(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: -)
آداب المشي إلى الصلاة ط الوزارة   (محمد بن عبد الوهاب)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: آداب المشي إلى الصلاة

المؤلف: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي (ت 1206هـ)

الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1420هـ

عدد الصفحات: 59

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সালাতের উদ্দেশ্যে গমনের আদবসমূহ (মন্ত্রণালয় সংস্করণ)   (মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


গ্রন্থ: সালাতের উদ্দেশ্যে গমনের আদবসমূহ

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান আত-তামিমি আন-নাজদি (মৃত্যু ১২০৬ হিজরি)

প্রকাশক: ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২০ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[باب آداب المشي إلى الصلاة]

آداب المشي إلى الصلاة باب آداب المشي إلى الصلاة (1) يسن الخروج إليها متطهرا بخشوع لقوله صلى الله عليه وسلم: «إذا توضأ أحدكم فأحسن وضوءه ثم خرج عامدا إلى المسجد فلا يشبكن بين أصابعه فإنه في صلاة» وأن يقول إذا خرج من بيته ولو لغير الصلاة:

«بسم الله، آمنت بالله اعتصمت بالله، توكلت على الله، ولا حول ولا قوة إلا بالله، اللهم إني أعوذ بك أن أضل أو أضل أو أزل أو أزل أو أظلم أو أظلم أو أجهل أو يجهل علي» .

--------------------------------------------

(1) لم يذكر المصنف رحمه الله كتاب أحكام الوضوء وشروط الصلاة قبل باب آداب المشي إلى الصلاة اكتفاء برسالة شروط الصلاة المتضمنة لذلك كله وقد جرت العادة بقراءتها قبل هذا الكتاب فكأنها جزء منه.
[সালাতের উদ্দেশ্যে গমনের আদব সংক্রান্ত অধ্যায়]

সালাতের উদ্দেশ্যে গমনের আদব। সালাতের উদ্দেশ্যে গমনের আদব সংক্রান্ত অধ্যায় (১) পবিত্রতা অর্জন করে এবং খুশু-খুযুর সাথে সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া সুন্নাত। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন ওযু করে এবং তার ওযু খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে, অতঃপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে যেন তার এক হাতের আঙুল অন্য হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ না করায়; কেননা সে সালাতের মধ্যেই রয়েছে।" আর যখন সে তার ঘর থেকে বের হবে—যদিও তা সালাত ব্যতীত অন্য কোনো কাজের জন্যও হয়—তখন সে বলবে:

"আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম, আল্লাহর নিকট আশ্রয় গ্রহণ করলাম, আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত (পাপ থেকে ফেরার) কোনো উপায় নেই এবং (পুণ্য কাজ করার) কোনো শক্তি নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি পথভ্রষ্ট হওয়া বা পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে, অথবা পদস্খলিত হওয়া বা পদস্খলিত করা থেকে, অথবা যুলুম করা বা যুলুমের শিকার হওয়া থেকে, অথবা অজ্ঞতাসুলভ আচরণ করা বা আমার সাথে অজ্ঞতাসুলভ আচরণ করা থেকে।"

--------------------------------------------

(১) গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) সালাতের উদ্দেশ্যে গমনের আদব সংক্রান্ত অধ্যায়ের পূর্বে ওযুর বিধান এবং সালাতের শর্তাবলি সম্পর্কিত কিতাবটি উল্লেখ করেননি। কারণ তিনি 'সালাতের শর্তাবলি' নামক রিসালাটির ওপর নির্ভর করেছেন যাতে এসব বিষয় বিস্তারিত রয়েছে। প্রথা অনুযায়ী এই কিতাবটি পাঠ করার আগে উক্ত রিসালাটি পাঠ করা হয়, তাই সেটি যেন এরই একটি অংশ।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وأن يمشي إليها بسكينة ووقار لقوله صلى الله عليه وسلم: «وإذا سمعتم الإقامة فامشوا وعليكم السكينة فما أدركتم فصلوا وما فاتكم فاقضوا» وأن يقارب بين خطاه ويقول:
এবং তাতে প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের সাথে হেঁটে যাওয়া, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে: «যখন তোমরা ইকামাত শুনতে পাও তখন প্রশান্তির সাথে হেঁটে আসবে। অতঃপর তোমরা যতটুকু পাও তা আদায় করো এবং যা তোমাদের থেকে ছুটে যায় তা পূর্ণ করো।» এবং পদক্ষেপগুলো কাছাকাছি রাখা এবং বলা:
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
«اللهم إني أسألك بحق (1) السائلين عليك وبحق ممشاي هذا، فإني لم أخرج أشرا ولا بطرا ولا رياء ولا سمعة، خرجت اتقاء سخطك، وابتغاء مرضاتك، أسألك أن تنقذني من النار، وأن تغفر لي ذنوبي جميعا، إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت» ، ويقول: «اللهم اجعل في قلبي نورا وفي لساني نورا، واجعل في بصري نورا وفي سمعي نورا وأمامي نورا وخلفي نورا وعن يميني نورا وعن شمالي نورا وفوقي نورا وتحتي نورا؛ اللهم أعطني نورا وزدني نورا» .

فإذا دخل المسجد استحب له أن يقدم رجله اليمنى ويقول: «بسم الله أعوذ بالله العظيم وبوجهه الكريم وسلطانه القديم من الشيطان الرجيم. اللهم صل على محمد. اللهم اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب رحمتك» .

--------------------------------------------

(1) قوله أسألك بحق السائلين. إلخ قد ورد بذلك حديث ولم يجزم تقي الدين بن تيمية بصحته وذكر غيره أن في سنده (عطية العوفي) وهو شيعي مدلس فلا يعتد بنقله، وعلى تقدير صحته فقد أوله العلماء بأن حق السائلين الإجابة وحق ممشاي الإثابة ونحو ذلك وإجابة الدعاء والإثابة على الأعمال الصالحة من الله تعالى فلا يحتج به على سؤال الله بأحد من خلقه فهو منهي عنه غير جائز.
"হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনাকারীদের হকের মাধ্যমে এবং আমার এই পথচলার হকের মাধ্যমে তোমার নিকট প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আমি কোনো দম্ভ, অহংকার, লোকদেখানো বা সুখ্যাতির জন্য বের হইনি। আমি তোমার ক্রোধ থেকে বাঁচতে এবং তোমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে বের হয়েছি। আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি যেন তুমি আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও এবং আমার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।" এবং সে বলবে: "হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে নূর দাও, আমার জিহ্বায় নূর দাও, আমার দৃষ্টিতে নূর দাও, আমার শ্রবণে নূর দাও, আমার সামনে নূর দাও, আমার পেছনে নূর দাও, আমার ডানে নূর দাও, আমার বামে নূর দাও, আমার উপরে নূর দাও এবং আমার নিচে নূর দাও। হে আল্লাহ! আমাকে নূর দান করো এবং আমার নূর বাড়িয়ে দাও।"

অতঃপর যখন সে মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন তার জন্য ডান পা আগে রাখা মুস্তাহাব এবং বলবে: "আল্লাহর নামে, আমি মহান আল্লাহর কাছে, তাঁর সম্মানিত চেহারার মাধ্যমে এবং তাঁর অনাদি রাজত্বের মাধ্যমে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের ওপর রহমত বর্ষণ করো। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করো এবং আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দাও।"

--------------------------------------------

(১) তাঁর উক্তি "আমি প্রার্থনাকারীদের হকের মাধ্যমে প্রার্থনা করছি" ইত্যাদি। এ বিষয়ে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তবে তাক্বীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়া এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে নিশ্চিত হননি। অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, এর সনদে 'আতিয়্যাহ আল-আওফী' রয়েছেন, যিনি একজন শিয়া এবং মুদাল্লিস, তাই তাঁর বর্ণনার ওপর নির্ভর করা যায় না। আর যদি এটিকে সহীহ ধরেও নেওয়া হয়, তবে আলেমগণ এর ব্যাখ্যা করেছেন যে—প্রার্থনাকারীদের হক হলো দুআ কবুল হওয়া এবং পথচলার হক হলো প্রতিদান প্রাপ্তি ইত্যাদি। আর দুআ কবুল করা এবং নেক আমলের প্রতিদান দেওয়া মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। সুতরাং সৃষ্টির কোনো কিছুর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার বিষয়ে এটি দিয়ে দলিল পেশ করা যাবে না, কেননা তা নিষিদ্ধ এবং নাজায়েজ।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وعند خروجه يقدم رجله اليسرى ويقول: «وافتح لي أبواب فضلك» .

وإذا دخل المسجد فلا يجلس حتى يصلي ركعتين، لقوله صلى الله عليه وسلم: «إذا دخل أحدكم المسجد فلا يجلس حتى يصلي ركعتين» ويشتغل بذكر الله أو يسكت، ولا يخوض في حديث الدنيا؛ فما دام كذلك فهو في صلاة والملائكة تستغفر له ما لم يؤذ أو يحدث.

