(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: -)
الأديان والمذاهب - جامعة المدينة   (جامعة المدينة العالمية)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الأديان والمذاهب

كود المادة: GUSU5053

المرحلة: ماجستير

المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية

الناشر: جامعة المدينة العالمية

عدد الصفحات: 419

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1433

ধর্ম ও মতবাদসমূহ - আল-মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়   (আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন (মতাদর্শ ও প্রতিবাদ)


গ্রন্থ: ধর্ম ও মতবাদসমূহ

বিষয় কোড: GUSU5053

স্তর: স্নাতকোত্তর

লেখক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রমসমূহ

প্রকাশক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৩ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: -)
-[الأديان والمذاهب]-

كود المادة: GUSU5053

المرحلة: ماجستير

المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية

الناشر: جامعة المدينة العالمية

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
-[ধর্ম ও মতবাদ]-

কোর্সের কোড: GUSU5053

স্তর: মাস্টার্স

লেখক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রম

প্রকাশক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الدرس: 1 علم الأديان نشأته وأهميته وتعريفه.

بسم الله الرحمن الرحيم

الدرس الأول

(علم الأد يان نشأته وأهميته وتعريفه)

 

‌‌مقدمة عن تاريخ علم الأديان

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين، سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه الطيبين الطاهرين الغر الميامين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد:

فنحن مع مادة الأديان والمذاهب، والتي تدور في فلك أهمية دراسة علم الأديان، ومعنى الدين، ونظرات حول الرسالات السماوية، والأديان الوضعية هكذا على الجملة، ودرسنا الأول يدور حول عنصرين أساسيين أهمية دراسة الأديان وعرض سريع لتاريخ الأديان فنقول وبالله التوفيق:

أهمية دراسة الأديان:

تتأتَّى أهمية دراسة الأديان كمنهج إسلامي في الدعوة إلى الله تعالى؛ إذ يرتكز هذا المنهج في دعوة غير المسلمين إلى الإسلام على الجدال بالتي هي أحسن كما قال تعالى: {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (العنكبوت: 46) ولا يستطيع الداعية الناجح أن يدعو غير المسلمين بالتي هي أحسن إلا إذا درس ما عندهم من ديانات، ووقف على الملل والنحل التي يدين بها غير المسلمين حتى يعرف الحق من الباطل، والهدى من الضلال، فإذا علم ذلك استطاع أن يدفع الباطل، ويردَّه عن دعوته، وأن يناصر الحق والصواب على المنهج القويم الذي رسمه الله تعالى للدُّعاة إليه في قوله سبحانه وتعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} (يوسف: 108).
পাঠ: ১ ধর্মতত্ত্ব (ইলমুল আদইয়ান): এর উদ্ভব, গুরুত্ব ও সংজ্ঞা.

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

প্রথম পাঠ

(ধর্মতত্ত্ব: এর উদ্ভব, গুরুত্ব ও সংজ্ঞা)

 

ধর্মতত্ত্বের ইতিহাসের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, তাঁর পবিত্র ও পুণ্যবান পরিবার-পরিজন এবং সাহাবীগণের ওপর, এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর। অতঃপর:

আমরা এখন 'ধর্ম ও মতবাদ' (আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব) বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব, যা মূলত ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের গুরুত্ব, ধর্মের অর্থ, আসমানি বার্তাসমূহ এবং মানব রচিত ধর্মগুলোর একটি সামগ্রিক আলোচনার ওপর আলোকপাত করবে। আমাদের প্রথম পাঠটি দুটি মৌলিক বিষয়ের ওপর আবর্তিত হবে: ধর্ম পর্যালোচনার গুরুত্ব এবং ধর্মসমূহের ইতিহাসের একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা। আল্লাহর তাওফীক কামনা করে আমরা শুরু করছি:

ধর্ম পর্যালোচনার গুরুত্ব:

আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানের একটি ইসলামি পদ্ধতি হিসেবে ধর্ম পর্যালোচনার গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা, অমুসলিমদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি 'উত্তম পন্থায় আলোচনার' ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "তোমরা কিতাবধারীদের সাথে উত্তম পন্থা ছাড়া বিতর্ক করো না" (সূরা আল-আনকাবুত: ৪৬)। একজন সফল দাঈ ততক্ষণ পর্যন্ত অমুসলিমদের উত্তম পন্থায় দাওয়াত দিতে সক্ষম হবেন না, যতক্ষণ না তিনি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসগুলো অধ্যয়ন করবেন এবং অমুসলিমরা যে সকল ধর্ম ও মতাদর্শ অনুসরণ করে সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করবেন। এর মাধ্যমেই তিনি সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য এবং সঠিক পথ ও ভ্রষ্টতার স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারবেন। যখন তিনি তা জানতে পারবেন, তখন তিনি বাতিলকে প্রতিহত করতে এবং দাওয়াতের পথ থেকে তা দূর করতে সক্ষম হবেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহ তাঁর দিকে আহ্বানকারীদের জন্য যে সঠিক পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সেই পথ অনুসরণ করে তিনি সত্য ও সঠিক বিষয়ের পক্ষাবলম্বন করতে পারবেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: "বলুন, এটাই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা আল্লাহর প্রতি আহ্বান করি চাক্ষুষ প্রমাণ বা জাগ্রত জ্ঞানের ভিত্তিতে" (সূরা ইউসুফ: ১০৮)।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১০)
وتتأتَّى أيضًا أهمية هذه الدراسة على أنها واجب علمي تقتضيه الضرورة الملقاة على عاتق الدعاة إلى الله؛ إذ بهذه الدراسة يستطيع الداعية أن يُزيح الستار عن الرسالات التي تنزلت من قِبَل الحق تبارك وتعالى، خاصة التي أسدل عليها الباطل ستاره حتى ذهب بها، وجاء الناس لأنفسهم بعقائد وتشريعات جديدة تبتعد كل البعد عن دين الله وشرعه.

لذا فيجب على طالب العلم أن يكون على علم بتاريخ الأديان والمذاهب المنتشرة حوله، حتى يستطيع أن يُقارع غيره ممن يخالفونه في الدين الحجة بالحق، والبينة بالبينة، والدليل بالدليل، ويستطيع أن يؤمِّن الأجيال الحاضرة والمقبلة من خطر المنصرين، وأن يأمن على دينه مما يحيط به من أخطار وأهوال.

إذن ترتكز هذه الأهمية في أن المسلم يحافظ على دينه، ويكون على بصيرة وبينة من الأمر بمعرفة الحق من الباطل، ويحصن نفسه من خطر المنصرين.

وأما بالنسبة للداعية خاصة حتى يستطيع أن يدعو إلى الله عز وجل على بصيرة وعلم، وأن يجادل غير المسلمين بالتي هي أحسن.

عرض سريع لتاريخ علم الأديان:

حيث يدور في فلك بدايته مع العصر الفرعوني، وإلى نهاياته حيث النهضة الأوروبية، فنقول وبالله التوفيق: كلمة تاريخ الأديان كلمة معربة عن لغة الفرنجة، والتسمية بهذا الاسم مستحدثة لم تعرفها أوربا إلا عند فجر القرن التاسع عشر، على أن الحديث عن العقائد البشرية هو في جوهره شأن قديم، ومعاصر لاختلاف الناس في مللهم ونحلهم، تتسع مادته حينًا، وتضيق حينًا بمقدار تعارف أهل الأديان فيما بينهم، ووقوف
এই অধ্যয়নের গুরুত্ব এখান থেকেও ফুটে ওঠে যে, এটি আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের ওপর অর্পিত এক জ্ঞানতাত্ত্বিক আবশ্যকতা ও অনিবার্য কর্তব্য; কেননা এই অধ্যয়নের মাধ্যমেই একজন দাঈ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সেই সব আসমানি বার্তার ওপর থেকে আবরণ উন্মোচন করতে পারেন, বিশেষত যেগুলোর ওপর অসত্য বা বাতিল স্বীয় যবনিকাপাত করেছিল এবং যার ফলে সেগুলো হারিয়ে গিয়েছিল, আর মানুষ নিজেদের পক্ষ থেকে এমন সব নতুন আকিদা ও বিধিবিধান তৈরি করে নিয়েছিল যা আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর শরিয়ত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত।

তাই ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থীর জন্য তার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ধর্ম ও মতবাদসমূহের ইতিহাস সম্পর্কে অবগত হওয়া আবশ্যক, যাতে সে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে সত্যের মাধ্যমে যুক্তিতে, প্রমাণের মাধ্যমে অকাট্যতা প্রকাশে এবং দলিলের মাধ্যমে প্রামাণিকতায় শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে পারে। পাশাপাশি সে বর্তমান ও অনাগত প্রজন্মকে খ্রিস্টান মিশনারিদের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে এবং তাকে বেষ্টন করে থাকা নানাবিধ বিপদ ও ভয়াবহতা থেকে নিজের দ্বীনকে নিরাপদ রাখতে পারে।

সুতরাং এই গুরুত্বের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো মুসলিম যেন তার দ্বীনকে হেফাযত করতে পারে, হক ও বাতিলের পার্থক্যের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে গভীর প্রজ্ঞা ও সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে এবং খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের চক্রান্ত থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

বিশেষত একজন দাঈর ক্ষেত্রে এটি এই জন্য প্রয়োজনীয়, যাতে তিনি প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের সাথে মহান আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বান করতে পারেন এবং অমুসলিমদের সাথে সর্বোত্তম পন্থায় গঠনমূলক আলোচনা ও বিতর্ক করতে পারেন।

ধর্মতত্ত্বের ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা:

এর বিবর্তন ফেরাউনি যুগ থেকে শুরু হয়ে ইউরোপীয় রেনেসাঁ বা নবজাগরণ পর্যন্ত বিস্তৃত। আমরা আল্লাহর তাওফিক কামনা করে বলছি: 'ধর্মের ইতিহাস' পরিভাষাটি মূলত ইউরোপীয় ভাষা থেকে অনূদিত, আর এই নামকরণটি আধুনিক যা ঊনবিংশ শতাব্দীর ঊষালগ্ন ছাড়া ইউরোপেও পরিচিত ছিল না। তবে মানবজাতির আকিদা-বিশ্বাস নিয়ে আলোচনার বিষয়টি সারমর্মগতভাবে অত্যন্ত প্রাচীন এবং মানুষের ধর্ম ও মতাদর্শের পার্থক্যের সমসাময়িক। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের পারস্পরিক পরিচয় ও জানাশোনার পরিধি অনুযায়ী এর বিষয়বস্তু কখনও বিস্তৃত হয়েছে, আবার কখনও সংকুচিত হয়েছে এবং পর্যালোচনার...
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১১)
بعضهم على مذاهب بعض، كما يختلف طابعهم ووجهتهم مسايرة لتشعب نزعات الباحثين وأهدافهم.

ولو أننا تتبعنا سلسلة الحديث عن الأديان من عهد الفراعنة، واليونان، والرومان، والمسيحية، والإسلام؛ فالنهضة الحديثة لاستطعنا أن نتبين اختلاف صوره فيما بين العصر والعصر، بل ربما بين الفترة والفترة، فمثلًا العصر الفرعوني لم يصل إلى أيدينا سجل جامع دوَّن فيه قدماء المصريين دياناتهم وأديان غيرهم، ولكن البحوث الأخيرة أثبتت إثباتًا لا يخالطه وهم أن المصريين منذ ألوف السنين قبل ميلاد المسيح عليه السلام بدءوا يسجلون عقائدهم وعوائدهم ووقائعهم، وألوان حياتهم: أقوالًا متفرقة مسطورة في قراطيس البردي، أو منقوشة على جدران المقابر والمعابد، وأنهم تركوا إلى جانب ذلك مجموعات عظيمة من التماثيل المنحوتة، والأجساد المحنطة لملوكهم ورؤسائهم، ومقدساتهم من الطير، والحيوان، والأناسي وغيرها، وكذا صنعوا في شأن الأقاليم التي فتحوها كبلاد النوبة، وسوريا، والعراق وغيرها.

وعلى قدر سعة فتوحهم اتسعت صدورهم لمختلف العقائد، فتركوا لكل إقليم حريته في تقديس ما يشاء، واتخاذ ما يشاء من الرموز الموضعية.

أما العصر الإغريقي:

فلم يبقَ الآن مجال للشك في أن القدامى من علماء اليونان وفلاسفتهم تخرجوا في مدرسة الحضارات الشرقية، والحضارة المصرية بوجه أخص، وليس معنى هذا أن الإغريق كانوا بمثابة أوعية مصمتة نقلت علوم الشرق ومعارفه نقلًا حرفيًّا، فذلك
তাদের কেউ কেউ একে অপরের মাযহাব বা মতবাদের অনুসারী, ঠিক যেমন গবেষকদের প্রবৃত্তি ও লক্ষ্যের বহুমুখিতার সাথে সংগতি রেখে তাদের প্রকৃতি ও দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

আমরা যদি ফেরাউনদের যুগ, গ্রিক, রোমান, খ্রিষ্টধর্ম এবং ইসলাম হয়ে আধুনিক রেনেসাঁ পর্যন্ত ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক আলোচনার পরম্পরা অনুসরণ করি, তবে এক যুগ থেকে অন্য যুগে, এমনকি এক সময়কাল থেকে অন্য সময়কালের মধ্যে এর রূপের ভিন্নতা আমরা স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারব। উদাহরণস্বরূপ, ফেরাউনি যুগে প্রাচীন মিশরীয়রা তাদের নিজেদের ধর্ম এবং অন্যদের ধর্ম লিপিবদ্ধ করেছে এমন কোনো সামগ্রিক নথি আমাদের হাতে পৌঁছেনি। তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো কোনো প্রকার সংশয় ব্যতিরেকে প্রমাণ করেছে যে, ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মের হাজার বছর পূর্ব থেকেই মিশরীয়রা তাদের আকিদা-বিশ্বাস, প্রথা, ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং জীবনযাত্রার বিচিত্র দিকগুলো লিপিবদ্ধ করতে শুরু করেছিল। এগুলো ছিল প্যাপিরাস কাগজে লিখিত বিক্ষিপ্ত উক্তি অথবা সমাধি ও উপাসনালয়ের দেয়ালে খোদাইকৃত লিপি। এর পাশাপাশি তারা ভাস্কর্যের বিশাল ভাণ্ডার এবং তাদের রাজা ও প্রধানদের মমি করা দেহাবশেষ রেখে গেছে; আরও রেখে গেছে পাখি, পশু ও মানুষের মধ্য থেকে তাদের পবিত্র জ্ঞান করা বিবিধ সত্তাকে। একইভাবে তারা নূবিয়া, সিরিয়া, ইরাক এবং তাদের বিজিত অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষেত্রেও অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।

তাদের রাজ্য জয়ের বিস্তৃতির সাথে সাথে বিভিন্ন আকিদা-বিশ্বাসের প্রতি তাদের সহনশীলতাও বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফলে তারা প্রতিটি অঞ্চলকে তাদের ইচ্ছামতো পবিত্র জ্ঞান করার এবং স্থানীয় প্রতীক গ্রহণের স্বাধীনতা প্রদান করেছিল।

গ্রিক যুগের ক্ষেত্রে বলা যায়:

এখন আর এ বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, প্রাচীন গ্রিক পণ্ডিত ও দার্শনিকগণ প্রাচ্যের সভ্যতা এবং বিশেষ করে মিশরীয় সভ্যতার পাঠশালা থেকেই জ্ঞান লাভ করেছিলেন। এর অর্থ এই নয় যে, গ্রিকরা ছিল কেবল প্রাণহীন নিরেট পাত্রের ন্যায়, যারা প্রাচ্যের বিজ্ঞান ও জ্ঞানসমূহ আক্ষরিকভাবে হুবহু নকল করেছিল, বরং এটি...
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১২)
ما لا يستسيغه عقل، ولم يقم عليه دليل من صحيح النقل، ولكن المعنى أنهم لم ينشئوا هذه العلوم إنشاء على غير مثال سابق، كما ظنه بعضهم، بل وجدوا مادتها في الشرق فاقتبسوا منها وأفادوا كثيرًا.

وإن قدماء اليونان أنفسهم يذهبون إلى الاعتراف بهذه التلمذة إلى القول بأن عظماءهم أمثال فيثاغورس وأفلاطون مدينون بأرقى نظرياتهم إلى المدرسة المصرية، والناقدون المحدثون -وإن استبعدوا حصول نقل حرفي لهذه النظريات- لم يسعهم إلا التسليم بتبعية هؤلاء الفلاسفة في الدين والأخلاق للنظريات المصرية.

وفي حديثهم عن آثارهم ومعاركهم، وأخبارهم كانوا يتحدثون عن أسماء آلهتهم وآلهة خصومهم، ووصف القربات، والضحايا، والتوسلات التي يتوجه بها كل مظلوم أو مكروب إلى إلهه، وذكر ما يجري في زعمهم بين آلهة السماء؛ حيث تتشاور فيما بينها وحين تتنازع، وتنقسم آراؤها في الانتصار لهذا الفريق أو ذاك إلى غير ذلك.

