(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: -)
مجموعة رسائل في الحجاب والسفور   (مجموعة من المؤلفين)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: مجموعة رسائل في الحجاب والسفور

المؤلف: ابن تيمية - عبد العزيز بن باز - محمد الصالح العثيمين - محمد تقي الدين الهلالي الحسيني

الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية 1423 هـ

عدد الصفحات: 110

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পর্দা এবং আবরণহীনতা বিষয়ক প্রবন্ধ সংকলন   (একদল লেখক)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


কিতাব: পর্দা এবং আবরণহীনতা বিষয়ক প্রবন্ধ সংকলন

লেখক: ইবনে তাইমিয়্যাহ - আবদুল আজিজ বিন বাজ - মুহাম্মদ আস-সালেহ আল-উসাইমীন - মুহাম্মদ তাকিউদ্দিন আল-হিলালী আল-হুসাইনী

প্রকাশক: ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজতন্ত্র ১৪২৩ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১০

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[حجاب المرأة ولباسها في الصلاة]

‌‌[محتويات الكتاب]

‌‌[اللباس في الصلاة مجموعة رسائل في الحجاب والسفور]

هذا الكتاب يحتوي على مجموعة رسائل: - حجاب المرأة ولباسها في الصلاة

تأليف / شيخ الإسلام ابن تيمية "رحمه الله"

- حكم السفور والحجاب

لسماحة الشيخ / عبد العزيز بن عبد الله بن باز

- حكم مصافحة المرأة المسلمة للرجال الأجانب

الدكتور / محمد تقي الدين الهلالي الحسيني

- رسالة الحجاب

تأليف / فضيلة الشيخ محمد بن صالح بن عثيمين
‌[নারীর হিজাব এবং সালাতে তার পোশাক]

‌‌[গ্রন্থের বিষয়বস্তু]

‌‌[সালাতে পোশাক: হিজাব ও বেপর্দা বিষয়ক পত্রসমষ্টি]

এই গ্রন্থটি কতগুলো পত্রের বা নিবন্ধের সমষ্টি নিয়ে গঠিত: - নারীর হিজাব এবং সালাতে তার পোশাক

রচনা / শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ "রাহিমাহুল্লাহ"

- বেপর্দা ও হিজাবের বিধান

শ্রদ্ধেয় শাইখ / আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ-এর লিখিত

- পরপুরুষের সাথে মুসলিম নারীর করমর্দনের বিধান

ডক্টর / মুহাম্মদ তাকিউদ্দীন আল-হিলালি আল-হুসাইনি

- হিজাব বিষয়ক পুস্তিকা

রচনা / ফযীলাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সলিহ বিন উসাইমীন
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ৪)
حجاب المرأة

ولباسها في الصلاة تأليف شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله
নারীর হিজাব

এবং সালাতে তাঁর পোশাক; শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ-এর রচনা
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

اللباس في الصلاة وهو أخذ الزينة عند كل مسجد، الذي يسميه الفقهاء: " باب ستر العورة في الصلاة " فإن طائفة من الفقهاء ظنوا أن الذي يستر في الصلاة هو الذي يستر عن أعين الناظرين وهو العورة، وأخذوا ما يستر في الصلاة من قوله: {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} [النور: 31] ثم قال: {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ} [النور: 31] يعنى الباطنة {إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ} [النور: 31] (1) الآية، فقالوا: يجوز لها في الصلاة أن تبدي الزينة الظاهرة دون الباطنة.

والسلف قد تنازعوا في الزينة الظاهرة على قولين:

1 - فقال ابن مسعود ومن وافقه: هي الثياب.

2 - وقال ابن عباس ومن وافقه: هو ما في الوجه

--------------------------------------------

(1) سورة النور آية: 31.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সালাতে পোশাক পরিধান করা যা মূলত প্রত্যেক সালাতের সময় সৌন্দর্য গ্রহণ করার অন্তর্ভুক্ত; যাকে ফকিহগণ ‘সালাতে সতর আবৃত করার অধ্যায়’ বলে অভিহিত করেন। কেননা ফকিহদের একটি দল মনে করেছেন যে, সালাতে যা আবৃত করা আবশ্যক তা-ই যা দর্শকদের দৃষ্টি থেকে আবৃত করা আবশ্যক, আর তা হলো সতর। সালাতে যা আবৃত করতে হবে সে বিষয়ে তারা মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে দলিল গ্রহণ করেছেন: {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত। আর তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে টেনে দেয়} [আন-নূর: ৩১]। অতঃপর তিনি বলেছেন: {আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে} [আন-নূর: ৩১] অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য, {তাদের স্বামীরা ব্যতীত...} [আন-নূর: ৩১] (১) আয়াতাংশ। ফলে তারা বলেছেন: নারীর জন্য সালাতে প্রকাশ্য সৌন্দর্য প্রকাশ করা বৈধ, অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য নয়।

প্রকাশ্য সৌন্দর্যের বিষয়ে পূর্বসূরিগণ (سلف) দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

১ - ইবনে মাসউদ এবং যারা তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন তারা বলেছেন: তা হলো পরিধেয় বস্ত্র।

২ - ইবনে আব্বাস এবং যারা তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন তারা বলেছেন: তা হলো যা মুখমণ্ডলে থাকে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ৬)
واليدين، مثل الكحل والخاتم. وعلى هذين القولين تنازع الفقهاء في النظر إلى المرأة الأجنبية.

فقيل: يجوز النظر لغير شهوة إلى وجهها ويديها، وهو مذهب أبي حنيفة والشافعي، وقول في مذهب أحمد.

وقيل لا يجوز، وهو ظاهر مذهب أحمد. قال: كل شيء منها عورة حتى ظفرها، وهو قول مالك.

وحقيقة الأمر أن الله جعل الزينة زينتين: زينة ظاهرة، وزينة غير ظاهرة.

وجوز لها إبداء زينتها الظاهرة لغير الزوج، وذوي المحارم.

وأما الباطنة، فلا تبديها إلا للزوج، وذوي المحارم.

وكانوا قبل أن تنزل آية الحجاب، كان النساء يخرجن بلا جلباب، يرى الرجال وجهها ويديها، وكان إذ ذاك يجوز لها أن تظهر الوجه والكفين، وكان حينئذ يجوز
এবং উভয় হাত, যেমন সুরমা ও আংটি। আর এই দুটি মতের ওপর ভিত্তি করেই পরনারী (أجنبية)-র দিকে দৃষ্টিপাতের বিষয়ে ফকিহগণ মতভেদ করেছেন।

একমতে বলা হয়েছে: কামভাব ব্যতিরেকে নারীর মুখমণ্ডল ও উভয় হাতের দিকে তাকানো বৈধ, যা ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেয়ির মাজহাব এবং ইমাম আহমাদের মাজহাবের একটি বর্ণনা।

অন্যমতে বলা হয়েছে যে এটি বৈধ নয়, আর এটিই ইমাম আহমাদের মাজহাবের সুস্পষ্ট মত। তিনি বলেছেন: নারীর প্রতিটি অঙ্গই সতর বা আবৃতব্য (عورة), এমনকি তার নখ পর্যন্ত; এটি ইমাম মালিকের উক্তি।

প্রকৃত বিষয় এই যে, আল্লাহ তাআলা সৌন্দর্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: প্রকাশ্য সৌন্দর্য এবং অপ্রকাশ্য সৌন্দর্য।

তিনি নারীর জন্য তার স্বামী ও মাহরাম (محرم) ব্যতীত অন্যদের সামনে প্রকাশ্য সৌন্দর্য প্রকাশ করা বৈধ করেছেন।

আর যা অভ্যন্তরীণ বা অপ্রকাশ্য সৌন্দর্য, তা স্বামী ও মাহরাম (محرم) ব্যতীত কারো নিকট প্রকাশ করবে না।

পর্দার (حجاب) আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার আগে নারীরা চাদর (جلباب) ছাড়াই বাইরে বের হতো, ফলে পুরুষরা তাদের মুখমণ্ডল ও হাত দেখতে পেত। তৎকালীন সময়ে নারীর জন্য তার মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত উভয় হাত প্রকাশ করা বৈধ ছিল এবং সেই সময় পর্যন্ত এটি অনুমোদিত ছিল...
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ৭)
النظر إليها، لأنه يجوز إظهاره.

ثم لما أنزل الله عز وجل آية الحجاب بقوله: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا} [الأحزاب: 59] (1) حجب النساء عن الرجال.

وكان ذلك لما تزوج النبي صلى الله عليه وسلم زينب بنت جحش، فأرخى النبي صلى الله عليه وسلم الستر، ومنع أنساً أن ينظر.

ولما اصطفى صفية بنت حيي بعد ذلك، عام خيبر، قالوا: إن حجبها فهي من أمهات المؤمنين، وإلا فهي مما ملكت يمينه، فحجبها. فلما أمر الله أن لا يسألن إلا من وراء حجاب، وأمر أزواجه وبناته ونساء المؤمنين أن يدنين عليهن من جلابيبهن.

والجلباب: هو الملاءة، وهو الذي يسمّيه

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب آية: 59.
তার দিকে দৃষ্টিপাত করা, কারণ তা প্রকাশ করা বৈধ ছিল।

অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা হিজাবের আয়াত অবতীর্ণ করলেন এই বলে: {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের (جلابيبهن) একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} [আল-আহযাব: ৫৯] (১), তখন নারীদের পুরুষদের থেকে পর্দার (حجب) অন্তরালে নেওয়া হলো।

আর এটি ছিল তখন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যয়নব বিনতে জাহাশকে বিবাহ করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দা (الستر) ঝুলিয়ে দিলেন এবং আনাসকে তাকাতে নিষেধ করলেন।

পরবর্তীতে খায়বারের বছর যখন তিনি সাফিয়্যা বিনতে হুয়াইকে মনোনীত (اصطفى) করলেন, তখন সাহাবীগণ বললেন: যদি তিনি তাকে পর্দার (حجب) আড়ালে রাখেন তবে তিনি মুমিনদের জননীদের (أمهات المؤمنين) অন্তর্ভুক্ত হবেন, অন্যথায় তিনি তাঁর ডান হাতের মালিকানাধীন দাসী (ملكت يمينه) হিসেবে গণ্য হবেন। অতঃপর তিনি তাকে পর্দার (حجب) আড়ালে রাখলেন। যখন আল্লাহ নির্দেশ দিলেন যে, পর্দার (حجاب) আড়াল ব্যতীত যেন তাদের নিকট কিছু চাওয়া না হয়, এবং তাঁর স্ত্রীগণ, কন্যাগণ ও মুমিনদের নারীদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা তাদের চাদরের (جلابيبهن) একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়।

আর জিলবাব (الجلبাব) হলো: বড় চাদর (الملاءة), আর এটিকেই বলা হয়...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহযাব আয়াত: ৫৯।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ৮)
ابن مسعود وغيره: الرداء، وتسميه العامة: الإزار - وهو الإزار الكبير الذي يغطى رأسها وسائر بدنها.

