(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: -)
منهج في إعداد خطبة الجمعة القسم: كتب عامة
اسم الكتاب: منهج في إعداد خطبة الجمعة
المؤلف: د صالح بن عبد الله بن حميد
موضوع الكتاب: دعوي وتربوي
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية 1419 هـ
عدد الصفحات: 47
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জুমার খুতবা প্রস্তুতির নীতিমালা বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
বইয়ের নাম: জুমার খুতবা প্রস্তুতির নীতিমালা
লেখক: ড. সালেহ বিন আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ
বইয়ের বিষয়বস্তু: দাওয়াহ ও তারবিয়াত
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়াবলি, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব ১৪১৯ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: -)
[مقدمة]منهج في إعداد خطبة الجمعة
[ভূমিকা]জুমার খুতবা প্রস্তুত করার পদ্ধতি
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ৩)
للدكتور صالح بن عبد الله بن حميد (1)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن دعا بدعائه واهتدى بهداه أما بعد. . .
فإن الخطيب والواعظ له دور كبير وأثر بالغ في بيئته ومجتمعه وسامعيه وقومه، فهو قرين المربي والمعلم، ورجل الحسبة والموجه، وبقدر إحسانه وإخلاصه يتبوأ من قلوب الناس مكانا، ويضع الله له قبولا قد لا يزاحمه فيه أصحاب الوجاهات ولا يدانيه فيه ذوو المقامات، ومرد ذلك إلى حسن الإجادة وجودة الإفادة والقدرة على التأثير المكسو بلباس التقوى والمدَثَّر بدثار الإخلاص والورع.
وهذه كلمات في إعداد الخطبة وصفات الخطيب.
--------------------------------------------
ড. সালিহ বিন আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ কর্তৃক (১)
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও তাঁদের ওপর যারা তাঁর দাওয়াতের পথে চলেন এবং তাঁর হেদায়েত অনুসরণ করেন। অতঃপর...
নিশ্চয়ই খতিব এবং ওয়ায়েজের তাঁর পরিবেশ, সমাজ, শ্রোতামণ্ডলী ও জাতির মধ্যে এক বিশাল ভূমিকা ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। তিনি একজন মুরুব্বী ও শিক্ষকের সমপর্যায়ভুক্ত এবং তিনি হিসবাহ ও দিকনির্দেশনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি। তাঁর সদাচার ও নিষ্ঠার মাত্রা অনুযায়ী তিনি মানুষের হৃদয়ে উচ্চ স্থান করে নেন। আল্লাহ তাঁর জন্য এমন গ্রহণযোগ্যতা দান করেন যার সাথে প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তিবর্গ প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে পারে না এবং উচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তিরাও তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না। এর মূল কারণ হলো চমৎকার উপস্থাপনা, ফলপ্রসূ জ্ঞানের গুণমান এবং প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা—যা তাকওয়ার পোশাকে বিভূষিত এবং নিষ্ঠা ও খোদাভীতির চাদরে আবৃত।
খুতবা প্রস্তুতি ও খতিবের গুণাবলি সম্পর্কে এটি সংক্ষিপ্ত কিছু কথা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ৪)
حرصت أن تكون شاملة لخصائص الخطيب والخطبة ووجوه التأثير في الخطبة وإحسان إعدادها مقدما لذلك بمقدمة في مهمة الخطيب الشاقة وتعريف الخطبة وأنواعها وبيان أثرها.
ولقد دونت ما دونت على فترة من المشاغل وضيق في الوقت، مع أن عندي رغبة سابقة في الكتابة في هذا الموضوع غير أن ما قدمته هنا لم يحقق كل ما كنت أرومه وما خططته لنفسي، ولكنه إسهام تولد من الرغبتين رغبة مقام الوزارة ورغبة الكاتب.
والله وحده الموفق والمعين وهو حسبنا ونعم الوكيل وصلى الله على خير خلقه نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
مقدمة مهمة الخطيب مهمة شاقة ولا ريب، مشقة تحتم عليه أن يستعد الاستعداد الكافي في صواب الفكر وحسن التعبير وطلاقة اللسان وجودة الإلقاء.
مطلوب من الخطيب أن يحدث الناس بما يمس حياتهم ولا ينقطع عن ماضيهم، ويردهم إلى قواعد الدين ومبادئه، يبصرهم بحكمه وأحكامه برفق ويعرفهم آثار التقوى والصلاح في الآخرة والأولى، مهمته البعد عن المعاني المكرورة وجالبات الملل.
আমি সচেষ্ট ছিলাম যেন এটি খতিব ও খুতবার বৈশিষ্ট্যসমূহ, খুতবার প্রভাব বিস্তারের দিকসমূহ এবং তা সুন্দরভাবে প্রস্তুত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে। এর প্রারম্ভে আমি খতিবের কঠিন দায়িত্ব, খুতবার সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ এবং এর প্রভাবের বর্ণনার মাধ্যমে একটি ভূমিকা পেশ করেছি।
ব্যস্ততা এবং সময়ের স্বল্পতার মাঝেও আমি যা লিপিবদ্ধ করার তা করেছি, যদিও এ বিষয়ে লেখার ব্যাপারে আমার পূর্ব থেকেই আগ্রহ ছিল। তবে আমি এখানে যা পেশ করেছি তা আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এবং নিজের জন্য যা পরিকল্পনা করেছিলাম তার সবটুকু অর্জন করতে পারেনি। তবুও এটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব এবং একজন লেখক হিসেবে ব্যক্তিগত আগ্রহ—এই উভয়বিধ আকাঙ্ক্ষা থেকে উৎসারিত একটি ক্ষুদ্র অবদান।
আল্লাহই একমাত্র তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির সেরা আমাদের নবি মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবির ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
ভূমিকা: খতিবের দায়িত্ব নিসন্দেহে একটি দুরূহ কাজ। এই কষ্টসাধ্য কাজ তাঁর কাছ থেকে দাবি করে যে, তিনি চিন্তার সঠিকতা, প্রকাশের সৌন্দর্য, ভাষার সাবলীলতা এবং উপস্থাপনার গুণগত মানে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন।
একজন খতিবের কাছে প্রত্যাশা হলো তিনি মানুষের কাছে এমন বিষয়ে আলোচনা করবেন যা তাদের জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যা তাদের অতীত ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তিনি তাদের দ্বীনের মূলভিত্তি ও মূলনীতির দিকে ফিরিয়ে আনবেন। অত্যন্ত নম্রতার সাথে তিনি তাদের হিকমত ও বিধানাবলি সম্পর্কে সচেতন করবেন এবং পরকাল ও ইহকালে তাকওয়া ও নেক আমলের প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করবেন। পুনরাবৃত্তিমূলক এবং একঘেয়েমি সৃষ্টিকারী কথাবার্তা পরিহার করাই তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ৫)
والدعوة إلى التجديد والتحديث والبعد عن المكرور، لا يغير من الحقيقة الثابتة شيئا وهي أن حياة الناس وأحوالهم في كل زمان ومكان صورة واحدة من تصارع الغرائز واضطراب النفوس وغليان الأحقاد، وفي مقابل ذلك تلقى أحوالا من البرود والانصراف والغفلة وعدم المبالاة.
والخطيب عليه أن يهدي الثائر، ويبعث الفاتر، ويطفئ ثورة الغريزة، ويخفض حدة الأحقاد، ويشيع روح المودة، ويبث الإخلاص والتعاون.
نعم إن حياة الناس صورة معادة وتغيرات متناوبة فأحداث اليوم هي أحداث الأمس والبواعث والمثيرات في الماضي هي ذاتها في الحاضر.
فإنسان الغابة هو إنسان المدَنيَّة، غير أن الأول يحارب بحجر والثاني يرمي بقنبلة، والأول قد يقتل واحدا أو اثنين والثاني يقتل عشرات ومئات، القوي في الغابة يستولي على مرعى أو بئر، أما قوي المدينة يستولي على قطر بأكمله، ويأكل قوت شعب بأكمله وشعوب برمتها ويستبد بمصادر طاقة وموارد حياة مصيرية.
إذا كان ذلك كذلك فكيف يكون الحال لو نجح الدعاة المصلحون في تهذيب الغرائز والتسامي بها؟
সংস্কার, আধুনিকায়ন এবং পুনরাবৃত্তি বর্জনের আহ্বান সেই প্রতিষ্ঠিত সত্যের কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারে না যে, সব সময়ের এবং সব স্থানের মানুষের জীবন ও অবস্থা হলো প্রবৃত্তিগুলোর সংঘাত, অন্তরের অস্থিরতা এবং বিদ্বেষের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির এক অভিন্ন প্রতিচ্ছবি। এর বিপরীতে আবার পরিলক্ষিত হয় শীতলতা, বিমুখতা, অসচেতনতা এবং উদাসীনতা।
আর খতিবের কর্তব্য হলো উত্তেজিত ব্যক্তিকে সঠিক পথ দেখানো, উৎসাহহীন ব্যক্তির মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টি করা, প্রবৃত্তির বিদ্রোহকে দমন করা, বিদ্বেষের তীব্রতা কমানো এবং সৌহার্দ্যের চেতনা ও আন্তরিকতা ও সহযোগিতার প্রসার ঘটানো।
হ্যাঁ, মানুষের জীবন হলো একটি পুনরাবৃত্ত চিত্র এবং পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন; তাই আজকের ঘটনাগুলো মূলত গতকালেরই ঘটনা এবং অতীতের উদ্দীপনা ও প্রেরণাগুলো বর্তমানের মতোই অভিন্ন।
বনের মানুষ আর আধুনিক সভ্যতার মানুষ মূলত একই; পার্থক্য শুধু এই যে, প্রথম জন পাথর দিয়ে লড়াই করত আর দ্বিতীয় জন বোমা নিক্ষেপ করে। প্রথম জন হয়তো একজন বা দুজনকে হত্যা করত, কিন্তু দ্বিতীয় জন শত শত মানুষকে হত্যা করে। বনের শক্তিশালী ব্যক্তি কোনো চারণভূমি বা কূয়া দখল করত, আর শহরের শক্তিশালী ব্যক্তি গোটা একটি দেশ দখল করে নেয়, একটি পুরো জাতির বা বহু জাতির জীবনোপকরণ গ্রাস করে এবং জ্বালানি ও জীবনের অপরিহার্য উৎসগুলোর ওপর স্বৈরাচারী আধিপত্য কায়েম করে।
যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে সংস্কারক দাঈগণ যদি মানুষের প্রবৃত্তিগুলোকে মার্জিত করতে এবং সেগুলোকে উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে সফল হতেন, তবে পরিস্থিতি কেমন হতো?
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ৬)
إن خطيب المسجد وواعظ الجماعة أشد فاعلية في نفوس الجماهير من أي جهاز من أجهزة التوجيه والحكم في المجتمع سواء أكان واليا أو رجل عسكر أو حارس أمن. . . إن الجمهور قد يهابون أمثال هؤلاء لكنهم قد لا يحبونهم، أما الخطيب بلسانه ورقة جنانه وتجرده، فيقتلع جذور الشر في نفس المجرم ويبعث في نفسه خشية الله، وحب الحق، وقبول العدل، ومعاونة الناس، إن عمله إصلاح الضمائر، وإيقاظ العواطف النبيلة في نفوس الأمة، وبناء الضمائر الحية، وتربية النفوس العالية في عمل خالص وجهد متجرد، يرجو ثواب الله ويروم نفع الناس.
ومن هذا فإنك ترى أن أداء الخطيب عمله على وجهه يكسوه بهاء وشرفا، ويرفعه إلى مكان علي عند الناس.
ولتعلم أن هذا ليس إطراء ولا مديحا، ولكنه تنبيه إلى شرف العمل ومشقته وعظم مسؤوليته ونقل رسالته، وما تتطلبه من حسن استعداد وشعور صادق بالمسؤولية.
وكيف لا يكون ذلك وهذه هي رسالة الأنبياء والصديقين والصالحين وحسن أولئك رفيقا؟ ولا غرابة أن يصادف إيذاء وعداء وحسبه أن يكون مقبولا عند الله والصفوة من عباد الله.
