(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
دعوة الشيخ محمد عبد الوهاب وأثرها في العالم الإسلامي   (محمد السلمان)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأثرها في العالم الإسلامي

المؤلف: محمد بن عبد الله بن سليمان السلمان

الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1422هـ

عدد الصفحات: 112

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শেখ মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত এবং মুসলিম বিশ্বে এর প্রভাব   (মুহাম্মদ আস-সালমান)

বিভাগ: জীবনী এবং স্তরসমূহ


গ্রন্থ: শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত এবং মুসলিম বিশ্বে এর প্রভাব

লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আস-সালমান

প্রকাশক: ইসলামী বিষয়াদি, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[تصدير]

دعوة الشيخ محمد عبد الوهاب

وأثرها في العالم الإسلامي

بسم الله الرحمن الرحيم

تصدير الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه وأتباعه. . وبعد:

فإن دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب الإصلاحية تعد - في تاريخنا الإسلامي الحديث - أبرز دعوة كان لها أعظم المعطيات والآثار في عالمنا الإسلامي حتى الوقت الحاضر. ومع كثرة الكتابات والبحوث والمؤلفات عن هذه الدعوة وصاحبها الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله فإن البحث الجديد لا يزال يجد له مكانا بين أحضانها، وكثير من جوانبها الإصلاحية لا تزال بكرا يتطلع إلى أقلام الباحثين ودراساتهم وكلما تطورت تلك الدراسات ومفاهيمها، واتسمت بالعمق والبحث العلمي المنهجي، ظهرت لنا أسرار جديدة عن مكانة هذه الدعوة وأهميتها في تاريخنا الإسلامي ككل، ودورها الكبير في إنارة عقول الأمة الإسلامية لمدة أربت على القرنين من الزمان.

لقد ظهرت دراسات ومؤلفات كثيرة عن الشيخ محمد بن عبد الوهاب ودعوته إلا أن أغلبها تركز على الجانب التاريخي للدعوة بحيث إن القارئ لا يخرج بنتيجة نافعة عن هذه الدعوة حتى في جانبها التاريخي، فما بالك في جوانبها الأخرى القائمة على إيضاح مبادئها كما شرحها صاحب الدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأتباعه من علماء الدعوة. وكذلك إيضاح أثرها وانتشارها في العالم الإسلامي، وإذا ما أوردوا هذين الجانبين من دراسة دعوة الشيخ جاء إشارة خاطفة أو إيجازا مخلا.

ولا يعني هذا أن أغمط بعض الدراسات والمؤلفات عن دعوة الشيخ حقها، فلقد أثبت بعضها جودته وأصالته وعمقه، ولكني رأيت أن أسهم بهذا الجهد المتواضع في هذا الكتاب عن " دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب "، والذي أرجو
[উপক্রমনিকা]

শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত

এবং মুসলিম বিশ্বে এর প্রভাব

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

মুখবন্ধ: সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:

আমাদের আধুনিক ইসলামি ইতিহাসে শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সংস্কারমূলক দাওয়াত এমন এক উল্লেখযোগ্য দাওয়াত হিসেবে গণ্য, যা বর্তমান সময় পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও প্রভাব রেখে চলেছে। এই দাওয়াত এবং এর প্রবক্তা শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-কে নিয়ে অসংখ্য লেখালেখি, গবেষণা ও গ্রন্থ রচিত হওয়া সত্ত্বেও নতুন কোনো গবেষণার অবকাশ এতে এখনও বিদ্যমান। তাঁর সংস্কারমূলক কার্যক্রমের অনেক দিক এখনও গবেষণার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে গবেষকদের লেখনী ও পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। এই গবেষণা ও এর ধারণাগুলো যত বেশি বিকশিত হবে এবং এর গভীরতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিগত রূপ ফুটে উঠবে, আমাদের সামনে ততই এই দাওয়াতের মর্যাদা এবং সামগ্রিক ইসলামি ইতিহাসে এর গুরুত্বের নতুন নতুন রহস্য উন্মোচিত হবে। দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মুসলিম উম্মাহর চিন্তাধারাকে আলোকিত করার ক্ষেত্রে এই দাওয়াত এক বিশাল ভূমিকা পালন করেছে।

শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ও তাঁর দাওয়াত নিয়ে অনেক গবেষণা ও গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, তবে সেগুলোর অধিকাংশ দাওয়াতের কেবল ঐতিহাসিক দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। ফলে পাঠক এমনকি এর ঐতিহাসিক দিক থেকেও কোনো ফলপ্রসূ উপসংহারে পৌঁছাতে পারে না। এমতাবস্থায় এই দাওয়াতের অন্যান্য দিকগুলো সম্পর্কে কী বলার থাকতে পারে—যা মূলত এর মূলনীতিগুলোর ব্যাখ্যা প্রদানের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেভাবে স্বয়ং দাওয়াতের প্রবক্তা শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এবং এই দাওয়াতের অনুসারী আলেমগণ তা ব্যাখ্যা করেছেন। একইভাবে মুসলিম বিশ্বে এর প্রভাব ও প্রসারের বিষয়টিও অস্পষ্ট রয়ে গেছে। যদি তারা শায়খের দাওয়াত নিয়ে পর্যালোচনার সময় এই দুটি দিক উল্লেখও করেন, তবে তা কেবল সংক্ষিপ্ত ইশারা বা অসম্পূর্ণ সংক্ষিপ্তসার হিসেবেই আসে।

এর অর্থ এই নয় যে, শায়খের দাওয়াত নিয়ে রচিত কিছু গবেষণা ও গ্রন্থের মর্যাদা আমি ক্ষুণ্ণ করছি। কারণ সেগুলোর মধ্যে কিছু কাজ তাদের গুণমান, মৌলিকত্ব এবং গভীরতা প্রমাণ করেছে। তবে আমি এই "শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত" নামক গ্রন্থে আমার এই বিনম্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে অবদান রাখার প্রয়োজন বোধ করেছি, যার মাধ্যমে আমি আশা করি...
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৪)
أن يكون وافيا - ولو بقدر - للصورة التي يجب أن يعرفها مجتمعنا الإسلامي المثقف - وغيره - عن هذه الدعوة المباركة.

وهذا الكتاب الذي أقدمه إلى القارئ الكريم يرجع في الحقيقة إلى محاضرات كنت قد ألقيتها عن تاريخ " دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب " على طلاب مرحلة البكالوريوس بقسم التاريخ في كلية العلوم الاجتماعية بالرياض والقصيم بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، فتجمعت لدي بعض المعالم العلمية عن تلك الدعوة، رأيت أن أفرغها في هذا الكتاب.

لقد قسمت الكتاب إلى ثلاثة فصول رئيسية:

فالفصل الأول: يبحث في تاريخ دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، شمل وصفا للحالتين السياسية والدينية للعالم الإسلامي في عصر الشيخ ، ثم الحالة السياسية والدينية لنجد قبل دعوة الشيخ، أعقبتها بترجمة موجزة لحياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب شملت نشأته ورحلاته العلمية ومراحل دعوته.

أما الفصل الثاني: فقد خصصته للحديث عن مبادئ دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب بالتفصيل والمصادر الأصلية لهذه الدعوة، مع إيضاح هدف الدعوة وحقيقتها.

أما الفصل الثالث: فيبحث في انتشار الدعوة وأثرها في العالم الإسلامي حيث تحدثت عن عوامل انتشار الدعوة، ثم انتشارها في أرجاء العالم الإسلامي والحركات والدعوات التي تأثرت بها سواء في آسيا أو أفريقيا ثم تقويم عام لذلك الانتشار.

أما مصادر ومراجع الكتاب فقد حرصت أن تكون مصادر أصيلة خصوصا في مبحث مبادئ دعوة الشيخ، حيث اعتمدت على مؤلفات ورسائل الشيخ محمد بن عبد الوهاب وعلماء دعوته، بالإضافة إلى مصادر ومراجع أخرى في باقي المباحث، وقد أثبتها في آخر الكتاب.
যাতে এটি আমাদের শিক্ষিত মুসলিম সমাজ এবং অন্যদের কাছে এই বরকতময় দাওয়াত সম্পর্কে যে ধারণা থাকা উচিত, তা—অন্তত কিছুটা হলেও—পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরতে পারে।

সম্মানিত পাঠকের কাছে আমি যে বইটি উপস্থাপন করছি, তার মূল ভিত্তি মূলত সেই বক্তৃতাগুলো, যা আমি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়াদ ও কাসিম শাখার সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে "শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের ইতিহাস" বিষয়ে প্রদান করেছিলাম। এর ফলে সেই দাওয়াত সম্পর্কে আমার কাছে কিছু ইলমি বৈশিষ্ট্য ও তথ্য জমা হয়েছিল, যা আমি এই বইটিতে লিপিবদ্ধ করা সমীচীন মনে করেছি।

আমি বইটিকে তিনটি প্রধান অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:

প্রথম অধ্যায়: এতে শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে শাইখের যুগে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থার বর্ণনা এবং শাইখের দাওয়াতের পূর্বে নজদ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থার বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরপর শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তার শৈশব ও বেড়ে ওঠা, ইলমি সফরসমূহ এবং তার দাওয়াতের বিভিন্ন পর্যায়।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এটি আমি শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের মূলনীতিসমূহ বিস্তারিতভাবে এবং এই দাওয়াতের মৌলিক উৎসসমূহ আলোচনার জন্য নির্ধারিত করেছি। সেইসাথে এই দাওয়াতের লক্ষ্য ও প্রকৃত স্বরূপও এতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়: এতে দাওয়াতের প্রসার এবং মুসলিম বিশ্বে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে আমি দাওয়াত প্রচার ও প্রসারের কারণসমূহ, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এর বিস্তৃতি এবং এশিয়া ও আফ্রিকার যেসব আন্দোলন ও দাওয়াত এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। পরিশেষে এই প্রসারের একটি সাধারণ মূল্যায়ন করা হয়েছে।

বইটির উৎস ও তথ্যসূত্র নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমি মৌলিক ও নির্ভরযোগ্য সূত্র ব্যবহারের ব্যাপারে বিশেষ যত্নবান ছিলাম, বিশেষ করে শাইখের দাওয়াতের মূলনীতি সংক্রান্ত আলোচনায়। এক্ষেত্রে আমি শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ও তাঁর দাওয়াতের অনুসারী আলেমদের রচিত কিতাব ও পত্রাবলির ওপর নির্ভর করেছি। অন্যান্য আলোচনার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় উৎস ও তথ্যসূত্র ব্যবহার করেছি, যা বইয়ের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৫)
ولا يفوتني هنا إلا أن أتقدم بالشكر لوزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد على نشرها هذا الكتاب في طبعته الثالثة منقحة، وأخص بالشكر معالي وزيرها الشيخ صالح بن عبد العزيز بن محمد بن إبراهيم آل الشيخ والمسؤولين في " إدارة الطباعة والنشر " بالوزارة، فجزى الله الجميع كل خير.

وأخيرا ، فإن هدفي من هذا الكتاب أن يفي بالغرض في إكمال الصورة الواضحة عن هذه الدعوة ، فإن وفقت فمن الله، وإلا فإني أرحب بكل نقد علمي في هذا الصدد، ضارعا إلى الله المولى العلي القدير أن يصلح النية، وأن يختم لنا والمسلمين بالخير والتوفيق والسداد والعصمة من الزلل، وأن يجعل هذا في موازين أعمالنا يوم نلقاه. . إنه سميع مجيب، وعلى الله قصد السبيل.

أ. د. محمد بن عبد الله السلمان

عنيزة في 10 / 5 / 1420 هـ
এখানে আমি ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়কে এই কিতাবটির তৃতীয় পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ জানাতে ভুলছি না। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শায়খ সালিহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল আশ-শায়খ এবং মন্ত্রণালয়ের "মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগ"-এর কর্মকর্তাদের। আল্লাহ সবাইকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

পরিশেষে, এই কিতাবের মাধ্যমে আমার লক্ষ্য হলো এই দাওয়াহ সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ চিত্র ফুটিয়ে তোলার উদ্দেশ্য পূরণ করা। আমি যদি সফল হয়ে থাকি, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে; নতুবা আমি এ বিষয়ে যেকোনো জ্ঞানতাত্ত্বিক সমালোচনাকে স্বাগত জানাই। আমি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন নিয়তকে পরিশুদ্ধ করেন এবং আমাদের ও সকল মুসলিমের শেষ পরিণতি কল্যাণ, তাওফিক, সঠিক পথ লাভ ও বিচ্যুতি থেকে সুরক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন করেন। আর আমরা যেদিন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করব, সেদিন যেন তিনি এটিকে আমাদের আমলনামার পাল্লায় স্থান দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী; এবং আল্লাহর কাছেই রয়েছে সঠিক পথের দিশা।

প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সালমান

উনাইজাহ, ১০ / ০৫ / ১৪২০ হিজরি
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌[الفصل الأول تاريخ الدعوة]

‌‌[حال العالم الإسلامي في عصر الشيخ]

الفصل الأول

تاريخ الدعوة حال العالم الإسلامي في عصر الشيخ محمد بن عبد الوهاب إن الباعث الأول والأخير على قيام الشيخ محمد بن عبد الوهاب بدعوته السلفية الإصلاحية هو: ما وصل إليه حال العالم الإسلامي في عصره من تدهور وانحطاط على كافة المستويات الدينية والسياسية والاجتماعية والاقتصادية.

ومما لا شك فيه أن التدهور الديني والسياسي هما العاملان القويان لدفع الشيخ محمد بن عبد الوهاب لقيامه بدعوته الإصلاحية، ومن هنا فإننا سنقصر حديثنا عن حال العالم الإسلامي في عصر الشيخ على هذين العاملين، مع الإشارة إلى أهم العوامل الأخرى ، كما أننا سنركز الحديث بعد ذلك على إقليم نجد وحالته الدينية والسياسية قبل دعوة الشيخ فيه، ذلك الإقليم الذي منه نبعت الدعوة وفيه نشأ صاحبها وعاش.

 

‌‌[الحالة السياسية]

(أ) الحالة السياسية: كانت تتزعم العالم الإسلامي في مشرقه أثناء القرن الثاني عشر الهجري (الثامن عشر الميلادي) ثلاث دول عامة هامة هي:

الدولة العثمانية: الدولة الصفوية في فارس، والدولة المغولية في الهند (1) .

أما الدولة العثمانية: فقد وصلت إلى ذروة مجدها في القرن العاشر الهجري (السادس عشر الميلادي) ، ونظر إليها المسلمون بإعجاب وتقدير حينما وسعت فتوحاتها إلى أوروبا لنشر الإسلام (2) ولكنها أخذت بعد ذلك تنخر فيها عوامل الضعف شيئا فشيئا حتى وصلت في القرن الثاني عشر الهجري (الثامن عشر

--------------------------------------------

(1) عبد المتعال الصعيدي: المجددون في الإسلام من القرن الأول إلى القرن الرابع عشر الهجري (ص 416 - 418) .

 

(2) شفيق غربال: مقدمة كتاب (الشرق الإسلامي في العصر الحديث) تأليف حسين مؤنس ص (د) .
‌[প্রথম অধ্যায়: দাওয়াতের ইতিহাস]

‌‌[শাইখের যুগে ইসলামি বিশ্বের অবস্থা]

প্রথম অধ্যায়

দাওয়াতের ইতিহাস: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাবের যুগে ইসলামি বিশ্বের অবস্থা। শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাবের তাঁর সালাফি সংস্কারবাদী দাওয়াত নিয়ে আবির্ভূত হওয়ার প্রথম ও শেষ কারণ হলো: তাঁর যুগে ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সকল স্তরে ইসলামি বিশ্বের যে চরম বিপর্যয় ও অধঃপতন ঘটেছিল তা।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ই শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাবকে তাঁর সংস্কারবাদী দাওয়াত পরিচালনার জন্য অনুপ্রাণিত করার পেছনে প্রধান দুটি শক্তিশালী কারণ ছিল। এই কারণে, আমরা শাইখের যুগে ইসলামি বিশ্বের অবস্থা সম্পর্কে আমাদের আলোচনা এই দুটি বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখব, সাথে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর দিকেও ইঙ্গিত করব। এরপর আমরা নজদ অঞ্চল এবং সেখানে শাইখের দাওয়াতের পূর্ববর্তী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বারোপ করব; কারণ এই অঞ্চল থেকেই দাওয়াতের উৎপত্তি হয়েছিল এবং এখানেই এর প্রবর্তক লালিত-পালিত হয়েছিলেন ও বসবাস করেছিলেন।

 

‌‌[রাজনৈতিক অবস্থা]

(ক) রাজনৈতিক অবস্থা: হিজরি দ্বাদশ শতাব্দীতে (খ্রিস্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দী) ইসলামি বিশ্বের প্রাচ্য অংশে তিনটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র নেতৃত্ব দিচ্ছিল, সেগুলো হলো:

উসমানীয় সাম্রাজ্য, পারস্যের সাফাভী সাম্রাজ্য এবং ভারতের মুঘল সাম্রাজ্য (১)।

উসমানীয় সাম্রাজ্যের কথা বলতে গেলে, এটি হিজরি দশম শতাব্দীতে (খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতাব্দী) গৌরবের চরম শিখরে পৌঁছেছিল। মুসলমানরা এটিকে অত্যন্ত বিস্ময় ও শ্রদ্ধার সাথে দেখত যখন এটি ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ইউরোপে তাদের বিজয় অভিযান প্রসারিত করেছিল (২)। কিন্তু পরবর্তীতে এর ভেতরে ধীরে ধীরে দুর্বলতার উপাদানগুলো বাসা বাঁধতে শুরু করে, যা হিজরি দ্বাদশ শতাব্দীতে (অষ্টাদশ শতাব্দী)

--------------------------------------------

(১) আব্দুল মুতাআল আস-সাঈদী: আল-মুজাদ্দিদুনা ফিল ইসলাম মিনাল করনিল আউয়ালি ইলাল করনির রবি আশার আল-হিজরি (পৃ. ৪১৬ - ৪১৮)।

 

(২) শফিক গরবাল: হুসাইন মুনিস রচিত (আশ-শারকুল ইসলামি ফিল আসরিল হাদিস) বইয়ের ভূমিকা, পৃ. (দাল)।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৭)
الميلادي) إلى حالة سيئة من الضعف والركود السياسيين.

فقد كان سلاطينها - في ذلك الوقت - من الضعف بمكان بحيث لم يكن لهم من أمر الدولة شيء (1) بل كان الأمر استبداديا بيد وزرائهم ورؤساء الجيش الإنكشاري الذين لا يعرفون من أمور السياسة شيئا، وفوق ذلك فقد كان سلاطينها في ذلك الوقت مع زعماء الدولة الآخرين قد اشتغلوا بالملذات والشهوات، وأهملوا شؤون الدولة، واهتم الكل بأموره الخاصة، وكان بعض الوزراء من عناصر أجنبية لا تهمهم مصلحة الدولة وعزها بقدر مصلحة أنفسهم (2) .

أما الولاة على أقاليم الدولة فقد ساءت إدارتهم، فهمهم الأكبر جمع الأموال من ولاياتهم على حساب شعوبها، مقابل ما بذلوه من رشاوي في سبيل حصولهم على إدارة هذه البلاد أو الولايات، لذلك لم يهتموا بتطوير ولاياتهم تلك، وإقامة الأمن والعدل (3) فيها، كما أن الحاميات العسكرية التي توجد في هذه الولايات المختلفة كانت تحدث من الفوضى والنهب عند تأخر رواتبها الشيء الكثير، وهكذا تأخرت الزراعة والتجارة والحرف (4) .

ومما زاد حال الدولة سوءا التدهور العسكري الذي منيت به في ذلك العصر، فقد أخذت دول أوربا تتألب عليها من كل جانب، فقامت حروب بين الدولة العثمانية وبين دول (النمسا وروسيا وبولونية والبندقية) انتهت بمعاهدة " كارلوفتش " المشهورة في يناير عام 1110 هـ (1699 م) والتي حرمت الدولة من كثير من ممتلكاتها في أوربا (5) وقد زادت هذه المعاهدة من أطماع دول أوربا في

--------------------------------------------

(1) محمد محمود السروجي: موقف مصر إزاء بعض مشاكل شبه الجزيرة العربية، المجلة التاريخية المصرية المجلد السابع (سنة 1958 م) ص 72.

(2) محمد كمال جمعة: انتشار دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب خارج الجزيرة العربية ص 11.

(3) لوثروب ستودارد: حاضر العالم الإسلامي، ترجمة عجاج نويهض، تعليق شكيب أرسلان، ج1، ص 259.

(4) محمد كمال جمعة: مرجع سابق ص 14.