وقد حكى عبيدة وغيره أنها تدنيه من فوق رأسها فلا تظهر إلا عينيها، ومن جنسه النقاب.

فكن النساء ينتقبن.

وفي " الصحيح ": «أن المحرمة لا تنتقب ولا تلبس القفازين» .

فإذا كن مأمورات بالجلباب لئلا يعرفن، وهو ستر الوجه، أو ستر الوجه بالنقاب. كان حينئذ الوجه واليدان من الزينة التي أمرت أن لا تظهرها للأجانب. فما بقي يحل للأجانب النظر إلا الثياب الظاهرة. فابن مسعود ذكر آخر الأمرين وابن عباس أول الأمرين.

وعلى هذا قوله: {أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ} [النور: 31] (1) يدل على أن لها أن تبدى الزينة الباطنة

--------------------------------------------

(1) سورة النور آية: 31.
ইবনে মাসউদ এবং অন্যান্যদের মতে: এটি হলো চাদর (الرداء), আর সাধারণ মানুষ একে ইজার (الإزار) বলে থাকে—মূলত এটি সেই বড় চাদর যা নারীর মাথা ও পুরো শরীরকে আবৃত করে রাখে।

ওবায়দাহ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, নারী এটি তার মাথার উপর থেকে নিচের দিকে ঝুলিয়ে দেবে, ফলে তার দুই চোখ ব্যতীত আর কিছুই প্রকাশ পাবে না; আর নিকাব (النقاب) এই জাতীয় পোশাকের অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং নারীরা নিকাব পরিধান করত।

আর সহিহ গ্রন্থে রয়েছে: «নিশ্চয়ই ইহরাম গ্রহণকারী নারী নিকাব পরিধান করবে না এবং হাতমোজা (القفازين) পরবে না»।

যেহেতু তাদের জিলবাব (الجلباب) পরিধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তাদের চেনা না যায়—যার অর্থ হলো মুখমণ্ডল আবৃত করা, অথবা নিকাবের মাধ্যমে মুখমণ্ডল ঢাকা—এমতাবস্থায় মুখমণ্ডল ও দুই হাত সেই সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত হবে যা পরপুরুষের (الأجانب) সামনে প্রকাশ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে পরপুরুষের জন্য বাইরের পোশাক ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে দৃষ্টিপাত করা বৈধ থাকে না। ইবনে মাসউদ এখানে পরবর্তী নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে আব্বাস প্রথম দিকের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেছেন।

এর ভিত্তিতে মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তাদের নারীরা কিংবা তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীরা} [আন-নূর: ৩১] (১) এটি প্রমাণ করে যে, নারীর জন্য তার অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য (الزينة الباطنة) প্রকাশ করা বৈধ।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ৯)
لمملوكها. وفيه قولان: -

1 - قيل: المراد الإماء، أو الإماء الكتابيات، قاله ابن المسيب، ورجحه أحمد وغيره.

2 - وقيل: هو المملوك الرجل، قاله ابن عباس وغيره، وهذا مذهب الشافعي وغيره، وهو الرواية الأخرى عن أحمد، فهذا يقتضي جواز نظر العبد إلى مولاته.

وقد جاءت بذلك أحاديث، وهذا لأجل الحاجة، لأنها محتاجة إلى مخاطبة عبدها أكثر من حاجتها إلى رؤية الشاهد والعامل والخاطب.

فإذا جاز نظر أولئك، فنظر العبد أولى. وليس في هذا ما يوجب أن يكون محرما يسافر بها، كغير أولي الإربة، فإنهم يجوز لهم النظر، وليسوا محارم يسافرون بها.

فليس كل من جاز له النظر، جاز له السفر بها، ولا الخلوة بها، بل عبدها ينظر إليها للحاجة، وإن كان لا يخلو بها ولا يسافر بها، فإنه لم يدخل في قوله صلى الله
তার দাসের (مملوك) ক্ষেত্রে। এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে: -

1 - বলা হয়েছে: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দাসীগণ (إماء), অথবা আহলে কিতাবধারী দাসীগণ (إماء كتابيات)। এটি ইবনুল মুসাইয়িব বলেছেন এবং ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যগণ একে প্রাধান্য দিয়েছেন।

2 - আরও বলা হয়েছে: তিনি হলেন পুরুষ দাস (مملوك رجل)। এটি ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যগণ বলেছেন। এটি ইমাম শাফেয়ী ও অন্যদের মাযহাব এবং এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা। এটি দাসের পক্ষ থেকে তার মালকিনের দিকে তাকানোর বৈধতা (جواز) দাবি করে।

এ বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস এসেছে। এটি প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে; কেননা সাক্ষী, কর্মী বা বিবাহপ্রার্থীর তুলনায় নিজের দাসের সাথে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা তার অধিক হয়ে থাকে।

সুতরাং যদি তাদের জন্য দেখা বৈধ (جاز) হয়, তবে দাসের জন্য দেখা আরও বেশি সমীচীন। তবে এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে, সে তার সফরসঙ্গী হওয়ার মতো মাহরাম (محرم) হয়ে যাবে; যেমন কামনাবাসনামুক্ত পুরুষদের (غير أولي الإربة) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কারণ তাদের জন্য দেখা বৈধ (يجوز), কিন্তু তারা মাহরাম (محارم) নন যে তার সাথে সফর করতে পারবেন।

সুতরাং যার জন্যই দেখা বৈধ (جاز) হয়, তার জন্যই তার সাথে সফর করা বা নির্জনে অবস্থান (خلوة) করা বৈধ হয়ে যায় না। বরং তার দাস প্রয়োজনের খাতিরে তার দিকে তাকাতে পারবে, যদিও সে তার সাথে নির্জনে অবস্থান (يخلو) করবে না এবং সফরও করবে না। কেননা সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়নি...
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ১০)
عليه وسلم: «لا تسافر المرأة إلا مع زوج أو ذي محرم» فإنه يجوز له أن يتزوجها إذا عتق. كما يجوز لزوج أختها أن يتزوجها إذا طلق أختها.

والمحرم: من تحرم عليه على التأبيد، ولهذا قال ابن عمر: سفر المرأة مع عبدها ضيعة.

فالآية رخصت في إبداء الزينة لذوي المحارم وغيرهم، وحديث السفر ليس فيه إلا ذووا المحارم، وذكر في الآية {نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ} [النور: 31] (1) و {غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ} [النور: 31] (2) وهي لا تسافر معهم.

وقوله: {أَوْ نِسَائِهِنَّ} [النور: 31] (3) قالوا: احتراز عن النساء المشركات، فلا تكون المشركة قابلة للمسلمة، ولا تدخل المشركة معهن الحمام.

لكن قد كن النسوة اليهوديات يدخلن على عائشة وغيرها، فأين وجهها ويديها، بخلاف الرجال، فيكون هذا في الزينة الظاهرة في حق النساء الذميات، وليس

--------------------------------------------

(1) سورة النور آية: 31.

(2) سورة النور آية: 31.

(3) سورة النور آية: 31.
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): "স্বামী বা মাহরাম (محرم) ব্যতীত কোনো নারী সফর করবে না।" কারণ, সে (দাস) মুক্ত হলে তাকে বিবাহ করা তার জন্য বৈধ হয়ে যায়। যেমন বোনের স্বামীর জন্য তাকে বিবাহ করা বৈধ হয় যখন সে তার বোনকে তালাক দেয়।

আর মাহরাম (محرم) হলো: যার সাথে বিবাহ বন্ধন চিরস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ (تحريم مؤبد), এই কারণেই ইবনে উমর বলেছেন: দাসের সাথে নারীর সফর করা তাকে অরক্ষিত বা ক্ষতির (ضيعة) মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল।

আয়াতটি মাহরাম (محرم) এবং অন্যদের সামনে সৌন্দর্য প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু সফরের হাদিসে কেবল মাহরামদের (ذوي المحارم) কথাই উল্লেখ আছে। আয়াতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে {তাদের নিজেদের নারীরা অথবা তাদের অধিকারভুক্ত দাসীরা} [আন-নূর: ৩১] এবং {যৌন কামনাহীন পুরুষ} [আন-নূর: ৩১], অথচ নারী তাদের সাথে সফর করবে না।

আর মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তাদের নারীরা} [আন-নূর: ৩১] সম্পর্কে তারা (উলামাগণ) বলেছেন: এটি মুশরিক নারীদের থেকে সতর্ক থাকার জন্য। সুতরাং কোনো মুশরিক নারী মুসলিম নারীর ধাত্রী (قابلة) হতে পারবে না এবং মুশরিক নারীরা তাদের সাথে হামামে (গোসলখানায়) প্রবেশ করবে না।

তবে ইহুদি নারীরা আয়েশা (রা.) এবং অন্যদের নিকট প্রবেশ করত, তখন তারা তাদের মুখমণ্ডল ও হাত দেখতে পেত, যা পুরুষদের ক্ষেত্রে ভিন্ন। সুতরাং এটি জিম্মি (ذميات) নারীদের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত হবে, আর এটি নয়...

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর আয়াত: ৩১।

(২) সূরা আন-নূর আয়াত: ৩১।

(৩) সূরা আন-নূর আয়াত: ৩১।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ১১)
للذميات أن يطلعن على الزينة الباطنة، ويكون الظهور والبطون بحسب ما يجوز لها إظهاره.

ولهذا كان أقاربها تبدي لهن الباطنة، وللزوج خاصة ما ليس للأقارب.

وقوله: {وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} [النور: 31] (1) دليل على أنها تغطي العنق، فيكون من الباطن - لا الظاهر - ما فيه من القلادة وغيرها.

