(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
منبر الجمعة أمانة ومسؤولية القسم: كتب عامة
اسم الكتاب: منبر الجمعة أمانة ومسؤولية
المؤلف: عبد الله بن محمد بن عبد الله بن حميّد
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية 1419 هـ
عدد الصفحات: 51
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জুমার মিম্বর আমানত ও দায়িত্ব বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থের নাম: জুমার মিম্বর আমানত ও দায়িত্ব
লেখক: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য ১৪১৯ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
[كلمة بين يدي البحث]منبر الجمعة
أمانة ومسؤولية
[গবেষণার প্রারম্ভিক কথা]জুমার মিম্বর
আমানত ও দায়িত্ব
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
كلمة بين يدي البحث أحمد الله تبارك وتعالى حمدا طيبا مباركا فيه كما يحب ربنا ويرضى. وأصلي وأسلم على المبعوث رحمة للعالمين نبينا محمد وعلى آله وصحابته الطَّيبين، ومن اهتدى بهديهم وسار على نهجهم إِلى يوم الدين.
أما بعد:
فلما لمنبر الجمعة من أهمية عظمى في حياة كل مسلم، كانت الأعناق تشرئبُّ، والأنظار تتعلق، والأسماع تصغي لما يقوله الخطيب في كل جمعة، رجاءَ أن تحصِّل في تلك الفريضة زادًا إِيمانيا يجدِّد في نفوس أصحابها العزيمة على الرُّشد، والغنيمة من كل برّ، والسلامة من كل إِثم، وما يحقق لها الفوز بالجنَّة والنجاة من النار بإِذن الله عز وجل. وتتأكد أهمية هذا
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
গবেষণার প্রারম্ভিক কথা। আমি মহান ও বরকতময় আল্লাহ তাআলার এমন উত্তম ও বরকতময় প্রশংসা করছি, যা আমাদের প্রতিপালক পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত আমাদের নবি মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কেরামের প্রতি, আর যাঁরা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের প্রদর্শিত পথে পরিচালিত হবেন এবং তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করবেন তাঁদের প্রতি।
অতঃপর:
প্রত্যেক মুসলিমের জীবনে জুমার মিম্বরের যেহেতু সুমহান গুরুত্ব রয়েছে, তাই প্রতি জুমায় খতিব যা বলেন তা শোনার জন্য মানুষ অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করে, সেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখে এবং একনিষ্ঠভাবে কর্ণপাত করে। এর লক্ষ্য হলো—এই ফরজ ইবাদতের মাধ্যমে যেন এমন ইমানি পাথেয় অর্জন করা যায়, যা অন্তরে সঠিক পথে চলার সংকল্পকে নবায়ন করবে, প্রতিটি নেক আমল থেকে সওয়াব অর্জনের সুযোগ করে দেবে এবং সকল পাপাচার থেকে সুরক্ষা প্রদান করবে; সর্বোপরি যা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার ইচ্ছায় জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে নাজাত পাওয়ার পথ প্রশস্ত করবে। আর এই বিষয়টির গুরুত্ব আরও সুনিশ্চিত হয়...
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
المنبر في أنه مقام شريف يبيِّن الخطيب من فوقه للناس الحلال والحرام، ويوضّح العبادات والأحكام. ومن هنا تعظم مسئوليته في إِجادة اختيار موضوع الخطبة، وإحسان إِعدادها وترتيب عناصرها، وجمال إِلقائها، ومعايشتها لمشكلات الساعة، إِلى جانب الهيئة الحسنة التي ينبغي للخطيب أن يظهر بها أمام الناس.
وممَّا يزيد من هيبة الوقوف على منبر الجمعة أنه يجتمع بين يدي الخطيب يوم الجمعة فئات من الناس متعددي الثقافات، ففيهم العالم، وطالب العلم، والتاجر، والطبيب، والمهندس وغيرهم ممَّن سينظر إِليه بمنظاره الخاص، ويزنه ويحكم له أو عليه.
ومن أجل ذلك فإِن الخطيب الموفَّق هو الذي يحسب لكل كلمة يتلفظ بها أو حركة يتحركها ألف حساب، فتجده دائم الحذر والمراقبة لكل ما سيصدر عنه. وفي كل مرَّة يحاول أن يتجنب الخطأ الذي بدر منه في خطبة سابقة، ويسعى إِلى الجديد والتنوع في طرائق خطبته،
মিম্বর হলো একটি অত্যন্ত সম্মানিত স্থান যেখান থেকে খতিব জনগণের সামনে হালাল ও হারাম বর্ণনা করেন এবং ইবাদত ও বিধিবিধান (أحكام) স্পষ্ট করেন। এখান থেকেই খুতবার বিষয়বস্তু নির্বাচনে পারদর্শিতা, তা উত্তমরূপে প্রস্তুত করা ও এর উপাদানসমূহের বিন্যাস, সুন্দর উপস্থাপনা এবং সমসাময়িক সমস্যার সাথে এর প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর বিশাল দায়িত্বের দিকটি প্রকাশ পায়; এর পাশাপাশি খতিবের জন্য মানুষের সামনে মার্জিত অবয়বে উপস্থিত হওয়াও বাঞ্ছনীয়।
জুমার মিম্বরে দাঁড়ানোর গাম্ভীর্য আরও বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হলো, জুমার দিনে খতিবের সম্মুখে বিভিন্ন স্তরের ও বিচিত্র মেধার মানুষ সমবেত হন। তাঁদের মধ্যে আলিম (عالم), ইলম অন্বেষী (طالب العلم), ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ আরও অনেকে থাকেন, যাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে খতিবকে পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাঁর বক্তব্য বিচার-বিশ্লেষণ করেন।
এ কারণেই সফল খতিব তিনিই, যিনি তাঁর প্রতিটি উচ্চারিত শব্দ কিংবা অঙ্গভঙ্গির বিষয়ে সহস্রবার চিন্তা করেন; আপনি তাঁকে সর্বদা নিজের প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ পাবেন। প্রতিবারই তিনি পূর্ববর্তী খুতবায় ঘটে যাওয়া ভুলগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন এবং তাঁর খুতবা প্রদানের পদ্ধতিতে নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য আনয়নে সচেষ্ট থাকেন।
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وأساليب صياغتها وإِلقائها ممَّا يضاعف من مسئوليته في أداء هذه الرسالة السامية على الوجه الصحيح أمام الله عز وجل ثمَّ أمام إِخوانه المسلمين.
ومن كانت هذه أحواله فلا غرو أن يكون الشيب قد ملأ رأسه قبل أوانه ولعلَّنا نتذكَّر مقولة الخليفة الأموي عبد الملك بن مروان رحمه الله حينما سئل عن غلبة الشيب على رأسه قبل أوانه - وكان خطيبًا مفوَّها وعالما فقيها - فقيل له: " عجِلَ بك الشيب فقال: وكيف لا، وأنا أعرض عقلي على الناس في كل جمعة " (1) .
وبعد:
فإِنه ليسرني غاية السرور، ويثلج صدري أن أقدم للقارئ الكريم هذا البحث الموجز الذي ضمَّنته ملاحظاتي واقتراحاتي، وخلاصة خبرتي المتواضعة في
--------------------------------------------
এবং এর রচনা ও উপস্থাপনার পদ্ধতিসমূহ, যা মহান আল্লাহ এবং অতঃপর তাঁর মুসলিম ভাইদের সামনে এই সুমহান দায়িত্বটি সঠিক (صحيح) পদ্ধতিতে আঞ্জাম দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দায়বদ্ধতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আর যাঁর অবস্থা এমন হয়, তবে এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে সময়ের পূর্বেই বার্ধক্যের শুভ্রতা তাঁর মাথাকে ছেয়ে ফেলবে। সম্ভবত আমরা উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান (রহিমাহুল্লাহ)-এর সেই উক্তির কথা স্মরণ করতে পারি, যখন তাঁকে অকালে চুল পেকে যাওয়ার আধিক্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—আর তিনি ছিলেন একজন বাগ্মী খতিব এবং ফকিহ (فقيه) আলেম—তাঁকে বলা হয়েছিল: "আপনার চুল তো সময়ের আগেই পেকে গেল!" তিনি উত্তরে বললেন: "কেনই বা পাকবে না, অথচ আমি প্রতি জুমায় মানুষের সামনে আমার জ্ঞান ও বুদ্ধিকে উপস্থাপন করি।" (১) ।
অতঃপর:
সম্মানিত পাঠকের সামনে আমার এই সংক্ষিপ্ত গবেষণাটি পেশ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও প্রীত, যেখানে আমি আমার পর্যবেক্ষণ, প্রস্তাবনা এবং আমার বিনম্র অভিজ্ঞতার সারসংক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
هذا الموضوع، ممَّا استنتجته من خلال وقوفي منذ بضع سنوات على منبر الخطابة في جامع خادم الحرمين الشريفين الملك فهد حفظه الله بمدينة أبها.
وهذا جهد المقلّ فإِن أصبت فمن الله وإن أخطأت فمن نفسي ومن الشيطان. وأسأل الله سبحانه السداد والإِخلاص في القول والعمل، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
[الفصل الأول من آداب الوقوف على المنبر]الفصل الأول
من آداب الوقوف على المنبر إِن الغاية المثلى من الخطبة توجيه المستمعين وتذكيرهم بما يعود عليهم بالخير في دينهم ودنياهم، إِلى جانب التأثير في أرواحهم وامتلاك قلوبهم، وهذا يتطلب من الخطيب اتخاذ السبل القويمة في زرع الثقة بينه وبين مستمعيه، وتلك الثقة هي التي تولد محبتهم له واستجابتهم وتأثرهم بما يقول، لأن الواحد منهم ينتظر منه في كل جمعة أن يطرق موضوعا جديدا يعالج فيه مشكلة اجتماعية، أو ظاهرة تخالف تعاليم الإسلام، ثم يستوفي فيها ما تتطلبه من عرض موجز لمضمونها، وإيراد للأدلة من الكتاب والسنة الصحيحة التي تنهى عن الوقوع فيها مع الحرص على إِجادة الأسلوب وسلامة الإِلقاء.
