(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
تحريم حلق اللحى - وجوب إعفاء اللحية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: تحريم حلق اللحى - وجوب إعفاء اللحية وتحريم حلقها وتقصيرها
المؤلف: عبد الرحمن بن محمد بن قاسم العاصمي الحنبلي النجدي (ت 1392هـ) - عبد العزيز بن عبد الله بن باز (ت 1420هـ)
الناشر: رئاسة إدارة البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد إدارة الطبع والترجمة
الطبعة: الثالثة، 1417هـ - 1996م
عدد الصفحات: 24
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দাড়ি মুণ্ডন হারাম হওয়া - দাড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: দাড়ি মুণ্ডন হারাম হওয়া - দাড়ি লম্বা রাখার আবশ্যকতা এবং তা মুণ্ডন করা ও ছোট করার নিষেধাজ্ঞা
লেখক: আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন কাসিম আল-আসিমি আল-হাম্বলি আন-নাজদি (ওফাত ১৩৯২ হিজরি) - আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ (ওফাত ১৪২০ হিজরি)
প্রকাশক: জেনারেল প্রেসিডেন্সি অফ স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা, দাওয়াহ অ্যান্ড গাইডেন্স, মুদ্রণ ও অনুবাদ বিভাগ
সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
[تحريم حلق اللحى]تحريم حلق اللحى ويليها وجوب إعفاء اللحية
وتحريم حلقها وتقصيرها تحريم حلق اللحى
[দাড়ি মুণ্ডানো হারাম (تحريم) হওয়া]দাড়ি মুণ্ডানো হারাম (تحريم) হওয়া এবং এর সাথে দাড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব (وجوب) হওয়া
এবং তা মুণ্ডানো ও ছোট করা হারাম (تحريم); দাড়ি মুণ্ডানো হারাম (تحريم) হওয়া
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده:
روى البخاري ومسلم في صحيحيهما وغيرهما، عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خالفوا المشركين، وفِّروا اللحى وأحفوا الشوارب» ، ولهما عنه أيضا: «أحفوا الشوارب وأعفوا اللحى» ، وفي رواية: «أنهكوا الشوارب وأعفوا اللحى» . واللحية: اسم للشعر النابت على الخدين والذقن، قال ابن حجر: "وفِّروا" بتشديد الفاء، من التوفير: وهو الإبقاء، أي اتركوها وافرة، وإعفاء اللحية: تركها على حالها.
ومخالفة المشركين يفسره حديث أبي هريرة رضي الله عنه: «إن أهل الشرك يعفون شواربهم ويحفون لحاهم فخالفوهم، فأعفوا اللحى وأحفوا الشوارب» رواه البزار بسند حسن، ولمسلم عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خالفوا المجوس» ؛ لأنهم كانوا يقصرون لحاهم ويطولون
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই:
ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো; দাড়ি পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃদ্ধি করো এবং গোঁফ খাটো করো», এবং তাঁদের উভয়ের গ্রন্থে তাঁর থেকেই আরও বর্ণিত হয়েছে: «তোমরা গোঁফ খাটো করো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও», এবং এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: «তোমরা গোঁফ নিংড়িয়ে ছোট করো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও»। আর লিহয়াহ (দাড়ি) হলো গালদ্বয় ও চিবুকের ওপর গজানো চুলের নাম। ইবনে হাজার বলেন: "ওয়াফফিরু" শব্দটি 'ফা' বর্ণে তাশদিদযুক্ত, যা 'তৌফির' শব্দ থেকে আগত: যার অর্থ হলো অবশিষ্ট রাখা, অর্থাৎ তোমরা তা পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ছেড়ে দাও। আর দাড়ির 'ই'ফা' বা ছেড়ে দেওয়ার অর্থ হলো একে তার নিজ অবস্থায় রাখা।
মুশরিকদের বিরোধিতার বিষয়টি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত একটি হাদিস দ্বারা ব্যাখ্যায়িত হয়: «নিশ্চয়ই শিরককারীরা তাদের গোঁফ লম্বা রাখে এবং তাদের দাড়ি খাটো করে, সুতরাং তোমরা তাদের বিরোধিতা করো; তোমরা দাড়ি ছেড়ে দাও এবং গোঁফ খাটো করো» এটি আল-বাজার হাসান (حسن) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন। আর মুসলিম-এ তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো»; কারণ তারা তাদের দাড়ি খাটো করত এবং গোঁফ লম্বা করত।
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الشوارب، ولابن حبان، عن ابن عمر قال: «ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم المجوس فقال: إنهم يوفرون سبالهم ويحلقون لحاهم، فخالفوهم» فكان يحفي سباله، وله عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من فطرة الإسلام أخذ الشارب وإعفاء اللحى، فإن المجوس تعفي شواربها وتحفي لحاها، فخالفوهم، خذوا شواربكم وأعفوا لحاكم» ، وفي صحيح مسلم عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «أمرنا بإحفاء الشوارب وإعفاء اللحية» ، وله عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «جزوا الشوارب وأرخوا اللحى» ومعنى جزوا: قصوا، وأرخوا: أي أطيلوا، ورواه بعضهم بلفظ "أرجو" أي: اتركوا، وما روي بلفظ: "قصوا" لا ينافي الإحفاء؛ لأن رواية الإحفاء في الصحيحين ومعينة للمراد، وفي رواية «أوفوا اللحى» أي: اتركوها وافية.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: يحرم حلق اللحية. وقال القرطبي: لا يجوز حلقها ولا نتفها ولا قصها.
