(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
منزلة الصلاة في الإسلام القسم: مسائل فقهية
الكتاب: منزلة الصلاة في الإسلام - المفهوم، والحكم، والمنزلة، والخصائص، وحكم الترك، والفضائل في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 34
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
ইসলামে সালাতের মর্যাদা বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: ইসলামে সালাতের মর্যাদা - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ধারণা، বিধান، মর্যাদা، বৈশিষ্ট্যসমূহ، ত্যাগের বিধান এবং ফযিলতসমূহ
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
প্রকাশক: সাফির প্রেস، রিয়াদ
পরিবেশনায়: আল-জুরায়সি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং، রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ জিলকদ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
20
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
_
منزلة الصلاة في الإسلام
المفهوم، والحكم، والمنزلة، والخصائص، وحكم الترك، والفضائل
في ضوء الكتاب والسنة
20
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহনতানির রচনাবলি
_
ইসলামে সালাতের মর্যাদা
ধারণা (المفهوم), বিধান (الحكم), মর্যাদা (المنزلة), বৈশিষ্ট্যসমূহ (الخصائص), ত্যাগের বিধান (حكم الترك) এবং ফজিলতসমূহ (الفضائل)
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسانٍ إلى يوم الدين، وسلم تسليمًا كثيرًا، أما بعد:
فهذه رسالة مختصرة في: ((منزلة الصلاة في الإسلام))، بيّنت فيها بإيجاز مفهوم الصلاة، وحكمها، ومنزلتها، وخصائصها، وحكم تاركها، وفضلها، بالأدلة من الكتاب والسنة.
وقد استفدت كثيرًا من تقريرات وترجيحات سماحة شيخنا الإمام العلامة عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رفع الله درجاته في الفردوس الأعلى.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি "ইসলামে সালাতের মর্যাদা" বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা; এতে আমি কুরআন ও সুন্নাহ (سنة)-এর দলিলের (أدلة) ভিত্তিতে সালাতের সংজ্ঞা, বিধান, মর্যাদা, বৈশিষ্ট্য, সালাত পরিত্যাগকারীর বিধান এবং এর ফযিলত সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি।
আমি আমাদের শায়খ, মহামান্য ইমাম, আল্লামা আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায-এর সিদ্ধান্তসমূহ (تقريرات) এবং অগ্রাধিকারকৃত অভিমতসমূহ (ترجيحات) থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি; আল্লাহ জান্নাতুল ফিরদাউসে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন।
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
والله أسأل أن يجعل هذا العمل القليل مباركًا، وخالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه سبحانه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله، وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
حرر في ضحى يوم الجمعة الموافق 18/ 8/1420هـ
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই নগণ্য কাজটিকে বরকতময় এবং একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। তিনি যেন এর দ্বারা আমার ইহজীবনে ও পরজীবনে আমাকে উপকৃত করেন এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও এর মাধ্যমে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র ও সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা এবং মহান আশার স্থল; তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
লেখক
১৮/০৮/১৪২০ হিজরি মোতাবেক শুক্রবার পূর্বাহ্ণে লিখিত।
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الأول: مفهوم الصلاة
الصلاة لغة: الدعاء، قال الله تعالى: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} (1). أي ادع لهم، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إذا دعي أحدكم فليجب، فإن كان صائمًا فليصلِّ، وإن كان مفطرًا فليطعم)) (2). أي فليدع بالبركة والخير والمغفرة (3).
والصلاة من الله حسن الثناء، ومن الملائكة الدعاء، قال الله تعالى: {إِنَّ اللهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সালাতের ধারণাআভিধানিক অর্থে সালাত: দোয়া (প্রার্থনা), মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন। আর আপনি তাদের জন্য দোয়া করুন। নিশ্চয় আপনার দোয়া তাদের জন্য প্রশান্তিদায়ক। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} (১)। অর্থাৎ তাদের জন্য দোয়া করুন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমাদের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়, তবে সে যেন তা কবুল করে। যদি সে রোজা রাখা অবস্থায় থাকে, তবে সে যেন দোয়া করে; আর যদি রোজা না থাকে, তবে সে যেন আহার করে।" (২)। অর্থাৎ সে যেন বরকত, কল্যাণ ও ক্ষমার দোয়া করে (৩)।
আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো উত্তম প্রশংসা এবং ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে হলো দোয়া। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত পেশ করেন। হে মুমিনগণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} (1). قال أبو العالية: ((صلاة الله: ثناؤه عليه عند الملائكة، وصلاة الملائكة: الدعاء)) (2). وقال ابن عباس رضي الله عنهما: ((يصلون: يُبَرِّكون)) (3).
وقيل: إن صلاة الله الرحمة، وصلاة الملائكة الاستغفار.
والصواب القول الأول (4). قال الله تعالى: {أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمهْتَدُونَ} (5). أي عليهم ثناء من الله ورحمة (6)، فعطف الرحمة على الصلوات والعطف يقتضي المغايرة (7).
--------------------------------------------
{যারা ঈমান এনেছ, তোমরা তাঁর ওপর সালাত পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো} (১)। আবু আল-আলিয়াহ (র.) বলেন: ((আল্লাহর সালাত (صلاة): ফেরেশতাদের নিকট তাঁর প্রশংসা করা, আর ফেরেশতাদের সালাত (صلاة): দোয়া করা)) (২)। এবং ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: ((তারা সালাত পাঠ করেন: তারা বরকত (تبريك) কামনা করেন)) (৩)।
বলা হয়েছে: আল্লাহর সালাত হলো রহমত, এবং ফেরেশতাদের সালাত হলো ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار)।
সঠিক (صواب) হলো প্রথম বক্তব্যটি (৪)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এরাই তারা, যাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে সালাতসমূহ (صلوات) এবং রহমত বর্ষিত হয় এবং এরাই সঠিক পথপ্রাপ্ত} (৫)। অর্থাৎ তাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রশংসা এবং রহমত (৬), এখানে সালাত-এর ওপর রহমতকে সংযোজিত করা হয়েছে এবং এই সংযোজন (عطف) ভিন্নতা (مغايرة) দাবি করে (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
فالصلاة من الله الثناء، ومن المخلوقين: الملائكة، والإنس، والجن: القيام، والركوع، والسجود، والدعاء، والتسبيح، والصلاة من الطير والهوام: التسبيح (1).
