(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: -)
مسؤولية إمام المسجد القسم: كتب عامة
الكتاب: مسئولية إمام المسجد
المؤلف: علي بن حسن بن ناصر عسيري
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1419هـ
عدد الصفحات: 68
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মসজিদের ইমামের দায়িত্ব বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
গ্রন্থ: মসজিদের ইমামের দায়িত্ব
লেখক: আলী বিন হাসান বিন নাসির আসীরী
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৯ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: -)
[المقدمة]مسؤولية إمام المسجد
[ভূমিকা]মসজিদের ইমামের দায়িত্ব
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
كلمة بين يدي البحث الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على النبي الأمين، سيد الأولين والآخرين، وعلى آله وصحبه الطيبين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وبعد: فقد سرت في هذا البحث الموجز على النحو التالي: عرفت بالإمامة، ثم بينت فضلها، ومنزلة الإمام وصفاته، ثم أشرت إلى بعض الأحكام المتعلقة بمن لم يتصف بالصفات المعتبرة على سبيل الاختصار. وبعد ذلك تحدثت عن مسئولية إمام المسجد مبينا أن هناك قدرا مشتركا من المسئولية يتحمله كل من يقوم بالإمامة، وقدرا خاصا يناط ببعض الأئمة الذين يتحملون ما لا يتحمله غيرهم، ويجب عليهم بحسب قدراتهم، وعلمهم، وفضلهم، ما لا يجب على من ليس مثلهم، ثم عقدت فصلا خاصا بمسئولية الخطيب تجاه خطبة الجمعة، بينت فيه أن على الخطيب أن يلتزم هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الخطبة، ويلتزم الحكمة والموعظة الحسنة مبتعدا عن القول الخشن، وأن يراعي أحوال المخاطبين، واختلاف مداركهم وبيئاتهم، وأن يعتمد على مصادر المعرفة الإسلامية الموثقة، ويلتزم اللغة الفصحى، ويعد الخطبة إعدادا جيدا، ويقدم الأولى
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে
গবেষণার প্রারম্ভিক কথা। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক বিশ্বস্ত নবী, পূর্বাপর সকলের নেতা এবং তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। অতঃপর: আমি এই সংক্ষিপ্ত গবেষণায় নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি: আমি ইমামতের পরিচয় প্রদান করেছি, এরপর এর শ্রেষ্ঠত্ব এবং ইমামের মর্যাদা ও গুণাবলি বর্ণনা করেছি। অতঃপর সংক্ষেপে সেই সব ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট কিছু বিধানের প্রতি ইঙ্গিত করেছি যারা গ্রহণযোগ্য (المعتبرة) গুণাবলিতে গুণান্বিত নন। এরপর মসজিদের ইমামের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, ইমামতের দায়িত্ব পালনকারী সকলের ওপর সাধারণ কিছু দায়িত্ব অর্পিত থাকে, আবার কিছু বিশেষ দায়িত্ব নির্দিষ্ট ইমামদের ওপর ন্যস্ত থাকে যা অন্যরা বহন করে না। তাদের সামর্থ্য, জ্ঞান ও মর্যাদার ভিত্তিতে এমন কিছু বিষয় তাদের জন্য আবশ্যক হয় যা অন্যদের জন্য আবশ্যক নয়। অতঃপর জুমার খুতবার ক্ষেত্রে খতিবের দায়িত্ব সম্পর্কে একটি বিশেষ পরিচ্ছেদ আলোচনা করেছি। সেখানে বর্ণনা করেছি যে, খতিবের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ অনুসরণ করা আবশ্যক। আর রুক্ষ কথা পরিহার করে হিকমত ও উত্তম উপদেশের নীতি অবলম্বন করা এবং শ্রোতাদের অবস্থা, তাদের বোধশক্তি ও পরিবেশের ভিন্নতার প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরি। আরও প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য (الموثقة) ইসলামী জ্ঞানতত্ত্বের উৎসসমূহের ওপর নির্ভর করা, প্রাঞ্জল ভাষা ব্যবহার করা, খুতবাটি ভালোভাবে প্রস্তুত করা এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
والأهم من الموضوعات التي تكون حاجة الناس إليها أكثر من غيرها، ثم بينت أنه لا بد أن يراعي في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر المصلحة الراجحة ويوازن بين المصلحة والمفسدة، لأن من شأن الخطيب الناجح الذي يكسب ثقة الناس ومحبتهم له، وتأثرهم به أن يراعي جميع ما أشرت إليه.
وبعد، فهذا جهد المقل، وما حصل فيه من خطأ وتقصير فمني، وأستغفر الله الغفور الرحيم، وأعتذر من الصفوة الأخيار من مسئولين ومشاركين في هذا الملتقى الطيب، راجيا منهم أن يغضوا الطرف ويقبلوا العذر، ويتفضلوا على أخيهم بملحوظاتهم التي سأفيد منها فيما بعد، وأسأل الله لي ولهم ولجميع العاملين في مجال الدعوة مزيدا من التوفيق والسداد، وتثبيتا على طريق الهدى والرشاد، وسبحان ربك رب العزة عما يصفون وسلام على المرسلين، والحمد لله رب العالمين.
كتبه العبد الفقير إلى عفو ربه
علي بن حسن بن ناصر
عضو هيئة التدريس بكلية الشريعة وأصول الدين
جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية / أبها
আর বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই সব বিষয় যেগুলোর প্রতি মানুষের প্রয়োজন অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় অধিক। অতঃপর আমি বর্ণনা করেছি যে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে অবশ্যই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কল্যাণকে বিবেচনা করতে হবে এবং কল্যাণ ও অকল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। কারণ একজন সফল খতিব, যিনি মানুষের আস্থা (ثقة) ও ভালোবাসা অর্জন করেন এবং মানুষের ওপর যাঁর প্রভাব রয়েছে, তাঁর বৈশিষ্ট্য হলো আমি যা উল্লেখ করেছি সেই সব বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা।
অতঃপর, এটি সামান্য পুঁজির এক নগণ্য প্রচেষ্টা। এতে যা কিছু ভুল ও ত্রুটি হয়েছে তা আমার পক্ষ থেকে, আর আমি ক্ষমাশীল ও দয়াময় আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি এই বরকতময় সেমিনারের দায়িত্বশীল ও অংশগ্রহণকারী সুধীজনদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, এই প্রত্যাশায় যে তারা ত্রুটিগুলো মার্জনা করবেন এবং ওজর কবুল করবেন। আর তারা যেন তাদের ভাইয়ের প্রতি তাদের সুচিন্তিত মতামত দিয়ে অনুগ্রহ করেন যা থেকে আমি পরবর্তীতে উপকৃত হতে পারব। আমি আমার জন্য, তাঁদের জন্য এবং দাওয়াতের ময়দানে কর্মরত সকলের জন্য আল্লাহর নিকট আরও বেশি তাওফিক ও সঠিক পথের দিশা এবং হেদায়েত ও সত্যের পথে অটল থাকার প্রার্থনা করছি। আপনার প্রতিপালক, যিনি সম্মানের অধিকারী, তারা যা আরোপ করে তা থেকে তিনি পবিত্র। আর রাসুলগণের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন তাঁর প্রতিপালকের ক্ষমার মুখাপেক্ষী অধম বান্দা
আলী বিন হাসান বিন নাসের
শিক্ষক মণ্ডলীর সদস্য, শরিয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদ
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় / আবহা
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
[معنى الإمامة لغة واصطلاحا]معنى الإمامة لغة واصطلاحا الإمامة في اللغة: هي مصدر الفعل " أم " والإمام هو ما يؤتم به، ومنه قيل للطريق إمام، وللبناء إمام لأنه يؤتم بذلك، أي يهتدي به السالك، والنبي صلى الله عليه وسلم إمام الأئمة، والخليفة إمام الرعية، والقرآن إمام المسلمين، وإمام كل شيء قيمه والمصلح له.
واصطلاحا هي من يصح الاقتداء به في الصلاة. أو هي ربط صلاة المؤتم بالإمام. وتطلق على الإمامة الكبرى، وهي الخلافة أو الملك أو رئاسة الدولة.
وتطلق على العالم المقتدي به، فيقال إمام المحدثين، وإمام الفقهاء.
والإمام لما كان هو القدوة للناس لكونهم يأتمون به، ويهتدون بهديه أطلق عليه هذا اللفظ (1) .
[فضل الإمامة ومنزلة الإمام]فضل الإمامة ومنزلة الإمام الإمامة تعليم، وتذكير، وأمر بمعروف ونهي عن منكر، ولا يخفى ما لهذه الأمور من منزلة عظيمة، فبالعلم يزول الجهل، وبالتذكير
--------------------------------------------
[আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ইমামতের (الإمامة) পরিচয়]আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ইমামতের পরিচয়: আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইমামত (الإمامة) হলো "আম্মা" (أم) ক্রিয়াপদের মাসদার (مصدر) বা ক্রিয়ামূল। আর ইমাম (الإمام) হলেন এমন সত্তা যাকে অনুসরণ করা হয়। এই অর্থেই পথকে ইমাম বলা হয় এবং ইমারত বা নির্মাণকেও ইমাম বলা হয়; কারণ এগুলোর অনুসরণ করা হয়, অর্থাৎ পথচারী এর মাধ্যমে সঠিক দিশা লাভ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন ইমামগণের ইমাম, খলিফা (الخليفة) হলেন প্রজাসাধারণের ইমাম, কুরআন হলো মুসলিমদের ইমাম; আর প্রতিটি বিষয়ের ইমাম বলতে তার তত্ত্বাবধায়ক ও সংশোধনকারীকে বোঝায়।
পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحاً) এটি হলো এমন ব্যক্তি যাঁর পেছনে সালাতে ইক্তিদা (الاقتداء) বা অনুসরণ করা শুদ্ধ (صحيح)। অথবা এটি হলো ইমামের সালাতের সাথে মুক্তাদির (المؤتم) সালাতকে সংশ্লিষ্ট করা। এটি ইমামতে কুবরা (الإمامة الكبرى)-এর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যা মূলত খেলাফত (الخلافة), রাজতন্ত্র বা রাষ্ট্রপ্রধানের পদ।
অনুরূপভাবে এটি এমন অনুসরণযোগ্য আলেম (العالم)-এর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যাঁকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। যেমন বলা হয়ে থাকে: মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) ইমাম এবং ফকিহগণের (الفقهاء) ইমাম।
ইমাম যেহেতু মানুষের জন্য আদর্শ (القدوة), কেননা মানুষ তাঁকে অনুসরণ করে এবং তাঁর নির্দেশনায় সঠিক পথ খুঁজে পায়, তাই তাঁর ওপর এই শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে (১)।
[ইমামতের ফজিলত ও ইমামের মর্যাদা]ইমামতের ফজিলত ও ইমামের মর্যাদা: ইমামত হলো শিক্ষা দান, স্মরণ করিয়ে দেওয়া, সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) এবং অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر)। এই বিষয়গুলোর যে সুমহান মর্যাদা রয়েছে তা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। কেননা জ্ঞানের মাধ্যমে অজ্ঞতা দূরীভূত হয় এবং উপদেশের মাধ্যমে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
تذهب الغفلة، ويحل الإقبال على الدين محل الإعراض عنه، وبالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر تسود طاعة الله في المجتمع وتضمحل المعصية، وتنتشر الفضيلة وتنحسر الرذيلة، ويكثر الخير ويقل الشر.
من أجل هذا وغيره تعد الإمامة رسالة عظيمة، ومهمة جسيمة يوفق الله للقيام بها على الوجه المطلوب دعاة الحق، وصفوة الخلق حماة الدين، وحراس العقيدة الصحيحة، فيتعلم على أيديهم الجاهل، ويستيقظ من أجل مواعظهم الغافل، ويهتدي بهم السالك، وتسمو بتوجيهاتهم النفوس، وتزكو الضمائر، وتتهذب الأخلاق، ويقوم سوق الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر فتحيا السنن، وتندرس البدع ويسعد الناس بالأئمة الأكفاء كما سعدت الدنيا بإمام الأئمة صلى الله عليه وسلم، على حد قول القائل:
إذا نحن أدلجنا وأنت إمامنا
… كفى بالمطايا طيب ذكراك حاديا
وإن نحن أضللن الطريق ولم نجد
… دليلا كفانا نور وجهك هاديا
ولما كان أمر الإمامة عظيما، دعا النبي صلى الله عليه وسلم للأمة بالرشد فقال: «الإمام ضامن والمؤذن مؤتمن اللهم أرشد الأئمة، واغفر للمؤمنين» (1) .
