(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: -)
الإعجاز العلمي في القرآن الكريم - جامعة المدينة   (جامعة المدينة العالمية)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الإعجاز العلمي في القرآن الكريم

كود المادة: GUQR5313 و GAQD5133

المرحلة: ماجستير

المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية

الناشر: جامعة المدينة العالمية

عدد الصفحات: 351

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1433

কোরআনুল কারীমে বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব - আল-মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়   (আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি)

বিভাগ: উলূমুল কোরআন ও উসূলে তাফসীর


গ্রন্থ: কোরআনুল কারীমে বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব

কোর্স কোড: GUQR5313 এবং GAQD5133

স্তর: মাস্টার্স

লেখক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রম

প্রকাশক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৩ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: -)
-[الإعجاز العلمي في القرآن]-

كود المادة: GUQR5313 و GAQD5133

المرحلة: ماجستير

المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية

الناشر: جامعة المدينة العالمية

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
-[কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব]-

বিষয় কোড: GUQR5313 এবং GAQD5133

স্তর: মাস্টার্স

লেখক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রম

প্রকাশক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইয়ের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الدرس: 1 التفسير العلمي: تعريفه - كثرة القائلين به - مؤلفاته.

بسم الله الرحمن الرحيم

الدرس الأول

(التفسير العلمي: تعريفه - كثرة القائلين به - مؤلفاته)

 

‌‌معنى التفسير العلمي

الحمد لله والصلاة والسلام على سيدنا رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه أما بعد:

قبل أن نخوض في الإعجاز العلمي نود أولًا أن نعرف نبذة عن التفسير العلمي:

أولًا: معنى التفسير العلمي:

التفسير العلمي هو: التفسير الذي يحكم الاصطلاحات العلمية في عبارات القرآن الكريم، يعني مثلًا مصطلح علمي مثلًا تناقض ضغط الجو والأكسجين، كلما ارتفعنا في الفضاء يأتي التفسير العلمي. ويأتي على الآية التي تقول: {فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ وَمَنْ يُرِدْ أَنْ يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاءِ} (الأنعام: 125). فيأتي بهذه المصطلحات العلمية، ويحاول أن يفسر بها عبارات القرآن الكريم، ويجتهد الذي يفسر القرآن تفسيرًا علميًّا في استخراج مختلف العلوم.

 

‌‌التوسع في هذا النوع من التفسير وكثرة القائلين به

لقد اتسع القول في احتواء القرآن كل العلوم ما كان منها وما يكون، فالقرآن في نظر أصحاب هذه الطريقة يشمل إلى جانب العلوم الدينية ال اعتقادية، والعملية سائر علوم الدنيا على اختلاف أنواعها، وتعدد ألوانها. وممن توسعوا في التفسير العلمي الإمام الغزالي. الإمام الغزالي كان إلى عهده أكثر من استوفى بيان هذا القول في تفسير القرآن الكريم، وأهم من أيده وعمل على ترويجه في الأوساط العلمية الإسلامية على رغم ما قرر فيها من قواعد فهم عبارات القرآن الكريم.
পাঠ: ১ বৈজ্ঞানিক তাফসির: এর সংজ্ঞা - এর প্রবক্তাদের আধিক্য - এর ওপর রচিত গ্রন্থাবলি.

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রথম পাঠ

(বৈজ্ঞানিক তাফসির: এর সংজ্ঞা - এর প্রবক্তাদের আধিক্য - এর ওপর রচিত গ্রন্থাবলি)

 

বৈজ্ঞানিক তাফসিরের অর্থ

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর। অত:পর:

বৈজ্ঞানিক মুজিজা (অলৌকিকত্ব) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার আগে আমরা প্রথমে বৈজ্ঞানিক তাফসির সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা লাভ করতে চাই:

প্রথমত: বৈজ্ঞানিক তাফসিরের অর্থ:

বৈজ্ঞানিক তাফসির হলো: এমন তাফসির যা পবিত্র কুরআনের অভিব্যক্তিসমূহে বৈজ্ঞানিক পরিভাষাগুলোকে বিচারক হিসেবে গণ্য করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বৈজ্ঞানিক পরিভাষা হলো বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ও অক্সিজেনের হ্রাস পাওয়া; মহাকাশে আমরা যত উপরে উঠি, বৈজ্ঞানিক তাফসিরের বিষয়টি সামনে আসে। এটি এমন আয়াতের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় যেখানে বলা হয়েছে: {অতঃপর আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন এবং যাকে বিপথগামী করতে চান, তার বক্ষকে অত্যন্ত সংকীর্ণ করে দেন, মনে হয় যেন সে আকাশে আরোহণ করছে} (আল-আনআম: ১২৫)। সুতরাং তাফসিরকারক এই বৈজ্ঞানিক পরিভাষাগুলো নিয়ে আসেন এবং সেগুলোর মাধ্যমে কুরআনের অভিব্যক্তিগুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। যিনি কুরআনের বৈজ্ঞানিক তাফসির করেন, তিনি এর থেকে বিভিন্ন বিজ্ঞান আহরণ করার জন্য গবেষণা (اجتهاد) চালিয়ে থাকেন।

 

এই প্রকার তাফসিরের বিস্তৃতি এবং এর প্রবক্তাদের আধিক্য

অতীত ও ভবিষ্যতে যা কিছু ঘটেছে বা ঘটবে—এমন সকল জ্ঞান কুরআন ধারণ করে আছে, এ সম্পর্কিত মতটি বেশ প্রসার লাভ করেছে। এই পদ্ধতির প্রবক্তাদের দৃষ্টিতে কুরআন ধর্মীয় বিশ্বাসগত ও ব্যবহারিক জ্ঞানের পাশাপাশি পার্থিব সমস্ত জ্ঞানকেও তার বৈচিত্র্য ও ভিন্নতাসহ অন্তর্ভুক্ত করে। যারা বৈজ্ঞানিক তাফসিরের ক্ষেত্রে প্রসার ঘটিয়েছেন, ইমাম গাজালি তাদের অন্যতম। ইমাম গাজালি তাঁর সময় পর্যন্ত পবিত্র কুরআনের তাফসিরে এই মতামতের বর্ণনায় সবচেয়ে বেশি পূর্ণতা দানকারী ছিলেন। কুরআনের অভিব্যক্তিগুলো বোঝার নির্ধারিত মূলনীতি থাকা সত্ত্বেও তিনি ইসলামী জ্ঞানতাত্ত্বিক মহলে এই ধারাটিকে সমর্থন ও প্রচার করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১০)
وكتاب (الإحياء في علوم الدين) ينقل فيه عن بعض العلماء أن القرآن يحوي سبعة وسبعين ألف علم ومائتي علم، إذ كل كلمة علم، ثم يتضاعف ذلك أربعة أضعاف، إذ لكل كلمة ظاهر وباطن وحد ومطلع. ثم يروي عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: "من أراد علم الأولين والآخرين فليتدبر القرآن"، ثم يقول بعد ذلك كله: "وبالجملة فالعلوم كلها داخلة في أفعال الله عز وجل وصفاته. وفي القرآن شرح ذاته وأفعاله وصفاته، وهذه العلوم لا نهاية لها وفي القرآن إشارة إلى مجامعها، ثم يزيد على ذلك فيقول: بل كل ما أشكل فهمه على النظار، واختلف فيه الخلائق في النظريات والمعقولات في القرآن، إليه رمز ودلالات عليه. يختص أهل الفهم بدركها"، ثم لو تصفحنا كتاب الغزالي (جواهر القرآن)، الذي ألفه بعد (إحياء علوم الدين)، فنجده يزيد هذا الذي قرره في الإحياء بيانًا وتفصيلًا، فيعقد الفصل الرابع منه لكيفية انشعاب العلوم الدينية كلها، وما يتصل بها من القرآن عن تقسيمات وتفصيلات تولاها.

ونكتفي بأن نقول: إن الغزالي قسم علوم القرآن إلى قسمين: الأول: علم القشر يعني السطحيات، وجعل من مشتملاته علم اللغة وعلم النحو وعلم القراءات وعلم مخارج الحروف وعلم التفسير الظاهر. والقسم الثاني: علم اللباب وجعل من مشتملاته علم قصص الأولين، وعلم الكلام وعلم الفقه وعلم أصول الفقه والعلم بالله واليوم الآخر والعلم بالصراط المستقيم وطريق السنة، ثم بعد ذلك يعقد الفصل الخامس من كتابه (جواهر القرآن) لكيفية انشعاب سائر العلوم من القرآن الكريم. فيذكر علم الطب والنجوم، وهيئة العالم، وهيئة أجسام الحيوان وتشريح أعضائه، وعلم السحر وغير ذلك، ثم يقول: "ووراء ما عددته علوم أخرى يعلم تراجمها ولا يخلو العالم عمن يعرفها. ثم بعد ذلك يقول: ولا حاجة لي إلى ذكرها بل أقول: ظهر لنا بالبصيرة الواضحة، التي لا يتمارى فيها أن في
'ইহয়াউ উলুমিদ দীন' গ্রন্থে কিছু আলেমের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোরআনে ৭৭,২০০টি জ্ঞান রয়েছে। কারণ প্রতিটি শব্দই একেকটি জ্ঞান। অতঃপর তা চারগুণ বৃদ্ধি পায়, কারণ প্রতিটি শব্দের বাহ্যিক (ظاهر) ও অভ্যন্তরীণ (باطن) অর্থ এবং সীমা (حد) ও উদয়স্থল (مطلع) রয়েছে। অতঃপর তিনি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে যেন কোরআন নিয়ে গবেষণা করে।" এরপর তিনি বলেন: "সংক্ষেপে, সমস্ত জ্ঞান মহান আল্লাহর কার্যাবলি ও গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। আর কোরআনে তাঁর সত্তা, কার্যাবলি ও গুণাবলির ব্যাখ্যা রয়েছে। এই জ্ঞানসমূহের কোনো শেষ নেই এবং কোরআনে এগুলোর মূল বিষয়বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।" তিনি আরও যোগ করে বলেন: "বরং চিন্তাবিদদের নিকট যা কিছু অনুধাবন করা কঠিন হয়েছে এবং তত্ত্ব ও যুক্তিনির্ভর বিষয়ে মানুষের মধ্যে যা কিছু নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, কোরআনে তার ইশারা ও প্রমাণ বিদ্যমান। প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিগণই কেবল তা অনুধাবনে সক্ষম।" এরপর আমরা যদি ইমাম গাজালির 'জাওয়াহিরুল কোরআন' গ্রন্থটি পর্যালোচনা করি, যা তিনি 'ইহয়াউ উলুমিদ দীন' রচনার পর লিখেছেন, তবে দেখব যে তিনি 'ইহয়া' গ্রন্থে যা স্থির করেছিলেন এখানে তার আরও বিশদ বিবরণ ও ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি এর চতুর্থ অধ্যায়টি সমস্ত ধর্মীয় জ্ঞান এবং কোরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ কীভাবে কোরআন থেকে উৎসারিত হয়েছে তার শ্রেণিবিভাগ ও বিস্তারিত আলোচনার জন্য নির্ধারণ করেছেন।

আমরা সংক্ষেপে শুধু এটাই বলব যে, ইমাম গাজালি কোরআনের জ্ঞানসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: প্রথমটি হলো 'ত্বক বা বহিরাবরণ সংক্রান্ত জ্ঞান' (علم القشر), যা দ্বারা তিনি অগভীর বিষয়সমূহকে বুঝিয়েছেন। এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন ভাষাবিজ্ঞান, ব্যাকরণ শাস্ত্র, কিরাত শাস্ত্র, মাখরাজ শিক্ষা এবং বাহ্যিক তাফসির (تفسير الظاهر)। দ্বিতীয় ভাগটি হলো 'মজ্জা বা সারবত্তা সংক্রান্ত জ্ঞান' (علم اللباب)। এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন পূর্ববর্তীদের কাহিনীসমূহ, কালাম শাস্ত্র, ফিকহ শাস্ত্র, উসুলে ফিকহ (أصول الفقه), আল্লাহ ও পরকাল সংক্রান্ত জ্ঞান এবং সিরাতুল মুস্তাকিম ও সুন্নাহর পথ সংক্রান্ত জ্ঞান। এরপর তিনি তাঁর 'জাওয়াহিরুল কোরআন' গ্রন্থের পঞ্চম অধ্যায়টি পবিত্র কোরআন থেকে অন্যান্য সকল জ্ঞান কীভাবে উৎসারিত হয়েছে তার জন্য নির্ধারণ করেছেন। সেখানে তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের গঠনতত্ত্ব, প্রাণিদেহের গঠন ও দেহতত্ত্ব, জাদুবিদ্যা এবং আরও অনেক কিছুর কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: "আমি যা গণনা করেছি তার বাইরেও আরও অনেক জ্ঞান রয়েছে যেগুলোর শিরোনাম জানা যায় এবং পৃথিবীতে এমন কেউ না কেউ অবশ্যই আছেন যারা এগুলো সম্পর্কে জানেন। এরপর তিনি বলেন: সেগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন আমার নেই, বরং আমি এটাই বলব: সুস্পষ্ট অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের নিকট এটি প্রতিভাত হয়েছে, যাতে কোনো সন্দেহ নেই যে..."
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১১)
الإمكان والقوة أصنافًا من العلوم بعد لم تخرج من الوجود، وإن كان في قوة الآدمي الوصول إليها. وعلوم كانت قد خرجت من الوجود واندرست الآن، فلن يوجد في هذه الأعصار على بسيط الأرض من يعرفها. وعلوم أخر ليس في قوة البشر أصلًا إدراكها والإحاطة بها، ويحظى بها بعض الملائكة المقربين، فإن الإمكان في حق الآدمي محدود، والإمكان في حق الملك محدود إلى غاية من النقصان، وإنما الله -سبحانه- هو الذي لا يتناهى العلم في حقه.

ثم يقول بعد ذلك: ثم هذه العلوم ما عددناه وما لم نعدده ليست أوائلها خارجة من القرآن، فإن جميعها مقترفة من بحر واحد من بحار معرفة الله تعالى، وهو بحر الأفعال يقول: وقد ذكرنا أنه بحر لا ساحل له، وأن البحر لو كان مدادًا لكلماته لنفد البحر قبل أن تنفد. فمن أفعال الله تعالى وهو بحر الأفعال مثلًا الشفاء والمرض، كما قال الله تعالى حكاية عن إبراهيم: {وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ} (الشعراء: 80)، وهذا الفعل الواحد لا يعرفه إلا من عرف الطب بكماله. إذ لا معنى للطب إلا معرفة المرض بكماله وعلاماته، ومعرفة الشفاء وأسبابه، ومن أفعاله تقدير معرفة الشمس والقمر ومنازلهما بحسبان، وقد قال الله تعالى: {الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ} (الرحمن: 5). وقال تعالى: {وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ} (يونس: 5)، وقال تعالى: {وَخَسَفَ الْقَمَرُ * وَجُمِعَ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ} (القيامة: 8، 9)، وقال تعالى: {يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ} (الحج: 61). وقال تعالى: {وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ} (يس: 38)، ولا يعرف حقيقة سير الشمس والقمر بحسبان وخسوفهما وولوج الليل في النهار، وكيفية تكور أحدهما على الآخر إلا من عرف هيئات تركيب السموات والأرض.
সম্ভাব্যতা ও সক্ষমতার নিরিখে এমন বহু প্রকার জ্ঞান রয়েছে যা এখনো অস্তিত্ব লাভ করেনি, যদিও তা আয়ত্ত করা মানুষের সামর্থ্যের আওতাভুক্ত। আবার এমন কিছু জ্ঞান রয়েছে যা একদা অস্তিত্বে ছিল কিন্তু বর্তমানে তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে; ফলে বর্তমান যুগে এই ভূপৃষ্ঠে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যে তা জানে। এছাড়া এমন কিছু জ্ঞান রয়েছে যা অনুধাবন করা বা আয়ত্ত করা মানুষের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব; কেবল মহান আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কেউ কেউ তা লাভ করেন। কেননা মানুষের সামর্থ্য সীমাবদ্ধ, আর ফেরেশতাদের সামর্থ্যও সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণতা থেকে মুক্ত নয়। একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই এমন সত্তা, যাঁর জ্ঞানের কোনো পরিসীমা নেই।

অতঃপর তিনি বলেন: এরপর আমরা যেসব বিদ্যার কথা উল্লেখ করেছি বা করিনি, সেগুলোর কোনোটিরই মূল উৎস পবিত্র কুরআনের পরিধির বাইরে নয়। কেননা এই সমস্ত জ্ঞানই মহান আল্লাহ তাআলার পরিচয় বা মা'রিফাতের সমুদ্রসমূহের মধ্য হতে একটি বিশেষ সমুদ্র থেকে আহরিত, আর তা হলো 'কার্যাবলীর সমুদ্র'। তিনি বলেন: আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, এটি এমন এক কূলহীন সমুদ্র যে, যদি সমুদ্রের পানি তাঁর বাণীর জন্য কালি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে সেই বাণী শেষ হওয়ার পূর্বেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ তাআলার কার্যাবলীর এই সমুদ্রের একটি দৃষ্টান্ত হলো রোগ ও আরোগ্য; যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম (আ.)-এর উক্তি বর্ণনা করে বলেছেন: {এবং যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন} (আশ-শুআরা: ৮০)। এই একটি কর্মের স্বরূপ কেবল তিনিই বুঝতে পারেন যিনি চিকিৎসাবিদ্যা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। কারণ চিকিৎসাবিদ্যার সারমর্মই হলো রোগ ও এর লক্ষণসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়া এবং আরোগ্য ও তার কারণসমূহ অনুধাবন করা। তাঁর কার্যাবলীর আরেকটি দিক হলো সূর্য ও চন্দ্রের পরিভ্রমণ এবং সুনির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী সেগুলোর কক্ষপথ নির্ধারণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সূর্য ও চন্দ্র আবর্তিত হয় নির্ধারিত হিসাব অনুসারে} (আর-রাহমান: ৫)। তিনি আরও বলেছেন: {এবং তিনি তার জন্য কক্ষপথসমূহ নির্ধারণ করেছেন যাতে তোমরা বছর গণনা ও হিসাব জানতে পারো} (ইউনুস: ৫)। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {যখন চন্দ্র আলোহীন হয়ে যাবে এবং সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে} (আল-কিয়ামাহ: ৮, ৯)। তিনি আরও বলেছেন: {তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান} (আল-হাজ্জ: ৬১)। তিনি আরও বলেছেন: {এবং সূর্য তার জন্য নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে চলতে থাকে; এটি মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের এক সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ} (ইয়াসীন: ৩৮)। সূর্য ও চন্দ্রের গাণিতিক গতিপথ, সেগুলোর গ্রহণ এবং রাত ও দিনের পারস্পরিক অনুপ্রবেশ ও একটির ওপর অন্যটির আবর্তনের প্রকৃত রহস্য কেবল তিনিই উদ্ঘাটন করতে পারেন, যিনি আসমান ও জমিনের গঠন-বিন্যাস সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১২)
وهو علم برأسه ولا يعرف كمال معنى قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الْإِنْسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ * الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ * فِي أَيِّ صُورَةٍ مَا شَاءَ رَكَّبَكَ} (الانفطار: 6 - 8)، إلا من عرف تشريح الأعضاء من الإنسان ظاهرًا وباطنًا وعددها وأنواعها وحكمتها ومنافعها. وقد أشار في القرآن مجامع علم الأولين والآخرين، وكذلك لا يعرف معنى قوله تعالى: {سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي} (الحجر: 29) ما لم يعلم التسوية والنفخ والروح، ووراءها علوم غامضة يغفل عن طلبها أكثر الخلق، وربما لا يفهمونها إن سمعوها من العالم بها. يقول الغزالي: ولو ذهبت أفصل ما تدل عليه آيات القرآن من تفاصيل الأفعال لطال، ولا يمكن الإشارة إلا إلى مجامعها، فتفكر في القرآن والتمس غرائبه لتصادف فيه مجامع علم الأولين والآخرين". بهذا نعرف أن الغزالي كان من المكثرين في القول بالتفسير العلمي، ومن المؤيدين له.

