(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: -)
أحكام صلاة المريض   (ابن باز)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أحكام صلاة المريض وطهارته

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن باز (ت 1420هـ)

الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1422هـ

عدد الصفحات: 56

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

অসুস্থ ব্যক্তির সালাতের বিধানসমূহ   (ইবনে বাজ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: অসুস্থ ব্যক্তির সালাত ও পবিত্রতা অর্জনের বিধানসমূহ

লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (মৃত্যু ১৪২০ হিজরী)

প্রকাশক: ইসলামী বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[مقدمة]

أحكام صلاة المريض

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين؛ نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد. .

فهذه كلمة (1) مختصرة تتعلق ببعض أحكام طهارة المريض وصلاته.

لقد شرع الله سبحانه وتعالى الطهارة لكل صلاة، فإن رفع الحدث وإزالة النجاسة - سواء من البدن أو الثوب أو المكان المصلىَّ فيه - شرطان من شروط الصلاة. فإذا أراد المسلم الصلاة وجب عليه أن يتوضأ الوضوء المعروف من الحدث الأصغر أو يغتسل إن كان حدثه أكبر. ولا بد قبل الوضوء من

--------------------------------------------

(1) سبق نشر هذه الكلمة في مطوية من قبل الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد عام 1414 هـ.
[ভূমিকা]

অসুস্থ ব্যক্তির সালাতের বিধানসমূহ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক নবীদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ও রাসূলদের শ্রেষ্ঠ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। এরপর—

এটি অসুস্থ ব্যক্তির পবিত্রতা ও সালাত সংশ্লিষ্ট কিছু বিধানের ব্যাপারে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা (১)।

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রতিটি সালাতের জন্য পবিত্রতা বিধিবদ্ধ করেছেন। কেননা অপবিত্রতা দূর করা এবং নাপাকি দূরীভূত করা—চাই তা শরীর, পোশাক কিংবা সালাত আদায়ের স্থান থেকে হোক—তা সালাত (বিশুদ্ধ হওয়ার) শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত দুটি শর্ত। সুতরাং কোনো মুসলিম যখন সালাত আদায়ের ইচ্ছা পোষণ করেন, তখন ছোট অপবিত্রতা থেকে সুপরিচিত পদ্ধতিতে ওজু করা অথবা যদি বড় অপবিত্রতা হয় তবে গোসল করা তার ওপর আবশ্যক। আর ওজুর পূর্বে অবশ্যই...

--------------------------------------------

(১) এই আলোচনাটি ইতিপূর্বে ১৪১৪ হিজরীতে ‘জেনারেল প্রেসিডেন্সি অফ সায়েন্টিফিক রিসার্চ, ইফতা, দাওয়াহ অ্যান্ড গাইডেন্স’ থেকে একটি লিফলেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ৪)
الاستنجاء بالماء أو الاستجمار بالحجارة في حق من بال أو أتى الغائط لتتم الطهارة والنظافة.

وفيما يلي بيان لبعض الأحكام المتعلقة بذلك: فالاستنجاء بالماء واجب لكل خارج من السبيلين كالبول والغائط. وليس على من نام أو خرجت منه ريح - استنجاء، إنما عليه الوضوء؛ لأن الاستنجاء إنما شرع لإزالة النجاسة، ولا نجاسة هاهنا.

والاستجمار يكون بالحجارة أو ما يقوم مقامها، ولا بد فيه من ثلاثة أحجار طاهرة، لما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من استجمر فليوتر» ولقوله صلى الله عليه وسلم أيضاً: «إذا ذهب أحدكم إلى الغائط فليذهب معه بثلاثة أحجار فإنها تجزئ عنه» - رواه أبو داود - ولنهيه صلى الله عليه وسلم عن الاستجمار بأقل من ثلاثة أحجار، رواه مسلم.
পবিত্রতা (طهارة) ও পরিচ্ছন্নতা পূর্ণ করার লক্ষ্যে প্রস্রাব বা মলত্যাগকারীর জন্য পানি দ্বারা শৌচকার্য (استنجاء) অথবা পাথর দ্বারা শৌচকার্য (استجمار) করা বিধিবদ্ধ।

এ সংক্রান্ত কিছু বিধি-বিধানের (أحكام) বর্ণনা নিম্নরূপ: প্রস্রাব ও মলের মতো শরীর থেকে নির্গত প্রতিটি বস্তুর জন্য পানি দিয়ে শৌচকার্য (استنجاء) করা আবশ্যক (واجب)। তবে কেউ ঘুমালে কিংবা বায়ু নির্গত হলে তার জন্য শৌচকার্য (استنجاء) করার প্রয়োজন নেই, বরং তার ওপর কেবল ওযু (وضوء) করা আবশ্যক; কেননা শৌচকার্য (استنجاء) কেবল অপবিত্রতা (نجاسة) দূর করার জন্যই প্রবর্তিত হয়েছে, আর এখানে কোনো অপবিত্রতা (نجاسة) নেই।

পাথর বা পাথরের স্থলাভিষিক্ত কোনো বস্তু দ্বারা শৌচকার্য (استجمار) সম্পন্ন হয়। এক্ষেত্রে তিনটি পবিত্র (طاهرة) পাথর থাকা আবশ্যক; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি পাথর দ্বারা শৌচকার্য (استجمار) করে, সে যেন তা বিজোড় সংখ্যায় করে।" এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মলত্যাগের জন্য যায়, সে যেন তার সাথে তিনটি পাথর নিয়ে যায়, কারণ তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।" - এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। এছাড়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনটির কম পাথর দ্বারা শৌচকার্য (استجمار) করতে নিষেধ করেছেন, যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ৫)
ولا يجوز الاستجمار بالرَّوث والعظام والطعام؛ وكل ما له حُرمة. والأفضل أن يستجمر الإنسان بالحجارة وما أشبهها كالمناديل واللِّبن ونحو ذلك، ثم يُتبعها الماء؛ لأن الحجارة تزيل عين النجاسة، والماء يطهِّر المحل، فيكون أبلغ. والإنسان مخير بين الاستنجاء بالماء أو الاستجمار بالحجارة وما أشبهها.

«عن أنس رضي الله عنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يدخل الخلاء فأحمل أنا وغلام نحوي إداوةً من ماء وعنزة فيستنجي بالماء» - متفق عليه -.

«وعن عائشة رضي الله عنها أنها قالت لجماعة من النساء: مرن أزواجكن أن يستطيبوا بالماء فإني أستحييهم، وإن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يفعله» . - قال الترمذي هذا حديث صحيح -.
গোবর, হাড়, খাদ্যদ্রব্য এবং সম্মানীয় কোনো বস্তু দ্বারা ইস্তিজমার (استجمار) করা বৈধ নয়। আর মানুষের জন্য উত্তম হলো পাথর বা এর সমজাতীয় বস্তু যেমন টিস্যু, মাটির ঢেলা ইত্যাদি দ্বারা ইস্তিজমার (استجمار) করা এবং পরবর্তীতে পানির ব্যবহার করা; কারণ পাথর নাপাকির মূল বস্তুকে দূর করে দেয় এবং পানি উক্ত স্থানকে পবিত্র করে, যা অধিকতর পরিচ্ছন্নতারায়ক। আর মানুষ পানি দ্বারা ইস্তিনজা (استنجاء) করা অথবা পাথর ও সমজাতীয় বস্তু দ্বারা ইস্তিজমার (استجمار) করার ক্ষেত্রে ইখতিয়ার রাখে।

«আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন আমি এবং আমার সমবয়সী এক কিশোর পানির একটি পাত্র ও একটি ছোট বর্শা বহন করতাম, অতঃপর তিনি পানি দ্বারা ইস্তিনজা (استنجاء) করতেন» - সর্বসম্মত (متفق عليه) -।

«আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদল নারীকে বললেন: তোমরা তোমাদের স্বামীদেরকে পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করার নির্দেশ দাও, কেননা আমি তাদের সামনে বলতে লজ্জা বোধ করছি; আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ করতেন»। - তিরমিযী বলেছেন, এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস।
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ৬)
وإن أراد الاقتصار على أحدهما فالماء أفضل؛ لأنه يطهر المحل ويزيل العين والأثر وهو أبلغ في التنظيف، وإن اقتصر على الحجر أجزأه ثلاثة أحجار إذا نَقَى بهن المحل، فإن لم تكف زاد رابعاً وخامساً حتى يُنَقي المحل، والأفضل أن يقطع على وتر لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من استجمر فليوتر» .

ولا يجوز الاستجمار باليد اليمنى؛ لقول سلمان في حديثه: «نهانا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يستنجي أحدنا بيمينه» ، ولقوله صلى الله عليه وسلم: «لا يمسكن أحدكم ذكره بيمينه وهو يبول ولا يتمسح من الخلاء بيمينه» . وإن كان أقطع اليسرى أو بها كسر أو مرض ونحوهما استجمر بيمينه للحاجة ولا حرج في ذلك.