(5) أحمد السعيد سليمان: محاضرات في تاريخ الدولة العثمانية العام الجامعي 97 - 98 هـ ص 4.
খ্রিষ্টাব্দ) রাজনৈতিক দুর্বলতা ও স্থবিরতার এক শোচনীয় অবস্থায় উপনীত হয়েছিল।

তৎকালীন সুলতানগণ এতটাই দুর্বল ছিলেন যে, রাষ্ট্রীয় বিষয়ে তাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না (১)। বরং শাসনব্যবস্থা ছিল তাদের উজির এবং ইয়েনিসারি বাহিনীর প্রধানদের হাতে স্বৈরতান্ত্রিক, যারা রাজনীতির কিছুই বুঝত না। এর ওপর তৎকালীন সুলতানরা রাষ্ট্রের অন্যান্য নেতাদের সাথে আনন্দ-প্রমোদ ও ভোগ-বিলাসে মগ্ন ছিলেন এবং রাষ্ট্রের কাজকর্মে অবহেলা করতেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে মগ্ন ছিল। কিছু উজির ছিলেন বিদেশি বংশোদ্ভূত, যাদের কাছে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও সম্মানের চেয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থই বেশি গুরুত্ব পেত (২)।

আর প্রদেশগুলোর শাসনকর্তাদের প্রশাসনিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছিল। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল জনগণের বিনিময়ে প্রদেশগুলো থেকে অর্থ সংগ্রহ করা, যা ছিল মূলত সেসব দেশ বা প্রদেশের শাসনভার লাভের জন্য তাদের দেওয়া ঘুষের ক্ষতিপূরণ। ফলে তারা সেই প্রদেশগুলোর উন্নয়ন এবং সেখানে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার (৩) প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কোনো ভ্রুক্ষেপ করত না। এছাড়া বিভিন্ন প্রদেশে অবস্থানরত সামরিক বাহিনীগুলো তাদের বেতন পেতে দেরি হলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও লুটতরাজ সৃষ্টি করত। এভাবেই কৃষি, বাণিজ্য ও কারুশিল্প (৪) পশ্চাৎপদ হয়ে পড়েছিল।

রাষ্ট্রের অবস্থাকে যা আরও শোচনীয় করে তুলেছিল তা হলো সেই যুগে রাষ্ট্রটি যে সামরিক অবনতির সম্মুখীন হয়েছিল। ইউরোপীয় দেশগুলো চারদিক থেকে এর বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হতে শুরু করে। ফলে উসমানীয় রাষ্ট্র এবং (অস্ট্রিয়া, রাশিয়া, পোল্যান্ড ও ভেনিস) রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা ১১১০ হিজরি (১৬৯৯ খ্রিষ্টাব্দ) জানুয়ারি মাসে বিখ্যাত "কার্লোভিচ" চুক্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। এই চুক্তি রাষ্ট্রটিকে ইউরোপে তার অনেক অধিকৃত অঞ্চল থেকে বঞ্চিত করে (৫)। এই চুক্তিটি ইউরোপীয় দেশগুলোর লালসাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ মাহমুদ আস-সারুজি: মাওকিফু মিসরা ইজায়ি বা'দি মাশাকিলে শিবহিল জাজিরাতিল আরাবিয়্যাহ, আল-মাজাল্লাতুত তারিখিয়্যাতুল মিসরিয়্যাহ, খণ্ড ৭ (১৯৫৮ খ্রি.) পৃষ্ঠা ৭২।

(২) মুহাম্মদ কামাল জুমআ: ইনতিশারু দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব খরিজাল জাজিরাতিল আরাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১১।

(৩) লোথ্রপ স্টোডার্ড: হাদিরুল আলামিল ইসলামি, অনুবাদ: আজজাজ নুওয়াইহিদ, টীকা: শাকিব আরসালান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৫৯।

(৪) মুহাম্মদ কামাল জুমআ: প্রাগুক্ত সূত্র, পৃষ্ঠা ১৪।

(৫) আহমদ আস-সাঈদ সুলাইমান: মুহাদারাত ফি তারিখিদ দাওলাতিল উসমানিয়্যাহ, শিক্ষাবর্ষ ৯৭ - ৯৮ হিজরি, পৃষ্ঠা ৪।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৮)
أقاليم الدولة العثمانية، وظهر ما يسمى عند المؤرخين بـ (المسألة الشرقية) أي تقسيم ممتلكات الدولة العثمانية بين الدول الأوربية الطامعة، وهي مسألة تقوم على أساس الاستيلاء على البلاد الإسلامية باسم الاستعمار السياسي، وإخفاء ما ينطوي تحته من محاولة القضاء على الدين الإسلامي، لأنه هو الذي يقف في وجه هذه المحاولات الاستعمارية (1) .

وكان من أهم مظاهر المسألة الشرقية في هذه المرحلة من الزمن الحملة الفرنسية على مصر والشام عام 1213 هـ (1798 م) (2) والتي نعتبرها - بحق - فاتحة الاستعمار في الشرق، كما أن الخطر البرتغالي الصليبي أخذ يتغلغل - قبل ذلك - في مناطق المحيط الهندي والجزء الجنوبي من البحر الأحمر (3) .

أما الدولة الصفوية في فارس: فهي التي أنشأها (إسماعيل بن صفي الدين) سنة 906 هـ (1500 م) واتخذ من مدينة (تبريز) عاصمة له، وقد اتسعت دولته فامتدت من الخليج العربي إلى بحر قزوين، وكانت هذه الدولة شيعية ذات عداء مع الدولة العثمانية السنية، وانتهت هذه الدولة سنة 1135 هـ (1722 م) فخلفها أمراء من الأفغان حتى قضى عليهم (نادر شاه) سنة 1142 هـ (1729 م) فنادى بنفسه ملكا، ثم أخذ يوسع أملاكه حتى امتدت دولته من الخليج العربي إلى بلاد الهند (4) .

وقد اهتم نادر شاه بقيادة جيشه وتنظيمه على النظم الحديثة، واستعان بالإنكليز على ذلك، ويقال إن نادر شاه حاول المؤاخاة بين أهل السنة والشيعة، وكان ذلك سبب مقتله بتدبير بعض أئمة المذهب الشيعي في بلاده سنة 1160 هـ (1747 م) وبمقتله اضطرب أمر بلاد فارس واستمر هذا الاضطراب حتى قيام الدولة

--------------------------------------------

(1) عبد المتعال الصعيدي: المجددون في الإسلام ص 416.

(2) جلال يحيى: العالم العربي الحديث المدخل ص 84.

(3) محمد محمود السروجي: موقف مصر ص73.

(4) عبد المتعال الصعيدي: المجددون في الإسلام ص 350، 417.
উসমানীয় সাম্রাজ্যের অঞ্চলসমূহ, এবং ঐতিহাসিকদের নিকট যা (প্রাচ্য সমস্যা) নামে পরিচিত তার উদ্ভব ঘটে, যার অর্থ হলো লোভী ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সম্পদ ও ভূখণ্ড বণ্টন করা। এটি এমন একটি সমস্যা যা রাজনৈতিক উপনিবেশবাদের নামে মুসলিম দেশগুলো দখলের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং এর অভ্যন্তরে নিহিত ইসলাম ধর্মকে নির্মূল করার প্রচেষ্টাকে গোপন করা হয়েছিল; কারণ ইসলামই এই ঔপনিবেশিক প্রচেষ্টার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল (১)।

সময়ের এই পর্যায়ে প্রাচ্য সমস্যার অন্যতম প্রধান বহিঃপ্রকাশ ছিল ১২১৩ হিজরি (১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দ) সালে মিশর ও শামের (সিরিয়া) ওপর ফরাসি অভিযান (২), যাকে আমরা—যৌক্তিকভাবেই—প্রাচ্যে উপনিবেশবাদের সূচনা বলে গণ্য করি। এর পাশাপাশি পর্তুগিজ ক্রুসেডারদের বিপদ—তার আগে থেকেই—ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং লোহিত সাগরের দক্ষিণাংশে অনুপ্রবেশ করতে শুরু করেছিল (৩)।

অন্যদিকে পারস্যের সাফাভী সাম্রাজ্য: এটি ৯০৬ হিজরি (১৫০০ খ্রিস্টাব্দ) সালে (ইসমাইল বিন সাফি আদ-দীন) প্রতিষ্ঠা করেন এবং (তাবরিজ) শহরকে তার রাজধানী করেন। তার রাষ্ট্র বিস্তৃত হয়ে পারস্য উপসাগর থেকে কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এই রাষ্ট্রটি ছিল শিয়া মতাবলম্বী এবং সুন্নি উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন। ১১৩৫ হিজরি (১৭২২ খ্রিস্টাব্দ) সালে এই রাষ্ট্রের পতন ঘটে এবং এরপর আফগান আমিররা শাসনভার গ্রহণ করে, যে পর্যন্ত না ১১৪২ হিজরি (১৭২৯ খ্রিস্টাব্দ) সালে (নাদির শাহ) তাদেরকে নির্মূল করেন এবং নিজেকে রাজা হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর তিনি তার অধিকৃত অঞ্চলের বিস্তার ঘটাতে থাকেন এবং তার রাষ্ট্র পারস্য উপসাগর থেকে হিন্দুস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত হয় (৪)।

নাদির শাহ তার সেনাবাহিনীকে আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচালনা ও সুসংগঠিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন এবং এক্ষেত্রে তিনি ইংরেজদের সহায়তা গ্রহণ করেন। বলা হয় যে, নাদির শাহ আহলুস সুন্নাহ ও শিয়াদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন, আর এটিই ছিল ১১৬০ হিজরি (১৭৪৭ খ্রিস্টাব্দ) সালে তার নিজ দেশের কিছু শিয়া মাযহাবের ইমামদের ষড়যন্ত্রে তার নিহত হওয়ার কারণ। তার হত্যাকাণ্ডের ফলে পারস্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং এই বিশৃঙ্খলা পরবর্তী রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে...

--------------------------------------------

(১) আব্দুল মুতাআল আস-সাইদি: আল-মুজাদ্দিদুনা ফিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৪১৬।

(২) জালাল ইয়াহইয়া: আল-আলামুল আরাবি আল-হাদিস আল-মাদখাল, পৃষ্ঠা ৮৪।

(৩) মুহাম্মদ মাহমুদ আস-সারুজি: মাওকিফু মিসর, পৃষ্ঠা ৭৩।

(৪) আব্দুল মুতাআল আস-সাইদি: আল-মুজাদ্দিদুনা ফিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৩৫০, ৪১৭।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৯)
القاجارية سنة 1203 هـ (1788 م) (1) .

أما الدولة المغولية في الهند: فقد أنشأها (بابر شاه) من نسل تيمور لنك سنة 909 هـ (1505هـ) وخلفه ملوك أقوياء حتى جاء القرن الثاني عشر الهجري فاضطرب أمرها وطمع فيها أمراء الهندوس بدعم من شركة الهند الشرقية الإنكليزية ، فأنجدها (نادر شاه) ملك فارس وعين (محمد شاه) ملكا على الهند تحت حمايته، وكان الأخير ضعيفا فاسقا، وخلفه ملوك أشد ضعفا، مما جعل البلاد مرتعا للحروب الداخلية، فانقسمت إلى ولايات مما سهل على شركة الهند الشرقية الإنكليزية الاستيلاء عليها ولاية بعد ولاية، ولم تلبث أن انتقلت سيادة هذه الولايات إلى الحكومة الإنكليزية سنة 1274 هـ (1856 م) (2) .

أما حال المسلمين على حدود العالم الإسلامي فلم تكن بأحسن من داخله ، فقد تعرضت الإمارات الإسلامية على حدود روسيا القيصرية للضغط الحربي من جانب روسيا وخاصة إمارة التركستان الشرقية، حتى اضطر المسلمون هناك إلى قبول السيادة الروسية عليهم وذلك سنة 1144 هـ (1731 م) (3) .

. كما عانى المسلمون في الصين من اضطهاد أسرة (المانشو) الحاكمة هناك، فضيقت عليهم في دينهم، وحرمت عليهم ذبح البقر مما سبب انتقام المسلمين عدة مرات (4) .

أما المسلمون في (أندونيسيا) وما جاورها من جزر الهند الشرقية فقد كانوا على حالة من الضعف، فبالرغم من الانتشار الكبير للإسلام هناك عن طريق التجار المسلمين، إلا أن المسلمين هناك تفرقوا إلى إمارات صغيرة سهلت على الهولنديين والإنكليز غزوهم، وبالتالي استعمارهم في بلادهم (5) .

--------------------------------------------

(1) حسين مؤنس: المرجع السابق ص 21، ومحمد كمال جمعة: مرجع سابق ص 20.

(2) عبد المتعال الصعيدي: المجددون في الإسلام ص 350 و 418.

(3) Akdes Numet Kurat، The Cambridge History of Islam Volume، IP 507 Cambridge 1970.

(4) عباس محمود العقاد: الإسلام في القرن العشرين ص 90.

(5) المرجع السابق ص 85، وتوماس أرنولد: الدعوة إلى الإسلام ص 401 و 402 ترجمة حسن إبراهيم حسن وعبد المجيد عابدين، الطبعة الثالثة عام 1971 م.
কাজার রাজবংশ ১২০৩ হিজরি (১৭৮৮ খ্রি.) (১)।

অন্যদিকে ভারতে মোগল সাম্রাজ্য প্রসঙ্গে: এটি তৈমুর লঙের বংশধর (বাবর শাহ) ৯০৯ হিজরি (১৫০৫ হিজরি) সালে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পরে শক্তিশালী রাজাগণ স্থলাভিষিক্ত হন যতক্ষণ না হিজরি দ্বাদশ শতাব্দী আসে, তখন এর শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় এবং ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সমর্থনে হিন্দু রাজন্যবর্গ এর প্রতি লালায়িত হয়। অতঃপর পারস্যের রাজা (নাদির শাহ) একে সাহায্য করেন এবং তাঁর অধীনে (মুহাম্মদ শাহ)-কে ভারতের রাজা হিসেবে নিযুক্ত করেন। শেষোক্ত ব্যক্তি ছিলেন দুর্বল ও পাপাচারী, এবং তাঁর পরে আরও দুর্বল রাজাগণ স্থলাভিষিক্ত হন, যা দেশটিকে অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের চারণভূমিতে পরিণত করে। ফলে এটি বিভিন্ন প্রদেশে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যা ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্য একের পর এক প্রদেশ দখল করা সহজ করে দেয়। অচিরেই ১২৭৪ হিজরি (১৮৫৬ খ্রি.) সালে এই প্রদেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ইংরেজ সরকারের অধীনে চলে যায় (২)।

মুসলিম বিশ্বের সীমান্ত এলাকায় মুসলমানদের অবস্থা এর অভ্যন্তরীণ অবস্থার চেয়ে ভালো ছিল না। জার শাসিত রাশিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন মুসলিম আমিরাতগুলো রাশিয়ার পক্ষ থেকে সামরিক চাপের সম্মুখীন হয়েছিল, বিশেষ করে পূর্ব তুর্কিস্তান আমিরাত। এমনকি সেখানকার মুসলমানরা ১১৪৪ হিজরি (১৭৩১ খ্রি.) সালে তাদের ওপর রুশ সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয় (৩)।

তেমনিভাবে চীনের মুসলমানরা সেখানকার শাসক (মাঞ্চু) রাজবংশের নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। তারা তাদের দ্বীনের ব্যাপারে সংকীর্ণতা সৃষ্টি করেছিল এবং তাদের জন্য গরু জবাই করা নিষিদ্ধ করেছিল, যার ফলে মুসলমানরা কয়েকবার প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল (৪)।

আর (ইন্দোনেশিয়া) এবং এর পার্শ্ববর্তী ইস্ট ইন্ডিজ দ্বীপপুঞ্জের মুসলমানরা দুর্বল অবস্থায় ছিল। মুসলিম বণিকদের মাধ্যমে সেখানে ইসলামের ব্যাপক প্রচার হওয়া সত্ত্বেও সেখানকার মুসলমানরা ছোট ছোট আমিরাতে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, যা ওলন্দাজ ও ইংরেজদের জন্য তাদের আক্রমণ করা এবং পরিণামে তাদের দেশগুলো উপনিবেশে পরিণত করা সহজ করে দেয় (৫)।

--------------------------------------------

(১) হুসাইন মুনিস: প্রাগুক্ত গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ২১; এবং মুহাম্মদ কামাল জুমুআহ: প্রাগুক্ত গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ২০।

(২) আবদুল মুতাল আল-সাঈদি: আল-মুজাদ্দিদুন ফিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৩৫০ ও ৪১৮।

(৩) আকদেস নিমেত কুরাত, দ্য কেমব্রিজ হিস্ট্রি অফ ইসলাম ভলিউম, পৃষ্ঠা ৫০৭, কেমব্রিজ ১৯৭০।

(৪) আব্বাস মাহমুদ আল-আক্কাদ: আল-ইসলাম ফিল কারনিল ইশরিন, পৃষ্ঠা ৯০।

(৫) প্রাগুক্ত গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৮৫; এবং থমাস আর্নল্ড: আদ-দাওয়াতু ইলাল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৪০১ ও ৪০২, অনুবাদ হাসান ইব্রাহিম হাসান ও আবদুল মাজিদ আবিদিন, তৃতীয় সংস্করণ ১৯৭১ খ্রি.।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১০)
تلك هي الحالة السياسية للعالم الإسلامي في مشرقه في عصر الشيخ محمد بن عبد الوهاب.

أما المغرب الإسلامي: ففي الحقيقة لم تكن حالته السياسية بأحسن حظا من مشرقه، فقد كان العثمانيون قد استولوا على تونس والجزائر ومحوا دولتي (بني حفص وبني زيان) سنة 964 هـ (1556 م) بعدما كادت تقع في أيدي الأسبان، كما سقطت في مراكش دولة (بني وطاس) وقامت على أنقاضها (دولة السعديين) سنة 956 هـ (1549 م) ، وإذا كنا قد رأينا شيئا من الضعف السياسي للدولة العثمانية في هذا القرن (الثاني عشر الهجري) فلا شك أن هذا الضعف سينعكس على كافة ولاياتها ومنها تونس والجزائر مما جعلها لا تقوى على مقاومة حملات البرتغاليين والأسبان الحربية عليها، ومما زاد الطين بلة ضعف دولة السعديين هناك، فهي لم تكن من القوة بحيث تقف أمام هذه الحملات (1) إضافة إلى وجود فتن داخلية بين العرب والبربر وبين الإمارات التي تسكنها (الهوسا) المسلمة مع بعضها، وأخيرا بين قبائل الهوسا وقبائل الفولان (2) . كل ذلك جعل هذه المنطقة من العالم الإسلامي ضعيفة لا تقوى حتى على الصمود في وجه الحملات الأوربية عليها.

هذه لمحة موجزة عن حالة العالم الإسلامي السياسية في مشرقه ومغربه؛ وبالجملة فهي حالة سيئة تدل على ما يعانيه العالم الإسلامي في تلك الفترة من فساد سياسي عام (3) وكان لهذا تأثير ملحوظ على الحالة الاقتصادية في العالم الإسلامي، فنتيجة لهذا التدهور انعدم الأمن والاستقرار فبارت التجارة بوارا شديدا، وأهملت الزراعة أيما إهمال (4) هذا في الوقت الذي كانت دول أوربا تتجه نحو تقوية نفوذها على

--------------------------------------------

(1) عبد المتعال الصعيدي: المجددون في الإسلام ص 350 و 418.

(2) محمد كمال جمعة: المرجع السابق ص 21-23.

(3) Nicholson، R. A.، Aliteiary History of the Arabs P466.

(4) ستودارد: المرجع السابق ج1 ص 259.
এটি হলো শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের যুগে ইসলামি বিশ্বের পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক অবস্থা।

আর ইসলামি বিশ্বের পশ্চিমাঞ্চল (মাগরিব): প্রকৃতপক্ষে এর রাজনৈতিক অবস্থা পূর্বাঞ্চলের চেয়ে ভালো ছিল না। উসমানীয়রা তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়া দখল করে নিয়েছিল এবং ৯৬৪ হিজরি (১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে) (বনু হাফস এবং বনু জিয়ান) রাষ্ট্র দুটিকে বিলুপ্ত করেছিল, যখন সেগুলো প্রায় স্প্যানিশদের হাতে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। একইভাবে মরক্কোতে (বনু ওয়াত্তাস) রাষ্ট্রের পতন ঘটে এবং ৯৫৬ হিজরি (১৫৪৯ খ্রিস্টাব্দে) এর ধ্বংসাবশেষের ওপর (সাদী রাষ্ট্র) প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা যদি এই শতাব্দীতে (দ্বাদশ হিজরি) উসমানীয় সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক দুর্বলতার কিছু অংশ দেখে থাকি, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এই দুর্বলতা তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়াসহ এর সকল প্রদেশের ওপর প্রভাব ফেলবে। ফলে তা পর্তুগিজ এবং স্প্যানিশদের সামরিক অভিযান প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটিয়েছিল সেখানকার সাদী রাষ্ট্রের দুর্বলতা; এটি এই অভিযানগুলোর সামনে দাঁড়ানোর মতো শক্তিশালী ছিল না (১)। এর পাশাপাশি আরব ও বার্বারদের মধ্যে এবং মুসলিম (হাউসা) অধ্যুষিত আমিরাতগুলোর নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ফিতনা বিদ্যমান ছিল, আর সবশেষে ছিল হাউসা ও ফুলানি গোত্রগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্ব (২)। এই সবকিছুই ইসলামি বিশ্বের এই অঞ্চলটিকে দুর্বল করে দিয়েছিল, এমনকি এটি এর ওপর পরিচালিত ইউরোপীয় অভিযানগুলোর মোকাবিলা করার শক্তিও রাখত না।

এটি হলো ইসলামি বিশ্বের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক অবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র; মোটের ওপর, এটি ছিল একটি শোচনীয় অবস্থা যা সেই সময়ে ইসলামি বিশ্ব যে সাধারণ রাজনৈতিক দুর্নীতির শিকার ছিল তা নির্দেশ করে (৩)। ইসলামি বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপরও এর লক্ষণীয় প্রভাব ছিল। এই অবনতির ফলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিলুপ্ত হয়, ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কৃষি কাজ চরমভাবে অবহেলিত হয় (৪)। এটি এমন এক সময়ে ছিল যখন ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের প্রভাব শক্তিশালী করার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল

--------------------------------------------

(১) আব্দুল মুতআল আস-সাঈদী: আল-মুজাদ্দিদুনা ফিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৩৫০ ও ৪১৮।

(২) মুহাম্মাদ কামাল জুমুআহ: পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২১-২৩।

(৩) নিকোলসন, আর. এ., আ লিটারারি হিস্ট্রি অব দ্য এরাবস, পৃষ্ঠা ৪৬৬।

(৪) স্টোডার্ড: পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৫৯।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১১)
حساب العالم الإسلامي الضعيف، وتهتم بتقوية جيوشها وتطور علومها واختراعاتها ، فوصلت إلى قوة الكهرباء والبخار (1) .

وبالرغم من هذا التدهور في العالم الإسلامي فإن الشعوب الإسلامية لا تخلو ممن توجد عنده الرغبة في إصلاح هذا الفساد (2) ولكن الرغبة وحدها لا تكفي فلا بد من العمل المتواصل الهادف البناء.

 

‌‌[الحالة الدينية]

(ب) الحالة الدينية: ونعني بالحالة الدينية حالة العقيدة الإسلامية في نفوس أتباعها، ومدى تمسكهم في أسسها الصحيحة، ولما كان الإسلام عقيدة ومنهج حياة، وكانت دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب - تبعا للإسلام - دعوة دينية سياسية معا، لما كان الأمر كذلك، كان الأولى أن نتكلم عن الحالتين الدينية والسياسية معا دون فاصل ولكننا آثرنا الفصل حصرا للموضوع ولناحية تنظيمية بحتة.

والواقع أن انحطاط الحياة الدينية لدى المسلمين لم يكن وليد هذا العصر فحسب، وإنما يسبقه بعدة قرون حينما دخل بالإسلام في الظاهر عناصر من أصحاب الملل والحضارات السابقة التي قضى عليها المسلمون في عصورهم الزاهرة ، وقد استهدفت هذه العناصر من دخولها في الإسلام الكيد له والدس عليه، فنشأت بذلك الفرق والمذاهب الدينية المختلفة، ووضعت الأحاديث المكذوبة لنصرة آرائها ومذاهبها، ثم كان لاحتكاك المسلمين بالصليبيين في القرن الخامس الهجري (الحادي عشر الميلادي) ثم المغول بعد ذلك - أثر في ظهور بعض الوثنيات تمثلت في تأليه الأولياء والصالحين وفي تقليد النصارى في بعض الطقوس الدينية، بالإضافة إلى انتشار الفوضى والجهل والاستهانة بالدين والحرمات (3) .