ثم تطورت هذه المرحلة إلى مرحلة أخرى أكثر حيوية في تسجيل المعالم الدينية، ولكنها كانت تتسم رواياتهم بالطابع الأسطوري والتمثيلي الذي يستمدُّه الكاتب من خياله، وأسلوب تفكيره في تعليل الحوادث والنوازل، ثم يلي هذا دور الرحلات للمؤرخين الوصافين، وهذا الدور وإن كان كسابقه لم يفرد فيها للأديان تأليف مستقل؛ حيث كان الحديث عنها يمزج بالأوصاف الإقليمية وغيرها، إلا أن الاعتماد فيه كان على المشاهدات لا على التخيلات، كما أن نطاق البحث فيه كان أوسع، فقد شمل ديانات آسيا الصغرى، ومصر، وبابل، وفارس، وما يتاخمها، وامتاز أيضًا بطابع المقارنة بين معبودات
যা বিবেকবুদ্ধি গ্রাহ্য নয় এবং যার সপক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনাও বিদ্যমান নেই; বরং এর প্রকৃত অর্থ হলো—যেরূপ কেউ কেউ ধারণা করে থাকেন—তারা এই বিজ্ঞানসমূহকে কোনো পূর্ববর্তী নমুনা ছাড়াই নতুনভাবে উদ্ভাবন করেননি, বরং প্রাচ্যের দেশগুলোতে এর মূল উপাদানগুলো পেয়েছিলেন, যা থেকে তারা ব্যাপকভাবে আহরণ করেছেন এবং প্রভূত উপকৃত হয়েছেন।

এমনকি প্রাচীন গ্রিকরা নিজেরাও এই ছাত্রত্ব স্বীকার করার ক্ষেত্রে এতদূর পর্যন্ত এগিয়েছেন যে, তারা বলেছেন—পীথাগোরাস ও প্লেটোর মতো তাদের মহান ব্যক্তিরা তাদের সর্বোন্নত মতবাদগুলোর জন্য মিশরীয় ঘরানার কাছে ঋণী। আর আধুনিক সমালোচকরা—যদিও তারা এই মতবাদগুলোর হুবহু নকল হওয়ার বিষয়টিকে অসম্ভব মনে করেন—ধর্ম ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে এই দার্শনিকদের মিশরীয় মতবাদসমূহের অনুসারী হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

তারা যখন তাদের কীর্তিস্তম্ভ, যুদ্ধবিগ্রহ এবং ঘটনাবলি আলোচনা করতেন, তখন তাদের উপাস্য ও প্রতিপক্ষদের উপাস্যদের নাম, নৈবেদ্যের বর্ণনা, পশু বলিদান এবং নিপীড়িত বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাদের উপাস্যের নিকট যে প্রার্থনা জানাত, তার উল্লেখ করতেন। তারা তাদের ধারণা অনুযায়ী আসমানি উপাস্যদের মধ্যে যা ঘটত তারও উল্লেখ করতেন; কীভাবে তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করত, কখন বিবাদে লিপ্ত হতো এবং কোনো এক পক্ষকে বিজয়ী করার ক্ষেত্রে তাদের মতামত কীভাবে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ত—এরূপ আরও বহু বিষয়ের বর্ণনা থাকত।

পরবর্তীতে এই পর্যায়টি ধর্মীয় নিদর্শনসমূহ লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে আরও প্রাণবন্ত এক পর্যায়ে উন্নীত হয়; তবে তাদের বর্ণনাগুলো ছিল পৌরাণিক ও রূপকধর্মী, যা লেখক তার কল্পনাপ্রসূত চিন্তা এবং বিভিন্ন ঘটনা ও দুর্যোগের কার্যকারণ ব্যাখ্যার নিজস্ব পদ্ধতি থেকে গ্রহণ করতেন। এর পর আসে বর্ণনাধর্মী ঐতিহাসিকদের ভ্রমণকাহিনীর যুগ। যদিও এই যুগটি পূর্বের যুগের মতো ধর্মের জন্য স্বতন্ত্র কোনো রচনার জন্ম দেয়নি—কারণ এতে ধর্মীয় আলোচনাগুলো আঞ্চলিক বর্ণনা ও অন্যান্য বিষয়ের সাথে মিশে থাকত—তথাপি এর ভিত্তি ছিল কল্পনার পরিবর্তে চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণের ওপর। তদুপরি, এতে গবেষণার পরিধি ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত; যা এশিয়া মাইনর, মিশর, ব্যাবিলন, পারস্য এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহের ধর্মগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এছাড়াও এই যুগটি বিভিন্ন উপাস্যদের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনার বৈশিষ্ট্যে অনন্য ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৩)
الإغريق، ومعبودات غيرهم مقارنة تميل إلى تفضيل وجهة نظر المصريين، وإلى نقد الأخطاء التي كان يقع فيها عامتهم بسبب الاشتراك اللفظي حين يكون الاسم الواحد علمًا على إله أزلي، وعلى بطل من أبطال الشر.

ولقد كانت فتوح الإسكندر المقدوني سببًا في انفساح مجال المعرفة لأديان أخرى، حيث وصلت جيوش الإسكندر إلى الهند، وإلى جانب هذه الدراسات الوصفية لمختلف الأديان المعروفة؛ إذ ذاك، قامت دراسات نقدية فلسفية تهدف إلى تمحيص حقيقة الدين بوجه عام في ثنايا البحث عن حقائق الأشياء.

العصر الروماني:

في القرن الثاني قبل الميلاد أخضع الرومان الدولة اليونانية سياسيًّا، فأصبحت ولاية تابعة لهم بعد أن كانوا هم تبعًا لها، والعجب أنه لم يستفد الرومان من الحضارة اليونانية شيئًا يُذكر في محيط الأوساط العلمية والأدبية، لكن كان الفتح الروماني لبلاد الإغريق سببًا في اجتلاب بعض آرائهم الشائعة في العصر، كان هذا الفتح للبلاد الأسيوية والأفريقية سببًا في نقل بعض مذاهبهما الدينية إلى روما، فاشتهرت فيها بعض أسماء المعبودات مثل مترا، وبعل، وإيزيس وغيرهم.

وكان وصف هذه الديانات الواغلة مضافة إلى الأديان المحلية مجالًا لأقلام الكاتبين الرومان في القرن الأول قبل الميلاد، فكتب سيسرون عن الآراء الفلسفية في طبيعة الألوهية، وكتب فارون عن الشعائر، والعبادات الرومانية، لا بأسلوب النقد والموازنة والترجيح، بل بأسلوب التأويل والتوفيق، أو التلفيق بين الآراء المختلفة.
গ্রীক এবং অন্যান্যদের উপাস্য দেব-দেবীর মধ্যকার তুলনামূলক আলোচনায় মিশরীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি এক ধরণের পক্ষপাত পরিলক্ষিত হতো। একইসাথে সাধারণ মানুষের সেই সব ভুল-ভ্রান্তির সমালোচনা করা হতো, যা শাব্দিক অভিন্নতার কারণে সৃষ্টি হতো; বিশেষত যখন একটি নাম একইসাথে কোনো চিরন্তন উপাস্য এবং কোনো অশুভ শক্তির বীর—উভয়ের লক্ষ্যস্থল হতো।

ম্যাসেডোনিয়ার আলেকজান্ডারের দিগ্বিজয় অন্যান্য ধর্মের জ্ঞান অর্জনের পথ প্রশস্ত করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যেহেতু আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনী ভারত পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তৎকালীন পরিচিত বিভিন্ন ধর্মের এই বর্ণনামূলক পর্যালোচনার পাশাপাশি কিছু সমালোচনামূলক দার্শনিক গবেষণাও পরিচালিত হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল বস্তুনিচয়ের স্বরূপ অনুসন্ধানের সমান্তরালে সাধারণভাবে ধর্মের হাকিকত বা প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা।

রোমান যুগ:

খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে রোমানরা গ্রীক রাষ্ট্রকে রাজনৈতিকভাবে পদানত করে; ফলে গ্রীকরা একসময় যাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিল, এখন তারাই রোমানদের অধীনস্থ প্রদেশে পরিণত হয়। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, রোমানরা বিজ্ঞান ও সাহিত্যের পরিমণ্ডলে গ্রীক সভ্যতা থেকে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো সুবিধা গ্রহণ করেনি। তবে গ্রীস বিজয় তৎকালীন কিছু প্রচলিত মতবাদ গ্রহণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এশীয় ও আফ্রিকীয় ভূখণ্ড বিজয় রোমে কিছু ধর্মীয় মতাদর্শ স্থানান্তরের পথ সুগম করে, যার ফলে সেখানে মিত্রা, বাল এবং আইসিসের মতো কিছু উপাস্যের নাম প্রসিদ্ধি লাভ করে।

খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে স্থানীয় ধর্মগুলোর পাশাপাশি এই আগন্তুক ধর্মগুলোর বর্ণনা রোমান লেখকদের লেখনীর প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। সে সময় সিসারো উলুহিয়্যাত বা খোদায়ী সত্তার প্রকৃতি সম্পর্কিত দার্শনিক মতবাদ সম্পর্কে লিখেন এবং ভ্যারো রোমান রীতিনীতি ও ইবাদত পদ্ধতি সম্পর্কে গ্রন্থনা করেন। তবে তাদের পদ্ধতি সমালোচনা, তুলনা বা শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণের আদলে ছিল না, বরং তা ছিল ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, সমন্বয় সাধন অথবা ভিন্ন ভিন্ন মতের মাঝে কৃত্রিম মিলকরণের প্রয়াস।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৪)
أسلوب ينم عن التردد والحيرة، وعدم العناية بالبحث الجدي أكثر مما يعبر عن روح التسامح الديني، الذي ينسب إلى ذلك العهد، فالتعبير بالتسامح هنا تعبير غير محرم، واستنباط غير موفق من عادة اعتادها بعضهم إذ ذاك، وهي أنهم كانوا لا يلتزمون شعائر دين معين، بل يشتركون في عبادات متنوعة من ديانات شتَّى باعتبارها كلها رموز الحقيقة الواحدة، فهذا المسلك لا يدل على احترام كل متدين لديانة غيره، وهو معنى التسامح والإرضاء، بل يدل على الانحلال، وعدم الركون إلى دين ما.

العصر المسيحي:

وفي منتصف القرن الأول بعد الميلاد دخلت الدعوة المسيحية إلى أوربا في صورة دين سماوي جديد، يأبى أن ينتظم في سلك مع الأديان الوثنية السابقة، ويحاول أن يظهر عليها ويحل محلها، وكان ما كان من احتكاك وصراع، وتفاعل وامتزاج بينه وبين تلك الديانات المحلية، ثم بينه وبين المذاهب المستحدثة في عهده مثل: الديانة المانوية التي ظهرت في القرن الثالث بعد الميلاد، والفلسفة الأفلاطونية الحديثة في القرن الثالث أيضًا.

وكان ما كان من اضطهادات، ومقاومات عنيفة شنَّها أباطرة الرومان على دُعاته وأتباعه، حتى جاء الإمبراطور قسطنطين أول القرن الرابع فدعا في أول الأمر إلى المهادنة الدينية العامة، ثم أعلن المسيحية دينًا رسميًّا للدولة على الصورة التي وضعها المجمع المنعقد بأمره في نيقية سنة ثلاثمائة وخمس وعشرين ميلادية، وقد كان ألمع اسم في قائمة المدافعين عن المسيحية المعارضين للنحل الجديدة المنافسة لها، هو اسم القديس أوغسطين، وهو أسقف كان قد اعتنق المانوية قبل أن
এই শৈলীটি সেই যুগের প্রতি আরোপিত ধর্মীয় সহনশীলতার চেতনার চেয়ে বরং দ্বিধা, বিভ্রান্তি এবং নিবিড় গবেষণার অভাবকেই বেশি ফুটিয়ে তোলে। এখানে 'সহনশীলতা' শব্দটির প্রয়োগ যথাযথ নয়; বরং এটি তৎকালীন কিছু মানুষের অভ্যাসের এক ব্যর্থ অনুমান মাত্র। তাদের অভ্যাসটি ছিল এই যে, তারা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিধিবিধানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল না, বরং বিভিন্ন ধর্মের নানা ইবাদতে এই বিশ্বাসে শরিক হতো যে, এ সবই হলো একক সত্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রতীক। এই পথটি কোনো ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি কর্তৃক অন্যের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন নির্দেশ করে না—যা মূলত সহনশীলতা ও তুষ্টির প্রকৃত অর্থ—বরং এটি ধর্মীয় বিশৃঙ্খলা এবং কোনো সুনির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি আস্থাহীনতাকেই প্রকাশ করে।

খ্রিস্টীয় যুগ:

প্রথম খ্রিস্টীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে খ্রিস্টধর্মের দাওয়াত একটি নতুন আসমানি ধর্ম হিসেবে ইউরোপে প্রবেশ করে। এটি পূর্ববর্তী পৌত্তলিক ধর্মগুলোর সাথে একীভূত হতে অস্বীকার করে এবং সেগুলোর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। ফলে স্থানীয় ধর্মগুলোর সাথে এবং পরবর্তীতে তৎকালীন যুগে উদ্ভূত বিভিন্ন মতবাদ—যেমন তৃতীয় শতাব্দীতে আত্মপ্রকাশকারী মানি ধর্ম এবং একই শতাব্দীর নব্য-প্লেটোবাদী দর্শনের সাথে এর ঘাত-প্রতিঘাত, সংঘর্ষ, পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও সংমিশ্রণ ঘটে।

রোমান সম্রাটগণ এই ধর্মের প্রচারক ও অনুসারীদের ওপর প্রচণ্ড নিপীড়ন ও সহিংস প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। পরিশেষে চতুর্থ শতাব্দীর শুরুতে সম্রাট কনস্টানটাইন প্রথমে সাধারণ ধর্মীয় সন্ধির আহ্বান জানান এবং পরবর্তীতে ৩২৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নির্দেশে নাইসিয়া কাউন্সিলে নির্ধারিত রূপরেখা অনুযায়ী খ্রিস্টধর্মকে রাষ্ট্রের দাপ্তরিক ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেন। খ্রিস্টধর্মের প্রতিরক্ষা এবং এর প্রতিযোগী নতুন মতবাদগুলোর বিরোধিতাকারীদের তালিকায় সবচাইতে উজ্জ্বল নামটি হলো সেন্ট অগাস্টিন। তিনি ছিলেন একজন বিশপ, যিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের পূর্বে মানি ধর্মের অনুসারী ছিলেন এবং পরবর্তীতে...
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৫)
يعتنق المسيحية، وهو له مؤلفاته أشهرها كتاب (المدينة الإلهية) وهو أهمها، وكتاب (الاعترافات)، وكتاب (اللطف).

واستمر هذا الطابع الجدلي للعقائد هجومًا ودفاعًا، هدمًا وبناءً لا بين المسيحية وغيرها فحسب، بل بين المذاهب المسيحية أنفسها، فلم يكن هم الكاتبين تصوير العقائد المختلفة كما هي، بل كان هدف كل كاتب التماس موطن من مواطن الضعف في عقيدة خصمه لإبطالها، وإبراز ناحية من نواحي القوة في عقيدته لنصرها ونشرها.

العصر الإسلامي:

ثم ظهر الإسلام في أوائل القرن السابع الميلادي، وما هو إلا أن تمكنت دعوته في سنة ستمائة واثنين وعشرين من الميلاد، من استنشاق نسيم الحرية خارج مكة، حتى انتشرت بسرعة البرق شمالًا وجنوبًا، وشرقًا وغربًا، ولم يمض قرن واحد حتى سرت في أقطار أوربا الغربية، أسبانيا، وإيطاليا، وفرنسا حاملة معها علوم الإسلام وآدابه، وتشريعاته، مضافة إلى علوم اليونان، وفلسفتهم، مضافًا إليها ما اكتشفه العرب والمسلمون في رحلاتهم من علوم الشرق وآدابه، وما أفادوه من تجارب جديدة، ولم يكن بدعًا من الأمر أن يكون الغرب عالة على العرب في علوم الشرق، وإنما البديع والعجب العجاب أن يكون عالة عليهم في علوم أوربا نفسها، وأن يبقى كذلك حقبة مديدة من التاريخ، ولئن كان قد مضى الفتح الروماني دون أن يستفيد من الأدب اليوناني، ومضى العصر المسيحي في شغل بالجدل الديني؛ فإنه لم يفتح الغربيون عيونهم على تلك الكنوز العقلية إلا وهي في أيدي العرب والمسلمين الذين
তিনি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তাঁর অনেক রচনা রয়েছে যার মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ হলো 'দ্য সিটি অব গড' (শহরুল ইলাহি), এছাড়া রয়েছে 'কনফেশনস' (স্বীকারোক্তি) এবং 'দ্য গ্রেস' (অনুগ্রহ)।

ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এই তর্কমূলক বা বিতর্কমূলক ধারাটি আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা এবং ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে অব্যাহত থাকে। এটি কেবল খ্রিষ্টধর্ম ও অন্যান্য ধর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং খ্রিষ্টধর্মের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন মতবাদগুলোর মধ্যেও বিদ্যমান ছিল। লেখকদের মূল উদ্দেশ্য বিভিন্ন বিশ্বাসের প্রকৃত চিত্র যেমন আছে তেমনভাবে তুলে ধরা ছিল না; বরং প্রতিটি লেখকের লক্ষ্য ছিল প্রতিপক্ষের বিশ্বাসের দুর্বল দিকগুলো খুঁজে বের করে তা খণ্ডন করা এবং নিজের মতবাদের শক্তিশালী দিকগুলো ফুটিয়ে তোলা, যাতে তার বিজয় ও প্রসার নিশ্চিত হয়।

ইসলামি যুগ:

অতঃপর সপ্তম খ্রিষ্টাব্দের শুরুর দিকে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার বাইরে স্বাধীনতার সুবাতাস গ্রহণের সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই এই দাওয়াত উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিমে বিদ্যুদ্বেগে ছড়িয়ে পড়ে। এক শতাব্দী পার হওয়ার আগেই তা পশ্চিম ইউরোপের দেশসমূহ—স্পেন, ইতালি ও ফ্রান্সে পৌঁছে যায়। এটি নিজের সাথে ইসলামের বিজ্ঞান, সাহিত্য ও আইনব্যবস্থা বহন করে নিয়ে গিয়েছিল, যার সাথে গ্রিক বিজ্ঞান ও দর্শন এবং আরব ও মুসলিমদের দেশভ্রমণের মাধ্যমে অর্জিত প্রাচ্যের জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য ও নতুন অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান যুক্ত হয়েছিল। প্রাচ্যের জ্ঞান-বিজ্ঞানের জন্য পশ্চিমা বিশ্বের আরবদের ওপর নির্ভরশীল হওয়াটা কোনো অভিনব বিষয় ছিল না; বরং পরম বিস্ময়কর ও আশ্চর্যের ব্যাপার হলো স্বয়ং ইউরোপীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের জন্যও তাদের আরবদের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়েছিল এবং ইতিহাসের এক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। রোমান বিজয় যেখানে গ্রিক সাহিত্য থেকে উপকৃত হতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং খ্রিষ্টীয় যুগ যেখানে ধর্মীয় বিতর্কে মগ্ন থেকে অতিবাহিত হয়েছিল, সেখানে পশ্চিমাদের চোখ এই বুদ্ধিবৃত্তিক অমূল্য সম্পদের ওপর তখনই উন্মীলিত হয়েছিল, যখন তা আরব ও মুসলিমদের করায়ত্ত ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৬)
جاءوهم من وراء البحار في أوائل القرن الثامن، فاتحين فتوح علم وسلم، وعدالة وسماحة، لا فتوح علو وعتو، وإشباع للغرائز الجامحة، واستنزاف للدماء والثروات.

