(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: -)
الترياق بأحاديث قواها الألباني وضعفها الحويني أبو إسحاق   (عمرو عبد العظيم الحويني)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: الترياق بأحاديث قواها الألباني وضعفها الحويني أبو إسحاق

إعداد: عمرو عبد العظيم الحويني

تقديم: محمد عيد عباسي، محمد إبراهيم الشيباني، طارق عوض الله محمد

الناشر: مكتبة دار الحجاز للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1436 هـ

عدد الصفحات: 125

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 شوّال 1442

আল-তিরইয়াক: সেই সকল হাদিস যা আলবানী শক্তিশালী বলেছেন এবং আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী দুর্বল বলেছেন   (আমর আব্দুল আজিম আল-হুওয়াইনী)

বিভাগ: তাখরিজ এবং আতরাফ (হাদিসের উৎস ও সূত্রসমূহ)


কিতাব: আল-তিরইয়াক: সেই সকল হাদিস যা আলবানী শক্তিশালী বলেছেন এবং আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী দুর্বল বলেছেন

প্রস্তুতকারী: আমর আব্দুল আজিম আল-হুওয়াইনী

উপস্থাপনা: মুহাম্মাদ ঈদ আব্বাসী, মুহাম্মাদ ইব্রাহিম আশ-শাইবানী, তারিক আওয়াদুল্লাহ মুহাম্মাদ

প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল হিজাজ প্রকাশনী ও পরিবেশনী

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৬ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১)
الترياق بأحاديث قوَّاها الألبانيُّ، وضعَّفها الحُوَيْني أبو إسحاق

 

إعداد

عمرو عبد العظيم الحويني، أبو المنذر

 

تقديم

الشيخ / محمد عيد عباسي

الشيخ / محمد إبراهيم الشيباني

الشيخ / طارق عوض الله محمد
আল-তিরইয়াক: শায়খ আলবানী কর্তৃক শক্তিশালী এবং আবু ইসহাক আল-হুওয়ায়নী কর্তৃক দুর্বল আখ্যায়িত হাদীসসমূহ।

 

সংকলনে

আমর ইবনে আব্দুল আযীম আল-হুওয়ায়নী, আবু আল-মুনযির

 

উপস্থাপনায়

শায়খ মুহাম্মদ ঈদ আব্বাসী

শায়খ মুহাম্মদ ইব্রাহিম আল-শাইবানী

শায়খ তারিক আওয়াদুল্লাহ মুহাম্মদ
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة

الطبعة الأولى

1436 هـ

مكتبة دار الحجاز للنشر والتوزيع
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪৩৬ হিজরি

মাকতাবাতু দারিল হিজাজ প্রকাশনী ও পরিবেশনী
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تقديم فضيلة الشيخ محمد عيد العباسي حفظه الله

الحمد لله حمداً يليقُ بجلاله وكماله، ويُكافئُ نِعمَهُ ويُوافِي فضلَ مزِيده، والصلاةُ والسلامُ على محمدٍ عبده ورسوله، الدَّاعي إلى طاعته وتوحيده، وعلى مَن اتَّبَع هُداهُ ونصر دينه، ورجا وعدَه وخاف من وعيده، أما بعد:

فقد منَّ الله سبحانه على عباده بأنْ أرسل إليهم رسلاً يُبلِّغونهم رسالة ربهم إليهم، ويُنيرون لهم الطريق إلى معرفته ومعرفة دينه وشريعته التي إذا آمنوا وعملوا بها فازوا في الدارين، وكانوا فيهما من السعداء.

وكان خاتمة هؤلاء الرسل وخيرهم نبيُّنا وإمامنا محمد صلى الله عليه وسلم، الذي بلَّغ الرسالة، وادَّى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حق جهاده حتى اختاره الله إلى جواره، فلَحِق بالرفيق الأعلى، وترك أمته على المحجَّة البيضاء، والشريعة الواضحة الغرَّاء، التي لا يَضلُّ عنها إلا هالك، والتي تتمثَّلُ في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.

وقد قام سلفنا الصالح بخدمة هذين المصدرين العظيمين حق القيام، مما لم يحظ به نبيّ سابق، ولا تابع لاحق، ففسروا غريبهما، ووضَّحوا معانيهما، وكشفوا عن مقاصدهما، ووفَّقوا بين مشكلهما، وبذلوا الغالي والنفيس في تقريبهما للأمة ونشرهما، والدعوة إليهما.

ثم اصاب الوهن والضعف والتخلف والجهل أمة الإسلام، وجرت عليها سنة الله في خلقه، فالأيام دُوَل، وحكمة الله تعالى في تغيير الأحوال، وتبدُّل الشؤون، فكل يومٍ ربنا في شأن، والحياة والأحياء ينتقلون ويركبون طبقاً عن طبق، وها هو دولاب الزمن يدور، وتقتضي حكمة الله أن تستيقظ الأمة الإسلامية فيبعث الله تعالى فيها المصلحين والدعاة العلماء العاملين
শ্রদ্ধেয় শায়খ মুহাম্মাদ ঈদ আল-আব্বাসি (হাফিযাহুল্লাহ)-এর উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর মহিমা ও পূর্ণতার যোগ্য, যা তাঁর নেয়ামতসমূহের সমতুল্য এবং তাঁর উত্তরোত্তর অনুগ্রহের জন্য যথেষ্ট। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি তাঁর আনুগত্য ও তাওহীদের দিকে আহ্বানকারী; আরও বর্ষিত হোক তাঁদের ওপর যাঁরা তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করেছেন, তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করেছেন, তাঁর প্রতিশ্রুতির আশা রেখেছেন এবং তাঁর ধমকিকে ভয় করেছেন। অতঃপর:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাঁদের নিকট রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন যাঁরা তাঁদের রবের রিসালাত তাঁদের কাছে পৌঁছে দেন, এবং তাঁদের জন্য তাঁর পরিচয় ও তাঁর দ্বীন ও শরীয়তের পরিচয় লাভের পথকে আলোকিত করেন, যার ওপর ঈমান আনলে ও আমল করলে তাঁরা উভয় জগতে সফলকাম হবেন এবং উভয় জগতে সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

আর এই রাসূলগণের সমাপ্তি ঘটানো ব্যক্তি ও তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন আমাদের নবী ও আমাদের ইমাম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে তাঁর সান্নিধ্যে বেছে নিয়েছেন। অতঃপর তিনি সুমহান বন্ধুর সাথে মিলিত হয়েছেন এবং তাঁর উম্মতকে এক উজ্জ্বল রাজপথ ও সুস্পষ্ট সমুজ্জ্বল শরীয়তের ওপর রেখে গেছেন, যা থেকে কেবল ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিই বিচ্যুত হয়; আর তা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর মধ্যে নিহিত।

আমাদের সালাফে সালেহীন (সৎকর্মশীল পূর্বসূরিগণ) এই মহান উৎস দুটির যথাযথ খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন, যা ইতিপূর্বে কোনো নবী বা পরবর্তী কোনো অনুসারীর ক্ষেত্রে ঘটেনি। তাঁরা এ দুটির দুর্বোধ্য শব্দাবলির ব্যাখ্যা করেছেন, এগুলোর অর্থসমূহ স্পষ্ট করেছেন, এগুলোর উদ্দেশ্যসমূহ উন্মোচন করেছেন এবং এগুলোর আপাত বিরোধপূর্ণ বিষয়াবলির মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন। তাঁরা উম্মতের কাছে এ দুটিকে সহজবোধ্য করতে, প্রচার করতে এবং এ দুটির দিকে আহ্বান করতে নিজেদের মূল্যবান সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন।

অতঃপর মুসলিম উম্মাহর ওপর শিথিলতা, দুর্বলতা, পশ্চাৎপদতা ও মূর্খতা আপতিত হয় এবং তাঁদের ওপর সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহর সুন্নাত কার্যকর হয়। কারণ দিনগুলো আবর্তিত হয়, আর অবস্থার পরিবর্তন ও বিষয়ের রূপান্তরের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর নিগূঢ় প্রজ্ঞা রয়েছে। সুতরাং প্রতিটি দিনই আমাদের রব নতুন নতুন মহিমায় আবির্ভূত হন। জীবন ও জীবিতরা এক স্তর থেকে অন্য স্তরে স্থানান্তরিত হয় ও আরোহণ করে। আর এই তো সময়ের চাকা ঘুরছে, এবং আল্লাহর হিকমত এটিই দাবি করে যে মুসলিম উম্মাহ জাগ্রত হবে, ফলে মহান আল্লাহ তাঁদের মধ্যে সংস্কারক এবং আমলকারী আলেম দাঈদের প্রেরণ করবেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৪)
فيُجدِّدون ما انقطع، ويُحيُون ما اندثر، وينشطون ويعملون ويجدون ويدعون بكل قوة وهمة، ويستجيب لهم الكثيرون، وتكون هذه الصحوة الإسلامية التي فاجأت الأعداء الذين ظنوا أنهم قد نالوا أربهم في القضاء على هذا الدين، وصرف أتباعه عن هُداه، بما نشروا فيه من الشبهات، وأثاروا بين أبنائه من الشهوات؛ ولكن الله لهم بالمرصاد، فأبطل سعيهم، وأفسد كيدهم، وهم يبذلون الآن كل ما يستطيعون لإطفاء هذا النور (ويأبى الله إلا أن يتم نوره ولو كره الكافرون)

ولكنا مع فرحنا بهذه الصحوة، فإننا نعترف بأنها لابد لها من تسديد وترشيد حتى لا يستغلها أصحاب الاهواء، ولا يحرفها الشانئون والاعداء، ولا يكون ذلك إلا بوضعها على الطريق القويم، وضبطها بمنهج الكتاب والسنة وفهمها على ضوء فهم سلف الأمة، وعساه يكون قريباً.

وقد كان لأستاذنا الكبير العلامة محمد ناصر الدين الألباني فضل كبير في بيان هذه الدعوة، وخاصة في إحياء علم الحديث الذي كان هُجر وأُهمل من قرون، فأعاد إليه بفضل الله أهميته ونشاطه، بما صنَّف من الرسائل والكتب، وبما نشر من العلم، ودرَّس في الحلقات والمجالس ودور العلم، فنبغ ممن كان يحضر مجالسه ويقرأ كتبه طائفة، جدَّت واجتهدت ودرست وصبرت وآتاها الله الذكاء، ووهبها الإخلاص، ووفقها الله تعالى، فكانت لها جهود وتلاميذ وألَّفت كتباً نافعة وبحوثا رائعة، وفي مقدمة هؤلاء الإخوة، الأخ الفاضل والشيخ العالم العامل - فيما أحسب ولا أزكي على الله أحدا -أبو إسحاق الحويني، من مصر العزيزة، حفظه الله وعافاه واثابه عما قدم كبير الأجر والثواب، فكان غزير الإنتاج، سيَّال القلم، قويَّ الحافظة، حسن المحاكمة، وقد كان يُسأَلُ عن بعض الأحاديث الشائقة والمتداولة، فيبحث عنها فيجد بعضها قد حكم عليها شيخه الألباني بالصحة، ويجد بحسب اجتهاده وعلمه أنها ضعيفة، فيستحضر ما استفاده من توجيه الله
তারা যা বিচ্ছিন্ন হয়েছে তা নতুন করেন, যা বিলীন হয়েছে তা পুনরুজ্জীবিত করেন, তারা তৎপর হন এবং পূর্ণ শক্তি ও উদ্দীপনার সাথে কাজ করেন ও দাওয়াত দেন। বহু মানুষ তাদের ডাকে সাড়া দেয়। আর এভাবেই এই ইসলামী জাগরণ সংঘটিত হয়, যা শত্রুদের অবাক করে দিয়েছে। শত্রুরা ভেবেছিল যে তারা এই দ্বীনকে মিটিয়ে ফেলার এবং এর অনুসারীদের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার উদ্দেশ্য পূরণ করে ফেলেছে—সেসব সংশয় ছড়িয়ে এবং এর সন্তানদের মাঝে কুপ্রবৃত্তি জাগ্রত করার মাধ্যমে যা তারা প্রচার করেছিল। কিন্তু আল্লাহ তাদের ওপর নজর রাখছেন; তিনি তাদের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন এবং তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছেন। এখন তারা এই নূর নেভানোর জন্য তাদের সাধ্যমতো সবকিছু করছে (কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ছাড়া ক্ষান্ত হবেন না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে)।

তবে এই জাগরণে আমরা আনন্দিত হলেও, আমরা স্বীকার করি যে এটিকে সঠিক দিশা প্রদান এবং সংশোধন করা অপরিহার্য, যাতে প্রবৃত্তিপূজারীরা এর সুযোগ নিতে না পারে এবং বিদ্বেষী ও শত্রুরা এটিকে বিকৃত করতে না পারে। আর এটি কেবল তখনই সম্ভব হবে যদি একে সঠিক পথে পরিচালিত করা হয় এবং কিতাব ও সুন্নাহর মানহাজ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং উম্মতের সালাফদের বুঝের আলোকে অনুধাবন করা হয়; আশা করা যায় তা শীঘ্রই হবে।

আমাদের মহান উস্তাদ আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী এই দাওয়াত স্পষ্টভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন, বিশেষ করে হাদিস বিজ্ঞান পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে, যা শত শত বছর ধরে পরিত্যক্ত ও অবহেলিত ছিল। আল্লাহর অনুগ্রহে তিনি বিভিন্ন পুস্তিকা ও গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে এবং জ্ঞান প্রচারের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন তালীমি হালকা, মজলিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের মাধ্যমে এর গুরুত্ব ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছেন। ফলে যারা তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতেন এবং তাঁর বইসমূহ পাঠ করতেন, তাদের মধ্য থেকে এমন একদল প্রতিভার বিকাশ ঘটেছে যারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন, গবেষণা করেছেন, অধ্যয়ন করেছেন এবং ধৈর্য ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাদের প্রজ্ঞা দান করেছেন, ইখলাস দান করেছেন এবং তাওফিক দান করেছেন। তাদের রয়েছে বিভিন্ন প্রচেষ্টা ও ছাত্র এবং তারা উপকারী গ্রন্থ ও চমৎকার সব গবেষণা রচনা করেছেন। এই ভাইদের অগ্রভাগে রয়েছেন প্রিয় মিশর থেকে আগত সম্মানিত ভাই এবং আলেম ও আমলকারী শায়খ —আমি তাকে তেমনই মনে করি এবং আল্লাহর ওপর কারো শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করি না— আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনি, আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন, সুস্থ রাখুন এবং যা কিছু তিনি পেশ করেছেন তার জন্য তাকে মহান প্রতিদান দিন। তিনি অত্যন্ত উৎপাদনশীল, সাবলীল লেখনীর অধিকারী, প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন এবং সঠিক বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ছিলেন। তার কাছে কিছু আকর্ষণীয় ও প্রচলিত হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি সেগুলো নিয়ে গবেষণা করতেন এবং দেখতেন যে তার শায়খ আলবানী সেগুলোর কয়েকটিকে সহিহ হিসেবে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, কিন্তু তিনি তার নিজের ইজতিহাদ ও জ্ঞান অনুযায়ী দেখতেন যে সেগুলো দুর্বল। এমতাবস্থায় তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত দিকনির্দেশনার মাধ্যমে যা অর্জন করেছেন তা স্মরণে আনতেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৫)
تعالى أولاً، ومما تعلَّمه من أئمة الإسلام السابقين واللاحقين ومنهم استاذه الألباني ثانياً، من أنَّ الحق أحق أن يُتَّبع، وأن كل إنسان يُؤخذ من قوله ويُترك إلا المعصوم صلوات الله وسلامه عليه، وأنه لا مُحاباة ولا مُجاملة في مسائل العلم، فيُصرِّح برأيه ويُبيِّن ما وصل أليه علمه، هذا مع إجلاله للعلامة الألباني وحُبِّه الشديد له، وهذا مما يرد على المتحاملين على الدعوة السلفية فيتهمون أصحابها بأنهم يصرفون الناس عن اتباع الأئمة لينقلوهم إلى اتباع شيخهم وإمامهم، وهذا اتهامٌ باطلٌ، فقد رأى الجميع أن الحق فيما يبدو لنا مُقدَّمٌ على كل شئ، ونحن إذا تبيَّن لنا خطأ شيخنا أو أصحابنا خالفناهم وتمسَّكنا بالحق، فالأمانة العلمية وكتاب الله وسنته وهدي أصحابه تؤكد على ذلك، ونحن على هذا المنهج سائرون، وبه

متمسكون إن شاء الله تعالى.

وقد قام الأخ الفاضل أبو المنذر عمرو عبد العظيم الحويني، بجمع ما تفرق من هذه المسائل التي خالف فيها الأخ الكبير أبو إسحاق، أستاذنا العلامة الألباني، وبيَّن مواضع هذه البحوث من كتب كل منهما، وحدد ذلك بالجزء والصفحة تسهيلاً على من يريد التحقُّق من ذلك، ودراسة الامر بتفصيل، فجزاه الله خيراً.

وكنتُ أوَدُّ أن ينقل مع ذلك خلاصة دليل كل منهما؛ لكني أُقَدِّر أنَّ ذلك سيُكلِّفه جهداً كبيراً، ووقتاً زائداً، ويُطيلُ الكتاب، وأنَّ ذلك متوفر في المراجع التي ذكرها، وبإمعان من يريد الرجوع إليها، كما أنني أُقَدِّر له وأتفهَّم موقفه من عدم الخوض في الترجيح بين حكم كل منهما على الاحاديث لأن هذا له اهله، وهو شاقٌّ وعسير، فتركه لمن لديه أهلية لذلك، وربما حتى لا يُتَّهم بالتحيُّز لأحدهما، وعلى كل حال فرحم الله امرءً عرف حدَّه فوقف عنده.