و
الصلاة في الشرع: عبادة لله ذات أقوال وأفعال معلومة مخصوصة، مفتتحة بالتكبير، مختتمة بالتسليم، وسميت صلاة لاشتمالها على الدعاء (2).
فالصلاة كانت اسمًا لكل دعاء، فصارت اسمًا لدعاء مخصوص، أو كانت اسمًا لدعاء، فنقلت إلى الصلاة الشرعية لما بينها وبين الدعاء من المناسبة، والأمر في ذلك متقارب، فإذا أطلق اسم الصلاة في الشرع لم يفهم منه إلا الصلاة المشروعة (3). فالصلاة كلها دعاء:
--------------------------------------------
আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো প্রশংসা, আর ফেরেশতা, মানুষ ও জিনের মতো সৃষ্টিজগতের পক্ষ থেকে তা হলো দণ্ডায়মান হওয়া, রুকু, সিজদা, দুআ এবং তাসবিহ। আর পাখি ও কীটপতঙ্গের পক্ষ থেকে সালাত হলো তাসবিহ (১)।
এবং
শরীয়তের পরিভাষায় সালাত: হলো আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত এমন এক ইবাদত যা সুনির্দিষ্ট কিছু কথা ও কাজের সমষ্টি, যা তাকবীরের মাধ্যমে শুরু হয় এবং সালামের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। একে সালাত নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি দুআকে অন্তর্ভুক্ত করে (২)।
মূলত সালাত শব্দটি প্রতিটি দুআর নাম হিসেবে প্রচলিত ছিল, যা পরবর্তীতে একটি বিশেষ দুআর নামে পরিণত হয়েছে। অথবা এটি ছিল দুআর সাধারণ নাম, অতঃপর সালাত ও দুআর পারস্পরিক সম্পর্কের কারণে তা শরয়ী সালাতের অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে; আর এ উভয় বিষয়ের অর্থ প্রায় কাছাকাছি। তাই শরীয়তে যখন সালাত শব্দটির নিঃশর্ত প্রয়োগ হয়, তখন তা দ্বারা শরীয়ত নির্দেশিত সালাত ব্যতিরেকে অন্য কিছু বোঝা যায় না (৩)। বস্তুত সালাতের পুরোটাই হলো দুআ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
دعاء مسألة: وهو طلب ما ينفع الداعي من جلب نفع، أو كشف ضر، وطلب الحاجات من الله وحده بلسان المقال.
ودعاء عبادة: وهو طلب الثواب بالأعمال الصالحة: من القيام، والقعود، والركوع، والسجود، فمن فعل هذه العبادات فقد دعا ربه، وطلبه بلسان الحال أن يغفر له، فتبين بذلك أن الصلاة كلها دعاء مسألة، ودعاء عبادة؛ لاشتمالها على ذلك كله (1).
--------------------------------------------
দোআ মাসআলাহ (دعاء مسألة): এটি হলো দোয়াকারীর নিজের জন্য কল্যাণকর কিছু আনয়ন অথবা কোনো ক্ষতি দূর করার জন্য প্রার্থনা করা এবং মুখনিঃসৃত ভাষায় (لسان المقال) একমাত্র আল্লাহর নিকট নিজের প্রয়োজনসমূহ পেশ করা।
এবং দোআ ইবাদত (دعاء عبادة): এটি হলো সৎকর্মের মাধ্যমে সওয়াব বা প্রতিদান অন্বেষণ করা: যেমন কিয়াম (দাঁড়ানো), কুউদ (বসা), রুকু এবং সিজদা। সুতরাং যে ব্যক্তি এই ইবাদতসমূহ সম্পাদন করল, সে মূলত তার প্রতিপালকের নিকট দোআ করল এবং স্বীয় অবস্থার ভাষায় (لسان الحال) তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করল। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, সালাতের পুরোটাই হলো দোআ মাসআলাহ (دعاء مسألة) এবং দোআ ইবাদত (دعاء عبادة); কারণ সালাত এই সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الثاني: حكم الصلاةالصلاة واجبة: بالكتاب، والسنة، وإجماع الأمة، على كل مسلم بالغ عاقل، إلا الحائض والنفساء، أما الكتاب فقول الله تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} (1). وقوله تعالى: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا} (2).
وأما السنَّة؛ فلحديث معاذ رضي الله عنه حينما بعثه النبي صلى الله عليه وسلم إلى اليمن وقال له: ((وأعلمهم أن الله افترض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة)) (3)؛ولحديث ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((بُني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصيام رمضان، وحج البيت)) (4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নামাজের বিধাননামাজ কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মাহর ঐক্যমত (إجماع الأمة) দ্বারা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান মুসলিমের ওপর আবশ্যক (واجبة); তবে ঋতুবতী এবং নেফাসগ্রস্ত নারী এর অন্তর্ভুক্ত নন। কুরআন থেকে দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে। আর এটাই সঠিক দ্বীন} (১)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মুমিনদের ওপর নামাজকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আবশ্যিক (كتابا موقوتا) করা হয়েছে} (২)।
আর সুন্নাহ থেকে দলীল হলো মু'আয রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন এবং তাঁকে বলেন: ((তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ (افترض) করেছেন)) (৩); এবং ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: ((ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং বাইতুল্লাহর হজ করা)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
وعن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((خمس صلوات كتبهن الله على العباد، فمن جاء بهن لم يضيِّع منهن شيئًا استخفافًا بحقّهنّ، كان له عند الله عهدًا أن يدخله الجنة
… )) الحديث (1).
والآيات والأحاديث في فرضية الصلاة كثيرة.
وأما الإجماع، فقد أجمعت الأمة على وجوب خمس صلوات في اليوم والليلة (2).
ولا تجب على الحائض والنفساء، لقوله عليه الصلاة والسلام: ((أليست إذا حاضت لم تصلِّ ولم تصم)) (3).
