(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: -)
الإعجاز اللغوي في القرآن الكريم - جامعة المدينة   (جامعة المدينة العالمية)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الإعجاز اللغوي في القرآن الكريم

كود المادة: IUQR3213

المرحلة: بكالوريوس

المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية

الناشر: جامعة المدينة العالمية

عدد الصفحات: 466

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1433

কুরআনুল কারীমের ভাষাগত মুজিজা - মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়   (আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি)

বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি


বই: কুরআনুল কারীমের ভাষাগত মুজিজা

কোর্স কোড: IUQR3213

স্তর: স্নাতক

লেখক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রম

প্রকাশক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: -)
-[الإعجاز اللغوي في القرآن الكريم]-

كود المادة: IUQR3213

المرحلة: بكالوريوس

المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية

الناشر: جامعة المدينة العالمية

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
-[মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ভাষাতাত্ত্বিক অলৌকিকত্ব]-

কোর্সের কোড: IUQR3213

স্তর: স্নাতক

লেখক: মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রম

প্রকাশক: মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الدرس: 1 مقدمة في وجوه الإعجاز.

بسم الله الرحمن الرحيم

الدرس الأول

(مقدمة في وجوه الإعجاز)

 

‌‌ماذا نعني بإعجاز القرآن؟

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه، ونعوذ بالله تعالى من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، اللهم صلِّ على محمد النبي وأزواجه أمهات المؤمنين وذريته وآل بيته، كما صليت على آل إبراهيم إنك حميد مجيد؛ وبعد:

فهذه المادة المباركة من المواد التي ينبغي أن يحرص المسلم على تعلمها؛ لأنها تربطه بكتاب ربه سبحانه وتعالى.

وموضوع درسنا هو: "مقدمة في وجوه الإعجاز".

فقبل الدخول في تفاصيل المنهج والخوض في جزئياته التي نتناولها بالدراسة، لا بد أن نقف مع مجموعة من الأسئلة، يتبين لنا من خلال الإجابة عنها أهمية المادة التي ندرسها؛ وذلك يحفّز همم الطلاب للاهتمام بها عقلًا وحسًّا لما فيها من ثمار تعود على كل منا بالنفع في أمر دينه ودنياه، وهذه الأسئلة أيها الطلاب الكرام تعد بمثابة التمهيد والمدخل للدراسة:

أولًا: ماذا نعني بإعجاز القرآن؟

ثانيًا: ما الفرق بين معجزة القرآن وسائر المعجزات التي اختص بها الله رسله؟

ثالثًا: ما أوجه الإعجاز في القرآن الكريم؟

رابعًا: كيف تحدى نبينا الكريم -صلوات الله وسلامه عليه- العرب بالقرآن الكريم؟

خامسًا: لماذا ينصب اهتمامنا حول الإعجاز اللغوي في القرآن الكريم؟
পাঠ: ১ আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের (ই'জায) দিকসমূহের ভূমিকা.

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

প্রথম পাঠ

(আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের দিকসমূহের ভূমিকা)

 

‌কুরআনের অলৌকিকত্ব (ই'জায) বলতে আমরা কী বুঝি?

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট হিদায়াত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আপনি নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণ—যাঁরা মুমিনদের মাতা—তাঁর বংশধর এবং তাঁর আহলে বাইতের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনটি আপনি ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। এরপর:

এই বরকতময় বিষয়টি এমন একটি বিষয় যা শিখতে একজন মুসলমানের সচেষ্ট হওয়া উচিত; কারণ এটি তাকে তার মহান রবের কিতাবের সাথে সংযুক্ত করে।

আমাদের পাঠের বিষয়বস্তু হলো: "আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের দিকসমূহের ভূমিকা"।

পাঠ্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ এবং আমরা যেসব খুঁটিনাটি বিষয় অধ্যয়ন করব সেগুলোতে প্রবেশের আগে, আমাদের কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া প্রয়োজন। এগুলোর উত্তরের মাধ্যমে আমরা যে বিষয়টি অধ্যয়ন করছি তার গুরুত্ব স্পষ্ট হবে; এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক এবং ইন্দ্রিয়গতভাবে এর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের আগ্রহ জাগিয়ে তুলবে। কারণ এর মধ্যে এমন সব ফল রয়েছে যা আমাদের প্রত্যেকের দ্বীন ও দুনিয়ার উপকারে আসবে। হে সম্মানিত শিক্ষার্থীরা, এই প্রশ্নগুলো অধ্যয়নের ভূমিকা এবং প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত:

প্রথমত: কুরআনের অলৌকিকত্ব (ই'জায) বলতে আমরা কী বুঝি?

দ্বিতীয়ত: কুরআনের মুজিজা এবং অন্যান্য মুজিজার মধ্যে পার্থক্য কী, যা আল্লাহ তাঁর অন্যান্য রাসূলদের জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন?

তৃতীয়ত: পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের (ই'জায) দিকগুলো কী কী?

চতুর্থত: আমাদের প্রিয় নবী—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—কীভাবে পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে আরবদের চ্যালেঞ্জ করেছিলেন?

পঞ্চমত: কেন আমাদের মনোযোগ পবিত্র কুরআনের ভাষাগত অলৌকিকত্বের (লিঙ্গুইস্টিক ই'জায) ওপর নিবদ্ধ?
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১০)
وأخيرًا: ما ثمرة دراسة إعجاز القرآن؟

نبدأ بالسؤال الأول وهو: ماذا نعني بإعجاز القرآن؟

الإجابة عن هذا السؤال تتطلب منا توضيح المقصود بكلٍّ من الإعجاز والقرآن:

فالإعجاز في اللغة: من العجز وعدم القدرة والاستطاعة، فنقول: عجز فلان عن فعل كذا؛ أي عن القيام به، والقدرة على إنفاذه وفعله، ويقال: أعجزني فلان: إذا عجزت طلبه وإدراكه؛ ومن ثم سُميت آيات الرسل معجزات؛ لظهور عجز المرسَل إليهم عن معارضتها بأمثالها.

المعجزة في اصطلاح العلماء: أمرٌ خارق للعادة، مقرون بالتحدي، سالم من المعارضة.

والقرآن: مصدر قرأ على وزن فُعلان بالضم، كالغفران والشكران، ومنه قوله تعالى: {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ * فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} (القيامة: 18). ثم صار لفظ القرآن علما شخصيّا على الكتاب المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم وهو الأغلب في استخدامه في كتاب الله، ومنه قوله تعالى: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} (الإسراء: 9).

وروعي في تسميته كونه مقروءًا أي متلوًّا بالألسن، وحده العلماء بأنه كلام الله تعالى المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم المتعبد بتلاوته؛ كلام الله تعالى يُخرج كلام البشر وكلام غيرهم من المخلوقات، فهو كلام الله عز وجل والمنزل على محمد صلى الله عليه وسلم يُخرج سائر الكتب التي أنزلت على الرسل من قبله كالتوراة والإنجيل وصحف إبراهيم والزبور على داود عليه السلام والمتعبد بتلاوته: يُخرج ما لا يتعبد بتلاوته مما هو مقدس ومما هو له قدسيته عند المسلمين؛ كأحاديث النبي -صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم- والأحاديث القدسية
পরিশেষে: কুরআনের অলৌকিকত্ব (ইজায) অধ্যয়নের ফলাফল কী?

আমরা প্রথম প্রশ্নটি দিয়ে শুরু করছি, আর তা হলো: কুরআনের অলৌকিকত্ব বলতে আমরা কী বুঝি?

এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য 'ইজায' (অলৌকিকত্ব) এবং 'কুরআন'—এই উভয় শব্দের অর্থ স্পষ্ট করা আমাদের জন্য আবশ্যক:

আভিধানিক অর্থে ইজায: এটি অক্ষমতা এবং সক্ষমতা ও সামর্থ্যের অভাব থেকে নির্গত। আমরা বলে থাকি: অমুক ব্যক্তি অমুক কাজ করতে অক্ষম হয়েছে; অর্থাৎ তা সম্পাদন করতে এবং তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা হারিয়েছে। আরও বলা হয়: অমুক আমাকে অক্ষম করে দিয়েছে—যখন আমি তাকে অন্বেষণ করতে বা ধরতে অক্ষম হই। একারণেই রাসূলগণের নিদর্শনসমূহকে 'মুজিজা' নামকরণ করা হয়েছে; কারণ যাদের নিকট রাসূলদের পাঠানো হয়েছে, তাদের অনুরূপ কিছু নিয়ে এসে এর মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে তাদের অক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে।

আলিমগণের পরিভাষায় মুজিজা হলো: এমন এক অলৌকিক বিষয় যা স্বভাবজাত নিয়মের পরিপন্থী, যা চ্যালেঞ্জের সাথে যুক্ত এবং যা যে কোনো ধরনের মোকাবিলা বা বিরোধিতা থেকে মুক্ত।

আর কুরআন: এটি পেশ-বিশিষ্ট ‘ফু'লান’ ওজনে ‘কারাআ’ (পাঠ করা) ক্রিয়ামূল থেকে আগত একটি মাসদার বা বিশেষ্য, যেমন: গুফরান এবং শুকরান। মহান আল্লাহর বাণী থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়: "নিশ্চয় তা সংরক্ষণ করা এবং তা পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব। সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন।" (সূরা আল-ক্বিয়ামাহ: ১৮)। পরবর্তীতে ‘কুরআন’ শব্দটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ কিতাবের জন্য একটি বিশেষ নাম হয়ে গিয়েছে এবং আল্লাহর কিতাবে এর ব্যবহারই সর্বাধিক। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথপ্রদর্শন করে যা সবচেয়ে সুদৃঢ়।" (সূরা আল-ইসরা: ৯)।

এর নামকরণে এটি পঠিত হওয়া অর্থাৎ জিহ্বা দ্বারা তিলাওয়াতকৃত হওয়ার বিষয়টিকে বিবেচনা করা হয়েছে। আলিমগণ এর সংজ্ঞায় বলেছেন যে— এটি মহান আল্লাহর বাণী, যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ এবং যার তিলাওয়াত করা ইবাদত। 'আল্লাহ তাআলার বাণী' বলার মাধ্যমে মানুষের কথা এবং অন্যান্য সৃষ্টির কথা বাদ পড়ে যায়, কারণ এটি মহান আল্লাহর বাণী। আর 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ' বলার মাধ্যমে তাঁর পূর্বেকার রাসূলগণের ওপর অবতীর্ণ অন্যান্য কিতাবসমূহ যেমন তাওরাত, ইঞ্জিল, ইবরাহীমের সহীফাসমূহ এবং দাউদ আলাইহিস সালামের ওপর অবতীর্ণ যাবুর পৃথক হয়ে যায়। আর 'যার তিলাওয়াত ইবাদত' বলার মাধ্যমে এমন সব বিষয় বাদ পড়ে যায় যার তিলাওয়াত করা ইবাদত নয়, যদিও মুসলিমদের নিকট সেগুলোর পবিত্রতা ও মর্যাদা রয়েছে; যেমন— নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লামের হাদিসসমূহ এবং হাদিসে কুদসী।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১১)
والقراءات التي توسم بأنها قراءات آحاد، لا تصل إلى حد التواتر؛ فلا يتعبد بتلاوتها.

وعرّف شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله القرآن في (العقيدة الواسطية) بأنه: كلام الله منزّل غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود، تكلم به حقيقة، وألقاه إلى جبريل، فنزل به على محمد صلى الله عليه وسلم.

فاهتمّ رحمه الله في حده بإبطال قول أهل الزيغ والضلال بخلق القرآن.

ومن خلال بيان معنى الإعجاز والقرآن، يتضح المقصود بإعجاز القرآن، وهو:

إعجازه الناس أن يأتوا بمثله لعدم قدرتهم على ذلك، أو إثبات القرآنِ عجزَ الخلقِ عن الإتيان بما تحداهم به، أو كما قال أبو البقاء في (الكليات): ارتقاؤه في البلاغة إلى أن يخرج عن طوق البشر ويعجزهم عن معارضته.

 

‌‌الفرق بين معجزة القرآن وسائر المعجزات

أما السؤال الثاني الذي طرحناه وهو: الفرق بين معجزة القرآن وسائر المعجزات:

فالإجابة عنه نحتاجها لبيان ما اختصّ به الله سبحانه وتعالى خير الأنام محمد -صلوات الله وسلامه عليه- دون سائر الرسل والأنبياء، فما من نبي إلا وكان معه آية صدقه ودليل تفضيله على من أُرسل إليهم بالاصطفاء، فالله يصطفي من خلقه ما يشاء {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاء وَيَخْتَارُ مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ} (القصص: 68).

هذا الاصطفاء وهذا الاختيار من الله سبحانه وتعالى سُنة سَنها في إرساله الرسل؛ أن يكون معهم ما يثبت أنهم يُخالفون من أرسل إليهم فيأتون أقوامهم بما يَعجزون عنه في وقتٍ يُعلم فيه أن هؤلاء يبرعون فيما عجزوا عنه؛ بمعنى: أن ما من رسول
যে সকল কিরাতকে আহাদ কিরাত হিসেবে অভিহিত করা হয়, সেগুলো তাওয়াতুর (নিরবচ্ছিন্নতা) এর পর্যায়ে পৌঁছায় না; তাই এগুলোর তিলাওয়াত ইবাদত (সালাত) হিসেবে গণ্য হয় না।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ' গ্রন্থে কুরআনকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: এটি আল্লাহর কালাম (কথা), যা অবতীর্ণ, সৃষ্টি নয়, তাঁর থেকেই এর শুরু এবং তাঁর কাছেই এটি ফিরে যাবে। তিনি প্রকৃতপক্ষে এর মাধ্যমে কথা বলেছেন এবং জিবরীলের নিকট তা অর্পণ করেছেন, অতঃপর জিবরীল তা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সংজ্ঞায় কুরআন সৃষ্টির বিষয়ে বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্টদের মতবাদ বাতিলের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

ই'জায (অলৌকিকত্ব) এবং কুরআনের সংজ্ঞার মাধ্যমে 'কুরআনের ই'জায' বলতে যা বোঝানো হয়েছে তা স্পষ্ট হয়, আর তা হলো:

মানুষের এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম না হওয়ার কারণে মানুষকে অপারগ করে দেওয়া, অথবা কুরআন যে বিষয়ে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করেছে তা আনয়নে সৃষ্টির অক্ষমতা প্রমাণ করা, অথবা যেমনটি আবু আল-বাকা 'আল-কুল্লিয়াত' গ্রন্থে বলেছেন: অলঙ্কারশাস্ত্রে এর উচ্চতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে এবং এর মোকাবিলা করতে তাদেরকে অক্ষম করে দিয়েছে।

 

‌‌কুরআনের মুজিজা এবং অন্যান্য মুজিজার মধ্যে পার্থক্য

আমরা যে দ্বিতীয় প্রশ্নটি উত্থাপন করেছিলাম তা হলো: কুরআনের মুজিজা এবং অন্যান্য মুজিজার মধ্যে পার্থক্য কী?

এর উত্তর প্রদানের প্রয়োজন রয়েছে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অন্যান্য সকল রাসূল ও নবীর তুলনায় যে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করেছেন তা স্পষ্ট করার জন্য। এমন কোনো নবী নেই যাঁর সাথে তাঁর সত্যতার নিদর্শন এবং যাদের নিকট তাঁকে মনোনীত করে পাঠানো হয়েছে তাদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের দলিল ছিল না। কেননা আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যা ইচ্ছা মনোনীত করেন, "আর আপনার রব যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং পছন্দ করেন, তাদের কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দ করার ক্ষমতা নেই" (কাসাস: ৬৮)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে এই মনোনয়ন এবং এই নির্বাচন একটি সুন্নাত বা নিয়ম যা তিনি রাসূল প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রবর্তন করেছেন; আর তা হলো তাঁদের সাথে এমন কিছু থাকা যা প্রমাণ করে যে তাঁরা যাদের নিকট প্রেরিত হয়েছেন তাদের থেকে স্বতন্ত্র। ফলে তাঁরা তাঁদের কওমের কাছে এমন কিছু নিয়ে আসেন যা করতে তারা অক্ষম, অথচ তারা এমন সময়ে তা নিয়ে আসেন যখন জানা থাকে যে এই লোকেরা সেই সব বিষয়ে পারদর্শী যা করতে তারা এখন অক্ষম হচ্ছে; এর অর্থ হলো: কোনো রাসূলই এমন ছিলেন না...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১২)
يرسل إلى قوم إلا بمعجزة من جنس ما برعوا فيه؛ ليثبت لهم أنه يختلف عنهم، وأنه مرسل من قِبَل ربه سبحانه وتعالى.

مثال: عندما ظن السحرة أنهم بلغوا في هذا الفن منتهاه جاء موسى عليه السلام ليُبطله بعصاه، وعندما برع بعد ذلك بنو إسرائيل في الطب جاءهم عيسى عليه السلام بما يَعجز الأطباء عنه، فما من طبيب يستطيع أن يُحيي الموتى، فجاء عيسى عليه السلام بمعجزة إحياء الموتى، وكذلك الأمراض التي لا علاج لها كالعمى والبرص جاءهم عيسى عليه السلام ليبرئ الأكمه والأبرص، فكانت هذه المعجزات الحسية دليلًا على صدق نبوتهم عليهم السلام وعلى أنهم مرسلون من قبل الله سبحانه وتعالى كذلك معجزة النبي صلى الله عليه وسلم مع العرب، لما ارتقى العرب ذروة الفصاحة والبيان جاءهم القرآن؛ ليعلمهم أن لا قول ولا كلام ولا شيء مما برعوا فيه من فنون الأدب -شعرها ونثرها وسجعها وغيرها من الأرجاز والمسجوع والفنون التي برع فيها العرب أيما براعة- أن كل ذلك لا يضاهي القرآن ولا يشابه القرآن في شيء وأن القرآن نسق يختلف عما يتداولونه في كلامهم وفي آدابهم التي بلغوا فيها القمة ووصلوا إلى أعلى درجاتها.

هذا يتفق فيه الرسل.

إذًا ما الفرق بين القرآن وبين المعجزات الأخر؟

نقول: إن الفرق بين القرآن وبين المعجزات السابقة يتركز في ثلاث نقاط:

الأولى: هي أن معجزة الأنبياء حسية، حسية بمعنى مُشاهدة، يؤمن بها من رآها بعينه، ومن لم يرها قد ينكرها؛ لأنها بالنسبة له خبر إن شاء صدقه وإن شاء رفضه، بمعنى: أنه موسى عليه السلام مع قومه شاهدوا أن البحر قد انشق وأنه
কোনো সম্প্রদায়কে তখনই কোনো নবী পাঠানো হয়েছে, যখন তারা যে বিষয়ে পারদর্শী ছিল, ঠিক সেই ধরণের একটি মুজিজা সহকারে তাকে পাঠানো হয়েছে; যাতে এটি তাদের কাছে প্রমাণ করে যে তিনি তাদের থেকে ভিন্ন এবং তিনি তাঁর প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত।

উদাহরণস্বরূপ: যখন জাদুকররা মনে করেছিল যে তারা এই জাদুর শিল্পে চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেছে, তখন মুসা আলাইহিস সালাম তাঁর লাঠি দিয়ে তা বাতিল করতে আসলেন। এবং এরপর যখন বনী ইসরাঈল চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠল, তখন ঈসা আলাইহিস সালাম এমন কিছু নিয়ে তাদের নিকট আসলেন যা করতে চিকিৎসকরা অক্ষম ছিল। কোনো চিকিৎসকই মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম ছিল না, কিন্তু ঈসা আলাইহিস সালাম মৃতকে জীবিত করার মুজিজা নিয়ে আসলেন। একইভাবে অন্ধত্ব ও কুষ্ঠরোগের মতো যে সকল রোগের কোনো চিকিৎসা ছিল না, ঈসা আলাইহিস সালাম জন্মগত অন্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য করতে আসলেন। সুতরাং এই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজাগুলো ছিল তাঁদের (আলাইহিমুস সালাম) নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ এবং তাঁরা যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত তার দলিল। তদ্রূপ আরবদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজাও ছিল একই রকম। যখন আরবরা বাগ্মিতা ও অলংকারের চরম শিখরে আরোহণ করেছিল, তখন কুরআন তাদের কাছে আসল; যাতে এটি তাদের শিক্ষা দেয় যে, এমন কোনো বাণী, কথা বা সাহিত্যিক কোনো শিল্প নেই যাতে তারা পারদর্শী ছিল—তা কবিতা, গদ্য, অন্ত্যমিলযুক্ত বাক্য কিংবা আরবরা যে সমস্ত ছন্দ ও শিল্পকলায় চরম পারদর্শিতা অর্জন করেছিল তার কোনোটিই—কুরআনের সমতুল্য হতে পারে না এবং কোনো দিক থেকেই কুরআনের সদৃশ নয়। কুরআন এমন এক বিন্যাস যা তাদের প্রচলিত কথাবার্তা এবং সাহিত্যের চেয়ে ভিন্ন, যে সাহিত্যে তারা চরম শিখরে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

এই বিষয়টিতে সকল রাসূলগণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

তাহলে, কুরআন এবং অন্যান্য মুজিজার মধ্যে পার্থক্য কী?