بعد ذلك نذهب إلى إمام آخر نحى منحى الغزالي في القول بالتفسير العلمي وهو الجلال السيوطي، فنجده يقرر ذلك بوضوح وتوسع في كتابه (الإتقان) في النوع الخامس والستين منه. كما يقرر ذلك أيضًا بمثل هذا الوضوح والتوسع في كتابه (الإكليل في استنباط التنزيل)، ونجده يسوق من الآيات والأحاديث والآثار ما يستدل به على أن القرآن مشتمل على كل العلوم.

فمن الآيات نجد قول الله تعالى في الآية 38 من سورة الأنعام: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ ثُم} (الأنعام: 38) وقوله في الآية 89 من سورة النحل: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْ} (النحل: 89). ومن الأحاديث التي ساقها، ويستدل بها على أن القرآن مشتمل على كل العلوم: ما أخرجه الترمذي وغيره أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((ستكون فتن قيل: وما المخرج منها؟ قال: كتاب الله فيه نبأ ما قبلكم وخبر ما بعدكم وحكم ما بينكم)). وكذلك أيضًا ما أخرجه أبو
এটি একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান এবং মহান আল্লাহর বাণীর পূর্ণাঙ্গ অর্থ অনুধাবন করা সম্ভব নয়: {হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং তোমাকে সুসামঞ্জস্য করেছেন। তিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছামত যে কোনো আকৃতিতে গঠন করেছেন} (আল-ইনফিতার: ৬-৮), কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে মানুষের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গসংস্থানবিদ্যা, সেগুলোর সংখ্যা, প্রকারভেদ, হিকমত ও উপকারিতা সম্পর্কে অবগত। আর কুরআনে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের সকল জ্ঞানের সারসংক্ষেপের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তেমনিভাবে মহান আল্লাহর বাণীর অর্থও জানা সম্ভব নয়: {যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার পক্ষ থেকে রুহ ফুঁকে দেব} (আল-হিজর: ২৯) যতক্ষণ না কেউ 'সুঠাম করা', 'ফুঁকে দেওয়া' এবং 'রুহ' (আত্মা) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে এমন কিছু নিগূঢ় জ্ঞান যা অন্বেষণ করার বিষয়ে অধিকাংশ সৃষ্টিই গাফেল থাকে, এমনকি বিজ্ঞ আলেমদের নিকট থেকে তা শ্রবণ করলেও সম্ভবত তারা তা অনুধাবন করতে পারবে না। ইমাম আল-গাজালি বলেন: "আমি যদি কুরআনের আয়াতসমূহ কার্যাবলীর যে বিস্তারিত বিবরণ নির্দেশ করে তা বিশদভাবে বর্ণনা করতে যাই, তবে তা দীর্ঘ হয়ে যাবে। কেবল এগুলোর সারসংক্ষেপের দিকেই ইঙ্গিত করা সম্ভব। অতএব, তোমরা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করো এবং এর মধ্যকার দুর্লভ ও বিস্ময়কর বিষয়সমূহ অন্বেষণ করো, যাতে তোমরা এতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের সকল জ্ঞানের সমাবেশ খুঁজে পাও।" এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, ইমাম আল-গাজালি বৈজ্ঞানিক তাফসিরের (التفسير العلمي) সপক্ষে অধিক মত পোষণকারী এবং এর সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

এরপর আমরা অন্য একজন ইমামের প্রসঙ্গে আসি যিনি বৈজ্ঞানিক তাফসিরের (التفسير العلمي) ক্ষেত্রে আল-গাজালির পথ অনুসরণ করেছেন, আর তিনি হলেন জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতি। আমরা তাকে তার আল-ইতকান গ্রন্থের পঁয়ষট্টিতম পরিচ্ছেদে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও বিস্তারিতভাবে এটি সাব্যস্ত করতে দেখি। এছাড়া তিনি তার আল-ইকলিল ফি ইস্তিনবাত আত-তানজিল নামক গ্রন্থেও অনুরূপ স্পষ্টতা ও বিস্তৃতির সাথে বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা দেখি যে, তিনি এমন কিছু আয়াত, হাদিস এবং আসার (الآثار) উদ্ধৃত করেছেন যার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, কুরআন সকল জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আয়াতসমূহের মধ্যে আমরা সূরা আল-আনআমের ৩৮ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী দেখতে পাই: {আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি} (আল-আনআম: ৩৮) এবং সূরা আন-নাহলের ৮৯ নম্বর আয়াতে তাঁর বাণী: {এবং আমি আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি যা প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা} (আন-নাহল: ৮৯)। তিনি যেসব হাদিস উদ্ধৃত করেছেন এবং যার মাধ্যমে কুরআন সকল জ্ঞানের আধার হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে: যা ইমাম তিরমিজি ও অন্যান্যগণ বর্ণনা (أخرجه) করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((শীঘ্রই ফিতনা দেখা দেবে। জিজ্ঞেস করা হলো: তা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাব; এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের পারস্পরিক বিষয়ের মীমাংসা রয়েছে))। অনুরূপভাবে আবু...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৩)
الشيخ عن أبي هريرة أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن الله لو أغفل شيئًا لأغفل الذرة والخردلة والبعوضة)) ومن الآثار ما أخرجه سعيد بن منصور عن ابن مسعود أنه قال: "من أراد العلم فعليه بالقرآن، فإن فيه خبر الأولين والآخرين". وما أخرجه ابن أبي حاتم عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: "أنزل الله في القرآن كل علم وبين لنا فيه كل شيء، لكن علمنا يقصر عما بين لنا في القرآن".

ثم نجد السيوطي بعد أن يسوق هذه الأدلة وغيرها، يذكر لنا عن بعض العلماء أنه استنبط أن عمر النبي صلى الله عليه وسلم ثلاث وستون سنة، من قوله تعالى في الآية الحادية عشرة من سورة المنافقون يقول: {وَلَنْ يُؤَخِّرَ اللَّهُ نَفْسًا إِذَا جَاءَ أَجَلُهَا} (المنافقون: 11). فإنها رأس ثلاث وستين سورة وعقبها أي ذكر بعدها سورة التغابن؛ ليظهر التغابن في فقد النبي صلى الله عليه وسلم.

بعد أن ذكرنا الجلال السيوطي وكثرته من القول في التفسير العلمي نأتي بعد ذلك إلى عالم آخر يقرر ما قرره السيوطي وما قرره الغزالي، هذا العالم هو أبو الفضل المرسي. لقد ذكر عن أبي الفضل المرسي أنه قال في تفسيره: "جمع القرآن علوم الأولين والآخرين بحيث لم يحط بها علمًا حقيقة إلا المتكلم به، وهو الله سبحانه، ثم رسول الله صلى الله عليه وسلم خلا ما استأثر به سبحانه وتعالى. ثم ورث عنه معظم ذلك سادات الصحابة وأعلامهم مثل: الخلفاء الأربعة وابن مسعود وابن عباس حتى قال: لو ضاع لي عقال بعير لوجدته في كتاب الله تعالى، ثم ورث عنه التابعون بإحسان، ثم تقاصرت الهمم، وفترت العزائم. وتضاءل أهل العلم، وضعفوا عن حمل ما حمله الصحابة والتابعون من علومه وسائر فنونه، فنوعوا علومه وقامت كل طائفة بفن من فنونه. فاعتنى قوم بضبط لغاته، وتحرير كلماته، ومعرفة مخارج حروفه وعددها وعدد كلماته وآياته وسوره، وأحزابه وأنصافه
শায়খ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ যদি কোনো কিছুকে উপেক্ষা করতেন, তবে তিনি অণু, সরিষার দানা এবং মশা যা উপেক্ষা করতেন।" আর বাণী (أثر) সমূহের মধ্যে রয়েছে যা সাঈদ ইবনে মানসুর ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে চায়, তার উচিত কুরআনকে আঁকড়ে ধরা, কারণ এতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের সংবাদ রয়েছে।" এবং যা ইবনে আবি হাতিম ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা কুরআনে সমস্ত জ্ঞান অবতীর্ণ করেছেন এবং এতে আমাদের জন্য সবকিছু স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু কুরআনে আমাদের জন্য যা বর্ণনা করা হয়েছে তা অনুধাবন করতে আমাদের জ্ঞান অপর্যাপ্ত।"

অতঃপর আমরা দেখতে পাই যে, সুয়ুতী এই সকল প্রমাণ এবং অন্যান্য দলিল উপস্থাপনের পর উল্লেখ করেছেন যে, কোনো কোনো আলেম কুরআন থেকে উদ্ভাবন (استنباط) করেছেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বয়স ছিল তেষট্টি বছর। এটি সূরা আল-মুনাফিকুনের ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলার বাণী থেকে নেওয়া হয়েছে: {এবং আল্লাহ কখনও কোন সত্তাকে অবকাশ দেবেন না যখন তার নির্ধারিত সময় চলে আসবে} (সূরা আল-মুনাফিকুন: ১১)। কারণ এই আয়াতটি কুরআনের তেষট্টিতম সূরার শেষে অবস্থিত এবং এর পরবর্তী বা অনুগামী সূরাটি হলো সূরা আত-তাগাবুন; যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিয়োগে যে পরম ক্ষতি বা তাগাবুন প্রকাশ পেয়েছে তা স্পষ্ট হয়।

জালালুদ্দিন সুয়ুতী এবং বৈজ্ঞানিক তাফসিরের ক্ষেত্রে তাঁর অধিক বক্তব্যের কথা উল্লেখ করার পর, আমরা এখন অন্য একজন আলেমের প্রসঙ্গে আসব যিনি সুয়ুতী এবং গাজালী যা প্রতিষ্ঠিত করেছেন তা-ই সমর্থন করেছেন, আর এই আলেম হলেন আবুল ফজল আল-মুরসি। আবুল ফজল আল-মুরসি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি তাঁর তাফসিরে বলেছেন: "কুরআন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জ্ঞানকে এমনভাবে একত্রিত করেছে যে, স্বয়ং বক্তা অর্থাৎ মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছাড়া আর কেউ এর প্রকৃত জ্ঞান পূর্ণাঙ্গভাবে আয়ত্ত করতে পারেনি, তবে আল্লাহ যা কেবল নিজের জন্যই সংরক্ষিত রেখেছেন তা ব্যতীত। এরপর তাঁর কাছ থেকে সেই জ্ঞানের অধিকাংশের উত্তরাধিকারী হয়েছেন সাহাবায়ে কেরামের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যেমন: চার খলিফা, ইবনে মাসউদ এবং ইবনে আব্বাস। এমনকি তিনি (ইবনে আব্বাস) বলতেন: 'যদি আমার উটের রশিও হারিয়ে যেত, তবে আমি তা আল্লাহর কিতাবে খুঁজে পেতাম।' তারপর নিষ্ঠার সাথে তাবেয়ীগণ এর উত্তরাধিকারী হন, এরপর মানুষের সংকল্প ও উদ্যম হ্রাস পেতে শুরু করে। আলেমদের সংখ্যা কমে যায় এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণ কুরআনের যে জ্ঞান ও বিবিধ শাখা বহন করেছিলেন, তা বহন করার ক্ষেত্রে পরবর্তীগণ দুর্বল (ضعفاء) হয়ে পড়েন। ফলে তারা কুরআনের জ্ঞানকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেন এবং একেকটি দল এর একেকটি শাখা নিয়ে কাজ শুরু করেন। একদল এর ভাষাগত বিশুদ্ধতা রক্ষা, শব্দগুলোর বিশ্লেষণ এবং হরফের মাখরাজ, হরফের সংখ্যা, শব্দের সংখ্যা, আয়াত, সূরা, পারা এবং এর অর্ধাংশসমূহ নির্ধারণে মনোনিবেশ করেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৪)
وأرباعه، وعدد سجداته والتعليم عند كل عشر آيات إلى غير ذلك من حصر الكلمات المتشابهة، والآيات المتماثلة من غير تعرض لمعانيه. ولا تدبر لما أودع فيه فسموا القراء، واعتنى النحاة بالمعرب منه، والمبني من الأسماء والأفعال والحروف العاملة وغيرها، وأوسعوا الكلام في الأسماء وتوابعها وضروب الأفعال واللازم والمتعدي، ورسوم خط الكلمات وجميع ما يتعلق به.

حتى إن بعضهم أعرب مشكله وبعضهم أعربه كلمة كلمة، واعتنى المفسرون بألفاظه، فوجدوا منه لفظًا يدل على معنى واحد، ولفظًا يدل على معنين، ولفظًا يدل على أكثر، فأجروا الأول على حكمه وأوضحوا معنى الخفي منه، وخاضوا في ترجيح أحد محتملات ذي المعنيين والمعاني. وأعمل كل منهم فكره، وقال بما اقتضى نظره، واعتنى الأصوليون بما فيه من الأدلة القطعية، والشواهد الأصلية والنظرية مثل قوله تعالى: {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا} (الأنبياء: 22) إلى غير ذلك من الآيات الكثيرة. فاستنبطوا منها أدلة على وحدانية الله ووجوده وبقائه وقِدمه وقدرته وعلمه وتنزيهه عما لا يليق به، وسموا هذا العلم بأصول الدين، وتأملت طائفة منهم معاني خطابه فرأت منها ما يقتضي العموم، ومنها ما يقتضي الخصوص إلى غير ذلك. فاستنبطوا منها أحكام اللغة من الحقيقي والمجاز، وتكلموا في التخصيص والإضمار والنص والظاهر والمجمل والمحكم والمتشابه، والأمر والنهي والنسخ إلى غير ذلك من أنواع الأقيسة.

واستصحاب الحال والاستقراء، وسموا هذا الفن أصول الفقه، وأحكمت طائفة صحيح النظر، وصادق الفكر فيما فيه من الحلال والحرام وسائر الأحكام،
এবং এর এক-চতুর্থাংশসমূহ, সিজদার সংখ্যা এবং প্রতি দশ আয়াতের মাথায় চিহ্ন প্রদানসহ অর্থের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে সদৃশ শব্দ (المتشابهة) এবং সমজাতীয় আয়াতসমূহ গণনা করা। তাঁরা এতে যা নিহিত আছে তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেননি, ফলে তাঁদের ক্বারী বলা হতো। আর ব্যাকরণবিদগণ এর বিভক্তিযুক্ত (المعرب) এবং অপরিবর্তনীয় (المبني) বিশেষ্য, ক্রিয়া ও আমলকারী অব্যয়সহ অন্যান্য বিষয়ের প্রতি যত্নবান হয়েছেন। তাঁরা বিশেষ্য ও তার অনুগামী বিষয়সমূহ, ক্রিয়ার প্রকারভেদ, অকর্মক (اللازم) ও সকর্মক (المتعدي) ক্রিয়া, শব্দ গঠনের রীতিনীতি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

এমনকি তাঁদের কেউ কেউ এর জটিল শব্দগুলোর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ করেছেন এবং কেউ কেউ প্রতিটি শব্দের বিশ্লেষণ করেছেন। মুফাসসিরগণ এর শব্দাবলীর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন; তাঁরা এতে এমন শব্দ পেয়েছেন যা একটিমাত্র অর্থ প্রকাশ করে, আবার এমন শব্দও পেয়েছেন যা দুটি অর্থ প্রকাশ করে, আবার কোনোটি তার চেয়েও বেশি অর্থ প্রকাশ করে। ফলে তাঁরা প্রথমটিকে তার বিধান অনুযায়ী প্রয়োগ করেছেন এবং এর মধ্যকার অস্পষ্ট অর্থকে স্পষ্ট করেছেন। তাঁরা দ্ব্যর্থবোধক ও বহু অর্থবোধক শব্দের সম্ভাব্য অর্থগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে গভীরভাবে নিমগ্ন হয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই স্বীয় চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করেছেন এবং নিজস্ব গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। অন্যদিকে উসুলবিদগণ এতে বিদ্যমান অকাট্য প্রমাণাদি (الأدلة القطعية) এবং মৌলিক ও তাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত আরও ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত} (আল-আম্বিয়া: ২২)—এরূপ আরও অনেক আয়াত। তাঁরা এ থেকে আল্লাহর একত্ববাদ, তাঁর অস্তিত্ব, স্থায়িত্ব, অনাদিত্ব, ক্ষমতা, জ্ঞান এবং তাঁর শানের অনুপযুক্ত বিষয়াদি থেকে তাঁর পবিত্রতার প্রমাণাদি আহরণ করেছেন। তাঁরা এই শাস্ত্রকে উসুলুদ্দীন নামে অভিহিত করেছেন। তাঁদের একটি দল এর সম্বোধনের মর্মার্থ নিয়ে চিন্তা করেছেন এবং দেখেছেন যে, এর কোনোটি সাধারণ পরিব্যাপ্তি (العموم) দাবি করে এবং কোনোটি বিশেষ পরিব্যাপ্তি (الخصوص) দাবি করে—এরূপ আরও অনেক বিষয়। তাঁরা তা থেকে ভাষার বিধানসমূহ যেমন—প্রকৃত অর্থ (الحقيقي) ও রূপক অর্থ (المجاز) আহরণ করেছেন। তাঁরা বিশেষায়ন (التخصيص), উহ্য রাখা (الإضمار), সুস্পষ্ট পাঠ (النص), আপাত অর্থ (الظاهر), সংক্ষিপ্ত (المجمل), সুনিশ্চিত (المحكم), দ্ব্যর্থবোধক (المتشابه), আদেশ (الأمر), নিষেধ (النهي) এবং রহিতকরণ (النسخ) সহ বিভিন্ন প্রকারের সাদৃশ্যমূলক অনুমান (الأقيسة) নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এবং পূর্বাবস্থা বহাল রাখা (استصحاب الحال) ও আরোহী পদ্ধতি (الاستقراء) নিয়ে আলোচনা করেছেন; তাঁরা এই শাস্ত্রকে উসুলুল ফিকহ নাম দিয়েছেন। একদল গবেষক এতে বিদ্যমান হালাল, হারাম ও অন্যান্য বিধানের ক্ষেত্রে সঠিক অন্তর্দৃষ্টি এবং নির্ভুল চিন্তাকে সুদৃঢ় করেছেন,
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৫)
فأسسوا الأصول وفرعوا فروعه، وبسطوا القول في ذلك بسطًا حسنًا، وسموه بعلم الفروع وبالفقه أيضًا. وتلمحت طائفة ما فيه من قصص القرون السابقة والأمم الخالية، ونقلوا أخبارهم، ودونوا آثارهم ووقائعهم حتى ذكروا بدء الدنيا وأول الأشياء، وسموا ذلك بالتاريخ. وتنبه آخرون لما فيه من الحكم والأمثال والمواعظ، التي تقلقل قلوب الرجال، وتكاد تدكدك الجبال، فاستنبطوا مما فيه من الوعد والوعيد والتحذير والتبشير، وذكر الموت والمعاد، والنشر والحشر، والحساب والعقاب والجنة والنار. استنبطوا من ذلك فصولًا من المواعظ وفصولًا من الزواجر، فسموا بذلك الخطباء والوعاظ، واستنبط قوم مما فيه من أصول التعبير، يعني تفسير الرؤيا مثل ما ورد في قصة يوسف في البقرات السمان، وفي منامي صاحبي السجن. وفي رؤياه الشمس والقمر والنجوم ساجدة، وسموه تعبير الرؤيا، واستنبطوا تأويل كل رؤيا من الكتاب، فإن عز عليهم إخراجها منه، فمن السنة التي هي شارحة للكتاب، فإن عز فمن الحكم والأمثال. ثم نظروا إلى اصطلاح العوام في مخاطباتهم، وعرف عاداتهم الذي أشار إليه القرآن بقوله: {وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ} (لقمان: 17).

