(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: -)
موضوعات خطبة الجمعة   (عبد الرحمن بن معلا اللويحق)

القسم: كتب عامة


الكتاب: موضوعات خطبة الجمعة

المؤلف: عبد الرحمن بن معلا اللويحق

الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1419هـ

عدد الصفحات: 120

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জুমার খুতবার বিষয়সমূহ   (আবদুর রহমান বিন মুয়াল্লা আল-লুওয়াইহিক)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: জুমার খুতবার বিষয়সমূহ

লেখক: আবদুর রহমান বিন মুয়াল্লা আল-লুওয়াইহিক

প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২০

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইয়ের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌[مقدمة]

موضوعات خطبة الجمعة إعداد الشيخ عبد الرحمن بن معلى اللويحق

بسم الله الرحمن الرحيم
[ভূমিকা]

জুমুআর খুতবার বিষয়সমূহ, উপস্থাপনায় শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে মুআল্লা আল-লুওয়াইহিক

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ৩)
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده: أما بعد:

إن لخطبة الجمعة - لو قَدرت قدرها - أثرًا وخطرًا عظيما فبها يِمكن أن تحدث تبدلات وَتحولات في الأمة، وعن طريقها يمكن أن يصلح فئام من الناس، إذ الشارع الحكيم لا يِشرع أمرًا إلا لحكم وغايات، ومقاصد وأهداف، بيد أن العباد ببعدهم عن الالتزام بالشرع يفوتون على أنفسهم تحقيق تلك المصالح.

وإذا أريد لخطبة الجمعة أن تقع موقعها، وتؤثر الأثر المنشود فلابد من الاهتمام بأمور أولاها بالعناية موضوع الخطبة فهو روحها، فكم من خطيب بليغ، متوقد العاطفة، يتكلم بضروب من الكلام لا يِستفاد منها، لأنه لم يعتن بموضوعها.

وقد كان حقيقًا بأهل العلم أن يتدارسوا ويؤصلوا قواعد وضوابط ما يقال في خطبة الجمعة، ويجعلوا ذلك في سياق عام لدراسة كل ما يخص الأئمة والخطباء والمسجد.

وقد جعلت هذا البحث في مبحثين وخاتمة.
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:

নিশ্চয়ই জুমার খুতবার—যদি একে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হতো—রয়েছে এক মহান প্রভাব ও গুরুত্ব। এর মাধ্যমেই উম্মাহর মাঝে নানা পরিবর্তন ও রূপান্তর ঘটা সম্ভব এবং এর মাধ্যমেই একদল মানুষের সংশোধন সম্ভব। কেননা প্রজ্ঞাময় বিধানদাতা হিকমত, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে কোনো বিধান দেননি; তবে বান্দারা শরিয়ত পালনে বিমুখ হওয়ার কারণে নিজেদের সেই কল্যাণসমূহ অর্জনে ব্যর্থ হয়।

যদি জুমার খুতবাকে তার যথার্থ স্থানে আসীন করতে হয় এবং কাঙ্ক্ষিত প্রভাব সৃষ্টি করতে হয়, তবে এমন কিছু বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব প্রদান অপরিহার্য যার মধ্যে খুতবার বিষয়বস্তুই সর্বাগ্রে যত্নের দাবি রাখে; কারণ এটিই খুতবার প্রাণ। কতই না বাগ্মী ও আবেগপ্রবণ খতিব রয়েছেন যারা নানা প্রসঙ্গের অবতারণা করেন যা থেকে কোনো উপকার লাভ করা যায় না, কারণ তিনি খুতবার বিষয়বস্তুর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি।

আলেম সমাজের (أهل العلم) জন্য এটিই সঙ্গত ছিল যে তারা জুমার খুতবায় যা বলা হয় তার মূলনীতি (قواعد) ও বিধিবিধান (ضوابط) নিয়ে পর্যালোচনা করবেন ও ভিত্তি স্থাপন করবেন এবং ইমাম, খতিব ও মসজিদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়কে একটি সাধারণ গবেষণার প্রেক্ষাপটে নিয়ে আসবেন।

আমি এই গবেষণাটি (بحث) দুটি পরিচ্ছেদ (مبحثين) ও একটি উপসংহারে (خاتمة) বিন্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ৪)
المبحث الأول عنوانه: سيِاق الخطبة وأجزاؤها وفيه تسعة مطالب:

المطلب الأول: السلام.

المطلب الثاني: الحمد والثناء.

المطلب الثالث: الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم والشهادة له بالرسالة.

المطلب الرابع: الوصية بتقوى الله تعالى.

المطلب الخامس: قراءة القرآن الكريم في الخطبة.

المطلب السادس: الدعاء.

المطلب السابع: كلام الخطيب مع الناس.

المطلب الثامن: التَرتيب والموالاة بين أجزاء الخطبة.

المطلب التاسع: ترجيحات لبعض العلماء في حكم أجزاء الخطبةَ.

والمبحث الثاني وعنوانه: ضوابط وقواعد لموضوعات خطبة الجمعة، وفيه عشرة مطالب.

المطلب الأول: حسن اختيار الموضوع.

المطلب الثاني: حسن الإعداد.
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول), এর শিরোনাম: খুতবার ধারাক্রম ও এর অংশসমূহ; এতে নয়টি উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب) রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: সালাম।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ এবং তাঁর রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান।

চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহ তাআলার তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ।

পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: খুতবায় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত।

ষষ্ঠ উপ-পরিচ্ছেদ: দোয়া।

সপ্তম উপ-পরিচ্ছেদ: জনগণের সাথে খতিবের কথোপকথন।

অষ্টম উপ-পরিচ্ছেদ: খুতবার অংশসমূহের মধ্যে ধারাবাহিকতা (الترتيب) ও অনুক্রম (الموالاة)।

নবম উপ-পরিচ্ছেদ: খুতবার অংশসমূহের বিধান (حكم) প্রসঙ্গে কতিপয় আলেমের প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতসমূহ (ترجيحات)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني), এবং এর শিরোনাম: জুমার খুতবার বিষয়বস্তুর নীতিমালা (ضوابط) ও নিয়মাবলি (قواعد); এতে দশটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: বিষয়বস্তুর উত্তম নির্বাচন।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: উত্তম প্রস্তুতি।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ৫)
المطلب الثالث: وحدة الموضوع وترابطه.

المطلب الرابع: تخفيف الخطبة وتَقصيرها.

المطلب الخامس: مراعاة القدرة.

المطلب السادس: مراعاة الأحوال.

المطلب السابع: حسن النقد وجمال النصح.

المطلب الثامن: الموازنة ببن المتقابلات.

المطلب التاسع: التثبتَ.

المطلب العاشر: معالجة مشكلات الأمة.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিষয়ের ঐক্য ও পারস্পরিক যোগসূত্র।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: খুতবা সহজীকরণ ও সংক্ষিপ্তকরণ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সক্ষমতার বিবেচনা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: পরিস্থিতির বিবেচনা।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: চমৎকার সমালোচনা ও উত্তম নসিহত।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: বৈপরীত্যের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা।

নবম পরিচ্ছেদ: যাচাই-বাছাই বা সত্যতা নিশ্চিতকরণ (التثبت)।

দশম পরিচ্ছেদ: উম্মাহর সমস্যাবলির সমাধান।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌[المبحث الأول سياق الخطبة وأجزاؤها]

‌‌[المطلب الأول السلام]

المبحث الأول

سياق الخطبة وأجزاؤها المطلب الأول

السلام سلام الخطيب على الناس قبل الخطبة: يشرع لكل داخل على قوم أن يسلم بتحية الإسلام: " السلام عليكم ورحمة الله وبركاتَه " وهذا من الأخلاق الحميدةَ التي دعا إليها الإسلام، يقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} [النور: 27] (1) ويقول سبحانه: {فَإِذَا دَخَلْتُمْ بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} [النور: 61] (2) .

والخطيبِ يدخل المسجد يوم الجمعةَ والناس فيِه يِنتظرون، فكان مشروعًا له أن يسلم عليهم، ولعلماء الأمة وفقهائها كلام في حكم السلام ومحله أجمله فيما يلي:

--------------------------------------------

(1) سورة النور آية 27.

(2) سورة النور آية 61.
[প্রথম পরিচ্ছেদ: খুতবার প্রেক্ষাপট ও এর অংশসমূহ]

[প্রথম অনুচ্ছেদ: সালাম]

প্রথম পরিচ্ছেদ

খুতবার প্রেক্ষাপট ও এর অংশসমূহ, প্রথম অনুচ্ছেদ

সালাম: খুতবার পূর্বে জনগণের প্রতি খতিবের সালাম প্রদান: কোনো জনসমষ্টির নিকট প্রবেশকারী প্রত্যেকের জন্য ইসলামের অভিবাদন তথা সালাম প্রদান করা বিধানসম্মত (مشروع): "আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক"। এটি সেই উত্তম চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত যার প্রতি ইসলাম আহ্বান জানিয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কোনো ঘরে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি গ্রহণ করো এবং ঘরের অধিবাসীদের সালাম দাও। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।} [আন-নূর: ২৭] (১)। মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: {অতঃপর যখন তোমরা ঘরে প্রবেশ করবে, তখন তোমরা একে অপরকে সালাম করবে; যা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বরকতময় ও পবিত্র অভিবাদন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যেন তোমরা বুঝতে পারো।} [আন-নূর: ৬১] (২)।

খতিব জুমার দিনে মসজিদে প্রবেশ করেন যখন মানুষ সেখানে অপেক্ষা করতে থাকে, তাই তার জন্য তখন তাদের প্রতি সালাম প্রদান করা বিধানসম্মত (مشروع)। উম্মতের আলেম ও ফকিহগণের (فقهاء) নিকট সালামের বিধান (حكم) এবং এর সঠিক ক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে, যা আমি নিম্নে সংক্ষেপে তুলে ধরছি:

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর, আয়াত: ২৭।

(২) সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬১।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ৭)
1 - الخلاف في حكم السلام: اختلف الفقهاء في حكم سلام الخطيب على قوليِن: -

القَول الأول: مشروعية سلام الخطيب على من في المسجد وبهذا القول قال المالكية (1) والشافعيِة (2) والحنابلة (3) .

- القَول الثَاني: إن سلام الخطيب على من في المسجد لا يجوز، وهذا قول الحنفيةَ، بل إنهم جعلوا ترك السلام من خروج الخطيب إلى الناس إلى دخوله في الصلاة سنة (4) .

الأدلة:

أدلة القول الأول: استدل أصحاب هذا القول بجملة من الأحاديث الدالة على مشروعيِة سلام الخطيب منها:

- عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: «كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا صعد المنبر سَلّم» (5) .

--------------------------------------------

(1) ينظر: الدردير، الشرح الكبير والعدوي، حاشيته على الخرشي 2 / 82.

(2) ينظر: النووي، روضة الطالبين 2 / 31، والشربيني، ومغني المحتاج 1 / 289.

(3) ينظر البهوتي، كشاف القناع 2 / 35، والمرداوي، الإنصاف 2 / 395.

(4) ينظر الحصفكي، الدر المختار 2 / 150 مع حاشية ابن عابدين.

