(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أحكام المساجد في الشريعة الإسلامية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أحكام المساجد في الشريعة الإسلامية (الجزء الثاني)
المؤلف: إبراهيم بن صالح الخضيري
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1419هـ
عدد الصفحات: 296
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামী শরিয়তে মসজিদের বিধানসমূহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: ইসলামী শরিয়তে মসজিদের বিধানসমূহ (দ্বিতীয় খণ্ড)
লেখক: ইব্রাহিম বিন সালেহ আল-খুদাইরি
প্রকাশক: ইসলামী বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৯ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯৬
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
[عمارة المساجد]
[الفصل الأول عمارة المساجد بالبناء]أحكام المساجد
في الشريعة الإسلامية الباب الثاني
عمارة المساجد لما تحدثت في الباب الأول عن أحكام المساجد الخاصة وما اختصها الله به من الأحكام والفضل، كان الحديث عن أحكام بقية المساجد مناسبا هنا، وأول ما سأتحدث به هو: عمارة المساجد بالبناء، ثم أتبعه بعمارتها بالعبادة، التي من أجلها خلق الله الخلق، ولأجلها بنيت المساجد. ومكان المصلي المسلم هو الأرض كلها، فهي له مسجد، لكن المسجد المخصص للصلاة له أحكام تخصه، وتفصيل هذا الحديث في هذا الباب يأتي في الفصول الثلاثة التالية:
الفصل الأول: عمارة المساجد بالبناء.
الفصل الثاني: عمارة المساجد بالعبادة.
الفصل الثالث: مكان المصلي.
[মসজিদ আবাদ করা]
[প্রথম পরিচ্ছেদ: নির্মাণের মাধ্যমে মসজিদ আবাদ করা]মসজিদসমূহের বিধানাবলি
ইসলামী শরিয়তে দ্বিতীয় অধ্যায়
মসজিদ আবাদ করা। যেহেতু আমি প্রথম অধ্যায়ে বিশেষ মসজিদসমূহের বিধানাবলি এবং আল্লাহ সেগুলোকে যে সকল বিশেষ বিধান ও ফযিলত দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি, তাই অবশিষ্ট মসজিদসমূহের বিধানাবলি সম্পর্কে আলোচনা করা এখানে প্রাসঙ্গিক। আমি প্রথমে যা নিয়ে আলোচনা করব তা হলো: নির্মাণের মাধ্যমে মসজিদ আবাদ করা; এরপর ইবাদতের মাধ্যমে মসজিদ আবাদ করার বিষয়টি আলোচনা করব, যে ইবাদতের উদ্দেশ্যেই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং যার লক্ষ্যেই মসজিদসমূহ নির্মাণ করা হয়েছে। একজন মুসলিম মুসল্লির জন্য সমগ্র জমিনই নামাজের স্থান, যা তার জন্য মসজিদস্বরূপ; তবে নামাজের জন্য নির্ধারিত মসজিদের বিশেষ কিছু বিধান রয়েছে। এই অধ্যায়ের এই আলোচনার বিস্তারিত বিবরণ পরবর্তী তিনটি পরিচ্ছেদে উপস্থাপিত হচ্ছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: নির্মাণের মাধ্যমে মসজিদ আবাদ করা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদতের মাধ্যমে মসজিদ আবাদ করা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুসল্লির নামাজের স্থান।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الأول
عمارة المساجد بالبناء كما يحتاج الناس لبناء البيوت التي يستظلون بها من حر الشمس، ومن المطر، ويتقون بها الرياح والبرد، فإنهم يحتاجون لبناء المساجد لهذه الأمور، وليتعارف الناس على مكان الصلاة، ويؤدوها في الجماعة، ولأن بناء المساجد أساس لمعرفتها وعلامة وجودها، كان لا بد من تحديد موقع مناسب للمسجد، والذي قد يتكون من أجزاء، منها ما هو علامة له تميزه عن سائر البيوت، كالمنارة والمحراب، فإذا بني فلا بد أن يكون منظمًا تنظيمًا مفيدًا، ومتحررًا عن ملكية البشر، ليشترك في الانتفاع به كل المسلمين. فهذه إشارة لجملة مباحث هذا الفصل، وهي كما يلي: -
المبحث الأول: موقع المسجد.
المبحث الثاني: بناء المسجد على القبر أو إليه.
المبحث الثالث: بناء المسجد.
المبحث الرابع: أجزاء المسجد.
المبحث الخامس: ملكية المسجد.
المبحث السادس: تنظيم المسجد.
প্রথম পরিচ্ছেদ
মানুষের যেমন প্রখর রোদ ও বৃষ্টি থেকে ছায়া পেতে এবং বায়ুপ্রবাহ ও শীত থেকে আত্মরক্ষা করতে ঘরবাড়ি নির্মাণের প্রয়োজন হয়, তদ্রূপ এই সকল কারণে তাদের মসজিদ নির্মাণেরও আবশ্যকতা রয়েছে। এছাড়া সালাত আদায়ের নির্দিষ্ট স্থানের সাথে মানুষের পরিচিত হওয়া এবং জামাআতে সালাত আদায়ের সুবিধার্থেও এটি প্রয়োজনীয়। যেহেতু মসজিদ নির্মাণ হলো তা চেনার মূল ভিত্তি এবং এর অস্তিত্বের নিদর্শন, তাই মসজিদের জন্য একটি উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা অপরিহার্য ছিল। মসজিদ বিভিন্ন অংশের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে, যার মধ্যে কিছু অংশ সাধারণ ঘরবাড়ি থেকে একে পৃথককারী বৈশিষ্ট্য হিসেবে কাজ করে, যেমন—মিনার ও মেহরাব। সুতরাং মসজিদ নির্মিত হলে তা যথাযথ সুশৃঙ্খল হওয়া এবং মানুষের ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি, যাতে সকল মুসলিম এর সুফল ভোগে শরিক হতে পারে। এটি এই পরিচ্ছেদের মূল আলোচ্য বিষয়সমূহের একটি ইঙ্গিতমাত্র, যা নিম্নরূপ:
প্রথম অনুচ্ছেদ: মসজিদের স্থান।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কবরের ওপর অথবা কবরের অভিমুখে মসজিদ নির্মাণ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মসজিদ নির্মাণ।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মসজিদের বিভিন্ন অংশ।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: মসজিদের মালিকানা।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: মসজিদের ব্যবস্থাপনা।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
[المبحث الأول موقع المسجد]
[المسألة الأولى الأرض كلها مسجد]المبحث الأول
موقع المسجد لا بد من أرض يقام عليها مسجد يصلي فيه المسلمون، وهذه الأرض هي موقع البناء للمسجد، فينبغي أن:
- تكون في وسط الناس.
- أن يكون لها طرق مأمونة ميسورة.
وأن تكون بمكان تجوز الصلاة فيه.
- ولا بد أن تتحرر من ملك العباد ليستمر المسجد مأوى للمتقين العابدين لله سبحانه وتعالى.
وسأبين - بإذن الله ومشيئته - في مسائل هذا المبحث ما أشرت إليه مفصلا، ومسائل هذا المبحث كالتالي: -
المسألة الأولى: الأرض كلها مسجد: هذه المسألة سيأتي لها ذكر في المبحث الأول من الفصل الثالث - إن شاء الله -، وإنما أردت ذكرها هنا لأهميتها، ولارتباطها بموقع المسجد، باعتبار أن الأرض في الأصل طاهرة وصالحة لتكون مسجدا،
[প্রথম পরিচ্ছেদ: মসজিদের অবস্থান]
[প্রথম মাসয়ালা: সমগ্র পৃথিবীই মসজিদ]প্রথম পরিচ্ছেদ
মসজিদের অবস্থান
এমন একটি ভূখণ্ড থাকা আবশ্যক যেখানে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সেখানে মুসলিমগণ সালাত আদায় করবেন। এই ভূখণ্ডটিই হলো মসজিদের নির্মাণস্থল। সুতরাং মসজিদের স্থানটি হওয়া উচিত:
- তা জনবসতির কেন্দ্রস্থলে হওয়া।
- যাতায়াতের পথগুলো নিরাপদ ও সহজসাধ্য হওয়া।
এবং এমন স্থানে হওয়া যেখানে সালাত আদায় করা বৈধ।
- এছাড়া মসজিদের ভূমিকে অবশ্যই মানুষের ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে মুক্ত হতে হবে, যাতে মসজিদটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার ইবাদতকারী মুত্তাকীদের চিরস্থায়ী আশ্রয়স্থল হিসেবে গণ্য হতে পারে।
আল্লাহর ইচ্ছায় ও তাঁর তাওফিকে আমি এই পরিচ্ছেদের মাসয়ালাগুলোতে আমার নির্দেশিত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব। এই পরিচ্ছেদের মাসয়ালাগুলো নিম্নরূপ: -
প্রথম মাসয়ালা: সমগ্র পৃথিবীই মসজিদ: এই মাসয়ালাটির আলোচনা ইনশাআল্লাহ তৃতীয় অধ্যায়ের প্রথম পরিচ্ছেদে আসবে। তবে এর গুরুত্ব এবং মসজিদের অবস্থানের সাথে এর নিবিড় সম্পর্কের কারণে আমি এখানে এটি উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি; কারণ মূলগতভাবে জমিন পবিত্র এবং মসজিদ হওয়ার উপযুক্ত,
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
إذا خلت من الموانع (1) .
وذلك لأن الأرض ملكيتها لله تعالى قد يملكها بقدرته من يشاء، وقد تبقى حرة من التملك البشري، وقد تتحرر بعد التملك بالوقف، ثم هي طاهرة، لأن الشمس والهواء والمطر مطهرات (2) .
ويدل على هذا الحديث الآتي: -
عن جابر بن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أعطيت خمسا لم يعطهن نبي قبلي، نصرت بالرعب مسيرة شهر، وجعلت لي الأرض مسجدا وطهورا، فأيما رجل من أمتي أدركته الصلاة فليصل، وأحلت لي الغنائم ولم تحل لأحد قبلي، وأعطيت الشفاعة، وكان النبي يبعث إلى قومه خاصة، وبعثت إلى الناس عامة» . متفق عليه.
وهذا لفظ البخاري (3) .
وفي رواية: «ثم الأرض بعد ذلك لك مسجدا» . وفي أخرى: «وجعلت لنا الأرض كلها مسجدا» . رواه مسلم (4) . وفي رواية:
--------------------------------------------
যদি তা প্রতিবন্ধকতা (موانع) থেকে মুক্ত হয় (১) ।
আর এটি এ কারণে যে, জমিনের মালিকানা মহান আল্লাহর; তিনি তাঁর কুদরতে যাকে ইচ্ছা এর মালিকানায় সোপর্দ করেন, আবার তা মানুষের মালিকানা মুক্তও থাকতে পারে, আবার মালিকানা লাভের পর ওয়াকফ (الوقف) করার মাধ্যমেও মালিকানা মুক্ত হতে পারে। এরপর তা পবিত্র (طاهرة), কারণ সূর্য, বাতাস ও বৃষ্টি হলো পবিত্রকারী (مطهرات) (২) ।
নিচের হাদিসটি এর প্রমাণ বহন করে: -
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে যা আমার পূর্ববর্তী কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। আমাকে এক মাসের পথ দূরত্ব পর্যন্ত ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে; সমগ্র জমিনকে আমার জন্য সিজদাহর স্থান (مسجدا) ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম (طهورا) করা হয়েছে। সুতরাং আমার উম্মতের যে কোনো ব্যক্তির যখন সালাতের সময় হবে, সে যেন সালাত আদায় করে নেয়। আমার জন্য যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (الغنائم) হালাল করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য হালাল ছিল না। আমাকে সুপারিশ (الشفاعة) করার অধিকার দান করা হয়েছে। পূর্ববর্তী নবীগণকে কেবল তাঁদের নিজ সম্প্রদায়ের নিকট পাঠানো হতো, আর আমাকে সমগ্র মানবজাতির নিকট পাঠানো হয়েছে»। এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।
এটি বুখারির শব্দবিন্যাস (৩) ।
অন্য এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: «অতঃপর তোমার জন্য পুরো জমিনই সিজদাহর স্থান (مسجدا)»। অন্য বর্ণনায় আছে: «সমগ্র জমিনকে আমাদের জন্য সিজদাহর স্থান (مسجدا) করা হয়েছে»। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (৪)। অন্য এক বর্ণনায় (رواية):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
«جعلت لي الأرض مسجدا وطهورا أينما أدركتني الصلاة، تمسحت وصليت» . وفي رواية: «وجعلت لي الأرض مسجدًا وطهورًا» . وفي رواية: «وجعلت لي الأرض طيبة طهورا ومسجدا» (1) .
