(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: -)
التحقيق والإيضاح لكثير من مسائل الحج والعمرة والزيارة على ضوء الكتاب   (ابن باز)

القسم: الفقه العام


الكتاب: التحقيق والإيضاح لكثير من مسائل الحج والعمرة والزيارة

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن باز (ت 1420هـ)

الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - وكالة المطبوعات والبحث العلمي

الطبعة: الثانية والعشرون، 1425هـ

عدد الصفحات: 112

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কিতাবের আলোকে হজ, উমরাহ এবং যিয়ারতের বিবিধ মাসআলাসমূহের বিশ্লেষণ ও স্পষ্টীকরণ   (ইবনে বাজ)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: হজ, উমরাহ এবং যিয়ারতের বিবিধ মাসআলাসমূহের বিশ্লেষণ ও স্পষ্টীকরণ

লেখক: আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি)

প্রকাশক: ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - প্রকাশনা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থা

সংস্করণ: দ্বাবিংশ সংস্করণ, ১৪২৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: -)
والسنة

 

‌‌[مقدمة]

التحقيق والإيضاح

لكثير من مسائل الحج والعمرة والزيارة

على ضوء الكتاب والسنة
ও সুন্নাহ

 

‌‌[ভূমিকা]

বিশ্লেষণ ও স্পষ্টীকরণ

হজ, উমরাহ ও যিয়ারতের বহুবিধ মাসআলাহ সংক্রান্ত

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده.

أما بعد:

فهذا منسك مختصر يشتمل على إيضاح وتحقيق كثير من مسائل الحج والعمرة والزيارة على ضوء كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، جمعته لنفسي ولمن شاء الله من المسلمين، واجتهدت في تحرير مسائله على ضوء الدليل.

وقد طُبِعَ للمرة الأولى في عام 1363 هـ على نفقة جلالة الملك عبد العزيز بن عبد الرحمن الفيصل، قدس الله روحه وأكرم مثواه.

ثم إني بسطت مسائله بعض البسط وزدت فيه من التحقيقات ما تدعو له الحاجة ورأيت إعادة طبعه؛ لينتفع به من شاء الله من العباد،
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যার পরে আর কোনো নবী নেই।

অতঃপর:

এটি হজ্জ, উমরাহ ও যিয়ারত সংক্রান্ত অনেক মাসআলার স্পষ্টীকরণ ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে একটি সংক্ষিপ্ত হজ্জ নির্দেশিকা, যা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহ (سنة)-এর আলোকে সংকলিত। আমি এটি নিজের জন্য এবং আল্লাহ মুসলিমদের মধ্যে যাদেরকে তাওফিক দান করবেন তাদের জন্য সংকলন করেছি এবং দলিলের (دليل) আলোকে এর মাসআলাগুলো সুসংবদ্ধ ও পরিমার্জিত করতে সচেষ্ট হয়েছি।

এটি প্রথমবারের মতো ১৩৬৩ হিজরীতে মহামান্য বাদশা আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান আল ফয়সালের অর্থায়নে মুদ্রিত হয়েছিল, আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁর জান্নাতের আবাসকে মর্যাদাপূর্ণ করুন।

অতঃপর আমি এর মাসআলাগুলোকে কিছুটা বিস্তারিত করেছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এতে কিছু অধিকতর বিশ্লেষণ যুক্ত করেছি; এরপর আমি এটি পুনরায় মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেন আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আল্লাহ যাদের চান তারা এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৪)
وسميته " التحقيق والإيضاح لكثير من مسائل الحج والعمرة والزيارة على ضوء الكتاب والسنة ".

ثم أدخلت فيه زيادات أخرى مهمة وتنبيهات مفيدة تكميلا للفائدة، وقد طبع غير مرة.

وأسأل الله أن يعمم النفع به وأن يجعل السعي خالصا لوجهه الكريم، وسببا للفوز لديه في جنات النعيم، فإنه حسبنا ونعم الوكيل ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

المؤلف

عبد العزيز بن عبد الله بن باز

مفتي عام المملكة العربية السعودية

ورئيس هيئة كبار العلماء

وإدارة البحوث العلمية والإفتاء
এবং আমি এর নামকরণ করেছি "আল-তাহকিক ওয়াল-ইজাহ লি-কাছিরিন মিন মাসাইলিল হাজ্জি ওয়াল-উমরাতি ওয়াজ-জিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাবি ওয়াস-সুন্নাহ" (কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে হজ, উমরা এবং জিয়ারতের বহুবিধ মাসআলার বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা)।

অতঃপর আমি এর উপযোগিতা পূর্ণ করার লক্ষ্যে এতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন এবং উপকারী সতর্কবার্তা অন্তর্ভুক্ত করেছি; এবং এটি ইতিপূর্বে একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর দ্বারা ব্যাপক কল্যাণ সাধন করেন এবং এই প্রচেষ্টাকে একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন। আর জান্নাতুন নাঈমে তাঁর নিকট এটি যেন সফলতার অসীলা হয়। নিশ্চয়ই তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক; আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।

লেখক

আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ

সৌদি আরব রাজতন্ত্রের গ্র্যান্ড মুফতি

এবং উচ্চতর উলামা পরিষদের সভাপতি

এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিভাগ
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[خطبة الكتاب]

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، والصلاة والسلام على عبده ورسوله محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في الحج وبيان فضله وآدابه، وما ينبغي لمن أراد السفر لأدائه وبيان مسائل كثيرة مهمة من مسائل الحج والعمرة والزيارة على سبيل الاختصار والإيضاح قد تحريت فيها ما دل عليه كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم جمعتها نصيحة للمسلمين وعملا بقول الله تعالى {وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ} [الذاريات: 55] وقوله تعالى {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ} [آل عمران: 187] الآية [آل عمران: 187] وقوله تعالى {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى} [المائدة: 2]
[গ্রন্থের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর।

অতঃপর:

এটি হজ এবং এর ফযীলত ও শিষ্টাচার বর্ণনাসংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে হজ আদায়ের উদ্দেশ্যে সফরকারীর করণীয় এবং হজ, উমরা ও যিয়ারতের বহু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা সংক্ষেপে ও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমি এতে আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর (سنة) নির্দেশিত বিষয়ের অনুসরণের চেষ্টা করেছি। আমি এটি মুসলমানদের উপদেশের জন্য এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে সংকলন করেছি: {আর আপনি উপদেশ দিন, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে} [আয-যারিয়াত: ৫৫] এবং আল্লাহর বাণী: {আর স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ কিতাবধারীদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, তোমরা তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না} [আল ইমরান: ১৮৭] এবং আল্লাহর বাণী: {তোমরা নেকি ও তাকওয়ার কাজে পরস্পর সহযোগিতা করো} [আল-মায়িদাহ: ২]।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৬)
وكما في الحديث الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال «الدين النصيحة ثلاثا قيل لمن يا رسول الله؟ قال " لله ولكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم» . وروى الطبراني عن حذيفة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من لم يهتم بأمر المسلمين فليس منهم ومن لم يمس ويصبح ناصحا لله ولكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم فليس منهم»

والله المسئول أن ينفعني بها والمسلمين وأن يجعل السعي فيها خالصا لوجهه الكريم وسببا للفوز لديه في جنات النعيم إنه سميع مجيب وهو حسبنا ونعم الوكيل.

 

‌‌[فصل في أدلة وجوب الحج والعمرة والمبادرة إلى أدائهما]

فصل

في أدلة وجوب الحج والعمرة

والمبادرة إلى أدائهما إذا عرف هذا فاعلموا وفقني الله وإياكم
যেমনটি সহিহ (صحيح) হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তিনবার বলেছেন: "দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা।" জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কার জন্য? তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মুসলিমদের জন্য।" তাবারানি হুজায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মুসলিমদের বিষয়াবলীতে গুরুত্বারোপ করে না, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল, মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মুসলিমদের জন্য কল্যাণকামী না হয়, সেও তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"

আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা যেন তিনি এর মাধ্যমে আমাকে ও মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং এই প্রচেষ্টাকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং জান্নাতুন নাঈমে তাঁর সান্নিধ্যে সাফল্যের অছিলা বানিয়ে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।

 

‌‌[হজ ও ওমরাহ ওয়াজিব হওয়ার দলীল এবং তা পালনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]

পরিচ্ছেদ

হজ ও ওমরাহ ওয়াজিব হওয়ার দলীলসমূহ

এবং তা পালনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রসঙ্গে। যখন এটি অবগত হলেন, তখন জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাকে ও আপনাদের তাওফিক দান করুন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৭)
لمعرفة الحق واتباعه، أن الله عز وجل قد أوجب على عباده حج بيته الحرام وجعله أحد أركان الإسلام الخمسة قال الله تعالى: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ} [آل عمران: 97]

وفي الصحيحين عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «بني الإسلام على خمس شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وصوم رمضان وحج بيت الله الحرام»

وروى سعيد في سننه عن عمر بن الخطاب أنه قال: لقد هممت أن أبعث رجالا إلى هذه الأمصار فينظروا كل من كان له جدة (1) ولم يحج ليضربوا عليهم الجزية ما هم بمسلمين ما هم بمسلمين وروي عن علي أنه قال:

--------------------------------------------

(1) أي سعة من المال.
সত্যকে জানা এবং তা অনুসরণের নিমিত্তে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর পবিত্র ঘরের হজ ফরজ করেছেন এবং একে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: {মানুষের মধ্যে যারা সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ওই ঘরের হজ সম্পাদন করা তাদের ওপর অবশ্য পালনীয়। আর যে ব্যক্তি কুফরি (অস্বীকার) করবে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন} [আলে ইমরান: ৯৭]

এবং বুখারি ও মুসলিমে ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল; সালাত কায়েম করা; জাকাত প্রদান করা; রমজানের রোজা পালন করা এবং আল্লাহর পবিত্র ঘরের হজ সম্পাদন করা»

এবং সাঈদ তাঁর সুনান গ্রন্থে ওমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "আমি সংকল্প করেছি যে, বিভিন্ন জনপদে কিছু লোক পাঠাব যারা অনুসন্ধান করবে কার সচ্ছলতা (১) থাকা সত্ত্বেও হজ করেনি; অতঃপর তারা যেন তাদের ওপর জিজিয়া ধার্য করে। তারা মুসলিম নয়, তারা মুসলিম নয়।" এবং আলী থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ সম্পদের প্রাচুর্য বা সচ্ছলতা।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৮)
من قدر على الحج فتركه فلا عليه أن يموت يهوديا أو نصرانيا.