وأخذ قوم مما في آيات المواريث من ذكر السهام وأربابها وغير ذلك، أخذوا علم الفرائض، واستنبطوا منها من ذكر النصف والثلث والربع والسدس والثمن حساب الفرائض، ومسائل العدل، واستخرجوا منه أحكام الوصايا. ونظر قوم إلى ما فيه من الآيات الدالات على الحكم الباهرة في الليل والنهار، والشمس والقمر ومنازله والبروج وغير ذلك، فاستخرجوا منه علم المواقيت. ونظر الكتاب والشعراء إلى ما فيه من جزالة اللفظ وبديع النظم، وحسن السياق، والمبادئ
তারা মূলনীতিসমূহ (أصول) প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এর শাখা-প্রশাখা বিন্যস্ত করেছেন, আর এ বিষয়ে অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং একে ইলমুল ফুরু (শাখা জ্ঞান) ও ফিকহ নামে অভিহিত করেছেন। একদল লোক এতে পূর্ববর্তী শতাব্দী ও বিগত জাতিসমূহের যেসব কাহিনী রয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করেছেন; তারা তাদের সংবাদসমূহ (أخبار) বর্ণনা করেছেন এবং তাদের নিদর্শন ও ঘটনাবলী (آثار) লিপিবদ্ধ করেছেন, এমনকি তারা জগতের সূচনা ও সৃষ্টির আদি বিষয়াবলিও উল্লেখ করেছেন এবং একে ইতিহাস নামে অভিহিত করেছেন। অন্য একদল এতে বিদ্যমান প্রজ্ঞা, দৃষ্টান্ত ও উপদেশাবলির প্রতি মনোনিবেশ করেছেন, যা মানুষের অন্তরকে প্রকম্পিত করে এবং পাহাড়কেও চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়ার উপক্রম করে। অতঃপর তারা এর ভেতর থেকে প্রতিশ্রুতি ও ভীতি প্রদর্শন, সতর্কতা ও সুসংবাদ, মৃত্যু ও পরকাল, পুনরুত্থান ও হাশর, হিসাব-নিকাশ ও শাস্তি এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তারা তা থেকে নসিহতের বিভিন্ন অধ্যায় এবং সতর্কবার্তার বিভিন্ন অনুচ্ছেদ উদ্ভাবন করেছেন; আর এর মাধ্যমে তারা খতিব ও ওয়ায়েজ (উপদেশক) হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। আর এক সম্প্রদায় এখান থেকে স্বপ্নব্যাখ্যার মূলনীতিসমূহ (أصول) আহরণ করেছেন, অর্থাৎ স্বপ্নের ব্যাখ্যা; যেমনটি ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনীতে হৃষ্টপুষ্ট গাভী এবং কারাগারের দুই সঙ্গীর স্বপ্নের বর্ণনায় এসেছে। আর তার স্বপ্নে সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজির সিজদাবনত হওয়ার বর্ণনায় রয়েছে। তারা একে 'তعبيرরুর রুইয়া' (স্বপ্নব্যাখ্যা) নামকরণ করেছেন এবং কিতাব (কুরআন) থেকে প্রতিটি স্বপ্নের ব্যাখ্যা উদ্ভাবন করেছেন। যদি কিতাব থেকে তা বের করা তাদের জন্য কঠিন হতো, তবে সুন্নাহ থেকে গ্রহণ করতেন যা কিতাবের ব্যাখ্যাস্বরূপ; আর যদি তাও কঠিন হতো, তবে প্রজ্ঞা ও দৃষ্টান্ত থেকে গ্রহণ করতেন। অতঃপর তারা সাধারণ মানুষের পারস্পরিক সম্বোধনের পরিভাষাগুলো লক্ষ্য করেছেন এবং তাদের রীতিনীতি অনুধাবন করেছেন, যার প্রতি কুরআন ইঙ্গিত করেছে এই বাণীর মাধ্যমে: {وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ} (সৎকাজের আদেশ দাও) (লোকমান: ১৭)।

আর এক সম্প্রদায় উত্তরাধিকার বিষয়ক আয়াতসমূহ থেকে বিভিন্ন অংশ (سهام) ও এর হকদারদের বর্ণনা ও অন্যান্য বিষয় গ্রহণ করেছেন। তারা ইলমুল ফারায়েজ গ্রহণ করেছেন এবং অর্ধেক, এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতুর্থাংশ, এক-ষষ্ঠাংশ ও এক-অষ্টমাংশের বর্ণনা থেকে ফারায়েজের হিসাব ও ইনসাফ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ উদ্ভাবন করেছেন এবং তা থেকে অসিয়তের বিধানাবলি বের করেছেন। অন্য এক দল এতে বিদ্যমান রাত-দিনের আবর্তন এবং সূর্য, চন্দ্র, এর কক্ষপথ ও রাশিচক্র ইত্যাদির মধ্যে নিহিত বিস্ময়কর প্রজ্ঞার নিদর্শন স্বরূপ আয়াতগুলোর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন এবং তা থেকে তারা ইলমুল মাওয়াকিত (সময় নির্ধারণী বিদ্যা) উদ্ভাবন করেছেন। আর লেখক ও কবিগণ এতে বিদ্যমান শব্দের প্রাঞ্জলতা, চমৎকার বিন্যাস, সুন্দর বর্ণনাভঙ্গি এবং প্রারম্ভিক বিষয়াদির প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৬)
والمقاطع والمخالص والتلوين في الخطاب والإطناب والإيجاز وغير ذلك، واستنبطوا منه المعاني والبيان والبديع. ونظر فيه أرباب الإشارات وأصحاب الحقيقة، فلاح لهم من ألفاظه معاني ودقائق جعلوا لها أعلامًا اصطلحوا عليها، مثل الفناء والبقاء والحضور والخوف والهيبة والأنس والوحشة والقبض والبسط، وما أشبه ذلك.

هذه الفنون أخذتها الملة الإسلامية منه، وقد احتوى على علوم أخر من علوم الأوائل، مثل الطب والجدل والهيئة والهندسة والجبر والمقابلة وغير ذلك من العلوم، أما الطب فمداره على نظام الصحة واستحكام القوة. وذلك إنما يكون باعتدال المزاج بتفاعل الكيفيات المتضادة، وقد جمع ذلك في آية واحدة، وهي قوله تعالى: {وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا} (الفرقان: 67)، وعرفنا فيه ما يفيد نظام الصحة بعد اختلالها. وحدوث الشفاء للبدن بعد اعتلاله في قوله تعالى: {شَرَابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ} (النحل: 69)، ثم زاد على طب الأجسام بطب القلوب وشفاء الصدور. وأما الهيئة ففي تضاعيف سوره من الآيات، التي ذكر فيها ملكوت السموات والأرض وما بث في العالم العلوي والسفلي من المخلوقات. وأما الهندسة ففي قوله تعالى: {انْطَلِقُوا إِلَى ظِلٍّ ذِي ثَلَاثِ شُعَبٍ * لَا ظَلِيلٍ وَلَا يُغْنِي مِنَ اللَّهَبِ} (المرسلات: 30، 31)، فإن فيه قاعدة هندسية وهو أن الشكل المثلث لا ظل له. وأما الجدل فقد حوت آياته من البراهين والمقدمات والنتائج، والقول بالموجب والمعارضة وغير ذلك شيئًا كثيرًا، ومناظرة إبراهيم نمرود ومحجته قومه أصل في ذلك عظيم. وأما الجبر والمقابلة: فقد قيل: إن أوائل السور فيها ذكر مدد وأعوام وأيام التواريخ لأمم سالفة، وإن فيها بقاء هذه الأمة وتاريخ مدة أيام الدنيا، وما مضى وما بقي مضروب بعضها في بعض.
বক্তৃতার বিরতি ও উপসংহারসমূহ, বাচনভঙ্গির পরিবর্তন, বর্ণনা-বাহুল্য (الإطناب) ও সংক্ষেপণ (الإيجاز) ইত্যাদি থেকে তারা মা'আনি (المعاني), বায়ান (البيان) এবং বাদি' (البديع) এর অর্থসমূহ বের করেছেন। আর রূপক অর্থের অনুসারী ও সত্যের সন্ধানীগণ এতে দৃষ্টিপাত করেছেন। এর শব্দাবলী থেকে তাদের কাছে সূক্ষ্ম অর্থ ও নিগূঢ় তত্ত্বসমূহ প্রতিভাত হয়েছে, যার জন্য তারা বিশেষ পরিভাষা নির্ধারণ করেছেন; যেমন: বিলোপ (الفناء), স্থায়িত্ব (البقاء), উপস্থিতি (الحضور), ভয় (الخوف), গাম্ভীর্য (الهيبة), হৃদ্যতা (الأنس), নিঃসঙ্গতা (الوحشة), সংকোচন (القبض), প্রসারণ (البسط) এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয়।

ইসলামী মিল্লাত এই বিদ্যাগুলো তা থেকেই গ্রহণ করেছে। এতে পূর্ববর্তীদের অন্যান্য বিজ্ঞানও নিহিত রয়েছে, যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞান, তর্কবিদ্যা (الجدل), জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যামিতি, বীজগণিত (الجبر) ও মোকাবিলা (المقابلة) এবং অন্যান্য বিজ্ঞান। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো সুস্বাস্থ্যের শৃঙ্খলা এবং শক্তির সুদৃঢ়করণ। আর এটি কেবল বিপরীত গুণাবলীর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে মেজাজের ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব। আল্লাহ তাআলার এই আয়াতে তা একত্রিত করা হয়েছে: {এবং তারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না; বরং তারা এ দুয়ের মধ্যবর্তী পন্থায় থাকে} (আল-ফুরকান: ৬৭)। আর এতে আমরা এমন বিষয় জেনেছি যা অসুস্থতার পর সুস্বাস্থ্যের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। অসুস্থতার পর দেহের রোগমুক্তি সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের উদর থেকে বিবিধ বর্ণের পানীয় নির্গত হয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগ নিরাময়} (আন-নাহল: ৬৯)। অতঃপর তিনি শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি অন্তরের চিকিৎসা ও বক্ষের নিরাময়ও যুক্ত করেছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে এর সূরাগুলোর বিভিন্ন আয়াতে আলোচনা রয়েছে, যেখানে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব এবং ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতে ছড়িয়ে থাকা সৃষ্টিজগত সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। আর জ্যামিতি সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা চলো এমন ছায়ার দিকে যা তিন শাখা বিশিষ্ট, যা শীতল ছায়া দেয় না এবং যা অগ্নিশিখা থেকে রক্ষা করে না} (আল-মুরাসালত: ৩০, ৩১)। এতে একটি জ্যামিতিক মূলনীতি রয়েছে, আর তা হলো ত্রিভুজাকৃতির কোনো ছায়া হয় না। আর তর্কবিদ্যা (الجدل) সম্পর্কে এর আয়াতসমূহ অসংখ্য প্রমাণসমূহ (البراهين), উপক্রমনিকা (المقدمات), ফলাফল (النتائج), দাবির যৌক্তিকতা স্বীকারপূর্বক খণ্ডন (القول بالموجب) ও প্রতিবাদ (المعارضة) এবং অনুরূপ অনেক কিছু ধারণ করে আছে। নমরুদের সাথে ইব্রাহিম (আ.)-এর বিতর্ক এবং নিজ সম্প্রদায়ের সাথে তাঁর যুক্তি প্রদর্শন এক্ষেত্রে এক মহান মূলনীতি। আর বীজগণিত (الجبر) ও মোকাবিলা (المقابلة) সম্পর্কে বলা হয়েছে: সূরাগুলোর শুরুর হরফগুলোতে বিগত জাতিসমূহের মেয়াদের কথা এবং তাদের ইতিহাসের বছর ও দিনসমূহের উল্লেখ রয়েছে। আরও রয়েছে এই উম্মতের স্থায়িত্ব এবং দুনিয়ার দিনগুলোর মেয়াদের ইতিহাস, যেখানে অতিক্রান্ত ও অবশিষ্ট সময়ের কিছু অংশকে অন্য অংশের সাথে গুণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৭)
وفي القرآن أصول الصنائع وأسماء الآلات التي تدعو الضرورة إليه، كالخياطة في قوله تعالى: {وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ} (الأعراف: 22)، والحدادة في قوله تعالى: {آتُونِي زُبَرَ الْحَدِيدِ} (الكهف: 96). والبناء في آيات والنجارة في قوله تعالى: {وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا} (هود: 37)، والغزل في قوله تعالى: {نَقَضَتْ غَزْلَهَا} (النحل: 92)، والنسج في قوله تعالى: {كَمَثَلِ الْعَنْكَبُوتِ اتَّخَذَتْ بَيْتًا} (العنكبوت: 41). والفلاحة في قوله تعالى: {أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَحْرُثُونَ} (الواقعة: 63)، والصيد ذكر في آيات، وكذلك الغوص وذلك في قوله تعالى: {وَالشَّيَاطِينَ كُلَّ بَنَّاءٍ وَغَوَّاصٍ} (ص: 37)، وقوله تعالى: {وَتَسْتَخْرِجُوا مِنْهُ حِلْيَةً} (النحل: 14). والصياغة في قوله تعالى: {وَاتَّخَذَ قَوْمُ مُوسَى مِنْ بَعْدِهِ مِنْ حُلِيِّهِمْ عِجْلًا جَسَدًا لَهُ خُوَارٌ} (الأعراف: 148)، والزجاج في قوله: {الْمِصْبَاحُ فِي زُجَاجَةٍ} (النور: 35)، وقوله تعالى: {مُمَرَّدٌ مِنْ قَوَارِيرَ} (النمل: 44). والفخار في قوله تعالى: {فَأَوْقِدْ لِي يَا هَامَانُ عَلَى الطِّينِ} (القصص: 38)، والملاحة في قوله تعالى: {أَمَّا السَّفِينَةُ} (الكهف: 79)، والكتابة في قوله تعالى: {عَلَّمَ بِالْقَلَمِ} (العلق: 4) وفي آيات أخرى. والخبز في قوله تعالى: {أَحْمِلُ فَوْقَ رَأْسِي خُبْزًا} (يوسف: 36)، والطبخ في قوله تعالى: {بِعِجْلٍ حَنِيذٍ} (هود: 69)، والقصارى بعد غسل الملابس وتنظيفها في قوله تعالى: {وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ} (المدثر: 4). {قَالَ الْحَوَارِيُّونَ} (الصف: 14) قيل: وهم القصارون وكذلك الجزارة في قوله تعالى: {إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ} (المائدة: 3) والبيع والشراء في آيات، والصبغ في قوله تعالى: {صِبْغَةَ اللَّهِ} (البقرة: 138) و {جُدَدٌ بِيضٌ} (فاطر: 27). والحجارة في قوله تعالى: {وَتَنْحِتُونَ مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا} (الشعراء: 149)، والكيالة والوزن في آيات كثيرة، والرمي في قوله تعالى: {وَمَا رَمَيْت إِذْ رَمَيْتَ} (الأنفال: 17)، وفي قوله تعالى: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ} (الأنفال: 60). وفي القرآن الكريم من أسماء الآلات، وضروب

পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন শিল্পের মূলনীতি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির নাম বর্ণিত হয়েছে। যেমন সেলাই শিল্প মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "এবং তারা উভয়ে (জান্নাতের পাতা দিয়ে) নিজেদের আবৃত করতে (তালি দিতে) শুরু করল" (আল-আরাফ: ২২)। কামার শিল্প বা লোহা সংক্রান্ত কাজ মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "তোমরা আমার কাছে লোহার পাতগুলো নিয়ে এসো" (আল-কাহাফ: ৯৬)। স্থাপত্য শিল্প বিভিন্ন আয়াতে বর্ণিত হয়েছে এবং কাঠমিস্ত্রির কাজ মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "এবং তুমি আমার তত্ত্বাবধানে নৌকাটি তৈরি করো" (হুদ: ৩৭)। সুতা কাটা বা স্পিনিং-এর কাজ মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "(সেই নারীর মতো হয়ো না যে) তার সুতা মজবুত করে পাকানোর পর টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে" (আন-নাহল: ৯২)। বয়ন শিল্প মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "মাকড়সার দৃষ্টান্তের মতো, যে নিজের জন্য ঘর বানিয়েছে" (আল-আনকাবুত: ৪১)। কৃষি কাজ মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "তোমরা কি ভেবে দেখেছ যা তোমরা চাষ করো?" (আল-ওয়াকিয়া: ৬৩)। শিকার করার কথা বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে ডুবুরির কাজ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এবং শয়তানদের মধ্যে যারা ছিল প্রাসাদ নির্মাতা ও ডুবুরি" (সোয়াদ: ৩৭), এবং মহান আল্লাহর বাণী: "যাতে তোমরা তা থেকে অলঙ্কার আহরণ করতে পারো" (আন-নাহল: ১৪)। স্বর্ণকারের কাজ মহান আল্লাহর বাণী: "মুসার সম্প্রদায় তার প্রস্থানের পর নিজেদের অলঙ্কার দিয়ে একটি বাছুরের অবয়ব তৈরি করল যা হাম্বা হাম্বা ডাকত" (আল-আরাফ: ১৪৮)। কাচ শিল্প মহান আল্লাহর বাণী: "প্রদীপটি একটি কাচপাত্রের মধ্যে রয়েছে" (আন-নূর: ৩৫), এবং মহান আল্লাহর বাণী: "স্বচ্ছ কাচ দ্বারা নির্মিত মসৃণ চত্বর" (আন-নামল: ৪৪)। মৃৎশিল্প বা মাটির কাজ মহান আল্লাহর বাণী: "হে হামান, তুমি আমার জন্য কাদা পুড়িয়ে (ইট তৈরি করে) আগুন প্রজ্বলিত করো" (আল-কাসাস: ৩৮)। নৌচালনা মহান আল্লাহর বাণী: "নৌকাটির বিষয়ে..." (আল-কাহাফ: ৭৯)। লিখন শিল্প মহান আল্লাহর বাণী: "যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন" (আল-আলাক: ৪) এবং আরও অন্যান্য আয়াতে। রুটি তৈরির কাজ মহান আল্লাহর বাণী: "আমি আমার মাথার ওপর রুটি বহন করছি" (ইউসুফ: ৩৬)। রন্ধন শিল্প মহান আল্লাহর বাণী: "(তিনি নিয়ে এলেন) একটি ভুনা করা বাছুর" (হুদ: ৬৯)। কাপড় ধোয়া ও পরিষ্কার করার পর ধোপার কাজ মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তোমার পোশাক পবিত্র করো" (আল-মুদ্দাসসির: ৪)। "হাওয়ারিগণ বলল" (আস-সাফ: ১৪)—বলা হয়ে থাকে যে, তারা ছিলেন ধোপা। একইভাবে কসাইয়ের কাজ মহান আল্লাহর বাণী: "তবে যা তোমরা জবেহ করেছ তা ব্যতীত" (আল-মায়িদা: ৩)। ক্রয়-বিক্রয়ের কথা বিভিন্ন আয়াতে এসেছে। রঙ করার কাজ মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহর রঙ" (আল-বাকারা: ১৩৮) এবং "শুভ্র রেখা" (ফাতির: ২৭)। পাথর খোদাই বা স্থাপত্য শিল্প মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তোমরা পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ করো" (আশ-শুয়ারা: ১৪৯)। পরিমাপ ও ওজনের কথা অনেক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। নিক্ষেপ বা যুদ্ধের রণকৌশল মহান আল্লাহর বাণী: "তুমি যখন নিক্ষেপ করেছিলে, তখন তুমি নিক্ষেপ করোনি" (আল-আনফাল: ১৭), এবং মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তোমরা তাদের মোকাবিলা করার জন্য যথাসাধ্য শক্তি প্রস্তুত করো" (আল-আনফাল: ৬০)। আর পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির নাম এবং প্রকারভেদ রয়েছে...