وعندما دخلت الدولة العثمانية دور الانحطاط في القرن الثاني عشر الهجري

--------------------------------------------

(1) عبد المتعال الصعيدي: المجددون في الإسلام ص 429.

(2) جمال الدين الشيال: محاضرات عن الحركات الإصلاحية ومراكز الثقافة في الشرق الإسلامي الحديث ج1، ص 55.

(3) عبد الله يوسف الشبل: محاضرات في تاريخ الدولة السعودية ص 26 و 27.
দুর্বল মুসলিম বিশ্বের প্রেক্ষাপটে তারা তাদের সেনাবাহিনী শক্তিশালী করতে এবং বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের উন্নয়নে মনোনিবেশ করেছিল, ফলে তারা বিদ্যুৎ ও বাষ্পীয় শক্তির যুগে পৌঁছে যায় (১)।

মুসলিম বিশ্বের এই অবনতি সত্ত্বেও, মুসলিম জাতিগুলোর মধ্যে এমন ব্যক্তিদের অভাব ছিল না যাদের মধ্যে এই বিচ্যুতি সংশোধনের আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান ছিল (২), কিন্তু কেবল আকাঙ্ক্ষাই যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন লক্ষ্যমুখী ও গঠনমূলক নিরবচ্ছিন্ন কর্মতৎপরতা।

 

‌‌[ধর্মীয় অবস্থা]

(খ) ধর্মীয় অবস্থা: ধর্মীয় অবস্থা বলতে আমরা তার অনুসারীদের অন্তরে ইসলামী আকিদার অবস্থা এবং এর সঠিক মূলনীতিসমূহের ওপর তাদের অটল থাকার মাত্রাকে বোঝাচ্ছি। যেহেতু ইসলাম একটি আকিদা ও জীবনব্যবস্থা, এবং শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াত—ইসলামের অনুসরণে—একইসাথে একটি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দাওয়াত ছিল, তাই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উভয় অবস্থা সম্পর্কে কোনো বিচ্ছেদ ছাড়াই একত্রে আলোচনা করা অধিকতর সমীচীন ছিল। কিন্তু আমরা বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করার স্বার্থে এবং বিশুদ্ধ সাংগঠনিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই বিভাজনকে প্রাধান্য দিয়েছি।

বাস্তবতা হলো, মুসলিমদের ধর্মীয় জীবনের এই অধঃপতন কেবল বর্তমান যুগের সৃষ্টি নয়, বরং এর সূচনা হয়েছিল আরও কয়েক শতাব্দী আগে থেকে। যখন বাহ্যিকভাবে ইসলামের ভেতরে এমন কিছু গোষ্ঠী প্রবেশ করেছিল যারা পূর্ববর্তী ধর্ম ও সভ্যতার অনুসারী ছিল, যাদেরকে মুসলিমরা তাদের স্বর্ণযুগে পরাজিত করেছিল। ইসলামে তাদের প্রবেশের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও এর মধ্যে বিজাতীয় চিন্তা প্রবেশ করানো। এর ফলে বিভিন্ন ধর্মীয় দল ও মাজহাবের উৎপত্তি ঘটে এবং নিজেদের মতবাদ ও মাজহাবের সমর্থনে মিথ্যা হাদিস জাল করা হয়। এরপর পঞ্চম হিজরি শতকে (একাদশ খ্রিস্টাব্দ) ক্রুসেডারদের সাথে এবং পরবর্তীতে মঙ্গোলদের সাথে মুসলিমদের সংস্পর্শের ফলে কিছু পৌত্তলিকতার আবির্ভাব ঘটে, যা ওলি ও নেককার ব্যক্তিদের উপাস্য বানানোর এবং কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে খ্রিস্টানদের অনুকরণ করার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল বিশৃঙ্খলা, অজ্ঞতা এবং দ্বীন ও পবিত্র বিষয়সমূহের অবমাননার বিস্তার (৩)।

আর যখন দ্বাদশ হিজরি শতকে উসমানীয় রাষ্ট্র পতনের যুগে প্রবেশ করে...

--------------------------------------------

(১) আব্দুল মুতাআল আস-সাইদি: আল-মুজাদ্দিদুনা ফিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৪২৯।

(২) জামালুদ্দিন আশ-শাইয়াল: মুহাদারাতুন আনিল হারাকাতিল ইসলাহিয়্যাহ ওয়া মারাকিযিত সাকাফাহ ফিশ শারকিল ইসলামি আল-হাদিস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৫।

(৩) আব্দুল্লাহ ইউসুফ আশ-শিবল: মুহাদারাতুন ফি তারিখিদ দাওলাতিস সাউদিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৬ ও ২৭।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১২)
كما سبق ازدادت الحالة الدينية سوءا بين المسلمين، ومما زاد في ذلك جمود علماء المسلمين في تلك الفترة، وتمسكهم بالقديم أيا كان خاصة علماء الآستانة وعلماء الأزهر، وقد شجعهم على هذا كره أصحاب السلطة في تلك الفترة للإصلاح أيا كان نوعه، وكثيرا ما يعدون صاحبه كافرا، كما فعلت الدولة العثمانية مع دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب حينما عدت دعوته وحركته الإصلاحية خارجة عن الدين (1) وبعكس ذلك أطلق أصحاب السلطة العنان لأهل البدع والمتصوفين والبلهاء حتى علا شأنهم عند العامة واعتقدوا فيهم الولاية.

يقول عبد المتعال الصعيدي: " كان الأبله محمد بن أبي بكر المغربي الطرابلسي المتوفى سنة 1201 هـ (1786 م) ممن يعتقد فيهم الولاية، وكان يحب مجالس الشراب ، ويتهافت على مجلسه النساء، ومع ذلك كان أهل الفضل من العلماء وغيرهم يحترمونه ، وينقلون عنه أخبارا حسنة، وكان الولاة لا يردون له شفاعة "، ثم أورد مثالا آخر في هذا الصدد فقال: " وكان الشيخ البكري المتوفى سنة 1207هـ (1792 م) في أول أمره أبله، يمشي في الشوارع مكشوف الرأس والسوأتين، فاعتقد أهل مصر فيه الولاية، كما هي عادتهم في كل أبله. . وصاروا ينسبون له الكرامات " (2) .

، ويورد المؤرخ عبد الرحمن الجبرتي في تاريخه قصة العنزة التي ادعى كبير خدام المشهد النفيسي بمصر أن السيدة نفيسة أوصت بها خيرا، فنسب الناس إليها الكرامات، وأرسلوا لها الهدايا الثمينة (3) .

وكان لأصحاب الطرق الصوفية منزلة عظيمة عند العامة وأصحاب السلطة فنشروا بذلك بدعهم بين الناس، كاتخاذهم مغنيين وطبول، وأعلام وسبح كبيرة ورفع الصوت بالذكر والغناء وتعظيم شيخ الطريقة وتقبيل أياديه والتبرك به وغير ذلك من أنواع البدع التي وقعت فيها الطرق الصوفية، وكان انتشار نفوذ

--------------------------------------------

(1) Nicholson، R. A.، Ibid P 467.

(2) عبد المتعال الصعيدي: المجددون في الإسلام ص 421.

(3) عبد الرحمن الجبرتي: عجائب الآثار في التراجم والأخبار - الجزء الأول، حوادث سنة 1172 هـ، طبع دار الفارس (بيروت) بدون تاريخ.
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছিল। এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পেছনে আরও যে বিষয়টি কাজ করেছিল তা হলো সেই যুগের মুসলিম আলেমদের জড়তা এবং যেকোনো প্রাচীন বিষয়ের প্রতি তাদের অন্ধ অনুকরণ, বিশেষ করে আস্তানা এবং আল-আযহারের আলেমদের ক্ষেত্রে। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর যেকোনো প্রকার সংস্কারের প্রতি ঘৃণা এই আলেমদের আরও উৎসাহিত করেছিল। তারা প্রায়শই সংস্কারপন্থীদের কাফের বলে অভিহিত করতেন; যেমনটি উসমানীয় রাষ্ট্র শেখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের ক্ষেত্রে করেছিল, যখন তারা তাঁর দাওয়াত ও সংস্কার আন্দোলনকে ধর্মবহির্ভূত বলে গণ্য করেছিল (১)। এর বিপরীতে, শাসকগোষ্ঠী বিদআতি, সুফি এবং নির্বোধদের অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছিল, যার ফলে সাধারণ মানুষের নিকট তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং মানুষ তাদের মধ্যে বেলায়েতের (অলি হওয়ার) বিশ্বাস পোষণ করতে শুরু করে।

আব্দুল মুতাল আস-সাঈদী বলেন: "নির্বোধ মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর আল-মাগরিবি আত-তারাবুলুসি (মৃত্যু ১২০১ হিজরি / ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দ) এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদেরকে ওলি বলে মনে করা হতো। তিনি মদ্যপানের মজলিস পছন্দ করতেন এবং মহিলারা তাঁর মজলিসে ভিড় জমাত। তা সত্ত্বেও আলেম সমাজ ও অন্যান্য গুণী ব্যক্তিরা তাঁকে সম্মান করতেন এবং তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক সংবাদ বর্ণনা করতেন; শাসকরাও তাঁর কোনো সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করতেন না।" এরপর তিনি এই প্রসঙ্গে আরও একটি উদাহরণ পেশ করে বলেন: "শেখ আল-বাকরি (মৃত্যু ১২০৭ হিজরি / ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দ) প্রাথমিক অবস্থায় নির্বোধ ছিলেন, তিনি খোলা মাথায় ও উলঙ্গ অবস্থায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। ফলে মিশরের মানুষ তাঁর সম্পর্কে বেলায়েতের বিশ্বাস পোষণ করতে শুরু করে, যেমনটি প্রতিটি নির্বোধের ক্ষেত্রে তাদের অভ্যাস ছিল... এবং তারা তাঁর দিকে অলৌকিক কারামতসমূহ নিসবত করতে থাকে" (২)।

ঐতিহাসিক আব্দুর রহমান আল-জাবারতি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে সেই ছাগীর গল্প উল্লেখ করেছেন, যার সম্পর্কে মিশরের মাশহাদে নাফিসির প্রধান খাদেম দাবি করেছিলেন যে, সায়্যিদা নাফিসা এই ছাগীটির সাথে সদাচরণের অসিয়ত করেছেন। ফলে মানুষ সেটির দিকে কারামত নিসবত করতে শুরু করে এবং সেটির জন্য মূল্যবান উপঢৌকন পাঠাতে থাকে (৩)।

সুফি তরিকার অনুসারীদের সাধারণ মানুষ ও শাসকগোষ্ঠীর নিকট অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা ছিল, যার ফলে তারা মানুষের মধ্যে তাদের বিদআতসমূহ ছড়িয়ে দিয়েছিল। যেমন—গায়ক ও ঢোল-তবলা গ্রহণ করা, বড় বড় ঝাণ্ডা ও তসবিহ ব্যবহার করা, জিকির ও গানের সময় উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ করা, তরিকার শেখের অতিমূল্যায়ন করা, তাঁর হাত চুম্বন করা এবং তাঁর মাধ্যমে বরকত হাসিল করা (তাবাররুক)। এছাড়াও সুফি তরিকাগুলো আরও নানা প্রকার বিদআতে লিপ্ত হয়েছিল। আর তাদের প্রভাবের বিস্তার...

--------------------------------------------

(১) নিকোলসন, আর. এ., প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪৬৭।

(২) আব্দুল মুতাল আস-সাঈদী: আল-মুজাদ্দিদুনা ফিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৪২১।

(৩) আব্দুর রহমান আল-জাবারতি: আজায়িবুল আসার ফিত তারাজিম ওয়াল আখবার - প্রথম খণ্ড, ১১৭২ হিজরির ঘটনাবলি, দারুল ফারিস (বৈরুত) থেকে মুদ্রিত, বিহীন তারিখ।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৩)
المتصوفين بدعم من السلطة المركزية، بل من فقهاء المسلمين أنفسهم ، ووصل قوة نفوذ أصحاب الطرق الصوفية أن تولى عدد منهم مشيخة الأزهر فترة من الوقت (1) .

هذا إلى جانب ما كان منتشرا بين عامة الناس في كافة أرجاء الدولة العثمانية وفي غيرها من بقاع المسلمين من بدع أصابت عقيدة التوحيد في الصميم، فقد انتشرت في البلاد المختلفة قبور الأولياء والصالحين التي بنيت عليها القباب والتي يتجه إليها الناس بأشياء لا يجوز صرفها إلا لله تعالى؛ كالدعاء والاستغاثة والذبح والنذر والشفاعة ونحوها، وكثيرا ما كانت تقام عند هذه القبور المنكرات والمفاسد وقد انتشرت هذه القبور في أرجاء مختلفة من أقاليم الدولة العثمانية بدعم من السلطة المركزية نفسها.

* ففي الحجاز: يوجد في المدينة المنورة قبر حمزة وشهداء أحد، إضافة إلى ما يفعله الزائر لقبر النبي صلى الله عليه وسلم من الأمور الشركية من دعائه والسجود له، وفي جدة ومكة يوجد قبر خديجة رضي الله عنها وقبر أبي طالب، وفي الطائف يوجد قبر عبد الله بن عباس.

* أما في اليمن: فتوجد قبور يتبرك العوام بها في اللحية والحديدة ونجران، وفي حضرموت والشحر ويافع وعدن.

* وفي الشام: توجد قبور في دمشق وحلب وأقصى الشام.

* وفي العراق: يوجد قبر أبي حنيفة، ومعروف الكرخي، والشيخ عبد القادر، وكذلك ما يفعله الشيعة عند مشهد علي بن أبي طالب رضي الله عنه في النجف، ومشهد الحسين والكاظم في كربلاء.

* أما في مصر: فيوجد قبر أحمد البدوي المشهور، وكذلك القبر المنسوب إلى الحسين في القاهرة وغيره من القبور التي يأتيها الناس هناك فيستغيثون بها

--------------------------------------------

(1) عبد المتعال الصعيدي: المجددون في الإسلام ص 423.
কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সমর্থনপুষ্ট সূফীগণ, এমনকি স্বয়ং মুসলিম ফকীহগণও তাদের সমর্থন করতেন; সূফী তরীকার অনুসারীদের প্রভাব-প্রতিপত্তি এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আল-আযহারের প্রধান শায়খ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন (১)।

এর পাশাপাশি উসমানীয় সাম্রাজ্যের সমস্ত অঞ্চল এবং অন্যান্য মুসলিম জনপদে সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন সব বিদআত ছড়িয়ে পড়েছিল যা তাওহীদী আকীদার মূলে আঘাত হেনেছিল। বিভিন্ন দেশে ওলী এবং নেককার ব্যক্তিদের এমন সব কবর বা মাযার ছড়িয়ে পড়েছিল যেগুলোর ওপর গম্বুজ নির্মাণ করা হয়েছিল। মানুষ সেখানে এমন সব বিষয় নিয়ে যেত যা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারও উদ্দেশ্যে নিবেদন করা বৈধ নয়; যেমন—দুআ, ইস্তিগাসা (সাহায্য প্রার্থনা), যবেহ, মানত, শাফায়াত ইত্যাদি। প্রায়শই এই কবরগুলোর নিকট বিভিন্ন প্রকার গর্হিত ও অনিষ্টকর কাজ সংঘটিত হতো। কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশে এ সকল কবরের বিস্তৃতি ঘটেছিল।

* হিজাজে: মদীনা মুনাওয়ারায় হামযাহ এবং ওহুদের শহীদগণের কবর রয়েছে। তদুপরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের যিয়ারতকারীরা সেখানে তাঁর কাছে দুআ করা এবং তাঁকে সাজদাহ করার মতো যেসব শিরকী কাজে লিপ্ত হতো তা তো আছেই। জেদ্দা ও মক্কায় খাদিজাহ রাযিয়াল্লাহু আনহা এবং আবু তালিবের কবর রয়েছে এবং তায়েফে রয়েছে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাসের কবর।

* ইয়েমেনে: আল-লুহাইয়াহ, আল-হুদাইদাহ এবং নাজরানে এমন সব কবর রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বরকত হাসিল করত। এছাড়া হাযরামাউত, আশ-শিহর, ইয়াফি এবং আদেনেও এমন কবর রয়েছে।

* শামে: দামেস্ক, আলেপ্পো এবং শামের দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে কবর বা মাযার বিদ্যমান রয়েছে।

* ইরাকে: আবু হানীফাহ, মারূফ আল-কারখী এবং শেখ আব্দুল কাদিরের কবর রয়েছে। পাশাপাশি শিয়ারা নাজাফে আলী বিন আবু তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহুর মাযারে এবং কারবালায় হুসাইন ও কাযিমের মাযারে যা করে থাকে তাও অন্তর্ভুক্ত।

* মিশরে: এখানে বিখ্যাত আহমদ বাদভীর কবর রয়েছে, তেমনি কায়রোতে হুসাইনের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত কবর এবং আরও অন্যান্য কবর রয়েছে যেখানে মানুষ যাতায়াত করে এবং সেগুলোর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে।

--------------------------------------------

(১) আব্দুল মুতাআল আস-সাঈদী: আল-মুজাদ্দিদূনা ফিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৪২৩।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৪)
ويسألونها قضاء حاجاتهم وتفريج كرباتهم (1) .

وعلى العموم انتشرت الأضرحة والقبور في كل مكان وفي كل مدينة في العالم الإسلامي، ولم يكتفوا بذلك بل عادوا إلى الجاهلية الأولى فقدسوا الجماد والنبات (2) بل وصلت الحال في عُبَّاد القبور إلى أن علماءهم أخذوا يضعون الكتب لهؤلاء العامة لبيان كيفية الحج إلى هذه القبور وإقامة البدع عندها وسموها بأسماء " مناسك حج المشاهد والاستغاثة بالنبي صلى الله عليه وسلم في اليقظة والمنام ونحو ذلك " (3) .

ومن البدع التي أساءت إلى الحياة الدينية عند المسلمين بدعة المحمل، فقد اعتاد الأتراك العثمانيون أن يرسلوا إلى مكة - عن طريق ولاتهم - محملا وهو جمل ينصب عليه هودج يحمل الكسوة للكعبة المشرفة، ويزين بأنواع الزينة ويأتي إلى مكة في موكب من الطبول والمزامير، ويقوم بعض الناس بالتمسح به، وتقبيله زيادة في تعظيمه ، وجعلوا ذلك كله كالسنة المتبعة المفروضة، بل توهم بعض العامة أن المحمل جزء من فريضة الحج.

ومن البدع الأخرى بدعة الاحتفال بمولد النبي صلى الله عليه وسلم، وما يقع فيها من الأمور البدعية البعيدة عن جوهر الإسلام الصحيح (4) .

وبهذا كله نرى كيف ضاعت عناية الأتراك العثمانيين بدين الإسلام في هذه الأمور البدعية وما شابهها، دون الاهتمام بما هو أهم وأولى وذلك بالحرص على غرس الإسلام الصحيح في نفوس أتباعه، يقول محمد حامد الفقي: " كانت عنايتهم - أي الأتراك العثمانيين - بالدين منصرفة إلى زخرفة المساجد، وتزويق المصاحف، وتجديد كتابة الدلائل والبردة، ونحو ذلك " (5) .

--------------------------------------------

(1) حسين بن غنام: روضة الأفكار والأفهام لمرتاد حال الإمام وتعداد غزوات ذوي الإسلام ج1 ص 10.

(2) جمال الدين الشيال: المرجع السابق ص 57.

(3) حسين بن غنام: المرجع السابق ج1 ص 88، 92 (ط1، بابطين) .

(4) منير العجلاني: تاريخ البلاد العربية السعودية ج1: الدولة السعودية الأولى ص 291 - 295.

(5) محمد حامد الفقي: أثر الدعوة الوهابية في الإصلاح الديني والعمراني في جزيرة العرب ص 23.
তারা তাদের নিকট প্রয়োজন পূরণ এবং বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করে (১)।

সাধারণভাবে, মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি স্থানে এবং প্রতিটি শহরে সমাধি ও কবরসমূহ ছড়িয়ে পড়েছিল। তারা কেবল এতেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং আদি জাহিলিয়াতের দিকে ফিরে গিয়ে জড়পদার্থ ও বৃক্ষরাজিকেও পবিত্র জ্ঞান করতে শুরু করেছিল (২)। এমনকি কবরপূজারীদের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তাদের আলেমগণ সাধারণ মানুষের জন্য এই কবরগুলোতে হজের পদ্ধতি এবং সেখানে বিদআত পালনের নিয়মাবলি বর্ণনার নিমিত্তে কিতাব রচনা করতে শুরু করেন। তারা এগুলোর নাম দিয়েছিলেন "মেশাহেদ (সমাধি) হজের নিয়মাবলি এবং জাগ্রত ও নিদ্রা অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সাহায্য প্রার্থনা" ইত্যাদি (৩)।

মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী বিদআতসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো 'মাহমাল'-এর বিদআত। উসমানীয় তুর্কিরা তাদের গভর্নরদের মাধ্যমে মক্কায় একটি মাহমাল পাঠানোর রীতি চালু করেছিল। এটি ছিল একটি উট যার ওপর একটি হাওদা বসানো থাকত এবং তাতে পবিত্র কাবার গিলাফ বহন করা হতো। একে বিভিন্ন সাজসজ্জায় সজ্জিত করা হতো এবং ঢাক-ঢোলের মিছিল সহকারে মক্কায় আনা হতো। কিছু লোক অতি ভক্তির আতিশয্যে এটি স্পর্শ করত এবং চুম্বন করত। তারা এই সব বিষয়কে একটি অনুসৃত ও আবশ্যিক সুন্নাতের রূপ দিয়েছিল, এমনকি সাধারণ মানুষের কেউ কেউ ধারণা করত যে মাহমাল হজের একটি অংশ।

অন্যান্য বিদআতের মধ্যে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মোৎসব পালনের (মাওলিদ) বিদআত এবং এতে সংঘটিত নানা বিদআতি কর্মকাণ্ড, যা ইসলামের সঠিক মর্মবাণী থেকে বহু দূরে (৪)।

এই সবকিছুর মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, উসমানীয় তুর্কিরা ইসলামের প্রকৃত গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে কীভাবে এসব বিদআতি কর্মকাণ্ড ও সমজাতীয় বিষয়ে লিপ্ত হয়েছিল। তারা অনুসারীদের অন্তরে বিশুদ্ধ ইসলাম প্রতিষ্ঠার মতো অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রগণ্য বিষয়ের প্রতি যত্নশীল ছিল না। মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকী বলেন: "ইসলামের প্রতি তাদের (অর্থাৎ উসমানীয় তুর্কিদের) মনোযোগ ছিল কেবল মসজিদসমূহ সজ্জিত করা, মুসহাফসমূহ কারুকার্যময় করা এবং দালাইল ও বুরদাহ্-র মতো কিতাবসমূহ পুনঃলিখন বা অলঙ্করণ করা ইত্যাদি বিষয়ে" (৫)।

--------------------------------------------

(১) হুসাইন বিন গান্নাম: রওজাতুল আফকার ওয়াল আফহাম লি মুরতাদি হালিল ইমাম ওয়া তা'দাদি গাজাওয়াতি যাবিল ইসলাম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০।

(২) জামালুদ্দিন আল-শায়্যাল: পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৫৭।

(৩) হুসাইন বিন গান্নাম: পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৮, ৯২ (১ম সংস্করণ, বাবতিন)।

(৪) মুনির আল-আজলানি: তারিখুল বিলাদিল আরাবিয়্যাহ আস-সাউদিয়্যাহ, খণ্ড ১: প্রথম সৌদি রাষ্ট্র, পৃষ্ঠা ২৯১ - ২৯৫।

(৫) মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকী: আসারুদ দাওয়াহ আল-ওয়াহ্হাবিইয়াহ ফিল ইসলাহ আদ-দীনি ওয়াল উমরানি ফি জাজিরাতিল আরব, পৃষ্ঠা ২৩।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৫)
والحقيقة أن انتشار هذه البدع في الدين لم يكن قاصرا على أقاليم الدولة العثمانية فحسب، بل شملت المناطق الإسلامية الأخرى، فبجانب بدعة إقامة القباب على قبور الأولياء والتبرك فيها تنتشر في تلك المناطق الإسلامية الطرق الصوفية ببدعها المختلفة، ففي المغرب الإسلامي وغرب أفريقيا تنتشر بين القبائل الإسلامية هناك الطريقة التيجانية (1) وفي مسلمي التركستان المجاورة لروسيا انتشرت بينهم الطريقة النقشبندية، أما مسلمو الهند وأندونيسيا فانتشرت فيهما طرق صوفية متعددة أهمها النقشبندية والششينية وغيرها (2) .