ولأحمد: «فعنده طهوره ومسجده» (2) . ولابن خزيمة نحوه (3) .
. وروي عن علي بن أبي طالب نحوه (4) . ولأبي داود عن أبي ذر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «جعلت لي الأرض طهورا ومسجدا» (5) . وللترمذي عن أبي سعيد: «الأرض كلها مسجد إلا المقبرة والحمام» (6) .
فهذا الحديث برواياته المختلفة يدل على ما يلي: -
أولا: أن الأصل في الأرض الطهارة، حتى تعلم نجاستها بيقين (7) . وأن كل أرض طاهرة طيبة تصلح للصلاة وللتيمم من صعيدها بدلا عن الوضوء، حال مشروعيته (8) على أن هناك أحاديث تخصص عموم هذا الحديث، وتمنع الصلاة في مواقع معينة لعلل مختلفة، يأتي بيانها في الفصل الثالث - إن شاء الله -.
--------------------------------------------
«আমার জন্য সমগ্র জমিনকে সিজদাহর স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে; যেখানেই আমার সালাতের সময় হবে, আমি তায়াম্মুম করব এবং সালাত আদায় করব।" অন্য একটি বর্ণনায় (رواية): "আর আমার জন্য জমিনকে সিজদাহর স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে।" অপর একটি বর্ণনায় (رواية): "আর আমার জন্য জমিনকে উত্তম, পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম ও সিজদাহর স্থান করা হয়েছে" (১)।
আহমাদের বর্ণনায়: "তার নিকটেই রয়েছে তার পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম ও সিজদাহর স্থান" (২)। ইবনে খুজাইমাহর বর্ণনায় অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে (৩)।
আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত (روي) হয়েছে (৪)। আবু দাউদে আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "আমার জন্য জমিনকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম ও সিজদাহর স্থান করা হয়েছে" (৫)। তিরমিযীতে আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত: "কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র জমিনই সিজদাহর স্থান" (৬)।
বিভিন্ন বর্ণনা (رواية) সহ এই হাদিসটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর প্রমাণ পেশ করে: -
প্রথমত: জমিনের মূল অবস্থা হলো পবিত্রতা, যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে (يقين) তার অপবিত্রতা সম্পর্কে জানা যায় (৭)। এবং প্রতিটি পবিত্র ও উত্তম ভূখণ্ড সালাত আদায়ের জন্য এবং তার মাটি থেকে ওযুর বিকল্প হিসেবে তায়াম্মুম করার জন্য উপযোগী, যখন তা শরিয়তসম্মত হয় (৮); তবে এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা এই হাদিসের ব্যাপকতাকে (عموم) বিশেষায়িত (تخصيص) করে এবং বিভিন্ন কারণে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে সালাত আদায়ে নিষেধ করে, যার বর্ণনা ইনশাআল্লাহ তৃতীয় অধ্যায়ে আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثانيا: أن كون الأرض كلها مسجدا وطهورا صالحة للصلاة وللتيمم إذا سلمت من الموانع خصوصية من الخصوصيات التي اختص الله بها أمة محمد صلى الله عليه وسلم (1) .
ثالثا: كل فراش طاهر أو مكان من الأرض طاهر وإن كان مزروعا بنبات ونحوه، كالجزر والبصل والكراث وغيرها. وهكذا إن كان فيه ثلج أو قطن وهو مستقر، فإنه من الأرض صالح للصلاة عليه (2) . لعدم النجاسة، ولإمكان الصلاة عليه.
[المسألة الثانية بناء المسجد في الدور]المسألة الثانية: بناء المسجد في الدور: ما زالت العرب منذ القدم إلى يومنا هذا تجتمع في السكن كل قبيلة على حدة في مكان معين، ولما صارت المدن، بدأ الناس يجتمعون في الأحياء، وكان السابقون يسمون الحي ديار بني فلان، وكانوا يطلقون عليه حيا، فيقولون: كان لحي من العرب كذا، ونحو ذلك.
ولحاجة الأحياء إلى المساجد، أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم ببنائها، وورد أمره صلى الله عليه وسلم فيما يلي: -
1 - عن عائشة رضي الله عنها قالت: «أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم ببناء المساجد في الدور، وأن تنظف وتطيب» . رواه أبو داود (3)
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: সমগ্র ভূমি সিজদাহর স্থান এবং পবিত্র (طهور) হওয়া এবং তা সালাত ও তায়াম্মুমের জন্য উপযুক্ত হওয়া—যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে—তা এমন এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যের (خصوصية) অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন (১)।
তৃতীয়ত: প্রতিটি পবিত্র (طاهر) বিছানা বা ভূমির যেকোনো পবিত্র স্থান, যদিও তাতে শাক-সবজি বা অনুরূপ কিছু চাষ করা হয়, যেমন গাজর, পেঁয়াজ, কুরাছ (এক প্রকার শাক) ইত্যাদি। একইভাবে যদি তাতে বরফ বা তুলা থাকে এবং তা স্থির থাকে, তবে তা ভূমির অংশ হিসেবে গণ্য হবে এবং তাতে সালাত আদায় করা বৈধ (صالح) (২)। কেননা সেখানে কোনো অপবিত্রতা (نجاسة) নেই এবং তাতে সালাত আদায় করা সম্ভব।
[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বসতবাড়ির এলাকায় মসজিদ নির্মাণ]দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বসতবাড়ির এলাকায় মসজিদ নির্মাণ: প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আরবরা বসবাসের ক্ষেত্রে প্রতিটি গোত্র পৃথকভাবে নির্দিষ্ট স্থানে সমবেত হতো। যখন শহরগুলো প্রতিষ্ঠিত হলো, মানুষ বিভিন্ন মহল্লায় সমবেত হতে শুরু করল। পূর্ববর্তীরা মহল্লাকে ‘অমুক গোত্রের আবাসস্থল’ নামে ডাকত এবং তারা একে মহল্লা (حي) বলত। তারা বলত: আরবদের কোনো এক মহল্লায় এমন ছিল, ইত্যাদি।
মহল্লাগুলোতে মসজিদের প্রয়োজনীয়তার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর সেই নির্দেশ নিম্নোক্ত বর্ণনায় এসেছে: -
১ - আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহল্লায় মসজিদ নির্মাণের এবং তা পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন»। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والترمذي (1) وابن خزيمة (2) . قلت: وهذا الحديث صحيح.
2 - وعن سمرة بن جندب (3) رضي الله عنه أنه كتب إلى بنيه: «أما بعد: فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يأمرنا أن نصنع المساجد في ديارنا، ونصلح صنعتها، ونطهرها» . رواه أبو داود، وإسناده ضعيف، لكن يشهد له ما قبله (4) .
قال البغوي: " الدور يريد المحال التي فيها الدور " (5) . قلت: والدار لها في اللغة معان عدة، منها: ما ذكره البغوي (6) .
والشاهد من هذين الحديثين: «أمر رسول الله ببناء المساجد في الدور - كان يأمرنا أن نصنع المساجد في ديارنا» .
وجه الدلالة:
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر ببناء المساجد في الدور، وأمره يقتضي الوجوب، فيجب بناء المساجد في الأحياء السكنية، وكذلك يجوز بناؤها في القصور الضخمة. والدليل على هذا:
--------------------------------------------
এবং তিরমিজি (১) ও ইবনে খুজাইমা (২)। আমি বলছি: আর এই হাদিসটি সহিহ (صحيح)।
২ - এবং সামুরাহ ইবনে জুনদুব (৩) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর সন্তানদের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন: "অতঃপর: নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিতেন যেন আমরা আমাদের মহল্লাগুলোতে মসজিদ নির্মাণ করি, সেগুলোর নির্মাণশৈলী সুন্দর করি এবং সেগুলো পবিত্র রাখি।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদটি দুর্বল (ضعيف), তবে পূর্ববর্তী হাদিসটি এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় (شاهد) (৪)।
আল-বাগাউই বলেন: "গৃহসমূহ (আদ-দুর) দ্বারা তিনি সেই সব স্থান বা এলাকা বুঝিয়েছেন যেখানে ঘরবাড়ি রয়েছে" (৫)। আমি বলছি: আরবি ভাষায় 'আদ-দার' শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে, যার মধ্যে আল-বাগাউই যা উল্লেখ করেছেন তাও অন্তর্ভুক্ত (৬)।
এই হাদিসদ্বয়ের স্বপক্ষীয় দলিল (شاهد) হলো: "রাসুলুল্লাহ গৃহসমূহে (মহল্লায়) মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন - তিনি আমাদের নির্দেশ দিতেন যেন আমরা আমাদের মহল্লাগুলোতে মসজিদ নির্মাণ করি।"
নির্দেশনার ধরন (وجه الدلالة):
নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহসমূহে (মহল্লায়) মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন, আর তাঁর নির্দেশ আবশ্যকীয়তা (وجوب) দাবি করে। অতএব আবাসিক এলাকাগুলোতে মসজিদ নির্মাণ করা ওয়াজিব (واجب), একইভাবে বিশাল প্রাসাদগুলোতেও তা নির্মাণ করা জায়েজ (جائز)। এর প্রমাণ হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «صلاة الجميع تزيد على صلاته في بيته وصلاته في سوقه خمسا وعشرين درجة» . رواه البخاري (1) .
الشاهد: قوله: " في سوقه ".
وجه الدلالة:
أنه لما صحت الصلاة في السوق، جاء بناء المسجد فيه، مع كونه محجورا " لأن أسواق المتقدمين كانت تحجر. وقال البخاري رحمه الله: " وصلى ابن عون في مسجد في دار يغلق عليهم الباب " (2) .
وهذا الأثر يؤيد دلالة الحديث السابق، في أن القصور المحجرة الضخمة كالدور، يجوز بناء المساجد فيها (3) .
وأرى: أن تكون قريبة من أبوابها الرئيسة، حتى ينتفع بها كل من حولها، كما ينبغي أن تبنى المساجد في الأحياء في المواقع المناسبة، التي يستفيد منها جميع سكان الحي.
[المسألة الثالثة بناء المساجد بالدوائر والعمارات الشاهقة]المسألة الثالثة: بناء المساجد بالدوائر والعمارات الشاهقة: لما تحدثت عن بناء المساجد في الأحياء، ناسب أن أتحدث عن بناء المساجد في بنايات تضم عددًا كبيرا من الرجال، قد يفوق تعداد سكان الحي الواحد، كموظفي الدوائر الحكومية والأهلية، وسكان العمارات الشاهقة والضخمة، فما حكم تخصيص مكان معين منها ليكون مسجدًا؟ .
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "জামাতে সালাত আদায়ের সওয়াব নিজের ঘরে বা বাজারে সালাত আদায়ের চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশি।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (১)।
সাক্ষ্য (الشاهد): তাঁর বাণী: "তার বাজারে"।
প্রমাণের দিক:
যেহেতু বাজারে সালাত আদায় করা শুদ্ধ (صحت) সাব্যস্ত হয়েছে, তাই সেখানে মসজিদ নির্মাণ করাও বৈধ, যদিও তা প্রাচীরবেষ্টিত বা সীমাবদ্ধ থাকে; কারণ পূর্ববর্তীদের বাজারগুলো ঘেরা থাকত। ইমাম বুখারি (রহ.) বলেন: "ইবনে আউন এমন এক গৃহ-সংলগ্ন মসজিদে সালাত আদায় করেছেন যার প্রবেশদ্বার তাদের ওপর বন্ধ করে দেওয়া হতো" (২)।
আর এই বর্ণনাটি (الأثر) পূর্ববর্তী হাদিসের প্রমাণের দিককে সমর্থন করে যে, বাড়ির ন্যায় প্রাচীরবেষ্টিত বিশাল অট্টালিকাসমূহে মসজিদ নির্মাণ করা জায়েজ (৩)।
আমি মনে করি: তা (মসজিদ) মূল প্রবেশপথের কাছাকাছি হওয়া উচিত, যাতে আশেপাশের সবাই এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে। যেমন আবাসিক এলাকাগুলোতেও উপযুক্ত স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা উচিত, যাতে ওই এলাকার সকল অধিবাসী তা থেকে উপকৃত হতে পারে।
[তৃতীয় মাসয়ালা: সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং সুউচ্চ ভবনে মসজিদ নির্মাণ]তৃতীয় মাসয়ালা: সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং সুউচ্চ ভবনে মসজিদ নির্মাণ: আমি যখন আবাসিক এলাকাগুলোতে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে আলোচনা করেছি, তখন এমন সব ভবনেও মসজিদ নির্মাণ নিয়ে আলোচনা করা প্রাসঙ্গিক যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাবেশ ঘটে, যা কোনো একটি আবাসিক এলাকার জনসংখ্যার চেয়েও বেশি হতে পারে। যেমন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুউচ্চ ও বিশাল ভবনের বাসিন্দারা। এমতাবস্থায়, সেখানে কোনো নির্দিষ্ট স্থানকে মসজিদ হিসেবে নির্ধারণ করার বিধান কী? .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
اختلف العلماء - رحمهم الله تعالى - في مسألة بناء المسجد فوقه أو تحته، أو فوقه وتحته معا بناء. على أربعة أقوال: -
القول الأول: يجوز أن يبنى المسجد وفوقه أو تحته بناء، أو فوقه وتحته معا بناء. قال به أبو يوسف (1) .