وحتى يحقق الخطيب ذلك لا بدَّ أن تتوافر فيه جملة من الآداب المرعية، والصفات الهامة، والمؤهِّلات المتعددة التي من أهمها:
এই বিষয়টি আমি কয়েক বছর ধরে আভা শহরের খাদেমুল হারামাইন আশ-শারিফাইন বাদশাহ ফাহদ (হাফিজাহুল্লাহ) জামে মসজিদে খুতবার মিম্বরে অবস্থানকালে যা অনুধাবন করেছি তার সারসংক্ষেপ।
এটি একজন স্বল্প সামর্থ্যের অধিকারীর প্রচেষ্টা মাত্র; যদি আমি সঠিক হই তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল করি তবে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি মহান আল্লাহর নিকট কথা ও কাজে সঠিকতা ও ইখলাস কামনা করছি। আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
[প্রথম পরিচ্ছেদ: মিম্বরে দণ্ডায়মান হওয়ার আদবসমূহ]প্রথম পরিচ্ছেদ
মিম্বরে দণ্ডায়মান হওয়ার আদবসমূহ। খুতবার মূল লক্ষ্য হলো শ্রোতাদের পথনির্দেশনা প্রদান এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়া, এর পাশাপাশি তাদের আত্মার ওপর প্রভাব বিস্তার করা ও হৃদয় জয় করা। এর জন্য খতিবের প্রয়োজন তার ও শ্রোতাদের মধ্যে আস্থা তৈরির সঠিক পথ অবলম্বন করা। আর এই আস্থাই তার প্রতি শ্রোতাদের ভালোবাসা, সাড়া প্রদান এবং তার কথার দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার পরিবেশ তৈরি করে। কারণ, তাদের প্রত্যেকে প্রতি জুমুআয় প্রত্যাশা করে যে, খতিব এমন কোনো নতুন বিষয় উত্থাপন করবেন যেখানে কোনো সামাজিক সমস্যার সমাধান থাকবে অথবা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী কোনো বিষয়ের আলোচনা থাকবে। এরপর তিনি তার বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা এবং কুরআন ও সহিহ (صحيحة) সুন্নাহ থেকে দলিল পেশ করবেন যা সেসব কাজে লিপ্ত হতে নিষেধ করে। সাথে সাথে সাবলীল শৈলী ও ত্রুটিমুক্ত বাচনভঙ্গি বজায় রাখার বিষয়েও যত্নশীল হতে হবে।
খতিব যেন তা অর্জন করতে পারেন, সেজন্য তার মধ্যে কতগুলো পালনীয় আদব, গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি এবং বহুমুখী যোগ্যতার সমন্বয় থাকা আবশ্যক, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أولًا: العلم وسعة الاطلاع ولمَّا كان الخطيب قد تصدَّر لتعليم الناس وإرشادهم إلى الخير ونهيهم عن الوقوع في الشرّ، لزم أن يتزوَّد بزاد وفير من العلم الشرعي الذي يمكنه من العرض، والاستدلال، والترجيح ويتمثل ذلك في حفظ القرآن الكريم وكثير من الأحاديث النبوية الصحيحة؛ إِلى جانب الإِلمام بالثقافة العامة التي تعينه على الاستشهاد بالأشعار والقصص والحكم والأمثال في مواطنها.
والخطيب الناجح هو الذي تكون جعبته العلمية مليئة زاخرة يتناول منها ما يريد، فلا يضعف موقفه، ولا يملّ سماعه. وأمَّا إِذا كان محدود العلم قليل الزاد أوقعه ذلك في مشكلات كثيرة عندما تنصب حصيلته أثناء إِلقائه لخطبته، ممّا يضطرّه إِلى التكرار، وإعادة المعاني والموضوعات أكثر من مرَّة، فيورث ذلك سآمةً في نفوس مستمعيه، وشرودا لأذهانهم، فيودّ حينئذ لو أنهى خطبته تخلصا من الحرج.
প্রথমত: জ্ঞান এবং ব্যাপক অধ্যয়ন। যেহেতু খতিব মানুষকে শিক্ষা দান, কল্যাণের পথে নির্দেশনা এবং মন্দ থেকে বিরত রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাই তাঁর জন্য পর্যাপ্ত শরয়ি জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য; যা তাঁকে উপস্থাপনা, দলীল উপস্থাপন (استدلال) ও অগ্রাধিকার প্রদানের (ترجيح) সক্ষমতা দান করবে। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে পবিত্র কুরআন হিফজ করা এবং প্রচুর সংখ্যক সহিহ (صحيح) নববী হাদিস আয়ত্ত করার মাধ্যমে; এর পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিতি থাকা প্রয়োজন যা তাঁকে যথাস্থানে কবিতা, গল্প, প্রজ্ঞা এবং প্রবাদ-প্রবচন উদ্ধৃত করতে সহায়তা করবে।
একজন সফল খতিব তিনিই, যাঁর ইলমি ভাণ্ডার সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ থাকে, যেখান থেকে তিনি যা ইচ্ছা গ্রহণ করতে পারেন; ফলে তাঁর অবস্থান দুর্বল হয় না এবং তাঁর বক্তব্য শ্রবণে একঘেয়েমি আসে না। পক্ষান্তরে, যদি তাঁর জ্ঞান সীমিত এবং পাথেয় অল্প হয়, তবে খুতবা প্রদানের সময় তাঁর জ্ঞানের ভাণ্ডার ফুরিয়ে এলে তিনি বহু সমস্যায় পড়েন। এর ফলে তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি এবং ভাব ও বিষয়বস্তু একাধিকবার ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন; যা শ্রোতাদের হৃদয়ে বিরক্তি তৈরি করে এবং তাঁদের মনকে অন্যদিকে সরিয়ে দেয়। এমতাবস্থায় তিনি এই বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে খুতবাটি শেষ করার আকাঙ্ক্ষা করেন।
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ثانيًا: الاستعداد الشخصي والموهبة إِن الخطابة تستمدّ معينها من الفطرة المركوزة في نفس الخطيب بعد توفيق الله عز وجل. فمتى ما توفَّر الاستعداد الشخصي والموهبة الذاتية لدى الخطيب انثالت المعاني من ذهنه كالسيل الجرَّار، في أسلوب أخَّاذ لا تكلف فيه ولا تصنُّع. ولكنه يحتاج مع ذلك إلى الدربة والممارسة ليشحذ مقدرته الخطابية وينمِّيها ويقوّمها.
وبمقدار ما ترتكز الخطابة على الدربة فإنها ترتكز ابتداءً على الاستعداد الفطري عند الخطيب. فكم من إِنسان يشار إِليه بالبنان في سعة العلم والتضلع فيه، لكنّه إِذا وقف خطيبا كبا جواد لسانه، وتعثَّر وتلجلج وارْتُج عليه لأنه لا يملك الاستعداد الفطري الذي يؤهله للخطابة.
ثالثا: القدوة الحسنة في التعامل والسلوك إِن الناس لهم عقول يفكرون بها، ولهم أعين يبصرون بها، ولهم آذان يسمعون بها، ولهم ألسنة يتكلمون
দ্বিতীয়ত: ব্যক্তিগত প্রস্তুতি ও প্রতিভা। খুতবা বা ভাষণ তার মূল রসদ খতিবের অন্তরে প্রোথিত সহজাত প্রবৃত্তি থেকেই আহরণ করে, মহান আল্লাহর তাওফিকের পর। যখনই খতিবের মধ্যে ব্যক্তিগত প্রস্তুতি ও স্বকীয় মেধার সমন্বয় ঘটে, তখন তার মস্তিষ্ক থেকে অর্থ ও ভাবসমূহ প্রবল স্রোতধারার ন্যায় নির্গত হতে থাকে; এমন এক আকর্ষণীয় শৈলীতে যেখানে কোনো কৃত্রিমতা বা লৌকিকতা থাকে না। তবে এর পাশাপাশি তার প্রশিক্ষণ ও চর্চার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে সে তার বক্তৃতা প্রদানের সক্ষমতাকে শাণিত করতে পারে এবং একে বিকশিত ও পরিশীলিত করতে পারে।
বক্তৃতা বা ভাষণ যতটা প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভর করে, প্রাথমিকভাবে তা খতিবের সহজাত প্রস্তুতির ওপর ঠিক ততটাই ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা জ্ঞানের বিশালতা ও তাতে গভীর পাণ্ডিত্যের কারণে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, কিন্তু যখনই তিনি খতিব হিসেবে দাঁড়ান, তার জিহ্বার সাবলীলতা হোঁচট খায়, তিনি বিব্রত হন, তার কথা জড়িয়ে যায় এবং বক্তব্য রুদ্ধ হয়ে পড়ে; কারণ তার মধ্যে সেই সহজাত প্রস্তুতি নেই যা তাকে বক্তৃতার যোগ্য করে তোলে।
তৃতীয়ত: লেনদেন ও আচার-আচরণে সর্বোত্তম আদর্শ। মানুষের চিন্তা করার জন্য বিবেক রয়েছে, দেখার জন্য চোখ রয়েছে, শোনার জন্য কান রয়েছে এবং কথা বলার জন্য জিহ্বা রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
بها، فإذا رأوا خطيب الجمعة يدعو إِلى خُلُق ولا يتمسك به، وينهى عن منكر ولا يكف عنه فإِن ثقتهم به تتلاشى، وحضورهم يقلّ، ولا يكون لكلامه - وإن كان خطيبا مفوَّها - وزن يذكر.
ولأجل ذلك فإِن من نصَّب نفسه مرشدا للناس إِلى الهدى، وداعيا لهم إِلى الخير يجب أن يكون قدوة حسنة في تصرفاته، حريصا على اتباع السنَّة، نزيها عن الوقوع في الشبهات والشهوات.
- فهو بمثابة الصفحة البيضاء التي لو تلطَّخت ببقعة سوداء لظلّ أثرها واضحا لكل أحد. وإذا وقع في معصية كانت المصيبة أعظم مَّما لو وقع فيها غيره من عامة الناس، فإِن أدنى هفوة تصدر عنه تسقط اعتباره، وتكثر الزراية عليه، ويصبح أضحوكة يتندَّر بها عباد الله.