 

‌‌[باب صفة الصلاة]

باب صفة الصلاة يستحب أن تقوم إليها عند قول المؤذن: قد
এবং বের হওয়ার সময় সে তার বাম পা আগে বাড়াবে এবং বলবে: «এবং আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দিন» ।

আর যখন সে মসজিদে প্রবেশ করবে তখন দুই রাকাত নামাজ আদায় না করা পর্যন্ত বসবে না। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন সে যেন দুই রাকাত নামাজ আদায়ের পূর্বে না বসে» এবং সে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকবে অথবা নীরব থাকবে এবং পার্থিব কোনো আলোচনায় লিপ্ত হবে না। যতক্ষণ সে এই অবস্থায় থাকবে ততক্ষণ সে নামাজের সওয়াব পেতে থাকবে এবং ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে যতক্ষণ না সে কাউকে কষ্ট দেয় অথবা তার অজু ভঙ্গ হয়।

 

[নামাজের পদ্ধতির পরিচ্ছেদ]

নামাজের পদ্ধতির পরিচ্ছেদ। মুয়াজ্জিন যখন বলবে: "কদ", তখন নামাজের জন্য দাঁড়ানো মুস্তাহাব।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
قامت الصلاة إن كان الإمام في المسجد وإلا إذا رآه؛ قيل للإمام أحمد: قبل التكبير تقول شيئا؟ قال: لا؛ إذ لم ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم ولا عن أحد من أصحابه، ثم يسوى الإمام الصفوف بمحاذاة المناكب والأكعب.

ويسن تكميل الصف الأول فالأول وتراص المأمومين وسد خلل الصفوف، ويمنة (1) كل صف أفضل، وقرب الأفضل (2) من الإمام لقوله صلى الله عليه وسلم: «ليليني منكم أولو الأحلام والنهى» وخير صفوف الرجال أولها وشرها آخرها، وخير

--------------------------------------------

(1) بفتح الياء كاليسرة بفتحها أيضا.

(2) أي قرب الرجل الأفضل بسبب العلم وحفظ القرآن ونحو ذلك.
নামায দাঁড়িয়ে যাবে যদি ইমাম মসজিদে থাকেন, অন্যথায় তাঁকে দেখার সময়। ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞাসা করা হলো: তাকবীরের পূর্বে কি আপনি কিছু বলেন? তিনি বললেন: না; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কিংবা তাঁর কোনো সাহাবী থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়নি। অতঃপর ইমাম কাঁধ এবং গোড়ালি বরাবর করার মাধ্যমে কাতারসমূহ সোজা করবেন।

প্রথম কাতার এবং ক্রমান্বয়ে পরের কাতারগুলো পূর্ণ করা, মুক্তাদিদের গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়ানো এবং কাতারের ফাঁক বন্ধ করা সুন্নাত। প্রত্যেক কাতারের ডান দিক (১) অধিক উত্তম এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির (২) ইমামের নিকটে থাকা মুস্তাহাব; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে যারা প্রজ্ঞাবান ও বুদ্ধিমান তারা যেন আমার নিকটবর্তী থাকে»। পুরুষদের কাতারের মধ্যে সর্বোত্তম হলো প্রথম কাতার এবং নিকৃষ্ট হলো শেষ কাতার। এবং সর্বোত্তম...

--------------------------------------------

(১) ইয়া বর্ণে ফাতহা (যবর) সহকারে, যেমন 'ইয়াসারাহ' শব্দটিও ইয়া বর্ণে ফাতহা সহকারে।

(২) অর্থাৎ ইলম, কুরআন হিফয করা এবং এই জাতীয় কারণে যে ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, তাঁর নিকটবর্তী হওয়া।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
صفوف النساء آخرها وشرها أولها، ثم يقول وهو قائم مع القدرة: (الله أكبر) لا يجزئه غيرها، والحكمة في افتتاحها بذلك ليستحضر عظمة من تقوم بين يديه فيخشع، فإن مد همزة " الله " أو " أكبر " أو قال " أكبار " لم تنعقد (1) والأخرس يحرم بقلبه ولا يحرك لسانه وكذا حكم القراءة والتسبيح وغيرهما (2) .

 

‌‌[جهر الإمام بالتكبير]

ويسن جهر الإمام بالتكبير لقوله صلى الله عليه وسلم: «إذا كبر الإمام فكبروا» وبالتسميع لقوله: «وإذا قال سمع الله لمن حمده فقولوا ربنا ولك الحمد» .

--------------------------------------------

(1) والأكبار جمع كبر فتح الكاف وهو الطبل.

(2) كالتحميد والتسميع والتشهد والسلام يأتي به الأخرس بقلبه، لا يحرك لسانه.
নারীদের কাতারগুলোর মধ্যে শেষ কাতারগুলো (সর্বোত্তম) এবং প্রথম কাতারগুলো নিকৃষ্ট। অতঃপর সক্ষম থাকা অবস্থায় দণ্ডায়মান হয়ে বলবে: "আল্লাহু আকবার" (আল্লাহ মহান); এটি ছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না। এর মাধ্যমে সালাত শুরু করার রহস্য হলো, যাঁর সামনে সে দাঁড়িয়েছে তাঁর মহিমা অন্তরে উপস্থিত করা যাতে সে বিনয়ী হতে পারে। যদি সে "আল্লাহ" বা "আকবার" এর হামযাহকে দীর্ঘ করে (টেনে পড়ে) অথবা "আকবার" (বা-এর পর আলিফ যোগ করে) বলে, তবে সালাত সংঘটিত হবে না (১)। আর বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি তার অন্তরে তাকবীরে তাহরীমা সম্পন্ন করবে এবং জিহ্বা নাড়াবে না। কিরাআত, তাসবীহ এবং অন্যান্য বিষয়ের বিধানও তদ্রূপ (২)।

 

‌‌[ইমামের উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ]

ইমামের জন্য উচ্চস্বরে তাকবীর বলা সুন্নাত, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন ইমাম তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর দাও।" আর উচ্চস্বরে তাসমী‘ (সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলা) এর ক্ষেত্রেও একই বিধান, কারণ তিনি বলেছেন: "আর যখন তিনি বলেন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ (আল্লাহ ঐ ব্যক্তির কথা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে), তখন তোমরা বলো ‘রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ (হে আমাদের রব, সকল প্রশংসা আপনারই)।"

--------------------------------------------

(১) ‘আকবার’ (বা-এর পর আলিফসহ) শব্দটি ‘কাবার’ (কাফ বর্ণে যবরসহ) শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো ঢোল।

(২) যেমন তাহমীদ, তাসমী‘, তাশাহহুদ ও সালাম; বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি এগুলো তার অন্তরে সম্পন্ন করবে, জিহ্বা নাড়াবে না।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ويسر مأموم ومنفرد ويرفع يديه ممدودتي الأصابع مضمومة ويستقبل ببطونهما القبلة إلى حذو (1) منكبيه إن لم يكن عذر ورفعهما إشارة إلى كشف الحجاب بينه وبين ربه، كما أن السبابة إشارة إلى الوحدانية، ثم يقبض كوعه الأيسر بكفه الأيمن ويجعلهما تحت سرته ومعناه ذل بين يدي ربه عز وجل، ويستحب نظره إلى موضع سجوده في كل حالات الصلاة إلا في التشهد فينظر إلى سبابته. ثم يستفتح سرا فيقول: «سبحانك: اللهم، وبحمدك» ومعنى - سبحانك اللهم - أي

--------------------------------------------

(1) حذو: مقابل، والمنكب بفتح الميم وكسر الكاف مجمع عظم العضد والكتف.
মুক্তাদী ও একাকী সালাত আদায়কারী নিম্নস্বরে পাঠ করবেন এবং তিনি তাঁর দুই হাত প্রসারিত ও মিলিত আঙ্গুলসহ উত্তোলন করবেন এবং হাতের তালুদ্বয় কিবলামুখী করবেন কাঁধ (১) বরাবর, যদি কোনো ওজর না থাকে। আর হাত তোলা হলো তাঁর ও তাঁর রবের মাঝখানের পর্দা উন্মোচনের ইঙ্গিত, যেমনটি তর্জনী আঙ্গুল হলো একত্ববাদের ইঙ্গিত। তারপর তিনি ডান হাতের তালু দিয়ে বাম হাতের কবজি ধরবেন এবং হাত দুটি তাঁর নাভির নিচে রাখবেন; আর এর অর্থ হলো তাঁর মহা পরাক্রমশালী ও মহান রবের দুই হাতের সামনে বিনয় প্রকাশ করা। সালাতের সকল অবস্থায় সিজদার স্থানের দিকে তাকিয়ে থাকা মুস্তাহাব, তবে তাশাহহুদের সময় ব্যতীত; তখন তিনি তাঁর তর্জনীর দিকে তাকাবেন। এরপর তিনি নিঃশব্দে প্রারম্ভিক দোয়া পাঠ করবেন এবং বলবেন: "আপনি অতি পবিত্র: হে আল্লাহ, এবং আপনারই প্রশংসা।" আর "আপনি অতি পবিত্র হে আল্লাহ" কথাটির অর্থ হলো—

--------------------------------------------

(১) হাযউ (বরাবর): সামনাসামনি। আর 'মানকিব' হলো মিম বর্ণে ফাতহা এবং কাফ বর্ণে কাসরা সহকারে বাহুর হাড় ও কাঁধের মিলনস্থল।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
أنزهك التنزيه اللائق بجلالك يا ألله، وقوله وبحمدك، قيل معناه: أجمع لك بين التسبيح والحمد «وتبارك اسمك» أي البركة تنال بذكرك «وتعالى جدك» أي جلت عظمتك «ولا إله غيرك» أي لا معبود في الأرض ولا في السماء بحق سواك يا ألله، ويجوز الاستفتاح بكل ما ورد (1) ثم يتعوذ سرا فيقول: «أعوذ بالله من الشيطان الرجيم» ، وكيفما تعوذ من الوارد فحسن، ثم يبسمل سرا، وليست من الفاتحة ولا غيرها بل آية من القرآن قبلها وبين كل سورتين سوى

