهو صادق في ذلك، يطابق قلبه لسانه، ولسانه قلبه، فإن قالها باللسان فقط وقلبه لم يؤمن بمعناها فإنها لا تنفعه، ويكون بذلك كافرا كسائر المنافقين.
الخامس: المحبة، ومعناها أن يحب الله عز وجل فإن قالها وهو لا يحب الله صار كافرا لم يدخل في الإسلام كالمنافقين.
ومن أدلة ذلك قوله - تعالى -: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} [آل عمران: 31] (1) وقوله - سبحانه -: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ} [البقرة: 165]
--------------------------------------------
এই দুই পঙ্ক্তিতে এর সকল শর্তাবলি পূর্ণভাবে বিধৃত হয়েছে:
প্রথমত: ইলম বা জ্ঞান (العلم), যার অর্থ হলো অজ্ঞতা (الجهل) দূরকারী জ্ঞান। ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, কালিমার অর্থ হলো—আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবুদ নেই। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত মানুষ যেসব উপাস্যের ইবাদত করে, তার সবগুলোই বাতিল বা ভিত্তিহীন।
দ্বিতীয়ত: ইয়াকিন বা দৃঢ় বিশ্বাস (اليقين), যা সংশয় বা সন্দেহ (الشك) দূরকারী। সুতরাং কালিমা পাঠকারীর জন্য অপরিহার্য হলো এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই একমাত্র সত্য মাবুদ।
তৃতীয়ত: ইখলাস বা একনিষ্ঠতা (الإخلاص); আর তা হলো বান্দা তার রব্ব—যিনি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা—তাঁর জন্য সকল ইবাদতকে একনিষ্ঠ করবে। যদি সে ইবাদতের কোনো অংশ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও জন্য নিবেদন করে—তা কোনো নবী, ওলি, ফেরেশতা, মূর্তি, জিন বা অন্য যা-ই হোক না কেন—তবে সে আল্লাহর সাথে শিরক করল এবং ইখলাসের এই শর্তটি ভঙ্গ করল।
চতুর্থত: সিদক বা সত্যবাদিতা (الصدق); এর অর্থ হলো কালিমাটি এমনভাবে বলা যাতে সে সত্যবাদী সাব্যস্ত হয়, অর্থাৎ তার অন্তরের সাথে জিহ্বার এবং জিহ্বার সাথে অন্তরের মিল থাকে। যদি সে কেবল জিহ্বা দিয়ে তা পাঠ করে কিন্তু তার অন্তর এর মর্মার্থের ওপর ঈমান না রাখে, তবে তা তার কোনো উপকারে আসবে না এবং এর ফলে সে অন্যান্য মুনাফিকদের ন্যায় কাফির হিসেবে গণ্য হবে।
পঞ্চমত: মহব্বত বা ভালোবাসা (المحبة); এর অর্থ হলো আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লাকে ভালোবাসা। যদি কেউ কালিমা পাঠ করে অথচ আল্লাহকে না ভালোবাসে, তবে সে কাফিরে পরিণত হবে এবং মুনাফিকদের ন্যায় ইসলামে প্রবেশকারী হিসেবে গণ্য হবে না।
এর দলিলের মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: "বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।" [আল-ইমরান: ৩১] এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: "আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে, তারা তাদেরকে আল্লাহকে ভালোবাসার মতো ভালোবাসে। আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় অনেক দৃঢ়।" [আল-বাকারা: ১৬৫]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(1) والآيات في هذا المعنى كثيرة.
السادس: الانقياد لما دلت عليه من المعنى، ومعناه أن يعبد الله وحده وينقاد لشريعته، ويؤمن بها، ويعتقد أنها الحق، فإن قالها ولم يعبد الله وحده، ولم ينقد لشريعته بل استكبر عن ذلك، فإنه لا يكون مسلما كإبليس وأمثاله.
السابع: القبول لما دلت عليه، ومعناه أن يقبل ما دلت عليه من إخلاص العبادة لله وحده، وترك عبادة ما سواه، وأن يلتزم بذلك ويرضى به.
الثامن: الكفر بما يعبد من دون الله، ومعناه أن يتبرأ من عبادة غير الله ويعتقد أنها باطلة، كما قال الله - سبحانه -: {فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [البقرة: 256] (2) .
وصح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من قال لا إله إلا الله وكفر بما يعبد من دون الله حرم ماله ودمه وحسابه على الله» . وفي رواية عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من وحد الله وكفر بما يعبد من دون الله حرم ماله ودمه» . أخرجه مسلم في صحيحه.
