(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
السياسة الشرعية في إصلاح الراعي والرعية - ط الأوقاف السعودية القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: السياسة الشرعية
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1418هـ
عدد الصفحات: 136
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আস-সিয়াসাহ আশ-শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ি ওয়ার রাইয়্যাহ - সৌদি আওকাফ সংস্করণ বিভাগ: শরয়ী রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থা
কিতাব: আস-সিয়াসাহ আশ-শারইয়্যাহ
লেখক: তাক্বিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হি.)
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৬
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
[المقدمة]السياسة الشرعية
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أرسل رسله بالبينات والهدى، وَأَنْزَلَ مَعَهُمْ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ، وَأَنْزَلَ الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ، وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ، وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ إنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ؛ وَخَتَمَهُمْ بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، الَّذِي أَرْسَلَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ، لِيَظْهَرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ؛ وَأَيَّدَهُ بِالسُّلْطَانِ النَّصِيرِ، الْجَامِعِ مَعْنَى الْعِلْمِ وَالْقَلَمِ لِلْهِدَايَةِ وَالْحُجَّةِ؛ وَمَعْنَى الْقُدْرَةِ وَالسَّيْفِ لِلنُّصْرَةِ وَالتَّعْزِيرِ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، شهادة خالصة أخلص من الذَّهَبِ الْإِبْرِيزِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تسليماً كثيرا، شهادة يَكُونُ صَاحِبُهَا فِي حِرْزٍ حَرِيزٍ. (أَمَّا بَعْدُ) فَهَذِهِ رِسَالَةٌ مُخْتَصَرَةٌ (1) فِيهَا جَوَامِعُ مِنْ السِّيَاسَةِ الإلهية والآيات النَّبَوِيَّةِ، لَا يَسْتَغْنِي عَنْهَا الرَّاعِي وَالرَّعِيَّةُ، اقْتَضَاهَا مَنْ أَوْجَبَ اللَّهُ نُصْحَهُ مِنْ وُلَاةِ الْأُمُورِ، كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فيما ثبت عنه من غير وجه في صحيح مسلم وغيره: «إن الله يرضى لكم ثلاثاً: أَنْ تَعْبُدُوهُ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَأَنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا، وَأَنْ تناصحوا من ولاه الله أمركم» . وهذه الرسالة مبنية على آيتين في كتاب الله: وهما قوله تعالى:
--------------------------------------------
[ভূমিকা]আস-সিয়াসাহ আশ-শারইয়্যাহ (শরীয়াহ ভিত্তিক রাজনীতি)
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলগণকে স্পষ্ট নিদর্শন ও হিদায়েতসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁদের সাথে কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছেন যাতে মানুষ ইনসাফের সাথে প্রতিষ্ঠিত থাকে। তিনি লৌহ অবতীর্ণ করেছেন, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি এবং মানুষের জন্য নানাবিধ কল্যাণ; আর যাতে আল্লাহ জেনে নিতে পারেন কে অদৃশ্যে তাঁকে ও তাঁর রাসূলগণকে সাহায্য করে। নিশ্চয় আল্লাহ মহা শক্তিশালী, পরাক্রমশালী। তিনি তাঁদের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে, যাঁকে তিনি হিদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন; এবং তিনি তাঁকে সাহায্যকারী শক্তি দিয়ে শক্তিশালী করেছেন, যা হিদায়েত ও দলীল-প্রমাণের জন্য ইলম ও কলমের তাৎপর্য এবং সাহায্য ও দণ্ডদানের জন্য ক্ষমতা ও তলোয়ারের তাৎপর্যকে একত্রিত করে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এমন এক খাঁটি সাক্ষ্য যা বিশুদ্ধ স্বর্ণের চেয়েও নির্মল। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক; এমন এক সাক্ষ্য যা এর প্রদানকারীকে এক সুরক্ষিত আশ্রয়ে পৌঁছে দেয়। (অতঃপর) এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা (১), যাতে ঐশ্বরিক রাজনীতি এবং নববী নিদর্শনের সারসংক্ষেপ রয়েছে, যা থেকে শাসক ও শাসিত কারোই বিমুখ থাকার উপায় নেই। শাসকবর্গের মধ্য থেকে যাদের কল্যাণ কামনা করা আল্লাহ ওয়াজিব করেছেন, তাদের দাবির প্রেক্ষিতে এটি রচিত হয়েছে। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে একাধিক সূত্রে (وجه) প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে এবং সহিহ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি বিষয়ে সন্তুষ্ট হন: তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না, তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না, আর আল্লাহ যাঁকে তোমাদের বিষয়ের দায়িত্বশীল করেছেন তোমরা তাঁর কল্যাণ কামনা করবে»। এই পুস্তিকাটি আল্লাহর কিতাবের দুটি আয়াতের ওপর ভিত্তি করে রচিত, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
{إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُمْ بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا - يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 58 - 59] (سورة النساء: الآيتان 58، 59) . قَالَ الْعُلَمَاءُ: نَزَلَتْ الْآيَةُ الْأُولَى فِي وُلَاةِ الْأُمُورِ؛ عَلَيْهِمْ أَنْ يُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إلَى أَهْلِهَا، وَإِذَا حَكَمُوا بَيْنَ النَّاسِ أَنْ يَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ، وَنَزَلَتْ الثَّانِيَةُ فِي الرَّعِيَّةِ مِنْ الْجُيُوشِ وَغَيْرِهِمْ، عَلَيْهِمْ أَنْ يُطِيعُوا أُولِي الْأَمْرِ الْفَاعِلِينَ لِذَلِكَ فِي قَسْمِهِمْ وَحُكْمِهِمْ وَمَغَازِيهِمْ وَغَيْرِ ذَلِكَ؛ إلَّا أن يأمروا بمعصية الله، فإذا أمروا بمعصية الله فَلَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ فَإِنْ تَنَازَعُوا فِي شَيْءٍ رَدُّوهُ إلَى كِتَابِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم، وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ وُلَاةُ الْأَمْرِ ذَلِكَ، أُطِيعُوا فِيمَا يأمرون به من طاعة الله ورسوله، لِأَنَّ ذَلِكَ مِنْ طَاعَةِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَأُدِّيَتْ حقوقهم إليهم كما أمر الله ورسوله، قال تعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} [المائدة: 2] (سورة المائدة: من الآية 2) . وَإِذَا كَانَتْ الْآيَةُ قَدْ أَوْجَبَتْ أَدَاءَ الْأَمَانَاتِ إلَى أَهْلِهَا، وَالْحُكْمَ بِالْعَدْلِ: فَهَذَانِ جِمَاعُ السِّيَاسَةِ العادلة، والولاية الصالحة.
{নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও এবং যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করো, তখন যেন ন্যায়ের সাথে বিচার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের যা উপদেশ দিচ্ছেন তা কতই না চমৎকার! নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। - হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (أولي الأمر) (কর্তৃত্বশীলদের)। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান পোষণ করো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক থেকে অতি উত্তম।} [আন-নিসা: ৫৮ - ৫৯] (সূরা আন-নিসা: আয়াত ৫৮, ৫৯)। ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: প্রথম আয়াতটি শাসকবর্গের (ولاة الأمور) ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে; আমানতসমূহ তার প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দেওয়া এবং যখন তারা মানুষের মাঝে বিচার করবে তখন ন্যায়ের সাথে বিচার করা তাদের ওপর আবশ্যক। আর দ্বিতীয় আয়াতটি সৈন্যবাহিনী ও সাধারণ প্রজাদের (رعية) ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে; তাদের ওপর আবশ্যক হলো ওইসব উলুল আমরের (أولي الأمر) আনুগত্য করা যারা তাদের বণ্টন, বিচার, যুদ্ধ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করে; তবে তারা যদি আল্লাহর নাফরমানির নির্দেশ দেয় তবে ভিন্ন কথা। কেননা স্রষ্টার নাফরমানি করে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না। সুতরাং যদি তারা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়, তবে তারা যেন তা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর (سنة) দিকে ফিরিয়ে দেয়। যদি শাসকবর্গ (ولاة الأمور) তা (সঠিকভাবে) পালন না-ও করে, তবুও আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যমূলক যেসব বিষয়ে তারা নির্দেশ দেবে তাতে তাদের আনুগত্য করতে হবে, কারণ তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলেরই আনুগত্যের অংশ। আর তাদের প্রাপ্য অধিকারসমূহ তাদের নিকট আদায় করে দিতে হবে যেভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার বিষয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।} [আল-মায়িদাহ: ২] (সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ২-এর অংশ)। যেহেতু আয়াতটি আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দেওয়া এবং ন্যায়ের সাথে বিচার করাকে ওয়াজিব করেছে, তাই এ দুটি বিষয়ই হলো ন্যায়নিষ্ঠ রাজনীতি (السياسة العادلة) এবং যোগ্য নেতৃত্বের (الولاية الصالحة) মূল ভিত্তি।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
[فصل أنواع أداء الأمانات]
[القسم الأول الولايات]فصل أما أداء الأمانات ففيه نوعان: أحدهما الولايات: وهو كان سبب نزول الآية. فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا فَتَحَ مَكَّةَ وَتَسَلَّمَ مَفَاتِيحَ الْكَعْبَةِ مِنْ بَنِي شَيْبَةَ، طَلَبَهَا مِنْهُ الْعَبَّاسُ، لِيَجْمَعَ لَهُ بَيْنَ سِقَايَةِ الْحَاجِّ، وَسَدَانَةِ الْبَيْتِ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الآية، فدفع مَفَاتِيحِ الْكَعْبَةِ إلَى بَنِي شَيْبَةَ. فَيَجِبُ عَلَى وَلِيِّ الْأَمْرِ أَنْ يُوَلِّيَ عَلَى كُلِّ عَمَلٍ مِنْ أَعْمَالِ الْمُسْلِمِينَ، أَصْلَحَ مَنْ يَجِدُهُ لِذَلِكَ الْعَمَلِ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ شَيْئًا، فَوَلَّى رَجُلًا وَهُوَ يَجِدُ مَنْ هُوَ أَصْلَحُ لِلْمُسْلِمِينَ مِنْهُ فَقَدْ خَانَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «من ولى رجلاً عَلَى عِصَابَةٍ، وَهُوَ يَجِدُ فِي تِلْكَ الْعِصَابَةِ من هو أرضى لله منه، فقد خان الله ورسوله وَخَانَ الْمُؤْمِنِينَ» . رَوَاهُ الْحَاكِمُ فِي صَحِيحِهِ. وَرَوَى بَعْضُهُمْ أَنَّهُ مِنْ قَوْلِ عُمَرَ: لِابْنِ عُمَرَ، رُوِيَ ذَلِكَ عَنْهُ. وَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه: " مَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ شَيْئًا فَوَلَّى رَجُلًا لِمَوَدَّةٍ أَوْ قَرَابَةٍ بَيْنَهُمَا، فَقَدْ خَانَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالْمُسْلِمِينَ ". وَهَذَا وَاجِبٌ عَلَيْهِ. فَيَجِبُ عَلَيْهِ الْبَحْثُ عَنْ الْمُسْتَحِقِّينَ لِلْوِلَايَاتِ مِنْ نُوَّابِهِ عَلَى الْأَمْصَارِ؛ مِنْ الْأُمَرَاءِ الذين هم نواب ذي السلطان، والقضاة، ونحوهم، ومن أمراء الأجناد ومقدمي العساكر الصغار وَالْكِبَارِ، وَوُلَاةِ الْأَمْوَالِ: مِنْ الْوُزَرَاءِ، وَالْكُتَّابِ، وَالشَّادِّينَ، وَالسُّعَاةِ عَلَى الْخَرَاجِ وَالصَّدَقَاتِ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ الْأَمْوَالِ الَّتِي لِلْمُسْلِمِينَ. وَعَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْ هَؤُلَاءِ، أَنْ يَسْتَنِيبَ وَيَسْتَعْمِلَ أَصْلَحَ مَنْ
[পরিচ্ছেদ: আমানত আদায়ের প্রকারভেদ][প্রথম অংশ: নেতৃত্ব বা শাসনভার]পরিচ্ছেদ: আমানত আদায়ের ক্ষেত্রে দুটি প্রকার রয়েছে। একটি হলো নেতৃত্ব বা শাসনভার (الولايات); আর এটিই ছিল অত্র আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মক্কা বিজয় করেন এবং বনী শাইবা থেকে কাবার চাবিকাঠি গ্রহণ করেন, তখন আব্বাস (রাযি.) তা তাঁর কাছে প্রার্থনা করেন যাতে তিনি হাজীদের পানি পান করানো এবং কাবার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একত্রে লাভ করতে পারেন। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাজিল করেন এবং তিনি কাবার চাবিকাঠি বনী শাইবার নিকট অর্পণ করেন। সুতরাং মুসলিমদের প্রতিটি কার্যের জন্য এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া শাসক বা কর্তৃপক্ষের উপর আবশ্যক, যাকে তিনি ওই কাজের জন্য যোগ্যতম (أصلح) মনে করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মুসলিমদের কোনো বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলো, অতঃপর সে কাউকে নিয়োগ দিল অথচ সে এমন কাউকে জানত যে মুসলিমদের জন্য তার চেয়ে অধিক যোগ্য, তবে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে খিয়ানত করল।" অপর একটি বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে: "যে ব্যক্তি কোনো দলের ওপর কাউকে নিয়োগ প্রদান করল অথচ সে ওই দলের মধ্যে এমন কাউকে জানত যে আল্লাহর কাছে তার চেয়ে অধিক সন্তোষভাজন, তবে সে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের সাথে খিয়ানত করল।" হাকেম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা (روى) করেছেন। তাদের কেউ কেউ বর্ণনা (روى) করেছেন যে, এটি ইবনে উমরের প্রতি উমর (রাযি.)-এর উক্তি; এটি তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মুসলিমদের কোনো বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলো, অতঃপর সে পারস্পরিক ভালোবাসা বা আত্মীয়তার কারণে কাউকে নিয়োগ দিল, তবে সে আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুসলিমদের সাথে খিয়ানত করল।" আর এটি তাঁর ওপর আবশ্যক। সুতরাং বিভিন্ন জনপদে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে যারা নেতৃত্বের (الولايات) যোগ্য তাদের অনুসন্ধান করা তাঁর ওপর আবশ্যক; যেমন সুলতানের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আমিরগণ, বিচারকগণ এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ; তদ্রূপ সেনাপ্রধান এবং ছোট ও বড় সামরিক বাহিনীর অগ্রবর্তী অধিনায়কগণ এবং অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীলগণ: যেমন উজির, সচিব, পরিদর্শক এবং খারাজ ও সদকাসহ মুসলিমদের অন্যান্য ধন-সম্পদ আদায়ের কার্যাদিতে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ। আর এদের প্রত্যেকের ওপর এটি আবশ্যিক যে, তারা তাদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নিয়োগ দেবেন এবং নিযুক্ত করবেন তাকে যে সবচেয়ে বেশি যোগ্য...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
يَجِدُهُ؛ وَيَنْتَهِي ذَلِكَ إلَى أَئِمَّةِ الصَّلَاةِ وَالْمُؤَذِّنِينَ، والمقرئين، والمعلمين، وأمراء الْحَاجِّ، وَالْبُرُدِ، وَالْعُيُونِ الَّذِينَ هُمْ الْقُصَّادُ، وَخُزَّانِ الْأَمْوَالِ، وَحُرَّاسِ الْحُصُونِ، وَالْحَدَّادِينَ الَّذِينَ هُمْ الْبَوَّابُونَ عَلَى الْحُصُونِ وَالْمَدَائِنِ، وَنُقَبَاءِ الْعَسَاكِرِ الْكِبَارِ وَالصِّغَارِ، وَعُرَفَاءِ الْقَبَائِلِ وَالْأَسْوَاقِ، وَرُؤَسَاءِ الْقُرَى الَّذِينَ هُمْ " الدهاقين ". فَيَجِبُ عَلَى كُلِّ مَنْ وَلِيَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ، مِنْ هَؤُلَاءِ وَغَيْرِهِمْ، أَنْ يَسْتَعْمِلَ فِيمَا تَحْتَ يَدِهِ فِي كُلِّ مَوْضِعٍ أَصْلَحَ مَنْ يَقْدِرُ عَلَيْهِ، وَلَا يُقَدِّمُ الرَّجُلَ لِكَوْنِهِ طلب الولاية، أو سبق في الطلب؛ بل يكون ذلك سبباً للمنع؛ فإن في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم: «أن قوماً دخلوا عليه فسألوه ولاية؛ فَقَالَ: إنَّا لَا نُوَلِّي أَمْرَنَا هَذَا مَنْ طَلَبَهُ» . «وَقَالَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ: " يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ! لَا تَسْأَلْ الْإِمَارَةَ، فَإِنَّك إنْ أُعْطِيتهَا مِنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ أُعِنْت عَلَيْهَا؛ وَإِنْ أعطيتها عن مسألة وكلت إليها» أَخْرَجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ؛ وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ طَلَبَ الْقَضَاءَ وَاسْتَعَانَ عَلَيْهِ وُكِّلَ إلَيْهِ، وَمَنْ لَمْ يَطْلُبْ الْقَضَاءَ وَلَمْ يَسْتَعِنْ عليه؛ أنزل الله عليه مَلَكًا يُسَدِّدُهُ» . رَوَاهُ أَهْلُ السُّنَنِ. فَإِنْ عَدَلَ عَنْ الْأَحَقِّ الْأَصْلَحِ إلَى غَيْرِهِ، لِأَجْلِ قَرَابَةٍ بَيْنَهُمَا، أَوْ وَلَاءِ عَتَاقَةٍ أَوْ صَدَاقَةٍ، أَوْ مرافقة فِي بَلَدٍ أَوْ مَذْهَبٍ؛ أَوْ طَرِيقَةٍ، أَوْ جنب: كَالْعَرَبِيَّةِ، وَالْفَارِسِيَّةِ، وَالتُّرْكِيَّةِ، وَالرُّومِيَّةِ، أَوْ لِرِشْوَةٍ يَأْخُذُهَا مِنْهُ مِنْ مَالٍ أَوْ مَنْفَعَةٍ، أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ مِنْ الْأَسْبَابِ، أَوْ لِضِغْنٍ فِي قَلْبِهِ عَلَى الْأَحَقِّ، أَوْ عَدَاوَةٍ بَيْنَهُمَا: فَقَدْ خَانَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ، وَدَخَلَ فِيمَا نُهِيَ عَنْهُ فِي قَوْله تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [الأنفال: 27] (سورة الأنفال: الآية 27) . ثُمَّ قَالَ: {وَاعْلَمُوا أَنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَأَنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ} [الأنفال: 28] (سورة الأنفال: الآية 28) .