هناك هرع الناس إليهم من كل صوب ينهلون من معارفهم، وكان اليهود أول الناس انتفاعًا بهذه التلمذة، فأخذوا ينقلون هذه العلوم من العربية إلى العبرية، ثم إلى اللاتينية؛ إنما أفاده الغربيون من معارف العرب أنفسهم في الأدب والشعر، والتشريع والطب، والفلك، والتاريخ، والطبيعة والكيمياء، والجبر والتقويم، والترقيم، ومختلف الفنون والصناعات، فهو أوسع من أن نلمَّ ببعضه، ولكن الذي يعنينا هنا إنما هو أثر العرب والمسلمين في علم الأديان الذي نحن بصدده، وإنه لأثر جليل يمتاز بطابعين جديدين لم يسبق إليهم أحد فيما نعلم.

أما أحدهما: فهو أن الحديث عن الأديان بعد أن كان في العصور السابقة إما مغمورًا في لُجَّة الأحاديث عن شئون الحياة، وإما مدفوعًا في تيار البحوث النفسية أو الفلسفية أو الجدلية، أو على الأقل محدودًا بحدود العقائد الموضوعية وما يشارفها، أصبح في كتب العرب دراسة وصفية واقعية، ومنعزلة عن سائر العلوم والفنون، شاملة لكافة الأديان المعروفة في عهدهم، فكان لهم بذلك فضل السبق في تدوينه علمًا مستقلًّا قبل أن تعرفه أوربا الحديثة بعشرة قرون.

وأما الآخر فهو ليس أقل نفاسة من سابقه، فهو أنهم في وصفهم الأديان المختلفة لم يعتمدوا على الأخيلة والظنون، ولا على الأخبار المحتملة للصدق والكذب، ولا على العوائد والخزعبلات الشائعة في الطبقات الجاهلة، والتي قد تنحرف قليلًا أو كثيرًا عن حقيقة أديانها، ولكنهم كانوا يستمدون أوصافهم لكل ديانة من
তারা অষ্টম শতাব্দীর শুরুতে সমুদ্রের ওপার থেকে তাদের কাছে এসেছিল—জ্ঞান ও শান্তি, ন্যায়বিচার ও মহানুভবতার বিজয়ী হিসেবে; দম্ভ ও ঔদ্ধত্যের বিজয়ী হিসেবে নয়, কিংবা লাগামহীন প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা এবং রক্ত ও সম্পদ শোষণের জন্য নয়।

সেখানে মানুষ সকল প্রান্ত থেকে তাদের কাছে ছুটে এসেছিল তাদের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে আহরণ করতে। এই জ্ঞানার্জনের সুযোগ গ্রহণ করে ইহুদিরাই সর্বপ্রথম উপকৃত হয়েছিল; তারা এই বিজ্ঞান ও জ্ঞানসমূহ আরবি থেকে হিব্রু এবং পরবর্তীতে ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করতে শুরু করে। পশ্চিমা বিশ্ব আরবদের নিজস্ব জ্ঞানভাণ্ডার থেকে সাহিত্য, কবিতা, আইনশাস্ত্র, চিকিৎসা বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা, ইতিহাস, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, বীজগণিত, বর্ষপঞ্জি প্রণয়ন, সংখ্যাতত্ত্ব এবং বিভিন্ন শিল্প ও কারুশিল্পে যা কিছু লাভ করেছে, তা এতই বিস্তৃত যে তার সামান্য অংশও পুরোপুরি আয়ত্ত করা কঠিন। তবে আমাদের বর্তমান আলোচনার বিষয় হলো ধর্মতত্ত্ব বা ধর্মবিজ্ঞানে আরব ও মুসলমানদের প্রভাব; আর এটি একটি মহিমান্বিত প্রভাব যা দুটি নতুন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, যা আমাদের জানামতে ইতিপূর্বে কেউ অর্জন করতে পারেনি।

প্রথমত: পূর্ববর্তী যুগগুলোতে ধর্ম নিয়ে আলোচনা হয় জীবনের সাধারণ ঘটনাবলির ভিড়ে নিমজ্জিত ছিল, নয়তো মনস্তাত্ত্বিক, দার্শনিক বা তর্কমূলক বিতর্কের স্রোতে প্রবাহিত ছিল, অথবা অন্ততপক্ষে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাস ও তার আনুষঙ্গিক বিষয়াবলির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু আরবদের রচিত গ্রন্থাবলিতে এটি একটি বর্ণনামূলক ও বাস্তবধর্মী গবেষণায় পরিণত হয়েছে, যা অন্যান্য বিজ্ঞান ও কলা থেকে স্বতন্ত্র এবং তাদের যুগে পরিচিত সকল ধর্মের একটি সামগ্রিক রূপ উপস্থাপন করে। এর মাধ্যমে তারা আধুনিক ইউরোপ এই শাস্ত্রটি সম্পর্কে জানার দশ শতাব্দী আগেই একে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে সংকলিত করার অগ্রণী গৌরব অর্জন করে।

আর দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যটি পূর্ববর্তীটির চেয়ে কোনো অংশে কম মূল্যবান নয়; তা হলো বিভিন্ন ধর্মের বর্ণনার ক্ষেত্রে তারা কল্পনাপ্রসূত ধারণা বা অনুমানের ওপর নির্ভর করেননি, কিংবা সত্য-মিথ্যার সম্ভাবনাযুক্ত লোককথার ওপরও নয়, এমনকি অজ্ঞ জনসাধারণের মাঝে প্রচলিত কুসংস্কার ও প্রথাগুলোর ওপরও নয়—যা অনেক সময় সংশ্লিষ্ট ধর্মের প্রকৃত স্বরূপ থেকে কমবেশি বিচ্যুত হয়ে থাকে। বরং তারা প্রতিটি ধর্মের বর্ণনা গ্রহণ করতেন সেই ধর্মের মূল উৎস থেকে...
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৭)
مصادرها الموثوق بها، ويستقونها من منابعها الأولى، وهكذا بعد أن اختطوه علمًا مستقلًّا، اتخذوا له منهجًا علميًّا سليمًا.

ونحن ذاكرون هنا بعض أسماء المؤلفات العربية المشهورة في هذه المادة على ترتيبها التاريخي:

1 - كتاب (جمل المقالات) لأبي الحسن الأشعري المتوفى سنة ثلاثمائة وثلاثين من الهجرة في القرن العاشر الميلادي.

2 - كتاب (المقالات في أصول الديانات) للمسعودي المتوفى سنة ثلاثمائة وست وأربعين للهجرة في القرن العاشر أيضًا.

3 - كتاب (الفصل في الملل والأهواء والنحل) لابن حزم الظاهري المتوفى سنة ست وخمسين وأربعمائة هجرية في القرن الحادي عشر الميلادي.

4 - كتاب (الملل والنحل) للشهرستاني المتوفى سنة ثمان وأربعين وخمسمائة من الهجرة في القرن الحادي عشر.

5 - كتاب (اعتقادات المسلمين والمشركين) للفخر الرازي المتوفى سنة ستمائة وست من الهجرة في القرن الثاني عشر الميلادي.

6 - كتاب (تحقيق ما للهند من مقولة مقبولة في العقل أو مرذولة) للبيروني.

وهكذا، هذا بخلاف الكتب الكثيرة التي وضعت في الرد على النصارى واليهود مثالها ما كتبه القرطبي (الإعلام بما في دين النصارى من أوهام)، وما كتبه ابن تيمية في كتابه (الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح)، وما كتبه ابن القيم (هداية الحيارى في أجوبة اليهود والنصارى)، وكتاب الشيخ رحمة الله الهندي (إظهار الحق)، ورسالة لأبي عبيد الخزرجي إلى القس حنا مقار العيسوي.
এগুলোর নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ থেকে এবং এর প্রাথমিক উৎসসমূহ থেকে তারা তা আহরণ করেন। এভাবে বিষয়টিকে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে রূপদান করার পর, তারা এর জন্য একটি নির্ভুল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন।

আমরা এখানে এই বিষয়ের কিছু প্রসিদ্ধ আরবি গ্রন্থের নাম তাদের ঐতিহাসিক কালানুক্রম অনুযায়ী উল্লেখ করছি:

1 - আবুল হাসান আল-আশআরী (মৃত্যু ৩৩০ হিজরি, দশম খ্রিস্টাব্দ) রচিত 'জুমালুল মাকালাত' গ্রন্থ।

2 - আল-মাসউদী (মৃত্যু ৩৪৬ হিজরি, এটিও দশম খ্রিস্টাব্দে) রচিত 'আল-মাকালাত ফি উসুলিদ দিয়ানাত' গ্রন্থ।

3 - ইবনে হাজম আজ-জাহিরী (মৃত্যু ৪৫৬ হিজরি, একাদশ খ্রিস্টাব্দ) রচিত 'আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল' গ্রন্থ।

4 - আশ-শাহরাস্তানি (মৃত্যু ৫৪৮ হিজরি, একাদশ খ্রিস্টাব্দ) রচিত 'আল-মিলাল ওয়ান নিহাল' গ্রন্থ।

5 - ফখরুদ্দীন আর-রাজি (মৃত্যু ৬০৬ হিজরি, দ্বাদশ খ্রিস্টাব্দ) রচিত 'ইতিকাদাতুল মুসলিমিন ওয়াল মুশরিকিন' গ্রন্থ।

6 - আল-বিরুনী রচিত 'তাহকিকু মা লিল-হিন্দ মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারজুলাহ' গ্রন্থ।

এভাবে, এটি সেই অসংখ্য গ্রন্থ ব্যতিরেকে যা খ্রিস্টান ও ইহুদিদের খণ্ডনে রচিত হয়েছে। যেমন আল-কুরতুবী রচিত 'আল-ইলাম বিমা ফি দিনিন নাসারা মিন আওহাম', ইবনে তাইমিয়ার রচিত 'আল-জাওয়াবুস সহিহ লিমান বাদ্দালা দিনাল মাসিহ', ইবনে কায়্যিমের রচিত 'হিদায়াতুল হায়ারা ফি আজউবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা', শায়খ রহমতুল্লাহ আল-হিন্দির রচিত 'ইজহারুল হক' এবং যাজক হান্না মাকার আল-ঈসাভির প্রতি আবু উবাইদ আল-خাজরাজির প্রেরিত পত্র।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৮)
وهكذا، ثم توالت الكتب تترى حتى هذا العصر الحديث في كتب فاقت الحصر والعد، رسائل، وأبحاث ومسلسلات، أو سلاسل علمية كالتي كتبها الدكتور أحمد شلبي، والدكتور رءوف شلبي، والدكتور أحمد غلوش، والدكتور عبد الله سمك، والدكتور عبد الله بركات، والدكتور عمر بن عبد العزيز، مع رسائل علمية متخصصة تناولت دقائق هذا العلم وجوانبه من كل زواياه، أَفَتَرَى من الإنصاف بعد هذا أن يقال عن الإسلام: إنه لم يصنع شيئًا في تاريخ الأديان المقارنة.

ثم نأتي إلى نهضة أوربا الحديثة: بدأت أوربا الغربية في القرنين الثالث عشر والرابع عشر، تستيقظ رويدًا رويدًا، وتتلفت بأنظارها إلى الشرق الذي كان مبعث نورها، فجعلت تبعث إليه البعوث من رجال الدين الفرنسيسكان، والدومينيكان، حتى بلغوا في رحلاتهم بلاد الهند، والصين، واطلعوا على دياناتها، في القرنين الخامس عشر والسادس عشر، وهما أول العصر المسمى بعصر البعث، أو النهضة انبعثت همتها للاطلاع بنفسها على علوم اليونان وآدابهم، وفنونهم، القديمة باللغة اليونانية، وكانت باكورة نشاطها في هذا الشأن تنقيبها عن الآثار الأسطورية، وتفسير ما ترمز إليه من عقائد أو حوادث تاريخية، ولم تلبث أن ظهرت حركة الإصلاح المسيحي البروتستانتية في منتصف القرن السادس عشر، فكانت مكملة لجانب من هذه النهضة العلمية في أوربا بما مهدت له من دراسات في اللغة العبرية، واللغات السامية الأخرى؛ بغية التفهم لنصوص التوراة والإنجيل، التي كان رجال الإصلاح يتمسكون بحرفيتها.
এভাবে ধারাবাহিকভাবে গ্রন্থ রচিত হতে থাকে, এমনকি বর্তমান আধুনিক যুগ পর্যন্ত অগুনতি কিতাব, গবেষণাপত্র ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ধারাবাহিক সংকলন প্রকাশিত হয়েছে; যেমন— ডক্টর আহমদ শালবি, ডক্টর রউফ শালবি, ডক্টর আহমদ গালুশ, ডক্টর আবদুল্লাহ সামাক, ডক্টর আবদুল্লাহ বারাকাত এবং ডক্টর উমর বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক লিখিত গ্রন্থসমূহ। এর পাশাপাশি এমন সব বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র রয়েছে যা এই শাস্ত্রের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়াবলি এবং এর প্রতিটি দিক নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করেছে। এমতাবস্থায় ইসলাম সম্পর্কে এই কথা বলা কি ইনসাফসম্মত হবে যে, এটি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের ইতিহাসে কোনো অবদান রাখেনি?

অতঃপর আমরা আধুনিক ইউরোপের রেনেসাঁ বা নবজাগরণের প্রসঙ্গে আসি: ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে পশ্চিম ইউরোপ ধীরে ধীরে জাগ্রত হতে শুরু করে এবং প্রাচ্যের দিকে দৃষ্টিপাত করে, যা ছিল তার আলোকবর্তিকার উৎস। তারা ফ্রান্সিসকান ও ডোমিনিকান ধর্মযাজকদের প্রতিনিধি দল প্রাচ্যে পাঠাতে শুরু করে, এমনকি তারা তাদের ভ্রমণের মাধ্যমে ভারত ও চীন পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং সেখানকার ধর্মসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবহিত হয়। পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে—যা রেনেসাঁ বা পুনর্জাগরণ যুগের সূচনা হিসেবে পরিচিত—তাদের মধ্যে মূল গ্রিক ভাষায় প্রাচীন গ্রিক বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্পকলা সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে অবগত হওয়ার উদ্দীপনা জাগ্রত হয়। এই ক্ষেত্রে তাদের প্রারম্ভিক কর্মকাণ্ড ছিল পৌরাণিক নিদর্শনাদি অনুসন্ধান এবং সেসব নিদর্শন যে সকল বিশ্বাস বা ঐতিহাসিক ঘটনার ইঙ্গিত বহন করে তার ব্যাখ্যা প্রদান করা। অনতিবিলম্বে ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগে প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টীয় সংস্কার আন্দোলন আত্মপ্রকাশ করে, যা হিব্রু ও অন্যান্য সেমেটিক ভাষা বিষয়ক অধ্যয়নের পথ প্রশস্ত করার মাধ্যমে ইউরোপের এই বৈজ্ঞানিক নবজাগরণের একটি দিককে পূর্ণতা দান করে। এর লক্ষ্য ছিল তাওরাত ও ইঞ্জিলের সেই পাঠ্যসমূহ অনুধাবন করা, যেগুলোর আক্ষরিক অর্থের প্রতি সংস্কারবাদীরা দৃঢ়ভাবে অবিচল ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৯)
ولكنها من جانب آخر أغرقت أوربا في حمأة المنازعات والحروب الدينية التي عوقت حركة اكتشاف الأقاليم، ونشر المسيحية فيها، ولذلك بقي البروتستانت قرنين من الزمان لا يساهمون في هذه البعوث، وكان الكاثوليك من أسبان، وبرتغال، وفرنسيين، وهم القائمين إذ ذاك وحدهم بأعبائها، ثم تتابع الرحالون من الفريقين، وازدادت عنايتهم بالأقطار الجديدة في آسيا، والأيفانوسية، وأمريكا، ومجاهل أفريقيا حتى كان آخر القرن الثامن عشر، وهو الوقت الذي نشطت فيه حركة التأليف في وصف عقائد هؤلاء الأقوام، وعوائدهم، فهناك اشرأبت العقول إلى السؤال عما كانت عليه ديانة الإنسان الأول، وبذلت محاولات لتحديدها في ضوء المقايسة على ديانات هؤلاء البدائيين، كما بذلت محاولات لاستنباط الطريق الذي سارت فيه الديانات منذ نشأة الإنسان إلى اليوم، ومعرفة أسلوب تطورها، أو تولد بعضها عن بعض، ومنذ ذلك اليوم أصبح علم الأديان ذا شعبتين اثنتين: شعبة جديدة مبتكرة، وشعبة قديمة نالها شيء من التجديد.