আমরা বলি: কুরআন এবং পূর্ববর্তী মুজিজাগুলোর মধ্যে পার্থক্য তিনটি পয়েন্টে নিহিত:

প্রথমটি হলো: নবীদের মুজিজা ছিল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মানে হলো যা প্রত্যক্ষ করা যায়। যে ব্যক্তি তা স্বচক্ষে দেখেছে সে তার ওপর ঈমান আনে, আর যে তা দেখেনি সে তা অস্বীকার করতে পারে; কারণ তার কাছে সেটি একটি সংবাদ মাত্র, সে চাইলে তা বিশ্বাস করতে পারে অথবা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এর অর্থ হলো: মুসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর কওম প্রত্যক্ষ করেছিলেন যে সমুদ্র বিদীর্ণ হয়েছে এবং সেটি
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৩)
جمدت فيه المياه وشكّلت هيئة جبل ومر موسى عليه السلام ومن معه ثم عاد البحر كما كان قبل أن يمر موسى عليه السلام ومن معه، وكذلك عيسى عليه السلام عندما أحيا الموتى وأبرأ الأكمه والأبرص، نظروا في هذا المعجزة وعلموها مع وجود عيسى عليه السلام وشاهدوها بأعينهم، فهذه المعجزات التي أتى بها الأنبياء حتى معجزة إبراهيم عليه السلام عندما حطم الأصنام وعندما جابه أهل الأوثان وبين لهم فساد معتقداتهم وجاءوا به عليه السلام ليجعلوه عبرة لمن يتطاول على آلهتهم وسعّروا النيران وجعلوها مؤججة عالية تلتهم أي شيء يقربها حتى أن الطير إذا حام حولها سقط فيها من شدة لهيبها، هذه النيران التي جعلوها ليُلقوا فيها إبراهيم عليه السلام على أعين الناس لعلهم يشهدون، هذه النيران سُلبت خاصيتها وهي الإحراق، فدخل إبراهيم عليه السلام وجلس هانئًا مطمئنًا لا يشعر بحرها، بل إنها كانت بردًا وسلامًا عليه، {قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَى إِبْرَاهِيم} (الأنبياء: 69) هذه المعجزات لا يعرفها إلا من شهدها فهو يؤمن بها، أما من جاء بعدهم كانت بالنسبة له أخبار تحكى، وقول يسمعه إن آمن به آمن وإن جحد به كان له أن ينكر ذلك ويدعي أنه لا يصدقه.

هذا بالنسبة لمعجزات الأنبياء، أما القرآن على خلاف هذا، القرآن معجزة عقلية باقية خالدة إلى أن تقوم الساعة، القرآن حتى الآن هو معجزة النبي صلى الله عليه وسلم الذي يُتحدى بها كل من لا يؤمن به، الذي لا يؤمن بالقرآن يقال له: {فَأْتُواْ بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ} (البقرة: 23) يقال له: هذا كتاب الله عز وجل أنزله على رسوله صدقًا إلى أن تقوم الساعة وإلى أن يرث الله الأرض ومن عليها، فليس بالمعجزة الحسية وإنما هو معجزة عقلية، هذه هي النقطة الأولى.
সেখানে পানি জমে গিয়ে পাহাড়ের আকৃতি ধারণ করেছিল এবং মূসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সঙ্গীরা পার হয়ে গিয়েছিলেন, তারপর মূসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সঙ্গীরা পার হওয়ার পর সমুদ্র পূর্বের ন্যায় হয়ে গিয়েছিল। একইভাবে ঈসা (আলাইহিস সালাম) যখন মৃতকে জীবিত করেছিলেন এবং জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করেছিলেন, তখন তারা এই মুজিজাটি দেখেছিল এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর উপস্থিতিতে তারা তা জেনেছিল এবং নিজেদের চোখে তা প্রত্যক্ষ করেছিল। নবীগণ যেসব মুজিজা নিয়ে এসেছিলেন সেগুলো এমন ছিল, এমনকি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর মুজিজাও যখন তিনি মূর্তিগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছিলেন এবং মূর্তিপূজারীদের মোকাবিলা করেছিলেন এবং তাদের বিশ্বাসের অসারতা তাদের সামনে স্পষ্ট করেছিলেন। তারা তাঁকে নিয়ে এসেছিল যাতে যারা তাদের উপাস্যদের অবজ্ঞা করে তাদের জন্য তাঁকে শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত করা যায় এবং তারা আগুন প্রজ্বলিত করেছিল এবং তাকে দাউদাউ করে জ্বলন্ত ও সুউচ্চ করেছিল যা এর নিকটবর্তী যেকোনো কিছুকে গ্রাস করে ফেলছিল, এমনকি কোনো পাখি এর চারপাশ দিয়ে উড়লে আগুনের শিখার তীব্রতায় তাতে পড়ে যেত। তারা এই আগুন তৈরি করেছিল যাতে লোকচক্ষুর সামনে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে তাতে নিক্ষেপ করা যায় যাতে তারা তা প্রত্যক্ষ করতে পারে। এই আগুনের দহন করার বৈশিষ্ট্যটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, ফলে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) তাতে প্রবেশ করলেন এবং অত্যন্ত শান্ত ও নিশ্চিন্ত হয়ে বসলেন, তিনি এর উত্তাপ অনুভব করেননি। বরং এটি তাঁর জন্য শীতল ও নিরাপদ ছিল, (আমরা বললাম: হে আগুন, তুমি ইব্রাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও) (সূরা আল-আম্বিয়া: ৬৯)। এই মুজিজাগুলো কেবল তারাই জানত যারা তা প্রত্যক্ষ করেছিল, ফলে তারা এর ওপর ঈমান এনেছিল। আর যারা তাদের পরে এসেছে, তাদের কাছে এগুলো কেবল বর্ণিত সংবাদ এবং শোনামাত্র ছিল; যদি কেউ তাতে বিশ্বাস করার হয় তবে সে ঈমান আনত, আর যদি কেউ তা অস্বীকার করত তবে তার পক্ষে তা অস্বীকার করার এবং বিশ্বাস না করার দাবি করার সুযোগ ছিল।

এটি হলো নবীগণের মুজিজার বিবরণ, কিন্তু কুরআন এর ব্যতিক্রম। কুরআন হলো একটি বুদ্ধিভিত্তিক মুজিজা যা কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত চিরস্থায়ী। কুরআন বর্তমান সময় পর্যন্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এমন এক মুজিজা যার মাধ্যমে ওই প্রত্যেক ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করা হয় যে এর ওপর ঈমান রাখে না। যে ব্যক্তি কুরআনের ওপর ঈমান আনে না তাকে বলা হয়: (তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো) (সূরা আল-বাকারাহ: ২৩)। তাকে বলা হয়: এটি মহান আল্লাহর কিতাব যা তিনি সত্যসহ তাঁর রাসূলের ওপর অবতীর্ণ করেছেন কিয়ামত পর্যন্ত এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ পৃথিবী ও তার ওপর যা আছে তার উত্তরাধিকারী হবেন। সুতরাং এটি কেবল কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজা নয়, বরং এটি একটি বুদ্ধিভিত্তিক মুজিজা; এটি হলো প্রথম বিষয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৪)
النقطة الثانية: أن معجزات الأنبياء عليهم السلام من فعل الله عز وجل أجراه على أيديهم، وفعل الله عز وجل يزول بزوال من أُجري على يديه هذا الفعل؛ يعني بعد رفع عيسى عليه السلام إلى السماء وبعد موت موسى عليه السلام هذه المعجزات التي كانت تُرى على أيديهم لا تُرى؛ لأنها من فعل الله عز وجل أجراه على أيدي النبيين الكريمين، فلما انقضى وقت إرسالهما زالت هذه المعجزة مع عدم وجودهما عليهما السلام أما معجزة القرآن هي صفة من صفات الله عز وجل والصفة باقية؛ لأنها كلام الله سبحانه وتعالى فالصفة باقية ببقاء فاعلها سبحانه وتعالى.

أما النقطة الثالثة: هي أن الرسل الذين أنزلت عليهم الكتب "التوراة، والإنجيل، والزبور، وصحف إبراهيم" الرسل الكرام الذين أنزلت عليهم الكتب- لم تكن الكتب هي معجزتهم التي أرسلوا بها، وإنما كانت الكتب بالنسبة إليهم منهاجًا يسيرون عليه وشرعًا يحتكمون إليه ويوجهون أتباعهم إليه، فكانت لهم معجزات بخلاف الكتب المنزلة عليهم، ورسولنا الكريم صلى الله عليه وسلم كانت معجزته هي عين منهجه؛ بمعنى أن القرآن منهج ومعجزة؛ القرآن منهج وضعه الله سبحانه وتعالى للأنام ليسيروا عليه وليعلموا شرع ربهم، وكذلك هو معجزة النبي -صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم.

هذا لا يعني أننا نقول: إن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن له معجزات حسية، لا، كان النبي صلى الله عليه وسلم له معجزات حسية مشاهدة كما ثبت في الصحيح من حنين الجذع إليه، ومن قول الشاة له؛ إنها مسمومة، وغير ذلك مما ذكر في الصحاح ومما ثبت من معجزات مشاهَدة لنبينا صلى الله عليه وسلم ولكنها لم تكن هي المعجزة التي أُرسل بها، وإنما كانت ليزداد الذين آمنوا إيمانًا، وكانت لتثبيت أصحابه -رضوان الله عليهم- وتثبيته هو -صلى الله عليه وصحبه وسلم- في
দ্বিতীয় পয়েন্ট হলো: নবীদের (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) মুজিযাসমূহ মহান আল্লাহর কর্ম যা তিনি তাঁদের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। আর আল্লাহর কর্ম সেই ব্যক্তির তিরোধানের সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়ে যায় যার মাধ্যমে তা সংঘটিত হয়েছিল। অর্থাৎ, ঈসা আলাইহিস সালামকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়ার পর এবং মূসা আলাইহিস সালামের মৃত্যুর পর তাঁদের মাধ্যমে যে সকল মুজিযা দেখা যেত তা আর দেখা যায় না; কারণ সেগুলো ছিল মহান আল্লাহর কর্ম যা তিনি এই দুই সম্মানিত নবীর মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। সুতরাং যখন তাঁদের প্রেরণের সময় শেষ হয়ে গেল, তখন তাঁদের অবর্তমানে সেই মুজিযাও বিলুপ্ত হয়ে গেল। পক্ষান্তরে কুরআনের মুজিযা হলো মহান আল্লাহর গুণাবলির একটি গুণ, আর সেই গুণ চিরস্থায়ী; কারণ এটি মহান আল্লাহর কালাম। সুতরাং গুণটি এর কর্তার (আল্লাহর) স্থায়িত্বের সাথে সাথে চিরকাল বিদ্যমান।

তৃতীয় পয়েন্ট হলো: যে সকল রাসূলের ওপর কিতাবসমূহ—তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর এবং ইব্রাহিমের সহীফাসমূহ—অবতীর্ণ হয়েছে, সেই সম্মানিত রাসূলগণের ওপর অবতীর্ণ কিতাবসমূহ তাঁদের সেই মূল মুজিযা ছিল না যা দিয়ে তাঁদের পাঠানো হয়েছিল। বরং কিতাবসমূহ ছিল তাঁদের জন্য একটি জীবনবিধান যা তাঁরা অনুসরণ করতেন এবং একটি শরিয়ত যার মাধ্যমে তাঁরা বিচার-ফয়সালা করতেন এবং তাঁদের অনুসারীদের সেই দিকে পরিচালিত করতেন। ফলে তাঁদের ওপর অবতীর্ণ কিতাবগুলো ছাড়াও তাঁদের জন্য মুজিযা ছিল। কিন্তু আমাদের প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুজিযা ছিল স্বয়ং তাঁর জীবনবিধান; অর্থাৎ কুরআন একই সাথে জীবনবিধান এবং মুজিযা। কুরআন এমন এক জীবনবিধান যা মহান আল্লাহ সৃষ্টির জন্য নির্ধারণ করেছেন যেন তারা তা অনুসরণ করে এবং তাদের রবের শরিয়ত সম্পর্কে জানতে পারে; আর একইভাবে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লামের মুজিযা।

এর অর্থ এই নয় যে আমরা বলছি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিযা ছিল না। না, বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৃশ্যমান ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিযা ছিল, যেমনটি সহীহ হাদিসসমূহে প্রমাণিত হয়েছে—খেজুর গাছের কাণ্ডের তাঁর প্রতি বিরহে ক্রন্দন করা এবং বকরির মাংসের তাঁকে কথা বলা যে সে বিষযুক্ত, এবং এছাড়া সহীহ গ্রন্থসমূহে বর্ণিত ও আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রমাণিত অন্যান্য দৃশ্যমান মুজিযাসমূহ। তবে এগুলো সেই মূল মুজিযা ছিল না যা দিয়ে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল, বরং এগুলো ছিল মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধির জন্য এবং তাঁর সাহাবীগণ—আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন—ও স্বয়ং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) দৃঢ়তা প্রদানের জন্য...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৫)
أحلك المواقف التي وضع فيها كفعله سبحانه وتعالى برسوله الكريم عندما أسرى به من المسجد الحرام إلى المسجد الأقصى، ورفعه إلى السموات العلى وجعله يرى من آيات ربه الكبرى؛ كل ذلك من المعجزات، ولكن ذلك ليس هو عين معجزة النبي صلى الله عليه وسلم فعين معجزة النبي -صلوات الله وسلامه عليه- في الكتاب الذي أرسل به للعالمين -صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم.

لذلك نجد الفرق بين القرآن والكتب الأخرى؛ القرآن تكفل الله سبحانه وتعالى بحفظه؛ لأنه هو عين معجزة النبي -صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم- بخلاف الكتب الأخرى لم يتكفل الله سبحانه وتعالى بحفظها، فدخلها التحريف والتبديل والنسيان، أما القرآن تعهد الله به: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (الحجر: 9) وذلك لبقاء المعجزة بمنهجها وحفظ المنهج بالمعجزة.

 

‌‌أوجه إعجاز القرآن

أما السؤال الثالث الذي نتعرض له فهو كما يقال: بيت القصيد، وغاية المريد؛ بمعنى: أن هذا السؤال هو الذي يستحق أن نقف عنده، لماذا؟ لأنه هو موضوع مادتنا طوال العام إن شاء الله سبحانه وتعالى.

وهو الوقوف على أوجه إعجاز القرآن، أو بيان كيفية إعجازه أهل الفصاحة والبيان وإخراسه كل إنسان:

في ذلك المضمار الذي هو بيان أوجه الإعجاز تسابق المتسابقون واجتهد المصنفون، بدليل أن دراستنا حول وجه من وجوه الإعجاز في القرآن الكريم وهو الجانب اللغوي؛ ليتبين لنا لما عجز العرب عن معارضة القرآن والإتيان بمثله، ذلك السؤال الذي تنازعه أهل الأهواء وأهل الحق على السواء؛ فذهب المعتزلة
সবচেয়ে সংকটময় পরিস্থিতি যেগুলোতে তাঁকে রাখা হয়েছিল, তা ছিল মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর সম্মানিত রাসূলের সাথে কৃত সেই আচরণের ন্যায়, যখন তিনি তাঁকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত নৈশভ্রমণ করিয়েছিলেন, তাঁকে উচ্চতর আসমানসমূহে আরোহণ করিয়েছিলেন এবং তাঁকে তাঁর রবের মহান নিদর্শনসমূহ দেখিয়েছিলেন; এ সব কিছুই মুজিযা বা অলৌকিক নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। তবে এগুলোই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রকৃত মুজিযা নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রকৃত মুজিযা নিহিত রয়েছে সেই কিতাবের মধ্যে যা দিয়ে তাঁকে বিশ্ববাসীর প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে—আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর।

এজন্যই আমরা কুরআন এবং অন্যান্য কিতাবসমূহের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাই; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা স্বয়ং কুরআন সংরক্ষণের ভার গ্রহণ করেছেন; কারণ এটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মূল মুজিযা। পক্ষান্তরে অন্যান্য কিতাবসমূহের সংরক্ষণের ভার আল্লাহ গ্রহণ করেননি, ফলে সেগুলোতে বিকৃতি, পরিবর্তন এবং বিস্মৃতি প্রবেশ করেছে। আর কুরআনের ব্যাপারে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন: "নিশ্চয়ই আমি উপদেশবাণী (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক" (আল-হিজর: ৯)। আর এটি করা হয়েছে মুজিযাকে তার আদর্শিক পদ্ধতিসহ টিকিয়ে রাখার জন্য এবং মুজিযার মাধ্যমে আদর্শিক পদ্ধতিকে সংরক্ষণ করার জন্য।

 

‌‌কুরআনের অলৌকিকত্বের (ইজায) দিকসমূহ

আমরা যে তৃতীয় প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি তা হলো প্রচলিত উক্তি অনুযায়ী: কবিতার মূল লক্ষ্য এবং অন্বেষণকারীর পরম উদ্দেশ্য; অর্থাৎ, এই প্রশ্নটিই এমন যা আমাদের গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা উচিত। কেন? কারণ এটিই ইনশাআল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সারা বছর জুড়ে আমাদের অধ্যয়নের মূল বিষয়।

আর তা হলো কুরআনের অলৌকিকত্বের দিকগুলো অনুধাবন করা, অথবা বিশুদ্ধভাষী ও অলঙ্কারবিদদের সামনে এর অলৌকিকত্বের ধরণ বর্ণনা করা এবং প্রতিটি মানুষকে নির্বাক করে দেওয়া:

অলৌকিকত্বের দিকসমূহ বর্ণনার সেই ময়দানে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করেছেন এবং গ্রন্থকারগণ কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এর প্রমাণ হলো কুরআন কারীমের অলৌকিকত্বের অন্যতম একটি দিক অর্থাৎ ভাষাগত দিকটি নিয়েই আমাদের এই অধ্যয়ন; যাতে আমাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয় যে, কেন আরবরা কুরআনের মোকাবিলা করতে এবং এর অনুরূপ কিছু উপস্থাপন করতে অক্ষম হয়েছিল। এই প্রশ্নটি নিয়ে প্রবৃত্তি পূজারী এবং সত্যপন্থী উভয় দলই সমানভাবে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে; ফলে মুতাযিলাগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৬)
إلى القول بالصرفة وسيأتي بيانها، وذهب الأشاعرة إلى أن سر الإعجاز ما به من الإخبار عن الغيبيات ولنا مع ذلك وقفة أيضا إن شاء الله، وهناك من يقول: إن إعجاز القرآن في معانيه دون ألفاظه، وهناك من يقول: إن إعجاز القرآن في نظمه، وهناك من يقول: إن إعجاز القرآن في خلوه من التناقض، وفي العصر الحديث عصر العلم والتكنولوجيا كما يحلو لهم أن يطلقوا عليه ظهر الاهتمام بما يسمى الإعجاز العلمي للقرآن الكريم، وهناك جهود وجهود حول إبراز أوجه جديدة للإعجاز في القرآن الكريم، كما فعل الأستاذ رءوف أبو سعدة في كتابه العلم الأعجمي في القرآن مفسرا بالقرآن، ووضع تحت هذا العنوان عبارة "وجه جديد في إعجاز القرآن الكريم".

