(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
نظرة في مفهوم الإرهاب والموقف منه في الإسلام   (عبد الرحمن المطرودي)

القسم: كتب عامة


اسم الكتاب: نظرة في مفهوم الإرهاب والموقف منه في الإسلام

المؤلف: عبد الرحمن المطرودي

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد الصفحات: 80

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলামে সন্ত্রাসবাদের ধারণা এবং এর প্রতি অবস্থানের একটি পর্যালোচনা   (আব্দুর রহমান আল-মাতরূদী)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


গ্রন্থের নাম: ইসলামে সন্ত্রাসবাদের ধারণা এবং এর প্রতি অবস্থানের একটি পর্যালোচনা

লেখক: আব্দুর রহমান আল-মাতরূদী

প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১ হিজরী

(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌[تقديم]

تقديم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين. . . أما بعد:

فإن ما حدث ويحدث في العالم من ظواهر وتغيرات اجتماعية، ومستجدات وأحداث، تحتاج من المجتمع البشري إلى دراسة وتمحيص لتمييز الغث من السمين.

وهذه الدراسة يجب أن تكون علمية تعتمد على الأسس والأساليب والمعايير العلمية لتحقيق ذلك المستوى من التمييز، فلا يكون النظر إليها نظرا مجددا يدفعه الحماسة أو المدافعة عن وجهة النظر، وهذا بلا شك يحتاج إلى روية وتجرد وعدل في جانب الباحث، وإلى تحديد وتحرير وتعريف علمي دقيق لموضوع الدرس والمناقشة.

وفي هذا الإطار، فإن الإرهاب - بمفهوم الإفساد في الأرض، ونشر الرعب والخوف السلبي بشتى صوره وأشكاله - من الأحداث التي رزء بها إنسان هذا الكون، وهو بهذا المفهوم قديم، نجد الإشارة إليه في الحوار الرباني مع الملائكة: {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [البقرة: 30] .

فأشارت الملائكة إلى الفساد في الأرض وسفك الدماء وهما من الإرهاب في مفهومه السلبي، ولكن العليم الخبير قال: {إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [البقرة: 30] .

فالإرهاب بذلك المفهوم ليس له وطن ولا دين، وليس حديث النشأة، ومعاناة الإنسان منه ليست للتو، إنما هي سلسلة وتاريخ طويل من الأحداث.

لذا جاءت معالجة هذا الأمر في الديانات السماوية وخاتمتها ديننا الإسلامي الذي أوفى هذا الموضوع حقه في المعالجة الوقائية والعلاجية.
[প্রস্তাবনা]

যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সর্দার আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজন ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর। অতঃপর:

বিশ্বে যেসব সামাজিক প্রপঞ্চ ও পরিবর্তন এবং নতুন ঘটনা ও পরিস্থিতি ঘটে চলেছে, তা অসার থেকে সারবস্তুকে পৃথক করার জন্য মানব সমাজের পক্ষ থেকে গভীর অধ্যয়ন ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

এই অধ্যয়ন অবশ্যই হতে হবে বৈজ্ঞানিক, যা সেই পার্থক্যের স্তর অর্জনের জন্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, পদ্ধতি এবং মানদণ্ডের ওপর নির্ভর করবে। এর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এমন নিছক পর্যবেক্ষণ হবে না যা কেবল আবেগ বা নিজের মতবাদ রক্ষার তাগিদে চালিত হয়। এটি নিবিড় চিন্তা, নিরপেক্ষতা এবং ন্যায়পরায়ণতা গবেষকের জন্য নিঃসন্দেহে অপরিহার্য, সেইসাথে আলোচনার বিষয়ের জন্য নির্ভুল বৈজ্ঞানিক সীমা নির্ধারণ, বিশ্লেষণ ও সংজ্ঞায়ন প্রয়োজন।

এই প্রেক্ষাপটে, সন্ত্রাসবাদ—পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি এবং বিভিন্ন উপায়ে ও রূপে নেতিবাচক ত্রাস ও ভীতি ছড়ানোর ধারণা হিসেবে—এমন এক ঘটনা যার মাধ্যমে এই জগতের মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এই ধারণার বিচারে এটি অত্যন্ত প্রাচীন; ফেরেশতাদের সাথে মহান রবের কথোপকথনের মধ্যে আমরা এর ইঙ্গিত পাই: "আর যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, 'নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি', তারা বলল, 'আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে তাতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করি।' তিনি বললেন, 'নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না'।" [আল-বাকারাহ: ৩০]

ফেরেশতাগণ জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি এবং রক্তপাতের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন, যা সন্ত্রাসবাদের নেতিবাচক ধারণারই অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সর্বজ্ঞ ও সর্বজ্ঞাত সত্তা বললেন: "নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।" [আল-বাকারাহ: ৩০]

সুতরাং সেই ধারণায় সন্ত্রাসবাদের কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা ধর্ম নেই, এবং এটি অধুনা সৃষ্ট কোনো বিষয় নয়। এ থেকে মানুষের দুঃখ-কষ্টও সাম্প্রতিক নয়, বরং এটি ঘটনাবলির এক দীর্ঘ ইতিহাস ও ধারাবাহিকতা মাত্র।

তাই আসমানি ধর্মসমূহে এই বিষয়টি নিরসনের প্রচেষ্টা এসেছে এবং এর পূর্ণতা পেয়েছে আমাদের ইসলাম ধর্মে, যা এই বিষয়ে প্রতিরোধমূলক ও নিরাময়মূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এর যথাযথ হক আদায় করেছে।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
إلا أنه عندما حصلت النكسة الفكرية في الفكر الإنساني في بعض المجتمعات البشرية - وذلك بفصل الدين عن الدولة - تأثرت بذلك سلبا كثير من الأحكام والموجهات والضوابط والمعايير المرتبطة بالدين وخاصة تلك التي تضبط سلوك الإنسان وتصرفاته.

ونظرا إلى اختلاف المصادر الفكرية والبيئات الاجتماعية والموروثات الأدبية، فقد اختلفت نظرة المجتمعات البشرية إلى تلك الأحكام والمسائل، ومنها الإرهاب الذي عانى منه الإنسان قديما، وازداد عناؤه منه حديثا، فكان تكثيف التوجه والاهتمام بمعالجته ومناقشته في المؤسسات الحكومية والهيئات والمنظمات الدولية، وفي المؤسسات العلمية والجامعات ومراكز البحث العلمي.

وفي هذا السياق تلقيت دعوة للمشاركة في المؤتمر الذي نظمه كرسي الملك فهد بن عبد العزيز آل سعود للدراسات الإسلامية في كلية الدراسات الشرقية في جامعة لندن خلال المدة 20- 21 شعبان 1424 هـ الموافق له 16-17 أكتوبر 2003 م. فأعددت هذا البحث وعنوانه (وجهة نظر في مفهوم الإرهاب والموقف منه في الإسلام) وقسمته أربعة فصول.

وبعد استكمال البحث رأيت أن أسمه ب (نظرة في مفهوم الإرهاب والموقف منه في الإسلام) ليتفق مع مضمون مادة البحث.

ولما لمركز الملك فيصل للبحوث والدراسات الإسلامية التابع لمؤسسة الملك فيصل الخيرية من جهود مباركة في مجال البحث والنشر العلمي، فقد تولى هذا البحث واعتنى بنشره. مؤملا أن يجد فيه القارئ ما يفيد، وراجيا أن أتلقى ما يسهم في تطويره.

نسأل الله أن يحفظنا جميعا بحفظه، وأن يحفظ ولاة أمرنا وعلماءنا، وأن يديم على بلادنا الأمن والاستقرار، وأن يرد كيد الكائدين ومكر الماكرين في نحورهم.

والله من وراء القصد وهو الهادي إلى سواء السبيل.

عبد الرحمن بن سليمان المطرودي
তবে যখন কিছু মানব সমাজে মানুষের চিন্তাধারায় বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয় ঘটেছিল — আর তা রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করার মাধ্যমে — তখন ধর্ম সংশ্লিষ্ট অনেক বিধান, দিকনির্দেশনা, নীতিমালা ও মানদণ্ড নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল, বিশেষত সেই সকল বিষয় যা মানুষের আচরণ ও কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

চিন্তাধারার উৎস, সামাজিক পরিবেশ এবং সাহিত্যিক ঐতিহ্যের ভিন্নতার কারণে ওইসব বিধান ও বিষয়ের প্রতি মানব সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও ভিন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসবাদ, যার কারণে মানুষ অতীতেও ভুগেছে এবং বর্তমানেও যার ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠনগুলোতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রসমূহে এর প্রতিকার ও পর্যালোচনার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ ও মনোযোগ নিবদ্ধ করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে আমি ১৬-১৭ অক্টোবর ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ২০-২১ শাবান ১৪২৪ হিজরি তারিখে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজে 'বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ ইসলামিক স্টাডিজ চেয়ার' আয়োজিত একটি সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পাই। তখন আমি এই গবেষণাটি প্রস্তুত করি যার শিরোনাম ছিল: 'সন্ত্রাসবাদের ধারণা এবং ইসলামে এর অবস্থান সম্পর্কিত একটি দৃষ্টিভঙ্গি' এবং আমি একে চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি।

গবেষণাটি সম্পন্ন করার পর এর বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য আমি এর নামকরণ করেছি 'সন্ত্রাসবাদের ধারণা এবং ইসলামে এর অবস্থান বিষয়ক একটি পর্যালোচনা'।

বাদশাহ ফয়সাল চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের অন্তর্ভুক্ত বাদশাহ ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার ক্ষেত্রে যে বরকতময় প্রচেষ্টা রয়েছে, তারই অংশ হিসেবে তারা এই গবেষণাটি গ্রহণ করেছে এবং এর প্রকাশনার যত্ন নিয়েছে। আশা করি পাঠক এতে উপকারী কিছু পাবেন এবং এর মানোন্নয়নে সহায়তাকারী মতামত পাব বলে প্রত্যাশা করি।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকলকে তাঁর আশ্রয়ে রক্ষা করেন, আমাদের শাসকবর্গ ও উলামায়ে কিরামকে হিফাজত করেন এবং আমাদের দেশে নিরাপত্তা ও স্থিতি বজায় রাখেন। আর ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকারীদের চক্রান্ত যেন তাদের দিকেই ফিরিয়ে দেন।

আল্লাহই আমাদের সকল উদ্দেশ্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং তিনিই সরল পথের দিশারী।

আবদুর রহমান বিন সুলায়মান আল-মাত্রুদি
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌[الفصل الأول مفهوم الإرهاب وتعريفه]

‌‌[توطئة]

الفصل الأول

مفهوم الإرهاب وتعريفه توطئة: المنهج العلمي يقتضي عند تعريف أي لفظ عام يستخدم في الدلالة على عمل أو فعل معين، أن يكون ذلك التعريف معبرا عن حقيقة ذلك الفعل، يتمثل فيه تحديده ووصفه، فلا يخرج منه ما يجب أن يكون فيه، ولا يدخل فيه ما ليس منه، بحيث لو أسقط ذلك المصطلح أو اللفظ المستخدم على ذلك الفعل، لأمكن تحديده بشكل مقيس قياسا علميا يطابق الواقع ويدل عليه، وهذا مما يمكن من التعامل معه وفقا لأحكامه وقوانينه، وتحديد أطره وأبعاده ودراستها والتعامل معها بما يناسبها.

وحيث إن هذا البحث يتحدث عن موضوع شائك معقد وهو الإرهاب، فلا بد من تحديده وتعريفه بشكل دقيق حتى لا تحمل المصطلحات معاني لا تدخل ضمن نطاقها.

وتحقيقا لهذا، فقد حاول هذا البحث - من خلال قراءات متعددة في موضوعه - تحديد بعض الألفاظ والتعريفات المتعلقة بها مع الربط بين الواقع وتلك المعاني والتعريفات المتعلقة بموضوع الإرهاب، وقد تبين وجود مفارقات بين واقع الأعمال التي توصف بالإرهاب، والمعاني التي تعنيها كلمة إرهاب. وقد تجلت المفارقات في الآيات القرآنية التي وردت فيها كلمة إرهاب؛ حيث جاء تفسيرها الدال عليه مضمون تلك الآيات لا يلتقي مع استخدام كلمة إرهاب في المصطلحات الحديثة. وترجع تلك المفارقات إلى اعتبارات كثيرة، منها:

1 - إن وصف العمل نسبي، فما يراه مجتمع، أو تجيزه ثقافة، قد لا يكون كذلك في عرف مجتمع آخر، والعكس صحيح، ولهذا فإن المصالح العامة للمجتمعات والدول تتأثر بهذا سلبا وإيجابا، فما تراه دولة حقا مشروعا وسائغا عمله تحقيقا لمصالحها قد لا تراه كذلك دولة أو مجتمع آخر.

2 - إن المقاييس المادية للخير والشر تختلف في ثقافات الأمم وحساباتها بقدر ما ينالها
‌‌[প্রথম অধ্যায়: সন্ত্রাসবাদের ধারণা ও এর সংজ্ঞা]

‌‌[প্রস্তাবনা]

প্রথম অধ্যায়

সন্ত্রাসবাদের ধারণা ও সংজ্ঞা। প্রস্তাবনা: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির দাবি হলো, যখন কোনো নির্দিষ্ট কাজ বা কর্মের নির্দেশক কোনো সাধারণ শব্দের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়, তখন সেই সংজ্ঞা যেন উক্ত কর্মের প্রকৃত বাস্তবতাকে প্রকাশ করে এবং এর সীমা নির্ধারণ ও বৈশিষ্ট্যায়ন করে; ফলে সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক এমন কোনো বিষয় যেন বাদ না পড়ে, আবার যা সংজ্ঞার অংশ নয় তা যেন এতে প্রবেশ না করে। এতে করে যদি সেই পরিভাষা বা ব্যবহৃত শব্দটি উক্ত কর্মের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে যেন তা বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ ও নির্দেশক হিসেবে একটি বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডে নিরূপণ করা সম্ভব হয়। এটিই বিষয়টিকে তার বিধান ও নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করা এবং এর কাঠামো ও পরিধি নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী সমীক্ষা ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সক্ষম করে তোলে।

যেহেতু এই গবেষণাটি একটি জটিল ও কণ্টকাকীর্ণ বিষয় তথা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনা করছে, তাই একে সূক্ষ্মভাবে নিরূপণ ও সংজ্ঞায়িত করা আবশ্যক, যাতে পরিভাষাগুলো এমন কোনো অর্থ বহন না করে যা সেগুলোর আওতাভুক্ত নয়।

এই লক্ষ্য অর্জনে, এই গবেষণায়—এর বিষয়বস্তুর ওপর নানামুখী পর্যালোচনার মাধ্যমে—সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট কিছু শব্দ ও সংজ্ঞাকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবাদ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট উক্ত অর্থ ও সংজ্ঞাগুলোর মাঝে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে অভিহিত কর্মকাণ্ডের বাস্তবতা এবং 'সন্ত্রাসবাদ' শব্দটির মাধ্যমে উদ্দিষ্ট অর্থের মধ্যে বিস্তর অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে। পবিত্র কোরআনের যেসব আয়াতে 'সন্ত্রাস' শব্দটি এসেছে, সেখানেও এই অসঙ্গতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে; কেননা সেই আয়াতসমূহের বিষয়বস্তু যে অর্থের নির্দেশ দেয়, তা আধুনিক পরিভাষায় ব্যবহৃত 'সন্ত্রাসবাদ' শব্দের ব্যবহারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই অসঙ্গতিসমূহ অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - কোনো কর্মের বিবরণ আপেক্ষিক; এক সমাজ যা দেখে বা এক সংস্কৃতি যা অনুমোদন করে, অন্য সমাজের প্রথা অনুযায়ী তা ভিন্ন হতে পারে, এবং এর বিপরীত হওয়াও সম্ভব। এই কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রসমূহের জনস্বার্থ এর দ্বারা ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়। একটি রাষ্ট্র তার স্বার্থ রক্ষায় যে কাজকে বৈধ অধিকার ও সঙ্গত বলে মনে করে, অন্য কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ হয়তো তাকে সেভাবে দেখে না।

২ - ভালো ও মন্দের বস্তুগত মানদণ্ড বিভিন্ন জাতির সংস্কৃতি ও তাদের হিসাব-নিকাশে ভিন্ন হয়ে থাকে, যতটুকু তাদের প্রাপ্তি ঘটে...
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
من نفع أو ضرر، أو بقدر ما يؤثر في حياتها من أمور وحوادث سلبا أو إيجابا. والموقف من أفعال الناس من المنظور المادي يتأثر بما يطرأ على العناصر المادية من سلب أو إيجاب. أما في المنظور المعنوي، فهذا متعلق بالحكم الشرعي.

3 - إن الخلط بين المفاهيم والمقاصد النفعية قاد بعض الباحثين إلى ربط بعض المصطلحات بالمفهوم العام للإرهاب، فلا يكون حديث عن الإرهاب إلا ويأتي الحديث عن التطرف، والغلو، والأصولية، والعنف، إما جهلا بحقيقة تلك المصطلحات والفروق بينها، أو بقصد الربط في المقاصد أو في المعتقدات مع عدم وجوده، بل إن البعض يجعل بعض تلك المصطلحات مترادفة، وهذا بلا شك ربط غير وجيه لاختلاف المفاهيم والدلالات والمقاصد لكل منها.

وهذا الخلط شوه المفهوم الحقيقي لكل واحد منها، وعتم على علاقته بالآخر، فاختلطت المعاني وتداخلت، فلا يعلم أيهما السابق أو اللاحق، ولا يعلم أيهما السبب وأيهما النتيجة، بل إن البعض من الناس قد يدافع عن بعض تلك المصطلحات؛ لأن دلالتها في لغته وثقافته أو مفهومه أو في رأيه سليمة، ونظرا إلى عدم وضوح الصورة والتداخل في المفاهيم والاستعمالات جاءت مواقف بعض المجتمعات غير واضحة وغير ثابتة، وخاصة عند عامة الناس وعند وسائل الإعلام، فاتهمت مجتمعات بالأصولية وأخرى بالتطرف، واتهمت دول بإيواء الأصوليين ودعم الأصولية، وهي في ثقافة ذلك المجتمع وعرفه لا علاقة لها بالمفهوم السلبي عند الآخرين.

ولهذا ضاعت الحقائق في خضم الاختلاف في المفاهيم والمقاصد لعدم تحديد المصطلحات وقصر استخدامها على مرادها.

4 - إن استخدام مصطلح الإرهاب بموجب مادة هذه الكلمة اللغوية للدلالة على عمل إجرامي فيه تقليل من الجريمة وأبعادها، إذ إن معنى الإرهاب في قواميس اللغة لا يمثل الوصف الحقيقي لحجم الجرم ومستوى الجريمة، فهو يقتصر على معنى الخوف والتخويف وما اشتق منه، وهذا فيه عدم مطابقة للواقع من جانبه المادي والقانوني؛ إذ قد يكون المفهوم اللغوي للإرهاب نتيجة لذلك الفعل فقط، ولكنه لا يمثله من حيث
উপকার বা ক্ষতি, অথবা জীবনের বিষয়াবলী ও ঘটনার ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাবের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে। বস্তুগত দৃষ্টিভঙ্গিতে মানুষের কর্মের প্রতি অবস্থান বস্তুগত উপাদানসমূহের নেতিবাচক বা ইতিবাচক পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত হয়। তবে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এটি শরয়ি বিধানের (الحكم الشرعي) সাথে সংশ্লিষ্ট।

৩ - ধারণা ও উপযোগবাদী উদ্দেশ্যের মধ্যে সংমিশ্রণ কিছু গবেষককে কিছু পরিভাষাকে সন্ত্রাসবাদের সাধারণ ধারণার সাথে সম্পৃক্ত করতে পরিচালিত করেছে। ফলে সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে আলোচনা হলেই চরমপন্থা (التطرف), বাড়াবাড়ি (الغلو), মৌলবাদ (الأصولية) এবং সহিংসতার (العنف) কথা চলে আসে; হয়তো এই পরিভাষাগুলোর প্রকৃত স্বরূপ এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে, অথবা বাস্তবে কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্য বা বিশ্বাসের মধ্যে সম্পর্ক তৈরির অভিপ্রায়ে। এমনকি কেউ কেউ এই পরিভাষাগুলোর কিছুকে সমার্থক (مترادف) মনে করেন। নিঃসন্দেহে এটি একটি অসার সম্পৃক্তকরণ, কারণ এগুলোর প্রতিটির ধারণা, তাৎপর্য এবং উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন।

এই সংমিশ্রণ প্রত্যেকটির প্রকৃত ধারণাকে বিকৃত করেছে এবং একে অপরের সাথে এদের সম্পর্ককে ধোঁয়াশাচ্ছন্ন করে দিয়েছে। ফলে অর্থসমূহ গুলিয়ে গেছে এবং একে অপরের মধ্যে প্রবেশ করেছে, যার কারণে কোনটি আগে আর কোনটি পরে তা আর বোঝা যায় না। এমনকি কোনটি কারণ আর কোনটি ফলাফল তাও পরিষ্কার থাকে না। বরং কিছু মানুষ এই পরিভাষাগুলোর কোনো কোনোটির পক্ষে সাফাই গায়; কারণ তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ধারণা বা মতামতে এর অর্থ সঠিক বলে বিবেচিত হয়। চিত্রটি অস্পষ্ট হওয়া এবং ধারণা ও ব্যবহারের মধ্যে সংমিশ্রণের কারণে কিছু সমাজের অবস্থান অস্পষ্ট ও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে সাধারণ মানুষ এবং গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে। ফলে কোনো কোনো সমাজকে মৌলবাদ (الأصولية) এবং অন্যগুলোকে চরমপন্থার (التطرف) দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দেশগুলোকে মৌলবাদীদের আশ্রয় দেওয়া এবং মৌলবাদকে সমর্থনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে, অথচ সেই সমাজের সংস্কৃতি ও প্রথার (عرف) আলোকে অন্যদের কাছে থাকা নেতিবাচক ধারণার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

এ কারণেই ধারণা ও উদ্দেশ্যের পার্থক্যের আবর্তে সত্য হারিয়ে গেছে, কারণ পরিভাষাগুলোকে নির্দিষ্ট করা হয়নি এবং সেগুলোকে তাদের সঠিক উদ্দেশ্যের (مراد) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি।

৪ - কোনো অপরাধমূলক কাজকে বোঝাতে সন্ত্রাসবাদ পরিভাষাটি এর শাব্দিক মূল অনুযায়ী ব্যবহার করা অপরাধ এবং এর মাত্রাকে খাটো করে দেখার নামান্তর। যেহেতু অভিধানগুলোতে সন্ত্রাসবাদের যে অর্থ দেওয়া আছে, তা অপরাধের প্রকৃত ভয়াবহতা এবং এর স্তরের সঠিক বর্ণনা দেয় না। এটি কেবল ভয় এবং ভীতি প্রদর্শন (التخويف) ও এর থেকে উদ্ভূত অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এটি এর বস্তুগত ও আইনি দিক থেকে বাস্তবতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ সন্ত্রাসবাদের ভাষাগত ধারণাটি কেবল সেই কাজের ফলাফল হতে পারে, কিন্তু এটি বিষয়টির প্রকৃত অবস্থার প্রতিফলন ঘটায় না...
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
وصف الجرم والدلالة عليه.