নিশ্চয়ই মসজিদের খতিব এবং জামাতের ওয়ায়েজ জনসাধারণের হৃদয়ে সমাজের যেকোনো দিকনির্দেশনা ও শাসনযন্ত্রের চেয়ে অধিক প্রভাবশালী; চাই তিনি কোনো প্রশাসক হোন, কিংবা সামরিক বাহিনীর সদস্য অথবা নিরাপত্তা রক্ষী। জনসাধারণ হয়তো এ জাতীয় ব্যক্তিদের সমীহ করে, কিন্তু তারা সম্ভবত তাদের ভালোবাসে না। পক্ষান্তরে খতিব তাঁর বাগ্মিতা, হৃদয়ের কোমলতা এবং একনিষ্ঠতার মাধ্যমে অপরাধীর অন্তরে মন্দের শিকড় উপড়ে ফেলেন এবং তার হৃদয়ে আল্লাহর ভীতি, সত্যের প্রতি অনুরাগ, ন্যায়বিচার কবুল করা এবং মানুষের সহযোগিতার প্রেরণা জাগ্রত করেন। তাঁর মূল কাজ হলো বিবেক সংশোধন করা, জাতির হৃদয়ে মহৎ আবেগ জাগিয়ে তোলা, জীবন্ত বিবেক বিনির্মাণ এবং একনিষ্ঠ আমল ও নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার মাধ্যমে উন্নত চরিত্রের বিকাশ ঘটানো; যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর সওয়াব প্রত্যাশা করেন এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করেন।
এ থেকেই আপনি দেখতে পাবেন যে, খতিব যখন তাঁর দায়িত্ব যথাযথভাবে আঞ্জাম দেন, তখন তা তাঁকে এক বিশেষ জৌলুস ও মর্যাদায় ভূষিত করে এবং মানুষের নিকট এক উচ্চ আসনে সমাসীন করে।
স্মর্তব্য যে, এটি কোনো তোষামোদ বা নিছক প্রশংসা নয়; বরং এটি এই কাজের মর্যাদা, এর শ্রমসাধ্যতা, এর সুমহান দায়িত্ব এবং এর পয়গাম পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বের প্রতি একটি সতর্কতা; যা পালনের জন্য উত্তম প্রস্তুতি এবং দায়িত্ববোধের প্রকৃত অনুভূতির প্রয়োজন।
আর এমনটি হবেই না বা কেন, যেখানে এটিই হলো নবীগণ, সত্যনিষ্ঠ (صديقين) এবং নেককার (صالحين) বান্দাদের মিশন? আর সঙ্গী হিসেবে তাঁরা কতই না উত্তম! এমতাবস্থায় কোনো কষ্ট বা শত্রুতার সম্মুখীন হওয়া আশ্চর্যের কিছু নয়; বরং আল্লাহর কাছে এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের নিকট গ্রহণযোগ্য (مقبول) হওয়াই তাঁর জন্য যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ৭)
[مدخل]مدخل لا يقصد من الكتابة عن الخطابة وأسسها ومبادئها وآدابها، أن تكون مادة يدرسها الدارس لتجعل منه خطيبا مفوَّها ومتحدثا مصقعا، إن الكتابة والأبحاث والمناهج لا تجعل من العيي فصيحا ولا اللسان المعقود طليقا، ولكن هذه الكتابات والدراسات والبحوث نبراس ومنار يضيء لصاحب الموهبة والاستعداد، مشعل ينمي الموهبة ومصباح ينير السبيل فلا يكون حاطب ليل.
هذه الكتابات والبحوث يتكون منها علم ينير الطريق ولا يحمل على السلوك، يرشد إلى الدرب ولا يقسر على السير.
وأنت خبير بأن السراج المنير لا يستفيد منه غير البصير أما ذو الرمد فغير منتفع، ويكفيك إشارة بأن الكاتب في علم الاقتصاد والعالم في أسسه وقواعده قد يكون أقل الناس مالا وأضعفهم موردا.
ومن حكم أفلاطون: "لكل أمر حقيقة، ولكل زمان طريقة، ولكل إنسان خليقة، فالتمس من الأمور حقائقها، وأَجْرِ الأزمنة على طرائقها، وعامل الناس على خلائقها".
[تعريف الخطبة وأغراضها وأثرها]تعريف الخُطبة: بضم الخاء كلام منثور مسجوع ومرسل، أو مزدوج بينهما، غايته التأثير والإقناع.
[ভূমিকা]উপক্রমণিকা: বাগ্মিতা, এর ভিত্তি, মূলনীতি এবং আদব সম্পর্কে লেখার উদ্দেশ্য এটি নয় যে, এটি এমন একটি পাঠ্য বিষয় হবে যা অধ্যয়ন করে একজন শিক্ষার্থী সুবক্তা ও প্রাঞ্জলভাষী হয়ে উঠবে। মূলত লেখালেখি, গবেষণা ও পাঠ্যক্রম কোনো তোতলা ব্যক্তিকে স্পষ্টভাষী করতে পারে না এবং কোনো আড়ষ্ট জিহ্বাকেও সাবলীল করতে পারে না। বরং এই সকল লেখালেখি, অধ্যয়ন ও গবেষণা হলো আলোকবর্তিকা ও বাতিঘর যা প্রতিভাবান ও সম্ভাবনাময় ব্যক্তির পথকে আলোকিত করে। এটি এমন এক মশাল যা প্রতিভাকে বিকশিত করে এবং এমন এক প্রদীপ যা পথকে উদ্ভাসিত করে, যাতে ব্যক্তি অন্ধকার রাতে কাষ্ঠ সংগ্রহকারীর মতো লক্ষ্যহীন না হয়ে পড়ে।
এই সকল লেখালেখি ও গবেষণার সমন্বয়ে এমন এক শাস্ত্র তৈরি হয় যা পথকে আলোকিত করে কিন্তু বিশেষ কোনো আচরণে বাধ্য করে না; এটি সঠিক পথের দিশা দেয় কিন্তু পথ চলতে বাধ্য করে না।
আপনি অবগত আছেন যে, প্রজ্জ্বলিত প্রদীপ থেকে কেবল দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিই উপকৃত হতে পারে, কিন্তু চক্ষু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি তা থেকে উপকৃত হয় না। আপনার জন্য এই ইঙ্গিতটুকুই যথেষ্ট যে, অর্থনীতি শাস্ত্রের কোনো লেখক কিংবা এর মূলনীতি ও নিয়মের কোনো বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি হয়তো সম্পদের দিক থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র এবং উপার্জনের উৎসের দিক থেকে দুর্বলতম হতে পারেন।
আফলাতুনের (প্লেটো) প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত হলো: "প্রত্যেক বিষয়ের একটি বাস্তবতা রয়েছে, প্রত্যেক যুগের একটি পদ্ধতি রয়েছে এবং প্রত্যেক মানুষের একটি স্বভাবজাত চরিত্র রয়েছে। সুতরাং বিষয়াদির বাস্তবতা অন্বেষণ করো, যুগকে তার স্বীয় পদ্ধতিতে চলতে দাও এবং মানুষের সাথে তাদের স্বভাব অনুযায়ী আচরণ করো।"
[খুতবার সংজ্ঞা, উদ্দেশ্য ও প্রভাব]খুতবার সংজ্ঞা: (খ-বর্ণে পেশ সহযোগে) এটি হলো ছন্দোবদ্ধ কিংবা বিরামহীন বা বিচ্ছিন্ন (مرسل) গদ্য, অথবা উভয়ের সংমিশ্রণ; যার মূল লক্ষ্য হলো প্রভাব বিস্তার করা এবং যৌক্তিক প্ররোচনা বা সন্তুষ্টি প্রদান করা।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ويقصد بها هنا الخطب التي تلقى على المنابر يوم الجمعة، بقصد حمل الناس على الخير، وترغيبهم فيه، وصرفهم عن الشر ودواعيه، وتبصيرهم بأحوالهم وواقع أمرهم حسب ما يقتضيه أمر الشرع.
والخطبة من جانب الخطيب مقدرة على التصرف في فنون الكلم، مرماها التأثير في نفس السامع ومخاطبة وجدانه.
أغراضها الدعوة إلى الصلاح والإصلاح، والاستمساك بأمور الشريعة، وإقامة الحق العدل، ونشر الفضائل، وتسكين الفتن، وفض المشكلات، وتهدئة النفوس الثائرة، وإثارة النفوس الفاترة، ترفع الحق، وتخفض الباطل، هي صوت المظلومين، وواعظ الظالمين، ولسان الهداية، ولقد نادى موسى عليه السلام ربه {قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي - وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي - وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي - يَفْقَهُوا قَوْلِي} [طه: 25 - 28] فجاءه الجواب الرباني: {قَدْ أُوتِيتَ سُؤْلَكَ يَا مُوسَى} [طه: 36]
والغرض هنا الإشارات إلى مجمل الأغراض، وسوف يزداد الأمر بيانا من خلال الحديث عن أنواع الخطب وخصائص
এখানে এটি দ্বারা জুমুআর দিনে মিম্বর থেকে প্রদানকৃত সেই সকল ভাষণকে বোঝানো হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো মানুষকে কল্যাণের দিকে ধাবিত করা, তাতে উৎসাহিত করা, মন্দ ও মন্দের কারণসমূহ থেকে তাদের ফিরিয়ে রাখা এবং শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তাদের অবস্থা ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা সম্পর্কে তাদের সচেতন করা।
আর খতিবের পক্ষ থেকে খুতবা হলো শব্দশৈলী প্রয়োগের এক বিশেষ পারদর্শিতা, যার লক্ষ্য হলো শ্রোতার মনে প্রভাব বিস্তার করা এবং তার হৃদয়কে সম্বোধন করা।
এর উদ্দেশ্যসমূহ হলো কল্যাণ ও সংস্কারের দিকে আহ্বান করা, শরীয়তের বিষয়সমূহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, গুণাবলি প্রচার করা, ফিতনা প্রশমিত করা, সমস্যার সমাধান করা, উত্তেজিত আত্মাকে শান্ত করা এবং নিস্তেজ আত্মাকে জাগ্রত করা। এটি সত্যকে সমুন্নত করে এবং মিথ্যাকে অপদস্থ করে। এটি মজলুমের কণ্ঠস্বর, জালেমের জন্য উপদেশদাতা এবং হেদায়েতের ভাষা। মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর প্রতিপালকের কাছে আরজ করেছিলেন: {তিনি বললেন: হে আমার পালনকর্তা, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। আর আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে} [ত্বহা: ২৫-২৮]। অতঃপর তাঁর কাছে রব্বানী জওয়াব এল: {তিনি বললেন: হে মুসা, তোমার প্রার্থনা কবুল করা হয়েছে} [ত্বহা: ৩৬]।
আর এখানে উদ্দেশ্য হলো সামগ্রিক লক্ষ্যসমূহের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা; খুতবার প্রকারভেদ ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الخطب المنبرية.
والفقرة التالية في أثر الخطبة تعطي مزيد بسط في المقصود.
أثرها لا يكاد ينجح صاحب فكرة، أو ينتصر ذو حق، أو يفوز داعية إصلاح، إلا بالكلمة البليغة، والحجة الظاهرة، والخطبة الباهرة.
الخطيب المفوه يلحق بحجته، ويسبق إلى غايته، فيعلو سلطانه، ويتسع ميدانه.
ولهذا فإن القائد المحنك في الجيش يتميز فيما يتميز بذرابة لسانه وحسن خطابه، فيكون خطيبا مصقعا ولسنا مفوها، ولا يذكر حين يذكر إلا منذر الجيش نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، ومن بعده خطباء أصحابه أبو بكر وعمر وعثمان وعلي، ثم من بعدهم من صالح سلف الأمة وأئمتها من علوا المنابر فأصغت لهم الآذان ودانت لهم الرقاب.
ولئن كانت الخطبة في بعض مساريها أو مساراتها طريقا للمجد الشخصي، فإنها في نبل غايتها وعظيم أثرها طريق للنفع العام والإصلاح الشامل.
মিম্বরের খুতবাসমূহ।
খুতবার প্রভাব বিষয়ক পরবর্তী অনুচ্ছেদটি উদ্দিষ্ট বিষয়ের অধিকতর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করছে।
এর প্রভাব: কোনো আদর্শের ধারক সফল হতে পারেন না, কোনো সত্যপন্থী বিজয়ী হতে পারেন না, কিংবা কোনো সংস্কারবাদী দাঈ সাফল্য লাভ করতে পারেন না—সাবলীল শব্দ, সুস্পষ্ট দলিল (حجة) এবং চমৎকার খুতবা ব্যতীত।
বাগ্মী খতিব তাঁর দলিলের (حجة) মাধ্যমে উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছান এবং গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হন; ফলে তাঁর প্রভাব সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাঁর কর্মক্ষেত্র বিস্তৃত হয়।
এই কারণে, সেনাবাহিনীর একজন অভিজ্ঞ সেনাপতি অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি তাঁর বাকপটুতা ও উত্তম বাচনভঙ্গির মাধ্যমে অনন্য হয়ে থাকেন। ফলে তিনি একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বাগ্মী খতিব হিসেবে পরিগণিত হন। আর এ ক্ষেত্রে যখনই কারো আলোচনা করা হয়, তখন সর্বাগ্রে সেনাবাহিনীর সতর্ককারী আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথাই আলোচিত হয় এবং তাঁর পরবর্তী খতিব সাহাবী (أصحابه) আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর কথা। অতঃপর তাঁদের পরবর্তী উম্মতের নেককার পূর্বসূরি (سلف) এবং ইমামগণের (أئمة) কথা, যারা মিম্বরে আরোহণ করেছিলেন, ফলে শ্রবণকারীগণ তাঁদের প্রতি একাগ্র হয়েছিল এবং গর্দানসমূহ তাঁদের অনুগত হয়েছিল।
যদ্যপি খুতবা কখনো কখনো ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের সোপান হয়ে থাকে, তবে এর সুমহান লক্ষ্য এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাবের বিবেচনায় এটি জনকল্যাণ ও সামগ্রিক সংস্কারের একটি পথ।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১০)
والخطابة مظهر حضاري للمجتمع الراقي المستنير، يعلو قدرها، ويروج سوقها برقي المجتمع، وانتشار الثقافة فيه، كما أنها تخبو حين ضعفه وذلته.
وثمت جانب في التأثير آخر ينبغي مراعاته، وهو أن تأثير الخطيب في سامعيه ليس بالإلزام أو الإفحام، بل مرده إلى إثارة العاطفة، وحمله على الإذعان والتسليم، ولا يكون ذلك بالدلائل المنطقية تساق جافة، ولا بالبراهين العقلية تقدم عارية، ولكنه بإثارة العاطفة ومخاطبة الوجدان.