كذلك لا بد لنا قبل أن نبين أوجه الإعجاز أن نفرق بين شيئين:

أولًا: بين إعجاز القرآن في ذاته، وبين تحديه: أي نفرق بين كون القرآن في ذاته معجزًا وبين كونه تحدى به رسول الله صلى الله عليه وسلم العرب، فالقرآن في ذاته كله إعجاز؛ لأنه لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه تنزيل من حكيم حميد، فمن ثَم فأسراره لا تنتهي وعلومه لا تنقضي فكما أن منزله سبحانه وتعالى كما قال أبي العتاهية:

وفي كل شيء له آية … تدل على أنه الواحد

فإن كتابه الأسمى وكلامه الأعظم يجوز لنا أن نقول وفي كل حرف له آية تدل على أنه المعجز، فأما إعجازه في تحديه فهو بيان سبب عجز من أنزل عليهم عن الإتيان بمثله أو معارضته وهم أرباب الفصاحة وأهل البلاغة، بلغوا ذراها وخبروا منتهاها ومع
সারফা (বিমুখকরণ) মতবাদের দিকে গিয়েছেন, যার বর্ণনা সামনে আসবে। আশাইরাগণ মনে করেন যে, কুরআনের অলৌকিকত্বের (ইজায) রহস্য হলো অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান। এ বিষয়ে ইনশাআল্লাহ আমাদেরও কিছু আলোচনা থাকবে। আবার কেউ কেউ বলেন: কুরআনের অলৌকিকত্ব তার অর্থের মাঝে নিহিত, শব্দের মাঝে নয়। কেউ বলেন: কুরআনের অলৌকিকত্ব এর বাক্যশৈলীর মাঝে। আবার কেউ বলেন: কুরআনের অলৌকিকত্ব এতে কোনো বৈপরীত্য না থাকার মাঝে নিহিত। বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে, যা তারা বলতে পছন্দ করেন, পবিত্র কুরআনের তথাকথিত 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব' নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের নতুন নতুন দিক উন্মোচনে অনেক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, যেমনটি উস্তাদ রউফ আবু সাদা তাঁর 'কুরআনের মাধ্যমে ব্যাখ্যায়িত কুরআনের অনারব জ্ঞান' গ্রন্থে করেছেন এবং এই শিরোনামের নিচে তিনি 'পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের একটি নতুন দিক' বাক্যটি যুক্ত করেছেন।

অনুরূপভাবে, অলৌকিকত্বের দিকগুলো বর্ণনা করার আগে আমাদের দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করা প্রয়োজন:

প্রথমত: কুরআনের স্বকীয় অলৌকিকত্ব এবং এর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য। অর্থাৎ কুরআন স্বয়ং একটি অলৌকিক সত্তা হওয়া এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর মাধ্যমে আরবদের চ্যালেঞ্জ করার মধ্যে পার্থক্য করা। কুরআন মূলত সামগ্রিকভাবেই অলৌকিক; কারণ এর সামনে বা পেছন—কোনো দিক থেকেই বাতিল আসতে পারে না, এটি প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। ফলে এর রহস্যের কোনো শেষ নেই এবং এর জ্ঞান কখনো সমাপ্ত হওয়ার নয়। যেমনটি একে অবতীর্ণকারী সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্পর্কে কবি আবুল আতাহিইয়াহ বলেছেন:

সবকিছুর মধ্যেই তাঁর নিদর্শন রয়েছে … যা প্রমাণ করে যে তিনি এক ও অদ্বিতীয়

তেমনিভাবে তাঁর সুমহান কিতাব ও শ্রেষ্ঠ বাণীর ক্ষেত্রেও আমাদের বলা সমীচীন হবে যে, এর প্রতিটি হরফের মধ্যেই এমন নিদর্শন রয়েছে যা প্রমাণ করে যে এটি একটি মুজিযা বা অলৌকিক। আর চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে এর অলৌকিকত্ব হলো সেই কারণটি স্পষ্ট করা, যার দরুন এটি যাদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল তারা এর সমতুল্য কিছু আনতে বা এর মোকাবিলা করতে অক্ষম ছিল; অথচ তারা ছিল সাবলীল ভাষা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের অধিপতি, তারা এর চরম শিখরে পৌঁছেছিল এবং এর শেষ সীমানা সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিল; তা সত্ত্বেও...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৭)
ذلك لم يلجئوا إلا إلى السيف في إخماد دعوة الحق معلنين عجزهم عن الإتيان بمثله أو عشر سور مثله مفتريات أو سورة من مثله كما سنبين إن شاء الله.

وما ورد من محاولة بعضهم معارضة القرآن كان عبارة عن سفاهات وافتراءات وكلام، كما قال الباقلاني في كتابه (إعجاز القرآن) هو أخس من أن نشتغل به وأسخف من أن نفكر فيه، ومن كان له عقل لم يشتبه عليه سخف هذا الكلام؛ يقصد ما حكي عن مسيلمة الكذاب في ادعائه أنه يستطيع أن يعارض القرآن وفي ادعائه أنه أوحي إليه مثل القرآن، وأن الله سبحانه وتعالى جعله نبيّا مشاركًا لرسولنا الكريم -صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم- وان الله أنزل عليه مثل ما أنزل على النبي -صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم-؛ هذا القول الذي ورد في الكتب عنه كما قال الباقلاني أخس من أن نشتغل به:

يعني يقول: والليل الدامس والذئب الهامس ما قطعت أسيد من رطب ولا يابس، ألم تر كيف فعل ربك بالحبلى أخرج منها نسمة تسعى ما بين صفاء وحشا، ضفدع بنت ضفدعين نقي ما تنقين أعلاكِ في الماء وأسفلكِ في الطين لا الشارب تمنعين ولا الماء تكدرين، لنا نصف الأرض ولقريش مثلها ولكن قريشا قوم يعتدون والمبديات ذرعا والحاصدات حصدا والذاريات قمحا والطاحنات طحنا والخابزات خبزا.

كلام هراء وكلام يعني لا يستحق أن يوقف عنده، ولكنه ذُكر في الكتب لبيان كيف أن هذا الكذاب الضال خدع بعض الناس وتبعه بعض الناس على هذا الهراء الذي يقول؛ لتعلم أيها الابن الكريم كيف عصمك الله سبحانه وتعالى وشرّفك بهذا الدين، هذا الاستفسار الذي سأله أبو بكر رضي الله عنه وأرضاه عندما جاءه بعض الناس من اليمامة وسألهم عما يقول مسيلمة فأخبروه بمثل هذا الكلام أو نحوه، فقال: سبحان الله هذا الكلام لا يكون عن إل؛ أي لا يخرج عن ربوبية يعني فكيف كنتم تصنعون يعني كيف استطاع أن يخدع بعضكم وأن يسير البعض وراءه وهو يقول هذا الهراء.

فمن ثَم كان الاهتمام ببيان إعجاز القرآن في لغته، وكيف جاء بديع النظم عجيب التأليف متناهيًا في البلاغة إلى الحد الذي يعلم عجز الخلق عنه؛ لأن هذا هو أساس التحدي الذي أعلنه النبي صلى الله عليه وسلم: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى
এজন্য তারা সত্যের দাওয়াত স্তব্ধ করার জন্য তরবারি ছাড়া অন্য কোনো কিছুর আশ্রয় নিতে পারেনি, তারা এর সদৃশ কিছু অথবা এর সদৃশ বানোয়াট দশটি সূরা অথবা এর সদৃশ একটি সূরা আনয়নে তাদের অক্ষমতা ঘোষণা করেছে, যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ বর্ণনা করব।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ কুরআনের মোকাবিলা করার যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল তা ছিল নির্বুদ্ধিতা, মিথ্যাচার ও আজেবাজে কথা মাত্র। যেমনটি বাকিল্লানি তাঁর 'ইজাযুল কুরআন' গ্রন্থে বলেছেন: "এটি এতই হীন যে তা নিয়ে কাজ করা আমাদের জন্য শোভনীয় নয় এবং এতই অসার যে তা নিয়ে চিন্তা করাও উচিত নয়।" যার নূন্যতম বুদ্ধি আছে তার কাছে এই কথার অসারতা অস্পষ্ট থাকবে না। তিনি মূলত মুসায়লিমা কাজ্জাব সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন; মুসায়লিমার দাবি ছিল যে সে কুরআনের মোকাবিলা করতে সক্ষম এবং তার কাছেও কুরআনের মতো ওহী আসে। সে আরও দাবি করেছিল যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাকে আমাদের প্রিয় রাসূল —সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম— এর সাথে অংশীদার নবী বানিয়েছেন এবং আল্লাহ নবীর —সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম— প্রতি যা নাযিল করেছেন তার অনুরূপ তার প্রতিও নাযিল করেছেন। তার সম্পর্কে কিতাবসমূহে বর্ণিত এই বক্তব্যগুলো বাকিল্লানি যেমনটি বলেছেন: তা নিয়ে কাজ করা অত্যন্ত হীন কাজ।

অর্থাৎ সে বলত: "অন্ধকার রাত এবং ফিসফিস করা নেকড়ে বাঘের কসম, আসিদ কাঁচা বা শুকনো কিছুই কাটেনি। তুমি কি দেখনি তোমার প্রতিপালক গর্ভবতীর সাথে কী করেছেন? তিনি তার ভেতর থেকে একটি চলন্ত আত্মা বের করেছেন যা জরায়ু ও নাড়ির মাঝখান থেকে নির্গত হয়েছে। হে দুই ব্যাঙের মেয়ে ব্যাঙ! তুমি যা ডাকছ ডাকো, তোমার উপরের অংশ পানিতে আর নিচের অংশ কাদার মধ্যে। তুমি পানকারীকে বাধা দাও না আর পানিকেও ঘোলা করো না। পৃথিবীর অর্ধেক আমাদের আর বাকি অর্ধেক কুরাইশদের জন্য, কিন্তু কুরাইশরা হচ্ছে সীমালঙ্ঘনকারী জাতি। আর কসম সেই সত্তার যারা বীজ বপন করে, যারা ফসল কাটে, যারা গম ওড়ায়, যারা তা পিষে আটা বানায় এবং যারা রুটি তৈরি করে।"

এগুলো সব আজেবাজে কথা যা গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য নয়। কিন্তু কিতাবসমূহে এটি উল্লেখ করা হয়েছে এটা দেখানোর জন্য যে, কীভাবে এই পথভ্রষ্ট মিথ্যাবাদী কিছু মানুষকে প্রতারিত করেছিল এবং কিছু মানুষ তার এই আবোলতাবোল কথার অনুসরণ করেছিল। হে প্রিয় সন্তান, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তোমাকে কীভাবে রক্ষা করেছেন এবং এই দ্বীন দিয়ে সম্মানিত করেছেন তা জানার জন্য এটি লক্ষ্য করো। এটি সেই জিজ্ঞাসা যা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু করেছিলেন যখন ইয়ামামা থেকে কিছু লোক তাঁর কাছে এসেছিল এবং তিনি মুসায়লিমা যা বলত সে সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তারা যখন তাকে এই ধরনের বা এর কাছাকাছি কথা শোনাল, তখন তিনি বললেন: "সুবহানাল্লাহ! এই কথা কোনো ঐশী উৎস থেকে আসতে পারে না।" অর্থাৎ এটি রুবুবিয়াত বা প্রভুত্ব থেকে উৎসারিত নয়। তিনি আরও বললেন: "তবে তোমরা কী করছিলে?" অর্থাৎ কীভাবে সে তোমাদের কাউকে প্রতারিত করতে পারল এবং কীভাবে কেউ তার এই আবোলতাবোল কথার পেছনে চলতে পারল।

ফলে এরপর কুরআনের ভাষার অলৌকিকত্ব বর্ণনা করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে; কীভাবে এটি এক অপূর্ব বিন্যাস ও বিস্ময়কর রচনার মাধ্যমে অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন চরম সীমায় পৌঁছেছে যেখানে সৃষ্টিজগতের অক্ষমতা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। কারণ এটিই ছিল সেই চ্যালেঞ্জের ভিত্তি যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছিলেন: "বলুন, যদি মানুষ ও জিন জাতি একত্রিত হয় যে..."
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৮)
أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} (الإسراء: 88) وهو تحدّ باق إلى قيام الساعة، هذا التحدي الذي مضى أكثر من أربعة عشر قرنا على إعلانه ولم يبطله جاحد به ولا مكذّب له.

وقد تبارى الناس في بيان ذلك على مر العصور ابتداءً بالخطابي والرماني والباقلاني، ومرورًا بعبد القادر الجرجاني وختامًا بالرافعي ودراز والسامرائي وغيرهم كثير من المتخصصين المعاصرين كأبي موسى وبيومي ولاشين وفضلا عن المفسرين كالزمخشري والآلوسي وسيد قطب وابن عاشور، وما ذكرته من أسماء إنما هو على سبيل التمثيل لا الحصر، فكم من متعرض لهذا المجال وكم من أناس تحدثوا عن إعجاز القرآن الذي بهر العقول بما فيه من جمال؛ لأنه تنزيل رب العالمين سبحانه وتعالى.

هذا الوجه من الإعجاز هو الذي جعل القرآن معجزًا من جميع الوجوه؛ نظمًا ومعنىً ولفظًا، لا يشبهه شيء من كلام المخلوقين أصلًا مميزًا عن خطب الخطباء وشعر الشعراء باثني عشر معنى لو لو يكن للقرآن غير معنى واحد من تلك المعاني لكان معجزًا، فكيف إذا اجتمعت جميعًا فيه.

هذا كلام الفيروز أبادي عندما عرض لأوجه الإعجاز اللغوي في القرآن الكريم، أوجزها بوجود اثني عشر معنى في القرآن الكريم، وبدأ في بيانها والتمثيل لها، فذكر:

أولها: إيجاز اللفظ مع تمام المعنى على سبيل الحذف، كقوله تعالى: {وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ} (يوسف: 82) أي واسأل أهل القرية. وقوله تعالى: {وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ} (البقرة: 177) أي: ولكن البر بر من آمن. أو على سبيل الاختصار كقوله تعالى: {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَاْ أُولِيْ الأَلْبَابِ} (البقرة: 179).
{তারা যদি এই কুরআনের মতো কিছু নিয়ে আসার জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা এর মতো কিছু নিয়ে আসতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়} (আল-ইসরা: ৮৮)। এটি কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান এক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জটি ঘোষণা করার পর থেকে চৌদ্দ শতাব্দীরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু কোনো অস্বীকারকারী বা মিথ্যাপ্রতিপন্নকারী একে নস্যাৎ করতে পারেনি।

যুগে যুগে মানুষ এটি বর্ণনায় একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করেছে; যার সূচনা হয়েছিল খাত্তাবি, রুম্মানি এবং বাকিল্লাহনির মাধ্যমে, এরপর আব্দুল কাদির আল-জুরজানি, এবং শেষে রাফেয়ি, দরাজ, সামাররায়ি এবং আরও অনেক সমসাময়িক বিশেষজ্ঞ যেমন আবু মুসা, বায়ূমি ও লাশিন। এছাড়া তাফসিরকারকগণের মধ্যে রয়েছেন যামাখশারি, আলুসি, সাইয়্যেদ কুতুব এবং ইবনে আশুর। আমি যে নামগুলো উল্লেখ করেছি তা কেবল উদাহরণস্বরূপ, সীমাবদ্ধ করার জন্য নয়। কতজন যে এই বিষয়ে কাজ করেছেন এবং কত মানুষ কুরআনের অলৌকিকত্ব (ইজায) নিয়ে কথা বলেছেন যা এর সৌন্দর্যের মাধ্যমে বুদ্ধিকে অভিভূত করে দেয়; কারণ এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

অলৌকিকত্বের এই দিকটিই কুরআনকে সর্বদিক থেকে মুজিযা বা অলৌকিক করেছে; গঠনশৈলী, অর্থ এবং শব্দগত দিক থেকে। এটি সৃষ্টির কোনো কথার সাথে মোটেও সাদৃশ্যপূর্ণ নয় এবং এটি বারোটি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বক্তাদের ভাষণ ও কবিদের কবিতা থেকে স্বতন্ত্র। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে যদি একটিও কুরআনে থাকত তবেই তা মুজিযা হওয়ার জন্য যথেষ্ট হতো, সেখানে যখন এর সবগুলোই এতে পুঞ্জীভূত হয়েছে, তখন তা কেমন হতে পারে?

এটি ফিরোজাবাদীর বক্তব্য যখন তিনি পবিত্র কুরআনের ভাষাগত অলৌকিকত্বের দিকগুলো তুলে ধরছিলেন। তিনি কুরআনের বারোটি বৈশিষ্ট্যের কথা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলো বর্ণনা ও উদাহরণ পেশ করতে গিয়ে বলেছেন:

প্রথমটি হলো: শব্দ বিলোপের (হযফ) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ অর্থ বজায় রেখে শব্দের সংক্ষিপ্ততা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর জনপদকে জিজ্ঞাসা করো} (ইউসুফ: ৮২) অর্থাৎ জনপদবাসীকে জিজ্ঞাসা করো। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু পুণ্য হলো যে ঈমান আনে} (আল-বাকারা: ১৭৭) অর্থাৎ কিন্তু পুণ্য হলো তার পুণ্য যে ঈমান আনে। অথবা সারসংক্ষেপের মাধ্যমে সংক্ষিপ্তকরণ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হে বুদ্ধিমানগণ, কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে} (আল-বাকারা: ১৭৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৯)
ثانيها: تشبيه الشيء بالشيء كقوله تعالى {أَعْمَالُهُمْ كَسَرَابٍ بِقِيعَةٍ} (النور: 36) {أَعْمَالُهُمْ كَرَمَادٍ اشْتَدَّتْ بِهِ الرِّيحُ فِي يَوْمٍ عَاصِفٍ} (إبراهيم: 18) وكما قيل الأمثال سرج القرآن.

وثالثها: استعارة المعاني البديعة كالتعبير عن تكوير الليل والنهار بالسلخ {وَآيَةٌ لَّهُمْ اللَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ} (يس: 37)، والتعبير عن المضي والقيام بالصدع {فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ} (الحجر: 94) هذه الآية الكريمة عندما سمعها أعرابي سجدَ، فسألوه عن سبب سجوده قال: سجدت في هذا المقام لفصاحة هذا الكلام.

أما رابعها: فهو تلاؤم الكلمات والحروف بما فيه من جمال المقال وكمال الكلام: {وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ} (النمل: 44) {يَا أَسَفَى عَلَى يُوسُفَ} (يوسف: 84) {فَأَدْلَى دَلْوَهُ} (يوسف: 19) تلاؤم الحروف؛ كل ذلك- أذكر كلام الفيروز أبادي مع التمثيل لأنه هو موضوع دراستنا؛ سنقف عند كل شيء من ذلك بالتفصيل إن شاء الله سبحانه وتعالى أما في هذا الدرس فهو معرض لما سنتناوله ومدخل لما سندرسه؛ فلذلك أكتفي بذكر المثال دون التعريج بتوضيحه كاملا.