(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৮)
المأكولات والمشروبات والمنكوحات، وجميع ما وقع ويقع في الكائنات ما يحقق معنى قوله تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} (الأنعام: 38).

قال السيوطي: انتهى كلام أبي الفضل المرسي ملخصًا مع زيادة". ثم بعد رواية السيوطي لهذه المقالة الطويلة نجده يذكر عن أبي بكر بن العربي أنه قال في كتابه (قانون التأويل): "علوم القرآن خمسون علمًا، وأربعمائة علم وسبعة آلاف علم وسبعون ألف علم على عدد كلم القرآن مضروبة في أربعة. إذ لكل كلمة ظهر وبطن وحد ومطلع، وهذا مطلق دون اعتبار الترتيب وما بينها من روابط، وهذا ما لا يحصى وما لا يعلمه إلا الله". وأخيرًا عقب السيوطي على هذه النقول وغيرها، فقال: "وأنا أقول: قد اشتمل كتاب الله العزيز على كل شيء، أما أنواعه فليس منها باب ولا مسألة هي أصلًا وإلا وفي القرآن ما يدل عليها، وفيه عجائب المخلوقات، وملكوت السموات والأرض وما في الأفق الأعلى وما تحت الثرى. وإلى غير ذلك مما يحتاج شرحه إلى مجلدات".

ومن هنا يتبين كيف ظهرت آثار الثقافات العلمية للمسلمين في تفسير القرآن الكريم وكيف حاول هؤلاء العلماء المتقدمون أن يجعلوا القرآن منبع العلوم كلها ما جد، وما يجد إلى يوم القيامة، هذه النزعة التفسيرية العلمية للقرآن الكريم تمتد من عهد النهضة العلمية العباسية إلى يومنا هذا. وفي بداية الأمر كانت عبارة عن محاولات يقصد منها التوفيق بين القرآن، وما جد من العلوم، ثم وجدت الفكرة مركزة وصريحة على لسان الغزالي وابن العربي والمرسي والسيوطي، وهذه الفكرة قد طبقت علميًّا. وظهرت في مثل محاولات الفخر الرازي ضمن تفسيره للقرآن، ثم وجدت بعد ذلك كتب مستقلة لاستخراج العلوم من القرآن، وتتبع الآيات الخاصة بمختلف العلوم. وراجت هذه الفكرة في العصر المتأخر رواجًا كبيرًا بين جماعة من أهل العلم، ونتج عن ذلك مؤلفات كثيرة تعالج هذا الموضوع، كما ألفت بعض التفاسير التي تسير على ضوء هذه الفكرة. هؤلاء هم المؤيدون للتفسير العلمي.
খাদ্যদ্রব্য, পানীয়, বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং সৃষ্টিজগতে যা কিছু ঘটেছে বা ঘটবে, সবকিছুই মহান আল্লাহর বাণীর মর্মার্থকে বাস্তবায়ন করে: "আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দেইনি" (আল-আনআম: ৩৮)।

ইমাম সুয়ূতী বলেন: "আবু আল-ফজল আল-মুরসির বক্তব্য সারসংক্ষেপ এবং কিছু সংযোজনসহ এখানেই সমাপ্ত।" অতঃপর সুয়ূতী কর্তৃক এই দীর্ঘ বর্ণনাটি উদ্ধৃত করার পর আমরা দেখি যে, তিনি আবু বকর ইবনুল আরাবী সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর 'কানুন আত-তাবীল' গ্রন্থে বলেছেন: "কুরআনের জ্ঞানসমূহ হলো সাতাত্তর হাজার চারশ পঞ্চাশটি; যা কুরআনের শব্দের সংখ্যার চারগুণ। কারণ প্রতিটি শব্দের একটি বহির্ভাগ (ظاهر), একটি অন্তর্ভাগ (باطن), একটি সীমা (حد) এবং একটি উৎস (مطلع) রয়েছে। এটি শব্দের বিন্যাস এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক বিবেচনা না করেই একটি সাধারণ হিসাব, যা অগণিত এবং আল্লাহ ব্যতীত কেউ তা জানেন না।" পরিশেষে সুয়ূতী এই সকল উদ্ধৃতি ও অন্যান্য প্রসঙ্গের ওপর মন্তব্য করে বলেন: "আমি বলি: মহান আল্লাহর কিতাব প্রতিটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর প্রকারভেদের মধ্যে এমন কোনো অধ্যায় বা মাসআলা নেই যা মৌলিকভাবে কুরআনে বিদ্যমান নয় অথবা যা নির্দেশ করে এমন কিছু কুরআনে নেই। এতে রয়েছে সৃষ্টির বিস্ময়কর বিষয়সমূহ, আসমান ও যমীনের রাজত্ব, ঊর্ধ্বজগত এবং মাটির নিচের জগত। এ ছাড়া আরও অনেক বিষয় রয়েছে যার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য বহু খণ্ডের প্রয়োজন।"

এখান থেকে স্পষ্ট হয় যে, আল-কুরআনের তাফসীরে কীভাবে মুসলিমদের বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতির প্রভাব ফুটে উঠেছে এবং পূর্ববর্তী আলেমগণ কীভাবে কুরআনকে সকল জ্ঞানের উৎস বানানোর চেষ্টা করেছেন—তা অতীতে আবিষ্কৃত হোক বা কিয়ামত পর্যন্ত নতুন যা কিছু আবিষ্কৃত হবে। আল-কুরআনের এই বৈজ্ঞানিক তাফসীর (التفسير العلمي) ধারাটি আব্বাসীয় বৈজ্ঞানিক রেনেসাঁ বা জাগরণের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ছিল কুরআন এবং আধুনিক বিজ্ঞানের মধ্যে সমন্বয় সাধনের একটি প্রচেষ্টা মাত্র। পরবর্তীতে ইমাম গাযালী, ইবনুল আরাবী, আল-মুরসী এবং সুয়ূতী-র বক্তব্যে এই ধারণাটি আরও ঘনীভূত ও স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয় এবং এই ধারণাটি ব্যবহারিকভাবেও প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন ফখরুদ্দীন আল-রাযীর তাফসীরে এ ধরনের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। এরপর কুরআন থেকে বিজ্ঞান আহরণ এবং বিভিন্ন বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ অনুসন্ধানের জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়েছে। বর্তমান যুগে আলেমদের একটি দলের মধ্যে এই ধারণাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর ফলে এই বিষয়টি নিয়ে অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে। এমনকি এই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে কিছু তাফসীরও সংকলিত হয়েছে। এরাই হলেন বৈজ্ঞানিক তাফসীরের (التفسير العلمي) সমর্থক।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌نماذج لمؤلفات التفسير العلمي في العصر الحديث

وأرى من المستحسن أن نذكر بعض النماذج لمؤلفات التفسير العلمي في العصر الحديث، وهو اللون العلمي للتفسير في عصرنا الحاضر.

إن هذا اللون من التفسير -أعني التفسير العلمي- الذي يرمي إلى جعل القرآن مشتملًا على سائر العلوم ما جد منها، وما يجد قد استشرى أمره في هذا العصر الحديث، وراج لدى بعض المثقفين الذين لهم عناية بالعلوم، وعناية بالقرآن الكريم. وكان من أثر هذه النزعة التفسيرية، التي تسلطت على قلوب أصحابها أن أخرج لنا المشغوفون بها كثيرًا من الكتب، يحاول أصحابها فيها أن يحملوا القرآن كل علوم الأرض والسماء، وأن يجعلوه دالًّا عليها بطريق التصريح أو التلميح. اعتقادًا منهم أن هذا بيان لناحية من أهم نواحي صدقه وإعجازه، وصلاحيته للبقاء.

أهم الكتب التي عنيت بهذا اللون، أعني التفسير العلمي:

ومن أهم هذه الكتب التي ظهرت فيها هذه النزعة التفسيرية:

كتاب (كشف الأسرار النورانية القرآنية فيما يتعلق بالأجرام السماوية والأرضية، والحيوانات والنباتات والجواهر المعدنية) للإمام الفاضل والطبيب البارع، محمد بن أحمد الإسكندراني من علماء القرن الثالث عشر الهجري، وهو كتاب كبير الحجم يقع في ثلاثة مجلدات، ومطبوع بالمطبعة الوهبية بمصر سنة 1297 هجرية، ومنه نسخة بدار الكتب المصرية. ورسالة عبد الله باشا فكري في مقارنة بعض مباحث الهيئة بالوارد في النصوص الشرعية، وقد طبعت بالقاهرة سنة 1315 هجرية.

وهناك كتاب آخر اسمه (طبائع الاستبداد ومصارع الاستعباد) لرجل الإصلاح الإسلامي، المرحوم السيد عبد الرحمن الكواكبي. وهو عبارة عن مجموعة
আধুনিক যুগে বিজ্ঞানভিত্তিক তাফসির বিষয়ক রচনাবলির কিছু নমুনা

আমি আধুনিক যুগে বিজ্ঞানভিত্তিক তাফসিরের ওপর রচিত গ্রন্থাবলির কিছু নমুনা উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি, যা বর্তমান সময়ে তাফসিরের একটি বৈজ্ঞানিক ধারা হিসেবে বিবেচিত।

তাফসিরের এই ধারাটি—অর্থাৎ বিজ্ঞানভিত্তিক তাফসির—যার লক্ষ্য হলো কুরআনকে আধুনিক ও অনাগত যাবতীয় বিজ্ঞানের আধার হিসেবে উপস্থাপন করা, তা বর্তমান যুগে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। এটি এমন কিছু শিক্ষিত মহলে জনপ্রিয়তা পেয়েছে যারা বিজ্ঞানের প্রতি অনুরাগী এবং আল-কুরআনের প্রতিও বিশেষ যত্নশীল। তাফসিরের এই প্রবণতা এর প্রবক্তাদের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে যাওয়ার প্রভাবে তারা আমাদের সামনে এমন অনেক কিতাব পেশ করেছেন, যেখানে তারা কুরআনকে আসমান ও জমিনের যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারক হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন এবং এটি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সেগুলোর প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করে বলে দাবি করেছেন। তাদের বিশ্বাস ছিল যে, এটি কুরআনের সত্যতা, মুজিজা (অলৌকিকত্ব) এবং এর চিরন্তন উপযোগিতার অন্যতম প্রধান একটি দিক।

বিজ্ঞানভিত্তিক তাফসিরের এই ধারায় রচিত গুরুত্বপূর্ণ কিতাবসমূহ:

যেসব কিতাবে এই তাফসিরি প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:

হিজরি ত্রয়োদশ শতাব্দীর অন্যতম আলেম, প্রাজ্ঞ ইমাম ও নিপুণ চিকিৎসক মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-ইসকান্দারানি রচিত গ্রন্থ ‘কাশফুল আসরারিন নূরানিয়্যাহ আল-কুরআনিয়্যাহ ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিল আজরামিস সামাউয়্যাহ ওয়াল আরদিয়্যাহ ওয়াল হাইওয়ানাতি ওয়ান নাবাতাতি ওয়াল জাওয়াহিরিল মা’দানিয়্যাহ’। এটি তিন খণ্ডে সমাপ্ত একটি বিশালাকার গ্রন্থ, যা ১২৯৭ হিজরিতে মিসরের ওয়াহবিয়াহ ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং এর একটি অনুলিপি দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত আছে। এছাড়া আবদুল্লাহ পাশা ফিকরির একটি রিসালা (ক্ষুদ্র পুস্তিকা), যেখানে জ্যোতির্বিজ্ঞানের কিছু বিষয়ের সাথে শরয়ি দলীলসমূহে বর্ণিত তথ্যের তুলনা করা হয়েছে; এটি ১৩১৫ হিজরিতে কায়রো থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

এছাড়া ‘তবায়িউল ইসতিবদাদ ওয়া মাসারিউল ইসতি’বাদ’ নামক আরও একটি কিতাব রয়েছে, যা ইসলামি সংস্কারক মরহুম সাইয়্যিদ আবদুর রহমান আল-কাওয়াকিবি কর্তৃক রচিত। এটি মূলত একটি সংকলন...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২০)
مقالات له، نشرها في بعض الصحف عندما زار مصر سنة 1318 هجرية، وقد طبع هذا الكتاب وأبهم اسم مؤلفه، ورمز له الرحالة ك.

هذا الكتاب (طبائع الاستبداد) للسيد عبد الرحمن الكواكبي، نريد أن نبين أهم الملامح، وأهم منهج هذا المؤلف في بيانه لهذا التفسير العلمي، فنجده ينحاز انحيازًا بليغًا إلى هذا اللون من ألوان التفسير، فيصف القرآن بأنه شمس العلوم، وكنز الحكم. ويقرر بأن السبب في إحجام العلماء عن تفسير قسمي الآلات والأخلاق من القرآن، وبيان ما يشتمل عليه من العلوم المختلفة هو أنه كانوا يخافون مخالفة رأي بعض السلف القاصرين في العلم، فيكفرون فيقتلون.

ثم يقول: "وهذه مسألة إعجاز القرآن، وهي أهم مسألة في الدين لم يقدروا أن يوفوها حقها من البحث، واقتصروا على ما قاله بعض السلف: أن الإعجاز في فصاحته وبلاغته وإخباره عن أن الروم من بعد غلبهم سيغلبون". هذا ما يراه السيد عبد الرحمن الكواكبي في سبب انصراف العلماء عن التفسير العلمي.

وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم، والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.

এগুলো তাঁর কিছু প্রবন্ধ, যা তিনি ১৩১৮ হিজরি সালে মিশর ভ্রমণের সময় কিছু সংবাদপত্রে প্রকাশ করেছিলেন। এই বইটি মুদ্রিত হয়েছে, তবে এর লেখকের নাম গোপন রাখা হয়েছে এবং পর্যটক 'কাফ' চিহ্ন দ্বারা তাঁকে সংকেতবদ্ধ করা হয়েছে।

সাইয়্যেদ আব্দুর রহমান আল-কাওয়াকিবি রচিত এই গ্রন্থটি হলো (তাবায়ি আল-ইস্তিবদাদ)। আমরা এই বৈজ্ঞানিক তাফসির বর্ণনায় লেখকের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং তাঁর অনুসৃত গুরুত্বপূর্ণ মানহাজ বা পদ্ধতি তুলে ধরতে চাই। আমরা দেখতে পাই যে, তিনি তাফসিরের এই ধারার প্রতি জোরালোভাবে ঝুঁকে পড়েছেন। তিনি কুরআনকে বিজ্ঞানের সূর্য এবং প্রজ্ঞার ভাণ্ডার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনের মাধ্যমসমূহ এবং নৈতিকতা সংক্রান্ত অংশগুলোর তাফসির করতে এবং তাতে বিদ্যমান বিভিন্ন বিজ্ঞানের বর্ণনা দিতে আলেমদের অনীহার কারণ হলো—তাঁরা জ্ঞানে অপরিপক্ব কিছু পূর্বসূরি (سلف)-দের মতের বিরোধিতা করতে ভয় পেতেন, পাছে তাঁদেরকে কাফের আখ্যা দিয়ে হত্যা করা হয়।

অতঃপর তিনি বলেন: "আর এটিই কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز)-এর মাসআলা; যা দ্বীনের এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটির গবেষণায় তাঁরা যথাযথ হক আদায় করতে পারেননি। তাঁরা কেবল কিছু পূর্বসূরি (سلف)-দের কথার ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন যে, অলৌকিকত্ব (إعجاز) কেবল এর প্রাঞ্জলতা (فصاحة), সাবলীলতা (بلاغة) এবং রোমীয়দের পরাজিত হওয়ার পর পুনরায় বিজয়ী হওয়ার সংবাদ প্রদানের মধ্যেই নিহিত।" বৈজ্ঞানিক তাফসির থেকে আলেমদের বিমুখ হওয়ার কারণ সম্পর্কে সাইয়্যেদ আব্দুর রহমান আল-কাওয়াকিবির অভিমত এটিই।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الدرس: 2 أهم الكتب التي عنيت بالتفسير العلمي.
পাঠ: ২ - বিজ্ঞানভিত্তিক তাফসির সংশ্লিষ্ট প্রধান গ্রন্থসমূহ.
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الدرس الثاني

(أهم الكتب التي عُنيت بالتفسير العلمي)

 

‌‌تتمة الحديث عن نماذج لمؤلفات التفسير العلمي في العصر الحديث

الحمد لله والصلاة والسلام على سيدنا رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه أما بعد:

كنا تعرضنا لكتاب (طبائع الاستبداد ونصائح الاستعباد) لرجل الإصلاح الإسلامي المرحوم السيد عبد الرحمن. في هذا الكتاب سنتعرض لاهتمامه بالتفسير العلمي:

نرى عبد الرحمن الكواكبي يأخذ في بيان اشتمال القرآن على ما جد من نظريات علمية تؤيد إعجاز القرآن، فيقول: "إنه لو أطلق للعلماء عنان التدقيق، وحرية الرأي والتأليف كما أطلق لأهل التأويل والخرافات؛ لرأوا في ألوف من آيات القرآن ألوف آيات من الإعجاز. أيضًا لرأوا فيه كل يوم آية تتجدد مع الزمان تبرهن على إعجازه بصدق قوله تعالى: {وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ} (الأنعام: 59) رأوا فيه برهان عيان لا مجرد تسليم وإيمان، ومثال ذلك: أن العلم كشف في هذه القرون الأخيرة حقائق، وطبائع كثيرة تعزى لكاشفيها ومخترعيها من علماء أوربا وأمريكا.

والمدقق في القرآن يجد أكثرها ورد التصريح أو التلميح به في القرآن، منذ ثلاثة عشر قرنًا، وما بقيت مستورة تحت غشاء من الخفاء، إلا لتكون عند ظهورها معجزة للقرآن، شاهدة بأنه كلام رب لا يعلم الغيب سواه. وذلك أنهم كشفوا أن مادة الكون هي الأثير، وقد وصف القرآن بدء التكوين، فقال: {ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ} (فصلت: 11)، وكشفوا أن الكائنات في حركة دائمة دائبة. والقرآن يقول: {وَآيَةٌ لَهُمُ الْأَرْضُ الْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَاهَا} (يس: 33) إلى أن يقول: {وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ} (يس: 40)، وحققوا أن الأرض منفتقة من النظام الشمسي، والقرآن يقول: {أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا} (الأنبياء: 30).