--------------------------------------------

(1) سورة النور آية: 31.
জিম্মি নারীদের জন্য (মুসলিম নারীর) অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করার অবকাশ রয়েছে এবং সৌন্দর্য প্রকাশ পাওয়া বা না পাওয়া নির্ভর করবে ওই বিষয়ের ওপর যা তার জন্য প্রকাশ করা বৈধ।

এই কারণে একজন নারী তার নিকটাত্মীয়দের সামনে অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য প্রকাশ করেন; আর স্বামীর জন্য বিশেষভাবে যা (প্রকাশ করা) বৈধ তা অন্য নিকটাত্মীয়দের জন্য বৈধ নয়।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে তাদের বক্ষদেশ আবৃত রাখে} [আন-নূর: ৩১] (১) এটি প্রমাণ করে যে, ওড়না ঘাড়কে আবৃত করবে। সুতরাং গলার হার ও অন্যান্য অলংকার অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত হবে—প্রকাশ্য সৌন্দর্যের নয়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌[فصل في ستر النساء عن الرجال وستر الرجال عن الرجال والنساء عن النساء]

‌‌[ستر العورة في الصلاة وخارجها]

فصل فهذا ستر النساء عن الرجال، وستر الرجال عن الرجال، والنساء عن النساء في العورة الخاصة، كما قال صلى الله عليه وسلم: «لا ينظر الرجل إلى عورة الرجل، ولا تنظر المرأة إلى عورة المرأة» وقال: «احفظ عورتك إلا عن زوجتك أو ما ملكت يمينك» قلت: فإذا كان القوم بعضهم في بعض؟ قال: «إن استطعت أن لا يرينها أحد فلا يرينها» . قلت: فإذا كان أحدنا خاليا؟ قال: «فالله أحق أن يستحيا منه» و «نهى أن يفضي الرجل إلى الرجل في ثوب واحد، والمرأة إلى المرأة في ثوب واحد» وقال عن الأولاد: «مروهم بالصلاة لسبع، واضربوهم عليها لعشر، وفرقوا بينهم في المضاجع» .
[পুরুষদের থেকে মহিলাদের পর্দা এবং পুরুষদের থেকে পুরুষদের ও মহিলাদের থেকে মহিলাদের পর্দা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]

[নামাজের ভেতরে ও বাইরে সতর আবৃত করার বিধান]

পরিচ্ছেদ: এটি হলো পুরুষদের থেকে মহিলাদের পর্দা এবং বিশেষ সতর আবৃত করার ক্ষেত্রে পুরুষদের থেকে পুরুষদের এবং মহিলাদের থেকে মহিলাদের পর্দার বিবরণ, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোনো পুরুষ যেন অন্য পুরুষের সতরের দিকে না তাকায় এবং কোনো নারী যেন অন্য নারীর সতরের দিকে না তাকায়।” তিনি আরও বলেছেন: “তোমার স্ত্রী অথবা তোমার অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত অন্যদের থেকে তোমার সতর হেফাজত করো।” আমি জিজ্ঞেস করলাম: যখন লোকজন একে অপরের সাথে মিলেমিশে থাকে তখন কী হবে? তিনি বললেন: “যদি তুমি সক্ষম হও যে তোমার সতর কেউ দেখবে না, তবে যেন কেউ তা না দেখে।” আমি বললাম: আমাদের কেউ যখন নির্জনে থাকে? তিনি বললেন: “আল্লাহ তাআলাই অধিক হকদার যে তাঁকে লজ্জা করা হবে।” তিনি একই কাপড়ের নিচে এক পুরুষ অন্য পুরুষের সাথে এবং এক নারী অন্য নারীর সাথে একত্রে শয়ন করতে নিষেধ করেছেন। এবং তিনি সন্তানদের সম্পর্কে বলেছেন: “তোমাদের সন্তানদের বয়স যখন সাত বছর হয় তখন তাদের নামাজের নির্দেশ দাও, দশ বছর বয়সে (নামাজ না পড়লে) তাদের প্রহার করো এবং তাদের শোয়ার বিছানা পৃথক করে দাও।”
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ১৩)
فهذا نهي عن النظر واللمس لعورة النظير، لما في ذلك من القبح والفحش، وأما الرجال مع النساء، فلأجل شهوة النكاح، فهذان نوعان.

وفي الصلاة نوع ثالث، فإن المرأة لو صلت وحدها، كانت مأمورة بالاختمار، وفي غير الصلاة يجوز لها كشف رأسها في بيتها، فأخذ الزينة في الصلاة لحق الله، فليس لأحد أن يطوف بالبيت عريانا ولو كان وحده بالليل. ولا يصلي عريانا ولو كان وحده، فعلم أن أخذ الزينة في الصلاة لم يكن لتحتجب عن الناس، فهذا نوع، وهذا نوع.

وحينئذ فقد يستر المصلي في الصلاة ما يجوز إبداؤه في غير الصلاة، وقد يبدي في الصلاة ما يستره عن الرجال.

فالأول مثل المنكبين، فإن النبي نهى أن يصلى الرجل في الثوب الواحد ليس على عاتقه منه شيء فهذا لحق الصلاة، ويجوز له كشف منكبيه للرجال خارج
এটি সমজাতীয় ব্যক্তির লজ্জাস্থান (عورة) দেখা এবং স্পর্শ করার ব্যাপারে একটি নিষেধাজ্ঞা (نهي), কারণ এতে কদর্যতা ও অশ্লীলতা রয়েছে। আর নারী-পুরুষের বিষয়টি হচ্ছে বৈবাহিক কামনার কারণে; সুতরাং এগুলো হলো দুটি প্রকার।

নামাজের ক্ষেত্রে তৃতীয় এক প্রকার রয়েছে; কেননা নারী যদি একাকীও নামাজ আদায় করে, তবুও তাকে মস্তক আবৃত করার (اختمار) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ নামাজের বাইরে নিজ গৃহে তার মাথা অনাবৃত রাখা তার জন্য বৈধ। সুতরাং নামাজে সৌন্দর্য গ্রহণ করা (أخذ الزينة) আল্লাহর হকের অন্তর্ভুক্ত। তাই কারও জন্য উলঙ্গ অবস্থায় কাবা ঘর তাওয়াফ করা বৈধ নয়, এমনকি সে যদি রাতে একাকীও হয়। তেমনিভাবে কেউ একাকী থাকলেও উলঙ্গ অবস্থায় নামাজ আদায় করবে না। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, নামাজে সৌন্দর্য গ্রহণ করার বিষয়টি মানুষের নিকট থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য নয়। সুতরাং এটি এক প্রকার, আর ওটি অন্য প্রকার।

এমতাবস্থায়, নামাজি ব্যক্তি নামাজের ভেতর এমন কিছু আবৃত করতে পারে যা নামাজের বাইরে প্রকাশ করা বৈধ। আবার সে নামাজের মধ্যে এমন কিছু প্রকাশ করতে পারে যা পুরুষদের সামনে সে আবৃত রাখে।

প্রথমটির উদাহরণ হলো উভয় কাঁধ; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো ব্যক্তিকে এক কাপড়ে এমনভাবে নামাজ আদায় করতে নিষেধ (نهى) করেছেন যাতে তার কাঁধের (عاتق) ওপর কাপড়ের কোনো অংশ না থাকে। এটি নামাজের হকের কারণে; অথচ নামাজের বাইরে পুরুষদের সামনে তার উভয় কাঁধ অনাবৃত রাখা তার জন্য বৈধ।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ১৪)
الصلاة.

وكذلك المرأة الحرة تختمر في الصلاة، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا يقبل الله صلاة حائض إلا بخمار» وهى لا تختمر عند زوجها ولا عند ذوي محارمها، فقد جاز لها إبداء الزينة الباطنة لهؤلاء، ولا يجوز لها في الصلاة أن تكشف رأسها لا لهؤلاء ولا لغيرهم.

وعكس ذلك الوجه واليدان والقدمان، ليس لها أن تبدي ذلك للأجانب على أصح القولين، بخلاف ما كان قبل النسخ، بل لا تبدي إلا الثياب.

وأما ستر ذلك في الصلاة، فلا يجب باتفاق المسلمين، بل يجوز لها كشف الوجه بالإجماع، وإن كان من الزينة الباطنة. وكذلك اليدان يجوز إبداؤهما في الصلاة عند جمهور العلماء، كأبي حنيفة والشافعي وغيرهما، وهو إحدى الروايتين عن أحمد، وكذلك القدم يجوز إبداؤه عند أبي حنيفة، وهو الأقوى، فإن عائشة جعلته من الزينة الظاهرة. قالت: {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} [النور: 31] (1)

--------------------------------------------

(1) سورة النور آية: 31.
নামাজ।

অনুরূপভাবে একজন স্বাধীন নারী নামাজের সময় ওড়না পরিধান করবেন, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা ওড়না ব্যতীত কোনো ঋতুবতী নারীর নামাজ কবুল করেন না।" অথচ তিনি তাঁর স্বামী বা মাহরামদের সামনে ওড়না পরিধান করেন না, কারণ তাঁদের সামনে অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য প্রকাশ করা তাঁর জন্য বৈধ। কিন্তু নামাজের মধ্যে তিনি নিজের মাথা উন্মুক্ত রাখতে পারবেন না, চাই তিনি তাঁদের সামনে থাকুন বা অন্যদের সামনে।

এর বিপরীত হলো মুখমণ্ডল, দুই হাত এবং দুই পা; দুটি মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মতানুযায়ী পরপুরুষের সামনে এগুলো প্রকাশ করা তাঁর জন্য বৈধ নয়, যা রহিতকরণের (نسخ) পূর্ববর্তী বিধানের পরিপন্থী। বরং তিনি কেবল তাঁর পোশাক ব্যতীত অন্য কিছু প্রকাশ করবেন না।

আর নামাজের মধ্যে এগুলো আবৃত করা মুসলমানদের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী ওয়াজিব নয়, বরং সর্বসম্মতিক্রমে (إجماع) নামাজের সময় তাঁর জন্য মুখমণ্ডল খোলা রাখা জায়েজ, যদিও তা অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে অধিকাংশ (جمهور) আলিম যেমন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফিয়ি এবং অন্যদের মতে নামাজের মধ্যে দুই হাত প্রকাশ করা জায়েজ এবং এটি ইমাম আহমাদ থেকে প্রাপ্ত দুটি বর্ণনার (رواية) একটি। তদ্রূপ ইমাম আবু হানিফার নিকট নামাজের মধ্যে পা প্রকাশ করা জায়েজ এবং এটিই অধিক শক্তিশালী মত। কেননা আয়েশা (রা.) একে প্রকাশ্য সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি বলেন: {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা সাধারণত প্রকাশ হয়ে থাকে তা ছাড়া} [আন-নূর: ৩১]

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর আয়াত: ৩১।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ১৫)
قالت: الفتخ: حلق من فضة تكون في أصابع الرجلين. رواه ابن أبي حاتم، فهذا دليل على أن النساء كن يظهرن أقدامهن أولاً، كما يظهرن الوجه واليدين، فإنهن كن يرخين ذيولهن، فهي إذا مشت قد يظهر قدمها. فإنهن لم يكنّ يمشين في خفاف وأحذية. وتغطية هذا في الصلاة فيه حرج عظيم، وأم سلمة قالت: تصلي المرأة في ثوب سابغ يغطى ظهور قدميها، فهي إذا سجدت قد يبدو باطن القدم.