صاحب أبي حنيفة (2) وابن قدامة صاحب المغني (3) .
القول الثاني: يجوز أن يبنى فوق المسجد بناء، ولا يكون تحته بناء. وروي عن أبي حنيفة في رواية عنه (4) . وهي رواية عن الإمام أحمد (5) قال أحمد: " كان ابن مسعود يكره أن يصلي في المسجد الذي بني على قنطرة (6) ". ا. هـ (7) .
القول الثالث: إذا كان البناء تحت المسجد، والمسجد ليس فوقه بناء صح ذلك. روي عن أبي حنيفة في رواية عنه، وذهب إليها بعض أصحابه (8) . وبهذا قال مالك (9) . وهو رواية عن الإمام أحمد (10) .
--------------------------------------------
আলেমগণ - আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন - মসজিদের উপরে বা নিচে, অথবা একই সাথে উপরে ও নিচে ইমারত বা ভবন নির্মাণের মাসআলায় মতভেদ করেছেন। এক্ষেত্রে চারটি অভিমত রয়েছে: -
প্রথম অভিমত: মসজিদের উপরে বা নিচে ইমারত নির্মাণ করা বৈধ, অথবা একই সাথে উপরে ও নিচে ইমারত নির্মাণ করা বৈধ। এটি ইমাম আবু ইউসুফ (১) বলেছেন।
তিনি ইমাম আবু হানিফার (২) সহচর এবং আল-মুগনি গ্রন্থের লেখক ইবনে কুদামাও (৩) এই মত পোষণ করেছেন।
দ্বিতীয় অভিমত: মসজিদের উপরে ইমারত নির্মাণ করা বৈধ, তবে নিচে কোনো ইমারত থাকবে না। এটি ইমাম আবু হানিফা থেকে একটি বর্ণনায় (৪) বর্ণিত হয়েছে। এটি ইমাম আহমদ (৫) থেকেও একটি বর্ণনা। ইমাম আহমদ বলেন: "ইবনে মাসউদ সেই মসজিদে সালাত আদায় করা অপছন্দ করতেন যা কোনো খিলানের (৬) ওপর নির্মিত হয়েছে।" সমাপ্ত (৭)।
তৃতীয় অভিমত: যদি ইমারতটি মসজিদের নিচে হয় এবং মসজিদের উপরে কোনো ইমারত না থাকে, তবে তা সঠিক হবে। এটি ইমাম আবু হানিফা থেকে একটি বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর কোনো কোনো অনুসারী (৮) এই মত গ্রহণ করেছেন। ইমাম মালেকও (৯) এটিই বলেছেন। এটি ইমাম আহমদ (১০) থেকেও একটি বর্ণনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
القول الرابع: لا يصح أدت يبنى مسجد فوقه بناء أو تحته بناء. قال بهذا بعض الأحناف (1) وابن حزم (2) .
الأدلة: استدل أصحاب القول الأول بأنه يجوز بيع البناء الذي تحته بناء أو فوقه بناء، كالشقق في العمارات، ولأن وقفه تصرف يزيل الملك إلى من يثبت له حق الاستقرار بالشراء، ويجوز تمليك منفعته بالأجرة ونحوها (3) .
واستدل أصحاب القول الثاني بأن المسجد إذا كان في قرار الأرض يتأبد، فلا يتغير، بخلاف العلو (4) .
واستدل أصحاب القول الثالث بأن المسجد إذا كان فوقه بناء، فإنه يهان، قال في المدونة: " وسألت مالكا عن المسجد يبنيه الرجل، ويبني فوقه بيتا يرتفق به. قال: ما يعجبني ذلك، وقد كان عمر بن عبد العزيز إمام هدى، وقد كان يبيت فوق ظهر المسجد - مسجد النبي صلى الله عليه وسلم، فلا تقربه فيه امرأة، وهذا إذا بنى فوقه صار مسكنا، يجامع فيه ويأكل فيه " (5) .
واستدل أصحاب القول الرابع بأن الهواء لا يُتَملّك " لأنه لا يضبط، ولا يستقر، ولا يكون منفكًا عن حقوق العباد، والمسجد حق لله -
--------------------------------------------
চতুর্থ মত: মসজিদের উপরে কোনো নির্মাণ বা নিচে কোনো নির্মাণ করা সঠিক (صحيح) নয়। কতিপয় হানাফি (১) এবং ইবনে হাজম (২) এই মত ব্যক্ত করেছেন।
দলিলসমূহ: প্রথম মতের প্রবক্তাগণ দলিল পেশ করেছেন যে, এমন নির্মাণ বিক্রয় করা বৈধ (جائز) যার নিচে বা উপরে অন্য কোনো নির্মাণ রয়েছে; যেমন অট্টালিকার ফ্ল্যাটসমূহ। তদুপরি এর ওয়াকফ হলো এমন একটি পদক্ষেপ যা মালিকানাকে এমন ব্যক্তির কাছে স্থানান্তরিত করে যার জন্য ক্রয়ের মাধ্যমে সেখানে স্থায়ী হওয়ার অধিকার সাব্যস্ত হয়। এছাড়া ভাড়া বা অনুরূপ উপায়ে এর উপযোগের মালিকানা প্রদান করাও বৈধ (৩)।
দ্বিতীয় মতের প্রবক্তাগণ দলিল পেশ করেছেন যে, মসজিদ যদি ভূমির মূল স্তরে থাকে তবে তা চিরস্থায়ী হয় এবং তাতে কোনো পরিবর্তন আসে না, কিন্তু উপরের তলার বিষয়টি এর বিপরীত (৪)।
তৃতীয় মতের প্রবক্তাগণ দলিল পেশ করেছেন যে, মসজিদের উপরে যদি কোনো নির্মাণ থাকে তবে তা অবমাননার শিকার হয়। আল-মুদাওয়ানাহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "আমি মালিককে সেই মসজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যা কোনো ব্যক্তি নির্মাণ করে এবং তার উপরে নিজের ব্যবহারের জন্য একটি ঘর তৈরি করে। তিনি বললেন: এটি আমার নিকট পছন্দনীয় নয়। ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ হেদায়েতের ইমাম (إمام) ছিলেন, তিনি মসজিদের ছাদে—অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে—রাত যাপন করতেন, অথচ সেখানে কোনো নারী তাঁর নিকটবর্তী হতো না। আর মসজিদের উপরে ঘর নির্মাণ করলে তা বাসস্থানে পরিণত হবে, যেখানে সহবাস ও পানাহার করা হবে" (৫)।
চতুর্থ মতের প্রবক্তাগণ দলিল পেশ করেছেন যে, শূন্যস্থানের (হাওয়ার) মালিকানা লাভ করা যায় না, "কেননা তা আয়ত্ত করা যায় না, তা স্থায়ী নয় এবং তা বান্দাদের অধিকার (حقوق العباد) থেকে বিযুক্ত নয়। আর মসজিদ হলো আল্লাহর অধিকার (حق)-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تعالى -: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18] (1) وأن له أن يهدمه؟ إذ لا يحل منعه من ملكه، وهدم المسجد لا يجوز، فلا يكون مسجدا (2) .
المناقشة: لا أعلم دليلا قطعيا من الشرع، ولا ظنيا يمنع من بناء المسجد وتحته أو فوقه بناء، وما أورده العلماء الكرام - رحمهم الله تعالى - إنما هي تعليلات لا دليل عليها، وأما انفكاكه عن الاختصاص فهو راجع للعرف، وهذا يختلف باختلاف الأزمنة والأمكنة. وفي زمننا هذا إقامة المساجد بالعمائر الضخمة أمر تدعو إليه الحاجة، وهكذا في المصانع والدوائر الحكومية التي في العمائر الكبيرة، وأما إن أمكن الاستقلال ببناء المسجد فهو أولى وأفضل، وإن لم يمكن فيجوز بناء المسجد وفوقه أو تحته بناء.
وأقترح: تكليف أصحاب العمائر الضخمة بتخصيص جزء في أسفل العمارة يكون مسجدا يصلي فيه المسلمون، حتى يستفيد منه كل من حول العمارة من أصحاب الحوانيت أو المشاة أو نحوهم، ويكون في جهة بارزة ليعرفه الناس.
[المسألة الرابعة بناء المسجد في الطريق]المسألة الرابعة: بناء المسجد في الطريق: لما تحدثت عن بناء المسجد في الدور، وفي البنايات ذات الأدوار
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেন—: {নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} [আল-জিন: ১৮] (১)। আর তার কি এটি ভেঙে ফেলার অধিকার আছে? যেহেতু তাকে তার মালিকানা থেকে বাধা দেওয়া বৈধ নয়, অথচ মসজিদ ভেঙে ফেলা জায়েজ নয়, ফলে সেটি মসজিদ হিসেবে গণ্য হবে না (২)।
পর্যালোচনা: শরিয়ত থেকে এমন কোনো অকাট্য দলিল (دليلا قطعيا), কিংবা কোনো ধারণাপ্রসূত (ظنيا) প্রমাণ আমার জানা নেই যা মসজিদের নিচে বা উপরে কোনো স্থাপনা নির্মাণে বাধা প্রদান করে। আর সম্মানিত উলামায়ে কেরাম—আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—যা উপস্থাপন করেছেন, তা মূলত কিছু যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা (تعليلات) মাত্র যার স্বপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট দলিল নেই। আর এর বিশেষত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি প্রথার (العرف) ওপর নির্ভরশীল, যা সময় ও স্থানের পরিবর্তনের সাথে সাথে ভিন্নতর হয়। বর্তমান সময়ে বিশাল অট্টালিকায় মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা একটি আবশ্যিক প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। একইভাবে বড় বড় অট্টালিকায় অবস্থিত কলকারখানা এবং সরকারি দপ্তরেও এমনটি দেখা যায়। তবে যদি স্বতন্ত্রভাবে মসজিদ নির্মাণ করা সম্ভব হয়, তবে সেটিই অধিকতর শ্রেয় ও উত্তম। আর যদি সম্ভব না হয়, তবে মসজিদের উপরে বা নিচে কোনো স্থাপনা থাকা অবস্থায় মসজিদ নির্মাণ করা বৈধ।
আমি প্রস্তাব করছি: বিশাল অট্টালিকার মালিকদের দায়িত্ব দেওয়া হোক যাতে তারা ভবনের নিচের তলায় একটি নির্দিষ্ট অংশ মসজিদের জন্য বরাদ্দ রাখেন যেখানে মুসলমানরা সালাত আদায় করবেন, যাতে ভবনের আশপাশের দোকানদার, পথচারী বা সংশ্লিষ্ট সবাই এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে। আর এটি যেন কোনো প্রকাশ্য স্থানে হয় যাতে মানুষ তা সহজে চিনতে পারে।
[চতুর্থ মাসআলা: রাস্তায় মসজিদ নির্মাণ]চতুর্থ মাসআলা: রাস্তায় মসজিদ নির্মাণ: যেহেতু আমি ঘরবাড়ি এবং বহুতল ভবনে মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করেছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المتعددة الكثيرة، ناسب أن أتحدث عن بناء المسجد في الطريق.
والطرق في عصرنا هذا من جهة الخطورة الناتجة عن السير فيها نوعان: -
النوع الأول: طرق سريعة خاصة بالسيارات، لا يسمح للمشاة تجاوزها، لشدة سرعة السيارات فيها، فهذه - وإن كانت فسيحة - إلا أن بناء المساجد فيها وفي الجزر التي في وسطها، لا ينبغي لما فيه من الخطورة العظيمة الناتجة عن تجاوز المصلين إلى المسجد، ولما فيه من الإزعاج بسبب أصوات السيارات؛ وربما أوقف بعض الناس سياراتهم للصلاة في الطريق، فيحصل بسبب وقوفهم خطر، لكن لو بني المسجد في فسحة على أحد جانبي الطريق وعمل نفق يوصل من الجانب الثاني إليه بأمان وطمأنينة، فهذا أمر طيب ومرغوب فيه.