--------------------------------------------

(1) قال الشيخ تقي الدين: الأفضل أن يأتي بكل نوع أحيانا.
হে আল্লাহ, আমি আপনার মহিমার উপযোগী পূর্ণ পবিত্রতা ঘোষণা করছি; এবং তাঁর বাণী ‘আপনার প্রশংসার সাথে’, এর অর্থ বলা হয়েছে: আমি আপনার জন্য পবিত্রতা ও প্রশংসা উভয়টি একত্রিত করছি। ‘আপনার নাম বরকতময়’ অর্থাৎ আপনার স্মরণের মাধ্যমেই বরকত বা কল্যাণ অর্জিত হয়। ‘আপনার মাহাত্ম্য সুউচ্চ’ অর্থাৎ আপনার শ্রেষ্ঠত্ব অতি মহান। ‘আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই’ অর্থাৎ হে আল্লাহ, আসমান ও জমিনে আপনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। এবং সুন্নাহতে বর্ণিত সকল প্রকার দোয়া দ্বারা নামাজ শুরু করা বৈধ (১)। অতঃপর সংগোপনে আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং বলবে: ‘আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি’। বর্ণিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে যেভাবে সে আশ্রয় প্রার্থনা করবে তা-ই ভালো। অতঃপর নিচু স্বরে বিসমিল্লাহ পড়বে; এটি সূরা ফাতিহা কিংবা অন্য কোনো সূরার অংশ নয়, বরং এটি ফাতিহার পূর্বে এবং প্রতিটি সূরার মাঝে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত মাত্র (ব্যতীত...)

--------------------------------------------

(১) শাইখ তাকীউদ্দীন বলেছেন: মাঝে মাঝে প্রতিটি প্রকারের দোয়া পাঠ করাই উত্তম।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
" براءة " (1) ويسن كتابتها أوائل الكتب كما كتبها سليمان عليه السلام، وكما كان النبي صلى الله عليه وسلم يفعل، وتذكر في ابتداء جميع الأفعال وهي تطرد الشيطان قال أحمد: لا تكتب أمام الشعر ولا معه (2) ثم يقرأ الفاتحة مرتبة متوالية مشددة، وهي ركن في كل ركعة كما في الحديث: «لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب» وتسمى أم القرآن لأن فيها الإلهيات والمعاد والنبوات، وإثبات القدر، فالآيتان

--------------------------------------------

(1) فيكره ابتداؤها بها قيل لأنها مع الأنفال سورة واحدة فلا يفصل بينهما بها، وقيل لنزولها بالسيف.

(2) قال القاضي: لأنه يشوبه الكذب والهجوم غالبا، وأما النظم في الفقه والتوحيد والنحو ونحو ذلك فأجاز العلماء كتابتها أمامه لعدم العلة التي ذكرها القاضي.
"বারাআত" (১)। গ্রন্থসমূহের শুরুতে এটি (বিসমিল্লাহ) লেখা সুন্নাহ, যেমনটি সুলায়মান আলাইহিস সালাম লিখেছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করতেন। এটি সকল কাজের শুরুতে স্মরণ করা হয় এবং এটি শয়তানকে বিতাড়িত করে। ইমাম আহমাদ বলেন: কবিতার আগে বা কবিতার সাথে এটি লেখা যাবে না (২)। এরপর ধারাবাহিকভাবে, বিরতিহীনভাবে এবং তাজদিদসমূহ সঠিকভাবে আদায়ের মাধ্যমে সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন। এটি প্রতিটি রাকাতে রুকন (অপরিহার্য অংশ), যেমনটি হাদিসে এসেছে: "সেই ব্যক্তির কোনো সালাত নেই যে কিতাবের শুরু (সূরা ফাতিহা) পাঠ করেনি।" একে উম্মুল কুরআন বলা হয় কারণ এতে ইলাহিয়াত, পরকাল, নবুওয়াত এবং তাকদীরের প্রমাণ নিহিত রয়েছে। অতঃপর আয়াত দুটি হলো—

--------------------------------------------

(১) এর শুরুতে বিসমিল্লাহ পাঠ করা মাকরুহ। বলা হয় যে, এটি এবং আনফাল একই সূরা হওয়ার কারণে এ দুটির মাঝে বিসমিল্লাহ দ্বারা পার্থক্য করা হয়নি। আবার বলা হয়েছে যে, এটি তলোয়ারের (জিহাদের) নির্দেশের সাথে অবতীর্ণ হয়েছে বলে এতে বিসমিল্লাহ নেই।

(২) কাযী বলেন: কারণ কবিতায় সাধারণত মিথ্যা ও আক্রমণের আধিক্য থাকে। তবে ফিকহ, তাওহীদ, নাহু এবং এই জাতীয় বিষয়ের কাব্যগ্রন্থের শুরুতে এটি লেখা উলামায়ে কেরাম বৈধ বলেছেন, কারণ কাযী বর্ণিত সেই কারণটি এখানে বিদ্যমান নেই।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
الأوليان يدلان على الإلهيات و {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة: 4] يدل على المعاد وإياك نعبد {وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} [الفاتحة: 5] يدل على الأمر والنهي والتوكل وإخلاص ذلك كله لله، وفيها التنبيه على طريق الحق وأهله المقتدى بهم والتنبيه على طريق الغي والضلال.

ويستحب أن يقف عند كل آية لقراءته صلى الله عليه وسلم وهي أعظم سورة في القرآن، وأعظم آية فيه الكرسي وفيها إحدى عشرة تشديدة.

ويكره الإفراط في التشديد والإفراط في المد، فإذا فرغ قال: " آمين " بعد سكتة لطيفة ليعلم أنها ليست من القرآن ومعناها اللهم استجب، يجهر بها إمام ومأموم معا في صلاة
প্রথম দু’টি (আয়াত) উলুহিয়্যাতের প্রমাণ দেয় এবং {প্রতিফল দিবসের মালিক} [আল-ফাতিহা: ৪] পরকালের প্রমাণ দেয়। {আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই নিকট সাহায্য চাই} [আল-ফাতিহা: ৫] আদেশ, নিষেধ, তাওয়াক্কুল এবং এই সবকিছুর একনিষ্ঠতা আল্লাহর জন্য নিবেদিত হওয়ার প্রমাণ দেয়। এতে সত্যের পথ ও সেই পথের অনুকরণযোগ্য অনুসারীদের বর্ণনা এবং ভ্রষ্টতা ও পথভ্রষ্টতার পথ সম্পর্কেও সতর্কতা রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিরাআতের অনুসরণে প্রতিটি আয়াতের শেষে থামা মুস্তাহাব। এটি কুরআনের মহানতম সূরা এবং এতে মহানতম আয়াত হলো আয়াতুল কুরসী। আর এতে (সূরা ফাতিহায়) এগারোটি তাশদীদ রয়েছে।

তাশদীদের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি এবং মাদ্দের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা মাকরূহ। কিরাআত শেষ করার পর সামান্য বিরতি দিয়ে বলবেন: "আমীন", যাতে বুঝা যায় যে এটি কুরআনের অংশ নয়। এর অর্থ হলো— হে আল্লাহ, কবুল করুন। ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে সালাতে এটি একত্রে উচ্চস্বরে বলবেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
جهرية، ويستحب سكوت الإمام بعدها في صلاة جهرية لحديث سمرة، ويلزم الجاهل تعلمها، فإن لم يفعل مع القدر لم تصح صلاته، ومن لم يحسن شيئا منها ولا من غيرها من القرآن لزمه أن يقول: «سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر» لقوله صلى الله عليه وسلم: «إن كان معك قرآن فاقرأ وإلا فاحمد الله وهلله وكبره ثم اركع» رواه أبو داود والترمذي، ثم يقرأ البسملة سرا، ثم يقرأ سورة كاملة ويجزئ آية إلا أن أحمد استحب أن تكون طويلة (1) فإن

--------------------------------------------

(1) كآية الدين وآية الكرسي فإن قرأ من أثناء سورة فلا بأس أن يبسمل.
উচ্চস্বরে পঠনীয়; আর সশব্দ কিরাআতের সালাতে এর (সূরা ফাতিহার) পর ইমামের নীরবতা অবলম্বন করা মুস্তাহাব, সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসের কারণে। অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য এটি শেখা আবশ্যক; সুতরাং যদি সে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তা না করে, তবে তার সালাত শুদ্ধ হবে না। আর যে ব্যক্তি এর কোনো অংশ এবং কুরআনের অন্য কোনো অংশও ভালোভাবে পাঠ করতে পারে না, তার জন্য এটি বলা আবশ্যক: «আল্লাহ পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ»। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যদি তোমার কাছে কুরআনের কিছু থাকে তবে তা পাঠ করো, নতুবা আল্লাহর প্রশংসা করো, তাঁর একত্ব ঘোষণা করো এবং তাঁর মহিমা বর্ণনা করো, অতঃপর রুকু করো»। এটি আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। অতঃপর সে নিঃশব্দে বিসমিল্লাহ পাঠ করবে, তারপর একটি পূর্ণ সূরা পাঠ করবে। একটি আয়াত পাঠ করলেও যথেষ্ট হবে, তবে ইমাম আহমাদ সেটি দীর্ঘ হওয়া মুস্তাহাব বলেছেন (১) আর যদি

--------------------------------------------

(১) যেমন ঋণের আয়াত এবং আয়াতুল কুরসী। সুতরাং কেউ যদি সূরার মধ্যভাগ থেকে পাঠ করে তবে বিসমিল্লাহ পাঠ করাতে কোনো অসুবিধা নেই।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
كان في غير الصلاة فإن شاء جهر بالبسملة وإن شاء أسر.