--------------------------------------------
(১) এই মর্মে আয়াতসমূহ অনেক রয়েছে।
ষষ্ঠ: এর অর্থের দাবি অনুযায়ী আনুগত্য করা। এর অর্থ হলো—একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁর শরিয়তের অনুগত হওয়া, তাতে ঈমান আনা এবং তা সত্য বলে বিশ্বাস করা। যদি কেউ এটি উচ্চারণ করে কিন্তু একমাত্র আল্লাহর ইবাদত না করে এবং তাঁর শরিয়তের অনুগত না হয়, বরং তা থেকে অহংকার প্রদর্শন করে, তবে সে ইবলিস ও তার অনুসারীদের মতো মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে না।
সপ্তম: এটি যা নির্দেশ করে তা গ্রহণ করা। এর অর্থ হলো—এটি একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছুর ইবাদত বর্জন করার যে নির্দেশ দেয় তা গ্রহণ করা এবং তা মেনে নেওয়া ও তাতে সন্তুষ্ট থাকা।
অষ্টম: আল্লাহ ছাড়া অন্য যা কিছুর ইবাদত করা হয় তা অস্বীকার করা। এর অর্থ হলো—আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত থেকে নিজেকে বিযুক্ত করা এবং একে বাতিল বলে বিশ্বাস করা। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন— {যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, সে অবশ্যই এক মজবুত হাতল ধারণ করল যা কখনো ছিঁড়ে যাবার নয়; আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [সূরা আল-বাকারা: ২৫৬] (২)।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি বলল—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য যা কিছুর উপাসনা করা হয় তা অস্বীকার করল, তার ধন-সম্পদ ও রক্ত (হানি করা) হারাম (حرام) হয়ে গেল এবং তার হিসাব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত।” তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-তে এসেছে যে তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করল এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য যা কিছুর ইবাদত করা হয় তা অস্বীকার করল, তার সম্পদ ও রক্ত হারাম (حرام) হয়ে গেল।” ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فالواجب على جميع المسلمين أن يحققوا هذه الكلمة بمراعاة هذه الشروط، ومتى وجد من المسلم معناها والاستقامة عليه فهو مسلم حرام الدم والمال. وإن لم يعرف تفاصيل هذه الشروط لأن المقصود هو العلم بالحق والعمل به، وإن لم يعرف المؤمن تفاصيل الشروط المطلوبة، والطاغوت هو كل ما عبد من دون الله كما قال الله عز وجل: {فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا} [البقرة: 256] (1) الآية.
وقال - سبحانه -: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] (2) ومن كان لا يرضى بذلك من المعبودين من دون الله كالأنبياء والصالحين والملائكة فإنهم ليسوا بطواغيت، وإنما الطاغوت هو الشيطان الذي دعا إلى عبادتهم وزينها للناس، نسأل الله لنا وللمسلمين العافية من كل سوء.
وأما الفرق بين الأعمال التي تنافي هذه الكلمة وهي لا إله إلا الله، والتي تنافي كمالها الواجب، فهو: أن كل عمل أو قول أو اعتقاد يوقع صاحبه في الشرك الأكبر فهو ينافيها بالكلية ويضادها. كدعاء الأموات، والملائكة، والأصنام، والأشجار، والأحجار، والنجوم ونحو ذلك. . والذبح لهم، والنذر والسجود لهم وغير ذلك.