যাকে সে খুঁজে পায়; আর এটি সালাতের ইমাম, মুয়াজ্জিন, ক্বারী, শিক্ষক, হজের আমীর, ডাকবাহক, গোয়েন্দা যারা লক্ষ্যভেদী, ধনাধ্যক্ষ, দুর্গের প্রহরী এবং কামার যারা দুর্গ ও শহরের দ্বাররক্ষী হিসেবে কাজ করেন, বড় ও ছোট সৈন্যবাহিনীর অধিনায়ক, গোত্র ও বাজারের প্রধান এবং গ্রামের প্রধান যারা 'দিহকান' নামে পরিচিত—সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অতএব মুসলমানদের যেকোনো বিষয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিটি ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো, তার সামর্থ্যের মধ্যে প্রতিটি স্থানে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া। কোনো ব্যক্তিকে কেবল এই কারণে পদায়ন করা যাবে না যে সে পদের জন্য আবেদন করেছে বা আবেদনের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হয়েছে; বরং এটি নিয়োগ না দেওয়ার কারণ হওয়া উচিত। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ (صحيح) হাদিসে এসেছে: "একদল লোক তাঁর কাছে এসে পদ প্রার্থনা করল; তখন তিনি বললেন: আমরা আমাদের এই কাজের দায়িত্ব তাকে দেই না যে তা প্রার্থনা করে।"
তিনি আবদুর রহমান বিন সামুরাকে বলেন: "হে আবদুর রহমান! তুমি নেতৃত্বের পদ প্রার্থনা করো না, কারণ তুমি যদি না চেয়ে তা পাও তবে তোমাকে এতে সাহায্য করা হবে; আর যদি তুমি তা চেয়ে পাও তবে তোমাকে তার ওপর একাকী ছেড়ে দেওয়া হবে।" তাঁরা উভয়ে এটি সহীহাইন গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি বিচারকের দায়িত্ব প্রার্থনা করল এবং এর জন্য অন্যের সাহায্য নিল তাকে তার ওপরই ছেড়ে দেওয়া হবে; আর যে ব্যক্তি বিচারকের দায়িত্ব প্রার্থনা করল না এবং এর জন্য সাহায্য নিল না, আল্লাহ তার জন্য একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ করবেন যিনি তাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন।" এটি সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন।
যদি কেউ অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নিয়োগ দেয়—তাদের মধ্যকার আত্মীয়তার সম্পর্ক, বা মুক্তিপ্রাপ্ত গোলামের সম্পর্ক, বা বন্ধুত্ব, বা একই শহরের বাসিন্দা হওয়া, বা একই মাযহাব, তরীকা বা বংশীয় সম্পর্কের কারণে যেমন: আরব, পারস্য, তুর্কি, রোমক; অথবা তার কাছ থেকে নেওয়া কোনো ঘুষ বা পার্থিব সুবিধা বা অন্য কোনো কারণে; কিংবা যোগ্য ব্যক্তির প্রতি তার অন্তরে থাকা কোনো বিদ্বেষ বা উভয়ের মধ্যকার শত্রুতার কারণে—তবে সে আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল এবং সে আল্লাহ তাআলার সেই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হলো যেখানে তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা জেনেশুনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না এবং তোমাদের আমানতসমূহের খেয়ানত করো না} [সূরা আল-আনফাল: ২৭]। এরপর তিনি বলেছেন: {আর জেনে রেখো, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো কেবল একটি পরীক্ষা; আর নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার} [সূরা আল-আনফাল: ২৮]।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
فَإِنَّ الرَّجُلَ لِحُبِّهِ لِوَلَدِهِ، أَوْ لِعَتِيقِهِ، قَدْ يُؤْثِرُهُ فِي بَعْضِ الْوِلَايَاتِ، أَوْ يُعْطِيهِ مَا لا يستحقه؛ فيكون قد خان أمانته؛ وكذلك قَدْ يُؤْثِرُهُ زِيَادَةً فِي مَالِهِ أَوْ حِفْظِهِ؛ بِأَخْذِ مَا لَا يَسْتَحِقُّهُ، أَوْ مُحَابَاةَ مَنْ يُدَاهِنُهُ فِي بَعْضِ الْوِلَايَاتِ، فَيَكُونُ قَدْ خَانَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، وَخَانَ أَمَانَتَهُ. ثُمَّ إنَّ الْمُؤَدِّيَ لِلْأَمَانَةِ مَعَ مُخَالَفَةِ هَوَاهُ، يُثَبِّتُهُ اللَّهُ فَيَحْفَظُهُ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ بَعْدَهُ، وَالْمُطِيعُ لِهَوَاهُ يُعَاقِبُهُ اللَّهُ بِنَقِيضِ قَصْدِهِ فَيُذِلُّ أَهْلَهُ، وَيُذْهِبُ مَالَهُ. وَفِي ذَلِكَ الْحِكَايَةُ الْمَشْهُورَةُ: أَنَّ بَعْضَ خُلَفَاءِ بَنِي الْعَبَّاسِ، سَأَلَ بَعْضَ الْعُلَمَاءِ أَنْ يُحَدِّثَهُ عَمَّا أَدْرَكَ، فَقَالَ: أَدْرَكْت عُمَرَ بْنَ عَبْدِ العزيز، قيل لَهُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَقْفَرْت أَفْوَاهَ بَنِيك مِنْ هَذَا الْمَالِ، وَتَرَكْتَهُمْ فُقَرَاءَ لَا شَيْءَ لَهُمْ -وَكَانَ فِي مَرَضِ مَوْتِهِ- فَقَالَ: أَدْخِلُوهُمْ علي، فأدخلوهم: وهم بِضْعَةَ عَشَرَ ذَكَرًا، لَيْسَ فِيهِمْ بَالِغٌ، فَلَمَّا رآهم ذرفت عيناه، ثم قال لهم: يَا بَنِيَّ وَاَللَّهِ مَا مَنَعْتُكُمْ حَقًّا هُوَ لَكُمْ، وَلَمْ أَكُنْ بِاَلَّذِي آخُذُ أَمْوَالَ النَّاسِ فَأَدْفَعُهَا إلَيْكُمْ؛ وَإِنَّمَا أَنْتُمْ أَحَدُ رَجُلَيْنِ: إمَّا صَالِحٌ، فَاَللَّهُ يَتَوَلَّى الصَّالِحِينَ؛ وَإِمَّا غَيْرُ صَالِحٍ، فلا أخلف لَهُ مَا يَسْتَعِينُ بِهِ عَلَى مَعْصِيَةِ اللَّهِ، قوموا عني. قال: فلقد رأيت بعض بنيه، حَمَلَ عَلَى مِائَةِ فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، يَعْنِي أَعْطَاهَا لِمَنْ يَغْزُو عَلَيْهَا. قُلْت: هَذَا وَقَدْ كَانَ خَلِيفَةُ الْمُسْلِمِينَ، مِنْ أَقْصَى الْمَشْرِقِ: بِلَادِ التُّرْكِ، إلَى أَقْصَى الْمَغْرِبِ: بِلَادِ الْأَنْدَلُسِ وَغَيْرِهَا، وَمِنْ جَزَائِرِ قُبْرُصَ وَثُغُورِ الشَّامِ وَالْعَوَاصِمِ كَطَرَسُوسَ وَنَحْوِهَا، إلَى أَقْصَى الْيَمَنِ. وَإِنَّمَا أَخَذَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْ أَوْلَادِهِ، مِنْ تَرِكَتِهِ شَيْئًا يَسِيرًا، يُقَالُ: أَقَلُّ مِنْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا- قَالَ وَحَضَرْتُ بَعْضَ الْخُلَفَاءِ وَقَدْ اقْتَسَمَ تَرِكَتَهُ بَنُوهُ، فَأَخَذَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ سِتَّمِائَةِ أَلْفِ
মানুষ তার সন্তান বা মুক্তদাসের প্রতি ভালোবাসার কারণে কোনো কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে (ولايات) তাকে প্রাধান্য দিতে পারে অথবা তাকে এমন কিছু প্রদান করতে পারে যার সে যোগ্য নয়; ফলে সে তার আমানতের খেয়ানত করল। একইভাবে সে তার সম্পদের প্রাচুর্য বা তা সংরক্ষণের জন্য তাকে অতিরিক্ত কিছু দিয়ে অথবা যাকে সে তোষামোদ করে তাকে কোনো কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে (ولايات) পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে প্রাধান্য দিতে পারে। এমতাবস্থায় সে আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তার আমানতের খেয়ানত করল। অতঃপর যে ব্যক্তি নিজের কুপ্রবৃত্তির বিরোধিতা করে আমানত আদায় করে, আল্লাহ তাকে সুদৃঢ় করেন এবং তার মৃত্যুর পর তার পরিবার ও সম্পদ রক্ষা করেন। আর যে ব্যক্তি তার প্রবৃত্তির অনুসারী হয়, আল্লাহ তাকে তার উদ্দেশ্যের বিপরীত পরিণাম দিয়ে শাস্তি দেন; ফলে তিনি তার পরিবারকে লাঞ্ছিত করেন এবং তার সম্পদ বিনষ্ট করে দেন।
এ প্রসঙ্গে একটি প্রসিদ্ধ কাহিনী রয়েছে: জনৈক আব্বাসীয় খলিফা এক আলেমকে অনুরোধ করলেন তিনি যা প্রত্যক্ষ করেছেন তা বর্ণনা করতে। তিনি বললেন: আমি উমর ইবনে আবদুল আজিজকে দেখেছি। তাকে বলা হয়েছিল: হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি এই সম্পদ থেকে আপনার সন্তানদের মুখ বঞ্চিত করেছেন এবং তাদের এমন দরিদ্র অবস্থায় রেখে যাচ্ছেন যে তাদের কিছুই নেই—আর তখন তিনি তার মৃত্যুশয্যায় ছিলেন। তিনি বললেন: তাদের আমার কাছে নিয়ে এসো। তাদের নিয়ে আসা হলো; তারা ছিল দশের অধিক সংখ্যক পুত্রসন্তান, যাদের কেউই প্রাপ্তবয়স্ক ছিল না। তাদের দেখে তার চোখ থেকে অশ্রু ঝরল, তারপর তিনি তাদের বললেন: হে আমার সন্তানেরা! আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের এমন কোনো হক থেকে বঞ্চিত করিনি যা তোমাদের প্রাপ্য ছিল। আর আমি এমন ব্যক্তি নই যে মানুষের সম্পদ কেড়ে নিয়ে তোমাদের প্রদান করব। বরং তোমরা দুই ধরনের মানুষের অন্তর্ভুক্ত: হয় তোমরা সৎকর্মশীল (صالح), আর আল্লাহই সৎকর্মশীলদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন; অথবা তোমরা অসৎ হবে, এমতাবস্থায় আমি তোমাদের জন্য এমন কিছু রেখে যাব না যা আল্লাহর নাফরমানিতে তোমাদের সাহায্য করবে। এখন তোমরা আমার সামনে থেকে যাও।
বর্ণনাকারী বলেন: আমি তার এক সন্তানকে দেখেছি যে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য একশটি ঘোড়া দান করেছিল। আমি বলছি: এটি এমন এক সময়ের কথা যখন তিনি সুদূর প্রাচ্যের তুর্কিস্তান থেকে শুরু করে সুদূর পশ্চিমের আন্দালুস ও অন্যান্য অঞ্চল, এবং সাইপ্রাস দ্বীপপুঞ্জ, সিরিয়ার সীমান্ত অঞ্চল ও তারসুসের মতো সুরক্ষিত শহরসমূহ থেকে শুরু করে সুদূর ইয়ামেন পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের খলিফা ছিলেন। অথচ তার সন্তানদের প্রত্যেকে উত্তরাধিকার সূত্রে সামান্য সম্পদ লাভ করেছিল; বলা হয় বিশ দিরহামের চেয়েও কম। বর্ণনাকারী আরও বলেন: আমি অন্য একজন খলিফার উপস্থিতিতে ছিলাম যার উত্তরাধিকার যখন তার সন্তানদের মধ্যে বণ্টন করা হলো, তখন তাদের প্রত্যেকে ছয় লক্ষ করে পেয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
دِينَارٍ: وَلَقَدْ رَأَيْت بَعْضَهُمْ يَتَكَفَّفُ النَّاسَ -أَيْ يَسْأَلُهُمْ بِكَفِّهِ- وَفِي هَذَا الْبَابِ مِنْ الْحِكَايَاتِ وَالْوَقَائِعِ الْمُشَاهَدَةِ فِي الزَّمَانِ، وَالْمَسْمُوعَةِ عَمَّا قَبْلَهُ؛ مَا فِيهِ عِبْرَةٌ لِكُلِّ ذِي لُبٍّ. وَقَدْ دَلَّتْ سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَنَّ الْوِلَايَةَ أَمَانَةٌ يَجِبُ أَدَاؤُهَا فِي مَوَاضِعَ: مِثْلُ مَا تَقَدَّمَ، وَمِثْلُ قَوْلِهِ لِأَبِي ذَرٍّ رضي الله عنه فِي الْإِمَارَةِ: «إنَّهَا أَمَانَةٌ، وَإِنَّهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ خِزْيٌ وَنَدَامَةٌ، إلَّا مَنْ أَخَذَهَا بِحَقِّهَا، وَأَدَّى الَّذِي عَلَيْهِ فيهما» رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَرَوَى الْبُخَارِيُّ فِي صَحِيحِهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قال: «إذا ضيعت الأمانة، فانتظر الساعة. قيل يا رسول الله: وما إضاعتها؟ قال: إذا وسد الأمر إلى غير أهله فانتظر السَّاعَةَ» . وَقَدْ أَجْمَعَ الْمُسْلِمُونَ عَلَى مَعْنَى هَذَا؛ فَإِنَّ وَصِيَّ الْيَتِيمِ، وَنَاظِرَ الْوَقْفِ، وَوَكِيلَ الرَّجُلِ فِي مَالِهِ؛ عَلَيْهِ أَنْ يَتَصَرَّفَ لَهُ بِالْأَصْلَحِ فَالْأَصْلَحِ، كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [الإسراء: 34] (سورة الإسراء: من الآية 34) . وَلَمْ يَقُلْ إلَّا بِاَلَّتِي هِيَ حَسَنَةٌ. وَذَلِكَ لِأَنَّ الْوَالِيَ رَاعٍ عَلَى النَّاسِ بِمَنْزِلَةِ رَاعِي الْغَنَمِ؛ كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَالْإِمَامُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ، وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا، وَهِيَ مَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا، وَالْوَلَدُ رَاعٍ فِي مَالِ أَبِيهِ، وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ؛ وَالْعَبْدُ رَاعٍ فِي مَالِ سَيِّدِهِ، وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ؛ أَلَا فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رعيته» . أَخْرَجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ، وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ رَاعٍ يَسْتَرْعِيهِ اللَّهُ رَعِيَّةً، يَمُوتُ يَوْمَ يَمُوتُ وَهُوَ غَاشٌّ لَهَا، إلَّا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَدَخَلَ أَبُو مُسْلِمٍ الْخَوْلَانِيُّ عَلَى مُعَاوِيَةَ بْنِ أبي سفيان، فقال: السلام
দিনার: আমি তাদের কাউকে কাউকে দেখেছি যে তারা মানুষের কাছে হাত পাতছে—অর্থাৎ সে নিজের হাত প্রসারিত করে যাচ্ঞা করছে। এই বিষয়ে বর্তমান সময়ের প্রত্যক্ষ এবং পূর্ববর্তী সময়ের শ্রুত তথ্যাদির মাঝে এমন অনেক কাহিনী ও ঘটনা রয়েছে, যাতে প্রতিটি বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য শিক্ষা নিহিত রয়েছে। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ এ কথার ওপর প্রমাণ পেশ করেছে যে, নেতৃত্ব হলো একটি আমানত যা যথাযথ ক্ষেত্রে আদায় করা ওয়াজিব। যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে এবং যেমনটি নেতৃত্ব সম্পর্কে তিনি আবু যার (রা.)-কে বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই এটি একটি আমানত, এবং কিয়ামতের দিন এটি লাঞ্ছনা ও অনুশোচনার কারণ হবে; তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে তা হকের সাথে গ্রহণ করেছে এবং তাতে অর্পিত দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালন করেছে»। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর বুখারি তাঁর সাহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী ﷺ বলেছেন: «যখন আমানত নষ্ট করা হবে, তখন কিয়ামতের প্রতীক্ষা করো। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমানত কীভাবে নষ্ট করা হয়? তিনি বললেন: যখন অযোগ্য ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়, তখন কিয়ামতের প্রতীক্ষা করো»। আর মুসলিমগণ এই মর্মার্থের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন; কেননা ইয়াতিমের অভিভাবক, ওয়াকফ সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক এবং কোনো ব্যক্তির সম্পদের প্রতিনিধি—তাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো অধিকতর কল্যাণকর পন্থায় তা পরিচালনা করা। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা ইয়াতিমের সম্পদের নিকটবর্তী হয়ো না, তবে এমন পন্থায় যা সর্বোত্তম} [সূরা আল-ইসরা: ৩৪]। আর তিনি কেবল 'উত্তম' বলেননি। এর কারণ হলো, শাসক জনগণের ওপর একজন রক্ষণাবেক্ষণকারীর সমতুল্য; যেমনটি নবী ﷺ বলেছেন: «তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জনগণের ওপর আসীন ইমাম বা নেতা একজন দায়িত্বশীল এবং তিনি তাঁর অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। নারী তার স্বামীর গৃহের একজন দায়িত্বশীল এবং সে তার অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। সন্তান তার পিতার সম্পদের একজন দায়িত্বশীল এবং সে তার অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। গোলাম তার মালিকের সম্পদের একজন দায়িত্বশীল এবং সে তার অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে»। তাঁরা উভয়ে এটি সাহিহদ্বয়ে উদ্ধৃত করেছেন। এবং নবী ﷺ বলেছেন: «আল্লাহ যাকে কোনো জনগণের দায়িত্ব অর্পণ করেন, আর সে যেদিন মারা যায় সেদিন তার অধীনস্তদের প্রতি প্রতারক অবস্থায় মারা যায়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের সুগন্ধিও হারাম করে দেন»। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর আবু মুসলিম আল-খাওলানি মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের নিকট প্রবেশ করে বললেন: আসসালামু...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
عليكم أَيُّهَا الْأَجِيرُ؛ فَقَالُوا: قُلْ السَّلَامُ عَلَيْك أَيُّهَا الأمير. فقال السلام عليك أيهما الْأَجِيرُ. فَقَالُوا: قُلْ: السَّلَامُ عَلَيْك أَيُّهَا الْأَمِيرُ. فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْك أَيُّهَا الْأَجِيرُ. فَقَالُوا قُلْ السلام عليك أَيُّهَا الْأَمِيرُ. فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْك أَيُّهَا الْأَجِيرُ. فَقَالَ مُعَاوِيَةُ. دَعُوا أَبَا مُسْلِمٍ فَإِنَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يَقُولُ، فَقَالَ إنَّمَا أَنْتَ أَجِيرٌ اسْتَأْجَرَك رَبُّ هَذِهِ الْغَنَمِ لِرِعَايَتِهَا؛ فَإِنْ أَنْتَ هَنَّأَتْ جَرْبَاهَا، وَدَاوَيْت مَرْضَاهَا، وَحَبَسْت أُولَاهَا عَلَى أُخْرَاهَا: وَفَّاك سَيِّدُهَا أَجْرَك، وَإِنْ أَنْتَ لَمْ تَهْنَأْ جَرْبَاهَا وَلَمْ تُدَاوِ مَرْضَاهَا؛ وَلَمْ تَحْبِسْ أُولَاهَا على أخراها عاقبك سيدها. وهذا ظاهر في الاعتبار: فإن الخلق عباد الله، والولاة نُوَّابُ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ، وَهُمْ وُكَلَاءُ الْعِبَادِ على نفوسهم؛ بِمَنْزِلَةِ أَحَدِ الشَّرِيكَيْنِ مَعَ الْآخَرِ؛ فَفِيهِمْ مَعْنَى الْوِلَايَةِ وَالْوَكَالَةِ؛ ثُمَّ الْوَلِيُّ وَالْوَكِيلُ مَتَى اسْتَنَابَ فِي أُمُورِهِ رَجُلًا، وَتَرَكَ مَنْ هُوَ أَصْلَحُ للتجارة أو العقار مِنْهُ، وَبَاعَ السِّلْعَةَ بِثَمَنٍ، وَهُوَ يَجِدُ مَنْ يَشْتَرِيهَا بِخَيْرٍ مِنْ ذَلِكَ الثَّمَنِ؛ فَقَدْ خَانَ صَاحِبَهُ، لَا سِيَّمَا إنْ كَانَ بَيْنَ مَنْ حاباه وبينه مودة أو قرابة، فإن صاحبه يبغضه ويذمه، ويرى أنه قد خانه وداهن قريبه أو صديقه.