النوع الثاني: طرق للسيارات أو للمشاة داخلية، يحصل الخطر فيها بسبب من يتلاعب بقيادة السيارات أو الدراجات، ويحصل أذى للمسلمين، بسبب استغلال الطريق، وهو ضيق. فبناء المسجد فيه لا يجوز؟ لأنه حق مشاع للاستطراق، فلا يوضع فيه ما يعرقله.
ودليل هذا: عن أبي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إياكم والجلوس بالطرقات. قالوا: يا رسول الله: ما لنا بد من مجالسنا نتحدث فيها. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إذا أبيتم إلا المجلس فأعطوا الطريق حقه ". قالوا: وما حقه؟ قال: " غض البصر، وكف الأذى، ورد السلام، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر» . رواه مسلم (1) .
--------------------------------------------
অজস্র বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে, রাস্তার ওপর মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে আলোচনা করা সমীচীন মনে করছি।
বর্তমান যুগে চলাচলের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকির দিক থেকে রাস্তা দুই প্রকার: -
প্রথম প্রকার: মোটরযানের জন্য নির্ধারিত দ্রুতগতির রাস্তা, যেখানে যানবাহনের তীব্র গতির কারণে পথচারীদের পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয় না। এই রাস্তাগুলো—যদিও প্রশস্ত হয়—তবুও এর মাঝে বা মধ্যবর্তী বিভাজকগুলোতে মসজিদ নির্মাণ করা সমীচীন নয়। কারণ এতে মুসল্লিদের মসজিদে যাওয়ার সময় চরম ঝুঁকি থাকে এবং যানবাহনের শব্দের কারণে ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে। অনেক সময় মানুষ নামাজের জন্য রাস্তার ওপর গাড়ি থামিয়ে দেয়, যার ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে যদি রাস্তার কোনো এক পাশে প্রশস্ত স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা হয় এবং অন্য পাশ থেকে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতের জন্য সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করা হয়, তবে তা একটি উত্তম ও কাম্য বিষয়।
দ্বিতীয় প্রকার: অভ্যন্তরীণ যানবাহন বা পথচারীদের চলাচলের রাস্তা, যেখানে বেপরোয়া গাড়ি বা বাইক চালানোর কারণে ঝুঁকি সৃষ্টি হয় এবং রাস্তা সংকীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তা ব্যবহারের ফলে মুসলিমদের কষ্ট হয়। সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা বৈধ নয়। কারণ রাস্তা হলো চলাচলের জন্য সর্বসাধারণের সাধারণ অধিকার (حق مشاع للاستطراق), তাই সেখানে এমন কিছু স্থাপন করা যাবে না যা চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
এর প্রমাণ হলো: আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা রাস্তার ওপর বসা থেকে বিরত থাকো। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সেখানে বসা ছাড়া উপায় নেই, আমরা সেখানে বসে কথাবার্তা বলি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যদি তোমাদের সেখানে বসতেই হয়, তবে রাস্তার হক আদায় করো।" তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: রাস্তার হক কী? তিনি বললেন: "দৃষ্টি অবনমিত রাখা, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা (كف الأذى), সালামের উত্তর দেওয়া, সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দেওয়া এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ (النهي عن المنكر) করা»। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الشاهد: قوله: «إياكم والجلوس في الطرقات - إذا أبيتم إلا المجلس فأعطوا الطريق حقه - غض البصر وكف الأذى» . . . إلخ ".
وجه الدلالة:
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الجلوس بالطرقات، وأمر من كان لا بد جالسا أن يكف أذاه، وبناء المسجد في الطريق الضيق أذى؛ لأن أهل الطريق يتضررون، فلا يحل أذاهم بنص الحديث؛ ولأن الطريق حق مشاع لجميع المسلمين، فلا يحل أذاهم باقتطاع جزء منه وهم كارهون.
وأما إذا لم يكن ثمة أذى، بأن كان أهل الطريق لا يتضررون من بناء المسجد فيه، بل ربما استفادوا منه، فحينئذ بناء المسجد في الطريق جائز. ودليل هذا: -
قال البخاري - رحمه الله تعالى -: " باب المسجد يكون في الطريق من غير ضرر بالناس ". ثم ساق بسنده عن عائشة رضي الله عنها قالت: «لم أعقل أبوي إلا وهما يدينان الدين، ولم يمر علينا يوم إلا يأتينا فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم طرفي النهار بكرة وعشية، ثم بدا لأبي بكر فابتنى مسجدا بفناء داره فكان يصلي فيه ويقرأ القرآن، فيقف عليه نساء المشركين وأبناؤهم يعجبون منه، وينظرون إليه، وكان أبو بكر رجلا بكاء لا يملك عينيه إذا قرأ القرآن، فأفزع ذلك أشراف قريش من المشركين» . رواه البخاري (1) .
--------------------------------------------
সাক্ষ্য (شاهد): তাঁর বাণী: «তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বেঁচে থাকো—যদি তোমাদের বসতেই হয় তবে রাস্তার হক আদায় করো—দৃষ্টি অবনত রাখা এবং কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা» . . . ইত্যাদি।
প্রমাণের ধরণ:
নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাস্তায় বসা থেকে নিষেধ করেছেন এবং যাকে অবশ্যই বসতে হয় তাকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আর সংকীর্ণ রাস্তায় মসজিদ নির্মাণ করা একটি কষ্টদায়ক বিষয়; কারণ এতে পথচারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং হাদিসের ভাষ্য (نص) অনুযায়ী তাদের কষ্ট দেওয়া বৈধ নয়; কেননা রাস্তা সকল মুসলিমের জন্য একটি সাধারণ অধিকার, তাই তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও এর কোনো অংশ কেটে নিয়ে তাদের কষ্ট দেওয়া বৈধ নয়।
পক্ষান্তরে যদি সেখানে কোনো কষ্ট বা ক্ষতির কারণ না থাকে, যেমন পথচারীরা সেখানে মসজিদ নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, বরং সম্ভবত তারা এর দ্বারা উপকৃত হয়, তবে সেক্ষেত্রে রাস্তায় মসজিদ নির্মাণ করা বৈধ (جائز)। এর দলিল হলো: -
ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "পরিচ্ছেদ: মানুষের ক্ষতি না করে রাস্তায় মসজিদ নির্মাণ।" অতঃপর তিনি তাঁর সনদ (سند) সহ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি আমার বাবা-মাকে দ্বীনের অনুসারী হিসেবেই চিনেছি। এমন কোনো দিন অতিবাহিত হয়নি যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিনের দুই প্রান্তে—সকাল ও সন্ধ্যায়—আমাদের নিকট আসতেন না। অতঃপর আবু বকর (রা.)-এর মনে এক সংকল্প জাগল এবং তিনি তাঁর ঘরের আঙিনায় একটি মসজিদ নির্মাণ করলেন। সেখানে তিনি সালাত আদায় করতেন এবং কুরআন তিলাওয়াত করতেন। তখন মুশরিকদের নারী ও শিশুরা তাঁর নিকট দাঁড়িয়ে বিস্ময়ের সাথে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকত। আবু বকর (রা.) ছিলেন অত্যন্ত ক্রন্দনশীল ব্যক্তি; কুরআন তিলাওয়াতের সময় তিনি নিজের অশ্রু সংবরণ করতে পারতেন না। এটি কুরাইশ মুশরিকদের নেতাদের ভীত করে তুলল।» বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الشاهد: «ولم يمر علينا يوم إلا يأتينا فيه رسول الله طرفي النهار بكرة وعشية - فابتنى مسجدا بفناء داره» .
وجه الدلالة:
حيث أن أبا بكر بنى مسجدا في جانب الطريق، لا يضر بأحد، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد اطلع عليه وأقره؛ فدل ذلك على جوازه؛ إذ لا ضرر على الناس منه. وقيل: لا يجوز بناء مسجد في الطريق، وقيل: إن بناه لنفسه فلا يجوز، وإن بناه للناس جاز (1) . قلت: إن بناه لنفسه لصلاة النوافل أو للناس ولا ضرر على أحد منه جاز؛ لأنه لا يبنيه للتملك، وإنما يبنيه للصلاة، والصلاة في الطريق جائزة.
والدليل على هذا: عن إبراهيم بن يزيد التيمي (2) قال: «كنت أقرأ القرآن على أبي في السدة (3) فإذا قرأت السجدة سجد، فقلت له: يا أبت: أتسجد في الطريق؟ قال: إني سمعت أبا ذر يقول: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن أول مسجد وضع في الأرض، قال: " المسجد الحرام ". قلت: ثم أي؟ قال: " المسجد الأقصى، ثم الأرض
--------------------------------------------
প্রমাণস্বরূপ: «এমন কোনো দিন অতিবাহিত হতো না যেদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের দুই প্রান্তে—সকাল ও সন্ধ্যায়—আমাদের নিকট আসতেন না। অতঃপর তিনি (আবু বকর) তার ঘরের আঙিনায় একটি মসজিদ নির্মাণ করলেন।»
দলিল গ্রহণের প্রেক্ষিত (وجه الدلالة):
যেহেতু আবু বকর (রা.) রাস্তার একপাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন, যা কারো ক্ষতি করত না, এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি দেখেছিলেন এবং তাতে মৌনসম্মতি (إقرار) প্রদান করেছিলেন; এটি এর বৈধতার প্রমাণ বহন করে; কারণ এতে মানুষের কোনো ক্ষতি নেই। বলা হয়েছে: রাস্তায় মসজিদ নির্মাণ করা জায়েজ নয়। আবার বলা হয়েছে: যদি নিজের জন্য নির্মাণ করে তবে তা জায়েজ নয়, আর যদি মানুষের জন্য নির্মাণ করে তবে তা জায়েজ (১)। আমি বলি: যদি তিনি নফল নামাজের জন্য নিজের নিমিত্তে অথবা মানুষের জন্য তা নির্মাণ করেন এবং তাতে কারো ক্ষতি না হয়, তবে তা জায়েজ; কারণ তিনি মালিকানা লাভের জন্য এটি নির্মাণ করছেন না, বরং তিনি এটি নামাজের জন্য নির্মাণ করছেন, আর রাস্তায় নামাজ আদায় করা জায়েজ।
এর দলিল হলো: ইব্রাহিম ইবনে ইয়াজিদ আত-তাইমি (২) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি আমার পিতার কাছে 'সুদ্দাহ' (৩)-তে বসে কুরআন তিলাওয়াত করতাম। যখন আমি সিজদার আয়াত পাঠ করতাম, তিনি সিজদা করতেন। তখন আমি তাকে বললাম: হে আব্বাজান! আপনি কি রাস্তায় সিজদা করছেন? তিনি বললেন: আমি আবু যার (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জমিনে নির্মিত প্রথম মসজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "মসজিদুল হারাম"। আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: "মসজিদুল আকসা", এরপর পুরো জমিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
لك مسجدا، فحيثما أدركتك الصلاة فصل» . رواه مسلم (1) .
وأما جعل الطريق يمر من تحت المسجد (2) فقد كره ذلك الإمام أحمد وقال: " كان ابن مسعود يكره أن يصلي في المسجد الذي بني على قنطرة ". وقال في المساجد التي على الطرقات: إن حكمها أن تهدم. وقال: المساجد أعظم حرمة " (3) .
[المسألة الخامسة تعدد المساجد في البلد الواحد]المسألة الخامسة: تعدد المساجد في البلد الواحد: تختلف البلدان من زمن إلى آخر، ومن مكان إلى مكان آخر، فربما كان البلد بالأمس قرية صغيرة، وهو اليوم مدينة كبيرة تحتوي على عدة أحياء، كل حي يعادل القرية أو يزيد. والكلام في تعدد المساجد من وجهين: -
الوجه الأول: تعدد المساجد التي تقام فيها الصلوات غير الجمعة.
نص العلماء - رحمهم الله تعالى - على تحريم بناء مسجد بجوار مسجد، أو بقربه، لقصد الإضرار والمنافسة، وهكذا قسمة المسجد الواحد إلى مسجدين.
فأما للضرورة والحاجة فيجوز بناء مسجد قرب مسجد آخر أو جنبه، ولا تحل قسمة المسجد إلى مسجدين؛ لأنه لا ضرورة تدعو لذلك. والأفضل توسعة المسجد، ولا يبنى بجواره مسجد (4) .