وبالجملة فقد ثبت بالنص والإجماع أنه ليس عليها في الصلاة أن تلبس الجلباب الذي يسترها إذا كانت في بيتها، وإنما ذلك إذا خرجت، وحينئذ فتصلي في بيتها، وإن بَدا وجهها ويداها وقدماها. كما كن يمشين أولاً قبل الأمر بإدناء الجلابيب عليهن، فليست العورة في الصلاة مرتبطة بعورة النظر، لا طردا ولا عكسا.
তিনি বলেছেন: আল-ফাতাখ হলো রূপার আংটি যা পায়ের আঙুলে পরা হয়। এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) ইবনে আবি হাতিম। এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে, মহিলারা শুরুতে তাদের পা প্রকাশ করতেন, যেমনটি তারা মুখমণ্ডল ও হাত প্রকাশ করতেন। তারা তাদের কাপড়ের প্রান্ত ঝুলিয়ে রাখতেন, ফলে হাঁটার সময় তাদের পা প্রকাশ পেত। তারা মোজা বা জুতো পরে চলাফেরা করতেন না। আর সালাতে এটি ঢেকে রাখা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। উম্মে সালামাহ (রা.) বলেছেন: নারী এমন প্রশস্ত পোশাকে সালাত আদায় করবে যা তার পায়ের উপরিভাগ ঢেকে রাখে, এমতাবস্থায় সে যখন সিজদাহ করবে তখন তার পায়ের তলা প্রকাশ পেতে পারে।

সারকথা হলো, দলিল (النص) ও ঐক্যমতের (الإجماع) ভিত্তিতে এটি প্রমাণিত যে, নারী যখন ঘরে থাকে তখন সালাত আদায়ের জন্য তার ওপর এমন জিলবাব পরিধান করা আবশ্যক নয় যা তাকে আবৃত করে; বরং এটি কেবল বাইরে বের হওয়ার সময়ের জন্য। এমতাবস্থায় সে নিজ ঘরেই সালাত আদায় করবে, যদিও তার মুখমণ্ডল, দুই হাত ও দুই পা প্রকাশ পায়। যেমনটি জিলবাবের বিধান আসার পূর্বে তারা চলাফেরা করতেন। অতএব, সালাতের সতর (العورة) এবং দৃষ্টির সতর (العورة) একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত নয়; এটি অনুগামী (طردا) কিংবা ব্যতিরেকী (عكسا) কোনোভাবেই অপরিহার্য নয়।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ১৬)
وابن مسعود رضي الله عنه لما قال: الزينة الظاهرة هي الثياب، لم يقل: إنها كلها عورة حتى ظفرها. بل هذا قول أحمد، يعني به أنها تستره في الصلاة، فإن الفقهاء يسمون ذلك " باب ستر العورة " وليس هذا من ألفاظ الرسول، ولا في الكتاب والسنة أن ما يستره المصلى فهو عورة، بل قال تعالى: {خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ} [الأعراف: 31] (1) .

ونهى النبي صلى الله عليه وسلم أن يطوف بالبيت عريانا فالصلاة أولى. وسئل عن الصلاة في الثوب الواحد، فقال: «أو لِكُلِّكُم ثوبان؟» . وقال في الثوب الواحد: «إن كان واسعا فالتحف به، وإن كان ضيقا فاتزر به» ونهى أن يصلي الرجل في ثوب واحد وليس على عاتقه منه شيء فهذا دليل على أنه يؤمر في الصلاة بستر العورة، الفخذ وغيره، وإن جوزنا للرجل النظر إلى ذلك.

--------------------------------------------

(1) سورة الأعراف: 31.
এবং ইবনে মাসউদ (রা.) যখন বলেছিলেন: 'প্রকাশ্য সৌন্দর্য হলো পোশাক', তখন তিনি এটি বলেননি যে, নখ পর্যন্ত নারীর পুরো শরীরই সতর (عورة)। বরং এটি ইমাম আহমদের অভিমত, যা দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে এটি সলাতে শরীর আবৃত করে। কেননা ফকিহগণ একে 'সতর (عورة) আবৃত করার অধ্যায়' বলে অভিহিত করেন। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শব্দ নয়, আর না কিতাব ও সুন্নাহতে এমন কিছু আছে যে মুসল্লি যা দ্বারা নিজেকে আবৃত করেন তাই সতর (عورة)। বরং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা প্রত্যেক সলাতের সময় তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ করো} [আল-আরাফ: ৩১] (১) ।

আর নবী (সা.) নগ্ন অবস্থায় বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে নিষেধ করেছেন, সুতরাং সলাত এর চেয়েও অধিক গুরুত্বের দাবি রাখে। তাঁকে এক কাপড়ে সলাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: «তোমাদের প্রত্যেকের কি দুটি করে কাপড় আছে?» এবং এক কাপড়ের ব্যাপারে তিনি বললেন: «যদি তা প্রশস্ত হয় তবে তা জড়িয়ে নাও, আর যদি সংকীর্ণ হয় তবে তা লুঙ্গি হিসেবে পরিধান করো» এবং তিনি কোনো ব্যক্তির এক কাপড়ে সলাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন যখন তার কাঁধের ওপর কাপড়ের কোনো অংশ না থাকে। এটি প্রমাণ করে যে, সলাতে সতর (عورة)—উরু এবং অন্যান্য অঙ্গ—আবৃত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও আমরা পুরুষের জন্য সেদিকে তাকানো বৈধ মনে করি।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আরাফ: ৩১।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ১৭)
فإذا قلنا على أحد القولين، وهو إحدى الروايتين عن أحمد: أن العورة هي السوأتان، وأن الفخذ ليس بعورة، فهذا في جواز نظر الرجل إليها، ليس هو في الصلاة والطواف، فلا يجوز أن يصلي الرجل مكشوف الفخذين، سواء قيل: هما عورة أو لا، ولا يطوف عريانا، بل عليه أن يصلى في ثوب واحد، ولا بد من ذلك، إن كان ضيقا اتّزر به، وإن كان واسعا التحف به، كما أنه لو صلى وحده في بيت كان عليه تغطية ذلك باتفاق العلماء.

وأما صلاة الرجل بادي الفخذين مع القدرة على الإزار، فهذا لا يجوز، ولا ينبغي أن يكون في ذلك خلاف، ومن بنى هذا على الروايتين في العورة، كما فعله طائفة فقد غلطوا. ولم يقل أحمد ولا غيره: إن المصلي يصلى على هذه الحال، كيف وأحمد يأمره بستر المنكبين؟ فكيف يبيح له كشف الفخذ؟! فهذا هذا.
যদি আমরা দুটি মতের কোনো একটি গ্রহণ করি—যা ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনা (رواية)-এর একটি—যে সতর হলো কেবল লজ্জাস্থানদ্বয় এবং উরু সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে এটি পুরুষের দিকে নজর দেওয়ার বৈধতা সংশ্লিষ্ট মাসআলা; এটি সালাত এবং তাওয়াফ সংশ্লিষ্ট বিষয় নয়। সুতরাং পুরুষের পক্ষে উরু অনাবৃত রেখে সালাত আদায় করা জায়েয নয়, চাই উরু সতর হিসেবে গণ্য হোক বা না হোক। সে উলঙ্গ অবস্থায় তাওয়াফও করবে না, বরং তার কর্তব্য হলো অন্তত একটি কাপড়ে সালাত আদায় করা এবং এটি অপরিহার্য। কাপড়টি যদি সংকীর্ণ হয় তবে তা দিয়ে সে ইজার (লুঙ্গি) পরিধান করবে, আর যদি প্রশস্ত হয় তবে তা দিয়ে শরীর জড়িয়ে নেবে। ঠিক তেমনিভাবে সে যদি ঘরের ভেতর একা সালাত আদায় করে, তবে আলেমদের সর্বসম্মত মতে তার পক্ষে তা আবৃত করা আবশ্যক।

আর লুঙ্গি পরিধান করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও উরু উন্মুক্ত রেখে পুরুষের সালাত আদায়ের বিষয়টি জায়েয নয় এবং এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ থাকা উচিত নয়। যারা এই মাসআলাটিকে সতরের ব্যাপারে বিদ্যমান দুটি বর্ণনা (رواية)-এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিপন্ন করেছেন—যেমনটি একদল ফকিহ করেছেন—তারা ভুল করেছেন। ইমাম আহমদ বা অন্য কেউ এমন কথা বলেননি যে, মুসল্লি এই অবস্থায় সালাত আদায় করবে। ইমাম আহমদ তো যেখানে সালাতে উভয় কাঁধ আবৃত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে তিনি কীভাবে উরু উন্মুক্ত রাখাকে বৈধ ঘোষণা করতে পারেন?! সুতরাং বিষয়টি পরিষ্কার।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد اختلف في وجوب ستر العورة إذا كان الرجل خاليا، ولم يختلف في أنه في الصلاة لا بد من اللباس، (وأنه) لا تجوز الصلاة عريانا مع القدرة على اللباس باتفاق العلماء، ولهذا جوز أحمد وغيره للعراة أن يصلوا قعودا ويكون إمامهم وسطهم، بخلاف خارج الصلاة، هذا الستر لحرمة الصلاة، لا لأجل النظر، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم في حديث بهز بن حكيم عن أبيه عن جده لما قَال: «قلت يا رسول الله، فإذا كان أحدنا خاليا؟ قال: فالله أحقُّ أن يستحيا منه من الناس.»

فإذا كان هذا خارج الصلاة، فهو في الصلاة أحق أن يستحيا منه، فتؤخذ الزينة لمناجاته سبحانه وتعالى، ولهذا قال ابن عمر لغلامه نافع لما رآه يصلي حاسراً: " أرأيت لو خرجت إلى الناس، كنت تخرج هكذا؟ " قال: لا. قال: فالله أحق من يتجمل له.

وفي الحديث الصحيح لما قيل للنبي صلى الله عليه وسلم -
একজন ব্যক্তি যখন নির্জনে থাকেন, তখন সতর আবৃত করার আবশ্যকতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; তবে সালাতের মধ্যে পোশাক পরিধান করা যে আবশ্যক, সে বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। আলেমদের ঐকমত্যে পোশাক পরিধানে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও বস্ত্রহীন অবস্থায় সালাত আদায় করা বৈধ নয়। এ কারণেই ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য ফকীহগণ বস্ত্রহীন ব্যক্তিদের জন্য বসে সালাত আদায়ের অনুমতি দিয়েছেন এবং এমতাবস্থায় তাদের ইমাম তাদের মাঝখানে দাঁড়াবেন; যা সালাতের বাইরের সাধারণ অবস্থার বিপরীত। এই সতর আবৃতকরণ মূলত সালাতের মর্যাদার খাতিরে, কেবল অন্যের দৃষ্টি এড়ানোর জন্য নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহয ইবনে হাকিম, তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন, যখন তাঁর দাদা জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ যখন নির্জনে থাকে (তখন কি সতর ঢাকবে)?" তিনি বললেন: "মানুষের চেয়ে আল্লাহ তাআলাই অধিক হকদার যে তাঁকে লজ্জা করা হবে।"

বিষয়টি যদি সালাতের বাইরেও প্রযোজ্য হয়, তবে সালাতের মধ্যে তিনি (আল্লাহ) লজ্জা পাওয়ার আরও বেশি হকদার। সুতরাং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাথে নিভৃতে কথোপকথনের জন্য সৌন্দর্যমণ্ডিত পোশাক গ্রহণ করা উচিত। এ কারণেই ইবনে উমর (রা.) তাঁর গোলাম নাফেকে যখন মস্তক উন্মুক্ত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখলেন, তখন বললেন: "তুমি কি মনে করো, যদি তুমি মানুষের সামনে বের হতে, তবে কি এভাবেই বের হতে?" তিনি উত্তর দিলেন: "না।" ইবনে উমর (রা.) বললেন: "তবে আল্লাহই অধিক হকদার যে তাঁর উদ্দেশ্যে সৌন্দর্য অবলম্বন করা হবে।"

এবং সহিহ (صحيح) হাদিসে আছে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হলো—
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ১৯)
: «الرجل يحب أن يكون ثوبه حسنا ونعله حسنا؟ فقال: إن الله جميل يحب الجمال.»