"হে শ্রমিক (أجير), আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।" তখন তারা বলল, "বলুন: হে আমীর (أمير), আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।" তিনি বললেন, "হে শ্রমিক (أجير), আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।" তারা পুনরায় বলল, "বলুন: হে আমীর (أمير), আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।" তিনি বললেন, "হে শ্রমিক (أجير), আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।" তারা আবার বলল, "বলুন: হে আমীর (أمير), আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।" তখন তিনি বললেন, "হে শ্রমিক (أجير), আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।" এরপর মুয়াবিয়া বললেন, "আবু মুসলিমকে ছেড়ে দাও, কারণ তিনি যা বলছেন সে সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত।" আবু মুসলিম বললেন, "নিশ্চয়ই আপনি একজন শ্রমিক (أجير), যাকে এই মেষপালের মালিক তাদের দেখাশোনার জন্য নিয়োগ করেছেন। সুতরাং যদি আপনি চর্মরোগাক্রান্ত মেষগুলোর পরিচর্যা করেন, অসুস্থগুলোর চিকিৎসা করেন এবং অগ্রগামী মেষগুলোকে পালের সাথে ধরে রাখেন, তবে মেষগুলোর মালিক আপনাকে পূর্ণ পারিশ্রমিক প্রদান করবেন। আর যদি আপনি চর্মরোগাক্রান্ত মেষগুলোর পরিচর্যা না করেন, অসুস্থগুলোর চিকিৎসা না করেন এবং অগ্রগামী মেষগুলোকে পালের সাথে ধরে না রাখেন, তবে মেষগুলোর মালিক আপনাকে শাস্তি দেবেন।" এটি বিবেচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পষ্ট: কেননা সৃষ্টিজগত আল্লাহর বান্দা, আর শাসকগণ (الولاة) তাদের ওপর আল্লাহর প্রতিনিধি (نواب); তারা মানুষের জান-মালের ওপর তাদের পক্ষ থেকে নিযুক্ত উকিল বা প্রতিনিধি (وكلاء), যা দুই অংশীদারের একজনের সাথে অপরজনের সম্পর্কের ন্যায়। সুতরাং তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবকত্ব বা কর্তৃত্ব (ولاية) এবং প্রতিনিধিত্ব (وكالة) উভয় অর্থই প্রযোজ্য। এমতাবস্থায়, কোনো অভিভাবক (ولي) বা প্রতিনিধি (وكيل) যখন তার কাজে কাউকে স্থলাভিষিক্ত করে এবং এমন ব্যক্তিকে বাদ দেয় যে ব্যবসা বা স্থাবর সম্পত্তির বিষয়ে অধিকতর যোগ্য (أصلح), কিংবা সে কোনো পণ্য একটি নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রয় করে অথচ সে তার চেয়ে উত্তম মূল্য প্রদানকারী ক্রেতা পাচ্ছিল, তবে সে তার সঙ্গীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। বিশেষ করে যাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে তার সাথে যদি ভালোবাসা বা আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকে, তবে তার সঙ্গী তাকে ঘৃণা করবে এবং নিন্দা জানাবে; সে মনে করবে যে, ওই ব্যক্তি তার সাথে খেয়ানত করেছে এবং নিজের আত্মীয় বা বন্ধুর সাথে পক্ষপাতিত্ব বা তোষামোদি করেছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
[الأصلح هو الأولى]إذا عرف هذا، فليس عليه أَنْ يَسْتَعْمِلَ إلَّا أَصْلَحَ الْمَوْجُودَ، وَقَدْ لَا يكون في موجوده من هو أصلح لِتِلْكَ الْوِلَايَةِ، فَيَخْتَارُ الْأَمْثَلَ فَالْأَمْثَلَ فِي كُلِّ منصب بحسبه، وَإِذَا فَعَلَ ذَلِكَ بَعْدَ الِاجْتِهَادِ التَّامِّ، وَأَخْذِهِ لِلْوِلَايَةِ بِحَقِّهَا، فَقَدْ أَدَّى الْأَمَانَةَ، وَقَامَ بِالْوَاجِبِ فِي هَذَا، وَصَارَ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ مِنْ أئمة العدل المقسطين عِنْدَ اللَّهِ؛ وَإِنْ اخْتَلَّ بَعْضُ الْأُمُورِ بِسَبَبٍ مِنْ غَيْرِهِ، إذَا لَمْ يُمْكِنْ إلَّا ذَلِكَ، فَإِنَّ اللَّهَ يَقُولُ: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16] (سورة التغابن: من الآية 16) . وَيَقُولُ: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} [البقرة: 286] (سورة البقرة: من الآية 286) وقال في الجهاد في سبيل الله: {فَقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا تُكَلَّفُ إِلَّا نَفْسَكَ وَحَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ} [النساء: 84] (سورة النساء: من الآية 84) . وَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} [المائدة: 105] (سورة المائدة: من الآية 105) . فَمَنْ أَدَّى الْوَاجِبَ الْمَقْدُورَ عَلَيْهِ فَقَدْ اهْتَدَى: وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ» . أَخْرَجَاهُ في الصحيحين؛ لكن إن كان منه عجز بلا حَاجَةَ إلَيْهِ، أَوْ خِيَانَةٌ عُوقِبَ عَلَى ذَلِكَ. وَيَنْبَغِي أَنْ يَعْرِفَ الْأَصْلَحَ فِي كُلِّ مَنْصِبٍ، فَإِنَّ الْوِلَايَةَ لَهَا رُكْنَانِ: الْقُوَّةُ وَالْأَمَانَةُ. كَمَا قَالَ تَعَالَى: {إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ} [القصص: 26] (سورة القصص: من الآية 26) . وَقَالَ صَاحِبُ مِصْرَ لِيُوسُفَ عليه السلام: {إِنَّكَ الْيَوْمَ لَدَيْنَا مَكِينٌ أَمِينٌ} [يوسف: 54] (سورة يوسف: من الآية 54) . وَقَالَ تَعَالَى فِي صِفَةِ جِبْرِيلَ: {إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ - ذِي قُوَّةٍ عِنْدَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ - مُطَاعٍ ثَمَّ أَمِينٍ} [التكوير: 19 - 21] (سورة التكوير: الآيات 19-21) .
[সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তিই অগ্রাধিকারযোগ্য]যখন বিষয়টি অবগত হওয়া গেল, তখন তার জন্য বিদ্যমান ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কাউকে নিয়োগ করা সমীচীন নয়। অনেক সময় বিদ্যমান ব্যক্তিদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য কেউ না-ও থাকতে পারে; সেক্ষেত্রে তিনি প্রতিটি পদের প্রকৃতি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অপেক্ষাকৃত অধিকতর যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচন করবেন। যদি তিনি পূর্ণ ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং যথাযথভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এমনটি করেন, তবে তিনি আমানত রক্ষা করেছেন এবং এক্ষেত্রে তার ওপর অর্পিত ওয়াজিব (واجب) বা আবশ্যকীয় কর্তব্য পালন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহর নিকট ন্যায়পরায়ণ (العدل) ও ইনসাফকারী ইমামদের অন্তর্ভুক্ত হবেন; যদিও তার নিয়ন্ত্রণের বাইরের কোনো কারণে কোনো বিষয়ে বিচ্যুতি ঘটে থাকে, যদি তা সংশোধন করা সম্ভব না হয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব তোমরা আল্লাহকে যথাসধ্য ভয় করো} [আত-তাগাবুন: ১৬]। তিনি আরও বলেন: {আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না} [আল-বাকারা: ২৮৬]। আর আল্লাহর পথে জিহাদ সম্পর্কে তিনি বলেন: {অতএব আপনি আল্লাহর পথে লড়াই করুন, আপনার নিজের সত্তা ব্যতিরেকে অন্য কোনো কিছুর দায়ভার আপনার ওপর নেই এবং মুমিনদের উৎসাহিত করুন} [আন-নিসা: ৮৪]। তিনি আরও বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর তোমাদের নিজেদেরই দায়িত্ব; তোমরা যদি সঠিক পথে পরিচালিত হও, তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না} [আল-মায়িদাহ: ১০৫]। সুতরাং যে ব্যক্তি তার সাধ্য অনুযায়ী ওয়াজিব (واجب) পালন করল, সে হেদায়েত প্রাপ্ত হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন আমি তোমাদের কোনো কাজের নির্দেশ প্রদান করি, তখন তোমরা সাধ্যমতো তা পালন করো।" এটি সহীহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে। তবে যদি প্রয়োজন ব্যতিরেকে তার পক্ষ থেকে কোনো অক্ষমতা প্রকাশ পায় অথবা খিয়ানত হয়, তবে তার জন্য তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। প্রতিটি পদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তিকে চেনা আবশ্যক, কারণ নেতৃত্বের দুটি স্তম্ভ রয়েছে: শক্তি ও বিশ্বস্ততা (الأمانة)। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই তোমার কর্মচারী হিসেবে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত (الأمين)} [আল-কাসাস: ২৬]। মিশরের অধিপতি ইউসুফ আলাইহিস সালামকে বলেছিলেন: {নিশ্চয়ই আপনি আজ আমাদের নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত ও বিশ্বস্ত (أمين)} [ইউসুফ: ৫৪]। জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-এর গুণাবলি বর্ণনায় আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের আনীত বাণী, যিনি শক্তিশালী এবং আরশের মালিকের নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত, সেখানে তিনি মান্যবর ও বিশ্বস্ত (أمين)} [আত-তাকওয়ির: ১৯-২১]।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَالْقُوَّةُ فِي كُلِّ وِلَايَةٍ بِحَسَبِهَا؛ فَالْقُوَّةُ فِي إمَارَةِ الْحَرْبِ تَرْجِعُ إلَى شَجَاعَةِ الْقَلْبِ، وَإِلَى الخبرة بالحروب، والخادعة فِيهَا، فَإِنَّ الْحَرْبَ خُدْعَةٌ، وَإِلَى الْقُدْرَةِ عَلَى أَنْوَاعِ الْقِتَالِ: مِنْ رَمْيٍ وَطَعْنٍ وَضَرْبٍ وَرُكُوبٍ، وكر، وفر، ونحو ذلك؛ كما قال الله تَعَالَى: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ} [الأنفال: 60] (سورة الأنفال: من الآية 60) . وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «ارْمُوا وَارْكَبُوا، وَأَنْ تَرْمُوا أَحَبُّ إليَّ مِنْ أَنْ تَرْكَبُوا، وَمَنْ تَعَلَّمَ الرَّمْيَ ثُمَّ نَسِيَهُ فَلَيْسَ مِنَّا» وَفِي رِوَايَةٍ: «فَهِيَ نِعْمَةٌ جَحَدَهَا» رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَالْقُوَّةُ فِي الْحُكْمِ بَيْنَ النَّاسِ تَرْجِعُ إلى العلم بالعدل الَّذِي دَلَّ عَلَيْهِ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ، وَإِلَى الْقُدْرَةِ عَلَى تَنْفِيذِ الْأَحْكَامِ. وَالْأَمَانَةُ تَرْجِعُ إلَى خَشْيَةِ اللَّهِ، وَأَلَّا يَشْتَرِيَ بِآيَاتِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا، وَتَرْكِ خشية الناس؛ وهذه الخصال الثلاث التي أخذها الله على كل من حَكَمٍ عَلَى النَّاسِ، فِي قَوْله تَعَالَى: {فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} [المائدة: 44] (سورة المائدة: من الآية 44) . وَلِهَذَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «الْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ: قَاضِيَانِ فِي النَّارِ، وَقَاضٍ فِي الْجَنَّةِ. فَرَجُلٌ عَلِمَ الْحَقَّ وَقَضَى بِخِلَافِهِ، فَهُوَ في النار. لرجل قَضَى بَيْنَ النَّاسِ عَلَى جَهْلٍ، فَهُوَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ عَلِمَ الْحَقَّ وَقَضَى بِهِ، فَهُوَ فِي الْجَنَّةِ» رَوَاهُ أَهْلُ السُّنَنِ. وَالْقَاضِي اسْمٌ كل مَنْ قَضَى بَيْنَ اثْنَيْنِ وَحَكَمَ بَيْنَهُمَا، سَوَاءٌ كان
প্রত্যেকটি শাসনভার বা দায়িত্বের ক্ষেত্রে সামর্থ্য বা শক্তি সেই পদের ধরণ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়; যুদ্ধের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সামর্থ্য বলতে হৃদয়ের সাহসিকতা এবং যুদ্ধবিদ্যা ও রণকৌশলে অভিজ্ঞতাকে বোঝায়, কারণ যুদ্ধ হলো এক প্রকার কৌশল। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের যুদ্ধে পারদর্শিতাও এর অন্তর্ভুক্ত: যেমন তীর নিক্ষেপ, বল্লম চালনা, আঘাত করা, অশ্বচালনা, আক্রমণ ও পিছু হটা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়; যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তাদের মোকাবিলার জন্য তোমরা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী শক্তি ও যুদ্ধের ঘোড়া প্রস্তুত রাখো, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে আতঙ্কিত করবে} [আল-আনফাল: ৬০] (সূরা আল-আনফাল: আয়াত ৬০ এর অংশ)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তীর নিক্ষেপ করো এবং অশ্বারোহণ করো; তবে অশ্বারোহণ করার চেয়ে তীর নিক্ষেপ করা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। আর যে ব্যক্তি তীর নিক্ষেপ শিখল এবং এরপর তা ভুলে গেল, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "এটি একটি নেয়ামত ছিল যা সে অস্বীকার করেছে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর মানুষের মাঝে বিচার-ফয়সালার ক্ষেত্রে সামর্থ্য বা শক্তি বলতে কিতাব ও সুন্নাহ নির্দেশিত ন্যায়বিচার সংক্রান্ত জ্ঞান এবং সেই অনুযায়ী ফয়সালাসমূহ বাস্তবায়নের ক্ষমতাকে বোঝায়। আর আমানতদারি বা বিশ্বস্ততা বলতে আল্লাহর ভীতি, তাঁর আয়াতের বিনিময়ে নগণ্য মূল্য গ্রহণ না করা এবং লোকভয় পরিহার করাকে বোঝায়; এই তিনটি গুণের অঙ্গীকার আল্লাহ প্রত্যেক বিচারকের নিকট থেকে নিয়েছেন, আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে: {সুতরাং তোমরা মানুষকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো; এবং আমার আয়াতের বিনিময়ে নগণ্য মূল্য গ্রহণ করো না। আর যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফির} [আল-মায়িদাহ: ৪৪] (সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৪৪ এর অংশ)। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বিচারক তিন প্রকার: দুই প্রকার বিচারক জাহান্নামী এবং এক প্রকার বিচারক জান্নাতী। যে ব্যক্তি সত্য জানল এবং সে অনুযায়ী ফয়সালা করল না, সে জাহান্নামী। আর যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত মানুষের মাঝে বিচার-ফয়সালা করল, সেও জাহান্নামী। আর যে ব্যক্তি সত্য জানল এবং সেই অনুযায়ী ফয়সালা করল, সে জান্নাতী।" এটি সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন। আর বিচারক হলো এমন প্রত্যেকের নাম যে দুই পক্ষের মধ্যে ফয়সালা করে এবং তাদের মাঝে বিচার করে, চাই সে...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
خَلِيفَةً، أَوْ سُلْطَانًا، أَوْ نَائِبًا، أَوْ وَالِيًا؛ أَوْ كَانَ مَنْصُوبًا لِيَقْضِيَ بِالشَّرْعِ، أَوْ نَائِبًا له، حتى من يَحْكُمَ بَيْنَ الصِّبْيَانِ فِي الْخُطُوطِ، إذَا تَخَايَرُوا. هَكَذَا ذَكَرَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وهو ظاهر.
খলিফা, অথবা সুলতান, অথবা প্রতিনিধি, অথবা গভর্নর; অথবা যাকে শরীয়ত মোতাবেক ফয়সালা প্রদানের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে, কিংবা তার কোনো প্রতিনিধি; এমনকি সেই ব্যক্তিও যে শিশুদের মধ্যে তাদের হস্তলিপি প্রতিযোগিতার বিচার করে যখন তারা তাকে নির্বাচন করে নেয়। এভাবেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ (أصحاب) উল্লেখ করেছেন এবং এটিই সুস্পষ্ট (ظاهر)।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[فصل القوة والأمانة هما المطلوب في الشرع]فصل اجْتِمَاعُ الْقُوَّةِ وَالْأَمَانَةِ فِي النَّاسِ قَلِيلٌ، وَلِهَذَا كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه يَقُولُ: اللَّهُمَّ أَشْكُو إلَيْكَ جَلَدَ الْفَاجِرِ، وَعَجْزَ الثِّقَةِ. فَالْوَاجِبُ فِي كُلِّ وِلَايَةٍ الْأَصْلَحُ بِحَسَبِهَا. فَإِذَا تَعَيَّنَ رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا أَعْظَمُ أَمَانَةً وَالْآخَرُ أَعْظَمُ قُوَّةً: قُدِّمَ أَنْفَعُهُمَا لِتِلْكَ الْوِلَايَةِ: وَأَقَلُّهُمَا ضرراً فيها: فيقدم في إمارة الحروب الرَّجُلُ الْقَوِيُّ الشُّجَاعُ -وَإِنْ كَانَ فِيهِ فُجُورٌ- عَلَى الرَّجُلِ الضَّعِيفِ الْعَاجِزِ، وَإِنْ كَانَ أَمِينًا؛ كَمَا سُئِلَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: عَنْ الرَّجُلَيْنِ يَكُونَانِ أَمِيرَيْنِ فِي الْغَزْوِ، وَأَحَدُهُمَا قَوِيٌّ فَاجِرٌ وَالْآخَرُ صالح ضعيف، مع أيهما يغزى؛ فَقَالَ: أَمَّا الْفَاجِرُ الْقَوِيُّ، فَقُوَّتُهُ لِلْمُسْلِمِينَ، وَفُجُورُهُ عَلَى نَفْسِهِ؛ وَأَمَّا الصَّالِحُ الضَّعِيفُ فَصَلَاحُهُ لِنَفْسِهِ وَضَعْفُهُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ. فَيُغْزِي مَعَ الْقَوِيِّ الْفَاجِرِ. وَقَدْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إنَّ اللَّهَ يُؤَيِّدُ هَذَا الدِّينَ بِالرَّجُلِ الْفَاجِرِ» . وروي «بأقوام لا خلاق لهم» . وإن لَمْ يَكُنْ فَاجِرًا، كَانَ أَوْلَى بِإِمَارَةِ الْحَرْبِ ممن هُوَ أَصْلَحُ مِنْهُ فِي الدِّينِ إذَا لَمْ يَسُدَّ مَسَدَّهُ. وَلِهَذَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَعْمِلُ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ عَلَى الحرب، منذ أسلم، وقال: «إن خالداً سيف سد الله على المشركين» . مع أنه أحيانا قد كان يَعْمَلُ مَا يُنْكِرُهُ النَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم، حتى إنه -مرة- قام ثم رَفَعَ يَدَيْهِ إلَى السَّمَاءِ وَقَالَ: " اللَّهُمَّ إنِّي أَبْرَأُ إلَيْك مِمَّا فَعَلَ خَالِدٌ " لَمَّا أَرْسَلَهُ إلى بني جذيمة فَقَتَلَهُمْ، وَأَخَذَ أَمْوَالَهُمْ بِنَوْعِ شُبْهَةٍ، وَلَمْ يَكُنْ يَجُوزُ ذَلِكَ، وَأَنْكَرَهُ عَلَيْهِ بَعْضُ مَنْ مَعَهُ مِنْ الصَّحَابَةِ، حَتَّى وَدَاهُمْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وَضَمِنَ أَمْوَالَهُمْ؛ وَمَعَ هَذَا فَمَا زَالَ يُقَدِّمُهُ فِي إمَارَةِ الْحَرْبِ؛ لِأَنَّهُ كَانَ أَصْلَحَ فِي هَذَا الْبَابِ مِنْ غَيْرِهِ،
