(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
مفهوم الحكمة في الدعوة القسم: كتب عامة
الكتاب: مفهوم الحكمة في الدعوة
المؤلف: د صالح بن عبد الله بن حميد
الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1422هـ
عدد الصفحات: 64
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের ধারণা বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের ধারণা
লেখক: ড. সালেহ বিন আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
[المقدمة]مفهوم الحكمة في الدعوة
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه وبعد:
فهذه كلمات في الحكمة والدعوة دعا إليها - في تقديري - ما يلحظ في الساحة من نشاط يقوم به رجال أفاضل يدعون إلى الله، ويلاقون في دعوتهم ما يلاقيه من يقوم بمهمتهم في الماضي والحاضر وفي كل حين، فهي سنة الله في الحاضرين والغابرين.
والدعوة إلى الله هي طريق المرسلين. وقد لاقى أنبياء الله في ذلك ما لاقوا من العنت والصدود والإباء والاستكبار من لدن فئات كثيرة، وطبقات كبيرة من الملأ الذين استكبروا {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف: 108] (1) .
--------------------------------------------
[ভূমিকা]দাওয়াতের (دعوة) ক্ষেত্রে প্রজ্ঞার (حكمة) ধারণা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর। অতঃপর:
এগুলো প্রজ্ঞা (حكمة) ও দাওয়াত (دعوة) সংক্রান্ত কিছু কথা, যা—আমার বিবেচনায়—দাওয়াতী ময়দানে একদল শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির পরিচালিত কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে রচিত হয়েছে যারা আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন। তারা তাদের দাওয়াতের (دعوة) ক্ষেত্রে ঠিক তেমন পরিস্থিতিরই সম্মুখীন হচ্ছেন, যা অতীতে, বর্তমানে এবং সব যুগে এই মহান দায়িত্ব পালনকারীরা হয়েছেন। এটি বর্তমান ও অতীত নির্বিশেষে সকলের ক্ষেত্রে আল্লাহর চিরন্তন রীতি (سنة)।
আর আল্লাহর দিকে দাওয়াত (دعوة) প্রদানই হলো রাসূলগণের পথ। আল্লাহর নবীগণ এ পথে বহু কষ্ট, বিমুখতা, প্রত্যাখ্যান ও অহংকারের সম্মুখীন হয়েছেন সেই সব প্রভাবশালী ও দাম্ভিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে যারা অহংকার প্রদর্শন করেছিল। {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে আহ্বান করি জাগ্রত অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) ভিত্তিতে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে। আর আল্লাহ মহান ও পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} [সূরা ইউসুফ: ১০৮] (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وفي هذه الكلمات سوف ينحصر الكلام على الحكمة بيانا لمعناها وإيضاحا لمدلولاتها.
ذلك أن الحكمة إذا اقترنت بالدعوة فإنها تقوي الأمل واليقين، وترتفع بالمدعوين إلى مستوى الشعور بالمسئولية والتكليف، وإذا ما تأكد فيها هذا الشعور فسوف تتغير طباعهم وتعتدل مسالكهم ويصح توجيههم. فحق على الداعي إلى الله أن يعمل على إيقاظ هذا الشعور. هذا وسوف أعرض إلى تعريف كل من الحكمة والموعظة الحسنة والجدال بالتي هي أحسن، ثم العوامل التي تحقق مفهوم الحكمة: من ضرورة معرفة طبائع الناس، وطبقات المدعوين، والنظر في الظروف الزمانية والمكانية، والأساليب القولية والعملية.
এই আলোচনা হিকমতের (الحكمة) অর্থ বিশ্লেষণ এবং এর নিহিতার্থ সুস্পষ্ট করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
মূলত হিকমত (الحكمة) যখন দাওয়াতের (الدعوة) সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তখন তা আশা ও দৃঢ় বিশ্বাসকে (اليقين) শক্তিশালী করে এবং দাওয়াতপ্রাপ্তদের দায়িত্ববোধ ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতার (التكليف) স্তরে উন্নীত করে। আর যখন তাদের মধ্যে এই অনুভূতি দৃঢ় হয়, তখন তাদের স্বভাব-প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়, তাদের জীবন পদ্ধতি ভারসাম্যপূর্ণ হয় এবং তাদের দিকনির্দেশনা সঠিক রূপ লাভ করে। সুতরাং আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর (الداعي) কর্তব্য হলো এই চেতনা জাগ্রত করার লক্ষ্যে সচেষ্ট হওয়া। এখানে আমি হিকমত (الحكمة), উত্তম উপদেশ (الموعظة الحسنة) এবং সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক (الجدال بالتي هي أحسن) — এই প্রত্যেকটির সংজ্ঞা উপস্থাপন করব। অতঃপর হিকমতের (الحكمة) ধারণা বাস্তবায়নের প্রভাবকসমূহ নিয়ে আলোচনা করব: যেমন মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি ও দাওয়াত গ্রহণকারীদের স্তরসমূহ অনুধাবন করার প্রয়োজনীয়তা এবং স্থান ও কালের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া, সেই সাথে বাচনিক ও ব্যবহারিক পদ্ধতিসমূহ পর্যালোচনা করা।
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
[تعريف الحكمة]تعريف الحكمة الحكمة مأخوذ من الحكمة - بفتح الكاف والميم - وهو ما يوضع للدابة كي يذللها راكبها فيمنع جماحها. ومنه اشتقت الحكمة قالوا: لأنها تمنع صاحبها من أخلاق الأراذل (1) .
والحكمة في حقيقتها: وضع الأشياء في مواضعها.
وهذا تعريف عام يشمل الأقوال والأفعال وسائر التصرفات، ولعلك أخي الفاضل تدرك أن الحكمة التي نرمي إلى بيانها في هذه المقالة هي الحكمة التي ينبغي أن يتصف بها القائم بالدعوة إلى الله، ومن أجل هذا فهي غالبا ما تكون قولا في علم وموعظة أو تصرفا نحو الآخرين من أجل دفعهم إلى الخير أو صرفهم عن الشر.
--------------------------------------------
[হিকমতের (প্রজ্ঞার) সংজ্ঞা]হিকমতের সংজ্ঞা: হিকমত শব্দটি 'হাকামাহ'—কাফ এবং মিম বর্ণে ফাতহাহ যোগে—শব্দ থেকে গৃহীত, আর এটি হলো এমন একটি বস্তু যা পশুর মুখে পরানো হয় যাতে আরোহী তাকে বশীভূত করতে পারে এবং তার অবাধ্যতা রোধ করতে পারে। এ থেকেই 'হিকমত' শব্দটি ব্যুৎপন্ন হয়েছে; ভাষাবিদগণ বলেন: কারণ এটি তার অধিকারীকে নিকৃষ্ট স্বভাব থেকে বিরত রাখে (১)।
আর হিকমতের প্রকৃত অর্থ হলো: কোনো বিষয়কে তার সঠিক স্থানে স্থাপন করা।
এটি একটি সাধারণ সংজ্ঞা যা কথা, কাজ এবং যাবতীয় আচরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। হে সম্মানিত ভাই, আপনি সম্ভবত অনুধাবন করতে পারছেন যে, এই প্রবন্ধে আমরা যে হিকমত বর্ণনা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি তা হলো সেই হিকমত বা প্রজ্ঞা, যা আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়। এ কারণেই এটি সাধারণত ইলম ও নসিহতপূর্ণ কোনো কথা অথবা অন্যের প্রতি প্রদর্শিত এমন আচরণ যা তাদের কল্যাণের দিকে ধাবিত করার জন্য কিংবা অকল্যাণ থেকে ফিরিয়ে রাখার জন্য করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وفي هذا المفهوم. يقول ابن زيد: (كل كلمة وعظتك أو دعتك إلى مكرمة أو نهتك عن قبيح فهي حكمة) .
وأدق من هذا قول أبي جعفر محمد بن يعقوب: (كل صواب من القول ورث فعلا صحيحا فهو حكمة) . وفي تعريفات الجرجاني: (كل كلام وافق الحق فهو حكمة) .
وفي قوله تعالى: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا} [البقرة: 269] (1) .
ربطت الآية الكريمة بين الحكمة والخير، ووجه هذا الارتباط أن الحكمة تشمل المعاني الصائبة من السداد في القول والفعل.
--------------------------------------------
এই ধারণার প্রেক্ষিতে ইবনে যায়েদ বলেন: (প্রতিটি কথা যা তোমাকে উপদেশ দেয় অথবা তোমাকে কোনো মহৎ কাজের দিকে আহ্বান করে কিংবা তোমাকে কোনো মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, তা-ই হলো হিকমাহ)।
এর চেয়েও সূক্ষ্মতর হলো আবু জাফর মুহাম্মদ বিন ইয়াকুবের উক্তি: (কথার প্রতিটি সঠিক বিষয় যা সঠিক (صحيح) কর্মের জন্ম দেয়, তা-ই হিকমাহ)। আর আল-জুরজানীর 'আত্তারিফাত'-এ রয়েছে: (প্রত্যেক কথা যা সত্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা-ই হিকমাহ)।
আর আল্লাহ তাআলার বাণী: {তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমাহ দান করেন; আর যাকে হিকমাহ প্রদান করা হয়েছে, তাকে অবশ্যই প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়েছে।} [আল-বাকারাহ: ২৬৯] (১)।
এই মহিমান্বিত আয়াতটি হিকমাহ ও কল্যাণের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেছে। এই সম্পর্কের দিকটি হলো— হিকমাহ কথা ও কাজের ক্ষেত্রে যথাযথ সঠিক অর্থসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وبمعنى آخر: فإن الحكمة إتقان العلم وإجراء الفعل على وفق ذلك العلم، ومن شاء إيتاءه هذه الحكمة - أي خلقه مستعدا لذلك قابلا له، من سلامة التفكير واعتدال القوى والطبائع - فيكون قابلا لفهم الحقائق منقادا إلى الحق إذا لاح له، لا يصده عن ذلك هوى ولا عصبية ولا مكابرة ولا أنفة. ثم ييسر له أسباب ذلك من حضور الدعاة وسلامة البقعة من المعاندين العتاة، فإذا انضم إلى ذلك توجهه إلى الله بأن يزيد أسبابه تيسيرا، ويمنع عنه ما يحجب الفهم فقد كمل له التيسير.