ونختم حديثنا في هذا الصدد بهذا التصوير عن حالة العالم الإسلامي الدينية في تلك الفترة للعالم الأمريكي (لوثروب ستودارد) حيث قال: " وأما الدين فقد غشيته غاشية سوداء، فألبست الوحدانية التي علمها صاحب الرسالة الناس سجفا من الخرافات وقشور الصوفية، وخلت المساجد من أرباب الصلوات وكثر عديد الأدعياء الجهلاء. . يوهمون الناس بالباطل والشبهات ، ويرغبونهم في الحج إلى قبور الأولياء، ويزينون للناس التماس الشفاعة من دفناء القبور ". . إلى أن قال: " وعلى الجملة فقد بدل المسلمون غير المسلمين ، وهبطوا مهبطا بعيد القرار، فلو عاد صاحب الرسالة إلى الأرض في ذلك العصر ورأى ما كان يدهي الإسلام لغضب وأطلق اللعنة على من استحقها من المسلمين، كما يلعن المرتدون وعبدة الأوثان " (3) .

--------------------------------------------

(1) عبد الفتاح عبد الصمد منصور: محاضرات في تاريخ العالم الإسلامي المعاصر ص 37، العام الجامعي 93 - 1394 هـ.

 

(2) محمد كمال جمعة: مرجع سابق 23-25.

(3) لوثروب ستودارد: المرجع السابق ج1 ص 259 و 260.
প্রকৃতপক্ষে, দ্বীনের মধ্যে এই বিদআতগুলোর বিস্তার কেবল উসমানীয় সাম্রাজ্যের অঞ্চলগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা অন্যান্য মুসলিম অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছিল। ওলীদের কবরের উপর গম্বুজ নির্মাণ এবং সেখানে বরকত হাসিল করার বিদআতের পাশাপাশি ওইসব মুসলিম অঞ্চলে বিভিন্ন বিদআতসহ সুফি তরীকাগুলো বিস্তার লাভ করে। যেমন—ইসলামি মাগরেব (উত্তর আফ্রিকা) ও পশ্চিম আফ্রিকায় সেখানকার মুসলিম গোত্রগুলোর মধ্যে তিজানিয়া তরীকা (১) এবং রাশিয়ার সীমান্তবর্তী তুর্কিস্তানের মুসলমানদের মধ্যে নকশবন্দিয়া তরীকা ছড়িয়ে পড়েছিল। আর ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মুসলমানদের মধ্যে বিভিন্ন সুফি তরীকা বিস্তার লাভ করেছিল, যার মধ্যে প্রধান হলো নকশবন্দিয়া, চিশতিয়া ও অন্যান্য (২)।

এই প্রসঙ্গে আমরা তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় অবস্থার ওপর আমেরিকান পণ্ডিত লোথ্রপ স্টোডার্ড-এর এই চিত্রায়নের মাধ্যমে আমাদের আলোচনা শেষ করছি, যেখানে তিনি বলেছেন: "আর ধর্মের কথা বলতে গেলে, তা এক গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। রিসালাতের অধিকারী (রাসূলুল্লাহ) মানুষকে যে একত্ববাদ শিক্ষা দিয়েছিলেন, কুসংস্কারের আবরণ এবং সুফিবাদের অন্তঃসারশূন্যতা তাকে ঢেকে ফেলেছিল। মসজিদগুলো ইবাদতকারীদের থেকে খালি হয়ে গিয়েছিল এবং মূর্খ দাবিদারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল... তারা মানুষকে মিথ্যা ও সংশয়ের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করত, ওলীদের কবরে হজ্জ বা তীর্থযাত্রার প্রতি উদ্বুদ্ধ করত এবং কবরস্থ ব্যক্তিদের কাছে সুপারিশ কামনার বিষয়টিকে মানুষের কাছে সুশোভিত করে তুলেছিল।" ... তিনি আরও বলেন: "সামগ্রিকভাবে, মুসলমানরা নিজেদের এমনভাবে বদলে ফেলেছিল যে তারা অ-মুসলমানদের মতো হয়ে গিয়েছিল এবং তারা এক অতল গহ্বরে পতিত হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) যদি সেই যুগে পৃথিবীতে ফিরে আসতেন এবং ইসলামের ওপর আপতিত এই দুর্দশা দেখতেন, তবে তিনি অত্যন্ত রাগান্বিত হতেন এবং যারা অভিশাপের যোগ্য সেই মুসলমানদের ওপর লানত বর্ষণ করতেন, যেভাবে ধর্মত্যাগী ও মূর্তিপূজারীদের ওপর লানত দেওয়া হয়" (৩)।

--------------------------------------------

(১) আবদ আল-ফাত্তাহ আবদ আস-সামাদ মনসুর: সমকালীন মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসের ওপর বক্তৃতা, পৃ. ৩৭, শিক্ষাবর্ষ ৯৩ - ১৩৯৪ হিজরি।

 

(২) মুহাম্মদ কামাল জুমুআহ: পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ২৩-২৫।

(৩) লোথ্রপ স্টোডার্ড: পূর্বোক্ত উৎস, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৫৯ ও ২৬০।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌[حال نجد قبل دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب]

‌‌[الحالة السياسية]

حال نجد قبل دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب (أ) الحالة السياسية: في القرن الثالث الهجري قامت في منطقة نجد دولة مستقلة عن دولة الخلافة العباسية يطلق عليها " الدولة الأخيضرية " التي أسسها (محمد الأخيضر) سنة 253 هـ (867 م) ، واستمرت حتى منتصف القرن الخامس الهجري حيث سقطت تلك الدولة (1) وبسقوطها أصبحت بلاد نجد مجزأة إلى إمارات صغيرة يرتبط بعضها بالدويلات التي قامت في منطقة الأحساء ومنها الدولة العيونية (من سنة 467 هـ -750 هـ تقريبا) ، ودولة بني عامر بن عقيل (من 750 هـ - 932 هـ) ، ثم دولة بني خالد التي قامت عام 1080 هـ (2) .

وكان الأتراك العثمانيون قد استولوا على منطقة الأحساء سنة 963 هـ وفي أثناء حكمهم للمنطقة لم يتعرضوا لإقليم نجد من قريب ولا من بعيد، ولذلك لم تشهد منطقة نجد خلال تلك الفترة ولاة عثمانيين، ولا حامية تركية تجوب خلال دياره (3) ذلك أن الدولة العثمانية لم تكن سياستها في ذلك الوقت تهتم بإخضاع نجد لحكمها، وكل ما يهمها هو الحجاز حيث الأماكن المقدسة الإسلامية، بالإضافة إلى السواحل الغربية والشرقية للجزيرة العربية خصوصا بعد أن تعرضت هذه السواحل لحملات البرتغاليين في أثناء القرن الخامس عشر الميلادي (4) .

وقد استمر العثمانيون يحكمون منطقة الأحساء حتى دخلت الدولة العثمانية فترة انحطاط في عهد السلطان (محمد خان الرابع) في العقد السابع من القرن الحادي عشر الهجري، فتمكن (بنو خالد) بزعامة (براك بن غرير آل حميد) من إجلاء الحامية

--------------------------------------------

(1) عبد الرحمن بن خلدون: العبر وديوان المبتدأ والخبر ج4 ص 98، منير العجلاني: مرجع سابق ص28.

(2) عبد الله يوسف الشبل: المرجع السابق ص 23 - 21.

(3) ساطع الحصري: الدولة العثمانية والبلاد العربية ص 9 و 238 و 239، ط بيروت 1960 م.

(4) محمد محمود السروجي: المرجع السابق (المجلة التاريخية المصرية) المجلد السابع عام 1958.
[শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের পূর্বে নজদের অবস্থা]

[রাজনৈতিক অবস্থা]

শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের পূর্বে নজদের অবস্থা (ক) রাজনৈতিক অবস্থা: তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে নজদ অঞ্চলে আব্বাসীয় খিলাফত থেকে স্বাধীন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় যাকে ‘উখাইদিরিয়া রাষ্ট্র’ বলা হয়, যা ২৫৩ হিজরিতে (৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে) (মুহাম্মাদ আল-উখাইদির) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল যখন সেই রাষ্ট্রের পতন ঘটে (১)। এই পতনের মাধ্যমে নজদ ভূখণ্ড ছোট ছোট আমীরাতে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যার কিছু অংশ আহসা অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর সাথে যুক্ত ছিল। তার মধ্যে উয়ুনিয়া রাষ্ট্র (আনুমানিক ৪৬৭ হিজরি - ৭৫০ হিজরি), বনু আমির বিন আকিল রাষ্ট্র (৭৫০ হিজরি - ৯৩২ হিজরি) এবং পরবর্তীতে ১০৮০ হিজরিতে প্রতিষ্ঠিত বনু খালিদ রাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য (২)।

তুর্কি উসমানীয়রা ৯৬৩ হিজরিতে আহসা অঞ্চল দখল করেছিল এবং এই অঞ্চলে তাদের শাসন চলাকালীন তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই নজদ অঞ্চলের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। ফলে এই সময়ে নজদ অঞ্চলে কোনো উসমানীয় গভর্নর বা কোনো তুর্কি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায়নি যারা সেই জনপদে বিচরণ করত (৩)। এর কারণ ছিল, সেই সময়ে উসমানীয়দের নীতি নজদকে তাদের অধীনে আনার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল না; তাদের মূল লক্ষ্য ছিল হিজাজ যেখানে ইসলামি পবিত্র স্থানসমূহ অবস্থিত। এর পাশাপাশি আরব উপদ্বীপের পশ্চিম ও পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলগুলোও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে পঞ্চদশ খ্রিস্টীয় শতাব্দীতে এই উপকূলগুলো পর্তুগিজদের আক্রমণের সম্মুখীন হওয়ার পর (৪)।

উসমানীয়রা আহসা অঞ্চলে তাদের শাসন অব্যাহত রাখে যতক্ষণ না একাদশ হিজরি শতাব্দীর সপ্তম দশকে সুলতান (চতুর্থ মুহাম্মাদ খান)-এর আমলে উসমানীয় রাষ্ট্র অবক্ষয়ের যুগে প্রবেশ করে। তখন (বাররাক বিন গুরাইর আল-হুমাইদ)-এর নেতৃত্বে (বনু খালিদ) সামরিক বাহিনীকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়

--------------------------------------------

(১) আব্দুর রহমান বিন খালদুন: আল-ইবার ওয়া দিওয়ানুল মুবতাদা ওয়াল খবর, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৯৮; মুনীর আল-আজলানি: পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২৮।

(২) আব্দুল্লাহ ইউসুফ আশ-শিবল: পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২১ - ২৩।

(৩) সাতি আল-হুসারি: আদ-দাওলাতুল উসমানিয়্যাহ ওয়াল বিলাদুল আরাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৯, ২৩৮ ও ২৩৯, বৈরুত সংস্করণ ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দ।

(৪) মুহাম্মাদ মাহমুদ আস-সারুজি: পূর্বোক্ত উৎস (আল-মাজাল্লাতুল তারিখিয়্যাহ আল-মিসরিয়্যাহ), সপ্তম ভলিউম, ১৯৫৮ সাল।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭)
التركية والاستيلاء على الأحساء سنة 1080هـ (1669م) وفي أوج قوة بني خالد استطاعوا مد نفوذهم إلى الكويت وبعض بلاد نجد (1) .

والواقع أنه منذ القرن الخامس الهجري أصبحت بلاد نجد مقسمة إلى إمارات صغيرة متفرقة متنازعة، وإذا كان بعض هذه الإمارات خاضعا للدويلات التي قامت في منطقة الأحساء فإن من يطلع على تاريخ نجد في تلك الفترة - على اختصاره - " تواجهه حقيقة مرعبة، وهي أن القوم كانوا في عراك مستمر ومرابطة دائمة، وثأر لا ينقطع، يتربص بعضهم ببعض الدوائر، ويتحين أهل كل قرية الفرصة للإيقاع بأهل القرية الأخرى، وقد ذهب في هذه الحروب - على صغر حجمها ولكن مع كثرة تكرارها - أعداد كبيرة، وليس من غير المتكرر أن تجد أن الجد قد قُتل في عراك قُتل فيه ابنه بعد عشرين عاما ، وحفيده بعد عشرين أخرى وهكذا. . وأن تجد عائلة تخرج من الحكم ثم تعود وتخرج مخرجها مع خسائر في الأنفس في كلا الحالتين، هذا رغم أن هذه العائلات المتعادية قد تلتقي في نسبها في جد ليس بالبعيد كثيرا " (2) .

لقد كانت هذه الإمارات والقرى لا تعرف السكينة والأمن والحرية إلا قليلا، ففي الحرب يقتل أبناؤها، ويدمر بناؤها، ويحرق نخيلها، ويتلف زرعها، وفي فترات السلم يحبس الناس في بلدانهم فلا يستطيعون الابتعاد عنها إلا بمغامرة، فبداوة تسلب وتنهب وتقتل وتفرض على المدن المتفرقة الإتاوة، وتهدد سلامتها، وتقطع طرقها ، فكانت إمارات نجد في تلك الفترة تجسيدا لقصة ملوك الطوائف في الأندلس (3) .

ولتوضيح ذلك سنورد الآن ثلاثة نصوص كأنموذج لما تزخر به مصادر تلك الفترة في تاريخ نجد من الحوادث المفجعة، والأخبار المؤلمة، وهي من بعض مؤرخي تلك الفترة:

--------------------------------------------

(1) عبد الله الشبل: المرجع السابق ص 23، عبد الله العثيمين: الشيخ محمد بن عبد الوهاب: حياته وفكره ص 11-9.

(2) عبد العزيز الخويطر: مقدمة تاريخ أحمد بن منقور ص 22.

(3) منير العجلاني: مرجع سابق ص 36.
তুর্কি শাসন এবং ১০৮০ হিজরি (১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে) আল-আহসা দখল এবং বনী খালিদের শক্তির চরম শিখরে থাকাকালীন তারা কুয়েত এবং নজদের কিছু অঞ্চলে তাদের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল (১)।

বাস্তবতা হলো, পঞ্চম হিজরি শতাব্দী থেকে নজদ অঞ্চলটি ছোট ছোট, বিচ্ছিন্ন এবং বিবদমান আমিরাতে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। যদিও এই আমিরাতগুলোর মধ্যে কিছু আল-আহসা অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলোর অধীনে ছিল, তবে যারা সেই সময়ের নজদের ইতিহাস পাঠ করেন—তা সংক্ষেপে হলেও—তারা এক ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হন। আর তা হলো, এই জাতি ছিল নিরন্তর লড়াই, স্থায়ী যুদ্ধাবস্থা এবং অবিরাম প্রতিহিংসার মধ্যে। তারা একে অপরের ওপর বিপর্যয় আসার প্রতীক্ষায় থাকত এবং প্রতিটি গ্রামের অধিবাসীরা অন্য গ্রামের অধিবাসীদের বিপদে ফেলার সুযোগের অপেক্ষায় থাকত। এই যুদ্ধগুলোতে—যার পরিধি ছোট হলেও সংখ্যায় ছিল অনেক—বিপুল সংখ্যক লোক প্রাণ হারিয়েছে। এটি অস্বাভাবিক ছিল না যে, আপনি দেখতে পাবেন একজন দাদা এমন এক লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন যেখানে বিশ বছর পর তার ছেলেও নিহত হয়েছে এবং তার আরও বিশ বছর পর তার নাতিও। একইভাবে আপনি দেখতে পাবেন কোনো পরিবার ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, আবার ফিরে এসেছে এবং উভয় ক্ষেত্রে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে; অথচ এই শত্রুভাবাপন্ন পরিবারগুলোর বংশধারা হয়তো খুব কাছের কোনো পূর্বপুরুষের কাছে গিয়েই মিলিত হয়েছে (২)।

এই আমিরাত এবং গ্রামগুলো খুব সামান্যই প্রশান্তি, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা ভোগ করত। যুদ্ধের সময় তাদের সন্তানরা নিহত হতো, তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হতো, তাদের খেজুর বাগান পুড়িয়ে ফেলা হতো এবং ফসল নষ্ট করা হতো। আর শান্তির সময়ে মানুষ তাদের নিজ শহরে অবরুদ্ধ হয়ে থাকত, কোনো দুঃসাহসিক কাজ ছাড়া তারা শহর থেকে দূরে যেতে পারত না। কারণ বেদুইনরা লুণ্ঠন, হত্যা এবং বিচ্ছিন্ন শহরগুলোর ওপর কর বা নজরানা ধার্য করত, তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলত এবং রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিত। ফলে তৎকালীন নজদের আমিরাতগুলো আন্দালুসের মুলুকুত তাওয়াইফ (ক্ষুদ্র নৃপতিদের) গল্পের বাস্তব রূপ ধারণ করেছিল (৩)।

বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য, আমরা এখন সেই সময়ের নজদ ইতিহাসের উৎসগুলোতে বিদ্যমান শোকাবহ ঘটনা এবং যন্ত্রণাদায়ক সংবাদগুলোর নমুনা হিসেবে তিনটি উদ্ধৃতি উপস্থাপন করব, যা ওই সময়ের কিছু ঐতিহাসিকের লেখা থেকে নেওয়া হয়েছে:

--------------------------------------------

(১) আব্দুল্লাহ আশ-শিবল: পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২৩; আব্দুল্লাহ আল-উসাইমীন: আশ-শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব: হায়াতুহু ওয়া ফিকরুকু, পৃষ্ঠা ৯-১১।

(২) আব্দুল আজিজ আল-খুওয়াইতির: তারিখ আহমাদ ইবনে মানকুর-এর ভূমিকা, পৃষ্ঠা ২২।

(৩) মুনীর আল-আজলানী: পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৩৬।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৮)
أولا: يقول الشيخ أحمد المنقور في تاريخه: " وفيها - أي سنة ثمان وتسعين وألف للهجرة - قتل أحمد بن علي راعي المجمعة، ثم آل دهيش في المجمعة بعده، ثم علي بن سليمان بعدهم، ثم علي بن محمد عندنا، وسطوة آل محدث على الزلفى، وقتل فوزان بن زامل في الزلفى " (1) .

ثانيا: يقول المؤرخ عثمان بن بشر في تاريخه: " وفي سنة عشرين ومائة وألف قُتل سلطان بن حمد القبس رئيس الدرعية وتولى بعده أخوه عبد الله ثم قتل، وفيها قتل حسين بن نفير صاحب التويم البلد المعروف في ناحية سدير قتله ابن عمه فايز بن محمد وتولى بعده في التويم، ثم إن أهل حرمة ساروا إلى التويم وقتلوا فايز المذكور وجعلوا في البلد فوزان. . ثم غدر ناصر بن حمد في فوزان فقتله، فتولى في التويم محمد بن فوزان فتمالأ عليه رجال فقتلوه منهم المفرع وغيره من رؤساء البلد وهم أربعة رجال، فلم تستقر ولاية لأحدهم، فقسموا البلد أرباعا كل واحد شاخ في ربعها فسموها المربوعة أكثر من سنة " (2) .

ثالثا: يقول صاحب كتاب (لمع الشهاب في سيرة محمد بن عبد الوهاب) ما نصه: " لا هناك رئيس قاهر يردع الظالم وينصر المظلوم، بل كان كل من الحكام حاكم بلده. . والبداوة إذا قبائل شتى. . فكان البدو يتحاكمون في قصصهم وحوادثهم إلى العرف لا إلى الشرع. . وأولئك الحكام طاغون لكونهم يصدون الناس عن اتباع حكم الشرع. . وكان أهل الحضر أهل المدن من نجد دائما بعضهم يحارب بعض " (3) .

إن أوضح معطيات النصوص السابقة أن بلاد نجد كانت دائما - في تلك الفترة - تعيش حياة ملؤها الخوف والذعر وعدم الاستقرار في أمور حياتها كلها، أنتجتها تلك الحروب والفتن التي تطحنه عسكريا وخلقيا ونفسيا وفكريا، وهي - بحق - تعطي فكرة واضحة عن مدى تفكك المجتمع الذي وجد في دعوة الشيخ محمد بن

--------------------------------------------

(1) أحمد بن محمد المنقور: تاريخ الشيخ ابن منقور ص 63.

(2) عثمان بن بشر: عنوان المجد في تاريخ نجد ج2 ص 228 و 229 (السوابق) .