وبما أن الشريعة الإسلامية مبنيَّة على اليسر
আর যদি কেউ কোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে চায়, তবে পানিই শ্রেষ্ঠ; কারণ এটি স্থানকে পবিত্র করে এবং নাপাকির মূল বস্তু ও তার চিহ্ন উভয়ই দূর করে দেয়, আর এটি পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর। আর যদি কেউ কেবল পাথরের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তিনটি পাথর তার জন্য যথেষ্ট হবে যখন তা দিয়ে সে স্থানটি পরিষ্কার করবে। যদি তা যথেষ্ট না হয়, তবে চতুর্থ ও পঞ্চমটি বৃদ্ধি করবে যতক্ষণ না স্থানটি পরিষ্কার হয়। আর বেজোড় সংখ্যায় শেষ করা উত্তম; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি পাথরের সাহায্যে শৌচকার্য সম্পাদন করে, সে যেন তা বেজোড় সংখ্যায় করে।"

আর ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন করা বৈধ নয়; কারণ সালমান (রা.) তাঁর বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাউকে ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য করতে নিষেধ করেছেন।" এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: "তোমাদের কেউ যেন প্রস্রাব করা অবস্থায় তার পুরুষাঙ্গ ডান হাত দিয়ে স্পর্শ না করে এবং ডান হাত দিয়ে শৌচস্থান না মোছে।" আর যদি কারো বাম হাত কাটা থাকে অথবা তাতে ভাঙা বা রোগ কিংবা এই জাতীয় কোনো সমস্যা থাকে, তবে প্রয়োজনের তাগিদে সে ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন করবে এবং এতে কোনো দোষ নেই।

যেহেতু ইসলামি শরিয়ত সহজসাধ্যতার ওপর প্রতিষ্ঠিত...
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ৭)
والسهولة؛ فقد خفف الله سبحانه وتعالى عن أهل الأعذار عباداتهم بحسب أعذارهم، ليتمكنوا من عبادته تعالى بدون حرج ولا مشقة، قال تعالى: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} [الحج: 78] وقال: {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} [البقرة: 185] وقال: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16] وقال عليه الصلاة والسلام: «إذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم» ، وقال: «إن الدين يسر» .

فالمريض إذا لم يستطع التطهر بالماء - بأن يتوضأ من الحدث الأصغر أو يغتسل من الحدث الأكبر لعجزه أو لخوفه من زيادة المرض أو تأخر برئه - فإنه يتيمم، وهو: أن يضرب بيديه على التراب الطاهر ضربة واحدة، فيمسح وجهه بباطن أصابعه، وكَفَّيْه براحتيه، لقوله تعالى:
এবং সহজতা; মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ওজরগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য তাদের ওজর অনুযায়ী ইবাদতসমূহ সহজ করে দিয়েছেন, যাতে তারা কোনো প্রকার সংকীর্ণতা ও কষ্ট ছাড়াই তাঁর ইবাদত করতে সক্ষম হন। মহান আল্লাহ বলেন: “আর তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি।” [হজ: ৭৮] এবং তিনি বলেন: “আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কঠোরতা চান না।” [বাকারা: ১৮৫] এবং তিনি বলেন: “অতএব তোমরা যথাসম্ভব আল্লাহকে ভয় করো।” [তাগাবুন: ১৬] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যখন আমি তোমাদের কোনো নির্দেশ প্রদান করি, তখন তোমরা তা সাধ্যমতো পালন করো।” এবং তিনি বলেন: “নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ।”

সুতরাং কোনো অসুস্থ ব্যক্তি যদি পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনে সক্ষম না হন—অর্থাৎ অক্ষমতার কারণে কিংবা রোগ বৃদ্ধি পাওয়ার বা আরোগ্য লাভে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষুদ্র অপবিত্রতা (الحدث الأصغر) থেকে অযু কিংবা বড় অপবিত্রতা (الحدث الأكبر) থেকে গোসল করতে না পারেন—তবে তিনি তায়াম্মুম করবেন। আর তা হলো: পবিত্র মাটির ওপর দুই হাত দিয়ে একবার আঘাত করা, অতঃপর আঙুলের ভেতরের অংশ দিয়ে মুখমণ্ডল এবং হাতের তালু দিয়ে কব্জি পর্যন্ত মাসেহ করা; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে:
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ৮)
{وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ} [المائدة: 6]

والعاجز عن استعمال الماء حُكمه حكم من لم يجد الماء. «ولقوله صلى الله عليه وسلم لعمار بن ياسر: إنما يكفيك أن تقول بيديك هكذا ثم ضرب بيديه الأرض ضربة واحدة، ثم مسح بهما وجهه وكفَّيه.»

ولا يجوز التيمم إلا بتراب طاهر له غبار. ولا يصح التيمم إلا بنيّة؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: «إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى.»

 

‌‌[حالات المريض]

وللمريض عدة حالات: 1 - إن كان مرضه يسيراً لا يخاف من استعمال الماء معه تَلَفاً ولا مرضاً مخوِّفاً ولا إبطاء برءٍ ولا زيادة ألٍم ولا شيئاً فاحشاً، وذلك كصداع ووجع ضرس
{আর যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আস অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করো, অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো; সুতরাং তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করো।} [আল-মায়েদাহ: ৬]

আর পানি ব্যবহারে অক্ষম ব্যক্তির বিধান ওই ব্যক্তির বিধানের অনুরূপ যে পানি পায়নি। "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আম্মার ইবনে ইয়াসিরকে বলা এই বাণীর কারণে: 'তোমার জন্য তোমার দুই হাত দিয়ে এভাবে করাই যথেষ্ট ছিল', অতঃপর তিনি তাঁর উভয় হাত দিয়ে মাটিতে একবার আঘাত করলেন, তারপর তা দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই কবজি মাসেহ করলেন।"

ধূলিযুক্ত পবিত্র মাটি ছাড়া তায়াম্মুম বৈধ (يجوز) নয়। আর নিয়ত (نية) ব্যতীত তায়াম্মুম শুদ্ধ (يصح) হবে না; রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীর কারণে: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের (النيات) ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত (نوى) করে তা-ই পায়।"

 

‌‌[অসুস্থ ব্যক্তির অবস্থাসমূহ]

অসুস্থ ব্যক্তির কয়েকটি অবস্থা রয়েছে: ১ - যদি তার অসুস্থতা সামান্য হয় যাতে পানি ব্যবহারে প্রাণহানি বা অঙ্গহানি, কোনো ভয়াবহ ব্যাধি, আরোগ্য লাভে বিলম্ব, ব্যথার তীব্রতা বৃদ্ধি বা গুরুতর কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে; যেমন মাথা ব্যথা ও দাঁত ব্যথা।
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ৯)
ونحوها، أو من يمكنه استعمال الماء الدافئ ولا ضرر عليه - فهذا لا يجوز له التيمم؛ لأن إباحته لنفي الضرر ولا ضرر عليه، ولأنه واجد للماء فوجب عليه استعماله.

2 - وإن كان به مرض يخاف معه تلف النفس أو تلف عضو، أو حدوث مرض يخاف معه تلف النفس أو تلف عضو أو فوات منفعة، فهذا يجوز له التيمم، لقوله تعالى: {وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا} [النساء: 29]

3 - وإن كان به مرض لا يقدر معه على الحركة ولا يجد من يناوله الماء جاز له التيمم.

4 - من به جروح أو قروح أو كسر أو مرض يضره من استعمال الماء فأجْنَبَ جاز له التيمم للأدلة
এবং তদ্রূপ অবস্থা, অথবা যে ব্যক্তি উষ্ণ পানি ব্যবহার করতে সক্ষম এবং তাতে তার কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই—তবে তার জন্য তৈয়ম্মুম (تيمم) করা বৈধ নয়; কারণ এর অনুমতি দেওয়া হয়েছে ক্ষতি নিরসনের জন্য, অথচ তার কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। আর যেহেতু সে পানি প্রাপ্ত (واجد), তাই পানি ব্যবহার করা তার জন্য আবশ্যক (وجب)।

2 - আর যদি তার এমন কোনো রোগ থাকে যাতে প্রাণহানি বা অঙ্গহানির আশঙ্কা থাকে, অথবা এমন কোনো নতুন ব্যাধি সৃষ্টির ভয় থাকে যাতে জীবননাশ, অঙ্গহানি কিংবা অঙ্গের কর্মক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা থাকে, তবে তার জন্য তৈয়ম্মুম (تيمম) করা বৈধ (يجوز); মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।" [আন-নিসা: ২৯]

3 - আর যদি তার এমন ব্যাধি থাকে যার কারণে সে নড়াচড়া করতে সক্ষম নয় এবং তাকে পানি এগিয়ে দেওয়ার মতো কোনো ব্যক্তি না থাকে, তবে তার জন্য তৈয়ম্মুম (تيمم) করা বৈধ (جاز)।

4 - যার ক্ষত, ঘা, হাড়ভাঙ্গা বা এমন কোনো রোগ রয়েছে যাতে পানি ব্যবহার করা তার জন্য ক্ষতিকর, এমতাবস্থায় সে অপবিত্র (أجنب) হয়ে পড়লে বিভিন্ন দলিলসমূহের (الأدلة) ভিত্তিতে তার জন্য তৈয়ম্মুম (تيمم) করা বৈধ (جاز)।
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ১০)
السابقة، وإن أمكنه غَسْلَ الصحيح من جسده وجب عليه ذلك ويتيمم للباقي.

5 - مريض في محل لم يجد ماءًا ولا تراباً ولا من يحضر له الموجود منهما صلى على حسب حاله وليس له تأجيل الصلاة، لقول الله سبحانه: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16]

6 - المريض المصاب بسلس البول ولم يبرأ بمعالجته عليه أن يتوضأ لكل صلاة بعد دخول وقتها، ويغسل ما يصيب بدنه، ويجعل للصلاة ثوبًا طاهراً إن لم يشق عليه ذلك؛ وإلا عُفي عنه؛ لقوله تعالى: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} [الحج: 78] وقوله: {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} [البقرة: 185] وقوله صلى الله عليه وسلم: «إذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم» ويحتاط لنفسه احتياطاً يمنع
...পূর্ববর্তী বিষয়ের ন্যায়। যদি তার পক্ষে শরীরের সুস্থ অংশ ধৌত করা সম্ভব হয়, তবে তা করা তার জন্য আবশ্যক এবং অবশিষ্ট অংশের জন্য সে তায়াম্মুম করবে।

৫ - এমন কোনো স্থানে অবস্থানরত অসুস্থ ব্যক্তি যেখানে সে পানি বা মাটি কিছুই পাচ্ছে না এবং তার নিকট এ বস্তুগুলো উপস্থিত করে দেওয়ার মতোও কেউ নেই, তবে সে তার অবস্থানুযায়ী সালাত আদায় করবে এবং সালাত বিলম্বিত করা তার জন্য বৈধ নয়। কেননা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {অতএব তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো} [আত-তাগাবুন: ১৬]।

৬ - যে রোগী ‘সালাসুল বাওল’ (অনবরত প্রস্রাব নির্গত হওয়া) রোগে আক্রান্ত এবং চিকিৎসার মাধ্যমে তা থেকে আরোগ্য লাভ করেনি, তাকে সালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর প্রত্যেক সালাতের জন্য অজু করতে হবে এবং শরীরের যে অংশে অপবিত্রতা লাগে তা ধৌত করতে হবে। আর যদি কষ্টসাধ্য না হয় তবে সালাতের জন্য একটি পবিত্র কাপড় নির্দিষ্ট করবে; অন্যথায় তাকে ক্ষমা করা হবে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি} [আল-হাজ্জ: ৭৮]। এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না} [আল-বাকারা: ১৮৫]। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: “আমি যখন তোমাদের কোনো নির্দেশ দিই, তখন তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তা পালন করো।” আর সে নিজের জন্য এমন সতর্কতা অবলম্বন করবে যা (অপবিত্রতা ছড়ানো) রোধ করে...
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ১১)
انتشار البول في ثوبه أو جسمه أو مكان صلاته.

