(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
صلاة المسافر = السفر وأحكامه في ضوء الكتاب والسنة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: صلاة المسافر - مفهوم، وأنواع، وآداب، ودرجات، وأحكام في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 94
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
মুসাফিরের সালাত = কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সফর ও এর বিধানসমূহ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: মুসাফিরের সালাত - ধারণা، প্রকারভেদ، আদব، স্তর، এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিধানসমূহ
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
প্রকাশক: সাফির প্রেস، রিয়াদ
পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং، রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
34
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
_
صلاة المسافر
مفهوم، وأنواع، وآداب، ودرجات، وأحكام
في ضوء الكتاب والسنة
34
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি-এর গ্রন্থাবলী সিরিজ
_
মুসাফিরের সালাত
সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, আদব, স্তর ও বিধিবিধান
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليمًا كثيرًا، أما بعد:
فهذه رسالة مختصرة في ((صلاة المسافر)) بيّنت فيها: مفهوم السفر والمسافر، وأنواع السفر، وآدابه، والأصل في قصر الصلاة في السفر، وأنه أفضل من الإتمام، ومسافة قصر الصلاة في السفر، وأن المسافر يقصر إذا خرج عن جميع عامر بيوت قريته، ومدى إقامة المسافر التي يقصر فيها الصلاة، وقصر الصلاة في منى لأهل مكة وغيرهم من الحجاج، وجواز التطوع على المركوب
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর অজস্র ধারায় শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি ‘মুসাফিরের সালাত’ বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যাতে আমি স্পষ্ট করেছি: সফর ও মুসাফিরের সংজ্ঞা, সফরের প্রকারভেদ ও এর আদবসমূহ, সফরে সালাত সংক্ষিপ্ত করার (قصر) মূল ভিত্তি এবং এটি পূর্ণ করার (إتمام) চেয়ে উত্তম হওয়ার বিষয়টি। আরও উল্লেখ করেছি সফরে সালাত সংক্ষিপ্ত করার (قصر) দূরত্ব, এবং মুসাফির যখন তার জনপদের সকল বসতি এলাকা অতিক্রম করবে তখন থেকে সালাত সংক্ষিপ্ত (قصر) করার বিধান। এছাড়া মুসাফিরের অবস্থানের সেই সময়সীমা যাতে সে সালাত সংক্ষিপ্ত (قصر) করতে পারে, মক্কাবাসী ও অন্যান্য হাজীদের জন্য মিনায় সালাত সংক্ষিপ্ত (قصر) করা এবং যানবাহনের ওপর নফল বা ঐচ্ছিক ইবাদত (تطوع) বৈধ হওয়ার বিষয়সমূহ এখানে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
في السفر، وأن السنة ترك الرواتب في السفر إلا سنة الفجر والوتر، وحكم صلاة المقيم خلف المسافر، والمسافر خلف المقيم، وحكم نية القصر والجمع والموالاة بين الصلاتين المجموعتين، ورخص السفر، وأحكام الجمع، وأنواعه، ودرجاته، سواء كان ذلك في السفر أو الحضر، وقد استفدت كثيرًا من تقريرات وترجيحات شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله ورفع درجاته في جنات النعيم.
والله أسأل أن يجعل هذا العمل مقبولاً عنده، مباركًا، خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل. وصلى الله وسلم، وبارك على نبينا محمد وعلى آله، وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
حرر في ليلة السبت الموافق 29/ 12/1421هـ
সফর অবস্থায়, এবং এটি যে সুন্নাহ (السنة) হলো সফরে ফজরের সুন্নাত ও বিতর নামাজ ছাড়া অন্যান্য নিয়মিত সুন্নাত নামাজগুলো বর্জন করা; মুসাফিরের পেছনে মুকিমের এবং মুকিমের পেছনে মুসাফিরের সালাত আদায়ের বিধান; কসর ও দুই সালাত একত্রীকরণ এবং একত্রে আদায়কৃত দুই সালাতের মধ্যে বিরতিহীনতা বজায় রাখার নিয়ত সংক্রান্ত বিধান; সফরের সহজসাধ্য নিয়মাবলি; সালাত একত্রীকরণের বিধানসমূহ, এর প্রকারভেদ ও স্তরসমূহ—চাই তা সফর অবস্থায় হোক বা অবস্থানকালে; এই সকল বিষয়ে আমি আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং জান্নাতুন নাঈমে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন)-এর বিশ্লেষণ ও অগ্রাধিকারমূলক সিদ্ধান্তসমূহ থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই আমলটিকে তাঁর নিকট গ্রহণযোগ্য (مقبول), বরকতময় এবং একান্তই তাঁর মহান সত্তার জন্য নিবেদিত করেন। আর এর মাধ্যমে তিনি যেন আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে আমাকে উপকৃত করেন এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ শ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং সর্বোত্তম আশার স্থল; তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, আল্লাহ তাঁদের ওপর দরুদ, শান্তি ও বরকত নাযিল করুন।
লেখক
২৯/১২/১৪২১ হিজরী, শনিবার দিবাগত রাতে লিখিত।
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
أولاً: مفهوم السفر، والمسافر: السُّفْرُ: جمع سافر، والمسافرون: جمع مسافر، والسفر والمسافرون بمعنىً. وسُمِّي المسافر مسافرًا؛ لكشفه قناع الكنِّ عن وجهه، ومنازل الحضَرِ عن مكانه، ومنزل الخفض عن نفسه، وبروزه إلى الأرض الفضاء، وسمي السفر سفرًا؛ لأنه يسفر عن وجوه المسافرين وأخلاقهم، فيظهر ما كان خافيًا منها (1)، فظهر أن السفر: قطع المسافة؛ سمي بذلك؛ لأنه يسفر عن أخلاق الرجال، ومنه قولهم: سفرت المرأة عن وجهها: إذا أظهرته، والسفر هو الخروج عن عمارة موطن الإقامة قاصدًا مكانًا يبعد مسافة يصحُّ فيها قصر الصلاة (2).
ثانيًا: أنواع السفر على النحو الآتي:
1 - سفرٌ حرام، وهو أن يسافر لفعل ما حرمه الله أو
--------------------------------------------
প্রথমত: সফর (سفر) ও মুসাফিরের (مسافر) ধারণা: 'সুফর' (السُّفْرُ) শব্দটি 'সাফির' (سافر)-এর বহুবচন, আর 'মুসাফিরুন' (المسافرون) শব্দটি 'মুসাফির' (مسافر)-এর বহুবচন; সফর (سفر) এবং মুসাফিরুন (المسافرون) একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। মুসাফিরকে 'মুসাফির' (مسافر) নামকরণ করা হয়েছে; কারণ সে তার মুখমণ্ডল থেকে আবরণের পর্দা উন্মোচন করে, আবাসস্থলের ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে, আরামদায়ক অবস্থান ত্যাগ করে এবং উন্মুক্ত প্রান্তরে আত্মপ্রকাশ করে। আর সফরকে 'সফর' (سفر) বলা হয়; কারণ এটি মুসাফিরদের চেহারা ও স্বভাব-চরিত্রকে উন্মোচিত (يسفر) করে, ফলে তাদের যা কিছু গোপন ছিল তা প্রকাশ পায় (১)। সুতরাং স্পষ্ট হলো যে, সফর (سفر) হলো: দূরত্ব অতিক্রম করা; এর এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি পুরুষদের স্বভাব-চরিত্রকে উন্মোচিত করে। আর এ থেকেই তাদের উক্তি: ‘নারী তার মুখমণ্ডল উন্মোচন করেছে’—যখন সে তা প্রকাশ করে। আর সফর (سفر) হলো নিজের স্থায়ী আবাসস্থলের জনবসতি ছেড়ে এমন কোনো স্থানের উদ্দেশ্যে বের হওয়া, যা এমন দূরত্বে অবস্থিত যেখানে সালাত কসর (قصر الصلاة) করা বৈধ (২)।
দ্বিতীয়ত: সফরের (سفر) প্রকারভেদ নিচে আলোচনা করা হলো:
১ - হারাম (حرام) সফর: আর তা হলো আল্লাহ যা হারাম (حرام) করেছেন এমন কোনো কাজ করার উদ্দেশ্যে সফর করা অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
حرمه رسوله صلى الله عليه وسلم، مثل: من يسافر للتجارة في الخمر، والمحرمات، وقطع الطريق، أو سفر المرأة بدون محرم (1).