ومن هذا فإن الخطيب فد يستغني عن الدلائل العقلية ولكنه لا يمكن أن يستغني عن المثيرات العاطفية، ولعلك تدرك أن أكثر ما يعتمد عليه الخطيب في حمل السامعين على المراد مخاطبة وجدانهم والتأثير في عواطفهم.
إن الخطيب المرموق -كما هو معلوم- يأخذ سامعيه باستدراجه اللبق وكلماته الساحرة وصوته العذب المتردد انخفاضا وارتفاعا وإثارة وهدوءا ينشئ جوا عاطفيا مشحونا، وهذا معين في التأثير لا ينضب ولا يمل.
أما البراهين العقلية فجافة تجلب السآمة.
বাগ্মিতা হলো একটি উন্নত ও আলোকিত সমাজের সভ্যতার বহিঃপ্রকাশ; সমাজের অগ্রগতি এবং সেখানে সংস্কৃতির প্রসারের সাথে সাথে এর মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং এর প্রসার ঘটে, ঠিক যেমন সমাজের দুর্বলতা ও লাঞ্ছনার সময় তা ম্লান হয়ে যায়।
প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আরও একটি দিক রয়েছে যা বিবেচনা করা উচিত; আর তা হলো, শ্রোতাদের ওপর একজন বক্তার প্রভাব জবরদস্তি বা তর্কে পরাস্ত করার মাধ্যমে আসে না, বরং এর মূল নিহিত রয়েছে আবেগ সঞ্চার করা এবং শ্রোতাকে আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের দিকে পরিচালিত করার মধ্যে। এটি শুষ্ক যৌক্তিক প্রমাণ (دليل) সমূহের মাধ্যমে সম্ভব নয়, আর না তা কেবল নগ্ন বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল (برهان) উপস্থাপনের মাধ্যমে সম্ভব, বরং তা অর্জিত হয় আবেগ উদ্দীপিত করা এবং হৃদয়ের গহীনে আবেদনের মাধ্যমে।
এই কারণে একজন বক্তা হয়তো বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণাদি বর্জন করতে পারেন, কিন্তু আবেগীয় উদ্দীপকসমূহ বর্জন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। আপনি হয়তো উপলব্ধি করতে পারছেন যে, শ্রোতাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের দিকে ধাবিত করার জন্য একজন বক্তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁদের হৃদয়ের আবেগ ও অনুভূতির ওপরই নির্ভর করেন।
একজন যশস্বী বক্তা—যেমনটি সুপরিচিত—তাঁর কৌশলী আকর্ষণ, মোহনীয় শব্দচয়ন এবং কণ্ঠস্বরের ওঠানামা, উত্তেজনা ও প্রশান্তির মাধ্যমে শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করেন এবং এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেন। এটি প্রভাব বিস্তারের এমন এক উৎস যা কখনও ফুরিয়ে যায় না এবং বিরক্তি উৎপাদন করে না।
পক্ষান্তরে, বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল (برهان) সমূহ শুষ্ক হওয়ার কারণে তা অবসাদ নিয়ে আসে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وحينما يذكر خطاب العاطفة وأثرها فلا يخطر بالبال أن ذلك يعني دغدغة العواطف بالكذب والتزييف، ومخالفة الأقوال للأفعال فهذا حبله قصير بل ضعيف واه، وهذا ما سيبدو موضحا في صفات الخطيب إن شاء الله.
[أنواع الخطبة]أنواع الخطبة الناظر في أغراض الخطبة ومقاصدها ومتطلبات المجتمع من ذلك يستطيع إدراك أنواعها، وهذا سرد لأهم أنواعها:
1 - الخطب النيابية: وهي الخطب التي تكون في دور النيابة والشورى عاكسة ما يجري داخل هذه القاعات من مناقشات ومداولات وأسئلة واستجوابات مؤيدة ومعارضة.
2 - الخطب الانتخابية: وهي خطب تعد وتلقى من أجل الترشيح والتزكية لشخص أو حزب أو مبادئ، مع ما يشتمل عليه ذلك من رد على المعارضين.
3 - الخطب الثقافية: وهي ما يلقى في النوادي الثقافية والأنشطة العلمية والجامعية، وهي في العادة تتخذ مسارا ثقافيا وأدبيا وعلميا واجتماعيا وتوجيهيا بما يبتعد عن الأغراض السياسية والقضائية والوعظ، وتعلو النبرة فيه بما يعرف بالمعارك الأدبية بين المنتدين حسب اتجاهاتهم الأدبية، شعرا
যখন আবেগপূর্ণ বক্তৃতা এবং এর প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়, তখন মনে করা উচিত নয় যে এর অর্থ হলো মিথ্যা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আবেগকে সুড়সুড়ি দেওয়া এবং কর্মের বিপরীতে কথা বলা; কেননা এর রশি খাটো, বরং তা দুর্বল (ضعيف) ও অসার। আর এটি খতিবের গুণাবলির বর্ণনায় ইনশাআল্লাহ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।
[বক্তৃতার প্রকারভেদ]বক্তৃতার প্রকারভেদ: বক্তৃতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং এ বিষয়ে সমাজের প্রয়োজনীয়তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে এর প্রকারভেদগুলো অনুধাবন করা সম্ভব। নিম্নে এর গুরুত্বপূর্ণ প্রকারগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো:
১ - সংসদীয় বক্তৃতা: এগুলো হলো সেই সকল বক্তৃতা যা সংসদ ও পরামর্শ সভায় প্রদান করা হয়; যা এসকল হলের অভ্যন্তরে চলমান আলোচনা, পর্যালোচনা, প্রশ্নোত্তর এবং সমর্থন ও বিরোধিতামূলক জবাবদিহিতাগুলোকে প্রতিফলিত করে।
২ - নির্বাচনী বক্তৃতা: এগুলো হলো এমন বক্তৃতা যা কোনো ব্যক্তি, দল বা আদর্শের মনোনয়ন এবং প্রশংসার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত ও প্রদান করা হয়; যার মধ্যে বিরোধীদের বক্তব্যের প্রত্যুত্তরও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
৩ - সাংস্কৃতিক বক্তৃতা: এগুলো হলো সেই সকল বক্তৃতা যা সাংস্কৃতিক ক্লাব, জ্ঞানতাত্ত্বিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে প্রদান করা হয়। সাধারণত এগুলো রাজনৈতিক ও বিচারবিভাগীয় উদ্দেশ্য এবং ওয়ায-নসিহত থেকে দূরে থেকে সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিক, সামাজিক ও দিকনির্দেশনামূলক পথ অনুসরণ করে। এতে অংশগ্রহণকারীদের সাহিত্যিক ঝোঁক অনুযায়ী তাদের মধ্যকার সুপরিচিত 'সাহিত্যিক লড়াই'-এর মাধ্যমে বক্তৃতার সুর উচ্চকিত হয়, তা কাব্যিক হোক...
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ونثرا وتليدا وجديدا، وهو في العادة خطاب لطبقة مثقفة متأدبة ذات تميز ثقافي خاص.
4 - الخطب القضائية: ويظهر هذا النوع في دور القضاء وقاعات المحاكم، حين ينبري المدَّعون بإلقاء حججهم والسعي في إثبات دعواهم، فيقابلهم المحامون بالدفاع عن موكليهم بأسلوب خطابي بليغ مؤثر ذي ألفاظ وإلقاء متميز وحركات مدروسة.
5 - الخطب العسكرية: وهي ما يلقيه قائد العسكر على جنده وزملائه بغرض بث الروح المعنوية والقتالية فيهم وبيان شرف موقعهم وكرم موقفهم وشرح خططه العسكرية والميدانية بأسلوب انفعالي مؤثر.
6 - خطب المنبر والمواعظ: وهذا هو محل البحث والنظر والتفصيل هنا، وهذا النوع يتجلى في أبهى صوره وكامل هيئته وانتظام شكله في خطب الجمعة المنبرية، وهي خطب أسبوعية دورية تتخذ أغراضا عدة وترمي إلى مقاصد متنوعة نشير في هذا التعريف إلى نماذج منها، إذ من المعلوم أن هذه المقاصد والأغراض تتجدد وتتنوع حسب حاجات الناس وتغير الأحوال وتقلب الظروف ودواعي التذكير.
গদ্যে, প্রাচীন এবং নব্য রীতিতে; এটি সাধারণত একটি উচ্চশিক্ষিত ও মার্জিত শ্রেণীর উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণ, যাদের বিশেষ সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রয়েছে।
4 - বিচারিক ভাষণ: এ ধরনের ভাষণ বিচারালয় ও আদালতের এজলাসে দেখা যায়, যখন ফরিয়াদিগণ তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং তাদের দাবি প্রমাণের চেষ্টা করেন। এর বিপরীতে আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের পক্ষে সাবলীল, প্রভাবশালী ও সুনিপুণ শব্দশৈলী এবং সুনিয়ন্ত্রিত অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে ওকালতি করেন।
5 - সামরিক ভাষণ: এটি হলো সেই ভাষণ যা সামরিক কমান্ডার তার সৈন্য ও সহকর্মীদের মাঝে নৈতিক ও যুদ্ধস্পৃহা জাগ্রত করার লক্ষ্যে প্রদান করেন। এতে তাদের অবস্থানের মর্যাদা ও বীরত্ব তুলে ধরা হয় এবং আবেগপূর্ণ ও প্রভাবশালী শৈলীতে সামরিক ও রণকৌশল ব্যাখ্যা করা হয়।
6 - মিম্বরের ভাষণ ও ওয়াজ-নসিহত: এটিই এখানে আমাদের গবেষণা, পর্যালোচনা ও বিস্তারিত আলোচনার মূল বিষয়। জুমার মিম্বরি খুতবার মাধ্যমে এই প্রকারটি তার সর্বোত্তম রূপ, পূর্ণাঙ্গ অবয়ব ও সুশৃঙ্খল কাঠামোতে প্রকাশ পায়। এটি একটি সাপ্তাহিক ও নিয়মিত ভাষণ যা বিভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রদান করা হয়। আমরা এই সংজ্ঞায় তার কিছু নমুনা উল্লেখ করছি। এটা সুবিদিত যে, মানুষের প্রয়োজন, পরিস্থিতির পরিবর্তন ও উপদেশের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রতিনিয়ত নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য লাভ করে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
** من هذه الأغراض: - تثبيت العقيدة وتقوية الإيمان.
- الدعوة إلى الإسلام والدفاع عنه وبيان مزاياه.
- خطب الإصلاح ومحاربة المنكرات.
- خطب ذات موضوع خاص أو مسألة مفردة من مسائل الإسلام كالصلاة والصوم وحقوق الوالدين والجوار وحرمة الزنا والخمر والسرقة ونحو ذلك، مما مقصد التذكير والوعظ والتعليم ونحو ذلك.
- معالجة القضايا المستجدة بنظرة شرعية.
7 - أنواع أخرى: الأنواع السابقة ليست أنواعا حاصرة ولكنها تشير إلى الأنواع البارزة السائدة المتميزة في موضوعاتها ومقاصدها، وثمت أنواع أخرى غير شهيرة ذات موضوعات ومقاصد أخرى، كخطب النكاح والصلح والمدائح والمراثي والمناسبات الاجتماعية والمحافل الشعبية.
[إعداد الخطبة وبناؤها]
[توطئة]إعداد الخطبة وبناؤها بعد ما سبق من مقدمات وممهدات في تعريف الخطبة وغرضها وأنواعها وأثرها هذا دخول في جزء مهم من مقاصد
** এই উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে: - আকিদা সুদৃঢ়করণ এবং ইমান শক্তিশালী করা।
- ইসলামের প্রতি দাওয়াত প্রদান, এর প্রতিরক্ষা এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করা।
- সংস্কারমূলক খুতবা এবং মন্দ কাজ (منكرات) প্রতিহত করা।
- বিশেষ কোনো বিষয় বা ইসলামের কোনো একক মাসআলা সম্পর্কিত খুতবা, যেমন: সালাত, সিয়াম, পিতামাতা ও প্রতিবেশীর অধিকার এবং জিনা, মদ ও চুরির নিষিদ্ধতা ও এই জাতীয় বিষয়াবলী; যার লক্ষ্য হলো নসিহত, উপদেশ ও শিক্ষা প্রদান ইত্যাদি।
- শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্ভূত সমস্যাবলির সমাধান করা।
৭ - অন্যান্য প্রকার: পূর্বোক্ত প্রকারগুলো খুতবার পরিধিকে সীমাবদ্ধ করে না, বরং এগুলো বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্যের দিক থেকে কেবল প্রধান ও প্রচলিত প্রকারগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে। এ ছাড়া আরও কিছু অপ্রসিদ্ধ প্রকার রয়েছে যেগুলোর বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্য ভিন্নতর, যেমন: বিবাহের খুতবা, আপস-মীমাংসা, প্রশংসা ও শোকগাঁথা এবং সামাজিক ও জনসমাবেশের খুতবা।
[খুতবা প্রস্তুতি ও এর গঠন]
[উপস্থাপনা]খুতবা প্রস্তুতি ও এর গঠন: খুতবার সংজ্ঞা, উদ্দেশ্য, প্রকারভেদ এবং প্রভাব সম্পর্কিত পূর্ববর্তী ভূমিকা ও আলোচনার পর এটি এখন খুতবার মূল লক্ষ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রবেশ...