(5) رواه ابن ماجة في السنن1 / 352، والبيهقي في السنن الكبرى 3 / 204، والبغوي في شرح السنة 4 / 242.
১ - সালামের বিধান সংক্রান্ত মতপার্থক্য: খতিবের সালাম প্রদানের বিধান সম্পর্কে ফকিহগণ (فقهاء) দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন: -

প্রথম মত: মসজিদে উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রতি খতিবের সালাম দেওয়া শরয়িভাবে অনুমোদিত (مشروعية)। মালিকি (১), শাফিয়ি (২) এবং হাম্বলি (৩) মাযহাবের ইমামগণ এই মত পোষণ করেছেন।

- দ্বিতীয় মত: মসজিদে উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রতি খতিবের সালাম দেওয়া বৈধ নয়। এটি হানাফি মাযহাবের অভিমত। বরং তারা খতিব বের হয়ে জনগণের সামনে আসা থেকে শুরু করে নামাজে প্রবেশ করা পর্যন্ত সালাম বর্জন করাকে সুন্নাত (سنة) হিসেবে গণ্য করেছেন (৪)।

দলিলসমূহ:

প্রথম মতের দলিলসমূহ: এই মতের প্রবক্তারা খতিবের সালাম প্রদানের বৈধতা (مشروعية) নির্দেশক একগুচ্ছ হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

- জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মিম্বরে আরোহণ করতেন, তখন সালাম দিতেন» (৫)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদ-দারদির, আশ-শারহুল কাবির এবং আল-আদওয়ি, হাশিয়াতু আলাল খারশি ২/৮২।

(২) দেখুন: আন-নববি, রওজাতুত তালিবিন ২/৩১; এবং আশ-শারবিনি, মুগনি আল-মুহতাজ ১/২৮৯।

(৩) দেখুন: আল-বাহুতি, কাশশাফুল কিনা ২/৩৫; এবং আল-মারদাউয়ি, আল-ইনসাফ ২/৩৯৫।

(৪) দেখুন: আল-হাসফাকি, আদ-দুররুল মুখতার ২/১৫০, ইবনে আবিদিনের টিকা (حاشية) সহ।

(৫) এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ সুনান ১/৩৫২ গ্রন্থে, বাইহাকি আস-সুনানুল কুবরা ৩/২০৪ গ্রন্থে এবং বাগাউয়ি শারহুস সুন্নাহ ৪/২৪২ গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ৮)
- وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دنا من منبره يوم الجمعة سلّم على من عنده من الجلوس، فإذا صعد المنبر استقبل الناس بوجهه ثم سلّم» (1) .

- عن ابن جريج عن عطاء: «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا صعد المنبر أقبل بوجهه على الناس فقال: السلام عليكم» (2) .

- عن الشعبي قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا صعد المنبر يوم الجمعة استقبل الناس بوجهه فقال: السلام عليكم، ويحمد الله ويثني عليه، ويقرأ سورة ثم يجلس ثم يقوم فيخطب ثم ينزل وكان أبو بكر وعمر يفعلانه» (3) .

أدلة القول الثاني: لم أجد لأصحاب القول الثاني أدلة.

2 - الخلاف في محل السلام: اختلف القائلون بمشروعية تسليم الخطيب يوم الجمعة على الناس في محل ذلك السلام على قولين: -

القول الأول: إن الإمام يسلم حال دخوله المسجد ثم يسلّم حين يصعد المنبر ويستقبل الناس بوجهه، وهذا قول الشافعية (4) والحنابلة (5) .

--------------------------------------------

(1) رواه البيهقي 3 م 205.

(2) رواه عبد الرزاق في المصنف 3 / 192.

(3) رواه ابن أبى شيبة في المصنف1 / 449 وعبد الرزاق في المصنف 393.

(4) انظر النووي: روضة الطالبين 2 / 31، والشربيني، مغني المحتاج 1 / 389.

(5) ينظر: البهوتي، كشف القناع 2 / 35، والمرداوي، والإنصاف2 / 395 - 396.
- এবং ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার দিন যখন তাঁর মিম্বরের নিকটবর্তী হতেন, তখন তাঁর পাশে উপবিষ্ট ব্যক্তিদের সালাম দিতেন। অতঃপর যখন মিম্বরে আরোহণ করতেন, তখন মানুষের দিকে মুখ ফিরিয়ে পুনরায় সালাম দিতেন» (১)।

- ইবনে জুরাইজ থেকে আতা সূত্রে বর্ণিত: «নবী (সা.) যখন মিম্বরে আরোহণ করতেন, তখন মানুষের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলতেন: আসসালামু আলাইকুম» (২)।

- শাবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার দিন যখন মিম্বরে আরোহণ করতেন, তখন মানুষের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলতেন: আসসালামু আলাইকুম। এরপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করতেন এবং একটি সূরা পাঠ করতেন। অতঃপর বসতেন, পুনরায় দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন এবং তারপর মিম্বর থেকে অবতরণ করতেন। আবু বকর ও উমর (রা.)-ও এরূপ করতেন» (৩)।

দ্বিতীয় মতের দলীলসমূহ: আমি দ্বিতীয় মতাবলম্বীদের স্বপক্ষে কোনো দলীল খুঁজে পাইনি।

২ - সালাম প্রদানের স্থান নিয়ে মতভেদ: জুমার দিন খতিব কর্তৃক জনগণকে সালাম প্রদানের বৈধতা বিষয়ে প্রবক্তাগণ উক্ত সালাম প্রদানের স্থান সম্পর্কে দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন: -

প্রথম মত: ইমাম মসজিদে প্রবেশের সময় সালাম দেবেন এবং যখন মিম্বরে আরোহণ করে মানুষের অভিমুখী হবেন তখন পুনরায় সালাম দেবেন। এটি শাফেয়ি (৪) এবং হাম্বলি (৫) মাযহাবের অভিমত।

--------------------------------------------

(১) বাইহাকি এটি বর্ণনা করেছেন, ৩ খণ্ড, ২০৫ পৃষ্ঠা।

(২) আব্দুর রাজ্জাক এটি মুসান্নাফ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ৩ / ১৯২।

(৩) ইবনে আবি শাইবা এটি মুসান্নাফ গ্রন্থে ১ / ৪৪৯ এবং আব্দুর রাজ্জাক মুসান্নাফ গ্রন্থে ৩৯৩ বর্ণনা করেছেন।

(৪) দেখুন আন-নববী: রওজাতুত তালিবিন ২ / ৩১, এবং আশ-শিরবিনী: মুগনী আল-মুহতাজ ১ / ৩৮৯।

(৫) দেখুন: আল-বাহুতি: কাশশাফুল কিনা ২ / ৩৫, এবং আল-মারদাউয়ি: আল-ইনসাফ ২ / ৩৯৫ - ৩৯৬।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ৯)
ففي المغني قال ابن قدامة: "ويِستحب للإمام إذا خرج أن يسلّم على الناس ثم إذا صعد المنبر فاستقبل الحاضرين سلّم عليهم (1) .

القول الثاني: إنه يسلّم حال الدخول على الناس ويكره له التسلِيم إذا صعد المنبر، وهذا قول المالكية (2) .

جاء في المدونة قول ابن القاسم: (وسألت مالكًا إذا صعد الإمام على المنبر يوم الجمعة هل يسلّم على الناس، قال: لا، وأنكر ذلك) (3) .

وفى شرح منح الجليل: (و) ندب (سلام الخطيب) على الجماعة الذين في المسجد (لخروجه) على الناس للخطبة أي عنده وإن كان السلام في ذاته سنة ورده فرض كفاية، (لا) يِندب سلامه عند انتهاء (صعوده) أي الخطيب على المنبر فيكره، ولا يجب رده، لأنه معدوم شرعًا وهو كالمعدوم حساً) (4) .

الأدلة:

أدلة القَول الأول: استَدل القائل بمشروعية السلام في الحالِين بجملة أدلة هي: -

--------------------------------------------

(1) ابن قدامة، المعني 3 / 161.

(2) ينظر: محمد عليشِ، شرح منح الجليل 1 / 263، والخرشي على مختصر خليل 2.

(3) الإمام مالك، المدونة الكبرى1 / 150.

(4) محمد عليش: شرح الجليل 1 / 263.
'আল-মুগনি' গ্রন্থে ইবনু কুদামা বলেন: "ইমাম যখন বের হন, তখন তাঁর জন্য লোকজনকে সালাম দেওয়া মুস্তাহাব (مستحب), তারপর যখন তিনি মিম্বারে আরোহণ করেন এবং উপস্থিতদের অভিমুখী হন, তখন তিনি তাঁদের সালাম দেবেন (১)।

দ্বিতীয় মত: তিনি লোকজনের সামনে প্রবেশের সময় সালাম দেবেন এবং মিম্বারে আরোহণের পর তাঁর সালাম দেওয়া মাকরূহ (مكروه); আর এটি মালিকি মাযহাবের অভিমত (২)।

'আল-মুদাওওয়ানাহ' গ্রন্থে ইবনুল কাসিমের উক্তি এসেছে: (আমি মালিককে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, জুমার দিন ইমাম যখন মিম্বারে আরোহণ করেন, তিনি কি লোকজনকে সালাম দেবেন? তিনি বললেন: না, এবং তিনি এটিকে অপছন্দ করেছেন) (৩)।

'শারহু মিনাহিল জলিল' গ্রন্থে রয়েছে: (এবং) মুস্তাহাব (ندب) হলো (খতিবের সালাম) মসজিদে উপস্থিত জামাআতের প্রতি (তাঁর বের হওয়ার সময়) খুতবার জন্য লোকজনের সামনে আসার প্রাক্কালে; যদিও সালাম দেওয়া মূলত সুন্নাহ (سنة) এবং তার উত্তর দেওয়া ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)। তবে (না) মিম্বারে (আরোহণ) সমাপ্ত করার সময় খতিবের সালাম দেওয়া মুস্তাহাব নয়, বরং তা মাকরূহ (مكروه); এবং এর উত্তর দেওয়া ওয়াজিব (واجب) নয়, কারণ শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি অস্তিত্বহীন এবং তা ইন্দ্রিয়গতভাবেও অস্তিত্বহীনের মতো (৪)।

দলিলসমূহ:

প্রথম মতের দলিলসমূহ: উভয় অবস্থায় সালাম প্রদানের বৈধতার (مشروعية) প্রবক্তারা একদল দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন, যেগুলো হলো:-

--------------------------------------------

(১) ইবনু কুদামা, আল-মুগনি ৩ / ১৬১।

(২) দেখুন: মুহাম্মদ আলিশ, শারহু মিনাহিল জলিল ১ / ২৬৩ এবং মুখতাসারু খলিলের ওপর আল-খারশি ২।

(৩) ইমাম মালিক, আল-মুদাওওয়ানাতুল কুবরা ১ / ১৫০।

(৪) মুহাম্মদ আলিশ: শারহুল জলিল ১ / ২৬৩।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১০)
1 - حديثِ جابر السابقَ ذكره.

2 - حديث ابن عمر السابق ذكره.

3 - مرسل الشعبي السابق ذكره.

وعللوا تكرار السلام بعد صعوده المنبر: أن الخطيب إذا صعد المنبر استدبر الناس في صعوده فكان مشروعًا له أن يسلم عليهم مرة أخرى إذا استقبلهم (1) .

تعليل القول الثاني: يعلل المالكية لقولهم بكراهة التسليم الثاني بعدم قيام الدليل عليه، ففي حاشية العدوي: " لأنه لم يرد ذلك في شيء من الروايِات الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم وإنما هو شيء محدث" (2) .

والراجح من هذه الأقوال مشروعية السلام وتكراره في الحالين لما يلي:

1 - عمومات الأدلة الدالة على مشروعية سلام الداخل.

2 - الأدلة النصية المذكورة في سلام النبي صلي الله عليه وسلم على الناس.

3 - أن الخطيب عند خول المسجد يسلّم على من حوله بينما هو بعد صعوده يسلّم على الحاضرين كلهم.

--------------------------------------------

(1) ينظر: النووي، المجموع 4 / 526.