وحينئذ يتحقق له الخير الكثير في قوله سبحانه: {فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا} [البقرة: 269]
فالخير الكثير منجر إليه سداد الرأي والهدى الإلهي، ومن تفاريع هذا الخير ما يتولد من قواعد الحكمة التي تعصم من الوقوع في الغلط والضلال بمقدار التوكل في
অন্য কথায়: প্রজ্ঞা (حكمة) হলো জ্ঞান (علم) সুসংহত করা এবং সেই জ্ঞান অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করা। যাকে তিনি এই প্রজ্ঞা (حكمة) দান করতে চান—অর্থাৎ তাকে এর জন্য প্রস্তুত ও গ্রহণক্ষম করে সৃষ্টি করেন, চিন্তার স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতা ও স্বভাবের ভারসাম্যের মাধ্যমে—ফলে সে সত্য অনুধাবনে সক্ষম হয় এবং সত্য যখন তার সামনে উদ্ভাসিত হয় তখন সে তার অনুগত হয়; কুপ্রবৃত্তি (هوى), অন্ধ পক্ষপাতিত্ব (عصبية), অহংকার কিংবা আত্মম্ভরিতা তাকে তা থেকে বিরত রাখে না। অতঃপর তিনি তার জন্য এর উপকরণসমূহ সহজ (تيسير) করে দেন, যেমন সত্যের দিকে আহ্বানকারীদের (داعية) সান্নিধ্য এবং অবাধ্য হঠকারিদের প্রভাব থেকে অঞ্চলটি মুক্ত থাকা। এর সাথে যখন আল্লাহর প্রতি তার একাগ্রতা যুক্ত হয়—যাতে তিনি তার জন্য উপকরণসমূহ আরও সহজ করে দেন এবং যা কিছু বোধগম্যতাকে বাধাগ্রস্ত করে তা থেকে তাকে রক্ষা করেন—তখন তার জন্য এই সহজীকরণ (تيسير) পূর্ণতা পায়।
আর তখনই তার জন্য মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত প্রভূত কল্যাণ অর্জিত হয়: {তবে অবশ্যই তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে} [আল-বাকারা: ২৬৯]
সুতরাং এই প্রভূত কল্যাণ তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত (سداد الرأي) ও ঐশী পথনির্দেশের (هدى) দিকে ধাবিত করে। আর এই কল্যাণের একটি শাখা হলো প্রজ্ঞার (حكمة) সেই মূলনীতিসমূহ থেকে উদ্ভূত বিষয়াদি, যা আল্লাহর ওপর নির্ভরতার (توكل) মাত্রানুযায়ী ভুল ও পথভ্রষ্টতা (ضلال) থেকে রক্ষা করে।
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فهمها واستحضار مهمها. لأنك إذا تتبعت ما يحل بالناس من المصائب تجد معظمها من جراء الجهالة والضلالة والرأي الآفن، وبعكس ذلك فإن ما يجتنيه الناس من المنافع والملائمات مجتلب من المعارف والعلم بالحقائق، ولو علم الناس الحق على وجهه لاجتنبوا مواقع البؤس والشقاء (1) .
يتبين من مجموع ما سبق أن الحكمة كلمة عامة تشمل الأقوال التي فيها إيقاظ للنفس ووصاية بالخير، وإخبار بتجارب السعادة والشقاوة، وكليات جامعة لأصول الآداب. . . فهي معرفة خالصة من شوائب الأخطاء وبقايا الجهل في تعليم الناس وتهذيبهم وتوجيههم.
إنها اسم جامع لكل كلام أو علم يراعى فيه إصلاح
--------------------------------------------
তা বোঝা এবং তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্মরণ রাখা। কারণ, আপনি যদি মানুষের ওপর আপতিত বিপদ-আপদগুলো অনুসন্ধান করেন, তবে দেখবেন যে তার অধিকাংশই অজ্ঞতা, পথভ্রষ্টতা এবং দুর্বল মতামতের (الرأي الآفن) কারণে ঘটে থাকে। পক্ষান্তরে, মানুষ যেসব সুফল ও অনুকূল পরিস্থিতি লাভ করে, তা বিভিন্ন জ্ঞান ও বাস্তব সত্যের পরিচয় থেকে অর্জিত হয়। মানুষ যদি সত্যকে তার যথার্থরূপে জানত, তবে তারা দুর্দশা ও দুর্ভাগ্যের স্থানসমূহ অবশ্যই এড়িয়ে চলত (১)।
পূর্বোক্ত আলোচনার সমষ্টি থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, হিকমত বা প্রজ্ঞা একটি ব্যাপক শব্দ যা এমন সব উক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে যার মধ্যে আত্মার জাগরণ, কল্যাণের উপদেশ, সুখ ও দুঃখের অভিজ্ঞতার বর্ণনা এবং শিষ্টাচারের মূলনীতির (أصول الآداب) ব্যাপক নিয়মাবলি বিদ্যমান। এটি মানুষকে শিক্ষা প্রদান, সংস্কার এবং সঠিক পথের দিশা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুলত্রুটির কলুষতা ও অজ্ঞতার অবশেষ থেকে মুক্ত এক বিশুদ্ধ জ্ঞান।
এটি এমন প্রতিটি কথা বা জ্ঞানের একটি সামষ্টিক নাম, যাতে সংশোধনের বিষয়টি লক্ষ্য রাখা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
حال الناس واعتقادهم إصلاحا مستمرا لا يتغير (1) .
[إطلاقات الحكمة]إطلاقات الحكمة وردت كلمة الحكمة في نصوص الشرع مرادا بها ما يخدم المعنى السابق.
فوردت مرادا بها: الكتب السماوية من القرآن والإنجيل وغيرها.
ومرادا بها: النبوة، والهدى، والرشاد، والعدل، والعلم، والحلم والتفقه (2) .
--------------------------------------------
মানুষের অবস্থা ও তাদের বিশ্বাসের এমন এক নিরবচ্ছিন্ন সংস্কার যা পরিবর্তিত হয় না (১)।
[হিকমতের প্রয়োগসমূহ]হিকমতের প্রয়োগসমূহ: শরয়ি উৎসসমূহে হিকমত শব্দটি এমন সব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যা পূর্বোক্ত অর্থকেই সমর্থন করে।
এটি ব্যবহৃত হয়েছে: কুরআন, ইঞ্জিল এবং অন্যান্য আসমানি কিতাব বোঝাতে।
এবং আরও যা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে: নবুয়ত, হিদায়াত, সঠিক পথনির্দেশ, ন্যায়বিচার, জ্ঞান, সহনশীলতা এবং সম্যক পাণ্ডিত্য (التفقه) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
[الموعظة الحسنة]الموعظة الحسنة يلحظ في التعريف السابق للحكمة أن الموعظة الحسنة والجدال بالتي هي أحسن داخلان في مفهوم الحكمة.
ولكن يحسن تخصيصهما بمزيد تعريف وإيضاح لأن المقام مقام بسط لمفهوم الحكمة، وقد جاءا مخصوصين بالذكر في قوله تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [النحل: 125] (1) .
وإذا كانا داخلين في معنى الحكمة بالمعنى السابق فيكون عطفهما في الآية الكريمة من عطف الخاص على العام.
والأصل في الموعظة أنها: القول الذي يلين نفس المخاطب ليستعد لفعل الخير والاستجابة له.
--------------------------------------------
[উত্তম উপদেশ (الموعظة الحسنة)]উত্তম উপদেশ (الموعظة الحسنة): হিকমতের (الحكمة) পূর্বোক্ত সংজ্ঞায় লক্ষ্য করা যায় যে, উত্তম উপদেশ (الموعظة الحسنة) এবং সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক (الجدال بالتي هي أحسن) হিকমতের (الحكمة) ধারণার অন্তর্ভুক্ত।
তবে এই দুটি বিষয়কে আরও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিশেষায়িত করা সমীচীন; কারণ এই স্থানটি হিকমতের (الحكمة) ধারণাকে বিস্তারিতভাবে আলোচনার ক্ষেত্র। আর মহান আল্লাহর এই বাণীতেও বিষয় দুটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লিখিত হয়েছে: {আপনার রবের পথের দিকে হিকমত (الحكمة) ও উত্তম উপদেশের (الموعظة الحسنة) মাধ্যমে আহ্বান করুন এবং তাদের সাথে সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক (جادلهم بالتي هي أحسن) করুন} [আন-নাহল: ১২৫] (১)।
যদি বিষয় দুটি পূর্বোক্ত অর্থে হিকমতের (الحكمة) অর্থের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, তবে পবিত্র আয়াতে এদের সংযোজন ‘সাধারণ বিষয়ের ওপর বিশেষ বিষয়ের সংযোজন’ (عطف الخاص على العام) এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
উপদেশের (الموعظة) মূল ভিত্তি হলো: এমন বাক্য যা শ্রোতার অন্তরকে বিগলিত করে, যাতে সে কল্যাণকর কাজ সম্পাদন ও তাতে সাড়া দিতে প্রস্তুত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
والموعظة في معناها تدل على ما يجمع الرغبة بالرهبة والإنذار بالبشارة ولهذا قال ابن عطية:
(الموعظة الحسنة: التخويف والترجئة والتلطف بالإنسان بأن تجله وتنشطه وتجعله بصورة من يقبل الفضائل) (1) .