--------------------------------------------
উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহ বান্দাদের ওপর ফরজ করেছেন; সুতরাং যে ব্যক্তি সেগুলো যথাযথভাবে আদায় করবে এবং সেগুলোর হকের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে এর কোনোটি নষ্ট করবে না, আল্লাহর কাছে তার জন্য এই অঙ্গীকার রয়েছে যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন
… )) হাদিস (১)।
আর নামাজের ফরজ হওয়ার ব্যাপারে আয়াত ও হাদিসসমূহ অনেক।
আর ঐকমত্যের (إجماع) বিষয়টি হলো, নিশ্চয়ই উম্মত দিবা-রাত্রিতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছে (২)।
আর ঋতুবতী (حائض) এবং প্রসূতি (نفساء) নারীর ওপর নামাজ ওয়াজিব (تجب) নয়; কারণ নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বাণী: ((মহিলা যখন ঋতুবতী হয়, তখন কি সে নামাজ ও রোজা ত্যাগ করে না?)) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الثالث: منزلة الصلاة في الإسلام
الصلاة لها منزلة عظيمة في الإسلام، ومما يدل على أهميتها وعظم منزلتها ما يأتي:
1 - الصلاة عماد الدين الذي لا يقوم إلا به، ففي حديث معاذ رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((رأس الأمر الإسلام، وعمودُه الصلاةُ، وذروةُ سنامِه الجهادُ)) (1). وإذا سقط العمود سقط ما بني عليه.
2 - أول ما يحاسب عليه العبد من عمله، فصلاح عمله وفساده بصلاح صلاته وفسادها، فعن أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((أول ما يحاسب به العبد يوم القيامة: الصلاة، فإن صلحت صلح سائرُ عمله، وإن فسدت فسد سائرُ عمله)). وفي رواية: ((أول ما يسأل عنه
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামে সালাতের মর্যাদা ইন ইসলাম
ইসলামে সালাতের অত্যন্ত সুমহান মর্যাদা রয়েছে। এর গুরুত্ব ও সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণস্বরূপ নিচের বিষয়গুলো প্রণিধানযোগ্য:
১ - সালাত হলো দ্বীনের খুঁটি যা ব্যতীত দ্বীন দণ্ডায়মান থাকতে পারে না। মু’আজ (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সকল বিষয়ের মূল হলো ইসলাম, তার খুঁটি হলো সালাত এবং তার সর্বোচ্চ শিখর হলো জিহাদ।" (১) আর যদি খুঁটিটিই পড়ে যায়, তবে তার ওপর নির্মিত ইমারতটিও পড়ে যাবে।
২ - বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম যার হিসাব নেওয়া হবে তা হলো সালাত। তার আমল সংশোধন বা নষ্ট হওয়া নির্ভর করে তার সালাত সঠিক হওয়া বা নষ্ট হওয়ার ওপর। আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। যদি সালাত সঠিক (صلحت) হয়, তবে তার বাকি সকল আমলও সঠিক গণ্য হবে। আর যদি তা নষ্ট (فسدت) হয়, তবে তার অন্য সকল আমলও নষ্ট হয়ে যাবে।" অন্য বর্ণনায় এসেছে: "সর্বপ্রথম যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
العبد يوم القيامة ينظر في صلاته، فإن صلحت فقد أفلح، [وفي رواية: وأنجح]، وإن فسدت فقد خاب وخسر)) (1).
وعن تميم الداري رضي الله عنه مرفوعًا: ((أول ما يحاسب به العبد يوم القيامة صلاته، فإن كان أتمها كتبت له تامة، وإن لم يكن أتمها قال الله عز وجل لملائكته: انظروا هل تجدون لعبدي من تطوع فتكملون بها فريضته، ثم الزكاة كذلك، ثم تُؤخذ الأعمال على حسب ذلك)) (2).
3 - آخر ما يُفقد من الدين، فإذا ذهب آخر الدين لم يبق شيء منه، فعن أبي أمامة مرفوعًا: ((لتُنقضن عُرَى الإسلام عُروة عُروة، فكلما انتقضت عروة تشبث الناس
--------------------------------------------
কিয়ামতের দিন বান্দার সালাতের হিসাব নেয়া হবে; যদি তা সঠিক হয়, তবে সে সফলকাম হলো [অন্য বর্ণনায়: এবং কৃতকার্য হলো], আর যদি তা নষ্ট হয়ে যায়, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো (১)।
তামীম আদ-দারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণিত: কিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম যেটির হিসাব নেয়া হবে তা হলো তার সালাত। যদি সে তা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করে থাকে, তবে তার জন্য তা পূর্ণাঙ্গ হিসেবেই লেখা হবে। আর যদি সে তা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় না করে থাকে, তবে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের বলবেন: "দেখো তো আমার বান্দার কোনো নফল (تطوع) ইবাদত আছে কি না, যা দিয়ে তোমরা তার ফরজ (فريضته) ইবাদতের ঘাটতি পূরণ করে দেবে?" অতঃপর জাকাতের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করা হবে, এরপর অন্যান্য আমলসমূহকেও সেই অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে (২)।
৩ - দ্বীনের সর্বশেষ যে বিষয়টি হারিয়ে যাবে; যখন দ্বীনের শেষ অংশটি চলে যাবে, তখন এর আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। আবু উমামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণিত: ইসলামের প্রতিটি বন্ধন একটি একটি করে ছিঁড়ে যাবে। যখনই একটি বন্ধন ছিঁড়ে যাবে, মানুষ [পরবর্তীটিকে] আঁকড়ে ধরবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بالتي تليها، فأولهن نقضًا الحكم، وآخرهن الصلاة)) (1). وفي رواية من طريق آخر: ((أول ما يرفع من الناس الأمانة، وآخر ما يبقى الصلاة، ورب مصلٍّ لا خير فيه)) (2).
وعن أنس رضي الله عنه مرفوعاً: ((أول ما تفقدون من دينكم الأمانة، وآخره الصلاة)) (3).
4 - آخر وصية أوصى بها النبي صلى الله عليه وسلم - أمته، فعن أم سلمة رضي الله عنها أنها قالت: كان من آخر وصية رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((الصلاة الصلاة وما ملكت أيمانكم))، حتى جعل نبي
--------------------------------------------
তার পরেরটি (ছিঁড়বে), সেগুলোর মধ্যে প্রথম যা বিলুপ্ত হবে তা হলো শাসনব্যবস্থা বা বিচারব্যবস্থা, আর সর্বশেষ হলো নামাজ (১)। অন্য একটি সূত্রের বর্ণনায় রয়েছে: ((মানুষের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম যা উঠিয়ে নেওয়া হবে তা হলো আমানতদারি, আর সর্বশেষ যা অবশিষ্ট থাকবে তা হলো নামাজ। এমন অনেক নামাজি রয়েছে যার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই)) (২)।
আনাস (রা.) হতে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত: ((তোমাদের দ্বীন থেকে সর্বপ্রথম যা হারাবে তা হলো আমানতদারি এবং সর্বশেষ হলো নামাজ)) (৩)।
৪ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে যে সর্বশেষ অসিয়ত করেছেন - উম্মে সালামা (রা.) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশেষ অসিয়তসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল: ((নামাজ, নামাজ এবং তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো)), এমনকি নবী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الله صلى الله عليه وسلم يجلجلها في صدره وما يفيض بها لسانه)) (1).
