(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: -)
المفيد في تقريب أحكام الأذان القسم: مسائل فقهية
الكتاب: المفيد في تقريب أحكام الأذان
المؤلف: د. محمد بن عبد الرحمن بن ملهي بن محمد العريفي
تقديم: عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية 1421
عدد الصفحات: 110
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মুফিদ ফি তাকরিব আহকামিল আজান বিভাগ: ফিকহী মাসায়েল
বই: আল-মুফিদ ফি তাকরিব আহকামিল আজান
লেখক: ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মালহি বিন মুহাম্মদ আল-আরিফি
উপস্থাপনা: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজতন্ত্র ১৪২১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১০
[বইয়ের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: -)
[تقديم صاحب الفضيلة الشيخ العلامة عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين] حفظه الله
المفيد في تقريب أحكام الأذان
[সম্মানিত শায়খ আল্লামাহ আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীনের ভূমিকা] আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন
আযানের বিধানাবলি সহজীকরণে একটি উপকারী গ্রন্থ
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديم صاحب الفضيلة الشيخ العلامة
عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين
- حفظه الله - الحمد لله الذي شرع الشرائع وسن الأحكام وبين لعباده الحلال والحرام أحمده على جزيل الإنعام وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، الملك العلام وأشهد أن محمدا عبده ورسوله سيد الأنام صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه البررة الكرام. وبعد:
فإن كاتب هذه الأسئلة والملاحظات وهو الشاب محمد بن عبد الرحمن بن ملهي العريفي أحد طلبة العلم وأهل الذكاء والفهم وقد أحسن في ابتكاره لهذه الأسئلة الواقعية وقد ألقاها علينا فأجبنا عليها شفهيا ولكنه سجل الجواب في شريط ثم نسخه وراجع الأحاديث وذكرها بنصها من المراجع وأشار إلى مواضعها وهو جهد يشكر عليه وختم ببعض ما يقع من الأخطاء المنتشرة من المؤذنين وبين وجه الخطأ وكل ذلك حرص منه على الإفادة ونفع المسلمين فنوصي بقراءة المؤذنين لهذه التوجيهات والتعليمات حتى يعرفوا الحكم والحكمة وحتى يعملوا بالسنة على بصيرة ونوصي الجمهور
সম্মানিত শাইখ আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন - হাফিজাহুল্লাহ - এর ভূমিকা
আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন
- হাফিজাহুল্লাহ - সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি শরিয়তসমূহ প্রবর্তন করেছেন, বিধিবিধান (أحكام) নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের জন্য হালাল ও হারাম স্পষ্ট করেছেন। আমি তাঁর অঢেল অনুগ্রহের জন্য তাঁর প্রশংসা করি এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি রাজাধিরাজ ও মহাজ্ঞানী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও পুণ্যবান সম্মানিত সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:
নিশ্চয়ই এই প্রশ্নাবলী ও পর্যবেক্ষণের লেখক হলেন তরুণ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মালহী আল-আরিফী, যিনি একজন ইলম অন্বেষণকারী (طالب العلم) এবং অত্যন্ত মেধাবী ও ধীমান ব্যক্তি। তিনি এই বাস্তবসম্মত প্রশ্নগুলো উদ্ভাবন করে অত্যন্ত চমৎকার কাজ করেছেন। তিনি এগুলো আমাদের নিকট পেশ করেছিলেন এবং আমরা মৌখিকভাবে সেগুলোর উত্তর দিয়েছিলাম। তবে তিনি সেই উত্তরগুলো রেকর্ডিং করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তা লিপিবদ্ধ করেছেন, হাদিসসমূহ যাচাই করেছেন এবং মূল উৎসসমূহ হতে সেগুলোর মূল পাঠ উল্লেখ করেছেন ও সূত্র নির্দেশ করেছেন। এটি একটি প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা। পরিশেষে তিনি মুয়াজ্জিনদের মধ্যে প্রচলিত কিছু ভুলত্রুটি এবং ভুলের ধরণ বর্ণনা করেছেন। এসবই মুসলিমদের কল্যাণ ও উপকারের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। তাই আমরা মুয়াজ্জিনদের এই নির্দেশনা ও উপদেশগুলো পাঠ করার পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে তারা বিধান (حكم) ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং সঠিক জ্ঞানের ভিত্তিতে সুন্নাহর (سنة) ওপর আমল করতে পারে। আমরা সর্বসাধারণকে পরামর্শ দিচ্ছি...
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ৬)
بقراءة ما يختصّ بهم ومعرفة كيفية متابعة الأذان وحكمه ليحظوا بالأجر المرتب على ذلك وجزى الله الكاتب أحسن الجزاء وأكثر من شباب المسلمين من يهتم بالعبادات ويحرص على إيضاحها للمسؤولين عنها والله أعلم وصلى الله على محمد وآله وصحبه وسلم.
كتبه
عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين
عضو الإفتاء
1 - / 6 / 1414 هـ
তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পাঠ করার মাধ্যমে এবং আযান অনুসরণ করার পদ্ধতি ও এর বিধান (حكم) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে, যাতে তারা এর জন্য নির্ধারিত সওয়াব লাভ করতে পারে; আল্লাহ লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং মুসলিম যুবকদের মধ্যে এমন ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করুন যারা ইবাদত-বন্দেগির প্রতি গুরুত্বারোপ করে এবং যারা এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসু তাদের নিকট তা স্পষ্ট করতে সচেষ্ট থাকে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জিবরীন
সদস্য, ইফতা
১ - / ৬ / ১৪১৪ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ৭)
[المقدمة]المقدمة إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا. . أما بعد:
فلما كان الأذان شعار الإسلام وأهله، حيث ينادى به في كل يوم وليلة خمس مرات، اهتمّ العلماءُ في كتبهم بأمره، وسننه وأحكامه ومستحبّاته ومبطلاته، وما تكاد تفتح مصنفا من مصنّفات السنة أو الفقْه إلاّ ووجدت فيه كتابا خاصا بالأذان، وما هذا إلا لأهمية وشرف هذه العبادة.
وقد شرعتُ في جمع مسائل في الأذان تقع للمؤذن ولسامع الأذان، وعرضتها على صاحب الفضيلة الشيخ
[ভূমিকা]ভূমিকা: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
যেহেতু আযান হলো ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর একটি নিদর্শন, যার মাধ্যমে প্রতিদিন দিবা-রাত্রিতে পাঁচবার আহ্বান জানানো হয়, তাই আলিমগণ তাঁদের গ্রন্থসমূহে আযানের বিষয়াবলি, এর সুন্নাতসমূহ, বিধানাবলি, মুস্তাহাবসমূহ ও আযান ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ নিয়ে সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। আপনি সুন্নাহ কিংবা ফিকহের যে কোনো গ্রন্থ খুললেই তাতে আযান সংশ্লিষ্ট একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় পাবেন; আর এটি কেবল এই ইবাদতের গুরুত্ব ও মর্যাদার কারণেই।
আমি আযান সংশ্লিষ্ট এমন কিছু মাসআলা একত্রিত করতে শুরু করেছি যা মুয়াজ্জিন এবং আযান শ্রবণকারীর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, আর আমি সেগুলো ফযীলতসম্পন্ন শাইখের নিকট পেশ করেছি...
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ৮)
عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين - حفظه الله - وتفضل مشكورا بالإجابة عليها.
وحاولت أن تكون المسائل التي أوردُها من المسائل التي تقع في واقع الناس، وابتعدت عن تلك الفروضات والمسائل النادرة التي يتوسّع فيها بعض الفقهاء.
ولا شك أن أسلوب السؤال والجواب من الأساليب المفيدة في جانب العلم والتعليم، قال الشيخ عبد الله الجبرين: " والعلم إذا كان سؤالا وجوابا كان أوقع له في النفس وأحضر للقلب، إذ يسمع المتلقي السؤال فيتشوّق إلى معرفة الجواب، فإذا ذكر له الجواب أرعاهُ باله، وأنصت له إنصاتا كاملا حتى ينتهي الجواب فيحفظه السامع حفظا تاما " (1) .
ثمّ إنّني قمتُ بترتيب هذه الفتاوى على أقسام ستة:
--------------------------------------------
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জিবরীন —আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন— এবং তিনি অনুগ্রহ করে এগুলোর উত্তর প্রদান করেছেন।
আর আমি চেষ্টা করেছি আমি যে মাসআলাগুলো উপস্থাপন করেছি, সেগুলো যেন মানুষের বাস্তব জীবনের মাসআলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হয় এবং আমি সেই সব অনুমাননির্ভর ও বিরল মাসআলাগুলো এড়িয়ে চলেছি যেগুলোতে কিছু ফকীহ বিস্তারিত আলোচনা করে থাকেন।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রশ্নোত্তর পদ্ধতি জ্ঞান ও শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত উপকারী পদ্ধতি। শেখ আব্দুল্লাহ আল-জিবরীন বলেছেন: "জ্ঞান যখন প্রশ্ন ও উত্তরের মাধ্যমে হয়, তখন তা মনের ওপর অধিক প্রভাব বিস্তার করে এবং হৃদয়ে অধিক উপস্থিত থাকে। কেননা যখন গ্রহণকারী প্রশ্নটি শ্রবণ করে, তখন সে উত্তরটি জানার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠে। অতঃপর যখন তার কাছে উত্তরটি উল্লেখ করা হয়, সে তাতে পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করে এবং উত্তর শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা পূর্ণ নিবিষ্টতায় শ্রবণ করে, ফলে শ্রোতা তা পরিপূর্ণভাবে হিফয করে নেয়।" (১)।
অতঃপর আমি এই ফাতাওয়াগুলোকে ছয়টি ভাগে বিন্যস্ত করেছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ৯)
القسم الأول: فتاوى في شروط الأذان والمؤذن.