ويشير الزمخشري إلى معنى لطيف في هذا حين يقول: (إن الموعظة الحسنة هي التي لا تخفى عليهم أنك تناصحهم بها وتقصد ما ينفعهم) .
والخلاصة أنها: تذكير بالخير فيما يرق له القلب (2) .
وهذه إشارة جميلة عرض لها أهل العلم في السر في وصف الموعظة بالحسنة ولم يرد ذلك في الحكمة فقد قالوا: قيدت الموعظة بالحسنة ولم تقيد الحكمة
--------------------------------------------
উপদেশ (الموعظة) এর অর্থ এমন বিষয়কে নির্দেশ করে যা অনুরাগ ও ভীতি এবং সতর্কীকরণ ও সুসংবাদকে একত্রিত করে। এজন্যই ইবনে আতিয়্যাহ বলেছেন:
(উত্তম উপদেশ (الموعظة الحسنة): এটি হলো ভীতি প্রদর্শন, আশা প্রদান এবং মানুষের সাথে এমন কোমল আচরণ করা যাতে আপনি তাকে মর্যাদা দেন, তাকে উজ্জীবিত করেন এবং তাকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে যান যে সে সদ্গুণাবলি গ্রহণ করে) (১)।
আল-যামাখশারী এ বিষয়ে একটি সূক্ষ্ম অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি বলেন: (নিশ্চয়ই উত্তম উপদেশ (الموعظة الحسنة) হলো তা-ই, যা তাদের নিকট অস্পষ্ট থাকে না যে আপনি তাদের সদুপদেশ দিচ্ছেন এবং তাদের যা উপকারে আসবে তা-ই আপনার উদ্দেশ্য)।
সারকথা হলো: এটি হচ্ছে এমন বিষয়ের মাধ্যমে কল্যাণের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া যাতে অন্তর বিগলিত হয় (২)।
উপদেশকে ‘উত্তম’ (الحسنة) বিশেষণে বিশেষিত করার রহস্য সম্পর্কে আলেমগণ একটি চমৎকার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা ‘হিকমাহ’ (প্রজ্ঞা) এর ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়নি। তাঁরা বলেছেন: উপদেশকে ‘উত্তম’ (الحسنة) গুণের সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু হিকমাহ বা প্রজ্ঞাকে এভাবে শর্তযুক্ত করা হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
لأن الحكمة هي تعليم لمتطلبي الكمال من معلم يهتم بتعليم طلابه فلا تكون إلا في حالة حسنة فلا حاجة إلى التنبيه على أن تكون حسنة.
أما الموعظة الحسنة فلما كان المقصود منها غالبا ردع نفس الموعظ عن أعمال سيئة أو عن توقع ذلك منه، كانت مظنة لصدور غلظة من الواعظ ولحصول انكسار في نفس الموعوظ.
ومن الوعظ الحسن إلانة القول وترغيب الموعوظ في الخير: {اذْهَبَا إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى - فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَيِّنًا لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى} [طه: 43 - 44] (1) .
[الجدال بالتي هي أحسن]الجدال بالتي هي أحسن الجدل في أصله: الاحتجاج لتصويب رأي ورد ما يخالفه. فهو حوار وتبادل في الأدلة ومناقشتها. وهو حال
--------------------------------------------
যেহেতু হিকমত হলো পূর্ণতা অন্বেষণকারীদের জন্য এমন একজন শিক্ষকের পক্ষ থেকে শিক্ষা দান, যিনি তাঁর ছাত্রদের পাঠদানের বিষয়ে অত্যন্ত যত্নশীল, তাই এটি সর্বদা উত্তম অবস্থাতেই হয়ে থাকে; ফলে এটি যে উত্তম হবে—সে বিষয়ে আলাদা করে সতর্ক করার প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে উত্তম উপদেশের বিষয়টি হলো—যেহেতু এর দ্বারা সাধারণত উদ্দেশ্য থাকে উপদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা অথবা তার থেকে তা ঘটার আশঙ্কা দূর করা, তাই এতে উপদেশদাতার পক্ষ থেকে রূঢ়তা প্রকাশ পাওয়ার এবং উপদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তির মনে হীনম্মন্যতা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।
আর উত্তম উপদেশের অন্যতম দিক হলো নরম ভাষায় কথা বলা এবং উপদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কল্যাণের প্রতি আগ্রহী করে তোলা: {তোমরা উভয়ে ফেরাউনের নিকট যাও, নিশ্চয়ই সে সীমালঙ্ঘন করেছে। অতঃপর তোমরা তার সাথে নরম কথা বলো, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় পাবে} [ত্বহা: ৪৩-৪৪] (১)।
[উত্তম পন্থায় বিতর্ক]উত্তম পন্থায় বিতর্ক; মূলত বিতর্কের মূল অর্থ হলো: কোনো মতকে সঠিক প্রমাণের জন্য দলিল পেশ করা এবং তার বিরোধী মতকে খণ্ডন করা। এটি মূলত একটি সংলাপ এবং দলিলের আদান-প্রদান ও তার পর্যালোচনা। আর এটি এমন এক অবস্থা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أوسع من الخصام والمخاصمة على أن المخاصمة نوع جدل من حيث هي تراد في الكلام والحجج.
ومن أجل هذا قال الجرجاني في تعريفاته:
الجدل: دفع المرء خصمه عن إفساد قوله بحجة أو شبهة أو بقصد تصحيح كلامه، قال: وهو الخصومة في الحقيقة.
غير أن الذي نعنيه هنا هو الجدال والمحاجة والحوار بما لا يرقى إلى الخصومة، إلا إذا اعتبرنا الجدال مع الظالمين خصومة؛ لأنه قد تجرد منه نعت الحسن، وإذا احتاج رجل الدعوة إلى الجدال فليكن بالتي هي أحسن.
وقريب من التوجيه المذكور في الموعظة الحسنة يقال هنا. ويكون حسن الجدال في الالتزام بموضوعيته، وبعده عن الانفعال، والترفع عن المسائل الصغيرة في مقابل القضايا الكبرى، حفظا للوقت وعزة
এটি বিবাদ (خصام) ও ঝগড়া (مخاصمة) অপেক্ষা অধিক বিস্তৃত, কারণ ঝগড়া (مخاصمة) হলো এক প্রকারের বিতর্ক (جدل), যেহেতু এতে কথা ও যুক্তির (حجج) বিনিময় ঘটে।
আর এই কারণেই জুরজানি তাঁর তারিফাত গ্রন্থে বলেছেন:
বিতর্ক (جدل): কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার প্রতিপক্ষকে দলিল (حجة) বা সংশয়ের (شبهة) মাধ্যমে অথবা নিজের কথাকে সঠিক করার উদ্দেশ্যে তার বক্তব্য খণ্ডন করা। তিনি বলেন: আর এটিই হলো প্রকৃতপক্ষে বিবাদ (خصومة)।
তবে এখানে আমরা বিতর্ক (جدال), যুক্তি-তর্ক (محاجة) এবং সংলাপ (حوار) বলতে এমন কিছু বুঝাচ্ছি যা বিবাদ (خصومة) পর্যন্ত পৌঁছায় না; তবে যদি আমরা জালিমদের সাথে বিতর্ককে (جدال) বিবাদ (خصومة) হিসেবে গণ্য করি, তবে তা ভিন্ন কথা; কারণ এক্ষেত্রে 'উত্তম' হওয়ার গুণটি তা থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর যদি কোনো দাওয়াত প্রদানকারী ব্যক্তির বিতর্কের (جدال) প্রয়োজন হয়, তবে তা যেন অত্যন্ত উত্তম পন্থায় হয়।
উত্তম উপদেশের (موعظة حسنة) ক্ষেত্রে যে দিকনির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে, এখানেও তার কাছাকাছি কথা প্রযোজ্য। বিতর্কের (جدال) সৌন্দর্য নিহিত থাকে এর বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা, আবেগপ্রবণতা থেকে দূরে থাকা এবং সময় ও মর্যাদা রক্ষার খাতিরে বড় ইস্যুগুলোর বিপরীতে ছোটখাটো বিষয়গুলো পরিহার করার মধ্যে।
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
للنفس وكمالا للمروءة، مع الحرص على الرفق واللين، والبعد عن الفظاظة والتعنيف، ويدخل في الجدل الحسن كما يقول الطاهر بن عاشور (1) .