5 - جاءت بعض التعريفات الاصطلاحية متأثرة بالمعاني اللغوية، والبعض الآخر جاء ليمثل ما يراه المؤلف أو الكاتب دون التفات إلى دلالة اللفظ، ومما تجدر الإشارة إليه أن كل مؤلف أو كاتب سيتأثر بثقافته وموروثة الحضاري، ولهذا قد يظهر على بعض تلك التعريفات المنحى الشخصي أو الموروث الثقافي.

وفي الجملة، فإن جوهر مشكلة الخلط في مفهوم الإرهاب يؤثر في الرؤى حول ما يعد نشاطا يستوجب الإدانة، وما يعد كفاحا يستحق الدعم والتشجيع، فأصبحت كلمة الإرهاب من هذه الزاوية محملة بكم هائل من الخلط والتشويش وعدم الوضوح.

وقد نتج عن ذلك الخلط والتشويش التداخل وعدم الفصل بين "الأداة" و"الوظيفة" وبين "الوسيلة " و" الهدف ". ولهذا نجد كما هائلا من التعريفات والكتابات والتحليلات التي حاولت تعريف مفهوم الإرهاب وتحديده، ولكن نجد بعضها يركز على الوسيلة، وأخرى على الأداة، وتارة على الهدف أو الوظيفة.

 

‌‌[تعريف الإرهاب]

‌‌[التعريف اللغوي]

تعريف الإرهاب: التعريف اللغوي: تبين لنا في التقديم السابق أن الاختلافات تدور حول التعريف الاصطلاحي للإرهاب- كما سيأتي تفصيل ذلك- أما التعريف اللغوي، فمن المعروف أنه يرتبط بميكنة تركيب الكلمة وبنائها وحروفها، ولهذا فإن التعريف اللغوي للإرهاب يكاد يكون واحدا، وإن توسعت بعض اللغات في المترادفات أو المشتقات أو الاستعمال للمعنى العام تارة، أو للمفهوم الخاص تارة أخرى، ولا شك أن الاختلاف والتضييق أو التوسع في التعريف اللغوي يلقي بظلاله على المعنى الاصطلاحي.

فالإرهاب في اللغة العربية: رهب: كعلم، رهبة ورهبا، بالضم وبالفتح وبالتحريك، ورهبانا، بالضم ويحرك: خاف. وأرهبه واسترهبه: أخافه (1) .

والراهب: واحد رهبان في الديانة المسيحية. وهو اسم فاعل من رهب: إذا خاف،

--------------------------------------------

(1) مجد الدين محمد بن يعقوب الفيروزآبادي، القاموس المحيط، ط5، (بيروت: مؤسسة الرسالة، 1416 هـ/ 1996م) ، ص 118.
অপরাধের বর্ণনা এবং এর ওপর তার প্রমাণক।

৫ - কিছু পারিভাষিক (اصطلاحي) সংজ্ঞা ভাষাগত (لغوي) অর্থের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, আবার কিছু সংজ্ঞা শব্দের নির্দেশনা (دلالة اللفظ)-র দিকে ভ্রূক্ষেপ না করে লেখক বা গ্রন্থকারের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিকে উপস্থাপন করার জন্য এসেছে। উল্লেখ্য যে, প্রত্যেক লেখক বা গ্রন্থকার তার নিজস্ব সংস্কৃতি এবং সভ্যতাগত ঐতিহ্য দ্বারা প্রভাবিত হবেন। এই কারণে এই সংজ্ঞাগুলোর কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ঝোঁক বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রভাব পরিলক্ষিত হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, সন্ত্রাসবাদ ধারণার সংমিশ্রণজনিত সমস্যার মূল নির্যাসটি সেই সকল দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে, যা কোনো কর্মকাণ্ডকে নিন্দনীয় তৎপরতা হিসেবে গণ্য করে, আবার কোনোটিকে সমর্থন ও উৎসাহযোগ্য সংগ্রাম হিসেবে বিবেচনা করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দটি ব্যাপক সংমিশ্রণ, বিভ্রান্তি এবং অস্পষ্টতায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

সেই সংমিশ্রণ ও বিভ্রান্তির ফলে ‘উপকরণ’ ও ‘কার্যাবলি’ এবং ‘মাধ্যম’ ও ‘লক্ষ্য’-এর মধ্যে এক প্রকার পারস্পরিক অনুপ্রবেশ ঘটেছে এবং এগুলোর মাঝে পার্থক্য করা সম্ভব হচ্ছে না। একারণে আমরা বিপুল পরিমাণ সংজ্ঞা, লেখা এবং বিশ্লেষণ দেখতে পাই যা সন্ত্রাসবাদের ধারণাকে সংজ্ঞায়িত ও নির্দিষ্ট করার চেষ্টা করেছে; কিন্তু দেখা যায় যে, এগুলোর কোনটি মাধ্যমের ওপর, কোনটি উপকরণের ওপর, আবার কোনটি লক্ষ্য বা কার্যাবলির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

 

‌‌[সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা]

‌‌[ভাষাগত (لغوي) সংজ্ঞা]

সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা: ভাষাগত (لغوي) সংজ্ঞা: পূর্ববর্তী উপক্রমণিকায় আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, মতভেদগুলো সন্ত্রাসবাদের পারিভাষিক (اصطلاحي) সংজ্ঞাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়—যেটির বিস্তারিত বর্ণনা সামনে আসবে—পক্ষান্তরে ভাষাগত (لغوي) সংজ্ঞার বিষয়টি সর্বজনবিদিত যে, এটি শব্দের গাঠনিক প্রক্রিয়া, রূপান্তর এবং অক্ষরসমূহের বিন্যাসের সাথে সম্পৃক্ত। একারণে সন্ত্রাসবাদের ভাষাগত (لغوي) সংজ্ঞা প্রায় অভিন্ন, যদিও কোনো কোনো ভাষা সমার্থক শব্দ, বুৎপত্তি বা কখনো সাধারণ অর্থে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অথবা কখনো বিশেষ অর্থে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য এনেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ভাষাগত (لغوي) সংজ্ঞার মধ্যে ভিন্নতা, সংকীর্ণতা বা ব্যাপকতা এর পারিভাষিক (اصطلاحي) অর্থের ওপর প্রভাব ফেলে।

আরবি ভাষায় সন্ত্রাসবাদ: রাহিব (رهب): ‘আলিমা’ (علم)-এর ন্যায়, রাহবাতান (رهبة) এবং রাহবান (رهبا)—পেশ যোগে, জবর যোগে এবং হরকতসহ—এবং রুহবানান (رهبانا)—পেশ যোগে এবং হরকতসহ: অর্থাৎ সে ভয় পেল। আর ‘আরহাবাহু’ (أرهبه) এবং ‘ইস্তারহাবাহু’ (استرهبه): অর্থাৎ সে তাকে ভীত করল (১)।

আর রাহিব: খ্রিস্টধর্মে সন্ন্যাসী বা পাদ্রীদের বোঝায়। এটি ‘রাহিব’ (رهب) থেকে কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم فاعل): যখন সে ভয় পায়।

--------------------------------------------

(১) মাজদুদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদি, আল-কামুস আল-মুহিত, ৫ম সংস্করণ, (বৈরুত: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১৪১৬ হি./ ১৯৯৬ খ্রি.), পৃ. ১১৮।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
أي: الخوف من الله سبحانه وتعالى.

وعليه؛ فالإرهاب في اللغة هو الإفزاع والإخافة، يقال: أرهبه، ورهبه أي أخافه (1) .

قال عنترة:

لولا الذي ترهب الأملاك قدرته … جعلت من جوادي قبة الفلك

ويقول الأعشى:

وبلدة يرهب الجواب دلجتها … حتى تراه عليها يبتغي الشيعا

قال أبو القاسم الجنيد، الخوف: توقع العقوبة، وقيل: الخوف: اضطراب القلب وحركته من تذكر المخوف، وقيل: الخوف: هروب القلب من حلول المكروه عند استشعاره.

وبالنظر فيما سبق من معاني مادة "رهب " وبعض ما تفرع عنها يتضح أنها تعني: الخوف، وهو ما يعني الإمعان في الهرب من المكروه، وقد يكون هذا الهرب بالكف عن فعل ما ينتج عنه مكروه أو ببذل الأسباب التي تمنع حدوثه، ومنه إمعان الإنسان في العبادة والزهد في الدنيا خوفا من الله وطمعا في رضاه. وأما أرهب، فتعني: قصد التخويف والإفزاع والترويع، من قوة تفوق قوة ذات المخوف أو المروع، فهو حالة من تسليط عناصر خارجية تتسبب في ضعف داخلي يعتري الإنسان، فيجبره على التخلي عن شيء من اختصاصه، أو عن شيء يحبه.

ولقد أقر مجمع اللغة العربية في القاهرة استخدام كلمة الإرهاب بوصفه مصطلحا حديثا في اللغة العربية أساسه (رهب) بمعنى خاف، وأوضح المجمع: (أن الإرهابيين وصف يطلق على الذين يسلكون سبيل العنف لتحقيق أهدافهم السياسية) (2) .

ومعنى الإرهاب في اللغات الأخرى لا يبعد عن معناه في اللغة العربية؛ ففي اللغة الإنجليزية مثلا كلمة Terrorism التي تعني الإرهاب، وهي مشتقة من كلمة Terror أي تخويف أو Terrorize وكلها تعني الخوف ومشتقاته.

--------------------------------------------

(1) أبو الفضل ابن منظور، لسان العرب (بيروت: دار بيروت للطباعة، 1955 م) ، ج 1، ص 436؛ وإسماعيل بن حماد الجوهري، الصحاح.

(2) مجمع اللغة العربية، المعجم الوسيط (القاهرة: مجمع اللغة العربية) ، ص 390.
অর্থাৎ: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ভয়।

সেই অনুযায়ী; আভিধানিক অর্থে সন্ত্রাস (الإرهاب) হলো আতঙ্ক সৃষ্টি করা ও ভয় দেখানো। বলা হয়ে থাকে: তাকে আতঙ্কিত করেছে এবং তাকে ভীত করেছে অর্থাৎ সে তাকে ভয় দেখিয়েছে (১)।

আনতারা বলেন:

যদি এমন সত্তার ভয় না থাকত যার কুদরতের সামনে শাসকরা ভীত (ترهب) … তবে আমি আমার ঘোড়া দিয়ে আসমানের গম্বুজ বানিয়ে ফেলতাম।

আল-আ’শা বলেন:

এবং এমন জনপদ যার অন্ধকারকে পরিভ্রমণকারী ভয় (يرهب) পায় … যতক্ষণ না সেখানে তাকে অনুসারীদের তালাশ করতে দেখা যায়।

আবু আল-কাসিম আল-জুনাইদ বলেন, ভয় (الخوف) হলো: শাস্তির আশঙ্কা করা। আবার বলা হয়েছে: ভয় (الخوف) হলো: ভীতিপ্রদ বিষয়ের কথা স্মরণে হৃদয়ের অস্থিরতা ও কম্পন। আরও বলা হয়েছে: ভয় (الخوف) হলো: কোনো অপছন্দনীয় বিষয় অনুভব করার সময় তা ঘটার আশঙ্কায় হৃদয়ের পলায়নপর অবস্থা।

"র-হা-বা" (رهب) মূলশব্দের উপরোক্ত অর্থসমূহ এবং এর থেকে উদ্ভূত কিছু শব্দের প্রতি দৃষ্টি দিলে এটি স্পষ্ট হয় যে, এর অর্থ হলো: ভয় (الخوف), যার তাৎপর্য হলো কোনো অপছন্দনীয় বিষয় থেকে পলায়নের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করা। এই পলায়ন কোনো অপছন্দনীয় ফলাফল বয়ে আনে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে হতে পারে অথবা এমন কোনো উপায় অবলম্বনের মাধ্যমে হতে পারে যা তা ঘটতে বাধা দেয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর ভয়ে এবং তাঁর সন্তুষ্টির আশায় মানুষের ইবাদত (العبادة) ও দুনিয়াবিমুখতা (الزهد)-এ নিমগ্ন হওয়া। পক্ষান্তরে 'আরহাবা' (أرهب) অর্থ হলো: ভয় পাওয়া ব্যক্তি বা আতঙ্কিত ব্যক্তির শক্তির চেয়ে অধিক কোনো শক্তির মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, ভয় দেখানো এবং ত্রাস সৃষ্টির উদ্দেশ্য পোষণ করা। এটি বাহ্যিক কোনো প্রভাবকের আধিপত্য বিস্তারের এমন এক অবস্থা যা মানুষের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, ফলে এটি তাকে তার ব্যক্তিগত কোনো অধিকার বা তার প্রিয় কোনো বস্তু ত্যাগ করতে বাধ্য করে।

কায়রোস্থ আরবি ভাষা একাডেমি 'আল-ইরহাব' (الإرهاب) শব্দটিকে আরবি ভাষায় একটি আধুনিক পরিভাষা হিসেবে ব্যবহারের স্বীকৃতি দিয়েছে যার মূল হলো (رهب) অর্থাৎ সে ভয় পেয়েছে। একাডেমি আরও স্পষ্ট করেছে যে: (সন্ত্রাসবাদী হলো এমন একটি বিশেষণ যা তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যারা তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সহিংসতার পথ অবলম্বন করে) (২)।

অন্যান্য ভাষায় সন্ত্রাস (الإرهاب)-এর অর্থ আরবি ভাষার অর্থ থেকে দূরে নয়; উদাহরণস্বরূপ ইংরেজি ভাষায় Terrorism শব্দটি সন্ত্রাস (الإرهাব) অর্থ প্রকাশ করে, যা Terror অর্থাৎ ভীতি প্রদর্শন বা Terrorize শব্দ থেকে উদ্ভূত এবং এগুলোর সবকটিই ভয় এবং এর বিবিধ রূপকে নির্দেশ করে।

--------------------------------------------

(১) আবু আল-ফাদল ইবনে মানজুর, লিসানুল আরব (বৈরুত: দারু বৈরুত লিআত-তিবাআহ, ১৯৫৫ খ্রি.), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৩৬; এবং ইসমাইল বিন হাম্মাদ আল-জাওহারি, আস-সিহাহ।

(২) আরবি ভাষা একাডেমি, আল-মুজামুল ওয়াসিত (কায়রো: মাজমা আল-লুগাহ আল-আরাবিয়্যাহ), পৃষ্ঠা ৩৯০।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
وعرف قاموس أكسفورد الإرهاب بأنه: (استخدام العنف والتخويف بصفة خاصة لتحقيق أهداف سياسية) .

وعرفه قاموس روبير الفرنسي بأنه: (الاستعمال المنظم لوسائل استثنائية للعنف من أجل تحقيق هدف سياسي؛ مثل الاستيلاء، أو المحافظة على السلطة، أو ممارسة السلطة. . .) .

وبهذا يتبين أن الإرهاب يعني: خلق حالة من الخوف عند الإنسان، سواء كان الفعل موجها إليه مباشرة أو موجها إلى غيره، ولكنه يتأثر به.

 

‌‌[التعريف الاصطلاحي]

التعريف الاصطلاحي: التعريف الاصطلاحي للإرهاب هو محل الاختلاف وتباين الآراء ووجهات النظر، وذلك للاعتبارات التي سبق ذكرها، ولاعتبارات تاريخية، ولاختلاف الأهداف والتوجهات وسياسات الدول ومصالحها، تلك التي أدت إلى الاختلاف والتباين على أرض الواقع، فكثرت وتنوعت التعريفات إلى الدرجة التي وجد معها الباحثون في مجال الإرهاب أن عدد التعريفات الاصطلاحية التي ظهرت في المؤلفات التي اهتمت بظاهرة الإرهاب تزيد عن مائة تعريف، وفيها تفاوت وتباين وزيادة واتفاق.

" فالبعض يركز في تعريف الإرهاب على " الأسلوب " أو "الطريقة" فيرون أن الإرهاب ليس فلسفة ولا حركة، وإنما أسلوب أو طريقة لغرض تحقيق طموح سياسي لجماعة منعزلة ومحبطة، تدرك أن لا أمل لها في الوصول إلى ما تريده إلا عن طريق تخويف الأغلبية ومؤسساتها عن طريق إشاعة الرعب والتضليل " (1) بينما يركز آخرون على الأهداف أو الوسائل أو الأسباب. وهكذا كل يركز على ما يدخل في نطاق اهتمامه.

ورغم الصعوبة القائمة في التعريف الاصطلاحي للإرهاب، فإن الباحثين ما زالوا يتلمسون طريقهم للوصول إلى تعريف يتفق عليه، ويكون وسيلة لمعالجة جماعية.

وفيما يلي سأذكر بعض التعريفات الاصطلاحية للإرهاب، أملا في أن يسدد بعضها بعضا، فما ينقص في تعريف تكملة التعريفات الأخرى. فضلا عن أن تعدد تلك

--------------------------------------------

(1) محمد مؤنس محيي الدين، الإرهاب في القانون الجنائي، دراسة قانونية مقارنة على المستويين الوطني والدولي (القاهرة: مكتبة الأنجلو المصرية، 1981 م) ، ص 390.
অক্সফোর্ড ডিকশনারি সন্ত্রাসবাদকে সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে: (বিশেষ করে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য সহিংসতা এবং ভীতির ব্যবহার)।

ফরাসি রবার্ট ডিকশনারি একে সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে: (একটি রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য সহিংসতার ব্যতিক্রমী উপায়ের সুশৃঙ্খল ব্যবহার; যেমন ক্ষমতা দখল করা, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা বা ক্ষমতার অনুশীলন করা...)।

এর দ্বারা এটি স্পষ্ট হয় যে, সন্ত্রাসবাদ মানে হলো: মানুষের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, চাই সেই কর্মকাণ্ড সরাসরি তার প্রতি পরিচালিত হোক বা অন্যের প্রতি, কিন্তু সে তার দ্বারা প্রভাবিত হয়।

 

‌‌[পরিভাষাগত সংজ্ঞা]

পরিভাষাগত সংজ্ঞা: সন্ত্রাসবাদের পরিভাষাগত সংজ্ঞা হলো মতভেদ এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির বৈচিত্র্যের ক্ষেত্র। এটি পূর্বে উল্লিখিত কারণসমূহ, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রের লক্ষ্য, প্রবণতা, রাজনীতি ও স্বার্থের ভিন্নতার কারণে হয়েছে; যা বাস্তব ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ও বৈচিত্র্যের সৃষ্টি করেছে। ফলে সংজ্ঞাসমূহ সংখ্যায় ও ধরনে এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কাজ করা গবেষকরা দেখেছেন যে, এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোতে সন্ত্রাসবাদের একশোরও বেশি পরিভাষাগত সংজ্ঞা রয়েছে, যার মধ্যে পার্থক্য, বৈচিত্র্য, পরিবর্ধন এবং ঐকমত্যও বিদ্যমান।

"কেউ কেউ সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে 'পদ্ধতি' বা 'পন্থা'র ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা মনে করেন যে, সন্ত্রাসবাদ কোনো দর্শন বা আন্দোলন নয়, বরং এটি একটি বিচ্ছিন্ন ও হতাশ গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা অর্জনের একটি পথ বা পদ্ধতি মাত্র। তারা বুঝতে পারে যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ও তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আতঙ্কিত করার মাধ্যমে এবং ত্রাস ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়া ছাড়া তাদের উদ্দেশ্য অর্জনের কোনো আশা নেই।" (১) যেখানে অন্যরা লক্ষ্য, মাধ্যম বা কারণগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এভাবে প্রত্যেকেই তার নিজস্ব আগ্রহের বিষয়ের ওপর জোর দেন।

সন্ত্রাসবাদের পরিভাষাগত সংজ্ঞার বিদ্যমান জটিলতা সত্ত্বেও, গবেষকরা এখনও একটি সর্বসম্মত সংজ্ঞায় পৌঁছানোর পথ খুঁজছেন, যা একটি সম্মিলিত সমাধানের মাধ্যম হতে পারে।

নিম্নে আমি সন্ত্রাসবাদের কিছু পরিভাষাগত সংজ্ঞা উল্লেখ করব, এই আশায় যে একটি অন্যটিকে সংশোধন বা পরিপূরণ করবে; অর্থাৎ একটি সংজ্ঞার ঘাটতি অন্য সংজ্ঞাগুলো পূর্ণ করে দেবে। তাছাড়া এই বৈচিত্র্য...

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ মুনিস মুহিউদ্দিন, আল-ইরহাব ফিল কানুন আল-জিনায়ি, দিরাসাতুন কানুনিয়্যা মুকারানাতুন আলা আল-মুসতাওয়ায়াইন আল-ওয়াতানি ওয়া আল-দুওয়ালি (কায়রো: মাকতাবাতুল আনজলো আল-মিসরিয়া, ১৯৮১ খ্রি.), পৃষ্ঠা ৩৯০।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
التعريفات يدل على الاهتمام الذي وجه إلى هذه الظاهرة في العصر الحديث، حيث ابتليت بها كثير من المجتمعات الإنسانية، وفيما يأتي أبرز تلك التعريفات:

- عرفه عبد الستار الطويلة:

"محاولة فرد أو مجموعة من الأفراد أو الجماعات، فرض رأي أو فكر أو مذهب أو دين أو موقف معين من قضية من القضايا، بالقوة والأساليب العنيفة، على أناس أو شعوب أو دول، بدلا من اللجوء إلى الحوار والوسائل المشروعة الحضارية، وهذه الجماعات أو الأفراد تحاول فرض هذه الأفكار بالقوة لأنها تعتبر نفسها على صواب والأغلبية مهما كانت نسبتها على ضلال، وتعطي نفسها وضع الوصاية عليها تحت أي مبرر" (1) .

- وعرفت الموسوعة السياسية الإرهاب بأنه:

"استخدام العنف- غير القانوني- أو التهديد به أو بأشكاله المختلفة؛ كالاغتيال والتشويه والتعذيب والتخريب والنسف وغيره بغية تحقيق هدف سياسي معين. . . وبشكل عام استخدام الإكراه لإخضاع طرف مناوئ لمشيئة الجهة الإرهابية" (2) .

- وعرفه حسين الشريف:

"منهج أو نظام، تحاول من خلاله مجموعة منظمة، أو طرف معين، جذب الانتباه إلى أهدافها، أو تجبر الطرف الآخر بتقديم تنازلات وفاء بأهدافها، بواسطة الاستخدام المنظم والمقصود للعنف " (3) .

(والإرهابي النمطي هو الشخص المدرب من أجل تنفيذ أعمال العنف المقررة بواسطة المنظمة أو الجماعة أو الجهة التي يتبعها، بحيث إنه في حال القبض على هذا النوع من الإرهابيين النمطيين، فإنهم يتحدثون أثناء محاكمتهم ليس من أجل تبرئة أنفسهم، بل لمحاولة نشر الأفكار السياسية لمنظمتهم، ويعدون ذلك هدفا من أهداف إرهابهم) .