- ولا شك أن هذا النوع من الخطباء أشدّ خطرا على الأمة من العدو اللَّدود لأنه يظهر للناس ما لا يبطن، وفيه وفي أمثاله يقول الله تعالى: {أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ وَأَنْتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ} [البقرة: 44]
ফলে, যখন তারা দেখে যে জুমার খতিব কোনো সচ্চরিত্রের দিকে আহ্বান করছেন অথচ নিজে তা আঁকড়ে ধরছেন না, এবং কোনো মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করছেন অথচ নিজে তা থেকে বিরত থাকছেন না, তখন তার প্রতি তাদের আস্থা বিলীন হয়ে যায়, তাদের উপস্থিতি হ্রাস পায় এবং তার কথার—তিনি একজন সুবক্তা খতিব হওয়া সত্ত্বেও—কোনো উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব থাকে না।
এই কারণে, যে ব্যক্তি মানুষকে হিদায়াতের দিকে পথপ্রদর্শক এবং কল্যাণের দিকে আহ্বানকারী হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন, তার আচরণের ক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই উত্তম আদর্শ হতে হবে, সুন্নাহ (سنة) অনুসরণে ঐকান্তিক হতে হবে এবং সন্দেহপূর্ণ বিষয় (شبهات) ও প্রবৃত্তির লালসায় পতিত হওয়া থেকে বিমুক্ত থাকতে হবে।
- তিনি একটি শ্বেতপত্রের ন্যায়, যা যদি একটি কালো দাগ দ্বারা কলঙ্কিত হয়, তবে তার চিহ্ন প্রত্যেকের নিকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি যদি কোনো পাপে লিপ্ত হন, তবে সেই বিপদ সাধারণ মানুষের লিপ্ত হওয়ার তুলনায় অধিকতর গুরুতর হয়। কেননা, তার থেকে প্রকাশ পাওয়া সামান্যতম বিচ্যুতিই তার গ্রহণযোগ্যতা (اعتبار) ধূলিসাৎ করে দেয়, তার প্রতি তিরস্কার বৃদ্ধি পায় এবং সে আল্লাহর বান্দাদের নিকট বিদ্রূপের পাত্রে পরিণত হয়।
- আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই শ্রেণির খতিবগণ উম্মাহর জন্য চরম শত্রুর চেয়েও অধিক বিপজ্জনক; কারণ তারা মানুষের নিকট যা প্রকাশ করে, অন্তরে তা পোষণ করে না। তার এবং তার অনুরূপ ব্যক্তিদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেদের কথা ভুলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব তিলাওয়াত করো; তবে কি তোমরা অনুধাবন করবে না?" [বাকারা: ৪৪]
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وجاء في الحديث النبوي الذي رواه البخاري ومسلم أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يُجَاء بالرجل يوم القيامة، فيُلْقى في النار، فتندلقُ أقتابه في النار، فيدور كما يدور الحمار برحاه، فيجتمع أهل النار عليه، فيقولون: يا فلان. ما شأنك؟ أليس كنت تأمرنا بالمعروف، وتنهانا عن المنكر؟ قال: بلى، كنت آمركم بالمعروف ولا آتيه، وأنهاكم عن المنكر وآتيه» (1) .
وفي ذلك يقول الشاعر:
لا تنْهَ عن خُلُق وتأتيَ مثلَهُ
… عارٌ عليكَ إِذا فعلتَ عَظيْمُ
ابدأْ بنفسكَ فَانههَا عن غيِّها
… فإِذا انتهتْ عنه فأنت حكيمُ
--------------------------------------------
নবী করীম (সা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যা ইমাম বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: «কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এতে আগুনের মধ্যে তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসবে এবং সে তা নিয়ে ওইভাবে ঘুরতে থাকবে যেভাবে গাধা তার যাঁতার চারপাশে ঘোরে। তখন জাহান্নামবাসীরা তার কাছে সমবেত হয়ে বলবে: হে অমুক! তোমার এ কী দশা? তুমি কি আমাদের সৎ কাজের আদেশ দিতে না এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে না? সে বলবে: অবশ্যই, আমি তোমাদের সৎ কাজের আদেশ দিতাম কিন্তু নিজে তা করতাম না, আর তোমাদের অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতাম অথচ নিজেই তা করতাম» (১)।
আর এ বিষয়ে কবি বলেন:
এমন কোনো স্বভাব থেকে বারণ করো না যা তুমি নিজেও করো
… তুমি যদি তা করো, তবে তা তোমার জন্য এক বড় লজ্জার কারণ।
শুরু করো নিজের নফস দিয়ে এবং তাকে পথভ্রষ্টতা থেকে বিরত রাখো
… যখন সে তা থেকে বিরত হবে, তবেই তুমি প্রজ্ঞাবান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فهناك يُقْبَلُ إِن وعظتَ ويُقْتَدَىَ
… بالقول منك وينفعُ التعليم (1)
رابعا: المظهر الحسن لا شك أن لمظهر الخطيب وحسن هيئته أثرا كبيرا في ارتياح الناس وتقبلهم لما يقول، فينبغي عليه أن يأتي إِلى الخطبة مغتسلا متطيبا تفوح منه رائحة الطيب الزكيَّة، وأن يكون أنيقا في هندامه، خاليا من العيوب المنفّرة، فلا يكون رثَّ الثياب والهيئة، وهذا هو المظهر الغالب على كثير من خطباء الجمعة ولله الحمد، ولكن كم هو محزن أن نجد قلَّة منهم يخرجون على الناس
--------------------------------------------
সেখানেই [তোমার উপদেশ] গ্রহণ করা হবে যদি তুমি উপদেশ দাও এবং অনুসরণ করা হবে
… তোমার কথার, আর শিক্ষা দান ফলপ্রসূ হবে (১)
চতুর্থত: সুন্দর অবয়ব। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, খতিবের বাহ্যিক অবয়ব এবং তার পরিপাটি বেশভূষার একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে মানুষের মনে স্বস্তি তৈরি করতে এবং তিনি যা বলেন তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে। অতএব, তার উচিত খুতবায় আসার সময় গোসল করে ও সুগন্ধি মেখে আসা যাতে তার থেকে পবিত্র সুবাস নির্গত হয়, এবং নিজের পোশাকে সুশোভন হওয়া, যা যে কোনো অস্বস্তিকর ত্রুটি থেকে মুক্ত। তিনি যেন জরাজীর্ণ পোশাক ও উস্কোখুস্কো বেশভূষার অধিকারী না হন। আলহামদুলিল্লাহ, জুমার অধিকাংশ খতিবদের সাধারণ অবস্থা এমনই, তবে এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আমরা তাদের মধ্যে খুব সামান্য সংখ্যককে দেখি যারা মানুষের সামনে এমনভাবে উপস্থিত হন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بمظاهر مزرية، وهي وإن لم تكن خطيئة لكن مكانتهم في المجتمع وكونهم خطباء تفرض عليهم حسن المظهر والمخبر، كيف لا وهم الذين يعلمون الناس الخير، ويرشدونهم إِلى التمسك بالفضيلة، ويحذرونهم من الوقوع في الرذيلة، والله عز وجل قد أنعم عليهم بهذه النعمة العظيمة وهي إِمامة الناس، وجمعهم لهم في كل يوم جمعة ليستمعوا إِليهم ويشنّفوا آذانهم بما يقولونه من خطب.
وقد شرع الإِسلام لكل مسلم سواء كان خطيب جمعة أو غير ذلك أن يغتسل يوم الجمعة وأن يتطيب، والخطيب أولى الناس بذلك لأنه قدوة لهم في تتبع الأحكام الشرعية والعمل بها، والله تعالى يقول: {يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ} [الأعراف: 31] وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «ما على أَحدكم إِن وجدتم أن يتخذ ثوبين ليوم الجمعة سوى ثوبي مهنته» (1) ولذا
--------------------------------------------
শোচনীয় বেশভূষায়; যদিও এটি কোনো পাপ নয়, তবে সমাজে তাদের মর্যাদা এবং খতিব হওয়ার কারণে তাদের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিকই সুন্দর হওয়া বাঞ্ছনীয়। কেনই বা হবে না, যেখানে তারাই মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দেন, সচ্চরিত্রতা অবলম্বনের পথপ্রদর্শন করেন এবং মন্দকাজে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক করেন। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের এই মহান নিআমত দান করেছেন, যা হলো মানুষের ইমামতি করা এবং প্রতি জুমুআর দিনে তাদের সমবেত করা, যাতে তারা তাদের কথা শুনে এবং তাদের খুতবা দ্বারা নিজেদের কর্ণকুহর তৃপ্ত করে।
ইসলাম প্রত্যেক মুসলিমের জন্য—চাই তিনি জুমুআর খতিব হোন বা অন্য কেউ—জুমুআর দিনে গোসল করা এবং সুগন্ধি ব্যবহারের বিধান দিয়েছে। আর খতিব হলেন এ বিষয়ে সবচেয়ে অগ্রগণ্য ব্যক্তি, কারণ তিনি শরয়ি বিধান অনুসরণ ও তা পালনের ক্ষেত্রে তাদের জন্য আদর্শ। মহান আল্লাহ বলেন: "হে বনী আদম, তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সাজসজ্জা গ্রহণ করো।" [আল-আরাফ: ৩১] আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কারো সামর্থ্য থাকলে তার জন্য জুমুআর দিনের জন্য নিজ কাজের পোশাক ছাড়াও অন্য এক জোড়া কাপড় সংগ্রহ করতে বাধা কোথায়?" (১) আর একারণেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فإِن الخطيب الذي يخرج إِلى الناس على المنبر وهو قذر الثياب متغيّر الرائحة، يجعلهم ينفرون منه ويزهدون في سماع كلامه، ولا يقيمون له وزنا.