[পরিচ্ছেদ: শক্তি ও আমানতদারিতা—শরিয়তে উভয়ই কাম্য]পরিচ্ছেদ: মানুষের মাঝে শক্তি ও আমানতদারিতার সমাবেশ বিরল। এই কারণেই উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পাপাচারীর দম্ভ এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির অক্ষমতা সম্পর্কে অভিযোগ করছি।" সুতরাং প্রতিটি দায়িত্ব বা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সেটির ধরন অনুযায়ী সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া ওয়াজিব। যদি এমন দুইজন ব্যক্তিকে নির্ধারণ করা হয় যাদের একজন অধিক আমানতদার এবং অন্যজন অধিক শক্তিশালী, তবে সেই নেতৃত্বের জন্য যিনি অধিক উপকারী এবং যাঁর দ্বারা ক্ষতির আশঙ্কা কম, তাঁকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাই যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও সাহসী ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে—যদিও তাঁর মধ্যে পাপাচার থাকে—দুর্বল (ضعيف) ও অক্ষম ব্যক্তির তুলনায়, যদিও তিনি আমানতদার হন। যেমনটি ইমাম আহমাদকে প্রশ্ন করা হয়েছিল: যুদ্ধে সেনাপতি হওয়ার যোগ্য এমন দুইজন ব্যক্তি সম্পর্কে যাদের একজন শক্তিশালী পাপাচারী এবং অন্যজন নেককার ও দুর্বল (ضعيف); কার নেতৃত্বে যুদ্ধ করা হবে? তিনি বললেন: পাপাচারী শক্তিশালী ব্যক্তির শক্তির সুফল মুসলিমরা পাবে, আর তার পাপাচারের বোঝা তার নিজের ওপর বর্তাবে। পক্ষান্তরে নেককার দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তির নেক আমল তার নিজের জন্য, আর তার দুর্বলতা মুসলিমদের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। সুতরাং শক্তিশালী পাপাচারীর সাথেই যুদ্ধ করা হবে। আর নবী (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ পাপাচারী ব্যক্তির মাধ্যমেও এই দ্বীনকে সাহায্য করেন।" অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "এমন কওম দ্বারা যাদের (পরকালে) কোনো অংশ নেই।" আর যদি সে পাপাচারী না হয়, তবে যুদ্ধ পরিচালনায় সে ওই ব্যক্তির চেয়ে অধিক যোগ্য হবে যে তার চেয়ে দ্বীনদারিতে অধিক নেককার হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধের ময়দানে তার সমকক্ষ নয়। এই কারণেই নবী (সা.) খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ ইসলাম গ্রহণের পর থেকেই তাঁকে যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করতেন এবং বলতেন: "নিশ্চয়ই খালিদ আল্লাহর তরবারিগুলোর মধ্যে একটি তরবারি, যা তিনি মুশরিকদের বিরুদ্ধে কোষমুক্ত করেছেন।" যদিও কোনো কোনো সময় তিনি এমন কাজ করতেন যা নবী (সা.) অপছন্দ করতেন। এমনকি একবার তিনি (রাসূল সা.) দাঁড়িয়ে তাঁর দুই হাত আকাশের দিকে তুলে বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! খালিদ যা করেছে, তা থেকে আমি আপনার কাছে দায়মুক্তি ঘোষণা করছি।" এটি তখন ঘটেছিল যখন নবী (সা.) তাঁকে বনু জাযিমা গোত্রের নিকট পাঠিয়েছিলেন, আর তিনি সংশয়ের বশবর্তী হয়ে তাদের হত্যা করেন এবং তাদের সম্পদ গ্রহণ করেন, অথচ তা বৈধ ছিল না। তাঁর সাথে থাকা কতিপয় সাহাবী এর প্রতিবাদ করেছিলেন। অবশেষে নবী (সা.) তাদের রক্তপণ পরিশোধ করেন এবং তাদের সম্পদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করেন। তা সত্ত্বেও নবী (সা.) যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁকেই অগ্রাধিকার দিতেন; কারণ এই ক্ষেত্রে তিনি অন্যদের তুলনায় অধিক যোগ্য ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَفَعَلَ مَا فَعَلَ بِنَوْعِ تَأْوِيلٍ. وَكَانَ أَبُو ذَرٍّ رضي الله عنه أَصْلَحَ مِنْهُ فِي الأمانة والصدق؛ ومع هذا قال لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَبَا ذَرٍّ إنِّي أَرَاك ضَعِيفًا، وَإِنِّي أُحِبُّ لَك مَا أُحِبُّ لِنَفْسِي: لَا تَأَمَّرَنَّ عَلَى اثْنَيْنِ، وَلَا تَوَلَّيَنَّ مَالَ يَتِيمٍ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ. نَهَى أَبَا ذَرٍّ عَنْ الْإِمَارَةِ وَالْوِلَايَةِ، لِأَنَّهُ رَآهُ ضَعِيفًا مَعَ أَنَّهُ قَدْ رُوِيَ: «مَا أَظَلَّتْ الْخَضْرَاءُ وَلَا أَقَلَّتْ الْغَبْرَاءُ أَصْدَقَ لَهْجَةً مِنْ أَبِي ذَرٍّ» . وَأَمَّرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَرَّةً عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ فِي غَزْوَةِ ذَاتِ السَّلَاسِلِ -اسْتِعْطَافًا لِأَقَارِبِهِ الَّذِينَ بَعَثَهُ إلَيْهِمْ- عَلَى مَنْ هُمْ أَفْضَلُ مِنْهُ. وَأَمَّرَ أسامة بن زيد؛ لأجل طلب ثأر أبيه. وكذلك كان يستعمل الرجل لمصلحة راجحة، مَعَ أَنَّهُ قَدْ كَانَ يَكُونُ مَعَ الْأَمِيرِ مَنْ هُوَ أَفْضَلُ مِنْهُ فِي الْعِلْمِ وَالْإِيمَانِ. وَهَكَذَا أَبُو بَكْرٍ خَلِيفَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رضي الله عنه مَا زَالَ يَسْتَعْمِلُ خَالِدًا فِي حَرْبِ أَهْلِ الرِّدَّةِ، وَفِي فَتُوحَ الْعِرَاقِ وَالشَّامِ، وَبَدَتْ مِنْهُ هَفَوَاتٌ كَانَ لَهُ فِيهَا تَأْوِيلٌ، وَقَدْ ذُكِرَ لَهُ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ لَهُ فِيهَا هَوًى، فَلَمْ يعزله من أجلها؛ بل عاتبه عَلَيْهَا: لِرُجْحَانِ الْمَصْلَحَةِ عَلَى الْمَفْسَدَةِ فِي بَقَائِهِ، وَأَنَّ غَيْرَهُ لَمْ يَكُنْ يَقُومُ مَقَامَهُ؛ لِأَنَّ الْمُتَوَلِّيَ الْكَبِيرَ، إذَا كَانَ خُلُقُهُ يَمِيلُ إلَى اللِّينِ، فَيَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ خُلُقُ نَائِبِهِ يَمِيلُ إلَى الشِّدَّةِ؛ وَإِذَا كَانَ خُلُقُهُ يَمِيلُ إلَى الشِّدَّةِ، فَيَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ خُلُقُ نَائِبِهِ يَمِيلُ إلَى اللِّينِ؛ لِيَعْتَدِلَ الْأَمْرُ. وَلِهَذَا كَانَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي الله عنه يُؤْثِرُ اسْتِنَابَةَ خَالِدٍ؛ وَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه يُؤْثِرُ عَزْلَ خَالِدٍ، وَاسْتِنَابَةَ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ رضي الله عنه لِأَنَّ خَالِدًا كان شديد، كَعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَأَبَا
তিনি যা করেছিলেন তা এক প্রকার ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই করেছিলেন। আমানতদারি ও সত্যবাদিতার ক্ষেত্রে আবু যর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর চেয়েও অধিক যোগ্য ছিলেন; তা সত্ত্বেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বলেছিলেন: «হে আবু যর! আমি তোমাকে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে দেখছি। আর আমি নিজের জন্য যা পছন্দ করি, তোমার জন্যও তা-ই পছন্দ করি: তুমি কখনো দুই ব্যক্তির ওপর নেতৃত্ব দেবে না এবং এতিমের সম্পদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করবে না»। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু যরকে নেতৃত্ব ও শাসনভার গ্রহণ করতে নিষেধ করেছিলেন, কারণ তিনি তাঁকে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে দেখেছিলেন, যদিও এটি বর্ণিত হয়েছে যে: «আকাশ যার ওপর ছায়া দিয়েছে এবং জমিন যাকে বহন করেছে, তাদের মধ্যে আবু যরের চেয়ে অধিক সত্যভাষী আর কেউ নেই»। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাতুস সালাসিল যুদ্ধে একবার আমর ইবনুল আসকে তাঁর চেয়েও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের ওপর সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন—যাতে তাঁর সেই আত্মীয়-স্বজনদের মন জয় করা যায় যাদের নিকট তাঁকে পাঠানো হয়েছিল। তদ্রূপ উসামা ইবনে যায়েদকেও তিনি তাঁর পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্যে সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন। একইভাবে তিনি কোনো ব্যক্তিকে বৃহত্তর জনকল্যাণের খাতিরে নিয়োগ দিতেন, যদিও সেই আমিরের অধীনে এমন লোক থাকতেন যারা ইলম ও ঈমানের দিক থেকে তাঁর চেয়েও শ্রেষ্ঠ হতেন। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খলীফা আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এবং ইরাক ও শাম বিজয়ের অভিযানে খালিদকে সেনাপতি হিসেবে বহাল রেখেছিলেন। তাঁর পক্ষ থেকে কিছু বিচ্যুতি প্রকাশ পেয়েছিল যার পেছনে তাঁর নিজস্ব ব্যাখ্যা ছিল। আবু বকরের নিকট খালিদ সম্পর্কে এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এর পেছনে তাঁর ব্যক্তিগত ঝোঁক ছিল; তবুও তিনি তাঁকে এ কারণে বরখাস্ত করেননি, বরং এ জন্য তাঁকে তিরস্কার করেছিলেন। কারণ তাঁকে পদে বহাল রাখার কল্যাণ বিশৃঙ্খলার আশঙ্কার চেয়ে বেশি ছিল এবং অন্য কেউ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে সেই দায়িত্ব পালনের যোগ্য ছিল না। কেননা প্রধান প্রশাসক যদি স্বভাবগতভাবে কোমল হন, তবে তাঁর সহকারীর কঠোর স্বভাবের হওয়া উচিত; আর যদি তিনি কঠোর স্বভাবের হন, তবে তাঁর সহকারীর কোমল স্বভাবের হওয়া উচিত; যাতে করে শাসনকাজে ভারসাম্য বজায় থাকে। একারণেই আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) খালিদকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিতে পছন্দ করতেন; অন্যদিকে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) খালিদকে বরখাস্ত করে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিতেন। কারণ উমর ইবনুল খাত্তাবের মতো খালিদও ছিলেন কঠোর স্বভাবের, আর আবু...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
عُبَيْدَةَ كَانَ لَيِّنًا كَأَبِي بَكْرٍ؛ وَكَانَ الْأَصْلَحُ لِكُلٍّ مِنْهُمَا أَنْ يُوَلِّيَ مَنْ وَلَّاهُ؛ لِيَكُونَ أَمْرُهُ مُعْتَدِلًا، وَيَكُونَ بِذَلِكَ مِنْ خُلَفَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي هُوَ مُعْتَدِلٌ؛ حَتَّى قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَنَا نَبِيُّ الرَّحْمَةِ، أَنَا نَبِيُّ الْمَلْحَمَةِ» . وَقَالَ: «أَنَا الضَّحُوكُ الْقَتَّالُ» . وَأُمَّتُهُ وَسَطٌ قَالَ الله تَعَالَى فِيهِمْ: {أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا} [الفتح: 29] (سورة الفتح: من الآية 29) . وَقَالَ تَعَالَى: {أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ} [المائدة: 54] (سورة المائدة: من الآية 54) . وَلِهَذَا لَمَّا تَوَلَّى أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رضي الله عنهما صَارَا كَامِلَيْنِ فِي الْوِلَايَةِ، وَاعْتَدَلَ مِنْهُمَا مَا كَانَ يُنْسَبَانِ فِيهِ إلَى أَحَدِ الطَّرَفَيْنِ فِي حَيَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، مِنْ لِينِ أَحَدِهِمَا وَشِدَّةِ الْآخَرِ، حَتَّى قَالَ فِيهِمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «اقتدوا باللذين مِنْ بَعْدِي أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ» . وَظَهَرَ مِنْ أَبِي بَكْرٍ مِنْ شَجَاعَةِ الْقَلْبِ فِي قِتَالِ أَهْلِ الرِّدَّةِ وَغَيْرِهِمْ: مَا بَرَزَ بِهِ عَلِيٌّ عمر وسائر الصحابة، رضي الله عنهم أجمعين. وإذا كَانَتْ الْحَاجَةُ فِي الْوِلَايَةِ إلَى الْأَمَانَةِ أَشَدَّ، قُدِّمَ الْأَمِينُ؛ مِثْلُ حِفْظِ الْأَمْوَالِ وَنَحْوِهَا؛ فَأَمَّا اسْتِخْرَاجُهَا وَحِفْظُهَا، فَلَا بُدَّ فِيهِ مِنْ قُوَّةٍ وَأَمَانَةٍ، فَيُوَلَّى عَلَيْهَا شَادٌّ قَوِيٌّ يَسْتَخْرِجُهَا بِقُوَّتِهِ، وَكَاتِبٌ أَمِينٌ يَحْفَظُهَا بِخِبْرَتِهِ وَأَمَانَتِهِ. وَكَذَلِكَ فِي إمارة الحرب، إذا أمر الأمير بمشاورة أهل الْعِلْمِ وَالدِّينِ جَمَعَ بَيْنَ الْمَصْلَحَتَيْنِ، وَهَكَذَا فِي سَائِرِ الْوِلَايَاتِ إذَا لَمْ تَتِمَّ الْمَصْلَحَةُ بِرَجُلٍ وَاحِدٍ جَمَعَ بَيْنَ عَدَدٍ؛ فَلَا بُدَّ مِنْ تَرْجِيحِ الْأَصْلَحِ، أَوْ تَعَدُّدِ الْمُوَلَّى، إذَا لَمْ تَقَعْ الْكِفَايَةُ بِوَاحِدٍ تَامٍّ. وَيُقَدَّمُ فِي وِلَايَةِ الْقَضَاءِ: الْأَعْلَمُ الْأَوْرَعُ الْأَكْفَأُ؛ فَإِنْ كَانَ أَحَدُهُمَا أعلم،
উবাইদাহ আবু বকরের ন্যায় নম্র (لين) প্রকৃতির ছিলেন; তাদের প্রত্যেকের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ছিল তাকেই নিয়োজিত করা যাকে তারা দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন; যাতে তাদের বিষয়টি ভারসাম্যপূর্ণ হয় এবং এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই খলীফাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন যারা ভারসাম্যপূর্ণ ছিলেন। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি রহমতের নবী, আমি যুদ্ধের নবী।" এবং তিনি আরও বলেছেন: "আমি হাস্যোজ্জ্বল অথচ সংহারক যোদ্ধা।" আর তাঁর উম্মত হলো মধ্যপন্থী জাতি, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে দয়ালু। তুমি তাদেরকে রুকু ও সেজদারত দেখবে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে।} [সূরা আল-ফাতহ: ২৯]। এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তারা মুমিনদের প্রতি বিনয়ী এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর।} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৫৪]। এই কারণেই যখন আবু বকর ও উমর (রা.) দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন, তখন তারা শাসনে পূর্ণতা লাভ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় তাদের একজনের নম্রতা এবং অন্যজনের কঠোরতার যে প্রবণতা তাদের প্রতি আরোপ করা হতো, তার মাঝে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হলো। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্পর্কে বলেছেন: "আমার পরবর্তী এই দুই ব্যক্তির অনুসরণ করবে—আবু বকর ও উমর।" আর আবু বকরের পক্ষ থেকে রিদ্দাহর (ধর্মত্যাগীদের) যুদ্ধ ও অন্যান্য যুদ্ধে হৃদয়ের এমন সাহসিকতা প্রকাশিত হয়েছিল, যা আলী, উমর ও অন্যান্য সকল সাহাবী (রা.)-এর মাঝে স্বতন্ত্রভাবে উদ্ভাসিত হয়েছিল। যখন শাসনের ক্ষেত্রে আমানতদারিতার প্রয়োজনীয়তা অধিক হয়, তখন আমানতদারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়; যেমন সম্পদ সংরক্ষণ ও অনুরূপ বিষয়াদি। তবে সম্পদ আহরণ ও তা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শক্তি ও আমানতদারিতা উভয়টিরই প্রয়োজন। এমতাবস্থায় সেখানে এমন একজন শক্তিশালী তদারককারী নিযুক্ত করা হবে যে তার শক্তির মাধ্যমে তা আহরণ করবে, এবং একজন আমানতদার লেখক নিযুক্ত হবে যে তার অভিজ্ঞতা ও আমানতদারিতার মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করবে। অনুরূপভাবে যুদ্ধের নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও, যখন আমীর (সেনাপতি) ইলম ও দ্বীনদারী সম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করার নির্দেশ দেন, তখন তিনি উভয় কল্যাণকে একত্রিত করেন। এভাবেই অন্যান্য সকল প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও, যদি একক ব্যক্তির দ্বারা সামগ্রিক কল্যাণ সাধিত না হয়, তবে একাধিক ব্যক্তিকে একত্রিত করা হবে। সুতরাং হয় সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তিকে প্রাধান্য দিতে হবে, অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে, যদি একজনের দ্বারা পর্যাপ্ততা অর্জিত না হয়। আর বিচার বিভাগের দায়িত্বের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: যিনি সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, অধিক পরহেযগার এবং অধিক যোগ্য; যদি তাদের একজন অধিক জ্ঞানী হয়...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَالْآخَرُ أَوْرَعَ؛ قُدِّمَ -فِيمَا قَدْ يَظْهَرُ حُكْمُهُ، وَيُخَافُ فِيهِ الْهَوَى- الْأَوْرَعُ؛ وَفِيمَا يَدُقُّ حُكْمُهُ، وَيُخَافُ فِيهِ الِاشْتِبَاهُ: الْأَعْلَمُ. فَفِي الْحَدِيثِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «إن الله يحب البصر النافذ عند وررد الشبهات، ويحب العقل الكامل عِنْدَ حُلُولِ الشَّهَوَاتِ» . وَيُقَدَّمَانِ عَلَى الْأَكْفَأِ، إنْ كَانَ الْقَاضِي مُؤَيَّدًا تَأْيِيدًا تَامًّا، مِنْ جِهَةِ وَالِي الْحَرْبِ، أَوْ الْعَامَّةِ. وَيُقَدَّمُ الْأَكْفَأُ إنْ كان القضاء يحتاج إِلى قوة وإعانة للقاضي، أكثر من حاجته إلى مزيد العلم والورع؛ فَإِنَّ الْقَاضِيَ الْمُطْلَقَ يَحْتَاجُ أَنْ يَكُونَ عَالِمًا عَادِلًا قَادِرًا. بَلْ وَكَذَلِكَ كُلُّ وَالٍ لِلْمُسْلِمِينَ، فَأَيُّ صِفَةٍ مِنْ هَذِهِ الصِّفَاتِ نَقَصَتْ، ظَهَرَ الْخَلَلُ بِسَبَبِهِ، وَالْكَفَاءَةُ: إمَّا بِقَهْرٍ وَرَهْبَةٍ؛ وَإِمَّا بِإِحْسَانٍ وَرَغْبَةٍ؛ وَفِي الْحَقِيقَةِ فَلَا بُدَّ مِنْهُمَا. وَسُئِلَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ: إذَا لَمْ يُوجَدْ مَنْ يُوَلَّى الْقَضَاءَ؛ إلَّا عَالِمٌ فَاسِقٌ، أَوْ جَاهِلُ دِينٍ؛ فَأَيُّهُمَا يُقَدَّمُ؟ فَقَالَ: إنْ كَانَتْ الْحَاجَةُ إلَى الدِّينِ أَكْثَرَ لِغَلَبَةِ الْفَسَادِ، قُدِّمَ الدِّينُ. وإن كانت الحاجة إلى العلم أَكْثَرَ لِخَفَاءِ الْحُكُومَاتِ قُدِّمَ الْعَالِمُ. وَأَكْثَرُ الْعُلَمَاءِ يُقَدِّمُونَ ذَا الدِّينِ، فَإِنَّ الْأَئِمَّةَ مُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّهُ لَا بُدَّ فِي الْمُتَوَلِّي، مِنْ أَنْ يَكُونَ عَدْلًا أَهْلًا لِلشَّهَادَةِ، وَاخْتَلَفُوا فِي اشْتِرَاطِ الْعِلْمِ: هَلْ يَجِبُ أَنْ يَكُونَ مُجْتَهِدًا، أَوْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مُقَلِّدًا، أَوْ الْوَاجِبُ تَوْلِيَةُ الْأَمْثَلِ فَالْأَمْثَلِ، كَيْفَمَا تَيَسَّرَ؟ عَلَى ثَلَاثَةِ أَقْوَالٍ. وَبُسِطَ الْكَلَامُ عَلَى ذَلِكَ فِي غَيْرِ هَذَا الموضع. ومع أنه يجوز تولية كير الْأَهْلِ لِلضَّرُورَةِ، إذَا كَانَ أَصْلَحَ الْمَوْجُودِ فَيَجِبُ مَعَ ذَلِكَ السَّعْيُ فِي إصْلَاحِ الْأَحْوَالِ، حَتَّى يَكْمُلَ فِي النَّاسِ مَا لَا بُدَّ لَهُمْ منه،
আর অন্যজন অধিক পরহেজগার (أورع); সেক্ষেত্রে—যার বিধান সুস্পষ্ট এবং যেখানে প্রবৃত্তির অনুসরণের আশঙ্কা থাকে—অধিক পরহেজগার (أورع) ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আর যেখানে বিধান সূক্ষ্ম এবং যেখানে সংশয়ের আশঙ্কা থাকে, সেখানে অধিক জ্ঞানী (أعلم) ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সংশয় উপস্থিত হওয়ার সময় তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এবং কুপ্রবৃত্তি জাগ্রত হওয়ার সময় পূর্ণাঙ্গ বিবেক পছন্দ করেন।" যদি বিচারক (কাজী) সমরপ্রধান অথবা সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থনপ্রাপ্ত হন, তবে তাদের দুজনকে (অধিক পরহেজগার বা অধিক জ্ঞানী) অধিক যোগ্য (أكفأ) ব্যক্তির ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে যদি বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে অধিক জ্ঞান ও তাকওয়ার চেয়ে বিচারকের জন্য শক্তি ও সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বেশি হয়, তবে অধিক যোগ্য (أكفأ) ব্যক্তিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে; কারণ একজন স্বাধীন বিচারকের জন্য জ্ঞানী (عالم), ন্যায়পরায়ণ (عادل) ও সামর্থ্যবান হওয়া প্রয়োজন। বরং মুসলিমদের সকল প্রশাসকের ক্ষেত্রেও একই বিধান; এই গুণাবলির কোনো একটির অভাব ঘটলে তার কারণে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। আর যোগ্যতা (كفاءة) অর্জিত হয় হয় শক্তি ও ভীতির মাধ্যমে, অথবা অনুগ্রহ ও আগ্রহ সৃষ্টির মাধ্যমে; আর প্রকৃতপক্ষে এই উভয়টিরই প্রয়োজন রয়েছে। কোনো কোনো আলেমকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: যদি বিচারকার্যে নিয়োগ দেওয়ার জন্য পাপাচারী জ্ঞানী (عالم فاسق) অথবা ধর্মপরায়ণ মূর্খ ব্যতীত আর কাউকে পাওয়া না যায়, তবে কাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে? তিনি বললেন: যদি ফাসাদ বা পাপাচারের প্রাবল্যের কারণে দ্বীনদারির প্রয়োজন বেশি হয়, তবে দ্বীনদার ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আর যদি বিচার্য বিষয়গুলোর অস্পষ্টতার কারণে জ্ঞানের প্রয়োজন বেশি হয়, তবে জ্ঞানী (عالم) ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অধিকাংশ আলেম দ্বীনদার ব্যক্তিকেই অগ্রাধিকার প্রদান করেন; কারণ ইমামগণ এ বিষয়ে একমত যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই ন্যায়পরায়ণ (عدل) এবং সাক্ষ্য প্রদানের যোগ্য হতে হবে। তবে জ্ঞানের শর্তারোপের বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন: তাকে কি মুজতাহিদ (مجتهد) হওয়া আবশ্যক, নাকি মুকাল্লিদ (مقلদ) হওয়া বৈধ, নাকি সামর্থ্য অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান করা আবশ্যক? এ বিষয়ে তিনটি মত রয়েছে। এ বিষয়ে অন্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আর যদিও অপরিহার্য প্রয়োজনে অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া বৈধ, যদি সে বিদ্যমানদের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য হয়, তবুও পরিস্থিতির সংশোধনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো আবশ্যক, যাতে মানুষের মধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় গুণাবলি পূর্ণতা পায়।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
مِنْ أُمُورِ الْوِلَايَاتِ والإِمارات وَنَحْوِهَا: كَمَا يَجِبُ عَلَى الْمُعْسِرِ السَّعْيُ فِي وَفَاءِ دَيْنِهِ، وَإِنْ كَانَ فِي الْحَالِ لَا يُطْلَبُ مِنْهُ إلَّا مَا يَقْدِرُ عَلَيْهِ، وَكَمَا يَجِبُ الِاسْتِعْدَادُ لِلْجِهَادِ، بِإِعْدَادِ الْقُوَّةِ وَرِبَاطِ الْخَيْلِ فِي وَقْتِ سُقُوطِهِ لِلْعَجْزِ، فَإِنَّ مَا لَا يَتِمُّ الْوَاجِبُ إِلا بِهِ فَهُوَ وَاجِبٌ، بِخِلَافِ الِاسْتِطَاعَةِ فِي الْحَجِّ وَنَحْوِهَا فَإِنَّهُ لَا يَجِبُ تَحْصِيلُهَا، لِأَنَّ الْوُجُوبَ هنا لا يتم إلا بها.