- وعرف المقنن المصري الإرهاب كما يأتي:

--------------------------------------------

(1) عبد الستار الطويلة، أمراء الإرهاب، كتاب اليوم، العدد 342 (القاهرة: دار أخبار اليوم، 1993 م) ، ص 25.

(2) عبد الوهاب الكيالي وآخرون، موسوعة السياسة، الجزء الأول (بيروت: المؤسسة العربية للدراسات والنشر، 1985 م) .

(3) حسين شريف، الإرهاب الدولي وانعكاساته على الشرق الأوسط خلال أربعين قرنا (القاهرة: الهيئة المصرية العامة للكتاب، 1997 م) ، ج1، ص 27.
সংজ্ঞাসমূহ আধুনিক যুগে এই প্রপঞ্চের প্রতি নিবদ্ধ গুরুত্বের পরিচায়ক, যেহেতু বর্তমানে অনেক মানব সমাজ এর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। নিম্নে সেই সংজ্ঞাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু প্রদান করা হলো:

- আবদুস সাত্তার আত-তাবিলাহ একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন:

"সংলাপ ও বৈধ সভ্য পন্থার পরিবর্তে শক্তি ও সহিংস পদ্ধতির আশ্রয় নিয়ে কোনো ব্যক্তি, ব্যক্তিবর্গ বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট মতবাদ, চিন্তা, মাযহাব, ধর্ম বা কোনো বিষয়ে বিশেষ অবস্থান কোনো মানুষ, জাতি বা রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা; আর এই গোষ্ঠী বা ব্যক্তিবর্গ এই চিন্তাগুলো শক্তির জোরে চাপিয়ে দিতে চায় কারণ তারা নিজেদের সঠিক মনে করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষ যে অনুপাতেই থাকুক না কেন তাদের পথভ্রষ্ট গণ্য করে, এবং যেকোনো অজুহাতে তারা তাদের ওপর অভিভাবকত্ব আরোপ করে।" (১) ।

- রাজনৈতিক বিশ্বকোষে (মাওসু'আতুস সিয়াসিয়্যাহ) সন্ত্রাসবাদকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এভাবে:

"কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে বেআইনি সহিংসতা অথবা এর হুমকি কিংবা এর বিভিন্ন রূপ—যেমন গুপ্তহত্যা, অঙ্গহানি, নির্যাতন, নাশকতামূলক কাজ, বিস্ফোরণ ইত্যাদির ব্যবহার... এবং সাধারণভাবে প্রতিপক্ষকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করার জন্য জবরদস্তিমূলক পন্থার প্রয়োগ।" (২) ।

- হুসাইন আশ-শরীফ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন:

"এমন একটি পদ্ধতি বা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কোনো সুসংগঠিত গোষ্ঠী বা বিশেষ পক্ষ সহিংসতার সুসংগঠিত ও উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহারের দ্বারা তাদের লক্ষ্যগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে, অথবা প্রতিপক্ষকে তাদের লক্ষ্য পূরণে ছাড় দিতে বাধ্য করে।" (৩) ।

(একজন আদর্শিক বা চিরাচরিত সন্ত্রাসী হলো সেই ব্যক্তি যে তার অনুসারী সংগঠন, গোষ্ঠী বা পক্ষের নির্ধারিত সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত; ফলে এই ধরনের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হলে তারা বিচার চলাকালে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের জন্য নয়, বরং তাদের সংগঠনের রাজনৈতিক চিন্তাধারা প্রচারের উদ্দেশ্যে কথা বলে এবং একেই তারা তাদের সন্ত্রাসবাদের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করে)।

- মিশরীয় আইনপ্রণেতা সন্ত্রাসবাদকে নিম্নোক্তভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন:

--------------------------------------------

(১) আবদুস সাত্তার আত-তাবিলাহ, উমারাউল ইরহাব, কিতাবুল ইয়াওম, সংখ্যা ৩৪২ (কায়রো: দারু আখবারিল ইয়াওম, ১৯৯৩ খ্রি.), পৃ. ২৫।

(২) আবদুল ওয়াহহাব আল-কায়য়ালি ও অন্যান্য, মাওসু'আতুস সিয়াসাহ, ১ম খণ্ড (বৈরুত: আল-মুয়াসসাসাহ আল-আরাবিয়্যাহ লিদ-দিরাসাত ওয়ান-নাশর, ১৯৮৫ খ্রি.)।

(৩) হুসাইন শরীফ, আল-ইরহাব আদ-দুওয়ালি ওয়া ইন'ইকাসাতুহু আলা আশ-শারকিল আওসাত খিলালা আরবাঈনা করনান (কায়রো: আল-হায়আ আল-মিসরিয়্যাহ আল-আম্মাহ লিল-কিতাব, ১৯৯৭ খ্রি.), ১ম খণ্ড, পৃ. ২৭।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
نصت المادة (86ع) المضافة إلى القانون 97 لسنة 1992 م على ما يأتي: "يقصد بالإرهاب في تطبيق أحكام هذا القانون كل استخدام للقوة أو العنف أو الترويع، يلجأ إليه الجاني تنفيذا لمشروع إجرامي، فردي أو جماعي، بهدف الإخلال بالنظام العام أو تعريض سلامة المجتمع وأمنه للخطر، إذا كان من شأن ذلك إيذاء الأشخاص أو إلقاء الرعب بينهم، أو تعريض حياتهم أو حرياتهم أو أمنهم للخطر، أو إلحاق الضرر بالبيئة، أو بالاتصالات أو المواصلات أو بالأموال أو بالمباني، أو الأملاك العامة أو الخاصة أو احتلالها أو الاستيلاء عليها أو منع أو عرقلة ممارسة السلطات العامة أو دور العبادة أو معاهد العلم لأعمالها، أو تعطيل تطبيق الدستور أو القوانين أو اللوائح " (1) .

- وجاء تعريف الإرهاب في نظام مجلس الشعب المصري كما يأتي:

" أي فعل يصدر من فرد أو مجموعة أفراد ضد فرد أو مجموعة أو ضد المجتمع لأغراض سياسية، أو بصورة أكثر تحديدا، هو استعمال العنف بأشكاله المادية وغير المادية للتأثير على الأفراد أو المجموعات أو الحكومات، وخلق مناخ من الاضطرابات وعدم الأمن بغية تحقيق هدف معين، لكنه وبصفة عامة يتضمن تأثيرا على المعتقدات أو القيم أو الأوضاع الاجتماعية والاقتصادية والثقافية والسياسية السائدة التي تم التوافق عليها في الدولة، والتي تمثل مصلحة قومية عليا" (2) .

- وعرفه صالح أكرم في بحث قدمه إلى مؤتمر وزراء الداخلية العرب الذي عقد في تونس عام 1986 م وعنوانه " تحديد أفضل الوسائل والأساليب لمكافحة الإرهاب " بأنه "عبارة عن العمليات المادية أو المعنوية التي تحوي نوعا من القهر للآخرين، بغية تحقيق غاية معينة" (3) .

- وعرفه تركي ظاهر بأنه:

"الرعب الذي يلجأ إليه مجموعة أو فرد، كالقتل والتخريب" (4) .

- وعرفه أحمد طه خلف الله بأنه:

" تجاوز مرحلة التطرف إلى مرحلة أخرى تنطوي على فرض الرأي أو المعتقدات بالقوة، أو بمعنى آخر فإنه إذا كان التطرف يقوم على العنف الفكري فإن الإرهاب

--------------------------------------------

(1) محمود صالح العادلي، الإرهاب والعقاب (القاهرة: دار النهضة العربية، 1993 م) ، ص 29.

(2) حسين شريف، مرجع سابق، ص 33.

(3) صالح أكرم، " تحديد أفضل الوسائل والأسباب لمكافحة الإرهاب "، بحث مقدم إلى مؤتمر وزراء الداخلية العرب الذي عقد في تونس عام 1986 م.

(4) تركي ظاهر، الإرهاب العالمي (بيروت: دار حسام، 1991 م) ، ص 10، 11.
১৯৯২ সালের ৯৭ নম্বর আইনের সাথে যুক্ত ৮৬ (এ) অনুচ্ছেদে নিম্নোক্ত বিধান বর্ণিত হয়েছে: "এই আইনের বিধানসমূহ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ বলতে শক্তি, সহিংসতা বা ত্রাস সৃষ্টির এমন সব ব্যবহারকে বোঝায়, যা কোনো অপরাধী তার ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত অপরাধমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবলম্বন করে। এর উদ্দেশ্য হলো জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা অথবা সমাজের নিরাপত্তা ও শান্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলা, যদি এর মাধ্যমে ব্যক্তিদের শারীরিক ক্ষতিসাধন বা তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়, অথবা তাদের জীবন, স্বাধীনতা বা নিরাপত্তাকে বিপন্ন করা হয়, কিংবা পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতায়াত মাধ্যম, সম্পদ, দালানকোঠা, সরকারি বা বেসরকারি মালিকানাধীন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, দখল বা আত্মসাৎ করা হয়, অথবা জনকর্তৃপক্ষ, উপাসনালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা প্রদান বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয়, কিংবা সংবিধান, আইন বা বিধিমালার প্রয়োগ স্থগিত করা হয়।" (১)

- মিসরের পিপলস অ্যাসেম্বলির (মজলিসুশ শা'ব) নিয়মতান্ত্রিক সংজ্ঞায় সন্ত্রাসবাদকে নিম্নরূপভাবে বর্ণনা করা হয়েছে:

"রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা অন্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সমাজের বিরুদ্ধে পরিচালিত যেকোনো কাজ; অথবা আরও সুনির্দিষ্টভাবে, ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করতে শারীরিক ও মানসিক সহিংসতার বিভিন্ন রূপের ব্যবহার। তবে সাধারণভাবে এর মধ্যে প্রচলিত বিশ্বাস, মূল্যবোধ কিংবা বিদ্যমান সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব বিস্তার করাও অন্তর্ভুক্ত, যা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এবং যা উচ্চতর জাতীয় স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে।" (২)

- সালেহ আকরাম ১৯৮৬ সালে তিউনিসিয়ায় অনুষ্ঠিত আরব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে উপস্থাপিত তার "সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার সর্বোত্তম উপায় ও পদ্ধতি নির্ধারণ" শীর্ষক গবেষণাপত্রে একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে, এটি "এমন কিছু শারীরিক বা মানসিক কর্মকাণ্ডের সমষ্টি যা কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অন্যের ওপর এক ধরনের জবরদস্তি বা বলপ্রয়োগ শামিল করে।" (৩)

- তুর্কি জাহির একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে:

"এমন আতঙ্ক যা কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি অবলম্বন করে, যেমন হত্যা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড।" (৪)

- আহমদ তাহা খালাফ আল্লাহ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে:

"চরমপন্থার পর্যায় অতিক্রম করে এমন এক পর্যায়ে উপনীত হওয়া যেখানে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নিজের মতামত বা বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়া হয়। অন্য কথায়, চরমপন্থা যদি বুদ্ধিবৃত্তিক সহিংসতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, তবে সন্ত্রাসবাদ..."

--------------------------------------------

(১) মাহমুদ সালেহ আল-আদলি, আল-ইরহাব ওয়াল-ইকাব (কায়রো: দারুন নাহদাহ আল-আরাবিয়্যাহ, ১৯৯৩ খ্রি.), পৃ. ২৯।

(২) হুসাইন শরিফ, পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ৩৩।

(৩) সালেহ আকরাম, "সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার সর্বোত্তম উপায় ও কারণসমূহ নির্ধারণ", ১৯৮৬ সালে তিউনিসিয়ায় অনুষ্ঠিত আরব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র।

(৪) তুর্কি জাহির, আল-ইরহাব আল-আলামি (বৈরুত: দারু হুসাম, ১৯৯১ খ্রি.), পৃ. ১০, ১১।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
يعتمد على العنف المادي، ومن وجهة نظر جماعات الإرهاب فإن كل شيء في المجتمع باطل ويجب تغييره، وأنه لا سبيل لهذا التغيير إلا بقوة السلاح وممارسة الإرهاب في المجتمع " (1) .

- وعرفه المجمع الفقهي الإسلامي بأنه:

"العدوان الذي يمارسه أفراد أو جماعات أو دول بغيا على الإنسان: دينه ودمه وعقله وماله وعرضه "، كما أكد العلماء أن تعريف الإرهاب "يشمل صنوف التخويف والأذى والتهديد". . . ويهدف إلى إلقاء الرعب بين الناس أو ترويعهم أو تعريض حياتهم أو حريتهم أو أمنهم للخطر (2) .

- وعرفه أحمد جلال عز الدين بأنه: "عنف منظم ومتصل بقصد تحقيق أهداف سياسية" (3) .

- أما محمد الحفناوي، فيرى أنه "إجبار الآخرين من خلال الترويع والتهديد بالتعنيف الجسدي أو القهر الفكري لاتخاذ موقف إيجابي يجافي الحق الإنساني ويلغيه أمام فكر الآخرين ومعتقداتهم، وأسلوبه المغالاة الشديدة وإلغاء إرادة الآخرين ومصادرة حقوقهم " (4) .

- ونقل عادل القيار أن الكاتب الفرنسي (جان بيار ديرينيك) عرفه بقوله: إن الإرهاب يرتكز على الاستعمال المطلق للعنف، ببث الرعب باعتباره وسيلة عمل عشوائية وعاجزة وبالتالي عقيمة، نظرا إلى أنها تهدف إلى القضاء العشوائي على الآخرين الذين لا يملكون عندئذ استعمال نفس السلاح، أي العنف المضاد، وبالتالي الإرهاب المعاكس، ثم الوصول إلى العقم بأبسط وأوضح معانيه (5) .

- وأما الكاتب (جان سرفيه) Jean servier فقد عرف الإرهاب: بكونه سلوكا يجمع في طياته أعمال العنف المرتكبة من قبل فرد أو مجموعة من الأفراد، ضد ضحايا يتم اختيارهم عشوائيا بهدف تأكيد قوة معينة وإرادة خفية ببثها التخويف والرعب الذي ما يلبث أن ينتشر بسرعة وتصيب عدواه كافة أصناف المجتمعات (6) .

وفي هذا التعريف والذي سبقه إشارة إلى أن الإرهاب يولد إرهابا مماثلا، مما يجعله

--------------------------------------------

(1) أحمد طه خلف الله، الإرهاب: أسبابه، وأخطاره، وعلاجه (القاهرة: مطبعة السلام، 1995 م) ، ص 14.

(2) زكي علي أبو غضة، الإرهاب في اليهودية والمسيحية والإسلام (المنصورة، مصر: دار الوفاء للطباعة والنشر، 2002 م) ، ص 37.

(3) أحمد جلال عز الدين، الإرهاب والعنف السياسي (القاهرة: دار الحرية، 1989 م) ، ص 49.

(4) محمد حسن الحفناوي، الإرهاب والشباب، " سلسلة الإرهاب والتطرف في فكر المثقفين " مقال رقم 91، الأهرام، قضايا وآراء 19/ 11 م، ص 8.

(5) عادل القيار، " دراسة عن الإرهاب مفهومه وأسبابه " جريدة البيان، 13/ 4/ 1998 م.

(6) عادل القيار، المرجع السابق.
"এটি বস্তুগত সহিংসতার ওপর নির্ভর করে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, সমাজের সবকিছুই বাতিল (باطل) এবং তা পরিবর্তন করা আবশ্যক। আর এই পরিবর্তনের একমাত্র পথ হলো অস্ত্রের শক্তি এবং সমাজে সন্ত্রাসবাদ চর্চা করা।" (1) .

- ইসলামী ফিকহ একাডেমি একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে:

"এটি এমন এক আগ্রাসন যা ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্র কর্তৃক মানুষের ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি, সম্পদ ও সম্ভ্রমের ওপর অন্যায়ভাবে (بغيا) চালানো হয়।" ওলামায়ে কেরাম আরও নিশ্চিত করেছেন যে, সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞায় "সব ধরনের ভীতিপ্রদর্শন, কষ্ট দান এবং হুমকি অন্তর্ভুক্ত।" . . . এর লক্ষ্য হলো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো অথবা তাদের ত্রাসিত করা অথবা তাদের জীবন, স্বাধীনতা বা নিরাপত্তাকে বিপন্ন করা (2) .

- আহমদ জালাল ইজউদ্দীন একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অভিপ্রায়ে পরিচালিত সুসংগঠিত ও নিরবচ্ছিন্ন সহিংসতা" (3) .

- মুহাম্মদ হাফনাওয়ী মনে করেন যে, এটি হলো "শারীরিক নিগ্রহ বা বুদ্ধিবৃত্তিক নিপীড়নের হুমকি ও ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে অন্যকে এমন একটি অবস্থান গ্রহণে বাধ্য করা, যা মানবীয় অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে এবং অন্যের চিন্তা ও বিশ্বাসের সামনে তা বাতিল করে দেয়। এর পদ্ধতি হলো চরম বাড়াবাড়ি (مغالاة), অন্যের ইচ্ছাকে বিলুপ্ত করা এবং তাদের অধিকার হরণ করা" (4) .

- আদিল আল-কায়্যার উদ্ধৃত করেছেন যে, ফরাসি লেখক (জিন পিয়েরে ডেরিনিক) একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: সন্ত্রাসবাদ সহিংসতার নিরঙ্কুশ ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, যেখানে আতঙ্ক ছড়ানোকে একটি বিশৃঙ্খল ও অক্ষম কর্মপন্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত নিষ্ফল প্রমাণিত হয়। কারণ এর লক্ষ্য হলো নির্বিচারে অন্যদের নির্মূল করা, যাদের তখন একই অস্ত্র অর্থাৎ পাল্টা সহিংসতা বা পাল্টা সন্ত্রাস ব্যবহারের সক্ষমতা থাকে না। ফলে এটি অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট অর্থে একটি নিষ্ফলতায় পর্যবসিত হয় (5) .

- লেখক জিন সার্ভিয়ার (Jean servier) সন্ত্রাসবাদকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: এটি এমন একটি আচরণ যা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক পরিচালিত সহিংস কর্মকাণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে ভুক্তভোগীদের নির্বিচারে নির্বাচন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো ভীতি ও আতঙ্ক ছড়ানোর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট শক্তি ও গোপন ইচ্ছাকে প্রতিষ্ঠিত করা, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সমাজের সকল স্তরে এর সংক্রমণ ঘটে (6) .

এই সংজ্ঞা এবং এর পূর্ববর্তী আলোচনায় ইঙ্গিত রয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদ অনুরূপ সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেয়, যা একে

--------------------------------------------

(1) আহমদ তাহা খালাফুল্লাহ, সন্ত্রাসবাদ: এর কারণ, বিপদ এবং প্রতিকার (কায়রো: মাতবাআতুস সালাম, ১৯৯৫ খ্রি.), পৃ. ১৪।

(2) জাকি আলী আবু গুদদাহ, ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মে সন্ত্রাসবাদ (মানসুরা, মিশর: দারুল ওয়াফা লিত তিবায়াতি ওয়ান নাশর, ২০০২ খ্রি.), পৃ. ৩৭।

(3) আহমদ জালাল ইজউদ্দীন, সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক সহিংসতা (কায়রো: দারুল হুররিয়াহ, ১৯৮৯ খ্রি.), পৃ. ৪৯।

(4) মুহাম্মদ হাসান হাফনাওয়ী, সন্ত্রাসবাদ ও তরুণ সমাজ, "বুদ্ধিজীবীদের চিন্তায় সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ সিরিজ" নিবন্ধ নং ৯১, আল-আহরাম, কাজায়া ওয়া আরা ১৯/১১ খ্রি., পৃ. ৮।

(5) আদিল আল-কায়্যার, "সন্ত্রাসবাদ: এর ধারণা ও কারণ সংক্রান্ত একটি অধ্যয়ন", আল-বায়ান পত্রিকা, ১৩/৪/১৯৯৮ খ্রি.।

(6) আদিল আল-কায়্যার, পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
سهل الانتشار، فتتغلغل عدواه وتتفشى جراثيمه في كافة المجتمعات، أي إن هذا التعريف تحدث عن الربط بين الإرهاب والأسباب التي تدفع إليه.

- وفي قاموس أكسفور نجد كلمة إرهاب Terrorism تعني سياسة أو أسلوب يعد لإرهاب المناوئين أو المعارضين لحكومة ما وإفزاعهم. فالإرهابي Terrorist هو الشخص الذي يحاول أن يدعم آراءه بالإكراه أو التهديد أو الترويع (1) .

- وفي معجم مصطلحات العلوم الاجتماعية يعني الإرهاب:

"بث الرعب الذي يثير الجسم أو العقل، أي الطريقة التي تحاول بها جماعة منظمة أو حزب أن يحقق أهدافه عن طريق استخدام العنف.

وتوجه الأعمال الإرهابية ضد الأشخاص، سواء كانوا أفرادا أو ممثلين للسلطة، ممن يعارضون أهداف هذه الجماعة" (2) .

- وعرفه (جونز برج) Ginsburg بأنه "الاستعمال العمدي للوسائل القادرة على إحداث خطر عام يهدد الحياة أو السلامة الجسدية أو الصحية أو الأموال العامة" (3) .

- كما عرفه (سوتيل) بأنه "العمل الإجرامي المقترف عن طريق الرعب أو العنف، أو الفزع الشديد من أجل تحقيق هدف محدد" (4) .

- ونظر (نومي جال ارو) "Noemi Gal-or" إلى الإرهاب على أنه " طريقة عنيفة أو أسلوب عنيف للمعارضة السياسية، وهو يتكون من العنف والتهديد، وقد يمارس الإرهاب ضد أبرياء أو ضد أهداف لها ارتباط مباشر بالقضية التي يعمل من أجلها الإرهابي " (5) .

- ويرى إريك موريس Erik Morris أن الإرهاب استخدام أو تهديد باستخدام عنف غير عادي أو غير مألوف لتحقيق غايات سياسية، وأفعال الإرهاب عادة ما تكون رمزية لتحقيق تأثير نفسي أكثر منه تأثير مادي.

- أما (جنكيز) Jenkins فيعرف الإرهاب بأنه "التهديد بالعنف أو الأعمال الفردية للعنف والذي يهدف أولا إلى إشاعة الخوف والرعب " (6) .

--------------------------------------------

(1) William little etal، The Shorter Oxford English Dictionary (london: Oxford University press، 1967) p. 2155.

(2) أحمد زكي، معجم مصطلحات العلوم الاجتماعية (بيروت: مكتبة لبنان، 1977 م) ، ص 423.

(3) عبد العزيز مخيمر عبد الهادي، الإرهاب الدولي (القاهرة: دار النهضة العربية، 1986 م) ، ص 24.

(4) محمد تاج الدين الحسيني، مساهمة في فهم ظاهرة الإرهاب الدولي، القاهرة 1990 م، ص 23.

(5) (Noemi Gal – or، International Cooperation to Suppress Terrorism (New York: st. Martin`n press، 1985) P. 2.