2 - سفر واجب، مثل: السفر لفريضة الحج، أو السفر للعمرة الواجبة، أو الجهاد الواجب.
3 - سفر مستحب، مثل: السفر للعمرة غير الواجبة، أو السفر لحج التطوع، أو جهاد التطوع.
4 - سفر مباح، مثل: السفر للتجارة المباحة، وكل أمر مباح.
5 - سفر مكروه، مثل: سفر الإنسان وحده بدون رفقة إلا في أمر لابد منه (2)؛ لقوله صلى الله عليه وسلم:)) لو يعلم الناس ما في الوحدة ما أعلم ما سار راكب بليل وحده)) (3).
فهذه أنواع السفر التي ذكرها أهل العلم، فيجب على كل مسلم أن لا يسافر إلى سفر محرم، وينبغي له أن لا
--------------------------------------------
তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন, যেমন: মদ বা হারাম বস্তুসমূহের ব্যবসার জন্য সফর করা, ডাকাতি করা কিংবা মাহরাম (محرم) ব্যতীত নারীর সফর করা (১)।
২ - ওয়াজিব (واجب) সফর, যেমন: ফরজের (فريضة) হজের জন্য সফর, অথবা ওয়াজিব (واجب) উমরার জন্য সফর, কিংবা ওয়াজিব (واجب) জিহাদের জন্য সফর।
৩ - মুস্তাহাব (مستحب) সফর, যেমন: নফল বা মুস্তাহাব উমরার জন্য সফর, অথবা নফল (تطوع) হজের সফর, কিংবা নফল (تطوع) জিহাদের জন্য সফর।
৪ - মুবাহ (مباح) বা অনুমোদিত সফর, যেমন: বৈধ বা মুবাহ (مباح) ব্যবসার জন্য সফর এবং প্রত্যেক মুবাহ (مباح) কাজ।
৫ - মাকরুহ (مكروه) সফর, যেমন: কোনো অপরিহার্য কারণ ব্যতীত একাকী সঙ্গীহীন সফর করা (২); রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীর কারণে: "একাকী চলার মধ্যে কী (বিপদ বা অপকারিতা) রয়েছে তা যদি মানুষ জানত যা আমি জানি, তবে কোনো আরোহীই রাতে একাকী পথ চলত না" (৩)।
এগুলো হলো সফরের প্রকারভেদ যা বিজ্ঞ আলেমগণ উল্লেখ করেছেন। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক হলো কোনো হারাম (محرم) সফরে বের না হওয়া এবং তার জন্য উচিত হলো না যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
يتعمد السفر المكروه، بل يقتصر في جميع أسفاره على السفر الواجب، والمستحب، والمباح (1).
ثالثًا: آداب السفر والعمرة والحج:الآداب التي ينبغي للمسافر والمعتمر والحاج المسافر معرفتها والعمل بها؛ ليحصل على عمرة مقبولة، ويُوفَّق
--------------------------------------------
তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অপছন্দনীয় (مكروه) সফর করেন না, বরং তিনি তার সকল সফরকে আবশ্যিক (واجب), মুস্তাহাব (مستحب) এবং বৈধ (مباح) সফরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন (১)।
তৃতীয়: সফর, উমরাহ ও হজ্জের আদবসমূহ:সেই সকল আদব যা মুসাফির, উমরাহ পালনকারী এবং হজ্জযাত্রীর জন্য জানা এবং সে অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক; যাতে তিনি একটি কবুলযোগ্য উমরাহ লাভ করতে পারেন এবং তাওফিকপ্রাপ্ত হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
لحج مبرور، وسفر مبارك آداب كثيرة منها: آداب واجبة وآداب مستحبة، وأذكر منها على سبيل المثال لا الحصر الآداب الآتية:
1 - يستخير الله سبحانه في الوقت، والراحلة، والرفيق، وجهة الطريق إن كثرت الطرق، ويستشير في ذلك أهل الخبرة والصلاح. أما الحج؛ فإنه خير لا شك فيه. وصفة الاستخارة أن يصلي ركعتين ثم يدعو بالوارد (1).
2 - يجب على الحاج والمعتمر أن يقصد بحجه وعمرته وجه الله تعالى، والتقرب إليه، وأن يحذر أن يقصد حطام الدنيا أو المفاخرة، أو حيازة الألقاب، أو الرياء والسمعة؛ فإن ذلك سبب في بطلان العمل وعدم قبوله. قال سبحانه: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لله رَبِّ الْعَالَمِينَ * لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَاْ أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ} (2). {قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا
--------------------------------------------
কবুল হওয়া (مبرور) হজ এবং বরকতময় সফরের অনেক আদব বা শিষ্টাচার রয়েছে; তন্মধ্যে কিছু ওয়াজিব (واجب) আদব এবং কিছু মুস্তাহাব (مستحب) আদব। আমি এখানে উদাহরণস্বরূপ কয়েকটি আদবের কথা উল্লেখ করছি, যা এ কটিতেই সীমাবদ্ধ নয়:
১ - সময়, বাহন, সফরসঙ্গী এবং পথের আধিক্য থাকলে পথের দিক নির্ধারণের বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট ইস্তিখারা করবেন এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করবেন। আর হজের বিষয়টি তো সন্দেহাতীতভাবে কল্যাণকর। ইস্তিখারার পদ্ধতি হলো দুই রাকাত সালাত আদায় করা, অতঃপর বর্ণিত (وارد) দুআটি পাঠ করা (১)।
২ - হাজি ও ওমরাহ পালনকারীর জন্য আবশ্যক হলো তার হজ ও ওমরাহর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি এবং তাঁর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য করা; আর দুনিয়াবি তুচ্ছ স্বার্থ লাভ, অহংকার, উপাধি অর্জন কিংবা লোক-দেখানো (رياء) ও লোক-শোনানোর (سمعة) উদ্দেশ্য থেকে সতর্ক থাকা। কেননা তা আমল বাতিল (بطلان) হওয়া এবং কবুল না হওয়ার কারণ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {বলুন, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য। * তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম} (২)। {বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার নিকট ওহি পাঠানো হয় যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحًا وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} (1). والمسلم هكذا لا يريد إلا وجه الله والدار الآخرة؛ ولهذا قال الله عز وجل: {مَّن كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَن نُّرِيدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهُ جَهَنَّمَ يَصْلاهَا مَذْمُومًا مَّدْحُورًا} (2)، وفي الحديث القدسي: ((أنا أغنى الشركاء عن الشرك، من عمل عملاً أشرك فيه معي غيري تركته وشركه)) (3).
وقد خاف النبي صلى الله عليه وسلم على أمته من الشرك الأصغر فقال: ((إن أخوف ما أخاف عليكم الشرك الأصغر)) فسُئل عنه فقال: ((الرياء)) (4). وقال صلى الله عليه وسلم: ((من سمَّع سمَّع الله به، ومن يُرائي يُرائي الله به)) (5). قال الله تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا الله مُخْلِصِينَ
--------------------------------------------
{তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ। সুতরাং যে ব্যক্তি তার রবের সাথে সাক্ষাতের আশা পোষণ করে, সে যেন নেক আমল করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।} (১)। আর একজন মুসলিম এভাবেই কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পরকাল কামনা করে; একারণেই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবন কামনা করে, আমি তাকে সেখানে যা ইচ্ছা দান করি এবং যার জন্য ইচ্ছা করি। অতঃপর আমি তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারণ করি, যাতে সে নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় প্রবেশ করবে।} (২), আর হাদিসে কুদসিতে এসেছে: ((আমি অংশীদারদের মধ্যে শিরক (الشرك) থেকে সবচেয়ে বেশি অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে সে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করল, আমি তাকে এবং তার শিরক (الشرك) উভয়কে বর্জন করি)) (৩)।
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য ছোট শিরক (الشرك الأصغر)-এর ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন: ((আমি তোমাদের ওপর যা সবচেয়ে বেশি ভয় করছি তা হলো ছোট শিরক (الشرك الأصغر))) তখন এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: ((লোক দেখানো আমল (الرياء))) (৪)। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি লোক শোনানোর জন্য আমল করে, আল্লাহ তা মানুষকে শুনিয়ে দেবেন; আর যে ব্যক্তি লোক দেখানো আমল (يُرائي) করে, আল্লাহ তা মানুষকে দেখিয়ে দেবেন)) (৫)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তাদেরকে কেবল একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَة} (1).