(رد تكذيب المعاندين بكلام غير صريح في إبطال قولهم من الكلام الموجه: مثل قوله تعالى: {قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ وَإِنَّا أَوْ إِيَّاكُمْ لَعَلَى هُدًى أَوْ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} [سبأ: 24] (2) . وقوله: {وَإِنْ جَادَلُوكَ فَقُلِ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ - اللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ} [الحج: 68 - 69] (3) .
[إشارات في حلية الداعي من الصفات الباعثة للحكمة]
[التقوى]إشارات في حلية الداعي من الصفات الباعثة للحكمة قبل الخوض في الكلام على الحكمة ومفهومها، وبناء على الإشارات السابقة من معنى الحكمة،
--------------------------------------------
এটি আত্মার প্রশান্তি ও পৌরুষের পূর্ণতা স্বরূপ, সাথে কোমলতা ও নম্রতার প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং রূঢ়তা ও কঠোরতা থেকে দূরে থাকা। এটি উত্তম বিতর্ক (الجدل الحسن)-এর অন্তর্ভুক্ত যেমনটি আল-তাহার বিন আশুর (১) বলেছেন।
(অপরিণামদর্শী হঠকারীদের মিথ্যাচারকে এমন দ্ব্যর্থবোধক বাক্যের (الكلام الموجه) মাধ্যমে খণ্ডন করা যা সরাসরি তাদের বক্তব্য বাতিল করে না: যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলুন, আসমান ও যমীন থেকে কে তোমাদেরকে রিযিক দান করেন? বলুন, আল্লাহ। আর নিশ্চয়ই আমরা অথবা তোমরা সৎপথে আছি কিংবা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছি} [সাবা: ২৪] (২)। এবং তাঁর বাণী: {আর তারা যদি আপনার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তবে বলুন: তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ অধিক অবগত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন সে বিষয়ে যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছিলে} [হজ্জ: ৬৮ - ৬৯] (৩)।
[দাঈর ভূষণ হিসেবে হিকমাহ বা প্রজ্ঞা জাগ্রতকারী গুণাবলির নিদর্শনসমূহ]
[তাকওয়া (التقوى)]হিকমাহ বা প্রজ্ঞা এবং এর ধারণা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে, হিকমাহর অর্থ সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচিত ইঙ্গিতসমূহের ভিত্তিতে দাঈর ভূষণ হিসেবে হিকমাহ জাগ্রতকারী গুণাবলির নিদর্শনসমূহ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وما يحتاجه صاحب الدعوة من سلامة التفكير واعتدال القوى والبعد عن العصبية والمكابرة:
أحب أن أشير إلى بعض الصفات التي ينبغي أن يتحلى بها الداعي، فمنها بتوفيق الله تنبعث الحكمة ويتحقق المقصود من تبليغ الحق على بصيرة. ومن ذلك:
أ - التقوى ويقصد بها كل معانيها من فعل المأمورات وترك المنهيات والتحلي بصفات أهل الإيمان. فتقوى الله بشمولها إذا رزقها العبد، فإنها تنير القلب وتفتح المدارك، ويستبصر بها موهوبها مواطن الحق، ويهتدي بها إلى الوسائل والأساليب الصحيحة الملائمة للظروف والأحوال والأشخاص، فالعاقبة للتقوى: {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا} [الطلاق: 4] (1) . وأولياء الله
--------------------------------------------
দাওয়াত প্রদানকারীর চিন্তার সুস্থতা, শক্তির ভারসাম্য এবং গোঁড়ামি ও অহংকার থেকে বিমুক্ত থাকার প্রয়োজনীয়তা:
আমি এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইঙ্গিত করতে চাই যা একজন দাঈর (داعي) মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়; কারণ আল্লাহর তাওফীকে তা থেকেই প্রজ্ঞা (حكمة) উৎসারিত হয় এবং দূরদর্শিতার (بصيرة) সাথে সত্য প্রচারের উদ্দেশ্য সাধিত হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ক - তাকওয়া (تقوى): এর দ্বারা এর সকল অর্থই উদ্দেশ্য—যেমন আদেশসমূহ পালন করা, নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন করা এবং ঈমানদারগণের গুণাবলীতে ভূষিত হওয়া। আল্লাহর তাকওয়া (تقوى) যখন তার সামগ্রিকতা সহ কোনো বান্দাকে দান করা হয়, তখন তা অন্তরকে আলোকিত করে এবং বোধশক্তি উন্মোচিত করে। এর মাধ্যমে সেই বরকতপ্রাপ্ত ব্যক্তি সত্যের সঠিক স্থানসমূহ প্রত্যক্ষ করতে পারেন এবং সমকালীন পরিস্থিতি, অবস্থা ও ব্যক্তিবিশেষের জন্য উপযোগী সঠিক পন্থা ও পদ্ধতির দিশা লাভ করেন। কেননা শুভ পরিণাম তাকওয়ার (تقوى) জন্যই নির্ধারিত: {এবং যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার কাজ সহজ করে দেন} [আত-তালাক: ৪] (১)। আর আল্লাহর অলিগণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
هم المتقون. .
[الإخلاص]ب - الإخلاص وهذا باب عظيم معلوم نظريا ولكن تحقيقه - والله - إنه لعزيز. ومن حقق هذه الصفة لم يلتفت إلى نظر الناس ولا إلى أشيائهم أو تلمس مراضيهم، ويحضرني هنا قول الإمام المجدد شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله: إن بعض الناس يدعو إلى الله وهو إنما يدعو إلى نفسه.
وأعظم الناس مطالبة بهذه الخصلة وأشد الناس حاجة إليها العلماء والدعاة. ومن أول من تسعر بهم النار يوم القيامة من ضيع هذه الخصلة، ولقد قال الغزالي رحمه الله في الإحياء محذرا من الشهوة الخفية الداعية إلى الشرك الخفي:
(إن الداعي قد يرى حين الدعوة والقيام بها عز نفسه بالعلم والدين، وذل غيره بالجهل والتقصير،
তারা হলেন মুত্তাকী (المتقون)। .
[ইখলাস (الإخلاص)]খ - ইখলাস (الإخلاص); এটি একটি মহান অধ্যায় যা তাত্ত্বিকভাবে সুপরিচিত, কিন্তু এর বাস্তবতা অর্জন করা—আল্লাহর কসম—অত্যন্ত কঠিন। আর যে ব্যক্তি এই গুণটি অর্জন করে, সে মানুষের দৃষ্টির দিকে কিংবা তাদের সহায়-সম্পত্তির দিকে ভ্রূক্ষেপ করে না অথবা তাদের সন্তুষ্টির অন্বেষণ করে না। এখানে আমার ইমাম মুজাদ্দিদ শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি উক্তি স্মরণে আসছে: "নিশ্চয়ই কিছু মানুষ আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, অথচ সে মূলত নিজের নফসের দিকেই দাওয়াত দিচ্ছে।"
আর এই বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে সর্বাধিক দায়বদ্ধ এবং এর সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী হলেন ওলামায়ে কিরাম ও দাঈগণ। কিয়ামতের দিন যাদের দিয়ে সর্বপ্রথম জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে, তারা হলো সেই ব্যক্তি যারা এই বৈশিষ্ট্যটি বিনষ্ট করেছে। ইমাম গাজালী (রহিমাহুল্লাহ) ‘ইহয়া’ গ্রন্থে গোপন শিরক (الشرك الخفي)-এর দিকে প্ররোচিতকারী গোপন লালসা সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন:
(নিশ্চয়ই একজন দাঈ দাওয়াত প্রদান ও তা পালনের সময় ইলম ও দ্বীনের মাধ্যমে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব এবং মূর্খতা ও ত্রুটির কারণে অন্যের হীনতা অনুভব করতে পারেন,
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فربما قصد بالدعوة إظهار التميز على غيره، وإذلال المدعو بإشعاره - ولو من طرف خفي - بالجهل وخسة أهل الجهل والتقصير وسوء حال المقصرين) .
قال: (وهذه مذلة عظيمة وغائلة هائلة، وغرور للشيطان يطوق به كل إنسان إلا من عرفه الله عيوب نفسه، وفتح بصيرته بنور هدايته. فإن في الاحتكام على الغير لذة للنفس عظيمة) .