ويبطل التيمم بكل ما يبطل الوضوء، وبالقدرة على استعمال الماء، أو وجوده إن كان معدوماً. . والله أعلم.

 

‌‌[كيفية صلاة المريض]

كيفية صلاة المريض: أجمع أهل العلم على أن من لا يستطيع القيام، له أن يصلي جالساً، فإن عجز عن الصلاة جالساً، فإنه يصلي على جنبه مستقبل القبلة بوجهه، والمستحب أن يكون على جنبه الأيمن، فإن عجز عن الصلاة على جنبه صلى مستلقياً لقوله صلى الله عليه وسلم لعمران بن حصين: «صَلِّ قائماً، فإن لم تستطع فقاعداً، فإن لم تستطع فعلى جنب» - رواه البخاري - وزاد النسائي: «فإن لم تستطع فمستلقياً» ومن قدر على القيام وعجز
তার পোশাকে, শরীরে বা নামাজের স্থানে প্রস্রাব ছড়িয়ে পড়া।

অজু ভঙ্গকারী সকল বিষয়ের মাধ্যমেই তায়াম্মুম ভঙ্গ হয়ে যায়; এছাড়া পানি ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরি হলে অথবা পানির অনুপস্থিতিতে তায়াম্মুম করা হয়ে থাকলে পানি পাওয়া গেলে তায়াম্মুম বাতিল হয়ে যায়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌[অসুস্থ ব্যক্তির নামাজ আদায়ের পদ্ধতি]

অসুস্থ ব্যক্তির নামাজ আদায়ের পদ্ধতি: আলেমগণ (أهل العلم) এই বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন (أجمع) যে, যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে সক্ষম নয়, সে বসে নামাজ পড়বে। আর যদি সে বসে নামাজ পড়তে অক্ষম হয়, তবে সে কিবলামুখী হয়ে পার্শ্বশায়িত অবস্থায় নামাজ পড়বে; এবং ডান কাতে শোয়া পছন্দনীয় (المستحب)। যদি পার্শ্বশায়িত অবস্থায় নামাজ পড়তে অক্ষম হয়, তবে চিত হয়ে নামাজ পড়বে। কেননা ইমরান বিন হুসাইন (রা.)-এর প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো, যদি সক্ষম না হও তবে বসে নামাজ পড়ো, আর যদি সক্ষম না হও তবে পার্শ্বশায়িত অবস্থায় নামাজ পড়ো» - এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন - এবং নাসায়ি বর্ধিত (زاد) করেছেন: «যদি তাও সক্ষম না হও তবে চিত হয়ে নামাজ পড়ো» এবং যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে সক্ষম কিন্তু অক্ষম...
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ১২)
عن الركوع أو السجود لم يسقط عنه القيام، بل يصلي قائماً فيومئ بالركوع ثم يجلس ويومئ بالسجود، لقوله تعالى: {وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} [البقرة: 238] ولقوله صلى الله عليه وسلم: «صَلِّ قائماً» ولعموم قوله تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16]

وإن كان بعينه مرض فقال ثقات من علماء الطب: إن صليت مستلقياً أمكن مداواتك وإلا فلا - فله أن يصلي مستلقياً.

ومن عجز عن الركوع والسجود أومأ بهما ويجعل السجود أخفض من الركوع، وإن عجز عن السجود وحده ركع وأومأ بالسجود، وإن لم يمكنه أن يحني ظهره حنى رَقَبَتَهُ، وإن كان ظهره متقوساً فصار كأنه راكع فمتى أراد الركوع زاد في انحنائه قليلاً، ويقرب وجهه إلى الأرض في السجود أكثرَ ما أمكنه ذلك. ومن لم يقدر على الإيماء برأسه كفاه
রুকু বা সিজদা করতে অক্ষম হলে তার ওপর থেকে কিয়াম (দাঁড়ানো) রহিত হয় না; বরং সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে এবং রুকুর জন্য ইশারা করবে, অতঃপর বসে সিজদার জন্য ইশারা করবে। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াও} [আল-বাকারা: ২৩৮] এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: «দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো» এবং মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপক নির্দেশনার কারণে: {তোমরা যথাসম্ভব আল্লাহকে ভয় করো} [আত-তাগাবুন: ১৬]

আর যদি তার চোখে কোনো রোগ থাকে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্ভরযোগ্য (ثقات) বিশেষজ্ঞগণ বলেন: "যদি আপনি চিত হয়ে শুয়ে নামাজ পড়েন তবে আপনার চিকিৎসা করা সম্ভব হবে, অন্যথায় নয়" - তবে তার জন্য চিত হয়ে শুয়ে নামাজ পড়ার অনুমতি রয়েছে।

আর যে ব্যক্তি রুকু ও সিজদা করতে অক্ষম সে এ দুটির জন্য ইশারা করবে এবং সিজদাকে রুকুর চেয়ে বেশি নিচু করবে। যদি সে কেবল সিজদা করতে অক্ষম হয় তবে রুকু করবে এবং সিজদার জন্য ইশারা করবে। আর যদি তার পক্ষে পিঠ বাঁকানো সম্ভব না হয় তবে সে ঘাড় নিচু করবে। আর যদি তার পিঠ কুঁজো হওয়ার কারণে এমন হয় যে তাকে রুকুকারীর মতো মনে হয়, তবে যখন সে রুকু করার ইচ্ছা করবে তখন সামান্য কিছুটা বেশি ঝুঁকবে এবং সিজদার সময় তার মুখমণ্ডলকে যথাসম্ভব মাটির কাছাকাছি নিয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি মাথা দিয়ে ইশারা করতে সক্ষম নয়, তার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
النية والقول. ولا تسقط عنه الصلاة مادام عقله ثابتاً بأي حال من الأحوال للأدلة السابقة.

ومتى قدر المريض في أثناء الصلاة على ما كان عاجزاً عنه من قيام أو قعود أو ركوع أو سجود أو إيماء انتقل إليه وبنى على ما مضى من صلاته. وإذا نام المريض أو غيره عن صلاة أو نسيها وجب عليه أن يصليها حال استيقاظه من النوم أو حال ذكره لها، ولا يجوز له تركها إلى دخول وَقْت مثْلها ليصليها فيه؛ لقوله عليه الصلاة والسلام: «من نام عن صلاة أو نسيها فليصلها متى ذكرها لا كفارة لها إلا ذلك.» وتلا قوله: {وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي} [طه: 14]

ولا يجوز ترك الصلاة بأي حال من الأحوال، بل يجب على المكلف أن يحرص على الصلاة أيام مرضه أكثر من حرصه عليها أيام صحته. فلا يجوز له ترك
নিয়ত এবং মৌখিক উক্তি। পূর্বোক্ত দলীলসমূহের আলোকে যতক্ষণ তার বিবেক-বুদ্ধি স্থির থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই তার ওপর থেকে সালাত রহিত হয় না।

সালাত রত অবস্থায় রোগী যখনই এমন কোনো রুকন পালনে সক্ষম হবে যা করতে সে আগে অক্ষম ছিল—যেমন দাঁড়ানো, বসা, রুকু, সিজদা বা ইশারা—তখন সে সেদিকেই ফিরে যাবে এবং সালাতের ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত অংশের ওপর ভিত্তি করে বাকিটুকু পূর্ণ করবে। যখন কোনো রোগী বা অন্য কেউ সালাত থেকে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা তা ভুলে যায়, তখন জাগ্রত হওয়ার বা স্মরণ হওয়ার সাথে সাথেই তা আদায় করা তার ওপর ওয়াজিব। অনুরূপ সালাতের পরবর্তী ওয়াক্ত আসা পর্যন্ত তা বিলম্ব করা তার জন্য জায়েজ নয়; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো সালাত ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে থাকার কারণে তা ছুটে যায়, তবে সে যেন তা স্মরণ হওয়া মাত্রই আদায় করে নেয়, এ ছাড়া এর আর কোনো কাফফারা নেই।" অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {এবং আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো} [ত্বহা: ১৪]।

কোনো অবস্থাতেই সালাত বর্জন করা বৈধ নয়, বরং মুকাল্লাফ ব্যক্তির ওপর কর্তব্য হলো সুস্থ অবস্থার চেয়ে অসুস্থতার দিনগুলোতে সালাতের প্রতি অধিক যত্নশীল হওয়া। সুতরাং তার জন্য তা বর্জন করা জায়েজ নয়
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
المفروضة حتى يفوت وقتها ولو كان مريضاً ما دام عقله ثابتاً، بل عليه أن يؤديها في وقتها حسب استطاعته. فإذا تركها عامداً وهو عاقل مكلف يقوى على أدائها ولو إيماءً فهو آثم، وقد ذهب جمع من أهل العلم إلى كُفْره بذلك، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة؛ فمن تركها فقد كفر» . ولقوله صلى الله عليه وسلم: «رأس الأمر الإسلام، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد في سبيل الله» .