--------------------------------------------
সকল মুসলিমের জন্য কর্তব্য হলো এই শর্তাবলি যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে এই বাণীর (কালিমা) বাস্তবায়ন করা। যখনই কোনো মুসলিমের মধ্যে এর অর্থ এবং এর ওপর অবিচলতা বিদ্যমান থাকবে, তখনই সে এমন একজন মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে যার রক্ত ও সম্পদ লুণ্ঠন হারাম বা অবৈধ। যদিও সে এই শর্তাবলির বিস্তারিত বিবরণ না জানে; কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো সত্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং তদানুযায়ী আমল করা, যদিও মুমিন ব্যক্তি দাবিকৃত শর্তাবলির খুঁটিনাটি না জানে। আর তাগুত হলো আল্লাহ ব্যতীত যার ইবাদত করা হয় এমন প্রত্যেক বস্তু, যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {সুতরাং যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, সে অবশ্যই এমন এক মজবুত হাতল ধারণ করল যা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়} [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৬] (১) - আয়াত।
এবং তিনি—সুবহানাহু—বলেছেন: {আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই একজন রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুত পরিহার করো} [সূরা আন-নাহল: ৩৬] (২)। আর আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত করা হয় তাদের মধ্যে যারা এতে সন্তুষ্ট নন—যেমন নবীগণ, নেককার বান্দাগণ এবং ফেরেশতাগণ—তারা তাগুত নন। বরং তাগুত হলো সেই শয়তান, যে তাদের ইবাদতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং মানুষের দৃষ্টিতে তা সুশোভিত করেছে। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য যাবতীয় অনিষ্ট হতে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।
আর ঐ সকল আমলের মধ্যে পার্থক্য যা এই বাণী অর্থাৎ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর মূল ভিত্তির পরিপন্থী এবং যা এর আবশ্যকীয় পূর্ণতার পরিপন্থী, তা হলো: এমন প্রত্যেক কাজ, কথা বা বিশ্বাস যা তার কর্তাকে শিরকে আকবর-এ লিপ্ত করে, তা মূলত এই বাণীর সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও বিরোধী। যেমন: মৃত ব্যক্তি, ফেরেশতা, মূর্তি, বৃক্ষ, পাথর, নক্ষত্র এবং এই জাতীয় অন্যান্যদের নিকট প্রার্থনা করা, তাদের উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করা, মানত করা এবং তাদের প্রতি সিজদাবনত হওয়া ইত্যাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فهذا كله ينافي التوحيد بالكلية ويضاد هذه الكلمة ويبطلها، وهي لا إله إلا الله، ومن ذلك استحلال ما حرم الله من المحرمات المعلومة من الدين بالضرورة والإجماع كالزنا، وشرب المسكر، وعقوق الوالدين، والربا ونحو ذلك. ومن ذلك أيضا جحد ما أوجب الله من الأقوال والأعمال المعلومة من الدين بالضرورة والإجماع كوجوب الصلوات الخمس، والزكاة، وصوم رمضان، وبر الوالدين، والنطق بالشهادتين ونحو ذلك.
أما الأقوال والأعمال والاعتقادات التي تضعف التوحيد والإيمان، وتنافي كمالها الواجب، فهي كثيرة ومنها: الشرك الأصغر: كالرياء، والحلف بغير الله، وقول ما شاء الله وشاء فلان، أو هذا من الله ومن فلان، ونحو ذلك، وهكذا جميع المعاصي كلها تضعف التوحيد والإيمان وتنافي كمالها الواجب، فالواجب الحذر من جمع ما ينافي التوحيد والإيمان أو ينقص ثوابهما. والإيمان عند أهل السنة والجماعة قول وعمل يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية، والأدلة على ذلك كثيرة أوضحها أهل العلم في كتب العقيدة وكتب التفسير والحديث فمن أرادها وجدها والحمد لله. ومن ذلك قول الله - تعالى -: {وَإِذَا مَا أُنْزِلَتْ سُورَةٌ فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَانًا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَهُمْ يَسْتَبْشِرُونَ} [التوبة: 124] (1) وقوله
--------------------------------------------
এসবের প্রতিটিই তাওহিদ (توحيد)-এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং এই কালিমাকে প্রতিহত ও বাতিল করে দেয়, আর তা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ যা হারাম করেছেন এবং যা দ্বীনের অকাট্য বিষয় (المعلوم من الدين بالضرورة) ও ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে সুপরিচিত, সেগুলোকে বৈধ মনে করা; যেমন ব্যভিচার, মাদকদ্রব্য পান, পিতা-মাতার অবাধ্যতা, সুদ এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ। তদ্রূপ এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ যা আবশ্যক (واجب) করেছেন এবং যা দ্বীনের অকাট্য বিষয় (المعلوم من الدين بالضرورة) ও ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে সুপরিচিত, এমন কথা ও কাজকে অস্বীকার করা; যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের আবশ্যকতা, জাকাত, রমজানের রোজা, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার, শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী) পাঠ করা এবং এই ধরনের বিষয়সমূহ।
পক্ষান্তরে ঐসব কথা, কাজ ও বিশ্বাস যা তাওহিদ (توحيد) ও ঈমানকে দুর্বল করে দেয় এবং এর আবশ্যিক পূর্ণতাকে (كمال الواجب) ক্ষুণ্ণ করে, তা অনেক। তার মধ্যে রয়েছে: ছোট শিরক (الشرك الأصغر); যেমন লোক-দেখানো আমল (الرياء), আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করা এবং এই কথা বলা যে, ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং অমুক যা চেয়েছে’ অথবা ‘এটি আল্লাহ ও অমুকের পক্ষ থেকে’ ইত্যাদি। একইভাবে সকল প্রকার পাপাচারই (معصية) তাওহিদ (توحيد) ও ঈমানকে দুর্বল করে এবং এর আবশ্যিক পূর্ণতাকে নষ্ট করে। সুতরাং যা কিছু তাওহিদ (توحيد) ও ঈমানের পরিপন্থী অথবা এগুলোর সওয়াব হ্রাস করে, তা থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক (واجب)। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট ঈমান হলো মৌখিক স্বীকৃতি ও কর্মের সমন্বয়, যা আনুগত্যের (طاعة) মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং পাপাচারের (معصية) মাধ্যমে হ্রাস পায়। এ বিষয়ে অনেক দলিল রয়েছে যা ইলম অর্জনকারীগণ আকিদাহ, তাফসির ও হাদিসের কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যে তা অন্বেষণ করবে সে তা পেয়ে যাবে, আলহামদুলিল্লাহ। এর মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন কোনো সূরা নাযিল করা হয়, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, ‘এটি তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বৃদ্ধি করল?’ বস্তুত যারা ঈমান এনেছে, এটি তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দ প্রকাশ করে।} [আত-তাওবাহ: ১২৪] (১) এবং তাঁর বাণী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
سبحانه: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} [الأنفال: 2] (1) وقوله - سبحانه -: {وَيَزِيدُ اللَّهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى} [مريم: 76] الآية (2) والآيات في هذا المعنى كثيرة.