ويجب على من لم يحج وهو يستطيع الحج أن يبادر إليه، لما روي عن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «تعجلوا إلى الحج - يعني الفريضة - فإن أحدكم لا يدري ما يعرض له» رواه أحمد.

ولأن أداء الحج واجب على الفور في حق من استطاع السبيل إليه لظاهر قوله تعالى: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ} [آل عمران: 97]

وقول النبي صلى الله عليه وسلم في خطبته: «أيها الناس إن الله فرض عليكم الحج فحجوا» أخرجه مسلم.

وقد وردت أحاديث تدل على وجوب العمرة منها قوله صلى الله عليه وسلم في جوابه لجبرائيل لما سأله عن الإسلام قال صلى الله عليه وسلم: «الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وتقيم الصلاة
যে ব্যক্তি হজ করার সামর্থ্য রাখে অথচ তা বর্জন করে, সে ইহুদি হয়ে কিংবা খ্রিস্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করুক তাতে (আল্লাহর) কোনো দায় নেই।

আর যে ব্যক্তি হজ করেনি অথচ হজ করার সামর্থ্য রাখে, তার জন্য অবিলম্বে হজের দিকে সচেষ্ট হওয়া ওয়াজিব; কারণ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা হজের দিকে—অর্থাৎ ফরজ হজের দিকে—ত্বরা করো, কেননা তোমাদের কেউ জানে না তার সামনে কী প্রতিবন্ধকতা আসবে।” এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।

কেননা হজে যাওয়ার সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর অবিলম্বে হজ সম্পাদন করা ওয়াজিব; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীর বাহ্যিক অর্থ নির্দেশ করে: {আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেই ঘরের হজ করা তার ওপর আবশ্যক। আর যে কুফরি করবে, তবে আল্লাহ তো জগৎসমূহের মুখাপেক্ষী নন।} [আলে ইমরান: ৯৭]

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবায় বলেছেন: “হে লোকসকল! আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন, সুতরাং তোমরা হজ করো।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

উমরার আবশ্যকতা নির্দেশক বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো জিবরাঈলের প্রশ্নের উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি—যখন তিনি ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: “ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল, আর নামাজ কায়েম করা...
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৯)
وتؤتي الزكاة وتحج البيت وتعتمر وتغتسل من الجنابة وتتم الوضوء وتصوم رمضان» أخرجه ابن خزيمة والدارقطني من حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه. وقال الدارقطني: هذا إسناد ثابت صحيح.

ومنها حديث عائشة أنها قالت: «يا رسول الله هل على النساء من جهاد؟ قال: عليهن جهاد لا قتال فيه الحج والعمرة» أخرجه أحمد وابن ماجة بإسناد صحيح.

ولا يجب الحج والعمرة في العمر إلا مرة واحدة لقول النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح «الحج مرة فمن زاد فهو تطوع»

ويسن الإكثار من الحج والعمرة تطوعا لما ثبت في الصحيحين عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «العمرة إلى العمرة كفارة لما بينهما والحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة»
"এবং যাকাত প্রদান করবে, বায়তুল্লাহর হজ করবে, ওমরাহ করবে, জানাবাত থেকে গোসল করবে, ওজু পূর্ণ করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে।" এটি ইবনে খুজাইমা এবং দারাকুতনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম দারাকুতনি বলেছেন: "এই সনদটি (إسناد) সুদৃঢ় (ثابت) বিশুদ্ধ (صحيح)।"

এবং এর মধ্যে আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটি অন্যতম যে, তিনি বলেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসুল! নারীদের ওপর কি জিহাদ আছে? তিনি বললেন: তাদের ওপর এমন জিহাদ রয়েছে যাতে কোনো লড়াই নেই; আর তা হলো হজ ও ওমরাহ।" এটি আহমাদ এবং ইবনে মাজাহ বিশুদ্ধ (صحيح) সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন।

জীবনে হজ ও ওমরাহ মাত্র একবারই আবশ্যক হয়, যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসে বলেছেন: "হজ একবারই, সুতরাং যে ব্যক্তি অতিরিক্ত করবে তা নফল (تطوع) হিসেবে গণ্য হবে।"

নফল (تطوع) হিসেবে অধিক পরিমাণে হজ ও ওমরাহ করা সুন্নত, যেহেতু সহিহাইন-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এক ওমরাহ থেকে অপর ওমরাহ হলো উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের পাপসমূহের জন্য কাফফারা, আর মকবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।"
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌[فصل في وجوب التوبة من المعاصي والخروج من المظالم]

فصل

في وجوب التوبة من المعاصي

والخروج من المظالم إذا عزم المسلم على السفر إلى الحج، أو العمرة: استحب له أن يوصي أهله، وأصحابه بتقوى الله عز وجل وهي فعل أوامره، واجتناب نواهيه.

وينبغي أن يكتب ما له، وما عليه من الدين، ويشهد على ذلك، ويجب عليه المبادرة إلى التوبة النصوح من جميع الذنوب، لقوله تعالى: {وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [النور: 31]

وحقيقة التوبة: الإقلاع من الذنوب، وتركها، والندم على ما مضى منها، والعزيمة على عدم العود فيها، وإن كان عنده للناس مظالم من نفس، أو مال أو عرض ردها إليهم، أو تحلل منها قبل
‌‌[পাপসমূহ থেকে তওবা করার আবশ্যকতা (وجوب) এবং জুলুম বা অন্যায্য পাওনা (مظالم) থেকে মুক্ত হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]

পরিচ্ছেদ

পাপসমূহ থেকে তওবা করার আবশ্যকতা (وجوب) প্রসঙ্গে

এবং জুলুম বা অন্যায্য পাওনা (مظالم) থেকে মুক্ত হওয়া। যখন কোনো মুসলিম হজ অথবা উমরা পালনের উদ্দেশ্যে সফরের সংকল্প করে, তখন তার জন্য তার পরিবার-পরিজন ও সঙ্গীদের আল্লাহর তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অবলম্বনের অসিয়ত করা পছন্দনীয় (مستحب); আর তাকওয়া হলো তাঁর আদেশসমূহ পালন করা এবং তাঁর নিষেধসমূহ বর্জন করা।

এবং তার উচিত হলো তার পাওনা এবং তার ওপর অন্যদের যে ঋণ রয়েছে তা লিখে রাখা এবং সে বিষয়ে সাক্ষী রাখা। আর সমস্ত পাপ থেকে একনিষ্ঠ তওবা (التوبة النصوح)-এর দিকে ধাবিত হওয়া তার ওপর আবশ্যক (واجب)। কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তওবা করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" [আন-নূর: ৩১]

আর তওবার প্রকৃত স্বরূপ হলো: পাপসমূহ উপড়ে ফেলা ও তা বর্জন করা, অতীতে যা ঘটে গিয়েছে তার জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং পুনরায় তাতে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা। আর যদি মানুষের জান, মাল বা ইজ্জত-আব্রু সংক্রান্ত কোনো জুলুম বা পাওনা (مظالم) তার নিকট থেকে থাকে, তবে তা তাদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া অথবা তার থেকে অব্যাহতি গ্রহণ (تحلل) করা...
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১১)
سفره لما صح عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من كان عنده مظلمة لأخيه من مال أو عرض فليتحلل اليوم قبل أن لا يكون دينار ولا درهم إن كان له عمل صالح أخذ منه بقدر مظلمته وإن لم تكن له حسنات أخذ من سيئات صاحبه فحمل عليه»

وينبغي أن ينتخب لحجه وعمرته نفقة طيبة من مال حلال لما صح عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن الله تعالى طيب لا يقبل إلا طيبا» وروى الطبراني عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا خرج الرجل حاجا بنفقة طيبة ووضع رجله في الغرز فنادى لبيك اللهم لبيك ناداه مناد من السماء لبيك وسعديك زادك حلال وراحلتك حلال وحجك مبرور غير مأزور وإذا خرج الرجل بالنفقة الخبيثة فوضع رجله في الغرز فنادى لبيك اللهم لبيك ناداه مناد من السماء لا لبيك ولا سعديك زادك حرام ونفقتك حرام وحجك غير مبرور»
তার সফরের প্রাক্কালে, যেহেতু তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সহিহ (صح) সূত্রে সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যার কাছে তার ভাইয়ের সম্পদ বা সম্মানের কোনো পাওনা বা জুলুম থাকে, সে যেন আজই তা থেকে দায়মুক্ত হয়ে নেয়—সেই দিন আসার আগে যখন কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না। যদি তার কোনো সৎকর্ম থাকে, তবে তার জুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী নেকি সেখান থেকে নিয়ে নেওয়া হবে। আর যদি তার কোনো নেকি না থাকে, তবে তার (মজলুম) সঙ্গীর পাপ থেকে নিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।"