وتكون السورة في الفجر من طوال المفصل وأوله (ق) لقول أوس: سألت أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم كيف تحزبون القرآن؟ قالوا ثلاثا، وخمسا وسبعا وتسعا، وإحدى عشرة وثلاث عشرة، وحزب المفصل واحد، ويكره أن يقرأ في الفجر من قصاره من غير عذر كسفر ومرض ونحوهما (1) ويقرأ في المغرب من قصاره ويقرأ فيها بعض الأحيان من طواله لأنه صلى الله عليه وسلم قرأ فيها بالأعراف (2) .

--------------------------------------------

(1) كغلبة نعاس وخوف لمخالفته السنة.

(2) فرقها في الركعتين.
যদি তা সালাতের বাইরে হয়, তবে ব্যক্তি চাইলে সশব্দে বিসমিল্লাহ পাঠ করবে এবং চাইলে নিঃশব্দে পাঠ করবে।

আর ফজরের সালাতে সূরা হতে হবে তিওয়ালুল মুফাসসাল (মুফাসসালের দীর্ঘ সূরাসমূহ) থেকে, যার শুরু হলো সূরা ‘ক্বাফ’; আউস-এর উক্তির কারণে: আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা কীভাবে কুরআনকে হিজব বা খণ্ডে বিভক্ত করেন? তাঁরা বললেন—তিনটি, পাঁচটি, সাতটি, নয়টি, এগারোটি ও তেরোটি সূরা মিলে এক একটি খণ্ড, আর মুফাসসাল খণ্ডটি একক। সফর, অসুস্থতা বা অনুরূপ কোনো ওজর ব্যতীত ফজরের সালাতে ক্বিসারুল মুফাসসাল (মুফাসসালের ছোট সূরাসমূহ) পাঠ করা অপছন্দনীয় বা মাকরূহ (১)। আর মাগরিবের সালাতে ক্বিসারুল মুফাসসাল পাঠ করবে, তবে মাঝে মাঝে এতে দীর্ঘ সূরাসমূহও পাঠ করবে, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতে সূরা আল-আ’রাফ পাঠ করেছিলেন (২)।

--------------------------------------------

(১) যেমন ঘুমের আধিক্য এবং ভয়, কারণ এটি সুন্নাহর পরিপন্থী।

(২) তিনি তা দুই রাকাতে বিভক্ত করে পাঠ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ويقرأ في البواقي من أوساطه إن لم يكن عذر " (1) وإلا قرأ بأقصر منه، ولا بأس بجهر (2) امرأة في الجهرية إذا لم يسمعها أجنبي، والمتنفل في الليل يراعي المصلحة فإن كان قريبا منه من يتأذى بجهر أسر وإن كان ممن يستمع له جهر، وإن أسر في جهر وجهر في سر بنى على قراءته.

وترتيب الآيات واجب لأنه بالنص وترتيب السور بالاجتهاد لا بالنص في قول جمهور العلماء فتجوز قراءة هذه قبل هذه، ولهذا

--------------------------------------------

(1) أي من مرض وسفر ونحوهما.

(2) ويكره الجهر بالقراءة لمأموم ويخير منفرد وقائم لقضاء ما فاته بعد سلام إمامه بين جهر وإخفات.
সালাতের অবশিষ্ট রাকাআতগুলোতে কোনো ওজর না থাকলে (সূরার) মধ্যম অংশ থেকে পাঠ করবেন (১), অন্যথায় তার চেয়ে ছোট সূরা পাঠ করবেন। জাহরি (উচ্চস্বরে পড়ার) সালাতগুলোতে কোনো পরপুরুষ না শুনলে নারীর জন্য উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করাতে (২) কোনো দোষ নেই। আর রাতে নফল সালাত আদায়কারী জনকল্যাণ বা উপযোগিতা বিবেচনা করবেন; যদি তার নিকটে এমন কেউ থাকে যার উচ্চস্বরে কিরাতের কারণে কষ্ট হয়, তবে তিনি নিম্নস্বরে পড়বেন। আর যদি এমন কেউ থাকে যে কিরাত শুনতে আগ্রহী, তবে তিনি উচ্চস্বরে পাঠ করবেন। আর যদি কেউ উচ্চস্বরের সালাতে নিম্নস্বরে এবং নিম্নস্বরের সালাতে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করেন, তবে তিনি কিরাতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন (সালাত বাতিল হবে না)।

আয়াতের তারতিব (পর্যায়ক্রম) বজায় রাখা ওয়াজিব, কারণ তা নস (সুস্পষ্ট দলীল) দ্বারা সাব্যস্ত। আর জমহুর (অধিকাংশ) আলিমের মতে সূরার তারতিব ইজতিহাদ দ্বারা সাব্যস্ত, নস দ্বারা নয়; তাই একটির আগে অন্যটি পাঠ করা বৈধ। আর এই কারণেই...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ অসুস্থতা, সফর বা এই জাতীয় কোনো কারণ।

(২) মুক্তাদীর জন্য উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করা মাকরুহ। আর একাকী সালাত আদায়কারী এবং ইমামের সালামের পর ছুটে যাওয়া অংশ পূর্ণ করতে দণ্ডায়মান ব্যক্তি উচ্চস্বর এবং নিম্নস্বরের মধ্যে যেকোনোটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার রাখেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
تنوعت مصاحف الصحابة في كتابتها وكره أحمد قراءة حمزة والكسائي والإدغام الكبير لأبي عمرو، ثم يرفع يديه كرفعه الأول بعد فراغه من القراءة وبعد أن يثبت قليلا حتى يرجع إليه نفسه، ولا يصل قراءته بتكبير الركوع، فيكبر فيضع يديه مفرجتي الأصابع على ركبتيه ملقما كل يد ركبة ويمد ظهره مستويا ويجعل رأسه حياله لا يرفعه ولا يخفضه لحديث عائشة ويجافي مرفقيه عن جنبيه لحديث أبي حميد، ويقول في ركوعه: (سبحان ربي العظيم) لحديث حذيفة رواه مسلم، وأدنى الكمال ثلاث وأعلا في حق الإمام عشر وكذا حكم سبحان ربي الأعلى في السجود، ولا يقرأ في
সাহাবায়ে কিরামের মুসহাফসমূহের লিখনপদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন ছিল। ইমাম আহমাদ হামযা ও কিসায়ীর কিরাত এবং আবু আমরের 'ইদগামে কাবীর' অপছন্দ করতেন। অতঃপর তিনি (সালাত আদায়কারী) কিরাত শেষ করার পর এবং সামান্য সময় স্থির হওয়ার পর, যাতে তার শ্বাস স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, প্রথমবার হাত তোলার মতো করে পুনরায় হাত উঠাবেন। তিনি তার কিরাতকে রুকুর তাকবীরের সাথে মিলিয়ে দেবেন না। অতঃপর তিনি তাকবীর বলবেন এবং দুই হাতের আঙ্গুলগুলো ফাঁকা করে দুই হাঁটুর উপর রাখবেন, যেন প্রতিটি হাত দিয়ে একটি করে হাঁটু আঁকড়ে ধরে আছেন। তিনি তার পিঠ সোজাভাবে প্রসারিত করবেন এবং মাথাকে পিঠ বরাবর রাখবেন; আয়েশার (রা.) বর্ণিত হাদীসের কারণে তিনি মাথা উঁচিয়েও রাখবেন না আবার নিচু করেও রাখবেন না। তিনি তার দুই কনুইকে শরীরের দুই পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখবেন, যা আবু হুমাইদ (রা.) বর্ণিত হাদীসে এসেছে। তিনি রুকুতে বলবেন: (পবিত্রতা বর্ণনা করছি আমার মহান রবের); হুযাইফা (রা.) বর্ণিত হাদীসের কারণে, যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন। পূর্ণতার সর্বনিম্ন মাত্রা হলো তিনবার এবং ইমামের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ হলো দশবার। সিজদাতে 'পবিত্রতা বর্ণনা করছি আমার সর্বোচ্চ রবের' পাঠ করার বিধানও অনুরূপ। তিনি পাঠ করবেন না...
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الركوع والسجود لنهيه صلى الله عليه وسلم عن ذلك، ثم يرفع رأسه ويرفع يديه كرفعه الأول قائلا، إمام ومنفرد: (سمع الله لمن حمده) وجوبا (1) ومعنى سمع استجاب فإذا استتم قائما قال: «ربنا ولك الحمد ملء السماوات والأرض وملء ما شئت من شيء بعد» (2) وإن شاء زد «أهل الثناء والمجد، أحق ما قال العبد وكلنا لك عبد، لا مانع لما أعطيت ولا معطي لما منعت ولا ينفع ذا الجد منك الجد» وله أن يقول غيره مما ورد. وإن شاء قال: «اللهم ربنا لك الحمد»

--------------------------------------------

(1) ثم إن شاء أرسل يديه من غير وضع إحداهما على الأخرى، وإن شاء وضع يمينه وشماله.