--------------------------------------------
...তোমার জন্য মসজিদ, সুতরাং যেখানেই তোমার সালাতের সময় হবে সেখানেই সালাত আদায় করে নাও।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
আর মসজিদের নিচ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার ব্যাপারে (২) ইমাম আহমাদ তা অপছন্দ (كره) করেছেন এবং বলেছেন: "ইবনে মাসউদ এমন মসজিদে সালাত আদায় করা অপছন্দ করতেন যা কোনো খিলান বা সাঁকোর (قنطرة) ওপর নির্মিত হয়েছে।" আর তিনি রাস্তার ওপর অবস্থিত মসজিদগুলোর ব্যাপারে বলেছেন: এগুলোর বিধান হলো তা ভেঙে ফেলা। তিনি আরও বলেছেন: "মসজিদসমূহ অধিক মর্যাদা বা পবিত্রতার (حرمة) অধিকারী" (৩)।
[পঞ্চম মাসআলা: একই শহরে একাধিক মসজিদ হওয়া]পঞ্চম মাসআলা: একই শহরে একাধিক মসজিদ হওয়া: শহরসমূহ এক সময় থেকে অন্য সময়ে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সম্ভবত কোনো জনপদ অতীতে ছোট একটি গ্রাম ছিল, যা আজ একটি বড় শহরে পরিণত হয়েছে যাতে বেশ কিছু মহল্লা রয়েছে, যার প্রতিটি মহল্লা একটি গ্রামের সমতুল্য বা তার চেয়েও বড়। একাধিক মসজিদ হওয়ার বিষয়ে আলোচনা দুটি দিক থেকে হতে পারে: -
প্রথম দিক: জুমুআ ব্যতীত অন্যান্য সালাত কায়েম হয় এমন একাধিক মসজিদ থাকা।
আলেমগণ - আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি দয়া করুন - ক্ষতিসাধন ও প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যে একটি মসজিদের পাশে বা তার নিকটে অন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করা হারাম (تحريم) হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন, অনুরূপভাবে একটি মসজিদকে দুই ভাগে বিভক্ত করার বিষয়টিতেও।
তবে আবশ্যকতা (ضرورة) ও প্রয়োজনের (حاجة) খাতিরে অন্য একটি মসজিদের কাছে বা তার পাশে মসজিদ নির্মাণ করা বৈধ (يجوز), কিন্তু একটি মসজিদকে দুই ভাগে ভাগ করা হালাল (تحل) নয়; কারণ এর জন্য কোনো আবশ্যকতা (ضرورة) নেই। বরং উত্তম হলো মসজিদ সম্প্রসারণ করা, আর তার পাশেই অন্য একটি মসজিদ নির্মাণ না করা (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ودليل ما تقدم: قول الله تعالى: {وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مَسْجِدًا ضِرَارًا وَكُفْرًا وَتَفْرِيقًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَإِرْصَادًا لِمَنْ حَارَبَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ مِنْ قَبْلُ وَلَيَحْلِفُنَّ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا الْحُسْنَى وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ - لَا تَقُمْ فِيهِ أَبَدًا لَمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَنْ تَقُومَ فِيهِ فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ} [التوبة: 107 - 108] (1) .
الشاهد: قول الله تعالى: {وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مَسْجِدًا ضِرَارًا وَكُفْرًا وَتَفْرِيقًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَإِرْصَادًا لِمَنْ حَارَبَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ مِنْ قَبْلُ - لَا تَقُمْ فِيهِ أَبَدًا} [التوبة: 107 - 108]
وجه الدلالة:
أن الله سبحانه وتعالى بين قصد المنافقين من بناء مسجدهم، وأنهم إنما بنوه لقصد الضرر بالمسلمين، فلذلك نهى نبيه صلى الله عليه وسلم أن يصلي فيه، فهدمه النبي صلى الله عليه وسلم عقابا لهم (2) .
الوجه الثاني: تعدد المساجد التي تقام فيها الجمعة.
من المعروف أن المساجد الجامعة تتخذ شكلا خاصا بها؛ حيث تحتوي على منبر، وتكون كبيرة. وقد اشترط بعض المالكية (3) لصلاة الجمعة: المسجد المسقف، مستدلين بقوله تعالى: {فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ} [النور: 36] (4) الآية. وقوله: (. . . {وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ} [الحج: 26] ) (5) وحقيقة البيتية أن يكون
--------------------------------------------
পূর্বোক্ত বিষয়ের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা একটি মসজিদ নির্মাণ করল ক্ষতিসাধন, কুফরি ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতঃপূর্বে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল তাদের গোপন ঘাঁটিস্বরূপ; আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, ‘আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি’। কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। আপনি তাতে কখনো দাঁড়াবেন না। যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেটিই আপনার দাঁড়ানোর অধিকতর যোগ্য। সেখানে এমন লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।} [তওবা: ১০৭ - ১০৮] (১) ।
প্রাসঙ্গিক অংশ (الشاهد): মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা একটি মসজিদ নির্মাণ করল ক্ষতিসাধন, কুফরি ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতঃপূর্বে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল তাদের গোপন ঘাঁটিস্বরূপ... আপনি তাতে কখনো দাঁড়াবেন না} [তওবা: ১০৭ - ১০৮]
দলিল গ্রহণের যৌক্তিক ভিত্তি (وجه الدلالة):
নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুনাফিকদের মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন যে, তারা কেবল মুমিনদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যেই তা নির্মাণ করেছিল। এই কারণে তিনি তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সেখানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের শাস্তি স্বরূপ তা ধ্বংস করে দেন (২) ।
দ্বিতীয় দিক: জুমুআ কায়েমকৃত মসজিদের সংখ্যাধিক্য।
এটি সুবিদিত যে, জামে মসজিদসমূহ (المساجد الجامعة) একটি নিজস্ব রূপ পরিগ্রহ করে; কেননা তাতে মিম্বর (منبر) থাকে এবং সেগুলো বিশাল আকৃতির হয়ে থাকে। কোনো কোনো মালিকি (المالكية) আলেম (৩) জুমুআর সালাতের জন্য ছাদবিশিষ্ট মসজিদ হওয়া শর্ত করেছেন, যার স্বপক্ষে তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: {সেই সব ঘরে, যেগুলোকে আল্লাহ সুউচ্চ করার এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করার আদেশ দিয়েছেন} [নূর: ৩৬] (৪) আয়াতটি। এবং তাঁর বাণী: (...{এবং আমার গৃহকে পবিত্র রাখ তওয়াফকারীদের জন্য} [হজ: ২৬] ) (৫)। আর গৃহ হওয়ার বাস্তবতা (حقيقة البيتية) হলো যে তা হতে হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ذا حيطان ترفع (1) . قلت: وغالب البيوت التي يسكنها الناس أو المساجد ذات حيطان وسقف (2) .
وجمهور العلماء: على أنه لا يشترط لصلاة الجمعة المسجد المسقف؛ بل تصح الصلاة في أي مكان لعموم الأدلة: «جعلت لي الأرض مسجدا وطهورا» ، ولأنه لم يثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم ولا عن أصحابه ما يدل على اشتراط المسجد للجمعة (3) . ولهذا كله: كان من المناسب أن أتعرض لحكم تعدد الجمعة في البلد الواحد، لأنه بمعرفة مكان إقامة الجمعة نعرف أنه يجوز بناء المسجد الجامع فيه لأجل صلاة الجمعة.
اختلف العلماء في جواز تعدد الجمعة في البلد الواحد، على قولين: -
القول الأول: يجوز تعدد الجمعة في البلد الواحد للضرورة والحاجة الداعية إلى ذلك. وهذا الراجح في مذهب أبي حنيفة (4) وأحمد (5) .
القول الثاني: لا يجوز تعدد الجمعة في البلد الواحد. روي هذا عن أبي حنيفة (6) . وبه قال مالك (7) والشافعي (8) ورواية عن الإمام أحمد (9) .
--------------------------------------------
দেয়াল বিশিষ্ট যা উঁচু করা হয় (১)। আমি বলেছি: মানুষের বসবাসের অধিকাংশ ঘরবাড়ি বা মসজিদসমূহ দেয়াল এবং ছাদ বিশিষ্ট হয় (২)।
অধিকাংশ আলেম মনে করেন যে, জুমার নামাজের জন্য ছাদযুক্ত মসজিদ হওয়া শর্ত নয়; বরং দলীলের ব্যাপকতার কারণে যেকোনো স্থানে নামাজ আদায় করা শুদ্ধ (صحيح) হবে: «আমার জন্য জমিনকে সিজদাহ করার স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম বানানো হয়েছে», তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা তাঁর সাহাবীগণের পক্ষ থেকে এমন কিছু প্রমাণিত হয়নি (لم يثبت) যা জুমার জন্য মসজিদ হওয়া আবশ্যক হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে (৩)। এ কারণেই, একই শহরে একাধিক জুমার বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা সমীচীন মনে করছি, কারণ জুমার নামাজ কায়েম করার স্থান সম্পর্কে জানার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে সেখানে জামে মসজিদ নির্মাণ করা জায়েজ।
একই শহরে একাধিক জুমা অনুষ্ঠিত হওয়ার বৈধতা নিয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে দুটি মত রয়েছে: -
প্রথম মত: প্রয়োজন এবং বাস্তব চাহিদার প্রেক্ষিতে একই শহরে একাধিক জুমা জায়েজ। এটিই ইমাম আবু হানিফা (৪) ও ইমাম আহমাদের (৫) মাজহাবের অগ্রগণ্য (الراجح) মত।
দ্বিতীয় মত: একই শহরে একাধিক জুমা জায়েজ নয়। এটি ইমাম আবু হানিফা (৬) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে। ইমাম মালিক (৭), ইমাম শাফেয়ী (৮) এবং ইমাম আহমাদের (৯) একটি বর্ণনা অনুযায়ী এটিই তাঁদের অভিমত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأدلة: استدل أصحاب القول الأول بما يلي: -
1 - ثبت أن علي بن أبي طالب استخلف ابن مسعود يصلي بالضعفة صلاة العيد. والجمعة مثلها (1) .
2 - ولأن في تحديد إقامة الجمعة بموطن واحد حرجا عظيما، ومشقة كبيرة، والإسلام دين يسر، فتعددها إذا كان لحاجة وبإذن ولي الأمر - فيه رفع للحرج عن المسلمين، فهو جائز شرعا (2) .
واستدل أصحاب القول الثاني بما يلي: -
1 - ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يقم الجمعة وهو في المدينة إلا في مسجد واحد بالبلد، وهو مسجده صلى الله عليه وسلم، وكذلك فعل خلفاؤه الأربعة من بعده، ولم يظهر لهم مخالف (3) .
2 - قال ابن عمر: (لا تقام الجمعة إلا في المسجد الذي يصلي فيه الإمام " (4) ومراده رضي الله عنه بقوله " الإمام ": أي الإمام الأعظم، ومفاد كلامه هذا: أنه لا يجوز تعدد إقامة الجمعة في البلد الواحد.
المناقشة: اتفق العلماء - رحمهم الله تعالى - على أن تعدد الجمعة بلا حاجة لا يجوز. قال في المغني: " لا نعلم في هذا مخالفا " (5) ولهذا إذا
--------------------------------------------
প্রমাণসমূহ: প্রথম মতের অনুসারীরা নিম্নোক্ত দলিলগুলো পেশ করেছেন: -
১ - এটি প্রমাণিত (ثبت) যে, আলী ইবনে আবি তালিব ঈদুল ফিতরের সালাত দুর্বল ব্যক্তিদের নিয়ে পড়ার জন্য ইবনে মাসউদকে স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। আর জুমার সালাতও এর অনুরূপ (১)।
২ - এবং কারণ, জুমার সালাত কায়েম করাকে কেবল একটি স্থানে সীমাবদ্ধ করার মধ্যে রয়েছে অনেক বড় সংকীর্ণতা ও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার, অথচ ইসলাম হলো সহজসাধ্য দ্বীন। সুতরাং প্রয়োজন সাপেক্ষে এবং উলিল আমরের (কর্তৃপক্ষ) অনুমতি নিয়ে জুমার একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হওয়া মুসলিমদের থেকে সংকীর্ণতা দূর করে। তাই এটি শারয়িভাবে বৈধ (جائز) (২)।
দ্বিতীয় মতের অনুসারীরা নিম্নোক্ত দলিলগুলো পেশ করেছেন: -
১ - এটি প্রমাণিত (ثبت) যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় থাকাকালীন শহরের কেবল একটি মাসজিদেই জুমা কায়েম করতেন, আর তা ছিল স্বয়ং তাঁরই মাসজিদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তাঁর পরবর্তী চার খলিফাও অনুরূপ করেছেন এবং তাঁদের কোনো বিরোধিতাকারী (مخالف) প্রকাশ পায়নি (৩)।
২ - ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "যে মাসজিদে ইমাম সালাত পড়ান, সেখানে ছাড়া জুমা কায়েম করা যাবে না" (৪)। এখানে "ইমাম" বলতে তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাষ্ট্রপ্রধান বা মহান ইমামকে (الإمام الأعظم) বুঝিয়েছেন। তাঁর এই কথার মর্মার্থ হলো: এক শহরে একাধিক জুমার সালাত কায়েম করা বৈধ (جائز) নয়।
পর্যালোচনা (المناقشة): উলামায়ে কিরাম (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) এ ব্যাপারে ঐকমত্য (اتفق) পোষণ করেছেন যে, প্রয়োজন ব্যতীত জুমার একাধিক জামাত বৈধ (جائز) নয়। আল-মুগনি গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আমরা এ বিষয়ে কোনো দ্বিমতকারী (مخالف) সম্পর্কে অবগত নই" (৫)। আর একারণেই যদি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
حصل الاستغناء بثلاث لم تجزئ الرابعة، وهكذا الخامسة والسادسة والسابعة اللاتي لا يحتاج إليهن، وتعتبر حينئذ صحة الصلاة بأسبقها، فالثلاث السابقات هن الصحيحات، وقيل: من كان فيه الإمام أو نائبه، وقيل: المسجد العتيق (1) .