أما الشعبة القديمة المجددة فهي تلك الدراسات الوصفية التحليلية الخاصة بملة ملة، وهي التي يمكن أن تعرفنا نشأة ديانة ما، وحياة مؤسسها، ومقومات عقائدها وعباداتها، وأسباب انتشارها، وألوان تطورها إلى غير ذلك من المعاني التي ما فتئت مجالًا لحديث الناس منذ اختلفت مذاهبهم، وهذه الشعبة هي المشهورة باسم تاريخ الأديان، ولو أنصفت التسمية لكانت تواريخ الأديان.

والتجديد الذي لحقها في العصور الحديثة يمكن تلخيصه: أنها توسعت في مادتها ووسائلها جميعًا، فهي بعد أن كانت منحصرة فيما بين البحرين الأبيض والأحمر، أعني: ملتقى القارات الثلاث، اتسعت الآن بقعتها حتى انتظمت
কিন্তু অন্যদিক থেকে এটি ইউরোপকে ধর্মীয় বিবাদ ও যুদ্ধের আবর্তে নিমজ্জিত করেছিল, যা নতুন অঞ্চল আবিষ্কার এবং সেখানে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। ফলে প্রোটেস্ট্যান্টরা দুই শতাব্দীকাল এই অভিযানগুলোতে কোনো অবদান রাখতে পারেনি; তখন স্পেনীয়, পর্তুগিজ এবং ফরাসি ক্যাথলিকরাই এককভাবে এই দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের পর্যটকদের আগমন শুরু হয় এবং এশিয়া, ওশেনিয়া, আমেরিকা ও আফ্রিকার দুর্গম অঞ্চলগুলোর প্রতি তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। আঠারো শতকের শেষভাগ নাগাদ এই জনপদগুলোর বিশ্বাস ও রীতিনীতি বর্ণনা করে গ্রন্থ রচনার আন্দোলন বেগবান হয়। তখনই মানুষের মনে আদি মানবের ধর্ম কী ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন জাগে এবং এই আদিম জাতিগুলোর ধর্মের সাথে তুলনার ভিত্তিতে তা নির্ধারণের প্রচেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি মানুষের উৎপত্তি থেকে আজ অবধি ধর্মগুলো যে পথে পরিচালিত হয়েছে তা উদ্ঘাটন এবং তাদের বিবর্তনের পদ্ধতি বা একে অপরের থেকে উদ্ভূত হওয়ার প্রক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হয়। সেই থেকে ধর্মবিজ্ঞান দুটি শাখায় বিভক্ত হয়েছে: একটি নতুন উদ্ভাবিত শাখা এবং একটি প্রাচীন শাখা যা কিছুটা সংস্কার লাভ করেছে।

সংস্কারকৃত সেই প্রাচীন শাখাটি হলো প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র বর্ণনামূলক ও বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়ন। এটি আমাদের কোনো ধর্মের উৎপত্তি, তার প্রবর্তকের জীবন, তার বিশ্বাস ও ইবাদতের মূল উপাদানসমূহ, প্রচারের কারণ এবং বিবর্তনের পর্যায়গুলো সম্পর্কে ধারণা দেয়—এমন সব বিষয় যা মানুষের মতপার্থক্যের শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। এই শাখাটিই 'ধর্মের ইতিহাস' নামে পরিচিত; যদিও যথার্থ নামকরণ করলে একে 'ধর্মসমূহের ইতিহাস' বলা উচিত ছিল।

আধুনিক যুগে এর যে সংস্কার সাধিত হয়েছে তা সংক্ষেপে এভাবে বলা যায়: এর বিষয়বস্তু এবং উপায়-উপকরণ উভয় ক্ষেত্রেই সম্প্রসারণ ঘটেছে। পূর্বে যা কেবল ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে—অর্থাৎ তিন মহাদেশের সংযোগস্থলে—সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তার পরিধি বিস্তৃত হয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছে:
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২০)
القارات الخمس، وهي كذلك، بعد أن كانت محصورة أو تكاد في نطاق الأمم المتمدنة، تناولت الشعوب الهمجية، والأمم البائدة؛ بل تطاولت إلى التنقيب عما وراء التاريخ المعروف.

وأما الشعبة الجديدة المبتكرة فهي ضرب من الدراسات النظرية، والاستنباطات الكلية التي تهدف إلى إشباع نهمة العقل في التطلع إلى أصول الأشياء، ومبادئها العامة حين تتشعب عليه جزيئاتها، وتفصيلاتها.

 

‌‌تعريف الدين

أبدأ الكلام حول معنى الدين لغة واصطلاحًا، فأقول وبالله التوفيق:

معنى الدين في اللغة: له معانٍ كثيرة، توهم الناظر إليها لأول مرة أنها متناقضة، وليس الأمر كذلك، بل عند التحقيق تجدها في غاية الانسجام فيما بينها. فقد وردت الكلمة بمعنى الملك وهو الخدمة، وبمعنى الذل أي: القهر والسلطان، أو التذلل والخضوع، وبمعنى الطاعة والاستسلام، والاعتقاد والتعبد، والمحاسبة والجزاء، والحكم والقضاء، والقهر والتدبير، والحساب والمكافأة، وكذا اسم لكل ما نعتقده، أو لكل ما يُتعبد الله عز وجل به إلى آخر هذه الكلمات التي وردت في معاجم اللغة.

والواقع أننا إذا نظرنا في اشتقاق هذه الكلمة، ووجوه تصريفها نرى من وراء هذا الاختلاف الظاهر تقاربًا شديدًا، بل صلة تامة في جوهر المعنى؛ إذ نجد أن هذه المعاني الكثيرة تعود في نهاية الأمر إلى ثلاثة معانٍ تكاد تكون متلازمة، وبيانه: أن كلمة الدين تؤخذ تارة من فعل متعدٍّ بنفسه دانه يدينه، فتكون بمعنى ملكه
পাঁচটি মহাদেশ—যা এখন বাস্তব—একদা প্রায় সম্পূর্ণভাবে সভ্য জাতিসমূহের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন তা আদিম জনগোষ্ঠী ও বিলুপ্ত জাতিসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে; এমনকি তা পরিচিত ইতিহাসের অতীত বিষয়াবলি অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও ব্যাপ্তি লাভ করেছে।

আর নতুন উদ্ভাবিত শাখাটি হলো এক প্রকার তাত্ত্বিক গবেষণা ও সামগ্রিক নির্যাস গ্রহণ, যার লক্ষ্য হলো বস্তুর মূল উৎস এবং সেগুলোর সাধারণ নীতিসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে জ্ঞানপিপাসা নিবৃত্ত করা, বিশেষ করে যখন সেগুলোর শাখা-প্রশাখা ও বিস্তারিত বিবরণ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে জটিল হয়ে পড়ে।

 

‌‌ধর্মের সংজ্ঞা

আমি ধর্মের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ সম্পর্কে আলোচনা শুরু করছি। আমি বলছি—আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফীক ও সাহায্য কাম্য:

অভিধানে ‘দ্বীন’ শব্দের অর্থ: এর বহুবিধ অর্থ রয়েছে। প্রথম দর্শনে কারো মনে হতে পারে যে অর্থগুলো একটি অন্যটির বিপরীত, কিন্তু বিষয়টি আসলে তেমন নয়; বরং সূক্ষ্ম বিচারে এগুলোর মধ্যে পরম সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। অভিধানে শব্দটি কখনো কর্তৃত্ব তথা সেবা অর্থে, কখনো হীনতা অর্থাৎ বশ্যতা ও প্রতাপ অর্থে, অথবা বিনয় ও আনুগত্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। একইভাবে এটি আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ, বিশ্বাস ও উপাসনা, হিসাব গ্রহণ ও প্রতিদান, বিচার ও ফয়সালা, জবরদস্তি ও ব্যবস্থাপনা এবং গণনা ও পুরস্কার অর্থেও এসেছে। তদুপরি আমরা যা কিছু বিশ্বাস করি অথবা যার মাধ্যমে মহান আল্লাহর ইবাদত করা হয়—তার প্রতিটি বিষয়কেও এই নামে অভিহিত করা হয়। ভাষা অভিধানগুলোতে এই ধরনের আরও অনেক শব্দের উল্লেখ রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে আমরা যদি এই শব্দের বুৎপত্তি ও রূপান্তরের ধরণগুলো পর্যবেক্ষণ করি, তবে আপাতদৃষ্ট এই পার্থক্যের পেছনে আমরা এক গভীর নিকটবর্তিতা, এমনকি মূল অর্থের ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ যোগসূত্র খুঁজে পাই। কারণ আমরা দেখতে পাই যে, এই বহুবিধ অর্থগুলো শেষ পর্যন্ত তিনটি মৌলিক অর্থের দিকে প্রত্যাবর্তন করে যা প্রায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর ব্যাখ্যা হলো: ‘দ্বীন’ শব্দটি কখনো এমন একটি সকর্মক ক্রিয়া থেকে গ্রহণ করা হয় যা সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে, যার অর্থ দাঁড়ায়—তিনি সেটির মালিক হয়েছেন বা সেটিকে আয়ত্তে এনেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২১)
وحكمه وساسه، ودبره وقهره وحاسبه، وقضى في شأنه، وجزاه وكافأه، فيدور معنى الدين هنا على معنى الملك والتصرف، والذي منه الآية الكريمة {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} (الفاتحة: 4).

وكذا اسم الله تعالى الدَّيَّان أي: الحكم والقاضي، ومنه الحديث: ((الكيس من دان نفسه)) أي: حكمها وضبطها، وتارة تكون من فعل متعدٍّ باللام دان له، فتكون بمعنى أطاعه، وخضع له؛ فالدين هنا هو الخضوع والطاعة، وكذا العبادة والورع، وكلمة الدين لله يصح أن يُفهم منها كلا المعنيين الحكم لله أو الخضوع لله، وواضح أن هذا المعنى الثاني ملازم للأول، ومطاوع له، دانه فدان له، أي: قهره على الطاعة فخضع وأطاع.

وتارة تأتي من فعل متعدٍّ للباء دان به، فيكون معناه: أنه اتخذه دينًا ومذهبًا أي: اعتقده أو اعتاده، أو تخلق به، فالدين على هذا المعنى هو المذهب والطريقة التي يسير عليها المرء نظريًّا أو عمليًّا، فالمذهب العملي لكل امرئ هو عادته وسيرته، كما يقال: هذا ديني، وديدني، والمذهب النظري عنده هو عقيدته ورأيه الذي يعتنقه، ومن ذلك قولهم دينت الرجل أي: وكلته إلى دينه، ولم أعترض عليه فيما يراه سائغًا في اعتقاده.

ولا يخفى أن هذا الاستعمال الثالث تابع أيضًا للاستعمالين قبله؛ لأن العادة أو العقيدة التي يُدان بها لها من السلطان على صاحبها ما يجعله ينقاد لها، ويلتزم اتباعها، وجملة القول في هذه المعاني اللغوية أن كلمة الدين عند العرب تُشير إلى علاقة بين طرفين يعظم أحدهما الآخر، ويخضع له، فإذا وُصف بها الطرف الأول كانت خضوعًا وانقيادًا، وإذا وصف بها الطرف الثاني كانت أمرًا وسلطانًا،
তিনি তাকে শাসন করেছেন, পরিচালনা করেছেন, সুবিন্যস্ত করেছেন, বশীভূত করেছেন, তার হিসাব নিয়েছেন, তার বিষয়ে ফয়সালা করেছেন এবং তাকে প্রতিদান ও বিনিময় প্রদান করেছেন। ফলে এখানে 'দীন' শব্দের অর্থ রাজত্ব ও কর্তৃত্বের অর্থের চারপাশে আবর্তিত হয়। পবিত্র কুরআনের আয়াত: {প্রতিদান দিবসের মালিক} (আল-ফাতিহা: ৪) এখান থেকেই এসেছে।

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর গুণবাচক নাম 'আদ-দাইয়্যান' এর অর্থ হলো: বিচারক ও ফয়সালাকারী। এ থেকেই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে: "বিচক্ষণ সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসকে শাসন করে," অর্থাৎ নফসকে নিয়ন্ত্রণ ও আয়ত্তে রাখে। কখনও এটি 'লাম' অব্যয় যোগে অকর্মক ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর অর্থ হয়: সে তার আনুগত্য করল এবং তার নিকট নতি স্বীকার করল। ফলে এখানে 'দীন' বলতে নতি স্বীকার ও আনুগত্য এবং অনুরূপভাবে ইবাদত ও পরহেজগারীকে বোঝায়। "দীন আল্লাহর জন্য" - এই বাক্যের ক্ষেত্রে উভয় অর্থ গ্রহণ করা সঠিক হতে পারে: অর্থাৎ শাসন আল্লাহর জন্য কিংবা আনুগত্য আল্লাহর জন্য। এটা স্পষ্ট যে, এই দ্বিতীয় অর্থটি প্রথমটির সাথে অবিচ্ছেদ্য এবং তার অনুগামী। তাকে আনুগত্য করতে বাধ্য করা হয়েছে, ফলে সে বশীভূত হয়েছে ও আনুগত্য করেছে।

আবার কখনও এটি 'বা' অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয়, তখন এর অর্থ হয়: সে ইহাকে ধর্ম বা পথ হিসেবে গ্রহণ করেছে অর্থাৎ বিশ্বাস করেছে অথবা অভ্যস্ত হয়েছে অথবা এটি দ্বারা নিজের চরিত্র গঠন করেছে। এই অর্থ অনুযায়ী 'দীন' হলো সেই পথ ও পদ্ধতি যা মানুষ তাত্ত্বিকভাবে বা ব্যবহারিকভাবে অনুসরণ করে। প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যবহারিক পথ হলো তার অভ্যাস ও জীবনধারা, যেমন বলা হয়: এটি আমার নীতি ও আমার চিরকালীন রীতি। আর তার নিকট তাত্ত্বিক পথ হলো তার আকিদা বা বিশ্বাস এবং সেই মতাদর্শ যা সে ধারণ করে। এ থেকেই প্রবাদ রয়েছে: "আমি লোকটিকে তার বিশ্বাসের ওপর ছেড়ে দিয়েছি," অর্থাৎ তাকে তার ধর্মবিশ্বাসের ওপর ন্যস্ত করেছি এবং তার বিশ্বাসের দৃষ্টিতে যা বৈধ মনে করে সে ব্যাপারে আমি কোনো আপত্তি করিনি।

এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই তৃতীয় প্রয়োগটিও পূর্বের দুটি প্রয়োগেরই অনুগামী; কারণ যে অভ্যাস বা বিশ্বাসের অনুগত্য করা হয়, তার ধারকের ওপর এমন এক কর্তৃত্ব বিরাজ করে যা তাকে সেটির অনুগত হতে এবং তা মেনে চলতে বাধ্য করে। এই ভাষাতাত্ত্বিক অর্থগুলোর সারকথা হলো, আরবদের নিকট 'দীন' শব্দটি এমন দুটি পক্ষের মধ্যকার সম্পর্ককে নির্দেশ করে যেখানে একজন অপরজনকে সম্মান করে এবং তার নিকট নতি স্বীকার করে। যদি প্রথম পক্ষের (অধীনস্ত) ক্ষেত্রে এটি বর্ণনা করা হয় তবে তা হবে বিনয় ও আনুগত্য, আর যদি দ্বিতীয় পক্ষের (কর্তৃত্বশীল) ক্ষেত্রে বর্ণনা করা হয় তবে তা হবে আদেশ ও কর্তৃত্ব।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২২)
وحكمًا وإلزامًا، وإذا نظرنا بها إلى الرباط الجامع بين الطرفين؛ كانت هي الدستور المنظم، والحكم الذي يرسم تلك العلاقة، أو المظهر المعبر عنها، فالكلمة تدور على معنى لزوم الانقياد، فالأول: ملزم بالانقياد، والثاني: ملتزم بالانقياد، والثالث: المبدأ الذي يلتزم بالانقياد له.

وكذا ينبغي التفرقة بين الدَّين بالفتح، والدِّين بالكسر، فالأول يتضمن في الأصل إلزامًا ماليًّا، والثاني يقتضي إلزامًا أدبيًّا. وهكذا يظهر لنا جليًّا أن هذه المادة بكل معانيها أصيلة في اللغة العربية، وما ظنه البعض من تناقضها، أو ما ظنه بعض المستشرقين من أنها دخيلة على اللغة العربية، أو معربة عن العبرية أو الفارسية فهو بعيد كل البعد، ولعلها نزعة شعوبية أُريد بها تجريد العرب من كل فضيلة حتى فضيلة البيان، التي هي أعز مفاخرهم، وبذا اتضح المقصود حول الكلمة اللغوية.