বস্তুত যে খতিব অপরিচ্ছন্ন পোশাক এবং দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় মানুষের সামনে মিম্বরে উপস্থিত হন, তিনি তাদের মনে নিজের প্রতি অনীহা সৃষ্টি করেন এবং তারা তার কথা শ্রবণে বিমুখ হয়ে পড়ে, আর তারা তাকে ন্যূনতম গুরুত্বও প্রদান করে না।
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[الفصل الثاني وقفات سريعة حول خطبة الجمعة]الفصل الثاني
وقفات سريعة حول خطبة الجمعة إِن خطبة الجمعة وسيلة هامَّة من وسائل الإِرشاد والتقويم والتذكير، حيث إِنها معنيَّة بمخاطبة مجموعة كبيرة من الناس في يوم مخصوص وساعة مخصوصة، وهم يتفاوتون في مستوياتهم الإِيمانية والعقلية والفكرية والثقافية والسلوكية، ويتباينون كذلك في الالتزام والتقوى والاستجابة والتأثر لما يقوله الخطيب، زد على ذلك تعدّد المشكلات وتنوع القضايا التي يطرقها الخطيب في كل جمعة، كما أن خطبة الجمعة فرصة ثمينة له تتكرر مرة كل أسبوع، للتأثير على ذلك العدد الضخم من الناس الذين يأتون راغبين غير مجبرين، ولكلِّ ذلك وجب على كل خطيب أن يجتهد في إِعداد خطبته وتنقيحها وتجويدها حتى تحقق أهدافها المرجوَّة، وممِّا يزيد في أهميتها أن النبي صلوات الله وسلامه عليه نهى عن اللغو والإِمام يخطب، وعد من اللغو قول: (انصت) ، ففي الحديث المتفق عليه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِذا قلت
[দ্বিতীয় অধ্যায়: জুমার খুতবা প্রসঙ্গে কিছু সংক্ষিপ্ত আলোচনা]দ্বিতীয় অধ্যায়
জুমার খুতবা প্রসঙ্গে কিছু সংক্ষিপ্ত আলোচনা
জুমার খুতবা হলো দিকনির্দেশনা, সংশোধন এবং উপদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কারণ এর লক্ষ্য হলো একটি নির্দিষ্ট দিনে এবং নির্দিষ্ট সময়ে এক বিশাল জনসমষ্টির উদ্দেশে বক্তব্য প্রদান করা; যাদের ঈমানি, মানসিক, চিন্তাগত, সাংস্কৃতিক ও আচরণিক স্তর ভিন্ন ভিন্ন। খতিব যা বলেন, সে ক্ষেত্রে তাঁদের আনুগত্য, তাকওয়া, সাড়াদান ও প্রভাবিত হওয়ার মাত্রাও ভিন্নতর হয়। এর সাথে যুক্ত হয় প্রতি জুমায় খতিবের আলোচিত নানাবিধ সমস্যা ও বিষয়ের বৈচিত্র্য। এছাড়া জুমার খুতবা খতিবের জন্য প্রতি সপ্তাহে একবার পুনরাবৃত্ত হওয়া এমন এক মূল্যবান সুযোগ, যার মাধ্যমে তিনি সেই বিশাল জনসমষ্টিকে প্রভাবিত করতে পারেন যারা কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই স্বেচ্ছায় সেখানে উপস্থিত হন। এ সব কারণেই প্রত্যেক খতিবের উচিত তাঁর খুতবা প্রস্তুত, পরিমার্জন ও উন্নত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রচেষ্টা ব্যয় করা, যাতে এটি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। এর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায় একারণে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইমামের খুতবা চলাকালীন অনর্থক কাজ (لغو) করতে নিষেধ করেছেন। এমনকি ‘চুপ করো’ বলাকেও তিনি অনর্থক কাজের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন তুমি বললে...
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أنصت والإِمام يخطب فقد لغوت» (1) .
ومن أجل ذلك أقف هنا وقفات سريعة حول خطبة الجمعة وأهمية تجويدها وإيقانها قلبا وقالبا، شكلا ومضمونا فيما يأتي:
الوقفة الأولى: إعداد الخطبة إِن حسن إِعداد الخطبة، وترتيب أفكارها، ووحدة موضوعها ممَّا ينتج المعاني المتناسقة، والألفاظ المناسبة والسبك الرائع، والأداء القوي المشرق، فلا يستطيع الخطيب أن يلقي خطبته مكتملة العناصر، رائعة التعبير، إِلا بعد إِعداد سابق حيث يخلو الخطيب بمكتبته ومطالعاته فيختار منها ما يناسب موضوع الخطبة، ثم يرتّبه ويختار له العبارات المناسبة التي تمنح خطبته تأثيرا وجمالا.
وظاهرة الإِعداد ليست دليلا على ضعف الخطيب،
--------------------------------------------
"...চুপ থাকো যখন ইমাম খুতবা প্রদান করেন, তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।" (১) .
আর এ কারণেই আমি এখানে জুমার খুতবা এবং এর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক, রূপ ও বিষয়বস্তু—উভয় দিক থেকে একে সুন্দর ও সুনিপুণ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নিম্নোক্ত সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করছি:
প্রথম আলোচনা: খুতবা প্রস্তুতি। নিশ্চয়ই খুতবার উত্তম প্রস্তুতি, এর ধারণাসমূহের সুবিন্যাস এবং বিষয়ের একমুখিতা সুসংগত অর্থ, যথাযথ শব্দচয়ন, চমৎকার শৈলী এবং শক্তিশালী ও উজ্জ্বল উপস্থাপনা নিশ্চিত করে। একজন খতিব তার খুতবাকে সকল উপাদানে সমৃদ্ধ ও চমৎকার অভিব্যক্তিতে তখনই উপস্থাপন করতে সক্ষম হন, যখন তিনি পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করেন; যেখানে খতিব তার পাঠাগারে নিবিষ্ট হয়ে ও অধ্যয়নের মাধ্যমে খুতবার বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপাদানসমূহ নির্বাচন করেন, অতঃপর তা বিন্যস্ত করেন এবং এমন উপযুক্ত শব্দাবলি চয়ন করেন যা তার খুতবাকে প্রভাবশালী ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তোলে।
আর প্রস্তুতির এই বিষয়টি খতিবের দুর্বলতার কোনো প্রমাণ নয়,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقلة زاده العلمي، بل هي إِشارة إلى مدى اهتمامه بموضوع خطبته وبالذين يؤمُّون مسجده ويستمعون إِليه وينتظرون منه الفائدة. إِذ لو أنه ارتجل خطبته ولم يعدّ أفكارها ومعانيها لجاءت عاجزة عن معالجة الموضوع الذي يتناوله بصورة محكمة، ولربما تلجلج لسانه، واختلطت في ذهنه المعاني، واضطربت على لسانه الألفاظ فيتلعثهم ويُرْتَج عليه ممَّا يؤدي إِلى انتزاع ثقة مستمعيه به، بخلاف الإِعداد والتهيؤ فإِن من ثمراته زرع الثقة به من الناس لأنهم يلمسون في كلامه آثار العناية والتجويد، والحرص على الإِفادة من خلال الأفكار الناضجة، والمعاني الخصبة المتناسقة والألفاظ المعبرة التي يسوقها إِليهم عبر خطبته.
الوقفة الثانية: وحدة موضوعها ووحدة موضوع الخطبة تُعدُّ ميزةً طيبة فيها إِذ تجعل الخطيب يركز ذهنه علىَ استجماع عناصر الموضوع الواحد دون التشتت في موضوعات مختلفة ممِّا يورث
এবং তাঁর জ্ঞানগত পুঁজির স্বল্পতা; বরং এটি তাঁর খুতবার বিষয়ের প্রতি এবং যারা তাঁর মসজিদে যাতায়াত করেন, তাঁর কথা শ্রবণ করেন এবং তাঁর নিকট হতে উপকারের প্রত্যাশা করেন, তাঁদের প্রতি তাঁর গভীর গুরুত্বারোপেরই একটি নিদর্শন। কারণ তিনি যদি পূর্বপ্রস্তুতি ব্যতীত খুতবা প্রদান করতেন এবং এর চিন্তা ও ভাবার্থগুলো বিন্যস্ত না করতেন, তবে তিনি যে বিষয়টি আলোচনা করছেন তা সুসংহত (محكمة) উপায়ে উপস্থাপন করতে অক্ষম হতেন। এমতাবস্থায় সম্ভবত তাঁর জিহ্বা আড়ষ্ট হয়ে যেত, তাঁর অন্তরে ভাবার্থসমূহ সংমিশ্রিত হয়ে যেত এবং তাঁর মুখে শব্দাবলি এলোমেলো হয়ে পড়ত, ফলে তিনি তোতলামি করতেন এবং বাকরুদ্ধ হয়ে পড়তেন; যা পরিশেষে তাঁর প্রতি শ্রোতামণ্ডলীর আস্থা (ثقة) বিনাশের কারণ হতো। পক্ষান্তরে, প্রস্তুতি ও সুবিন্যস্তকরণের সুফল হলো মানুষের হৃদয়ে তাঁর প্রতি আস্থা (ثقة) সৃষ্টি হওয়া। কারণ তারা তাঁর বক্তব্যের মধ্যে গভীর মনোযোগ ও উৎকর্ষের নিদর্শন এবং পরিপক্ক চিন্তা, সুসংগত উর্বর ভাবার্থ ও ভাবপ্রকাশক শব্দাবলির মাধ্যমে উপকৃত করার প্রয়াস প্রত্যক্ষ করে, যা তিনি তাঁর খুতবার মাধ্যমে তাঁদের নিকট পেশ করেন।
দ্বিতীয়ত: বিষয়ের ঐক্য। খুতবার বিষয়ের ঐক্য একটি উত্তম বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়; কেননা এটি খতিবকে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে বিক্ষিপ্ত না হয়ে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপাদানসমূহ সংগ্রহে মনোনিবেশ করতে সহায়তা করে, যা...
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الإِملال والسآمة لدى الناس ويجعلهم في حيرة من أمرهم، وقد تزدحم الموضوعات في هذه الحالة لكثرتها فلا يعلق بذهن المصلي شيء منها، أمَّا وحدة موضوع الخطبة فإِنه يفيد السامعين ويجعلهم يخرجون بفكرة متكاملة عن الموضوع المطروح. فكلما اتحد موضوع الخطبة كلَما عمَّت الفائدة واختصر الوقت؛ وكلما تفرق موضوعها وتشتت كلّما انعدمت الفائدة وطال الوقت على المصلين فأورثهم السآمة والملل.