প্রশাসন, নেতৃত্ব এবং এ জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে: যেভাবে একজন অসচ্ছল ব্যক্তির ওপর তার ঋণ পরিশোধের প্রচেষ্টা চালানো ওয়াজিব (واجب), যদিও বর্তমান অবস্থায় তার সাধ্যের অতীত কিছু তার নিকট থেকে চাওয়া হয় না; এবং যেভাবে জিহাদের প্রস্তুতির জন্য শক্তি সঞ্চয় এবং ঘোড়া প্রতিপালনের মাধ্যমে প্রস্তুতি গ্রহণ করা ওয়াজিব (واجب), যখন অক্ষমতার কারণে তা স্থগিত থাকে; কারণ যা ছাড়া ওয়াজিব (واجب) পূর্ণ হয় না, তা-ও ওয়াজিব (واجب)। হজ্জ বা এ জাতীয় ইবাদতের সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি এর বিপরীত, কেননা তা অর্জন করা ওয়াজিব (واجب) নয়; কারণ এখানে সক্ষমতা ছাড়া ওয়াজিব হওয়া (وجوب) সম্পন্ন হয় না।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
[كيفية معرفة الأصلح في الولاية]وأهم ما فِي هَذَا الْبَابِ مَعْرِفَةُ الْأَصْلَحِ، وَذَلِكَ إنَّمَا يَتِمُّ بِمَعْرِفَةِ مَقْصُودِ الْوِلَايَةِ، وَمَعْرِفَةِ طَرِيقِ الْمَقْصُودِ؛ فَإِذَا عَرَفْت الْمَقَاصِدَ وَالْوَسَائِلَ تَمَّ الْأَمْرُ. فَلِهَذَا لَمَّا غَلَبَ عَلَى أَكْثَرِ الْمُلُوكِ قَصْدُ الدُّنْيَا، دُونَ الدِّينِ؛ قَدَّمُوا فِي وِلَايَتِهِمْ مَنْ يُعِينُهُمْ عَلَى تِلْكَ الْمَقَاصِدِ، وَكَانَ مَنْ يَطْلُبُ رِئَاسَةَ نَفْسِهِ، يُؤْثِرُ تَقْدِيمَ مَنْ يُقِيمُ رِئَاسَتَهُ؛ وَقَدْ كَانَتْ السُّنَّةُ أَنَّ الَّذِي يُصَلِّي بِالْمُسْلِمِينَ الْجُمُعَةَ وَالْجَمَاعَةَ وَيَخْطُبُ بِهِمْ: هُمْ أُمَرَاءُ الْحَرْبِ، الَّذِينَ هم نواب ذي السلطان على الأجناد؛ وَلِهَذَا لَمَّا قَدَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَبَا بَكْرٍ فِي الصَّلَاةِ، قَدَّمَهُ الْمُسْلِمُونَ فِي إمَارَةِ الْحَرْبِ وَغَيْرِهَا. وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إذَا بَعَثَ أَمِيرًا عَلَى حَرْبٍ، كَانَ هُوَ الَّذِي يُؤَمِّرُهُ لِلصَّلَاةِ بِأَصْحَابِهِ، وَكَذَلِكَ إذَا اسْتَعْمَلَ رَجُلًا نَائِبًا عَلَى مَدِينَةٍ، كما استعمل عتاب ابن أَسِيدٍ عَلَى مَكَّةَ، وَعُثْمَانَ بْنَ أَبِي الْعَاصِ عَلَى الطَّائِفِ، وَعَلِيًّا وَمُعَاذًا وَأَبَا مُوسَى عَلَى الْيَمَنِ، وعمرَو بْنَ حَزْمٍ عَلَى نَجْرَانَ: كَانَ نَائِبُهُ هُوَ الَّذِي يُصَلِّي بِهِمْ، وَيُقِيمُ فِيهِمْ الْحُدُودَ وَغَيْرَهَا مِمَّا يَفْعَلُهُ أَمِيرُ الْحَرْبِ، وَكَذَلِكَ خُلَفَاؤُهُ بَعْدَهُ، وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنْ الْمُلُوكِ الْأُمَوِيِّينَ وَبَعْضِ الْعَبَّاسِيِّينَ؛ وَذَلِكَ لِأَنَّ أَهَمَّ أَمْرِ الدِّينِ الصَّلَاةُ وَالْجِهَادُ؛ وَلِهَذَا كَانَتْ أَكْثَرُ الْأَحَادِيثِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلَاةِ وَالْجِهَادِ، «وَكَانَ إذَا عَادَ مَرِيضًا يَقُولُ: اللَّهُمَّ اشْفِ عَبْدَك، يَشْهَدُ لَك صَلَاةً، وَيَنْكَأُ لَك عَدُوًّا» . «وَلَمَّا بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُعَاذًا إلَى الْيَمَنِ، قَالَ: يَا مُعَاذُ إنَّ أَهَمَّ أَمْرِك
[প্রশাসনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক উপযুক্ত ব্যক্তিকে চেনার পদ্ধতি]এই অধ্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তিকে চেনা; আর এটি কেবল প্রশাসনের উদ্দেশ্য এবং সেই উদ্দেশ্য অর্জনের পথ সম্পর্কে জানার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। সুতরাং আপনি যখন উদ্দেশ্য ও উপায়সমূহ জেনে যাবেন, তখন বিষয়টি পূর্ণতা লাভ করবে। একারণেই যখন অধিকাংশ রাজা-বাদশাহদের ওপর দ্বীনের পরিবর্তে দুনিয়াবি উদ্দেশ্য প্রাধান্য পেল, তখন তারা তাদের প্রশাসনে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে শুরু করল যারা তাদের সেই পার্থিব উদ্দেশ্য হাসিলে সহায়তা করবে। আর যে ব্যক্তি নিজের নেতৃত্ব কামনা করত, সে এমন কাউকে অগ্রাধিকার দিত যে তার নেতৃত্বকে সুসংহত করবে। সুন্নাহ (سنة) ছিল এই যে, যারা মুসলমানদের জুমুআ ও জামাতে ইমামতি করতেন এবং তাদের সামনে খুতবা প্রদান করতেন, তারাই ছিলেন সমর সেনাপতি, যারা সেনাবাহিনীর ওপর রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। একারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন আবু বকরকে সালাতে ইমাম হিসেবে অগ্রবর্তী করলেন, তখন মুসলমানগণ তাকে সমর নেতৃত্ব ও অন্যান্য বিষয়েও অগ্রবর্তী করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোনো যুদ্ধের জন্য সেনাপতি পাঠাতেন, তখন তাকেই তার সঙ্গীদের সালাতে ইমামতি করার দায়িত্ব দিতেন। একইভাবে তিনি যখন কোনো ব্যক্তিকে কোনো শহরের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিতেন—যেমন আত্তাব ইবনে আসিদকে মক্কায়, উসমান ইবনে আবিল আসকে তায়েফে, আলী, মুয়াজ ও আবু মুসাকে ইয়ামেনে এবং আমর ইবনে হাযমকে নাজরানে নিয়োগ দিয়েছিলেন—তখন তার সেই প্রতিনিধিই তাদের সালাতে ইমামতি করতেন এবং তাদের মধ্যে দণ্ডবিধি ও অন্যান্য দায়িত্ব কার্যকর করতেন যা সমর সেনাপতিরা করে থাকেন। তার পরবর্তী খলিফাগণ এবং তাদের পরবর্তী উমাইয়া রাজবংশ ও কোনো কোনো আব্বাসীয় শাসকগণও অনুরূপ করতেন। কারণ দ্বীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সালাত ও জিহাদ; একারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত অধিকাংশ হাদিস সালাত ও জিহাদ সংক্রান্ত। তিনি যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আপনার বান্দাকে সুস্থ করে দিন, যাতে সে আপনার জন্য সালাতে উপস্থিত হতে পারে এবং আপনার শত্রুকে পরাস্ত করতে পারে।" আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মুয়াজকে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন, তখন বলেছিলেন: "হে মুয়াজ! তোমার কাজের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো..."
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
عِنْدِي الصَّلَاةُ» . وَكَذَلِكَ كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه يكتبَ إلَى عُمَّالِهِ: إنَّ أَهَمَّ أُمُورِكُمْ عِنْدِي الصَّلَاةُ؛ فَمَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا وَحَفِظَهَا حَفِظَ دِينَهُ، وَمَنْ ضَيَّعَهَا كَانَ لِمَا سِوَاهَا مِنْ عَمَلِهِ أَشَدُّ إضَاعَةً. وَذَلِكَ لِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الصَّلَاةُ عِمَادُ الدِّينِ» . فَإِذَا أَقَامَ الْمُتَوَلِّي عِمَادَ الدِّينِ: فَالصَّلَاةُ تَنْهَى عَنْ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكِرِ، وَهِيَ الَّتِي تُعِينُ النَّاسَ عَلَى مَا سِوَاهَا مِنْ الطَّاعَاتِ، كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ} [البقرة: 45] (سورة البقرة: الآية 45) . وَقَالَ سبحانه وتعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} [البقرة: 153] (سورة البقرة: الآية 153) . وقال لنبيه صلى الله عليه وسلم: {وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى} [طه: 132] (سورة طه: الآية 132) . وَقَالَ تَعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ - مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ - إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} [الذاريات: 56 - 58] (سورة الذاريات: الآيات 56-58) . فَالْمَقْصُودُ الْوَاجِبُ بِالْوِلَايَاتِ: إصْلَاحُ دِينِ الْخَلْقِ الذيِ مَتَى فَاتَهُمْ خَسِرُوا خُسْرَانًا مُبِينًا، وَلَمْ يَنْفَعْهُمْ مَا نَعِمُوا بِهِ فِي الدُّنْيَا؛ وَإِصْلَاحُ مَا لَا يَقُومُ الدِّينُ إلَّا بِهِ مِنْ أَمْرِ دُنْيَاهُمْ. وَهُوَ نَوْعَانِ: قَسْمُ الْمَالِ بَيْنَ مُسْتَحِقِّيهِ؛ وعقوبات المعتدين، فَمَنْ لَمْ يَعْتَدِ أَصْلَحَ لَهُ دِينَهُ وَدُنْيَاهُ: وَلِهَذَا كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَقُولُ: [إنَّمَا بَعَثْت عُمَّالِي إلَيْكُمْ لِيُعَلِّمُوكُمْ كِتَابَ رَبِّكُمْ، وَسُنَّةَ نبيكم، ويقسموا بينكم فيئكم ". فَلَمَّا تَغَيَّرَتْ الرَّعِيَّةُ مِنْ وَجْهٍ، وَالرُّعَاةُ مِنْ وجه؛ تناقصت الْأُمُورُ. فَإِذَا اجْتَهَدَ الرَّاعِي فِي إصْلَاحِ دِينِهِمْ ودنياهم بحسب
...আমার নিকট সালাত।" একইভাবে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর গভর্নরদের কাছে লিখতেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের কার্যাবলীর মধ্যে আমার নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সালাত। সুতরাং যে ব্যক্তি এর প্রতি যত্নবান হলো এবং একে সংরক্ষণ করল, সে তার দীনকে রক্ষা করল। আর যে ব্যক্তি একে বিনষ্ট করল, সে সালাত ছাড়া অন্য বিষয়গুলোকে আরও বেশি বিনষ্টকারী হিসেবে গণ্য হবে।" আর তা এজন্য যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সালাত হলো দীনের স্তম্ভ।" সুতরাং যখন কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি দীনের স্তম্ভকে প্রতিষ্ঠা করেন, তখন সালাত তাকে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ (منكر) থেকে বিরত রাখে। আর এটিই মানুষকে অন্যান্য আনুগত্যের কাজে সহায়তা করে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা সবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। অবশ্যই তা অতি কঠিন কাজ, বিনীতরা ছাড়া অন্যের জন্য।} [সুরা আল-বাকারাহ: ৪৫] (সুরা আল-বাকারাহ: আয়াত ৪৫)। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা সবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।} [সুরা আল-বাকারাহ: ১৫৩] (সুরা আল-বাকারাহ: আয়াত ১৫৩)। এবং তিনি তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: {আর তুমি তোমার পরিবার-পরিজনকে সালাতের আদেশ দাও এবং নিজেও তাতে অবিচল থাকো। আমি তোমার কাছে কোনো রিজিক চাই না, আমিই তোমাকে রিজিক দান করি; আর শুভ পরিণাম তো তাকওয়ার জন্য।} [সুরা ত্বহা: ১৩২] (সুরা ত্বহা: আয়াত ১৩২)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আমি জিন ও মানব জাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে কোনো জীবিকা চাই না এবং আমি এটাও চাই না যে তারা আমাকে আহার করাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহই তো রিজিকদাতা এবং প্রবল শক্তির অধিকারী।} [সুরা আয-যারিয়াত: ৫৬-৫৮] (সুরা আয-যারিয়াত: আয়াত ৫৬-৫৮)। সুতরাং নেতৃত্বের আবশ্যিক উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টির দীনের সংশোধন করা, যা হাতছাড়া হলে তারা সুস্পষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হবে এবং দুনিয়ার ভোগ-বিলাস তাদের কোনো উপকারে আসবে না। আর ওইসব দুনিয়াবি বিষয়ের সংশোধন করা যা ছাড়া দীন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আর এটি দুই প্রকার: এর হকদারদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করা এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের দণ্ড প্রদান করা। সুতরাং যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করল না, তার দীন ও দুনিয়া সংশোধিত হলো। এ কারণেই উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: "আমি আমার গভর্নরদের তোমাদের কাছে কেবল একারণেই পাঠিয়েছি যেন তারা তোমাদের রবের কিতাব ও তোমাদের নবীর সুন্নাহ শিক্ষা দেয় এবং তোমাদের মধ্যে তোমাদের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন করে দেয়।" অতঃপর যখন একদিকে প্রজাসাধারণ এবং অন্যদিকে শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তিত হয়ে গেল, তখন সামগ্রিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটল। সুতরাং শাসক যদি তাদের দীন ও দুনিয়া সংশোধনের ব্যাপারে সামর্থ্যানুযায়ী প্রচেষ্টা চালান...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الْإِمْكَانِ كَانَ مِنْ أَفْضَلِ أَهْلِ زَمَانِهِ، وَكَانَ مِنْ أَفْضَلِ الْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؛ فَقَدْ رُوِيَ: «يَوْمٌ مِنْ إمَامٍ عَادِلٍ أَفْضَلُ مِنْ عِبَادَةِ سِتِّينَ سَنَةٍ» وَفِي مُسْنَدِ الْإِمَامِ أَحْمَدَ، عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «أَحَبُّ الْخَلْقِ إلَى اللَّهِ إمَامٌ عَادِلٌ، وَأَبْغَضُهُمْ إلَيْهِ إمَامٌ جَائِرٌ» وَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «سَبْعَةٌ يظلهم الله في ظله لِوم لَا ظِلَّ إلَّا ظِلُّهُ: إمَامٌ عَادِلٌ، وَشَابٌّ نشأ في طاعة اللَّهِ، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ بِالْمَسْجِدِ إذَا خَرَجَ مِنْهُ حَتَّى يَعُودَ إلَيْهِ، وَرَجُلَانِ تَحَابًّا فِي أدنه، اجْتَمَعَا عَلَى ذَلِكَ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ، وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذات منصب وجمال فَقَالَ: إنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا، حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ ما تنفق يمينه» . وفي صحح مسلم عن عياض بن حمار رضي الله عنه قال: قال رسول صلى الله عليه وسلم: «أَهْلُ الْجَنَّةِ ثَلَاثَةٌ: ذو سلطان مقسط، ورجل رحيم رقيق القلب بكل ذي قربى ومسلم، لرجل غَنِيٌّ عَفِيفٌ مُتَصَدِّقٌ» . وَفِي السُّنَنِ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «السَّاعِي عَلَى الصَّدَقَةِ بِالْحَقِّ كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» . وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى لَمَّا أَمَرَ بِالْجِهَادِ: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ} [البقرة: 193] (سورة الأنفال: من الآية 39) ، «وَقِيلَ لِلنَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم: يَا رَسُولَ اللَّهِ! الرَّجُلُ يُقَاتِلُ شَجَاعَةً، وَيُقَاتِلُ حَمِيَّةً، وَيُقَاتِلُ رِيَاءً، فَأَيُّ ذَلِكَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ فَقَالَ: " مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» أَخْرَجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ. فَالْمَقْصُودُ أَنْ يَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ، وأن تكون كلمة الله الْعُلْيَا، وَكَلِمَةُ اللَّهِ: اسْمٌ جَامِعٌ لِكَلِمَاتِهِ الَّتِي تَضَمَّنَهَا كِتَابُهُ، وَهَكَذَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى:
সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন এবং আল্লাহর পথে শ্রেষ্ঠ মুজাহিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; কেননা বর্ণিত (روي) হয়েছে: "ন্যায়পরায়ণ শাসকের একদিন (এর ন্যায়বিচার) ষাট বছরের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।" মুসনাদে ইমাম আহমাদে নবী (সা.) থেকে বর্ণিত (عن) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহর নিকট সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি হলো ন্যায়পরায়ণ শাসক এবং তাঁর নিকট সবচেয়ে অপ্রিয় ব্যক্তি হলো অত্যাচারী শাসক।" সহীহাইনে আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "সাত শ্রেণীর ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না: ন্যায়পরায়ণ শাসক; সেই যুবক যার বেড়ে ওঠা হয়েছে আল্লাহর ইবাদতের মধ্য দিয়ে; সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে যখন সে সেখান থেকে বের হয় যতক্ষণ না পুনরায় ফিরে আসে; সেই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসে, তারা সেই উদ্দেশ্যেই একত্রিত হয় এবং সেই উদ্দেশ্যেই পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়; সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর জিকির করে এবং তার দুচোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়; সেই ব্যক্তি যাকে কোনো পদমর্যাদাসম্পন্ন ও রূপসী নারী আহ্বান করে আর সে বলে: 'নিশ্চয়ই আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি'; এবং সেই ব্যক্তি যে এমনভাবে দান-সদকা করে যে সে তা গোপন রাখে, এমনকি তার বাম হাত জানতে পারে না তার ডান হাত কী ব্যয় করছে।" সহীহ মুসলিমে ইয়াজ ইবনে হিমার (রা.) হতে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "জান্নাতবাসী হবে তিন শ্রেণীর মানুষ: ন্যায়পরায়ণ ও সত্যনিষ্ঠ ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তি; এমন ব্যক্তি যে প্রত্যেক নিকটাত্মীয় ও মুসলিমের প্রতি দয়াশীল ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী; এবং সেই সম্পদশালী ব্যক্তি যে পবিত্র ও দানশীল।" সুনানে তাঁর (সা.) থেকে বর্ণিত (عن) আছে যে তিনি বলেছেন: "ন্যায়সংগতভাবে সদকা আদায়ের কার্যে নিয়োজিত ব্যক্তি আল্লাহর পথে মুজাহিদের মতো।" মহান আল্লাহ জিহাদের নির্দেশ প্রদানের সময় বলেছেন: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফেতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন আল্লাহর জন্য হয়ে যায়} [সূরা আল-বাকারাহ: ১৯৩] (সূরা আল-আনফাল: আয়াত ৩৯)। নবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! কোনো ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, কেউ আভিজাত্যের লড়াই করে, আবার কেউ লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে—এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে, সে-ই আল্লাহর পথে।" সহীহাইনে উভয় ইমাম এটি সংকলন (أخرجاه) করেছেন। সুতরাং মূল উদ্দেশ্য হলো যেন দ্বীন সম্পূর্ণ আল্লাহর জন্য হয় এবং আল্লাহর কালিমা যেন সমুন্নত হয়। আর 'কালিমাতুল্লাহ' (আল্লাহর বাণী) হলো তাঁর সেই সমস্ত বাণীর সমষ্টি যা তাঁর কিতাব ধারণ করে আছে। এভাবেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
{لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ} [الحديد: 25] (سورة الحديد: من الآية 25) . فَالْمَقْصُودُ مِنْ إرْسَالِ الرُّسُلِ، وَإِنْزَالِ الْكُتُبِ، أَنْ يَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ فِي حُقُوقِ اللَّهِ، وَحُقُوقِ خَلْقِهِ، ثُمَّ قَالَ تَعَالَى: {وَأَنْزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ} [الحديد: 25] (سورة الحديد: من الآية 25) . فَمَنْ عَدَلَ عَنْ الْكِتَابِ قُوِّمَ بِالْحَدِيدِ؛ وَلِهَذَا كَانَ قِوَامُ الدِّينِ بِالْمُصْحَفِ وَالسَّيْفِ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما قَالَ: «أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَضْرِبَ بِهَذَا -يَعْنِي السَّيْفَ- مَنْ عَدَلَ عَنْ هَذَا -يَعْنِي الْمُصْحَفَ-» فَإِذَا كَانَ هَذَا هُوَ الْمَقْصُودُ، فَإِنَّهُ يَتَوَسَّلُ إلَيْهِ بِالْأَقْرَبِ فَالْأَقْرَبِ، وَيَنْظُرُ إلَى الرَّجُلَيْنِ، أَيُّهُمَا كَانَ أَقْرَبَ إلَى الْمَقْصُودِ وُلِّيَ؛ فَإِذَا كَانَتْ الْوِلَايَةُ مَثَلًا: إمَامَةَ صَلَاةٍ فَقَطْ؛ قُدِّمَ مَنْ قَدَّمَهُ النبي صلى الله عليه وسلم حيث قال: «يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ، فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ، فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً، فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ سِنًّا، وَلَا يُؤَمَّنَّ الرجل الرجلَ فِي سُلْطَانِهِ، وَلَا يَجْلِسُ فِي بَيْتِهِ عَلَى تَكْرِمَتِهِ إلَّا بِإِذْنِهِ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ. فَإِذَا تكافأ رجلان: وخفي أَصْلَحُهُمَا، أَقْرَعَ بَيْنَهُمَا، كَمَا أَقْرَعَ سَعْدُ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقَادِسِيَّةِ، لَمَّا تَشَاجَرُوا عَلَى الْأَذَانِ، مُتَابَعَةً لِقَوْلِهِ، صلى الله عليه وسلم: «لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الْأَوَّلِ، ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إلَّا أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لَاسْتَهَمُوا» . فَإِذَا كَانَ التَّقْدِيمُ بِأَمْرِ اللَّهِ إذَا ظَهَرَ، وَبِفِعْلِهِ -وَهُوَ مَا يُرَجِّحُهُ بِالْقُرْعَةِ إذَا خَفِيَ الْأَمْرُ- كَانَ الْمُتَوَلِّي قَدْ أَدَّى الْأَمَانَاتِ فِي الْوِلَايَاتِ إلَى أَهْلِهَا.