أما خامسها: فهو فواصل الآيات ومقاطعها، فصورةٌ فواصلها على حرف كسورة طه {طه * مَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَى * إِلَّا تَذْكِرَةً لِمَنْ يَخْشَى * تَنْزِيلًا مِمَّنْ خَلَقَ الْأَرْضَ وَالسَّمَاوَاتِ الْعُلَا * الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} (طه: 1 - 5) تجد أنها تنتهي بحرف الألف، كذلك سورة القمر تنتهي بحرف الراء: {اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ * وَإِنْ يَرَوْا آيَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُسْتَمِرٌّ} (القمر: 2) إلى آخر الآيات، وهناك صور تنتهي فواصلها على حرفين كصورة الفاتحة بين الميم والنون: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ * الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ * الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ * مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ * إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ
দ্বিতীয়টি: এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে তুলনা করা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের আমলসমূহ মরুভূমির মরীচিকার ন্যায়} (আন-নূর: ৩৬) {তাদের আমলসমূহ সেই ভস্মের ন্যায় যার ওপর প্রবল বাতাসের দিনে প্রচণ্ড ঝড় বয়ে যায়} (ইবরাহিম: ১৮) এবং যেমনটি বলা হয়েছে, উদাহরণসমূহ হলো কুরআনের প্রদীপ।

তৃতীয়টি: চমৎকার অর্থবোধক রূপকের ব্যবহার, যেমন দিন ও রাতের আবর্তনকে 'ছাল ছাড়ানো'র মাধ্যমে প্রকাশ করা: {তাদের জন্য একটি নিদর্শন হলো রাত, যা থেকে আমি দিনকে সরিয়ে নিই} (ইয়া-সীন: ৩৭), এবং কোনো কাজ সম্পাদন ও বাস্তবায়নের বিষয়কে 'বিদীর্ণ করা'র মাধ্যমে প্রকাশ করা: {অতএব আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে প্রচার করুন} (আল-হিজর: ৯৪)। এই বরকতময় আয়াতটি যখন এক বেদুঈন শুনল, সে সিজদায় লুটিয়ে পড়ল। তাকে তার সিজদার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল: আমি এই বাণীর সাবলীলতার কারণে এই স্থানে সিজদা করেছি।

চতুর্থটি: শব্দ ও বর্ণের সুসামঞ্জস্য, যার মধ্যে বাচনভঙ্গির সৌন্দর্য ও বক্তব্যের পূর্ণতা বিদ্যমান: {এবং আমি সুলাইমানের সাথে আত্মসমর্পণ করলাম} (আন-নামল: ৪৪) {হায় ইউসুফের জন্য আমার আক্ষেপ!} (ইউসুফ: ৮৪) {অতঃপর সে তার বালতি নামিয়ে দিল} (ইউসুফ: ১৯)। অক্ষরের এই সামঞ্জস্য; এই সবকিছু—আমি উদাহরণসহ আল-ফিরোজাবাদীর বক্তব্য উল্লেখ করছি কারণ এটিই আমাদের আলোচনার বিষয়; আমরা ইনশাআল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এগুলোর প্রতিটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। তবে এই পাঠটি হলো যা আমরা আলোচনা করব তার একটি উপস্থাপনা এবং যা অধ্যয়ন করব তার প্রবেশিকা মাত্র; তাই আমি পূর্ণ ব্যাখ্যায় না গিয়ে শুধু উদাহরণগুলো উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হচ্ছি।

পঞ্চমটি: আয়াতের অন্তমিল ও যতিচিহ্নসমূহ। কিছু সূরা রয়েছে যার অন্তমিল একটি বর্ণের ওপর ভিত্তি করে, যেমন সূরা ত্ব-হা: {ত্ব-হা। আমি আপনার ওপর কুরআন অবতীর্ণ করিনি যাতে আপনি কষ্ট পান। তবে যারা ভয় করে তাদের জন্য উপদেশস্বরূপ। এটা তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ যিনি পৃথিবী ও সুউচ্চ আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন। পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন।} (ত্ব-হা: ১ - ৫)। আপনি দেখতে পাবেন যে আয়াতগুলো আলিফ বর্ণের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। একইভাবে সূরা আল-কামার 'রা' বর্ণের মাধ্যমে শেষ হয়েছে: {কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে। আর তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে—এটি তো এক চলন্ত জাদু।} (আল-কামার: ২) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আবার কিছু সূরা রয়েছে যার অন্তমিল দুটি বর্ণের মধ্যে হয়ে থাকে, যেমন সূরা আল-ফাতিহা 'মীম' এবং 'নূন'-এর মধ্যে আবর্তিত হয়: {পরম করুণাময় দয়াময় আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির পালনকর্তা। পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক। আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট...}
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২০)
نَسْتَعِينُ * اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} (الفاتحة: 1 - 7)، فبين الميم والنون سورة الفاتحة وكذلك صورة ق تجدها على حرفين أيضا.

وأما سادس هذه المعاني: فهو تجانس الألفاظ: وتجانس الألفاظ يكون على سبيل المزاوجة: {يُخَادِعُونَ اللهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ} (النساء: 142) {وَجَزَاء سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ} (الشورى: 40) {هَلْ جَزَاء الإِحْسَانِ إِلَاّ الإِحْسَان} (الرحمن: 60)، أو من قبيل المناسبة كقوله تعالى: {ثُمَّ انصَرَفُواْ صَرَفَ اللهُ قُلُوبَهُم} (التوبة: 127) {تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ} (النور: 37) فهذا من التلاؤم والتناسب بين الكلمات.

أما سابعها: فهو تصريف القصص والأحوال بألفاظ مختلفة وعبارات متنوعة، لو تأملها الغوّاص لعلم أن ما كرر فيها من ألفاظ إنما جاء للطائف وأسرار.

فثامنها: تضمين الحكم والأسرار، فعلى سبيل المثال سورة الفاتحة نصفها الأول يتضمن أحكام الربوبية ونصفها الثاني يقتضي أسباب العبودية، وذلك مثال وكذلك كل ما في القرآن من كلمة؛ إنما هي عبارة عن كنز معان وبحر حقائق، وكما تضمنت آيات القرآن جوامع الأشياء فهناك آية تجمع مكارم الأخلاق كقوله سبحانه وتعالى: {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِين} (الأعراف: 199)، وهناك آية تجمع حاجات الكائن الحي: {أَخْرَجَ مِنْهَا مَاءهَا وَمَرْعَاهَا} (النازعات: 31) وهناك آيةٌ تبين كيف يُساس الناس وما هو مقاصد التشريع، وما الذي يريده الله سبحانه وتعالى منهم: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} (النحل: 90) هذا جانب تعرّض له العلماء، ولنا معه وقفه ان شاء الله سبحانه وتعالى في الآيات الجوامع.
আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদের সরল পথ দেখান। তাঁদের পথ, যাঁদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন; তাঁদের পথ নয় যারা ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট। (আল-ফাতিহা: ১-৭)। সুতরাং 'মীম' এবং 'নূন'-এর মাঝে রয়েছে সূরা আল-ফাতিহা, এবং একইভাবে সূরা কাফ-কেও আপনি দুটি অক্ষরের ওপর পাবেন।

আর এসব অর্থের ষষ্ঠটি হলো: শব্দসমূহের সমজাতীয়তা। আর শব্দের সমজাতীয়তা জোড় বা যুগল রীতিতে হতে পারে: "তারা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে অথচ তিনি তাদের সাথে প্রতারণাকারী" (আন-নিসা: ১৪২), "আর মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ" (আশ-শূরা: ৪০), "ইহসানের প্রতিফল ইহসান ছাড়া আর কী হতে পারে?" (আর-রহমান: ৬০)। অথবা তা উপযুক্ততার আঙ্গিকে হতে পারে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তারা ফিরে গেল, আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহকে সত্যবিমুখ করে দিলেন" (আত-তাওবাহ: ১২৭), "সেদিন অন্তরসমূহ উল্টে যাবে" (আন-নূর: ৩৭)। সুতরাং এটি হলো শব্দসমূহের মধ্যকার সামঞ্জস্য ও উপযুক্ততা।

আর সপ্তমটি হলো: বিভিন্ন শব্দ ও বৈচিত্র্যময় বাক্যের মাধ্যমে কাহিনী ও অবস্থাসমূহকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বর্ণনা করা। কোনো গভীর চিন্তাবিদ যদি এটি নিয়ে চিন্তা করেন, তবে তিনি জানতে পারবেন যে, সেখানে যেসব শব্দ পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, তা কেবল সূক্ষ্ম ইঙ্গিত ও রহস্যের জন্যই এসেছে।

অষ্টমটি হলো: প্রজ্ঞা ও রহস্যের অন্তর্ভুক্তি। উদাহরণস্বরূপ, সূরা আল-ফাতিহার প্রথমার্ধ রুবুবিয়্যাতের বিধানসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে এবং এর দ্বিতীয়ার্ধ উবুদিয়্যাতের মাধ্যমসমূহ দাবি করে। এটি একটি উদাহরণ, এবং তেমনি কুরআনের প্রতিটি শব্দই হলো অর্থের ভাণ্ডার ও হাকীকতের সমুদ্র। আর কুরআনের আয়াতসমূহ যেমন ব্যাপক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত করেছে, তেমনি সেখানে এমন আয়াত রয়েছে যা মহৎ চরিত্রকে একত্রিত করে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আপনি ক্ষমা প্রদর্শন করুন, সৎকাজের নির্দেশ দিন এবং জাহেলদের এড়িয়ে চলুন" (আল-আ'রাফ: ১৯৯)। এবং এমন আয়াত রয়েছে যা জীবন্ত প্রাণীর প্রয়োজনসমূহকে একত্রিত করে: "তিনি তা থেকে বের করেছেন তার পানি ও চারণভূমি" (আন-নাযিআত: ৩১)। এবং সেখানে এমন আয়াত রয়েছে যা বর্ণনা করে যে কীভাবে জনসমাজ পরিচালিত হবে এবং শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ কী, আর মহান আল্লাহ তাদের নিকট থেকে কী চান: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, ইহসান এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন, আর তিনি অশ্লীলতা, অসৎকাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন; তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো" (আন-নাহল: ৯০)। এটি এমন একটি দিক যা আলেমগণ তুলে ধরেছেন, এবং ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহর ইচ্ছায় 'জাওয়ামি' বা ব্যাপক অর্থবোধক আয়াতসমূহের আলোচনায় আমরা এ বিষয়ে আলোকপাত করব।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২১)
أما تاسعها: فهو المبالغة في الأمر والنهي باستخدام الأسماء تارة وباستخدام الأفعال تارة أخرى؛ الأسماء كقوله سبحانه وتعالى: {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاء} {فَعَّالٌ لِّمَا يُرِيد}، والأفعال: {وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيلا} (الإسراء: 12) {قَدَّرُوهَا تَقْدِيرًا} (الإنسان: 16) {وَكُلاًّ تَبَّرْنَا تَتْبِيرًا} (الفرقان: 39).

أما عاشرها: فهو حسن البيان: حسن البيان لجميع أحكام الشريعة؛ المقاصد والأغراض والمصالح والأسباب، كل ذلك مؤيد بالآيات القرآنية فإذا أردت دليلا للوحدانية تجد قوله تعالى: {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَاّ اللَّهُ لَفَسَدَتَا} (الأنبياء: 22) وإذا أردت آية ترشد لمصالح الصيانة والعفة تجد قوله تعالى: {وَأَنكِحُوا الأَيَامَى مِنكُمْ} (النور: 32) ولرعاية مصالح النفوس: {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ} (البقرة: 179) ولبيان أركان الإسلام: {أَقِيمُواْ الصَّلَاةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ} (النساء: 77) {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ} (البقرة: 183) {وَلِلّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً} (آل عمران: 97)، ولبيان المعاملات: {وَأَحَلَّ اللهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا} (البقرة: 275) {إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى فَاكْتُبُوهُ} (البقرة: 282)، ذلك كثير في كتاب الله سبحانه وتعالى مما يميز حسن البيان في بيان الأحكام الشرعية وأحكام الشريعة التي جاء بها النبي -صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم.

أما الحادي عشر: فهو الإخبار عما كان، وضرب له الفيروزآبادي أمثلة من تخليق العرش والكرسي وحال الحملة والخزنة وكيفية اللوح والقلم ووصف السدرة وطوبى وسير الكواكب ودور الأفلاك ورفع السماء وتمهيد الأرض.

وأما الثاني عشر: فهو الإخبار عما يكون، كأخبار الموت والقبر والبعث والنشر والقيامة والحساب والعقاب والعرض والحوض والسؤال ووزن الأعمال والميزان والصراط … إلى غير ذلك مما جاء به القرآن الكريم وبينه رسولنا -صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم.
নবমটি হলো: আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে কখনো বিশেষ্য ব্যবহারের মাধ্যমে এবং কখনো ক্রিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে জোরালো প্রকাশ; বিশেষ্য ব্যবহারের উদাহরণ যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {পুরুষরা নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল} {তিনি যা ইচ্ছা করেন তা অত্যন্ত জোরালোভাবে সম্পাদনকারী}, এবং ক্রিয়ার উদাহরণ: {আর আমরা প্রতিটি বিষয়কে সবিস্তারে বর্ণনা করেছি} (আল-ইসরা: ১২) {তারা তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করেছে} (আল-ইনসান: ১৬) {আর আমরা প্রত্যেককে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছি} (আল-ফুরকান: ৩৯)।

দশমটি হলো: প্রকাশের শ্রেষ্ঠত্ব: শরীয়তের সকল বিধানের চমৎকার বর্ণনা; লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, জনকল্যাণ এবং কারণসমূহ—এই সবই কুরআনীয় আয়াত দ্বারা সমর্থিত। সুতরাং আপনি যদি একত্ববাদের কোনো দলিল চান, তবে মহান আল্লাহর বাণী পাবেন: {যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত আরও ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত} (আল-আম্বিয়া: ২২)। আর যদি এমন কোনো আয়াত চান যা সুরক্ষা ও সচ্চরিত্রের কল্যাণের পথ দেখায়, তবে মহান আল্লাহর বাণী পাবেন: {তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিবাহ দাও} (আন-নূর: ৩২)। মানুষের জীবনের সুরক্ষায়: {কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন নিহিত রয়েছে} (আল-বাকারা: ১৭৯)। ইসলামের রুকনসমূহের বর্ণনায়: {তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং জাকাত দাও} (আন-নিসা: ৭৭) {তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে} (আল-বাকারা: ১৮৩) {আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেই ঘরের হজ করা মানুষের ওপর কর্তব্য, যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে} (আল ইমরান: ৯৭)। লেনদেনের বর্ণনায়: {আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন} (আল-বাকারা: ২৭৫) {তোমরা যখন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণের লেনদেন করো, তখন তা লিখে রাখো} (আল-বাকারা: ২৮২)। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কিতাবে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যা শরীয়তের বিধানাবলি এবং নবী (তাঁর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) যে শরীয়ত নিয়ে এসেছেন তার বিধানসমূহের চমৎকার বর্ণনার বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তোলে।

একাদশটি হলো: যা অতীতে ঘটেছিল সে সম্পর্কে সংবাদ প্রদান। ফিরোজাবাদী এর জন্য কিছু উদাহরণ দিয়েছেন, যেমন—আরশ ও কুরসি সৃষ্টি, (আরশ) বহনকারী ফেরেশতা ও রক্ষীদের অবস্থা, লাওহ ও কলমের স্বরূপ, সিদরাতুল মুনতাহা ও তুবা বৃক্ষের বর্ণনা, গ্রহ-নক্ষত্রের পরিভ্রমণ, আকাশমণ্ডলীর আবর্তন, আসমানকে সমুন্নত করা এবং জমিনকে প্রস্তুত করা।

দ্বাদশটি হলো: যা ভবিষ্যতে ঘটবে সে সম্পর্কে সংবাদ প্রদান। যেমন—মৃত্যু, কবর, পুনরুত্থান, হাশর, কিয়ামত, হিসাব-নিকাশ, শাস্তি, আল্লাহর সামনে পেশ করা, হাউজ, সওয়াল-জওয়াব, আমল পরিমাপ করা, মিযান এবং সিরাতের সংবাদ … এছাড়া পবিত্র কুরআনে যা কিছু এসেছে এবং আমাদের রাসূল (তাঁর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) যা বর্ণনা করেছেন তা এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২২)
هذا الذي ذكره صاحب (البصائر) أي الفيروزآبادي لا نستطيع الزعم بأنه كل معاني الإعجاز، بل لا نسلم بأنه جلها فكم من أشياء أخر ذكرها المهتمون بهذه القضية، بل لا نستطيع حصر الإعجاز والتحدي في الجانب اللغوي فقط؛ لأن اللغة إطار توضع فيه المعاني، وكم في المعاني من أسرار لا يعلمها إلا مكور الليل على النهار ومن جاد عليهم من عباده الأخيار؛ فذلك علم يمنحه الله سبحانه وتعالى هبة وفضلا لمن يشاء.

ولك أن تتأمل -أيها الطالب النجيب- كلام شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله وكون القرآن أنه معجزة ليس هو من جهة فصاحته وبلاغته فقط أو نظمه وأسلوبه فقط، ولا من جهة إخباره بالغيب فقط، ولا من جهة صرف الدواعي عن معارضته فقط، ولا من جهة سلب قدرتهم عن معارضته فقط؛ بل هو آيةٌ بينة معجزة من وجوه متعددة؛ من جهة اللفظ ومن جهة النظم ومن جهة البلاغة في دلالة اللفظ على المعنى، ومن جهة معانيه التي أمر بها ومعانيه التي أخبر بها عن الله تعالى وأسمائه وصفاته وملائكته، وغير ذلك، ومن جهة معانيه التي أخبر بها عن الميعاد، ومن جهة ما بين فيه من الدلائل اليقينية والأقيسة العقلية، التي هي الأمثال المضروبة كما قال تعالى: {وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ لِلنَّاسِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا} (الكهف: 54)، وقوله تعالى: {وَلَقَدْ صَرَّفْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِن كُلِّ مَثَلٍ فَأَبَى أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَاّ كُفُورًا} (الإسراء: 89) وقوله تعالى: {وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ * قُرْآنًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِي عِوَجٍ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ} (الزمر: 27، 28).