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هذا البحث، ذلكم هو جزء الإعداد والبناء، وسوف ينتظم ذلك الحديث عن: عناصر البناء وطريقة البناء.
توطئة لا يتوهم متوهم أن في إعداد الخطبة وتحضيرها ما يعيب القدرة أو يشكك في الأهلية، ولكن المعيب أن يتفوه المتصدر للخطابة وحديث الناس بكلام مبتذل لا قيمة له هزيل في معناه متهدم في مبناه.
على الخطيب أن يعلم أنه كالخائض غمار معركة عليه أن يتدرع بدروعها ويتترس بتروسها ويلبس لها لأمتها، ولا يكون ذلك إلا بالاستعداد والتهيؤ وأخذ العدة لكل موقف.
إن ذا الاطلاع الواسع والعلم الغزير إن لم يراجع نفسه حينا بعد حين ويفكر طويلا فيما يعتزم قوله ويزوق في نفسه أو قرطاسه من الألفاظ والعبارات المناسبة، فلسوف يهتز موقفه ويضعف أسلوبه ويتراخى أداؤه، ويتناقص عطاؤه، وينحدر في منجرف الابتذال السحيق وتكون معالجاته سطحية تفقد تأثيرها وتخسر جمهورها.
এই গবেষণাটি প্রস্তুতি ও গঠনের একটি অংশ। এতে গঠনশৈলীর উপাদান এবং গঠনপদ্ধতি সংক্রান্ত আলোচনা বিন্যস্ত হবে।
প্রারম্ভিকা: কেউ যেন এমন অমূলক ধারণা পোষণ না করেন যে, খুতবার প্রস্তুতি ও বিন্যাসের বিষয়টি যোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করে বা সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে; বরং নিন্দনীয় বিষয় হলো এই যে, বক্তৃতার জন্য অগ্রণী ব্যক্তি মানুষের সামনে এমন কুরুচিপূর্ণ কথা বলবেন যার কোনো গুরুত্ব নেই, যা অর্থে দুর্বল এবং কাঠামোতে জীর্ণ।
একজন খতিবের জানা উচিত যে, তিনি যেন এক যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন; তাকে বর্ম পরিধান করতে হবে, ঢাল দ্বারা আত্মরক্ষা করতে হবে এবং যুদ্ধের পূর্ণ সজ্জায় সজ্জিত হতে হবে। আর এটি কেবল মানসিক প্রস্তুতি, সজ্জা এবং প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য সরঞ্জাম গ্রহণের মাধ্যমেই সম্ভব।
অগাধ জ্ঞান ও ব্যাপক অধ্যয়নের অধিকারী ব্যক্তিও যদি সময়ে সময়ে নিজেকে পর্যালোচনা না করেন এবং তিনি যা বলতে চান তা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ চিন্তা না করেন এবং নিজের মনে বা কাগজে উপযুক্ত শব্দ ও বাক্য সুবিন্যস্ত না করেন, তবে তার অবস্থান টালমাটাল হয়ে পড়বে, তার উপস্থাপনা শৈলী দুর্বল হয়ে যাবে এবং তার পারফরম্যান্স শিথিল হয়ে পড়বে। ফলে তার প্রদানের সক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং তিনি চরম কুরুচির অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হবেন। তখন তার আলোচনা হবে ভাসাভাসা, যা শ্রোতাদের ওপর প্রভাব হারাবে এবং তার গ্রহণযোগ্যতা বিনষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[عناصر البناء]
[الإيجاد والابتكار]عناصر البناء من المعلوم مما سبق ويتأكد فيما سيأتي أن الخطبة وسائر الأعمال العلمية والأدبية تحتاج إلى أسس ثلاثة:
قلب مفكر، وبيان مصور، ولسان معبر.
فالأول يكون به إيجاد الموضوع وابتكاره وتوليده، وبالثاني تنسيقه وترتيبه ورصه، وبالثالث عرضه والتعبير به.
وهذا بسط لهذه العناصر.
الإيجاد والابتكار:
(القلب المفكر) وقد يعبر عنه بالاختيار (اختيار الموضوع) .
من المعلوم أن بواعث الاختيار متعددة، والخطيب كلما كان صادقا في قصده، مهتما بجمهوره وسامعيه، جادا في طرحه محترما لنفسه، فسوف يحسن الاختيار، ويقدح زناد فكره بجدية نحو الابتكار وحسن الاختيار، يضاف إلى ذلك الظروف المحيطة، والأحوال المستجدة، والأغراض الباعثة التي تستدعي الحديث عن بعض الوقائع والتعليق على بعض الأحداث والتفسير لبعض المواقف وتصحيح بعض المفاهيم، ونظر الخطيب الحصيف يدله على تقديم بعض وتأخير بعض وحسن التفسير ونوع التعليق.
[নির্মাণশৈলীর উপাদানসমূহ][উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা]নির্মাণশৈলীর উপাদানসমূহ: ইতিপূর্বে যা আলোচিত হয়েছে তা থেকে এটি সুবিদিত এবং সামনে যা আসবে তা থেকে সুনিশ্চিত হওয়া যায় যে, খুতবাহ এবং অন্যান্য যাবতীয় জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক কর্ম তিনটি ভিত্তির মুখাপেক্ষী:
চিন্তাশীল হৃদয়, চিত্রায়নকারী বর্ণনাশৈলী এবং প্রকাশক্ষম জিহ্বা।
প্রথমটির মাধ্যমে বিষয়ের উদ্ভাবন, সৃজন ও তা নিরূপণ করা হয়; দ্বিতীয়টির মাধ্যমে তার বিন্যাস, সজ্জা ও সুসংবদ্ধকরণ করা হয়; আর তৃতীয়টির মাধ্যমে তা উপস্থাপন ও প্রকাশ করা হয়।
নিচে এই উপাদানগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।
উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা:
(চিন্তাশীল হৃদয়) একে অনেক সময় বিষয় নির্বাচন হিসেবেও ব্যক্ত করা হয়।
এটি সুবিদিত যে, বিষয় নির্বাচনের চালিকাশক্তি বা কারণসমূহ বহুবিধ। খতিব যখনই তার উদ্দেশ্যে সত্যনিষ্ঠ হবেন, তার শ্রোতামণ্ডলী ও অনুসারীদের প্রতি যত্নশীল হবেন, উপস্থাপনায় আন্তরিক হবেন এবং আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন হবেন, তখনই তিনি উত্তম বিষয় নির্বাচনে সক্ষম হবেন। তিনি উদ্ভাবন ও সঠিক নির্বাচনের লক্ষ্যে ঐকান্তিকতার সাথে তার চিন্তার প্রদীপ প্রজ্বলিত করবেন। এর সাথে আরও যুক্ত হবে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, নতুন উদ্ভূত ঘটনাবলি এবং সেই সকল প্রেক্ষাপট যা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা সম্পর্কে আলোচনা, পরিস্থিতির ওপর মন্তব্য, কোনো অবস্থানের ব্যাখ্যা প্রদান কিংবা কিছু ধারণার সংশোধনের দাবি রাখে। আর একজন বিচক্ষণ খতিবের অন্তর্দৃষ্টি তাকে কোন বিষয়টি আগে আনতে হবে আর কোনটি পরে, এবং সুন্দর ব্যাখ্যা প্রদান ও মন্তব্যের ধরন সম্পর্কে সঠিক পথপ্রদর্শন করে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
[التنسيق والترتيب](البيان المصور) لا يخفى أن طريق البيان المصور هو الأسلوب.
للأسلوب سلطان لا يضعفه العقل وأثر لا يمحوه الدليل، الأسلوب ألفاظ وجمل ينطق بها المتكلم ويتحدث بها الخطيب لا تكاد تخرج من فيه حتى تعلو الهيبة وجوه السامعين وتمتد الأعناق له احتراما، ألفاظ وجمل تثير في النفوس صورا لا حد لها ولا انحصار، محفوفة بالإكبار والتقدير، إذا كان هذا هو بعض أثر الأسلوب وتأثيره فكيف يكون الشأن في المعنى المحكم وقد كسي بلفظ جميل وألقي بلفظ منسجم وعبارات تثير في النفس أخيلة وأماني؟
وينبغي أن يلحظ أن ثمت فرقا بين أسلوب الخطابة وغيرها من ألوان الكتابة والآداب، فالمستمع يتوجه نحو الخطيب بسمعه وذوقه وفكره فللكلمات أثر على السمع، وللجرس في النفس وقع، وللعقل فيه إدراك.
ومن أجل هذا فينبغي أن تكون ألفاظ الخطبة سهلة النطق لا يتعثر اللسان في إبرازها، ولا تتزاحم حروفها فلا تتقارب مخارجها ولا تتباعد، كما ينبغي أن تكون ذات جرس خاص يهز
[সমন্বয় ও বিন্যাস](চিত্রায়িত বর্ণনা) এটি অস্পষ্ট নয় যে, চিত্রায়িত বর্ণনার মাধ্যম হলো শৈলী (الأسلوب)।
শৈলীর (الأسلوب) এমন এক প্রভাব রয়েছে যা যুক্তি দ্বারা দুর্বল হয় না এবং এমন এক প্রতিক্রিয়া রয়েছে যা প্রমাণ (الدليل) দ্বারা মুছে যায় না। শৈলী (الأسلوب) হলো এমন সব শব্দ ও বাক্য যা একজন বক্তা উচ্চারণ করেন এবং একজন খতিব (الخطيب) তা ব্যক্ত করেন; তা মুখ থেকে বের হতে না হতেই শ্রোতাদের চেহারায় গাম্ভীর্য ছেয়ে যায় এবং শ্রদ্ধায় তাদের গ্রীবা প্রসারিত হয়। এটি এমন শব্দ ও বাক্য যা মানুষের মনে সীমাহীন ও অবারিত চিত্রের উদ্রেক করে, যা মহিমা ও শ্রদ্ধায় ঘেরা। যদি শৈলীর (الأسلوب) প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া এমন হয়, তবে সেই সুদৃঢ় (المحكم) অর্থের স্বরূপ কেমন হবে যা সুন্দর শব্দে আচ্ছাদিত এবং সুসমঞ্জস শব্দে উপস্থাপিত, আর এমন সব বাক্য যা মনে কল্পনা ও আকাঙ্ক্ষার উদ্রেক করে?
এটি লক্ষ রাখা প্রয়োজন যে, বাগ্মিতা বা বক্তৃতার (الخطابة) শৈলী এবং অন্যান্য ধরণের রচনা ও সাহিত্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কারণ শ্রোতা তার শ্রবণশক্তি, রুচি ও চিন্তা নিয়ে খতিবের (الخطيب) দিকে মনোনিবেশ করে; ফলে শব্দের একটি প্রভাব শ্রবণের ওপর পড়ে, শব্দের ঝংকারের একটি স্পন্দন মনে অনুভূত হয় এবং বিবেক তাতে উপলব্ধি লাভ করে।
আর এ কারণেই খুতবার (الخطبة) শব্দগুলো হওয়া উচিত সহজবোধ্য উচ্চারণের, যাতে তা প্রকাশ করতে জিহ্বা আড়ষ্ট না হয় এবং এর অক্ষরগুলো যেন ঘিঞ্জি বা সংকুচিত না হয়। ফলে অক্ষরের উচ্চারণস্থল বা মাখরাজগুলো (المخارج) যেন খুব বেশি নিকটবর্তী বা খুব বেশি দূরবর্তী না হয়। তদুপরি এটি এমন এক বিশেষ ঝংকার সম্পন্ন হওয়া উচিত যা আন্দোলিত করে...
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
النفس ويثير الشعور، وتكون الجمل ذات مقاطع قصيرة كل جملة كاملة في معناها.
إن من أهم خصائص الأسلوب الخطابي عنصر الشعور والوجدان والإثارة والتشويق، وإذا فقد ذلك فقد فقد أكبر خصائصه.
أسلوب التكرار والتفنن في التعبير عنصر في الخطابة هام، فالخطيب محتاج إلى تكرار فكرته ومغايرة تصويره، فمرة بالتقرير ومرة بالاستفهام وأخرى بالاستنكار ورابعة بالتهكم.
أما فن الإيجاز والإطناب فيختلف من حال إلى حال، فيراعى حال السامعين في إقبالهم ومللهم ونوع الموضوع وظروف الإلقاء وردود الفعل عند السامعين.
أما ألفاظ الخطبة وعباراتها فينبغي أن تتسم بالوضوح والبيان لتكون سهلة الإدراك من السامعين سريعة الإيصال إلى المقصود بعيدة عن الوحشي والتكلف.
وفي ذات الوقت تبقى محترمة غير مبتذلة تحفظ للخطيب وخطبته الهيبة والوقار وللموقف مكانته وجلاله.
فهي ألفاظ منتقاة في غير إغراب في أسلوب سهل ممتنع يفهمه الدهماء ولا يجفو عنه الأكفاء.