আর হজ্জ ও উমরার জন্য হালাল অর্থ থেকে পবিত্র পাথেয় নির্বাচন করা উচিত। কারণ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া কোনো কিছু গ্রহণ করেন না।" তাবারানি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি পবিত্র পাথেয় নিয়ে হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং বাহনের রেকাবে পা রেখে 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' বলে ডাক দেয়, তখন আকাশ থেকে একজন আহ্বানকারী তাকে ডেকে বলেন: 'লাব্বাইক ওয়া সাদাইক' (তোমার ডাকে সাড়া দিচ্ছি ও তোমাকে ধন্য করছি), তোমার পাথেয় হালাল, তোমার বাহন হালাল এবং তোমার হজ্জ কবুলকৃত ও পাপমুক্ত। আর যখন কোনো ব্যক্তি অপবিত্র পাথেয় নিয়ে বের হয় এবং বাহনের রেকাবে পা রেখে 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' বলে ডাক দেয়, তখন আকাশ থেকে একজন আহ্বানকারী তাকে ডেকে বলেন: 'লা লাব্বাইকা ওয়া লা সাদাইক' (তোমার ডাকে কোনো সাড়া নেই এবং তোমার জন্য কোনো কল্যাণ নেই), তোমার পাথেয় হারাম, তোমার ব্যয় হারাম এবং তোমার হজ্জ কবুলকৃত নয়।"
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১২)
وينبغي للحاج الاستغناء عما في أيدي الناس والتعفف عن سؤالهم لقوله صلى الله عليه وسلم: «ومن يستعفف يعفه الله ومن يستغن يغنه الله» وقوله صلى الله عليه وسلم: «لا يزال الرجل يسأل الناس حتى يأتي يوم القيامة وليس في وجهه مزعة لحم» ويجب على الحاج أن يقصد بحجه وعمرته وجه الله والدار الآخرة، والتقرب إلى الله بما يرضيه من الأقوال والأعمال في تلك المواضع الشريفة ويحذر كل الحذر من أن يقصد بحجه الدنيا وحطامها، أو الرياء والسمعة والمفاخرة بذلك، فإن ذلك من أقبح المقاصد وسبب لحبوط العمل وعدم قبوله كما قال تعالى {مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ - أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [هود: 15 - 16] وقال تعالى

হাজীদের জন্য সমীচীন হলো মানুষের নিকট যা আছে তা থেকে অমুখাপেক্ষী থাকা এবং তাদের নিকট হাত পাতা থেকে পবিত্র থাকা। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন এবং যে অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত করে দেন»। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «একজন মানুষ সর্বদা মানুষের কাছে যাঞ্চা করতে থাকে, অবশেষে সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় এক টুকরো গোশতও অবশিষ্ট থাকবে না»। আর হাজীর জন্য অপরিহার্য হলো তার হজ ও ওমরার মাধ্যমে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকাল লাভের সংকল্প করা এবং ঐ সকল সম্মানিত স্থানে আল্লাহর পছন্দনীয় কথা ও কাজের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অন্বেষণ করা। আর তাকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যেন হজের মাধ্যমে দুনিয়া ও এর নশ্বর ধন-সম্পদ লাভ, অথবা লোকদেখানো, সুখ্যাতি ও দম্ভ করার উদ্দেশ্য না থাকে। কেননা এটি নিকৃষ্টতম উদ্দেশ্য এবং তা আমল বিনষ্ট হওয়া ও কবুল না হওয়ার কারণ। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যে ব্যক্তি পার্থিব জীবন ও তার সৌন্দর্য কামনা করে, আমি দুনিয়াতেই তাদের আমলের পূর্ণ ফল দিয়ে দিই এবং সেখানে তাদের প্রাপ্য কমাতে কোনো কমতি করা হয় না। এরাই তারা, পরকালে যাদের জন্য আগুন ছাড়া আর কিছু নেই এবং তারা যা কিছু করেছিল তা সেখানে নিস্ফল হয়ে যাবে আর তারা যা করত তা ছিল নিরর্থক।} [হূদ: ১৫-১৬]। এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন—

(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
{مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَنْ نُرِيدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهُ جَهَنَّمَ يَصْلَاهَا مَذْمُومًا مَدْحُورًا - وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَشْكُورًا} [الإسراء: 18 - 19]

وصح عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: قال الله تعالى «أنا أغنى الشركاء عن الشرك من عمل عملا أشرك معي فيه غيري تركته وشركه»

وينبغي له أيضا أن يصحب في سفره الأخيار من أهل الطاعة، والتقوى، والفقه في الدين ويحذر من صحبة السفهاء والفساق.

وينبغي له أن يتعلم ما يشرع له في حجه وعمرته، ويتفقه في ذلك ويسأل عما أشكل عليه ليكون على بصيرة، فإذا ركب دابته أو سيارته أو طائرته أو غيرها من المركوبات استحب له أن يسمي الله سبحانه ويحمده، ثم يكبر ثلاثا ويقول: {سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ - وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ} [الزخرف: 13 - 14] «اللهم إني أسألك في سفري هذا البر والتقوى
{যে ব্যক্তি পার্থিব জীবন কামনা করে, আমি তাকে এখানে যা চাই এবং যার জন্য চাই দ্রুত প্রদান করি। অতঃপর তার জন্য নির্ধারণ করি জাহান্নাম, যেখানে সে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত ও বিতাড়িত অবস্থায়। আর যারা পরকাল কামনা করে এবং মুমিন অবস্থায় তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে, তাদের প্রচেষ্টা হবে স্বীকৃত।} [আল-ইসরা: ১৮-১৯]

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বিশুদ্ধ (صح) প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন, "আমি অংশীদারিত্ব থেকে সকল অংশীদারের তুলনায় অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি কোনো আমল করল এবং তাতে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করল, আমি তাকে এবং তার শিরককে বর্জন করি।"

ভ্রমণকারীর জন্য আরও উচিত যে, সে তার সফরে আনুগত্যশীল, তাকওয়াবান এবং দ্বীনী সমঝদার নেককার ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণ করবে এবং নির্বোধ ও পাপাচারীদের সংশ্রব থেকে সতর্ক থাকবে।

তার জন্য আরও উচিত হজ ও উমরার বিধিবিধানসমূহ শিক্ষা করা, এ বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করা এবং তার নিকট অস্পষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা যাতে সে সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর থাকতে পারে। অতঃপর যখন সে তার সওয়ারি পশু, গাড়ি, বিমান বা অন্য কোনো বাহনে আরোহণ করবে, তখন আল্লাহর নাম নেওয়া ও তাঁর প্রশংসা করা মুস্তাহাব; অতঃপর তিনবার তাকবীর বলবে এবং পাঠ করবে: {পবিত্র সেই সত্তা যিনি একে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, অথচ আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আর আমরা অবশ্যই আমাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তনকারী।} [আয-যুখরুফ: ১৩-১৪] "হে আল্লাহ, আমি আমার এই সফরে আপনার নিকট পুণ্য ও তাকওয়া প্রার্থনা করছি..."
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن العمل ما ترضى اللهم هون علينا سفرنا هذا واطو عنا بعده اللهم أنت الصاحب في السفر والخليفة في الأهل اللهم إني أعوذ بك من وعثاء السفر وكآبة المنظر وسوء المنقلب في المال والأهل» . لصحة ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم. أخرجه مسلم من حديث ابن عمر رضي الله عنهما.

ويكثر في سفره من الذكر والاستغفار ودعاء الله سبحانه والتضرع إليه وتلاوة القرآن وتدبر معانيه، ويحافظ على الصلوات في الجماعة ويحفظ لسانه من كثرة القيل والقال، والخوض فيما لا يعنيه، والإفراط في المزاح ويصون لسانه أيضا من الكذب والغيبة والنميمة والسخرية بأصحابه وغيرهم من إخوانه المسلمين.

وينبغي له بذل البر في أصحابه وكف أذاه عنهم وأمرهم بالمعروف، ونهيهم عن المنكر بالحكمة والموعظة الحسنة على حسب الطاقة.
...এবং এমন আমল (তাওফিক দিন) যা আপনি পছন্দ করেন। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য এই সফরকে সহজ করে দিন এবং এর দূরত্ব আমাদের জন্য সংকুচিত করে দিন। হে আল্লাহ! আপনিই সফরে আমাদের সাথী এবং পরিবার-পরিজনের দেখাশোনাকারী। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সফরের কষ্ট-ক্লেশ, বিষণ্ণ দৃশ্য এবং সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের মন্দ পরিবর্তন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বিশুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিত হওয়ার কারণে (উক্ত দোয়াটি পঠিত হবে)। ইমাম মুসলিম ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

সফর অবস্থায় অধিক পরিমাণে জিকির, ইস্তিগফার, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট দোয়া ও কাকুতি-মিনতি করা, কুরআন তিলাওয়াত এবং এর অর্থ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা উচিত। এছাড়া জামায়াতের সাথে সালাত আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া এবং অনর্থক কথাবার্তা, অহেতুক বিষয়ে লিপ্ত হওয়া ও অতিরিক্ত ঠাট্টা-বিদ্রূপ থেকে নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখা আবশ্যক। পাশাপাশি মিথ্যা, গীবত, চোগলখুরি এবং নিজ সাথী ও অন্যান্য মুসলিম ভাইদের নিয়ে উপহাস করা থেকেও জিহ্বাকে রক্ষা করতে হবে।