وفي هذا الأمر - أعني الترجيح بين حكم كل من الألباني والحويني - فالذي رأيته من امثلة سابقة في الانتقادات التي انتقدت بها احكام الشيخ
প্রথমত মহান আল্লাহ তাআলা থেকে, এবং দ্বিতীয়ত ইসলামের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ইমামগণের নিকট থেকে তিনি যা শিখেছেন—যাদের মধ্যে তাঁর শিক্ষক আলবানীও রয়েছেন—তা হলো এই যে, সত্যই অনুসরণের অধিক যোগ্য। মাসুম (নিষ্পাপ) রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ব্যতীত অন্য যে কারও কথা গ্রহণ করা যেতে পারে আবার বর্জনও করা যেতে পারে। ইলমের (জ্ঞানের) মাসআলাসমূহে কোনো পক্ষপাতিত্ব বা তোষামোদ নেই। তাই তিনি তাঁর মতামত স্পষ্ট করেন এবং তাঁর জ্ঞান যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা ব্যাখ্যা করেন। আল্লামা আলবানীর প্রতি তাঁর সুগভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও তিনি এটি করেন। এটি ঐ সকল ব্যক্তিদের অভিযোগের জবাব দেয় যারা সালাফি দাওয়াতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে এই অপবাদ দেয় যে, তারা মানুষকে ইমামদের অনুসরণ থেকে সরিয়ে নিজেদের শায়খ ও ইমামদের অনুসরণের দিকে নিয়ে যায়। এটি একটি বাতিল (ভিত্তিহীন) অপবাদ। কারণ সকলেই দেখেছেন যে, আমাদের নিকট যা সত্য বলে প্রতীয়মান হয় তা অন্য সব কিছুর ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য। যখন আমাদের কাছে আমাদের শায়খ বা সাথীদের কোনো ভুল স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন আমরা তাঁদের বিরোধিতা করি এবং সত্যকে আঁকড়ে ধরি। কেননা ইলমি আমানত, আল্লাহর কিতাব, তাঁর সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের হিদায়াত একথারই তাকিদ দেয়। আমরা এই মানহাজের (পথের) ওপরই চলছি এবং এতেই

দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছি, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

সম্মানিত ভাই আবু আল-মুনজির আমর আব্দুল আজিম আল-হুওয়াইনী সেই সকল বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলো একত্রিত করেছেন যেগুলোতে বড় ভাই আবু ইসহাক আমাদের উস্তাদ আল্লামা আলবানীর বিরোধিতা করেছেন। তিনি উভয়ের কিতাব থেকে এই গবেষণামূলক আলোচনার স্থানগুলো উল্লেখ করেছেন এবং যারা এটি যাচাই করতে চান ও বিষয়টি বিস্তারিত অধ্যয়ন করতে চান তাঁদের সুবিধার্থে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমি আশা করেছিলাম যে তিনি এর সাথে উভয়ের দলিলের সারসংক্ষেপও উল্লেখ করবেন; কিন্তু আমি উপলব্ধি করছি যে এটি তাঁর জন্য প্রচুর পরিশ্রম ও অতিরিক্ত সময়ের ব্যাপার হতো এবং কিতাবটিও দীর্ঘ হয়ে যেত। আর সেই তথ্যগুলো তাঁর উল্লিখিত মূল উৎসগুলোতে বর্তমান রয়েছে এবং যারা তা দেখতে চান তাঁরা সেখানে গভীরভাবে মনোনিবেশ করলে তা পেয়ে যাবেন। একইভাবে আমি তাঁর এই অবস্থানের মূল্যায়ন করছি এবং বুঝতে পারছি যে তিনি হাদীসসমূহের ওপর উভয়ের হুকুমের (বিচারের) মধ্যে কোনোটিকে প্রাধান্য (তারজিহ) দেওয়ার বিষয়ে লিপ্ত হননি। কারণ এটি বিশেষজ্ঞদের কাজ এবং এটি অত্যন্ত কঠিন ও দুঃসাধ্য বিষয়। তাই তিনি বিষয়টি তাঁদের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন যাদের এই বিষয়ে যোগ্যতা রয়েছে। সম্ভবত এটি তিনি এই জন্য করেছেন যেন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো একজনের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে। যাই হোক, আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করুন যে নিজের সীমা সম্পর্কে জানে এবং সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকে।

আর এই বিষয়ে—অর্থাৎ আলবানী ও হুওয়াইনী উভয়ের দেওয়া হুকুমের মধ্যে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে—পূর্বে শায়খের হুকুমগুলোর ওপর যে সমালোচনা করা হয়েছিল তার উদাহরণস্বরূপ যা আমি দেখেছি...
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৬)
الألباني على الأحاديث التي حققها، رأيتُ انها أنواع:

فمنها: ما كان الصواب كان مع الشيخ الألباني، وكان الخطأ ممن انتقده، وقد يكون الشيخ نفسه قد تراجع عن رأيه السابق، وسجَّل ذلك في بعض مؤلفاته اللاحقة، ولم يطَّلع عليها الناقد.

ومنها: ما يكون الصواب مع المنتقد، ويكون شيخنا الألباني فيد قد حالفه الصواب، وطبعاً يكون معذوراً في ذلك لوهمٍ وقع فيه، أو مصدرٍ لم يطَّلع عليه، أو .....

ومنها: ما يكون الامر وسطاً بين الفريقين، ويكون لكلٍّ منهما اجتهاده، والامر محتملٌ للاجتهادية.

ومنها: ما يكون سببه الاختلاف في المهج العلمي الذي يأخذ به كل منهما، ومثاله: أن يكون المنتقد لا يرى تقوية الحديث بكثرة الطرق الضعيفة ضعفاً غير شديد، وبالشواهد.

ولا شك أنَّ الصواب مع جمهور المحدثين الذين قرروا تقوية الحديث بالمتابعات والشواهد.

وعلى كل حال فالذي قضت به شريعتنا السمحة أنَّ مَن بحث واجتهد وكان اهلاً لذلك بما مَلَك من الوسائل والعلوم فوصل إلى أحد الامرين الصواب أو الخطأ، فإنه معذور ماجور أجراً واحداً إن أخطأ، وأجرين إن اصاب، فالحمد لله تعالى.

ولعلَّ احد الأخوة الفضلاء من طُلَّاب العلم يتاح له القيام بهذه المهمة، فيدرس أدلَّة كل من الشيخ الألباني والشيخ الحويني، ويُرجِّح بينهما.

وللحقيقة والواقع، فإنني قد اُتيح لي من قبل دراسة بعض الأحاديث التي وردت في هذا الكتاب وحققتُها، فوافقتُ أخي الشيخ أبا إسحاق فيما وصل إليه، وبعضها رأيت الراجح كان حليف أستاذنا الألباني رحمه الله.
আলবানি যেসব হাদিস তাহকিক করেছেন সেগুলোর ওপর মন্তব্য পর্যালোচনা করে আমি দেখেছি যে সেগুলো কয়েক প্রকারের:

তার মধ্যে একটি হলো: যেখানে সঠিক সিদ্ধান্তটি ছিল শেখ আলবানির অনুকূলে, আর ভুলটি ছিল তার সমালোচকের। আবার এমনও হতে পারে যে, শেখ নিজেই তার পূর্ববর্তী মত থেকে ফিরে এসেছেন এবং তার পরবর্তী কোনো কিতাবে তা লিপিবদ্ধ করেছেন, যা সমালোচকের নজরে আসেনি।

দ্বিতীয়ত: এমন কিছু বিষয় যেখানে সঠিক সিদ্ধান্তটি ছিল সমালোচকের পক্ষে, আর আমাদের শেখ আলবানির পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে এ ক্ষেত্রে তিনি অবশ্যই ওজরপ্রাপ্ত, কারণ হয়তো কোনো ভ্রমের কারণে এমনটি হয়েছে অথবা এমন কোনো উৎসের কারণে যা তার নজরে আসেনি, অথবা...

তৃতীয়ত: এমন কিছু বিষয় যেখানে বিষয়টি উভয় পক্ষের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে, এবং উভয়েরই নিজস্ব ইজতিহাদ থাকে, আর বিষয়টি ইজতিহাদের অবকাশ রাখে।

চতুর্থত: এমন কিছু বিষয় যার কারণ হলো উভয়ের অনুসৃত ইলমি মানহাজ বা জ্ঞানতাত্ত্বিক পদ্ধতির ভিন্নতা। উদাহরণস্বরূপ: সমালোচক হয়তো এমনটি মনে করেন যে, সামান্য দুর্বলতার একাধিক সূত্র এবং শাওয়াহিদ বা সাক্ষ্যমূলক হাদিস দ্বারা কোনো হাদিসকে শক্তিশালী করা যায় না।

অথচ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সঠিক মতটি জমহুর মুহাদ্দিসগণের পক্ষেই রয়েছে, যারা মুতাবা'আত এবং শাওয়াহিদ-এর মাধ্যমে হাদিস শক্তিশালী হওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

যাই হোক, আমাদের উদার শরিয়ত এই ফয়সালা দিয়েছে যে, যে ব্যক্তি ইলমি যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে অনুসন্ধান ও ইজতিহাদ করে, অতঃপর সে সঠিক বা ভুল—যেকোনো একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, তবে সে ওজরপ্রাপ্ত এবং সওয়াবের অধিকারী। যদি সে ভুল করে তবে এক গুণ সওয়াব পাবে, আর যদি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায় তবে দুই গুণ সওয়াব পাবে। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য।

সম্ভবত জ্ঞান অন্বেষণকারী কোনো এক সম্মানিত ভাই এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন, যিনি শেখ আলবানি এবং শেখ হুওয়াইনি—উভয়ের দলিলসমূহ নিয়ে বিস্তারিত অধ্যয়ন করবেন এবং তাদের মধ্যে কোনটি অধিক গ্রহণযোগ্য তা নির্ধারণ করবেন।

বস্তুনিষ্ঠ সত্য এই যে, ইতিপূর্বে আমার এই কিতাবে উল্লিখিত কিছু হাদিস অধ্যয়ন ও তাহকিক করার সুযোগ হয়েছিল; ফলে আমি আমার ভাই শেখ আবু ইসহাক যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তার সাথে একমত হয়েছি, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখেছি যে অগ্রগণ্য মতটি আমাদের ওস্তাদ আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষেই ছিল।
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭)
ولا مجال في هذه العُجالة لبيان ذلك، فلعلَّه يكون في مناسبةٍ أُخرى.

وفي الختام أشكر أخي أبا المنذر على اهتمامه بهذا الموضوع، وأحُثُّه على المُضِيِّ في الدراسة والبحث والتقدُّم بخُطاً ثابتةً في طريق العلم، وخاصةً علم الحديث الذي حاجة الناس إليه أشدُّ من غيره؛ لأنه بحق محور العلوم الإسلامية، وأرجو له التوفيق واستحضار النية الصالحة، والله يتولَّاه بتوفيقه وتسديده.

كما يطيب لي أن اشكر الأخ النشيط وطالب العلم النجيب أيمن المقداد بارك الله فيه وحفظه من كل سوء، أشكره على تجَشُّمِه مشقة السفر، وإحضاره هذا الكتاب لي، ونقل رغبة أخي أبي المنذر بالتقديم له.

وصلَّى الله وسلَّم وبارك على محمد وآله وصحبه، والحمد لله رب العالمين.

وكتبه:

محمد عيد العباسي

خادم الدعوة السلفية في بلاد الشام

في: 7/ 2/ 1436 هـ

29/ 11 /2014 مـ
এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তা বিস্তারিত বর্ণনার সুযোগ নেই, সম্ভবত অন্য কোনো অবসরে তা হবে।

পরিশেষে, আমি আমার ভাই আবু মুনযিরকে এই বিষয়ের প্রতি তাঁর গুরুত্বারোপের জন্য ধন্যবাদ জানাই এবং তাঁকে অধ্যয়ন, গবেষণা ও ইলমের পথে সুদৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করি; বিশেষ করে হাদীস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে, যার প্রতি মানুষের মুখাপেক্ষিতা অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি। কেননা এটিই হচ্ছে ইসলামী ইলমসমূহের প্রকৃত কেন্দ্রবিন্দু। আমি তাঁর জন্য তাওফীক ও নেক নিয়ত কামনা করছি; আল্লাহ যেন তাঁকে স্বীয় তাওফীক ও সঠিক পথে পরিচালনার মাধ্যমে সহায়তা করেন।

তদ্রূপ আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি কর্মতৎপর ভাই ও মেধাবী ইলম অন্বেষী আয়মান আল-মিকদাদকে—আল্লাহ তাঁকে বরকত দান করুন এবং সর্বপ্রকার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই সফরের কষ্ট স্বীকার করে এই কিতাবটি আমার নিকট নিয়ে আসার জন্য এবং ভাই আবু মুনযিরের পক্ষ থেকে এর ভূমিকা লিখে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সাহাবীগণের ওপর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য।

এটি লিখেছেন:

মুহাম্মদ ঈদ আল-আব্বাসী

শাম ভূখণ্ডের সালাফী দাওয়াতের সেবক

তারিখ: ৭/ ২/ ১৪৩৬ হিজরী

২৯/ ১১/ ২০১৪ ঈসায়ী
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌تقديم فضيلة الشيخ: محمد بن إبراهيم الشيباني

الحمد لله وكفى، وسلامٌ على عباده الذين اصطفى، وبعد:

" الترياق بأحاديث قوَّاها الألباني وضعَّفها الحُوَيني أبو إسحاق "

عنوان مُؤَلَّفٍ صنَّفهُ الشيخ عمرو بن عبد العظيم، تابَع فيه الأحاديث التي قوَّى سندها العلَّامة محمد ناصر الدين الألباني محدِّث الدِّيار الشَّاميَّة، وضعَّفَها تلميذُه الشيخ أبو إسحاق الحويني، العليم بعلم الحديث وإسناده، فتابعه فيها متابعةً علميَّةً دقيقةً حتى وصل علمُهُ إليها أنها لا ترتقى إلى الصحَّة والحُسن.

وهكذا علمُ حديثِ نبيِّنا صلى الله عليه وسلم طيلة القرون التي تلت قرنه وقرن أصحابه رضي الله عنهم، جيل تابع من قبله، يُصحِّح ويُضعِّف، وهكذا (وفوق كل ذي علمٍ عليم)، فكانت هذه المتابعة دِيناً وتجرُّداً دقيقاً فلا يشتغل به إلا العالمون الأبرار من الذين وظَّفُوا أنفسهم لخدمته، لا لدُنيا؛ وإنما طلباً لثواب الآخرة ورضا الديَّان الذي لن يترك في ذلك اليوم صغيرةً ولا كبيرةً إلا أحصاها على عباده (وإن كان مثقال حبةٍ من خردلٍ أتينا بها وكفى بنا حاسبين)

وهكذا سائر أعمال العباد بشكل عام، فكيف بأهل العلم والمشتغلين فيه، ولا سيَّما أهلُ صِناعة الحديث، ومصطلحه في تصحيحه وتضعيفه، حيث يعني ذلك: حلاله وحرامه، ويعني به: اعمل أولا تعمل.

نسأل الله الكريم أن يُوَفِّقَ المشتغلين في هذا العلم الكبير الدقيق الأجر والمثوبة كافة، وأن يُسدِّدَهم إلى الخير والفلاح والصواب، اللهم آمين.
সম্মানীয় শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল-শাইবানী-এর ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট, আর তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

"আত-তিরইয়াক বি আহাদিসিন কাওয়্যাহাল আলবানী ওয়া দাউয়্যাফাহাল হুওয়াইনী আবু ইসহাক"

এটি শায়খ আমর বিন আব্দুল আজিম কর্তৃক রচিত একটি গ্রন্থের শিরোনাম। এতে তিনি সেই হাদিসগুলো অনুসন্ধান করেছেন যেগুলোর সনদকে সিরিয়া অঞ্চলের মুহাদ্দিস আল্লামা মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী শক্তিশালী বলেছেন, অথচ তাঁর ছাত্র শায়খ আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী—যিনি ইলমে হাদিস ও এর সনদ শাস্ত্রে পারদর্শী—সেগুলোকে দুর্বল বলেছেন। লেখক সেগুলোর ওপর সূক্ষ্ম ইলমী অনুসন্ধান চালিয়েছেন, এমনকি তার জ্ঞান এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে সেগুলো সহিহ বা হাসান স্তরে উন্নীত হয় না।

আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ এবং তাঁর সাহাবী (রাদিআল্লাহু আনহুম)-দের যুগের পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে ইলমে হাদিস এভাবেই চলে আসছে; এক প্রজন্ম তার পূর্ববর্তী প্রজন্মকে অনুসরণ করে সহিহ বা জইফ নির্ধারণ করেছে। আর এভাবেই (প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে একজন মহাজ্ঞানী রয়েছেন)। সুতরাং এই অনুসরণ ছিল একটি দ্বীন এবং নিখুঁত একনিষ্ঠতা। নেককার আলেমগণ ব্যতীত কেউ এতে ব্যাপৃত হননি, যারা দুনিয়ার জন্য নয় বরং আখেরাতের সওয়াব এবং বিচারকের সন্তুষ্টির আশায় নিজেদেরকে এর খেদমতে নিয়োজিত করেছেন। সেই বিচারক সেদিন বান্দাদের ছোট-বড় কোনো কিছুই গণনা করা থেকে বাদ দেবেন না (আর যদি তা সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব; এবং হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আমিই যথেষ্ট)।

সাধারণভাবে বান্দাদের অন্যান্য আমলও ঠিক এমনই। তাহলে ইলম অন্বেষণকারী এবং এতে ব্যাপৃত ব্যক্তিদের অবস্থা কেমন হবে? বিশেষ করে যারা ইলমে হাদিস এবং হাদিস সহিহ বা জইফ করার পরিভাষা নিয়ে কাজ করেন; কেননা এর অর্থ হলো: আল্লাহর হালাল ও হারাম, এবং এর অর্থ হলো: আমল করো অথবা আমল করো না।

আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই সুমহান ও সূক্ষ্ম ইলমে ব্যাপৃত সকলকে পূর্ণ প্রতিদান ও সওয়াব দান করেন এবং তাঁদেরকে কল্যাণ, সফলতা ও সঠিক পথের ওপর অবিচল রাখেন। হে আল্লাহ, কবুল করুন।
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৯)
والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، وصلَّى الله على نبيِّنا وآله وصحبه وسلم إلى يوم الدين.

كتبه

د. محمد بن إبراهيم الشيباني

رئيس مركز المخطوطات والتراث والوثائق
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়। আর আল্লাহ আমাদের নবী, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

লিখেছেন

ড. মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আশ-শাইবানি

পাণ্ডুলিপি, ঐতিহ্য ও নথিপত্র কেন্দ্রের প্রধান
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌تقديم فضيلة الشيخ طارق عوض الله محمد

إن الحمد لله. نحمدُهُ، ونستعينه، ونستغفره. ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا.

مَن يهده الله فلا مُضلَّ له، ومَن يُضلِل فلا هادِي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

أما بعد:

يا أيها الذين ءامنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون.

يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالا كثيرا ونساء واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيبا.

يا أيها الذين ءامنوا اتقوا الله وقولوا قولا سديدا يصلح لكم اعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزا عظيما.

فإنَّ من مُهِمَّات العلوم معرِفةُ أقوالِ أهلِ العلم في المسائل الأصولية والفرعية، كما قال الإمام أحمد رحمه الله: أعلمُ الناسِ أعلمُهُم باختلاف الناس.

وليس مِن شكٍّ انَّ في ذلك ثمرةً عظيمةً، إذ إنَّ العالِمَ بأقوالِ أهلِ العلمِ السابقين عليه، العارِفَ بمواقعِ اتِّفاقِهِم واختِلافِهِم، يستطيع أنْ يُكْمِل ما ابتدأوه، وأنْ يُتِمَّ ما حقَّقُوه، فما أجمعوا عليه لا يَخرُجُ عن أقوالِهم، وما اختلفوا فيه نظر في حُجَّةِ كلِّ فريقٍ، ورجَّحَ ما يراهُ صواباً، إنْ كان أهلاً للترجيح.