(2) العدوي: حاشية العدوي على الخرشي 8212.
1 - জাবির (রা.)-এর বর্ণিত পূর্বোল্লিখিত হাদিস।

2 - ইবনে উমর (রা.)-এর বর্ণিত পূর্বোল্লিখিত হাদিস।

3 - ইমাম শাবি-র বর্ণিত পূর্বোল্লিখিত বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা।

মিম্বারে আরোহণের পর সালামের পুনরাবৃত্তির কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন যে: খতিব যখন মিম্বারে আরোহণ করেন, তখন আরোহণের সময় তিনি উপস্থিতদের দিকে পিঠ দিয়ে থাকেন; তাই তিনি যখন তাদের মুখোমুখি হন, তখন তাদের প্রতি পুনরায় সালাম প্রদান করা তার জন্য বিধিবদ্ধ (مشروع) হয় (১)।

দ্বিতীয় মতের কারণ: মালিকি মযহাবের অনুসারীরা দ্বিতীয়বার সালাম প্রদান অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার সপক্ষে কোনো দলিল (دليل) না থাকাকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। হাশিয়াতুল আদুবি-তে বলা হয়েছে: "কেননা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো প্রমাণিত (ثابتة) বর্ণনায় এটি পাওয়া যায়নি, বরং এটি একটি নব-উদ্ভাবিত বিষয় (محدث)" (২)।

এই মতগুলোর মধ্যে অগ্রগণ্য (راجح) হলো উভয় অবস্থাতেই সালাম প্রদান এবং তার পুনরাবৃত্তি বিধিবদ্ধ (مشروع) হওয়া; যার কারণগুলো নিম্নরূপ:

1 - কোনো স্থানে প্রবেশকারীর সালাম প্রদানের বৈধতা নির্দেশক সাধারণ দলিলসমূহের (الأدلة) ব্যাপকতা।

2 - মানুষের প্রতি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাম প্রদানের বিষয়ে বর্ণিত সুনির্দিষ্ট দলিলসমূহ।

3 - খতিব যখন মসজিদে প্রবেশ করেন তখন তিনি তার আশেপাশে অবস্থানকারীদের সালাম দেন, আর মিম্বারে আরোহণের পর তিনি উপস্থিত সকল মুসল্লিকে সালাম প্রদান করেন।

--------------------------------------------

(1) দ্রষ্টব্য: নববি, আল-মাজমু ৪/৫২৬।

(2) আল-আদুবি: হাশিয়াতুল আদুবি আলাল খুরশি ৮২১২।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌[المطلب الثاني الحمد والثناء]

المطلب الثاني

الحمد والثناء دلت أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم المنقول فيها خطبه على أنه كان يبدأ بالحمد والثناء على الله سبحانه وتعالى، فمن ذلك:

عن جابر بن عبد اللَه رضي الله عنهما قال: " كانت خطبة النبي صلى الله عليه وسلم يِوم الجمعة يحمد اللَه ويثني عليه ثم يِقول على إثر ذلك وقد علا صوته واشتد غضبه حتى كأنه منذر جيش يقول: صبحكم ومساكم ( «بعثت أنا والساعة كهاتين ويقرن بين إصبعية السبابة والوسطى» ) (1) .

وفي لفظ عنه أنه قال: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب الناس، ويحمد الله ويثني عليه بما هو أهله ثم يقول: «من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وخير الحديث كتاب الله» (2) .

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم في الصحيح (767) في الجمعة باب تخفيف الصلاة والخطبة، والنسائي (8813 1 - 189) في العيدين باب الخطبة، وابن ماجة في السنن 1 / 17 وابن خزيمة في الصحيح 3 / 143.

(2) رواه مسلم (868) في الجمعة - باب تخفيف الصلاة والخطبة.
‌[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-হামদ ও আস-সানা (আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান)]

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

আল-হামদ ও আস-সানা (আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণিত খুতবা সংবলিত হাদিসসমূহ এই প্রমাণ বহন করে যে, তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা কীর্তনের মাধ্যমে বক্তব্য শুরু করতেন। এর কিছু উদাহরণ নিম্নরূপ:

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "জুমার দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবার রীতি ছিল এই যে, তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করতেন। এরপর তাঁর কণ্ঠস্বর উচ্চ হতো এবং ক্রোধ তীব্র হতো, যেন তিনি কোনো সেনাদলকে সতর্ক করছেন। তিনি বলতেন: 'শত্রু সৈন্য তোমাদের সকালে বা সন্ধ্যায় আক্রমণ করতে পারে।' (তিনি আরও বলতেন:) 'আমি এবং কিয়ামত এই দুটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি'—একথা বলে তিনি নিজের তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলদ্বয় একত্রিত করতেন।" (১)।

তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য একটি পাঠে এসেছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করতেন। তিনি আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করতেন, অতঃপর বলতেন: 'আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আর সর্বোত্তম বাণী (হাদিস) হলো আল্লাহর কিতাব'।" (২)।

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম তাঁর সহীহ (৭৬৭) গ্রন্থে জুমার অধ্যায়ে, নামাজ ও খুতবা সংক্ষিপ্তকরণ পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন; নাসায়ি (৮৮১৩ ১ - ১৮৯) ঈদায়ন অধ্যায়ে খুতবা পরিচ্ছেদে; ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান ১/১৭ এবং ইবনে খুজাইমাহ তাঁর সহীহ ৩/১৪৩ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি মুসলিম (৮৬৮) জুমার অধ্যায়ে—নামাজ ও খুতবা সংক্ষিপ্তকরণ পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১২)
وما روي عن الحكم بن حزن الكلفي قال: «وفدت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم سابع سبعة أو تاسع تسعة، فدخلت عليِه، فقلت: يا رسول الله، زرناك فادع لنا بخير، فأمر بنا أو أمر لنا بشيء من التمر والشأن إذ ذاك دون، فأقمنا بها أيامًا شهدنا فيها الجمعة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فقام متوكئًا على عصى أو قوس، فحمد الله وأثنى عليه كلمات خفِيفات طيباتَ مباركات، ثم قال» : «أيها الناس إنكم لن تطيقوا، أو لن تفعلوا كل ما أمرتم به، ولكن سددوا وأبشروا» (1) .

وقد كان الواصفون لخطبة الرسول صلى الله عليه وسلم يذكرون سياق الخطبة بقولهم: ثم قال بعد الحمد لله والثناء.

وقد ساق البخاري جملة من تلك الأحاديِث في صحيحه: كتاب الجمعة، باب من قال في الخطبةَ بعد الثناء: أما بعد، فذكر حديث أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنهما في ذكر الكسوف قالت: «فخطب الناس وحمد الله بما هو أهله ثم قال: أما بعد. . .» الحديث (2) .

--------------------------------------------

(1) رواد أبو داود 1 / 287 رقم 1096، كتاب الصلاة، باب الرجل يخطب على قوس.

(2) رواه البخاري كتاب الجمعة باب من قال في الخطبة بعد الثناء: أما بعد (402) .
আল-হাকাম ইবনে হাযন আল-কুলাফী থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে, তিনি বলেন: «আমি সাতজনের সপ্তম অথবা নয়জনের নবম ব্যক্তি হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রতিনিধি হয়ে আসলাম। আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছি, তাই আমাদের জন্য কল্যাণের দোয়া করুন। এরপর তিনি আমাদের জন্য কিছু খেজুর দেওয়ার নির্দেশ দিলেন—অথচ তৎকালীন পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। আমরা সেখানে বেশ কয়েকদিন অবস্থান করলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জুমার নামাজে উপস্থিত হলাম। তিনি একটি লাঠি অথবা ধনুকের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, পবিত্র ও বরকতময় বাক্যে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করলেন। তারপর তিনি বললেন:» «“হে লোকসকল! তোমাদেরকে যা কিছুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার সবকিছু পালনে তোমরা সক্ষম হবে না—কিংবা তোমরা তা করবে না; তবে তোমরা সঠিক পথে অবিচল থাকো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো”» (১)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুতবার বর্ণনাকারীরা খুতবার বর্ণনাপ্রবাহ উল্লেখ করতে গিয়ে বলতেন: আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করার পর তিনি বললেন...।

ইমাম বুখারী তাঁর সহিহ বুখারী গ্রন্থের ‘জুমার অধ্যায়’-এর ‘খুতবায় প্রশংসার পর ‘আম্মা বাদ’ (অতঃপর) বলা’ পরিচ্ছেদে এ জাতীয় একগুচ্ছ হাদিস উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে আসমা বিনতে আবি বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেছেন: «অতঃপর তিনি মানুষের উদ্দেশে খুতবা দিলেন এবং আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন, এরপর বললেন: আম্মা বাদ (অতঃপর)...» হাদিস (২)।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ ১/২৮৭, নং ১০৯৬, কিতাবুস সালাত, ধনুকের ওপর ভর দিয়ে খুতবা দেওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

(২) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন, জুমার অধ্যায়, খুতবায় প্রশংসার পর ‘আম্মা বাদ’ বলা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ (৪০২)।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وذكر حديث عمرو بن تغلب في قصة المال الذي وزع على الناس فأعطى النبي صلى الله عليه وسلم رجالًا وترك رجالًا فبلغه أن الذين ترك عتبوا، قال: «فحمد الله ثم أثنى عليه ثم ساق الحديث» ، وذكر أحاديث أخرى في خطبة عليه الصلاة والسلام يدل على أنه لم يترك التحميد والتهليل والثناء على الله عز وجل بما هو أهله صدر كل خطبه من خطبه الجمعة وغيرها (1) .

بل إن الأمر ورد بالحمد والثناء في الخطبة، فقال عليه الصلاة والسلام في حديث أبى هريرة رضي الله عنه: «كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه بالحمد لله أبتر» (2) . وفي رواية (أقطع) وفي رواية (أجذم) وفي الحديث «كل خطبة ليس فيها شهادة كاليد الجذ ماء» ) (3) .

وهذه الأحاديث دالة على مشروعية الحمد والثناء والتَشهد، ولكن العلماء اختلفوا في درجة هذه المشروعية.

ففي المذهب الحنفي: يختلف القول في ذلك.

--------------------------------------------

(1) انظر هذه الأحاديث في البخاري كتاب الجمعة باب من قال في الخطبة بعد الثناء أما بعد (452) .

(2) الحديث رواه أبو داود باب الهدي في الكلام من كتاب الأدب (2 / 560) بلفظ أجذم، وابن ماجة في كتاب النكاح باب في خطبة النكاح (1 / 160) وأحمد في المسند (2 / 259) .

(3) أخرجه الإمام أحمد في المسند 2 / 302 تحقيق أحمد شاكر وأبو داود 13 / 185 مع عون المعبود والبخاري في التاريخ الكبير 4 / 229 وابن حبان في موارد الضمان ص 152، 489، والترمذي في سننه 2 / 179، وقال: حديث حسن غريب، والبيهقي والسنن 3 / 209.
আমর ইবনে তাগলিব (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সেই সম্পদের বণ্টন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু লোককে প্রদান করেন এবং কিছু লোককে দেননি। যখন তিনি জানতে পারলেন যে, যাদের দেওয়া হয়নি তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে, তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা (الحمد) এবং গুণগান (الثناء) করলেন এবং পূর্ণ হাদিসটি বর্ণনা করলেন। এছাড়াও তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুতবা সংক্রান্ত আরও অন্যান্য হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে তিনি জুমুয়াহ এবং অন্যান্য খুতবার শুরুতে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা (التحميد), তাহলিল (التهليل) এবং গুণগান (الثناء) পরিহার করতেন না (১)।

বরং খুতবার মধ্যে প্রশংসা (الحمد) ও গুণগানের (الثناء) আদেশ বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে বলেন: «প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা (الحمد لله) দ্বারা শুরু হয় না, তা লেজকাটা বা বরকতহীন (أبتر)» (২)। অন্য বর্ণনায় আছে «বিচ্ছিন্ন (أقطع)» এবং অন্য বর্ণনায় আছে «কুষ্ঠরোগীর হাত সদৃশ বা খণ্ডিত (أجذم)»। অন্য একটি হাদিসে এসেছে: «যে খুতবায় সাক্ষ্য বা তাশাহহুদ (شهادة) নেই, তা অবশ বা কর্তিত (الجذماء) হাতের ন্যায়» (৩)।

এই হাদিসগুলো প্রশংসা (الحمد), গুণগান (الثناء) এবং তাশাহহুদ (التشهد)-এর বিধানসম্মত হওয়ার (مشروعية) ওপর দলিল। তবে ওলামায়ে কেরাম এই বিধানের (مشروعية) স্তর সম্পর্কে মতভেদ করেছেন।

হানাফি মাজহাবে (المذهب) এ বিষয়ে বিভিন্ন অভিমত রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: এই হাদিসগুলো বুখারি, কিতাবুল জুমুয়াহ, অনুচ্ছেদ: প্রশংসার পর খুতবায় 'আম্মা বাদ' বলা (৪৫২)।

(2) হাদিসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল আদাব-এর 'কথোপকথনে হেদায়াত' অনুচ্ছেদে (২/৫৬০), সেখানে 'অজজম (أجذম)' শব্দ রয়েছে। ইবনে মাজাহ, কিতাবুন নিকাহ, 'নিকাহের খুতবা' অনুচ্ছেদে (১/১৬০) এবং আহমাদ মুসনাদে (২/২৫৯) এটি বর্ণনা করেছেন।

(3) এটি ইমাম আহমাদ মুসনাদে (২/৩০২) বর্ণনা করেছেন আহমদ শাকিরের তাহকিকসহ; আবু দাউদ (১৩/১৮৫) আউনুল মাবুদ-এর সাথে; বুখারি আত-তারিখুল কাবিরে (৪/২২৯); ইবনে হিব্বান মাওয়ারিদুজ জামআনে (পৃ. ১৫২, ৪৮৯); তিরমিজি তাঁর সুনানে (২/১৭৯) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) গরিব (غريب) হাদিস; এবং বায়হাকি সুনানে (৩/২০৯) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৪)
فعند الإمام أبي حنيفة الحمد سنة، فلو حمد أو هلل أو سبح كفاه ذلك وأما عند أبي يوسف ومحمد فالتَحميِد واجب (1) .