--------------------------------------------
উদাসীনতা দূরীভূত হয় এবং দ্বীনের প্রতি বিমুখতার স্থলে দ্বীনের পথে অগ্রসর হওয়ার প্রেরণা স্থলাভিষিক্ত হয়। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের মাধ্যমে সমাজে আল্লাহর আনুগত্য প্রাধান্য পায় ও পাপাচার বিলুপ্ত হয়, সচ্চরিত্রতা ছড়িয়ে পড়ে ও মন্দ স্বভাব তিরোহিত হয় এবং কল্যাণ বৃদ্ধি পায় ও অকল্যাণ হ্রাস পায়।
এসব এবং অন্যান্য কারণে ইমামতকে একটি মহান পয়গাম ও গুরুদায়িত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়। আল্লাহ তাআলা হকের দাওয়াতদানকারী, সৃষ্টির সর্বোত্তম ব্যক্তি, দ্বীনের রক্ষক এবং বিশুদ্ধ আকিদার অতন্দ্র প্রহরীদের এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দান করেন। ফলে তাদের সান্নিধ্যে অজ্ঞ ব্যক্তি শিক্ষা লাভ করে, তাদের উপদেশের মাধ্যমে উদাসীন ব্যক্তি সজাগ হয়, সত্যের পথে বিচরণকারীরা পথ খুঁজে পায়, তাদের দিকনির্দেশনায় আত্মার উন্নতি ঘটে, বিবেক পরিশুদ্ধ হয়, চরিত্র সুসংগঠিত হয় এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে সুন্নাতসমূহ পুনর্জীবিত হয় এবং বিদআতসমূহ বিলুপ্ত হয়। মানুষ যোগ্য ইমামদের সান্নিধ্যে সৌভাগ্যবান হয়; ঠিক যেমন ইমামুল আইম্মাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে পৃথিবী ধন্য হয়েছিল। যেমনটি এক কবি বলেছেন:
যখন আমরা রাতের শেষভাগে পথ চলি আর আপনি হন আমাদের ইমাম
… তবে বাহনগুলোর জন্য আপনার পবিত্র স্মরণই চালকের সংগীত হিসেবে যথেষ্ট।
আর যদি আমরা পথ হারিয়ে ফেলি এবং কোনো
… দিশারি খুঁজে না পাই, তবে আপনার চেহারার নূরই আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে যথেষ্ট।
ইমামতের বিষয়টি যেহেতু অত্যন্ত মহান, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের সঠিক পথের জন্য দোয়া করেছেন। তিনি বলেছেন: «ইমাম হলেন জামিনদার এবং মুয়াজ্জিন হলেন আমানতদার। হে আল্লাহ, আপনি ইমামদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং মুমিনদের ক্ষমা করুন» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ومن المعلوم أن الإمامة رمز الاجتماع والائتلاف، لذا فقد حث النبي صلى الله عليه وسلم على اتخاذ إمام ولو كانوا ثلاثة نفر فقط، حيث قال عليه الصلاة والسلام: «إذا كانوا ثلاثة فليؤمهم أحدهم، وأحقهم بالإمامة أقرؤهم» (1) .
فإذا كانوا مأمورين شرعا باتخاذ إمام ولو كانوا ثلاثة فقط، فكيف إذا كانوا جمعا كبيرا، لا شك أن الأمر أعظم، وهذا فيه من المصالح العظيمة، والمحامد الجليلة ما لا يخفى على أحد، فالناس يجتمعون على من يعلمهم الخير، ويفقههم في الدين، ويرغبهم تارة ويرهبهم أخرى، وينقلهم من المعصية إلى الطاعة، ومن الغفلة إلى التذكر والعبرة.
والناس محتاجون إلى من يقوم بهذه الرسالة خير قيام؛ لأن أمراض المجتمع الحقيقية تكمن في: الجهل والغفلة، والميل إلى الشهوات، يقول تعالى: {ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [الروم: 41] (2) .
--------------------------------------------
এটি সর্বজনবিদিত যে, ইমামত (إمامة) হলো ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। এই কারণে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাত্র তিনজন লোক হলেও একজনকে ইমাম হিসেবে গ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন: "যখন তারা তিনজন হবে, তখন তাদের একজন যেন তাদের ইমামত (إمامة) করে; আর তাদের মধ্যে ইমামতের অধিক যোগ্য (أحق) সেই ব্যক্তি, যে তাদের মধ্যে কুরআন পাঠে অধিক পারদর্শী (أقرأ)।" (১)
সুতরাং শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে যদি মাত্র তিনজন লোককেও ইমাম গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে বিরাট জনসমষ্টির ক্ষেত্রে বিষয়টি যে আরও কত বেশি গুরুত্ববহ হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এর মধ্যে এমন সব মহতী কল্যাণ ও সুমহান প্রশংসনীয় দিক রয়েছে যা কারো নিকট অস্পষ্ট নয়। কেননা মানুষ এমন একজনের কাছে সমবেত হয় যিনি তাদের কল্যাণ শিক্ষা দেন, তাদের দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা (تفقه) দান করেন, কখনো তাদের জান্নাতের প্রতি উৎসাহিত করেন আবার কখনো জাহান্নাম থেকে সতর্ক করেন, এবং তাদের অবাধ্যতা থেকে আনুগত্যের দিকে এবং উদাসীনতা থেকে স্মরণ ও উপদেশের দিকে পরিচালিত করেন।
আর মানুষ এমন এক ব্যক্তির মুখাপেক্ষী যিনি এই মহান দায়িত্ব যথাযথভাবে আঞ্জাম দিবেন; কেননা সমাজের প্রকৃত ব্যাধি নিহিত রয়েছে অজ্ঞতা, গাফিলতি এবং কুপ্রবৃত্তির প্রতি আসক্তির মাঝে। মহান আল্লাহ বলেন: {মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে তিনি তাদের কিছু কাজের স্বাদ আস্বাদন করান, যেন তারা ফিরে আসে।} [রুম: ৪১] (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ولا يخفى أن هذه العلل إذا كثرت كثر الخبث، ونزل البلاء إذ هو نتيجة لمقدمة، والله يقول: {فَكُلًّا أَخَذْنَا بِذَنْبِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِ حَاصِبًا وَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ الصَّيْحَةُ وَمِنْهُمْ مَنْ خَسَفْنَا بِهِ الْأَرْضَ وَمِنْهُمْ مَنْ أَغْرَقْنَا} [العنكبوت: 40] (1) .
لهذا، فإن منزلة الإمام تعظم لكونه يتولى معالجة هذه العلل، فداء الجهل لا دواء له إلا بالعلم، وحاجة الناس إلى العلم الذي يرفع عنهم حجاب الجهل ويزيل غشاوته أشد من حاجتهم إلى الطعام والشراب، وأعظم من حاجة الأرض المجدبة إلى الغيث العميم.
يقول الإمام أحمد رحمه الله: الناس إلى العلم أحوج منهم إلى الطعام والشراب؛ لأن الرجل يحتاج إلى الطعام والشراب في اليوم مرة أو مرتين، وحاجته إلى العلم بعدد أنفاسه.
ويقول الإمام ابن القيم رحمه الله عن العلم وفضله: به يعرف الله ويعبد، ويذكر ويوحد، ويحمد ويمجد، وبه اهتدى إليه السالكون، ومن طريقه وصل إليه الواصلون، ومن بابه دخل عليه القاصدون، به تعرف الشرائع والأحكام، ويتميز الحلال من الحرام، وبه توصل الأرحام، وبه تعرف مراضى + الحبيب، وبمعرفتها ومتابعتها يوصل إليه
--------------------------------------------
এটি অপ্রকাশ্য নয় যে, যখন এই ত্রুটিগুলো (العلل) বৃদ্ধি পায়, তখন পঙ্কিলতা বৃদ্ধি পায় এবং বিপদ নেমে আসে, কারণ তা হলো পূর্ববর্তী কারণের ফলাফল। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর তাদের প্রত্যেককেই আমি তার পাপের কারণে পাকড়াও করেছি। তাদের কারো প্রতি আমি প্রেরণ করেছি পাথরসহ প্রচণ্ড বাতাস, কাউকে ধরেছে মহাগর্জন, কাউকে আমি জমিনের নিচে ধসিয়ে দিয়েছি এবং কাউকে করেছি নিমজ্জিত।" [আল-আনকাবুত: ৪০] (১)।
একারণে ইমামের (الإمام) মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, কারণ তিনি এই ত্রুটিগুলোর (العلل) প্রতিকারের দায়িত্ব পালন করেন। অজ্ঞতার রোগের জ্ঞান ছাড়া আর কোনো প্রতিষেধক নেই। মানুষের জন্য এমন জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা—যা তাদের থেকে অজ্ঞতার পর্দা সরিয়ে দেয় এবং এর অন্ধকার দূর করে—তা তাদের খাদ্য ও পানীয়ের প্রয়োজনের চেয়েও অধিক তীব্র এবং শুষ্ক জমিনের জন্য প্রবল বৃষ্টির প্রয়োজনের চেয়েও অধিক মহান।
ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: মানুষের জন্য জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা খাদ্য ও পানীয়ের চেয়েও বেশি; কারণ একজন মানুষের দিনে একবার বা দুইবার খাদ্য ও পানীয়ের প্রয়োজন হয়, কিন্তু তার জ্ঞানের প্রয়োজন তার প্রতিটি নিঃশ্বাসের সমান।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) জ্ঞান ও এর ফযিলত সম্পর্কে বলেন: এর মাধ্যমেই আল্লাহকে চেনা যায় এবং তাঁর ইবাদত করা হয়, তাঁর যিকির করা হয় এবং তাঁর একত্ববাদ (التوحيد) ঘোষণা করা হয়, তাঁর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করা হয়। এর মাধ্যমেই পথচারীরা তাঁর দিকে পথ খুঁজে পায়, এই পথ দিয়েই পৌঁছানো ব্যক্তিগণ তাঁর নিকট পৌঁছেছে এবং এই দরজা দিয়েই অভীষ্ট অন্বেষণকারীরা তাঁর সান্নিধ্যে প্রবেশ করেছে। এর মাধ্যমেই শরীয়ত (الشرائع) ও বিধানসমূহ (الأحكام) জানা যায় এবং হালাল (الحلال) ও হারাম (الحرام) পৃথক করা যায়। এর মাধ্যমে রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখা হয় এবং এর মাধ্যমেই প্রিয় সত্তার সন্তুষ্টির বিষয়গুলো চেনা যায়। আর তা জানা ও অনুসরণের মাধ্যমেই তাঁর নিকট পৌঁছানো সম্ভব হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
من قريب، وهو إمام والعمل مأموم. . إلى قوله: مذاكرته تسبيح، والبحث عنه جهاد، وطلبه قربة، وبذله صدقة، ومدارسته تعدل بالصيام والقيام، والحاجة إليه أعظم منها إلى الشراب والطعام (1) .
والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: «إن الله، وملائكته، وأهل السماوات، وأهل الأرض حتى النملة في جحرها، وحتى الحوت في البحر ليصلون على معلم الناس الخير» (2) .
فلو لم يكن من فضل الإمامة، ومنزلة الإمام إلا هذا لكفى.
والأئمة مبلغون لدين الله، داعون إلى كل خير وفضيلة، والدعاة إلى الله هم خير الناس، فهم الآمرون بالمعروف الناهون عن المنكر، القائمون على حدود الله، الذابون عن دين الله، الصالحون المصلحون الذين أثنى الله عليهم وامتدحهم في مواضع عديدة. قال تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [فصلت: 33] (3) .
وقال تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} [يوسف: 108] الآية يقول ابن القيم رحمه الله: أمر الله نبيه بأن يخبر
--------------------------------------------
নিকট থেকে, তিনি হলেন ইমাম (إمام) এবং আমল হলো অনুসারী (مأموم)। ... তার এই বাণী পর্যন্ত: এর আলোচনা হলো তাসবিহ, এর অনুসন্ধান হলো জিহাদ, এর অন্বেষণ হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভ, এর দান হলো সাদাকাহ, এর পঠন-পাঠন সিয়াম ও কিয়ামের সমতুল্য এবং এর প্রয়োজনীয়তা পানাহার অপেক্ষা অধিকতর (১)।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, আসমান ও যমীনের অধিবাসীগণ, এমনকি গর্তের পিপীলিকা এবং সাগরের মাছ পর্যন্ত মানুষের মাঝে কল্যাণ শিক্ষাদানকারীর জন্য দুআ করেন» (২)।
যদি ইমামত (إمامة) এর ফযীলত এবং ইমামের (إمام) মর্যাদা বলতে কেবল এটিই থাকতো তবে তা যথেষ্ট হতো।
আর ইমামগণ (أئمة) হলেন আল্লাহর দ্বীনের প্রচারক, প্রতিটি কল্যাণ ও শ্রেষ্ঠত্বের দিকে আহ্বানকারী এবং আল্লাহর পথের আহ্বানকারীরা (دعاة) হলেন শ্রেষ্ঠ মানুষ। তারা হলেন সৎকাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজে বাধা প্রদানকারী, আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখায় অটল এবং আল্লাহর দ্বীনের রক্ষক; তারা হলেন সেই নেককার (صالحون) ও সংস্কারক (مصلحون) যাদের প্রশংসা আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন স্থানে করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায় এবং সৎ (صالحًا) কর্ম করে আর বলে, আমি তো মুসলিমদেরই অন্তর্ভুক্ত} [ফুসসিলাত: ৩৩] (৩)।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {বলুন, এটিই আমার পথ, আমি এবং আমার অনুসারীরা আল্লাহর দিকে ডাকি জাগ্রত জ্ঞান সহকারে} [ইউসুফ: ১০৮] আয়াতটি সম্পর্কে ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আল্লাহ তাঁর নবীকে সংবাদ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
أن سبيله الدعوة إلى الله فمن دعا إلى الله تعالى فهو على سبيل رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو على بصيرة وهو من اتباعه، ومن دعا إلى غير ذلك فليس على سبيله، ولا هو على بصيرة وهو من اتباعه، ومن دعاء إلى غير ذلك فليس على سبيل، ولا هو على بصيرة، ولا هو من أتباعه، فالدعوة إلى الله تعالى هي وظيفة المرسلين واتباعهم. . وتبليغ سننه (إلى الأمة أفضل من تبليغ) السهام إلى نحور العدو؛ لأن تبليغ السهام يفعله كثير من الناس، وأما تبليغ السنن فلا يقوم به إلا ورثة الأنبياء، وخلفاؤهم في أممهم جعلنا الله تعالى منهم بمنه وكرمه (1) .