এটি অন্তরাত্মার ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং অনুভূতিকে জাগ্রত করে। এর বাক্যগুলো হয় সংক্ষিপ্ত খণ্ডবিশিষ্ট এবং প্রতিটি বাক্য তার অর্থে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
নিশ্চয়ই আলঙ্কারিক বা প্রবচন শৈলীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো অনুভূতি, প্রজ্ঞা, উত্তেজনা এবং আগ্রহ সৃষ্টির উপাদান। যদি তা অনুপস্থিত থাকে, তবে তা তার প্রধান বৈশিষ্ট্যটিই হারিয়ে ফেলে।
প্রকাশশৈলীতে পুনরাবৃত্তি এবং বৈচিত্র্যের সমাবেশ বাগ্মিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একজন বক্তার প্রয়োজন হয় তার চিন্তাধারাকে বারবার উপস্থাপন করার এবং তার বর্ণনাভঙ্গিতে ভিন্নতা আনার। কখনও বর্ণনামূলক ভঙ্গিতে, কখনও প্রশ্নবোধক রূপে, কখনও অস্বীকৃতিজ্ঞাপক এবং আবার কখনও বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিতে।
আর সংক্ষিপ্তকরণ ও দীর্ঘায়িত করার বিষয়টি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে শ্রোতাদের আগ্রহ ও বিরক্তি, বিষয়ের ধরন, উপস্থাপনার পরিবেশ এবং শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়ার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়।
খুতবার শব্দ ও বাক্যসমূহ হওয়া উচিত অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল, যাতে তা শ্রোতাদের জন্য অনুধাবন করা সহজ হয় এবং কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য দ্রুত পৌঁছে দেয়। একই সাথে তা যেন শ্রুতিকটু, দুর্বোধ্য ও কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত থাকে।
পাশাপাশি তা যেন সম্মানজনক ও মার্জিত থাকে, যা বক্তা ও তার বক্তব্যের গাম্ভীর্য ও মর্যাদা রক্ষা করে এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব ও মহিমা বজায় রাখে।
মূলত এগুলো হলো এমন এক সহজ অথচ অননুকরণীয় শৈলীতে নির্বাচিত শব্দাবলি, যেখানে কোনো অস্পষ্টতা নেই; যা সাধারণ মানুষও বুঝতে পারে এবং বিজ্ঞজনেরাও তা থেকে বিমুখ হয় না।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومن الحذق في المعرفة أن يدرك الخطيب أن خطاب الحماس غير خطاب التألم، وحديث الترغيب غير حديث الترهيب، وأسلوب تعداد المفاخر وزرع الثقة غير أسلوب التواضع وذم الكبر والمتكبرين، والخطيب المتمرس هو الذي يضع كل نوع في موضعه ويختار لكل كلمة قالبها وميدانها.
أما السجع فيجمل منه ما ليس بمتكلف قصير الفقرات، سهل المأخذ يخف على السمع، ويحرك المشاعر بحسن جرسه، ويكون خفيفا سهلا إذا سلم من الغثاثة وجانب الركاكة، اللفظ فيه تابع للمعنى وليس المعنى تابعا للفظ، ذلك أن السجع حلية والحلية لا تحقق غرضها في الجمال ما لم تكن قليلة غير متكلفة حسنة التوزيع تبرز المحاسن ولا تغطيها.
ويرتبط بالسجع رعاية المقاطع والفواصل فتكون جملا قصيرة نظرا للفائدة عند الوقوف في آخرها، والجملة إذا طالت وتأخرت إفادتها للسامع أدركه الثقل والملل، وضاعت عليه الفائدة وحسن المتابعة.
[اللسان المعبر]اللسان المعبر: ويقصد به الإلقاء وحسن الإجادة فيه، وقبل أن نبسط القول فيه يحسن التطرق لحديث مقارنة بين الارتجال والكتابة.
জ্ঞানের গভীরতা ও বিচক্ষণতা হলো একজন খতিবের এটা উপলব্ধি করা যে, উদ্দীপনামূলক বক্তব্য আর ব্যথিত হৃদয়ের আর্তি এক নয়; উৎসাহব্যঞ্জক (ترغيب) হাদিস আর ভীতিপ্রদর্শনমূলক (ترهيب) হাদিস স্বতন্ত্র। তেমনিভাবে গৌরবগাথা বর্ণনা ও আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করার শৈলী আর বিনয় এবং অহংকার ও অহংকারীদের নিন্দার পদ্ধতি এক নয়। একজন অভিজ্ঞ খতিব হলেন তিনিই, যিনি প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ স্থানে স্থাপন করেন এবং প্রত্যেকটি শব্দের জন্য তার উপযোগী কাঠামো ও ক্ষেত্র নির্বাচন করেন।
আর অনুপ্রাস (سجع) এর ক্ষেত্রে সৌন্দর্য হলো তা কৃত্রিমতামুক্ত হওয়া, ছোট ছোট অনুচ্ছেদবিশিষ্ট হওয়া, যা সহজেই অনুধাবনযোগ্য এবং শ্রবণে শ্রুতিমধুর মনে হয়। এটি শব্দের ঝংকারে আবেগ আন্দোলিত করে এবং তখনই তা সাবলীল হয় যখন তা অসারতা ও শব্দচয়নের দুর্বলতা থেকে মুক্ত থাকে। এখানে শব্দ হবে অর্থের অনুগামী, অর্থ শব্দের অনুগামী নয়। কেননা অনুপ্রাস (سجع) হলো একটি অলঙ্কার স্বরূপ, আর অলঙ্কার তার সৌন্দর্যের উদ্দেশ্য সফল করতে পারে না যতক্ষণ না তা পরিমিত, অকৃত্রিম ও সুবিন্যস্ত হয়, যা গুণাবলিকে প্রস্ফুটিত করে, আচ্ছাদিত করে না।
অনুপ্রাসের (سجع) সাথে সংশ্লিষ্ট হলো যতি ও বিরতিগুলোর (فواصل) প্রতি লক্ষ্য রাখা; ফলে বাক্যগুলো সংক্ষিপ্ত হতে হবে যাতে বাক্যের শেষে বিরতি নিলে পূর্ণ অর্থ উপলব্ধি করা যায়। বাক্য যদি দীর্ঘ হয় এবং শ্রোতার কাছে এর মর্মার্থ পৌঁছাতে দেরি হয়, তবে তার মধ্যে একঘেয়েমি ও অবসাদ চলে আসে এবং বক্তব্যের উপকারিতা ও যথাযথ অনুধাবন বাধাগ্রস্ত হয়।
[অভিব্যক্তিময় রসনা]অভিব্যক্তিময় রসনা: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বক্তব্য উপস্থাপন এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে তাৎক্ষণিক বক্তৃতা ও লিখিত বক্তব্যের মধ্যকার তুলনামূলক আলোচনা করা সমীচীন হবে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بين الارتجال والكتابة: كثير من الكاتبين والناقدين يستحسنون في الخطيب أن يلقي خطبه ارتجالا، فهذا عندهم أعظم أثرا وأكثر انفعالا وأقدر على إعطاء الموقف متطلباته من خفض ورفع وتهدئة وزجر، وقد يدون المرتجل عناصر مقولته في كلمات أو جمل يعاود النظر إليها بين فينة وفينة.
وقد يوجد في الخطباء من يعد الخطبة ويحسن تحبيرها ثم يحفظها حفظا عن ظهر قلب.
والارتجال بأنواعه وطرقه لا يكون مؤثرا ما لم يسبقه إعداد محكم وحبك للعناصر في النفس على نحو ما سبق في الكلام على الأسلوب.
وثمت فئة من الناس تكتب الخطبة وتلقيها من القرطاس وهو مسلك مقبول، ولكن ذلك لا يؤتي ثمرته ولا يحقق غايته ، ما لم يكن الخطيب أحسن الإعداد وتأمل فيما كتب وأعاد النظر فيه تأملا وقراءة وإصلاحا وتخيرا للألفاظ وانتقاء للعبارات، بحيث يكون في إلقائه متفاعلا مع ما يقول مستوعبا لما يلقي ليحرك المشاعر ويثير العواطف ويستحسن أن يكون في قراءاته وإلقائه
উপস্থিত বক্তৃতা এবং লিখিত রূপের মধ্যে পার্থক্য: অনেক লেখক ও সমালোচক একজন খতিবের (বক্তা) জন্য উপস্থিত বক্তৃতা (ارتجال) প্রদান করাকে উত্তম মনে করেন। তাদের মতে, এটি অধিক প্রভাববিস্তারকারী, অধিক আবেগপূর্ণ এবং পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী কণ্ঠস্বরের উত্থান-পতন, নিয়ন্ত্রণ ও কঠোরতা প্রদর্শনে অধিক সামর্থ্য রাখে। যিনি উপস্থিত বক্তৃতা (مرتجل) প্রদান করেন, তিনি মাঝেমধ্যে তার বক্তব্যের মূল উপাদানসমূহ কিছু শব্দ বা বাক্যের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করতে পারেন, যা তিনি বিরতি দিয়ে পুনরায় দেখে নেন।
বক্তাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা খুতবা বা ভাষণ প্রস্তুত করেন এবং তা সুনিপুণভাবে অলঙ্কৃত করেন, অতঃপর তা সম্পূর্ণ মুখস্থ (حفظ) করে পাঠ করেন।
উপস্থিত বক্তৃতা (ارتجال) তার সকল প্রকার ও পদ্ধতিসহ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রভাবশালী হয় না, যতক্ষণ না এর পেছনে সুদৃঢ় প্রস্তুতি এবং মনের গহীনে এর উপাদানসমূহের সুসংগত বিন্যাস থাকে, যেমনটি ইতিপূর্বে রচনাশৈলী (أسلوب) সংক্রান্ত আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে।
আবার মানুষের মধ্যে এমন এক শ্রেণি রয়েছে যারা খুতবা লিখে রাখে এবং তা কাগজ দেখে পাঠ করে। এটি একটি গ্রহণযোগ্য পন্থা; তবে এটি ততক্ষণ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনে না এবং এর লক্ষ্য পূরণ করে না, যতক্ষণ না খতিব যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং যা লিখেছেন তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন। সেই সাথে বারবার পঠন, সংশোধন, সঠিক শব্দ নির্বাচন এবং বাক্য বিন্যাসের মাধ্যমে বারবার তা পর্যালোচনা করেন। এর ফলে তিনি যা বলছেন তার সাথে নিজের গভীর সম্পৃক্ততা তৈরি হবে এবং যা উপস্থাপন করছেন তা পূর্ণরূপে অনুধাবন করবেন, যেন তা শ্রোতাদের অনুভূতিকে নাড়া দেয় এবং আবেগকে জাগ্রত করে। তার পঠন এবং বক্তৃতার ক্ষেত্রে এটিই বাঞ্ছনীয়।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২০)
مشرفا على السامعين بنظره بين فترة وأخرى ليعرف حالهم ويسبر مشاعرهم وانفعالاتهم.
الإلقاء: هو الغاية التي ينتهي إليها الإعداد والبناء، وهو الصورة التي يتلقى بها السامع حصيلة ما جاد به خطيبه، فلا يبقى للخطبة أثرها ولا لحسن الأسلوب وقعه ولا لجودة التحضير ثمرته ما لم يصب في قالب من الإلقاء يحفظ الجهد ويبقي المهابة ويشنف الأسماع، ومن أجل تحقيق ذلك يحسن مراعاة ما يلي:
جودة النطق: فيخرج الحروف مخارجها من غير تشدق أو تكلف فيلقيها حسنة صحيحة واضحة في يسر وترفق وتدفق.
مجانبة اللحن: ينبغي للخطيب أن يعتني عناية تامة باللغة العربية صرفا ونحوا فينطق لغة عربية صحيحة فصيحة، فاللحن يفسد المعنى ويقلب المقصود.
وإذا فسد المعنى أو التبس ذهب رونق الخطبة وبهاؤها وحسن وقعها، إضافة إلى فساد المعنى من حيت يدري أو لا يدري.
সময়ে সময়ে শ্রোতাদের দিকে দৃষ্টি বুলিয়ে নেওয়া যাতে তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায় এবং তাদের অনুভূতি ও আবেগ-উচ্ছ্বাস পরিমাপ করা যায়।
বক্তব্য উপস্থাপন (الإلقاء): এটি হলো প্রস্তুতি ও কাঠামোর চূড়ান্ত লক্ষ্য। এটি সেই অবয়ব যার মাধ্যমে শ্রোতা তার খতিবের উপস্থাপিত সারসংক্ষেপ গ্রহণ করে। খুতবার কোনো প্রভাব অবশিষ্ট থাকে না, সুন্দর শৈলীর কোনো আবেদন থাকে না এবং উত্তম প্রস্তুতির কোনো সুফল পাওয়া যায় না, যতক্ষণ না তা এমন এক উপস্থাপন (الإلقاء) শৈলীর ছাঁচে ঢালা হয় যা প্রচেষ্টাকে সার্থক করে, গাম্ভীর্য বজায় রাখে এবং শ্রোতাদের কর্ণকুহরকে তৃপ্ত করে। আর এটি অর্জনের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা সমীচীন:
উচ্চারণের বিশুদ্ধতা: কোনো প্রকার কৃত্রিমতা বা আড়ষ্টতা ছাড়াই প্রতিটি বর্ণকে তার যথাযথ মাখরাজ থেকে উচ্চারণ করা, যাতে তিনি সাবলীলতা, নম্রতা ও প্রাঞ্জলতার সাথে সেগুলো সুন্দর, সঠিক ও স্পষ্টভাবে পেশ করতে পারেন।
ভাষাগত ভুল (اللحن) পরিহার করা: খতিবের উচিত আরবি ভাষার শব্দতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্বের প্রতি পূর্ণ যত্নবান হওয়া এবং বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল আরবি ভাষায় কথা বলা। কেননা ব্যাকরণগত ভুল (اللحن) অর্থকে বিকৃত করে এবং উদ্দিষ্ট বিষয়কে পাল্টে দেয়।
আর যখন অর্থ বিকৃত হয় বা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে, তখন খুতবার চাকচিক্য, সৌন্দর্য ও প্রভাব বিলুপ্ত হয়; এর পাশাপাশি জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে অর্থের বিপর্যয় তো ঘটেও।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২১)
التمهل في الإلقاء: النطق السريع المتعجل يفقد المتابعة كما أنه قد يشوه إخراج الحروف فيختلط بعضها ببعض وتتداخل المعاني وتلتبس العبارات، وقد يؤدي به التعجل إلى إهمال الوقوف عند المقاطع ورعاية الفواصل.