3 - على الحاج والمعتمر التفقه في أحكام العمرة والحج، وأحكام السفر قبل أن يسافر: من القصر، والجمع، وأحكام التيمم، والمسح على الخفين، وغير ذلك مما يحتاجه في طريقه إلى أداء المناسك قال صلى الله عليه وسلم: ((من يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين)) (2).
4 - التوبة من جميع الذنوب والمعاصي، سواء كان حاجًّا أو معتمرًا، أو غير ذلك فتجب التوبة من جميع الذنوب والمعاصي، وحقيقة التوبة: الإقلاع عن جميع الذنوب وتركها، والندم على فعل ما مضى منها، والعزيمة على عدم العودة إليها، وإن كان عنده للناس مظالم ردّها وتحللهم منها، سواء كانت: عرضًا أو مالاً، أو غير ذلك من قبل أن يُؤخذ لأخيه من حسناته، فإن لم
--------------------------------------------
{একনিষ্ঠ হয়ে তাঁরই আনুগত্যে দ্বীনকে নিবেদিত করবে, সালাত কায়েম করবে এবং জাকাত প্রদান করবে; আর এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন।} (১)।
৩ - হজ্জ ও ওমরাহ পালনকারীর জন্য হজ্জ ও ওমরাহর বিধানসমূহ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক, এবং সফরের পূর্বে সফরের বিধানসমূহও জেনে নেওয়া জরুরি: যেমন কসর, জম (নামাজ একত্রকরণ), তায়াম্মুমের বিধান, মোজার ওপর মাসেহ করা এবং ইবাদত পালনের পথে তার যা কিছু প্রয়োজন হতে পারে সে সম্পর্কে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করেন" (২)।
৪ - সকল গুনাহ ও পাপাচার থেকে তাওবা করা, চাই সে হজ্জ পালনকারী হোক বা ওমরাহ পালনকারী অথবা অন্য কেউ হোক, সকল গুনাহ ও পাপাচার থেকে তাওবা করা ওয়াজিব। আর তাওবার প্রকৃত স্বরূপ হলো: সমস্ত গুনাহ পরিত্যাগ করা ও বর্জন করা, অতীতে যা করা হয়েছে তার জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং পুনরায় তাতে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা। আর যদি তার কাছে মানুষের কোনো পাওনা বা অধিকার থাকে, তবে তা ফেরত দেওয়া এবং তাদের নিকট থেকে দায়মুক্ত হওয়া; চাই তা সম্মান বা সম্পদ সংশ্লিষ্ট হোক অথবা অন্য কিছু, তার ভাইয়ের জন্য তার নেকি থেকে প্রতিদান গ্রহণ করার পূর্বেই। যদি না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
يكن له حسنات أُخِذَ من سيئات أخيه فطرحت عليه (1).
5 - على الحاج أو المعتمر أن ينتخب المال الحلال لحجه وعمرته؛ لأن الله طيب لا يقبل إلا طيّبًا؛ ولأن المال الحرام يسبب عدم إجابة الدعاء (2)، وأيما لحم نبت من سحت فالنار أولى به (3).
6 - يستحب للمسافر أن يكتب وصيته، وما له وما عليه فالآجال بيد الله تعالى: {إِنَّ الله عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ الله عَلِيمٌ خَبِيرٌ} (4)، وقال صلى الله عليه وسلم: ((ما حق امرئ مسلم له شيء يريد أن يوصي فيه يبيت ليلتين إلا ووصيته مكتوبة
--------------------------------------------
যদি তার কোনো নেকি না থাকে, তবে তার (মজলুম) ভাইয়ের গুনাহসমূহ থেকে নিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে (১)।
৫ - হাজি বা উমরাহ পালনকারীর উচিত তার হজ ও উমরার জন্য হালাল সম্পদ নির্বাচন করা; কারণ আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না; এবং হারাম সম্পদ দোয়া কবুল না হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায় (২), আর হারাম উপার্জনের মাধ্যমে যে মাংস বৃদ্ধি পায়, তার জন্য জাহান্নামের আগুনই অধিক উপযোগী (৩)।
৬ - মুসাফিরের জন্য মুস্তাহাব (مستحب) হলো তার অসিয়তনামা লিখে রাখা এবং তার যা কিছু পাওনা ও ঋণ রয়েছে তা লিপিবদ্ধ করা; কেননা হায়াত আল্লাহর হাতে: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন, মাতৃগর্ভে যা আছে তা তিনি জানেন। কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে তার মৃত্যু হবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত} (৪), আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে মুসলিম ব্যক্তির নিকট অসিয়ত করার মতো কিছু রয়েছে, তার জন্য তার অসিয়তনামা লিখিত রাখা ব্যতিরেকে দুটি রাত অতিবাহিত করা সমীচীন নয়"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
عنده)) (1). ويشهد عليها، ويقضي ما عليه من الديون، ويرد الودائع إلى أهلها أو يستأذنهم في بقائها.
7 - يستحب للمسافر أن يوصي أهله بتقوى الله تعالى، وهي وصية الله تعالى للأولين والآخرين: {وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُواْ الله وَإِن تَكْفُرُواْ فَإِنَّ لله مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ وَكَانَ الله غَنِيًّا حَمِيدًا} (2).
8 - يستحب للمسافر أن يجتهد في اختيار الرفيق الصالح، ويحرص أن يكون من طلبة العلم الشرعي؛ فإن هذا من أسباب توفيقه وعدم وقوعه في الأخطاء في سفره وفي حجه وعمرته؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم ((الرجل على دين خليله فلينظر أحدكم من يخالل)) (3)؛ولقوله صلى الله عليه وسلم ((لا
--------------------------------------------
তার নিকট থাকে)) (১)। এবং সেটির ওপর সে সাক্ষ্য গ্রহণ করবে, আর তার ওপর যে ঋণ রয়েছে তা পরিশোধ করবে এবং আমানতসমূহ তার মালিকদের নিকট ফেরত দিবে অথবা সেগুলো (তার নিকট) রেখে দেওয়ার জন্য তাদের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করবে।
৭ - মুসাফিরের জন্য মুস্তাহাব হলো সে যেন তার পরিবার-পরিজনকে আল্লাহ তাআলার তাকওয়া অবলম্বনের অসিয়ত করে, আর এটিই হলো পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের প্রতি আল্লাহ তাআলার অসিয়ত: {আর অবশ্যই আমি তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদেরকে এবং তোমাদেরকেও নির্দেশ দিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আর যদি তোমরা কুফরি করো, তবে জেনে রেখো, আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই; আর আল্লাহ অভাবহীন, চির প্রশংসিত} (২)।
৮ - মুসাফিরের জন্য মুস্তাহাব হলো সে যেন সৎ সঙ্গী নির্বাচনে সচেষ্ট হয়, এবং সে যেন সঙ্গীটি শরয়ি ইলম অন্বেষণকারী হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়; কেননা এটি তার সফরে এবং তার হজ ও ওমরার ক্ষেত্রে আল্লাহর তাওফিক লাভের এবং ভুলভ্রান্তিতে নিপতিত না হওয়ার অন্যতম কারণ; যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ব্যক্তি তার বন্ধুর আদর্শের অনুসারী হয়, সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকের দেখা উচিত সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে" (৩); এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীর কারণে: "না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تصاحب إلا مؤمنًا ولا يأكل طعامك إلا تقي)) (1)، وقد مثل النبي صلى الله عليه وسلم الجليس الصالح بحامل المسك، والجليس السوء بنافخ الكير (2).