[أهمية توحيد الإلهية]4 - تكثر في العصر الحاضر البحوث والمؤلفات والمحاضرات في إثبات وجود الله وتقرير ربوبيته من غير الاستدلال بذلك على لازم ذلك ومقتضاه وهو توحيد الإلهية، وقد ترتب على ذلك: الجهل بتوحيد الإلهية، والتهاون بأمره فحبذا لو ألقيتم الضوء على أهمية توحيد الإلهية من حيث إنه أساس النجاة ومدارها ومفتاح دعوة الرسل، عليهم الصلاة والسلام، والأصل الذي يبنى عليه غيره؟
الجواب: لا ريب أن الله - سبحانه - أرسل الرسل وأنزل الكتب لبيان حقه على عباده ودعوتهم إلى إخلاص العبادة له - سبحانه - دون كل ما سواه، وتخصيصه بجميع عباداتهم؛ لأن أكثر أهل
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {মুমিন তো তারাই, যাদের অন্তরসমূহ আল্লাহর স্মরণে কম্পিত হয় এবং যখন তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের রবের ওপর ভরসা করে} [আল-আনফাল: ২] (১) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা সৎপথ প্রাপ্ত হয়েছে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করে দেন} [মারইয়াম: ৭৬] আয়াত (২) এবং এই মর্মে আয়াতসমূহ অনেক রয়েছে।
[তাওহীদে উলুহিয়্যাহ (توحيد الإلهية)-র গুরুত্ব]৪ - বর্তমান যুগে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ এবং তাঁর রুবুবিয়্যাহ (ربوبية)-র স্বীকৃতির বিষয়ে বহু গবেষণা, গ্রন্থ ও বক্তৃতা পরিলক্ষিত হয়, তবে এর আবশ্যিক দাবি ও লক্ষ্যের প্রতি দলিল পেশ করা হয় না—যা হলো তাওহীদে উলুহিয়্যাহ (توحيد الإلهية)। এর ফলে তাওহীদে উলুহিয়্যাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং এর বিধানের ব্যাপারে শিথিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই আপনি যদি তাওহীদে উলুহিয়্যাহ-র গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করতেন—যেহেতু এটিই হচ্ছে নাজাতের মূল ভিত্তি ও কেন্দ্রবিন্দু, রাসূলগণের (তাঁদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) দাওয়াতের চাবিকাঠি এবং সেই মূল ভিত্তি যার ওপর অন্য সব কিছু গড়ে ওঠে?