ولم يقتصر الغزالي رحمه الله على هذا الإيضاح بل زاد في بيان المعيار والمحك في ذلك حيث قال: (وهناك محك ومعيار ينبغي أن يمتحن الداعي به نفسه، وهو أن يكون قيام غيره بالدعوة وإصلاح الناس واستجابتهم لغيره أحب إليه من استجابتهم له. فإن كان يود أن يكفيه غيره فهو على خير، وإن كان لا يحب ذلك لغيره من أهل العلم والدعوة فما هو إلا
সম্ভবত দাওয়াতের (الدعوة) মাধ্যমে উদ্দেশ্য হলো অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা এবং যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে (المدعو) তাকে—এমনকি পরোক্ষভাবে হলেও—মূর্খতা, জাহিলদের হীনতা, ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং অবহেলাকারীদের (المقصرين) শোচনীয় অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করার মাধ্যমে লাঞ্ছিত করা।
তিনি বলেন: (এটি একটি বিশাল লাঞ্ছনা এবং এক ভয়াবহ বিপদ, আর শয়তানের একটি প্রতারণা (غرور) যা দিয়ে সে প্রত্যেক মানুষকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে; তবে তাকে ব্যতীত যাকে আল্লাহ নিজের নফসের দোষ-ত্রুটি চিনিয়েছেন এবং তাঁর হিদায়াতের (هدايته) নূরের মাধ্যমে যার অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) উন্মোচিত করেছেন। কারণ অন্যের ওপর কর্তৃত্ব (الاحتكام) বজায় রাখার মাঝে নফসের এক সুতীব্র স্বাদ নিহিত রয়েছে)।
ইমাম গাজালি (রহিমাহুল্লাহ) কেবল এই স্পষ্টীকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি এ বিষয়ের মানদণ্ড (معيار) ও কষ্টিপাথর (محك) বর্ণনা করতে গিয়ে আরও বলেছেন: (সেখানে এমন একটি কষ্টিপাথর (محك) ও মানদণ্ড (معيار) রয়েছে যার মাধ্যমে আহ্বানকারীর (الداعي) উচিত নিজেকে পরীক্ষা করা; আর তা হলো—অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে দাওয়াতের (الدعوة) কাজ সম্পন্ন হওয়া, মানুষের সংশোধন হওয়া এবং অন্যের আহ্বানে মানুষের সাড়া দেওয়া তার নিকট নিজের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার চেয়ে অধিকতর প্রিয় হওয়া। যদি সে মনে-প্রাণে কামনা করে যে অন্য কেউ তার এই দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট হোক, তবে সে কল্যাণের ওপর রয়েছে। আর যদি সে ইলম ও দাওয়াতের (الدعوة) ময়দানে অন্যদের জন্য তা পছন্দ না করে, তবে সে কেবল...
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
متبع هوى نفسه، متوسل إلى إظهار جاه نفسه بواسطة دعوته. فليتق الله تعالى فيه وليدع أولا نفسه) (1) .
لكن قوله: (أن يكون دعوة غيره أحب إليه من دعوته بنفسه) هذا عندي محل نظر، وبخاصة مع قوله عليه الصلاة والسلام: «فوالله لأن يهدي الله بك رجلا واحدا خير لك من أن يكون لك حمر النعم» (2) . فالتنافس في هذا تنافس على الخير، ومع قوله تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا} [فصلت: 33] (3) .
ويتلمس الإخلاص وصلاح النية في غير المنافسة المشروعة.
--------------------------------------------
(তিনি) স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসারী, আপন দাওয়াতের মাধ্যমে নিজের মর্যাদা প্রকাশের অসিলা তালাশকারী। সুতরাং তার উচিত এই বিষয়ে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করা এবং প্রথমে নিজেকে দাওয়াত দেওয়া। (১)
কিন্তু তাঁর এই উক্তি: (অন্যের দাওয়াত যেন তার নিজের দাওয়াতের চেয়ে তার নিকট অধিক প্রিয় হয়) - এটি আমার নিকট পর্যালোচনার দাবি রাখে, বিশেষ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর প্রেক্ষিতে: «আল্লাহর কসম, তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন মানুষকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য মূল্যবান লাল উট লাভের চেয়েও শ্রেষ্ঠ» (২)। সুতরাং এক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা হলো কল্যাণের পথে প্রতিযোগিতা, আর মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রেক্ষিতেও: {ঐ ব্যক্তির চেয়ে কার কথা অধিক উত্তম হতে পারে যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায় এবং নেক আমল করে?} [ফুসসিলাত: ৩৩] (৩)।
আর বৈধ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য স্থানে ইখলাস ও নিয়তের বিশুদ্ধতা তালাশ করা উচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[العلم]ج - العلم وهو المقصود الأعظم من البصيرة في قوله تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ} [يوسف: 108] (1) .
بل إن من معاني الحكمة البارزة - التي نحن بصدد الحديث عنها - العلم كما سبق.
فالبصيرة تجمع العلم والحكمة وهذه الخصلة لا تحتاج إلى مزيد من بسط فهي معلومة ظاهرة، ويكفي في هذا التنبيه إلى ترجمة البخاري رحمه الله في صحيحه حين قال: باب العلم قبل القول والعمل، مستدلا بقوله تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ} [محمد: 19] (2) .
قال رحمه الله: (فبدأ بالعلم قبل القول والعمل) .
--------------------------------------------
[জ্ঞান (العلم)]গ - জ্ঞান (العلم); আর এটিই মহান আল্লাহর বাণীতে উল্লিখিত অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) প্রধান উদ্দেশ্য: {বলুন, এটিই আমার পথ; আমি আল্লাহর দিকে আহ্বান করি জাগ্রত অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) সাথে...} [ইউসুফ: ১০৮] (১)।
বস্তুত প্রজ্ঞার (حكمة) অন্যতম সুস্পষ্ট অর্থ হলো জ্ঞান (العلم)—যে বিষয়ে আমরা বর্তমানে আলোচনা করছি—যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুতরাং অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) জ্ঞান (العلم) ও প্রজ্ঞার (حكمة) সমন্বয় ঘটায়; আর এই বৈশিষ্ট্যটি অধিকতর ব্যাখ্যার প্রয়োজন রাখে না, কারণ এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এই প্রসঙ্গে ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে যে অনুচ্ছেদ শিরোনাম (ترجمة) নির্ধারণ করেছেন তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করাই যথেষ্ট, যেখানে তিনি বলেছেন: "কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান (العلم) অর্জন আবশ্যক", এবং এর সপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণীটি দলিল হিসেবে পেশ করেছেন: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আপনার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন} [মুহাম্মদ: ১৯] (২)।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "(এখানে আল্লাহ তাআলা) কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান (العلم) দ্বারা শুরু করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وفي هذا يقول الحسن البصري رحمه الله (العامل بغير علم كالسائر على غير هدى) .
وفي مأثور الحكم: (من تمسك بغير أصل ذل ومن سلك طريقا بغير دليل ضل) .
ويشمل العلم الفهم الدقيق لما جاء في الكتاب والسنة، وسير السلف الصالح، وفهوم أهل العلم والفقه علما وعملا.
[التواضع]د - التواضع من طبائع الناس أنهم لا يقبلون من يستطيل عليهم أو يبدو منه احتقارهم أو استصغارهم، ولو كان ما يقوله حقا وصدقا. بل إن الاستعلاء سبب ظاهر في كره الحق ورفضه.
ومن أجل هذا فإن التواضع ثمرة المعرفة بالله وبالنفس. يقول الخليفة أبو بكر رضي الله عنه -
এ বিষয়ে হাসান বসরি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "ইলম বা জ্ঞান ছাড়া আমলকারী ব্যক্তি ওই পথচারীর মতো, যে সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া পথ চলে।"
প্রবাদবাক্যে বর্ণিত আছে: "যে ব্যক্তি কোনো মূলনীতি (أصل) ছাড়াই কোনো কিছু আঁকড়ে ধরে, সে লাঞ্ছিত হয়; আর যে ব্যক্তি প্রমাণ (دليل) ছাড়াই কোনো পথে চলে, সে পথভ্রষ্ট হয়।"
আর এই ইলম বা জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হলো কিতাব ও সুন্নাহর বিষয়াবলির সূক্ষ্ম অনুধাবন, সালাফে সালেহীনের জীবনচরিত এবং জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আলেম ও ফকিহগণের প্রজ্ঞা।
[বিনয়]ঘ - বিনয়: মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হলো তারা এমন ব্যক্তিকে গ্রহণ করে না যে তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করে অথবা যার থেকে তাদের প্রতি অবজ্ঞা বা তুচ্ছজ্ঞান প্রকাশ পায়, যদিও তার কথা সত্য ও সঠিক হয়। বরং অহমিকা সত্যকে ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যান করার একটি প্রকাশ্য কারণ।
আর একারণেই বিনয় হলো আল্লাহ এবং নিজের সত্তা সম্পর্কে পরিচয়ের ফসল। খলিফা আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন—
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
(لا يحتقرن أحد أحدا من المسلمين فإن صغير المسلمين عند الله كبير) وقد خاطب الله نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم بقوله:
{وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ} [الكهف: 28] (1) .
ويقول ابن الحجاج: (من أراد الرفعة فليتواضع لله تعالى فإن العزة لا تقع إلا بقدر النزول. .) .
ومما يلحق بهذا الباب العلم بأن من طبائع النفوس النفرة ممن يكثر الحديث عن نفسه أو يستجلب الثناء عليها أو يستدر لها المديح.
فالفضل من الله، ومن تحدث إلى الناس فليتحدث إليهم بفضل الله لا بفضل نفسه.