ففي المبسوط: " وإذا خطب بتسبيحة واحدة أو بتهليل أو بتحميد أجزأه في قول أبي حنيفة، وقال أبو يوسف ومحمد - رحمهما اللَه تعالى: (لا يجزؤه حتى يكون كلامًا يسمى خطبة) (2) وفي تبيين الحقائق (وقال أبو يوسف ومحمد لابد من ذكر طويل يسمى خطبةَ وأقله قدر التشهد إلى قوله (عبده ورسوله) يثني بها على الله تعالى ويصلي على النبي صلى الله عليه وسلم ويِدعو للمسلمين) (3) .

وعند المالكية: يختلف القول أيضا، فالمشهور من المذهب أنه مندوب، ففي حاشية الدسوقي: (وعلى المشهور فكل من الحمد والصلاة على النبي والقرآن مستحب) (4) وقال بعضهم إنه شرط لصحة الخطبة فقد نقل في حاشية الدسوقي عن بعض العلماء المالكية قولهم (أقل الخطبة حمد الله والصلاة والسلام على

--------------------------------------------

(1) انظر السرخسي، المبسوط 2 / 30 والزيلعي، وتبين الحقائق 1 / 220.

(2) السرخسي، المبسوط 2 / 30.

(3) الزيلعي تبين الحقائق 1 / 220.

(4) الدسوقي، الحاشية 1 / 378.
ইমাম আবু হানিফার মতে হামদ পাঠ করা সুন্নাহ (سنة)। যদি তিনি হামদ করেন কিংবা তহলিল করেন অথবা তাসবিহ পাঠ করেন তবে তার জন্য তা যথেষ্ট হবে। আর আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদের মতে তাহমিদ পাঠ করা ওয়াজিব (واجب) (১)।

আল-মাবসুত গ্রন্থে রয়েছে: "যদি খতিব একটি তাসবিহ অথবা একটি তহলিল অথবা একটি তাহমিদ দ্বারা খুতবা প্রদান করেন তবে তা ইমাম আবু হানিফার মতানুসারে যথেষ্ট হবে। আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন) বলেছেন: (তা যথেষ্ট হবে না যতক্ষণ না তা এমন কোনো কথা হয় যাকে খুতবা বলা যায়) (২)। আর তাবয়িনুল হাকায়েক গ্রন্থে রয়েছে: (আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ বলেন, এমন দীর্ঘ জিকির হওয়া আবশ্যক যাকে খুতবা বলা যায়; আর তার সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো তাশাহহুদ-এর 'আবদুহু ওয়া রাসুলুহু' পর্যন্ত বলার সমপরিমাণ, যার মাধ্যমে তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা করবেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করবেন এবং মুসলিমদের জন্য দোয়া করবেন) (৩)।

মালিকি মাজহাবেও এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। মাযহাবের প্রসিদ্ধ (المشهور) মত অনুযায়ী এটি মানদুব (مندوب)। হাশিয়া আদ-দাসুকি-তে রয়েছে: (প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী হামদ, নবীর ওপর দরুদ এবং কুরআন পাঠের প্রত্যেকটিই মুস্তাহাব (مستحب)) (৪)। এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে এটি খুতবা সহিহ (صحة) হওয়ার জন্য শর্ত (شرط)। হাশিয়া আদ-দাসুকি-তে মালিকি মাযহাবের জনৈক আলিম থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যে, (খুতবার সর্বনিম্ন স্তর হলো আল্লাহর হামদ এবং সালাত ও সালাম...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সারাখসি, আল-মাবসুত ২/৩০ এবং যায়লায়ি, তাবয়িনুল হাকায়েক ১/২২০।

(২) সারাখসি, আল-মাবসুত ২/৩০।

(৩) যায়লায়ি, তাবয়িনুল হাকায়েক ১/২২০।

(৪) দাসুকি, আল-হাশিয়া ১/৩৭৮।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৫)
النبي صلى الله عليه وسلم وتحذير وتبشير وقرآن) . وقال: (إن ذلك مقابل المشهور في المذهب وهو القول بأن الحمد مندوب) (1) .

وجعل الشافعيةَ التحميد ركنا وبعضهم يسميه فرضا.

ففي المذهب: " وفرضها أربعة أشياء أحدها: أن يحمد الله تعالى (2) .

وفي روضة الطالبين: " وأركان الخطبةَ خمسة أحدها: يحمد الله تَعالى، ويتعيِن لفظ الحمد (3) .

ومنهم من قال إنه شرط لصحة الخطبة وهو قول الحنابلةَ (4) ففي كشاف القناع: "ومن شرط صحة كل منهما أي الخطبتين. . . (حمد الله) بلفظ الحمد لله فلا يجزئ غيره لحدثِ أبي هريرة مرفوعا (كل كلام لا يبدأ فيه بالحمد دنَه فهو أجذم) رواه أبو داود، ورواه جماعة مرسلا وروى أبو داود عن ابن مسعود قال: (كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا تشهد قال: الحمد لله) (5) .

--------------------------------------------

(1) الدسوقي: الحاشية 1 378 وينظر أيضا الدردير، الشرح الصغر 1 / 499، والخطاب، مواهب الجليل 2 / 165 ومحمد عليش، شرح منح الخليل 3 256 - 261.

(2) نقلا عن النووي، المجموع 4 / 516.

(3) النووي، روضة الطالبين 2 / 24 وينظر الرملي نهاية المحتاج 2 / 300 والشربيني، مغني المحتاج 1 م 285.

(4) ينظر ابن قدامة، المغني 3 / 173 والمرداوي، والإنصاف 2 / 387 وابن مفلح المبدع 2 / 285.

(5) البهوتي، كشاف القناع 1 / 285.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সতর্কবাণী, সুসংবাদ এবং কুরআন)। এবং তিনি বলেন: "এটি মাযহাবের প্রসিদ্ধ (المشهور) মতের বিপরীতে, আর সেই মতটি হলো 'হামদ' পাঠ করা মুস্তাহাব (مندوب)।" (১)।

শাফেয়ীগণ 'তাহমিদ' (আল্লাহর প্রশংসা) পাঠ করাকে রুকন (ركن) সাব্যস্ত করেছেন এবং তাদের কেউ কেউ একে ফরজ (فرض) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মাযহাবে বর্ণিত হয়েছে: "এর (খুতবার) ফরজ (فرض) চারটি, যার একটি হলো: আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করা (২)।

রওজাতুত তালিবীন গ্রন্থে আছে: "খুতবার রুকন (أركان)সমূহ পাঁচটি, যার একটি হলো: আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করা এবং 'হামদ' শব্দটি উচ্চারণ করা নির্ধারিত (৩)।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে এটি খুতবা সহীহ (صحة) হওয়ার জন্য শর্ত (شرط), আর এটি হাম্বলীগণের অভিমত (৪)। কাশশাফুল কিনা গ্রন্থে আছে: "উভয় খুতবা সহীহ (صحة) হওয়ার শর্ত (شرط) সমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো... 'আলহামদুলিল্লাহ' শব্দযোগে আল্লাহর প্রশংসা করা। অন্য কোনো শব্দ দ্বারা এটি যথেষ্ট হবে না। এর কারণ হলো আবু হুরায়রা কর্তৃক বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিস: (যে কথা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা বা বরকতহীন)। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং একদল বর্ণনাকারী এটি মুরসাল (مرسلا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা পাঠ করতেন, তখন বলতেন: আলহামদুলিল্লাহ) (৫)।

--------------------------------------------

(১) আদ-দুসুকি: আল-হাশিয়াহ ১/৩৭৮; আরও দেখুন আদ-দারদীর, আশ-শারহুস সাগীর ১/৪৯৯; আল-হাত্তাব, মাওয়াহিবুল জলীল ২/১৬৫; এবং মুহাম্মদ আলিশ, শারহু মানহিল জলীল ৩/২৫৬-২৬১।

(২) আন-নববী, আল-মাজমু ৪/৫১৬ থেকে উদ্ধৃত।

(৩) আন-নববী, রওজাতুত তালিবীন ২/২৪; আরও দেখুন আর-রামলি, নিহায়াতুল মুহতাজ ২/৩০০ এবং আশ-শিরবিনী, মুগনী আল-মুহতাজ ১/২৮৫।

(৪) দেখুন ইবনে কুদামাহ, আল-মুগনী ৩/১৭৩; আল-মারদাউয়ি, আল-ইনসাফ ২/৩৮৭ এবং ইবনে মুফলিহ, আল-মুবদি ২/২৮৫।

(৫) আল-বিহুতী, কাশশাফুল কিনা ১/২৮৫।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وظاهر من هذه الأقوال أنه ليس أحد من العلماء إلا ويجد التحميد وما يتبعه من التشهد مشروعاُ في الخطبة وإن كانوا اختلفوا في درجة المشروعية.

وأما صيغة الحمد فقد أوجب العلماء صيغة الحمد دون غيرها من صيغ التعظيم والثناء ففي مغني المحتاج: "ولفظهما أي: الحمد والصلاة، متعين للاتباع، ولأنه الذي مضى عليه الناس في عصر النبي صلى الله عليه وسلم إلى عصرنا، فلا يجزئ الشكر والثناء، ولا إله إلا الله، ولا العظمة والجلال والمدح نحو ذلك، ولا يتعين لفظ الحمد بل يجزئه بحمد الله أو أحمد الله أو لله الحمد أو الله أحمد" (1) .

وفي الإنصاف: "ومن شرط صحتهما حمد الله بلا نزاع فيقول: الحمد لله بهذا اللفظ قطع به الأصحاب منهم المجد في شرحه وابن تيمية وابن حمدان وغيرهم قال في النكث: لم أجد فيه خالفاً (2) .

--------------------------------------------

(1) لشرير، معي المحتاج 1 / 285.

(2) المرداوي، الإنصاف 2 / 287.
এই সকল বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, আলেমগণের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি খুতবার মাঝে আল্লাহর প্রশংসা (تحميد) এবং এর অনুবর্তী তাশাহহুদকে (تشهد) শরিয়তসম্মত (مشروع) মনে করেন না, যদিও তাঁরা এর বৈধতার পর্যায়ের (درجة المشروعية) ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

আর হামদ পাঠের শব্দের ব্যাপারে আলেমগণ অন্যান্য সম্মানসূচক (تعظيم) ও প্রশংসামূলক (ثناء) শব্দের পরিবর্তে 'হামদ' শব্দ ব্যবহার করাকেই আবশ্যক (أوجب) করেছেন। মুগনি আল-মুহতাজ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: "হামদ ও সালাত (দরুদ)—এই দুটির শব্দমালা অনুসরণের (اتباع) জন্য নির্ধারিত (متعين); কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত মানুষ এর ওপরই অবিচল রয়েছে। সুতরাং কৃতজ্ঞতা (شكر), প্রশংসা (ثناء), 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', কিংবা মহিমা (عظمة), মর্যাদা (جلال), গুণগান (مدح) এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ দ্বারা তা যথেষ্ট (جزأ) হবে না। তবে কেবল 'হামদ' শব্দটিই সুনির্দিষ্ট নয়, বরং 'বিহামদিল্লাহ', 'আহমাদুল্লাহ', 'লিল্লাহিল হামদ' কিংবা 'আল্লাহু আহমাদ' দ্বারাও তা আদায় হয়ে যাবে (يجزئ)।" (১)

আল-ইনসাফ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "এই দুটির শুদ্ধতার শর্তাবলির (شرط صحة) অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো প্রকার বিবাদ (نزاع) ছাড়াই আল্লাহর প্রশংসা করা। সুতরাং তিনি 'আলহামদুলিল্লাহ' শব্দেই তা পাঠ করবেন—এ বিষয়টি একদল ফকিহ নিশ্চিতভাবে (قطع) ব্যক্ত করেছেন, যাঁদের মধ্যে আল-মাজদ তাঁর শারহ গ্রন্থে, ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনে হামদান এবং আরও অনেকে রয়েছেন। 'আন-নুকাত' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমি এ বিষয়ে কোনো ভিন্নমত পাইনি।" (২)

--------------------------------------------

(১) আল-শিরবিনি, মুগনি আল-মুহতাজ ১ / ২৮৫।

(২) আল-মারদাউয়ি, আল-ইনসাফ ২ / ২৮৭।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌[المطلب الثالث الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم والشهادة له بالرسالة]

المطلب الثالث

الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم والشهادة له بالرسالة لقد رفع الله ذكر نبيه محمد صلى الله عليه وسلم فما من عبادة تفتقر إلى ذكر الله عز وجل كالأذان إلا كان مشروعًا أن يذكر فيها النبي صلى الله عليه وسلم يقول تَعالى: {ورفعنا لك ذكرك} [الشرح: 4] (1) .