وحققوا أن القمر منشق من الأرض، والقرآن يقول: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا} (الرعد: 41) ويقول: {اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ} (القمر: 1). وحققوا أن طبقات الأرض سبع، والقرآن يقول: {خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ} (الطلاق: 12)، وحققوا أنه لولا الجبال لاقتضى الثقل النوعي أن تميد الأرض، أي: ترتج في دورتها. والقرآن يقول: {وَأَلْقَى فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِكُمْ} (النحل: 15)، وكشفوا أيضًا أن التغيير في التركيب الكيمياوي، بل والمعنوي ناشئ عن تخالف نسبة المقادير. والقرآن يقول: {وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِمِقْدَارٍ} (الرعد: 8)، وكشفوا أن للجمادات حياة قائمة بماء التبلور، والقرآن يقول: {وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ} (الأنبياء: 30)،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

দ্বিতীয় পাঠ

(বৈজ্ঞানিক তাফসিরের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপকারী প্রধান গ্রন্থসমূহ)

 

‌‌আধুনিক যুগে বৈজ্ঞানিক তাফসিরের রচনার নমুনাসমূহ সম্পর্কে আলোচনার অবশিষ্টাংশ

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:

আমরা মরহুম ইসলামী সংস্কারক সাইয়্যেদ আবদুর রহমানের রচিত 'তাবাইউ আল-ইস্তিবদাদ ওয়া নাসাইহু আল-ইস্তিবাদ' গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। এই গ্রন্থে আমরা বৈজ্ঞানিক তাফসিরের প্রতি তাঁর আগ্রহ সম্পর্কে আলোচনা করব:

আমরা দেখতে পাই যে, আবদুর রহমান আল-কাওয়াকিবি কুরআনের অলৌকিকত্বের সপক্ষে আধুনিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্বসমূহের অন্তর্ভুক্তির বর্ণনায় প্রবৃত্ত হয়েছেন; তিনি বলেন: "যদি আলেমদের গবেষণার পূর্ণ স্বাধীনতা এবং মতামত প্রকাশ ও গ্রন্থ রচনার অধিকার দেওয়া হতো, যেমনটি রূপক ব্যাখ্যাকারী ও কুসংস্কারবাদীদের দেওয়া হয়েছে; তবে তারা কুরআনের হাজার হাজার আয়াতের মধ্যে হাজার হাজার অলৌকিক নিদর্শন দেখতে পেতেন। এছাড়াও তারা এতে প্রতিদিন সময়ের সাথে নতুনভাবে প্রকাশিত এমন সব নিদর্শন দেখতে পেতেন যা আল্লাহর এই বাণীর সত্যতার মাধ্যমে কুরআনের অলৌকিকত্ব প্রমাণ করে: {এমন কোনো আর্দ্র বা শুষ্ক বস্তু নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে নেই} (আল-আনআম: ৫৯)। তারা এতে কেবল বিশ্বাসের চেয়ে বরং চাক্ষুষ প্রমাণ দেখতে পেতেন। এর উদাহরণ হলো: বিগত কয়েক শতাব্দীতে বিজ্ঞান অনেক সত্য ও প্রকৃতি উন্মোচন করেছে, যা ইউরোপ ও আমেরিকার বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার ও উদ্ভাবন হিসেবে গণ্য করা হয়।

অথচ কুরআনের গভীর পর্যালোচক দেখতে পাবেন যে, এগুলোর বেশিরভাগই তেরো শ বছর আগে কুরআনে স্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এগুলো অস্পষ্টতার আবরণে ঢাকা ছিল কেবল এই জন্য যে, যখন এগুলো প্রকাশ পাবে তখন তা কুরআনের অলৌকিকত্ব হিসেবে পরিগণিত হবে এবং সাক্ষ্য দেবে যে এটি সেই রবের বাণী যিনি ছাড়া আর কেউ অদৃশ্যের খবর জানেন না। বিষয়টি হলো, তারা আবিষ্কার করেছে যে মহাবিশ্বের মূল উপাদান হলো ইথার, অথচ কুরআন সৃষ্টির শুরু সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছে: {অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন যখন তা ছিল ধোঁয়া} (ফুসসিলাত: ১১)। তারা আবিষ্কার করেছে যে মহাজাগতিক বস্তুসমূহ নিরন্তর গতিশীল। আর কুরআন বলছে: {তাদের জন্য একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী, যাকে আমি পুনর্জীবিত করি} (ইয়াসীন: ৩৩) থেকে শুরু করে এই বাণী পর্যন্ত: {এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে} (ইয়াসীন: ৪০)। তারা প্রমাণ করেছে যে পৃথিবী সৌরজগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, আর কুরআন বলছে: {আসমান ও জমিন ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম} (আল-আম্বিয়া: ৩০)।

তারা প্রমাণ করেছে যে চাঁদ পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, আর কুরআন বলছে: {তারা কি দেখে না যে আমি জমিনকে এর প্রান্তসমূহ থেকে সংকুচিত করে আনছি?} (আর-রাদ: ৪১) এবং আল্লাহ আরও বলেন: {কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে} (আল-কামার: ১)। তারা প্রমাণ করেছে যে পৃথিবীর স্তর সাতটি, আর কুরআন বলছে: {তিনি সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীও তাদের অনুরূপ} (আত-তালাক: ১২)। তারা নিশ্চিত করেছে যে পাহাড় না থাকলে আপেক্ষিক গুরুত্বের কারণে পৃথিবী দুলতে থাকত, অর্থাৎ নিজ কক্ষপথে আবর্তনের সময় কেঁপে উঠত। আর কুরআন বলছে: {তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন যাতে এটি তোমাদের নিয়ে দুলতে না পারে} (আন-নাহল: ১৫)। তারা আরও আবিষ্কার করেছে যে রাসায়নিক এমনকি গুণগত কাঠামোর পরিবর্তনও ঘটে পরিমাণের অনুপাতের পার্থক্যের কারণে। আর কুরআন বলছে: {তাঁর কাছে প্রতিটি বস্তুরই একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে} (আর-রাদ: ৮)। তারা আবিষ্কার করেছে যে জড় পদার্থের মধ্যেও কেলাসিত পানির মাধ্যমে জীবন বিদ্যমান রয়েছে, আর কুরআন বলছে: {এবং আমি প্রতিটি প্রাণবান বস্তু পানি থেকে সৃষ্টি করেছি} (আল-আম্বিয়া: ৩০),
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৪)
وحققوا أن العالم العضوي، ومنه الإنسان ترقى من الجماد، والقرآن يقول: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ سُلَالَةٍ مِنْ طِينٍ} (المؤمنون: 12).

وكشفوا ناموس اللقاح العام في النبات، والقرآن يقول: {خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنْبِتُ الْأَرْضُ} (يس: 36)، ويقول: {فَأَخْرَجْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِنْ نَبَاتٍ شَتَّى} (طه: 53)، ويقول: {اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنْبَتَتْ مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ} (الحج: 5). ويقول: {وَمِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ جَعَلَ فِيهَا زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ} (الرعد: 3)، طريقة إمساك الظل أي: التصوير الشمسي، والقرآن يقول: {أَلَمْ تَرَ إِلَى رَبِّكَ كَيْفَ مَدَّ الظِّلَّ وَلَوْ شَاءَ لَجَعَلَهُ سَاكِنًا ثُمَّ جَعَلْنَا الشَّمْسَ عَلَيْهِ دَلِيلًا} (الفرقان: 45). وكشفوا تسيير السفن والمركبات بالبخار والكهرباء، والقرآن يقول بعد ذكره الدواب والجواري بالريح، يقول الله: {وَخَلَقْنَا لَهُمْ مِنْ مِثْلِهِ مَا يَرْكَبُونَ} (يس: 42)، وكشفوا وجود الميكروب وتأثيره كالجدري وغيره من المرض. والقرآن يقول: {وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ} (الفيل: 3)، أي: متتابعة مجتمعة يقول تعالى: {تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ} (الفيل: 4) أي: من طين المستنقعات اليابس. إلى غير ذلك من الآيات
তারা প্রমাণ করেছেন যে জৈবিক জগৎ এবং এর অন্তর্ভুক্ত মানুষ জড় পদার্থ থেকে বিবর্তিত হয়ে উন্নত হয়েছে, আর কুরআন বলছে: {আর অবশ্যই আমি মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি} (আল-মুমিনুন: ১২)।

এবং তারা উদ্ভিদের ক্ষেত্রে সাধারণ পরাগায়নের নিয়ম আবিষ্কার করেছেন, আর কুরআন বলছে: {পবিত্র তিনি যিনি যমীন থেকে উৎপন্ন সকল জোড়া সৃষ্টি করেছেন} (ইয়াসিন: ৩৬), এবং বলছে: {অতঃপর আমি তা দ্বারা বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদের জোড়া উৎপন্ন করেছি} (ত্বহা: ৫৩), এবং বলছে: {তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয় এবং উৎপন্ন করে সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম জোড়া} (আল-হজ্জ: ৫)। এবং বলছে: {আর তিনি প্রত্যেক ফল সৃষ্টি করেছেন দুই প্রকারের} (আর-রাদ: ৩)। ছায়া ধারণের পদ্ধতি অর্থাৎ: আলোকচিত্র বিদ্যা, আর কুরআন বলছে: {তুমি কি তোমার প্রতিপালকের প্রতি লক্ষ্য করো না, তিনি কিভাবে ছায়াকে সম্প্রসারিত করেন? তিনি ইচ্ছা করলে একে স্থির রাখতে পারতেন; অতঃপর আমি সূর্যকে এর নির্দেশক করেছি} (আল-ফুরকান: ৪৫)। এবং তারা বাষ্প ও বিদ্যুৎ দ্বারা জাহাজ ও যানবাহন পরিচালনার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। কুরআন পশুপাখি এবং বায়ুচালিত নৌযানের বর্ণনার পর বলছে—আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং আমি তাদের জন্য অনুরূপ এমন যানবাহন সৃষ্টি করেছি যাতে তারা আরোহণ করে} (ইয়াসিন: ৪২)। তারা অণুজীবের অস্তিত্ব এবং বসন্ত ও অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আবিষ্কার করেছেন। আর কুরআন বলছে: {আর তিনি তাদের ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়েছিলেন} (আল-ফিল: ৩), অর্থাৎ: দলবদ্ধভাবে একের পর এক আগমনকারী। মহান আল্লাহ বলছেন: {যারা তাদের ওপর নিক্ষেপ করছিল কঙ্করময় পাথর} (আল-ফিল: ৪) অর্থাৎ: জলাভূমির শুকনো কাদা থেকে তৈরি। এ ধরনের আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৫)
الكثيرة المحققة لبعض مكتشفات علم الهيئة النواميس الطبيعية، وبالقياس على ما تقدم ذكره، يقتضي أن كثيرًا من آياته سينكشف سرها في المستقبل في وقتها المرهون تجديدًا لإعجازه، ما دام الزمان وما كر الجديد".

وكذلك هناك كتاب (إعجاز القرآن) للمرحوم مصطفى صادق الرافعي، وهو من أنصار هذه النزعة التفسيرية، ومن المؤيدين لها:

وفي هذا الكتاب نجد المؤلف رحمه الله يعقد بحثًا خاصًّا لموضوع القرآن والعلوم. وفيه يقرر أن القرآن بآثاره النامية معجزة أصلية في تاريخ العلم كله على بسيط هذه الأرض، من لدن ظهور الإسلام إلى ما شاء الله، ثم يستطرد إلى ذكر بعض ما نقله السيوطي في (الإتقان) و (الإكليل) عن العلامة المرسي في اشتمال القرآن على سائر العلوم.

وهنا نجده يعلق استخراج علم المواقيت من القرآن، فيقول: "قال بعض المتأخرين: إن الميقات مشار إليه في القرآن بقوله تعالى: {رَفِيعُ الدَّرَجَاتِ} (غافر: 15) قال: فإن عدد رفيع بحساب الجمل ثلاثمائة وستون، وهي عدد درج الليل والنهار. ثم يقول الرافعي نفسه بعد هذا: وإذا أطلق حساب الجمل في كلمات القرآن كشف منه كل عجائب العصور وتواريخها وأسرارها، ثم يقول الرافعي: ولو أن هذا خارج عن غرض الكتاب لجئنا منه بأشياء كثيرة من القديم والحديث.

ثم نرى الرافعي رحمه الله يسترسل في حديثه إلى أن يقول: وقد استخرج بعض علمائنا من القرآن ما يشير إلى مستحدثات الاختراع، وما يحقق بعض غوامض العلوم الطبيعية وبسطوا كل ذلك بسطًا ليس هو من غرضنا، فنستقصي فيه على أن هذا ومثله إنما يكون فيه إشارة ولمحة. ولعل متحققًا بهذه العلوم
জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং প্রাকৃতিক আইনের প্রমাণিত বহু আবিষ্কার এবং পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বলা যায় যে, কুরআনের অনেক আয়াতের রহস্য ভবিষ্যতে তার নির্ধারিত সময়ে উন্মোচিত হবে, যা সময়ের আবর্তন ও দিন-রাত্রির পরিবর্তনের সাথে সাথে এর অলৌকিকত্বের নবায়ন ঘটাবে।

একইভাবে, মরহুম মুস্তফা সাদিক আর-রাফেয়ীর 'ইজাযুল কুরআন' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে, এবং তিনি এই তাফসিরী ধারার অন্যতম সমর্থক ও অনুসারী ছিলেন:

এই গ্রন্থে আমরা দেখতে পাই যে লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) কুরআন এবং বিজ্ঞানের বিষয়ের ওপর একটি বিশেষ গবেষণা পরিচালনা করেছেন। সেখানে তিনি সাব্যস্ত করেছেন যে, কুরআন তার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মাধ্যমে ইসলামের আবির্ভাব থেকে শুরু করে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী সমগ্র পৃথিবীর বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি মৌলিক অলৌকিকতা। এরপর তিনি আল-সুয়ুতী কর্তৃক 'আল-ইতকান' এবং 'আল-ইকলীল' গ্রন্থে আল্লামা আল-মুরসী থেকে বর্ণিত কুরআনের সকল বিজ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

এখানে আমরা দেখি তিনি কুরআন থেকে 'ইলমুল মাওয়াকিত' বা সময় নির্ধারণ বিষয়ক বিদ্যা আহরণ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "পরবর্তী যুগের (المتأخرين) জনৈক আলেম বলেছেন: কুরআনে মহান আল্লাহর বাণী {তিনি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন} (গাফির: ১৫) দ্বারা সময় নির্ধারণের দিকে ইশারা করা হয়েছে।" তিনি বলেন: "আবজাদ পদ্ধতি বা হিসাবুল জুম্মাল (حساب الجمل) অনুযায়ী 'রফিউ' শব্দের সংখ্যামান হলো তিনশত ষাট, যা দিন ও রাতের ডিগ্রির সংখ্যার সমান।" এরপর রাফেয়ী নিজেই বলেন: "যদি কুরআনের শব্দাবলীতে এই হিসাবুল জুম্মাল (حساب الجمل) প্রয়োগ করা হয়, তবে এর মাধ্যমে সকল যুগের বিস্ময়কর ঘটনাবলী, ইতিহাস এবং রহস্য উন্মোচিত হবে।" এরপর রাফেয়ী বলেন: "যদি এটি এই গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্যের বাইরে না হতো, তবে আমরা প্রাচীন ও আধুনিক কালের এমন অনেক বিষয় তুলে ধরতাম।"

অতঃপর আমরা দেখি রাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) তার আলোচনায় আরও বলেন: "আমাদের কিছু আলেম কুরআন থেকে এমন বিষয়গুলো আহরণ করেছেন যা আধুনিক উদ্ভাবনের প্রতি ইঙ্গিত করে এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের কিছু জটিল রহস্য প্রমাণ করে। তারা এই সব বিষয় বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন, যা আমাদের বর্তমান আলোচনার মূল লক্ষ্য নয়। তবে আমরা এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি এই বিবেচনায় যে, এগুলো এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোতে কেবল ইঙ্গিত ও ইশারা রয়েছে। সম্ভবত এই বিজ্ঞানের ওপর বিশেষজ্ঞ কেউ..."
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৬)
الحديثة لو تدبر القرآن، وأحكم النظر فيه، وكان بحيث لا تعوزه أداة الفهم، ولا يلتوي عليه أمر لاستخرج منه إشارات كثيرة تومئ إلى حقائق العلوم، وإن لم تبسط من أنبائها وتدل عليها وإلم تسمها بأسمائها.

ثم يقول: وقد أشار القرآن إلى نشأة هذه العلوم، وإلى تمحيصها وغايتها على ما وصفناه آنفًا، وذلك قوله تعالى: {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ} (فصلت: 53). ولو جمعت أنواع العلوم الإنسانية كلها ما خرجت في معانيها من قوله تعالى: {فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ}، هذه آفاق وهذه آفاق أخرى، فإن لم يكن هذا التعبير من الإعجاز الظاهر بداهة، فليس يصح في الأفهام شيء".

ثم نجد كتابًا آخر عنوانه (الإسلام والطب الحديث) للدكتور عبد العزيز السباعي الطبيب المعروف:

هذا الكتاب يظهر فيه أن مؤلفه ينحاز إلى هذا اللون من ألوان التفسير وهو التفسير العلمي. هذا الكتاب جمع فيه مؤلفه مقالاته التي نشرها في مجلة الأزهر، وهو مطبوع بمطبعة الاعتماد سنة 1357 هـ، وفيه نجد المؤلف رحمه الله يقرر أن القرآن ليس بكتاب طب أو هندسة أو فلك، ولكنه يشير أحيانًا إلى سنن طبيعية، ترجع إلى هذه العلوم.

كما يقرر أن كثيرًا من آيات القرآن لا يفهم شيئًا من معناها الحقيقي، إلا من درس العلوم الحديثة، كما يؤكد أن العلم الحديث كشف عن معنى بعض الآيات، وسينكشف الباقي منها كلما تقدمت العلوم، ثم يأتي وقت يكون فيه العلماء الماديون أقرب الناس إلى الدين. وفي هذا اتهام للصحابة، ومن جاء بعدهم من سلف الأمة بأنهم لم يفهموا المعاني الحقيقية لبعض الآيات القرآنية؛
আধুনিক [বিজ্ঞানসমূহের আলোকে] যদি কুরআন নিয়ে গবেষণা করা হয় এবং এতে নিবিড়ভাবে দৃষ্টিপাত করা হয়, এবং যদি কারো মধ্যে উপলব্ধির উপকরণের অভাব না থাকে এবং কোনো বিষয় তাঁর কাছে অস্পষ্ট না ঠেকে, তবে তিনি তা থেকে বিজ্ঞানের সত্যগুলোর প্রতি ইঙ্গিত প্রদানকারী বহু ইশারা বের করে নিতে পারবেন; যদিও সেগুলোর বিস্তারিত সংবাদ প্রদান করা হয়নি এবং সেগুলোকে নিজ নামে নামাঙ্কিত করা হয়নি।

এরপর তিনি বলেন: কুরআন এই বিজ্ঞানসমূহের উদ্ভব এবং সেগুলোর যাচাই-বাছাই (تمحيص) ও লক্ষ্যের দিকে ইঙ্গিত করেছে যেমনটি আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি। আর তা হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমি অচিরেই তাদের জন্য আমার নিদর্শনাবলি দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে প্রকাশ করব, যাতে তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটিই সত্য। আপনার রবের ব্যাপারে কি এটি যথেষ্ট নয় যে, তিনি প্রতিটি জিনিসের ওপর সাক্ষী?} (ফুসসিলাত: ৫৩)। যদি সমস্ত মানবীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানকে একত্রিত করা হয়, তবে তার অর্থসমূহ আল্লাহ তাআলার এই বাণীর গণ্ডি অতিক্রম করবে না: {দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে}; এগুলো এক দিগন্ত এবং সেগুলো অন্য দিগন্ত। যদি এই প্রকাশভঙ্গিটি স্বতঃসিদ্ধভাবে প্রকাশ্য অলৌকিকত্ব (إعجاز) এর অন্তর্ভুক্ত না হয়, তবে মানুষের প্রজ্ঞায় আর কোনো কিছুই সঠিক বলে গণ্য হবে না।

এরপর আমরা বিখ্যাত চিকিৎসক ড. আব্দুল আজিজ আস-সিবাঈ এর ‘ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান’ শিরোনামের আরেকটি বই দেখতে পাই:

এই বইটিতে এটি প্রতীয়মান হয় যে, এর লেখক তাফসিরের এই বিশেষ ধারাটির প্রতি ঝুঁকেছেন, আর তা হলো বৈজ্ঞানিক তাফসির। লেখক এই বইটিতে তাঁর সেই প্রবন্ধগুলো সংকলন করেছেন যা আল-আজহার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি ১৩৫৭ হিজরিতে আল-ইতিমাদ প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়েছে। এতে আমরা লেখককে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সিদ্ধান্ত দিতে দেখি যে, কুরআন কোনো চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রকৌশল বা জ্যোতির্বিজ্ঞানের বই নয়; বরং এটি মাঝেমধ্যে কিছু প্রাকৃতিক নিয়মের দিকে ইঙ্গিত করে, যা এই বিজ্ঞানসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট।

তিনি আরও সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, কুরআনের অনেক আয়াতের প্রকৃত অর্থের কিছুই বুঝা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না কেউ আধুনিক বিজ্ঞান অধ্যয়ন করে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, আধুনিক বিজ্ঞান কিছু আয়াতের অর্থ উন্মোচন করেছে এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে অবশিষ্টগুলোও উন্মোচিত হবে। এরপর এমন এক সময় আসবে যখন বস্তুবাদী বিজ্ঞানীরাই দ্বীনের সবচেয়ে নিকটবর্তী মানুষে পরিণত হবেন। আর এর মধ্যে সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী উম্মতের পূর্বসূরি (سلف) বর্গের প্রতি এই অভিযোগ নিহিত রয়েছে যে, তাঁরা কুরআনের কিছু আয়াতের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারেননি;
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৭)
لجهلهم بهذه العلوم المستحدثة، وهذا اتهام نعيذ منه صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم وسلف الأمة -رضوان الله عليهم-.