গোঁফ প্রসঙ্গে; ইবনে হিব্বান-এ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অগ্নিপূজকদের কথা উল্লেখ করে বললেন: 'নিশ্চয়ই তারা তাদের গোঁফ লম্বা রাখে এবং দাড়ি কামিয়ে ফেলে, অতএব তোমরা তাদের বিপরীত করো'।" তাই তিনি তাঁর গোঁফ অতি ক্ষুদ্র করে কাটতেন। তাঁর (ইবনে হিব্বান) কিতাবে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত আছে যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "গোঁফ কর্তন করা এবং দাড়ি লম্বা করা ইসলামের স্বভাবজাত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। কেননা অগ্নিপূজকরা তাদের গোঁফ লম্বা রাখে এবং দাড়ি ছোট করে। অতএব তোমরা তাদের বিপরীত করো; তোমাদের গোঁফ কর্তন করো এবং দাড়ি লম্বা করো।" সহীহ মুসলিম-এ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমাদেরকে গোঁফ অতি ক্ষুদ্র করে কাটতে এবং দাড়ি লম্বা রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" এবং তাঁর (মুসলিম) বর্ণনায় আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা গোঁফ কর্তন করো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও।" এখানে 'জায্ঝু' শব্দের অর্থ হলো 'ক্বসসু' বা কর্তন করা, এবং 'আরখু' শব্দের অর্থ হলো 'আতিলু' বা লম্বা করা। কেউ কেউ এটি 'আরজু' শব্দে (لفظ) বর্ণনা (رواية) করেছেন, যার অর্থ হলো 'উতরুকু' বা ছেড়ে দেওয়া। আর যা 'ক্বসসু' শব্দে (لفظ) বর্ণিত হয়েছে তা 'ইহফা' বা গোঁফ অতি ক্ষুদ্র করে কাটার সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ 'ইহফা' সম্পর্কিত বর্ণনাটি (رواية) সহীহাইন-এ রয়েছে এবং তা উদ্দিষ্ট অর্থকে সুনির্দিষ্ট করে দেয়। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে, "দাড়ি পূর্ণ করো", অর্থাৎ একে পরিপূর্ণ অবস্থায় ছেড়ে দাও।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: দাড়ি কামানো হারাম। ইমাম কুরতুবী বলেছেন: দাড়ি কামানো, উপড়ে ফেলা বা তা কেটে ছোট করা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وحكى أبو محمد بن حزم: الإجماع على أن قص الشارب وإعفاء اللحية فرض، واستدل بحديث ابن عمر: «خالفوا المشركين، أحفوا الشوارب وأعفوا اللحى» ، وبحديث زيد بن أرقم المرفوع: «من لم يأخذ شاربه فليس منا» صححه الترمذي، وبأدلة أخر، قال في الفروع: هذه الصيغة عند أصحابنا تقتضي التحريم، وقال في الإقناع: ويحرم حلقها، وروى الطبراني، عن ابن عباس رضي الله عنهما، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من مثل بالشعر ليس له عند الله خلاق» ، قال الزمخشري: معناه: صيره مثلة، بأن نتفه أو حلقه من الخدود أو غيره بسواد، وقال في النهاية: مثل بالشعر: حلقه من الخدود، وقيل: نتفه أو تغييره بسواد.
وروى الإمام أحمد عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أعفوا اللحى وجزوا الشوارب، ولا تشبهوا باليهود والنصارى» ، وللبزار، عن ابن عباس مرفوعا: «لا تشبهوا بالأعاجم أعفوا اللحى» ، وروى أبو داود عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله
আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম বর্ণনা করেছেন: গোঁফ ছোট করা এবং দাড়ি লম্বা রাখা যে আবশ্যিক (فرض), সে বিষয়ে সর্বসম্মত ঐকমত্য (الإجماع) রয়েছে। তিনি ইবনে উমরের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: «তোমরা মুশরিকদের বিপরীত করো; গোঁফ ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি লম্বা করো», এবং যায়িদ বিন আরকাম থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (المرفوع) হাদিস দ্বারা: «যে ব্যক্তি তার গোঁফ ছাঁটাই করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়», তিরমিযি এটিকে বিশুদ্ধ (صححه) বলেছেন। এছাড়াও তিনি অন্যান্য দলিল পেশ করেছেন। 'আল-ফুরু' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমাদের (মাযহাবের) ইমামগণের নিকট এই শব্দগঠন নিষিদ্ধতা (التحريم) দাবি করে। 'আল-ইকনা' গ্রন্থে বলা হয়েছে: দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম। তাবারানি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি চুল বিকৃত করে, আল্লাহর নিকট তার কল্যাণের কোনো অংশ নেই»। যামাখশারি বলেন: এর অর্থ হলো চুলকে বিকৃত অবস্থায় রূপান্তর করা, যেমন তা উপড়ে ফেলা বা গাল থেকে কামিয়ে ফেলা অথবা কালো কলপ দিয়ে পরিবর্তন করা। 'আল-নিহায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে: চুল বিকৃত করা হলো গাল থেকে তা কামিয়ে ফেলা; আবার বলা হয়েছে: তা উপড়ে ফেলা বা কালো কলপ দিয়ে পরিবর্তন করা।
ইমাম আহমাদ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «তোমরা দাড়ি লম্বা করো এবং গোঁফ কাটো, আর ইহুদি ও নাসারাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না»। বাযযার ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوعا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: «তোমরা অনারবদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না, দাড়ি লম্বা করো»। আবু দাউদ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
عليه وسلم: «من تشبه بقوم فهو منهم» ، وله عن عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ليس منا من تشبه بغيرنا، لا تشبهوا باليهود ولا بالنصارى» . قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى: فمخالفتهم أمر مقصود للشارع، والمشابهة في الظاهر تورث مودة ومحبة وموالاة في الباطن، كما أن المحبة في الباطن تورث المشابهة في الظاهر، وهذا أمر يشهد به الحس والتجربة، قال: ومشابهتهم فيما ليس من شرعنا يبلغ التحريم في بعضه إلى أن يكون من الكبائر، وقد يصير كفرا بحسب الأدلة الشرعية، وقال: وقد دل الكتاب والسنة والإجماع على الأمر بمخالفة الكفار والنهي عن مشابهتهم في الجملة، وما كان مظنة لفساد خفي غير منضبط علق الحكم به ودار التحريم عليه، فمشابهتهم في الظاهر سبب لمشابهتهم في الأخلاق والأفعال المذمومة، بل في نفس الاعتقادات، وتأثير ذلك لا ينضبط، ونفس الفساد الحاصل من المشابهة قد لا يظهر، وقد يتعسر أو يتعذر زواله،
(সাল্লাল্লাহু) আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" এবং তার নিকট আমর বিন শুআইব হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি আমাদের ব্যতীত অন্য কারো সাদৃশ্য অবলম্বন করে। তোমরা ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।" শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: তাদের (অমুসলিমদের) বিরোধিতা করা শারিয়াহ প্রণেতার একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য। বাহ্যিক সাদৃশ্য অন্তরের অভ্যন্তরে হৃদ্যতা, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের (موالاة) জন্ম দেয়, ঠিক যেমনটি অভ্যন্তরীণ ভালোবাসা বাহ্যিক সাদৃশ্য গ্রহণের প্রেরণা জোগায়। এটি এমন এক বিষয় যা অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা দ্বারা প্রমাণিত। তিনি বলেন: আমাদের শারিয়াহর বহির্ভূত বিষয়ে তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করার বিষয়টি ক্ষেত্রবিশেষে নিষিদ্ধতা (تحريم) এর পর্যায়ে পৌঁছে যায়, এমনকি তা কবিরা গুনাহর (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আবার শারয়ি দলিলাদির ভিত্তিতে তা কুফর (كفرا) পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে। তিনি আরও বলেন: কুরআন, সুন্নাহ এবং ঐক্যমত (إجماع) সামগ্রিকভাবে কাফেরদের বিরোধিতা করার নির্দেশ এবং তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার ওপর দলিল প্রদান করেছে। আর যা কিছু সূক্ষ্ম ও অনিয়ন্ত্রিত ফাসাদের (বিপর্যয়) কারণ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তার ওপরই বিধান (حكم) কার্যকর করা হয় এবং সেই নিষিদ্ধতা (تحريم) তার ওপরই আবর্তিত হয়। সুতরাং বাহ্যিক সাদৃশ্য গ্রহণ তাদের নিন্দনীয় চরিত্র ও কার্যাবলীর সাদৃশ্য গ্রহণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এমনকি খোদ আকিদাগত বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও; আর এর প্রভাব অনিয়ন্ত্রিত। সাদৃশ্য গ্রহণের ফলে উদ্ভূত হওয়া ফাসাদটি অনেক সময় স্পষ্ট হয় না এবং তা দূর করা কঠিন বা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وكل ما كان سببا إلى الفساد فالشارع يحرمه. اهـ.