(3) مؤلف مجهول: لمع الشهاب في سيرة محمد بن عبد الوهاب ص 29 و 30 ط دارة الملك عبد العزيز.
প্রথমত: শায়খ আহমদ আল-মানকুর তাঁর ইতিহাসে বলেন: "তাতে - অর্থাৎ হিজরি এক হাজার আটানব্বই সালে - আল-মাজমা‘আহর শাসক আহমদ বিন আলী নিহত হন, এরপর মাজমা‘আহতে তাঁর পরে আলে দাহিশ, তারপর তাদের পরে আলী বিন সুলাইমান, তারপর আমাদের এখানে আলী বিন মুহাম্মদ নিহত হন, এবং আয-যুলফির উপর আলে মুহাদ্দিসের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং আয-যুলফিতে ফাওযান বিন যামিল নিহত হন" (১)।

দ্বিতীয়ত: ঐতিহাসিক উসমান বিন বিশর তাঁর ইতিহাসে বলেন: "এক হাজার একশ বিশ সালে আদ-ডিরয়্যাহর প্রধান সুলতান বিন হামাদ আল-কাবাস নিহত হন এবং তাঁর পরে তাঁর ভাই আবদুল্লাহ দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তারপর তিনিও নিহত হন। ঐ বছরই সুদাইর অঞ্চলের সুপরিচিত জনপদ আত-তুওয়াইমের অধিপতি হুসাইন বিন নুফাইর নিহত হন, তাঁকে তাঁর চাচাতো ভাই ফায়িজ বিন মুহাম্মদ হত্যা করেন এবং আত-তুওয়াইমে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। এরপর হুরমাহর অধিবাসীরা আত-তুওয়াইমের দিকে যাত্রা করে এবং উল্লিখিত ফায়িজকে হত্যা করে ফাওযানকে জনপদে আসীন করে। ... এরপর নাসের বিন হামাদ ফাওযানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁকে হত্যা করেন, ফলে আত-তুওয়াইমে মুহাম্মদ বিন ফাওযান দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন কিছু লোক তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে হত্যা করে, যাদের মধ্যে আল-মুফাররা’ এবং জনপদের অন্যান্য প্রধানরা ছিলেন, তারা সংখ্যায় ছিলেন চারজন। ফলে তাদের কারো শাসনই স্থিতিশীল হয়নি, তাই তারা জনপদটিকে চার ভাগে ভাগ করে নেন এবং প্রত্যেকে এক-চতুর্থাংশের শাসনকর্তা হন। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা একে ‘আল-মারবু‘আহ’ (চতুর্থাংশীয় ব্যবস্থা) নামে অভিহিত করেন" (২)।

তৃতীয়ত: (লামউশ শিহাব ফি সিরাত মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব) গ্রন্থের লেখক যা লিখেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: "সেখানে এমন কোনো প্রভাবশালী প্রধান ছিল না যে জালেমকে প্রতিহত করবে এবং মজলুমকে সাহায্য করবে, বরং প্রত্যেক শাসকই ছিলেন কেবল তাঁর নিজের জনপদের শাসক। ... আর মরুবাসীরা ছিল বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত। ... ফলে বেদুইনরা তাদের বিবাদ ও ঘটনাপ্রবাহের বিচারের জন্য শরীয়তের পরিবর্তে প্রথা বা লোকজ আইনের (উরফ) শরণাপন্ন হতো। ... আর ঐ শাসকরা ছিল সীমালঙ্ঘনকারী (তাগুন), কারণ তারা মানুষকে শরীয়তের বিধান অনুসরণ থেকে বিরত রাখত। ... আর নজদের শহুরে ও স্থায়ী জনপদের অধিবাসীরা সর্বদা একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকত" (৩)।

পূর্বোক্ত পাঠ্যগুলোর সবচেয়ে স্পষ্ট নির্যাস হলো এই যে, নজদ ভূখণ্ড সর্বদা - সেই সময়ে - তার জীবনের সকল ক্ষেত্রে ভয়, আতঙ্ক এবং অস্থিতিশীলতাপূর্ণ জীবন অতিবাহিত করছিল। এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছিল সেই যুদ্ধ-বিগ্রহ ও ফেতনাগুলো যা সামরিক, নৈতিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সেই সমাজকে পিষ্ট করছিল। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সেই সমাজের চরম বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করে, যা শায়খ মুহাম্মদ বিন... এর দাওয়াতের প্রাক্কালে বিদ্যমান ছিল।

--------------------------------------------

(১) আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মানকুর: তারিখুশ শায়খ ইবন মানকুর, পৃষ্ঠা ৬৩।

(২) উসমান বিন বিশর: উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নজদ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২২৮ ও ২২৯ (আস-সাওয়াবিক)।

(৩) অজ্ঞাত লেখক: লামউশ শিহাব ফি সিরাত মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, পৃষ্ঠা ২৯ ও ৩০, দারাতুল মালিক আব্দুল আযীয সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৯)
عبد الوهاب فيما بعد منقذا له من دوامة كان يجري في فلكها دون أن يعرف طريقا للخلاص منها (1) .

 

‌‌[الحالة الدينية]

(ب) الحالة الدينية: لعل من أهم المصادر التي تعطينا تصويرا شاملا عن الحياة الدينية في بلاد نجد قبل دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب هي مؤلفات علماء ومؤرخي الدعوة السلفية وأتباعها (2) وعلى رأسهم عمدتا مؤرخي نجد الشيخ حسين بن غنام، وعثمان بن بشر.

وقد يجد الباحث في هذا الصدد بعض التناقضات في تصوير الحالة الدينية في نجد خاصة في كتب المؤرخين المحدثين، وبعض هؤلاء يبالغ في تصوير الحالة السيئة في بلاد نجد في تلك الفترة مبالغة كبيرة حتى إن الرحالة (بلجريف) قال عن أهل نجد في ذلك الزمن: " أهملوا القرآن وما عادوا يعرفون في أي جهة تقع القبلة وتناسوا الزكاة والصيام والحج " (3) والبعض الآخر يغالط الحقيقة فيصف بلاد نجد في تلك الفترة بأنها " أنقى بلدان العالم الإسلامي إسلاما وأطهر الأقطار دينا ". كما وصفها لوثروب ستودارد (4) .

وبالرجوع إلى المصادر الموثوقة التي عالجت تاريخ تلك الفترة من بلاد نجد نرى أن كلا من هذين الوصفين قد جانب الصواب، حقيقة أن بلاد نجد لم تكن أسعد حظا من باقي أقطار العالم الإسلامي، فقد جرفها تيار الانحراف عن الدين الإسلامي الصحيح من شرك وبدع وخرافات كالدعاء والنذر والذبح وصرف أنواع العبادات الأخرى لغير الله - لكنها لم تصل في انحرافها أن تناسى أهلها شعائر الإسلام من صلاة وزكاة وصيام وحج، وخاصة أهل الحاضرة.

--------------------------------------------

(1) عبد العزيز الخويطر: مرجع سابق ص 23.

(2) أحمد بن محمد الضبيب: آثار الشيخ محمد بن عبد الوهاب ص 5.

(3) Palgrave: W. Narraative of a years Journey through central and Eastren Arabia (1862-1863) London 1865. 2. P. 370

.

(4) لوثروب ستودارد: المرجع السابق ج1 ص 260.
পরবর্তীতে আবদুল ওয়াহাব তাকে এমন এক আবর্ত থেকে উদ্ধারকারী হিসেবে আবির্ভূত হলেন যার কক্ষপথে তিনি ঘুরপাক খাচ্ছিলেন এবং যেখান থেকে মুক্তির কোনো পথ তিনি জানতেন না (১)।

 

‌‌[ধর্মীয় অবস্থা]

(খ) ধর্মীয় অবস্থা: শেখ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাবের দাওয়াতের পূর্বে নজদ অঞ্চলের ধর্মীয় জীবনের একটি সামগ্রিক চিত্র প্রদানকারী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলো সম্ভবত সালাফি দাওয়াতের আলেম ও ঐতিহাসিকদের এবং তাদের অনুসারীদের রচনা (২); যাদের শীর্ষে রয়েছেন নজদের প্রধান দুই ঐতিহাসিক শেখ হোসেন বিন গান্নাম এবং উসমান বিন বিশর।

গবেষক এই বিষয়ে নজদের ধর্মীয় অবস্থার বর্ণনায় কিছু বৈপরীত্য পেতে পারেন, বিশেষ করে আধুনিক ঐতিহাসিকদের বইগুলোতে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেই সময়ে নজদ অঞ্চলের শোচনীয় অবস্থার বর্ণনায় অনেক বেশি অতিশয়োক্তি করেছেন, এমনকি পর্যটক (প্যালগ্রেভ) সেই সময়ের নজদবাসী সম্পর্কে বলেছেন: "তারা কুরআনকে অবজ্ঞা করেছিল, কিবলা কোন দিকে তা-ও আর জানত না এবং জাকাত, রোজা ও হজকে ভুলে গিয়েছিল" (৩)। অন্যদিকে কেউ কেউ সত্যের অপলাপ করে সেই সময়ের নজদ অঞ্চলকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে এটি ছিল "ইসলামি বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ইসলাম এবং ধর্মীয়ভাবে পবিত্রতম অঞ্চল", যেমনটি লোথ্রপ স্টোডার্ড বর্ণনা করেছেন (৪)।

সেই সময়ের নজদ অঞ্চলের ইতিহাস পর্যালোচনাকারী নির্ভরযোগ্য উৎসগুলোর দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, এই উভয় বর্ণনাই সঠিকতা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। বাস্তবতা হলো, নজদ অঞ্চল ইসলামি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় খুব একটা ভালো অবস্থানে ছিল না। এটি সঠিক ইসলামি ধর্মবিশ্বাস থেকে বিচ্যুতির স্রোতে ভেসে গিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল শিরক, বিদআত এবং কুসংস্কার—যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্যের নিকট দোয়া করা, মানত করা, পশু জবাই করা এবং অন্যান্য ইবাদতসমূহ গায়রুল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করা। তবে তাদের এই বিচ্যুতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে সেখানকার অধিবাসীরা ইসলামের মৌলিক নিদর্শনসমূহ যেমন নামাজ, জাকাত, রোজা এবং হজ ভুলে গিয়েছিল, বিশেষ করে শহরবাসীরা।

--------------------------------------------

(১) আবদুল আজিজ আল-খুয়াইতির: পূর্বোক্ত সূত্র, পৃষ্ঠা ২৩।

(২) আহমদ বিন মুহাম্মদ আদ-দুবাইব: আসারুশ শেখ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাব, পৃষ্ঠা ৫।

(৩) প্যালগ্রেভ: ডব্লিউ. মধ্য ও পূর্ব আরবে এক বছরের ভ্রমণের বর্ণনা (১৮৬২-১৮৬৩) লন্ডন ১৮৬৫। খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৭০

.

(৪) লোথ্রপ স্টোডার্ড: পূর্বোক্ত সূত্র, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৬০।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২০)
وعندما قام الشيخ محمد بن عبد الوهاب بدعوته في بلاد نجد كان الخلاف بين الشيخ وبين مخالفيه على أساس التوحيد، أما بقية أعمال الإسلام فإنه لم يعارضه أحد بشأنها (1) وعند قيام الشيخ محمد بن عبد الوهاب بدعوته وقبله كان في نجد عدد من العلماء بعضهم تلقى العلم في مصر والشام وغيرها، وكان هؤلاء العلماء على المذهب الحنبلي حيث كان مذهب الإمام أحمد بن حنبل هو المتبع في تلك العهود، وكان انتشاره في نجد قبل بداية القرن العاشر الهجري، وهناك عدد قليل من العلماء على المذهب الشافعي والحنفي (2) .

وإذا كان الشيخ محمد بن عبد الوهاب قد لاقى معارضة من بعض هؤلاء العلماء في دعوته السلفية مع ما كان لبعضهم من إنتاج علمي، فإننا نجد بعض علماء نجد السابقين للشيخ والمعاصرين له قد آمنوا بنفس الفكرة التي آمن بها الشيخ محمد بن عبد الوهاب من انتشار البدع والشركيات المخالفة للعقيدة الإسلامية مثل صرف أنواع العبادة لأصحاب الأضرحة والقبور كالذبح عندها والنذر والاستغاثة ونحوها (3) وذلك لأن هؤلاء العلماء استقوا أفكارهم من نفس المصادر التي استقى منها الشيخ أفكاره، وهي بالإضافة إلى الكتاب والسنة كتب الشيخين، شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم وغيرها من كتب السلف الصالح، ولكنهم لم يتمكنوا من نشر أفكارهم خوفا على أنفسهم أو خشية من مواجهة الأهالي.

ومن هنا فقد عم الانحراف عن أساس العقيدة الإسلامية الصحيحة معظم بلاد نجد من أقصاها إلى أقصاها من شرك وبدع وخرافات كالدعاء والذبح والنذر والاستغاثة وغيرها من أنواع العبادة التي لا يجوز صرفها إلا لله تعالى بالإضافة إلى

--------------------------------------------

(1) حمد الجاسر: (ملاحظات منير العجلاني: مرجع سابق) ص 451.

(2) منصور الرشيدي: قضاة نجد أثناء العهد السعودي - مجلة الدارة، العدد الثاني، السنة الرابعة - رجب 1398 هـ ص 27 و 28.

(3) حمد الجاسر: مرجع سابق ص 454 وعبد الله الصالح العثيمين: نجد منذ القرن العاشر الهجري حتى ظهور الشيخ محمد بن عبد الوهاب - مجلة الدارة، العدد الثالث، السنة الرابعة - شوال 1398 هـ، ص 40-43.
যখন শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নজদ ভূখণ্ডে তাঁর দাওয়াত শুরু করেন, তখন শায়খ এবং তাঁর বিরোধীদের মধ্যে বিরোধের ভিত্তি ছিল তাওহীদ। ইসলামের অন্যান্য কার্যাবলীর ক্ষেত্রে কেউ তাঁর বিরোধিতা করেনি (১)। শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত শুরুর সময় এবং তাঁর আগে নজদে বেশ কিছু আলেম ছিলেন, যাদের কেউ কেউ মিশর, সিরিয়া এবং অন্যান্য স্থানে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। এই আলেমগণ হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, কারণ সেই যুগে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাবই অনুসৃত ছিল। হিজরী দশম শতাব্দীর শুরুর আগেই নজদে এর প্রসার ঘটেছিল। সেখানে শাফেয়ী ও হানাফী মাযহাবের স্বল্পসংখ্যক আলেমও ছিলেন (২)।

শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব যদিও তাঁর সালাফী দাওয়াতে এই আলেমদের কারো কারো পক্ষ থেকে বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিলেন—তাঁদের কারো কারো ইলমী অবদান থাকা সত্ত্বেও—তবুও আমরা শায়খের পূর্ববর্তী ও সমসাময়িক কিছু নজদী আলেমকে পাই যারা শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের মতো একই ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন। তা ছিল ইসলামী আকিদাহ পরিপন্থী বিদআত ও শিরক ছড়িয়ে পড়া সম্পর্কে, যেমন মাযার ও কবরের অধিবাসীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকার ইবাদত উৎসর্গ করা, যেমন সেখানে পশু জবাই করা, মানত করা, সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় (৩)। এর কারণ হলো, এই আলেমগণ তাঁদের চিন্তাধারা সেই একই উৎস থেকে গ্রহণ করেছিলেন যা থেকে শায়খ তাঁর চিন্তাধারা গ্রহণ করেছিলেন। আর তা হলো কুরআন ও সুন্নাহর পাশাপাশি দুই শায়খের গ্রন্থাবলি—শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম এবং অন্যান্য সালাফে সালেহীনের কিতাবসমূহ। কিন্তু তাঁরা নিজেদের জীবনের ভয়ে বা সাধারণ মানুষের বিরোধিতার আশঙ্কায় তাঁদের চিন্তাধারা প্রচার করতে সক্ষম হননি।

এখান থেকেই সঠিক ইসলামী আকিদাহর ভিত্তি থেকে বিচ্যুতি নজদ ভূখণ্ডের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত অধিকাংশ স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিল; যার মধ্যে ছিল শিরক, বিদআত এবং কুসংস্কার যেমন দুআ, জবাই, মানত ও সাহায্য প্রার্থনা এবং অন্যান্য প্রকারের ইবাদত যা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারও জন্য করা বৈধ নয়। এর সাথে যুক্ত ছিল...

--------------------------------------------

(১) হামাদ আল-জাসির: (মুনীর আল-আজলানীর পর্যবেক্ষণ: পূর্বোক্ত সূত্র) পৃষ্ঠা ৪৫১।

(২) মানসুর আল-রশিদী: সৌদি শাসনামলে নজদের বিচারকগণ - মাজাল্লাতুল দারাহ, দ্বিতীয় সংখ্যা, চতুর্থ বর্ষ - রজব ১৩৯৮ হিজরী, পৃষ্ঠা ২৭ ও ২৮।

(৩) হামাদ আল-জাসির: পূর্বোক্ত সূত্র পৃষ্ঠা ৪৫৪ এবং আব্দুল্লাহ আস-সালিহ আল-উসাইমীন: হিজরী দশম শতাব্দী থেকে শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের আবির্ভাব পর্যন্ত নজদ - মাজাল্লাতুল দারাহ, তৃতীয় সংখ্যা, চতুর্থ বর্ষ - শাওয়াল ১৩৯৮ হিজরী, পৃষ্ঠা ৪০-৪৩।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২১)
التوسل بالأولياء والصالحين، وتقديسهم والاعتقاد بالجمادات كالأشجار والأحجار في جلب النفع ودفع الضر، حتى أصبح كثير من المسلمين مسلمين بالاسم فقط لكنهم بعيدون كل البعد عن حقيقة الإسلام.

وقد فصل المؤرخ النجدي (حسين بن غنام) مظاهر الانحراف عن الإسلام الصحيح في نجد في تاريخه " روضة الأفكار والأفهام " (1) الذي فك سجعه وحرره الدكتور ناصر الدين الأسد باسم " تاريخ نجد "، وقد مثل حسين بن غنام لمظاهر هذه الانحرافات بتعظيم الناس في نجد للقبور، والأشجار ، والأحجار، والأولياء.

(أ) أما القبور: فيذكر منها قبر (زيد بن الخطاب) رضي الله عنه في الجبيلة، وقبر (ضرار بن الأزور) في شعيب غبيراء، وقبر بعض الصحابة رضي الله عنهم في قريوه بالدرعية، وكل هذه القبور يتوجه إليها العامة يدعون أصحابها لتفريج الكرب وكشف النوب وقضاء الحاجات (2) .

(ب) أما الأشجار: فيذكر أن النساء والرجال يأتون بليدة الفدا حيث يكثر ذكر النخل المعروف بـ (الفحال) يتبركون به ويعتقدون فيه، فكانت تأتيه المرأة إذا تأخرت عن الزواج فتضمه بيديها ترجو أن يفرج كربها وتقول: يا فحل الفحول أريد زوجا قبل الحول، وكذلك شجرة الطرفية ينتابها طوائف من الناس فيتبركون بها، وتعلق المرأة فيها خرقا إذا ولدت ذكرا لعله يسلم من الموت.

(جـ) أما الأحجار: فيذكر منها غار بنت الأمير الذي يزعمون أن الله فلقه لها لتعتصم به من أحد الفسقة الذي أراد هتك عرضها، فكان الناس يرسلون إلى ذلك الغار اللحم والخبز ويبعثون بصنوف الهدايا.

(د) أما الأولياء: فيذكر منهم ولي عند العامة اسمه " تاج " وهو من أهل الخرج افتتن به الناس وسلكوا فيه سبيل الطواغيت فصرفوا إليه النذور، وتوجهوا إليه بالدعاء، واعتقدوا فيه النفع والضر، وكانوا يأتونه لقضاء شؤونهم أفواجا وكان

--------------------------------------------

(1) حسين بن غنام: روضة الأفكار والأفهام ج1 ص 7 و 8.

(2) حسين بن غنام: تاريخ نجد، تحقيق الدكتور ناصر الدين الأسد ص11.
ওলি ও নেককার ব্যক্তিদের মাধ্যমে উসিলা ধরা, তাঁদের অতি-পবিত্র জ্ঞান করা এবং উপকার লাভ ও অপকার দূর করার ক্ষেত্রে জড়বস্তু যেমন গাছপালা ও পাথরের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা; এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে অনেক মুসলিম কেবল নামেমাত্র মুসলিম ছিল, কিন্তু তারা ইসলামের প্রকৃত স্বরূপ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছিল।

নজদ অঞ্চলের ঐতিহাসিক (হুসাইন বিন গান্নাম) তাঁর ইতিহাস গ্রন্থ "রাওদাতুল আফকার ওয়াল আফহাম" (১)-এ নজদে সঠিক ইসলাম থেকে বিচ্যুতির স্বরূপগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। এই গ্রন্থটির গদ্যশৈলী সহজ করে ডক্টর নাসেরুদ্দিন আল-আসাদ "তারিখে নজদ" নামে এটি সম্পাদনা করেছেন। হুসাইন বিন গান্নাম এই বিচ্যুতিগুলোর উদাহরণ হিসেবে নজদবাসীর কবর, গাছপালা, পাথর এবং ওলিদের প্রতি অতিভক্তি প্রদর্শনের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।

(ক) কবরের ক্ষেত্রে: তিনি জুবাইলায় (যায়েদ বিন খাত্তাব) রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবর, শুয়াইব গুবাইরায় (দিরার বিন আযওয়ার)-এর কবর এবং দিরইয়াহর কুরাইওয়াহ নামক স্থানে কিছু সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমের কবরের কথা উল্লেখ করেছেন। সাধারণ মানুষ এই সমস্ত কবরের দিকে ধাবিত হতো এবং বিপদমুক্তি, আপদ দূরীকরণ ও প্রয়োজন পূরণের জন্য কবরবাসীদের কাছে প্রার্থনা করত (২)।

(খ) গাছপালার ক্ষেত্রে: তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নারী ও পুরুষেরা আল-ফাদা নামক জনপদে আসত, যেখানে (আল-ফাহহাল) নামে পরিচিত খেজুর গাছের খুব চর্চা ছিল। তারা এর মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করত এবং এর ওপর আকিদা পোষণ করত। কোনো নারীর বিয়ে হতে দেরি হলে সে সেই গাছের কাছে আসত এবং নিজের দু'হাত দিয়ে তা জড়িয়ে ধরত এই আশায় যে তার কষ্ট দূর হবে। সে বলত: "হে পুরুষদের পুরুষ (খেজুর গাছ), আমি বছরের মধ্যেই স্বামী চাই।" একইভাবে তরফিয়া নামক গাছের কাছেও একদল মানুষ যাতায়াত করত এবং বরকত তালাশ করত। আর কোনো নারী পুত্রসন্তান জন্ম দিলে সে ঐ গাছে ন্যাকড়া ঝুলিয়ে রাখত যাতে শিশুটি মৃত্যু থেকে রক্ষা পায়।

(গ) পাথরের ক্ষেত্রে: তিনি 'আমিরের কন্যার গুহা' (গারু বিনতিল আমির)-এর কথা উল্লেখ করেছেন। লোকেদের দাবি ছিল যে, আল্লাহ তার জন্য পাহাড়টি বিদীর্ণ করে দিয়েছিলেন যাতে সে এক দুশ্চরিত্রের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে যে তার শ্লীলতাহানির ইচ্ছা করেছিল। ফলে মানুষ সেই গুহায় গোশত, রুটি ও নানা প্রকার উপহার পাঠাত।

(ঘ) ওলিদের ক্ষেত্রে: তিনি সাধারণ মানুষের কাছে "তাজ" নামে পরিচিত একজন ওলির কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি আল-খারজ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন। লোকেরা তাকে নিয়ে ফিতনায় পড়েছিল এবং তার ব্যাপারে তাগুতি পথ অনুসরণ করেছিল। তারা তার জন্য মানত উৎসর্গ করত, তার কাছে প্রার্থনা করত এবং বিশ্বাস করত যে সে লাভ ও ক্ষতি করতে পারে। তারা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য দলে দলে তার কাছে আসত এবং...