--------------------------------------------
(কোনো মুসলিম যেন অন্য কোনো মুসলিমকে তুচ্ছজ্ঞান না করে; কেননা মুসলিমদের মধ্যে যে ছোট, আল্লাহর কাছে সে বড়)। আর আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই বলে সম্বোধন করেছেন:
{আর আপনি নিজেকে তাঁদের সংসর্গে ধৈর্যশীল রাখুন, যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁদের প্রতিপালককে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং আপনার দৃষ্টি যেন তাঁদের থেকে বিচ্যুত না হয়} [আল-কাহফ: ২৮] (১)।
ইবনুল হাজ্জাজ বলেন: (যে ব্যক্তি উচ্চমর্যাদা কামনা করে, সে যেন মহান আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়; কেননা মান-মর্যাদা কেবল বিনত হওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয়...)।
এই অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয় হলো এই জ্ঞান রাখা যে, মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি হলো সেই ব্যক্তির প্রতি বিরাগ পোষণ করা যে নিজের সম্পর্কে অতিরিক্ত কথা বলে, অথবা নিজের প্রশংসা কুড়াতে চায় কিংবা নিজের স্তুতিবাক্য আদায় করতে সচেষ্ট হয়।
বস্তুত সকল শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহ আল্লাহরই দান। অতএব, কেউ যখন মানুষের সাথে কথা বলবে, সে যেন আল্লাহর অনুগ্রহের কথাই বলে, নিজের শ্রেষ্ঠত্বের কথা নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
[الحلم]هـ - الحلم ما الحلم إلا ضبط النفس عند الغضب، والنزوع إلى العقل عند ثورة الانفعال. وما هذا - وربك - إلا شارات القوة وعنوان البطولة «ليس الشديد بالصرعة إنما الشديد الذي يملك نفسه عند الغضب» (1) .
ومن أحوج بهذا الخلق من رجل الدعوة الذي ميدانه صدور الرجال ونفوس البشر.
ومن أبرز صور الحلم. . كظم الغيظ. . ثم يعقبه في الترقي العفو عن الناس، وتلك صفات المتقين أهل الجنة التي عرضها السماوات والأرض.
ومن رزق الحلم ترقى في درجاته. . فيصل من قطعه، ويعفو عمن ظلمه، ويحسن إلى من أساء إليه. ويخطئ من يظن أن الحلم عجز، وأن العفو
--------------------------------------------
[সহিষ্ণুতা (الحلم)]৫ - সহিষ্ণুতা (الحلم) হলো ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং আবেগের তীব্রতার সময় বিবেকের দিকে ধাবিত হওয়া। তোমার রবের কসম! এটি শক্তির নিদর্শন ও বীরত্বের পরিচয় ছাড়া আর কিছু নয়: "প্রকৃত শক্তিশালী সে নয় যে কুস্তিতে পারদর্শী, বরং প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে" (১)।
আর একজন দাঈর চেয়ে এই চরিত্রের অধিক মুখাপেক্ষী আর কে হতে পারে, যার কর্মক্ষেত্র হলো মানুষের অন্তর ও মানবাত্মা।
সহিষ্ণুতার (الحلم) অন্যতম প্রধান রূপ হলো... ক্রোধ সংবরণ করা... এরপর ক্রমোন্নতির সোপানে আসে মানুষকে ক্ষমা করা; আর এগুলিই হলো মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্য—যারা জান্নাতবাসী, যার বিস্তৃতি আসমান ও জমিনের সমান।
যাকে সহিষ্ণুতা (الحلم) দান করা হয়েছে সে এর উচ্চতর স্তরে উন্নীত হয়... ফলে সে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্নকারীর সাথেও সম্পর্ক রক্ষা করে, যে তার ওপর অবিচার করেছে তাকে ক্ষমা করে এবং যে তার সাথে মন্দ ব্যবহার করেছে তার প্রতি সদাচার করে। আর যে ব্যক্তি মনে করে যে সহিষ্ণুতা (الحلم) হলো অক্ষমতা এবং ক্ষমা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ضعف، وأن الإعراض عن الجاهل خوف وخور. ولا يقول ذلك إلا من تأخذه العزة بالإثم، وهو خلق ذميم يتنافى مع الحلم كما ترى.
خرج زين العابدين بن علي بن الحسين رضي الله عنه وعن آبائه - من المسجد يوما فسبه رجل فانتدب الناس إليه. فقال: دعوه. ثم أقبل عليه فقال: ما ستره الله عنك من عيوبنا أكثر. ألك حاجة نعينك عليها؟ فاستحيا الرجل فألقى إليه خميصة كانت عليه وأمر له بألف درهم فكان الرجل إذا رآه قال: إنك من أولاد الأنبياء.
* * * *
দুর্বলতা (ضعف), এবং অজ্ঞকে উপেক্ষা করা হলো ভয় ও কাপুরুষতা। কেবল সেই ব্যক্তিই এমন কথা বলে যার দম্ভ তাকে পাপের দিকে ধাবিত করে; এটি একটি নিন্দনীয় স্বভাব যা আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে তা সহনশীলতার পরিপন্থী।
যয়নুল আবেদিন বিন আলী বিন আল-হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আন আবায়িহি) একদিন মসজিদ থেকে বের হলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁকে গালি দিল। এতে লোকজন তার (ঐ ব্যক্তির) দিকে ধাবিত হলো। তিনি বললেন: ওকে ছেড়ে দাও। অতঃপর তিনি লোকটির দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন: আল্লাহ আমাদের যেসব দোষত্রুটি তোমার কাছ থেকে গোপন রেখেছেন তা এর চেয়েও অনেক বেশি। তোমার কি এমন কোনো প্রয়োজন আছে যাতে আমরা তোমাকে সাহায্য করতে পারি? এতে লোকটি লজ্জিত হয়ে পড়ল। তখন তিনি নিজের পরিহিত চাদরটি তাকে দিয়ে দিলেন এবং তার জন্য এক হাজার দিরহাম প্রদানের নির্দেশ দিলেন। এরপর থেকে লোকটি যখনই তাঁকে দেখত, বলত: নিশ্চয়ই আপনি নবীদের বংশধর।
* * * *
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
[الغلظة والفظاظة]الغلظة والفظاظة عن سعيد بن عبد الرحمن الزبيدي قال: يعجبني من القراء (1) كل سهل طلق مضحاك، فأما من تلقاه ببشر ويلقاك بضرس (2) يمن عليك بعلمه فلا كثر الله في الناس أمثال هؤلاء.
أيها الدعاة: الناس في حاجة إلى كنف رحيم وبشاشة سمحة. بحاجة إلى ود يسعهم وحلم لا يضيق بجهلهم. بحاجة إلى من يحمل همومهم، ولا يثقل عليهم بهمومه. . يجدون في رحابه العطف والرضا.
من أجل هذا جاءت الرحمة الربانية لمحمد صلى الله عليه وسلم وهو الرسول القدوة: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ} [آل عمران: 159] (3) .
--------------------------------------------
[কঠোরতা (الغلظة) ও রুক্ষতা (الفظاظة)]সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুবাইদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "বিদ্বানদের (القراء) (১) মধ্যে এমন প্রত্যেক ব্যক্তি আমার নিকট পছন্দনীয় যে সহজ-সরল (سهل), সদালাপী (طلق) ও প্রফুল্লচিত্ত (مضحاك)। পক্ষান্তরে, যাকে আপনি হাসিমুখে সম্ভাষণ জানান অথচ সে আপনার সাথে রুক্ষ মেজাজে (بضرس) (২) সাক্ষাৎ করে এবং তার ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার ওপর অনুগ্রহের দম্ভ প্রকাশ করে, আল্লাহ মানুষের মাঝে তাদের ন্যায় ব্যক্তিদের সংখ্যা বৃদ্ধি না করুন।"
হে দ্বীনের দায়ীগণ: মানুষ দয়াপূর্ণ আশ্রয় এবং উদার প্রফুল্লতার মুখাপেক্ষী। তারা এমন হৃদ্যতার মুখাপেক্ষী যা তাদের ধারণ করতে পারে এবং এমন সহনশীলতার (حلم) মুখাপেক্ষী যা তাদের অজ্ঞতায় সংকীর্ণ হয় না। তারা এমন ব্যক্তির মুখাপেক্ষী যে তাদের দুঃখ-দুর্দশা বহন করবে, কিন্তু নিজের চিন্তা ও উদ্বেগ দিয়ে তাদের ভারাক্রান্ত করবে না। তারা তার সান্নিধ্যে মমতা ও সন্তুষ্টি খুঁজে পাবে।
একারণে আদর্শ রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি রব্বানী রহমত অবতীর্ণ হয়েছে: "আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন; যদি আপনি রূঢ় (فظّا) ও কঠোরচিত্ত (غليظ القلب) হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত। সুতরাং আপনি তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।" [সূরা আলে ইমরান: ১৫৯] (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فما غضب لنفسه قط، ولا ضاق صدره بضعفهم البشري. وأعطاهم كل ما ملكت يداه، وما نازعهم في شيء من أعراضهم، وسعهم حلمه وبره وعطفه.
حينما يوهب العبد قلبا رحيما وطبعا رقيقا مع العلم والحكمة. . فإنه لا يستكثر على الصغير والجاهل أن يصدر منهما صدود عن النصح، والدنيا مليئة بمن لا يحبون الناصحين.