وهذا كما أمر المصلي بالطهارة والنظافة والطيب، فقد أمر النبي صلى الله عليه وسلم «أن تتخذ المساجد في البيوت وتنظف وتطيب» وعلى هذا، فيستتر في الصلاة أبلغ مما يستتر الرجل من الرجل، والمرأة من المرأة.

ولهذا أمرت المرأة أن تختمر في الصلاة. وأما وجهها ويداها وقدماها، فهي إنما نهيت عن إبداء ذلك للأجانب، لم تنه عن إبدائه للنساء، ولا لذوي المحارم فعلم أنه ليس من جنس عورة الرجل مع الرجل، والمرأة مع المرأة التي نهى عنها لأجل الفحش وقبح كشف العورة، بل هذا من مقدمات الفاحشة، فكان النهي عن إبدائها نهيا عن مقدمات الفاحشة، كما قال في الآية: {ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ} [النور: 30] (1) وقال في آية الحجاب: {ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ} [الأحزاب: 53] (2) فنهى عن هذا

--------------------------------------------

(1) سورة النور آية: 30.

(2) سورة الأحزاب آية: 53.
«ব্যক্তি কি পছন্দ করে যে তার পোশাক সুন্দর হোক এবং তার জুতো সুন্দর হোক? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন।»

এটি সেরূপ যেমন নামাজ আদায়কারীকে পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদ্রূপ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন «যেন ঘরবাড়িতে মসজিদ (নামাজের স্থান) প্রস্তুত করা হয় এবং তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধযুক্ত রাখা হয়»। এর ওপর ভিত্তি করে, নামাজে একজন পুরুষ অন্য পুরুষের সামনে কিংবা একজন নারী অন্য নারীর সামনে যেভাবে আবৃত থাকে, তার চেয়েও অধিক গুরুত্বের সাথে নিজেকে আবৃত করতে হবে।

এই কারণেই নারীকে নামাজে ওড়না (খিমার) পরিধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর তার মুখমণ্ডল, হাত ও পা প্রসঙ্গে বলা যায় যে, তাকে কেবল পরপুরুষের (أجانب) সামনে এগুলো প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়েছে; নারীদের সামনে কিংবা মাহরাম (محارم) আত্মীয়দের সামনে এগুলো প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়নি। এ থেকে অবগত হওয়া গেল যে, এটি একজন পুরুষের জন্য অন্য পুরুষের সামনে কিংবা একজন নারীর জন্য অন্য নারীর সামনে সতর (عورة) আবৃত করার মতো বিষয় নয়, যা অশ্লীলতা (فحش) ও সতর (عورة) উন্মোচনের কদর্যতার কারণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বরং এটি হলো অশ্লীলতার (فاحشة) উপক্রমসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তা প্রকাশ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা মূলত অশ্লীলতার (فاحشة) উপক্রমসমূহ থেকে বারণ করার নামান্তর, যেমনটি আল্লাহ আয়াতে বলেছেন: {এটি তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র} [আন-নূর: ৩০] (১)। এবং হিজাব সংক্রান্ত আয়াতে বলেছেন: {এটি তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র} [আল-আহজাব: ৫৩] (২)। সুতরাং তিনি এটি নিষিদ্ধ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর আয়াত: ৩০।

(২) সূরা আল-আহজাব আয়াত: ৫৩।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ২০)
سدا للذريعة، لا أنه عورة مطلقة، لا في الصلاة ولا في غيرها، فهذا هذا.

وأمر المرأة في الصلاة بتغطية يديها بعيد جدا، واليدان تسجدان كما يسجد الوجه. والنساء على عهد النبي صلى الله عليه وسلم إنما كان لهن قمص، وكن يصنعن الصنائع والقمص عليهن، فتبدي المرأة يديها إذا عجنت وطحنت وخبزت، ولو كان ستر اليدين في الصلاة واجبا لبينه النبي صلى الله عليه وسلم، وكذلك القدمان، وإنما أمر بالخمار فقط مع القميص، فكنَّ يصلين في قمصهن وخمرهن.

وأما الثوب الذي كانت المرأة ترخيه، وسألن عن ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «شبرًا فقلن: إذاً تبدو سوقهن؟ فقال: ذراع لا يزدن عليه» . وقول عمر ابن ربيعة:

كتب القتل والقتال علينا … وعلى الغانيات جر الذيول

فهذا كان إذا خرجن من البيوت، ولهذا سئل عن
অনাকাঙ্ক্ষিত পথ রুদ্ধ করার জন্য (سدًا للذريعة), এটি এমন নয় যে এটি নিরঙ্কুশ সতর (عورة مطلقة); সালাত বা সালাতের বাইরে কোথাও এটি এমন নয়। বিষয়টি এ রকমই।

আর সালাতের মধ্যে নারীকে তার দুই হাত আবৃত করার নির্দেশ দেওয়া বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে, কেননা চেহারা যেভাবে সিজদাহ করে, দুই হাতও সেভাবেই সিজদাহ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে নারীদের নিকট কেবল কামিজ (قميص) থাকত এবং তারা যখন বিভিন্ন কাজ করত তখন তাদের গায়ে সেই কামিজই থাকত। ফলে আটা মাখা, পেষণ করা বা রুটি তৈরির সময় নারীদের হাত প্রকাশিত হয়ে পড়ত। যদি সালাতে দুই হাত ঢেকে রাখা আবশ্যক (واجب) হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করতেন। দুই পায়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। তিনি কেবল কামিজের সাথে ওড়না (خمار) ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন; ফলে তারা তাদের কামিজ ও ওড়না পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতেন।

আর যে পোশাক নারীরা ঝুলিয়ে রাখত এবং সে সম্পর্কে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেন: “এক বিঘত (شبرا)।” তারা বলল: “তাহলে তো তাদের পায়ের গোছা প্রকাশিত হয়ে পড়বে?” তিনি বললেন: “তবে এক হাত (ذراع), এর বেশি তারা করবে না।” আর উমর ইবনে আবি রাবিআ-র উক্তি:

আমাদের জন্য অবধারিত হয়েছে হত্যা ও লড়াই … আর রূপসীদের জন্য আঁচল টেনে চলা

এটি ছিল যখন তারা ঘর থেকে বের হতো সে সময়ের জন্য, আর এ কারণেই জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল...
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ২১)
المرأة تجر ذيلها على المكان القذر؟ فقال: «يطهره ما بعده» . وأما في نفس البيت فلم تكن تلبس مثل ذلك. كما أن الخفاف اتخذها النساء بعد ذلك لستر السوق إذا خرجن، وهن لا يلبسنها في البيوت، ولهذا قلن: إذاً تبدو سوقهن، وكأن المقصود تغطية السوق، لأن الثوب إذا كان فوق الكعبين بدا الساق عند المشي.

وقد روي: «أعروا النساء يلزمن الحجال» يعنى إذا لم يكن لها ما تلبسه في الخروج لزمت بيتها.

وكنَّ نساء المسلمين يصلين في بيوتهن، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا تمنعوا إماء الله مساجد الله، وبيوتهن خير لهن» ولم يؤمرن مع القُمُص إلا بالخمر، لم تؤمر بما يغطي رجليها، لا خف ولا جورب. ولا بما يغطي يديها، لا بقفازين ولا غير ذلك.

فدل على أنه لا يجب عليها في الصلاة ستر ذلك إذا لم يكن عندها رجال أجانب. وقد روي أن الملائكة لا تنظر إلى الزينة الباطنة. فإذا وضعت خمارها أو
একজন নারী কি অপবিত্র স্থানের ওপর দিয়ে তার কাপড়ের প্রান্ত টেনে নিয়ে যাবে? তিনি উত্তরে বললেন: "এর পরবর্তী পবিত্র স্থান তাকে পবিত্র করে দেবে।" তবে ঘরের ভেতরে তারা এ ধরনের পোশাক পরতেন না। একইভাবে, নারীরা পরবর্তীতে বাইরে বের হওয়ার সময় তাদের পায়ের নলা আবৃত করার জন্য চামড়ার মোজা ব্যবহার করতে শুরু করেন, অথচ তারা ঘরের ভেতরে তা পরিধান করতেন না। এজন্যই তারা বলেছিলেন: "তাহলে তো তাদের পায়ের নলা উন্মোচিত হয়ে পড়বে।" এতে প্রতীয়মান হয় যে, এর উদ্দেশ্য ছিল নলা আবৃত রাখা, কারণ পোশাক যদি টাখনুর উপরে থাকে তবে হাঁটার সময় নলা প্রকাশিত হয়ে পড়ে।

আর বর্ণিত (روي) হয়েছে: "নারীদের বস্ত্রহীন রাখো, তবেই তারা অন্তঃপুরে অবস্থান করবে।" অর্থাৎ যখন বাইরে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত পোশাক থাকবে না, তখন সে নিজ গৃহেই অবস্থান করবে।

মুসলিম নারীরা তাদের ঘরে নামাজ আদায় করতেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে আসতে বাধা দিও না, তবে তাদের ঘরই তাদের জন্য অধিকতর উত্তম।" তাদেরকে কামিজের সাথে কেবল ওড়না ছাড়া অন্য কিছুর নির্দেশ দেওয়া হয়নি; পা আবৃত করার জন্য চামড়ার মোজা কিংবা সাধারণ মোজার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, এবং হাত আবৃত করার জন্য হাতমোজা বা অন্য কিছুরও নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

এটি প্রমাণ করে যে, যদি সেখানে কোনো পরপুরুষ উপস্থিত না থাকে, তবে নামাজের মধ্যে উক্ত অঙ্গগুলো আবৃত করা তার জন্য আবশ্যিক (واجب) নয়। আর বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, ফেরেশতারা অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না। সুতরাং যখন সে তার ওড়না সরিয়ে ফেলে অথবা
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ২২)
قميصها، لم ينظر إليها. وروي في ذلك حديث عن خديجة، فهذا القدر - القميص والخمار - وهو المأمور به لحق الصلاة. كما يؤمر الرجل إذا صلى. في ثوب واحد واسع أن يلتحف به، فيغطى عورته ومنكبيه.