وإن شق عليه فعل كل صلاة في وقتها فله الجمع بين الظهر والعصر، وبين المغرب والعشاء، جمع تقديم أو جمع تأخير حسبما تيسر له، إن شاء قدَّم العصر مع الظهر وإن شاء أخّر الظهر مع العصر، وإن شاء قدَّم العشاء مع المغرب، وإن شاء أخّر المغرب مع العشاء. أما الفجر فلا تجمع لما قبلها ولا لما
ফরজ সালাতসমূহ তার সময় অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করা যাবে না, এমনকি ব্যক্তি অসুস্থ হলেও—যতক্ষণ তার হিতাহিত জ্ঞান অটুট থাকে। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী যথাসময়ে তা আদায় করা তার ওপর আবশ্যক। এমতাবস্থায় কোনো সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ছেড়ে দেয়, অথচ সে ইশারার মাধ্যমে হলেও তা আদায়ে সক্ষম ছিল, তবে সে পাপিষ্ঠ হবে। অধিকন্তু আলেমদের একটি দল এ কারণে তার কুফরের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কেননা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «আমাদের ও তাদের মধ্যে যে চুক্তি রয়েছে তা হলো সালাত; অতএব যে ব্যক্তি তা ত্যাগ করল, সে কুফরি করল»। এবং নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্য একটি বাণীর কারণে: «সকল বিষয়ের মূল হলো ইসলাম, এর স্তম্ভ হলো সালাত এবং এর সর্বোচ্চ চূড়া হলো আল্লাহর পথে জিহাদ»।

যদি তার জন্য প্রত্যেক সালাত নিজ সময়ে আদায় করা কষ্টকর হয়, তবে তার জন্য যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশার মধ্যে অগ্রিম একত্রীকরণ কিংবা বিলম্বিত একত্রীকরণ করার অবকাশ রয়েছে, যেভাবে তার সুবিধা হয়। সে চাইলে আসরকে যোহরের সাথে অগ্রিম আদায় করতে পারে অথবা যোহরকে আসরের সাথে বিলম্বে আদায় করতে পারে। তদ্রূপ সে চাইলে ইশাকে মাগরিবের সাথে আগে আদায় করতে পারে অথবা মাগরিবকে ইশার সাথে বিলম্বে আদায় করতে পারে। তবে ফজর সালাত তার পূর্ববর্তী কিংবা পরবর্তী কোনোটির সাথেই একত্র করা যাবে না।
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
بعدها؛ لأن وقتها منفصل عما قبلها وعما بعدها.

هذا بعض ما يتعلق بأحوال المريض في طهارته وصلاته.

وأسأل الله سبحانه وتعالى أن يشفي مرضى المسلمين، ويكفر سيئاتهم، وأن يمنَّ علينا جميعاً بالعفو والعافية في الدنيا والآخرة؛ إنه جواد كريم. . وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
এরপর; কারণ এর সময়টি তার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময় থেকে স্বতন্ত্র।

অসুস্থ ব্যক্তির পবিত্রতা ও সালাত সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির কিয়দাংশ হলো এটি।

আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন মুসলিম রোগীদের আরোগ্য দান করেন, তাদের পাপসমূহ মোচন করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদের সকলকে ক্ষমা ও সুস্থতা দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও অতিশয় দাতা। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌[فتاوى للمرضى والعاملين في المستشفيات]

‌‌[المقدمة]

فتاوى للمرضى والعاملين في المستشفيات المقدمة إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

أما بعد: فبين يديك أخي القارئ فتاوى سماحة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله والتي تتعلق بالمستشفيات وما فيها من المرضى والأطباء والممرضات، والله أسأل أن ينفع بها المسلمين وأن يجعلها خالصة لوجهه الكريم، إنه سميع مجيب. وصلى الله على محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

معوض عائض اللحياني

مكة - مستشفى الملك عبد العزيز

في 20 / 1 / 1413 هـ
[অসুস্থ ব্যক্তি এবং হাসপাতালে কর্মরতদের জন্য ফতোয়া]

[ভূমিকা]

অসুস্থ ব্যক্তি এবং হাসপাতালে কর্মরতদের জন্য ফতোয়া। ভূমিকা: নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর: হে পাঠক ভাই! আপনার সম্মুখে রয়েছে শ্রদ্ধেয় শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ফতোয়াসমূহ, যা হাসপাতাল এবং সেখানে চিকিৎসাধীন রোগী, চিকিৎসক ও সেবিকাদের সাথে সংশ্লিষ্ট। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও উত্তরদানকারী। আল্লাহ সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর।

মুআওয়াজ আয়িদ আল-লিহয়ানি

মক্কা - কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতাল

২০ / ০১ / ১৪১৩ হিজরি
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌[هل يصلي قبل إجراء العملية أم يؤخر الصلاة حتى يكون قادرا على أدائها]

القسم الأول (1) س 1: من المعلوم أن المريض بعد إجراء العملية يبقى مخدراً حتى يفيق وبعد ذلك يبقى متألماً عدة ساعات فهل يصلي قبل دخول العملية والوقت لم يحن بعد، أم يؤخر الصلاة حتى يكون قادراً على أدائها بحضورٍ حسيِّ ولو تأخر ذلك يوماً فأكثر؟

ج 1: الواجب أوَّلاً على الطبيب أن ينظر في الأمر؛ فإذا أمكن أن يتأخر بدء العلاج حتى يدخل الوقت مثل الظهر فيصلي المريض الظهر والعصر جميعاً إذا دخل وقت الظهر. . وهكذا في الليل يصلي المغرب والعشاء جميعاً إذا غابت الشمس قبل بدء العملية.

--------------------------------------------

(1) هذه الفتاوى ألقيت في ختام محاضرة لسماحة الشيخ بعنوان: كلمة إلى الطبيب المسلم، بمستشفى النور بمكة المكرمة عام 1410 هـ في شهر رجب.
[অপারেশন সম্পন্ন করার আগে কি সালাত আদায় করবেন নাকি সালাত আদায়ে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত তা বিলম্ব করবেন?]

প্রথম খণ্ড (১) প্রশ্ন ১: এটি সুপরিচিত যে, অপারেশনের পর রোগী জ্ঞান ফিরে আসা পর্যন্ত অচেতন থাকেন এবং এরপর কয়েক ঘণ্টা ব্যথায় কাতর থাকেন। এমতাবস্থায় তিনি কি সালাতের ওয়াক্ত হওয়ার আগেই অপারেশন শুরু হওয়ার পূর্বে সালাত আদায় করবেন, নাকি সালাতকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিলম্ব করবেন যতক্ষণ না তিনি পূর্ণ সচেতনভাবে তা আদায়ের সক্ষমতা অর্জন করেন, যদিও তা একদিন বা তার বেশি সময় বিলম্বিত হয়?

উত্তর ১: চিকিৎসকের জন্য প্রথমত কর্তব্য হলো বিষয়টি বিবেচনা করা; যদি চিকিৎসার সূচনা ওয়াক্ত হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করা সম্ভব হয়—যেমন জোহর—তবে জোহরের ওয়াক্ত শুরু হলে রোগী জোহর ও আসর একত্রে আদায় করবেন। একইভাবে রাতে, অপারেশন শুরু হওয়ার পূর্বে যদি সূর্য অস্ত যায়, তবে তিনি মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করবেন।

--------------------------------------------

(১) এই ফতোয়াগুলো শাইখ মহোদয়ের "মুসলিম চিকিৎসকের প্রতি একটি বার্তা" শীর্ষক একটি আলোচনার শেষে প্রদান করা হয়েছিল, যা ১৪১০ হিজরি সনের রজব মাসে মক্কার আন-নূর হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়।
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أما إذا كان العلاج ضحى فإن المريض معذور، فإذا أفاق قضى ما عليه ولو بعد يوم أو يومين، متى أفاق قضى ما عليه والحمد لله، ولا شيء عليه مثل النائم إذا أفاق وانتبه ورجع إليه وعيه صلى الأوقات التي فاتته على الترتيب يرتبها ظهراً ثم عصراً وهكذا حتى يقضي ما عليه، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من نام عن الصلاة أو نسيها فليصلِّها إذا ذكرها، لا كفارة لها إلا ذلك» - متفق عليه - والإغماء بسبب المرض أو العلاج حكمه حكم النوم إذا لم يطل، فإن طال فوق ثلاثة أيام سقط عنه القضاء، وصار في حكم المعتوه حتى يرجع إليه عقله فيبتدئ فعل الصلاة بعد رجوع عقله إليه لقول النبي صلى الله عليه وسلم: القلم عن ثلاثة: عن النائم حتى يستيقظ، وعن الصغير حتى يبلغ، وعن المجنون حتى يفيق. ولم يذكر القضاء في حق