وقد أمر الله عز وجل عباده بالصلاة على نبيه فقال: {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [الأحزاب: 56] (2) .

والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم ، وإن كانت مشروعة بكل حال إلا أن مشروعيتها تتأكد يوم الجمعة.

فعن أوس بن أوس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: « (من أفضل أيامكم يِوم الجمعة فيه خلق آدم وفيه قبض وفيه النفخة وفيِه الصعقة فأكثروا عليَّ من الصلاة فيه، فإن صلاتكم معروضة علي. . .) » (3) .

--------------------------------------------

(1) سورة الشرح آية 4.

(2) سورة الأحزاب آية 56.

(3) رواه أحمد 4 / 8 وأبو داود 3 / 370 والنسائي 3 / 91 والدارمي1 / 369 وابن خزيمة 3 / 118.
‌[তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি দরুদ পাঠ এবং তাঁর রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান]

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি দরুদ পাঠ এবং তাঁর রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্মরণকে সমুন্নত করেছেন। আযানের মতো এমন কোনো ইবাদত নেই যা আল্লাহ তাআলার যিকিরের মুখাপেক্ষী, অথচ তাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উল্লেখ বিধিবদ্ধ (مشروع) নয়। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং আমি আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি} [আশ-শারহ: ৪] (১)।

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর নবীর প্রতি দরুদ পাঠের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো} [আল-আহযাব: ৫৬] (২)।

নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি দরুদ পাঠ যদিও সর্বাবস্থায় বিধিবদ্ধ (مشروع), তবে জুমার দিন এর বিধানটি অধিক গুরুত্বের সাথে তাগিদ করা হয়েছে।

আউস ইবনে আউস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: « (তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো জুমার দিন; এই দিনেই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছে, এই দিনেই শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এই দিনেই কিয়ামতের বিকট শব্দ হবে। অতএব তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের দরুদ আমার নিকট পেশ করা হয়...) » (৩)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আশ-শারহ, আয়াত ৪।

(২) সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৫৬।

(৩) বর্ণনা করেছেন আহমদ ৪/৮, আবু দাউদ ৩/৩৭০, নাসায়ি ৩/৯১, দারেমি ১/৩৬৯ এবং ইবনে খুযাইমা ৩/১১৮।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد اختلف فقهاء المذاهب في حكم الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم فذهب أبو حنيفةَ إلى القول بسنية الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم في الخطبةَ، وهذا القول هو المشهور في المذهب المالكي.

جاء في بدائع الصنائع: وأما سنن الخطبة فمنها. . ويصلي على النبي صلى الله عليه وسلم (1) .

وقال الدردير في الشرح الكبير: " وندب ثناء على اللَه وصلاة على نبيه (2) . وذهب الشافعية إلى أنه فرض أو ركن، ففي مغني المحتاج في بيِان أركان الخطبة: والثاني الصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم " (3) .

والمذهب عن الحنابلة أن الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم في الخطبة شرط ففي الإنصاف في بيان شروط الخطبة: (ومن شرط صحتها حمد الله. . . والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم : هذا المذهب وعليه أكثر الأصحاب. . . وقيل لا يشترط ذكره (4) .

--------------------------------------------

(1) الكاساني: بدائع الصنائع، 1 / 363 وينتظر أيضا عابدين، حاشيته 2 / 369، حاشيته2 / 149.

(2) الدردير، الشرح الكبير 1 / 873، وينتظر أيضا العدوي، حاشيته على الخرشي 2 / 78.

(3) الشربيني، مغني المحتاج 1 / 285.

(4) المرداوي، الإنصاف 2 / 387.
বিভিন্ন মাজহাবের ফকিহগণ খুতবায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠের বিধান সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা খুতবায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠকে সুন্নাত (سنية) হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন, আর মালিকি মাজহাবেও এটিই প্রসিদ্ধ অভিমত।

বাদায়েউস সানায়ে গ্রন্থে এসেছে: "আর খুতবার সুন্নাতসমূহ (سنن) এর অন্তর্ভুক্ত হলো... এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা (১)।"

ইমাম আদ-দারদীর আশ-শারহুল কাবীর গ্রন্থে বলেন: "আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর নবীর ওপর দরুদ পাঠ করা মুস্তাহাব (ندب) (২)। শাফেয়ীগণ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, এটি ফরজ (فرض) বা রুকন (ركن); মুগনী আল-মুহতাজ গ্রন্থে খুতবার রুকনসমূহের (أركان) বর্ণনায় বলা হয়েছে: দ্বিতীয়টি হলো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা" (৩)।

হাম্বলি মাজহাবের অভিমত হলো খুতবায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা শর্ত (شرط); আল-ইনসাফ গ্রন্থে খুতবার শর্তাবলির (شروط) বর্ণনায় বলা হয়েছে: (খুতবা সহিহ হওয়ার (صحة) শর্তাবলির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর প্রশংসা... এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা; এটিই মাজহাবের অভিমত এবং অধিকাংশ ফকিহ এর ওপরই রয়েছেন... কেউ কেউ বলেছেন এর উল্লেখ করা শর্ত (يشترط) নয় (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-কাসানি: বাদাায়েউস সানায়ে, ১/৩৬৩ এবং আরও দেখুন ইবনে আবিদিন, হাশিয়া ২/৩৬৯, হাশিয়া ২/১৪৯।

(২) আদ-দারদীর, আশ-শারহুল কাবীর ১/৮৭৩ এবং আরও দেখুন আল-আদওয়ি, হাশিয়া আলাল খরশি ২/৭৮।

(৩) আশ-শিরবিনি, মুগনী আল-মুহতাজ ১/২৮৫।

(৪) আল-মারদাওয়ি, আল-ইনসাফ ২/৩৮৭।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال ابن قدامة: "ويحتمل أن لا تجب الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم (1) .

الأدلة: ويستدل أصحاب الأقوال الثلاثة القائلون بالوجوب أو أنه شرط أو أنه ركن بجملة أدلة منها:

قوله سبحانه: {ورفعنا لك ذكرك} [الشرح: 4] (2) روي عن مجاهد في تفسير الآية أنه قال: (لا أذكر إلا ذكرت أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا رسول الله) .

قال ابن قدامة: وإذا وجب ذكر الله وجب ذكر النبي صلى الله عليه وسلم، لما روي في تفسير قوله تعالي: {ألم نشرح لك صدرك} [الشرح: 1] (3) . {ورفعنا لك ذكرك} [الشرح: 4] (4) . قال: (لا أذكر إلا ذكرت معي) ولأنه موضع وجب فيه ذكر الله تعالي والثناء عليه فوجبت فيه

--------------------------------------------

(1) ابن قدامة، المغني 3 م 174.

(2) سورة الشرح آية 4.

(3) سورة الشرح آية 1.

(4) سورة الشرح أية 4.
ইবনে কুদামা বলেছেন: "এবং এটিও সম্ভাব্য যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা ওয়াজিব (وجوب) হবে না (১)।

দলিলসমূহ: তিনটি মতের প্রবক্তাগণ যারা ওয়াজিব (وجوب), শর্ত (شرط) অথবা রুকন (ركن) হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন, তারা বেশ কিছু দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেন, যার মধ্যে রয়েছে:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {আর আমি আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি} [আশ-শারহ: ৪] (২)। এই আয়াতের তাফসিরে মুজাহিদ থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (আমাকে যখনই স্মরণ করা হবে, তখন আপনার কথাও উল্লেখ করা হবে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল)।

ইবনে কুদামা বলেন: যখন আল্লাহর জিকির ওয়াজিব (وجب) হয়, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জিকিরও ওয়াজিব (وجب) হয়ে যায়। কেননা আল্লাহ তাআলার বাণীর তাফসিরে বর্ণিত (روي) হয়েছে: {আমি কি আপনার বক্ষ প্রশস্ত করে দেইনি?} [আশ-শারহ: ১] (৩) এবং {আর আমি আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি} [আশ-শারহ: ৪] (৪)। তিনি বলেছেন: (আমাকে স্মরণ করা হলেই আমার সাথে আপনাকেও স্মরণ করা হবে)। আর যেহেতু এটি এমন একটি স্থান যেখানে মহান আল্লাহ তাআলার জিকির এবং তাঁর প্রশংসা করা ওয়াজিব (وجب), সেহেতু সেখানে [দরুদ পাঠ করাও ওয়াজিব]।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কুদামা, আল-মুগনি ৩ খণ্ড, ১৭৪ পৃষ্ঠা।

(২) সূরা আশ-শারহ, আয়াত ৪।

(৩) সূরা আশ-শারহ, আয়াত ১।

(৪) সূরা আশ-শারহ, আয়াত ৪।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২০)
الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم كالأذان والتشهد) ((1) .

وقال الشربيني: لأنها عبادة افتقرت إلى ذكر الله فافتقرت إلي ذكر رسول الله صلي الله عليه وسلم، كالأذان والصلاة) (2) .

وما روي عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: قال الله تعالي: «وجعلت أمتك لا تجوز عليهم خطبة حتى يشهدوا أنك عبدي ورسولي» (3) .

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما جلس قوم مجلسا لم يذكروا فيه ربهم ولم يصلوا على نبيهم صلى الله عليه وسلم إلا كان ترة عليهم يوم القيامة إن شاء أخذهم الله وإن شاء عفا عنهم) » (4) .

وأما الذين قالوا بعدم الوجوب أو الاشتراط فعللوا ذلك: بأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يذكر ذلك في خطبه، وعمالا بالأصل (5) .

--------------------------------------------

(1) ابن قدامة المغني 3 / 173 - 174.

(2) الشربيني، مغني المحتاج 1 / 285.

(3) رواه البيهقي في دلائل النبوة.

(4) سنن البيهقي 3 / 210 كتاب الجمعة باب يستدل له على وجوب ذكر النبي صلى الله عليه وسلم في الخطبة.

(5) ينظر البهوتي، كشاف القناع 2 / 32.
নবীর ওপর দরূদ পাঠ করা আযান এবং তাশাহহুদের মতো) ((১) .

আশ-শারবিনী বলেন: কারণ এটি এমন একটি ইবাদত যাতে আল্লাহর জিকিরের প্রয়োজন রয়েছে, তাই এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জিকিরেরও প্রয়োজন রয়েছে, যেমন আযান ও সালাত) (২) .

আর আবু হুরায়রা (রা.) থেকে যা বর্ণিত (رواه) হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: «আমি আপনার উম্মতের জন্য এমন বিধান করেছি যে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে আপনি আমার বান্দা এবং রাসূল, ততক্ষণ তাদের খুতবা বৈধ (تجوز) হবে না» (৩) .