وروي عن ابن عمر: "من تشبه بهم حتى يموت حشر معهم"، وروى الترمذي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ليس منا من تشبه بغيرنا، لا تشبهوا باليهود ولا بالنصارى، فإن تسليم اليهود الإشارة بالأصابع، وتسليم النصارى الإشارة بالأكف» ، زاد الطبراني: «ولا تقصوا النواصي، وأحفوا الشوارب وأعفوا اللحى» ، وفي شروط عمر على أهل الذمة أن يحلقوا مقادم رؤوسهم ليتميزوا من المسلمين، فمن فعل ذلك فقد تشبه بهم، وفي الصحيحين أنه صلى الله عليه وسلم «نهى عن القزع» : وهو حلق بعض الرأس وترك بعضه، وعن ابن عمر - في الرأس -: «احلقه كله أو دعه» رواه أبو داود، وحلق القفا لا يجوز لمن لم يحلق رأسه كله ولم يحتج إليه؛ لأنه من فعل المجوس، ومن تشبه بقوم فهو منهم، وروى ابن عساكر عن عمر رضي الله عنه: حلق القفا من غير حجامة مجوسية.
وأيضا نهى الله تبارك وتعالى عن اتباع أهوائهم
এবং যা কিছুই ফাসাদের কারণ হয়, শরয়ি বিধানদাতা তা হারাম করেছেন। [সমাপ্ত]
এবং ইবনে উমর থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে: "যে ব্যক্তি তাদের সাদৃশ্য বজায় রেখে মৃত্যুবরণ করবে, তাকে তাদের সাথেই হাশর করা হবে।" তিরমিজি বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে আমাদের ব্যতীত অন্যদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে। তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অনুকরণ করো না; কারণ ইহুদিদের অভিবাদন হলো আঙুলের ইশারা এবং খ্রিস্টানদের অভিবাদন হলো হাতের তালুর ইশারা।» তাবারানি আরও বর্ধিত করেছেন: «এবং তোমরা কপালের অগ্রভাগের চুল কাটবে না, বরং মোচ ছেঁটে ফেলবে এবং দাড়ি লম্বা রাখবে।» জিম্মিদের ওপর উমর (রা.)-এর আরোপিত শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত ছিল যে, তারা তাদের মাথার সামনের অংশ মুণ্ডন করবে যাতে তারা মুসলিমদের থেকে পৃথক থাকতে পারে; সুতরাং যে ব্যক্তি তা করল, সে তাদেরই সাদৃশ্য অবলম্বন করল। সহিহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘কাযা’ (قزع) অর্থাৎ মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা এবং বাকি অংশ ছেড়ে দেওয়া থেকে নিষেধ করেছেন। ইবনে উমর থেকে মাথার চুল সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: «এর পুরোটাই মুণ্ডন করো অথবা পুরোটাই ছেড়ে দাও।» এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। আর ঘাড়ের চুল মুণ্ডন করা এমন ব্যক্তির জন্য জায়েজ নয় যে তার পুরো মাথা মুণ্ডন করেনি এবং যার এর কোনো প্রয়োজনও নেই; কারণ এটি অগ্নিপূজকদের (مجوس) কাজ, আর যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। ইবনে আসাকির উমর (রা.) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন: শিঙা লাগানো ব্যতীত ঘাড় মুণ্ডন করা একটি অগ্নিপূজকসুলভ প্রথা।
তদ্রূপ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করা থেকে নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فقال: {وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ} [المائدة: 77] (1) وقال الله تعالى لنبيه صلى الله عليه وسلم: {وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ} [البقرة: 145] (2) قال شيخ الإسلام ابن تيمية: ومتابعتهم فيما يختصون به من دينهم وتوابع دينهم اتباع لأهوائهم.