ব্যক্তির উচিত তার সফরসঙ্গীদের প্রতি সদাচরণ করা, তাদেরকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং সাধ্যানুযায়ী হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে তাদের সৎ কাজের আদেশ প্রদান ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌[فصل فيما يفعله الحاج عند وصوله إلى الميقات]

فصل

فيما يفعله الحاج

عند وصوله إلى الميقات فإذا وصل إلى الميقات استحب له أن يغتسل ويتطيب، لما روي أن النبي صلى الله عليه وسلم تجرد من المخيط عند الإحرام، واغتسل، ولما ثبت في الصحيحين «عن عائشة رضي الله عنها قالت كنت أطيب رسول الله صلى الله عليه وسلم لإحرامه قبل أن يحرم ولحله قبل أن يطوف بالبيت»

وأمر عائشة لما حاضت وقد أحرمت بالعمرة أن تغتسل وتحرم بالحج. «وأمر صلى الله عليه وسلم أسماء بنت عميس لما ولدت بذي الحليفة أن تغتسل وتستثفر بثوب وتحرم» ، فدل ذلك على أن المرأة إذا وصلت إلى الميقات وهي حائض أو نفساء تغتسل وتحرم مع الناس، وتفعل ما يفعله الحاج غير الطواف بالبيت كما أمر النبي صلى الله عليه وسلم عائشة وأسماء بذلك.
‌[পরিচ্ছেদ: মিকাতে পৌঁছানোর পর হাজি যা করবেন]

পরিচ্ছেদ

হাজি যা করবেন সে বিষয়ে

মিকাতে পৌঁছানোর সময়: সুতরাং যখন তিনি মিকাতে পৌঁছাবেন, তখন তাঁর জন্য গোসল করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা পছন্দনীয় (مستحب); যেহেতু বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামের সময় সেলাইযুক্ত পোশাক বর্জন করেছিলেন এবং গোসল করেছিলেন। আর যেহেতু সহীহাইন-এ সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে যে, «আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ইহরামের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধার পূর্বে এবং বায়তুল্লাহ তওয়াফ করার আগে তাঁর ইহরামমুক্ত হওয়ার সময় সুগন্ধি মাখিয়ে দিতাম»

এবং তিনি আয়েশা (রা.)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন—যখন তিনি উমরার ইহরাম বাঁধার পর ঋতুবতী হয়েছিলেন—যেন তিনি গোসল করেন এবং হজের ইহরাম বাঁধেন। «এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমা বিনতে উমাইসকে নির্দেশ দিয়েছিলেন—যখন তিনি যুল-হুলাইফায় সন্তান প্রসব করলেন—যেন তিনি গোসল করেন, কাপড়ের পট্টি (تستثفر) ব্যবহার করেন এবং ইহরাম বাঁধেন», যা একথার প্রমাণ বহন করে যে, নারী যখন মিকাতে পৌঁছাবে এমতাবস্থায় যে সে ঋতুবতী কিংবা নিফাসগ্রস্ত, তখন সে গোসল করবে এবং মানুষের সাথে ইহরাম বাঁধবে, এবং হাজি যা যা করেন সে সবই করবেন কেবল বায়তুল্লাহর তওয়াফ ব্যতীত, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা ও আসমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
ويستحب لمن أراد الإحرام أن يتعاهد شاربه وأظفاره وعانته وإبطيه، فيأخذ ما تدعو الحاجة إلى أخذه لئلا يحتاج إلى أخذ ذلك بعد الإحرام وهو محرم عليه؛ ولأن النبي صلى الله عليه وسلم شرع للمسلمين تعاهد هذه الأشياء كل وقت كما ثبت في الصحيحين عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الفطرة خمس الختان والاستحداد وقص الشارب وقلم الأظفار ونتف الآباط» وفي صحيح مسلم عن أنس رضي الله عنه قال: «وقت لنا في قص الشارب وقلم الأظفار ونتف الإبط وحلق العانة أن لا نترك ذلك أكثر من أربعين ليلة» وأخرجه النسائي بلفظ: «وقت لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم» . وأخرجه أحمد وأبو داود والترمذي بلفظ النسائي، وأما الرأس فلا يشرع أخذ شيء منه عند الإحرام لا في حق الرجال ولا في حق النساء.

যিনি ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা পোষণ করেন, তাঁর জন্য গোঁফ, নখ, নাভির নিচের লোম এবং বগলের লোমের যত্ন নেওয়া মুস্তাহাব। সুতরাং তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলি ছেঁটে বা পরিষ্কার করে নেবেন, যাতে ইহরাম গ্রহণের পর এগুলি কাটার প্রয়োজন না পড়ে, কারণ ইহরাম অবস্থায় তা তাঁর জন্য নিষিদ্ধ। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের জন্য সর্বদা এই বিষয়গুলোর যত্ন নেওয়ার বিধান দিয়েছেন, যেমনটি দুই সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "ফিতরাত (স্বভাবজাত সুন্নাত) পাঁচটি: খতনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা এবং বগলের লোম উপড়ানো।"

সহিহ মুসলিম-এ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমাদের জন্য গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়ানো এবং নাভির নিচের লোম মুণ্ডন করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে যে, আমরা যেন তা চল্লিশ রাতের বেশি বর্জন না করি।" নাসায়ি এটি এই শব্দে বর্ণনা (أخرج) করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন।" আর আহমদ, আবু দাউদ এবং তিরমিজি এটি নাসায়ির অনুরূপ শব্দে বর্ণনা (أخرج) করেছেন। তবে মাথার চুলের ক্ষেত্রে বিধান হলো, ইহরাম বাঁধার সময় তা থেকে কোনো অংশ কাটা পুরুষ বা নারী কারও জন্যই শরিয়তসম্মত নয়।

(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأما اللحية فيحرم حلقها أو أخذ شيء منها في جميع الأوقات بل يجب إعفاؤها وتوفيرها لما ثبت في الصحيحين عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خالفوا المشركين وفروا اللحى واحفوا الشوارب» وأخرج مسلم في صحيحه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «جزوا الشوارب وأرخوا اللحى خالفوا المجوس»

وقد عظمت المصيبة في هذا العصر بمخالفة كثير من الناس هذه السنة ومحاربتهم للحى ورضاهم بمشابهة الكفار والنساء ولا سيما من ينتسب إلى العلم والتعليم فإنا لله وإنا إليه راجعون، ونسأل الله أن يهدينا وسائر المسلمين لموافقة السنة والتمسك بها، والدعوة إليها، وإن رغب عنها الأكثرون، وحسبنا الله ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

ثم يلبس الذكر إزارا ورداء ويستحب أن
আর দাড়ির বিষয়টি হলো, সর্বাবস্থায় তা মুণ্ডন করা বা তা থেকে কোনো অংশ গ্রহণ করা হারাম; বরং তা ছেড়ে দেওয়া এবং বৃদ্ধি করা ওয়াজিব। যেহেতু দুই সহিহ গ্রন্থে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো, দাড়ি বৃদ্ধি করো এবং গোঁফ খাটো করো»। আর ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা গোঁফ কাটো এবং দাড়ি লম্বা করো, অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো»।

বর্তমান যুগে অনেক মানুষের এই সুন্নাহর বিরোধিতা করা, দাড়ির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং কাফের ও নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণে সন্তুষ্ট থাকার মাধ্যমে বিপদ অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে; বিশেষ করে যারা জ্ঞান ও শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত তাদের ক্ষেত্রে। সুতরাং আমরা আল্লাহর জন্যই এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এবং সকল মুসলিমকে সুন্নাহর অনুসারী হওয়ার, তা আঁকড়ে ধরার এবং এর দিকে দাওয়াত দেওয়ার তাওফিক দান করেন, যদিও অধিকাংশ মানুষ তা থেকে বিমুখ থাকে। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপায় বা শক্তি নেই।

এরপর পুরুষ ব্যক্তি লুঙ্গি ও চাদর পরিধান করবে এবং মুস্তাহাব হলো যে
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
يكونا أبيضين نظيفين، ويستحب أن يحرم في نعلين لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «وليحرم أحدكم في إزار ورداء ونعلين» أخرجه الإمام أحمد رحمه الله.

وأما المرأة فيجوز لها أن تحرم فيما شاءت من أسود أو أخضر أو غيرهما مع الحذر من التشبه بالرجال في لباسهم، لكن ليس لها أن تلبس النقاب والقفازين حال إحرامها، ولكن تغطي وجهها وكفيها بغير النقاب والقفازين؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم نهى المرأة المحرمة عن لبس النقاب والقفازين.