“নিশ্চয়ই আমি আমার রাসুলগণকে স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।” [আল-হাদীদ: ২৫] (সুরা আল-হাদীদ: আয়াত ২৫ এর অংশ)। সুতরাং রাসুলগণের প্রেরণ এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করার মূল উদ্দেশ্য হলো, মানুষ যেন আল্লাহর প্রাপ্য অধিকার এবং তাঁর সৃষ্টির প্রাপ্য অধিকারের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার কায়েম করে। অতপর মহান আল্লাহ বলেন: “এবং আমি লোহা অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি এবং মানুষের জন্য বহু কল্যাণ; এবং যাতে আল্লাহ জেনে নিতে পারেন যে, কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রাসুলগণকে সাহায্য করে।” [আল-হাদীদ: ২৫] (সুরা আল-হাদীদ: আয়াত ২৫ এর অংশ)। সুতরাং যে ব্যক্তি কিতাব থেকে বিচ্যুত হবে, তাকে লোহার মাধ্যমে সোজা করা হবে; আর একারণেই দ্বীনের ভিত্তি হলো মুসহাফ ও তলোয়ার। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত (رُوِيَ) হয়েছে, তিনি বলেন: “রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন এটি দিয়ে — অর্থাৎ তলোয়ার দিয়ে — তাকে আঘাত করি, যে এটি থেকে — অর্থাৎ মুসহাফ থেকে — বিচ্যুত হবে।”
যখন এটিই মূল লক্ষ্য, তখন এর জন্য নিকটতম ও অধিকতর নিকটতম উপায়ের আশ্রয় নিতে হবে। দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে দুই ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য করতে হবে যে, তাদের মধ্যে কে উদ্দেশ্যের অধিকতর নিকটবর্তী, তাকেই দায়িত্ব প্রদান করা হবে। যদি দায়িত্বটি উদাহরণস্বরূপ কেবল সালাতের ইমামতি হয়, তবে তাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে যাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অগ্রগণ্য করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন: “লোকদের ইমামতি করবে সে ব্যক্তি, যে আল্লাহর কিতাব পাঠে সর্বাধিক পারদর্শী। যদি তারা কিরাআতের ক্ষেত্রে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে সুন্নাহ (السنة) সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী। যদি তারা সুন্নাহর (السنة) ক্ষেত্রে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে আগে হিজরত করেছে। যদি হিজরতের ক্ষেত্রেও তারা সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে বয়সে বড়। কোনো ব্যক্তি যেন অন্য কোনো ব্যক্তির প্রভাবাধীন এলাকায় তার ইমামতি না করে এবং তার অনুমতি ব্যতীত তার ঘরে তার নির্দিষ্ট আসনে না বসে।” এটি মুসলিম বর্ণনা (رواه) করেছেন।
যদি দুইজন ব্যক্তি সমান পর্যায়ের হয় এবং তাদের মধ্যে কে অধিক যোগ্য তা অস্পষ্ট থাকে, তবে তাদের মাঝে লটারি করা হবে। যেমন সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কাদিসিয়ার যুদ্ধের দিন আজান দেওয়ার বিষয় নিয়ে বিবাদ দেখা দিলে মানুষের মাঝে লটারি করেছিলেন। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর অনুসরণ ছিল: “লোকেরা যদি জানত আজান ও প্রথম কাতারে কী ফজিলত রয়েছে, আর লটারি করা ছাড়া সেটি পাওয়ার কোনো পথ না থাকত, তবে তারা অবশ্যই লটারি করত।” সুতরাং যখন বিষয়টি স্পষ্ট থাকে তখন আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী অগ্রাধিকার প্রদান করা এবং বিষয়টি অস্পষ্ট থাকলে তাঁরই কর্মের মাধ্যমে — অর্থাৎ লটারির মাধ্যমে যা তিনি প্রাধান্য দান করেন — অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়, তখন দায়িত্ব প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ অর্পিত আমানতসমূহকে তার যোগ্য ব্যক্তিদের নিকট যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন বলে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
[القسم الثاني الأموال]
[الأعيان والديون الخاصة والعامة]فصل القسم الثاني من الأمانات: الأموال، كَمَا قَالَ تَعَالَى فِي الدُّيُونِ: {فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ وَلْيَتَّقِ اللَّهَ رَبَّهُ} [البقرة: 283] (سورة البقرة: من الآية 283) . وَيَدْخُلُ فِي هَذَا الْقِسْمِ: الْأَعْيَانُ، وَالدُّيُونُ الْخَاصَّةُ، وَالْعَامَّةُ: مِثْلُ رَدِّ الْوَدَائِعِ، وَمَالِ الشَّرِيكِ، وَالْمُوَكِّلِ، والمضارب، ومال المولى عليه، مِنْ الْيَتِيمِ وَأَهْلِ الْوَقْفِ وَنَحْوِ ذَلِكَ، وَكَذَلِكَ وَفَاءُ الدُّيُونِ مِنْ أَثْمَانِ الْمَبِيعَاتِ، وَبَدَلِ الْقَرْضِ، وَصَدَقَاتِ النِّسَاءِ وَأُجُورِ الْمَنَافِعِ، وَنَحْوِ ذَلِكَ. وَقَدْ قال الله تَعَالَى: {إِنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا - إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا - وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا - إِلَّا الْمُصَلِّينَ - الَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ - وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَعْلُومٌ - لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ} [المعارج: 19 - 25] (سورة المعارج: الآيات 19-25) . إلى قوله: {هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ} [المعارج: 32] (سورة المعارج: الآية 32) . وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ وَلَا تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيمًا} [النساء: 105]-أَيْ لَا تُخَاصِمْ عنهم- (سورة النساء: الآية 105) . وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَدِّ الْأَمَانَةَ إلَى مَنْ ائْتَمَنَك، وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَك» . وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «الْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ الْمُسْلِمُونَ عَلَى دِمَائِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ، وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ، وَالْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي ذَاتِ اللَّهِ» . وَهُوَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ بَعْضُهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ، وَبَعْضُهُ في سنن الترمذي، وقال صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ يُرِيدُ أَدَاءَهَا أَدَّاهَا اللَّهُ عَنْهُ، وَمَنْ أَخَذَهَا يُرِيدُ إتْلَافَهَا
[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সম্পদসমূহ][বস্তুগত সম্পদ এবং বিশেষ ও সাধারণ ঋণসমূহ]পরিচ্ছেদ: আমানতের দ্বিতীয় প্রকার হলো সম্পদসমূহ, যেমনটি মহান আল্লাহ ঋণের ব্যাপারে এরশাদ করেছেন: {যদি তোমাদের কেউ একে অন্যকে বিশ্বাস করে, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়েছে সে যেন তার আমানত আদায় করে এবং সে যেন তার পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে} [সূরা আল-বাকারা: ২৮৩] (সূরা আল-বাকারা: আয়াত ২৮৩-এর অংশ)। এবং এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো: বস্তুগত সম্পদ এবং বিশেষ ও সাধারণ ঋণসমূহ; যেমন গচ্ছিত আমানত ফেরত দেওয়া, অংশীদারের সম্পদ, মক্কেলের সম্পদ, মুদারিবের (ব্যবসায়িক অংশীদার) সম্পদ এবং এতিম বা ওয়াকফকৃত সম্পদের সুবিধাভোগীদের মতো যাদের ওপর অভিভাবকত্ব প্রদান করা হয়েছে তাদের সম্পদ এবং অনুরূপ বিষয়াদি। তদ্রূপ বিক্রিত পণ্যের মূল্য পরিশোধ, ঋণের বিনিময় প্রদান, নারীদের মোহরানা এবং উপযোগের বিনিময় (ভাড়া) পরিশোধ এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ। মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন: {নিশ্চয় মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অতিশয় অস্থিরচিত্তরূপে; যখন তাকে বিপদ স্পর্শ করে, তখন সে হা-হুতাশ করে, আর যখন তাকে কল্যাণ স্পর্শ করে, তখন সে কৃপণ হয়ে যায়। তবে তারা ব্যতিক্রম যারা সালাত আদায়কারী; যারা তাদের সালাতে সর্বদা নিষ্ঠাবান এবং যাদের সম্পদে নির্ধারিত হক রয়েছে—যাচক ও বঞ্চিতদের জন্য} [সূরা আল-মাআরিজ: ১৯-২৫] (সূরা আল-মাআরিজ: আয়াত ১৯-২৫)। তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে} [সূরা আল-মাআরিজ: ৩২] (সূরা আল-মাআরিজ: আয়াত ৩২)। এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন। আর আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষাবলম্বনকারী হবেন না} —অর্থাৎ তাদের পক্ষ হয়ে বিতর্ক করবেন না— [সূরা আন-নিসা: ১০৫] (সূরা আন-নিসা: আয়াত ১০৫)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে তোমাকে বিশ্বাস করেছে তার আমানত তাকে আদায় করে দাও এবং যে তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তুমি তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না।" এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিন তো সেই ব্যক্তি, যার কাছে মানুষ তাদের রক্ত ও সম্পদের ব্যাপারে নিরাপদ থাকে; আর মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমানরা নিরাপদ থাকে; আর মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন করে; এবং মুজাহিদ সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে নিজের নফসের সাথে জিহাদ করে।" এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস; এর কিছু অংশ সহিহাইনে রয়েছে এবং কিছু অংশ সুনানে তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে। এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ পরিশোধের নিয়তে গ্রহণ করে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা আদায় করে দেন; আর যে ব্যক্তি তা আত্মসাতের নিয়তে গ্রহণ করে..."
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أتلفه الله» . رواه البخاري. وإن كَانَ اللَّهُ قَدْ أَوْجَبَ أَدَاءَ الْأَمَانَاتِ الَّتِي قُبِضَتْ بِحَقٍّ؛ فَفِيهِ تَنْبِيهٌ عَلَى وُجُوبِ أَدَاءِ الغضب وَالسَّرِقَةِ وَالْخِيَانَةِ وَنَحْوِ ذَلِكَ مِنْ الْمَظَالِمِ، وَكَذَلِكَ أَدَاءُ الْعَارِيَّةِ، وَقَدْ خَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، وَقَالَ فِي خطبته: «العارية مؤداة، والمنحة مردودة، والدين مَقْضِيٌّ وَالزَّعِيمُ غَارِمٌ، إنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ، فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ» . وَهَذَا الْقِسْمُ يَتَنَاوَلُ الْوُلَاةَ وَالرَّعِيَّةَ، فَعَلَى كُلٍّ مِنْهُمَا: أَنْ يُؤَدِّيَ إلَى الْآخَرِ مَا يَجِبُ أداؤه إليه، فعلى ذي السلطان، ونوابه في العطاء، أَنْ يُؤْتُوا كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ، وَعَلَى جُبَاةِ الْأَمْوَالِ كَأَهْلِ الدِّيوَانِ أَنْ يُؤَدُّوا إلَى ذِي السُّلْطَانِ مَا يَجِبُ إيتَاؤُهُ إلَيْهِ؛ وَكَذَلِكَ على الرعية الذين تجب عليهم الْحُقُوقِ؛ وَلَيْسَ لِلرَّعِيَّةِ أَنْ يَطْلُبُوا مِنْ وُلَاةِ الأموال ما لا يستحقونه، فيكونون مِنْ جِنْسِ مَنْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِيهِ: {وَمِنْهُمْ مَنْ يَلْمِزُكَ فِي الصَّدَقَاتِ فَإِنْ أُعْطُوا مِنْهَا رَضُوا وَإِنْ لَمْ يُعْطَوْا مِنْهَا إِذَا هُمْ يَسْخَطُونَ - وَلَوْ أَنَّهُمْ رَضُوا مَا آتَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ سَيُؤْتِينَا اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَرَسُولُهُ إِنَّا إِلَى اللَّهِ رَاغِبُونَ} [التوبة: 58 - 59] (سورة التوبة: الآيتان 58، 59) . ثم بين سبحانه لمن تكون بقوله: {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاِبْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} [التوبة: 60] (سورة التوبة: الآية 60) . وَلَا لَهُمْ أَنْ يَمْنَعُوا السُّلْطَانَ مَا يَجِبُ دفعه إليه مِنْ الْحُقُوقِ، وَإِنْ كَانَ ظَالِمًا؛ كَمَا «أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا ذَكَرَ جور الولاة، قال: أَدُّوا إلَيْهِمْ الَّذِي لَهُمْ، فَإِنَّ اللَّهَ سَائِلُهُمْ عَمَّا اسْتَرْعَاهُمْ» . فَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ -رضي الله
‘আল্লাহ তাকে ধ্বংস করবেন।’ এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারি। আর আল্লাহ যদি যথাযথভাবে গৃহীত আমানতসমূহ আদায় করাকে আবশ্যক করে থাকেন, তবে এতে অন্যায়ভাবে দখলকৃত সম্পদ, চুরি, খিয়ানত এবং এই জাতীয় অন্যান্য জুলুমের বিষয়সমূহ ফিরিয়ে দেওয়ার আবশ্যকতা সম্পর্কেও ইঙ্গিত রয়েছে। একইভাবে ধার করা বস্তু ফিরিয়ে দেওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। নবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণে খুতবা প্রদান করেছেন এবং তাতে বলেছেন: ‘ধার করা বস্তু অবশ্যই আদায়যোগ্য, উপঢৌকন হিসেবে নেওয়া বস্তু ফেরতযোগ্য, ঋণ পরিশোধযোগ্য এবং জামিনদার দায়বদ্ধ। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার পাওনা অধিকার প্রদান করেছেন, সুতরাং কোনো উত্তরাধিকারীর জন্য অসিয়ত নেই।’ এই বিষয়টি শাসক ও প্রজা উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে; ফলে তাদের প্রত্যেকের ওপর দায়িত্ব হলো অন্যজনের পাওনা অধিকারসমূহ আদায় করা। সুতরাং রাষ্ট্রপ্রধান এবং বণ্টন কাজে নিয়োজিত তাঁর প্রতিনিধিদের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা। আর যারা সম্পদ সংগ্রহকারী—যেমন দিওয়ানের কর্মকর্তা—তাদের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপ্রধানের নিকট যা আদায় করা আবশ্যক তা পৌঁছে দেওয়া। একইভাবে প্রজাদের ওপর যে সকল পাওনা বা হক ওয়াজিব, তা আদায় করা তাদের দায়িত্ব। প্রজাদের জন্য সম্পদ বণ্টনকারী কর্মকর্তাদের নিকট এমন কিছু প্রার্থনা করা সমীচীন নয় যার তারা হকদার নয়। অন্যথায় তারা সেই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা সদকা (বণ্টন) নিয়ে আপনাকে দোষারোপ করে; যদি তাদেরকে তা থেকে দেওয়া হয় তবে তারা সন্তুষ্ট হয়, আর যদি তাদেরকে তা থেকে না দেওয়া হয় তবে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট হতো এবং বলত, ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট; শীঘ্রই আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে আমাদের দান করবেন এবং তাঁর রাসুলও। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর প্রতিই অনুরাগী।} [সুরা আত-তাওবাহ: ৫৮-৫৯]। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই সদকা কাদের জন্য তা বর্ণনা করে ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই সদকা হলো কেবল দরিদ্র, অভাবগ্রস্ত, সদকা আদায়ের কাজে নিযুক্ত কর্মচারী, যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন তাদের জন্য, দাসমুক্তির ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরয। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।} [সুরা আত-তাওবাহ: ৬০]। আর শাসকের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করা থেকে বিরত থাকা প্রজাদের জন্য বৈধ নয়, যদিও শাসক জালেম হয়। যেমনটি নবী (সা.) শাসকদের জুলুমের কথা উল্লেখ করে নির্দেশ প্রদান করেছেন; তিনি বলেন: ‘তোমরা তাদের প্রাপ্য অধিকার তাদেরকে দিয়ে দাও, কেননা আল্লাহ তাদেরকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন যা তিনি তাদের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন।’ সহিহাইন-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
عَنْهُ -عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «كَانَتْ بَنُو إسْرَائِيلَ تَسُوسُهُمْ الْأَنْبِيَاءُ، كُلَّمَا هلك نبي، خلفه نبي، فإنه لَا نَبِيَّ بَعْدِي، وَسَيَكُونُ خُلَفَاءُ وَيَكْثُرُونَ. قَالُوا: فَمَا تَأْمُرُنَا؟ فَقَالَ: أَوْفُوا بِبَيْعَةِ الْأَوَّلِ فَالْأَوَّلِ، ثُمَّ أَعْطُوهُمْ حَقَّهُمْ؛ فَإِنَّ اللَّهَ سَائِلُهُمْ عَمَّا استرعاهم» . وفيهما عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إنكم سترون بعدي أثرة وأمورا تنكرونها، قالوا: فما تأمرنا به يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: أَدُّوا إلَيْهِمْ حَقَّهُمْ؛ واسألوا الله حقكم» . وليس لولاة الأمور أَنْ يُقَسِّمُوهَا بِحَسَبِ أَهْوَائِهِمْ، كَمَا يُقَسِّمُ الْمَالِكُ مِلْكَهُ، فَإِنَّمَا هُمْ أُمَنَاءُ وَنُوَّابٌ وَوُكَلَاءُ، لَيْسُوا مُلَّاكًا؛ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إني -والله- لا أعطي أحدا، وَلَا أَمْنَعُ أَحَدًا؛ وَإِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ أَضَعُ حيث أمرت» . رواه البخاري وعن أبي هريرة رضي الله عنه نَحْوُهُ. فَهَذَا رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ قَدْ أَخْبَرَ أَنَّهُ لَيْسَ الْمَنْعُ وَالْعَطَاءُ بِإِرَادَتِهِ وَاخْتِيَارِهِ، كَمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ الْمَالِكُ الَّذِي أُبِيحَ لَهُ التَّصَرُّفُ فِي مَالِهِ، وَكَمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ الْمُلُوكُ الذين يعطون من أحبوا ويمنعون من أبغضوا، وَإِنَّمَا هُوَ عَبْدُ اللَّهِ، يَقْسِمُ الْمَالَ بِأَمْرِهِ، فَيَضَعُهُ حَيْثُ أَمَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى. وَهَكَذَا قَالَ رَجُلٌ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، لَوْ وَسَّعْت عَلَى نَفْسِك فِي النَّفَقَةِ مِنْ مَالِ اللَّهِ تَعَالَى، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: أَتَدْرِي مَا مَثَلِي وَمَثَلِ هَؤُلَاءِ؟ كَمِثْلِ قَوْمٍ كَانُوا فِي سَفَرٍ، فَجَمَعُوا مِنْهُمْ مَالًا، وَسَلَّمُوهُ إلَى وَاحِدٍ يُنْفِقُهُ عَلَيْهِمْ، فَهَلْ يَحِلُّ لِذَلِكَ الرَّجُلِ أَنْ يَسْتَأْثِرَ عَنْهُمْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ؟ وَحُمِلَ مَرَّةً إلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه مَالٌ عَظِيمٌ مِنْ الْخُمُسِ: فَقَالَ: إنَّ قَوْمًا أَدُّوا الْأَمَانَةَ فِي هَذَا لِأُمَنَاءَ. فَقَالَ لَهُ بَعْضُ الْحَاضِرِينَ: إنَّك أَدَّيْت
তাঁর থেকে বর্ণিত - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «বনী ইসরাঈলদের নেতৃত্ব দিতেন নবীগণ। যখনই কোনো নবী মৃত্যুবরণ করতেন, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন অন্য একজন নবী। তবে আমার পরে আর কোনো নবী নেই। অচিরেই অনেক খলিফা হবেন এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। তাঁরা (সাহাবীগণ) বললেন: তবে আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: তোমরা একে একে প্রথম জনের আনুগত্যের শপথ পূর্ণ করো এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার তাদের দাও; কেননা আল্লাহ তাদের নিকট সেই প্রজাদের সম্পর্কে কৈফিয়ত চাইবেন যাদের তিনি তাদের তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন।»
এবং উভয় গ্রন্থে (বুখারি ও মুসলিমে) ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে স্বজনপ্রীতি ও এমন সব বিষয় দেখতে পাবে যা তোমরা অপছন্দ করবে। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তখন আপনি আমাদের কী করতে নির্দেশ দেন? তিনি বললেন: তোমরা তাদের প্রাপ্য অধিকার প্রদান করবে এবং তোমাদের প্রাপ্য অধিকার আল্লাহর কাছে চাইবে।»
আর শাসকবর্গের জন্য এটা সমীচীন নয় যে, তারা তাদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী সম্পদ বণ্টন করবে, যেমন একজন মালিক তার নিজের মালিকানা বণ্টন করে। বরং তারা হলো কেবল বিশ্বস্ত (أمناء), প্রতিনিধি এবং উকিল; তারা মালিক নয়। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহর কসম, আমি কাউকে (নিজে থেকে) প্রদান করি না এবং কাউকে বঞ্চিতও করি না; আমি কেবল একজন বণ্টনকারী মাত্র, যেখানে আমাকে আদেশ করা হয়েছে সেখানেই আমি তা রাখি (ব্যয় করি)।»
এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও অনুরূপ (نحوه) বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এই হলেন রাব্বুল আলামীনের রাসূল, যিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, প্রদান করা বা না করা তাঁর ইচ্ছা ও পছন্দের ওপর নির্ভর করে না, যেমনটি সেই মালিক করে থাকে যাকে তার সম্পদে যথেচ্ছ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিংবা যেমনটি সেই রাজন্যবর্গ করে থাকে যারা তাদের পছন্দনীয় ব্যক্তিদের প্রদান করে এবং অপছন্দনীয় ব্যক্তিদের বঞ্চিত করে। বরং তিনি হলেন আল্লাহর একজন বান্দা, যিনি আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী সম্পদ বণ্টন করেন এবং মহান আল্লাহ তাঁকে যেখানে নির্দেশ দিয়েছেন সেখানেই তা রাখেন।
অনুরূপভাবে এক ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি যদি আল্লাহর সম্পদ থেকে নিজের ব্যয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রশস্ততা আনতেন! উমর তাকে বললেন: তুমি কি জানো আমার এবং তাদের উদাহরণ কীসের মতো? আমাদের উদাহরণ হলো সেই দলের মতো যারা সফরে ছিল, অতঃপর তারা তাদের মধ্য থেকে কিছু সম্পদ সংগ্রহ করল এবং তা একজনের কাছে ন্যস্ত করল যেন সে তা তাদের জন্য ব্যয় করে। এমতাবস্থায় সেই ব্যক্তির জন্য কি এটা বৈধ হবে যে, সে তাদের সম্পদ থেকে নিজের জন্য কোনো অংশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করবে?