والمنكبان في حقه، كالرأس في حق المرأة، لأنه يصلي في قميص، أو ما يقوم مقام القميص. وهو في الإحرام لا يلبس على بدنه ما يقدر له. كالقميص والجبة، كما أن المرأة لا تنتقب، ولا تلبس القفازين، وأما رأسه فلا يخمره.

 

‌‌[الخلاف في وجه المرأة]

ووجه المرأة فيه قولان في مذهب أحمد وغيره:

1 - قيل: إنه كرأس الرجل فلا يغطى.

2 - وقيل: إنه كيديه، فلا يغطى بالنقاب، والبرقع ونحو ذلك مما صنع على قدره، وهذا هو الصحيح، فإن النبي صلى الله عليه وسلم لم ينه إلا عن القفازين والنقاب.
তার কামিজ, তিনি তার দিকে তাকাননি। এ বিষয়ে খাদিজা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এই পরিমাণ—কামিজ ও ওড়না—সালাতের হকের জন্য নির্দেশিত। যেমন একজন পুরুষকে নির্দেশ দেওয়া হয় যখন সে একটি প্রশস্ত কাপড়ে সালাত আদায় করে, যেন সে তা দিয়ে নিজেকে জড়িয়ে নেয় এবং তার সতর ও দুই কাঁধ ঢেকে রাখে।

আর পুরুষের ক্ষেত্রে দুই কাঁধ হলো নারীর ক্ষেত্রে মাথার মতো; কারণ সে কামিজ অথবা কামিজের স্থলাভিষিক্ত কোনো পোশাকে সালাত আদায় করে। ইহরাম অবস্থায় সে তার শরীরের মাপে তৈরিকৃত কোনো পোশাক পরিধান করবে না, যেমন কামিজ ও জুব্বা; ঠিক তেমনি নারী নিকাব পরবে না এবং হাতমোজা পরিধান করবে না। আর পুরুষ তার মাথা ঢাকবে না।

 

‌‌[নারীর মুখমণ্ডলের ব্যাপারে মতভেদ]

নারীর মুখমণ্ডলের ব্যাপারে আহমাদ ও অন্যদের মাজহাবে দুটি অভিমত রয়েছে:

১ - বলা হয়েছে: এটি পুরুষের মাথার মতো, তাই তা ঢাকা যাবে না।

২ - আবার বলা হয়েছে: এটি তার দুই হাতের মতো, তাই তা নিকাব, বোরকা এবং এই জাতীয় যা শরীরের অঙ্গের মাপে তৈরি করা হয়েছে তা দিয়ে ঢাকা যাবে না। আর এটিই হলো বিশুদ্ধ (الصحيح) মত, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল হাতমোজা ও নিকাব ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ২৩)
وكن النساء يدنين على وجوههن ما يسترها من الرجال من غير وضع ما يجافيها عن الوجه، فعلم أن وجهها كيدي الرجل ويديها، وذلك أن المرأة كلها عورة كما تقدم، فلها أن تغطى وجهها ويديها، ولكن بغير اللباس المصنوع بقدر العضو، كما أن الرجل لا يلبس السراويل، ويلبس الإزار، والله سبحانه أعلم.

ومن كلامه رحمه الله تعالى- في جوابه واستنباطه من معاني سورة النور - في معنى ما تقدم قوله

المرأة يجب أن تصان وتحفظ بما لا يجب مثله في الرجل ولهذا خصت بالاحتجاب، وترك إبداء الزينة، وترك التبرج.

فيجب في حقها الاستتار باللباس والبيوت ما لا يجب في حق الرجل، لأن ظهور النساء سبب الفتنة، والرجال قوامون عليهن.

قال تعالى: {قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ} [النور: 30]
মহিলারা পুরুষদের থেকে নিজেদের আবৃত করার জন্য তাদের চেহারার ওপর এমন কিছু ঝুলিয়ে দিত যা তা ঢেকে রাখে, কোনো কিছু চেহারার সাথে লেগে না থেকে আলাদা হয়ে থাকার ব্যবস্থা ছাড়াই। এর থেকে জানা গেল যে, তার চেহারা পুরুষের দুই হাতের মতো এবং তার দুই হাতও (অর্থাৎ এগুলো নির্দিষ্ট অবস্থায় আবৃত রাখার বিষয়ে ভিন্ন নিয়ম)। এর কারণ হলো, নারী সম্পূর্ণভাবে আবরণীয় (عورة), যা আগে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং তার জন্য চেহারা ও দুই হাত ঢেকে রাখা বৈধ, তবে তা শরীরের অঙ্গের মাপে তৈরি পোশাক দ্বারা হবে না। যেমন পুরুষ পায়জামা পরিধান করে না বরং চাদর বা লুঙ্গি পরিধান করে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অধিক জ্ঞাত।

তাঁর (আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন) কথা থেকে—সুরা আন-নূরের ভাবার্থ থেকে তাঁর উত্তর ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে—পূর্বে যা আলোচিত হয়েছে সে সম্পর্কে তাঁর উক্তি হলো:

নারীকে অবশ্যই এমনভাবে সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে যা পুরুষের ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়। এ কারণেই তাকে পর্দার (الاحتجاب), সৌন্দর্য প্রদর্শন বর্জন করার এবং জাহেলি প্রদর্শন বা তাবাররুজ (تبرج) ত্যাগ করার বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুতরাং পোশাক এবং গৃহের মাধ্যমে নিজেকে আবৃত রাখা তার ক্ষেত্রে এমনভাবে আবশ্যক যা পুরুষের ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়। কারণ নারীদের প্রকাশ হওয়া ফিতনা (فتنة) বা বিশৃঙ্খলার কারণ, আর পুরুষরা তাদের ওপর দায়িত্বশীল (قوامون)।

মহান আল্লাহ বলেন: {মুমিনদের বলো তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। এটি তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র।} [আন-নূর: ৩০]
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ২৪)
الآية إلى قوله: {وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [النور: 31] (1) فأمر الله سبحانه الرجال والنساء بالغض من البصر، وحفظ الفرج، كما أمرهم جميعا بالتوبة.

وأمر النساء خصوصا بالاستتار، وأن لا يبدين زينتهن إلا لبعولتهن، ومن استثناه الله تعالى في الآية، فما ظهر من الزينة هو الثياب الظاهرة. فهذا لا جناح عليها في إبدائها. إذا لم يكن في ذلك محذور آخر، فإن هذه لا بد من إبدائها. وهذا قول ابن مسعود وغيره، وهو المشهور عن أحمد.

وقال ابن عباس: الوجه واليدان من الزينة الظاهرة. وهي الرواية الثانية عن أحمد، وهو قول طائفة من العلماء، كالشافعي وغيره.

وأمر سبحانه وتعالى بإرخاء الجلابيب لئلا يعرفن ولا يؤذين، وهذا دليل على القول الأول. وقد ذكر

--------------------------------------------

(1) سورة النور 30 - 31.
আয়াতটি আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {হে মুমিনগণ, তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।} [নূর: ৩১] (১) সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পুরুষ ও নারীদের দৃষ্টি অবনত রাখা এবং লজ্জাস্থানের হিফাযত করার নির্দেশ দিয়েছেন, যেভাবে তিনি তাদের সকলকে তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বিশেষভাবে নারীদের পর্দা করার এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করার নির্দেশ দিয়েছেন—তাদের স্বামী এবং আয়াতে আল্লাহ তাআলা যাদের ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা ব্যতীত। আর সৌন্দর্যের মধ্যে যা প্রকাশমান তা হলো বাহ্যিক পোশাক। সুতরাং এটি প্রকাশ করাতে তাদের কোনো গুনাহ নেই। যদি এতে অন্য কোনো নিষিদ্ধ বিষয় না থাকে, তবে এটি প্রকাশ করা অনিবার্য। এটি ইবনে মাসউদ ও অন্যান্যদের অভিমত এবং এটিই আহমাদ থেকে প্রাপ্ত প্রসিদ্ধ (مشهور) মত।

ইবনে আব্বাস বলেছেন: মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কব্জি প্রকাশমান সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। এটি আহমাদ থেকে বর্ণিত দ্বিতীয় বর্ণনা (رواية), এবং এটি শাফেয়ী ও অন্যান্য একদল আলিমের অভিমত।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জিলবাব (চাদর) ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা পরিচিত না হয় এবং লাঞ্ছিত না হয়; আর এটি প্রথম অভিমতের স্বপক্ষে একটি দলিল (دليل)। এবং উল্লেখ করা হয়েছে যে

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর ৩০ - ৩১।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ২৫)
عبيدة السلماني وغيره: أن نساء المؤمنين كن يدنين عليهن الجلابيب من فوق رؤوسهن حتى لا يظهر إلا عيونهن لأجل رؤية الطريق.

وثبت في " الصحيح " أن المرأة المحرمة تنهى عن الانتقاب والقفازين، وهذا مما يدل على أن النقاب والقفازين كانا معروفين في النساء اللائي لم يحرمن، وذلك يقتضي ستر وجوههن وأيديهن.

وقد نهى الله تعالى عما يوجب العلم بالزينة الخفية بالسمع أو غيره. فقال: {وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ} [النور: 31] وقال: {وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} [النور: 31] (1) فلما نزل ذلك عمد نساء المؤمنين إلى خمرهن، فشققنهن وأرخينها على أعناقهن.

والجيب: هو شق في طول القميص، فإذا ضربت

--------------------------------------------

(1) سورة النور آية 31.
উবাইদাহ আল-সালমানি এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত: মুমিন নারীরা তাদের মাথার উপর থেকে তাদের জিলবাব (চাদর) এমনভাবে ঝুলিয়ে দিতেন যেন রাস্তা দেখার জন্য চোখ ব্যতীত আর কিছুই প্রকাশ না পায়।

আর 'সহিহ' গ্রন্থে প্রমাণিত হয়েছে যে, ইহরাম গ্রহণকারী নারীকে নেকাব ও দস্তানা পরিধান করতে নিষেধ করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, যেসব নারী ইহরাম অবস্থায় ছিলেন না, তাদের মাঝে নেকাব ও দস্তানা পরিধান করার প্রচলন ছিল; আর এটি তাদের মুখমণ্ডল ও হাত আবৃত রাখাকেই অপরিহার্য করে।

আল্লাহ তাআলা এমন কাজ থেকে নিষেধ করেছেন যা শ্রবণ বা অন্য কোনো উপায়ে গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের কারণ হয়। তিনি ইরশাদ করেছেন: {এবং তারা যেন তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদচারণা না করে} [আন-নূর: ৩১]। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশের ওপর ফেলে রাখে} [আন-নূর: ৩১] (১)। সুতরাং যখন এই আয়াত নাজিল হলো, তখন মুমিন নারীরা তাদের ওড়না গ্রহণ করলেন, তা বিদীর্ণ করলেন এবং তাদের ঘাড় ও বক্ষদেশের ওপর ঝুলিয়ে দিলেন।

আর 'জাইব' হলো জামার দৈর্ঘ্য বরাবর একটি উন্মুক্ত অংশ, সুতরাং যখন নারী তার ওড়না সেখানে ফেলে দেয়...