والمجتمعات تتعرض غالبا لعواصف من الفتن والمغريات تجر بعض الناس جرا إلى الفساد والإفساد، وتصرفهم عن طاعة رب العباد، وهنا يأتي دور الإمام المذكر المحذر المشفق على إخوانه فتحيا به القلوب، ويفتح الله على يديه مغاليقها، فيكون له بذلك من الأجر العظيم، والثواب الجزيل ما بينه النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: «من دعاء إلى هدى كان له من الأجر مثل أجور من تبعه لا ينقص ذلك من أجورهم شيئا،
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই তাঁর পথ হলো আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান করা। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সে মূলত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথেই রয়েছে এবং সে সুষ্পষ্ট প্রমাণের (بصيرة) ওপর প্রতিষ্ঠিত ও তাঁর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত। আর যে ব্যক্তি অন্য কিছুর দিকে দাওয়াত দেয়, সে তাঁর পথে নেই এবং সে সুষ্পষ্ট প্রমাণের (بصيرة) ওপরও নেই অথচ সে নিজেকে তাঁর অনুসারী মনে করে; আর যে ব্যক্তি অন্য কিছুর দিকে দাওয়াত দেয়, সে সঠিক পথে নেই, সুষ্পষ্ট প্রমাণের (بصيرة) ওপর নেই এবং সে তাঁর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্তও নয়। অতএব, মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান করাই হলো রাসূলগণ এবং তাঁদের অনুসারীদের মূল দায়িত্ব। আর তাঁর সুন্নাহর বাণী (উম্মাহর কাছে পৌঁছে দেওয়া) শত্রুর কণ্ঠনালীতে তীর নিক্ষেপের চেয়েও শ্রেষ্ঠতর; কেননা তীর নিক্ষেপের কাজ অনেক মানুষই করে থাকে, কিন্তু সুন্নাহর বাণী পৌঁছে দেওয়ার কাজ কেবল নবীদের ওয়ারিশ বা উত্তরসূরি এবং নিজ নিজ উম্মাহর মাঝে তাঁদের স্থলাভিষিক্তগণই (خلفاء) আঞ্জাম দিয়ে থাকেন। মহান আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন (১)।
সমাজসমূহ প্রায়শই ফিতনা (فتن) ও প্রলোভনের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, যা কিছু মানুষকে ফাসাদ (فساد) ও অনিষ্টের দিকে টেনে নিয়ে যায় এবং তাদের ইবাদতের রবের আনুগত্য থেকে বিমুখ করে দেয়। এখানেই সেই ইমামের ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যিনি উপদেশ প্রদানকারী, সতর্ককারী এবং স্বীয় ভাইদের প্রতি পরম হিতাকাঙ্ক্ষী। তাঁর মাধ্যমে অন্তরসমূহ পুনর্জীবিত হয় এবং আল্লাহ তাঁর হাতে অন্তরের রুদ্ধ কবাটগুলো খুলে দেন। এর ফলে তিনি সেই মহান প্রতিদান ও বিপুল সওয়াব লাভ করেন, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন: «যে ব্যক্তি হিদায়াতের (هدى) দিকে দাওয়াত দেয়, তার জন্য সেই পরিমাণ প্রতিদান রয়েছে, যা তার অনুসরণকারীদের জন্য রয়েছে; এতে তাদের প্রতিদান থেকে সামান্যতমও হ্রাস করা হবে না,»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ومن دعا إلى ضلالة كان عليه من الإثم مثل آثام من تبعه لا ينقص ذلك من آثامهم شيئا» (1) .
قال العلماء إن المتسبب إلى الهدى بدعوته له من الأجر مثل أجر من اهتدى به، وكذلك المتسبب إلى الضلالة عليه من الوزر مثل وزر من ضل به، لأن الأول بذل وسعه وقدرته في هداية الناس، والثاني بذل قدرته في ضلالتهم منزل كل واحد منهما منزلة الفاعل التام (2) .
وجاء في وصية النبي صلى الله عليه وسلم لعلي رضي الله عنه: «لأن يهدي الله بك رجلا واحدا خير لك من حمر النعم» (3) . وحمر النعم هي الإبل الحمر وهي أنفس أموال العرب. يضرب بها المثل في نفاسة الشيء.
إنه فضل عظيم، وحظ كبير أن يهتدي رجل واحد فقط فما الظن بمن يهتدي كل يوم به طوائف من الناس، لا شك أن الأمر أعظم - نسأل الله العظيم بفضله وكرمه أن يجعلنا من الهداة المهتدين.
--------------------------------------------
এবং যে ব্যক্তি কোনো পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান জানাবে, তার ওপর ঐ সকল ব্যক্তির সমপরিমাণ পাপ বর্তাবে যারা তার অনুসরণ করেছে; এতে তাদের পাপের পরিমাণ সামান্যও হ্রাস পাবে না (১)।
ওলামায়ে কেরাম বলেন যে, যে ব্যক্তি তার দাওয়াতের মাধ্যমে হিদায়াতের কারণ হয়, তার জন্য ঐ ব্যক্তির সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে যে তার মাধ্যমে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে। একইভাবে, যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতার কারণ হয়, তার ওপর ঐ ব্যক্তির সমপরিমাণ গোনাহ বর্তাবে যে তার মাধ্যমে পথভ্রষ্ট হয়েছে। কারণ প্রথম জন মানুষকে হিদায়াত করার ক্ষেত্রে নিজের সাধ্য ও সক্ষমতা ব্যয় করেছে, আর দ্বিতীয় জন তাদের পথভ্রষ্ট করার ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা ব্যয় করেছে; ফলে তাদের প্রত্যেককেই পূর্ণ সম্পাদনকারীর মর্যাদায় গণ্য করা হয়েছে (২)।
আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসিয়তে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহ যদি তোমার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকেও হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম" (৩)। আর লাল উট হলো লাল বর্ণের উট এবং এটিই আরবদের নিকট সর্বাধিক মূল্যবান সম্পদ। কোনো জিনিসের শ্রেষ্ঠত্ব বা মহিমা বুঝাতে এটি দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এটি এক মহান শ্রেষ্ঠত্ব এবং এক বিশাল সৌভাগ্য যে মাত্র একজন ব্যক্তিও হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে; তাহলে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী ধারণা হতে পারে যার মাধ্যমে প্রতিদিন বহু মানুষ হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়! নিঃসন্দেহে বিষয়টি আরও মহিমান্বিত। আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের হিদায়াতপ্রাপ্ত ও হিদায়াতদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
[صفات القائم بالإمامة]
[اختيار الإمامة مبني على الأفضلية]صفات القائم بالإمامة مما سبق يتبين لنا أن الإمام معلم وواعظ ومصلح، يربي عقولا، ويبنى نفوسا ويغرس قيما وأخلاقا حميدة، ولذا فإن عمله ليس محصورا بإمامة الناس في الصلاة فقط، وإن كان هذا من أهم الأعمال وأعظمها، وهذه الشمولية في العمل هي التي تضفي على الإمامة طابعا مميزا، وتعطي صاحب هذه المهمة قدرا عظيما، ومركزا مرموقا، ومنزلة عالية، ولكن هل نطالب جميع الأئمة بهذا القدر العظيم من الصفات؟ وهل يستطيع كل إمام يؤمن الناس أو نرشحه لهذا العمل أن يكون بهذا المستوى؟ لا شك أن كل غيور على دين الله، ومشفق على إخوانه، يتمنى أن يكون كل إمام على هذا المستوى الرفيع من العلم، والفقه في الدين، والقدرات المتعددة، والمواهب المتنوعة التي تمكن الإمام من القيام بهذا العمل على أحسن وجه، وتتيح له فرص التأثير في الناس، وكسب قلوبهم فيعم الخير، ويضمحل الجهل والفساد.
غير أنه ليس من الممكن أن يتحقق هذا، ولو حرصنا عليه، ولا أعتقد أن كل إمام يستطيع القيام بالإمامة على النحو الذي أسلفنا، ومن المقرر أن اختيار الإمامة مبني على الأفضلية، حيث قال عليه
[ইমামত সম্পাদনকারীর গুণাবলি]
[ইমামত নির্বাচনের ভিত্তি হলো শ্রেষ্ঠত্ব (الأفضلية)]ইমামত সম্পাদনকারীর গুণাবলি: পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ইমাম হলেন একজন শিক্ষক, উপদেষ্টা এবং সংস্কারক; তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক লালন করেন, আত্মা গঠন করেন এবং উন্নত মূল্যবোধ ও উত্তম চরিত্র রোপণ করেন। তাই তাঁর কাজ কেবল সালাতে মানুষের ইমামতি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, যদিও এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও মহান কাজ। কর্মের এই সামগ্রিকতা ইমামতকে একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য প্রদান করে এবং এই মহান দায়িত্ব পালনকারীকে এক অনন্য মর্যাদা, উচ্চতর অবস্থান এবং সম্মানজনক আসনে অধিষ্ঠিত করে। কিন্তু আমরা কি সকল ইমামের নিকট এই উচ্চস্তরের গুণাবলি দাবি করি? আর প্রত্যেক ইমাম যিনি মানুষের ইমামতি করেন কিংবা যাকে আমরা এই কাজের জন্য মনোনীত করি, তিনি কি এই মানে উত্তীর্ণ হতে সক্ষম? এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহর দ্বীনের প্রতি প্রতিটি একনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং তাঁর ভাইদের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি এটিই কামনা করেন যে, প্রত্যেক ইমাম যেন ইলম, দ্বীনি ফিকহ, বহুমুখী যোগ্যতা এবং বিভিন্ন প্রকার মেধার এমন উচ্চস্তরে আসীন হন যা তাকে এই কাজ সর্বোত্তমভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম করে তোলে এবং মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার ও তাদের অন্তর জয় করার সুযোগ করে দেয়, যাতে কল্যাণ ছড়িয়ে পড়ে এবং মূর্খতা ও বিপর্যয় বিলুপ্ত হয়।
তবে এটি অর্জন করা সম্ভব নয়, এমনকি আমরা যদি এর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি তবুও। আমি মনে করি না যে, প্রত্যেক ইমাম পূর্বে বর্ণিত পন্থায় ইমামতি আঞ্জাম দিতে সক্ষম হবেন। আর এটি সুনির্ধারিত যে, ইমামত নির্বাচনের ভিত্তি হলো শ্রেষ্ঠত্ব (الأفضلية), যেখানে তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الصلاة والسلام: «يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله، فإن كانوا في القراءة سواء فأعلمهم بالسنة، فإن كانوا في السنة سواء فأقدمهم هجرة، فإن كانوا في الهجرة سواء فأكبرهم سنا» (1) .
وهذا التوجيه النبوي الكريم فيه يسر ظاهر؛ لأنه يختلف تماما عن قول القائل يجب أن يكون الإمام حافظا، قارئا، عالما. . . الخ، لأن أقرأ القوم قد لا يكون كذلك، وهذا هو الغالب، وعندما ساق أبو يعلى الفراء الصفات المعتبرة في تقليد الإمام وهي أن يكون رجلا عدلا، قارئا، فقيها، سليم اللفظ من نقص أو لثغ بين رحمه الله: أن أقل ما على هذا الإمام من القراءة والفقه أن يكون حافظا لأم القرآن، عالما بأحكام الصلاة؛ لأنه القدر المستحق فيه، ثم قال ولأن يكون حافظا لجميع القرآن، عالما بجميع الأحكام أولى (2) .
[صفات وشروط تعتير الحد الأدنى لمن يقوم بالإمامة]مما سبق يتبين أن هناك قسما من الصفات يعد حدا أدنى لمن يقوم بالإمامة، وقسما آخر هو الأولى لأن يتصف به القائم بهذا العمل الجليل، وكلما ازداد منه عظم قدره، وارتفع شأنه، وقام بهذا العمل
--------------------------------------------
সালাত ও সালাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «লোকদের ইমামতি করবেন তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাবে সর্বাধিক পারদর্শী (أقرأ) ব্যক্তি। যদি তারা তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে সুন্নাহ সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞানী ব্যক্তি। আর যদি তারা সুন্নাহর ক্ষেত্রেও সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে হিজরতের দিক থেকে অগ্রগামী ব্যক্তি। যদি হিজরতের ক্ষেত্রেও তারা সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে বয়সে জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি» (১)।
এই মহিমান্বিত নববী নির্দেশনার মধ্যে প্রকাশ্য সহজসাধ্যতা রয়েছে; কারণ এটি সেই প্রবক্তার উক্তি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন—যিনি বলেন ইমামকে অবশ্যই হাফেজ (حافظ), ক্বারী (قارئ), আলিম (عالم) ইত্যাদি হতে হবে—কেননা কওমের শ্রেষ্ঠ তিলাওয়াতকারী সম্ভবত এমন না-ও হতে পারেন, আর এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। আবু ইয়ালা আল-ফাররা যখন ইমামতির দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে বিবেচিত গুণাবলি উল্লেখ করেছেন—আর তা হলো তাকে হতে হবে একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل), ক্বারী (قارئ), ফকিহ (فقيه) পুরুষ এবং উচ্চারণগত ত্রুটি বা তোতলামি থেকে মুক্ত—তখন তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) স্পষ্ট করেছেন যে: তিলাওয়াত ও ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এই ইমামের জন্য ন্যূনতম আবশ্যকতা হলো উম্মুল কুরআন মুখস্থ রাখা এবং সালাতের বিধিবিধান সম্পর্কে অবগত হওয়া; কারণ এটিই হলো ইমামতির জন্য আবশ্যিক পরিমাণ। এরপর তিনি বলেছেন: তবে পুরো কুরআন মুখস্থ থাকা এবং সমস্ত বিধিবিধান সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়া অধিকতর উত্তম (২)।
[ইমামতি পালনকারীর জন্য ন্যূনতম গুণাবলি ও শর্তাবলি]উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, গুণাবলির একটি অংশ ইমামতি পালনকারীর জন্য ন্যূনতম সীমা হিসেবে গণ্য হয়, এবং অন্য অংশটি হলো সেই সব গুণাবলি—যার মাধ্যমে এই মহান কাজ সম্পাদনকারীর গুণান্বিত হওয়া উত্তম। এই গুণাবলি তার মধ্যে যত বৃদ্ধি পাবে, তার মর্যাদা তত মহান হবে এবং তার শান তত উন্নত হবে, এবং তিনি এই আমলটি আঞ্জাম দেবেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
العظيم على الوجه الذي يحقق له بفضل الله وكرمه، الفوز برضا الله، والنجاة من عذابه.