معنى الدين اصطلاحًا:

بعد بيان المعنى اللغوي لكلمة الدين نشرع في بيان معنى الدين من ناحية الاصطلاح، أو المعنى الشرعي، ولا شك أنه سيختلف معنى الدين في معناه الاصطلاحي، عند الذين يريدون وضع تعريف له، وذلك لأنه بادئ ذي بدء ستختلف وجهاتهم من حيث النظر إلى الدين، وقد تباين الناس فيه ما بين محق ومبطل، أو متبع لدين الحق وآخر باطل، ودين سماوي وآخر أرضي.
বিধান ও আবশ্যকতা হিসেবে; আর যদি আমরা একে দুই পক্ষের মধ্যকার মিলনসেতুবন্ধ হিসেবে বিবেচনা করি, তবে এটিই হলো সেই সুশৃঙ্খল সংবিধান এবং সেই বিচার যা ওই সম্পর্ককে অঙ্কিত করে অথবা যা এর বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। সুতরাং এই শব্দটির মূল অর্থ আনুগত্যের আবশ্যকতাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। প্রথম পক্ষ হলো আনুগত্যে বাধ্যকারী, দ্বিতীয় পক্ষ হলো আনুগত্য স্বীকারকারী, আর তৃতীয়টি হলো সেই মূলনীতি যার প্রতি আনুগত্য স্বীকার করা হয়।

একইভাবে 'দাইন' (উপরি-জবর যোগে) এবং 'দীন' (নিচে-জের যোগে) এর মধ্যে পার্থক্য করা উচিত। কারণ প্রথমটি মূলত আর্থিক বাধ্যবাধকতাকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং দ্বিতীয়টি নৈতিক বাধ্যবাধকতাকে দাবি করে। এভাবে আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এই মূলশব্দটি তার সমস্ত অর্থসহ আরবি ভাষায় মৌলিক। কেউ কেউ যে একে স্ববিরোধী মনে করেছেন অথবা কিছু প্রাচ্যবিদ একে আরবি ভাষায় বহিরাগত কিংবা হিব্রু বা ফারসি থেকে আসা শব্দ হিসেবে গণ্য করেছেন, তা সত্য থেকে অনেক দূরে। সম্ভবত এটি একটি 'শুউবি' প্রবণতা (আরব-বিদ্বেষী মনোভাব), যার মাধ্যমে আরবদের সকল শ্রেষ্ঠত্ব, এমনকি তাদের বাগ্মিতার শ্রেষ্ঠত্ব থেকেও—যা তাদের সবচেয়ে প্রিয় গর্বের বিষয়—বঞ্চিত করার ইচ্ছা করা হয়েছে। এভাবেই শব্দটির আভিধানিক তাৎপর্য স্পষ্ট হলো।

দীনের পারিভাষিক অর্থ:

'দীন' শব্দের আভিধানিক অর্থ বর্ণনার পর আমরা পারিভাষিক বা শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে দীনের অর্থ বর্ণনায় প্রবৃত্ত হচ্ছি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যারা দীনের সংজ্ঞা প্রদান করতে চান, তাদের নিকট এর পারিভাষিক সংজ্ঞায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হবে। কারণ শুরুতেই দীনের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মতভেদ তৈরি হবে। সত্যপন্থী ও মিথ্যাপন্থী, কিংবা সত্য দীনের অনুসারী ও বাতিল দীনের অনুসারী এবং আসমানি দীন ও পার্থিব দীনের অনুসারীদের মাঝে এ বিষয়ে মানুষের অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৩)
ولذلك جاءت تعريفات الدين متباينة سيما بين المسلمين الغربيين، فالمسلمون يعرفون الدين بأنه وضع إلهي سائق لذوي العقول السليمة باختيارهم إلى الصلاح في الحال، والفلاح في المآل، ولخصه بعضهم بقوله: "الدين وضع إلهي يشير إلى الحق في الاعتقادات، وإلى الخير في السلوك والمعاملات"، وهذا التعريف لا شك أنه ينطبق على الدين الحق، ولا يمكن تعديه إلى جنس الدين، وقد عُلم أن منه حسب الواقع والاستقراء الحق والباطل، وما انتشر من باطله أكثر بكثير مما عليه أهل الحق منهم قال تعالى: {لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ} (الكافرون: 6)، كما قال تعالى: {وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ} (الأنعام: 116)، وكذا {وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ} (يوسف: 106)، وكذلك {وَمَا أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ} (يوسف: 103) إلى آخر الآيات التي في هذا المعنى.

وأما الغربيون فلهم في تعريف الدين تعبيرات شتَّى نذكر نماذج منها يقول سيسرون: "الدين هو الرباط الذي يصل الإنسان بالله"، ويقول كانت: "الدين هو الشعور بواجباتنا من حيث كونها قائمة على أوامر إلهية"، ويقول شليلماخر: "قوام حقيقة الدين شعورنا بالحاجة والتبعية المطلقة"، ويقول الأب شاتل: "الدين هو مجموعة واجبات المخلوق نحو الخالق، وواجبات الإنسان نحو الله، ونحو الجماعة، ونحو نفسه"، ويقول روبرت سبنسر: "هو الإيمان بقوة لا يمكن تصور نهايتها الزمانية والمكانية، هذا العنصر الرئيسي في الدين"، يقول تايلور: "الدين هو الإيمان
এজন্য ধর্মের সংজ্ঞাগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে, বিশেষ করে মুসলিম ও পাশ্চাত্য চিন্তাবিদদের মধ্যে। মুসলিমগণ ধর্মকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেন যে, এটি একটি খোদায়ী বিধান যা সুস্থ বিবেকের অধিকারী ব্যক্তিদের তাদের নিজস্ব ইচ্ছায় ইহকালীন কল্যাণ এবং পরকালীন সাফল্যের দিকে পরিচালিত করে। কেউ কেউ এটিকে সংক্ষেপে এভাবে বলেছেন: "ধর্ম হলো একটি খোদায়ী বিধান যা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সত্যের এবং আচরণ ও লেনদেনের ক্ষেত্রে কল্যাণের পথ প্রদর্শন করে।" নিঃসন্দেহে এই সংজ্ঞাটি কেবল সত্য ধর্মের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং একে ধর্মের সাধারণ সংজ্ঞায় পর্যবসিত করা সম্ভব নয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি জানা গেছে যে, বাস্তবতায় সত্য ও মিথ্যা উভয় প্রকার ধর্ম বিদ্যমান এবং মিথ্যার প্রসার সত্যপন্থীদের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম এবং আমার জন্য আমার ধর্ম" (আল-কাফিরুন: ৬)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের কথা মেনে চলেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে; তারা তো কেবল ধারণারই অনুসরণ করে এবং তারা কেবল অনুমান ভিত্তিক কথা বলে" (আল-আনআম: ১১৬)। তদ্রূপ: "তাদের অধিকাংশই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, বরং তারা অংশীবাদী (মুশরিক) অবস্থায় থাকে" (ইউসুফ: ১০৬)। এছাড়া: "আপনি যতই আকাঙ্ক্ষা করুন না কেন, অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস স্থাপনকারী নয়" (ইউসুফ: ১০৩)। এই মর্মের আরও অনেক আয়াত রয়েছে।

অন্যদিকে, পাশ্চাত্য চিন্তাবিদদের ধর্মের সংজ্ঞায় বিভিন্ন অভিব্যক্তি রয়েছে, আমরা তার কিছু নমুনা উল্লেখ করছি। সিসেরো বলেন: "ধর্ম হলো সেই বন্ধন যা মানুষকে ঈশ্বরের সাথে যুক্ত করে।" কান্ট বলেন: "ধর্ম হলো আমাদের কর্তব্যানুভূতি, এই দৃষ্টিকোণ থেকে যে তা ঐশ্বরিক আদেশের ওপর প্রতিষ্ঠিত।" শ্লাইয়ারমাখার বলেন: "ধর্মের প্রকৃত স্বরূপ হলো আমাদের অভাব ও নিরঙ্কুশ পরমুখাপেক্ষিতার অনুভূতি।" ফাদার শাটেল বলেন: "ধর্ম হলো স্রষ্টার প্রতি সৃষ্টির যাবতীয় কর্তব্যের সমষ্টি, এবং আল্লাহর প্রতি, সমাজের প্রতি ও নিজের প্রতি মানুষের কর্তব্যের নাম।" রবার্ট স্পেন্সর বলেন: "ধর্ম হলো এমন এক শক্তিতে বিশ্বাস যার স্থানিক ও কালগত কোনো সীমা কল্পনা করা যায় না; এটিই ধর্মের মূল উপাদান।" টেইলর বলেন: "ধর্ম হলো বিশ্বাস...
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৪)
بكائنات روحية"، يقول ماكسملر: "الدين هو محاولة تصور ما لا يمكن تصوره، والتعبير عما لا يمكن التعبير عنه، فهو التطلع إلى اللانهائي، وهو حب الله"، ويقول إميل برنوف: "الدين هو العبادة، والعبادة هي عمل مزدوج، فهي عمل عقلي به يعترف الإنسان بقوة سامية، وعمل قلبي، أو انعطاف محبة، يتوجه به إلى رحمة تلك القوة"، ويقول ريفيل: "الدين هو توجيه الإنسان سلوكه وفقًا لشعوره بصلة بين روحه، وروح خفية، يعترف لها بالسلطان عليه، وعلى سائر العالم، ويطيب له أن يشعر باتصاله بها".

ويقول جويوه: "الديانة هي تصور المجموعة العالمية بصورة الجماعة الإنسانية، والشعور الديني هو الشعور بتبعيتنا لمشيئات أخرى، يركزها الإنسان البدائي في الكون"، ويقول ميشيل مايير: "الدين هو جملة العقائد والوصايا التي يجب أن توجهنا في سلوكنا مع الله ومع الناس، وفي حق أنفسنا"، ويقول سلفان بريسيه: "الدين هو الجانب المثالي في الحياة الإنسانية" ويقول سلمون ريناك: "الدين هو مجموعة التورعات التي تقف حاجزًا أمام الحرية المطلقة لتصرفاتنا"، ويقول إميل دور كايم: "الدين مجموعة متساندة من الاعتقادات والأعمال المتعلقة بالأشياء المقدسة أي: المعزولة المحرمة، اعتقادات أعمال تضم أتباعها في وحدة معنوية تسمى الملة".

وبعدُ: فمن هذا العرض لتعريف الدين عند العلماء الغربيين يتبين أنهم ما أرادوا حقيقة الدين، ولكن فكرة الدين أو الاعتقاد بإطلاق، أو فكرة الخضوع والاتباع من حيث هي بغضِّ النظر عن مصدرها ومنهجها، ومدى صحتها، ومما لا شك فيه أن كثيرًا من الديانات الخرافية التي هي وليدة الخيالات والأوهام كانت تنطبق عليها هذه التعاريف، ولا تخرج عن مقتضاها.
"আধ্যাত্মিক সত্তাসমূহ দ্বারা", ম্যাক্স মুলার বলেন: "ধর্ম হলো অকল্পনীয়কে কল্পনা করার এবং অনির্বচনীয়কে প্রকাশ করার একটি প্রচেষ্টা; এটি অসীমের প্রতি ব্যাকুলতা এবং ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা।" এমিল বার্নুফ বলেন: "ধর্ম হলো উপাসনা, আর উপাসনা একটি দ্বিমুখী কাজ; এটি একটি বুদ্ধিভিত্তিক কাজ যার মাধ্যমে মানুষ এক পরম শক্তিকে স্বীকার করে এবং একটি হৃদয়ঘটিত কাজ বা অনুরাগের টান, যার মাধ্যমে সে সেই শক্তির করুণার অভিমুখী হয়।" রিভিল বলেন: "ধর্ম হলো মানুষের স্বীয় আচরণকে তার আত্মা এবং এক অদৃশ্য আত্মার মধ্যকার সম্পর্কের অনুভূতির নিরিখে পরিচালিত করা, যে অদৃশ্য আত্মার আধিপত্য সে নিজের এবং সমগ্র বিশ্বের ওপর স্বীকার করে এবং যার সাথে যুক্ত থাকতে পেরে সে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।"

গুইউ বলেন: "ধর্ম হলো মহাবিশ্বকে মানবীয় সম্প্রদায়ের আদলে কল্পনা করা, আর ধর্মীয় অনুভূতি হলো অন্য কোনো ইচ্ছাশক্তির প্রতি আমাদের অধীনতার অনুভূতি, যা আদিম মানুষ মহাবিশ্বে কেন্দ্রীভূত করে দেখে।" মিশেল মায়ার বলেন: "ধর্ম হলো সেই সমস্ত বিশ্বাস ও নির্দেশনার সমষ্টি যা আল্লাহ, মানুষ এবং নিজের অধিকারের ব্যাপারে আমাদের আচরণকে পরিচালিত করে।" সিলভান ব্রিসে বলেন: "ধর্ম হলো মানবজীবনের আদর্শিক দিক।" সলোমন রিনাক বলেন: "ধর্ম হলো সেই সব বিধিনিষেধের সমষ্টি যা আমাদের আচরণের লাগামহীন স্বাধীনতার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।" এমিল ডুরখেইম বলেন: "ধর্ম হলো পবিত্র বিষয়বস্তু—অর্থাৎ যা স্বতন্ত্র ও নিষিদ্ধ—সম্পর্কিত বিশ্বাস ও কার্যাবলীর একটি সুসংবদ্ধ ব্যবস্থা; এমন সব বিশ্বাস ও কর্ম যা এর অনুসারীদের 'মিল্লাত' নামক একটি নৈতিক ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।"

পরিশেষে: পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের প্রদত্ত ধর্মের এই সংজ্ঞাগুলো থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, তারা ধর্মের প্রকৃত হাকীকত বা স্বরূপটি বোঝাতে চাননি; বরং তারা ধর্মের সাধারণ ধারণা বা বিশ্বাসের বিষয়টি ব্যক্ত করতে চেয়েছেন, অথবা উৎস, পদ্ধতি ও সত্যতা নির্বিশেষে কেবল আনুগত্য ও অনুসরণের ধারণাটি তুলে ধরেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অলীক কল্পনা ও কুসংস্কারপ্রসূত অনেক ধর্মও এই সংজ্ঞাগুলোর আওতাভুক্ত হয়ে যায় এবং এগুলোর গণ্ডি থেকে বের হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৫)
فكل ديانة تقوم على عبادة التماثيل، أو عبادة الحيوان، أو النبات، أو الكواكب، أو الجن، أو الملائكة، أو الأنبياء إلى آخره، فإنها تكون دينًا بمعناه اللغوي، وإن لم يمت إلى الدين الحق بصلة، ولم لا والقرآن قد سماها كذلك حيث يقول: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (آل عمران: 85)، ويقول: {لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ} (الكافرون: 6).

والشيء الذي لا شك فيه أن هذه التعريفات عند الغربيين متباينة، كما أنها ليست جامعة مانعة، ذلك أن منهم من جعل الدين فكرة فلسفية في أرقى صورها؛ مخالفًا بذلك بقية صوره التي عرفها عوام المتدينين، كما أنها لا تنطبق على عقيدة المشبهين ولا المجسمين، كما لم تخلُ من طرفي النقيض ما بين مضيق وموسع، ومن نظر إلى الروحانية فقط دون المادية، ومن عكس لنا القضية، ومن ذهب إلى النظرية الاعتقادية وقد أغفل الواقع، ومن عاش في الواقع وتمرغ في أوحاله دون أن يرتقي إلى النظرية أو المثالية في شيء، كما أنه لا يجوز لبعض هذه التعريفات أن تحذف مبدأ الألوهية من تعريف الدين.

ذلك، لأن قضية الألوهية هي قوام حقيقة الدين، ولا يكون الإنسان متدينًا إلا مع شعوره بالحاجة والتبعية المطلقة لقوة قاهرة أيًّا كانت، وأيًّا كان لون الخضوع لها، فهذا يسمى دينًا بغض النظر عن حقيقته وبطلانه، ولذلك كان يجب على من يتعرض لتعريف الدين أن ينظر إلى العناصر الرئيسة في العقيدة الدينية، والتي ملخصها في هذا التعريف الجامع لمعنى الدين بإطلاق، الدين: هو الاعتقاد بوجود ذات أو ذوات غيبية علوية، لها إرادة واختيار، ولها تصرف وتدبير للشئون التي تعني الإنسان؛ اعتقادًا من شأنه أن يبعث على مناجاة تلك الذات السامية في رغبة ورهبة، وفي خضوع وتمجيد.

সুতরাং প্রতিমা পূজা, অথবা পশু, উদ্ভিদ, গ্রহ-নক্ষত্র, জিন, ফেরেশতা কিংবা নবীগণের ইবাদতের ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি ধর্মই শাব্দিক অর্থে ধর্ম হিসেবে গণ্য হবে, যদিও সত্য ধর্মের সাথে তার কোনো সম্পর্ক না থাকে। আর তা হবেই না কেন, যেহেতু কুরআন এগুলোকে ধর্ম হিসেবেই অভিহিত করেছে, যেখানে বলা হয়েছে: "আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনো কবুল করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে" (আলে ইমরান: ৮৫)। এবং তিনি আরও বলেছেন: "তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম এবং আমার জন্য আমার ধর্ম" (আল-কাফিরুন: ৬)।

নিসন্দেহে পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের নিকট এই সংজ্ঞাগুলো বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং এগুলো পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। কারণ তাদের মধ্যে কেউ কেউ ধর্মকে তার সর্বোচ্চ রূপে একটি দার্শনিক ধারণা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, যা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের নিকট পরিচিত রূপের পরিপন্থী। আবার এই সংজ্ঞাগুলো সাদৃশ্যবাদী বা দেহবাদী মতবাদের ওপর প্রযোজ্য হয় না। তদুপরি, এই সংজ্ঞাগুলো সংকীর্ণতা ও প্রশস্ততার দুই বিপরীত প্রান্তের ত্রুটি থেকে মুক্ত নয়। কেউ শুধু আধ্যাত্মিকতার দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন পার্থিবতাকে উপেক্ষা করে, কেউবা এর উল্টো করেছেন। আবার কেউ বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে কেবল তাত্ত্বিক বিশ্বাসের দিকে ঝুঁকেছেন, আবার কেউ বাস্তবতার পঙ্কিল আবর্তে এমনভাবে নিমজ্জিত হয়েছেন যে কোনো তত্ত্ব বা আদর্শের উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি। এছাড়া ধর্মের সংজ্ঞা থেকে উপাস্যত্বের মূলনীতি বাদ দেওয়া এই সংজ্ঞাগুলোর কোনোটির জন্যই সংগত নয়।

এর কারণ হলো, উপাস্যত্বের বিষয়টিই হলো ধর্মের প্রকৃত সত্তার মূল ভিত্তি। মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত ধর্মপ্রাণ হতে পারে না, যতক্ষণ না সে কোনো এক পরাক্রমশালী শক্তির প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া এবং তার প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে; সেই শক্তি যা-ই হোক না কেন এবং তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশের ধরন যে রূপেরই হোক না কেন। একে ধর্ম হিসেবেই নামকরণ করা হয়, তা সত্য হোক বা মিথ্যা। আর একারণেই যারা ধর্মের সংজ্ঞা প্রদান করেন, তাদের উচিত ধর্মীয় বিশ্বাসের মূল উপাদানগুলোর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া, যার সারসংক্ষেপ ধর্মের এই সর্বজনীন সংজ্ঞায় নিহিত: ধর্ম হলো এমন এক বা একাধিক অদৃশ্য ও সুউচ্চ সত্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করা, যাঁর ইচ্ছা ও নির্বাচন করার ক্ষমতা রয়েছে এবং মানুষের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলিতে যাঁর নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার সামর্থ্য রয়েছে; এমন এক বিশ্বাস যা সেই সুউচ্চ সত্তার নিকট আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এবং বিনয় ও মহিমা কীর্তনের মাধ্যমে প্রার্থনা করতে উদ্বুদ্ধ করে।

(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৬)
وبعبارة موجزة: هو الإيمان بالذات الإلهية، جديرة بالطاعة والعبادة، فهذا الدين من حيث هو حالة نفسية بمعنى التدين، أما إذا نظرنا إليه من حيث هو حقيقة خارجة فنقول: هو جملة النواميس النظرية التي تُحدد صفات تلك القوة الإلهية، وجملة القواعد العملية التي ترسم طريق عبادتها.