(6) Brian Jenkins، International Terrorism: A new mode of Conflict (los Anglos: Crescen Publication، 1975) P. 1.
এটি সহজে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে এর সংক্রমণ প্রতিটি সমাজে প্রবেশ করে এবং এর জীবাণু সর্বত্র ছড়িয়ে যায়। অর্থাৎ, এই সংজ্ঞাটি সন্ত্রাসবাদ এবং এর পেছনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করা কারণগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করেছে।

- অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে আমরা সন্ত্রাসবাদ (Terrorism) শব্দটির অর্থ পাই এমন একটি নীতি বা পদ্ধতি, যা কোনো সরকারের বিরোধীদের বা ভিন্নমতালম্বীদের ভীত-সন্ত্রস্ত ও আতঙ্কিত করার জন্য তৈরি করা হয়। সুতরাং, সন্ত্রাসী (Terrorist) হলেন সেই ব্যক্তি যিনি বলপ্রয়োগ, হুমকি বা ভীতির সঞ্চার করার মাধ্যমে নিজের মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন (১)।

- সামাজিক বিজ্ঞান পরিভাষা অভিধানে সন্ত্রাসবাদ বলতে বোঝায়:

"এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া যা শরীর বা মনকে আলোড়িত করে; অর্থাৎ এটি এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে কোনো সুসংগঠিত দল বা গোষ্ঠী সহিংসতার ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে চায়।

আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডগুলো সেইসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়—হোক তারা সাধারণ ব্যক্তি বা ক্ষমতার প্রতিনিধি—যারা উক্ত গোষ্ঠীর লক্ষ্যসমূহের বিরোধিতা করে" (২)।

- গিন্সবার্গ (Ginsburg) এটিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন "এমন সব মাধ্যমের ইচ্ছাকৃত ব্যবহার হিসেবে, যা জীবন, শারীরিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য বা জনসম্পদকে হুমকির মুখে ফেলে এমন সাধারণ বিপদ তৈরি করতে সক্ষম" (৩)।

- সোটাইল (Sottile) এটিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে, "নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে আতঙ্ক, সহিংসতা বা চরম ভীতির মাধ্যমে সংঘটিত কোনো অপরাধমূলক কাজ" (৪)।

- নুমি গ্যাল-অর (Noemi Gal-or) সন্ত্রাসবাদকে দেখেছেন "রাজনৈতিক বিরোধিতার একটি সহিংস পথ বা পদ্ধতি হিসেবে, যা সহিংসতা ও হুমকির সমন্বয়ে গঠিত। আর সন্ত্রাসবাদ নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে অথবা এমন সব লক্ষ্যের বিরুদ্ধে পরিচালিত হতে পারে যাদের সাথে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে" (৫)।

- এরিক মরিস (Erik Morris) মনে করেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অস্বাভাবিক বা অপরিচিত সহিংসতার ব্যবহার বা ব্যবহারের হুমকিই হলো সন্ত্রাসবাদ। আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডগুলো সাধারণত বস্তুগত প্রভাবের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তারের জন্য একটি প্রতীকী রূপ হিসেবে কাজ করে।

- অন্যদিকে জেনকিন্স (Jenkins) সন্ত্রাসবাদকে সংজ্ঞায়িত করেছেন "সহিংসতার হুমকি বা সহিংসতার একক কর্মকাণ্ড হিসেবে, যার প্রাথমিক লক্ষ্য হলো ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া" (৬)।

--------------------------------------------

(১) উইলিয়াম লিটল এবং অন্যান্য, দ্য শর্টার অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি (লন্ডন: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৬৭ খ্রি.), পৃষ্ঠা: ২১৫৫।

(২) আহমদ জাকি, সামাজিক বিজ্ঞান পরিভাষা অভিধান (বৈরুত: মাকতাবাতু লুবনান, ১৯৭৭ খ্রি.), পৃষ্ঠা: ৪২৩।

(৩) আবদুল আজিজ মুখাইমার আবদুল হাদি, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ (কায়রো: দারুন নাহদাহ আল-আরাবিয়্যাহ, ১৯৮৬ খ্রি.), পৃষ্ঠা: ২৪।

(৪) মুহাম্মদ তাজ উদ্দিন আল-হুসাইনি, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ প্রপঞ্চ অনুধাবনে একটি অবদান, কায়রো ১৯৯০ খ্রি., পৃষ্ঠা: ২৩।

(৫) নুমি গ্যাল-অর, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সন্ত্রাসবাদ দমনে (নিউ ইয়র্ক: সেন্ট মার্টিন প্রেস, ১৯৮৫ খ্রি.), পৃষ্ঠা: ২।

(৬) ব্রায়ান জেনকিন্স, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ: সংঘাতের একটি নতুন মাধ্যম (লস অ্যাঞ্জেলেস: ক্রিসেন্ট পাবলিকেশন, ১৯৭৫ খ্রি.), পৃষ্ঠা: ১।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
- أما توماس ثورنتون فيرى بأنه "فعل رمزي يتم لإحداث تأثير سياسي غير معتاد، مستلزما استعمال العنف أو التهديد به " (1) .

- أما الإرهاب عند الأمم المتحدة، فيقصد به: أعمال العنف الخطيرة التي تصدر من فرد أو جماعة بقصد تهديد الأشخاص أو التسبب في إصابتهم أو موتهم، سواء كان يعمل بمفرده أو بالاشتراك مع أفراد آخرين، ويوجه ضد الأشخاص أو المنظمات أو المواقع السكنية أو الحكومية أو الدبلوماسية أو وسائل النقل والمواصلات، وضد أفراد الجمهور العام دون تمييز، أو الممتلكات، أو تدمير وسائل النقل والمواصلات بهدف إفساد علاقات الود والصداقة بين الدول، أو بين مواطني الدول المختلفة، أو ابتزاز أو تنازلات معينة من الدول في أي صورة كانت. لذلك فإن التآمر على ارتكاب أو محاولة ارتكاب أو الاشتراك في الارتكاب أو التحريض على ارتكاب الجرائم يشكل جريمة الإرهاب الدولي " (2) .

 

‌‌[التعريف الأمريكي للإرهاب]

- التعريف الأمريكي للإرهاب: ورد في التقرير الصادر عن وزارة الخارجية الأمريكية في أكتوبر سنة 2001 م أن الإرهاب يعني:

"العنف المتعمد ذو الدوافع السياسية، والذي يرتكب ضد غير المقاتلين، وعادة بغية التأثير على الجمهور، حيث إن غير المقاتلين هم المدنيون، إلى جانب العسكريين غير المسلحين، أو الذين هم في غير مهماتهم وقت تعرضهم للحادثة الإرهابية، أو في الأوقات التي لا توجد فيها حالة حرب أو عداء. أما الإرهاب الدولي، فهو الذي يشترك فيه مواطنون، أو يتم على أرض أكثر من دول واحدة" (3) (كما أوضح هذا التقرير أنه ليس ثمة تعريف واضح للإرهاب حظي بموافقة عالمية) .

وباستعراض التعريفات السابقة للإرهاب يتبين أن القاسم المشترك بينها هو استخدام العنف والقوة والغدر؛ حيث إن الجميع يتفق على أن الإرهاب هو الاستعمال المطلق للعنف والقوة تجاه المدنيين أو الأهداف المدنية، أو العسكريين أو الأهداف العسكرية في غير حال الحرب المعلنة بين طرفين بهدف بث الرعب دون إنذار سابق، وفي أغلب

--------------------------------------------

(1) Thomas Perry Thornton، "Terror as a Weapon of political Agita – tion" Internal War: problems and Approaches، ed Hary Eckstein (New York: Free Press of Glencoe، 1970) P. 73.

(2) نبيل لوقا بباوي، الإرهاب صناعة غير إسلامية (القاهرة: دار البباوي للنشر، 2001 م) ، ص 58.

(3) طه عبد العليم طه، "خطيئة التعريف الأمريكي للإرهاب"، جريدة الأهرام، 28/ 2/ 2002 م (محلق الجمعة) ، ص 36.
- থমাস থর্নটনের মতে এটি হলো "একটি প্রতীকী কর্মকাণ্ড যা অস্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টির জন্য পরিচালিত হয় এবং এতে সহিংসতা বা সহিংসতার হুমকি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়" (১)।

- অন্যদিকে জাতিসংঘের নিকট সন্ত্রাসবাদ বলতে বুঝায়: কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দ্বারা সংঘটিত গুরুতর সহিংস কর্মকাণ্ড, যার উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিদের হুমকি প্রদান করা অথবা তাদের আহত করা বা মৃত্যুর কারণ হওয়া; চাই সে একাকী কাজ করুক বা অন্য ব্যক্তিদের সাথে মিলিত হয়ে। এই কর্মকাণ্ড ব্যক্তি, সংস্থা, আবাসিক এলাকা, সরকারি বা কূটনৈতিক স্থান অথবা পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এবং সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে কোনো বাছবিচারহীনভাবে অথবা সম্পদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য হতে পারে রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে অথবা বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মধ্যে হৃদ্যতা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক নষ্ট করা অথবা রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে যেকোনো রূপে নির্দিষ্ট কোনো দাবি বা ছাড় আদায় করা। সুতরাং এই অপরাধগুলো করার ষড়যন্ত্র করা, করার চেষ্টা করা, অপরাধে অংশগ্রহণ করা বা অপরাধে উস্কানি দেওয়া আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে (২)।

 

‌‌[সন্ত্রাসবাদের মার্কিন সংজ্ঞা]

- সন্ত্রাসবাদের মার্কিন সংজ্ঞা: ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদ বলতে বুঝায়:

"রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতা, যা অ-যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয় এবং সাধারণত জনসাধারণের ওপর প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে করা হয়। এখানে অ-যোদ্ধা বলতে বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি সেইসব নিরস্ত্র সামরিক সদস্যদের বোঝায় যারা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়ার সময় দায়িত্বরত ছিলেন না অথবা যখন কোনো যুদ্ধ বা শত্রুতা বিদ্যমান নেই। আর আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ হলো এমন বিষয় যেখানে একাধিক দেশের নাগরিকরা জড়িত থাকে অথবা যা একাধিক দেশের ভূখণ্ডে সংঘটিত হয়" (৩) (এই প্রতিবেদনে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদের এমন কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা নেই যা বিশ্বব্যাপী সর্বজনীন স্বীকৃতি লাভ করেছে)।

সন্ত্রাসবাদের পূর্বোক্ত সংজ্ঞাসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, সেগুলোর মধ্যে সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো সহিংসতা, শক্তি প্রয়োগ এবং বিশ্বাসঘাতকতার ব্যবহার; যেহেতু সকলেই একমত যে, সন্ত্রাসবাদ হলো বেসামরিক নাগরিক বা বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু অথবা সামরিক ব্যক্তি বা সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে (উভয় পক্ষের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধাবস্থা ব্যতীত) পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে সহিংসতা ও শক্তির নিরঙ্কুশ প্রয়োগ। এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে...

--------------------------------------------

(১) থমাস পেরি থর্নটন, "টেরর অ্যাজ আ ওয়েপন অফ পলিটিক্যাল অ্যাজিটেশন", ইন্টারনাল ওয়ার: প্রবলেমস অ্যান্ড অ্যাপ্রোচেস, সম্পাদক: হ্যারি একস্টেইন (নিউ ইয়র্ক: ফ্রি প্রেস অফ গ্লেনকো, ১৯৭০), পৃ. ৭৩।

(২) নাবিল লুকা বাবিউয়ি, আল-ইরহাব সিনাআহ গাইর ইসলামিয়্যাহ (কায়রো: দার আল-বাবিউয়ি লিন-নাশর, ২০০১ খ্রি.), পৃ. ৫৮।

(৩) ত্বহা আব্দুল আলিম ত্বহা, "খতিয়াতুত তা'রিফ আল-আমরিকি লিল-ইরহাব", আল-আহরাম পত্রিকা, ২৮/ ২/ ২০০২ খ্রি. (শুক্রবার সংখ্যা), পৃ. ৩৬।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
الحالات نجد أن هذا العنف وسيلة عقيمة وعشوائية وعاجزة عن تحقيق أهدافها، كما أن تلك التعريفات تبين أن الإرهاب يقوم على فكر وتنظير إرهابي يجيز للمنفذين ما يفعلون؛ بل قد يحبذهم فيه ويدفعهم إليه.

ولاستكمال صورة تعريف الإرهاب وما يسببه، فإن هناك ثلاثة عناصر من المهم معرفتها؛ وهي: فكر الإرهاب، وإرهاب الفكر، والأعمال الإرهابية، ذلك أن هناك من يخلط بين تلك المفاهيم خلطا أثر في التشخيص ووصف العلاج ونوعه وطريقته.

فكر الإرهاب: هو ذلك الفكر المعتل في تصوراته وتفسيراته ومنهاج تحليله وعمله، ويبيح لمن يتبناه استخدم كل وسيلة لتحقيق مقاصده ومآربه.

إرهاب الفكر: وهو حالة من فرض الفكر الإرهابي إما بالاستدراج والخداع، وأحيانا بالقوة أو بأي أسلوب آخر من أساليب تطويع الأفكار وتغييرها، وسواء تم هذا التغيير بطريقة تدريجية، أم تم بطريقة سريعة، وذلك في بعض الحالات التي لا تحتمل التأجيل والانتظار.

وهذا هو الجانب التنفيذي للفكر الإرهابي في نشره، وحشد الأتباع الذين يمكن استخدامهم في أعمال إرهابية.

أعمال الإرهاب: ويقصد بها مجموعة المظاهر والوسائل والأدوات التي تستخدم في أعمال العنف التي يبيحها ويتبناها الفكر الإرهابي لتحقيق مقاصده العدوانية.

ومما تجدر الإشارة إليه في هذا المقام حرص الحركات الإرهابية على الفصل بين المنفذين وجهات التخطيط، ومنظري الفكر الإرهابي في تلك الحركات؛ حتى تضمن تلك الحركات استمرار السرية في أعمالها، فلا يكشف شيء منها عندما يقع أحد منفذي العمليات الإرهابية في يد الجهات الأمنية، فلا يكون لديه معلومات يستطيع الإدلاء بها عن المجموعات الأخرى، أو حتى عن الخطط المستقبلة لهذه الحركات.

أما تعريف الإرهاب وفق مادته الواردة في القرآن الكريم، فسيأتي بيانه عند الحديث عن موقف الإسلام من الإرهاب.
এই ক্ষেত্রগুলোতে আমরা দেখতে পাই যে, এই সহিংসতা লক্ষ্য অর্জনে একটি বন্ধ্যা, বিশৃঙ্খল এবং অক্ষম মাধ্যম। তেমনি এই সংজ্ঞাসমূহ স্পষ্ট করে যে, সন্ত্রাসবাদ এমন একটি সন্ত্রাসী আদর্শ ও তাত্ত্বিক কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত যা বাস্তবায়নকারীদের তাদের কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেয়; এমনকি এটি তাদের এতে উৎসাহিত করে এবং এর দিকে ধাবিত করে।

সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞার পূর্ণাঙ্গ রূপ এবং এর প্রভাবসমূহ ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনটি মৌলিক উপাদান সম্পর্কে জানা জরুরি; সেগুলো হলো: সন্ত্রাসবাদী আদর্শ, চিন্তাগত সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড। কারণ, একদল মানুষ এই ধারণাগুলোর মধ্যে এমনভাবে সংমিশ্রণ ঘটায় যা প্রকৃত সমস্যা নির্ণয় এবং এর সমাধানের ধরণ ও পদ্ধতির বর্ণনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সন্ত্রাসবাদী আদর্শ: এটি হলো এমন এক অসুস্থ চিন্তা, যার ধারণা, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ পদ্ধতি ও কর্মপন্থা ত্রুটিপূর্ণ। এটি এই আদর্শের অনুসারীদের তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হাসিলের জন্য যেকোনো মাধ্যম ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

চিন্তাগত সন্ত্রাস: এটি হলো প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে, অথবা কখনো শক্তি প্রয়োগ বা চিন্তা পরিবর্তনের অন্য কোনো উপায়ে সন্ত্রাসবাদী আদর্শ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার একটি অবস্থা। এই পরিবর্তনটি কখনো পর্যায়ক্রমে ঘটে, আবার কখনো দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়—বিশেষ করে এমন কিছু ক্ষেত্রে যেখানে বিলম্ব করার অবকাশ থাকে না।

এটি হলো সন্ত্রাসবাদী আদর্শ প্রচারের প্রয়োগিক দিক এবং এমন অনুসারী সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া যাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড: এর দ্বারা সেই সমস্ত বহিঃপ্রকাশ, মাধ্যম ও উপকরণসমূহকে বোঝানো হয় যা এমন সব সহিংস কাজে ব্যবহৃত হয় যা সন্ত্রাসবাদী আদর্শ তার আগ্রাসী লক্ষ্য অর্জনে বৈধ জ্ঞান করে এবং গ্রহণ করে।

এক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য যে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো তাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মী, পরিকল্পনাকারী এবং সেইসব আন্দোলনের আদর্শিক তাত্ত্বিকদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ থাকে; যাতে সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রমের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে পারে। ফলে কোনো সন্ত্রাসী অভিযান পরিচালনাকারী নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও কোনো তথ্য ফাঁস না হয় এবং অন্য দলগুলো বা সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সে কোনো তথ্য প্রদান করতে না পারে।

আর পবিত্র কুরআনে ব্যবহৃত শব্দমূলের আলোকে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা সম্পর্কে 'সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে ইসলামের অবস্থান' শীর্ষক আলোচনায় বিস্তারিত বর্ণনা আসবে।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌[الفصل الثاني الإرهاب في المجتمع البشري جذوره ونشأته]

‌‌[نشأة الإرهاب]

الفصل الثاني

الإرهاب في المجتمع البشري، جذوره ونشأته نشأة الإرهاب: يرى كثير من الباحثين والمؤرخين أن الإرهاب ظاهرة قديمة قدم العلاقات الإنسانية على وجه الأرض، فهي ترتبط بوجود علاقات اجتماعية بين بني البشر، وترتبط بوجود الصراع بين الحق والباطل وبن الخير والشر، وتزداد وتنقص حسب اتساع دائرة العلاقات الإنسانية أو تقلصها، وحسب احتدام الصراع بين الخير والشر والحق والباطل، فكلما اتسعت دائرة العلاقات الإنسانية، وازداد الصراع بين الخير والشر، وبين الحق والباطل، كلما ازدادت هذه الظاهرة وانتشرت في المجتمعات البشرية، كما أن هذه الظاهرة ترتبط بمدى التمسك بمنظومة القيم والأخلاق والتعاليم النبيلة في علاقة عكسية تماما؛ فكلما ازداد تمسك أفراد المجتمع بمنظومة القيم والأخلاق والتعاليم النبيلة كلما قلت هذه الظاهرة في المجتمع، وكلما نقص تمسك أفراد المجتمع بتلك المنظومة كلما ازدادت هذه الظاهرة، "وذلك لأنها ظاهرة سلبية وشاذة وغير سوية"، لا تستقيم ولا تنتظم مع القيم والأخلاق والتعاليم النبيلة، ويعد الظلم وتسلط القوي على الضعيف من أهم ما ينشر الإرهاب ويسببه.

وعلى هذا الاعتبار، فإن هذه الظاهرة ليست نشاطا بشريا طارئا أو ظاهرة مفاجئة، بل قديمة قدم الإنسان، فلم يخل زمن من الأزمان، أو عصر من العصور، من شذوذ في تصرفات الإنسان وسلوكه فردا كان أم جماعة، بل وجد من يتمرد على السلطة ويبغي على السلطان، من الناقمين على المجتمع الذي يعيشون فيه، وذلك بالخروج على نظمه وقوانينه، لأسباب شتى وأهداف متعددة، تسوغ لهم- من وجهة نظرهم- ما يقولون وما يفعلون، لذا نجد أن هذه الظاهرة عاشت في أقدم الحضارات في العالم وحتى الآن منذ أقدم حادثة إرهاب ظهرت على وجه الأرض بين ابني آدم قابيل وهابيل، وإلى وقتنا الحاضر، وإلى أن يرث الله الأرض ومن عليها، إذ وجدت هذه الظاهرة في أقدم العلاقات وأعرق الحضارات، وانتشرت في كل زمان ومكان، مع تفاوت في
[দ্বিতীয় অধ্যায়: মানব সমাজে সন্ত্রাসবাদ, এর শিকড় এবং উৎপত্তি]

[সন্ত্রাসবাদের উৎপত্তি]

দ্বিতীয় অধ্যায়

মানব সমাজে সন্ত্রাসবাদ, এর শিকড় ও উৎপত্তি; সন্ত্রাসবাদের উদ্ভব: অনেক গবেষক ও ঐতিহাসিক মনে করেন যে, সন্ত্রাসবাদ পৃথিবীতে মানবিক সম্পর্কের মতোই একটি প্রাচীন প্রপঞ্চ। এটি মানবজাতির সামাজিক সম্পর্কের অস্তিত্বের সাথে এবং সত্য ও মিথ্যার এবং ভালো ও মন্দের মধ্যকার সংগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত। মানবিক সম্পর্কের পরিধি বৃদ্ধি বা হ্রাসের সাথে এবং ভালো-মন্দ ও সত্য-মিথ্যার সংঘাতের তীব্রতা অনুযায়ী এটি বৃদ্ধি পায় বা হ্রাস পায়। মানবিক সম্পর্কের পরিধি যত প্রসারিত হয়েছে এবং ভালো-মন্দ ও সত্য-মিথ্যার মধ্যে লড়াই যত তীব্র হয়েছে, মানব সমাজে এই প্রপঞ্চটি ততই বৃদ্ধি পেয়েছে ও ছড়িয়ে পড়েছে। তেমনিভাবে এই প্রপঞ্চটি মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং মহান আদর্শিক শিক্ষার ব্যবস্থার প্রতি আনুগত্যের মাত্রার সাথে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী সম্পর্কে যুক্ত। সমাজের সদস্যরা যখন মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং মহান আদর্শিক শিক্ষার ব্যবস্থার প্রতি অধিক অনুগত থাকে, তখন সমাজে এই প্রবণতা কমে যায়। আর যখন সমাজের সদস্যদের সেই ব্যবস্থার প্রতি আনুগত্য কমে যায়, তখন এই প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। "কারণ এটি একটি নেতিবাচক, বিচ্যুত (شاذة) এবং অস্বাভাবিক প্রপঞ্চ", যা উচ্চ মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মহান শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বা সুসংগত নয়। আর জুলুম (ظلم) এবং দুর্বলের ওপর সবলের আধিপত্য সন্ত্রাসবাদ বিস্তার ও সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য হয়।

এই বিবেচনায়, এই প্রপঞ্চটি কোনো আকস্মিক মানবিক কর্মকাণ্ড বা কোনো অতর্কিত বিষয় নয়, বরং মানুষের ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। কোনো যুগ বা কাল এমন অতিবাহিত হয়নি যেখানে মানুষের আচরণ ও স্বভাবের মধ্যে কোনো বিচ্যুতি (شذوذ) ছিল না, চাই তা ব্যক্তিগত পর্যায়ে হোক বা সমষ্টিগত। বরং এমন লোকও পাওয়া গেছে যারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে এবং শাসকের (سلطان) অবাধ্য হয়েছে, যারা তারা যে সমাজে বাস করে তার প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ ছিল। বিভিন্ন কারণ ও নানাবিধ উদ্দেশ্যে তারা সমাজের নিয়ম-কানুন ও আইনের বিরুদ্ধাচরণ করেছে, যা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে তাদের কথা ও কাজকে বৈধতা দান করে। তাই আমরা দেখতে পাই যে, এই প্রপঞ্চটি বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতাগুলো থেকে শুরু করে আজ অবধি টিকে আছে; অর্থাৎ পৃথিবীতে আদমের দুই পুত্র কাবিল ও হাবিলের মধ্যে সংঘটিত প্রথম সন্ত্রাসী ঘটনা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এবং আল্লাহ যতক্ষণ পৃথিবীকে তার অধিবাসীসহ টিকিয়ে রাখবেন ততক্ষণ পর্যন্ত এটি বজায় থাকবে। যেহেতু এই প্রপঞ্চটি প্রাচীনতম সম্পর্ক ও সুপ্রাচীন সভ্যতাগুলোতে বিদ্যমান ছিল এবং এটি প্রতিটি যুগে ও স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও এর মাত্রার তারতম্য রয়েছে...
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
الدرجة والنوع والهدف والطريقة والأسلوب، حسب طبيعة كل زمان ومكان ونوع العلاقات وتشابك المصالح بين البشر.