وروى ابن أبي شيبة: «أن رجلا من المجوس جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم وقد حلق لحيته وأطال شاربه، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: ما هذا؟ قال: هذا ديننا، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لكن في ديننا أن نحفي الشوارب وأن نعفي اللحية» ، وأخرج الحارث بن أبي أسامة، عن يحيى بن كثير قال: «أتى رجل من العجم المسجد، وقد وفر شاربه وجز لحيته، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما حملك على هذا؟ فقال: إن ربي أمرني بهذا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله أمرني أن
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি বলেছেন: {আর তোমরা সেই সম্প্রদায়ের খেয়ালখুশির অনুসরণ করো না যারা ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে এবং তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।} [আল-মায়িদা: ৭৭] (১) এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লক্ষ্য করে বলেছেন: {আর তোমার কাছে জ্ঞান আসার পর যদি তুমি তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করো, তবে নিশ্চয়ই তুমি তখন জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।} [আল-বাকারা: ১৪৫] (২) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: তাদের ধর্মের স্বতন্ত্র বিষয়াদি এবং তাদের ধর্মীয় অনুষঙ্গের ক্ষেত্রে তাদের অনুকরণ করা মূলত তাদের খেয়ালখুশিরই অনুসরণ করা।
এবং ইবনে আবি শাইবাহ বর্ণনা (روى) করেছেন: "জনৈক অগ্নিপূজক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এলেন, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর দাড়ি মুণ্ডন করেছিলেন এবং গোঁফ লম্বা করেছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন: এটি কী? তিনি বললেন: এটি আমাদের ধর্ম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: কিন্তু আমাদের ধর্মে গোঁফ খাটো করার এবং দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ রয়েছে।" এবং আল-হারিস ইবনে আবি উসামাহ বর্ণনা (أخرج) করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে কাসীর থেকে, তিনি বলেন: "জনৈক অনারব ব্যক্তি মসজিদে এলেন, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর গোঁফ লম্বা রেখেছিলেন এবং দাড়ি ছেঁটে ফেলেছিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন: কিসে তোমাকে এতে উদ্বুদ্ধ করল? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আমাকে এরূপ নির্দেশ দিয়েছেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে—"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
أوفر لحيتي وأحفي شاربي» ، وروى ابن جرير، عن زيد بن حبيب قصة رسولي كسرى قال: «ودخلا على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد حلقا لحاهما وأعفيا شواربهما، فكره النظر إليهما، وقال: ويلكما من أمركما بهذا؟ قالا: أمرنا ربنا، يعنيان: كسرى، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ولكن ربي أمرني بإعفاء لحيتي وقص شاربي» ، وروى مسلم عن جابر رضي الله عنه قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كثير شعر اللحية» ، وللترمذي عن عمر: «كث اللحية،» وفي رواية: «كثيف اللحية،» وفي أخرى: «عظيم اللحية،» وعن أنس: «كانت لحيته قد ملأت من ههنا إلى ههنا، وأمر يده على عارضيه،» ورخص بعض أهل العلم في أخذ ما زاد على القبضة؛ لفعل ابن عمر (1) وأكثر العلماء يكرهه، وهو أظهر لما تقدم، وقال النووي: والمختار تركها على حالها، وألا يتعرض لها بتقصير شيء أصلا،
--------------------------------------------
“আমি আমার দাড়ি লম্বা রাখি এবং গোঁফ খাটো করি।” ইবনে জারীর যায়িদ বিন হাবীব থেকে পারস্য সম্রাট কিসরার দুই দূতের কাহিনী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলেন, এমতাবস্থায় যে তারা তাদের দাড়ি মুণ্ডন করেছিল এবং গোঁফ লম্বা রেখেছিল। তিনি তাদের দিকে তাকাতে অপছন্দ করলেন এবং বললেন: তোমাদের দুর্ভোগ! কে তোমাদের এমন আদেশ দিয়েছে? তারা বলল: আমাদের রব—অর্থাৎ কিসরা—আমাদের এই নির্দেশ দিয়েছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: কিন্তু আমার প্রতিপালক আমাকে দাড়ি বৃদ্ধি করতে এবং গোঁফ ছেঁটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।” ইমাম মুসলিম জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচুর দাড়াবিশিষ্ট ছিলেন।” তিরমিযীতে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: “ঘন দাড়ি (كث اللحية)”; অন্য একটি বর্ণনায় (رواية): “ঘন দাড়ি (كثيف اللحية)”; এবং অপর বর্ণনায় (رواية): “বিশাল দাড়ি (عظيم اللحية)।” আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত: “তাঁর দাড়ি এখান থেকে এখান পর্যন্ত পূর্ণ ছিল”, এবং তিনি তাঁর হাত দুই গালের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেখালেন। এক মুষ্টির অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলার ব্যাপারে কিছু আলেম অনুমতি প্রদান করেছেন; ইবনে উমর (রা.)-এর আমলের কারণে। তবে অধিকাংশ আলেম একে অপছন্দ করেছেন এবং পূর্বোক্ত দলীলের ভিত্তিতে এটিই অধিকতর স্পষ্ট বা শক্তিশালী (أظهر)। ইমাম নববী বলেছেন: পছন্দনীয় (المختار) মত হলো দাড়িকে তার নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া এবং কোনোভাবেই তা খাটো করার প্রয়াস না চালানো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأخرج الخطيب، عن أبي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يأخذ أحدكم من طول لحيته» ، وقال في الدر المختار: وأما الأخذ منها وهي دون القبضة كما يفعله بعض المغاربة ومخنثة الرجال فلم يبحه أحد اهـ.
وقال الله تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ} [الأحزاب: 21] (1) وقال: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] (2) وقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ - وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ قَالُوا سَمِعْنَا وَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ} [الأنفال: 20 - 21] (3) وقال: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] (4) وقال: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء: 115] (5) .
والله تبارك وتعالى جمل الرجال باللحى، ويروى: ومن تسبيح الملائكة: سبحان من زين الرجال باللحى، وقال في التمهيد: ويحرم حلق اللحية، ولا يفعله إلا
--------------------------------------------
আল-খতিব লিপিবদ্ধ করেছেন (أخرج), আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন তার দাড়ির দৈর্ঘ্য থেকে কিছু না কাটে», আর আদ-দুররুল মুখতার গ্রন্থে বলা হয়েছে: আর এক মুষ্টির কম হওয়া অবস্থায় দাড়ি কাটা—যেমনটি কিছু মাগরিববাসী এবং নারীসুলভ পুরুষরা করে থাকে—তা কেউ বৈধ বলেননি। —উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ} [আল-আহযাব: ২১] (১) এবং তিনি বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭] (২) এবং তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং শোনার পর তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না—আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা বলে ‘আমরা শুনেছি’, অথচ তারা শোনে না} [আল-আনফাল: ২০-২১] (৩) এবং তিনি বলেছেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে} [আন-নূর: ৬৩] (৪) এবং তিনি বলেছেন: {কারো কাছে সঠিক পথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরতে চায় এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব; আর তা কতই না মন্দ আবাস!} [আন-নিসা: ১১৫] (৫)।
আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা পুরুষদের দাড়ির মাধ্যমে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন। আর বর্ণিত হয়েছে (يروى): ফেরেশতাদের তাসবিহের অন্তর্ভুক্ত হলো: ‘পবিত্র সেই সত্তা যিনি পুরুষদের দাড়ির মাধ্যমে সুশোভিত করেছেন’। আর আত-তামহিদ গ্রন্থে বলা হয়েছে: দাড়ি মুণ্ডানো নিষিদ্ধ (حرام), এবং এটি কেবল তারাই করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المخنثون من الرجال اهـ.
فاللحية زينة الرجال، ومن تمام الخلق، وبها ميز الله الرجال من النساء، ومن علامات الكمال، ونتفها في أول نباتها تشبه بالمرد، ومن المنكرات الكبار (1) وكذلك حلقها أو قصها أو إزالتها بالنورة من أشد المنكرات، ومعصية ظاهرة، ومخالفة لأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم، ووقوع فيما نهى عنه.