একবার উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট খুমুস (গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ) থেকে প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ সম্পদ আনা হলো। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই এমন এক জাতি যারা এই সম্পদের আমানত রক্ষা করেছে, তারা বিশ্বস্ত (أمناء)। তখন উপস্থিতদের একজন তাঁকে বললেন: নিশ্চয়ই আপনি আমানত রক্ষা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الْأَمَانَةَ إلَى اللَّهِ تَعَالَى، فَأَدُّوا إلَيْك الْأَمَانَةَ، ولو رتعت لرتعوا.
وَيَنْبَغِي أَنْ يَعْرِفَ أَنَّ أُولِي الْأَمْرِ كَالسُّوقِ، مَا نَفَقَ فِيهِ جُلِبَ إلَيْهِ، هَكَذَا قَالَ عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه فَإِنْ نَفَقَ فِيهِ الصِّدْقَ وَالْبِرَّ وَالْعَدْلَ وَالْأَمَانَةَ، جُلِبَ إلَيْهِ ذَلِكَ، وَإِنْ نَفَقَ فِيهِ الْكَذِبَ وَالْفُجُورَ وَالْجَوْرَ وَالْخِيَانَةَ، جُلِبَ إلَيْهِ ذَلِكَ. وَاَلَّذِي عَلَى وَلِيِّ الْأَمْرِ، أَنْ يَأْخُذَ الْمَالَ مِنْ حِلِّهِ، وَيَضَعَهُ فِي حَقِّهِ، وَلَا يَمْنَعُهُ مِنْ مُسْتَحِقِّهِ، وَكَانَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه إذَا بَلَغَهُ أَنَّ بَعْضَ نُوَّابِهِ ظَلَمَ، يَقُولُ: اللَّهُمَّ إنِّي لَمْ آمُرُهُمْ أَنْ يظلموا خلقك، ولا أن يتركوا حقك.
তারা মহান আল্লাহর প্রতি আমানতদারিতা রক্ষা করেছে, ফলে তারা আপনার নিকট আমানত (الأمانة) আদায় করেছে; আর আপনি যদি অসাধুতায় লিপ্ত হতেন, তবে তারাও অসাধুতায় লিপ্ত হতো।
এবং এটি অবগত হওয়া প্রয়োজন যে, শাসকবর্গ বাজারের সদৃশ; সেখানে যা সমাদৃত হয়, তা-ই সেখানে সরবরাহ করা হয়। উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রা.) এভাবেই ব্যক্ত করেছেন। সুতরাং সেখানে যদি সত্যবাদিতা (الصدق), সদাচার, ন্যায়বিচার এবং বিশ্বস্ততা (الأمانة) সমাদৃত হয়, তবে সেগুলোই সেখানে আনীত হবে। আর যদি সেখানে মিথ্যা (الكذب), পাপাচার, অন্যায় এবং বিশ্বাসভঙ্গ প্রচলিত হয়, তবে সেগুলোই সেখানে আমদানী করা হবে। আর শাসক বা দায়িত্বশীলের কর্তব্য হলো বৈধ উৎস থেকে সম্পদ আহরণ করা এবং তা যথার্থ খাতে ব্যয় করা, আর হকদারকে তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না করা। আলী ইবনে আবী তালিব (রা.)-এর নিকট যখন সংবাদ পৌঁছাত যে তাঁর কোনো প্রতিনিধি জুলুম করেছে, তখন তিনি বলতেন: হে আল্লাহ! আমি তাদেরকে আপনার সৃষ্টির ওপর জুলুম করার নির্দেশ দিইনি এবং আপনার অধিকার বর্জন করতেও বলিনি।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
[فصل الأموال السلطانية]
[الغنيمة]فصل الْأَمْوَالُ السُّلْطَانِيَّةُ الَّتِي أَصْلُهَا فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ؛ ثَلَاثَةُ أَصْنَافٍ: الْغَنِيمَةُ، وَالصَّدَقَةُ، وَالْفَيْءُ.
فَأَمَّا " الْغَنِيمَةُ " فَهِيَ الْمَالُ الْمَأْخُوذُ مِنْ الْكُفَّارِ بِالْقِتَالِ، ذَكَرَهَا اللَّهُ فِي " سُورَةِ الْأَنْفَالِ " الَّتِي أَنْزَلَهَا فِي غزوة بدر، وسماها أنفالاً، لأنها زِيَادَةٌ فِي أَمْوَالِ الْمُسْلِمِينَ، فَقَالَ: {يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَنْفَالِ قُلِ الْأَنْفَالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ} [الأنفال: 1] (سورة الأنفال: من الآية1) . إلَى قَوْلِهِ: {وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ} [الأنفال: 41] الآية (سورة الأنفال: الْآيَةَ 41) ؛ وَقَالَ: {فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلَالًا طَيِّبًا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [الأنفال: 69] (سورة الأنفال: الآية 69) . وَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أُعْطِيت خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ نَبِيٌّ قَبْلِي: نُصِرْت بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ، وَجُعِلَتْ لِي الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا، فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي أَدْرَكَتْهُ الصَّلَاةُ فَلْيُصَلِّ؛ وَأُحِلَّتْ لِي الْغَنَائِمُ وَلَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ قَبْلِي، وَأُعْطِيت الشَّفَاعَةَ، وَكَانَ النَّبِيُّ يُبْعَثُ إلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً، وَبُعِثْت إلَى النَّاسِ عَامَّةً» . وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «بُعِثْت بِالسَّيْفِ بَيْنَ يَدَيْ السَّاعَةِ، حَتَّى يُعْبَدَ اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَجُعِلَ رِزْقِي تَحْتَ ظِلِّ رُمْحِي، وَجُعِلَ الذُّلُّ وَالصَّغَارُ عَلَى مَنْ خَالَفَ أَمْرِي، وَمَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ فِي الْمُسْنَدِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ، وَاسْتَشْهَدَ بِهِ الْبُخَارِيُّ.
[শাসকীয় সম্পদ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ]
[গণিমত]পরিচ্ছেদ: শাসকীয় সম্পদসমূহ যার মূল উৎস কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে বিদ্যমান, তা তিন প্রকার: গণিমত (الغنيمة), সদকা (الصدقة) এবং ফায় (الفيء)।
আর "গণিমত" (الغنيمة) হলো সেই সম্পদ যা যুদ্ধের মাধ্যমে কাফিরদের নিকট থেকে হস্তগত করা হয়। আল্লাহ সুরা আনফালে এর উল্লেখ করেছেন যা তিনি বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনি একে 'আনফাল' (অতিরিক্ত দান) নামে অভিহিত করেছেন; কারণ এটি মুসলিমদের সম্পদের জন্য এক প্রকার অতিরিক্ত প্রাপ্তি। আল্লাহ বলেন: {তারা আপনার নিকট আনফাল (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, আনফাল হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য} [সুরা আনফাল: ১]। তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {আর জেনে রেখো যে, তোমরা যা কিছু গণিমত (غنمتم) হিসেবে লাভ করো, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্মীয়দের জন্য, এতিমদের জন্য, মিসকিনদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য} [সুরা আনফাল: ৪১]। তিনি আরও বলেছেন: {সুতরাং তোমরা গণিমত (غنمتم) হিসেবে যা লাভ করেছ, তা থেকে হালাল ও পবিত্র হিসেবে আহার করো এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} [সুরা আনফাল: ৬৯]। আর সহিহাইন গ্রন্থে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাকে পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে যা আমার পূর্ববর্তী কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি: আমাকে এক মাসের পথ দূরত্ব পর্যন্ত ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে; আমার জন্য সমগ্র জমিনকে সিজদাহ করার স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে, তাই আমার উম্মতের যে কোনো ব্যক্তি যেখানেই সালাতের সময় হবে সে যেন সেখানেই সালাত আদায় করে নেয়; আমার জন্য গণিমত (الغنائم) হালাল করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কারো জন্য হালাল ছিল না; আমাকে শাফায়াত (الشفاعة) দান করা হয়েছে; এবং পূর্ববর্তী নবীগণ কেবল তাঁদের নিজ নিজ কওমের কাছে প্রেরিত হতেন, আর আমি প্রেরিত হয়েছি সমগ্র মানবজাতির জন্য সাধারণ হিসেবে»। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: «আমি কিয়ামতের প্রাক্কালে তরবারি নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, যাতে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা হয় যাঁর কোনো শরিক নেই। আমার রিজিক রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়ার নিচে এবং যে ব্যক্তি আমার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করবে তার জন্য অবমাননা ও লাঞ্ছনা অবধারিত করা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত»। এটি ইমাম আহমদ মুসনাদ গ্রন্থে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বুখারি এটি সমর্থনমূলক বর্ণনা (استشهد) হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فَالْوَاجِبُ فِي الْمَغْنَمِ تَخْمِيسُهُ، وَصَرْفُ الْخُمُسِ إلَى من ذكره الله تعالى؛ وقسمة الأخماس الباقية بَيْنَ الْغَانِمِينَ، قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه الْغَنِيمَةُ لِمَنْ شَهِدَ الْوَقْعَةَ. وَهُمْ الذين شهدوها للقتال، قَاتَلُوا أَوْ لَمْ يُقَاتِلُوا. وَيَجِبُ قَسْمُهَا بَيْنَهُمْ بالعدل، فلا يحابى أحد، لَا لِرِيَاسَتِهِ، وَلَا لِنَسَبِهِ، وَلَا لِفَضْلِهِ، كَمَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَخُلَفَاؤُهُ يَقْسِمُونَهَا. وَفِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ: «أَنَّ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ رضي الله عنه رَأَى لَهُ فَضْلًا عَلَى مَنْ دُونَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " هَلْ تُنْصَرُونَ وَتُرْزَقُونَ إلَّا بِضُعَفَائِكُمْ؟» . وَفِي مُسْنَدِ أَحْمَدَ «عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ: قُلْت: يَا رَسُولَ اللَّهِ! الرَّجُلُ يَكُونُ حَامِيَةَ الْقَوْمِ، يَكُونُ سَهْمُهُ وَسَهْمُ غَيْرِهِ سَوَاءً؟ قَالَ: " ثَكِلَتْك أُمُّك ابْنَ أُمِّ سَعْدٍ؛ وَهَلْ تُرْزَقُونَ وَتُنْصَرُونَ إلَّا بِضُعَفَائِكُمْ؟» . وَمَا زالت الغنائم تقسم بين الغانمين في دولة بني أمية، ودولة بني الْعَبَّاسِ، لَمَّا كَانَ الْمُسْلِمُونَ يَغْزُونَ الرُّومَ وَالتُّرْكَ وَالْبَرْبَرَ؛ لَكِنْ يَجُوزُ لِلْإِمَامِ أَنْ يُنَفِّلَ مَنْ ظَهَرَ مِنْهُ زِيَادَةُ نِكَايَةٍ: كَسَرِيَّةٍ تَسَرَّتْ مِنْ الْجَيْشِ، أَوْ رَجُلٍ صَعِدَ حِصْنًا عَالِيًا فَفَتَحَهُ، أَوْ حَمَلَ عَلَى مُقَدَّمِ الْعَدُوِّ فَقَتَلَهُ، فَهُزِمَ الْعَدُوُّ، وَنَحْوِ ذَلِكَ، لِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَخُلَفَاءَهُ كَانُوا يُنَفِّلُونَ لِذَلِكَ. وَكَانَ يُنَفِّلُ السَّرِيَّةَ فِي الْبِدَايَةِ الرُّبُعَ بَعْدَ الْخُمُسِ، وفي الرجعة الثلث بعد الخمس. وهذا النفل؛ قال العلماء: إنه يكون من الْخُمُسِ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ: إنَّهُ يَكُونُ مِنْ خُمُسِ الخمس؛ لئلا يفضل بعض الغانمين عَلَى بَعْضٍ. وَالصَّحِيحُ أَنَّهُ يَجُوزُ مِنْ أَرْبَعَةِ الْأَخْمَاسِ، وَإِنْ كَانَ فِيهِ تَفْضِيلُ بَعْضِهِمْ عَلَى بعض لمصلحة دينية؛ لا لهوى النفس، كَمَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ مَرَّةٍ. وَهَذَا قَوْلُ فُقَهَاءِ الشَّامِ، وَأَبِي حَنِيفَةَ، وَأَحْمَدَ، وَغَيْرِهِمْ، وَعَلَى هَذَا فَقَدْ
গনিমতের মালের ক্ষেত্রে আবশ্যিক বিধান হলো একে পাঁচ ভাগ করা এবং এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ তাআলা যাদের উল্লেখ করেছেন তাদের নিকট ব্যয় করা; আর অবশিষ্ট চার-পঞ্চমাংশ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আহরণকারীদের মধ্যে বণ্টন করা। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: গনিমত তাদের জন্য যারা যুদ্ধে উপস্থিত হয়েছে। আর তারা হলো তারাই যারা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হয়েছে, তারা যুদ্ধ করুক বা না করুক। তাদের মধ্যে তা ন্যায়বিচারের সাথে বণ্টন করা ওয়াজিব; সুতরাং কারও প্রতি পক্ষপাত করা যাবে না—তার নেতৃত্বের কারণে নয়, তার বংশমর্যাদার কারণে নয় এবং তার শ্রেষ্ঠত্বের কারণেও নয়, ঠিক যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর খলিফাগণ তা বণ্টন করতেন। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে: সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) নিজের মধ্যে তাঁর চেয়ে নিম্নমর্যাদার ব্যক্তিদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অনুভব করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমাদের মধ্যে যারা দুর্বল, তাদের কারণেই কি তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত এবং রিজিকপ্রাপ্ত হও না?" মুসনাদ আহমদে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোনো ব্যক্তি দলের রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে, এমতাবস্থায় তার অংশ এবং অন্যদের অংশ কি সমান হবে? তিনি বললেন: "হে উম্মে সাদের পুত্র! তোমার মা তোমাকে হারাক; তোমাদের মধ্যে যারা দুর্বল, তাদের মাধ্যমেই কি তোমরা রিজিক ও সাহায্যপ্রাপ্ত হও না?" উমাইয়া এবং আব্বাসীয় শাসনামলে গনিমত যুদ্ধজয়ীদের মধ্যে বণ্টন অব্যাহত ছিল, যখন মুসলিমরা রোমান, তুর্কি ও বার্বারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত। তবে ইমামের জন্য অতিরিক্ত পুরস্কার (নফল) দেওয়া জায়েজ, যদি কারও পক্ষ থেকে বিশেষ বীরত্ব বা শত্রুর অধিক ক্ষয়ক্ষতি সাধনের বিষয়টি প্রকাশ পায়: যেমন সৈন্যদল থেকে প্রেরিত কোনো বিশেষ অভিযানকারী দল, অথবা কোনো ব্যক্তি উঁচু দুর্গে আরোহণ করে তা জয় করে, কিংবা শত্রুর অগ্রবর্তী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাকে হত্যা করে ফলে শত্রু পরাজিত হয় এবং এই জাতীয় কাজের ক্ষেত্রে; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর খলিফাগণ এ ধরনের কারণে অতিরিক্ত পুরস্কার দিতেন। তিনি অভিযানের শুরুতে এক-পঞ্চমাংশ বাদে এক-চতুর্থাংশ এবং ফেরার পথে এক-পঞ্চমাংশ বাদে এক-তৃতীয়াংশ অতিরিক্ত পুরস্কার হিসেবে দিতেন। আর এই অতিরিক্ত পুরস্কার সম্পর্কে উলামায়ে কেরাম বলেছেন: তা এক-পঞ্চমাংশ থেকে প্রদান করা হবে। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তা এক-পঞ্চমাংশের এক-পঞ্চমাংশ থেকে হবে; যাতে এক যোদ্ধাকে অন্য যোদ্ধার ওপর প্রাধান্য দেওয়া না হয়। তবে বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো যে, তা অবশিষ্ট চার-পঞ্চমাংশ থেকেও প্রদান করা জায়েজ, যদিও এতে দ্বীনি মাসলাহাতের কারণে একজনকে অন্যজনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়; নফসের খেয়ালখুশিতে নয়, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিকবার করেছেন। এটিই শাম দেশের ফকিহগণ, আবু হানিফা, আহমদ এবং অন্যদের অভিমত; আর এর ভিত্তিতেই...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قِيلَ: إنَّهُ يُنَفِّلُ الرُّبُعَ وَالثُّلُثَ بِشَرْطٍ وَغَيْرِ شرط، وينفل الزيادة على ذلك بالشرط، مِثْلُ أَنْ يَقُولَ: مَنْ دَلَّنِي عَلَى قَلْعَةٍ فله كذا، أو من جاءني بِرَأْسٍ فَلَهُ كَذَا وَنَحْوَ ذَلِكَ. وَقِيلَ: لَا يُنَفِّلُ زِيَادَةً عَلَى الثُّلُثِ، وَلَا يُنَفِّلُهُ إلَّا بالشرط، وهذان قولان لأحمد وَغَيْرُهُ. وَكَذَلِكَ -عَلَى الْقَوْلِ الصَّحِيحِ- لِلْإِمَامِ أَنْ يَقُولَ: مَنْ أَخَذَ شَيْئًا فَهُوَ لَهُ؛ كَمَا رُوِيَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ قَدْ قَالَ ذَلِكَ فِي غَزْوَةِ بَدْرٍ. إذَا رَأَى ذَلِكَ مَصْلَحَةً رَاجِحَةً عَلَى الْمَفْسَدَةِ. وَإِذَا كَانَ الْإِمَامُ يَجْمَعُ الْغَنَائِمَ وَيَقْسِمُهَا لَمْ يَجُزْ لِأَحَدٍ أَنْ يَغُلَّ مِنْهَا شَيْئًا {وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ} [آل عمران: 161] (سورة آل عمران من الآية 161) فَإِنَّ الْغُلُولَ خِيَانَةٌ. وَلَا تَجُوزُ النُّهْبَةُ، فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهَا. فَإِذَا تَرَكَ الْإِمَامُ الْجَمْعَ وَالْقِسْمَةَ، وَأَذِنَ فِي الْأَخْذِ إذْنًا جَائِزًا: فَمَنْ أَخَذَ شَيْئًا بِلَا عُدْوَانٍ، حَلَّ لَهُ بَعْدَ تَخْمِيسِهِ، وَكُلُّ مَا دَلَّ عَلَى الْإِذْنِ فَهُوَ إذْنٌ. وَأَمَّا إذَا لَمْ يَأْذَنْ أَوْ أَذِنَ إذْنًا غَيْرَ جَائِزٍ: جَازَ لِلْإِنْسَانِ أَنْ يَأْخُذَ مِقْدَارَ مَا يُصِيبُهُ بِالْقِسْمَةِ، مُتَحَرِّيًا لِلْعَدْلِ فِي ذَلِكَ. وَمَنْ حَرَّمَ على المسلمين جمع الغنائم، والحال هذه، وأباح للإمام أَنْ يَفْعَلَ فِيهَا مَا يَشَاءُ: فَقَدْ تَقَابَلَ الْقَوْلَانِ تَقَابُلَ الطَّرَفَيْنِ، وَدِينُ اللَّهِ وَسَطٌ. وَالْعَدْلُ فِي الْقِسْمَةِ: أَنْ يُقْسَمَ لِلرَّاجِلِ سَهْمٌ، وَلِلْفَارِسِ ذي الفرس العربي ثلاثة أسهم: سهم لَهُ، وَسَهْمَانِ لِفَرَسِهِ، هَكَذَا قَسَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَامَ خَيْبَرَ. وَمِنْ الْفُقَهَاءِ من يقول: للفارس سهمان، والأول هو الَّذِي دَلَّتْ عَلَيْهِ السُّنَّةُ الصَّحِيحَةُ، وَلِأَنَّ الْفَرَسَ يحتاج إلى مئونة نفسه وسائسه -منفعة الْفَارِسِ بِهِ أَكْثَرُ مِنْ مَنْفَعَةِ رَاجِلِينَ- وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: يُسَوِّي بَيْنَ الْفَرَسِ الْعَرَبِيِّ وَالْهَجِينِ فِي هَذَا. وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: بَلْ الْهَجِينُ يُسْهَمُ لَهُ سَهْمٌ وَاحِدٌ، كَمَا رُوِيَ عَنْ