وقد جاء في بعض آي القرآن الكريم وكتب السيرة والتاريخ ذكر بعض الحوادث التي يمكن احتسابها ضمن منظومة الإرهاب البشري.

فأول عنف وعمل إرهابي ظهر على وجه الأرض ما حصل بين ابني آدم؛ إذ قتل قابيل أخيه هابيل بسبب الغيرة والحسد؛ قال الله تعالى: {وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الْآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ - لَئِنْ بَسَطْتَ إِلَيَّ يَدَكَ لِتَقْتُلَنِي مَا أَنَا بِبَاسِطٍ يَدِيَ إِلَيْكَ لِأَقْتُلَكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ - إِنِّي أُرِيدُ أَنْ تَبُوءَ بِإِثْمِي وَإِثْمِكَ فَتَكُونَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ وَذَلِكَ جَزَاءُ الظَّالِمِينَ - فَطَوَّعَتْ لَهُ نَفْسُهُ قَتْلَ أَخِيهِ فَقَتَلَهُ فَأَصْبَحَ مِنَ الْخَاسِرِينَ - فَبَعَثَ اللَّهُ غُرَابًا يَبْحَثُ فِي الْأَرْضِ لِيُرِيَهُ كَيْفَ يُوَارِي سَوْأَةَ أَخِيهِ قَالَ يَاوَيْلَتَا أَعَجَزْتُ أَنْ أَكُونَ مِثْلَ هَذَا الْغُرَابِ فَأُوَارِيَ سَوْأَةَ أَخِي فَأَصْبَحَ مِنَ النَّادِمِينَ} [المائدة: 27 - 31] [المائدة: 27- 31] ، فهذه أول حادثة يتمثل فيها أول عمل يحتسب من الإرهاب في مفهومه الواسع.

كما أن نبي الرحمة والسلام محمد صلى الله عليه وسلم لم يسلم من إرهاب من لم يؤمن برسالته؛ فلم يسلم ومن آمن به واتبعه من الأذى، فتعرضوا لصنوف من العذاب والاضطهاد من قبل قومهم، مما اضطرهم ذلك إلى الهجرة مرتين إلى الحبشة ثم إلى يثرب "المدينة المنورة"، تاركين الأموال والأملاك والديار والأهل والعشيرة في سبيل نشر دعوة الله في الأرض، وبناء الدولة الإسلامية.

وبالرغم من أن الإسلام لم يدع إلى قطيعة رحم أو حرب على الناس وسلب ممتلكاتهم، بل هو دين السلام والرحمة والمحبة والأمن والأمان والتعاون بين بني البشر، وعدم البغي والظلم، وعدم الإكراه، حتى في أمر الدين، ومع هذا لم يسلم هذا الدين من ظهور فئات تخالف تلك التعاليم السمحة من تلك الفئات الخارجة عن الدين، والبعد عن رحمته وعدله وأمنه وأمانه ووسطيته.

ومن تلك الفئات:

- حركة الخوارج التي ظهرت عقب موقعة صفين عام 37 هـ بسبب موقفهم من
মাত্রা, ধরণ, লক্ষ্য, পদ্ধতি এবং শৈলী প্রতিটি কাল ও স্থানের প্রকৃতি এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের ধরণ ও স্বার্থের সংঘাত অনুযায়ী ভিন্ন হয়।

পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াতে এবং সিরাত ও ইতিহাসের কিতাবসমূহে এমন কিছু ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়, যেগুলোকে মানবীয় সন্ত্রাসবাদের কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

পৃথিবীর বুকে সর্বপ্রথম যে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখা গিয়েছিল, তা ছিল আদম (আ.)-এর দুই পুত্রের মধ্যে সংঘটিত ঘটনা; যখন কাবিল তার ভাই হাবিলকে ঈর্ষা ও বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে হত্যা করেছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আপনি তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের সংবাদ যথাযথভাবে পাঠ করে শুনান, যখন তারা উভয়ে কোরবানি পেশ করল, তখন তাদের একজনের পক্ষ থেকে কবুল করা হলো এবং অন্যজনের পক্ষ থেকে কবুল করা হলো না। সে বলল: আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব। অন্যজন বলল: আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন। যদি তুমি আমাকে হত্যা করতে আমার দিকে তোমার হাত প্রসারিত করো, তবে আমি তোমাকে হত্যা করতে তোমার দিকে আমার হাত প্রসারিত করব না। নিশ্চয়ই আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি। আমি চাই যে, তুমি আমার পাপ ও তোমার পাপ উভয়ই বহন করো, ফলে তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এটিই জালিমদের প্রতিফল। অতঃপর তার নফস তাকে তার ভাইকে হত্যা করতে প্ররোচিত করল, ফলে সে তাকে হত্যা করল এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর আল্লাহ একটি কাক পাঠালেন যা মাটি খুঁড়ছিল, যাতে তাকে দেখাতে পারে কীভাবে সে তার ভাইয়ের মৃতদেহ গোপন করবে। সে বলল: হায় আফসোস! আমি কি এই কাকটির মতোও হতে পারলাম না যে, আমার ভাইয়ের মৃতদেহ গোপন করতে পারি? অতঃপর সে অনুতপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হলো।} [সূরা আল-মায়িদাহ: ২৭-৩১], সুতরাং এটিই ছিল প্রথম ঘটনা যাতে এমন এক কর্মের প্রতিফলন ঘটেছিল যাকে তার ব্যাপক অর্থে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে গণ্য করা হয়।

অনুরূপভাবে, রহমত ও শান্তির নবী মুহাম্মদ (সা.)-ও যারা তাঁর রিসালাতের প্রতি ঈমান আনেনি তাদের সন্ত্রাস থেকে রক্ষা পাননি। তিনি এবং যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছিলেন ও তাঁর অনুসরণ করেছিলেন তারা কষ্ট ও নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি। ফলে তারা তাদের নিজ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নানা ধরণের আযাব ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। এটিই তাদের বাধ্য করেছিল দুইবার আবিসিনিয়ায় (হাবাশা) এবং পরবর্তীতে ইয়াসরিব "মদিনা মুনাওয়ারা"-এ হিজরত করতে। তারা আল্লাহর দাওয়াত পৃথিবীতে প্রচার করতে এবং ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের জন্য তাদের ধন-সম্পদ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, ঘরবাড়ি, পরিবার ও গোত্র ত্যাগ করেছিলেন।

যদিও ইসলাম আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতে বা মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করতে আহ্বান জানায়নি, বরং এটি হচ্ছে মানুষের মাঝে শান্তি, রহমত, ভালোবাসা, নিরাপত্তা, অভয় ও সহযোগিতার এবং অবাধ্যতা ও জুলুম না করা এবং এমনকি দ্বীনের ব্যাপারেও জবরদস্তি না করার ধর্ম। তা সত্ত্বেও, এই দ্বীন এমন কিছু গোষ্ঠীর আবির্ভাব থেকে মুক্ত থাকেনি যারা এই উদার শিক্ষাগুলোর বিরুদ্ধাচরণ করেছে—যারা দ্বীন থেকে বিচ্যুত এবং এর রহমত, ইনসাফ, নিরাপত্তা, অভয় ও মধ্যপন্থা থেকে বহু দূরে।

সেই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে:

- খারেজি আন্দোলন যা ৩৭ হিজরিতে সিফফিনের যুদ্ধের পর তাদের অবস্থানের কারণে...
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
التحكيم الذي تم بين أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه وبين معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه، إذ كانوا لا يرون التحكيم، فاعتقدوا كفر كل من خالف رأيهم وعذبوهم.

- حركة القرامطة، وهم أتباع " قرمط " الذي خالف تعاليم الإسلام، فكان له رأيه الخاص حتى في العبادات، وقد كانت هذه الفرقة من أعنف الفرق، حيث حملت السلاح لحمل الناس على اتباع مذهبهم.

هذه بعض الأمثلة التي ظهرت في عصر صدر الإسلام، واستمر بعضها إلى يومنا هذا، ولم يكن هذا في المجتمع الإسلامي فحسب، بل نقل بعض الذين كتبوا عن الديانتين اليهودية والنصرانية أمثلة مما ورد من قصص الإرهاب في الإنجيل والتوراة، سواء ما كان منها بين الديانتين أم بين أهل الديانة الواحدة.

تلك كانت إلماحة سريعة عن جذور الإرهاب ونشأته التاريخية.

أما في العصر الحديث؛ فقد تنوع الإرهاب في أشكاله وصوره، فتكونت عصابات وحركات منظمة ومسلحة ذات أهداف ومعتقدات ومناهج وأفكار تعلنها للمجتمع الدولي، وترتكب أفظع الجرائم وأشدها، وبالطريقة التي تراها في سبيل تحقيق أهدافها، أو نشر أفكارها في العالم، وتفاوتت وجهات النظر نحوها بين التأييد لها أو رفضها، وبن شجبها أو السكوت عنها، إلى آخر ما يرد من مصطلحات مطاطة وهلامية لا تسمن ولا تغني من جوع، بل إن بعضها كان للاستهلاك السياسي والإعلامي بين الدول، بحيث أصبحت شعارات جوفاء بلا مضمون ودون تأثير عملي مؤثر على أرض الواقع، مما كان سببا في ظهور أفكار ومذاهب تدعو إلى الإرهاب المضاد، فنما الفكر المتطرف المنحرف، وعشش في عقول من لم يكن لهم حظ وافر من العلم الشرعي والمعرفة، أو في عقول من استطاع المنحرفون اقتناصهم والتغرير بهم وغسل أدمغتهم، حتى غدوا أداة في يد أولئك الإرهابيين المنحرفين يوجهونهم كيفما شاءوا، وإلى حيثما شاءوا.

 

‌‌[أسباب الإرهاب]

أسباب الإرهاب: تعددت الاتجاهات والمدارس الفكرية التي تناولت دراسة أسباب ظاهرة الإرهاب،
আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মধ্যে সংঘটিত সালিশি (التحكيم)-এর বিষয়টি; যেহেতু তারা (খারেজিরা) এই সালিশি ব্যবস্থাকে বৈধ মনে করত না, তাই তারা তাদের মতের বিরোধিতাকারীদের কুফরি (كفر) বা অবিশ্বাসের বিশ্বাস পোষণ করত এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালাত।

- কারামাতিয়া আন্দোলন, তারা ছিল "কুরমুত"-এর অনুসারী যে ইসলামের শিক্ষার বিরোধিতা করেছিল। এমনকি ইবাদতের ক্ষেত্রেও তার নিজস্ব বিশেষ মত ছিল। এই দলটি (فرقة) ছিল অন্যতম উগ্র দলগুলোর একটি, যারা মানুষকে তাদের মতাদর্শ (مذهب) অনুসরণে বাধ্য করতে অস্ত্র ধারণ করেছিল।

এগুলো ছিল ইসলামের সূচনালগ্নে (عصر صدر الإسلام) প্রকাশ পাওয়া কিছু উদাহরণ, যার কিছু কিছু বর্তমান সময় পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এটি কেবল মুসলিম সমাজেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং যারা ইহুদি ও খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে লিখেছেন তারা ইঞ্জিল ও তাওরাতে বর্ণিত সন্ত্রাসবাদের গল্পের এমন কিছু উদাহরণ উদ্ধৃত করেছেন যা এই দুই ধর্মের মাঝে অথবা একই ধর্মের অনুসারীদের নিজেদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।

এটি ছিল সন্ত্রাসবাদের শিকড় এবং এর ঐতিহাসিক উদ্ভব সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত।

আর আধুনিক যুগে সন্ত্রাসবাদ তার রূপ ও আকৃতিতে বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে। ফলে এমন কিছু সশস্ত্র ও সুসংগঠিত গোষ্ঠী ও আন্দোলন গড়ে উঠেছে যাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, আকিদা বা বিশ্বাস (معتقدات), মানহাজ (مناهج) এবং চিন্তাধারা রয়েছে যা তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ঘোষণা করে। তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন বা বিশ্বে তাদের চিন্তাধারা প্রসারের জন্য নিজেদের সুবিধামতো পদ্ধতিতে জঘন্যতম ও কঠোর অপরাধসমূহ সংঘটিত করে। এদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন বা প্রত্যাখ্যান এবং নিন্দা জানানো বা নীরব থাকার মাঝে দোদুল্যমান থেকেছে। শেষ পর্যন্ত এমন সব অসার ও অস্পষ্ট পরিভাষা ব্যবহৃত হচ্ছে যা কোনো উপকারে আসে না। বরং এর কিছু ছিল দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলক ব্যবহারের জন্য, যার ফলে এগুলো কোনো বাস্তব কার্যকর প্রভাবহীন অন্তঃসারশূন্য স্লোগানে পরিণত হয়েছে। যা প্রতি-সন্ত্রাসবাদের আহ্বানকারী বিভিন্ন চিন্তাধারা ও মতবাদ (مذاهب) প্রকাশের কারণ হয়েছে। ফলে চরমপন্থী ও বিচ্যুত চিন্তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সেই সব মানুষের মগজে বাসা বেঁধেছে যাদের শরয়ি জ্ঞান (العلم الشرعي) ও প্রজ্ঞার পর্যাপ্ত অংশ ছিল না, অথবা যাদেরকে বিভ্রান্তরা শিকারে পরিণত করতে, প্রলুব্ধ করতে এবং মগজ ধোলাই করতে সক্ষম হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তারা সেই সব বিভ্রান্ত সন্ত্রাসীদের হাতের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, যারা তাদেরকে যেভাবে ইচ্ছা এবং যেখানে ইচ্ছা পরিচালিত করে।

 

‌‌[সন্ত্রাসবাদের কারণসমূহ]

সন্ত্রাসবাদের কারণসমূহ: সন্ত্রাসবাদ সমস্যার কারণসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঘরানা তৈরি হয়েছে,
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
ولكنها تتفق في القول بأن ظاهرة الإرهاب مركبة معقدة ولها أسباب كثيرة ومتداخلة، بعضها واضح وطاف فوق السطح، والبعض الآخر خفي غائص في الأعماق، وبعضها عام على المستوى الدولي، والبعض الآخر على المستوى المحلي في كل دولة، بل وتتنوع الاستنتاجات بحسب اختصاص الباحثين؛ إذ يركز البعض على بعض تلك الأسباب دون الآخر، فأهل التوجه الاقتصادي يركزون على الأسباب الاقتصادية، والاجتماعيون يركزون على الأسباب الاجتماعية، وهكذا السياسيون والمختصون في الشئون الأمنية، يردونها إلى أسباب أمنية، وهكذا. وهناك من يرفض عزو أسباب الإرهاب إلى الأسباب المادية الخارجية، ويجعلها أسبابا نفسية فقط متعلقة بتكوين شخصية المجرم، أي إنها استعداد نفسي عند من يقوم بالعمليات الإرهابية، وأن الأسباب الأخرى ما هي إلا مثيرات لذلك الاستعداد النفسي، ويستدلون على ذلك بأن هناك مجتمعات يعاني الفرد فيها اقتصاديا وسياسيا واجتماعيا، ومع ذلك تخلو من الإرهاب بشتى أنماطه وصوره، ولكن متى ما وجد الاستعداد الذاتي، ووجد المثير والمحفز كان ارتكاب جريمة الإرهاب.

ولكن الأكثر تعقيدا أولئك الذين يردون أسباب الإرهاب إلى أسباب دينية وثقافية فقط، أي إن الدين والثقافة هما محركا الإرهاب. وعلى الرغم من خطأ هؤلاء في توجههم وتصورهم، فقد تبنت بعض المنظمات هذا التوجه، وجعلت دين المتهمين بالإرهاب وثقافتهم عدوين لتلك الدولة أو ذلك المجتمع، وصنفوا معتنقي ذلك الدين من الأعداء والإرهابيين وهذا شيء غريب! ومع الأخذ في الحسبان كل ما ذكر، فإني سأجمل الأسباب التي ذكرها بعض الباحثين في هذا المجال، منطلقا في ذلك من بعدين رئيسين؛ هما:

أ- البعد المحلي للدول، وهو‌‌ المستوى الداخلي لكل دولة.

ب- البعد العام، وهو المستوى الدولي.

 

[المستوى الداخلي]

أ- البعد المحلي: المستوى الداخلي: يعزو بعض الباحثين أسباب الإرهاب إلى البيئة التي يعيش فيها الإنسان، والمؤثرات
তবে তারা এই বিষয়ে একমত যে, সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও বহুমুখী এবং এর পেছনে বহু ও পরস্পরসম্পর্কিত কারণ রয়েছে। এর কিছু কারণ স্পষ্ট ও উপরিভাগে দৃশ্যমান, আর কিছু কারণ নিগূঢ় ও অন্তরালে প্রচ্ছন্ন। কিছু কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাধারণ বিষয়, আর কিছু প্রতিটি দেশের স্থানীয় পর্যায়ের। এমনকি গবেষকদের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের ভিন্নতা অনুযায়ী এর সিদ্ধান্তগুলোও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে; যেহেতু কেউ কেউ এই কারণগুলোর কয়েকটির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং অন্যগুলোকে এড়িয়ে যান। অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ব্যক্তিরা অর্থনৈতিক কারণগুলোর ওপর জোর দেন, সমাজবিজ্ঞানীরা সামাজিক কারণগুলোর ওপর গুরুত্ব দেন এবং একইভাবে রাজনীতিবিদ ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা একে নিরাপত্তা বিষয়ক কারণের সাথে সম্পৃক্ত করেন, এবং এভাবেই চলতে থাকে। আবার এমনও অনেকে আছেন যারা সন্ত্রাসবাদের কারণগুলোকে বাহ্যিক বস্তুগত বিষয়ের ওপর আরোপ করতে অস্বীকার করেন এবং এগুলোকে স্রেফ অপরাধীর ব্যক্তিত্ব গঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক কারণ হিসেবে গণ্য করেন। অর্থাৎ, এটি সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তির একটি মানসিক প্রবণতা মাত্র, আর অন্যান্য কারণগুলো সেই মানসিক প্রবণতাকে উসকে দেওয়ার উদ্দীপক ছাড়া আর কিছু নয়। তারা এর স্বপক্ষে যুক্তি দেন যে, এমন অনেক সমাজ রয়েছে যেখানে ব্যক্তি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অভাবগ্রস্ত, তা সত্ত্বেও সেখানে কোনো প্রকার সন্ত্রাসবাদ তার বিভিন্ন রূপ ও ধরনে অনুপস্থিত। কিন্তু যখনই ব্যক্তিগত প্রবণতা এবং উদ্দীপক ও প্ররোচনা বিদ্যমান থাকে, তখনই সন্ত্রাসবাদের অপরাধ সংঘটিত হয়।

তবে সবচেয়ে জটিল হলো তারা যারা সন্ত্রাসবাদের কারণগুলোকে স্রেফ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কারণের সাথে সম্পৃক্ত করেন; অর্থাৎ তাদের মতে ধর্ম ও সংস্কৃতিই হলো সন্ত্রাসবাদের মূল চালিকাশক্তি। এই সকল লোকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ধারণায় ভুল থাকা সত্ত্বেও কিছু সংস্থা এই পথ অনুসরণ করেছে এবং সন্ত্রাসবাদের অভিযুক্তদের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র বা সমাজের শত্রু হিসেবে গণ্য করেছে। তারা সেই ধর্মের অনুসারীদের শত্রু ও সন্ত্রাসী হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করেছে, যা অত্যন্ত বিস্ময়কর বিষয়! বর্ণিত এই সকল বিষয় বিবেচনায় রেখে, আমি এই ক্ষেত্রে গবেষকদের উল্লেখ করা কারণগুলোকে দুটি প্রধান প্রেক্ষিত থেকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করব; তা হলো:

ক- রাষ্ট্রসমূহের স্থানীয় প্রেক্ষিত, যা প্রতিটি দেশের‌‌ অভ্যন্তরীণ পর্যায় ।

খ- সাধারণ প্রেক্ষিত, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়।

 

[অভ্যন্তরীণ পর্যায়]

ক- স্থানীয় প্রেক্ষিত: অভ্যন্তরীণ পর্যায়: কিছু গবেষক সন্ত্রাসবাদের কারণগুলোকে মানুষ যে পরিবেশে বসবাস করে এবং তার ওপর যে প্রভাবকসমূহ রয়েছে তার দিকে নিবদ্ধ করেন...
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
التي تتدخل في تكوين نمط حياته أو تؤثر فيها. وقد قسمت تلك الأسباب عناصر كثيرة، أجملها في الأسباب الرئيسة الآتية: -

1 - الأسباب التربوية والثقافية: التربية والتعليم هما أساس تثبيت التكوين الفطري عند الإنسان «كل مولود يولد على الفطرة فأبواه يهودانه أو يمجسانه أو ينصرانه» . فأي انحراف أو قصور في التربية يكون الشرارة الأولى التي ينطلق منها انحراف المسار عند الإنسان، والفهم الخاطئ للدين يؤدي إلى خلق صورة من الجهل المركب، ويجعل الفرد عرضة للانحراف الفكري والتطرف في السلوك، وتربة خصبة لزرع بذور الشر وقتل نوازع الخير، بل ومناخا ملائما لبث السموم الفكرية من الجهات المغرضة، لتحقيق أهداف إرهابية.