উত্তর: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর প্রাপ্য অধিকার বর্ণনা করার জন্য এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদতে একনিষ্ঠ হওয়ার দাওয়াত দেওয়ার জন্য রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন, যেন অন্য সব কিছুকে বর্জন করে সকল ইবাদত একমাত্র তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট করা হয়; কারণ অধিকাংশ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الأرض قد عرفوا أن الله ربهم وخالقهم ورازقهم، وإنما وقعوا في الشرك به - سبحانه - بصرف عباداتهم أو بعضها لغيره، جهلا بذلك وتقليدا لآبائهم وأسلافهم، كما جرى لقوم نوح ومن بعدهم من الأمم. وكما جرى لأوائل هذه الأمة، فإن الرسول صلى الله عليه وسلم لما دعاهم إلى توحيد الله استنكروا ذلك واستكبروا عن قبوله، وقالوا كما ذكر الله ذلك عنهم: {أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} [ص: 5] (1) هكذا في سورة ص. وقال عنهم - سبحانه - في سورة الصافات: {إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ - وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُو آلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَجْنُونٍ} [الصافات: 35 - 36] (2) وقال عنهم - سبحانه - في سورة الزخرف،: {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ} [الزخرف: 23] (3) والآيات في هذا المعنى كثيرة، فالواجب على علماء المسلمين وعلى دعاة الهدى أن يوضحوا للناس حقيقة توحيد الألوهية. . والفرق بينه وبين توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات؛ لأن كثيرا من المسلمين يجهل ذلك فضلا عن غيرهم، وقد كان كفار قريش وغيرهم من العرب وغالب الأمم يعرفون أن الله خالقهم ورازقهم، ولهذا احتج عليهم - سبحانه - بذلك؛ لأنه
--------------------------------------------
পৃথিবীর অধিবাসীরা অবশ্যই জানত যে, আল্লাহ তাদের রব, স্রষ্টা এবং রিযিকদাতা। তারা কেবল তাঁর—সুবহানাহু—সাথে শিরকে লিপ্ত হয়েছে তাদের ইবাদতসমূহ বা এর কিছু অংশ আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য নিবেদন করার মাধ্যমে; আর তা ছিল এ বিষয়ে তাদের অজ্ঞতা এবং তাদের পিতৃপুরুষ ও পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণের (تقليد) কারণে, যেমনটি ঘটেছিল নূহ (আ.)-এর কওম এবং তাদের পরবর্তী জাতিসমূহের ক্ষেত্রে। অনুরূপভাবে এই উম্মতের প্রথম সারির লোকদের ক্ষেত্রেও তা ঘটেছিল; কারণ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাদের আল্লাহর একত্ববাদের (توحيد) দিকে আহ্বান করলেন, তখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করল এবং তা গ্রহণ করতে অহংকার প্রদর্শন করল। তারা বলেছিল—যেমনটি আল্লাহ তাদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছেন: {সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে এক উপাস্য নির্ধারণ করেছে? এটি তো এক বিস্ময়কর ব্যাপার!} [সোয়াদ: ৫] (১)—সুরা সোয়াদে এমনই বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ সুরা আস-সাফফাতে তাদের সম্পর্কে বলেছেন: {তাদের যখন বলা হতো—আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) উপাস্য নেই, তখন তারা অহংকার করত। আর বলত—আমরা কি এক পাগল কবির কথায় আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব?} [আস-সাফফাত: ৩৫-৩৬] (২) এবং মহান আল্লাহ সুরা আয-যুখরুফে তাদের সম্পর্কে বলেছেন: {আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।} [আয-যুখরুফ: ২৩] (৩) এই মর্মের আয়াত আরও অনেক রয়েছে। সুতরাং মুসলিম আলিমদের এবং হিদায়াতের দিকে আহ্বানকারীদের ওপর আবশ্যক হলো মানুষের নিকট ইবাদতে আল্লাহর একত্বের (توحيد الألوهية) প্রকৃত রূপ স্পষ্ট করা এবং এর সাথে প্রভুত্বে আল্লাহর একত্ব (توحيد الربوبية) ও নাম ও গুণাবলীতে আল্লাহর একত্বের (توحيد الأسماء والصفات) পার্থক্য বুঝিয়ে বলা; কেননা অনেক মুসলিমই এ বিষয়ে অজ্ঞ, অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য। কুরাইশ কাফিররা, অন্যান্য আরবগণ এবং অধিকাংশ জাতিই জানত যে আল্লাহ তাদের স্রষ্টা ও রিযিকদাতা। এ কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের বিরুদ্ধে এটি প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন; কারণ তিনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
- جل وعلا - وهو المستحق لأن يعبدوه، لكونه خالقهم، ورازقهم، والقادر عليهم من جميع الوجوه، كما قال - سبحانه -: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} [الزخرف: 87] (1) .
وقال عز وجل: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ} [العنكبوت: 61] (2) .
وقال - عر وجل - آمرا نبيه صلى الله عليه وسلم أن يسألهم عمن يرزقهم: {يَفْتَرُونَ - قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ أَمَّنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالأَبْصَارَ وَمَنْ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَنْ يُدَبِّرُ الأَمْرَ} [يونس: 30 - 31] (3) قال الله - سبحانه -: {فَسَيَقُولُونَ اللَّهُ فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ} [يونس: 31] والآيات في هذا المعنى كثيرة، يحتج عليهم - سبحانه - بما أقروا به من كونه ربهم، وخالقهم، ورازقهم، وخالق السماء والأرض، ومدبر الأمر على ما أنكروه من توحيد العبادة، وبطلان عبادة الأصنام والأوثان وغيرها من كل ما يعبدون من دون الله.