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো সম্প্রদায় যখন কোনো মজলিসে বসে অথচ সেখানে তারা তাদের রবের জিকির করে না এবং তাদের নবীর ওপর দরূদ পাঠ করে না, তবে তা কিয়ামতের দিন তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হবে; আল্লাহ চাইলে তাদের শাস্তি দেবেন এবং চাইলে তাদের ক্ষমা করবেন» (৪) .

আর যারা আবশ্যকতা (وجوب) বা শর্তারোপ (اشتراط) না হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন, তারা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবাসমূহে তা উল্লেখ করেননি এবং মূলনীতির (أصل) ওপর আমল করার কারণে (৫) .

--------------------------------------------

(১) ইবনে কুদামা, আল-মুগনি ৩ / ১৭৩ - ১৭৪।

(২) আশ-শারবিনী, মুগনি আল-মুহতাজ ১ / ২৮৫।

(৩) এটি বায়হাকি দালািলুন নুবুওয়াহ গ্রন্থে বর্ণনা (رواه) করেছেন।

(৪) সুনান আল-বায়হাকি ৩ / ২১০, কিতাবুল জুমুআ, খুতবায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জিকিরের আবশ্যকতা (وجوب) বিষয়ক পরিচ্ছেদ (باب)।

(৫) দেখুন: আল-বাহুতি, কাশশাফ আল-কিনা ২ / ৩২।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২১)
قال ابن قدامة: (ويحتمل أن لا تجب الصلاةَ على النبي صلى الله عليه وسلم، لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يذكر ذلك في خطبه، وعملا بالأصل) (1) .

صيغة الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم: وأما صيغةَ الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، فقد قال العلماء: إنها متعينة، ففي مغني المحَتاج " ولفظهما أي الحمد والصلاة متعين للاتباع، ولأنه الذي مضى عليه الناس في عصر النبي صلى الله عليه وسلم إلى عصرنا (2) .

ولا يتعين لفظ اللهم صلى على محمد، بل يجزئ أصلي أو نصلي على محمد، أو أحمد أو الرسول أو النبي أو العاقب أو الحاضر أو الناشر أو النذير، ولا يكفي رحم الله محمدًا أو صلى الله عليه وسلم وصلى الله على جبريل ونحو ذلك " المرجع السابق 1 / 285.

والذي أراه أن يأخذ الخطيب بأفضل الصيغ في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، وهي الصيغة الواردة في الإبراهيميةَ.

مسألة: هل يِلزم مع الصلاة على النبي الشهادة له بالرسالة؟

--------------------------------------------

(1) ابن قدامة، المغني 3 / 174.

(2) الشربيني، مغني المحتاج 1 / 285) .
ইবনে কুদামা বলেছেন: (এটিও সম্ভব যে নবীর ওপর দরুদ পাঠ করা আবশ্যক (واجب) নয়, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবাগুলোতে তা উল্লেখ করেননি এবং মূলনীতির (الأصل) ওপর আমল করার কারণে) (১)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের শব্দাবলি: আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের শব্দাবলির ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: তা সুনির্দিষ্ট, মুগনি আল-মুহতাজ গ্রন্থে বলা হয়েছে, "এই দুটির শব্দ অর্থাৎ প্রশংসা ও দরুদ অনুসরণের খাতিরে সুনির্দিষ্ট, এবং এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে আমাদের যুগ পর্যন্ত মানুষ এর ওপরই অবিচল ছিল (২)।

আর 'আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ' শব্দাবলিই সুনির্দিষ্ট নয়, বরং 'আমি মুহাম্মাদের ওপর দরুদ পাঠ করছি' বা 'আমরা মুহাম্মাদের ওপর দরুদ পাঠ করছি' অথবা আহমাদ, রাসূল, নবী, আল-আকিব, আল-হাদির, আন-নাশির কিংবা আন-নাযির শব্দগুলো ব্যবহার করলে যথেষ্ট হবে; কিন্তু 'রাহিমাল্লাহু মুহাম্মাদান' অথবা 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' কিংবা 'সাল্লাল্লাহু আলা জিবরীল' এবং এই জাতীয় শব্দগুলো যথেষ্ট হবে না" পূর্বোক্ত সূত্র ১ / ২৮৫।

আমার নিকট যা যুক্তিযুক্ত মনে হয় তা হলো, খতিবের উচিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম শব্দাবলি গ্রহণ করা, আর তা হলো দরুদে ইবরাহিমিতে বর্ণিত শব্দগুচ্ছ।

মাসআলা: নবীর ওপর দরুদ পাঠের সাথে কি তাঁর রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান করা জরুরি (لازم)?

--------------------------------------------

(১) ইবনে কুদামা, আল-মুগনি ৩ / ১৭৪।

(২) আশ-শিরবিনি, মুগনি আল-মুহতাজ ১ / ২৮৫) ।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২২)
اختلف العلماء في ذلك:

قال بعضهم: يجب ذكره بالصلاة عليه.

وقال بعضهم: يجب ذكره إما بالصلاة وإما بالتشهد، قال شيخ الإسلام وهو اختيِار جدي أبي البركات (1) .

قال المرداوي: فالواجب عنده - يعني المجد - ذكر الرسول لا لفظ الصلاة (2) .

وقد صوب شيخ الإسلام أن ذكره بالتشهد هو الواجب ثم يتَبع ذلك الصلاة عليه صلى الله عليه وسلم فقال: "والصواب أن ذكره بالتشهد هو الواجب لدلالة هذا الحديث، ولأن الشهادة إيِمان به، والصلاة عليه دعاء له، وأيِن هذا من هذا، والتشهد في الصلاة لابد فيه من الشهادة له في الأول والأخير، وأما الصلاة عليه فشرعتَ مع الدعاء (3) .

ولعل قَول ابن تيِمية رحمه الله أرجع الأقوال، فإن الأحاديث الواردة فيها ذكر النبي صلى الله عليه وسلم في خطبةَ

--------------------------------------------

(1) ينظر ابن تيمية الفتاوى 22 / 391. وينظر في نسبة القول إليه والإنصاف 3 / 387) .

(2) المرداوي، الإنصاف 3 / 387.

(3) ابن تيمية، الفتاوى 33 / 391 وينظر ذكر هذه الأقوال والنقل عن شيخ الإسلام المرداوي والإنصاف 3 / 387، وابن المفلح المبدع 2 / 158.
এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন:

তাদের কেউ কেউ বলেছেন: তাঁর প্রতি দরুদ (الصلاة) পাঠের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করা ওয়াজিব (واجب)।

আবার কেউ কেউ বলেছেন: হয় দরুদ (الصلاة) পাঠের মাধ্যমে অথবা তাশাহহুদ (التشهد) পাঠের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করা ওয়াজিব (واجب)। শায়খুল ইসলাম বলেন, এটি আমার দাদা আবু আল-বারাকাতের পছন্দকৃত মত (اختيار) (১)।

আল-মারদাভী বলেন: তাঁর মতে—অর্থাৎ আল-মাজদের মতে—ওয়াজিব (واجب) হলো রাসুলের উল্লেখ করা, কেবল দরুদের শব্দাবলি নয় (২)।

শায়খুল ইসলাম এই মতটিকে সঠিক (صوب) আখ্যা দিয়েছেন যে, তাশাহহুদ (التشهد) পাঠের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করাই হলো ওয়াজিব (واجب), অতঃপর তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ এর অনুগামী হবে। তিনি বলেন: "সঠিক মত (الصواب) হলো এই যে, এই হাদিসের দলিলের নির্দেশনা (دلالة) অনুযায়ী তাশাহহুদ (التشهد) পাঠের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করাই ওয়াজিব (واجب)। কারণ শাহাদাত হলো তাঁর প্রতি ইমান, আর দরুদ হলো তাঁর জন্য দোয়া; এ দুটির মধ্যে কতই না ব্যবধান! নামাজের তাশাহহুদে প্রথম ও শেষ বৈঠকে তাঁর প্রতি শাহাদাত প্রদান করা অপরিহার্য। পক্ষান্তরে তাঁর প্রতি দরুদ দোয়ার সাথে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে (৩)।

সম্ভবত ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর বক্তব্যটিই অধিক গ্রহণযোগ্য (أرجح) মত। কারণ খুতবার (خطبة) মধ্যে নবী (সা.)-এর উল্লেখ সম্বলিত বর্ণিত হাদিসসমূহে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহ, আল-ফাতাওয়া ২২ / ৩৯১। আরও দেখুন এই মতটি তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার বিষয়ে আল-ইনসাফ ৩ / ৩৮৭।

(২) আল-মারদাভী, আল-ইনসাফ ৩ / ৩৮৭।

(৩) ইবনে তাইমিয়্যাহ, আল-ফাতাওয়া ৩৩ / ৩৯১। এই মতগুলোর উল্লেখ এবং শায়খুল ইসলাম থেকে উদ্ধৃতি ও আল-মারদাভী এবং আল-ইনসাফ ৩ / ৩৮৭ এবং ইবনুল মুফলিহ রচিত আল-মুবদি ২ / ১৫৮ দেখুন।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الحاجة ونحوها يرد فيها لفظ الشهادةَ ثم يصلي على النبي صلى الله عليه وسلم فإنه لابد من الصلاة والسلام عليه إذا ذكر، فالشهادة هي الأصل والصلاة تَبع فإن الشهادة بها يصير الإنسان مسلمًا وهي الأصل، وفي السنن عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: « (ليس كل خطبة ليس فيها تشهد فهي كاليد الجذماء) » (1) ويشهد لذلك ما رواه أبو داود عن ابن مسعود رضي الله عنه «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا تشهد قال: الحمد لله نستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله أرسله بالحق بشيرًا ونذيرًا بين يدي الساعة من يطع الله ورسوله فقد رشد ومن يعصمها فإنه لا يضر إلا نفسه ولا يضر الله شيئًا» (2) .

--------------------------------------------

(1) ينظر ابن تيمية، الفتاوى 22 / 390، وقد سبق تخرجه.

(2) سنن أبي داود كتاب الصلاة، باب الرجل يخطب على قوس 1 / 287.
প্রয়োজন (الحاجة) ও অনুরূপ ক্ষেত্রে শাহাদাত (সাক্ষ্যবাণী) শব্দ ব্যবহৃত হয়, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা হয়। কারণ যখনই তাঁর উল্লেখ করা হয়, তখনই তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা আবশ্যক। সুতরাং শাহাদাত হলো মূল এবং দরুদ হলো তার অনুগামী; কেননা শাহাদাতের মাধ্যমেই মানুষ মুসলিম হয় এবং এটিই মূল ভিত্তি। সুনান গ্রন্থসমূহে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: «যে খুতবায় (ভাষণে) তাশাহহুদ (تشهد) নেই, তা কুষ্ঠরোগাক্রান্ত (কর্তিত) হাতের মতো।» (১) এবং এর সমর্থন পাওয়া যায় আবু দাউদ কর্তৃক ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে যে, «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাশাহহুদ (تشهد) পাঠ করতেন, তখন বলতেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁকে কিয়ামতের সন্নিকটে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে সে সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়, আর যে তাঁদের অবাধ্য হয় সে কেবল নিজেরই ক্ষতি করে এবং সে আল্লাহর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না।» (২) .

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ, আল-ফাতাওয়া ২২/৩৯০ দ্রষ্টব্য, এর হাদীস সূত্রায়ন (تخريج) পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: ধনুক অবলম্বন করে খুতবা প্রদানকারী ব্যক্তি, ১/২৮৭।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌[المطلب الرابع الوصية بتقوى الله تعالى]

المطلب الرابع

الوصية بتقوى الله تعالى إن المسلم في حاجةَ دومًا إلى التذكير والإرشاد، ولذلك أمر الله سبحانه رسوله الكريم بتذكير الناس ليِنتفعوا، قَال تعالى: {وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ} [الذاريات: 55] (1) ولعل من المقاصد الشرعية للخطبة يوم الجمعة الموعظة وجمع المسلمين في مكان واحد كل أسبوع ليسمعوا كلام الله فتَحيا قلوبهم بالإيِمان وتندفع نفوسهم إلى الخير.

والوصيِة بتقوى الله عز وجل مشروعة في الخطبة عند المذاهب الفقهية دل على ذلك جملة نصوص منها:

1 - ما جاء في سنن أبي داود: عن جابر بن سمرة قال: «كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم خطبتان كان يجلس بينهما يقرأ القرآن ويذكر الناس» (2) .