ونحن إذا تتبعنا ما في هذا الكتاب لوجدنا الكثير منه لا يقصده القرآن، ولا يهدف إليه من وراء خطابه للعربي الأمي. فمثلًا نجده يعرض لقوله تعالى في الآية 22 من سورة البقرة: {وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ} (البقرة: 22) تحت عنوان: الحياة تحت ضوء القرآن. وفيه يقول: "هذه الآية الكريمة معناها والله أعلم: أن اللحوم والأسماك والألبان إلى آخره أفضل في التغذية من البقول والقمح والذرة، وليست الأفضلية في مقدار المواد الزلالية الضرورية للجسم في كل نوع؛ لأن هذا يجب ألا يكون سببًا مهمًّا للأفضلية.

ثم يعقد مقارنة بين بعض الأغذية، وما فيها من نسبة المواد الزلالية، ثم يقول: وقد اهتدت أخيرًا لجنة الأبحاث بانجلترا إلى أن قيمة المواد الزلالية تختلف في نوعها، وفي المقدار منها الذي يمنع المواد الزلالية المكونة للأنسجة من أن تخترق. ورأوا أن اللحوم بالنسبة للمواد الزلالية، ونوعها لها قيمة أكثر من اللبن والذرة، مثل البيان التالي: لحوم يضع تحتها عدد 104، لبن القمر يضع تحتها عدد 100، أرز يضع تحته عدد 88، بطاطس 79 فول 70، دقيق 40 ذرة 30.

ثم يقول: إن هذه النتيجة التي لخصها القرآن الشريف لم تظهر حقيقة ثابتة، إلا منذ سنوات قليلة.

وغير هذا كثير في كتاب (الإسلام والطب الحديث) مما لا نصدق أنه مراد الله من خطابه للعرب بالقرآن، وإن كان لا يتعارض مع ما ثبت من ذلك علميًّا وتحققت صحته، هذا وإن أعظم علماء العصر الحديث تشيعًا للنزعة التفسيرية العلمية.
এই নব উদ্ভাবিত বিজ্ঞানসমূহ সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণে; আর এটি এমন একটি অপবাদ যা থেকে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এবং উম্মতের পূর্বসূরিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) রক্ষা করি।

আমরা যদি এই কিতাবটিতে যা আছে তা অনুসরণ করি, তবে দেখতে পাব যে, এর অনেক কিছুই কুরআন দ্বারা উদ্দেশ্য করা হয়নি এবং নিরক্ষর আরবদের প্রতি তার সম্বোধনের মাধ্যমে সেগুলোর দিকে লক্ষ্যও রাখা হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, আমরা দেখতে পাই যে তিনি সূরা বাকারার ২২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপন্ন করেছেন} (আল-বাকারা: ২২) - এটি ‘কুরআনের আলোতে জীবন’ শিরোনামের অধীনে উপস্থাপন করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: "এই মহিমান্বিত আয়াতের অর্থ হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—মাংস, মাছ, দুধ ইত্যাদি পুষ্টির দিক থেকে ডাল, গম ও ভুট্টার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর এই শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিটি উপাদানে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিনের পরিমাণের ভিত্তিতে নয়; কারণ এটি শ্রেষ্ঠত্বের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হওয়া উচিত নয়।"

এরপর তিনি কিছু খাবারের মধ্যে এবং সেগুলোতে বিদ্যমান প্রোটিনের অনুপাতের মধ্যে একটি তুলনা করেন। অতঃপর তিনি বলেন: ইংল্যান্ডের গবেষণা কমিটি অবশেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, প্রোটিনের মান তার ধরণ এবং পরিমাণের ভিত্তিতে ভিন্ন হয়, যা টিস্যু গঠনকারী প্রোটিনগুলোকে ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা করে। তারা মনে করেন যে, প্রোটিন এবং এর ধরণের দিক থেকে মাংসের মূল্য দুধ ও ভুট্টার চেয়ে বেশি, যেমন নিচের বিবরণে দেওয়া হলো: মাংস (এর নিচে ১০৪ সংখ্যাটি বসিয়েছেন), দুধ (এর নিচে ১০০), চাল (৮৮), আলু (৭৯), শিম (৭০), আটা (৪০), ভুট্টা (৩০)।

তারপর তিনি বলেন: কুরআন মাজিদ যে ফলাফলের সারসংক্ষেপ করেছে, তা মাত্র কয়েক বছর আগে একটি প্রতিষ্ঠিত (ثابتة) সত্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

'(ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা)' গ্রন্থে এমন আরও অনেক কিছু রয়েছে যা আমরা বিশ্বাস করি না যে আরবদের প্রতি কুরআনের সম্বোধনের মাধ্যমে আল্লাহর উদ্দেশ্য ছিল, যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে যা প্রমাণিত (ثبت) এবং যার বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাই করা হয়েছে তার সাথে এটি সাংঘর্ষিক নয়। আর এটি আধুনিক যুগের বৈজ্ঞানিক তাফসিরের প্রবণতার প্রতি চরম অনুরাগী আলেমদের একটি উদাহরণ।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌منهج الشيخ طنطاوي جوهري في كتاب (الجواهر)

وأكثرهم إنتاجًا لهذا التفسير العلمي هو المرحوم الشيخ طنطاوى جوهري؛ إذ إنه جمع كثيرًا من هذا العلم، وأطال في تفسيره (الجواهر) الذي يقع في خمسة وعشرين جزءًا كبارًا، والمطبوع بمصر سنة 1341هـ / 1351 هـ، يعني في هذه المد

يقول الدكتور الذهبي: "ولهذا أرى أن أتكلم عنه بما يكشف عن طريقة مؤلفه ومنهجه، الذي سلكه فيه". أولًا: الدوافع التي حملت المؤلف على كتابة هذا التفسير، الشيخ طنطاوي جوهري يقول عن نفسه: "إنه مغرم بالعجائب الكونية، معجب بالبدائع الطبيعية، مشوق إلى ما في السماء من جمال وما في الأرض من بهاء وكمال".

ثم يقول الشيخ طنطاوي جوهري: "إنه لما تأمل الأمة الإسلامية وتعاليمها الدينية، وجد أكثر العقلاء وبعض أجلة العلماء عن تلك المعاني معرضين، وعن التفرج عليها ساهين لاهين، فقليل منهم من فكر في خلق العوالم، وما أودع فيها من الغرائب. فدفعه ذلك إلى أن ألف كتبًا كثيرة مزج فيها الآيات القرآنية بالعجائب الكونية، وجعل آيات الوحي مطابقة لعجائب الصنع، وحكم الخلق، وكان من أهم هذه الكتب كتاب (نظام العالم والأمم) و (جواهر العلوم) و (التاج المرصع) و (جمال العالم) و (النظام والإسلام) و (الأمة وحياتها) ". لكنه وجد أن هذه الكتب رغم كثرتها وانتشارها وترجمتها إلى اللغات الأجنبية، لم تشف غليله، فتوجه إلى ذي العزة والجلال أن يوفقه إلى أن يفسر القرآن تفسيرًا ينطوي على كل ما وصل إليه البشر من علوم، فاستجاب الله دعاءه، وتم له ما أراد.
কিতাব (আল-জাওয়াহির)-এ শেখ তানতাভী জওহরী-এর পদ্ধতি (منهج)

এই বৈজ্ঞানিক তাফসিরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন মরহুম শেখ তানতাভী জওহরী; কারণ তিনি এই শাস্ত্রের অনেক বিষয় সংগ্রহ করেছেন এবং তাঁর 'আল-জাওয়াহির' নামক তাফসির গ্রন্থে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। গ্রন্থটি পঁচিশটি বিশাল খণ্ডে সমাপ্ত এবং এটি ১৩৪১ হিজরি / ১৩৫১ হিজরিতে মিশরে মুদ্রিত হয়েছিল, অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে।

ডক্টর আয-যাহাবী বলেন: "এজন্য আমি মনে করি তাঁর সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা প্রয়োজন যা গ্রন্থকারের কর্মপন্থা ও তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি (منهج) উন্মোচন করবে।" প্রথমত: যেসব উদ্দীপনা গ্রন্থকারকে এই তাফসির রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল; শেখ তানতাভী জওহরী নিজের সম্পর্কে বলেন: "আমি মহাজাগতিক বিস্ময়ের প্রতি অনুরাগী, প্রাকৃতিক নিপুণতার প্রতি মুগ্ধ এবং আসমানের সৌন্দর্য ও জমিনের শোভা ও পূর্ণতার প্রতি লালায়িত।"

অতঃপর শেখ তানতাভী জওহরী বলেন: "যখন আমি মুসলিম উম্মাহ ও তাদের ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে চিন্তা করলাম, তখন দেখলাম অধিকাংশ বুদ্ধিমান ব্যক্তি এবং কিছু বরেণ্য আলেম এই অর্থগুলো থেকে বিমুখ এবং এগুলো পর্যবেক্ষণ করার ব্যাপারে উদাসীন। তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক লোকই বিশ্বজগতের সৃষ্টি এবং এতে নিহিত বিস্ময়কর নিদর্শনাদি নিয়ে চিন্তা করেন। এই বিষয়টিই তাঁকে অনেক গ্রন্থ রচনা করতে অনুপ্রাণিত করেছিল যেখানে তিনি কুরআনের আয়াতসমূহকে মহাজাগতিক বিস্ময়ের সাথে সমন্বিত করেছেন এবং ওহীর আয়াতসমূহকে সৃষ্টির নিপুণতা ও সৃজনশৈলীর প্রজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছেন। এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল (নিযামুল আলম ওয়াল উমাম), (জাওয়াহিরুল উলূম), (আত-তাজুল মুরাসসা), (জামালুল আলম), (আন-নিযাম ওয়াল ইসলাম) এবং (আল-উম্মাহ ওয়া হায়াতুহা)।" কিন্তু তিনি দেখলেন যে, এই বইগুলো সংখ্যায় অনেক হওয়া এবং বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করতে পারেনি। তাই তিনি প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করলেন যেন তিনি তাঁকে কুরআনকে এমনভাবে তাফসির করার তৌফিক দান করেন যা মানুষের অর্জিত সকল জ্ঞানকে ধারণ করে। অতঃপর আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন এবং তিনি যা চেয়েছিলেন তা বাস্তবায়িত হলো।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৯)
متى وكيف شرع المؤلف في كتابة هذا التفسير؟ ابتدأ المؤلف هذا التفسير أيام أن كان مدرسًا بمدرسة دار العلوم، فكان يلقي تفسير بعض آيات على طلبة مدرسة دار العلوم، وبعض هذه الدروس كان يكتب في مجلة الملاجئ العباسية. ثم والى وتابع سيره في التفسير حتى أخرج لنا ذلك التفسير المكون من خمسة وعشرين جزءًا.

غرض المؤلف من تفسيره: لقد رجا المؤلف رحمه الله من وراء هذا التفسير -كما يقول- أن يشرح الله به قلوبًا ويهدي به أممًا. وتنقشع به الغشاوة عن أعين عامة المسلمين، فيفهموا العلوم الكونية، وقال: "وإني لعلى رجاء أن يؤيد الله هذه الأمة بهذا الدين. ويسير على منوال هذا التفسير المسلمون، وينتشر في مشارق الأرض ومغاربها مقرونًا بالقلوب، وليتفاعل الموحدون بالعجائب السماوية، والبدائع الأرضية ويكون هؤلاء الشباب دعاة إلى نشر هذا العلم. وليقومن من هذه الأمة من يفوقون الفرنجة في الزراعة والطب والمعادن والحساب والهندسة والفلك، وغيرها من العلوم والصناعات".

منهج المؤلف في تفسيره: لقد وضع المؤلف في تفسيره هذا ما يحتاجه المسلم من الأحكام والأخلاق وعجائب الكون، وأثبت فيه غرائب العلوم، وعجائب الخلق مما يشوق المسلمين والمسلمات إلى الوقوف على حقائق معاني الآيات البينات في الحيوان والنبات، والأرض والسموات. هذا وإن المؤلف رحمه الله ليقرر في تفسيره، أن في القرآن من آيات العلوم ما يزيد على سبعمائة وخمسين آية، في حين أن علم الفقه لا تزيد آياته الصريحة على مائة وخمسين آية، كما يقرر أن الإسلام جاء لأمم كثيرة، وأن سور القرآن الكريم متممات لأمور أظهرها العلم الحديث.
লেখক কখন এবং কীভাবে এই তাফসির রচনা শুরু করেন? লেখক যখন দারুল উলুম মাদরাসায় শিক্ষক ছিলেন, তখন তিনি এই তাফসির রচনা শুরু করেন। তিনি দারুল উলুম মাদরাসার ছাত্রদের নিকট পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান করতেন এবং এই পাঠগুলোর কিছু অংশ 'মাজাল্লাতুল মালাজিউল আব্বাসীয়া' নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত হতো। অতঃপর তিনি ধারাবাহিকভাবে তাফসিরের কাজ অব্যাহত রাখেন, যতক্ষণ না তিনি পঁচিশ খণ্ডে সমাপ্ত এই তাফসির গ্রন্থটি আমাদের সামনে উপস্থাপন করেন।

তাফসির রচনায় লেখকের উদ্দেশ্য: লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) এই তাফসিরের মাধ্যমে যেমনটি আশা করেছিলেন—আল্লাহ যেন এর দ্বারা মানুষের অন্তরসমূহকে বিকশিত করেন এবং বিভিন্ন জাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। এর মাধ্যমে সাধারণ মুসলিমদের চোখের পর্দা অপসারিত হবে, যাতে তারা মহাজাগতিক বিজ্ঞানসমূহ অনুধাবন করতে পারে। তিনি বলেছেন: "আমি প্রবল আশা পোষণ করি যে, আল্লাহ এই দীনের মাধ্যমে এই উম্মতকে শক্তিশালী করবেন। মুসলিমরা এই তাফসিরের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে এবং এটি মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়বে। আর একত্ববাদীগণ (الموحدون) যেন আসমানি বিস্ময় এবং জমিনের অভিনব সৃষ্টিরাজির সাথে একাত্ম হতে পারে এবং এই তরুণরাই যেন হয় এই জ্ঞান প্রচারের আহ্বায়ক। অচিরেই এই উম্মতের মধ্য থেকে এমন একদল তৈরি হবে যারা কৃষি, চিকিৎসা, খনিজ বিজ্ঞান, গণিত, প্রকৌশল, জ্যোতির্বিদ্যা এবং অন্যান্য বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় ইউরোপীয়দের ছাড়িয়ে যাবে।"

তাফসির রচনায় লেখকের পদ্ধতি: লেখক তাঁর এই তাফসিরে একজন মুসলিমের জন্য প্রয়োজনীয় বিধান (الأحكام), চরিত্র (الأخلاق) এবং মহাবিশ্বের বিস্ময়কর বিষয়াদি সন্নিবেশিত করেছেন। এতে তিনি বিজ্ঞানের অদ্ভুত বিষয় এবং সৃষ্টির বিস্ময়সমূহকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা মুসলিম নর-নারীকে প্রাণী, উদ্ভিদ, পৃথিবী এবং আকাশমন্ডলী নিয়ে বর্ণিত সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলোর (الآيات البينات) প্রকৃত হাকিকত সম্পর্কে জানতে আগ্রহী করে তোলে। লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, পবিত্র কুরআনে বিজ্ঞান বিষয়ক আয়াতের সংখ্যা সাতশ পঞ্চাশটিরও বেশি, যেখানে ফিকহ শাস্ত্রের সুস্পষ্ট (الصريحة) আয়াতের সংখ্যা একশ পঞ্চাশটির বেশি নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইসলাম বহু জাতির জন্য প্রেরিত হয়েছে এবং পবিত্র কুরআনের সূরাগুলো আধুনিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়াবলির পরিপূরক।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩০)
يقول الذهبي في كتابه (التفسير والمفسرون): "كثيرًا ما نجد المؤلف رحمه الله في تفسيره يهيب بالمسلمين أن يتأملوا في آيات القرآن، التي ترشد إلى علوم الكون، ويحثهم على العمل بما فيه، ويندد بمن يغفل هذه الآيات على كثرتها، وينعي على من أغفلها من السابقين الأولين. ووقف عند آيات الأحكام وغيرها مما يتعلق بأمور العقيدة"، كذلك يقول الذهبي في كتابه (التفسير والمفسرون): "نجد المؤلف يكرر هذه النغمة في كثير من مواضع الكتاب.

فيقول في موضع منه: يا أمة الإسلام آيات معدودات في الفرائض اجتذبت فرعًا من علم الرياضيات، فما بالكم أيها الناس بسبعمائة آية فيها عجائب الدنيا كلها، هذا زمان العلوم وهذا زمان ظهور نور الإسلام، هذا زمان رقي، يا ليت شعري لماذا لا نعمل في آيات العلوم الكونية ما فعله آباؤنا في آيات الميراث؟ ولكني أقول -أي المؤلف يقول: الحمد لله إنك تقرأ في هذا التفسير خلاصات من العلوم، ودراستها أفضل من دراسة علم الفرائض؛ لأنه فرض كفاية فأما هذه فإنها للازدياد في معرفة الله، وهي فرض عين على كل قارئ.

إن هذه العلوم التي أدخلناها في تفسير القرآن هي، التي أغفلها الجهلاء المغرورون من صغار الفقهاء في الإسلام، فهذا زمان الانقلاب وظهور الحقائق، والله يهدي من يشاء إلى صراط مستقيم". ويقول المؤلف في موضع آخر: "إن نظام التعليم الإسلامي لابد من ارتقائه، فعلوم البلاغة ليست هي نهاية علوم القرآن، بل هي علوم لفظه، وما نكتبه اليوم علوم معناه، وانطباقها على العلوم التي أظهرها الله في الأرض.