وكل ما ذكره الناس من الوجوه في إعجاز القرآن هو حجةٌ على إعجازه، ولا يناقض ذلك، بل كل قوم تنبهوا بما تنبهوا.
'বসাঈর' (আল-বসাঈর) গ্রন্থের লেখক অর্থাৎ আল-ফিরোজাবাদী যা উল্লেখ করেছেন, আমরা তা অলৌকিকত্বের (ইজাজ) পূর্ণাঙ্গ অর্থ বলে দাবি করতে পারি না, এমনকি তার অধিকাংশ বলেও মেনে নিতে পারি না। কারণ এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ আরও অনেক বিষয় উল্লেখ করেছেন। বরং আমরা কুরআনের অলৌকিকত্ব এবং এর চ্যালেঞ্জকে শুধুমাত্র ভাষাগত দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে পারি না; কারণ ভাষা হলো একটি কাঠামো যার ভেতরে অর্থ নিহিত থাকে। আর অর্থের ভেতরে কতই না রহস্য বিদ্যমান যা রাতকে দিনের ওপর আবর্তনকারী (আল্লাহ) এবং তাঁর নেককার বান্দাদের মধ্যে যাদের তিনি অনুগ্রহ করেছেন তারা ব্যতিত আর কেউ জানে না। মূলত এটি এমন এক জ্ঞান যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও দান হিসেবে যাকে ইচ্ছা প্রদান করেন।

হে মেধাবী ছাত্র! তুমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য করো। কুরআন যে একটি মুজিজা বা অলৌকিক নিদর্শন, তা কেবল এর ভাষাগত প্রাঞ্জলতা (ফাসাহাত) এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) দিক থেকেই নয়, কিংবা কেবল এর বিন্যাস ও শৈলীর দিক থেকেই নয়। আবার কেবল এর অদৃশ্যের সংবাদ প্রদানের দিক থেকেও নয়, কিংবা কেবল এর বিরোধিতার সংকল্পকে ফিরিয়ে দেওয়ার দিক থেকেও নয়, অথবা কেবল তাদের বিরোধিতা করার ক্ষমতা হরণ করার দিক থেকেও নয়। বরং এটি একাধিক দিক থেকে একটি সুস্পষ্ট অলৌকিক নিদর্শন; শব্দের দিক থেকে, বিন্যাসের দিক থেকে এবং শব্দের মাধ্যমে অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে অলঙ্কারশাস্ত্রের দিক থেকে। আরও ঐ সমস্ত অর্থের দিক থেকে যা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ঐ সমস্ত অর্থের দিক থেকে যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা, তাঁর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলি (সিফাত), তাঁর ফেরেশতা এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয়েছে। আরও ঐ সমস্ত অর্থের দিক থেকে যা পরকাল সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছে এবং ঐ সমস্ত অকাট্য প্রমাণ ও যৌক্তিক কিয়াসসমূহের দিক থেকে যা এতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেগুলো মূলত উপস্থাপিত বিভিন্ন দৃষ্টান্ত। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের দৃষ্টান্ত বিশদভাবে বর্ণনা করেছি। আর মানুষ অধিকাংশ বিষয়েই সবচেয়ে বেশি বিতর্কপ্রিয়।" (সূরা আল-কাহাফ: ৫৪)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের দৃষ্টান্ত বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কুফরি করা ছাড়া আর কিছুই করতে চাইল না।" (সূরা আল-ইসরা: ৮৯)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। বক্রতাহীন এক আরবি কুরআন, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে।" (সূরা আয-যুমার: ২৭, ২৮)।

কুরআনের অলৌকিকত্বের দিকগুলো সম্পর্কে মানুষ যা কিছু উল্লেখ করেছে তার প্রতিটিই এর অলৌকিকত্বের ওপর এক একটি প্রমাণ, আর এগুলোর মধ্যে কোনো পারস্পরিক বিরোধ নেই। বরং প্রতিটি দল তাদের বোধশক্তি অনুযায়ী যা অনুধাবন করেছে তা-ই তুলে ধরেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৩)
ما أجمل كلام شيخ الإسلام رحمه الله.

لذلك قال شيخنا محمد أبو موسى: أما أن وجه إعجازه هو الإخبار بالغيب أم لأمر يرجع إلى لفظه أم لأمر يرجع إلى معناه أو نظمه- فذلك مما وسّع الله فيه على الأمة؛ ولهذا اختلفت فيه مقالتهم واتسعت؛ الأمر فيه سعة كما يقال.

وما أجمل ما قاله الرافعي رحمه الله في كتابه (إعجاز القرآن والبلاغة النبوية) يقول: وما أشبه القرآن الكريم في تركيب إعجازه وإعجاز تركيبه بصورة كلامية من نظام هذا الكون الذي اكتنفه العلماء من كل جهة وتعاوروه من كل ناحية ولقوا جوانبه بحثًا وتفتيشًا، ثم هو بعد لا يزال عندهم على ذلك خلقًا جديدًا ومرامًا بعيدًا وصعبًا شديدًا، وإنما بلغوا منه إذ بلغوا منه نذرًا تهيأت بضعفه أسبابه، وقليلًا عُرف لقتله حسابه وبقي ما وراء ذلك من الأمر المتعذر الذي وقفت عنده الأعذار ولابتغاء المعجز الذي حط عنده قدر الإنسان؛ لأنه مما سمحت به الأقدار.

وكأنه رحمه الله يشير إلى حقائق التنزيل اليقينية: {وَمَا أُوتِيتُم مِّن الْعِلْمِ إِلَاّ قَلِيلا} (الإسراء: 85) {وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَاّ بِمَا شَاء} (البقرة: 255) فالبحث في هذا المجال واسع واسع واسع.

 

‌‌كيفية تحدي نبينا صلى الله عليه وسلم للعرب

أما السؤال الرابع: وهو كيفية تحدي نبينا الكريم -صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم- للعرب يستلزم منا بيان شيئين:

الأول: هو ما أكده الله عز وجل في حق كتابه ورسوله.

الثاني: صور التحدي وتصعيد درجته.
শাইখুল ইসলামের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) কথাগুলো কতই না চমৎকার।

এ কারণেই আমাদের শাইখ মুহাম্মদ আবু মুসা বলেছেন: কুরআনের অলৌকিকত্বের দিকটি কি অদৃশ্যের সংবাদ প্রদানের মধ্যে নিহিত, নাকি এর শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়, অথবা এর অর্থ কিংবা বিন্যাসশৈলীর সাথে সম্পৃক্ত কোনো বিষয়—তা এমন একটি ক্ষেত্র যাতে আল্লাহ উম্মাহর জন্য প্রশস্ততা দান করেছেন; একারণেই এ বিষয়ে তাঁদের অভিমত ভিন্ন ভিন্ন ও বিস্তৃত হয়েছে। এ বিষয়টি মূলত অত্যন্ত ব্যাপক, যেমনটি বলা হয়ে থাকে।

আর রাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর ‘ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নাবাবিয়্যাহ’ গ্রন্থে যা বলেছেন তা কতই না সুন্দর! তিনি বলেন: পবিত্র কুরআন তার অলৌকিক গঠন ও গঠনের অলৌকিকত্বে এই মহাবিশ্বের শৃঙ্খলার একটি বাচনিক রূপের সদৃশ, যাকে আলিমগণ চারদিক থেকে বেষ্টন করে রেখেছেন এবং প্রতিটি দিক থেকে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর প্রতিটি প্রান্ত অনুসন্ধান ও গবেষণায় নিবিষ্ট হয়েছেন। তবুও এরপরও এটি তাঁদের কাছে এক নতুন সৃষ্টি, এক সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য এবং এক অত্যন্ত কঠিন বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে। তাঁরা এর যতটুকু অনুধাবন করতে পেরেছেন, তা মূলত যৎসামান্যই যার উপকরণসমূহ তাঁদের সীমাবদ্ধতার কারণেই অনুকূল হয়েছিল এবং সামান্য কিছুই জানা সম্ভব হয়েছে। আর এর বাইরে রয়ে গেছে সেই সাধ্যাতীত বিষয় যার সামনে মানুষের ওজর-আপত্তি থমকে দাঁড়িয়েছে এবং সেই অলৌকিকত্বের আকাঙ্ক্ষা যার সামনে মানুষের সামর্থ্য নত হয়েছে; কেননা এটি এমন বিষয় যা তাকদিরের পক্ষ থেকে নির্ধারিত।

মনে হয় যেন তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ওহী নাযিল হওয়ার সুনিশ্চিত হাকিকতগুলোর দিকে ইঙ্গিত করছেন: {তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে} (আল-ইসরা: ৮৫) {এবং তারা তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু চান তা ব্যতীত} (আল-বাকারা: ২৫৫)। সুতরাং এই ক্ষেত্রে গবেষণা অত্যন্ত ব্যাপক, ব্যাপক ও ব্যাপক।

 

‌‌আরবদের প্রতি আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম)-এর চ্যালেঞ্জের স্বরূপ

চতুর্থ প্রশ্নটি হলো: আমাদের সম্মানিত নবী—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম—আরবদের প্রতি কীভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, যা আমাদের জন্য দুটি বিষয় বর্ণনা করা আবশ্যক করে দেয়:

প্রথম: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর কিতাব এবং রাসূলের ব্যাপারে যা সুনিশ্চিত করেছেন।

দ্বিতীয়: চ্যালেঞ্জের রূপসমূহ এবং এর পর্যায়ক্রমিক তীব্রতা।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৪)
أولًا: نقول: إن الله سبحانه وتعالى أكد في كتابه أن كتابه لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، وأنه تنزيل رب العالمين، وأنه أُرسل إلى رسولنا -صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم- ليخرج الناس من الظلمات إلى النور، وأكد الله سبحانه وتعالى أن رسوله صلى الله عليه وسلم ما ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى علمه شديد القوى، وأكد أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن يتلو قبل بعثته كتابًا ولا يعرف القراءة: {وَمَا كُنتَ تَتْلُو مِن قَبْلِهِ مِن كِتَابٍ وَلَا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ إِذًا لَاّرْتَابَ الْمُبْطِلُون} (العنكبوت: 48) وأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يقل مثلما قال قبل بعثته: {قُلْ لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا تَلَوْتُهُ عَلَيْكُمْ وَلَا أَدْرَاكُمْ بِهِ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُرًا مِنْ قَبْلِهِ} (يونس: 16).

وأكد أن القرآن ليس بقول شاعر لا بقول كاهن، وأن النبي صلى الله عليه وسلم ليس مجنونا {وَمَا صَاحِبُكُم بِمَجْنُون} (التكوير: 22) هذا الافتراءات التي ذكرها أهل مكة في محاربة النبي صلى الله عليه وسلم فزعموا أنه شاعر وزعموا أنه ساحر وزعموا أنه كاهن وزعموا أنه مجنون؛ كل ذلك أبطله القرآن، ولكن هذا الخطاب لأهل الإيمان، فلما لم يؤمنوا واستمروا على عنادهم كانت النقطة الثانية هي التحدي.

صورة التحدي التي واجه بها النبي - صلى الله عليه وآلة وصحبه وسلم - هؤلاء المشركين: لماذا؟ لأنهم كما قال الله سبحانه وتعالى {وَلَوْ أَنَّنَا نَزَّلْنَا إِلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةَ وَكَلَّمَهُمُ الْمَوْتَى وَحَشَرْنَا عَلَيْهِمْ كُلَّ شَيْءٍ قُبُلًا مَا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا} (الأنعام: 111)، ولأنهم بلغوا من الوقاحة والتبجح أن ادّعوا ما لا يستطيعون {لَوْ نَشَاء لَقُلْنَا مِثْلَ هَذَا إِنْ هَذَا إِلَاّ أَسَاطِيرُ الأوَّلِين} (الأنفال: 31) من هنا كان التحدي، فأعلنها رسول الله صلى الله عليه وسلم صريحة: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} (الإسراء: 88)؛ ليكون ذلك إعلانًا على عجزهم ونداءً على كذبهم فيما ادعوا، فتمادوا في عنادهم وادعوا أن القرآن كذب وافتراء {أَسَاطِيرُ الأَوَّلِينَ اكْتَتَبَهَا فَهِيَ تُمْلَى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً} (الفرقان: 5) مع تيقنهم من كذب دعواهم؛ فأنى للأمي صلوات الله وسلامه عليه أن
প্রথমত: আমরা বলি: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর কিতাবের সম্মুখ কিংবা পশ্চাৎ কোনো দিক থেকেই মিথ্যা বা বাতিল আসতে পারে না, এবং এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, এটি আমাদের রাসূল—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—এর নিকট প্রেরিত হয়েছে যাতে তিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সুনিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের খেয়াল-খুশি মতো কথা বলেন না; এটি কেবল ওহি যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়, তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন মহাশক্তিশালী সত্তা। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে কোনো কিতাব পাঠ করতেন না এবং লিখতে জানতেন না: "আপনি তো এর আগে কোনো কিতাব পাঠ করতেন না এবং আপনার ডান হাত দিয়ে তা লিখতেন না; তেমন হলে বাতিলপন্থীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত" (আল-আনকাবুত: ৪৮)। আরও নিশ্চিত করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে এমন কোনো কথা বলেননি: "বলুন, যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমি এটি তোমাদের নিকট পাঠ করতাম না এবং তিনি তোমাদের এটি জানাতেন না; আমি তো এর আগে তোমাদের মাঝে দীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করেছি" (ইউনুস: ১৬)।

তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে কুরআন কোনো কবির কথা নয় এবং কোনো গণকের কথাও নয়, এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উন্মাদ নন: "আর তোমাদের সঙ্গী উন্মাদ নন" (আত-তাকওয়ির: ২২)। এগুলো ছিল সেই সব অপবাদ যা মক্কাবাসীরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরোধিতার খাতিরে উল্লেখ করেছিল; তারা দাবি করেছিল যে তিনি একজন কবি, জাদুকর, গণক কিংবা উন্মাদ। কুরআন এই সমস্ত দাবিকে অসার প্রমাণ করেছে। তবে এই ভাষণ ছিল মুমিনদের জন্য। কিন্তু যখন তারা ঈমান আনল না এবং তাদের হঠকারিতায় অটল থাকল, তখন দ্বিতীয় বিষয়টি ছিল চ্যালেঞ্জ।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) এই মুশরিকদের যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছিলেন তার রূপটি ছিল এমন: কেন? কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যেমনটি বলেছেন: "আর আমি যদি তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ করতাম এবং মৃতরা তাদের সাথে কথা বলত আর আমি সকল বস্তুকে তাদের সামনে উপস্থিত করতাম, তবুও তারা বিশ্বাস করত না" (আল-আনআম: ১১১)। এবং যেহেতু তারা এমন ধৃষ্টতা ও ঔদ্ধত্যের পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, যা তারা করতে সক্ষম নয় সেই দাবি করে বসেছিল: "আমরা ইচ্ছা করলে এর অনুরূপ বলতে পারতাম, এ তো কেবল পূর্ববর্তীদের উপকথা ছাড়া আর কিছু নয়" (আল-আনফাল: ৩১)। এখান থেকেই চ্যালেঞ্জের সূচনা হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্পষ্টভাবে ঘোষণা করলেন: "বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার জন্য মানবজাতি ও জিন জাতি একত্রিত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়" (আল-ইসরা: ৮৮)। এর উদ্দেশ্য ছিল তাদের অক্ষমতা প্রকাশ করে দেওয়া এবং তাদের দাবির মিথ্যাচারের ঘোষণা দেওয়া। তবুও তারা তাদের হঠকারিতায় অবিচল থাকল এবং দাবি করল যে কুরআন এক মিথ্যা ও অপবাদ: "এগুলো পূর্ববর্তীদের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে, অতঃপর এগুলো তার কাছে সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করা হয়" (আল-ফুরকান: ৫)। অথচ তারা তাদের এই দাবির অসারতা সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল; কারণ একজন উম্মি বা নিরক্ষর মানুষ—তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—তাঁর পক্ষে কীভাবে সম্ভব যে...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৫)
يكتب؟ وكيف تعلمها؟ ومن أين تعلمها؟ وهو لم يخرج من بين ظهرانيهم، وهم لا علم لهم بهذه الأخبار التي يخبرهم بها -صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم- فكان التحدي الثاني {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُواْ بِعَشْرِ سُوَرٍ مِّثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ} (هود: 13) فإن كانت المسألة كذبًا وافتراءا وأساطير فما عليكم إلا أن تأتوا بمثلها، بل بمثل عشر سور فقط مفتراة كما تدّعون، فإن كنتم نسبتم إليه -صلوات الله وسلامه عليه- الكذب والافتراء وأنتم اللذين لقبتموه بالصادق الأمين فما الذي يحول بينكم وبين الافتراء وأنتم أرباب ذلك؟ افتراء افتراء!! فعليكم أن تفتروا مثلما افترى عشر سور مثله مفتريات، فلما عجزوا أيضا بلغ التحدي ذروته فوصل للدرجة العليا {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ * فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ} (البقرة: 23، 24).

فلم يعد لهم حجة في الادعاء والإنكار والتكذيب، فليسوا مطالبين بأكثر من سورة ومع ذلك هم عاجزون بل لم ولن، انظر -رحمك الله- إلى التعبير بـ"لم ولن" لم تفعلوا ولن تفعلوا، لم نفي الماضي ولن نفي المستقبل، فهم لم يستطيعوا ولن يستطيعوا أن يأتوا بسورة من مثله، فكانت الحجة القاطعة بعدم الاستطاعة إلى قيام الساعة، فلن نفت المستقبل والخطاب لهم ولمن بعدهم، وكأن الله عز وجل يعلمنا هذه العبارة نقولها لكل من سوّلت له نفسه الطعن في القرآن أو تكذيب خير الأنام؛ أن نقول له: فأتوا بسورة من مثله.

والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
তিনি কি করে লিখতেন? এবং কীভাবে তিনি তা শিখলেন? আর কোথা থেকেই বা তিনি তা শিখলেন? অথচ তিনি তাদের সান্নিধ্য ছেড়ে কোথাও যাননি, আর যে সকল সংবাদ তিনি তাদের প্রদান করছিলেন—আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর বর্ষিত হোক—সে সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞানই ছিল না। ফলে দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটি ছিল: "নাকি তারা বলে যে, সে এটি নিজে রচনা করেছে? আপনি বলুন, তবে তোমরা এর অনুরূপ বানিয়ে আনা দশটি সূরা নিয়ে এসো" (হুদ: ১৩)। সুতরাং বিষয়টি যদি মিথ্যা, জালিয়াতি ও উপকথা হয়ে থাকে, তবে তোমাদের কর্তব্য হলো এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসা; বরং তোমাদের দাবি অনুযায়ী স্রেফ দশটি বানোয়াট সূরা নিয়ে এসো। তোমরা যদি তাঁর প্রতি—আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—মিথ্যা ও জালিয়াতির অপবাদ আরোপ করে থাকো, অথচ তোমরাই তাঁকে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত উপাধিতে ভূষিত করেছিলে, তবে তোমাদের এবং এই জালিয়াতির মাঝে কিসে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে যখন তোমরা নিজেরাই এর দক্ষ কারিগর? জালিয়াতিই যদি হয়, তবে জালিয়াতিই সই!! সুতরাং তাঁর মতো দশটি বানোয়াট সূরা তোমরাও বানিয়ে নিয়ে এসো। অতঃপর তারা যখন এতেও অক্ষম হলো, তখন এই চ্যালেঞ্জ তার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাল এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত হলো: "আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি সে সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। আর যদি তোমরা তা না করো—এবং কখনোই করতে পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় করো যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে" (আল-বাকারাহ: ২৩, ২৪)।

ফলে দাবি, অস্বীকার এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য তাদের কাছে আর কোনো অজুহাত রইল না। তাদের কাছে একটির বেশি সূরা চাওয়া হয়নি, তা সত্ত্বেও তারা অক্ষম; বরং তারা পারেনি এবং পারবেও না। আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন—দেখুন, "পারেনি এবং পারবে না" এই শব্দদ্বয়ের অভিব্যক্তি; তোমরা করোনি এবং তোমরা কখনোই করবে না। এখানে ‘লাম’ অতীতের নেতিবাচকতা এবং ‘লান’ ভবিষ্যতের নেতিবাচকতা প্রকাশ করে। অর্থাৎ তারা এর অনুরূপ একটি সূরা আনতেও সক্ষম হয়নি এবং ভবিষ্যতেও সক্ষম হবে না। সুতরাং কিয়ামত পর্যন্ত অক্ষমতার এই অকাট্য দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল। ‘লান’ ভবিষ্যৎকে নাকচ করে দেয়, আর এই সম্বোধন ছিল তাদের জন্য এবং তাদের পরবর্তী সকলের জন্য। যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের এই বাক্যটি শিখিয়ে দিচ্ছেন যা আমরা সেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে বলব যার কুপ্রবৃত্তি তাকে কুরআনের সমালোচনা করতে বা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের প্রতি মিথ্যা আরোপ করতে প্ররোচিত করে; আমরা তাকে বলব: তবে এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো।

আর আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الدرس: 2 تابع: مقدمة في وجوه الإعجاز - الصرفة، والإخبار بالغيبيات.
পাঠ: ২ অনুবৃত্তি: মুজিযার দিকসমূহের ভূমিকা - সারফা এবং অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান.
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

الدرس الثاني

(تابع: مقدمة في وجوه الإعجاز - الصرفة، والإخبار بالغيبيات)

 

‌‌لماذا نهتم بالإعجاز اللغوي في القرآن؟

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه، ونعوذ بالله تعالى من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، اللهم صلِّ على محمد النبي وأزواجه أمهات المؤمنين وذريته وآل بيته، كما صليت على آل إبراهيم، إنك حميد مجيد؛ وبعد:

انتهينا إلى الحديث عن: لماذا نهتم بالإعجاز اللغوي؟

لا يشك عاقل أن لغة القرآن تختلف عن لغة البشر، وأن تراكيبها وأسلوبها ونظمها متناهٍ في البلاغة والفصاحة، إلى درجةٍ لا يصل إليها أحدٌ من البشر، ولو كان سيدهم -صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم {قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِي إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَي إِلَيَّ} (يونس: 15).