وذكر الغزالي في الإحياء: أن نتف الفنيكين بدعة وهما: جانبا العنفقة، قال: وشهد عند عمر بن عبد العزيز رجل كان ينتف فنيكيه فرد شهادته، ورد عمر بن الخطاب رضي الله عنه، وابن أبي ليلى قاضي المدينة شهادة من كان ينتف لحيته.
قال الإمام أبو شامة: وقد حدث قوم يحلقون لحاهم وهو أشد مما نقل عن المجوس من أنهم كانوا يقصونها، وهذا في زمانه رحمه الله فكيف لو رأى كثرة من يفعله اليوم! . وما لهم قاتلهم الله أنى يؤفكون! . أمرهم الله بالتأسي برسوله صلى الله عليه وسلم فخالفوه وعصوه
--------------------------------------------
পুরুষদের মধ্য হতে নারীসুলভ আচরণকারীরা (সমাপ্ত)।
দাড়ি হলো পুরুষদের শোভা এবং সৃষ্টির পূর্ণতার অংশ, যার মাধ্যমে আল্লাহ পুরুষকে নারী থেকে পৃথক করেছেন এবং এটি পূর্ণাঙ্গতার অন্যতম নিদর্শন। দাড়ি ওঠার শুরুতেই তা উপড়ে ফেলা দাড়িহীন কিশোরদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা এবং এটি বড় ধরনের গর্হিত (منكر) বিষয়সমূহের (১) অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে দাড়ি মুণ্ডন করা, ছোট করা কিংবা পশমনাশক দ্বারা তা পরিষ্কার করা জঘন্যতম গর্হিত (منكر) কাজ, প্রকাশ্য অবাধ্যতা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশের লঙ্ঘন ও তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়া।
ইমাম গাজালি 'ইহইয়া' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: 'ফনিকাইন' উপড়ে ফেলা বিদআত (بدعة); আর ফনিকাইন হলো 'আনফাকাহ'-এর (নিচের ঠোঁটের পশম) দুই পার্শ্ব। তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি উমর বিন আবদুল আজিজের নিকট সাক্ষ্য দিতে আসলে তিনি তার সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ সে তার ফনিকাইন উপড়ে ফেলত। উমর বিন খাত্তাব (রা.) এবং মদিনার কাজি ইবনে আবি লায়লা ওই ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যে নিজের দাড়ি উপড়ে ফেলত।
ইমাম আবু শামাহ বলেন: এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়েছে যারা তাদের দাড়ি মুণ্ডন করে, যা অগ্নিউপাসকদের (মজুস) অবস্থা হতেও অধিকতর জঘন্য; কেননা তাদের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে তারা দাড়ি কেবল ছোট করত। এটি তো ছিল ইমাম আবু শামাহর (রাহিমাহুল্লাহ) সময়কালের কথা, অথচ তিনি যদি বর্তমানে এর ব্যাপকতা দেখতেন! তাদের ধ্বংস হোক, তারা সত্য বিমুখ হয়ে কোথায় ফিরছে! আল্লাহ তাদেরকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন, অথচ তারা তাঁর অবাধ্য হয়েছে এবং তাঁর বিরোধিতা করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وتأسوا بالمجوس والكفرة، وأمرهم الله بطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم، وقد قال صلى الله عليه وسلم: «أعفوا اللحى» ، «أوفوا اللحى» ، «أرخوا اللحى» ، «أرخوا اللحى» ، «وفروا اللحى» ، فعصوه وعمدوا إلى لحاهم فحلقوها، وأمرهم بحلق الشوارب فأطالوها، فعكسوا القضية، وعصوا الله جهارا؛ لتشويه ما جمل الله به أشرف شيء من ابن آدم وأجمله، {أَفَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَرَآهُ حَسَنًا فَإِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ} [فاطر: 8] (1) .
اللهم إنا نعوذ بك من عمى القلوب، ورين الذنوب، وخزي الدنيا وعذاب الآخرة {إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ - وَلَوْ عَلِمَ اللَّهُ فِيهِمْ خَيْرًا لَأَسْمَعَهُمْ وَلَوْ أَسْمَعَهُمْ لَتَوَلَّوْا وَهُمْ مُعْرِضُونَ} [الأنفال: 22 - 23] (2) . وفي هذا كفاية لمن كان له قلب أو ألقى السمع وهو شهيد {مَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهُ وَلِيًّا مُرْشِدًا} [الكهف: 17] (3) والله أعلم.
وصلى الله على محمد وآله وصحبه وسلم جمادى الأولى - سنة 1354 هـ
عبد الرحمن بن محمد بن قاسم
--------------------------------------------
তারা অগ্নিপূজক ও কাফিরদের অনুসরণ করেছে। অথচ আল্লাহ তাদেরকে তাঁর রাসূল ﷺ-এর আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "দাড়ি ছেড়ে দাও", "দাড়ি পূর্ণ হতে দাও", "দাড়ি ঝুলিয়ে দাও", "দাড়ি ঝুলিয়ে দাও", "দাড়ি বৃদ্ধি করো"। কিন্তু তারা তাঁর অবাধ্য হয়েছে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের দাড়ি মুণ্ডন করেছে। আর তিনি তাদের গোঁফ খাটো করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা তা লম্বা করেছে। ফলে তারা বিষয়টি উল্টে দিয়েছে এবং প্রকাশ্যে আল্লাহর নাফরমানি করেছে; যেন আল্লাহ আদম সন্তানকে যা দিয়ে সুশোভিত ও সবচেয়ে সুন্দর করেছেন, তাকে বিকৃত করা যায়। {তবে কি যার কাছে তার মন্দ কাজকে সুশোভিত করা হয়েছে, ফলে সে একে উত্তম মনে করে (সে কি হিদায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির মতো)? নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন} [ফাতির: ৮] (১)।
হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট অন্তরের অন্ধত্ব, পাপের কালিমা, দুনিয়ার লাঞ্ছনা এবং আখিরাতের আজাব থেকে পানাহ চাই। {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম বিচরণশীল প্রাণী হলো সেই বধির ও বোবারা, যারা অনুধাবন করে না। যদি আল্লাহ তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ জানতেন, তবে তিনি অবশ্যই তাদের শোনার তৌফিক দিতেন; আর যদি তিনি তাদের শোনাতেনও, তবুও তারা বিমুখ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিত} [আল-আনফাল: ২২-২৩] (২)। যার অন্তর আছে অথবা যে উপস্থিত থেকে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করে, তার জন্য এর মধ্যেই যথেষ্ট উপদেশ রয়েছে। {আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন সে-ই হিদায়াতপ্রাপ্ত, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন আপনি কখনও তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেন না} [আল-কাহফ: ১৭] (৩) এবং আল্লাহ ভালো জানেন।