وبعد تعريف الدين لغةً واصطلاحًا عند علماء المسلمين، وعند علماء الغربيين، نذكر عناصر الدين، عناصر الدين أربعة، من أجل أن يكون الدين حقًا أو إلهيًّا لا بد وأن يشتمل على أربعة عناصر:

الأول: المصدر، وهو الله -جل شأنه- يقول الله تعالى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجَا} (الكهف: 1).

الثاني: الوحي الذي يكون وساطة بين الله وعباده كما قال تعالى: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَعِيسَى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهَارُونَ وَسُلَيْمَانَ وَآتَيْنَا دَاوُدَ زَبُورًا} (النساء: 163)، كما قال تعالى مخاطبًا نبيه عليه الصلاة والسلام: {حم عسق * كَذَلِكَ يُوحِي إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ اللَّهُ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} (الشورى: 1: 3).

الثالث: الموحى به، وهو المنهج، أو الدين يقول الله تعالى: {وَاتَّبِعْ مَا يُوحَى إِلَيْكَ وَاصْبِرْ حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ وَهُوَ خَيْرُ الْحَاكِمِينَ} (يونس: 109)، ويقول أيضًا: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا} (الشورى: 7).

الرابع: الموحى إليه، وهم الأنبياء والرسل على النبيين -وعليهم أفضل الصلاة وأزكى السلام- يقول الله تعالى: {وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًّا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ * وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ
সংক্ষেপে বলতে গেলে: এটি হলো ঐশী সত্তার প্রতি ঈমান, যিনি আনুগত্য ও ইবাদতের যোগ্য। সুতরাং এই দ্বীন বা ধর্ম যখন মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বা ধার্মিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়, তখন এটি এক বিষয়। তবে আমরা যদি একে একটি বাহ্যিক বাস্তবতা হিসেবে দেখি, তবে বলব: এটি হলো সেই তাত্ত্বিক বিধানাবলির সমষ্টি যা ওই ঐশী শক্তির গুণাবলি নির্ধারণ করে এবং সেই ব্যবহারিক নিয়মাবলির সমষ্টি যা তাঁর ইবাদতের পথ অঙ্কন করে।

মুসলিম ও পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের নিকট দ্বীনের শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদানের পর, আমরা দ্বীনের উপাদানসমূহ উল্লেখ করছি। দ্বীনের উপাদান চারটি। একটি দ্বীন সত্য বা ঐশী হওয়ার জন্য তাতে অবশ্যই চারটি উপাদান অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে:

প্রথম: উৎস, আর তিনি হলেন আল্লাহ—তাঁর মহিমা কীর্তিত হোক। মহান আল্লাহ বলেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।" (আল-কাহফ: ১)।

দ্বিতীয়: ওহী, যা আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট ওহী প্রেরণ করেছি যেমন ওহী প্রেরণ করেছিলাম নূহ ও তাঁর পরবর্তী নবীগণের নিকট; এবং ওহী প্রেরণ করেছিলাম ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাঁর বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ূব, ইউনুস, হারূন ও সুলাইমানের নিকট; আর আমি দাউদকে যাবুর দান করেছি।" (আন-নিসা: ১৬৩)। মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে (তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সম্বোধন করে আরও বলেন: "হা-মীম, আইন-সীন-কাফ। এভাবেই পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহ আপনার নিকট ও আপনার পূর্ববর্তীদের নিকট ওহী প্রেরণ করেন।" (আশ-শূরা: ১-৩)।

তৃতীয়: যা অবতীর্ণ হয়েছে, অর্থাৎ জীবনবিধান বা দ্বীন। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আপনার নিকট যা ওহী করা হয় আপনি তার অনুসরণ করুন এবং ধৈর্য ধারণ করুন যতক্ষণ না আল্লাহ ফয়সালা করেন; আর তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।" (ইউনুস: ১০৯)। তিনি আরও বলেন: "আর এভাবেই আমি আপনার নিকট আরবি ভাষায় কুরআন ওহী করেছি যাতে আপনি উম্মুল কুরা (মক্কা) ও তার চারপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক করতে পারেন।" (আশ-শূরা: ৭)।

চতুর্থ: যাঁদের নিকট ওহী পাঠানো হয়েছে, অর্থাৎ নবী ও রাসূলগণ। নবীগণের ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর সর্বোত্তম রহমত ও পবিত্রতম শান্তি বর্ষিত হোক। মহান আল্লাহ বলেন: "কোনো মানুষের জন্য এমন হওয়ার অবকাশ নেই যে আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ব্যতীত অথবা পর্দার আড়াল থেকে কিংবা কোনো দূত পাঠানোর মাধ্যমে, ফলে সে তাঁর অনুমতিক্রমে যা তিনি চান তা ওহী হিসেবে পৌঁছায়। নিশ্চয়ই তিনি সুউচ্চ, প্রজ্ঞাময়। আর এভাবেই আমি আপনার নিকট আমার নির্দেশ থেকে রুহ (ওহী) প্রেরণ করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী আর ঈমান কী। কিন্তু আমি একে করেছি নূর (আলো), যার মাধ্যমে আমি পথ প্রদর্শন করি যাকে..."
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৭)
نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ * صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ أَلَا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الْأُمُورُ} (الشورى:51: 53).

فكل دين ليس له، أو فيه مصدر الألوهية، فليس من الجيد أن يُسمى دينًا صحيحًا، فإذا أخذ الدين عن طريق الفكر الفلسفي المحض، أو له مزيج من الدين الذي لا يمكن أن يجد له نصًّا معصومًا، وإذا فقد الدين الوحي أو النبوة مثل نحلة المسيحية، فليست دينًا صحيحًا؛ لأن قولهم إن عيسى ابن الله ينفي عنه النبوة، وبانتفاء النبوة ينتفي عنصر من عناصر الدين الصحيح، فلا تبقى المسيحية متصفة بأنها دين من عند الله تعالى، وهكذا، فكل دين لا يشتمل على العناصر الأربعة المذكورة فقد انخرم فيه خرم، ينفي عنه صفة الدين الحق الذي هو من عند الله تعالى.

هذا، وإن كان القرآن قد استعمل لفظ الدين بمعناه الشامل الذي تندرج فيه نحل ومعتقدات المشركين، كما في قوله تعالى: {لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ} (الكافرون: 6) فإن القرآن قرر في أمر الدين أصولًا جعلت للدين معنى شرعًا خاصًّا، فالدين لا يكون إلا وحيًّا من الله إلى أنبيائه الذين يختارهم من عباده، ويرسلهم أئمة يهدون بأمر الله، فالدين الإلهي نظام كامل شامل يشمل الفرد والأسرة، والمجتمع، والدولة، وليس فقط طقوسًا دينية، ولا كهنوتية وجدانية، بل هو نظم كاملة للروح والجسد، والدنيا والآخرة معًا، ومن فسر الدين بغير هذا فهو ليس دين الإسلام، ولكنه دينه هو، وبذلك تفترق صفات الدين الحق الذي هو دين الله عن صفات دين الشرك والأصنام والأهواء، ونحن قد رضينا بالله تعالى ربًّا وبالإسلام دينًا، وبمحمد صلى الله عليه وسلم نبيًّا ورسولًا.
...যাকে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে ইচ্ছা করি। আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করেন—আল্লাহর পথ, যাঁর মালিকানায় আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা সবই তাঁর। জেনে রেখো, সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়। (আশ-শূরা: ৫১-৫৩)।

সুতরাং যে কোনো ধর্ম যার কোনো ঐশ্বরিক উৎস নেই, কিংবা যাতে প্রভুত্বের উৎস অনুপস্থিত, তাকে সঠিক ধর্ম হিসেবে অভিহিত করা সংগত নয়। যদি ধর্ম নিছক দার্শনিক চিন্তাপ্রসূত হয়, অথবা এতে এমন ধর্মের সংমিশ্রণ থাকে যার কোনো সংরক্ষিত ও অভ্রান্ত পাঠ খুঁজে পাওয়া যায় না, আর যদি ধর্মটি ওহী বা নবুওয়াত-বিবর্জিত হয়—যেমন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়—তবে তা সঠিক ধর্ম নয়। কারণ তাদের এই দাবি যে, ‘ঈসা আল্লাহর পুত্র’, তা মূলত তাঁর নবুওয়াতকেই নাকচ করে দেয়। আর নবুওয়াত নাকচ হওয়ার মাধ্যমে সঠিক ধর্মের একটি মূল উপাদান বিলুপ্ত হয়, ফলে খ্রিষ্টধর্ম মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ধর্ম হিসেবে আর অবশিষ্ট থাকে না। এভাবেই, যে ধর্ম উল্লিখিত চারটি উপাদানের কোনো একটিকেও অন্তর্ভুক্ত করে না, তাতে এমন ত্রুটি প্রবিষ্ট হয় যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ‘সত্য ধর্ম’ হওয়ার বৈশিষ্ট্যকে খণ্ডন করে দেয়।

এছাড়া, যদিও কুরআন ‘দ্বীন’ শব্দটিকে তার ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেছে—যার আওতায় মুশরিকদের মতবাদ ও বিশ্বাসসমূহও অন্তর্ভুক্ত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্য আমার দ্বীন} (আল-কাফিরূন: ৬)—তবুও কুরআন দ্বীনের ক্ষেত্রে এমন কিছু মূলনীতি স্থির করেছে যা দ্বীনকে একটি বিশেষ শরয়ী তাৎপর্য প্রদান করেছে। সুতরাং দ্বীন কেবল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নির্বাচিত বান্দা ও নবীদের প্রতি প্রেরিত ওহীর নাম, যাদের তিনি তাঁর আদেশে হিদায়াতকারী ইমাম হিসেবে প্রেরণ করেন। অতএব, খোদায়ী দ্বীন হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক জীবনব্যবস্থা যা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে শামিল করে; এটি কেবল কতগুলো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান কিংবা আধ্যাত্মিক পৌরহিত্য নয়, বরং এটি আত্মা ও দেহ এবং দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের জন্য এক সুসমন্বিত বিধান। যে ব্যক্তি দ্বীনের ব্যাখ্যা এর বাইরে করে, তা ইসলামের দ্বীন নয়, বরং তা তার নিজের উদ্ভাবিত ধর্ম। আর এভাবেই সত্য দ্বীনের (যা আল্লাহর দ্বীন) গুণাবলি শিরক, মূর্তিপূজা ও খেয়াল-খুশির ধর্মের গুণাবলি থেকে পৃথক হয়ে যায়। আমরা মহান আল্লাহকে প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী ও রাসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌وحدة الدين

الحديث عن وحدة الدين:

دين الله عز وجل يجمع أشتات الناس على وحدة العمل، ووحدة التوجه، ووحدة الغاية والهدف، وصولًا إلى وحدة المصير، ولهذا فحري به أن يكون واحدًا، وهو كذلك، فمرد الاعتقاد واحد، ومن اسمه يتحدد رسمه {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} (آل عمران: 19) فهو يأمرنا ونحن نسلم بما أمر به، ألا نناقش، ولا نجادل، ولا نحاور.

قد تختلف أشكال العبادة من شريعة إلى أخرى، ولكن ذلك لا يمنع من أن ما أمر الله به آدم منذ خلقه هو هو ما أمر به محمدًا صلى الله عليه وآله وسلم، ولا نزال نأتمر به إلى اليوم، وإلى أن يرث الله الأرض ومن عليها، وإنما نقصد بوحدة الدين وحدته الموضوعية، فإن الأمر فيه بالاعتقاد واحد، ورد الأمر فيه إلى واحد، فإن المراد بالتدين هو إنسان ذلك العصر، وهو هو الإنسان الأول آدم، ولعل هذا السر الذي جعل جُلَّ خطاب الوحي إليه بهذه الصفة يا بني آدم، أو يا ابن آدم، كما أن تكوينه الروحي لا يختلف عن تكوين آدم الروحي {الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ وَبَدَأَ خَلْقَ الْإِنْسَانِ مِنْ طِينٍ * ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَهُ مِنْ سُلَالَةٍ مِنْ مَاءٍ مَهِينٍ * ثُمَّ سَوَّاهُ وَنَفَخَ فِيهِ مِنْ رُوحِهِ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ قَلِيلًا مَا تَشْكُرُونَ} (السجدة: 7 - 9) إن آدم أول نبي، ولم يترقَ الإنسان في عقائده كما ترقى في العلوم والصناعات، ولم تكن عقائده الأولى مساوية لحياته الأولى، كما يزعم أصحاب فكرة التطور.
দ্বীনের একত্ব

দ্বীনের একত্ব প্রসঙ্গে আলোচনা:

মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর দ্বীন মানুষের সকল বিচ্ছিন্নতাকে কর্মের ঐক্য, লক্ষ্যের ঐক্য এবং উদ্দেশ্যের ঐক্যের ভিত্তিতে সমবেত করে, যা শেষ পর্যন্ত পরিণতির ঐক্যের দিকে নিয়ে যায়। আর এ কারণেই দ্বীন এক হওয়া বাঞ্ছনীয়, এবং বাস্তবে তা-ই। বিশ্বাসের মূল উৎস এক, আর তাঁর নাম হতেই এর রূপরেখা নির্ধারিত হয়: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম" (আল-ইমরান: ১৯)। তিনি আমাদের নির্দেশ দেন এবং আমরা তাঁর নির্দেশের সামনে আত্মসমর্পণ করি; আমাদের জন্য সমীচীন নয় এ নিয়ে কোনো বিতর্ক, বিবাদ বা বাদানুবাদে লিপ্ত হওয়া।

এক শরিয়ত থেকে অন্য শরিয়তে ইবাদতের পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তা এই বিষয়টিকে নাকচ করে না যে, আল্লাহ তাআলা আদমকে সৃষ্টির সূচনা থেকে যা আদেশ করেছিলেন, হুবহু তা-ই তিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে নির্দেশ করেছেন। আমরা আজও সেই নির্দেশের অনুসারী এবং আল্লাহর এই পৃথিবী ও এর ওপর বিচরণশীলদের উত্তরাধিকারী হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। দ্বীনের একত্ব বলতে আমরা এর বিষয়বস্তুগত ঐক্যকেই বুঝিয়ে থাকি, কেননা এতে বিশ্বাসের মূল আদেশ এক এবং এই নির্দেশের প্রত্যাবর্তনও এক সত্তার দিকে। আর দ্বীনদারির লক্ষ্য হলো সেই যুগের মানুষ, যে মূলত সেই আদি মানব আদমেরই প্রতিচ্ছবি। সম্ভবত এই রহস্যের কারণেই ওহীর অধিকাংশ সম্বোধন তাঁর প্রতি 'হে বনী আদম' বা 'হে আদম সন্তান' হিসেবে এসেছে। তদুপরি মানুষের আধ্যাত্মিক গঠন আদমের আধ্যাত্মিক গঠন থেকে ভিন্ন নয়: "যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে অতি উত্তম করেছেন এবং কাদা মাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশধারা এক তুচ্ছ তরল পদার্থের নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি তাকে সুসামঞ্জস্য করেছেন এবং তাঁর রূহ থেকে তাতে ফুঁকে দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তঃকরণ সৃষ্টি করেছেন; তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো" (আস-সাজদাহ: ৭ - ৯)। নিশ্চয়ই আদম প্রথম নবী ছিলেন। মানুষ তার আকিদা ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সেভাবে বিবর্তিত বা উন্নত হয়নি যেভাবে সে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নতি লাভ করেছে। বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী মানুষের আদি আকিদা তার আদিম জীবনের মতো অপরিণত ছিল না।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৯)
ابتدأ التاريخ البشري بإنسان فيه كل خصائص الإنسان، وفيه جميع عناصر المادية والروحية، وصورة من كل إنسان، من ولده جاء بعد ذلك، وهو صورة لآخر فرد يولد في هذه الحياة، أول إنسان كآخر إنسان خلق من تراب فيه كل عناصر الأرض، وابتدأ التاريخ البشري بنبي جاء بالدين نفسه الذي جاء به آخر نبي، وخاتم الرسل -عليهم الصلاة والسلام.