القسم الثاني: فتاوى في ألفاظ الأذان وأحكامها.
القسم الثالث: فتاوى في صفة المؤذن أثناء الأذان.
القسم الرابع: فتاوى في أحكام ما يعرض لمُجيب المؤذن.
القسم الخامس: فتاوى في مبطلات الأذان ومكروهاته.
القسم السادس: فتاوى في أحكام إجابة الأذان والإقامة.
القسم السابع: فتاوى متفرقة.
وقدّمت قبل ذلك بمقدمة فيها ذكر فضل الأذان وفضيلة المؤذنين.
ثمّ ذيّلت ذلك كله بشيء من المخالفات والأخطاء التي تقع في الأذان، سواء من المؤذنين أو من سامعي الأذان، وذلك لتُعلم هذه الأخطاء ثمّ تُجتنب، وفي النية إن شاء الله تعالى أن تخرج أجزاء أخرى على نهج هذا الجزء تحمل فتاوى في الجنائز وأحكام المسافر وغيرها. ومما يجدر التنبيه عليه هنا أن جميع ما في هذه الأوراق من فتاوى
প্রথম ভাগ: আজান এবং মুয়াজ্জিনের শর্তাবলি সংক্রান্ত ফতোয়াসমূহ।
দ্বিতীয় ভাগ: আজানের শব্দাবলি এবং এর বিধানসমূহ সংক্রান্ত ফতোয়াসমূহ।
তৃতীয় ভাগ: আজান প্রদানের সময় মুয়াজ্জিনের গুণাবলি সংক্রান্ত ফতোয়াসমূহ।
চতুর্থ ভাগ: আজানের উত্তরদাতার ক্ষেত্রে উদ্ভূত বিষয়াদির বিধান সংক্রান্ত ফতোয়াসমূহ।
পঞ্চম ভাগ: আজান ভঙ্গকারী বিষয় এবং আজানের অপছন্দনীয় বিষয়সমূহ সংক্রান্ত ফতোয়াসমূহ।
ষষ্ঠ ভাগ: আজান এবং ইকামতের উত্তর প্রদানের বিধান সংক্রান্ত ফতোয়াসমূহ।
সপ্তম ভাগ: বিবিধ ফতোয়াসমূহ।
এর আগে আমি একটি ভূমিকা পেশ করেছি যেখানে আজানের শ্রেষ্ঠত্ব এবং মুয়াজ্জিনদের ফজিলাত উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর আমি এই সবকিছুর শেষে আজানের ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া কিছু ভুলভ্রান্তি ও নিয়মের ব্যত্যয়গুলো সংযোজন করেছি, যা মুয়াজ্জিন বা আজান শ্রবণকারী—উভয়ের পক্ষ থেকেই হতে পারে; যেন এই ভুলগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া যায় এবং পরবর্তীতে তা পরিহার করা যায়। যদি আল্লাহ তাআলা চান, তবে ইচ্ছা রয়েছে যে এই খণ্ডের অনুসরণে জানাজা, মুসাফিরের বিধান এবং অন্যান্য বিষয়ের ফতোয়া সম্বলিত আরও কিছু খণ্ড প্রকাশিত হবে। এখানে যে বিষয়টি উল্লেখ করা সমীচীন তা হলো, এই পৃষ্ঠাগুলোতে থাকা সকল ফতোয়া...
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومخالفات مصحّح ومُراجع من قِبل الشيخ - حفظه الله -.
فأحمد الله تعالى على ما يسر وأعان، وأسأله جل وعلا أن يجزي فضيلة الشيخ عبد الله الجبرين خير الجزاء، وأن يجعل هذه الورقات من العلم النافع الذي يُفيد المرء في دنياه وآخرته ويجري عليه ثوابه بعد مماته، كما أسأله تعالى أن يرفع قدر هذا العالِم في الدنيا والآخرة وأن ينفع به العالمين، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وكتب
محمد بن عبد الرحمن بن ملهي العريفي
11 - / 5 / 1414هـ
ص. ب: 69446
الرياض 11547
এবং শায়খ —আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন— এর পক্ষ থেকে সংশোধনী ও পর্যালোচনা।
অতঃপর আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি এটি সহজ করেছেন এবং সাহায্য করেছেন। আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন শ্রদ্ধেয় শায়খ আব্দুল্লাহ আল-জিবরীনকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আর এই পৃষ্ঠাগুলোকে যেন এমন উপকারী জ্ঞান হিসেবে কবুল করেন যা একজন মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতে উপকারে আসে এবং তার মৃত্যুর পর সওয়াব জারি থাকে। তেমনিভাবে আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন দুনিয়া ও আখিরাতে এই আলেমের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তাঁর দ্বারা বিশ্ববাসীকে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশালী।
লিখেছেন
মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মালহি আল-আরিফি
১১ - / ৫ / ১৪১৪ হিজরি
পি.ও. বক্স: ৬৯৪৪৬
রিয়াদ ১১৫৪৭
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ১১)
[فضل الأذان وفضلية المؤذنين]فضل الأذان وفضلية المؤذنين 1 - عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لو يعلم الناس ما في النداء والصف الأول ثمّ لم يجدوا إلاّ أن يستهموا عليه لاستهموا عليه» متفق عليه (1) .
2 - وعن معاوية رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «المؤذنون أطول أعناقا يوم القيامة» رواه مسلم (2) .
3 - وعن عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي صعصعة أن أبا سعيد الخدري رضي الله عنه قال له: «إني أراك تحب الغنم والبادية، فإذا كنت في غنمك - أو باديتك - فأذّنت بالصلاة فارفع صوتك بالنداء، فإنه لا يسمع مدى صوت المؤذن،
--------------------------------------------
[আজানের ফজিলত ও মুয়াজ্জিনদের শ্রেষ্ঠত্ব]আজানের ফজিলত ও মুয়াজ্জিনদের শ্রেষ্ঠত্ব ১ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «লোকেরা যদি জানত আজান ও প্রথম কাতারে কী (মর্যাদা) রয়েছে, অতঃপর লটারি করা ব্যতীত তারা তা লাভ করার কোনো উপায় না পেত, তবে অবশ্যই তারা এর জন্য লটারি করত।» সর্বসম্মত (متفق عليه) (১)।
২ - মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «কিয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনগণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘতম গ্রীবাবিশিষ্ট হবেন।» মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২)।
৩ - আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি সা'সা'আ থেকে বর্ণিত যে, আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বলেছিলেন: «আমি দেখছি যে তুমি মেষপাল ও মরুপ্রান্তর পছন্দ করো। সুতরাং তুমি যখন তোমার মেষপালের সাথে - অথবা তোমার মরুপ্রান্তরে - থাকো এবং নামাজের জন্য আজান দাও, তখন উচ্চকণ্ঠে আজান দাও। কেননা, মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বরের শেষ সীমা পর্যন্ত যা কিছুই তা শ্রবণ করবে...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ১২)
جنّ ولا إنس ولا شيء إلا شهد له يوم القيامة قال أبو سعيد: سمعتُه من رسول الله صلى الله عليه وسلم» . رواه البخاري (1) .
4 - وعن البراء رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
" «إن الله وملائكته يصلون على الصف المتقدم، والمؤذن يغفر له مدَّ صوته، ويصدقه من سمعه من رطب ويابس، وله مثل أجر من صلى معهُ» " رواه أحمد والنسائي وغيرهما (2) .
5 - وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «المؤذن يغفر له مدى صوته ويشهد له كل رطب ويابس، وشاهد الصلاة يكتب له خمس وعشرون صلاة ويكفر عنه ما بينهما» رواه أبو داود وأحمد والنسائي وغيرهم (3) .
6 - وعن عقبة بن عامر رضي الله عنه قال: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «يعجب ربك من راعي غنم في رأس شظية جبل يؤذن بالصلاة ويصلي فيقول الله عز وجل انظروا
--------------------------------------------
জিন, মানুষ বা অন্য কোনো বস্তু নেই, যে কিয়ামতের দিন তার জন্য সাক্ষ্য দেবে না। আবু সাঈদ (রা.) বলেন: আমি এটি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছি।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (১) ।
৪ - বারা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
" «নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ অগ্রবর্তী কাতারের ওপর রহমত বর্ষণ করেন। আর মুয়াজ্জিনকে তার কণ্ঠস্বরের সীমা পর্যন্ত ক্ষমা করা হয় এবং সজীব ও নির্জীব যা-ই তার আযান শোনে, সে তাকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়। আর যে ব্যক্তি তার সাথে সালাত আদায় করবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে» " এটি আহমাদ, নাসাঈ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন (২) ।
৫ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «মুয়াজ্জিনকে তার কণ্ঠস্বরের সীমা পর্যন্ত ক্ষমা করা হয় এবং প্রতিটি সজীব ও নির্জীব বস্তু তার জন্য সাক্ষ্য দেয়। আর সালাতে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণকারীর জন্য পঁচিশটি সালাতের সওয়াব লেখা হয় এবং দুই সালাতের মধ্যবর্তী গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেওয়া হয়» এটি আবু দাউদ, আহমাদ, নাসাঈ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন (৩) ।
৬ - উকবা ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «তোমাদের রব সেই মেষপালককে দেখে মুগ্ধ হন, যে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সালাতের আযান দেয় এবং সালাত আদায় করে। তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেন: দেখো...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إلى عبدي هذا يؤذن ويقيم الصلاة يخاف مني، قد غفرتُ لعبدي وأدخلتُه الجنة» رواه النسائي والبيهقي وغيرهما (1) .