ولعل هذا الزمان سيظهر فيه آثار من قوله تعالى: {ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} (القيامة: 38) فإن البيان المذكور في سورة القيامة فسر بمعنى: أننا نبينه بلسانك، فتقرؤه كما
আয-যাহাবি তার 'আত-তাফসির ওয়াল মুফাসসিরুন' গ্রন্থে বলেন: "আমরা প্রায়ই দেখতে পাই যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তার তাফসির গ্রন্থে মুসলমানদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছেন যেন তারা কুরআনের আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে, যা মহাজাগতিক বিজ্ঞানের দিকে দিকনির্দেশনা দেয়। তিনি তাদেরকে এতে যা বর্ণিত হয়েছে সে অনুযায়ী আমল করতে উৎসাহিত করেন এবং এই আয়াতগুলো অধিক সংখ্যায় থাকা সত্ত্বেও যারা এগুলোকে উপেক্ষা করে তাদের নিন্দা করেন। আর যারা পূর্ববর্তীদের মধ্যে এগুলোকে অবহেলা করেছেন তাদের জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বিধানের আয়াতসমূহ (آيات الأحكام) এবং আকিদাহ (العقيدة) সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।" একইভাবে আয-যাহাবি তার 'আত-তাফসির ওয়াল মুফাসসিরুন' গ্রন্থে বলেন: "আমরা দেখতে পাই যে, লেখক কিতাবের অনেক স্থানে এই সুরেরই পুনরাবৃত্তি করেছেন।

তিনি এক স্থানে বলেন: হে ইসলামের উম্মত! উত্তরাধিকার (الفرائض) বিষয়ক গুটিকয়েক আয়াত গণিত শাস্ত্রের একটি শাখাকে আকৃষ্ট করেছে। তবে হে লোকসকল! তোমাদের কী হলো যে, সাতশ আয়াত—যাতে পৃথিবীর সমস্ত বিস্ময় রয়েছে—সেগুলো তোমাদের আকৃষ্ট করছে না? এটি বিজ্ঞানের যুগ এবং ইসলামের নূর প্রকাশের সময়, এটি উন্নতির সময়। হায়! আমি যদি জানতাম, মহাজাগতিক বিজ্ঞানের আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে আমরা কেন তেমনটি করছি না যেমনটি আমাদের পূর্বপুরুষরা উত্তরাধিকার (الفرائض) সংক্রান্ত আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে করেছিলেন? তবে আমি বলব—অর্থাৎ লেখক বলছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যে, আপনি এই তাফসির গ্রন্থে বিজ্ঞানের সারাংশগুলো পড়ছেন, আর এগুলো অধ্যয়ন করা উত্তরাধিকার বিজ্ঞান (الفرائض) অধ্যয়ন করার চেয়েও উত্তম; কারণ সেটি ফরজে কিফায়া (فرض كفاية), কিন্তু এগুলো হলো আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধির মাধ্যম, যা প্রত্যেক পাঠকের জন্য ফরজে আইন (فرض عين)।

এই যে বিজ্ঞানসমূহ যা আমরা কুরআনের তাফসিরের অন্তর্ভুক্ত করেছি, এগুলোকে ওই সমস্ত মূর্খ ও অহংকারী ব্যক্তিরা অবহেলা করেছে যারা ইসলামের তথাকথিত ক্ষুদ্র ফকিহ। সুতরাং এটি বিপ্লবের এবং সত্য প্রকাশের সময়, আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন।" লেখক অন্য এক স্থানে বলেন: "ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থার অবশ্যই উন্নতি হতে হবে; অলঙ্কারশাস্ত্র বা বালাগাতই কুরআনের জ্ঞানের শেষ কথা নয়, বরং এগুলো হলো তার শাব্দিক জ্ঞান। আর আমরা আজ যা লিখছি তা হলো এর অর্থগত বিজ্ঞান এবং জমিনে আল্লাহ যে বিজ্ঞানসমূহ প্রকাশ করেছেন তার সাথে এই অর্থগুলোর সামঞ্জস্যতা।

সম্ভবত এই যুগেই মহান আল্লাহর এই বাণীর স্বরূপ প্রকাশিত হবে: {অতঃপর এর বিশদ বর্ণনা (بيان) প্রদানের দায়িত্ব আমারই} (আল-কিয়ামাহ: ৩৮), কেননা সূরা আল-কিয়ামাহ-তে বর্ণিত 'বায়ান' (بيان)-এর তাফসির এই মর্মে করা হয়েছে যে: আমরা তা তোমার জিহ্বা দিয়ে সুস্পষ্ট করব, ফলে তুমি তা পাঠ করবে যেভাবে..."
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩১)
أقرأك جبريل، وبمعنى أنه إذا أشكل شيء من معانيه، فنحن نبينه لك وعلينا بيان ما فيه من الأحكام والعجائب. ولا جرم أن ما يتجدد اليوم من العلوم مما ذكر في هذا التفسير، ولم يذكر من البيان الذي أكد الله أنه يظهره لأمة الإسلام، فالحمد لله الذي وفق في هذا التفسير لبعض العرفان تصديقًا لما ذكر الله، من أن عليه البيان".

ويقول في موضع آخر: "لماذا ألف علماء الإسلام عشرات الألوف من الكتب الإسلامية في علم الفقه، وعلم الفقه ليس فيه في القرآن إلا آيات قلائل لا تصل مائة وخمسين آية؟ فلماذا كثر التأليف في علم الفقه وقل جدًّا في علوم الكائنات، التي لا تخلو منها سورة، بل هي تبلغ سبعمائة وخمسين آية صريحة؟ وهناك آيات أخرى دلالتها تقرب من الصراحة، هل يجوز في عقل أو شرع أن يبرع المسلمون في علم آياته قليلة، ويجهلوا علمًا آياته كثيرة جدًّا؟! إن آباءنا برعوا في الفقه، فلنبرع نحن الآن في علم الكائنات؛ لنقم به لترقى الأمة".

هل وجد (تفسير الجواهر) قبولًا لدى كثير من المثقفين؟ هذه المقالات وغيرها كثير في تفسير (الجواهر) نجد أغلبها قد صدر من المؤلف في مقام الرد على من كان يوجه إليه اللوم، والاعتراض على ما كان منه من تحميل القرآن الكريم علوم، ونظريات مستحدثة لا عهد للعرب بها، ولا صلة للقرآن بشيء منها. ويظهر لمن يتصفح هذا التفسير أن المؤلف رحمه الله لاقى الكثير من لوم العلماء على مسلكه، الذي سلكه في تفسيره، مما يدل على أن هذه النزعة التفسيرية لم تلق قبولًا لدى كثير من المثقفين.

مصادرة المملكة السعودية لـ (تفسير الجواهر): ولعل هذا المنزع في تفسير القرآن الكريم هو السر، الذي من أجله صادرت المملكة العربية السعودية هذا الكتاب،
জিবরাইল আপনাকে পাঠ করিয়েছেন—এর অর্থ হলো যদি এর কোনো অর্থের ব্যাপারে অস্পষ্টতা তৈরি হয়, তবে আমরা তা আপনার কাছে স্পষ্ট করে দেব এবং এর মধ্যে থাকা বিধান (أحكام) ও বিস্ময়কর বিষয়সমূহ বর্ণনা (بيان) করার দায়িত্ব আমাদের। নিঃসন্দেহে বর্তমানে বিজ্ঞানের যেসব নতুন বিষয় উদ্ভূত হচ্ছে যা এই তাফসিরে উল্লিখিত হয়েছে, অথচ তা সেই বর্ণনার (بيان) অন্তর্ভুক্ত ছিল না যা আল্লাহ ইসলামি উম্মাহর কাছে প্রকাশ করার নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই তাফসিরে কিছু আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জনের তাওফিক দিয়েছেন, যা আল্লাহর সেই বাণীরই সত্যতা প্রমাণ করে যে, এর বর্ণনার (بيان) দায়িত্ব তাঁরই।

তিনি অন্য এক স্থানে বলেন: "কেন ইসলামের আলেমগণ ফিকহ শাস্ত্রে হাজার হাজার কিতাব রচনা করেছেন, অথচ ফিকহ শাস্ত্রের আয়াত কুরআনে খুব সামান্যই আছে যা দেড়শ আয়াতও অতিক্রম করে না? তবে কেন ফিকহ শাস্ত্রে রচনার আধিক্য আর সৃষ্টিজগত সংক্রান্ত বিজ্ঞানে রচনার সংখ্যা এত নগণ্য, যা থেকে কোনো সূরাই খালি নয়, বরং এর সুস্পষ্ট আয়াতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাতশ? এছাড়াও আরও কিছু আয়াত আছে যাদের নির্দেশক অর্থ (دلالة) প্রায় স্পষ্টের কাছাকাছি। বিবেক বা শরয়ি (شرع) মানদণ্ডে কি এটা বৈধ হতে পারে যে, মুসলিমরা এমন এক জ্ঞানে পারদর্শী হবে যার আয়াতের সংখ্যা কম, আর এমন এক জ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ থাকবে যার আয়াতের সংখ্যা অনেক বেশি?! আমাদের পূর্বপুরুষগণ ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন, আসুন আমরা এখন সৃষ্টিজগত সংক্রান্ত বিজ্ঞানে পারদর্শী হই; যাতে এর মাধ্যমে আমরা উম্মাহর উন্নতি সাধন করতে পারি।"

তাফসিরে জাওয়াহির কি অনেক বুদ্ধিজীবীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে? তাফসিরে জাওয়াহির-এর এই প্রবন্ধগুলো এবং এর বাইরে আরও অনেক কিছুই আমরা দেখতে পাই যে, লেখক অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেগুলোর অবতারণা করেছেন তাদের জবাবে যারা তাকে তিরস্কার করছিলেন এবং কুরআনের ওপর এমন সব আধুনিক বিজ্ঞান ও তত্ত্ব চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানাচ্ছিলেন যা আরবদের কাছে পরিচিত ছিল না এবং কুরআনের সাথে সেগুলোর কোনো সম্পর্কও ছিল না। যারা এই তাফসিরটি পাঠ করেন তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তার তাফসিরের পদ্ধতির কারণে আলেমদের অনেক তিরস্কারের সম্মুখীন হয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে এই তাফসিরি প্রবণতা অনেক বুদ্ধিজীবীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

সৌদি আরব কর্তৃক তাফসিরে জাওয়াহির বাজেয়াপ্তকরণ: সম্ভবত পবিত্র কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে এই বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গিই হলো সেই রহস্য, যার কারণে সৌদি আরব এই বইটি বাজেয়াপ্ত করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩২)
ولم تسمح بدخوله إلى بلادها. كما يجد القارئ ذلك في نص الكتاب المرسل من المؤلف إلى الملك عبد العزيز آل سعود، ملك نجد والحجاز، وذلك في صـ 238 من الجزء الخامس والعشرين.

طريقة المؤلف في هذا التفسير: يقول الدكتور حسين الذهبي: "بعد أن قرأت الكثير من التفسير أستطيع أن أعطيك صورة واضحة عن منهج المؤلف وطريقته، التي سلكها فيه. وذلك أن المؤلف رحمه الله يفسر الآيات القرآنية تفسيرًا لفظيًّا مختصرًا لا يكاد يخرج عن ما كتب في التفاسير المألوفة لنا، والمتداولة بين أيدينا، لكنه سريعًا ما يخلص من هذا التفسير الذي يسميه لفظيًّا، ويدخل في أبحاث علمية مستفيضة، يسميها هو لطائف أو جواهر. هذه الأبحاث عبارة عن مجموعة كبيرة من أفكار علماء الشرق والغرب في العصر الحديث. أتى بها المؤلف ليبين للمسلمين ولغير المسلمين أن القرآن الكريم قد سبق إلى هذه الأبحاث، ونبه على تلك العلوم قبل أن يصل إليها هؤلاء العلماء بقرون متطاولة".

يواصل الدكتور الذهبي حديثه عن هذا الكتاب يقول: "ثم إننا نجد المؤلف رحمه الله يضع لنا في تفسيره هذا كثيرًا من صور النباتات والحيوانات ومناظر الطبيعة، وتجارب العلوم بقصد أن يوضح للقارئ ما يقول توضيحًا يجعل الحقيقة أمامه كالأمر المشاهد المحسوس". ثم يواصل الدكتور الذهبي كلامه عن (تفسير الجواهر) يقول: "كذلك نجد المؤلف رحمه الله يستشهد أحيانًا على ما يقول بما جاء في الإنجيل، واعتماده فيما ينقل على إنجيل برنابا لأنه كما يرى أصح الأناجيل، بل هو الإنجيل الوحيد الذي لم تصل إليه يد التحريف والتبديل كما قيل".
এবং সেটি তার দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। যেমনটি পাঠক লেখক কর্তৃক নজদ ও হিজাজের রাজা কিং আব্দুল আজিজ আল সাউদের কাছে প্রেরিত পত্রের পাঠে দেখতে পাবেন, যা পঁচিশতম খণ্ডের ২৩৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

এই তাফসিরে লেখকের পদ্ধতি: ডক্টর হুসাইন আয-যাহাবি বলেন: "এই তাফসিরের অনেক অংশ পাঠ করার পর, আমি লেখক যে মানহাজ ও পদ্ধতি এতে অনুসরণ করেছেন, সে সম্পর্কে আপনাকে একটি পরিষ্কার ধারণা দিতে পারি। আর তা হলো, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) কুরআনের আয়াতসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত শাব্দিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যা আমাদের কাছে পরিচিত ও প্রচলিত তাফসিরসমূহে যা লেখা হয়েছে তার থেকে খুব একটা আলাদা নয়। কিন্তু তিনি দ্রুতই এই ব্যাখ্যা থেকে—যাকে তিনি শাব্দিক বলেন—নিষ্কৃতি পান এবং বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রবেশ করেন, যেগুলোকে তিনি লতিফা বা জাওয়াহির নামে অভিহিত করেছেন। এই গবেষণাসমূহ আধুনিক যুগের প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পণ্ডিতদের এক বিশাল চিন্তাধারার সমষ্টি। লেখক এগুলো নিয়ে এসেছেন মুসলিম ও অমুসলিমদের এটা দেখাতে যে, পবিত্র কুরআন এই গবেষণাসম্মত বিষয়ে অগ্রগামী ছিল এবং এই বিজ্ঞানীরা সেখানে পৌঁছানোর বহু শতাব্দী আগেই কুরআন সেইসব বিজ্ঞানের দিকে ইঙ্গিত প্রদান করেছে।"

ডক্টর যাহাবি এই কিতাব সম্পর্কে তাঁর আলোচনা অব্যাহত রেখে বলেন: "অতঃপর আমরা দেখতে পাই যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই তাফসিরে উদ্ভিদ ও প্রাণীর অনেক ছবি, প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং বিজ্ঞানের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা তুলে ধরেছেন; যার উদ্দেশ্য হলো তিনি যা বলছেন তা পাঠকের কাছে এমনভাবে স্পষ্ট করা যাতে সত্যটি তার সামনে একটি প্রত্যক্ষ ও অনুভূত বিষয়ের মতো হয়ে ওঠে।" এরপর ডক্টর যাহাবি (তাফসিরুল জাওয়াহির) সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য অব্যাহত রেখে বলেন: "তেমনিভাবে আমরা দেখতে পাই যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) মাঝে মাঝে তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে ইনজিলে যা এসেছে তা থেকে উদ্ধৃতি দেন। আর তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে ইনজিলে বার্নাবাসের ওপর নির্ভর করেন; কারণ তাঁর মতে এটিই ইনজিলসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح), বরং এটিই একমাত্র ইনজিল যা—যেমনটি বলা হয়ে থাকে—বিকৃতি (تحريف) ও পরিবর্তনের হাতের ছোঁয়া থেকে মুক্ত।"
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
يقول الذهبي: "وكثيرًا ما نرى المؤلف رحمه الله يشرح بعض الحقائق الدينية بما جاء عن أفلاطون في جمهوريته أو بما جاء عن إخوان الصفا في رسائلهم، وهو حين ينقلها يبدي لنا رضاه عنها، وتصديقه بها مع أنها تخالف الثابت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم. كما أنه يستخرج كثيرًا من علوم القرآن بواسطة حساب الجمل، الذي لا نصدق أنه يوصل إلى حقيقة ثابتة، وإنما هي عدوى تسربت من اليهود إلى المسلمين، فتسلطت على عقول الكثير منهم. يواصل الدكتور الذهبي كلامه عن هذا التفسير فيقول: "هذا وإنا لنجد رحمه الله يفسر آيات القرآن تفسيرًا علميًّا يقوم على نظريات حديثة، وعلوم جديدة لم يكن للعرب عهد بها من قبل". ثم يقول الدكتور الذهبي: "ولست أرى هذا المسلك في التفسير إلا ضربًا من التكلف إن لم يُذهب بغرض القرآن، فلا أقل من أن يذهب بجلاله وجماله".

وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم، والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
আল-যাহাবি বলেন: "এবং আমরা প্রায়শই লক্ষ্য করি যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) কিছু ধর্মীয় সত্যকে প্লেটোর 'রিপাবলিক'-এ যা এসেছে অথবা ইখওয়ান আস-সাফার রিসালাসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা দিয়ে ব্যাখ্যা করেন। তিনি যখন এগুলো উদ্ধৃত করেন, তখন সেগুলোর প্রতি তাঁর সন্তুষ্টি ও বিশ্বাস প্রকাশ করেন, যদিও তা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে সাব্যস্ত (ثابت) বিষয়ের পরিপন্থী। তদুপরি তিনি 'হিসাব আল-জুমাল'-এর মাধ্যমে কুরআনের অনেক জ্ঞান আহরণ করেন, যা কোনো সুনিশ্চিত সত্যে পৌঁছায় বলে আমরা বিশ্বাস করি না। বরং এটি ইহুদিদের থেকে মুসলমানদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া একটি সংক্রমণ, যা তাদের অনেকের চিন্তাধারার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে। ডক্টর যাহাবি এই তাফসির সম্পর্কে তাঁর আলোচনা অব্যাহত রেখে বলেন: "তদুপরি আমরা দেখি যে, তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আধুনিক মতবাদ এবং নতুন বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে কুরআনের আয়াতসমূহের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যে সম্পর্কে ইতিপূর্বে আরবদের কোনো ধারণা ছিল না।" অতঃপর ডক্টর যাহাবি বলেন: "তাফসিরের এই পদ্ধতিকে আমি কেবল এক প্রকার কৃত্রিমতা (تكلف) হিসেবেই দেখি; এটি যদি কুরআনের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত নাও করে, তবে অন্ততপক্ষে এর গাম্ভীর্য ও সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দেয়।"

আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক এবং আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الدرس: 3 تابع: أهم الكتب التي عنيت بالتفسير العلمي - المعارضون للتفسير العلمي.
পাঠ: ৩ অনুবৃত্তি: বৈজ্ঞানিক তাফসীর (التفسير العلمي) সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ - বৈজ্ঞানিক তাফসীরের (التفسير العلمي) বিরোধিতাকারীবৃন্দ.
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الدرس الثالث

(تابع: أهم الكتب الت ي عُنيت بالتفسير العلمي - المعارضون للتفسير العلمي)

 

‌‌نماذج من تفسير الشيخ طنطاوي جوهري في كتابه (الجواهر)

الحمد لله والصلاة والسلام على سيدنا رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه أما بعد:

فقد تعرضنا إلى كتاب "الجواهر" للشيخ طنطاوي الجوهري، وبينا طريقة المؤلف في هذا التفسير.