2 - وفي لفظ آخر: عن جابر بن سمرة قال: «كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم قصدًا وخطبته قصدًا يِقرأ

--------------------------------------------

(1) سورة الذاريات آية 55.

(2) سنن أبى داود كتاب الصلاة باب الخطبة قائما 1 / 286.
[চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার তাকওয়া অর্জনের অসিয়ত]

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

আল্লাহ তাআলার তাকওয়া (ভীতি) অর্জনের অসিয়ত

নিশ্চয়ই একজন মুসলিম সর্বদা স্মরণ ও পথনির্দেশনার মুখাপেক্ষী, আর এ কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সম্মানিত রাসূলকে মানুষকে উপদেশ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা উপকৃত হতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, কারণ নিশ্চয়ই উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে} [আয-যারিয়াত: ৫৫] (১)। সম্ভবত জুমার দিনের খুতবার অন্যতম শরয়ি (شرعية) উদ্দেশ্য হলো উপদেশ প্রদান এবং প্রতি সপ্তাহে মুসলিমদের একস্থানে একত্রিত করা যাতে তারা আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, ফলে ঈমানের মাধ্যমে তাদের অন্তর সজীব হয় এবং তাদের নফস কল্যাণের পথে ধাবিত হয়।

ফিকহি মাযহাবসমূহের নিকট খুতবায় আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার তাকওয়া অবলম্বনের অসিয়ত করা বিধানসম্মত (مشروعة); বেশ কিছু টেক্সট (نصوص) এর সপক্ষে প্রমাণ বহন করে, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - যা সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে: জাবির ইবনে সামুরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুটি খুতবা ছিল, যার মাঝে তিনি বসতেন। তিনি কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং মানুষকে উপদেশ দিতেন।" (২)।

২ - অন্য শব্দে (لفظ): জাবির ইবনে সামুরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত ছিল পরিমিত এবং তাঁর খুতবাও ছিল পরিমিত, তিনি পাঠ করতেন..."

--------------------------------------------

(১) সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত ৫৫।

(২) সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান অনুচ্ছেদ, ১ / ২৮৬।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২৫)
آيِاتَ من القرآن ويذكر الناس» (1) ولأن المقصود من الخطبة هو الوعظ والتذكير (2) .

ولكن الفقهاء اختلفوا في حكمها على قولين:

- فذهب أبو حنيفة إلى أن الوعظ والتذكير سنة، وهو المشهور في المذهب المالكي جاء في بدائع الصنائع في سياق ذكر سنن الخطبةَ: "ويعظ ويذكر " (3) .

وجاء في الشرح الكبير (وندب ثناء على الله وصلاة على نبيه وأمر بتقوى ودعاء بمغفرة وقَراءة شيء من القران) (4) .

أما الشافعية فالوصية بتقوى الله عندهم ركن أو فرض وجعلها الحنابلةَ شرطا.

- ففي المجموع: ساق النووي أركان الخطبة فقال: "الثالث: الوصية بتقوى الله تعالى " (5) .

وجاء في الإنصاف: (والوصية

--------------------------------------------

(1) سنن أبي داود كتاب الصلاة باب الرجل يخطب على القوس 1 / 288.

(2) ينظر البهوتي، كشاف القناع 20 / 32.

(3) الكاساني بدائع الصنائع 1 / 263.

(4) الدردير، الشرح الكبير 1 / 178.

(5) النووي المجموع 4 / 519.
"কুরআনের আয়াতসমূহ (তিলাওয়াত করতেন) এবং মানুষকে নসিহত করতেন" (১) এবং যেহেতু খুতবার মূল উদ্দেশ্যই হলো উপদেশ ও নসিহত প্রদান (২)।

তবে ফকিহগণ এর বিধানের ক্ষেত্রে দুটি মতে ভিন্নতা পোষণ করেছেন:

- ইমাম আবু হানিফা এই মত পোষণ করেছেন যে, ওয়াজ ও নসিহত করা সুন্নাহ (سنة); আর এটিই মালিকি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত। বাদায়েউস সানায়ে কিতাবে খুতবার সুন্নাহসমূহ বর্ণনার প্রেক্ষাপটে এসেছে: "তিনি ওয়াজ করবেন এবং নসিহত করবেন" (৩)।

আশ-শারহুল কবির কিতাবে এসেছে: (আল্লাহর প্রশংসা করা, তাঁর নবীর ওপর দরুদ পাঠ করা, তাকওয়ার নির্দেশ প্রদান করা, ক্ষমা প্রার্থনার জন্য দোয়া করা এবং কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব (ندب)) (৪)।

তবে শাফেয়িগণের নিকট আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ প্রদান করা একটি রুকন (ركن) বা ফরজ (فرض), এবং হামবলিগণ একে শর্ত (شرط) হিসেবে গণ্য করেছেন।

- আল-মাজমু কিতাবে ইমাম নববী খুতবার রুকনসমূহ (أركان) উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন: "তৃতীয়: মহান আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ প্রদান করা" (৫)।

আল-ইনসাফ কিতাবে এসেছে: (এবং উপদেশ প্রদান...

--------------------------------------------

(১) সুনান আবি দাউদ, কিতাবুস সালাত, বাব আর-রুজুল ইয়াতুবু আলাল কাওস ১/২৮৮।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-বাহুতি, কাশশাফুল কিনা ২০/৩২।

(৩) আল-কাসানি, বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬৩।

(৪) আদ-দারদির, আশ-শারহুল কবির ১/১৭৮।

(৫) আন-নববী, আল-মাজমু ৪/৫১৯।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২৬)
بتقى الله) يعني يشترط في الخطبتين الوصية بتقوى الله، وهو المذهب، وعليه أكثر الأصحاب وقطع به كثير (1) .

وهل هي واجبة في الخطبة الأولى أو الثانية:

اختلف العلماء في هذه المسألة على ثلاثة أقوال: يرى الحنفية أن الوعظ والتذكير المسنون في الخطبة الأولى ، وفي الخطبة الثانية يحل دعاء للمؤمنين والمؤمنات محله ولا يعظ في الثانية.

جاء في حاشية بن عابدين في سياق ذكر سنن الخطبة: (والعظة والتذكير والقراءة قال في التجنيس: والثانية كالأولى إلا أنه يدعو للمسلمين مكان الوعظ) (2) .

أما الشافعية فيرون أن الوصية بتقوى الله تعالى ركن في الخطبتين بمعنى أنه لابد من الوعظ والتذكير في كلتا الخطبتين وهذا هو المذهب عند الحنابلة إلا أنهم يرونها شرطا.

قال صاحب مغني المحتاج بعد ذكر ثلاثة أركان من أركان الخطبة، وهي الحمد والصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم، والوصية بتقوى الله، قال: (وهذه الثلاثة) الأركان المذكورة

--------------------------------------------

(1) المرداوي الإنصاف 2 / 388.

(2) ابن عابدين حاشية على الدار المختار 2 / 149.
(আল্লাহভীতি (تقوى الله) অবলম্বনের মাধ্যমে) অর্থাৎ, উভয় খুতবায় আল্লাহভীতি অবলম্বনের নসিহত (الوصية بتقوى الله) করা শর্ত (شرط); এটিই মাযহাব (المذهب), এর ওপরই অধিকাংশ সাথীগণ (الأصحاب) রয়েছেন এবং অনেক ফকীহ একে চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করেছেন (১)।

আর এটি কি প্রথম খুতবায় নাকি দ্বিতীয় খুতবায় ওয়াজিব (واجبة):

এই মাসয়ালায় আলেমগণ তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন: হানাফীগণ মনে করেন যে, প্রথম খুতবায় উপদেশ ও স্মরণ করানো (الوعظ والتذكير) সুন্নাতসম্মত (المسنون), আর দ্বিতীয় খুতবায় এর স্থলাভিষিক্ত হবে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য দুয়া এবং দ্বিতীয় খুতবায় কোনো উপদেশ প্রদান করা হবে না।

হাশিয়া ইবনে আবিদীনে খুতবার সুন্নাতসমূহ বর্ণনার প্রসঙ্গে এসেছে: (উপদেশ, স্মরণ করানো এবং কিরাত। 'তাজনিস' গ্রন্থে বলা হয়েছে: দ্বিতীয় খুতবাটি প্রথমটির মতোই, তবে উপদেশের পরিবর্তে সেখানে মুসলমানদের জন্য দুয়া করা হবে) (২)।

পক্ষান্তরে শাফেয়ীগণ মনে করেন যে, আল্লাহ তাআলার তাকওয়ার নসিহত (الوصية بتقوى الله) উভয় খুতবায় রুকন (ركن); অর্থাৎ উভয় খুতবাতেই নসিহত ও স্মরণ করানো (الوعظ والتذكير) অপরিহার্য। হাম্বলী মাযহাবের (المذهب) সিদ্ধান্তও এটাই, তবে তারা এটিকে শর্ত (شرط) হিসেবে গণ্য করেন।

মুগনী আল-মুহতাজ গ্রন্থের লেখক খুতবার তিনটি রুকন (أركان), যথা: আল্লাহর প্রশংসা (الحمد), রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠ (الصلاة على رسول الله) এবং তাকওয়ার নসিহত (الوصية بتقوى الله) উল্লেখ করার পর বলেছেন: (এবং এই তিনটি) উল্লিখিত রুকন (الأركان)সমূহ

--------------------------------------------

(১) আল-মারদাভী, আল-ইনসাফ ২ / ৩৮৮।

(২) ইবনে আবিদীন, হাশিয়া আলা আদ-দুররুল মুখতার ২ / ১৪৯।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২৭)
(أركان في) كل من (الخطبتين) لاتباع السلف والخلف، ولأن كل خطبة منفصلة عن الأخرى (1) .

وجاء في المبدع في سياق ذكر شروط صحة الخطبتين: (والوصية بتقوى الله تعالى، أنه المقصود) (2) .

وقيل: الوصية بتقوى الله شرط في الخطبة الثانية فقط، وهو راوية عند الحنابلة ، قال المرداوي: " وهو ظاهر كلام الخرقي فإنه قال في الثانية: ولم يقل في الأولى ووعظ " (3) .

صيغة الوصية بتقوى الله: يرى الشافعية على الصحيح في مذهبهم أنه لا يتعين لفظ الوصية بتقوى الله إنما الواجب على الخطيب أن يأتي بما يدل على الموعظة طويلا كان أو قصيرا كأطيعوا الله وراقبوه.

جاء في روضة الطالبين: " وهل يتعين لفظ الوصية قال إمام الحرمين: ولا خلاف أنه لا يكفي الاقتصار على التحذير من الاغترار بالدنيا وزخارفها، فإن ذلك قد يتواصى به منكر الشرائع بل لا بد من

--------------------------------------------

(1) الشربيني، مغني المحتاج 1 / 286.

(2) ابن مفلح، المبدع 2 / 25.

(3) المرداوي، الإنصاف 2 / 288.
(উভয় খুতবার) প্রতিটিতেই (রুকন বা স্তম্ভ), পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিদের অনুসরণে এবং যেহেতু প্রতিটি খুতবা একে অপর থেকে পৃথক (১)।

আল-মুবদি’ গ্রন্থে উভয় খুতবা বিশুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলি বর্ণনার প্রসঙ্গে এসেছে: (এবং আল্লাহ তাআলার তাকওয়া অর্জনের অসিয়ত করা, এটিই মূল উদ্দেশ্য) (২)।

এবং বলা হয়েছে: তাকওয়া অর্জনের অসিয়ত করা কেবল দ্বিতীয় খুতবার জন্য শর্ত, যা হাম্বলি মাযহাবের একটি বর্ণনা। আল-মারদাভি বলেন: "এটি আল-খিরাকির বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ, কেননা তিনি দ্বিতীয় খুতবা সম্পর্কে বলেছেন: 'এবং নসিহত করবে', কিন্তু প্রথম খুতবার ক্ষেত্রে তা বলেননি" (৩)।

তাকওয়া অর্জনের অসিয়তের শব্দাবলি: শাফেয়িগণের মাযহাবের সঠিক (الصحيح) মতানুসারে, তাকওয়া অর্জনের জন্য নির্দিষ্টভাবে 'অসিয়ত' শব্দটি ব্যবহার করা আবশ্যক নয়; বরং খতিবের জন্য ওয়াজ বা নসিহত নির্দেশক কোনো কথা বলা আবশ্যক, তা দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত, যেমন: 'আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তাঁকে ভয় করো'।

রওদাতুত তালিবিন গ্রন্থে এসেছে: "অসিয়ত শব্দটি কি নির্দিষ্ট? ইমামুল হারামাইন বলেন: এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, কেবল দুনিয়া ও এর চাকচিক্যের ধোঁকা থেকে সতর্ক করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা যথেষ্ট নয়, কারণ শরিয়ত অস্বীকারকারীরাও এ ধরনের উপদেশ দিয়ে থাকে; বরং আবশ্যক হলো...