--------------------------------------------

(১) হুসাইন বিন গান্নাম: রাওদাতুল আফকার ওয়াল আফহাম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭ ও ৮।

(২) হুসাইন বিন গান্নাম: তারিখে নজদ, ডক্টর নাসেরুদ্দিন আল-আসাদ কর্তৃক সম্পাদিত, পৃষ্ঠা ১১।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২২)
أعمى، فزعموا أنه يأتي من الخرج إلى الدرعية بدون قائد، وذلك لتحصيل ما تجمع له من النذور والخراج، ويذكر ابن غنام أن الحكام في المنطقة خافوه وهاب الناس أعوانه وحاشيته (1) .

هذه هي حالة الحاضرة في بلاد نجد. أما البادية فلم تكن أسعد منها إن لم تكن أسوأ حالا، وذلك أن طبيعة الحياة الصحراوية بجفائها ورهبتها وتفرق سكانها، بالإضافة إلى انتشار الأمية بينهم، وعدم قيام دولة ذات سلطان تحمل الناس على الحق، كل هذه العوامل جعلت من البادية مرتعا خصبا لأنواع الشرك والبدع والخرافات (2) . وإذا كانت المصادر التاريخية التي بين أيدينا قد أهملت الحديث عن حالة البادية، فقد أشار ابن بشر في تاريخه إلى وجود أنواع شركية فيها، كالذبح لغير الله طلبا للشفاء من بعض الأمراض عند بعض القبائل (3) بالإضافة إلى عبادة الأشجار والأحجار التي أشار إليها الشاعر العامي (راشد الخلاوي) بقوله:

فإن سلت قومي يا منيع فلا تسل … أحجار وأشجار يعبدون خايبه (4) .

ومهما يكن من شيء فإنه كلما مرت الأعوام والأيام ازدادت الحالة سوءا في الحاضرة والبادية، حتى أذن الله بانبلاج فجر جديد حين قام الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله بدعوته المباركة على حين فترة من دعاء المصلحين فأشرقت الجزيرة العربية بنور هذه الدعوة وتبدلت فيها مظاهر الحياة كلها.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق ص 12.

(2) عبد الله يوسف الشبل: المرجع السابق ص 29.

(3) عثمان بن بشر: المرجع السابق ج1 ص 19 و 20.

(4) عبد الله بن خميس: راشد الخلاوي ص 237 و 238 نشر دار اليمامة بالرياض عام 1392 هـ 1972 م.
অন্ধ, তারা দাবি করত যে তিনি কোনো পথপ্রদর্শক ছাড়াই আল-খারজ থেকে দিরইয়াহ পর্যন্ত যাতায়াত করতেন; আর এটি ছিল তাঁর নামে সংগৃহীত মানত ও খরাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে। ইবনে গান্নাম উল্লেখ করেছেন যে, ওই অঞ্চলের শাসকরা তাঁকে ভয় পেত এবং সাধারণ মানুষ তাঁর সহযোগী ও অনুসারীদের সমীহ করত (১)।

নজদ অঞ্চলের শহরকেন্দ্রিক জনপদের অবস্থা ছিল ঠিক এইরকম। আর মরুচারী বেদুঈনদের অবস্থা তাদের চেয়ে উন্নত ছিল না, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও খারাপ ছিল। মরুজীবনের কঠোরতা ও ভীতি এবং জনবসতির বিচ্ছিন্নতা, সেই সঙ্গে তাদের মাঝে নিরক্ষরতার ব্যাপক প্রসার এবং সত্যের পথে মানুষকে পরিচালনা করার মতো কোনো শক্তিশালী শাসনব্যবস্থার অনুপস্থিতি—এই সব কারণ মিলে মরু অঞ্চলকে বিভিন্ন প্রকার শিরক, বিদআত এবং কুসংস্কারের চারণভূমিতে পরিণত করেছিল (২)। আমাদের নিকট বিদ্যমান ঐতিহাসিক উৎসগুলো যদিও বেদুঈনদের অবস্থা বর্ণনায় উদাসীনতা প্রদর্শন করেছে, তবে ইবনে বিশর তাঁর ইতিহাসগ্রন্থে সেখানে প্রচলিত বিভিন্ন প্রকার শিরকের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন; যেমন কোনো কোনো গোত্রের মাঝে বিভিন্ন রোগ থেকে আরোগ্য লাভের আশায় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উদ্দেশ্যে পশু জবাই করার প্রচলন ছিল (৩)। এর পাশাপাশি ছিল গাছ ও পাথরের পূজা, যার প্রতি লোককবি (রাশিদ আল-খালাওয়ী) তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:

হে মানি'! তুমি যদি আমার কওম সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনো তারা বিভ্রান্ত; তারা পাথর ও গাছের উপাসনা করে (৪)।

যাই হোক না কেন, বছরের পর বছর সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে জনপদ ও মরুভূমি উভয় স্থানেই পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। পরিশেষে আল্লাহর ইচ্ছায় এক নতুন ভোরের উদয় হলো, যখন সংস্কারকদের আহ্বানের বিরতিকালে শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর বরকতময় দাওয়াহ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করলেন। ফলে আরব উপদ্বীপ এই দাওয়াতের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠল এবং সেখানে জীবনযাত্রার সকল রূপ পরিবর্তিত হয়ে গেল।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১২।

(২) আব্দুল্লাহ ইউসুফ আশ-শিবল: পূর্বোক্ত সূত্র, পৃষ্ঠা ২৯।

(৩) উসমান ইবনে বিশর: পূর্বোক্ত সূত্র, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯ ও ২০।

(৪) আব্দুল্লাহ ইবনে খামিস: রাশিদ আল-খালাওয়ী, পৃষ্ঠা ২৩৭ ও ২৩৮, দারুল ইয়ামামাহ কর্তৃক রিয়াদ থেকে প্রকাশিত, ১৩৯২ হি. - ১৯৭২ খ্রি.।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌[الشيخ محمد بن عبد الوهاب]

‌‌[نشأته العلمية]

الشيخ محمد بن عبد الوهاب حظيت حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب بدراسات كثيرة قام بها مؤلفون متعددون مسلمون وغير مسلمين، قدامى ومحدثون، وكلها تتحدث عنه بصفته رائدا في مجال الإصلاح والتجديد، وتجيء تلك الدراسات على شكل مؤلفات مستقلة عن شخصية الشيخ ودعوته ، وبعضها تضمنتها كتب التاريخ العام أو تاريخ الشخصيات. ومن هنا فإننا سنوجز في حديثنا عن حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب اعتمادا على تلك الدراسات من ناحية، ودرءا للتكرار من ناحية أخرى، وإن كنا سنركز - بعض الشيء - على المواضع التي تلقي الضوء على حقيقة دعوته المباركة.

نشأته العلمية: هو الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي من المشارفة ، أحد فروع الوهبة من قبيلة تميم، ولد رحمه الله في بلدة العيينة شمال غربي الرياض سنة 1115 هـ (1703 م) ونشأ بها، ويصفه ابن غنام بأنه حاد الذهن، ذكي، نبيه، فطن، فصيح اللفظ، سريع الحفظ، حفظ القرآن ولما يبلغ العاشرة من عمره (1) .

وكانت بيئته التي نشأ فيها بيئة علمية دينية صالحة، فجده (سليمان بن علي) عالم من علماء نجد في عصره، انتهت إليه الفتيا في نجد، وألّف منسكا مشهورا، وأبوه (عبد الوهاب بن سليمان) من علماء بلده، تولى قضاء بلدتي العيينة ثم حريملاء ، وعمه إبراهيم بن سليمان كان عالما قديرا (2) .

وقد تلقى الشيخ العلم في البداية على يد والده حيث درس عليه كتب الفقه الحنبلي ، ثم أخذ يزيد في معلوماته بالقراءة الخاصة، حيث أخذ يقرأ كتب التفسير والحديث والأصول، وقد ساعده حبه للقراءة وشغفه بها أن يطلع على كل ما يقع في يده من كتب الدين، ولما كانت كتب الحنابلة متداولة بين علماء نجد نتيجة لانتشار هذا المذهب في نجد كما سبق، فقد اهتم الشيخ بقراءتها، وخاصة قراءة كتب شيخ الإسلام ابن تيمية

--------------------------------------------

(1) حسين بن غنام: تاريخ نجد، تحقيق ناصر الدين الأسد ص 75 وفي ط أبابطين ج1 ص 25.

(2) محمد بن عبد الله بن حميد: السحب الوابلة على ضرائح الحنابلة، مخطوطة، ورقة 8 و103.
[শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব]

[তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক বিকাশ]

শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবন নিয়ে দেশি-বিদেশি, প্রাচীন ও আধুনিক বহু মুসলিম এবং অমুসলিম লেখক অসংখ্য গবেষণা করেছেন। এই গবেষণাগুলোর সবকটিই তাঁকে সংস্কার ও পুনর্জাগরণ (তাজদীদ) ক্ষেত্রে একজন অগ্রপথিক হিসেবে তুলে ধরেছে। এই গবেষণাগুলো শায়খের ব্যক্তিত্ব ও তাঁর দাওয়াত নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে, আবার কোনো কোনোটি সাধারণ ইতিহাসের কিতাব বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ইতিহাসের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই আমরা একদিকে পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবং অন্যদিকে পূর্ববর্তী সেই সব গবেষণার ওপর ভিত্তি করে শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবন সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করব। তবে আমরা এমন কিছু বিষয়ের ওপর কিছুটা জোর দেব, যা তাঁর এই বরকতময় দাওয়াতের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচনে আলোকপাত করে।

তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক বিকাশ: তিনি হলেন শায়খ আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলায়মান বিন আলী। তিনি তামীম গোত্রের ওয়াহবা শাখার আল-মুশাররাফাহ বংশের সন্তান। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ১১১৫ হিজরি (১৭০৩ খ্রিস্টাব্দ) সালে রিয়াদের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত উয়াইনা জনপদে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। ইবনুল গান্নাম তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন যে, তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রখর মেধার অধিকারী, বুদ্ধিমান, সচেতন, বিচক্ষণ, প্রাঞ্জলভাষী এবং দ্রুত মুখস্থ করতে পারতেন। এমনকি দশ বছর বয়স হওয়ার আগেই তিনি পূর্ণ কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন (১)।

তিনি যে পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন তা ছিল এক জ্ঞানতাত্ত্বিক, ধর্মীয় ও নেককার পরিবেশ। তাঁর দাদা (সুলায়মান বিন আলী) ছিলেন সমসাময়িক কালের নজদের অন্যতম আলেম। নজদ অঞ্চলের ফতোয়া দেওয়ার চূড়ান্ত ভার তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল এবং তিনি হজ্জের মাসায়েল সংক্রান্ত একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁর পিতা (আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলায়মান) ছিলেন তাঁর এলাকার একজন আলেম, যিনি উয়াইনা এবং পরবর্তীকালে হুরাইমিলা জনপদের বিচারকের (কাজী) দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর চাচা ইব্রাহীম বিন সুলায়মানও একজন দক্ষ আলেম ছিলেন (২)।

শায়খ শুরুর দিকে তাঁর পিতার নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর নিকট তিনি হাম্বলী ফিকহের কিতাবাদি অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি ব্যক্তিগত অধ্যয়নের মাধ্যমে তাঁর জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে থাকেন। এ পর্যায়ে তিনি তাফসীর, হাদীস এবং উসূলের কিতাবসমূহ পড়তে শুরু করেন। বই পড়ার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ও আসক্তি তাঁকে হাতের কাছে পাওয়া প্রতিটি ধর্মীয় কিতাব পাঠ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। যেহেতু পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে নজদে হাম্বলী মাযহাব প্রচলিত ছিল, তাই নজদের আলেমদের মাঝে হাম্বলী কিতাবসমূহ ব্যাপকভাবে পঠিত হতো। শায়খও সেই কিতাবগুলো অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেন, বিশেষ করে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর কিতাবসমূহ পাঠে তিনি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) হুসাইন বিন গান্নাম: তারীখে নজদ, তাহকীক: নাসিরুদ্দিন আল-আসাদ, পৃষ্ঠা ৭৫ এবং আবা বুতাইন সংস্করণে ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫।

(২) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ: আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ আলা দরয়িহিল হানাবিলাহ, পাণ্ডুলিপি, পত্র ৮ এবং ১০৩।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وتلميذه ابن القيم، فاهتم الشيخ بقراءة كتبهما بعناية خاصة حتى إنه أخذ ينسخ الكثير منها (1) وتوجد في المتحف البريطاني بلندن حتى الآن كتب لشيخ الإسلام ابن تيمية بخط الشيخ محمد بن عبد الوهاب (2) والمطلع على مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب يرى أثر ابن تيمية وابن القيم على كتاباته واضحا، فقد اعتد الشيخ بأقوالهما، وتأثر بأفكارهما، واستنار بآرائهما، فكان لذلك أثره الكبير في تصحيح عقيدته، وتوجيه حياته ومنهج دعوته (3) لذلك أكثر الشيخ من النقل عنهما في مؤلفاته بشكل ملحوظ.

يمكننا بعد ذلك أن نجمل العوامل التي أثرت في نشأة الشيخ نشأة دينية علمية في خمسة عوامل:

(1) استعداده الشخصي: وما اتصف به من الذكاء والفطنة وسرعة الحفظ وحبه للقراءة وكثرتها.

(2) أساتذته: سواء كان قد تلقى عنهم العلم مباشرة أو تأثر بمؤلفاتهم كابن تيمية وابن القيم.

(3) أسرته العلمية: حيث كان جده وأبوه وعمه من علماء بلده.

(4) ظروف مجتمعه وما كان يعيش فيه من انحراف عن مبادئ الإسلام الصحيح في كثير من أموره دفع بالشيخ إلى التعمق في دراسة العلوم الإسلامية ليعرف حقيقة الأمر.

(5)‌‌ رحلاته العلمية وأثرها الواضح على اتجاهه العلمي الإصلاحي بعد ذلك.

 

[رحلاته العلمية]

رحلاته العلمية: لما أكمل الشيخ تعليمه في بلدة (العيينة) على أساتذته وبقراءاته الشخصية عزم على الارتحال إلى البلدان المجاورة طلبا للعلم والزيادة فيه كعادة السلف الصالح، فبدأ بحج بيت الله الحرام - للمرة الثانية - ثم اتجه من مكة إلى المدينة وأقام فيها حينا، أخذ

--------------------------------------------

(1) Nicholson: Ibid. pp 463-464.

(2) حسن عبد الله آل الشيخ: الوهابية وزعيمها الشيخ محمد بن عبد الوهاب، مجلة العربي، العدد 147، فبراير 1971 م.

 

(3) عبد الله يوسف الشبل: المرجع السابق ص 31.
এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম; শেখ তাঁদের বইগুলো অত্যন্ত মনোযোগের সাথে পড়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, এমনকি তিনি সেগুলোর অনেকগুলো নিজ হাতে কপি করতে শুরু করেছিলেন (১)। লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর এমন কিছু বই আজও বিদ্যমান রয়েছে যা শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের হস্তাক্ষরে লিখিত (২)। শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাবলি যারা পাঠ করেন, তারা তাঁর লেখায় ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইবনুল কাইয়্যিমের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখতে পান। শেখ তাঁদের বক্তব্যসমূহকে গুরুত্ব দিতেন, তাঁদের চিন্তাধারার দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন এবং তাঁদের মতামতের মাধ্যমে আলোকপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এটি তাঁর আকীদা সংশোধন, জীবন পরিচালনা এবং দাওয়াতী পদ্ধতির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল (৩)। এই কারণেই শেখ তাঁর গ্রন্থগুলোতে লক্ষণীয়ভাবে তাঁদের থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।

এরপর শেখের দ্বীনি ও ইলমি বেড়ে ওঠার পেছনে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহকে আমরা পাঁচটি বিষয়ে সংক্ষেপে বর্ণনা করতে পারি:

(১) তাঁর ব্যক্তিগত যোগ্যতা: তাঁর মেধা, বিচক্ষণতা, প্রখর স্মৃতিশক্তি এবং পড়ার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ও প্রচুর অধ্যয়ন।

(২) তাঁর শিক্ষকগণ: সরাসরি যাঁদের নিকট তিনি ইলম অর্জন করেছেন অথবা যাঁদের রচনাবলি দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছেন, যেমন ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইবনুল কাইয়্যিম।

(৩) তাঁর ইলমি পরিবার: যেহেতু তাঁর দাদা, পিতা এবং চাচা নিজ অঞ্চলের আলেম ছিলেন।

(৪) তাঁর সমকালীন সমাজের প্রেক্ষাপট: ইসলামের সঠিক আদর্শ থেকে বিচ্যুতি যা তাঁর সমাজের অনেক বিষয়ে বিদ্যমান ছিল, তা শেখকে বিষয়ের প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য ইসলামি জ্ঞানসমূহের ওপর গভীর জ্ঞান অর্জনে অনুপ্রাণিত করেছিল।

(৫)‌‌ তাঁর ইলমি সফরসমূহ এবং পরবর্তীতে তাঁর সংস্কারমূলক ও ইলমি দৃষ্টিভঙ্গির ওপর এর সুস্পষ্ট প্রভাব।

 

[তাঁর ইলমি সফরসমূহ]

তাঁর ইলমি সফরসমূহ: শেখ যখন উয়াইনা শহরে তাঁর শিক্ষকদের নিকট এবং ব্যক্তিগত অধ্যয়নের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষা সমাপ্ত করলেন, তখন তিনি সালাফে সালেহীনদের রীতি অনুযায়ী ইলম অর্জন ও তা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে সফরের সংকল্প করলেন। তিনি আল্লাহর পবিত্র ঘর হজের মাধ্যমে—দ্বিতীয়বারের মতো—যাত্রা শুরু করেন। অতঃপর মক্কা থেকে মদিনার অভিমুখে রওয়ানা হন এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেন, তিনি ইলম গ্রহণ করেন...

--------------------------------------------

(১) নিকোলসন: প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪৬৩-৪৬৪।

(২) হাসান আব্দুল্লাহ আল-শেখ: আল-ওয়াহাবিয়্যাহ ওয়া জাইমুহা আল-শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-আরাবি ম্যাগাজিন, সংখ্যা ১৪৭, ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ ঈসায়ী।

 

(৩) আব্দুল্লাহ ইউসুফ আল-শিবল: পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৩১।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৫)
فيها العلم على الشيخ (عبد الله بن سيف النجدي) الذي أجاز الشيخ من طريقين:

أولهما: طريق ابن مفلح عن شيخ الإسلام ابن تيمية وينتهي بالإمام أحمد.

ثانيهما: طريق عبد الرحمن بن رجب عن ابن القيم إلى الإمام أحمد (1) .

كما أخذ العلم في المدينة على الشيخ (محمد حياة السندي) ، ويروي ابن بشر أن الشيخ محمد وقف يوما عند الحجرة النبوية عند أناس يدعون ويستغيثون بقبر النبي صلى الله عليه وسلم فرآه الشيخ محمد حياة السندي فقال للشيخ: ما تقول؟ قال الشيخ: إن هؤلاء متبر ما هم فيه وباطل ما كانوا يعملون (2) ثم خرج الشيخ من المدينة مارا ببلاد نجد إلى (البصرة) فتلقى العلم فيها على عدد من العلماء منهم الشيخ (محمد المجموعي) ، درس عليه في النحو واللغة والحديث والفقه، وفي البصرة كان يدعو الناس إلى التوحيد، وإخلاص العبادة لله، ويقول لهم: " إن محبة الأولياء والصالحين باتباع هديهم وآثارهم وليس باتخاذهم آلهة من دون الله، وأن العبادة كلها لله يكفر من صرف منها شيئا إلى سواه "؛ مما جعل الشيخ يتعرض لمضايقات من عامة الناس فاضطره ذلك إلى الخروج من البصرة في العراق قاصدا بلاد الشام لولا أن نفقته ضاعت منه في الطريق، فقفل راجعا إلى نجد، ومر في طريقه بالأحساء ونزل على الشيخ (عبد الله بن محمد بن عبد اللطيف الشافعي الأحسائي) وأخذ عنه في التفسير والحديث ، ثم اتجه من الأحساء إلى (حريملاء) ، وكان أبوه قد انتقل إليها من العيينة لخلاف مع حاكمها (3) هذه مجمل رحلات الشيخ عند عمدتي مؤرخي نجد (ابن غنام وابن بشر) .

وبهذا يظهر لنا:

1 - أن البلاد التي زارها الشيخ في هذه الرحلات هي: مكة، المدينة المنورة، البصرة ، الأحساء.

2 - وأن المشايخ الذين أخذ عنهم هم: الشيخ عبد الله بن إبراهيم بن سيف، والشيخ

--------------------------------------------

(1) محمد حامد الفقي: المرجع السابق ص 41 و 42.

(2) عثمان بن بشر: المصدر السابق ج1 ص 20 و 21.