الوقفة الثالثة: لغة الخطبة وأسلوبها إِن الأصل في لغة الخطبة أن تكون عربية فصيحة بعيدة عن العامية، ولكن بأسلوب سهل مفهوم، ليس فيه مفردات غريبة يعجز السامعون عن إِدراكها، وبمقدار ما تكون تركيبات الخطبة وألفاظها سهلة حسنة السبك، جاريةً على قواعد العربية، خالية من التعقيد وتنافر الكلمات، مؤتلفة مع الجو العام للخطبة، متناسبةً مع المعاني المقصودة، من حيث طولها وقصرها فإِن الخطبة تكون قوية التأثير
মানুষের মাঝে একঘেয়েমি ও বিরক্তি সৃষ্টি করে এবং তাদেরকে বিভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত করে। এই অবস্থায় বিষয়ের আধিক্যের কারণে অনেক সময় বিষয়গুলো ভিড় করে, ফলে মুসল্লির স্মৃতিতে তার কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। পক্ষান্তরে খুতবার বিষয়ের ঐক্য শ্রোতাদের জন্য ফলপ্রসূ এবং এটি তাদেরকে উপস্থাপিত বিষয়টি সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিয়ে প্রস্থান করতে সহায়তা করে। সুতরাং খুতবার বিষয় যত বেশি সুসংগত হবে, এর উপকারিতা তত বেশি ব্যাপক হবে এবং সময় সংক্ষেপিত হবে; আর যখনই এর বিষয় বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত হবে, তখন উপকারিতা বিলুপ্ত হবে এবং মুসল্লিদের জন্য সময় দীর্ঘায়িত হবে, যা তাদের মাঝে বিরক্তি ও অবসাদ তৈরি করবে।
তৃতীয় বিরতি: খুতবার ভাষা ও শৈলী। খুতবার ভাষার ক্ষেত্রে মূলনীতি (الأصل) হলো তা হবে বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল আরবি, যা কথ্য উপভাষা থেকে মুক্ত থাকবে। তবে তা হতে হবে সহজ ও বোধগম্য শৈলীতে, যাতে এমন কোনো দুর্বোধ্য শব্দ না থাকে যা অনুধাবনে শ্রোতারা অক্ষম হয়। খুতবার গঠনশৈলী ও শব্দাবলি যত বেশি সহজ, সাবলীল, আরবি ব্যাকরণসম্মত, জটিলতা ও শ্রুতিকটু শব্দমুক্ত হবে এবং খুতবার সামগ্রিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও উদ্দিষ্ট অর্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ (দৈর্ঘ্য ও হ্রস্বতার দিক থেকে) হবে, খুতবাটি তত বেশি প্রভাবশালী হবে।
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
جميلة العرض، محمودة الذكر، وأوقع في نفوس السامعين.
ولا بدَّ من التنويع في أسلوب الخطبة، والتلوين في ضروب التعبير، والانتقال من الأمر إِلى الاستفهام إِلى النهي إِلى التعجب إِلى الإِخبار ونحو ذلك، " الأمر الذي يجعل الخطبة متجددة العرض، منبهةً للأذهان، مسيطرةً على الأسماع، آخذةً مؤثرةً في النفوس (1) .
أما إِذا التزم الخطيب ضربا واحدا من ضروب التعبير فسوف ينجم عن ذلك حلول الملل والسآمة في نفوس المتلقين، وضجر الأسماع وانصرافها عن متابعة الخطبة، وربما تسرب النعاس والنوم إِلى أجفان كثير من المستمعين.
الوقفة الرابعة: الحكمة والبعد عن التجريح وإثارة الفتنة يغلب على خطبة الجمعة دائما طابع إِثارة العواطف، وتحريك المشاعر نحو الخير والفضيلة، وربط المستمعين بالله عز وجل وابتغاء ما عنده من المثوبة في الآخرة،
--------------------------------------------
উপস্থাপনা সুন্দর, আলোচনা প্রশংসনীয় এবং শ্রোতাদের অন্তরে অধিক প্রভাব বিস্তারকারী হওয়া।
খুতবার শৈলীতে বৈচিত্র্য আনা, প্রকাশের ধরনে ভিন্নতা বজায় রাখা এবং নির্দেশ থেকে প্রশ্নবোধক বাক্যে, নিষেধ থেকে বিস্ময়সূচক বাক্যে কিংবা বিবৃতির ঢঙে রূপান্তর করা অপরিহার্য। "এটি খুতবার উপস্থাপনাকে প্রাণবন্ত করে, মেধা ও চিন্তাকে জাগ্রত করে, মনোযোগ ধরে রাখে এবং হৃদয়ে গভীর প্রভাব বিস্তার করে (১)।
কিন্তু খতিব যদি প্রকাশের কেবল একটি পদ্ধতিই অনুসরণ করেন, তবে এর ফলে শ্রোতাদের মনে একঘেয়েমি ও বিরক্তি সৃষ্টি হবে, শ্রবণে ক্লান্তি আসবে এবং খুতবা শোনার আগ্রহ হারিয়ে যাবে; এমনকি অনেক শ্রোতার চোখে তন্দ্রা ও ঘুম নেমে আসতে পারে।
চতুর্থ বিষয়: হিকমত (প্রজ্ঞা) অবলম্বন এবং ব্যক্তি-সমালোচনা (تجريح) ও ফিতনা উস্কে দেওয়া থেকে দূরে থাকা। জুমার খুতবায় সাধারণত আবেগ জাগ্রত করার, কল্যাণ ও মহত্ত্বের দিকে অনুভূতিকে চালিত করার এবং শ্রোতাদের মহান আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করার ও পরকালে তাঁর কাছে থাকা প্রতিদানের প্রত্যাশা সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যটিই প্রবল থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وإنارة العقول في الأخذ بما أحل الله من متاع الدنيا وِالبعد عن المبالغة والإِسراف اتباعا لقوله تعالى: {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ - قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [الأعراف: 32 - 33]
وإذا تجرد الخطيب من الحماسة وبردت عاطفته، وفتر شعوره انعدم تأثيره على أسماع المصلين، واستثارة عواطفهم، ثم ينشأ من ذلك انعزالهم عنه وانصراف عقولهم.
وقد أُثر عن النبي صلى الله عليه وسلم: «أنه كان إِذا خطب احمرَّتْ عيناه، وعلا صوته واشتدَّ غضبه حتى كأنه منذر جيش يقول صبحكم ومسَّاكم» (1) الحديث.
--------------------------------------------
এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য পার্থিব ভোগ-সামগ্রীর মধ্য থেকে যা হালাল করেছেন তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে এবং আতিশয্য ও অপচয় থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোকায়ন করা; এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুসারী: {বলুন, আল্লাহর সেই সৌন্দর্যকে কে হারাম করেছে যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য বের করেছেন এবং রিযিকের মধ্য থেকে পবিত্র বস্তুসমূহকে? বলুন, পার্থিব জীবনে এগুলো তাদের জন্য যারা ঈমান এনেছে, আর কিয়ামতের দিন এগুলো কেবল তাদের জন্যই নির্ধারিত। এভাবেই আমি জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি। বলুন, নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক হারাম করেছেন কেবল অশ্লীল কাজসমূহ—যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন—আর পাপাচার ও অন্যায় বিদ্রোহ এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি, আর আল্লাহর নামে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না।} [আল-আরাফ: ৩২-৩৩]
যদি খতিব উৎসাহ-উদ্দীপনা বর্জিত হন, তাঁর আবেগ স্তিমিত হয়ে পড়ে এবং অনুভূতি শিথিল হয়ে যায়, তবে মুসল্লিদের শ্রবণেন্দ্রিয় ও তাঁদের আবেগ জাগ্রত করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাব বিলুপ্ত হয়ে যায়; অতঃপর এর ফলে তাঁদের মাঝে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয় এবং তাঁদের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: «তিনি যখন খুতবা দিতেন, তখন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেত, কণ্ঠস্বর উঁচু হতো এবং ক্রোধ তীব্র হতো; যেন তিনি কোনো সৈন্যবাহিনীকে এই বলে সতর্ক করছেন যে, শত্রু তোমাদের ওপর সকালে বা সন্ধ্যায় আক্রমণ করতে যাচ্ছে» (১) হাদিস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
لكن ينبغي أن يعلم أن حماسة الخطيب في خطبته يجب أن تكون منضبطة ومتزنة وملتزمة بالحكمة والتعقُّل والبعد عن إِثارة الفتنة أو التعرض لأناس بأعيانهم، والنيل منهم بطريقة نابية تشمئز منها النفوس وتنفر منها الطباع السليمة، والعقول السوَّية، كما يجب عدم التشهير بالعصاة من فوق أعواد المنبر، فإِن الولوغ في أعراض الناس ونهشها أمر قبيح لا يقرُّه من عنده أثارة من دين أو عقل أو أدب، بل إِن ذلك بعيد كُلَّ البعد عن هدي المصطفى صلى الله عليه وسلم الذي لم يعرف عنه أنه شهَّر بأحد أو جرَّحه، وإنما يقول: ما بال أقوام يفعلون كذا.
ففي التلميح ما يغني عن التصريح، وفي التعميم ما يغني عن التخصيص، والتجريحُ والتشهيرُ فوق المنبر سوءُ أدب مع المستمع وتوبيخ لصاحب المعصية ممَّا يؤدي به إِلى الإِعراض عن النصيحة والتمادي في الخطأ وفي ذلك يقول الإِمام الشافعي رحمه الله:
তবে এটি জানা উচিত যে, খুতবায় খতিবের উৎসাহ-উদ্দীপনা অবশ্যই সুশৃঙ্খল, ভারসাম্যপূর্ণ এবং প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতাসম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। সেই সাথে ফিতনা সৃষ্টি করা অথবা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং কুরুচিপূর্ণভাবে তাদের মানহানি করা থেকে বিরত থাকতে হবে, যা মানুষের মনকে বিষিয়ে তোলে এবং সুস্থ স্বভাব ও স্বাভাবিক বিবেক তা অপছন্দ করে। তেমনিভাবে মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে পাপীদের জনসমক্ষে হেয় করা অনুচিত। কেননা মানুষের সম্মানহানি ও তাতে লিপ্ত হওয়া একটি অত্যন্ত জঘন্য বিষয়, যা সামান্যতম দ্বীন, বিবেক বা শিষ্টাচারসম্পন্ন কোনো ব্যক্তিই সমর্থন করতে পারে না। বরং এটি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ থেকে অনেক দূরে। তাঁর সম্পর্কে এমনটি জানা যায় না যে, তিনি কাউকে জনসমক্ষে অপদস্থ করেছেন কিংবা কাউকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন (جرح); বরং তিনি বলতেন: "লোকদের কী হলো যে তারা এমন কাজ করে?"