ومن جهة أخرى فإن التمهل والترسل في الأداء من أول الدلائل على رباطة الجأش فيجمع للخطب الهدوء في الكلام، والأناة في النطق، والجزالة في الصوت.
وهذا التمهل الذي ندعو إليه لا ينبغي أن يقود إلى هدوء بارد وتثاقل مميت، ولكنه تمهل لا يعارض ما يطلب من الخطيب من خفض ورفع وعلو نبرات مما يبعث على الحياة وحسن المتابعة ودفع السآمة.
الحركات والإشارات: للإشارات والحركات أثرها أثناء الحدث والخطابة، ومن هذه الحركات ما هو لا إرادي فالغاضب يقطب جبينه ويعبس وجهه، وذو الحماس تنتفخ أوداجه وتحمر عيناه، ومنهم من تنقبض أصابعه وتنبسط، ومنهم من يبكي خشوعا ورقة ويعلو صوته حماسا وتفاعلا.
বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা: দ্রুত ও তড়িঘড়ি করে উচ্চারণ করা মনোযোগের বিচ্যুতি ঘটায়, তেমনি এটি অক্ষরের সঠিক উচ্চারণকেও বিকৃত করতে পারে, ফলে বর্ণসমূহ একে অপরের সাথে মিশে যায়, অর্থগুলো সংমিশ্রিত হয়ে পড়ে এবং বাক্যগুলো অস্পষ্ট হয়ে যায়। তড়িঘড়ি করার কারণে বক্তা হয়তো নির্দিষ্ট স্থানে বিরতি প্রদান এবং যতিচিহ্নসমূহ রক্ষা করার ক্ষেত্রে উদাসীন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, উপস্থাপনার ক্ষেত্রে পরিমিত গতি ও সাবলীলতা (الترسل) হলো চিত্তের স্থিরতার অন্যতম প্রাথমিক প্রমাণ; যা বক্তার বক্তব্যে প্রশান্তি, উচ্চারণে গাম্ভীর্য এবং স্বরে ওজস্বিতা (الجزالة) দান করে।
আমরা যে ধীরস্থিরতার আহ্বান জানাচ্ছি, তা যেন কোনো নিস্তেজ শীতলতা এবং প্রাণহীন মন্থরতার দিকে নিয়ে না যায়; বরং এটি এমন এক ধীরতা যা বক্তার কণ্ঠস্বরের হ্রাস-বৃদ্ধি ও উচ্চগ্রামের পরিপন্থী নয়, যা বক্তব্যে প্রাণচাঞ্চল্য সঞ্চার করে, শ্রোতাদের উত্তম অনুসরণ নিশ্চিত করে এবং একঘেয়েমি দূর করে।
অঙ্গভঙ্গি ও ইশারা: কথা বলা ও বক্তৃতার সময় ইশারা ও অঙ্গভঙ্গির বিশেষ প্রভাব রয়েছে। এই অঙ্গভঙ্গিগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে অনৈচ্ছিক; যেমন রাগান্বিত ব্যক্তি কপালে ভাঁজ ফেলে এবং মুখমণ্ডল সংকুচিত করে তোলে, আবার অতি উৎসাহী ব্যক্তির ঘাড়ের রগ ফুলে ওঠে এবং চোখ রক্তিম হয়ে যায়। তাদের মধ্যে কেউ আছে যার আঙুলগুলো সংকুচিত ও প্রসারিত হয়, আবার কেউ বিনয় (خشوعا) ও কোমলতায় রোদন করে এবং উৎসাহ ও প্রতিক্রিয়ায় কণ্ঠস্বর উচ্চকিত করে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وبعضها إرادي من إشارات توجيهية يحتاج إليها في تنبيه لبعيد أو قريب، إشارات تعكس الانفعال والمشاعر وتعين على مزيد من المتابعة والتوضيح.
وينبغي أن تكون إشارات منضبطة بقدر معقول وانفعال غير متكلف ومتساوقة مع الشعور الحقيقي.
[طريقة البناء]
[المقدمة]طريقة البناء: تبنى الخطبة عادة من ثلاثة أجزاء: المقدمة والموضوع والخاتمة. وهى عناصر لا يصرح بها أثناء الكتابة أو الإلقاء، كما أنها عناصر متداخلة متناسقة، يبلغ الترابط بينها جودته حسب مقدرة الخطيب وغزارة علمه وخبرته فتنتظم أجزاء الخطبة ويحكم تركيبها.
وهذا الانتظام والإحكام يجعل المعاني واضحة والمقاصد ظاهرة، ويضمن للمتحدث حسن الإصغاء من سامعيه وكمال الانتباه من جالسيه.
وقد لا يلزم مراعاة هذه الأجزاء في كل خطبة لكن خطبة الجمعة غالبا ما تحتاج إليها نظرا لأنها خطبة طويلة غير قصيرة.
এগুলোর কিছু ইচ্ছাকৃত নির্দেশনামূলক ইশারা, যা দূরবর্তী বা নিকটবর্তী ব্যক্তিকে সতর্ক করতে প্রয়োজন হয়; এমন ইশারা যা আবেগ ও অনুভূতি প্রতিফলিত করে এবং অধিকতর অনুসরণ ও স্পষ্টীকরণে সহায়তা করে।
ইশারাগুলো যুক্তিসঙ্গত মাত্রায় নিয়ন্ত্রিত, কৃত্রিমতাহীন আবেগপূর্ণ এবং প্রকৃত অনুভূতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
[গঠন পদ্ধতি]
[ভূমিকা]গঠন পদ্ধতি: খুতবা সাধারণত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত হয়: ভূমিকা, মূল বিষয়বস্তু ও উপসংহার। এগুলো এমন উপাদান যা রচনা বা প্রদানের সময় সরাসরি উচ্চারণ করা হয় না, বরং এগুলো পরস্পর প্রবিষ্ট ও সুসমন্বিত উপাদান। খতিবের যোগ্যতা, অগাধ পাণ্ডিত্য ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এগুলোর মধ্যকার যোগসূত্র উৎকর্ষ লাভ করে, ফলে খুতবার অংশগুলো সুবিন্যস্ত হয় এবং এর গঠন সুদৃঢ় হয়।
এই পারম্পর্য ও সুদৃঢ় গাঁথুনি অর্থকে সুস্পষ্ট ও উদ্দেশ্যকে প্রাঞ্জল করে তোলে এবং বক্তার জন্য শ্রোতাদের মনোযোগ দিয়ে শোনা ও মজলিসে উপস্থিতদের পূর্ণ একাগ্রতা নিশ্চিত করে।
প্রতিটি খুতবায় এই অংশগুলো রক্ষা করা হয়তো আবশ্যক নয়, তবে জুমার খুতবায় সাধারণত এগুলোর প্রয়োজন হয়; কেননা এটি দীর্ঘ খুতবা, সংক্ষিপ্ত নয়।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المقدمة: ينبغي أن يهتم الخطيب بمقدمته وافتتاحيته، فيأتي بعبارات الاستهلال التي توحي للسامع بمقصود الخطبة، مما يشد الانتباه ويهيئ النفوس، وقد يكون ذلك بآيات قرآنية زاجرة أو مرغبة أو بعض الحكم البليغة، والافتتاحية هي أول ما يلقيه الخطيب على جمهوره، فإذا ما فاجأهم بحسن التقديم استطاع متابعة بقية خطبته بانطلاق ونشوة وعاش مع جمالها اللفظي وسبكها الفني ومعناها الدقيق.
وإن الناظر في افتتاحيات أوائل السور في القرآن الكريم يدرك ما تثيره في النفس من الإجلال والشوق والرغبة في المتابعة، فترى الافتتاح حينا بالثناء على الله عز وجل وتسبيحه وتنزيهه، وحينا بالنداء أو الاستفهام أو القسم مما يولد الرغبة في المتابعة ويولد اللهفة في الاستكشاف لدى كل ذي ذوق رفيع وحس مرهف.
والمقصود أن يكون في صدر الكلام ما يدل على غاية المتحدث، على أن من المعلوم أن خطبة الجمعة تفتتح بحمد الله والثناء عليه والشهادتين والصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويكون في هذه الألفاظ من حسن الانتقاء ما يدل على موضوع الخطبة ومقصودها.
ভূমিকা: একজন খতিবের বাঞ্ছনীয় হলো তার বক্তব্যের ভূমিকা ও প্রারম্ভিকার প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করা। সুতরাং তিনি এমন প্রারম্ভিক বাক্যসমূহ চয়ন করবেন যা শ্রোতার নিকট খুতবার মূল উদ্দেশ্য পরিস্ফুট করে, যা তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং অন্তরকে প্রস্তুত করে। এটি হতে পারে ভীতিপ্রদর্শনকারী কিংবা উৎসাহব্যঞ্জক কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে অথবা কোনো প্রাঞ্জল প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে। প্রারম্ভিকাই হলো সেই প্রথম বিষয় যা একজন খতিব তার শ্রোতামণ্ডলীর সামনে পেশ করেন। সুতরাং তিনি যদি চমৎকার উপস্থাপনার মাধ্যমে তাদের চমৎকৃত করতে পারেন, তবে তিনি স্বতঃস্ফূর্ততা ও প্রফুল্লতার সাথে তার খুতবার অবশিষ্টাংশ চালিয়ে যেতে সক্ষম হবেন এবং এর শাব্দিক লালিত্য, শৈল্পিক বুনন ও সূক্ষ্ম অর্থের গভীরে নিমগ্ন হতে পারবেন।
পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন সূরার প্রারম্ভিকার প্রতি দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি উপলব্ধি করতে পারেন যে, তা হৃদয়ে কী প্রকার মহিমা, ব্যাকুলতা এবং পরবর্তী বিষয় অনুসরণের আগ্রহ জাগ্রত করে। ফলে দেখা যায় যে, কখনও সূচিত হয় মহান আল্লাহর প্রশংসা, তাসবিহ ও পবিত্রতা ঘোষণার মাধ্যমে; আবার কখনও আহ্বান, প্রশ্নবোধক বাক্য কিংবা শপথের মাধ্যমে—যা শ্রোতার মাঝে অনুসরণের আকাঙ্ক্ষা এবং সূক্ষ্ম রুচিবোধ ও সংবেদনশীল হৃদয়ের অধিকারীদের মাঝে অজানাকে উন্মোচনের তীব্র ব্যাকুলতা সৃষ্টি করে।
মূল প্রতিপাদ্য হলো আলোচনার শুরুতেই এমন বিষয় থাকা যা বক্তার লক্ষ্য নির্দেশ করে। তবে এটি সর্বজনবিদিত যে, জুমার খুতবা আল্লাহর হামদ ও সানা, সাক্ষ্যদ্বয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ ও সালামের মাধ্যমে শুরু করা হয়। এই শব্দ চয়নের শৈল্পিক নিপুণতার মধ্যেই খুতবার বিষয়বস্তু ও মূল উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত নিহিত থাকা বাঞ্ছনীয়।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ومعروف عند المتقدمين من السلف رحمهم الله أن ما لا يبتدأ بالحمد فهو الأجذم الأبتر، وما لم يزين بالصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو المشوه.
[الموضوع]
[التعريف والإيضاح]الموضوع: وهو مقصود الخطبة الأعظم، وقد أشرنا في الكلام على أنواع الخطب إلى معظم مقاصد خطبة الجمعة.
وقد يكون من المناسب التصريح به في مبتدأ الخطبة كأن يقول: أريد أن أحدثكم عن كذا. . إذا كان من قضايا الساعة التي يخوض فيها المجتمع ويتطلع إلى كلام شاف فيها.
وقد لا يحسن التصريح به، إما لأنه شائك أو يوجب انقسام الناس، وفي هذه الحالة ينبغي أن يدخل إليه الخطيب دخولا متدرجا، ويتناوله تناولا غير مباشر، ليأخذ السامعين بتسلسل منطقي فيصل إلى مبتغاه باعتدال وتوازن متحاشيا الإثارة والانقسام، ومن ثم يبلغ الخطيب غايته من تهيئة النفوس إن كانت عنه معرضة وإليه غير مقبلة أو كان حديثا في غير ما تألفه نفوسها.
وموضوع الخطبة عادة ما يبتنى على ركنين أساسيين هما التعريف والإيضاح والاستدلال.