فيكفيك دليلًا أن فصاحة سيد الفصحاء وإمام البلغاء لا ترقى لفصاحة القرآن، فما بالكم بمن دونه من البشر وذلك سائر البشر؛ ولذلك كان الاهتمام بالجانب اللغوي في القرآن لإبراز الفروق بين كلام الرحمن وكلام الإنسان، وصنفت في ذلك التصانيف؛ فالباقلاني في (إعجاز القرآن) أسهب في إثبات أن القرآن ليس شعرًا ولا سجعًا، وعرض نماذج لما يفتخر به العرب من شعرهم ونثرهم، ووازن بينه وبين القرآن لبيان الفرق الشاسع بينهما، والجرجاني صنف كتابه (دلائل الإعجاز) للاستدلال بنظرية النظم على تفرد القرآن في ذلك، وابن أبي الإصبع المصري صنف كتابًا سماه (تحرير التحبير في صناعة الشعر والنثر وبيان إعجاز القرآن) فيتضح لك من العنوان مراد الرجل أن من تأمل الشعر والنثر بان له إعجاز القرآن في الجانب اللغوي؛ ولذلك أذكر لكم موازنة ذكرها الباقلاني في كتابه (إعجاز القرآن)؛ ليستدل بها على الفروق بين كلام الله وبين كلام العرب، فجعل الفروق في نقاط:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

দ্বিতীয় পাঠ

(চলমান: অলৌকিকত্বের দিকসমূহের ভূমিকা - সারফা এবং অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান)

 

‌‌কেন আমরা কুরআনের ভাষাগত অলৌকিকত্বের প্রতি গুরুত্ব দিই?

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে হেদায়েত প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দ দিক এবং আমাদের কর্মসমূহের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আপনি নবী মুহাম্মদ, তাঁর পত্নীগণ যারা মুমিনদের মাতা, তাঁর বংশধর এবং তাঁর আহলে বায়তের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহিমের বংশধরের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। অতঃপর:

আমরা এই আলোচনার পর্যায়ে পৌঁছেছি যে: কেন আমরা ভাষাগত অলৌকিকত্বের প্রতি গুরুত্ব দিই?

কোনো বিবেকবান ব্যক্তি এতে সন্দেহ পোষণ করেন না যে, কুরআনের ভাষা মানুষের ভাষা থেকে ভিন্ন এবং এর গঠন, শৈলী ও বিন্যাস অলঙ্কারশাস্ত্র ও বাগ্মিতার এমন এক চরম শিখরে পৌঁছেছে, যেখানে কোনো মানুষ পৌঁছাতে পারে না; এমনকি তারা যদি তাদের নেতা (আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-ও হন। {বলুন, আমার নিজের পক্ষ থেকে এটি পরিবর্তন করার কোনো অধিকার আমার নেই। আমার প্রতি যা ওহী করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি।} (ইউনুস: ১৫)।

আপনার জন্য এই প্রমাণটুকুই যথেষ্ট যে, বাগ্মীদের নেতা এবং অলঙ্কারবিদদের ইমামের বাগ্মিতাও কুরআনের বাগ্মিতার স্তরে উন্নীত হতে পারে না। তাহলে তাঁর নিম্নপর্যায়ের সাধারণ মানুষের কথা তো বলাই বাহুল্য! একারণেই আল্লাহর কালাম এবং মানুষের কালামের মধ্যে পার্থক্য ফুটিয়ে তোলার জন্য কুরআনের ভাষাগত দিকের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে। যেমন—বাকিল্লানি তাঁর ‘ইজাযুল কুরআন’ গ্রন্থে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, কুরআন কোনো কবিতা বা অনুপ্রাসযুক্ত গদ্য নয়। আরবরা তাদের যে সকল কবিতা ও গদ্য নিয়ে গর্ব করত, তিনি তার কিছু নমুনা পেশ করেছেন এবং কুরআন ও সেই সবের মাঝে তুলনা করেছেন যাতে উভয়ের মধ্যকার বিশাল পার্থক্য স্পষ্ট হয়। আল-জুরজানি তাঁর ‘দালাইলুল ইজায’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন এই বিষয়ের অনন্যতায় বিন্যাসতত্ত্বের মাধ্যমে দলিল দেওয়ার জন্য। ইবনু আবিল আসবা আল-মিসরি একটি কিতাব লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন ‘তাহরিরুত তাহবির ফি সিনায়াতিশ শিরি ওয়ান নাছরি ওয়া বায়ানি ইজাযিল কুরআন’। এই শিরোনাম থেকেই আপনি লেখকের উদ্দেশ্য বুঝতে পারবেন যে, যে ব্যক্তি কবিতা ও গদ্য নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে, তার কাছে কুরআনের ভাষাগত দিকের অলৌকিকত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠবে। একারণেই আমি আপনাদের কাছে বাকিল্লানির তাঁর ‘ইজাযুল কুরআন’ গ্রন্থে উল্লিখিত একটি তুলনামূলক আলোচনা তুলে ধরছি, যাতে তিনি আল্লাহর কালাম ও আরবদের কালামের পার্থক্যসমূহের দলিল দিয়েছেন। তিনি এই পার্থক্যগুলোকে কয়েকটি পয়েন্টে বিভক্ত করেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩০)
النقطة الأولى: هي أن النظم القرآني خارج عن المعهود من نظم كلامهم، فليس من الشعر ولا من النثر المرسل ولا المسجوع.

النقطة الثانية: هي أنه ليس للعرب كلام مشتمل على هذه الفصاحة على هذا القدر من الطول، وما نُسب من الفصيح لحكيمهم فكلمات معدودة، ولشاعرهم فقصائد محصورة.

النقطة الثالثة: أن نظم القرآن لا يتفاوت على ما يتصرف فيه، والوجوه من قصص ووعظ واحتجاج وحكم وأحكام ووعد ووعيد ووصف وتعليم وأخلاق كريمة وغير ذلك مما حواه القرآن، بينما كلام بلغائهم يختلف بحسب الأغراض؛ فمنهم من يجيد الوصف دون الغزل، ومن يحسن إذا رغب والآخر إذا طرب وغيرهما إذا ركب، فهم ليسوا على درجة سواء من الفصاحة في شتى الأغراض؛ يعني: يقصد ببساطة أن القرآن كله فصيح، وكله على أعلى درجات الفصاحة في شتى أغراضه؛ سواء كانت حكمًا أو مواعظ أو تشريعًا أو قصصًا أو غير ذلك، فكلها على درجة من الفصاحة، وكلها على أعلى درجات الفصاحة، بينما الشعراء والخطباء يجيدون تارة ويخفقون أخرى؛ فلذلك نقول ذلك يحسن إذا طرب؛ يعنى إذا تحدث في الشعر الذي يتعلق بالوصف وغير ذلك، والآخر إذا رغب؛ يعني إذا تحدث في المدح والآخر إذا ركب يعني إذا فاخر أو تحدث في وصف خيله وكذا، فكانوا يحسنون في مجالات دون الأخرى.

النقطة الرابعة: أن المعاني التي جاء بها القرآن اتسقت في أسلوب بديع يتعذر على البشر، وهي معاني مبتكرة غير متداولة؛ كالاحتجاج بالدين وبيان الشريعة والرد على الملحدين، فهذه المعاني الجديدة الأصل أن يكون فيها من الصعوبة ما ليس في غيرها من المعاني المتداولة، ومع ذلك كان القرآن يعرض هذه المعاني بنسق بديع لا يستطيع البشر أن ينسقوا على منواله مع المعاني المتداولة وليست المبتكرة التي جاء بها القرآن الكريم.
প্রথম পয়েন্ট: এটি হলো কুরআনের বিন্যাসশৈলী তাদের পরিচিত বাক্যবিন্যাসের ঊর্ধ্বে; এটি কবিতা নয়, আবার এটি মুক্ত গদ্য বা ছন্দময় গদ্যও নয়।

দ্বিতীয় পয়েন্ট: এটি হলো আরবদের এমন কোনো বক্তব্য নেই যা এই দৈর্ঘ্যে এই পরিমাণ প্রাঞ্জলতা সমৃদ্ধ; তাদের জ্ঞানীদের থেকে যা কিছু প্রাঞ্জল বলে বর্ণিত হয়েছে তা গুটিকতক শব্দ মাত্র, আর তাদের কবিদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা নির্দিষ্ট কিছু কাসিদা মাত্র।

তৃতীয় পয়েন্ট: কুরআনের বিন্যাস এর বিষয়বস্তুর পরিবর্তনের সাথে সাথে মানহীন বা অসঙ্গত হয় না, চাই তা কাহিনী, নসিহত, যুক্তি-তর্ক, হিকমত, বিধি-বিধান, প্রতিশ্রুতি, ভীতিপ্রদর্শন, বর্ণনা, শিক্ষা, মহান চরিত্র বা কুরআনে অন্তর্ভুক্ত অন্য যা কিছুই হোক না কেন। অথচ তাদের আলঙ্কারিকদের বক্তব্য উদ্দেশ্যের ভিন্নতায় ভিন্ন হয়ে থাকে; তাদের কেউ বর্ণনায় পারদর্শী কিন্তু প্রেমগীতিতে নয়, কেউ হয়তো কোনো কিছুর প্রতি লালায়িত হলে ভালো বলে, কেউ আনন্দিত হলে ভালো বলে, আবার কেউ হয়তো বীরত্ব প্রকাশকালে ভালো বলে। সুতরাং তারা বিভিন্ন বিষয়ে একই স্তরের প্রাঞ্জলতার অধিকারী ছিল না। অর্থাৎ, এর উদ্দেশ্য হলো—সহজ কথায় কুরআন সম্পূর্ণটাই প্রাঞ্জল এবং এর প্রতিটি বিষয়বস্তু প্রাঞ্জলতার সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থিত; চাই তা প্রজ্ঞা, উপদেশ, আইন-কানুন, কাহিনী বা অন্য যা কিছুই হোক না কেন, সবই প্রাঞ্জলতার একই স্তরে এবং সর্বোচ্চ মানে অবস্থিত। পক্ষান্তরে, কবি ও বাগ্মীরা কখনো সফল হয় আবার কখনো ব্যর্থ হয়। এ কারণেই আমরা বলি অমুক ব্যক্তি আনন্দিত হলে ভালো বলে—অর্থাৎ যখন সে বর্ণনামূলক কবিতা বা এ জাতীয় বিষয় নিয়ে কথা বলে; অন্যজন লালায়িত হলে ভালো বলে—অর্থাৎ যখন সে প্রশংসামূলক বক্তব্য দেয়; আর অন্যজন বীরত্বের সময় ভালো বলে—অর্থাৎ যখন সে গর্ব প্রকাশ করে বা তার ঘোড়ার বর্ণনা দেয় ইত্যাদি। এভাবে তারা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ভালো করত, অন্য ক্ষেত্রে নয়।

চতুর্থ পয়েন্ট: কুরআন যে অর্থ ও মর্ম নিয়ে এসেছে তা এমন এক চমৎকার পদ্ধতিতে বিন্যস্ত হয়েছে যা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। এগুলি হলো এমন অভিনব অর্থ যা প্রচলিত ছিল না; যেমন দ্বীনের পক্ষে যুক্তি প্রদান, শরীয়তের ব্যাখ্যা এবং নাস্তিকদের জবাব দান। এই নতুন অর্থ ও বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত প্রচলিত বিষয়গুলোর তুলনায় অনেক বেশি কাঠিন্য থাকার কথা। তা সত্ত্বেও কুরআন এই অর্থগুলোকে এমন এক চমৎকার বিন্যাসে উপস্থাপন করেছে যার সমতুল্য কোনো বিন্যাস মানুষ সাধারণ ও প্রচলিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও করতে সক্ষম নয়, কুরআনের সেই অভিনব বিষয়গুলোর কথা তো বলাই বাহুল্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩১)
النقطة الخامسة: أنه عليك أن تتأمل موقع الآية القرآنية وسط الكلام، حين يُتمثل بها في تضاعيف الكلام؛ ليظهر لك فضل القرآن على سائر الكلام، فالآية المستشهد بها وسط خطبة مثلًا تجدها هي غرة الخطبة، وهي واسطة عقدها، وتنادي على نفسها بالتميز والاختصاص بالرونق والجمال، ومن ثم نقول: إن وجه الإعجاز الحق هو ما اتسم به القرآن من بلاغة، تحير فيها أهل الفصاحة من العرب وأعيان البلاغة، من بينهم فسلموا ولم يشغلوا أنفسهم بمعارضته لعلمهم بالعجز عن بلوغ مداه، وقوله تعالى حكاية عنهم {لَوْ نَشَاء لَقُلْنَا مِثْلَ هَذَا} (الأنفال: 31) يحمل دليل عجزهم، فلو كانوا على ما وصفوا به أنفسهم من القدرة على المجيء بمثل القرآن لتجاوزوا الوعد إلى الوفاء بما ادعوا، فلما لم ينجزوا ما وعدوا عُلم عجزهم وقصور باعهم.

 

‌‌ثمرة دراسة إعجاز القرآن

هذا السؤال المبارك طرحه الدكتور العواجي وأجاب عنه في كتابه، فذكر بعض النقاط قال:

أولًا: تقرير الكشف عن إعجاز القرآن وأنه قد تحقق ولا زال يتحقق عبر العصور والأزمان.

ثانيًا: إقامة الصلة بين قلب المسلم وكتاب الله عز وجل، فيزداد الإيمان بإدراك القدرة والأسرار.

ثالثًا: تجدد حياة المسلم بتدبر معاني القرآن وإدراك أسرار الإعجاز بشتى أنواعه.

رابعًا: إدراك أن المعجزة القرآنية قائمة ما دامت الحياة وما عاشت الأجيال.

خامسًا: إدراك صدق النبي صلى الله عليه وسلم وإلزام المعاند بذلك، وهذا صنف فيه شيخ الإسلام رحمه الله كتابًا كاملا (الجواب الصحيح).

سادسًا: بيان صحة هذا الدين وثبوت كونه من عند الله سبحانه وتعالى.
পঞ্চম বিন্দু: আপনার উচিত কথার মাঝখানে কুরআনের আয়াতের অবস্থান নিয়ে চিন্তা করা, যখন আলোচনার ভাঁজে ভাঁজে একে দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করা হয়; যাতে আপনার নিকট অন্য সকল বাণীর ওপর কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো খুতবার মাঝখানে যখন কোনো আয়াতের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়, তখন আপনি দেখতে পাবেন যে সেটিই খুতবার ললাট এবং সেটির মধ্যমণি, আর তা আপন মহিমায় স্বাতন্ত্র্য এবং রূপ-মাধুর্যের ঘোষণা দেয়। এখান থেকেই আমরা বলি: আল-কুরআনের মুজিজার প্রকৃত রূপ হলো তার সেই অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত), যা দেখে আরবের বাগ্মী ও অলঙ্কারশাস্ত্রে পারদর্শী ব্যক্তিরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। ফলে তারা নতি স্বীকার করে নেয় এবং একে প্রতিহত করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়নি; কারণ তারা জানত যে এর সমপর্যায়ে পৌঁছানো অসম্ভব। আর তাদের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর উদ্ধৃতি: {আমরা চাইলে এর অনুরূপ বলতে পারতাম} (আল-আনফাল: ৩১) মূলত তাদের অক্ষমতারই প্রমাণ বহন করে। কারণ, তারা কুরআনের অনুরূপ বাণী আনার ব্যাপারে নিজেদের যে ক্ষমতার বর্ণনা দিয়েছিল, তাতে যদি তারা সত্যবাদী হতো, তবে তারা কেবল মৌখিক দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তা বাস্তবায়ন করে দেখাত। যেহেতু তারা তাদের প্রতিশ্রুত বিষয়টি সম্পন্ন করতে পারেনি, তাই তাদের অক্ষমতা এবং যোগ্যতার সীমাবদ্ধতা প্রমাণিত হয়েছে।

 

‌‌কুরআনের মুজিজা অধ্যয়নের সুফল

এই বরকতময় প্রশ্নটি ডক্টর আল-আওয়াজি উত্থাপন করেছেন এবং তাঁর কিতাবে এর উত্তর প্রদান করেছেন। তিনি কিছু বিষয় উল্লেখ করে বলেছেন:

প্রথমত: কুরআনের মুজিজা উন্মোচনের বিষয়টি সুনিশ্চিত করা এবং এটি যে যুগে যুগে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে তা স্পষ্ট করা।

দ্বিতীয়ত: মুসলিমের হৃদয়ের সাথে মহান আল্লাহর কিতাবের যোগসূত্র স্থাপন করা, যার ফলে আল্লাহর কুদরত ও রহস্য উপলব্ধির মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায়।

তৃতীয়ত: কুরআনের অর্থের গভীর চিন্তা এবং বিভিন্ন প্রকার মুজিজার রহস্য উপলব্ধির মাধ্যমে মুসলিমের জীবন পুনরুজ্জীবিত হওয়া।

চতুর্থত: এই উপলব্ধি অর্জন করা যে, পৃথিবীতে জীবন ও প্রজন্মের প্রবাহমানতা থাকা পর্যন্ত কুরআনের মুজিজা চিরঞ্জীব থাকবে।

পঞ্চমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা অনুধাবন করা এবং একগুঁয়ে বিরোধীদের তা স্বীকার করতে বাধ্য করা। এ বিষয়ে শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহ একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ (আল-জাওয়াবুস সহীহ) রচনা করেছেন।

ষষ্ঠত: এই দ্বীনের সত্যতা এবং এটি যে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে আগত, তা প্রমাণ করা।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩২)
واما النقطة السابعة التي ذكرها الدكتور العواجي: فهي حصول هداية الخلق وقيام الحجة على الجميع والمعذرة إلى الله سبحانه وتعالى.

ونستطيع أن نضيف إلى ما ذكره شيخنا من هذه النقاط السبعة، نقطة في غاية الأهمية، قد تكون مستنبطة من كلامه وإن لم يصرح بها؛ وهي الوقوف في وجه تيار الإلحاد المنتشر كالهشيم عبر الفضائيات وشبكة المعلومات؛ من الطعن في القرآن وادعاء أن فيه تناقضًا وإشكاليات لغوية؛ فالذي يدرس إعجاز القرآن يستطيع إقامة الحجة بالبرهان على كذب هؤلاء الهالكين؛ إذ لو كان لما قالوا أدنى احتمال ما سكت عنه من تُحدوا به، فإن النبي صلى الله عليه وسلم تحدى العرب وهم أهل الفصاحة والبيان، بل وصلوا إلى قمتها عند بعثته -صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم، ولم يجدوا مطعنًا في القرآن وأسلوبه وفصاحته، فكيف يأتي هؤلاء الصبيان الذين لا يفرقون بين أنواع الكلام وهم عن الفصاحة بمعزل وكلامهم غث وغثيان- فيذكرون الآن أن في القرآن طعنا وأن في القرآن تناقضًا وأن في القرآن غير ذلك!! تعالى الله سبحانه وتعالى وكلامه عما يقولون علوا عظيمًا.