তবে যদি চিকিৎসা চাশতের (ضحى) সময়ে হয় তবে রোগী ওজরপ্রাপ্ত (معذور) হিসেবে গণ্য হবেন। এমতাবস্থায় যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পাবেন, তখন তার ওপর অনাদায়ী সালাতসমূহ কাজা (قضاء) করবেন, তা একদিন বা দুইদিন অতিবাহিত হওয়ার পর হলেও। যখনই তিনি চেতনা ফিরে পাবেন তখনই অনাদায়ী সালাত আদায় করবেন, আলহামদুলিল্লাহ। এক্ষেত্রে তার ওপর অন্য কিছু আবশ্যক নয়; বরং তিনি ঠিক ঘুমন্ত ব্যক্তির মতো। যখন তিনি জাগ্রত হন এবং সচেতনতা ও জ্ঞান ফিরে আসে, তখন তিনি ছুটে যাওয়া সালাতগুলো ধারাবাহিকতা (ترتيب) বজায় রেখে আদায় করবেন। অর্থাৎ প্রথমে জোহর, তারপর আসর এবং এভাবে পর্যায়ক্রমে অনাদায়ী সালাতসমূহ কাজা (قضاء) করবেন। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি সালাত আদায় করতে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে থাকার কারণে তা ছুটে যায়, সে যখনই তা স্মরণ করবে তখনই যেন আদায় করে নেয়। এছাড়া এর আর কোনো কাফফারা (كفارة) নেই।" — এটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত (متفق عليه)। অসুস্থতা বা চিকিৎসার কারণে অজ্ঞান (إغماء) হওয়ার বিধান (حكم) ঘুমের বিধানের (حكم) মতোই, যদি তা দীর্ঘ না হয়। কিন্তু যদি এই অবস্থা তিন দিনের বেশি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তার ওপর থেকে কাজা (قضاء) করার বাধ্যবাধকতা রহিত (سقط) হয়ে যাবে এবং তিনি বিচারবুদ্ধিহীন (معتوه) ব্যক্তির পর্যায়ভুক্ত হবেন যতক্ষণ না তার জ্ঞান ফিরে আসে। এমতাবস্থায় জ্ঞান ফিরে আসার পর তিনি পুনরায় সালাত শুরু করবেন। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "তিন শ্রেণির ব্যক্তির ওপর থেকে কলম (দায়বদ্ধতা) তুলে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না জাগ্রত হয়, অপ্রাপ্তবয়স্ক (صغير) শিশু যতক্ষণ না সাবালক হয় এবং অপ্রকৃতিস্থ (مجنون) ব্যক্তি যতক্ষণ না সুস্থ হয়।" তিনি তাদের ক্ষেত্রে কাজা (قضاء) করার বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الصغير والمجنون، وإنما ثبت عنه صلى الله عليه وسلم الأمر بالقضاء في حق النائم والناسي. والله ولي التوفيق.

 

‌‌[لا أستطيع الوضوء فهل أتيمم]

س 2: لا أستطيع الوضوء بنفسي وليس عندي من يساعدني؛ فهل أتيمم علماً أن المستشفى ينظف يوميًّا الجدران والأرض والفرش، فكيف أتيمم والحال ما ذكر؟

ج 2: إذا كان المريض ليس عنده من يوضئه ولا يستطيع أن يتوضأ بنفسه فإنه يتيمم لقوله سبحانه: {وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ} [المائدة: 6]

والعاجز عن الماء والتيمم معذور، وعليه أن يصلي في الوقت بغير وضوء ولا تيمم لقوله سبحانه:
শিশু এবং পাগল। মূলত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে কেবলমাত্র ঘুমন্ত ও বিস্মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে (সালাত) কাযা করার নির্দেশ সাব্যস্ত হয়েছে (ثبت)। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।

 

‌‌[আমি ওজু করতে পারছি না, তবে কি আমি তায়াম্মুম করব?]

প্রশ্ন ২: আমি নিজে ওজু করতে পারছি না এবং আমাকে সাহায্য করার মতো কেউ নেই; এমতাবস্থায় আমি কি তায়াম্মুম করব? উল্লেখ্য যে, হাসপাতাল প্রতিদিন দেয়াল, মেঝে এবং বিছানাপত্র পরিষ্কার করে। এমতাবস্থায় বর্ণিত পরিস্থিতিতে আমি কীভাবে তায়াম্মুম করব?

উত্তর ২: যদি রোগীর এমন কেউ না থাকে যে তাকে ওজু করিয়ে দেবে এবং সে নিজেও ওজু করতে সক্ষম না হয়, তবে সে তায়াম্মুম করবে। কারণ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর যদি তোমরা অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে কিংবা তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ কর এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর। সুতরাং তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত তা দ্বারা মাসেহ কর।} [সুরা আল-মায়িদাহ: ৬]

আর যে ব্যক্তি পানি ব্যবহার ও তায়াম্মুম করতে অক্ষম, সে ওজরগ্রস্ত বলে গণ্য হবে। তার জন্য ওজু ও তায়াম্মুম ছাড়াই ওয়াক্তের মধ্যে সালাত আদায় করা আবশ্যক। কেননা মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ২০)
{فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16] ولقول النبي صلى الله عليه وسلم: «ما نهيتكم عنه فاجتنبوه وما أمرتكم به فأتوا منه ما استطعتم» . وقد صلى بعض الصحابة في بعض أسفار النبي صلى الله عليه وسلم بغير وضوء ولا تيمم ولم ينكر عليهم النبي صلى الله عليه وسلم ذلك، وذلك في السفر الذي ضاع فيه عقد عائشة، وذهب بعض الصحابة يلتمسه بأمر النبي صلى الله عليه وسلم فلم يجدوه، وحضرت الصلاة بغير وضوء وكان التيمم لم يشرع ذلك الوقت ثم شرع بسبب هذه الحادثة. وهذا هو الواجب، فإن المريض إذا لم يكن عنده قدرة على استعمال الماء وليس عنده من يوضئه فإنه يجب عليه التيمم بوجود تراب نظيف تحت السرير في إناء أو وعاء يتيمم منه ويكفي ذلك عن الوضوء، ولا يجوز التساهل في هذا الأمر بل يجب على جميع المستشفيات أن يهتموا بذلك.
“অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো” [আত-তাগাবুন: ১৬] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: “আমি তোমাদের যা থেকে নিষেধ করেছি তা বর্জন করো এবং যা আমি তোমাদের আদেশ করেছি তা যথাসাধ্য পালন করো।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো এক সফরে কিছু সাহাবী ওজু (وضوء) ও তায়াম্মুম (تيمم) ছাড়াই সালাত আদায় করেছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সেই কাজের প্রতি অস্বীকৃতি জানাননি। আর এটি ছিল সেই সফর যাতে আয়েশা (রা.)-এর হার হারিয়ে গিয়েছিল; তখন কিছু সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে তা খুঁজতে গিয়েছিলেন কিন্তু খুঁজে পাননি। এমতাবস্থায় ওজু (وضوء) ছাড়াই সালাতের সময় উপস্থিত হয় এবং সেই সময়ে তায়াম্মুম (تيمم) বিধিবদ্ধ (شرع) হয়নি, পরবর্তীতে এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই তা বিধিবদ্ধ (شرع) হয়। আর এটাই হলো আবশ্যক (واجب); কারণ কোনো অসুস্থ ব্যক্তির যদি পানি ব্যবহারের সক্ষমতা না থাকে এবং তাকে ওজু (وضوء) করিয়ে দেওয়ার মতো কেউ না থাকে, তবে বিছানার নিচে কোনো পাত্র বা আধারে রক্ষিত পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম (تيمم) করা তার জন্য আবশ্যক (واجب) হবে এবং তা ওজু (وضوء)-এর বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট হবে। এই বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করা বৈধ (جائز) নয়, বরং সকল হাসপাতালের কর্তব্য হলো এই বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করা।
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ২১)
ويجب على المريض قبل الوضوء والتيمم أن يستنجي من الغائط والبول بالماء أو الاستجمار ولا يتعين الماء بل يجزئه أن يستنجي بمناديل طاهرة ونحوها كالحجر والتراب واللِّبن والخشب ونحو ذلك حتى يزيل الأذى، والواجب ألا ينقص ذلك عن ثلاث مسحات؛ فإن لم يحصل النقاء بذلك وجبت الزيادة حتى يحصل الإنقاء لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من استجمر فليوتر» ولما ثبت عنه صلى الله عليه وسلم «أنه نهى أن يستنجى بأقل من ثلاثة أحجار» ، «ونهى أن يستنجى بالعظم والروث، وقال: " إنهما لا يطهران» .

 

‌‌[على إحدى يديه جبس وبها جروح فكيف يتيمم]

س 3: إذا كان على إحدى يديَّ أو كلتيهما جبس أو بهما جروح يضرهما الماء، فكيف التيمم؛ وهل حد الوجه في التيمم مثله في الوضوء ?

ج 3: نعم حد الوجه في التيمم كالوضوء، يمسح
অসুস্থ ব্যক্তির জন্য অজু এবং তায়াম্মুমের পূর্বে পানি অথবা পাথর বা ঢেঁকু ব্যবহারের মাধ্যমে মল ও মূত্র থেকে ইস্তিঞ্জা করা ওয়াজিব। পানি ব্যবহার করা অপরিহার্য নয়, বরং পবিত্র টিস্যু এবং তদ্রূপ পাথর, মাটি, মাটির ঢিলা, কাঠ ও অনুরূপ বস্তু দিয়ে নাপাকি দূর করা পর্যন্ত ইস্তিঞ্জা করা যথেষ্ট। এক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো মোছার সংখ্যা তিনটির কম না হওয়া; যদি তাতে পবিত্রতা অর্জিত না হয়, তবে পবিত্রতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত সংখ্যা বাড়ানো ওয়াজিব। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি পাথর বা ঢেঁকু ব্যবহার করে, সে যেন বেজোড় সংখ্যা রক্ষা করে।" আর যেহেতু তাঁর থেকে সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে, "তিনি তিনটির কম পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন" এবং "তিনি হাড় ও গোবর দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: 'এগুলো পবিত্র করে না'।"

 

‌‌[এক হাতে প্লাস্টার এবং তাতে ক্ষত থাকলে কীভাবে তায়াম্মুম করবে]

প্রশ্ন ৩: যদি আমার এক হাতে বা উভয় হাতে প্লাস্টার থাকে অথবা তাতে এমন ক্ষত থাকে যা পানির ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তায়াম্মুম কীভাবে হবে? আর তায়াম্মুমে চেহারার সীমা কি অজুর সীমার মতোই?