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর, আয়াত ৩১।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ২৬)
المرأة بالخمار على الجيب، سترت عنقها.

وأمرت بعد ذلك أن ترخي من جلبابها. والإرخاء إنما يكون إذا خرجت من البيت، فأما إذا كانت في البيت فلا تؤمر بذلك.

وقد ثبت في " الصحيح " أن النبي صلى الله عليه وسلم لما دخل بصفية، قال أصحابه: إن رخى عليها الحجاب فهي مما ملكت يمينه. فضرب عليها الحجاب.

وإنما ضرب الحجاب على النساء لئلا تُرى وجوههن وأيديهن.

والحجاب مختص بالحرائر دون الإماء، كما كانت سنة المؤمنين في زمن النبي صلى الله عليه وسلم وخلفائه، إن الحرة تحتجب، والأمة تبرز، وكان عمر رضي الله عنه إذا رأى أمة مختمرة ضربها وقال: أتتشبهين بالحرائر أي لكاع! فيظهر من الأمة رأسها ويداها ووجهها.

وقال تعالى:
একজন নারী যখন তার বক্ষদেশের ওপর ওড়না পরিধান করে, তখন সে তার ঘাড় ঢেকে নেয়।

এরপর তাকে তার জিলবাব বা চাদর ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই ঝুলিয়ে দেওয়া তখনই কার্যকর হয় যখন সে ঘর থেকে বের হয়; পক্ষান্তরে যখন সে ঘরের ভেতরে থাকে, তখন তাকে এই নির্দেশ দেওয়া হয় না।

সহীহ গ্রন্থে সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাফিয়্যাহ (রা.)-এর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করলেন, তখন তাঁর সাহাবীগণ বললেন: "যদি তিনি তাঁর ওপর পর্দা (حجاب) ঝুলিয়ে দেন, তবে তিনি তাঁর স্ত্রী হিসেবে গণ্য হবেন; আর যদি না দেন, তবে তিনি তাঁর অধিকারভুক্ত দাসী (ملك يمين) হিসেবে গণ্য হবেন।" অতঃপর তিনি তাঁর ওপর পর্দা (حجاب) নির্ধারণ করে দিলেন।

মূলত নারীদের ওপর পর্দা (حجاب) আরোপ করা হয়েছে যাতে তাদের চেহারা ও হাত দেখা না যায়।

পর্দা (حجاب) কেবল স্বাধীন নারীদের জন্য নির্দিষ্ট, দাসীদের জন্য নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর খলীফাদের যুগে মুমিনদের সুন্নাহ (سنة) এমনটিই ছিল যে, স্বাধীন নারী পর্দা (حجاب) অবলম্বন করবে এবং দাসী জনসমক্ষে প্রকাশিত থাকবে। উমর (রা.) যখনই কোনো দাসীকে ওড়না পরিহিত অবস্থায় দেখতেন, তাকে প্রহার করতেন এবং বলতেন: "ওরে হতভাগী! তুই কি স্বাধীন নারীদের সদৃশ হতে চাইছিস?" ফলে দাসীর মাথা, হাত ও মুখমণ্ডল প্রকাশ্য থাকত।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ২৭)
{وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ اللَّاتِي لَا يَرْجُونَ نِكَاحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَنْ يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتٍ بِزِينَةٍ وَأَنْ يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَهُنَّ} [النور: 60] (1) فرخص للعجوز التي لا تطمع في النكاح أن تضع ثيابها، فلا تلقي عليها جلبابها ولا تحتجب، وإن كانت مستثناة من الحرائر لزوال المفسدة الموجودة في غيرها، كما استثنى التابعين غير أولي الإربة من الرجال في إظهار الزينة لهم في عدم الشهوة التي تتولد من الفتنة.

وكذلك الأمة إذا كان يخاف بها الفتنة، كان عليها أن ترخي من جلبابها وتحتجب، ووجب غض البصر عنها ومنها.

وليس في الكتاب والسنة إباحة النظر إلى عامة الإماء، ولا ترك احتجابهن وإبداء زينتهن، ولكن القرآن لم يأمرهن بما أمر الحرائر.

والسنة فرقت بالفعل بينهن وبين الحرائر ولم تفرق بينهن وبين الحرائر بلفظ عام. بل كانت عادة المؤمنين، أن تحتجب منهم الحرائر دون

--------------------------------------------

(1) سورة النور آية 60.
{আর এমন বৃদ্ধা নারী যারা বিবাহের আকাঙ্ক্ষা রাখে না, তাদের জন্য তাদের (বাহ্যিক) পোশাক সরিয়ে রাখাতে কোনো গুনাহ নেই, যদি না তারা সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী হয়। আর যদি তারা তা থেকে বিরত থাকে তবে তা তাদের জন্য উত্তম।} [আন-নূর: ৬০] (১) সুতরাং যে বৃদ্ধা বিবাহের আকাঙ্ক্ষা রাখে না, তাকে তার পোশাক সরিয়ে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে; ফলে সে তার ওপর জিলবাব (جلباب) পরিধান করবে না এবং পর্দাও (حجاب) করবে না। যদিও সে স্বাধীন নারীদের বিধান থেকে স্বতন্ত্র (مستثناة), কারণ অন্যদের ক্ষেত্রে যে বিপর্যয়ের (مفسدة) আশঙ্কা থাকে, তা এখানে দূরীভূত হয়েছে। এটি ঠিক তেমনি যেমন পুরুষদের মধ্য থেকে যৌন কামনা বিহীন অনুগামীদের সামনে সৌন্দর্য প্রকাশের বিষয়টিকে স্বতন্ত্র (استثنى) রাখা হয়েছে, কারণ সেখানে ফিতনা (فتنة) থেকে জন্ম নেওয়া কামনার (شهوة) অনুপস্থিতি রয়েছে।

অনুরূপভাবে ক্রীতদাসীর ক্ষেত্রেও যদি ফিতনার (فتنة) আশঙ্কা থাকে, তবে তার জন্যও জিলবাব (جلبাব) ঝুলিয়ে দেওয়া এবং পর্দা (حجاب) করা আবশ্যক। আর তার প্রতি এবং তার পক্ষ থেকে দৃষ্টি অবনত (غض البصر) রাখা ওয়াজিব (وجب)।

কিতাব ও সুন্নাহর কোথাও সাধারণ ক্রীতদাসীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করা কিংবা তাদের পর্দা বর্জন করা এবং সৌন্দর্য প্রদর্শনের বৈধতা (إباحة) দেওয়া হয়নি; তবে কুরআন তাদের সেই নির্দেশ দেয়নি যা স্বাধীন নারীদের দিয়েছে।

আর সুন্নাহ কার্যত তাদের এবং স্বাধীন নারীদের মধ্যে পার্থক্য করেছে, কিন্তু কোনো সাধারণ শব্দের (لفظ عام) মাধ্যমে তাদের ও স্বাধীন নারীদের মাঝে পার্থক্য করেনি। বরং মুমিনদের অভ্যাস ছিল এই যে, স্বাধীন নারীরা তাদের সামনে পর্দা করত, কিন্তু ক্রীতদাসীরা নয়...

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর, আয়াত ৬০।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ২৮)
الإماء. واستثنى القرآن من النساء الحرائر القواعد، فلم يجعل عليهن احتجابا. واستثنى بعض الرجال، وهم غير أولي الإربة، فلم يمنع من إبداء الزينة الخفية لهم لعدم الشهوة في هؤلاء وهؤلاء. فأن يستثنى بعض الإماء أولى وأحرى، وهن من كانت الشهوة والفتنة حاصلة بترك احتجابها وإبداء زينتها، وكما أن المحارم أبناء أزواجهن ونحوه ممن فيهن شهوة وشغف لم يجز إبداء الزينة الخفية له.

فالخطاب خرج عاما على العادة، فما خرج به عن العادة خرج به عن نظائره. فإذا كان في ظهور الأمة والنظر إليها فتنة، وجب المنع من ذلك، كما لو كانت في غير ذلك.

وهكذا الرجل مع الرجال، والمرأة مع النساء. لو كان في المرأة فتنة للنساء، وفي الرجل فتنة للرجال، لكان الأمر بالغض للناظر من بصره متوجها، كما يتوجه إليه الأمر بحفظ فرجه.

فالإماء والصبيان إذا كن حسانا تخشى الفتنة بالنظر
ক্রীতদাসীগণ। আর কুরআন স্বাধীন নারীদের মধ্য থেকে বৃদ্ধাদের (القواعد) অব্যাহতি দিয়েছে, ফলে তাদের ওপর পর্দা (احتجابا) পালনের বাধ্যবাধকতা রাখেনি। এটি কিছু পুরুষকেও অব্যাহতি দিয়েছে, যারা যৌন কামনামুক্ত (غير أولي الإربة); উভয় পক্ষেই কামনার অনুপস্থিতির কারণে তাদের সামনে গোপন সৌন্দর্য প্রকাশে বাধা দেওয়া হয়নি। সুতরাং, কিছু ক্রীতদাসীকে [পর্দার বিধান থেকে] অব্যাহতি দেওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত ও সঙ্গত; আর তারা হলো ওই সকল নারী যাদের পর্দা (احتجاب) না করা এবং সৌন্দর্য প্রকাশের ফলে কামনা ও ফিতনা (فتنة) সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। যেমনটি মাহরামদের (المحارم) ক্ষেত্রে—যেমন স্বামীর পুত্র বা অনুরূপ ব্যক্তি—যাদের প্রতি কামনা ও আসক্তি বিদ্যমান থাকলে তাদের সামনে গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করা বৈধ নয়।

মূলত শরীয়তের এই সম্বোধনটি সাধারণ প্রথার ওপর ভিত্তি করে ব্যক্ত হয়েছে; অতএব যা সাধারণ প্রথার বাইরে চলে যায়, তা তার সদৃশ বিষয়গুলো থেকেও স্বতন্ত্র হয়ে যায়। সুতরাং যদি কোনো ক্রীতদাসীর প্রকাশ্যে আসা এবং তার দিকে দৃষ্টিপাত করার মধ্যে ফিতনা (فتنة) থাকে, তবে তা নিষিদ্ধ করা ওয়াজিব (وجب), ঠিক যেমনটি অন্যান্য ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

একইভাবে পুরুষের সাথে পুরুষের এবং নারীর সাথে নারীর ক্ষেত্রেও একই বিধান। যদি কোনো নারীর মধ্যে নারীদের জন্য ফিতনা (فتنة) থাকে, কিংবা কোনো পুরুষের মধ্যে পুরুষদের জন্য ফিতনা (فتنة) থাকে, তবে দৃষ্টিদানকারীর ওপর দৃষ্টি অবনত রাখার (غض البصر) নির্দেশ কার্যকর হবে, ঠিক যেভাবে তার ওপর লজ্জাস্থান হিফাজত করার নির্দেশ কার্যকর হয়।

সুতরাং ক্রীতদাসী এবং কিশোররা যদি রূপবান হয় এবং তাদের দিকে দৃষ্টিপাতের ফলে ফিতনা (فتنة) সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে...
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ২৯)
إليهم، كان حكمهم كذلك، كما ذكر ذلك العلماء. قال المروذي: قلت لأبي عبد الله - يعنى أحمد بن حنبل: - الرجل ينظر إلى المملوك؟ قال: إذا خاف الفتنة لم ينظر إليه، كم نظرة ألقت في قلب صاحبها البلاء.