5 - مدح الله القائمين بها ومن أمر بها أهله، فقال تعالى: {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولاً نَّبِيًّا* وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا} (2).
6 - ذم الله المضيعين لها والمتكاسلين عنها، قال الله تعالى: {فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا} (3).وقال عز وجل: {إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُواْ إِلَى الصَّلَاةِ قَامُواْ كُسَالَى يُرَآؤُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللهَ إِلَاّ قَلِيلاً} (4).
7 - أعظم أركان الإسلام ودعائمه العظام بعد الشهادتين، فعن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله،
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বক্ষে তা ধ্বনিত করছিলেন এবং তাঁর জিহ্বা দিয়ে তা উপচে পড়ছিল না (১)।
৫ - যারা সালাত কায়েম করেন এবং যারা নিজ পরিবারকে এর নির্দেশ দেন, আল্লাহ তাদের প্রশংসা করেছেন, মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: "আর আপনি এই কিতাবে ইসমাইলের কথা স্মরণ করুন, নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যবাদী এবং তিনি ছিলেন একজন রাসুল ও নবী। তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে সালাত ও জাকাতের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর রবের নিকট সন্তোষভাজন ছিলেন।" (২)।
৬ - যারা সালাত বিনষ্ট করে এবং যারা এতে অলসতা করে, আল্লাহ তাদের নিন্দা করেছেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: "অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের আবির্ভাব হলো, যারা সালাত বিনষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসারী হলো। সুতরাং তারা অচিরেই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে।" (৩)। মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: "নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে, অথচ তিনি তাদের ওপর কৌশলী। আর যখন তারা সালাতে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, তারা লোক দেখানোর জন্য তা করে এবং আল্লাহকে তারা খুব সামান্যই স্মরণ করে।" (৪)।
৭ - শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্য)-এর পর এটি ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ রোকন ও মহান স্তম্ভসমূহ, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأن محمدًا رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج البيت)) (1).
8 - مما يدل على عظم شأنها أن الله لم يفرضها في الأرض بواسطة جبريل، وإنما فرضها بدون واسطة ليلة الإسراء فوق سبع سموات.
9 - فرضت خمسين صلاة، وهذا يدل على محبة الله لها، ثم خفف الله عز وجل عن عباده، ففرضها خمس صلوات في اليوم والليلة، فهي خمسون في الميزان، وخمس في العمل، وهذا يدل على عظم مكانتها (2).
10 - افتتح الله أعمال المفلحين بالصلاة واختتمها بها، وهذا يؤكد أهميتها، قال الله تعالى: {قَدْ أَفْلَحَ
--------------------------------------------
এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং বায়তুল্লাহর হজ করা)) (১)।
৮ - এর গুরুত্বের অন্যতম প্রমাণ হলো যে, আল্লাহ এটি জিবরাঈলের মধ্যস্থতায় জমিনে ফরজ করেননি; বরং মিরাজের রাতে সাত আসমানের উপরে কোনো মধ্যস্থতা ছাড়াই সরাসরি এটি ফরজ করেছেন।
৯ - পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছিল, যা এই ইবাদতের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করে তা কমিয়ে দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নির্ধারণ করে দেন; যা মিজানে (পাল্লায়) পঞ্চাশ কিন্তু আমলের ক্ষেত্রে পাঁচ। এটি এর সুউচ্চ মর্যাদারই প্রমাণ বহন করে (২)।
১০ - আল্লাহ তাআলা সফলকাম মুমিনদের আমলসমূহের বর্ণনা সালাত দিয়ে শুরু করেছেন এবং সালাত দিয়েই শেষ করেছেন; যা এর গুরুত্বকে সুনিশ্চিত করে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই সফল হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الْمُؤْمِنُونَ * الَّذِينَ هُمْ فِي صَلاتِهِمْ خَاشِعُونَ * وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ * وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ * وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ * إِلا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ * فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاء ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ * وَالَّذِينَ هُمْ لأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ * وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ} (1).
11 - أمر الله النبي محمدًا صلى الله عليه وسلم وأتباعه أن يأمروا بها أهليهم، فقال الله عز وجل: {وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى} (2).
وعن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((مروا أولادكم بالصلاة وهم أبناء سبع سنين، واضربوهم عليها وهم أبناء عشر، وفرِّقوا بينهم في المضاجع)) (3).
--------------------------------------------
{মুমিনগণ (সফলকাম হয়েছে) * যারা তাদের সালাতে বিনম্র * যারা অনর্থক ক্রিয়াকলাপ থেকে বিমুখ * যারা জাকাত দানে সক্রিয় * যারা তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে * তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ক্ষেত্রে ব্যতীত, কেননা এতে তারা তিরস্কৃত হবে না * সুতরাং যারা এদের ছাড়া অন্য কাউকে কামনা করবে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী * এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে * যারা তাদের সালাতসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ করে} (১)।
১১ - আল্লাহ তাআলা নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর অনুসারীদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা নিজ পরিবারকে সালাতের আদেশ দেয়, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: {আপনি আপনার পরিবারকে সালাতের আদেশ দিন এবং এর ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোনো রিজিক চাই না; আমিই আপনাকে রিজিক দান করি। আর উত্তম পরিণাম তো তাকওয়ার জন্য নির্ধারিত} (২)।
আবদুল্লাহ বিন ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সন্তানদের সালাতের নির্দেশ দাও যখন তারা সাত বছর বয়সে পৌঁছায়, এবং দশ বছর বয়সে (সালাত না পড়লে) তাদের প্রহার করো এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
12 - أُمِرَ النائم والناسي بقضاء الصلاة، وهذا يؤكد أهميتها، فعن أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((من نسي صلاةً فليصلِّها إذا ذكرها، لا كفارة لها إلا ذلك)). وفي رواية لمسلم: ((من نسي صلاةً أو نام عنها، فكفارتها أن يصليها إذا ذكرها)) (1). وأُلحق بالنائم المُغمى عليه ثلاثة أيام فأقل، وقد رُوي ذلك عن عمار، وعمران بن حصين، وسمرة بن جندب رضي الله عنهم (2).أما إن كانت المدة أكثر من ذلك فلا قضاء؛ لأن المُغمى عليه مدة طويلة أكثر من ثلاثة أيام يشبه المجنون بجامع زوال العقل، والله أعلم (3).