وأما تخصيص بعض العامة إحرام المرأة في الأخضر أو الأسود دون غيرهما فلا أصل له. ثم بعد الفراغ من الغسل والتنظيف ولبس ثياب الإحرام، ينوي بقلبه الدخول في النسك الذي يريده من حج أو عمرة، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى»
কাপড় দুটি যেন সাদা ও পরিচ্ছন্ন হয়। আর এক জোড়া জুতা পরিহিত অবস্থায় এহরাম বাঁধা মুস্তাহাব; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকে যেন একটি লুঙ্গি, একটি চাদর ও এক জোড়া জুতা পরিহিত অবস্থায় এহরাম বাঁধে।" ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

আর নারীর ক্ষেত্রে সে কালো, সবুজ বা অন্য যে কোনো রঙের পোশাক পরিধান করে এহরাম বাঁধতে পারে, তবে পোশাকের মাধ্যমে পুরুষদের সদৃশ হওয়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে এহরাম অবস্থায় তার জন্য নেকাব ও দস্তানা পরিধান করা বৈধ নয়। বরং সে নেকাব ও দস্তানা ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে তার মুখমণ্ডল ও উভয় হাত আবৃত রাখবে; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এহরাম গ্রহণকারী নারীকে নেকাব ও দস্তানা পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।

আর সাধারণ মানুষের মাঝে অন্য কোনো রঙ বাদ দিয়ে কেবল সবুজ বা কালো রঙকে নারীর এহরামের জন্য নির্দিষ্ট করার যে প্রথা রয়েছে, তা ভিত্তিহীন (لا أصل له)। অতঃপর গোসল, পরিচ্ছন্নতা অর্জন ও এহরামের কাপড় পরিধান সম্পন্ন করার পর, হজ্জ বা উমরাহর মধ্য থেকে সে যা পালন করতে চায়, অন্তরে সেই ইবাদতের নিয়ত করবে। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে।"
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
ويشرع له التلفظ بما نوى فإن كانت نيته العمرة قال: " لبيك عمرة " أو " اللهم لبيك عمرة ". وإن كانت نيته الحج قال: " لبيك حجا " أو " اللهم لبيك حجا ". لأن النبي صلى الله عليه وسلم فعل ذلك والأفضل أن يكون التلفظ بذلك بعد استوائه على مركوبه من دابة أو سيارة أو غيرهما، لأن النبي صلى الله عليه وسلم إنما أهل بعد ما استوى على راحلته وانبعثت به من الميقات للسير، هذا هو الأصح من أقوال أهل العلم.

ولا يشرع له التلفظ بما نوى إلا في الإحرام خاصة لوروده عن النبي صلى الله عليه وسلم.

وأما الصلاة والطواف وغيرهما فينبغي له ألا يتلفظ في شيء منها بالنية، فلا يقول: نويت أن أصلي كذا وكذا، ولا نويت أن أطوف كذا، بل التلفظ بذلك من البدع المحدثة والجهر بذلك أقبح وأشد إثما، ولو كان التلفظ بالنية
এবং তিনি যা নিয়ত করেছেন তা মুখে উচ্চারণ করা তাঁর জন্য বিধিবদ্ধ (مشروع)। যদি তাঁর নিয়ত উমরার হয়, তবে তিনি বলবেন: "লাব্বাইকা উমরাহ" অথবা "আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা উমরাহ"। আর যদি তাঁর নিয়ত হজের হয়, তবে তিনি বলবেন: "লাব্বাইকা হাজ্জান" অথবা "আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা হাজ্জান"। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। আর উত্তম হলো পশুর পিঠে, গাড়িতে বা অন্য কোনো যানবাহনে চড়ে সোজা হয়ে বসার পর তা উচ্চারণ করা। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সওয়ারিতে আরোহণ করার পর যখন সেটি মীকাত থেকে চলার জন্য যাত্রা শুরু করে, তখনই কেবল তিনি ইহরামের তালবিয়া পাঠ (أهل) করেছিলেন। আলেমদের মতামতের মধ্যে এটিই অধিকতর সঠিক (الأصح)।

আর ইহরাম ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা তাঁর জন্য বিধিবদ্ধ (مشروع) নয়; কেননা এটি কেবল ইহরামের ক্ষেত্রেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (ورود) হয়েছে।

আর সালাত, তাওয়াফ এবং অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর উচিত হবে এগুলোর কোনোটিতেই নিয়ত মুখে উচ্চারণ না করা। সুতরাং তিনি বলবেন না: 'আমি অমুক অমুক সালাত আদায়ের নিয়ত করছি' কিংবা 'আমি অমুক তাওয়াফের নিয়ত করছি'। বরং এটি মুখে উচ্চারণ করা নব-উদ্ভাবিত বিদআতসমূহের (البدع المحدثة) অন্তর্ভুক্ত এবং তা উচ্চৈঃস্বরে বলা আরও জঘন্য ও গোনাহের দিক থেকে অধিক গুরুতর। আর যদি নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা...
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২০)
مشروعا لبينه الرسول صلى الله عليه وسلم وأوضحه للأمة بفعله أو قوله، ولسبق إليه السلف الصالح.

فلما لم ينقل ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم ولا عن أصحابه رضي الله عنهم علم أنه بدعة. وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة» أخرجه مسلم في صحيحه. وقال عليه الصلاة والسلام «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» متفق على صحته، وفي لفظ لمسلم «من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد»

 

‌‌[فصل في المواقيت المكانية وتحديدها]

فصل

في المواقيت المكانية وتحديدها المواقيت خمسة: (الأول) : ذو الحليفة وهو ميقات أهل المدينة وهو المسمى عند الناس اليوم أبيار علي.

(الثاني) : الجحفة وهي ميقات أهل الشام وهي قرية خراب تلي رابغ، والناس اليوم يحرمون
এটি যদি শরীয়তসম্মত হতো, তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা বর্ণনা করতেন এবং তাঁর কর্ম বা বাণীর মাধ্যমে উম্মতের নিকট তা স্পষ্ট করে দিতেন, আর নেককার পূর্বসূরিগণ (السلف الصالح) এতে অগ্রণী হতেন।

যেহেতু এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিংবা তাঁর সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়নি, তাই প্রমাণিত হয় যে এটি একটি নবউদ্ভাবন (بدعة)। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হলো নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (محدثات) এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবনই (بدعة) পথভ্রষ্টতা» এটি মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের ব্যাপারে এমন কোনো নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটাবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত (رد)» এর বিশুদ্ধতা (صحة) বিষয়ে সকলে একমত হয়েছেন। আর মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে: «যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করবে যা আমাদের নির্দেশ বহির্ভূত, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)»

 

‌‌[স্থানভিত্তিক মীকাতসমূহ এবং সেগুলোর সীমানা নির্ধারণ বিষয়ক পরিচ্ছেদ]

পরিচ্ছেদ

স্থানভিত্তিক মীকাতসমূহ এবং সেগুলোর সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে। মীকাত পাঁচটি: (প্রথমটি): যুল-হুলাইফাহ, এটি মদিনাবাসীদের মীকাত। বর্তমানে মানুষের কাছে এটি ‘আবইয়ারে আলী’ নামে পরিচিত।

(দ্বিতীয়টি): আল-জুহফাহ, এটি সিরিয়াবাসীদের মীকাত। এটি রাবিগের পার্শ্ববর্তী একটি জনশূন্য গ্রাম। বর্তমানে মানুষ ইহরাম পরিধান করে
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২১)
من رابغ، ومن أحرم من رابغ فقد أحرم من الميقات، لأن رابغ قبلها بيسير.

(الثالث) : قرن المنازل وهو ميقات أهل نجد وهو المسمى اليوم السيل.

(الرابع) : يلملم وهو ميقات أهل اليمن.

(الخامس) : ذات عرق وهي ميقات أهل العراق.

وهذه المواقيت قد وقتها النبي صلى الله عليه وسلم لمن ذكرنا ومن مر عليها من غيرهم ممن أراد الحج أو العمرة. والواجب على من مر عليها أن يحرم منها. ويحرم عليه أن يتجاوزها بدون إحرام إذا كان قاصدا مكة يريد حجا أو عمرة سواء كان مروره عليها من طريق الأرض أو من طريق الجو لعموم قول النبي صلى الله عليه وسلم لما وقت هذه المواقيت: «هن لهن ولمن أتى عليهن من غير أهلهن ممن أراد الحج والعمرة»

والمشروع لمن توجه إلى مكة من طريق الجو بقصد الحج أو العمرة أن يتأهب لذلك
রাবেগ থেকে; আর যে ব্যক্তি রাবেগ থেকে ইহরাম বাঁধল, সে মূলত মিকাত (ميقات) থেকেই ইহরাম বাঁধল, কারণ রাবেগ তার সামান্য পূর্বেই অবস্থিত।

(তৃতীয়): কারনুল মানাজিল; এটি নজদবাসীদের মিকাত (ميقات), যা বর্তমানে 'আস-সায়ল' নামে পরিচিত।

(চতুর্থ): ইয়ালামলাম; এটি ইয়েমেনবাসীদের মিকাত (ميقات)।

(পঞ্চম): জাতে ইর্ক; এটি ইরাকবাসীদের মিকাত (ميقات)।

আর এই মিকাতসমূহ (مواقيت) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন যাদের কথা আমরা উল্লেখ করেছি এবং তাদের ব্যতীত অন্য যারা হজ বা উমরার উদ্দেশ্যে এগুলোর ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে তাদের জন্যও। আর যে ব্যক্তি এগুলোর ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে, তার জন্য এখান থেকেই ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব (واجب)। আর তার জন্য ইহরাম ব্যতীত এগুলো অতিক্রম করা হারাম (حرام), যখন সে হজ বা উমরার সংকল্প নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে; চাই তার অতিক্রম স্থলপথে হোক কিংবা আকাশপথে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এই মিকাতসমূহ (مواقيت) নির্ধারণ করেছিলেন, তখন তাঁর সাধারণ বাণী ছিল: «এই মিকাতগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিবাসীদের জন্য এবং যারা ওই এলাকার অধিবাসী নয় অথচ হজ ও উমরার উদ্দেশ্যে এগুলোর ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে তাদের সবার জন্য।»