وإنَّ مِن أخطاء كثيرٍ من الباحثين أنهم يُنَصِّبُون أنفسهم للبحث العِلْمي دون معرفةٍ تامَّةٍ بأقوال أهل العلم السابقين عليهم حول تلك المسائل التي
সম্মানিত শাইখ তারিক আওয়াদুল্লাহ মুহাম্মাদ-এর ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর:

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।

হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং সতর্ক থাকো রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা বন্ধন সম্পর্কে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।

নিশ্চয়ই ইলমের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো মৌলিক ও শাখা-প্রশাখাগত মাসআলাসমূহে আহলে ইলম বা আলেমদের বক্তব্যসমূহ অবগত হওয়া। যেমনটি ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম তিনি, যিনি মানুষের মতপার্থক্য সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানেন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এর ফল অত্যন্ত মহৎ। কারণ, একজন আলেম যখন তার পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্য এবং তাদের ঐক্যমত্য ও মতপার্থক্যের স্থানগুলো সম্পর্কে অবগত থাকেন, তখন তিনি তাদের শুরু করা কাজকে এগিয়ে নিতে পারেন এবং তাদের গবেষণালব্ধ বিষয়গুলোকে পূর্ণতা দিতে পারেন। সুতরাং তারা যে বিষয়ে একমত হয়েছেন, তিনি তাদের বক্তব্যের বাইরে যাবেন না। আর যে বিষয়ে তারা মতপার্থক্য করেছেন, তিনি প্রতিটি দলের দলিলের দিকে লক্ষ্য করবেন এবং যেটিকে সঠিক মনে করবেন সেটিকে অগ্রাধিকার দেবেন, যদি তিনি অগ্রাধিকার প্রদানের যোগ্য হন।

আর অনেক গবেষকদের একটি ভুল এই যে, তারা নিজেদেরকে ইলমি গবেষণার জন্য নিয়োজিত করেন অথচ সেই সব মাসআলা সম্পর্কে তাদের পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্য সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন না যা...
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১১)
يتناولُونها بالبحث، فلا عجبَ إذاً أنْ تجِد كثيراً من الباحثين يَخْرُجون عن أقوال أهل العلم، تحت مَظَلَّة البحث العِلْمِي وسلوك القواعد العلميَّة، وكأنَّ السابقين لم يسلُكوا البحث العلمي كما ينبغي، أو لم يتَّبِعوا القواعدَ العلميَّة التي ما قرَّرها وحرَّرها إلا هم!!

ولهذا كان من المُهم لدَى الباحث قبل تصَدُّرِه للبحث أن يُفرِغ نفسه وقتاً من حياته العلميَّة لجمع أقوال أهل العلم، وذلك بمطالعة كتب العلم المُطوَّلة والمُختصَرَة، واستخراج الفوائد العلمية من بين السطور، لا سيَّما تلك التي قد أودعوها في غير مظِنَّتها، أو ذكروها بإشارةٍ مُفهِمةٍ دون عبارةٍ واضحةٍ، فإنَّ هذه المادةَ العلميَّةَ هي الأساس الذي ينبغي على الباحث أن يبني عليها بحوثه العلمية.

وقد تناولْتُ وتكلمتُ في هذه القضية في موضعٍ آخر في كتاباتي، وفصَّلتُ في ذلك.

ثم إنني ولله الحمد قد حقَّقتُ ذلك مع نفسي، وصنعتُ لنفسي قاعدة بيانات كبيرة لكل ما وقفتُ عليه من فوائدَ تتعلَّق بالقواعدِ الأصوليَّة، أو المسائل الفرعيَّة في علوم الحديث على اختلافها.

وها أنت ترى أخي القارئ بين يديك هذا الجُهد المشكور للأخ الفاضل عمرو عبد العظيم الحُوَيني، فقد عُنِى عنايةً فائقةً بتتبُّع كتب شيخين جليلين من علماء الحديث في هذا الزمان، واستخرجَ من كتبهما الأحاديث التي تعرَّضا للبحث فيها، فكان حُكمِ أحدهما التصحيح، وحكم الآخر التضعيف.

فأما التصحيح فهو للشيخ العلامة محدث الزمان محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله.

وأما التضعيف فهو لشيخنا الجليل العلامة أبي إسحاق الحويني حفظه الله.
তারা সেগুলোকে গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন; ফলে এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে আপনি অনেক গবেষককে ইলমের অধিকারীদের (আহলুল ইলম) বক্তব্যের পরিপন্থী অবস্থান নিতে দেখবেন, যা তারা বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক নিয়মাবলী অনুসরণের আবরণে করে থাকেন। মনে হয় যেন পূর্বসূরিরা যথাযথভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করেননি, অথবা তারা সেই বৈজ্ঞানিক নিয়মাবলী অনুসরণ করেননি যা তারা নিজেরাই নির্ধারণ ও সংকলিত করেছিলেন!!

এই কারণে একজন গবেষকের জন্য গবেষণায় অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে এটি গুরুত্বপূর্ণ যে, তিনি তার ইলমি জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময় আহলুল ইলমদের বক্তব্য সংগ্রহের জন্য উৎসর্গ করবেন। আর এটি সম্ভব বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত ইলমি কিতাবসমূহ গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এবং পঙক্তিগুলোর মধ্য থেকে ইলমি নির্যাস ও সূক্ষ্ম ফায়দাগুলো আহরণের মাধ্যমে, বিশেষ করে সেই বিষয়গুলো যা তারা অপ্রাসঙ্গিক বা অভাবিত স্থানে উল্লেখ করেছেন অথবা স্পষ্ট শব্দ ব্যতিরেকে কেবল ইঙ্গিতবহ বার্তার মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন। কেননা এই ইলমি উপাদানই হলো সেই মূল ভিত্তি যার ওপর একজন গবেষকের তার বৈজ্ঞানিক গবেষণাসমূহ নির্মাণ করা উচিত।

আমি আমার রচনার অন্য একটি স্থানে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং সেখানে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোকপাত করেছি।

অতঃপর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আমি নিজের ক্ষেত্রেও তা বাস্তবায়ন করেছি এবং উসূলী নিয়মাবলী বা হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার মাসয়ালা সংক্রান্ত যত ফায়দা আমি লাভ করেছি, সেগুলোর জন্য নিজের জন্য একটি বিশাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করেছি।

হে পাঠক ভ্রাতা, এখন আপনি আপনার সামনে ফাযেল ভাই আমর ইবনে আব্দুল আযীম আল-হুয়াইনীর এই প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা দেখতে পাচ্ছেন। তিনি বর্তমান যুগের হাদীস শাস্ত্রের দুইজন মহান আলেমের কিতাবসমূহ পর্যালোচনায় অত্যন্ত গভীর যত্ন প্রদর্শন করেছেন এবং তাদের কিতাবসমূহ থেকে সেই সকল হাদীস চয়ন করেছেন যেগুলোর ব্যাপারে তারা গবেষণামূলক আলোচনা করেছেন, যেখানে একজনের সিদ্ধান্ত ছিল হাদীসটিকে সহীহ বলা এবং অন্যজনের সিদ্ধান্ত ছিল সেটিকে যয়ীফ বলা।

সহীহ বলার বিষয়টি হলো বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর।

আর যয়ীফ বলার বিষয়টি হলো আমাদের মহান শায়খ আল্লামা আবু ইসহাক আল-হুয়াইনী (হাফিযাহুল্লাহ)-এর।
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১২)
فتولَّى أخي الباحث عرض تلك الاحاديث وبيان مُجمَل قول كل شيخٍ منهما فيه ليكون الباحث في هذه الأحاديث على درايةٍ بقول الشيخين فيها، وهذا كما يستفاد منه ما قد سبق الإشارة إليه، فإنَّ فيه فائدة أخرى لا ينبغي الغفلة عنها، ألا وهي أنَّ شيخنا الشيخ الحويني رغم أنه تعلَّم على يد الشيخ العلامة الألباني واستفاد كثيراً من مجالِسِه وكتبه، إلا أنه لم يكن متعصِّباً لشيخه، بل كان يستفيد من علم شيخه ويُخالِفه في بعض المواضع التي يرى أنَّ الشيخ الألباني رحمه الله جانبه فيها الصواب، وهذا حقُّ المُتقدِّم على المُتأخِّر، وحقٌّ الشيخ على التلميذ، وهو أن لا يُقلِّد الشيخ فيما تبيَّن فيه الخطأ، وإنما يُقوَّم ويُستَدرَك، لأن الباحث ينغي أن يكون قصدُهُ الوقوف على الحقِّ ليس غير.

وقد لاحظتُ أنَّ أخي الباحث اكتفى بنقل أقوال الشيخين على تلك الأحاديث ولم يتطرَّق من جهته إلى التوسُّع في البحث والنظر في الطُرُق والأسانيد ونقد الروايات التي يشملها البحث نقداً خاصاً، لشيئٍ ترجَّح لديه، وهو أن يكتفي بتقديم علم الشيخين إلى القارئ والباحث لينظرَ كلٌّ فيما بين يديه من تلك المادة العلميَّة ويختار ما يراه راجحاً.

وهذا قصدٌ محمودٌ، لولا أنني كنتُ أتمنى لو أنَّ أخي الباحث أضاف إلى ذلك شيئاً آخر لا يتعارَضُ مع مقصوده، وفي الوقت نفسه يكون أكثر عَوناً للباحث على تحقيق الراجح في كل حديثٍ من تلك الأحاديث.

وهذا الشئ هو: أن يُضيفَ في كل حديثٍ أقوال العلماء الآخرين الذين تناولوا تلك الأحاديث من المتقدمين والمتأخرين، ويضعها مع كل حديثٍ من تلك الاحاديث، بحيث يمكن للباحث أن يَعرِفَ أقوال العلماء فيُعِينُه ذلك على الترجيح، ولعلَّ أخي الفاضل يصنع ذلك لاحِقاً إن شاء الله تعالى.

وليس من شكٍّ، ولا يخفى على باحثٍ مُتمرِّسٍ خبيرٍ بمسالك العلماء قديماً وحديثاً، أنَّ الحُكمَ على الأحاديث تصحيحاً وتضعيفاً وعلى الرواة
সুতরাং আমার গবেষক ভাই সেই হাদীসগুলো উপস্থাপন এবং প্রতিটি হাদীস সম্পর্কে উক্ত উভয় শায়খের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যাতে এই হাদীসগুলোর ক্ষেত্রে গবেষকগণ উক্ত দুই শায়খের অভিমত সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে পারেন। ইতিপূর্বে যে বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা থেকে যেমন উপকৃত হওয়া যায়, তেমনি এতে আরেকটি বিশেষ ফায়দা রয়েছে যা উপেক্ষা করা সমীচীন নয়; আর তা হলো—আমাদের শায়খ আল-হুয়াইনী যদিও আল্লামা শায়খ আলবানীর নিকট ইলম অর্জন করেছেন এবং তাঁর জ্ঞানগর্ভ মজলিস ও কিতাবসমূহ থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছেন, তাসত্ত্বেও তিনি তাঁর শায়খের প্রতি অন্ধ অনুরাগী বা গোঁড়া ছিলেন না। বরং তিনি তাঁর শায়খের ইলম থেকে উপকৃত হতেন এবং এমন কিছু স্থানে তাঁর ভিন্নমত পোষণ করতেন যেখানে তিনি মনে করতেন যে শায়খ আলবানী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিচ্যুত হয়েছেন। আর অগ্রবর্তীর ওপর অনুবর্তীর এবং উস্তাদের ওপর ছাত্রের এটিই প্রাপ্য অধিকার যে, যেখানে ভুল সুস্পষ্ট হবে সেখানে শায়খের অন্ধ অনুকরণ করা যাবে না, বরং তা সংশোধন ও পরিমার্জন করতে হবে; কেননা একজন গবেষকের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কেবল সত্যের ওপর উপনীত হওয়া, অন্য কিছু নয়।

আমি লক্ষ্য করেছি যে, আমার গবেষক ভাই উক্ত হাদীসগুলোর ব্যাপারে কেবল দুই শায়খের বক্তব্য উদ্ধৃত করার ওপরই ক্ষান্ত হয়েছেন এবং তিনি গবেষণার পরিধি বিস্তৃত করা কিংবা বর্ণনাসমূহের সূত্র, সনদ ও বর্ণনাকারীদের বিচার-বিশ্লেষণে ব্যক্তিগতভাবে কোনো বিশেষ পর্যালোচনা করেননি। এর পেছনে তাঁর নিকট একটি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে, আর তা হলো—পাঠক ও গবেষকদের সামনে কেবল দুই শায়খের ইলমকে উপস্থাপন করা, যাতে প্রত্যেকে তাঁর সামনে বিদ্যমান সেই ইলমী উপকরণের ওপর দৃষ্টিপাত করতে পারেন এবং যা অগ্রগণ্য মনে হয় তা বেছে নিতে পারেন।

এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্দেশ্য, তবে আমি প্রত্যাশা করতাম যদি আমার গবেষক ভাই এর সাথে এমন একটি বিষয় যুক্ত করতেন যা তাঁর মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হতো না এবং একই সাথে প্রতিটি হাদীসের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত বা অগ্রাধিকার নিরূপণে গবেষকদের জন্য অধিকতর সহায়ক হতো।

সেই বিষয়টি হলো: প্রতিটি হাদীসের সাথে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অন্যান্য আলেমদের বক্তব্যও যুক্ত করা যারা উক্ত হাদীসগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন এবং প্রতিটি হাদীসের পাশাপাশি তা উল্লেখ করা, যাতে গবেষকগণ আলেমদের নানাবিধ অভিমত জানতে পারেন এবং এটি তাঁকে অগ্রাধিকার প্রদানে সাহায্য করে। সম্ভবত আমার শ্রদ্ধেয় ভাই ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ তা সম্পন্ন করবেন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং প্রাচীন ও আধুনিক যুগের আলেমদের কর্মপন্থা সম্পর্কে পারদর্শী কোনো অভিজ্ঞ গবেষকের নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, হাদীসকে সহীহ বা যঈফ হিসেবে গণ্য করা এবং বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রদান করা...
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১৩)
تعديلاً وتجريحاً، هو من موارد الاجتهاد، والتي يسَعُ فيها الخلاف، كما يَسعُ الخلافَ في المسائل الفقهية ونحوها.

فلا ينبغي أن يُعابَ على أحدٍ لمُجرَّدِ الاختلاف معه في الحكم على حديث، وإنما يُبَيَّنُ وجهُ الصواب بالحُجَّةِ والبرهان، مع الاحتفاظ بالتقدير والاحترام التَّام للمُخَالَف.

وكم رأينا العلماء قديماً وحديثاً يَستَدرِك بعضهم على بعضٍ، ويُخَطِّأُ بعضهم بعضاً، مع الاحترام والتقدير وعدم الطعن في الأشخاص.

ولا ادلَّ على ذلك من كتاب " التتبُّع " للإمام الدارقطني، وكتاب " مُوضِح أوهام الجمع والتفريق " للإمام الخطيب البغدادي، وغيرهما من كتب اهل العلم.

وكان شعارهم دائماً وأبداً، ما قاله الإمام الشافعي رحمه الله: قولي صواب يحتمل الخطأ، وقول غيري خطأ يحتمل الصواب.

وقال يونس الصدفي: ما رأيت أعقل من الشافعي، ناظرته يوماً في مسألة ثم افترقنا، ولَقِيَنني فأخذ بيدي ثم قال: يا أبا موسى ألا يستقيم أن نكون إخواناً وإن لم نتَّفِق في مسألة.

ولله دَرُّ الصحابي الجليل عبد الله بن مسعود رضي الله عنه عندما خالَفَ عثمان بن عفانٍ في مسألة الإتمام في السفر، ومع ذلك كان يُصلِّي وراءه بإتمام، فلما سُئِل عن ذلك قال: الخلاف شر. يقصد: الخلافَ الذي يُؤَدِّي إلى الشقاق والتناحر والتدابر.

وانظر إلى سفيان بن عيينة رحمه الله عندما ذَكَر مرَّة حديثاً فقيل له: إنَّ مالِكاً يُخالِفُك في هذا الحديث، فقال للقائل: أتقرِنُني بمالك!، ما أنا ومالك إلا كما قال جرير:

وابنُ اللَّبون إذا ما لُزَّ في قَرَنٍ … لم يَستَطِع صَوْلَةَ البُزْلِ القَنَاعِيسِ
নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণ (তাদিল) ও ত্রুটি বর্ণনা (জারহ) হলো ইজতিহাদ বা গবেষণার ক্ষেত্রসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যাতে মতভেদের অবকাশ রয়েছে, যেমনটা ফিকহি মাসআলা এবং এই জাতীয় বিষয়াবলিতে মতভেদের অবকাশ থাকে।

সুতরাং কোনো হাদিসের হুকুমের বিষয়ে কারো সাথে কেবল মতভেদের কারণে তাকে নিন্দা করা সমীচীন নয়। বরং দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত, আর যার সাথে দ্বিমত পোষণ করা হচ্ছে তার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্মান বজায় রাখা আবশ্যক।

আমরা প্রাচীন ও আধুনিক যুগের আলেমদের একে অপরের ভুল সংশোধন করতে এবং একে অপরকে ভুল সাব্যস্ত করতে অনেক দেখেছি, তবে তা ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ ব্যতিরেকে।

ইমাম দারাকুতনির কিতাব "আত-তাতাব্বু" এবং ইমাম খতিব বাগদাদির কিতাব "মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরিক" এবং আলেমদের অন্যান্য গ্রন্থসমূহ এর সপক্ষে প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

তাদের মূলমন্ত্র সর্বদা সেটিই ছিল যা ইমাম শাফেয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছিলেন: "আমার বক্তব্য সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রাখে তবে তাতে ভুল হতে পারে, আর অন্যের বক্তব্য ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রাখে তবে তা সঠিক হতে পারে।"

ইউনুস আস-সাদাফি বলেন: "আমি ইমাম শাফেয়ির চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান আর কাউকে দেখিনি। একদিন আমি একটি বিষয়ে তাঁর সাথে বিতর্ক করলাম, তারপর আমরা বিচ্ছিন্ন হলাম। পরবর্তীতে আমার সাথে তাঁর দেখা হলে তিনি আমার হাত ধরলেন এবং বললেন: হে আবু মুসা, একটি বিষয়ে একমত হতে না পারলেও কি আমাদের ভাই ভাই থাকা সম্ভব নয়?"