--------------------------------------------
১২ - নিদ্রিত এবং বিস্মৃত ব্যক্তিকে সালাত কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এটি এর গুরুত্বকে সুনিশ্চিত করে। আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো সালাত ভুলে যায়, সে যখনই তা স্মরণ করবে তখনই যেন তা আদায় করে নেয়। এছাড়া এর আর কোনো কাফফারা নেই।" মুসলিমের এক বর্ণনা (رواية)-য় রয়েছে: "যে ব্যক্তি কোনো সালাত ভুলে যায় অথবা তা থেকে ঘুমিয়ে থাকে, তবে এর কাফফারা হলো স্মরণ হওয়া মাত্র তা আদায় করে নেওয়া" (১)। আর নিদ্রিত ব্যক্তির হুকুমের সাথে তিন দিন বা তার কম সময় সংজ্ঞাহীন থাকা ব্যক্তিকে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি আম্মার, ইমরান বিন হুসাইন এবং সামুরা বিন জুনদুব (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে (২)। তবে যদি সময়কাল এর চেয়ে বেশি হয় তবে তা কাযা করতে হবে না; কেননা দীর্ঘ সময় অর্থাৎ তিন দিনের বেশি সংজ্ঞাহীন থাকা ব্যক্তি বুদ্ধি বিলোপের সাধারণ বৈশিষ্ট্যের কারণে পাগলের সদৃশ। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الرابع: خصائص الصلاة في الإسلام (1)
الصلاة لها شأن انفردت به على سائر الأعمال الصالحة، منها:
1 - سمى الله الصلاة إيمانًا بقوله تعالى: {وَمَا كَانَ اللهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ إِنَّ اللهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُوفٌ رَّحِيمٌ} (2).يعني صلاتكم إلى بيت المقدس؛ لأن الصلاة تصدِّقُ عَمَلهُ وقَوْلَهُ.
2 - خصها بالذكر تمييزًا لها من بين شرائع الإسلام، قال الله تعالى: {اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ} (3)، وتلاوته اتباعه والعمل بما فيه من جميع شرائع الدين، ثم قال:
{وَأَقِمِ الصَّلاةَ}، فخصها بالذكر تمييزًا لها، وقوله تعالى:
{وَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِمْ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَإِقَامَ الصَّلاةِ} (4). خصها
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইসলামে নামাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ (১)
অন্যান্য নেক আমলের তুলনায় নামাজের এমন এক স্বতন্ত্র মর্যাদা রয়েছে যা অন্য আমলসমূহের নেই, তার মধ্যে কয়েকটি হলো:
১ - আল্লাহ তাআলা নামাজকে ঈমান হিসেবে অভিহিত করেছেন মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর আল্লাহ এমন নন যে তোমাদের ঈমানকে নষ্ট করে দেবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম দয়ালু ও অতিশয় মেহেরবান} (২)। অর্থাৎ বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে ফিরে তোমাদের আদায়কৃত নামাজ; কেননা নামাজ বান্দার কথা ও কাজকে সত্য বলে প্রতিপন্ন করে।
২ - ইসলামের যাবতীয় বিধিবিধানের মধ্য থেকে একে স্বতন্ত্র করার লক্ষ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, মহান আল্লাহ বলেছেন: {আপনার প্রতি কিতাব থেকে যা ওহি করা হয়েছে তা পাঠ করুন} (৩), আর এর তিলাওয়াত হলো এর অনুসরণ করা এবং দ্বীনের যাবতীয় বিধিবিধানের মধ্যে এতে যা রয়েছে তার ওপর আমল করা। অতঃপর তিনি বলেছেন:
{এবং নামাজ কায়েম করুন}, সুতরাং একে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। এবং মহান আল্লাহর বাণী:
{আর আমি তাদের প্রতি সৎকাজ সম্পাদন করা এবং নামাজ কায়েম করার ওহি প্রেরণ করেছিলাম} (৪)। একে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بالذكر مع دخولها في جميع الخيرات، وغير ذلك كثير.
3 - قُرِنَت في القرآن الكريم بكثير من العبادات، ومن ذلك قوله تعالى: {وَأَقِيمُواْ الصَّلَاةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ وَارْكَعُواْ مَعَ الرَّاكِعِينَ} (1). وقال: {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} (2). وقال: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لله رَبِّ الْعَالَمِينَ} (3)، وغير ذلك كثير.
4 - أمر الله نبيه صلى الله عليه وسلم أن يصطبر عليها، فقال: {وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّحْنُ نَرْزُقُكَ} (4) مع أنه صلى الله عليه وسلم مأمور بالاصطبار على جميع العبادات؛ لقوله تعالى: {وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ} (5).
5 - أوجبها الله على كل حال، ولم يعذر بها مريضًا،
--------------------------------------------
সকল কল্যাণকর কাজের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও একে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এবং এ রকম আরও অনেক বিষয় রয়েছে।
৩ - পবিত্র কুরআনে একে অনেক ইবাদতের সাথে যুক্ত করা হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো} (১)। তিনি আরও বলেছেন: {সুতরাং আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন} (২)। তিনি আরও বলেছেন: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য} (৩), এবং এ রকম আরও অনেক।
৪ - আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এর ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: {আপনি আপনার পরিবারবর্গকে নামাজের আদেশ দিন এবং এর ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোনো রিজিক চাই না, আমিই আপনাকে রিজিক দান করি} (৪)। অথচ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত ইবাদতের ওপর অবিচল থাকার জন্য আদিষ্ট ছিলেন; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তাঁর ইবাদতে ধৈর্য ধারণ ও অবিচল থাকুন} (৫)।
৫ - আল্লাহ তাআলা একে সর্বাবস্থায় আবশ্যক (واجب) করেছেন, এবং কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকেও এতে অব্যাহতি দেননি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
ولا خائفًا، ولا مسافرًا، ولا غير ذلك؛ بل وقع التخفيف تارة في شروطها، وتارة في عددها، وتارة في أفعالها، ولم تسقط مع ثبات العقل.
6 - اشترط الله لها أكمل الأحوال: من الطهارة، والزينة باللباس، واستقبال القبلة مما لم يشترط في غيرها.
7 - استعمل فيها جميع أعضاء الإنسان: من القلب، واللسان، والجوارح، وليس ذلك لغيرها.