আল্লাহ সালাত ও সালাম পেশ করুন মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর। জুমাদাল উলা - ১৩৫৪ হিজরি।
আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন কাসিম
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[وجوب إعفاء اللحية وتحريم حلقها وتقصيرها]
[حكم حلق اللحية أو قصها وهل يكون من حلقها متعمدا معتقدا حل ذلك كافر]وجوب إعفاء اللحية
وتحريم حلقها وتقصيرها
[দাড়ি লম্বা রাখার আবশ্যকতা (وجوب) এবং তা মুণ্ডন করা (حلق) ও ছোট করার (تقصير) নিষিদ্ধতা (تحريم)][দাড়ি মুণ্ডন করা (حلق) অথবা ছাঁটার (قص) বিধান (حكم) এবং যে ব্যক্তি একে বৈধ (حل) মনে করে ইচ্ছাকৃতভাবে (متعمدا) মুণ্ডন করে সে কি কাফির (كافر) হবে?]দাড়ি লম্বা রাখার আবশ্যকতা (وجوب)
এবং তা মুণ্ডন করা (حلق) ও ছোট করার (تقصير) নিষিদ্ধতা (تحريم)
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على عبد الله ورسوله نبينا محمد وعلى آله وصحبه وبعد:
فقد ورد إلي سؤال عن حكم حلق اللحية أو قصها، وهل يكون من حلقها متعمدا معتقدا حل ذلك كافر؟ وهل يقتضي حديث ابن عمر رضي الله عنهما وجوب إعفاء اللحية وتحريم حلقها أم لا يقتضي إلا استحباب الإعفاء؟
جواب: قد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من حديث ابن عمر رضي الله عنهما أنه قال: «قصوا الشوارب وأعفوا اللحى، خالفوا المشركين» متفق على صحته، ورواه البخاري في صحيحه بلفظ: «قصوا الشوارب ووفروا اللحى، خالفوا المشركين» ، وفي صحيح مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «جزوا الشوارب وأرخوا اللحى، خالفوا المجوس» ، وهذا اللفظ في
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
দাঁড়ি মুণ্ডন করা বা কাটার বিধান সম্পর্কে আমার নিকট একটি প্রশ্ন এসেছে; যে ব্যক্তি একে হালাল মনে করে ইচ্ছাকৃতভাবে দাঁড়ি মুণ্ডন করে সে কি কাফির? আর ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস কি দাঁড়ি রাখা ওয়াজিব এবং তা মুণ্ডন করা হারাম হওয়াকে আবশ্যক করে, নাকি তা কেবল দাঁড়ি রাখাকে মুস্তাহাব হওয়ার দাবি রাখে?
উত্তর: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা গোঁফ ছেঁটে ফেলো এবং দাঁড়ি বৃদ্ধি করো, মুশরিকদের বিরোধিতা করো।" এটি এর বিশুদ্ধতার (صحته) বিষয়ে ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه)। বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা গোঁফ কাটো এবং দাঁড়ি পরিপূর্ণ করো, মুশরিকদের বিরোধিতা করো।" আর সহিহ মুসলিম-এ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা গোঁফ ছোট করো এবং দাঁড়ি ছেড়ে দাও, অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো।" আর এই শব্দগুলো...
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الأحاديث المذكورة يقتضي وجوب إعفاء اللحى وإرخائها وتحريم حلقها وقصها؛ لأن الأصل في الأوامر هو الوجوب، والأصل في النواهي هو التحريم - ما لم يرد ما يدل على خلاف ذلك - وهو المعتمد عند أهل العلم، وقد قال الله سبحانه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} [الحشر: 7] وقال عز وجل: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63]
قال الإمام أحمد رحمه الله: الفتنة الشرك، لعله إذا رد بعض قوله - يعني قول النبي صلى الله عليه وسلم أن يقع في قلبه شيء من الزيغ فيهلك، ولم يرد في الكتاب ولا في السنة ما يدل على أن الأمر في هذه الأحاديث ونحوها للاستحباب، أما الحديث الذي رواه الترمذي، عن أبي هريرة رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم: أنه كان يأخذ من لحيته من طولها وعرضها فهو حديث باطل عند أهل العلم؛ لأن في إسناده رجل يدعى عمر بن هارون
উল্লিখিত হাদিসগুলো দাড়ি লম্বা রাখা ও তা ছেড়ে দেওয়া ওয়াজিব (وجوب) হওয়া এবং তা মুণ্ডন করা ও ছোট করা হারাম (تحريم) হওয়াকে আবশ্যক করে; কারণ আদেশের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো ওয়াজিব (وجوب) হওয়া এবং নিষেধের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো হারাম (تحريم) হওয়া—যতক্ষণ না এর বিপরীত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়—আর এটিই আলেমদের নিকট নির্ভরযোগ্য মত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেছেন: "আর রাসুল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো; আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।" [আল-হাশর: ৭] এবং তিনি মহান ও পরাক্রমশালী আরও ইরশাদ করেছেন: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা বা যন্ত্রণাদায়ক আজাব আপতিত হবে।" [আন-নূর: ৬৩]
ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ফিতনা হলো শিরক। সম্ভবত যখন কেউ তাঁর—অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর—কোনো কথা প্রত্যাখ্যান করবে, তখন তার অন্তরে কোনো প্রকার বক্রতা সৃষ্টি হতে পারে, ফলে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। আর কুরআন বা সুন্নাহতে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না যা নির্দেশ করে যে, এই হাদিসগুলো এবং এর অনুরূপ অন্যান্য হাদিসে বর্ণিত নির্দেশটি মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার জন্য। পক্ষান্তরে তিরমিজি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর দাড়ির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থেকে কিছু অংশ কাটতেন, তা আলেমদের নিকট একটি বাতিল (باطل) হাদিস; কারণ এর সনদে (إسناد) উমর বিন হারুন নামক এক ব্যক্তি রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
البلخي، وهو متهم بالكذب، وقد انفرد بهذا الحديث دون غيره من رواة الأخبار، مع مخالفته للأحاديث الصحيحة فعلم بذلك أنه باطل لا يجوز التعويل عليه، ولا الاحتجاج به في مخالفة السنة الصحيحة، والله المستعان.
ولا شك أن الحلق أشد في الإثم؛ لأنه استئصال للحية بالكلية، ومبالغة في فعل المنكر، والتشبه بالنساء، أما القص والتخفيف فلا شك أن ذلك منكر، ومخالف للأحاديث الصحيحة، ولكنه دون الحلق.