মহান সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রশংসা অনিবার্য, যখন তিনি সফর অবস্থায় নামাজ পূর্ণ করার বিষয়ে উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন, তবুও তিনি তাঁর পেছনে পূর্ণ নামাজই আদায় করতেন। যখন তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "মতভেদ হলো অমঙ্গল।" তাঁর উদ্দেশ্য ছিল: সেই মতভেদ যা বিবাদ, সংঘাত এবং পারস্পরিক শত্রুতার দিকে ধাবিত করে।

লক্ষ্য করুন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর দিকে, তিনি যখন একবার একটি হাদিস উল্লেখ করলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: ইমাম মালিক এই হাদিসে আপনার বিরোধিতা করছেন। তখন তিনি প্রশ্নকারীকে বললেন: "তুমি কি আমাকে মালিকের সাথে তুলনা করছ! আমার আর মালিকের অবস্থা তো ঠিক তেমনই যেমনটা কবি জারির বলেছেন:"

দুই বছরের উষ্ট্রশাবককে যখন বয়স্ক শক্তিশালী উটের সাথে লড়াইয়ে নামানো হয় … তখন সে সেই বিশালদেহী শক্তিশালী বলশালী উটের দাপটের সামনে টিকতে পারে না।
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১৪)
فهؤلاء هم أسلافُنا، وهؤلاء هم قدوتُنا، فنسألُ الله عز وجل أن يرزقنا الإنصاف في السِرِّ والعَلَن، وان يوفِّقَنا إلى سلوك طريقهم، واتِّباعِ منهجهم، إنه سبحانه ولِيُّ ذلك ومولاه. وصلَّى الله على نبيِّنا محمدٍ وعلى آله وصحبه وسلِّم.

وكتبه / أبو معاذ طارق بن عوض الله محمد

الثلاثاء 25 محرم 1436 هـ

18/ 11 / 2014 مـ
এঁরাই হলেন আমাদের পূর্বসূরি এবং এঁরাই হলেন আমাদের আদর্শ। অতএব আমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের গোপনে ও প্রকাশ্যে ন্যায়নিষ্ঠা দান করেন এবং তাঁদের পথে চলতে ও তাঁদের মানহাজ অনুসরণ করতে আমাদের তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র, তিনিই এর অভিভাবক ও অধিপতি। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

লিখেছেন / আবু মুয়াজ তারিক বিন আওয়াদুল্লাহ মুহাম্মদ

মঙ্গলবার ২৫ মুহাররম ১৪৩৬ হিজরি

১৮/ ১১ / ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌مقدمة المؤلف

إن الحمد لله، نحمدُهُ، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا.

مَن يهده الله فلا مُضلَّ له، ومَن يُضلِل فلا هادِي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله تعالى عليه وعلى آله وصحبه أجمعين.

يا أيها الذين ءامنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون.

يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالا كثيرا ونساء واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيبا.

يا أيها الذين ءامنوا اتقوا الله وقولوا قولا سديدا يصلح لكم اعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزا عظيما.

أما بعد،،،

 

فإن العلم رتب ودرجات، وإن شرف العلوم بشرف ما توصل إليه، فلا جرم أن كان علم الحديث من أشرف العلوم، إذ به يتوصل إلى معرفة الصحيح من غيره من قول خير الأنام وسيد البرية صلى الله تعالى عليه وعلى آله وصحبه أجمعين.

وقد ذكر الإمام ابنُ حِبَّان في مقدمة المجروحين (1/ 84 ط الصميعي)، أنَّ أحمد بن حنبل مرَّ على نفرٍ من أصحاب الحديث وهم يعرِضون كتاباتهم، فقال: ما أحسب هؤلاء إلا ممن قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تزال طائفةٌ من أمتي على الحق حتى تقوم الساعة".
লেখকের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।

হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নফস থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের দুজন থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং রক্তীয় সম্পর্কের (মর্যাদা রক্ষা করো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য লাভ করল।

অতঃপর,

 

নিশ্চয়ই জ্ঞানের বিভিন্ন স্তর ও ধাপ রয়েছে। আর ইলমের মর্যাদা নির্ভর করে তার মাধ্যমে যা অর্জিত হয় তার মর্যাদার ওপর। সুতরাং ইলমে হাদিস যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি ইলম হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই; কারণ এর মাধ্যমেই সৃষ্টির সেরা এবং মানবজাতির সর্দার—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—তাঁর বাণীসমূহের মধ্য থেকে সহিহ বা সঠিকটি অন্যান্যগুলো থেকে আলাদা করা যায়।

ইমাম ইবনে হিব্বান 'আল-মাজরুহিন'-এর ভূমিকা (১/৮৪, আস-সুমাই সংস্করণ)-এ উল্লেখ করেছেন যে, আহমদ ইবনে হাম্বল হাদিসের একদল অনুসারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তারা তাদের পাণ্ডুলিপিগুলো প্রদর্শন করছিল। তখন তিনি বললেন: 'আমি তাদের সেই দলের অন্তর্ভুক্ত মনে করি যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামত সংগঠিত হওয়া পর্যন্ত আমার উম্মতের একটি দল সত্যের ওপর অটল থাকবে"।'
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১৬)
فعَلَّق أبو حاتم ابن حِبَّان قائلاً: (ومَن أحقُّ بهذا التأويل من قومٍ فارَقُوا الأهلَ والأوطانَ، وقنعوا بالكِسَر والأَطْمَار، في كتب السنن والآثار، وطلب الحديث والأخبار، يجولون في البراري والقفار، ولا يُبَالون بالبؤس والإقتار، مُتَّبِعون لآثار السلف من الماضين، والسالكون ثَبَج محجَّة الصالحين، ورَدِّ الكذب عن رسول ربِّ العالمين، وذبِّ الزور عنه حتى وضح للمسلمين المنار، وتبيَّن لهم الصحيح من بين الموضوع والزور من الآثار، وأرجو أن لا يكون من هذه الأمة في الجنة إلى النبي صلى الله عليه وسلم أقربَ من هذه الطائفة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: أَوْلَى الناسِ بي يوم القيامة أكثرُهُم عليَّ صلاةً.

وليس في هذه الأمة طائفةٌ أكثرَ صلاةً على رسول الله صلى الله عليه وسلم من هذه الطائفة، فهم على وجوههم في الدنيا يهيمون، وبتَعَلُّم السنن فيها ينعمون، وعلى حُسنِ الاستقامة يدورون، وأهلَ الزيغ والأهواء يقمعون، وعلى السداد في السنة يموتون، وعلى الخيرات في العُقبَى يقدمون، أولئك حزب الله ألا إن حزب الله هم المفلحون).

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية - طيَّب الله ثراه - في كتابه الماتع " الانتصار لأهل الأثر" (صـ 13 - 14 ط عالم الفوائد):

(من المعلوم أنَّ أهلَ الحديث يُشارِكون كلَّ طائفةٍ فيما يَتحَلَّوْن به من صفات الكمال، ويَمْتَازون عنهم بما ليس عندهم، فإن المُنازِع لهم لابُدَّ أن يذكُرَ فيما يُخالفُهم فيه طريقاً أخرى، مثل المعقول والقياس والرأي والكلام والنظر والاستدلال والمُحَاجَّة والمجادلة والمكاشفة والمخاطبة والوَجْد والذَّوْق ونحو ذلك.

وكُلُّ هذه الطُرُق لأهل الحديث صفوَتُها وخلاصتُها، فهم أكمل الناس عقلاً، وأعدلُهم قياساً، وأصوبُهم رأياً، وأسدُّهم كلاماً، وأصحُّهم نظراً، وأهداهم استدلالاً، وأقومُهم جدلاً، وأتمُّهم فراسة، وأصدقُهم إلهاماً، وأحدُّهم بصراً ومكاشفةً، وأصوبُهم سمعاً ومخاطبةً، وأعظمهم وأحسنهم وَجْداً وذوقاً،
আবু হাতিম ইবন হিব্বান মন্তব্য করে বলেন: (আর এই ব্যাখ্যার সবচেয়ে বেশি হকদার সেই সম্প্রদায় ছাড়া আর কে হতে পারে, যারা পরিবার-পরিজন এবং স্বদেশ ত্যাগ করেছেন, এবং সুনান ও আসার-এর কিতাবসমূহ এবং হাদিস ও সংবাদের অন্বেষণে রুটির টুকরো ও জীর্ণ বস্ত্রে সন্তুষ্ট থেকেছেন। তারা প্রান্তর ও মরুভূমিতে ঘুরে বেড়ান এবং দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটনের পরোয়া করেন না। তারা গত হওয়া সালাফদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী, নেককারদের সুস্পষ্ট পথের অনুসারী, রাব্বুল আলামীনের রাসূলের ওপর থেকে মিথ্যাচার রদকারী এবং তাঁর পক্ষ থেকে জালিয়াতি প্রতিহতকারী; এমনকি মুসলিমদের জন্য সত্যের মিনার স্পষ্ট হয়েছে এবং আসার (বর্ণনা) সমূহের মধ্য থেকে মাউযু (জাল) ও জালিয়াতির ভিড়ে সহিহ (শুদ্ধ) বর্ণনাসমূহ তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়েছে। আর আমি আশা করি যে, জান্নাতে এই উম্মতের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে নিকটবর্তী এই দলটি ছাড়া অন্য কেউ হবে না; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে তারা, যারা আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করে।

আর এই উম্মতের মধ্যে এই দলটির চেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অধিক দরুদ পাঠকারী আর কোনো দল নেই। তারা দুনিয়াতে (হাদিসের অন্বেষণে) উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ান, সুন্নাহ শিক্ষার মাধ্যমে তারা নিয়ামত লাভ করেন, উত্তম ইস্তিকামাতের ওপর তারা আবর্তিত হন, বক্রতা ও প্রবৃত্তিপূজারীদের তারা অবদমিত করেন, সুন্নাহর ওপর সঠিক পথে তারা মৃত্যুবরণ করেন এবং পরকালে তারা কল্যাণসমূহ নিয়ে উপস্থিত হবেন। ওরাই আল্লাহর দল; জেনে রেখো, আল্লাহর দলই সফলকাম।)

শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাঁর কবরকে পবিত্র করুন—তাঁর চমৎকার কিতাব "আল-ইন্তিসার লি-আহলিল আসার" (পৃ. ১৩-১৪, আলমুল ফাওয়াইদ সংস্করণ)-এ বলেছেন:

(এটি সুপরিচিত যে, আহলে হাদিসগণ প্রত্যেক দলের সাথে তাদের প্রশংসনীয় ও পূর্ণতা দানকারী গুণাবলীতে অংশীদার হন এবং তাদের কাছে যা নেই, তা দ্বারা তারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হন। কারণ যারা তাদের বিরোধিতা করে, তারা অবশ্যই আহলে হাদিসদের বিরোধী ভিন্ন কোনো পথের কথা উল্লেখ করে; যেমন: যুক্তি, কিয়াস (অনুমান), মতামত, কালাম (তত্ত্বকথা), গভীর চিন্তা, দলিল উপস্থাপন, বিতর্ক, তর্ক-বিতর্ক, রহস্যোদ্ঘাটন, কথোপকথন, ভাবাবেগ, আধ্যাত্মিক স্বাদ এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয়।

আর এই সব পথের যা কিছু সারসংক্ষেপ ও শ্রেষ্ঠ অংশ, তা আহলে হাদিসদের মাঝেই বিদ্যমান। তারা বুদ্ধিবৃত্তির দিক থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ, কিয়াসের দিক থেকে সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ, মতামতের দিক থেকে সবচেয়ে সঠিক, কথার দিক থেকে সবচেয়ে দৃঢ়, পর্যালোচনার দিক থেকে সবচেয়ে নির্ভুল, দলিল উপস্থাপনে সবচেয়ে বেশি হেদায়েতপ্রাপ্ত, বিতর্কে সবচেয়ে শক্তিশালী, দূরদর্শিতার দিক থেকে সবচেয়ে পরিপূর্ণ, ইলহামের (অনুপ্রেরণা) ক্ষেত্রে সবচেয়ে সত্যবাদী, দৃষ্টি ও রহস্যোদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রখর, শোনা ও কথোপকথনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সঠিক এবং ভাবাবেগ ও আধ্যাত্মিক স্বাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে মহান ও উত্তম।
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১৭)
وهذا هو للمسلمين بالنسبة إلى سائر الأمم، ولأهل السنة والحديث بالنسبة إلى سائر المِلَل." أهـ

فعلمُ الحديث من أشرف العلوم نظراً لانتسابه، والمشتغلون به هم أقرب الخلق اتباعاً لما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم.

وقد قل الاشتغال بهذا العلم الجليل في الأزمان المتأخرة، فتجد: في القرن السابع الهجري أمثال الحافظ المزي، والحافظ الدمياطي، والحافظ ابن دقيق العيد، وشيخ الإسلام ابن تيمية.

ثم يتلوهم الإمام الذهبي، فابن القيم، وابن رجب، وابن عبد الهادي، وابن كثير.

ثم يتلوهم ابن المُلَقِّن، فالحافظ زين الدين العِرَاقِي.

فيتلوهم الحافظ ابن حجر العسقلاني، والهيثمي، وبدر الدين العيني.

فيتلوهم شمس الدين السخاوي، وجلال الدين السيوطي، في القرن التاسع والعاشر الهجريين.

ثم إذا قفزنا قفزةً سريعةً للقرن الماضي فلا نجد من أبرز المشتغلين بهذا العلم الشريف إلا الشيخ أبا الأشبال أحمد محمد شاكر، والشيخ العلامة عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني، فالشيخ محمد ناصر الدين الألباني - رحم الله الجميع -.

ثم حدثت طفرةٌ في الاشتغال بهذا العلم بعدهم، سواء على الصعيد النظري، أو الصعيد العملي التطبيقي.

لكن الأمر الذي لا يُنْكِرُه مُنصِف، أنَّ للشيخ المُحدِّث محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله جميل على أبناء هذا الجيل بإحياء روح التجديد في هذا الفن الذي كان غريباً في حينه.

لقد ترك الشيخ تراثاً يدُلُّ على جهد يُذكِّرُنا بعلماء الحديث المُتقدِّمين
"এবং এটি হলো অন্যান্য জাতির তুলনায় মুসলিমদের অবস্থা, আর অন্যান্য মিল্লাতের তুলনায় আহলুস সুন্নাহ ওয়াল হাদীসের অবস্থা।" সমাপ্ত।

হাদীস শাস্ত্র এর সম্বন্ধের কারণে সবচেয়ে সম্মানিত ইলমসমূহের অন্তর্ভুক্ত, এবং এই ইলম চর্চাকারীরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা অনুসরণের ক্ষেত্রে সৃষ্টিজগতের মধ্যে সবচেয়ে নিকটবর্তী।

পরবর্তী যুগসমূহে এই মহান ইলমের চর্চা কমে গিয়েছিল। তবে সপ্তম হিজরি শতাব্দীতে আপনি হাফেয আল-মিযযী, হাফেয আদ-দামইয়াতি, হাফেয ইবনু দাকীকিল ঈদ এবং শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহর মতো মনীষীদের পাবেন।

অতঃপর তাঁদের পরে আসেন ইমাম আয-যাহাবী, এরপর ইবনুল কাইয়্যিম, ইবনু রজব, ইবনু আব্দুল হাদী এবং ইবনু কাসীর।

অতঃপর তাঁদের পরে ইবনুল মুলাক্কিন এবং হাফেয যাইনুদ্দীন আল-ইরাকী।

অতঃপর তাঁদের পরে হাফেয ইবনু হাজার আল-আসকালানী, আল-হাইসামি এবং বদরুদ্দীন আল-আইনী।

অতঃপর নবম ও দশম হিজরি শতাব্দীতে শামসুদ্দীন আস-সাখাভী এবং জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী।

অতঃপর আমরা যদি দ্রুতগতিতে গত শতাব্দীর দিকে এগিয়ে যাই, তবে এই সম্মানিত শাস্ত্রের বিশিষ্ট চর্চাকারীদের মধ্যে শাইখ আবু আশবাল আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির, শাইখ আল্লামা আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমী আল-ইয়ামানি এবং শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন) ছাড়া আর কাউকে পাই না।

অতঃপর তাঁদের পরে এই ইলমের চর্চায় একটি বড় ধরনের জোয়ার আসে, চাই তা তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে হোক বা প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে।

তবে এমন একটি বিষয় যা কোনো ইনসাফকারী অস্বীকার করবে না তা হলো, মুহাদ্দিস শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এই প্রজন্মের সন্তানদের ওপর বিরাট অনুগ্রহ রয়েছে; কেননা তিনি এমন এক সময়ে এই শাস্ত্রের সংস্কার ও পুনর্জাগরণের চেতনাকে জাগ্রত করেছেন যখন এটি অপরিচিত ছিল।

নিশ্চয়ই শাইখ এমন এক ইলমি উত্তরাধিকার রেখে গেছেন যা এমন এক কঠোর পরিশ্রমের প্রমাণ দেয়, যা আমাদের পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসগণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১৮)
الذين أفنوا أعمارَهم في حفظ حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم لاعتقادهم أن في ذلك سعادة الدنيا والآخرة، كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية في " الانتصار لأهل الأثر " (صـ 39 - 40): (وإذا كانت سعادةُ الدنيا والآخرة هي باتباع المرسلين، فمن المعلوم أنَّ أحقَّ الناس بذلك أعلمُهم بآثار المرسلين وأتبعُهم لذلك، فالعالِمُون بأقوالهم وأفعالهم، المُتَّبِعون لها هم أهلُ السعادة في كل زمانٍ ومكانٍ، وهم الطائفة الناجية من أهل كل مِلَّة، وهم أهل السنة والحديث من هذه الأمة، فإنهم يشارِكون سائر الأمة فيما عندهم من أمور الرسالة، ويَمتَازون عنهم بما اختصُّوا به من العلم الموروث عن الرسول فيما يجهله غيرهم أو يُكَذِّب به).

وكما ترك الشيخ تراثاً يشهد له المخالِف قبل الموافِق، فقد ترك تلاميذ انتفعوا بعلمه واقتفوا أثره.

ومنهم شيخنا المُحدِّث الجليل أبو إسحاق الحويني - حفظه الله وشفاه -،فقد تخرَّج على كتب الشيخ، وانتفع بها أكثر من غيرها.

وقد زكَّاه الشيخ الألباني في أكثر من موضع سواء كتابةً، أو مشافهةً لأحد أقربائه أو جُلَّاسه رحمه الله، فمن ذلك:

ما ذكره الشيخ الألباني رحمه الله في " الصحيحة " (5/ 586) قال: (واعلم أنه من الدواعي على إخراج هذا الحديث هنا أمور وقفت عليها، فما أحببت أن أدع التنبيه عليها:

الأول: أنني رأيت المعلق على "المنتقى " لابن الجارود، عزا الحديث من رواية يحيى بن سعيد هذه للستة وغيرهم، وليس عندهم زيادة التسبيح. ونبه على ذلك صديقنا الفاضل أبو إسحاق الحويني في كتابه القيم: "غوث المكدود في تخريج منتقى ابن الجارود "، وقد أهدى إلي الجزء الأول منه، جزاه الله خيرا).