সরাসরি বলার চেয়ে ইঙ্গিত করাই যথেষ্ট এবং নির্দিষ্ট করার চেয়ে সাধারণীকরণের মধ্যেই পর্যাপ্ত সমাধান নিহিত। মিম্বারের ওপর থেকে কারো দোষারোপ বা ত্রুটি বর্ণনা (تجريح) এবং জনসমক্ষে মানহানি করা শ্রোতার প্রতি শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ এবং পাপী ব্যক্তির প্রতি এমন এক তিরস্কার, যা তাকে উপদেশ গ্রহণ থেকে বিমুখ করে তোলে এবং ভুলের ওপর অটল থাকতে প্ররোচিত করে। এ বিষয়ে ইমাম শাফেঈ (রহ.) বলেন:
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
تعمَّدْني بنُصْحك في انفرادي
… وجَنِّبني النصيحة في الجماعةْ
فإن النُّصْح بَيْنَ الناس نوعٌ
… من التَّوبيخ لا أرضى اسْتَمَاعَهْ
وإِنْ خالفْتَنيِ وعَصَيْتَ قولي
… فلا تجزع إِذا لم تُعْطَ طَاعَهْ (1)
الوقفة الخامسة: الارتجال والخطبة من ورقة لا شك أن ارتجال الخطبة أوقع أثرا في نفوس السامعين ممَّا لو قرئت من كتاب أو ورقة. لكنَّ الحكم في هذه المسألة نسبي. فقد يرتجل خطيب خطبته دون إِعداد مسبق ولا اطّلاع كاف حول الموضوع المراد، فيقع في الارتباك والتخبط والحيرة، ويذهب بالناس إِلى مسالك متعددة من الكلام، ولا رابط بينها ولا ضابط فيملُّونه ويتضجرون من طريقته، لكن إِذا وجدت الجرأة الكافية
--------------------------------------------
একান্তে উপদেশ প্রদানের জন্য আমাকে বেছে নাও
… আর জনসমক্ষে আমাকে উপদেশ দেওয়া পরিহার করো।
কেননা মানুষের মাঝে উপদেশ দান হলো এক প্রকার
… তিরস্কার, যা শ্রবণ করতে আমি সম্মত নই।
আর তুমি যদি আমার বিরুদ্ধাচরণ করো এবং আমার কথা অমান্য করো
… তবে তোমার আনুগত্য করা না হলে তুমি অস্থির হয়ো না। (১)
পঞ্চম আলোচনা: তাৎক্ষণিক বক্তৃতা (ارتجال) এবং কাগজ দেখে খুতবা প্রদান। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো বই বা কাগজ দেখে পড়ার চেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে খুতবা প্রদান করা শ্রোতাদের অন্তরে অধিক গভীর প্রভাব ফেলে। তবে এই বিষয়ের বিধানটি আপেক্ষিক। অনেক সময় কোনো খতিব পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ না করে এবং উদ্দিষ্ট বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান না রেখেই তাৎক্ষণিক বক্তৃতা প্রদান করেন, ফলে তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা, অসংলগ্নতা ও বিভ্রান্তিতে নিপতিত হন। তিনি শ্রোতাদের আলোচনার এমন বিভিন্ন পথে নিয়ে যান যেগুলোর মাঝে কোনো যোগসূত্র বা নিয়ন্ত্রণ (ضابط) থাকে না, ফলে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং তার পদ্ধতির কারণে বিরক্ত হয়। তবে যদি পর্যাপ্ত সাহস থাকে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عند الخطيب على الارتجال مع الإِعداد المسبق وترتيب المعاني والأفكار، والقدرة على استحضار الآيات الكريمة والأحاديث النبوية والقصص المناسبة، فلا ريب أن الارتجال في هذا الموقف أجمل وأحسن من القراءة في ورقة أو الارتجال دون إِعداد تام.
وفي المقابل قد يوجد خطيب متمكن من طرائق الصياغة وحسن الإِلقاء والإِعداد البارع الذي يستوفي عناصر الموضوع، فيستلب الألباب بجمال إِلقائه وترابط موضوعه حتى ولو قرأ الخطبة من ورقة، ويأتي خطيب آخر ليست عنده أدنى حصيلة من العلم ولا موهبة الإِلقاء، فيقرأ على الناس خطبَةَ كيفما اتفق لا يراعي فيها جمال الإِلقاء ولا قوة الأسلوب.
وأخلص إِلى القول بأن الارتجال جميل في موطن وقبيح في آخر، وكذا الخطبة من ورقة تحسن في موقف ولا تحسن في آخر.
ويجدر بي الإِشارة إِلى أن الارتجال المتقن في
একজন খতিবের পূর্বপ্রস্তুতি এবং অর্থ ও ভাবনার সুবিন্যস্ত বিন্যাসের সাথে উপস্থিত বক্তৃতা প্রদানের সক্ষমতা এবং পবিত্র আয়াত, নববী হাদিস ও উপযুক্ত ঘটনাবলি উপস্থাপন করার সামর্থ্য থাকলে, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই পরিস্থিতিতে উপস্থিত বক্তৃতা প্রদান করা কাগজ দেখে পড়ার চেয়ে অথবা কোনো প্রস্তুতিহীন উপস্থিত বক্তৃতার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর ও উত্তম।
অন্যদিকে, এমন খতিব থাকতে পারেন যিনি বাক্য গঠনশৈলী, চমৎকার উপস্থাপনা এবং অত্যন্ত নিপুণ প্রস্তুতির অধিকারী যা বিষয়ের সকল উপাদানকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলে। ফলে তিনি তার উপস্থাপনার সৌন্দর্য এবং বিষয়ের সুসংবদ্ধতার মাধ্যমে শ্রোতাদের হৃদয় জয় করে নেন, এমনকি যদি তিনি কাগজ দেখেও খুতবাহ পাঠ করেন। আবার এমন অন্য খতিব আসতে পারেন যার ন্যূনতম জ্ঞান নেই এবং উপস্থাপনার কোনো প্রতিভাও নেই; তিনি মানুষের সামনে যেনতেনভাবে খুতবাহ পাঠ করেন, যেখানে তিনি উপস্থাপনার সৌন্দর্য কিংবা শৈলীর বলিষ্ঠতার প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপই করেন না।
পরিশেষে আমি একথাই বলব যে, উপস্থিত বক্তৃতা কোনো ক্ষেত্রে সুন্দর আবার কোনো ক্ষেত্রে মন্দ হতে পারে। একইভাবে কাগজ দেখে খুতবাহ প্রদান কোনো পরিস্থিতিতে ভালো আবার কোনো পরিস্থিতিতে অনুচিত হতে পারে।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, নিপুণভাবে উপস্থিত বক্তৃতা...
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الخطب لا يجيده إِلا صاحب الموهبة الراسخة والتجربة العميقة، والخبرة الدقيقة في مجال الخطابة ممَّن هو فصيح اللسان، جريء القلب، غزير الاطلاع، قويّ الذاكرة، سريع البديهة، ثريُّ اللغة، واثق النفس.
وأمَّا من كان فاقد الجرأة على مواجهة الناس، ضعيفا خائر القلب، ضحل المعارف، كثير النسيان، هزيل البيان فإِنه لن يجرؤ على الارتجال، لأن رهبة موقفه، وهيبة مقامه يجعلان الأفكار تشرد عن ذهنه، والكلمات تعزب عن لسانه، فيتلجلج على منبره، ويخفق في حديثه ويضحي مجالا للتندُّر والسخرية.
الوقفة السادسة: الاستشهاد في الخطبة إِن أَيَّة فكرة يودّ أن يطرحها خطيب على المصلين لا تجد وقعا في نفوسهم وقبولا كاملا في عقولهم ما لم يدعمها ويعضدها بالشواهد المناسبة التي تكسبه اطمئنان قلوبهم، وعمق ثقتهم، لأن الشاهد المناسب يعدُّ قوة لترسيخ الأفكار الواردة في الخطبة وتثبيتها في
খুতবা প্রদানে কেবল সেই ব্যক্তিই পারদর্শিতা অর্জন করতে পারেন, যার রয়েছে সুদৃঢ় প্রতিভা ও গভীর অভিজ্ঞতা এবং বাগ্মিতা শিল্পে সূক্ষ্ম দক্ষতা; যিনি প্রাঞ্জলভাষী, সাহসী হৃদয়ের অধিকারী, ব্যাপক অধ্যয়নসম্পন্ন, প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, দ্রুত প্রত্যুৎপন্নমতি, ভাষাগতভাবে সমৃদ্ধ এবং আত্মবিশ্বাসী।
পক্ষান্তরে যার মানুষের মুখোমুখি হওয়ার সাহস নেই, যে দুর্বল (ضعيف) ও ভীরু হৃদয়ের অধিকারী, যার জ্ঞান অত্যন্ত নগণ্য, অধিক বিস্মৃতিপ্রবণ এবং যার প্রকাশভঙ্গি অত্যন্ত দুর্বল; সে কখনোই তাৎক্ষণিক বক্তব্য প্রদানের সাহস করবে না। কারণ উপস্থিত পরিস্থিতির ভীতি এবং অবস্থানের গাম্ভীর্য তার মস্তিষ্ক থেকে চিন্তাধারাকে বিচ্যুত করে দেয় এবং জিহ্বা থেকে শব্দ হারিয়ে যায়। ফলে সে মিম্বরে জড়তা প্রদর্শন করে, তার আলোচনায় ব্যর্থ হয় এবং বিদ্রূপ ও উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়।
ষষ্ঠ আলোচনা: খুতবায় উদ্ধৃতি বা সাক্ষ্য (الاستشهاد) প্রদান। একজন খতিব মুসল্লিদের নিকট যে ধারণাই পেশ করতে চান না কেন, তা তাদের অন্তরে ততক্ষণ কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং তাদের বিচারবুদ্ধিতে পূর্ণাঙ্গ গ্রহণযোগ্যতা পাবে না, যতক্ষণ না তিনি সেটিকে উপযুক্ত সমার্থক সাক্ষ্য (شواهد) দ্বারা জোরালো ও শক্তিশালী করেন যা মুসল্লিদের হৃদয়ে প্রশান্তি এবং তার প্রতি গভীর আস্থা তৈরি করে। কেননা উপযুক্ত সমার্থক সাক্ষ্য (شاهد) খুতবায় উপস্থাপিত চিন্তাধারাকে সুপ্রতিষ্ঠিত ও বদ্ধমূল করার একটি শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قلوب الناس وعقولهم.