বলা হয়েছে: তিনি (ইমাম) শর্তসহ বা শর্ত ছাড়াই এক-চতুর্থাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ অতিরিক্ত পুরস্কার হিসেবে প্রদান করতে পারেন এবং এর অতিরিক্ত যা দেবেন তা শর্ত সাপেক্ষে দেবেন। যেমন তাঁর এই উক্তি: "যে ব্যক্তি আমাকে কোনো দুর্গের সন্ধান দিবে তাকে এই পরিমাণ পুরস্কার দেওয়া হবে", অথবা "যে ব্যক্তি আমার নিকট শত্রুর মাথা নিয়ে আসবে তার জন্য এই পরিমাণ পুরস্কার রয়েছে" ইত্যাদি। আবার বলা হয়েছে: তিনি এক-তৃতীয়াংশের অধিক অতিরিক্ত পুরস্কার দেবেন না এবং শর্ত ছাড়া তা দেবেন না। ইমাম আহমদ ও অন্যান্যদের নিকট এই দুটি মত রয়েছে। অনুরূপভাবে—সঠিক (الصحيح) মতানুসারে—ইমামের জন্য এটি বলার অবকাশ রয়েছে যে: "যে যা গ্রহণ করবে তা তারই"; যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধে এমনটি বলেছিলেন, যখন তিনি এর মধ্যে ক্ষতির তুলনায় জনকল্যাণ অধিক দেখতে পেয়েছিলেন। আর যখন ইমাম যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (গনিমত) একত্রিত করেন এবং তা বণ্টন করেন, তখন কারো জন্য তা থেকে কোনো কিছু আত্মসাৎ করা জায়েজ নয়; {আর যে ব্যক্তি আত্মসাৎ করবে, সে কিয়ামতের দিন সেই আত্মসাৎকৃত বস্তু নিয়েই উপস্থিত হবে} [সূরা আলে ইমরান: ১৬১]। কেননা গনিমত আত্মসাৎ করা একটি খিয়ানত। আর লুণ্ঠন করা বৈধ নয়, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে নিষেধ করেছেন। তবে ইমাম যদি সম্পদ সংগ্রহ ও বণ্টন করা ছেড়ে দেন এবং বৈধভাবে তা গ্রহণের অনুমতি প্রদান করেন, তবে যে ব্যক্তি কোনো জুলুম ছাড়াই কিছু গ্রহণ করবে, তা তার জন্য এর পঞ্চমাংশ বের করার পর হালাল হবে। আর অনুমতির ইঙ্গিতবাহী প্রতিটি বিষয়ই অনুমতি হিসেবে গণ্য। পক্ষান্তরে, যদি তিনি অনুমতি না দেন অথবা অবৈধভাবে অনুমতি প্রদান করেন, তবে একজন ব্যক্তির জন্য বণ্টনের মাধ্যমে তার যতটুকু প্রাপ্য হওয়ার কথা, ততটুকু পরিমাণ গ্রহণ করা জায়েজ, এক্ষেত্রে তাকে ইনসাফ বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। আর এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি মুসলমানদের জন্য গনিমত সংগ্রহ করা হারাম ঘোষণা করে এবং ইমামের জন্য তাতে যা ইচ্ছা তা করার অনুমতি দেয়, তবে এই উভয় পক্ষই দুই চরম প্রান্তিকে অবস্থান নিল; অথচ আল্লাহর দ্বীন হলো মধ্যপন্থা। বণ্টনের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার হলো: পদাতিক যোদ্ধার জন্য এক অংশ বরাদ্দ করা এবং আরবি ঘোড়াসম্পন্ন অশ্বারোহীর জন্য তিন অংশ—এক অংশ তার নিজের জন্য এবং দুই অংশ তার ঘোড়ার জন্য। এভাবেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খয়বরের বছর বণ্টন করেছিলেন। ফকিহগণের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: অশ্বারোহীর জন্য দুই অংশ। তবে প্রথম মতটিই হলো সেই বিষয় যার ওপর বিশুদ্ধ (الصحيحة) সুন্নাহ প্রমাণ বহন করে। কারণ ঘোড়ার নিজের এবং তার সহিসের ব্যয়ভারের প্রয়োজন রয়েছে—আর একজন অশ্বারোহীর দ্বারা অর্জিত উপকার দুইজন পদাতিকের উপকারের চেয়েও বেশি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: এক্ষেত্রে আরবি ঘোড়া এবং সংকর জাতের ঘোড়ার মধ্যে সমান অংশ বরাদ্দ করা হবে। আবার তাদের মধ্যে কেউ বলেন: বরং সংকর ঘোড়ার জন্য এক অংশ বরাদ্দ করা হবে, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ. وَالْفَرَسُ الْهَجِينُ: الَّذِي تَكُونُ أُمُّهُ نَبَطِيَّةً -وَيُسَمَّى الْبِرْذَوْنَ -وَبَعْضُهُمْ يُسَمِّيهِ التتري، سَوَاءٌ كَانَ حِصَانًا، أَوْ خَصِيًّا، وَيُسَمَّى الْإِكْدِيشَ أَوْ رَمَكَةَ، وَهِيَ الْحَجَرُ: كان السلف يعدون للقتال الحصان، لِقُوَّتِهِ وَحِدَّتِهِ، وَلِلْإِغَارَةِ وَالْبَيَاتِ الْحَجَرَ، لِأَنَّهُ لَيْسَ لَهَا صَهِيلٌ يُنْذِرُ الْعَدُوَّ فَيَحْتَرِزُونَ، وَلِلسَّيْرِ الْخَصِيَّ، لِأَنَّهُ أَصْبَرُ عَلَى السَّيْرِ. وَإِذَا كَانَ الْمَغْنُومُ مَالًا -قَدْ كَانَ لِلْمُسْلِمِينَ قَبْلَ ذَلِكَ. مِنْ عَقَارٍ أَوْ مَنْقُولٍ، وَعُرِفَ صَاحِبُهُ قَبْلَ الْقِسْمَةِ- فَإِنَّهُ يُرَدُّ إلَيْهِ بِإِجْمَاعِ الْمُسْلِمِينَ. وَتَفَارِيعُ الْمَغَانِمِ وَأَحْكَامُهَا: فِيهَا آثَارٌ وَأَقْوَالٌ اتَّفَقَ الْمُسْلِمُونَ عَلَى بعضها، وتنازعوا في بعض ذلك، وليس هَذَا مَوْضِعُهَا؛ وَإِنَّمَا الْغَرَضُ ذِكْرُ الْجُمَلِ الْجَامِعَةِ.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ। সংকর (هجين) ঘোড়া: যার মা নবাতী বংশোদ্ভূত—একে 'বিরযাওন' বলা হয়—আবার কেউ কেউ একে তাতারীও বলেন, তা পুরুষ ঘোড়া হোক কিংবা খাসিকৃত ঘোড়া; একে 'ইকদীশ' বা 'রমাকাহ'ও বলা হয়, যা মূলত মাদি ঘোড়া। সালাফগণ যুদ্ধের জন্য পুরুষ ঘোড়া প্রস্তুত রাখতেন তার শক্তি ও ক্ষিপ্রতার কারণে; আর অতর্কিত আক্রমণ ও রাত্রিকালীন অভিযানের জন্য মাদি ঘোড়া ব্যবহার করতেন, কারণ তার এমন কোনো চিঁহিঁ রব থাকে না যা শত্রুকে সতর্ক করে দেয় ফলে তারা আত্মরক্ষা করতে পারে; আর দীর্ঘ পথ চলার জন্য খাসিকৃত ঘোড়া ব্যবহার করতেন, কারণ এটি পথ চলায় অধিক ধৈর্যশীল। আর যদি গনীমতের সম্পদ এমন কিছু হয় যা ইতিপূর্বে মুসলমানদের মালিকানাধীন ছিল—চাই তা স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি হোক—এবং বণ্টনের পূর্বেই তার মালিক শনাক্ত হয়, তবে মুসলিমদের ঐক্যমত্য (إجماع) অনুযায়ী তা তার নিকট ফিরিয়ে দিতে হবে। গনীমতের মালের শাখা-প্রশাখা ও বিধিবিধানের বিষয়ে অনেক বর্ণনা (آثار) ও উক্তি রয়েছে যেগুলোর কিছু বিষয়ে মুসলিমগণ একমত হয়েছেন এবং কিছু বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন। এটি সেসবের বিস্তারিত আলোচনার স্থান নয়; বরং এখানে উদ্দেশ্য হলো কেবল সংক্ষেপিত ও মৌলিক বিষয়গুলো উল্লেখ করা।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
[الصدقات]فصل وَأَمَّا الصَّدَقَاتُ، فَهِيَ لِمَنْ سَمَّى اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ؛ فَقَدْ رُوِيَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «أَنَّ رَجُلًا سَأَلَهُ مِنْ الصَّدَقَةِ، فَقَالَ: " إنَّ اللَّهَ لَمْ يَرْضَ فِي الصَّدَقَةِ بِقَسْمِ نَبِيٍّ وَلَا غَيْرِهِ؛ وَلَكِنْ جَزَّأَهَا ثَمَانِيَةَ أَجْزَاءٍ، فَإِنْ كُنْت مِنْ تِلْكَ الْأَجْزَاءِ أعطيتك» . (فالفقراء والمساكين) يجمعهما مَعْنَى الْحَاجَةِ إلَى الْكِفَايَةِ؛ فَلَا تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ، وَلَا لِقَوِيٍّ مُكْتَسِبٍ. (وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا) هُمْ الَّذِينَ يَجْبُونَهَا، وَيَحْفَظُونَهَا، وَيَكْتُبُونَهَا، وَنَحْوُ ذَلِكَ. (وَالْمُؤَلَّفَةِ قلوبهم) فنذكرهم -إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى- فِي مَالِ الْفَيْءِ. (وَفِي الرِّقَابِ) يَدْخُلُ فِيهِ إعَانَةُ الْمُكَاتَبِينَ، وَافْتِدَاءُ الْأَسْرَى، وَعِتْقُ الرِّقَابِ. هَذَا أَقْوَى الْأَقْوَالِ فِيهَا. (وَالْغَارِمِينَ) هُمْ الَّذِينَ عَلَيْهِمْ دُيُونٌ لَا يَجِدُونَ وَفَاءَهَا. فَيُعْطُونَ وَفَاءَ دُيُونِهِمْ، وَلَوْ كَانَ كَثِيرًا، إلَّا أَنْ يَكُونُوا غَرِمُوهُ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ تَعَالَى، فَلَا يُعْطُونَ حَتَّى يَتُوبُوا. (وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ) وَهُمْ الْغُزَاةُ الَّذِينَ لَا يُعْطُونَ مِنْ مَالِ اللَّهِ مَا يَكْفِيهِمْ لِغَزْوِهِمْ، فَيُعْطُونَ مَا يَغْزُونَ بِهِ، أَوْ تَمَامَ مَا يَغْزُونَ بِهِ، مِنْ خَيْلٍ وَسِلَاحٍ وَنَفَقَةٍ وَأُجْرَةٍ؛ وَالْحَجُّ مِنْ سَبِيلِ اللَّهِ، كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم. (وَابْنُ السَّبِيلِ) هُوَ الْمُجْتَازُ مِنْ بلد إلى بلد.
[সদকা বা দানসমূহ]পরিচ্ছেদ: আর সদকা হলো তাদের জন্য যাদের কথা মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে (رُوِيَ) যে: «এক ব্যক্তি তাঁর নিকট সদকা থেকে কিছু প্রার্থনা করলে তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সদকা বণ্টনের বিষয়ে কোনো নবী বা অন্য কারো ফয়সালায় সন্তুষ্ট হননি; বরং তিনি একে আটটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। সুতরাং তুমি যদি সেই ভাগগুলোর অন্তর্ভুক্ত হও, তবে আমি তোমাকে তোমার প্রাপ্য প্রদান করব।"» (ফকির ও মিসকিন): তাদের উভয়কে সচ্ছলতার প্রয়োজনীয়তা ও অভাবের বিষয়টি একত্রিত করে; সুতরাং কোনো ধনী ব্যক্তি বা উপার্জনক্ষম শক্তিশালী ব্যক্তির জন্য সদকা বৈধ নয়। (সদকা আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারীবৃন্দ): তারা হলেন সেইসব ব্যক্তি যারা এগুলো সংগ্রহ করেন, সংরক্ষণ করেন, হিসাব নথিভুক্ত করেন এবং এই জাতীয় কার্যাদি সম্পাদন করেন। (যাদের অন্তর জয় করা উদ্দেশ্য): ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা তাদের বিষয়ে 'ফায়' (বিনাশ্রম যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) এর আলোচনায় উল্লেখ করব। (দাসমুক্তির খাতে): এর মধ্যে মুকাতাব (চুক্তিবদ্ধ) দাসদের সহায়তা করা, যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিপণ প্রদান এবং দাস আজাদ করা অন্তর্ভুক্ত। এটিই এ বিষয়ে সবচাইতে শক্তিশালী মত। (ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিগণ): তারা হলেন সেইসব লোক যাদের ওপর ঋণ রয়েছে অথচ তা পরিশোধ করার সক্ষমতা তাদের নেই। সুতরাং তাদের ঋণ পরিশোধের জন্য সম্পদ প্রদান করা হবে, যদিও ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি হয়। তবে শর্ত হলো তারা যেন আল্লাহর নাফরমানি বা অবাধ্যতামূলক কাজে লিপ্ত হয়ে ঋণগ্রস্ত না হয়; এমন হলে তওবা না করা পর্যন্ত তাদের প্রদান করা হবে না। (আল্লাহর পথে): তারা হলেন সেইসব যোদ্ধা যাদের আল্লাহর মাল থেকে যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত পাথেয় দেওয়া হয় না; সুতরাং তারা যা দিয়ে যুদ্ধ করবেন অথবা যুদ্ধের যাবতীয় প্রয়োজন—যেমন ঘোড়া, অস্ত্র, পাথেয় ও পারিশ্রমিক—তা পূর্ণ করার মতো সম্পদ তাদের প্রদান করা হবে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী অনুযায়ী হজও 'আল্লাহর পথে'র অন্তর্ভুক্ত। (মুসাফির): তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি এক দেশ থেকে অন্য দেশে পথ অতিক্রম করছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রায়িয়্যাহ - ত আওকাফিস সুউদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
[الفيء]فصل وَأَمَّا الْفَيْءُ، فَأَصْلُهُ مَا ذَكَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي سُورَةِ الْحَشْرِ، الَّتِي أَنْزَلَهَا اللَّهُ فِي غَزْوَةِ بَنِي النَّضِيرِ، بَعْدَ بَدْرٍ، مِنْ قَوْله تَعَالَى: {وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ - مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ - لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ - وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ - وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} [الحشر: 6 - 10] (سورة الحشر: الآيات 6-10) . فَذَكَرَ سبحانه وتعالى الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ، وَاَلَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ عَلَى مَا وَصَفَ، فَدَخَلَ فِي الصِّنْفِ الثَّالِثِ كُلُّ مَنْ جَاءَ عَلَى هَذَا الْوَجْهِ إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ؛ كَمَا دَخَلُوا فِي قَوْله تَعَالَى: {وَالَّذِينَ آمَنُوا مِنْ بَعْدُ وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا مَعَكُمْ فَأُولَئِكَ مِنْكُمْ} [الأنفال: 75] (سورة الأنفال: من الآية 75) . وفي قوله: {وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ} [التوبة: 100] (سورة التوبة: من الآية 100) . وَفِي قَوْلِهِ: {وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [الجمعة: 3] (سورة الجمعة: الآية 3) .
[আল-ফায় (الفيء)]পরিচ্ছেদ: আর আল-ফায় (الفيء) প্রসঙ্গে মূল ভিত্তি হলো তা-ই, যা মহান আল্লাহ সূরা আল-হাশর-এ উল্লেখ করেছেন। এটি আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধের পরবর্তী বনু নাদীরের যুদ্ধের সময় অবতীর্ণ করেছিলেন। মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ তাদের থেকে তাঁর রাসূলকে যা ফায় (أفاء) হিসেবে দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা ঘোড়া বা উট চালিয়ে যুদ্ধ করোনি; বরং আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে যার ওপর ইচ্ছা আধিপত্য দান করেন। আর আল্লাহ সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। আল্লাহ জনপদবাসীদের থেকে তাঁর রাসূলকে যা ফায় (أفاء) হিসেবে দিয়েছেন, তা আল্লাহর জন্য, রাসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্মীয়দের জন্য, এতিমদের জন্য, অভাবগ্রস্তদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য; যাতে তোমাদের ধনীদের মধ্যে সম্পদ আবর্তিত না হয়। আর রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। (এই সম্পদ) সেই অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই সত্যবাদী। আর যারা তাদের (মুহাজিরদের) আগমনের আগে এই নগরীতে (মদিনায়) বসবাস করত এবং ঈমান এনেছিল, তারা হিজরতকারীদের ভালোবাসে এবং যা তাদের (মুহাজিরদের) দেওয়া হয়েছে তার জন্য নিজেদের অন্তরে কোনো আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না। তারা নিজেদের ওপর তাদের প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত হয়। আর যাদেরকে হৃদয়ের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম। আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই সব ভাইদের ক্ষমা করুন যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে মুমিনদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়} [সূরা আল-হাশর: ৬-১০] (সূরা আল-হাশর: আয়াত ৬-১০)। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুহাজির, আনসার এবং যারা তাদের পরে এসেছে তাদের কথা তাদের গুণাবলি অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এই তৃতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবে কিয়ামত পর্যন্ত এই পন্থায় আগত প্রতিটি ব্যক্তি; যেমন তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে: {আর যারা পরে ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং তোমাদের সাথে জিহাদ করেছে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত} [সূরা আল-আনফাল: ৭৫] (সূরা আল-আনফাল: আয়াত ৭৫-এর অংশ)। এবং তাঁর এই বাণীতে: {আর যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে} [সূরা আত-তাওবা: ১০০] (সূরা আত-তাওবা: আয়াত ১০০-এর অংশ)। এবং তাঁর এই বাণীতে: {আর তাদের মধ্য থেকে অন্যান্যের জন্যও (এই সম্পদ), যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি; আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [সূরা আল-জুমুআ: ৩] (সূরা আল-জুমুআ: আয়াত ৩)।