وقال رحمه الله في " الصحيحة" (رقم 3953): (هذا، ولقد كان من دواعي
যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস সংরক্ষণে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এই বিশ্বাসে যে, এর মধ্যেই দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্য নিহিত, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া 'আল-ইন্তিসার লি-আহলিল আসার' (পৃষ্ঠা ৩৯ - ৪০) গ্রন্থে বলেছেন: (যখন দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্য রাসূলগণের অনুসরণের মাধ্যমেই অর্জিত হয়, তখন এটি সর্বজনবিদিত যে, মানুষের মধ্যে এই সৌভাগ্যের সবচেয়ে বেশি হকদার তারাই যারা রাসূলগণের পদাঙ্ক সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত এবং যারা তা সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করে। সুতরাং যারা তাঁদের বাণী ও কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এবং তা অনুসরণ করেন, তারাই সর্বকালে ও সর্বস্থানে সৌভাগ্যবান। তারাই প্রতিটি ধর্মের মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত দল, আর তারাই এই উম্মতের আহলুস সুন্নাহ ওয়াল হাদিস। কেননা তারা রাসূলের রিসালাতের যা কিছু উম্মতের সাধারণ মানুষের কাছে আছে তাতে যেমন অংশীদার, তেমনি তারা তাদের সেই বিশেষ উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ইলমের মাধ্যমে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র, যা অন্যরা জানে না অথবা যা অন্যরা অস্বীকার করে)।

শাইখ যেমন এমন একটি জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গেছেন যার সাক্ষ্য একমত পোষণকারীদের পূর্বে ভিন্নমত পোষণকারীরাও দেয়, তেমনি তিনি এমন কিছু ছাত্রও রেখে গেছেন যারা তাঁর ইলম দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে।

তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আমাদের শাইখ, মহান মুহাদ্দিস আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনি — আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন এবং সুস্থতা দান করুন —। তিনি শাইখের বইসমূহ অধ্যয়ন করে শিক্ষা লাভ করেছেন এবং অন্যদের তুলনায় সেগুলো থেকে বেশি উপকৃত হয়েছেন।

শাইখ আলবানি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বিভিন্ন স্থানে তাঁর প্রশংসা করেছেন, তা লিখিতভাবে হোক কিংবা মৌখিকভাবে তাঁর কোনো নিকটাত্মীয় বা মজলিসে উপস্থিত সঙ্গীদের কাছে; তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

শাইখ আলবানি রহমাতুল্লাহি আলাইহি 'আস-সহিহাহ' (৫/ ৫৮৬) গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: (জেনে রাখুন, এই হাদিসটি এখানে সংকলন করার পেছনে কিছু কারণ রয়েছে যা আমি জানতে পেরেছি, তাই সে বিষয়ে সতর্ক না করে ছেড়ে দেওয়া আমি সংগত মনে করিনি:

প্রথমত: আমি ইবনুল জারুদের 'আল-মুনতাকা'র টীকাকারকে দেখেছি যে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের বর্ণিত এই হাদিসটি কুতুবে সিত্তাহ ও অন্যান্য গ্রন্থের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, অথচ তাদের নিকট তাসবিহ পাঠের অতিরিক্ত অংশটি নেই। এ বিষয়ে আমাদের সুহৃদ ও গুণী বন্ধু আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনি তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ 'গাউসুল মাকদুদ ফি তাখরিজি মুনতাকিল ইবনিল জারুদ'-এ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং তিনি আমাকে এর প্রথম খণ্ডটি উপহার দিয়েছেন, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন)।

তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) 'আস-সহিহাহ' (নং ৩৯৫৩) গ্রন্থে বলেছেন: (এই যে, আর এর অন্যতম কারণ ছিল...
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ১৯)
تخريج حديث الترجمة بهذا التحقيق الذي رأيته: أن أخانا الفاضل (أبا إسحاق الحويني) سئل في فصله الخاص الذي تنشره له مجلة (التوحيد) الغراء في كل عدد من أعدادها، فسئل- حفظه الله وزاده علماً وفضلاً- عن هذا الحديث في العدد (الثالث- ربيع أول- 1419)؟ فضعفه، وبين ذلك ملتزماً علم الحديث وما قاله العلماء في رواة إسناده، فأحسن في ذلك أحسن البيان، جزاه الله خيراً، لكني كنت أود وأتمنى له أن يُتْبِعَ ذلك ببيان أن الحديث بأطرافه الثلاثة صحيح؛ حتى لا يتوهمن أحد من قراء فصله أن الحديث ضعيف مطلقاً سنداً ومتناً، كما يشعر بذلك سكوته عن البيان المشار إليه. أقول هذا؛ مع أنني أعترف له بالفضل في هذا العلم، وبأنه يفعل هذا الذي تمنيته له في كثير من الأحاديث التي يتكلم على أسانيدها، ويبين ضعفها، فيتبع ذلك ببيان الشواهد التي تقوي الحديث، لكن الأمر- كما قيل-: كفى المرء نبلاً أن تعد معايبه).

وقال رحمه الله في الصحيحة أيضاً (2/ 720) أثناء ردِّه على أحد المتهجمين على التصحيح والتضعيف قال: " وبسط القول في بيان عوار كلامه في تضعيفه إياها كلها يحتاج إلى تأليف كتاب خاص، وذلك مما لا يتسع له وقتي، فعسى أن يقوم بذلك بعض إخواننا الأقوياء في هذا العلم كالأخ علي الحلبي، وسمير الزهيري، وأبي إسحاق الحويني ونحوهم جزاهم الله خيرا).

وهذا يدُلُّنا أنَّ الشيخ الألباني رحمه الله كان لديه بعض مصنَّفات شيخنا التي تحتوي على بعض التعقبات التي تعقَّبها شيخنا عليه رحمه الله ومع ذلك لم يُنكر الشيخ ذلك بل مدح الشيخ - كما ترى - في أكثر من موضع، وأيضاً فقد تعقَّب الشيخ الألباني شيخَنا في موضعين وقفتُ عليهما في " الصحيحة ":

أحدهما: في (7/ 745) حيث قال - رحمةُ الله عليه -: (تنبيه: عزا الأخ الفاضل أبو إسحاق الحويني في تعليقه على "مسند سعد ابن أبي وقاص "
আপনি যে তাহকীকটি দেখছেন, সে অনুযায়ী এই শিরোনামের হাদিসটির তাখরীজ হলো: আমাদের সম্মানিত ভাই (আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী)-কে তার বিশেষ কলামে প্রশ্ন করা হয়েছিল যা সুপ্রসিদ্ধ 'আত-তাওহীদ' ম্যাগাজিন তার প্রতিটি সংখ্যায় প্রকাশ করে। তাকে—আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন এবং তার ইলম ও মর্যাদা বৃদ্ধি করুন—এই হাদিসটি সম্পর্কে (তৃতীয় সংখ্যা—রবিউল আউয়াল—১৪১৯ হিজরি) জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি এটিকে যয়ীফ (দুর্বল) বলেছেন এবং ইলমে হাদিসের নীতি ও এর সনদের রাবীদের সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম যা বলেছেন তা অনুসরণ করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি এতে অত্যন্ত চমৎকার ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। তবে আমার আকাঙ্ক্ষা ও কামনা ছিল যে, তিনি যদি এর সাথে এটিও স্পষ্ট করে দিতেন যে হাদিসটি তার তিনটি অংশের সমন্বয়ে সহীহ; যাতে তার কলামের পাঠকদের মধ্যে কেউ এমন ধারণা না করে যে হাদিসটি সনদ ও মতন (মূল পাঠ) উভয় দিক থেকেই নিঃশর্তভাবে যয়ীফ, যেমনটি উল্লিখিত বিষয়টি স্পষ্ট না করার কারণে অনুভূত হয়। আমি এটি বলছি; যদিও আমি এই ইলমে তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করি এবং তিনি এমনটিই করেন যা আমি তার কাছে অনেক হাদিসের ক্ষেত্রে কামনা করেছি—যেগুলোর সনদ নিয়ে তিনি আলোচনা করেন এবং সেগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট করেন, এরপর তিনি এমন সব 'শাওয়াহিদ' (সাক্ষ্য প্রদানকারী বর্ণনা) উল্লেখ করেন যা হাদিসটিকে শক্তিশালী করে। তবে বিষয়টি এমন—যেমনটি বলা হয়েছে: "একজন ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে তার দোষগুলো গণনা করা যায়।"

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) 'আস-সহীহা' গ্রন্থেও (২/৭২০) হাদিস সহীহ ও যয়ীফ করার বিষয়ের ওপর আক্রমণকারীদের একজনের প্রতিবাদ করার সময় বলেছেন: "তার সব কটি বর্ণনাকে যয়ীফ বলার পেছনে তার কথার অসারতা স্পষ্ট করার জন্য বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন, যা একটি স্বতন্ত্র বই রচনার দাবি রাখে। আর এটি এমন কাজ যার জন্য আমার হাতে পর্যাপ্ত সময় নেই। তবে আশা করা যায় যে, এই ইলমে পারদর্শী আমাদের কিছু ভাই এই দায়িত্ব পালন করবেন, যেমন ভাই আলী আল-হালাবী, সামীর আল-যুহাইরী, আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী এবং তাদের মতো অন্যান্যরা, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।"

এটি আমাদের নির্দেশ করে যে, শায়খ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কাছে আমাদের শায়খের কিছু কিতাব ছিল যাতে এমন কিছু পর্যালোচনা ছিল যা আমাদের শায়খ তার ওপর করেছিলেন (রহিমাহুল্লাহ)। তা সত্ত্বেও শায়খ সেটি অস্বীকার করেননি, বরং তিনি শায়খের প্রশংসা করেছেন—যেমনটি আপনি দেখছেন—একাধিক স্থানে। এছাড়াও শায়খ আলবানী আমাদের শায়খকে দুটি স্থানে পর্যালোচনা করেছেন যা আমি 'আস-সহীহা' গ্রন্থে পেয়েছি:

তার একটি হলো: (৭/৭৪৫) পৃষ্ঠায় যেখানে তিনি (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: (সতর্কতা: সম্মানিত ভাই আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী "মুসনাদে সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস"-এর ওপর তার টিকায় উদ্ধৃত করেছেন...
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ২০)
(240/ 159) حديث عبد الله بن جابر لابن أبي عاصم في الآحاد"! وهذا وهم، وإنما عنده حديث عبد الملك بن عمير فقط كما سبق).

ثانيهما: في (7/ 937 - 938) قال: ( … وإن مما يؤكد الجمع المذكور؛ أن من المعلوم أن سعداً- رضي الله عنه قد خلّف جمعاً من الذكور، ولم يخلف إلا بنتاً واحدة، وهي عائشة هذه، فإذا قال بعض الرواة: (أم عمرو بنت سعد)، فهي (عائشة) يقيناً؛ كما هو ظاهر جلي؛ والحمد لله.

ولقد رأيت أخانا الفاضل (أبا إسحاق الحويني) قد دندن حول هذا الجمع في

تعليقه على " مسند سعد بن أبي وقاص "، فقال (216) - بعد أن ساق ما في "العلل "-:"قلت: رواية معن هنا توافق رواية الخصيب بن ناصح، ولعل "أم عمرو" كنية "عائشة بنت سعد"، فتلتقي الروايتان، والله أعلم ".

ولكنه جزم بضعف إسناده كما ضعفه في أحاديث ثلاثة قبله، بدعوى أن (عبيدة بنت نابل) مجهولة الحال، تابعاً في ذلك قول ابن حجر المتقدم: "مقبولة"! أو مستأنساً به؛ فإنه بمعناه، والصواب ما تقدم بيانه أنها صدوقة. وإن مما يؤيد ذلك؛ أن الحافظ قال في "الفتح " (4/ 100) - في حديث آخر من طريقها-:"رجاله ثقات ".

ونقله الأخ الفاضل عنه (ص 214). فهذا- مع ما قدمته من البيان- يلقي

في النفس الاطمئنان لصحة حديثها. والله أعلم).

فأنت ترى أن الشيخ الألباني رحمه الله ذكر في " صحيحته " أنه اطلع على تخريج شيخنا لـ " مسند سعد بن أبي وقاص " للحافظ البزَّار، وكذا " غوث المكدود بتخريج منتقى ابن الجارود " وكان الشيخ الحويني أرسل للشيخ كتابه " بذل الإحسان " وكذا " تنبيه الهاجد " الجزء الأول، وكل هذه الكتب تحتوي على تعقُّبات على الشيخ الألباني، وترى هنا بعض الأحاديث التي خالف فيها الشيخ شيخه استخرجتُها من هذه الكتب.

فهذا التَخرُّج وهذا الانتفاع بكتب الشيخ الألباني رحمه الله، لم يمنعه من
(২৪০/ ১৫৯) "আল-আহাদ গ্রন্থে ইবনে আবি আসিমের বর্ণনায় আব্দুল্লাহ বিন জাবিরের হাদিস!" আর এটি একটি ভ্রম, বরং সেখানে কেবল আব্দুল মালিক বিন উমাইরের হাদিসটিই রয়েছে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।)

দ্বিতীয়ত: (৭/ ৯৩৭ - ৯৩৮) পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: ( … আর উল্লিখিত সমন্বয়কে যা জোরালো করে তা হলো; এটি সুপরিচিত যে সাদ -রাযিয়াল্লাহু আনহু- বেশ কয়েকজন পুত্রসন্তান রেখে গেছেন, কিন্তু তিনি কেবল একজন কন্যাই রেখে গেছেন, আর তিনি হলেন এই আয়েশা। সুতরাং যখন কোনো বর্ণনাকারী বলেন: (উম্মু আমর বিনতে সাদ), তখন তিনি নিশ্চিতভাবেই (আয়েশা); যেমনটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রকাশ্য; আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আর আমি আমাদের সম্মানিত ভাই (আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনি)-কে দেখেছি যে তিনি "মুসনাদু সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস"-এর ওপর তাঁর টীকায় এই সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি (২১৬) - "আল-ইলাল" গ্রন্থে যা আছে তা উল্লেখ করার পর - বলেছেন: "আমি বলছি: মা'ন-এর বর্ণনাটি এখানে খাসিব বিন নাসিহ-এর বর্ণনার সাথে মিলে যায়। আর সম্ভবত 'উম্মু আমর' হলো 'আয়েশা বিনতে সাদ'-এর উপনাম, ফলে উভয় বর্ণনা একীভূত হয়ে যায়, আর আল্লাহই ভালো জানেন।"

কিন্তু তিনি এর সনদের দুর্বলতার ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন যেমনটি তিনি এর পূর্বের তিনটি হাদিসকেও দুর্বল বলেছিলেন, এই দাবিতে যে (উবাইদাহ বিনতে নাবিল) এর অবস্থা অজ্ঞাত, এ ক্ষেত্রে তিনি ইবনে হাজারের পূর্বোল্লিখিত বক্তব্য: "গ্রহণযোগ্য" (মাকবুলাহ)-কে অনুসরণ করেছেন অথবা এর দ্বারা সমর্থন গ্রহণ করেছেন; কেননা এটিও একই অর্থ বহন করে। অথচ সঠিক কথা হলো যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সত্যবাদী। আর একে যা সমর্থন করে তা হলো; হাফেজ ইবনে হাজার "আল-ফাতহ" গ্রন্থে (৪/ ১০০) - তার সূত্রে বর্ণিত অন্য একটি হাদিসে - বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য।"

আর সম্মানিত ভাই তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন (পৃষ্ঠা ২১৪)। সুতরাং এটি - আমি পূর্বে যা বর্ণনা করেছি তা সহ - তার হাদিসটি সহিহ হওয়ার ব্যাপারে মনে প্রশান্তি জোগায়। আর আল্লাহই ভালো জানেন)।

অতএব আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, শাইখ আলবানী রহিমাহুল্লাহ তাঁর "সহিহাহ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাফেজ বাজ্জারের "মুসনাদু সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস"-এর ওপর আমাদের শাইখের তাহকিক দেখেছেন, তেমনিভাবে "গাউসুল মাকদুদ বি-তাখরিজি মুনতাক্বা ইবনিল জারুদ" কিতাবটিও দেখেছেন। আর শাইখ আল-হুওয়াইনি শাইখের কাছে তাঁর কিতাব "বাযলুল ইহসান" এবং "তানবিহুল হাজিদ" এর প্রথম খণ্ড পাঠিয়েছিলেন। এই সব কিতাবই শাইখ আলবানীর ওপর কিছু পর্যালোচনামূলক মন্তব্য ধারণ করে। আর আপনি এখানে এমন কিছু হাদিস দেখছেন যাতে শাইখ তাঁর শাইখের বিরোধিতা করেছেন, যা আমি এই কিতাবগুলো থেকে সংগ্রহ করেছি।

সুতরাং শাইখ আলবানী রহিমাহুল্লাহ-এর কিতাবসমূহ থেকে এই জ্ঞানার্জন ও এই উপকার লাভ করা তাঁকে বিরত রাখেনি
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ২১)
تعقُّب شيخه في بعض مواضع ظهر لشيخنا فيها رأي مُخالِف لرأي شيخه.

وكنت قد جمعت منذ فترة - جاوزت الـ 7 سنوات - بضعة عشر حديثاً خالف فيها شيخنا الحويني حكم شيخه الشيخ الألباني رحمه الله على بعض الأحاديث، مما كنت قد سمعته من الشيخ، إما فى دروسه أو أثناء أسئلتي للشيخ.

ومن سنةٍ تقريباً رجعت لهذا البحث لأستوعِبَ فيه كل كتب الشيخ المطبوعة منها، والمصفوفة والمخطوطة بخط يد الشيخ، وأعرِضَ الأحاديث التى حكم عليها شيخنا بالضعف أو النكارة وما شابه ذلك من صِيَغ الرد، فأعرضها على كتب الشيخ الألباني رحمه الله، فجمعت (189) حديثاً حكم عليها الشيخ الألباني بالصحة أو بالحُسن، وخالفه فيها شيخنا فردَّها بالضعف تارة، وبالنكارة أخرى.

وأسميته بـ " الترياق بأحاديث قوَّاها الألباني وضعَّفها الحُوَيني أبو إسحاق ".

وليس في ذلك الجمع تنقُّص من علم الشيخ، إذ إنَّ من المُستَقِرِّ عند علماء هذا الفن أن التصحيح والتضعيف من موارد الاجتهاد، فاختلاف الأئمة في التصحيح والتضعيف لحديثٍ ما، إنما هو من نفس باب اختلافهم في التعديل والتجريح لراوٍ ما، فاحتمال هذا احتمالٌ لذاك، ومدارُ الأمر إنما هو على الاجتهاد.