[القسم الأول فتاوى في شروط الأذان والمؤذن]القسم الأول
فتاوى في
شروط الأذان والمؤذن
--------------------------------------------
...আমার এই বান্দার প্রতি (লক্ষ্য করো), সে আজান দিচ্ছে এবং ইকামত দিচ্ছে, সে আমাকে ভয় পাচ্ছে। আমি অবশ্যই আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছি।" এটি বর্ণনা করেছেন নাসায়ি, বায়হাকি এবং অন্যান্যরা (১) ।
[প্রথম বিভাগ: আজান ও মুয়াজ্জিনের শর্তাবলি বিষয়ক ফতোয়া]প্রথম বিভাগ
ফতোয়া বিষয়ক
আজান ও মুয়াজ্জিনের শর্তাবলি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
1 - ما حكم الأذان، هل هو واجب؟
ج: ذكر أهل العلم بأن الأذان فرض كفاية إذا قام به البعض سقط عن الباقين، والصّلاة من غير أذان صحيحة.
2 -ما حكم الإقامة؟
ج: الإقامة كذلك فرض كفاية، وتصحّ الصلاة من غير إقامة.
3 -هل تشترط الموالاة في ألفاظ الأذان؟
ج: الموالاة لابدَّ منها، فإذا تعمد المؤذن تقطيع الأذان بأن سكت بين التكبيرات سكوتا طويلا، أو سكت بين التكبيرات والتشهدات، فهذا لا يسمَى أذانا، فليزمه عندئذٍ أن يأتي بالأذان من أوله، فإذا طال السكوت بعد جملة من جمل الأذان بطل ما سبقها ولزمه الإعادة.
4 - لو قطع المؤذن الموالاة لسبب شرعيّ، كأن يرعف أنفه فينصرف ليغسله أو يُنجد شخصا أو نحو ذلك؟ فهل يعيد
1 - আযানের বিধান কী, এটি কি ওয়াজিব?
জ: জ্ঞানতাপসগণ উল্লেখ করেছেন যে, আযান হলো সমষ্টিগত আবশ্যকতা (فرض كفاية); যদি কিছু লোক তা আদায় করে তবে তা অবশিষ্টদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়ে যায়। আর আযান ব্যতীত সালাত আদায় করাও শুদ্ধ (صحيحة)।
2 - ইকামতের বিধান কী?
জ: ইকামতও তদ্রূপ সমষ্টিগত আবশ্যকতা (فرض كفاية), এবং ইকামত ছাড়াও সালাত শুদ্ধ হয়।
3 - আযানের শব্দাবলিতে কি ধারাবাহিকতা (الموالاة) বজায় রাখা শর্ত?
জ: ধারাবাহিকতা (الموالاة) বজায় রাখা অপরিহার্য। সুতরাং মুয়াজ্জিন যদি ইচ্ছাকৃতভাবে আযান বিচ্ছিন্ন করে ফেলে—যেমন তাকবিরগুলোর মাঝে দীর্ঘ সময় নীরব থাকে, অথবা তাকবির ও শাহাদাতদ্বয়ের মাঝে দীর্ঘ বিরতি দেয়—তবে একে আযান বলা হবে না। এমতাবস্থায় তাকে প্রথম থেকে আযান শুরু করা আবশ্যক। আযানের কোনো বাক্যের পর যদি দীর্ঘ সময় নীরব থাকা হয়, তবে পূর্বের অংশ বাতিল হয়ে যাবে এবং পুনরায় তা ফিরিয়ে আনা আবশ্যক হবে।
4 - যদি মুয়াজ্জিন কোনো শরয়ি কারণে ধারাবাহিকতা (الموالاة) বিচ্ছিন্ন করেন, যেমন তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরলে তা ধোয়ার জন্য চলে যান অথবা কাউকে উদ্ধারে এগিয়ে যান বা এই জাতীয় কিছু ঘটে? তবে কি তিনি পুনরায় শুরু করবেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الأذان من أْوله إذا انتهى بهذا العارض أم يكمل من حيث وصل؟
ج: نعم، يبدأ من جديد حتى وإن كان القطع لعذر شرعي، ولذلك لأن الموالاة شرط من شروط الأذان.
5 - وهل يشترط الترتيب بين ألفاظ الأذان؟ وإذا تعمد المؤذن تقديم الحيعلتين على الشهادتين أو نحو ذلك هل يبطل أذانه؟
ج: نعم، الترتيب كذلك لا بدَّ منه في الأذان، بل هو من شروطه، فلو قدّم التشهّدات على التكبيرات أو قدم الحيعلة على التشهّدات بطل أذانه.
6 - إذا نسي المؤذن فأخل بترتيب الأذان وقدم جملة على جملة أخرى ناسيا - فهل يبطل أذانه؟
ج: يُعفى عن الشيء اليسير.
7 - إذا أذن المؤذن، ثمّ تبين له بعد انتهائه من الأذان أنه قد أذن قبل دخول الوقت بربع ساعة تقريبا فماذا يفعل، هل يعيد الأذان إذا دخل الوقت؟
ج: إذا كان المؤذن قد أذن قبل الوقت ولم يتحقق دخول الوقت حال أذانه فهنا لا بدَّ من إعادة الأذان، فلو أذن
এই আকস্মিক বাধার কারণে আজান কি শুরু থেকে শুরু করতে হবে, নাকি যেখানে থেমেছিল সেখান থেকে পূর্ণ করবে?
উত্তর: হ্যাঁ, নতুন করে শুরু করতে হবে, যদিও তা শরয়ি ওজরের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে। কারণ ধারাবাহিকতা (الموالاة) বজায় রাখা আজানের অন্যতম শর্ত (شرط)।
৫ - আজানের শব্দগুলোর মধ্যে কি ক্রমধারা (الترتيب) বজায় রাখা শর্ত (شرط)? যদি মুয়াজ্জিন ইচ্ছাকৃতভাবে শাহাদাতাইনের আগে হাইয়াআলাতাইন বা অনুরূপ কোনো বাক্য আগে-পাছে করে, তবে কি তার আজান বাতিল (باطل) হয়ে যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, আজানের ক্ষেত্রেও অনুরূপভাবে ক্রমধারা (الترتيب) বজায় রাখা আবশ্যক, বরং এটি আজানের শর্তাবলির (شروط) অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যদি কেউ তাকবিরসমূহের আগে তাশাহহুদসমূহ পাঠ করে অথবা তাশাহহুদের আগে হাইয়াআলাতাইন পাঠ করে, তবে তার আজান বাতিল (باطل) হয়ে যাবে।
৬ - যদি মুয়াজ্জিন ভুলে যাওয়ার কারণে আজানের ক্রমধারা (الترتيب) রক্ষা করতে না পারে এবং ভুলবশত এক বাক্যের আগে অন্য বাক্য পাঠ করে—তবে কি তার আজান বাতিল (باطل) হবে?
উত্তর: সামান্য বিচ্যুতি ক্ষমাযোগ্য।
৭ - যদি কোনো মুয়াজ্জিন আজান দেয় এবং আজান শেষ করার পর তার কাছে স্পষ্ট হয় যে, সে ওয়াক্ত শুরু হওয়ার প্রায় পনের মিনিট আগে আজান দিয়েছে, তবে সে কী করবে? ওয়াক্ত শুরু হলে কি সে আজান পুনরায় দিবে?
উত্তর: মুয়াজ্জিন যদি ওয়াক্ত হওয়ার আগে আজান দেয় এবং আজান দেওয়ার সময় ওয়াক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না হয়, তবে পুনরায় আজান দেওয়া আবশ্যক। সুতরাং, যদি সে আজান দেয়...
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قبل غروب الشمس ولو بخمس دقائق أو بدقيقتين، أو أذن قبل زوال الشمس للظهر ولو قبل الزوال بدقيقة أو دقيقتين، أو أذن قبل طلوع الفجر ولو بدقائق فكل ذلك يبطل أذانه ويوجب عليه أن يؤذن مرة أخرى.
8 - هل هذا الحكم يعم كذلك صلاة العشاء، أي لو أذن قبل دخول وقتها هل يلزمه إعادة الأذان أيضا؟
ج: بالنسبة للعشاء فوقته واسع، فلو أذن قبل دخول وقت العشاء أو بعده أجزأه ذلك لأن العشاء يجمع مع المغرب، فيعتبر وقته داخلا بدخول وقت المغرب.
9 - هل العصر له حكم العشاء، لأنه مشترك معه في أن يجمع مع ما قبله؟
ج: نعم العصر حكمه لو أذن قبل دخول وقته كحكم العشاء، يجزئه أذانه لأنه يدخل وقته بدخول وقت الظهر.
10 - ما حكم الأذان للصلاة الفائتة، كأن يستيقظ جماعة - في صحراء ونحوها - للفجر بعد طلوع الشمس؟ هل يؤذنون وإن كان الوقت قد خرج؟
ج: نعم، يؤذنون، ويدلّ على ذلك ما جاء في حديث أبي قتاده رضي الله عنه
সূর্যাস্তের পূর্বে এমনকি পাঁচ বা দুই মিনিট আগে হলেও, অথবা জোহরের জন্য সূর্য ঢলে পড়ার (زوال) পূর্বে আযান দিলে—এমনকি সূর্য ঢলার এক বা দুই মিনিট আগে হলেও—কিংবা ফজর উদয়ের পূর্বে আযান দিলে, এই সবকিছুই তার আযানকে বাতিল করে দেয় এবং তার ওপর পুনরায় আযান দেওয়া আবশ্যক করে।
৮ - এই বিধান কি এশারের নামাজের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য? অর্থাৎ, যদি কেউ ওয়াক্ত প্রবেশের পূর্বে আযান দেয়, তবে কি তার জন্য পুনরায় আযান দেওয়া আবশ্যক?