পূর্বসূরি (সালাফ) - আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন - তাঁদের নিকট এটি সুপরিচিত যে, যে কাজ আল্লাহর প্রশংসা (হামদ) দ্বারা শুরু করা হয় না তা অসম্পূর্ণ ও কল্যাণহীন (الأجذم الأبتر), এবং যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দরূদ (সালাত) দ্বারা সুশোভিত করা হয় না তা বিকৃত ও ত্রুটিপূর্ণ (المشوه)।
[বিষয়বস্তু (الموضوع)]
[সংজ্ঞা ও স্পষ্টীকরণ (التعريف والإيضاح)]বিষয়বস্তু (الموضوع): এটিই খুতবার মহান উদ্দেশ্য। আমরা বিভিন্ন প্রকার খুতবা নিয়ে আলোচনার সময় জুমুআর খুতবার অধিকাংশ উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছি।
খুতবার শুরুতেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উপযুক্ত হতে পারে, যেমন বলা: "আমি আপনাদের সামনে অমুক বিষয়ে আলোচনা করতে চাই।" এটি তখন করা হয় যখন বিষয়টি সমসাময়িক কোনো ঘটনা হয় যাতে সমাজ লিপ্ত থাকে এবং যে বিষয়ে তারা একটি সন্তোষজনক আলোচনার প্রত্যাশা করে।
আবার কখনো বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা সমীচীন হয় না; হয় বিষয়টি জটিল হওয়ার কারণে, অথবা তা মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির আশঙ্কায়। এমতাবস্থায় খতিবের উচিত পর্যায়ক্রমে বিষয়টিতে প্রবেশ করা এবং পরোক্ষভাবে তা আলোচনা করা, যাতে তিনি শ্রোতাদের একটি যৌক্তিক ধারাবাহিকতায় নিয়ে যেতে পারেন এবং উত্তেজনা ও বিভেদ এড়িয়ে ভারসাম্য ও পরিমিতিবোধের সাথে স্বীয় লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন। এর ফলে খতিব মানুষের অন্তরকে প্রস্তুত করার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে সক্ষম হন, যদি তারা বিমুখ থাকে বা গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক হয়, অথবা যদি বিষয়টি তাদের পরিচিত বিষয়ের বাইরে হয়।
খুতবার বিষয়বস্তু সাধারণত দুটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়, সেগুলো হলো: সংজ্ঞা ও স্পষ্টীকরণ এবং দলীল উপস্থাপন (الاستدلال)।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أما التعريف والإيضاح: فلا يقصد به ما يعتني به الباحثون المختصون من اللغة والاصطلاح، ولكنه يكون بذكر الصفات والخواص والمزايا لذات الموضوع وقد يكون الاستعارات والتشبيهات وضرب الأمثال والإجمال ثم التفصيل وبالصلة والتضاد والتقابل. وانظر إلى هذا التعريف من علي رضي الله عنه للمتقين من خلال أوصافهم ونعوتهم فهو يقول: "المتقون هم أهل الفضائل، منطقهم الصواب، وملبسهم الاقتصاد، ومشيهم التواضع، غضوا أبصارهم عن الحرام، ووقفوا أسماعهم على النافع من العلم، نزلت أنفسهم منهم في البلاء كالتي نزلت في الرخاء، ولولا الأجل الذي كتب لهم لم تستقر أرواحهم في أجسادهم طرفة عين شوقا إلى الثواب وخوفا من العقاب".
[الاستدلال]أما الاستدلال: فغالبا يحتاج الموضوع إلى ما يدعمه بالأدلة والحجج والبراهين والشواهد وهي عادة ما تكون من الكتاب والسنة وأقوال السلف، وإيراد بعض الوقائع والأحداث من باب القياس والاعتبار بل إن زيادة الإيضاح والبسط والبيان نوع من التدليل وكسب إقناع المستمعين بصدقها أو أهميتها أو خطورتها، ومما يدخل في هذا الباب دخولا أوليا ربط الحاضر بالماضي وبخاصة تاريخ السلف الماضين، فإن من النفوس من تحفظ تقديرا
সংজ্ঞা ও সুস্পষ্টকরণ প্রসঙ্গে: বিশেষজ্ঞ গবেষকগণ ভাষা ও পরিভাষাগত যে বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন, এখানে তা উদ্দেশ্য নয়। বরং এটি হলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বৈশিষ্ট্য, গুণাবলি ও মাহাত্ম্য উল্লেখ করা। এটি রূপক, উপমা, উদাহরণ পেশ করা, সংক্ষেপ করা এবং তারপর বিস্তারিত বর্ণনা করা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক, বৈপরীত্য ও তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে হতে পারে। মুত্তাকিদের গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনায় আলী (রা.)-এর দেওয়া এই সংজ্ঞাটির দিকে লক্ষ্য করুন; তিনি বলেন: "মুত্তাকিরা হলেন শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী, তাদের বক্তব্য সঠিক, তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ পরিমিত এবং তাদের চলন নম্রতাপূর্ণ। তারা হারাম থেকে নিজেদের দৃষ্টিকে অবনমিত রাখেন এবং কেবল উপকারী ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে নিজেদের শ্রবণশক্তিকে নিবদ্ধ রাখেন। বিপদ-আপদে তাদের অবস্থা সুসময়ের অবস্থার মতোই অবিচল থাকে। যদি তাদের জন্য নির্ধারিত মৃত্যুক্ষণ না থাকত, তবে সাওয়াবের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং শাস্তির ভয়ে চোখের পলকে তাদের আত্মা দেহ ত্যাগ করত।"
[দলিল পেশ করা (الاستدلال)]দলিল পেশ করা (الاستدلال) প্রসঙ্গে: কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রায়শই এমন কিছুর প্রয়োজন হয় যা দলিল, যুক্তি, প্রমাণ ও নিদর্শনের মাধ্যমে তাকে শক্তিশালী করবে। এগুলো সাধারণত কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফদের উক্তি থেকে গৃহীত হয়। এছাড়া সাদৃশ্য বিধান (القياس) ও শিক্ষা গ্রহণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছু বাস্তবতা ও ঘটনাপ্রবাহও এখানে উল্লেখ করা হয়। মূলত বর্ণনার বিস্তৃতি ও সুস্পষ্টকরণও এক প্রকারের প্রমাণ উপস্থাপনের অন্তর্ভুক্ত, যা শ্রোতাদেরকে বিষয়টির সত্যতা, গুরুত্ব কিংবা ভয়াবহতা সম্পর্কে আশ্বস্ত করতে সহায়তা করে। আর এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রাথমিক কাজ হলো বর্তমানকে অতীতের সাথে, বিশেষ করে বিগত সালাফদের ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত করা। কেননা কিছু মানুষের হৃদয় শ্রদ্ধাভরে (তাদের স্মৃতি) সংরক্ষণ করে...
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وإكبارا لسلفها المجيد، وأصحابه الأماجد، ولأمر ما قال الكفار: {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ} [الزخرف: 22] وقالوا: {بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا} [البقرة: 170]
ويفيد في هذا الباب النقل عن مشاهير الأئمة وحكمائها ممن عرفوا بالصلاح والإمامة والمروءة والزهد والشجاعة والورع حسبما يقتضي المقام ويناسب المقال.
[الخاتمة]الخاتمة: بعد أن يفرغ الخطيب من عرض موضوعه، وسوق أدلته، وضرب أمثلته وبيان دروسه، وعبره، وترغيبه وترهيبه، يحسن أن ينهي خطبته بخاتمة مناسبة تجمع أفكاره، وتلخص موضوعه، بعبارات مغايرة، وطريقة مختصرة، لأن الإطالة في هذه الحالة تجلب الملل وتشتت الفكر. ولا ينبغي أن تحتوي على أفكار جديدة وأدلة جديدة لأنها حينئذ لا تكون خاتمة وإنما جزء من الخطبة وامتداد لها.
وتكون الخاتمة قوية في تعبيرها وتأثيرها، لأنها آخر ما يطرق سمع السامع ويبقى في ذهنه، وإذا كانت ضعيفة في تركيبها فاترة في إلقائها، ذهبت فائدة الخطبة، ذلك أن من نجاح الخطيب أن يلقي خاتمته بثقة وطريقة مؤثرة ومقنعة، وكأنه
এবং তাদের মহান পূর্বসূরিদের (سلف) এবং তাদের সম্মানিত সঙ্গীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই কাফেররা বলেছিল: {আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি} [আয-যুখরুফ: ২২] এবং তারা আরও বলেছিল: {বরং আমরা তারই অনুসরণ করব যার ওপর আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের পেয়েছি} [আল-বাকারা: ১৭০]
এ ক্ষেত্রে প্রখ্যাত ইমাম ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা (نقل) উদ্ধৃত করা ফলপ্রসূ হয়, যারা তাদের নেককারিতা (صلاح), নেতৃত্ব (إمامة), ব্যক্তিত্ব (مروءة), দুনিয়াবিমুখতা (زهد), সাহসিকতা এবং খোদাভীতির (ورع) জন্য সুপরিচিত ছিলেন, যা প্রেক্ষাপটের দাবি এবং বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
[উপসংহার]উপসংহার: খতিব যখন তার আলোচ্য বিষয় উপস্থাপন, দলিলসমূহ (أدلة) পেশ, উদাহরণ প্রদান এবং শিক্ষা, উপদেশ, উৎসাহ (ترغيب) ও ভীতি প্রদর্শন (ترهيب) সমাপ্ত করেন, তখন একটি উপযুক্ত উপসংহারের মাধ্যমে খুতবা শেষ করা উত্তম, যা তার চিন্তাগুলোকে একত্রিত করবে এবং ভিন্ন শব্দচয়ন ও সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে মূল বিষয়টি সংক্ষেপে তুলে ধরবে। কারণ, এই পর্যায়ে দীর্ঘসূত্রিতা একঘেয়েমি নিয়ে আসে এবং মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করে দেয়। এতে নতুন কোনো চিন্তা বা নতুন দলিল (أدلة) থাকা উচিত নয়; কেননা তখন এটি আর উপসংহার থাকে না, বরং খুতবারই একটি অংশ এবং তার সম্প্রসারিত রূপ মাত্র।
উপসংহারটি এর প্রকাশভঙ্গি এবং প্রভাবে শক্তিশালী হওয়া বাঞ্ছনীয়; কারণ এটিই শ্রোতার কানে পৌঁছানো সর্বশেষ কথা এবং যা তার স্মৃতিতে অবশিষ্ট থাকে। যদি এর গঠন দুর্বল (ضعيف) হয় এবং উপস্থাপনা নিষ্প্রাণ হয়, তবে খুতবার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। কারণ খতিবের সফলতার একটি দিক হলো তার উপসংহারটি দৃঢ়তা (ثقة) ও প্রভাববিস্তারকারী এবং বিশ্বাসযোগ্য পদ্ধতিতে পেশ করা, যেন তিনি...
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يشعر جمهوره بأنه قد انتهى إلى رأي ومسألة لا تقبل الجدل ولا تحتمل النظر.
وقد تكون الخاتمة آيات قرآنية لم يسقها من قبل تجمع موضوعه في الترغيب أو الترهيب أو التدليل والإثبات، وقد تكون حديثا نبويا يفيد ما تفيده الآيات القرآنية.
وقد يكون إعادة لعناصر الخطبة بأسلوب مغاير -كما أسلفت - وبطريقة جامعة واضحة ذات تأثير قوي.
هذا ما يتعلق في بناء الخطبة وثمت مسائل لا يسع الكاتب إغفالها من أجل استكمال التصور الشامل عن الخطبة وحسن إعدادها وهي مسائل ثلاث:
وحدة الموضوع، الجدة والتغيير، طول الخطبة.
[وحدة الموضوع]
وحدة الموضوع: ينبغي الاقتصار على موضوع واحد تستوفى عناصره، وتحبر كلماته وتعمق معالجته، لأن تشعب المواضيع وتعدد القضايا في المقام الواحد يشتت الأذهان، وينسي بعضها بعضا، ويقود إلى الإطالة المملة والصورة الباهتة وسطحية المعالجة.
তিনি তার শ্রোতাদের অনুভব করান যে, তিনি এমন এক অভিমত ও বিষয়ে উপনীত হয়েছেন যা বিতর্কাতীত এবং পুনর্নিরীক্ষণের অবকাশ রাখে না।
আর উপসংহারটি হতে পারে এমন কিছু কুরআনের আয়াত যা তিনি আগে উল্লেখ করেননি, যা তার আলোচ্য বিষয়কে উৎসাহ প্রদান (ترغيب) অথবা ভীতি প্রদর্শন (ترهيب) কিংবা প্রমাণ ও প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সমন্বিত করে। আবার তা এমন কোনো নববীয় হাদিসও হতে পারে যা কুরআনের আয়াতের মতোই অর্থ প্রদান করে।
অথবা এটি হতে পারে খুতবার উপাদানগুলোর একটি ভিন্ন শৈলীতে পুনরাবৃত্তি —যেমনটি আমি আগে উল্লেখ করেছি— এবং একটি সুসংহত, স্পষ্ট ও শক্তিশালী প্রভাব সম্পন্ন পদ্ধতিতে।
এটি খুতবা গঠন সম্পর্কিত আলোচনা। খুতবা সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা এবং এর উত্তম প্রস্তুতির জন্য লেখকের পক্ষে আরও কিছু বিষয় উপেক্ষা করা সম্ভব নয়, আর তা হলো তিনটি বিষয়:
বিষয়ের ঐক্য (وحدة الموضوع), নতুনত্ব ও পরিবর্তন, এবং খুতবার দীর্ঘতা।
[বিষয়ের ঐক্য]
বিষয়ের ঐক্য: কেবল একটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত যার প্রতিটি অংশ পূর্ণাঙ্গভাবে আলোচিত হবে, শব্দগুলো হবে সুসংবদ্ধ এবং বিশ্লেষণ হবে গভীর। কারণ একই সময়ে বিভিন্ন প্রসঙ্গের অবতারণা এবং বিষয়ের বহুত্ব শ্রোতাদের মনকে বিক্ষিপ্ত করে দেয়, একটি অন্যটিকে ভুলিয়ে দেয় এবং তা বিরক্তিকর দীর্ঘতা, অস্পষ্ট উপস্থাপন ও অগভীর বিশ্লেষণের দিকে ধাবিত করে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
[الجدة والتغيير]الجدة والتغيير: ويعني ذلك ألا يلتزم الخطيب طريقا واحدة أو وتيرة واحدة في أسلوبه وطريقة إلقائه، بل يكون استفهاميا تارة، وتقريريا أخرى، وضربا للأمثال، وتلمسا للحكم والأسرار، مع ما يطلب من معايشه الأحداث، ومتابعة المتغيرات، وتلمس حاجات الناس وتوجيههم وتبصيرهم تمشيا مع أثر هذه المتغيرات عليهم.