 

‌‌مسألة الصرفة

وبعد هذه المقدمة ننطلق إلى أولى جزئيات المنهج المطروحة للنقاش وهي "مسألة الصرفة" وهل هي سر إعجاز القرآن؟

الصرفة مسألة من المسائل التي شغلت أهل هذا الفن؛ يعني الذين اهتموا بمسألة إعجاز القرآن، فالصرفة تعد عند المعتزلة هي سر الإعجاز، هذه المسالة مسألة فيها تفاصيل، حتى إ ن الدكتور محمد أبو موسى سماها قصة الصرفة، في كتابه (الإعجاز البلاغي) أفرد فصلا للصرف وسماها قصة الصرفة، قصة الصرفة بمعنى
ডক্টর আল-আওয়াজি উল্লেখিত সপ্তম পয়েন্টটি হলো: সৃষ্টির হিদায়াত লাভ, সকলের ওপর হুজ্জাত (দলিল) কায়েম হওয়া এবং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট ওজর পেশ করা।

আমাদের শায়খ উল্লেখিত এই সাতটি পয়েন্টের সাথে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যোগ করতে পারি, যা তাঁর কথা থেকেই নিহিত অর্থ হিসেবে বের করা সম্ভব, যদিও তিনি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি; আর তা হলো—স্যাটেলাইট চ্যানেল এবং তথ্যপ্রযুক্তির জালের মাধ্যমে খড়কুটার মতো ছড়িয়ে পড়া নাস্তিক্যবাদের স্রোতের সামনে রুখে দাঁড়ানো; যারা কুরআনের ওপর অপবাদ আরোপ করে এবং দাবি করে যে এতে স্ববিরোধিতা ও ভাষাগত জটিলতা রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি কুরআনের মুজিযা (অলৌকিকতা) নিয়ে অধ্যয়ন করেন, তিনি এই ধ্বংসপ্রাপ্তদের মিথ্যার বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে হুজ্জাত কায়েম করতে সক্ষম হন। কারণ তারা যা বলছে তার যদি সামান্যতম সম্ভাবনাও থাকত, তবে যাদেরকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল তারা কখনোই চুপ থাকত না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবদের চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, অথচ তারা ছিল ফাসাহাত (বাকপটুতা) ও বালাগাতের (অলঙ্কারশাস্ত্র) অধিকারী, এমনকি তাঁর—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম—আবির্ভাবের সময় তারা এর শিখরে পৌঁছেছিল। কিন্তু তারা কুরআনের শব্দশৈলী, অলঙ্কার ও ফাসাহাতের মাঝে কোনো খুঁত খুঁজে পায়নি। তাহলে এই অর্বাচীন বালকরা—যারা কথাবার্তার প্রকারভেদের মধ্যেই পার্থক্য করতে পারে না, যাদের সাথে ফাসাহাতের কোনো সম্পর্ক নেই এবং যাদের কথাবার্তা অসার ও বমি উদ্রেককারী—তারা আজ কীভাবে বলতে পারে যে কুরআনে ত্রুটি আছে, কুরআনে স্ববিরোধিতা আছে কিংবা কুরআনে অন্য কিছু আছে!! মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এবং তাঁর বাণী তারা যা বলছে তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং পবিত্র।

 

‌‌সারফা প্রসঙ্গ

এই ভূমিকার পর আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তাবিত পদ্ধতির প্রথম অংশে প্রবেশ করছি, আর তা হলো "সারফা ইস্যু" এবং এটিই কি কুরআনের মুজিযার রহস্য?

সারফা হলো এমন একটি বিষয় যা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের—অর্থাৎ যারা কুরআনের মুজিযা নিয়ে গবেষণা করেন তাদের—ব্যস্ত রেখেছে। মুতাজিলাদের মতে 'সারফা'ই হলো অলৌকিকতার রহস্য। এই মাসআলা বা বিষয়টি বেশ তাত্ত্বিক ও বিস্তারিত, এমনকি ডক্টর মুহাম্মদ আবু মুসা একে 'সারফার কাহিনী' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি তাঁর 'আল-ইজায আল-বালাগি' গ্রন্থে সারফার জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন এবং একে সারফার কাহিনী নাম দিয়েছেন। সারফার কাহিনী বলতে বোঝায়...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
أن هذه المسالة تحتاج إلى وقفة وإلى بيان، وهو جزاه الله خيرا أفرد لها ما يزيد عن خمس وأربعين صفحة، وبين ما يتعلق بهذه المسالة، وإن كان لنا يعني وقفة مع بعض ما قاله الشيخ حفظه الله، فمسألة الصرفة من المسائل التي اختلفت فيها أقوال أهل العلم، وكان منشأ اختلافهم هو اختلافهم في المقصود بالصرفة، وهل هي من الصرف أم من الانصراف؟ وبعد ذلك اختلفوا هل انصرافهم عن الإتيان بمثله لفظًا ومعنى أم بمثله معنى فحسب؟ أو الإتيان بمثل نظمه الذي جاء على خلاف لغة العرب وكلامهم؟

والذي أراه أن منشأ هذا الخلاف هو أن أول من قال بالصرفة هو أبو إسحاق النظام رأس المعتزلة في عصره، والرجل تراثه بين طلابه؛ أي ليس له مصنف نستطيع من خلاله الوقوف على قوله صراحةً، فالمسألة أثارها تلميذه الجاحظ ونسبها إليه، ودحضها في كتابه (البيان والتبيين) ولعل هذا ما دفع الأكابر كابن تيمية رحمه الله إلى الاهتمام ببيان فساد القول دون الاهتمام بقائله، ولكن كون قائله النظّام وهو رأس في البلاغة والفصاحة دفع آخرين لرفض صدور هذا الكلام بهذا الفهم من مثله وهو من هو، وخاصة أن من النصوص المذكورة ما يبرّئ ساحة الرجل من الوقوع في مثل هذا القول الضعيف المردود المتهافت، الذي لا يصدر عمن هو دونه لغةً وفصاحة.

وبعد هذه التساؤلات والافتراضات لعلك أيها الطالب قد شُحذت همتك وعلت رغبتك في معرفة تفاصيل هذه القصة، ومن ثم فهناك مصادر أحيلك عليها إذا أردت الاستزادة أو الوقوف على هذه المسألة تفصيلًا؛ فعندك كتاب العلامة أبي موسى (الإعجاز البلاغي) الفصل الثامن، وعندك كتاب (إعجاز القرآن) للباقلاني وعندك الجرجاني في كتابه (دلائل الإعجاز) وشيخ الإسلام ابن تيمية في كتابه
এই বিষয়টি নিয়ে কিছুটা থামা এবং ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন, তিনি এই বিষয়ের জন্য পঁয়তাল্লিশ পৃষ্ঠারও বেশি বরাদ্দ করেছেন এবং এই মাসআলা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বর্ণনা করেছেন। যদিও শাইখ (আল্লাহ তাঁকে হিফজ করুন) যা বলেছেন তার কিছু অংশের ব্যাপারে আমাদের কিছুটা পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। তবে 'সারফা'র (বিমুখকরণ) বিষয়টি এমন এক মাসআলা যে বিষয়ে আলেমদের মতভেদ রয়েছে। তাদের এই মতভেদের মূল কারণ ছিল 'সারফা' বলতে কী বোঝায় তা নিয়ে তাদের মতপার্থক্য—এটি কি 'সারফ' (অন্যকে ফিরিয়ে দেওয়া) নাকি 'ইনসিরাফ' (নিজে ফিরে যাওয়া)? এরপর তারা এই বিষয়েও মতভেদ করেছেন যে, তাদের এই বিরত থাকা কি শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে এর অনুরূপ কিছু আনয়ন করা থেকে ছিল, নাকি কেবল অর্থের দিক থেকে? অথবা এর কাব্যরীতির অনুরূপ কিছু আনয়ন করা থেকে ছিল, যা আরবদের ভাষা ও বাকরীতির বিপরীত?

আমি যা মনে করি তা হলো, এই মতভেদের মূল উৎস হলো এই যে, 'সারফা' মতবাদের প্রথম প্রবক্তা ছিলেন আবু ইসহাক আন-নাজ্জাম, যিনি তাঁর যুগের মুতাজিলাদের প্রধান ছিলেন। এই ব্যক্তির জ্ঞানভাণ্ডার মূলত তাঁর ছাত্রদের মধ্যেই সংরক্ষিত; অর্থাৎ তাঁর এমন কোনো নিজস্ব গ্রন্থ নেই যার মাধ্যমে আমরা স্পষ্টভাবে তাঁর বক্তব্যের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারি। বিষয়টি উত্থাপন করেছেন তাঁর ছাত্র আল-জাহিজ এবং এটি তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করেছেন, এমনকি তিনি তাঁর ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন’ গ্রন্থে এটি খণ্ডনও করেছেন। সম্ভবত এই বিষয়টিই ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতো মহান আলেমদেরকে বক্তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে এই মতবাদের অসারতা প্রমাণের দিকে মনোযোগী হতে ধাবিত করেছে। কিন্তু এই মতবাদের প্রবক্তা যেহেতু আন-নাজ্জাম, যিনি অলঙ্কারশাস্ত্র ও বাগ্মীতায় শীর্ষস্থানীয় ছিলেন, তাই অন্য অনেকে তাঁর মতো ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে এই ধরণের বুঝের ভিত্তিতে এমন কথা প্রকাশ হওয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিশেষ করে যেহেতু এমন কিছু উদ্ধৃতি রয়েছে যা এই ব্যক্তিকে এই ধরণের দুর্বল, প্রত্যাখ্যাত ও অসার বক্তব্যের দায় থেকে মুক্ত করে, যা ভাষাজ্ঞান ও বাগ্মীতায় তাঁর চেয়ে নিম্নস্তরের কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকেও প্রকাশ পাওয়া সম্ভব নয়।

এই সকল প্রশ্ন ও অনুমানের পর হে শিক্ষার্থী, সম্ভবত তোমার হিম্মত আরও সুতীক্ষ্ণ হয়েছে এবং এই ঘটনার বিস্তারিত জানার আগ্রহ প্রবল হয়েছে। এমতাবস্থায়, তুমি যদি আরও তথ্য পেতে চাও বা এই মাসআলাটি বিস্তারিত জানতে চাও, তবে আমি তোমাকে কিছু উৎসের দিকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছি; যেমন- আল্লামা আবু মুসার 'আল-ইজাযুল বালাগি' কিতাবটির অষ্টম অধ্যায়, বাকিল্লানির 'ইজাযুল কুরআন', জুরজানির 'দালাইলুল ইজায' এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর কিতাব।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
(الجواب الصحيح) والدكتور محمد عبد الله دراز في كتابه (النبأ العظيم) والدكتور محمد رجب بيومي في (الموسوعة القرآنية المتخصصة) تناول هذه المسالة، والدكتور أحمد أحمد بدوي في كتابه (من بلاغ القرآن) كل هؤلاء تعرضوا لهذه المسألة، فإن أردت المزيد من التفاصيل فعليك أن ترجع إلى هذه المراجع.

أما إن لم تكن همتك قد ارتقت إلى هذا الحد، وإنما تريد خلاصة القول فانتبه معي -رحمك الله- لهذه النقاط التي تحوي الإجابة الشافية إن شاء الله سبحانه وتعالى:

أولًا: الصَّرفَة لغةً واصطلاحًا:

الصرفة في اللغة: هو الرد والمنع كما ذكر الجرجاني في (التعريفات) ويقال: صرف الله عنك السوء، ومن المجاز صرف عن عمله أي عزل، وهو لفظ قرآني: {كَذَلِكَ لِنَصْرِفَ عَنْهُ السُّوءَ وَالْفَحْشَاء إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُخْلَصِين} (يوسف: 24) {ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ} (آل عمران: 152) ومن هذا المعنى اللغوي انطلقت تفاسير العلماء للصرفة؛ فهي تعني أن العرب لم يكونوا عاجزين عن معارضة القرآن ولا الإتيان بمثله طبْعًا، إلا أن الله صرف همتهم وحبس لسانهم وسلبهم قدرتهم لطفًا بنبيه صلى الله عليه وسلم وفضلًا منه عليه؛ وذلك قوله تعالى: {وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا} (النساء: 113) هذا ما ذكره الفيروزآبادي في (بصائر ذوي التمييز) وعلق على هذا الكلام بأنه قول مردودٌ غير مرضي.

والصرفة: هي أن العربي كان على مثل نظم القرآن قادرًا، وإنما صرفه الله عن ذلك ضربًا من الصرف أو منعه من الإتيان بمثله ضربًا من المنع، أو قصرت دواعيه إليه دونه مع قدرته عليه؛ ليتكامل ما أراده الله من الدلالة ويحصل ما قصده من إيجاد الحجة، أو هو أن الله صرف قلوب الأمم عن معارضته مع قيام
(আল-জাওয়াব আস-সাহীহ), ডক্টর মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ দাররাজ তাঁর (আন-নাবা আল-আজিম) কিতাবে, ডক্টর মুহাম্মাদ রাজাব বায়উমি (আল-মাওসুআতুল কুরআনিয়্যা আল-মুতখাসসিসাহ) গ্রন্থে এবং ডক্টর আহমাদ আহমাদ বাদাবী তাঁর (মিন বালাগিল কুরআন) কিতাবে—তাঁরা সকলেই এই বিষয়টি আলোচনা করেছেন। আপনি যদি আরও বিস্তারিত জানতে চান, তবে আপনাকে এই উৎসগুলোর দিকে ফিরে যেতে হবে।

কিন্তু আপনার আগ্রহ যদি এত দূর না পৌঁছায়, বরং আপনি কেবল সারকথা জানতে চান, তবে—আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন—এই পয়েন্টগুলোর দিকে মনোযোগ দিন, যেগুলোতে ইনশাআল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পর্যাপ্ত উত্তর রয়েছে:

প্রথমত: শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে আস-সারফাহ:

আভিধানিক অর্থে সারফাহ হলো: ফিরিয়ে দেওয়া এবং বাধা দেওয়া, যেমনটি আল-জুরজানী (আত-তারিফাত) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। বলা হয়: আল্লাহ তোমার থেকে অনিষ্ট সরিয়ে দিয়েছেন। রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়: তাকে তার কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অর্থাৎ বরখাস্ত করা হয়েছে। এটি একটি কুরআনিক শব্দ: {এভাবেই, যাতে আমি তার থেকে অনিষ্ট ও অশ্লীলতা ফিরিয়ে দিই; নিশ্চয় সে আমার একনিষ্ঠ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল} (ইউসুফ: ২৪) {অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তাদের থেকে ফিরিয়ে দিলেন যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন} (আলে ইমরান: ১৫২)। এই ভাষাতাত্ত্বিক অর্থ থেকেই আলেমগণ সারফাহর ব্যাখ্যাসমূহ আহরণ করেছেন; এর অর্থ হলো, আরবরা স্বভাবগতভাবে কুরআনের মোকাবিলা করতে বা এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম ছিল না, বরং আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ হিসেবে তাদের সংকল্পকে বিমুখ করে দিয়েছিলেন, তাদের জিহ্বাকে রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন এবং তাদের সক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি আপনাকে তা শিখিয়েছেন যা আপনি জানতেন না এবং আপনার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ অতি মহান} (আন-নিসা: ১১৩)। এটিই ফিরোজাবাদী (বাসাইরু যাওয়িত তামীয) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এই বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করেছেন যে, এটি একটি প্রত্যাখ্যাত ও অসন্তোষজনক মত।

আর সারফাহ হলো: কোনো আরব ব্যক্তি কুরআনের রচনারীতির অনুরূপ কিছু করতে সক্ষম ছিল, কিন্তু আল্লাহ তাকে এক প্রকার বিমুখীকরণের মাধ্যমে তা থেকে ফিরিয়ে রেখেছিলেন অথবা এক প্রকার বাধার মাধ্যমে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে তাকে বাধা দিয়েছিলেন, অথবা সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে তার সংকল্প বা প্রেরণাকে সংকুচিত করা হয়েছিল; যাতে আল্লাহ যা প্রমাণ করতে চেয়েছেন তা পূর্ণতা পায় এবং হুজ্জত বা দলিল কায়েম করার যে উদ্দেশ্য তাঁর ছিল তা অর্জিত হয়। অথবা এটি হলো এই যে, আল্লাহ জাতিসমূহের অন্তরকে এর বিরোধিতা করা থেকে বিমুখ করে দিয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
المقتضى التام، أو سلبهم القدرة المعتادة في مثله سلبًا عامًّا مثل قوله تعالى لزكريا عليه السلام: {آيَتُكَ أَلَاّ تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلَاثَ لَيَالٍ سَوِيًّا} (مريم: 10)، فإن زكريا عليه السلام لم يكن مريضًا ولا به علة تمنعه من الكلام، إلا أن الله سبحانه وتعالى جعل عدم كلامه آية وعلامة على البشارة التي بُشر بها عليه السلام، وهذا الذي ذكره في معنى الصرفة شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله.

طبعًا هذا القول الذي قيل من أن الله سبحانه وتعالى صرفهم عن أن يقولوا مثل القرآن مع إمكانيتهم أن يقولوا مثله- هذا القول باطل فاسد مردود من وجوه عدة:

اتفق أهل العلم على رفض هذا القول، وأسهبوا في بيان بطلانه، واحتجوا لذلك بأدلة منها:

أولًا: لو كانت المسألة بالصرف والمنع لم يكن هناك داعٍ لأن يكون القرآن على هذا النظام العجيب، وأن يظهر فيه من الفصاحة هذا النصيب العالي، بل يظفر من الفصاحة بأوفى نصيب.

ثانيًا: أنهم لو كانوا مصروفين لم يكن من قبلهم من العرب مصروفين؛ لأنهم لم يُتحدوا به، ولم نعثر في تراث العرب على ما يُشابه القرآن.

ثالثًا: أنه لو كانت المعارضة ممكنة لولا الصرف لما كان القرآن معجزًا؛ لكون الإعجاز في المنع، ليس في القرآن؛ فإذًا لا يتضمن القرآن في نفسه فضيلة على غيره، ولا أمكن من جاء بعد زمن التحدي معارضته.