উত্তর ৩: হ্যাঁ, তায়াম্মুমে চেহারার সীমা অজুর মতোই, সে মাসেহ করবে
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ২২)
وجهه بالتراب من أعلى الجبهة إلى اللحية ومن الأذن إلى الأذن، ويمسح يديه ظاهرهما وباطنهما من مفصل الكف إلى أطراف الأصابع، وإذا كان في يديه جبس أو جروح كفى المسح بالتراب على الجبس وعليهما إن كان بهما جروح. وإن كانت إحداهما سليمة والأخرى فيها جروح أو عليها جبس غسل السليمة ومسح بالماء على الجريحة ومسح على الجبس كما لو كان عليهما أو إحداهما جبيرة من خرق ونحوها. فإن كان يضره الماء أو كان الماء كير موجود أجزأه التيمم.

 

‌‌[تمريض المرأة للرجال مع وجود ممرضين من الرجال]

س 4: هل يجوز أن تمرِّضنا امرأة ونحن رجال، خاصةً مع وجود ممرضين من الرجال؟

ج 4: الواجب على المستشفيات جميعاً أن يكون الممرضون للرجال والممرضات للنساء. هذا الواجب،
মুখমণ্ডল মাটি দ্বারা কপালের উপরিভাগ থেকে দাড়ি পর্যন্ত এবং এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত মসেহ করবে এবং উভয় হাতের পিঠ ও তালু কবজির সন্ধিস্থল থেকে আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত মসেহ করবে। যদি তার হাতে প্লাস্টার অথবা জখম থাকে, তবে প্লাস্টারের ওপর এবং জখম থাকলে তার ওপর মাটি দিয়ে মসেহ করাই যথেষ্ট হবে। যদি এক হাত সুস্থ থাকে এবং অন্য হাতে জখম বা প্লাস্টার থাকে, তবে সুস্থ হাতটি ধৌত করবে এবং জখম হওয়া অংশে পানি দিয়ে মসেহ করবে এবং প্লাস্টারের ওপর মসেহ করবে, ঠিক যেমনটি করা হয় যখন উভয় হাতে বা কোনো একটিতে কাপড়ের পট্টি বা অনুরূপ কিছু থাকে। যদি পানি তার ক্ষতি করে অথবা পানি পাওয়া না যায়, তবে তায়াম্মুম (التيمم) করাই তার জন্য যথেষ্ট হবে।

 

‌‌[পুরুষ সেবকের উপস্থিতিতে নারীদের দ্বারা পুরুষদের সেবা করা]

প্রশ্ন ৪: আমরা পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও কোনো নারী কি আমাদের সেবা (নার্সিং) করতে পারেন, বিশেষ করে যখন পুরুষ সেবক বিদ্যমান রয়েছে?

উত্তর ৪: সকল হাসপাতালের জন্য আবশ্যক (الواجب) হলো পুরুষদের জন্য পুরুষ সেবক এবং নারীদের জন্য নারী সেবিকা রাখা। এটিই হলো আবশ্যক (الواجب),
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
كما أن يكون الأطباء للرجال والطبيبات للنساء إلا عند الضرورة القصوى إذا كان المرض لا يعرفه إلا الرجل فلا حرج أن يعالج المرأة لأجل الضرورة. وهكذا لو كان مرض الرجل لا يعرفه إلا امرأة فلا حرج في علاجها له وإلا فالواجب أن يكون الطبيب من الرجال للرجال والطبيبة من النساء للنساء، هذا الواجب. وهكذا الممرضات والممرضون، الممرض للرجال والممرضة للنساء؛ حسماً لوسائل الفتنة وحذراً من الخلوة المحرمة.

 

‌‌[المريض المركب له كيس بول كيف يصلي وكيف يتوضأ]

س 5: المريض المركب له كيس للبول كيف يصلي؟ وكيف يتوضأ؟

ج 5: يصلي على حسب حاله مثل صاحب السلس ومثل المرأة المستحاضة، يصلي المريض إذا دخل الوقت على حسب حاله، ويتيمم إذا كان لا يستطيع استعمال
অনুরূপভাবে পুরুষদের জন্য পুরুষ চিকিৎসক এবং নারীদের জন্য নারী চিকিৎসক হওয়া আবশ্যক, তবে একান্ত জরুরি প্রয়োজন (ضرورة قصوى) দেখা দিলে ভিন্ন কথা। যদি রোগটি এমন হয় যা কেবল পুরুষ চিকিৎসকই অবগত থাকেন, তবে জরুরি প্রয়োজনে (ضرورة) তার পক্ষ থেকে নারীকে চিকিৎসা করাতে কোনো বাধা নেই। একইভাবে, যদি পুরুষের রোগটি এমন হয় যা কেবল একজন নারী চিকিৎসকই অবগত থাকেন, তবে তার দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণে কোনো দোষ নেই। অন্যথায় ওয়াজিব (واجب) হলো পুরুষদের জন্য পুরুষ চিকিৎসক এবং নারীদের জন্য নারী চিকিৎসক হওয়া; এটিই আবশ্যক কর্তব্য। সেবিকা ও সেবকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম; পুরুষদের জন্য পুরুষ সেবক এবং নারীদের জন্য নারী সেবিকা নিযুক্ত থাকবে; যেন ফিতনার (فتنة) পথ রুদ্ধ হয় এবং নিষিদ্ধ নির্জনতা (خلوة محرمة) থেকে সতর্ক থাকা যায়।

 

‌‌[প্রস্রাবের ব্যাগ লাগানো রোগী কীভাবে সালাত (صلاة) আদায় করবেন এবং কীভাবে অজু (وضوء) করবেন]

প্রশ্ন ৫: প্রস্রাবের ব্যাগ লাগানো রোগী কীভাবে সালাত (صلاة) আদায় করবেন? এবং কীভাবে অজু (وضوء) করবেন?

উত্তর ৫: তিনি তার অবস্থা অনুযায়ী সালাত (صلاة) আদায় করবেন, যেমনটি করে থাকেন প্রস্রাব ঝরা (سلس) রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ইস্তিহাযাগ্রস্ত (مستحاضة) নারী। নামাজের ওয়াক্ত শুরু হলে রোগী তার অবস্থা অনুযায়ী সালাত (صلاة) আদায় করবেন এবং যদি তিনি পানি ব্যবহারে সক্ষম না হন তবে তায়াম্মুম (تيمم) করবেন...
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الماء فإن كان يستطيع ذلك وجب عليه الوضوء بالماء لقول الله عز وجل: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16]

والخارج بعد ذلك لا يضره، لكن لا يتوضأ إلا بعد دخول الوقت، ويصلي ولو خرج الخارج ما دام في الوقت لأنه مضطر لهذا، مثل صاحب السلس فإنه يصلي في الوقت ولو كان البول يخرج من ذكَره؛ وهكذا المستحاضة تصلي في الوقت ولو خرج منها الدَمُ مدة طويلة فإنها تصلي على حسب حالها، لكن لا يتوضأ من حَدَثُه دائم إلا إذا دخل الوقت، «لقول النبي صلى الله عليه وسلم للمستحاضة: توضأي لوقت كل صلاة» فيصلي صاحب السلس والمستحاضة والمريض المسؤول عنه في الوقت جميعَ الصلوات من فرض ونفل، ويقرأ القران من المصحف ويطوف بالكعبة من كان بمكة ما دام في الوقت، فإذا خرج الوقت أمسك عن ذلك حتى
পানি; সুতরাং সে যদি তা করতে সক্ষম হয় তবে পানির দ্বারা অজু করা তার জন্য আবশ্যক (واجب), মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো} [আত-তাগাবুন: ১৬]

আর এরপর যা নির্গত (الخارج) হয় তা তার কোনো ক্ষতি করবে না, তবে ওয়াক্ত প্রবেশ করার আগে সে অজু করবে না। যতক্ষণ ওয়াক্ত থাকবে ততক্ষণ সে সালাত আদায় করবে যদিও নির্গত বস্তু (الخارج) বের হতে থাকে, কারণ সে এ ব্যাপারে নিরুপায় (مضطر); যেমন বহুমূত্র রোগে (سلس) আক্রান্ত ব্যক্তি, সে ওয়াক্তের মধ্যে সালাত আদায় করবে যদিও তার লিঙ্গ থেকে প্রস্রাব নির্গত হতে থাকে। একইভাবে ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারী (مستحاضة) ওয়াক্তের মধ্যে সালাত আদায় করবে যদিও দীর্ঘ সময় ধরে রক্ত নির্গত হয়, সে তার অবস্থা অনুযায়ী সালাত আদায় করবে। তবে যার অপবিত্রতা (حدث) স্থায়ী (دائم), সে ওয়াক্ত প্রবেশ না করা পর্যন্ত অজু করবে না; কারণ ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারীর (مستحاضة) প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ: "তুমি প্রত্যেক সালাতের ওয়াক্তের জন্য অজু করো।" সুতরাং বহুমূত্র রোগে (سلس) আক্রান্ত ব্যক্তি, ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারী (مستحاضة) এবং প্রশ্নোক্ত অসুস্থ ব্যক্তি ওয়াক্তের মধ্যে ফরজ (فرض) ও নফল (نفل) সকল সালাত আদায় করবেন এবং যতক্ষণ ওয়াক্ত থাকবে ততক্ষণ মুসহাফ থেকে কুরআন পাঠ করতে পারবেন এবং মক্কায় থাকলে কাবার তাওয়াফ করতে পারবেন। তবে যখন ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে, তখন তিনি তা থেকে বিরত থাকবেন যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
يتوضأ للوقت الذي دخل. والله ولي التوفيق.

 

‌‌[من على لباسه بقع دم كيف يصلي]

س 6: من على لباسه بقُع دم هل يصلي بها أم ينتظر حتى يحضر له لباس نظيف؟

ج 6: يصلي على حسب حاله، فلا يدع الصلاة حتى يخرج الوقت؛ بل يصلي على حسب حاله إذا لم يمكنه غسلها ولا إبدالها بثياب طاهرة قبل خروج الوقت لقول الله تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16]

والواجب على المسلم أن يغسل ما به من الدم أو يبدل ثوبه النجس بثوب آخر طاهر إذا استطاع ذلك، فإن لم يستطع صلى على حسب حاله، ولا إعادة عليه للآية الكريمة، ولقوله صلى الله عليه وسلم: «ما نهيتكم عنه فاجتنبوه وما أمرتكم به فأتوا منه ما استطعتم» - متفق على صحته -.