وكما قال القائل:
على قدر أهل العزم تأتي العزائم
… وتأتي على قدر الكرام المكارم
وتعظم في عين الصغير الصغائر
… وتصغر في عين العظيم العظائم
فأما القسم الأول فهو كما سبق ذكره أن يكون: رجلا، عدلا، حافظا لأم القرآن، عالما بأحكام الصلاة، سليم اللفظ من نقص أو لثغ.
فالذكورية شرط لصحة الإمامة. قال في المغني: وأما المرأة فلا يصح أن يأتم بها الرجل بحال، في فرض ولا نافلة في قول عامة الفقهاء، ثم استدل بقوله صلى الله عليه وسلم: «لا تؤمن امرأة رجلا، ولا فاجر مؤمنا إلا أن يقهره بسلطان، أو يخاف سوطه أو سيفه» (1) .
وذكر أيضا أن الخنثى لا يجوز أن يؤم رجلا، لأنه يحتمل أن يكون امرأة، ولا خنثى مثله، لأنه لا يجوز أن يكون الإمام امرأة والمأموم رجلا (2) .
أما إمامة المرأة للنساء مثله فلا بأس بذلك.
--------------------------------------------
মহান (আল্লাহর) প্রতি এমনভাবে, যা আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণায় তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর আজাব থেকে মুক্তির পথ সুগম করে।
যেমনটি কবি বলেছেন:
সংকল্পীদের সংকল্প অনুযায়ীই সাফল্য আসে
… আর মহানুভবদের সম্মান অনুযায়ীই বদান্যতা আসে
ছোটদের চোখে সামান্য বিষয়ও অনেক বড় মনে হয়
… আর বড়দের চোখে অনেক বড় বিষয়ও সামান্য মনে হয়
প্রথম বিভাগটি হলো যেমন পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমামকে হতে হবে: একজন পুরুষ, ন্যায়পরায়ণ (عدل), উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) মুখস্থকারী, সালাতের বিধিবিধান সম্পর্কে অবগত এবং উচ্চারণগত ত্রুটি বা জড়তামুক্ত শুদ্ধ উচ্চারণকারী।
ইমামতি সঠিক হওয়ার জন্য পুরুষ হওয়া একটি শর্ত। আল-মুগনি গ্রন্থে বলা হয়েছে: সাধারণ ফকিহগণের মতে, কোনো অবস্থাতেই পুরুষের জন্য কোনো নারীর পেছনে ইকতিদা করা সঠিক নয়, তা ফরজ সালাত হোক কিংবা নফল। অতঃপর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন: "কোনো নারী যেন কোনো পুরুষের ইমামতি না করে এবং কোনো পাপাচারী (فاجر) যেন কোনো মুমিনের (مؤمن) ইমামতি না করে, তবে সে যদি তাকে ক্ষমতার দাপটে বাধ্য করে অথবা সে তার চাবুক বা তলোয়ারের ভয় করে (তবে ভিন্ন কথা)।" (১)।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, কোনো উভয়লিঙ্গ (খুনসা) ব্যক্তির জন্য কোনো পুরুষের ইমামতি করা জায়েজ নয়, কারণ তার নারী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনুরূপভাবে অন্য কোনো উভয়লিঙ্গ ব্যক্তির জন্যও সে ইমাম হতে পারবে না, কারণ নারী ইমাম হওয়া এবং পুরুষ মুক্তাদি হওয়া জায়েজ নয় (২)।
তবে নারীদের নিজেদের মধ্যে নারীর ইমামতি করাতে কোনো অসুবিধা নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والعدالة تعني أن يكون مؤمنا تقيا، ذا عقيدة سليمة، وسلوك مستقيم، وسوف يأتي الحديث عن إمامة الفاسق في عقيدته، أو في سلوكه.
وأما القارئ الفقيه، فأقل ما فيه - كما مر - حفظ أم القرآن، والعلم بأحكام الصلاة، وأما السليم في لفظه من النقص واللثغ فهو بين واضح: يقول الإمام ابن تيمية رحمه الله: وأما من لا يقيم قراءة الفاتحة فلا يصلي خلفه إلا من هو مثله، فلا يصلى خلف الألثغ الذي يبدل حرفا بحرف إلا حرف الضاد إذا أخرجه من طرف الفم كما هو عادة كثير من الناس، فهذا فيه وجهان، منهم من قال لا يصلى خلفه، ولا تصح صلاته في نفسه. . والوجه الثاني: تصح، وهذا أقرب؛ لأن الحرفين في السمع شيء واحد، وحس أحدهما من جنس الآخر لتشابه المخرجين، والقارئ إنما يقصد الضلالة المخالفة للهدى، وهو الذي يفهمه المستمع، فأما المعنى المأخوذ من ظل فلا يخطر ببال أحد، وهذا بخلاف الحرفين المختلفين صوتا ومخرجا وسمعا، كإبدال الراء بالغين، فإن هذا لا يحصل به مقصود القراءة (1) .
وجاء في المغني ما نصه: من ترك حرفا من حروف الفاتحة لعجزه عنه، أو أبداله بغيره كالألثغ الذي يجعل الراء غينا، والأرت الذي
--------------------------------------------
ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) বলতে বোঝায় মুমিন, মুত্তাকি, বিশুদ্ধ আকিদা ও সঠিক আচরণের অধিকারী হওয়া। অচিরেই আকিদা বা আচরণের দিক থেকে পাপিষ্ঠ (فاسق) ব্যক্তির ইমামতি সম্পর্কে আলোচনা আসবে।
আর ফকিহ ক্বারী সম্পর্কে কথা হলো—যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে—তার মধ্যে ন্যূনতম গুণ থাকতে হবে উম্মুল কুরআন মুখস্থ থাকা এবং সালাতের আহকাম সম্পর্কে জ্ঞান থাকা। আর যার উচ্চারণে কোনো ত্রুটি বা তোতলামি নেই, তার বিষয়টি তো স্পষ্ট: ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আর যে ব্যক্তি সুরা ফাতিহা সঠিকভাবে পাঠ করতে পারে না, তার পেছনে কেবল তার মতোই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ সালাত আদায় করবে না। অতএব, এমন তোতলা ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করা যাবে না যে এক হরফকে অন্য হরফ দিয়ে পরিবর্তন করে ফেলে; তবে 'দাদ' (ض) হরফটি ব্যতীত, যখন কেউ তা মুখের এক পাশ দিয়ে উচ্চারণ করে যেমনটি অনেক মানুষের অভ্যাস। এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে; তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, তার পেছনে সালাত আদায় করা যাবে না এবং তার নিজের সালাতও সহিহ (صحيح) হবে না। দ্বিতীয় অভিমতটি হলো: সালাত সহিহ (صحيح) হবে, আর এটিই অধিকতর নিকটবর্তী; কারণ শ্রবণের ক্ষেত্রে এই দুটি হরফ একই অনুভূত হয় এবং মাখরাজ সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে একটির উপলব্ধি অন্যটির সমজাতীয়। ক্বারী কেবল হেদায়েতের বিপরীত গোমরাহিই উদ্দেশ্য করেন এবং শ্রবণকারীও সেটাই বোঝেন। আর 'জিল' (ছায়া) থেকে উদ্ভূত অর্থ কারো মনেই আসে না। এটি সেই দুটি হরফের মতো নয় যাদের শব্দ, মাখরাজ এবং শ্রবণগত পার্থক্য স্পষ্ট, যেমন 'রা' (ر) হরফকে 'গাইন' (غ) দিয়ে পরিবর্তন করা; কেননা এতে কিরাতের উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না (১)।
আল-মুগনি গ্রন্থে এর পাঠ নিম্নরূপ এসেছে: যে ব্যক্তি অক্ষমতার কারণে সুরা ফাতিহার কোনো একটি হরফ ছেড়ে দেয় অথবা অন্য কোনো হরফ দিয়ে তা পরিবর্তন করে ফেলে—যেমন এমন তোতলা ব্যক্তি যে 'রা' (ر) কে 'গাইন' (غ) বানিয়ে ফেলে এবং যার জিহ্বায় জড়তা রয়েছে এমন ব্যক্তি (الأرت) যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يدغم حرفا في حرف، أو يلحن لحنا يحيل المعنى كالذي يكسر الكاف من إياك، أو يضم التاء من أنعمت، ولا يقدر على إصلاحه فهو كالأمي، لا يصح أن يأتم به قارئ، ويجوز لكل واحد منهم أن يؤم مثله؛ لأنهما أميان فجاز لأحدهما الائتمام بالآخر كاللذين لا يحسنان شيئا، وإن كان يقدر على إصلاح شيء من ذلك فلم يفعل لم تصح صلاته، ولا صلاة من يأتم به (1) .
ومن المقرر أن إمامة المجنون لا تصح؛ لأن صلاته لنفسه باطلة، وقد ذكر ابن قدامة أنه إن كان يجن تارة، ويفيق أخرى فصلى وراءه حال إفاقته صحت صلاته، ويكره الائتمام به لئلا يكون قد احتلم حال جنونه، ولم يعلم ولئلا يعرض الصلاة للإبطال في أثنائها لوجود الجنون فيها، والصلاة صحيحة لأن الأصل السلامة فلا تفسد بالاحتمال.
وكذلك لا تصح إمامة الكافر المعلن لكفره كاليهودي والنصراني ونحوهما لنقصه بالكفر. قال في المغني: وإن صلى خلف مشرك أو امرأة أو خنثى مشكل أعاد الصلاة (2) .
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি এক বর্ণকে অন্য বর্ণের সাথে বিলীন (ইদগাম) করে ফেলে, অথবা এমন ভুল উচ্চারণ করে যা অর্থ পরিবর্তন করে দেয়—যেমন 'ইইয়াকা' এর কাফ বর্ণে কাসরা (জের) প্রদান করা, অথবা 'আনআমতা' এর তা বর্ণে পেশ প্রদান করা—এবং সে তা সংশোধন করতে সক্ষম নয়, তবে সে নিরক্ষর ব্যক্তির ন্যায়। কোনো ক্বারীর জন্য এমন ব্যক্তির পেছনে ইকতিদা করা শুদ্ধ (صحيح) নয়। তবে তাদের একে অপরের ইমামতি করা বৈধ; কেননা তারা উভয়েই নিরক্ষর, তাই একজনের জন্য অন্যজনের অনুসরণ করা জায়েজ যেমনটি সেই দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা কিছুই সুন্দরভাবে পড়তে পারে না। আর যদি সে উক্ত ভুল সংশোধনে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তা না করে, তবে তার সালাত এবং তার পেছনে যারা ইকতিদা করেছে তাদের সালাত কোনোটাই শুদ্ধ (صحيح) হবে না (১)।
আর এটি সুনিশ্চিত যে, অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির ইমামতি শুদ্ধ (صحيح) নয়; কারণ তার নিজের সালাতই বাতিল (باطل)। ইবনে কুদামা উল্লেখ করেছেন যে, যদি সে কখনো পাগল থাকে এবং কখনো সুস্থ হয়, তবে তার সুস্থ অবস্থায় কেউ তার পেছনে সালাত আদায় করলে সেই সালাত শুদ্ধ (صحيح) হবে। তবে তার পেছনে সালাত আদায় করা অপছন্দনীয় (مكروه), পাছে সে তার পাগলামি অবস্থায় স্বপ্নদোষগ্রস্ত হয়ে থাকে যা সে জানতে পারেনি, অথবা সালাত চলাকালীন পুনরায় পাগলামি দেখা দিলে সালাতটি বাতিলের সম্মুখীন হতে পারে। তবুও সালাত শুদ্ধ (صحيح) হিসেবে গণ্য হবে; কারণ মূল নীতি হলো সুস্থতা, তাই কেবল সংশয়ের কারণে তা নষ্ট হবে না।
অনুরূপভাবে, প্রকাশ্যে কুফরি পোষণকারী কাফির (كافر)—যেমন ইহুদি, খ্রিস্টান ও তাদের সমগোত্রীয়দের—ইমামতি বৈধ নয়, কারণ কুফরির কারণে তাদের মাঝে অপূর্ণতা রয়েছে। আল-মুগনি গ্রন্থে বলা হয়েছে: যদি কেউ কোনো মুশরিক (مشرك), নারী অথবা জটিল উভয়লিঙ্গ (خنثى مشكل) ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করে, তবে সে সালাত পুনরায় আদায় করবে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولا تصح إمامة الصبي الذي لا يميز لأن صلاته لنفسه غير صحيحة لعدم صحة نيته، أما الصبي المميز فإن إمامته صحيحة لحديث عمرو بن سلمة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لأبيه: «وليؤمكم أكثركم قرآنا فنظروا فلم يكن أحد أكثر قرآنا مني لما كنت أتلقى من الركبان فقدموني بين أيديهم، وأنا ابن ست سنين أو سبع سنين» (1) .
والحد بسن معين غير منضبط، فيعتبر تمييز كل صبي بنفسه؛ لأن من الصبيان من يميز في السبع، ومنهم من يميز بأقل منها ومنهم من لا يميز إلا بأكثر، والله أعلم.