9 - يستحب للمسافر أن يودع أهله، وأقاربه، وأهل العلم: من جيرانه، وأصحابه، قال صلى الله عليه وسلم: ((من أراد سفرًا فليقل لمن يخلِّف: أستودعكم الله الذي لا تضيع ودائعه)) (3)، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يودع أصحابه إذا أراد أحدهم سفرًا فيقول: ((أستودع الله دينك وأمانتك وخواتيم عملك)) (4)، وكان صلى الله عليه وسلم يقول لمن طلب منه أن يوصيه من
--------------------------------------------
((মুমিন ব্যতীত অন্য কারও সাহচর্য গ্রহণ করো না এবং তোমার খাদ্য যেন পরহেজগার ব্যতীত অন্য কেউ না খায়)) (১), আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সৎ সঙ্গীকে আতর বিক্রেতার সাথে এবং অসৎ সঙ্গীকে কামারের হাপর ফুঁকাদানকারীর সাথে তুলনা করেছেন (২)।
৯ - মুসাফিরের জন্য পছন্দনীয় (يستحب) হলো তার পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশী ও বন্ধুদের মধ্য হতে যারা ইলমের অধিকারী তাদের নিকট থেকে বিদায় নেওয়া: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করে সে যেন তার পেছনে রেখে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলে: আমি তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট আমানত রাখছি, যাঁর নিকট রক্ষিত আমানত কখনো বিনষ্ট হয় না)) (৩), আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের কেউ সফরের ইচ্ছা করলে তাকে বিদায় জানাতেন এবং বলতেন: ((আমি তোমার দ্বীন, তোমার আমানত এবং তোমার শেষ আমলসমূহ আল্লাহর নিকট সঁপে দিচ্ছি)) (৪), আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট উপদেশ প্রার্থনাকারীকে বলতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المسافرين: ((زوَّدك الله التقوى، وغفر ذنبك، ويسَّر لك الخير حيثُ ما كنتَ)) (1). وجاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم يريد سفرًا فقال: يا رسول الله أوصني، فقال: ((أوصيك بتقوى الله والتكبير على كل شرف))، فلما مضى قال: ((اللهم ازوِ له الأرض، وهوِّن عليه السفر)) (2).
10 - لا يصطحب معه الجرس والمزامير والكلب في السفر؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا تصحب الملائكة رفقة فيها كلب ولا جرس)) (3). وعنه رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((الجرس مزامير الشيطان)) (4).
--------------------------------------------
মুসাফিরদের জন্য: ((আল্লাহ আপনাকে তাকওয়া দান করুন, আপনার গুনাহ ক্ষমা করুন এবং আপনি যেখানেই থাকুন আপনার জন্য কল্যাণ সহজ করে দিন)) (১)। এবং এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে সফরের ইচ্ছা পোষণ করে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন: ((আমি তোমাকে আল্লাহর তাকওয়া এবং প্রত্যেক উঁচু স্থানে তাকবীর বলার উপদেশ দিচ্ছি))। যখন সে ব্যক্তি প্রস্থান করল, তখন তিনি বললেন: ((হে আল্লাহ! তার জন্য জমিনকে সংকুচিত করে দিন এবং তার সফরকে তার জন্য সহজ করে দিন)) (২)।
১০ - সফরে নিজের সাথে ঘণ্টি, বাদ্যযন্ত্র এবং কুকুর রাখবে না; আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((ফেরেশতারা এমন কাফেলার সঙ্গী হন না যাতে কুকুর বা ঘণ্টি থাকে)) (৩)। এবং তাঁর থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((ঘণ্টি হলো শয়তানের বাদ্যযন্ত্র)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
11 - إذا أراد السفر بإحدى زوجاته إن كان له أكثر من واحدة أقرع بينهن فأي زوجة وقعت عليها القرعة خرجت معه؛ لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: ((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أراد سفرًا أقرع بين نسائه فأيتهن خرج سهمها خرج بها معه)) (1). وهذا هو السنة، إذا أراد أن يسافر ببعض نسائه، فالقرعة فيها راحة عظيمة (2).
12 - يستحب له أن يخرج للسفر يوم الخميس من أول النهار؛ لفعله صلى الله عليه وسلم. قال كعب بن مالك رضي الله عنه: ((لقلَّما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخرج إذا خرج في سفر إلا يوم الخميس)) (3). ودعا لأمته صلى الله عليه وسلم بالبركة في أول النهار فقال: ((اللهم بارك
--------------------------------------------
১১ - যখন তিনি তাঁর কোনো এক স্ত্রীর সাথে সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন যদি তাঁর একের অধিক স্ত্রী থাকত, তবে তিনি তাঁদের মধ্যে লটারি (قرعة) করতেন। অতঃপর যাঁর নামে লটারি (قرعة) পড়ত, তিনি তাঁকে নিয়েই বের হতেন; আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে লটারি (قرعة) করতেন। অতঃপর তাঁদের মধ্যে যাঁর নাম (তীর) বের হতো, তিনি তাঁকে নিয়েই সফরে বের হতেন" (১)। আর এটিই হলো সুন্নাহ। যখন কেউ তাঁর স্ত্রীদের কাউকে নিয়ে সফর করতে চান, তখন এই লটারি (قرعة) করার মধ্যে মহান স্বস্তি রয়েছে (২)।
১২ - সফরের জন্য বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে বের হওয়া মুস্তাহাব (مستحب); রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আমলের কারণে। কাব বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুব কমই বৃহস্পতিবার ব্যতীত অন্য দিনে সফরে বের হতেন" (৩)। আর তিনি তাঁর উম্মতের জন্য দিনের শুরুতে বরকতের দোয়া করে বলেছেন: "হে আল্লাহ! বরকত দান করুন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لأمتي في بكورها)) (1).
13 - يستحبُّ له أن يدعو بدعاء الخروج من المنزل فيقول عند خروجه: ((بسم الله، توكلت على الله، ولا حول ولا قوة إلا بالله (2)، اللهم إني أعوذ بك أن أضِلَّ أو أُضَلَّ، أو أزلَّ أو أُزَلَّ، أو أظلِمَ أو أُظلَمَ، أو أجهلَ أو يُجهلَ عليَّ)) (3).
--------------------------------------------
আমার উম্মতের জন্য তাদের ভোরের সময়ে)) (১)।
১৩ - তার জন্য ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া পড়া মুস্তাহাব সুতরাং সে বের হওয়ার সময় বলবে: ((আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া [গুনাহ থেকে] ফেরার বা [ইবাদতের] শক্তি অর্জনের কোনো উপায় নেই (২), হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন আমি পথভ্রষ্ট না হই অথবা আমাকে পথভ্রষ্ট করা না হয়, আমি যেন পদস্খলিত না হই অথবা আমাকে পদস্খলিত করা না হয়, আমি যেন জুলুম না করি অথবা আমার ওপর জুলুম করা না হয়, অথবা আমি যেন অজ্ঞতাসুলভ আচরণ না করি অথবা আমার সাথে অজ্ঞতাসুলভ আচরণ করা না হয়)) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
14 - يستحبّ له أن يدعو بدعاء السفر، إذا ركب دابته، أو سيارته، أو الطائرة، أو غيرها من المركوبات فيقول: ((الله أكبر، الله أكبر، الله أكبر)) {سُبْحانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ * وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ} (1)، ((اللهمّ إنا نسألك في سفرنا هذا البر والتقوى، ومن العمل ما ترضى، اللهمّ هوِّن علينا سفرنا هذا واطو عنا بعده، اللهمّ أنت الصاحب في السفر، والخليفة في الأهل، اللهمّ إني أعوذ بك من وعثاء السفر، وكآبة المنظر، وسوء المنقلب: في المال، والأهل .. )) وإذا رجع من سفره قالهن وزاد فيهن: ((آيبون، تائبون، عابدون، لربنا حامدون)) (2).