 

‌‌[ارتفاع أصوات الممرضات في المستشفى ومصافحتهن للرجال ما حكم الشرع] في ذلك

س 7: بعض منسوبات المستشفى تكون أصواتهن
তিনি যে ওয়াক্ত শুরু হয়েছে তার জন্য অজু করবেন। আর আল্লাহই তাওফিক দানকারী।

 

‌‌[যার পোশাকে রক্তের দাগ লেগে আছে সে কীভাবে সালাত আদায় করবে]

প্রশ্ন ৬: যার পোশাকে রক্তের দাগ লেগে আছে, সে কি তা দিয়েই সালাত আদায় করবে নাকি পরিচ্ছন্ন পোশাক সংগ্রহ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে?

উত্তর ৬: সে তার অবস্থা অনুযায়ী সালাত আদায় করবে, ওয়াক্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত সালাত বর্জন করবে না; বরং যদি ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পূর্বে তা ধৌত করা বা পবিত্র কাপড় দ্বারা পরিবর্তন করা সম্ভব না হয়, তবে সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী সালাত আদায় করবে। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো} [আত-তাগাবুন: ১৬]

আর একজন মুসলিমের জন্য ওয়াজিব (واجب) হলো তার শরীরের রক্ত ধুয়ে ফেলা অথবা অপবিত্র পোশাকটি পরিবর্তন করে অন্য একটি পবিত্র পোশাক পরিধান করা যদি সে সক্ষম হয়। কিন্তু যদি সে সক্ষম না হয়, তবে সে তার অবস্থা অনুযায়ী সালাত আদায় করবে, এবং উল্লিখিত আয়াতের কারণে তাকে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে না। তদুপরি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে: "আমি তোমাদের যা নিষেধ করেছি তা বর্জন করো এবং যা আদেশ করেছি তা যথাসাধ্য পালন করো।" - এর বিশুদ্ধতার (صحة) বিষয়ে ঐকমত্য (متفق عليه) পোষণ করা হয়েছে।

 

‌‌[হাসপাতালে নার্সদের উচ্চকণ্ঠ এবং পুরুষদের সাথে তাদের করমর্দন করার শরয়ি বিধান কী] এই বিষয়ে

প্রশ্ন ৭: হাসপাতালের কিছু নারী কর্মীর কণ্ঠস্বর...
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
مرتفعة عندما يتحدثن مع بعضهن أو مع زملائهن من الرجال وبعضهن يصافحن الرجال من أطباء وغيرهم، فما حكم الشرع في ذلك؟ وهل علينا إثم في السكوت؟

ج 7: الواجب على الأطباء والطبيبات أن يراعوا أحوال المرضى والمريضات وألا ترتفع أصواتهم عندهم بل يكون ذلك في محلات أخرى.

أما المصافحة: فلا يجوز أن يصافح الرجل المرأة إلا إذا كانت من محارمه، أما إذا كانت الطبيبة أو الممرضة ليست من محارمه فلا؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إني لا أصافح النساء.» وقالت عائشة رضي الله عنها: «والله ما مسَّت يد رسول الله صلى الله عليه وسلم يد امرأة قط، ما كان يبايعهن إلا بالكلام عليه الصلاة والسلام.» فالمرأة لا تصافح الرجل وهو غير محرم لها، فلا
উচ্চস্বরে যখন তারা একে অপরের সাথে অথবা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের সাথে কথা বলে এবং তাদের কেউ কেউ চিকিৎসক ও অন্যান্য পুরুষদের সাথে করমর্দন করে থাকে; এ বিষয়ে শরয়ি বিধান (حكم الشرع) কী? আর নিশ্চুপ থাকার কারণে কি আমাদের কোনো গুনাহ হবে?

উত্তর ৭: চিকিৎসক ও নারী চিকিৎসকদের ওপর ওয়াজিব (واجب) হলো তারা যেন অসুস্থ পুরুষ ও নারী রোগীদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখেন এবং রোগীদের নিকটে যেন তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ না হয়, বরং তা অন্য কোনো স্থানে হতে হবে।

আর করমর্দনের বিষয়টি হলো: কোনো পুরুষের জন্য কোনো মহিলার সাথে করমর্দন করা বৈধ (جائز) নয়, যদি না সে তার মাহরাম (محرم) হয়। আর যদি নারী চিকিৎসক বা সেবিকা তার মাহরাম (محرم) না হয় তবে তা করা যাবে না; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমি নারীদের সাথে করমর্দন করি না।» আর আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: «আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাত কখনো কোনো (পর) নারীর হাত স্পর্শ করেনি; তিনি কেবল মৌখিক বাক্যের মাধ্যমেই তাদের নিকট থেকে বায়আত (مبايعة) গ্রহণ করতেন—তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।» সুতরাং নারী এমন কোনো পুরুষের সাথে করমর্দন করবে না যে তার মাহরাম (محرم) নয়, তাই...
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
تصافح الطبيب ولا المدير ولا المريض ولا غيرهم ممن ليس محرماً لها؛ بل تكلمه بالكلام الطيب، وتسلم عليه لكن بدون مصافحة، وبدون تكشف، فتستر رأسها وبدنها ووجهها ولو بالنقاب لأن المرأة عورة وفتنة والله جل وعلا يقول: {وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ} [الأحزاب: 53] ويقول سبحانه: {يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ} [النور: 31] والرأس والوجه من أعظم الزينة، وهكذا ما يكون في يديها أو رجليها من الحلي أو الخضاب فكله فتنة للآيتين المذكورتين. والمقصود أنها كلها عورة فالواجب عليها التستر والبُعد عن أسباب الفتنة. ومن أسباب الفتنة المصافحة.

 

‌‌[لبس بعض منسوبات المستشفى للباس الضيق]

س 8: بعض منسوبات المستشفى من طبيبات أو ممرضات أو عاملات نظافة يلبسن لباساً ضيقاً ويكشفن
তিনি চিকিৎসক, ব্যবস্থাপক, রোগী কিংবা মাহরাম (محرم) নন এমন কারো সাথেই করমর্দন করবেন না; বরং তিনি তাদের সাথে মার্জিত ভাষায় কথা বলবেন এবং তাদের সালাম দেবেন কিন্তু করমর্দন ব্যতিরেকে এবং নিজের অঙ্গ প্রকাশ না করে। সুতরাং তিনি তার মাথা, শরীর এবং মুখমণ্ডল ঢেকে রাখবেন যদিও তা নিকাব দিয়ে হয়, কেননা নারী হলো আবরণযোগ্য (عورة) এবং ফিতনাহ (فتنة) স্বরূপ। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তোমরা তাদের কাছে কোনো সামগ্রী চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটি তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র} [আল-আহযাব: ৫৩]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, কেবল তাদের স্বামীদের অথবা তাদের পিতাদের নিকট ছাড়া...} [আন-নূর: ৩১]। মাথা ও মুখমণ্ডল সৌন্দর্যের অন্যতম বৃহৎ অংশ, একইভাবে তার হাতে বা পায়ে থাকা অলঙ্কার বা মেহেদির রঙ—এসবই উল্লিখিত আয়াতদ্বয়ের ভিত্তিতে ফিতনাহ (فتنة)-এর অন্তর্ভুক্ত। সারকথা হলো, নারী আপাদমস্তক আবরণযোগ্য (عورة), তাই তার ওপর আবশ্যিক হলো পর্দা রক্ষা করা এবং ফিতনাহ (فتنة)-এর কারণসমূহ থেকে দূরে থাকা। আর করমর্দন করা ফিতনাহ (فتنة)-এর অন্যতম কারণ।

 

‌‌[হাসপাতালের কিছু নারী কর্মীর আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করা]

প্রশ্ন ৮: হাসপাতালের কিছু নারী কর্মী যেমন চিকিৎসক, নার্স বা পরিচ্ছন্নতা কর্মী আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করেন এবং উন্মুক্ত রাখেন
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
عن نحورهن وسواعدهن وسيقانهن، ما حكم الشرع في ذلك؟

ج 8: الواجب على الطبيبات وغيرهن من ممرضات وعاملات أن يتقين الله تعالى وأن يلبسن لباساً محتشماً لا يبين معه حجمِ أعضائهن أو عوراتهن؛ بل يكون لباساً متوسطا - لا واسعاً ولا ضيقا - ساتراً لهن ستراً شرعيًّا، مانعاً من أسباب الفتنة، للآيتين الكريمتين المذكورتين في جواب السؤال السابع، ولقول النبي صلى الله عليه وسلم: «المرأة عورة» وقوله صلى الله عليه وسلم: «صنفان من أهل النار لم أرهما: رجال بأيديهم سياط كأذناب البقر يضربون بها الناس، ونساء كاسيات عاريات مائلات مميلات رؤوسهن كأسنمة البخت المائلة، لا يدخلن الجنة ولا يجدن ريحها، وإن ريحها ليوجد من مسيرة كذا وكذا.» - رواه مسلم في صحيحه -، وهذا وعيد عظيم، أما
...তাদের কণ্ঠদেশ, বাহু এবং পায়ের গোছা (প্রকাশ করা) প্রসঙ্গে শরীয়তের বিধান কী?