(2) أي كالكرسي وغيره مما لا يعلم سعته إلا الله تعالى.
রুকু ও সিজদাহ (করা যাবে না) কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে নিষেধ করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর মাথা তুলবেন এবং প্রথমবার হাত তোলার মতো তাঁর হাত উঠাবেন এবং ইমাম ও একাকী সালাত আদায়কারী আবশ্যিকভাবে (১) বলবেন: "আল্লাহ তাঁর কথা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে।" আর 'শোনা'র অর্থ হলো সাড়া দেওয়া। যখন সোজা হয়ে দাঁড়ানো সম্পন্ন করবেন, তখন বলবেন: "হে আমাদের রব, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা; যা আসমানসমূহ পূর্ণ করে, জমিন পূর্ণ করে এবং এরপরে আপনি যা ইচ্ছা করেন তা পূর্ণ করে" (২)। আর যদি চায় তবে এই কথাগুলো বৃদ্ধি করবে: "হে প্রশংসা ও গৌরবের অধিকারী, বান্দা যা বলে তার মধ্যে এটিই অধিক সত্য—আর আমরা সকলেই আপনারই বান্দা; আপনি যা দান করেছেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেছেন তা দান করার কেউ নেই। আর আপনার বিপরীতে কোনো সম্পদশালীর সম্পদ কোনো উপকারে আসবে না।" এছাড়া বর্ণিত অন্যান্য দোয়াও সে বলতে পারে। আর চাইলে সে বলতে পারে: "হে আল্লাহ, হে আমাদের রব, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা।"

--------------------------------------------

(১) তারপর চাইলে সে তার হাত দুটি একটির ওপর অন্যটি না রেখে ছেড়ে দেবে, আর চাইলে সে তার ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখবে।

(২) অর্থাৎ কুরসি এবং অন্যান্য বিষয়, যার বিশালতা আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ জানে না।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
بلا واو لوروده في حديث أبي سعيد وغيره، فإن أدرك المأموم الإمام في هذا الركوع فهو مدرك للركعة، ثم يكبر ويخر ساجدا ولا يرفع يديه، فيضع ركبتيه ثم يديه ثم وجهه ويمكن جبهته وأنفه وراحتيه من الأرض ويكون على أطراف أصابع رجليه موجها أطرافها إلى القبلة، والسجود على هذه الأعضاء السبعة ركن، ويستحب مباشرة المصلى (1) ببطون كفيه، وضم أصابعهما موجهة إلى القبلة غير مقبوضة رافعا مرفقيه.

 

‌‌[الصلاة في مكان شديد الحر أو شديد البرد]

وتكره الصلاة في مكان شديد الحر أو شديد

--------------------------------------------

(1) بفتح اللام أي موضع الصلاة.
আবু সাঈদ ও অন্যদের বর্ণিত হাদিসে 'ওয়াও' (এবং) বিহীন বর্ণিত হওয়ায় তা সেভাবেই পড়বে। যদি মুক্তাদি ইমামকে এই রুকু অবস্থায় পায়, তবে সে উক্ত রাকাতটি লাভ করল। এরপর সে তাকবির বলবে এবং সিজদাহে লুটিয়ে পড়বে, আর হাত উত্তোলন করবে না। অতঃপর সে তার হাঁটুদ্বয়, এরপর হাতদ্বয় এবং এরপর চেহারা জমিনে স্থাপন করবে। সে তার কপাল, নাক এবং উভয় হাতের তালু জমিনের সাথে স্থিরভাবে বসাবে। সে তার উভয় পায়ের আঙ্গুলের অগ্রভাগের ওপর ভর দিবে এবং সেগুলোর অগ্রভাগ কিবলার দিকে রাখবে। এই সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদাহ করা একটি রুকন। হাতের তালুর ভেতরের অংশ সরাসরি সিজদাহর স্থানের (১) ওপর রাখা এবং আঙ্গুলসমূহ মুষ্টিবদ্ধ না করে বরং কিবলার দিকে সোজা করে মিলিয়ে রাখা এবং কনুইদ্বয় উঁচু করে রাখা মুস্তাহাব।

 

‌‌[অত্যধিক উষ্ণ বা অত্যধিক শীতল স্থানে সালাত আদায়]

অত্যধিক উষ্ণ বা অত্যধিক তীব্র শীতল স্থানে সালাত আদায় করা মাকরুহ

--------------------------------------------

(১) 'লাম' বর্ণে ফাতহা (জবর) যোগে, অর্থাৎ সালাত আদায়ের স্থান।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
البرد لأنه يذهب الخشوع، ويسن للساجد أن يجافي عضديه عن جنبيه وبطنه عن فخذيه، وفخذيه عن ساقيه، ويضع يديه حذو منكبيه، ويفرق بين ركبتيه ورجليه. ثم يرفع رأسه مكبرا ويجلس مفترشا، يفرش رجله اليسرى ويجلس عليها وينصب اليمنى ويخرجها من تحته ويجعل بطون أصابعها إلى الأرض لتكون أطراف أصابعها إلى القبلة؛ لحديث أبي حميد في صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم باسطا يديه على فخذيه مضمومة الأصابع، ويقول: «رب اغفر لي» ولا بأس بالزيادة لقول ابن عباس: «كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول بين السجدتين " رب اغفر لي وارحمني واهدني وارزقني وعافني» رواه أبو داود. ثم
ঠান্ডা, কারণ তা একাগ্রতা দূর করে দেয়। সিজদাকারীর জন্য সুন্নত হলো তার দুই বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে, পেটকে উরু থেকে এবং উরুদ্বয়কে নলা থেকে পৃথক রাখা। সে তার হাত দুটিকে কাঁধ বরাবর রাখবে এবং দুই হাঁটু ও দুই পায়ের মধ্যে ব্যবধান রাখবে। অতঃপর সে তাকবীর বলে মাথা উঠাবে এবং 'ইফতিরাশ' পদ্ধতিতে (পা বিছিয়ে) বসবে। সে তার বাম পা বিছিয়ে দেবে এবং তার ওপর বসবে, আর ডান পা খাড়া রাখবে এবং তা নিজের নিচ থেকে বের করে রাখবে। সে ডান পায়ের আঙুলের উদর বা পেটগুলো মাটির দিকে রাখবে যাতে আঙুলের অগ্রভাগ কিবলার দিকে থাকে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতি সম্পর্কে আবু হুমায়দ-এর হাদিসের কারণে। তিনি তাঁর দুই হাত উরুর ওপর বিছিয়ে রাখতেন এবং আঙুলগুলো মিলিত থাকত। আর সে বলবে: "হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন।" এতে বৃদ্ধি করাতে কোনো দোষ নেই, কারণ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই সিজদার মাঝখানে বলতেন: 'হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন, আমার ওপর দয়া করুন, আমাকে হিদায়াত দান করুন, আমাকে রিজিক দান করুন এবং আমাকে সুস্থতা দান করুন'।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর...
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
يسجد الثانية كالأولى وإن شاء دعا فيه لقوله صلى الله عليه وسلم: «وأما السجود فأكثروا فيه من الدعاء فقمن أن يستجاب لكم» رواه مسلم، وله عن أبي هريرة «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول في سجوده: " اللهم اغفر لي ذنبي كله دقه وجله وأوله وآخره وعلانيه وسره» . ثم يرفع رأسه مكبرا قائما على صدور قدميه معتمدا على ركبتيه لحديث وائل إلا أن يشق لكبر أو مرض أو ضعف (1) ثم يصلي الركعة الثانية كالأولى إلا في تكبيرة الإحرام والاستفتاح، ولو لم يأت به في الأولى.