(3) حسين بن غنام: روضة الأفكار والأفهام ج1 ص 28 (ط أبابطين) وابن بشر: عنوان المجد ج1 ص 19-20.
সেখানে তিনি শেখ (আবদুল্লাহ বিন সাইফ আন-নাজদি)-এর নিকট ইলম অর্জন করেন, যিনি শেখকে দুটি সূত্রে ইজাজত প্রদান করেছিলেন:

প্রথমটি হলো: ইবনে মুফলিহ-এর সূত্র, যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে হয়ে ইমাম আহমাদ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

দ্বিতীয়টি হলো: আবদুর রহমান বিন রজব-এর সূত্র, যা ইবনুল কাইয়্যিম থেকে হয়ে ইমাম আহমাদ পর্যন্ত পৌঁছেছে (১)।

তদ্রূপ তিনি মদিনায় শেখ (মুহাম্মদ হায়াত সিন্দী)-এর নিকট ইলম অর্জন করেন। ইবনে বিশর বর্ণনা করেন যে, একদিন শেখ মুহাম্মদ (বিন আব্দুল ওয়াহহাব) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রওজা মোবারকের (হুজরা) নিকট এমন কিছু লোকের কাছে দাঁড়ালেন যারা নবীর কবরের নিকট দোয়া করছিল এবং সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) করছিল। শেখ মুহাম্মদ হায়াত সিন্দী তাকে দেখে শেখকে জিজ্ঞেস করলেন: "এদের ব্যাপারে আপনি কী বলেন?" শেখ বললেন: "নিশ্চয় এরা যে কাজে লিপ্ত রয়েছে তা ধ্বংস হবে এবং তারা যা করছে তা অসার (২)।" অতঃপর শেখ মদিনা থেকে বের হয়ে নজদ অঞ্চল হয়ে (বসরা) অভিমুখে রওয়ানা হন। সেখানে তিনি বেশ কিছু আলেমের নিকট ইলম অর্জন করেন, যাদের মধ্যে শেখ (মুহাম্মদ আল-মাজমুয়ি) অন্যতম। তাঁর নিকট তিনি নাহু (ব্যাকরণ), ভাষা, হাদিস ও ফিকহ পাঠ করেন। বসরায় তিনি মানুষকে তাওহীদের দিকে এবং একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করার আহ্বান জানাতেন। তিনি তাদের বলতেন: "নিশ্চয়ই আউলিয়া ও নেককার বান্দাদের প্রতি ভালোবাসা হলো তাদের আদর্শ ও পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদেরকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমে নয়। আর সমস্ত ইবাদত কেবল আল্লাহর জন্য; যে ব্যক্তি ইবাদতের কোনো অংশ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য নিবেদন করবে, সে কুফরি করল।" এর ফলে শেখ সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে নানা হয়রানির শিকার হন, যা তাকে ইরাকের বসরা ত্যাগ করে শামের দিকে যাত্রা করতে বাধ্য করে। কিন্তু পথে তার পাথেয় (অর্থকড়ি) হারিয়ে যাওয়ায় তিনি পুনরায় নজদে ফিরে আসেন। ফেরার পথে তিনি আল-আহসায় যাত্রাবিরতি করেন এবং শেখ (আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ শাফেয়ি আল-আহসায়ি)-এর নিকট মেহমান হন এবং তাঁর নিকট তাফসির ও হাদিস শিক্ষা করেন। এরপর তিনি আহসা থেকে (হুরয়মিলা) অভিমুখে যাত্রা করেন; কারণ তাঁর পিতা সেখানকার শাসকের সাথে মতভেদের কারণে উয়াইনা থেকে সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন (৩)। নজদের প্রধান দুইজন ঐতিহাসিক (ইবনে গান্নাম ও ইবনে বিশর)-এর বর্ণনা অনুযায়ী এটিই ছিল শেখের সফরের সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

এর মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে:

১ - শেখ তাঁর এই সফরগুলোতে যেসব স্থান ভ্রমণ করেছেন সেগুলো হলো: মক্কা, মদিনা মুনাওয়ারা, বসরা ও আল-আহসা।

২ - এবং যেসব শায়খদের নিকট তিনি ইলম অর্জন করেছেন তারা হলেন: শেখ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফ এবং শেখ...

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকি: পূর্বোক্ত তথ্যসূত্র, পৃষ্ঠা ৪১ ও ৪২।

(২) উসমান বিন বিশর: পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০ ও ২১।

(৩) হুসাইন বিন গান্নাম: রওজাতুল আফকার ওয়াল আফহাম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮ (আবা বুতাইন সংস্করণ) এবং ইবনে বিশর: উনওয়ানুল মাজদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯-২০।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৬)
محمد حياة السندي في المدينة المنورة، والشيخ محمد المجموعي في البصرة، والشيخ عبد الله بن عبد اللطيف الأحسائي في الأحساء.

3 - وأن العلوم التي تلقاها عن هؤلاء المشايخ هي: علوم الدين (من تفسير وحديث وفقه) ، وعلوم الآلة من (نحو وصرف وبلاغة) ، لكن صاحب كتاب (لمع الشهاب) في سيرة محمد بن عبد الوهاب (1) له رأي خاص في رحلات الشيخ محمد بن عبد الوهاب يختلف جذريا عن ما ذكره عمدتا مؤرخي نجد سواء في البلدان أو المشايخ أو العلوم.

1 - ففي (البلدان) يذكر أن الشيخ زار القصيم ، والعراق (البصرة وبغداد) ، وبلاد فارس (كردستان، وهمذان، وأصفهان، والري، وقم، وقرية أبي لباس) ، وبلاد الشام (حلب ودمشق وبيت المقدس) ، ومصر (القاهرة) ثم عاد إلى بلاده مارا بمكة المكرمة.

2 - وأما (المشايخ) الذين درس عليهم في تلك البلاد فيذكر منهم: عبد الرحمن بن أحمد وحسان التميمي في القصيم، وعبد الكريم الكردي الشافعي في بغداد، وميرزجان الأصفهاني، ومحمد المغربي في أصفهان.

3 - وأما (العلوم) التي درسها على أولئك فيذكر التفسير والحديث، وعلوم الآلة، وعلم الهيئة والمنطق، والفلسفة، والهندسة، والتصوف، والرياضيات وغيرها، كما يذكر أن الشيخ كان يجيد اللغة التركية.

هذا مجمل ما ذكره صاحب (لمع الشهاب) عن رحلات الشيخ محمد بن عبد الوهاب وهو لا يتفق مع ما ذكره ابن غنام وابن بشر عن البلدان إلا في (البصرة) و (مكة) وعن العلوم إلا فيما ذكره عن علوم الدين وعلوم الآلة، أما المشايخ فالاختلاف بينهم جذري.

والواقع أن الباحث المتعمق يطمئن كثيرا إلى ما ذكره ابن غنام وابن بشر عن

--------------------------------------------

(1) مؤلف مجهول: لمع الشهاب في سيرة محمد بن عبد الوهاب ص 9-13 (ط دارة الملك عبد العزيز) وهو كتاب يبحث في سيرة الشيخ وبعض أحداث تاريخ الدولة السعودية الأولى ومؤلفه لا زال مجهولا. أما ناسخه فهو (حسن بن جمال بن أحمد الريكي) وفرغ من نسخه في محرم عام 1233 هـ، وقد طبع الكتاب مرتين في بيروت بتحقيق الدكتور أحمد مصطفى أبو حاكمة، والثانية في الرياض (دارة الملك عبد العزيز) بتحقيق الشيخ عبد الرحمن آل الشيخ.
মদিনা মুনাওয়ারায় মুহাম্মদ হায়াত সিন্ধি, বসরায় শেখ মুহাম্মদ মাজমুয়ি এবং আহসায় শেখ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল লতিফ আল-আহসায়ি।

৩ - এবং তিনি এই শায়খদের নিকট থেকে যে সকল ইলম অর্জন করেছিলেন তা হলো: দ্বীনি ইলম (তাফসীর, হাদীস ও ফিকহ থেকে) এবং আনুষঙ্গিক ইলম (নাহু, সরফ ও বালাগাত থেকে)। তবে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থ 'লামউশ শিহাব'-এর (১) লেখকের শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সফরসমূহ সম্পর্কে একটি বিশেষ মত রয়েছে, যা নজদের প্রধান দুই ঐতিহাসিকের বর্ণনার চেয়ে দেশসমূহ, শায়খগণ বা অর্জিত ইলম—সব ক্ষেত্রেই আমূল ভিন্ন।

১ - (দেশসমূহ) সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, শায়খ কাসিম, ইরাক (বসরা ও বাগদাদ), পারস্য (কুর্দিস্তান, হামদান, ইসফাহান, রায়, কোম এবং আবি লিবাস গ্রাম), শাম দেশ (আলেপ্পো, দামেস্ক ও বাইতুল মাকদিস) এবং মিসর (কায়রো) সফর করেন; অতঃপর তিনি মক্কা মুকাররমা হয়ে নিজ দেশে ফিরে আসেন।

২ - আর ঐ সকল দেশে যাদের নিকট তিনি পাঠ গ্রহণ করেছিলেন সেই (শায়খদের) ব্যাপারে তিনি উল্লেখ করেছেন: কাসিমে আব্দুর রহমান বিন আহমদ ও হাসসান আত-তামিমি, বাগদাদে আব্দুল কারিম আল-কুর্দি আশ-শাফিয়ি এবং ইসফাহানে মির্জাজান আল-ইসফাহানি ও মুহাম্মদ আল-মাগরিবি।

৩ - আর ঐ সকল শায়খদের নিকট তিনি যে সকল (ইলম) বা বিষয় অধ্যয়ন করেছিলেন তার মধ্যে তিনি তাফসীর, হাদীস, আনুষঙ্গিক ইলম, জ্যোতির্বিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন, জ্যামিতি, তাসাউফ, গণিতশাস্ত্র ও অন্যান্য বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, শায়খ তুর্কি ভাষায় দক্ষ ছিলেন।

এটিই 'লামউশ শিহাব' গ্রন্থের লেখকের শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সফরসমূহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। এটি ইবনে গান্নাম ও ইবনে বিশর কর্তৃক উল্লিখিত দেশসমূহের বর্ণনার সাথে কেবল 'বসরা' ও 'মক্কা' ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে মিল নেই। আর ইলমের ক্ষেত্রে কেবল দ্বীনি ইলম ও আনুষঙ্গিক ইলমের বর্ণনার সাথে মিল আছে। তবে শায়খদের ব্যাপারে তাদের মাঝে পার্থক্য আমূল।

বাস্তবতা হলো, একজন গভীর গবেষক ইবনে গান্নাম ও ইবনে বিশর যা উল্লেখ করেছেন তার ওপরই অধিক আশ্বস্ত হন

--------------------------------------------

(১) অজ্ঞাত লেখক: 'লামউশ শিহাব ফি সিরাত মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব', পৃষ্ঠা ৯-১৩ (দারাতুল মালিক আব্দুল আজিজ সংস্করণ)। এটি শায়খের জীবনী এবং প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের ইতিহাসের কিছু ঘটনা নিয়ে রচিত একটি গ্রন্থ, যার লেখক এখনও অজ্ঞাত। তবে এর অনুলিপিকার হলেন (হাসান বিন জামাল বিন আহমদ আল-রাইকি) এবং তিনি হিজরি ১২৩৩ সনের মহররম মাসে এর অনুলিপি সম্পন্ন করেন। বইটি বৈরুতে ডক্টর আহমদ মুস্তফা আবু হাকিমার সম্পাদনায় এবং দ্বিতীয়বার রিয়াদে (দারাতুল মালিক আব্দুল আজিজ) শেখ আব্দুর রহমান আল-শেখ-এর সম্পাদনায় দুইবার মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৭)
رحلات الشيخ للأسباب الآتية:

1 - أن ابن غنام وابن بشر أدرى بتفاصيل حياة الشيخ من غيرهما (1) .

2 - أن مؤلف (لمع الشهاب) لا زال مجهولا ، وهو يتحامل كثيرا على الشيخ محمد بن عبد الوهاب ودعوته، فيجب على الباحث أن يأخذ معلوماته عن الدعوة وصاحبها بحذر شديد.

3 - إننا لا نجد في كتابات الشيخ نفسه من رسائل وكتب أي أثر لما ذكره صاحب اللمع عن هذه الرحلات سواء في البلدان التي زارها أو عن مشايخه فيها أو عن العلوم التي درسها عليهم.

4 - أن العلوم التي ذكرها صاحب (لمع الشهاب) لا نجد لها أي أثر في كتابات الشيخ ومناظراته مع أن الحاجة قد تدعو إلى استخدام بعضها مثل الفلسفة والمنطق في الجدل والمناظرة (2) .

5 - أننا لا نجد لما ذكره صاحب اللمع أي أثر في كتابات علماء الدعوة ومؤرخيها ولو كان ما ذكره صحيحا، فليس من المعقول ألا نجد لها أي أثر في كتابات أولئك الذين حرصوا على تدوين حياة الشيخ ودعوته بالتفصيل خاصة ما يتصل بفضائله، ومعلوم أن السفر في طلب العلم فضيلة، ولو كان الشيخ قد سافر إلى بلدان أخرى غير التي ذكروا لما توانوا في تدوين ذلك وتفصيله (3) .

6 - أنه على الرغم مما ذكره الرحالة الأوربي (كارستن نيبور) المعاصر للشيخ محمد بن عبد الوهاب في رحلته إلى بعض أجزاء الجزيرة العربية عام 1178 هـ (1765 م) من أن الشيخ زار بغداد وبلاد فارس (4) .

إلا أنه لا يمكن قبول ما ذكره دون تحفظ خصوصا وأن في كلام (نيبور) عن الشيخ ودعوته أخطاء دينية وتاريخية واضحة (5) .

--------------------------------------------

(1) حمد الجاسر: مجلة العرب، السنة الرابعة ج10 (عام 1390 هـ) ص 944.

(2) عبد الله الشبل: الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب حياته ودعوته ص 22.

(3) عبد الله العثيمين: الشيخ محمد بن عبد الوهاب حياته وفكره ص 43.

(4) Niebuhr) . C (Travels through Arabia. Vol. 2p 131- 134.

(5) انظر عبد الله العثيمين: نيبور ودعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، مجلة كلية العلوم الاجتماعية، العدد الثاني (1398 هـ) ص 175-183.
শেখের সফরসমূহ (অস্বীকৃতির) কারণগুলো নিম্নরূপ:

১ - ইবনে ঘান্নাম এবং ইবনে বিশর শেখের জীবনের খুঁটিনাটি সম্পর্কে অন্যদের তুলনায় অধিক অবগত। (১) ।

২ - ‘লুমআশ শিহাব’-এর লেখক এখনো অজ্ঞাত, এবং তিনি শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ও তাঁর দাওয়াতের প্রতি অত্যন্ত বিদ্বেষপরায়ণ; তাই গবেষকদের উচিত দাওয়াত এবং এর প্রবক্তা সম্পর্কে তাঁর থেকে তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা।

৩ - স্বয়ং শেখের লিখিত পত্রাবলি বা বইপত্রের কোথাও লুমআ-র লেখকের বর্ণিত এই সফরগুলোর কোনো চিহ্ন আমরা পাই না; চাই তা তাঁর সফরকৃত দেশগুলো সম্পর্কে হোক, অথবা সেখানকার তাঁর শিক্ষকগণ বা তাঁদের নিকট পঠিত শাস্ত্রসমূহ সম্পর্কে হোক।

৪ - ‘লুমআশ শিহাব’-এর লেখক যেসকল শাস্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন, শেখের লেখা ও বিতর্কের মাঝে সেগুলোর কোনো প্রভাব পাওয়া যায় না, অথচ বিতর্ক ও আলোচনার ক্ষেত্রে এগুলোর কিছু বিষয় (যেমন দর্শন ও যুক্তিবিদ্যা) ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারত। (২) ।

৫ - লুমআ-র লেখকের বর্ণনার কোনো চিহ্ন দাওয়াতের আলেম ও ঐতিহাসিকদের লেখায়ও আমরা পাই না। যদি তাঁর কথা সঠিক হতো, তবে শেখের জীবন ও দাওয়াত বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে যারা আগ্রহী ছিলেন—বিশেষ করে তাঁর গুণাবলি সংক্রান্ত বিষয়ে—তাদের লেখায় এর কোনো চিহ্ন না থাকাটা যুক্তিসঙ্গত নয়। এটি সর্বজনবিদিত যে, ইলম অর্জনের জন্য সফর করা একটি ফজিলতপূর্ণ কাজ; শেখ যদি তাদের উল্লিখিত দেশগুলো ব্যতীত অন্য কোথাও সফর করতেন, তবে তারা তা লিপিবদ্ধ করতে ও বিস্তারিত বর্ণনা দিতে কোনো অলসতা করতেন না। (৩) ।

৬ - শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সমসাময়িক ইউরোপীয় পর্যটক ‘কার্স্টেন নিবুর’ ১১৭৮ হিজরি (১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দ) সালে আরব উপদ্বীপের কিছু অংশ ভ্রমণের সময় যদিও উল্লেখ করেছেন যে শেখ বাগদাদ ও পারস্য সফর করেছিলেন (৪) ।

তবুও তাঁর বর্ণনা কোনো সতর্কতা ছাড়াই গ্রহণ করা সম্ভব নয়, বিশেষ করে নিবুরের কথায় শেখ এবং তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে স্পষ্ট ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ভুল পরিলক্ষিত হয়। (৫) ।

--------------------------------------------

(১) হামাদ আল-জাসির: মাজাল্লাতুল আরব, চতুর্থ বর্ষ, ১০ম খণ্ড (১৩৯০ হিজরি), পৃষ্ঠা ৯৪৪।

(২) আব্দুল্লাহ আশ-শিবল: আশ-শায়খ আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব হায়াতুহু ওয়া দাওয়াতুহু, পৃষ্ঠা ২২।

(৩) আব্দুল্লাহ আল-উসাইমিন: আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব হায়াতুহু ওয়া ফিকরুহু, পৃষ্ঠা ৪৩।

(৪) নিবুর, সি. ট্রাভেলস থ্রু অ্যারাবিয়া। ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৩১-১৩৪।

(৫) দেখুন আব্দুল্লাহ আল-উসাইমিন: নিবুর ওয়া দাওয়াতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, মাজাল্লাতু কুল্লিয়াতি উলুমিল ইজতিমাঈয়্যাহ, ২য় সংখ্যা (১৩৯৮ হিজরি), পৃষ্ঠা ১৭৫-১৮৩।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৮)
7 - أن الكتاب المتأخرين الذين وافقوا لمع الشهاب في كلامهم عن رحلات الشيخ لا يحتج بهم، إذ لا شك أنهم قد تأثروا أو نقلوا عن لمع الشهاب كليا أو جزئيا في (1) هذا الصدد.

ومهما يكن من أمر فقد فتحت هذه الرحلات أمام الشيخ تفكيره، ووسعت مداركه وعلومه، فاطلع على الفساد الديني والسياسي الذي يعيشه العالم الإسلامي حينذاك (2) فعاد إلى بلده وكله عزيمة وأمل بأن يقوم بإصلاح هذا الفساد بقدر ما يسعه جهده عملا بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من رأى منكم منكرا فليغيره بيده، فإن لم يستطع فبلسانه، فإن لم يستطع فبقلبه، وذلك أضعف الإيمان» .

 

‌‌[مراحل الدعوة]

مراحل الدعوة: لقد أوجبت الظروف السياسية للدعوة أن تمر بعدة مراحل كان لها أكبر الأثر في تكوينها لحركة إصلاحية هامة، ليس في منطقة الجزيرة العربية فحسب بل في العالم الإسلامي بأسره، ويستطيع الباحث أن يستخلص هذه المراحل عند تتبعه لحياة الشيخ في حريملاء، ثم العيينة، ثم الدرعية، فعندما وصل الشيخ إلى حريملاء أخذ يجهر بدعوته وينكر ما يفعله الجهال من البدع والشرك في الأقوال والأفعال، ولكن والد الشيخ منعه من ذلك خوفا على ابنه من ثورة العامة، فاتجه الشيخ في هذه الفترة إلى البحث والتحصيل وألف كتاب (التوحيد) حتى إذا توفي والده سنة 1153 هـ (1740 م) أعلن دعوته من جديد لكنه لم يلبث أن قرر أن (حريملاء) لا تصلح لنشر الدعوة لعدم استتباب الأمن فيها نتيجة لانقسام أهلها وانقسام الحكم فيها مما جعل الشيخ يتعرض لخطر عبيدها، الذين ضاقوا ذرعا بزجر الشيخ لهم وحدّه من تماديهم وفسقهم حتى إنهم قرروا قتل الشيخ (3) مما جعل الشيخ يعزم على العودة إلى (العيينة)

--------------------------------------------

(1) انظر مثلا جمال الدين الشيال (الحركات الإصلاحية) ص 56، وأحمد أبو حاكمة (محاضرات في تاريخ شرقي الجزيرة) ص 156، وعبد العزيز سيد الأهل (داعية التوحيد) ، وحسن خزعل (حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب) في حديثهما عن رحلات الشيخ.

 

(2) Nicholson: Ibid p. 466.