على أن الخطب المنبرية بطبيعتها قد تستدعي تكرارا لبعض مواضيعها إن لم يكن كثيرا منها؛ لأن من أعظم أغراضها ومقاصدها الدعوة والتذكير. والتذكير في حقيقته يعني الحديث عن شيء سبق علم السامع به فهو تنبيه لغافل، وحث لمقصر، مما تستدعي التجديد في الطرق والأسلوب والمعالجة، كالتوحيد والعبادة والصلاة والصوم والزكاة وبر الوالدين والمحرمات من الربا والزنا والخمر والزور وأكل أموال الناس بالباطل وأمثالها مما يجب مراعاة التجديد في طرقها والتغيير في عرضها.
[طول الخطبة]طول الخطبة: من المعلوم أن معالجات المواضيع تختلف باختلاف محتواها وظروفها وسامعيها، ففي بعض الظروف يحسن البسط والإطناب، ويكون السامعون مستعدين لاستماع، كما هو مشاهد في ظروف الأزمات والأوضاع ذات النقاشات الحادة والأحوال المتوترة، كما
[নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য]নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য: এর অর্থ হলো খতিব তাঁর শৈলী ও উপস্থাপনার পদ্ধতিতে কেবল একটি পথ বা গতির ওপর সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং কখনও তা প্রশ্নবোধক হবে, কখনও বর্ণনামূলক হবে, আবার কখনও দৃষ্টান্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে হবে এবং সেই সাথে হিকমত ও গূঢ় রহস্যের অন্বেষণও থাকবে। পাশাপাশি সমসাময়িক ঘটনাবলির সাথে সম্পৃক্ত থাকা, পরিবর্তনগুলোর অনুসরণ করা এবং মানুষের প্রয়োজনগুলো অনুধাবন করে তাদের দিকনির্দেশনা ও সচেতন করাও কাম্য, যেন তাদের ওপর এই পরিবর্তনগুলোর প্রভাবের সাথে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।
তবে মিম্বারের খুতবাগুলো স্বভাবগতভাবেই তার কিছু বিষয়ের—যদি অধিকাংশ বিষয়ের ক্ষেত্রে নাও হয়—পুনরাবৃত্তি দাবি করে; কারণ এর অন্যতম মহান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হলো দাওয়াত ও স্মরণ করানো (تذكير)। আর স্মরণ করানোর (تذكير) প্রকৃত হাকিকত হলো এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যা শ্রোতা ইতিপূর্বেই অবগত আছেন। মূলত এটি গাফেল বা উদাসীন ব্যক্তিকে সতর্ক করা এবং অবহেলাকারীকে উৎসাহিত করার নামান্তর। ফলে এর পদ্ধতি, শৈলী ও সমাধানের ক্ষেত্রে নতুনত্ব আনয়ন করা প্রয়োজন হয়; যেমন: তাওহিদ (توحيد), ইবাদত (عبادة), সালাত, সাওম, জাকাত, পিতা-মাতার প্রতি সদাচার এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ যেমন—সুদ (ربا), ব্যভিচার (زنا), মদ, মিথ্যা সাক্ষ্য ও মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো, যেগুলোর প্রচারের পদ্ধতি ও উপস্থাপনায় বৈচিত্র্য রক্ষা করা আবশ্যক।
[খুতবার দীর্ঘতা]খুতবার দীর্ঘতা: এটি সুপরিচিত যে, বিষয়ের উপস্থাপনা এর বিষয়বস্তু, পরিস্থিতি ও শ্রোতাদের ভিন্নতার প্রেক্ষিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। কিছু পরিস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনা ও বিশদ বর্ণনা (إطناب) উত্তম হয় এবং শ্রোতারাও তা শোনার জন্য প্রস্তুত থাকেন; যেমনটি সংকটকালীন পরিস্থিতিতে, তীব্র বাদানুবাদপূর্ণ অবস্থায় এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ক্ষেত্রে দেখা যায়, যেমন...
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أن بعض الخطباء عنده من الجاذبية وحسن العرض والإلقاء ولطف التودد والأخذ بالألباب ومجامع العقول ما يجعلهم يطلبون المكوث حول خطيبهم ويقبلون منه الإطالة، إن هذه ظروف وأوضاع لا تنكر ولكن الحال الأغلب والواقع الأعم أن النفوس لها حد تحسن فيه الاستماع وتدرك فيه المعاني، بعده تتشبع وتقف ويصبح الكلام عندها مملولا، والكلام ثقيلا، وينسي بعضه بعضا، فالوصية العامة للخطباء أن يجتنبوا الإطالة ويجنحوا إلى الاعتدال وتغليب جانب الاختصار على الإطناب في أعم الأحوال، وقد قال عليه الصلاة السلام: «إن طول صلاة الرجل وقصر خطبته مئنة من فقهه» .
ويحسن من الخطيب أن يعود سامعيه على زمن معتدل ثابت يلتزمه فإنهم إذا خبروه بانضباطه ودقة التزامه أحبوه ولازموا حضوره.
ومن الخير للخطيب وجمهوره أن ينفضوا وهم متعلقون بخطيبهم من غير ملل أو سآمة.
[صفات الخطيب وآدابه]
[لكل خطيب متميز خصوصيته]
[الصفات الفطرية]صفات الخطيب وآدابه لكل خطيب متميز خصوصيته:
নিশ্চয়ই কিছু খতিবের মাঝে এমন আকর্ষণ, চমৎকার উপস্থাপনা ও বাচনভঙ্গি, হৃদ্যতাপূর্ণ ব্যবহার এবং মন ও মগজ জয় করার ক্ষমতা থাকে, যা শ্রোতাদের তাদের খতিবের সান্নিধ্যে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করতে এবং দীর্ঘ বক্তব্য শুনতে আগ্রহী করে তোলে। এগুলো অনস্বীকার্য কিছু অবস্থা ও পরিস্থিতি; কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এবং সাধারণ বাস্তবতা হলো যে, মানুষের অন্তরের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে যে পর্যন্ত সে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করতে পারে এবং অর্থ উপলব্ধি করতে পারে। এরপর অন্তর সম্পৃক্ত হয়ে যায় এবং শ্রবণে ক্ষান্ত হয়, ফলে কথাগুলো তার নিকট বিরক্তিকর ও শ্রুতিভারী মনে হতে থাকে এবং বক্তব্যের এক অংশ অন্য অংশকে ভুলিয়ে দেয়। তাই খতিবদের প্রতি সাধারণ উপদেশ হলো তারা যেন দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেন এবং দীর্ঘ আলোচনার পরিবর্তে সংক্ষিপ্ততাকে প্রাধান্য দেন। আর নবী (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তির সালাত দীর্ঘ হওয়া এবং খুতবা সংক্ষিপ্ত হওয়া তার বিচক্ষণতা (فقه)-এর নিদর্শন (مئنة)।’
খতিবের জন্য এটিই সমীচীন যে, তিনি তার শ্রোতাদের একটি নির্দিষ্ট ও পরিমিত সময়ের ওপর অভ্যস্ত করবেন যা তিনি সর্বদা মেনে চলবেন। কেননা তারা যখন তার শৃঙ্খলা এবং নিয়মানুবর্তিতা সম্পর্কে জানবে, তখন তারা তাকে ভালোবাসবে এবং নিয়মিত তার মজলিসে উপস্থিত থাকবে।
খতিব ও শ্রোতামণ্ডলীর জন্য এটিই কল্যাণকর যে, তারা যেন এমন অবস্থায় মজলিস শেষ করেন যখন তারা তাদের খতিবের প্রতি অনুরক্ত থাকবেন, কোনো প্রকার ক্লান্তি বা বিরক্তি ছাড়াই।
[খতিবের গুণাবলি ও আদবসমূহ]
[প্রত্যেক বিশিষ্ট খতিবের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য রয়েছে]
[স্বভাবজাত গুণাবলি]খতিবের গুণাবলি ও আদবসমূহ; প্রত্যেক বিশিষ্ট খতিবের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
মানহাজুন ফী ইদাদি খুতবাতিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مهما كانت الأفكار بديعة، والابتكارات متميزة، والاختيارات قوية، والأسلوب رصينا، والإلقاء عاليا، فلن تتحقق المثالية والأنموذجية للخطبة بهذه العناصر وحدها؛ لأن هناك عاملا مهما لا يجوز إغفاله، إنه خصوصية الخطيب وانفراديته، وبعبارة أخرى انصهارية هذه العناصر وانسجامها، وهذا لا يتأتى إلا من خلال الخطيب وشخصيته وتكامل موهبته وخصائصه العلمية والفنية.
إن الخطبة كاللباس المفصل على القامة لا يظهر جماله ولا يتكامل بناؤه إلا بقدر انسجامه على بدن اللابس.
إن جودة اللباس وحسن لونه ونوع خياطته ودقة تفصيله لا تكفي في إعطاء الملبس الحسن إلا بعد اتساق ذلك مع قامة اللابس وبدنه، ولهذا فإن الخطبة الجيدة مستوفية العناصر لو ألقاها غير صاحبها لما ظهرت بذات القوة والتأثير والجمال والتأثر.
إذا كان الأمر كذلك فينبغي للخطيب المتطلع للنبوغ والإبداع أن يعرف مواهبه الخاصة ويحسن صقلها وتنميتها، ويستقل بالابتكار والاختيار والأسلوب والإلقاء، لأن المداومة على التقليد والمحاكاة وإطالة الاقتباس لا تنتج خطيبا متميزا ذا خطب مثالية والله المستعان على الإحسان والإخلاص.
চিন্তা-চেতনা যতই চমৎকার হোক, উদ্ভাবনসমূহ যতই অনন্য হোক, বিষয়বস্তু নির্বাচন যতই শক্তিশালী হোক, শৈলী যতই সুসংহত হোক এবং উপস্থাপনা যতই উচ্চমানের হোক না কেন; কেবল এই উপাদানগুলোর মাধ্যমেই একটি খুতবার আদর্শ ও অনুকরণীয় রূপ পূর্ণতা পায় না। কারণ এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যা উপেক্ষা করা সমীচীন নয়; আর তা হলো খতিবের নিজস্বতা ও স্বকীয়তা। অন্য কথায়, এই উপাদানগুলোর পারস্পরিক সংমিশ্রণ ও সামঞ্জস্য কেবল খতিবের ব্যক্তিত্ব, মেধার পূর্ণতা এবং তার জ্ঞানগত ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমেই সম্ভব হয়।
নিশ্চয়ই খুতবা হলো দেহের মাপে তৈরি পোশাকের মতো, যার সৌন্দর্য ততক্ষণ প্রকাশ পায় না এবং যার গঠন ততক্ষণ পূর্ণতা পায় না যতক্ষণ না তা পরিধানকারীর অবয়বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
পোশাকের উন্নত গুণমান, চমৎকার রঙ, সেলাইয়ের ধরন এবং নিখুঁত মাপই একটি পোশাককে সুন্দর হিসেবে উপস্থাপনের জন্য যথেষ্ট নয়, যতক্ষণ না তা পরিধানকারীর উচ্চতা ও দেহের সাথে মানানসই হয়। এই কারণেই, সকল উপাদান সমৃদ্ধ একটি উৎকৃষ্ট খুতবা যদি এর প্রকৃত রচয়িতা ব্যতীত অন্য কেউ প্রদান করেন, তবে তা সেই একই রকম শক্তি, প্রভাব, সৌন্দর্য ও আবেদন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয় না।
বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে যে খতিব শ্রেষ্ঠত্ব ও সৃজনশীলতার প্রত্যাশী, তার উচিত নিজের বিশেষ প্রতিভা সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং তা যথাযথভাবে শাণিত ও বিকশিত করা। সেই সাথে উদ্ভাবন, বিষয়বস্তু নির্বাচন, শৈলী ও উপস্থাপনায় স্বকীয়তা বজায় রাখা। কারণ নিরন্তর অনুকরণ, হুবহু অনুসরণ এবং দীর্ঘ উদ্ধৃতির ওপর নির্ভরশীলতা একজন স্বতন্ত্র ও আদর্শ খতিব তৈরি করে না। ইহসান ও ইখলাস অর্জনে আল্লাহই সাহায্যকারী।