ويقع عبء هذا الأمر ومسؤوليته على المؤسسات التي تتولى تربية الأفراد وتعليمهم وتثقيفهم في جوانب التكوين التربوي العام، أو التربوي الخاص كالتعليم الديني، سواء أكانت تلك المؤسسات ذات مسؤولية مباشرة- كمؤسسات التعليم العام والجامعي- أم ذات مسؤولية غير مباشرة كوسائل الإعلام بشتى أنواعها، وهذه المؤسسات مجتمعة هي المعنية بتنفيذ سياسات التعليم والتربية في مجتمعاتها، وإذا كان قصور تلك المؤسسات عن القيام بواجبها وأداء مهمتها في المجتمع يؤدي إلى قصور في التكوين التربوي الصحيح، فإن انحرافها يؤدي إلى أسوأ من تلك النتيجة؛ سواء أكان بالفعل أم برد الفعل، فحينما يتدنى مستوى الأداء في تلك المؤسسات، بدلا من ترقيته للذوق العام، وترسيخ القيم والمبادئ النبيلة بين الأفراد، وتنمية الوعي في تعظيم حرمة الدين والأموال والأنفس والأعراض والعقول، وتنمية مداركهم في السماحة والتخاطب والعمل على جمع الكلمة، فإن ذلك يوغر صدور المعتدلين، ويدفعهم إلى تبني مواقف متشددة وآراء متطرفة، فتسهم تلك المؤسسات بطريقة غير مباشرة في إذكاء نار الفتنة، وتهيئة جو التهييج نحو ظهور إرهاب فكري، وسخط وإثارة ضد مؤسسات الدولة وضد المجتمع، وهذا في حد ذاته دعوة إلى التطرف، واحتضان الانحراف الذي يقود إلى الإرهاب.
যা তার জীবনধারা গঠনে হস্তক্ষেপ করে বা তাকে প্রভাবিত করে। সেই কারণগুলোকে অনেক উপাদানে বিভক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান কারণগুলো নিচে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো: -

১ - শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক কারণ: শিক্ষা ও দীক্ষাই হলো মানুষের সহজাত প্রকৃতি (فطرة)-কে সুদৃঢ় করার ভিত্তি। "প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাতের (فطرة) ওপর জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, অগ্নিউপাসক বা খ্রিস্টান বানায়।" সুতরাং লালন-পালন বা শিক্ষার ক্ষেত্রে যেকোনো বিচ্যুতি বা ত্রুটি হলো সেই প্রথম স্ফুলিঙ্গ যেখান থেকে মানুষের পথবিচ্যুতি শুরু হয়। ধর্মের ভুল অনুধাবন জটিল অজ্ঞতার (الجهل المركب) সৃষ্টি করে এবং ব্যক্তিকে বুদ্ধিবৃত্তিক বিচ্যুতি ও আচরণগত চরমপন্থার শিকারে পরিণত করে। এটি অনিষ্টের বীজ বপন এবং কল্যাণের প্রবৃত্তিগুলোকে ধ্বংস করার জন্য উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়; এমনকি এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পক্ষগুলোর জন্য সন্ত্রাসী লক্ষ্য অর্জনে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষ ছড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

এই বিষয়ের দায় ও দায়িত্ব সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বর্তায় যারা সাধারণ শিক্ষাগত গঠন বা বিশেষ শিক্ষাগত গঠন—যেমন ধর্মীয় শিক্ষা—এর দিক থেকে ব্যক্তিদের লালন-পালন, শিক্ষাদান ও সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব পালন করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত হতে পারে—যেমন সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়—অথবা পরোক্ষভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হতে পারে—যেমন বিভিন্ন ধরণের গণমাধ্যম। এই সব প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে তাদের সমাজে শিক্ষা ও দীক্ষার নীতি বাস্তবায়নের জন্য দায়বদ্ধ। আর যদি এই প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে তাদের কর্তব্য ও মিশন পালনে ব্যর্থ হয়, তবে তা সঠিক শিক্ষাগত গঠনে ঘাটতি তৈরি করে। আর তাদের বিচ্যুতি এর চেয়েও ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়; তা সরাসরি কাজের মাধ্যমে হোক বা প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে। যখন এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মক্ষমতার মান নেমে যায়—জনরুচির উন্নয়ন, ব্যক্তিদের মধ্যে মহৎ মূল্যবোধ ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা, ধর্ম, সম্পদ, জীবন, সম্মান ও বুদ্ধিবৃত্তির পবিত্রতা রক্ষার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহনশীলতা, পারস্পরিক সংলাপ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার বোধ জাগ্রত করার পরিবর্তে—তখন তা মধ্যপন্থীদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করে এবং তাদেরকে কঠোর অবস্থান ও চরমপন্থী মতামত গ্রহণে প্ররোচিত করে। এভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো পরোক্ষভাবে ফিতনার (الفتنة) আগুন উসকে দিতে, বুদ্ধিবৃত্তিক সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি করতে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ও উত্তেজনা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। এটি নিজেই চরমপন্থার দিকে এক আহ্বান এবং বিচ্যুতির লালনভূমি, যা সন্ত্রাসবাদের দিকে ধাবিত করে।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
2 - الأسباب الاجتماعية: المجتمع هو المحضن الذي ينمو فيه الإنسان، وتنمو فيه مداركه الحسية والمعنوية، ويتنفس هواءه، ويرشف من رحيقه، فهو المناخ الذي تنمو فيه عوامل التوازن المادي والمعنوي لدى الإنسان. وأي خلل في تلك العوامل، فإنه يؤدي إلى خلل في توازن الإنسان في تفكيره ومنهج تعامله، فالإنسان ينظر إلى مجتمعه على أن فيه العدل وفيه كرامته الإنسانية، وحينما لا يجد ذلك كما يتصور فإنه يحاول التعبير عن رفضه لتلك الحالة بالطريقة التي يعتقد أنها تنقل رسالته. فعلى سبيل المثال: حينما لا تتكافأ الفرص بين المواطنين، ولا يكون التفاضل قائما على أسس ومعايير سليمة، أو عندما لا يكون العدل مقياسا للجمع بين المتساويين والتفريق بين المتفرقين، أو حينما يتسلط القوي على الضعيف، وغير ذلك من الأخطاء الاجتماعية، فإن ذلك يشكل إحباطا لفئات من المجتمع، فتحاول التعبير عن رفضها لتلك الممارسات بطريقة خاطئة غير رشيدة؛ لأن رد الفعل العكسي هو الذي يسوق ذلك الإنسان إلى كراهية المجتمع، ومحاولة الانتقام بالطريقة التي يراها مناسبة لرد ما يتصور أنه سلب منه.

فانتشار المشكلات الاجتماعية ومعاناة المواطنين دوافع إلى انحراف سلوكهم، وتطرف آرائهم وغلوهم في أفكارهم، بل ويجعل المجتمع أرضا خصبة لنمو الظواهر الخارجة على نواميس الطبيعة البشرية المتعارف عليها في ذلك المجتمع.

3 - الأسباب الاقتصادية: الاقتصاد من العوامل الرئيسة في خلق الاستقرار النفسي لدى الإنسان؛ فكلما كان دخل الفرد يفي بمتطلباته ومتطلبات أسرته، كلما كان رضاه واستقراره الاجتماعي ثابتا، وكلما كان دخل الفرد قليلا لا يسد حاجته وحاجات أسرته الضرورية، كلما كان مضطربا غير راض عن مجتمعه، بل قد يتحول عدم الرضا إلى كراهية تقود إلى نقمة على المجتمع، خاصة إن كان يرى التفاوت بينه وبين أعضاء آخرين في المجتمع مع عدم وجود أسباب وجيهة لتلك الفروق، إضافة إلى التدني في مستوى المعيشة والسكن والتعليم والصحة، وغيرها من الخدمات الضرورية التي يرى الفرد أن سبب حدوثها
2 - সামাজিক কারণসমূহ: সমাজ হলো সেই লালনভূমি যেখানে মানুষ বেড়ে ওঠে এবং তার ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও আধ্যাত্মিক বোধশক্তির বিকাশ ঘটে; সে এর আবহে নিশ্বাস নেয় এবং এর নির্যাস আস্বাদন করে। ফলে এটি এমন এক পরিবেশ, যেখানে মানুষের বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক ভারসাম্যের উপাদানসমূহ বিকশিত হয়। এই উপাদানগুলোর মধ্যে কোনো প্রকার বিচ্যুতি দেখা দিলে তা মানুষের চিন্তাভাবনা এবং আচরণের পদ্ধতির ভারসাম্যে বিঘ্ন ঘটায়। মানুষ তার সমাজের প্রতি এই প্রত্যাশা রাখে যে, সেখানে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা বজায় থাকবে; কিন্তু যখন সে তার কল্পনা অনুযায়ী তা খুঁজে পায় না, তখন সে এমন পদ্ধতিতে সেই পরিস্থিতির প্রতি তার অস্বীকৃতি জ্ঞাপনের চেষ্টা করে যা তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য উপযুক্ত বলে সে বিশ্বাস করে। উদাহরণস্বরূপ: যখন নাগরিকদের মধ্যে সুযোগের সমতা থাকে না, আর শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রাধিকার যখন সঠিক ভিত্তি ও মানদণ্ডের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় না, অথবা যখন সমানদের একত্রিত করা এবং ভিন্নদের পৃথক করার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারকে মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করা হয় না, কিংবা যখন দুর্বলের ওপর সবলের আধিপত্য চলে এবং এ জাতীয় অন্যান্য সামাজিক ভুলভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয়—তখন তা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে হতাশা তৈরি করে। ফলে তারা সেই রীতিনীতিগুলোর বিরুদ্ধে ভুল ও অবিবেচনাপ্রসূত উপায়ে নিজেদের প্রতিবাদ ব্যক্ত করার চেষ্টা করে; কারণ এই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াই সেই ব্যক্তিকে সমাজের প্রতি বিদ্বেষের দিকে ঠেলে দেয় এবং তার কাছ থেকে যা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সে ধারণা করে, তা পুনরুদ্ধারের জন্য নিজের দৃষ্টিতে উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রতিশোধ নেওয়ার প্রচেষ্টায় লিপ্ত করে।

সামাজিক সমস্যার বিস্তার এবং নাগরিকদের ভোগান্তি তাদের আচরণের বিচ্যুতি, মতাদর্শের উগ্রতা এবং চিন্তাধারার চরমপন্থার অন্যতম চালিকাশক্তি; বরং এটি সমাজকে এমন এক উর্বর ভূমিতে পরিণত করে যেখানে সেই সমাজের স্বীকৃত মানব প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের পরিপন্থী বিভিন্ন নেতিবাচক প্রবণতা জন্ম লাভ করে।

3 - অর্থনৈতিক কারণসমূহ: মানুষের মনস্তাত্ত্বিক স্থিতিশীলতা অর্জনের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো অর্থনীতি। ব্যক্তির আয় যখন তার নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়, তখন তার সামাজিক তৃপ্তি ও স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় হয়। আর ব্যক্তির আয় যখন স্বল্প হয় এবং তা তার ও তার পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণে অপর্যাপ্ত হয়, তখন সে অস্থির হয়ে পড়ে এবং সমাজের প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে। এমনকি এই অসন্তোষ কখনো কখনো ঘৃণায় রূপ নিতে পারে যা সমাজের প্রতি তীব্র ক্ষোভের দিকে ধাবিত করে; বিশেষ করে যখন সে নিজের ও সমাজের অন্য সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য দেখতে পায় অথচ সেই পার্থক্যের পেছনে কোনো সংগত কারণ থাকে না। এর পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার নিম্নমান, যেগুলোর সৃষ্টির কারণ হিসেবে ব্যক্তি মনে করে যে...
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
هو إخفاق الدولة في توفيرها له بسبب فشو الفساد الإداري، وعدم العدل بين أفراد المجتمع.

هذه الحالة من الإحباط والشعور السلبي تجاه المجتمع يولد عند الإنسان حالة من التخلي عن الانتماء الوطني، ونبذ الشعور بالمسئولية الوطنية، وعدم احترام ذلك الوطن والمواطن الذين يرى أنهما لم ينصفاه ولم يعطياه حقه، وأن الوطن لم يقم بالواجب نحو ذلك المواطن في سد معاناته ومعالجة فقره وعوزه، ولهذا يتكون لديه شعور بالانتقام، وقد يستثمر هذا الشعور بعض المغرضين، فيحسنون لذلك المحبط قدرتهم على تحسين وضعه الاقتصادي، دون أن ينظر في عبر التاريخ، وإلى ما حوله من المجتمعات، وما حل بها من جراء تلك الفئات التي تحمل فكرا غير سوي.

4 - الأسباب السياسية: وضوح المنهج السياسي واستقراره، والعمل وفق معايير وأطر محددة يخلق الثقة، ويوجد القناعة، ويبني قواعد الاستقرار الحسي والمعنوي لدى المواطن، والعكس صحيح تماما، فإن الغموض في المنهج والتخبط في العمل، وعدم الاستقرار في المسير يزعزع الثقة، ويقوض البناء السياسي للمجتمع، ويخلق حالة من الصدام بين المواطنين والقيادة السياسية، وتتكون ولاءات متنوعة، وتقوم جماعات وأحزاب، فتدغدغ مشاعر المواطن بدعوى تحقيق ما يصبو إليه من أهداف سياسية، وما ينشده من استقرار سياسي ومكانة دولية قوية.

وهذا وجه من وجوه انتشار الإرهاب بسبب المنهج السياسي.

أما الوجه الآخر، فهو البحث عن المكاسب السياسية من خلال خلق الضغوط، مثل إقدام بعض الدول على احتضان بعض الجماعات أو الأفراد الخارجين على قوانين بلادهم، وتشجيعهم ومساعدتهم ماديا ومعنويا، وذلك تحقيقا لمكاسب سياسية، واستخدامهم- كما يقال- ورقة ضغط تلوح بها الدولة الحاضنة في وجه الدولة الأخرى متى ما أرادت، لتحصل من خلالها الدولة الحاضنة على تنازلات سياسية أو مكاسب اقتصادية من الدولة الأخرى، بل يصل الأمر ببعض الدول في بعض الحالات إلى
এটি প্রশাসনিক দুর্নীতির বিস্তার এবং সমাজের সদস্যদের মধ্যে ন্যায়বিচারের (عدل) অভাবের কারণে তা প্রদানে রাষ্ট্রের একটি ব্যর্থতা।

সমাজের প্রতি এই হতাশা এবং নেতিবাচক অনুভূতি মানুষের মধ্যে জাতীয় পরিচয় ত্যাগের প্রবণতা তৈরি করে, জাতীয় দায়িত্ববোধকে বর্জন করে এবং সেই রাষ্ট্র ও নাগরিকের প্রতি সম্মান হারিয়ে ফেলে যাদের সম্পর্কে সে মনে করে যে তারা তার প্রতি ইনসাফ করেনি এবং তাকে তার প্রাপ্য অধিকার দেয়নি। রাষ্ট্র সেই নাগরিকের দুর্ভোগ লাঘবে এবং তার দারিদ্র্য ও অভাব দূরীকরণে যথাযথ দায়িত্ব পালন করেনি। এর ফলে তার মধ্যে প্রতিশোধ গ্রহণের মানসিকতা তৈরি হয়। কিছু কুচক্রী মহল এই অনুভূতিকে কাজে লাগাতে পারে; তারা সেই হতাশ ব্যক্তির কাছে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির সক্ষমতাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে, অথচ সে ইতিহাসের শিক্ষা এবং তার চারপাশের সমাজগুলোর দিকে তাকায় না যে, অস্বাভাবিক আদর্শ ধারণকারী দলগুলোর কারণে সেই সমাজগুলোতে কী পরিণতি নেমে এসেছে।

4 - রাজনৈতিক কারণসমূহ: রাজনৈতিক মানহাজের স্পষ্টতা ও স্থায়িত্ব এবং নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও কাঠামোর অধীনে কাজ করা আস্থা তৈরি করে, তৃপ্তি সৃষ্টি করে এবং নাগরিকের মধ্যে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও মানসিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি স্থাপন করে। এর বিপরীত বিষয়টিও সম্পূর্ণ সত্য; মানহাজে অস্পষ্টতা, কর্মতৎপরতায় বিশৃঙ্খলা এবং অগ্রযাত্রায় অস্থিতিশীলতা আস্থাকে টলিয়ে দেয়, সমাজের রাজনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করে এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করে। এর ফলে বিভিন্ন ধরণের আনুগত্যের সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন গোষ্ঠী ও দল গড়ে ওঠে, যারা নাগরিকের আকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন এবং তার প্রত্যাশিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অবস্থানের দোহাই দিয়ে তার অনুভূতিকে উস্কে দেয়।

আর এটি হলো রাজনৈতিক মানহাজের কারণে সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের অন্যতম একটি দিক।

অন্যদিকে দ্বিতীয় দিকটি হলো চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা। যেমন—কিছু রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিজ দেশের আইনের অবাধ্য কিছু গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য তাদের উৎসাহিত করা ও বস্তুগত ও মানসিকভাবে সহায়তা করা। আর তাদের তথাকথিত 'প্রেশার কার্ড' (চাপ প্রয়োগের মাধ্যম) হিসেবে ব্যবহার করা, যা আশ্রয়দাতা রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যখন ইচ্ছা প্রদর্শন করে থাকে; যেন এর মাধ্যমে আশ্রয়দাতা রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে রাজনৈতিক ছাড় বা অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করতে পারে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু রাষ্ট্রের অবস্থা এ পর্যন্ত গড়ায় যে—
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
تدريب عصابات التخريب والإرهاب تحقيقا لأغراضها، ثم ما تلبث تلك الدولة أن تتفق مع الدولة الأخرى، فتعمل على إخراج تلك الجماعات من أراضيها، أو تحجيم نشاطها، أو منعها من العمل ضد تلك الدولة لينقلب السحر على الساحر، ويحصد الشر زارعه، والأمثلة على هذا النوع في التاريخ المعاصر، بل في الوقت الحاضر، كثيرة وواضحة. وقد يسمح لتلك العصابات والمخربين بالانتقال إلى دولة أو مجتمع آخر يعملون من خلاله.

5 - الأسباب النفسية والشخصية: تتفاوت الغرائز الدافعة للسلوك البشري، فبعضها يدفع إلى الخير وأخرى تدفع إلى غير ذلك، ولهذا يوجد أشخاص لديهم ميول إجرامية تجعلهم يستحسنون ارتكاب الجرائم بصفة عامة، والجرائم الإرهابية بصفة خاصة، بل قد يتعطشون لذلك، وهؤلاء يميلون إلى العنف في مسلكهم مع الغير، بل مع أقرب الناس إليهم في محيط أسرهم، نتيجة لعوامل نفسية كامنة في داخلهم تدفعهم أحيانا إلى التجرد من الرحمة والشفقة، بل والإنسانية، وتخلق منهم أفرادا يتلذذون بارتكاب تلك الأعمال الإرهابية.

وهذه الأسباب النفسية قد ترجع إلى عيوب أو صفات خلقية أو خلقية، أو خلل في تكوينهم النفسي أو العقلي أو الوجداني، مكتسب أو وراثي.

وقد يكتسب الفرد الصفات النفسية من البيئة المحيطة به سواء في محيط الأسرة أو في محيط المجتمع؛ فكل خلل في ذلك المحيط ينعكس على سلوك ذلك الفرد وتصرفاته، حتى تصبح جزءا من تكوينه وتركيبه النفسي، ويعد الإخفاق في الحياة الأسرية من أهم الأسباب المؤدية إلى جنوح الأفراد واكتسابهم بعض الصفات السيئة، بل وفشلهم في التعليم الذي يعد صمام الأمان في الضبط الاجتماعي، ومحاربة الجنوح الفكري والأخلاقي لدى الفرد، والإخفاق في الحياة يكون لدى الإنسان شعورا بالنقص وعدم تقبل المجتمع له. وقد يكون هذا الإحساس دافعا للإنسان لإثبات وجوده من خلال مواقع أخرى، فإن لم يتحقق له ذلك، فإنه يلجأ إلى التطرف؛ لأنه وسيلة سهلة لإثبات الذات حتى لو أدى به ذلك إلى ارتكاب جرائم إرهابية؛ لأن المهم
ধ্বংসাত্মক ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা; অতঃপর সেই রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে উপনীত হয়ে উক্ত গোষ্ঠীগুলোকে তাদের ভূখণ্ড থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করে, অথবা তাদের তৎপরতা সীমিত করে দেয়, কিংবা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধা প্রদান করে। ফলে সেই যাদু জাদুকরের ওপরই উল্টে যায় এবং অনিষ্টের বীজ বপনকারী নিজেই তার ফল ভোগ করে। সমকালীন ইতিহাস এমনকি বর্তমান সময়েও এর উদাহরণ প্রচুর ও সুস্পষ্ট। অনেক সময় এসকল নাশকতামূলক ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা সমাজে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় যেখানে তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

৫ - মনস্তাত্ত্বিক ও ব্যক্তিগত কারণ: মানব আচরণ পরিচালনাকারী প্রবৃত্তিগুলোর মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। এর কিছু কল্যাণের দিকে ধাবিত করে, আবার কিছু অন্য পথে। এই কারণেই এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণ মানসিকতা বিদ্যমান, যা তাদেরকে সাধারণভাবে অপরাধ এবং বিশেষভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। এমনকি তারা এর জন্য এক প্রকার তৃষ্ণা অনুভব করে এবং অন্যদের সাথে, এমনকি নিজ পরিবারের সদস্যদের সাথেও সহিংস আচরণ করে। তাদের অভ্যন্তরে সুপ্ত মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের ফলে অনেক সময় তারা দয়া-মায়া এমনকি মানবতাবোধ বর্জন করে এবং এমন ব্যক্তিতে পরিণত হয় যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিকৃত আনন্দ লাভ করে।

এই মনস্তাত্ত্বিক কারণসমূহ শারীরিক বা চারিত্রিক কোনো ত্রুটি বা বৈশিষ্ট্য, অথবা মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক বা আবেগগত কাঠামোর কোনো বিচ্যুতি হতে পারে, যা অর্জিত অথবা বংশগত।

একজন ব্যক্তি তার চারপাশের পরিবেশ থেকে, চাই তা পারিবারিক হোক বা সামাজিক, বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করতে পারে। উক্ত পরিবেশের প্রতিটি বিচ্যুতি সেই ব্যক্তির আচরণে প্রতিফলিত হয় এবং তার মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়। পারিবারিক জীবনে ব্যর্থতাকে মানুষের বিপথগামী হওয়া এবং মন্দ স্বভাব অর্জনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এমনকি শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যর্থতাও এর জন্য দায়ী, যা মূলত সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক স্খলন প্রতিরোধের প্রধান কবচ। জীবনের ব্যর্থতা মানুষের মনে হীনম্মন্যতা এবং সমাজের কাছে অগ্রহণযোগ্য হওয়ার বোধ তৈরি করে। এই অনুভূতি তাকে অন্য কোনো উপায়ে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণের দিকে ঠেলে দেয়। আর যদি সে সফল হতে না পারে, তবে সে উগ্রপন্থার আশ্রয় নেয়; কারণ এটি নিজের অস্তিত্ব প্রমাণের একটি সহজ পথ, যদিও এটি তাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দিকে ধাবিত করে; কারণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো...
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
عنده إثبات الذات.