[صفات هي أولى ما يكون عليه الإمام]أما القسم الثاني من الصفات، وهو أولى ما يكون عليه الإمام فيمكن إجماله فيما يلي: أولا: عن صفات علمية، وتتلخص في حفظ القرآن الكريم كله أوجله، وحفظ قدر طيب من السنة، والإلمام بعلوم القرآن، والسنة، والتفسير، والسيرة وفقه الإيمان، وفقه الأحكام، والإطلاع على التاريخ ومعرفة اللغة العربية وعلومها. ومعرفة ما يدور في واقع الأمة، وأبرز قضاياها، وكشف شبهات الباطل ودحض مفترياته، ومعرفة خطط الأعداء، والتحديات المعاصرة الفكرية، والسياسية
--------------------------------------------
যে বালক পার্থক্য করতে সক্ষম নয় (لا يميز), তার ইমামতি সহিহ (صحيحة) নয়; কেননা নিয়ত (نية) শুদ্ধ না হওয়ার কারণে তার নিজের সালাতই সহিহ (صحيحة) নয়। পক্ষান্তরে, যে বালক পার্থক্য করতে সক্ষম (مميز), তার ইমামতি সহিহ (صحيحة); আমর ইবনে সালামাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসের প্রেক্ষিতে, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পিতাকে বলেছিলেন: «তোমাদের মধ্যে যার কোরআনের জ্ঞান সবচাইতে বেশি, সে-ই যেন তোমাদের ইমামতি করে। ফলে তারা অনুসন্ধান করে দেখলেন এবং আমার চেয়ে বেশি কোরআন জানা কাউকে পেলেন না, কারণ আমি আরোহীদের কাছ থেকে তা শিখে নিতাম। অতঃপর তারা আমাকে তাদের সামনে এগিয়ে দিলেন, অথচ তখন আমি মাত্র ছয় বা সাত বছরের বালক ছিলাম» (১)।
আর বয়সের নির্দিষ্ট সীমা দ্বারা এটি সুনির্দিষ্ট নয়, বরং প্রতিটি বালকের নিজস্ব পার্থক্য করার সক্ষমতাকেই (تمييز) বিবেচনা করা হবে; কারণ কিছু বালক সাত বছর বয়সেই পার্থক্য করার সক্ষমতা (تمييز) অর্জন করে, কেউ এর চেয়ে কম বয়সেও তা অর্জন করে, আবার কেউ এর চেয়ে বেশি বয়স ছাড়া তা পারে না। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
[ইমামের জন্য অধিকতর কাম্য গুণাবলি]গুণাবলির দ্বিতীয় প্রকার হলো—যা একজন ইমামের মধ্যে থাকা অধিকতর উত্তম, যা সংক্ষেপে নিম্নরূপ: প্রথমত: জ্ঞানতাত্ত্বিক গুণাবলি; যার সারকথা হলো—সম্পূর্ণ কোরআন বা এর অধিকাংশ মুখস্থ থাকা, সুন্নাহর উল্লেখযোগ্য অংশ মুখস্থ থাকা এবং কোরআন ও সুন্নাহর উলুম (علوم), তাফসির, সিরাত, ঈমানের ফিকহ (فقه) ও আহকামের (বিধান) ফিকহ (فقه) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা। সেইসাথে ইতিহাস পাঠ, আরবি ভাষা ও এর বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে জ্ঞান রাখা এবং উম্মাহর বর্তমান প্রেক্ষাপট ও এর প্রধান সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবহিত থাকা। এছাড়া বাতিলের সংশয়সমূহ উন্মোচন ও তাদের মিথ্যাচার খণ্ডন করা এবং শত্রুদের পরিকল্পনা ও সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে অবগত থাকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والسلوكية التي تواجه شباب المسلمين، ذلك أن من شأن خطيب الجمعة توجيه الناس، وتبصيرهم بأمور دينهم ودنياهم، وغرس الالتزام بالإسلام في حياة الناس، عقيدة، وعبادة، وخلقا وسلوكا، وهذا يحتاج إلى ما أشرنا إليه من الصفات، وإلا ضعف أداؤه لهذا العمل.
ثانيا: صفات عملية. وتتلخص في إخلاصه لله عز وجل، وبعده عن الشهرة، والجاه، وحب الظهور، ولا بد من متابعته للنبي صلى الله عليه وسلم في أقواله وأعماله، وقوة صلته بالله تعالى، وشدة تألهه، وإصلاح سريرته، وصدقه، وغيرته، وورعه وكرمه وحيائه وحسن تعامله، وتواضعه، وصبره، وعفته، وألا يسرف في المباحات؛ لأنه قدوة، وألا يخالف قوله عمله، وأن يكون مشفقا على إخوانه المسلمين، باذلا لهم النصح والدعاء وذا عطف على المحتاجين الفقراء، مستذكرا دائما قوله الله تعالى: {إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} [هود: 88] (1) .
ثالثا: صفات قيادية. وذلك بأن يكون قوي الشخصية، ثابت القلب، ذا حزم ورأي، وثقه بالله تعالى، وشجاعة في غير تهور، وله نظرة بعيدة، وتفكير عميق وعزيمة قوية، ونشاط دائب، وترتيب لأقواله وأفكاره، وأعماله، مستشعرا قول الله تعالى. {الَّذِينَ يُبَلِّغُونَ رِسَالَاتِ اللَّهِ وَيَخْشَوْنَهُ وَلَا يَخْشَوْنَ أَحَدًا إِلَّا اللَّهَ وَكَفَى بِاللَّهِ حَسِيبًا} [الأحزاب: 39] (2) . نسأل الله العظيم بفضله وكرمه أن يمن علينا بذلك.
--------------------------------------------
এবং আচরণগত সমস্যা যা মুসলিম যুবসমাজের মুখোমুখি হয়। এর কারণ হলো জুমুআর খতিবের দায়িত্ব হলো মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করা, তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে সচেতন করা এবং মানুষের জীবনে আকিদাহ (عقيدة), ইবাদত (عبادة), চরিত্র ও আচরণের ক্ষেত্রে ইসলামের প্রতি অঙ্গীকার জাগ্রত করা। আর এর জন্য আমাদের উল্লিখিত গুণাবলি থাকা প্রয়োজন, অন্যথায় এই কাজের ক্ষেত্রে তার কর্মক্ষমতা দুর্বল (ضعف) হয়ে পড়বে।
দ্বিতীয়ত: কর্মগত গুণাবলি। এর সারসংক্ষেপ হলো মহান আল্লাহর প্রতি তার ইখলাস (إخلاص) বা একনিষ্ঠতা এবং প্রসিদ্ধি, পদমর্যাদা ও আত্মপ্রচারের মোহ থেকে দূরে থাকা। তাঁর কথা ও কাজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করা অপরিহার্য। সেই সঙ্গে মহান আল্লাহর সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক, গভীর নিষ্ঠা, অভ্যন্তরীণ পরিশুদ্ধি, সত্যবাদিতা, দ্বীনি আত্মমর্যাদাবোধ, পরহেজগারি (ورع), মহানুভবতা, লজ্জা, উত্তম আচরণ, বিনয়, ধৈর্য ও চারিত্রিক পবিত্রতা থাকা আবশ্যক। তিনি যেন মুবাহ (مباحات) বা অনুমোদিত বিষয়াবলীতে সীমাতিরিক্ত লিপ্ত না হন; কারণ তিনি একজন আদর্শ (قدوة)। তাঁর কথা যেন তাঁর কাজের পরিপন্থী না হয়। তিনি যেন তাঁর মুসলিম ভাইদের প্রতি দয়াপরশ হোন, তাদের জন্য উপদেশ ও দুআ প্রদানকারী এবং অভাবী ও দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন; সর্বদা মহান আল্লাহর এই বাণীটি স্মরণে রেখে: {আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী কেবল সংশোধনই কামনা করি। আর আমার তৌফিক তো কেবল আল্লাহর সাহায্যেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।} [হুদ: ৮৮] (১)।
তৃতীয়ত: নেতৃত্বদানের গুণাবলি। তা হলো তিনি সবল ব্যক্তিত্বের অধিকারী, দৃঢ়চিত্ত, সংকল্প ও সঠিক সিদ্ধান্তের অধিকারী হবেন এবং মহান আল্লাহর ওপর ভরসা ও হঠকারিতামুক্ত সাহসিকতা সম্পন্ন হবেন। তাঁর থাকবে দূরদর্শী দৃষ্টি, গভীর চিন্তা ও শক্তিশালী সংকল্প, নিরলস কর্মতৎপরতা এবং নিজের কথা, চিন্তা ও কাজের সুশৃঙ্খল বিন্যাস। তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীটি উপলব্ধি করবেন: {যারা আল্লাহর রিসালাত (رسالات) বা পয়গাম প্রচার করে এবং তাঁকে ভয় করে, আর আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকেও ভয় করে না। আর হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।} [আল-আহযাব: ৩৯] (২)। আমরা মহান আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও দানশীলতার মাধ্যমে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এগুলো দান করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[إمامة الفاسق ومستور الحال]إمامة الفاسق ومستور الحال والعاجز الفسق إما في الاعتقاد، وإما في الأعمال، والأول فساد في العقيدة وهذا هو المبتدع، والثاني فساد في السلوك بارتكاب كبيرة من كبائر الذنوب أو الإصرار على صغيرة من الصغائر كشرب الدخان، وحلق اللحية ونحو ذلك.
وقد اتفق العلماء على كراهة الصلاة خلف الفاسق من أي نوع من الأنواع السابقة، ولكن اختلفوا في صحة الصلاة خلفه والذي رجحه الإمام ابن تيمية رحمه الله، وأن الصلاة خلف أهل الأهواء والبدع والفجور صحيحة، حيث قال: الفاسق والمبتدع صلاته في نفسه صحيحة، فإذا صلى المأموم خلفه لم تبطل صلاته، لكن إنما كره من كره الصلاة خلفه لأن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر واجب، ومن ذلك أن من أظهر بدعة أو فجورا لا يرتب إماما للمسلمين؛ فإنه يستحق التعزير حتى يتوب، فإذا أمكن هجره حتى يتوب كان حسنا، وإذا كان بعض الناس إذا ترك الصلاة خلفه وصلى خلفه غيره أثر ذلك حتى يتوب أو يعزل أو ينتهي الناس عن مثل ذنبه فمثل هذا إذا ترك الصلاة خلفه كان فيه مصلحة، ولم يفت المأموم جمعة ولا جماعة، وإما إذا كان ترك الصلاة يفوت المأموم الجمعة والجماعة فهنا
[পাপাচারী (فاسق) এবং অবস্থা অজ্ঞাত (مستور الحال) ব্যক্তির ইমামতি]পাপাচারী (فاسق), অবস্থা অজ্ঞাত (مستور الحال) এবং অক্ষম ব্যক্তির ইমামতি। পাপাচার (فسق) হয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে, অথবা আমল বা কর্মের ক্ষেত্রে। প্রথমটি হলো আকিদা বা বিশ্বাসের বিচ্যুতি, আর এই ব্যক্তিই হলো বিদআতকারী (مبتدع)। দ্বিতীয়টি হলো আচরণগত বিচ্যুতি, যা কোনো কবিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়া অথবা কোনো সগিরা গুনাহের ওপর অটল থাকার মাধ্যমে ঘটে; যেমন— ধূমপান করা, দাড়ি মুণ্ডানো এবং অনুরূপ অন্যান্য কাজ।
পূর্বোক্ত যেকোনো প্রকারের পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় অপছন্দনীয় (مكروه) হওয়ার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তবে তাঁর পেছনে সালাত সঠিক (صحيح) হওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) যে মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন তা হলো— প্রবৃত্তি পূজারি, বিদআত (بدعة) এবং পাপাচারের (فجور) অনুসারীদের পেছনে সালাত সঠিক (صحيح)। তিনি বলেছেন: পাপাচারী (فاسق) এবং বিদআতকারী (مبتدع) ব্যক্তির সালাত তাঁর নিজের ক্ষেত্রে সঠিক (صحيح); সুতরাং মুক্তাদি যখন তাঁর পেছনে সালাত আদায় করবেন, তখন তাঁর সালাত বাতিল হবে না। তবে যারা তাঁর পেছনে সালাত আদায় করাকে অপছন্দ করেছেন, তাঁরা কেবল এ কারণেই করেছেন যে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা ওয়াজিব (واجب)। এর অন্তর্ভুক্ত হলো, যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে বিদআত (بدعة) বা পাপাচার (فجور) প্রকাশ করবে, তাকে মুসলিমদের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করা উচিত নয়; কারণ সে তওবা না করা পর্যন্ত শাস্তির (تعزير) যোগ্য। সুতরাং সে তওবা করা পর্যন্ত যদি তাকে বর্জন (هجر) করা সম্ভব হয়, তবে তা হবে উত্তম (حسن)। আর যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, কিছু মানুষ তাঁর পেছনে সালাত ত্যাগ করলে এবং অন্য কারো পেছনে সালাত আদায় করলে সেটি তাঁর তওবা করার ক্ষেত্রে, অথবা তাঁকে পদচ্যুত করার ক্ষেত্রে, কিংবা মানুষকে এ জাতীয় গুনাহ থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে, তবে এরূপ ব্যক্তির পেছনে সালাত ত্যাগ করার মধ্যে জনকল্যাণ (مصلحة) নিহিত রয়েছে, যদি এর ফলে মুক্তাদির জুমুআ কিংবা জামাত কোনোটিই ছুটে না যায়। পক্ষান্তরে, যদি সালাত ত্যাগ করার ফলে মুক্তাদির জুমুআ ও জামাত ছুটে যাওয়ার উপক্রম হয়, তবে এক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
لا يترك الصلاة خلفهم إلا مبتدع مخالف للصحابة رضي الله عنهم (1) .
وقد بين رحمه الله في موضع آخر أن على ولاة الأمر ألا يرتبوا مثل هؤلاء أئمة، لكن إذا رتبوا أئمة، ولم يكن في الإمكان الصلاة خلف غيرهم فإنه يصلى خلفهم خوفا من فوات الجمعة والجماعة (2) .
فالشيخ رحمه الله يوازن بين أمرين: أحدهما عدم إمكانية الصلاة خلف غيرهم، وبهذا تفوت عليه الجمعة والجماعة، الآخر الصلاة خلف الفاسق، وبهذا تتم له الجمعة والجماعة، وهنا يرجح الشيخ ارتكاب أخف الضررين، وتفويت أعظم المفسدين.
وهذا هو ما أجاب به عثمان رضي الله عنه عندما دخل عليه عبيد الله بن عدي بن الخيار، وهو محصور فقال: إنك إمام عامة، ونزل بك ما ترى، ويصلي لنا إمام فتنة، ونتحرج، فقال: الصلاة أحسن ما يعمل الناس، فإذا أحسن الناس فأحسن معهم، وإذا أساءوا فاجتنب إساءتهم (3) .