উত্তর: এশারের ক্ষেত্রে সময় প্রশস্ত। সুতরাং কেউ যদি এশারের ওয়াক্ত প্রবেশের পূর্বে বা পরে আযান দেয়, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট (أجزأه) হবে। কারণ এশারের নামাজ মাগরিবের সাথে একত্রিত (جمع) করা যায়। তাই মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার মাধ্যমেই এর ওয়াক্ত শুরু হয়েছে বলে গণ্য করা হয়।
৯ - আসরের বিধান কি এশারের মতোই? কারণ এটিও কি তার পূর্ববর্তী নামাজের সাথে একত্রিত (جمع) করার ক্ষেত্রে একই হুকুম রাখে?
উত্তর: হ্যাঁ, আসরের ওয়াক্ত প্রবেশের পূর্বে আযান দিলে তার বিধান এশারের মতোই। তার আযান যথেষ্ট হবে, কারণ জোহরের ওয়াক্ত প্রবেশের মাধ্যমেই এর ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায়।
১০ - ছুটে যাওয়া নামাজের আযানের বিধান কী? যেমন একদল লোক—মরুভূমি বা এই জাতীয় স্থানে—সূর্যোদয়ের পর ফজরের জন্য জাগ্রত হলো। সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও কি তারা আযান দিবে?
উত্তর: হ্যাঁ, তারা আযান দিবে। এর স্বপক্ষে আবু কাতাদা (রা.) বর্ণিত হাদিসে যা এসেছে তা দলিল হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ২০)
«عندما ساروا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلا ثم عرسوا في جانب الطريق ووكلوا بلالا يرقب لهم الفجر فغلبه النوم وغلبهم حتى ما أيقظهم إلا حر الشمس وجاء فيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بلالا فأذن للصلاة» (1) مع أن الوقت قد خرج، فهذا يدلّ على أنه يؤذن للفائتة كما يؤذن لغيرها.
11 - هل الأولى في صلاة الفجر التبكير بالإقامة حتى تكون الصلاة في أول الوقت أم التأخير؟
ج: صلاة الفجر يسبقها عادة نوم وغفلة من الناس، وعليه يكون التأخير أفضل لأجل أن يجتمع الناس لها، خاصة أن بعض الناس قد يحتاج إلى اغتسال ونحوه، فالأولى أن ينتظر المؤذن حتى يجتمع الناس.
12 - أيهما أملك بوقت الإقامة، الإمام أم المؤذن؟
ج: قد ورد ذلك في حديث، حيث قال صلى الله عليه وسلم: «المؤذن أملك بالأذان والإمام أملك بالإقامة» (2) . فلا ينبغي أن يقيم
--------------------------------------------
«যখন তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রাতে পথ চলছিলেন, অতঃপর রাতের শেষভাগে বিশ্রামের জন্য রাস্তার এক পাশে যাত্রাবিরতি করলেন এবং বিলালকে ফজরের সময় পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করলেন। কিন্তু বিলালের ওপর ঘুম প্রবল হলো এবং তাঁদের সবার ওপরও, এমনকি সূর্যের তাপ ছাড়া আর কিছুই তাঁদের জাগাতে পারেনি। এতে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে নির্দেশ দিলে তিনি সালাতের জন্য আযান দিলেন» (১) যদিও সময় অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে, ছুটে যাওয়া সালাতের জন্য আযান দিতে হয় যেভাবে অন্যান্য সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়।
১১ - ফজর সালাতে কি দ্রুত ইকামত দেওয়া উত্তম যাতে সালাত ওয়াক্তের শুরুতে হয়, নাকি বিলম্ব করা উত্তম?
উত্তর: ফজর সালাতের পূর্বে সাধারণত মানুষের ঘুম ও অসতর্কতা থাকে। এমতাবস্থায় মানুষের জামাআতে সমবেত হওয়ার সুবিধার্থে বিলম্ব করা অধিক উত্তম; বিশেষ করে কারো কারো গোসল বা এই জাতীয় প্রয়োজনের সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং উত্তম হলো মুয়াজ্জিন মানুষের সমবেত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।
১২ - ইকামতের সময়ের ক্ষেত্রে কার এখতিয়ার বেশি, ইমাম নাকি মুয়াজ্জিন?
উত্তর: এটি একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মুয়াজ্জিন আযানের অধিক হকদার এবং ইমাম ইকামতের অধিক হকদার» (২)। সুতরাং ইমামের অনুমতি ছাড়া ইকামত দেওয়া উচিত নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ২১)
المؤذن حتى يشير له الإمام بذلك.
13 - هل ورد تحديد وقت معين للانتظار بين الأذان والإقامة؟
ج: التحديد وارد في حديث لكنه غير معين بمقدار الوقت حيث قال صلى الله عليه وسلم: «اجعل بين أذانك وإقامتك نفسا قدر ما يقضي المعتصر حاجته في مهل وقدر ما يفرغ الآكل من طعامه على مهل» (1) وهذا المقدار يقارب العشرين دقيقة تقريبا.
14 - إذا كان الشخص سيصلي في صحراء ونحوها، فهل يشرع له الأذان أم أنّ علمه بدخول الوقت يكون كافيا؟
ج: إذا كان الإنسان في برية فإنه يُسنّ له أن يؤذن حتى وإن كان سيُصلي وحده، فقد جاء أن أبا سعيد الخدري رضي الله عنه قال لعبد الله بن عبد الرحمن بن أبي صعصعة: «إني أراك تحب الغنم والبادية، فإذا كنت في غنمك - أو باديتك - فأذنت بالصلاة فارفع صوتك بالنداء، فإنه لا يسمع مدى صوت المؤذن، جن ولا إنس ولا شيء إلا شهد له يوم القيامة
--------------------------------------------
মুয়াজ্জিন ইমামের সংকেত প্রদান পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।
১৩ - আজান ও ইকামতের মাঝে অপেক্ষার জন্য কি কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের কথা বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর: একটি হাদিসে এর একটি পরিসীমা বর্ণিত হয়েছে, তবে তা সময়ের মাপে নির্দিষ্ট নয়। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমার আজান ও ইকামতের মাঝে এমন বিরতি রাখো যেন হাজত সম্পন্নকারী ধীরস্থিরভাবে তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে এবং আহারকারী ধীরস্থিরভাবে তার আহার শেষ করতে পারে।" (১) আর এই সময়ের পরিমাণ প্রায় বিশ মিনিটের কাছাকাছি।
১৪ - কোনো ব্যক্তি যদি মরুভূমি বা অনুরূপ কোনো স্থানে সালাত আদায় করে, তবে তার জন্য কি আজান দেওয়া বিধেয়, নাকি ওয়াক্ত শুরু হওয়ার বিষয়টি জানাই যথেষ্ট?
উত্তর: মানুষ যদি জনমানবহীন প্রান্তরে থাকে, তবে তার জন্য আজান দেওয়া সুন্নাহ (سنّة), এমনকি সে যদি একা সালাত আদায় করে তবুও। বর্ণিত হয়েছে যে, আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি সা'সাআ-কে বলেছিলেন: "আমি দেখছি তুমি বকরি চড়ানো এবং মরুপ্রান্তর পছন্দ করো। সুতরাং তুমি যখন তোমার বকরিগুলোর কাছে বা মরুপ্রান্তরে থাকবে এবং সালাতের জন্য আজান দেবে, তখন উচ্চস্বরে আজান দেবে; কারণ মুয়াজ্জিনের আজানের শব্দ যতদূর পর্যন্ত পৌঁছায়, কোনো জিন, মানুষ বা অন্য কিছু তা শুনলে সে কিয়ামতের দিন তার জন্য অবশ্যই সাক্ষ্য দেবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال أبو سعيد سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم» (1) فهذا الحديث يدلّ على أنه يسنّ للمصلي وإن كان وحده في صحراء أن يؤذن للصلاة إذا حضرت.
15 - إذا كنتُ خارج المدينة مع بعض الأصحاب وحضر وقت صلاة العشاء وأردنا تأخيرها إلى ثلث الليل طلبا للأفضل، فهل نؤذن عند دخول الوقت مباشرة أم نؤخّر الأذان مع الصلاة حتى يكون قُبيل الصلاة مباشرة؟
ج: الأولى أن يكون الأذان قبل الصلاة مباشرة، ولو أُخرت الصلاة إلى ثلث الليل فإن الأذان ينبغي أن يؤخّر معها أيضا إلى ثلث الليل.
16 - هل ورد أن المؤذن يلتفت في أذانه يمينا وشمالا؟
ج: نعم، جاء ذلك في قصة أذان بلال (2) رضي الله عنه، «وأنه كان يلتفت أثناء أذانه يمينا وشمالا عند الحيعلتين.»
--------------------------------------------
আবু সাঈদ (রা.) বলেন, ‘আমি এটি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি’ (১)। এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, কোনো মুসল্লি যদি মরুভূমিতে একাকীও থাকেন, তবুও নামাজের সময় হলে তার জন্য আজান দেওয়া সুন্নত (سنّة)।
১৫ - যদি আমি কিছু সঙ্গীর সাথে শহরের বাইরে থাকি এবং এশার নামাজের সময় হয়, আর আমরা শ্রেষ্ঠত্বের প্রত্যাশায় তা রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করতে চাই, তবে কি সময় হওয়ার সাথে সাথেই আজান দেব, নাকি আজানকেও নামাজের সাথে বিলম্বিত করব যাতে তা নামাজের ঠিক আগ মুহূর্তে হয়?