أما حكم من فعل ذلك فهو عاص وليس بكافر ولو اعتقد الحل بناء على فهم خاطئ أو تقليد لبعض العلماء، والواجب أن ينصح ويحذر من هذا المنكر؛ لأن حكم اللحية في الجملة فيه خلاف بين أهل العلم هل يجب توفيرها أو يجوز قصها؟ أما الحلق فلا أعلم أحدا من أهل العلم قال بجوازه، ولكن لا يلزم من ذلك كفر من ظن جوازه لجهل أو تقليد، بخلاف الأمور المحرمة المعلومة من الدين
আল-বালখি; তিনি মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) এবং অন্যান্য বর্ণনাকারীদের বাদ দিয়ে তিনি একাই এই হাদিসটি বর্ণনা (انفرد) করেছেন, অথচ এটি সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহের পরিপন্থী। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে এটি বাতিল (باطل), যার ওপর নির্ভর করা বৈধ নয় এবং সহিহ (صحيح) সুন্নাহর পরিপন্থী বিষয়ে এটিকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করাও জায়েজ নয়। আর আল্লাহর সাহায্যই কাম্য।
নিঃসন্দেহে দাড়ি মুণ্ডন করা পাপে অধিক গুরুতর; কারণ এটি দাড়ির মূলোৎপাটন, গর্হিত (منكر) কাজে চরম বাড়াবাড়ি এবং নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ। পক্ষান্তরে দাড়ি ছাঁটা বা ছোট করাও নিঃসন্দেহে গর্হিত (منكر) এবং সহিহ (صحيহ) হাদিসসমূহের পরিপন্থী, তবে তা মুণ্ডন করার চেয়ে কম গুরুতর।
আর যে ব্যক্তি এমনটি করে তার বিধান হলো—সে পাপিষ্ঠ, কিন্তু কাফির নয়; যদিও সে ভুল বুঝাবুঝি কিংবা কোনো কোনো আলেমের অনুকরণের কারণে একে হালাল মনে করে থাকে। তাকে নসিহত করা এবং এই গর্হিত (منكر) কাজ থেকে সতর্ক করা ওয়াজিব। কেননা দাড়ির বিধানের ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে সামগ্রিকভাবে মতভেদ রয়েছে যে—তা ছেড়ে রাখা কি ওয়াজিব নাকি কাটা জায়েজ? তবে দাড়ি মুণ্ডন করা জায়েজ—আলেমদের মধ্যে এমনটি কেউ বলেছেন বলে আমার জানা নেই। কিন্তু অজ্ঞতা বা অনুকরণের কারণে কেউ একে জায়েজ মনে করলে তার ওপর কুফরির হুকুম বর্তাবে না, যা দ্বীনের অকাট্য হারাম ও সুবিদিত বিষয়গুলোর পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
بالضرورة لظهور أدلتها، فإن استباحتها كفر أكبر إذا كان المستبيح ممن عاش بين المسلمين، فإن كان ممن عاش بين الكفرة أو في بادية بعيدة عن أهل العلم فإن مثله توضح له الأدلة، فإذا أصر على الاستباحة كفر، ومن أمثلة ذلك: الزنا، والخمر، ولحم الخنزير وأشباهها، فإن هذه الأمور وأمثالها معلوم تحريمها من الدين بالضرورة، وأدلتها ظاهرة في الكتاب والسنة، فلا يلتفت إلى دعوى الجهل بها إذا كان من استحلها مثله لا يجهل ذلك كما تقدم.
وأسأل الله أن يوفقنا وإياكم للعلم النافع، والعمل الصالح، وأن يمنحنا الفقه في دينه، والثبات عليه، وأن يعيذنا جميعا من مضلات الفتن، إنه سميع قريب. .
والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
অকাট্য দলিলাদি বিদ্যমান থাকার কারণে দ্বীনের এসব বিষয় স্বতসিদ্ধভাবে প্রমাণিত। সুতরাং এসব বিষয়কে বৈধ মনে করা বড় কুফর (كفر أكبر), যদি এই বৈধকারী ব্যক্তি মুসলিমদের মাঝে বসবাস করে। আর যদি সে অমুসলিমদের মাঝে অথবা ইলম অর্জনের সুযোগ নেই এমন দূরবর্তী মরু অঞ্চলে বসবাস করে, তবে তার সামনে দলিল-প্রমাণাদি সুস্পষ্ট করা হবে। এরপরও যদি সে তা বৈধ মনে করার ওপর অটল থাকে, তবে সে কাফির বলে গণ্য হবে। এর উদাহরণ হলো: যিনা, মদ্যপান, শুকরের মাংস ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ। দ্বীনের এসব বিষয় হারাম হওয়া অকাট্যভাবে (بالضرورة) প্রমাণিত এবং এগুলোর স্বপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলাদি সুস্পষ্ট। অতএব, অজ্ঞতার দাবি গ্রহণ করা হবে না যদি একে হালাল মনেকারী ব্যক্তিটি এমন হয় যে, তার পক্ষে বিষয়টি অজানা থাকা সম্ভব নয়, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ও আপনাদের উপকারী ইলম এবং নেক আমল করার তাওফিক দান করেন। তিনি যেন আমাদের তাঁর দ্বীনের গভীর জ্ঞান (الفقه) এবং এর ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করেন। আর তিনি যেন আমাদের সকলকে বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও অতি নিকটে।
আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
[فتاوى تتعلق بحلق اللحية]بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه، أما بعد:
فقد سألني بعض الإخوان عن الأسئلة التالية:
1 - هل تربية اللحية واجبة أو جائزة؟
2 - هل حلقها ذنب أو إخلال بالدين؟
3 - هل حلقها جائز مع تربية الشنب؟
والجواب عن هذه الأسئلة: أن نقول:
قد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم فيما أخرجه البخاري ومسلم في الصحيحين من حديث ابن عمر رضي الله عنهما، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أحفوا الشوارب ووفروا اللحى، خالفوا المشركين» ، وفي صحيح مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «جزوا الشوارب وأرخوا اللحى، خالفوا المجوس» ،
[দাড়ি মুণ্ডন সংক্রান্ত ফতোয়া]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীদের ওপর। অতঃপর:
কিছু ভাই আমাকে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলো করেছেন:
১ - দাড়ি রাখা কি ওয়াজিব নাকি জায়েজ?
২ - দাড়ি মুণ্ডন করা কি পাপ অথবা দ্বীনের কোনো বিচ্যুতি?