আর আকাশপথে হজ বা উমরার উদ্দেশ্যে মক্কাভিমুখে যাত্রাকারীদের জন্য শরিয়তসম্মত (مشروع) পদ্ধতি হলো এর জন্য পূর্বেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২২)
بالغسل ونحوه قبل الركوب في الطائرة، فإذا دنا من الميقات لبس إزاره ورداءه ثم لبى بالعمرة إن كان الوقت متسعا، وإن كان الوقت ضيقا لبى بالحج وإن لبس إزاره ورداءه قبل الركوب أو قبل الدنو من الميقات، فلا بأس، ولكن لا ينوي الدخول في النسك ولا يلبي بذلك إلا إذا حاذى الميقات أو دنا منه لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يحرم إلا من الميقات، والواجب على الأمة التأسي به صلى الله عليه وسلم في ذلك كغيره من شئون الدين لقول الله سبحانه {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} [الأحزاب: 21] ولقول النبي صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع: «خذوا عني مناسككم»

وأما من توجه إلى مكة ولم يرد حجا ولا عمرة كالتاجر والحطاب والبريد ونحو ذلك فليس عليه إحرام إلا أن يرغب في ذلك لقول النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث المتقدم لما ذكر المواقيت: «هن لهن ولمن أتى عليهن من غير أهلهن ممن
বিমানে আরোহণের পূর্বে গোসল (غسل) ও অনুরূপ পবিত্রতা অর্জন করা বিধেয়। যখন মিকাত (ميقات)-এর নিকটবর্তী হবে, তখন ইজার (إزار) ও রিদা (رداء) পরিধান করবে; এরপর সময় পর্যাপ্ত থাকলে উমরাহ (عمرة)-এর তালবিয়াহ (تلبية) পাঠ করবে, আর সময় সংকীর্ণ হলে হজের তালবিয়াহ (تلبية) পাঠ করবে। বিমানে আরোহণের পূর্বে অথবা মিকাত (ميقات)-এর নিকটবর্তী হওয়ার আগেই ইজার (إزار) ও রিদা (رداء) পরিধান করে নিলে কোনো সমস্যা নেই; তবে মিকাত (ميقات)-এর সমান্তরালে পৌঁছানোর আগে বা এর নিকটবর্তী হওয়ার আগে ইবাদতে (نسك) প্রবেশের নিয়ত করবে না এবং তালবিয়াহ (تلبية) পাঠ করবে না। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিকাত (ميقات) ব্যতীত অন্য কোনো স্থান থেকে ইহরাম (إحرام) গ্রহণ করেননি। আর দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ের মতো এক্ষেত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করা উম্মতের জন্য আবশ্যক (واجب)। কারণ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ} [আল-আহযাব: ২১]। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে বলেছেন: «তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের বিধিবিধান (مناسك) গ্রহণ করো।»

আর যে ব্যক্তি হজ বা উমরাহ (عمرة)-এর ইচ্ছা ছাড়া মক্কার দিকে সফর করে, যেমন ব্যবসায়ী, কাঠুরিয়া, বার্তাবাহক বা অনুরূপ ব্যক্তি—তার ওপর ইহরাম (إحرام) গ্রহণ করা আবশ্যক নয়, যদি না সে নিজে থেকে তা করতে আগ্রহী হয়। কারণ মিকাত (ميقات) সংক্রান্ত পূর্বোক্ত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মিকাতগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন তখন বলেছেন: «এই মিকাতগুলো ঐসব এলাকার অধিবাসীদের জন্য এবং যারা ঐ পথ দিয়ে অন্য এলাকা থেকে আসবে তাদের জন্য, যারা...»
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
أراد الحج والعمرة» فمفهومه أن من مر على المواقيت ولم يرد حجا ولا عمرة فلا إحرام عليه. وهذا من رحمة الله بعباده وتسهيله عليهم فله الحمد والشكر على ذلك، ويؤيد ذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم لما أتى مكة عام الفتح لم يحرم بل دخلها وعلى رأسه المغفر لكونه لم يرد حينذاك حجا ولا عمرة وإنما أراد افتتاحها وإزالة ما فيها من الشرك.

وأما من كان مسكنه دون المواقيت كسكان جدة وأم السلم وبحرة والشرائع وبدر ومستورة وأشباهها فليس عليه أن يذهب إلى شيء من المواقيت الخمسة المتقدمة بل مسكنه هو ميقاته فيحرم منه بما أراد من حج أو عمرة، وإذا كان له مسكن آخر خارج الميقات فهو بالخيار إن شاء أحرم من الميقات وإن شاء أحرم من مسكنه الذي هو أقرب من الميقات إلى مكة لعموم قول النبي صلى الله عليه وسلم في حديث ابن عباس لما
"হজ ও উমরার ইচ্ছা পোষণ করে"—এর মর্মার্থ হলো যে ব্যক্তি মিকাতসমূহ (المواقيت) অতিক্রম করল অথচ হজ বা উমরার ইচ্ছা পোষণ করল না, তার ওপর কোনো ইহরাম (إحরাম) নেই। এটি বান্দাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত এবং সহজীকরণ, সুতরাং এর জন্য তাঁরই প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। এর সমর্থন পাওয়া যায় এতে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় আগমন করেন, তখন তিনি ইহরাম (إحরাম) করেননি, বরং তাঁর মাথায় ছিল লৌহশিরস্ত্রাণ; কারণ তখন তিনি হজ বা উমরার ইচ্ছা করেননি, বরং চেয়েছিলেন মক্কা বিজয় করতে এবং সেখান থেকে শিরকের চিহ্ন মুছে ফেলতে।

আর যার বাসস্থান মিকাতসমূহের (المواقيت) অভ্যন্তরে, যেমন—জেদ্দা, উম্মুস সালাম, বাহরা, আশ-শারাই‘, বদর, মাস্তুরা ও এই জাতীয় এলাকার অধিবাসী; তাদের জন্য ইতিপূর্বে বর্ণিত পাঁচটি মিকাতের (المواقيت) কোনোটিতে যাওয়া আবশ্যক নয়। বরং তার বাসস্থানই তার মিকাত (ميقات), সেখান থেকেই সে হজ বা উমরার ইহরাম (إحরাম) করবে। আর যদি কারো মিকাতের (الميقات) বাইরেও অন্য কোনো বাসস্থান থাকে, তবে সে ইচ্ছাধিকারের (بالخيار) অধিকারী; সে চাইলে মিকাত (الميقات) থেকে ইহরাম (إحরাম) করতে পারে, আবার চাইলে মিকাতের তুলনায় মক্কার নিকটবর্তী তার সেই বাসস্থান থেকেও ইহরাম (إحরাম) করতে পারে। এটি ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর ব্যাপকতা (عموم) থেকে প্রমাণিত, যখন—
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
ذكر المواقيت قال: «ومن كان دون ذلك فمهله (1) من أهله حتى أهل مكة يهلون من مكة» أخرجه البخاري ومسلم.

لكن من أراد العمرة وهو في الحرم فعليه أنه يخرج إلى الحل ويحرم بالعمرة منه لأن النبي صلى الله عليه وسلم لما طلبت منه عائشة العمرة أمر أخاها عبد الرحمن أن يخرج بها إلى الحل فتحرم منه فدل ذلك على أن المعتمر لا يحرم بالعمرة من الحرم وإنما يحرم بها من الحل وهذا الحديث يخص حديث ابن عباس المتقدم ويدل على أن مراد النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: «حتى أهل مكة يهلون من مكة» هو الإهلال بالحج لا العمرة إذ لو كان الإهلال بالعمرة جائزا من الحرم لأذن لعائشة رضي الله عنها في ذلك ولم يكلفها بالخروج إلى الحل وهذا أمر واضح وهو قول جمهور

--------------------------------------------

(1) فمهله: أي: إهلاله بالتلبية من مكان إحرامه.
মীকাতে (المواقيت) বর্ণনায় তিনি বলেছেন: «আর যারা এর ভেতরের সীমানায় রয়েছে, তাদের ইহরাম শুরুর স্থান (مهله) তাদের নিজ আবাসস্থল থেকে, এমনকি মক্কাবাসীরা মক্কা থেকেই ইহরামের ঘোষণা (يهلون) দেবে।» এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

কিন্তু যে ব্যক্তি হারামের (الحرم) সীমানার ভেতর থাকা অবস্থায় উমরার ইচ্ছা পোষণ করে, তাকে অবশ্যই হিল বা হারামের বাইরের এলাকায় (الحل) বের হতে হবে এবং সেখান থেকে উমরার ইহরাম (يحرم) বাঁধতে হবে। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট আয়েশা (রা.) যখন উমরার আবেদন করলেন, তখন তিনি তার ভাই আবদুর রহমানকে তাকে নিয়ে হিল (الحل) এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিলেন যেন তিনি সেখান থেকে ইহরাম বাঁধতে পারেন। এটি প্রমাণ করে যে, উমরাহকারী হারাম (الحرم) থেকে উমরার ইহরাম বাঁধবেন না, বরং হিল (الحل) থেকেই উমরার ইহরাম বাঁধবেন। এই হাদিসটি ইবনে আব্বাসের পূর্বোক্ত হাদিসটিকে নির্দিষ্টকারী (يخص) হিসেবে গণ্য হয় এবং এটি নির্দেশ করে যে, নবিজি (সা.)-এর বাণী: «এমনকি মক্কাবাসীরা মক্কা থেকেই ইহরামের ঘোষণা (يهلون) দেবে»—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হজের ইহরাম (الإهلال بالحج), উমরা নয়। কেননা যদি হারাম (الحرم) থেকে উমরার ইহরাম বাঁধা বৈধ (جائز) হতো, তবে তিনি আয়েশা (রা.)-কে সেটির অনুমতি দিতেন এবং তাকে হিল (الحل) এলাকায় যাওয়ার কষ্ট দিতেন না। এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয় এবং এটি অধিকাংশ আলিমের (جمهور) অভিমত।

--------------------------------------------

(১) তার ইহরাম শুরুর স্থান (مهله): অর্থাৎ তার ইহরামের জায়গা থেকে তালবিয়া পাঠের মাধ্যমে ইহরাম শুরু করা।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
العلماء رحمة الله عليهم وهو أحوط للمؤمن لأن فيه العمل بالحديثين جميعا والله الموفق.