--------------------------------------------

(১) আশ-শারবিনি, মুগনি আল-মুহতাজ ১/২৮৬।

(২) ইবনে মুফলিহ, আল-মুবদি’ ২/২৫।

(৩) আল-মারদাভি, আল-ইনসাফ ২/২৮৮।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الحمل على طاعة الله عز وجل والمنع من المعاصي، ولا يجب في الموعظة كلام طويل بل لو قال: أطيعوا الله كفى (1) .

وهناك وجه آخر عند الشافعيةَ: أنه يتَعين لفظ الوصية بتقوى الله قياسا على الحمد والصلاة (2) .

وقال النووي بعد ذكر هذا الوجه: "وهذا ضعيف أو باطل، لأن لفظ الحمد والصلاة تعبدنا به في مواضع، وأما لفظ الوصيِة فلم يرد نص بالأمر به ولا بتعينه " (3) .

وعند الحنابلة أيضا لا يتعين لفظ الوصية بتقوى الله، وأقلها: اتَقوا الله، وأطيعوا الله، ونحوه (4) .

وذكر بعض الحنابلة أن الوعظ لابد أن يشتمل على ما يحرك القلوب ويدفعها إلى الخير. جاء في المبدع: " وذكر أبو المعالي والشيخ تَقي الدين: ولا يكفي ذكر الموت وذم الدنيا، ولا بد أن يحرك القلوب ويبعث بها إلى الخير، فلو اقتصر على أطيعوا الله

--------------------------------------------

(1) "النووي، روضة الطالبين 2 / 25.

(2) ينظر المرجع السابق 2 / 25، والشربيني، مغني المحتاج 1 / 285.

(3) النووي المجموع 4 / 52.

(4) ينظر البهوتي، كشاف القناع 2 / 32.
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার আনুগত্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা এবং পাপাচার থেকে বিরত রাখা; আর নসিহতের ক্ষেত্রে দীর্ঘ বক্তব্যের প্রয়োজন নেই, বরং যদি তিনি বলেন: "আল্লাহর আনুগত্য করো", তবেই তা যথেষ্ট হবে (১)।

শাফিয়ী মাযহাবের আলেমদের মতে আরেকটি অভিমত রয়েছে: হামদ (আল্লাহর প্রশংসা) ও সালাত (দরুদ)-এর ওপর কিয়াস বা তুলনা (قياس) করে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশের শব্দগুলো সুনির্দিষ্ট করা আবশ্যক (২)।

ইমাম নববী এই অভিমতটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: "এটি একটি দুর্বল (ضعيف) অথবা বাতিল (باطل) অভিমত; কারণ হামদ ও সালাতের শব্দগুলো দ্বারা আমাদের বিভিন্ন স্থানে ইবাদত করতে বলা হয়েছে, কিন্তু অসিয়তের শব্দের ব্যাপারে কোনো অকাট্য পাঠ (نص) আসেনি এবং এটি সুনির্দিষ্ট করার ব্যাপারেও কোনো নির্দেশ নেই" (৩)।

হাম্বলী মাযহাবের নিকটও আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশের শব্দগুলো সুনির্দিষ্ট নয়; আর এর সর্বনিম্ন মাত্রা হলো: "আল্লাহকে ভয় করো", "আল্লাহর আনুগত্য করো" এবং এই জাতীয় শব্দ (৪)।

কোনো কোনো হাম্বলী আলেম উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াজ অবশ্যই এমন বিষয়ের ওপর শামিল হতে হবে যা অন্তরকে বিগলিত করে এবং তাকে কল্যাণের দিকে ধাবিত করে। 'আল-মুবদি' গ্রন্থে এসেছে: "আবু আল-মাআলি এবং শাইখ তাকিউদ্দীন উল্লেখ করেছেন যে: কেবল মৃত্যুর আলোচনা এবং দুনিয়ার নিন্দা করাই যথেষ্ট নয়, বরং অবশ্যই অন্তরকে আন্দোলিত করতে হবে এবং তাকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করতে হবে। সুতরাং যদি কেউ কেবল 'আল্লাহর আনুগত্য করো' বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে..."

--------------------------------------------

(১) নববী, রওজাতুত তালিবিন ২/২৫।

(২) দ্রষ্টব্য: পূর্বোক্ত উৎস ২/২৫; শুরবিনি, মুগনি আল-মুহতাজ ১/২৮৫।

(৩) নববী, আল-মাজমু ৪/৫২।

(৪) দ্রষ্টব্য: বাহুতি, কাশশাফ আল-কিনা ২/৩২।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২৯)
واجتنبوا معاصيه فالأظهر لا يكفي وإن كان فيه وصية، لأنه لابد من اسم الخطبة عرفا " (1) .

ويظهر مما سبق أن الأفضل أن يأتي الخطيب بوعظ وتذكير يشتمل على تقوى الله ويأمر بالمعروف أو ينهى عن المنكر أو غير ذلك مما يسمى وعظا عرفا، وإنما الخلاف بين العلماء في القدر المجزئ.

 

‌‌[المطلب الخامس قراءة القرآن الكريم في الخطبة]

المطلب الخامس

قراءة القرآن الكريم في الخطبة أولا: حكم قراءة القرآن في الخطبة: دلت الأحاديث على مشروعية قراءة القرآن في الخطبة فمن ذلك:

عن صفوان بن يعلى عن أبيه أنه «سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ على المنبر {وَنَادَوْا يَا مَالِكُ} [الزخرف: 77] » (2) .

--------------------------------------------

(1) ابن مفلح، المبدع 2 / 158 - 159.

(2) رواه مسلم، كتاب الجمعة، باب تخفيف الصلاة والخطبة رقم (871) وأبو داود.
এবং তাঁর অবাধ্যতা বর্জন করো—অধিকতর স্পষ্ট মত (الأظهر) অনুযায়ী এটি যথেষ্ট নয়, যদিও এতে উপদেশ রয়েছে। কারণ প্রথাগতভাবে (عرفا) একে খুতবা হিসেবে অভিহিত করা আবশ্যক। (১)

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, উত্তম হলো খতিব এমন ওয়াজ ও নসিহত প্রদান করবেন যা আল্লাহর ভয় (تقوى الله) সম্বলিত হবে এবং তিনি সৎ কাজের আদেশ দেবেন অথবা অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবেন কিংবা অন্য যা কিছু প্রথাগতভাবে (عرفا) ওয়াজ হিসেবে গণ্য হয় তা পেশ করবেন। মূলত আলেমদের মধ্যে মতভেদ কেবল পর্যাপ্ত পরিমাণ (القدر المجزئ) সম্পর্কে।

 

‌‌[পঞ্চম অনুচ্ছেদ: খুতবায় কুরআন মাজিদ তিলাওয়াত করা]

পঞ্চম অনুচ্ছেদ

খুতবায় কুরআন মাজিদ তিলাওয়াত করা: প্রথমত: খুতবায় কুরআন তিলাওয়াতের বিধান: বিভিন্ন হাদিস খুতবায় কুরআন তিলাওয়াত বৈধ হওয়ার (مشروعية) ওপর প্রমাণ পেশ করে, তার মধ্যে অন্যতম হলো:

সাফওয়ান ইবনে ইয়ালা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বরের ওপর {আর তারা ডাকবে, হে মালিক!} [সুরা আয-যুখরুফ: ৭৭] তিলাওয়াত করতে শুনেছেন» (২)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে মুফলিহ, আল-মুবদি ২/১৫৮-১৫৯।

(২) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল জুমুআ, পরিচ্ছেদ: সালাত ও খুতবা সংক্ষিপ্ত করা, হাদিস নং (৮৭১) এবং আবু দাউদ।
(খণ্ড: ১) মাওদুআতু খুতবাতিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وعن عمرة بنت عبد الرحمن عن أخت لها قالت: «أخذت {ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ} [ق: 1] من في رسول الله صلى الله عليه وسلم يِوم الجمعةَ وهو يقرأ بها على المنبر في كل جمعهَ» ، (1) .

«وعن بنت الحارثة بن النعمان قالت: ما حفظت (ق) إلا من في رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب بها كل جمعة، وقالت: وكان تنورنا وتنور رسول الله صلى الله عليه وسلم واحدا» (2) .

وعن جابر بن سمرة رضى الله عنه، قال: «كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم خطبتان كان يجلس بينهما يِقرأ القرآن ويِذكر الناس» (3) .

عن ابن جريج عن عبد اللَه بن أبي بكر «إن النبي صلى الله عليه وسلم قرأ {إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ} [الانشقاق: 1] وهو على المنبر فلما بلغ السجدة التَي فيها نزل فسجد - فسجد الناس معه» (4) . وقد اختَلف الفقهاء

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم: كتاب الجمعة: باب تخفيف الصلاة والخطبة رقم (871) .

(2) رواه أحمد في المسند 6 / 435، ومسلم في الصحيح 2 / 595، والطبراني في المعجم الكبير في 25 / 142، والبيهقي في السنن3 / 211.

(3) رواه عبد الرزاق والمصنف 3 / 194.

(4) رواه أبو داود في سننه كتاب الصلاة، باب الخطبة قائما (1 / 276) .
আমরহ বিনতে আবদুর রহমান থেকে তার এক বোনের সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র মুখ থেকে জুমার দিনে {ক্বাফ, ওয়াল কুরআনিল মাজীদ} [ক্বাফ: ১] আয়ত্ত করেছি, তিনি প্রতি জুমার দিন মিম্বারে দাঁড়িয়ে এটি পাঠ করতেন»। (১) .

«এবং হারিসা বিন নুমান-এর কন্যা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ‘ক্বাফ’ মুখস্থ করিনি কেবল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র মুখ থেকে, তিনি প্রতি জুমায় এটি দিয়ে খুতবা দিতেন। তিনি আরও বলেন: আমাদের চুলা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুলা একই ছিল» (২) .

এবং জাবির বিন সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুটি খুতবা ছিল, যার মাঝে তিনি বসতেন, কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং মানুষকে নসিহত করতেন» (৩) .

ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ বিন আবু বকর সূত্রে বর্ণিত যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে থাকা অবস্থায় {ইযাস সামাউন্‌ শাক্ক্বাত} [আল-ইনশিক্বাক্ব: ১] তিলাওয়াত করেন, অতঃপর যখন এতে বিদ্যমান সিজদাহর আয়াতে পৌঁছান, তিনি নিচে নেমে সিজদাহ করেন—অতঃপর মানুষও তাঁর সাথে সিজদাহ করে» (৪) । ফকিহগণ এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন: কিতাবুল জুমা: বাবু তাখফিফিস সালাতি ওয়াল খুতবাহ নম্বর (৮৭১) ।

(২) আহমদ এটি মুসনাদ গ্রন্থে ৬/৪৩৫, মুসলিম সহিহ গ্রন্থে ২/৫৯৫, তাবারানি আল-মুজাম আল-কাবির গ্রন্থে ২৫/১৪২ এবং বায়হাকি আস-সুনান গ্রন্থে ৩/২১১ তে বর্ণনা করেছেন।

(৩) আবদুর রাজ্জাক আল-মুসান্নাফ গ্রন্থে ৩/১৯৪ তে বর্ণনা করেছেন।

(৪) আবু দাউদ তার সুনান গ্রন্থে, কিতাবুস সালাত, বাবু খুতবাতি কা-ইমান (১/২৭৬) এ বর্ণনা করেছেন।