نعم إن الداعي الحق ذا الخبرة والمراس لا يعجب من صدود الناس ونفرتهم. . لكن رحمته بهم وشفقته عليهم لا تنفك تغريه بمعاودة الكرة تلو الكرة، كما يعاود الوالدان الحريصان على أولادهما في الإلحاح بالغذاء والدواء في حالي الصحة والمرض. بل لقد
তিনি কখনো নিজের স্বার্থে রাগান্বিত হননি এবং মানুষের মানবিক দুর্বলতায় তাঁর অন্তর সংকুচিত হয়নি। তাঁর হস্তগত যা কিছু ছিল তার সবটুকুই তিনি তাদের দান করেছেন এবং পার্থিব কোনো তুচ্ছ বিষয়ে তিনি তাদের সাথে বিবাদ করেননি। তাঁর সহনশীলতা, সদাচার ও মমতা তাদের সকলকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছিল।
যখন কোনো বান্দাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পাশাপাশি একটি দয়ার্দ্র হৃদয় ও কোমল স্বভাব দান করা হয়, তখন কোনো অল্পবয়সী বা অজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষ থেকে উপদেশের প্রতি বিমুখতাকে তিনি অস্বাভাবিক মনে করেন না; কেননা পৃথিবী এমন মানুষে পরিপূর্ণ যারা উপদেশদাতাদের পছন্দ করে না।
হ্যাঁ, নিশ্চয়ই বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পারদর্শিতাসম্পন্ন একজন সত্যনিষ্ঠ আহ্বানকারী মানুষের বিমুখতা ও অনাগ্রহে বিস্মিত হন না। কিন্তু তাদের প্রতি তাঁর মমতা ও সহানুভূতি তাঁকে বারবার পুনরায় চেষ্টা করতে প্ররোচিত করে; ঠিক যেমন হিতাকাঙ্ক্ষী পিতামাতা তাদের সন্তানদের জন্য সুস্থতা ও অসুস্থতা উভয় অবস্থায় খাদ্য ও ওষুধের বিষয়ে পিড়াপিড়ি করেন। বরং...
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
جاء في حديث أخرجه أبو داود والنسائي وابن ماجه وابن حبان من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إنما أنا لكم مثل الوالد لولده» .
وهل رأيت، أعظم شفقة من الوالد على ولده. وكم قابل محمد صلى الله عليه وسلم إعراض قومه بابتهاله النبوي: «اللهم اهد قومي فإنهم لا يعلمون» .
[من معالم الحكمة في الدعوة]
[المعلم الأول طبائع النفوس وطبقات المدعوين]من معالم الحكمة في الدعوة وبعد هذه التقدمة التي أظنكم استشعرتم من خلالها بعض معالم تشير إلى مواطن الحكمة ومسالكها عن طريق معرفة حقيقة الحكمة وأبرز الصفات في رجل الدعوة. أحب أن أبسط بعض البسط في معالم أراها حقيقة بذلك:
وسوف يكون هذا البسط من خلال التعرف على طبائع النفوس، وطبقات المدعوين، وتخير الأوقات،
আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বান আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যেখানে নবী (সা.) বলেছেন: "আমি তোমাদের জন্য সন্তানের প্রতি পিতার ন্যায়।"
আর আপনি কি সন্তানের প্রতি পিতার মমতার চেয়ে বড় কোনো মমতা দেখেছেন? মুহাম্মদ (সা.) তাঁর কওমের বিমুখতাকে কতবারই না তাঁর এই নবুওয়াতী আকুতির মাধ্যমে মোকাবিলা করেছেন: "হে আল্লাহ! আমার কওমকে হেদায়েত দান করুন, কেননা তারা জানে না।"
[দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের (প্রজ্ঞা) কিছু নিদর্শন]
[প্রথম নিদর্শন: মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি এবং দাওয়াতপ্রাপ্তদের স্তরসমূহ]দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে এবং এই ভূমিকার পর—যার মাধ্যমে আমি মনে করি আপনারা হিকমতের স্বরূপ এবং একজন দায়ীর প্রধান গুণাবলী অনুধাবনের মাধ্যমে হিকমতের ক্ষেত্র ও পথ নির্দেশকারী কিছু নিদর্শনের ব্যাপারে উপলব্ধি লাভ করেছেন—আমি এমন কিছু নিদর্শনের বিশদ আলোচনা করতে চাই যা আমার কাছে এই বিষয়ের জন্য যথার্থ বলে মনে হয়:
আর এই বিস্তারিত আলোচনা হবে মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি, দাওয়াতপ্রাপ্তদের স্তরসমূহ চেনা এবং উপযুক্ত সময় নির্বাচনের আলোচনার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وانتهاز المناسبات. ثم النظر في طرائق الدعوة وأساليبها. . من إحسان في القول، والحرص على التلميح إذا أمكن الاستغناء به عن التصريح، والقصد إلى الستر والنصيحة، والبعد قدر الإمكان عن التشهير الذي قد ينقلب إلى فضيحة مع سلوك المداراة المشروعة، وإقالة العثرات ما أمكن، وإليك أخي الفاضل بسطا لبعض هذه المعالم:
* * * * المعلم الأول: طبائع النفوس وطبقات المدعوين الناس متباينون في طبائعهم، مختلفون في مدركاتهم، في العلم والذكاء، في الأمزجة والمشاعر، مختلفون في الميول والاتجاهات. مما يدعو رجل العلم والدعوة إلى تخير المدخل. . بل المداخل المناسبة لتلك النفوس المختلفة والعقول المتباينة.
نعم، إن فيهم الغضوب والهادئ، وفيهم المثقف والأمي، فيهم الوجيه وغير الوجيه.
بل إن ثمة كلمة لعلي رضي الله عنه يصف فيها القلوب، كل القلوب بأنها وحشية فهو يقول: (القلوب وحشية فمن تألفها أقبلت عليه) .
إنه يصورها رضي الله عنه وكأنها دواب متوحشة لا تعرف الألفة في طبعها ويبدو هذا والله أعلم في
এবং সুযোগের সদ্ব্যবহার করা। অতঃপর দাওয়াতের পদ্ধতি ও কৌশলসমূহ পর্যালোচনা করা। বাচনভঙ্গিতে মাধুর্য রক্ষা করা এবং যখন ইঙ্গিতের মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল করা সম্ভব হয় তখন সরাসরি বক্তব্যের পরিবর্তে ইশারা-ইঙ্গিতের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা। সংগোপন রাখা ও সদুপদেশ প্রদানের সঙ্কল্প করা এবং মানহানি হতে যথাসম্ভব দূরে থাকা যা অনেক সময় কেলেঙ্কারিতে রূপ নিতে পারে। এর পাশাপাশি শরয়ি নমনীয়তা বজায় রাখা এবং সাধ্যমতো ভুলভ্রান্তি মার্জনা করা। হে সম্মানিত ভ্রাতা, আপনার সম্মুখে এই কতিপয় বৈশিষ্ট্যের বিস্তারিত বিবরণ পেশ করা হলো:
* * * * প্রথম বৈশিষ্ট্য: মানুষের স্বভাব এবং যাদের দাওয়াত দেওয়া হবে তাদের স্তরসমূহ। মানুষ তাদের প্রকৃতিগতভাবে ভিন্ন এবং জ্ঞান, মেধা, মেজাজ ও অনুভূতির ক্ষেত্রেও তারা বৈচিত্র্যময়। এমনকি তাদের ঝোঁক ও দৃষ্টিভঙ্গিতেও ভিন্নতা বিদ্যমান। এ বিষয়টিই একজন আলেম ও দায়ী ব্যক্তিকে সেই ভিন্ন ভিন্ন স্বভাব ও বৈচিত্র্যময় বুদ্ধিবৃত্তির মানুষের জন্য উপযুক্ত প্রবেশপথ বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করে।
হ্যাঁ, তাদের মধ্যে যেমন রাগী ও শান্ত প্রকৃতির মানুষ রয়েছে, তেমনি রয়েছে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত, এবং প্রভাবশালী ও সাধারণ স্তরের মানুষ।
এমনকি আলী (রা.)-এর একটি বাণী রয়েছে যেখানে তিনি মানুষের অন্তরকে—সব ধরণের অন্তরকে—বন্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন: (অন্তরসমূহ বন্য প্রকৃতির; সুতরাং যে ব্যক্তি সেগুলোর সাথে হৃদ্যতা গড়ে তোলে, সেগুলো তার অভিমুখী হয়)।
তিনি (রা.) একে এমন এক বন্য পশুর সাথে তুলনা করেছেন যা তার প্রকৃতিগতভাবেই সখ্যতা বা ঘনিষ্ঠতা চেনে না। আর আল্লাহই ভালো জানেন, এটি পরিলক্ষিত হয়...
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ميدان النصائح والتوجيهات. فهل رأيت من يرضى أن تنسبه إلى جهل أو عدم معرفة أو سوء في التصرف. إن الإنسان يعظم عليه أن ينسب إلى الجهل، ولذا تراه يغضب إذا نبه على الخطأ، ويجتهد في مجاهدة الحق بعد معرفته خيفة انكشاف جهله.
إنها في هذا الباب تنفر إذا قرب منها، بل لعلها بدافع الدفاع عن النفس تهجم وتؤذي، ومن كان صاحب حكمة وفطنة في ترويض الوحوش فهو المفلح بتوفيق الله في هداية الناس.
وصاحب الترويض الناجح هو الذي يحرص على تلمس الجانب الطيب في نفوس الناس، وتقصد إلى شيء من العطف على أخطائهم وحماقاتهم. . شيء من العناية - غير المتصنعة - باهتماماتهم وهمومهم. وسوف يصل إلى مصدر النبع الخير في نفوسهم، وحينئذ يمنحونه حبهم وثقتهم.