--------------------------------------------

(1) أي فيعتمد على الأرض.
তিনি প্রথম সিজদার মতো দ্বিতীয় সিজদা করবেন এবং চাইলে তাতে দুআ করবেন; কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আর সিজদার ক্ষেত্রে তোমরা তাতে অধিক পরিমাণে দুআ করো, কারণ তা তোমাদের দুআ কবুল হওয়ার অধিক উপযুক্ত ক্ষেত্র।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর মুসলিমেই আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সিজদায় বলতেন: হে আল্লাহ! আমার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিন—তার ছোট ও বড়, আগের ও পরের এবং প্রকাশ্য ও গোপন।" অতঃপর তিনি তাকবীর বলে মাথা তুলবেন এবং পায়ের পাতার সম্মুখভাগের ওপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবেন, আর ওয়াইল (রা.)-এর হাদীসের কারণে তিনি তাঁর হাঁটুদ্বয়ের ওপর ভর করবেন; তবে বার্ধক্য, অসুস্থতা বা দুর্বলতার কারণে যদি তা কষ্টসাধ্য হয় (১)। অতঃপর তিনি দ্বিতীয় রাকাতটি প্রথম রাকাতের মতোই আদায় করবেন, তবে তাকবীরে তাহরীমা ও ইস্তিফতাহ (সানা) ব্যতীত; যদিও তিনি প্রথম রাকাতে সানা পাঠ না করে থাকেন।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ এমতাবস্থায় তিনি জমিনের ওপর ভর দেবেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ثم يجلس للتشهد مفترشا جاعلا يديه على فخذيه باسطا أصابع يسراه مضمومة مستقبلا بها القبلة قابضا من يمناه الخنصر والبنصر محلقا إبهامه مع وسطاه، ثم يتشهد سرا ويشير بسبابته اليمنى (1) في تشهده إشارة إلى التوحيد ويشير بها أيضا عند دعائه في صلاة وغيرها؛ لقول ابن الزبير: «كان النبي صلى الله عليه وسلم يشير بأصبعه إذا دعا ولا يحركها» . رواه أبو داود، فيقول: «التحيات لله والصلوات والطيبات السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته. السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله» ،

--------------------------------------------

(1) أي مرار أكل مرة عند ذكر لفظ الله تنبها على التوحيد.
এরপর তিনি তাশাহহুদের জন্য বাম পা বিছিয়ে (ইফতিরাশ অবস্থায়) বসবেন এবং তাঁর উভয় হাত দুই উরুর ওপর রাখবেন; এমতাবস্থায় তিনি বাম হাতের আঙুলগুলো প্রসারিত ও মিলিত করে কিবলামুখী রাখবেন এবং ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙুল মুষ্টিবদ্ধ করবেন আর বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার সাথে যুক্ত করে বৃত্ত তৈরি করবেন। অতঃপর তিনি নিম্নস্বরে তাশাহহুদ পাঠ করবেন এবং তাঁর তাশাহহুদে তাওহিদের প্রতি ইশারা স্বরূপ ডান হাতের তর্জনী দ্বারা ইশারা করবেন (১)। সালাতের মধ্যে বা সালাতের বাইরে দোয়ার সময়ও তিনি এর মাধ্যমে ইশারা করবেন; কেননা ইবনুয যুবাইর (রা.) বলেছেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন দোয়া করতেন তখন তাঁর আঙুল দিয়ে ইশারা করতেন এবং তা নাড়াতেন না।» এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলবেন: «যাবতীয় অভিবাদন আল্লাহর জন্য, যাবতীয় সালাত ও যাবতীয় পবিত্র বিষয়ও আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।»,

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ তাওহিদের প্রতি সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিবার 'আল্লাহ' শব্দ উল্লেখ করার সময় ইশারা করবেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
، وأي تشهد تشهده مما صح عن النبي صلى الله عليه وسلم جاز، والأولى تخفيفه وعدم الزيادة عليه وهذا التشهد الأول، ثم إن كانت الصلاة ركعتين فقط صلى على النبي صلى الله عليه وسلم فيقول: «اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على آل إبراهيم إنك حميد مجيد وبارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على آل إبراهيم إنك حميد مجيد» ، ويجوز أن يصلى على النبي صلى الله عليه وسلم مما ورد، وآل محمد: أهل بيته (1) وقوله (التحيات)

--------------------------------------------

(1) قوله (أهل بيته) هذا أحد الوجوه في معنى الآل. وقال في الإقناع الذي هو أصل هذا الكتاب: وآله أتباعه على دينه، قال الشارح كان لم يكونوا من أقاربه ثم استدل بما يطول ذكره وهذا في مقام الدعاء كما هنا، وأما في مقام تحريم الزكاة على آله فالمراد بهم بنو هاشم وبنو المطلب، أو بنو هاشم فقط والبحث مفصل في محله.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহভাবে বর্ণিত যে কোনো তাশাহহুদ পাঠ করা বৈধ। তবে এটি সংক্ষেপে রাখা এবং তাতে অতিরিক্ত কিছু বৃদ্ধি না করাই উত্তম; আর এটি হলো প্রথম তাশাহহুদ। এরপর যদি সালাত কেবল দুই রাকাত বিশিষ্ট হয়, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করবেন এবং বলবেন: «হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহীমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইব্রাহীমের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত»। আর বর্ণিত দরুদসমূহের মধ্য থেকে যে কোনোটি পাঠ করা বৈধ। আর 'মুহাম্মদের পরিবার' বলতে তাঁর পরিজন উদ্দেশ্য (১) এবং তাঁর বাণী (আত্তাহিয়াতু)...

--------------------------------------------

(১) তাঁর বক্তব্য (তাঁর পরিজন); এটি 'আল' (পরিবার/অনুসারী) শব্দের অর্থের অন্যতম একটি দিক। 'আল-ইকনা' গ্রন্থে—যা এই কিতাবের মূল উৎস—বলা হয়েছে: তাঁর 'আল' হলো তাঁর দ্বীনের অনুসারীগণ। ভাষ্যকার বলেন, তারা তাঁর আত্মীয় না হলেও (অনুসারী হিসেবে আল-এর অন্তর্ভুক্ত)। অতঃপর তিনি এমন প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন যা উল্লেখ করা দীর্ঘ হবে। আর এটি দোয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেমনটি এখানে বর্ণিত হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের ওপর যাকাত হারাম হওয়ার বিধানের ক্ষেত্রে এর দ্বারা বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব উদ্দেশ্য, অথবা কেবল বনু হাশিম উদ্দেশ্য; এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
أي جميع التحيات (1) لله تعالى استحقاقا وملكا (والصلوات) الدعوات (والطيبات) الأعمال الصالحة فهو سبحانه يحيي ولا يسلم عليه لأن السلام دعاء. وتجوز الصلاة على غير النبي صلى الله عليه وسلم منفردا إذا لم يكثر ولم تتخذ شعارا لبعض الناس أو يقصد بها بعض الصحابة دون بعض، وتسن الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم في غير الصلاة وتتأكد تأكدا كثيرا عند ذكره. وفي يوم الجمعة وليلتها، ويسن أن يقول:

--------------------------------------------

(1) أي التعظيمات.
অর্থাৎ সমস্ত অভিবাদন (১) আল্লাহ তাআলার প্রাপ্য এবং তাঁরই মালিকানাধীন। (সালাতসমূহ) হলো দুআসমূহ। (এবং পবিত্র বিষয়সমূহ) হলো নেক আমলসমূহ। সুতরাং তিনি সুবহানাহু তাআলার প্রতি অভিবাদন নিবেদন করা হয়, কিন্তু তাঁর ওপর সালাম পেশ করা হয় না; কারণ সালাম হলো এক প্রকার দুআ। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো ওপর এককভাবে সালাত পাঠ করা জায়েয, যদি তা অধিক পরিমাণে না হয় এবং নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীর প্রতীকে পরিণত না হয় অথবা এর মাধ্যমে কিছু সাহাবীকে বাদ দিয়ে কেবল নির্দিষ্ট কয়েকজনকে উদ্দেশ্য করা না হয়। আর নামাযের বাইরেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর সালাত পাঠ করা সুন্নাত এবং তাঁর নাম উল্লেখের সময় এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তাকিদপ্রাপ্ত। জুমার দিনে ও রাতেও এটি সুন্নাত। আর এটি বলা সুন্নাত:

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ সম্মান প্রদর্শনসমূহ।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
«اللهم إني أعوذ بك من عذاب جهنم ومن عذاب القبر وأعوذ بك من فتنة المحيا والممات وأعوذ بك من فتتة المسيح الدجال» وإن دعا بغير ذلك فحسن لقوله صلى الله عليه وسلم: «ثم يتخير من الدعاء أعجبه إليه» ما لم يشق على مأموم، ويجوز الدعاء لشخص معين لفعله صلى الله عليه وسلم في دعائه للمستضعفين بمكة، ثم يسلم وهو جالس مبتدئا عن يمينه قائلا: «السلام عليكم ورحمة الله» وعن يساره كذلك، والالتفات سنة، ويكون عن يساره أكثر بحيث يرى خده، ويجهر إمام بالتسليمة الأولى فقط ويسرهما غيره، ويسن حذفه وهو عدم تطويله أي لا يمد به صوته وينوي به الخروج من الصلاة وينوي به أيضا السلام على الحفظة
"হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের আজাব এবং কবরের আজাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আর আমি আপনার নিকট জীবন ও মরণের ফিতনা এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" আর যদি এ ছাড়া অন্য কোনো দোয়া করা হয় তবে তা উত্তম; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইরশাদ: "অতঃপর সে দোয়ার মধ্য থেকে যা তার নিকট অধিক পছন্দনীয় তা নির্বাচন করে নেবে", যতক্ষণ না তা মুক্তাদীর জন্য কষ্টসাধ্য হয়। আর নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য দোয়া করা বৈধ, যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় দুর্বল ও নিপীড়িতদের জন্য দোয়ার সময় এমনটি করেছিলেন। অতঃপর সে উপবিষ্ট অবস্থায় তার ডান দিক থেকে শুরু করে সালাম ফেরাবে এই বলে: "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ", এবং বাম দিকেও অনুরূপ বলবে। আর মুখ ঘোরানো সুন্নত এবং বাম দিকে মুখ ঘোরানোটা অধিক হবে যাতে তার গাল দৃশ্যমান হয়। ইমাম কেবল প্রথম সালামটি উচ্চস্বরে প্রদান করবেন এবং ইমাম ব্যতীত অন্যরা উভয় সালামই নিচু স্বরে দেবেন। আর সালাম সংক্ষেপ করা সুন্নত, যার অর্থ হলো তা দীর্ঘ না করা অর্থাৎ এর মাধ্যমে আওয়াজকে প্রলম্বিত না করা। আর এর দ্বারা সে নামাজ থেকে নিষ্ক্রান্ত হওয়ার নিয়ত করবে এবং ফেরেশতাদের ওপর সালাম প্রদানেরও নিয়ত করবে।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وعلى الحاضرين، وإن كانت الصلاة أكثر من ركعتين نهض مكبرا على صدور قدميه إذا فرغ من التشهد الأول (1) ويأتي بما بقي من صلاته كما سبق إلا أنه لا يجهر ولا تقرأ شيئا بعد الفاتحة فإن فعل لم يكره، ثم يجلس (2) في التشهد الثاني متوركا يفرش رجله اليسرى وينصب اليمنى ويخرجها عن يمينه ويجعل إليتيه على الأرض فيأتي بالتشهد الأول ثم

--------------------------------------------

(1) قال في الإقناع: ولا يرفع يديه قال في الإنصاف: وهر المذهب وعن الإمام أحمد يرفعهما، اختاره المجد والشيخ تقي الدين وصاحب الفائق وابن عبدوس، قال في المبدع وهي أظهر وقد صححه أحمد وغيره عن النبي صلى الله عليه وسلم.