ووحدة الدين إنما تبدو من خلال قاعدتين أساسيتين: وحدة الموضوعية في دعوة الناس جميعًا إلى رب واحد لم يخالف في ذلك نبي من الأنبياء، ورسول من الرسل دعوة إلى التوحيد الخالص منذ آدم عليه السلام حتى ختم الرسالات {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} (الأنبياء: 25)، فدعوة التوحيد هي الأصل الذي جاءت به رسالات السماء، وما الشرك والتعدد إلا مخالفة، واستثناء، كما أعلن جميع الأنبياء عن إسلامهم لله رب العالمين.

والقاعدة الثانية: وحدة التنظيم، فإن الأنبياء جميعًا يدعون أقوامهم إلى انتهاج منهج واحد في أسلوب حياتهم، فالتشريع في الدين منذ آدم، وإلى آخر الأنبياء في الأصل واحد {ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} (الجاثية: 18) ومثاله العبادات في أصولها، وإن اختلفت طرق الأداء والكيفيات، وكذا تنظيم العلاقات، والحض على مكارم الأخلاق، وحسن المعاملات {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} (المائدة: 48).

وبذلك أتم الله النعمة، وأكمل الدين بخاتم النبيين -عليه أفضل الصلاة وأزكى التسليم، وقال الله جل وعلا: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} (المائدة: 3)، وبذا يستبين لنا هل هو دين أم أديان، أنه
মানব ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল এমন এক মানবের মাধ্যমে, যাঁর মধ্যে মানুষের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল এবং যাঁর মাঝে পার্থিব ও আধ্যাত্মিক সকল উপাদানের সমাবেশ ঘটেছিল। তিনি ছিলেন তাঁর পরবর্তী বংশধরদের প্রত্যেকটি মানুষেরই প্রতিচ্ছবি এবং এই জীবনের সর্বশেষ জন্ম নেওয়া ব্যক্তিটিরও এক প্রতিরূপ। প্রথম মানুষটিও শেষ মানুষের মতোই এমন মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি হয়েছেন যাতে পৃথিবীর সকল উপাদানের সংমিশ্রণ ছিল। মানব ইতিহাসের যাত্রা শুরু হয়েছিল এমন এক নবীর মাধ্যমে, যিনি সেই একই দ্বীন নিয়ে এসেছিলেন যা শেষ নবী এবং খাতামুল মুরসালীন (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) নিয়ে এসেছিলেন।

দ্বীনের এই একত্ব মূলত দুটি মৌলিক ভিত্তির মাধ্যমে পরিস্ফুট হয়: প্রথমটি হলো বিষয়বস্তুর অভিন্নতা, যার মাধ্যমে সকল মানুষকে একজন রবের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো নবী বা রাসূলই ভিন্নমত পোষণ করেননি; বরং আদম (আলাইহিস সালাম) থেকে শুরু করে শেষ রিসালাত পর্যন্ত প্রত্যেকেই বিশুদ্ধ তাওহীদের দিকেই আহ্বান জানিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার নিকট আমি এই ওহী না পাঠিয়েছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো” (আল-আম্বিয়া: ২৫)। মূলত তাওহীদের দাওয়াতই হলো আসমানী রিসালাতসমূহের মূল ভিত্তি; আর শিরক ও বহুত্ববাদ হলো স্রেফ আদর্শচ্যুতি ও ব্যতিক্রম। পাশাপাশি সকল নবীই রব্বুল আলামীনের সমীপে নিজেদের আত্মসমর্পণ বা ইসলামের ঘোষণা দিয়েছেন।

দ্বিতীয় ভিত্তিটি হলো: শৃঙ্খলার অভিন্নতা। কেননা সকল নবীই তাঁদের কওমকে জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। আদম (আলাইহিস সালাম) থেকে নিয়ে শেষ নবী পর্যন্ত দ্বীনের মৌলিক বিধানসমূহ মূলে একই ছিল: “অতঃপর আমি আপনাকে দ্বীনের এক বিশেষ বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি; সুতরাং আপনি তা অনুসরণ করুন এবং অজ্ঞদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করবেন না” (আল-জাথিয়া: ১৮)। এর উদাহরণ হলো ইবাদতের মূল ভিত্তিগুলো, যদিও সেগুলোর আদায় পদ্ধতি ও বাহ্যিক ধরনে ভিন্নতা থাকতে পারে। অনুরূপভাবে সম্পর্কের বিন্যাস, মহৎ চারিত্রিক গুণাবলীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং উত্তম আচরণ ও লেনদেনের বিষয়টিও অভিন্ন: “আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শরীয়ত ও বিশেষ পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি” (আল-মায়িদা: ৪৮)।

এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা খাতামুন নাবিয়্যীনের (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরূদ ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক) মাধ্যমে নেয়ামতকে পূর্ণতা দিয়েছেন এবং দ্বীনকে কামিল করেছেন। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা ইরশাদ করেন: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পন্ন করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম” (আল-মায়িদা: ৩)। এর দ্বারাই আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এটি কি একটিই দ্বীন নাকি বহু ধর্ম; আর বিষয়টি হলো এই যে—
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩০)
من الناحية الشرعية دين واحد، وهو الإسلام، وأما كلمة أديان فهي تُجمع من حيث اللغة فقط، حيث ما ندين به ما نخضع له ونذل له، وما ندين به ما نعتقده؛ لذلك جمعت كلمة أديان لغة، وأفردت شرعًا {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} (آل عمران: 19)، فلله الحمد والمنة على نعمة الإسلام، وكفى بها نعمة.

هل هو دين أم أديان؟

والإجابة على هذا السؤال: إن كلمة الدين يصح أن تطلق على الدين الصحيح وغير الصحيح، ولكن من ناحية اللغة، ولذلك صح جمعها لغة، فيقال: أديان، ولم يصح شرعًا لأنه دين واحد، كما قال ربنا الواحد: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} (آل عمران: 19)، وهي في ذلك مثل كلمة إله، تُطلق على الإله الحق وعلى الإله المؤله نفسه، أو الذي ألهه الناس، واللغة لا تمانع من ذلك، ولذا يقال: إله ويجمع على آلهة، ومثل ذلك كلمة رسول بمعنى المرسل من عند الله تعالى، أو هو المرسل من قبل الملك، أو أحد الناس، ومثلها كلمة حديث، فهو ما قاله الرسول صلى الله عليه وآله وسلم، أو نسب إليه، وكل ما يتحدث الناس عنه يسمى حديثًا، وكما أقول: حديثي إليكم الآن كذا وكذا.

هذا، ويقول الدكتور عبد الله دراز رحمه الله بعد أن تحدث عن عدة مذاهب يطلق عليها أديان، لكن المسألة إنما هي في صحة تسمية هذه المذاهب أديانًا، ونحن لا نرى مانعًا من أن نصطلح على هذه التسمية، ولكنه يكون اصطلاحًا نابيًا عن معهود الناس، مجافيًا لذوق اللغات، ولا سيما لغتنا العربية التي لا يُفهم منها من اسم الدين إلا اعتقاد بشيء يدين له المرء أي: يخضع له، ويتوجه إليه بالرغبة والرهبة والتقديس؛ بل إننا لا نبالغ إذا قلنا: إن كل مذهب يخلو من هذه الدينونة هو أحق باسم الفلسفة الجافة منه باسم الآخر.
শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বীন মূলত একটিই, আর তা হলো ইসলাম। তবে 'আদইয়ান' (ধর্মসমূহ) শব্দটি কেবল ভাষাতাত্ত্বিক দিক থেকে বহুবচনে ব্যবহৃত হয়; কেননা আমরা যার প্রতি আনুগত্য করি, যার কাছে মস্তক অবনত করি এবং যা বিশ্বাস করি—তা-ই আমাদের দ্বীন। এ কারণেই আভিধানিকভাবে 'আদইয়ান' শব্দটি বহুবচনে ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু শরিয়তের পরিভাষায় একে একবচন হিসেবে রাখা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র (গ্রহণযোগ্য) দ্বীন হলো ইসলাম" (আলে ইমরান: ১৯)। অতএব, ইসলামের নিয়ামতের জন্য আল্লাহর কাছে অশেষ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা; এই নিয়ামতই আমাদের জন্য যথেষ্ট।

এটি কি একটি ধর্ম নাকি বহু ধর্ম?

এই প্রশ্নের উত্তর হলো: আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'দ্বীন' শব্দটি সঠিক এবং ভুল উভয় প্রকার ধর্মমতের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা বৈধ। সে কারণেই ভাষাতাত্ত্বিকভাবে এর বহুবচন হিসেবে 'আদইয়ান' শব্দটির ব্যবহার শুদ্ধ। তবে শরয়ি পরিভাষায় এটি বহুবচনে ব্যবহার করা সংগত নয়, কারণ দ্বীন মূলত একটিই। যেমন আমাদের অদ্বিতীয় প্রতিপালক বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম" (আলে ইমরান: ১৯)। এক্ষেত্রে বিষয়টি 'ইলাহ' (উপাস্য) শব্দের মতোই; যা প্রকৃত উপাস্যের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, আবার এমন সত্তার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যে নিজেকে উপাস্য দাবি করে অথবা যাকে মানুষ উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে। ভাষাবিজ্ঞান এতে কোনো বাধা দেয় না, আর সে কারণেই 'ইলাহ' এর বহুবচন হিসেবে 'আলিহা' বলা হয়। একইভাবে 'রাসূল' শব্দটির অর্থ হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ব্যক্তি, অথবা কোনো রাজা কিংবা সাধারণ কোনো মানুষের পক্ষ থেকে প্রেরিত দূত। 'হাদিস' শব্দটিও অনুরূপ; এটি যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী বা তাঁর দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তাকে বোঝায়, তেমনি মানুষ যা কিছু নিয়ে আলোচনা করে তাকেও হাদিস বলা হয়। যেমন আমি যদি বলি: এখন আপনাদের প্রতি আমার 'হাদিস' (বক্তব্য) হলো এই এই...।

এ প্রসঙ্গে ডক্টর আবদুল্লাহ দাররাজ (রহিমাহুল্লাহ) বিভিন্ন মতাদর্শকে 'দ্বীন' হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে আলোচনার পর বলেন, মূল প্রশ্নটি হলো এই মতাদর্শগুলোকে 'দ্বীন' বা 'ধর্ম' হিসেবে নামকরণ করার যথার্থতা নিয়ে। আমরা যদিও পারিভাষিকভাবে এই নামকরণের ক্ষেত্রে কোনো বাধা দেখি না, তবে এটি মানুষের প্রচলিত ধারণা থেকে বিচ্যুত এবং ভাষার রুচির পরিপন্থী একটি পরিভাষা হবে; বিশেষ করে আমাদের আরবি ভাষার ক্ষেত্রে। কারণ আরবি ভাষায় 'দ্বীন' বলতে এমন কোনো কিছুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাকেই বোঝায়, যার প্রতি মানুষ আনুগত্য প্রকাশ করে, অর্থাৎ তার কাছে মস্তক অবনত করে এবং আশা, ভয় ও পবিত্রতাবোধ নিয়ে তার অভিমুখী হয়। বরং আমরা যদি বলি যে, যে মতাদর্শে এই আনুগত্য বা দাসত্ব নেই, সেটি 'দ্বীন' নামের চেয়ে শুষ্ক দর্শনের সংজ্ঞারই বেশি উপযুক্ত—তবে তাতে কোনো অত্যুক্তি হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩১)
كما قال الدكتور عبد الناصر أحمد حبيب: "ويُجمع الدين على أديان وديانات، والأول هو الشائع في الاستعمال، ويدل على هذا ما ورد في الصحيح بإسناد حسن، عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: ((أي الأديان أحب إلى الله عز وجل؟ فقال: الحنيفية السمحة)). وفي رواية علقها البخاري قال صلى الله عليه وآله وسلم: ((أحب الدين إلى الله تعالى الحنيفية السمحة))، فأفرد الدين كأنه يصوِّب للسائل مبينًا ألا جمع منه؛ لأنه في الحقيقة ليس إلا واحدًا أي: لأن الدين واحد وهو الإسلام، وقد علمت أن هذا من حيث الشرع لا من حيث اللغة.

وصل اللهم وسلم وبارك على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
যেমন ডক্টর আবদুল নাসের আহমদ হাবিব বলেছেন: "‘দ্বীন’ শব্দটির বহুবচন ‘আদইয়ান’ এবং ‘দিয়ানাত’ উভয়ভাবেই হয়ে থাকে, তবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথমটিই অধিক প্রচলিত। এর প্রমাণ মেলে হাসান সনদে বর্ণিত একটি বর্ণনায়, যেখানে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ‘আল্লাহ তাআলার নিকট কোন ধর্মগুলো সর্বাধিক প্রিয়?’ তিনি উত্তর দিলেন: ‘সহজ ও উদার একত্ববাদ (আল-হানিফিয়্যাহ আস-সামহাহ)।’ ইমাম বুখারী কর্তৃক উদ্ধৃত এক বর্ণনায় এসেছে যে, নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: ‘আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বাধিক প্রিয় দ্বীন হলো সহজ ও উদার একত্ববাদ।’ এখানে তিনি ‘দ্বীন’ শব্দটিকে একবচনে ব্যবহার করেছেন, যেন তিনি প্রশ্নকারীকে সংশোধন করে দিয়ে স্পষ্ট করছেন যে, এর কোনো বহুবচন নেই; কারণ প্রকৃতপক্ষে দ্বীন কেবল একটিই। অর্থাৎ, দ্বীন মূলত এক এবং তা হলো ইসলাম। আপনি ইতিপূর্বেই অবগত হয়েছেন যে, এটি শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে, ভাষাগত বিচারে নয়।

হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন। আপনাদের ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الدرس: 2 الفرق الدين السماوي والوضعي، والملة والنحلة، والشريعة والمنهاج، وموقف الإسلام من الأديان.
পাঠ: ২ - ঐশী ধর্ম ও মানব রচিত ধর্ম, মিল্লাত ও নিহলাহ, শরীয়াহ ও মিনহাজ-এর মধ্যকার পার্থক্য এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الدرس الثاني

(الفرق الدين السماوي والوضعي، والملة والنحلة، والشريعة والمنهاج، وموقف الإسلام من الأديان)

 

‌‌الفرق بين الدين السماوي والدين الوضعي

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين، سيدنا محمد وعلى آله وصحبه الطيبين الطاهرين، الغر الميامين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد: الفرق بين الدين السماوي والدين الوضعي والفرق بين الملة والنحلة والفرق بين الشريعة والمنهاج وموقف الإسلام من الأديان الأخرى:

الفرق بين الدين السماوي والدين الوضعي، فنقول -وبالله التوفيق:

الفرق بين الدين الوضعي والدين السماوي أن الدين الوضعي: هو الدين الذي يكون من وضع البشر أنفسهم، وهو عبارة عن مجموعة من المبادئ والقوانين العامة وضعها بعض الناس المستنيرين لأممهم؛ ليسيروا عليها ويعملوا بما فيها، والتي لم يستندوا في وضعها إلى وحي سماوي، ولا إلى الأخذ عن رسول مرسل، وإنما هي جملة من التعاليم والقواعد العامة اصطلحوا عليها، وساروا على منوالها، وخضعوا فيها لمعبود معين أو معبودات متعددة، والأمثلة على الدين الوضعي كثيرة منها الديانة البرهمية في الهند، وكذلك الديانة البوذية فيها، وفي شرق آسيا، ومنها ديانة القدماء المصريين، والديانة الفارسية القديمة وغيرها.