15 - يستحبّ له أن لا يسافر وحده بلا رفقة؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((لو يعلم الناس ما في الوحدة ما أعلم ما سار راكب بليل وحده)) (3).وقال صلى الله عليه وسلم: ((الراكب شيطان، والراكبان شيطانان، الثلاثة ركب)) (4).
--------------------------------------------
১৪ - তার জন্য মুস্তাহাব হলো সফর বা ভ্রমণের দুআ পাঠ করা, যখন সে তার সওয়ারি পশু, অথবা তার গাড়ি, অথবা বিমান অথবা অন্য কোনো যানবাহনে আরোহণ করবে, তখন সে বলবে: ((আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার)) {পবিত্র সেই সত্তা যিনি এদেরকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, অথচ আমরা এদেরকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আর আমরা অবশ্যই আমাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তনকারী।} (১), ((হে আল্লাহ! আমরা আমাদের এই সফরে আপনার নিকট পুণ্য ও তাকওয়া প্রার্থনা করছি এবং এমন আমল প্রার্থনা করছি যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের এই সফরকে সহজ করে দিন এবং এর দূরত্বকে আমাদের জন্য সংকুচিত করে দিন। হে আল্লাহ! আপনিই সফরে আমাদের একমাত্র সাথী এবং পরিবার-পরিজনের দেখাশোনার ক্ষেত্রে একমাত্র প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট সফরের ক্লান্তি, বিষাদময় দৃশ্য এবং সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের অশুভ পরিবর্তন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি...)) আর যখন সে সফর থেকে ফিরে আসবে, তখন এই বাক্যগুলো পাঠ করবে এবং তাতে এই অংশটুকু যোগ করবে: ((আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকারী এবং আমাদের রবের প্রশংসাকারী।)) (২)।
১৫ - তার জন্য সঙ্গীহীন একাকী সফর না করা মুস্তাহাব; কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((মানুষ যদি একাকী সফরের বিপদ সম্পর্কে জানত যা আমি জানি, তবে কোনো আরোহী রাতের বেলা একাকী পথ চলত না।)) (৩)। আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: ((একজন আরোহী একটি শয়তান, দুইজন আরোহী দুইটি শয়তান এবং তিনজন হলো একটি কাফেলা।)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
16 - يؤمِّر المسافرون أحدَهم؛ ليكون أجمعَ لشملهم، وأدعى لاتفاقهم، وأقوى لتحصيل غرضهم، قال صلى الله عليه وسلم: ((إذا خرج ثلاثة في سفر فليؤمِّروا أحدهم)) (1).
17 - يستحب إذا نزل المسافرون منزلاً أن ينضمّ بعضهم إلى بعض، فقد كان بعض أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم إذا نزلوا منزلاً تفرقوا في الشعاب والأودية، فقال صلى الله عليه وسلم: ((إنما تفرقكم في هذه الشعاب والأودية إنما ذلكم من الشيطان)) (2). فكانوا بعد ذلك ينضمُّ بعضُهم إلى بعض حتى لو بسط عليهم ثوب لوسعهم.
18 - يستحبّ إذا نزل منزلاً في السفر أو غيره من
--------------------------------------------
১৬ - মুসাফিরদের উচিত তাদের একজনকে আমির নিযুক্ত করা; যাতে তাদের একতা অটুট থাকে, মতৈক্য সুদৃঢ় হয় এবং উদ্দেশ্য সাধনে তারা অধিক শক্তিশালী হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তিন ব্যক্তি সফরে বের হবে, তারা যেন তাদের একজনকে আমির নিযুক্ত করে।" (১)।
১৭ - মুসাফিররা কোনো গন্তব্যে অবতরণ করলে একে অপরের সাথে মিলেমিশে থাকা মুস্তাহাব (مستحب), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবী যখন কোনো স্থানে অবতরণ করতেন, তারা গিরিপথ ও উপত্যকাগুলোতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এই সকল গিরিপথ ও উপত্যকায় তোমাদের এভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা কেবল শয়তানের পক্ষ থেকে।" (২)। এরপর থেকে তারা একে অপরের সাথে এমনভাবে মিলেমিশে অবস্থান করতেন যে, এমনকি তাদের ওপর একটি চাদর বিছিয়ে দিলেও তা সবার জন্য যথেষ্ট হতো।
১৮ - সফর বা অন্য কোথাও কোনো গন্তব্যে অবতরণ করলে মুস্তাহাব (مستحب) যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المنازل أن يدعو بما ثبت عنه صلى الله عليه وسلم: ((أعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق))؛ فإنه إذا قال ذلك لم يضرَّه شيء حتى يرتحل من منزله ذلك (1).
19 - يستحبّ له أن يكبّر على المرتفعات ويسبح إذا هبط المنخفضات والأودية، قال جابر رضي الله عنه: ((كنا إذا صعدنا كبرنا وإذا نزلنا سبحنا)) (2)، ولا يرفعوا أصواتهم بالتكبير، قال صلى الله عليه وسلم: ((يا أيها الناس اربعوا على أنفسكم؛ فإنكم لا تدعون أصم ولا غائبًا، إنه معكم، إنه سميع قريب)) (3).
20 - يستحبّ له أن يدعوَ بدعاء دخول القرية أو البلدة فيقول إذا رآها: ((اللهم ربَّ السموات السبع وما أظللن، ورب الأرضين السبع وما أقللن، ورب الشياطين
--------------------------------------------
কোনো স্থানে অবতরণ করলে নবী (সা.) থেকে যা প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে সে দুআটি পাঠ করা: "আমি আল্লাহর নিকট তাঁর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহ দ্বারা তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" কেননা, যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সেই স্থান ত্যাগ করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না (১)।
১৯ - উঁচুজায়গায় আরোহণ করলে তাকবীর বলা এবং নিচু স্থান ও উপত্যকায় অবতরণ করলে তাসবীহ পাঠ করা মুস্তাহাব (مستحب), জাবির (রা.) বলেন: "আমরা যখন ওপরে উঠতাম তখন তাকবীর বলতাম এবং যখন নিচে নামতাম তখন তাসবীহ পাঠ করতাম" (২)। আর তারা যেন তাকবীর বলার সময় উচ্চস্বর না করে। নবী (সা.) বলেছেন: "হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও; কেননা তোমরা কোনো বধির বা অনুপস্থিত কাউকে ডাকছ না। নিশ্চয় তিনি তোমাদের সাথেই আছেন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটে" (৩)।
২০ - কোনো গ্রাম বা জনপদে প্রবেশের দুআ পাঠ করা মুস্তাহাব (مستحب), গ্রামটি দৃষ্টিগোচর হলে সে বলবে: "হে আল্লাহ! সাত আসমানের রব এবং তা যা কিছুকে ছায়া দেয় তার রব; এবং সাত জমিনের রব এবং তা যা কিছুকে ধারণ করে তার রব; এবং শয়তানদের রব..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وما أضللن، ورب الرياح وما ذرين، أسألك خير هذه القرية وخير أهلها، وخير ما فيها، وأعوذ بك من شرها وشر أهلها وشر ما فيها)) (1).
21 - يستحبّ له السير أثناء السفر في الليل وخاصة أوله؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((عليكم بالدُّلجة؛ فإن الأرض تُطوَى بالليل)) (2).
22 - يستحبّ له أن يقول في السحر إذا بدا له الفجر: ((سمّع سامعٌ بحمد الله وحسن بلائه علينا. ربنا صاحبنا، وأفضل علينا عائذًا بالله من النار)) (3).