وهكذا أمر - سبحانه - عباده بأن يؤمنوا بأسمائه وصفاته، وأن ينزهوه عن مشابهة الخلق، فقال - سبحانه -: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} [الأعراف: 180]
--------------------------------------------
- মহা মহিমান্বিত ও সুউচ্চ - এবং তিনিই ইবাদত পাওয়ার প্রকৃত যোগ্য, কারণ তিনি তাদের সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা এবং সর্বদিক থেকে তাদের ওপর ক্ষমতাবান। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে, তবে তারা অবশ্যই বলবে ‘আল্লাহ’।} [আল-যুখরুফ: ৮৭] (১) ।
এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: {যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন কে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে এবং সূর্যকে বশীভূত করেছে...} [আল-আনকাবুত: ৬১] (২) ।
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দিয়ে বলেন যেন তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন কে তাদের রিযিক দেয়: {তারা মিথ্যা রটনা করে - বলুন, কে তোমাদের আকাশ ও জমিন থেকে রিযিক দান করে? অথবা কে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির মালিক? এবং কে জীবিতকে মৃত থেকে বের করে আর মৃতকে জীবিত থেকে বের করে? এবং কে সকল বিষয় পরিচালনা করে?} [ইউনুস: ৩০ - ৩১] (৩) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {তারা তখন বলবে ‘আল্লাহ’। তখন আপনি বলুন, ‘তবে কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না (আল্লাহকে ভয় করবে না)?’} [ইউনুস: ৩১]। আর এই মর্মে আয়াত অনেক রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের সেই বিষয়ের বিপরীতে দলিল পেশ করেছেন যা তারা স্বীকার করত—যেমন তিনি তাদের পালনকর্তা, সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, আকাশ ও জমিনের স্রষ্টা এবং সকল বিষয়ের পরিচালক—সেই বিষয়ের স্বপক্ষে যা তারা অস্বীকার করত, আর তা হলো ইবাদতের তাওহীদ এবং প্রতিমা ও মূর্তিপূজাসহ আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুর ইবাদতের অসারতা।
অনুরূপভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির প্রতি ঈমান আনে এবং সৃষ্টির সদৃশ হওয়া থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম, অতএব তোমরা তাঁকে সেইসব নামেই ডাকো।} [আল-আরাফ: ১৮০]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
(1) وقال في سورة الحشر: {هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ} [الحشر: 22] إلى آخر السورة (2) .
وقال عز وجل: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَدُ - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص: 1 - 4] (3) وقال عز وجل: {فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [البقرة: 22] (4) وقال - سبحانه -: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] (5) والآيات في هذا المعنى كثيرة.
وقد أوضح أهل العلم رحمهم الله أن توحيد الربوبية يستلزم توحيد الألوهية وهو إفراد الله بالعبادة، ويوجب ذلك ويقتضيه، ولهذا احتج الله عليهم بذلك، وهكذا توحيد الأسماء والصفات يستلزم تخصيص الله بالعبادة، وإفراده بها لأنه - سبحانه - هو الكامل في ذاته، وفي أسمائه وصفاته، وهو المنعم على عباده، فهو المستحق لأن يعبدوه ويطيعوا أوامره وينتهوا عن نواهيه.
وأما توحيد العبادة، فهو يتضمن النوعين، ويشتمل عليهما لمن حقق ذلك واستقام عليه علما وعملا.