وأما للضرورة والحاجة: فإن الإسلام دين يسر، ولا مشقة فيه، وجمع الخلائق بمكان واحد - مع كثرتهم الشديدة وضيق الأمكنة - فيه مشقة شديدة عليهم (2) وعلى هذا سار المسلمون اليوم، إذ لم يثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم المنع من إقامتها. وقول ابن عمر مختلف فيه، لأن الصحابة كانوا يصلون في المساجد الجامعة في القرى وليس فيها الإمام الأعظم، فلا حجة فيه (3) .
[المسألة السادسة المسجد المتنقل]المسألة السادسة: المسجد المتنقل: لما تحدثت عن موقع المسجد الثابت وانتهيت منه، ناسب الحديث عن المسجد المتنقل، وهذا المسجد المتنقل إما أن يكون مستقلا بنفسه، بحيث يحمله الإنسان حيث يشاء ويضعه حيث يشاء. قال في حاشية قليوبي وعميرة ما نصه: " قوله: (ومنقول) أي: غير مسجد، فإن ثبته بنحو تسمير صح إن كان محله يجوز الانتفاع به، ولا يضر نقله - أي المسجد - بعد ذلك. وحينئذ يصح الاعتكاف عليه ولو في هوائه، لا تحته، وكذا يحرم المكث من الجنب فوقه لا تحته، ولا
--------------------------------------------
যখন তিনটির মাধ্যমে প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যায়, তখন চতুর্থটি আর বৈধ হয় না; তদ্রূপ পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম মসজিদগুলোরও প্রয়োজন থাকে না। এমতাবস্থায় নামাজের বৈধতা (صحة) নির্ধারিত হবে অগ্রবর্তী জামাতের মাধ্যমে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী তিনটি জামাতই হলো সহিহ (صحيحة)। কারো মতে: যে জামাতে ইমাম বা তাঁর প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন। আবার কারো মতে: প্রাচীনতম মসজিদ (১)।
আর প্রয়োজনীয়তা ও জরুরতের ক্ষেত্রে কথা হলো: ইসলাম একটি সহজ দ্বীন, এতে কোনো কঠোরতা নেই। অগণিত মানুষকে এক স্থানে সমবেত করা—তাদের অত্যধিক সংখ্যা এবং স্থানের সংকীর্ণতার কারণে—তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য (২)। বর্তমান সময়ের মুসলিমগণ এই পথই অনুসরণ করছেন, যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি পালনে কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রমাণিত (ثابت) হয়নি। আর ইবনে উমরের উক্তির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, কারণ সাহাবীগণ গ্রামগঞ্জের জামে মসজিদগুলোতে নামাজ আদায় করতেন যেখানে প্রধান ইমাম (ইমামুল আজম) উপস্থিত থাকতেন না। সুতরাং এক্ষেত্রে ওই উক্তিটি দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় (৩)।
[ষষ্ঠ মাসআলা: স্থানান্তরযোগ্য মসজিদ]ষষ্ঠ মাসআলা: স্থানান্তরযোগ্য মসজিদ: যখন আমি স্থায়ী মসজিদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা শেষ করেছি, তখন স্থানান্তরযোগ্য মসজিদ নিয়ে আলোচনা করা সংগত মনে করছি। এই স্থানান্তরযোগ্য মসজিদটি এমন হতে পারে যা স্বতন্ত্রভাবে বিদ্যমান, যাতে মানুষ যেখানে ইচ্ছা তা বহন করে নিয়ে যেতে পারে এবং যেখানে ইচ্ছা স্থাপন করতে পারে। ‘হাশিয়া কালয়ুবি ওয়া উমাইরাহ’ গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে: "তাঁর উক্তি: (এবং স্থানান্তরযোগ্য) অর্থাৎ: যা মূলত মসজিদ নয়। তবে যদি পেরেকের মাধ্যমে বা তদ্রূপ কোনোভাবে তা স্থাপন করা হয়, তবে তা সহিহ (صحيح) হবে যদি সেই স্থানটি ব্যবহারের অনুমতি থাকে; এরপর সেটি—অর্থাৎ সেই মসজিদটি—স্থানান্তরের কারণে কোনো ক্ষতি হবে না। আর এমতাবস্থায় সেটির ওপর ইতিকাফ করা সহিহ (صحيح) হবে, এমনকি তার ওপরের শূন্যস্থানে হলেও, তবে তার নিচে নয়। একইভাবে জুনুব বা অপবিত্র ব্যক্তির জন্য তার ওপরে অবস্থান করা হারাম, নিচে নয়। এবং না..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يحرم عليه - أي الجنب - حمله، كذا قاله بعض مشايخنا، والأقرب صحة الاعتكاف تحته، ولو لحامله؛ حيث كان داخلا في هوائه، ولا يضر تجدد هوائه وزواله " (1) .
هذا ما ذكره بعض الفقهاء الذين لم يعاصروا الطائرات، ولا القطارات، ولا المراكب الحديثة كلها، وأنا سأتحدث عن المسجد المتنقل في هذه المراكب، وفي السفينة. ولما كانت السفينة هي المركب المشابه لهذه المراكب والموجودة في القرون الأولى، فقد تحدث العلماء عن الصلاة فيها، فذكروا - رحمهم الله تعالى - أن الصلاة تصح في السفينة، ولا يلزم من فيها النزول إلى الشاطئ للصلاة، ويلزمه الوقوف إن قدر عليه، ويجوز إقامة الصلاة جماعة في السفينة، ولا يحنون رؤوسهم ليصلوا جماعة، بل يصلون فرادى في سطحها قياما، إلا إذا قدروا على الخروج من السفينة، وأداء الصلاة في الشاطئ جماعة أفضل، ويستقبل القبلة في السفينة، ويدور إلى القبلة كلما دارت السفينة، وإن خرج إلى الشاطئ وصلى مستقبلا القبلة بطمأنينة فهو أولى، وربما قيل بوجوب الخروج عليه لصلاة الفريضة إن لم يستطع استقبال القبلة في السفينة، ولم يخش فوات الصلاة (2) .
ويدل لهذا ما يلي: -
--------------------------------------------
একজন অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য তা বহন করা হারাম (حرام); আমাদের কোনো কোনো মাশায়েখ এমনটিই বলেছেন। তবে অধিকতর সঠিক মত হলো এর নিচে ইতিকাফ (اعتكاف) সহিহ (صحيح) হওয়া, এমনকি বহনকারীর জন্যও; যতক্ষণ পর্যন্ত সে এর বায়ুমণ্ডলের ভেতরে থাকে। আর এর বাতাসের পরিবর্তন বা বিলুপ্তি কোনো ক্ষতি করে না।" (১) .
এটি সেইসব ফকিহগণের বক্তব্য যারা বিমান, ট্রেন বা বর্তমানের আধুনিক কোনো যানবাহনের যুগের ছিলেন না। আমি এই যানবাহনগুলোতে এবং জাহাজে অবস্থিত ভ্রাম্যমাণ মসজিদ সম্পর্কে আলোচনা করব। যেহেতু প্রথম শতাব্দীগুলোতে বিদ্যমান যানবাহনগুলোর মধ্যে জাহাজই এই আধুনিক বাহনগুলোর সদৃশ ছিল, তাই আলেমগণ এতে নামাজ আদায় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তাঁরা—আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন—উল্লেখ করেছেন যে, জাহাজে নামাজ পড়া সহিহ (صحيح)। জাহাজে অবস্থানকারীর জন্য নামাজের উদ্দেশ্যে তীরে নামা আবশ্যক নয়। তবে সক্ষম হলে তাকে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে হবে। জাহাজে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করা জায়েজ (جائز)। জামাতে নামাজ পড়ার জন্য তারা যেন মাথা নিচু না করে, বরং জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে একাকী নামাজ পড়বে; যদি না তারা জাহাজ থেকে বের হতে সক্ষম হয়। আর তীরে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করা উত্তম (أفضل)। জাহাজে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াতে হবে এবং জাহাজ যেদিকেই ঘুরুক না কেন তাকে কিবলার দিকে ঘুরতে হবে। যদি কেউ তীরে নেমে স্থিরতার সাথে কিবলামুখী হয়ে নামাজ পড়ে, তবে সেটিই শ্রেয়। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফরজ (فرض) নামাজের জন্য তীরে যাওয়া ওয়াজিব (واجب) বলা হয়েছে, যদি জাহাজে কিবলামুখী হওয়া সম্ভব না হয় এবং নামাজের সময় পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকে (২)।
এর সপক্ষে নিচের বিষয়গুলো প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হলো: -
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
1 - عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «سئل النبي صلى الله عليه وسلم كيف أصلي في السسفينة؟ قال: " صل فيها قائما إلا أن تخاف الغرق» . رواه الدارقطني (1) .
الشاهد: قوله: «صل فيها قائما» .
وجه الدلالة:
أن الصلاة في السفينة صحيحة، ويصلي قائما، إلا أن يخاف من سقوط ونحوه.
2 - وروي عن جابر بن عبد الله وأبي سعيد الخدري وأبي هريرة: " أنهم صلوا جماعة في سفينة، أمهم أحدهم، وهم يقدرون على المسجد ". رواه ابن أبي شيبة (2) وعن الشعبي (3) والحسن وابن سيرين أنهم قالوا: " صل في السفينة قائما " رواه مالك (4) . أما ما ذكر عن ابن سيرين ومجاهد: أنهم صلوا في السفينة قعودا، ولو شاؤوا لقاموا (5) فإنه محمول على النافلة، ولو حمل على الفريضة لكانت صلاتهم
--------------------------------------------
1 - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আমি নৌকায় কীভাবে নামাজ আদায় করব? তিনি বললেন: "তাতে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো, তবে ডুবে যাওয়ার ভয় থাকলে ভিন্ন কথা"»। এটি দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন (১)।
সাক্ষ্যপ্রমাণ (الشاهد): তাঁর এই বাণী: «তাতে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো»।
নির্দেশনার ধরণ (وجه الدلالة):
নৌকায় নামাজ আদায় করা সহিহ (صحيح), এবং সেখানে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে হবে, তবে পড়ে যাওয়া বা অনুরূপ কোনো ভয় থাকলে ভিন্ন কথা।
2 - জাবির বিন আব্দুল্লাহ, আবু সাঈদ খুদরী এবং আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: "তাঁরা নৌকায় জামাতে নামাজ পড়েছেন, তাঁদের মধ্য থেকে একজন ইমামতি করেছেন, অথচ তাঁরা মসজিদে যাওয়ার সামর্থ্য রাখতেন।" এটি ইবনে আবি শাইবা বর্ণনা করেছেন (২)। আর আশ-শা'বী (৩), হাসান এবং ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত যে তাঁরা বলেছেন: "নৌকায় দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো।" এটি মালিক বর্ণনা করেছেন (৪)। আর ইবনে সিরীন এবং মুজাহিদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে: তাঁরা নৌকায় বসে নামাজ পড়েছিলেন, অথচ তাঁরা চাইলে দাঁড়িয়ে পড়তে পারতেন (৫); তবে এটি নফল নামাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর যদি ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে ধরা হয় তবে তাঁদের নামাজ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
باطلة، لأن القيام مع القدرة عليه ركن في الصلاة بالإجماع (1) .
3 - وعن الحسن وابن سيرين قالا: يصلون فيها قياما جماعة، ويدورون مع القبلة حيث دارت (2) . فهذه الآثار عن السلف الصالح تدل على اتفاقهم على صحة الصلاة في السفينة.
4 - وقد نص العلماء - رحمهم الله تعالى - على صحة النافلة فوق الراحلة، ويصلي متنفلا حيث اتجهت، لكن يبدأ بتكبيرة الإحرام وهو متجه إلى القبلة. أما الفريضة: فلا بد أن ينزل عنها ويصلي في الأرض لقدرته على النزول، ولعدم ثبوت الراحلة واستقرارها (3) .