--------------------------------------------
...এবং যা তারা পথভ্রষ্ট করেছে। হে বাতাসের পালনকর্তা এবং যা তারা উড়িয়ে নেয়, আমি আপনার কাছে এই জনপদের কল্যাণ, এর অধিবাসীদের কল্যাণ এবং এতে যা আছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর আমি আপনার কাছে এর অনিষ্ট, এর অধিবাসীদের অনিষ্ট এবং এতে যা আছে তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি)) (১)।
২১ - সফরের সময় রাতে, বিশেষ করে রাতের প্রথম ভাগে পথ চলা মুস্তাহাব; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: ((তোমরা রাতের শেষ ভাগে পথ চলো; কেননা রাতে যমীন সংকুচিত করে দেয়া হয়)) (২)।
২২ - সাহরির সময় যখন ফজর স্পষ্ট হয় তখন তার জন্য বলা মুস্তাহাব: ((কোনো শ্রবণকারী আল্লাহর প্রশংসা এবং আমাদের ওপর তাঁর উত্তম পরীক্ষার কথা পৌঁছে দিক। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের সঙ্গী হোন এবং আমাদের ওপর অনুগ্রহ করুন; আমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)) (৩)।--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
23 - يستحبّ له أن يكثر من الدعاء في السفر؛ فإنه حريٌّ بأن تجاب دعوته، ويُعطى مسألته؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((ثلاث دعوات مستجابات لا شك فيهن: دعوة المظلوم، ودعوة المسافر، ودعوة الوالد على ولده)) (1)، ويكثر الحاج من الدعاء كذلك على الصفا والمروة، وفي عرفات، وفي المشعر الحرام بعد الفجر، وبعد رمي الجمرة الصغرى، والوسطى أيام التشريق؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أكثر في هذه المواطن الستة من الدعاء ورفع يديه (2).
24 - يأمر بالمعروف، وينهى عن المنكر على حسب طاقته وعلمه، ولابد من أن يكون على علم وبصيرة فيما يأمر وفيما ينهى عنه، ويلتزم الرفق واللين، ولا شك أنه يُخشى على من لم ينكر المنكر أن يعاقبه الله عز وجل بعدم قبول
--------------------------------------------
২৩ - সফরে থাকাকালীন অধিক পরিমাণে দোয়া করা মুস্তাহাব; কারণ এটি দোয়া কবুল হওয়ার এবং যা প্রার্থনা করা হয়েছে তা লাভ করার উপযুক্ত সময়; যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই: মজলুমের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং সন্তানের বিরুদ্ধে পিতার দোয়া" (১)। অনুরূপভাবে হাজি ব্যক্তি অধিক পরিমাণে দোয়া করবেন সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে, আরাফাতে, মাশআরুল হারামে ফজরের পর, এবং তাশরীকের দিনগুলোতে ছোট ও মাঝারি জামরায় পাথর নিক্ষেপের পর; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই ছয়টি স্থানে অধিক পরিমাণে দোয়া করেছেন এবং হাত উত্তোলন করেছেন (২)।
২৪ - সামর্থ্য ও জ্ঞান অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ প্রদান এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা, এবং যে বিষয়ে তিনি আদেশ ও নিষেধ করবেন সে বিষয়ে অবশ্যই জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থাকতে হবে। তাকে অবশ্যই নম্রতা ও কোমলতা অবলম্বন করতে হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি মন্দ কাজ দেখেও তা থেকে নিষেধ করে না, তার ব্যাপারে এই আশঙ্কা রয়েছে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল তার দোয়া কবুল না করার মাধ্যমে তাকে শাস্তি দেবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
دعائه؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((والذي نفسي بيده لتأمرنَّ بالمعروف ولتنهونَّ عن المنكر أو ليوشكنَّ الله أن يبعث عليكم عقابًا منه ثم تدعونه فلا يستجيب لكم)) (1).
25 - يبتعد عن جميع المعاصي، فلا يؤذي أحدًا بلسانه، ولا بيده، ولا يزاحم الحجاج والمعتمرين زحامًا يؤذيهم، ولا ينقل النميمة ولا يقع في الغيبة، ولا يجادل مع أصحابه وغيرهم إلا بالتي هي أحسن، ولا يكذب، ولا يقول على الله ما لا يعلم، وغير ذلك من أنواع المعاصي والسيئات قال سبحانه: {الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُومَاتٌ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ} (2)، وقال تعالى: {وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا
مُّبِينًا} (3)، والمعاصي في الحرم ليست كالمعاصي في غيره،
--------------------------------------------
তাঁর দোয়ার ক্ষেত্রে; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ((সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দিবে এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে, অন্যথায় আল্লাহ শীঘ্রই তোমাদের ওপর তাঁর পক্ষ থেকে শাস্তি পাঠাবেন, অতঃপর তোমরা তাঁর কাছে দোয়া করবে কিন্তু তিনি তোমাদের দোয়া কবুল করবেন না)) (১)।
২৫ - সকল প্রকার পাপাচার থেকে দূরে থাকা, তিনি যেন নিজের জিহ্বা বা হাত দিয়ে কাউকে কষ্ট না দেন, এবং হাজি ও উমরা পালনকারীদের এমনভাবে ভিড় করে কষ্ট না দেন যা তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক হয়। তিনি যেন চোগলখুরি না করেন, গিবত না করেন এবং নিজের সঙ্গী ও অন্যদের সাথে উত্তম পন্থা ব্যতিরেকে কোনো বিতর্ক না করেন। তিনি যেন মিথ্যা না বলেন এবং আল্লাহ সম্পর্কে না জেনে কোনো কথা না বলেন। এছাড়া অন্যান্য সকল প্রকার গুনাহ ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকেন। মহান আল্লাহ বলেন: {হজ হয় নির্দিষ্ট কয়েকটি মাসে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাসগুলোতে নিজের ওপর হজ অবধারিত করে নেয়, সে যেন হজের সময় কোনো অশ্লীল কাজ, কোনো পাপাচার এবং কোনো ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত না হয়} (২)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের না করা কোনো কাজের জন্য কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করল} (৩)। আর হারাম শরীফের সীমানায় পাপাচার অন্য স্থানের পাপাচারের মতো নয়,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قال سبحانه: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ الله وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ الَّذِي جَعَلْنَاهُ لِلنَّاسِ سَوَاءً الْعَاكِفُ فِيهِ وَالْبَادِ وَمَن يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ نُذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ} (1).
26 - يحافظ على جميع الواجبات، ومن أعظمها الصلاة في أوقاتها مع الجماعة، ويكثر من الطاعات: كقراءة القرآن، والذكر، والدعاء، والإحسان إلى الناس بالقول والفعل، والرفق بهم، وإعانتهم عند الحاجة. قال صلى الله عليه وسلم: ((مثل المؤمنين في توادهم، وتراحمهم، وتعاطفهم مثل الجسد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالسهر والحمى)) (2).
27 - يتخلق بالخلق الحسن، ويخالق به الناس، والخلق الحسن يشمل: الصبر، والعفو، والرفق، واللين، والحلم، والأناة وعدم العجلة في الأمور، والتواضع، والكرم والجود،
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় যারা কুফরি করে এবং আল্লাহর পথ ও মসজিদুল হারাম থেকে বাধা দান করে, যাকে আমি মানুষের জন্য সমান করেছি—তাতে অবস্থানকারী হোক বা বহিরাগত; আর যে ব্যক্তি সেখানে অন্যায়ভাবে ধর্মদ্রোহিতার ইচ্ছা পোষণ করবে, আমি তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাব} (১)।
২৬ - সকল আবশ্যিক কার্যাবলি পালনে যত্নবান হওয়া, যার মধ্যে অন্যতম হলো জামাতের সাথে যথাসময়ে সালাত আদায় করা এবং অধিক হারে আনুগত্যমূলক আমল করা: যেমন কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দুআ এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে মানুষের প্রতি ইহসান করা, তাদের সাথে নম্র আচরণ করা এবং প্রয়োজনে তাদের সাহায্য করা। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ একটি দেহের ন্যায়; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন শরীরের অন্য সব অঙ্গ অনিদ্রা ও জ্বরের মাধ্যমে তার সাথে শরিক হয়" (২)।
২৭ - সচ্চরিত্রের অধিকারী হওয়া এবং মানুষের সাথে সদাচার করা, আর উত্তম চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত হলো: ধৈর্য, ক্ষমা, কোমলতা, নম্রতা, সহিষ্ণুতা, ধীরস্থিরতা ও কাজে তাড়াহুড়ো না করা, বিনয়, মহানুভবতা ও দানশীলতা,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والعدل، والثبات، والرحمة، والأمانة، والزهد والورع، والسماحة، والوفاء، والحياء، والصدق، والبر والإحسان، والعفة، والنشاط، والمروءة؛ ولعظم فضل حسن الخلق قال صلى الله عليه وسلم: ((أكمل المؤمنين إيمانًا أحسنهم خلقًا .. )) (1)، ((إن المؤمن ليدرك بحسن خلقه درجة الصائم القائم)) (2).