ونجد أن ثقة المستمعين وتصديقهم يتدرجان بتدرّج منزلة من ينسب إِليه القول المستشهد به فكلام الله سبحانه يحتلّ المنزلة العليا في ثقة الناس واعتقادهم، لأنه حق لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، ويستحيل أن يتطرق إِليه أيُّ تحريف، فهو محفوظ بحفظ الله سبحانه له إِلى أن تقوم الساعة كما قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9]
ثم يأتي بعد ذلك حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم الصحيح، فإِنه ينال المنزلة الكريمة في ثقة الناس وتصديقهم، وبعده أقوال الصحابة رضوان الله عليهم والسلف الصالح من التابعين وتابعيهم؛ ويمكن للخطيب أن يسوق القصة المناسبة لموضوعه ويضرب المثل؛ ليبعث في نفوس السامعين النشاط وعدم الملل ويلفت انتباههم إِلى الموضوع، إِلى جانب الاستشهاد بالأبيات الشعرية المؤثرة مما يضفي على الخطبة لونا من الحركة والحيوية.
মানুষের অন্তর ও তাদের মনন।
আমরা দেখতে পাই যে, শ্রোতাদের আস্থা ও বিশ্বাস সেই সত্তার মর্যাদার স্তর অনুযায়ী নির্ধারিত হয় যার দিকে উদ্ধৃত বক্তব্যটি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত; কারণ এটি এমন এক সত্য, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না এবং এতে কোনো ধরনের বিকৃতি প্রবেশ করা অসম্ভব। এটি কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে সংরক্ষিত, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয় আমি এই উপদেশ (কুরআন) নাযিল করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক।" [আল-হিজর: ৯]
অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহিহ (صحيح) হাদিসের স্থান; এটি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এক উচ্চতর মর্যাদা লাভ করে। এরপর সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাবিঈন (تابعين) ও তাবে-তাবিঈন (تابعيهم)-এর মধ্য থেকে সালাফে সালেহীনদের বক্তব্যের অবস্থান। একজন খতিব তার বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ কোনো ঘটনা বর্ণনা করতে পারেন এবং দৃষ্টান্ত পেশ করতে পারেন; যাতে শ্রোতাদের মনে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় ও একঘেয়েমি দূর হয় এবং বিষয়ের প্রতি তাদের মনোযোগ আকৃষ্ট হয়। এর পাশাপাশি প্রভাবশালী কাব্য উদ্ধৃত করা যেতে পারে, যা খুতবার মধ্যে এক প্রকার গতিশীলতা ও প্রাণবন্ততা দান করে।
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
[الفصل الثالث أخطاء ينبغي تجنبها على منبر الجمعة]الفصل الثالث
أخطاء ينبغي تجنبها على منبر الجمعة أولا: الإطالة في الخطبة يحصل في كثير من الأحيان من بعض الخطباء إِطالة خطب الجمعة حتى يملَّها السامعون ويتضجروا منها ومن ثمَّ فلا تحصل لهم الفائدة المرجوَّة، وهذا عمل مخالف لهدي الرسول صلى الله عليه وسلم، فإنه قال: «إِنَّ طول صلاة الرجل، وقصَر خطبته مَئِنةٌ (1) من فقهه، فأطيلوا الصلاة، وأقصروا اَلخطبة، وإِنَّ من البيان لسحْرا» (2) ولا يعارض هذا الحديث حديث: «كانت صَلاته قصدا وخطبته قصدا» (3) لأن المراد بالحديث الأول أن الصلاة تكون طويلة بالنسبة إِلى الخطبة لكنه ليس تطويلا يشقُّ على المأمومين، كما أنها حينئذٍ قصدٌ أي معتدلة والخطبة
--------------------------------------------
[তৃতীয় অধ্যায়: জুমার মিম্বরে যেসব ভুল বর্জনীয়]তৃতীয় অধ্যায়
জুমার মিম্বরে যেসব ভুল বর্জন করা উচিত। প্রথমত: খুতবা দীর্ঘ করা। প্রায়শই অনেক খতিবের পক্ষ থেকে জুমার খুতবা দীর্ঘ করার বিষয়টি ঘটে থাকে, এমনকি শ্রবণকারীরা এতে বিরক্ত ও ত্যক্ত হয়ে পড়ে; ফলে তাদের মাঝে কাঙ্ক্ষিত ফায়দা অর্জিত হয় না। এই কাজটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশনার পরিপন্থী। কেননা তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তির সালাত দীর্ঘ হওয়া এবং খুতবা সংক্ষিপ্ত হওয়া তার ফিকহ বা প্রজ্ঞার নিদর্শন (مئنة) (১)। অতএব তোমরা সালাত দীর্ঘ করো এবং খুতবা সংক্ষিপ্ত করো। নিশ্চয়ই কোনো কোনো বাগ্মিতা জাদুতুল্য» (২)। আর এই হাদিসটি নিম্নোক্ত হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক নয়: «তাঁর সালাত ছিল পরিমিত (قصد) এবং খুতবা ছিল পরিমিত (قصد)» (৩)। কারণ প্রথম হাদিসটির উদ্দেশ্য হলো, খুতবার তুলনায় সালাত দীর্ঘ হবে, তবে তা এমন দীর্ঘ হবে না যা মুক্তাদীদের জন্য কষ্টকর হয়। এমতাবস্থায় এটি পরিমিত (قصد) অর্থাৎ ভারসাম্যপূর্ণ হিসেবে গণ্য হবে এবং খুতবাও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
كذلك.
فيا ليت أولئك الخطباء الذين يطيلون على المصلين في خطب الجمعة يأخذون بهذه السنَّة النبوية ولا يطيلون على المأمومين فإِنهم يعلمون أن فيهم الشيخ الطاعن في السنّ والمريض الذي لا يستطيع أن يحتفظ بوضوئه وقتا طويلا، وفيهم صاحب الحاجة، وفيهم الضعيف، وفيهم الشابّ الفتيّ الذي يُطمَع في تأليف قلبه للطاعة والعبادة.
ثانيا: تقليد الخطباء المشهورين ومن الأخطاء التي يقع فيها بعض الخطباء، وبخاصة من الشباب المبتدئين في مجال الخطابة الميل إِلى تقليد مشاهير الخطباء المعاصرين تقليدا يذوبون فيه عن ذواتهم ليتقَمّصوا أولئك الخطباء المشهورين في زمانهم.
فتجد الواحد منهم حريصا على أن يأتي بكل ما يعرفه عن الخطيب الذي يقلده من أفكار وعبارات
তেমনি।
আফসোস! সেই সব খতিব যারা জুমার খুতবায় মুসল্লিদের ওপর দীর্ঘসূত্রতা করেন, তারা যদি এই নববী সুন্নাহ গ্রহণ করতেন এবং মুক্তাদিদের ওপর খুতবা দীর্ঘ না করতেন! কারণ তারা জানেন যে, তাদের মধ্যে অতি বৃদ্ধ ও এমন অসুস্থ ব্যক্তি রয়েছেন যারা দীর্ঘক্ষণ অজু ধরে রাখতে পারেন না। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রয়োজনগ্রস্ত ও ব্যস্ত মানুষ, দুর্বল (ضعيف) মানুষ এবং এমন তেজস্বী যুবক যার অন্তরকে আনুগত্য ও ইবাদতের প্রতি আকৃষ্ট করার আশা করা যায়।
দ্বিতীয়ত: প্রখ্যাত খতিবদের অনুকরণ। খতিবদের করা ভুলগুলোর মধ্যে—বিশেষ করে যারা খুতবা প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন ও তরুণ—অন্যতম হলো সমসাময়িক প্রখ্যাত খতিবদের এমনভাবে অনুকরণ করার প্রবণতা যাতে তারা নিজেদের সত্তাকে বিলীন করে দিয়ে সেই সময়ের বিখ্যাত খতিবদের রূপ ধারণ করার চেষ্টা করেন।
ফলে তাদের কাউকে কাউকে দেখা যায় যে, তিনি যাকে অনুকরণ করছেন তার চিন্তাধারা ও বাক্যসমূহ সম্পর্কে যা কিছু জানেন, তা হুবহু উপস্থাপন করতে অত্যন্ত আগ্রহী।
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وحركات وأحوال وأوضاع فتأتي خطبته قليلة النفع، ضعيفة التأثير، لأنها لم تنبع من مجال تفكيره، ولم تصدر عاطفتها ومعانيها من أعماق نفسه.
وأحيانا نرى هذا النوع من الخطباء يبدأ خطبته بتقليد ذلك الخطيب المشهور بألفاظه ولهجته، ثم يكمل الخطبة بألفاظه هو وأفكاره التي تختلف اختلافا جذريا مع خطبة الخطيب المشهور، فيلاحظ المصلون البون الشاسع بين الطريقتين في الإِلقاء، وهذا الاتجاه ينبئ عن عدم أصالة في الخطيب المقلد ولا شك مستقلة، والخطابة لها أسلوبها الخْاص وأفكارها الخاصة.
ولا شك أن الخطيب الذي تتفجر معاني الخطبة من قلبه، وتنساب أفكارها من قريحته، وتتأجّج بها عاطفته يكون أعظم أثرا في نفوس المستمعين إِليه، وأقدر على تحقيق الفائدة لهم.