وقد بسط أهل العلم بيان هذا المعنى في كتب العقيدة والتفسير،
--------------------------------------------
(১) এবং তিনি সূরা আল-হাশরে বলেছেন: {তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু} [আল-হাশর: ২২] সূরার শেষ পর্যন্ত (২)।
এবং মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই} [আল-ইখলাস: ১-৪] (৩) এবং মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: {অতএব তোমরা জেনেশুনে আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ স্থির করো না} [আল-বাকারা: ২২] (৪) এবং তিনি—পবিত্রতা তাঁরই—বলেন: {তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [আশ-শুরা: ১১] (৫) এবং এই মর্মে বহু আয়াত রয়েছে।
আলেমগণ (أهل العلم) —আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন— স্পষ্ট করেছেন যে, প্রভুত্বের একত্ববাদ (توحيد الربوبية) উপাসনার একত্ববাদকে (توحيد الألوهية) আবশ্যক করে—আর তা হলো ইবাদতে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা (إفراد الله بالعبادة)—এটি তাকে অনিবার্য ও জরুরি করে তোলে। একারণেই আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। অনুরূপভাবে, নাম ও গুণাবলির একত্ববাদ (توحيد الأسماء والصفات) ইবাদতকে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করা এবং তাতে তাঁকে একক সাব্যস্ত করার দাবি রাখে; কারণ তিনি—পবিত্রতা তাঁরই—স্বীয় সত্তা, নাম ও গুণাবলিতে পূর্ণাঙ্গ। তিনিই তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহকারী, সুতরাং তিনিই একমাত্র এর যোগ্য যে তারা তাঁর ইবাদত করবে, তাঁর আদেশসমূহ পালন করবে এবং তাঁর নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকবে।
আর ইবাদতের একত্ববাদ (توحيد العبادة) সম্পর্কে বলা যায় যে, এটি পূর্বোক্ত উভয় প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং যে ব্যক্তি জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করে ও এর ওপর অবিচল থাকে, তার ক্ষেত্রে এটি উভয় প্রকারকেই শামিল করে।
আলেমগণ (أهل العلم) আকিদাহ ও তাফসিরের গ্রন্থসমূহে এই অর্থের বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
كتفسير ابن جرير، وابن كثير، والبغوي وغيرهم، وكتاب السنة لعبد الله بن أحمد، وكتاب التوحيد لابن خزيمة، ورد العلامة عثمان بن سعيد الدارمي على بشر المريسي وغيرهم من علماء السلف رحمهم الله في كتبهم.
وممن أجاد في ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه العلامة ابن القيم - رحمة الله علمهما - في كتبهما.
وهكذا أئمة الدعوة الإسلامية في القرن الثاني عشر وما بعده، كالشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وأبنائه، وتلاميذه، وأتباعهم من أهل السنة.
ومن أحسن ما ألف في ذلك: "فتح المجيد" وأصله تيسير العزيز الحميد الأول للشيخ عبد الرحمن بن حسن رحمه الله والثاني للشيخ سليمان بن عبد الله آل الشيخ رحمه الله.
ومن أحسن ما جمع في ذلك الأجزاء الأولى من الدرر السنية التي جمعها الشيخ العلامة عبد الرحمن بن قاسم رحمه الله فإنه جمع فيها فتاوى أئمة الدعوة من آل الشيخ وغيرهم من علماء القرن الثاني عشر وما بعده في العقيدة والأحكام فأنصح بقراءتها ومراجعتها وغيرها من كتب علماء السنة لما في ذلك من الفائدة العظيمة.
ومن ذلك مجموعة الرسائل الأولى لأئمة الدعوة من آل الشيخ وغيرهم رحمهم الله وردود المشايخ: الشيخ عبد الرحمن بن حسن، والشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن، والشيخ عبد الله
যেমন ইবনে জারির, ইবনে কাসির ও আল-বাগাওয়ীর তাফসিরসমূহ এবং আরও অন্যান্যদের কিতাব; আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদের কিতাবুস সুন্নাহ, ইবনে খুজাইমার কিতাবুত তাওহিদ এবং বিশর আল-মারিসির বিপক্ষে আল্লামা উসমান ইবনে সাইদ আদ-দারিমির খণ্ডনমূলক গ্রন্থসহ সলফ আলেমদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) অন্যান্য কিতাবসমূহ।
আর যারা এই বিষয়ে বিশেষ পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন) তাঁদের গ্রন্থসমূহে।
এবং একইভাবে দ্বাদশ শতাব্দী ও তার পরবর্তী সময়ের ইসলামি দাওয়াতের ইমামগণ, যেমন শাইখ আল-ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন), তাঁর সন্তানগণ, তাঁর ছাত্রগণ এবং আহলে সুন্নাহর মধ্য হতে তাঁদের অনুসারীবৃন্দ।
আর এই বিষয়ে রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো: 'ফাতহুল মাজিদ' এবং এর মূল গ্রন্থ 'তায়সিরুল আজিজিল হামিদ'; প্রথমটি শাইখ আব্দুর রহমান ইবনে হাসান (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এবং দ্বিতীয়টি শাইখ সুলাইমান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আশ-শাইখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর রচনা।
এবং এই বিষয়ে সংকলিত শ্রেষ্ঠ কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো 'আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ'-এর প্রথম খণ্ডসমূহ, যা শাইখ আল্লামা আব্দুর রহমান ইবনে কাসিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সংকলন করেছেন। তিনি এতে আল-আশ-শাইখ পরিবারের দাওয়াতের ইমামগণ এবং দ্বাদশ শতাব্দী ও তার পরবর্তী সময়ের অন্যান্য আলেমদের আক্বিদা এবং আহকাম সংক্রান্ত ফতোয়াসমূহ একত্র করেছেন। তাই আমি এগুলো এবং সুন্নাহর আলেমদের অন্যান্য কিতাবসমূহ অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার পরামর্শ দিচ্ছি, কারণ এতে মহান কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল-আশ-শাইখ পরিবারের দাওয়াতের ইমামগণ ও অন্যান্যদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) প্রাথমিক পত্রাবলির সংকলন এবং শাইখগণের খণ্ডনমূলক জবাবসমূহ: শাইখ আব্দুর রহমান ইবনে হাসান, শাইখ আব্দুল লতিফ ইবনে আব্দুর রহমান এবং শাইখ আব্দুল্লাহ...