سنعرض نماذج من بعض ما جاء في هذا التفسير، فمثلًا عندما تعرض لقوله تعالى في سورة البقرة: {وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَنْ نَصْبِرَ عَلَى طَعَامٍ وَاحِدٍ فَادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجْ لَنَا مِمَّا تُنْبِتُ الْأَرْضُ مِنْ بَقْلِهَا وَقِثَّائِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا قَالَ أَتَسْتَبْدِلُونَ الَّذِي هُوَ أَدْنَى بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ} (البقرة: 61). نجده يقول الفوائد الطيبة في هذه الآية، ثم يأخذ في بيانِ ما أثبته الطبُّ الحديث من نظريات طبية، ويذكر مناهج أطباء أوروبا في الطب، ثم يقول: "أو ليست هذه المناهج هي التي نحا نحوها القرآن، أوليس قوله: {أَتَسْتَبْدِلُونَ الَّذِي هُوَ أَدْنَى بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ} رمزًا لذلك، كأنه يقول: العيشة البدوية على المن والسلوى، وهما الطعامان الخفيفان اللذان لا مرض يتبعهما مع الهواء النقي، والحياة الحرة أفضل من حياةٍ شقيةٍ في المدن بأكل التوابل واللحم، والإكثار من ألوان الطعام مع الذلة، وجور الحكام والجبن وطمع الجيران من الممالك فتختطفكم في حين غفلة، وأنتم لا تشعرون. بمثل هذا ت تُفسر هذه الآيات بمثل هذا فيلفهم المسلمون كتاب الله".

وعندما تعرض لقوله تعالى: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَذْبَحُوا بَقَرَة} (البقرة: 67) الآيات إلى آخر القصة. نجده يعقد بحثًا في عجائب القرآن وغرائبه فيذكرُ ما انطوت عليه هذه الآيات من عجائب، ويذكر فيما يذكر علم تحضير الأرواح فيقول: "وأما علم تحضير الأرواح فإنه من هذه الآية استخراجًا،
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

তৃতীয় পাঠ

(চলমান: বৈজ্ঞানিক তাফসিরের সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কিতাবসমূহ - বৈজ্ঞানিক তাফসিরের বিরোধিতাকারীরা)

 

‌‌শেখ তানতাভী জওহরীর তাঁর (আল-জাওয়াহির) গ্রন্থে কৃত তাফসিরের কিছু নমুনা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ (সা.), তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর আনুগত্য করেছেন তাদের ওপর। এরপর:

আমরা ইতিপূর্বে শেখ তানতাভী জওহরীর "আল-জাওয়াহির" কিতাবটি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এই তাফসিরে লেখকের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেছি।

আমরা এই তাফসির থেকে কিছু নমুনা উপস্থাপন করব। উদাহরণস্বরূপ, সূরা বাকারায় আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ক্ষেত্রে যখন তিনি আলোচনা করেছেন: {আর যখন তোমরা বলেছিলে: হে মুসা! আমরা এক ধরনের খাবারের ওপর কখনও ধৈর্য ধারণ করব না; সুতরাং তুমি তোমার রবের কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করো যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমি থেকে উৎপন্ন শাকসবজি, কাঁকড়ী, রসুন, মসুর ডাল ও পেঁয়াজ বের করে দেন। তিনি বললেন: তোমরা কি সেই জিনিস গ্রহণ করতে চাও যা নিকৃষ্ট তার পরিবর্তে যা উত্তম?} (সূরা আল-বাকারা: ৬১)। আমরা দেখতে পাই যে তিনি এই আয়াতের কল্যাণকর দিকসমূহ উল্লেখ করেছেন, এরপর তিনি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রমাণিত বিভিন্ন চিকিৎসা সংক্রান্ত তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন এবং চিকিৎসা শাস্ত্রে ইউরোপীয় চিকিৎসকদের কর্মপদ্ধতি উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেন: "এই পদ্ধতিগুলোই কি সেই পথ নয় যেদিকে কুরআন ইঙ্গিত করেছে? তাঁর (আল্লাহর) বাণী: {তোমরা কি সেই জিনিস গ্রহণ করতে চাও যা নিকৃষ্ট তার পরিবর্তে যা উত্তম?} - এটি কি তারই প্রতীক নয়? যেন তিনি বলছেন: মান্ন ও সালওয়ার ওপর ভিত্তি করে মরুচারী জীবন — যে দুটি হালকা খাবার যার পরে বিশুদ্ধ বায়ুর মাঝে কোনো রোগব্যাধি হয় না এবং যা একটি স্বাধীন জীবন — তা শহরতলীর মসলাযুক্ত খাবার ও গোশত খাওয়ার কষ্টকর জীবনের চেয়ে অধিকতর উত্তম। আর শহরতলীতে লাঞ্ছনা, শাসকদের অবিচার, ভীরুতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর লোভের মাঝে বিভিন্ন পদের খাবার বেশি বেশি খাওয়া থেকে তা (মরুচারী জীবন) উত্তম; যে লোভের কারণে তারা তোমাদের অসতর্ক অবস্থায় হঠাৎ আক্রমণ করে বসে এবং তোমরা টেরও পাও না। এভাবেই এই আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা করা উচিত, যাতে মুসলমানরা আল্লাহর কিতাব অনুধাবন করতে পারে।"

এবং যখন তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর আলোচনায় আসেন: {এবং যখন মুসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের একটি গাভী জবাই করার নির্দেশ দিচ্ছেন} (সূরা আল-বাকারা: ৬৭) — কাহিনীর শেষ পর্যন্ত। আমরা দেখতে পাই তিনি কুরআনের চমৎকারিত্ব ও বিস্ময়কর বিষয়গুলো নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। তিনি এই আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত বিস্ময়কর বিষয়গুলো বর্ণনা করেন এবং অন্যান্য বিষয়ের সাথে আত্মা আবাহন বিদ্যা (ইলমু তাহদিরিল আরওয়াহ) উল্লেখ করে বলেন: "আর আত্মা আবাহন বিদ্যা এই আয়াত থেকেই উৎসারিত,"
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৮)
إن هذه الآية تُتلى والمسلمون يؤمنون بها حتى ظهر عِلْمُ الأرواح بأمريكا أولًا، ثم بسائر أوروبا ثانيًا"، ثم ذكر نبذةً طويلةً عن مبدأ ظهور هذا العلم، وكيف كان انتشاره بين الأمم، وفائدة هذا العلم، ثم قال أخيرًا: "ولما كانت السورة التي نحن بصددها قد جاء فيها حياةٌ للعُزير بعد موته، وكذلك حماره، ومسألة الطير وإبراهيم الخليل، ومسألة الذين خرجوا من ديارهم؛ فرارًا من الطاعون فماتوا ثم أحياهم. وعلم اللهُ أننا نعجز عن ذلك جعل قبل ذِكْر تلك الثلاثة في السورة ما يرمز إلى استحضار الأرواح في مسألة البقرة، كأنه يقول: إذا قرأتُم ما جاء عن بني إسرائيل في إحياء الموتى في هذه السورة عند أواخرها فلا تيأسوا من ذلك؛ فإني قد بدأت بذكر استحضار الأرواح، فاستحضروها بطرقها المعروفة، واسألوا أهل الذكر إن كنتم لا تعلمون، ولكن ليكن المُحَضِّر ذا قلب نقي خالص على قَدم الأنبياء والمرسلين، كالعزير، وإبراهيم، وموسى، فهؤلاء لعلو نفوسهم رأوا بالمعاينة، وأراهم الله ذلك بالمعاينة. وأنا -أي والله يقول- أمرت نبيكم أن يقتدي بهم فقلت: {فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِه} (الأنعام: 90) ".

ومثلًا عندما تعرض لقوله تعالى في أول سورة آل عمران {الم} نجده يعقد بحثًا طويلًا عنوانه: الأسرار الكيميائية في الحروف الهجائية للأمم الإسلامية في أوائل السور القرآنية وفيه يقول: "انظر رعاك الله تأمل، يقول الله: {الم}، و {طسم}، و {حم} وهكذا يقول لنا: أيها الناس إن الحروف الهجائية إليها تُحلل الكلمات اللغوية، فما من لغة في الأرض إلا وأرجعها أهلها إلى حروفها الأصلية، سواء أكانت اللغة العربية، أم اللغات الأعجمية شرقية وغربية، فلا صرف، ولا إملاء، ولا اشتقاق إلا بتحليل الكلمات إلى حروفها، ولا سبيل لتعليم لغة، وفهمها إلا بتحليلها. وهذا هو القانون المسنون في سائر العلوم والفنون. ولا جرم أن العلوم قسمان: لغوية، وغير لغوية، فالعلوم
এই আয়াতটি তিলাওয়াত করা হচ্ছিল এবং মুসলমানরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করছিল যতক্ষণ না প্রথমে আমেরিকায় এবং পরবর্তীতে সমগ্র ইউরোপে আত্মাবিদ্যা প্রকাশ পায়।" অতঃপর তিনি এই বিদ্যার আবির্ভাবের সূচনা, বিভিন্ন জাতির মধ্যে এর প্রসার এবং এই বিদ্যার উপকারিতা সম্পর্কে একটি দীর্ঘ বিবরণ প্রদান করেন। পরিশেষে তিনি বলেন: "যেহেতু আমরা বর্তমানে যে সূরাটি নিয়ে আলোচনা করছি, সেখানে মৃত্যুর পর উযাইর (আ.)-এর পুনর্জীবিত হওয়া এবং তাঁর গাধার পুনর্জীবিত হওয়ার প্রসঙ্গ এসেছে; আরও এসেছে পাখির ঘটনা ও ইব্রাহিম খলিল (আ.)-এর প্রসঙ্গ এবং মহামারি থেকে পলায়ন করে ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া সেই ব্যক্তিদের ঘটনা যারা মৃত্যুবরণ করার পর আল্লাহ তাঁদের পুনরায় জীবিত করেছিলেন। আল্লাহ জানতেন যে আমরা এই বিষয়ে অক্ষম, তাই তিনি এই তিনটি ঘটনার বর্ণনার আগে সূরায় গাভীর ঘটনার মাধ্যমে আত্মা আবাহনের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি যেন বলছেন: যদি তোমরা এই সূরার শেষের দিকে বনী ইসরাঈলের মৃতদের পুনর্জীবিত করার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তা পাঠ করো, তবে সে বিষয়ে হতাশ হয়ো না; কারণ আমি আত্মা আবাহন উল্লেখ করার মাধ্যমেই শুরু করেছি। অতএব তোমরা প্রচলিত পদ্ধতিতে আত্মা আবাহন করো, আর যদি তোমাদের জানা না থাকে তবে জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করো। তবে আত্মা আবাহনকারীকে নবি ও রাসুলগণের (المرسلين) পদাঙ্ক অনুসরণ করে পবিত্র ও বিশুদ্ধ হৃদয়ের অধিকারী হতে হবে, যেমনটি ছিলেন উযাইর, ইব্রাহিম ও মুসা (আ.)। তাঁদের আত্মার উচ্চমর্যাদার কারণে তাঁরা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং আল্লাহ তাঁদের তা চাক্ষুষ দেখিয়েছেন। আর আমি —অর্থাৎ আল্লাহ বলছেন— তোমাদের নবিকে তাঁদের অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়ে বলেছি: {সুতরাং তাঁদের পথ অনুসরণ করুন} (সূরা আল-আনআম: ৯০)।"

উদাহরণস্বরূপ, যখন তিনি সূরা আল-ইমরানের শুরুতে আল্লাহ তাআলার বাণী {আলিফ লাম মিম} সম্পর্কে আলোচনা করেন, তখন দেখা যায় তিনি একটি দীর্ঘ গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন যার শিরোনাম: "কুরআনের সূরাসমূহের প্রারম্ভে মুসলিম উম্মাহর বর্ণমালার রাসায়নিক রহস্যসমূহ"। সেখানে তিনি বলেন: "আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করুন, তুমি চিন্তা করে দেখো; আল্লাহ বলছেন: {আলিফ লাম মিম}, {তা সিন মিম} এবং {হা মিম}। এভাবে তিনি আমাদের বলছেন: হে মানুষ! ভাষাগত শব্দসমূহ এই বর্ণমালাতেই বিশ্লেষিত হয়। পৃথিবীতে এমন কোনো ভাষা নেই যার পণ্ডিতগণ সেটিকে তার মূল বর্ণমালায় ফিরিয়ে নেননি, তা আরবি ভাষা হোক কিংবা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অনারবি ভাষা। শব্দসমূহকে বর্ণমালায় বিশ্লেষণ করা ছাড়া কোনো শব্দরুপান্তর, বানানরীতি বা শব্দগঠন সম্ভব নয় এবং শব্দ বিশ্লেষণ করা ছাড়া কোনো ভাষা শিক্ষা ও অনুধাবনের কোনো পথ নেই। আর এটাই হলো সমস্ত বিজ্ঞান ও কলার প্রতিষ্ঠিত নিয়ম। নিঃসন্দেহে জ্ঞান দুই প্রকার: ভাষাগত এবং ভাষা-বহির্ভূত। সুতরাং জ্ঞানসমূহ...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল ইলমী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৯)
اللغوية مقدمةٌ في التعليم؛ لأنها وسيلةٌ إلى معرفةِ الحقائق العلمية من رياضيةٍ، وطبيعية وإلهية فإذا كانت العلوم التي هي آلة لغيرها لا تُعرف حقائقها إلا بتحليلها إلى أصولها فكيف إذًا تكون العلوم المقصودة لنتائجها المادية والمعنوية، فهي أَولى بالتحليل، وأجدر بإرجاعها إلى أصولها الأولية التي لا تعرف الحساب إلا بمعرفة بسائط الأعداد، ولا الهندسة إلا بعد علم البسائط والمقدمات. ولا علوم الكيمياء إلا بمعرفة العناصر وتحليل المركبات إليها، فرجع الأمر إلى تحليل العلوم".

ومثلًا نراه يعرض لقوله تعالى في سورة النور: {يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} (النور: 24) وقوله في سورة فصلت: {حَتَّى إِذَا مَا جَاءُوهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَأَبْصَارُهُمْ وَجُلُودُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ * وَقَالُوا لِجُلُودِهِمْ لِمَ شَهِدْتُمْ عَلَيْنَا قَالُوا أَنْطَقَنَا اللَّهُ الَّذِي أَنْطَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ خَلَقَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ * وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلَا أَبْصَارُكُمْ وَلَا جُلُودُكُمْ وَلَكِنْ ظَنَنْتُمْ أَنَّ اللَّهَ لَا يَعْلَمُ كَثِيرًا مِمَّا تَعْمَلُونَ} (فصلت: 22 - 24). وقوله في سورة يس: {الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَى أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُون} (يس: 65) ثم يقول: "أوليس الاستدلال بآثار الأقدام، وآثار أصابع الأيدي في أيامنا حاضرة هو نفس الذي صرح به القرآن، وإذا كان الله يعلم ما في المواطن بل هو القائل للإنسان: {كَفَى بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا} (الإسراء: 14)، والقائل: {بَلِ الْإِنْسَانُ عَلَى نَفْسِهِ بَصِيرَة} (القيام: 14).

أفلا يكون ذكر الأيدي والأرجل والجلود وشهادتها يوم القيامة ليلفت عقولنا إلى أن من الدلائل ما ليس بالبيِّنات المشهورة عند المسلمين، وأن هناك ما هو أفضل منها، وهي التي يحكم بها الله فاحكموا بها، ويكون ذلك القول لينبهنا ويفهمنا
ভাষাতাত্ত্বিক জ্ঞান শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে একটি ভূমিকা (مقدمة) স্বরূপ; কারণ এটি গাণিতিক, প্রাকৃতিক এবং ঐশ্বরিক বৈজ্ঞানিক সত্যগুলো জানার একটি মাধ্যম। সুতরাং যদি সেই বিজ্ঞানগুলো, যা অন্য বিষয়ের জন্য সহায়ক সরঞ্জাম মাত্র, সেগুলোর স্বরূপ তাদের মূলনীতি (أصول) বিশ্লেষণের মাধ্যম ছাড়া জানা না যায়, তবে সেই বিজ্ঞানগুলোর অবস্থা কেমন হবে যেগুলো বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক ফলাফল অর্জনের উদ্দেশ্যে উদ্ভাবিত? তাই সেগুলো বিশ্লেষণের অধিক দাবিদার এবং সেগুলোকে তাদের প্রাথমিক মূলনীতি (أصول) সমূহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া অধিকতর যুক্তিযুক্ত। ঠিক যেমন সংখ্যার সরল উপাদান (بسائط) সম্পর্কে জানা ব্যতীত গণিত এবং সরল বিষয়াদি ও ভূমিকা (مقدمات) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ ব্যতীত জ্যামিতি জানা সম্ভব নয়। রসায়ন বিজ্ঞানও উপাদানসমূহ চেনা এবং যৌগিক পদার্থগুলোকে সেগুলোর দিকে বিশ্লেষণ করা ছাড়া জানা যায় না। ফলে বিষয়টি বিজ্ঞানের বিশ্লেষণের দিকেই পর্যবসিত হয়।

উদাহরণস্বরূপ, আমরা তাঁকে সূরা আন-নূরে মহান আল্লাহর বাণী পেশ করতে দেখি: {যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা, তারা যা করত সে সম্পর্কে} (আন-নূর: ২৪) এবং সূরা ফুসসিলাতে তাঁর বাণী: {পর্যন্ত যখন তারা জাহান্নামের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চোখ ও চামড়া তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। তারা তাদের চামড়াকে বলবে, 'তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে কেন?' তারা বলবে, 'আল্লাহ আমাদের কথা বলার শক্তি দিয়েছেন, যিনি সব কিছুকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তোমরা যখন কিছু গোপন করতে, তখন তোমাদের কান, চোখ ও চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে না—এই ভয়ে তোমরা পর্দা করতে না; বরং তোমরা ধারণা করতে যে, তোমরা যা করো তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না।} (ফুসসিলাত: ২২ - ২৪)। এবং সূরা ইয়াসীনের বাণী: {আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা সাক্ষ্য দেবে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে} (ইয়াসীন: ৬৫)। অতঃপর তিনি বলেন: "বর্তমান সময়ে পদচিহ্ন এবং হাতের আঙুলের ছাপের মাধ্যমে প্রমাণ গ্রহণ (الاستدلال) কি সেটিই নয় যা কুরআন স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে? আর যদি আল্লাহ অন্তরের গোপন বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত থাকেন, বরং তিনিই মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: {আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট।} (আল-ইসরা: ১৪), এবং বলেছেন: {বরং মানুষ নিজেই নিজের সম্পর্কে সম্যক অবগত।} (আল-কিয়ামাহ: ১৪)।

তবে কি কিয়ামতের দিন হাত, পা ও চামড়ার উল্লেখ এবং তাদের সাক্ষ্যদান আমাদের বুদ্ধিকে এ দিকে আকৃষ্ট করার জন্য নয় যে, প্রমাণাদির (دلائل) মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা মুসলিমদের নিকট সুপরিচিত (مشهورة) সুস্পষ্ট প্রমাণ (بينات) সমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়? এবং সেখানে এমন কিছু আছে যা সেগুলোর চেয়েও শ্রেষ্ঠ, আর সেগুলো দিয়েই আল্লাহ বিচার করেন, সুতরাং তোমরাও তা দিয়ে বিচার করো। এই উক্তিটি মূলত আমাদের সতর্ক করার এবং বোঝানোর জন্যই।