--------------------------------------------
তাদের পেছনে সালাত ত্যাগ করে না কেবল সেই বিদআতী (مبتدع), যে সাহাবায়ে কেরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বিরোধী (১)।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) অন্য এক স্থানে বর্ণনা করেছেন যে, দায়িত্বশীলদের কর্তব্য হলো এই ধরনের ব্যক্তিদের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত না করা। কিন্তু যদি তারা ইমাম নিযুক্ত হন এবং অন্যদের পেছনে সালাত আদায়ের কোনো সুযোগ না থাকে, তবে জুমুআ ও জামাআত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কায় তাদের পেছনেই সালাত আদায় করতে হবে (২)।
শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) এখানে দুটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেছেন: একটি হলো অন্যদের পেছনে সালাত পড়ার অসম্ভবপরতা, যার ফলে জুমুআ ও জামাআত উভয়ই ছুটে যায়; অন্যটি হলো পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করা, যার মাধ্যমে জুমুআ ও জামাআত সম্পন্ন হয়। এক্ষেত্রে শাইখ অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর বিষয়টি গ্রহণ করা এবং বড় ক্ষতি এড়ানোকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
আর এটিই ছিল উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সেই জবাব, যখন উবাইদুল্লাহ ইবনে আদি ইবনুল খিয়ার তাঁর কাছে প্রবেশ করেন—সেসময় তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন। তিনি (উবাইদুল্লাহ) বললেন: "আপনি সর্বসাধারণের ইমাম, অথচ আপনার ওপর যা আপতিত হয়েছে তা আপনি দেখতেই পাচ্ছেন। আমাদের সালাত পড়াচ্ছেন ফিতনাকারী এক ইমাম, আর আমরা এ নিয়ে সংকীর্ণতা বোধ করছি।" তখন তিনি (উসমান) বললেন: "মানুষ যা আমল করে তার মধ্যে সালাত হলো সর্বোত্তম। সুতরাং মানুষ যখন ভালো কাজ করে, আপনিও তাদের সাথে ভালো কাজে শরিক হোন। আর যখন তারা মন্দ কাজ করে, তখন তাদের মন্দ কাজ এড়িয়ে চলুন (৩)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ومن المعلوم أن هذا الإمام قد شق عصا الطاعة، وخرج على إمام المسلمين فهو إمام فتنة، وصاحب بدعة، ومع ذلك أجاز عثمان رضي الله عنه الصلاة خلفه. وابن عمر رضي الله عنهما معروف بشدة تحفظه، ومع ذلك فقد أثر عنه أنه كان يصلي خلف الخشبية والخوارج زمن ابن الزبير وهم يقتتلون، فقيل له أتصلي مع هؤلاء وبعضهم يقتل بعضا فقال: من قال حي على الصلاة أجبته، ومن قال حي على الفلاح أجبته، ومن قال حي على قتل أخيك المسلم وأخذ ماله قلت لا (1) .
ويوازن الإمام ابن تيمية رحمه الله بين أمرين أيضا: أحدهما دفع الإمام بضرر زائد على إمامته، والآخر: الصلاة خلفه، فيرى عدم جواز دفعه إذا كان يترتب على ذلك ضرر أكبر فيقول: فإذا لم يكن منع المظهر للبدعة والفجور إلا بضرر زائد على ضرر إمامته لم يجز ذلك، بل يصلى خلفه ما لا يمكنه فعلها إلا خلفه، كالجمع والأعياد إذا لم يكن هناك إمام غيره، ولهذا كان الصحابة يصلون خلف الحجاج، والمختار بن أبي عبيد الثقفي وغيرهما الجمعة والجماعة، فإن تفويتها الجمعة والجماعة أعظم فسادا من الاقتداء فيهما بإمام فاجر، لا سيما
--------------------------------------------
এটি সুবিদিত যে, এই ইমাম আনুগত্যের বন্ধন ছিন্ন করেছেন এবং মুসলিমদের ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন; সুতরাং তিনি বিশৃঙ্খলার ইমাম (إمام فتنة) এবং নব-উদ্ভাবিত মতবাদের অনুসারী (صاحب بدعة)। তা সত্ত্বেও উসমান (রা.) তাঁর পেছনে সালাত আদায় করা বৈধ ঘোষণা করেছেন। ইবনে উমর (রা.) তাঁর কঠোর সতর্কতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন, তা সত্ত্বেও তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইবনে যুবাইর (রা.)-এর যুগে খাশাবিয়্যাহ ও খারেজীদের পেছনে সালাত আদায় করতেন যখন তারা পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আপনি কি এদের সাথে সালাত আদায় করবেন অথচ তাদের একাংশ অপর অংশকে হত্যা করছে?" তিনি উত্তরে বললেন: "যে ব্যক্তি 'হাইয়া আলাস সালাহ' বলবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব; যে 'হাইয়া আলাল ফালাহ' বলবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কিন্তু যে বলবে 'তোমার মুসলিম ভাইকে হত্যা করতে এবং তার সম্পদ লুণ্ঠন করতে আসো', আমি তাকে বলব 'না'।" (১)।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) আরও দুটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য বিধান করেছেন: একটি হলো ইমামের ইমামতির ফলে সৃষ্ট ক্ষতির চেয়ে বড় কোনো ক্ষতির মাধ্যমে তাঁকে প্রতিহত করা, আর অন্যটি হলো তাঁর পেছনে সালাত আদায় করা। এমতাবস্থায় তিনি তাঁকে প্রতিহত করা বৈধ মনে করেন না যদি তার ফলে আরও বড় কোনো ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তিনি বলেন: "যদি বিদআত (بدعة) ও পাপাচার (فجور) প্রকাশকারীকে প্রতিহত করতে গিয়ে তার ইমামতির ক্ষতির চেয়ে অধিকতর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়, তবে তা বৈধ নয়। বরং তার পেছনে এমন সালাত আদায় করা যাবে যা অন্য কোথাও আদায় করা সম্ভব নয়, যেমন জুমা ও ঈদের সালাত—যদি সেখানে তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইমাম না থাকেন। এই কারণেই সাহাবায়ে কেরাম হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, মুখতার বিন আবি উবায়েদ আস-সাকাফি এবং অন্যদের পেছনে জুমা ও জামাতে সালাত আদায় করতেন। কেননা জুমা ও জামাত বর্জন করার ফাসাদ বা বিপর্যয় পাপাচারী (فاجر) ইমামের পেছনে ইক্তিদা করার চেয়ে অনেক বেশি বড়, বিশেষ করে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
إذا كان التخلف عنهما لا يدفع فجوره فيبقى ترك المصلحة الشرعية بدون دفع تلك المفسدة، ولهذا كان التاركون للجمعة والجماعات خلف أئمة الجور مطلقا معدودين عند السلف والأئمة من أهل البدع (1) .
أما الفاسق من جهة الأعمال فالذي أفتى به سماحة الشيخ عبد العزيز بن باز حفظه الله، وقد أفتى بذلك أيضا سماحة الشيخ عبد الله بن حميد رحمه الله، أن الصلاة خلفه صحيحة إن شاء الله، مع ملاحظة أنه لا ينبغي أن يصلى خلفه إذا وجد من هو أمثل منه، وقد أشار الشيخ عبد المحسن المنيف إلى هذه الفتوى في كتابه أحكام الإمامة والائتمام في الصلاة، وذكر هذا القول عن أبي حنيفة، ورواية عن مالك اختارها كثير من متأخري المالكية، وهو مذهب الشافعي، ورواية عن أحمد رحمهم الله جميعا (2) .
وقد استدلوا بقوله صلى الله عليه وسلم لأبي ذر رضي الله عنه: «كيف أنت إذا كان عليك أمراء يؤخرون الصلاة عن وقتها قال قلت: فما تأمرني؟ قال: صل الصلاة لوقتها فإن أدركتها معهم فصل فإنها لك نافلة» (3) .
--------------------------------------------
যদি তাদের (জুমুআ ও জামাত) থেকে বিরত থাকা তাদের পাপাচারকে প্রতিহত করতে না পারে, তবে সেই অনিষ্ট প্রতিহত করা ছাড়াই শরয়ী কল্যাণ বর্জন করা অবশিষ্ট থেকে যায়। এই কারণেই, যারা স্বৈরাচারী ইমামদের পেছনে ঢালাওভাবে জুমুআ ও জামাত বর্জন করে, তারা সালাফ ও ইমামগণের নিকট বিদআতপন্থীদের (أهل البدع) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য (১)।
আর আমলের দিক থেকে পাপাচারী (الفاسق) ব্যক্তির ক্ষেত্রে, পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন) যে ফাতওয়া দিয়েছেন—এবং পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-ও অনুরূপ ফাতওয়া দিয়েছেন—তাহলো, তার পেছনে সালাত শুদ্ধ (صحيحة) ইনশাআল্লাহ। তবে লক্ষ্যণীয় যে, যদি তার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি পাওয়া যায় তবে তার পেছনে সালাত পড়া উচিত নয়। শাইখ আব্দুল মুহসিন আল-মুনিফ তাঁর ‘আহকামুল ইমামতি ওয়াল ইতিমাম ফিস সালাত’ গ্রন্থে এই ফাতওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং তিনি ইমাম আবু হানিফা থেকে এই মতটি উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়াও ইমাম মালিক থেকে একটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন যা পরবর্তীকালের অনেক মালিকি আলিম গ্রহণ করেছেন; এটিই ইমাম শাফিয়ীর মাযহাব (مذهب) এবং ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহম করুন) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) (২)।
তারা আবু যর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: «তোমার অবস্থা কেমন হবে যখন তোমার ওপর এমন শাসক নিযুক্ত হবে যারা সালাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বিত করবে? তিনি (আবু যর) বললেন: আমি বললাম, আপনি আমাকে কী আদেশ করেন? তিনি বললেন: তুমি সঠিক সময়ে সালাত আদায় করে নাও। এরপর যদি তাদের সাথে সালাত পাও তবে পুনরায় আদায় করো, কারণ এটি তোমার জন্য নফল (نافلة) হিসেবে গণ্য হবে» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وبحديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «يصلون لكم، فإن أصابوا فلكم ولهم، وإن أخطأوا فلكم وعليهم» (1) . وأدلة أخرى ليس هذا موضع بسطها كما استدلوا بفعل الصحابة رضي الله عنهم كابن عمر وأبي سعيد الخدري والحسن والحسين وغيرهم (2) والله أعلم.
أما مستور الحال فيجوز للرجل أن يصلي الصلوات الخمس والجمعة وغير ذلك خلف من لم يعلم منه بدعة ولا فسقا باتفاق الأئمة الأربعة وغيرهم من أئمة المسلمين كما ذكر ذلك الإمام ابن تيمية رحمه الله قال: وليس من شروط الائتمام أن يعلم المأموم اعتقاد إمامه، ولا أن يمتحنه، فيقول ماذا تعتقد؟ بل يصلى خلف مستور الحال (3) . والله أعلم.
[إمامة العاجز]إمامة العاجز إتماما للفائدة أشير إلى هذه المسألة، وقد بسط الإمام ابن قدامة (4) الكلام فيها، وبين أن المستحب للإمام إذا مرض، وعجز عن القيام أن
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তারা তোমাদের ইমামতি করবে; যদি তারা সঠিক পদ্ধতিতে তা সম্পন্ন করে তবে তা তোমাদের জন্য এবং তাদের জন্য (উভয়ের জন্যই সওয়াব)। আর যদি তারা ভুল করে তবে তোমাদের জন্য (সওয়াব) আর তাদের উপর (তার দায়) বর্তাবে» (১)। এবং আরও অন্যান্য দলিল রয়েছে যা বিস্তারিত আলোচনার স্থান এখানে নয়। যেমন তাঁরা সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) আমল দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যেমন ইবনে উমর, আবু সাঈদ আল-খুদরি, হাসান, হুসাইন এবং অন্যান্যগণ (২)। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
পক্ষান্তরে যার অভ্যন্তরীণ অবস্থা অজ্ঞাত (مستور الحال), তার ক্ষেত্রে আইম্মাহ আরবাআ (চার ইমাম) এবং মুসলিমদের অন্যান্য ইমামগণের ঐক্যমতে এমন ব্যক্তির পেছনে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, জুমুআ এবং অন্যান্য সালাত আদায় করা বৈধ, যার থেকে কোনো বিদআত (بدعة) বা ফাসেকী (فسقا) প্রকাশ পায়নি। যেমনটি ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "ইমামের অনুসরণ (ائتمام) করার জন্য এটি কোনো শর্ত নয় যে, মুক্তাদি তার ইমামের আকিদা (اعتقاد) সম্পর্কে জানবে অথবা তাকে পরীক্ষা করবে এই বলে যে, 'তোমার আকিদা কী?' বরং যার অভ্যন্তরীণ অবস্থা অজ্ঞাত (مستور الحال) তার পেছনে সালাত আদায় করা যাবে" (৩)। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
[অক্ষম ব্যক্তির (عاجز) ইমামতি]অক্ষম ব্যক্তির (عاجز) ইমামতি প্রসঙ্গে আলোচনার পূর্ণতার খাতিরে আমি এই মাসআলাটির দিকে ইঙ্গিত করছি। ইমাম ইবনে কুদামা (৪) এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, ইমাম যখন অসুস্থ হন এবং দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ে অক্ষম (عاجز) হন তখন পছন্দনীয় (مستحب) হলো যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يستخلف؛ لأن الناس اختلفوا في صحة إمامته، فيخرج من الخلاف؛ ولأن صلاة القائم أكمل فيستحب أن يكون الإمام كامل الصلاة، ثم قال: فإن صلى بهم قاعدا جاز، ويصلون من ورائه جلوسا، فعل ذلك أربعة من الصحابة، ثم ساق الأدلة عليه، ومنها حديث عائشة رضي الله عنها، قالت: «صلي النبي صلى الله عليه وسلم في بيته وهو شاك فصلى جالسا، وصلى وراءه قوم قياما فأشار إليهم أن اجلسوا، فلما انصرف قال إنما جعل الإمام ليؤتم به» (1) 0 0 0 0 الحديث. .