8 - نهى أن يشتغل فيها بغيرها، حتى بالخطرة، واللفظة، والفكرة.
9 - هي دين الله الذي يدين به أهل السموات والأرض، وهي مفتاح شرائع الأنبياء، ولم يُبْعَث نبيٌّ إلا بالصلاة.
10 - قُرنت بالتصديق بقوله: {فَلا صَدَّقَ وَلا صَلَّى * وَلَكِن كَذَّبَ وَتَوَلَّى} (1)، وخصائص الصلاة كثيرة جدًّا
--------------------------------------------
আর না ভীত অবস্থায়, না মুসাফির অবস্থায়, আর না অন্য কোনো অবস্থায় (সালাত রহিত হয়); বরং কখনো এর শর্তাবলীতে, কখনো এর সংখ্যায় এবং কখনো এর কার্যাবলীতে সহজীকরণ করা হয়েছে, তবে বিবেক স্থির থাকা অবস্থায় এটি রহিত হয় না।
৬ - আল্লাহ তাআলা এর জন্য সর্বোত্তম অবস্থা নির্ধারণ করেছেন: পবিত্রতা, পোশাকের মাধ্যমে সৌন্দর্য মণ্ডিত হওয়া এবং কিবলামুখী হওয়া, যা অন্য ইবাদতের ক্ষেত্রে শর্ত করা হয়নি।
৭ - এতে মানুষের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহৃত হয়: অন্তর, জিহ্বা এবং অন্যান্য অঙ্গসমূহ; যা অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
৮ - এতে অন্য কিছুতে মগ্ন হতে নিষেধ করা হয়েছে, এমনকি মনের কোনো কল্পনা, উচ্চারণ বা চিন্তার মাধ্যমেও।
৯ - এটি আল্লাহর এমন দ্বীন যা আসমান ও জমিনের অধিবাসীরা পালন করে, এটি নবীদের শরীয়তসমূহের চাবিকাঠি, আর সালাত ব্যতীত কোনো নবীকেই প্রেরণ করা হয়নি।
১০ - একে বিশ্বাসের সাথে যুক্ত করা হয়েছে আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {সে বিশ্বাস করেনি এবং সালাত আদায় করেনি। বরং সে মিথ্যারোপ করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে} (১)। আর সালাতের বৈশিষ্ট্যসমূহ অত্যন্ত ব্যাপক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
لا تقاس بغيرها (1).
--------------------------------------------
এটিকে অন্য কিছুর সাথে কিয়াস (قياس) করা যাবে না (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الخامس: حكم تارك الصلاةترك الصلاة المفروضة كفر، فمن تركها جاحدًا لوجوبها كفر كفرًا أكبر بإجماع أهل العلم، ولو صلَّى (1)، أما من ترك الصلاة بالكلّيّة، وهو يعتقد وجوبها ولا يجحدها، فإنه يكفر، والصحيح من أقوال أهل العلم أن كفره أكبر يخرج من الإسلام؛ لأدلة كثيرة منها على سبيل الاختصار ما يأتي:
1 - قال الله تعالى: {يَوْمَ يُكْشَفُ عَن سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلا يَسْتَطِيعُونَ * خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ وَقَدْ كَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ وَهُمْ سَالِمُونَ} (2). وهذا يدل على أن تارك الصلاة مع الكفار والمنافقين الذين تبقى ظهورهم إذا سجد المسلمون قائمة، ولو كانوا من
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সালাত ত্যাগকারীর বিধানফরয সালাত ত্যাগ করা কুফরি (كفر)। সুতরাং যে ব্যক্তি সালাতের আবশ্যকতাকে অস্বীকারকারী (جاحدًا) হিসেবে তা ত্যাগ করে, সে আলেমদের ঐক্যমতে (إجماع) বড় কুফর (كفر أكبر) করল, যদিও সে সালাত আদায় করে (১)। আর যে ব্যক্তি সালাত সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করে অথচ সে এর আবশ্যকতা বিশ্বাস করে এবং তা অস্বীকার করে না, সেও কুফরি করল। আলেমদের বক্তব্যের মধ্যে বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো যে, তার কুফরি বড় কুফর (كفر أكبر) যা ইসলাম থেকে বের করে দেয়; এর সপক্ষে অসংখ্য দলিল রয়েছে, যার মধ্য থেকে সংক্ষেপে কিছু নিচে দেওয়া হলো:
১ - মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {যেদিন পায়ের গোছা উন্মুক্ত করা হবে এবং তাদেরকে সিজদাহ করার জন্য আহ্বান জানানো হবে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না। তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে, লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ যখন তারা নিরাপদ ছিল তখন তাদেরকে সিজদাহ করার জন্য আহ্বান জানানো হতো} (২)। এটি প্রমাণ করে যে, সালাত ত্যাগকারী কাফের ও মুনাফিকদের সাথে থাকবে, মুসলিমরা যখন সিজদাহ করবে তখন যাদের পিঠ সোজা হয়ে থাকবে, যদিও তারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المسلمين لأُذِنَ لهم بالسجود كما أُذِنَ للمسلمين.
2 - وقال سبحانه وتعالى: {كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ * إِلا أَصْحَابَ الْيَمِينِ * فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ * عَنِ الْمُجْرِمِينَ * مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ* قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ * وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ * وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ * وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ} (1). فتارك الصلاة من المجرمين السالكين في سقر، وقد قال الله تعالى: {إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِي ضَلالٍ وَسُعُرٍ * يَوْمَ يُسْحَبُونَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ ذُوقُوا مَسَّ سَقَرَ} (2).
3 - وقال الله عز وجل: {فَإِن تَابُواْ وَأَقَامُواْ الصَّلَاةَ وَآتَوُاْ الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَنُفَصِّلُ الآيَاتِ لِقَوْمٍ
يَعْلَمُونَ} (3). فعلق أخوَّتهم للمؤمنين بفعل الصلاة.