উত্তর: উত্তম হলো আজান নামাজের ঠিক আগ মুহূর্তে হওয়া। আর যদি নামাজ রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্বিত করা হয়, তবে আজানকেও তার সাথে সাথে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্বিত করা উচিত।
১৬ - আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিন ডানে ও বামে মুখ ফেরাবেন—এমন কিছু কি বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ, তা বেলাল (রা.)-এর আজান দেওয়ার বর্ণনায় (২) এসেছে, "তিনি আজানের সময় 'হাইয়া আলাস সালাহ' ও 'হাইয়া আলাল ফালাহ' (الحيعلتين) বলার সময় ডানে ও বামে মুখ ফেরাতেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
17 - ما كيفية هذا الالتفات، هل يقول " حي على الصلاة " يمينا ثم الأخرى شمالا ثمّ يعود يمينا ويقول " حي على الفلاح " ثمّ الأخرى شمالا أم كيف يفعل؟
ج: يقول حيَ على الصلاة يمينا كلا الجملتين، ثم يقول حي على الفلاح شمالا كذلك كلا الجملتين.
18 - عند الالتفات للحيعلتين (حي على الصلاة. . حي على الفلاح) هل يلتفت المؤذن برأسه فقط أم يلتفت بجسمه كله؟
ج: الالتفات يكون عند الحيعلتين بالرأس فقط، وذلك بأن يلوي عنقه، كما في حديث معاذ رضي الله عنه (1) «أن المؤذن يلوي عنقه» ولكن هذا خاص بما إذا كان يؤذن في غير مُكبّر للصوت (الميكروفون) أما إذا كان يؤذن في مُكبِّر فلا يلتفت لأن الالتفات عن لاقطة الصوت يضعفه.
19 - لو جمع المؤذن بين أن يلوي عنقه ويلتفت بجسمه قليلا ليكون الصوت أبلغ لمن هم على جانبيه، فما الحكم؟
--------------------------------------------
১৭ - এই মুখ ফেরানোর (التفات) পদ্ধতি কী? তিনি কি 'হাইয়া আলাস সালাহ' ডানে বলবেন, এরপর অন্যবার বামে, এরপর পুনরায় ডানে ফিরে 'হাইয়া আলাল ফালাহ' বলবেন, তারপর অন্যবার বামে? নাকি তিনি কীভাবে করবেন?
উত্তর: তিনি 'হাইয়া আলাস সালাহ'-এর উভয় বাক্য ডানে বলবেন, এরপর একইভাবে 'হাইয়া আলাল ফালাহ'-এর উভয় বাক্য বামে বলবেন।
১৮ - 'হাইআলাতাইন' (الحيعلتين) (অর্থাৎ হাইয়া আলাস সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহ) বলার সময় মুয়াজ্জিন কি কেবল মাথা ঘোরাবেন নাকি তার পুরো শরীর ঘোরাবেন?
উত্তর: মুখ ফেরানোর (التفات) বিষয়টি 'হাইআলাতাইন' (الحيعلتين) এর সময় কেবল মাথার মাধ্যমে হবে, আর তা হলো ঘাড় বাঁকানোর মাধ্যমে; যেমনটি মুয়াজ (রা.) বর্ণিত হাদিসে (১) এসেছে যে, "মুয়াজ্জিন তার ঘাড় বাঁকাবেন"। তবে এটি কেবল সেই সময়ের জন্য নির্দিষ্ট যখন তিনি মাইক্রোফোন ব্যতীত আজান দেবেন। কিন্তু যদি তিনি মাইক্রোফোনে আজান দেন, তবে তিনি মুখ ফেরাবেন না; কারণ মাইক্রোফোন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে আওয়াজ দুর্বল হয়ে যায়।
১৯ - মুয়াজ্জিন যদি ঘাড় বাঁকানো এবং সামান্য শরীর ঘোরানোর বিষয়টি সমন্বয় করেন যাতে দুপাশে অবস্থানরতদের জন্য আওয়াজটি অধিকতর স্পষ্টভাবে পৌঁছে, তবে এর বিধান কী?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ج: الأولى أن يلوي عنقه فقط، ولا يحرك رجليه ولا يلتفت بجسمه.
20 - إذا كان المؤذن يؤذن في مكبر الصوت (الميكروفون) فهل يُسنّ له الالتفات أيضا؟
ج: الالتفات يكون للمؤذن إذا كان يؤذن على منارة ونحوها، أما إذا كان يؤذن أمام مكبر الصوت فلا يلتفت لأن الالتفات يُضعفُ صوته، بل يستمرّ في الأذان على ما هو عليه ووجهه مقابل لمكبر الصوت، خاصة وأن صوته يتوزع في جميع الجهات عن طريق مكبرات الصوت.
21 - هل يُسن للمؤذن أن يرتفع على مكان عالٍ عند الأذان؟
ج: كان هذا في الأزمنة الأولى ليكون صوته أبلغ وأقوى، وقد كان المؤذن في وقت مضى يرقى على سطح المنارة التي تكون أعلى شيء في المسجد ثمّ يؤذن ليسمع صوته أكثر الناس، أما في هذا الزمان فلا حاجة إلى أن يرقى المؤذن في مكان مرتفع لأن مكبرات الصوت تغني عن ذلك.
উত্তর: উত্তম হলো কেবল তার ঘাড় বাঁকানো বা ফেরানো (التفات), আর সে তার পা নড়াচড়া করবে না এবং তার শরীর ঘোরাবে না।
20 - যদি মুয়াজ্জিন লাউডস্পিকারে (মাইক্রোফোন) আজান দেয়, তবে তার জন্য কি ঘাড় ফেরানো (التفات) সুন্নাত (سنة) হবে?
উত্তর: ঘাড় ফেরানো (التفات) সেই মুয়াজ্জিনের জন্য প্রযোজ্য যখন সে মিনার বা অনুরূপ কোনো উঁচু স্থানে আজান দেয়। কিন্তু সে যদি লাউডস্পিকারের সামনে আজান দেয় তবে সে ঘাড় ফেরাবে না, কারণ ঘাড় ফেরানো (التفات) তার আওয়াজকে দুর্বল করে দেয়। বরং সে আজান যেভাবে দিচ্ছে সেভাবেই অব্যাহত রাখবে এবং তার চেহারা লাউডস্পিকারের সম্মুখভাগে থাকবে; বিশেষ করে যেহেতু লাউডস্পিকারের মাধ্যমে তার আওয়াজ সব দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
21 - আজানের সময় মুয়াজ্জিনের জন্য কোনো উঁচু জায়গায় আরোহণ করা কি সুন্নাত (سنة)?
উত্তর: এটি পূর্ববর্তী সময়গুলোতে ছিল যাতে তার আওয়াজ অধিকতর জোরালো এবং শক্তিশালী হয়। অতীতে মুয়াজ্জিন মিনারার ছাদে আরোহণ করতেন যা মসজিদের সর্বোচ্চ অংশ ছিল, অতঃপর আজান দিতেন যাতে অধিকাংশ মানুষ তার আওয়াজ শুনতে পায়। তবে বর্তমান যুগে মুয়াজ্জিনের উঁচু স্থানে আরোহণ করার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ লাউডস্পিকার এর প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
22 - هل ورد أن المؤذن يضع شيئا من أصابعه في أذنيْه أثناء الأذان؟
ج: نعم، يضع المؤذن أثناء الأذان أصبُعيْه السبابتين في أذنيه، وقد ذكر ذلك الفقهاء واعتمدوا فيه على بعض الأدلّة.
23 - ما الحكمة من وضع الأصبعين في الأذنين حال الأذان؟
ج: الحكمة من ذلك، أن المؤذن مأمور برفع الصوت كثيرا أثناء الأذان، ومعلوم أنه إذا بالغ في رفع صوته خيف عليه من تفجر أذنيه أو تضررهما، فإذا جعل أصبعيه في صماخي أذنيه كان ذلك أدعى إلى عدم التضرر برفع الصوت.
24 - إذا أذن المؤذن في غير مكبر الصوت، كأن يؤذن في صحراء ونحوها، فما الحكم لو أذن وهو يدور دورانا خفيفا لكي يعمَّ أذانه جميع الأنحاء والجهات التي حوله؟
ج: لا يُشرع ذلك، بل ينبغي أن يكون واقفا، ولكن يلتفتُ في الحيعلتين يمينا ويسارا، ويكفي ذلك لإعلام من على جانبيه وإسماعهم الأذان.
22 - আজানের সময় মুয়াজ্জিন কি তার কানে কোনো আঙুল রাখবেন বলে কোনো বর্ণনা বর্ণিত (ورد) হয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ, আজানের সময় মুয়াজ্জিন তার দুই তর্জনী আঙুল দুই কানে রাখবেন। ফকিহগণ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে তারা কিছু দলিলের (الأدلة) ওপর নির্ভর করেছেন।
23 - আজানের সময় কানে দুই আঙুল রাখার হিকমত বা রহস্য কী?
উত্তর: এর হিকমত হলো, আজানের সময় মুয়াজ্জিনকে অত্যধিক উচ্চস্বরে আওয়াজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি জানা কথা যে, যদি তিনি কণ্ঠস্বর অত্যন্ত উচ্চ করেন তবে তার কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তিনি যদি তার দুই আঙুল কানের ছিদ্রে রাখেন, তবে উচ্চস্বরের কারণে ক্ষতি না হওয়ার বিষয়টি অধিকতর নিশ্চিত হয়।
24 - যদি মুয়াজ্জিন লাউডস্পিকার ব্যতীত আজান দেন, যেমন মরুভূমি বা অনুরূপ স্থানে, তবে চারপাশের সব দিকে আজান পৌঁছে দেওয়ার জন্য সামান্য ঘুরে ঘুরে আজান দেওয়ার বিধান (الحكم) কী?
উত্তর: এটি বিধিসম্মত (يشرع) নয়; বরং তার স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকা উচিত। তবে 'হাইয়া আলা' (الحيعلتين) বলার সময় তিনি ডানে ও বামে মুখ ফিরাবেন। দুই পাশের লোকদের অবগত করতে এবং তাদের আজান শোনাতে এটুকুই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - ما الحكم لو أذن المؤذن وهو راكب سيارة أو نحوها؟
ج: الأذان راكبا لا بأس به، ما دام أنه قد حصل أداء كلمات الأذان كما ينبغي حتى ولو على بعير أو سيارة، فإذا رفع صوته والسيارة تمشي حصل المقصود.