28 - يعين الضعيف، والرفيق في السفر: بالنفس، والمال، والجاه، ويواسيهم بفضول المال وغيره مما يحتاجون إليه، فعن أبي سعيد رضي الله عنه ((أنهم كانوا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر فقال: ((من كان معه فضل ظهر فليعُدْ به على من لا ظهر له، ومن كان معه فضل زاد فليعُدْ به على من لا زاد له))، فذكر من أصناف المال حتى رأينا أنه لا حق لأحد منا في
--------------------------------------------
ন্যায়পরায়ণতা (عدل), অটলতা (ثبات), দয়া, আমানতদারিতা, দুনিয়াবিমুখতা ও খোদাভীতি, উদারতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, লজ্জা, সত্যবাদিতা, সদাচরণ ও অনুগ্রহ, পবিত্রতা, উদ্যম এবং মনুষ্যত্ব; আর সচ্চরিত্রের মহান মর্যাদার কারণে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম...)) (১), ((নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তি তার সচ্চরিত্রের মাধ্যমে রোজা পালনকারী ও রাতভর নামাজ আদায়কারীর মর্যাদা লাভ করে)) (২)।
২৮ - দুর্বলদের এবং সফরের সাথীদের সাহায্য করা: জান, মাল ও প্রভাব-প্রতিপত্তির মাধ্যমে এবং তাদের অতিরিক্ত সম্পদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করা। আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, ((তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এক সফরে ছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি বললেন: "যার নিকট অতিরিক্ত বাহন রয়েছে, সে যেন তা বাহনহীনকে দিয়ে দেয়; আর যার নিকট অতিরিক্ত পাথেয় রয়েছে, সে যেন তা পাথেয়হীনকে দিয়ে দেয়।" এভাবে তিনি সম্পদের বিভিন্ন প্রকারের কথা উল্লেখ করলেন, এমনকি আমরা মনে করলাম যে (অতিরিক্ত মালের ওপর) আমাদের কারো কোনো অধিকার নেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فضل)) (1). وعن جابر رضي الله عنه قال: ((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتخلف في المسير فيزجي الضعيف (2)، ويردف، ويدعو لهم)) (3). وهذا يدل على رأفته صلى الله عليه وسلم وحرصه على مصالحهم؛ ليقتدي به المسلمون عامة، والمسؤولون خاصة.
29 - يتعجّل في العودة ولا يطيل المكث في السفر لغير حاجة؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((السفر قطعة من العذاب، يمنع أحدكم طعامه وشرابه، ونومه، فإذا قضى أحدكم نهمته فليعجل إلى أهله)) (4).
30 - يستحبّ له أن يقول أثناء رجوعه من سفره ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم - أنه كان إذا قفل من غزو، أو حج، أو
--------------------------------------------
অতিরিক্ত (فضل)) (১)। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথচলার সময় পেছনে থাকতেন এবং দুর্বল (الضعيف) ব্যক্তিদের এগিয়ে দিতেন (২), তাদের নিজের পেছনে বসাতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন” (৩)। এটি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করুণা এবং তাদের কল্যাণের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহের প্রমাণ বহন করে; যাতে সাধারণ মুসলিমগণ এবং বিশেষ করে দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ তাঁর আদর্শ অনুসরণ করতে পারেন।
২৯ - দ্রুত ফিরে আসা এবং প্রয়োজন ছাড়া সফরে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান না করা; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: “সফর হলো আজাবের একটি অংশ, যা তোমাদের আহার, পানীয় এবং নিদ্রায় বিঘ্ন ঘটায়। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন তার প্রয়োজন পূর্ণ করবে, তখন সে যেন দ্রুত তার পরিবারের নিকট ফিরে আসে” (৪)।
৩০ - সফর থেকে ফেরার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে তা বলা মুস্তাহাব - তিনি যখন কোনো যুদ্ধ, হজ অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
عمرة، يكبِّر على كل شرف من الأرض ثلاث تكبيرات ثم يقول: ((لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير، آيبون، تائبون، عابدون، ساجدون، لربنا حامدون، صدق الله وعده، ونصر عبده، وهزم الأحزاب وحده)) (1).
31 - يستحبّ له إذا رأى بلدته أن يقول: ((آيبون، تائبون، عابدون، لربنا حامدون)). ويردِّد ذلك حتى يدخل بلدته؛ لفعله صلى الله عليه وسلم (2).
32 - لا يقدم على أهله ليلاً إذا أطال الغَيْبة لغير حاجة إلا إذا بلَّغهم بذلك، وأخبرهم بوقت قدومه ليلاً؛ لنهيه صلى الله عليه وسلم عن ذلك، قال جابر بن عبد الله رضي الله عنهما: ((نهى النبي صلى الله عليه وسلم أن يطرق (3) الرجل أهله ليلاً)) (4). ومن الحكمة في ذلك ما
--------------------------------------------
...উমরা (থেকে ফিরে), তিনি জমিনের প্রতিটি উঁচু স্থানে তিনবার তাকবির বলবেন, অতঃপর বলবেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য, আর তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকারী, সিজদাকারী এবং আমাদের রবের প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা সত্য করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সকল বাহিনীকে পরাজিত করেছেন" (১)।
৩১ - তাঁর জন্য পছন্দনীয় (مستحب) যখন তিনি নিজ শহর দেখবেন তখন বলবেন: "আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকারী এবং আমাদের রবের প্রশংসাকারী।" তিনি নিজ শহরে প্রবেশ করা পর্যন্ত বারবার এটি পাঠ করবেন; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন (২)।
৩২ - দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার পর প্রয়োজন ছাড়া রাতে পরিবারের কাছে ফিরবেন না, তবে যদি তাদেরকে আগেভাগে জানিয়ে দেন এবং রাতে তাঁর আগমনের সময় সম্পর্কে অবহিত করেন (তবে অনুমতি রয়েছে); কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে নিষেধ করেছেন। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে হঠাৎ কারো পরিবারের কাছে ফিরে আসাকে (৩) নিষেধ করেছেন" (৪)। আর এর হিকমত বা রহস্য হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فسرته الرواية الأخرى: ((حتى تمتشط الشعثة، وتستحدَّ المغيَّبة))، وفي أخرى: ((نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يطرق الرجل أهله ليلاً يتخوّنهم، أو يلتمس عثراتهم)) (1).
33 - يستحبّ للقادم من السفر أن يبتدئ بالمسجد الذي بجواره ويصلي فيه ركعتين؛ لفعله صلى الله عليه وسلم؛ فإنه ((كان إذا قدم من سفر بدأ بالمسجد فركع فيه ركعتين)) (2).
34 - يستحب للمسافر إذا قدم من سفر أن يتلطف بالوِلْدَان من أهل بيته وجيرانه ويحسن إليهم إذا استقبلوه، فعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: لما قدم النبي صلى الله عليه وسلم مكة استقبله أُغيلمة بني عبد المطلب فحمل واحدًا بين يديه والآخر خلفه (3).وقال عبد الله بن جعفر رضي الله عنه: ((كان صلى الله عليه وسلم إذا
--------------------------------------------
অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে: ((যাতে এলোকেশী নারী চুল আঁচড়াতে পারে এবং প্রবাসে থাকা ব্যক্তির স্ত্রী ক্ষৌরকার্য সম্পন্ন করতে পারে)), এবং অন্যটিতে রয়েছে: ((রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো ব্যক্তি তার পরিবারের কাছে রাতে অতর্কিতে আসাকে নিষেধ করেছেন—যাতে সে তাদের বিশ্বাসঘাতকতা ধরতে না চায় অথবা তাদের ভুলত্রুটি অন্বেষণ না করে)) (১)।
৩৩ - সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকারীর জন্য মুস্তাহাব (يستحبّ) হলো তার নিকটস্থ মসজিদে প্রবেশের মাধ্যমে শুরু করা এবং সেখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা; কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ করতেন। তিনি যখনই সফর থেকে ফিরে আসতেন, প্রথমে মসজিদে যেতেন এবং সেখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন (২)।
৩৪ - মুসাফিরের (مسافر) জন্য মুস্তাহাব (يستحبّ) হলো সফর থেকে ফিরে আসার পর তার পরিবার ও প্রতিবেশীদের শিশুদের প্রতি সদয় হওয়া এবং তারা তাকে স্বাগত জানালে তাদের সাথে সদাচরণ করা। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় আসলেন, তখন বনী আব্দুল মুত্তালিবের ছোট ছেলেরা তাঁকে স্বাগত জানাল। তিনি তাদের একজনকে নিজের সামনে এবং অন্যজনকে নিজের পিছনে (সওয়ারিতে) বহন করলেন (৩)। এবং আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: ((রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قدم من سفر تُلُقِّي بنا، فَتُلُقِّيَ بي وبالحسن أو بالحسين فحمل أحدنا بين يديه والآخر خلفه حتى دخلنا المدينة)) (1).