يقول الإمام أبو الوليد الباجي رحمه الله في " التعديل والتجريح " (1/ 310 ط دار اللواء): " (وإنما أدخلت هذه الحكاية لئلا يعتقد من لا يُحسن هذا الباب أن ما ليس في الصحيحين ليس بصحيح، بل قد تصح أحاديث ليست في صحيحي البخاري ومسلم، ولذلك خرَّج الشيخ أبو الحسن الدارقطني والشيخ أبو ذر الهروي في كتاب الإلزامات في الصحيح ما ألزماهما إخراجه، وكما أنه قد وجد في الكتابين ما فيه الوهم، وأخرج ذلك الشيخ
তাঁর শাইখের (শিক্ষকের) অনুসরণ করা এমন কিছু স্থানে যেখানে আমাদের শাইখের নিকট তাঁর শাইখের মতের বিপরীতে ভিন্ন মত প্রকাশ পেয়েছে।

আমি বেশ কিছুকাল আগে—যা ৭ বছর অতিক্রম করেছে—দশটিরও বেশি হাদিস সংগ্রহ করেছিলাম যাতে আমাদের শাইখ আল-হুওয়াইনী তাঁর শাইখ শাইখ আল-আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিছু হাদিসের ওপর দেওয়া হুকুমের বিরোধিতা করেছেন; যা আমি শাইখের থেকে শুনেছিলাম, হয় তাঁর দারস (পাঠদান) থেকে অথবা শাইখকে আমার প্রশ্ন করার সময়।

প্রায় এক বছর আগে আমি পুনরায় এই গবেষণার দিকে ফিরে আসি যাতে শাইখের সমস্ত মুদ্রিত বই, বিন্যস্ত করা পাণ্ডুলিপি এবং শাইখের নিজ হাতের লিখিত পাণ্ডুলিপিগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি। আর আমি সেই হাদিসগুলো তুলে ধরেছি যেগুলোর ওপর আমাদের শাইখ যয়ীফ (দুর্বল) বা মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) হওয়ার বা অনুরূপ কোনো প্রত্যাখ্যানমূলক পরিভাষা দ্বারা হুকুম দিয়েছেন। এরপর আমি সেগুলো শাইখ আল-আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বইগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখি। ফলে আমি ১৮৯টি হাদিস সংগ্রহ করেছি যেগুলোকে শাইখ আল-আলবানি সহিহ (সঠিক) বা হাসান (উত্তম) বলে হুকুম দিয়েছিলেন, কিন্তু আমাদের শাইখ তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করে সেগুলোকে কখনো যয়ীফ এবং কখনো মুনকার বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আমি এর নাম দিয়েছি "আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়্যাহাল আলবানি ওয়া দ্বা’য়াফাহাল হুওয়াইনী আবু ইসহাক" (আলবানি কর্তৃক শক্তিশালী সাব্যস্ত এবং আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী কর্তৃক যয়ীফ সাব্যস্ত হাদিসসমূহের মহৌষধ)।

এই সংগ্রহের মাধ্যমে শাইখের ইলম বা জ্ঞানের অবমাননা করা হয়নি। কারণ এই শাস্ত্রের আলেমদের নিকট এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, হাদিস সহিহ বা যয়ীফ সাব্যস্ত করা ইজতিহাদের (গবেষণার) বিষয়। সুতরাং কোনো হাদিসের সহিহ বা যয়ীফ হওয়ার ক্ষেত্রে ইমামগণের মতপার্থক্য মূলত কোনো রাবীর (বর্ণনাকারীর) তা’দিল (প্রশংসা) এবং তাজরিহ (দোষারোপ) এর ক্ষেত্রে তাঁদের মতপার্থক্যের পর্যায়ভুক্ত। তাই একটির সম্ভাবনা অন্যটির সম্ভাবনার মতোই, আর পুরো বিষয়টি ইজতিহাদের ওপর নির্ভরশীল।

ইমাম আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আত-তা’দিল ওয়াত-তাজরিহ' গ্রন্থে (১/৩১০, দারুল লিওয়া সংস্করণ) বলেন: "(আমি এই বর্ণনাটি কেবল এজন্যই এনেছি যাতে এই শাস্ত্র সম্পর্কে যার সম্যক জ্ঞান নেই সে যেন এটা বিশ্বাস না করে যে, যা সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ নেই তা সহিহ নয়। বরং বুখারি ও মুসলিমের সহিহ গ্রন্থের বাইরেও অনেক হাদিস সহিহ হতে পারে। এই কারণেই শাইখ আবুল হাসান আদ-দারাকুতনি এবং শাইখ আবু যর আল-হারাউই তাদের 'কিতাবুল ইলযামাত ফিস-সহিহ'-তে এমন হাদিসগুলো সংকলন করেছেন যা (তাঁদের মতে) ঐ দুই ইমামের সংকলন করা আবশ্যক ছিল। ঠিক তেমনি এই দুই কিতাবে এমন কিছু বিষয়ও পাওয়া গিয়েছে যেখানে ভ্রম রয়েছে, আর শাইখ তা উল্লেখ করেছেন..."
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ২২)
أبو الحسن الدارقطني وجمعه في جزء، وإنما ذلك بحسب الاجتهاد فمن كان من أهل الاجتهاد والعلم بهذا الشأن لزمه أن ينظر في صحة الحديث وسقمه بمثل ما نظرا، ومن لم يكن تلك حاله لزمه تقليدهما في ما ادَّعيَا صحته، والتوقُّف فيما لم يخرجاه في الصحيح.

وقد أخرج البخاري أحاديث اعتقد صحتها تركها مسلم لما اعتقد فيها غير ذلك، وأخرج مسلم أحاديث اعتقد صحتها تركها البخاري لما اعتقد فيها غير معتقده، وهو يدلُّ على أن الأمر طريقُهُ الاجتهاد لمن كان من أهل العلم بهذا الشأن، وقليلٌ ما هم. "

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية في " مجموع الفتاوى " (18/ 22): (والمقصود هنا التمثيل بالحديث الذي يروى في الصحيح وينازع فيه بعض العلماء، وأنه قد يكون الراجح تارةً وتارةً المرجوح، ومثل هذا من موارد الاجتهاد في تصحيح الحديث كموارد الاجتهاد في الأحكام).

وقال (18/ 24): " وبعض ما يُصححه الترمذي ينازعه غيره فيه، كما قد ينازعونه في بعض ما يضعفه ويحسنه، فقد يضعف حديثا ويصححه البخاري. "

وقال الإمام الذهبي في " سير أعلام النبلاء " (14/ 239) في ترجمة: ابن الجارود، صاحب كتاب المنتقى: (صاحب كتاب المنتقى في السنن، مجلد واحد في الأحكام، لا ينزل فيه عن رتبة الحسن أبداً، إلا في النادر في أحاديث يختلف فيها اجتهاد النقاد).

وقال في " الموقظة " (صـ 7): (ثم لا تطمع بأنَّ للحسن قاعدة تندرج كل الأحاديث الحسان فيها، فأنا على إياسٍ من ذلك، فكم من حديثٍ تردَّد فيه الحفاظ، هل هو حسنٌ أو ضعيفٌ أو صحيحٌ؟

بل الحافظ الواحد يتغيَّر اجتهاده في الحديث الواحد، فيوماً يصفُه بالصحَّة، ويوماً يصفه بالضعف، ولربَّما استضعفه، وهذا حق … ).
আবু আল-হাসান আদ-দারা কুতনী এবং তিনি যা একটি খণ্ডে সংগ্রহ করেছেন; আর এটি ইজতিহাদের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং যিনি ইজতিহাদ ও এই বিষয়ের জ্ঞানের অধিকারী, তার জন্য হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা যাচাই করা আবশ্যক যেভাবে তারা (বুখারি ও মুসলিম) যাচাই করেছেন। আর যার অবস্থা এমন নয়, তার জন্য তারা যেটিকে বিশুদ্ধ দাবি করেছেন সে বিষয়ে তাদের তাকলিদ (অনুসরণ) করা এবং যা তারা তাদের সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেননি সে বিষয়ে থামা (বিরত থাকা) আবশ্যক।

ইমাম বুখারি এমন কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন যেগুলোকে তিনি বিশুদ্ধ মনে করেছেন কিন্তু ইমাম মুসলিম সেগুলো বর্জন করেছেন কারণ তিনি সেগুলোর বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করতেন। আবার ইমাম মুসলিম এমন কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন যেগুলোকে তিনি বিশুদ্ধ মনে করেছেন কিন্তু ইমাম বুখারি সেগুলো বর্জন করেছেন কারণ তার বিশ্বাস মুসলিমের বিশ্বাসের মতো ছিল না। এটি প্রমাণ করে যে, এই বিষয়টি এই শাস্ত্রের জ্ঞানীদের জন্য ইজতিহাদলব্ধ একটি পথ, আর এমন লোক খুব অল্পই।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ "মাজমুউল ফাতাওয়া" (১৮/২২)-তে বলেছেন: (এখানে উদ্দেশ্য হলো সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত এবং কিছু আলেম কর্তৃক বিতর্কিত হাদিসগুলোর উদাহরণ পেশ করা; আর এর মধ্যে কখনও একটি মত অগ্রগণ্য (রাজীহ) হয়, আবার কখনও অন্যটি বর্জনীয় (মারজুহ) হয়। হাদিস বিশুদ্ধকরণের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের বিষয়টি ঠিক আহকামের (বিধি-বিধানের) ক্ষেত্রে ইজতিহাদের বিষয়ের মতোই।)

তিনি (১৮/২৪) বলেন: "ইমাম তিরমিযী যে সব হাদিসকে সহিহ বলেছেন, তার মধ্যে কিছু বিষয়ে অন্যরা তার সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন, ঠিক যেমন তারা তার জয়িফ (দুর্বল) কিংবা হাসান বলা হাদিসগুলোর ক্ষেত্রেও দ্বিমত পোষণ করেন। কখনো তিনি কোনো হাদিসকে দুর্বল বলেন অথচ ইমাম বুখারি সেটিকে সহিহ বলেন।"

ইমাম যাহাবী "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৪/২৩৯)-তে 'আল-মুনতাকা' কিতাবের লেখক ইবনুল জারুদের জীবনীতে বলেছেন: (সুনান বিষয়ক 'আল-মুনতাকা' গ্রন্থের লেখক, এটি আহকাম বা বিধি-বিধানের উপর এক খণ্ডের একটি গ্রন্থ; এতে তিনি কখনও 'হাসান' স্তরের নিচে নামেননি, তবে খুব সামান্য কিছু হাদিস ব্যতীত যেগুলোতে সমালোচকগণের ইজতিহাদ বা মতের ভিন্নতা রয়েছে।)

তিনি "আল-মুউকিজাহ" (পৃষ্ঠা: ৭)-তে বলেছেন: (এরপর এমন কোনো আশা করো না যে, 'হাসান' হাদিসের জন্য এমন কোনো মূলনীতি থাকবে যার অধীনে সকল হাসান হাদিস অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ আমি এ বিষয়ে নিরাশ। কত এমন হাদিস রয়েছে যার ব্যাপারে হাফেজগণ দ্বিধান্বিত ছিলেন যে, সেটি কি হাসান, নাকি জয়িফ, নাকি সহিহ?

বরং একজন হাফেজের ইজতিহাদ একই হাদিসের ব্যাপারে পরিবর্তিত হয়; তিনি কোনো একদিন সেটিকে সহিহ বলেন, আবার অন্য কোনো দিন সেটিকে জয়িফ বলেন, এমনকি হয়তো সেটিকে তিনি দুর্বলই সাব্যস্ত করেন; আর এটিই বাস্তবতা … )।
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال الإمام الصنعاني في " إرشاد النقاد " (صـ 2): " التصحيح والتضعيف من المسائل الاجتهادية النظرية. "

وقال بلَدِيُّهُ ابن الوزير في " العواصم والقواصم " (1/ 393): " تصحيح الحديث ظني اجتهادي، ولذلك اشتد الخلاف في شرائطه، ألا ترى أن شرط البخاري غير شرط مسلم في الرجال والاتصال."

ثم قال: " فالخلاف في الحديث كالخلاف في فروع الفقه لا يستحق النكير، وقد ذكر ابن حجر في مقدمة شرح البخاري مما خولف البخاري في تصحيحه أكثر من مئة حديث بأعيانها، غير ما خولف فيه من القواعد مثل حديث عكرمة، وقبول عنعنة المدلس في بعض المواضع. "

وقال الدكتور عبد الغني بن أحمد جبر مزهر، في بحثٍ له بعنوان " أصول التصحيح والتضعيف " نُشر بمجلة البحوث الإسلامية (41/ 336): " التصحيح والتضعيف حكم، وهذا الحكم يصل إليه المُصحِّح أو المُضعِّف بعد استكمال البحث والنظر، وبعد الاطلاع والاستقراء والتتبُّع، ثم جمع أقوال الأئمة في الراوي، وجمع طرق الحديث، فإن غلب على ظنه بعد ذلك صحة الحديث حكم بصحته، وإن غلب على ظنه ضعفه حكم بذلك، وهو المقصود هنا أنَّ هذا المجال يدخله الاجتهاد وتتباين فيه أنظار المجتهدين، وتختلف أحكامهم، وتتعارض أقوالهم، وليس بمرضِي أن يَجُرَّ ذلك إلى التعصُّب الذميم للرأي والتنازع والشقاق والتنابز بالألقاب."

وقال شيخنا الحويني - حفظه الله- في " تنبيه الهاجد " (1/ 33 الطبعة الأولى): " والكلام في التصحيح والتضعيف أمرٌ اجتهادي، فلا ينبغي أن يُشغَّب على المُخطئ فيه إن ثبت أنَّ أصوله التي يعتمد عليها منضبطة. "

فاختلاف إمامَيْن في الحكم على حديثٍ بالقبول أو بالرد، من الأمور الاجتهادية التي لا يُنْكَرُ فيها.
ইমাম সানআনী "ইরশাদুন নুয়ক্কাদ" (পৃষ্ঠা-২) গ্রন্থে বলেছেন: "তাসহীহ (সহীহ সাব্যস্ত করা) এবং তাদঈফ (যঈফ সাব্যস্ত করা) হলো ইজতিহাদী ও তাত্ত্বিক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।"

তাঁর স্বদেশী ইবনুল উজির "আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম" (১/৩৯৩) গ্রন্থে বলেছেন: "হাদিস সহীহ সাব্যস্ত করা হলো ধারণাভিত্তিক ইজতিহাদী বিষয়, আর একারণেই এর শর্তাবলির ব্যাপারে মতভেদ জোরালো হয়েছে। আপনি কি দেখছেন না যে, বর্ণনাকারী এবং সনদের নিরবচ্ছিন্নতার ক্ষেত্রে ইমাম বুখারীর শর্ত ইমাম মুসলিমের শর্ত থেকে ভিন্ন?"

এরপর তিনি বলেন: "সুতরাং হাদিসের ক্ষেত্রে মতভেদ ফিকহের শাখা-প্রশাখার মতভেদের মতোই, যা তিরস্কারের যোগ্য নয়। ইবনে হাজার বুখারীর ভাষ্যের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, শতাধিক সুনির্দিষ্ট হাদিসের তাসহীহের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারীর বিরোধিতা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মূলনীতির ক্ষেত্রেও ভিন্নমত রয়েছে, যেমন ইকরিমার হাদিস এবং কিছু ক্ষেত্রে মুদাল্লিসের আনআনা গ্রহণ করা।"

ডক্টর আব্দুল গনি বিন আহমাদ জাবর মিজহার "উসূলুত তাসহীহ ওয়াত তাদঈফ" শীর্ষক তাঁর একটি গবেষণায়—যা মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ-তে (৪১/৩৩৬) প্রকাশিত হয়েছে—বলেছেন: "তাসহীহ এবং তাদঈফ হলো একটি হুকুম বা সিদ্ধান্ত। মুসাহহিহ (সহীহ সাব্যস্তকারী) বা মুদাইয়িফ (যঈফ সাব্যস্তকারী) গভীর গবেষণা ও পর্যালোচনার পর এবং পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের শেষে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান। এরপর বর্ণনাকারী সম্পর্কে ইমামদের বক্তব্যসমূহ এবং হাদিসের বিভিন্ন সূত্রসমূহ একত্রিত করেন। অতঃপর যদি তাঁর নিকট হাদিসটি সহীহ হওয়ার প্রবল ধারণা সৃষ্টি হয়, তবে তিনি সেটির সহীহ হওয়ার ফয়সালা দেন। আর যদি দুর্বল হওয়ার প্রবল ধারণা জন্মে, তবে তিনি দুর্বল হওয়ার ফয়সালা দেন। এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো—এই ক্ষেত্রটি ইজতিহাদের অন্তর্ভুক্ত এবং এতে মুজতাহিদদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে, তাদের সিদ্ধান্তসমূহ আলাদা হতে পারে এবং তাদের বক্তব্যসমূহ বৈপরীত্যপূর্ণ হতে পারে। তবে এটি কাম্য নয় যে, বিষয়টি যেন মতামতের প্রতি নিন্দনীয় অন্ধভক্তি, বিবাদ, বিভেদ এবং মন্দ উপাধিতে ডাকাডাকির দিকে ধাবিত করে।"

আমাদের শায়খ আল-হুওয়াইনী (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) তাঁর "তানবীহুল হাজিদ" (১/৩৩, প্রথম সংস্করণ) গ্রন্থে বলেছেন: "তাসহীহ এবং তাদঈফ সংক্রান্ত আলোচনা একটি ইজতিহাদী বিষয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এতে ভুল করে তাকে নিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করা উচিত নয়, যদি এটি প্রমাণিত হয় যে সে যে মূলনীতিগুলোর ওপর নির্ভর করছে তা সুশৃঙ্খল।"

অতএব, কোনো হাদিস গ্রহণ বা বর্জন করার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দুই ইমামের মধ্যকার মতভেদ এমন ইজতিহাদী বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত যাতে কোনো নিন্দা বা তিরস্কারের অবকাশ নেই।
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ২৪)
أما عن سبب اختلافهم، فكثيرةٌ هي الأسباب التي لأجلها اختلف حكم كل منهما.

منها: اختلافُهُم في النظر في الأسانيد، والتبحُّر في الطُّرُق، وهذا اختلافٌ رئيسٌ بين المُحدِّثين والفقهاء، فالفقيه قد يحكم على حديثٍ بالصحَّة بمجرَّد مروره على ظاهر السند الذي أمامه، بينما يحكم المحدثون على الحديث بالصحة أو بالضعف بعد جمع الأسانيد والتبحُّر في طرقها، والنظر فيها، فقد يكون هناك عِلَّة في الحديث لا تُعلَم إلا بجمع طُرُق هذا الحديث، وهذا لا يُحسِنُه إلا جهابذة هذا الفن الذين أفنوْ أعمارَهم فيه.