26 - لو أذن المؤذن وهو راكب ثمّ مشى بالسيارة ونزل ليصلي فهل يؤذن مرة أخرى أم يكفيه الأذان الأول؟
ج: بل يكفيه الأذان الأول لأن المقصود قد حصل به.
27 - هل يجوز للمؤذن أن يؤذن وهو جالس؟
ج: الأصلُ أن ذلك لا يجوز، بل ينبغي أن يؤذن قائما حتى يكون صوته أعلى وأبلغ، أما في هذه الأزمنة فقد يكون الأمر أيسر لأن المؤذن يؤذن غالبا في مكبّر الصوت.
28 - وبالنسبة للإقامة ماذا لو أقام الصلاة وهو جالس مع قدرته على القيام؟
ج: الجواب كما ذكرنا في الجواب السابق أن الأصل عدم الجواز، إلّا أن الأمر في هذا الزمان أيسر لأن الأذان والإقامة غالبا تكون في مكبر الصّوت. والله أعلم.
25 - মুয়াজ্জিন যদি গাড়ি বা অনুরূপ কোনো বাহনে আরোহণ করা অবস্থায় আজান দেন, তবে তার বিধান কী?
জ: আরোহী অবস্থায় আজান দেওয়াতে কোনো দোষ নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত আজানের শব্দগুলো যথাযথভাবে আদায় করা হয়—চাই তা উট বা গাড়ির ওপরই হোক না কেন। সুতরাং যদি তিনি উচ্চস্বরে আজান দেন এবং গাড়ি চলতে থাকে, তবে আজানের উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যাবে।
26 - যদি মুয়াজ্জিন আরোহী অবস্থায় আজান দেন, এরপর গাড়ি চালিয়ে গিয়ে সালাত আদায়ের জন্য অবতরণ করেন, তবে তিনি কি পুনরায় আজান দেবেন নাকি প্রথম আজানটিই তার জন্য যথেষ্ট হবে?
জ: বরং তার জন্য প্রথম আজানটিই যথেষ্ট হবে, কারণ এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়েছে।
27 - মুয়াজ্জিনের জন্য কি বসে আজান দেওয়া বৈধ?
জ: মূল বিধান (الأصل) হলো এটি বৈধ নয়, বরং দাঁড়িয়ে আজান দেওয়া উচিত যাতে তার আওয়াজ অধিক উচ্চ এবং দূরবিস্তৃত হয়। তবে বর্তমান যুগে বিষয়টি সহজতর হতে পারে, কারণ মুয়াজ্জিন সাধারণত লাউডস্পিকারে আজান দিয়ে থাকেন।
28 - আর ইকামতের ক্ষেত্রে বিধান কী হবে, যদি তিনি দণ্ডায়মান হতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও বসে ইকামাত প্রদান করেন?
জ: উত্তরটি আমরা পূর্বের উত্তরে যেমন উল্লেখ করেছি যে, মূল বিধান (الأصل) হলো এটি বৈধ না হওয়া। তবে বর্তমান যুগে বিষয়টি সহজতর, কারণ আজান ও ইকামাত সাধারণত লাউডস্পিকারে প্রদান করা হয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
29 - عند جمع الصلاتين في السّفر هل يؤذن لكل صلاة ويقام أم يكتفي بأذان واحد وإقامة واحدة؟
ج: عند الجمع في السفر يؤذِّن أذانا واحدا فقط، ثمّ يُقام لكل صلاة إقامة خاصة، فيكون عند جمع الصلاتين أذان وإقامتان.
30 - هل يشترط للمؤذن أن يستقبل القبلة أثناء أذانه؟
ج: يُستحبّ له ذلك وهو الأولى في حال الأذان، لكنه غير واجب، فإن القبلة أشرف الجهات فكان الأولى استقبالها دون غيرها.
31 - إذا كان المؤذن يؤذن في برية ونحوها فهل يُشرع أن يعلو على مرتفع كتل ونحوه أم يؤذن كما هو دون تكلّف الارتفاع والعلوّ؟
ج: نعم، يشرع للمؤذن أن يرتفع على شيء عند الأذان، حتى يكون ذلك أندى لصوته وأبلغ وأعلى ولو كان في برية ليشهد له كل ما سمعه من حجر ومدر وشجر كما في الحديث (1)
--------------------------------------------
২৯ - সফরে দুই নামাজ একত্রে আদায়ের সময় কি প্রতিটি নামাজের জন্য আজান ও ইকামত দিতে হবে, নাকি একটি আজান ও একটি ইকামতই যথেষ্ট?
উত্তর: সফরে দুই নামাজ একত্রে আদায়ের সময় কেবল একটি আজান দেওয়া হবে, এরপর প্রতিটি নামাজের জন্য পৃথক ইকামত দেওয়া হবে। সুতরাং দুই নামাজ একত্রে পড়ার ক্ষেত্রে একটি আজান ও দুইটি ইকামত হবে।
৩০ - আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিনের জন্য কি কিবলামুখী হওয়া শর্ত?
উত্তর: এটি মুস্তাহাব এবং আজানের ক্ষেত্রে এটিই উত্তম, তবে তা ওয়াজিব নয়। কেননা কিবলা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দিক, তাই অন্য কোনো দিকে মুখ না করে কিবলামুখী হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
৩১ - যদি মুয়াজ্জিন কোনো প্রান্তর বা অনুরূপ স্থানে আজান দেয়, তবে কি কোনো উঁচু জায়গা যেমন টিলা বা এই জাতীয় কিছুর ওপর আরোহণ করা বিধেয়, নাকি সে উচ্চতা বা আরোহণের কষ্ট না করে যেখানে আছে সেখানেই আজান দিবে?
উত্তর: হ্যাঁ, আজানের সময় মুয়াজ্জিনের জন্য কোনো উঁচু স্থানে আরোহণ করা বিধেয়, যাতে করে তা তার আওয়াজকে অধিকতর সুমিষ্ট, জোরালো ও উচ্চ করতে সহায়ক হয়; যদিও সে কোনো প্রান্তরে থাকে। যেন পাথর, মাটির চাকা ও গাছপালা যা কিছুই তার আওয়াজ শুনবে, তারা সবাই তার জন্য সাক্ষ্য দেয়, যেমনটি হাদিসে এসেছে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
32 - ذكر بعض أهل العلم أن المؤذن يقول عند نزول المطر الشديد: «صلوا في رحالكم أو في بيوتكم» ؟ فما هو الضابط لمقدار هذا المطر الذي يجيز ترك الاجتماع للصلاة في المسجد؟
ج: الحديث الذي في ذلك ورد في السّفر (1) وأنهم كانوا مسافرين، والمسافرون عادة يكونون متفرقين في أنحاء البرية ويشقّ عليهم أن يأتوا جميعا إلى المكان الذي يجتمعون فيه وبينهم وبين المكان الذي يجتمعون فيه طين ودحض ومستنقعات ومياه تحول بينهم وبين هذا المكان الذي يصلون فيه جماعة، فرُخص لهم في هذه الحالة أن يصلوا في رحالهم، وقوله: " رحالهم " دليل على أنهم يصلون وهم في البراري كلٌّ في رحْله، ولم يقل " صلوا في بيوتكم " فالصلاة في الرحال يُراد بها صلاة المسافرين في رحالهم ومحطٌ أثقالهم وأمتعتهم.
33 - بعض الناس يتساهل بالصلاة في بيته عند وجود أدنى قدر من المطر فما حكم ذلك؟
--------------------------------------------
32 - কিছু বিজ্ঞ আলেম উল্লেখ করেছেন যে, প্রবল বৃষ্টিপাতের সময় মুয়াজ্জিন বলেন: «তোমরা তোমাদের আবাসস্থলে বা তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করো»? সুতরাং বৃষ্টির পরিমাণের সেই মাপকাঠি কী, যা মসজিদে সালাতের জন্য সমবেত হওয়া ত্যাগ করাকে বৈধ করে?
উত্তর: এই বিষয়ের হাদিসটি সফর অবস্থায় বর্ণিত হয়েছে (১) এবং তারা মুসাফির ছিলেন। সাধারণত মুসাফিরগণ মরুপ্রান্তরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন এবং তাদের জন্য একত্রে সেই স্থানে সমবেত হওয়া কষ্টকর হয় যেখানে তারা জামাতবদ্ধ হন; কারণ তাদের এবং সেই সমবেত হওয়ার স্থানের মাঝে কাদা, পিচ্ছিল পথ, জলাশয় ও পানির প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় যা তাদের এবং সালাতের স্থানের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় তাদের জন্য নিজ নিজ অবস্থানে সালাত আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তার বাণী: "তোমাদের আবাসস্থলে" এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে, তারা প্রান্তরে থাকা অবস্থায় প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে সালাত আদায় করবেন। তিনি "তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করো" বলেননি। সুতরাং আবাসস্থলে সালাত বলতে মুসাফিরদের তাদের অবস্থানের জায়গা এবং মালামাল ও আসবাবপত্র রাখার স্থানে সালাত আদায় করাকে বোঝায়।
33 - কিছু মানুষ সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরে সালাত আদায়ের ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করে, এর বিধান কী?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ج: لا يجوز أن يصلي الرجل في بيته إلّا لعذر شديد كأن يكون المطرُ مستمرا وليس عنده سيارة تنقله إلى المسجد أو يكون بينه وبين المسجد طين ومستنقعات يخوض فيها إلى ركبته أو إلى نصف ساقه في طين ودحض ومزلّة أقدام، فمع استمرار المطر الذي يبلّ الثياب ويغرقها ومع وجود الدحض والمزلّة والطين يرخص له في هذه الحالة أن يصلي في بيته. وأما إذا لم يوجد ذلك فلا بدَ من إجابة النداء، والصلاة جماعة في المساجد.