وأما ما يفعله بعض الناس من الإكثار من العمرة بعد الحج من التنعيم أو الجعرانة أو غيرهما وقد سبق أن اعتمر قبل الحج فلا دليل على شرعيته بل الأدلة تدل على أن الأفضل تركه لأن النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم لم يعتمروا بعد فراغهم من الحج وإنما اعتمرت عائشة من التنعيم لكونها لم تعتمر مع الناس حين دخول مكة بسبب الحيض فطلبت من النبي صلى الله عليه وسلم أن تعتمر بدلا من عمرتها التي أحرمت بها من الميقات فأجابها النبي صلى الله عليه وسلم إلى ذلك وقد حصلت لها العمرتان، العمرة التي مع حجها وهذه العمرة المفردة، فمن كان مثل عائشة فلا بأس أن يعتمر بعد فراغه من الحج عملا بالأدلة كلها وتوسيعا على المسلمين ولا شك أن اشتغال الحجاج بعمرة أخرى بعد
আলেমগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন), এটি মুমিনের জন্য অধিকতর সতর্কতামূলক; কেননা এতে উভয় হাদিসের ওপর আমল করা হয়। আল্লাহই তাওফিকদাতা।

আর হজের পর তানয়ীম, জিরানা বা অন্য কোনো স্থান থেকে বারবার ওমরাহ করার যে আমল কিছু মানুষ করে থাকে—অথচ তারা হজের আগেই ওমরাহ সম্পন্ন করেছে—এর শরয়ি বৈধতার কোনো দলিল নেই। বরং দলিলসমূহ প্রমাণ করে যে, এটি বর্জন করাই উত্তম। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) হজের কাজ সমাপ্ত করার পর পুনরায় ওমরাহ করেননি। তবে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তানয়ীম থেকে ওমরাহ করেছিলেন এই কারণে যে, ঋতুস্রাবের দরুন মক্কায় প্রবেশের সময় তিনি লোকজনের সাথে ওমরাহ করতে পারেননি। তাই তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আবেদন করেছিলেন যেন তিনি সেই ওমরাহর পরিবর্তে ওমরাহ করতে পারেন যেটির ইহরাম তিনি মিকাত থেকে বেঁধেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। এর ফলে তিনি দুটি ওমরাহ করার সৌভাগ্য লাভ করেন: একটি তাঁর হজের সাথে সংশ্লিষ্ট ওমরাহ এবং অপরটি এই একক ওমরাহ। সুতরাং যার অবস্থা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর মতো হবে, সকল দলিলের ওপর আমল করার নিমিত্তে এবং মুসলিমদের জন্য সুযোগের প্রশস্ততা বজায় রাখার স্বার্থে হজের পর তার ওমরাহ পালন করাতে কোনো দোষ নেই। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হাজীদের হজের পরে পুনরায় অন্য ওমরাহ পালনে মগ্ন হওয়া...
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
فراغهم من الحج سوى العمرة التي دخلوا بها مكة يشق على الجميع ويسبب كثرة الزحام والحوادث مع ما فيه من المخالفة لهدي النبي صلى الله عليه وسلم وسنته والله الموفق.

 

‌‌[فصل في حكم من وصل إلى الميقات في غير أشهر الحج]

فصل

في حكم من وصل إلى

الميقات في غير أشهر الحج اعلم أن الواصل إلى الميقات له حالان: إحداهما: أن يصل إليه في غير أشهر الحج كرمضان وشعبان فالسنة في حق هذا أن يحرم بالعمرة فينويها بقلبه ويتلفظ بلسانه قائلا: " لبيك عمرة " أو " اللهم لبيك عمرة " ثم يلبي بتلبية النبي صلى الله عليه وسلم وهي: «لبيك اللهم لبيك لبيك لا شريك لك لبيك إن الحمد والنعمة لك والملك لا شريك لك» ويكثر من هذه التلبية ومن ذكر الله سبحانه حتى يصل
হজ্জ সম্পন্ন করার পর মক্কায় প্রবেশের জন্য পালন করা ওমরাহ ব্যতীত অন্য ওমরাহ করা সবার জন্য কষ্টসাধ্য এবং তা অধিক ভিড় ও দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়; তদুপরি এতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ ও তাঁর সুন্নাহর বিরোধিতা রয়েছে। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।

 

‌‌[হজ্জের মাসসমূহ ব্যতীত অন্য সময়ে মীকাত পর্যন্ত পৌঁছানো ব্যক্তির বিধান বিষয়ক পরিচ্ছেদ]

পরিচ্ছেদ

হজ্জের মাসসমূহ ব্যতীত অন্য সময়ে মীকাত পর্যন্ত

পৌঁছানো ব্যক্তির বিধান প্রসঙ্গে। জেনে রাখুন যে, মীকাত পর্যন্ত পৌঁছানো ব্যক্তির জন্য দুটি অবস্থা রয়েছে: প্রথমটি হলো: হজ্জের মাসসমূহ ব্যতীত অন্য সময়ে যেমন রমজান বা শাবান মাসে সেখানে পৌঁছানো। এমতাবস্থায় তার জন্য সুন্নাহ হলো ওমরাহর ইহরাম গ্রহণ করা। তিনি অন্তরে ওমরাহর নিয়ত করবেন এবং মুখে উচ্চারণ করে বলবেন: "লাব্বাইকা ওমরাহ" অথবা "আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা ওমরাহ"। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তালবিয়া পাঠ করবেন, যা হলো: "লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক"। মক্কায় পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি এই তালবিয়া এবং মহান আল্লাহর জিকির অধিক পরিমাণে পাঠ করবেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
إلى البيت فإذا وصل إلى البيت قطع التلبية وطاف بالبيت سبعة أشواط وصلى خلف المقام ركعتين ثم خرج إلى الصفا وطاف بين الصفا والمروة سبعة أشواط ثم حلق شعر رأسه أو قصره وبذلك تمت عمرته وحل له كل شيء حرم عليه بالإحرام.

الثانية: أن يصل إلى الميقات في أشهر الحج وهي شوال وذو القعدة والعشر الأول من ذي الحجة.

فمثل هذا يخير بين ثلاثة أشياء، وهي: الحج وحده والعمرة وحدها والجمع بينهما لأن النبي صلى الله عليه وسلم لما وصل إلى الميقات في ذي القعدة في حجة الوداع خير أصحابه بين هذه الأنساك الثلاثة، لكن السنة في حق هذا أيضا إذا لم يكن معه هدي أن يحرم بالعمرة ويفعل ما ذكرناه في حق من وصل إلى الميقات في غير أشهر الحج؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر أصحابه لما قربوا
বাইতুল্লাহর দিকে। যখন সে বাইতুল্লাহতে পৌঁছাবে, তখন তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে এবং সাতবার বাইতুল্লাহ তওয়াফ করবে এবং মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে। অতঃপর সে সাফার দিকে বের হবে এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সায়ি করবে। এরপর সে তার মাথার চুল মুণ্ডন করবে অথবা ছোট করবে; এর মাধ্যমেই তার উমরাহ সম্পন্ন হবে এবং ইহরামের কারণে তার ওপর যা কিছু নিষিদ্ধ হয়েছিল তা তার জন্য হালাল হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় অবস্থা: হজের মাসসমূহে মিকাতে পৌঁছানো; আর তা হলো শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন।

এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের মধ্য থেকে যেকোনোটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার থাকে, আর সেগুলো হলো: কেবল হজ, কেবল উমরাহ অথবা উভয়টির মধ্যে সমন্বয় করা (কিরান)। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বিদায় হজের সময় জিলকদ মাসে মিকাতে পৌঁছেছিলেন, তখন তিনি তাঁর সাহাবীগণকে এই তিন প্রকার মানাসিক বা ইবাদতের মধ্যে যেকোনোটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও সুন্নাহ (السنة) হলো—যদি তার সাথে হাদি (কুরবানির পশু) না থাকে—উমরাহর ইহরাম বাঁধা এবং সেই কাজগুলোই করা যা আমরা হজের মাস বহির্ভূত সময়ে মিকাতে পৌঁছানো ব্যক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মক্কার নিকটবর্তী হলেন তখন তিনি তাঁর সাহাবীগণকে নির্দেশ দিয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
من مكة أن يجعلوا إحرامهم عمرة، وأكد عليهم في ذلك بمكة فطافوا وسعوا وقصروا وحلوا امتثالا لأمره صلى الله عليه وسلم إلا من كان معه الهدي، فإن النبي صلى الله عليه وسلم أمره أن يبقى على إحرامه حتى يحل يوم النحر والسنة في حق من ساق الهدي أن يحرم بالحج والعمرة جميعا، لأن النبي صلى الله عليه وسلم قد فعل ذلك، وكان قد ساق الهدي وأمر من ساق الهدي من أصحابه وقد أهل بعمرة أن يلبي بحج مع عمرته وألا يحل حتى يحل منهما جميعا يوم النحر وإن كان الذي ساق الهدي قد أحرم بالحج وحده بقي على إحرامه أيضا حتى يحل يوم النحر كالقارن بينهما.