فالسيارة كالراحلة يمكن لسائقها الوقوف بسهولة، ولو صلى فيها متجها للقبلة في كامل الفريضة؛ صحت صلاته، إن كان يسير بخط تثبت معه السيارة، وله أن يصلي في السيارة في حالة الخوف مهما اتجهت كالدابة.
وأما الطائرة فأقرب شبه لها في القديم السفينة؛ لأن الراكب لا يتحكم في اتجاهها، ولا تقف متى شاء؛ بل لها مسارات محددة، والقطارات لها مسارات محددة لا يستطيع الراكب التحكم فيها. أما في الجو، وفي الطريق للقطار فإنهم لا يتوقفون، أما الطائرة فلعدم القدرة، وأما القطار فلارتباطه بزمن معين في شغل الطريق، لأنه سيشغل في وقت آخر من قطار آخر، وهكذا.
--------------------------------------------
বাতিল (باطلة), কারণ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা সর্বসম্মতভাবে (بالإجماع) সালাতের একটি রোকন (ركن) (১)।
৩ - হাসান ও ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: তাঁরা তাতে (নৌকায়) দাঁড়িয়ে জামাতের সাথে সালাত আদায় করবেন এবং কিবলা যেদিকে ঘোরে সেদিকেই তাঁরা ঘুরে যাবেন (২)। সালফে সালেহীন থেকে বর্ণিত এই বর্ণনাগুলো (الآثار) নৌকায় সালাত আদায় বিশুদ্ধ (صحة) হওয়ার বিষয়ে তাঁদের ঐকমত্যের প্রমাণ দেয়।
৪ - আলেমগণ - আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন - সওয়ারীর ওপর নফল (النافلة) সালাত বিশুদ্ধ (صحة) হওয়ার বিষয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এমতাবস্থায় সালাত আদায়কারী সওয়ারী যেদিকে মুখ করে সেদিকেই নফল সালাত আদায় করবেন, তবে তিনি কিবলার দিকে মুখ করে তাকবীরে তাহরীমা শুরু করবেন। আর ফরয (الفريضة) সালাতের ক্ষেত্রে: সওয়ারী থেকে নামা এবং জমিনে সালাত আদায় করা আবশ্যক, কারণ তাঁর নামার সামর্থ্য রয়েছে এবং সওয়ারী স্থির ও সুপ্রতিষ্ঠিত নয় (৩)।
সুতরাং গাড়ি হলো সওয়ারীর মতো, যার চালক সহজেই গাড়ি থামাতে পারেন। যদি তিনি পুরো ফরয (الفريضة) সালাত কিবলার দিকে মুখ করে আদায় করেন, তবে তাঁর সালাত বিশুদ্ধ (صحت) হবে, যদি তিনি এমন পথে চলেন যেখানে গাড়িটি স্থির থাকে। আর ভীতিকর অবস্থায় সওয়ারী পশুর মতো গাড়িতে যেদিকেই মুখ হোক না কেন সালাত আদায় করা তাঁর জন্য বৈধ।
আর বিমানের ক্ষেত্রে প্রাচীনকালে এর সবচেয়ে কাছের সাদৃশ্য হলো নৌকা; কারণ আরোহী এর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং চাইলেই এটি থামাতে পারে না; বরং এর নির্দিষ্ট রুট রয়েছে। ট্রেনেরও নির্দিষ্ট পথ রয়েছে যা আরোহী নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আকাশে থাকাকালীন বা ট্রেনের পথে তাঁরা থামতে পারেন না; বিমান থামানোর সামর্থ্য না থাকার কারণে এবং ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে, কারণ সেই পথ অন্য সময়ে অন্য ট্রেন ব্যবহার করবে, এভাবেই বিষয়টি চলতে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ففي هذه المراكب، أرى: تحديد غرف معينة للمصلين لها قاعدة تتحرك بجهاز مغناطيسي عن طريق غرفة القيادة بأمان وسهولة، ويمكن ضبطها إلى جهة القبلة، وتكون هناك علامات للقبلة، وأجهزة تحدد اتجاه القبلة بالزمن والمكان، ليعرفها المصلون.
ولهم إقامة الصلاة جماعة في الطائرة وفي القطار، ويدورون مع القبلة حيث دارت، إما بأنفسهم، أو بالقاعدة التي ذكرتها آنفًا. وهذا ممكن في العصر الحديث.
সুতরাং এই সকল যানবাহনে আমি মনে করি: মুসল্লিদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু কক্ষ নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যার এমন একটি ভিত্তি থাকবে যা কমান্ড রুম থেকে একটি চৌম্বকীয় যন্ত্রের মাধ্যমে নিরাপদ ও সহজ উপায়ে পরিচালিত হবে এবং একে কিবলার দিকে বিন্যস্ত করা সম্ভব হবে। সেখানে কিবলার চিহ্ন থাকবে এবং সময় ও স্থানের নিরিখে কিবলার দিক নির্ধারণকারী যন্ত্র থাকবে যাতে মুসল্লিগণ তা অবগত হতে পারেন।
তাদের জন্য বিমান ও ট্রেনে জামাআতের সাথে নামাজ আদায় করার সুযোগ রয়েছে এবং কিবলা যেদিকেই ঘুরে যাক না কেন তারা কিবলার অভিমুখেই আবর্তিত হবেন; হয় তারা নিজেরাই অথবা পূর্বে বর্ণিত সেই ভিত্তির মাধ্যমে। আধুনিক যুগে এটি সম্ভব।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
[المبحث الثاني بناء المسجد على القبر أو إليه]
[المسألة الأولى حكم اتخاذ القبور مساجد]المبحث الثاني
بناء المسجد على القبر أو إليه الأصل أن هذا المبحث تابع لمسائل المبحث الأول، لكونه من ضمن موقع المسجد، لكن لأهميته، ولما فيه من مسائل مترابطة، فقد جعلته مبحثًا مستقلا ذا ثلاث مسائل، هي:
المسألة الأولى: حكم اتخاذ القبور مساجد: قال ابن تيمية: " اتفق الأئمة أنه لا يبنى مسجد على قبر " (1) .
وسواء كان القبر واحدا أو قبورا متعددة؛ وسواء أكان قبر مسلم أم مشرك (2) فإن اتخاذه مسجدا حرام، والأدلة على هذا ما يلي: - 1 - عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الأرض كلها مسجد إلا المقبرة والحمام» . رواه أبو داود والترمذي (3) . وقال الحافظ ابن حجر (4) " رجاله ثقات، واختلف في وصله وإرساله، وحكم مع ذلك بصحته الحاكم وابن حبان " (5) .
--------------------------------------------
[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কবরের ওপর বা কবরের দিকে মসজিদ নির্মাণ]
[প্রথম মাসআলা: কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করার বিধান]দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
কবরের ওপর বা কবরের দিকে মসজিদ নির্মাণ: মূলত এই পরিচ্ছেদটি প্রথম পরিচ্ছেদের মাসআলাসমূহের অনুগামী, যেহেতু এটি মসজিদের অবস্থানের অন্তর্ভুক্ত। তবে এর গুরুত্ব এবং এতে বিদ্যমান পরস্পর সম্পৃক্ত মাসআলাসমূহের কারণে আমি একে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ হিসেবে নির্ধারণ করেছি, যা তিনটি মাসআলা সংবলিত। সেগুলো হলো:
প্রথম মাসআলা: কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করার বিধান: ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "আইম্মাহ (ইমামগণ) একমত হয়েছেন যে, কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা যাবে না।" (১)।
কবর একটি হোক বা একাধিক; সেটি মুসলিমের কবর হোক বা মুশরিকের (২), একে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা হারাম। এর সপক্ষে দলীলসমূহ নিম্নরূপ: - ১ - আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র জমিনই মসজিদ»। এটি আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন (৩)। হাফেজ ইবনে হাজার (৪) বলেছেন, "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। এর সংযুক্ত (وصل) ও বিচ্ছিন্ন (إرسال) হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে তা সত্ত্বেও হাকেম ও ইবনে হিব্বান এর বিশুদ্ধতার (صحة) সপক্ষে হুকুম দিয়েছেন।" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الشاهد: قوله: «إلا المقبرة» .
وجه الدلالة:
حيث حرم صلى الله عليه وسلم الصلاة غير الجنازة بالمقبرة، مما دل على أن بناء المسجد بها حرام، لأنها ليست محلا للصلاة.
2 - عن عائشة وابن عباس رضي الله عنهما قالا: «لما نزل برسول الله صلى الله عليه وسلم طفق يطرح خميصة له على وجهه، فإذا اغتم بها كشفها عن وجهه، فقال وهو كذلك: " لعنة الله على اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد ". يحذر ما صنعوا.» متفق عليه، ولفظه للبخاري (1) .
الشاهد: قوله: «لعنة الله على اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» .
وجه الدلالة:
حيث بين الرسول صلى الله عليه وسلم وهو في سكرات الموت: أن اليهود والنصارى لعنوا لاتخاذهم قبور أنبيائهم مساجد كما لعنوا بأسباب أخرى، وإنما بين صلى الله عليه وسلم أن هذا من أسباب لعنهم، ليحذر من صنيعهم، خشية أن يلعن من ارتكب السبب الذي به وبغيره لعنوا (2) .
3 - عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «قاتل الله اليهود اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» . رواه البخاري (3) .
--------------------------------------------
সাক্ষ্য (الشاهد): তাঁর বাণী: «কবরস্থান ব্যতীত»।
দালিলিক নির্দেশনার দিক (وجه الدلالة):
যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরস্থানে জানাজা ব্যতীত অন্য কোনো নামাজ আদায় করা হারাম করেছেন, যা একথার প্রমাণ বহন করে যে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করাও হারাম; কারণ তা নামাজের উপযুক্ত স্থান নয়।
২ - আয়েশা ও ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন: «যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্তিম সময় উপস্থিত হলো, তখন তিনি নিজের চেহারার ওপর একটি নকশাদার চাদর টেনে দিতে লাগলেন। যখন তিনি এর দ্বারা অস্থির হয়ে পড়তেন, তখন মুখ থেকে তা সরিয়ে নিতেন। তিনি এমতাবস্থায় বললেন: "ইহুদি ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।" তিনি তাদের কৃতকর্ম থেকে সতর্ক করছিলেন।» এটি ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه), এবং এর শব্দচয়ন বুখারীর (১)।
সাক্ষ্য (الشاهد): তাঁর বাণী: «ইহুদি ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে»।
দালিলিক নির্দেশনার দিক (وجه الدلالة):
যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মৃত্যুর সকারাত বা অন্তিম যন্ত্রণার মুহূর্তে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে: ইহুদি ও নাসারারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করার কারণে অভিশপ্ত হয়েছে, যেমনটি তারা অন্যান্য কারণেও অভিশপ্ত হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি তাদের অভিশপ্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যাতে তাদের কর্মকাণ্ড থেকে সতর্ক করা যায়; এই ভয়ে যে, কেউ যদি সেই কাজ করে তবে সেও যেন অভিশপ্ত না হয় যার কারণে এবং যা ব্যতীত অন্য কারণে তারা অভিশপ্ত হয়েছিল (২)।
৩ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।» এটি বুখারী বর্ণনা (رواه) করেছেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ولمسلم بلفظ: «لعن الله اليهود والنصارى» (1) فهذا كالذي قبله في الدلالة على تحريم اتخاذ القبور مساجد.
4 - عن جندب (2) قال: «سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن يموت بخمس يقول: " ألا وإن من كان قبلكم كانوا يتخذون قبور أنبيائهم وصالحيهم مساجد، ألا فلا تتخذوا القبور مساجد، فإني أنهاكم عن ذلك» . رواه مسلم (3) .
الشاهد: «ألا فلا تتخذوا القبور مساجد، فإني أنهاكم عن ذلك» .
وجه الدلالة:
حيث صرح صلى الله عليه وسلم بالنهي الدال على التحريم، وبين أن اتخاذ القبور مساجد كان من عادة الكفار المتقدمين: اليهود والنصارى. وبيانه للعلة يدل على أن النهي إنما كان لمشابهة المشركين، وسدا للذريعة؛ لئلا يعبد مع الله غيره.
5 - عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم زائرات القبور والمتخذين عليها المساجد والسرج» . رواه الترمذي وقال: حديث حسن (4) .