(2) قوله ثم يجلس إلى آخره هذا الجلوس والصلاة على النبي والتسليم من أركان الصلاة اكتفى المصنف بذكرها هنا عن إعادتها في الأركان فتنبه.
এবং উপস্থিতদের ওপর। আর যদি সালাত দুই রাকাআতের অধিক হয়, তবে প্রথম তাশাহহুদ শেষ করার পর (১) সে তার পায়ের পাতার অগ্রভাগের ওপর ভর করে তাকবীর বলতে বলতে উঠে দাঁড়াবে। এবং তার সালাতের অবশিষ্ট অংশ পূর্বের ন্যায় আদায় করবে, তবে সে উচ্চস্বরে পাঠ করবে না এবং সূরা ফাতিহার পর অন্য কিছু পড়বে না। যদি সে তা করে তবে তা অপছন্দনীয় (মাকরূহ) হবে না। অতঃপর দ্বিতীয় তাশাহহুদে (২) সে ‘তাওয়াররুক’ পদ্ধতিতে বসবে; অর্থাৎ তার বাম পা বিছিয়ে দেবে এবং ডান পা খাড়া রাখবে ও তা তার ডান দিক দিয়ে বের করে দেবে এবং তার নিতম্ব মাটির ওপর রাখবে। অতঃপর প্রথম তাশাহহুদ পাঠ করবে এবং তারপর...

--------------------------------------------

(১) আল-ইকনা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: সে তার হাত তুলবে না। আল-ইনসাফ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটিই মাযহাব। আর ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি হাত দুটি তুলতেন; এই মতটি গ্রহণ করেছেন আল-মাজদ, শাইখ তাকীউদ্দীন, আল-ফাইক গ্রন্থের লেখক এবং ইবনে আব্দুস। আল-মুবদি’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটিই অধিক স্পষ্ট এবং ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এটি সহীহ বলে বর্ণনা করেছেন।

(২) তাঁর কথা ‘অতঃপর সে বসবে’ শেষ পর্যন্ত—এই বসা, নবীর ওপর সালাত (দরূদ) পাঠ এবং সালাম ফেরানো সালাতের রুকনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। লেখক এখানে এগুলো উল্লেখ করায় রুকনসমূহের আলোচনায় তা পুনরায় উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছেন, সুতরাং এটি লক্ষ্য রাখুন।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
بالصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم ثم بالدعاء ثم يسلم، وينحرف الإمام إلى المأمومين على يمينه أو على شماله، ولا يطيل الإمام الجلوس بعد السلام مستقبل القبلة، ولا ينصرف المأموم قبله لقوله صلى الله عليه وسلم: «إني إمامكم فلا تسبقوني بالركوع ولا بالسجود ولا بالانصراف» فإن صلى معهم نساء انصرف النساء وثبت الرجال قليلا؛ لئلا يدركوا من انصرف منهن.

 

‌‌[الذكر والدعاء والاستغفار عقب الصلاة]

ويسن ذكر الله والدعاء والاستغفار عقب الصلاة فيقول: «أستغفر الله» ثلاثا ثم يقول:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের মাধ্যমে, এরপর দোয়ার মাধ্যমে, অতঃপর সালাম ফিরাবেন। ইমাম তার ডান অথবা বাম দিক দিয়ে মুক্তাদিদের দিকে ঘুরে বসবেন। ইমাম সালামের পর কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবেন না। আর মুক্তাদি তার আগে চলে যাবে না, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ইমাম, সুতরাং তোমরা রুকু, সিজদা কিংবা নামাজ শেষে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাকে ছাড়িয়ে যেও না।" যদি তাদের সাথে মহিলারা নামাজ আদায় করে থাকেন, তবে মহিলারা আগে প্রস্থান করবেন এবং পুরুষরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন; যাতে তারা প্রস্থানকারী মহিলাদের নাগাল না পান।

 

‌‌[নামাজের পরবর্তী জিকির, দোয়া ও ইস্তেগফার]

নামাজের পর আল্লাহর জিকির, দোয়া ও ইস্তেগফার করা সুন্নাত। সুতরাং তিনি তিনবার বলবেন: "আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি", অতঃপর বলবেন:
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
«اللهم أنت السلام ومنك السلام تباركت يا ذا الجلال والإكرام لا إله إلا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير، لا حول ولا قوة إلا بالله لا إله إلا الله لا نعبد إلا إياه له النعمة وله الفضل وله الثناء الحسن لا إله إلا الله مخلصين له الدين ولو كره الكافرون» «اللهم لا مانع لما أعطيت ولا معطي لما منعت ولا ينفع ذا الجد منك الجد» ثم يسبح ويحمد ويكبر كل واحدة ثلاثا وثلاثين ويقول تمام المائة: «لا إله إلا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير» ويقول بعد صلاة الفجر وصلاة المغرب قبل أن يكلم أحدا من الناس: «اللهم أجرني من النار» سبع مرات.

والإسرار بالدعاء أفضل وكذا بالدعاء المأثور ويكون بتأدب وخشوع وحضور قلب ورغبة
«হে আল্লাহ! আপনিই সালাম (শান্তি), আর আপনার পক্ষ থেকেই শান্তি আসে, আপনি বরকতময়, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই আর তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং আল্লাহর শক্তি ছাড়া কোনো সামর্থ্য নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করি, নেয়ামত তাঁরই, অনুগ্রহ তাঁরই এবং উত্তম প্রশংসা তাঁরই। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আমরা তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করি, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।» «হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেছেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেছেন তা দান করার কেউ নেই। আর কোনো সম্পদশালীর সম্পদ আপনার বিপরীতে কোনো উপকারে আসবে না।» অতঃপর তেত্রিশ বার তাসবিহ, তাহমিদ ও তাকবির (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার) পাঠ করবে এবং একশত পূর্ণ করতে বলবে: «আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই আর তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।» এবং ফজর ও মাগরিবের সালাতের পর কারো সাথে কথা বলার আগে সাতবার বলবে: «হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিন।»

গোপনে দোয়া করা উত্তম, অনুরূপভাবে বর্ণিত (মা’সুর) দোয়ার মাধ্যমে দোয়া করাও শ্রেষ্ঠ। আর দোয়া হতে হবে শিষ্টাচার, বিনয়, হৃদয়ের উপস্থিতি ও একান্ত আগ্রহের সাথে।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ورهبة لحديث «لا يستجاب الدعاء من قلب غافل» ويتوسل بالأسماء والصفات والتوحيد (1) ويتحرى أوقات الإجابة، وهي ثلث الليل الآخر وبين الأذان والإقامة وأدبار الصلاة المكتوبة وآخر ساعة يوم الجمعة، وينتظر الإجابة ولا يعجل فيقول: قد دعوت ودعوت فلم يستجب لي، ولا يكره أن يخص نفسه إلا في دعاء يؤمن عليه، ويكره رفع الصوت (2) .

ويكره (3) في الصلاة التفات يسير ورفع

--------------------------------------------

(1) ولا يتوسل إلى الله بدعائه بمخلوق كالملائكة والأنبياء والصالحين؛ لأن ذلك لم يكن واردا عن النبي صلى الله عليه وسلم ولا عن أحد من أصحابه فيكون بدعة فيها والبدع في الدين لا خير فيها.

(2) أي بالدعاء في صلاة وغيرها.