وهذا إذا ابتدأ الإمام الصلاة قاعدا فإن من خلفه يصلون قعودا، وإذا ابتدأ قائما ثم عجز في أثناء الصلاة عن القيام صلى من خلفه قياما، كما حصل في مرض النبي صلى الله عليه وسلم حين خرج وجلس إلى جنب أبي بكر رضي الله عنه الذي بدأ الصلاة بالناس قائما، ثم جعل يصلي وهو قائم بصلاة النبي صلى الله عليه وسلم، والناس بصلاة أبي بكر رضي الله عنه، والنبي صلى الله عليه وسلم قاعد (2) .
--------------------------------------------
(ইমামের উচিত) কাউকে স্থলাভিষিক্ত করা; কারণ তাঁর ইমামতির বৈধতা (صحة) নিয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, ফলে এর মাধ্যমে মতভেদ থেকে বের হওয়া যায়; আর যেহেতু দণ্ডায়মান ব্যক্তির সালাত অধিকতর পূর্ণাঙ্গ, তাই ইমামের সালাত পূর্ণাঙ্গ হওয়া মুস্তাহাব (مستحب)। অতঃপর তিনি বললেন: যদি তিনি তাঁদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করেন তবে তা বৈধ (جائز), এবং তাঁরা তাঁর পেছনে বসেই সালাত আদায় করবেন। চারজন সাহাবী এমনটি করেছেন। অতঃপর তিনি এর সপক্ষে দলীলসমূহ উপস্থাপন করেছেন, যার মধ্যে আয়েশা (রা.)-এর হাদিস রয়েছে, তিনি বলেন: «নবী (সা.) অসুস্থ অবস্থায় তাঁর ঘরে সালাত আদায় করলেন এবং তিনি বসে সালাত পড়লেন। তাঁর পেছনে একদল লোক দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, তখন তিনি তাঁদেরকে বসে পড়ার সংকেত দিলেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে তাঁকে অনুসরণ করা হয়» (১)... হাদিস।
আর এটি তখনই প্রযোজ্য যখন ইমাম বসে সালাত শুরু করবেন, তখন তাঁর পেছনের মুক্তাদিগণ বসেই সালাত আদায় করবেন। আর যদি তিনি দাঁড়িয়ে শুরু করেন এবং সালাতের মাঝখানে দণ্ডায়মান হতে অক্ষম হয়ে পড়েন, তবে তাঁর পেছনের মুক্তাদিগণ দাঁড়িয়েই সালাত আদায় করবেন; যেমনটি নবী (সা.)-এর অসুস্থতার সময় ঘটেছিল যখন তিনি বের হলেন এবং আবু বকর (রা.)-এর পাশে বসলেন, যিনি মানুষের সাথে দাঁড়িয়ে সালাত শুরু করেছিলেন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে নবী (সা.)-এর সালাত অনুসরণ করে সালাত আদায় করতে লাগলেন এবং মানুষ আবু বকর (রা.)-এর সালাত অনুসরণ করছিল, আর নবী (সা.) বসা ছিলেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
[مسئولية إمامة المسجد]
[أولا القدر المشترك من المسئولية]
[لا يصح للإمام أن يفرط في مسئوليته]مسئولية إمامة المسجد أولا: القدر المشترك من المسئولية المسئولية هي: شعور المرء بتبعته في كل أمر يوكل إليه، وإدراكه الجازم بأنه مسئول عنه أمام ربه عز وجل حينما يفرط في القيام به، ويتساهل في أدائه على الوجه الذي يستطيعه، والمسئولية تكليف بما يطيق بحيث لا يقعد الإمام عن سبب من أسباب القيام بهذا العمل على الوجه المطلوب وهو في طاقته ووسعه إلا ويبذله؛ لأنه متمم لعمله، وسبب موصل إلى إتقانه، وما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب.
وإذا كانت المسئولية مرتبطة بوسع الإنسان وطاقته لأنها تكليف، والله لا يكلف نفسا إلا وسعها، فإن الأئمة كما هو معلوم ليسوا على درجة واحدة من القدرات والمواهب حتى نوحد مسئولية الجميع، مغفلين تفاوت قدراتهم وتباين مواقعهم؛ ذلك أن منهم الإمام العالم، ومنهم طالب العلم، ومنهم دون ذلك، بل لا أبالغ إذا قلت بأن منهم من هو في عداد الأميين الذين لا يحسنون قراءة الفاتحة، وإذا أحسنوا القراءة فإنهم لا يعلمون كثيرا من أحكام الصلاة على الوجه الذي يمكنهم من القيام بالإمامة على وجهها الصحيح.
[মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব][প্রথমত: দায়িত্বের সাধারণ ক্ষেত্র][ইমামের জন্য নিজ দায়িত্বে অবহেলা করা সমীচীন নয়]মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব। প্রথমত: দায়িত্বের সাধারণ ক্ষেত্র। দায়িত্ব হলো: প্রতিটি অর্পিত কাজের পরিণাম সম্পর্কে ব্যক্তির সচেতনতা এবং এই দৃঢ় উপলব্ধি যে, সেই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে বা সামর্থ্য অনুযায়ী তা আদায়ে শিথিলতা প্রদর্শন করলে তাকে তার মহান রবের সামনে জবাবদিহি করতে হবে। দায়িত্ব হলো সাধ্যাতীত নয় এমন বিষয়ের ওপর অর্পিত কর্তব্য (تكليف), যাতে ইমাম এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের কোনো উপকরণ গ্রহণ থেকে বিরত না থাকেন যা তার সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে; বরং তা সম্পাদন করার জন্য যথাসাধ্য প্রচেষ্টা ব্যয় করেন। কেননা এটি তার কর্মের পূর্ণতাদানকারী এবং তা নিখুঁত করার মাধ্যম। আর 'যা ছাড়া ওয়াজিব (واجب) বা অপরিহার্য বিষয় সম্পন্ন হয় না, তাও ওয়াজিব (واجب)'।
যদি দায়িত্ব মানুষের সামর্থ্য ও শক্তির সাথে সম্পৃক্ত হয় কারণ এটি একটি অর্পিত কর্তব্য (تكليف), আর আল্লাহ কোনো সত্তাকেই তার সাধ্যাতীত কোনো নির্দেশ দেন না; তবে ইমামগণ যেমনটি সর্বজনবিদিত যে, তারা যোগ্যতা ও মেধার দিক থেকে একই স্তরের নন যে আমরা সবার দায়িত্বকে অভিন্ন করে দেব। তাদের যোগ্যতার তারতম্য এবং অবস্থানের ভিন্নতাকে উপেক্ষা করা সংগত হবে না; কারণ তাদের মধ্যে কেউ বিদগ্ধ আলেম (عالم), কেউ ইলম অন্বেষী (طالب العلم), আবার কেউ এর চেয়েও নিম্ন পর্যায়ের। এমনকি আমি যদি বলি যে তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা নিরক্ষরদের পর্যায়ভুক্ত, যারা সুরা ফাতেহা সঠিকভাবে পাঠ করতে পারে না, তবে তা কোনো অতিরঞ্জন হবে না। আর যদি তারা কিরাত সঠিকভাবে পাঠ করতে সক্ষমও হয়, তবুও তারা নামাজের অনেক আহকাম (أحكام) বা বিধিবিধান সম্পর্কে এমনভাবে অবগত নয় যা তাদের সঠিকভাবে ইমামতি আঞ্জাম দেওয়ার উপযোগী করে তোলে।
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وبناء على ما تقدم فإن المسئولية تختلف باختلاف أحوال الأئمة، وهذا ما سأفصل الحديث فيه فيما بعد، ولكنه يوجد قدر مشترك من المسئولية يتحمله الجميع بمختلف أحوالهم، ولا يصح لأي إمام أن يفرط في هذا القدر من المسئولية بغير عذر ويمكن إجمال هذا القدر المشترك في الأمور الآتية:
أولا: الإمام مكلف من قبل ولي الأمر بعمل أعطي عليه رزقا (1) ليقوم به على النحو الذي طلب منه، إمامة الفروض، أو إمامة الفروض والجمعة، أو إمامة الجمعة فقط، أو إمامة الاحتياط متى ما احتيج إليه في أي وقت، أو إمامة بعض الفروض، والمهم في هذا كله أنه قد أسند إليه عمل، وأعطي عليه رزقا معينا، فهل يصح له أن يتساهل في هذا العمل؟ إن تساهله في أداء هذا العمل الذي قد اؤتمن عليه يعد إضاعة للأمانة وتفريطا يؤاخذ عليه، وربما يكون قدوة سيئة لبعض الناس يقتدون به في إضاعة أعمالهم، والتفريط في أماناتهم فيكون عليه وزر التفريط في العمل، ووزر الاقتداء به في ذلك.
--------------------------------------------
পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে দায়িত্বের ধরণ ইমামগণের অবস্থার প্রেক্ষিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়। এ বিষয়ে আমি পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করব। তবে দায়িত্বের একটি সাধারণ পর্যায় রয়েছে যা সকল ইমামকেই তাঁদের অবস্থা নির্বিশেষে বহন করতে হয়। কোনো ইমামের পক্ষেই গ্রহণযোগ্য কোনো ওজর ব্যতীত এই সাধারণ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা সমীচীন নয়। এই সাধারণ বা যৌথ দায়বদ্ধতাকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে সংক্ষেপে বর্ণনা করা যেতে পারে:
প্রথমত: ইমামকে রাষ্ট্রপ্রধান বা কর্তৃপক্ষের (ولي الأمر) পক্ষ থেকে এমন একটি কাজের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে যার বিনিময়ে তাঁকে ভাতা (رزق) (১) প্রদান করা হয়, যাতে তিনি নির্দেশিত পদ্ধতিতে তা পালন করেন; যেমন ফরয নামাযের ইমামতি, অথবা ফরয ও জুমুআ উভয় নামাযের ইমামতি, অথবা কেবল জুমুআর ইমামতি, কিংবা যখনই প্রয়োজন হবে তখনকার জন্য জরুরি ইমামতি (إمامة الاحتياط), অথবা কিছু ফরয নামাযের ইমামতি। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁর ওপর একটি কাজ ন্যস্ত করা হয়েছে এবং তাঁর জন্য একটি নির্দিষ্ট ভাতা প্রদান করা হয়েছে। এমতাবস্থায় এই কাজে কি তাঁর শিথিলতা প্রদর্শন করা বৈধ হবে? আমানত হিসেবে তাঁর কাছে যে দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে, তা পালনে শিথিলতা প্রদর্শন করা আমানত বিনষ্ট করা এবং এমন এক অবহেলা (تفريط) হিসেবে গণ্য হবে যার জন্য তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে। এমনকি তিনি কিছু মানুষের জন্য মন্দ আদর্শ (قدوة سيئة) হয়ে দাঁড়াতে পারেন, যারা নিজেদের কর্মক্ষেত্রে ও আমানত রক্ষায় তাঁর এই অবহেলার অনুসরণ করবে; ফলে তাঁর ওপর নিজ কাজে অবহেলার গুনাহ এবং তাঁর অনুসরণের কারণে সৃষ্ট গুনাহ—উভয়টিই বর্তাবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ولقد شاع في الناس مقولة القائلين بأن إمامنا يتخلف عنا أوقاتا كثيرة، ورأينا من اقتدى بإمامه في إضاعة العمل الذي أسند إليه؛ ذلك أن الإمام قدوة، وله عند الناس مكانة تجعلهم ينظرون إليه دائما في أقواله وأفعاله، فإما نظرة حب وإعجاب فهو قدوة حسنة، وإما نظرة بغض وازدراء فهو قدوة سيئة لضعيف الإيمان وهو على من عداهم ثقيل غير محتمل.
[كسب قلوب الناس وجعلهم يحبون التردد على المساجد]ثانيا: كسب قلوب الناس، وجعلهم يحبون التردد على المساجد، ويحافظون على الجماعة مطلب عظيم لا يخفى على أحد ثمراته الطيبة، وضد ذلك مفسدة يجب دفعها، وقطع أسبابها، وهذه مسئولية الإمام الذي إذا اخلص نيته، وفقه سنة نبيه محمد صلى الله عليه وسلم في مراعاة أحوال المصلين بحيث لا يشق عليهم فيطيل بهم ويفتنهم وينفرهم، فإنه يكون بذلك محببا ومؤثرا في الناس ومرغبا لهم في هذا الفضل العظيم.