رابعًا: لو كان الإعجاز بالصرفة لما استعظم العرب بلاغة القرآن وتعجبوا من حسن فصاحته، كما أُثر عن الوليد ابن المغيرة وقصته المشهورة عند سماعه
পূর্ণ আবশ্যকতা, অথবা তাদের মতো লোকদের সাধারণ ক্ষমতাকে সাধারণভাবে হরণ করা, যেমন মহান আল্লাহ যাকারিয়া আলাইহিস সালামকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: {তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও টানা তিন দিন মানুষের সাথে কথা বলবে না} (মারইয়াম: ১০)। কেননা যাকারিয়া আলাইহিস সালাম অসুস্থ ছিলেন না এবং তাঁর এমন কোনো শারীরিক ত্রুটি ছিল না যা তাঁকে কথা বলা থেকে বিরত রাখতে পারত, কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কথা না বলাকে তাঁকে দেওয়া সুসংবাদের একটি নিদর্শন ও চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। আর 'সারফাহ' (বিমুখ করা)-এর অর্থে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ যা উল্লেখ করেছেন তা হলো এটি।

স্বাভাবিকভাবে, এই যে কথাটি বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ আরবদের কুরআনের মতো কিছু তৈরি করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা থেকে তাদের বিমুখ করে দিয়েছিলেন—এই কথাটি বিভিন্ন দিক থেকে বাতিল, ভ্রান্ত এবং প্রত্যাখ্যানযোগ্য:

আলেমগণ এই মতবাদটি প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং এর অসারতা বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁরা যে সকল দলীল পেশ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: বিষয়টি যদি কেবল বিমুখ করা এবং বাধা দেওয়ার মাধ্যমে হতো, তবে কুরআন এমন বিস্ময়কর পদ্ধতিতে হওয়ার এবং এতে অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন উচ্চতর মান প্রকাশ পাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না, বরং এতে অলঙ্কারশাস্ত্রের সর্বোচ্চ মান অর্জিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: যদি তাদের বিমুখ করা হয়ে থাকে, তবে তাদের পূর্ববর্তী আরবরা তো বিমুখ ছিল না; কারণ তাদের তো চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। অথচ আমরা আরবের ঐতিহ্যে কুরআনের সদৃশ কোনো কিছুই পাইনি।

তৃতীয়ত: যদি বিমুখ করা ছাড়া এর মোকাবিলা করা সম্ভব হতো, তবে কুরআন মুজিযা (অলৌকিক) হিসেবে গণ্য হতো না; কারণ তখন অলৌকিকত্ব থাকতো কেবল বাধা দেওয়ার মধ্যে, কুরআনের মধ্যে নয়। এমতাবস্থায় কুরআন নিজের মাঝে অন্য কিছুর তুলনায় কোনো শ্রেষ্ঠত্ব বহন করত না এবং চ্যালেঞ্জের সময়ের পরে যারা এসেছে, তাদের পক্ষেও এর মোকাবিলা করা সম্ভব হতো না।

চতুর্থত: অলৌকিকত্ব যদি কেবল বিমুখ করার মাধ্যমেই হতো, তবে আরবরা কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রকে এত বিশাল মনে করত না এবং এর চমৎকার বাগ্মিতায় বিস্মিত হতো না, যেমনটি ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং এটি শোনার সময়কার তার সেই বিখ্যাত কাহিনী।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
القرآن، وعندما سئل عن رأيه فيه، فقال: "إن أعلاه لمورق وإن أسفله لمغدق، وإنا له لطلاوة وإن عليه لحلاوة"، والقصة المشهورة من غيرهم عندما كانوا يتسللون لسماع القرآن انبهارًا ببلاغته وبجمال قوله -صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم، عندما كان يتلو آيات ربه، فلو كانت المسألة بالصرفة لما استعظم العرب بلاغة القرآن، وتعجبوا من حسنها وفصاحتها.

خامسًا: أن العجز يشمل الإنس والجن، والقول بالصرفة يُدخل رسولنا الكريم صلى الله عليه وسلم فيه، وهذا يعني أن النبوة أوجبت أن يُمنع النبي صلى الله عليه وسلم شطرًا من بيانه وفصاحته، وهو أفصح العرب؛ هو بذلك لا يستطيع أن يقول مثل القرآن، وأنه صلى الله عليه وسلم عندما تلا عليهم قوله تعالى: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ} (الإسراء: 88) تلا عليهم هذه الآية وتحداهم مع استطاعته أن يأتي بمثل القرآن، لولا أن الله صرفه عن ذلك، إلا أن يقولوا تبجحًا وجهالة: إنه -صلوات الله وسلامه عليه- كان دونهم في الفصاحة.

ويرد هذا القول إن قيل -عياذا بالله-: أنه صلى الله عليه وسلم أفصح العرب، ولا يشك في ذلك عربيٌّ سمع كلامه -صلوات الله وسلامه عليه-؛ بمعنى أن النبي صلى الله عليه وسلم أفصح العرب، لغته وفصاحته أقل من فصاحة القرآن الكريم، لو كانوا يستطيعون ذلك -العرب لو كانوا يستطيعون أن يعارضوا القرآن- وصرفت عنه قرائحهم، لقالوا للرسول صلى الله عليه وسلم: ما لنا قد نقصنا في قرائحنا وقد حدث كلول في أذهاننا، بسبب سحرك الذي سحرته لنا؛ إن آية التحدي تدل على فساد هذا القول؛ فهي نص في عدم استطاعتهم، لا في الحول بينهم وبين فعل ذلك: {لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ} فالله سبحانه وتعالى نص على أنهم لا يستطيعون أن يأتوا بمثله، وليست الآية في أنهم حيل بينهم وبين أن يأتوا بمثل القرآن.
আল কুরআন সম্পর্কে; যখন তাঁকে এ বিষয়ে তাঁর মতামত জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই এর উপরিভাগ পত্রপল্লবে সুশোভিত এবং এর নিম্নভাগ প্রাচুর্যপূর্ণ; এতে রয়েছে এক বিশেষ মাধুর্য এবং এর ওপর রয়েছে অনন্য মিষ্টতা।" এছাড়া অন্যদের সেই প্রসিদ্ধ ঘটনাও রয়েছে যখন তারা কুরআনের অলঙ্কার ও তাঁর—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—কথার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তা শোনার জন্য গোপনে ওত পেতে থাকত, যখন তিনি তাঁর রবের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করতেন। সুতরাং বিষয়টি যদি কেবল 'সারফাহ' (মানুষের সক্ষমতা সরিয়ে নেওয়া) হতো, তবে আরবরা কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রে অভিভূত হতো না এবং এর সৌন্দর্য ও প্রাঞ্জলতায় বিস্ময় প্রকাশ করত না।

পঞ্চমতঃ এই অক্ষমতা মানুষ এবং জিন উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর 'সারফাহ' এর মতবাদ আমাদের সম্মানিত রাসূল—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—কেও এর অন্তর্ভুক্ত করে ফেলে। এর অর্থ দাঁড়ায় এই যে, নবুওয়াত এমন এক অবস্থার দাবি করে যাতে নবী—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—কে তাঁর বর্ণনাশৈলী ও প্রাঞ্জলতার একাংশ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, অথচ তিনি ছিলেন আরবদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাঞ্জলভাষী। এর মাধ্যমে তিনি কুরআনের মতো কিছু বলতে অক্ষম হয়ে পড়েন। আর যখন তিনি—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—তাদের সামনে মহান আল্লাহর বাণী তিলাওয়াত করেছিলেন: {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না} (আল-ইসরা: ৮৮), তিনি তাদের সামনে এই আয়াত পাঠ করেছিলেন এবং তাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, অথচ তিনি নিজে কুরআনের মতো কিছু আনতে সক্ষম হতেন যদি না আল্লাহ তাঁকে তা থেকে বিরত রাখতেন। অবশ্য যদি তারা ঔদ্ধত্য ও অজ্ঞতাবশত এ কথা না বলে যে, তিনি—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—প্রাঞ্জলতায় তাদের চেয়ে নিম্নস্তরের ছিলেন।

এই মতবাদটি খণ্ডন করা হয় যদি বলা হয়—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—যে, তিনি—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—ছিলেন আরবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রাঞ্জলভাষী। কোনো আরব ব্যক্তি যে তাঁর—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—কথা শুনেছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করে না। অর্থাৎ নবী—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—আরবদের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধভাষী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ভাষা ও প্রাঞ্জলতা পবিত্র কুরআনের প্রাঞ্জলতার চেয়ে কম ছিল। যদি আরবরা কুরআনের মোকাবিলা করতে সক্ষম হতো এবং তাদের মেধা তা থেকে সরিয়ে নেওয়া হতো, তবে তারা রাসূল—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—কে বলত: "আমাদের কী হয়েছে যে আমাদের মেধা কমে গেছে এবং আপনার করা জাদুর কারণে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিতে জড়তা চলে এসেছে?" চ্যালেঞ্জের আয়াতটি এই মতবাদের অসারতা প্রমাণ করে। এটি মূলত তাদের অক্ষমতার বিষয়ে স্পষ্ট দলিল, এটি তাদের ও সেই কাজের মাঝে কোনো বাধা সৃষ্টির বিষয় নয়: {তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না}। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে তারা এর অনুরূপ আনতে সক্ষম নয়; আয়াতটি এটি বোঝায় না যে তাদের এবং কুরআনের অনুরূপ কিছু আনার মাঝে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وأخيرًا إن لجوءهم إلى السيف في محاربة النبي صلى الله عليه وسلم وإلى سيادة منطق القوة واضطهاد النبي صلى الله عليه وسلم وأتباعه؛ دليلٌ قاطع على عجزهم عن القول، وإلا فالتحدي واضح، فالنبي صلى الله عليه وسلم أثار قرائحهم، والنبي صلى الله عليه وسلم سفّه آلهتهم، وعاب أحلامهم، وبيّن سفههم، وواجههم بما لو كانوا يستطيعون أن يردوه لردوا، ولو كانوا يستطيعون أن يقولوا مثل القرآن لقالوا، أما قولهم: {لَوْ نَشَاء لَقُلْنَا مِثْلَ هَذَا إِنْ هَذَا إِلَاّ أَسَاطِيرُ الأوَّلِين} فذلك يدل على رغبتهم في الرد، فلما عجزوا لفصاحة القرآن ونظمه على غير مثال كلامهم اكتفوا بالادعاء، وهذه عادة من لا يستطيع أن يفعل شيئًا، فيقول: أستطيع أن أفعل، فيدعي، عندما يعلم عجزه يكتفي بأن يتكلم، فالقول بالصرفة بمعنى أن الله سبحانه وتعالى صرفهم عن ذلك هذا قول فاسد، واهتم الباقلاني ببيان فساده واهتم كذلك عبد القادر الجرجاني ببيان فساده، وما قلته هو ملخص ما ذكره الإمامان في هذه المسألة.

ثالثًا: ننتقل إلى النقطة الثالثة في الصرفة:

وهى فهم آخر للصرفة، ليس بالمعنى الذي ذكرنا، معنى آخر للصرفة، هذا المعنى قبله أهل العلم الثقات ورضوا به، هذا المعنى يتركز في الآتي:

بمنتهى البساطة كما يقال أن معنى الصرفة الذي ذكر لا يليق بشخص مثل النظام، هذا النظام يعني يروى أنه بدأ شاعرًا وانتهى متكلمًا، وأنه كان على درجة عالية من الفصاحة والبيان، وأنه في مواقف كثيرة له يذب ويدافع عن فصاحة القرآن وعن بلاغة القرآن، فكيف يخرج من النظام فهم مثل هذا الفهم الذي قيل من أن الله صرفهم عن القرآن قهرًا، وأن الله سبحانه وتعالى جعلهم لا يقولون مثل القرآن؛ فلذلك رفض أهل التحقيق مثل الدكتور محمد محمد أبو موسى والدكتور محمد
পরিশেষে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের তরবারির আশ্রয় গ্রহণ এবং শক্তির যুক্তির প্রাধান্য ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর অনুসারীদের ওপর নির্যাতনের পথ বেছে নেওয়া; তাদের প্রতিউত্তর প্রদানের অক্ষমতার এক অকাট্য প্রমাণ। অন্যথায়, চ্যালেঞ্জটি তো স্পষ্ট ছিল। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মেধা ও প্রতিভাকে উদ্দীপ্ত করেছিলেন, তিনি তাদের উপাস্যদের তুচ্ছজ্ঞান করেছিলেন, তাদের বিচারবুদ্ধিকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়েছিলেন, তাদের নির্বুদ্ধিতা স্পষ্ট করেছিলেন এবং তাদের এমন সব বাস্তবতার মুখোমুখি করেছিলেন যা খণ্ডন করার ক্ষমতা থাকলে তারা অবশ্যই করত। তারা যদি কুরআনের মতো কিছু বলতে সক্ষম হতো, তবে অবশ্যই বলত। আর তাদের এই উক্তি: "আমরা চাইলে এর মতো অবশ্যই বলতে পারতাম, এ তো কেবল পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ নয়"—তা কেবল তাদের উত্তর দেওয়ার আকাঙ্ক্ষাই প্রকাশ করে। কিন্তু কুরআনের সাবলীলতা ও তাদের প্রচলিত বাকরীতির ব্যতিক্রমধর্মী গদ্যশৈলীর সামনে যখন তারা অক্ষম হয়ে পড়ল, তখন তারা কেবল মৌখিক দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল। আর এটি এমন ব্যক্তির স্বভাব যে কিছু করতে পারে না, অথচ বলে: 'আমি করতে পারি' এবং দাবি করে; যখন সে নিজের অক্ষমতা বুঝতে পারে, তখন কেবল বাগাড়ম্বর করেই ক্ষান্ত হয়। সুতরাং 'সরফাহ' (বিমুখীকরণ) এর মতবাদ—অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদেরকে তা থেকে বিমুখ করে দিয়েছিলেন—এটি একটি ভ্রান্ত মত। ইমাম বাকিল্লানী এর অসারতা বর্ণনায় গুরুত্বারোপ করেছেন এবং একইভাবে আব্দুল কাদির জুরজানীও এর অসারতা প্রকাশে মনোনিবেশ করেছেন। আমি যা বলেছি তা এই বিষয়ে উক্ত দুই ইমামের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ।

তৃতীয়ত: আমরা সরফাহ সংক্রান্ত তৃতীয় পয়েন্টে যাচ্ছি:

আর তা হলো সরফাহ-এর অন্য এক অনুধাবন; এটি আমরা আগে যা উল্লেখ করেছি সেই অর্থে নয়, বরং সরফাহ-এর ভিন্ন এক অর্থ। নির্ভরযোগ্য আলেমগণ এই অর্থটি গ্রহণ করেছেন এবং এতে সন্তুষ্ট হয়েছেন। এই অর্থটি নিম্নোক্ত বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত:

অত্যন্ত সহজভাবে বলা যায় যে, সরফাহ-এর যে অর্থের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা নাজ্জামের মতো কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে মানানসই নয়। এই নাজ্জাম সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি কবি হিসেবে জীবন শুরু করেছিলেন এবং একজন মুতাকাল্লিম (ধর্মতাত্ত্বিক) হিসেবে শেষ করেছিলেন। তিনি উচ্চতর সাবলীলতা ও বাগ্মিতার অধিকারী ছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি কুরআনের সাবলীলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের পক্ষে প্রতিরক্ষা করেছেন। সুতরাং নাজ্জামের পক্ষ থেকে কীভাবে এমন একটি ধারণা আসতে পারে যা বলা হয়েছে—অর্থাৎ আল্লাহ তাদের জোরপূর্বক কুরআন থেকে বিমুখ করে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের কুরআনের মতো কিছু বলতে অক্ষম করে দিয়েছিলেন? এ কারণেই ড. মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু মুসা এবং ড. মুহাম্মদের মতো গবেষকগণ এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাযুল লুগাউয়ী ফিল কুরআনিল কারীম - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৮)
رجب بيومي رفضا أن يكونا هذا الفهم هو فهم النظام أو هذا القول هو كلام النظام لأسباب؛ منها ألا فصاحة هذا الرجل وأنه على درجة عالية من الفصاحة، فلا يليق منه أن يخرج هذا الكلام، وثانيًا أنه قال هذا الكلام إن قيل على معنى آخر ليس بمعنى أن الله صرفهم قهرًا.

كيف فسر هذان العالمان الجليلان القول بالصرفة؟

قال الدكتور محمد رجب بيومي: الصرفة عن المعارضة بمعنى أن العرب حين دُهشوا من روعة القرآن وبهرهم تأثيره بما فوق القدرة؛ انصرفوا تلقائيّا عن معارضته؛ لأنهم علموا أنهم مهما حاولوا هذه المعارضة وجمعوا لها أساطين القول من بلغائهم المعدودين فلن يأتوا بسورة من مثله، فكانت الصرفة عن المعارضة التي توقعوا استحالتها- هي وجه الإعجاز الذي عناه النظام.

وشبها المسألة بالمهندس الذي يشيد بناءً رائعًا، وهذا المهندس هو عبقري في عمله فيأتي بزملائه ويقول لهم: اصنعوا بناءً مثل الذي صنعته، فيعترفون بعجزهم عن صناعة مثل هذا اعترافًا منهم بأن هذا البناء لا يستطيعون أن يفعلوا مثله، فهذا معنى الصرفة الذي فهمه والذي ذكره الدكتور محمد رجب بيومي واستحسنه، ويقول: إن هذا المعنى هو الذي يليق بالنظام.

أيضًا الدكتور أبو موسى، رأى هذا المعنى واستدل عليه بأشياء منها فصاحة وبلاغة النظّام تُنافيان عدم إدراكه الفرق الفائت بين القرآن وكلام الناس، ومنها
রজব বাইউমি এই উপলব্ধিটি নাজ্জামের উপলব্ধি অথবা এই উক্তিটি নাজ্জামের কথা হতে পারে বলে তা অস্বীকার করেছেন বেশ কিছু কারণে। তার মধ্যে একটি হলো এই ব্যক্তির সাবলীলতা এবং এটি যে তিনি উচ্চস্তরের বাকপটুত্বের অধিকারী ছিলেন; তাই তাঁর পক্ষ থেকে এমন কথা প্রকাশ পাওয়া সমীচীন নয়। দ্বিতীয়ত, যদি এই কথাটি বলা হয়ে থাকে তবে তা অন্য কোনো অর্থে বলা হয়েছে, এই অর্থে নয় যে আল্লাহ তাদের জোরপূর্বক নিবৃত্ত করেছেন।

এই দুই মহান আলেম 'সরফা'র (নিবৃত্তকরণ) উক্তিটিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেছেন?

ডক্টর মুহাম্মদ রজব বাইউমি বলেছেন: চ্যালেঞ্জ থেকে নিবৃত্ত হওয়া বা 'সরফা'র অর্থ হলো, আরবরা যখন কুরআনের চমৎকারিত্বে বিস্মিত হয়েছিল এবং মানুষের সক্ষমতার ঊর্ধ্বে এর প্রভাব তাদের বিমুগ্ধ করেছিল, তখন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এর মোকাবিলা করা থেকে নিবৃত্ত হয়েছিল। কারণ তারা জানত যে, তারা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যতই চেষ্টা করুক না কেন এবং তাদের গণ্যমান্য সুদক্ষ বাগ্মীদের একত্রিত করুক না কেন, তারা এর মতো একটি সূরা আনতেও সক্ষম হবে না। সুতরাং চ্যালেঞ্জ বা মোকাবিলা থেকে নিবৃত্ত হওয়া—যার অসম্ভবতা তারা আগে থেকেই অনুমান করেছিল—সেটিই ছিল অলৌকিকত্বের (ইজায) সেই দিক, যা নাজ্জাম বুঝাতে চেয়েছেন।

তারা বিষয়টি এমন একজন প্রকৌশলীর সাথে তুলনা করেছেন যিনি একটি চমৎকার ইমারত নির্মাণ করেছেন। এই প্রকৌশলী তার কাজে অত্যন্ত মেধাবী; তিনি তার সহকর্মীদের ডেকে বললেন: "আমি যা নির্মাণ করেছি তার মতো একটি ইমারত নির্মাণ করো"। তখন তারা এটি নির্মাণে তাদের অক্ষমতা স্বীকার করে নেয়—এই স্বীকৃতির মাধ্যমে যে তারা এ ধরনের ইমারত তৈরি করতে সক্ষম নয়। এটিই হলো 'সরফা' বা নিবৃত্তির সেই অর্থ যা ডক্টর মুহাম্মদ রজব বাইউমি বুঝেছেন এবং উল্লেখ করেছেন ও পছন্দ করেছেন। তিনি বলেন: এই অর্থটিই নাজ্জামের মর্যাদার সাথে মানানসই।

অনুরূপভাবে ডক্টর আবু মুসাও এই অর্থটি গ্রহণ করেছেন এবং এর সপক্ষে বেশ কিছু প্রমাণ পেশ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে নাজ্জামের সাবলীলতা ও বাগ্মিতা, যা কুরআন ও মানুষের কথার মধ্যকার বিশাল ব্যবধান অনুধাবন করতে না পারার বিষয়টির সাথে সাংঘর্ষিক। আর সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—