ومنها: عِلَّةٌ في الإسناد يراها بعض العلماء مُؤثِّرة فيحكم بضعف الحديث، بينما يراها غيره غير مُؤثِّرة فيقبل مع وجودها الحديث.

ومنها: الاختلاف على حال راوٍ من الرواة، يرى بعضهم حالُه مستقيماً فيقبل حديثه، بينما يرى البعض الآخر ضعفه لا سيما مع تفرُّده.

ومنها: قبول بعض العلماء زيادة زادها أحد الثقات في حديث شيخٍ من الشيوخ المشاهير بالرواية، على جماعةٍ من أقرانه الثقات، فيحكمون بأنها زيادة ثقة نظراً لوجود قرائن يترجَّح لديهم الحكم بها، بينما يحكم البعض الآخر بشذوذ هذه الزيادة لمخالفته لجماهير أصحاب هذا الراوي وهذا الاختلاف مهيَعٌ مُتَّسع، والاختلاف في اعتبار القرائن مما يسعُ فيه الخلاف.

ومنها: أن راوياً من الرواة يرى بعض العلماء إدراكه لأحد شيوخه فيحكم باتصال حديثه، بينما يحكم البعض الآخر بعدم إمكان اللقاء فيترتب على ذلك رد حديثه.

ومنها: الاختلاف في حد (الحديث الحسن) فمن العلماء من يتوسَّع فيه ويُدخل في الحسن أحاديث يرى غيره من العلماء عدم إمكان ارتقائها لهذه الدرجة، وهذا أيضاً مما كثر الخلاف حوله.

ومنها: أنَّ بعض العلماء يقبل حديثاً نظراً لجودة إسناده، بينما يرُدُّه البعض
তাদের মতভেদের কারণ সম্পর্কে বলতে গেলে, অনেকগুলো কারণে তাদের প্রত্যেকের সিদ্ধান্তের মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

তন্মধ্যে একটি হলো: সনদসমূহের পর্যালোচনা এবং হাদিসের সূত্রগুলো (তুরুক) গভীরভাবে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে তাদের ভিন্নতা। এটি মুহাদ্দিস ও ফকিহদের মধ্যে একটি প্রধান মতভেদ। ফকিহ হয়তো তার সামনে থাকা বাহ্যিক সনদের ওপর ভিত্তি করেই কোনো হাদিসকে সহিহ বলে রায় দিতে পারেন; কিন্তু মুহাদ্দিসগণ হাদিসের সকল সনদ সংগ্রহ করে এবং এর বিভিন্ন সূত্রগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর তা সহিহ নাকি দুর্বল (জয়িফ), সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন। হাদিসের মধ্যে এমন কিছু সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাত) থাকতে পারে যা হাদিসের সকল সূত্র সংগ্রহ করা ছাড়া জানা সম্ভব নয়। আর এই বিষয়ে পারদর্শিতা কেবল সেই বিষয়ের গভীর জ্ঞানসম্পন্ন পণ্ডিতরাই রাখেন, যারা এ কাজে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

আরেকটি কারণ হলো: সনদের কোনো ত্রুটি যা কোনো কোনো আলেম হাদিসের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী মনে করেন এবং এর ফলে হাদিসটিকে দুর্বল বলে গণ্য করেন। পক্ষান্তরে অন্য আলেম সেই ত্রুটিকে প্রভাবহীন মনে করেন এবং তা থাকা সত্ত্বেও হাদিসটি গ্রহণ করেন।

আরেকটি কারণ হলো: কোনো একজন বর্ণনাকারীর (রাবি) অবস্থা নিয়ে মতভেদ। কেউ কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য মনে করে তার হাদিস গ্রহণ করেন, আবার অন্যরা তাকে দুর্বল মনে করেন, বিশেষ করে যখন তিনি এককভাবে কোনো হাদিস বর্ণনা করেন।

এর মধ্যে আরেকটি কারণ হলো: কোনো প্রসিদ্ধ শায়খের হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তাঁর সমপর্যায়ের অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের তুলনায় অতিরিক্ত যা কিছু বর্ণনা করেন, তা কোনো কোনো আলেমের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া। তারা বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে সেই অতিরিক্ত অংশকে প্রাধান্য দিয়ে তা গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, অন্য একদল আলেম সেই বর্ণনাকারীর অধিকাংশ সহকর্মীদের বিরোধিতার কারণে উক্ত অতিরিক্ত অংশকে ‘শাজ’ (অস্বাভাবিক) বলে গণ্য করেন। আর পারিপার্শ্বিক প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি একটি প্রশস্ত ক্ষেত্র, যেখানে মতভেদের অবকাশ রয়েছে।

আরেকটি কারণ হলো: কোনো একজন বর্ণনাকারী তার জনৈক উস্তাদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন বলে কোনো কোনো আলেম মনে করেন এবং এর ফলে তার বর্ণিত হাদিসকে নিরবচ্ছিন্ন (মুত্তাসিল) বলে রায় দেন। পক্ষান্তরে অন্য আলেমগণ তাদের মধ্যে সাক্ষাতের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন, যার ফলে সেই হাদিসটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

আরেকটি কারণ হলো: ‘হাসান হাদিস’-এর সীমানা নির্ধারণে পার্থক্য। কোনো কোনো আলেম এই ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেন এবং এমন সব হাদিসকে ‘হাসান’-এর অন্তর্ভুক্ত করেন যা অন্য আলেমদের মতে সেই স্তরে পৌঁছানোর যোগ্য নয়। এটিও এমন একটি বিষয় যা নিয়ে প্রচুর মতভেদ রয়েছে।

আরেকটি কারণ হলো: কোনো কোনো আলেম সনদের উত্তম মানের কারণে কোনো হাদিস গ্রহণ করেন, আবার অন্য কেউ তা প্রত্যাখ্যান করেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ২৫)
الآخر لنكارة متنه، وأمثلته كثيرة في كتب الرجال والعلل.

إلى غير ذلك من الأسباب التي قد تكون سبباً لاختلافهم في التصحيح والتضعيف.

هذا كله فيما كان محلاً للاجتهاد والنظر، وممَّا اختلف فيه أهلُ العلم قبولاً ورداً، إذ إنَّ من الأحاديث النبوية ما يُقطَع بصحَّته، وليس في ثبوتها خلاف، ومن ردَّها فقوله مردودٌ عليه.

وبيان ذلك: أنَّ الخلاف في الحكم على الأحاديث صحةً وضعفاً يتناوبُه

قِسمَا خلاف التضاد: السائغ وغير السائغ.

فالأحاديث التي أجمع المحدثون على قبولها ليست محلاً للخلاف في الاجتهاد إذ إنَّ الإجماع حجةٌ شرعيةٌ معتبرةٌ.

قال شيخ الاسلام ابن تيمية في " مجموع الفتاوى " (18/ 17): " ومن الصحيح ما تلقَّاه بالقبول والتصديق أهلُ العلم بالحديث، كجمهور أحاديث البخاري ومسلم؛ فإنَّ جميع أهلِ العلم بالحديث يَجزمون بصحة جمهور أحاديث الكتابين وسائر الناس تبع لهم فى معرفة الحديث، فإجماع أهل العلم بالحديث على أن هذا الخبر صدق كإجماع الفقهاء على أن هذا الفعل حلال أو حرام أو واجب، وإذا أجمع أهل العلم على شيء فسائر الأمة تبع لهم، فإجماعهم معصوم لا يجوز أن يجمعوا على خطأ. "

وقال أيضاً (1/ 257): "جمهور متون الصحيحين متفق عليها بين أئمة الحديث، تلقُّوها بالقبول وأجمعوا عليها، وهم يعلمون علماً قطعياً أن النبي-صلى الله عليه وسلم-قالها ".

وقال الحافظ أبو نصر الواثلي السجزي- كما في علوم الحديث صـ 38 - : " أجمع أهل العلمِ، الفقهاءُ وغيرُهم، على أنَّ رجلاً لو حلف بالطلاق أنَّ جميعَ ما في كتاب البخاري ممَّا رُوِى عن النبي صلى الله عليه وسلم، قاله لا شك فيه، أنه لا يحنث والمرأة بحالها في حبالته ".
অন্যটি এর মূল পাঠের অগ্রহণযোগ্যতার কারণে, এবং ইলমুর রিজাল ও ইলমুল ইলাল (হাদিসের ত্রুটি বিষয়ক শাস্ত্র) এর গ্রন্থসমূহে এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

এগুলো ছাড়াও এমন আরও অনেক কারণ রয়েছে যা হাদিসকে সহিহ বা জয়িফ বলার ক্ষেত্রে তাদের মতভেদের কারণ হয়ে থাকে।

এই সবকিছুই সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যেখানে ইজতিহাদ ও গবেষণার অবকাশ রয়েছে এবং যে বিষয়ে আলেমগণ গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন। কারণ, নববী হাদিসসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার বিশুদ্ধতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত এবং সেগুলোর সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি সেগুলো প্রত্যাখ্যান করবে, তার কথা তার কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

এর ব্যাখ্যা হলো: হাদিসের সহিহ বা জয়িফ হওয়ার বিধানের ক্ষেত্রে মতভেদ দুই ভাগে বিভক্ত হতে পারে:

বৈধ ও অবৈধ মতভেদের প্রকারদ্বয়।

সুতরাং যেসব হাদিস গ্রহণের ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন, সেগুলো ইজতিহাদি মতভেদের ক্ষেত্র নয়; কারণ ঐক্যমত (ইজমা) একটি গ্রহণযোগ্য শরিয়তি দলিল।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ "মাজমুউল ফাতাওয়া" (১৮/১৭) গ্রন্থে বলেছেন: "সহিহ হাদিসের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা হাদিস বিশারদগণ গ্রহণ ও সত্যায়ন করেছেন, যেমন বুখারি ও মুসলিমের অধিকাংশ হাদিস। হাদিস শাস্ত্রের সকল আলেম এই দুই কিতাবের অধিকাংশ হাদিসের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সুনিশ্চিত এবং হাদিস চেনার ক্ষেত্রে অন্যান্য মানুষ তাদের অনুসারী। সুতরাং কোনো সংবাদ সত্য হওয়ার ব্যাপারে হাদিস বিশারদদের ঐক্যমত হওয়া ঠিক তেমন, যেমন কোনো কাজ হালাল, হারাম বা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ফকিহগণের ঐক্যমত হওয়া। আর যখন আলেমগণ কোনো বিষয়ে একমত হন, তখন উম্মতের বাকিরা তাদের অনুসারী হয়। অতএব তাদের ঐক্যমত সুরক্ষিত; তারা ভুলের ওপর একমত হওয়া সম্ভব নয়।"

তিনি আরও বলেছেন (১/২৫৭): "সহিহাইনের অধিকাংশ মূল পাঠ (মতন) হাদিস ইমামদের মধ্যে সর্বসম্মত, তাঁরা এগুলো গ্রহণ করেছেন এবং এর ওপর ঐক্যমত হয়েছেন। তাঁরা নিশ্চিতভাবে জানেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এগুলো বলেছেন।"

হাফিজ আবু নাসর আল-ওয়াইলি আস-সিজজি—যেমনটি 'উলুমুল হাদিস' গ্রন্থের ৩৮ পৃষ্ঠায় এসেছে—বলেছেন: "আলেমগণ, ফকিহগণ এবং অন্যরা এই বিষয়ে ঐক্যমত হয়েছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি তালাকের শপথ করে বলে যে—বুখারি কিতাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা তিনি নিঃসন্দেহে বলেছেন—তবে তার শপথ ভঙ্গ হবে না এবং তার স্ত্রী তার বিবাহ বন্ধনেই বহাল থাকবে।"
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال أبو إسحاق الإسفراييني - كما نقله السخاوي في شرح الألفية 1/ 50 -

" وأهل الصنعة مُجمعون على أنَّ الأخبار التي اشتمل عليها الصحيحان مقطوعٌ بصحة أصولها ومتونها "

وإنما ذكرت ذلك حتى لا يظنَّ أحدٌ أنَّ كل حديثٍ مَوردٍ للخلاف في تصحيحه وتضعيفه.

وإلى مَن يقول: ما فائدة جمع مثل هذه المادة ونشرها؟

أقول له: ما ذكرُهُ ياقوت الحموي في مقدمة " معجم البُلْدان" (1/ 14): " رُبَّ راغِبٍ عن كلمةٍ غيرُهُ مُتهالِكٌ عليها، وزاهدٍ عن نُكتةٍ غيرُهُ مشغُوفٌ بها يُنْضِي الرِّكابَ إليها. "

وبعدُ،،،

فقد جمعت مادة هذا الكتاب من كُتُبٍ للشيخ الحويني - حفظه الله- مطبوعةٍ ومصفوفةٍ ومخطوطة بخط يد الشيخ وهي:

1 - الأربعون في ردع المجرم للحافظ ابن حجر، تحقيق وتخريج.

2 - تنبيه الهاجد لما وقع من النظر في كتب الأماجد، 15 مجلد.

3 - الأربعون الصغرى للإمام البيهقي، تحقيق وتخريج.

4 - الصمت لابن أبي الدنيا، تحقيق وتخريج.

5 - خصائص علي بن أبي طالب للإمام النسائي، تحقيق وتخريج.

6 - الفتاوى الحديثية (المُسمَّاة: إسعافُ اللبيث بفتاوى الحديث) في 5 مجلدات.

7 - فتاوى أبي إسحاق الحويني (المسمَّى: إقامةُ الدلائل على عموم المسائل) مجلد.

8 - فصلُ الخطاب بنقد المُغنى عن الحفظ والكتاب.

9 - جُنَّة المُرْتاب بنقد المغنى عن الحفظ والكتاب، مجلد.
আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনি বলেছেন—যেমনটি আস-সাখাবি শারহুল আলফিয়্যাহ ১/৫০-এ উদ্ধৃত করেছেন—

"এবং হাদিস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সহিহাইন (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) যে সংবাদগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে, সেগুলোর মূল ভিত্তি এবং মূল পাঠের (মতন) বিশুদ্ধতা নিশ্চিত।"

আমি এটি উল্লেখ করেছি যাতে কেউ মনে না করে যে, প্রতিটি হাদিসই তার বিশুদ্ধতা (সহিহ) বা দুর্বলতা (জইফ) নিয়ে মতভেদের ক্ষেত্র।

আর যারা বলেন: এই ধরনের বিষয়বস্তু সংগ্রহ ও প্রকাশের উপকারিতা কী?

তাদের উদ্দেশ্যে আমি তা-ই বলব যা ইয়াকুত আল-হামাউয়ি ‘মু’জামুল বুলদান’ (১/১৪)-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন: "হয়তো এমন কোনো শব্দ রয়েছে যার প্রতি কেউ অনাগ্রহী অথচ অন্য কেউ তার জন্য ব্যাকুল; আবার এমন কোনো সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে যার প্রতি কেউ উদাসীন অথচ অন্য কেউ তার প্রতি এতোটাই অনুরাগী যে, সেটি অর্জনের জন্য সে বাহনকে ক্লান্ত করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়।"

অতঃপর,,,

আমি এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু শায়খ আল-হুয়াইনি—আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন—এর গ্রন্থসমূহ থেকে সংগ্রহ করেছি, যেগুলো মুদ্রিত, কম্পোজকৃত এবং শায়খের নিজ হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে, আর সেগুলো হলো:

১ - হাফেজ ইবনে হাজার বিরচিত ‘আল-আরবাউন ফি রাদদিল মুজরিম’, তাহকিক ও তাখরিজ।

২ - ‘তানবিহুল হাজিদ লিমা ওয়াকাআ মিনান নাজার ফি কুতুবিল আমাজিদ’, ১৫ খণ্ড।

৩ - ইমাম বায়হাকি বিরচিত ‘আল-আরবাউন আস-সুগরা’, তাহকিক ও তাখরিজ।

৪ - ইবনে আবিদ দুনিয়া বিরচিত ‘আস-সামত’, তাহকিক ও তাখরিজ।

৫ - ইমাম নাসায়ি বিরচিত ‘খাসাইসু আলি ইবনে আবি তালিব’, তাহকিক ও তাখরিজ।

৬ - ‘আল-ফাতাওয়া আল-হাদিসিয়্যাহ’ (যার নাম: ইস’আফুল লাবিস বি-ফাতাওয়া আল-হাদিস), ৫ খণ্ড।

৭ - ‘ফাতাওয়া আবু ইসহাক আল-হুয়াইনি’ (যার নাম: ইকামাতুদ দালাইল আলা উমুমিল মাসাইল), ১ খণ্ড।

৮ - ‘ফাসলুল খিতাব বি-নাকদিল মুগনি আনিল হিফজি ওয়াল কিতাব’।

৯ - ‘জুননাতুল মুরতাব বি-নাকদিল মুগনি আনিল হিফজি ওয়াল কিতাব’, ১ খণ্ড।
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ২৭)
10 - فضائل القرآن لابن كثير، تحقيق وتخريج، مجلد.

11 - النافلة في الأحاديث الضعيفة والباطلة (1 و 2 و 3 و 4)

12 - رسالتان في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، تخريج.

13 - مجلسان من إملاء النسائي، تحقيق وتخريج.

14 - مجلسان من أمالي الصاحب نظام الملك، تحقيق وتخريج.

15 - تصحيح حديث القلتين للعلائي، تحقيق وتخريج.

16 - نهي الصحبة عن النزول بالركبة.

17 - فضائل فاطمة لابن شاهين، تحقيق وتخريج.

18 - البعث لابن أبي داود، تحقيق وتخريج.

19 - كشف المخبوء بثبوت حديث التسمية عند الوضوء.

20 - الأمراض والكفارات للضياء المقدسي، تحقيق وتخريج.

21 - مسند سعد للإمام البزار، تحقيق وتخريج.

22 - الفوائد المنتقاة لأبي عمرو السمرقندي، تحقيق وتخريج.

23 - تفسير ابن كثير (1 و 2)، تحقيق وتخريج.

24 - غوث المكدود بتخريج منتقى ابن الجارود (1 و 2 و 3).

25 - جُنَّة المُستغيث بشرح علل الحديث (1).

26 - دُرَّة التَّاج على صحيح مُسلِم بن الحجَّاج (1).

27 - تسلية الكظيم بتخريج أحاديث القرآن العظيم (9 أجزاء، في بعضها مواضع لم تكتمل).

28 - بذل الإحسان بتخريج سنن النسائي أبي عبد الرحمن (1 و 2).