নসিহত এবং দিকনির্দেশনার ময়দান। আপনি কি এমন কাউকে দেখেছেন যে তাকে অজ্ঞতা, জ্ঞানের অভাব কিংবা অসদাচরণের সাথে সম্পর্কিত করা হোক তাতে সে সন্তুষ্ট থাকে? প্রকৃতপক্ষে মানুষের কাছে অজ্ঞ হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া অত্যন্ত গ্লানিকর; এই কারণেই আপনি তাকে রাগান্বিত হতে দেখেন যখন তাকে ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করা হয় এবং নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ হওয়ার ভয়ে সে সত্য জানার পরও তার বিরোধিতা করতে সচেষ্ট হয়।
এই ক্ষেত্রে আত্মা নিকটবর্তী হলে দূরে সরে যায়, বরং সম্ভবত আত্মরক্ষার তাড়নায় সে আক্রমণ করে বসে এবং কষ্ট দেয়। বন্য পশু বশ করার ক্ষেত্রে যার প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা রয়েছে, আল্লাহর তৌফিকে মানুষের হিদায়াতের পথে সেই সফলকাম।
সফল বশকারী তিনিই, যিনি মানুষের অন্তরের ইতিবাচক দিকটি স্পর্শ করতে সচেষ্ট হন এবং তাদের ভুল ও মূর্খতার প্রতি কিছুটা সহমর্মিতার পথ অবলম্বন করেন; তাদের আগ্রহ ও উদ্বেগের প্রতি প্রদর্শন করেন অকৃত্রিম যত্ন। এভাবেই তিনি তাদের অন্তরের কল্যাণের উৎসে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন এবং তখন তারা তাকে তাদের ভালোবাসা ও নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) প্রদান করবে।
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
إن شيئا من سعة الصدر، والإحاطة بطبائع النفوس. . كفيل بتحقيق الخير في الناس بنتيجة لا يظنها الكثيرون، ينبني على ذلك ملاحظة استيعاب المدعو وسعة مداركه، فلا يلقي إليه ما لا يبلغه عقله فيوقعه إما في النفرة والشرود، وإما في التخبط الفكري والدخول في غياهب الفتن.
وفي ذلك يقول ابن مسعود رضي الله عنه. (ما أنت بمحدث قوما حديثا لا تبلغه عقولهم إلا كان لبعضهم فتنة) . ويقول علي رضي الله عنه: (حدثوا الناس بما يعرفون أتريدون أن يكذب الله ورسوله) .
* * * *
কিঞ্চিৎ উদারতা এবং মানুষের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে সম্যক ধারণা মানুষের মাঝে এমন কল্যাণ বয়ে আনতে সক্ষম যা অনেকেই কল্পনা করতে পারে না। এর ওপর ভিত্তি করেই দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির বোধশক্তি ও তাঁর বিচারবুদ্ধির প্রশস্ততার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা বাঞ্ছনীয়। সুতরাং তাঁর নিকট এমন কিছু উপস্থাপন করা উচিত নয় যা তাঁর বুদ্ধিবৃত্তি অনুধাবন করতে সক্ষম নয়; অন্যথায় এটি তাঁকে হয় বিমুখতা ও লক্ষ্যহীনতার দিকে ধাবিত করবে, অথবা তাঁকে বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তি ও ফিতনার (فتنة) অন্ধকার গহ্বরে নিপতিত করবে।
এই বিষয়ে ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: “তুমি যদি কোনো সম্প্রদায়ের কাছে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করো যা তাদের বিবেক-বুদ্ধি অনুধাবন করতে সক্ষম নয়, তবে তা অবশ্যই তাদের কারো কারো জন্য ফিতনা (فتنة) হয়ে দাঁড়াবে।” এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: “তোমরা মানুষের নিকট তা-ই বর্ণনা করো যা তারা চিনতে পারে। তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা হোক?”
* * * *
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
[المعلم الثاني تخير الأوقات وانتهاز المناسبات]المعلم الثاني: تخير الأوقات وانتهاز المناسبات هذا معلم كبير ومؤثر من معالم الحكمة وتلمسها، يبلور ذلك كلمة جامعة لعبد الله بن مسعود رضي الله عنه: (إن للقلوب شهوة وإقبالا وفترة وإدبارا، فخذوها عند شهوتها وإقبالها، وذروها عند فترتها وإدبارها) وقد كان رضي الله عنه يذكرهم كل خميس، فقال رجل: لوددت أنك ذكرتنا كل يوم، فقال: (أما إنه يمنعني من ذلك أني أكره أن أملكم، وإني أتخولكم بالموعظة كما «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتخولنا مخافة السآمة علينا» (1) .
ولأمر ما، كان نزول كتاب ربنا منجما ومفرقا على المناسبات والأحداث والأزمنة والأمكنة.
وأنت خبير أن إقبال الناس في رمضان يختلف عنه
--------------------------------------------
[দ্বিতীয় শিক্ষা: সময় নির্বাচন এবং সুযোগের সদ্ব্যবহার]দ্বিতীয় শিক্ষা: সময় নির্বাচন এবং সুযোগের সদ্ব্যবহার। এটি প্রজ্ঞার নিদর্শনসমূহ এবং তা অনুসরণের অন্যতম একটি মহান ও প্রভাবশালী দিক। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর একটি অর্থবহ বাণী একে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে: “নিশ্চয়ই হৃদয়ের কখনো আগ্রহ ও উন্মুখতা থাকে, আবার কখনো অবসাদ ও বিমুখতা থাকে। সুতরাং যখন হৃদয়ে আগ্রহ ও উন্মুখতা থাকে তখন তাকে কাজে লাগাও, আর যখন অবসাদ ও বিমুখতা থাকে তখন তাকে ছেড়ে দাও।” তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) প্রতি বৃহস্পতিবার তাদেরকে নসিহত করতেন। তখন এক ব্যক্তি বলল: আমি আকাঙ্ক্ষা করি যে আপনি যদি প্রতিদিন আমাদের নসিহত করতেন! তিনি বললেন: “তোমাদের বিরক্ত করা অপছন্দ করি বলেই আমি প্রতিদিন নসিহত করা থেকে বিরত থাকি। আমি তোমাদের নসিহতের জন্য উপযুক্ত সময় ও সুযোগের সন্ধান করি, ঠিক যেভাবে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বিরক্তির আশঙ্কায় আমাদের জন্য উপযুক্ত সময় নির্বাচন করতেন।” (১)।
আর এক বিশেষ হিকমতের কারণেই আমাদের প্রতিপালকের কিতাব বিভিন্ন প্রেক্ষাপট, ঘটনা, সময় এবং স্থানের ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে এবং খণ্ড খণ্ড ভাবে নাজিল হয়েছিল।
আপনি তো ভালো করেই জানেন যে, রমজান মাসে মানুষের ইবাদতের প্রতি আগ্রহ ও উন্মুখতা অন্য সময়ের চেয়ে ভিন্ন হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুল হিকমাহ ফী আদ-দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
غيره، وقل مثل ذلك في المناسبات المختلفة، والأحداث المتجددة من وقائع الأفراح أو حلول المصائب، فأخذ الناس بهذا ومراعاة تقلبات الدهر من حولهم يدرك به سرا عظيما في التأثير والاستجابة، وإن شئت مزيدا في هذا فانظر في الأوقات والأحوال التي يتأكد فيها استحباب الدعاء. . كأوقات السحر، ونزول الغيث، والتقاء الجيوش.
وإن رغبت في واقعة فانظر في حكمة يوسف عليه السلام حين استغل الفرصة مع الفتيين عند تعبير رؤياهما وظروف سجنهما فدعاهما إلى الله الواحد الأحد.
{يَا صَاحِبَيِ السِّجْنِ أَأَرْبَابٌ مُتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ - مَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} [يوسف: 39 - 40] (1) .
--------------------------------------------
অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বিভিন্ন উপলক্ষ এবং আনন্দ-বেদনার নতুন নতুন ঘটনার ক্ষেত্রেও তা-ই বলুন। মানুষের এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা এবং তাদের চারপাশের সময়ের বিবর্তন ও পরিবর্তনের প্রতি লক্ষ্য রাখার মধ্যে প্রভাব সৃষ্টি ও সাড়া পাওয়ার এক মহান রহস্য নিহিত রয়েছে। আপনি যদি এ বিষয়ে আরও জানতে চান, তবে সেইসব সময় ও অবস্থার দিকে লক্ষ্য করুন যেগুলোতে দোয়ার পছন্দনীয়তা (استحباب) জোরালো হয়; যেমন—শেষ রাত, বৃষ্টি বর্ষণ এবং সৈন্যবাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার মুহূর্ত।
আর আপনি যদি কোনো বাস্তব ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান, তবে ইউসুফ আলাইহিস সালামের প্রজ্ঞার দিকে তাকান; যখন তিনি তাঁর দুই কারাসঙ্গীর স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার সুযোগ এবং তাদের কারাবাসের পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়েছিলেন এবং তাদেরকে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছিলেন।
{হে আমার কারাকক্ষর দুই সঙ্গী! ভিন্ন ভিন্ন বহু প্রতিপালক কি শ্রেষ্ঠ, নাকি পরাক্রমশালী এক আল্লাহ? তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কেবল কতগুলো নামের ইবাদত করছ, যে নামগুলো তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষেরা রেখেছ; যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো দলিল নাজিল করেননি। বিধান প্রদানের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না। এটাই শাশ্বত ও সঠিক দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।} [ইউসুফ: ৩৯ - ৪০] (১) .
--------------------------------------------