(3) حسين بن غنام: المرجع السابق ج1 ص 30.
৭ - পরবর্তীকালের যে সকল লেখক শেখের সফরসমূহ সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে 'লুমাউশ শিহাব' গ্রন্থের সাথে একমত পোষণ করেছেন, তাদের বক্তব্য দলিল হিসেবে গণ্য হবে না। কেননা এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা এ বিষয়ে (১) 'লুমাউশ শিহাব' দ্বারা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রভাবিত হয়েছেন অথবা সেখান থেকে তথ্য গ্রহণ করেছেন।

যাই হোক না কেন, এই সফরগুলো শেখের চিন্তার দুয়ার খুলে দিয়েছিল এবং তাঁর প্রজ্ঞা ও জ্ঞানকে প্রসারিত করেছিল। ফলে তিনি তৎকালীন মুসলিম বিশ্বে বিরাজমান ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অবক্ষয় সম্পর্কে অবগত হন (২)। অতঃপর তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন এক দৃঢ় সংকল্প ও আশা নিয়ে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী অনুযায়ী নিজের সাধ্যমতো এই অবক্ষয় সংস্কারে সচেষ্ট হবেন: «তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অন্যায় দেখে, তবে সে যেন তা তার হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে যেন তার জবান দিয়ে (প্রতিবাদ করে); আর যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে যেন তার অন্তর দিয়ে (তা ঘৃণা করে), আর এটিই হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর»।

 

‌‌[দাওয়াতের পর্যায়সমূহ]

দাওয়াতের পর্যায়সমূহ: দাওয়াতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এটিকে বেশ কয়েকটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল, যা কেবল আরব উপদ্বীপেই নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারবাদী আন্দোলন হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। গবেষকগণ শেখের হুরয়মিলা, অতঃপর উয়ায়না এবং এরপর দিরইয়াহ-র জীবন অনুসরণের মাধ্যমে এই পর্যায়গুলো নিরূপণ করতে পারেন। শেখ যখন হুরয়মিলায় পৌঁছান, তখন তিনি প্রকাশ্যে তাঁর দাওয়াত প্রচার শুরু করেন এবং জাহিলদের কথা ও কাজে লিপ্ত বিদআত ও শিরকের প্রতিবাদ করতে থাকেন। তবে শেখের পিতা জনসাধারণের উত্তেজনার মুখে ছেলের নিরাপত্তার আশঙ্কায় তাঁকে এ থেকে বিরত রাখেন। ফলে এই সময়ে শেখ গবেষণা ও জ্ঞানার্জনে আত্মনিয়োগ করেন এবং 'তাওহিদ' গ্রন্থটি (কিতাবুত তাওহিদ) রচনা করেন। অবশেষে ১১৫৩ হিজরিতে (১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দ) যখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি পুনরায় তাঁর দাওয়াত প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন। কিন্তু অচিরেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, 'হুরয়মিলা' দাওয়াত প্রচারের জন্য উপযুক্ত নয়; কারণ সেখানে অধিবাসীদের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও শাসনের অনৈক্যের ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। এর ফলে শেখ সেখানকার দাসদের পক্ষ থেকে বিপদের সম্মুখীন হন, যারা শেখের শাসন এবং তাদের পাপাচার ও সীমালঙ্ঘন রোধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল, এমনকি তারা শেখকে হত্যার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নিয়েছিল (৩)। ফলশ্রুতিতে শেখ পুনরায় 'উয়ায়না'-তে ফিরে যাওয়ার সংকল্প করেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন উদাহরণস্বরূপ: জামালুদ্দিন আশ-শায়্যাল (আল-হারাকাতুল ইসলাহিয়্যাহ) পৃষ্ঠা ৫৬; আহমদ আবু হাকিমাহ (মুহাদারাত ফি তারিখি শারকিল জাজিরাহ) পৃষ্ঠা ১৫৬; আব্দুল আজিজ সাইয়িদ আল-আহল (দাইয়াতুত তাওহিদ); এবং হাসান খাজআল (হায়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব), শেখের সফর সম্পর্কে তাঁদের আলোচনায়।

 

(২) নিকোলসন: প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪৬৬।

(৩) হুসাইন ইবনে গান্নাম: পূর্বোক্ত উৎস, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩০।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৯)
- مسقط رأسه - فأهلها يعرفهم وحكمها مستقر أكثر من حريملاء، وكان حاكم العيينة في ذلك الوقت (عثمان بن حمد بن معمر) الذي فتح صدره للدعوة، ووعد الشيخ بنصرته ونشر دعوته، فمهد ذلك لانتقال دعوته من مرحلة الدعوة إلى الله بالحكمة والموعظة الحسنة إلى المرحلة العملية في تطبيق مبادئ الدعوة، وتمثل ذلك في أمور ثلاثة:

1 - هدم القباب المقامة على القبور مثل قبر (زيد بن الخطاب) في الجبيلة، وقد بدأ الشيخ بنفسه في هدم القبة ، ثم تبعه أصحابه فهدموها.

2 - قطع الأشجار التي يتبرك بها العامة مثل شجرة (الذيب) في العيينة قطعها الشيخ بنفسه وشجرة (قريوه) في الدرعية.

3 - رجم الزانية التي جاءت إلى الشيخ وأقرت بالزنا، وطلبت إقامة حد الله عليها، وأقرت عند الشيخ أربع مرات في أربعة أيام، فلما تيقن الشيخ من توفر شروط إقامة الحد عليها أمر بها فرجمت لأنها محصنة، وكان (عثمان بن معمر) أول من بدأ برجمها (1) .

لقد بهرت هذه الأعمال كلها الناس، لأنها أشياء جديدة لم يعتادوها مما جعلهم أمام ذلك قسمين: قسم آمن بذلك وأقر به، وقسم أنكره وحاربه وكان من ضمن هؤلاء حاكم الأحساء من بني خالد وهو (سليمان بن محمد بن غرير) من آل عريعر الذي كان له ما يشبه النفوذ السياسي على حاكم العيينة، لذلك أرسل (ابن غرير) إلى (ابن معمر) حاكم العيينة برسالة يتوعده ويتهدده بقطع راتبه السنوي إن لم يخرج الشيخ من بلده، ولما لم تكن دعوة الشيخ قوية في تلك الفترة بحيث يعوض ابن معمر بهذه القوة ما يفقده من كسب مادي من حاكم الأحساء ، فقد أذعن ابن معمر لتهديده، وأمر الشيخ بالخروج إلى أي بلد يشاء ، فاختار (الدرعية) لقربها من ناحية، ولما يعرفه من سيرة حسنة لحاكمها، إضافة إلى استقلال صاحبها وعدم خضوعه لسيطرة خارجية (2) .

--------------------------------------------

(1) عثمان بن بشر: المرجع السابق ج1 ص 22 و 23.

(2) عبد الله الشبل: محاضرات في تاريخ الدولة السعودية ص 36.
- তাঁর জন্মস্থান - এখানকার অধিবাসীদের তিনি চিনতেন এবং হারাইমিলার তুলনায় সেখানকার শাসন ব্যবস্থা অধিক স্থিতিশীল ছিল। সেই সময় উয়াইনাহর শাসক ছিলেন (উসমান বিন হামাদ বিন মুয়াম্মার), যিনি দাওয়াতের জন্য তাঁর হৃদয় উন্মুক্ত করে দেন এবং শাইখকে সাহায্যের ও তাঁর দাওয়াত প্রচারের প্রতিশ্রুতি দেন। এটি দাওয়াতকে 'প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর পথে দাওয়াত' প্রদানের পর্যায় থেকে 'দাওয়াতের মূলনীতিসমূহ বাস্তবায়নের ব্যবহারিক বা কর্মমুখী পর্যায়ে' রূপান্তরের পথ সুগম করে। আর এটি তিনটি বিষয়ে প্রতিফলিত হয়:

১ - কবরের উপর নির্মিত গম্বুজসমূহ ধ্বংস করা, যেমন আল-জুবাইলায় অবস্থিত (যায়েদ বিন আল-খাত্তাব)-এর কবরের গম্বুজ। শাইখ নিজেই গম্বুজটি ভাঙতে শুরু করেন, এরপর তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে অনুসরণ করেন এবং সেটি ধ্বংস করেন।

২ - সাধারণ মানুষ বরকত মনে করত এমন গাছগুলো কেটে ফেলা, যেমন উয়াইনাহর (আয-যীব) নামক গাছটি শাইখ নিজেই কেটে ফেলেন এবং দিরইয়াহর (কুরাইওয়াহ) নামক গাছটি।

৩ - সেই ব্যভিচারিণীকে রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) করা, যে শাইখের কাছে এসে ব্যভিচারের স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং তার ওপর আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ড (হদ) কার্যকর করার অনুরোধ করেছিল। সে চার দিনে চারবার শাইখের কাছে স্বীকারোক্তি প্রদান করে। যখন শাইখ নিশ্চিত হলেন যে তার ওপর হদ কার্যকর করার শর্তাবলি পূরণ হয়েছে, তখন তিনি তাকে রজম করার আদেশ দেন; কেননা সে ছিল বিবাহিত। আর (উসমান বিন মুয়াম্মার) সর্বপ্রথম তাকে পাথর মারতে শুরু করেন (১)।

এই সকল কর্মকাণ্ড মানুষকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল, কারণ এগুলো ছিল নতুন বিষয় যা তারা অভ্যস্ত ছিল না। এর ফলে তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে: একদল এতে বিশ্বাস স্থাপন করে ও তা মেনে নেয়, আর অন্য দল একে প্রত্যাখ্যান করে এবং এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। তাদের মধ্যে বনু খালিদ গোত্রীয় আল-আহসার শাসক (সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন গুরইর) আল-উরাইয়ির অন্যতম ছিলেন, যার উয়াইনাহর শাসকের ওপর এক ধরণের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। তাই (ইবনে গুরইর) উয়াইনাহর শাসক (ইবনে মুয়াম্মার)-এর নিকট একটি পত্র পাঠান যাতে তিনি তাকে হুমকি দেন এবং হুঁশিয়ার করেন যে, যদি তিনি শাইখকে তাঁর দেশ থেকে বের করে না দেন তবে তাঁর বার্ষিক ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যেহেতু সেই সময়ে শাইখের দাওয়াত এমন শক্তিশালী ছিল না যা দিয়ে ইবনে মুয়াম্মার আল-আহসার শাসকের কাছ থেকে প্রাপ্ত আর্থিক ক্ষতির মোকাবিলা করতে পারেন, তাই ইবনে মুয়াম্মার সেই হুমকির কাছে নতি স্বীকার করেন। তিনি শাইখকে যে কোনো দেশে চলে যাওয়ার আদেশ দেন। শাইখ (দিরইয়াহ)-কে পছন্দ করেন, একদিক থেকে এটি নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এবং অন্যদিক থেকে এর শাসকের সচ্চরিত্রের কথা তাঁর জানা ছিল। এছাড়া এর অধিপতি স্বাধীন ছিলেন এবং কোনো বহিরাগত শক্তির অনুগত ছিলেন না (২)।

--------------------------------------------

(১) উসমান বিন বিশর: প্রাগুক্ত গ্রন্থ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২ ও ২৩।

(২) আব্দুল্লাহ আশ-শিবল: মুদাহারাত ফি তারিখ আদ-দাওলাহ আস-সুউদিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩৬।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩০)
ولقد أحسن الشيخ الاختيار، فكان انتقاله إلى الدرعية موفقا، فقد أحسن حاكم الدرعية (محمد بن سعود) استقباله والترحيب به، ووعده بأن يمنعه مما يمنع منه نساءه وأولاده وقال له: " أبشر ببلاد خير من بلادك وبالعزة والمنعة، فرد عليه الشيخ قائلا: وأنا أبشرك بالعز والتمكين والنصر المبين، وهذه كلمة التوحيد التي دعت إليها الرسل كلهم فمن تمسك بها وعمل بها ونصرها ملك بها العباد والبلاد، وأنت ترى نجدا كلها وأقطارها أطبقت على الشرك والجهل والفرقة وقتال بعضهم بعضا، فأرجو أن تكون إماما يجتمع عليه المسلمون وذريتك من بعدك "، ثم أخذ الشيخ يشرح للأمير محمد بن سعود دعوته وما تدعو إليه حتى اقتنع بها، فتعاهدا معا على نشر مبادئ الدعوة المباركة (1) .

وهكذا تم ما يعرف تاريخيا بـ (اتفاق الدرعية) المشهور سنة 1157 هـ (1744 م) ، فكان - بحق - نقطة تحول هامة في تاريخ تلك الدعوة وفي حياة نجد الدينية والسياسية والاقتصادية والاجتماعية بل وفي تاريخ اليقظة العربية والإسلامية الحديثة (2) .

وقد بقي الشيخ رحمه الله في الدرعية سنتين يدعو الناس بالحكمة والموعظة الحسنة، فكان يرسل برسائله ومناظراته إلى أهل البلدان المجاورة ورؤسائهم وعلمائهم، فمنهم من قبل واتبع الحق، ومنهم من أبى وعارض، ولكن لم يستمر الحال على ذلك طويلا، فقد قام أولئك المعارضون على الشيخ ودعوته بالعدوان، وأعلنوا تكفير الشيخ وأتباعه وإباحة دمائهم، فأمر الشيخ حينئذ أتباعه بالجهاد (3) دفاعا عن النفس أمام أولئك المعارضين من ناحية، وكسر الطوق وإزاحة حجر العثرة أمام نشر هذه الدعوة من ناحية، فانتقلت الدعوة بذلك إلى مرحلة جديدة ثالثة هي (مرحلة الجهاد لحمل الناس على الحق) وتهيئة الجو الصالح لنشر الدعوة، والعودة بالمسلمين إلى منهج الله وشرعه واتباعه عقيدة ومنهج حياة.

--------------------------------------------

(1) عثمان بن بشر: المرجع السابق ج1 ص 24 و 25.

(2) محمد عزة دروزة: نشأة الحركة العربية الحديثة ج1 ص 75.

(3) حسين بن غنام: المصدر السابق ج1 ص 33.
শায়খ চমৎকার পছন্দ করেছিলেন, দিরইয়াহ-তে তাঁর স্থানান্তর সফল হয়েছিল। দিরইয়াহ-র শাসক (মুহাম্মাদ বিন সাউদ) তাঁকে উত্তমভাবে গ্রহণ ও স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং তাঁকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যেভাবে তিনি নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের সুরক্ষা প্রদান করেন। তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "আপনার নিজের ভূখণ্ডের চেয়ে উত্তম ভূখণ্ড এবং সম্মান ও নিরাপত্তার সুসংবাদ গ্রহণ করুন।" শায়খ জবাবে তাঁকে বললেন: "আমিও আপনাকে সম্মান, প্রতিষ্ঠা এবং সুস্পষ্ট বিজয়ের সুসংবাদ দিচ্ছি। আর এটিই তাওহীদের বাণী যার দিকে সমস্ত রাসূলগণ আহ্বান জানিয়েছেন; যে ব্যক্তি এটি শক্তভাবে ধারণ করবে, এর ওপর আমল করবে এবং একে সাহায্য করবে, সে এর মাধ্যমেই বান্দা ও দেশসমূহের ওপর রাজত্ব করবে। আপনি দেখছেন যে সমগ্র নজদ এবং এর চারপাশ শিরক, মূর্খতা, দলাদলি এবং একে অপরের সাথে লড়াইয়ে নিমজ্জিত। কাজেই আমি আশা করি আপনি এমন একজন ইমাম হবেন যাঁর ওপর মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হবে এবং আপনার পরবর্তী আপনার বংশধররাও।" অতঃপর শায়খ আমির মুহাম্মাদ বিন সাউদের কাছে তাঁর দাওয়াত এবং এর লক্ষ্যের ব্যাখ্যা দিতে শুরু করলেন যতক্ষণ না তিনি এতে আশ্বস্ত হলেন। তারপর তাঁরা উভয়ে এই বরকতময় দাওয়াতের মূলনীতিসমূহ প্রচারের ওপর অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেন (১)।

এভাবে ঐতিহাসিকভাবে বিখ্যাত 'দিরইয়াহ চুক্তি' ১১৫৭ হিজরি (১৭৪৪ খ্রিষ্টাব্দ) সালে সম্পন্ন হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল সেই দাওয়াতের ইতিহাসে এবং নজদের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে, এমনকি আধুনিক আরব ও ইসলামী জাগরণের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ (২)।

শায়খ রহিমাহুল্লাহ দিরইয়াহ-তে দুই বছর অবস্থান করে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে মানুষকে দাওয়াত দিতে থাকেন। তিনি পার্শ্ববর্তী জনপদের অধিবাসী, তাদের প্রধান এবং আলেমদের কাছে তাঁর পত্র ও বিতর্কসমূহ পাঠাতেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কবুল করে সত্যের অনুসরণ করলেন, আবার কেউ কেউ অস্বীকার ও বিরোধিতা করলেন। কিন্তু এই অবস্থা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কারণ সেই বিরোধীরা শায়খ এবং তাঁর দাওয়াতের বিরুদ্ধে শত্রুতা শুরু করল এবং শায়খ ও তাঁর অনুসারীদের কাফের ঘোষণা করে তাদের রক্ত বৈধ বলে ঘোষণা করল। তখন শায়খ তাঁর অনুসারীদের জিহাদের নির্দেশ দিলেন (৩); একদিকে সেই বিরোধীদের সামনে আত্মরক্ষার জন্য এবং অন্যদিকে এই দাওয়াতের প্রসারের পথে প্রতিবন্ধকতা ভেঙে ফেলা ও বাধা সরিয়ে দেওয়ার জন্য। এর ফলে দাওয়াত একটি তৃতীয় নতুন পর্যায়ে উন্নীত হলো, যা হলো 'মানুষকে সত্যের পথে আনার জন্য জিহাদের পর্যায়' এবং দাওয়াত প্রচারের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং মুসলমানদের আল্লাহর মানহাজ ও শরীয়তের দিকে ফিরিয়ে আনা এবং আকিদাহ ও জীবনপদ্ধতি হিসেবে তার অনুসরণের ব্যবস্থা করা।

--------------------------------------------

(১) উসমান বিন বিশর: পূর্বোক্ত সূত্র, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪ ও ২৫।

(২) মুহাম্মাদ ইজ্জাহ দারওয়াজাহ: নাশা’তুল হারাকাতিল আরাবিয়্যাতিল হাদিসাহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৫।

(৩) হুসাইন বিন গান্নাম: পূর্বোক্ত উৎস, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩।
(খণ্ড: ১) দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌[الفصل الثاني مبادئ دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب]

‌‌[تمهيد]

الفصل الثاني

مبادئ دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب تمهيد قبل الدخول في تفاصيل الدعوة وأفكارها نحب أن نشير إلى أمرين هامين:

أولهما: أن لقب " الوهابية " لقب لم يختاره أتباع الدعوة لأنفسهم، ولم يقبلوا إطلاقه عليهم، لكنه أطلق من قبل خصومهم - على اختلافهم - تنفيرا للناس منهم، وإيهاما للسامع أنهم جاءوا بمذهب خامس يخالف المذاهب الإسلامية الأربعة الكبرى واللقب الذي يرضونه ويتسمون به هو " السلفيون " (1) ودعوتهم " الدعوة السلفية ".

وإذا كان تلقيبهم بـ (الوهابية) جناية على الواقع والحقيقة لهذه الدعوة فهي جناية أيضا على التاريخ نفسه، فقد أوقع ذلك كثيرا من المؤرخين المستشرقين في غلطة وهي نسبة هذه الحركة الإصلاحية المباركة إلى والد الشيخ محمد وهو " عبد الوهاب " وجعلوه مؤسسا لهذه الدعوة والحركة الإصلاحية (2) .

وثانيهما: أن هذه الدعوة ليست ذات مذهب خاص بها، وإنما هي الدعوة إلى الإسلام بكل مبادئه وتعاليمه الخالصة من شوائب الشرك والوثنية والبدع، وإذا كان أتباع الدعوة قد واجهوا في دعوتهم ألوانا من المعارضة بالسيف والقلم واللسان، فما ذاك إلا لأن الإسلام الصحيح أصبح في ذلك الوقت غريبا في النفوس وبعيدا عنها، وصدق الدكتور طه حسين حين قال عن الدعوة: " قلت إن هذا المذهب جديد وقديم معا، والواقع أنه جديد بالنسبة إلى المعاصرين ولكنه قديم في حقيقة الأمر، لأنه ليس إلا الدعوة القويمة إلى الإسلام الخالص النقي المطهر من كل شوائب الشرك والوثنية، هو الدعوة إلى الإسلام كما جاء به النبي خالصا لله وحده ملغيا كل واسطة بين الله والناس " (3) .

--------------------------------------------

(1) حسن عبد الله آل الشيخ: الوهابية وزعيمها محمد بن عبد الوهاب، مجلة العربي، العدد 147، فبراير 1971 م، ص 26.

 

(2) أحمد علي: آل سعود ص 212 ط بيروت عام 1376 هـ (1957 م) .

(3) طه حسين: الحياة الأدبية في جزيرة العرب ص 13 وما بعدها.
‌‌[দ্বিতীয় অধ্যায়: শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের মূলনীতিসমূহ]

‌‌[ভূমিকা]

দ্বিতীয় অধ্যায়

শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের মূলনীতিসমূহ। ভূমিকা: দাওয়াতের বিস্তারিত বিবরণ এবং এর চিন্তাধারায় প্রবেশের পূর্বে আমরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্দেশ করতে চাই:

প্রথমত: "ওয়াহাবিয়া" উপাধিটি এই দাওয়াতের অনুসারীরা নিজেদের জন্য পছন্দ করেননি এবং তারা এটি নিজেদের ওপর প্রয়োগ করতেও রাজি হননি। বরং তাদের বিভিন্ন স্তরের বিরোধীরা মানুষকে তাদের থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এবং শ্রোতাদের মনে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য এটি ব্যবহার করেছে যে, তারা ইসলামের বড় চারটি মাযহাবের বিরোধী পঞ্চম কোনো মাযহাব নিয়ে এসেছে। তারা যে উপাধিটি পছন্দ করেন এবং নিজেদের জন্য ব্যবহার করেন তা হলো "সালাফি" (১) এবং তাদের দাওয়াত হলো "সালাফি দাওয়াত"।

তাদেরকে (ওয়াহাবি) বলে অভিহিত করা যেমন এই দাওয়াতের বাস্তব ও সত্য অবস্থার প্রতি একটি অবিচার, তেমনি এটি ইতিহাসের প্রতিও একটি অবিচার। এটি অনেক প্রাচ্যবিদ ঐতিহাসিককে একটি ভুলের মধ্যে ফেলে দিয়েছে, আর তা হলো—এই বরকতময় সংস্কার আন্দোলনের সম্পর্ক শায়খ মুহাম্মাদের পিতা "আব্দুল ওয়াহহাব"-এর দিকে জুড়ে দেওয়া এবং তাকেই এই দাওয়াত ও সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা (২)।

দ্বিতীয়ত: এই দাওয়াতের নিজস্ব কোনো বিশেষ মাযহাব নেই, বরং এটি শিরক, মূর্তিপূজা এবং বিদআতের কলুষতা থেকে মুক্ত ইসলামের সকল মূলনীতি ও বিশুদ্ধ শিক্ষার দিকে আহ্বান। দাওয়াতের অনুসারীরা যদি তাদের দাওয়াতি কাজে তলোয়ার, কলম এবং জিহ্বার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের বিরোধিতার সম্মুখীন হয়ে থাকেন, তবে তার কারণ এই যে, সেই সময়ে সঠিক ইসলাম মানুষের মনের কাছে অপরিচিত এবং দূরবর্তী হয়ে পড়েছিল। ডক্টর ত্বহা হুসাইন এই দাওয়াত সম্পর্কে সত্যই বলেছেন: "আমি বলেছি যে, এই মাযহাবটি একই সাথে নতুন এবং পুরাতন। বাস্তবতা হলো, এটি সমসাময়িকদের জন্য নতুন হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি পুরাতন; কারণ এটি শিরক ও মূর্তিপূজার সকল পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত বিশুদ্ধ ও পবিত্র ইসলামের দিকে সঠিক আহ্বান ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি হলো সেই ইসলামের দিকে আহ্বান যা নবী নিয়ে এসেছিলেন, যা নিছক এক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ ও মানুষের মধ্যে সমস্ত মাধ্যমকে বাতিলকারী" (৩)।

--------------------------------------------

(১) হাসান আব্দুল্লাহ আল-শায়খ: আল-ওয়াহাবিয়া ওয়া জাঈমুহা মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, মাজাল্লাতুল আরাবি, সংখ্যা ১৪৭, ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ ঈ., পৃ. ২৬।

 

(২) আহমদ আলী: আল সাউদ, পৃ. ২১২, বৈরুত সংস্করণ, ১৩৭৬ হি. (১৯৫৭ ঈ.)।

(৩) ত্বহা হুসাইন: আল-হায়াতুল আদাবিয়্যাহ ফি জাযিরাতিল আরব, পৃ. ১৩ এবং পরবর্তী অংশ।