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজউবাতিন মুহিম্মাতিন তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
أبابطين، والشيخ سليمان بن سحمان، وغيرهم من أئمة الهدى وأنصار التوحيد لما فيها من الفائدة وإزالة الشبه الكثيرة، والرد على أهلها، رحمهم الله جميعا رحمة واسعة وأسكنهم فسيح جناته وجعلنا من أتباعهم بإحسان. ومن ذلك أعداد مجلة البحوث الإسلامية التي تصدرها الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد لما فيها من المقالات العظيمة والفوائد الكثيرة في العقيدة والأحكام.
ومن ذلك: المجلدات الأولى من الفتاوى والمقالات الصادرة مني فيما يتعلق بالعقيدة وهي مطبوعة بحمد الله، وموجودة بين طلبة العلم. نفع الله بها.
[التبرك بالعلماء والصالحين وآثارهم والتبرك بالنبي صلى الله عليه وسلم]5 - هناك من يرى جواز التبرك بالعلماء والصالحين وآثارهم مستدلا بما ثبت من تبرك الصحابة رضي الله عنهم بالنبي صلى الله عليه وسلم فما حكم ذلك؟ ثم أليس فيه تشبيه لغير النبي صلى الله عليه وسلم بالنبي صلى الله عليه وسلم، وهل يمكن التبرك بالنبي صلى الله عليه وسلم بعد وفاته، وما حكم التوسل إلى الله - تعالى - ببركة النبي صلى الله عليه وسلم؟
الجواب: لا يجوز التبرك بأحد غير النبي صلى الله عليه وسلم -
আবা বুতাইন, শাইখ সুলাইমান বিন সাহমান এবং হিদায়াতের অন্যান্য ইমামগণ ও তাওহীদের সাহায্যকারীগণ; কারণ সেগুলোতে (তাঁদের রচনাবলিতে) অনেক উপকারিতা রয়েছে এবং বহু সংশয় নিরসন ও সংশয়বাদীদের খণ্ডন রয়েছে। আল্লাহ তাঁদের সকলকে প্রশস্ত রহমত দান করুন, জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দিন এবং আমাদের তাঁদের যথাযথ অনুসারী হিসেবে কবুল করুন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ' (ইসলামি গবেষণা সাময়িকী)-র সংখ্যাগুলো, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াহ এবং ইরশাদ বিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সি কর্তৃক প্রকাশিত হয়; কারণ এতে আকিদাহ ও আহকাম (বিধান) সংক্রান্ত মহান প্রবন্ধসমূহ ও অসংখ্য উপকারিতা বিদ্যমান।
তন্মধ্যে আরও রয়েছে: আকিদাহ সংক্রান্ত আমার পক্ষ থেকে প্রকাশিত ফাতাওয়া ও প্রবন্ধসমূহের প্রথম খণ্ডগুলো; আল্লাহর প্রশংসায় সেগুলো মুদ্রিত হয়েছে এবং ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট বিদ্যমান। আল্লাহ এর মাধ্যমে উপকার দান করুন।
[আলিম ও নেককার ব্যক্তিগণ এবং তাঁদের স্মৃতিচিহ্নের মাধ্যমে তাবাররুক (بركة) গ্রহণ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে তাবাররুক (بركة) গ্রহণ]৫ - এমন কিছু লোক আছে যারা সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে তাবাররুক (بركة) অর্জনের প্রমাণিত (ثابت) দলিলের ভিত্তিতে আলিম ও নেককার ব্যক্তি এবং তাঁদের স্মৃতিচিহ্নের মাধ্যমে তাবাররুক (بركة) গ্রহণ করাকে বৈধ মনে করে। এর বিধান কী? আর এতে কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কাউকে তাঁর সাথে তুলনা করা হয় না? তাঁর ইন্তিকালের পর কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে তাবাররুক (بركة) অর্জন করা সম্ভব? আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বারাকাহ (بركة)-এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর নিকট উসিলা (توسل) ধরার বিধান কী?
উত্তর: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো মাধ্যমে তাবাররুক (بركة) গ্রহণ করা জায়েজ (جائز) নয় -