উত্তর ৮: নারী চিকিৎসক এবং অন্যান্য নার্স ও সেবাকর্মীদের জন্য আবশ্যক (واجب) যে, তারা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করবে এবং এমন মার্জিত পোশাক পরিধান করবে যা তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন বা সতর (عورة) প্রকাশ করবে না; বরং পোশাকটি হতে হবে পরিমিত—অতিরিক্ত ঢিলেঢালাও নয় আবার সংকীর্ণও নয়—যা তাদের জন্য শরয়ি পর্দা হিসেবে যথেষ্ট হবে এবং ফিতনার কারণসমূহ প্রতিরোধ করবে। এর সপক্ষে সপ্তম প্রশ্নের উত্তরে উল্লিখিত দুটি মহিমান্বিত আয়াত এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী রয়েছে: "নারী হলো সতর (عورة)।" এবং তাঁর বাণী: "জাহান্নামবাসীদের এমন দুটি দল রয়েছে যাদের আমি দেখিনি: একদল লোক যাদের হাতে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে যা দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করবে। আর একদল নারী যারা পোশাক পরিহিতা হয়েও উলঙ্গ, যারা পরপুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে, যাদের মস্তক হবে হেলে পড়া বখতি উটের কুঁজের মতো। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না, অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ এত এত দূরত্বের পথ হতে অনুভূত হয়।" — এটি মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা (رواه) করেছেন। এটি একটি কঠোর হুঁশিয়ারি, আর...
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الرجال الذين بأيديهم سياط فهؤلاء هم الذين يوكَل إليهم أمر الناس فيضربونهم بغير حق من شرطة أو جنود أو غيرهم، فالواجب ألا يضربوا الناس إلا بحق. أما النساء الكاسيات العاريات فهن اللاتي يلبسن كسوة لا تسترهن إما لقصرها وإما لرقتها، فهن كاسيات بالاسم عاريات في الحقيقة، مثل أن يكشفن رؤوسهن أو صدورهن أو سيقانهن أو غير ذلك من أبدانهن وكل هذا نوع من العُريّ، فالواجب تقوى الله في ذلك والحذر من هذا العمل السيئ، وأن تكون المرأة مستورة بعيدة عن أسباب الفتنة عند الرجال، وشرع لها ذلك بين النساء؛ تكون لابسة لباس حشمة حتى يقتدى بها بين النساء، والواجب تقوى الله على الطبيب والطبيبة والمريض والمريضة، والممرض والممرضة لا بد من تقوى الله في حق الجميع،
সেই সকল ব্যক্তি যাদের হাতে চাবুক থাকে, তারা হলো ঐ সকল লোক যাদের নিকট জনগণের বিষয়াবলি অর্পণ করা হয় এবং তারা পুলিশ, সৈন্য বা অন্য যে কেউ হোক না কেন—অন্যায়ভাবে মানুষকে প্রহার করে। সুতরাং কর্তব্য হলো, তারা যেন সংগত কারণ ব্যতীত মানুষকে প্রহার না করে। আর পোশাক পরিহিতা নগ্ন নারীরা হলো ঐ সকল নারী যারা এমন পোশাক পরিধান করে যা তাদের শরীরকে আবৃত করে না—হয় তা ছোট হওয়ার কারণে অথবা পাতলা হওয়ার কারণে। ফলে তারা নামে পোশাক পরিহিতা হলেও প্রকৃতপক্ষে নগ্ন। যেমন তারা তাদের মাথা, বক্ষদেশ, পায়ের নলা অথবা শরীরের অন্যান্য অঙ্গ উন্মুক্ত রাখে এবং এর প্রতিটিই নগ্নতার অন্তর্ভুক্ত। অতএব, এই বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করা এবং এই মন্দ কাজ থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক। আর নারীর জন্য পর্দার অন্তরালে থাকা এবং পুরুষদের নিকট ফিতনার কারণসমূহ থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। এমনকি নারীদের মাঝেও তার জন্য এটিই বিধিবদ্ধ করা হয়েছে; অর্থাৎ সে শালীন পোশাক পরিধান করবে যাতে নারীদের মাঝে সে অনুকরণীয় হতে পারে। পুরুষ ও মহিলা চিকিৎসক, পুরুষ ও মহিলা রোগী এবং পুরুষ ও মহিলা নার্স—সকলের জন্যই আল্লাহকে ভয় করা কর্তব্য। প্রত্যেকের জন্যই আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
كما أن الواجب على الطبيبات والممرضات تقوى الله في ذلك وأن يكن محتشمات متسترات بعيدات عن أسباب الفتنة. والله الهادي إلى سواء السبيل.

 

‌‌[وجود التليفزيون في غرف المرضى يضايق بعضهم]

س 9: بعض غرف المرضى بها تليفزيون؛ بعضهم يريد ذلك والبعض الآخر لا يريد ذلك لما يسببه من مضايقات وتشويش على بعضهم. فماذا نفعل والحال على ما ذكر؟

ج 9: ينبغي في مثل هذا إذا كان المريض في حجرة ومعه مرضى آخرون لا يرضون التلفاز ألَاّ يجُعل عندهم التلفاز، جمعاً للقلوب وحسماً للفتنة. وإذا رغبوا فيه جميعاً فلا مانع من ذلك بشرط ألا يشاهدوا فيه إلا ما ينفعهم من قرآن بصوت منخفض، وتعليم علم وغير ذلك مما ينفعهم في دينهم ودنياهم، ويغلق عما يضرهم من الأغاني والملاهي وما أشبه ذلك، وإذا
অনুরূপভাবে মহিলা চিকিৎসক ও নার্সদের কর্তব্য হলো এ বিষয়ে আল্লাহভীতি অর্জন করা এবং তাদের শালীনতা ও পর্দা বজায় রাখা এবং ফিতনার কারণসমূহ থেকে দূরে থাকা। আল্লাহই সঠিক পথের দিশারী।

 

‌‌[রোগীদের কামরায় টেলিভিশনের উপস্থিতি কারো কারো বিরক্তির কারণ]

প্রশ্ন ৯: রোগীদের কিছু কামরায় টেলিভিশন রয়েছে; তাদের মধ্যে কেউ তা চায় আবার কেউ তা অপছন্দ করে, কারণ এটি অন্যের বিরক্তি ও বিঘ্ন ঘটায়। এমতাবস্থায় আমাদের কী করা উচিত?

উত্তর ৯: এই ধরনের পরিস্থিতিতে যদি কোনো রোগী এমন কক্ষে থাকেন যেখানে অন্য রোগীরাও রয়েছেন যারা টেলিভিশনে সম্মত নন, তবে তাদের নিকট টেলিভিশন রাখা উচিত নয়; যেন সকলের হৃদয়ের মাঝে ঐক্য বজায় থাকে এবং ফিতনা নিরসন করা যায়। আর যদি তারা সকলেই তাতে সম্মত থাকেন তবে কোনো বাধা নেই, এই শর্তে যে—তারা সেখানে নিচু স্বরে কুরআন তিলাওয়াত, দ্বীনি শিক্ষা এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য কল্যাণকর বিষয় ব্যতীত অন্য কিছু দেখবে না। আর গান-বাজনা, অনর্থক আমোদ-প্রমোদ এবং এই জাতীয় ক্ষতিকর বিষয়সমূহ থেকে তা বন্ধ রাখা হবে। এবং যদি...
(খণ্ড: ১) আহকামু সালাতিল মারীদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
تركوه بالكلية فهو أحوط وأحسن وهم أعلم بمصالحهم وأنفسهم، وأما أن يُلزموا بشيء يضرهم ويؤذيهم وربما شَغَلهم عن النوم والراحة، وربما كان بعضهم سفيهاً لا يبالي بإخوانه المرضى فذلك لا يجوز. والواجب أن يكون تحت رقابة إنسان ثقة يتقي الله فيهم فلا يشغِّله إلا على ما ينفعهم برضاهم، وإلا فليغلقه إذا لم يرضوا بذلك.

 

‌‌[حكم حفلات التوديع المختلطة وحكم العلاج بالموسيقى]

س 10: ما حكم حفلات التوديع المختلطة من الجنسين؛ وما حكم العلاج بالموسيقى؟

ج 10: الحفلات لا تكون بالاختلاط، بل الواجب أن تكون حفلات الرجال للرجال وحدهم وحفلات النساء للنساء وحدهنَّ، أما الاختلاط فهو منكر ومن عمل أهل الجاهلية، نعوذ بالله من ذلك.

أما العلاج بالموسيقى فلا أصل له بل هو من عمل
তারা তা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করলে সেটিই হবে অধিকতর সতর্কতা ও উত্তম, আর তারা তাদের নিজেদের কল্যাণ ও নিজেদের সম্পর্কে ভালো জানেন। তবে তাদেরকে এমন কোনো বিষয়ে বাধ্য করা যা তাদের ক্ষতি করে ও কষ্ট দেয় এবং সম্ভবত তাদের ঘুম ও বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটায়—আর সম্ভবত তাদের মধ্যে কেউ নির্বোধ হতে পারে যে তার অসুস্থ ভাইদের পরোয়া করে না—তবে তা বৈধ নয়। কর্তব্য হলো এটি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে থাকা যিনি তাদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করেন। ফলে তিনি তাদের সম্মতিক্রমে কেবল যা তাদের উপকারে আসে তা ছাড়া অন্য কিছু চালু করবেন না। অন্যথায়, তারা এতে সম্মত না হলে তিনি যেন তা বন্ধ করে দেন।

 

‌‌[উভয় লিঙ্গের মিশ্রিত বিদায় অনুষ্ঠানের বিধান এবং সংগীতের মাধ্যমে চিকিৎসার বিধান]

প্রশ্ন ১০: নারী-পুরুষ উভয় লিঙ্গের মিশ্রিত বিদায় অনুষ্ঠানের বিধান কী; এবং সংগীতের মাধ্যমে চিকিৎসার বিধান কী?

উত্তর ১০: অনুষ্ঠানগুলো অবাধ মিশ্রণের মাধ্যমে হবে না, বরং আবশ্যক হলো পুরুষদের অনুষ্ঠান কেবল পুরুষদের জন্য এবং নারীদের অনুষ্ঠান কেবল নারীদের জন্য পৃথকভাবে হওয়া। আর অবাধ মিশ্রণ হলো একটি প্রত্যাখ্যাত (منكر) কাজ এবং জাহেলিয়াত যুগের লোকদের কাজ; আমরা এ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আর সংগীতের মাধ্যমে চিকিৎসার কোনো ভিত্তি (لا أصل له) নেই, বরং এটি এক প্রকার কাজ...