--------------------------------------------
মুসলমানদের ন্যায় তাদেরকেও সিজদাহ করার অনুমতি প্রদান করা হতো।
২ - এবং মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়বদ্ধ; কিন্তু ডানদিকের ব্যক্তিরা ব্যতীত, তারা জান্নাতে থাকবে; তারা পরস্পরকে অপরাধীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, "তোমাদেরকে কিসে সাকার-এ (জাহান্নাম) দাখিল করেছে?" তারা বলবে, "আমরা নামায আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা অভাবগ্রস্তদের আহার্য প্রদান করতাম না, আমরা অনর্থক আলাপকারীদের সাথে অনর্থক আলাপে লিপ্ত থাকতাম এবং আমরা বিচার দিবসকে অস্বীকার করতাম"} (১)। সুতরাং নামায বর্জনকারী ব্যক্তি সাকার-এ প্রবেশকারী অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত। আর মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয় অপরাধীরা বিভ্রান্তি ও যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছে। যেদিন তাদেরকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে, (সেদিন বলা হবে,) তোমরা সাকার-এর (জাহান্নাম) ছোঁয়া আস্বাদন করো} (২)।
৩ - এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {অতঃপর যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই। আর আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি} (৩)। এখানে মুমিনদের সাথে তাদের ভ্রাতৃত্বের বিষয়টিকে তিনি নামায আদায়ের ওপর নির্ভরশীল করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
4 - عن جابر رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((بين الرجل وبين الشرك والكفر ترك الصلاة)) (1).
5 - وعن عبد الله بن بريدة عن أبيه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة، فمن تركها فقد كفر)) (2).
6 - وعن عبد الله بن شقيق رضي الله عنه قال: ((كان أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم لا يرون شيئًا من الأعمال تركه كفر غير الصلاة)) (3).
7 - وقد حكى إجماع الصحابة على كفر تارك الصلاة غير واحد من أهل العلم (4).
8 - وذكر الإمام ابن تيمية أن تارك الصلاة يكفر--------------------------------------------
4 - জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: ((ব্যক্তি এবং শিরক (الشرك) ও কুফর (الكفر)-এর মাঝে ব্যবধান হলো সালাত ত্যাগ করা)) (১)।
5 - এবং আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((আমাদের ও তাদের মাঝে যে চুক্তি রয়েছে তা হলো সালাত, সুতরাং যে ব্যক্তি তা ত্যাগ করল সে কুফরি (كفر) করল)) (২)।
6 - এবং আবদুল্লাহ ইবনে শাকিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাহাবীগণ সালাত ব্যতীত অন্য কোনো আমল ত্যাগ করাকে কুফর (كفر) মনে করতেন না)) (৩)।
7 - একাধিক আলিম সালাত ত্যাগকারীর কুফরের (كفر) ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন (৪)।
8 - এবং ইমাম ইবনে তাইমিয়া উল্লেখ করেছেন যে, সালাত ত্যাগকারী কুফরি (يكفر) করে--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الكفر الأكبر لعشرة وجوه (1).
9 - وأورد الإمام ابن القيم رحمه الله أكثر من اثنين وعشرين دليلاً على كفر تارك الصلاة الكفر الأكبر (2).
والصواب الذي لا شك فيه، أن تارك الصلاة مطلقًا كافر لهذه الأدلة الصريحة (3).
10 - قال الإمام ابن القيم رحمه الله: ((وقد دلّ على كفر تارك الصلاة: الكتاب والسنة، وإجماع الصحابة)) (4).
--------------------------------------------
বড় কুফরি (الكفر الأكبر) দশটি বিষয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে (১)।
৯ - ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) সালাত ত্যাগকারীর বড় কুফরি (الكفر الأكبر) হওয়ার সপক্ষে বাইশটিরও বেশি দলিল উল্লেখ করেছেন (২)।
আর সঠিক (الصواب) সিদ্ধান্ত যাতে কোনো সন্দেহ নেই তা হলো, এই সুস্পষ্ট দলিলসমূহের ভিত্তিতে সালাত ত্যাগকারী ব্যক্তি চূড়ান্তভাবে কাফির (كافر) (৩)।
১০ - ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((সালাত ত্যাগকারীর কুফরি (كفر) হওয়ার বিষয়টি কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং সাহাবীগণের ঐক্যমত্য (إجماع الصحابة) দ্বারা প্রমাণিত)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المبحث السادس: فضل الصلاة
1 - تنهى عن الفحشاء والمنكر؛ قال الله تعالى: {اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلاةَ إِنَّ الصَّلاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاء وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللهِ أَكْبَرُ وَاللهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ} (1).
2 - أفضل الأعمال بعد الشهادتين؛ لحديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم: أي العمل أفضل؟ قال: ((الصلاة لوقتها)) قال: قلت: ثم أيّ؟ قال: ((برّ الوالدين)) قال: قلت: ثم أيّ؟ قال: ((الجهاد في سبيل الله)) (2).
3 - تغسل الخطايا؛ لحديث جابر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((مثل الصلوات الخمس كمثل نهرٍ غمرٍ على باب
--------------------------------------------
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সালাতের ফজিলাত১ - এটি অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে; আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনার প্রতি যে কিতাব ওহি করা হয়েছে তা তিলাওয়াত করুন এবং সালাত কায়েম করুন। নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন} (১)।
২ - শাহাদাতাইনের পর সর্বোত্তম আমল; আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম: কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: ((সঠিক সময়ে সালাত আদায় করা))। তিনি (ইবনে মাসউদ) বলেন: আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: ((পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা))। তিনি বলেন: আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: ((আল্লাহর পথে জিহাদ করা)) (২)।
৩ - এটি গুনাহসমূহ ধুয়ে মুছে দেয়; জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণ হলো একজনের দরজার সামনে প্রবাহিত একটি গভীর নদীর মতো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أحدكم يغتسل منه كل يوم خمس مرات)) (1).
4 - تكفّر السيئات؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((الصلوات الخمس، والجمعة إلى الجمعة، ورمضان إلى رمضان مكفرات ما بينهن، إذا اجتنبت الكبائر)) (2).
5 - نور لصاحبها في الدنيا والآخرة؛ لحديث عبدالله ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه ذكر الصلاة يومًا فقال: ((من حافظ عليها كانت له نورًا وبرهانًا ونجاة يوم القيامة، ومن لم يحافظ عليها لم يكن له نور، ولا برهان ولا نجاة، وكان يوم القيامة مع قارون، وفرعون، وهامان، وأبيّ بن خلف)) (3).