(3) قوله: " ويكره. " هذا شروع في ذكر بعض ما يكره في الصلاة وما يباح أو يستحب فيها.
এবং এই হাদিসের ভয়ে যে, "গাফিল হৃদয়ের দোয়া কবুল করা হয় না"। আর সে আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি এবং তাওহীদের মাধ্যমে অসীলা গ্রহণ করবে (১)। সে দোয়া কবুল হওয়ার সময়গুলো অনুসন্ধান করবে, আর সেগুলো হলো: রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ, আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়, ফরজ সালাতসমূহের শেষ প্রান্তে এবং জুমার দিনের শেষ মুহূর্ত। সে দোয়ার কবুলিয়তের অপেক্ষায় থাকবে এবং তাড়াহুড়া করবে না এই বলে যে: "আমি দোয়া করেছি, আরও দোয়া করেছি, কিন্তু আমার দোয়া কবুল করা হয়নি।" নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে দোয়া করা অপছন্দনীয় নয়, তবে এমন দোয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন যা পড়ার সময় অন্যরা "আমীন" বলে। আর আওয়াজ উঁচু করা মাকরূহ (২)।

সালাতে সামান্য এদিক-ওদিক তাকানো এবং দৃষ্টি উঁচু করা মাকরূহ (৩)

--------------------------------------------

(১) ফেরেশতা, নবী এবং নেককার বান্দাদের মতো কোনো সৃষ্টির অসীলা দিয়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করা যাবে না; কারণ তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কিংবা তাঁর কোনো সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়নি, ফলে এটি হবে দ্বীনের মধ্যে একটি বিদআত, আর দ্বীনের মধ্যে কোনো বিদআতেই কল্যাণ নেই।

(২) অর্থাৎ সালাতে এবং সালাতের বাইরে দোয়ার ক্ষেত্রে।

(৩) তাঁর উক্তি: "এবং মাকরূহ।" এটি সালাতে যা যা মাকরূহ এবং যা যা মুবাহ বা মুস্তাহাব তা উল্লেখ করার সূচনা।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
بصره إلى السماء وصلاته إلى صورة منصوبة أو إلى آدمي واستقبال نار ولو سراجا وافتراش ذراعيه في السجود، ولا يدخل فيها وهو حاقن أو حاقب أو بحضرة طعام يشتهيه بل يؤخرها ولو فاتته الجماعة.

ويكره مس الحصى وتشبيك أصابعه واعتماده على يديه في جلوسه ولمس لحيته وعقص شعره وكف ثوبه وإن تثاءب كظم ما استطاع فإن غلبه وضع يده في فمه.

ويكره تسوية التراب بلا عذر ويرد المار بين يديه (1) ولو بدفعه، آدميا كان أو المار غيره

--------------------------------------------

(1) أي ما لم يكن في مكة المشرفة فلا يرده لأنه عليه السلام صلى بمكة والناس يمرون بين يديه وليس بينهما سترة، وألحق الموفق الحرم كله بمكة.
আকাশের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা, কোনো স্থাপিত প্রতিকৃতি বা মানুষের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা, অগ্নির অভিমুখী হওয়া—তা প্রদীপ হলেও, এবং সিজদাহর সময় দুই বাহু বিছিয়ে দেওয়া অপছন্দনীয়। মল বা মূত্রের বেগ থাকা অবস্থায় কিংবা কাম্য খাদ্যের উপস্থিতিতে সালাতে প্রবেশ করবে না; বরং সালাত বিলম্বিত করবে, যদিও জামাআত ছুটে যায়।

কাঁকর নাড়াচাড়া করা, আঙুলে আঙুল ঢোকানো, বসা অবস্থায় দুই হাতের ওপর ভর দেওয়া, দাড়ি স্পর্শ করা, চুল খোঁপা করা এবং কাপড় গুটিয়ে রাখা অপছন্দনীয়। যদি হাই আসে, তবে সাধ্যমতো তা রোধ করবে; আর যদি তা প্রবল হয়, তবে নিজের মুখে হাত রাখবে।

বিনা ওজরে মাটি সমান করা অপছন্দনীয়। আর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে প্রতিহত করবে (১), এমনকি ধাক্কা দিয়ে হলেও; চাই অতিক্রমকারী মানুষ হোক বা অন্য কোনো প্রাণী।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ যতক্ষণ না তা মক্কা মুশাররাফাহয় হয়; তখন সে তাকে প্রতিহত করবে না। কারণ নাবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) মক্কায় সালাত আদায় করেছেন অথচ মানুষ তাঁর সামনে দিয়ে যাতায়াত করছিল এবং তাদের মাঝে কোনো সুতরাহ (আড়াল) ছিল না। আল-মুওয়াফফাক সমগ্র হারাম এলাকাকে মক্কার হুকুমের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فرضا كانت الصلاة أو نفلا فإن أبى فله قتاله ولو مشى يسيرا ويحرم المرور بين المصلي وبين سترته وبين يديه إن لم يكن له سترة، وله قتل حية وعقرب وقملة وتعديل ثوب وعمامة وحمل شيء ووضعه، وله إشارة بيد ووجه وعين لحاجة، ولا يكره السلام على المصلي وله رده بالإشارة، ويفتح على إمامه إذا أرتج عليه أو غلط، وإن نابه شيء في صلاته سبح رجل وصفقت امرأة، وإن بدره بصاق أو مخاط وهو في المسجد بصق في ثوبه وفي غير المسجد عن يساره، ويكره أن يبصق قدامه أو عن يمينه.

সালাত ফরজ হোক বা নফল, (অতিক্রমকারী) যদি বিরত হতে অস্বীকার করে তবে তার সাথে প্রতিরোধমূলক লড়াই করা জায়েজ, যদিও তাকে সামান্য হাঁটতে হয়। মুসল্লি এবং তার সুতরাহ-এর মাঝখান দিয়ে, অথবা যদি সুতরাহ না থাকে তবে তার সম্মুখভাগ দিয়ে অতিক্রম করা হারাম। তার জন্য সাপ, বিচ্ছু ও উকুন হত্যা করা, পোশাক ও পাগড়ি বিন্যস্ত করা এবং কোনো কিছু বহন করা বা রাখা বৈধ। প্রয়োজনে হাত, মুখমণ্ডল অথবা চোখের মাধ্যমে ইশারা করাও তার জন্য বৈধ। মুসল্লিকে সালাম দেওয়া অপছন্দনীয় নয় এবং সে ইশারার মাধ্যমে তার উত্তর দিতে পারে। ইমাম যখন কিরাআতে আটকে যান বা ভুল করেন, তখন তাকে লোকমা দেওয়া বা শুধরে দেওয়া কর্তব্য। সালাত অবস্থায় কোনো বিষয়ের সম্মুখীন হলে পুরুষ ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে এবং নারী করতালি দেবে। যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে থুতু বা শ্লেষ্মা চলে আসে এবং সে মসজিদে থাকে, তবে সে তার কাপড়ে থুতু ফেলবে; আর মসজিদের বাইরে হলে তার বাম দিকে ফেলবে। তবে সম্মুখভাগে বা ডান দিকে থুতু ফেলা মাকরুহ।

(খণ্ড: ১) আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি ত আল-উযাহরাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌[الصلاة إلى سترة]

وتكره صلاة غير مأموم إلى غير سترة ولو لم يخش مارا من جدار أو شيء شاخص كحربة أو غير ذلك مثل آخرة الرحل، ويسن أن يدنو منها لقوله صلى الله عليه وسلم: «إذا صلى أحدكم فليصل إلى سترة ويدن منها» وينحرف عنها يسيرا لفعله صلى الله عليه وسلم، وإن تعذر خط خطا وإذا مر من ورائها شيء لم يكره، فإن لم تكن سترة أو مر بينه وبينها امرأة أو كلب أو حمار بطلت صلاته (1) وله قراءة في المصحف والسؤال عند آية الرحمة، والتعوذ عند آية العذاب.

--------------------------------------------

(1) بطلان الصلاة بمرور واحد من الثلاثة المذكورة وارد في حديث معروف والمذهب أنها لا تبطل إلا بمرور الكلب الأسود البهيم فقط.
[সুতরাহ অভিমুখে সালাত]

মুক্তাদী নয় এমন ব্যক্তির জন্য সুতরাহ ব্যতিরেকে সালাত আদায় করা অপছন্দনীয় (মাকরুহ), যদিও সে কোনো পথচারী অতিক্রম করার আশঙ্কা না করে। সুতরাহ হতে পারে দেয়াল কিংবা কোনো খাড়া বস্তু যেমন বর্শা অথবা অন্য কিছু যেমন উটের জিনের পেছনের অংশ। সুতরাহর নিকটবর্তী হওয়া সুন্নাত, কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করে, সে যেন সুতরাহ অভিমুখে সালাত আদায় করে এবং তার নিকটবর্তী হয়।» আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমল অনুযায়ী সুতরাহ থেকে সামান্য একপাশে সরে দাঁড়াবে। যদি সুতরাহ পাওয়া সম্ভব না হয়, তবে একটি রেখা টেনে নিবে। যদি সুতরাহর ওপাশ দিয়ে কোনো কিছু অতিক্রম করে, তবে তা অপছন্দনীয় হবে না। কিন্তু যদি সুতরাহ না থাকে অথবা তার ও সুতরাহর মাঝখান দিয়ে কোনো নারী, কুকুর বা গাধা অতিক্রম করে, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে (১)। আর তার জন্য মুসহাফ দেখে তিলাওয়াত করা এবং রহমতের আয়াতের সময় প্রার্থনা করা ও আযাবের আয়াতের সময় আশ্রয় প্রার্থনা করা বৈধ।

--------------------------------------------

(১) উল্লিখিত তিনটির যেকোনো একটির অতিক্রমে সালাত বাতিল হওয়ার বিষয়টি প্রসিদ্ধ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তবে মাযহাব অনুযায়ী কেবল কুচকুচে কালো কুকুর অতিক্রমিলেই সালাত বাতিল হবে।