34 - إذا جئتُ مع صاحب لي إلى مسجد قد صلي فيه وقد فاتتنا صلاة الجماعة وأردنا أن نصلي جماعة، فهل الأولى لي الأذان أم عدمه؟
ج: الأولى عدم الأذان، لأن المقصود بالأذان الإعلام بدخول الوقت، وقد علمتم بدخوله فلا داعي للأذان.
35 - وبالنسبة للإقامة، هل يسن لنا أن نقيم الصلاة أم نترك الإقامة أيضا؟
ج: الإقامة تختلف في حُكمها عن الأذان فيُشرع لكما أن تقيما الصلاة قبل الشروع في الصلاة فإنها شرعت للإعلام بالقيام إلى الصلاة فإن صليتما بدون إقامة صحت الصلاة.
উত্তর: কোনো ব্যক্তির জন্য ঘরে সালাত আদায় করা বৈধ নয়, যদি না কোনো গুরুতর ওজর থাকে। যেমন: অবিরাম বৃষ্টি হওয়া এবং তার কাছে মসজিদে যাওয়ার মতো কোনো যানবাহন না থাকা, অথবা তার ও মসজিদের মাঝে কাদা ও জলাভূমি থাকা যেখানে তাকে হাঁটু বা পায়ের নলার অর্ধেক পর্যন্ত কাদা ও পিচ্ছিল পথে পথ চলতে হয়। সুতরাং, কাপড় ভিজে সিক্ত হয়ে যায় এমন অবিরাম বৃষ্টি এবং পিচ্ছিল পথ ও কাদার উপস্থিতিতে এই অবস্থায় তার জন্য ঘরে সালাত আদায়ের অনুমতি রয়েছে। আর যদি এমন পরিস্থিতি না থাকে, তবে অবশ্যই আহ্বানে সাড়া দিতে হবে এবং মসজিদে জামাআতের সাথে সালাত আদায় করতে হবে।
৩৪ - আমি যদি আমার জনৈক সাথীর সাথে এমন কোনো মসজিদে আসি যেখানে সালাত সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং আমাদের জামাআত ছুটে গেছে, এমতাবস্থায় আমরা যদি জামাআতে সালাত আদায় করতে চাই, তবে কি আমাদের জন্য আযান দেওয়া উত্তম হবে নাকি আযান না দেওয়া?
উত্তর: উত্তম হলো আযান না দেওয়া। কেননা আযানের উদ্দেশ্য হলো সালাতের সময় হওয়ার সংবাদ দেওয়া, আর আপনারা সময় হওয়ার বিষয়টি অবগত হয়েছেন, তাই আযান দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
৩৫ - আর ইকামতের ক্ষেত্রে কি আমাদের জন্য সালাতে ইকামত দেওয়া সুন্নাত হবে নাকি আমরা ইকামতও বর্জন করব?
উত্তর: বিধানের দিক থেকে ইকামতের বিষয়টি আযানের চেয়ে ভিন্ন। সালাত শুরু করার পূর্বে আপনাদের জন্য ইকামত দেওয়া বিধেয়, কারণ এটি সালাতে দাঁড়ানোর সংবাদের জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে। তবে আপনারা যদি ইকামত ছাড়াই সালাত আদায় করেন, তবে সালাত শুদ্ধ হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ৩০)
36 - إذا فاتتني صلاة الجماعة في المسجد وأردت صلاتها في البيت، فهل يُشرع لي الأذان أم لا؟
ج: لا يشرع لك الأذان، لأن المقصود من الأذان إعلام الناس بدخول وقت الصلاة، وأنت في هذه الحالة تصلي وحدك فلا يشرع لك الأذان.
37 - وبالنسبة لإقامة، هل يُشرع لي إذا كنتُ أريد أن أصلي منفردا صلاة مفروضة، أن أقيم الصلاة أم لا؟
ج: إذا صليت منفردا، فأنت مخيّر إن شئت أن تُقيم الصلاة، وإن شئت أن تقوم إلى الصلاة من غير إقامة كلاهما لا حرج فيه، لأن المقصود من الإقامة إعلام الحاضرين بإقامة الصلاة للقيام إليها والاصطفاف لها وما دام أنك وحدك فالأمرُ يختلف فإنك قد قمت إلى الصلاة وليس هناك من تنبّهه لذلك.
৩৬ - যদি মসজিদে আমার জামাতে সালাত ছুটে যায় এবং আমি তা বাড়িতে আদায় করতে চাই, তবে কি আমার জন্য আজান দেওয়া বিধিবদ্ধ (يشرع) হবে কি না?
উত্তর: আপনার জন্য আজান দেওয়া বিধিবদ্ধ (يشرع) নয়; কারণ আজানের উদ্দেশ্য হলো সালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সংবাদ মানুষকে অবহিত করা। এমতাবস্থায় আপনি যেহেতু একাকী সালাত আদায় করছেন, তাই আপনার জন্য আজান দেওয়া বিধিবদ্ধ (يشرع) নয়।
৩৭ - আর ইকামতের ক্ষেত্রে বিধান কী? আমি যদি একাকী কোনো ফরজ সালাত আদায় করতে চাই, তবে কি আমার জন্য ইকামত দেওয়া বিধিবদ্ধ (يشرع) হবে কি না?
উত্তর: আপনি যদি একাকী সালাত আদায় করেন, তবে আপনাকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে (مخير); আপনি চাইলে ইকামত দিতে পারেন, আবার চাইলে ইকামত ছাড়াই সালাত শুরু করতে পারেন, কোনোটিতেই কোনো অসুবিধা নেই (لا حرج فيه)। কারণ ইকামতের উদ্দেশ্য হলো উপস্থিত ব্যক্তিদের সালাত শুরু হওয়ার কথা জানানো যেন তারা সালাতের জন্য দাঁড়ায় এবং কাতারবদ্ধ হয়। যেহেতু আপনি একাকী, তাই বিষয়টি ভিন্ন; কেননা আপনি নিজেই সালাতের জন্য দাঁড়িয়েছেন এবং সেখানে এমন কেউ নেই যাকে আপনার সচেতন করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ৩১)
[القسم الثاني فتاوى في ألفاظ الأذان وأحكامها]القسم الثاني
فتاوى في
ألفاظ الأذان وأحكامها
[দ্বিতীয় বিভাগ: আজানের শব্দাবলি এবং এর বিধানসমূহ সংক্রান্ত ফতোয়া]দ্বিতীয় বিভাগ
ফতোয়াসমূহ
আজানের শব্দাবলি এবং এর বিধানসমূহ প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
38 - إذا كان المؤذن يؤذن ونسي أحد ألفاظ الأذان أثناء الأذان كأن ينسى قوْل: حي على الصلاة ولم يتذكر إلا وهو يقول: لا إله إلا الله: أي في ختام الأذان، فماذا يفعل؟
ج: إذا نسي المؤذن شيئا من ألفاظ الأذان فإنه يقوله بعدما ينتهي فلو نسي. حي على الفلاح، فإنه يقولها بعد نهاية الأذان ولا حرج في ذلك ولا يلزمه أن يعيد ما بعدها.
39 - إذا نسي المؤذن التثويب - أي قول: الصلاة خير من النوم - في أذان الفجر، ولم يتذكر إلاّ في ختام الأذان فماذا يفعل؟
ج: إذا نسيها المؤذن فإنه يقولها بعد انتهاء الأذان ولا حرج، أي بعدما يقول: لا إله إلا الله: يقول: الصلاة خير من النوم مرتين ولا حرج في ذلك ولا تلزمه إعادة الأذان.
40 - إذا أعاد المؤذن بعد اختتام الأذان ما نسيه فهل يكمل ما بعده أم لا؟ أي إذا نسي أن يقول: الصلاة خير من
৩৮ - যদি মুয়াজ্জিন আজান দেওয়ার সময় আজানের কোনো শব্দ ভুলে যান, যেমন তিনি ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ বলতে ভুলে গেলেন এবং আজানের শেষে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার সময় তা স্মরণ হলো, তবে তিনি কী করবেন?
উত্তর: মুয়াজ্জিন যদি আজানের কোনো শব্দ ভুলে যান, তবে তিনি আজান শেষ করার পর তা বলবেন। সুতরাং যদি তিনি ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ বলতে ভুলে যান, তবে আজান শেষ করে সেটি বলবেন। এতে কোনো অসুবিধা নেই এবং তার জন্য পরবর্তী অংশগুলো পুনরায় বলা আবশ্যক নয়।
৩৯ - যদি মুয়াজ্জিন ফজরের আজানে তাতবিব (التثويب) — অর্থাৎ ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বলা — ভুলে যান এবং আজানের শেষে গিয়ে তা স্মরণ হয়, তবে তিনি কী করবেন?
উত্তর: মুয়াজ্জিন যদি তা ভুলে যান, তবে আজান সমাপ্তির পর তা বলবেন এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই। অর্থাৎ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পর তিনি দুইবার ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বলবেন। এতে কোনো দোষ নেই এবং তাকে আজান পুনরায় দিতে হবে না।
৪০ - আজান সমাপ্ত করার পর মুয়াজ্জিন যদি তার ভুলে যাওয়া অংশটি পুনরায় পাঠ করেন, তবে কি তাকে এর পরবর্তী অংশগুলো সম্পন্ন করতে হবে কি না? অর্থাৎ যদি তিনি বলতে ভুলে যান: ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান...’
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
النوم: فقالها بعد اختتام الأذان هل يكمل ما بعدها من التكبير والتهليل أم لا؟
ج: لا، لا يكمل ما بعدها لأنه قد قال ما بعدها، لكن يقولها هي تداركا لها فقط.