وقال المروذي: قلت لأبي عبد الله: الرجل تاب وقال: لو ضرب ظهري بالسياط ما دخلت في معصية، إلا أنه لا يدع النظر. فقال: أي توبة هذه؟!

قال جرير: «سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن نظرة الفجأة. فقال: اصرف بصرك» .

وقال ابن أبي الدنيا: حدثني أبي وسويد، قالا: حدثنا إبراهيم بن هراسة، عن عثمان بن صالح، عن الحسن، عن ذكوان قال: لا تجالسوا أولاد الأغنياء، فإن لهم صورا كصور النساء، وهم أشد فتنة من العذارى. وهذا الاستدلال والقياس، والتنبيه بالأدنى على الأعلى. . . إلى أن قال: كذلك المرأة مع المرأة،
তাদের ক্ষেত্রেও বিধানটি অনুরূপ হবে, যেমনটি ওলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন। আল-মারওয়াযী বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে—অর্থাৎ আহমাদ ইবনে হাম্বলকে—জিজ্ঞেস করলাম: কোনো ব্যক্তি কি দাসের দিকে তাকাতে পারে? তিনি বললেন: যদি সে ফিতনার আশঙ্কা করে, তবে যেন তার দিকে না তাকায়; কত দৃষ্টিই না তার অধিকারীর অন্তরে বিপদ ঢেলে দিয়েছে।

আল-মারওয়াযী বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে বললাম: এক ব্যক্তি তওবা করেছে এবং বলেছে, 'যদি আমার পিঠে চাবুক দিয়ে আঘাত করা হয় তবুও আমি পাপে লিপ্ত হব না', কিন্তু সে দৃষ্টিপাত করা ত্যাগ করে না। তিনি বললেন: এটি কেমন তওবা?!

জারীর বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আকস্মিক দৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: তোমার দৃষ্টি সরিয়ে নাও।”

ইবনে আবিদ দুনিয়া বলেন: আমার পিতা এবং সুওয়াইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে হারাসাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি উসমান ইবনে সলিহ থেকে, তিনি আল-হাসান থেকে, তিনি যাকওয়ান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তোমরা ধনীদের সন্তানদের সাথে বসো না, কারণ তাদের অবয়ব নারীদের অবয়বের মতো এবং তারা কুমারী মেয়েদের চেয়েও অধিক ফিতনার কারণ। আর এটি হলো দলীল গ্রহণ ও কিয়াস, এবং নিম্নতর বিষয়ের বর্ণনার মাধ্যমে উচ্চতর বিষয়ের প্রতি সতর্কীকরণ... তিনি এ কথা বলা পর্যন্ত যে: অনুরূপভাবে নারীর সাথে নারীর ক্ষেত্রেও (একই বিধান প্রযোজ্য)।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ৩০)
وكذلك محارم المرأة مع ابن زوجها، وابنه، وابن أخيها، وابن أختها، ومملوكها عند من يجعله محرما متى كان يخاف عليه الفتنة أو عليها، توجه الاحتجاب، بل وجب.

وهذه المواضع التي أمر الله بالاحتجاب فيها، مظنة الفتنة، ولهذا قال تعالى: {ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ} [النور: 30] فقد تحصل الزكاة والطهارة بدون ذلك، لكن هذا أزكى. وإذا كان النظر والبروز قد انتفى فيه الزكاة والطهارة لما يوجد في ذلك من شهوة القلب واللذة بالنظر. كان ترك النظر والاحتجاب أولى بالوجوب.

وروى الجماعة إلا مسلما، أن النبي صلى الله عليه وسلم «لعن المخنثين من الرجال والمترجلات من النساء وقال: أخرجوهم من بيوتكم، وأخرجوا فلانا وفلانا يعني المخنثين» ، وقد ذكر بعضهم أنهم كانوا ثلاثة، بيم، وهيت، وماتع على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولم يكونوا يرمون بالفاحشة الكبرى. إنما كان تخنيثهم وتأنيثهم ليناً في
অনুরূপভাবে, কোনো মহিলার মাহরাম ব্যক্তিগণ—যেমন তার স্বামীর পুত্র, তার নিজের পুত্র, তার ভাইয়ের ছেলে, তার বোনের ছেলে এবং তার মালিকানাধীন দাস (যাদেরকে কোনো কোনো আলিম মাহরাম হিসেবে গণ্য করেন)—যখন তাদের ক্ষেত্রে বা ওই মহিলার ক্ষেত্রে ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তখন পর্দা করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, বরং তা ওয়াজিব হয়ে যায়।

আর আল্লাহ যেসব ক্ষেত্রে পর্দার নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলো ফিতনার আশঙ্কাপূর্ণ স্থান। এই কারণেই মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তা তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র} [আন-নূর: ৩০]। কারণ, পর্দা ছাড়াও পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধি অর্জিত হতে পারে, তবে এটিই অধিকতর পবিত্র। আর যখন দৃষ্টিপাত এবং জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশের ফলে অন্তরের কুপ্রবৃত্তি ও দর্শনের লালসা বিদ্যমান থাকে, যা পবিত্রতা ও আত্মশুদ্ধিকে বিলুপ্ত করে, তখন দৃষ্টি সংযত রাখা এবং পর্দা করা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বাধিক অগ্রাধিকারযোগ্য।

ইমাম মুসলিম ব্যতীত জামাআত তথা হাদিসবেত্তাদের একটি দল বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজড়াসুলভ আচরণকারী পুরুষ এবং পুরুষালী আচরণকারী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন এবং বলেছেন: "তোমরা তাদেরকে তোমাদের ঘর থেকে বের করে দাও, আর অমুক অমুককে বের করে দাও"—অর্থাৎ যারা হিজড়াসুলভ আচরণকারী। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তিনজন ছিলেন: বায়াম, হীত এবং মাতি'। তারা কোনো বড় ধরণের অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন না। মূলত তাদের এই হিজড়াসুলভ বা নারীসুলভ আচরণ ছিল কেবল স্বভাবজাত কোমলতা যা তাদের...
(খণ্ড: ১) মাজমুআতু রাসায়িল ফিল হিজাবি ওয়াস সুফুর (পৃষ্ঠা: ৩১)
القول، وخضابا في الأيدي، والأرجل، كخضاب النساء، ولعبا كلعبهن. وفي " سنن أبي داود " عن أبي يسار القرشي عن أم هاشم، عن أبي هريرة، أن النبي صلى الله عليه وسلم «أتى بمخنث وقد خضب رجليه ويديه بالحناء، فقال: ما بال هذا؟ فقيل: يا رسول الله يتشبه بالنساء فأمر به فنفي إلى النقيع فقيل: يا رسول الله؟ ألا تقتله؟ فقال: إني نهيت عن قتل المصلين» .

فإذا كان النبي صلى الله عليه وسلم قد أمر بإخراج مثل هؤلاء من البيوت، فمعلوم أن الذي يمكن الرجال من نفسه، والاستمتاع به، وبما يشاهدونه من محاسنه، وفعل الفاحشة الكبرى به، شر من هؤلاء، وهذا أحق بالنفي من بين أظهر المسلمين وإخراجه عنهم.

فإن المخنث فيه إفساد للرجال والنساء، لأنه تشبه بالنساء، فقد تعاشره النساء ويتعلمن منه، وهو رجل فيفسدهن، ولأن الرجال إذا مالوا إليه، فقد يعرضون عن
কথাবার্তা, এবং হাত ও পায়ে নারীদের ন্যায় মেহেদি রাঙানো এবং তাদের মতো খেলাধুলার মাধ্যমে [সাদৃশ্য গ্রহণ করা]। এবং "সুনানে আবু দাউদ"-এ আবু ইয়াসার আল-কুরাশি হতে বর্ণিত, তিনি উম্মে হাশিম হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একজন হিজড়া স্বভাবের পুরুষকে (مخنث) আনা হলো যে তার হাত ও পা মেহেদি দিয়ে রাঙিয়েছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "এর বিষয়টি কী?" বলা হলো: "হে আল্লাহর রাসূল! সে নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে।" তখন তিনি তাকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিলেন এবং তাকে আন-নাকি' নামক স্থানে নির্বাসিত (نفي) করা হলো। জিজ্ঞেস করা হলো: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাকে হত্যা করবেন না?" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমাকে সালাত আদায়কারীদের (مصلين) হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে।"

সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এদের মতো ব্যক্তিদের ঘর থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, তখন এটি স্পষ্ট যে, যে ব্যক্তি পুরুষদেরকে নিজের ওপর সক্ষমতা দেয় এবং তার রূপ-লাবণ্য দর্শনের মাধ্যমে তাদের উপভোগ করার সুযোগ দেয় এবং যার সাথে বড় ধরনের অশ্লীলতায় (فاحشة كبرى) লিপ্ত হওয়া হয়, সে এদের চেয়েও নিকৃষ্ট। মুসলমানদের মধ্য থেকে একে নির্বাসিত (نفي) করা এবং তাদের থেকে বের করে দেওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত।

কেননা হিজড়া স্বভাবের পুরুষের (مخنث) মধ্যে পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই অনিষ্ট রয়েছে। কারণ সে নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, ফলে নারীরা তার সাথে মেলামেশা করতে পারে এবং তার থেকে শিখতে পারে, অথচ সে একজন পুরুষ, ফলে সে তাদের কলুষিত করে। আবার পুরুষরা যখন তার প্রতি ঝুঁকে পড়ে, তখন তারা...