أما الدين السماوي: فهو تعاليم إلهية من وضع الله تعالى، وإرشادات سماوية من لدن العليم الخبير لنفوس العباد وطبائعهم، وما يحتاجون إليه في إصلاح حالهم في المعاش والمعاد، والدنيا والآخرة إنه مجموعة التعاليم والأوامر والنواهي التي يجيء بها رسول من البشر أوحى الله تعالى بها إليه، وفي مقدمتها الإيمان بخالق واحد موجه لهذا الكون لا شريك له في ملكه، يجب صرف العبادة كلها إليه، والخضوع والتذلل لهذا الإله الخالق الرازق، ووجوب إفراده وحده بالعبادة والإيمان باليوم الآخر، والحساب والجزاء، وبالثواب في الجنة والنعيم المقيم، أو النار والعذاب الأليم، نعوذ بالله. وذلك مثل الديانة اليهودية في أصلها كما جاء بها موسى عليه السلام، أو الديانة المسماة بالمسيحية يوم أن جاء بها المسيح عليه السلام.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

দ্বিতীয় পাঠ

(আসমানি ও মানব-রচিত ধর্মের পার্থক্য, মিল্লাত ও নিহলাহ্, শরীয়ত ও মিনহাজ এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি)

 

‌আসমানি ধর্ম ও মানব-রচিত ধর্মের পার্থক্য

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের রহমতস্বরূপ প্রেরিত আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজন, পুণ্যবান সাহাবীবৃন্দ এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর। অতঃপর: আসমানি ধর্ম ও মানব-রচিত ধর্মের পার্থক্য, মিল্লাত ও নিহলাহ্-এর পার্থক্য, শরীয়ত ও মিনহাজ-এর পার্থক্য এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে আলোচনা পেশ করা হলো:

আসমানি ধর্ম ও মানব-রচিত ধর্মের পার্থক্যের বিষয়ে আল্লাহর তৌফিক কামনায় আমরা বলছি:

মানব-রচিত ধর্ম ও আসমানি ধর্মের মধ্যে পার্থক্য হলো, মানব-রচিত ধর্ম বলতে সেই ধর্মকে বোঝায় যা স্বয়ং মানুষের তৈরি। এটি মূলত কিছু সাধারণ নীতিমালা ও আইনের সমষ্টি যা কিছু জ্ঞানালোকপ্রাপ্ত মানুষ তাদের স্বজাতীয়দের জন্য প্রণয়ন করেছে; যাতে তারা সেই পথ অনুসরণ করতে পারে এবং এর বিধিবিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে পারে। এই নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে তারা কোনো আসমানি ওহি বা কোনো প্রেরিত রাসুলের বার্তার ওপর নির্ভর করেনি। বরং এটি কিছু শিক্ষা ও সাধারণ নিয়মের সমষ্টি যা তারা নিজেরা নির্ধারণ করেছে এবং সেই অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। এতে তারা কোনো বিশেষ উপাস্য বা বহু উপাস্যের অনুগত হয়েছে। মানব-রচিত ধর্মের বহু উদাহরণ রয়েছে, যেমন: ভারতের ব্রাহ্মণ্যবাদ এবং বৌদ্ধ ধর্ম, যা ভারত ও পূর্ব এশিয়ায় প্রচলিত। এছাড়া প্রাচীন মিশরীয় ধর্ম, প্রাচীন পারস্য ধর্ম এবং অন্যান্য ধর্মও এর অন্তর্ভুক্ত।

পক্ষান্তরে আসমানি ধর্ম হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ঐশী শিক্ষা এবং মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে বান্দাদের আত্মা ও স্বভাবের সংশোধনের জন্য প্রেরিত আসমানি দিকনির্দেশনা। বান্দাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবন এবং যাপিত জীবনের উন্নতির জন্য যা কিছু প্রয়োজন, এতে তার পূর্ণ সমাধান রয়েছে। এটি এমন কিছু শিক্ষা, আদেশ ও নিষেধের সমষ্টি যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহিপ্রাপ্ত হয়ে কোনো মানব রাসুল নিয়ে এসেছেন। এর মূল ভিত্তি হলো মহাবিশ্বের একমাত্র স্রষ্টা ও পরিচালক আল্লাহর ওপর ঈমান আনা, যাঁর রাজত্বে কোনো শরিক নেই। সকল ইবাদত কেবল তাঁরই উদ্দেশ্যে নিবেদন করা আবশ্যক এবং সেই স্রষ্টা ও রিজিকদাতার সামনে পূর্ণ আনুগত্য ও বিনয় প্রকাশ করা অপরিহার্য। পাশাপাশি এককভাবে তাঁর ইবাদত করা এবং পরকাল, হিসাব-নিকাশ, কর্মফল এবং জান্নাতের চিরস্থায়ী নেয়ামত অথবা জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ওপর ঈমান আনা এর অন্তর্ভুক্ত। আমরা এ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এর উদাহরণ হলো ইহুদি ধর্ম—যা মূলত মুসা (আলাইহিস সালাম) নিয়ে এসেছিলেন, অথবা খ্রিষ্টান ধর্ম হিসেবে অভিহিত সেই ধর্মটি—যা ঈসা (আলাইহিস সালাম) নিয়ে এসেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وفي أفضل صورها وأصحها مثل الدين الإسلامي الذي جاء به النبي محمد صلى الله عليه وآله وسلم، ورحمة للعالمين، وكان هذا الدين خاتمًا لجميع الرسالات السماوية، فلا وحي بعد نبوة محمد صلى الله عليه وآله وسلم، ولا دين بعد الإسلام، وها هي بعد الفروق بين الأديان الوضعية والرسالات السماوية، وقولنا: الرسالات السماوية باعتبارها دينًا واحدًا في صورة رسالات متعددة، وليست أديانًا متعددة أو مختلفة، وإن وقع الاختلاف فهو تنوع لا تضاد يقع في الشرائع، وليس في المعتقدات، وفي الفروع وليس في الأصول، من هذه الفروق:

1 - إن الدين السماوي دين قائم على وحي الله تعالى إلى البشر بواسطة رسول يختاره الله منهم. أما الوضعي فهو جملة من التعاليم وضعها البشر أنفسهم، واتفقوا عليها، واصطلحوا على التمسك بها والعمل بما فيها، إنها تعاليم ناشئة عن تفكير الإنسان نفسه.

2 - الدين السماوي يدعو دائمًا إلى وحدانية الله تعالى، واختصاص هذا الواحد بالعبادة، فلا يخضع المرء إلا لله، ولا يستعين إلا به، ولا يذبح إلا باسمه. أما الدين الوضعي فإنه يقدس الأحجار والأصنام، ويجيز تعدد الآلهة فيجعلها كثيرة ومتغايرة، بل قد تكون متنافرة ومتخالفة مثل: إله الخير، وإله الشر، أو إله الحرب وإله السلام.

3 - الدين السماوي ينزه الإله المعبود عن مشابهته لخلقه، فالله عز وجل لا يشبه شيئًا من مخلوقاته لا في ذاته، ولا في صفاته، ولا في أفعاله قال تعالى: {قُلْ
এর সর্বোত্তম ও বিশুদ্ধতম রূপে এটি হলো সেই ইসলাম ধর্ম, যা নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বিশ্বজগতের রহমতস্বরূপ নিয়ে এসেছেন। এই ধর্ম ছিল সমস্ত আসমানি বার্তার পরিসমাপ্তি; তাই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতের পর আর কোনো ওহি নেই এবং ইসলামের পর আর কোনো ধর্ম নেই। মানুষ্যরচিত ধর্মসমূহ ও আসমানি বার্তাগুলোর মধ্যে কিছু পার্থক্য নিচে তুলে ধরা হলো। আমাদের 'আসমানি বার্তা' বলার তাৎপর্য হলো, এগুলো মূলত বহুবিধ বার্তারূপে একটিই ধর্ম, একাধিক বা ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম নয়। যদি কোনো পার্থক্য থেকেও থাকে, তবে তা বৈচিত্র্য মাত্র, কোনো বৈপরীত্য নয়; যা শরিয়ত বা বিধিবিধানের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, আকিদা বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে নয়; এবং তা শাখা-প্রশাখায় (ফুরু) ঘটে, মূলনীতিতে (উসুল) নয়। এই পার্থক্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - আসমানি ধর্ম হলো এমন এক ধর্ম যা মানুষের মধ্য থেকে আল্লাহর মনোনীত একজন রাসুলের মাধ্যমে প্রেরিত মহান আল্লাহর ওহির ওপর প্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে, মানুষ্যরচিত ধর্ম হলো মানবসৃষ্ট কতগুলো শিক্ষার সমষ্টি, যা তারা নিজেরা তৈরি করেছে, তার ওপর একমত হয়েছে এবং তা আঁকড়ে ধরা ও তদানুযায়ী আমল করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে। এগুলো মানুষের নিজস্ব চিন্তা থেকে উদ্ভূত শিক্ষা।

২ - আসমানি ধর্ম সর্বদা মহান আল্লাহর একত্ববাদের দিকে আহ্বান করে এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদতের নির্দেশ দেয়; ফলে মানুষ আল্লাহ ছাড়া আর কারও সামনে মাথা নত করে না, তিনি ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে না এবং তাঁর নাম ছাড়া অন্য কারও নামে পশু জবাই করে না। অন্যদিকে, মানুষ্যরচিত ধর্ম পাথর ও মূর্তিকে পবিত্র জ্ঞান করে এবং বহু ঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী হয়; তারা অনেক ও ভিন্ন ভিন্ন উপাস্য নির্ধারণ করে, এমনকি সেগুলো পরস্পরবিরোধী ও সাংঘর্ষিকও হতে পারে, যেমন: মঙ্গলের দেবতা ও অমঙ্গলের দেবতা, কিংবা যুদ্ধের দেবতা ও শান্তির দেবতা।

৩ - আসমানি ধর্ম উপাস্য ইলাহকে তাঁর সৃষ্টির সদৃশ হওয়া থেকে পবিত্র রাখে। মহান আল্লাহ তাঁর সত্তা, গুণাবলি কিংবা কার্যাবলিতে তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ নন। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন:
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ * لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ * وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} (الإخلاص: 1: 4)، أما الدين الوضعي فإنه يُجيز أن يكون الإله بشرًا مثلهم أو حيوانًا أو حجرًا يعبدونه، ويخضعون له، ويقدمون له القرابين والهدايا؛ فقد عبد بعض الناس الشمس وعبدوا العجل، واتخذوا فرعون الذي قال لهم: أنا ربكم الأعلى إلهًا، وعبدوا الأصنام والأوثان مع أن هذه الآلهة كلها التي عبدوها من دون الله لا تستطيع أن تخلق شيئًا، ولا تقدم نفعًا، ولا تمنع ضرًّا لا لنفسها، ولا لغيرها، قال تعالى: {وَاتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً لَا يَخْلُقُونَ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ وَلَا يَمْلِكُونَ لِأَنْفُسِهِمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا وَلَا يَمْلِكُونَ مَوْتًا وَلَا حَيَاةً وَلَا نُشُورًا} (الفرقان: 3).

4 - الدين السماوي بالنسبة لمسائل العقيدة غير قابل للنسخ، والتبديل أو التغيير، فعقيدة الرسل جميعهم واحدة فيما يتعلق بالله تعالى وصفاته، والرسل وعصمتهم، واليوم الآخر وما يكون فيه من ثواب أو عقاب.

إن الخالق عند جميع الرسل واحد، وإن هذا الخالق تجب عبادته واختصاصه جل شأنه بالعبادة. أما الدين الوضعي فالمعبود فيه يتغير، فقد يتغير من جيل إلى جيل، ومن قبيلة إلى أخرى.

5 - الدين الوضعي يلازمه النقص وعدم الكمال، وذلك أنه من وضع الإنسان، والإنسان لا يمكنه أن يحيط بجميع حاجات البشر، ومتطلباتهم المتجددة دائمًا.
{তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি (অর্থাৎ তাঁর কোনো জন্মদাতা নেই)। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।} (আল-ইখলাস: ১-৪)। পক্ষান্তরে মানবরচিত ধর্ম ইলাহকে তাদের মতই মানুষ কিংবা পশু অথবা পাথর হওয়াকে বৈধ মনে করে, যার তারা উপাসনা করে, তার প্রতি অনুগত হয় এবং তার উদ্দেশ্যে বলি ও উপহার পেশ করে। ফলে কিছু মানুষ সূর্যের উপাসনা করেছে, কেউ বাছুরের উপাসনা করেছে, আর কেউ ফেরাউনকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে যে তাদের বলেছিল: 'আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক'। তারা মূর্তি ও প্রতিমার পূজা করেছে, অথচ আল্লাহ ব্যতীত তারা যাদের উপাসনা করত, সেই উপাস্যদের কেউই কোনো কিছু সৃষ্টি করতে পারে না, তারা কোনো উপকার করতে পারে না এবং নিজেদের বা অন্যের কোনো ক্ষতিও রোধ করতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা তাঁর পরিবর্তে এমন সব ইলাহ গ্রহণ করেছে যারা কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট; আর তারা নিজেদের অপকার বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না এবং মৃত্যু, জীবন ও পুনরুত্থানের ওপরও কোনো ক্ষমতা রাখে না।} (আল-ফুরকান: ৩)।

৪ - আকিদাগত বিষয়ের ক্ষেত্রে আসমানি বা ঐশী ধর্ম রহিতকরণ, রদবদল বা পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে। মহান আল্লাহ ও তাঁর গুণাবলি, রাসূলগণ ও তাঁদের মাসুম হওয়া (নিষ্পাপতা), এবং পরকাল ও তাতে নির্ধারিত সওয়াব বা শাস্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সকল রাসূলের আকিদা এক ও অভিন্ন।

সকল রাসূলের নিকট স্রষ্টা একজনই এবং এই স্রষ্টারই ইবাদত করা আবশ্যক এবং মহান সত্তার জন্যই ইবাদতকে নির্দিষ্ট করা অপরিহার্য। পক্ষান্তরে মানবরচিত ধর্মে উপাস্য পরিবর্তিত হয়; এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে এবং এক গোত্র থেকে অন্য গোত্রে তা বদলে যেতে পারে।

৫ - মানবরচিত ধর্মে অসম্পূর্ণতা ও অপূর্ণতা অনিবার্য, কারণ তা মানুষের তৈরি। আর মানুষের পক্ষে মানবজাতির সকল প্রয়োজন এবং তাদের সর্বদা পরিবর্তনশীল চাহিদাহমূহ পূর্ণাঙ্গরূপে পরিবেষ্টন করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) আল-আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৮)
أما الدين السماوي فهو كامل إنه دين تام شامل؛ لأنه من وضع خالق السماوات والأرض، وعلام الغيوب الذي لا تغيب عنه صغيرة ولا كبيرة، والذي يحيط بكل شيء علمًا.

 

‌‌الفرق بين الملة والنحلة

وكما عرفت الفرق بين الدين السماوي والدين الوضعي، فهلمَّ نتعرف على معنى الملة والنحلة، تلك التي أُفرد لها علم كُتب فيها كتب الملل والنحل، فما الملة وما النحلة، كذلك نريد أن نتعرف على الفرق بين الشريعة والمنهاج.

نقول وبالله التوفيق: اعلم أن الملة لغة كما يقول صاحب (القاموس): "الملة بالكسر هي الشريعة أو الدين"، ويقول الزمخشري في (أساس البلاغة): "ومن المجاز في استعمال الملة بمعنى الطريقة المسلوكة، ومنها ملة إبراهيم حنيفًا، وامتل فلان ملة الإسلام"، وعليه فالفرق بين الدين والملة: أن الدين ما يكون عليه كل واحد من أهل الملة الواحدة، وأن الملة اسم لجملة الشرائع.

ثم بيَّن الراغب الأصفهاني الفرق بين الملة والدين فقال: "والفرق بين الملة والدين أن الملة لا تضاف إلا إلى النبي عليه السلام التي تستند إليه نحو {فَاتَّبِعُوا مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا} (آل عمران: 95) {وَاتَّبَعْتُ مِلَّةَ آبَائِي} (يوسف: 38) ولا تكاد توجد مضافة إلى الله، ولا إلى آحاد أمة النبي صلى الله عليه وسلم، ولا يستعمل إلا في جملة الشرائع دون آحادها، فلا يقال ملة الله، ولا يقال ملتي، كما يقال دين الله وديني، ولا يقال للصلاة ملة الله، فالملة تُضاف إلى من أضيف إليه، والدين يضاف إلى من يعتنقه ويؤمن به.
পক্ষান্তরে আসমানি দ্বীন বা ঐশী ধর্ম হলো পূর্ণাঙ্গ। এটি একটি সুসংহত ও ব্যাপক ধর্ম; কারণ এটি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা এবং অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা কর্তৃক প্রবর্তিত, যাঁর নিকট ক্ষুদ্র কিংবা বৃহৎ কোনো কিছুই গোপন থাকে না এবং যাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।

 

‌‌মিল্লাত ও নিহলাহ-র মধ্যকার পার্থক্য

আসমানি ধর্ম ও মানব-রচিত ধর্মের মধ্যকার পার্থক্য যেমন আপনি জেনেছেন, তেমনিভাবে আসুন আমরা এখন 'মিল্লাত' ও 'নিহলাহ'-র অর্থ সম্পর্কে অবগত হই, যার জন্য একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং যাতে ধর্ম ও মতবাদ বিষয়ক কিতাবসমূহ (আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল) রচিত হয়েছে। সুতরাং মিল্লাত কী এবং নিহলাহ কী? তদ্রূপ আমরা শরীয়াহ ও মিনহাজের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কেও জানতে চাই।

আমরা বলি এবং আল্লাহর নিকটই তাওফীক প্রার্থনা করি: জেনে রাখুন যে, ভাষাগতভাবে মিল্লাত বলতে কী বোঝায় সে সম্পর্কে 'আল-কামুস' প্রণেতা বলেন: "মিল্লাত (মিম বর্ণে কাসরা বা জের যোগে) হলো শরীয়ত বা ধর্ম।" যামাখশারী 'আসাসুল বালাগাহ' গ্রন্থে বলেন: "মিল্লাত শব্দের রূপক ব্যবহারগুলোর মধ্যে একটি হলো অনুসৃত পথ বা তরীকা অর্থে। এর উদাহরণ হলো ‘একনিষ্ঠ ইব্রাহিমের মিল্লাত’ এবং ‘অমুক ব্যক্তি ইসলামের মিল্লাত গ্রহণ করেছে’।" সুতরাং দ্বীন ও মিল্লাতের মধ্যকার পার্থক্য হলো: দ্বীন হলো তা, যার ওপর একই মিল্লাতের অনুসারী প্রত্যেক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠিত থাকে, আর মিল্লাত হলো সামগ্রিক শরীয়ত বা বিধানসমূহের সমষ্টির নাম।

অতঃপর রাগেব আসফাহানি মিল্লাত ও দ্বীনের মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা করে বলেন: "মিল্লাত ও দ্বীনের মধ্যে পার্থক্য হলো যে, মিল্লাত কেবল সেই নবীর (আলাইহিস সালাম) দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয় যাঁর সাথে এটি সংশ্লিষ্ট, যেমন: {সুতরাং তোমরা ইব্রাহিমের একনিষ্ঠ মিল্লাতের অনুসরণ করো} (আল ইমরান: ৯৫) এবং {আমি আমার পিতৃপুরুষদের মিল্লাতের অনুসরণ করেছি} (ইউসুফ: ৩৮)। এটি সচরাচর আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় না এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের কোনো ব্যক্তির দিকেও সম্বন্ধযুক্ত হয় না। এটি একক কোনো বিধানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত না হয়ে কেবল সামগ্রিক শরীয়তের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'আল্লাহর মিল্লাত' বলা হয় না এবং 'আমার মিল্লাত'ও বলা হয় না, যেমনটি 'আল্লাহর দ্বীন' বা 'আমার দ্বীন' বলা হয়। তেমনিভাবে সালাত বা নামাযকেও 'আল্লাহর মিল্লাত' বলা হয় না। সুতরাং মিল্লাতকে তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয় যাঁর দিকে এটি অর্পিত হয়েছে, আর দ্বীনকে তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় যে তা গ্রহণ করেছে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে।"