ثالثا: التقريع وفظاظة القول وممَّا يحز في النفس أن تجد خطيبا يجتمع الناس
এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি, অবস্থা ও ভঙ্গিমার ফলে তার খুতবাটি অল্প উপকারী ও দুর্বল (ضعيفة) প্রভাবসম্পন্ন হয়ে থাকে; কারণ তা তার নিজস্ব চিন্তাচেতনা থেকে উৎসারিত হয়নি এবং এর আবেগ ও অর্থসমূহ তার অন্তরের গভীর থেকে নির্গত হয়নি।
কখনো কখনো আমরা এ ধরনের খতিবদের দেখি যে, তারা তাদের খুতবা সেই প্রখ্যাত খতিবের শব্দ ও বাচনভঙ্গি অনুকরণের মাধ্যমে শুরু করেন। অতঃপর তিনি নিজের শব্দ ও চিন্তা দিয়ে খুতবাটি সম্পন্ন করেন, যা সেই প্রখ্যাত খতিবের খুতবার সাথে মৌলিকভাবে ভিন্ন হয়। ফলে মুসল্লিরা উপস্থাপনার এই দুই পদ্ধতির মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান লক্ষ্য করেন। আর এই প্রবণতাটি অনুকরণকারী খতিবের মৌলিকত্বের অভাবকেই নির্দেশ করে; অথচ খুতবা প্রদানের রয়েছে নিজস্ব স্বতন্ত্র শৈলী ও নিজস্ব চিন্তাধারা।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে খতিবের হৃদয় থেকে খুতবার মর্মার্থ উৎসারিত হয়, যার মেধা থেকে এর চিন্তাধারা প্রবাহিত হয় এবং যার আবেগ এতে প্রজ্জ্বলিত হয়, তিনি শ্রোতাদের হৃদয়ে সর্বাধিক প্রভাব বিস্তার করতে পারেন এবং তাদের জন্য উপকার নিশ্চিত করতে অধিক সক্ষম হন।
তৃতীয়ত: তিরস্কার ও রূঢ় বাক্য প্রয়োগ। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আপনি এমন একজন খতিবকে দেখতে পান যার কাছে মানুষ সমবেত হয়...
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بين يديه في الجمعة راغبين غير راهبين ولا مجبرين وهو مع ذلك يقرِّعهم ويوبخهم وكأنه قد خلا ممَّا حذَّرهم منه وربما وجد بينهم من هو أتقى منه وأخشى لله عز وجل، وهذا الأسلوب مخالف لهدي القرآن الكريم وسنة المصطفى صلى الله عليه وسلم فالواجب على كل من يتصدر لخطبة الجمعة أن يتَّبع منهج الرسول صلى الله عليه وسلم في الدعوة إلى الله بالحكمة والموعظة الحسنة والكلام الليِّن الذي يتألف القلوب والأسماع وأن يتجنَّب التقريع وفظاظة القول، فإِن ذلك سبيل العاجز الذي لا يحسن الإِقناع ولا القول الصائب والأدب الرفيع، مَّما يؤدي به إِلى نفور الناس عن سماعه والإِصغاء إِلى قوله.
فلا بُدّ لكل خطيب جمعة أن يكون رائده في الإِرشاد والتذكير قول الله سبحانه: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [النحل: 125] وقوله تعالى: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ} [آل عمران: 159]
তারা জুমার দিনে তাঁর সম্মুখে অনুরাগী হয়ে উপস্থিত হয়, ভীত কিংবা বাধ্য হয়ে নয়; তদুপরি তিনি তাদের তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করেন, যেন তিনি নিজে সেইসব বিষয় থেকে মুক্ত যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করছেন। অথচ সম্ভবত তাদের মাঝে এমন ব্যক্তিও থাকতে পারেন যিনি তাঁর অপেক্ষা অধিক মুত্তাকি এবং মহান আল্লাহর প্রতি অধিক ভয়শীল। এই পদ্ধতি পবিত্র কুরআনের হিদায়াত এবং মনোনীত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর পরিপন্থী। সুতরাং জুমার খুতবার জন্য যিনি দণ্ডায়মান হবেন, তাঁর ওপর অপরিহার্য হলো হিকমত (প্রজ্ঞা), উত্তম উপদেশ এবং কোমল বাণীর মাধ্যমে আল্লাহর পথে আহ্বানের ক্ষেত্রে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্মপন্থা অনুসরণ করা, যা হৃদয় ও শ্রবণেন্দ্রিয়কে আকৃষ্ট করে; এবং তিরস্কার ও কর্কশ ভাষা পরিহার করা। কেননা তা এমন অক্ষম ব্যক্তির পথ যে সঠিক প্ররোচনা দান, সঠিক কথা বলা এবং উন্নত শিষ্টাচার প্রদর্শনে পারদর্শী নয়; যা মানুষকে তাঁর আলোচনা শোনা এবং তাঁর কথার প্রতি কর্ণপাত করা থেকে বিমুখ করে দেয়।
অতএব, প্রত্যেক জুমার খতিবের জন্য পথনির্দেশ ও উপদেশের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর এই বাণীই পাথেয় হওয়া উচিত: {আপনি আপনার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সেই পন্থায় যা সর্বোত্তম} [আন-নাহল: ১২৫] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন। যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর চিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।} [আল-ইমরান: ১৫৯]
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فإِن اللين بالموعظة، والتلطف بالخطاب يجعل الخطيب قريبا من قلوب سامعيه، ويمنحه القدرة على أن ينفذ خطابه إِلى أعماق ذواتهم، ويؤثر في نفوسهم. وذلك هو ما أوصى به الله سبحانه أنبياءه ورسوله - عليهم الصلاة والسلام - عند تبليغهم رسالاته، وإرشادهم الناس إِلى الحق. كقوله تعالى لموسى وهارون عليهما السلام: {اذْهَبَا إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى - فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَيِّنًا لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى} [طه: 43 - 44]
ونجد أن نبي الهدى صلى الله عليه وسلم حين وجَّه كتابه إِلى فوصف هرقل النصراني ملك الروم قال في مطلعه: «من محمد رسول الله إِلى هرقل عظيم الروم» (1) .
فوصف هرقل بالعظيم وهو مشرك انطلاقا من الحكمة والموعظة الحسنة التي أمره الله سبحانه بها، ثم تجلَتْ
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই উপদেশের ক্ষেত্রে কোমলতা এবং সম্বোধনে নম্রতা একজন খতিবকে তার শ্রোতাদের হৃদয়ের নিকটবর্তী করে তোলে এবং এটি তাকে এমন সামর্থ্য দান করে যেন তার বক্তব্য তাদের সত্তার গভীরতম প্রদেশে প্রবেশ করে এবং তাদের মনে রেখাপাত করে। আর এটিই হলো সেই পন্থা, যার নির্দেশ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবী ও রাসুলদের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) দিয়েছিলেন যখন তাঁরা তাঁর রিসালাত পৌঁছাতেন এবং মানুষকে সত্যের দিকে পরিচালিত করতেন। যেমন আল্লাহ তাআলা মুসা ও হারুন (আলাইহিমাস সালাম)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: “তোমরা উভয়ে ফেরাউনের কাছে যাও, সে তো উদ্ধত হয়েছে। তোমরা তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বলো, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।” [ত্ব-হা: ৪৩-৪৪]
আমরা দেখতে পাই যে, হিদায়াতের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রোমের খ্রিস্টান রাজা হিরাক্লিয়াসের নিকট পত্র প্রেরণ করেন, তখন তার শুরুতে তিনি বলেছিলেন: “আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোম অধিপতি হিরাক্লিয়াসের প্রতি।” (১) ।
তিনি হিরাক্লিয়াসকে ‘অধিপতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অথচ সে ছিল একজন মুশরিক; আর এটি ছিল সেই হিকমত ও উত্তম উপদেশের বহিঃপ্রকাশ যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতঃপর প্রকাশিত হয় যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনবারুল জুমুআ আমানাতুন ওয়া মাসউলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
حقيقة ساطعة في جميع وصاياه ورسائله وخطبه عليه السلام.
وإذا وجد الخطيب نفسه مضطرا إِلى الإِنكار على فئة من الناس، فليس من حقّه أن يوجد التقرٍيع إِلى أناس معيَّنين، بل يعمِّم في هذا الأمر، توخيا لعدم إِثارة الفتنة، وهذا ما كان يفعله الرسول صلى الله عليه وسلم حينما أوكل على أحد من الناس مخالفة من المخالفات، ومن ذلك قوله: «ما بال أقوام يتنَزّهون عن الشيء أصنعه؟ ! فوالله إِني لأعلمهم بالله وأشدّهم خشية» (1) .
وأختم هذه الوقفة بالإِشارة إِلى أنه يجب على الخطيب إذا أراد أن ينبّه على مخالفة شرعية شائعة أن لا يوبِّخ الناس بأسلوب يستفزّ مشاعرهم، ويؤذي كرامتهم.
--------------------------------------------
তাঁর (আলাইহিস সালাম) সকল অসিয়ত, পত্র ও খুতবার মধ্যে এটি একটি উজ্জ্বল সত্য।
যদি কোনো খতিব একদল লোকের কোনো কাজের প্রতিবাদ করতে বাধ্য হন, তবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ভর্ৎসনা করা তাঁর জন্য সংগত নয়; বরং ফিতনা (فتنة) সৃষ্টি রোধ করার উদ্দেশ্যে বিষয়টি সাধারণভাবে ব্যক্ত করা উচিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই কারো কোনো ভুল বা বিচ্যুতি সম্পর্কে জানতেন, তখন এমনই করতেন। এরই উদাহরণ হলো তাঁর এই বাণী: «লোকদের কী হলো যে, তারা এমন কাজ থেকে বিরত থাকছে যা আমি স্বয়ং করি? আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি তাদের তুলনায় আল্লাহ সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত এবং তাদের চেয়ে তাঁকে অধিক ভয় করি» (১)।
আমি এই প্রসঙ্গের ইতি টানছি এই ইঙ্গিত দিয়ে যে, খতিব যখন কোনো প্রচলিত শরয়ি বিধানের লঙ্ঘন সম্পর্কে সতর্ক করতে চাইবেন, তখন যেন মানুষকে এমন পন্থায় তিরস্কার না করেন যা তাদের অনুভূতিকে উত্তেজিত করে এবং তাদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।
--------------------------------------------