ولهذا فإننا كثيرا ما نجد أن أغلب الملتحقين بالحركات الإرهابية من المخفقين دراسيا، أو من أصحاب المهن المتدنية في المجتمع، وغيرهم ممن لديهم الشعور بالدونية، ويسعون لإثبات ذاتهم، أو أشخاص لهم طموح شخصي، أو ممن تعرضوا لمواقف اجتماعية معينة.

هذه الأسباب عامة يمكن أن تكون صالحة في عموم دول العالم؛ إذ إنها- في غالبها- تعي حاجة مواطنيها وتسعى إلى تحقيقها. أما حينما تكون قيادة ذلك المجتمع سببا رئيسا من أسباب نشوء حركات نضال، أو مطالبة بحقوق، أو غير ذلك من ألوان التخبط في إدارة البلاد وتسييرها، كالتمييز العنصري، أو فرض مناهج سياسية وأيديولوجيات فكرية تصادم ما يؤمن به أفراد ذلك المجتمع، وما استقرت عليه حياتهم، أو حينما يكون هناك لون من ألوان التعسف الأمني ضد بعض فئات المجتمع، أقول حينما تكون القيادة لبلد من البلاد في العالم سبب التذمر وخلق جو التوتر والمهاترات، فإن الواجب على عقلاء العالم أن يبادروا إلى نصح تلك القيادة لإصلاح شأنها، فإن لم تستجب اتخذت بعض الإجراءات على‌‌ المستوى الدولي من خلال هيئة الأمم المتحدة، إذ ليس من الإصلاح تدريب عصابات التخريب، أو استخدام الإرهاب لمعالجة أخطاء يمكن معالجتها بغير ذلك، فلا يعالج المنكر بما هو أنكر منه، أو بما يقود إلى مفسدة أعم، وهذا هو منهج الإسلام.

 

[المستوى الدولي]

ب- البعد العام: المستوى الدولي: تنوعت وجهات النظر حول البعد العام وتعددت، حيث يرجعه البعض إلى أزمة ضمير وأخلاقيات حادة يعيشها النظام السياسي الدولي، تلك الأزمة التي يبرز معها التناقض الواضح بين ما تفرضه مواثيق النظام الدولي، وما تحض عليه مواثيق قيم الإنسانية من نظم وقواعد في التعامل، وبين ما يحدث على أرض الواقع من تنكر لكل تلك المواثيق والقيم والمبادئ، من هنا يرى البعض أن الإرهاب الدولي يظهر صرخة احتجاج على هذا التناقض.
তার মধ্যে আত্ম-প্রতিষ্ঠার প্রবণতা রয়েছে।

এই কারণে আমরা প্রায়শই দেখতে পাই যে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোতে যোগদানকারীদের অধিকাংশই পড়াশোনায় ব্যর্থ, অথবা সমাজে নিম্নমানের পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তি এবং অন্যরা যারা হীনম্মন্যতায় ভোগেন ও নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে সচেষ্ট থাকেন, অথবা এমন ব্যক্তি যাদের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে কিংবা যারা নির্দিষ্ট সামাজিক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।

এই কারণগুলো সাধারণ যা বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে; কেননা সেসব দেশ সাধারণত তাদের নাগরিকদের চাহিদা সম্পর্কে সচেতন এবং তা পূরণের চেষ্টা করে। কিন্তু যখন কোনো সমাজের নেতৃত্বই সংগ্রাম আন্দোলনের উদ্ভব, অধিকার আদায়ের দাবি অথবা দেশ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় নানাবিধ বিশৃঙ্খলার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়—যেমন বর্ণবৈষম্য, অথবা এমন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আদর্শ চাপিয়ে দেওয়া যা ওই সমাজের মানুষের বিশ্বাস এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত জীবনযাত্রার সাথে সাংঘর্ষিক হয়; কিংবা যখন সমাজের কিছু শ্রেণির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নিপীড়ন চালানো হয়—আমি বলব যখন বিশ্বের কোনো দেশের নেতৃত্বই অসন্তোষের কারণ হয় এবং উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার পরিবেশ তৈরি করে, তখন বিশ্বের বিবেকবান মানুষের দায়িত্ব হলো সেই নেতৃত্বকে সংশোধনের জন্য উপদেশের উদ্যোগ নেওয়া। যদি তারা সাড়া না দেয়, তবে জাতিসংঘের মাধ্যমে ‌ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কেননা নাশকতামূলক দলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া বা এমন ভুল সংশোধনের জন্য সন্ত্রাসবাদ ব্যবহার করা কোনোভাবেই সংস্কার হতে পারে না যা অন্য কোনো উপায়ে সমাধান করা সম্ভব। সুতরাং, কোনো মন্দ (منكر) বিষয়কে তার চেয়েও বড় মন্দ (منكر) দিয়ে অথবা যা আরও ব্যাপক ক্ষতিকর পরিণতির দিকে নিয়ে যায় তা দিয়ে প্রতিকার করা যায় না; আর এটিই হলো ইসলামের কর্মপন্থা।

 

[আন্তর্জাতিক পর্যায়]

খ- সাধারণ মাত্রা: আন্তর্জাতিক পর্যায়: সাধারণ মাত্রা সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিগুলো বৈচিত্র্যময় ও বহুমুখী। যেখানে কেউ কেউ একে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি তীব্র বিবেক ও নৈতিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন। এটি এমন এক সংকট যার ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সনদগুলো যা আবশ্যক করে এবং মানবিক মূল্যবোধের সনদগুলো আচরণের ক্ষেত্রে যেসব নিয়ম-কানুন ও মূলনীতির তাগিদ দেয়, তার সাথে বাস্তবে সেই সকল সনদ, মূল্যবোধ ও মূলনীতি অস্বীকার করার মধ্যকার স্পষ্ট বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। এখান থেকেই কেউ কেউ মনে করেন যে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মূলত এই বৈপরীত্যের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদী চিৎকার হিসেবে আবির্ভূত হয়।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
بينما يرى آخرون أن شيوع الإرهاب الدولي يرجع إلى افتقار النظام السياسي الدولي إلى الحزم والقوة في الرد على الانتهاكات والمخالفات التي تتعرض لها مواثيقه ومبادئه، من خلال عقوبات رادعة لكل مظاهر الإرهاب الدولي.

وبالجملة فإن أبرز تلك الأسباب على المستوى الدولي تتلخص فيما يأتي:

1 - عدم الاتفاق الدولي على تعريف محدد للإرهاب يحدد مظاهره وصوره وأسبابه، هذه الضبابية وعدم الوضوح أفسحت المجال لبعض الحكومات لاحتضان ما ترى أنه ليس من الإرهاب في مفهومها، سواء أكان ذلك الاحتضان بشكل مباشر أم غير مباشر، بينما قد تشن دول أخرى حربا على ما تسميه إرهابا في مفهومها، وهو ليس كذلك عند الأخرى "وقلما يكون ذلك " هذا الوضع المتناقض مكن بعض المنظمات التي تمارس الإرهاب من الحركة والتنقل والانطلاق تحت غطاء شرعية وجودها في دولة من دول العالم.

2 - ظهور منظمات وهيئات كثيرة في العالم تسجل رسميا في دولة من دول العالم لأهداف وأغراض إنسانية أو تعليمية محددة، وتتقدم بتسجيلها إلى دول أو هيئات ومنظمات أخرى طلبا للمساعدة المادية، وربما تحصل على شيء من ذلك بسبب ذلك السجل وتلك الأهداف والبرامج التي تقدمها، خاصة أنها تقدم حساباتها المالية السنوية موثقة من محاسبين قانونيين معتبرين في دولة المقر، مع عدم إمكانية قيام الدولة أو المنظمة أو الهيئة التي تطلب منها المساعدة بالتثبت من تلك الحسابات، وتعقب إنفاق ما تقدمه من تبرعات في وجهته الصحيحة؛ لأن حسابات تلك المنظمات لدى بنوك في دولة المقر، مما يعد معه متابعة الدولة أو المنظمة مقدمة التبرع تدخلا في الشئون الداخلية للدولة الأخرى- دولة المقر- وتشكيك في مصداقية مؤسساتها، وهذا الوضع قد يوجد إمكانية لبعض أفراد تلك المنظمات في سوء استخدام تلك التبرعات، أو عدم صرفها فيما خصصت له، وفي هذه الحال يعد المجتمع أو الدولة المتبرعة خارج نطاق المسؤولية؛ إذ تقع كامل المسئولية على دولة المقر.

3 - التقدم العلمي والتقني في مجال شبكات الاتصال، الذي مكن أعضاء تلك
অন্য দিকে কেউ কেউ মনে করেন যে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের প্রসার আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সেই দৃঢ়তা ও শক্তির অভাবের কারণে ঘটে থাকে, যা তার সনদ ও নীতিমালা লঙ্ঘনের বিপরীতে প্রদর্শন করা আবশ্যক ছিল; বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সকল প্রকারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে।

সংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেই সব প্রধান কারণসমূহ নিম্নরূপ:

১ - সন্ত্রাসবাদের কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের (اتفاق) অভাব, যা এর বহিঃপ্রকাশ, ধরন ও কারণসমূহ নির্ধারণ করবে। এই অস্পষ্টতা ও স্বচ্ছতার অভাব কিছু সরকারকে তাদের নিজস্ব ধারণায় যা সন্ত্রাসবাদ নয় তাকে প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, হোক তা প্রত্যক্ষভাবে অথবা পরোক্ষভাবে। অন্য দিকে, কিছু রাষ্ট্র হয়তো এমন কিছুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে যা তাদের নিজস্ব ধারণায় সন্ত্রাসবাদ, কিন্তু অন্য রাষ্ট্রের নিকট তা সেরূপ নয় (যদিও এমনটি খুব কমই ঘটে)। এই বৈপরীত্যমূলক পরিস্থিতি সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম পরিচালনাকারী কিছু সংস্থাকে বিশ্বের কোনো না কোনো রাষ্ট্রে তাদের অবস্থানের বৈধতার আবরণে বিচরণ ও কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছে।

২ - বিশ্বে এমন অনেক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের আবির্ভাব, যারা বিশ্বের কোনো একটি রাষ্ট্রে নির্দিষ্ট মানবিক কিংবা শিক্ষামূলক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয় এবং তারা আর্থিক সহায়তার আবেদনের লক্ষ্যে অন্যান্য রাষ্ট্র বা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের নিকট দ্বারস্থ হয়। সম্ভবত সেই নিবন্ধন এবং তাদের উপস্থাপিত লক্ষ্য ও কর্মসূচির কারণে তারা কিছু সাহায্য লাভও করে; বিশেষ করে যেহেতু তারা তাদের বার্ষিক আর্থিক হিসাবসমূহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের স্বীকৃত (معتبر) আইনি হিসাবরক্ষকদের দ্বারা প্রত্যায়িত করে পেশ করে। এমতাবস্থায় সাহায্যপ্রদানকারী রাষ্ট্র, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সেই হিসাবসমূহ যাচাই (تثبت) করা এবং তাদের প্রদানকৃত অনুদান সঠিক খাতে ব্যয় হচ্ছে কি না তা তদারকি করা সম্ভব হয় না। কারণ সেই সংস্থাগুলোর ব্যাংক হিসাবসমূহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের ব্যাংকেই বিদ্যমান থাকে, ফলে সাহায্য প্রদানকারী রাষ্ট্র বা সংস্থার পক্ষ থেকে তদারকি করা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং সেই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে সংশয় প্রকাশের নামান্তর মনে করা হয়। এই পরিস্থিতি উক্ত সংস্থাগুলোর কিছু সদস্যের নিকট অনুদানের অপব্যবহার কিংবা যে উদ্দেশ্যে তা বরাদ্দ করা হয়েছিল তাতে ব্যয় না করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এমতাবস্থায় সাহায্য প্রদানকারী সমাজ বা রাষ্ট্র দায়মুক্ত থাকে; কেননা এর পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়।

৩ - যোগাযোগ নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, যা সেই সদস্যদের সক্ষম করেছে...
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
الخلايا والشبكات الإرهابية من الحصول على معدات وأجهزة فنية متطورة جدا تيسر لهم الاتصال، وتساعدهم على تنفيذ مهماتهم بدرجة كبيرة من الدقة والإتقان.

وتذكر بعض التقارير والدراسات الدولية المنشورة حول نشاط الإرهاب الدولي إمكانية حصول بعض المنظمات الإرهابية على قدرات واسعة في مجال تقنية المعلومات، بل وتصنيع الأسلحة الفتاكة، بمساعدة بعض دول العالم.

4 - تغطية وسائل الإعلام من إذاعة وتليفزيون وقنوات فضائية وشبكات الاتصالات العالمية (الإنترنت) للأعمال الإرهابية، يعطي فرصا واسعة أمام الإرهابيين الذين يسعون وراء الدعاية لأهدافهم ونشر فكرهم، بل وتسويغ أعمالهم. ويميل بعض المحللين إلى اعتبار هذه التغطية دعاية مكثفة لمناشط الإرهاب الدولي وعملياته، أو تلك الأصوات التي تنقل وسائل الإعلام تسويغها لأعمال أولئك الإرهابيين، أو حتى تحليلاتها الشاذة في المفهوم والإدراك، من بين الأسباب المهمة التي تحفز الإرهابيين باتجاه التوسع في أعمالهم؛ لأنها تحقق لهم أحد أهم أهدافهم المتمثلة في الحصول على حضور إعلامي أمام الرأي العام العالمي دون أن يتكلفوا شيئا في سبيل الإنفاق على تلك الدعاية.

وهذا الاعتبار الدعائي بالذات كان دافعا لأعضاء اللجنة الخاصة بموضوع الإرهاب الدولي التابعة للأم المتحدة لأن تقترح على الدول أن تقصر تغطيتها الإعلامية للأفعال الإرهابية في أضيق نطاق، لحرمان الإرهابيين من هدفهم الذي يسعون دائما إليه، وهو الحصول على أوسع دعاية دولية ممكنة لعملياتهم الإرهابية.

5 - التناقضات في مواقف بعض دول العالم تجاه ظاهرة الإرهاب، وعدم مشاركتها الجادة في مكافحته وتضييق الخناق عليه، تلك المواقف قامت بعمل رئيس في اتساع نطاق ظاهرة الإرهاب وتفاقم أخطارها. وتتمثل تلك التناقضات في عدة صور؛ منها ضعف التشريعات القانونية الداخلية في بعض الدول التي تعاقب على ارتكاب أفعال الإرهاب، وبذلك تفقد أثرها الرادع، وتفتح الطريق لمن تسول لهم أنفسهم القيام بأعمال إرهابية. ومنها ما سبق ذكره من احتضان بعض دول العالم لبعض الإرهابيين
সন্ত্রাসী সেল ও নেটওয়ার্কগুলো অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছে, যা তাদের যোগাযোগ সহজতর করছে এবং তাদের কাজগুলো অত্যন্ত নির্ভুলতা ও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে সহায়তা করছে।

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের তৎপরতা নিয়ে প্রকাশিত কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বের কিছু রাষ্ট্রের সহায়তায় কিছু সন্ত্রাসী সংগঠন তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে ব্যাপক সক্ষমতা অর্জন, এমনকি প্রাণঘাতী অস্ত্র তৈরির সামর্থ্যও লাভ করতে পারে।

4 - রেডিও, টেলিভিশন, স্যাটেলাইট চ্যানেল এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ মাধ্যম (ইন্টারনেট) তথা গণমাধ্যম কর্তৃক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সংবাদ প্রচার সন্ত্রাসীদের সামনে এক বিশাল সুযোগ তৈরি করে দেয়, যারা তাদের লক্ষ্যগুলোর প্রচার এবং তাদের মতাদর্শ ছড়িয়ে দিতে, এমনকি তাদের কর্মকাণ্ডের বৈধতা দিতে সচেষ্ট থাকে। কিছু বিশ্লেষক এই মিডিয়া কাভারেজকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের তৎপরতা ও অভিযানের নিবিড় প্রচারণা হিসেবে গণ্য করেন। এছাড়া গণমাধ্যম কর্তৃক প্রচারিত সেইসব কণ্ঠস্বর যা সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডকে যৌক্তিক করে তোলে, কিংবা ধারণা ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে তাদের যে বিচ্যুৎ (شاذة) বিশ্লেষণগুলো প্রচার করা হয়, সেগুলো সন্ত্রাসীদের তাদের কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে উৎসাহিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ; কারণ এটি তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য পূরণ করে, যা হলো বিশ্ব জনমতের সামনে মিডিয়া উপস্থিতি লাভ করা, যার জন্য তাদের কোনো প্রকার ব্যয়ভার বহন করতে হয় না।

আর এই প্রচারণার বিষয়টিই জাতিসংঘভুক্ত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক বিশেষ কমিটির সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করেছে যেন তারা রাষ্ট্রগুলোকে এই প্রস্তাব দেয় যে, তারা যেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মিডিয়া কাভারেজকে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে রাখে; যাতে সন্ত্রাসীদের সেই লক্ষ্য থেকে বঞ্চিত করা যায় যার জন্য তারা সর্বদা সচেষ্ট থাকে, আর তা হলো তাদের সন্ত্রাসী অভিযানের জন্য সম্ভবপর সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক প্রচারণা লাভ করা।

5 - সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে বিশ্বের কিছু রাষ্ট্রের অবস্থানের বৈপরীত্য এবং এর মোকাবিলায় ও একে নির্মূল করতে তাদের আন্তরিক অংশগ্রহণের অভাব; এই অবস্থানগুলো সন্ত্রাসবাদের বিস্তৃতি ও এর বিপদ ভয়াবহ করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এই বৈপরীত্যগুলো বিভিন্নভাবে পরিলক্ষিত হয়; যার মধ্যে রয়েছে কিছু দেশের অভ্যন্তরীণ আইনগত দুর্বলতা যা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে কার্যকর নয়, ফলে তা তার প্রতিরোধমূলক প্রভাব হারিয়ে ফেলে এবং যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে প্রলুব্ধ হয় তাদের পথ প্রশস্ত করে দেয়। এছাড়া রয়েছে পূর্বে উল্লিখিত কিছু রাষ্ট্র কর্তৃক নির্দিষ্ট কিছু সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
المباشرين أو المنظرين للفكر الإرهابي والتطرف الفكري، مما مكنهم من السعي لإذكاء نار الفتن، والتحريض على الدول والحكومات الأخرى، وذلك من وجوه كثيرة؛ منها: مساعدتهم المادية أو المعنوية، بغض الطرف عن أنشطتهم التي تحتضنها دولهم وتنطلق منها ضد دول أخرى، وبعض تلك الدول ترفض إبرام اتفاقيات مع الدول الجادة في مكافحة الإرهاب بحجج كثيرة، كالحرية والديموقراطية وغيرها من الأعذار التي ثبت علميا أن تلك الدول لا تعتبرها عندما يكون الإرهاب موجها إليها.

6 - قدرة الحركات الإرهابية على الحصول على معلومات دقيقة وحساسة بطرق كثيرة واضحة أو ملتوية، وهذا يساعدها في تنفيذ برامجها الإرهابية، إما داخل تلك الدول أو خارجها.

7 - تفشي الفقر والبطالة في كثير من دول العالم، مع وجود دول أخرى أصبحت تعد كثيرا من مظاهر الترف المعيشي من أسس حياة شعوبها، وهذه الظاهرة يستغلها أصحاب الفكر الإرهابي في إيغار صدور ضحاياهم، وخاصة من الشباب الذين لم تنضج عقولهم وتصقل مداركهم.

8 - وجود ما يسمى بحركات المقاومة للفكر السائد في بعض الدول أو للنظام الحاكم فيها، ومساعدة بعض دول العالم لتلك الحركات، سواء أكانت مساعدة مادية أم معنوية، وذلك بحجج مثل عدم توفر الحرية أو الديمقراطية لها في بلادها.

9 - ظهور ظاهرة الكيل بمكيالين في سياسة بعض الدول ضد دول أو شعوب أخرى، مما دفع بعض المنظمات إلى استغلال هذه الظاهرة في نشر الفكر المضاد لذلك الظلم السياسي في المواقف والانتصار للحقوق.

تلك كانت نماذج من الأسباب العامة لظهور ظاهرة الإرهاب على المستوى الدولي.

ومما يحسن توكيده: التنويه بضرورة الشمولية في معالجة الإرهاب وعدم الانتقائية في المعالجة، فتلك تتيح له فرص النماء والانتشار، بل لا بد من جهد دولي في تحديد الأسباب وكشفها ومعالجتها، ومعالجة كل مظاهر الإرهاب أو ما يدفع إليه، لأن الجهود الفردية للدول لا يمكن أن تخرج خارج نطاقها، ولا تستطيع أن تعالج أسبابا خارجة عن
সন্ত্রাসী মতাদর্শ ও বুদ্ধিবৃত্তিক চরমপন্থার প্রত্যক্ষ হোতা বা তাত্ত্বিকরা বিভিন্নভাবে ফিতনা সৃষ্টির এবং অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এর বহু কারণ রয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে: তাদের বস্তুগত বা নৈতিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের নিজ দেশে পরিচালিত ও অন্য দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করা। কিছু দেশ সন্ত্রাসবাদ দমনে আন্তরিক দেশগুলোর সাথে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও অন্যান্য অজুহাতে চুক্তি করতে অস্বীকার করে; অথচ এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, যখন সন্ত্রাসবাদ তাদের নিজেদের দিকে ধাবিত হয়, তখন তারা এসব অজুহাতের কোনো তোয়াক্কা করে না।

৬ - সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন প্রকাশ্য বা গোপন পন্থায় নির্ভুল ও স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা, যা তাদের নিজ দেশে অথবা বিদেশে সন্ত্রাসী কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করে।

৭ - বিশ্বের অনেক দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্বের বিস্তার, যেখানে অন্য কিছু দেশ বিলাসিতার নানা উপকরণকে তাদের জনগণের জীবনযাপনের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসী মতাদর্শীরা তাদের লক্ষ্যবস্তুদের—বিশেষ করে সেই সব তরুণদের যাদের চিন্তাশক্তি তখনো পরিপক্ক হয়নি এবং বোধশক্তি মার্জিত হয়নি—তাদের অন্তরকে বিষিয়ে তোলে।

৮ - কিছু দেশে প্রচলিত চিন্তাধারা বা শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে তথাকথিত প্রতিরোধ আন্দোলনের অস্তিত্ব এবং বিশ্বের কিছু দেশের পক্ষ থেকে এসব আন্দোলনকে বস্তুগত বা নৈতিক সহায়তা প্রদান; যা মূলত নিজ দেশে স্বাধীনতা বা গণতন্ত্রের অভাবের অজুহাতে করা হয়।

৯ - অন্য কোনো দেশ বা জাতির বিরুদ্ধে কিছু রাষ্ট্রের নীতিতে দ্বিমুখী আচরণের বহিঃপ্রকাশ; যা অনেক সংগঠনকে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে পাল্টা মতাদর্শ প্রচার এবং অধিকার রক্ষার নামে কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দেয়।

এগুলো ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের সাধারণ কারণগুলোর কিছু নমুনা।

যে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো: সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির আবশ্যকতা এবং আংশিক বা বেছে বেছে পদক্ষেপ গ্রহণ না করা। কারণ আংশিক মোকাবিলা একে বৃদ্ধি ও বিস্তারের সুযোগ করে দেয়। বরং কারণগুলো চিহ্নিতকরণ, উন্মোচন এবং নিরসনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে। সেই সাথে সন্ত্রাসবাদের সকল রূপ বা যা একে উৎসাহিত করে তার মোকাবিলা করা জরুরি। কারণ দেশগুলোর একক প্রচেষ্টা তাদের নিজস্ব গণ্ডির বাইরে কার্যকর হতে পারে না এবং তারা তাদের ভৌগোলিক সীমানার বাইরের কারণগুলো সমাধান করতে সক্ষম নয়...
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
حدودها، فإذا لم تعالج أسباب الإرهاب وتجفف مصادر تغذيته بجهد دولي مشترك فإن الأمر يزداد سوءا يوما بعد يوم نتيجة للتكاثر الكثيف للجماعات الإرهابية وتوالدها من بعضها نتيجة الانشقاقات التي تحدث فيها لتصبح بعد ذلك أكثر عنفا وضراوة.