هذا وكلُّ الأحاديث عزوتُها لمكانها في كتب شيخنا إلا آخر عشرة أحاديث، فهي من الأحاديث التي ضعَّفها شيخنا أثناء دروسه، عندما كان
১০ - ইবনে কাসীর রচিত ফাযায়িলুল কুরআন (কুরআনের ফযীলতসমূহ), তাহকীক ও তাখরীজ, এক খণ্ড।

১১ - আন-নাফিলাহ ফীল আহাদিসিজ যয়ীফাহ ওয়াল বাতিলাহ (দুর্বল ও বাতিল হাদীসসমূহের অতিরিক্ত সংগ্রহ) (১, ২, ৩ ও ৪ খণ্ড)।

১২ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পাঠ সংক্রান্ত দুটি পুস্তিকা, তাখরীজ।

১৩ - ইমাম নাসায়ীর শ্রুতিলিপি থেকে সংকলিত দুটি মজলিস, তাহকীক ও তাখরীজ।

১৪ - সাহিব নিযামুল মুলকের আমালি (শ্রুতিলিপি) থেকে দুটি মজলিস, তাহকীক ও তাখরীজ।

১৫ - আলায়ী কর্তৃক দুই মটকা পানি সংক্রান্ত হাদীসের বিশুদ্ধকরণ, তাহকীক ও তাখরীজ।

১৬ - হাঁটু গেড়ে বসার ব্যাপারে সঙ্গীদের প্রতি নিষেধ।

১৭ - ইবনে শাহীন রচিত ফাযায়িলে ফাতিমা (ফাতিমার ফযীলতসমূহ), তাহকীক ও তাখরীজ।

১৮ - ইবনে আবী দাউদ রচিত আল-বাস (পুনরুত্থান), তাহকীক ও তাখরীজ।

১৯ - ওযুর শুরুতে তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ) পাঠের হাদীস প্রমাণিত হওয়ার মাধ্যমে অপ্রকাশিত রহস্য উন্মোচন।

২০ - যিয়া আল-মাকদিসী রচিত আল-আমরায ওয়াল কাফফারাত (রোগব্যাধি ও তার কাফফারা), তাহকীক ও তাখরীজ।

২১ - ইমাম বাযযার রচিত মুসনাদে সাদ, তাহকীক ও তাখরীজ।

২২ - আবু আমর আস-সামারকান্দী কর্তৃক আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাহ (নির্বাচিত ফায়দাসমূহ), তাহকীক ও তাখরীজ।

২৩ - তাফসীরে ইবনে কাসীর (১ ও ২), তাহকীক ও তাখরীজ।

২৪ - গাওসুল মাকদুদ বিতখরীজি মুনতাকা ইবনিল জারুদ (১, ২ ও ৩)।

২৫ - জুন্নাতুল মুস্তাগীস বি-শারহি ইলালিল হাদীস (হাদীসের ত্রুটিসমূহের ব্যাখ্যার মাধ্যমে সাহায্যপ্রার্থীর ঢাল) (১)।

২৬ - দুররাতুত তাজ আলা সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (১)।

২৭ - তাসলিয়াতুল কাযীম বিতখরীজি আহাদিসিল কুরআনিল আযীম (৯ খণ্ড, যার কিছু অংশে অসম্পূর্ণ স্থান রয়েছে)।

২৮ - বাযলুল ইহসান বিতখরীজি সুনানি নাসায়ী আবি আবদির রহমান (১ ও ২)।

এই সবকটি হাদীস আমি আমাদের শায়খের কিতাবসমূহে তাদের নিজ নিজ স্থানে উদ্ধৃত করেছি, কেবল শেষ দশটি হাদীস ব্যতীত। সেগুলো এমন হাদীস যা আমাদের শায়খ তাঁর দরস চলাকালীন দুর্বল ঘোষণা করেছিলেন, যখন তিনি...
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ২৮)
يأتي إليه أسئلة فيها السؤال عن بعض أحاديث، فكان شيخنا يُرجِئ الإجابة عنها إلى الدرس الذي يليه، فيأتي وقد خرَّج الحديث وحكم عليه إما بالضعف، أو بالصحَّة، ولم يضع هذا التخريج في أيٍّ من كتبه، فذكرتُها مع بيان أن الشيخ ضعَّفها في إحدى محاضراته، وكما حدثني فضيلته بذلك.

أقولُ: قمت بقراءة هذه الكتب وعَرْضِ كل ما حكم عليه الشيخ الحُوَيني حفظه الله بالردِّ، سواء ضعَّفَه، أو استنكَرهُ، أو حكم على لفظةٍ أو اكثر بالشذوذ، أو غير ذلك من أنواع الرد، قمتُ بعرضِ ما كان هذا شأنه على كُتُب الشيخ الألباني رحمه الله، فما وجدت الشيخ الألباني يقوِّيه، سواء صحَّحه أو حسَّنه، ذكرته في كتابي هذا وما تراجع عنه تركته.

ومِن خُطَّتي في هذا الكتاب: أني أذكر الأحاديث التي ضعفها الشيخ الحويني وكان الشيخ الألباني قد قوَّاها، وكذا الأحاديث التي متنها صحيح عن صحابة أو صحابي مُعيَّن ويُضعِّفُه شيخنا عن صحابيٍّ آخر، فإذا وجدت الحديث غير مبدوء بذكر صحابِيِّه فهذا يُضعِّفُهُ شيخنا رأساً، أي أن هذا المتن عند الشيخ ضعيف، وأمَّا إن ابْتُدِأ الحديث بذكر صحابِيِّه فالشيخ يُضعِّفُهُ عن هذا الصحابي، وقد يثبت الحديث من طريق صحابة آخرين.

وأيضاً فمن الجدير بالذكر هنا أنَّ هذا الكتاب يُعَدُّ كشافاً وفهرساً للأحاديث التي قوَّاها الشيخ الألباني وضعفها الشيخ الحويني، وليس عملاً يُذكَرُ فيه أسباب تقوية الشيخ الألباني، وأسباب تضعف الشيخ الحويني؛ فإنَّ ذلك أمرٌ يطول، وبيانُه: أنَّ الشيخ الحويني في كثيرٍ من أعماله يُطيل النفس في التخريج، فمثلا قد تجد تخريج حديث في كتابه " تسلية الكظيم " استغرق قرابة الـ 80 صفحة، ثم إن الشيخ فيها لا يُخَرِّج حديثاً بسنده، بل يُخَرِّج المتن قائلاً مثلاً: " ورد هذا الحديث عن أبي هريرة وابن مسعود وابن عباس وسلمان وعائشة، ومن مُرْسل طاووس والزهري " ثم يأتي على كل حديث بالتخريج والمُناقشة، فإذا ضعَّف الشيخ الحديث من كُل طرقه، فكان يلزمُني أن أذكر
তাঁর নিকট বিভিন্ন হাদিস সম্পর্কে প্রশ্ন আসত। আমাদের শায়খ সেগুলোর উত্তর পরবর্তী পাঠ পর্যন্ত স্থগিত রাখতেন। এরপর তিনি আসতেন এমতাবস্থায় যে, তিনি হাদিসটির তাখরিজ সম্পন্ন করেছেন এবং সেটির ওপর দুর্বলতা বা বিশুদ্ধতার হুকুম প্রদান করেছেন। তিনি এই তাখরিজগুলো তাঁর কোনো কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেননি। তাই আমি সেগুলো উল্লেখ করেছি এই স্পষ্টীকরণসহ যে, শায়খ তাঁর কোনো একটি লেকচারে সেগুলোকে দুর্বল বলেছেন, যেমনটি তাঁর সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব আমাকে জানিয়েছেন।

আমি বলছি: আমি এই কিতাবগুলো পাঠ করেছি এবং শায়খ আল-হুওয়াইনী (হাফিযাহুল্লাহ) যে সকল বর্ণনার ওপর প্রত্যাখ্যানের হুকুম দিয়েছেন—চাই তিনি সেটিকে দুর্বল বলেছেন, কিংবা অগ্রহণযোগ্য বলেছেন, অথবা এর কোনো শব্দ বা একাধিক শব্দের ওপর বিচ্যুতি বা শায হওয়ার হুকুম দিয়েছেন, কিংবা প্রত্যাখ্যানের অন্য কোনো প্রকারের হুকুম দিয়েছেন—সেসবই আমি শায়খ আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবসমূহের নিরিখে যাচাই করেছি। শায়খ আল-আলবানী যে হাদিসগুলোকে শক্তিশালী করেছেন—চাই তিনি সেটিকে সহিহ বলেছেন কিংবা হাসান—সেগুলো আমি আমার এই কিতাবে উল্লেখ করেছি; আর যে সকল মত থেকে তিনি ফিরে এসেছেন, সেগুলো বর্জন করেছি।

এই কিতাবে আমার কর্মপদ্ধতি হলো: আমি সেই হাদিসগুলো উল্লেখ করছি যেগুলোকে শায়খ আল-হুওয়াইনী দুর্বল বলেছেন অথচ শায়খ আল-আলবানী সেগুলোকে শক্তিশালী করেছেন। অনুরূপভাবে সেই হাদিসগুলোও, যেগুলোর মূল পাঠ নির্দিষ্ট কোনো সাহাবী বা সাহাবীদের সূত্রে বিশুদ্ধ, কিন্তু আমাদের শায়খ অন্য কোনো সাহাবীর সূত্রে সেটিকে দুর্বল বলেছেন। সুতরাং আপনি যখন কোনো হাদিস দেখবেন যা সাহাবীর নাম উল্লেখ করে শুরু হয়নি, তবে আমাদের শায়খ সরাসরি সেটিকে দুর্বল বলেছেন, অর্থাৎ শায়খের নিকট এই মূল পাঠটিই দুর্বল। আর যদি হাদিসটি সাহাবীর নাম উল্লেখ করে শুরু হয়, তবে শায়খ কেবল ওই সাহাবীর সূত্রে সেটিকে দুর্বল বলেছেন, অথচ হাদিসটি অন্যান্য সাহাবীদের সূত্রে প্রমাণিত হতে পারে।

এছাড়া এখানে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই কিতাবটিকে সেই হাদিসসমূহের একটি নির্দেশিকা ও সূচিপত্র হিসেবে গণ্য করা হয় যেগুলোকে শায়খ আল-আলবানী শক্তিশালী করেছেন এবং শায়খ আল-হুওয়াইনী দুর্বল বলেছেন। এটি এমন কোনো কাজ নয় যেখানে শায়খ আল-আলবানীর শক্তিশালীকরণের কারণ এবং শায়খ আল-হুওয়াইনীর দুর্বল বলার কারণসমূহ উল্লেখ করা হবে; কেননা তা হবে অত্যন্ত দীর্ঘসাধ্য ব্যাপার। এর ব্যাখ্যা হলো: শায়খ আল-হুওয়াইনী তাঁর অনেক গবেষণামূলক কাজে হাদিসের উৎস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দীর্ঘ আলোচনা করেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি হয়তো তাঁর "তাসলিয়াতুল কাযীম" কিতাবে একটি হাদিসের উৎস অনুসন্ধানের আলোচনা পাবেন যা প্রায় ৮০ পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তৃত। তদুপরি, শায়খ সেখানে কেবল একটি হাদিসকে তার সূত্রসহ বিশ্লেষণ করেন না, বরং তিনি মূল পাঠটি উল্লেখ করে বলেন: "এই হাদিসটি আবু হুরায়রা, ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস, সালমান এবং আয়েশা থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং তাউস ও যুহরীর মুরসাল হিসেবেও এসেছে।" এরপর তিনি প্রতিটি সূত্রের বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা পেশ করেন। যদি শায়খ হাদিসটিকে এর সকল সূত্র থেকে দুর্বল বলেন, তবে আমার জন্য তা উল্লেখ করা আবশ্যক ছিল...
(খণ্ড: ১) আত-তিরইয়াক বি-আহাদিসিন কাওয়াহাল আলবানী ওয়া দ্বাআফাহাল হুয়াইনী আবু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ২৯)
عِلَّة تضعيف الشيخ لكل طريق على حِدَة، لذلك فعملي إنما يُفِيد في جمع الأحاديث التي اختلف الشيخان في الحكم عليها وذكر المصادر، فمن أراد معرفة الأسباب فعليه بالرجوع إلى المصادر التي ذكرتها.

وما من حديثٍ، إن شاء الله، إلا وتجد من سبق كلا الشيخين في حكمه عليه، وكُنتُ أوَدُّ أن أذكر مع كل حديثٍ مَن سبقَ الشيخ الألباني في تقويته للحديث مع ذكر مصدر كل واحد ممن قوَّاه، وكذا ذكر مَن سبقَ الشيخ الحويني في تضعيفه من العلماء مع ذكر مصدر كل واحد ممن ضعَّفه، كما تمنَّاه مني فضيلة الشيخ طارق عوض الله في تقدمته لهذا الكتاب، فإن ذلك مما يُعِين الباحث، ولعلَّي أنشط فأجمع ذلك - إن شاء الله- فيما يُستقبل.

وخصَّصتُ مادة كتابي فيما قوَّاهُ الشيخ الألبانيّ وضعَّفه الشيخ الحويني، ولعلِّي أنشطُ أيضاً فأجمع عكس ذلك، أي ما ضعَّفه الشيخ الألباني وقوَّاهُ الشيخ الحويني، وإن كنتُ وقفتُ على عِدَّة أحاديث من هذا الضرب، منها:

1 - حديث أبي هريرة مرفوعاً: " لا تسافر المرأة بريداً إلا مع ذي محرم."

يذهب الشيخ الألباني رحمه الله إلى شذوذ لفظة " بريداً " كما في:

الإرواء (3/ 17) و السلسلة الضعيفة (5727) وضعيف أبي داود (304).

بينما يراها الشيخ الحويني حفظه الله زيادة ثقة، وأنَّ الشذوذ منتفٍ، كما في تحقيقه لـ " الثاني من حديث الوزير ابن الجراح " (صـ 93 - 94).

2 - حديث ابن مسعود مرفوعاً: " إنَّ هذا القرآن مأدُبة الله تعالى، فتعلَّموا من مأدُبَته ما استطعتم، إنَّ هذا القرآن حبل الله عز وجل، وهو النور المبين، والشفاء النافع، عِصمةٌ لمن تمسَّك به، ونجاةٌ لمن تبعه، لا يَعوَجُّ فيُقَوَّمُ، ولا يَزِيغُ فيُستَعتب، ولا تنقضي عجائبه، ولا يَخْلَقُ على كثرة الرد، فاتلوه، فإن الله تعالى يأجُرُكم على تلاوته بكل حرفٍ عشر حسنات، أما إني لا أقول: ألم حرف، ولكن ألفٌ بعشر، ولامٌ بعشر، وميمٌ بعشر. "
শাইখের প্রতিটি সূত্রের পৃথকভাবে দুর্বল সাব্যস্ত করার কারণ। তাই আমার কাজ কেবল সেই হাদীসগুলো একত্রিত করার ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হবে যেগুলোর হুকুমের ব্যাপারে শাইখদ্বয় ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং সেগুলোর উৎস উল্লেখ করার ক্ষেত্রে। সুতরাং যারা কারণসমূহ জানতে চান, তাদের উচিত আমার উল্লিখিত উৎসসমূহের দিকে ফিরে যাওয়া।

ইনশাআল্লাহ, এমন কোনো হাদীস নেই যার হুকুমের ব্যাপারে শাইখদ্বয়ের পূর্বে অন্য কোনো আলেম সিদ্ধান্ত দেননি। আমার ইচ্ছা ছিল প্রতিটি হাদীসের সাথে শাইখ আলবানীর পূর্বে যারা হাদীসটিকে শক্তিশালী সাব্যস্ত করেছেন তাদের নাম এবং তাদের প্রত্যেকের উৎসের কথা উল্লেখ করা। একইভাবে শাইখ হুয়াইনীর পূর্বে যে সকল আলেম হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন তাদের নাম এবং তাদের প্রত্যেকের উৎসের কথাও উল্লেখ করার ইচ্ছা ছিল। যেমনটি সম্মানিত শাইখ তারিক ইবনে আওয়াদুল্লাহ এই বইটির ভূমিকায় আমার কাছে প্রত্যাশা করেছেন। কারণ এটি গবেষককে সাহায্য করবে। আল্লাহ চাইলে ভবিষ্যতে হয়তো আমি এই বিষয়ে সচেষ্ট হব এবং তা একত্রিত করব।

আমি আমার বইয়ের বিষয়বস্তু সেই হাদীসগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি যেগুলোকে শাইখ আলবানী শক্তিশালী বলেছেন এবং শাইখ হুয়াইনী দুর্বল বলেছেন। হয়তো আমি ভবিষ্যতে এর বিপরীতটিও একত্রিত করার উদ্যোগ নেব, অর্থাৎ যেগুলোকে শাইখ আলবানী দুর্বল বলেছেন এবং শাইখ হুয়াইনী শক্তিশালী বলেছেন। যদিও আমি এই ধরনের বেশ কিছু হাদীস পেয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত মারফূ হাদীস: "কোনো নারী যেন মাহরাম ছাড়া এক বারিদ (প্রায় ১২ মাইল) দূরত্ব সফর না করে।"

শাইখ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) "বারিদ" শব্দটিকে 'শায' (বিচ্ছিন্ন/ভুল) মনে করেন, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে:

আল-ইরওয়া (৩/ ১৭), আস-সিলসিলাতুদ দাঈফাহ (৫৭২৭) এবং দাঈফ আবু দাউদ (৩০৪)-এ।

পক্ষান্তরে শাইখ হুয়াইনী (হাফিযাহুল্লাহ) একে বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (যিয়াদাতু সিকাহ) হিসেবে মনে করেন এবং তার মতে এখানে কোনো 'শায' হওয়া বা ভুল হওয়ার বিষয়টি নেই, যেমনটি তিনি "আস-সানি মিন হাদীসিল উযীর ইবনিল জাররাহ" (পৃষ্ঠা ৯৩ - ৯৪) এর তাহকীকে উল্লেখ করেছেন।

২ - ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত মারফূ হাদীস: "নিশ্চয়ই এই কুরআন মহান আল্লাহর দস্তরখান, সুতরাং তোমরা তাঁর দস্তরখান থেকে সাধ্যমত শিক্ষা গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই এই কুরআন মহান আল্লাহর রশি, এটি সুস্পষ্ট আলো (নূর) এবং অত্যন্ত উপকারী নিরাময় (শেফা)। যে এটি আঁকড়ে ধরবে তার জন্য এটি রক্ষাকবচ এবং যে একে অনুসরণ করবে তার জন্য এটি নাজাতের উপায়। এটি আঁকাবাঁকা হবে না যে একে সোজা করতে হবে, পথভ্রষ্ট হবে না যে একে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। এর বিস্ময়কর দিকগুলো কখনো শেষ হবে না। বারবার পাঠ করার কারণে এটি জরাজীর্ণ হবে না। তোমরা এটি পাঠ করো, কেননা মহান আল্লাহ এর তিলাওয়াতের বিনিময়ে প্রতিটি অক্ষরের জন্য দশটি করে নেকি দান করবেন। সাবধান! আমি বলছি না যে 'আলিফ-লাম-মীম' একটি অক্ষর, বরং আলিফ দশ, লাম দশ এবং মীম দশ (নেকি)।"