--------------------------------------------
...তোমাদের কেউ তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে।)) (১)।
৪ - গুনাহসমূহ মোচনকারী; আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান—তাদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের মোচনকারী, যখন কবিরা গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকা হয়)) (২)।
৫ - দুনিয়া ও আখিরাতে নামাজির জন্য নূর (আলো); আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদিন সালাত প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে বললেন: ((যে ব্যক্তি এর প্রতি যত্নবান হবে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর, প্রমাণ ও নাজাতের উপায় হবে। আর যে এর প্রতি যত্নবান হবে না, তার জন্য কোনো নূর, প্রমাণ বা নাজাত থাকবে না; এবং কিয়ামতের দিন সে কারুন, ফেরাউন, হামান ও উবাই ইবনে খালাফের সাথে থাকবে)) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وفي حديث أبي مالك الأشعري رضي الله عنه: ((الصلاة نور)) (1)؛ ولحديث بريدة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((بشر المشَّائين في الظلم إلى المساجد بالنور التام يوم القيامة)) (2).
6 - يرفع الله بها الدرجات، ويحط الخطايا؛ لحديث ثوبان مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال له: ((عليك بكثرة السجود، فإنك لا تسجد لله سجدةً إلا رفعك الله بها درجة، وحطَّ عنك بها خطيئة)) (3).
7 - من أعظم أسباب دخول الجنة برفقة النبي صلى الله عليه وسلم -؛ لحديث ربيعة بن كعب الأسلمي رضي الله عنه قال: كنت أبيت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأتيته بوضوئه وحاجته، فقال لي: ((سَلْ)) فقلت: أسألك مرافقتك في الجنة، قال: ((أو غير ذلك؟))
--------------------------------------------
আবু মালেক আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে: ((নামাজ হলো নূর)) (১); এবং বুরাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, তিনি বলেছেন: ((অন্ধকারের মধ্যে মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া ব্যক্তিদের কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও)) (২)।
৬ - এর মাধ্যমে আল্লাহ মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং পাপ মোচন করেন; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুক্তদাস সাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেছেন: ((তুমি অধিক পরিমাণে সিজদা করো; কেননা তুমি আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তোমার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তোমার একটি পাপ মোচন করবেন)) (৩)।
৭ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্যে জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম -; রাবিআ বিন কাব আল-আসলামি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে রাত যাপন করতাম। আমি তাঁর ওজুর পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে আসতাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: ((চাও))। আমি বললাম: আমি জান্নাতে আপনার সাহচর্য প্রার্থনা করছি। তিনি বললেন: ((অন্য কিছু আছে কি?))
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قلت: هو ذاك، قال: ((فأعني على نفسك بكثرة السجود)) (1).
8 - المشي إليها تكتب به الحسنات وترفع الدرجات وتحط الخطايا؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من تطهَّر في بيته، ثم مشى إلى بيت من بيوت الله؛ ليقضي فريضة من فرائض الله، كانت خَطْوَتاه إحداهما تحطُّ خطيئة، والأخرى ترفع درجة)) (2).
وفي الحديث الآخر: ((إذا توضأ أحدكم فأحسن الوضوء، ثم خرج إلى المسجد، لم يرفع قدمه اليمنى إلا كتب الله عز وجل له حسنة، ولم يضع قدمه اليسرى إلا حط الله عز وجل عنه سيئة .. )) (3).
9 - تُعدُّ الضيافة في الجنة بها كلما غدا إليها المسلم أو راح؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: ((من غدا إلى المسجد
--------------------------------------------
আমি বললাম: ওটাই (আমার প্রার্থনা)। তিনি বললেন: ((তাহলে তুমি অধিক সিজদাহর মাধ্যমে তোমার নিজের কল্যাণে আমাকে সাহায্য করো)) (১)।
৮ - মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া, যার মাধ্যমে নেকি লেখা হয়, মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং পাপরাশি মোচন করা হয়; আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, অতঃপর আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি ঘরের দিকে হেঁটে গেল আল্লাহর ফরজসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি ফরজ আদায় করার জন্য; তার পদক্ষেপ দুটির একটি গুনাহ মোচন করে এবং অপরটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে)) (২)।
অন্য একটি হাদিসে রয়েছে: ((তোমাদের মধ্যে কেউ যখন ওজু করে এবং সুন্দরভাবে ওজু সম্পন্ন করে, অতঃপর মসজিদের দিকে বের হয়, সে তার ডান পা উপরে উঠালেই মহান আল্লাহ তার জন্য একটি নেকি লিখে দেন এবং তার বাম পা নিচে রাখলেই মহান আল্লাহ তার থেকে একটি গুনাহ মিটিয়ে দেন...)) (৩)।
৯ - জান্নাতে মেহমানদারির ব্যবস্থা করা হয় যখনই কোনো মুসলিম সকালে বা সন্ধ্যায় সেখানে (মসজিদে) যাতায়াত করে; আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে: ((যে ব্যক্তি সকালে মসজিদের দিকে গেল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানযিলাতুস সালাতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أو راح، أعد الله له في الجنة نُزُلاً كُلَّما غدا أو راح)) (1). والنزل ما يهيأ للضيف عند قدومه.
10 - يغفر الله بها الذنوب فيما بينها وبين الصلاة التي تليها؛ لحديث عثمان رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((لا يتوضأ رجل مسلم فيحسن الوضوء، فيصلي صلاة إلا غفر الله له ما بينه وبين الصلاة التي تليها)) (2).
11 - تكفر ما قبلها من الذنوب؛ لحديث عثمان رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((ما من امرئ مسلم تحضره صلاة مكتوبة، فيحسن وضوءها، وخشوعها، وركوعها إلا كانت كفارة لما قبلها من الذنوب، ما لم يأتِ كبيرة، وذلك الدهر كلّه)) (3).
--------------------------------------------
বা ফিরে আসে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে মেহমানদারির (نزل) ব্যবস্থা করেন যখনই সে সকালে যায় বা সন্ধ্যায় ফিরে আসে (১)। আর 'নুজুল' (نزل) হলো মেহমান আসার সময় তার জন্য যা প্রস্তুত করা হয়।
১০ - এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা এই সালাত এবং এর পরবর্তী সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন; উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((যে কোনো মুসলিম ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে সালাত আদায় করে, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তার এই সালাত এবং এর পরবর্তী সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন)) (২)।
১১ - এটি পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা (كفارة) স্বরূপ হয়; উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((যখনই কোনো মুসলিম ব্যক্তির নিকট ফরজ (مكتوبة) সালাতের সময় উপস্থিত হয়, অতঃপর সে তার অজু, খুশু (خشوع) এবং রুকু (ركوع) সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে, তবে তা তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা (كفارة) হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে কোনো কবিরা গুনাহ (كبيرة) করে; আর এটি সারা জীবনের জন্য প্রযোজ্য)) (৩)।
--------------------------------------------