وعلم بهذا: أن من أحرم بالحج وحده أو بالحج والعمرة وليس معه هدي لا ينبغي له أن يبقى على إحرامه بل السنة في حقه أن يجعل إحرامه عمرة فيطوف ويسعى ويقصر ويحل كما أمر النبي صلى الله عليه وسلم من لم يسق الهدي من أصحابه
মক্কায় পৌঁছানোর পর নবী ﷺ সাহাবীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন তারা যেন তাদের ইহরাম (إحرام)-কে উমরাহ (عمرة)-তে রূপান্তর করে। তিনি মক্কায় থাকাকালীন এ বিষয়ে তাদের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। ফলে তারা তাঁর ﷺ নির্দেশের আনুগত্যস্বরূপ তাওয়াফ (طواف), সাঈ (سعي) ও চুল ছোট (تقصير) করার মাধ্যমে ইহরাম থেকে হালাল (تحلل) হয়ে যান; তবে তারা ব্যতীত যাদের সাথে কোরবানির পশু (هدي) ছিল। কারণ নবী ﷺ তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন সে কোরবানির দিন (يوم النحر) হালাল (تحلل) হওয়ার আগ পর্যন্ত তার ইহরাম (إحরাম) অবস্থায় বহাল থাকে। আর যে ব্যক্তি কোরবানির পশু (هدي) সাথে এনেছে, তার ক্ষেত্রে সুন্নাহ (سنة) হলো হজ (حج) ও উমরাহ (عمرة) উভয়টির জন্য একত্রে ইহরাম (إحরাম) গ্রহণ করা; কেননা নবী ﷺ স্বয়ং তা-ই করেছিলেন। তিনি সাথে কোরবানির পশু (هدي) এনেছিলেন। আর তাঁর সাহাবীদের মধ্যে যারা সাথে কোরবানির পশু (هدي) এনেছিলেন এবং উমরাহর জন্য ইহরামের নিয়ত (إهلال) করেছিলেন, তাদেরকে তিনি উমরাহর সাথে হজের তালবিয়া (تلبية) পাঠ করার নির্দেশ দেন এবং কোরবানির দিন (يوم النحر) উভয়টি থেকে একত্রে হালাল (تحلل) হওয়ার আগে ইহরাম ত্যাগ না করার আদেশ দেন। যদি কোরবানির পশু (هدي) সাথে আনয়নকারী ব্যক্তি কেবল হজের ইহরাম (إحরাম) বেঁধে থাকে, তবে সেও কোরবানির দিন (يوم النحر) হালাল (تحلل) হওয়া পর্যন্ত স্বীয় ইহরাম অবস্থায় বহাল থাকবে, যেমনটি কিরান (قران) পালনকারী (قارن) করে থাকে।

এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে: যে ব্যক্তি কেবল হজের ইহরাম (إحرام) বেঁধেছে অথবা হজ ও উমরাহর একত্রে ইহরাম (إحরাম) বেঁধেছে কিন্তু তার সাথে কোরবানির পশু (هدي) নেই, তার জন্য ইহরাম অবস্থায় বাকি থাকা সংগত নয়। বরং তার ক্ষেত্রে সুন্নাহ (سنة) হলো স্বীয় ইহরামকে উমরাহ (عمرة)-তে রূপান্তর করা; অতঃপর তাওয়াফ (طواف), সাঈ (سعي) ও চুল ছোট (تقصير) করার মাধ্যমে হালাল (تحلل) হওয়া, যেমনটি নবী ﷺ তাঁর সেই সকল সাহাবীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যারা সাথে কোরবানির পশু (هدي) আনেননি।
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
بذلك، إلا أن يخشى هذا فوات الحج لكونه قدم متأخرا فلا بأس أن يبقى على إحرامه والله أعلم.

وإن خاف المحرم ألا يتمكن من أداء نسكه لكونه مريضا أو خائفا من عدو ونحوه استحب له أن يقول عند إحرامه " فإن حبسني حابس فمحلي حيث حبستني " لحديث ضباعة بنت الزبير أنها قالت: «يا رسول الله إني أريد الحج وأنا شاكية فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم حجي واشترطي إن محلي حيث حبستني» متفق عليه.

وفائدة هذا الشرط أن المحرم إذا عرض له ما يمنعه من تمام نسكه من مرض أو صد عدو جاز له التحلل ولا شيء عليه.

 

‌‌[فصل في حكم حج الصبي الصغير هل يجزئه عن حجة الإسلام]

فصل

في حكم حج الصبي الصغير

هل يجزئه عن حجة الإسلام؟ يصح حج الصبي الصغير والجارية الصغيرة لما في صحيح مسلم عن ابن عباس رضي الله
এর মাধ্যমে; তবে যদি কেউ হজ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করে কারণ সে দেরিতে পৌঁছেছে, তবে তার ইহরাম অবস্থায় থাকাতে কোনো অসুবিধা নেই। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

আর যদি ইহরামকারী ব্যক্তি আশঙ্কা করে যে সে অসুস্থতা বা শত্রুর ভয় অথবা এই জাতীয় কোনো কারণে তার হজের কার্যাদি সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে না, তবে ইহরামের সময় তার জন্য এটি বলা মুস্তাহাব যে, "যদি কোনো বাধাদানকারী আমাকে বাধা প্রদান করে, তবে যেখানে আপনি আমাকে আটকে দেবেন সেখানেই আমার ইহরাম ত্যাগের স্থান হবে।" এটি দুবাআ বিনতে যুবাইর (রাযি.)-এর হাদিসের কারণে, যেখানে তিনি বলেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমি হজ করতে চাই, অথচ আমি অসুস্থ।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: "তুমি হজ করো এবং শর্তারোপ করো যে—নিশ্চয়ই আমার ইহরাম ত্যাগের স্থান সেখানেই যেখানে আপনি আমাকে আটকে দেবেন।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।

এই শর্তের উপকারিতা হলো, ইহরামকারী যদি এমন কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় যা তাকে অসুস্থতা বা শত্রুর বাধার কারণে হজের কার্যাদি পূর্ণ করতে বাধা দেয়, তবে তার জন্য ইহরাম ত্যাগ করা বৈধ এবং তার ওপর কোনো দণ্ড বা ফিদইয়া আবশ্যক হবে না।

 

‌‌[পরিচ্ছেদ: অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর হজের বিধান এবং তা ফরয হজ হিসেবে যথেষ্ট হবে কি না]

পরিচ্ছেদ

অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর হজের বিধান প্রসঙ্গে

তা কি ফরয হজ হিসেবে যথেষ্ট হবে? অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক ও বালিকার হজ সহিহ (صحيح) হবে; কারণ সহিহ মুসলিম-এ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আত-তাহকীক ওয়াল ইদাহ লি কাসীরিম মিন মাসায়িলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়ায যিয়ারাতি আলা দাউয়িল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
عنهما «أن امرأة رفعت إلى النبي صلى الله عليه وسلم صبيا فقالت يا رسول الله ألهذا حج؟ فقال نعم ولك أجر» .

وفي صحيح البخاري «عن السائب بن يزيد قال حج بي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا ابن سبع سنين»

لكن لا يجزئهما هذا الحج عن حجة الإسلام.

وهكذا العبد المملوك والجارية المملوكة يصح منهما الحج ولا يجزئهما عن حجة الإسلام لما ثبت من حديث ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أيما صبي حج ثم بلغ الحنث فعليه أن يحج حجة أخرى وأيما عبد حج ثم أعتق فعليه حجة أخرى» أخرجه ابن أبي شيبة والبيهقي بإسناد حسن.

ثم إن كان الصبي دون التمييز نوى عنه الإحرام وليه فيجرده من المخيط ويلبي عنه، ويصير الصبي محرما بذلك فيمنع ما يمنع عنه المحرم الكبير، وهكذا الجارية التي دون التمييز ينوي عنها الإحرام وليها ويلبي عنها
তাঁদের উভয় থেকে বর্ণিত যে, «এক মহিলা নবী (সা.)-এর নিকট একটি শিশুকে উঠিয়ে ধরলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! এর জন্যও কি হজ্জ রয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আর তোমার জন্য রয়েছে এর সওয়াব।» .

আর সহীহ বুখারীতে «আস-সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে হজ্জ করানো হয়েছিল যখন আমি সাত বছরের বালক ছিলাম»

কিন্তু এই হজ্জ তাদের পক্ষ থেকে হজ্জাতুল ইসলাম (ফরয হজ্জ) হিসেবে যথেষ্ট হবে না।

অনুরূপভাবে ক্রীতদাস ও দাসীর পক্ষ থেকে হজ্জ সহীহ (صحيح) হবে কিন্তু তা তাদের হজ্জাতুল ইসলামের জন্য যথেষ্ট হবে না। কেননা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: «যে শিশু হজ্জ করল তারপর সে সাবালকত্ব লাভ করল, তার ওপর পুনরায় হজ্জ করা আবশ্যক; আর যে দাস হজ্জ করল তারপর সে মুক্তি পেল, তার ওপর পুনরায় হজ্জ করা আবশ্যক।» এটি ইবনে আবি শায়বা ও বায়হাকী হাসান (حسن) সনদ (إسناد) সহকারে বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর শিশুটি যদি ভালো-মন্দের পার্থক্য করার বয়সের (তাময়িয) নিচে হয়, তবে তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক ইহরামের নিয়ত করবেন। তিনি তাকে সেলাই করা পোশাক থেকে মুক্ত করবেন এবং তার পক্ষ থেকে তালবিয়া পাঠ করবেন। এর মাধ্যমে শিশুটি ইহরামকারী হয়ে যাবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক ইহরামকারীর জন্য যা যা নিষিদ্ধ, তার জন্যেও তা নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। একইভাবে যে বালিকা ভালো-মন্দের পার্থক্য করার বয়সের নিচে, তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক ইহরামের নিয়ত করবেন এবং তার পক্ষ থেকে তালবিয়া পাঠ করবেন।