41 - ماذا نفعل مع الروايات المتعدّدة الواردة في الأذان، أيهما نختار، أم أننا نؤذن بهذا مرة وهذا مرّة؟
ج: الصحيح أنك تؤذن بأذان بلال، وهو المشهور بين الناس الآن، وعدد جُمَلِهِ خمس عشرة جملة.
42 - أيهما أفضل في الأذان الترجيع أم عدمه؟
ج: الأفضل عدم الترجيع، وذلك لأنه لم يذكر إلاّ في حديث محتمل وهو حديث أبي محذورة (1) وفيه «أنّ النبي صلى الله عليه وسلم علّمه الأذان وذكر له الترجيع فيه» ولكن الذي نرى أنّ النبي صلى الله عليه وسلم ذكر له الترجيع تلقينا له بالشهادة لأنه كان حديث عهد بإسلام فأراد أن تستقرّ الشهادتان في قلبه.
--------------------------------------------
নিদ্রা প্রসঙ্গে: যদি আযানের সমাপ্তির পর কেউ এটি (আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাউম) বলে, তবে সে কি তার পরবর্তী তাকবির ও তাহলিল সম্পন্ন করবে কি না?
উত্তর: না, সে তার পরবর্তী অংশ সম্পন্ন করবে না, কারণ সে ইতোমধ্যে তার পরবর্তী অংশ বলে ফেলেছে। তবে সে কেবল এটি সংশোধনের জন্য বলবে।
৪১ - আযান সম্পর্কে বর্ণিত একাধিক বর্ণনা (روايات) নিয়ে আমরা কী করব? আমরা কোনটি বেছে নেব, নাকি আমরা একবার এটি দিয়ে এবং অন্যবার অন্যটি দিয়ে আযান দেব?
উত্তর: বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো আপনি বিলালের আযান অনুযায়ী আযান দেবেন, যা বর্তমানে মানুষের মধ্যে প্রসিদ্ধ (مشهور) এবং এর বাক্য সংখ্যা পনেরটি।
৪২ - আযানের ক্ষেত্রে তারজি (ترجيع) করা উত্তম নাকি না করা?
উত্তর: তারজি (ترجيع) না করাই উত্তম। কারণ এটি কেবল একটি সম্ভাবনাপূর্ণ (محتمل) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো আবু মাহযুরার হাদিস (১), যাতে রয়েছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আযান শিখিয়েছেন এবং তাতে তারজি (ترجيع)-এর কথা উল্লেখ করেছেন।" কিন্তু আমাদের অভিমত হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শাহাদাতের তালকিন (تلقين) করার জন্য তারজি (ترجيع)-এর কথা উল্লেখ করেছিলেন। কেননা তিনি তখন নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাই তিনি চেয়েছিলেন যেন দুই শাহাদাত তার অন্তরে বদ্ধমূল হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
43 - ما المقصود بالترجيع الذي ذكرتم أنه ورد في حديث أبي محذورة؟
ج: الترجيع هو تكرار الشهادتين، أي أن يأتي بالشهادتين: أشهد أن لا إله إلا الله. . مرتين ثمّ أشهد أن محمدا رسول الله. . مرتين يخفض بهما صوته، ثمّ يأتي بالشهادتين بعد ذلك بصوت مرتفع كصوت الأذان أي يقول: أشهد أن لا إله إلا الله مرتين. ثم أشهد أن محمدا رسوله الله. . مرتين ثم يرفع بهما صوته بعدما قالهما وهو خافض لصوته هذا هو الترجيع الذي جاء في حديث أبي محذورة (1)
44 - لو فعل المؤذن الترجيع أحيانا وتركه أحيانا، هل هو الأولى أم يتركه دائما؟
ج: لا بأس في ذلك - إن شاء الله - لكن الأولى أن يستمر على أذان واحد وذكرنا أن أذان بلال هو الأولى بالاستمرار عليه، وهو المعمول به الآن وهو الذي كان يسمعه النبي صلى الله عليه وسلم منه سفرا وحضرا ويقره.
45 - عند خفض الصوت بالشهادتين الأولييْن عند الترجيع، هل معنى هذا الخفض أنه يقولها في نفسه أم يحرك
--------------------------------------------
43 - আবু মাহজুরাহ-এর হাদিসে আপনারা যে 'তারজি' (الترجيع)-এর কথা উল্লেখ করেছেন, তার উদ্দেশ্য কী?
উ: 'তারজি' (الترجيع) হলো শাহাদাতাইন (সাক্ষ্যদ্বয়)-এর পুনরাবৃত্তি করা। অর্থাৎ, শাহাদাতাইন এভাবে পাঠ করা: "আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" দুইবার, অতঃপর "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ" দুইবার—প্রথমে এই শব্দগুলো নিম্নস্বরে উচ্চারণ করবে। এরপর আজানের শব্দের মতো উচ্চস্বরে পুনরায় শাহাদাতাইন পাঠ করবে। অর্থাৎ সে বলবে: "আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" দুইবার, অতঃপর "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ" দুইবার। নিম্নস্বরে বলার পর সে এই শব্দগুলো উচ্চস্বরে উচ্চারণ করবে। এটাই হলো সেই 'তারজি' (الترجيع), যা আবু মাহজুরাহ-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে (১)
44 - মুয়াজ্জিন যদি কখনো 'তারজি' (الترجيع) করেন এবং কখনো বর্জন করেন, তবে কোনটি উত্তম হবে? নাকি তিনি এটি সর্বদা বর্জন করবেন?
উ: এতে কোনো অসুবিধা নেই—ইনশাআল্লাহ—তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির আজানের ওপর অবিচল থাকা উত্তম। আমরা উল্লেখ করেছি যে, বিলালের আজানের ওপর অবিচল থাকাই অধিকতর উত্তম এবং বর্তমানে এটিই প্রচলিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর ও মুকিম অবস্থায় তাঁর থেকে এই আজান শুনতেন এবং একে অনুমোদন দিতেন।
45 - 'তারজি' (الترجيع)-এর সময় প্রথম দুইবার শাহাদাতাইন পাঠকালে আওয়াজ নিচু করার অর্থ কি এই যে, তিনি তা মনে মনে বলবেন নাকি জিহ্বা নাড়াবেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী তাকরীবি আহকামিল আযান
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
بهما شفتيه، وما هو الضابط في هذا الخفض؟
ج: قولنا يخفض بهما صوته، ليس معناه أن يقولهما في نفسه، بل يقولهما بصوت خفيف بحيث لو كان بجانبه أحد لسمعه، فلا يخفض بحيث لا يُسمع ولا يرفع فيجعله كقوة صوت الأذان، هذا هو الضابط للخفض المطلوب.
46 - هل وردت الإقامة بمثل ألفاظ الأذان؟
ج: نعم، ذكر هذا بعض الفقهاء، كالحنفية فعندهم أن الإقامة مثل الأذان، غير أن الأذان يزيد بالترجيع، والإقامة تزيد ب " قد قامت الصلاة "، أما التكبيرات فهي عندهم أربع في الأذان والإقامة، والتشهّد أربع في الأذان والإقامة إلاّ أن الأذان يزيد بالترجيع، والأذان فيه أربع حيعلات والإقامة كذلك، والأذان عندهم تسع عشرة جملة أما الإقامة فسبع عشرة جملة، هكذا عندهم، ويستدلون على فعلهم بأن هذه هي إقامة أبي محذورة، ولكن الصحيح الذي تؤيّده الأدلّة هي إقامة بلال ففي الصحيح عن أنس رضي الله عنه قال: «أمر بلال أن يشفع الأذان ويوتر الإقامة» (1) أي يجعل كلمات الأذان
--------------------------------------------
তার ঠোঁটদ্বয় দ্বারা, আর এই শব্দ নিম্ন করার মানদণ্ড কী?
উত্তর: আমাদের কথা ‘তিনি তার কণ্ঠস্বর নিচু করবেন’, এর অর্থ এই নয় যে তিনি তা মনে মনে বলবেন; বরং তিনি তা নিম্ন স্বরে বলবেন যাতে করে তার পাশে কেউ থাকলে সে শুনতে পায়। সুতরাং তিনি এতটা নিচু করবেন না যে শোনা যাবে না, আবার এতটা উচ্চ করবেন না যে তা আজানের শব্দের শক্তির মতো হয়ে যায়। কাঙ্ক্ষিত নিম্ন স্বরের মানদণ্ড এটাই।
৪৬ - একামত কি আজানের শব্দের মতোই বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ, কিছু ফকিহ এটি উল্লেখ করেছেন, যেমন হানাফিগণ; তাদের মতে একামত আজানের মতোই, তবে পার্থক্য এই যে আজানে তারজি (الترجيع) অতিরিক্ত করা হয় এবং একামতে ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’ অতিরিক্ত করা হয়। তাদের নিকট তাকবির আজান ও একামত উভয় ক্ষেত্রে চারটি, আর তাশাহহুদ আজান ও একামত উভয় ক্ষেত্রে চারটি; তবে আজানে তারজি (الترجيع) অতিরিক্ত থাকে। আজানে চারটি হাইয়াআলা (حيعلات) থাকে এবং একামতেও তাই। তাদের নিকট আজানের বাক্য উনিশটি আর একামতের বাক্য সতেরোটি। এটিই তাদের অভিমত। তারা তাদের মতের স্বপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করেন যে, এটিই ছিল আবু মাহজুরাহ (রা.)-এর একামত। কিন্তু সঠিক (صحيح) বিষয়টি যা দলিলসমূহ দ্বারা সমর্থিত, তা হলো বিলাল (রা.)-এর একামত। কেননা সহিহ গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «বিলাল (রা.)-কে আজানের বাক্যগুলো জোড় হিসেবে এবং একামতের বাক্যগুলো বেজোড় হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে» (১) অর্থাৎ আজানের বাক্যগুলোকে
--------------------------------------------