35 - تستحبّ الهدية، لما فيها من تطييب القلوب وإزالة الشحناء، ويستحب قبولها، والإثابة عليها، ويكره ردّها لغير مانع شرعي؛ ولهذا قال صلى الله عليه وسلم: ((تهادوا تحابّوا)) (2)، والهدية سبب من أسباب المودة بين المسلمين؛ ولهذا قال بعضهم:
هدايا الناس بعضهم لبعض
… تولد في قلوبهم الوصالا
وقد ذُكِرَ أن أحد الحجاج عاد إلى أهله فلم يقدِّم لهم شيئًا فغضب واحد منهم وأنشد شعرًا فقال:
--------------------------------------------
((তিনি যখন সফর হতে ফিরে আসতেন তখন আমাদের দিয়ে তাঁর অভ্যর্থনা জানানো হতো। অতঃপর আমাকে এবং হাসান কিংবা হুসাইনকে নিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হলো। তখন তিনি আমাদের একজনকে তাঁর সামনে এবং অপরজনকে তাঁর পেছনে বহন করলেন যতক্ষণ না আমরা মদিনায় প্রবেশ করলাম।)) (১)।
৩৫ - উপহার প্রদান মুস্তাহাব, কারণ এতে অন্তরের সন্তুষ্টি লাভ হয় এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ দূরীভূত হয়। উপহার গ্রহণ করা এবং তার বিনিময় প্রদান করা মুস্তাহাব। কোনো শরয়ি ওজর ব্যতীত উপহার প্রত্যাখ্যান করা মাকরূহ; এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা একে অপরকে উপহার দাও, এতে তোমাদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে)) (২)। উপহার মুসলিমদের মাঝে হৃদ্যতা সৃষ্টির অন্যতম মাধ্যম; এজন্যই কেউ কেউ বলেছেন:
মানুষের একে অপরকে দেওয়া উপহার
… তাদের হৃদয়ে সদ্ভাব ও মিলন তৈরি করে
বর্ণিত আছে যে, জনৈক হাজি তাঁর পরিবারের নিকট ফিরে এলেন কিন্তু তাদের জন্য কোনো উপহার নিয়ে আসলেন না। এতে তাঁদের একজন রাগান্বিত হয়ে কবিতা আবৃত্তি করে বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كأن الحجيج الآن لم يقربوا منى
… ولم يحملوا منها سواكًا ولا نعلاً
أتونا فما جادوا بعود أراكة
… ولا وضعوا في كف طفل لنا نقلا (1)
ومن أجمل الهدايا ماء زمزم؛ لأنها مباركة، قال صلى الله عليه وسلم في ماء زمزم: ((إنها مباركة، إنها طعام طعم [وشفاء سقم])) (2).
وعن جابر رضي الله عنه يرفعه: ((ماء زمزم لما شُرِبَ له)) (3). ويُذكر أن النبي صلى الله عليه وسلم ((كان يحمل ماء زمزم في الأداوي والقرب، فكان يصب على المرضى ويسقيهم)) (4).
36 - إذا قدم المسافر إلى بلده استحبت المعانقة؛ لما ثبت عن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم كما قال أنس رضي الله عنه: ((كانوا إذا تلاقوا
--------------------------------------------
মনে হয় যেন হাজিগণ এখন মিনায় পদার্পণ করেননি
… আর সেখান থেকে কোনো মেসওয়াক কিংবা জুতাও সাথে আনেননি।
তারা আমাদের কাছে ফিরে এলেন কিন্তু আরাক কাঠের কোনো মেসওয়াক উপহার দিলেন না
… আর আমাদের কোনো শিশুর হাতে সামান্য মিষ্টান্নও তুলে দিলেন না। (১)
সবচেয়ে চমৎকার উপহারগুলোর অন্যতম হলো যমযমের পানি; কারণ তা বরকতময়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যমযমের পানি সম্পর্কে বলেছেন: "নিশ্চয়ই তা বরকতময়, তা তৃপ্তিদায়ক খাদ্য [এবং ব্যাধির আরোগ্য]।" (২)।
জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি এটি মারফু (يرفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যমযমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা তার জন্যই।" (৩)। আরও বর্ণিত আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) "ছোট ও বড় চামড়ার পাত্রে যমযমের পানি বহন করতেন, এরপর তিনি তা অসুস্থদের ওপর ঢেলে দিতেন এবং তাদের পান করাতেন।" (৪)।
৩৬ - মুসাফির যখন তার নিজ শহরে ফিরে আসবে, তখন কোলাকুলি করা পছন্দনীয় (مستحب); যেহেতু তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের থেকে প্রমাণিত হয়েছে। যেমন আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "তারা যখন পরস্পর সাক্ষাৎ করতেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল মুসাফির = আস-সাফারু ওয়া আহকামুহু ফী দাউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
تصافحوا، وإذا قدموا من سفر تعانقوا)) (1).
37 - يستحب جمع الأصحاب وإطعامهم عند القدوم من السفر؛ لفعل النبي صلى الله عليه وسلم، فعن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما: ((أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قدم المدينة نحر جزورًا أو بقرة)). زاد معاذ عن شعبة عن محارب سمع جابر بن عبد الله يقول: ((اشترى مني النبي صلى الله عليه وسلم بعيرًا بأوقيتين ودرهم أو درهمين، فلما قدم صرارًا (2) أمر ببقرة فذبحت فأكلوا منها
… )) الحديث (3). وهذا الطعام يقال له: (النقيعة)، وهي طعام يتخذه القادم من السفر (4)، وهذا الحديث وما جاء في معناه يدل على إطعام الإمام والرئيس أصحابه عند
--------------------------------------------
তারা একে অপরের সাথে মুসাফাহা করত, এবং যখন তারা সফর থেকে ফিরত তখন তারা কোলাকুলি করত)) (১)।
৩৭ - সফর থেকে ফিরে আসার সময় সঙ্গীদের একত্রিত করা এবং তাদের আপ্যায়ন করা মুস্তাহাব (مستحب); নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমলের কারণে। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আসলেন, তখন তিনি একটি উট অথবা একটি গরু যবাই করলেন))। মুয়াজ শুবা থেকে, তিনি মুহারিব থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: ((নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছ থেকে একটি উট দুই উকিয়া এবং এক বা দুই দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করেছিলেন। অতঃপর যখন তিনি সারার (২) নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তিনি একটি গরুর নির্দেশ দিলেন, ফলে সেটি যবাই করা হলো এবং তারা তা থেকে আহার করল...)) হাদিস (৩)। আর এই খাবারকে বলা হয়: নাকিয়াহ (النقيعة), এটি এমন খাবার যা সফর থেকে প্রত্যাগত ব্যক্তি প্রস্তুত করে (৪)। এই হাদিস এবং এই অর্থবোধক অন্যান্য বর্ণনাগুলো ইমাম বা নেতার পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গীদের আপ্যায়নের প্রমাণ বহন করে...
--------------------------------------------