 

‌‌[خصائص الإرهاب]

خصائص الإرهاب: خصائص الإرهاب: ويقصد بها المظاهر والملامح والعلامات المادية التي يعرف بها الإرهاب، وتميز الأعمال التي يتصف بها الإرهابيون.

ومن أهم تلك الخصائص ما يأتي: -

1 - قصد أشخاص معينين أو منشأة معينة بعمل إرهابي يخلق حالة شديدة من الرعب والفزع العام، بقصد شل حركة الأشخاص المستهدفين، وإرباكهم بطريقة تخلخل تصرفاتهم، والقصد من ذلك توجيه رسالة إلى المجتمع المقصود بطريقة مباشرة أو غير مباشرة، وقد يكون موجها إلى جزء من السكان أو طبقة، أو فئة اجتماعية معينة، أو إلى حزب سياسي. وعلى أي حال، فالمقصود من الإرهاب بلوغ أهداف ترومها الحركة الإرهابية.

2 - استخدام الوسائل التي تؤدي بطبيعتها إلى إحداث حال من الدمار الشامل أو القتل البشع حتى يتغلغل الرعب في نفوس المقصودين. ومن أمثلة صور الإرهاب في العصر الحديث المذابح الجماعية، وخطف الطائرات والأشخاص، واحتجاز الرهائن، بل واللجوء إلى الأعمال الانتحارية وغيرها من الوسائل العنيفة التي يعد استخدامها عند الإرهابيين غاية ووسيلة في الوقت نفسه، فمن غير المتصور لديهم إحداث الأثر النفسي الذي يقود إلى الوصول إلى هدف الإرهاب دون اللجوء إلى وسائل عنيفة.

3 - لا يعد العنف في النشاط الإرهابي عاملا رئيسا في إحداث التأثير إلا إذا اقترن بالاستمرار والتنظيم من خلال عمليات إرهابية تؤدي إلى خلق حالة الرعب، وإلا فإن العديد من الجرائم تحمل قدرا من البشاعة قد يفوق العديد من الأعمال الإرهابية، ومع ذلك فإنها لا تخلق حالة الرعب والخوف التي تحدثها العمليات الإرهابية، وكذلك فإن بعض الجرائم الجنائية الفردية قد تكون أشد فظاعة، ولكنها لا تشكل التهديد نفسه
...এর সীমানা; সুতরাং, যদি আন্তর্জাতিক যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের কারণগুলোর প্রতিকার করা না হয় এবং এর রসদ সরবরাহের উৎসগুলো শুষ্ক করে ফেলা না হয়, তবে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ব্যাপক বিস্তার এবং তাদের মধ্যে ঘটা বিভক্তির ফলে একে অপরের থেকে নতুন নতুন গোষ্ঠী সৃষ্টির কারণে বিষয়টি দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাবে, যাতে করে তারা পরবর্তীকালে আরও সহিংস ও উগ্র হয়ে ওঠে।

 

‌‌[সন্ত্রাসবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ]

সন্ত্রাসবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ: সন্ত্রাসবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ: এর দ্বারা সেই সব দৃশ্যমান রূপরেখা, বৈশিষ্ট্য ও আলামতকে বোঝানো হয়েছে যার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে চেনা যায় এবং যা সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডকে অন্যদের থেকে পৃথক করে।

এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রধান হলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলো: -

১ - নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে জনমনে চরম আতঙ্ক ও ত্রাসের সৃষ্টি করা, যার উদ্দেশ্য থাকে লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যক্তিদের গতিবিধি স্তব্ধ করে দেওয়া এবং তাদের এমনভাবে বিভ্রান্ত করা যাতে তাদের স্বাভাবিক আচরণ বিঘ্নিত হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো উদ্দিষ্ট সমাজকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একটি বার্তা প্রদান করা। এটি কোনো নির্দিষ্ট জনসমষ্টি, বিশেষ কোনো সামাজিক স্তর বা গোষ্ঠী অথবা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি নির্দেশিত হতে পারে। যেভাবেই হোক না কেন, সন্ত্রাসবাদের লক্ষ্য হলো সেই সব উদ্দেশ্য অর্জন করা যা সন্ত্রাসী আন্দোলনগুলো পূরণ করতে চায়।

২ - এমন সব উপায় অবলম্বন করা যা প্রকৃতিগতভাবেই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ বা বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ডের দিকে নিয়ে যায়, যাতে লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যক্তিদের হৃদয়ে আতঙ্ক গভীরভাবে গেড়ে বসে। আধুনিক যুগে সন্ত্রাসবাদের বিভিন্ন রূপের উদাহরণের মধ্যে রয়েছে গণহত্যাকাণ্ড, বিমান ও মানুষ অপহরণ, জিম্মি করা, এমনকি আত্মঘাতী হামলা এবং অন্যান্য সহিংস পথ অবলম্বন করা যা সন্ত্রাসীদের কাছে একই সাথে লক্ষ্য এবং মাধ্যম হিসেবে গণ্য হয়। তাদের নিকট সহিংস পদ্ধতি অবলম্বন করা ছাড়া সন্ত্রাসবাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর উপযোগী মানসিক প্রভাব সৃষ্টি করা অকল্পনীয়।

৩ - সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সহিংসতা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রভাব বিস্তারের প্রধান নিয়ামক হিসেবে গণ্য হয় না যতক্ষণ না তা ধারাবাহিকতা ও সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে এমন সন্ত্রাসী অভিযানের রূপ নেয় যা ত্রাস সৃষ্টিতে সক্ষম। অন্যথায়, অনেক অপরাধেই এমন ভয়াবহতা থাকে যা অনেক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, তবুও সেগুলো সন্ত্রাসী অভিযানের মতো আতঙ্ক ও ভয় সৃষ্টি করে না। একইভাবে, কিছু ব্যক্তিগত ফৌজদারি অপরাধ অত্যন্ত জঘন্য হতে পারে, কিন্তু সেগুলো একই ধরনের হুমকি তৈরি করে না।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الذي تشكله العمليات الإرهابية؛ لأنها فردية أو ذات هدف شخصي قريب، ولا تتمثل فيها خاصية الاستمرار.

4 - استهداف المصالح والمرافق العامة التي يمكن أن يتعدى أثرها وينتشر على أكبر رقعة مكانية أو بشرية ممكنة.

5 - ومن خصائص الإرهاب أيضا: الخروج على إجماع المجتمع، "وهو ما يعبر عنه بالأغلبية"، وبخاصة في المجتمعات العربية والإسلامية، حيث تجنح الجماعات الإرهابية إلى مخالفة ما عليه إجماع عموم الناس من أهل الحل والعقد وغيرهم من العلماء وأهل المكانة؛ مثل بعض حالات الغلو والتشدد والتطرف في الرأي، الذي قد يجبر صاحبه على تكفير أعضاء المجتمع أو قيادته استنادا إلى أدلة مغلوطة وتأويلات خاطئة، أو تفسيرات مغرضة ليس لها في الدين الصحيح أي دليل أو سند، وليس لها من وسطية الإسلام وتشريعاته السمحة القويمة من القرآن والسنة أي حظ أو نصيب، وربما تجرأ بعضهم على الفتيا بجواز القتل لأعضاء الدولة ورجال الأمن والقيادات الاجتماعية.

6 - تركيز الفكر الإرهابي على النيل من الحكام والولاة والعلماء والوزراء وأهل الحل والعقد، وغمطهم حقهم بإغفال محاسنهم وتجلية ما يقع منهم من خطأ وتضخيمه، بل واستهدافهم في المخالفة؛ "لأن مخالفة المجتمع لا تكسبهم الظفر بتعاطف أعضائه ". وهذه الخاصية أكثر ما تظهر في الحركات الإرهابية في المجتمعات التي تسمى بالنامية أو العالم الثالث، وفي بعض الدول الإسلامية، مع أن الإسلام حذر تحذيرا شديدا من الوقوع في هذا المزلق الخطير، الذي فيه مفسدة كبيرة للمجتمع المسلم. وقد أمر الله سبحانه وتعالى بطاعته وطاعة رسوله وأولي أمر المسلمين، فقال: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} [الأنفال: 46] [الأنفال: 46] ، وقال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59] [النساء: 59] . وقد أمرنا الله ورسوله بالحرص على تماسك المجتمع ووحدة صف
যা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়; কারণ এগুলো ব্যক্তিগত কিংবা সংকীর্ণ ব্যক্তিগত লক্ষ্যকেন্দ্রিক এবং এতে ধারাবাহিকতার বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত।

৪ - জনস্বার্থ এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো, যার প্রভাব ও বিস্তৃতি সম্ভাব্য বৃহত্তম ভৌগোলিক এলাকা কিংবা জনসমষ্টির ওপর ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৫ - সন্ত্রাসবাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: সমাজের ঐক্যবদ্ধ জনমত বা ঐকমত্য (إجماع) থেকে বিচ্যুত হওয়া, "যাকে সংখ্যাগুরু দ্বারা প্রকাশ করা হয়", বিশেষ করে আরব ও ইসলামি সমাজগুলোতে। যেখানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ' (সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী), উলামায়ে কেরাম এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী পথ অবলম্বন করে। যেমন চিন্তাধারার ক্ষেত্রে চরমপন্থা, কঠোরতা ও উগ্রবাদের কিছু দৃষ্টান্ত, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিভ্রান্তিকর দলিল এবং ভুল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে কিংবা এমন সব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে সমাজের সদস্য বা নেতৃত্বকে কাফির ঘোষণা করতে প্ররোচিত করে, যার সঠিক দ্বীনের মধ্যে কোনো দলিল বা সনদ (سند) নেই। এমনকি ইসলামি মধ্যপন্থা এবং কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক ও উদার বিধানের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। অনেক সময় তাদের কেউ কেউ রাষ্ট্রের সদস্য, নিরাপত্তা কর্মী এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা বৈধ বলে ফতোয়া প্রদানের দুঃসাহস দেখায়।

৬ - সন্ত্রাসী চিন্তাধারা শাসক, গভর্নর, আলেম, মন্ত্রী এবং 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ'-এর মানহানি করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। তাদের গুণাবলি উপেক্ষা করে এবং ভুলত্রুটিগুলো বড় করে প্রচার করার মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে; এমনকি বিরোধিতার ক্ষেত্রে তাদেরকেই লক্ষ্যবস্তু বানায়। কারণ "পুরো সমাজের বিরোধিতা করলে তারা সাধারণ মানুষের সহানুভূতি লাভে সক্ষম হয় না।" এই বৈশিষ্ট্যটি তথাকথিত উন্নয়নশীল বা তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহের এবং কিছু ইসলামি দেশের সন্ত্রাসী আন্দোলনগুলোতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। অথচ ইসলাম এই বিপজ্জনক পথে পা বাড়ানো থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে, যাতে মুসলিম সমাজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর আনুগত্য, তাঁর রাসুলের আনুগত্য এবং মুসলিমদের উলুল আমর বা কর্তৃপক্ষের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {আর তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো এবং নিজেরা বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে; আর ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।} [আল-আনফাল: ৪৬]। আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর বা কর্তৃপক্ষের। অতঃপর যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।} [আন-নিসা: ৫৯]। আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল আমাদের সমাজের সংহতি ও ঐক্য রক্ষার ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
المسلمين، وعدم الخروج على ما يتفق عليه أهل الحل والعقد في المجتمع بحال من الأحوال، قال تعالى: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} [آل عمران: 103] [آل عمران: 103] ، وقال سبحانه: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا} [الأحزاب: 36] [الأحزاب: 36] ، ومن السنة قوله صلى الله عليه وسلم: «اسمعوا وأطيعوا، وإن استعمل عليكم عبد حبشي كأن رأسه زبيبة» [صحيح البخاري] وقال صلى الله عليه وسلم: «يد الله مع الجماعة، ومن شذ شذ في النار» [سنن الترمذي] وقال صلى الله عليه وسلم: «إنما يأكل الذئب من الغنم القاصية» [مستدرك الحاكم] . وذلك لما يترتب على الخروج من فساد عظيم، ولو كان هناك فساد، فيتحمل الفساد الأدنى لدفع الفساد الأعظم، تطبيقا للقاعدة الشرعية التي مؤداها: إذا تعارضت مفسدتان، روعي أعظمها ضررا بارتكاب أخفهما (1) . لذا يقول شيخ الإسلام ابن تيمية في ذلك: "ولعله لا يكاد يعرف طائفة، خرجت على ذي سلطان، إلا وكان في خروجها من الفساد أعظم من الذي أزالته " (2) وهذا كله مع افتراض أسوأ الأحوال.

--------------------------------------------

(1) زين الدين بن إبراهيم بن محمد بن نجيم، الأشباه والنظائر (بيروت: دار الكتب العلمية، 1993 م) ، ص 88.

(2) ابن تيمية، منهاج السنة النبوية (القاهرة: المطبعة الأميرية) ، ج 2، ص 87.
মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং কোনো অবস্থাতেই সমাজের সমাধান ও চুক্তির অধিকারী ব্যক্তিদের (أهل الحل والعقد) সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (الخروج) না করা। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন (تفرقوا) হয়ো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর সেই অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি করলেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। তোমরা আগুনের গর্তের কিনারায় ছিল, অতঃপর তিনি তোমাদের সেখান থেকে উদ্ধার করেছেন। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হও।} [আলে ইমরান: ১০৩], এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য (يعص) হবে, সে স্পষ্ট ভ্রষ্টতায় পতিত হবে।} [আল-আহযাব: ৩৬], এবং সুন্নাহর মধ্যে রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «তোমরা কথা শোনো এবং আনুগত্য করো, যদিও তোমাদের ওপর কোনো হাবশি গোলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয় যার মাথা কিশমিশের মতো» [সহীহ বুখারী], এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: «জামাতের (الجماعة) ওপর আল্লাহর হাত থাকে, আর যে ব্যক্তি দলবিচ্ছিন্ন (شذ) হয়, সে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়» [সুনান তিরমিযী], এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: «নিশ্চয়ই নেকড়ে কেবল সেই মেষকেই খেয়ে ফেলে যা দলছুট (القاصية)» [মুস্তাদরাক আল-হাকিম]। কারণ বিদ্রোহের (الخروج) ফলে এক মহান বিপর্যয় (فساد) সৃষ্টি হয়। যদিও সেখানে কোনো বিপর্যয় থেকে থাকে, তবুও বৃহত্তর বিপর্যয় রোধকল্পে ক্ষুদ্রতর বিপর্যয়কে মেনে নেওয়া হয়। এটি সেই শারঈ মূলনীতির (القاعدة الشرعية) বাস্তবায়ন যার নির্যাস হলো: যদি দুটি বিপর্যয় (مفسدتان) পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তবে তার মধ্যে গুরুতর ক্ষতি এড়াতে ক্ষুদ্রতর ক্ষতিটি গ্রহণ করা হবে (১)। এজন্য শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এ প্রসঙ্গে বলেন: "সম্ভবত এমন কোনো দলের কথা জানা যায় না যারা কোনো শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (خرجت) করেছে এবং তাদের সেই বিদ্রোহের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় (الفساد) তারা যা দূর করতে চেয়েছিল তার চেয়ে বড় হয়নি" (২)। আর এ সমস্ত কথা নিকৃষ্টতম পরিস্থিতি অনুমান করেই বলা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) যাইনুদ্দীন বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন নুজাইম, আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর (বৈরুত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৯৯৩ খ্রি.), পৃষ্ঠা ৮৮।

(২) ইবনে তাইমিয়্যাহ, মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ (কায়রো: আল-মাতবাআহ আল-আমিরিয়্যাহ), খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৭।
(খণ্ড: ১) নাযরাতুন ফী মাফহুমিল ইরহাবি ওয়াল মাওকিফি মিনহু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌[الفصل الثالث الإرهاب في المنظور الإسلامي]

الفصل الثالث

الإرهاب في المنظور الإسلامي يتعرض الإسلام والمسلمون للاتهام بالإرهاب والعنف والتطرف، بل إن بعض وسائل الإعلام اليوم أصبحت تبرز الإرهاب وكأنه صفة ملازمة لهذا الدين ولمعتنقيه، حتى أصبح الظهور بمظهر الانتماء إلى هذا الدين يشكل مشكلة في بعض البلاد والأوساط الاجتماعية.

وقد نسبت بعض وسائل الإعلام وبعض الكتاب الإرهاب إلى الإسلام زعما أن تعاليم الإسلام وأحكامه وبعض آيات القران الكريم تدعو إلى الإرهاب، وتوجه المسلمين إلى سلوك طريقه، ويزعمون اشتمال آيات القرآن والأحاديث النبوية ودلالتها على ذلك؛ إما بالنص أو بالمعنى، وهذا يخالف الحقيقة تماما.

وحتى يكون نفي ذلك عن الإسلام قائما على أساس علمي، ولكي تكون نسبة الأشياء متمشية مع القواعد العلمية في الحكم على صحة النسبة، فإني سأوضح ذلك من منطلقين.

أولهما: الدلالة اللفظية في الآيات القرآنية التي ورد فيها ذكر كلمة إرهاب.

وثانيهما: التوجيه الإسلامي في مكافحة الإرهاب ومعالجة أسبابه، من خلال الاتجاه الوقائي والعلاجي، لما قد يحصل من الإنسان من أخطاء تكون سببا في ارتكاب أي نوع من أنواع الاعتداء والعنف.

 

‌‌[الدلالات اللفظية في الآيات القرآنية]

الأول: الدلالة اللفظية في الآيات القرآنية: وردت كلمة رهب وما اشتق منها من تصريف في اثني عشر موضعا في القرآن الكريم؛ هي قوله تعالى:

{يَابَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَوْفُوا بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ} [البقرة: 40] [البقرة: 40] .

{لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُمْ مَوَدَّةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَى ذَلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيسِينَ وَرُهْبَانًا وَأَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ} [المائدة: 82] [المائدة: 82] .
‌[তৃতীয় অধ্যায়: ইসলামি দৃষ্টিকোণে সন্ত্রাসবাদ (إرهاب)]

তৃতীয় অধ্যায়

ইসলামি দৃষ্টিকোণে সন্ত্রাসবাদ (إرهاب): বর্তমানে ইসলাম এবং মুসলিমরা সন্ত্রাসবাদ (إرهاب), সহিংসতা ও উগ্রপন্থা (تطرف) এর অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছে। এমনকি আজকের কিছু গণমাধ্যম সন্ত্রাসবাদকে (إرهاب) এমনভাবে উপস্থাপন করছে যেন তা এই ধর্মের এবং এর অনুসারীদের একটি অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য। এর ফলে কিছু দেশ ও সামাজিক পরিবেশে এই ধর্মের প্রতি নিজের সম্পৃক্ততা প্রকাশ করা একটি সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

কিছু গণমাধ্যম এবং কতিপয় লেখক ইসলামের প্রতি সন্ত্রাসবাদকে (إرهاب) আরোপ করেছেন এই দাবিতে যে, ইসলামের শিক্ষা, এর বিধিবিধান এবং পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত সন্ত্রাসবাদের (إرهاب) দিকে আহ্বান জানায় এবং মুসলিমদের সেই পথে চলতে নির্দেশ দেয়। তারা দাবি করে যে, কুরআনের আয়াত এবং নববী হাদিসসমূহের ভাষ্য ও অর্থ থেকে এর সপক্ষে প্রমাণের (دلالة) উপস্থিতি রয়েছে; তা হোক সরাসরি শব্দ (نص) দ্বারা কিংবা অন্তর্নিহিত অর্থ (معنى) দ্বারা। অথচ এটি বাস্তবতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

ইসলাম থেকে এই অপবাদ দূর করার বিষয়টি যেন একটি তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কোনো বিষয়ের সম্পৃক্ততা যাচাই করার ক্ষেত্রে যেন তা সঠিকতা (صحة) নির্ণয়ের বৈজ্ঞানিক নীতিমালা অনুযায়ী হয়, তাই আমি দুটি প্রেক্ষিত থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করব।

প্রথমত: পবিত্র কুরআনের যে আয়াতগুলোতে 'সন্ত্রাস' (إرهاب) শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর ভাষাগত প্রয়োগ (دلالة)।

দ্বিতীয়ত: সন্ত্রাসবাদ (إرهاب) মোকাবিলায় এবং এর কারণসমূহ নিরসনে ইসলামি দিকনির্দেশনা; যা প্রতিরোধমূলক ও নিরাময়মূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে, যাতে মানুষের দ্বারা সংঘটিত হতে পারে এমন ভুলসমূহ দূর করা যায় যা কোনো প্রকারের আক্রমণ বা সহিংসতার কারণ হয়ে থাকে।

 

‌‌[কুরআনের আয়াতসমূহে ভাষাগত প্রয়োগসমূহ (دلالات)]

প্রথমত: কুরআনের আয়াতসমূহে ভাষাগত প্রয়োগ (دلالة): পবিত্র কুরআনে 'রাহবা' (رهب) শব্দ এবং এর থেকে উদ্ভূত রূপান্তরসমূহ ১২টি স্থানে বর্ণিত হয়েছে। সেগুলো হলো মহান আল্লাহর বাণী:

{হে বনী ইসরাঈল! তোমরা আমার সেই নেয়ামতের কথা স্মরণ করো যা আমি তোমাদের দান করেছি। আর তোমরা আমার সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করো, তবে আমিও তোমাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করব। আর তোমরা কেবল আমাকেই ভয় করো (فارهبون)।} [আল-বাকারাহ: ৪০]।

{তুমি মুমিনদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে ইহুদি ও মুশরিকদেরই সবচেয়ে কঠোর পাবে। আর তুমি মুমিনদের প্রতি বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে তাদেরকেই নিকটবর্তী পাবে যারা বলে, ‘আমরা নাসারা’। কারণ তাদের মধ্যে অনেক পণ্ডিত ও দরবেশ (رهبانا) রয়েছে আর তারা অহংকার করে না।} [আল-মায়িদাহ: ৮২]।