ولذا حث النبي صلى الله عليه وسلم على التجوز، وحذر في موعظة قوية من التنفير، فقد جاء عن أبي مسعود رضي الله عنه أن رجلا قال: والله يا رسول الله إني لأتأخر عن صلاة الغداة من أجل فلان مما يطيل بنا، قال أبو مسعود: فما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في موعظة أشد غضبا منه
মানুষের মধ্যে এই কথাটি প্রচলিত হয়ে গেছে যে, আমাদের ইমাম প্রায়ই আমাদের ছেড়ে অনুপস্থিত থাকেন। আমরা এমন ব্যক্তিদের দেখেছি যারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অবহেলা করার ক্ষেত্রে ইমামের অনুসরণ করে; কারণ ইমাম হলেন একজন আদর্শ, এবং মানুষের কাছে তাঁর এমন একটি মর্যাদা রয়েছে যা তাঁদেরকে সর্বদা তাঁর কথা ও কাজের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং ইমামের প্রতি যদি ভালোবাসা ও প্রশংসার দৃষ্টি থাকে তবে তিনি একজন উত্তম আদর্শ হিসেবে পরিগণিত হন, আর যদি ঘৃণা ও অবজ্ঞার দৃষ্টি থাকে তবে তিনি দুর্বল (ضعيف) ঈমান সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য একজন মন্দ আদর্শ হয়ে ওঠেন; এবং অন্যদের কাছে তিনি একজন অসহনীয় ও ভারী বোঝা হিসেবে গণ্য হন।
[মানুষের অন্তর জয় করা এবং তাদেরকে মসজিদে যাতায়াতে আগ্রহী করে তোলা]দ্বিতীয়ত: মানুষের অন্তর জয় করা, তাদেরকে মসজিদে যাতায়াতে আগ্রহী করে তোলা এবং জামাতের প্রতি যত্নশীল করা একটি মহান লক্ষ্য, যার সুফল কারও কাছে অজানা নয়। এর বিপরীত বিষয়টি হলো একটি অনিষ্ট, যা প্রতিহত করা এবং তার কারণগুলো নির্মূল করা অপরিহার্য। এটি মূলত ইমামের দায়িত্ব; তিনি যদি তাঁর নিয়তকে বিশুদ্ধ করেন এবং মুসল্লিদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখার ক্ষেত্রে তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করেন—যাতে তিনি দীর্ঘ সালাত আদায়ের মাধ্যমে তাঁদের জন্য কষ্টদায়ক না হন, তাঁদেরকে ফিতনায় না ফেলেন কিংবা তাঁদেরকে বিমুখ না করেন—তবে তিনি মানুষের কাছে প্রিয় ও প্রভাবশালী হতে পারবেন এবং তাঁদেরকে এই মহান ফজিলতের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারবেন।
এ কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত সংক্ষেপ করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং একটি জোরালো উপদেশের মাধ্যমে মানুষকে ধর্মবিমুখ করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। আবু মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বলল: 'আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি অমুক ব্যক্তির কারণে ফজরের সালাতে অংশগ্রহণ করতে বিলম্ব করি, কারণ সে আমাদের নিয়ে দীর্ঘ সালাত আদায় করে।' আবু মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: 'আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কোনো উপদেশের মজলিসে সেদিনের চেয়ে বেশি রাগান্বিত হতে দেখিনি।'
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يومئذ، ثم قال: «إن منكم منفرين فأيكم صلى بالناس فليتجوز فإن فيهم الضعيف والكبير وذا الحاجة» (1) .
وعن جابر رضي الله عنه «أن معاذا رضي الله عنه كان يصلي مع النبي صلى الله عليه وسلم ثم يرجع فيؤم قومه، فصلى العشاء، فقرأ بالبقرة فانصرف الرجل فكأن معاذا تناول منه، فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقال: " فتان فتان فتان (ثلاث مرار) أو قال: فاتنا فاتنا فاتنا، وأمره بسورتين من أوسط المفصل» ، قال عمرو لا أحفظهما " (2) . ومن هذه النصوص ندرك أن تطويل الصلاة فتنة وتنفير للناس عن الصلاة في جماعة، ولا يخفى ما في هذا من المفاسد، والتسبب في تعطيل الواجب، وحرمان الناس من فضل الجماعة، ولذلك غضب النبي صلى الله عليه وسلم غضبا شديدا كما في حديث أبي مسعود، ووصف معاذا بأنه فتان بهذا الصنيع لكي يحذر منه. ولا يعني هذا أن يخفف الإمام الصلاة إلى درجة إسقاط الواجب بحجة مراعاة الناس كما يفعل بعض الأئمة، فإن في هذا مفسدة أعظم، ولكن الأمر يعني التزام الوسطية في الأمر، والشعور
--------------------------------------------
সেই দিন, তারপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা (মানুষকে ইবাদত থেকে) দূরে সরিয়ে দেয়। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মানুষের ইমামতি করবে সে যেন সংক্ষেপ করে, কারণ তাদের মধ্যে দুর্বল (الضعيف), বৃদ্ধ এবং অভাবগ্রস্ত লোক রয়েছে।" (১) .
এবং জাবির (রা.) হতে বর্ণিত যে, "মুয়াজ (রা.) নবী (সা.)-এর সাথে নামাজ আদায় করতেন, তারপর ফিরে গিয়ে তাঁর কওমের ইমামতি করতেন। একবার তিনি এশার নামাজ আদায় করলেন এবং তাতে সূরা আল-বাকারাহ পাঠ করলেন। তখন এক ব্যক্তি (নামাজ ছেড়ে) চলে গেল। মুয়াজ (রা.) যেন তাকে তিরস্কার করলেন। বিষয়টি যখন নবী (সা.)-এর নিকট পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: 'তুমি কি ফিতনাকারী (فتان), ফিতনাকারী, ফিতনাকারী? (তিনবার (ثلاث مرار))' অথবা তিনি বললেন: 'তুমি কি ফিতনাকারী, ফিতনাকারী, ফিতনাকারী?' এবং তিনি তাঁকে মুফাসসাল অংশের মধ্যবর্তী দু’টি সূরা পড়ার নির্দেশ দিলেন।" আমর বলেন, "আমি সূরা দু’টির নাম মনে রাখতে পারিনি।" (২) । এই সকল মূল পাঠ (النصوص) থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, নামাজ দীর্ঘ করা একটি ফিতনা এবং জামাতে নামাজ পড়া থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার কারণ। এতে কী পরিমাণ অনিষ্ট রয়েছে তা অস্পষ্ট নয়, যা ওয়াজিব পালনে বিঘ্ন ঘটানো এবং মানুষকে জামাতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই কারণেই আবু মাসউদের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) অত্যন্ত রাগান্বিত হয়েছিলেন এবং মুয়াজের এই আচরণের কারণে তাঁকে ফিতনাকারী (فتان) হিসেবে অভিহিত করেছিলেন যাতে এ থেকে সতর্ক হওয়া যায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ইমাম মানুষের অবস্থার বিবেচনার অজুহাতে নামাজকে এতোটা সংক্ষিপ্ত করে ফেলবেন যে তাতে ওয়াজিব (الواجب) বাদ পড়ে যায়, যেমনটি অনেক ইমাম করে থাকেন। কারণ এতে আরও বড় অনিষ্ট রয়েছে। বরং এর প্রকৃত অর্থ হলো এ বিষয়ে মধ্যমপন্থা (الوسطية) অবলম্বন করা এবং সচেতন হওয়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بالمسئولية وهو يؤدي هذا العمل، ومحاولة كسب الناس، والعمل على أن يحبب لهم القيام بما فرض الله عليهم، مع إتمام الصلاة في جميع ما أوجبه الله فيها من القراءة والطمأنينة، وإتمام الركوع والسجود، والتسبيح والتحميد وسائر ما يجب فيها.
ونحن نجد أحيانا من بعض الأئمة من هو على طرفي نقيض، فنجد من يطيل بهم ويشق على الكبير، والضعيف، والمريض وذي الحاجة، فينفرهم، وينفر غيرهم فلا يصلي وراءه إلا القليل، ونجد آخر يسارع في الصلاة إلى درجة لا يتمكن معها المأموم من أداء الواجب، وكلا طرفي قصد الأمور ذميم.
يقول الإمام ابن حجر رحمه الله عند حديث معاذ: وفي حديث الباب من الفوائد استحباب تخفيف الصلاة مراعاة لحال المأمومين، وأما من قال لا يكره التطويل إذا علم رضاء المأمومين فيشكل عليه أن الإمام قد لا يعلم حال من يأتي فيأتم به بعد دخوله في الصلاة كما في حديث الباب، فعلى هذا يكره التطويل مطلقا إلا إذا فرض في مصل بقوم محصورين راضين بالتطويل في مكان لا يدخله غيرهم (1) .
وقد أشار رحمه الله في موضع آخر أن هذا افتراض لا يناط به
--------------------------------------------
দায়িত্ববোধের সাথে এই কাজ সম্পাদন করা, মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করা এবং আল্লাহ তাদের ওপর যা ফরজ করেছেন তা পালনে তাদের আগ্রহী করে তোলা; সেই সাথে কিরাত ও ধীরস্থিরতা (طمأنينة), রুকু ও সিজদার পূর্ণতা প্রদান এবং তাসবিহ, তাহমিদ ও নামাজে যা কিছু ওয়াজিব (واجب) তার সবটুকু যথাযথভাবে আদায় করা।
আমরা মাঝেমধ্যে কিছু ইমামের ক্ষেত্রে দুটি চরম বৈপরীত্য লক্ষ্য করি; কাউকে দেখা যায় তিনি নামাজ অনেক দীর্ঘ করেন যা বয়স্ক, দুর্বল (ضعيف), অসুস্থ ও প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে, ফলে তিনি তাদের এবং অন্যদের মধ্যে বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করেন, যার দরুন খুব অল্প সংখ্যক লোকই তার পেছনে নামাজ আদায় করে। আবার অন্য কাউকে দেখা যায় তিনি নামাজে এতোটা দ্রুততা করেন যে, মুক্তাদিদের পক্ষে ওয়াজিব (واجب) আমলসমূহ যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয় না। অথচ মধ্যপন্থা পরিহার করে এই উভয় প্রান্তিকতাই নিন্দনীয়।
ইমাম ইবনে হাজার (রহ.) মুয়াজ (রা.)-এর হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: সংশ্লিষ্ট হাদিসের শিক্ষাগুলোর মধ্যে একটি হলো মুক্তাদিদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে নামাজ সংক্ষিপ্ত করা মুস্তাহাব (مستحب)। আর যারা বলেন যে, মুক্তাদিদের সন্তুষ্টির কথা জানা থাকলে নামাজ দীর্ঘ করা মাকরূহ (مكروه) নয়, তাদের এই মতটি সমস্যার সম্মুখীন হয় এই কারণে যে, ইমামের পক্ষে নামাজ শুরু করার পর নতুন করে জামাতে শরিক হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থা জানা সম্ভব নাও হতে পারে, যেমনটি আলোচ্য হাদিসে ঘটেছে। অতএব, নামাজ দীর্ঘ করা সাধারণভাবে মাকরূহ (مكروه), তবে বিশেষ ক্ষেত্রে যদি নির্দিষ্ট কিছু মুসল্লি যারা দীর্ঘ নামাজে সন্তুষ্ট এবং এমন কোনো স্থানে নামাজ হয় যেখানে অন্য কেউ প্রবেশ করবে না, তবে ভিন্ন কথা (১)।
তিনি (রহ.) অন্য এক স্থানে ইঙ্গিত করেছেন যে, এটি একটি কাল্পনিক ধারণা মাত্র যার ওপর কোনো বিধান নির্ভর করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসউলিয়্যাতু ইমামিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الحكم، فإن الأحكام؛ إنما تناط بالغالب لا بالصورة النادرة، وعلى هذا ينبغي للأئمة التخفيف مطلقا (1) . ويرد إشكال يحتاج إلى توضيح، وهو وضع حد للتخفيف حتى لا يقع الإمام في محظور أعظم من المحظور المترتب على التطويل كما سبق التنبيه عليه، وقد ذكر ابن حجر عن ابن دقيق العيد أن التطويل والتخفيف من الأمور الإضافية، فقد يكون الشيء خفيفا بالنسبة إلى عادة قوم طويلا بالنسبة لعادة آخرين.
قال ابن حجر: قلت وأولى ما أخذ حد التخفيف من الحديث الذي أخرجه أبو داود والنسائي عن عثمان بن أبي العاص أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له: «أنت إمام قومك، وأقدر القوم بأضعفهم» إسناده حسن وأصله في مسلم (2) . ومن هنا نأخذ أن الإمام يقدر الأمر بنفسه، فهو أعرف بجماعته، وأقدر القوم بأضعفهم، وهنا تقع المسئولية عليه في تقدير الأحوال، وأخذ الحيطة والحذر أثناء قيامه بهذا العمل الجليل والله أعلم.
[تأثير الإمام في المأمومين واستماعهم لتوجيهاته]ثالثا: محبة الناس لإمامهم مبنية على ثقتهم به، وعظم مكانته
--------------------------------------------
বিধান; কেননা বিধানসমূহ সাধারণত অধিকাংশ অবস্থার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়, কোনো বিরল অবস্থার ওপর নয়। এর ওপর ভিত্তি করে ইমামদের জন্য সাধারণভাবে (নামাজ) সংক্ষেপ করা উচিত (১)। এখানে একটি জটিলতা দেখা দেয় যার ব্যাখ্যা প্রয়োজন, আর তা হলো সংক্ষেপ করার একটি সীমা নির্ধারণ করা, যাতে ইমাম দীর্ঘায়িত করার ফলে সৃষ্ট আশঙ্কার চেয়ে বড় কোনো নিষিদ্ধ বিষয়ে নিপতিত না হন, যেমনটি ইতিপূর্বে সতর্ক করা হয়েছে। ইবনে হাজার, ইবনে দাকীক আল-ঈদ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘ করা বা সংক্ষেপ করা বিষয়গুলো আপেক্ষিক; কোনো এক সম্প্রদায়ের অভ্যাসের তুলনায় যা সংক্ষিপ্ত হতে পারে, অন্য সম্প্রদায়ের অভ্যাসের কাছে তা দীর্ঘ মনে হতে পারে।
ইবনে হাজার বলেন: আমি বলি, সংক্ষেপ করার সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ভিত্তি হলো সেই হাদিস যা আবু দাউদ ও নাসায়ি উসমান বিন আবিল আস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: «তুমি তোমার সম্প্রদায়ের ইমাম, আর তুমি সম্প্রদায়ের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির সামর্থ্য বিবেচনা করবে»; এর বর্ণনাসূত্র (إسناد) হাসান (حسن) এবং এর মূল বর্ণনা মুসলিম-এ রয়েছে (২)। এখান থেকে আমরা অনুধাবন করি যে, ইমাম বিষয়টি নিজেই নির্ধারণ করবেন, কেননা তিনি তার জামাত সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং সম্প্রদায়ের দুর্বলতম ব্যক্তির সামর্থ্য সম্পর্কে সজাগ। এমতাবস্থায় এই মহান দায়িত্ব পালনকালে পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বনের দায়ভার তার ওপরই ন্যস্ত। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
[মুক্তাদিদের ওপর ইমামের প্রভাব এবং তার নির্দেশাবলি শ্রবণ]তৃতীয়ত: ইমামের প্রতি মানুষের ভালোবাসা তার ওপর তাদের আস্থা এবং তার উচ্চ মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়।
--------------------------------------------