--------------------------------------------
এবং সহিহ মুসলিম-এ এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহ ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অভিসম্পাত করেছেন" (১)। সুতরাং কবরসমূহকে মসজিদে রূপান্তর করার নিষিদ্ধতা (تحريم) প্রমাণের ক্ষেত্রে এটি পূর্ববর্তী বর্ণনার অনুরূপ।
৪ - জুনদুব (২) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁর মৃত্যুর পাঁচ দিন পূর্বে বলতে শুনেছি যে: 'সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী যারা ছিল তারা তাদের নবিগণ এবং নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করত। সাবধান! তোমরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করো না, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের এ কাজ থেকে নিষেধ করছি'।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩)।
সাক্ষ্যস্থল: "সাবধান! তোমরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করো না, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের এ কাজ থেকে নিষেধ করছি।"
দলিলের ভিত্তি:
যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্টভাবে এমন নিষেধ ব্যক্ত করেছেন যা নিষিদ্ধতা (تحريم) নির্দেশ করে, এবং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে কবরসমূহকে মসজিদে রূপান্তর করা পূর্ববর্তী কাফিরদের অর্থাৎ ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অভ্যাস ছিল। তাঁর কারণ দর্শানো একথাই প্রমাণ করে যে, এই নিষেধের উদ্দেশ্য হলো মুশরিকদের সদৃশ হওয়া থেকে বিরত থাকা এবং হারামের পথ বন্ধ করা (سدا للذريعة); যাতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা না হয়।
৫ - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) কবর যিয়ারতকারী নারী এবং কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণকারী ও সেখানে বাতি প্রজ্বলনকারীদের অভিসম্পাত করেছেন।" এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদিসটি হাসান (حسن) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الشاهد: قوله: «لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم زائرات القبور والمتخذين عليها المساجد» .
وجه الدلالة:
حيث إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يلعن أحدا إلا بموجب الوحي، لقوله تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى} [النجم: 3] (1) . فلا يلعن الرسول صلى الله عليه وسلم إلا من لعنه الله. واللعن هو الطرد والإبعاد عن رحمة الله تعالى. وهذا دليل على أن من استحق اللعن إنما استحقه لفعل محرم.
6 - عن عطاء بن يسار (2) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اللهم لا تجعل قبري وثنا يعبد، اشتد غضب الله على قوم اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» . رواه مالك (3) . وقال ابن عبد البر: " هذا الحديث صحيح عند من قال بمراسيل الثقات، وعند من قال بالمسند لإسناد عمر بن محمد له، وهو ممن تقبل زيادته. وبالله التوفيق " (4) .
وقد وردت أحاديث كثيرة بمعنى الأحاديث التي ذكرت، وهي بجملتها نص قاطع على تحريم اتخاذ القبور مساجد (5) .
--------------------------------------------
সাক্ষী (বা দলিল): তাঁর (রাসূলুল্লাহর) বাণী: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর জিয়ারতকারী নারী এবং কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণকারীদের অভিশাপ দিয়েছেন।" .
দলিল গ্রহণের পদ্ধতি:
যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহীর নির্দেশ ছাড়া কাউকে অভিশাপ দেন না, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না} [আন-নাজম: ৩] (১)। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবলমাত্র তাকেই অভিশাপ দেন যাকে আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন। আর লানত বা অভিশাপ হলো আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়ন ও দূর করে দেওয়া। এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে, যে ব্যক্তি অভিশাপের যোগ্য হয়েছে, সে অবশ্যই কোনো হারাম (নিষিদ্ধ) কাজের কারণে তা অর্জন করেছে।
৬ - আতা ইবনে ইয়াসার (২) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ! আমার কবরকে এমন মূর্তিতে পরিণত করবেন না যার ইবাদত করা হয়। সেই জাতির ওপর আল্লাহর ক্রোধ তীব্রতর হয়েছে যারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।" এটি মালেক বর্ণনা করেছেন (৩)। আর ইবনে আবদিল বারর বলেন: "এই হাদিসটি তাদের নিকট সহিহ (صحيح) যারা নির্ভরযোগ্য (الثقات) রাবিদের বিচ্ছিন্ন (مراسيل) বর্ণনাকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন, এবং তাদের নিকটও যারা এটিকে সংযুক্ত (المسند) মনে করেন; কারণ উমর ইবনে মুহাম্মদ এটিকে সূত্রবদ্ধ (إسناد) করেছেন এবং তিনি এমন রাবিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادته) কবুল করা হয়। আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক কাম্য।" (৪)।
আর উল্লিখিত হাদিসগুলোর সমার্থে আরও অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ হারাম হওয়ার বিষয়ে অকাট্য দলিল (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
[المسألة الثانية حكمة التشريع في منع اتخاذ القبور مساجد]المسألة الثانية: حكمة التشريع في منع اتخاذ القبور مساجد: ربما تبادر إلى الذهن أن علة النهي هي مخالفة المشركين، كما هو ظاهر من بعض النصوص المتقدمة، ونص الشافعي - رحمه الله تعالى - بأن النجاسة علة من علل الحكم " لكون المقبرة اختلطت بلحم وعظام الأموات، فصارت نجسة (1) .
والحق أن مخالفة المشركين في هذا واردة، لكون عملهم هذا ذريعة موصلة إلى الشرك. قال في المغني: " وقد روينا أن ابتداء عبادة الأصنام تعظيم الأموات؛ باتخاذ صورهم، ومسحها، والصلاة عندها، وكذلك فعل الناس بقبور الصالحين ". ا. هـ مختصرا (2) .
وقال الشافعي: " أكره أن يعظم مخلوق حتى يجعل قبره مسجدا مخافة الفتنة عليه وعلى من بعده من الناس " (3) .
وقال النووي: " إنما نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن اتخاذ قبره وقبر غيره مسجدا خوفا من المبالغة في تعظيمه والافتتان به، فربما أدى ذلك إلى الكفر، كما جرى لكثير من الأمم الخالية " (4) .
وقد نص على ما ذكره هؤلاء العلماء - رحمهم الله تعالى - ابن تيمية، وابن القيم، وصاحب الدعوة السنية في نجد محمد بن عبد الوهاب، وغيرهم رحمهم الله تعالى (5) .
--------------------------------------------
[দ্বিতীয় মাসআলা: কবরকে মসজিদে পরিণত করা নিষিদ্ধকরণের ক্ষেত্রে শরয়ি প্রজ্ঞা (حكمة التشريع)]দ্বিতীয় মাসআলা: কবরকে মসজিদে পরিণত করা নিষিদ্ধকরণের ক্ষেত্রে শরয়ি প্রজ্ঞা (حكمة التشريع): সম্ভবত মনে এই ধারণা আসতে পারে যে, এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ (علة) হলো মুশরিকদের বিরোধিতা করা, যা পূর্বোক্ত কিছু নস (نصوص) থেকে স্পষ্ট হয়। ইমাম শাফেয়ি -রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা- স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অপবিত্রতা (نجاسة) হলো এই হুকুমের (حكم) অন্যতম কারণ (علة); কারণ কবরস্থান মৃতদের গোশত ও হাড়ের সাথে মিশ্রিত থাকে, ফলে তা অপবিত্র (نجسة) হয়ে যায় (১)।
সত্য এই যে, এ বিষয়ে মুশরিকদের বিরোধিতা করার বিষয়টিও স্বীকৃত, কারণ তাদের এই কর্ম শিরকের (شرك) দিকে ধাবিত করার একটি মাধ্যম (ذريعة)। আল-মুগনি গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আমাদের কাছে বর্ণিত হয়েছে যে, মূর্তিপূজার সূচনা হয়েছিল মৃতদের প্রতি অতিরঞ্জিত সম্মানের মাধ্যমে; তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করা, সেগুলোতে হাত বুলানো এবং সেগুলোর কাছে সালাত আদায়ের মাধ্যমে। একইভাবে মানুষ নেককার বান্দাদের কবরের ক্ষেত্রেও এমনটি করেছে।" - সংক্ষেপিত (২)।
ইমাম শাফেয়ি বলেছেন: "আমি অপছন্দ করি যে কোনো সৃষ্টিকে এমনভাবে সম্মান করা হোক যাতে তার কবরকে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়; এটি তার নিজের জন্য এবং তার পরবর্তী মানুষদের জন্য ফেতনার (فتنة) আশঙ্কায়।" (৩)।
ইমাম নববী বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের বা অন্যের কবরকে মসজিদে পরিণত করতে নিষেধ করেছেন মূলত অতিরঞ্জিত সম্মান প্রদর্শন এবং এর মাধ্যমে বিভ্রান্ত হওয়ার (افتتان) ভয়ে। কারণ এটি সম্ভবত কুফরের (كفر) দিকে নিয়ে যেতে পারে, যেমনটি পূর্ববর্তী অনেক উম্মতের ক্ষেত্রে ঘটেছিল।" (৪)।
এই সকল আলেম -রাহিমাহুমুল্লাহু তায়ালা- যা উল্লেখ করেছেন, তা ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কায়্যিম, নজদের সুন্নি দাওয়াতের প্রবর্তক মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব এবং অন্যান্যরাও -রাহিমাহুমুল্লাহু তায়ালা- স্পষ্টভাবে বর্ণনা (نص) করেছেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল মাসাজিদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وكلام هؤلاء العلماء متحد المعنى، مختلف اللفظ، وإنما أوردته مثالاً لغيرهم من العلماء - رحمهم الله تعالى -. وقال العلامة ابن باز - حفظه الله - في قول ابن حجر رحمه الله: " وقد يقول بالمنع - أي من الصلاة في المقبرة - مطلقا من يرى سد الذريعة، وهو متجه قوي ". قال - حفظه الله -: " وهذا هو الحق لعموم الأحاديث الواردة بالنهي عن اتخاذ القبور مساجد، ولعن من فعل ذلك؛ ولأن بناء المساجد على القبور من أعظم وسائل الشرك بالمقبور فيها " (1) .
وأما القول بأن العلة هي النجاسة فليس بصحيح، فقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى على قبر - صلاة جنازة - وهي صلاة يشترط لها الطهارة (2) . بل ذهب الإمام مالك إلى صحة الصلاة في المقبرة، وتبعه جماعة من العلماء (3) . وسيأتي تفصيل هذا - إن شاء الله - في الفصل الثالث من هذا الباب.
[المسألة الثالثة حكم المسجد المبني على القبر أو إدخال القبر فيه]المسألة الثالثة: حكم المسجد المبني على القبر أو إدخال القبر فيه: تقدم أنه يحرم اتخاذ القبور مساجد؛ وحينئذ فإدخال القبر بالمسجد حرام.
وإذا اجتمع القبر والمسجد فلهما حالتان: -
--------------------------------------------
এই আলেমগণের বক্তব্য অর্থগতভাবে এক, যদিও শব্দগতভাবে ভিন্ন; আমি এটি অন্যান্য আলেমদের (আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহম করুন) উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছি। আল্লামা ইবনে বায (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি: "এবং যারা অনিষ্টের পথ বন্ধ করা (سد الذريعة) আবশ্যক মনে করেন, তারা কবরস্থানে সালাত আদায় করাকে ঢালাওভাবে নিষিদ্ধ বলতে পারেন, আর এটি একটি শক্তিশালী অভিমত" প্রসঙ্গে বলেন: "আর এটিই সত্য; কারণ কবরকে মসজিদে রূপান্তর করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত সাধারণ হাদিসসমূহ এবং যারা এমন কাজ করে তাদের ওপর অভিশাপ বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা কবরস্থ ব্যক্তির সাথে শিরক করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।" (১) ।
আর এই মত যে, কারণ (علة) হলো নাপাকি—তা সঠিক (صحيح) নয়; কারণ এটি প্রমাণিত যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরের ওপর জানাজার সালাত আদায় করেছেন, আর এটি এমন এক সালাত যার জন্য পবিত্রতা অর্জন করা শর্ত (২) । বরং ইমাম মালিক কবরস্থানে সালাত সহিহ (صحيحة) হওয়ার মত পোষণ করেছেন এবং আলেমদের একটি দল তাঁর অনুসরণ করেছেন (৩) । ইনশাআল্লাহ, এই অধ্যায়ের তৃতীয় পরিচ্ছেদে এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে।
[তৃতীয় মাসআলা: কবরের ওপর নির্মিত মসজিদের বিধান অথবা মসজিদে কবর প্রবেশ করানোর বিধান]তৃতীয় মাসআলা: কবরের ওপর নির্মিত মসজিদের বিধান অথবা মসজিদে কবর প্রবেশ করানোর বিধান: ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, কবরকে মসজিদে রূপান্তর করা হারাম (حرام); সুতরাং এমতাবস্থায় মসজিদে কবর প্রবেশ করানোও হারাম (حرام)।
যখন কবর ও মসজিদ একত্রিত হয়ে যায়, তখন এর দুটি অবস্থা হতে পারে: -
--------------------------------------------