৩ - গোঁফ রেখে দাড়ি মুণ্ডন করা কি জায়েজ?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরে আমরা বলব:
নবী (সা.) থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যা বুখারি ও মুসলিম তাদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি পূর্ণাঙ্গ করো, মুশরিকদের বিরোধিতা করো।" এবং সহীহ মুসলিম-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা গোঁফ কর্তন করো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও, অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো।"
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وخرج النسائي في سننه بإسناد صحيح عن زيد بن أرقم رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من لم يأخذ من شاربه فليس منا» ، قال العلامة الكبير، والحافظ الشهير: أبو محمد بن حزم: "اتفق العلماء على أن قص الشارب وإعفاء اللحية فرض".
والأحاديث في هذا الباب، وكلام أهل العلم فيما يتعلق بإحفاء الشوارب وتوفير اللحى وإكرامها وإرخائها كثير لا يتيسر استقصاء الكثير منه في هذه الرسالة.
ومما تقدم من الأحاديث، وما نقله ابن حزم من الإجماع - تعلم الجواب عن الأسئلة الثلاثة، وخلاصته: أن تربية اللحية، وتوفيرها، وإرخاءها فرض لا يجوز تركه؛ لأن الرسول صلى الله عليه وسلم أمر بذلك وأمره على الوجوب، كما قال الله عز وجل: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} [الحشر: 7]
وهكذا قص الشارب واجب، وإحفاؤه أفضل، أما
ইমাম নাসাঈ তাঁর সুনান গ্রন্থে সহীহ (صحيح) সনদ (إسناد) সহকারে যায়িদ ইবনে আরকাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার গোঁফ ছেঁটে নেয় না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" মহান আলেম এবং প্রখ্যাত হাফেজ (حافظ) আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম বলেন: "ওলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে ঐকমত্য (اتفق) পোষণ করেছেন যে, গোঁফ কাটা এবং দাড়ি লম্বা রাখা ফরজ (فرض)।"
এ বিষয়ে হাদিসসমূহ এবং গোঁফ খাটো করা ও দাড়ি পূর্ণাঙ্গ রাখা, একে সম্মান করা এবং তা লম্বা করে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে আলেমদের বক্তব্য এত অধিক যে, এই পুস্তিকায় তার বিস্তারিত অনুসন্ধান সম্ভব নয়।
উপরোক্ত হাদিসসমূহ এবং ইবনে হাজম কর্তৃক বর্ণিত ইজমা (الإجماع) থেকে তিনটি প্রশ্নের উত্তর জানা যায়। এর সারসংক্ষেপ হলো: দাড়ি রাখা, তা বড় করা এবং তা ছেড়ে দেওয়া ফরজ (فرض), যা পরিত্যাগ করা জায়েজ (يجوز) নয়; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর নির্দেশ ওয়াজিব (الوجوب) হওয়ার প্রমাণ বহন করে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।} [সূরা আল-হাশর: ৭]
অনুরূপভাবে গোঁফ কাটা ওয়াজিব (واجب), আর তা ছেঁটে ছোট করা সর্বোত্তম (أفضل), তবে...
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
توفيره أو اتخاذ الشنبات فذلك لا يجوز؛ لأنه يخالف قول النبي صلى الله عليه وسلم: «قصوا الشوارب» «أحفوا الشوارب» «جزوا الشوارب» «من لم يأخذ من شاربه فليس منا» وهذه الألفاظ الأربعة كلها جاءت في الأحاديث الصحيحة عن النبي صلى الله عليه وسلم، وفي اللفظ الأخير: وهو قوله صلى الله عليه وسلم: «من لم يأخذ من شاربه فليس منا» وعيد شديد وتحذير أكيد، وذلك يوجب للمسلم الحذر مما نهى الله عنه ورسوله، والمبادرة إلى امتثال ما أمر الله به ورسوله، ومن ذلك تعلم أيضا أن إعفاء الشارب واتخاذ الشنبات ذنب من الذنوب ومعصية من المعاصي، وهكذا حلق اللحية وتقصيرها من جملة الذنوب والمعاصي التي تنقص الإيمان وتضعفه ويخشى منها حلول غضب الله ونقمته. وفي الأحاديث المذكورة آنفا الدلالة على أن إطالة الشوارب وحلق اللحى وتقصيرها من مشابهة المجوس والمشركين، والتشبه بهم منكر لا يجوز فعله؛ لقول النبي صلى
এটি ছেড়ে রাখা কিংবা দীর্ঘ গোঁফ রাখা বৈধ নয়; কারণ তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর পরিপন্থী: «তোমরা গোঁফ ছোট করো», «তোমরা গোঁফ ছেঁটে ফেলো», «তোমরা গোঁফ কর্তন করো», «যে ব্যক্তি তার গোঁফ থেকে (অতিরিক্ত অংশ) গ্রহণ করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়»। এই চারটি শব্দই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসসমূহে এসেছে। আর শেষোক্ত শব্দটিতে, অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «যে ব্যক্তি তার গোঁফ থেকে (কিছু) গ্রহণ করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়»-এর মধ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি ও সুনিশ্চিত সতর্কতা রয়েছে। এটি একজন মুসলিমের ওপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা আদেশ করেছেন তা পালনে ব্রতী হওয়া আবশ্যক করে দেয়। এ থেকে আরও জানা যায় যে, গোঁফ লম্বা রাখা এবং বড় গোঁফ রাখা পাপ ও অবাধ্যতার অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে দাড়ি মুণ্ডন করা বা তা ছোট করাও সেই গুনাহ ও অবাধ্যতার অংশ যা ঈমানকে হ্রাস ও দুর্বল করে দেয় এবং এর ফলে আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তির আশঙ্কা থাকে। ইতিপূর্বে উল্লিখিত হাদিসসমূহে এই প্রমাণ রয়েছে যে, গোঁফ লম্বা করা এবং দাড়ি মুণ্ডন করা বা তা ছোট করা অগ্নিপূজক ও মুশরিকদের সাদৃশ্য অবলম্বনের অন্তর্ভুক্ত। আর তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা একটি গর্হিত (منكر) কাজ যা করা জায়েজ নয়; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি...
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু হালকিল লিহা - উজুবু ইফাইল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الله عليه وسلم: «من تشبه بقوم فهو منهم» ، وأرجو أن يكون في هذا الجواب كفاية ومقنع. والله ولي التوفيق، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.
والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
مفتي عام المملكة
ورئيس هيئة كبار العلماء
وإدارة البحوث العلمية والإفتاء
عبد العزيز بن عبد الله بن باز
আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন: «যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত», এবং আমি আশা করি এই উত্তরটি পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক হবে। আল্লাহই তাওফিক দানকারী, এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
রাজ্যের গ্র্যান্ড মুফতি
এবং সিনিয়র উলামা পরিষদের প্রধান
এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইফতা বিভাগ
আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